Sunday, June 13, 2010

নিরাপদে বেড়ে উঠুক প্রতিটি শিশু by আবদুল্লা আল মামুন

আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় ২২ কোটি শ্রমজীবী খুদে মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয়ে সারা বিশ্ব্বে এ দিনটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এ দিনটি এ বছর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এ বছর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রণীত হয়েছে জাতীয় শিশুশ্রম নিরসননীতি। এই জাতীয় নীতি বাংলাদেশের প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি শ্রমজীবী শিশু, বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত প্রায় ১২ লাখ শিশুর জীবনে পরিবর্তন আনবে বলে সবার প্রত্যাশা। কিন্তু এ প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে শুধু একটি জাতীয় নীতিই যথেষ্ট নয়, বরং এটির কার্যকর ও পরিকল্পিত ধারাবাহিকতায় বাস্তবায়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর তার সঙ্গে উঠে আসে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সমন্বয় এবং নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপের বিষয়টিও। আমরা যদি এক নজরে জাতীয় শিশুশ্রম নিরসননীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, এই নীতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রম নিরোধ করতে প্রত্যয়ী এবং পাশাপাশি কৌশলগত কাঠামো তৈরি করে ক্রমান্বয়ে সব ধরনের শিশুশ্রম বন্ধ করবে, যা অনেকটা সময়সাপেক্ষ এবং আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কষ্টসাধ্যও।
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গত ২০ বছরে শিশুশ্রম নিরসনে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে বা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই উদ্যোগগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সমন্বয় প্রায় অনুপস্থিত। বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ ও নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রম কোনগুলো। বিভিন্ন প্রকল্প ও বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের খাতভিত্তিক কিছু তালিকা প্রণয়ন করা হলেও তা পূর্ণাঙ্গ ও প্রশ্নাতীত নয়। এসব তালিকায় খাত ভিত্তিতে যেভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম চিহ্নিত করা হয়েছে, তা সব সময় পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ, কোনো একটি খাতের সব কাজ ঝুঁকিপূর্ণ নয়, সেখানেও নানা ধরনের হালকা ও ঝুঁকিমুক্ত কাজ থাকতে পারে। কাজেই সরকারের তরফ থেকে শিশুশ্রম নিরসননীতির আলোকে এ ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে হবে সবার আগে।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এখনো পর্যন্ত শিশুশ্রম নিরসন ও তাদের পুনর্বাসনে কোনো পূর্ণাঙ্গ মডেল তৈরি হয়নি, যার ফলে বাংলাদেশে অধিকাংশ উদ্যোগগুলোই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিক্ষিপ্তভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শিশুশ্রম নিরসনে বাংলাদেশের বড় সফলতার উদাহরণ পাওয়া যায় পোশাকশিল্প খাতে। অন্য কোনো ক্ষেত্রে এ রকম সাফল্য দেখা যায় না। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জাতিসংঘে প্রেরিত শিশু অধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিশু অধিকার কমিটি প্রণীত সমাপনী অভিমতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেসরকারি উদ্যোগে যে CLEAN (Child Labour Elimination And Action Network) মডেলটি কাজ করছে, তা সমপ্রসারণের সুপারিশ করা হয়েছে। কাজেই সরকারি নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভাবতে হবে কী উপায়ে বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিকৃষ্ট ধরনের শ্রম নির্মূল করা হবে, সেটি কি এলাকাভিত্তিক নাকি খাতভিত্তিক?
ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে ২০১৬ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে সব ধরনের নিকৃষ্ট শিশুশ্রম বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষিত হয়েছে। বাংলাদেশেকে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এখনই একটি পাঁচ বছর মেয়াদি শিশুশ্রম নিরসনবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, যার আলোকে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সব কার্যক্রমকে সমন্ব্বয় করা হবে।
জাতীয় শিশুশ্রম নিরসননীতি বাস্তবে ফলপ্রসূ করে ২০১৬ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রম নির্মূল করতে হলে অনতি বিলম্বে আমাদের বেশ কিছু কাজ করা প্রয়োজন। ২০০৩ সালের পর বাংলাদেশের শিশুশ্রমবিষয়ক পূর্ণাঙ্গ কোনো জরিপ আর হয়নি। এ জন্য জাতীয়ভাবে একটি শিশুশ্রম জরিপ করতে হবে। জরিপে শিশুশ্রমের নানা ক্ষেত্র এবং সেখানে কর্মরত শিশুদের সংখ্যার পাশাপাশি কাজের ধরনও চিহ্নিত করতে হবে। জাতীয় শিশুশ্রম নিরসননীতির আলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রমকে সংজ্ঞায়িত করে কোন খাতে, কোন কাজ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তার একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা তৈরি করতে হবে।
শিশুশ্রম নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন সংগঠন ও সুশীল সমাজের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, যার আওতায় প্রতিটি সংস্থা বা সংগঠন নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে ও জবাবদিহি করবে। নীতিতে যে ‘শিশুশ্রম ইউনিট’-এর কথা বলা হয়েছে, সেটি অনতি বিলম্বে স্থাপন করে সব মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন সংগঠনে শিশুশ্রমবিষয়ক ফোকাল পয়েন্ট তৈরি করতে হবে এবং ক্রমান্বয়ে এই ইউনিটকে শিশুশ্রম নিরসনবিষয়ক সব কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিশুশ্রম ইউনিটের আওতায় শিশুশ্রমবিষয়ক একটি জাতীয় তথ্যভান্ডার (ডেটাবেইস) করতে হবে, যা নিয়মিতভাবে উপরোল্লিখিত ফোকাল পয়েন্টগুলোর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে হালনাগাদ করা হবে।
সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমকে মাঠ পর্যায়ে থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সন্নিবেশিত করতে কর্মকৌশল ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনে এ বিষয়ক কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা যায় তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
গবেষণা ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হয় এ রকম একটি কার্যকর ‘শিশুশ্রম নিরসন মডেল’ প্রণয়ন করে তা সর্বত্র বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে করে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বিচ্ছিন্নভাবে নিজের খেয়াল-খুশিমতো বাস্তবায়িত হতে না পারে এবং সবার সমান জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়। শুধু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত শিশুদের পুনর্বাসনই শিশুশ্রম নিরসনে যথেষ্ট নয়। বরং যেসব কারণে শিশুরা শ্রমবাজারে শামিল হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সেটি শুধু মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় বা সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনায় নিলে হবে না বরং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কেই নিজ নিজ কর্মপরিধির আওতায় শিশুশ্রম প্রতিরোধমূলক এই উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এ বিষয়ে সরকারের সহযোগী হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাই বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০১০ হোক বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সামাজিক আন্দোলনের শুভ সূচনার দিন। আজ থেকেই শুরু হোক শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সবার সম্মিলিত যাত্রা। আর এই যাত্রার প্রথম লক্ষ্যই হোক ২০১৬ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রম নির্মূল। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদে বেড়ে উঠবে প্রতিটি শিশু, প্রতিটি শৈশব ভরে উঠবে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ঘনঘটায়—এটাই সবার প্রত্যাশা।
আবদুল্লা আল মামুন: কর্মসূচি ব্যবস্থাপক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

পুরো আফ্রিকা মহাদেশ প্রস্তুত - কফি আনান

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান অত্যন্ত ফুটবল-অনুরাগী। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন আফ্রিকাতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে গোল ডটকমের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে তাঁর ভাবনার কথা জানিয়েছেন। এতে উঠে এসেছে কোন দল জিতবে, আফ্রিকার দলগুলো কেমন করবে, আফ্রিকা মহাদেশের জন্য এই খেলার কী তাত্পর্য ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ
বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার মধ্যে উত্তেজনা কাজ করছে কি?
আমি বিশ্বকাপের অপেক্ষায় আছি। আমি ফুটবল ভালোবাসি। যখনই সুযোগ পাই খেলা দেখি। বিশ্বকাপ তো সবার সেরা—সারা দুনিয়ার সেরা খেলোয়াড়েরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু টুর্নামেন্টের চমত্কারিত্বের পাশাপাশি বিশ্বকাপ আরও অনেক বেশি শক্তিশালী। কেননা, ফুটবল বিশ্বকাপ নানা দেশের মানুষকে দেশের ভেতর ও দেশের সীমা ছাড়িয়ে এমনভাবে একত্র করে, যা অন্য কোনো উপলক্ষ করে না।
এবারের বিশ্বকাপের একটি বিশেষত্ব আছে। এটি আফ্রিকা মহাদেশে প্রথমবারের মতো সত্যিকারের কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজন।
এবার সারা দুনিয়ার মানুষের দৃষ্টি আফ্রিকার ওপর নিবদ্ধ থাকবে। আমার বিশ্বাস, এটি এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠবে, যেখানে সবাই দেখতে পাবে খেলাধুলা কেমন করে সেতুবন্ধ রচনা করে এবং রাষ্ট্র, এমনকি মহাদেশের মধ্যকার বিভেদ অতিক্রম করতে সহায়তা করে। গতবার জার্মানিতে আমার দেশ ঘানার খেলা আমি উপভোগ করেছি। এবার আমি দক্ষিণ আফ্রিকাতে ঘানার খেলা দেখার আশা রাখি।
তাহলে এই বিশ্বকাপকে আফ্রিকাবাসী কোনো একক দেশের আয়োজন হিসেবে না দেখে সবাই নিজেদের টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখছে?
অনেকটা তাই। বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারায় আফ্রিকা গর্বিত। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে স্থান পাওয়া দেশগুলোতে গেলে আপনার কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ঘানার মতো দেশগুলোর যখন খেলা থাকবে তখন তো পুরো দেশবাসী সব কাজ ফেলে খেলা নিয়ে মেতে উঠবে। এমনকি আফ্রিকার যে দেশগুলো চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, সেসব দেশেও আফ্রিকার দলগুলোর বড় সমর্থক গোষ্ঠী শেকড় গেড়ে আছে।
আফ্রিকার দলগুলো কেমন করবে?
ভালো ফল করার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। অনেক দিন হলো আফ্রিকা বিশ্বসেরা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় তৈরি করে চলেছে। কিন্তু এখন পার্থক্যটা হলো, আফ্রিকার দলগুলোর শুধু দু-একজন তারকা খেলোয়াড় নন, সব পজিশনেই বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছেন।
আইভরিকোস্টের কথাই ধরুন। এ দলে শুধু দিদিয়ের দ্রগবাই নন, দলটির আক্রমণভাগ, রক্ষণভাগ ও মধ্যমাঠের খেলোয়াড়েরাও মানসম্পন্ন। তারা হয়তো সবচেয়ে কঠিন গ্রুপগুলোর একটিতে পড়েছে, কিন্তু তাদের সম্ভাবনা এখনই খারিজ করে দেবেন না। ঘানা যদি সামর্থ্য অনুযায়ী খেলে, তাহলে পরের পর্বে আমাদের যাওয়াই উচিত।
ফুটবলের এই সাফল্য থেকে বৃহৎ পরিসরে শিক্ষা নেওয়ার কিছু কি আছে?
হ্যাঁ। বিশ্বের সেরা লিগগুলোতে খেলে চলা এসিয়েন, দ্রগবা, ইতো এবং আরও একঝাঁক তারকা খেলোয়াড়ের উত্থান আফ্রিকার ভেতর লুকিয়ে থাকা সমৃদ্ধ প্রতিভার আভাস দেয়। এটা শুধু ফুটবলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, সব ক্ষেত্রেই খাটে। ফুটবল দেখাল যে কেউ যদি সফল হওয়ার এবং নিজের সামর্থ্য পূরণের সুযোগ পায়, তারা স্কোর করে, তারা জ্বলে ওঠে। এতে উপকার অনেক। শুধু ব্যক্তিগত নয়, সাধারণভাবে তরুণেরা এবং অবশ্যই সমাজও উপকৃত হয়।
আফ্রিকার তরুণদের সহায়তার জন্য আরও অনেক উপায় বের করা দরকার, যাতে তারা তাদের অভিলাষ পূরণ ও দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে। আমরা পারলে তাতে জয় হয় সবার।
অন্য শিক্ষাটি হয়তো মুক্ত মন ও বিনিময়ের মূল্য প্রসঙ্গে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার তারকারা ইউরোপে খেলার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করেছেন, আর অন্যদিকে তাঁদের দ্বারা ইউরোপের খেলা সমৃদ্ধ হয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলো বিদেশি কোচ আনার মাধ্যমে নিজেদের উন্নতি ঘটিয়েছে।
মুক্ত মন ও হূদয় থাকলে আমরা সবাই লাভবান হই। এটা শুধু ফুটবলের ক্ষেত্রেই নয়। বৃহৎ পরিসরে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অন্য পরিপ্রেক্ষিত থেকে কোনো কিছু দেখার বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীকে অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বাণিজ্যের মতো দুরূহ বিষয়গুলো মোকাবিলার জন্য সহায়তা করতে পারে।
আর একটি ব্যাপার। এক মাস ধরে সারা দুনিয়ার দৃষ্টি ফুটবলের ওপর নিবদ্ধ থাকবে। আসলে ফিফার সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা তো জাতিসংঘের থেকেও বেশি। একবার ভেবে দেখুন, যদি সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই এবং সমাজে নারীর পূর্ণ ভূমিকা রাখার নিশ্চয়তার মতো কাজ আমরা সহযোগিতার এই চেতনা ধারণ করি, তাহলে একতাবদ্ধ হয়ে কত কী অর্জন করতে পারি।
বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার বড় প্রত্যাশাগুলো কী?
অবশ্যই চমত্কার ফুটবল দেখা। আমার ধারণা, এটি অত্যন্ত সফল টুর্নামেন্ট হবে। আমি জানি, সবকিছু ঠিকঠাকমতো সম্পন্ন করার জন্য আর সবার সময় যাতে ভালোই কাটে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাবাসী কতটা কঠিন পরিশ্রম করছে।
আফ্রিকা সম্পর্কে যাঁদের নানা পূর্বানুমান আছে, তাঁরা চমত্কৃত হবেন বলে আমার ধারণা। আফ্রিকা মহাদেশে যেভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে, তার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেনি সংবাদপত্রের শিরোনামে। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ সম্পর্কে ধারণার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। আমার ধারণা, ২০১০ সালের বিশ্বকাপ আফ্রিকার জন্যও একই রকম ফল বয়ে আনবে।
আশা করি, আফ্রিকার বৈচিত্র্য, বৈভব, প্রতিভা ও সামর্থ্য বিশ্ববাসীকে দেখাতে এই বিশ্বকাপ সহায়ক হবে। পাশাপাশি বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোও আড়ালে থাকবে না। ফুটবলের পেছনে যে শক্তি ব্যয় করা হচ্ছে, তার কিছু অংশ যদি জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একত্রে কাজ করার চেষ্টাতে, বিশেষত আফ্রিকাকে সহায়তায় প্রবাহিত করা যায়, তাহলে তা হবে চমকপ্রদ।
দিদিয়ের দ্রগবার সঙ্গে মিলে আপনি স্কোরিং ফর আফ্রিকা প্রকাশ করেছেন। এর উদ্দেশ্য কী?
স্কোরিং ফর আফ্রিকা একটি বিকল্প বিশ্বকাপ নির্দেশিকা। আফ্রিকা প্রগ্রেস প্যানেল এটি প্রস্তুত করেছে। আমি এই প্যানেলের সভাপতি। আমাদের ভাবনাটা ছিল উন্নয়ন পরিপ্রেক্ষিত-সংবলিত এমন একটি নির্দেশিকা প্রস্তুত করা, যেটি বিশ্বকাপের চেতনাকে ফুটবলের বাইরে নিয়ে যাবে এবং কতগুলো বিষয়কে তুলে আনবে, যেগুলো বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোকে একত্র ও আলাদা করে। উন্নয়নের প্রতি দ্রগবা অঙ্গীকারবদ্ধ। সুতরাং তাঁর সঙ্গে এই কাজ করা ছিল খুব আনন্দের ব্যাপার।
অনেকগুলো দলই জিততে পারে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলো এবারও ফেভারিট তো থাকবেই। কিন্তু প্রচুর অঘটন ঘটবে। ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি ও আর্জেন্টিনার মতো দলগুলো একের পর এক টুর্নামেন্টে ভালো করে। তাদের ও অন্যদের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন কমছে। স্পেনকে খুব শক্তিশালী মনে হচ্ছে। আর আফ্রিকার দলগুলোকে খারিজ করে দিতে চাইলে যেকোনো দলকেই বিরাট ঝুঁকি নিতে হবে।
আপনার প্রিয় খেলোয়াড় কে?
একজনের নাম বলা মনে হয় ঠিক হবে না। কিন্তু আমার দেশ তো ঘানা। মাইকেল এসিয়েনকেই আমি বেছে নিতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য তিনি খেলতে পারছেন না। বিকল্প নির্দেশিকা তৈরিতে দ্রগবা আমার সঙ্গী ছিলেন। আর তিনি তো বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমাকে কারও নাম বলতে বললে তাঁর নামই বলব।
কোন দেশ জিতবে বলে মনে করেন?
অনেকগুলো দলই জিততে পারে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলো এবারও ফেবারিট। কিন্তু অনেক অঘটনও ঘটবে। ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি ও আর্জেন্টিনার মতো দলগুলো একের পর এক টুর্নামেন্টে ভালো করে। তাদের ও অন্যদের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন কমছে। স্পেনকে খুব শক্তিশালী মনে হচ্ছে। আর কোনো দল যদি আফ্রিকার দলগুলোকে বাতিল গণ্য করে তাহলে তাকে বিরাট ঝুঁকি নিতে হবে।
ইংরেজি থেকে অনূদিত।

বিশ্বকাপ ও বিশ্বকাপের লক্ষ্য by মোহীত উল আলম

১০ জুন দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯তম বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনীর আগের দিন অনুষ্ঠিত হলো ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ কিক-অফ সেলিব্রেশন কনসার্ট’। স্থান ছিল জোহানেসবার্গের সকার স্টেডিয়াম। প্রথমে একটি ব্যান্ডদল সংগীত পরিবেশন করল। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন সংগীতশিল্পী শাকিরা, যাঁর জন্ম কলম্বিয়ায়। তিনি গাইলেন, ‘ওয়াকা, ওয়াকা আফ্রিকা’ গানটি, যার অর্থ হলো, ‘এবার আফ্রিকার সময়’। কিন্তু শাকিরা মঞ্চে আসার আগেই দুটো খুব সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা হলো। প্রথমটি দিলেন বিশ্বকাপের আয়োজক সংগঠন ফিফার সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার। দ্বিতীয়টি দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা।
প্রথমে দ্বিতীয় বক্তা অর্থাৎ জ্যাকব জুমার কথা ধরে শুরু করি। এটা লক্ষণীয় যে পৃথিবীর অন্য যেকোনো মহাদেশের চেয়ে আফ্রিকা মহাদেশের জাতিগুলোর মধ্যে মহাদেশ নিয়ে স্বাতন্ত্র্যবোধের পরিচয় দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। এর কারণ পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আফ্রিকাকে উপনিবেশ করার সময় যে মৌলিক রাজনৈতিক ডোজ বা ওষুধটি ব্যবহার করেছিল, সেটি হলো আফ্রিকা হলো অন্ধকার মহাদেশ, দ্য ডার্ক কন্টিনেন্ট। কাজেই সেখানে আলো ফেলতে হবে এবং সে আলো ফেলতে গিয়ে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আফ্রিকার জাতিগুলোর ভাষা, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পূূর্ণ লোপাট করে দেওয়ার প্রচেষ্টায় ছিল। এ সাম্রাজ্যবাদী প্রক্রিয়ার বিস্তার আজকে নব জাগরিত আফ্রিকায় থিতু হয়ে এলেও আফ্রিকার লোকদের উষ্মা ও ক্ষোভের শেষ হয়নি। তাই তাদের স্বাতন্ত্র্যবোধের পরিচয় দেশভিত্তিক নয়, মহাদেশভিত্তিক।
জ্যাকব জুমা তাঁর ভাষণে বললেন যে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আফ্রিকা (মহাদেশ) প্রমাণ করল যে তারা সবকিছু পারে। এর আগে বুধবার (৯ জুন) অনুষ্ঠিত ফিফার কংগ্রেসে জুমা বিশ্বকাপ ২০১০ আফ্রিকার কালো মানুষদের মুক্তিদাতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে উত্সর্গীকৃত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ফিফার যে অধিবেশনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২০১০ সালের বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত করা হয়, সেখানে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ম্যান্ডেলা।
জ্যাকব জুমার আফ্রিকার স্বাতন্ত্র্যবোধের চেতনায় উদ্দীপ্ত ভাষণের মূল সুরই আসলে ইঙ্গিতের মতো নিহিত ছিল তাঁর আগের বক্তা ফিফার সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের কথায়। তিনি বললেন যে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালের বিশ্বকাপের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে আফ্রিকার প্রেমপূর্ণ সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি লাভ হলো। তাঁর একটি অভীষ্ট ব্রত ছিল যে একদিন আফ্রিকায় বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায় অনুষ্ঠিত হবে।
সেটি তো হলো, তারপর ব্ল্যাটার ফিফার মূল উদ্দেশ্য ব্যক্ত করলেন। বললেন যে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি খেলার চেয়ে বেশি—ইট ইজ মোর দ্যান আ গেইম। ফুটবলের একটিই লক্ষ্য, তিনি বললেন। ওয়ান গোল। সেটি কী? সেটি হলো, সবার জন্য শিক্ষা। এডুকেশন ফর এভরিবডি। তারপর একটি ছোট ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলো, যেখানে শাকিরাসহ জনা বিশেক বিশ্ববরেণ্য খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক তারকা দর্শকের দিকে আঙুল নির্দেশ করে বলছেন একটিই কথা—ওয়ান গোল। অর্থাৎ একটিই লক্ষ্য জীবনের—শিক্ষাগ্রহণ। আফ্রিকার ‘অন্ধকার’ বিশেষণের বিপক্ষে ব্ল্যাটারের উচ্চারিত ‘শিক্ষাগ্রহণ’ বা মানুষের আলোকিত হওয়ার ওপর জোর দেওয়া নিশ্চিত একটি দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার ফসল। আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটের মধ্যে ব্ল্যাটারের (যিনি একজন শ্বেতাঙ্গ) এ মহৎ উচ্চারণ নিঃসন্দেহে খুবই তাত্পর্যবাহী।
কিন্তু আফ্রিকা বা এশিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেখলে ব্ল্যাটারের ঘোষণার মধ্যে অনিচ্ছাকৃত একটি বৈপরীত্য বা প্যারাডক্সও ঢুকে গেছে। বাংলাদেশে এখন যে আমরা ‘সাংঘর্ষিক’ নামের একটা শব্দকে খুব ব্যবহার করছি, সেটি সেপ ব্ল্যাটারের চিন্তার মধ্যে যে লুকিয়ে নেই, তা নয়। কারণ, গোল শব্দটি (জি ও এ এল) ইংরেজিতে ‘ফুটবলের গোল’ আর ‘জীবনের লক্ষ্য’ বা ‘এইম ইন লাইফ’ উভয় অর্থে ব্যবহূত হয়। সে জন্য ব্ল্যাটারকে সহজেই ফুটবল খেলায় গোল করা আর শিক্ষাগ্রহণ করা—এ দুটো প্রায় বিপরীত লক্ষ্যকে মিশিয়ে এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলতে বেগ পেতে হয়নি।
কারণ, আমরা মানি বা না মানি, অন্তত আমাদের বাস্তবতায় দেখা যায়, ‘খেলা’ আর ‘পড়া’ দুটো প্রায় বিপরীতমুখী দিক—চক্র জীবনের। কত কিশোর (কিশোরী) যে লেখাপড়ার চাপে খেলা ছাড়ে বা কত কিশোর (কিশোরী) যে খেলার টানে লেখাপড়া ছাড়ে। ব্ল্যাটার বিশ্ব ফুটবলের মহা অভিভাবক হয়ে তার পরও যে এ প্যারাডক্সটিকে গৌণ করে দেখতে চেয়েছেন, সে জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। বস্তুত, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কথা না বলে যদি প্রকৃত শিক্ষার কথা বলি, তা হলে ব্ল্যাটারের কথায় কোনো প্যারাডক্স বা বৈপরীত্য নেই। কিন্তু যদি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণের কথা ওঠে, তা হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে (সুদূর আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত) খেলার মাঠ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটোর ব্যবহারিক ও চিন্তাগত দিক থেকে প্রায় বিপরীত মেরুতে অবস্থান।
ব্ল্যাটার যে দেশের নাগরিক (সুইজারল্যান্ড), সে দেশে হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া চালানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্রীড়ায়ও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। তিনি নিজে লুসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডিগ্রিপ্রাপ্ত। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে খ্যাতিমান তারকা পেলে ও ম্যারাডোনা দুজনেরই উত্থান বস্তি থেকে। পেলের হয়তো খানিকটা স্কুলে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু তার পরও তাঁর কৈশোর কেটেছে চা-দোকানে চাকরি করে আর ম্যারাডোনার জীবনবৃত্তান্তে কোথাও স্কুলের কোনো উল্লেখ নেই।
এখন চিন্তা করুন, দুজনের পরিবার যদি কিছুটা সচ্ছলও হতো, কিংবা আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের পিতামাতাদের মতো যদি তাঁদের ফুটবল খেলার প্রতিভাকে অস্বীকার করে চাপ দিতেন, নিদেনপক্ষে গ্র্যাজুয়েশনটা নিয়ে নিতে, তা হলে এ দুজনের নাম পৃথিবী কোনো দিন জানত না। যেমন একবার জাতীয় একটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় জাতীয় ক্রিকেটার আশরাফুলের একটি ছবি ছাপা হয়েছিল। তিনি সে বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে পরীক্ষার হলে বসেছিলেন। কিন্তু তাঁর পাস হয়েছিল কি না আমার জানা নেই। বিপরীত দিকে, আমার এক ছাত্র দাবায় অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী ছিল। বাংলাদেশ জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিদেশে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্বও করেছিল। কিন্তু পারিবারিক চাপে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার দিকে ঝুঁকে দাবার চর্চা আর চালাতে পারেনি। জাতীয় লিগে কয়েকবার অংশ নেওয়ার পর তার দৌড় থেমে যায়। এখন সে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির সহকারী প্রভাষক। কিন্তু নিশ্চিত একজন গ্রান্ডমাস্টারকে হারিয়েছি আমরা।
ফুটবলার বা যেকোনো ক্রীড়ার খেলোয়াড়দের বাংলাদেশে (এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে) দেখেছি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ বেশি দূর হয় না বলে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে চাকরি বা ব্যবসা করার যোগ্যতার অভাবে প্রায়ই দারুণ দারিদ্র্যে পতিত হতে হয়। স্বল্প কয়েকজন কেবল জীবনের উন্নতির মাত্রাটা ঠিক রাখতে পারে।
সেপ ব্ল্যাটারের ফিফার তরফ থেকে ‘সবার জন্য শিক্ষা’র মিশন ঘোষণা করা তার পরও এ সময়ের সবচেয়ে জরুরি স্লোগান—বিশেষ করে আফ্রিকা এবং এশিয়ার পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর জন্য আর আমাদের দায়িত্ব হলো সামাজিকভাবে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে ফুটবলার বা ক্রিকেটারের প্রতিভা বিকাশের পথে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ যেন বাধা না হয়ে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
ড. মোহীত উল আলম, অধ্যাপক ও প্রধান, ইংরেজি, ইউল্যাব।

রুয়ান্ডার গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন

ফিনল্যান্ডের একটি আদালত রুয়ান্ডার যাজক ফ্রাঁসোয়া বাজারাম্বাকে (৫৯) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দেশটির পরভু জেলার একটি আদালত গতকাল শুক্রবার এ রায় দেন। ফ্রাঁসোয়া ২০০৩ সাল থেকে ফিনল্যান্ডে বসবাস করছেন।
আদালত বলেন, বাজারাম্বার বিরুদ্ধে রুয়ান্ডার গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। জাতিতে হুতু বাজারাম্বা ১৯৯৪ সালে দেশটির সংখ্যালঘু তুতসি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেন। এই বিদ্বেষ গৃহযুদ্ধের রূপ নিলে দেশটিতে পাঁচ লাখের মতো মানুষ নিহত হয়। এ সময় অসংখ্য ঘরবাড়িও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ইরানকে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র দেবে না রাশিয়া

ইরানে এস-৩০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় রাশিয়া এই সিদ্ধান্ত নেয়। ক্রেমলিনের এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ-প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে না বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানানোর একদিন পরই ক্রেমলিনের ওই কর্মকর্তা এ কথা জানান।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ইরানকে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হলে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বেড়ে যাবে। তাই এ কাজ থেকে রাশিয়াকে বিরত থাকতে হবে।

পাকিস্তানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয় জঙ্গি নিহত

জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় গতকাল শুক্রবার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে এটা ছিল ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, আফগানিস্তান সীমান্ত-সংলগ্ন একটি গ্রামে গতকাল ওই হামলা চালানো হয়। একটি মার্কিন বিমান থেকে ওই গ্রামের একটি বাড়িতে পর পর ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে সন্দেহভাজন নয়জন জঙ্গি নিহত হয়। তাদের পরিচয় তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অনুরূপ হামলায় দুজন নিহত হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দাবি করছেন, নিহত ব্যক্তিরা ছিল সম্ভবত জঙ্গি।
পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে ২০০৮ সালে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৫ বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগান সীমান্ত এলাকায় আল-কায়েদা ও তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বড় হাতিয়ার হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে বেছে নিয়েছেন

আফগান বিদ্রোহীদের প্রতিরোধে ক্যামেরনের সাহায্যের ঘোষণা

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আফগানিস্তানে প্রথম সফরে গিয়ে ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, সড়কের কাছে পেতে রাখা বোমার হুমকি রুখতে তাঁর সরকার আরও বরাদ্দ দেবে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, আফগানিস্তান বিষয়টি ছিল তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রথম শর্ত।
বিদ্রোহীদের বোমা হামলা প্রতিহত করতে চলতি বছর আফগানিস্তানে আর ৬৭ মিলিয়ন পাউন্ড বাড়তি বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন ক্যামেরন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সময় তিন বছরে একই প্রকল্পের জন্য ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
আফগানিস্তানে প্রায় ১০ হাজার ব্রিটিশ সেনা কর্মরত রয়েছে। তাদের মধ্যে ৫০০ জন বিশেষ বাহিনীর সদস্য। তাই আফগানিস্তান ইস্যুটি ব্রিটিশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ক্যামেরন বলেন, আফগানিস্তানে নতুন সেনা পাঠানোর বিষয়টি আপাতত সরকারের পরিকল্পনায় নেই। ঠিক কবে নাগাদ ব্রিটিশ সেনা আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না তিনি। তবে তিনি সব সময় জানতে চেয়েছেন, কতটা দ্রুত এই মিশন শেষ করা যায়। কেউই চান না, ব্রিটিশ সেনারা নির্দিষ্ট সময়ের বেশি আফগানিস্তানে অবস্থান করুক।
আফগানিস্তানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞ তৈরির ব্যাপারে ব্রিটিশ সেনাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। কেননা, রাস্তায় পেতে রাখা বোমাই সেনাদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে আলাপকালে ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডিএস) দলের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসন পুনর্গঠনে বর্তমান বরাদ্দ থেকে ২০০ মিলিয়ন অর্থ এ খাতে স্থানান্তর করা হবে, যাতে আফগানিস্তান নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা দ্রুত শক্তিশালী করতে পারে।
এই বছরটিকে গুরুত্বপূর্ণ বছর বলে অভিহিত করে ক্যামেরন বলেন, এখন থেকে ব্রিটিশ জনগণকে প্রতি তিন মাস পরপর হাউস অব কমন্সের মাধ্যমে আফগানিস্তান সম্পর্কে অগ্রগতি জানানো হবে।
গত মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে লন্ডনে সাক্ষাৎ করেন এবং উভয় দেশের সম্পর্ক জোরদারের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি আফগানিস্তানের সামগ্রিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রীদের সমন্বয়ে পরিষদের একটি বিশেষ দলও আফগানিস্তানে পাঠিয়েছিলেন।

মমতা ও শারদ পাওয়ারকে কংগ্রেসে ফেরানোর উদ্যোগ

রেলমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষিমন্ত্রী ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা শারদ পাওয়ারকে দীর্ঘদিন ধরেই দলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল ক্ষমতাসীন দল ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। সম্প্রতি কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী আবারও তাঁদের কংগ্রেসে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। এ জন্য দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মমতা বা শারদ পাওয়ার কেউই কংগ্রেসে ফেরার ব্যাপারে এখনো ইতিবাচক সাড়া দেননি।
দায়িত্ব পাওয়া কংগ্রেস নেতারা তৃণমূলের নেত্রী মমতাকে দলে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, মমতা এখনো কংগ্রেসের রাজনীতিই করছেন। তাই মূল দলেই ফিরে আসুন। এতে দল যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি ভারতজুড়ে মমতার ভাবমূর্তিও বাড়বে। মমতাকে জানানো হয়েছে, তিনি কংগ্রেসে ফিরলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব তাঁকেই দেওয়া হবে। দলের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদেও দল তাঁকে প্রার্থী করবে।
মূলত পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থানে জাতীয় কংগ্রেস শঙ্কিত। সেটি তাদের নেতাদের কথাবার্তায় স্পষ্ট। পশ্চিমবঙ্গে মমতার উত্থানে ক্ষতি বেশি হবে কংগ্রেসেরই। এ বিষয়টিও উপলব্ধি করছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাই দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মমতাকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তাতে তেমন সাড়া মেলেনি। এবারে পৌর নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাপক সাফল্যের পর কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী আবারও মমতাকে দলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন।
কলকাতার প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মমতা এখনো কংগ্রেসের এই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। মমতা বলেছেন, ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছাড়ার পর তিনি কঠোর শ্রম দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন তৃণমূলকে। এখন সেই দল কারও হাতে তুলে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। যদিও মমতা কংগ্রেস নেতাদের বুঝিয়েছেন, ‘কংগ্রেসের আদর্শের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে আমার মিশে যাওয়া সম্ভব নয়।’
একইভাবে এনসিপির নেতা শারদ পাওয়ারকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে ১৯৯৯ সালে এনসিপি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন পিএ সাংমা ও প্রফুল প্যাটেলের মতো নেতারাও। এখন এনসিপি এবং কংগ্রেস সমঝোতা করেই মহারাষ্ট্রের ক্ষমতায় রয়েছে। প্রফুল প্যাটেল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন। মন্ত্রী হয়েছেন পিএ সাংমার কন্যাও। সব মিলিয়ে কংগ্রেস চাইছে, শারদ পাওয়ারের দল মিশে যাক কংগ্রেসের সঙ্গে। তবে শারদ পাওয়ারের দল এ ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।

পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়: আহমাদিনেজাদ

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ভণ্ড বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থে পারমাণবিক অস্ত্র প্রযুক্তি ব্যবহারে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা চায় না অন্য কেউ এ প্রযুক্তির মালিক হোক। এমনকি অন্য কেউ পরমাণু জ্বালানির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার করুক তাও তারা চায় না।
আহমাদিনেজাদ গতকাল শুক্রবার চীনের বাণিজ্যিক নগর সাংহাইয়ে বিশ্ব বাণিজ্য মেলা পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো পরমাণুবিষয়ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কেবল নিজেদের বস্তুগত স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।
ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ চতুর্থ দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের দুই দিনের মাথায় আহমাদিনেজাদ এসব কথা বললেন। তিনি বলেন, পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে পরমাণু জ্বালানি ব্যবহারে ইচ্ছুক অন্য দেশগুলোর ওপর কীভাবে চাপ প্রয়োগ করে তা তাঁর বোধগম্য নয়। অথচ যুক্তরাষ্ট্র হলো একমাত্র দেশ, যারা অন্যদের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে’—এমন একটি সন্দেহের বশে তারা কীভাবে ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করে দিতে পারে। তিনি বলেন, পরমাণু রাষ্ট্রের কেউ কেউ ইতিমধ্যে এই ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। অথচ তারাই কিনা এ প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোকে বাধা দিচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলকে রক্ষা করা যাবে না। এর ধ্বংস অনিবার্য। তেহরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নতুন করে অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্তকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নতুন করে অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছে তুরস্ক। আংকারা বলেছে, ব্রাজিলকে সঙ্গে নিয়ে তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট সংকট কূটনৈতিকভাবে সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী তাইপ এরডোগান বলেন, ‘আমরা এ ধরনের একটি ভুল কাজে অংশ নিতে পারি না; কেননা, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।’
ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ গত বুধবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম ভেটো প্রদানকারী দুই দেশ চীন ও রাশিয়াও সমর্থন জানায়। ইরানের মিত্র বলে পরিচিত চীন এ পদক্ষেপ নেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তেহরান। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীন এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারত।
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি চীনের সমালোচনা করে বলেছেন, মুসলিম বিশ্বে শ্রদ্ধার আসন থেকে ক্রমশ সরে যাচ্ছে চীন। তবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপে বেইজিংয়ের সমর্থন দেওয়া মানে এই নয় যে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি সবার প্রতি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্টের চীন সফরকালে সে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার পরিকল্পনা নেই। এমনকি রাজধানী বেইজিং সফরেরও কোনো সূচি নেই তাঁর।

হেডলিকে ভারতীয় গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ

মুম্বাইয়ে ২০০৮ সালের সন্ত্রাসী হামলার বাস্তবায়নে সাহায্যকারী মার্কিন নাগরিক ডেভিড হেডলিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের। মার্কিন কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, তার অবসান হলো।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, শিকাগোতে ডেভিড হেডলিকে ভারতীয় গোয়েন্দারা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে প্রাপ্ত তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দারা প্রকাশ করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে তাঁদের কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করতে হবে।
হেডলি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাগরিক। তাঁর বাবা ছিলেন পাকিস্তানি কূটনীতিক আর মা মার্কিনি। ২০০৮ সালের নভেম্বরে ভারতের মুম্বাইয়ে একটি অভিজাত হোটেলসহ কয়েকটি স্থাপনায় পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে ১৬৬ জন নিহত হয়। সন্ত্রাসীদের হামলার লক্ষ্যস্থল সুনিপুণভাবে খুঁজে বের করতে হ্যাডলি সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে মার্কিন কর্তৃপক্ষ গত বছরের মার্চে শিকাগোতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ সত্ত্বেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দিতে বা মৃত্যুদণ্ড দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন

শ্রীলঙ্কা সরকার দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা বাতিল করে দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার এক সরকারি কর্মকর্তা এ কথা জানান। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে ক্ষমতায় আসেন। এদিকে গত বছর মে মাসে শ্রীলঙ্কার বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের পরাজিত করার মাধ্যমে সে দেশে প্রায় চার দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী জাতিগত সহিংসতার অবসান হয়। এরপর মাহিন্দা রাজাপক্ষে তাঁর ক্ষমতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করেন।
শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। রাজাপক্ষের তিন ভাইয়ের এক ভাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী, একজন পার্লামেন্টের স্পিকার এবং অন্যজন অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এদিকে এপ্রিল মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের ছেলেও নির্বাচিত হন।
সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, মন্ত্রিসভা গত বুধবার নতুন পরিবর্তিত এ আইন অনুমোদন করবে। তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টে এ প্রস্তাবটিকে জরুরি বিল হিসেবে উত্থাপন করা হবে এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে।
রাজাপক্ষের দ্বিতীয় মেয়াদ ২০১৬ সালের নভেম্বরে শেষ হবে।

মিয়ানমারের অস্ত্র সংগ্রহের প্রবণতা ওই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে

মিয়ানমারের অস্ত্র সংগ্রহের প্রবণতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্কট মার্সিয়েল। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি।
সম্প্রতি আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত এক প্রামাণ্যচিত্রে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শীর্ষস্থানীয় একজন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, জান্তাশাসিত দেশটি পরমাণু অস্ত্র খুঁজছে এবং উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় একটি গোপন সুড়ঙ্গের নেটওয়ার্ক তৈরি করছে।
স্কট মার্সিয়েল বলেন, মিয়ানমার সত্যিই পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করে থাকলে তা ওই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। দেশটির বিরুদ্ধে গতানুগতিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহেরও অভিযোগ রয়েছে, যা ওই অঞ্চলকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে। আমরা নিবিড়ভাবে এ দুটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি।
তবে মিয়ানমারের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে তাঁদের বিরুদ্ধে পরমাণু কর্মসূচি শুরুর অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেন।
গত মে মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুর্ট ক্যাম্পবেল মিয়ানমার সফর করেন। তিনি উত্তর কোরিয়া থেকে সন্দেহভাজন অস্ত্রের চালান মিয়ানমারের পৌঁছানোর ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

উদ্ধারকর্মীরা ৭১ কোটি ২০ লাখ ডলার পাচ্ছেন

নিউইয়র্কে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করতে গিয়ে যেসব উদ্ধারকর্মী, পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী আহত অথবা অসুস্থ হয়েছেন ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁদের ৭১ কোটি ২০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি মার্কিন আদালত। ম্যানহাটানের কেন্দ্রীয় বিচারপতি অ্যালভিন হ্যালেরস্টিন গত বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনজীবীরা ৬৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব করলে বিচারপতি হ্যালেরস্টিন তা নাকচ করে দিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই অঙ্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, উদ্ধারকর্মীদের সম্মান প্রদর্শনের জন্য প্রস্তাবিত ওই পরিমাণ অর্থ খুবই অপ্রতুল।
গত বৃহস্পতিবার ক্ষতিপূরণের নতুন অঙ্ক ঘোষণার সময় তিনি উদ্ধারকর্মীদের ‘বীর’ হিসেবে অভিহিত করেন। বাদীপক্ষের প্রস্তাব নাকচ করে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিতে চাওয়ায় শুরুর দিকে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা হ্যালেরস্টিনের সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে অভিনন্দন জানান।
ঘোষণা অনুযায়ী, এক-এগারোর ঘটনায় গ্রাউন্ড জিরোতে কাজ করার সময় যাঁরা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণের অর্থের বড় অংশ পাবেন। যাঁরা বড় ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত হননি কিন্তু ধ্বংসাবশেষের ধুলোবালি ফুসফুসে ঢুকে যাঁদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি আছে তাঁরা সর্বনিম্ন অঙ্কের ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন ৩,২৫০ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে যাঁরা উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবে ২০ লাখ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ বলেছেন, এ রায়ের মাধ্যমে গ্রাউন্ড জিরোতে উদ্ধারকাজ করতে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো জটিল বিষয়ের একটি স্বচ্ছ সমাধান হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রায় ১৩ হাজার উদ্ধারকর্মীর একটি তালিকা রয়েছে, যাঁরা গ্রাউন্ড জিরোতে কাজ করতে গিয়ে ইট-সুরকির ধুলোবালি, সিমেন্টের সূক্ষ্ম কণা ও গ্যাসীয় পদার্থের কারণে বিভিন্ন ধরনের বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন অথবা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিপির চেয়ারম্যানকে ডেকে পাঠালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মেক্সিকো উপসাগরের তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ দিয়ে তেল বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তেলেক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) চেয়ারম্যানকে ডেকে পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এদিকে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর থেকে বিপিকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার বিভিন্ন মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম। ব্রিটেনের অনেক রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী ওবামার বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বিপির চেয়ারম্যান কার্ল হেনরিক এসভানবার্গকে আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ডেকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডেকে পাঠানো হয়েছে উপকূলীয় এলাকায় ত্রাণকাজে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্যাড অ্যালেনকে। উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিবেশ বিপর্যয়সহ নানা বিষয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির মধ্যে এই দুই কর্মকর্তাকে হোয়াইট হাউসে ডেকে পাঠানো হলো। এরই মধ্যে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার বলেছেন, এ ঘটনায় ওয়াশিংটন কাউকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না। কারণ, এই বিপর্যয়ের জন্য বিপি দায়ী। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি দুর্ঘটনার পর বিপির সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের পরিচালক মার্সিয়া এননুট গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ দিয়ে দিনে প্রায় ৪০ হাজার ব্যারেল তেল বেরিয়ে যাচ্ছে। এর আগে বেরিয়ে যাওয়া তেলের পরিমাণ ২০ হাজার ব্যারেল বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিপি বলছে, সাগরে ছড়িয়ে পড়া তেল থেকে তারা প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার ব্যারেল তেল সংগ্রহ করছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে বিপিকে উদ্দেশ্য করে প্রেসিডেন্ট ওবামার বিভিন্ন বক্তব্যকে ‘যুদ্ধংদেহী’ বলে আখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম। দ্য টাইমস ওয়াশিংটনের মন্তব্যেকে ‘সতর্ক সংকেত’ বলে অভিহিত করেছে। পত্রিকায় প্রকাশিত একটি কার্টুনে দেখানো হয়েছে, বিপিকে ফুটবল বানিয়ে তাতে লাথি দিচ্ছেন বারাক ওবামা। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ শিরোনাম করেছে ‘বিপিকে নিয়ে ওবামার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যর্থ ক্যামেরন’। ডেইলি মেইল-এর শিরোনাম ‘মি. ক্যামেরন, দেশের পক্ষে অবস্থান নিন’। এ ছাড়া দ্য ফিন্যন্সিয়াল টাইমস ও দি ডেইলি এক্সপ্রেস-এ প্রেসিডেন্ট ওবামার সমালোচনা ও বিপির পক্ষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানানো হয়।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পিজে ক্রাউলি বলেন, তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। এর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি হচ্ছে বিপি। তাই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও বিপির মধ্যে সীমাবদ্ধ। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।
গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কাছে মেক্সিকো উপসাগরের ওই তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে তেলক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ দিয়ে অনবরত তেল বেরিয়ে সাগরের পানিতে মিশছে। এতে সাগরের জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।

অ্যান্ডারসনকে ছেড়ে দেওয়ায় রাজীব গান্ধীর ভূমিকা ছিল

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিয়ন কার্বাইডের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ারেন অ্যান্ডারসনকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হাত ছিল। হেডলাইনস টুডে ও সিএনএন-আইবিএনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইডের রাসায়নিক কারখানায় ১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বেসরকারি হিসাবে ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ছয় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত সোমবার ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এতে ইউনিয়ন কার্বাইডের ভারতীয় আট কর্মকর্তাকে শাস্তি দেওয়া হলেও ওয়ারেন অ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি রায়ের কোথাও তাঁর সম্পর্কে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
পিসি আলেকজান্ডারের বরাত দিয়ে ভারতীয় নিউজ চ্যানেল হেডলাইনস টুডে জানায়, রাজ্যসরকারের সহায়তা ছাড়া অ্যান্ডারসন মুক্তি পেতে পারেন না। তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী মধ্যপ্রদেশের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে অ্যান্ডারসনকে ছাড়ার ব্যাপারে ভূমিকা রাখেন। রাজীব গান্ধীর সঙ্গে অর্জুন সিংয়ের বৈঠকের পর অ্যান্ডারসনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা কিছুই জানতেন না।
সিএএনএন-আবিএন-এর এক প্রতিবেদনেও একই ধরনের তথ্য দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর নথি অনুযায়ী রাজীব গান্ধী সরকারের নির্দেশে ৭ ডিসেম্বর অ্যান্ডারসনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই নথি অনুযায়ী অ্যান্ডারসন ৮ ডিসেম্বর ভারত ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় ভারতের রাজনীতিকেরা পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি করেন ও ইউনিয়ন কার্বাইডের ভারত শাখার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
ভোপাল দুর্ঘটনার তিন দিন পর ৭ ডিসেম্বর ওয়ারেন অ্যান্ডারসনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ওই দিনই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে রাজ্যসরকারের বিশেষ বিমানে তিনি নয়াদিল্লি যান। অ্যান্ডারসনকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে যান মধ্যপ্রদেশের তত্কালীন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মতি সিং। তিনি বলেন, আমি শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পালন করেছি। অভিযোগ রয়েছে, মধ্যপ্রদেশের তত্কালীন মুখ্যসচিব ব্রাম সরুপ ব্যক্তিগতভাবে মতি সিংকে ডেকে পাঠান। পরে অ্যান্ডারসনকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মতি সিং বলেন, অ্যান্ডারসনকে ছেড়ে দেওয়ার কারণ তাঁকে জানানো হয়নি। অর্জুন সিং এসব প্রতিবেদনকে অমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই ঘটনার সময় পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কিছু কাজ করতে হয়েছে।

ফ্রান্সেরও ড্র

বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ড্র করল ফ্রান্স। কেপটাউনে কাল তারা গোলশূন্য ড্র করেছে উরুগুয়ের সঙ্গে। খেলার ৮০ মিনিটের মাথায় লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন উরুগুয়ের নিকোলাস লোডেইরো। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাও ড্র (১-১) করেছে মেক্সিকোর সঙ্গে।

রবিনহোর দিকে তাকিয়ে পেলে

পেলের মতো অনেকেরই বিশ্বাস, ব্রাজিল এবার শিরোপা জিতবে। তবে একটি পাদটীকাও সবাই সঙ্গে জুড়ে দেয়—সুন্দর ফুটবল উপহার দিতে পারবে না তারা। কার্লোস দুঙ্গার ব্রাজিল দলে ‘সৃজনশীল’ খেলোয়াড়ের কমতি দেখেই এই মন্তব্য করছে সবাই।
তবু একটা আশা সবার মনে—অন্তত কাকার পায়ে দেখা যাবে কিছু জাদুকরি ফুটবল। তবে কাকাকে নিয়ে চিন্তিত ফুটবল-সম্রাট পেলে। কাকা যদিও ভরসা দিয়ে বলেছেন, ‘ব্রাজিলের কোনো ভয় নেই, আমি ফিট হয়ে উঠেছি।’ কিন্তু পেলের ভয় কাটছেই না, ‘কাকাকে নিয়ে আমি চিন্তিত। ও আমাদের দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণ বা মাঝমাঠে সে আমাদের সেরা খেলোয়াড়। ঈশ্বরের ইচ্ছায় ও বিশ্বকাপে ভালো ফর্মে থাকবে বলেই আশা করি।’
তবে কাকা বিশ্বকাপে ভালো করবে বলেই মনে করেন পেলে। রবিনহোকে একসময় নিজের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন পেলে। সান্তাসে রবিনহোর গত কিছুদিনের পারফরম্যান্স ভরসা দিচ্ছে তাঁকে, ‘রবিনহো সান্তোসে যে পারফরম্যান্স করেছে, সেটা বিশ্বকাপেও করতে পারলে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠবে।’

ম্যারাডোনা ঘামছেন

যাঁরা ফেয়ার প্লের কথা বলেন, তাঁদের বলি, শুধু এক দল ভালো ফুটবল খেললে হবে না, রেফারিদেরও ফেয়ার প্লে ব্যাপারটা বুঝতে হবে।
১৯৯০ সালে ফেয়ার প্লে শুরু হওয়ার পরই ক্যামেরুনের এক খেলোয়াড় আমাকে লাথি মেরেছিল, সেটিও প্রায় মাথায়।
এখন পর্যন্ত আইভরিকোস্ট ও পর্তুগালকে সবচেয়ে ভালো লেগেছে। ওরা ব্রাজিলের সঙ্গে ভালোই লড়াই করবে। দেখি, ব্রাজিল কেমনভাবে ব্যাপারটা সামলায়।
এত কম সময়ের নোটিশে কোচ পরিবর্তন করাটা ভালো না। আমি তাঁর (নাইজেরিয়া কোচ লেজারব্যাক) মঙ্গল কামনা করি। কিন্তু ও তো কোচ হিসেবে দল নিয়ে কাজ করার সুযোগই পায়নি।
কাল সংবাদ সম্মেলনে তিন পক্ষকেই একহাত নিলেন তিনি। বুঝতেই পারছেন মানুষটি কে। হ্যাঁ, ডিয়েগো ম্যারাডোনা। আজ বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় জোহানেসবার্গে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবেন। তার আগেই শুরু করে দিলেন প্রত্যাশিত ‘কথার অভিযান’!
প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়া বলে আফ্রিকানদের শারীরিক ফুটবলের দিকে ইঙ্গিত করে ‘ফেয়ার প্লে’ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। খেলার আগেই মানসিক খেলা শুরু করে দেওয়ার জন্যই কি না, প্রতিপক্ষ কোচকে নিয়েও কথা বললেন। বললেন, লেজারব্যাক সময় না পাওয়ায় দল খুব ভালো করার কথা না। মাঝে একটু খোঁচা দিলেন ব্রাজিলকেও, আগের দিনই যে পেলে আর্জেন্টিনাকে গোনার মধ্যেই ধরেননি!
এখানেই থেমে থাকেননি। নিজের প্রথম একাদশ সম্পর্কে আগাম ধারণাও দিয়ে রেখেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, কার্লোস তেভেজ থাকছেন। কিন্তু এতসব কথার ভিড়ে সবচেয়ে বেশি কথা বললেন লিওনেল মেসিকে নিয়ে।
মেসিকে নিয়ে বড় বড় কথা দলের দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন ম্যারাডোনা। এর মধ্যেই মেসিকে ‘ছিয়াশির ম্যারাডোনা’র চেয়ে এগিয়েও রেখেছেন। কাল সংবাদ সম্মেলনে আরেকবার ঘোষণা দিয়ে দিলেন, মেসির পক্ষে তাঁর কীর্তি ছোঁয়া সম্ভব, ‘১৯৮৬ সালে আমি যা করেছিলাম, ও তেমন কিছু করলেই আমার ভালো লাগবে। পুরো দলই এবার মেসিকে সাহায্য করবে। ওকে শুধু তুলির শেষ আঁচড়টা দিতে হবে।’
ম্যারাডোনার এসব কথায় কি মেসির ওপর চাপটা বেড়ে যাচ্ছে? সমস্যা নেই। সতীর্থরা মেসির পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। আগের দিন গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ বলেছেন; কাল হুয়ান ভেরন, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ারা বললেন—মেসির একার ওপর তাঁরা চাপ দিতে চান না।
অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের ‘নেতা’ ভেরন বলছেন, ‘দলে আমরা ২৩ জন। প্রত্যেককেই দায়িত্বের ভাগ নিতে হবে। একা কারও ওপর নির্ভর করা উচিত হবে না আপনার। তা সে যত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই হোক।’ অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া ভেরনের মতো অভিজ্ঞ নন; বয়স মেসির মতোই ২২। তার পরও মেসির ওপর চাপ কমাতে বলছেন এই তরুণও, ‘লিওর সঙ্গে দলে থাকাটা বিস্ময়কর। সে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়। কিন্তু আমাদের কিছুতেই উচিত হবে না সমস্ত চাপ তাঁর কাঁধে দেওয়া।’
চাপ কে কার ওপর দেয়! চাপ তো নিজেই চলে এসেছে। খোদ ম্যারাডোনার ওপরই মনে হয় সবার চেয়ে বেশি চাপ। অন্যদের নিয়ে যতই বড় বড় কথা বলুন, শেষ পর্যন্ত স্বীকার করলেন, ‘খেলোয়াড় থাকা অবস্থায় যেমন লাগত, তার চেয়েও বেশি নার্ভাস লাগছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মাচেরানোকে বলছিলাম, আমার হাত ঘামছে।’
তা তো লাগবেই। আরেকটা শুরু বলে কথা। এএফপি।
আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া
গঞ্জালো হিগুয়েইন
নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন লিওনেল মেসি, অন্যদের অসাধারণ সব কীর্তিকেও মনে হয় সাধারণ। না হলে হিগুয়েইনের যা ফর্ম, তাতে আলোটা তাঁর ওপর আরও বেশিই থাকার কথা। মেসিকে নিয়ে প্রতিপক্ষের অতি সতর্কতার ফাঁকে আর্জেন্টিনার নায়ক হয়ে উঠতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এ মৌসুমে ২৯ গোল করা স্ট্রাইকার।
ভিক্টর ওবিন্না
গতি আর ক্ষিপ্রতা মিলিয়ে দারুণ ভয়ংকর উইঙ্গার। মাঠের পারফরম্যান্সে প্রতিশ্রুতির পুরোটা এখনো ঠিক প্রতিফলিত হয়নি, তবে নিজেকে মেলে ধরতে ভিক্টর ওবিন্না বেছে নিতে পারেন এই বড় মঞ্চকেই। আর্জেন্টাইন ডিফেন্সের জন্য আজ বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন এই ২৩ বছর বয়সী।

প্রথম ম্যাচেই দ্রগবা!

এখনো হাত ঝোলানো স্লিংয়ে। সতীর্থরা অনুশীলন করছেন, আর তিনি চেয়ে চেয়ে দেখছেন। অথচ এই দিদিয়ের দ্রগবাই নাকি খেলবেন প্রথম ম্যাচ! সভেন গোরান এরিকসনের দাবি কিন্তু এমনটাই। ১৫ জুন পোর্ট এলিজাবেথে পর্তুগালের বিপক্ষে আইভরিকোস্টের প্রথম ম্যাচ। এলিফ্যান্টদের কোচ বলছেন, এই ম্যাচেই মাঠে নামার সম্ভাবনা আছে অধিনায়কের, ‘ম্যাচটা যদি আজ-কাল হতো, তাহলে সে খেলতে পারত না। কিন্তু এখনো কয়েকটা দিন সময় আছে, সে পর্তুগালের বিপক্ষেও খেলতে পারে।’
জাপানের বিপক্ষে গত সপ্তাহের প্রস্তুতি ম্যাচে কনুই ভেঙে ফেলেন দ্রগবা। এই স্ট্রাইকারকে খেলাতে এরিকসনের এত মরিয়া হওয়ার কারণও আছে। তাঁকে ছাড়া মাঠে নেমে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটাতে সুইজারল্যান্ডের দ্বিতীয় বিভাগের এক দলের সঙ্গে ড্র করেছে আইভরিকোস্ট। এরিকসন অবশ্য আশাবাদী, তাঁর দল যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে, ‘প্রথম ম্যাচের আগেই আমরা খুব ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে উঠব, দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই আমরা করব।

ম্যারাডোনা-মেসির আর্জেন্টিনা মাঠে নামছে আজ

সবাইকে এখন অবগুণ্ঠন খুলে বেরিয়ে আসতে হবে। আর্জেন্টিনার জন্য তো আরও বেশি করেই। দক্ষিণ আফ্রিকায় পা দেওয়ার পর তারাই নাকি সবচেয়ে রহস্যময়তায় মুড়ে রেখেছিল নিজেদের। কিন্তু আজ সব রহস্যের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। আজই যে আরেকটি বিশ্বকাপের প্রথম পরীক্ষা। আলবিসেলেস্তিদের সেই পরীক্ষাটা নেবে নাইজেরিয়া, সুপার ইগলস।
আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট, তবে ব্রাজিল, স্পেনের মতো নয়। যাকে বলে ‘রেড হট—আগুনতপ্ত’ ফেবারিট নয়। কিন্তু আর্জেন্টিনার এ দলটি যে বিশ্বের অন্যতম সেরা, তা নিয়ে সংশয় তেমন কারোরই নেই। তাই মেসি-হিগুয়েইনদের দিকে তাকিয়ে অনেকেরই মাথা হয়ে যাচ্ছে নত। কে জানে, দুনিয়ার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সোনার কাপটা ১১ জুলাই তাদের হাতে উঠতেও পারে। অনেকেই তাদের মধ্যে দেখছে ব্রাজিল-সিনড্রোম। ১৯৭০ বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্রাজিলকে চতুর্থ বিশ্বকাপ জিততে সময় লেগে গিয়েছিল ২৪ বছর। ওই সময়টিকে বলা হতো পেলে-পরবর্তী যুগের গতি-জড়তা। ১৯৯৪ সালে পেলে-জড়তা কাটিয়ে দিয়েছিলেন রোমারিও-বেবেতোরা, যে দলটির অধিনায়ক ছিলেন ব্রাজিলকে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিয়ে আসা কোচ কার্লোস দুঙ্গা।
ইতিহাসে এ রকম নাকি হয়, এক একজন খেলোয়াড়ের ছায়াতল থেকে সরে আসতে সময় লাগে। ব্রাজিল সেই ছায়া থেকে বেরিয়েছে ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে।
এবার তাহলে আর্জেন্টিনারও ম্যারাডোনার ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার সময়? এটা ঘটনাচক্র, কিন্তু দেখুন, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষার বয়সটাও হয়ে গেল ঠিক ২৪ বছর। আর এবারও তাদের কাণ্ডারি সেই ডিয়েগো ম্যারাডোনা—যিনি ওই ’৮৬ বিশ্বকাপের পর থেকেই ‘ফুটবল ঈশ্বরে’র আসনে আসীন! আর্জেন্টাইনদের কাছে কেমন কেমন গন্ধ ভেসে আসছে, দূর থেকে। যেন কোনো স্বর্ণচাঁপার গন্ধ। যে কটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে, এর সবগুলোতেই আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা জানিয়ে দিয়েছেন তাঁদের স্বপ্নের কথা। তৃতীয়বারের মতো ওই সোনার কাপটায় তাঁরা হাত ছোঁয়াতে চান।
একদিন এসেছিলেন নিকোলাস বুরদিসো ও ক্লেমেন্তে রদ্রিগেজ—জোড় বেঁধে। আরেক দিন এলেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। প্রথম দুজনের প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। পরেরজনের অবশ্য এই বিশ্বকাপেরই অন্যতম সেরা তারকা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সবার মুখেই একই কথা। এত দিনের অতৃপ্তি তাঁরা ঘোচাতে চান।
এই অতৃপ্তি ঘোচাতে গেলে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়তে হবে সেই লোকটিকে, যিনি এখনো তাঁর ছায়ায় ঢেকে রেখেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলকে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে পারবেন এই কিংবদন্তি? তাঁর খেলোয়াড়দের বিশ্বাস, তিনি পারবেন। খেলোয়াড়ি কিংবদন্তি এবার তিনি কোচের গায়ে জড়িয়ে নেবেন। তিনি চিরকাল কিংবদন্তিই থাকবেন।
প্রশ্ন করা হয়েছিল, নাইজেরিয়া আফ্রিকান দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পাবে ঘরের বাইরে ঘর হিসেবে, এ অবস্থায় নাইজেরিয়াকে কি আপনারা ভয় পাচ্ছেন না? বুরদিসো, রদ্রিগেজ, ডি মারিয়া—সবার একই কথা। না, ভয় নেই। ভয় পেলে তো আর চলবে না। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে সব বাধাই আপনাকে পেরিয়ে যেতে হবে।
ডি মারিয়া অবশ্য বেশিই বলেছেন। কোনো দলকেই তাঁর ভয়ের কিছু নেই। তাঁরা যদি তাঁদের খেলাটা খেলতে পারেন, তাহলে আটকায় কার সাধ্য। অতি সত্যি কথা!
আর্জেন্টিনা নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে তাদের আটকানো অসম্ভব। রক্ষণভাগটাই কেবল দুর্বলতার একমাত্র যোগসূত্র। তা ছাড়া আর কোনো জায়গাতেই তাদের অপূর্ণতা নেই। তবে নিজেদের খেলা খেলতে গেলে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়, এই গ্রহের এই সময়ের সেরা খেলোয়াড় মেসিকে জ্বলে উঠতে হবে। তিনি যে আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে দিলেই কেমন যেন হারিয়ে যান, সেই বার্সেলোনার লাল-নীলের বিস্মৃতির মধ্যে ঢুকে যান। মারিয়া কথা দিলেন, মেসিকে এবার হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। বার্সেলোনার সতীর্থরা যেমন তাঁর পাশে পাশে থাকে, তাঁরাও থাকবেন।
সবই হলো, কিন্তু ম্যারাডোনাকে নিয়ে তো ভয় কাটছেই না। বিশ্বকাপ নিয়ে নানা রকম বাজি ধরাধরি চলে। বাজি ধরা হয়েছে সাইডলাইন থেকে ম্যারাডোনা বহিষ্কৃত হবেন, এটা নিয়েও। বাজির দরও যথেষ্টই ভালো। ১ টাকা ধরে জিতলে পাওয়া যাবে ১৪ টাকা। তবে আর্জেন্টিনার মিডিয়া আশাবাদী, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের কোচ ম্যারাডোনার চেয়ে বিশ্বকাপের কোচ ম্যারাডোনা অনেক বেশি পরিণত। অনেক বেশি স্থিতধী।
ওদিকে আর্জেন্টিনাকে ভর দিচ্ছে নাইজেরিয়াও। কোচ লার্স লাজারব্যাক বলেছেন, আর্জেন্টিনা বলে কোনো ভয় নেই। আমরা আফ্রিকান মাটির শক্তি নিয়ে ওদের রুখে দাঁড়াব। নওয়ানকো কানু বলেছেন, আর্জেন্টিনাকে হারানোর সামর্থ্য তাদের আছে।
যে মাঠে নাইজেরিয়ার সঙ্গে ম্যাচ দিয়ে আজ বিশ্বকাপ শুরু করছেন মেসিরা, সেই এলিসপার্ক স্টেডিয়াম একটা অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে ৯ বছর ধরে। এখানে স্থানীয় ফুটবল লিগে কাইজার চিফস আর অরল্যান্ডো পাইরেটসের ম্যাচ ৪৩ জন দর্শকের মৃত্যু দেখেছিল ভিড়ের কারণে। সে ২০০১ সালের কথা। তার পর অবশ্য অনেক ম্যাচ হয়েছে এখানে। কিন্তু প্রতিটি খেলাই মনে করিয়ে দেয় সেই হতভাগ্য মানুষগুলোর মুখ।
আজও সেই মুখগুলো স্মৃতির আয়নায় ভেসে উঠবে। তবে মানুষ সেই শোককে ফুটবলের আনন্দ দিয়ে সরিয়ে দিতে চায় দূরে। একদিকে মেসিডোনা-জাদু, অন্যদিকে আফ্রিকার অন্যতম ফুটবল শক্তি নাইজেরিয়া। শিল্পের সঙ্গে শক্তির একটা লড়াই মানুষের মন ভরিয়ে দেবে, এই প্রার্থনাই করছে এলিসপার্ক।

এত দিনে বুঝছেন জেরার্ড

সৈনিকটির পরনে তখনো যুদ্ধের পোশাক। হয়তো আগের দিনই যুদ্ধ করে এসেছেন, একটু পরই আবার হয়তো যুদ্ধে যেতে হবে। রণক্লান্ত মুখটা স্টিভেন জেরার্ডদের দিকে তুলে দৃঢ়কণ্ঠে বললেন, ‘আমরাও আপনাদের মতো প্রচণ্ড চাপের মুখে লক্ষ্য ঠিক রাখি। আমাদের জন্য এবার ট্রফিটা নিয়ে আসবেন।’
না, আফগানিস্তানের ব্রিটিশ সৈনিকেরা কেউ দক্ষিণ আফ্রিকায় আসতে পারেননি। এমন আবেগময় সব বার্তা ভিডিও করে একটা ডিভিডি আকারে পাঠানো হয়েছে রাস্টেনবার্গে, ইংল্যান্ডের বেস ক্যাম্পে। সৈনিকদের ‘বন্ধু’ ডেভিড বেকহামের কাছে পাঠানো এই ডিভিডি দেখে নাকি জেগে উঠেছে ইংলিশ ক্যাম্প। হঠাত্ হয়ে যাওয়া অধিনায়ক জেরার্ড বলছেন, তাঁরা নতুন করে বিশ্বকাপ জয়ের অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।
জন টেরির অধিনায়কত্ব যাওয়ার পরই ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব পাওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিল জেরার্ডের। তা না পেলেও কাকতালীয়ভাবে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করছেন জেরার্ডই, সেটা পেয়েছেন রিও ফার্ডিনান্ডের ইনজুরির কারণে।
আফগানিস্তানে লড়তে থাকা ব্রিটিশ সৈনিকদের পাঠানো এই বার্তা দেখে জেরার্ড অনুভব করছেন, ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করতে পারাটা কত সৌভাগ্যের ব্যাপার, ‘সবাই আমাদের জন্য প্রার্থনা করেছে, আমাদের সাফল্য কামনা করেছে। এখন আমরা বুঝতে পারছি, খেলা কাছে চলে এসেছে এবং আমাদের পেছনে কী পরিমাণ সমর্থন। এই বার্তাগুলো দেখে আমি বুঝতে পারছি, বিশ্বকাপে দলের নেতৃত্ব দেওয়াটা কত সৌভাগ্যের।’
শুধু সেনাবাহিনীর সদস্যরা নয়, ইংল্যান্ড দলকে এই ডিভিডিতে বার্তা পাঠিয়েছেন আফগানিস্তানে লড়তে থাকা বৈমানিক, নৌ-সেনা সদস্যরাও। গড়পরতা সবার প্রায় একই চাওয়া, বিশ্বকাপ জিতে আনতে হবে। কেউ বলছেন, ‘গুড লাক। ট্রফিটা দেশে নিয়ে ফিরো।’ আবার কেউ বলেছেন, ‘আমাদের মুখ চেয়ে ফাইনালে উঠো।’
এসব কথা জেরার্ডদের অনুপ্রাণিত করছে। একই সঙ্গে জেরার্ড অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন ওয়েইন রুনিতেও। আবার পুরোনো মেজাজটা ফিরে আসায় রুনিকে নিয়ে ইংলিশ সংবাদমাধ্যম যখন একটু শঙ্কিত, তখন জেরার্ড বলছেন, রুনিই হতে যাচ্ছেন এবারের বিশ্বকাপ নায়ক। ওয়েইন রুনির বর্তমান ফিটনেস দেখে এবারের বিশ্বকাপে তাঁর ‘পেলে-ম্যারাডোনা’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন অধিনায়ক, ‘ওর আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী। অসাধারণ একটা মৌসুম, সম্ভবত ওর ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম কাটিয়ে এসেছে। আমি এটা ভেবেই খুশি যে ও একজন ইংলিশ।

টগবগ করে ফুটছেন পার্সি

হুংকার অথবা সতর্কবার্তা— প্রতিপক্ষরা যেটা খুশি ধরে নিতে পারেন। রবিন ফন পার্সি স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা তাঁদের আছে।
কদিন আগে বিশ্বকাপ এবং হল্যান্ডের সম্ভাবনার আলোচনায় ফন পার্সিকেই বড় ভরসা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন রুড খুলিত। কিংবদন্তি খুলিতের প্রশংসা আর অগাধ আস্থাই কি পার্সিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে? জাগিয়ে দিয়েছে ইচ্ছাশক্তি? হবে হয়তো। শিরোপা জয়ের প্রশ্নে কৌশলী পার্সি উত্তরটা দিয়েছেন এভাবে, ‘এটা বলাটা সত্যিই কঠিন। কারণ ভালো দল আছে অনেকগুলো। তবে স্নাইডার, রোবেন, ফন ডার ভার্ট, আমি নিজে আর ফন বোমেলের মতো খেলোয়াড়েরা যদি সমন্বিতভাবে খেলতে পারে, তবে যেকোনো দলকে হারানোর সম্ভাবনা থাকবে আমাদের। আমাদের পায়ে বল থাকলে আমরা সবাই জানি খেলাটা কীভাবে খেলতে হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষের পায়ে বল থাকলে আমাদের অবশ্যই তাদের ওপর ঠিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’
‘ই’ গ্রুপে হল্যান্ডের তিন গ্রুপসঙ্গী ডেনমার্ক, জাপান ও ক্যামেরুন। পার্সির কথা শুনে মনে হচ্ছে, গ্রুপ পর্ব বুঝি পেরিয়েই গেছে হল্যান্ড! তবে তাদের পরবর্তী পথটা হবে খুবই কঠিন—‘গ্রুপ পর্বের পরের ধাপগুলো আমাদের জন্য খুবই কঠিন হবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ইতালির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ। যদি এতে উতরে যাই, কোয়ার্টার ফাইনালে বড় সম্ভাবনা স্পেনের সামনে পড়ার। সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে ব্রাজিল কিংবা পর্তুগালের। আর ফাইনালের প্রতিপক্ষ হতে পারে ফিকশ্চারের অন্য পাশের যেকোনো দল।’ দ্য মিররকে বলেছেন ২৬ বছর বয়সী ডাচ স্ট্রাইকার।

দুই ‘ছোট’র লড়াই

গ্রুপে আর্জেন্টিনাকে সবার ওপরে রাখলে পরের জায়গাটা কার—নাইজেরিয়া, গ্রিস, না দক্ষিণ কোরিয়ার? তিন দলের মধ্যে কারা গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে? আজ হয়তো একটা ধারণা পাওয়া যাবে। আর্জেন্টিনার সামনে যেমন দাঁড়াচ্ছে নাইজেরিয়া, গ্রিস-দক্ষিণ কোরিয়াও মুখোমুখি হচ্ছে আজই।
বিশ্বকাপে তো বটেই, গ্রিস-দক্ষিণ কোরিয়া এটিই প্রথম ম্যাচ। কাজেই তারা একে অন্যের ‘অচেনা’ প্রতিপক্ষই। তবে কোরিয়াকে বেশি দেখার সুযোগ হয়েছে গ্রিসের। বিশ্বকাপ-মঞ্চে কোরিয়া খেলছে টানা সপ্তমবার। কোরিয়াকে সারা দুনিয়া অবাক বিস্ময়ে দেখেছে ২০০২ বিশ্বকাপে। যেবার তারা নিজেদের মাঠে উঠে গিয়েছিল সেমিফাইনালে!
দুই বছর পর ইউরোপ-সেরা হয়ে বিশ্ব ফুটবলকে নাড়া দিয়েছে গ্রিসও। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের বড় অর্জন এটাই। কিন্তু সেই অর্জন যেন বুদ্বুদের মতো মিলিয়েই গেছে। এরপর গ্রিসকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে দলটির সঙ্গে ইউরো জয়ের কারিগর কোচ অটো রেহাগেল এখনো আছেন, যাঁর হাত ধরে এবার বিশ্বকাপে সাড়া ফেলতে চায় গ্রিস।
বিশ্বকাপে সাড়া! চাইলেও সহজ নয়। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে প্রথম এবং একমাত্র অংশগ্রহণেই সেটা টের পেয়েছে গ্রিস। দেশে ফেরার সময় তিন ম্যাচেই হেরে যাওয়াকে হয়তো বড় করে দেখেনি গ্রিস। আক্ষেপটা ছিল এই ভেবে যে ‘একটি গোলও আমরা করতে পারলাম না!’
আজ তাই কোরিয়ার বিপক্ষে গ্রিসের প্রথম লক্ষ্যই থাকবে গোল করা। জয় পেলে তো খুবই ভালো। জয় চাইবে কোরিয়াও। এই ম্যাচের জয়ী দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার দরজাটা কিছুটা হলেও খুলতে পারবে। অন্য দলটিকে হয়তো পোর্ট এলিজাবেথ থেকেই ব্যাগ গোছানোর প্রস্তুতি নিতে হবে।
বার্তা সংস্থাগুলো বলছে, টুর্নামেন্টের ‘কালো ঘোড়া’ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা দু দলের আসল ম্যাচটা আসলে আজই। দক্ষিণ কোরিয়ার এবারের বিশ্বকাপ-যাত্রাকে দেখা হচ্ছে অন্যভাবেও—তারা কি বিশ্ব ফুটবলে শক্তি হয়ে দাঁড়াতে পারবে? এই বিশ্বকাপে সেই প্রশ্নের উত্তরও খোঁজা চলছে?
দক্ষিণ কোরিয়া দলটায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বড় তারকা পার্ক জি-সুং। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার এই দলের অধিনায়কও। মাঠে দক্ষিণ কোরিয়ার সব সৃজনশীলতার কেন্দ্রেই থাকবেন দেশের হয়ে ৮৮ ম্যাচ খেলা পার্ক।
দক্ষিণ কোরিয়া-গ্রিস
পার্ক জি-সুং
অবিশ্বাস্য দমের জন্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থরা তাঁকে ডাকেন ‘থ্রি লাংস’। গত দুই বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও ফ্রান্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত দুটি গোল করা পার্ক জি-সুং এবার নিজেকে আরও উজাড় করে দিতে চাইবেন, অধিনায়কের আর্মব্যান্ড যে থাকছে তাঁর হাতে!
থিওফানিস গেকাস
ফর্ম হারিয়ে বুন্দেসলিগায় গত তিন বছরে ধারে খেলতে হয়েছে তিনটি ক্লাবে। তবে থিওফানিস গেকাস দারুণ সফল জাতীয় দলে, অনেক বিখ্যাত নাম টপকে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। পাল্টা আক্রমণে গ্রিস নির্ভর করবে গেকাসের ওপর।

দক্ষিণ আফ্রিকা ২৫৭/৭

বৃষ্টির জন্য পরশু দিনের বেশির ভাগ সময়ই ড্রেসিংরুমে কাটিয়েছে দুই দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে ৩৪ ওভার খেলতে পেরেছে টসজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে কাল দিনের খেলা শুরু হয়েছিল ঠিক সময়েই। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা অবশ্য দুই স্পিনারকে সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। সুলেমান বেন ও শিলিংফোর্ডের বোলিংয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২৫৭ রান। বাউচার ১৪ রানে ব্যাট করছেন, সঙ্গী ডেল স্টেইনের রান ৯। ১০৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করেছে ডি ভিলিয়ার্স (৬৮) ও অ্যাশওয়েল প্রিন্সের (৫৭) হাফ সেঞ্চুরি। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দুজন মিলে তুলেছেন ১২২ রান। এর আগে পরশু ৩ উইকেট হারিয়ে ৭০ রান তুলে দিনের খেলা শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা

জিলবার্তোর দুঃখ ও প্রেরণা

কার্লোস দুঙ্গার ব্রাজিল দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের নাম জিলবার্তো সিলভা। এটা তাঁর তৃতীয় বিশ্বকাপ। সেই সুবাদে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে শূন্য হাতে ফেরার অভিজ্ঞতাও আছে জিলবার্তোর।
ব্রাজিলের মাঝমাঠের অভিজ্ঞ এই সেনানীর একটা দুঃখ আছে—তাঁর এই অভিজ্ঞতার মূল্য নেই ব্রাজিলের সমর্থক আর সংবাদমাধ্যমের কাছে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড় না হয়ে জিলবার্তো তাদের চোখে ‘বুড়ো’ খেলোয়াড়! দুঃখ নিয়েই জিলবার্তো বলেছেন, ‘ওরা যখন ভেরনের কথা বলে, বলা হয়, তাঁর অভিজ্ঞতা দলের কাজে আসবে। অথচ আমার প্রসঙ্গ যখন আসে, বলা হয় উল্টো।’
জিলবার্তোকে নিয়ে সম্প্রতি সমালোচনাও হচ্ছে খুব। তিনি ‘বুড়ো’, সৃজনশীলতা বলতে কিছু নেই—এসব সমালোচনা অবশ্য গায়ে সয়ে গেছে জিলবার্তোর। সমালোচনাকে তিনি প্রেরণা হিসেবেই দেখেন, ‘এটা সত্যি, আমি সম্প্রতি খুব সমালোচিত হয়েছি। কিন্তু সত্যি করে বলছি, এই সমালোচনা আমাকে একটুও বিচলিত করে না। এটা আমার জন্য প্রেরণাই।

রোবেন থাকছেন বিশ্বকাপে

হল্যান্ডের জন্য সুখবর। চোটগ্রস্ত উইঙ্গার আরিয়েন রোবেন প্রায় সেরে উঠেছেন এবং দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন আজ। দক্ষিণ আফ্রিকা পৌঁছানোর পরই তাঁর সর্বশেষ অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
কোচ বার্ট ফন মারউইক কাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘গত এক সপ্তাহ আমি ওকে দেখিনি। আগামীকাল (আজ) দেখব। ওর অবস্থা এখন অনেকটা ভালো।’
এবার বায়ার্ন মিউনিখকে বুন্দেসলিগা জেতানো এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে দলকে তুলতে বড় অবদান ছিল রোবেনের। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে হাঙ্গেরির সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি প্রায় শেষ করে দিচ্ছিল রোরেনের বিশ্বকাপ। তাঁকে ছাড়াই দল যায় দক্ষিণ আফ্রিকায়। তবে রোবেনের বদলি হিসেবে কাউকে ডাকেননি কোচ বার্ট। অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর সেরা অস্ত্রের সেরে ওঠার জন্য।
হল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ আগামী পরশু ডেনমার্কের সঙ্গে। রোবেন পুরো ফিট হলেও প্রথম ম্যাচে তাঁকে বিশ্রামে রাখতে পারেন কোচ। হাঙ্গেরির সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায় রোবেনের জায়গায় কোচ একাদশে নিতে পারেন রাফায়েল ফন ডার ভার্টকে। তবে এটা নিয়ে কোচ একটু রহস্যই রেখে দিচ্ছেন, ‘সোমবারই দেখতে পাবেন।

হকিতে আরেক নাটক!

একের পর এক নাটক চলছে হকি মাঠে। সর্বশেষ নাটক হলো কাল। এক বছর পর এদিন শুরু হওয়ার কথা ছিল প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন ঊষা মাঠেই আসেনি! তাদের দাবি, ক্লাব কাপের বিতর্কিত ফাইনাল বাতিল করতে লিগ কমিটি সুপারিশ করেছিল ফেডারেশনকে। কিন্তু পরশু ফেডারেশন সম্পাদক নাকি তাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ওই ম্যাচের ফল বাতিল করা হবে না। এরই প্রতিবাদে দলটি প্রথম ম্যাচ খেলে

আর্জেন্টিনার চেয়ে বার্সা ভালো

আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি কেন বার্সেলোনার মতো খেলতে পারেন না? কারণ, আর্জেন্টিনায় বার্সেলোনার মতো সমর্থন পান না মেসি—জানা উত্তরটাই আরেকবার জানিয়ে দিলেন বার্সা ডিফেন্ডার দানি আলভেজ। তবে সহজ এই কথাটা বলতে গিয়ে একটা খুব ‘কঠিন’ কথা বলে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। আলভেজের মতে, আর্জেন্টিনার চেয়ে বার্সেলোনা ভালো দল।
আলভেজ কথাটা বলেছেন মেসি প্রসঙ্গেই। বার্সেলোনায় মেসিকে অজস্র বল এগিয়ে দেওয়া আলভেজ বলছেন, ‘আমার মনে হয় মেসির আর্জেন্টিনায় কাজটা কঠিন হওয়ার কারণ, বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা দলের মধ্যে তুলনা চলে না। আর্জেন্টিনা দলের সব খেলোয়াড়ের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এই দু দলের তুলনা হয় না। বার্সেলোনায় ও আসলে নিজের মান অনুযায়ী খেলতে পারে।’
আর্জেন্টিনার চেয়ে বার্সেলোনা ভালো, এই মন্তব্য এবং আলভেজদের জাতীয়তা—এই দুই যোগ করে তাঁকে আর্জেন্টিনা-বিরোধী ধরে নিতে পারেন কেউ কেউ। তবে ব্রাজিলিয়ান এই তারকা সবকিছুর পরও মেসির মঙ্গল কামনা করেন, মেসির প্রশংসা করেন, ‘ওর তো বয়স অনেক কম। ওকে এখনই কাঁধে পুরো জাতির দায়িত্ব নিয়ে নিতে হচ্ছে। এটা তো অনেক বড় দায়িত্ব। কিন্তু ও খুবই ভালো ছেলে। কখনোই কোনো কিছু নিয়ে অভিযোগ করে না।’
নিজের নামটা ইতিহাসে লেখাতে চাইলে অভিযোগ করলেও যে চলবে না!