Monday, August 3, 2009

সংখ্যালঘুর মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের পুরো সময়টা রাষ্ট্র পরিচালনা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনে ধর্মকে ন্যক্কারজনকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। যেকোনো রাজনৈতিক-সামাজিক সংকট উত্তরণে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থ করতে কারণে-অকারণে ‘ইসলাম বিপন্ন’—এই ধোঁয়া তোলা হয়েছে। সামরিক শাসন ও স্বৈরাচার বলবত্ রাখতে ইসলামের বিপন্নতার প্রচার ছিল প্রধান অবলম্বন। সামরিক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতাপ্রিয়তা পাকিস্তানকে কোথায় দাঁড় করেছে তা আজ আলোচনার অপেক্ষা রাখে না। ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতার কারণেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রকাঠামোয় ১৯৫০, ১৯৬৪ ও ১৯৭১ সালে হিন্দুদের জায়গা-জমি ‘মালে গানিমাত্’ হয়ে যায়।
১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর হিন্দু নাগরিকের সম্পত্তি ‘শত্রু সম্পত্তি’ আইনের আওতায় আনা হয়। ১৯৭২-এ শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল করার নৈতিক দায়িত্ব ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের, তারা তা করেনি। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা সরকারের কাছে হিন্দু সম্প্রদায় আরও উপেক্ষিত হয়েছে। জাল দলিল, ভুয়া কাগজপত্র ও অর্পিত সম্পত্তির নাম দিয়ে যেভাবে হিন্দু সম্পত্তি গত পাঁচ দশক দখল করা হয়েছে তাতে বোঝা গেছে দখলদারের একমাত্র রাজনীতি ক্ষমতার সঙ্গে থাকা। এ দেশে অর্পিত সম্পত্তির নাম ভাঙিয়ে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ সংখ্যাগুরু মুসলিম লাভবান হলেও ৯৯ শতাংশ মুসলিমকে সাম্প্রদায়িকতার বিভাজন দিয়ে হিন্দুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, দেশের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক অবিশ্বাসের পরিবেশ, যার পরিণতিতে সাতচল্লিশের পর থেকে প্রায় দেড় কোটি হিন্দু মাতৃভূমি ছেড়ে দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছে।
১৯৭৪-এর পর অর্পিত সম্পত্তিসংক্রান্ত যাবতীয় আইন বাতিল হওয়া সত্ত্বেও ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতি সায়েম, পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়া ও জেলারেল এরশাদ অর্পিত সম্পত্তিসংক্রান্ত আদেশ বহাল রাখেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ‘শত্রু সম্পত্তি’ আইনের রূপান্তর ঘটিয়ে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ আইন বলবত্ রাখা হয়। স্বাধীন দেশের নাগরিকের ওপর ‘শত্রু সম্পত্তি’ আইন চালু রাখা থেকে প্রতীয়মান হয় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র তার সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতি পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি।
অর্পিত সম্পত্তি আইন জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ ও বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ: ২৭ অনুচ্ছেদ ২৮(১), অনুচ্ছেদ ২৯(১), অনুচ্ছেদ ২৯(২) নাগরিকের অধিকারকে লঙ্ঘন করে আসছে। সাজু হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলায় ২০০৪ সালের ১৪ আগস্ট তারিখে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের (আপিল বিভাগ) বিচারপতি মো. রুহুল আমিন, বিচারপতি এম এম রুহুল আমিন এবং বিচারপতি তোফাজ্জেল ইসলাম। ‘শত্রু সম্পত্তি আইন’ ১৯৬৯ সালের ১ নম্বর অধ্যাদেশ ২৩ মার্চ ১৯৭৪ তারিখে সংসদে বাতিলের পর এটি একটি মৃত আইন, অর্পিত সম্পত্তির নামে আইনি প্রয়োগের ভিত্তি নেই—মর্মে এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের (আপিল বিভাগ) ওই রায়ে বলা হয়, ‘২৩ মার্চ ১৯৭৪ তারিখে ১৯৬৯ সালের ১ নম্বর অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় শত্রু সম্পত্তি আইন নিজেই মৃত, পরে এ আইনের ভিত্তিতে আবার অর্পিত সম্পত্তি কেস রুজু করা আর যায় না, যেহেতু আইনটি ইতিমধ্যে নিজেই মৃত। তদনুযায়ী ১৯৮০ সালের ভিপি কেস নম্বর ২১০-এ ভূমির কেস কোনো ক্রমেই অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করার কোনো ভিত্তি নেই।’ (৫৮ ডিএলআর-২০০৬ পৃ. ১৭৭-১৮৫)।
এই ঐতিহাসিক রায় ২০০৪ সালের ১৪ আগস্ট দেওয়া হলেও দুই বছর পর ডিএলআরের ২০০৬ সালে তা প্রকাশ পায়। অতএব ২৩ মার্চ ১৯৭৪ সালের পর জিয়া-এরশাদ-খালেদা-শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তহসিলদারদের দিয়ে লুক্কায়িত অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার ও চাকরির তৌফা হিসেবে যেসব হিন্দু সম্পত্তি তালিকাভুক্ত বা কেস করা হয়েছে, তা অবৈধ। জেনারেল এরশাদের ১৯৮৪ সালে নিষেধাজ্ঞার পর নতুন কোনো সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি ঘোষণা করা নিষেধ ছিল কিন্তু সবকিছু অবজ্ঞা করে ১৯৮৯ সালে হাজার হাজার একর সম্পত্তি অর্পিত ঘোষণা করা হয়।
অতএব ২৩ মার্চ ১৯৭৪ সালের পর হিন্দুদের যেসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্পিত হিসেবে সরকার তালিকাভুক্ত বা মামলা করেছে তা প্রকৃত উত্তরাধিকারী ও বৈধ মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হোক। দেশত্যাগী বা দেশান্তরী বাঙালি যারা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের আইনমতে বৈধ নাগরিক তাদের পৈতৃক সম্পত্তি অর্পিত হিসেবে সরকার তালিকাভুক্ত বা লিজভুক্ত। আমরা দাবি করছি তাদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দিন। সম্পত্তি ফিরে পাওয়া তাদের সাংবিধানিক অধিকার। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এটা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
পঁচাত্তর-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ দেশে সামরিক শাসনের উদ্ভব হয়। জেনারেল জিয়ার শাসনামলে বাহাত্তরের অসাম্প্রদায়িক সংবিধান সংশোধন করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল গড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জেনারেল এরশাদের আমলে ১৯৮৮ সালে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ করা হয়, যার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের অধিকার মারাত্মকভাবে খর্বিত হয়।
২০০১ সালের বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, সে ব্যাপারেও সন্তোষজনক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় পূজা অনুষ্ঠানের সময় প্রতিমা ভাঙচুর, শ্লীলতাহানির ঘটনার খবরও পাওয়া যায়। অনেক জায়গায় সংখ্যালঘুদের বলপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা কিছু দাবি রাখছি:
উচ্চ আদালতের রায় মোতাবেক ২৩ মার্চ ১৯৭৪ সালের পর হিন্দুদের যেসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্পিত হিসেবে সরকার তালিকাভুক্ত বা মামলা করেছে তা প্রকৃত উত্তরাধিকারী ও বৈধ মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ করা হোক।
ভারতের সংখ্যালঘুদের আর্থসামাজিক অবস্থান পর্যালোচনার জন্য ‘বিচারপতি রাজেন্দ্র সাচার কমিশন’ গঠন করে যে দৃষ্টান্ত রেখেছে তা অনুসরণ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের আর্থসামাজিক অবস্থান পর্যালোচনার জন্য একটি ‘মাইনরিটি কমিশন’ গঠন, ‘মাইনরিটিবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ বা ‘মাইনরিটি ফাউন্ডেশন বা বোর্ড’ গঠন করা হোক।
হিন্দুর উত্তরাধিকার আইনের সংশোধন করে ভারতীয় হিন্দু আইনের আলোকে নারীর জন্য সম্পত্তিতে সম-অধিকার প্রদান করা জরুরি। অমুসলিম নাগরিকদের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা হোক। সংবিধানের পঞ্চম ও অষ্টম সংশোধনী বাতিল করা হোক— কারণ তা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিসম্পন্ন। ১৯৭২ সালে গণপরিষদ প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ রূপ প্রতিস্থাপন করা হোক।
লেখকেরা: মানবাধিকার কর্মী, সাবেক সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

‘ব্র্যাডম্যানের পরই পন্টিং’

স্যার ডন ব্র্যাডম্যান এমন এক অবস্থানে, নিজের সুদূরতম কল্পনাতেও যেখানে পৌঁছানোর কথা কেউ ভাবতে পারে না। আলোচনাটা তাই সীমাবদ্ধ ‘ব্র্যাডম্যানের পর অস্ট্রেলিয়ার সেরা কে’, এর মধ্যেই। সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার মনে করেন স্বীকৃতিটা প্রাপ্য রিকি পন্টিংয়ের। এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বোর্ডারের অস্ট্রেলীয় রেকর্ড ১১,১৭৪ রান ছাড়িয়ে যাওয়া পন্টিংয়ের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে অবশ্য পরিসংখ্যানও। তার পরও বোর্ডারের স্বীকৃতি ‘ব্র্যাডম্যানের পরই পন্টিং’ এই দাবিটাকে শক্ত ভিত্তি দেবে সন্দেহ নেই।
বোর্ডার অবশ্য পরিসংখ্যানের চেয়ে বড় করে দেখেছেন পন্টিংয়ের ব্যাটিং ক্ষমতাকেই, ‘তার হাতে সব ধরনের শট আছে। বিশেষ করে পুল ও কাট এত ভালো খেলে যে তার বিপক্ষে বল করা কঠিন। রিকি ভয়-ডরহীন, দ্রুতগতির বলকেও পাত্তা দেয় না। এতগুলো গুণ যার আছে, বলতেই হবে সে পরিপূর্ণ ব্যাটসম্যান।’
২১তম জন্মদিনের আগেই টেস্ট আঙিনায় অভিষিক্ত পন্টিং মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও এখন তাঁর সেঞ্চুরি ৩৮টি। ১৫৬ টেস্ট খেলা বোর্ডারের রেকর্ড পন্টিং পেরিয়েছেন ১৩৪তম টেস্টেই। বোর্ডারের ২৭ সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছেন অনেক আগেই, গড়েও বোর্ডারের (৫০.৫৬) চেয়ে অনেক এগিয়ে (৫৬.২২)। মোট রানসংখ্যার দিক থেকে ৩৪ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের আগে আছেন কেবল শচীন টেন্ডুলকার (১৫৯ টেস্টে ৪২ সেঞ্চুরিসহ ১২,৭৭৩) ও ব্রায়ান লারা (১৩১ টেস্টে ৩৪ সেঞ্চুরিসহ ১১,৯৫৩)। অধিনায়ক পন্টিং অবশ্য ‘ব্যাটসম্যান পন্টিংয়ের’ মতো স্বীকৃতি আদায় করতে পারেননি, কিন্তু ২০টি টেস্ট সিরিজের ১৭টিতেই দলকে জিতিয়েছেন তিনি। ওয়েবসাইট।

চার উইকেটকিপার!

১৯৮৬ সালের ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড লর্ডস টেস্ট। ব্যাটিংয়ের সময় রিচার্ড হ্যাডলির বলে আহত হলেন ইংল্যান্ডের নিয়মিত উইকেটকিপার ব্রুস ফ্রেঞ্চ। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়ালেন ব্যাটসম্যান বিল অ্যাথে। তবে মাত্র দুই ওভার পরই স্পনসরের চাহিদায় মাঠে আসা ৪৫ বছর বয়সী বব টেলরকে ধরে এনে দেওয়া হলো কিপিংয়ের দায়িত্ব। তৃতীয় দিনে কিপিং করলেন ববি পার্কস। শেষ দিনে শেষ বলটির জন্য আবার গ্লাভস হাতে নিলেন ফ্রেঞ্চ। মজার ব্যাপার হলো এক টেস্টে ইংল্যান্ডের হয়ে চারজন কিপিং করলেও কেউ কোনো ক্যাচ নিতে পারেননি!

আজ দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছে একাডেমি দল

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য কাল ১৪ সদস্যের জিপি-বিসিবি জাতীয় একাডেমি দল ঘোষণা করা হয়েছে। মার্শাল আইয়ুবের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকান একাডেমি দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের, তিনটি একদিনের ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে আজই দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে দলটি। দলের সহ-অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন।
প্রিটোরিয়ায় চার দিনের ম্যাচ দুটি শুরু হবে ৭ ও ১৩ আগস্ট থেকে। ১৯ ও ২১ আগস্ট প্রথম দুটি ওয়ানডে প্রিটোরিয়াতেই, ২৩ আগস্ট তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি হবে জোহানেসবার্গে। আর ২৫ আগস্ট একই দিনে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে প্রিটোরিয়ায়। একাডেমি দল দেশের উদ্দেশে রওনা দেবে আগামী ২৬ আগস্ট।
একাডেমি দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর উপলক্ষে কাল গুলশানে গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য শাকিল কাসেম, নির্বাচক আকরাম খান ও একাডেমি দলের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের একাডেমি দল: মার্শাল আইয়ুব (অধিনায়ক), মোহাম্মদ মিঠুন (সহ-অধিনায়ক), রনি তালুকদার, নাদিম উদ্দিন, নাসির হোসেন, শুভগত হোম, ফরহাদ হোসেন, তানভীর হায়দার খান, সাকলাইন সজীব, শেখ রবিউল ইসলাম, মুক্তার আলী, শুভাশিস রায়, কাজী কামরুল ইসলাম ও শফিউল ইসলাম। স্ট্যান্ড বাই: ইমন আহমেদ, কে এম শাকিল, হামিদুল ইসলাম ও মাইসিকুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন দুটি ফুটবল টুর্নামেন্ট

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চাওয়া আমরা যেন জেলাগুলোতে ফুটবল টুর্নামেন্ট আরও বেশি করি। এমনিতে ঢাকার বাইরে আমরা কিছু টুর্নামেন্ট করছি, তার সঙ্গে দুটি নতুন টুর্নামেন্ট যোগ করতে বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কিছু বলা মানেই তাঁর নির্দেশ। আমরা সেভাবেই বিষয়টি দেখছি এবং অচিরেই এ নিয়ে কাজ শুরু হবে’—গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সারাংশ কাল সাংবাদিকদের জানালেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।
জেলাগুলোতে নিয়মিত লিগ হয় না। উপজেলার দল নিয়ে জেলা পর্যায়ে টুর্নামেন্ট হারিয়ে গেছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উপজেলায় কিছু খেলার আয়োজন হলেও ধারাবাহিকতা নেই। জেলার চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে নিয়ে বাফুফে সম্প্রতি ক্লাব কাপ টুর্নামেন্ট করলেও জেলায় আগের সেই ফুটবল-ঢেউ চোখে পড়ে না। এসব কারণেই নতুন দুটি টুর্নামেন্ট করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
দুটিই হবে জেলাভিত্তিক টুর্নামেন্ট। একটি উপজেলাগুলোকে নিয়ে, অন্যটি স্কুল টুর্নামেন্ট। বর্তমানে সারা দেশে স্কুল টুর্নামেন্ট করছে বাফুফে, এই টুর্নামেন্টটি হবে বাড়তি আয়োজন। এখন থেকে দুটি টুর্নামেন্টই নিয়মিত করা হবে। টুর্নামেন্ট দুটির মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় জেলায় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো গতি পাবে, আশাবাদ বাফুফের।

কোরাজনকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষের ঢল

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট কোরাজন অ্যাকুইনোকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সে দেশের মানুষ। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাতভর দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেত্রীকে শ্রদ্ধা জানায় হাজার হাজার ফিলিপিনো। এদিকে তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বনেতাদের শোক প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠান হবে আগামী বুধবার। খবর এএফপির।
ফিলিপাইনে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বদানকারী নেত্রী কোরাজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার মারা যান। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য তাঁর কফিন সন্ধ্যায় রাজধানী ম্যানিলার একটি ক্যাথলিক স্কুলে রাখা হয়। গতকাল রোববারও সেখানে ছিল শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকার্ত মানুষের দীর্ঘ সারি। আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত কফিন সেখানেই রাখার কথা।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেকেরই পরনে ছিল কোরাজনের বিপ্লবের প্রতীক হলুদ রঙের পোশাক। অনেকেই এসেছিল হলুদ রঙের ফিতা মাথায় বেঁধে। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এসে দীর্ঘ সারিতে ধৈর্য নিয়ে স্কুলের ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৫৪ বছর বয়সী লট্টি ইলাং। তিনি বলেন, ‘কোরাজনের বিপ্লবের শুরু আমি দেখেছি, দেখেছি একনায়ক মার্কোসের পতনে তাঁর ভূমিকা; এখন শেষবারের মতো তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।’
আগামী বুধবার ম্যানিলার মেমোরিয়াল পার্কের কাছে স্বামী বেনিগনো অ্যাকুইনোর পাশেই কোরাজনকে সমাহিত করা হবে। তাঁর ইচ্ছানুযায়ীই রাষ্ট্রীয়ভাবে শেষকৃত্যানুষ্ঠান করা হবে না। তবে ওই দিন সব স্কুল বন্ধ থাকবে।
ফিলিপাইনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ‘পিপল পাওয়ার’ গণ-অভ্যুত্থানের নেত্রী কোরাজনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বারাক ওবামা বলেছেন, ‘তাঁর সাহস, প্রতিজ্ঞা এবং নেতৃত্ব আমাদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।’ পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট এক শোকবার্তায় কোরাজনকে ‘গভীর দৃঢ়চেতা নারী’ হিসেবে অভিহিত করেন। এদিকে ফিলিপাইনের সাবেক ফার্স্ট লেডি ইমেলদা মার্কোস বলেছেন, সাবেক এ প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে পুরো জাতির মতো তাঁর পরিবারও শোকার্ত।
কোরাজনের মৃত্যুতে ফিলিপাইনে ১০ দিনের জাতীয় শোক চলছে। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কোরাজন অ্যাকুইনো। ১৯৮৬ সালে তাঁর নেতৃত্বেই এক গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী ফার্দিনান্দ মার্কোস সরকারের পতন হয়। মার্কোসের পতনের পর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে সব বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত: গিলানি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি বলেছেন, কাশ্মীরসহ বিরাজমান সব সমস্যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত পাকিস্তান। যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একটি টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে গিলানি এসব কথা করেন।
গিলানি বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার সব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন, যাতে দুই দেশ জনগণের সমস্যার দিকে মনযোগ দিতে পারে। খবর পিটিআইয়ের।
ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে।
গিলানি বলেন, বিরাজমান সমস্যার সমাধান হলে দেশ দুটি বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অবকাঠামোগত ঘাটতি, মানুষের মৌলিক চাহিদাসহ উপমহাদেশের দেড় শ কোটি মানুষের সমস্যার দিকে নজর দিতে পারবে।

ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিচারের তীব্র নিন্দা করলেন খাতামি

ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে যে বিচারকাজ চলছে, তার তীব্র নিন্দা করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি। এএফপি ও বিবিসি।
খাতামির ওয়েবসাইটে বলা হয়, এই মামলা ইরানের ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের যে আস্থা রয়েছে, সেটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
একদল রাজনৈতিক কর্মী ও আইনজীবীর উদ্দেশে খাতামি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, গতকাল যা হয়েছে সেটা সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।

কলকাতা থেকে উঠে গেছে ১৫ বছরের পুরোনো সব যানবাহন

কলকাতা শহর দূষণমুক্ত করতে গত শনিবার সেখান থেকে উঠে গেছে ১৫ বছরের পুরোনো প্রায় সব যানবাহন। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে পুরোনো যানবাহন ধরার অভিযান। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পুরোনো যানবাহন উঠিয়ে দেওয়া হয়।
কলকাতা পুলিশ বলেছে, অন্য দিনের তুলনায় গত দুই দিনে কলকাতা শহরে ৩২ শতাংশ যানবাহন কম চলেছে। তার পরও পুলিশের হিসাব অনুযায়ী কলকাতার রাস্তায় গতকাল বেসরকারি বাস সাত হাজার, সরকারি বাস তিন হাজার এবং স্কুটার চলেছে পাঁচ হাজার।
এদিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কলকাতা শহর থেকে ১৫ বছরের পুরোনো তিনটি ট্যাক্সি, কয়েক শ স্কুটার ও একটি বাস আটক করেছে। এ অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ বাস, ট্যাক্সি ও স্কুটারের কর্মীরা আটটি সরকারি বাস ভাঙচুর করেছেন। রোববার সকালে বেআইনি যান ধরার প্রতিবাদে কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের ডাকে কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়।
হাইকোর্টের পুরোনো বাস চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে কলকাতা শহর, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে উঠে গেছে ১৫ বছরের পুরোনো দুই হাজার ৫৫৭টি বাস ও ৫৭৩টি মিনিবাস। শুধু কলকাতা শহর থেকেই উঠে গেছে ছয় হাজার ৫০০টি ট্যাক্সি আর ৩০ হাজার স্কুটার। এ ছাড়া বাতিল করা হচ্ছে বেশ কিছু স্কুলবাস ও পণ্যবাহী ট্রাক।
বছরখানেক আগে কলকাতা হাইকোর্ট এক নির্দেশে কলকাতাকে দূষণমুক্ত করার জন্য ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারির আগের সব বাস, মিনিবাস ও পণ্যবাহী যান বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন এ নির্দেশে বলা হয়েছিল, ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ নির্দেশ কার্যকর করতে হবে রাজ্য সরকারকে। এই নির্দেশের পর বাস ও মিনিবাসের মালিকেরা রাজ্য সরকারের কাছে সময় চাইলে রাজ্য সরকার কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করে সময়সীমা ২০০৯ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়। কিন্তু এই দীর্ঘসময়ে পরিবহনমালিকেরা ওইসব যানবাহন চলাচলের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিষয়টি ঝুলে থাকে।
এদিকে রাজ্য সরকার হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ঘোষণা দেয়, ৩১ জুলাইর পর আর সেই পুরোনো বাস শহরের রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না। এতে দারুণ ক্ষুব্ধ হয় বাসমালিকদের ১৯টি সংগঠন নিয়ে গড়া ‘জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেট’। এ নিয়ে গত ২৪ জুলাই রাজ্যব্যাপী ১২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট পালন করে তারা।

মন্দা কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সময় লাগবে: ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক বেশি সময় লাগবে। কারণ এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই চলছে। গত শনিবার বেতার ও ইন্টারনেটে সাপ্তাহিক ভাষণে ওবামা এ কথা বলেন। শুক্রবার মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই যা ভাবছে, তার চেয়ে মন্দার প্রভাব আরও ব্যাপক। গত ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেস যে অর্থনৈতিক উদ্দীপনা প্যাকেজ পাস করেছে এবং যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাতে মন্দার প্রভাব কমানো সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের বলছে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পূর্বশর্ত হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।’ এর আগে গত সপ্তাহের গোড়ার দিকে ওবামা এই বলে আভাস দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত মন্দা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের দ্বিতীয় তিন মাসের (এপ্রিল-জুন) হিসাব অনুযায়ী, মোট জাতীয় উত্পাদন (জিডিপি) ১ শতাংশ কমেছে। বছরের প্রথম তিন মাসে জিডিপি কমে যাওয়ার হার ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ লাখ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। অর্থনীতিবিষয়ক পত্রিকা ব্লুমবার্গ পরিচালিত জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ২০১০ সাল নাগাদ কর্মহীনের হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। মার্কিন শ্রম দপ্তরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়েছে, গত জুন মাসে বেকারত্বের হার ছিল সাড়ে ৯ শতাংশ।
বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশাবাদ প্রকাশ করে ওবামা বলেন, ‘আমি মনে করি, চাকরি থেকে ছাঁটাই না থামা পর্যন্ত মন্দা কেটেছে—এ রকমটা ভাবা যাবে না। প্রতিটি বেকার আমেরিকানের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি না করা পর্যন্ত আমি থামব না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি জানি, অসংখ্য পরিবার ও ব্যবসায়ী এই মন্দা কেটে যাওয়ার অপেক্ষায় অনেক কষ্ট সহ্য করছেন। কিন্তু আমি এও জানি, অবশ্যকর্তব্যগুলো ঠিকভাবে করতে পারলে এই মন্দা কেটে যাবে এবং ভবিষ্যতের সোনালী দিনের দেখা পাব আমরা।’
মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ) স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারবিষয়ক এনার্জি অ্যান্ড কমার্স কমিটি প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা অনুমোদন করার ব্যাপারটিকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনার বাস্তবায়নে এই গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য আইনসভার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গত শুক্রবার এনার্জি অ্যান্ড কমার্স কমিটিতে ৩১-২৮ ভোটে স্বাস্থ্যনীতি অনুমোদন করা হয়। পরের দিন শনিবার ওবামা এক বিবৃতিতে এই অনুমোদনকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। আড়াই লাখ কোটি ডলারের এই স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনাকে এ বছর অভ্যন্তরীণ খাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন ওবামা। ব্লুমবার্গ, রয়টার্স অনলাইন।

জনগণ সুফল দেখতে চায় -মন্ত্রিসভা ও দলে পরিবর্তন

এটা বেশ আগ্রহের বিষয় যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে দলের নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভায়ও কিছু রদবদল এসেছে। দিনবদলের সনদ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা দলের কাছে জনগণ পরিবর্তন আশা করে। নেতৃত্বের খোলনলচে প্রায় বদলে দেওয়ার বিষয়টি চমকপ্রদ হয়েছে; মন্ত্রিসভার কিছু সম্প্রসারণ ও দপ্তর পুনর্বণ্টনও জনমনে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয়বারের মতো সম্প্রসারণের পর ৩২ সদস্যের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা এখন দাঁড়াল ৪৪; নতুন ছয়জনের মধ্যে একজন মন্ত্রী ও পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার আকার ছোট ছিল, ছোট মন্ত্রিসভাই ভালো; তবে এই সম্প্রসারণ বেশি হয়ে যায়নি, এর প্রয়োজন ছিল। এখন বলা যায়, মন্ত্রিসভার আকার যথাযথ হয়েছে। কথা ছিল, ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের কর্মসম্পাদনের মূল্যায়ন করা হবে। সেটা করা হয়েছে কি না, সে খবর পাওয়া যায়নি। এখন যে দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হলো, সেটা কোনো মূল্যায়ন-বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা হয়েছে কি না, তাও আমরা জানি না। দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন-পুনর্বণ্টন হওয়া বাঞ্ছনীয়। অপেক্ষাকৃত কমবয়সী ও মন্ত্রণালয় চালানোর পূর্ব-অভিজ্ঞতা নেই—মন্ত্রিসভায় এমন ব্যক্তিদের প্রাধান্য একটা চ্যালেঞ্জের বিষয় বটে। তবে পুরোনোদের কর্মসম্পাদনের গুণগত মান সম্পর্কে জনগণ যেহেতু ওয়াকিবহাল, যেহেতু অভিজ্ঞতাই সততা ও দক্ষতাপূর্ণ কর্মসম্পাদন নিশ্চিত করেনি, তাই এই নতুনদের নিয়ে আশা করা যায়।
বিশেষত বলতে হয়, পুনর্বণ্টনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর শূন্যপদ পূরণ হয়েছে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী প্রতিমন্ত্রীর দ্বারা। এই মন্ত্রণালয়ের অচলাবস্থা নিয়ে জনমনে এক ধরনের হতাশা দেখা দিয়েছিল; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিল। এখন নতুন প্রতিমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্ত্রণালয়ের কাজ গুছিয়ে আনবেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে—জনগণ এমনটিই প্রত্যাশা করবে। অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই প্রত্যাশা: আরও কার্যকর, দক্ষ ও জনমুখী হবে; সার্বিক সুশাসনের পথ প্রশস্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ব্যাপারে বলেছেন, ‘দেখি, তাঁরা কী প্রতিদান দেন।’ জনগণও সেটাই দেখতে চাইবে।
মন্ত্রিসভার পরিবর্তনের চেয়েও বেশি আগ্রহের বিষয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন। বহু বছর ধরে যেসব নেতা দলের মূল নীতিনির্ধারণী পদগুলোতে বহাল ছিলেন, এবার তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নতুনেরা। এটা রাজনৈতিক মহলে কিছুটা বিস্ময়ের সৃষ্টি করলেও ৬০ বছরের পুরোনো দল আওয়ামী লীগে এই পরিবর্তন প্রত্যাশিত ছিল। এখন নতুনদের নিয়ে সভাপতি কতটা গঠনমূলকভাবে অগ্রসর হতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়। এত দিন যেভাবে চলে এসেছে, তাতে দল ক্ষমতাসীন হলে তার নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ ব্যক্তিগত লোভ-লালসা চরিতার্থ করতে নানা রকম অন্যায়-অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। এটা খোদ সরকারের জন্যই ক্ষতিকর হয়। আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব এই নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দলকে মুক্ত করে জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক ধারায় অগ্রসর হবে—এটা জনগণ কামনা করে।

এত কঠোর সিদ্ধান্তই যদি নেবেন তাহলে ক্ষমার নাটক কেন

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী কমিটি থেকে পুরোনো ও অভিজ্ঞ নেতাদের বাদ দেওয়ার ঘটনায় দল ও দলের বাইরে নানারকম বিশ্লেষণ হচ্ছে। দলের একটি অংশের মত, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর নানা ঘটনায় কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। তাই নতুনের আগমনে মাঠপর্যায়ে বিরূপ কোনো প্রভাব পড়েনি। নতুনেরা দলে কেমন করবেন, তা দেখতে চান তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা পুরোনো ও মধ্যম সারির বড় একটা অংশকে দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিলেও এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাড়া অন্যদের তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। নতুন নেতৃত্ব ভালো করুক, সেটাই চাইছেন নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা।
জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁদের ভাগ্য সম্পর্কে আগাম কিছুটা আঁচ করতে পারলেও মধ্যম সারির নেতারা স্তম্ভিত ও বিস্মিত হয়েছেন। তাঁদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা নানা কথা বললেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ নেতারা এ মুহূর্তে কোনো কথা বলতে চাননি। মধ্যম সারির নেতারা এখনো আশা করছেন, ২৬টি শূন্যপদে তাঁরা স্থান পাবেন।
সূত্র জানায়, অনেক নেতাই এখন হতাশ। তাঁদের সমর্থকেরা ভিড় করলেও কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না। একজন নেতা আক্ষেপ করেন এবং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘শেষ জীবনে এটাই প্রাপ্য ছিল!’
অপর এক নেতা বললেন, সভানেত্রী যদি এ রকম সিদ্ধান্তই নেবেন, তাহলে ক্ষমার নাটক করলেন কেন? আর তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছেনই বা কে?
আরেকজন নেতা বলেন, ‘নেত্রী পরে বুঝবেন। বিএনপি তো ৩০টি আসন পেয়েছে, আমরা কয়টা পাই, সেটাই দেখার বিষয়।’
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী কথিত সংস্কারপন্থীদের ওপর ক্ষুব্ধ থাকলেও এতটা কঠোর হতে চাননি। কিন্তু কাউন্সিলর ও মাঠপর্যায়ের মনোভাব তাঁকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। কাউন্সিল অধিবেশনে শত শত কাউন্সিলর সংস্কারপন্থীদের দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। কাউন্সিলররা এ দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে একপর্যায়ে মঞ্চে ওঠে পড়েন। শেখ হাসিনা তাঁদের শান্ত করেন। কাউন্সিলরদের এ রকম প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনা কাউন্সিল অধিবেশনে তিনবার ক্ষমার কথা উচ্চারণ করেন। এরপর ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কাউন্সিলররা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে একই দাবি করেন।
সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ২৬টি সদস্যপদ পূরণের জন্য যে খসড়া করা হয়েছে, তাতেও বেশির ভাগ নতুন মুখ। গঠনতন্ত্র অনুসারে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় সদস্য মনোনয়নের জন্য গত শুক্রবার সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে আলোচনা করেন। প্রাথমিকভাবে শেখ হাসিনা মধ্যম সারির কয়েকজন নেতাকে কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে নিয়োগের কথা বললেও সভাপতিমণ্ডলীর অনুমোদন পাননি। বরং তাঁদের বাদ দেওয়ার কথা ওঠে বৈঠকে। ফলে ওই দিনের বৈঠকে ২৬ সদস্যের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী নানা দিক বিচার-বিশ্লেষণ করেই কমিটি গঠন করেছেন। প্রথমত, তিনি অবিশ্বস্ত নেতাদের সরিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। তবে নতুনের আগমনকে শুভ কামনা করে তাঁরা দলকে এগিয়ে নেবেন সে প্রত্যাশাই করছেন সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

হেলিকপ্টার থেকেই টিপাইমুখ প্রকল্প দেখতে হলো by ইফতেখার মাহমুদ

টানা ৪০ মিনিট হেলিকপ্টারে ঘুরেও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল শেষ পর্যন্ত টিপাইমুখে নামতে পারেনি। দুই দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আগের দিনের মতো গতকাল শনিবারও তাঁরা টিপাইমুখ প্রকল্পে নামতে পারলেন না।
কাল বাংলাদেশ সময় রাত নয়টায় সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছয়জন ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে দিল্লি ফেরেন। বাকি চার সদস্য কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরবেন।
দিল্লি ফিরে সংসদীয় দলের নেতা আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ঘন মেঘ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে টিপাইমুখ এলাকায় নামা যায়নি। তবে ওই এলাকায় হেলিকপ্টার খুব নিচু দিয়ে যাওয়ায় প্রতিনিধিদল এলাকাটি দেখতে পেরেছে। টিপাইমুখ এলাকায় কোনো অবকাঠামো তাঁদের চোখে পড়েনি।
সংসদীয় দল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় ফিরে তাঁরা ভারত সরকারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও আশ্বাসের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন। দলের সঙ্গে যাওয়া বিশেষজ্ঞরা ভারতের দেওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য ভারতের কাছ থেকে লিখিতভাবে চাইবেন।
ভারত সফরকে টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হিসেবে বর্ণনা করে একজন সাংসদ জানান, এই সফরের মাধ্যমে এটা অন্তত নিশ্চিত হলো যে, বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা না করে ভারত টিপাইমুখে কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে হাত দেবে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকলে তাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রতিনিধিদল ভারত সফরে যাবে। পানিসম্পদমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এই সম্ভাব্য দলে বেশ কয়েকজন সাংসদ ও বিশেষজ্ঞের থাকার সম্ভাবনা আছে। তাঁরা মূলত ভারতের যৌথ নদী কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে টিপাইমুখ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও ব্যাখ্যা তুলে ধরবেন।

খালেদা জিয়ার ম্যুরাল ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ম্যুরাল ভাঙচুরের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার এক ঘণ্টা কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। এদিকে ম্যুরাল সংস্কারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আরজু মিয়া।
সূত্র জানায়, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ম্যুরাল সংস্কারের দাবি জানান। মানববন্ধনে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, সাবেক সহ-উপাচার্য এনামুল হক খান, সৈয়দ কামরুল আহসান, মাফরুহী সাত্তার প্রমুখ।
গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির নেতা-কর্মীরা গতকাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন ও কর্মবিরতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে ওই কর্মসূচি দেওয়া হয়। পরে অবশ্য তা স্থগিত করা হয়। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ নাসের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক দিক বিবেচনা করে কর্মসূচি স্থগিত করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আরজু মিয়া বলেন, ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনার পরপরই বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ মো. আবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ম্যুরালটি সংস্কারে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট থেকে ৩০-৩৫ জন এসে খালেদা জিয়া হলের সামনে নির্মিত ওই ম্যুরাল ভাঙচুর করে।

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবসের কর্মসূচি সফল করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথ সভা গতকাল শনিবার সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর।

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত

বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে বক্তারা বলেছেন, শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এক বিগ্রেড সেনা প্রত্যাহার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও আগেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ ছিল। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল শনিবার এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের পর্বে অতিথি আলোচক ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বিএনপির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, কবি আসাদ চৌধুরী ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সায়রা খান।
সংলাপের শুরুতেই পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করেন এক দর্শক। জবাবে সায়রা খান বলেন, কোনো সংঘাতপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিন সেনা থাকা কোনো সমাধান নয়। শান্তিচুক্তি হয়েছে ১৯৯৭ সালে। আরও আগেই সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা উচিৎ ছিল। অর্থমন্ত্রী বলেন, শান্তিচুক্তি অনুযায়ী সেনা সরানো হয়েছে। যারা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে তারা বাদে সবার এতে সমর্থন আছে। সেনা প্রত্যাহারে সেখানকার নিরাপত্তায় কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন তিনি।
আসাদ চৌধুরী বলেন, পাহাড়ি-বাঙালি বা সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ থাকা উচিৎ নয়। এ দেশের সবাই বাংলাদেশি। তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এসে আর চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি। আগের সরকার ভালো কাজ করলেও পরের সরকার সেটার বিরোধিতা করবে, এই সংস্কৃতি বাদ দেওয়া উচিৎ। মঈন খান বলেন, সেনাবাহিনী কোথায় থাকবে, কোথায় থাকবে না; সেটা সময়ের নিরিখে ঠিক করা উচিৎ।
সংলাপের দ্বিতীয় প্রশ্নে এক দর্শক আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে নেতা নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে কি না, জানতে চান। এ ব্যাপারে আসাদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখনো পুরোপুরি চর্চা হয় না। তবে কাউন্সিল হয়েছে এতেই তিনি খুশি। সায়রা খান বলেন, তাঁর কাছে মনে হয়নি পুরোপুরি গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। দলের ভেতরেও বিতর্ক আলোচনা থাকতে হবে। কিন্তু নেতা নির্বাচনে সেটি ছিল না। মইন খান বলেন, অতীতে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রী ঠিক হতো। এবার সেটি হয়নি। অর্থাৎ দলটি গণতন্ত্র থেকে আরও পিছিয়েছে।
তবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সব কাউন্সিলর নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব নেত্রীকে দিয়েছিলেন। নেত্রী সবার সঙ্গে কথা বলে সবার মতামত নিয়ে কমিটি করেছেন। এক দর্শক টিপাইমুখে বিশেষজ্ঞদের না পাঠিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের পাঠানো ঠিক হয়েছে কি না, জানতে চান। মঈন খান বলেন, টিপাইমুখে বাঁধ হলে পরিবেশ বিপর্যয় হবে। কাজেই এই দলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ থাকা উচিৎ ছিল।
সায়রা খান বলেন, বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশ চাইলেই যা খুশি করতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বাংলাদেশের সেখানে যাওয়া উচিৎ ছিল। আসাদ চৌধুরী বলেন, কেবল বিশেষজ্ঞ নয় সব দল মিলে সেখানে যাওয়া উচিৎ ছিল। এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ভারতে যারা গেছে তাদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ আছে। টিপাইমুখ নিয়ে যখন দেশে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তখন বিএনপি-জামায়াত চুপ ছিল। আজ তারা বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছে।
দ্রব্যমূল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মঈন খান বলেন, সরকার দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবজি আর ডাল বাদে বাকি সব জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ডাল ও সবজির দাম কমানো যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এসব জিনিসের দাম কমানোরও চেষ্টা করছে।

রাজশাহীতে শিশুর শরীর পুড়িয়ে দেওয়ায় চাচা-চাচি গ্রেপ্তার

শিশুটি বসতেও পারছে না, দাঁড়াতেও পারছে না; শুধুই কাঁদছে। সম্প্রতি রাজশাহী শহরের গুড়িপাড়া এলাকায় পাঁচ বছরের একটি মেয়ে শিশুর শরীর পুড়িয়ে দিয়েছে তার আপন চাচি। চাচির অভিযোগ, ভাতিজি অন্য একটি ছেলে-শিশুর সঙ্গে ‘খারাপ’ কাজ করছিল। গতকাল শনিবার এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানায় মামলা হলে শিশুটির চাচা এবাদত আলী ও চাচি পারুল বেগমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
শিশুটির মা জানান, তাঁদের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কোমরপুর গ্রামে। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি মেয়েকে নিয়ে রাজশাহী শহরের গুড়িপাড়া এলাকায় দেবর এবাদত আলীর বাসায় ওঠেন। সেখানে থেকে তিনি শহরের বিভিন্ন বাসায় ঝিয়ের কাজ করেন। ছয় দিন আগে মেয়েকে বাসায় রেখে কাজে যান। বিকেলে ফিরে এসে দেখেন মেয়ের শরীরের স্পর্শকাতর অংশ পোড়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ভুগছেন মানসিক সমস্যায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মূলত বিষণ্নতা ও হতাশার কারণেই শিক্ষার্থীরা জীবনের প্রতি মায়া হারিয়ে ফেলেন। তাঁদের কেউ কেউ আত্মহত্যার দিকেও এগিয়ে যান। এতে করে যে নিজেকে ধ্বংস করা হয় তা-ই নয়, বরং তাঁর পুরো পরিবারকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত ‘আত্মহত্যা কখনোই জীবন প্রশ্নের শেষ উত্তর নয়’ শীর্ষক সেমিনারে মনোবিজ্ঞানীরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তর এই সেমিনারের আয়োজন করে।
এতে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সারা দেশ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিচ্ছিন্ন নয়, তেমনি সারা দেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব এখানেও পড়ে। দারিদ্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রাপ্তির অনিশ্চয়তাও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হীনম্মন্যতা সৃষ্টি করতে পারে। এ থেকেই একসময় ওই শিক্ষার্থী মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। তারই ধারাবাহিকতায় আসে আত্মহত্যার প্রবণতা। তাঁরা বলেন, সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে বিষপানের মাধ্যমে। এ ছাড়া বাদবাকি শিক্ষার্থী সাধারণত গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
বক্তারা আরও বলেন, আত্মহত্যা কমানোর জন্য বিষণ্নতা কমাতে হবে। এই প্রবণতা কমাতে পারিবারিকভাবে উদ্যোগী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তাঁরা বলেন, আত্মহত্যাপ্রবণতা থেকে মুক্ত থাকতে বিভিন্ন হতাশাজনিত মানসিক সমস্যায় আক্রান্তদের চিকিত্সা নিতে মনোবিজ্ঞানীদের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।
সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এগুলোর মধ্যে ‘আত্মহত্যা মানসিক রোগ: মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন’ শীর্ষক প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিত্সা মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রোকেয়া বেগম বলেন, ঝিনাইদহ অঞ্চলে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এখানকার শতকরা ২৮ থেকে ৩২ ভাগ মানুষ আত্মহত্যাপ্রবণতায় ভোগে। আর বাংলাদেশের ৮ থেকে ১০ ভাগ মানুষের মধ্যে রয়েছে সরাসরি আত্মহত্যার প্রবণতা। এ ছাড়া সারা বিশ্বে এ প্রবণতার হার শতকরা ১৪ ভাগ।
‘আত্মহত্যার ঝুঁকির মূল্যায়ন’ শীর্ষক প্রবন্ধে সিটিআরডিডব্লিউর পরিচালক দিলরুবা বলেন, মানুষ মরতে চায় না, চায় মানসিক ও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ। কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশ যদি প্রতিকূল হয়, তবেই তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। তাই এ ক্ষেত্রে প্রিয় ও ঘনিষ্ঠজনদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
‘আত্মহত্যার স্বরূপ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ: মানসিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধে অ্যাপোলো হাসপাতালের কাউন্সেলর ফারহাত হাসান বলেন, হতাশা ও বিষণ্নতা থেকেই মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ২০-৪৫ বছর বয়সী মানুষের এ প্রবণতা থাকে। পরিবার থেকেই সন্তানদের মধ্যে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলে আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে তাদের মুক্ত করা যাবে।
সেমিনারে ডিউক অব এডিনবরার ন্যাশনাল ডিরেক্টর সুমনকুমার সাহা আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ তানভীর হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা আত্মহননের কারণে ধ্বংস হয়ে যায়। এমন অনেক আত্মহত্যা আছে, যেগুলো হত্যারই নামান্তর। কারণ, সমাজ তাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায়, যার ফলে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু এ আত্মহত্যা জীবন প্রশ্নের কোনো উত্তরই নয়। একজনের আত্মহত্যার কারণে একটি পরিবার, সমাজ, তথা জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর গল্প, উপন্যাস ও সাহিত্য পাঠের অভ্যাস আছে, তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কম।
সভাপতির বক্তব্যে ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তরের পরিচালক ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাহীন ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আত্মহত্যার উদ্যোগ নেন। কিন্তু সবাই আবার এই প্রবণতাকে ঘৃণা করেন এবং স্বীকারও করেন, আত্মহত্যা মহাপাপ। কিন্তু গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
শাহীন ইসলাম বলেন, মানসিক সমস্যা দূর করতে এবং আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনতে ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তর প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক-অনাবাসিক মিলিয়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে কাউন্সেলিং করে। তবুও এই কাউন্সেলিংয়ের পরিসর আরও বাড়াতে হবে।

অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূতকে চীনের তলব

নির্বাসিত উইঘুর নেত্রী রাবেয়া কাদেরের প্রস্তাবিত অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রতিবাদ জানাতে চীনে অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। উরুমচিতে সাম্প্রতিক জাতিগত দাঙ্গায় ইন্ধন দেওয়ার জন্য রাবেয়া কাদেরকে অভিযুক্ত করে আসছে বেইজিং।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সামনের সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের নেত্রী রাবেয়া কাদেরের অস্ট্রেলিয়া সফরের কারণে রাষ্ট্রদূত জিওফ র্যাবির সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝ্যাং ঝিজুন।
চীন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বাণিজ্য-সহযোগী। রাবেয়া কাদেরকে ভিসা না দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আসছে চীন।

মোশাররফের জরুরি আইন অসাংবিধানিক ও অবৈধ

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ২০০৭ সালে যে জরুরি আইন জারি করেছিলেন, তাকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করেছেন সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ১৪ সদস্যের একটি বেঞ্চ এই রায় দেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়, জরুরি আইন জারির পর বিচারপতি নিয়োগ ছিল অবৈধ। ফলে প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ যেসব বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছিলেন, তাঁরা চাকরি হারাতে পারেন। তবে আদালতের এই রায়ের কারণে জারদারির প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন হুমকির মুখে পড়বে না।
জরুরি অবস্থার সময় মোশাররফ যে ৩৭টি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন, সেগুলোও এখন প্রশ্নের মুখে পড়ল। উল্লেখ্য, এ অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্তও রয়েছে।
২০০৭ সালের ৩ নভেম্বর জরুরি অবস্থা জারির পর মোশাররফ প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরীকে সরিয়ে আবদুল হামিদ ডোগারকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করেন। আদালত মোশাররফের ওই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে রায় দেন।
পরে নির্বাচনে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ক্ষমতায় আসার পর ইফতিখার চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে পুনর্বহাল করে। পর্যায়ক্রমে অন্য বিচারকদেরও পুনর্বহাল করা হয়।

ভারতের নতুন পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও

ভারতের নতুন পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নিরুপমা রাও। তিনি সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শিবশঙ্কর মেননের স্থলাভিষিক্ত হলেন। গতকাল শনিবার তিনি নতুন কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেন।
নিরুপমা রাও এমন একসময় এই পদে যোগ দিলেন, যখন পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। গত নভেম্বরে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে এই টানাপোড়েন আরও বেড়ে যায়।
নিরুপমা রাও (৫৮) গতকাল নতুন পদে যোগদান করে এক সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে কূটনীতি মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমাদের অনেক দিকেই নজর রাখতে হয়। এটা আঞ্চলিক ও বহির্বিশ্ব উভয় ক্ষেত্রেই। এটা সফল করাই এখন প্রধান কর্তব্য।’
নিরুপমা রাও ১৯৭৩ সালে আইএফএস পরীক্ষা দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। সচিব হিসেবে যোগদানের আগে তিনি চীনে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার পৌর কর্মচারীদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার

দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌর কর্মচারীদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে প্রায় দেড় লাখ কর্মচারী এক সপ্তাহ ধরে ধর্মঘট পালন করে আসছিলেন। সরকার শতকরা ১৩ ভাগ মজুরি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত শুক্রবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এক সমঝোতা চুক্তি সই করেছে। শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ এ তথ্য দিয়েছে। খবর এএফপির।
দক্ষিণ আফ্রিকার পৌর কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাথানদেকি এনহলাপো বলেছেন, ‘সরকার আমাদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ কাল সোমবার থেকে কর্মচারীরা কর্মস্থলে যোগ দেবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনরত কর্মচারীরা এক সপ্তাহ ধরে ময়লা সংগ্রহ বন্ধ রাখেন, বাস চলাচলও ছিল বন্ধ, কাজ করেননি স্থানীয় পুলিশ সদস্যরাও।
এ ধর্মঘটে প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার সরকার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। জুমা গত মে মাসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মালয়েশিয়ায় বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে একটি দমনমূলক আইন পরিবর্তনের দাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। ওই সময় পুলিশ কয়েক শ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে। বিক্ষোভকারীরা জানায়, ‘ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ বা আইএসএ নামের ওই দমনমূলক আইন বাতিল করাসহ ১০ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি রাজার কাছে দেওয়ার জন্য তারা সমবেত হয়েছিল।
স্থানীয় সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট মালয়েশিয়াকিনি জানায়, রাজধানীর দুটো মসজিদ ও একটি বিপণিবিতানের সামনে থেকে প্রতিবাদকারীরা রাজপ্রাসাদের দিকে এগোতে শুরু করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। বিক্ষোভ দমনে কয়েক হাজার দাঙ্গা পুলিশ ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে কর্তৃপক্ষ। বিপণিবিতানের সামনে থেকে ২০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, দুটো মসজিদের কাছে ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার হতে দেখেছেন তাঁরা।
বিপণিবিতানের সামনে বিক্ষোভকারী ইয়াতি আলী (৪৫) বলেন, ‘আমরা আইএসএ রদ করার জন্য লড়াই করছি। গ্রেপ্তারকে ভয় করি না আমরা। আইএসএ একটি নিষ্ঠুর আইন।’ বিরোধী ইসলামিক পিএএস পার্টির নেত্রী ও মালয়েশীয় আইনসভার সদস্য সিটি মারিয়াহ মাহমুদ এই গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেছেন। এদিকে বিক্ষোভকারীদের এই বিক্ষোভ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়ে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বলেন, ক্ষমতায় আসার পরই আইএসএ পর্যালোচনা করতে সম্মতি দিয়েছেন তিনি।
মালয়েশিয়ায় ঔপনিবেশিক শাসনামলে তৈরি নিপীড়নমূলক ওই আইনটি মূলত বিরোধীদলীয় নেতা ও ইসলামি চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এই আইনে বিচার ছাড়াই কোনো নাগরিককে আটক রাখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্দোলনকারীরা উত্তরাঞ্চলীয় পার্ক প্রদেশে একটি বন্দিশিবির বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে।

ইরানে বিরোধী দলের নেতাসহ ১০০ জনের বিচার শুরু

ইরানে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগে প্রায় ১০০ জন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেছে দেশটির সরকার। গতকাল শনিবার তেহরানের একটি আদালতে এ বিচার শুরু হয়।
বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, জনগণের সম্পদ ধ্বংস, জনমনে ভীতির সঞ্চার ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত জুন মাসে ইরানে নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ জয়লাভ করেন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে অপর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মির হোসেন মৌসাভি ও মেহদি করোভির সমর্থকেরা তা বাতিলের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ করে। এএফপি ও সিএনএন।
বিচারের মুখোমুখি নেতা-কর্মীর মধ্যে অনেক সংস্কারপন্থী বড় রাজনীতিক ও সাবেক পার্লামেন্ট সদস্যও আছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বেহজাদ নবাবি। নবাবি ইসলামিক রিপাবলিক মুজাহিদিন অর্গানাইজেশনের প্রথমসারির নেতা। মোহাম্মদ আত্রিয়ানফার একজন নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের নির্বাহী। রয়েছেন ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ আলী আবতাহি।
নবাবি সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ খাতামির সময় ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। আবতাহি ছিলেন ওই সরকারে সংসদবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট। সাবেক সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট খাতামির ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মুখপাত্র আবদুল্লাহ রামেজানজাদেহকেও এ বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেককে ইতিমধ্যে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশের পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৪০ জনকে গত মঙ্গলবার মুক্তি দেওয়া হয়।

‘সাফল্য’ নিয়েই ফিরেছে অনূর্ধ্ব-১৯

অধিনায়ক মাহমুদুল হাসানের কাছে এই সফর ভবিষ্যতের পাথেয়। কোচ মিনহাজুল আবেদীনের কাছে, বিশ্বকাপের জন্য খুব ভালো একটা প্রস্তুতি। আর দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর জালাল আহমেদ চৌধুরী বলছেন, এটা মাঠ এবং মাঠের বাইরে বিশাল জ্ঞানার্জনের সিরিজ।
ইংল্যান্ড সফরে স্বাগতিক অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারলেও ওয়ানডে সিরিজটা জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আপাতদৃষ্টিতে খুব বড় সাফল্য হয়তো নয়, তার পরও বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান অনেক ইতিবাচক দিক দেখছেন এই সিরিজে, ‘সব মিলিয়ে ভালো সফর হয়েছে আমাদের। ইংলিশ কন্ডিশনে খেলে পাওয়া দুটি জয় আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রাণিত করবে।’ কোচ মিনহাজুল আবেদীন অবশ্য ভালো-খারাপ দুই-ই দেখছেন ইংল্যান্ড সফরে, ‘চার দিনের ম্যাচে আমরা ভালো করিনি। তবে ওয়ানডের বাউন্সি উইকেটে আমাদের ব্যাটসম্যানরা পুরোপুরি সফল।’ মিনহাজুল মনে করেন, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ কেনিয়া থেকে নিউজিল্যান্ডে সরে যাওয়ায় ইংল্যান্ড সফরটা আরও বেশি কাজে দেবে।
জালাল আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড সফরে মাঠের বাইরের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের, ‘খেলা বা অনুশীলনের বাইরে ছেলেরা ইংলিশ ক্রিকেটের ইতিহাস জানতে পেরেছে। আমরাও চেষ্টা করেছি আমাদের সীমিত জ্ঞান দিয়ে তাদের সাহায্য করতে। এক কথায় এটিকে সফল একটা সফরই বলব আমি।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে কোচ ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর দুজনই আলাদা করে বলেছেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান এনামুল হকের কথা। ইংল্যান্ড দলের কোচ অ্যান্ড্রু পিকের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছেন তিনি। পরশু রাতে দল দেশে ফেরার পর কাল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তাদের সংবর্ধনা দিয়েছেন।

দলবদলের প্রথম দিনটা নিরুত্তাপ

ফুটবলারদের দলবদলের প্রথম দিনে কোনো দলই বাফুফে ভবনে আসেনি। তবে মোহামেডান সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল তারা আনুষ্ঠানিকতা সারবে। আগামী ৬-৭ তারিখে আসতে পারে আবাহনী।
বিকেএসপিতে জাতীয় দলের চলমান ক্যাম্প থেকে খেলোয়াড়দের ছাড়বেন কি না কোচ ডিডো, এ নিয়ে অবশ্য সংশয় আছে। বিষয়টার একটা সুরাহা করতে বাফুফের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মোহামেডান। অনেক টাকায় দল গড়ে নিবন্ধনের সময় খেলোয়াড় না পেলে দলবদলই তো হয় না, এই অভিমত ক্লাব কর্মকর্তাদের।
কিন্তু ক্যাম্প চলাকালীন খেলোয়াড়দের ছাড়তে চান না ডিডো। সুপার কাপ জয়ের পর মোহামেডান যে অনুষ্ঠানটা করেছিল, সেখানে খোদ মোহামেডানের খেলোয়াড়দেরই আসতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়েছিলেন। পরে বাফুফে সভাপতি অনেক দেনদরবার করার পর বরফ গলেছে।

আওয়ামী লীগ: নতুন কমিটি নিয়ে প্রশ্ন by আসিফ নজরুল

আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সেদিন রাতেই একটি টিভি চ্যানেলে আমার সঙ্গে উপস্থিত হন একজন নেতৃস্থানীয় সাংবাদিক। টিভি ক্যামেরার সামনে বসার আগে বরাবরের মতো আমাদের মধ্যে খোলামেলা কথাবার্তা হলো কিছুক্ষণ। সেখানে তিনি বারবার আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি নিয়ে তাঁর অস্বস্তি ও দুর্ভাবনার কথা বলতে থাকেন। শেখ হাসিনা বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছেন, আরেকটু সহনশীল ও কৌশলী হতে পারতেন তিনি— তাঁর বক্তব্য ছিল এ রকম। টিভি ক্যামেরার সামনে তিনি কি হুবহু এসব বলবেন? আমি নিশ্চিত ছিলাম তিনি তা বলবেন না। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ বলে তাঁর পক্ষে প্রকাশ্যে এসব বলা হয়তো সম্ভবও নয়। আমার ধারণা সত্য হলো। টিভি অনুষ্ঠানে তিনি বরং প্রশংসা করলেন নতুন কমিটি গঠনে শেখ হাসিনার ভূমিকার। অনুষ্ঠানে এমনও বললেন যে এই কমিটি আসলে তিনি গঠন করেছেন দলের কাউন্সিলরদের মতামত অনুসারে।
অনুষ্ঠান শেষ হলে তিনি ফিরে যান বাস্তবতায়। আবারও বলেন, প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের ঢালাওভাবে বাতিল করে দেওয়া ঠিক হয়নি, নেত্রী বেশি চাপ নিয়ে ফেললেন। নেত্রী কি রাজনৈতিকভাবে বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছেন না? আমার প্রশ্নে তিনি সম্মতিসূচকভাবে মাথা নাড়েন।
২.
আমি যে প্রবীণ সাংবাদিকের কথা বললাম তিনি কোনো ব্যতিক্রমী মানুষ নন। তাঁর মতো আওয়ামী লীগের বহু শুভাকাঙ্ক্ষী প্রকাশ্যে না হলেও কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এবং এতে যেভাবে সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত সব স্তরের নেতাদের ছেঁটে ফেলা হয়েছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট নন বলে আমার ধারণা। মনে মনে ভিন্নমত পোষণ করলেও আওয়ামী লীগে (এবং অন্যান্য দলেও) দলপ্রধানের ইচ্ছায় অন্য কথা বলা হয়, ইতিহাস থেকেও এ ধারণার পক্ষে প্রমাণ হাজির করা সম্ভব। আমাদের সবার মনে থাকার কথা ২০০৩ সালে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের আওয়ামী লীগ ত্রিবার্ষিক নির্বাচনী কাউন্সিল নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তুমুল আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। এর মূল কারণ, এই কাউন্সিলে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে দলের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যন্য পদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এটি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য এ এইচ এস কে সাদেককে প্রধান করে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবদুর রাজ্জাক, ওবায়দুল কাদের, প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফসহ কয়েকজন নেতা এবং আওয়ামী লীগ-পন্থী হিসেবে পরিচিত অনেক পত্রিকা নির্বাচনের মাধ্যমে দলের নেতা নির্ধারণ দলে জবাবদিহি ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিল।
কাউন্সিলের দিন এর কিছুই হয়নি। দলের সভানেত্রীর মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন দলের সাধারণ সম্পাদক। সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল জলিলের নাম প্রস্তাব করেন আবদুর রাজ্জাক, এ পদে যাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন আর কেউ নন, স্বয়ং ওবায়দুল কাদের, যিনিও এই পদে আগ্রহী ছিলেন বলে কয়েক দিন আগেও পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল। অথচ কাউন্সিল শেষে তাঁরা সবাই এভাবে নেতা নির্বাচনে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। কেউ কেউ আওয়ামী লীগের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চা নেই, এ অভিযোগ তীব্রভাবে খণ্ডনও করেছিলেন।
এক-এগারোর পর আমরা এঁদের অনেককে আওয়ামী লীগে আরও গণতন্ত্র চর্চা এবং দলের ভেতর যৌথ নেতৃত্বকাঠামো প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, এ ধরনের কথা বলতে শুনেছি। এটি প্রমাণ করে, ২০০৩-এর কাউন্সিল এবং এরপর দল যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে এঁদের ভেতর ক্ষোভ বা আপত্তি ছিল। তা-ই যদি সত্যি হয় তাহলে আরও নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এবারের কাউন্সিলে বাদ পড়া নেতারা তো বটেই, আরও অনেকেই দলের ভেতর গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে না, এ ধরনের মনোভাব পোষণ করতে পারেন।
আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। হয়তো আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরদের সবাই নেতা নির্বাচনের জন্য শেখ হাসিনা এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন, আন্তরিকভাবে এটি চেয়েছেন। হয়তো তাঁদের কেউই নিজের স্বাধীন ইচ্ছা ও মতামত প্রয়োগ করে কোনো নেতা নির্বাচন করতে চাননি। হয়তো পুরো দলের একজনও কার্যনির্বাহী সংসদের কোনো পদে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ বোধ করেননি। সত্যি যদি এ রকম হয়ে থাকে, তাহলে তো ৬০ বছরের পুরোনো একটি গণতান্ত্রিক দলের জন্য তা আরও বিপজ্জনক। দলের ভেতর গণতন্ত্রচর্চায় অনাগ্রহী এই দল তাহলে দেশকে কী গণতন্ত্র উপহার দেবে? বিএনপি বা জাতীয় পার্টির মতো তুলনায় আরও অগণতান্ত্রিক দলগুলোর জন্য গণতন্ত্র চর্চার কী প্রণোদনা সৃষ্টি করবে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল?
৩.
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ও সাংগঠনিক সম্পাদকমণ্ডলী থেকে প্রায় দেড় ডজন নেতা বাদ পড়েছেন। এঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় একটিই অভিযোগ উচ্চারিত হয়েছে, সেটি হচ্ছে এক-এগারোপরবর্তী সময়ে এঁরা আওয়ামী লীগের ভেতর সংস্কার এবং দলে নিয়মিত কাউন্সিল ও যৌথ নেতৃত্বকাঠামো প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। কেউ কেউ সে সময় অন্তরিন্ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়েই এ ধরনের সংস্কার করা যেতে পারে, আকারে-ইঙ্গিতে এমন কথা বলেছেন।
আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী এতে মনঃক্ষুণ্ন ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ক্ষুব্ধ তাঁদের হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে আওয়ামী লীগে সংস্কার প্রয়োজন, আর শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়েই এই সংস্কার করা যেতে পারে, দুটো বক্তব্য এক নয়। সংস্কার প্রয়োজন, শুধু এই কথা যাঁরা বলেছেন, তাঁদের মধ্যেও যে অধিকাংশ এবার দলের নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়েছেন, উদ্বেগের বড় কারণ এটি। এই ঘটনার পর দলনেত্রী কোনোভাবে অখুশি হতে পারেন, এমন কোনো বক্তব্য প্রদান করার সাহস আর কেউ দেখাবেন বলে মনে হয় না। এতে দলের ভেতর বহুমতের চর্চা রুদ্ধ হবে, দলের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে, দলের নেত্রী উপযুক্ত পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হবেন। দলের ভেতর ক্ষমতার অতিকেন্দ্রিকতা সৃষ্টি হবে, এক নেত্রীর ওপর প্রত্যাশা ও নির্ভরতার অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে, সরকার পরিচালনায়ও এর প্রভাব পড়বে।
অতীতে আওয়ামী লীগের ভেতর ভিন্নমত চর্চা করতে গিয়ে নেতৃত্ব বা দল থেকে ড. কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী ও ড. সেলিমের মতো নেতারা বাদ পড়েছেন। এবারের কাউন্সিলে দলের নীতিনির্ধারণী কাঠামো থেকে একসঙ্গে বাদ পড়লেন এমন বেশ কয়েকজন নেতা, যাঁদের স্বাধীনতাসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং আওয়ামী লীগের বিকাশে বিশাল অবদান ছিল। বাদ পড়লেন মধ্যম সারির অনেক নেতা, যাঁরা তৃণমূল পর্যায় থেকে দলের নেতৃত্বে আসীন হয়েছিলেন। অন্যদিকে একসঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় পদে আসীন হয়েছেন এমন বহু নেতা, যাঁরা সারা জীবন শুধু স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতি করেছেন। একদিক থেকে এটি প্রশংসনীয়, কিন্তু এমন নেতাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে এটি ঝুঁকিপূর্ণও। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও যিনি কখনো ছিলেন না, তিনি দলের কোনো একটি সম্পাদক (এমনকি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের) পদ যখন পেয়ে যান, তা কাউন্সিলরদের ইচ্ছায় হয় কীভাবে? এটি যদি একজন নেত্রীর ইচ্ছায় হয়ে থাকে, তাহলে তিনি সেই নেত্রীর প্রতি শুধু দায়বদ্ধ থাকবেন, দলের প্রতি নয়। নেত্রী ও দলের স্বার্থ সব সময় এক হওয়া অসম্ভব।
আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বে আরও সমস্যা রয়েছে। এখানে বহুসংখ্যক মন্ত্রীর উপস্থিতি দল ও সরকারের স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সব বিভাগ ও জেলার প্রতিনিধিত্ব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় যা সমস্যা, দলের যে প্রবীণ পাঁচ নেতাকে সভাপতিমণ্ডলী থেকে উপদেষ্টামণ্ডলীর মতো আলংকারিক ও ক্ষমতাহীন জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হলো, তাঁদের কারও কারও দলের বিভিন্ন পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। তাঁদের সমর্থকদের অসন্তুষ্টি ভবিষ্যতে দলের জন্য নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কৌশলগতভাবে হলেও এঁদের অন্তত দু-একজনকে মন্ত্রিসভা বা প্রেসিডিয়ামে রেখে সেই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যেত।
৪.
আওয়ামী লীগে গণতন্ত্র কতটুকু ও কীভাবে চর্চিত হচ্ছে, তা নিয়ে দেশের মানুষের উত্কণ্ঠার কারণ রয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। এক-এগারোর আগেও দলের সভানেত্রীসহ অনেক নেতা বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতন্ত্র চর্চার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এবারের নির্বাচনে দলের স্লোগান ছিল দিনবদলের। সেই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন শুধু সভানেত্রীর প্রতি চরম অনুগতদের নেতৃত্বের আসীনে বসিয়ে সম্ভব কি না, তা ভাবার বিষয়। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বরং কাউন্সিলরদের নেতা নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালট বাক্সে ভোটাভুটি করার আন্তরিক নির্দেশ দিয়ে এবং তা বাস্তবায়ন করে সত্যিকার দিনবদলের সূচনা করতে পারতেন। অন্য দলগুলোর জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপিত হতো এতে।
ভালো নজির স্থাপনের অবকাশ এখনো আছে তাঁর। দলের নতুন নেতাদের স্বাধীনভাবে বক্তব্য পেশ করার, এমনকি প্রয়োজনে দলীয় ফোরামে তাঁর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার অনুপ্রেরণা প্রদান করে দলকে আরও গতিশীল ও প্রাণবন্ত করতে পারেন তিনি। আমরা তাঁর কাছে এবং অন্যান্য দলপ্রধানের কাছে তা-ই আশা করব।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হলে এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেলে এ দেশে হয়তো এক-এগারো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। ভারতে দলের ভেতর গণতন্ত্রচর্চার যথেষ্ট সুযোগ আছে বলে সেখানে গণতন্ত্র হোঁচট খায় না। পাকিস্তানে তা নেই বলে গণতন্ত্র বারবার মুখ থুবড়ে পড়ে।
আমরা চাই না আমাদের গণতন্ত্র আর কখনো মুখ থুবড়ে পড়ুক। দলের ভেতর গণতন্ত্র চর্চা না হলে উদ্বিগ্ন হই সে কারণে।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পোটকা মাছের বিষ ও প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা by মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ

আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগে খুলনার দিঘলিয়ায় পোটকা মাছ খেয়ে মারা যাওয়ার খবরটি আজও আমার স্পষ্ট মনে পড়ছে। এর পরে নরসিংদী, কক্সবাজারসহ আরও কয়েক জায়গায় পোটকা মাছ খেয়ে মৃত্যুর খবর শোনা গেছে। একদিকে বাংলাদেশে এই মাছটি খাওয়ার প্রতি ভীতির সঞ্চার হয়েছে, অন্যদিকে জাপান ও কোরিয়ায় খাদ্য হিসেবে এর কদর যেন দিন দিনই বাড়ছে।
জাপানে ১৯১২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বছর এ মাছটি খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। তবে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে, যেখানে শাসনব্যবস্থা ছিল কিছুটা দুর্বল, সেখানে মাছটির উপভোগ্য বাণিজ্য গড়ে ওঠে। বিষাক্ত অংশ আলাদা করার পর পোটকার শরীরে ছড়িয়ে থাকা সামান্য বিষ আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে যে বিক্রিয়া হয়, তা নাকি পরম আনন্দের (আমি কখনো এর স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করিনি, যদিও জাপানে গবেষণার কাজে বিভিন্ন সময় থেকেছি)।
পোটকা মাছের বিষক্রিয়া বা এই বিশেষ অনুভূতির কথা জানিয়েছেন বিশ্বপরিব্রাজক ক্যাপ্টেন জেমস কুক তাঁর লগ বইয়ে, দ্বিতীয়বারের মতো জাপান ভ্রমণের সময় ১৭৭৪ সালে। পোটকা মাছ খেয়ে তিনি প্রায় মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। কুকের দ্বিতীয়বারের ভ্রমণের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন একদল বিজ্ঞানী। সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখ অস্ট্রেলিয়ার অদূরে একটি দ্বীপে (New Caledonia) পৌঁছালেন। একদল বিজ্ঞানী তীরে নেমে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করছিলেন, কেউবা খাবার কেনায় ব্যস্ত। এর মধ্যেই একজন তাহতি দ্বীপ থেকে এক টুকরো কাপড়ের বিনিময়ে সংগ্রহ করেন নতুন প্রজাতির বড় মাথাওয়ালা একটি মাছ। নতুন প্রজাতির মাছ বলে লগ বইয়ে লিপিবদ্ধ করলেন জেমস কুক এবং মাছটির স্কেচও এঁকে ফেললেন। কুক নির্দেশ দিলেন মাছটিকে ডিনারে পরিবেশন করার জন্য। কুক লিখেছেন, ‘অতি উত্সাহে মাছটির লিভার ও ডিম্বাশয় আমি ও বন্ধু মি. ফস্টার খাওয়ার একটু চেষ্টা করেছি মাত্র। ভোররাতে তিন-চারটার দিকে দেখি প্রচণ্ড দুর্বলতায় আমি নড়াচড়া করতে পারছি না। হাত ও পায়ের জোড়াগুলো একদম নির্জীব হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে হাত ও পাগুলো প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমে গেছে এবং নিচ থেকে তাতে কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। শরীরের অনুভূতি এমনভাবেই হারিয়েছিলাম, যেন এক বালতি পানি ও পাখির পালকের ওজন একই মনে হয়। আমি প্রচণ্ড ঘামাতে থাকলাম এবং একপর্যায়ে বমি শুরু করলাম। বমির পরে কিছুটা সুস্থবোধ করলাম। পরদিন সকালে দেখলাম মাছটির নাড়ি-ভুঁড়ি যে শূকরটিকে খাইয়েছিলাম সেটি মরে গেছে।’
হ্যাঁ, পোটকা মাছের বিষ ছড়িয়ে থাকে লিভার, ডিম্বাশয় ও চামড়ায়। জাপানে যারা মাছকে পরিবেশন করে, তাদের বেশ লম্বা ট্রেনিং দেওয়া হয় এর বিষ থলে আলাদা করার জন্য। তার পরও জাপানে এ মাছ খেয়ে অনেক লোকের মৃত্যু হয়। আর এ জন্যই একমাত্র এই সুস্বাদু খাবারটি জাপানের রাজপরিবারের জন্য এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে। গবেষণায় জানা গেছে, এই মাছের প্রিয় খাবারের সঙ্গে একধরনের ব্যাকটেরিয়া পোটকা মাছের শরীরে ঢুকে পড়ে এবং এই বিষ তৈরি করে। তাই এই ব্যাকটেরিয়ামুক্ত ফ্রেশ পানিতে নির্বিষ পোটকা মাছ উত্পাদন করা সম্ভব। যেমনটি হচ্ছে জাপানের কেওসু দ্বীপের ওইটা শহরে। পোটকা মাছের বিষ শরীরে ঢুকলে কিছুক্ষণের মধ্যে সাধারণত ঠোঁট ও জিহবা নির্জীব হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড দুর্বলতায় হাত-পায়ের নড়াচড়া সীমিত হয়ে পড়ে। রক্তচাপ নেমে যায়। বমি হতে পারে। মূলত মুখমণ্ডল ও ফুসফুসের নিচের অংশ (diaphrame) অবশ হয়ে যায়। ফলে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে রোগী কোমায় চলে যেতে পারে এবং পরে মৃত্যুও হতে পারে।
মজার ব্যাপার, পোটকা মাছের বিষ মানুষের মস্তিষ্কের আবরণ ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে পারে না, তাই মস্তিষ্কের কর্মক্রিয়া ঠিকই থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যারা সুস্থ হয়ে ওঠে, তারা সবকিছুই মনে করতে পারছে অবচেতন সময়ে চারপাশে কী ঘটেছে। অনেক সময় দেখা গেছে, মৃত্যু হয়েছে ভেবে শেষকৃত্য করার সময় রোগী নড়েচড়ে বসে।
পোটকা মাছের বিষক্রিয়ায় প্রান্তিক স্নায়ু (peripheral nerve), মোটর নিউরন ও মাংসপেশির কার্যকারিতা থেমে যায়। এখনো এই বিষের কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। তবে শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তাসহ চারকোল দিয়ে পাকস্থলী পরিষ্কার করলে বেঁচে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।
পোটকা মাছে যে বিষ থাকে তার নাম Tetrodotoxin সংক্ষেপে টিটিএক্স। এটি নিউরনের সঙ্গে নিউরনের বা মাংসকোষের যে যোগাযোগ হয় তা বন্ধ করে দেয়।
আমাদের নিউরন বা মাংসকোষের ঝিল্লিতে অসংখ্য ছিদ্রের মতো পথ রয়েছে, এদের বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় আয়ন চ্যানেল (ion channels) এবং এই চ্যানেলের মধ্য দিয়ে প্রধানত সোডিয়াম ও পটাশিয়াম আয়ন চলাচল করে। সোডিয়াম আয়নের ভেতরে প্রবেশ ও পটাশিয়াম আয়নের বাইরে নির্গমনের মাধ্যমে যে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল তৈরি হয়, তাই মূলত আমাদের মস্তিষ্ক তথা নিউরন কোষের তথ্য প্রবাহের ভাষা। এই সোডিয়াম ও পটাশিয়াম আয়ন চলাচলের ছিদ্রগুলোর গঠন সম্পূর্ণই আলাদা (selective) অর্থাৎ সোডিয়াম আয়ন কখনো পটাশিয়াম চ্যানেল দিয়ে ঢুকবে না। প্রতিটি আয়ন চ্যানেলে একটি করে দরজা রয়েছে, যাতে আছে ভোল্টেজ সংবেদক (voltage sensor) এবং সামান্য বিদ্যুত্ (এক ভোল্টের একহাজার ভাগের কয়েক ভাগ) পেলেই এই দরজা খুলে যায়। প্রায় ১২০ প্রজাতির পোটকা মাছের মধ্যে বাংলাদেশে ১০-১২ প্রজাতির পোটকা মাছ পাওয়া যায়। এর সবই কিন্তু বিষাক্ত নয়।
শুধু পোটকা মাছই নয়, কয়েক প্রজাতির সামুদ্রিক কাঁকড়াসহ অন্য কয়েক প্রজাতির মাছের শরীরেও বিষ থাকে। বিদেশে এসব বিষ সংগ্রহ করে ব্যথানাশক ওষুধ তৈরি হচ্ছে এবং আমাদের দেশেও এর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এই বর্ষাকালেই মাছটির সহজলভ্যতা বাড়ে, কিন্তু এই পোটকা মাছ খাওয়া থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিৎ। শহরের লোকজন সচেতন থাকলেও সমুদ্র-উপকূলের মানুষসহ জেলে সম্প্রদায় না জেনেই খেয়ে ফেলে। তাই প্রচারমাধ্যমগুলো এ কাজে অনেক ভূমিকা রাখতে পারে।
ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ: ডিপার্টমেন্ট অব নিউরোসায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়া, স্কুল অব মেডিসিন, যুক্তরাষ্ট্র।

মন্ত্রিসভা ও দলে পরিবর্তন -জনগণ সুফল দেখতে চায়

এটা বেশ আগ্রহের বিষয় যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে দলের নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভায়ও কিছু রদবদল এসেছে। দিনবদলের সনদ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা দলের কাছে জনগণ পরিবর্তন আশা করে। নেতৃত্বের খোলনলচে প্রায় বদলে দেওয়ার বিষয়টি চমকপ্রদ হয়েছে; মন্ত্রিসভার কিছু সম্প্রসারণ ও দপ্তর পুনর্বণ্টনও জনমনে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয়বারের মতো সম্প্রসারণের পর ৩২ সদস্যের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা এখন দাঁড়াল ৪৪; নতুন ছয়জনের মধ্যে একজন মন্ত্রী ও পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার আকার ছোট ছিল, ছোট মন্ত্রিসভাই ভালো; তবে এই সম্প্রসারণ বেশি হয়ে যায়নি, এর প্রয়োজন ছিল। এখন বলা যায়, মন্ত্রিসভার আকার যথাযথ হয়েছে। কথা ছিল, ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের কর্মসম্পাদনের মূল্যায়ন করা হবে। সেটা করা হয়েছে কি না, সে খবর পাওয়া যায়নি। এখন যে দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হলো, সেটা কোনো মূল্যায়ন-বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা হয়েছে কি না, তাও আমরা জানি না। দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন-পুনর্বণ্টন হওয়া বাঞ্ছনীয়। অপেক্ষাকৃত কমবয়সী ও মন্ত্রণালয় চালানোর পূর্ব-অভিজ্ঞতা নেই—মন্ত্রিসভায় এমন ব্যক্তিদের প্রাধান্য একটা চ্যালেঞ্জের বিষয় বটে। তবে পুরোনোদের কর্মসম্পাদনের গুণগত মান সম্পর্কে জনগণ যেহেতু ওয়াকিবহাল, যেহেতু অভিজ্ঞতাই সততা ও দক্ষতাপূর্ণ কর্মসম্পাদন নিশ্চিত করেনি, তাই এই নতুনদের নিয়ে আশা করা যায়।
বিশেষত বলতে হয়, পুনর্বণ্টনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর শূন্যপদ পূরণ হয়েছে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী প্রতিমন্ত্রীর দ্বারা। এই মন্ত্রণালয়ের অচলাবস্থা নিয়ে জনমনে এক ধরনের হতাশা দেখা দিয়েছিল; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিল। এখন নতুন প্রতিমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্ত্রণালয়ের কাজ গুছিয়ে আনবেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে—জনগণ এমনটিই প্রত্যাশা করবে। অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই প্রত্যাশা: আরও কার্যকর, দক্ষ ও জনমুখী হবে; সার্বিক সুশাসনের পথ প্রশস্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ব্যাপারে বলেছেন, ‘দেখি, তাঁরা কী প্রতিদান দেন।’ জনগণও সেটাই দেখতে চাইবে।
মন্ত্রিসভার পরিবর্তনের চেয়েও বেশি আগ্রহের বিষয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন। বহু বছর ধরে যেসব নেতা দলের মূল নীতিনির্ধারণী পদগুলোতে বহাল ছিলেন, এবার তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নতুনেরা। এটা রাজনৈতিক মহলে কিছুটা বিস্ময়ের সৃষ্টি করলেও ৬০ বছরের পুরোনো দল আওয়ামী লীগে এই পরিবর্তন প্রত্যাশিত ছিল। এখন নতুনদের নিয়ে সভাপতি কতটা গঠনমূলকভাবে অগ্রসর হতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়। এত দিন যেভাবে চলে এসেছে, তাতে দল ক্ষমতাসীন হলে তার নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ ব্যক্তিগত লোভ-লালসা চরিতার্থ করতে নানা রকম অন্যায়-অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। এটা খোদ সরকারের জন্যই ক্ষতিকর হয়। আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব এই নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দলকে মুক্ত করে জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক ধারায় অগ্রসর হবে—এটা জনগণ কামনা করে।