Saturday, December 4, 2010

গল্প- দূর গাঁয়ের গল্প by আজাদুর রহমান

ক্ষিণাঞ্চলে গাছিদের সহজ পরিচয় 'শিবলি'। নতুন নামটা এখনো তেমন চোখ সওয়া হয়ে ওঠেনি। ভরবছর কাজ থাকে না, পৌষে কুয়াশা মেখে গাছগুলো রসবতী হলেই কেবল ঠুঙ্গি কোমরে ঝুলিয়ে গাছিরা মাঠে মাঠে বেরিয়ে পড়ে। দড়া বেঁধে গাছে চড়ে, ডাল-কাঁটা কেটেকুটে সাফ-সাফাই করে নেয়। তারপর রসের ভাবগতি জেনে চাঁছার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে তারা। দেহ পুরোপুরি রসে ভরে উঠলে আর বিরাম থাকে না। ফিনফিনে কুয়াশা মাথায় করে রামনগরের পথে তাই বেরুতে হলো।

সাহিত্যালোচনা- কবিতার হয়ে ওঠা

কজন কবি কখন একটি কবিতাকে কবিতা মনে করেন, কবিরা নিজেদের লেখালেখিকে মানদণ্ড হিসেবে নিয়ে একান্ত কথা বলেছেন এ বিশেষ আয়োজন
ব্যাখ্যাতীত শব্দগুচ্ছের নামই হয়তো কবিতা
ম হা দে ব সা হা
জানি না। 'তোমার ভাষা বোঝার আশা দিয়েছি জলাঞ্জলি'। জানি না ঠিকই, না জেনেও কী ভাবে কী করে যেন এইসব পদ্য-পঙক্তি লিখে ফেলি; তাকেই বলি কবিতা, নাম দিয়েছি কবিতা।

সাহিত্যালোচনা- কবিতার হয়ে ওঠাই কবির তপস্যা by মোহাম্মদ নূরুল হক

জীবনানন্দ দাশ 'কবিতার কথা'য় বলেছিলেন 'কবিতা মুখ্যত লোকশিক্ষা নয়; কিংবা লোকশিক্ষাকে রসে মণ্ডিত করে পরিবেশন_না, তাও নয়; কবির সে রকম কোনো উদ্দেশ্য নেই।' জীবনানন্দ দাশের সে অমোঘ উক্তির সঙ্গে বিরোধিতার চিহ্নরূপেই যেন আজকের কবি লোকশিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চান। এ প্রবন্ধে কবি আরও লিখেছেন, 'তার প্রতিভার কাছে কবিকে বিশ্বস্ত থাকতে হবে; হয়তো কোনো একদিন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিতার সঙ্গে তার কবিতাবৃত্ত প্রয়োজন হবে সমস্ত চরাচরের জীবের হূদয়ে মৃতু্যহীন স্বর্ণগর্ভ ফসলের ক্ষেতে বুননের জন্য।'

খবর, কালের কণ্ঠের- পাঁচ গাড়িসহ দুই ছেলের মালপত্র বুঝে নেওয়া হলো আজ বাকিগুলো

ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়িতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়ার লোকজন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ওই জিনিসপত্র বুঝে নিচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার চারটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি পিকআপে প্রথম দফায় পাঁচটি গাড়িসহ আংশিক মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব সামগ্রীর বেশির ভাগই খালেদা জিয়ার দুই ছেলে ব্যবহার করতেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলে। আজ সকাল ৮টা থেকে বাকি মালামাল সরিয়ে নেওয়া হবে বলে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আশা করছে।

গল্প- 'কোনো এক গাঁয়ের বিয়ে' by রেজাউর রহমান

বাঁশখালী গ্রামের ইউসুফ খলিফা তাঁর মেয়ের বিয়ের বরপক্ষ ও অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত। এমন সময় হুড়মুড় করে মোটরসাইকেলে করে একদল সাদা পোশাকি লোক এসে হাজির। সেখানকার সমবেত সবাই তাদের অনুষ্ঠানে যোগদানকারী অতিথি দল ভেবে নিয়েছিল ততক্ষণে। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি অন্যরূপ নেয়। আগত দলের মাঝখান থেকে ভারিক্কি গোছের একজন এগিয়ে আসে। তার কণ্ঠে রাগের ঝাঁজ।
‘ইউসুফ খলিফা কে?’

হাইতিতে কলেরায় এক হাজার ৭৫১ জনের মৃত্যু

হাইতিতে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত কলেরায় এক হাজার ৭৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের হিসাব অনুসারে কলেরায় এ পর্যন্ত ৭৭ হাজার ২০৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৩৪ হাজার ২৪৮ জনকে। গত সোমবার কলেরায় মৃতের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছিল এ সংখ্যা তার চেয়ে ৩০ জন বেশি।
কলেরায় হাইতির রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সের উত্তরে মারা গেছে ৭৭৩ জন এবং রাজধানীতে প্রাণ হারিয়েছে ১৬৪ জন।
হাইতির সাধারণ লোকজন মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া কলেরার জন্য তাদের দেশে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের দায়ী করে আসছে। তাদের ধারণা, হাইতিতে মোতায়েন নেপালি শান্তিরক্ষীদের মধ্যে প্রথম এ রোগটি ধরা পরে এবং পরবর্তী সময়ে তা গোটা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ফ্রান্সের কলেরা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাইতিতে কলেরায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এএফপি।

মার্কিন সেনাবাহিনীতে নতুন অত্যাধুনিক অস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ক্ষুদ্রাকৃতির বিশেষ ধরনের অস্ত্র তৈরি করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, তালেবান জঙ্গিদের দমনে এই অস্ত্র কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
নতুন এই অস্ত্রটির নাম এক্সএম-২৫। মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করছে, শত্রু মোকাবিলায় এই অস্ত্র আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এই অস্ত্রের মাধ্যমে লক্ষ্যস্থির করার ক্ষেত্রে লেজার ব্যবহার করা হয়। এতে ২৫ মিলিমিটার ব্যাসযুক্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গুলি ব্যবহার করা যায়। এই অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে গুলি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
রিচার্ড অডেটি নামের একজন অস্ত্রবিশেষজ্ঞ অস্ত্রটি তৈরির ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা বড় ধরনের অগ্রগতি। ছোট অস্ত্রের ক্ষেত্রে এবারই প্রথম অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
রিচার্ড অডেটি বলেন, অস্ত্রটি চালনার ক্ষেত্রে প্রথমে লক্ষ্যস্থির করে এর ওপর লেজাররশ্মি নিক্ষেপ করতে হবে। লেজারের রেঞ্জের মধ্যে লক্ষ্যবস্তু এলে তখন নিশানা তাক করতে হবে। নিশানা তাক করার পরই গুলি ছুড়তে হবে। অডেটি বলেন, ৫৪৩ মিটার দূরে নিশানা তাক করে গুলি ছোড়ার ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ এক, দুই অথবা তিন মিটার পর্যন্ত লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে।
আফগানিস্তানে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে এরই মধ্যে এক্সএম-২৫ ব্যবহার করা হয়েছে। আফগানিস্তানে যুদ্ধরত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকেও এই অস্ত্র দেওয়া হতে পারে। এর শক্তিশালী লেজারের সহায়তায় দেয়াল কিংবা পরিখার ওপাশে শত্রুদের চিহূিত করা যায়। এর ফলে এই অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকার। দেশ দুটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, পাকিস্তানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যেতে পারে। সম্প্রতি উইকিলিকস প্রকাশিত গোপন নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে পরমাণু অস্ত্র নিয়ে পশ্চিমাদের এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটি বলেছে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অতীতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যাতে পরমাণু অস্ত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া যায়।
উইকিলিকস প্রকাশিত অপর একটি বার্তায় দেখা গেছে, ইসলামাবাদে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যানি প্যাটারসন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী চারটি বড় ধরনের জঙ্গিগোষ্ঠীকে অর্থায়ন করছে।
উইকিলিকস জানায়, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে পশ্চিমারা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। এর জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল বাসিত গতকাল বুধবার বলেছেন, তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য) উদ্বেগ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত।
বাসিত বলেন, ‘অতীতে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। অতএব এতেই বোঝা যায়, পরমাণু অস্ত্রের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ ও কৌশল কতটা শক্তিশালী।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ঐতিহাসিকভাবেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লেগে আছে। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার ঘটনাও তাই নতুন কিছু নয়।
উইকিলিকস প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে অ্যানি প্যাটারসন লিখেছেন, ‘মুসলিম জঙ্গিরা পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে—এতে আমরা শঙ্কিত নই। আমাদের মূল শঙ্কা হলো, পরমাণু স্থাপনায় কর্মরত কোনো সরকারি কর্মকর্তা ধীরে ধীরে পারমাণবিক সরঞ্জাম পাচার করে তা দিয়ে অস্ত্র তৈরি করতে পারেন।’ ২০০৮ সালের অপর এক হুঁশিয়ারি বার্তায় দেখা গেছে, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে দ্রুতগতিতে পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে।
রাশিয়ার কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে উইকিলিকস জানায়, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৩০ হাজার লোক সরাসরি জড়িত। এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না যে তাদের সবাই শতভাগ বিশ্বস্ত ও অনুগত। আরেকটি বার্তায় বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের সম্মতি নিয়েই পাকিস্তান ভূখণ্ডে মার্কিন চালকবিহীন বিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হচ্ছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি সে দেশের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে হত্যা কিংবা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাতের যে পরিকল্পনা করেছিলেন, সে ব্যাপারেও উইকিলিকস তথ্য প্রকাশ করেছে। একটি বার্তায় দেখা গেছে, জেনারেল আশফাক কায়ানি পাকিস্তানে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন দূত প্যাটারসনকে বলেছেন, জারদারিকে উৎখাতের ব্যাপারে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারেন। অপর এক বার্তায় দেখা যায়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে এক বৈঠকে জারদারি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘সেনাপ্রধান কায়ানি ও আইএসআই আমাকে উৎখাত করার পরিকল্পনা করছে।’ জারদারি আরও বলেন, তাঁকে হত্যা করা হলে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর বোন ফারিয়াল তালপুরের নাম ঘোষণা করতে ছেলে বিলাওয়ালকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তালেবানের শক্তির ব্যাপারটি জারদারি খোলাখুলি স্বীকার করেছেন। ২০০৯ সালে এ ব্যাপারে তিনি জো বাইডেনকে বলেন, ‘এ কথা দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, তবে জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ে আমরা জয়ী হচ্ছি না।’
অপর এক বার্তায় দেখা গেছে, মার্কিন কূটনীতিক ও গোয়েন্দাদের বিশ্বাস, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইএসআই চারটি জঙ্গিগোষ্ঠীকে সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এক বার্তায় লিখেছেন, লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ব্রিটিশ টেলিভিশনে শ্রীলঙ্কান সেনাদের গণহত্যার নতুন ভিডিওচিত্র

ব্রিটেনের চ্যানেল ফোর টেলিভিশন শ্রীলঙ্কার তামিল জনগণের ওপর সে দেশের সেনাবাহিনীর গণহত্যার নতুন ভিডিওচিত্র প্রচার করেছে। গত মঙ্গলবার চ্যানেল ফোর-এ প্রচারিত ভিডিওচিত্রে কাদার মধ্যে নারীদের নগ্ন মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। টেলিভিশনটি বলেছে, তারা যে ঘটনার ভিডিওদৃশ্য প্রচার করেছে, সে ঘটনায় কমপক্ষে সাতজন নারীকে হত্যা করা হয়। গত বছর একই টেলিভিশন চোখবাঁধা দুই ব্যক্তিকে সেনাসদস্যরা গুলি করে হত্যা করছে, এমন একটি দৃশ্য প্রচার করেছিল।
চ্যানেল ফোর এমন সময় ওই ভিডিওচিত্র প্রকাশ করল যখন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে লন্ডন সফর করছেন। তিনি লন্ডনে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের বাইরে কয়েক শ তামিল নাগরিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আজ বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ড ইউনিয়নে রাজাপক্ষের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
চ্যানেল ফোর বলেছে, শ্রীলঙ্কার সরকার যখন তামিল টাইগারদের ওপর দমন অভিযান শুরু করে, তখন সেখানে দায়িত্বপালনরত ইউরোপভিত্তিক সাংবাদিকেরা ওই দৃশ্য ধারণ করেন। তাঁদের কাছ থেকেই তারা সেগুলো পেয়েছে। চ্যানেল ফোর বলেছে, ভিডিওচিত্র দেখে এবং দৃশ্যধারকের কথাবার্তা শুনে মনে হয়, হত্যা করার আগে ওই নারীদের সেনারা ধর্ষণ করেছিল।
গত বছর চ্যানেল ফোর এ-সংক্রান্ত যে ভিডিওচিত্র প্রচার করে, তাতে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর সদস্যদের গুলি করে মারতে দেখা যায়। শ্রীলঙ্কার সরকার এর সত্যতা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কৃত্রিমভাবে এ ধরনের ভিডিওদৃশ্য বানিয়ে তা প্রচার করা হচ্ছে। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার দূত ফিলিপ অ্যালস্টন বলেছেন, ওই সব ভিডিওচিত্রের যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন মহড়ার পরিকল্পনা করছে দ. কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। পীতসাগরে গতকাল বুধবার এই দুই দেশের মধ্যে চার দিনব্যাপী যৌথ মহড়া শেষ হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানান, নতুন মহড়া ডিসেম্বর মাসেই হতে পারে। দেশটির গোয়েন্দা-প্রধান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া আরও হামলা চালাতে পারে এবং শিগগিরই দেশটি হামলা চালাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার মিত্র বলে পরিচিত চীন বলেছে, কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানোই এখন প্রধান কাজ হওয়া উচিত। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে দুই কোরিয়ার পাল্টাপাল্টি গোলার ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব তোলার চেষ্টায় বাধা দিয়েছে চীন।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা জানান, সিউল ও ওয়াশিংটন আরও সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, ডিসেম্বরে বা আগামী বছরের শুরুতে ওই মহড়া চালানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া দুই দেশের মিত্রতার পক্ষে দৃঢ় অঙ্গীকার। উত্তর কোরিয়ার যেকোনো উসকানির বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, যৌথ মহড়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সিউলের আলোচনাও হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া পৃথকভাবে দেশের ২৯টি স্থানে সামরিক মহড়া চালাবে বলে জানা গেছে। আগামী সপ্তাহে এই মহড়া শুরু হয়ে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। এই মহড়ার অংশ হিসেবে ইয়নপিয়ং দ্বীপেও মহড়া চালানো হবে। গত ২৩ নভেম্বর দুই কোরিয়ার পাল্টাপাল্টি গোলার ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নপিয়ং দ্বীপে দুই মেরিন সেনাসহ অন্তত চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় দুই কোরিয়ার উত্তেজনার মধ্যেই পীতসাগরে চার দিনব্যাপী যৌথ মহড়া শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিয়েচি বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমাতে সংশ্লিষ্ট সবার কাজ করা উচিত। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘কোনো পক্ষকে রক্ষা’ করা চীনের উদ্দেশ্য নয়।
এর আগে কোরীয় সমস্যা সমাধানে ছয় জাতি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তা নাকচ করে দেয়।
এএফপির প্রতিবেদনে কয়েকজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়, দুই কোরিয়ার মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলার ঘটনা ও পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু চীন এতে বাধা দেয়। একজন কূটনীতিক জানান, ‘নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভবত নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না।’

আরেকটি পরাজয় কিউইদের

নিউজিল্যান্ডকে কাল ‘টানা’ অষ্টম ওয়ানডে পরাজয়ের স্বাদ দিল ভারত। ড্যানিয়েল ভেট্টোরির দলকে বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়ে গৌতম গম্ভীরের দল জিতেছে ৮ উইকেটে।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও ভারতের জয়টা নিশ্চিত করলেন গম্ভীর ও বিরাট কোহলি। এক বছর পর ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে অপরাজিত অধিনায়ক গম্ভীর (১৩৮*)। টানা তিন সেঞ্চুরির রেকর্ড ছোঁয়া হলো না কোহলির, আউট হয়েছেন ৬৪ রান করে।
প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ২৫৮ তোলার পর কিন্তু মনে হয়নি, ভারত এত সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছাবে। অবশ্য জয়পুরের এই ভেন্যু আগের তিনটি ওয়ানডেতেও আড়াই শ ছাড়ানো স্কোর দেখেছে। এটি রান-প্রসবা মাঠ। গত ফেব্রুয়ারিতে এখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৯৮ রান করেও ভারত জিতেছিল মাত্র ১ রানের নাটকীয়তায়।
জয়ের কৃতিত্ব দিতে হবে শ্রীশান্তকেও। ৯ মাস পর এই সিরিজ দিয়ে দলে ফেরা এই পেসার কাল নিয়েছেন ৪ উইকেট। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড ৫০ ওভারে ২৫৮/৮ (গাপটিল ৭০, স্টাইরিস ৫৯, ভেট্টোরি ৩১; শ্রীশান্ত ৪/৪৭)।
ভারত: ৪৩ ওভারে ২৫৯/২ (বিজয় ৩৩, গম্ভীর ১৩৮*, কোহলি ৬৪, যুবরাজ ১৬*; ভেট্টোরি ১/৩২, ম্যাকাই ১/৫৯)।
ফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী।

শাস্তি পেলেন মরিনহো

বার্সেলোনার কাছে পরাজয়ের ক্ষত না শুকাতেই আরেকটি দুঃসংবাদ শুনেছেন হোসে মরিনহো। চ্যাম্পিয়নস লিগে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং এক ম্যাচ স্থগিত নিষেধাজ্ঞার শাস্তি দিয়েছে তাঁকে উয়েফা। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত ম্যাচে জাবি আলনসো আর সার্জিও রামোসের সেই ইচ্ছাকৃত লাল কার্ডের কারণে এই শাস্তি। এএফপি, রয়টার্স।
এর ফলে রামোস-জাবির পাশাপাশি মরিনহোও ৮ ডিসেম্বর অজেরির বিপক্ষে ম্যাচটায় থাকতে পারছেন না। আগামী তিন বছরের মধ্যে একই অপরাধ মরিনহো করলে স্থগিত নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। অবশ্য ৪০ হাজার ইউরো জরিমানাও দিতে হচ্ছে মরিনহোকে।
গ্রুপ পর্ব আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় শেষ দুই ম্যাচ রিয়ালের জন্য অগুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। আয়াক্সের বিপক্ষে গত ম্যাচটা অবশ্য রিয়াল বড় ব্যবধানেই জিতেছে। কিন্তু ওই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেন জাবি আর রামোস। পরের ম্যাচেও হলুদ কার্ড দেখলে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে তাঁদের খেলা হবে না। এ কারণে এই দুজনকে ইচ্ছা করেই লাল কার্ড দেখার বার্তা মরিনহো দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এমনিতেই পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ রামোস-জাবিকে ২০ হাজার ইউরো আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। ক্লাব হিসেবে রিয়ালকেও ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা। ডাগ-আউটের বার্তা খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে ইকার ক্যাসিয়াস ও জের্জি দুদেককেও।উয়েফার এই সিদ্ধান্তে ‘বিস্মিত’ রিয়াল আপিল করবে বলে জানা গেছে।

‘বিস্ময়কর’ সাকিব

কোনো তল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে কেন অমন কাঁটা কাঁটা কথা বলে গেলেন সাকিব আল হাসান? অধিনায়ক হিসেবে কোথায় একটু আগে হেরে যাওয়া দলের পাশে থাকবেন তা নয়, নিজেই সমালোচনার ছিপি খুলে দিলেন! একাদশ গড়া, দলের পারফরম্যান্স—সবকিছু নিয়েই তাঁর তীব্র কটাক্ষ!
কাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের দল নিয়ে অধিনায়ক নিজেই প্রশ্ন তোলায় যারপরনাই বিস্মিত নির্বাচকেরা। সাংবাদিকদের কাছ থেকে সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত জেনে প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম ফোনে কথা বলেছেন সাকিবের সঙ্গে। তাতে তিনি একটু ‘আশ্বস্ত’ যে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আসলে গুরুতর কিছু বলেননি, ‘আমি সাকিবের সঙ্গে কথা বলেছি। ওর দাবি, টিমওয়ার্ক ভালো না হওয়ার কথাই নাকি বলেছে সংবাদ সম্মেলনে।’ কিন্তু এরপর যখন আরও একবার প্রসঙ্গ ধরে ধরে তাঁকে সাকিবের বক্তব্যগুলো জানানো হলো, প্রধান নির্বাচক দ্বিমত পোষণ করলেন, ‘১৫ জনের দল বা একাদশ নির্বাচনে সব সময়ই অধিনায়কের গুরুত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এবারও তাই হয়েছে। কোচ, অধিনায়ক সবার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষেই দল হয়েছে।’
বাংলাদেশে প্রায় তিন বছর কাটিয়ে দেওয়া জেমি সিডন্স বাংলা এতই সামান্য বোঝেন যে তা দিয়ে সাকিবের কথার মর্মোদ্ধার সম্ভব নয়। নয়তো কাল রাতে টেলিভিশনে অধিনায়কের কথা শুনে ভড়কে যেতে পারতেন কোচ। তা না গেলেও তিনি আকাশ থেকে পড়লেন টেলিফোনে এই প্রতিবেদকের কাছে ঘটনা শুনে। প্রধান নির্বাচকের মতো সিডন্সও সাকিবের অভিযোগটা নিলেন না, ‘দল নির্বাচনে আমি যেমন আমার মতামত দিই, অধিনায়ক হিসেবে সাকিবও তা দেয়। সে অবশ্যই দল নির্বাচনের অংশ। অধিনায়ক, আমি ও প্রধান নির্বাচক আলোচনার মাধ্যমে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেই এসব ক্ষেত্রে।’
সাকিব তাহলে কেন এমন বললেন? দলে দুজন ক্রিকেটারের অনুপস্থিতির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে কেন বিব্রত করলেন অন্যদের! কোনো ব্যাখ্যা নেই এসবের। এমনকি সংবাদ সম্মেলন শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর তাঁর নিজের কাছেও নাকি মনে হয়েছে, যা বলে এসেছেন সবই ‘উল্টাপাল্টা’। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক ক্রিকেটার বলেছেন, ‘বুঝতে পারছি না কেন সে এভাবে বলল। হারার পর সাংবাদিকদের সামনে ক্যাপ্টেনের এভাবে বলাটা ঠিক হয়নি। কোনো ক্যাপ্টেন এটা করবে না। তবে ড্রেসিংরুমে ফিরে কিন্তু সে নিজেও আমাদের বলেছে, সংবাদ সম্মেলনে উল্টাপাল্টা বলে এসেছে।’ দলের আরেক ক্রিকেটারও দিলেন একই তথ্য, ‘সাকিব এসে বলল, “কী যে বলে এসেছি নিজেও জানি না। যা-তা বলেছি। আমি আগে কখনো এভাবে বলিনি। আজ আমার যাওয়াই (সংবাদ সম্মেলনে) উচিত হয়নি।” এই দুই ক্রিকেটারেরই ধারণা, পরাজয়ের পর অতিরিক্ত হতাশা থেকেই সাকিব অমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কিন্তু হতাশা-রাগে-দুঃখে তো মানুষের মন থেকে সে কথাই বেরিয়ে আসে, যেটা স্বাভাবিক মেজাজে প্রকাশ না করে থাকা গেলেও মনের মধ্যে তার বসবাস আসলেই থাকে! সাকিবের অভিযোগগুলো যদি সত্যি না-ই হয়, রাগের মাথায়ও তো ওসব কথা তাঁর বলার কথা নয়!
বিসিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় নিজেদের কাঁধেই নিচ্ছেন, ‘সাকিবকে এমন অন্যায়ের দিকে তো আমরাই ঠেলে দিয়েছি। অধিনায়ক হতে না চাইলে তাকে জোর করে অধিনায়ক করা কেন? তা ছাড়া গত বোর্ড সভাতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ১৫ জনের দলে থাকলে মাশরাফিই অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক আগের মতো সাকিবেরই থাকার কথা। সেটা কী করে বদলে গেল?’
জানা গেছে, আজ পুরো বিষয়টি নিয়ে সাকিবের সঙ্গে কথা বলবেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান। সাকিবের মাঠের বাইরের ‘অধিনায়কত্ব’ দেখে কি আবারও সিদ্ধান্ত বদলাবেন তাঁরা?

কোচের রিপোর্ট উড়িয়ে দিলেন খেলোয়াড়েরা!

এশিয়ান গেমস হকিতে ভরাডুবির পর কোচ পিটার গেরহার্ডের ফেডারেশনকে দেওয়া রিপোর্টকে মূল্যহীন মনে করছেন খেলোয়াড়েরা। বিশেষ করে এটি গুরুত্বই পাচ্ছে না জাহিদ হোসেন, রাসেল মাহমুদদের (জিমি) কাছে। বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই দাবি, নিজের দায় এড়াতেই কোচ এই রিপোর্ট দিয়েছেন।
এমনিতেই এশিয়ান গেমসে অষ্টম হওয়ার পর থেকে কোচের ওপর রুষ্ট খেলোয়াড়েরা, এরপর সংবাদমাধ্যমে কোচের রিপোর্ট ফাঁস হওয়ায় আগুনে যেন ঘি পড়েছে। জিমির কথা, ‘কোচ সকালে এক কথা বলেন, বিকেলে আরেক কথা। তাঁর কথার মূল্য নেই। রিপোর্টেরও কোনো মূল্য নেই। আসলে নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর জন্যই এমন রিপোর্ট দিয়েছেন।’
অধিনায়ক জাহিদ হোসেন গুয়াংজু থেকেই বলেছেন, ‘কোচ যেভাবে খেলতে বলেন, সেভাবে খেললে হারের ব্যবধান আরও বড় হতো।’ দেশে ফিরেও জাহিদ কোচ সম্পর্কে নিজের অসন্তুষ্টি লুকিয়ে রাখেননি, ‘কোচ নির্বাচক কমিটির ওপর দায় চাপাচ্ছেন, কিন্তু দলে ওনার নির্বাচন করা খেলোয়াড়ই তো বেশি ছিল। ওনার ইচ্ছাতেই তো ইসা-মুসার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ ফরোয়ার্ড মাকসুদ আলমের (হাবুল) কথা, ‘ওমানের বিপক্ষে আমরা কোনো দিন হারিনি। কিন্তু উনি যে ফরমেশনে খেলিয়েছেন তাতে জেতা সম্ভব না।’
জাতীয় দলের সাবেক হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম (কামাল) বলেছেন, ‘উনি এসব সমস্যা আগে কেন তুলে ধরেননি। এখন কেন এসব বলছেন?’ বিষয়টি দেশের জন্য সম্মান হানিকর বলেও মনে হয়েছে তাঁর কাছে, ‘ফেডারেশনের সদস্যদের উনি সম্মান করে কথা বলেননি। বারী ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিকেও তিনি অসম্মান করেছেন। এটা দেশের হকির জন্যই অসম্মানের।’ গেরহার্ডের হাতে পড়ে বাংলাদেশের হকির অবনমন হয়েছে বলেই দাবি তাঁর, ‘উনি এসেছিলেন আমাদের হকিকে ওঠাতে, উল্টো ডুবিয়ে দিয়ে গেছেন।’ জাতীয় দলের আরেক সাবেক ফরোয়ার্ড আরিফুল হক (প্রিন্স) অবশ্য ফেডারেশনের পাশাপাশি গেরহার্ডকেও দুষেছেন, ‘ফেডারেশন নিয়ে উনি যা বলেছেন সেটা শতভাগ ঠিক। তবে আমি বলব, গেরহার্ড দায়িত্ব এড়াচ্ছেন। তাঁর নিজেরও গাফিলতি আছে।’

জুরিখে জিতবে কারা আজ?

২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের দুই আয়োজকের নাম জানতে নিশ্চয়ই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আজ সন্ধ্যায়ই আপনার অপেক্ষার অবসান হবে। জুরিখে ফিফার সদর দপ্তরে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠেয় ভোটই বেছে নেবে দুই আয়োজককে। ফিফার ২৪ জন সদস্যের ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও ভোট দেবেন ২২ জন। ভোট বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ার অপরাধে দুই সদস্য তাহিতির রেনাল্ড টেমারি ও নাইজেরিয়ার আমোস অ্যামাডু বহিষ্কৃত হওয়ায় ভোটার কমেছে দুজন।
বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার উন্মত্ত এই লড়াইয়ে কে জিতবে বলা কঠিন। তবে সর্বশেষ যে খবর, তাতে ২০১৮ বিশ্বকাপের জন্য ছয় দেশের চারটি প্রার্থিতায় বাজির দরে সামান্য এগিয়ে আছে রাশিয়া। ২০২২ বিশ্বকাপ প্রার্থিতায় যুক্তরাষ্ট্র সামান্য একটু হলেও এগিয়ে আছে বলে ধারণা। রাশিয়ার পাশাপাশি ২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজনে প্রার্থিতা জানিয়েছে ইংল্যান্ড, যৌথভাবে স্পেন-পর্তুগাল এবং হল্যান্ড-বেলজিয়াম। ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কাতার ও অস্ট্রেলিয়া।
ফিফার ইতিহাসে বিশ্বকাপের স্বাগতিক হওয়ার লড়াই এতটা তীব্র, তপ্ত এবং কলঙ্কিত আর কখনো হয়নি। ব্রিটিশ দৈনিক সানডে টাইমস-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওশেনিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রধান তাহিতির ফুটবল কর্তা রেনাল্ড টেমারি ও নাইজেরিয়ার অ্যামোস অ্যামাডুর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ভোট বিক্রির প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার পর এ দুই কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করে ফিফা। গত সোমবার বিবিসির এক তথ্যচিত্র তুলে ধরে ফিফার আরও তিন সদস্যের এক দশকের পুরোনো দুর্নীতি।
একই সঙ্গে দুটি বিশ্বকাপ আয়োজক নির্ধারণী প্রক্রিয়া তীব্র সমালোচিত বিভিন্ন মহলে। এতে প্রার্থী দেশগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, একসঙ্গে দুটি বিশ্বকাপের আয়োজক বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি।
গত মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেছে ২০২২ বিশ্বকাপের পাঁচ প্রার্থী, কাল ২০১৮-এর জন্য একক ও যৌথভাবে মিলিয়ে ছয় প্রার্থী। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরসূরি প্রিন্স উইলিয়াম ও ফুটবল মহাতারকা ডেভিড বেকহামকে নিয়ে ভোটারদের মধ্যে নিরলস প্রচারণা চালিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থিতার সমর্থনে জুরিখে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তবে শেষ মুহূর্তের তাস হাতে তুলতে রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন আসবেন কি না জানা যায়নি। তবে শুরুর দিকে এগিয়ে থাকলেও সংবাদমাধ্যমের অনুমান, ২০১৮ বিশ্বকাপ প্রার্থিতায় ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত সুবিধা না-ও করতে পারে। কেননা, ফিফার কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ অন্য সদস্যদের খেপিয়ে তুলে থাকতে পারে। এএফপি, ওয়েবসাইট।

স্পিন-স্বর্গে পেসার নায়ক

দুই দলেরই মূল শক্তি স্পিন। সিরিজটাকে বলা হচ্ছে ‘ব্যাটল অব স্পিন।’ অনুমিতভাবেই ভালো করেছেন দুই দলের ৮ স্পিনারের প্রায় সবাই। অথচ সবাইকে ছাপিয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচের নায়ক কিনা এক পেসার!
চারজন পেসার বোলিং করেছেন কাল। রান-খরার ম্যাচে একজন রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি ৬.২৫ করে, একজন ৬, আরেকজন ৫.২৫। দুই দলের মাঝে কাল মূল ব্যবধানটা গড়ে দিয়েছেন বাকিজন। কে-ই বা ভাবতে পেরেছিল, স্পিন-যুদ্ধের প্রথম খণ্ডে নায়ক হবেন ক্রিস পোফু!
বাংলাদেশের বিপক্ষে পারফরম্যান্স তাঁর বরাবরই ভালো। ক্যারিয়ারের প্রথম ৪ উইকেট পেয়েছিলেন ২০০৬ সালে বাংলাদেশে এসে, ক্যারিয়ারের ৫১ উইকেটের ২২টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। তবে কালকের পারফরম্যান্স ছাড়িয়ে গেছে যেন আগের সব পারফরম্যান্সকেও। ২০৯ রান করে জিততে শুরুতে রান আটকানো আর উইকেট নেওয়া, দুটোই ছিল ভীষণ প্রয়োজন। ৭ ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ১৯ রান দিয়ে তামিম ইকবালকে ফিরিয়েছেন ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই। সাকিবের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর জুটিতে যখন জয় দেখছে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই আউট করেছেন মাহমুদউল্লাহকে। পরের ওভারে সরিয়েছেন জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা সাকিবকে।
এটা ঠিক, তামিমের উইকেট পেয়েছেন আম্পায়ারের ভুলে, বাকি দুটোও ব্যাটসম্যানের চরম অবিমৃশ্যকারিতায়। কিন্তু টানা ভালো বোলিং করে উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্র তো তিনিই প্রস্তুত করেছেন! কেনিয়ার বিপক্ষে একবার ৬ উইকেট নিয়েও ম্যাচ-সেরা হতে পারেননি দল হেরে যাওয়ায়। দলের জয়, ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ-সেরার পুরস্কার—কাল সবই পেলেন। স্পিন-বান্ধব উইকেটে ভালো করার রহস্য জানালেন ম্যাচ শেষে, ‘বলের গতিতে অনেক বৈচিত্র্য এনেছি। এই উইকেটে একই লেন্থে টানা বল করে গেলে ফায়দা তোলা মুশকিল। আমি তাই চেষ্টা করেছি বৈচিত্র্য আনতে।’
দলের বোলিং কোচ জাতীয় দলের হয়ে অনেকবার বাংলাদেশে এসেছেন, খেলে গেছেন বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হিথ স্ট্রিক শিষ্যদের দিয়েছিলেন পরামর্শ, ‘আমি দলের সব পেসারকেই বলেছিলাম এই উইকেটে বলের গতিতে অনেক বৈচিত্র্য আনতে হবে। বলেছিলাম, ব্যাটসম্যানকে বেশি জায়গাও দেওয়া যাবে না। ক্রিস ঠিক তা-ই করেছে বলেই ফল পেয়েছে।’
টসের সময় এলটন চিগুম্বুরা বলেছিলেন, লক্ষ্য ২৪০-২৫০ রান। তবে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক জানালেন, হতাশ হননি প্রত্যাশার চেয়ে কম রান করার পরও, ‘রান যা-ই হোক, সেটা নিয়ে লড়াই করার আত্মবিশ্বাস না থাকলে তো দেশে চলে যাওয়াই ভালো। ২০-৩০টা রান বেশি হলে বোলারদের কাজটা সহজ হতো। তবে তার পরও বোলাররাই আমাদের জিতিয়েছে।’

জ্বালানিসাশ্রয়ী সার কারখানায় বিনিয়োগে আগ্রহী ডেনিশরা

বাংলাদেশে জ্বালানিসাশ্রয়ী ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সার কারখানা স্থাপনের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে ডেনমার্কের শিল্পোদ্যোক্তারা। বিসিআইসির আওতাধীন ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রতিস্থাপনের জন্য তাঁরা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে কারখানা দুটিতে বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহূত হচ্ছে, তা দিয়েই উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ডেনমার্কের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান হালদোর টপসির প্রেসিডেন্ট নেইলস কেগেল সরেনসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফররত তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে বৈঠককালে এ আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে শিল্পসচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, প্রতিনিধিদলের সদস্য আলরিক ফেডারস্পাইল ও পল এরিক লরেনসন উপস্থিত ছিলেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে বিদ্যমান জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় জ্বালানিসাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিদ্যমান সার কারখানাগুলো প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন করে সার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় স্থান পায়।
বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্প খাতের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল শ্রমশক্তি, অভ্যন্তরীণ বাজার ও শিল্প-সহায়ক পরিবেশ কাজে লাগিয়ে দ্রুত আর্থসামাজিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব। তাঁরা গ্যাস-সংকট মোকাবিলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ও গ্যাসভিত্তিক সার উৎপাদনের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য ফলপ্রসূ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তাঁরা বাংলাদেশের সার কারখানা, জাহাজ নির্মাণসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় শিল্প খাতের উন্নয়নে অংশীদার হতে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারের জন্য বর্তমান সরকার জ্বালানিসাশ্রয়ী ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সার কারখানা স্থাপনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি নতুন সার কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি পুরোনো সার কারখানাগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রতিস্থাপনে এগিয়ে আসার জন্য ডেনমার্কের উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে ডেনমার্কের উদ্যোক্তারা সরাসরি কিংবা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিতে (পিপিপি) বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইসলাম মানবসেবার কথা বলে by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ইসলামের অনুপম আদর্শ রয়েছে। ইসলাম ধর্মে সৃষ্টিজগতের সেবা একটি মহৎ কাজ। সৃষ্টিকর্তার ওপর ঈমান আনার পর মানুষের সর্বোত্তম ইবাদত মানুষকে ভালোবাসা; আর সবচেয়ে বড় গুনাহ হচ্ছে মানুষকে দুঃখ-কষ্ট দেওয়া। মুসলমান-খ্রিষ্টান-হিন্দু-বৌদ্ধসহ যত ধর্মাবলম্বী আছে, সব মানুষই অন্য মানুষের ভাই। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদের একজন নর ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। আর আমি তোমাদের অনেক সম্প্রদায় ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো।’ (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১৩)
স্রষ্টাকে পেতে হলে ধর্মপ্রাণ মানুষের অন্তরে মানবপ্রেম থাকা চাই। অহিংসা, শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনের জন্য চাই মানবপ্রেম। আগ্রাসী মনোভাব অন্তরে পোষণ করে লোক দেখানো মানবসেবা বা ইবাদতে প্রকৃত খোদাপ্রেমিক হওয়া যায় না। হিংসা-বিদ্বেষ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানির পরিবর্তে যে অন্য মানুষকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে, সে-ই ভেতরে-বাইরে বড় মাপের মানুষ হতে পারে এবং দয়াময় তার ওপর অশেষ রহমত বর্ষণ করেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘রাতের আঁধারে বা দিনের আলোতে যা কিছু করো অথবা মনের গহিনে বা গোপনে করো বা প্রকাশ্যে করো, আমি সবই জ্ঞাত, এসব কিছুরই হিসাব নেব।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-২৮৪)
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষ, পশুপাখি, বৃক্ষলতা—সব কিছুকেই নিঃস্বার্থভাবে অন্তর থেকে ভালোবেসেছেন এবং সৃষ্টিকে ভালোবাসার মাধ্যমে স্রষ্টার সান্নিধ্য অর্জন করেছেন। তিনি আল্লাহর প্রিয় বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও কঠিন পরিশ্রমের হাল ছাড়েননি, দুর্বলের হক বা অধিকার নষ্ট করেননি, অসহায়ের সহায় হয়েছেন, সহস্র বাধা-বিপত্তিতেও সত্য-সুন্দর-ন্যায়ের পথেই তিনি সৃষ্টির সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চলার পথে যে দুষ্ট মহিলা কাঁটা ফেলে রাখত, সেই বুড়ির অসুস্থতায় তার খেদমত করে নবীজি মানবসেবার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। পিতা-মাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, নিঃস্ব, বিপদগ্রস্তদের নিঃস্বার্থভাবে মমতার বশে ভালোবাসার অর্থই হচ্ছে সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসা। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ নয়।’ (তিরমিযি, আবু দাউদ)
আল্লাহ তাআলা মানুষের ধনসম্পদ, বিদ্যা-বুদ্ধি, ক্ষমতা, বংশ, রূপলাবণ্য দেখেন না, দেখেন কোন প্রেমিক বান্দা তার সাধ্যানুযায়ী মানবসেবা করছে। তাই স্রষ্টার সন্ধান পেতে হলে মানুষকে ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। আর্তমানবতার সেবায় যাঁরা এগিয়ে আসেন বা যাঁদের দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, তাঁরাই মূলত মানবসেবক। মানুষ যে জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও দলমতের অনুসারী হোক না কেন, তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করা, বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধার করা মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটেছে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১১০)
মানবতাবাদী ধর্ম ইসলাম সর্বাগ্রে মানুষকে মানুষের প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা দেয়। ইসলাম মনে করে, আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি হলো বিশ্বমানবতার সৌন্দর্য। বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী মানুষে মানুষে সম্পর্ক যত সহনশীল, সম্প্রীতিময় ও মানবীয় হবে, সমাজে ততই সুখ-শান্তি ও নিয়ম-শৃঙ্খলা বিরাজ করবে। প্রতিটি মানুষেরই সমাজের প্রতি কিছু করণীয় রয়েছে। কোনো একজন মানুষ দুঃখ-কষ্টে পড়লে বা বিপদগ্রস্ত হলে অন্যরা তার দুঃখে দুঃখিত বা ব্যথিত হলেই চলবে না, বরং তার দুঃখ-কষ্ট লাঘবের বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। যে মানুষের প্রতি সদয় হবে, আল্লাহও তার প্রতি সদয় হবেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সব জীবের প্রতি দয়া করো, আল্লাহও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (মিশকাত)
আল্লাহ তাআলা মানুষকে ধৈর্য ও ঈমান পরীক্ষা করার জন্য নানা রকম বিপদ-আপদে পতিত করেন। তিনি মানুষের মধ্যে কাউকে জ্ঞানী, বিত্তশালী ও সক্ষম করেছেন; আবার কাউকে করেছেন স্বাভাবিক কর্ম সম্পাদনে অক্ষম বা প্রতিবন্ধী, দুস্থ-পীড়িত, দীন-দুঃখী। তিনি দেখতে চান সক্ষম লোকেরা অক্ষমদের জন্য কাঁদে কি না।
মানবসেবার জন্য অনেক ধনসম্পদের দরকার নেই, দরদি ও বিশুদ্ধ মনের প্রয়োজন। প্রতিটি শ্রেণীর ও পেশার মানুষ তাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকেও সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে মানবসেবা করতে পারে। একজন ব্যবসায়ী যদি মানুষকে ওজনে কম ও মালামালে ভেজাল না দেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অহেতুক দ্রব্যমূল্য না বাড়িয়ে সঠিক দামে পণ্য বিক্রি করেন অথবা চিকিৎসক যদি ভিজিট কম নিয়ে গরিব রোগী দেখেন—এটাই মানবসেবা। মানুষ যদি বিশুদ্ধ নিয়তে অন্তর দিয়ে অন্য একজন মানুষকে ভালোবাসে, তার কল্যাণে কাজ করে, তাহলে আল্লাহ তাকে আরও অধিক ভালোবাসেন; সত্য-ন্যায় ও সুন্দরের পথে চলার শক্তি জোগান এবং তাকে তাঁর আরশের ছায়াতলে স্থান দেন। অতএব, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে জগতে মানুষ মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে, সৎপথের সন্ধান দেবে, ক্ষুধার্তের ক্ষুধা মেটাবে, তৃষ্ণার্তকে পানি দেবে, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেবে এবং অসুস্থ ও অসহায় দুর্বলের প্রতি মানবসেবার হাত বাড়িয়ে দেবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

তাদের জানতে-বুঝতে আপনি যা করতে পারেন by জুলিয়ান ফ্রান্সিস

অনাদরে, অবহেলায় মরে গেল আমার ভাই, জেমস। তার জন্ম ১৯৪৩ সালে। জেমসের একধরনের বংশগত অস্বাভাবিকতা ছিল, যাকে বলা হয় ডনস সিনড্রোম। গুরুতর শিখনপ্রতিবন্ধিতা ছিল। ১৯৯৯ সালে ব্রিটেনে মারা যাওয়ার আগে সে মারাত্মক নিউমোনিয়া বাঁধিয়ে ফেলেছিল। তার সমস্যাটা খুঁজে পেতে চিকিৎসকেরা যথেষ্ট সময় ও কষ্ট স্বীকার করতে চাননি। ডায়রিয়া হয়েছিল। যে আবাসিক পরিচর্যাকেন্দ্রে সে থাকত, তা যথাযথভাবে যাচাই না করেই তারা শুধু ডায়রিয়ার চিকিৎসা করল। প্রতিবন্ধীদের দেখাশোনার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও পরিচর্যাকারীদের সঙ্গে সে যোগাযোগ করতে পারেনি। তাই সে মরে গেল। তার জন্মদিন ৩ ডিসেম্বর। এ দিনটি আমার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
যেসব মানুষের জীবন এক বা একাধিক প্রতিবন্ধিতার কারণে বেশির ভাগ মানুষের চেয়ে অনেক কঠিন, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি বোঝার চেষ্টা আমরা কি কখনো করেছি? এই প্রশ্ন নিজেকেই করা দরকার। তাদের প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হতে পারে, আমরা কী করব বা বলব, তা না জানার কারণে প্রায়ই আমরা বিব্রত ও ক্লেশ বোধ করি। এখানে কিছু প্রায়োগিক পরামর্শ আমি লিখছি, যা হয়তো প্রতিবন্ধীদের অনুভূতি বুঝতে সহায়ক হবে। এগুলো আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তুলে আনা। আমার বেড়ে ওঠার সময়ে পাশে ছিল গুরুতর শিখনপ্রতিবন্ধী ভাই আর পরবর্তী জীবনে আমার এক ছেলেরও এ ধরনের প্রতিবন্ধিতা ছিল। এর বাইরেও বহু প্রতিবন্ধীর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুতা আমার জীবন ও কর্মকে সমৃদ্ধ করেছে।
১৯৯০-৯১ সালে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিবন্ধী নীতির প্রথম খসড়া দাঁড় করানোর জন্য আরও কয়েকজনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং এ ক্ষেত্রে অগ্রগতির ধীরগতি দেখার অভিজ্ঞতা থেকে জানি, প্রতিবন্ধীদের নানা সমস্যার বিষয়ে কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন। সরকারের বেশির ভাগ বাজেট-পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার স্থান পায় একদম শেষে। বহু কাজ এখনো করা বাকি। তাই আমি তাগাদা দেব এগুলো সম্পন্ন করুন। আমি বেশ আনন্দিত, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেসব বিপদের মুখে পড়ে, সেগুলোর ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিক আগ্রহ দেখাচ্ছে। বাংলাদেশসহ বহু দেশে অনেক প্রতিবন্ধী বন্ধুর সঙ্গে আমি কাজ করেছি। আর সব সময় আমি চেষ্টা করেছি প্রতিবন্ধিতা নয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর মনোযোগ দিতে। আশা করি, নিচে যে পরামর্শগুলো তুলে ধরছি, সেগুলো মন্ত্রী ও সরকারি কর্মী বাহিনীকে প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে করণীয় আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। অবশ্য সর্বোত্তম পরামর্শ হলো, কোনো প্রতিবন্ধীর সঙ্গে আপনি কেমন সম্পর্ক করবেন, তা নিয়ে দ্বিধা থাকলে তার কাছেই পরামর্শ চান।
কারও যদি এক ধরনের প্রতিবন্ধিতা থাকে, তার সঙ্গে এমন আচরণ করা যাবে না, যাতে মনে হয় সে অন্য অনেকভাবে প্রতিবন্ধী। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীর সঙ্গে এক সিলেবলের সরল শব্দে কথা বলা, শ্রবণপ্রতিবন্ধীকে চিৎকার করে কিছু বলা এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সঙ্গে কথা বলার সময় অন্য কারও মাধ্যমে কথা বলার প্রবণতা দেখা যায়।
কোনো ব্যক্তির প্রতিবন্ধিতার ওপর নয়, ব্যক্তিটির ওপরই মনোযোগ দিন। যদি মনে হয় কোনো প্রতিবন্ধীর সাহায্য প্রয়োজন, তবে তাকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনি সাহায্য করতে পারেন কি না এবং কীভাবে তা করা যায়। সাহায্য করার কথা বলতে আপনার দ্বিধা থাকতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরও সাহায্য চাইতে দ্বিধা থাকতে পারে। প্রতিবন্ধীরা সাধারণত যতটা সম্ভব স্বাধীন থাকতে চায়। তাই যদি আপনার সাহায্যের দরকার না লাগে, তাতে অপমানিত বোধ করবেন না এবং অন্য কোনো সময় সাহায্য করতে চাওয়া থেকে বিরত থাকবেন না। কখনো বলবেন না, ‘আমি যদি তুমি হতাম, তাহলে এই চেষ্টা করতাম না’—কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কী করতে পারে বা না পারে, তা সাধারণত সে-ই সবচেয়ে ভালো বিচার করতে পারে। করুণা দেখাবেন না। এমন কথা বলবেন না, ‘তুমি যে কীভাবে চালিয়ে নিচ্ছ; হাঁটতে না পারলে আমি তো মরেই যেতাম।’ এমন কথা প্রায়ই আহত করে এবং প্রশংসার আড়ালে নিজের ভিন্নতার বোধই জাগিয়ে তোলে।
যে শিশুর প্রতিবন্ধিতা আছে, তার সঙ্গে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক আচরণ করুন। অন্য শিশুদের মতোই তাদের কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে দেবেন না। অন্য শিশুর মতোই প্রতিবন্ধী শিশুদেরও সমাজের গ্রহণযোগ্য আচরণের সীমা জানা দরকার।
বিলম্ব না করে আপনার পরিচয় জানিয়ে দিন। ‘হ্যালো’ বা অন্য কোনো সম্ভাষণ শুনেই আপনার অবস্থান সম্পর্কে ধারণা করা একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর জন্য সব সময় সম্ভব হয় না। সে যদি আপনার পরিচয় না বুঝতে পারে, তাহলে তার পক্ষে আন্তরিকভাবে সম্ভাষণের জবাব দেওয়া মুশকিল। সুতরাং, আপনার পরিচয় দিন এবং প্রাসঙ্গিক কোনো ঘটনা বর্ণনা করুন—যেমন, ‘হ্যালো, আমি তাসনিম। গত সপ্তাহে ফরিদার বাড়িতে আপনার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল।’ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির নাম মনে রাখতে বিশেষ যত্ন নিন। তাকে উদ্দেশ করে কথা বলা হচ্ছে, এটা বোঝানোর জন্য তার নাম বলে কথা শুরু করাই একমাত্র পথ।
কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর উদ্দেশে ‘আপনাকে দেখে ভালো লাগল’-জাতীয় কথা বলতে দ্বিধা বোধ করবেন না। সেও হয়তো একইভাবে উত্তর দেবে। দেখা-সম্পর্কিত শব্দ পরিহার করা অসম্ভব—দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা এ ধরনের শব্দ ব্যবহারে খুব বেশি আত্মসচেতন নয়, হওয়ার দরকারও নেই।
অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর হাত ধরবেন না। তাতে সে ভয়ে চমকে উঠতে পারে। আসলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে ধরবেন না, তাকেই সুযোগ দিন আপনার হাত ধরার। তখন সে নিশ্চিন্তে আপনার থেকে অর্ধেক পদক্ষেপ পেছনে থাকবে এবং এভাবে সে বুঝতে পারবে, আপনার পরের পদক্ষেপে কতটা জায়গা বদল হচ্ছে। ‘এই এক কদম’, ‘সামনে পা ফেলুন’, কিংবা ‘একটু পেছনে যান’—এজাতীয় কথা বলবেন না। নিচের দিকে নামার সময় পা শূন্যে দোলাতে থাকা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি অস্বস্তিকর। উঁচু-নিচু পথে চলার সময় তা তাকে অবহিত করুন।
দরজা কখনো অর্ধেক খোলা রাখবেন না। পুরোপুরি বন্ধ রাখুন, নয়তো একদম হাট করে খুলে রাখুন। টেলিভিশন দেখা থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না। তার দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন বন্ধুদের জানা দুনিয়ায় প্রবেশের রাস্তা এই টেলিভিশন। বাইরের কর্মকাণ্ড থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বন্ধুকে বাদ দেবেন না। তার বাজার আপনি করে দেওয়ার বদলে তাকে জিজ্ঞাসা করুন আপনার সঙ্গে সেও বাজার করতে চায় কি না।
কোনো শিখনপ্রতিবন্ধীর কাছে কোনো শিশু গেলে তাকে খেদিয়ে দেবেন না। (প্রায়ই ভুলবশত শিখনপ্রতিবন্ধীদের বলা হয় ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’)। শিখনপ্রতিবন্ধীদের ভয় পাবেন না। তারা সাধারণত সহিংস হয় না। আর তারা যদি অনেকের মাঝে বাস করে, তাহলে ধরে নিতে পারেন, তারা সহিংস আচরণ করবে না। শিখনপ্রতিবন্ধীদের এড়িয়ে যাওয়া বা প্রত্যাখ্যান করাই সাধারণত তাদের মেজাজ বিগড়ে দেওয়ার প্রধান কারণ। তাদের সঙ্গে সৎ আচরণ করতে হবে, প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে। শিখনপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি আপনার প্রতিশ্রুতি বোঝে না কিংবা মনে রাখে না—এমন মনে করবেন না। উদাহরণ হিসেবে বলি, আমার শিখনপ্রতিবন্ধী ছেলে নিলের বয়স এখন ৩২; তার স্মৃতিশক্তি বিস্ময়কর এবং নিজের অবস্থান বা লক্ষ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান তার আছে।
মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির কথা সময় নিয়ে শুনুন। ভাববেন না, তার কোনো জ্ঞান বা মত নেই।
প্রতিবন্ধী সন্তানের মা-বাবার প্রতি করুণা প্রকাশ করবেন না। মা-বাবার কাছে সব সন্তানই প্রিয়। কাউকে উপদেশ দিতে যাবেন না। তবে যদি পেশাগত দিক থেকে কাউকে কোনো নির্দেশনা না দেওয়া হয় এবং তাকে সাহায্য করা আবশ্যক মনে হয়, তখনই কেবল তাকে উপদেশ দিন। মনে রাখবেন, আপনি কোনো প্রায়োগিক সহায়তা দিতে চাইলে দীর্ঘ সময় ধরে তা দিতে হতে পারে। মানসিকভাবে অসুস্থ কাউকে বলবেন না, ‘সংযত হও’। তারা যদি তা পারত, তাহলে তো করতই।
আপনাকে যদি হুইলচেয়ার না ধরতে বলে, তাহলে ধরবেন না। অনভিজ্ঞ কেউ ধরলে চেয়ারে বসা ব্যক্তি সহজেই ছিটকে পড়তে পারে। দ্রুত চেয়ার ঘোরাতে গেলে তাকে সতর্ক করার কথা মনে রাখতে হবে। আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ আগেই তাকে জানানো দরকার। আপনি যে গতিতে চেয়ারে ধাক্কা দিচ্ছেন, তাতে হুইলচেয়ারে বসা ব্যক্তি কতটা স্বস্তি বোধ করছে, তা খেয়াল করতে হবে। হাত রাখার জায়গায় ধরে চেয়ারটি তুলবেন না, তাহলে হয়তো হাতল আপনার হাতে চলে আসবে। মনে রাখবেন, আপনি উৎফুল্ল চিত্তে যা বলছেন, তা চেয়ারে বসা ব্যক্তিটির পক্ষে শোনা কঠিন হতে পারে। কেননা, আপনার কথা পেছন থেকে আসায় যানবাহনের শব্দের সঙ্গে পেরে উঠবে না। তা ছাড়া তার অবস্থান থেকে সে হয়তো দেখবে না, আপনি কোন দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছেন।
স্থির হুইলচেয়ারে বসা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় আপনার মাথা একই স্তরে রাখুন। নিচের দিকে চেয়ে কথা বলা এবং ওপরের দিকে চেয়ে শোনা সব সময় অস্বস্তিদায়ক। সিঁড়ি দিয়ে হুইলচেয়ার কীভাবে নামানো বা ওঠানো যায়, তা চেয়ারে বসা ব্যক্তির কাছে জানতে চান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সাধারণত সোজা কোনো কৌশল জানে।
শ্রবণপ্রতিবন্ধীর সঙ্গে কথা বলার সময় আপনার চেহারা যেন সে স্পষ্ট দেখতে পায়। আপনি আলো বা জানালার বিপরীতে মুখ করে দাঁড়ালে আপনার ছায়া পড়তে পারে। আপনার ঠোঁটের নড়াচড়া পড়ে বোঝার জন্য যতটা বিস্তারিতভাবে দেখা দরকার, তা তখন সম্ভব হয় না। কথা বলার সময় নড়াচড়া কম করবেন, না হলে কিছু কথা হারিয়ে যাবে। ঠোঁটের নড়াচড়া দেখে কথা বুঝতে সাহায্য করার জন্য মুখ বিকৃত করবেন না। যেসব সূক্ষ্ম চিহ্ন থেকে সে অর্থ তৈরি করে, তা মুখের এমন কসরতের ফলে হারিয়ে যায়। আর চিৎকার দিয়ে কথা বলবেন না। তাতে কাজ হয় না, বরং শ্রুতিসহায় যন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে।
মনে রাখবেন, শ্রবণপ্রতিবন্ধী কোনো ব্যক্তি অন্ধকারে বাইরে যেতে ভয় পেতে পারে। ঘরের ভেতরে নিরাপদ আলো পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করুন। রাতের বেলা আপনার সঙ্গী যদি কোনো শ্রবণপ্রতিবন্ধী হয়, তাহলে সঙ্গে করে টর্চ নিতে ভুলবেন না। তাকে কিছু বলার সময় আপনার মুখে আলো ফেলবেন। শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি কী বলতে চাচ্ছে, তা যদি না ধরতে পারেন, কিংবা তার শ্রুতিসহায় যদি বাঁশি বাজার মতো শব্দ করতে থাকে, তাহলে চুপ করে থাকবেন না, অকপটে বলুন। নইলে কেমন করে সে বুঝবে?
কাউকে ছোট করে দেখবেন না। শ্রবণপ্রতিবন্ধীর কণ্ঠ অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু এমন ভাব করার দরকার নেই যে তার শিখনপ্রতিবন্ধিতাও আছে।
গান বাজান। শ্রবণপ্রতিবন্ধীরা স্পন্দন অনুভব করে বিট ‘শুনতে’ পারে। শ্রবণপ্রতিবন্ধী কিশোর-কিশোরীরা গানের সঙ্গে নাচতে পছন্দ করে। যত উচ্চ স্বরে গান, তত ভালো।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
জুলিয়ান ফ্রান্সিস: সমাজকর্মী, দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।

কঙ্গোর সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি কমিটি গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের একজন সেনা কর্মকর্তা ও তিনজন বিদ্রোহী নেতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছে। জাতিসংঘের যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য মিশনের এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সেনা কর্মকর্তার নাম ইননোসেন্ট জিমুরিন্দা।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে জিমুরিন্দার নির্দেশে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া রুয়ান্ডার শরণার্থীদের ওপর গণহত্যা চালায় সেনাবাহিনী। তারা সেখানে প্রায় ১০০ নারী ও শিশুকে হত্যা করে।
জিমুরিন্দা সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে একই এলাকায় ২০০৮ সালের নভেম্বরে তাঁর নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা গণহত্যা চালিয়ে ৮৯ জনকে হত্যা করে।

রোলস রয়েসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে কোয়ানটাস

অস্ট্রেলীয় বিমান সংস্থা কোয়ানটাস তাদের ‘এয়ারবাস এ৩৮০’ উড়োজাহাজে ইঞ্জিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রোলস রয়েসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী বিমান এয়ারবাস এ৩৮০। সম্প্রতি এগুলোর একটির ইঞ্জিনে বিস্ফোরণের ঘটনার পর কোয়ানটাস এ ব্যবস্থা নিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, এ ব্যাপারে রোলস রয়েসের সঙ্গে মিটমাট না হলে আইনি লড়াই চলবে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিমান নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এর মধ্যে রোলস রয়েসের ট্রেন্ট ৯০০ ইঞ্জিনে কিছু গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত করেছে।
গত ৪ নভেম্বর কোয়ানটাসের একটি এয়ারবাসের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর তারা নিরাপত্তার ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে এই বিমানের চলাচল বন্ধ রাখে। সম্প্রতি আবার চালু হয়েছে এই এয়ারবাস।
সংস্থাটি জানায়, আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে পছন্দমতো তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। আইন তাদের সে অনুমোদন দিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএইএ

জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) প্রধান ইয়ুকিয়া আমানো বলেছেন, উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে বলে সম্প্রতি যে খবর বেরিয়েছে, তা ‘বড় ধরনের উদ্বেগের’ বিষয়। গতকাল বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আইএইএর পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনি এ কথা বলেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু কার্যক্রম সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা একটি চুল্লিতে কয়েক হাজার সেন্ট্রিফিউজ দিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দেশটির সামনে পারমাণবিক বোমা বানানোর দ্বিতীয় সুযোগ এনে দিয়েছে।
আইএইএর সভায় আমানো বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ায় নতুন পারমাণবিক চুল্লির কার্যক্রম সম্পর্কে সম্প্রতি যেসব খবর বেরিয়েছে, তা আমাকে গভীর উৎকণ্ঠায় ফেলে দিয়েছে।’
উত্তর কোরিয়া ২০০২ সালে আইএইএর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং আইএইএর যে কজন কর্মকর্তা সে দেশে অবস্থান করছিলেন, তাঁদের সবাইকে গত বছর বহিষ্কার করে। এ কারণে উত্তর কোরিয়া তার সর্বশেষ পারমাণবিক চুল্লির বিষয়ে যে দাবি করেছে, সে সম্পর্কে আইএইএর কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইতিপূর্বে উত্তর কোরিয়া সফর করেছেন এমন একজন মার্কিন বিজ্ঞানী কয়েক সপ্তাহ আগে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
উত্তর কোরিয়া গোড়া থেকেই বলে আসছে, কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তারা পরমাণু কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে তাদের হাতে বর্তমানে এক ধরনের প্লুটোনিয়াম-ভিত্তিক পারমাণবিক বোমা রয়েছে। ২০০৬ ও ২০০৯ সালে তারা পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণও ঘটিয়েছে।

জাপানের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে যুক্তরাষ্ট্র

এবার জাপানের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান। আজ শুক্রবার থেকে আট দিনব্যাপী ওই মহড়া শুরু হওয়ার কথা।
কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনার মধ্যেই গত বুধবার পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চার দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তিসমৃদ্ধ বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনসহ দুই দেশের অন্তত ২০টি যুদ্ধজাহাজ অংশ নেয়।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে আট দিনব্যাপী যৌথ মহড়া শেষ হবে ১০ ডিসেম্বর। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা বলেন, জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্বকে জানান দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৭ সালের পর জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের এটাই সবচেয়ে বড় যৌথ মহড়া। এতে জাপানের ৩৪ হাজার সেনাসদস্য, ৪০টি যুদ্ধজাহাজ, ২৫০টি বিমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১০ হাজার সেনাসদস্য, ২০টি যুদ্ধজাহাজ ও ১৫০টি বিমান অংশ নেবে।
গত ২৩ নভেম্বর দুই কোরিয়ার গোলা-বিনিময়ের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নপিয়ং দ্বীপে দুই মেরিন সেনাসহ অন্তত চারজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে জাপান সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের সার্বক্ষণিকভাবে টোকিওতে অবস্থান করার নির্দেশ দেন।
জাপানের সঙ্গে যৌথ মহড়া সম্পর্কে মার্কিন বিমানবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত মহড়ার অংশ। অনেক বছর ধরেই এটা চলে আসছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই মহড়া দুই দেশের সেনার সামর্থ্য ও দক্ষতা বাড়বে।

ইসরায়েলে দাবানলে ৪০ জনের মৃত্যু

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে গতকাল বৃহস্পতিবার ভয়াবহ এক দাবানলে প্রায় ৪০ জন কারারক্ষীর মৃত্যু ও বহু আহত হয়েছে। পুলিশ জানায়, করারক্ষীদের বহনকারী একটি বাস দাবানল থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত ছুটতে গিয়ে উল্টে আগুনের মধ্যে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। উত্তরের হাইফা শহরের কাছে কারমেল পাহাড়ের বনাঞ্চলে এই দাবানলের সূত্রপাত হয়।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী ও অন্যান্য জরুরি বিভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি কারাবন্দীও রয়েছে।
জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেরুজালেম পোস্ট-এর খবরে বলা হয়, বিমান থেকে পানি ছিটিয়ে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। সরকারি কর্মকর্তারা ওই পত্রিকাকে বলেন, কী কারণে এই দাবানলের সৃষ্টি, তা তাঁরা জানেন না। তবে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ইসরায়েলে ব্যাপক খরা চলছে।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাজ্যে

গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাজ্যে আছেন। পুলিশ তাঁর অবস্থানও জানে। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) ‘রেড নোটিশ’ জারি করলেও তাঁকে ধরছে না ব্রিটেনের পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পত্রিকা দি ইনডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী মার্ক স্টিফেন্স গতকাল বৃহস্পতিবার দাবি করেন, শুধু ব্রিটেনের পুলিশ নয়, কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাও অ্যাসাঞ্জের অবস্থান সম্পর্কে জানে। এদিকে সুইডেনের সর্বোচ্চ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে অ্যাসাঞ্জের করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন।
সুইডেনের পুলিশ বলছে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে নতুন করে একটি পরোয়ানা জারি করা হবে। আগের পরোয়ানায় প্রক্রিয়াগত কিছু ভুল ছিল বলে তাঁরা স্বীকার করেন।
অ্যাসাঞ্জকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উইকিলিকসের একজন মুখপাত্র।
দি ইনডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাসাঞ্জ গত অক্টোবরে যুক্তরাজ্যে আসেন। এতে পুলিশের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, অ্যাসাঞ্জের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ অবগত আছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের টেলিফোন নম্বরও আছে পুলিশের কাছে। দি ইনডিপেন্ডেন্ট-এর ধারণা, অ্যাসাঞ্জ ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোনো জায়গায় অবস্থান করছেন।
অ্যাসাঞ্জকে ধরতে গত বুধবার রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল। একই সঙ্গে তাঁর নাম ইন্টারপোলের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে সুইডেনের পুলিশ।
দি ইনডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনের সিরিয়াস অরগানাইজড ক্রাইম এজেন্সি (এসওসিএ) ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অনুযায়ী অ্যাসাঞ্জকে ধরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এসওসিএ আগে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডেনের জারি করা পরোয়ানা খতিয়ে দেখবে। কৌশলগত কারণে এ ব্যাপারে কিছুটা দেরি হচ্ছে।
এ প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী স্টিফেন্স বলেন, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ও আরও কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা সংস্থা অ্যাসাঞ্জের অবস্থান সম্পর্কে জানে। তবে অ্যাসাঞ্জের অবস্থান সম্পর্কে তাঁর জানা নেই বলে স্টিফেন্স উল্লেখ করেন।
সুইডেনের ন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশের টমি কানগাসভিয়েরি গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। আগের পরোয়ানায় প্রক্রিয়াগত কিছু ভুল ছিল।
অ্যাসাঞ্জের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে সুইডেনের সর্বোচ্চ আদালতে করা আপিল খারিজ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মকর্তা কারস্টিন নরম্যান বলেন, আদালত অ্যাসাঞ্জের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেননি। গত বুধবার অ্যাসাঞ্জের পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা এই আবেদন করেন। এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্স।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ও উইকিলিকস নিয়ে‘চলতি বিশ্বে’ পড়ুন ‘উইকিলিকসের নতুন বোমা’

বর্ষসেরা ক্লাইস্টার্স

ক্যারিয়ারের তৃতীয় ইউএস ওপেনের শিরোপাসহ ২০১০ সালে শিরোপা জিতেছেন ৫টি। শিরোপা-সাফল্যে সেরা বছর কাটানোর স্বীকৃতিও পেলেন কিম ক্লাইস্টার্স। দ্বিতীয়বারের মতো ডব্লুটিএর বর্ষসেরা নারী খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর আগে ২০০৫ সালেও এই পুরস্কার জিতেছিলেন ক্লাইস্টার্স। বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ২৭ বছর বয়সী বেলজিয়ান তারকা, ‘প্রত্যাবর্তনের এক বছর পরই বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতাটা সত্যিই চমৎকার। আমি কখনোই ভাবিনি এত দ্রুত এটা আসবে। এই সংবাদে সত্যিই আমি রোমাঞ্চিত।’ তাঁরই স্বদেশি জাস্টিন হেনিন জিতেছেন বর্ষসেরা প্রত্যাবর্তনের পুরস্কার। বছরের সেরা উদীয়মান তারকার পদক জিতেছেন উইম্বলডনের সেমিফাইনালিস্ট চেক প্রজাতন্ত্রের পেত্রা ভাইতোভা।

চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফের মামলা করলেন বাবা

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বাবা জোসেফ জ্যাকসন তাঁর ছেলের (জ্যাকসনের ) মৃত্যুর জন্য তাঁর চিকিৎসক কনরাড মারেকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে আবার মামলা করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলসের সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা ওই মামলায় মৃত্যুর আগে জ্যাকসন যে ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ কিনেছিলেন তার মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। গত জুনে দায়ের করা একটি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত খারিজ করে দেওয়ার পর জোসেফ জ্যাকসন দ্বিতীয় দফায় মামলাটি করলেন।
মামলার ২৪ পৃষ্ঠার এজাহারে বলা হয়, চিকিৎসক কনরাড মারের দায়িত্বে অবহেলা জ্যাকসনের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এতে অভিযোগ করা হয়, ২০০৯ সালের ২৫ জুন জ্যাকসন যখন মারা যাচ্ছিলেন তখন তাঁর অবস্থা সংকটজনক জেনেও কনরাড মিউরি ৪৭ মিনিট টেলিফোনে তাঁর ব্যবসায়িক আলাপ করেছিলেন। অসুস্থ জ্যাকসনের অবস্থা গুরুতর জেনেও সময়মতো ৯১১ নম্বরে জরুরিবার্তা (যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি সেবাসংক্রান্ত বিশেষ টেলিফোন নম্বর) পাঠানো হয়নি।
পুলিশের তদন্তে দেখা যায়, ওই সময় কনরাড মারে টেলিফোনে নেভাদা এবং টেক্সাসে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ব্যবসাসংক্রান্ত আলোচনা করেন।

মাঠে ফেরার অপেক্ষায় কাকা

আগস্টে হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই খবরের অন্তরালে চলে যাওয়া কাকাকে প্রায় ভুলতেই বসেছিল মানুষ! অবশেষে অস্তিত্বের জানান দিয়ে দীর্ঘদিন পর খবর হলেন কাকা। মাঠে ফেরার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন এই ব্রাজিলিয়ান। প্রত্যাশা, ২০১১-এর শুরুতেই পূর্ণ ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাবেন। ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নিশ্চিত করা হয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেরে উঠবেন ২৮ বছর বয়সী কাকা।
সোমবার ৫-০ গোলে এল ক্লাসিকো হারার দিনই রিয়ালের ওয়েবসাইট জানায়, ‘এক বৈঠকে রিয়ালের চিকিৎসক পরিষদ ও চিকিৎসক টোরিবিও লেইতে রিকার্ডো ইজেকসন ডস সান্তোস কাকার উন্নতি নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার সিদ্ধান্ত, এই খেলোয়াড়ের শরীর তাত্ত্বিক দিকগুলো সন্তোষজনক পর্যায়ে।’
আগস্টে রিয়ালের যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে হাঁটুতে নতুন চোট পান কাকা। যে চোট তাঁকে টেনে নিয়ে যায় চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসক সব দেখে-শুনে আবিষ্কার করেন পরিস্থিতি ভয়াবহ, কাকার ফুটবল ক্যারিয়ারই হুমকির মুখে! বেলজিয়ামে সফল অস্ত্রোপচার ভয় অবশ্য তখনই দূর করে দিয়েছিল। পুনর্বাসন-প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা কাকা এখন দিন গুনছেন পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে দলের সঙ্গে মাঠে ফেরার।
বড় আশা করেই এসি মিলান থেকে কাকাকে এনেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু চোটের সঙ্গে নিরন্তর লড়তে থাকা কাকা ২০০৯-১০ মৌসুমে রিয়ালের হয়ে খেলতে পেরেছেন মাত্র ৩৩টি ম্যাচ। ব্রাজিলের হয়ে ভালো কাটেনি বিশ্বকাপও। প্রত্যাশা ছিল, নতুন মৌসুম শুরু করবেন নতুন উদ্দীপনায়। কিন্তু সেই পুরোনো চোটের কাছেই আবার পরাস্ত হয়ে মৌসুমের শুরু থেকেই মাঠের বাইরে কাকা। ২০১০-১১ মৌসুমে খেলতে পারেননি একটি ম্যাচও।
এরই মধ্যে একবার গুঞ্জন ওঠে, রিয়ালের বর্তমান কোচ হোসে মরিনহোর পরিকল্পনাতেই নেই চোট আর পড়তি ফর্মের জালে আটক কাকা। এই গুঞ্জনের সূত্র ধরেই চাউর হয়, জানুয়ারিতে রিয়াল ছাড়ছেন কাকা। বর্তমানে অবশ্য এই দুটো গুঞ্জনের কোনোটাই আর দৃশ্যত নেই। যদিও কোচ মরিনহো জানিয়েছেন, আসন্ন জানুয়ারির দলবদলে নতুন কোনো খেলোয়াড় কেনার পরিকল্পনা তাঁর নেই। এদিকে কাকা তাকিয়ে আছেন নতুন চুক্তির দিকে।
স্বভাবতই কৌতূহলী প্রশ্ন, সুস্থ হয়ে কাকা রিয়ালের জার্সি গায়ে চড়াবেন, নাকি মরিনহোর পরিকল্পনা থেকে বাতিল হয়ে বাক্স-পেটরা গুছিয়ে ছুটবেন অন্য কোনো ঠিকানায়?

আকমল, মালিককে চান আফ্রিদি

জুলকারনাইন হায়দার নেই। নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক। তার পরও নিউজিল্যান্ড সফরের দলে নির্বাচকেরা রাখেননি অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক কামরান আকমলকে। দলে রাখা হয়নি সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিককেও। তবে নিউজিল্যান্ড সফরে এই দুই ক্রিকেটারকে দেখতে চান পাকিস্তানের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি।
ইউএনবি জানায়, আজ শুক্রবার করাচিতে সাংবাদিকদের আফ্রিদি বলেন, ‘তাঁরা (আকমল ও মালিক) পাকিস্তান দলের গুরুত্বপর্ণ অংশ। আমি মনে করি, এই দুজনকে কেন দলে নেওয়া হয়নি তা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও নির্বাচকদের প্রশ্ন করা উচিত আপনাদের।’
২৩ ডিসেম্বর অকল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে পাকিস্তানের নিউজিল্যান্ড সফর। এ সফরে তিনটি টি-টোয়েন্টি, দুটি টেস্ট ও ছয়টি ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নেবে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট দল ঘোষণা হলেও এখন পর্যন্ত ওয়ানডে দল ঘোষণা করেননি নির্বাচকেরা।

তৃতীয় দিনে বৃষ্টির জয়

বৃষ্টির কবলে পড়ে কলম্বোতে গত দুটি টেস্ট নিষ্প্রাণ ড্র হয়েছিল। চলতি পাল্লেকেলে টেস্টের পরিণতিও একই রকম হতে যাচ্ছে। প্রথম দুদিনের খেলায় বিঘ্ন ঘটানোর পর আজ তৃতীয় দিনের পুরো খেলাই কেড়ে নিয়েছে বৃষ্টি।
টেস্টে বাকি আর মাত্র দুই দিন। অথচ প্রথমে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসই এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি! কাল চতুর্থ দিনের খেলার আগে সফরকারীদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৪৪ রান। তিন দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৮১ ওভার। তাই ম্যাচটি যে নিষ্প্রাণ ড্র হচ্ছে, এটি চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়।

গল্প- মৌরস ভৌরস by রিজিয়া রহমান

স্কুলে প্রথম পা রাখার আগে আমার ধারণা হয়েছিল, স্কুল বোধহয় রূপকথার রাজ্য। ধারণাটিতে কিছু অচেনা ভয়ও জড়িয়ে ছিল। তবে সে ভয় কাটতেও সময় লাগেনি। শৈশবে, আমার মতো একটি রোগা-পটকা গো-বেচারি ধরনের বালিকার, যার ছিল প্রচণ্ড বই পড়ার নেশা—তার স্কুলজীবনে দুরন্তপনার বা মজার ঘটনা ঘটানোর গল্প খুব যে বেশি তৈরি হয়েছে, তা কিন্তু নয়। তবে যা হয়েছে তাও খুব কম নয়, সেসব বলতে গেলে শৈশব নিয়ে একটা গ্রন্থই লিখে ফেলতে হয়। আপাতত দু-একটির কথাই বলতে পারি, যেগুলো আমার স্কুলজীবনে প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ঘটনা।

শিল্পি- ড্রয়িং, স্কেচ না পূর্ণাঙ্গ চিত্রকর্ম by সৈয়দ গোলাম দস্তগীর

বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক চিত্রচর্চার দ্বিতীয় প্রজন্মের একজন প্রধান শিল্পী রফিকুন নবী। টোকাই চরিত্রের কারণে তিনি রনবী নামেই বেশি পরিচিত। টোকাই, রনবী, রফিকুন নবী—নামগুলো পর পর সাজালে এমন একটা চরিত্র দাঁড়ায়, যিনি অনায়াসে হাসতে হাসতে সমাজের কঠিনতম বাস্তবতা ও অসংগতি তুলে ধরেন বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরসের মাধ্যমে। এই মানুষটাই আবার সিরিয়াস ছবি আঁকেন, অলংকরণ করেন। লেখেনও। রফিকুন নবী যখন বাংলাদেশের চিত্রচর্চার অঙ্গনে প্রবেশ করেন, তখন এ দেশের চিত্রচর্চার প্রধান ধারা ছিল বিমূর্ত-আশ্রয়ী।

গল্পসল্প- নারী শিক্ষা মন্দির by ফেরদৌসী মজুমদার

মার স্কুলের অভিজ্ঞতার চেয়ে স্কুলে ভর্তি হওয়ার অভিজ্ঞতাটা অনেক বেশি। আমাদের সময় প্লে-গ্রুপ, নার্সারি এসব বিশেষ ছিল না। বড়জোর প্রথম শ্রেণী থেকে ভর্তির চল ছিল। আমাদের বাড়ির রেওয়াজ ছিল আরও ভিন্ন প্রকৃতির। আমরা ছিলাম ১৪ ভাইবোন। আমাদের কাউকেই, আমার যত দূর মনে পড়ে, বেশি নিচু ক্লাসে ভর্তি করা হয়নি।