Wednesday, November 21, 2018

এতোগুলি মানুষের স্বাধীনতাকে ভালোবাসাই আশার জায়গা

১০৭ দিন কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম। গতকাল রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। তার আইনজীবী জায়েদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে মানবজমিনকে জানান, শহিদুল আলম কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ সময় কারাগারের সামনে শহিদুল আলমের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদসহ অন্য স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালেও ঠিকানা জটিলতায় কিছুটা বিলম্বিত হয় তার কারামুক্তির প্রক্রিয়া।
গতকাল তার মুক্তির আশায় আইনজীবী, পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা দিনভর কারাগারের সামনে প্রতীক্ষায় ছিলেন। শহিদুল আলমের আইনজীবী জায়েদুল ইসলাম সন্ধ্যায় বলেন, ‘মামলায় দু’টি ফরওয়ার্ডিংয়ের কাগজে দুই ধরনের ঠিকানা লেখা ছিল শহিদুল আলমের। কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানান যে, কাগজপত্রে দুই ধরনের ঠিকানা থাকায় তাকে মুক্তি দেয়া যাচ্ছে না এবং এটি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে সংশোধন করে আনতে বলা হয় আমাদের।’ তিনি বলেন, ‘মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে এটি সংশোধন করে সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তা পাঠানো হয়।’ 
মুক্তির পর বিবিসি বাংলাকে শহিদুল আলম বলেন, মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছি।
তবে আমি ভেতরে থাকার সময় দেশে-বিদেশে প্রত্যেকে এবং আমার আইনজীবীরা মিলে যে অসাধারণ আন্দোলন করেছেনÑ সেটা প্রকাশ করা কঠিন। এতোগুলি মানুষ শুধু আমাকে ভালোবাসে না, স্বাধীনতাকে ভালোবাসেÑ এটাই আশার জায়গা। আমি সত্য কথা বলায় বিশ্বাস করি এবং সেটা আমাদের প্রত্যেকেরই বলা দায়িত্ব।
এর আগে গত ১৫ই নভেম্বর বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ শহিদুল আলমের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় উস্কানিমূলক গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গত ৫ই আগস্ট ধানম-ির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় ৬ই আগস্ট তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান নোয়াম চমস্কিসহ পৃথিবীর একাধিক নোবেল বিজয়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বারবার তার মুক্তি দাবি করেন।

রেফারির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে by সাজেদুল হক

ব্যস্ত শেরেবাংলানগর। রাজনীতিবিদরা ছুটছেন। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। বাহাস। অভিনব কোনো দৃশ্য নয়। বলা চলে, বাংলাদেশের রাজনীতির চেনা দৃশ্য। যদিও অভিনব এক পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ভোট। সংসদ বহাল।
সরকার বহাল। কেমন হবে নির্বাচন? সকাল  দেখে দিনটা কেমন যাবে সব সময় বুঝা যায় না। কিন্তু আলামত পরিষ্কার। রেফারির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। যদিও কেউ কেউ বলছেন, তিনি তো কোনো ভূমিকাই রাখছেন না। তাহলে প্রশ্ন বাড়ার কী হলো।
কথাটা শোনা গেছে অসংখ্যবার। সংসদে, রাজনীতির ময়দানে, টিভি টকশোতে। তফসিল ঘোষণার পর সবকিছু চলে যাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচন তো করবে কমিশন। সেখানে সরকারের কিছুই করার নেই। সভ্য দেশে এমনটাই হয়। বলা হয়েছিল, বাংলাদেশেও হবে। অনেকে বিশ্বাস করেছেন। অনেকে করেন নি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিস্ময়করভাবে তফসিল ঘোষণার পরও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেবে না তা হয়তো কেউই ভাবতে পারেন নি।
৮ই নভেম্বর তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার আগের দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনোই পরিবর্তন হয়নি। এমনকি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকারও। ছোট-বড় একজন কর্মকর্তার বদলির জন্য তারা কোনো সুপারিশ করেছেন এমন সংবাদ আজও পাওয়া যায়নি। বয়ান ছিল, তফসিলের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চলে যাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। কিন্তু এর কোনো আলামত এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। পল্টনে ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে- এটা বলতেই নির্বাচন কমিশনের বেশ কয়েকদিন চলে গেছে। ওই সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চলছে। ঢাকার বাইরে সারা দেশের চিত্রও একই। প্রতিদিনই বিএনপি এবং জামায়াতের কোনো না কোনো নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হচ্ছেন। গায়েবি মামলা তো এখন সাধারণ ঘটনা। নির্বাচন কমিশনে এর তালিকাও দিয়েছে বিএনপি।
আরেকটি খবর এরই মধ্যে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আগামী নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এমন সম্ভাব্য কর্মকর্তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অতীত খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যদিও একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ইসি থেকে পুলিশকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত নিবন্ধে লেখক, কলামিস্ট সোহরাব হাসান প্রশ্ন তুলেছেন, ইসি কি পুলিশের অধীন, না পুলিশ ইসির অধীন।
বাংলাদেশের ইতিহাস নানারকম নির্বাচন দেখেছে। নানারকম কমিশনও দেখেছে। কোনো কোনো নির্বাচন হয়েছে গ্রহণযোগ্য। কোনো নির্বাচন হয়েছে কলঙ্কিত। এখানে নির্বাচন কমিশন খুব কম সময়ই ড্রাইভিং সিটে ছিল। নির্বাচনকালীন সরকারই নির্বাচনের চরিত্র ঠিক করে দিয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষকই আশা করছিলেন, নুরুল হুদা কমিশনের সামনে সুযোগ এসেছে ইতিহাস বদলে দেয়ার। দলীয় সরকারের সময়ও যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব এটা প্রমাণের সুযোগ আছে কমিশনের সামনে। যদিও এর আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়ই হুদা কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সেসময় দেখা গেছে, নির্বাচনের আগেই বিরোধী দলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বিরোধী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা গ্রেপ্তার হয়ে গেছেন আগেই। কোনো কোনো এলাকায় ভোট শেষ হয়ে গেছে সকাল সকালই। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এসব ঘটনার তদন্তের দাবি জানানো হলেও এতে কোনো ফল মেলেনি।
প্রশ্নটা আগেও একবার বলা হয়েছে। কেমন হবে আগামী নির্বাচন? পথে-ঘাটে,  সর্বত্রই আসলে এখন উচ্চারিত হচ্ছে এ প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে চা দোকানদার সবাই এ প্রশ্ন করছেন? এবং উত্তর খুঁজছেন। ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা একযোগে উচ্চারণ করেছেন যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। বস্তুত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও এ ধরনের নির্বাচন করতেই শপথাবদ্ধ। এখন আগামী নির্বাচন কেমন হবে তা বহুলাংশে নির্ভর করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচন কমিশন কতটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে তার ওপর। নির্বাচনকালীন সময়ে কমিশনের চাহিদা পূরণে সরকার সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ব্যাপারে কমিশনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এখনো প্রকাশিত হয়নি। বরং নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হবে না- এ বার্তা দেয়ার চেষ্টায় রয়েছেন কোনো কোনো কমিশনার।
ইতিহাসের এক টার্নিং পয়েন্টের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা বহুলাংশে নির্ভর করছে এ নির্বাচনের ওপর। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন দৃশ্যত নির্বিকার। তবে সময় এখনো চলে যায়নি।

বাংলাদেশী রেজাউরের কাণ্ড!

ড্রেসডেনে একটি মেডিকেল সেন্টারে ভাংচুরের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাংলাদেশী এক অভিবাসীকে। তার নাম রেজাউর চৌধুরী (৩৬)। বলা হয়েছে, একজন চিকিৎসক তাকে ‘বাংলাদেশের টিকেট’ না দেয়ায় তিনি সেখানে ভাঙচুর করেন। ড্রেসডেনে বেলগ্রেভ মেডিকেল সেন্টারে কাঠ দিয়ে ভেঙে ফেলেন চারটি জানালা ও একটি ড্রেইন-পাইপ। এ জন্য তাকে এখন জরিমানা করা হয়েছে ১০০ পাউন্ড। গত ২৫ শে অক্টোবর স্থানীয় রাত ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে নর্থ স্টাফোর্ডশায়ার জাস্টিস সেন্টারে শুনানি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন স্টকঅনট্রাভেল।
এ ঘটনায় রেজাউরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাতে দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন রেজাউর। বলেছেন, চিকিৎসক তাকে বাংলাদেশে যাওয়ার টিকিট দেন নি বলে ভাঙচুর করেছেন। রেজাউর আরো বলেছেন, আগের সপ্তাহে একজন ডাক্তার তাকে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে যেতে পারবেন না। তার পরিবর্তে তার পরিবারকেই ইংল্যান্ডে যেতে হবে। এরপর আবার তিনি ২৫ শে অক্টোবর ওই হাসপাতালে যান এবং তার পরিবার যেন যেতে পারে তেমন একটি চিঠি দাবি করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রেজাউর। তার বসবাস বৃটেনের নরমাকোটের চ্যাপলিন রোডে।