Friday, March 11, 2016
কার্গোর পরে কি
একাধিকবার ঢাকা সফরের পর বৃটেন যে মূল্যায়ন রিপোর্ট দিয়েছে তার অধিকাংশ অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র ও বিমান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, যে বিষয়ে বিদেশিরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, তা হলো যথাযথভাবে স্ক্যান না হওয়া। বৃটেনের তরফে অনেক অগেই বিমানবন্দরে স্ক্যানিং মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, মূল্যায়ন রিপোর্টে বৃটেন জানিয়েছে তারা সরজমিন দেখেছেন ওই স্ক্যানিং মেশিনও ঠিকমতো অপারেট করা হয় না। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের দুর্নীতি এবং ঊর্ধ্বতনদের মনিটরিং না থাকাকে দায়ী করা হয়েছে। কার্গো ভিলেজে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অবাধ প্রবেশের বিষয়টিকে নিরাপত্তার জন্য সবচয়ে বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেছে বৃটেন। ঢাকার কর্মকর্তারাও এটি স্বীকার করেছেন। জানিয়েছেন, সেখানে যারা কাজ করেন তার ৬০-৬৫ ভাগ হচ্ছেন বহিরাগত। তারা কর্মকর্তাদের হয়ে সব কাজ করেন। যার জন্য চোরাচালানসহ অন্য অপকর্ম করেও তারা পার পেয়ে যান।
বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে যা আছে: ১০ ডাউনিং স্ট্রিট, লন্ডন, এসডব্লিউ১এ২এএ মাস্টহেডে চিঠিটি লিখেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ৮ই মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর পাঠানো চিঠির শুরুতে ‘ডিয়ার প্রাইম মিনিস্টার’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। ওই চিঠির সূচনায় গত নভেম্বর থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগে বৃটিশ কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নের পর নিরাপত্তা ঘাটতি চিহ্নিত করে তা দূর করার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথাও সেখানে উল্লেখ করেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। চিঠির দ্বিতীয় প্যারায় তিনি লিখেন- এটি আমার কাছে স্পষ্ট যে সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে ন্যূনতম ছাড় না দেয়ার (জিরো টলারেন্স) নীতির ধারাবাহিকতায় আপনি এবং আপনার কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সমস্যা দূর করতেও আপনি (শেখ হাসিনা) দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সর্বশেষ মূল্যায়নে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ধারাবাহিকভাবে বড় ধরনের ঘাটতি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। সমপ্রতি মিসর ও সোমালিয়ায় বিমানে হামলার পর এটি আমার কাছে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তৃতীয় প্যারায় তিনি লিখেন- এটি স্পষ্ট যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাজনিত সমস্যার মূলে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী এবং যথাযথ নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের লক্ষ্যে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য আপনাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাই। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি দূর করার লক্ষ্যে দ্রুততার সঙ্গে একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে আমি নির্দেশনা দিয়েছি। যা আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে বাস্তবায়নে প্রক্রিয়া শুরুর কথা। ৩১শে মার্চের মধ্যে এটি হলে তা নতুন করে বৃটেনের আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া এড়াতে সহায়তা করবে। এ ধরনের পদক্ষেপের মধ্যে থাকতে পারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সরাসরি যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা। চতুর্থ প্যারায় বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার আগে আমাদের অবশ্যই নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো কমাতে হবে। তাই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি পণ্য পরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে আমাদের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা পণ্য নিরাপত্তায়ও ঘাটতি খুঁজে পেয়েছেন। পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাজ্যগামী সরাসরি ফ্লাইটের অন্যান্য নিরাপত্তার ব্যাপারে বিমানবন্দরের কর্মীদের মনোযোগের সঙ্গে কাজ করতে সহায়ক হবে। বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান অংশীদার বাংলাদেশের ওপর এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাবের ব্যাপারে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী সচেতন রয়েছেন জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, বিমানবন্দরে বৃটেনের চলমান সহযোগিতার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহ থেকে স্ক্যানার অপারেটরদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হবে। এ মাসের শেষে বাড়তি আরও কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, তা খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে দেশটির কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন জানিয়ে ক্যামেরন বলেন, আশা করি, দ্রুততার সঙ্গে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারটি আপনি বুঝতে পারছেন। আকাশপথে সত্যিকারের ঝুঁকি আছে এবং আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়া প্রয়োজন। আকাশপথে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তুলতে বিশ্বের সব দেশের অবশ্যই আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে যে কোনো সহযোগিতার জন্য বৃটেন প্রস্তুত রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কায় বিজিএমইএ
যুক্তরাজ্যে সরাসরি পণ্য পরিবহনে কার্গো চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, কার্গো চলাচলে নিষেধাজ্ঞার কারণে নিশ্চিতভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে পোশাক রপ্তানি কমারও আশঙ্কা করছেন তারা। গতকাল বিজিএমই কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এমন শঙ্কার কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির ও পরিচালক মিরান আলী।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়, যা ওই সময়ের মোট পোশাক রপ্তানির ১১.৩৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ বাজারে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬.১০ শতাংশ বেশি। এ পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের বাজার বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এ বাজারে কোনো রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক তা কাম্য নয়।
বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ক্রেতারা অনেক সময় দ্রুত পণ্য পাঠাতে বলেন। তখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমুদ্রপথে পণ্য পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে নিজেদের খরচে বিমানে পণ্য পাঠাতে হয়। যুক্তরাজ্যের এ নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন আমাদের সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড ও দুবাই হয়ে পণ্য পাঠাতে হবে। এতে একদিকে খরচ বাড়বে, অন্যদিকে সময়ও বেশি লাগবে। এতে আমাদের প্রতিযোগী সক্ষমতাও কমে আসবে। রপ্তানি হ্রাস পাবে বলে জানান তিনি।
সভাপতি বলেন, মোট রপ্তানির প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পণ্য প্রতি বছর উড়োজাহাজে পাঠাতে হয়। এ সময় সরকারকে দ্রুত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তিনি। এ ছাড়া বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদারে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা যুক্তরাজ্য সরকারকে অবহিত করে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানান বিজিএমইএ সভাপতি।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, যুক্তরাজ্য আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। এ বাজারে কোনো রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক তা কাম্য নয়। যখনই আমরা নতুন নতুন বাজারে অনুপ্রবেশ করছি, তখনই একটি তৈরি হওয়া বাজার পেছনের দিকে হাঁটবে তা কখনই কাম্য নয়।
সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, যেহেতু যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তাই বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। যুক্তরাজ্য কোনো কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা জানতে হবে এবং প্রয়োজনে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করে সমাধান করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৯শে ডিসেম্বরের পর ঢাকা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় সরাসরি বিমানযোগে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হলো যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা। পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে যুক্তরাজ্যের বিমান নিরাপত্তাবিষয়ক দপ্তর বিশ্বের ২০টি দেশের ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দরের তালিকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘রাজকোষে’ চুরি by আলী রীয়াজ
ঘটনা ঘটেছে ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখে। ফিলিপাইনের একটি সংবাদপত্রে এ বিষয়ে তদন্তের খবর বেরোনোর পর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে অবগত হয়। তখন জানা গেল যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ফিলিপাইনে ছোটাছুটি করে কিছু অর্থ উদ্ধার করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সেই প্রথম এ বিষয়ে কোনো স্বীকৃতি পাওয়া গেল। কিন্তু বেশির ভাগ অর্থ উদ্ধার হয়নি বলে সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে। বাংলাদেশের দাবি হলো যে হ্যাক হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে, অতএব দায়িত্ব তাদের। অন্যদিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের ভাষ্য, তাদের সিস্টেম হ্যাক হয়নি। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল যে তিনি এ বিষয়ে অবগত নন, কিন্তু পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছেন।
কিন্তু ইতিমধ্যে আরও খবর এসেছে, যাতে দেখা যায়, টাকা হস্তান্তরের জন্য অ্যাডভাইস গেছে বাংলাদেশ থেকে, বলা হচ্ছে যে সব মিলিয়ে ৩০টি অ্যাডভাইসের মধ্যে পাঁচটি মাত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যক্রম করার পর বাকিগুলো আটকে দেওয়া হয়, অন্যথায় এর পরিমাণ আরও বেশি হতো। ফিলিপাইনের ‘এনকোয়ার’ নামের যে কাগজের তদন্তের কারণে এসব খবর প্রথম দৃষ্টিগোচর হয় এবং ফিলিপাইনের সিনেটসহ অনেক প্রতিষ্ঠান তদন্ত শুরু করেছে, তারা জানাচ্ছে যে আরও ৮৭ কোটি ডলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকের কারণে সফল হয়নি। এই লেখা পাঠকের দৃষ্টিগোচর হতে হতে আরও নতুন কিছু জানা গেলেও বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এ নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক রকম প্রশ্ন উঠেছে—অর্থ যদি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকের কারণে খোয়া গিয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ছোটাছুটি করতে হচ্ছে কেন? অন্যদিকে যদি অ্যাডভাইসগুলো বাংলাদেশ থেকে যায়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযুক্তি নিরাপত্তা যে ভাঙা হয়েছে সেটা নিশ্চিত। এতে বোঝা যায়, হয় ব্যাংকের ভেতরের লোকজনের কোনো না কোনোভাবে যুক্ততা আছে, নয়তো প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে।
এসব আলোচনা, বিতর্ক ও ধোঁয়াশে অবস্থার মধ্যে কেউ যদি মৃদুস্বরে বলেন যে খোয়া যাওয়া অর্থ নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই—অর্থের পরিমাণ খুব বেশি নয়, তাহলে আমি নিশ্চিত যে সবাই সমস্বরে তাঁর বিরোধিতা করবেন, ক্ষুব্ধ হবেন। বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, খোয়া যাওয়া এই অর্থের পরিমাণ তার মাত্র শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। ফলে অঙ্কের হিসাবে সেটা ভুল হবে না, সেটা বলাও আমার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু ভালো করে বিবেচনা করে দেখুন, দেশের অর্থ এভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা কি এই প্রথম? হ্যাঁ, এভাবে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা আগে ঘটেনি। কিন্তু গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে সবার জ্ঞাতসারে কি প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে যায়নি? ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটির (জিএফআই) দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ৪ লাখ ৪১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে এ খবর দেওয়ার সময় প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আমাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে এই অর্থ দিয়ে অন্তত দুই বছরের বাজেট তৈরি করতে পারত বাংলাদেশ। বছরে গড়ে পাচার হয়েছে ৫৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
২০১৩ সালে পাচার হওয়া অর্থ আগের বছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি ছিল। ব্যাংকের টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিশ্চয় হল–মার্ক কেলেঙ্কারির কথা মনে হবে। সোনালী ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৫২৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালের ঘটনার সময় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ৪ লাখ কোটি টাকার সেক্টরে ৪ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতি এমন কিছু নয়। বেসিক ব্যাংকের ঘটনাও সবার মনে থাকার কথা। দুদকের করা মামলার সূত্রে জানা যায় যে কমপক্ষে ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে বড় ধরনের ডাকাতি ও জালিয়াতি হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা লুট করার চেষ্টা করেছেন। এসব ডাকাতির ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর গতিকে সাংবাদিকেরা ‘মন্থর’ বলেই বর্ণনা করেন। যদিও অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা ছিল, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি।
এগুলো কেবল উদাহরণ। উদাহরণ সেই দেশে, যেখানে মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ বানানোর এক প্রতিযোগিতা সহজেই লক্ষণীয়। ২০০৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ হাজার বাংলাদেশি সেকেন্ড হোম মালয়েশিয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এই কর্মসূচির জন্য কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, তার একটা ধারণা নিলে বোঝা যায় যে কেউ চাইলেই আবেদন করতে পারেন না। এর একটি শর্ত হচ্ছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ রিঙ্গিত বা ১ কোটি ৬ লাখ টাকা থাকা, মালয়েশিয়ার ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করতে হয় ৬৫ লাখ টাকা এবং মাসিক আয় হতে হয় কমপক্ষে ২ লাখ ১২ হাজার টাকা। এ রকম লোকের যে অভাব হচ্ছে না, তা বাংলাদেশে এ জন্য নিয়োজিত সাব-এজেন্টের সংখ্যাই বলে দেবে। কেউ কেউ বলবেন বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে, ধনীর সংখ্যা বাড়ছে, ফলে এ আর বিচিত্র কী! তাঁদের সঙ্গে একমত, বাংলাদেশে কোটিপতি বাড়ছে। সেই হিসাব আমাদের অজ্ঞাত নয়। ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের হিসাব ধরলে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি ৪০ হাজার ৬৮৭ জন। কিন্তু এর সঙ্গে এটাও তো আমরা জানি যে বৈষম্য বাড়ছে। গত বছরের মাঝামাঝি একটি সংবাদপত্রকে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম বলেছিলেন, ১৯৭২ সালের তুলনায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য এখন বেশি (‘বাড়ছে কোটিপতি বাড়ছে বৈষম্য’, মানবজমিন, ২৬ জুলাই ২০১৫)। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে এ কথা আমাদের কেন শুনতে হবে, সেই প্রশ্ন তো করাই যায়।
বৈষম্য বৃদ্ধির এই প্রেক্ষাপটে যখন ব্যাংকের টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, তখন স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয় যে দেশের এই অর্থের উৎস কী? বাংলাদেশের ৪০ লাখ পোশাকশ্রমিকের শ্রমে–ঘামে বছরে ২ হাজার ৬২৫ কোটি ডলার আয় হয়। এই অর্থের উৎস সেই শ্রম। বাংলাদেশের ৮০ লাখ শ্রমিক দেশের বাইরে উদয়াস্ত কাজ করে গত বছর ১ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, এই অর্থ তার অংশ। যে অর্থ হারিয়ে গেছে, তা খুঁজে না পাওয়া গেলেও নিশ্চিত করেই বলা যায় যে প্রকারান্তরে পোশাকশ্রমিকদের শ্রম থেকে তা পুষিয়ে নেওয়া হবে। খেয়ে না–খেয়ে যে প্রবাসী শ্রমিক দেশে অর্থ পাঠান, তাঁর অর্থ থেকে তা আবার রিজার্ভে জমা হবে। দেশে ও দেশের বাইরের ১ কোটি ২০ লাখ শ্রমিকের কত দিনের শ্রম এই ১০ কোটি ডলার, সেই হিসাব যত দিন না পর্যন্ত আমরা করতে চাইব, তত দিন এভাবেই কথিত হ্যাকাররা, হল–মার্ক ও বেসিক ব্যাংকের পরিচালকেরা, অর্থ পাচারকারীরা, সেকেন্ড হোমের আবেদনকারীরা দেশের অর্থ লোপাট করতে সক্ষম হবেন। এ নিয়ে মামলা চলবে মন্থর গতিতে।
এই মুহূর্তে অবশ্য করণীয় এই ১০ কোটি ডলার কীভাবে খোয়া গেল তার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। ফিলিপাইনে এ নিয়ে যতটা উদ্যোগ দেখি, বাংলাদেশে এখনো তা চোখে পড়ে না। কিন্তু তার চেয়ে বেশি দরকার জবাবদিহির ব্যবস্থা তৈরির দাবি তোলা। এসব যে জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অনুপস্থিতির প্রমাণ, তা বুঝতে না পারলে; সেই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা যে রাজনীতিতে জবাবদিহির ব্যবস্থার বাইরে নয়, সেটা উপলব্ধি করতে না পারলে, সে বিষয়ে সরব না হলে হা–হুতাশ করে লাভ হবে না। বড়জোর ‘শ্যামা’ নৃত্যনাট্যের মতো পরিণতি হতে পারে।
* আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভেতরের যুক্ততা ছাড়া হ্যাকিং সহজ নয় by মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন
![]() |
| মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক |
এখন কথা হচ্ছে, আমার ব্যাংক হিসাব থেকে যদি বড় অঙ্কের একটি চেক যায়, আমার স্বাক্ষর থাকলেও ব্যাংক কিন্তু আমার কাছে জানতে চাইবে যে আমি চেকটি দিয়েছি কি না। স্বাক্ষর মিললেও কিন্তু করে। একইভাবে আমাদের রিজার্ভের অর্থ যেসব ব্যাংকে রাখা আছে, সেখানে অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন যদি হয় তাহলে তারা প্রথমে কোড পরীক্ষা করবে। কোড ঠিক থাকলে যদি টাকার পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে তারা জানতে চাইতে পারত।
আমি জানি, আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকে যাঁরা কাজ করেন তাঁরা খুবই দক্ষ, সৎ, কর্মঠ, দেশপ্রেমিক ও নীতিমান। আমি এ কথা বলার পরও যাঁরা রিজার্ভের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ করেন, তাঁদের গতিবিধির ওপর নজরদারি রাখতে হবে। আমি যদি বলে দিই সবাই সন্দেহের ঊর্ধ্বে, তাহলে কিন্তু তা ক্ষতিকর। নজরদারিতে রাখতেই হবে। হয়তো রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক, হয়তো রাখে না। আমি জানি না। তারপরে টাকা যে চলে গেল, শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিন্তু তা ছাড় করেনি। তাদের নজরদারির ব্যবস্থাটা অনেক বেশি কার্যকর। তার মানে আমাদেরটা কিন্তু অতটা নয়। ফিলিপাইনেরটাও নয়। শ্রীলঙ্কায় যাওয়া অর্থ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ফিলিপাইনেরটা কপাল ভালো থাকলে হয়তো উদ্ধার হতে পারে। তবে এখন গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সুরক্ষা ব্যবস্থাটি শতভাগ নিশ্ছিদ্র করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক রক্ষণশীল হলে অনেকগুলো সুবিধা আছে। অসুবিধাও আছে। ১৯৯৯, ২০০০, ২০০১ সালে খুব দাবি উঠেছিল ই-কমার্স শুরু করতে। আমি কিন্তু খুব শক্ত ভাষায় এর বিরোধিতা করেছিলাম। আমি এই জন্য করেছি যে আমার এখানে এ নিয়ে কোনো আইন নেই। এ জন্য যে সতর্ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, সেটি করতে পারিনি। যতক্ষণ পর্যন্ত এটা না করতে পারব, আমি নিশ্চিন্ত যত দিন না হব যে এর মধ্যে গেলে আমার রিজার্ভটা টান দিয়ে নিয়ে যাবে, তত দিন অনুমোদন দেব না। আমি হুবহু এই কথাটিই বলেছিলাম। একই নীতিতে আমরা যখন ঋণ তথ্য ব্যুরোর সফটওয়্যারটি করি, তখন ব্যবস্থাটি ছিল যে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারবে, কিন্তু অন্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমে ঢুকতে পারবে না। ওই রকম নিশ্ছিদ্র একটা ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের থাকা উচিত। আছে কি না জানি না, হয়তো আছে।
এই যে কিছুদিন আগে এটিএম কার্ড জালিয়াতি হলো। সারা পৃথিবী যখন ম্যাগনেটিক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে চিপস ব্যবস্থায় গেল, তখন আমরা গেলাম না। গেলাম না যখন, তখন কেন এতগুলো বুথ চালুর অনুমোদন দেওয়া হলো? কেন ম্যাগনেটিক ব্যবস্থা চালু রাখলাম? এটা তো গাফিলতি ছাড়া আর কিছুই নয়। এখানে আরও বেশি যত্ন নেওয়া উচিত ছিল। যেহেতু ঘটনা ঘটেছে, সে কারণে এখনো ম্যাগনেটিক কার্ড ব্যবহার করার যে এটিএম বুথ আছে, সেগুলো দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বন্ধ না করলে ব্যাংকগুলো বাধ্য হবে না ব্যবস্থা নিতে।
একইভাবে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার যে সফটওয়্যার আছে তাকে এমন লোক দিয়েই পরীক্ষা করাতে হবে, যাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সব গোয়েন্দা সংস্থা নিরাপদ বলে ছাড় দিয়েছে। কারণ, ভেতরের কোনো সম্পৃক্ততা ছাড়া এ ধরনের হ্যাকিং সহজ নয়। এমন হতে পারে হ্যাকাররা হয়তো ঢুকতে পারে, হয়তো এভাবে করেও, তবে তা অনেক কষ্টসাধ্য। আর যদি কোনো অভ্যন্তরীণ সহায়তা পায়, তাহলে সেটা অনেক সহজ।
আমার প্রার্থনা যাতে এ ব্যাপারে কম কথা বলা হয়, কাজ যেন বেশি করা হয়। যদি বাংলাদেশ ব্যাংককে একতরফা দোষারোপ করে যাই, তাহলে তো ঠিক হবে না। আবার যদি বলি বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনোই দোষ নেই, তাহলে যদি কেউ দোষ করে থাকে তাদের আড়াল করছি। সুতরাং তদন্তের সময় দিতে হবে। তদন্তটা বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে। অভিজ্ঞদের দিয়ে তা করাতে হবে।
আবার সুইফট যে বক্তব্য দিয়েছে তাকেও গ্রহণযোগ্য মনে করি না। তারা বলে দিল তাদের কোনো দায় নেই। তারা বলতে পারত যে আপাতদৃষ্টিতে কোনো সমস্যা দেখতে পারছে না তারা, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। আমরা জানি সুইফটের আঞ্চলিক অফিস থেকে বাংলাদেশ তেমন সহযোগিতা পাচ্ছে না। এতে কিন্তু আমার সন্দেহ হচ্ছে। যে সংকেতলিপি ব্যবহৃত হয়, তা তারা জানে তা বলব না। তবে সেটি তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। সেই জন্য মনে হয় এটি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।
বাংলাদেশে এখন অসাধারণ ও অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে, সারা পৃথিবী সাধুবাদ দিচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সব অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য বিধ্বংসী শক্তিও আছে। সাধারণত দেখা গেছে সারা পৃথিবীতেই জঙ্গিবাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের যে সক্ষমতা, তা অন্যদের তুলনায় বেশি। সুতরাং এর সঙ্গে তাদের কোনো যুক্ততা আছে কি না তা তলিয়ে দেখা দরকার।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্যান্ডার্স ও ট্রাম্পের চমক লাগানো জয়
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সু চির সঙ্গে তিক্ততা বাড়ছে সেনাবাহিনীর
![]() |
| অং সান সু চি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘গণতন্ত্রের প্রধান শর্তই হল অংশগ্রহণ’
মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হল যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সাংবাদিকের প্রকাশ করার অধিকার থাকতে হবে। তবে সাংবাদিকের এটিও দায়িত্ব যে, যেটা প্রকাশ করা হচ্ছে সেটা অবশ্যই যথার্থ হতে হবে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশ সম্পর্কে, আমাদের নিজেদের সম্পর্কে এবং আমাদের সরকারগুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেন সাংবাদিকরা। এটি আমাদের অনেক ভালো অবস্থায় রাখে। এটি আমাদের অনেক শক্তিশালী করে। এটি যাদের কোনো কণ্ঠ নেই তাদের বাকস্বাধীনতা দেয়, ন্যায়বিচারকে সামনে তুলে ধরে এবং আমার মতো নেতাদের জবাবদিহি করে। প্রেসিডেন্ট ওবামার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সর্বদা আরও মানোন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।
মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- হল সবচেয়ে বাজে ধরনের মানবাধিকার লংঘন। আমাদের আদালত ব্যবস্থা আছে, পুলিশ আছে, নাগরিকের জন্য নিশ্চয়তার স্থান আছে। কিন্তু আমি এটিও বলব যে, পুলিশ কিংবা অন্য কোনো আইনশৃংখলা বাহিনীর জন্য নিয়ম-কানুন আছে যা তাদের মেনে চলতে হয়। কোন ঘটনা ঘটলে পুলিশ গুলি কিংবা পাল্টা গুলি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে কেউ নিহত হলে সেই হত্যার পর্যালোচনা করা হয়। ওই হত্যাকা- ভুল ছিল কিনা সেই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হতে হবে। এতে করে জনগণ বুঝতে পারে যে, ওই ব্যক্তির নিহত হওয়ার পেছনে আর কোন বিকল্প ছিল না। এ প্রক্রিয়াটি এখানেও চালু করা যেতে পারে। পুলিশ যদি ভালো চর্চা করে তবে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সৃষ্টি হবে।
বার্নিকাটের কাছে প্রশ্ন ছিল-বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষদিক থেকে কিছু সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এগুলোকে কীভাবে দেখছেন?
জবাবে তিনি বলেন, প্রথমে আমি ওইসব সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গি হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি শোক প্রকাশ করছি। এসব হামলা যারা করেছে তারা জঘন্য অপরাধী। এ নিয়ে আমাদের দুই দেশের সরকারের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর থেকে আমরা অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পাচ্ছি। জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিসহ আরও অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনা বাংলাদেশের জাতীয় চরিত্রের প্রকাশ নয়। গত পাঁচ মাসে দশটি ঘটনার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। আমাদের উভয় দেশই এটি স্বীকার করে যে, আইএস আমাদের দুই দেশের জন্যই হুমকি। আইএস সন্ত্রাসীরা কোন দেশে তাদের অফিস চালু করতে আসছে না। তারা ইন্টারনেট, প্রকাশনা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের জঙ্গি আদর্শ ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা এ বিশ্লেষণ বাংলাদেশ সরকারের কাছে শেয়ার করেছি। আমেরিকায় সম্প্রতি সবচেয়ে বড় যে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া একজন এবং তার স্ত্রী ওই হামলা করেছে, যারা এক শিশুকে রেখে এ কাজ করেছে। ফলে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থানকে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে সামরিক বাহিনীর জন্য। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে এবং পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবির জন্য আমাদের দীর্ঘদিন ধরেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। নতুন কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠনে আমরা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছি। আমরা সোয়াদ টিম ও বোম্ব স্কোয়ার্ডকে প্রশিক্ষণ দেই। আমরা ব্রিটেন, জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার লক্ষ্যে কাজ করছি। সন্ত্রাসের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থানকে আমরা স্বাগত জানাই। জাতিসংঘের বিগত সাধারণ অধিবেশনে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম নেই, সীমানা নেই। তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাস দমন কর্মকাণ্ড সমর্থন করেন। এ কারণে আমি এ ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদারিত্বকে খুবই ভালো বলে মনে করি।
জিএসপি’র বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিএসপি পুনর্বহালের বিষয়টি ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের হাতে। এ ক্ষেত্রে সত্যিকার মূল বিষয় হল শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা। শ্রমিকদের অধিকার দেয়ার নিশ্চয়তার আগ্রহ থাকতে হবে। এ সংস্কারের লক্ষ্যে জিএসপি পুনর্বহালে আমরা কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। এগুলোর সবই বাংলাদেশ আইএলও’র সঙ্গে অঙ্গীকার করেছে। আরেকটি বিষয় হল, পোশাক শিল্প খুবই প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে গেছে। ৩০ বছর আগে যে অবস্থা ছিল এখন সে অবস্থা নেই। এখন নতুন প্রতিযোগী দেশ হিসেবে এসেছে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, ইথিওপিয়া ও কেনিয়া। এখন তাই আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করতে হবে। এটিই হল এ শিল্পের কাছ থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া। সুসংবাদ হল, এই মান বৃদ্ধি পেলে শিল্পের মালিকদের ও শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়বে। ২০১৫ সালে ৭২ ভাগ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ সরকার। ইপিজেডের জন্য নতুন আইনের যে খসড়া সেখানেও সংশোধনের প্রয়োজন আছে।
বাংলাদেশে সরকারি মহল থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক কারণে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দিচ্ছে না। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?-এমন প্রশ্নে-
বার্নিকাট বলেন, জিএসপি একটি আইনগত ইস্যু। আমাদের কংগ্রেস জিএসপি প্রথা সৃষ্টি করে কিছু সুস্পষ্ট নিয়ম-কানুন করে দিয়েছে। কোন দেশকে জিএসপি থেকে লাভবান হতে হলে এ ক্রাইটেরিয়া অবশ্যই পূরণ করতে হবে। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জিএসপি স্থগিত করার পর বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে অগ্রগতি ঘটিয়েছে। ফলে জিএসপি পুনর্বহালের বিষয়টি ব্যাপক অর্থে বাংলাদেশের হাতেই রয়েছে। এটি ফিরে পাওয়ার জন্য অ্যাকশন প্ল্যান রয়েছে। এর আওতায় মূল বিষয়ই হল শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেয়ার সদিচ্ছা। এ অধিকার হতে হবে আইএলও’র সমান মানসম্পন্ন। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে হলে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পোশাক শিল্পে সংস্কার হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। কেননা শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত হলে তাদের অনুপস্থিতির হার কমে যায়। দেখা গেছে, একটি কারখানায় অনুপস্থিতির পরিমাণ অর্ধেকে নেমে গেছে। ছুটির দিনেও শ্রমিকরা কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন। এতে করে শিল্পটি পুরো উৎপাদন করতে পেরেছে। এ সময়ে কারখানায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কম হয়েছে। ফলে কারখানায় ১০ ভাগ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে কারখানার মালিক অর্থ সাশ্রয় করতে পেরেছেন। ফলে সুসংবাদ হল, এ সংস্কার কার্যক্রমের ফলে শ্রমিকের সুরক্ষা হচ্ছে, কারখানার সুরক্ষা হচ্ছে এবং কারখানার মালিক মুনাফা পাচ্ছেন। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
১৯৭১ সালে যুদ্ধে বাংলাদেশে যারা নিষ্ঠুরতা চালিয়েছে, তাদের বিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে পাশাপাশি এটিও ঠিক, এ বিচারে কোন ব্যক্তির দায়-দায়িত্বের বিচারে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র অবাধ ও সুষ্ঠু বিচার কামনা করে। এ বিচারে মৃত্যুদ- থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে, ন্যায়বিচার যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। সেটি অবশ্যই সন্তোষজনক আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ▼ 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





