Saturday, January 9, 2010

দেনমোহর স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম দেনমোহর নির্ধারণ করে নারীর অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যথোচিত পদক্ষেপ নিয়েছে। বৈবাহিক জীবনে প্রবেশের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও একজন নারী জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে উপনীত হন। দাম্পত্য সম্পর্কের আবর্তে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রেম-ভালোবাসার বন্ধন শুরু হয়। চাওয়া-পাওয়া ও ন্যায্য অধিকারের বিষয়টিও সমানতালে চলতে থাকে। ইসলামি বিধানে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর যেমন অধিকার ও দায়দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি স্বামীর প্রতি স্ত্রীরও অধিকার ও দায়দায়িত্ব রয়েছে। একজন নারীর অধিকার প্রাপ্তিতে প্রথমেই দেনমোহর প্রাপ্তির বিষয়টি চলে আসে। বিয়ের পর স্ত্রী তাঁর স্বামীর পক্ষ থেকে তাঁর দাবি অনুযায়ী আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে মোহরানা পাওয়ার অধিকারী। পবিত্র কোরআনে বিবাহ উপলক্ষে নারীকে সন্তুষ্টচিত্তে মোহর প্রদান করার তাগিদ দিয়ে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে প্রদান করবে, সন্তুষ্টচিত্তে তারা মোহরের কিয়দংশ ছেড়ে দিলে তোমরা তা স্বচ্ছন্দে ভোগ করবে।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত-৪)
বিবাহকে বৈধ করার জন্য দেনমোহর একটি অন্যতম মাধ্যম। বিবাহে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্দেশিত অপরিহার্য প্রদেয় হিসেবে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী যে অর্থ-সম্পদ অর্জন করে থাকেন এটাই ‘মোহরানা’। বিবাহের সময় স্ত্রীকে মোহরানা দিয়ে ঘরে আনতে হয়। তবে বৈবাহিক সম্পর্ক মমতা ও ভালোবাসার বন্ধনে পরস্পরকে আবদ্ধ করার সম্পর্ক ভোগ বা ব্যবহারের চুক্তি নয়। মোহরানা দিয়ে ভোগের দাবির চিন্তা করা ইসলামি চেতনার পরিপন্থী। ভবিষ্যতে যাতে স্ত্রীকে দাসীরূপে না দেখে বরং সম্মানীয় অভিজাত নারী হিসেবে দেখেন, তার প্রতীকস্বরূপ স্বামী এ মোহর পরিশোধ করেন। প্রতিটি মুসলিম পুরুষের জন্য বিবাহের সময় ধার্যকৃত মোহরানা আদায় করা একটি বাধ্যবাধকতা। রাসূলুল্লাহ (সা.) নারীর মোহরানার অধিকার সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা নারীদের মোহরানার হক আদায়ের মাধ্যমে জীবনসঙ্গিনীকে হালাল কর।’
ইসলামে বিবাহবন্ধনে মোহরানার গুরুত্ব অধিক। এটি ইসলামের আবির্ভাবকাল থেকেই মুসলিম সমাজে কড়াকড়িভাবে আরোপিত। মোহরানা নারীর প্রাপ্য অধিকার। বৈবাহিক বিষয়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হলো, স্বামী নববিবাহিতা স্ত্রীকে কিছু অর্থ-সম্পদ ফরজ তথা আবশ্যিকভাবে প্রদান করবেন। মোহরানা প্রদানের হুকুম থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)ও ব্যতিক্রম ছিলেন না। তাঁকে মোহরানা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীদেরকে, যাদের মোহর তুমি প্রদান করেছো।’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত-৫০) অনুরূপভাবে সাহাবায়ে কিরামকে তিনি মোহর প্রদানের তাগিদ দিয়েছেন। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত লাভের পূর্বযুগে কোনো ব্যক্তি কন্যার অভিভাবক বা পিতার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন এবং তাঁর মোহর আদায়ের পরে বিয়ে করতেন।’
মোহরানা স্ত্রীর এমন একটি ন্যায্যপ্রাপ্য, যা তিনি স্বামীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগে পাওনা হন, তবে স্ত্রী স্বেচ্ছায় কিছু সময় দিলে বাকি রাখা যাবে। কিন্তু মোহরানার অর্থ আবশ্যিকভাবে পরিশোধ করতে হবে। স্ত্রী যদি নিজ খুশিমনে স্বামীকে তার কিছু অংশ বা সম্পূর্ণ মাফ করে দেন, তবে তা মাফ হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে বিবাহিত স্ত্রীকে অসহায় মনে করে ছলে-বলে-কৌশলে বা অজ্ঞতার সুযোগে ক্ষমা করিয়ে নিলে তা হবে সুস্পষ্ট জুলুম ও বিরাট প্রতারণা। যাঁরা নগদে পরিশোধ না করে অদূর ভবিষ্যতে সামর্থ্য হলেই আদায় করবেন—এ অঙ্গীকার করে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন, কিন্তু মনেপ্রাণে এ অর্থ পরিশোধের ইচ্ছা থাকে না; তাঁরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন এবং নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষটির সঙ্গেও প্রবঞ্চনা করে থাকেন। এমন ঘোরতর অন্যায় প্রতিরোধকল্পে নবী করিম (সা.) সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মেয়েকে মোহরানা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বিয়ে করেছে, কিন্তু সে মোহরানা আদায় করার ইচ্ছে তার নেই, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে ব্যভিচারী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)
ইসলামি বিধান অনুসারে মোহর দুই ধরনের হতে পারে। ১. মোহরে মোআজ্জল বা নগদ প্রদেয় এবং ২. মোহরে গায়রে মোআজ্জল বা বিলম্বে প্রদেয়। প্রথমটি নগদ এবং দ্বিতীয়টি চাহিবামাত্র দিতে হয়। মোহরানা এককালীন আদায় করতে অক্ষম হলে উত্তম পদ্ধতি হলো কিছু অংশ নগদ আদায় করে বাকি অংশ পরে সময়মতো আদায় করা এবং তা ধীরে ধীরে কিস্তিতে পরিশোধ করা। তবে মোহরানা আদায় না করলে স্ত্রীর কাছে ঋণী থাকতে হবে এবং স্ত্রী অনাদায়ী মোহর স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে আদায় করে নিতে পারবেন।
শরিয়তের দৃষ্টিতে মোহর প্রদান স্বামীর অন্যতম দায়িত্ব এবং তা স্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অধিকার। এভাবে বিবাহের মাধ্যমে নারী তথা স্ত্রীর যাবতীয় ব্যয়ভার স্বামীকেই বহন করতে হয়। সুতরাং বিবাহ-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনে পুরুষের কোনোভাবে লাভবান হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে সামাজিক মর্যাদা রক্ষা ও লৌকিকতার খাতিরে মোটা অঙ্কের মোহরানা ধার্য করা মোটেই উচিত নয়। বৈবাহিক উপঢৌকনটি যেখানে সুখের প্রতীক, স্ত্রীর নিরাপত্তার গ্যারান্টি, সেখানে এটি নিয়ে বিয়ের কথাবার্তার সময় এমন দরকষাকষি করা কাম্য নয়, যা বৈরিতার সৃষ্টি করে। কেননা আয়-উপার্জন বা সামর্থ্যের অতিরিক্ত মোহরানা আদায় করা স্বামীর জন্যও বোঝাস্বরূপ। তবে উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট হয়ে যে পরিমাণ পারস্পরিক সম্মতিতে মধ্যপন্থা নির্ধারণ করবে, তা-ই গ্রহণযোগ্য হবে। এ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কম মোহরে বিবাহে বরকত বেশি।’
অথচ আধুনিক সমাজ অধিক পরিমাণে মোহর নির্ধারণ করার প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বামী যেন স্ত্রীকে তালাক দিতে না পারে। কিন্তু মোহরানা হলো এমন একটি বিষয় যা তালাকপ্রাপ্তার প্রাপ্য বিষয় থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিয়ে উপলক্ষে যেমন উপঢৌকন দিতে হয়, তালাকের সময়ও তেমনি প্রদেয় আছে। মোটা অঙ্কের মোহরানা ধার্য করে পরে ছলচাতুরি করে তা পরিশোধ না করা এবং আদায় করার ইচ্ছা নেই, শুধু একটি অংশ স্বীকার করা প্রতারণার শামিল ও কবিরা গুনাহ। সুতরাং মোহরানা কোনো প্রদর্শনীমূলক বিষয় নয়, এটি ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়। এটি নিয়ে যেকোনো ধরনের টালবাহানা বা সীমা লঙ্ঘন করা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধ। দেনমোহর দাম্পত্য জীবনের তাত্পর্যবহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধর্মপ্রাণ প্রত্যেক মুসলমানের যত শিগগির সম্ভব মোহরানা আদায়ের মাধ্যমে দায়মুক্ত হয়ে নিশ্চিন্ত থাকা উচিত। ইসলামের বিধান মেনে চলে স্ত্রীর প্রাপ্য মোহর আদায় করলে সমাজে নারী নির্যাতন বহুলাংশে লোপ পেত। এ ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টিতে মসজিদের ইমাম বা ধর্মীয় নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা একান্ত প্রয়োজন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক-অসন্তোষ কাম্য নয় -ওয়াদা রক্ষা করুন

দুজন সহকর্মীকে হারিয়েছেন গাজীপুরের টঙ্গীর নিপ্পন গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা। বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন সংঘর্ষে রূপ নিলে প্রাণ হারান প্রতিষ্ঠানটির দুই শ্রমিক। এর পরও বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়ার যে ওয়াদা করেছিল মালিকপক্ষ, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন শ্রমিকেরা। কিন্তু গত মঙ্গলবার পাওনা চাইতে এসে বিজিএমইএ ভবনের সামনে আবার পুলিশের হাতে লাঠিপেটার শিকার হতে হলো শ্রমিকদের। কিছুসংখ্যক মালিকের এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের দায়ভার পোশাকশিল্প খাত আর কত দিন বহন করে চলবে?
তৈরি পোশাকশিল্পে বিশৃঙ্খলার জন্য প্রায়ই শ্রমিকদের অভিযুক্ত করা হয়ে থাকে। নিপ্পনের ঘটনায় শ্রমিকদের কোনোভাবে দায়ী করা যাবে না। তাঁরা মালিকপক্ষের কাছে নতুন কোনো আবদারও করেননি। ওয়াদা অনুযায়ী, শ্রমিকেরা বিজিএমইএ ভবনে গেলেও সেখানে মালিকপক্ষের কেউ যায়নি। স্বাভাবিকভাবে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। সে সময় মালিকপক্ষের কেউ থাকলে কিংবা বকেয়া দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করলে অনায়াসে উত্তেজনা কমানো যেত। রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক বন্ধ করে শ্রমিকদের অবরোধ কর্মসূচি পালনেরও প্রয়োজন হতো না। পরে অবশ্য বিজিএমইএর সভাপতির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তিনি মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ১৫ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান।
বিজিএমইএর সভাপতি বলেছেন, এখন আর সমস্যা হবে না। তাঁর এ অভয়বাণী কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে মালিকপক্ষের সদিচ্ছার ওপর। লোকসান বা অন্য কারণে কোনো শিল্প-কারখানা মালিকপক্ষ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু শ্রমিকদের পাওনা পুরোপুুরি পরিশোধ করতে হবে। সেটি না করলেই বিপত্তি বাধে। কেবল টঙ্গীর নিপ্পন গার্মেন্টস নয়, আরও বহু গার্মেন্টসের মালিক শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করে দেন। এটি বেআইনি ও অমানবিক।
তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশের স্বার্থেই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে সদ্ভাব থাকা জরুরি। মনে রাখতে হবে, তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়নে মালিকের বিনিয়োগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি শ্রমঘন এ শিল্প খাতটির বিকাশে শ্রমিকদের অবদানও কম নয়। অতএব পরস্পরের স্বার্থ রক্ষায় সচেতন থাকা প্রয়োজন। আশা করি, নির্ধারিত সময়ে নিপ্পন কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সব বকেয়া পরিশোধ করবে। তাতে বেকার হয়ে যাওয়া শ্রমিকেরা অন্তত তাঁদের ইতিমধ্যেই বিক্রি করে দেওয়া শ্রমের মজুরিটা পাবেন।

কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত

ভারতশাসিত কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের একটি হোটেলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দুই সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হয়েছে। গত বুধবার শ্রীনগরের প্রধান বাজার এলাকায় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে দুই জঙ্গি ওই হোটেলে অবস্থান নিয়েছিল। জঙ্গি হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজন প্রাণ হারান।
দুই জঙ্গি হোটেল ভবনে আশ্রয় নেওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত চারতলা ভবনটি ঘেরাও করে ফেলেন। ভবনের ভেতরে বেসামরিক লোকজন আটকা থাকতে পারে—এই আশঙ্কায় রাতে হোটেল ভবনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালানো হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ওই দুই জঙ্গিকে হত্যা করেন।
রাজ্য পুলিশের প্রধান কুলদীপ খুদা জানান, বৃহস্পতিবার খুব ভোরে প্রথম জঙ্গিকে হত্যা করা হয়। এরপর দ্বিতীয় জঙ্গি ভবনে আগুন লাগিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
এর আগে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি হয়। পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী জমিয়ত-উল-মুজাহিদিন দাবি করেছে, তারা ওই হামলার পেছনে রয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহে চীনে বিদ্যুত্ সংকট চরমে

চীনে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিদ্যুত্সংকট শুরু হয়েছে। পরিবহনব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকায় দ্রব্যমূল্য ১০ ভাগেরও বেশি বেড়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তর গতকাল বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, সামনে আরও শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারপাত হবে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকায় বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকট চলছে। লোকজন শৈত্যপ্রবাহ থেকে রক্ষা পেতে ঘরে কয়লার চুল্লি জ্বালিয়ে রাখছে। জানুয়ারির শুরু থেকেই দেশে জেঁকে বসে শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদেরা বলেছেন, দেশে এযাবত্কালের সবচেয়ে শীতল আবহাওয়া বিরাজ করছে। তাপমাত্রা ইতিমধ্যে রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচলে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা।
আবহাওয়া দপ্তর জানায়, এ সপ্তাহে রাজধানী বেইজিংয়ে যে আবহাওয়া বিরাজ করছে, তা ১৯৭১ সালের পর সবচেয়ে শীতল। গত বুধবারের তাপমাত্রা ছিল হিমাঙ্কের ১৬ দশমিক ৭-এর নিচে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে সবজি পরিবহনে সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সবজি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। মন্ত্রণালয়ের খাদ্যপণ্য বিভাগের কর্মকর্তা ঝোও পুগু বলেন, চরম ঠান্ডা আবহাওয়া এবার শীতকালীন গম উত্পাদনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

জারদারি বললেন -কাশ্মীর প্রশ্নে হাজার বছরের যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের সঙ্গে হাজার বছরের যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত আছে তাঁর দেশ। আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাদেশিক পরিষদ এবং কাশ্মীর কাউন্সিলের এক যৌথ অধিবেশনে ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
জারদারির বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি টাইমস জানায়, এই যুদ্ধ আদর্শগত এবং তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে পারে। কাশ্মীর বিতর্ক এগিয়ে নিতে গণতান্ত্রিক সরকারগুলোই মূল ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি জানান।
পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জুলফিকার আলী ভুট্টো যখন হাজার বছরের যুদ্ধের কথা বলেছিলেন, তখন তিনি আদৌ বলেননি যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তা চলবে।’ তিনি বলেন, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তির বিষয়টি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।
জারদারি বলেন, ‘কাশ্মীরের শান্তি থেকে আঞ্চলিক শান্তি আমরা বিচ্ছিন্ন করতে পারি না। এই বিষয়টিই আমরা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছি এবং তা অব্যাহত থাকবে।’
কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ‘ঘাড়ের বড় শিরা’ অভিহিত করে প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, ‘কাশ্মীর প্রশ্নে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শিগগিরই আসবে।

নেতৃত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ -টিকে গেলেন গর্ডন ব্রাউন

নেতৃত্ব নিয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন নিজ দল লেবার পার্টিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও দলীয় মিত্রদের সমর্থনে আবারও টিকে গেছেন। গত বুধবার লেবার পার্টির দুজন প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্রাউনের নেতৃত্বের ব্যাপারে ভোটাভুটির আহ্বান জানান। ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনের কয়েক মাস বাকি থাকতে দলের মধ্যে ব্রাউনের এই নাজুক অবস্থান প্রকাশিত হলো।
দুই সাবেক মন্ত্রীর ওই আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দলের অনেক প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী ব্রাউনের পক্ষে নিজেদের সমর্থন পরিষ্কার করেন। ভোটাভুটির প্রসঙ্গ টেনে উত্তর আয়ারল্যান্ড-বিষয়ক মন্ত্রী শন উডওয়ার্ড বলেন, ‘বুধবার রাতে যা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তবে সকালের মধ্যেই আমরা জেনে গেছি, দল গর্ডন ব্রাউনকেই নেতা হিসেবে চায়।’
এর আগে আইনসভার লেবার পার্টির সদস্যদের প্রতি লেখা এক চিঠিতে ব্রিটেনের মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য জিওফ হুন ও প্যাট্রিসিয়া হিউইট বলেন, ‘ব্রাউনের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট অসন্তোষ দলকে বিভক্ত করে ফেলছে। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিষয়টি যে ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে অনেক সহকর্মীই আমাদের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাই এই সংকট সমাধানে আমরা সবচেয়ে ভালো যে সমাধান খুঁজে বের করেছি তা হলো, গোপন ভোটাভুটির মাধ্যমে দলের প্রত্যেক সদস্যকে তাঁদের মত প্রকাশ করতে দেওয়া হোক।’
অবশ্য লেবার পার্টির কর্মকর্তা ও ব্রাউনের মিত্ররা এই বিদ্রোহের সমাপ্তি টানতে দ্রুত উদ্যোগী হয়ে ওঠেন। ওই চিঠির খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই কয়েকজন ব্রিটিশ মন্ত্রী বিভিন্ন টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে ব্রাউনের নেতৃত্বের প্রতি তাঁদের সমর্থন জানান।
ব্রাউনের মিত্ররা বলেছেন, এ ধরনের কোনো ভোটাভুটির আয়োজন করা হলে দলকে তা বিভক্ত করে ফেলবে এবং আগামী জুনের নির্বাচনে জয়ের আশাকে বরবাদ করবে

মুক্তি পাওয়া প্রতি পাঁচজনের একজন আবার সন্ত্রাসবাদে জড়াচ্ছে

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একটি গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিউবার গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবির থেকে মুক্তি পাওয়া প্রতি পাঁচজন বন্দীর মধ্যে একজন আবারও আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে যোগ দিয়েছে কিংবা যোগ দিতে যাচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গত বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা এ কথা জানান। এদিকে ওই বন্দিশিবিরের বন্দীদের রাখার জন্য একটি সংশোধনী কেন্দ্র কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি সরকারি প্যানেল।
নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে গত মঙ্গলবার গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবির থেকে মুক্তির আদেশ পাওয়া ইয়েমেনি বন্দীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে তিনি বলেছেন, বন্দিশিবিরটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে তিনি সরে আসবেন না।
গুয়ানতানামো বন্দিশিবির থেকে এ পর্যন্ত ৫৬০ জনেরও বেশি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ বন্দীকেই মুক্তি দিয়েছে বুশ প্রশাসন।
বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি বিমান উড়িয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টার কয়েক দিন আগে ছয়জন ইয়েমেনি বন্দীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবিরে ১৯৮ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৯১ জন ইয়েমেনি।
গত এপ্রিলে পেন্টাগনের এক মূল্যায়নে দেখা গিয়েছিল, মুক্তি পাওয়া বন্দীদের মধ্যে ১৪ শতাংশ আবারও জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে কিংবা যোগ দিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে চালানো জরিপে এ সংখ্যা ছিল ১১ শতাংশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, সংশোধিত মূল্যায়নে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ শতাংশে। সর্বশেষ এই হার সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জিওফ মোরেল।
এদিকে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের টমসন সংশোধনী কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়ে সেটি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে অঙ্গরাজ্যটির একটি প্যানেল। সংশোধনী কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়ে সেখানে গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবির থেকে স্থানান্তর করা বন্দীদের রাখা হবে।
গত বুধবার গভর্নমেন্ট ফোরকাস্টিং অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি কমিশন সংশোধনী কেন্দ্রটি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। প্রস্তাবে পক্ষে ভোট পড়ে সাতটি, আর বিপক্ষে চারটি।
ইলিনয়ের গভর্নর প্যাট কুইন বলেন, গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবিরের বন্দীদের টমসনে স্থানান্তর করা হলে তিন হাজার ৮০০ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হতে পারে এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ হতে পারে ১০০ ডলারেরও বেশি অর্থ; যা ইলিনয়ের জন্য খুবই প্রয়োজন।
কিন্তু অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের ওই কেন্দ্রটিতে স্থানান্তর করা হলে অঙ্গরাজ্যটি সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে; যা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে

কানাডার কয়েকটি বিমানবন্দরে বসছে অত্যাধুনিক স্ক্যানার by সুব্রত নন্দী, টরন্টো (কানাডা)

কয়েক মাসের মধ্যে কানাডার প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৪৪টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্ক্যানার যন্ত্র বসানো হবে। ন্যাকেড বডি স্ক্যানার নামের এসব যন্ত্র বিমানযাত্রীদের আপাদমস্তক স্ক্যান করবে। কানাডার পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রব ম্যারিফিল্ড ও পরিবহনমন্ত্রী জন ব্যারিড মঙ্গলবার অটোয়ায় সংবাদমাধ্যমগুলোকে এ কথা বলেন।
দুই মন্ত্রী বলেন, বড়দিনে নাইজেরীয় এক উগ্রপন্থী যুবক যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে বোমা হামলার চেষ্টা করেছিলেন। ওই উগ্রপন্থী বিমানযাত্রীদের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। আর এ জন্য অনেকটা বাধ্য হয়েই তাঁরা যাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকেও আমলে নিচ্ছেন না।
দুই লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যমানের একেকটি স্ক্যানার বিমানযাত্রীর শরীরের ত্রিমাত্রিক চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরবে। এসব স্ক্যানার আপাতত ভ্যাঙ্কুভার, ক্যালগ্যারি, এডমন্টন, টরন্টো ও মন্ট্রিয়ালের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে স্থাপিত হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কটি বিমানবন্দরে ওই ধরনের স্ক্যানিং যন্ত্র বসানো হবে।
কানাডার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই স্ক্যানার ছাড়াও বিমানবন্দরগুলোতে আরও কিছু উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা বসানো হবে, যাতে সন্দেহজনক যাত্রীরা সহজেই ধরা পড়ে। পরে তাকে স্ক্যানিংয়ের আওতায় নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কানাডার প্রধান প্রধান বিমানবন্দরে যাত্রীদের হাতে বহনকারী লাগেজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাত্রীদের পক্ষ থেকে এমন ব্যবস্থায় অনেকেই খুশি হয়েছেন।
ফ্রান্স থেকে কানাডায় বেড়াতে আসা পর্যটক জন ফ্রাসি বলেন, ‘এমন ব্যবস্থায় সাধারণ যাত্রীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই, বরং অধিকতর নিরাপত্তা পেয়ে আমরা খুশি।

ঢাকায় চার দিনব্যাপী প্রকৌশল শিল্প মেলা শুরু

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে চার দিনব্যাপী এক প্রকৌশল শিল্পমেলা শুরু হয়েছে, যা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
দেশ-বিদেশের ১০০টিরও বেশি কোম্পানি এ মেলায় অংশ নিয়ে নির্মাণ, প্রকৌশল, শক্তি ও বিদ্যুত্ খাতের নিত্যনতুন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। এর মধ্যে ভারত, চীন, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের ২৫টি কোম্পানি রয়েছে।
বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইআইওএ), আস্ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন এবং জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে।
মেলাটির উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব দেওয়ান জাকির হোসেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন আফতাবুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি আনিসুল হক, জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান জাকারিয়া ভূঁইয়া এবং আস্ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনের পরিচালক কে নন্দ গোপাল উপস্থিত ছিলেন।

শমরিতা হাসপাতালের ১৫% বোনাস শেয়ার ঘোষণা

শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেডের ২৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও প্রথম বিশেষ সাধারণ সভা সম্প্রতি ঢাকার এলজিইডি মিলনায়তনে কোম্পানির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন করা হয়। সভায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম হারুন, পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা ও কোম্পানি সচিব উপস্থিত ছিলেন।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আনা ২০০ মে. টন আলু নিলামে উঠছে by জাহিদুল ইসলাম, হাকিমপুর (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা ২০০ মে. টন আলু খালাসের অনুমতি না দিয়ে তা বাজেয়াপ্ত করে নিলামে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
প্রাইম ইন্টারন্যাশনাল ও নিশা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি প্রতিষ্ঠান হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৩ জানুয়ারি এ আলু আমদানি করে।
প্রাইম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি শহিদ উদ্দিন গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই তাঁরা ৩ ও ৪ জানুয়ারি ভারত থেকে প্রায় ২০০ মে. টন আলু বন্দরে আসে। হঠাত্ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ জন ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হয়। আমদানি করা আলুগুলো খালাসের অনুমতি না পাওয়ায় তাঁরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ব্যাপারে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
তবে রাজশাহীর কাস্টমস কমিশনার লুত্ফর রহমান বলেন, যেহেতু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানি নীতিমালা প্রণয়ন করে থাকে, সেহেতু তাদের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিরাই কেবল আলু আমদানি করতে পারবেন। যাঁরা কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিয়েছেন তাঁদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিয়ে আলু আমদানি করতে হবে। ইতিপূর্বে আমদানি করা আলুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় তাঁরা উল্লিখিত আলুর চালান বাজেয়াপ্ত করে নিলামে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিআইডিএসের লোকবক্তৃতায় আজিজুর রহমান -প্রবৃদ্ধির জন্য বৈষম্য ক্ষতিকর

বৈষম্য অব্যাহত রেখে দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করার প্রয়াস একপর্যায়ে হিতে বিপরীত হয়। তার পরও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু উন্নয়নশীল দেশ এই পথে অগ্রসর হয়েছে, যা থেকে সরে আসা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত লোকবক্তৃতা অনুষ্ঠানে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস আজিজুর রহমান খান এসব কথা বলেন।
ডেভেলপমেন্ট, ইকুইটি অ্যান্ড পোভার্টি: এসেস ইন অনার অব আজিজুর রহমান খান শীর্ষক গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা উপলক্ষে এ বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।
বক্তৃতায় আজিজুর রহমান খান দারিদ্র্য, বৈষম্য ও প্রবৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করেন, যেখানে তিনি নিজ জীবন ও সময়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পরও বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ ততটা মনোযোগী হয়নি, যতটা হয়েছে দারিদ্র্য কমানো ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টায়।
আজিজুর রহমান আরও বলেন, সম্প্রতি যেসব উন্নয়নশীল দেশ দ্রুততার সঙ্গে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তারা একই সঙ্গে ব্যাপকভাবে বৈষম্যও বাড়তে দিয়েছে, যার তেমন কোনো প্রয়োজন ছিল না।
তবে সম্প্রতি সৃষ্ট বিশ্বমন্দা দেশগুলোর অভ্যন্তরে ও পরস্পরের সঙ্গে বৈষম্য কমানোর সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন তিনি।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আজিজুর রহমান বলেন, ২০০৯ সালে আধুনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উত্পাদন বিশ্বের মোট উত্পাদন ছাড়িয়ে গেছে। কারণ, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উত্পাদন এই সময়ে দেড় শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে শিল্পোন্নত দেশগুলোর মোট উত্পাদন ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ কমে গেছে।
আজিজুর রহমানের মতে, বিশ্বমন্দা আসলে দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে বাধ্য করেছে, যেখানে দেশগুলোর অঞ্চল, খাত ও ব্যক্তির মধ্যে সম্পদের অধিকতর সুষম বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে সুষমকরণের চেষ্টায় নতুন মাত্রা আনতে হবে। বাজার যখন ঠিকমতো কাজ করছে না, তখন রাষ্ট্রের ভূমিকাকে পুনর্জাগ্রত করতে হবে।
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, বৈষম্য কমাতে হলে এখন ভূমিহীনদের জন্য নতুন সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। শহর ও গ্রামের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্য দূর করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিআইডিএসের মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী স্বাগত বক্তব্য দেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা রিজওয়ানুল ইসলাম, নিউইয়র্কের নিউ স্কুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোপা মুদ্রা ব্যানার্জি প্রমুখ।

দক্ষিণ আফ্রিকার ১ উইকেটের আক্ষেপ

২১৩ বলে ৭৮ রান। টেস্ট ক্রিকেট বিবেচনায় খুব একটা মন্দ নয়। কিন্তু ১৮৮ বলে মাত্র ৪০? ইয়ান বেল আর পল কলিংউডের প্রস্তরযুগের ব্যাটিংয়ের পরও কাল ড্রেসিংরুমে ইংল্যান্ড কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে প্রসন্নচিত্তেই দেখা গেল। খাদের মুখে পড়া ইংল্যান্ডকে যে ম্যাচে রেখেছিল ষষ্ঠ উইকেটে এই দুজনের ‘মন্থর’ শতরানের জুটি। এই জুটি ইংল্যান্ডকে ম্যাচ বাঁচানোর কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল ঠিকই, তবে সেঞ্চুরিয়নের পর কেপটাউনেও উদ্ধার করল তাদের শেষ জুটি।
কলিংউড-বেলের ষষ্ঠ উইকেট জুটিটা ভাঙতেই হঠাত্ করে উত্তেজনা জাগে শেষ বিকেলে। বেলের সঙ্গে ৫৭ ওভারের জুটি গড়ে তোলার পরপরই জেপি ডুমিনির বলে আউট হয়ে যান কলিংউড (৪০)। ডুমিনির করা পরের ওভারে ম্যাট প্রিয়রও (৪) আউট হয়ে যাওয়ায় আবারও ইংল্যান্ডকে ঘিরে ধরে পরাজয়ের শঙ্কা। নাটক জমে ওঠে পরের ৮ ওভারে আরও দুটি উইকেট পড়ে গেলে। ব্রডকে শূন্য রানে ফেরান হ্যারিস, মরকেলের বলে স্মিথের হাতে ক্যাচ তুলে দেন বেল। ৯ উইকেটে ২৯০ ইংল্যান্ড, দিনের খেলা তখনো ১৭ বল বাকি। তবে শেষ জুটিতে অনিয়নসকে নিয়ে এটুকু ‘দুর্গম পথ’ পাড়ি দেন সোয়ান। জয়ের উপকূল থেকে ড্রয়ের হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হয় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
ম্যাচে এমন উত্তেজনা ভর করবে, সেটা ৪ ওভার আগেও কল্পনা করা যায়নি। দিনের খেলার তখন ১৪ ওভার বাকি। ইংল্যান্ডের হাতে ৫ উইকেট। তার চেয়েও বড় কথা, উইকেটে রীতিমতো শেকড় গেড়ে বসেছেন কলিংউড ও বেল। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না দেখে ১২৬তম ওভারে পার্টটাইম স্পিনার ডুমিনিকে আক্রমণে নিয়ে আসেন গ্রায়েম স্মিথ। আর ১২৮তম ওভারেই অধিনায়ককে উইকেট উপহার দেন ডুমিনি। স্লিপে ক্যালিসের হাতে ধরা পড়েন কলিংউড। ১৩০তম ওভারে আবার সাফল্য। এবার ডুমিনির শিকার প্রিয়র।
এর আগে দিনের শুরুতে সাত রানের ব্যবধানে আগের দিনের দুই ব্যাটসম্যান জেমস অ্যান্ডারসন আর জোনাথন ট্রটকে ফিরিয়ে দিয়ে লাঞ্চটা তৃপ্তি নিয়েই সেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬০ রানে পড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের ৫ উইকেট। দিনের খেলা তখনো ৭০ ওভারের মতো বাকি ছিল। এরপর বেল-কলিংউডের সেই লড়াই।

সাঙ্গাকারারা আসলে সিরিয়াস

ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ বলেই হয়তো সকাল থেকে স্টেডিয়ামের টিকিট কাউন্টারে বেশ ভিড়। টিকিটের চড়া দাম নিয়ে অনেকেই অসন্তুষ্ট হলেও গ্যালারিমুখী দর্শকদের লাইনটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লম্বা হতে লাগল। অতি উত্সাহী কেউ কেউ উঁকি দিতে চাইলেন ইনডোরের দিকে। কিন্তু চাইলেই কি আর সব দেখা যায়! শ্রীলঙ্কার অনুশীলন নিরাপত্তার এমন ঘেরাটোপেই বন্দী যে, সাধারণ দর্শকের সেটির কাছাকাছি যাওয়ারই উপায় নেই।
প্রথম দুই ম্যাচে জিতে ফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত। শ্রীলঙ্কা দলকে দেখে অবশ্য তা বোঝার উপায় নেই। পরদিন (আজ) লিগ পর্যায়ের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম ম্যাচেও প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। সকাল ১০টার মধ্যেই তারা ইনডোরে। অনুশীলন চলল প্রায় দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন হয়নি বলে এ ম্যাচ নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা জানা গেল না। অনুশীলন শেষে ইনডোর ছাড়ার সময় যা-ও একটু কুমার সাঙ্গাকারার মুখোমুখি হওয়া গেল, সংবাদ সম্মেলন ছাড়া কোনো কথাই বলবেন না বলে ঘোষণা করে দিলেন তিনি, ‘প্রেস কনফারেন্সে যত ইচ্ছা প্রশ্ন করুন। প্রেস কনফারেন্সের বাইরে কিছু বলব না।’
সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে দলে নতুন অতিথি। ম্যানেজার ব্রেন্ডন কুরুপ্পু যতই মাহেলাকে ম্যাচ-ফিট বলুন, কাল নেটে ব্যাট করতে নামার আগে সাবেক অধিনায়ক দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকলেন ফিজিওর স্ট্রেচারে। ইনডোর ছাড়ার সময় অবশ্য নিজেও বলে গেলেন, ‘আমি ফিট।’ কিন্তু ওই পর্যন্তই। এই সিরিজের সবচেয়ে আলোচিত ‘শিশির’ নিয়ে কথা বলতে চাইলেই ‘কোড অব কন্ডাক্টের’ তালা মেরে দিলেন মুখে। শুধু বললেন, ‘দেশে টিভিতে খেলা দেখেছি। সন্ধ্যার পর এখানে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে তাই আমি ভালো বলতে পারব না।’ এই সুযোগে অবশ্য শ্রীলঙ্কার ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ নিয়ে ছোটখাটো একটা লেকচার শোনা গেল সাবেক অধিনায়কের মুখে, ‘কথা বলতে আমার কখনোই সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের বোর্ড এবং টিম ম্যানেজমেন্ট এখন খেলোয়াড়দের কথা বলার ব্যাপারে খুবই কঠোর। চাইলেও এখন আমরা প্রেস কনফারেন্সের বাইরে কথা বলতে পারি না। দলের কেউই তা বলবে না।’
জয়াবর্ধনের কথাটা পুরোপুরি ঠিক হলো না। থিলিনা কান্দাম্বি ঠিকই কথা বললেন। এবারের বাংলাদেশ সফর নাকি বেশ উপভোগ্যই মনে হচ্ছে তাঁর কাছে। কারণ? ‘দল ভালো খেললে সবই ভালো লাগে।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে কান্দাম্বির এটাই প্রথম বাংলাদেশে আসা। এর আগে ঢাকায় এসেছিলেন আবাহনীর হয়ে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ খেলতে। সেটা মনে করিয়ে দিতেই বললেন, ‘তিনটা ম্যাচ মনে হয় খেলেছিলাম...। আবাহনী এবারও যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু জাতীয় দলের সঙ্গে থাকায় আসতে পারিনি।’ তবে কান্দাম্বি নিজেই জানিয়েছেন, আইপিএলে সুযোগ না হলে শারজার পিসিএলে খেলবেন। দলের নামটা বলতে না পারলেও জানালেন, ‘সম্ভবত তামিম আর আমি একই দলে খেলব।’
কান্দাম্বি যখন পিসিএলে খেলার কথাও ভাবতে পারছেন, তিলকরত্নে দিলশানের জন্য তখন অনিশ্চিত এই সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোও। কাল ইনডোরে ফিজিওর চিকিত্সা নিতে নিতেই কোচ ট্রেভর বেলিসকে বলছিলেন, ‘আমি মনে হয় (কাল) খেলতে পারব।’ কিন্তু বেলিস যে ঝুঁকি নিতে রাজি নন, সেটি বোঝা গেল তাঁর কথায়, ‘দরকার নেই। পুরো ফিট হয়ে একবারে ফাইনালেই খেলো।’ দিলশানকে ছাড়াই যেখানে ভারতকে হারানো গেছে, বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁকে নিয়ে টানাহেঁচড়ার কী দরকার!

তৃতীয় আইপিএলে কি খেলবেন সাকিব?

গত শনিবার নিবন্ধিত ৯৭ জন খেলোয়াড়ের তালিকা প্রকাশ করেছিল আইপিএল। ক্রিস কেয়ার্নসকে বাদ দেওয়ায় সেটি নেমে আসে ৯৬-তে। এর পর আইপিএলের ৮টি দলের আগ্রহের ভিত্তিতে সেটি বুধবার কমে দাঁড়াল ৬০ জনে। অর্থাত্ এই ৬০ জন খেলোয়াড়কেই নিলামে তুলবে আগ্রহী আটটি দল। তবে সবার বিক্রি হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
নিলাম-তালিকায় ইংলিশ খেলোয়াড়দের নাম ছিল না প্রথমে। কাল দুই পক্ষের আলোচনার পরই ঢুকেছেন ৯ জন ইংলিশ। নতুন তালিকায় সর্বোচ্চ ১১ জন খেলোয়াড় আছেন অস্ট্রেলিয়ার। ৯ জন করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর শ্রীলঙ্কার ৮ জন করে। পাকিস্তানের ৭ জন। বাংলাদেশ থেকে আইপিএলের নিলামের জন্য নিবন্ধিত হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান ও শাহরিয়ার নাফীস। কিন্তু নিলাম তালিকা থেকে নাফীস বাদ পড়ায় কেবল সাকিবই উঠবেন ১৯ জানুয়ারির নিলামে।
এর আগে বাংলাদেশের তিনজন খেলোয়াড় আইপিএলে খেলেছেন। এবার সেই তালিকায় সাকিবের নাম যোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। গতবার নিলামে সাড়া না পেলেও বিশ্বের এক নম্বর ওয়ানডে অলরাউন্ডারকে পেতে এবার বেশ কিছু দল আগ্রহী বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাকিব ছাড়াও নিলামে চোখ থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড, পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির, উমর আকমলের ওপর। আইসিএল থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে আসা শেন বন্ডকে নিয়েও আগ্রহ আছে দলগুলোর।
ওদিকে আইপিএলের দলগুলো নিলামের পাশাপাশি মাঠে নামার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি তাগিদ দেখা যাচ্ছে গত দুই আসরে খারাপ করা শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর)। সৌরভ গাঙ্গুলী নেতৃত্ব ফিরে পেয়েছেন। প্রধান কোচ হিসেবে ডেভ হোয়াটমোর আর বোলিং কোচ হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্তজাদের দলে যোগ দিয়েছেন ওয়াসিম আকরাম। ইংলিশ ব্যাটসম্যান ওয়েইস শাহও দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ছেড়ে ভিড়েছেন কলকাতা শিবিরে। আজ থেকে কলকাতায় দুই সপ্তাহের কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরু হবে কেকেআরের।

আমরা আমাদের সামর্থ্য জানি: সাকিব

সাকিব আল হাসানের কথাগুলো বড় বেশি কানে লাগল। এই অধিনায়কই না প্রায়ই বলেন, ‘আমাদের দিনে আমরা যে কাউকে হারাতে পারি!’
এই সিরিজে টস এতটাই আলোচিত যে, টসে জিতে আগে বোলিং করার সুযোগটা যারা পাচ্ছে, দিনটা তাদেরই হওয়ার সম্ভাবনা। সাকিবের দুয়ারে সেই দিন এল, সাকিব দুয়ার বন্ধ করে ব্যাটিংয়ে নেমে গেলেন! কেন?
ম্যাচ-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক যে যুক্তি দিলেন, সেটা হয়তো ক্রিকেটীয়, কিন্তু হারার আগে হেরে যাওয়াও যে! ‘ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিলে ওরা সাড়ে তিন শ-চার শ রান করে ফেলত। আমরা অত রান চেজ করতে পারতাম না।’ পাল্টা প্রশ্ন হলো, আগেই হার মেনে নেওয়া কেন? যারা আগে ব্যাট করে ২৯৬ রান করল, তারা তিন শর বেশি রান তাড়া করতে পারবে না? চেষ্টা তো করা যায়! এবার একেবারে অন্দরমহলের কথাটাই বলে দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমরা আমাদের সামর্থ্য জানি।’
কথাটাকে অবশ্য সততার প্রমাণ হিসেবেও ধরতে পারেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে ইদানীং তিন শ-সাড়ে তিন শ রান নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে যেতে পারে। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে দূরে থাক, বাংলাদেশ তো টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাটিং করেও তিন শ করতে পারেনি।
কিন্তু যে ম্যাচের আগের দিনও শিশির নিয়ে এত কথা, সেটিতে ইচ্ছে করে কেন সেই শিশিরের ঝামেলায় পড়তে গেল বাংলাদেশ! কাল ভারতের সম্ভাব্য রানের পাহাড়ে চাপা পড়ার ভয়ে সাকিব যখন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন, শিশিরের কথা কি ভুলে গিয়েছিলেন? না, সাকিব ভোলেননি, ‘শিশির থাকবে জানতাম, তার পরও আমাদের আগে ব্যাট করতে হয়েছে।’
মহেন্দ্র সিং ধোনি সাকিবের এই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত বিস্মিত। বাংলাদেশ কেন টসে জিতেও আগে বোলিং নিল না, সে হিসেব মেলাতে পারছেন না ভারত-অধিনায়ক, ‘শিশিরের কারণে এখানে পরের ইনিংসে বল করা কঠিন হচ্ছে। এ কারণে আগে ব্যাট করলে তিন শর বেশি রান করতে হবে। বাংলাদেশ সেটার কাছাকাছি করে আমাদের একটা পর্যায়ে চাপেও ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু দুটি ভালো জুটিতে আমরা ম্যাচ জিতে গেছি। তবে টসে জিতে ওরা আগে ব্যাটিং করায় আমি অবাক হয়েছি।’
নিজে সেঞ্চুরি করেছেন, ৯১ রান করেছেন বিরাট কোহলি। সুরেশ রায়না করেছেন অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরি। ব্যাটিংটা ধোনিকে সন্তুষ্ট করলেও বোলিং নিয়ে তিনি চরম অসন্তুষ্ট, ‘বোলারদের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। গত ম্যাচে বল ভালো না হওয়ার কারণ ছিল শিশির। তবে আজ (গতকাল) বোলাররাই খারাপ বল করেছে।’ শুধু নিজের বোলারদের সমালোচনাই নয়, বাংলাদেশ দলের তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংয়ের প্রশংসাও করলেন ধোনি, ‘ওরা আসলেই খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। তবে আমরাও সময়মতো ওদের উইকেটগুলো নিতে পেরেছি।’
শিশিরের আলোচনা থামাতে আজ থেকে আইডিয়া কাপের খেলা শুরু হবে আধঘণ্টা আগে। কিন্তু ধোনি বলছেন, মাত্র আধঘণ্টা খেলা এগিয়ে আনার কোনো মানেই নেই, ‘আধঘণ্টা এগিয়ে কোনো লাভ হবে না। বেলা ১১টা-সাড়ে ১১টায় নিয়ে আসা উচিত ছিল ম্যাচ শুরুর সময়।

দেশে চালু হলো ডিবর

দেশের ব্যাংকগুলোকে নিজেদের মধ্যে ঋণ দেওয়া-নেওয়ায় সুদের হার নির্ধারণের জন্য এখন থেকে ঢাকা আন্তব্যাংক হার (ঢাকা ইন্টারব্যাংক অফার রেট বা ডিবর) ব্যবহার করা হবে।
এটি আন্তব্যাংক লেনদেনে সুদের হারের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে।
গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিবর চালু করা হয়।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
গভর্নর তাঁর বক্তব্যে বলেন, উন্নত দেশগুলোয় অনেক আগেই এ ধরনের সূত্রমূলক সুদের হার প্রচলন করা হয়েছে।
বাংলাদেশেও এখন থেকে এই ডিবর শুধু ব্যাংকগুলোর আন্তব্যাংক লেনদেনেই নয়, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুদের হার নির্ধারণে সহায়তা করবে।
আতিউর রহমান আরও বলেন, এই হার দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিনিয়োগ-ব্যয় পরিকল্পনায় ব্যবহার করতে পারবেন।
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ৪৪টি ব্যাংকের সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) প্রতিদিন ওয়েবসাইটে (www.bafeda.org.bd) ডিবর প্রকাশ করছে।
এতে চার ধরনের সুদের হার দেওয়া হচ্ছে। গতকাল এই হারগুলো ছিল: রাতারাতি ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ; এক সপ্তাহ ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ; এক মাস ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং তিন মাস ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ।
দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ গ্রহণ বা প্রদানের ক্ষেত্রে যে ডিবরও বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে না। তবে সুদের হার নির্ধারণের জন্য ডিবরকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
বর্তমানে সারা বিশ্বে লিবর (লন্ডন ইন্টারব্যাংক অফার রেট) আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয়ে থাকে। এ ছাড়া ব্যবহার রয়েছে সিবর (সিঙ্গাপুর) বা ইউরিবরের (ইউরো অঞ্চল)।

জনতার অতিমূল্যে শেয়ার ছাড়ার চেষ্টা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি by ফখরুল ইসলাম

পুঁজিবাজার থেকে এক হাজার কোটি টাকা তুলতে চাইছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংক লিমিটেড। তবে ব্যাংকটি এ জন্য বাজারে ১০০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়তে চায়। বাকি ৯০০ কোটি টাকা প্রিমিয়াম।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে যে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে ব্যাংকটি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের (ফেস ভ্যালু) প্রতি শেয়ারে প্রিমিয়াম দাবি করেছে ৯০০ টাকা। অর্থাত্ জনগণকে ১০০ টাকা মূল্যের একটি শেয়ার কিনতে হবে এক হাজার টাকা করে।
অবশ্য গত ২১ ডিসেম্বর জনতা ব্যাংকের এ আবেদনের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত জানতে চায় এসইসি। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে মতামত পাঠিয়েছে, তাতে এত উঁচু হারে প্রিমিয়াম দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এক হাজার টাকা করে (প্রিমিয়ামসহ) জনতা ব্যাংককে শেয়ার ছাড়তে দেওয়া যথাযথ হবে না। কারণ কাল্পনিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে মাত্রাতিরিক্ত প্রিমিয়াম দাবি করেছে জনতা ব্যাংক, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী।
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক সরকারকে শতভাগ মালিকানা দিয়ে ২০০৭ সালে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাংকটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ছিল ৮৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, হিসাববিজ্ঞানের নিয়মনীতি না মেনে এই লোকসানকে সুনাম হিসেবে বিবেচনা করেছে জনতা ব্যাংক। কারণ, হিসাববিজ্ঞানের মান অনুযায়ী ক্রয় প্রতিদান ছাড়া সুনামকে হিসাবভুক্ত করার নিয়ম নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলছে, জনতা ব্যাংক তা ‘অন্যান্য সম্পদ’ হিসাবের অধীনে ‘মূল্যায়ন সমন্বয়’ (ভ্যালুয়েশন অ্যাডজাস্টমেন্ট) নামে হিসাবভুক্ত করেছে। আর্থিক বিবরণীতে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে ওই হিসাবের স্থিতি ১০ বছরে অবলোপন করা হবে।
২০০৮ সালে ৮৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা অবলোপন করাও হয়। অবলোপনের পর ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওই হিসাবের স্থিতি দাঁড়ায় ৮০০ কোটি তিন লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত হলো, জনতা ব্যাংকের এই হিসাব একটি কাল্পনিক হিসাব। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার ছাড়ার আগে যখন শেয়ারপ্রতি অন্তর্নিহিত মূল্য বা নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) নির্ণয় করা হবে, তখন সুনাম বাবদ ধরে নেওয়া কাল্পনিক হিসাবের অঙ্কটি বাদ যাবে।
২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর জনতা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন, অবণ্টিত মুনাফা এবং সঞ্চিতির (রিজার্ভস) পরিমাণ ৯১১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ থেকে মূল্যায়ন সমন্বয় হিসাবের নিট স্থিতি ৮০০ কোটি তিন লাখ টাকা বাদ দেওয়া হলে নিট শেয়ারহোল্ডারস ইক্যুইটির পরিমাণ দাঁড়াবে মাত্র ১১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
জনতা ব্যাংকের মোট শেয়ারের সংখ্যা দুই কোটি ৫৯ লাখ। বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এতে শেয়ারপ্রতি অন্তর্নিহিত মূল্য দাঁড়ায় ৪৩ টাকা ১২ পয়সা। এই অঙ্ক অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ৫৬ টাকা ৮৮ পয়সা আর প্রস্তাবিত ইস্যুমূল্য এক হাজার টাকা থেকে ৯৫৬ টাকা ৮৮ পয়সা কম। অর্থাত্ প্রস্তাবিত ইস্যুমূল্য অন্তর্নিহিত মূল্যের ২৩ গুণ এবং অভিহিত মূল্যের ১০ গুণ বেশি। প্রস্তাবিত মূল্যের সঙ্গে অন্তর্নিহিত মূল্য ব্যাপক অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা অবস্থায় জনতা ব্যাংককে এত বেশি মূল্যে শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী হবে।
তা ছাড়া অতীত লোকসান অবলোপনের কারণে আগামী বছরগুলোতে ব্যাংকের লাভ-ক্ষতি হিসাবে সংশ্লিষ্ট বছরের পরিচালন মুনাফার সঠিক চিত্র প্রতিফলিত হবে না।
আর ভবিষ্যতের মুনাফা থেকে পুঞ্জীভূত লোকসান অবলোপন করা হবে বলে এর ভার গিয়ে পড়বে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর। এমতাবস্থায় শেয়ার ইস্যু করা কিছুতেই যথাযথ ও ন্যায়ানুগ হবে না বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, জনতা ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোতে পরিবর্তন হয়েছে, মালিকানায় পরিবর্তন হয়নি।
জনতা ব্যাংক লিমিটেড যে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক ক্রয় করেছে, তাতে ক্রয় প্রতিদান এবং সম্পদ ও দায়ের মূল্য নির্ধারণ করে সুনাম নির্ধারণ করা হয়নি।
এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস) নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তা ছাড়া আইএএস অনুযায়ী, প্রতিবছর সুনামের পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে, অবলোপন করা যাবে না।
তবে যোগাযোগ করলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম আমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মেনে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মাধ্যমে এসইসিতে শেয়ার ছাড়ার আবেদন করা হয়েছে। এখন এসইসি বিষয়টি বিবেচনা করবে।’
অন্যদিকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার বলেন, ‘মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত পাওয়া গেছে। বিষয়টি যথাযথ বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ইউনুস শুধু ওয়ানডেতে

জাতীয় দল থেকে স্বেচ্ছানির্বাসনে গিয়েছিলেন ওয়ানডে খেলে। ইউনুস খান ফিরতে পারেন সেই ওয়ানডে দিয়েই। অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট দলে আর পাঠানো হচ্ছে না পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ককে। তবে তাঁকে ওয়ানডের জন্য বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক ইকবাল কাসিম।

ধাক্কা খেলবার্সা

গত মৌসুমে জেতা ছয় শিরোপার কীর্তির পুনরাবৃত্তি এ মৌসুমেও করতে চায় বার্সেলোনা। কিন্তু সেই স্বপ্নে একটা ধাক্কা খেল পরশু কোপা ডেল রের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে সেভিয়ার কাছে বার্সেলোনা ১-২ গোলে হেরে যাওয়ায়। পরাজয়টা নিজেদের মাঠেই। ফলে ১৩ জানুয়ারি দ্বিতীয় লেগে শুধু জিতলেই চলবে না, কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে গোল ব্যবধানের হিসাবও মাথায় রাখতে হবে পেপ গার্দিওলার দলকে।

ফেনী সকারকে জিততে দেননি আলফাজ

বাংলাদেশ লিগে এই মৌসুমে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় দিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল তাদের। প্রথম ম্যাচেই আরামবাগ ৬-০ গোলে হারিয়েছিল চট্টগ্রাম মোহামেডানকে। তাদের পরের দুটি ম্যাচ হলো ড্র, তারপর টানা দুই ম্যাচ সঙ্গী পরাজয়ের। কাল সেই হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এল এককালের ‘জায়ান্ট কিলাররা’। ফেনীর ভাষাশহীদ সালাম স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ফেনী সকার ক্লাবের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে আরামবাগ। ৬ ম্যাচে ১ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে তারা। সমান ম্যাচে ২ জয় ও ২ ড্রয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে ফেনীর ক্লাবটি। ৭ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আবাহনী ও মোহামেডান।
ঢাকার ক্লাব আরামবাগের সঙ্গে নিজেদের দলের জয় দেখার আশাতেই ফেনী ভাষাশহীদ স্টেডিয়ামে ভিড় জমিয়েছিল দর্শক। কিন্তু সকার ক্লাবের খেলা দেখে হতাশ মনেই বাড়ি ফিরেছে তারা। ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি ফেনী। ৮ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন মনু (১-০)। ৩০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে গোল শোধ করেন আলফাজ আহমেদ (১-১)।

দুই জায়গাতেই অস্ট্রেলিয়া

প্রথম ইনিংসে ২০০ রানের বেশি পিছিয়ে থেকে জয় পাওয়া তো কঠিনই, এগিয়ে থেকেও হেরে যাওয়াটাও কম কঠিন নয়! আর এই কঠিন কাজটাই দারুণ ‘সাফল্যের’ সঙ্গে করেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০০ রানে পিছিয়ে থেকেও টেস্ট জয়ের ঘটনা ক্রিকেট ইতিহাসে আছে তিনটি, তিনবারই জয়ী দলের নাম অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয়বার এই কীর্তি গড়ল তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে সিডনি টেস্টে। প্রথম ইনিংসে ২০০ রানেরও চেয়ে বেশি এগিয়ে থেকে টেস্ট হারার ঘটনাও তিনটি এবং সেই তিনবারও এই ‘কৃত্বিত্ব’ অস্ট্রেলিয়ার। অস্ট্রেলিয়ার হার তিনটির আলাদা বিশেষত্ব আছে। প্রতিবারই প্রতিপক্ষকে ফলোঅন করিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রতিপক্ষকে ফলোঅন করানোর পরও টেস্ট হারার নজির নেই আর একটিও।

ঢাকায় জয়াবর্ধনে-উদয়াত্তে-লোকুগে

ইনজুরির কারণেই ত্রিদেশীয় সিরিজের শ্রীলঙ্কা দলে ছিলেন না মাহেলা জয়াবর্ধনে। ইনজুরিই আবার তাঁর সামনে খুলে দিল দলে ফেরার দুয়ার। কাল রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। তাঁর সঙ্গে এসেছেন মাহেলা উদয়াত্তে ও দীনেশ চান্ডিমাল লোকুগেও।
ঢাকায় আইডিয়া কাপ ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েছেন তিলকরত্নে দিলশান, চামারা সিলভা ও মুথুমাদালিগে পুষ্পকুমারা। দিলশান ভুগছেন কুঁচকির ইনজুরিতে। ডান হাতের বুড়ো আঙুলের হাড়ে চিড় ধরেছে চামারার। পুষ্পকুমারার ইনজুরি কাঁধে। চামারা সিলভা কালই ফিরে গেছেন দেশে। তবে দিলশান আর পুষ্পকুমারা দলের সঙ্গে ঢাকাতেই থাকছেন।
শ্রীলঙ্কার ম্যানেজার ব্রেন্ডন কুরুপ্পু জানিয়েছেন, ইনজুরি কাটিয়ে খেলার মতো ফিট আছেন বলেই দলে ডাকা হয়েছে জয়াবর্ধনেকে। তাঁর সঙ্গে কাল রাতে ঢাকায় আসা ২০ বছর বয়সী উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান চান্ডিমাল আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়। ২৩ বছর বয়সী উদয়াত্তে এর আগে ওয়ানডে খেলেছেন ৯টি।
গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ুিংুনজের প্রথম সেঞ্চুরি করে নির্বাচকদের দৃষ্টি কাড়েন চান্ডিমাল। উদয়াত্তের অভিষেক ২০০৮ সালে। তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন ৭৩ রান, যেটি এখনো তাঁর ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ইনিংস।
জয়াবর্ধনেকে ফিরে পাওয়াটা শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারার জন্য বড় এক স্বস্তির কারণই হবে। দুই ম্যাচেই জিতলেও জয়াসুরিয়া ও জয়াবর্ধনেহীন শ্রীলঙ্কান ব্যাটিংয়ে একটু অভিজ্ঞতার অভাব হয়তো ঠিকই বোধ করেছেন তিনি। দিলশানের ছিটকে পড়াটা এসেছে আরও বড় আঘাত হয়ে। জয়াবর্ধনেকে পাওয়া মানে ৩১৪ ওয়ানডেতে ৮৫১৮ রানের অভিজ্ঞতাকে দলে পাওয়া।