Monday, September 14, 2009

ফরিদপুরে টেলিযোগাযোগসচিব দেশের ডাকঘরগুলোকে ইলেকট্রনিক সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে

ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব সুনীলকান্তি বোস বলেছেন, এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গ্রামে ইন্টারনেটসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্রামের পোস্ট অফিস বা ডাকঘরগুলোকে ইলেকট্রনিক সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
গতকাল শনিবার ফরিদপুরে স্থানীয় জসীমউদ্দীন হলে ডাক বিভাগের অবিভাগীয় ডাকঘরের পোস্টমাস্টারদের মধ্যে গ্রামীণফোনের মোবাইল সিমকার্ড বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বক্তব্য দেন ডাক বিভাগের মহাপরিচালক মোবাশ্বের উর রহমান, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক হেলালুদ্দীন আহমদ, পুলিশ সুপার মো. আওলাদ আলী ফকির, গ্রামীণফোনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আবু মামুন হাশমী, ফরিদপুর বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল অলকা রাণী রায় ও খুলনা অঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল আলাউদ্দিন আহমদ।
সুনীলকান্তি বোস বলেন, গ্রামীণফোনের সঙ্গে ডাক বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পোস্ট অফিস বা ডাকঘরগুলো গ্রামের মানুষের কাছে অতি দ্রুত সেবা পৌঁছে দেবে।

উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রেনে কাঁচামাল পরিবহনে সাড়া মিলছে না

উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় চলাচলকারী আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেন ও পার্সেল (মালবাহী) ট্রেনে কাঁচামাল, শাকসবজিসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের জন্য বগি সংযোজন করা হলেও ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিচ্ছেন না। ট্রেনে বুকিং না দেওয়া প্রসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে, হাট থেকে কাঁচামাল কিনে ট্রেন পর্যন্ত নিতে গেলে চারবার ওঠানামা করতে হয়। এতে অতিরিক্ত পরিমাণে কুলি খরচ বহন করতে হয়; আবার শাকসবজিজাতীয় পণ্যের ক্ষতিও হয়।
জয়পুরহাট রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলেন, কাঁচামালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে বগি সংযোজন ও পার্সেল ট্রেন চালু করা হয়। কিন্তু গত ১৪ দিনে ওই সব ট্রেনে মালামাল পরিবহনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তেমন সাড়া মেলেনি।
স্টেশন মাস্টার আব্দুল করিম প্রথম আলোকে জানান, ‘ট্রেনে শাকসবজি ও কাঁচামাল পরিবহনের জন্য হাটবাজারে মাইকিং ও লিফলেট প্রচার করেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি জানান, গত ১৪ দিনে জয়পুরহাট স্টেশন থেকে মাত্র চার হাজার কেজি কাঁচামাল ঢাকায় বুকিং দেওয়া হয়েছে। আর পার্সেল ট্রেনে এখনো কোনো মালামাল বুকিং দেওয়া যায়নি।
জামালগঞ্জের স্টেশন মাস্টার ইব্রাহিম হোসেন জানান, তাঁর স্টেশন থেকে শুধু সামান্য পরিমাণে কলা পরিবহনের বুকিং দেওয়া হয়েছে।
কাঁচামালের ব্যবসায়ী কমল চন্দ্র জানান, ট্রেনে মালামাল পাঠাতে গেলে খরচ বেশি পড়ে যায় এবং পণ্যের ক্ষতি হয়। ট্রাকে করে মাল সরাসরি ঢাকায় মহাজনের ঘরে নেওয়া যায়। সেজন্য তাঁরা ট্রেনে মালামাল পরিবহন করেন না।

অর্থবছরের প্রথম মাসে এডিপির মাত্র ২ শতাংশ বাস্তবায়ন

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের জন্য মোট বরাদ্দের ৭ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। কিন্তু এই মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে মোট বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই মাসে এডিপি বাবদ ৪৮২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ একই সময়ে ছাড় করা হয়েছে এক হাজার ২০৫ কোটি টাকা।
অবশ্য এডিপি বাস্তবায়নের এই হার গত তিন অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত ২০০৮-০৯, ২০০৭-০৮ ও ২০০৬-০৭ এই তিন অর্থবছরের প্রতিটির প্রথম মাসে মোট এডিপি বরাদ্দের মাত্র ১ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছিল।
সরকার যে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে পারেনি, ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিরাট এডিপির বিপরীতে এক মাসে মাত্র ২ শতাংশ বাস্তবায়ন হওয়া তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
কেউ কেউ অবশ্য মনে করছেন, প্রতি অর্থবছরই প্রথম দিকে বা প্রথম প্রান্তিকে এডিপির বাস্তবায়নের হার খুব অল্প ও গতি খুব শ্লথ থাকে। সে বিবেচনায় এবারও কোনো ব্যতিক্রম হয়নি।
কিন্তু অনেকে এ-ও বলছেন, গতানুগতিক এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কাঙ্ক্ষিত গতি আনতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে বছরের শেষদিকে তাড়াহুড়ো করে অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে অপচয় বাড়বে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন সব সময়েই দুর্বল; এবারের বিশেষ ভয় হলো—এটি এতই উচ্চাভিলাষী যে ব্যর্থতার আশঙ্কা ব্যাপক। তাই শুরু থেকেই পরিবীক্ষণ, দেখাশোনা ও মূল্যায়নে জোর দিতে হবে।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, ৪৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে অর্ধেক এডিপি বাবদ একটি টাকাও খরচ করতে পারেনি।
চলতি অর্থবছর এডিপিতে ৮৮৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত অর্থবছর ছিল ৯০৪টি।
আর গত অর্থবছর সংশোধিত এডিপির আয়তন ছিল ২৩ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা গেছে ১৯ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প যা মোট বরাদ্দের ৮৬ শতাংশ।
এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গত অর্থবছরের জন্য ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার মূল এডিপি নির্ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে এই সরকার এসে তা কমিয়ে আনে।

জাপানের মালবাহী নভোযানের সফল উড্ডয়ন

জাপানের নতুন মনুষ্যবিহীন ও মালবাহী নভোযানের উড্ডয়ন সফল হয়েছে। সে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি ঘাঁটি থেকে উেক্ষপণ করার পর এইচ-১১ ট্রান্সফার ভেহিক্যালটি (এইচটিভি) আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দিকে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। এটি প্রায় ৪ দশমিক ৫ টন পণ্য বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। খেয়াযানটির নিজের ওজন ১৬ দশমিক ৫ টন। এটি প্রায় ছয় টন মালামাল বহনে সক্ষম।
জাপানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি এইচ-আইআইবি রকেটের সাহায্যে ওই খেয়াযানটি স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাত আটটা এক মিনিটে উড্ডয়ন করে।

বিশ্বে প্রতিবছর ১০ লাখ লোক আত্মহত্যা করে

সারা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ লোক আত্মহত্যা করে থাকে। যুদ্ধ কিংবা অন্য ধরনের সহিংসতায় মোট গড় মৃত্যুর চেয়ে এ সংখ্যাটি বেশি। আত্মহত্যাজনিত কারণে গড়ে প্রতিদিন তিন হাজার লোকের মৃত্যু ঘটছে। প্রতিটি ‘সফল’ আত্মহত্যার সঙ্গে গড়ে আরও ২০ জন লোক আত্মহত্যার উদ্যোগ নিয়ে থাকে।
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ওয়ার্নার ওবারমেয়ার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মানসিক অস্থিরতার কারণে ৯০ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যার পেছনে বড় দুটি কারণ হচ্ছে হতাশা ও মানসিক পীড়ন।
জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে থাকে। এবার দিবসটির আলোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে আত্মহত্যার প্রভাব, প্রতিরোধ ও প্রতিকার ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থার প্রতিনিধি ব্রায়ান মিশ্র বলেন, হত্যাকাণ্ড সমাজে যে মনোযোগ পেয়ে থাকে, সে তুলনায় আত্মহত্যার ব্যাপারে সামাজিক উদাসীনতা লক্ষণীয়। তিনি বলেন, পরিবার বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক উদাসীনতার কারণে প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। অথচ সামাজিকভাবে এ বিষয়টিকে এখনো যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিষপান করেই বিশ্বে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ আত্মহত্যা করে। এর মধ্যে এশিয়া ও ক্যারিবীয় দেশগুলোতে কীটনাশক পানে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটে।

টেলিফোন করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হতাশা ব্যক্ত করলেন ওবামা -লকারবি বোমা হামলার আসামির মুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের কাছে স্কটল্যান্ডের লকারবির আকাশে বিমানে বোমা হামলার মূল আসামি লিবীয় নাগরিক মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি ব্রাউনকে টেলিফোন করে এই হতাশার কথা জানান।
১৯৮৮ সালে লকারবিতে প্যান অ্যাম বিমানে ওই বোমা হামলার ঘটনায় মেগরাহিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত মাসে ক্যান্সারে আক্রান্ত মেগরাহিকে স্কটল্যান্ড সরকার ‘মানবিক কারণে’ মুক্তি দেয়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কারণ লকারবিতে নিহত ২৭০ জন সাধারণ নাগরিকের বেশির ভাগই ছিল মার্কিনি।
মেগরাহি মুক্তি পেয়ে তাঁর দেশ লিবিয়ায় গেলে তাঁকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ঘটনাটি ক্ষুব্ধ করে অনেককে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের এই টেলিফোন আলাপের বিষয় সম্পর্কে বলেন, ‘মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়ার স্কটিশ সরকারের নির্বাহী আদেশের ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর তীব্র হতাশার কথা জানিয়েছেন ওবামা।’
অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকেও গর্ডন ব্রাউনের সঙ্গে বারাক ওবামার এ টেলিফোন আলাপের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে জানিয়েছেন, মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি পুরোটাই স্কটিশ সরকারের নির্বাহী আদেশের ব্যাপার। এ নিয়ে লন্ডনের কিছুই করার ছিল না।
গত মাসে মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট ওবামা একে ‘বিরাট ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এই প্রথম ব্যক্তিগতভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওবামা তাঁর হতাশার কথা জানালেন।
হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের মতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। কারণ লকারবি বিস্ফোরণে নিহত বেশির ভাগই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ সিদ্ধান্ত সেই নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক

পরমাণু-সংকট নিয়ে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের

পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট নিরসনে ইরানের দেওয়া গুচ্ছ (প্যাকেজ) প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ফিলিপ ক্রাউলি জানিয়েছেন, নতুন এই প্রস্তাবে নিজের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে কিছুই জানায়নি ইরান। তবে রাশিয়ার কর্মকর্তারা বলেন, ইরানের প্রস্তাবে আলোচনা করার মতো কিছু বিষয় তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন। গত বুধবার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানোশের মোত্তাকি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, চীন ও জার্মানির প্রতিনিধির কাছে নতুন এই প্যাকেজ প্রস্তাব হস্তান্তর করেন। খবর বিবিসি অনলাইনের।
বিবিসির একটি অনুষ্ঠানে ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূল উদ্বেগের বিষয় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। কিন্তু সে বিষয়ে ওই প্রস্তাবে কিছু বলা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ইরানকে প্রমাণ করতে হবে, যে প্রতিশ্রুতি তারা করেছিল তা পূরণ করবে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করুক, কারণ তাদের আশঙ্কা এর মাধ্যমে দেশটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহকারী মোজতবা সামারেহ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাকে বলেছিলেন, তাঁর দেশ পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবে না। তবে পরমাণু অস্ত্র নির্মূলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে তাঁরা আগ্রহী। এ ছাড়া ইরান বরাবর বলে আসছে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বেসামরিক খাতে ব্যবহারের জন্য।
এদিকে ইরানের নতুন প্রস্তাব সম্পর্কে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ‘এই প্রস্তাবে আলোচনার জন্য কিছু বিষয় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে একটি সমন্বিত আলোচনায় আগ্রহী ইরান।’ ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর অবরোধ আরোপ করা হবে না বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। লাভরভ বলেন, ‘তেল বাণিজ্যসহ একটি সার্বিক অবরোধ আরোপের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আমার ধারণা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ওই প্রস্তাব সমর্থন পাবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা এর আগে ইরানকে সতর্ক করেছিলেন, পরমাণু-সংকট নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি না হলে ইরানের ওপর নতুন অবরোধ চাপানো হবে।
মস্কো থেকে বিবিসির সাংবাদিক ব্রিজেট কেন্ডাল মন্তব্য করেন, পরিস্থিতির বিশ্লেষণ থেকে দেখা যাচ্ছে, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও রাশিয়ার মধ্যে দূরত্ব থেকেই যাচ্ছে। ফলে এ সংকট নিয়ে ছয়টি রাষ্ট্রের মধ্যে মতৈক্য প্রতিষ্ঠা সহজ হবে না।

ইউরোপের ফুটবলে জার্মান মেয়েদের ইতিহাস by সরাফ আহমেদ

ইংল্যান্ডকে ৬-২ গোলে ভাসিয়ে ইউরোপীয় মহিলা ফুটবলে টানা পঞ্চম শিরোপা জিতেছে জার্মানি। ১৯৮৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় মোট সাতবার চ্যাম্পিয়ন হলো জার্মানির মেয়েরা।
হেলসিঙ্কির অলিম্পিক স্টেডিয়ামে পরশুর ফাইনালের স্কোরলাইন যা বলছে, ম্যাচটা তত একপেশে ছিল না। ২২ মিনিটের মধ্যে অধিনায়ক ব্রিজিত প্রিঞ্জ এবং মেলানি বেরিংগারের গোলে জার্মানি ২-০ গোলে এগিয়ে গেলেও ২ মিনিট পরই একটি গোল ফিরিয়ে দেয় ইংল্যান্ড। কিম কুলিগের গোলে আবার ২ গোলের ব্যবধান গড়ে জার্মানি। ইংল্যান্ড আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে কেলি স্মিথের গোলের মাধ্যমে। কিন্তু ম্যাচের বাকিটা ছিল পুরোপুরি জার্মানির। পরপর দু গোল করে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ স্কোরার হয়ে যান গ্রিঙ্গস (৬ গোল)। শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডের পরাজয়ের বোঝা ভারি করেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা প্রিঞ্জ।
ইউরোপ মহাদেশীয় ফুটবলে এখন পর্যন্ত মহিলা ফুটবল ততটা জনপ্রিয় না হলেও জার্মানিতে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ টেলিভিশনে সরাসরি এই খেলা উপভোগ করেছেন। জার্মান মহিলা ফুটবল দলকে উত্সাহ দিতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন জার্মান রাষ্ট্রপতি হোর্স্ট কোহলার।
জার্মান ফুটবল ফেডারেশন দলের খেলোয়াড়দের প্রত্যেককে বার হাজার ইউরো (প্রায় বার লাখ টাকা) দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

চলছে ম্যারাডোনার কাটাছেঁড়া

খাদে পড়ে যাওয়া আর্জেন্টিনার সঙ্গে কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনা যেন আরও বেশি করেই খাদে পড়ে গেছেন। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলতে না পারার শঙ্কা ফুটবলপাগল দেশটির। আর্জেন্টিনার এই করুণ অবস্থার দায়টা পড়ছে কোচ ম্যারাডোনার ঘাড়ে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে চলছে কোচ ম্যারাডোনার কাটাছেঁড়া।
আলফিও বাসিলের কাছ থেকে ম্যারাডোনা যখন দায়িত্ব বুঝে নেন, বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের পয়েন্ট তালিকায় আর্জেন্টিনা তখন ছিল তৃতীয় স্থানে। অধঃপতিত হতে হতে এখন তারা পঞ্চম স্থানে। ম্যারাডোনার অধীনে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এ পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনা হারল চারটি ম্যাচ।
ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার ’৮৬-এর বিশ্বকাপ জয়ের রূপকার হতে পারেন। কিন্তু খেলোয়াড় ম্যারাডোনা যতটা উজ্জ্বল, কোচ ম্যারাডোনা যেন ততটাই মলিন। ক্রীড়া দৈনিক ওলে লিখেছে সেটাই, ‘একজন কোচের পক্ষে যত ভুল করা সম্ভব এর সবই করেছে ম্যারাডোনা। আর এগুলো খেলোয়াড়দের অনুত্সাহিত করেছে।’ দি লা ন্যাসিওন পত্রিকাটিরও ওই একই সুর, ‘এত এত ভুল করা কোচের জন্য সময়টা খুব কঠিন।’
আর্জেন্টিনার সর্বাধিক বিক্রীত পত্রিকা ক্লারিন সমালোচনার সঙ্গে ম্যারাডোনার এখন কী করতে হবে সেটাও জানিয়ে দিয়েছে। ‘গহিন গুহার দুয়ারে’ শিরোনাম দিয়ে তারা লিখেছে, ম্যারাডোনাকে পেরু বা উরুগুয়ের বিপক্ষে আর পা হড়কালে চলবে না।
১৯৯৪-১৯৯৫ পর্যন্ত যখন ডোপ নেওয়ার দায়ে বহিষ্কৃত ছিলেন, নিচু সারির ক্লাব মাদিউ দে করিয়েন্তেস ও রেসিং ক্লাব দে অ্যাভেল্লানেদাকে অল্প সময়ের জন্য কোচিং করিয়েছেন। এই দুটি দলকে ২৩ ম্যাচ কোচিং করিয়ে জয় দেখেছিলেন মাত্র ৩ বার। হেরেছেন ৮ ম্যাচে, ১২টি ম্যাচ ড্র।
ফুত্কারে উড়ে যাওয়ার মতো হালকা এই সিভি নিয়েও পূর্বসূরি ড্যানিয়েল পাসারেলা, মার্সেলো বিয়েলসা, হোসে পেকারম্যান আর আলফিও বাসিলেদের চেয়ে দ্বিগুণ বেতন পাচ্ছেন ম্যারাডোনা। কিন্তু তাঁর দলের অবস্থা? গত দুটি ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলা দেখে অনেকেই বলেছেন—দিগ্ভ্রান্ত অগোছানো একটি দল।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ৬০ জন খেলোয়াড়কে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দলে ডেকেছেন। চেষ্টা ছিল গোছানো একটি দল দাঁড় করাতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যর্থই বলতে হবে। ম্যারাডোনার দলের দুর্বলতম জায়গা মনে হয় রক্ষণভাগ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে গত ছয় ম্যাচে ১৪টি গোল খেয়েছে তাঁর দল। তবে যেখানে আর যেভাবেই অগোছানো হোক—সত্যটা এই, টাকার প্রতিদান দিতে পারেননি আর্জেন্টিনার মহাতারকা।
ম্যারাডোনা অবশ্য আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের সমালোচনাকে পাত্তা দিচ্ছেন না। খেলোয়াড়ি জীবনে যেমন ডাকাবুকো ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন তিনি। ‘১৫ বছর বয়স থেকে কাউকে ভয় পাই না আমি। এখন আমার ৪৮ এবং ওদের (সংবাদমাধ্যম) সঙ্গে লড়াই চলবেই’—বলেছেন মাসে ১ লাখ ডলার বেতন পাওয়া আর্জেন্টাইন কোচ।