Saturday, January 8, 2011

আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বেড়ে গেছে

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফিজরয় নদীর পানি আরও ফুলে-ফেঁপে ওঠে। এতে নদী তীরবর্তী রকহ্যাম্পটনসহ বিভিন্ন শহরের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এদিকে রকহ্যাম্পটন শহরের মেয়র বলেছেন, সাপের ভয় উপেক্ষা করে এখনো যারা শহরে অবস্থান করছে, তাদের কাছে জরুরি পণ্যসামগ্রী পৌঁছানো তাঁরা বন্ধ করে দেবেন। কুইন্সল্যান্ডের ভয়াবহ বন্যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বেড়ে গেছে।
রকহ্যাম্পটনসহ বিভিন্ন শহরের বন্যার পানি যখন কমছিল, ঠিক সে সময় গতকালের ভারী বৃষ্টিপাত সব কিছু ওলটপালট করে দেয়। আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গতকালের বৃষ্টিপাতের কারণে মধ্য ও দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ডের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রকহ্যাম্পটন, বান্ডাবার্গ ও ওয়াইড বে-বারনেট এলাকার বন্যার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রকহ্যাম্পটন শহরে এখন বিষাক্ত সাপের ছড়াছড়ি। রয়েছে কুমিরের উৎপাত। স্থানীয় বাসিন্দা শেন মুয়িরহেড সাংবাদিকদের জানান, এখানকার সব জায়গায় সাপ বিচরণ করছে। প্রতি ১০০ গজ দূরত্বেই কোনো না কোনো সাপের দেখা পাওয়া যাবে।
শহরের মেয়র ব্রাড কার্টার এখনো যারা তলিয়ে যাওয়া বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেয়নি, তাদের ভর্ৎসনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাপ উপদ্রুত ওই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তাঁরা আর ঝুঁকি নিয়ে জরুরি পণ্য পৌঁছে দিতে পারবেন না। কারণ ওই সব দায়িত্বজ্ঞানহীন বাসিন্দা নিজেদের ইচ্ছায় বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে কুইন্সল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যার কারণে সেখানকার ৭৫ শতাংশ কয়লাখনি বন্ধ হয়ে গেছে। আর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক কয়লা বাজারে। কিছুদিন আগেও যে কয়লার দাম ছিল টনপ্রতি ২০০ মার্কিন ডলার, এখন তা টনপ্রতি ২৫৩ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। সামনে দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রান্না ও ইস্পাতশিল্পে ব্যবহূত বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ কয়লা রপ্তানি হয় এই কুইন্সল্যান্ড থেকে।

তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের মূল কারণ বিপির অব্যবস্থাপনা

ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) ও তাদের অংশীদারদের অবস্থাপনাকেই মেক্সিকো উপসাগরে তেল উত্তোলন রিগে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত হোয়াইট হাউস কমিশন গত বুধবার তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলেছে, দুর্ঘটনার আগে বড় ধরণের ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিপি ও তাদের অংশীদাররা। ওই সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘উদ্দেশ্যমলূকভাবে হোক আর নাই হোক, বিপি, হ্যালিবার্টন ও ট্রান্সওশান অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল যার কারণে ঝুকির মুখে পড়ে ম্যাকন্ডো তেলক্ষেত্র। সময় এবং অর্থ বাঁচানোর জন্য তারা ওই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’
তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাত সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন গঠন করেন। ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি কমিশনকে আগামীতে উপকূলীয় অঞ্চলে তেল উত্তোলন বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিতে বলা হয়। দুর্ঘটনার কারণ এবং এর পরিণতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করবে কমিশন।
তবে কশিনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রাথমিক প্রতিবেদনের পার্থক্য আছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছিল, ম্যাকান্ডোর বিরুদ্ধে তেলক্ষেত্রে ব্যয় হ্রাসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে কমিশন প্রতিক্রিয়ায় বলেছিল, কোম্পানিগুলো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে কখনোই অর্থ বাঁচানোর কাজ করেনি তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

উত্তর কোরিয়ার আলোচনার প্রস্তাব দক্ষিণের প্রত্যাখ্যান

কোরীয় উপদ্বীপে বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে দ্রুত ও নিঃশর্ত আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়া। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, উত্তর কোরিয়া আন্তরিকভাবে ওই প্রস্তাব দেয়নি। এটা কমিউনিস্ট দেশটির এক ধরনের অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।
কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মার্কিন দূত স্টিফেন বসওয়ার্থ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যখন আলোচনা শুরু করেছেন, ঠিক সে সময় উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে এ ধরনের আলোচনার প্রস্তাব এল। এর আগে নতুন বছরের শুরুতেও উত্তর কোরিয়া চির বৈরী দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সবকিছুর আগে সাম্প্রতিক দুটি হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে ক্ষমা চাইতে হবে, এরপর তারা আলাপ-আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
গত বুধবার কেসিএনএ সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে উত্তর কোরীয় কর্মকর্তারা আলোচনার ওই প্রস্তাব দেন। এতে বলা হয়, ‘আমরা দুই দেশের মধ্যে নিঃশর্ত ও দ্রুত আলোচনা শুরুর আহ্বান জানাচ্ছি। প্রকৃত ক্ষমতা ও দায়িত্ব আছে দুই দেশের এমন কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ আলোচনা হতে পারে। উত্তর কোরীয় সরকার, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া এবং অন্যান্য সংস্থা সম্মিলিতভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরুর এই উদ্যোগটি নিয়েছে। আমরা যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়, যে কারও সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছি। অতীতের কথা ভুলে আমরা বর্তমান নিয়ে কথা বলতে চাই।’
তবে উত্তরের এ আলোচনায় বসার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অংশ হিসেবেই তারা সচরাচর এ ধরনের বিবৃতি দিয়ে থাকে।

চীনে সিসার বিষক্রিয়ায় দুই শতাধিক শিশু আক্রান্ত

চীনে সিসার বিষক্রিয়ায় দুই শতাধিক শিশু আক্রান্ত হয়েছে। তাদের ২৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের পূর্বাঞ্চলের এসব শিশু তাদের বাড়ির কাছাকাছি ব্যাটারি কোম্পানির সিসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানায়।
চীনের আনহুই প্রদেশের গোহেতে গত মাসে পরীক্ষার পর দেখা যায়, তিনজন শিশুর রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সিসা রয়েছে। পরে ২৮০ জন শিশুকে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাদের মধ্যে দুই শতাধিক শিশুর রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সিসা রয়েছে।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ বিষক্রিয়ার অভিযোগে ব্যাটারির দুটি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি কারখানাকে গোহে এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সিনহুয়া জানায়, বিষাক্ত সিসায় অসুস্থ হয়ে পড়া নয় মাস থেকে ১৬ বছর বয়সের এসব শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় পরিবেশ রক্ষা ব্যুরোর পরিদর্শকেরা জানান, অবৈধভাবে পরিচালিত বোরুই ব্যাটারি কোম্পানি লিমিটেড এ সমস্যার জন্য দায়ী। তাঁরা ওই কারখানা এবং এ এলাকার অন্য একটি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন।

ভারতের জরুরি অবস্থাকে নাৎসি শাসনের সঙ্গে তুলনা আদভানির

ভারতে ১৯৭৫ থেকে ’৭৭ সাল পর্যন্ত জরুরি অবস্থাকে জার্মানির অ্যাডলফ হিটলারের সময়কার নাৎসি শাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ নেতা ও সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানি। গত সোমবার আদভানি তাঁর নতুন ব্লগে এ কথা লিখেছেন। ওই লেখার শিরোনাম দিয়েছেন, ‘১৯৭৫-এর জরুরি অবস্থা ও নাৎসি শাসন একই’।
আদভানি তাঁর লেখায় ‘নাৎসি’ শব্দটি কেন ব্যবহার করলেন সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে তিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক এইচ আর খান্নার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ভিন্ন মতাবলম্বী এই বিচারক নাৎসি শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। জরুরি অবস্থার সময় মেইনটেনেন্স অব ইন্টারন্যাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা এমআইএসএর অধীনে আটক করা ব্যক্তিদের বিষয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের আবেদনের মামলায় তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেন।
জরুরি অবস্থার সময় এক লাখ ১০ হাজার ৮০৬ জনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন আদভানি। তিনি লিখেছেন, ‘এর মধ্যে ৩৪ হাজার ৯৮৮ জনকেই আটক করা হয় এমআইএসএর অধীনে।’ এই অ্যাক্টের অধীনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই যে কাউকে আটক করা যায়।
আদভানি লিখেছেন, ওই অ্যাক্টের আওতায় আটক করা ব্যক্তি অনেকেই আটকাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন, কিন্তু সরকার সুপ্রিম কোর্টে তা চ্যালেঞ্জ করে।
ব্লগে আদভানি লিখেছেন, ‘জরুরি অবস্থার সময় স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মৌলিক অধিকার রহিত করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় মহাজোটের নেতাদের এবং গণমাধ্যমের ওপর কড়াকড়ি আরোপ (সেন্সরশিপ) করা হয়। চরম সাম্প্রদায়িক ও বামপন্থী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জরুরি অবস্থার ১৯ মাসে এক লাখের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। বিচার বিভাগের ক্ষমতা অনেকাংশে খর্ব করা হয়। রাষ্ট্রের ও দলের অসীম ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে। দেশের মানুষের একটা বড় অংশ প্রথম দিকে জরুরি অবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছিল; কেননা, এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের কারণে এর সমালোচনা করেন মানবাধিকারকর্মীরা। দুঃখজনকভাবে ওই সময়ে অতি উৎসাহের সঙ্গে পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা এবং বস্তি উচ্ছেদের মতো অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল।
জরুরি অবস্থার এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের ‘অপকর্ম’ করার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করায় কংগ্রেসকে দোষারোপ করেন এল কে আদভানি। তিনি লিখেছেন, ‘গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এ অপরাধ মার্জনার যোগ্য নয়।’
আদভানির মতে, ‘সব অপকর্মের দায় সঞ্জয় গান্ধীর ঘাড়ে চাপিয়ে তাঁকে বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা হাস্যকর।’
কংগ্রেস অ্যান্ড দ্য মেকিং অব ইন্ডিয়ান নেশন নামে একটি বই সম্প্রতি প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। ওই বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে আদভানি এ কথা বলেন। জরুরি অবস্থার সময় সঞ্জয় গান্ধীর ক্ষমতার ব্যবহারকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করা হয়েছে কংগ্রেসের ওই বইতে।
আদভানি জানান, কংগ্রেসের ওই বইতে জরুরি অবস্থার সময় যা ঘটেছিল, তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে মাত্র দুটি অনুচ্ছেদে, অথচ জরুরি অবস্থা ঘোষণার পটভূমি ব্যাখ্যা করা হয়েছে দুই পৃষ্ঠাজুড়ে।
বিজেপির নেতা লিখছেন, ‘গত ৬০ বছরে যখনই কোনো শাসক বিচার বিভাগের কোনো রায়কে নিজের জন্য অগ্রহণযোগ্য মনে করেছেন, তখনই তিনি আইন বিভাগের সমর্থনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ১৯৭৫ সালেও এ কাজটি করা হয়েছে আইন সংশোধনের মাধ্যমে। শুধু সেটুকু করেও ক্ষান্ত হননি ইন্দিরা গান্ধী। মন্ত্রিসভা, এমনকি আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ না করেই তিনি রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদকে জরুরি অবস্থা জারি করতে বলেন।’

সিএসআরের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিআইডিএসে কর্মশালা

বাংলাদেশে বহুজাতিক তেল কোম্পানি শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা তেল গ্যাসক্ষেত্রের পার্শ্ববর্তী দুটি গ্রামে দুই বছরের গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সম্প্রতি এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শেরেবাংলা নগর আগারগাঁয়ের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক মুস্তাফা কে মুজেরি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জহির আহমেদ। ‘মাইনিং, লাইভলিহুড অ্যান্ড সোশ্যাল নেটওয়ার্কস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল্য প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের অধ্যাপক কেটি গার্ডনার।
প্রসঙ্গত, যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ইংল্যান্ডের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ কাউন্সিল এবং ডিএফআইডির অর্থায়নে।
কর্মশালাটির লক্ষ্য ছিল দেশে করপোরেট সামাজিক দায়িত্ব পালনের প্রকৃত ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা।

নিয়ন্ত্রক শক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশ গভর্নরের

মুদ্রাবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক শক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
গভর্নর বলেছেন, ব্যাংকগুলো নিয়মনীতির মধ্যে থেকে কাজ করছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকিং খাতকে সুস্থ রাখার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিতীয় গভর্নর এ কে এন আহমেদ বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাবাজারে বড় অস্থিরতা তৈরি হয়। কলমানির সুদের হার ১৯০ শতাংশে গিয়ে ঠেকে। সংবাদপত্রে বলা হয়েছে, এই হার বিশ্বের অতীত সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। কিন্তু এ ধরনের রেকর্ড কাম্য হতে পারে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত নির্বাহী উন্নয়নবিষয়ক এক সেমিনারে গতকাল বৃহস্পতিবার বর্তমান ও সাবেক গভর্নররা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে ‘আর্থিক সংকট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়দায়িত্ব’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ কে এন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মুরশিদ কুলী খান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক থেকে নির্বাহী পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
আতিউর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন বড় ধরনের উজ্জীবনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানিতে ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানি বাড়ছে বলেই আমদানিও বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে মুদ্রাবাজারে। ফলে এ মুহূর্তে নিয়মনীতির মধ্যে ব্যাংকগুলো চলছে কি না, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
গভর্নর কর্মকর্তাদের সাহস দিয়ে বলেন, ‘আপনারা নির্ভয়ে এবং নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন।’
আতিউর রহমান আরও বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোথায় কে কী করেছে, সে খবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আছে। সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি রয়েছে। কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তাঁরা এ বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। গভর্নর বলেন, মন্দের জন্য শাসন ও ভালোর জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ জন্য নীতি নির্ধারণে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, শিগগিরই আরও কিছু পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, ‘আপনারা ব্যবস্থা নিন, অভিভাবক হিসেবে আপনাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমার।’
এ কে এন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাতে কোনো বিপদ বা ঝুঁকি থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই তা কাটিয়ে সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। তিনি মনে করেন, এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংককে তাই শুধু সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকলে চলবে না। তাঁর মতে, দেশের ভাগ্য বদলানোর দায়িত্ব ব্যাংকারদের নয়। এ কাজের দায়িত্ব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের।
নিজের সময়কার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে এ কে এন আহমেদ বলেন, গভর্নর যে-ই থাকুন কিংবা যত প্রতিভাবানই তিনি হন না কেন, সহকর্মীদের সহযোগিতা না পেলে তিনি সফল হবেন না। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন যেমন দরকার, তেমনি দেশের গতি-প্রকৃতি বোঝার জন্য সরকারের সঙ্গে একটা সামঞ্জস্যও থাকতে হবে।

দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও কারসাজি রোধ করা জরুরি: সিপিডি

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের শেয়ারবাজারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারল্য-সংকটের পাশাপাশি দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও বাজার কারসাজি এবং আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলাকেও বিবেচনায় আনতে হবে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত সিপিডির এক প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার অংশে এ কথা বলা হয়েছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নয়টি সুপারিশ করা হয়েছে সিপিডির প্রতিবেদনে। এগুলো হলো: স্বল্পকালীন কারবারকে নিরুৎসাহিত করতে ব্যক্তির মূলধনি মুনাফায় করারোপ; নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির তদারকি পদ্ধতি শক্তিশালী করা; কার্যকর বাজার পরিচালনার জন্য এসইসির সঠিক উদ্যোগ নেওয়া; গুজব ছড়িয়ে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া; নতুন বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার সম্পর্কে শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া; অভিজ্ঞ, দুর্নীতির অভিযোগমুক্ত ও দৃঢ় নৈতিক মানসিকতার লোকবল দিয়ে এসইসিকে শক্তিশালী করা; ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নীতিনির্ধারণী ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পৃথক করা; সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দ্রুত ছেড়ে দেওয়া এবং তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ওপর আরোপিত প্রাতিষ্ঠানিক করের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানো।
শেয়ারবাজার এর প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দরকার রয়েছে বলেও মনে করছে সিপিডি।
সংস্থাটির মতে, শেয়ারবাজারের মূল উদ্দেশ্য হলো শিল্প খাতের জন্য অর্থের জোগান দেওয়া। কিন্তু শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির সঙ্গে এই উদ্দেশ্যের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।
শেয়ারবাজারকে টেকসই করতে সরকারকে চারটি বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো: উৎপাদন খাতে বিনিয়োগে সুযোগের অভাব; শেয়ারবাজারে সুশাসনের অভাব; বাজার কারসাজি এবং আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা।
সিপিডি উৎপাদন খাতে বিনিয়োগে সুযোগের অভাবকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করেছে। একদিকে বিশ্বমন্দার প্রভাব ও জ্বালানি-সংকটে দেশে নগদ অর্থের জোগান থাকার পরও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমেছে। অন্যদিকে সুদের হার কমানোয় ছোট বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে ও ব্যাংকে আমানত রাখতে উৎসাহিত হচ্ছেন না। বরং তাঁরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়েছেন। আর এসব ছোট বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবর্তে স্বল্পকালীন কারবারকেই বেশি লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব খোলার হার ১৫৪ শতাংশ বাড়ার মাধ্যমে এর প্রতিফলন ঘটেছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল কার্যক্রম ও দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শেয়ারবাজারে সুশাসনের অভাবের একটি বড় কারণ বলে উল্লেখ করেছে সিপিডি। দ্রুত ঋণ অনুপাত পরিবর্তন, সার্কিট ব্রেকারের ব্যবহার, বাজারের সক্রিয় গোষ্ঠীর অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা, কোম্পানির তালিকাচ্যুতি যথাযথ না হওয়াকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
সিপিডি আরও বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় কম লোকবল দিয়ে এসইসি চলছে। এমনকি এসইসির কোনো নিজস্ব তদারকি সফটওয়্যার নেই। তদারকির জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রকৃত তদারকিতে বিঘ্ন ঘটে।
সিপিডির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একাধিক অসাধু চক্রের মাধ্যমে বাজার কারসাজির মতো অনৈতিক ঘটনা ঘটছে বলে দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আর এসব অসাধু চক্রের সঙ্গে ডিএসই/সিএসইর একাধিক সদস্য, এসইসির কর্মকর্তা, রাজনীতিক, বড় ব্যবসায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্রোকারেজ হাউসের মালিকেরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুর্বল তদারকির ও পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির জন্য এসইসি এসব অনৈতিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ঋণবাজার, মুদ্রাবাজার ও বন্ড বাজারের সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয়হীনতা শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম বাধা বলে মনে করছে সিপিডি। এই সম্পর্কে সিপিডির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু সিদ্ধান্ত ও কিছু সিদ্ধান্তহীনতা শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করেছে।

বিনিয়োগ সম্ভাবনাময় দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১৫তম

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভাবনাময় দেশের তালিকার ১৫তম অবস্থানে ওঠে এসেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৮তম।
জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) আন্তর্জাতিক গবেষণা অফিস পরিচালিত ‘জাপানি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক ২২তম বার্ষিক জরিপের পাওয়া ফলাফল থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে গতকাল এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সফররত জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের আবাসিক নির্বাহী কর্মকর্তা রাইওচি কাগা গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ তথ্য জানান।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম খোরশেদ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জেবিআইসির সিঙ্গাপুরের আবাসিক প্রতিনিধি কেনিচি সেইতু উপস্থিত ছিলেন।
রাইওচি কাগা বলেন, জাপানের উদ্যোক্তারা তাঁদের রপ্তানিমুখী শিল্পসমূহ বাংলাদেশে স্থানান্তরে আগ্রহী। বাংলাদেশে হাইটেক টেক্সটাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলওয়ে ও সড়ক যোগাযোগসহ অবকাঠামো খাতে জাপানের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করবে বলে তিনি জানান।
রাইওচি কাগা বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত জাতীয় শিল্পনীতি-২০১০-এর প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন, এই শিল্পনীতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরাসরি, যৌথ উদ্যোগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারের শিল্প স্থাপনের সুযোগ রাখায় বাংলাদেশ দ্রুত বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। জাপানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে জাপানের বিশেষায়িত শিল্প অঞ্চল গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া তৈরি পোশাক, যন্ত্রাংশ সংযোজন এবং ভোগ্যপণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার সম্ভাবনার পাশাপাশি সস্তা শ্রম, স্বল্প ঝুঁকি ও রপ্তানির বিশাল সুযোগ বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত করেছে বলে রাইওচি কাগা উল্লেখ করেন। ্র
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ দিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপানের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবে। সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কর অবকাশ, শতভাগ মুনাফা নিজ দেশে পাঠানো, ভিসা সুবিধা, ্রওয়ার্ক পারমিট, ক্যাশ ইনসেনটিভসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে এশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্প খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে বলে তিনি জানান।
দিলীপ বড়ুয়া আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ ও সময় বিরাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার গৃহীত নীতি ও কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশ শিগগিরই বিদেশি বিনিয়োগের শীর্ষ কেন্দ্রে পরিণত হবে। তিনি সার কারখানা স্থাপন, সড়ক ও রেল যোগাযোগের নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণ এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিক নগর নির্মাণ করবে চীন

চীন ১৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে থাইল্যান্ডে একটি ‘বাণিজ্যিক নগর’ নির্মাণ করবে। এখান থেকে ব্যবসায়ীরা চীনের তৈরি পণ্য রপ্তানি করতে পারবে এবং ব্যয়বহুল শুল্কও এড়াতে পারবে। চীনের একটি পত্রিকা গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে।
চায়না ডেইলি নামের পত্রিকাটি জানিয়েছে, ৭০ হাজারেরও বেশি চীনা ব্যবসায়ী ব্যাংককে এই চায়না সিটি কমপ্লেক্স ব্যবহার করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে চীন থেকে সরাসরি দ্রব্যসামগ্রী জাহাজে পাঠাতে কোনো রাজস্ব লাগবে না।
এই সেন্টারের আয়তন হবে সাত লাখ বর্গমিটার। অর্থাত্ ১০০ ফুটবল মাঠের সমান। এটা হবে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইউয়ের ছোট পণ্যের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার। সেন্টারের নির্মাণকাজ শুরু হবে ১৮ জানুয়ারি। আশা করা হচ্ছে, ২০১৩ সাল নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হবে।
আশিয়ান-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড প্রমোশন সেন্টারের চেয়ারম্যান ইয়াং ফাংসু বলেন, থাইল্যান্ডে ব্যবসা সুবিধা ছাড়াও চীনা রপ্তানিকারীরা এ প্রকল্পের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত বাজারে তাদের পণ্যসামগ্রী তুলে ধরতে পারবেন।

মার্কিন সামরিক বাজেট ৭৮০ কোটি ডলার কমানোর ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস সামরিক বাজেট ৭৮০ কোটি ডলার কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। দেশে অর্থনৈতিক ঘাটতি ও জাতীয় ঋণের লাগাম টেনে ধরতে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের কথা স্মরণ রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ ঘোষণা দেন।
রবার্ট গেটস বাজেট কমানোর লক্ষ্যে সামরিক খাতে বেশ কিছু বিষয়ে খরচ কমানোর কথা বলেছেন। তিনি জানান, পরিত্যক্ত সামরিক যান বাতিলের ফলে ১৪০ কোটি ডলার ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া প্রশাসনিক খরচ কমানোর জন্য ১০০টিরও বেশি সাধারণ ও ফ্লাগ অফিসারের পদ এবং ২০০টির বেশি উচ্চপদস্থ বেসামরিক প্রতিরক্ষা পদ খালি করা হবে। উভচর অবতরণ যানসহ (অ্যামফিবিয়াস ল্যান্ডিং ক্রাফট) বেশ কিছু অস্ত্র প্রকল্প ও অন্য কিছু কর্মসূচি হ্রাস করা হবে বলেও তিনি জানান ।
রবার্ট গেটস বলেন, সব মিলিয়ে বাজেট থেকে এক হাজার বিলিয়ন ডলার ব্যয় কমানো সম্ভব না-ও হতে পারে। জাহাজ তৈরি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, অসুস্থ সেনাদের স্বাস্থ্যসেবাসহ বেশ কয়েকটি খাতে পুনর্বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।
যদিও এরই মধ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে পরবর্তী পাঁচ বছরে অভ্যন্তরীণ ব্যয় সংকোচনের ফলে এক হাজার কোটি ডলার ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
গত মাসে কংগ্রেসে ২০১১ সালের জন্য ৭২ হাজার ৪৬০ কোটি ডলারের বাজেট অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘ঘাঁটি’ প্রতিরক্ষা বাজেট হলো ৫৪ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। তবে বাজেটে ইরাক ও আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন ও সশস্ত্র তত্পরতা চালানোর ব্যয় ধরা হয়নি।

মহানগর বাছাই দাবা

ফেডারেশন কার্যালয়ে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা মহানগর বাছাই দাবা। যাঁদের ফিদে রেটিং ২১০০-এর নিচে শুধু তাঁরাই প্রতিযোগিতায় নাম এন্ট্রি করতে পারবেন। ৯ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতির প্রতিযোগিতা থেকে সেরা ১৬ জন দাবাড়ু সুযোগ পাবেন এ বছরের জাতীয় বাছাই দাবায়।

ঢাকা মহানগর স্কুল ফুটবল

জালালের গোলে আসিয়ান সিটি ঢাকা মহানগর স্কুল ফুটবলে রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল হারিয়েছে সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে। দিনের অন্য ম্যাচে মাসুমের জোড়া গোলে এ লতিফ চ্যারিটেবল স্কুল জিতেছে একে ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বিপক্ষে।

হেরে গেলেন শারাপোভা

ব্যাপারটা কি উল্টোই হয়ে যাবে? সব জায়গায় সেমিফাইনাল-ফাইনালে দর্শক বাড়ে, আর অকল্যান্ড ক্লাসিক টেনিসে নাকি কমবে! কমবেই তো! যাঁর জন্য রাগবির দেশে টেনিস ম্যাচে গ্যালারি-ভরা দর্শক, সেই মারিয়া শারাপোভা যে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছেন। কাকে দেখতে কোর্টে যাবে দর্শক!
গ্রেটা আর্ন, ৩১ বছর বয়সী এই হাঙ্গেরিয়ান অকল্যান্ডে সাবেক ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ানের ঘাতক, যাঁর ক্যারিয়ার-সেরা র‌্যাঙ্কিং ৮১, সেই আর্ন শারাপোভার মতো একজনকে হারিয়ে তো সপ্তম স্বর্গেই ভাসবেন। ‘একটা স্বপ্ন সত্যি হলো’—শারাপোভাকে হারানোর অনুভূতি জানিয়েছেন আর্ন। সদ্যই চোট কাটিয়ে কোর্টে ফেরা শারাপোভা অবশ্য পরাজয়কে নিয়েছেন স্বাভাবিকভাবেই, ‘এটা হতেই পারে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে এখন।’

আনচেলত্তি আর হজসনের বিপদ

রয় হজসন ইংলিশ, কার্লো আনচেলত্তি ইতালিয়ান। চাকরির খাতিরে দুজনই এখন ইংল্যান্ডে। হজসন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের কোচ, আনচেলত্তি চেলসির। সম্প্রতি দুজন এক বিন্দুতে মিলেছেন আরেকটা দিক থেকেও। চাকরি হারানোর শঙ্কা তাড়া করছে দুজনকেই।
পরশু এ শঙ্কাটা আরেকটু বেড়েছে চেলসি-লিভারপুল দুই দলই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজ নিজ ম্যাচে হেরে যাওয়ায়। ব্ল্যাকবার্নের মাঠ থেকে লিভারপুল হেরে এসেছে ৩-১ গোলে। আর উলভারহ্যাম্পটনে চেলসি হেরেছে ১-০ ব্যবধানে।
উলভারহ্যাম্পটনের মাঠে চেলসির হেরে যাওয়াটা একটু বিস্ময়করই। শক্তির বিচারে এমনিতেই চেলসি-উলভসের বিস্তর ব্যবধান। তার ওপর পুরো ম্যাচেই ছড়ি ঘুরিয়েছে চেলসি। এর পরও হেরে গেছে ‘ব্লু’রা। হেরে গেছে তারা হোসে বসিঙ্গার দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলে। ম্যাচ শেষে চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তি হতবাক, ‘এ মুহূর্তে বুঝিয়ে বলাটা খুব কঠিন যে কী হচ্ছে আমাদের।’
সত্যিই তো, চেলসির হলোটা কী? মৌসুমের শুরুটা দুর্দান্তই হয়েছিল। লিগের প্রথম ৫ ম্যাচে জয়, ২১ গোল দিয়ে একটি মাত্র গোল খাওয়া। কিন্তু হঠাৎ করেই গেল তাল কেটে। নিজেদের ফিরে পাওয়ার লড়াই করতে হচ্ছে আনচেলত্তির দলকে। ফিরে পাওয়া হচ্ছে না। উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ ৯ ম্যাচে মাত্র একটিই জয় তাদের। চেলসি মালিক রোমান আব্রামোভিচ কাঁহাতক আর সহ্য করবেন এসব! আনচেলত্তির অবশ্য এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই, ‘আমি বরখাস্ত হওয়া নিয়ে ভয় পাচ্ছি না।’
হজসনের ব্যাপারটা ভিন্ন। রাফায়েল বেনিতেজের হতশ্রী লিভারপুলকে ওপরে তুলে আনতে অ্যানফিল্ডে পা রেখেছিলেন এই ইংলিশ কোচ। হজসন পারেননি। আর ব্যর্থদের জায়গা কোথাও নেই। ব্রিটিশ পত্রপত্রিকার অনুমান, শিগগিরই চলে যেতে হবে হজসনকে। লিভারপুল কোচ এসব নিয়ে কথা বলার মতো মানসিক অবস্থায় পরশু ছিলেন না, ‘আমি এ নিয়ে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আমি আজকের (পরশু) ফল নিয়ে হতাশ।’
চেলসির একের পর এক হতাশাজনক পারফরম্যান্স তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছে শিরোপা লড়াই থেকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে শিরোপার লড়াই এখন আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির। পরশু এই দুই দলের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। সিটি কোচ রবার্তো মানচিনির এই ড্র নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। তবে আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার সমালোচনা করেছেন ম্যান সিটির নেতিবাচক ও রক্ষণাত্মক খেলার জন্য।

টুর্নামেন্টের শেষ দিনে পদত্যাগ

আরেকটি হকি-রঙ্গ হয়ে গেল কাল ফেডারেশনে। হাস্যকর এক সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরদিন পদত্যাগ করলেন বিজয় দিবস হকি টুর্নামেন্টের পরিচালক প্রতাপ শঙ্কর হাজরা। পরশু সেমিফাইনালে টাইব্রেকারের পর মুক্তবিহঙ্গের বিপক্ষে সাডেন ডেথে আম্পায়ার বিকেএসপিকে জয়ী ঘোষণা করেন। কিন্তু প্রতাপ শঙ্কর জানান, সাডেন ডেথের নিয়ম নেই। তারপর পাঁচটি করে পেনাল্টি হিট নেওয়া হয়, আর তাতে জয়ী হয় মুক্তবিহঙ্গ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল বিকেএসপি।
কিন্তু কাল তিনি স্বীকার করেছেন, ভুল জানতেন। ভুল স্বীকার করে বিজয় দিবস টুর্নামেন্টের পরিচালক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন হকি ফেডারেশনের অন্যতম সহসভাপতি। তবে টুর্নামেন্টের শেষ দিনে তাঁর পদত্যাগের বিশেষ তাৎপর্য ছিল না। অবশ্য হকি ফেডারেশনের কালকের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রতাপ শঙ্কর হাজরাকে কোনো টুর্নামেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। ভুল ভেঙেছে ফেডারেশনেরও। দুঃখ প্রকাশ করে কালই বিকেএসপিকে একটি চিঠি দিয়েছে ফেডারেশন। টুর্নামেন্টের ফেয়ার প্লের ট্রফিও দেওয়া হয়েছে বিকেএসপিকে। তবে এ সিদ্ধান্তে মোটেও খুশি হতে পারেননি বিকেএসপির কোচ কাওসার আলী, ‘আমি খুবই হতাশ। আমাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
এদিকে মুক্তবিহঙ্গের খেলোয়াড় ফারুকের মাথায় স্টিক দিয়ে আঘাত করায় রাসেল মাহমুদ (জিমি) কঠিন শাস্তি পেতে পারেন বলে জানা গেছে। আগামী রোববার ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভাতেই হয়তো শাস্তির সিদ্ধান্ত আসছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা দলে এক ‘পর্যটক’

জন্ম লাহোরে। জন্মভূমি পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা আর ইংল্যান্ড মিলিয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন মোট ১৯টি দলে। নানা দেশ, নানা দল ঘুরে থিতু হয়েছেন স্ত্রীর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায়। গত ১ জানুয়ারি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ইমরান তাহিরকে দলে নিতে খুব বেশি দেরি করল না দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩১ বছর বয়সী লেগ স্পিনারকে নেওয়া হয়েছে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে। ১৪ সদস্যের দলের আরেক নতুন মুখ ফ্যাফ ডু প্লেসিস। পাঁজরের চোটের কারণে দলে নেই জ্যাক ক্যালিস।
গত বছরের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট দলেও ডাক পেয়েছিলেন তাহির, পড়ে বাদ পড়ে যান নাগরিকত্বের ঝামেলায়। নাগরিকত্বের পাশাপাশি জন্মভূমির কোনো দলের হয়ে চার বছর না খেলার শর্তও পূরণ করেছেন তাহির। ডু প্লেসিস ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ স্পিন বোলিংও করেন। উপমহাদেশের বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে এই দুজন ছাড়াও দলে নির্বাচিত স্পিনার আরও দুজন—ইয়োহান বোথা ও রবিন পিটারসেন। ৫ ম্যাচের সিরিজ শুরু ১২ জানুয়ারি।

সবার ওপরে আবাহনী

ছয় রাউন্ডের খেলা শেষ। আজ শুরু হচ্ছে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের সপ্তম রাউন্ডের খেলা। ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট তালিকায় একমাত্র অপরাজিত দল আবাহনী। ছয় ম্যাচের ছয়টিতেই জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা।
প্রাইম দোলেশ্বরের সঙ্গে ড্র আর গাজী ট্যাংকের কাছে হেরে ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা মোহামেডানের পয়েন্ট ৯। ৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স।
এবারের প্রিমিয়ার লিগে জাতীয় দলের প্রায় সব ব্যাটসম্যানই আছেন ফর্মে। সবচেয়ে বেশি রান বিমানের মুশফিকুরের, ছয় ম্যাচে ৩৬১ রান। বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট ইলিয়াস সানির। বিমানেরই এই স্পিনার ছয় ম্যাচে নিয়েছেন ১৮ উইকেট।

এইচপির পণ্যদূত হলেন তামিম

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি হিউলেট প্যাকার্ড (এইচপি) বাংলাদেশে তাদের পণ্যের প্রসারে দূত হিসেবে বেছে নিল ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে।
রাজধানীর একটি হোটেলে কাল দুই পক্ষের মধ্যে এক বছরের চুক্তি হয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশে এইচপির বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করবেন তামিম। শ্রীলঙ্কায় এইচপির পক্ষে একইভাবে দূত হিসেবে কাজ করছেন সে দেশের ক্রিকেটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।
তামিমকে নিজেদের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ করার কারণ হিসেবে এইচপির মহাব্যবস্থাপক ফিলিপ লাও বললেন, ‘তামিম ইকবালের ক্রীড়ানৈপুণ্যের প্রতি এইচপি পুরোপুরি আস্থাশীল। আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে তামিম এক আদর্শ নাম। এই চুক্তি তাঁর দক্ষতার স্বীকৃতি এবং এইচপির জন্য অনুপ্রেরণাও।’ এইচপির বাংলাদেশ বিভাগের কান্ট্রি ম্যানেজার ইমরুল হোসেন ভূঁইয়ার মুখেও ছিল বাংলাদেশ দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের প্রশংসা।
উচ্ছ্বসিত তামিমের কথা, ‘পণ্যের মান ও প্রযুক্তিতে এইচপি বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি ব্র্যান্ড। এইচপি বিশ্বাস করে মান এবং পারফরম্যান্সে, যা আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারেরও মূল চালিকাশক্তি।’

এক-দুইয়ের লড়াইয়ে সমতাই থাকল

এই ইনিংসে বীরেন্দর শেবাগের ব্যাটিং-বৃত্তান্ত দেখুন। ৪০ বলে ১১ রান! দশের বেশি রান করেছেন এমন ইনিংসে শেবাগের সবচেয়ে কম স্ট্রাইক রেট। কিংবা শচীন টেন্ডুলকারের কথা ধরুন। ১২ রান থেকে ১৩-তে পৌঁছাতে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি রানের মালিক মাঝখানে ১২ ওভারে কোনো রানই নেননি।
এ রকম টুকরো ছবি জোড়া লাগানোর পর যে চিত্রটি হয়, সেটিই হলো। নিষ্প্রাণ ড্র হলো ম্যাচ। শেষ দিনের ভাঙা উইকেটে ওভারপিছু ৩.৮ রান করে তোলার অবিশ্বাস্য লক্ষ্যের পেছনে ছোটার বোকামি ভারত করেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররাও হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি। এত উত্তেজনা ছড়িয়েও কেপটাউন টেস্ট ড্র, সিরিজের ফলাফলও তাই। ‘ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার’ শেষ পর্যন্ত অজেয় থেকে গেল ভারতের কাছে।
প্রথম দুই সেশনেই আসলে নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল খেলার ফল। ওই দুই সেশনে মাত্র দুটি উইকেট নিতে পারল স্মিথের দল। চতুর্থ দিনের শুরু আর শেষের দিকের ভয়ংকর উইকেটটা কাল যেন ঘুমিয়ে পড়েছিল। দিনের শুরুতে নতুন বলে ডেল স্টেইন আর মরনে মরকেল কিছুটা সহায়তা পেয়েছেন। কিন্তু তৃতীয় দিনে স্টেইন যে আগুনটা ঝরিয়েছিলেন, সেটি কাল পারেননি। দিনের খেলা ৮ ওভার বাকি থাকতে দুই অধিনায়ক ড্র মেনে নিয়েছেন। ভারতের স্কোর তখন ১৬৬/৩।
ভারত সাবধানী শুরু করেছিল দিনের শুরুতেই। রানের চেয়ে উইকেটে টিকে থাকার দিকেই বেশি তাগিদ। লাঞ্চের আগে শেবাগ আউট হয়ে যাওয়ার পর অবশ্য মনে হয়েছিল, কিছু একটা হতে পারে। কিন্তু গম্ভীর আর রাহুল দ্রাবিড় মিলে পার করে দেন পরের ৩৭ ওভার। চা-বিরতির সাত ওভার আগে দ্রাবিড় ম্যাচে সতসোবের প্রথম শিকার হওয়ার সময়ও ম্যাচের ভাগ্য ঝুলে ছিল ড্রয়ের দিকে। ২ উইকেটে ১১৪ রান নিয়ে চা-বিরতিটা নির্বিঘ্নেই সারে ভারত। গম্ভীর তখন ৬২ রানে অপরাজিত, ৭ রান করা টেন্ডুলকারও সেট হয়ে গেছেন উইকেটে।
কিছুটা উত্তেজনা ফেরে চা-বিরতির পর। হ্যারিসের বল মাঝেমধ্যেই বিপদবার্তা দিচ্ছিল। স্টেইনও চেষ্টা করে গেছেন। গম্ভীর চা-বিরতির পর আর ২ রান যোগ করে আউটও হয়ে যান। কিন্তু এর পরই আসলে সবচেয়ে বড় পাহাড়টার সামনে এসে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। টেন্ডুলকারের সঙ্গে যোগ দেন ভিভিএস লক্ষ্মণ।
এই পাহাড় আর ডিঙানো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের পর নিজেদের মাটিতে আর কোনো টেস্ট সিরিজ জিততে না পারার হতাশাই তাই শেষ পর্যন্ত সঙ্গী হলো দক্ষিণ আফ্রিকার। হতাশা? এক নম্বর দলের বিপক্ষে দুই নম্বর দলের জন্য এটি স্বস্তিরও যে নয়, কে বলতে পারে!

কথা রাখলেন কলিংউড

ক্যারিয়ারজুড়ে তাঁর পরিচয় ছিল লড়াকু ক্রিকেটার। কিন্তু হেরে গেলেন নিজের সঙ্গে লড়াইয়ে। সিডনি টেস্ট শুরুর আগের দিন বলেছিলেন, এই টেস্টে রান না পেলে সরে দাঁড়াবেন। কথা রেখেছেন পল কলিংউড। গত পরশু আউট হয়েছেন ১৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংস আর পাচ্ছেন না, এটা নিশ্চিত হওয়ার পর কাল খেলা শুরুর আগে সতীর্থদের জানিয়ে দিলেন, এটাই শেষ। সাদা পোশাকে ইংল্যান্ডের হয়ে আর দেখা যাবে না কলিংউডকে। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেটা অবশ্য খেলে যাবেন ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ওয়েবসাইট।
টেস্ট ভবিষ্যৎ নিয়ে মেইল অন সানডেতে বলেছিলেন, রান না পেলে এই বয়সে আর জায়গা আঁকড়ে রাখবেন না। বয়সের সঙ্গে তরুণদের উত্থানকেও কাল অবসরের কারণ বললেন ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান, ‘আমি গর্বিত, ইংল্যান্ডের হয়ে সব সময়ই নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। তবে আমার মনে হয়, দারুণ কিছু অর্জনের পর টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সেরা সময় এটাই, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ ধরে রাখার পর। অনেক প্রতিভাবান তরুণ এখন ইংল্যান্ড দলে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে, আমার মনে হয়েছে, তাদের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।’
প্রথম বাক্যে যেটা বলেছেন, ‘নিজেকে উজাড় করে দেওয়া’, কলিংউডের এই আত্মনিবেদন কখনোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। খুব বেশি প্রতিভাবান না হয়েও পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বিশ্ব ক্রিকেটে। প্রয়োজনের সময় চওড়া হয়ে উঠত তাঁর ব্যাট, বল হাতে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এনে দিতেন ব্রেক থ্রু, ক্যারিয়ারজুড়েই ছিলেন বিশ্বসেরা ফিল্ডারদের একজন। তবে গত মার্চে চট্টগ্রামের সেঞ্চুরিটার পর ১৪ ইনিংসের নয়বারই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি, ফিফটি কেবল একটি। চলতি অ্যাশেজে সতীর্থদের রান-বন্যার মাঝে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৩.৮৩ গড়ে ৮৩। নিজের ব্যর্থতার মধ্যেও বিদায়ের ক্ষণে তাঁর সান্ত্বনা একটাই, অংশ হতে পারছেন ২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজজয়ী দলের।

হকিতে রক্তারক্তি কাণ্ড

বাংলাদেশের ঘরোয়া হকিতে মারামারি, সংঘর্ষ হবে না এটা ভাবাই ভুল। হকিস্টিক নিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা আম্পায়ারের উদ্দেশ্যে তেড়ে যাচ্ছেন কেউ, রক্তারক্তি হচ্ছে—এসব নিয়মিতই ঘটে। ঢাকা ব্যাংক বিজয় দিবস হকির ফাইনালে কাল আবার দেখা মিলল এমন দৃশ্যের।
সোনালী ব্যাংকের স্ট্রাইকার রাসেল মাহমুদের (জিমি) স্টিকের আঘাতে মাথা ফাটল মুক্তবিহঙ্গের ফারুকের। হাসপাতালে নেওয়ার পর মাথায় পাঁচটি সেলাই পড়েছে ফারুকের, করা হয়েছে সিটি স্ক্যান।
প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেই চড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। ৪০ মিনিটের সময় চন্দনের পেনাল্টি কর্নার গোলে এগিয়ে যায় মুক্তবিহঙ্গ। পিছিয়ে পড়া সোনালী ব্যাংকের খেলোয়াড়েরা গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। ৫০ মিনিটের সময় একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে গোলমালের সূত্রপাত। ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে মুক্তবিহঙ্গ—এই অভিযোগে ফারুকের হাতে থাকা বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন রাসেল। কিন্তু বল দিতে দেরি করায় রাসেল তর্ক শুরু করেন ফারুকের সঙ্গে। একপর্যায়ে ফারুক প্রথমে রাসেলের বাঁ পায়ে স্টিক দিয়ে আঘাত করেন। প্রত্যুত্তরে রাসেল স্টিক দিয়ে ফারুকের মাথায় বাড়ি দেন। রাসেল অবশ্য দাবি করেছেন আঘাতটা অনিচ্ছাকৃত, ‘আমি ইচ্ছে করে মাথায় আঘাত করিনি। হাত ফসকে স্টিক বেরিয়ে গেছে।’ ওই সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে খণ্ড খণ্ড উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে যোগ দেন কর্মকর্তারাও। লাল কার্ড দেখেন রাসেল। মাঠ ছাড়তে নারাজ জাতীয় দলের স্ট্রাইকারকে পরে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ডাগ-আউটে নিয়ে যান ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।
মাঠ যখন রণক্ষেত্র, তখন দর্শক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, ফেডারেশন সভাপতি এয়ার মার্শাল জিয়াউর রহমান। গুরুতর অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে থাকায় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন আসতে পারেননি।
প্রায় মিনিট পনেরো পর শুরু হয় খেলা। ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও সোনালী ব্যাংক দারুণ লড়েছে। ৫৬ মিনিটে নান্নুর রিভার্স হিটে সমতায় ফেরে জাতীয় দলের খেলোয়াড়সমৃদ্ধ সোনালী ব্যাংক (১-১)। নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। এতে ৩-২-এ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় মুক্তবিহঙ্গ। এর আগে গ্রুপ পর্বে সোনালী ব্যাংকের কাছে ৫-৩ গোলে হেরেছিল মুক্তবিহঙ্গ।
খেলা শেষে যখন উৎসবে ব্যস্ত মুক্তবিহঙ্গ, মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে বিমর্ষ রাসেল মাহমুদ বললেন, ‘ফারুক ভাই আমাকে আগে আঘাত করল। অথচ আম্পায়ার আমার দোষটাই দেখলেন। আমার যে রক্ত বের হয়নি।’ খেলা দেখতে এসেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার আরিফুল হক (প্রিন্স)। ঘটনা দেখে ক্ষুব্ধ আরিফুল জানালেন, ‘এ দেশের হকি অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। যাও বা দু-একটা টুর্নামেন্ট হয় তাতেও এই মারামারি দেখে হকির প্রতি মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’ মুক্তবিহঙ্গের অধিনায়ক ও জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় খোকনের কাঠগড়ায় রাসেল, ‘জিমির মতো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আমরা এমন আচরণ আশা করিনি।

মধুর সমাপ্তির অপেক্ষায় ইংল্যান্ড

১৯৮৫-৮৬-এর পর ২০১০-১১। মাইক গ্যাটিংয়ের পর অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। এই দুটি বিষয় এখন নিশ্চিত। প্রকৃতি খুব বড়সড় কোনো ঝামেলা না করলে নিশ্চিত ৩-১-এ সিরিজ জয়ও। এই সিরিজের গতিপথ মনে রাখলে শেষ ৩ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ১৫১ রান তুলে ফেলাটা অসম্ভবের কাছাকাছি। অনেকটা নিশ্চিত তাই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের তাদের মাটিতেই এক সিরিজে তিনবার ইনিংসে হারানোর লজ্জায় ডোবানো। অপেক্ষা কেবল স্বপ্নপূরণের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। অপেক্ষা আবার ‘স্প্রিঙ্কলার’ কিংবা নতুন কোনো আনন্দনৃত্যের।
পুরো সিরিজটাকেই যেন অপূর্ণতা ঘোচানো আর অনেক অপেক্ষার ইতি টানার মিশন হিসেবে নিয়েছে ইংল্যান্ড। আগের দিন সেঞ্চুরি করলেন ইয়ান বেল, কাল অ্যাশেজে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ম্যাট প্রিয়র। এই সেঞ্চুরিটি সিরিজে ইংল্যান্ডের নবম, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী দল এত সেঞ্চুরি করতে পারেনি কখনোই। সেঞ্চুরির পর উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে চার ক্যাচ নিয়েছেন প্রিয়র, আর একটি নিতে পারলেই হয়ে যাবেন সেঞ্চুরি ও ৫ ক্যাচের ডাবল করা ইংল্যান্ডের প্রথম আর ইতিহাসের পঞ্চম উইকেটকিপার।
প্রিয়রের সেঞ্চুরির পর লোয়ার-অর্ডার ইংল্যান্ডকে তুলে দিয়েছে ৬৪৪ রানের চূড়ায়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের সর্বোচ্চ রান। এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক সিরিজে দুবার ছয় শ করল ইংল্যান্ড, দ্বিতীয় টেস্টে অ্যাডিলেডে করেছিল ৫ উইকেটে ৬২০ (ডিক্লে.)। এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক সিরিজে চারবার পাঁচ শ করল ইংল্যান্ড। আজ অস্ট্রেলিয়া ইনিংসে হারলে গত এক বছরের মধ্যে এটি হবে চতুর্থ ইনিংস পরাজয়। অথচ ১৯৮৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সব মিলিয়ে তাদের ইনিংস হার ছিল মাত্র তিনটি!
শেষ বিকেলে পরপর দুই বলে হাডিন ও জনসনকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর জয়োৎসবটা কালকেই করতে আধঘণ্টা সময় বাড়িয়ে নিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু অষ্টম উইকেটে স্মিথ-সিডলের ৪২ রানের জুটিতে ম্যাচটা অন্তত পঞ্চম দিনে নিতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৩৬৪ রানে পিছিয়ে থেকে শুরু করতে গিয়ে ওয়াটসন ছিলেন স্বভাবগত আক্রমণাত্মক। কিন্তু নিজের ভুলে রানআউট হয়ে আরও একবার বিসর্জন দেন ভালো সূচনাকে, আরও একবার ব্যর্থ ফিল হিউজ।
৬৫ রানের তৃতীয় জুটিতে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন উসমান খাজা ও মাইকেল ক্লার্ক। আবারও খাজার ব্যাটে ছিল প্রতিশ্রুতি, ক্লার্কের ব্যাট দিয়েছিল দুঃসময় কাটানোর ইঙ্গিত। কিন্তু অ্যান্ডারসনের দুর্দান্ত বোলিং ভেঙে দিয়েছে তাঁদের প্রতিরোধ। চা-বিরতির পর রিভার্স সুইং বোলিংয়ের দুর্দান্ত এক প্রদর্শনী রেখে অ্যান্ডারসন ৭ ওভারের অসাধারণ স্পেলটিতে ১১ রান খরচায় নিয়েছেন ওই দুই উইকেট। ৩৭ রানের ছোট্ট একটি জুটির পর হাসি-হাডিন-জনসন ফিরে গেছেন ১০ রানের মধ্যে।
সকালে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা নাকাল হয়েছেন প্রিয়র আর ইংলিশ লোয়ার-অর্ডারের হাতে। বিয়ারকে কাভার ড্রাইভে চার মেরে চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন প্রিয়র। শেষ তিন ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকেও এসেছে ৮৩ রান। জনসনের দুই ওভারে ৩৫ রান নিয়েছেন সোয়ান-ট্রেমলেটের শেষ উইকেট জুটি। ওয়েবসাইট।

বোথামের পর
প্রিয়রের ১০৯ বলের সেঞ্চুরি ১৯৮১-তে ইয়ান বোথামের ৮৬ বলে সেঞ্চুরির পর অ্যাশেজে ইংলিশদের দ্রুততম

ক্লাব সভাপতিই কোচ

শক্তিশালী মুক্তিযোদ্ধাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিবিরে স্বস্তির সুবাতাস আনল কাল শেখ জামাল ধানমন্ডি।
কিন্তু টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও কোচ-রহস্য কাটল না। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের খেলোয়াড় তালিকায় কোচের নাম ছিল না। তাহলে কোচ কে? ম্যাচের পর ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদের কৌতূহল মেটালেন, ‘আই অ্যাম দ্য কোচ!’
ক্লাব সভাপতির নিজেকে কোচ দাবি করা বিশ্ব ফুটবলে বিরল। কিন্তু ব্যতিক্রম মনজুর কাদের। সাফল্যের গর্ব ছড়িয়ে বললেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা দেশের অন্যতম সেরা দল। আমার দলের চেয়েও ভালো (!!) এই দলকে দুই গোলে হারানো সহজ নয়।’
‘আপনি কোচ হলে খেলোয়াড় তালিকায় নাম দেননি কেন?’ মনজুর কাদের এবার বললেন, ‘‘আমি কোচ’’—কথাটা অফ দ্য রেকর্ড বলেছি। একটু মজা করেছি।’ ক্লাব সভাপতি তাহলে মজাও করেন! ‘আসলে আমরা সবাই মিলে দলটা সাজিয়েছি। আশরাফ ভাই (স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য শেখ আশরাফ আলী) আমাদের সাহায্য করছেন’—বলে যান মনজুর কাদের।
শেখ জামালের টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যদের মুখে অবশ্য তালাই ছিল। ম্যাচের ব্যাপারে তাঁদেরই একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে সভাপতিকে দেখিয়ে নিজেকে রাখলেন নিরাপদ দূরত্ব্বে, ‘যা বলার সভাপতি সাহেবই বলবেন।’
আবাহনীর সঙ্গে গোলশূন্য প্রথম ম্যাচের আগের দিন একাদশ তৈরি করা নিয়ে সার্বিয়ান কোচ জোরান কার্লেভিচের সঙ্গে গোলমাল বাধে ক্লাব সভাপতির। কার্লেভিচ বলেছিলেন, ‘ক্লাব সভাপতি একাদশ তৈরিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইলে আমি মানিনি।’ ক্লাব সভাপতির বক্তব্য ছিল, ‘আমরা তো ফুটবল বুঝি। সে ভালো ভালো প্লেয়ার বসিয়ে রাখে। এটা তো হতে পারে না।’
এ ঘটনায় কার্লেভিচের চাকরিই চলে যায়। প্রথম ম্যাচে মাঠেই আসেননি কার্লেভিচ। পরপরই শ্রীলঙ্কান কোচ পাকির আলীকে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পাকির গতকাল পর্যন্ত আসেননি। তবে কাল শেখ জামাল যেভাবে খেলল, তাতে ‘তারকায় ঠাসা এই দলের কোচ লাগে নাকি’—ক্লাব নীতিনির্ধারকদের এই ধারণাটা প্রতিষ্ঠা পেয়ে যেতে পারে!
আবাহনীর সঙ্গে শেখ জামাল ছিল অগোছালো, মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে সেই দলটি মাঠে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে খেলল। কিন্তু স্ট্রাইকার এমিলি দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করায় গোলের জন্য উদ্বেগ বাড়ছিল। দরকার ছিল একজন ত্রাতার। ৫৩ মিনিটে সেই ভূমিকা রাখলেন এদিনই শেখ জামালের হয়ে প্রথম খেলতে নামা ক্যামেরুনিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মোডো হুগুয়েস। কমলের কর্নার থেকে তাঁর টোকায় ১-০। ৭৯ মিনিটে বদলি স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলমের (সবুজ) প্লেসিংয়ে ২-০।
ব্রাদার্সকে প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে হারানো মুক্তিযোদ্ধা কাল ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ। মাঠে কিছুই করতে পারল না দলটি। বুকোলা তাঁর ছায়া হয়ে রইলেন। গোল করার লোকের অভাবে দলটাকে অসহায় আত্মসমর্পণই করতে হলো।
শেখ জামাল: আমিনুল, সুজন, নাসির, মিশু, ড্রাগন (রেজা), মামুনুল, শাকিল, মোডো, জাহিদ (কমল), এনামুল, এমিলি (সবুজ)।
মুক্তিযোদ্ধা: বিপ্লব, রজনী, রাজন, ড্যামি, লুসিয়ানো, আরমান আজিজ, মারুফ, মতিউর মুন্না, রনি (আলমগীর), মিঠুন, বুকোলা (নাসির)।

রিয়াল মাদ্রিদকে উড়িয়ে দিল লাভেন্তে

কিংস কাপের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৮-০ গোলের লজ্জা নিয়ে ফিরতে হয়েছিল লাভেন্তেকে। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে হলে তাদের রিয়ালকে হারাতে হতো এর চেয়েও বড় ব্যবধানে। যেটা অনেকটা অসম্ভবের কাছাকাছিই চলে যায়। অত দূর না যেতে পারলেও শেষ পর্যন্ত গতকাল দ্বিতীয় লেগে রিয়ালকে ২-০ গোলে হারিয়ে কিছুটা ক্ষোভ মিটিয়েছে লাভেন্তে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্থের ৬২ ও ৮৬ মিনিটে গোল দুটি করেছেন লাভেন্তে মিডফিল্ডার মুনোজ ক্রিসকো ও সার্জিও।
তবে লাভেন্তের মতো নিচের সারির একটা ক্লাবের কাছে এই হারটাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না মরিনহো। বরং এ রকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাঁর শিষ্যরা যেভাবে খেলেছে তাতে খুশিই হয়েছেন এই পর্তুগিজ কোচ। গতকালের এই ম্যাচের পর ক্লাবের ওয়েবসাইটে তিনি বলেছেন, ‘এ ধরনের একটা ম্যাচে খুব বেশি মনোযোগ দেওয়া খেলোয়াড়দের জন্য একটু কঠিন। আমরা কিক-অফের আগেই জানতাম যে আমাদের পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত। আমি কারও সমালোচনা করতে পারি না, কারণ এত কিছুর পরও তারা এই ম্যাচে বেশ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। গাগো, গ্যারে, মাটেওস এই মৌসুমে এবারই প্রথম মাঠে নেমেছে। ম্যাচের শেষ দিকে করিম বেনজেমাকে তুলে নেওয়ার পর কার্যত আমাদের কোনো স্ট্রাইকারও ছিল না।’
শেষ আটে রিয়াল মুখোমুখি হবে লিগ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের।

এখনো এক নম্বরে ভারত

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বপ্ন আরও একবার অধরাই থেকে গেছে ভারতের। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ এই দুই দলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইটাও শেষ হয়েছে অমীমাংসিতভাবে। তার পরও আইসিসির টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানটা ঠিকই ধরে রেখেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকায় এই ব্যর্থ মিশনের পর একটা পয়েন্ট হারাতে হয়েছে তাদের। ভারতের হারানো ওই এক পয়েন্ট যোগ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার খাতায়। ১১৭ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই দ্বিতীয় স্থানে আছে প্রোটিয়ারা। আর শীর্ষস্থান ধরে রাখা ভারতের পয়েন্ট ১২৮।
বছর শুরুর প্রথম এই টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বড় লাফটা দিয়েছে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মাত্র দুই পয়েন্টের ব্যবধান নিয়ে অ্যাশেজ শুরু করেছিল তারা। আর ২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জেতার পর এখন এই দুই দলের ব্যবধান পুরো আট পয়েন্টের। ইংল্যান্ড তিন ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানটাই আরও পাকাপোক্ত করেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া তিন ধাপ পিছিয়ে চলে গেছে র‌্যাঙ্কিংয়ের পঞ্চম স্থানে।
অস্ট্রেলিয়ার এই অবনমনে লাভবান হয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগে ১০৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা ছিল পঞ্চম স্থানে। এখনো তাদের পয়েন্ট ওই ১০৯-ই আছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট কমে যাওয়ায় তাদের অবস্থান এখন চতুর্থ স্থানে। পরের অবস্থানগুলোতে আর কোনো নড়চড় হয়নি। একই পয়েন্ট নিয়ে আগের অবস্থানেই আছে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ।

ইভানোভিচের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন নিয়ে সংশয়

সময় আছে মাত্র ১০ দিন। ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের লড়াই। তবে এ লড়াইয়ে সাবেক নম্বর ওয়ান আনা ইভানোভিচের অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। খেলার আগ মুহূর্তে এসে পাকস্থলীর ইনজুরিতে পড়েছেন এই সার্বিয়ান!
সার্বিয়ানদের জন্য হতাশার খবর আরও আছে। কাল হপম্যান কাপের ফাইনাল। সেখানে শিরোপার লড়াইয়ে নামার কথা ছিল ইভানোভিচের। কিন্তু ইনজুরির কারণে সেখানে নামা সম্ভব হচ্ছে না তাঁর। ইভানোভিচের সঙ্গে কপাল পুড়েছে তাঁর দেশ সার্বিয়ারও। হপম্যান কাপের নিয়মানুসারে মাঠে ইভানোভিচের বদলি কাউকে নিতে পারবে না সার্বিয়া। অন্যদিকে কপাল খুলেছে বেলজিয়ামের। ইভানোভিচের গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেলজিয়াম তাঁর জায়গায় খেলবে।
হপম্যান কাপ টুর্নামেন্টের পরিচালক পল ম্যাকনামে সাংবাদিকদের বলেন, এটা অবশ্যই উল্লেখ করার মতো চোট। ইভানোভিচ এ নিয়ে মর্মাহত। এ ইনজুরি তাঁকে শুধু কালকের ম্যাচ নয়, পুরো মাসই মাঠের বাইরে রাখতে পারে।
তবে হাল ছাড়ছেন না ইভানোভিচ। ইনজুরি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলতে আশাবাদী তিনি। ইভানোভিচ বলেন, ‘এটা সত্যিই অনেক হতাশার। আশা করছি, মেলবোর্নেই সুস্থ হয়ে উঠব আমি। তবে ভয় থেকেই যাচ্ছে।’

কার অধীনে, কবে হবে দশম সংসদ নির্বাচন? by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

ক্রমান্বয়ে এগিয়ে আসছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কোন সময়ে আর কেমন সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের মধ্যে ঐকমত্য নেই। ক্ষমতাসীনেরা সব সময় নিজেদের নির্বাচিত ও জনসমর্থিত সরকার আখ্যায়িত করে মেয়াদপূর্তির পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলে। আর যাঁরা বিরোধী দলে থাকেন, তাঁরা সরকারের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রতি আলোকপাত করে সরকারের জনসমর্থন হ্রাসের কথা বলেন, পুনরায় জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি করেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আগামী নির্বাচনের আর কত দিন বাকি, সে ব্যাপারে দুই রকম হিসাব আছে। সাধারণ হিসাবে সরকারের মেয়াদপূর্তির পর নির্বাচন হলে এখনো বছর তিনেক বাকি। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিকতা হারালে সম্মানিত ভোটাররা চাইলে এর আগেও নির্বাচন আদায় করে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। গণতান্ত্রিক সমাজে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে, যার চর্চা এ দেশে একাধিকবার হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, সরকার কী জনসমর্থন হারাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, সরকারের জনপ্রিয়তা পরিমাপের একাধিক উপায় আছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অথবা উপনির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হলে ওই সব নির্বাচনে সরকারি দলের পারফরম্যান্স দেখে সরকারের জনপ্রিয়তা অনুধাবন করা যায়। আর একটি উপায় হলো, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও সার্বিক সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশ দেখে সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে পারে কি না, তা বুঝে নেওয়া। আবার বিভিন্ন জনমত জরিপেও সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাই করা যায়। এই তিন পরিমাপকে যাচাই করলে দুই বছরে মহাজোট সরকারের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এই সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রথম দুই বছরে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, তার মধ্যে ছিল উপজেলা নির্বাচন, ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) নির্বাচন। উপজেলা নির্বাচন ও ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীরা বেশি ভোট পেলেও ওই দুটি নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সনদপত্র দেওয়া যায় না। সংসদ নির্বাচনের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে চরম নৈরাজ্য আর সরকারি দলের নির্বাচিত এমপি-মন্ত্রীদের দাপটে যখন নির্বাচন কমিশন ও সিইসি অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তখন সেই নির্বাচনের নেতিবাচকতা সম্পর্কে কম বলাই উত্তম। ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনে সন্ত্রাস, হোন্ডা-গুণ্ডার দাপট আর ভোট প্রদানে বাধা দেওয়ায় নির্বাচনটি স্বাভাবিকতা হারায়।
সিসিসি নির্বাচনে সরকার যে রাজনৈতিক অঙ্ক কষেছিল, তা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়। সরকার ক্ষমতায় আসার অনেক আগেই ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচন করার সময় হলেও গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সংকট আর দ্রব্যমূল্যের চাপে অতিষ্ঠ ডিসিসি নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা হাতে ব্যালট পেলে যে কী জবাব দেবেন, তা সরকার বুঝতে পারে। সে কারণে সরকার কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে প্রথমে চট্টগ্রামে সাড়ে তিন লাখ সংখ্যালঘু ভোটার এবং ১৭ বছর ধরে মেয়র পদে থাকা সরকারি দলের ডাকসাইটে প্রার্থীকে নির্বাচন করে সহজে জিতিয়ে আনা নিরাপদ মনে করে। কিন্তু সিসিসি নির্বাচনী এলাকার সম্মানিত ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় সরকারের সেই নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের অঙ্ক মেলেনি। মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভূমিধস পরাজয়ে সরকারি দলের জনপ্রিয়তা হুমকির মুখে পড়ে। কাজেই সরকারের প্রথম দুই বছরে যেসব নির্বাচন হয়েছে, তা নির্বাচনী পরিমাপকে মাপলে সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে বলা যায়। কারণ, উল্লিখিত তিনটি নির্বাচনের মধ্যে একমাত্র সিসিসি নির্বাচনেই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বলতে যা বোঝায়, ওই নির্বাচনের আয়োজকেরা তা নির্মাণে অনেকাংশে সফল হয়েছিলেন। যদিও নির্বাচনটিতে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার নমুনা দেশের প্রধান দুই সম্মানিত নেত্রী নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙলেও তাঁদের ব্যাপারে নীরব থাকা এবং কমিশনকে কিছু না জানিয়ে নির্বাচনের আগের রাতে বিএনপির জনৈক কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিধৃত হয়।
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের ফলেও সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে কি না, তা কিছুটা অনুধাবন করা যাবে। আওয়ামী লীগ শক্তিশালী দল হলেও বুঝতে পেরেছে যে দুই বছরের দলীয় পারফরম্যান্সে সাধারণ মানুষ খুব একটা সন্তুষ্ট নয়। তাই পৌরসভা নির্বাচনের ফল যাতে সিসিসি নির্বাচনের ফলের অনুরূপ না হয়, সে জন্য এই নির্বাচন একা না করে ১৪ দল জোটগতভাবে করার পকিল্পনা করেছে। তবে জোটগতভাবে করা হোক, আর যেভাবেই করা হোক, পেঁয়াজ-রসুনের ঝাঁজ আর কাঁচাবাজারের উত্তাপ যে জনমতকে এই নির্বাচনে বিগড়ে দেবে না, এমনটা জোর দিয়ে বলা যায় না। তবে ক্ষেত্রবিশেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় প্রসঙ্গের চেয়ে স্থানীয় প্রসঙ্গ এবং প্রার্থী ইমেজ গুরুত্ব পায়। সরকারের মনে রাখা ভালো, জনমত যদি একবার বিপক্ষে চলে যেতে থাকে, তা খুব দ্রুতই সরকারকে অজনপ্রিয় করে তোলে। সে ক্ষেত্রে জনগণের কল্যাণ করতে পারে এমন কাজ করেই একমাত্র জনপ্রিয়তার নিম্নমুখী ধস ঠেকানো যায়। কিন্তু সরকারকে এমন কোনো কাজ করতে দেখা যাচ্ছে কী? সরকারের জনপ্রিয়তার নিম্নগামী ধারা প্রথম আলোর সাম্প্রতিক জরিপেও প্রতিফলিত হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশ দেখে মহাজোট সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে গেলেও সরকারের জনপ্রিয়তাকে হুমকিযুক্ত প্রতীয়মান হয়। সরকার দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কালো টাকার মালিকদের আরও কালো টাকা করার সুযোগ করে দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা যে কতটা এগিয়েছে, তা সাধারণ মানুষ যাঁরা সমাজে চলাফেরা করেন, বাজারে যান, তাঁদের না বললেও চলে। সরকার মূল্যসন্ত্রাসী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দ্রব্যমূল্য সাধারণ নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে যে ব্যর্থ হয়েছে, তা অর্থমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী মহোদয় স্বীকার করেন। এই ব্যর্থতা সব নাগরিককে স্পর্শ করে এবং এতে সাধারণ মানুষ বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ।
বাণিজ্যমন্ত্রী সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রথম রমজানের ঈদের ১৫ দিনে চিনি সিন্ডিকেট করে যাঁরা ৮০ কোটি টাকা পকেটেস্থ করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করার পরও শাস্তি দিতে না পারলেও মাঝেমধ্যে ব্যবসায়ীদের বকাঝকা করার সাহস দেখাতে পেরেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের প্রকাশিত সন্ত্রাস, খুন, এনকাউন্টার-ক্রসফায়ার প্রভৃতির আশঙ্কাজনক পরিসংখ্যান দেখার পর এবং সরকারি হিসাবেই ২০১০ সালের প্রথম ১১ মাসে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন খুন হওয়ার তথ্য জানার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে বেশি কিছু না বলাই শ্রেয়। কাজেই কোনো সরকারের আমলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন আর জীবনের নিরাপত্তা সংকীর্ণ হয়ে উঠলে সাধারণ মানুষের সেই সরকারের ওপর তুষ্ট থাকার কথা নয়। এ রকম সময়ে সরকারবিরোধী প্রতিবাদী কর্মসূচিতে মানুষ ঝাঁপিয়ে না পড়লেও সমর্থন দিতে শুরু করে। আর সরকারের ওপর নাগরিকেরা বিরক্ত ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে স্বাভাবিকভাবে তাঁরা সেই সরকার পরিবর্তন করতে চান। এ রকম পরিস্থিতিতে আন্দোলন কর্মসূচি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে যদি সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে, তাহলে মেয়াদপূর্তির পরই ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন হবে বলে ভাবা যায়। কিন্তু যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়, যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যদি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া মূল্যায়ন করে নাগরিকদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব দানা বাঁধে, যদি চাল-ডাল, সয়াবিন, পেঁয়াজ-রসুন আর কাঁচাবাজারের উত্তাপ অসহনীয় হয়ে ওঠে, আর সেসবকে পুঁজি করে বিরোধী দলগুলো সরকারবিরোধী আন্দোলন শাণায়, তাহলে সরকারের পক্ষে পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব না-ও হতে পারে। সরকার যদি দ্রুত জনপ্রিয়তা হারায়, তাহলে দশম সংসদ নির্বাচন সরকারের মেয়াদপূর্তির আগে অনুষ্ঠিত হওয়া অসম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে ২০১২ সালের শেষ দিকে বা ২০১৩ সালে যেকোনো সময় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
নির্বাচন যখনই হোক, নির্বাচনের প্রসঙ্গ এলে সরকারের শরিক দল বা দলগুলো সব সময় নিজেদের নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার আখ্যা দিয়ে তাদের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব বলে দাবি করে। আর বিরোধী দলগুলো সরকারি দলের কার্যক্রমকে অগণতান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিয়ে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। মহাজোট সরকার গঠিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কেন্দ্রীয় নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আর প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন। তবে মহাজোটের শরিক ছোট দলগুলো তাদের এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। আবার আওয়ামী লীগের কিছুসংখ্যক নেতাও মনে করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আরও কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আইনমন্ত্রী মনে করেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এই জাতি আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যেতে চায় না। নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার যদি পাঁচ বছর দেশ চালাতে পারে, তাহলে তিন মাস বা দুই বছরও পারবে। অন্যদিকে বিরোধী দল বিএনপি সরকারি দলের নেতাদের এহেন বক্তব্যের মধ্যে ষড়যন্ত্র খুঁজে পেয়ে বলছে, সরকারি দল জনপ্রিয়তা হারিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে। সে কারণে তারা নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে চায়।
লক্ষণীয়, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা তুলে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইছেন, তাঁরা কিন্তু নির্বাচনী সংস্কৃতিতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক অবদানের নমুনা দেখাতে পারছেন না। তবে হ্যাঁ, তাঁরা চাইলে নতুন আরপিও হওয়ার কারণে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন যেমন—মনোনয়নপত্র জমাদানকালীন শোডাউন বন্ধ, রঙিন পোস্টার ছাপানো বন্ধ, দেয়ালে চিকা বা পোস্টার মারা বন্ধ প্রভৃতি দেখাতে পারেন। কিন্তু এসব পরিবর্তন ইতিবাচক হলেও শুধু এসব দিয়ে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের গ্যারান্টি দেওয়া যায় না। যত দিন নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ড-সবল ও স্বাধীন হতে না পারবে, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা সুনিশ্চিত করা না যাবে, তত দিন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন দুর্নীতিমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারবে বলে বিশ্বাস করা যায় না। কাজেই কমিশনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী সংস্কৃতিতে প্রত্যাশিত ইতিবাচক পরিবর্তন না আনতে পারলে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও ভোটাররা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন মেনে নিতে চাইবেন না। তাঁরা চাইবেন, সাংবিধানিকভাবে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেন সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে এবং সেই নির্বাচনী রায় যেন সবাই গ্রহণ করে নেয়।
আসন্ন দশম সংসদ নির্বাচন যখনই হোক, আর যে রকম সরকারই এই নির্বাচনের আয়োজক হোক না কেন, নির্বাচনটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া দরকার। তা না হলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে চলমান অসমঝোতা ও সংসদীয় অকার্যকারিতা বহাল থেকে যাবে। আর অস্থিতিশীলতা ও হিংসাত্মক রাজনীতি বহাল রেখে দেশ ও মানুষের জন্য উন্নয়ন অর্জন এবং তা টেকসই করার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করা যেকোনো সরকারের জন্য কঠিন হয়ে যায়।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার: অধ্যাপক, রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
akhtermy@gmail.com

তোপের মুখে পিপিপি সরকার by আই এ রেহমান



ইসলামাবাদে পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসির যখন ধর্মোন্মাদনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য জীবন দিচ্ছেন, তখন লাহোরে মুসলিম লিগের নেতা নওয়াজ শরিফ সেই দলের বিরুদ্ধে জোট গড়ছেন, যে দলের নেতার সঙ্গে কিছুদিন আগেই তিনি গণতন্ত্র সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন।
নতুন বছরের ৪ জানুয়ারির এই দুটি ঘটনার যোগফলই এখন পাকিস্তান রাষ্ট্রের সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যার জ্বালামুখ খুলে দিয়েছে। ক্ষমতার দখল লাঠালাঠিতে ব্যস্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো কিন্তু জানে যে দোরগোড়ায় এসে হাজির হয়েছে সেসব চরমপন্থী, যারা তাদের তৈরি ব্যবস্থাসহ তাদের ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। একদিক থেকে অবস্থাটা হয়েছে বাগদাদের গরিমাময় ইসলামি সাম্রাজ্যের ধ্বংসের আগের অবস্থার মতো। মোঙ্গল যাযাবরেরা যখন সাম্রাজ্যের রাজধানী বাগদাদকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে আসছে, তখন শহরের বিজ্ঞ মোল্লারা ব্যস্ত ছিলেন একটি সুচের ছিদ্রের মধ্য দিয়ে উট পার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে।
পাকিস্তানের সংকটের পরিমাপ সালমান তাসিরের হত্যার বিরুদ্ধে ধর্মীয় দলগুলোর নিন্দা জানানোর অস্বীকৃতি দিয়েই শুধু নয়, সরকারি জোটের পতনের লক্ষ্যে মুসলিম লিগের (নওয়াজ) নেতার জোর প্রচেষ্টা দিয়েও করা যায়। মুসলিম লিগ পাঞ্জাব সরকারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। একই সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। (পরে অবশ্য এই সময়সীমা ছয় দিনে বাড়ানো হয়)। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সরকারি দল পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে (পিপিপি) পাঞ্জাবের ক্ষমতা ছাড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছেন তিনি। বাস্তবত তাঁর দাবি কেউ পূরণ করবে না জেনেও তিনি নিরস্ত হননি।
কিন্তু মাঝখানের এই কদিনে কী এমন ঘটল, যাতে নওয়াজ শরিফ অবস্থান বদলালেন? নিশ্চিতভাবেই দলের কট্টরপন্থীরা তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতা পাওয়ার জন্য তাদের মরিয়াপনা লুকিয়ে তারা বোঝার চেষ্টা করছে সরকারি জোটকে সমর্থন করায় তাদের দলীয় সমর্থন কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া পিপিপির সঙ্গে পিএমএলের (কিউ) জোট গড়ার প্রস্তুতিও তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অথবা আগামী মার্চে গিলানি সরকারের পতন হওয়ার গুজবে মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউ- এম), জামায়া উলামায়ে ইসলাম ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বাজি রেখে দেখতে চাইছে, কোনো লাভ হয় কি না।
অথচ নওয়াজ শরিফের উচিত ছিল গণতন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ের মধ্যে দলের ভোট বাড়ানোয় কাজ করা। অন্য কিছু হওয়া মানে আগাম নির্বাচন, যা বেশির ভাগ দলই চায় না। অন্য বিকল্প হলো, মুসলিম লিগের (নওয়াজ) সঙ্গে এমকিউএম ও জেইউইর কণ্টকাকীর্ণ ঐক্য।
এ অবস্থায় পিপিপির সামনে সুযোগ রয়েছে জোটের সমস্যাজনক শরিকদের থেকে কিছুটা মুক্ত হওয়ার। তা করলে তারা হারাবে সামান্যই, কিন্তু লাভবান হবে বেশি। পিপিপির জন্য সম্মানজনক হলো, কয়েক মাস পর পুরোপুরি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ার চেয়ে বর্তমানে কিছুটা ক্ষমতা হারানো। তবে অনেকেই মনে করেন, পিপিপি নগদ লাভ ও সংকীর্ণ স্বার্থ ছাপিয়ে জনস্বার্থে রাজনীতি করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মঙ্গল দেখতে অক্ষম।
সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাহীন সরকার যদি মেনে নেয় যে তাদের সেই সুবিধা থাকবে না, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার উপভোগ করে, তাহলে হয়তো তারা প্রজ্ঞা, সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে কেবল বিপর্যয় মোকাবিলাই নয়, জনসমর্থনের ভিত্তিও প্রসারিত করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী গিলানি জোটের সামনে এখন এ সুযোগটিই খোলা রয়েছে।
কোনো সন্দেহ নেই, সরকারের পক্ষে আইন প্রণয়ন করায় সংসদে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। বিশেষত, সেসব প্রস্তাব নিয়ে সমস্যা হবে, যেগুলোর প্রভাব ব্যবসায়ী মহল ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পড়বে। কিন্তু সরকার বিরোধীদের পরাস্ত না হোক, বিব্রত করতে পারে। ধরা যাক, কঠিন জবাবদিহিমূলক আইন অথবা ব্যাপকবিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে। এসবের বিরোধিতা যে-ই করবে, তাকেই জনসমর্থন হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে। জনগণকে সরকারের পেছনে রাখতে হলে পিপিপিকে অবশ্যই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গোপন কার্যকলাপ ও জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অযোগ্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
একই সঙ্গে তাদের রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী বক্তব্য দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। যেমন—কিছুদিন আগে বলা হয়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপ থেকে জনগণকে রক্ষায় তারা কিছু করতে পারবে না। ব্যাপারটা এমন যে ডাকাতির শিকার ব্যক্তিকে বলা যে ডাকাত যেহেতু সরকারের কথা শোনে না, সেহেতু এ ব্যাপারে তাদের কিছু করার নেই। কিন্তু সোজা সত্য হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাধা থাকা সত্ত্বেও সরকারকে অবশ্যই মজুরির তুলনায় জীবনযাত্রার মূল্য অনেক বেড়ে যাওয়ার শিকার জনগণের জন্য কিছু করতেই হবে।
তা ছাড়া এখনই সময়, প্রচলিত এ ধারণা ভেঙে দেওয়া যে পিপিপি সরকার অন্য যে কারও চেয়ে অনেক বেশি করে আইএমএফের বিধিনিষেধের অনুগত। প্রায়ই দেখা যায়, তারা আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের চাওয়ার চেয়েও বেশি সুবিধা দিতে ইচ্ছুক থাকে। এখানে অর্থনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলা হচ্ছে না; বরং বলা হচ্ছে, সরকার যেন জনগণকে রক্ষার ব্যাপারে তাদের অঙ্গীকার আরও জোরদার করে এবং জনস্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর উপায়ও খুঁজে দেখে।
কারও পক্ষেই অস্বীকার করার উপায় নেই যে পাকিস্তানের সরকার গুরুতর বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে। সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও যারা নিজেদের সংহত করতে পারে না, তারা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাও জাগাতে পারে না। তার পরও এখনো যেহেতু শেষ গুলিটি ফোটেনি, সেহেতু কিছু আশা রাখাই যায়।
আই এ রেহমান: পাকিস্তানের সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী।

শীতার্ত মানুষকে শীতবস্ত্র দান করুন by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

আল্লাহ তাআলার অপার সন্তুষ্টি লাভ করতে হলে সর্বপ্রথম ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে ভালোবাসতে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে খিদমতে খালক বা সৃষ্টির সেবার প্রাথমিক কাজ হচ্ছে জনকল্যাণ ও মানবসেবা। অন্নহীনকে অন্নদান, বস্ত্রহীনকে বস্ত্রদান, গৃহহীনকে আশ্রয়দান, নিরক্ষরকে শিক্ষাদান, অসুস্থকে সেবাদান, অসহায় বিত্তহীনকে অর্থদান, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিপদ-আপদে পতিত দুস্থ মানুষকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করা, নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন, সৎকর্ম ও সদ্ব্যবহার শিক্ষা দেওয়া, বিপথগামীকে সত্য ও ন্যায়ের পথনির্দেশনা প্রদান এবং জনসাধারণের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করার সার্বিক প্রচেষ্টাই আর্তমানবতার সেবা। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, রুগ্ণ ব্যক্তির সেবা করো এবং বন্দীকে মুক্ত করো অথবা ঋণের দায়ে আবদ্ধ ব্যক্তিকে ঋণমুক্ত করো।’ (বুখারি)
মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ইচ্ছায় প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই ঋতুর পালাবদল ঘটে। কিন্তু প্রকৃতি কখনো কখনো বৈরী আচরণ করায় তা মানুষের অসহায়ত্বকে প্রকট করে তোলে। হিমেল হাওয়া ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দরিদ্র জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত অঞ্চলে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই শীতার্ত মানুষের প্রতি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের সাহায্য ও সহানুভূতির হাত সম্প্রসারিত করা অতীব প্রয়োজন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সরবরাহ করে তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো দরকার। নিঃস্বার্থভাবে শীতার্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করাই মানবসেবা। এই মহৎ ও পুণ্যময় কাজই সর্বোত্তম ইবাদত। অসহায় মানুষের দুর্দিনে সাহায্য, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মন-মানসিকতা যাদের নেই, তাদের ইবাদত-বন্দেগি আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে কোনো পুণ্য নেই; কিন্তু পুণ্য আছে কেউ আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, সব কিতাব ও নবীদের প্রতি ঈমান আনয়ন করলে এবং আল্লাহ-প্রেমে আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন, পর্যটক, সাহায্য প্রার্থীদের এবং দাসমুক্তির জন্য অর্থদান করলে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করলে ও জাকাত প্রদান করলে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূর্ণ করলে, অর্থসংকটে, দুঃখ-ক্লেশে ও সংগ্রাম-সংকটে ধৈর্য ধারণ করলে—এরাই তারা, যারা সত্যপরায়ণ এবং তারাই মুত্তাকি।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৭৭)
তীব্র শীতের প্রকোপে দুঃসহ অবস্থায় পড়েছে দেশের লাখ লাখ দুস্থ মানুষ। উত্তরাঞ্চলের মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে। শৈত্যপ্রবাহ থেকে বাঁচার জন্য অসহায় দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন অনেক শীতবস্ত্রের। শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে হলেও প্রয়োজন সুচিকিৎসা ও ওষুধপথ্যাদি এবং শীত মোকাবিলায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে কার্যকর উদ্যোগ। বিশেষ করে, শিশুরা গণহারে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে শীতের দুর্ভোগ যেমন বাড়বে, তেমনি শীতজনিত মৃত্যুর হারও বাড়বে। এ জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দল-মতনির্বিশেষে বিত্তবান ব্যক্তিদের সবাইকে শীতার্ত-বস্ত্রহীন মানুষের পাশে অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। এ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) পরকালীন পুরস্কারপ্রাপ্তির কথা ঘোষণা করেছেন, ‘এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে কাপড় দান করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতের পোশাক দান করবেন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য দান করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সুস্বাদু ফল দান করবেন। কোনো মুসলমানকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পানি পান করালে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সিলমোহরকৃত পাত্র থেকে পবিত্র পানি পান করাবেন।’ (আবু দাউদ)
সরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র ও ওষুধপথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বেসরকারিভাবেও সাহায্য-সহযোগিতায় নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এই মানবিক দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায় শীত নিবারণে দুর্গত অঞ্চলে গরম কাপড়, ওষুধপথ্য সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। দুর্যোগময় মুহূর্তে করণীয় হলো মনপ্রাণ খুলে আর্তমানবতার সেবায় সাহায্যের হাত বাড়ানো; খাদ্য, ওষুধ, পথ্য, শীতবস্ত্র এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিপদগ্রস্ত দুর্গত মানুষের পাশে যাওয়া এবং দুস্থ মানবতার সেবায় অগ্রসর হওয়া।
গরম কাপড়ের অভাবে যে অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে শীতার্ত মানুষের দিন কাটছে—এ অবস্থার শিগগিরই অবসান ঘটাতে হবে। শীতের প্রভাবে নিউমোনিয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যারা শীতজনিত রোগব্যাধিতে ভুগছে, তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ওষুধপথ্য ও সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করা একান্ত প্রয়োজন। যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, তাদের দুরবস্থা সর্বাধিক। হাড়কাঁপানো শীতে যে বিপুল জনগোষ্ঠী বর্ণনাতীত দুঃখ-কষ্টে দিনযাপন করছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো ধর্মপ্রাণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব একটি মুসিবত দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার মুসিবতসমূহ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো অভাবী মানুষকে সচ্ছল করে দেবে, আল্লাহ তাকে ইহকাল ও পরকালে সচ্ছল করে দেবেন এবং আল্লাহ বান্দার সাহায্য করবেন, যদি বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্য করে।’ (মুসলিম)
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে শীতার্ত লোকজন না পারে পেট ভরে ভাত খেতে, না পারে অসুখ হলে চিকিৎসা করাতে। শহরেও শীতবস্ত্রহীন মানুষ কোনো বাড়ির বা অফিসের বা দোকানের পাশে বা কোনো স্টেশনে খালি গায়ে বাঁকা হয়ে ঘুমায়। তাদের নেই কোনো শীত নিবারণ করার সম্বল। তাই সমাজের বিত্তশালীরা যদি ইচ্ছা করেন, তাঁদের নিজ নিজ জেলার শীতার্ত অসহায় গরিব-দুঃখী মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে পারেন। হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুনিয়ায় মানুষকে খাদ্য দান করেছে, সেদিন (রোজ কিয়ামতের দিন) তাকে খাদ্য দান করা হবে। যে আল্লাহকে খুশি করার জন্য মানুষকে পানি পান করিয়েছে, তাকে সেদিন পানি পান করিয়ে তার পিপাসা দূর করা হবে। যে মানুষকে বস্ত্র দান করেছে, তাকে সেদিন বস্ত্র পরিধান করিয়ে তার লজ্জা নিবারণ করা হবে।’
প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মানুষেরই পারস্পরিক মানবতাবোধ ও উদার মানসিকতা থাকা অপরিহার্য। একজন মানুষ বিপদে পড়লে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অসহায় হলে তাকে যথাসাধ্য সাহায্য করা সমাজের বিত্তবান প্রতিবেশীদের ঈমানি দায়িত্ব ও মানবিক কর্তব্য। সব মানুষের উচিত সমগ্র সৃষ্টির প্রতি দয়া-মায়া, অকৃত্রিম ভালোবাসা, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহানুভূতি বজায় রাখা। তাই দেশের বিত্তবান ব্যক্তি যাঁরা আছেন, তাঁদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা এই শীতের মৌসুমে শীতার্ত, গরিব, অসহায়, দুঃখী মানুষকে যাঁর যাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন বা পুরাতন কিছু শীতবস্ত্র দিয়ে অকাতরে সাহায্য করুন। কোনো ধর্ম, জাত, কুল বা বংশ নয়—মানুষ নামের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে যেন হূদয় ও মনপ্রাণ দিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা ও আর্তমানবতার সেবায় পরম সহানুভূতিতে এগিয়ে আসতে সমর্থ হই, আল্লাহ তাআলা আমাদের এ তাওফিক দান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

অর্থনীতি যখন চ্যালেঞ্জের মুখে

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দুই বছর অতিক্রম করার পর দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির দিকে আলোকপাত করলে শঙ্কিত হতে হয় বৈকি। কেননা, অর্থনীতির অগ্রগতি এখন অনেকগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আর এসব চ্যালেঞ্জ বা প্রতিকূলতা তৈরির পেছনে বহুলাংশে সরকারের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দায়ী। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে, প্রবাসী-আয়প্রবাহ শ্লথ হয়ে পড়েছে, গ্যাস-বিদ্যুৎ তথা জ্বালানি খাতের সংকট উত্তরণের কোনো লক্ষণ নেই, বিনিয়োগে চলছে মন্দা। এ অবস্থায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত করা তো দূরের কথা, সাড়ে ৬ শতাংশের ওপরে নিয়ে যাওয়াটাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে সরকার আবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
জ্বালানিসংকট নিরসনের জন্য সরকারের দিক থেকে গত দুই বছরে তেমন বেগবান ও পরিকল্পিত প্রচেষ্টা দৃশ্যমান হয়নি। আর তাই গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে শিল্প খাতের কার্যক্রম খুব জোরালো নয়; বরং ব্যাংক থেকে নেওয়া শিল্পঋণের অর্থ বিভিন্নভাবে পুঁজিবাজারে প্রবেশ করে বাজারের অতস্ফীিতি ঘটিয়েছে। এই স্ফীতি যে টেকসই নয়, ইতিমধ্যে তার আভাসও মিলেছে। সবচেয়ে বড় কথা, শিল্প খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন না বাড়লে এবং তা অব্যাহত না থাকলে অর্থনীতি এগিয়ে যেতে পারবে না। টেকসই কর্মসংস্থান হবে না। সম্পদ বণ্টনের অসাম্য প্রকটতর হবে। ফলে একটা পর্যায়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের এসব দিকে কতটা মনোযোগ আছে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। কেননা, আইএমএফ থেকে ঋণ নিতেই সরকারকে বেশি আগ্রহী মনে হচ্ছে।
অথচ গত কয়েক বছরে আইএমএফের ঋণ না নিয়ে বাংলাদেশ চলছিল। এমনকি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আইএমএফের সঙ্গে পলিসি সাপোর্ট ইনস্ট্রুুমেন্ট-বিষয়ক যে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, নাগরিক সমাজের আপত্তির মুখে তা আর হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, আইএমএফের ঋণ কখনোই শর্তহীন নয়। অনেক অযৌক্তিক শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ এই ঋণ গ্রহণ শেষ পর্যন্ত কোনো সুফল বয়ে আনবে না। অভিজ্ঞতাও তা-ই বলে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) চলতি সপ্তাহেই দেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে একই অভিমত প্রকাশ করেছে। দুনিয়াজুড়ে যখন এ ধরনের ঋণ কমে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশকে কেন এই ঋণ নিতে হবে, সে প্রশ্নও তুলেছে সংস্থাটি। প্রশ্নটি যৌক্তিক। মনে হচ্ছে, নিজস্ব নীতি-ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে না পারার ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার এখন আইএমএফের দ্বারস্থ হচ্ছে। একইভাবে ব্যয়বহুল সরবরাহকারী ঋণের দিকে আগ্রহও যেন প্রবল হয়ে উঠছে। এগুলো ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সরকারের বরং উচিত হবে, এসব ঋণের দিকে না গিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে সম্পদ সংগ্রহে মনোযোগ দেওয়া। সে জন্য জরুরি হলো শিল্প খাতকে সমর্থন দেওয়া, পুঁজিবাজারে মূলধনি মুনাফাকে করের আওতায় আনা এবং সার্বিক রাজস্ব আদায়-প্রক্রিয়াকে দক্ষ করা।

সুইডেনেও পাখির রহস্যময়মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার সুইডেনেও কয়েক শ পাখিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি কয়েক শ মৃত পাখি একটি আবাসিক এলাকার রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস, মেরিল্যান্ড ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যেও হাজার হাজার পাখিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
সুইডেনের ফলশেপিং শহরের পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানায়, ৫০ থেকে ১০০টি পাখি মারা গেছে। এর মধ্যে কিছু পাখি মারা গেছে গাড়ির সঙ্গে আঘাত লেগে। তবে মৃত অন্য পাখির গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
প্রাণিরোগবিষয়ক সরকারি একজন কর্মকর্তা দেশটির একটি রেডিওকে জানান, ফলশেপিংয়ের এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। তবে নানা কারণে পাখিগুলো মারা যেতে পারে। কোনো রোগে ভুগে কিংবা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েও পাখিগুলো মারা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আতশবাজির কারণে পাখিগুলো মারা পড়তে পারে। তবে সুইডেনের ফলশেপিংয়ে আতশবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।
দ্রিলন হুলাজ নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে অ্যাফটনব্লাডেট পত্রিকা জানায়, তিনি গত মঙ্গলবার রাতে কয়েক শ পাখি রাস্তায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন।

তেলেঙ্গানা সংকট সমাধানে ছয়টি বিকল্প সুপারিশ

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের অখণ্ডতা বজায় রেখে হায়দরাবাদকে রাজধানী করে পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের সুপারিশ করেছে শ্রীকৃষ্ণ কমিটি।
তবে এ সুপারিশে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তেলেঙ্গানাবিরোধী পক্ষ। শিল্প ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ হায়দরাবাদকে তেলেঙ্গানারও রাজধানী করা হোক, সেটা তারা চায় না। ফলে পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন নিয়ে ফের ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বৃহস্পতিবার বহুল কাঙ্ক্ষিত শ্রীকৃষ্ণ কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে কমিটির সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনার পর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ৪৬১ পৃষ্ঠার দুই খণ্ডের এ প্রতিবেদনে তেলেঙ্গানা প্রশ্নে সৃষ্ট সংকট সমাধানে ছয়টি বিকল্প সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি বি এন শ্রীকৃষ্ণের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের এ কমিটির প্রতিবেদন এক সপ্তাহ আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১১ মাসের পরামর্শ-প্রক্রিয়া শেষে শ্রীকৃষ্ণ কমিটি এ প্রতিবেদন তৈরি করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ‘উন্মুক্ত মন’ নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ কমিটির প্রতিবেদন পড়া ও ‘নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংকট সমাধানে এই প্রতিবেদন ‘তথ্যবহুল ও পরিপূর্ণ’ বিতর্কের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তাসির হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে আদালতে হাজির নিয়ে বিশৃঙ্খলা

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসিরের হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দেহরক্ষী মালিক মুমতাজ হুসেইন কাদরিকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা নিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
হত্যার দায় স্বীকার করা কাদরিকে গতকাল রাওয়ালপিন্ডির সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে হাজির করার কথা ছিল। কিন্তু কাদরির সমর্থনে আদালত ভবনের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করেন ইসলামপন্থী আইনজীবী এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। এই পরিস্থিতে কর্তৃপক্ষ কাদরিকে ওই আদালতের পরিবর্তে ইসলামাবাদে একটি সুরক্ষিত অস্থায়ী আদালতে নিয়ে যায়। ইসলামাবাদে যাওয়ার জন্য বিচারক রাওয়ালপিন্ডির আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
আইনজীবী মালিক ওয়াহিদ আনজুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিচারককে অনুরোধ করে বলেছি, আইনগত দিক দিয়ে বিবেচনা করলে শুনানির জন্য তিনি ইসলামাবাদে যেতে পারেন না। তিনি আমাদের অনুরোধ রেখেছেন।’
আইনজীবী মালিক আরও বলেন, ‘অভিযুক্তকে রাওয়ালপিন্ডিতে নিজের আদালতে হাজির করতে ইসলামাবাদ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।’
ওই ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা পর কাদরিকে রাওয়ালপিন্ডির আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান সমর্থকেরা।

বাগবোর বিরুদ্ধে ভিনদেশি সেনা ব্যবহারের অভিযোগ

আইভরি কোস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ঘোষিত আলাসেন ওয়েতাহা প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবোর বিরুদ্ধে ভিনদেশি সেনা ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন। ফ্রান্সের বেতার সংস্থা ইউরোপ ওয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ অভিযোগ করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়। ওয়েতাহার অভিযোগ, তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবেশী লাইবেরিয়ার ভাড়াটে সেনাদের ব্যবহার করছেন বাগবো।
এদিকে আবিদজানের হোটেলে গতকালই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওয়াতেহা বাগবোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আফ্রিকার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াসের প্রতি সামরিক বাহিনী ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনের পর থেকে আইভরি কোস্টে অস্থিতিশীলতা চলে আসছে। পশ্চিমা বিশ্ব ও আফ্রিকার অনেক দেশ বলছে, নির্বাচনে ওয়েতাহা জয়ী হয়েছেন। কিন্তু ১০ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট থাকা বাগবো ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নন। নির্বাচনের পর ওয়েতাহা ও বাগবো আলাদাভাবে শপথ নেন। এর পর আবিদজান শহরের একটি হোটেলে আশ্রয় নেন ওয়েতাহা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি ছোট দল তাঁকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। বাগবোর সমর্থক সেনারা হোটেল অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ইকোওয়াসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাগবো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান উপেক্ষা করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করলে তারা সর্বশেষ উপায় হিসেবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতেও প্রস্তুত।
আবিদজানে হোটেলে অবরুদ্ধ অবস্থায় আলাদা সাক্ষাৎকারে ওয়াতেহা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাগবো যদি ক্ষমতা ছাড়তে রাজি না হন, তাহলে তাঁকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করার ব্যাপারে সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ করার সুযোগ রয়েছে ইকোওয়াসের। এ ক্ষেত্রে তারা বৈধপন্থায় সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বৈধপন্থায় সামরিক বাহিনীর ব্যবহার মানে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর ব্যবহার করা নয়।
এর আগে বুধবার ইউরোপ ওয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়েতাহা বলেন, ‘লঅন্ত বাগবোর হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে। অনেক আইভরিয়ান লঅন্ত বাগবোর ভাড়াটে সেনা ও মিলিশিয়াদের হাতে নিহত হয়েছে। আমাদের কাছে এর প্রমাণ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যাতে আইভরি কোস্টে একটি তদন্ত দল পাঠান, সে জন্য আমি ইতিমধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি লিখেছি।’
আইভরি কোস্টের অস্থিতিশীলতা থামাতে এবং বাগবোকে নির্বাচনের ফল মেনে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করার জন্য শক্ত অবস্থান নিয়েছেন বান কি মুন। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে আইভরি কোস্টের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন বান কি মুন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি আবিদজানে জাতিসংঘ মিশনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।’
বাগবো আইভরি কোস্টে মোতায়েন জাতিসংঘ বাহিনীর সাড়ে নয় হাজার সেনাকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও বান কি মুন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ওই দেশে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
আইভরি কোস্টের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর জন্য আরও এক থেকে দুই হাজার অতিরিক্ত সেনা চেয়েছে জাতিসংঘ। আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ মিশনের মানবাধিকারবিষয়ক মুখপাত্র সিমোন মুনজু বলেন, আবিদজান থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে ডুয়েকোয়ে শহরে গুয়েরে ও ম্যালিনকে গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতায় কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছে। একটি ডাকাতির ঘটনায় এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গত বুধবারও দেশটিতে সহিংসতায় সাতজন নিহত হয়।

খবর, কালের কণ্ঠের- আমলাদের যাচ্ছেতাই বিদেশ সফর

রকারি নির্দেশ অমান্য করেই সরকারের দাপুটে আমলারা ঘন ঘন বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। সরকারি কাজে তাঁদের এই বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্টতার চেয়ে দাপট ও প্রভাবকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারের যেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি কর্মঘণ্টারও অপচয় হচ্ছে, আর সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যাহত। আমলাদের বিদেশ সফরের জন্য সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই এবং এ কারণেই এসব অনিয়ম ও ক্ষতির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।