Wednesday, November 10, 2010

চার কিংবদন্তির বিশ্বকাপ-ভাবনা

ভিভ রিচার্ডস, কপিল দেব, ইমরান খান, অর্জুনা রানাতুঙ্গা—চারজনের মধ্যে মিল কোথায়? মিলটা হলো, চারজনই বিশ্বকাপ জিতেছেন। কপিল, ইমরান, রানাতুঙ্গা তো অধিনায়কের ভূমিকাতেই। তবে এক জায়গায় রিচার্ডস এগিয়ে, তিনি জিতেছেন দুটি বিশ্বকাপ (১৯৭৫ ও ১৯৭৯)।
ক্রিকেটের এই চার কিংবদন্তি একই মঞ্চে দাঁড়ালেন কাল। দিল্লিতে ২০১১ বিশ্বকাপের একটি অনুষ্ঠানে। এবারের বিশ্বকাপের ফেবারিট প্রশ্নে অবশ্য আর চারজন এক মঞ্চে থাকলেন না। ভারতের পক্ষে রায় দিলেন রিচার্ডস আর কপিল। ইমরানও ভারতকে অন্যতম ফেবারিট মেনেও নিজ মাঠের বিশাল দর্শকদের চাপে ভারতের ভেঙে পড়ার নজির টেনে শুনিয়েছেন সতর্কবার্তা। অর্জুনা রানাতুঙ্গা ১৯৯৬ বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে ফেবারিট হিসেবে রায় দিলেন নিজ দেশের পক্ষে।
ভারত বিশ্বকাপের আগে শেষ সিরিজ খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকায়, সেটিকেও ভালো প্রস্তুতিই মনে করছেন রিচার্ডস, ‘ভারত এখন বিশ্বের এক নম্বর দল (টেস্টে)। ওদের পেছনে থাকবে উৎফুল্ল সমর্থকও। নিজেদের প্রমাণের তাগিদও তাই থাকবে। দলটা দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে যাচ্ছে। সেখানকার পিচগুলো অন্যরকম হলেও তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে সেটা কাজে আসতে পারে।’
কীভাবে কাজে আসবে সেটা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন কপিল, ‘১৯৮৩ বিশ্বকাপের আগে আমরাও ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের কঠিন লড়াই-ই করতে হয়েছিল। এরপর আমরা বিশ্বকাপেও ভালো খেলেছিলাম। দক্ষিণ আফ্রিকায় ওরা ভালো করলে সেটা বিশ্বকাপের জন্য বিশাল প্রেরণা হবে। যদি না-ও করে ওদের মনোবল বাড়ানোর জন্য বিপুল দর্শক তো রইলই।’
ইমরান আবার মনে করছেন, ফেবারিট হয়ে বিশ্বকাপে যাওয়াটা এক ধরনের অভিশাপও। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছেন, ১৯৮৩ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পরের বিশ্বকাপে ফেবারিট ছিল পাকিস্তান। দুটো দলই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ‘মনে পড়ছে সেমিফাইনালে আমরা বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। কিন্তু চাপ নিতে পারলাম না, কিছু ভুল করে ফেললাম। ১৯৮৩-তেও ভিভ আউট হওয়ার পরই চাপের মুখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গড়বড় করে ফেলল।’
১৯৯৬ বিশ্বকাপেও স্বাগতিক দর্শকদের চাপ ভারত নিতে পারেনি। ইডেন গার্ডেনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ভারতের পরাজয়ের দিকে ইঙ্গিত করে ওই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রানাতুঙ্গা বলছেন, ‘আমি দেখেছি লাখ খানেক দর্শকের সামনে ভারত চাপের মুখে ভেঙে পড়ে। এমনও অনেক সময় আসে যখন প্রত্যাশা থাকে আকাশছোঁয়া, সেটারই মূল্য দিতে হয় শেষে।’
একটি বিষয়ে এই চারজনকেই একমত দেখা গেল। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে আসলে দলের এক-দুজনই আলো ছড়ায়। অন্যরা সেই দেখিয়ে দেওয়া পথে হাঁটে। নিজ দলের ওপর বড় কোনো প্রত্যাশা না থাকলেও রিচার্ডস এবার তাকিয়ে থাকবেন গেইল-ব্রাভো-পোলার্ডদের দিকে। কপিল তো মনে করেন, বিশ্বকাপ জিতেই অবসরে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন শচীন টেন্ডুলকার। রানাতুঙ্গা অপেক্ষায় আছেন মুরালিধরন, জয়াবর্ধনে, সাঙ্গাকারাদের ঝলসে ওঠার। এখানে একটা আক্ষেপ আছে ইমরানের। এই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভালো কিছু করতে হলে আমির আর আসিফকে খুবই প্রয়োজন বলে মনে করছেন ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ এই দুই পেসারের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা ঝুলে আছে আইসিসির ট্রাইব্যুনালের ওপর।

গল্প- 'শুধু একটি রাত' by সাইপ্রিয়েন এক্ওয়েন্সি। অনুবাদ- বিপ্রদাশ বড়ুয়া

শহরে কিছু অপরিচিত আগন্তুকের হামলা হতে পারে, এরকম একটা গুজব দেখতে দেখতে প্রায় প্রতিষ্ঠিতই হয়ে গেল। গুজবটাতে বিশ্বাস না করলেও পুলিশ কিন্তু এ ব্যাপারে কোনোরকম ঝুঁকি

নেয়নি। তারা জনসাধারণকে সতর্ক করে দিল। আর কোনো অপরিচিত আগন্তুককে দেখলে তক্ষুণি তা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেবার জন্য ঘোষণা জারি করে দিল। এটা প্রত্যেকের কাছেই সদিচ্ছা ও শান্তির সময় বলে সরকার আক্রায় কারফিউ বলবৎ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্তটাও পুনর্বিচার করার সিদ্ধান্ত নিল। তবে সেই সঙ্গে জনসাধারণকে এই মর্মে সতর্কও করে দিল যে নিজে সুনিশ্চিত না হয়ে কেউ যেন কাউকে বাড়িতে নিয়ে না যায় বা গাড়িতে তুলে না নেয়। বিশেষ করে শহরে নির্জন রাস্তাগুলোতো নয়ই।

গল্প- 'পিতা ও কুকুর ছানা' by হরিপদ দত্ত

খোদার এই দুনিয়া কেমন করে বদলে যায়, এর ব্যাখ্যা হয়তো আজীবন অজানাই থেকে যাবে বৃদ্ধের কাছে। কেন জানাজানি হয়নি এই আক্ষেপ করেই বুড়ো মানুষটা বাস থেকে নেমে গ্রাম্য নিবাসের উদ্দেশ্যে হাঁটতে থাকেন।

মাঝখানে একটি রাত, গতকালই গিয়েছিলেন উপসচিব ছেলের সরকারি আবাসে। বড় একটা যাওয়া হয় না, এবার যেতে হলো গ্রাম্য বৈশাখী মেলার স্মৃতি নিয়ে। মেলাও যে বদলে গেছে এ খবর ছেলেকে শোনাবেন বলে। ছেলের প্রিয় গুড়ের জিলাপির পোটলাটা হাতের ব্যাগে। হয়তো বাসি হয়ে গেছে।
বৃদ্ধের মনেই ছিল না ছেলের রুচিরও যে বদল ঘটেছে। ওসব সে খায় না। তাই সঙ্গে করে ফিরিয়ে আনা। গ্রাম্য নোংরা মানুষের হাতে তৈরি খাদ্যে কি রোগ জীবাণু থাকতে নেই?

ভারতকে সরিয়ে দুইয়ে শ্রীলঙ্কা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় আরও সুখবর বয়ে এনেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের জন্য। পক প্রণালির অপর প্রান্তের প্রতিবেশী ভারতকে টপকে আইসিসি ওয়ানডে র্যা ঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে তারা। শ্রীলঙ্কাকে জায়গাটি ছেড়ে দিয়ে তিনে নেমে গেছে ভারত। সাম্প্রতিক দুরবস্থার পরও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া।
ভারতের চেয়ে দুই পয়েন্ট পেছনে থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করা কুমার সাঙ্গাকারার দল ২-১-এ সিরিজ জিতে পেয়েছে তিন পয়েন্ট। ভারত তাই পেছনে পড়ে গেছে এক পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থান পুনরুদ্ধারের সুযোগ খুব শিগগিরই আসছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের জন্য। তবে কাজটা সহজ হবে না। কারণ, এ জন্য ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে ৫-০-তে হারাতে হবে তাদের। ৪-১-এ জিতলেও ভগ্নাংশের সামান্য ব্যবধানের কারণে থাকতে হবে শ্রীলঙ্কার পেছনেই। ২৮ নভেম্বর শুরু এই সিরিজ।
ভারত দুইয়ে উঠে গেলে আবার পুনরুদ্ধারের সুযোগ আসবে শ্রীলঙ্কার জন্যও। ৯ ডিসেম্বর থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে তাদের ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ওই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরে গেলে আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতলে বিশ্বকাপের আগে র্যা ঙ্কিংয়ে উন্নতিই ঘটবে বাংলাদেশের।

বন্দী বার্মার ডাক শুনুন by অমর্ত্য সেন

ব্রিটিশ অধীনতা থেকে স্বাধীনতার অল্পদিন পরে ক্ষণিকের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার পর থেকেই বার্মা ৫০ বছর ধরে এক চরম স্বৈরতান্ত্রিক সামরিক শাসনে বন্দী। বার্মা এখন বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ। এর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খুবই নড়বড়ে। ওষুধ মেলে না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। কঠোর বিধিনিষেধের সঙ্গে রয়েছে প্রতিবাদীদের জন্য চরম শাস্তি। শান, কারেন, চিন, রোহিঙ্গাসহ অন্য সংখ্যালঘুদের সঙ্গে নির্মম নিপীড়নমূলক আচরণ করা হয়। যাকে-তাকে ইচ্ছামতো বন্দী করা হয়, চলে ভয়াবহ নির্যাতন। রাষ্ট্র নিজেই উচ্ছেদ করে মানুষকে, চালায় সংগঠিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড। এবং জনগণ যখন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, তখন সরকার কেবল সাহায্যেই বিমুখ নয়, অন্যদের সাহায্যের হাতও ঠেকিয়ে দেয়। ২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘নার্গিস’-এর সময় এটাই হয়েছিল, আন্তর্জাতিক সাহায্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
সামরিক জান্তা দেশটির নাম বদলে মিয়ানমার রাখে। সত্যিই তো, শত শত বছর ধরে বার্মা নামে যে সুন্দর দেশটি বিকশিত হয়েছিল, সেই দেশটি আর কোথাও নেই। এই মিয়ানমার সেই বার্মার ধ্বংসের ওপর সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিপদ এক দিনে ঘটেনি। কেবল বার্মার সরকার ও নাগরিকদের একটি অংশই নয়, বার্মার এই পতনে অবদান রেখেছে প্রতিবেশী দেশগুলো, এমনকি গোটা বিশ্ব। বার্মার সরকারের কথাই প্রথমে আসবে। দেশটির সামরিক শাসকেরা এমন এক ‘আমরা’, যাদের বিপরীতে ‘ওরা’ হচ্ছে তাঁদেরই জনগণ। যে দেশে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত হয়, মুক্ত মত প্রকাশ যেখানে অসম্ভব, সেখানে এই দুইয়ের দূরত্ব কমানো কঠিন।
বার্মার শাসকদের কোনো অংশই এই বাধা দূর করতে ইচ্ছুক নন। কিন্তু বাইরে থেকেও তেমন চাপ আসছে না। বার্মার শক্তিশালী প্রতিবেশীরা, বিশেষ করে চীন, ভারত এবং থাইল্যান্ডও সামরিক জান্তাকে মদদ দিয়ে চলছে। জাতিসংঘের এখানে করণীয় ছিল। কিন্তু জাতিসংঘ দূতের মিনমিনে গলার প্রতিবাদ দিয়ে বার্মার সরকার নড়বে না। আসিয়ানের নেতারাও বার্মাকে চাপে ফেলেননি। কিন্তু বার্মার জনগণের এখন দরকার বাস্তব সহায়তা।
তা হলেও প্রমাণ আছে যে বার্মার সামরিক শাসকেরা বিশ্ব জনমতকে হিসেবে রাখেন। গতকালের (৭ নভেম্বর) নির্বাচন সেই উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে। কেন তাঁদের একটি নির্বাচন প্রয়োজন? কারণ, তাঁরা এখন গণতান্ত্রিক লেবেল লাগিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিতে চান। এটা এমন এক নির্বাচন, যেখানে শাসকেরা নিজেদের বিজয়ের সব বন্দোবস্ত করে রেখেছেন। নির্বাচন সেখানে আগেও হয়েছিল। ১৯৯০ সালের সেই নির্বাচনে অনেক বাধা সত্ত্বেও অং সান সু চির দল বিপুল বিজয় পায়। ৪৮৫ আসনের মধ্যে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি পায় ৩৯২টি আসন আর সরকারি দল পায় মাত্র ১০টি। কিন্তু নির্বাচনের ফল অস্বীকার করা হয় এবং তখন থেকেই সু চিসহ দেশটির অনেক নেতা এ অবধি বন্দী আছেন।
সেই অভিজ্ঞতা থেকে শাসকেরা একটি শিক্ষা নেন। এবারের নির্বাচনের আগেই তাই শাসকেরা নিজেদের জন্য বেশ কিছু আসন সংরক্ষিত রাখেন, সত্যিকার বিরোধীদের নির্বাচনে দাঁড়ানোর পথ বন্ধ রাখেন, প্রকাশ্য আলোচনা নিষিদ্ধ করেন, বিরোধী নেতাদের প্রায় সবাইকে আটক করেন।
এমন অবস্থায় বিশ্ব কী করতে পারে? প্রথমতো, এই নির্বাচন যে একটা জোচ্চুরি, তা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া দরকার। কেউ যদি ভালো মনে ভেবে থাকেন যে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলাবে, তবে তিনি বার্মার সত্যিকার বাস্তবতা জানেন না। নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রচারণা-যুদ্ধে শাসকদের জয়ী হওয়ার মানে বর্মি জনগণের দীর্ঘদিনের সংগ্রামকে হেয় করা।
আজ যদি ভাবা হয়, ‘নির্বাচনে কী হয় দেখা যাক’, তাহলে পরে এই ভাবনাও আসবে যে ‘আচ্ছা, তাদের আরেকটু সময় দেওয়া যাক।’ এর মানে হবে বর্মি জনগণের দুঃখ-কষ্টকে আরও দীর্ঘদিন ধরে চলতে দেওয়া। এ মুহূর্তেই উচিত, বার্মার পরিস্থিতি বিষয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করার ঘোষণা দেওয়া।
এ বিষয়ে বিশ্ব কি এককভাবে কিছু করতে পারে? এ বিষয়ে প্রথমেই আসবে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা জারির কথা। জানা কথা যে, যে অবরোধে জনগণের কষ্ট হবে তা নিয়ে শাসকেরা চিন্তিত নন। তাঁরা চিন্তিত হবেন তখনই যখন তাঁদের স্বার্থে আঘাত আসবে। তাই সর্বাত্মক অবরোধের চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপ করাই উত্তম।
কী হতে পারে সেই সুনির্দিষ্ট অবরোধের ক্ষেত্র? সবার আগে সামরিক জান্তাকে সব ধরনের অস্ত্র ও যুদ্ধ-সরঞ্জাম দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এর মধ্যে সরাসরি বা অপ্রত্যক্ষভাবে দেওয়া সামরিক সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একইভাবে সেসব ব্যবসার ওপর আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে, যা থেকে বার্মার সামরিক নেতারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। অনেক কিছুর সঙ্গে তাঁরা জড়িত। এর মধ্যে আছে খনিজ রপ্তানি, হীরা-মানিক-তেল-গ্যাস ও কাঠ। এসব ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যাতে জনগণ সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বার্মার শাসনকাঠামোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিদেশ সফরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। চিকিৎসার জন্যই হোক আর ব্যবসার খাতিরেই হোক, তাঁদের বিদেশে ঘোরাফেরা থেকে সামরিক শাসনই লাভবান হয়।
বার্মার সামরিক শাসন টিকে থাকায় কয়েকটি দেশেরও ভূমিকা আছে। চীনা সরকার দীর্ঘদিন ধরে বার্মার সঙ্গে ব্যবসা করছে এবং সে কারণে জান্তার পৃষ্ঠপোষকতা করছে। নিরাপত্তা পরিষদে চীনের ভেটোক্ষমতা থাকার সুবাদে বার্মার শাসকদের জন্য চীনই সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল।
চীনের পরে আছে বার্মার অন্য দুই প্রতিবেশী ভারত ও থাইল্যান্ড। দুটি দেশই বার্মার সঙ্গে ব্যাপক ব্যবসা-বাণিজ্য চালাচ্ছে। ভারত তো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহ দমনে সরাসরি বার্মার সাহায্য পাচ্ছে। এসব কারণেই চীনের সঙ্গে সঙ্গে ভারত ও থাইল্যান্ড কেবল বার্মাকে সাহায্যই করছে না বরং সামরিক শাসন টিকিয়ে রাখায় কাজ করছে। একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আমার মন ভেঙে যায় দেখে যে আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী, যিনি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে মানবিক ও সহমর্মী রাজনৈতিক নেতা, তিনি নিজেও বার্মার কসাইদের দিল্লিতে অভ্যর্থনা জানান, তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান।
ভারতে বার্মার পরিস্থিতি কিংবা ভারত সরকারের বার্মা-নীতি কমই আলোচিত হয়। এমন নয় যে, তা সংবাদমাধ্যমে ছাপা হবে না বা কেউ করলে শাস্তি হবে; বরং উল্টোটা। আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক সভায় সরকারের বার্মা-নীতির কঠোর সমালোচনা করেছি এবং তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়েছে। সমস্যা হলো, ভারতের সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থ-চিন্তা। ভারতে এখন এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে নেহরুর আমলের উদার সৎসাহসিকতাগুলো ভুলে যেতে চাওয়া হচ্ছে। অথচ বার্মায় সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর পর ভারতই সেখানকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অনেক সহায়তা করেছিল। অং সান সু চিও ভারতের বন্ধুত্ব ও সাহায্য পেয়েছিলেন। কিন্তু এখন ভারত চীনের অনুকরণে ক্ষুদ্র স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নেহরু যেসব চিন্তা লালন করতেন, আজ ভারতে তার জায়গা কম। ভারত নিজেকে সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা দিয়ে নতুন করে গড়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন হতে হলে ভারতের অবস্থান বদলাতে হবে। এ বিষয়ে সেখানে জনস্বার্থের আলোচনা উঠতে হবে। বৈশ্বিক জনমত সৃষ্টিও বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। বার্মার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান ভারতে রাজনৈতিক আবহাওয়া বদলে দিতে পারে।
তিনটি চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ হচ্ছে—এক. বার্মা বিষয়ে ভারত, চীন ও থাইল্যান্ডের অবস্থান দায়িত্বহীন ও ক্রুর। অন্যদিকে যে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো বার্মার সামরিক জান্তার কঠোর সমালোচনা করে, সাধ্য থাকা সত্ত্বেও তারা বার্মার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বদলাচ্ছে না। বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশসহ বাইরের কিছু দেশও বার্মার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কে জড়িত, বিশেষত তেল ও গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্রে। তাই দেখা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডা বার্মার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে রাজি হয় না। এভাবে তারা তাদের নীতি না পাল্টালে বার্মার প্রতিবেশীদের জন্যও কঠিন হয়ে পড়ে অবস্থান বদলানো।
দ্বিতীয়ত, কোনো দেশের তথাকথিত জাতীয় স্বার্থ কেবল বর্তমানের জন্যই নয়, ভবিষ্যতের নিরিখেও সমস্যাজনক হতে পারে। চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডের বেলায় এ কথাগুলো খাটে। বিশ্বের জুলুমবাজ শাসনের ইতিহাস শিক্ষা দেয়, একটা সময় বার্মার স্বৈরশাসকেরা আর থাকবেন না। কিন্তু কয়েকটি দেশের বিশ্বাসঘাতকতার স্মৃতি বার্মার জনগণের মনে আরও অনেক দিন রয়ে যাবে।
তৃতীয়ত, বিশ্বের অনেক মানুষের মনেই বার্মা বিষয়ে একটা হাল ছেড়ে দেওয়া মনোভাব দানা বেঁধেছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, যৌক্তিক গণমতামতের বিস্তার আর সংঘবদ্ধ বৈশ্বিক পদক্ষেপের মাধ্যমে অচিরেই বর্তমানের থেকে অনেক বেশি কিছু অর্জন করা সম্ভব।
১৯৯৯ সালের মার্চের শেষের দিকে আমি ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে পড়াতাম। তখন এক সকালে আমার কাছে একটি ফোন আসে। ফোনটি করেন আমার পুরোনো বন্ধু মাইকেল হ্যারিস, অং সান সু চির স্বামী। আমি জানতাম, হ্যারিস তখন প্রস্ট্রেট ক্যানসারে চরমভাবে ভুগছেন। মাইকেল সেদিন আমাকে বলেছিলেন যে তাঁর জীবনের একটা লক্ষ্য হলো সু চিকে সাহায্য করে যাওয়া। অসুস্থতা সত্ত্বেও তাঁর কণ্ঠে সেই সংকল্প ফুটে উঠছিল। সেই কণ্ঠেই তিনি আমাকে বোঝাতে লাগলেন, কেন আমাদের সবার নজর এখন বার্মার সামরিক জান্তাকে মোকাবিলা করার দিকে ফেলা দরকার। ‘অমর্ত্য, কোনো ভুল করা যাবে না’ মাইকেল বলেন আমাকে, ‘এই রোগ আমাকে মারতে পারবে না। আমার কাজে নামার জন্যই আমার সুস্থ হওয়া দরকার। আমার সু চি এবং আমার বার্মার পাশে আমাকে দাঁড়াতেই হবে।’ সেটা ছিল সম্ভবত ২৪ মার্চ। ২৭ মার্চ খবর পেলাম, মাইকেল মারা গিয়েছেন। ওই তারিখই ছিল তাঁর জন্মদিন।
মাইকেল হ্যারিস আর আমাদের এসে বলবেন না, কোথায় আমাদের নজর দেওয়া দরকার। কী আমাদের করা দরকার। কিন্তু তাঁর বিদায়বার্তাটি এখনো সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সম্মিলিত পদক্ষেপের এমন প্রয়োজন অতীতে আর আসেনি। বার্মার দানবীয় শাসকেরা এখনো দেশটাকে নরক বানিয়ে রেখেছেন। এ মুহূর্তে ভুয়া নির্বাচনের প্রহসনে ভুললে চলবে না। এ মুহূর্তে বার্মার জনগণের পাশে দাঁড়ানোর উপায় হাতড়ানোরও আর সময় নেই। যা করার, এখনই করতে হবে। আর করতে হবে স্পষ্টভাবে, যুক্তির ভিত্তিতে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বার্মা বিষয়ে দেওয়া বক্তৃতা।
ভারতের দি আউটলুক থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ ফারুক ওয়াসিফ
অমর্ত্য সেন: নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও লেখক।

সরকারদলীয় নেতা খুন

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দীন ইসলামকে হত্যা করার পর সাধারণ মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। একজন সরকারদলীয় নেতাকে যদি দুর্বৃত্তরা থানার কাছেই এত অনায়াসে গুলি করে নিরাপদে প্রস্থান করতে পারে, তাহলে তাদের অসাধ্য তো আর কিছু নেই। উপরন্তু, নিহত ব্যক্তি ঢাকা-৬ আসনের সাংসদ মিজানুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাঁর তো প্রবল প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকার কথা। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহভাজন যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের অন্যতম হলেন ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।
এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য তিনটি কারণ রয়েছে বলে এলাকার জনসাধারণ মনে করেন। প্রথমত, ধারণা করা হয় যে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির সঙ্গে নিহত সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব ছিল। এলাকায় প্রভাব বিস্তারেরও একটা ব্যাপার ছিল। কিন্তু তাই বলে এসব কারণে একজন মানুষ খুন হয়ে যাবেন! এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে অরাজকতা দেখা দেবে, যে যার শত্রু নিধনে নেমে পড়বে। এ রকম চলতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, নিহত দীন ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে বেশ কিছু অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি তিনি এলাকায় সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে তিনি পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। হয়তো এসব কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা তাঁকে হত্যা করে থাকতে পারে। যখন সরকার ও পুলিশ প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণে মানুষকে সচেতন ও সংঘবদ্ধ হওয়ার কথা বলছে, তখন যদি সন্ত্রাসীদের গুলি খেয়ে মরতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোন ভরসায় এগিয়ে আসবে?
তৃতীয় যে কারণটির কথা সবাই বলছেন তা হলো, সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় চলছে। নিহত দীন ইসলাম ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। হয়তো তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী পথের কাঁটা অপসারণের জন্য খুনের আশ্রয় নিয়েছেন। এখনো নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। এরই মধ্যে যদি খুনোখুনি শুরু হয়ে যায়, তাহলে নির্বাচনের সময় কী হবে? অতীতে, বিশেষত এরশাদ আমলে, আশির দশকে ইউপি, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে খুনোখুনি আতঙ্কজনক পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এখন যদি আবার সেই প্রবণতা ফিরে আসে, তাহলে সেটা হবে সাংঘাতিক উদ্বেগের বিষয়।
দীন ইসলাম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এটা সরকারের দায়িত্ব।

স্মরণ- 'শওকত ভাই : কিছু স্মৃতি' by কবীর চৌধুরী

শওকত ভাই নেই। কত অজস্র স্মৃতি মনের আকাশে ভিড় করে আসছে। প্রতিদিনের কাজ করে যাচ্ছি, পড়ছি, লিখছি, লোকজনের সঙ্গে কথা বলছি, অবশ্য পালনীয় কর্তব্যগুলি সম্পন্ন করছি, পৃথিবীর কোনও কাজই থেমে নেই।

শওকত ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে। তখন তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজে অধ্যাপনা করছেন। আমিও চট্টগ্রামে কর্মরত। বেসরকারি সরবরাহ বিভাগে। স্ত্রী ও দু'টি ছোট মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। প্রথম পরিচয়ের লগ্ন থেকেই শওকত ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমাদের প্রগাঢ় অন্তরঙ্গতা গড়ে ওঠে।

কলিম শরাফী: এক কিংবদন্তি by আসমা আব্বাসী

মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে।
আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে\
কাজের দিনে নানা কাজে থাকি নানা লোকের মাঝে,
আজ আমি যে বসে আছি তোমারি আশ্বাসে\
নীলফামারীর ঢেউ খেলানো ধানের সোনালি বিস্তার, সবুজ কলাগাছের বাউরি বাতাস ও হলুদ চারার সবুজের মায়াময় পথ দিয়ে ঢাকায় ফিরে আসতে আসতে আব্বাসী সাহেব বললেন, ‘আমার মনটা কেমন যেন করছে, চলো কালই আমরা কলিম শরাফীর বাড়ি যাই। তারপর একদিন আশরাফ সিদ্দিকী ও মেহের কবীরকেও দেখে আসব। এঁদের তিনজনই আজকাল বাইরে বেরুন না, বয়সের কারণে। চলো, আমরা দেখা করে দোয়া নিয়ে আসি।’ ভাবতে ভালো লাগছিল আমার সদাহাস্য কলিম ভাই ও নাওশাবা ভাবির বাড়ি যাব একগুচ্ছ রজনীগন্ধা নিয়ে।
কত যুগ আগের কথা। মেজো দুলাভাই আবদুল কাদিরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে কলিম ভাইয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গতার সোপান বেয়ে উঠেছিলাম। মেজো বোন সালমার রথখোলার বাড়ির সরু সিঁড়ি দিয়ে সন্ধেবেলা দোতলায় উঠতে শোনা যেত দরাজ কণ্ঠের বিস্তৃতি:
‘বঁধু, তোমায় করব রাজা তরুতলে,
বনফুলের বিনোদমালা দেব গলে\
সিংহাসনে বসাইতে হূদয়খানি দেব পেতে,
অভিষেক করব তোমায় আঁখিজলে\
একছুটে ঘরে ঢুকে মাটিতে পাতা শতরঞ্জিতে আসন নিয়ে ফরমাশ করতাম একটার পর একটা গান। পুরো গীতবিতানই যেন খোলা তাঁর মুদ্রিত নয়নের সামনে।
বুবু আসতেন সোনালি বর্ডার দেওয়া সাদা কাপে ধূমায়িত চা, ঢাকাই বাখরখানি ও অষ্টগ্রামের পনির নিয়ে, কখনো বা মরণচাঁদের গরম গরম শিঙাড়া ও লালমোহন। পানদানিতে পান, চুন, খয়ের, জর্দা।
আড্ডা চলছে জোর কদমে। কলিম শরাফী, কামরুল হাসান, সুলেমান ভাইসহ চারজনে বেজায় দোস্তি, যেন জানে জিগর। আমার কাছে তিনি ভাই, আব্বাসী সাহেব ডাকেন চাচা সম্বোধনে।
আসলেও অগ্রজের স্নেহ নিয়েই বিনি সুতোয় অন্তরে বেঁধে নিলেন তিনি ও আমার মায়াবতী ভাবি নাওশাবা। নাকে হীরের নাকফুলটি জ্বলজ্বল করত, সে হাসিরই বিচ্ছুরণ ভাবির মায়াবী হাসিতে। নানা অনুষ্ঠানে তাঁদের পেয়েছি। সব সময়ই একসঙ্গে, যেন যুগলবন্দী। যত দূরেই বসি না, সম্মোহিতের মতো ছুটে যেতাম তাঁদের পাশে।
কলিম ভাইয়ের কথা বলি। ১৯২৪ সালের ৮ মে বীরভূমের খয়েরাডি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম হয় তাঁর। মা আলিয়া বেগমের কোলে হাসছে তাঁর নয়নের ধন, বাবা সামিহ আহমেদ ছুটে গেছেন বাজারে আকিকার জন্য দুটো তরতাজা খাসি কিনে আনতে। শিশুটি কাঁদলে বাজত সুরেলা বাঁশি। কলিম ভাই যখন ছাত্র, বন্ধুদের শোনাতেন গান। তাঁরা মন্ত্রমুগ্ধ। ভাবতেন, এ হবে বিশ্বজয়ী শিল্পী। রবীন্দ্রসংগীতে তাঁর তুলনা মেলা ভার, যেন নদীর পানির মতো অবারিত তাঁর ছুটে চলা, নীলাকাশে সাদা বিহঙ্গের পাখা মেলা, ভোরের শিশিরে শিউলির আলপনা। কণ্ঠটি তাঁর দরাজ, ভরাট, গম্ভীর, মধুর ও প্রাণকাড়া। আমি ও আব্বাসী সাহেব কলিম ভাইয়ের গানের টানে ছুটে ছুটে যেতাম সেসব বাড়িতে বা অনুষ্ঠানে, যেখানে গেলে পাওয়া যাবে এই দুর্লভ সোনা। মন ভরে যেত, প্রাণ জুড়িয়ে যেত, বিধাতার কী অকৃপণ দান এই অনির্বচনীয় কণ্ঠ!
আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ, যেন ঘরের মানুষ। ঠাট্টা করতেন, গল্প করতেন, কন্যা সামিরাকে কোলে তুলে নিতেন। শারমিনীকে জন্মের পর ফোন করে দোয়া জানালেন। কলিম ভাই, আমাকে দেখলেই সিলেটি ভাষায় কথা বলা শুরু করতেন, যেন সিলেট তাঁর মাতৃভূমি। উর্দুতে দখল, বাংলাতে অনন্য, বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষাও তাঁর আয়ত্তে। মনে করতে পারি, যখন তিনি রেডিওতে গান করতেন, আমরা রেডিওর সামনে থেকে নড়তে পারতাম না। এ যে মনের মুক্তি, হূদয়ের খাদ্য, এ যে সঞ্জীবনী সুধা।
কলিম শরাফী নাম নয়, প্রতিষ্ঠান। সাংস্কৃতিক আন্দোলনে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। ব্যক্তিগত জীবনে বা কর্মক্ষেত্রে যে অবিচার, তাঁর কথায় ক্ষোভ প্রকাশ পায়নি। তাঁর সহনশীলতা ও ঔদার্যই সোনালি বিভায় প্রকাশিত। সৌজন্য ও ভদ্রতা তাঁর স্বভাবে। যিনি কাছে যাচ্ছেন তিনি বুঝতে পারবেন এই মিষ্টি-মধুর ব্যবহারের বিভাস। বোঝার উপায় নেই ইনিই সংগীত ভুবনের মহান সম্রাট।
ঢাকা লেডিস ক্লাবের পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে প্রতিবছরই আসতেন তাঁরা। সামনের সারিতে আজিজুস সামাদ, ফওজিয়া সামাদের পাশে উপবিষ্ট তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু কলিম ভাই ও ভাবি। মঞ্চ থেকে তাঁর সস্নেহ দৃষ্টি দেখে বুঝতাম, তিনি খুশি হয়েছেন। একবার আমাদের ক্লাবের একটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে হঠাৎ করেই ডাক দিলাম ভাইকে, ‘লক্ষ্মী ভাইটি, আসুন আমাদের মঞ্চে। বাংলার রমণীকুল অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আপনার দুটো গানের জন্য। তাঁদের আপনি বঞ্চিত করবেন কীভাবে?’ কলিম ভাই প্রথমে একটু ইতস্তত করলেন, তারপর তাঁর স্বভাবজাত মিষ্টি হাসি দিয়ে এগিয়ে এলেন ফুলে ফুলে সুশোভিত স্টেজে। হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল ছোঁয়াতেই হলভর্তি সানন্দ করতালি। দুটো নয়, পর পর চারটে গান গাইলেন, আমাকে ছোট বোনের আদর দিয়ে যেকোনো আবদারের সাহস দিয়েছেন তিনিই।
এমন গলা তো দ্বিতীয়টি আর নেই। যেমন ভরাট তেমনি গাম্ভীর্য, তেমনি মাধুর্য। মনে হলো ঝরনার পানির মতোই স্বতঃস্ফূর্ততায় বয়ে চলেছে, সরোবরের গভীরে ডুব দিয়ে কুড়িয়ে নিলাম সজীব মুক্তো।
২ নভেম্বর ২০১০, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে কলিম ভাই চিরতরে বিদায় নিলেন চিরশান্তির দেশে, তাঁর প্রাণাধিক প্রেয়সীর কোলে মাথা রেখে। মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে আছেন। বড় আরামের সেই ঘুম। যেন বেহেশত থেকে পারিজাতরা ডাকছে।
কিন্তু আমার যে বড্ড নিঃস্ব মনে হচ্ছে নিজেকে। শত ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেল, একটিবার তাঁর বাড়ি গিয়ে বসব একগুচ্ছ সুরভিত রজনীগন্ধা নিয়ে। বেদনার মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ছে দুই নয়ন থেকে, সাদা কাপড়ে আবৃত ভাই, সাদাকালো শাড়ি পরা ভাবি—সবই যেন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। সত্যিই কি তিনি বলছেন,
মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।
মোনাজাত করলাম আল্লাহর কাছে, তুমি আমার কলিম ভাইকে রেখো চিরতরে আনন্দিত উজ্জ্বল শান্ত সমাহিত। তিনি তোমারই গান গেয়েছেন, তোমাকেই স্মরণ করেছেন, লাখ লাখ মানুষের হূদয়ে এনেছেন প্রশান্তি। এর সবই তোমার জানা। যা আমরা জানি না তুমি তা জানো, হে প্রভু।
আসমা আব্বাসী: কবি, লেখক, অধ্যাপিকা।
mabbasi@dhaka.net

গিনির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ

আফ্রিকার দেশ গিনির জনগণ গতকাল রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট দিয়েছেন। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো নেতা দেশটিতে গণতান্ত্রিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হচ্ছেন।
গিনির ঐতিহাসিক এই নির্বাচনে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেল্লোউ ডালিয়েন ডায়াল্লো এবং শিক্ষাবিদ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক আলফা কোনডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ডালিয়েন ডায়াল্লো জয়লাভ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম দফার নির্বাচনে তিনি ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কোনডে পান ১৮ দশমিক ২ ভাগ ভোট। ২৭ জুন প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দফা পেছানোর পর গতকাল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ করা হয়। স্থানীয় সময় সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ১২ নভেম্বর নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হতে পারে। গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে ভোট দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ৬৭ বছর বয়সী ভোটার অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক সায়ডুউ সিসে বলেন, এটি একটি বিশেষ দিন। তিনি জানান, ভোট শুরুর এক ঘণ্টা আগেই তিনি ভোটকেন্দ্রে এসেছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে সহিংসতা চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার দুই প্রার্থীই যৌথভাবে সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

তুরস্কে পরমাণু আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তেহরান

ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তুরস্কে ছয় জাতির সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তেহরান। বিষয়টি গতকাল রোববার তুরস্কের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে তেহরান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটন ভিয়েনায় আলোচনায় বসার জন্য গত মাসে তেহরানকে প্রস্তাব দেয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানোচের মোত্তাকি সাংবাদিকদের বলেছেন, তেহরান ছয় জাতির সঙ্গে ভিয়েনায় নয়, আঙ্কারায় আলোচনায় বসতে চায়। বিষয়টি দুই তিন দিন ধরে আঙ্কারা কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির আলোচক সায়িদ জলিলির সহযোগী গত বৃহস্পতিবার তুরস্ক সফর করেছেন।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, গত অক্টোবরে জলিলি ক্যাথেরিন অ্যাশটনকে জানিয়ে দেন, তাঁর দেশ ১০ নভেম্বরের পর ছয় জাতির সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের রক্ষণশীল পত্রিকা ভাতান ইমরোজ গতকাল এক খবরে জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে চলতি মাসের শেষের দিকে সমঝোতা বৈঠক হতে পারে।
ইরানকে বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র ২০০৯ সালে জেনেভায় বৈঠক করে। দুপক্ষের সমঝোতা ছাড়াই ওই বৈঠক শেষ হয়। এর পর থেকে দুই পক্ষের আলোচনা বন্ধ রয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, পরমাণু অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে ইরান বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তাদের দাবি, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে তারা পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

শ্রীলঙ্কায় কয়েদিদের হামলায় ৪৮ জন আহত

শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় কয়েদিদের হামলায় পুলিশের ৪৬ জন সদস্য ও দুজন কারা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। রাজধানী কলম্বোর উইলিকাদা কারাগারে গতকাল রোববার এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় লুকিয়ে রাখা মাদক তল্লাশির সময় মাদকসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িত কয়েদিরা পুলিশের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তিন সপ্তাহ আগে দেশব্যাপী শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল দেশটির কেন্দ্রীয় কারাগারে এ অভিযান চালানো হয়।
কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক হেক্টর উইরাসিংঘে জানান, ৪৬ জন পুলিশ ও দুজন কারা কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা তাঁকে জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় কয়েদিরা তাঁদের মারধর করেছেন। আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগেরই বুক এবং মাথায় আঘাত করা হয়েছে।
তবে কোনো কয়েদি আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এক মুখপাত্র জানান, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মাদক আইনে এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে ১১ হাজার ৬৩৯ জন।
এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। দেশের ৪২৫টি থানা থেকে একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ছাইমেঘে বিমান চলাচলে বিঘ্ন

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের মাউন্ট মেরাপি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে ছাইয়ের মেঘের কারণে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। গতকাল রোববার বেশ কয়েকটি বিমান চলাচলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। এ ছাড়া বাতিল করা হয়েছে আটটি আন্তর্জাতিক বিমান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আগামীকাল মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়া সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
জাকার্তা বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ফ্র্যান্স ইউসেফ জানিয়েছেন, গতকাল আরও আটটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, ক্যাথি প্যাসিফিক ও মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ৪২টি বিমান চলাচলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত শনিবার বাতিল করা হয় ৩৬টি।
গত ২৬ অক্টোবর থেকে মেরাপির কয়েক দফা অগ্নুৎপাত হয়। গত বৃহস্পতিবার শেষ রাতে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে ব্যাপক ছাই ও লাভার উদিগরণ হয়। এ সময় ঘণ্টায় অন্তত ১০০ কিলোমিটার বেগে অগ্ন্যুৎপাত হয়। শুক্রবার গ্যাসের চাপে দম বন্ধ হয়ে ও তাপে ঝলসে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়।

বন্যার কারণেহাইতিতে নতুন করে ছড়াচ্ছে কলেরা

হাইতিতে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার জানিয়েছে, কলেরায় আক্রান্ত হয়ে গত তিন দিনে আরও অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৪২ জন। এ ছাড়া নতুন করে আরও ৬১৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। কলেরায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৩৫৯ জনে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত শুক্রবার বয়ে যাওয়া হারিকেন টমাসের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় হাইতির পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার দূষিত পানি থেকেও নতুন করে কলেরা ছড়িয়ে পড়ছে। সাহায্য সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানিয়েছে, লিওগেন এলাকায় রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। সেখানে নদী ও রাস্তা একাকার হয়ে গেছে। ভোগান্তি পোহাচ্ছে অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ।
বন্যার পানিতে বেশ কয়েকটি পার্বত্য শহরের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার ও বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলো পীড়িত মানুষদের বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ সরবরাহে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
হারিকেন টমাস বয়ে যাওয়ার পর গত শুক্রবার হাইতির রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে তাঁবুবাসীদের ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে ভয়াবহ ভূমিকম্পের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ১৩ লাখ মানুষ তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে। হারিকেন টমাস ভূমিতে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ায় রাজধানী ও আশপাশের তাঁবুগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি।
তবে বন্যার দূষিত পানির কারণে কলেরার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। আর্ত মানুষদের সেবায় হাইতির সরকার ও জাতিসংঘ গত শুক্রবার দাতাদের কাছে এক কোটি ৯০ লাখ ডলার সাহায্য চেয়েছে।

পাকিস্তানে ন্যাটোর চারটি যানে আগুন

পাকিস্তানে গতকাল রোববার দুটি পৃথক ঘটনায় বন্দুকধারীরা ন্যাটোর চারটি যানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। যানগুলো ন্যাটো সেনাদের জন্য রসদ নিয়ে আফগানিস্তানে যাচ্ছিল।
প্রথম ঘটনাটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের মুঙ্গোচর শহরে ঘটে। কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে কয়েকজন বন্দুকধারী যান দুটি থামিয়ে এর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর তাতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে দুটি মোটরসাইকেলে করে তারা পালিয়ে যায়। তবে এতে হতাহত হয়নি।
রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে তালাগ্যাং নামক স্থানে ন্যাটোর আরও দুটি ট্যাংকারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানান, রোববার ভোরের দিকে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা দুটি ট্যাংকারে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

সিউলে জি-২০ সম্মেলনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

‘জি-২০’ শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিবাদে গতকাল রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। চলতি সপ্তাহে সিউলে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সিউল প্লাজা ও সিটি হলের বাইরে বিক্ষোভকারীরা গান গেয়ে ও স্লোগান দিয়ে সম্মেলনের প্রতিবাদ করে। এ সময় কয়েক হাজার দাঙ্গা পুলিশ তাদের ঘিরে রাখে। একপর্যায়ে কয়েক শ মানুষ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়।
বিক্ষোভকারীদের একজন নেতা বলেন, ‘সারা বিশ্বের ভবিষ্যতের ব্যাপারে ২০টি অভিজাত দেশের সিদ্ধান্তকে আমরা কখনোই মেনে নেব না।’
১১ ও ১২ নভেম্বর সিউলে ‘জি-২০’ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের শেষকৃত্য গতকাল রোববার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাসভবনে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার আজ সোমবার রাজ্যের সব সরকারি অফিস এবং স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে।
সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য গতকাল সকালে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের মরদেহ রাখা হয় তাঁর বাসভবনে। এখানে এসে তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টজনেরা।
এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে একটি শোকযাত্রা বের করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভবন, হাইকোর্ট, সিএবি ভবন এবং চিত্তরঞ্জন সেবা সদন হয়ে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শোকযাত্রা শেষ হয়। সেখানেই পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয় ।
সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল, ইউপিএর চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি, রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যসহ বিভিন্ন দলের নেতা-নেত্রী। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
সংশোধনী
গতকাল সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের মৃত্যু সংবাদে তাঁর স্ত্রী মায়া রায়ের বিগত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল কলকাতার একটি সংবাদের সূত্র ধরে। প্রকৃতপক্ষে তিনি এখনো জীবিত। এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

সিদ্ধার্থ শংকর রায়: মহৎ মানুষের মহাপ্রস্থানে by ফারুক চৌধুরী

আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রয়াত সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের যথার্থ মূল্যায়ন দুরূহ। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, দিগ্বিজয়ী আইনজ্ঞ, সার্থক সংগঠক এবং সফল কূটনীতিবিদ; যাঁর কাছ থেকে আমার শুধু পাওয়ারই ছিল, দেওয়ার কিছুই ছিল না। ভাগ্যগুণে তাঁর স্নেহধন্য ছিলাম এবং কখনো কখনো তাঁকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। অত্যন্ত বড় মাপের এ মানুষটির সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণাই তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ছিলেন ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কিন্তু তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া, সেই সময়ের লাখ লাখ উদ্বাস্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে কলকাতায় প্রেরণ করেছিলেন। তাঁর সেই সময়ের অবদান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হয়ে রইবে। তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা ৫ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে কলকাতা বিমানবন্দরে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে সেদিন দিল্লিতে বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধিদল যাচ্ছিল। আমি তার সদস্য ছিলাম। সিদ্ধার্থ বাবু কলকাতায় আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন এবং একই বিমানে তিনিও দিল্লিতে গেলেন। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ঢাকার পথে লন্ডন থেকে দিল্লি এলেন। সেদিনের ঘটনা এখন সর্বজনবিদিত এবং তার পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন।
সত্তরের দশকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ অনিয়মিত হলেও অব্যাহত ছিল। ১৯৭৭ পর্যন্ত তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
এই শ্রদ্ধাঞ্জলিতে কতগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যক্ত করব, যা তাঁর চরিত্রের মাহাত্ম্যকে কিছুটা হলেও তুলে ধরবে। আশির দশকে আমি যখন দিল্লিতে রাষ্ট্রদূত ছিলাম মানুদা (সেই নামেই তখন তাঁকে সম্বোধন করতাম) পাঞ্জাব রাজ্যের রাজ্যপাল ছিলেন। এক দিন চান্দিগড় থেকে তাঁর টেলিফোন পেলাম। বিষণ্ন তাঁর কণ্ঠস্বর। ‘ফারুক, শাজাহান নাকি বেঁচে নেই।’ বললেন মানুদা। প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদ চৌধুরীকে তিনি সেই নামেই ডাকতেন। তাঁরা ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের সহপাঠী এবং বন্ধু। দীর্ঘ সময় তিনি কাটালেন তাঁর বন্ধু শাজাহানের স্মৃতিচারণায়। বুঝতেই পারছিলাম যে টেলিফোন লাইনের অপর প্রান্তের মানুষটি, তাঁর বন্ধুর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। কত তাঁর কথা, কত স্মৃতি। আর তা ধরে রাখার জন্য কত আন্তরিক একজন বন্ধু।
রাজ্যপালের পাট চুকিয়ে দিল্লিতে তাঁদের ছিমছাম ফ্ল্যাটে গুছিয়ে বসলেন মানুদা আর তাঁর ব্যারিস্টার স্ত্রী মায়াদি। নিতান্ত আগ্রহ-উদ্দীপক না হলে কোনো মামলাই তাঁরা হাতে নিতেন না। সন্ধ্যায় টেলিফোন পেয়েছি। ‘কি করছ আজ রাতে? চলে এসো। ভালো বাঙালি খাবার আছে।’ ছুটে যেতাম। ভালো বাঙালি খাবার পছন্দ করি বলে নয়, দুজন ভালো মানুষের জন্য তত দিনে আমার এবং আমার স্ত্রী জীনার ভালোবাসা জন্মে গেছে বলে। আমার স্ত্রী জীনার লেখাপড়া মূলত দার্জিলিং, কলকাতা আর লন্ডনে। অতএব পরিচিত মানুষের আর গুরুত্বপূর্ণ কত ঘটনার কথা বলতে বলতেই সময় কেটে যেত। এখনো মনে আছে, তাঁর হলঘরের সামনে টানানো ছিল বাংলাদেশের অনেক পুরোনো একটি নকশি কাঁথা। এত সুন্দর কাঁথা আর কোনো দিন চোখে পড়েনি। মানুদা যখন কথা বলতেন, (কী চমৎকার ছিল তাঁর বাচনভঙ্গি, কি বাংলায়, কি ইংরেজিতে) উপমহাদেশের রাজনীতির বিবর্তনের কথা, মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম। কোনো বইয়ে এত সুন্দরভাবে, এমন প্রাঞ্জলতায় কেউ তো তা কোনো দিন আমার জন্য লেখেনি।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে, চাকরি থেকে অবসর নিয়ে আমি তখন ব্র্যাকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছুটি কাটাতে আমরা দুজন ওয়াশিংটন গেছি। মানুদা তখন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত—ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহলে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। ভারতীয় দূতাবাসে টেলিফোন করে জানলাম, তিনি শিকাগোতে (খুব সম্ভবত) রয়েছেন। ভাবলাম, সেই যাত্রায় আর দেখা হলো না। কিন্তু কই। দুই ঘণ্টা পরই ভারতীয় দূতাবাস থেকে টেলিফোন। রাষ্ট্রদূত সিদ্ধার্থ শংকর রায় আমাদের দুজনকে অমুক সন্ধ্যায় দাওয়াত করেছেন। সুন্দর আরও একটি সন্ধ্যার প্রতিশ্রুতি। প্রত্যাখ্যান তো কিছুতেই করা যায় না। গাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। আমাদের ওয়াশিংটন সফরের কত বড় একটি পাওয়া।
মানুদার সঙ্গে শেষ দেখা ২৬ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে তাঁর ২ বেলতলার বাড়িতে। পুরোনো বিরাট এই বাড়িটিতেই তাঁর জন্ম এবং পরে তা তিনি কিনে নিয়েছিলেন। কলকাতায় সেটাই তাঁর স্থায়ী ঠিকানা। ট্যাক্সিওয়ালাকে ঠিকানাটি ছাড়া আর কিছু বলার প্রয়োজন পড়ে না। মানুদা আর মায়াদি দুজনেরই তখন বয়স হয়েছে। মানুদার বয়স তখন ৮৮। তাঁরা বাড়ি থেকে বেরুনই না। মানুদার ডায়াবেটিক নিউরোপেথি বলে একটি দুরারোগ্য রোগ। ভয় ছিল, সেটাই হয়তো হবে তাঁর সঙ্গে শেষ দেখা। তাই হোটেলে ফিরে এসে কিংছু নোট রেখেছিলাম। নেহাতই ব্যক্তিগত মন্তব্য বাদ দিয়ে তা সংক্ষেপে স্মরণ করছি এই জন্য যে তা থেকে হয়তো বা তাঁর মাহাত্ম্যের কিছু আভাস পাওয়া যাবে।
দোতলা বাড়ির প্রথম তলায় বই আর বই। অনেক বই-ই দুর্লভ, তাঁর নানা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কেনা। ওপরের দোতলার বসার ঘরের মূল সোফাটি তাঁর নানা চিত্তরঞ্জন দাশের বিয়ের উপহার—তাঁকে আর মায়াদিকে। সে তো বেশ কটি দশকের কথা। সোফার স্টাইল কতই না এখন পাল্টেছে, কিন্তু তাঁদের দুজনের কাছে সোফাটি যে অমূল্য স্মৃতি।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে আমরা কামরায় প্রবেশ করে দেখি তিনি কোরআন শরিফের পাতা ওল্টাচ্ছেন। তিনি বললেন, কই, কোরআনে তো সর্বত্রই রয়েছে আল্লা ক্ষমাশীল। রাহমানুর রাহিম। তবে কেন কিছু কিছু লেখক-লেখিকা (বিশেষ করে একজনের কথা তিনি স্মরণ করেছিলেন) গায়ে পড়ে ধর্মের অবমাননা করেন। প্রত্যেকের কাছেই তো তার ধর্মের মূল্য রয়েছে। বুঝলাম, কোরআন শরিফ তাঁর নতুন পড়া নয়। তাঁর বসার ঘরের প্রধান চিত্রকর্ম হলো জয়নুল আবেদিনের; বসার ঘরে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর উপহার একটি রুপার নৌকা। মানুদা বললেন যে তাঁর ওয়ালেটে সংরক্ষিত রয়েছে বঙ্গবন্ধু এবং ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর একটি ছবি—১০ জানুয়ারি ১৯৭২-এ দিল্লিতে তোলা ভারতের (উপমহাদেশ) ধর্মীয় অসাম্প্রদায়িকতা তাঁকে এখনো পীড়া দেয়, বললেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ বেঁচে থাকলে ভারতের রাজনীতি ভিন্নতর খাতে প্রবাহিত হতো। তাঁর দাদামশায়ের সঙ্গে জিন্নাহ সাহেবের ‘সখ্য’ ছিল। তাঁরা দুজনই হুইস্কি ভালোবাসতেন, হেসে বললেন তিনি। তিনি বললেন যে জমিদারি উচ্ছেদ মামলার মাধ্যমেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ১৯৫৬ সালে যখন কলকাতায় কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছিল, তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হন। তাঁর জীবনের লক্ষ্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গের অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়া। কিন্তু বিধান রায় তাঁকে আইনমন্ত্রী করলেন, যেখানে তাঁর দায়িত্বের পরিধি ছিল ব্যাপকতর। তখন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু।
মানুদা তাঁর ১৯৭১-৭২-এর ভূমিকার কথা স্মরণ করলেন। বললেন, তিনি যখন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এক হাজার মুক্তিযোদ্ধার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন, তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠা প্রত্যয় তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ অচিরেই স্বাধীন হবে। তিনি ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১-এর কথা স্মরণ করলেন। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কলাকাতায় ভাষণ দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি ছোট কাগজ গুঁজে দিলেন। কাগজটি ইন্দিরা গান্ধী পড়ে তাঁর হাতেই রেখে দিলেন। রাজভবনে পৌঁছেই তিনি মানুদাকে বললেন, ‘ওরা আক্রমণ করেছে।’ কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার পথেই ওয়্যারলেসে কেবিনেট মিটিং ডাকা হলো, ডাকা হলো পুরো মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং তারপর বৈঠক বিরোধী দলের সঙ্গে। সেই বৈঠকটা কিছুটা সময় নেওয়ার জন্য ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছু পরই ইন্দিরা গান্ধী তাঁর ভাষণ দিয়েছিলেন।
‘সে তো পুরোনো কথা। এখন সবাই মিলে যেন উপমহাদেশে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ কাজটি আমাদের নিজেদেরই করতে হবে।’ বললেন তিনি।
মানুদা পরিণত বয়সেই তো গেলেন। তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া তাঁর নানা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সমাধির কাছেই সম্পন্ন হয়েছে। মায়াদিকে আর তাঁর পরিবারের পরিচিত অন্যদের সমবেদনা জানিয়েছি। মনে পড়ে, কলকাতায় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে দেখা করে মনে হয়েছিল, কিছু মানুষের জীবন কেন অনন্ত হয় না? মানুদার বেলায়ও তা-ই মনে হয়। তিনি এবং তাঁর মতো দশ-পাঁচটা মানুষ তো আমাদের উপমহাদেশের চিত্র বদলে দিতে পারেন। হয়তো বা একদিন তা আমরা অর্জন করব। সেই বিচারে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের মতো মানুষ অমরত্বই তো লাভ করবেন।
 ফারুক চৌধুরী: সাবেক পররাষ্ট্র সচিব। কলাম লেখক।
zaaf@bdmail.net

রাস্তা আটকে সভা-সমাবেশ -জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে কবে

ঢাকায় কোনো গন্তব্যে আজ যদি যাওয়া যায় ৩০ মিনিটে, কাল যে সেই একই গন্তব্যে যেতে দেড় ঘণ্টা লাগবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোনো এক সিগন্যালেই হয়তো আপনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ৩০ মিনিট। এমন দুর্ভোগ আর অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যেই চলছে ঢাকার নাগরিক জীবন। ট্রাফিক-ব্যবস্থা বলে যা কার্যকর আছে, তা আসলে অব্যবস্থা। এর সঙ্গে যখন যুক্ত হয় রাস্তা আটকে মিছিল-সমাবেশ, তখন তাকে নগরবাসীর সঙ্গে নিষ্ঠুর পরিহাস ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়!
গত রোববার ছিল সপ্তাহের শুরুর দিন। এই দিনটিতে স্বাভাবিকভাবেই একটু বাড়তি কর্মব্যস্ততা থাকে। সেই দিনটিতেই ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত রাস্তা আটকে দুটি সমাবেশ হয়েছে। একটি বিরোধী দল বিএনপির ও অন্যটি সরকারি দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের। এই সমাবেশ দুটির কারণে দুপুর থেকেই নয়াপল্টন এলাকা অচল হয়ে পড়ে এবং বঙ্গবন্ধু এভিনিউতেও জনদুর্ভোগ বাড়ে, আর এর প্রভাবে কার্যত স্থবির হয়ে যায় পুরো রাজধানী। এর রেশ ছিল রাত পর্যন্ত। পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়েই এই সমাবেশ দুটি হয়েছে। রাস্তা আটকে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়ার পেছনে পুলিশের যুক্তি হচ্ছে, আর ‘কোনো বিকল্প স্থান’ ছিল না। আমাদের দেশে অনেক কিছুরই বিকল্প থাকে না, কিন্তু সে ক্ষেত্রে কিছু বিবেচনা বোধ কাজ করা উচিত। লাখ লাখ নগরবাসীর দুর্ভোগ নাকি দুটি রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ—কোনটি বিবেচনায় নেওয়া হবে, সেই বোধটি থাকা জরুরি।
আনুষ্ঠানিকভাবে হয়তো পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারকদের সবুজসংকেত ছাড়া তা হয়নি। সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে দুঃখজনকভাবে জনদুর্ভোগের চেয়ে দুটি রাজনৈতিক দলের সভার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবেই দেখা হয়েছে। বিরোধী দলের সভা অনুষ্ঠান করতে না দিলে এ নিয়ে কথা উঠত, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু রাজপথে সভা-সমাবেশ করা যাবে না—এ সিদ্ধান্তে সরকার যদি স্থির ও কঠোর থাকত, তবে এ নিয়ে বিরোধী পক্ষ কথা বলার সুযোগ পেত না। রোববার যে দুটি সভা হয়েছে, তার একটি ছিল সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের। এর আগে জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিয়ে দেশে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে গিয়ে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা পুরো শহর অচল করে ফেলেছিলেন। রাস্তা আটকে যে সভা-সমাবেশ করা যাবে না—সরকার ও সরকারি দলের লোকজন নিজেরাই তা মেনে চলেনি।
ঢাকার যানজট পরিস্থিতি এখন যে অবস্থায় পৌঁছেছে, তাতে সামান্য সময়ের জন্যও কোনো রাস্তা আটকে রাখার সুযোগ নেই। জনদুর্ভোগের বিষয়টি যদি সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে ভবিষ্যতে রাস্তা আটকে কোনো সভা-সমাবেশ হবে না, সে আশা করা যায়। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, জনদুর্ভোগের বিষয়টি সরকারের কাছে গুরুত্ব পাবে তো?

আফগানিস্তানে আইনপ্রণেতা ও প্রার্থীদের বিক্ষোভ

আফগানিস্তানে গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন বাতিল এবং সেখানে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে দেশটির আইনপ্রণেতা ও প্রার্থীদের একাংশ বিক্ষোভ করেছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। এ বিক্ষোভ আফগানিস্তানে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের প্রাসাদ এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে গতকাল রোববার বিক্ষোভরত আইনপ্রণেতা ও প্রার্থীদের একাংশের সঙ্গে কয়েক শ সাধারণ মানুষকেও যোগ দিতে দেখা গেছে। তাঁরা সেখানে সরকার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিছিল করেন। মিছিলের সামনে ব্যানারে লেখা ছিল ‘আমরা ১৮ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করছি এবং সরকারকে পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তালেবান জঙ্গিদের হুমকি সত্ত্বেও সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচন দেয় হামিদ কারজাইয়ের সরকার। গত অক্টোবরের শেষদিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার কথা থাকলেও এখনো তা করতে পারেনি ইনডিপেনডেন্ট ইলেকশন কমিশন (আইইসি)। মোট ভোটের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে আইইসি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বাতিল করায় নির্বাচন-প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। আইইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপিতে মদদ জোগানোর অভিযোগ উঠেছে।
নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর ইনডিপেনডেন্ট ইলেকশন কমিশন জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তাকে জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর এ বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর আফগানিস্তান-সম্পর্কিত নীতি পর্যালোচনা করার সময় এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া এ মাসেই লিসবনে ন্যাটোর যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানেও এ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইয়েমেনে চালকবিহীন বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাকড়াও করতে ইয়েমেনে চালকবিহীন বিশেষ বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আরব দেশগুলোতে আল-কায়েদার তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল রোববার ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে নাম উল্লেখ না করে মার্কিন জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, ওই সব বিমান থেকে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়নি। কারণ জঙ্গিরা ঠিক কোন জায়গায় অবস্থান নিয়েছে, সে সম্পর্কে গোয়েন্দারা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
গত মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রগামী পণ্যবাহী বিমান থেকে বিস্ফোরকভর্তি দুটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল-কায়েদার আরব শাখা ওই বোমা পাঠানোর দায় স্বীকার করেছে।
প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, আল-কায়েদা নেতা ও জঙ্গিদের সন্ধানে মার্কিন চালকবিহীন বিমান বেশ কয়েক মাস ধরে ইয়েমেনের আকাশে টহল দিচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর হামলা ও মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইয়েমেনের আল-কায়েদা নেতারা আত্মগোপন করে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন।
ইয়েমেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে হেলিকপ্টারসহ বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জামের চালান আরও দ্রুত পাওয়ার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের তাগিদ দিচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১১ সালের মধ্যে ইয়েমেনে সামরিক সহায়তা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস গত শনিবার অস্ট্রেলিয়ায় বলেন, আল-কায়েদা ইয়েমেনকে নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে। দেশটিতে ইয়েমেনের নিরাপত্তা বাহিনীকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় মার্কিন সামরিক বাহিনী তা খতিয়ে দেখছে।

ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে কী হচ্ছে by শিবনারায়ণ কৈরী |

বাংলাদেশে এখন প্রতিবছর প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষুদ্রঋণ গ্রামাঞ্চলে বিতরণ হচ্ছে। গ্রাম্য অর্থনীতিতে এর প্রভাব ব্যাপক। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, ক্ষুদ্রঋণ দরিদ্র লোকের কোনো উপকারে আসছে না। কিন্তু গ্রামে এই যে বিশাল অর্থ সরবরাহ হচ্ছে, তার প্রভাব কি অর্থনীতিবিদেরা একটু ভেবে দেখবেন? এই অর্থ গ্রামে ব্যয় হলে সেখানে নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়। দেখা যায়, ছোট ছোট নানা ধরনের ব্যবসার প্রসার ঘটছে; জুতার দোকান, দর্জির দোকান, মুদি দোকান, চায়ের স্টল, ফোনের দোকান—এ ধরনের হরেক রকম ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চলছে। এর অন্যতম চালিকাশক্তি ক্ষুদ্রঋণ। ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতারা অর্থ নিয়ে তা ব্যয় করছেন গ্রামেই। এর প্রভাবে লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। যাঁরা ক্ষুদ্রঋণের প্রভাব বিশ্লেষণ (ইমপ্যাক্ট অ্যানালাইসিস) করেন, তাঁরা এ বিষয়গুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে দেখবেন।
চিরাচরিত ব্যাংকিং-ব্যবস্থায় সব ব্যাংকের গ্রামের শাখাগুলোতে সঞ্চয় জমা হয় এবং শহরাঞ্চলের শাখাসমূহে ঋণ বিতরণ হয়। গ্রামের গরিব জনসাধারণ শহরের বিত্তবানদের পুঁজির জোগান দিচ্ছে। এ ব্যবস্থার উল্টো চিত্র হচ্ছে ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রে। অনেক এনজিও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গ্রামের গরিব লোককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থের জোগান দিচ্ছে।
অনেকেই শুধু ঋণগ্রহীতার উন্নয়ন হচ্ছে কি না, তা দেখেন এবং সেই বিষয়ে বই লেখেন। গত ২৫-৩০ বছর মাঠে মাঠে ঘুরে আমরা যে চিত্র দেখছি, অনেক সময় তার সঙ্গে বই-পুস্তকের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।
গ্রামের নারীরা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে নার্সারি করছেন। গ্রামের প্রতিটি বাজারে নানা ধরনের ফল ও ফুলের চারা বিক্রয় করছেন। যখন দেখি গ্রামের হাট থেকে কৃষক বাজারের থলেসহ হাতে একটি গাছের চারা নিয়ে আসছেন, তখন মনে হয়, এ দৃশ্যটা কল্পনা থেকে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরে নারীরা হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল পালন করে যে বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তার অর্থের জোগান কে দিচ্ছেন, একটু ভেবে দেখার জন্য সবাইকে অনুরোধ করব।
গ্রামের যে নারী বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করছেন এবং সবজি বিক্রি করে মেয়ের বইখাতা কিনছেন, তার মূল্য কি হিসাব কষে বের করা সম্ভব?
৩০ বছর আগে যেখানে অনেক গ্রামে দেখা যেত একটিও টিনের ঘর নেই, এখন সেখানে গিয়ে চার-পাঁচটি বাড়ি ঘুরলেই দেখতে পাবেন একটি টিনের ঘর। মানুষের কোনো উন্নয়ন না হলে এটা হতো না। আগে অনেক মানুষ না খেয়ে থাকত। আগে গ্রামে যখন কোনো বাড়িতে বিয়েশাদি হতো, তখন অনেক বুভুক্ষু মানুষ ভিড় করত একবেলা খাবার পাওয়ার আশায়, এখন সেই চিত্র আর নেই।
গ্রামবাংলার মানুষের উন্নয়নের চিত্র আপনি পাবেন যখন দেখবেন, সকালে গ্রামের ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে স্কুলে যাচ্ছে। এখন প্রায় সব পরিবারের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। এখানে ছোট একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই। আমরা যখন প্রথম কাজের সূত্র ধরে ১৯৮৪ সালে প্রথম ব্র্যাকের সংগঠিত গ্রামসংগঠনের মিটিংয়ে যাই, তখন দেখি ৩০-৪০ জন নারী সেখানে এসেছেন। সবাই মাদুর পেতে উঠানে বসেছেন। আমি ও আমার সহকর্মীরা গেছি। আমাদের পায়ে জুতা। আমরা জুতা খুলে বসলাম। মাদুরের বাইরে শুধু আমাদেরই জুতা। কয়েক দিন আগে অর্থাৎ ২০১০ সালে একই ধরনের একটি এলাকায় গিয়ে দেখি, সবাই জুতা এবং ভালো জামাকাপড় পরে এসেছেন। এতে কি প্রমাণিত হয় না গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণের উন্নতি হচ্ছে? আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা এই প্রমাণগুলো অনেককেই বোঝাতে পারছি না।
গত কয়েকটি বছরের অর্থনৈতিক মন্দা আমাদের অর্থনীতিতে খুব একটা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারেনি, তার বড় একটা কারণ হচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ। এই কয়েক বছর শত বাধা সত্ত্বেও ক্ষুদ্রঋণের প্রসার কমেনি, বরং বেড়েছে।
এখন অনেক ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামগঞ্জে এন্টারপ্রাইজ ঋণ দিচ্ছে। এতে করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে এবং গ্রামে দরিদ্র যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থনীতিতে কীভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তাও ভেবে দেখার জন্য আমি অর্থনীতিবিদদের বিনীত অনুরোধ করব।
প্রায় সব ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা নারী। এই নারীরা আগে ঘরে বসে থাকতেন এবং পুরুষেরা তাঁদের ধর্মের নানা অপব্যাখ্যা দিয়ে ঘরের বাইরে আসতে নিষেধ করতেন। আজ চিত্র ভিন্ন। প্রতিটি গ্রামে প্রতিটি পরিবার থেকে দু-একজন করে প্রায় দুই কোটি নারী আজ প্রতি সপ্তাহে একত্র হচ্ছেন, নিজেদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছেন এবং সমাধানের পথ তৈরি করছেন। এর মূল্য অর্থনীতিবিদেরা কীভাবে পরিমাপ করবেন, আমি জানি না। তবে এই বিশাল কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবে আজ বিশ্বকে বলতে পারছি, আমরা জেন্ডার সমতায় এবং সামাজিক উন্নয়নে অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
আজ আমরা দেখছি শিশুমৃত্যুর হার কমছে, নারীদের পুষ্টিহীনতা আগের তুলনায় অনেক কম। জন্মনিয়ন্ত্রণ-সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বৃদ্ধি—সবকিছুই ঘটছে নারীদের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করায়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ক্ষুদ্রঋণকে যদি তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া হয়, তাহলে আরও অনেক উন্নয়ন ঘটবে, যা এখনো শুধু আমাদের স্বপ্ন।
আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ হবে। প্রতিটি শিশু স্কুলে যাচ্ছে। মেধাবীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। অন্যরা বৃত্তিমূলক শিক্ষা পাচ্ছে অথবা অঙ্ক, ভাষা ও ব্যবহারিক জ্ঞান আহরণ করে নিজ নিজ কাজে নিয়োজিত হয়ে সাফল্য অর্জন করছে।
সব জনসাধারণ স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবার গড়ছে। নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করছে। পরিবারে সব সিদ্ধান্তে সমান অংশগ্রহণ, সম্পদে সমান অধিকার, সন্তান জন্মদান ও পরিবার গঠনের সিদ্ধান্তে নারীদের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি পরিবার বাসস্থান, পানীয় জলের সুবিধা, স্যানিটারি ল্যাট্রিন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদি সুবিধা পাচ্ছে।
ক্ষুদ্রঋণ গ্রামের অর্থনীতি তথা গরিব জনসাধারণকে বেঁচে থাকার পথ দেখিয়েছে, এই ক্ষুদ্রঋণব্যবস্থাকে বাধাবিঘ্ন বা আইনের বেড়াজালে না বেঁধে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিলে ক্ষুদ্রঋণ তার সৃজনশীলতা দিয়ে গরিবদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবদান রাখবেই—এই বিশ্বাস আমাদের সবার আছে।
 শিবনারায়ণ কৈরী: পরিচালক, অর্থ ও হিসাব, ব্র্যাক।

বিডি ওয়েল্ডিং ও বিচ হ্যাচারির রাইট শেয়ার অনুমোদন দেয়নি এসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং লিমিটেড ও বিচ হ্যাচারি লিমিটেডের ঘোষিত রাইট শেয়ার বাতিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এসইসির ১৬৪তম সভায় আজ সোমবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও এ টি এম তারিকুজ্জামান এ তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং লিমিটেডের অন্যতম পরিচালক দিনা আহসানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকায় কোম্পানির ঘোষিত রাইট শেয়ারের অনুমোদন দেয়নি এসইসি। এর আগে গত ৫ জুলাই কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ একটি শেয়ারের বিপরীতে দুটি রাইট শেয়ার ঘোষণা করে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য এসইসিতে পাঠায়। এসইসি ঋণ খেলাপির বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে রাইট শেয়ার ঘোষণায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ২০০৬-এর ৮(এইচ) ধারা ভঙ্গ করায় বিচ হ্যাচারি লিমিটেডের ঘোষিত রাইট শেয়ারের অনুমোদন দেয়নি এসইসি। গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ২০০৯ সালের জন্য একটি শেয়ারের বিপরীতে দুটি রাইট শেয়ার ঘোষণা করে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য এসইসিতে পাঠায়। নিয়ম ভঙ্গের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর এসইসি আজ এ সিদ্ধান্ত নেয়।

ইরাকে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ৪৮

ইরাকের কারবালা শহরে গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে ১৬ জন। গতকাল সোমবার এ হামলা চালানো হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ইরান থেকে আসা তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাসকে আরেকটি গাড়ি নিয়ে অনুসরণ করতে থাকে হামলাকারী। পরে কারবালায় ‘ইমাম আব্বাস’ মসজিদের কাছে পৌঁছালে হামলাকারী তীর্থযাত্রীবাহী ওই বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িতে লুকিয়ে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলার পর কারবালায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।
হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ইরানের নাগরিক।

মডার্ন পলি ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও বাতিল করেছে এসইসি

পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের আগেই অনিয়মের অভিযোগে মডার্ন পলি ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও বাতিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ সোমবার কমিশনের ৩৬৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও এ টি এম তারিকুজ্জামান এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বিফিংয়ে জানানো হয়, সম্প্রতি এসইসি মডার্ন পলি ইন্ডাস্ট্রিজের বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে মূলধন সংগ্রহের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দরপত্র আহ্বানের জন্য অনুমোদন দেয়। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় এসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের পর্যবেক্ষণে অনিয়মের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, মডার্ন পলি বাজার থেকে উত্তোলিত টাকা দিয়ে মডার্ন ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ নামে তাদেরই একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার প্রস্তাব করে। এই প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে তারা পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি থেকে ৬০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছিল। পুঁজিবাজারের আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি ১০ কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে এসইসির অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এসইসির অনুমোদন না নিয়ে যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের পরিদপ্তর (আরজেসি) থেকে মূলধন বাড়ানোর কাগজপত্র নিয়ে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের ব্যাপারটি নজরে আসার পর আজ বিষয়টি নিয়ে কমিশনের সভায় আলোচনা শেষে মডার্ন পলির আইপিও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারিকুজ্জামান বলেন, কমিশন এটা ইচ্ছা করে এড়িয়ে যায়নি। এসইসি সাধারণত কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দেওয়া তথ্যের যথার্থতার (ডিউ ডিলিজেন্স) ভিত্তিতে প্রথমিক অনুমোদন দেয়। তবে এ ক্ষেত্রে ইস্যু ব্যবস্থাপক কোনো তথ্য গোপন করলে তার দায়িত্ব এসইসির নয়। কেননা এসইসিতে হাজার হাজার কোম্পানি অনুমোদনের জন্য আসে। সব কোম্পানির তথ্য খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা এসইসির পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এ কাজে জড়িত কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপক অ্যালায়েন্স ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউইয়র্ক ম্যারাথনে অংশ নিলেন চিলিতে উদ্ধার হওয়া খনিশ্রমিক

চিলির খনি থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রমিক এডিসন পেনা নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন। ৪২.৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাঁর সময় লেগেছে পাঁচ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।
৬৯ দিন খনিতে আটকে থাকার পর গত মাসে পেনাসহ ৩৩ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। ওই সময় খনির মধ্যে ট্যানেলে প্রতিদিন প্রায় ১০ কিলোমিটার করে দৌড়াতেন পেনা। ওই ঘটনায় উৎসাহিত হয়েই ম্যারাথনের আয়োজকেরা তাঁকে ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ বছর প্রায় ৪৩ হাজার প্রতিযোগী ম্যারাথনে অংশ নেয়।
প্রতিবছর এই ম্যারাথনের আয়োজন করে নিউইয়র্ক রোড রানার্স ক্লাব। এই সংগঠনের খরচেই পেনা এবং তাঁর স্ত্রী নিউইয়র্কে আসেন।
নিউইয়র্ক ম্যারাথনের ক্যাপ পরে পেনা যখন দৌড়াতে থাকেন, তখন আশপাশের প্রতিযোগীরাও তুমুল হাততালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। এ সময় পেনার প্রিয় গায়ক এলভিস প্রিসলির গান বাজাতে থাকে লাউড স্পিকারে। হাঁটুতে সামান্য ব্যথা সত্ত্বেও তিনি প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম সময়ে পাঁচ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে দৌড় শেষ করেন। দৌড় শুরুর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, স্টাটিন আইল্যান্ড থেকে সেন্ট্রাল পার্ক পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাঁর ছয় ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

বেশির ভাগ শেয়ারের দর পতন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সোমবার বেশির ভাগ শেয়ারের দর পতন হয়েছে। কমেছে আর্থিক লেনদেনও। তবে ব্যাংক খাতে আজও চাঙাভাব দেখা গেছে।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমেছে। লেনদেন হওয়া ২৪১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৬টির, কমেছে ১৬৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর।
এদিকে আজ বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমলেও ব্যাংক খাতে চাঙাভাব লক্ষ করা গেছে। আজ এ খাতের ৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫টির দর বেড়েছে।
আজ সাধারণ মূল্যসূচক ১৪ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭৯৭৪ দশমিক ০৪ পয়েন্টে। সাধারণ সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে আজ লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের শুরুতেই সাধারণ সূচক আট হাজার অতিক্রম করে ৮০৩০ পয়েন্টে উঠে দাঁড়ায়। বেলা সাড়ে একটার পর সূচক নিম্নগামী হতে থাকে। তিনটায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে ৭৯৭৪ পয়েন্টে এসে স্থির হয়।
ডিএসইতে আজ মোট দুই হাজার ৪২৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ২৯৪ কেটি টাকা কম।
আজ লেনদেনে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—পিপলস লিজিং, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাশেম ড্রাইসেলসের শেয়ারের দর। এ ছাড়া সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ফু-ওয়াং সিরামিক, রেকিট বেনকিজার ও মন্নু স্টাফলারস দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে সাভার রিফ্রেটারিজের শেয়ারের দর। এ ছাড়া বঙ্গজ, সমরিতা হাসপাতাল, ওশান কন্টেইনারস ও দেশ গার্মেন্টস দর কমে যাওয়া শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ ডিএসইর বাজার মূলধন ৩,৩৫,৫৮০ কোটি টাকা।

নওয়াজ আর ক্ষমতায় আসতে পারবেন না: মোশাররফ

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ বলেছেন, পিএমএল-এনের নেতা নওয়াজ শরিফ আর কোনো দিন ক্ষমতা ফিরে পাবেন না এবং তাঁকে আদালতেও নিতে পারবেন না।
মোশাররফ বলেন, বালুচ নেতা নওয়াব আকবর বুগতি ও লাল মসজিদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের জন্য তিনি অনুতপ্ত নন। পারভেজ মোশাররফ জোর দিয়ে বলেন, তাঁর কাজের জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন না।
গত শনিবার রাতে নিউইয়র্কে পাকিস্তানিদের এক সমাবেশে পারভেজ মোশাররফ বলেন, ‘নওয়াজ ভালো করেই জানেন যে তিনি ক্ষমতায় যেতে পারবেন না আর আমাকেও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবেন না।’
অবসরপ্রাপ্ত এই জেনারেল বলেন, বালুচ নেতা নওয়াব আকবর বুগতি ও লাল মসজিদের বিরুদ্ধে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপের জন্য তিনি অনুতপ্ত নন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি আবার এ ধরনের কাজ করবেন।
নওয়াজ শরিফকে আক্রমণ করে মোশাররফ বলেন, যখন তিনি পাঞ্জাবিদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য ‘জাগ পাঞ্জাবি জাগ’ স্লোগান তুলছেন, নওয়াজ তখন বেলুচিস্তানে পাঞ্জাবিদের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
পারভেজ মোশাররফ ১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানে নওয়াজ শরিফকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন।

সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিতে গণভোট হবে অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানে আদিবাসী লোকজনকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে সে দেশে গণভোট হবে। গতকাল সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা ঘোষণা করা হয়। দেশের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অবস্থার উন্নয়নে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার এখন সাড়ে পাঁচ লাখ আদিবাসী রয়েছে। বেকারত্ব, কারাবাস, মাদকাসক্তি ও ব্যাধির মতো বিভিন্ন জটিল সমস্যায় তারা জর্জরিত।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ৫০ বছরের মধ্যে একবার এই সুযোগ এসেছে। ব্যাপক জনসমর্থন ও পার্লামেন্টারি সমর্থন সামনে রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর এই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের আদিবাসীদের কাছে ঐতিহাসিক ক্ষমা প্রার্থনার তিন বছর পর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ কথা জেনেই ক্ষমতায় এসেছি যে আবেগের পাশাপাশি বাস্তব পর্যায়েও পরিবর্তন প্রয়োজন। আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এই যাত্রার পরবর্তী পদক্ষেপ।’
গিলার্ড বলেন, ভোটের আগে বিষয়টির ব্যাপারে ঐকমত্য গড়ে তোলা আবশ্যক। এই ভোটের আয়োজনে কমপক্ষে ১২ মাস লাগবে বলে তিনি জানান।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল

বাগেরহাটে জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন শাহ আউলিয়াবাগ সরকারি প্রাথমিক স্কুল বাদোখালি প্রাথমিক স্কুলকে টাইব্রেকারে হারিয়েছে আউলিয়াবাগ। সুনামগঞ্জে দোয়ারাবাজার উপজেলা ছাতককে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শেরপুরে জেলা পর্যায়ে শেরপুর সদর উপজেলাকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন নকলা। —বাগেরহাট প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ও শেরপুর প্রতিনিধি

চাঁদের ছবি পাঠিয়েছে চীনা নভোযান

চীন গতকাল সোমবার চন্দ্রপৃষ্ঠের কিছু নতুন ছবি প্রকাশ করেছে। চন্দ্রাভিযানে পাঠানো চীনের মানববিহীন নভোযান চ্যাং ই টু এসব ছবি পাঠিয়েছে। চীনের ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।
চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও গতকাল চাঁদের ছবিগুলো অবমুক্ত করেন। এই ছবিগুলো চাঁদের সাইনাস ইরিডিয়াম এলাকার। এটি ‘বে অব রেইনবোস’ নামেও পরিচিত। চন্দ্রপৃষ্ঠে প্রথম অবতরণের জন্য ওই এলাকাটি বেছে নিয়েছে চীন।
১ অক্টোবর চাঁদে অভিযান চালানোর লক্ষ্যে চ্যাং ই টু ছাড়া হয়। আট দিন পর এটি কক্ষপথে প্রবেশ করে। ১০০ কিলোমিটার দূর থেকে চাঁদকে প্রথম প্রদক্ষিণের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে চীনা নভোযান।
বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা চন্দ্রযানটি সাইনাস ইরিডিয়ামের যেসব ছবি পাঠিয়েছে, এতে সমতল ভূভাগে খানাখন্দ এবং বিভিন্ন আকারের পাথর দেখা গেছে। সেখানে সবচেয়ে বড় খাদটির ব্যাস দুই কিলোমিটার। এটি চাঁদের সবচেয়ে সুন্দর এলাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চ্যাং ই টু ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চাঁদের ব্যাপারে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। ২০১৩ সালে চ্যাং ই থ্রি নামের আরেকটি নভোযান পাঠাবে চীন। চলমান চন্দ্রাভিযান এরই প্রস্তুতি।

আস্থা নেই অস্ট্রেলীয়দেরই

‘এখন তবে আমাদের সত্যিকারের গ্রীষ্ম শুরু হোক!’ কাল সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ জেতার পর মাইকেল ক্লার্কের কণ্ঠে থাকল অ্যাশেজের কথা। একই দিন ইংল্যান্ডও ভালোই প্রস্তুতি নিয়ে রাখল প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়ে। প্রথম ইনিংসে ফিফটির পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২২ বলে ৩৫ রান তুলে কেভিন পিটারসেন তাঁর ফর্ম-সংক্রান্ত আলোচনাকে মাটিচাপাও হয়তো দিলেন। তবে ইংল্যান্ডকে ওভারে পাঁচের ওপর রান তুলে তিন দিনের ম্যাচটা জিতিয়েছে অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের ১৪১ বলে ১২০।
অবশ্য প্রতিপক্ষের দিকে তীর যা ছোড়ার পিটারসেনই ছুড়ছেন। অস্ট্রেলিয়া যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে হারল, খেলা দেখেছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পিটারসেন বলছেন, শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ নিয়ে ভাবার সময় নাকি তাঁর নেই, ‘আমি একটা বলও দেখিনি। এর চেয়ে স্কাইপি দিয়ে বউ-বাচ্চার সঙ্গে কথা বলেছি। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর টিভিই দেখিনি।’
আপাতত শেষ ওয়ানডে জিতে আত্মবিশ্বাস খানিকটা হলেও ফিরে পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যদিও গতকালই প্রকাশিত সানডে টেলিগ্রাফ-এর জরিপ বলছে, এই দলের ওপর ভরসা নেই অস্ট্রেলীয়দেরই। অনলাইনে অংশ নেওয়া ৬ হাজার পাঠকের ৫৭ শতাংশ মনে করে, এবার অ্যাশেজ জিততে পারবে না অস্ট্রেলিয়া। ৭৪ শতাংশই ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে মাইকেল ক্লার্ককে পছন্দ করছে না। ৬৮ শতাংশ মনে করে, কোচ টিম নিলসেনেরও যাওয়ার সময় এসেছে। সেই জায়গায় শেন ওয়ার্নকে দেখতে চায় ৪৮ শতাংশ পাঠক। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে নির্বাচকদের বিরুদ্ধে। বর্তমান নির্বাচক কমিটি বিলুপ্ত করার পক্ষে ৯০ শতাংশ!
অস্ট্রেলিয়া কিন্তু পাশে পাচ্ছে গ্লেন ম্যাকগ্রার মতো সাবেক তারকাকে। এই পেসার বলছেন, এই অ্যাশেজেই দারুণ করবে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা, অ্যাশেজও জিতবে অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই ঝলমলে জাতীয় লিগ

আজ শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় পর্ব। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা খেলবে খুলনার বিপক্ষে। ধানমন্ডি স্টেডিয়ামে বরিশালের প্রতিপক্ষ রাজশাহী।
জাতীয় দলের তারকারা না থাকায় গত কয়েকটি ম্যাচ ছিল বর্ণহীন। তবে আজ থেকে রং ফিরবে। দ্বিতীয় পর্বে খেলবেন সাকিব, আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফীসরা। আগে ঠিক ছিল দ্বিতীয় পর্বের দুই রাউন্ড ও ফাইনালে খেলবেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা, তবে বোর্ড আজ থেকেই তাঁদের খেলার অনুমতি দিয়ে দিল।
জাতীয় লিগের এই ম্যাচগুলো হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের জন্য জিম্বাবুয়ে সিরিজের দলে ফেরার পোশাকি মহড়া। কোচ জেমি সিডন্স শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্র্যাকটিস সেশনে কাল সেটাই পরিষ্কার বলে দিলেন, ‘এখানে যারা পারফর্ম করবে তারাই দলে আসবে। দলে জায়গা পেতে কঠিন লড়াই করতে হবে ছেলেদের।’
কাল মিরপুর স্টেডিয়ামে ক্রিকেটারদের হালকা অনুশীলন হয়েছে। বোলিং কোচ ইয়ান পন্ট ঘণ্টা খানেক অনুশীলন করিয়েছেন বোলারদের। তবে ইনজুরি থেকে ফেরা তামিম ইকবাল অনুশীলনে একটু বেশি সিরিয়াসই ছিলেন। সিরিয়াস ছিলেন শাহরিয়ার নাফীসও। ইনডোরে এক দফা ব্যাটিং শেষ করে মাঠেও আধঘণ্টা প্র্যাকটিস করেছেন শাহরিয়ার।
জাতীয় লিগে নিজের সেরাটা খেলে নির্বাচকদের দৃষ্টি কাড়তে চান এই বাঁহাতি ওপেনার, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজে সুযোগ পেলে চেষ্টা করব সেরাটা দিতে। জাতীয় লিগের এই ম্যাচগুলো তাই আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবার প্রথম তিনটি ম্যাচের দুটিতেই রান পেয়েছি, দুটি ম্যাচে খেলতে পারিনি। এখানে খেলাটা শুধু নিজের জন্যই না, আমাদের দল বরিশালের জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’
তামিম ইকবালের ভাবনায় শুধুই জিম্বাবুয়ে সিরিজ, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজ মিস করেছি ইনজুরির কারণে। তবে এখন আমি ভীষণ খাটছি। নেটে যেভাবে ব্যাটিং করছি, তাতে মনে হয়েছে কোনো সমস্যা নেই। ইনজুরি কাটিয়ে কেউ খেলতে এলে তার ভয় থাকে, না জানি কী হবে। আমার কিন্তু সেই ভয়টা করছে না।’

আফগানিস্তানে নির্বাচনকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ

আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা শত শত খণ্ডকালীন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা। গত সেপ্টেম্বরের বিতর্কিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির সঙ্গে তাঁদের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখছে সংস্থাটি। গতকাল সোমবার কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (আইইসি) ইতিমধ্যেই প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভোট বাতিল ঘোষণা করেছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। কর্মকর্তারা নির্বাচনের ব্যাপারে হাজার হাজার অভিযোগ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখছেন।

কাপড়ের সঙ্গে ওয়াশিং মেশিনে ১০ দিনের শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় ওয়াশিং মেশিনের মধ্যে ঘুরপাক খেয়ে ১০ দিনের এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই মেশিনের মধ্যে রাখা স্তূপকৃত কাপড়ের সঙ্গে সেও ঘুরপাক খায় টানা ৪০ মিনিট। দরজা খুলে যখন শিশুটিকে বের করে আনা হয় তখন আর তাকে চেনা যাচ্ছিল না। শিশুটির নাম ম্যাগি মে ফিডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। ওই শিশুর মা লিন্ডসে ফিডলার স্তূপকৃত কাপড়ের সঙ্গে শিশুটিকে মেশিনের মধ্যে রেখে তা চালু করেন। এ সময় তাঁর এক আত্মীয় বাড়িতে এলে তাঁকে লিন্ডসে জানান যে তিনি তাঁর বাচ্চাটিকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এ সময় ওই আত্মীয় ওয়াশিং মেশিনের মধ্যে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পান। ৪০ মিনিট পর মেশিনটি বন্ধ হলে এর দরজা খুলে দেখেন যে কাপড়ের সঙ্গে শিশুটির রক্তমাংস মিশে গেছে। এই বিভীষিকাময় মৃত্যুর দৃশ্য দেখে উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশের সদস্যদের চোখেও পানি চলে আসে।
অনেক হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী প্রবীণ এক পুলিশপ্রধান জানান, তাঁর জীবনে দেখা সব ঘটনার মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ও হূদয়বিদারক। শিশু হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ফিডলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কানেরিয়াকে নিয়ে পাকিস্তানি নাটক

ব্যাগট্যাগ গুছিয়ে ফেলেছেন। বাকি সব প্রস্তুতি নেওয়াও শেষ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলতে রোববার সকালেই চেপে বসবেন দুবাইয়ের বিমানে। হঠাৎ সব গড়বড়। শনিবার গভীর রাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক কর্মকর্তার ফোন পেলেন দানিশ কানেরিয়া, জানানো হলো আপাতত দুবাই যাওয়ার দরকার নেই! নাটকীয় এই সিদ্ধান্তের কারণ এখনো জানায়নি পিসিব। কানেরিয়ার দাবি, কিছু বুঝতে পারছেন না তিনিও।
টেস্ট সিরিজের দলে থাকা বাকি চার ক্রিকেটার—মোহাম্মদ ইউসুফ, তৌফিক উমর, আজহার আলী ও মোহাম্মদ সামি কাল সময়মতোই পাকিস্তান ছেড়েছেন। পুরো ব্যাপারটা নিয়ে ধোঁয়াশায় আছেন কানেরিয়াও, ‘আমি জানি না কেন তাঁরা আমাকে দুবাই যেতে দিলেন না। গভীর রাতে পিসিবির এক কর্মকর্তা ফোন করে আমাকে বললেন, দুবাই যাওয়ার প্রয়োজন নেই। রোববার আমাকে কারণ জানানো হবে।’ পিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সময়মতো মিডিয়াকে বিস্তারিত জানানো হবে।

চাকরিতে পুনর্বহাল হলেন ওলবারম্যান

বরখাস্ত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে চাকরিতে পুনর্বহাল হলেন মার্কিনি টিভি ভাষ্যকার কিথ ওলবারম্যান। গত নির্বাচনে ডেমক্রেটিক পার্টির প্রার্থীকে চাঁদা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
রোববার সন্ধ্যায় এমএসএনবিসি টিভির প্রেসিডেন্ট ফিল গ্রিফিন এক বিবৃতিতে ওলবারম্যানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা জানান।

সিটির সমস্যার নাম তেভেজ

লিগে দুটি, ইউরোপা লিগে একটি। টানা তিন পরাজয়ে ম্যানচেস্টার সিটি আসলেই এলোমেলো। দুই ম্যাচ আগেও লিগে তাদের অবস্থান ছিল দুইয়ে। সেখান থেকে কালকের আগপর্যন্ত অবশ্য সিটি ছিল চারে। মন্দ নয়। কিন্তু শুরু হয়ে গেছে গালমন্দ। দলের রাশ ঠিকমতো টেনে ধরতে পারছেন না বলে সমালোচনা হচ্ছে কোচ রবার্তো মানচিনির। পাওয়া গেছে খেলোয়াড়-কোচ দ্বন্দ্বের খবরও।
এরই মধ্যে উটকো ঝামেলা হয়ে দেখা দিয়েছে অধিনায়ক কার্লোস তেভেজের অদ্ভুত সমস্যা। এই মৌসুমেও সিটি তেভেজ-ঘোড়াতেই সওয়ার। কালকের আগ পর্যন্ত লিগে সাত গোল করেছেন সিটি অধিনায়ক। কিন্তু ইনজুরি তো আছেই, তেভেজ ভুগছেন মানসিক অবসাদেও। স্ত্রী ভেনেসার সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে বলে খবর। আর্জেন্টাইন অভিনেত্রী ব্রেন্ডা আসনিকারের সঙ্গেই নাকি এখন তাঁর হূদয়ের লেনাদেনা। কিন্তু দুই মেয়ে—৫ বছর বয়সী ফ্লোরেন্সিয়া আর আট মাস বয়সী কেটির জন্য নাকি মন তাঁর সব সময় পড়ে থাকে আর্জেন্টিনায়। গৃহকাতর তেভেজ তাই সুযোগ পেলেই ইংল্যান্ড ছেড়ে পাড়ি দেন নিজের দেশে। এর মধ্যে মানসিক স্থিতি ফিরে পেতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথাও বলেছেন।
তেভেজকে মানসিকভাবে তরতাজা করতে তাঁকে আরও লোভনীয় অঙ্কের বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সিটি। নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর খবর, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে সিটিতে নাম লেখানোর পর প্রথম ৪৪ লিগ ম্যাচে ৩০ গোল করা তেভেজকে সপ্তাহে আড়াই লাখ পাউন্ডের নতুন প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই চুক্তি হবে পাঁচ বছরের জন্য। দেখা যাক, রেকর্ড এই বেতন পেলে তেভেজের মানসিক জোর ফিরে আসে কিনা।
তেভেজের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে ম্যানইউ তারকা প্যাট্রিস এভরা বলে দিয়েছেন, তেভেজকে হারালেই সিটি আবার খোঁড়া হয়ে যাবে, ‘সিটি অঢেল টাকা ঢালছে। কিন্তু যত যাকেই কিনে আনুক, আমার কাছে কার্লিতোই সেরা। ওকে হারালে সেই ক্ষতি সিটি পুষিয়ে উঠতে পারবে না।’
তেভেজের এই সমস্যার আরেকটি কারণ হয়ে থাকতে পারেন মানচিনি নিজেই। কোচের সঙ্গে আগের মৌসুম থেকেই নাকি ঠিক বনিবনা হচ্ছে না তাঁর। এমনও খবর আসছে, মানচিনিকে ছাঁটাই করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আরব শেখের অঢেল টাকার মুলা ঝুলতে পারে হোসে মরিনহোর সামনে। খবর এসেছে, মানচিনি সরে গেলে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে মরিনহোকেই নাকি নিয়ে আসার চেষ্টা করবে সিটি।

এলএইচসির মাধ্যমে ক্ষুদ্রাকার মহাবিস্ফোরণ সৃষ্টি করা হয়েছে

লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার (এলএইচসি) ব্যবহার করে ‘মিনি বিগ ব্যাং’ বা মহাবিস্ফোরণের একটি ক্ষুদ্রাকার পরিস্থিতি সৃষ্টির দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। গত রোববার গবেষক দলের সদস্য ডেভিড ইভান্স বলেন, ‘এই অর্জনে আমরা খুবই রোমাঞ্চিত।’
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা সীমান্তের কাছে পরীক্ষার তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ বা সার্নের ভূগর্ভস্থ বৃত্তাকার সুড়ঙ্গে স্থাপিত এলএইচসিতে ইলেকট্রন কণাবিহীন দুটি সিসার অণুর প্রচণ্ড গতিতে বিপরীতমুখী সংঘর্ষ ঘটিয়ে এই ক্ষুদ্রাকার মহাবিস্ফোরণ সৃষ্টি করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে বিজ্ঞানীরা প্রায় আলোর গতিতে দুটি বিপরীতমুখী প্রোটন কণার সংঘর্ষ ঘটিয়েছিলেন।
হেভি আয়ন অ্যালার্ট নামের একটি গোষ্ঠীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এই পরীক্ষা চালিয়েছে সার্ন। গোষ্ঠীটি সতর্ক করেছিল, এ ধরনের পরীক্ষা ধ্বংসাত্মক চেইন বিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা মহাবিশ্বের ধ্বংস ডেকে আনবে। তবে তেমন কিছু হয়নি। এই পরীক্ষার ফলে সূর্যের কেন্দ্রের চেয়ে কয়েক কোটি গুণ উষ্ণতর তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞানীরা এখন সিসার কণাগুলো পরীক্ষা করে দেখবেন। তাঁরা আশা করছেন, এ থেকে জানা যাবে কোন শক্তি অণুকে একসঙ্গে ধরে রাখে এবং এর ভর সৃষ্টি করে।

শেষ ম্যাচেই আসল অস্ট্রেলিয়া

আহত বাঘের মতোই কি ফুঁসে উঠল অস্ট্রেলিয়া? নাকি শুক্রবার সিরিজ জেতার ‘হ্যাংওভার’ এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি শ্রীলঙ্কা!
কারণটা যা-ই হোক না কেন, সিরিজের শেষ ম্যাচে কাল ব্রিসবেনে শ্রীলঙ্কাকে ১১৫ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া জিতল ৮ উইকেটে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি লঙ্কানদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড।
গ্যাবা একসময় ছিল পেসারদের স্বর্গ। কালকের উইকেটও ছিল পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো। কিন্তু হালকা সবুজ ঘাসের সেই উইকেট ব্যাটিং-দুরূহ ছিল না। সব দেখেশুনে টস জিতে কুমার সাঙ্গাকারা তাই ব্যাটিংই নিয়েছিলেন।
কিন্তু এই সিদ্ধান্তের জন্য দ্রুতই আফসোসে পুড়তে হয়েছে লঙ্কান অধিনায়ককে, যখন মাত্র ৮ রানে তিনি নিজেই দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরেছেন। শুরুর এই ধস আর কখনোই সামাল দিতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ৫০ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরই যেন নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ফলাফল।
ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন শুধু উপুল থারাঙ্গা আর চামারা সিলভা। এ দুজনের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসটি ম্যাথুসের ৯—এতেই শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ছবিটি ফুটে ওঠে।
তার পরও যে তথ্য এখান থেকে জানা যায় না, সেটি হলো দুই তরুণ পেসারের দাপট। ২২ বছর বয়সী ক্লিন্ট ম্যাকাই তুলে নিয়েছেন নিজের প্রথম ৫ উইকেট। ২০ বছর বয়সী মিচেল স্টার্কের উইকেট চারটি। স্টার্কের কথা একটু আলাদা করে বলা দরকার। ভারতের বিপক্ষে অভিষেকেই ৮.৫ ওভারে ৫১ রান দেওয়ার শাস্তি পেয়েছিলেন সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বসে থেকে। কাল মাঠে নেমেই এই তরুণ ছেঁটে দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার লেজ। ম্যাকাই-স্টার্ক যেন ‘অস্ট্রেলিয়ার বোলিং-প্রতিভা নেই’ মুরালিধরনের মন্তব্যের পাল্টা!
এই সংগ্রহ নিয়ে লড়াই করা অসম্ভব, যতই না অস্ট্রেলিয়া দুঃসময়ের পাকে পড়ে যাক। দিলহারা ফার্নান্দো দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিলেও ততক্ষণে জেতার রান (৮৪) প্রায় হয়ে গিয়েছিল। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ৫০ রানে অপরাজিত থেকে দায়িত্ব সেরেছেন। অ্যাশেজের আগের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটায় অস্ট্রেলিয়াও যেন কিছু আত্মবিশ্বাস খুঁজে নিল।

ইরাকের নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা

নির্বাচনের আট মাস পর ক্ষমতা ভাগাভাগিতে রাজি হয়েছে ইরাকের রাজনৈতিক দলগুলো। সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই সমঝোতা অনুযায়ী শিয়া নেতা নুরি আল-মালিকিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বহাল থাকবেন।
আলী আল-দাব্বাগ নামের সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, ক্ষমতা ভাগাভাগি প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গত শনিবার সমঝোতা হয়েছে। এ সমঝোতা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে জালাল তালাবানি ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নুরি আল-মালিকি দায়িত্ব পালন করবেন। আর পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হবেন সুন্নি সমর্থিত ইরাকিয়া জোট থেকে। তবে কে হবেন স্পিকার তা ইরাকিয়া জোটই নির্বাচিত করবে।
আল-দাব্বাগ বলেন, শিয়া সমর্থিত ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ও কুর্দি সমর্থিত প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তানের (পিইউকে) মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে স্পিকার ও প্রেসিডেন্টের পদ নিয়ে কিছু সময়ের জন্য দ্বিমত পোষণ করেছিল ইরাকিয়া জোট। গুরুত্বপূর্ণ এ পদ দুটি কোন দল থেকে নির্বাচন করা হবে তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।
গত ৭ মার্চ ইরাকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবি নেতৃত্বাধীন সুন্নি জোট ইরাকিয়া জয়ী হলেও পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
আল-দাব্বাগ জানান, কুর্দিস্তানের আরবিলে গতকাল সোমবার এক বৈঠকে হাজির হয়ে এ সমঝোতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে নুরি আল-মালিকি ও আইয়াদ আলাবির। তবে তিনি বলেন, ইরাকিয়ার সঙ্গে খসড়া চুক্তি হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার স্পিকার নির্বাচন নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা হবে বলে দাব্বাগ জানান। তিনি বলেন, আর এটাই হবে নতুন সরকার গঠনের পথে প্রথম পদক্ষেপ।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এমন একটি সরকারই গঠন করা উচিত। তিনি বলেন, ‘ইরাকের সব জনগোষ্ঠীর স্বার্থ প্রতিফলিত হয় এমন একটি সরকার গঠনের জন্য আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি।’
ইরাকিয়া জোটের সাংসদ জামাল আল-বুতিখ বলেছেন, ইরাকিয়ার সম্মতি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না—এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তাঁর দল প্রথম দিকে এ সমঝোতার ব্যাপারে রাজি হয়েছিল। এই নিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতেই কুর্দিস্তানের আরবিলের অনুষ্ঠানে যেতে রাজি হয়েছেন আলাবি। বুতিখ বলেন, ইরাকিয়া জোটের কিছু সদস্য প্রেসিডেন্ট পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ইরাকিয়া জোটের অপর এক এমপি আলিয়া নুসায়েফ জানান, আরবিল বৈঠকে শিয়া ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল-সদরকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পার্লামেন্টে তাঁর দলের ৪০টি আসন রয়েছে।
স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানি ইরাকের নতুন সরকার গঠনে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কুর্দিস্তানের রাজধানী আরবিলে গতকাল এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ইরাকে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হামলা চালানোর পর এটাই হলো দ্বিতীয় নির্বাচন। মার্চের ওই নির্বাচনে ৩২৫ আসনের পার্লামেন্টে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

বামপন্থীদের বিক্ষোভ-সমাবেশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তিন দিনের ভারত সফরের প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন বামপন্থী দল গতকাল সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। সংসদের যৌথ অধিবেশন বর্জন করেছে বামদল ফরোয়ার্ড ব্লক। মাওবাদীরা ওবামার সফরের প্রতিবাদে সারা দেশে ২৪ ঘণ্টার বন্ধ্ ডাকে।
সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা ওবামার ভারত সফরের বিরোধী নন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ভারতের বিভিন্ন চুক্তির বিরোধিতা করছেন। প্রতিবাদ করছেন মার্কিননীতির। এরই প্রতিবাদে বামপন্থী বিভিন্ন দল গতকাল দেশব্যাপী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে।
কলকাতায় গতকাল সন্ধ্যায় বামফ্রন্ট বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বিকেলে বামফ্রন্টের ডাকে লেনিনের মূর্তির পাদদেশে বিরাট জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এক বিশাল মিছিল কলকাতার মার্কিন তথ্যকেন্দ্রের অদূরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পুলিশ তথ্যকেন্দ্রের সামনে আসার আগেই থামিয়ে দেয় মিছিল। এরপর বিক্ষোভকারীরা রাস্তার ওপরই সমাবেশ করে। এ ছাড়া সিপিএমের অঙ্গসংগঠন ডিওয়াইএফআই এবং ছাত্র সংগঠন এসএফআই আজ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। তারা ওবামার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে।
দিল্লিসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও বাম চারদলের ডাকে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
অন্যদিকে বামফ্রন্টের শরিক সাংসদেরা ভারতের সংসদের যৌথ অধিবেশনে ওবামার ভাষণ শুনলেও বর্জন করেছে ফরোয়ার্ড ব্লক। ভাষণ বর্জন করেছে এসইউসিআইও।
এদিকে মাওবাদীদের বনেধর শুরুতে রোববার গভীর রাতে মাওবাদীরা বিহারের হাজিপুর-মুজাফফরপুর সেকশনে রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রেললাইনের একটি অংশ উড়িয়ে দিয়েছে। এই বিস্ফোরণের জেরে একটি মালবাহী ট্রেনের ১০টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। অন্যদিকে ঝাড়খন্ড রাজ্যের পালামৌ জেলায় সদবাহনি রেলস্টেশনেও রোববার গভীর রাতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে মাওবাদীরা। পরে এই স্টেশনের স্টেশনমাস্টারকেও অপহরণ করেছে তারা। অন্যদিকে একই জেলার বিশ্রামপুরের ব্লক অফিস উড়িয়ে দিয়েছে মাওবাদীরা। ওড়িশার মালকানগিরি জেলার গ্যাংফাগোন্ডায় একটি দোতলা বিদ্যালয় ভূমিমাইনের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে রোববার গভীর রাতে। এ ছাড়া রোববার রাতে স্টেশনমাস্টারকে হুমকি দিয়ে বিহারের ইসমাইলপুর-রফিগঞ্জ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মাওবাদীরা।

সাকিবে আলোকিত সন্ধ্যা

সন্ধ্যার পর মোহামেডান ক্লাবকে কেন্দ্র করে মতিঝিল ক্লাব পাড়াটা এমনিতেই জমজমাট হয়ে ওঠে। কাল তো ছিল একেবারে গমগমে অবস্থা। গাড়ির সারি ক্লাবগেট উপচে বাইরের রাস্তায় চলে এল। ভেতর থেকে স্লোগান ভেসে এল—সাকিব, সাকিব!
বিশ্বসেরা ওয়ানডে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান কি নতুন কিছু জিতলেন নাকি! না, জেতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলেন মোহামেডান ক্লাবে। মোহামেডানেই ছিলেন, মোহামেডানেই এলেন; মাঝে এক মৌসুম ঘুরে এলেন ‘চিরশত্রু’ ক্লাব আবাহনীতে। মোহামেডান ক্লাবের হলরুমে সমর্থক আর সাংবাদিকদের ভিড়ে হাঁসফাঁস করতে করতেও স্বভাবসুলভ হাসি সাকিবের মুখে, ‘মোহামেডানের প্রতি ছোটবেলা থেকেই একটা ভালোবাসা আছে। পেশাদার যুগে কোনো ক্লাবে একটানা থাকা কঠিন। তার পরও মোহামেডানে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
কথাগুলো সাকিবের বলার কথা ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বসে, মোহামেডানের এই উৎসবটা হওয়ার কথা ছিল সিসিডিএম কার্যালয়ে। কিন্তু এই সব সম্ভবের দেশে দৃশ্যত কোনো বড় কারণ ছাড়াই মোহামেডান তাদের ক্লাবে নিয়ে এল সিসিডিএম কার্যালয়; বিশেষ কমিশনে ক্লাবে এসে দলবদল করলেন সিসিডিএম কর্মকর্তারা।
সিসিডিএমের তিন কর্মকর্তার সামনে নাজিমউদ্দিন, শামসুর রহমান, তারেক আজিজ, এনামুল হক জুনিয়র, সাকিব আল হাসানসহ সাত ক্রিকেটারকে সই করাল মোহামেডান।
কারণ হিসেবে মোহামেডান কর্মকর্তা লুৎফর রহমান অবশ্য দাবি করলেন, ‘বড় একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি থাকায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম পর্যন্ত যাওয়ার ঝামেলা এড়াতেই এই উদ্যোগ।’ ঢাকার নানা প্রান্ত থেকে দলগুলো এসে যেখানে দলবদল সারল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে, সেখানে নিকটতম ক্লাব মোহামেডানের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত!
তবে এতে একটা ব্যাপার অন্ত হলো—দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের দলবদল নিয়ে আলাদা একটা উত্তেজনা বয়ে গেল। সাকিবের কণ্ঠেও সেই উত্তেজনার ছোঁয়া, ‘এভাবে দলবদল করাটা একটু অন্যরকম ব্যাপার। আমার বেশ মজাই লাগছে। এই অভিজ্ঞতাটা এর আগে কখনো হয়নি।’
আরেক অভিজ্ঞতার সঙ্গেও পরিচিত হতে চান সাকিব। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে এই অলরাউন্ডার প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে চেনাতে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সটা ঠিকমতো অনুবাদ করতে পারেননি। এবার ওটাই করতে চান, ‘শুধু প্রিমিয়ার নয়, দেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও আমার পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো ভালো নয়। এবার সেটা বদলাতে চাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে সব ধরনের ক্রিকেটকে সিরিয়াসলি নিই, এবার প্রিমিয়ারকে আরও সিরিয়াসলি নিচ্ছি।’
এই ‘সিরিয়াসলি’ নেওয়া না-নেওয়া নিয়ে অবশ্য সাকিবের ব্যাপারে তাঁর সাবেক ক্লাব আবাহনীর কিঞ্চিৎ অভিযোগ আছে। তাদের অনেক সমর্থক বলেন, সাকিবের কারণেই গত মৌসুমে শিরোপা হারিয়েছে আবাহনী। সাকিব এ অভিযোগ শুনে হাসলেন, ‘যারা এ রকম মনে করে, তাদের ব্যাপারে তো আমার কিছু বলার নেই।’
ক্লাব রাজনীতি নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না, এ কথা প্রায় সময়ই বলেন সাকিব। আবারও সে রকম করেই বললেন, ‘আমি পেশাদার খেলোয়াড়। যে ক্লাবে খেলব, তাদের হয়ে ভালো খেলাই আমার কাজ, তাদের শিরোপা এনে দেওয়ার জন্যই লড়াই করি আমি।’

তোরেসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হজসন

বেশ কিছুদিন ধরেই ইনজুরি আর বাজে ফর্ম মিলিয়ে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ফার্নান্দো তোরেসের। সমালোচনার তীক্ষ্ন সব তীর বিদ্ধ করছিল তাঁকে। প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো না হওয়ায় সেসব তীরের কিছু কিছু এসে লেগেছিল লিভারপুল কোচ রয় হজসনের গায়েও। কিন্তু গতকাল প্রিমিয়ার লিগে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো অসাধারণ দুটি গোল করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। আর দলের সেরা স্ট্রাইকারের এমন ফর্ম দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন হজসনও।
তোরেসের উচ্চকিত প্রশংসা করে হজসন বলেছেন, ‘তোরেসকে নিয়ে সবাই এখন কথা বলছে দেখে আমি খুব খুশি। কারণ এত দিন তারা তোরেসকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে, যেগুলো সব সময় ঠিক ছিল না। তাকে এগুলো সবই সহ্য করতে হয়েছে। এখন তাকে কিছু হাততালি পেতে দেখে খুব ভালো লাগছে।’
লিভারপুলের কাছে হেরে গেলেও চেলসি কোচ কার্লোস আনচেলত্তি তোরেসের প্রশংসা না করে পারেননি। তিনি বলেছেন, ‘সে চমত্কার দুটি গোল করেছে। আর সে যে খারাপ সময় অতিক্রম করে আবারও ফর্মে ফিরছে, সেটা খুব ভালোমতো বোঝা গেছে। তোরেস একজন অসাধারণ স্ট্রাইকার।’
গত মৌসুমে লিভারপুলের জার্সি গায়ে ২২ গোল করেছিলেন তোরেস। এই মৌসুমে আবার নিজেকে খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তোরেস নিজেও। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘ইনজুরির কারণে আমাকে একটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। কিন্তু আমি প্রতিদিনই একটু একটু করে উন্নতি করছি। আমি যত দ্রুত সম্ভব আমার সেরাটা দিতে চেষ্টা করব।’ মৌসুমের শুরুটা ভালো না হলেও শেষ তিন ম্যাচ জিতে এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে লিভারপুল। কয়েক দিন আগে ১৭ নম্বর অবস্থানে থাকলেও এখন ১১ নম্বরে উঠে এসেছে অল রেডরা। তোরেস আবার পুরোপুরি ফর্মে ফিরতে পারলে শিরোপা জয়ের স্বপ্নও তো দেখতে পারে লিভারপুল!

সাহিত্যালোচনা- 'রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে পালাকারের নাটক' by মাহফুজাহিলালী

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ৩ নং মহড়া কক্ষ। দরজা খুলতেই খটখট শব্দ। সেট লাগানো চলছে। বেশ বড় সেট_ কাঠের পাটাতন, সিঁড়ি, জমিদার বাড়ির বারান্দার পিলার দেখা যাচ্ছে।

এটি 'পালাকার' প্রযোজনা 'বাংলার মাটি বাংলার জলে'র সেট। নাটকটি লিখেছেন সৈয়দ শামসুল হক এবং নির্দেশনা দিচ্ছেন আতাউর রহমান। পারফরমাররা অপেক্ষা করছে মহড়ার। তবে একজন আপন মনেই নিজের অংশগুলো রিহার্স্যাল করছেন তিনি শামীম সাগর। শামীম সাগর কেন্দ্রীয় চরিত্র 'রবীন্দ নাথ ঠাকুর' য়ের অভিনয় করছেন। বসে আছেন নাটকের সহ-নির্দেশক পালাকারের সভাপতি আমিনুর রহমান মুকুল।