Sunday, December 21, 2014

‘সরকার তাসের ঘরের মতো ভেসে যাবে’ -খালেদা জিয়া

ন্যায়সঙ্গত বিদ্রোহের সময় এসেছে দাবি করে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। বলেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ন্যায়সঙ্গত। আজ সে ন্যায়সঙ্গত বিদ্রোহ সংগঠিত করার সময় এসেছে। বিজয়ের মাসে সে প্রস্তুতি আমাদের সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের বসে থাকার আর কোন উপায় নেই। দেশের জনগণ আন্দোলন চায়, পরিবর্তন চায়। তারা ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। ভোট দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে জন্য তারা বিএনপি ও ২০ দলের প্রতি আন্দোলন করার জন্য প্রতিনিয়ত আহ্বান জানাচ্ছে। আমি যেখানেই যাচ্ছি, দলে দলে লোক এসে আন্দোলনের দাবি জানাচ্ছে। কাজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অচিরেই আমাদেরকে আন্দোলন শুরু করতে হবে। আমরা অস্ত্রের মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথে নামবো। আজ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক, জনগণের আন্দোলন। জনগণের সে আন্দোলনে স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকার তাসের ঘরের মতো ভেসে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের দাবি খুব সামান্য। এদেশে গত ৫ই জানুয়ারি কোন ভোট হয়নি। ভোট ছাড়া কোন সরকার বৈধ হতে পাওে না। কাজেই এখন একটি অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় আছে। আমরা একটি সত্যিকারের নির্বাচন চাইছি। যে নির্বাচনে ভোটাররা নির্বিঘেœ ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোট দিতে পারবে। প্রতিদ্বন্দ্বী সকল রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারবে। সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে। কেউ ক্ষমতাসীন থেকে কেউ ক্ষমতাহীন থেকে নির্বাচন হতে পারে না। আর নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ এগুলোকে দল-নিরপেক্ষ অবস্থানে আনতে হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, এমন একটি নির্বাচনের পন্থা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বের করার আহ্বান আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি। এর মধ্যে প্রায় এক বছর চলে গেছে। মানুষের অবস্থা ও দেশের পরিস্থিতি দিন-দিন খারাপ হচ্ছে। সকলের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। কিন্তু আমাদের শান্তিপূর্ণ আহ্বানে তারা সাড়া দেয়নি। তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারির প্রহসনে বিএনপিসহ কোন বিরোধীদল অংশ নেয়নি। এভাবে বিনাভোটে না-কি তারা গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা করেছে! আসলে সংবিধান, গণতন্ত্র, তারা রক্ষা করেছে ক্ষমতাকে। আর কেড়ে নিয়েছে জনগণের অধিকার। আর এ প্রহসনের উদ্দেশ্যেই তারা খেয়ালখুশি মতো একতরফাভাবে সংবিধান তছনছ করে ফেলেছিল। তারা মনে করে, তাদের এসব ধূর্ত অপকৌশল দেশ-দুনিয়ার মানুষ কিছুই বোঝে না।
খালেদা জিয়া বলেন, আমরা রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার কায়েম করেছিলাম। আজ দেশে গণতন্ত্র নেই। বৈধ কোন গণতান্ত্রিক সরকার নেই। ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। ন্যায়বিচার ও সুবিচার হরণ করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশাহারা। মাদক-সন্ত্রাস-প্রশ্নপত্র ফাঁসে শিক্ষা ও তারুণ্য আজ বিপথগামী। সন্ত্রাস আজ সর্বব্যাপী। দখল ও দলীয়করণে সব প্রথা-প্রতিষ্ঠান বিপন্ন।
খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জাতীয় জনযুদ্ধ। মুষ্টিমেয় বিরোধীতাকারী ছাড়া, দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষ ছিল স্বাধীনতার পক্ষে। বাংলাভাষী সৈনিক, সীমান্তরক্ষী, আনসার, পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার তরুণেরা এবং ছাত্র-যুবকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকেই মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সাফল্যকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টা শুরু হয়। সেই হীন উদ্দেশ্যেই স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসকেও বিকৃত করার প্রক্রিয়া চলে। আমি মুক্তিযোদ্ধা ভাই-বোনদেরকে বলবো, আপনারা দৃঢ়কণ্ঠে বলবেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ কোন দলের যুদ্ধ ছিল না। এটা ছিল জাতীয়, জনযুদ্ধ। স্বাধীনতাযুদ্ধকে দলীয়করণের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আপনারা অতীতেও দাঁড়িয়েছেন, সব সময় দাঁড়াতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, একটি দল দাবি করেÑ তারা স্বাধীনতাযুদ্ধ সংগঠিত ও নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের দাবি কতটা অসার তা এখন সেই দলভুক্ত লোকদের লেখা বই-পত্র এবং বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। এখন ভিন্নমত পোষণ করলেই মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও তারা ‘রাজাকার’ ও ‘পাকিস্তানের চর’ বলে লেবেল এঁটে দিতে দ্বিধাবোধ কওে না। আমি বলতে চাই, স্বাধীনতাযুদ্ধকে এভাবে দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করা সম্ভব হবে না। ইতিহাস তার স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। গালাগালি ও হুমকি দিয়ে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করা যাবে না। তিনি বলেন, নিরস্ত্র জনগণের ওপর সামরিক আক্রমণ কতটা নৃশংস ও ভয়াবহ হতে পারে, সে কথা কল্পনা করার শক্তিও আওয়ামী লীগের ছিল না। তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার অস্বীকৃতির পাশাপাশি তাদের সর্বশেষ পরামর্শ ছিল ‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর’। আক্রমণের মুখে কোন দিক-নির্দেশনা না দিয়ে পালিয়ে যাওয়া বা আত্মসমর্পণ করা ছাড়া তাদের কোন পথ খোলা ছিল না। তাদের এই ব্যর্থতার পটভূমিতে জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করে হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক জানজুয়াকে হত্যা ও বাকিদের বন্দি করেছিলেন। বেতারের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। তাঁর ঘোষণাই বিদ্রোহ উন্নীত হয়েছিল বিপ্লবে। প্রতিরোধযুদ্ধ উন্নীত হয়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে। এটাই বাস্তবতা, ইতিহাসের অমোঘ সত্য। খালেদা জিয়া বলেন, সত্য আরও আছে। স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বের কথা বলেন? তাহলে শোনেন। ১৯৭১ সালের ১লা এপ্রিল থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত বৃহত্তর সিলেটের অন্তর্গত বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কমান্ডাররা বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে মুক্তিফৌজ গঠন, সেক্টর বিভাজন এবং সর্বাধিনায়ক নির্ধারণ ও সেক্টর কমান্ডারদের দায়িত্ব ও যুদ্ধ-এলাকা বণ্টন করা হয়। সেই বৈঠকেই রেজিলিউশন নেয়া হয়। নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে খুঁজে বের করে তাদের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করতে হবে এবং  সেই সরকারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতার আহ্বান জানাতে হবে। স্বাধীনতার যে ঘোষণা তখনকার নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতাদের দেয়ার কথা ছিল, সেটা তারা দিতে পারেননি। সেটা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও অধিনায়ক ঠিক করার কাজটিও তারা করতে পারেননি। এটাও সামরিক কমান্ডাররা নিজেরাই করেছেন। প্রবাসী সরকার গঠনের আগেই তা করা হয়েছিল। খালেদা জিয়া বলেন, একটা প্রবাসী সরকার যে গঠন করতে হবে, সেই তাগিদটাও তারা নিজেরা বোধ করেননি। তাগিদটা এসেছিল মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডারদের কাছ থেকে। সেই অনুযায়ী ১০ই এপ্রিল আগরতলায় প্রবাসী সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার সীমান্ত-সংলগ্ন আমবাগানে দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সেই সরকারের অভিষেক, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনা ও সালাম গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, রণাঙ্গনের লড়াইয়ে তারা অংশ নেয়নি বলেই মুক্তিযোদ্ধাদের কখনও আন্তরিকভাবে সম্মান ও মর্যাদা দেয়নি। ১৬ই ডিসেম্বর পরাজিত পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তারা মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী কিংবা প্রধান সেনাপতি অর্থাৎ চিফ অব আর্মি স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুর রবের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি। তাদের আস্থাভাজন ডেপুটি চিফ অব স্টাফ একে খন্দকারকে সেদিন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানো হয়েছিল। সেই আস্থাভাজন ব্যক্তিটিও যখন স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস ও পূর্বাহ্নের প্রস্তুতিহীনতা সর্ম্পকে কিছু সত্য কথা বলে ফেললেন, তখন তাকেও ‘পাকিস্তানের চর’ আখ্যা দিতে তারা দ্বিধাবোধ করেনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সাহস ও দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের এসব ব্যর্থতা ও দুর্বলতা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে এসব দুর্বলতার কারণেই স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে তারা এতটা স্পর্শকাতর। তিনি বলেন, একটি বিশেষ দল স্বাধীনতাযুদ্ধের মনগড়া ইতিহাস বলে চলেছে। সেই খ-িত ও বিকৃত ইতিহাসকে শুদ্ধ করে বলতে গেলে কিংবা একটু চ্যালেঞ্জ করলেই তারা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে। তথ্য-উপাত্ত দিয়ে কথা বললেও তারা তার সুষ্ঠু জবাব না দিয়ে শুরু করে দেয় অশ্লীল গালিগালাজ ও হুমকি-ধমকি। এর কারণ, স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।  জাতির সেই ঘোর সংকটকালে তারা ইতিহাস-নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল। তারা স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়েও সত্যিকারের সাহস ও দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে পারেনি। জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন ও আক্রান্ত জনগণকে রক্ষার চেয়ে তারা নিজেদের ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তার কথাই বেশি ভেবেছে। তারা ইতিহাসের সত্যের বদলে আবেগকে আশ্রয় করে নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্বলতাকে ঢাকতে চায়।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত এই দল মুক্তিযোদ্ধাদের কেন্দ্রে রেখে ইস্পাত কঠিন বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনে সব সময় সচেষ্ট। কোন মানুষই ত্রুটি-বিচ্যুতি, ভুল-ভ্রান্তি ও ব্যর্থতা থেকে মুক্ত নয়। কেউ-ই সকল সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। তাই সরকারে থাকতে আমি নিজে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব দিয়ে বলেছিলাম, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, জাতির এই পাঁচ কৃতি-সন্তানকে জাতীয় নেতা হিসাবে মর্যাদা দিয়ে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখা হোক। দুর্ভাগ্যের বিষয় এতে তাদের সম্মতি মেলেনি। উল্টো তারা শহীদ জিয়া ও অন্যান্য জাতীয় নেতাদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ অব্যাহত রেখেছেন। শহীদ জিয়ার নাম-নিশানা মুছে দেয়ার জন্য সর্বপ্রকার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। আমি বলতে চাই, দেশের মানুষ যদি কাউকে সম্মান দিতে না চায়, তাহলে আইন জারি করে কিংবা রাষ্ট্রীয় বা দলমন্য কোন প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়ে তাকে সম্মানিত করা যায় না। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, স্বাধীনতাযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের প্রতি সহানুভূতি, মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন ও দেশবাসীকে বিজয়ের মাসে শুভেচ্ছা জানান।
সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুন্ঠিত করছে আওয়ামী লীগ। পুরো দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। এমন একটি গ্রাম নেই যেখানে বিএনপি নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়নি। যার কোন ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, এখন আর আমাদের হাতে সময় নেই। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ৭১- যারা যুদ্ধ করেছিলেন সেই চেতনা নিয়ে তাদেরকে আবারও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, কেউ দেশকে বাপের তালুক মনে করে ক্ষমতায় জোর করে বসে থাকবে আর দেশের চার কোটি বেকার যুবক আঙুল চুষবে না। অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক সরকারের পতন হবে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময় আসছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি রাজনৈতিক দলের কর্মী হয়ে যান তাহলে দেশের জন্য বিপদ। জিয়াউর রহমানের নামে আমেরিকার একটি রাস্তার নামকরণ হয়েছেÑ কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কি করে এর বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি কি আওয়ামী লীগের লোকÑ এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।  
খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে উপস্থিত হলে মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে তাকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, শমসের মবিন চৌধুরী বীরবিক্রম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম,  প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এড. ফজলুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক শফিউজ্জামান খোকন, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, শাহ মো. আবু জাফর, লেবু কাজী, মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান, কর্নেল (অব.) মনিরুজ্জামান, আবদুল মান্না, মোজাফফর আহমেদ, মুকছেদ আলী, আবদুল হালিম, ইঞ্জিনিয়ার ড. শাহ আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সমাবেশে সাংবাদিক ও কবি ফরিদ কামাল একটি কবিতা আবৃতি করেন।
১০ মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা
অনুষ্ঠানে ১০ মুক্তিযোদ্ধার হাতে ২০ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা ও সম্মানান তুলে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সম্মাননাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা হলেনÑ মোশাররফ হোসেন, খোরশেদ আলম, জিয়াউল হক, মতিউর রহমান, মো. শাহজাহান, আবু ইউসুফ হাওলাদার, আবদুল আজিজ, মো. রমজান আলী, আবুল কালাম আজাদ ও মো. মোহন মিয়া।

‘একটি বিশেষ দল স্বাধীনতাযুদ্ধের মনগড়া ইতিহাস বলে চলেছে’ -খালেদা জিয়া

আওয়ামী লীগের দিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলটির প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেছেন, একটি বিশেষ দল স্বাধীনতাযুদ্ধের মনগড়া ইতিহাস বলে চলেছে। বিকৃত ইতিহাসকে শুদ্ধ করে বলতে গেলে বা চ্যালেঞ্জ করলে তারা তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। তথ্য-উপাত্ত দিয়ে কথা বললেও সুষ্ঠু জবাব না দিয়ে অশ্লীল গালাগাল করে, হুমকি দেয়। আজ রোববার বিকেলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া এই অভিযোগ করেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক ওই আলোচনা ও মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, ইতিহাস বিকৃতির কারণ, স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের (আওয়ামী লীগ) ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সংকটকালে তারা ইতিহাস-নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল। রণাঙ্গনে জীবনবাজি রেখে তারা যুদ্ধ করেনি। ভারতে আশ্রিত জীবন কাটিয়েছে। তাই তারা ইতিহাসের সত্যের বদলে আবেগকে আশ্রয় করে নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্বলতা ঢাকতে চায়। স্বাধীনতার উষালগ্ন থেকেই স্বাধীনতাযুদ্ধের সাফল্যকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টা শুরু হয় বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘একটি দল সব সময় দাবি করে, তারা মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ সংগঠিত করেছে ও নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের দাবি যে কতটা অসার তা এখন সেই দলভুক্ত লোকদের লেখা বইপত্র এবং বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু সত্য কথা কেউ বললে তারা তার সঠিক ও তথ্যভিত্তিক জবাব না দিয়ে গালাগাল শুরু করে। তাদের ফরমায়েশি ইতিহাসের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও তারা রাজাকার ও পাকিস্তানের চর বলে লেবেল এঁটে দিতে দ্বিধাবোধ করে না। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধকে এভাবে দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করা সম্ভব হবে না। ইতিহাস তার স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। গালাগালি ও হুমকি দিয়ে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করা যাবে না।’
খালেদা জিয়া দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মার্চে আওয়ামী লীগের নেতাদের ব্যর্থতার পটভূমিতে জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করেছিলেন। হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক জানজুয়াকে হত্যা ও বাকিদের বন্দী করেছিলেন। বেতার মারফত স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। তাঁর ঘোষণার মাধ্যমেই বিদ্রোহ উন্নীত হয়েছিল বিপ্লবে। প্রতিরোধযুদ্ধ উন্নীত হয়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে।
খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এ দেশে অনেক রাজনীতি হয়েছে। তাঁদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। বিএনপি তা কখনো করবে না। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে কখনো দলীয় রাজনীতির উপকরণ করতে চায় না। এ নিয়ে বিতর্কও কাম্য নয়।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রণয়নের নামে যে ‘জঘন্য জালিয়াতি ও দলীয়করণের’ আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, তা পরিশুদ্ধ করা হবে। প্রকৃত কোনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকার বাইরে থাকবেন না। যেসব মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার বিপন্ন ও মানবেতর জীবন যাপন করছে, তাদের সমাজে সম্মানজনক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কারাগারে বিশেষ মর্যাদা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ ও আন্দোলন সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ন্যায়সংগত। আজ সেই ন্যায়সংগত বিদ্রোহ সংগঠিত করার সময় এসেছে।’
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘সকলের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ আহ্বানে তারা সাড়া দেয়নি। তাই আমাদের বসে থাকার আর কোনো উপায় নেই। দেশের জনগণ আন্দোলন চায়, পরিবর্তন চায়।’
আওয়ামী লীগকে স্বদেশি হানাদার আখ্যা দিয়ে শিগগির আন্দোলন শুরুর হুমকি দেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা অস্ত্রের মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথে নামব। আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক, জনগণের আন্দোলন। জনগণের সেই আন্দোলনে স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকার তাসেরঘরের মতো ভেসে যাবে।’
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ।

আপনি আমার ধর্ষণেরও যোগ্য নন

ব্রাজিলে চলতি মাসের গোড়ার দিকে পার্লামেন্ট অধিবেশন চলাকালে সরকারদলীয় নারী সদস্য মারিয়া ডো রোসারিও নুনেসকে উদ্দেশ্য করে চরম অবমাননাকর উক্তি করেন এক বিরোধীদলীয় কংগ্রেস সদস্য। জায়ির বোলসোনারো নামের ওই সদস্য বলেছিলেন, ‘তোমার মতো বিশ্রী নারীকে আমি ধর্ষণ করব না। তুমি আমার ধর্ষণেরও যোগ্য নও।’ শনিবার এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য স্ট্রেইটস টাইম। তার এ অপমানজনক কটূক্তিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে গোটা দেশজুড়ে। তার পদত্যাগ দাবি করেছে সে দেশের নারী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে স্বয়ং জাতিসংঘ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাবেক মানবাধিকারমন্ত্রী রোসারিও নুনেস। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের মাত্র একদিন আগে ৯ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে চলছিল ধর্ষণ এবং যৌনতা সংক্রান্ত এক বিতর্ক। বিতর্কের এক পর্যায়ে ফ্লোর নেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এবং বিরোধীদলীয় কংগ্রেস সদস্য ৫৯ বছরের জায়ির বোলসোনারো। তিনি নারী সদস্য মারিয়া ডো রোসারিও নুনেসকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘থামুন, মারিয়া ডো রোসারিও! মাত্র কয়েকদিন আগে আপনি আমাকে ধর্ষক বলেছিলেন। কিন্তু আপনি আমার ধর্ষণেরও যোগ্য নন। আপনার মতো বিশ্রী নারীকে আমি ধর্ষণও করব না।’
তার এ বক্তব্যের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। সেখানকার সামাজিক সাইটগুলোতে এখনও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চলেছে ব্রাজিলের বিক্ষুব্ধ লোকজন। তার এ মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। তবে নিজের এ বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত নন বোলসোনারো। এ নিয়ে তিনি মারিয়ার কাছে কোনো রকম দুঃখ প্রকাশ করবেন না বলেও জানিয়েছেন। উল্টো স্থানীয় এক পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আসলে, তিনি আমার ধর্ষণ করারও যোগ্য নন। কারণ তিনি দেখতে খুবই বিশ্রী। তিনি তো আমার টাইপ নন। আমি কখনোই তাকে ধর্ষণ করব না।’

ভারতের স্কুলে জঙ্গিবিরোধী নির্দেশিকা

পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুলে জঙ্গি হামলার পর নড়েচড়ে বসেছে ভারতের প্রশাসন। স্কুলগুলোতে জঙ্গি হামলা রুখতে বা এ ধরনের হামলা হলে সতর্কতামূলক কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা জানিয়ে শুক্রবার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সব স্কুলেই এ নির্দেশিকা জারি হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছে, লস্কর-ই-তৈয়বা, সিমি বা ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের মতো জঙ্গিগোষ্ঠী পেশোয়ারের মতো জঙ্গি হামলা চালাতে পারে ভারতেও।
২০১০ সালের মুম্বাই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত ডেভিড কোলম্যান হেডলির গ্রেফতারের পর এমনই একটি নির্দেশিকা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুল কংক্রিটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা হবে। সেখানে ৩-৪টি গেট রাখতে হবে এবং প্রতিটি গেটে কমপক্ষে তিনজন রক্ষী ২৪ ঘণ্টা নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন।
নিরাপত্তাকর্মী, প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করতে স্কুলে একটি বৈদ্যুতিক ঘণ্টা রাখার কথাও বলা হয়েছে। এটির সঙ্গে স্কুলের সব গেটের সংযোগ থাকবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সহজে কোনো নির্দেশ দিতে সেন্ট্রালাইজড পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম রাখতে হবে।

গাজায় আবার ইসরাইলের বিমান হামলা

গাজায় আবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। শুক্রবার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলে রকেট হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ হামলা চালানো হল। শনিবার প্রত্যক্ষদর্শী ও সেনাবাহিনী সূত্র এ তথ্য জানা যায়। গাজায় খান ইউনিস এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছে, তারা অন্তত দুবার বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, হামলায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ২৬ আগস্ট উভয়পক্ষের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের প্রথম বিমান হামলার ঘটনা ছিল এটি। উল্লেখ্য, ওই অস্ত্রবিরতি চুক্তির মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে চলা ৫০ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এ বিমান হামলা চালানোর খবর নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, হামাসের অবস্থান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র লে. কর্নেল পিটার লেমার জানান, ইসরাইলের বিরুদ্ধে আজকের হামলার জন্য ফিলিস্তিনের সন্ত্রাসী সংগঠন হামাস দায়ী।
পরিবেশ দূষণের দায়ে ইসরাইলকে ৮৫ কোটি ডলার জরিমানা : লেবানন উপকূলে তেল ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে ইসরাইলকে ৮৫ কোটি ডলার তথা প্রায় ৬ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে জাতিসংঘ। ২০০৬ সালের যুদ্ধে তেল ট্যাংকারে ইসরাইলি হামলায় এ বিপর্যয়ের ঘটনায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেয়া রেজ্যুলেশনে এ কথা বলা হয়েছে।
শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা পাস হয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি মিশন এক বিবৃতিতে এ রেজ্যুলেশনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যায়িত করেছে।

শুধু নারীরাই প্রশ্ন করতে পারবে

নারী এবং শুধু নারীই প্রশ্ন করতে পারবে- বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এমন নিয়ম জারি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শুক্রবার এ বছরের সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে ওবামা কৌতুক করে বলেন, আমার প্রেস সেক্রেটারির সঙ্গে পরামর্শ করে একটা দুষ্টু ও সুন্দর তালিকা করেছি, যারা আমাকে প্রশ্ন করতে পারবে। ওবামার সেই তালিকায় শুধু নারী সাংবাদিকরাই ঠাঁই পেয়েছে। মোট আটজন নারীর প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। তারা সবাই রেডিও ও পত্রিকা সাংবাদিক। সাংবাদিকরা ওবামাকে সনি হ্যাকিং, কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ও আমেরিকার বর্ণবাদ নিয়ে প্রশ্ন করেন। এসময় কিছু টিভি সাংবাদিক ক্ষুব্ধ হয়ে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের প্রায় সংবাদ সম্মেলনে নারীদের প্রাধান্য ছিল। এক প্রশ্নের জবাবে ওবামা বলেন, খোঁড়া পাতিহাঁস নই আমি। রিপাবলিকানদের বিরোধিতা সত্ত্বেও অভিবাসন ও কিউবান নীতিমালা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

জঙ্গিবাদ : পাকিস্তানের পুরনো অভিশাপ

মাত্র এক সপ্তাহ আগেও পাকিস্তানের লাল মসজিদ ইসলামী চরমপন্থার একটা অস্পৃশ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো ও প্রতিক্রিয়াশীলতা উৎপাদনে এই মসজিদের ইমাম নির্বিঘ্নে ভূমিকা রাখছিলেন। কিন্তু এই শুক্রবারে লাল মসজিদের সামনে শত শত বিক্ষোভকারী ইমামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেছেন। তালেবানের পক্ষে তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে গর্জন তুলেছেন সাধারণ জনতা। ২০০৭ সালে তালেবানের উত্থানের পর থেকে এমন দৃশ্য কখনও দেখা যায়নি। পেশোয়ারে তলেবান জঙ্গিদের ভয়াবহ হামলায় প্রায় দেড়শ’ শিশুর প্রাণ পাকিস্তানকে শোকে স্তব্ধ ও বিক্ষোভে উত্তাল করেছে। এ হামলার আগে পাকিস্তানের নেতৃত্বের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতাযুদ্ধ চলছিল। লাল মসজিদের ইমামের সমর্থনও ছিল কোনো কোনো নেতৃত্বের প্রতি। কিন্তু শিশুদের ওপর একটি গণহত্যার পর বিষাদ ও বিক্ষোভে এক ধরনের রাজনৈতিক ঐক্যবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সমাজের সব অংশ থেকেই জঙ্গিবাদবিরোধী স্লোগান উঠেছে। এই প্রথমবারের মতো ধর্মীয় দলগুলো ও অতি রক্ষণশীল রাজনীতিবিদরা প্রকাশ্যে জঙ্গিবাদবিরোধী বিক্ষোভ করতে বাধ্য হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মনে করছেন, জনগণ তাদের সমর্থন করবে। লাল মসজিদের সামনে থেকে একজন বিক্ষোভকারী জিবরান নাসির বললেন, ‘এটা তালেবানবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেবে।’
কিন্তু সন্দেহ থেকেই যায় যে, দ্বিধাবিভক্ত সমাজ, সাংঘর্ষিক সংস্কৃতি ও শক্তিশালী সেনাবাহিনীর কৌশলগত দুর্বৃত্তায়নে জর্জরিত পাকিস্তান আদৌ কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে কিনা। এই বিপর্যয় পাকিস্তানের জন্য কোনো সন্ধিক্ষণ হবে কিনা তার এখনই বলা মুশকিল। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস পাকিস্তানের পুরনো অভিশাপ। ২০০৭ সালে বেনজির ভুট্টোকে হত্যাসহ মসজিদ, মাদরাসা, চার্চ, বাজারে বোমা হামলা একটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কিশোরী মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর আক্রমণ, মালালাকে পশ্চিমাদের সমর্থন আর তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণতা তালেবানদের হিংস্র করেছে। তাছাড়া জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সেনা সংশ্লিষ্টতার মতো পুরনো পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। তাই এত ক্ষোভ ও অশ্র“ পাকিস্তানের টেকসই পরিবর্তনে কোনো অবদান রাখকে কিনা তাতে সংশয় থেকেই যায়।
২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন পাকিস্তান সফরে গিয়ে সেই পুরনো গল্পটাই বলেছিলেন, ‘নিজের পিঠে সাপকে জায়গা দিলে সেই সাপ কেবল প্রতিবেশীকে কামড়াবে তা আশা করা যায় না।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এখন সব দলের সমন্বয়ে একটি কমিটি করেছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে তারা তালোবানবিরোধী ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের নতুন কৌশল নির্ধারণ করবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এই সময়ে পাকিস্তান নতুন কোনো বিভ্রান্তিতে পড়ে কিনা। নিউইয়র্ক টাইমস।

এবার ২৩ কাস্টমস কর্মকর্তার সনদ যাচাই করছে দুদক

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কারও বয়স ছিল ১১ বছর, কারও ১৪। তারা সবাই এখন মুক্তিযোদ্ধা। কেউ এ পরিচয়ে সরকারের কাছ থেকে নিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বাড়তি সুবিধা। কেউ অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়েছেন, কেউ বা বাড়াতে শুরু করেছিলেন দৌড়-ঝাঁপ। তবে সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই শুরু হলে তাদের অনেকেই চুপসে যান। এড়িয়ে চলেন মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকার প্রসঙ্গও। তারা সবাই কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী। দাপটের সঙ্গে চাকরি করছেন বিভিন্ন অবস্থানে থেকে। একজন অবসরও নিয়েছেন সম্প্রতি।
হাতে আসা এমন ২৩ কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত সরকার ২০০৯ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির মেয়াদ ২ বছর বাড়ানোর ঘোষণা দিলে মুক্তিযুদ্ধের সনদ নেয়ার হিড়িক পড়ে। চাকরিতে যোগদানের সময় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা না দিলেও নানা কৌশলে বহু সরকারি চাকরিজীবী সনদ বাগিয়ে এ সুবিধা গ্রহণ করেন। সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ প্রদানে চারটি ক্রাইটেরিয়া বেঁধে দেয়। এগুলো হচ্ছে- (১) চাকরিতে যোগদানকালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদপ্রার্থী নিজে কোনো ঘোষণা দিয়েছিলেন কিনা, (২) মুক্তিবার্তায় প্রার্থীর নাম আছে কিনা, (৩) ২০১০ সালের আগে প্রকাশিত গেজেটগুলোতে তার নাম রয়েছে কিনা এবং (৪) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত সনদ আছে কিনা। তবে এর বাইরে থেকেও অনেকে নানা কৌশল ও জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি চাকরিতে বাড়তি সুবিধা ভোগ করছেন। পূর্ণাঙ্গ সচিব থেকে শুরু করে এমএলএসএসও রয়েছেন এ তালিকায়।
মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির সময় ২ বছর বাড়ানোর ঘোষণার পর পাঁচ বছরে ১১ হাজার ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন। সনদগ্রহণকারী সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম-সচিব সম্পর্কে অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন দেয় দুদক। সে অনুযায়ী এক সচিব স্বেচ্ছায় অবসরে যান। এক যুগ্ম-সচিবকে পাঠানো হয় বাধ্যতামূলক অবসরে।
এ ঘটনার পর বিভিন্ন দফতর থেকে দুদকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই করে দেখার অনুরোধ জানিয়ে অভিযোগ আসতে থাকে। এ ধারাবাহিকতায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৯ কর্মকর্তার মুক্তিযুদ্ধ সনদ যাচাই শুরু করে দুদক। একই ধারাবাহিকতায় কাস্টমস থেকে আসে ৪০ মুক্তিযোদ্ধার নাম। তাদের মধ্য থেকে ২৩ কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীর সনদ যাচাই শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ৬ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ মুক্তিযোদ্ধা দাবিকারী কর্মকর্তা সম্পর্কে তথ্য চেয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। মন্ত্রণালয় যাচাই শেষে একই বছরের ৪ জুলাই ৬৩ জনের একটি তালিকা পাঠায়। তাতে ১, ৫, ৮, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ২২, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৭-এ বর্ণিত ১৪ ব্যক্তির বয়স মুক্তিযুদ্ধকালে ১৬ বছরের কম ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ১ ক্রমিক নম্বরের নামটি সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। অন্যরা হলেন- ঢাকা (উত্তর) কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সুপারিনটেনডেন্ট মো. ওমর ফারুক, ঢাকা কাস্টমস হাউসের ইন্সপেক্টর মো. আবুল হোসেন, গাড়িচালক মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা কাস্টমস হাউসের ইন্সপেক্টর মো. মইনুল ইসলাম, পরিতোষ চক্রবর্তী, সিপাই মো. মোকলেছুর রহমান খান, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের (আমদানি) প্রিন্সিপ্যাল এপ্রেইজার মো. হাসান মনসুর, ইন্সপেক্টর মনসুর আহমেদ খান, সাব-ইন্সপেক্টর মো. আবদুল কুদ্দুস মণ্ডল, ভ্যাট কমিশনারেটের (ঢাকা দক্ষিণ) সিপাই মিজানুর রহমান, মো. ছালেহউদ্দিন, সাব-ইন্সপেক্টর এসকে সামসুল হক ও মংলা কাস্টমসের অফিস সুপারিনটেনডেন্ট অঞ্জন কুমার বালা।
প্রেরিত তালিকার ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৭, ৪৮, ৫০ এবং ৬২ নম্বরের ৮ ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা তালিকার নম্বর সঠিক না থাকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন করা যায় না বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। তারা হলেন- ঢাকা (উত্তর) কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সুপারিনটেনডেন্ট শিকদার মজিবর রহমান, একই কার্যালয়ের ইন্সপেক্টর নরেশ চন্দ্র সরকার, মো. খলিলুর রহমান, মো. সহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের (আমদানি) প্রিন্সিপ্যাল এপ্রেইজার ঠাকুর আবদুল মান্নান, হুমায়ুন কবির, বৃহৎ করদাতা ইউনিট-এলটিইউর ইন্সপেক্টর মো. ইয়ামুল হক এবং ইন্সপেক্টর হিসেবে অবসরে যাওয়া এএনএম যুবায়ের। এছাড়া ৫৫ ক্রমিক নম্বরের ঢাকা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সুপারিনটেনডেন্ট (চলতি দায়িত্ব) এসএম কায়কোবাদ আলীর বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তার বিষয়ে প্রত্যয়ন করা হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই সম্পর্কে জানতে চাইলে দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যুগান্তরকে বলেন, এত অভিযোগ আসছে যে, সবগুলো যাচাই করে দেখার মতো জনবল আমাদের নেই। কিছু কিছু অভিযোগ সুপারিশ সহকারে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে আমরা হাইপ্রোফাইল কিছু অভিযোগ যাচাই করছি।

মহাকাশে রেঞ্চ ইমেইল!

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডার ব্যারি উইলমোরের একটা রেঞ্চ দরকার। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কাছে সাহায্য চাইলেন তিনি। কিন্তু একটা রেঞ্চ পাঠাতে যদি আরেকটি রকেট উৎক্ষেপণ করতে হয় তাহলে যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনি প্রচুর অর্থ খরচের ব্যাপার। তাই নাসা একটা রেঞ্চের ডিজাইন ইমেইল করে পাঠিয়ে দিল। পৃথিবী থেকে মহাকাশ স্টেশনে বা কোনো মনুষ্যবাহী রকেটে হালকা যন্ত্র এখন ইমেইল করে পাঠানো সম্ভব। কারণ থ্রিডি প্রিন্টার এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের জন্য থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করেছে মেড ইন স্পেস নামে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি কোম্পানি। এরাই ওই রেঞ্চের ডিজাইনটা করে দিয়েছে। কোনো মহাকাশচারীর ব্যবহারের জন্য থ্রিডি প্রিন্টের জন্য বস্তুর ডিজাইন পাঠানো এটাই প্রথম। ওয়েবসাইট।

নওয়াজসহ রাজনৈতিক নেতার সন্তানদের হত্যার হুমকি

পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনা স্কুলে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর এবার দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের ছেলেমেয়েদের হত্যার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী টিটিপি। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সন্তানদের বিরুদ্ধেও তারা একই হুমকি দিয়েছে। শুক্রবার দুই জঙ্গিকে ফাঁসি দেয়ার জবাবে টিটিপির শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ খোরাসানি এক চিঠিতে এ হুমকি দেয়। তবে ফাঁসি থেকে সরে আসেনি দেশটির সরকার। শনিবার আরও ৮ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এদিন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ৩২ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে ৯৯ জঙ্গি নিহত হল। আগামী মঙ্গলবার হবে আরও দুই জঙ্গির ফাঁসি। খবর ডন, জি নিউজ, এএফপি ও বিবিসির।
নওয়াজসহ রাজনীতিকদের সন্তানকে হত্যার হুমকি : প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফসহ পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদেও ছেলেমেয়েদের হত্যার হুমকি দিয়ে শুক্রবার চিঠি দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান (টিটিপি)।
চিঠিতে নওয়াজ শরিফকে সতর্ক করে দিয়ে জঙ্গিরা বলে, তাদের সহযোগীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানদের হত্যা করবে। তাদের ওই হামলা থেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকেও রেহাই দেয়া হবে না।
টিটিপি দলের শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ খোরাসানির লেখা ওই চিঠি শুক্রবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের সরকারি কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে। তারা এ চিঠির সত্যতা যাচাই করছেন। চিঠিতে স্কুল হামলার পক্ষেও সাফাই গেয়েছে জঙ্গিরা। তারা বলেছে, নিহত ওই শিশুরা বড় হয়ে তাদের বাবা-মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করত। তাই তাদের হত্যা করা হয়েছে।
চিঠিতে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, কারাবন্দি একজন জঙ্গিকেও যদি ফাঁসি দেয়া হয় তবে তারা আরও শিশুকে হত্যা করবে। তাদের ভাষায়, পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই যে, আর আমাদের একজন সহযোগীকেও যদি ফাঁসি দেয়া হয়, তবে আমরা এর প্রতিশোধ নেব এবং তোমাদের সন্তানদের হত্যা করব। আমরা নিশ্চিত করে বলতে চাই, যে কোনো সেনা কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতার বাসভবনে প্রবেশ করার ক্ষমতা আমাদের আছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দুই ছেলে এবং একটি মেয়ে আছে।
১০ জঙ্গির ফাঁসি : শনিবার রাতে ৮ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কোট লাকপাট, আদিয়ালা এবং বাহাওয়ালপুর জেলে এসব জঙ্গির ফাঁসির কথা জানান পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুজা খানজাদা। তবে এ ৮ জঙ্গির পরিচয় সম্পর্কে কিছুই বলেননি তিনি।
আগামী মঙ্গলবার আরও দুই জঙ্গিকে ফাঁসি দেয়া হবে। তারা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-জাঙ্গভির সদস্য আতাউল্লাহ ওরফে কাসিম এবং মোহাম্মদ আযম ওরফে শরিফ। সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে গত দশ বছর আগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলেও এতদিন পর্যন্ত তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার পকিস্তানের এক সন্ত্রাসবিরোধী আদালত আতাউল্লাহ এবং আযমের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন এবং শুক্কুর জেল কর্তৃপক্ষকে এই রায় বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টা নাগাদ তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হবে বলে জানা গেছে।
শুক্কুর জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর আগেও আদালত বেশ কয়েকবার তাদের ওই দুজনের মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পাক প্রেসিডেন্ট ওই রায়ের বিরুদ্ধে স্টে অর্ডার দেয়ায় তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদেও কেন্দ্রীয় কারাগারে ড. ওসমান ওরফে আকিল এবং আরশাদ মাহমুদ নামের ওই দুই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ৬ বছর ধরে পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কেবল এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। এক সহকর্মীকে হত্যা করার দায়ে ২০০৮ সালে এক সেনাকে ফাঁসি দিয়েছিল পাকিস্তানের সামরিক আদালত। পেশোয়ারে স্কুল হামলার একদিন পর বুধবার মৃত্যুদণ্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।
পেশোয়ার হামলাকারীর আরও হামলার হুমকি : পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ না করলে আরও পেশোয়ারে স্কুল হামলার মতো আরও হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে ওই হামলার পরিকল্পনাকারী জঙ্গি কমান্ডার উমর মনসুর। খলিফা উমার বা উমার নারেয়ি নামেও পরিচিত এই জঙ্গি নেতা। টিটিপির ওয়েবসাইটে পোস্ট করা ইংরেজি সাবটাইটেলসহ এক মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে এসব কথা জানিয়েছেন উমর।
সেনাবাহিনীর অভিযানে তালেবান যোদ্ধাদের পরিবার ও শিশুদের নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুল ও কলেজে হামলা চালানো হয়েছে বলে এতে দাবি করেন তিনি।
৩২ জঙ্গিসহ নিহত : সকালে খাইবার অঞ্চলের তিহার উপত্যকায় সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ২১ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। এছাড়া পেশোয়ার থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে শবকদার শহরের মেচানি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালায়।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বিলায়াত খান বলেন, মেচানিতে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি বিনিময়কালে ফ্রন্টিয়ার কোর (আধাসামরিক বাহিনী) এক সৈন্য ও এক পুলিশ শহীদ হয়েছেন। এ অভিযানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) দুই সদস্যও নিহত হয়েছেন।
অপর ঘটনায় টিটিপির পাঁচ সদস্য নিহত হন। এদের মধ্যে স্থানীয় এক কমান্ডারও রয়েছেন। এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, মাতনির গুজার গাদি এলাকার টিটিপির একটি আস্তানায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে ৫ জঙ্গি নিহত হয়েছেন। এলাকাটি পেশোয়ার থেকে প্রায় ১৬ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত।
এছাড়া আদিবাসী অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানের দত্তখেল হেশিলে মার্কিন ড্রোন হামলায় চার সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

‘গণতন্ত্র বিরোধী কর্মসূচী মোকাবিলা করা হবে’ -নাসিম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সংবিধান মোতাবেক গণতন্ত্র রক্ষায় ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তা সারা বিশ্বে স্বীকৃতিও পেয়েছে। আগামী ৫ই জানুয়ারী বর্তমান সরকারের প্রথম বর্ষপূতি হবে। এদিনে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোট যদি গণতন্ত্র বিরোধী কোন কর্মসূচী পালনের চেষ্টা করে তা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভাবে তা মোকাবেলা করা হবে। বিএনপির সমালোচনা করে মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনে অংশ না নেয়া যে কোন দলের রাজনৈতিক অধিকার কিন্তু নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বৈধ সরকারকে অবৈধ ভাবে উৎখাতের চেষ্টার হুমকি ধামকি মেনে নেয়া হবে না। রোববার বিকেলে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ শামসুদ্দিন সন্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন ও আইন শৃংখলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম একথা বলেন। এজন্য তিনি সিরাজগঞ্জের প্রশাসনকেও সর্তক থাকার আহবান জানান। জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গাজী ম. আমজাদ হোসেন মিলন এমপি, সংরক্ষিত মহিলা এমপি সেলিনা বেগম স্বপ্না, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, বিভিন্ন বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চুরি থেকে উদ্ধার নবজাতকটি যাচ্ছে নতুন ঠিকানায় by মানসুরা হোসাইন

‘মনে হয় অনেক অাদরের ছিল। কোল থেকে নামালেই কান্না শুরু করে। তাই আমরা ওকে কোলে কোলেই রাখি।’—ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ডের একজন নার্স চুরির হাত থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতককে কোলে নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন। জন্মের পর মা-বাবা হয়তো আদর করে মেয়ে নবজাতকের কোনো নাম রেখেছিলেন। তবে এখন সে ‘অনামিকা’। সবাই চেনে চুরির হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া নবজাতক হিসেবে। নবজাতকটির থাকার কথা মায়ের বুকে। কিন্তু অচেনা মায়ের মানিক এখন হাসপাতালের ওয়ার্ডের অন্য গুরুতর অসুস্থ নবজাতকদের সঙ্গে দিন কাটাচ্ছে। এখন তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন আজিমপুরের ছোটমণি নিবাসে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। র‍্যারের দাবি, ১৫ ডিসেম্বর র‍্যাব-৩-এর একটি দল গোপন সংবাদে জানতে পারে এক নবজাতককে বিক্রি করা হবে। পরে লালবাগ থানার নবাবগঞ্জের ১৩১/৩, শাহারোডে অভিযান চালিয়ে দুই সপ্তাহ বয়সী নবজাতককে উদ্ধার করেন দলের সদস্যরা। উদ্ধারের পর র‍্যারের কাছ থেকে লালবাগ থানার তত্ত্বাবধানে চলে যায় নবজাতকটি। বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে নবজাতকটির জায়গা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে।
উদ্ধার হওয়া এই নবজাতককে কার কাছে রাখা হবে—তা জানতে চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করে লালবাগ থানা। তদন্তকারী কর্মকর্তা ফারুকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ ডিসেম্বর আদালতের কাছ থেকে রায় পাওয়া গেছে। রায়ে নবজাতকটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আশ্রয়কেন্দ্র ছোটমণি নিবাসে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের ইনচার্জ জয়ন্তি ঘাগড়া বলেন, ‘আজ দুপুরে থানা থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কাল সোমবার সকালে নবজাতককে হাসপাতালের সমাজকল্যাণ বিভাগের হাতে হস্তান্তর করার জন্য হাসপাতালের পরিচালক নির্দেশ দিয়েছেন। সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নবজাতককে পাঠানো হবে ছোটমণি নিবাসে।’
গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নবজাতক ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, একজন নার্স নবজাতকটিকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। তাকে বাইরের প্যাকেটজাত গুঁড়ো দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। ওয়ার্ডে সেই একমাত্র সম্পূর্ণ সুস্থ নবজাতক। ফলে চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে নিয়ে বেশ চিন্তিত। সে যাতে অন্যদের মাধ্যমে সংক্রমণের শিকার না হয়, সে জন্য তাঁরা তৎপর।
নবজাতককে উদ্ধারের পর চুরির সঙ্গে জড়িত চারজন নারী এবং একজন পুরুষকে আটক করা হয়। লালবাগ থানায় মামলা হয়েছে। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত নবজাতকটির নাম-পরিচয় জানা যায়নি। যাঁদের আটক করা হয়েছে তাঁরা এখন জেলে আছেন। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলের সদস্য মনোয়ারা নামের এক নারী নবজাতকটিকে বিক্রি করার জন্য দলের অন্যদের কাছে দিয়েছিলেন। তবে মনোয়ারাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে আটকের চেষ্টা চলছে।
আজ রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরাও চাচ্ছি দ্রুত এই নবজাতকটি একটি নিরাপদ আশ্রয়ে যাক। হাসপাতালে অসুস্থ নবজাতকদের সঙ্গে সুস্থ নবজাতককে রাখা যুক্তিসংগত নয়।’
তবে আজিমপুর ছোটমণি নিবাসের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত এ ধরনের আদেশের কোনো কপি হাতে পাইনি। আমাদের এখানে কয়েক মাস বয়সী আরও কয়েকটি বাচ্চা আছে। আমাদের জায়গা এবং জনবলসংকট প্রকট। ফলে এই নবজাতককে রাখা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে।’

সানি লিওনের ভয়

ববি খানের ছবি ‘লীলা’য় অনেক আগেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সময়ের আলোচিত ও বিতর্কিত তারকা সানি লিওন। সম্প্রতি একদিন শুটিংও করেছেন ছবিটির। কিন্তু এরপর আর কাজ করেননি। এর কারণ হলো ভয়। অবশ্য এ ভয় ভূতের নয়, ছবির সহশিল্পীকেই ভয় করছেন সানি। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। এ ছবিতে সানি অভিনয় করছেন মোহিত আহলাওয়াতের বিপরীতে। আর তাকেই ভয় পাচ্ছেন তিনি। সে কারণে এ ছবির শুটিং স্বামী ডেনিয়েল ওয়েবারের উপস্থিতি ছাড়া করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে ‘লীলা’র শুটিং। এ ছবিতে নিজের প্রত্যেকটি দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় স্বামীকে নিয়েই করবেন বলে জানিয়েছেন সানি। জানা গেছে, মোহিতের কিছু আচরণে অবাক হয়েছেন তিনি। সানির সঙ্গে বাজেভাবে কথা বলেছেন মোহিত। তাই তো প্রথমদিনের শুটিংয়ের পরই সানি মোহিতের কাছ থেকে দূরে থাকা শুরু করেন। এই তরুণ অভিনেতার সঙ্গে নিজেকে তেমন একটা নিরাপদ ভাবছেন না তিনি। সে কারণেই স্বামী ছাড়া এ ছবির শুটিং করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সানি এর আগে সব ছবিতে অভিনয় করেছেন একা একাই। বরং স্বামীকে শুটিং স্পটে যেতে সব সময় বারণ করতেন। কিন্তু এবার তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে ঘটেছে উল্টোটা। এদিকে সানির এমন সিদ্ধান্তের কারণে যেন জেদ চেপেছে মোহিতের মনে। প্রযোজক ববি খানকে তিনি জানিয়েছেন, সানির স্বামীর উপস্থিতিতে তিনি অভিনয় করবেন না। এখন প্রযোজক পড়েছেন বেশ বিপদে। এ সমস্যার সমাধান করে কত দিনে ছবির শুটিং শুরু করতে পারেন তিনি সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অভিনয় গান প্রযোজনা অতঃপর...

ভারতীয় চলচ্চিত্রে একাধারে অভিনয় করে তারকা বনে গেছেন অনেক আগেই। এরপর বেশ কয়েক বছর হলো সংগীতেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলিউড সুপার স্টার ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াংকা চোপড়া। চলতি বছরেই অভিনয়, গানের পাশাপাশি প্রযোজনায়ও নাম লিখিয়েছেন তিনি। আসছে নতুন বছর। আর কিছুদিন পরই নতুন নতুন সব পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবেন প্রিয়াংকা- এমনটাই জানিয়েছেন। তবে কি করতে যাচ্ছেন সেটা পরিষ্কার করেননি তিনি। সমপ্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াংকা বলেন, অভিনয় করে দর্শক ভালবাসা পেয়েছি। তাদের কাছে আসতে পেরেছি। এরপর গান আর প্রযোজনায়ও এসেছি। তবে নতুন বছরে আরও কিছু নতুন চমক থাকছে, যা এখনই কিছু বলতে চাই না। এতটুকু নিশ্চিত যে, গান কিংবা আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ঘিরেই এ চমক থাকবে। প্রিয়াংকার এমন রহস্যময় চমকের বিষয়টি এরই মধ্যে ভক্তদের বিশেষ এক আগ্রহের জায়গায় পরিণত হয়েছে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন কোন ছবি নিজেই নির্মাণ করবেন সাবেক এই বিশ্ব সুন্দরী। আর এমন কিছু যদি ঘটে তাহলে প্রিয়াংকার নতুন বছরটা তার ভক্তদের জন্য সত্যিই বিশেষ এক চমক হয়ে থাকবে। ‘মেরি কম’ ছবির বড় সফলতার পর আসছে নতুন বছরে ‘দিল ধাড়াকনে দো’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ‘ম্যাডামজি’ ছবিগুলোতে কাজ করবেন বলিউডের এ তারকা।

‘ন্যায়সঙ্গত বিদ্রোহ সংগঠনের সময় এসেছে’ -খালেদা জিয়া

আন্দোলনে সরকার হঠানোর ঘোষণা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ন্যায়সঙ্গত বিদ্রোহ সংগঠনের সময় এসেছে। জনগণের আন্দোলনে সরকার তাসের ঘরের মতো মিশে যাবে। বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত বিজয় দিবসের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারি কোন নির্বাচন হয়নি। ভোট ছাড়া কোন সরকার হতে পারে না। তাই আমরা সুষ্ঠ নির্বাচন চাইছি। যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। কেউ ক্ষমতায় থেকে আর কেউ ক্ষমতাহীন থেকে নির্বাচন করবে তা হতে পারে না। তিনি বলেন, আমাদের আর বসে থাকার উপায় নেই। ২০ দলের প্রতি প্রতিনিয়ত জনগণ আন্দোলন করার আহ্বান জানাচ্ছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আন্দোলন শুরু করবো। অস্ত্রের মোকাবিলা করবো। জনগণের আন্দোলনের মুখে সরকার তাসের ঘরের মতো মিশে যাবে। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন এখন শাসকদের লোভ আর ষড়যন্ত্রে বিপন্ন। এর আগে, বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছেন খালেদা জিয়া। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনস্বীকার্য অবদান রাখায় ১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও  আর্থিক অনুদান তুলে দেন তিনি। নগদ ২০ হাজার টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- মোশাররফ হোসেন, খুরশীদ আলম সেজু মিয়া, জিয়াউল হক বাবু, মতিউর রহমান মনি, মো. শাহজাহান, আবু ইউসুফ হাওলাদার, আব্দুল আজীজ, মো. রমজান আলী, আবুল কালাম, মো. মোহন মিয়া। দুপুর সোয়া ১টায় আইডিইবি চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সমাবেশের উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে ‘বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।

মেয়র আরিফুল ও গউছের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সম্পুরক চার্জশিট গ্রহণ করেছে আদালত। এসময় আদালত সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জি কে গউছ এবং খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক রশিদ আহমেদ মিরন আজ দুপুরে এ আদেশ দেন। এ আদেশের পরপরই হবিগঞ্জ শহরে ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রায় ১০জন আহত হয়েছেন। কিবরিয়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেরুন নেছা পারুল রোববার দুপুরে দুই আসামীর নাম সংশোধন করে চতুর্থ দফায় সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। গত ১৩ নভেম্বর কিবরিয়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল তৃতীয় দফায় সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। ওই চার্জশিটে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছসহ নতুন ১১ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।

পাকিস্তান ১০০ কোটি ডলার পাচ্ছে

পাকিস্তানের পেশোয়ারের আর্মি স্কুলে তালেবানের নৃশংস হামলার
ঘটনায় তিন দিনের শোক পালন শেষে গতকাল আবার স্কুলে
যায় শিশুশিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার জঙ্গিদের বোমা ও গুলিতে
স্কুলটিতে ১৩২ শিক্ষার্থীসহ ১৪৯ জন নিহত হয়। ছবি: এএফপি
আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর জঙ্গি দমন অভিযানে সহায়তা করতে ১০০ কোটি ডলার পাচ্ছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতির আওতায় পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর জন্য এ অর্থ দেওয়া হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পাকিস্তানের প্রতি সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত—মার্কিন কর্মকর্তাদের এ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে অর্থ বরাদ্দের এ খবর এল। খবর পিটিআই ও ডনের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত শুক্রবার ২০১৫ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) স্বাক্ষর করেন। এতে সার্বিক প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ধরা হয়েছে। এর মধ্য থেকে কোয়ালিশন সাপোর্ট ফান্ডের (সিএসএফ) আওতায় ১০০ কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানকে। সিএসএফ সরাসরি সামরিক সহায়তা নয়। আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের সময় পাকিস্তানের কাছ থেকে সহায়তা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর যে ব্যয় হবে, তা মেটাতেই এই সহায়তা। সিএসএফের আওতায় এই অর্থ পেতে অবশ্য পাকিস্তানকে কিছু শর্তও পূরণ করতে হবে। এর অন্যতম হলো, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো। বিশেষ করে হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করা। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ওই শর্তগুলো পূরণ করা ছাড়াও পাকিস্তানকে অর্থ দেওয়ার সুপারিশ করতে পারবেন। আফগানিস্তান থেকে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য–সংখ্যক মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আফগান পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য যে ১৩ হাজারের মতো মার্কিন সেনা কাবুলে আছে, ২০১৬ সালে তাদেরও প্রত্যাহার করার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে জঙ্গিদের নতুন করে উত্থান হওয়া ঠেকাতে সিএসএফ সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র।
এনডিএএতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রতি ছয় মাসে কংগ্রেসে মার্কিন-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রথম প্রতিবেদনটি ৯০ দিনের মধ্যে উপস্থাপন করতে হবে। ‘সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পাকিস্তানের প্রতি সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন সাকি ওয়াশিংটনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান সরকারের সর্বস্তরে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করছি। প্রয়োজনে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আমরা প্রস্তুত আছি।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই পাকিস্তান সরকারের প্রতি সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে। এর আগে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি জশ আর্নেস্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী সম্পর্ক’ রয়েছে। এই সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণই উপকৃত হবে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনীর পরিচালিত একটি স্কুলে তালেবান হামলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১৪১ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার পরপর প্রেসিডেন্ট ওবামা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে টেলিফোন করে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানের জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থনের কথা জানান।

কয়েকজনকে ফাঁসি দিলেই সরকারের দায় শেষ হয় না

আসমা জাহাঙ্গীর
কয়েকজন অপরাধীকে ফাঁসি দিলেই নিরাপত্তা অথবা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা নিয়ে কঠোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের দায় ফুরিয়ে যায় না। পাকিস্তানের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আসমা জাহাঙ্গীর এ মন্তব্য করেছেন। খবর ডনের। আসমা জাহাঙ্গীর গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের দায়ে দণ্ডিত বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সরকারি সিদ্ধান্তের কারণটা বেশ বোঝা যাচ্ছে। কারণ, এ ব্যাপারে আবেগ এখন অনেক বেশি এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু প্রতিশোধমূলক কৌশল অবলম্বন করলে সন্ত্রাসবাদ দূর হয় না, বরং ন্যায়বিচার ও আইনের চোখে সবার সমতা প্রতিষ্ঠা করাই বাস্তবসম্মত।
আসমা জাহাঙ্গীর বলেন, অতীতে সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার জেরে কঠোর নানা আইন পাস করা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে যে-কাউকে গ্রেপ্তার করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এতে আইনি সুরক্ষার অবক্ষয়ই শুধু হয়েছে। ক্ষমতাশালীরা হত্যা করেও পার পেয়ে গেছে, আবার নাজুক বিচারিক ব্যবস্থার কারণে অনেকের সহজেই প্রাণ গেছে বলে অভিযোগ করেন আসমা। তিনি বলেন, পেশোয়ারের স্কুলে চালানো সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার বেদনাদায়ক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক হতে হবে।

দেবযানীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

দেবযানী খোবড়াগাড়ে
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক আলোচিত ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবড়াগাড়েকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। গণমাধ্যমে অনুমতি ছাড়া কথা বলার জের ধরে তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খবর এএফপির। নিজ গৃহকর্মীর ভিসা আবেদনে মজুরি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে দেবযানীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তখন তিনি ছিলেন ভারতীয় কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে বিবস্ত্র করে তল্লাশি করারও অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে চরম তিক্ততার সৃষ্টি হয়। গতকাল শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দেবযানীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমে অনুমোদন ছাড়াই সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং তাঁর শিশুসন্তানেরা যে মার্কিন পাসপোর্টধারী, সে তথ্য প্রকাশ না করায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। দেবযানী প্রশাসনিক তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র বলেছে, গণমাধ্যমের খবর মিথ্যা নয়। তাঁকে যে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে খবর সঠিক। তিনি মন্ত্রণালয়ের চাকরিতে থাকছেন, তবে নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না। দেবযানী এক সপ্তাহ আগে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভিকে নিউইয়র্কে তাঁর গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে নিজের দুই শিশুসন্তান সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করে এবং তাদের মার্কিন নাগরিক বলেই ধরা হয়। খবরে বলা হয়, তাঁর এ বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্মিত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে যুবকের পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে পুলিশের গুলি

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জের  লতিফপুর এলাকায় সন্ত্রাসী জিসান বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো: মহিউদ্দিন নামে এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার ভোররাতে। তবে মহিউদ্দিনের পরিবার দাবি করেছে, পুলিশ মহিউদ্দিনকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করেছে। পুলিশ জানায়, পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সোলাইমান উদ্দিন জিসান বাহিনীকে ধরতে লতিফপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েঁ। পুলিশ ও পাল্টা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এ সময় সন্ত্রাসী মহিউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। জিসান বাহিনীর প্রধানসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মহিউদ্দিনকে পুলিশ পাহারায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি তিন রাউন্ড গুলি ও একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে গুলিতে আহত মো. মহিউদ্দিনের অভিযোগ, তারঁ বড় ভাই মো. জালাল উদ্দিন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাতে খুঁজতে তাদের বাড়িতে যায় পুলিশ। বড় ভাইকে না পেয়ে মহিউদ্দিনকে ঘুম থেকে তুলে পুলিশ তার বাম পায়ে গুলি করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

মেয়র আরিফুল ও গউছের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সম্পুরক চার্জশিট গ্রহণ করেছে আদালত। এসময় আদালত সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জি কে গউছ এবং খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক রশিদ আহমেদ মিরন আজ দুপুরে এ আদেশ দেন।
এ আদেশের পরপরই হবিগঞ্জ শহরে ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রায় ১০জন আহত হয়েছেন।
কিবরিয়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেরুন নেছা পারুল রোববার দুপুরে দুই আসামীর নাম সংশোধন করে চতুর্থ দফায় সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।
গত ১৩ নভেম্বর কিবরিয়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল তৃতীয় দফায় সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।
ওই চার্জশিটে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছসহ নতুন ১১ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।

ধর্ষিতার জরিমানা!

শ্রীনগরে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ মীমাংসায় এক ধর্ষিতাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বেলা এগারটার দিকে উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সালিশ মীমাংসায় ধর্ষককে একলাখ টাকা ও ধর্ষিতাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, রাঢ়িখাল ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার গ্রাম্য ডাক্তার ও দুই সন্তানের জনক মফিজুল গত ৪ঠা ডিসেম্বর রাত দশটার দিকে ওই এলাকার এক গৃহবধূকে ফাঁদে ফেলে বালাসুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় ধর্ষিতার চিৎকারে স্থানীয় দুই যুবক তাকে উদ্ধার করে। এসময়  মফিজুল দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতাকে তার বাবার জিম্মায় দিয়ে দেয়া হয়। ধর্ষিতার বাবা নতুন বাজার এলাকার গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা দরিদ্র ভ্যানচালক। ঐদিনই স্থানীয় সালিশদারদের পরামর্শে বিষয়টি ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদকে জানান। চেয়ারম্যান ঘটনাটি বিচার সালিশ করে মীমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দেন। পরে গত ৯ই ডিসেম্বর চেয়ারম্যান স্থানীয় সালিশদারদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ মীমাংসায় বসেন। সালিশদাররা ঘটনার সত্যতা পেয়েও টাকা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় ঐদিন কোন সিদ্ধান্ত না দিয়ে উঠে যান। এর পর ভাগ্যকুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ সরদারের আত্মীয় হওয়ায় তার প্রভাবে মফিজুল সালিশ মীমাংসায় বসতে টালবাহানা শুরু করে বলে স্থানীয়রা জানায়। পরে গতকাল চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ, রাঢ়িখাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসু মোল্লা, ইউপি সদস্য আঃ
 রব মেম্বার, আঃ আউয়াল, কালাম, নাজমা বেগম, সালিশদার হানিফ শেখ, জালাল শিকদার ও আরো কয়েকজন মিলে ধর্ষক মফিজুলকে নতুন বাজার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে একলাখ টাকা জরিমানা করেন। অন্যদিকে ধর্ষিতারও দোষ রয়েছে উল্লেখ করে তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ধর্ষিতার বাবা জানায়, একদিকে তার মেয়ের সংসার ভেঙে যাচ্ছে অপর দিকে জরিমানার টাকা দিতে হবে জেনে তিনি অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন। তাছাড়া, মেয়ের কি দোষ তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ধর্ষিতা ঐ নারী জানান, মফিজুল তার স্বামীর আত্মীয়। মফিজুলের কাছে চিকিৎসার জন্য গেলে সে চিকিৎসার কথা বলে তার মোবাইল ফোনে গোপনীয় দৃশ্য ধারণ করে। পরে ঐ রেকর্ড তার স্বামীকে জানিয়ে দেয়া হবে বলে ফাঁদ পেতে ঐ গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। এব্যাপারে সালিশদার রাঢ়িখাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসু মোল্লা বলেন, মফিজুল প্রকৃত অর্থে খারাপ। ইতিপূর্বে ফাঁদ পেতে আরো তিনটি সংসার নষ্ট করেছে। এবার তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে ঐ এলাকা থেকে দোকান ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। ধর্ষিতা বিষয়টি তার স্বামীকে না জানানোর কারণে তাকেও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান সকলের উপস্থিতিতে এ রায় দেন বলে তিনি জানান। এসময় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর- রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভালুকায় আটক ৬

ভালুকায় গত শুক্রবার রাতে উপজেলার হবিরবাড়ী এলাকা থেকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো রহিমা খাতুন (৫৫) ও দুই মেয়ে জেসমিন (২৭) ও রুনা আক্তার (২৫), সজীব (১৪), আনোয়ার (১৫) ও মজিবর (৩০)। ভালুকা মডেল থানার এএসআই কামাল জানান, আটককৃতদের কাছ থেকে ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও বেশ কিছু গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় বাসা থেকে ৮শিশুর মরদেহ উদ্ধার

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের কেয়ার্নস শহরের একটি বাসা থেকে ৮শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের সবাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। নিহত শিশুদের বয়স ১৮ মাস থেকে ১৫বছরের মধ্যে। ঘটনাস্থল থেকে আহত ৩৪বছর বয়সী এক নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি খুব দুঃখজনক ঘটনা। তবে জনসাধারণের উদ্বেগের কিছু নেই। এঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বাপ্পি এবার ‘বাদশা’

বদিউল আলম খোকনের পরিচালনায় নির্মিতব্য ‘রাজা বাবু’ ছবির কাজ শুরু হওয়ার আগেই স্থগিত হয়ে গেছে। আরেক ছবি ‘বাদশা’র নামভূমিকায় বাপ্পি চৌধুরী অভিনয় করবেন বলে জানা গেছে। দুটি ছবিতে শাকিব খানের অভিনয় করার কথা ছিল। ‘রাজা বাবু’তে শাকিব খানের সঙ্গে অপু বিশ্বাস ও আঁচল এবং ‘বাদশা’তে আঁচলের অভিনয় করার কথা ছিল। আঁচলকে ইতিমধ্যেই দুই ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন পরিচালক বদিউল আলম খোকন। অবশ্য ‘রাজা বাবু’র কাজ স্থগিত হয়ে গেলেও ‘বাদশা’ ছবির কাজ সময় মতোই শুরু করবেন প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেন। বাপ্পি ও আঁচলের সঙ্গে নতুন একজন নায়িকাকে নিয়ে ‘বাদশা’ নির্মিত হবে বলে প্রযোজনা সংস্থা গ্রামীণ কথাচিত্র সূত্রে জানা গেছে। বিশিষ্ট প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেন শাকিব খানকে নিয়ে ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’ এবং ‘বস নাম্বার ওয়ান’ নির্মাণ করেছিলেন। পরে তিনি বাপ্পি চৌধুরীকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘আই ডোন্ট কেয়ার’। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হলেও মোহাম্মদ হোসেন শাকিব খানকে নিয়ে ‘বাদশা’ নামে একটি ছবি নির্মাণ করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু রহস্যজনক সমস্যার কারণে মোহাম্মদ হোসেন শাকিব খানের চিন্তাভাবনা মাথা থেকে বাদ দিয়ে বাপ্পি চৌধুরীকে নিয়ে ‘বাদশা’ নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সহসাই তিনি এ বিষয়ে ঘোষণা দেবেন এবং বর্ণাঢ্য এক মহরতের মাধ্যমে ছবির কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, নায়িকা হিসেবে আঁচলের পাশাপাশি নতুন একটা চমক থাকবে।

এবার শানের সঙ্গে পড়শি

প্রথমবারের মতো একটি দ্বৈতগানে কণ্ঠ দিলেন বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শান এবং বাংলাদেশের আলোচিত নারীকণ্ঠ পড়শি। তবে কোন অ্যালবামের জন্য নয়, একটি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তারা। ছবির নাম ‘মেন্টাল’। এটি পরিচালনা করছেন শামিম আহমেদ রনি। সম্প্রতি দ্বৈত এ গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে মুম্বইর এসবি স্টুডিওতে। গানটির কথা লিখেছেন কলকাতার ব্যস্ততম গীতিকার প্রসেন। আর সুর-সংগীতায়োজন করেছেন প্রসেনজিত ডাব্বু ঘোষাল। এ ছবিতে গান গাওয়ার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ও করছেন পড়শি। এখানে তাকে শিল্পী পড়শি হিসেবেই দেখা যাবে। এদিকে ছবিতে আরও অভিনয় করছেন শাকিব খান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, আঁচল, মিশা সওদাগর প্রমুখ। খুব শিগগিরই ছবির শুটিংয়েও অংশ নেবেন পড়শি। ‘মেন্টাল’ ছবির মাধ্যমে শানের সঙ্গে গান গাওয়া প্রসঙ্গে পড়শি বলেন, শানজি আমার প্রিয় একজন শিল্পী। ছোটবেলা থেকেই তার গানগুলো শোনা হয়েছে। তার অনেক হিট-সুপারহিট গান রয়েছে বলিউড ছবিতে। এবার তার মতো বড়মাপের শিল্পীর সঙ্গে প্রথমবারের মতো গান গেয়ে অনেক ভাল লাগছে। সুন্দর কথা-সুরের একটি গান এটি। আশা করছি ভাল লাগবে সবার। শান বলেন, আমি বাংলাদেশের ছবিতে আগেও গেয়েছি। তবে এ ছবির গানটির সুর-সংগীত অনেক আলাদা ছিল। গাইতে ভাল লেগেছে। গানটিতে পড়শি কণ্ঠ দিয়েছে আমার সঙ্গে। ওর গান আমি আগে শুনেছি। ছোট্ট একটি মেয়ে হলেও অনেক ভাল গায় সে। আশা করছি আমাদের এ গানটি শ্রোতাদের ভাল লাগবে।

‘আমাদের হিন্দু রাষ্ট্র ভারত’

ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র আদর্শিক সংগঠন আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভগবত। এছাড়া হিন্দুরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অপরাধের শিকার দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের ভগবান বলেছেন, ১০০ বারের পর তুমি আর কোনো অপরাধ ক্ষমা করো না। এছাড়া অতীতে হিন্দুরা যা হারিয়েছিল, তা আরএসএস ‘ফিরিয়ে’ আনার চেষ্টা করবে বলে জানান তিনি। ভারতের যেসব দল ধর্মান্তরের বিরোধীতা করে, তাদেরকে পার্লামেন্টে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে বিল উত্থাপনের চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রথম জনসমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় এসব বলেন ভগবত। এ খবর দিয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া। ভগবত বলেন, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আমরা আমদের নিজ দেশে রয়েছি। আমরা এখানে অনাহুত আগন্তুক নই, অনুপ্রবেশকারীও নই। এটা আমাদের নিজেদের রাষ্ট্র, আমাদের ‘হিন্দু রাষ্ট্র’। আমরা অতীতে যা হারিয়েছি, তা ফিরিয়ে আনতে আমরা চেষ্টা করবো। হিন্দুদের উত্থানে কারো ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যারা হিন্দুদের উত্থানের বিরুদ্ধে কথা বলে তারা স্বার্থপর ও কায়েমী স্বার্থবাদী। আর তারা যদি বাধা দেয়, তাহলে লড়াই হবে। অন্য ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের পক্ষে কথা বললেও, হিন্দুদের অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত করানোর চেষ্টা করাও কারো উচিত নয় বলে হুঁশিয়ারি করে দেন তিনি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা তোগাদিয়া বলেন, একটি গরু জবাই হলেও তা হিন্দুদের জন্য অবমাননাকর। তিনি বলেন, আমরা গরুর মূত্র ও গোবর দিয়ে বানানো শ্যা¤পু ও ফেসপ্যাক বিক্রি করে ১৫ কোটি রূপি আয় করেছি। সবার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এ শ্যা¤পু ও ফেস প্যাক থেকে অর্জিত অর্থ ১৫ হাজার কোটি রুপিতে দাঁড়াবে কিনা। বিশাল জনসমাবেশ তাকে হতাশ করেনি। সমস্বরে সায় দিয়েছে তার কথায়। এমন একটি সময় বিজেপি-র নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখা নেতারা এসব মন্তব্য করছেন, যখন আগ্রায় বেশ কয়েকটি মুসলিম পরিবারকে জোরপূর্বক হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি দাবি করছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। এ অবস্থায় তাদের এসব মন্তব্য গুরুত্বপূর্ন বলে ভাবছেন বিশ্লেষকরা।

শাস্তি ও জরিমানার আওতায় আসছে ৫ লাখ করদাতা

ব্যক্তি শ্রেণীর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩০শে নভেম্বর। কিন্তু ১৭ লাখ করদাতার মধ্যে রিটার্ন জমা দিয়েছেন ১০ লাখ ২৭,৬২৩ জন। এর মধ্যে চার শ্রেণীর করদাতার রিটার্ন জমা দেয়া বাধ্যতামূলক নয়। এ সংখ্যাটা বাদ দিলে বাকি প্রায় ৫ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল না করায় তারা শাস্তির পাশাপাশি জরিমানার আওতায় আসবেন। সম্প্রতি নির্দিষ্ট সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা না দেয়া করদাতাদের সনাক্ত করে জরিমানার আওতায় নিয়ে আসতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর সূত্র জানায়, ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। তবে ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর (ইটিআইএন) দ্বারা নিবন্ধন নিয়েছেন ১৩ লাখ ৩২,৩৫৪ জন করদাতা। এর মধ্যে পুরনো করদাতা ৯ লাখ ৫৬,৮৭৩ জন। আর নতুন ৩ লাখ ৭৫,৪৮০ জন। চলতি অর্থবছরের ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময় থাকলেও এ সময়ে রিটার্ন দাখিল করেছেন ১০ লাখ ২৭,৬২৩ জন করদাতা। যা মোট ১৭ লাখ করদাতার তুলনায় ৬ লাখ ৭২,৩৭৭ জন কম। সূত্র জানায়, রিটার্ন দাখিল না করা এসব করদাতাদের আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যার অংশ হিসেবে তাদের শনাক্ত করতে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর আইনের ১২৪ ধারায় বলা হয়েছে, করদাতা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে উপ-কর কমিশনার করদাতার আয় অনুসারে ১০% জরিমানা করবেন। সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়সীমার পর প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা করে জরিমানা করতে পারবেন। তবে ১৩০ ধারা অনুসারে শাস্তি আরোপের আগে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কেন রিটার্ন দাখিল করেননি করদাতার কাছে তার ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দেয়ার বিধান রয়েছে। যদি করদাতা সুনির্দিষ্ট কারণ উপস্থাপন করতে পারেন তবে তার শাস্তি কমানোর বিধান রয়েছে। এ ছাড়া চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশ ৭৫-এর সংশোধনীতে যে চার শ্রেণীর করদাতার রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয় তারা এ জরিমানার আওতামুক্ত থাকবেন। সংশোধনী অনুযায়ী যে সব করদাতা ১,৬০০ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট একটি বহুতল ভবনের মালিক; যে করদাতার একটি টিআইএন আছে, যে করদাতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের একজন সদস্য প্রার্থী হয়েছেন এবং যে করদাতার বাসায় একটি টেলিফোন আছে তার যদি চলতি করবর্ষে করযোগ্য কোন আয় না থাকে তবে তার জন্য রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক নয়। এনবিআরের আয়কর অনুবিভাগের হিসাব মতে, এ চার শ্রেণীর করদাতার রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও এ সংখ্যা দেড় লাখের বেশি হবে না। তাই পৌনে ছয় লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল না করায় ৫ লাখের মতো করদাতাকে জরিমানার আওতায় আসতে হবে। এ প্রসঙ্গে এনবিআরের আয়কর এক সদস্য বলেন, এনবিআরের হিসাব মতে, ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। প্রতি বছরই বারবার সময় বাড়ালেও নির্দিষ্ট সময়ে অনেক করদাতাই রিটার্ন জমা দেন না। গত বছর নির্ধারিত সময়ে ৮ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত জরিমানাসহ এ সংখ্যা ১১ লাখে ছাড়িয়েছিল। তবে গত বছর জরিমানার পরিমাণ অনেক কম ছিল। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর রিটার্ন জমা দেয়ার হার বেড়েছে। তবে প্রকৃত করদাতার চেয়ে তা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কম। তাই এ বছর রিটার্ন জমা না দেয়া করদাতাদের জরিমানার বিষয়ে একটু কঠোর হবে এনবিআর।

শেয়ারে নিটিং রাখার প্রস্তাব দেবে ডিএসই

 দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ একই কোম্পানির শেয়ার নিটিং সুবিধার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি’র কাছে এমন প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ডিএসই। জানা গেছে, একই কোম্পানির শেয়ার নেটিং সুবিধার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এ সুবিধা দেয়া হলে বিনিয়োগকারীরা একই দিনে একই কোম্পানির শেয়ার একাধিকবার কেনাবেচা করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে শেয়ার ও অর্থ ম্যাচিউরড (পরিপক্ব) থাকতে হবে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির কাছে এমন প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ডিএসই। ডিএসইতে চালু হওয়া নতুন লেনদেন যন্ত্রে একই দিনে একই শেয়ারের নেটিং করার সুবিধা রয়েছে। গত আগস্টে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসইসিতে এ-সংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাব জমা দেয় আরেক শেয়ারবাজার সিএসই। গত বুধবার ডিএসই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনও শেয়ার নেটিংয়ের সুবিধা বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানায়। এ সুবিধা বাস্তবায়ন হলে স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন বাড়বে। ডিএসই’র পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, স্টেকহোল্ডারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্টক এক্সচেঞ্জের পরবর্তী বোর্ডসভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হবে। বোর্ডের অনুমতি পেলে বিএসইসিতে লিখিত প্রস্তাব জমা দেয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের নতুন স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থায় শেয়ার নিটিংয়ের সুবিধা রয়েছে। তাই কমিশনের অনুমোদন পেলে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। জানা গেছে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় লেনদেনে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে ২০১০ সালে ডিএসইতে সর্বোচ্চ ৩,০০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলেও পরবর্তী সময়ে গড় লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমে আসে। এতে স্টক এক্সচেঞ্জের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় একই কোম্পানির শেয়ার নেটিং সুবিধা প্রবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে নিটিং সুবিধার মাধ্যমে কোন কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে ওই দিনই সমপরিমাণ মূল্যের অন্য কোন কোম্পানির শেয়ার কেনা যায়। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসইসি শুধু ‘জেড’ ক্যাটিগরি ছাড়া অন্যসব ক্যাটিগরিভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আর্থিক সমন্বয় সুবিধার মাধ্যমে নিটিং অনুমোদন করে।

২৪শে ডিসেম্বর ‘রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ার-২০১৪’

আগামী ২৪শে ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় মেলা ‘রিহ্যাব উইন্টার ফেয়ার-২০১৪’। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৫ দিনব্যাপী এ মেলা শেষ হবে ২৮শে ডিসেম্বর। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান রবিউল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক মো. শাকিল কামাল চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী মো. সরওয়ার্দী ভূঁইয়া, প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা ও কামাল আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন প্রধান অতিথি ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিশেষ অতিথি থাকবেন। এবারের মেলায় থাকছে মোট ১৫০টি স্টল। এদের মধ্যে ১১৩টি আবাসন প্রতিষ্ঠান আর ২২টি ভবন নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া কো-স্পন্সর হিসেবে ১৩টি প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশগ্রহণ নেবে। কো-স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইস্টার্ন হাউজিং লি., অ্যাসুরেন্স ডেভেলপমেন্টস লি., কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংস লি., আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লি., কনকর্ড রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং প্রোডাক্টস লি., শামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লি., আইডিয়াল রিয়েল এস্টেট লি., রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (বিডি) লি,. জেনেটিক লিমিটেড, নাভানা রিয়েল এস্টেট লি., রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড, ডম-ইননো বিল্ডার্স লি. ও কমফোর্ট হোমস লি.। সংবাদ সম্মেলনে ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান রবিউল হক বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বেশ কিছু কারণে গত কয়েক বছর ধরে আবাসন শিল্পে মন্দাভাব বিরাজ করছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় আবাসন প্রকল্পের জন্য জমি বরাদ্দের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিল্পের স্থবিরতা কাটাতে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল গঠন এবং এ তহবিল থেকে ক্রেতা পর্যায়ে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখার দাবি করেন রিহ্যাব। রিহ্যাব‘র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, নকশা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার সমন্বয়হীনতা এ খাতের সমস্যাগুলোকে আরও প্রকট করে তুলেছে। রাউজকের আওতাধীন এলাকায় ইমারতের নকশা দ্রুত অনুমোদনের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেল’ চালু করতে সরকারের প্রতি আহ্‌বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেলায় প্রবেশ টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে (একক) ৫০ টাকা ও (একাধিক ব্যক্তি) ১০০ টাকা। এসব টিকিটে মেলা শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে; এতে প্রথম পুরস্কার ৪২ ইঞ্চি এলইডি টিভি, দ্বিতীয় পুরস্কার  দেড় টন স্পিলিট টাইপ এসি, তৃতীয় পুরস্কার ১৪ সিএফসি ফ্রিজ, চতুর্থ পুরস্কার ওয়াশিং মেশিন ও পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে দেয়া হবে একটি মাইক্রোওয়েব ওভেন। এ ছাড়া টিকিট বিক্রির বাকি টাকাও সমাজকল্যাণ কাজে ব্যয় করা হবে বলে জানান রিহ্যার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।

ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৪৭%

গত সপ্তাহে এর আগের সপ্তাহের চেয়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক, বেশির ভাগ শেয়ারের দর ও লেনদেনের পরিমাণ সবই কমেছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন (টাকার হিসাবে) কমেছে পায় ৮৪৭ কোটি ২০ লাখ ৬৩,৬০৪ টাকা এবং সিএসইতে ৭২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৬,০০০ টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স বা ডিএসইএক্স এবং ডিএসই শরীয়াহ ও ডিএসই-৩০ সূচক সবগুলোই কমেছে। ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ১.৫৫% ও ডিএসই শরীয়াহ সূচক ০.৯১% এবং ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ১.৬৯%। এদিকে সিএসসিএক্স সূচক কমেছে ১.৬৬%, সিএসই-৩০ সূচক কমেছে ২.১৩%। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক কমেছে ১.৪৮%। গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স বা ডিএসইএক্স ছিল ৪,৯৩৩ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে বৃহস্পতিবার সূচক কমে দাঁড়ায় ৪,৮৫৬ পয়েন্টে।
 গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার সিএসইর সিএসসিএক্স সূচক ছিল ৯,২৫৬ পয়েন্টে। সপ্তাহ শেষে বৃহস্পতিবার সূচক কমে দাঁড়ায় ৯,১০২ পয়েন্টে। অপরদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন কমেছে ৪৭.০১%। লেনদেন হয়েছে ৯৫৫ কোটি ২ লাখ ৯৩,১০০ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল মোট ১,৮০২ কোটি ২৩ লাখ ৫৬,৭০৪ টাকা। গত সপ্তাহের ৪ কার্যদিবসে ডিএসইর ৩১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৩টির, কমেছে ১৮৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির দাম। লেনদেন হয়নি ৪টি প্রতিষ্ঠানের। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠাগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছিল ১১৭টির, কমেছিল ১৭২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির দাম। আর লেনদেন হয়নি ২টি প্রতিষ্ঠানের। এদিকে মোট ৪ কার্যদিবসে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে। গত সপ্তাহে দৈনিক গড় দাঁড়ায় ২৩৮ কোটি ৭৫ লাখ ৭৩,২৭৫ টাকা। এর আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন ছিল ৩৬০ কোটি ৪৪ লাখ ৭১,৩৪১ টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে এর আগের সপ্তাহের চেয়ে গড় লেনদেন কমেছে ৩৩.৭৬%। সাপ্তাহিক দাম বাড়ার ভিত্তিতে ডিএসইর শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো-ফু-ওয়াং ফুড, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, আরএকে সিরামিকস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালী আঁশ, দেশবন্ধু পলিমার, জিএসপি ফিন্যান্স, অগ্নি সিস্টেমস, নাভানা সিএনজি ও মোজাফ্‌ফর হোসাইন স্পিনিং মিলস।

পিই রেশিও কমেছে ১.৬৯ শতাংশ

পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৪ কার্যদিবসের মধ্যে ৩ কার্যদিবস মূল্যসূচক কমেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সূচক তুলনামূলক কম বেড়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহ শেষে বাজারের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। সপ্তাহশেষে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পিই রেশিও কমেছে ১.৬৯% বা ০.৩ পয়েন্ট। সপ্তাহশেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৭.৫৮ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহ শেষে অবস্থান করে ১৭.৮৮ পয়েন্টে।  খাতভিত্তিক: ব্যাংকিং খাতের পিই অবস্থান করছে ১০.১৮ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ১৫.১৪ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতের ২১.৮৬, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২৯.৪২, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১১.৭৭, পাট খাতের ২০৪.৫০, বস্ত্র খাতের ১২.৬৫, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২২.৩১, সেবা ও আবাসন খাতের ৪৩.৫৮, সিমেন্ট খাতের ২০.৪০, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২৪.৫৫, চামড়া খাতের ২২.৬১, সিরামিক খাতের ৩৭.৭৬, বীমা খাতের ২১.৮৪, বিবিধ খাতের ৩২.৫১, পেপার ও প্রকাশনা খাতের ১১.৩৬, টেলিযোগাযোগ খাতের ২২.৯৯, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ১৬.০৯ পয়েন্টে।

পোশাক খাত নিয়ে বিদেশীদের ‘উচ্চাশা’

ঢাকায় সদ্যসমাপ্ত বস্ত্রমেলায় অংশ নেয়া বিদেশী ক্রেতা ও বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উচ্চাশা ব্যক্ত করেছেন। ই-মেইল পাঠিয়ে মেলা ও পোশাক শিল্প সম্পর্কে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা এই মতামত দিয়েছেন বলে বিজিএমইএ জানিয়েছে। তৈরী পোশাক শিল্পমালিক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা অ্যাপারেল সামিটে নেয়া ৫০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে হার্ভার্ড ল’ স্কুলের অধ্যাপক আর্নল্ড মার্শাল জ্যাককে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিএমইএ ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর জন্য যে টার্গেট নিয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব। বিজিএমইএর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেছেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করলে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পোশাক উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশে পরিণত হবে বলে আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের গ্রিন পার্টির সদস্য জিন ল্যাম্বার্ট বলেন, এই ঢাকা অ্যাপারেল সামিটে নেয়া উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সুপারিশগুলো আমাকে অভিভূত করেছে। একটি টেকসই ও নৈতিক উপায়ে কিভাবে এগুলো বাস্তবায়িত হবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ভিএফ করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান থমাস এ নেলসন বলেন, এর মাধ্যমে বিজিএমইএ নিজেদের যে উচ্চতায় নিয়ে গেছে, ভবিষ্যতে কারও পক্ষে তা অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। ভিএফ করপোরেশন বাংলাদেশে ব্যবসা সমপ্রসারণ, স্বল্প সুদে কারখানা রেমিডেশনের অর্থায়ন এবং অ্যাল্যায়েন্সের মধ্য থেকে মুখ্য ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। এ ছাড়া বার্তা পাঠিয়েছেন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রেচেল হিথ, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্ন সেন্টারের কো-ডিরেক্টর সারাহ লবিজ পৃথক অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

রেমিট্যান্স এসেছে ৫৬ কোটি ডলার

চলতি ডিসেম্বর মাসের ১২ দিনে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৯০,০০০ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, ১লা থেকে ১২ই ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্টওায়ত্ত সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৯০,০০০ ডলার। এ ছাড়া ৩৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭ কোটি ৬৮ লাখ ১০,০০০ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকের তুলনায় বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দ্বিগুণ বেশি। একই সময়ে বিশেষায়িত এবং বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ যথাক্রমে ৮২ লাখ ১০,০০০ এবং ৫০ লাখ ৯০,০০০ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ডিসেম্বরে আসা ৩৭ কোটি ৬৮ লাখ ১০,০০০ ডলারের মধ্যে আল-আরাফাহ ২৯ লাখ ৯০,০০০, এবি ব্যাংক ১ কোটি ২২ লাখ ৮০,০০০, কমার্স ব্যাংক ৩ লাখ ৩০, ব্যাংক এশিয়া ১ কোটি ৬৫ লাখ ১০,০০০, ব্র্যাক ব্যাংক ১ কোটি ১০,০০০, ঢাকা ব্যাংক ১ কোটি ৫০ লাখ ৬০,০০০, ডাচ্‌-বাংলা ১ কোটি ২১ লাখ ১০,০০০, ইস্টার্ন ব্যাংক ১ কোটি ১৭ লাখ ৭০,০০০, এক্সিম ব্যাংক ৭ লাখ ৫০,০০০ু, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৭ লাখ ৭০,০০০, আইএফআইসি ১৭ লাখ ৪০,০০০, ইসলামী ব্যাংক ১৩ কোটি ৯৪ লাখ, যমুনা ব্যাংক ৩৪ লাখ ৭০,০০০, মার্কেন্টাইল ৭৪ লাখ ৪০,০০০, এমটিবি ৪৫ লাখ ৮০,০০০, ন্যাশনাল ২ কোটি ৭৫ লাখ ৭০,০০০, এনসিসি ৮৫ লাখ ৬০,০০০, এনআরবি ৫০,০০০, ওয়ান ব্যাংক ৪ লাখ ৪০,০০০, প্রাইম ১ কোটি ২০ লাখ ৪০,০০০, পূবালী ১ কোটি ৬৯ লাখ ৪০,০০০, শাহজালাল ৩ লাখ ৪০,০০০, এসআইবিএল ১৩ লাখ ৪০,০০০, সাউথইস্ট ১ কোটি ২৫ লাখ, স্ট্যান্ডার্ড ৩৯ লাখ ৯০,০০০, দ্য সিটি ব্যাংক ১ কোটি ৬০ লাখ ১০,০০০, প্রিমিয়ার ১৮ লাখ ৩০,০০০, ট্রাস্ট ব্যাংক ৪৬ লাখ ৯০,০০০, ইউসিবিএল ২৭ লাখ ৬০,০০০, উত্তরা ২ কোটি ৭৩ লাখ ৩০,০০০ ও আইসিবি ইসলামী ১ লাখ ২০,০০০ ডলার। এদিকে সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩০,০০০ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪০,০০০, জনতা ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৮০,০০০, সোনালী ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৩০,০০০ ও রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৭ লাখ ৪০,০০০ ডলার এসেছে। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৮২ লাখ ১০,০০০ ডলার। একই সঙ্গে বিদেশী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫০ লাখ ৩০,০০০ ডলার। এসব ব্যাংকের মধ্যে কমার্স ব্যাংক অব সিলন ৩ লাখ ১০,০০০, সিটি ব্যাংক-এনএ ৮০,০০০, এইচএসবিসি ২১ লাখ ১০,০০০, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ২৪ লাখ, স্টেট ব্যাংক ইন্ডিয়া ২০,০০০ ও উরি ১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এদিকে বিদেশী আল-ফালাহ, হাবিব ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মাধ্যমে কোন রেমিট্যান্স আসেনি। তথ্য মতে, ডিসেম্বরের প্রথম ১২ দিনে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৯০,০০০ ডলার।

সুন্দরবনে জাহাজডুবি- তেলের কারণে দুটি ভোঁদড়ের মৃত্যু by ইফতেখার মাহমুদ

সুন্দরবনের শ্যালা নদী থেকে গত বৃহস্পতিবার বন বিভাগের কর্মীরা মৃত দুটি ভোঁদড় উদ্ধার করেছেন। গতকাল শনিবার ভোঁদড় দুটির ময়নাতদন্ত করে বন বিভাগ। এর মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, ভোঁদড় দুটির মৃত্যু হয়েছে শরীরে তেল প্রবেশ করায়। বন বিভাগের প্রাণী চিকিৎসকেরা প্রাণী দুটির মুখে ও ফুসফুসে ফার্নেস তেল পেয়েছেন। একসময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে অসংখ্য ভোঁদড়ের দেখা মিলত। এখন শুধু সুন্দরবনেই এর দেখা মেলে। দেশে এই প্রাণীটি মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। নড়াইল ও সুন্দরবনের জেলেরা ভোঁদড় দিয়ে বড় মাছ শিকার করেন বলে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকসহ বিশ্বের বিভিন্ন বন্য প্রাণিবিষয়ক সংস্থা ভোঁদড় নিয়ে গবেষণা করছে। ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল নিয়ে জাহাজডুবির পর থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই তেল বিপর্যয়ে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে শ্যালা নদী ও পশুর নদের পানি পরীক্ষা করে বলা হয়েছিল, ওই শ্যালা ও পশুরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য অনুকূল মাত্রায় রয়েছে। অর্থাৎ এখানকার পানি প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য আশঙ্কামুক্ত।
তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া বছরব্যাপী গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনের নদীর পানিতে দ্রবীভূত তেলের পরিমাণ বিপৎসীমার অনেক ওপরে রয়েছে; যা ভোঁদড়, কাঁকড়া, চিংড়ি, হরিণ, প্রাণিকণা, উদ্ভিদকণা ও মাছের ডিমের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টিকারী।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন বিভাগের প্রধান বন্য প্রাণী সংরক্ষক তপন কুমার দে প্রথম আলোকে জানান, পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকলেও দ্রবীভূত তেলের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তা পানির সঙ্গে প্রাণীদের দেহে চলে যাচ্ছে। ময়নাতদন্ত করে দেখা গেছে, ভোঁদড় দুটি ফার্নেস তেলের কারণেই মারা গেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান ১২ ডিসেম্বর সুন্দরবনে যান। তিনি সেখানে মৃত প্রাণীর দেহ খায় এমন প্রজাতির পাখি, মাছ, ইগল, শঙ্খচিল, কালো চিল, চেনজিয়াবল সাদা ইগল ও শকুনের আনাগোনা দেখতে পান। শীতের এই সময়ে সাধারণত এসব পাখিকে পূর্ব সুন্দরবনে দেখা যায় না। মূলত এই পাখিদের প্রধান খাবার মৃত প্রাণীর দেহ।
মনিরুল খান এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ডিসেম্বরের শেষে এসে এই পাখিগুলো পূর্ব সুন্দরবন এলাকায় থাকার কথা নয়। এর আগে এই সময়ে এদের এখানে দেখা যায়নি। মৃত অসংখ্য প্রাণীর দেহ আছে এমন খোঁজ ও ঘ্রাণ পেলেই এরা এ এলাকায় এসে হাজির হয়। এই ইগল, চিল ও শকুনদের দেখে মনে হচ্ছে, সুন্দরবনে অসংখ্য প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।
৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী জাহাজডুবির পর থেকে বন বিভাগের বন্য প্রাণী চিকিৎসক সৈয়দ আহমেদ ও মফিজুর রহমানের সমন্বয়ে ছয় সদস্যের একটি দল প্রতিদিন পূর্ব সুন্দরবন পরিদর্শন করছে। দলটি গতকাল সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় শরীরে তেলমাখা কুমির ও গুইসাপ দেখতে পেয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন- নূর হোসেনকে ফেরত পাঠাতে প্রস্তুত ভারত by রোজিনা ইসলাম

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত ভারত। গত সপ্তাহে চিঠি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কবে, কখন, কোন স্থান থেকে নূর হোসেনকে ফেরত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। এ চিঠি পাওয়ার পর নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। নূর হোসেনকে কোথায়, কখন গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রয়োজনে বিজিবির সহায়তা নিতে বলেছে পুলিশ সদর দপ্তরকে। আগামী সপ্তাহে বা এ মাসের যেকোনো দিন নূর হোসেনকে ফেরত আনা হবে বলে নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে আমরা প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। এর ধারাবাহিকতায় ভারত সরকার তাঁকে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত বলে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। আশা রাখি, সাত দিনের মধ্যেই বিষয়টি সুরাহা হবে।’
স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা যেকোনো সময় নূর হোসেনকে হস্তান্তর করতে পারবে। এখন পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রয়োজনীয় সতকর্তামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের বৈঠকে কলকাতায় কারাবন্দী নূর হেসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর তাগিদ দেয় বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার নূর হোসেনসহ যেসব সন্দেহভাজন অপরাধী ভারতে পালিয়ে আছে, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আশ্বাস দেয়।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ১৪ জুন কলকাতায় নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আলোচিত এই সাত খুনের মামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ জন ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে র্যা বেরই ১৫ জন। তবে প্রায় আট মাসেও অভিযোগপত্র দিতে পারেনি পুলিশ।
অভিযোগপত্র কবে নাগাদ দেওয়া হবে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মহিদ উদ্দিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার পর আমরা অভিযোগপত্র দিতে পারব বলে আশা রাখি।’ ভারত সরকারের চিঠির বিষয়টি তিনি জানেন বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারার কারণে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার অগ্রগতি হচ্ছে না। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত প্রশাসনিক-সংক্রান্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনও জমা দিতে পারেনি। নূর হোসেনের সাক্ষ্য ছাড়া পূর্ণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কমিটির একজন সদস্য। এ কারণে দ্রুত নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। যদিও র্যা ব তাদের নিজস্ব তদন্তে ২১ জন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারতে নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তদন্ত প্রতিবেদনসহ ‘অনুরোধপত্র’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানো হয়। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
কোন প্রক্রিয়ায় নূর হোসেনকে ফেরত পাঠানো হবে, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, এ বিষয়ে চিঠিতে কিছু লেখা নেই। এর আগে গত বছরের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিনিময়ের সুযোগ রেখে এ চুক্তি করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে বন্দিবিনিময় করতে পারবে। এর আগে ২০১১ সালে অনুমোদন করা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তর চুক্তি (টিএসপি)। তবে এখন পর্যন্ত এসব চুক্তির আওতায় কোনো আসামি বা বন্দীকে ফেরত আনা হয়নি।
টিএসপি চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি ভারতে কেবল দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তাঁকে দেশে সাজা খাটানোর জন্য ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বিনিময় করার বিধান রয়েছে।
তবে বহিঃসমর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ফেরত পাঠানোর সুযোগ আছে৷ এ ছাড়া পুশব্যাক, কমনওয়েলথের হারারে স্কিমের অধীনেও এ ধরনের ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর সুযোগ আছে৷
তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টি দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সুরাহা করা হচ্ছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকটি সূত্র জানায়, নূর হোসেনকে হস্তান্তরের পর আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভারতও তাঁকে ফিরিয়ে নিতে রাজি আছে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া ভারতে পালিয়ে থাকা অন্য সন্দেহভাজন অপরাধী এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদেরও বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
তবে স্বরাষ্ট্রসচিব জানান, নূর হোসেন বা অনুপ চেটিয়াকে একজনের বিনিময়ে অন্যজনকে হস্তান্তর করা হবে না। দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। অনুপ চেটিয়ার কারাভোগ শেষ হয়ে গেছে। আর নূর হোসেনের বিষয়টি এখনো সে দেশে বিচারাধীন।

মানুষ এমনও হয়

দিনে এক জনের রোজগার দু’শো টাকা, অন্য জনের আড়াইশো। ফাঁকা বাসে ব্যাগ ভর্তি টাকা দেখে তাই প্রথমে কিছুটা থতমতই খেয়ে গিয়েছিলেন ওঁরা। তার পর বোঝেন, কোনও যাত্রী ব্যাগ ফেলে নেমে গিয়েছেন। সেই ব্যাগ আগলে রেখে পরে গুনে-গুনে মেদিনীপুর পুলিশের হাতে ৭৭,৮০০ টাকা ফিরিয়ে দিলেন বাসের কন্ডাক্টর মুক্তিপদ মাহাতো ও খালাসি কালীপদ দোলই।
কী ভাবে বাসে এল ওই ব্যাগ?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ব্যাগটির মালিক বর্ধমানের মঙ্গলকোটের বাসিন্দা বুদ্ধদেব মণ্ডল। কুলটিকরির লাউদহ ভিএসটি বিদ্যাপীঠের শিক্ষক তিনি, আবার তাঁর স্ত্রী ও বন্ধুর নামে বাসও রয়েছে। শনিবার রোহিণী এলাকার একটি ব্যাঙ্কে টাকা জমা দিতে যাবেন বলে মেদিনীপুরের জগন্নাথ মন্দির থেকে খড়্গপুরগামী বাসে চাপেন তিনি। কিন্তু বাস থেকে নামার সময়ে ব্যাগটা নিতেই ভুলে যান।
খড়্গপুর থেকে রোহিণীর বাসে চাপার সময়ে তাঁর ব্যাগের কথা মনে পড়ে। তৎক্ষণাৎ বাস থেকে নেমে অটো ধরে তিনি খড়্গপুর বাসস্ট্যান্ডে ফিরে আসেন।
কিন্তু ততক্ষণে স্ট্যান্ড থেকে বেরিয়ে গিয়েছে বাসটি। বেগতিক বুঝে বুদ্ধদেববাবু তাঁর বন্ধু, কোতোয়ালি থানার অফিসার শুভাশিস দত্তকে বিষয়টি জানান। শুভাশিসবাবু মেদিনীপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে ওই বাসে খোঁজখবর করতে যেতেই কন্ডাক্টর এসে তাঁর হাতে টাকার ব্যাগ তুলে দেন।
শালবনির কুমিরগাঁথা গ্রামের বছর পঁয়ত্রিশের মুক্তিপদর কথায়, “আমাদের ঘরে অভাব রয়েছে। তাই বলে লোকের ফেলে যাওয়া টাকায় হাত দেওয়ার কথা ভাবতেও পারি না।”
বাসের খালাসি, বছর ছেচল্লিশের কালীপদবাবু মেদিনীপুর শহরের নতুনবাজার মিনি মার্কেট এলাকার বাসিন্দা। মা, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার, অনটন নিত্যসঙ্গী। তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দোলই বলেন, “খুব কষ্টে সংসার চালায় আমার স্বামী। তবে অন্যের জিনিস ছুঁয়েও দেখে না। মাথা উঁচু করে বাঁচে।” দু’জনের কারও সঙ্গেই অবশ্য বুদ্ধদেববাবুর দেখা হয়নি। তবে দুই বাসকর্মীর সততায় যে তিনি মুগ্ধ, তা-ও তিনি জানাতে ভোলেননি। শিক্ষকের কথায়, “ওঁদের সততা সত্যিই শিক্ষণীয়।”
বুদ্ধদেববাবুর সঙ্গে দুই বাসকর্মিীর দেখা না হলেও তাঁর বন্ধু শুভাশিসবাবু কিন্তু ব্যাগ হাতে পেয়েই দু’জনকে মিষ্টি খেতে এক হাজার টাকা দিয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মৃগাঙ্ক মাইতি বলেন, “আমরা জানি, বাসে অনেক খারাপ ঘটনাও ঘটে। কিন্তু বাসে কাজ করা সবাই যে খারাপ নন, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।”
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

দুর্নীতিবাজরা আঙুল ফুলে কলাগাছ: মুজাহিদুল

দেশে উন্নয়নের নামে কিছু মানুষের লুটপাট চলছে বলে অভিযোগ করেছেন কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ও ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেছেন, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজরা দিন দিন ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হচ্ছে। শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ক্ষেতমুজর সমিতির জাতীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। কোনো সরকারই ক্ষেতমজুরদের পক্ষে কাজ করবে না্- এমন মন্তব্য করে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “কারণ এসব সরকার বড় লোকদের দলের সরকার। সরকার আসবে যাবে কিন্তু ক্ষেতমজুরদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।” এবারের বাজেটের দুই লাখ কোটি টাকা বড় লোকদের জন্য কাজে ব্যয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সেলিম বলেন, ক্ষেতমজুররা ভিক্ষা চায় না। তারা অন্যের সম্পদ লুটপাট করতে চায় না। তারা চায় তাদের ন্যায্য মুজরি। সরকারব্যবস্থার পরিবর্তন এনে গরিববান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠা করলেই ক্ষেতমজুরদের স্বার্থ রক্ষা হবে বলে মন্তব্য করেন এই বাম নেতা। কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ৬৮ হাজার গ্রামে ক্ষেতমজুর সমিতি গঠন করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। সমাবেশের ঢাকা ঘোষণায় ক্ষেতমজুরদের জন্য পল্লী রেশনিং চালুসহ ১০ দফা দাবি উপস্থাপনা করা হয়। এসব দাবি আদায়ে আগামী বছরের ১৯ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দেশের সব মহাসড়ক ও রাজপথে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি শামছুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন ঢাবির অধ্যাপক এস এম আকাশ, সংগঠনের কার্যকারী সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল আহমেদ, আরিফুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ।

হাতছাড়া হচ্ছে বেতারের ঐতিহ্যবাহী শাহবাগ ভবন

বাংলাদেশ বেতার যখন তার প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বার্ষিকী পালন করছে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে জড়িত ভবনটি তাদের হাতছাড়া হতে যাচ্ছে। ঢাকার শাহবাগ এলাকায় রাষ্ট্রীয় এই গণমাধ্যমের সদর দপ্তরের ভবনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেতারের সাথে জড়িত ছিলেন এমন অনেকেই বলেছেন, অনেক ঘটনার সাক্ষী এই ভবনটিকে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে দেয়ায় ইতিহাস এবং ঐতিহ্য নষ্ট হওয়ার একটা আশংকা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভবনটিকে ঘিরে ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষা করেই খালি জায়গায় অটিস্টিকদের জন্য চিকিৎসা কেন্দ্র করার চিন্তা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছরের মধ্যে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বেতারের সদর দপ্তর রয়েছে ঢাকার শাহবাগে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর শাহ্বাগের ভবনেই বাংলাদেশ বেতার নামে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে যাত্রা শুরু করেছিল। সেই ভবনটিই থাকছে না বেতারের হাতে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক থেকে ভবনটিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে বেতারের নতুন যাত্রায় অন্যতম একজন সংগঠক ছিলেন কামাল লোহানী। তিনি মনে করেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কারণে বাঙালির সংগ্রামের ইতিহাস নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকছে। এটি তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলছিলেন, ''মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ এই ভবন থেকেই সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকের নিষেধাজ্ঞায় সেদিন সেই ভাষণ সম্প্রচার করতে না পেরে বেতারের কর্মকর্তা কর্মচারিরা সব অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তানি শাসক অনুমতি দিলে পরদিন সকালে ভাষণ প্রচার করা হয়েছিল।'' ''মুক্তিযুদ্ধের পর এই ভবনেই বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন এবং প্রথম সরাসরি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই ভবন দখল করেই সামরিক শাসকরা তাদের প্রচারণা চালিয়েছিলেন।'' শাহবাগে বেতার যাত্রা শুরু করেছিলো দু’টি স্টুডিওকে সম্বল করে। ঐতিহাসিক অনেক ঘটনার সাক্ষী সেই স্টুডিওতে গিয়ে দেখা যায়, বেতার সেখান থেকেই এখনও অনেক অনুষ্ঠান করছে। সেখানে কথা হচ্ছিল বেতারের সাবেক উপ মহাপরিচালক আশফাকুর রহমান খানের সাথে। ষাটের দশকের শুরু থেকে চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বেতারের সাথে কাটিয়েছেন। তিনি বলছিলেন, ''৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করতে না পেরে বেতারের কর্মকর্তা কর্মচারীরাই প্রথম আসহযোগ আন্দোলনে সাড়া দিয়েছিলেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকে অনেক পট পরিবর্তন হলেও সামরিক শাসকরা দীর্ঘ সময় এই বেতার ভবন দখলে রেখেছিল।'' ৭৫ বছর আগে ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বেতার যাত্রা শুরু করেছিল ঢাকা ধ্বনি বিস্তার কেন্দ্র নামে। নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নাজিরউদ্দিনের বাড়িতে সেই যাত্রা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই বেতারের নামকরণ করা হয়েছিল অল ইন্ডিয়া রেডিও। ১৯৪৭এ ভারত-পাকিস্তান ভাগ হলে বেতার প্রথমে নাম পেয়েছিল পাকিস্তান ব্রডকাস্টিং সার্ভিস ঢাকা। পরে হয়েছিল রেডিও পাকিস্তান। নাজিমউদ্দিন রোডের সেই বাড়িটি এখন শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজ। পাকিস্তান আমলেই ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শাহ্বাগে তিন একর জমির উপর ভবন নির্মাণ করে সেখানে নেয়া হয়েছিল বেতারের পুরো কার্যক্রম। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ বেতারের কিছু কার্যক্রম শেরে বাংলা নগরে নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলেও সদর দপ্তর এবং মুল কার্যক্রম শাহ্বাগের ভবনেই রয়ে যায়। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বেতারের পুরো কার্যক্রম শেরেবাংলা নগরে এক জায়গায় নেয়া হচ্ছে। শাহ্বাগে বেতার ভবনের দেয়াল ঘেষেই রয়েছে বারডেম হাসপাতাল। আর উল্টোদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল। এই বড় দু’টি হাসপাতালেরই নজর অনেক আগে থেকে বেতারের ভবনের দিকে ছিল বলে জানা গেছে। মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ বেতার নামে যাত্রা শুরুর পর পরই বারডেম হাসপাতাল ভবনসহ ওই জমি চেয়েছিল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে। তবে সেসময় বিষয়টি সামনে এগোয়নি। কিন্তু এখন আবার বড় দু’টি হাসপাতাল বেতারের জায়গা চেয়েছিল। শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আগে আবেদন করায় তারা জায়গাটি পেয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ইতিহাস ঐতিহ্যে অংশ এমন ভবন বা জায়গা একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা হাসপাতাল নিয়ে কি করবে? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত দাবি করছেন, তারা ইতিহাস রক্ষা করেই তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। তারা সেখানে অটিস্টিক শিশুদের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও কিন্তু কোন আশংকা বা অভিযোগকে পাত্তা দিতে রাজি নন। তিনি ভবনের চেয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে পুরোনো যন্ত্রপাতিকে সংরক্ষণের বিষয়কে গুরুত্ব দিতে চান। এবং সেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একমত নন কামাল লোহানী। তিনি মনে করেন, শাহ্বাগে বেতারের ভবনের তিন একর জমির পুরোটার সাথেই জড়িয়ে আছে ইতিহাস-ঐতিহ্য। পুরো জায়গাটিই যেখানে সাক্ষী হয়ে আছে, সেখানে অংশবিশেষ রক্ষা করার কথা বলে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে তার ধারণা। তিনি বলেছেন, ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে ভবনসহ পুরো জায়গাটিই সংরক্ষণ করা উচিত। তবে, বেতারের শাহ্বাগের ভবনসহ জায়গাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়ার প্রক্রিয়া একেবারে শেষ পর্যায়ে এসেছে। সরকারের সিদ্ধান্তের পর জমির দলিল হয়েছে। এখন শুধু হস্তান্তরের পালা।– বিবিসি