Monday, March 20, 2017

র‌্যাব হেফাজতে হানিফ কীভাবে মারা যায়

র‌্যাবের হেফাজতে থাকা অবস্থায় হানিফ মৃধা কীভাবে মারা গেলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে জানতে চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ ব্যাখ্যা চান। 'স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ জিয়ার ভূমিকা ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শীর্ষক' আলোচনা সভার আয়োজক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। মির্জা ফখরুল বলেন, 'হানিফ মৃধার পরিবারের দাবি- ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন লোক গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায়।' তিনি আরও বলেন, 'অন্যদিকে র‌্যাব দাবি করেছে, আশকোনায় র‌্যাবের ফোর্সেস ব্যারাকে আত্মঘাতী হামলার দিন সন্দেহভাজন হিসেবে হানিফকে আটক করা হয়। বুকে ব্যথা অনুভবের পর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।' প্রশ্ন রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন,
'পরিবার ও র‌্যারের বক্তব্যের মধ্যে কোনটি সত্য? আমরা কার কথা বিশ্বাস করব? পরিবারের দাবি সত্য হলে আমরা কোন দেশে বাস করছি, ভাবতে গা শিউরে ওঠে। আশা করছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির সামনে বিষয়টি পরিষ্কার করবেন।' তিনি হানিফ মৃধার মৃত্যুর বিষয়ে সত্য উদঘাটনেরও দাবি জানান। এ সময় মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, 'রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই সরকার জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করছে।' উল্লেখ্য, গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে হামলাকারী যুবক নিহত এবং দুই র‌্যাব সদস্য আহত হন। র‌্যাবের ভাষ্যে, এ ঘটনার পর আশকোনা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হানিফ মৃধা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

রাডার দুর্নীতি: দুদকের রিভিউ খারিজ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মাদ এরশাদের বিরুদ্ধে রাডার ক্রয় দুর্নীতি মামলায় নতুন সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদন (রিভিউ) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। সোমবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। আর এরশাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। পরে খুরশিদ আলম খান জানান, রাডার ক্রয় সংক্রান্ত মামলাটি বিচারিক আদালতে বিচারাধীন। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে এ মামলায় নুতন করে সাক্ষী নেয়ার আর কোনো সুযোগ থাকল না। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি রাডার ক্রয় সংক্রান্ত মামলায় নতুন সাক্ষ্য গ্রহণে দুদকের আবেদন খারিজ করেন আপিল বিভাগ। পরে রিভিউ আবেদন করে দুদক। গত বছরের ২৪ নভেম্বর এরশাদের রাডার দুর্নীতি ক্রয় সংক্রান্ত মামলায় বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের অনুমতি এবং ৩১ মার্চের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের বেঞ্চ। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন এ মামলার আসামি বিমান বাহিনীর প্রাক্তন প্রধান সুলতান মাহমুদ। এরশাদ ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিমান বাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদ ও ইউনাইটেড ট্রেডার্সের পরিচালক এ কে এম মুসা। মামলার শুরু থেকে মুসা পলাতক। মামলার বিবরণীতে জানা যায়,
১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলাটি দায়ের করে। ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এই মামলায় ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন বিমান বাহিনী প্রধান সদর উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে বাহিনীর জন্য যুগোপযোগী রাডার ক্রয়ের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানি নির্মিত অত্যাধুনিক একটি হাই পাওয়ার রাডার ও দুটি লো লেভেল রাডার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান এরশাদসহ অপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে থমসন সিএসএফ কোম্পানির রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিং কোম্পানির রাডার কেনেন। এতে সরকারের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়।

হানিফকে ২০ দিন আগে তুলে নেয়ার দাবি পরিবারের

রাজধানীর আশকোনা থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটকের পর হাসপাতালে মারা যাওয়া হানিফ মৃধাকে ২০ দিন আগে তুলে নেয়া হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কাঁচপুর সেতুর কাছ থেকে তুলে নেয়া হয় বলে তার পরিবার দাবি করেছে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার। এখনও খোঁজ নেই তার সঙ্গে থাকা বন্ধু মো. সোহেল হোসেন মন্টুর। হানিফের স্ত্রী কুলসুম বেগম সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হানিফ চরমোনাই যান। সেখান থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি লঞ্চে ফিরে আসেন। নামেন কাঁচপুর সেতুর কাছে। তাদের আনতে প্রাইভেটকার নিয়ে যায় চালক জুয়েল। সেখানে গিয়ে জুয়েল দেখতে পান সাত-আটজন নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে হানিফ ও সোহেলকে হাইয়েস গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
আর কয়েকজন এসে প্রাইভেট কারে উঠে জুয়েলকে অস্ত্র ঠেকিয়ে চালাতে বলে। এরপর তারা জুয়েলকে মারধর করে পূর্বাচলে ফেলে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। হানিফের ভাই মো. হালিম মৃধা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৪ মার্চ জিডি করেন। হালিম সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার (১৫ মার্চ) সকালে র‌্যাবব-১ এর একটি গাড়ি ও সাদা রঙের একটি হাইয়েস গাড়ি আমাদের বাসায় আসে। রায়েরবাজার শাহ আলী গলির মুখে র‌্যাববের গাড়িটি দাঁড়ায়। আর সাদা গাড়িটি বাড়ির সামনে দাঁড়ায়। সাদা গাড়ি থেকে চার-পাঁচজন হানিফকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ঢোকে। এরপর বাসার লোকজনের সামনে তার স্ত্রী কুলসুমকে বলে, আপনার স্বামী একটি অন্যায় কাজে সহযোগিতা করেছে। এরপর হানিফের ব্র্যাক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের চেক বই এনে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার চেকে সই করিয়ে নেয়। এ বিষয়ে শনিবার র‌্যাবের মিডিয়া অ্যান্ড লিগ্যাল উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান যুগান্তরকে বলেছিলেন, ঘটনার পর আশকোনা থেকে হানিফ মৃধা নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে বিকাল ৪টার দিকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে সে অসুস্থবোধ করায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা বলেছেন, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাদ দিয়ে আমাদের আমতলী প্রতিনিধি জানান, হানিফ মৃধা বরগুনার আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রামের সোবাহান মৃধার বড় ছেলে। বাবাকে সহযোগিতা করতে সে ছোটবেলায় সংসারের হাল ধরে।
শুরুতে এলাকায় রিকশা চালিয়েছে। ১৬ বছর আগে সে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। পরিবার নিয়ে ঢাকায় এসে হানিফ আবার রিকশা চালানো ও রাস্তার পাশে পুরনো জামাকাপড় বিক্রির কাজ শুরু করে। বর্তমানে ঢাকায় তার তিনটি যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকার রয়েছে। রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকত হানিফ। হানিফ মৃধার বাবা সোবাহান মৃধা যুগান্তরের প্রতিনিধিকে বলেন, হানিফ ১৬ বছর আগে বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে যায়। এখানে রিকশা চালানোর পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসাও করত। হানিফের দুই স্ত্রী ও ৫ কন্যা সন্তান রয়েছে। ঢাকায় যাওয়ার পর ১০ বছর পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি হানিফ। গত ৬ বছর ধরে মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসা যাওয়া করত। সোবহান মৃধা বলেন, হানিফ চরমোনাই পীরের মুরিদ ছিল। সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বরিশালের চরমোনাইয়ে বার্ষিক মাহফিলে ছেলের সঙ্গে তার দেখা হয়। হানিফকে বাড়ি আসতে বললে সে নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে জানিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে। রোববার সকালে যুগান্তরের প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, সোবাহান মৃধার বাড়িতে ঔৎসুক্য গ্রামবাসীর উপচেপড়া ভিড়। সেখানে হানিফের প্রথম স্ত্রী লাইলী বেগম তিন সন্তান নিয়ে কান্নাকাটি করছেন। লাইলী বেগম যুগান্তরকে বলেন, ‘মোর স্বামী মাঝেমধ্যে বাড়ি আইত, হে ধর্মপ্রাণ ছিল। নামাজ-রোজা নিয়মিত করত।’ তার স্বামী কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিনা জানতে চাইলে লাইলী বেগম কোনো উত্তর দেননি। আমতলী থানার ওসি শহিদ উল্লাহ জানান, হানিফ মৃধার বিরুদ্ধে আমতলী থানায় কোনো মামলা নেই।

পানি ছাড়াই ঝকঝকে শৌচাগার!

কম পানি দিয়ে অর্থাৎ এক রকম পানি ছাড়াই ঝকঝকে থাকবে শৌচাগার। শৌচাগারে বিপুল পরিমাণ পানির অপব্যবহার ঠেকাতে এমন অভিনব এক আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের এই আবিষ্কারের নাম দেয়া হয়েছে ‘জিরোওডোর’। সারা দিনে মাত্র একবার পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে। এটির মূল আবিষ্কর্তা দিল্লি আইআইটির সাবেক ছাত্র উত্তম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আইআইটির রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির প্রফেসর এবং একাম ইকো সলিউশনের চেয়ারম্যান বিজয়রাঘবন এম চ্যারিয়রকে সঙ্গে নিয়ে এই আবিষ্কার করেন। এই বিশেষ টয়লেটে ব্যবহার করা হয়েছে একটি টেকনোলজি। এ ক্ষেত্রে প্যানের মধ্যে ব্যবহার করা হয় একটি মেকানিক্যাল ভাল্ব, যা নালীর মধ্যে দিয়ে ইউরিন ‘পাস’ করে দেয়, কিন্তু অ্যামোনিয়ার কটু গন্ধ ভেতরে আসতে দেয় না। উপরন্তু ইউরিন সরাসরি গিয়ে মেশে জমিতে।
যা সার হিসেবে কাজে লাগে। কোনো রকম রাসায়নিক পদার্থ এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই এটি সম্ভব। ফলে এর রক্ষণাবেক্ষণের খরচও খুব কম। সারা দিনে একবার শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে। উত্তম জানান, ‘শৌচাগারে একেকবারের ফ্লাশে ৬-১০ লিটার পানি খরচ হয়। সুতরাং খুব সহজেই আন্দাজ করা যায় প্রতি দিন একটি শৌচাগারে কত পানি খরচ হতে পারে। নতুন ধরনের এই শৌচাগার বছরে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ লিটার পানির অপব্যবহার রোধ করতে পারবে।’ জিরোওডোর তৈরি খরচও খুব কম। সাধারণ মানুষও নিজের ঘরে বা অফিসে এই টয়লেট তৈরি করতে পারবেন।

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল ৭ মে

পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যে কাহিনী সৃষ্টির নেপথ্যে ষড়যন্ত্রকারী কারা  এবং তা তদন্তে কমিশন গঠন হয়েছে কিনা আগামী ৭ মে'র মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আজ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল।
কিন্ত রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এদিন ধার্য করেন আদালত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যে কাহিনী সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে একটি কমিশন বা কমিটি গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে  রুলে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় কেন আনা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, যোগাযোগ সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে  ‘ইনকুয়ারি অ্যাক্ট ১৯৫৬’ অনুসারে এই কমিশন বা কমিটি গঠনে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা ৩০ দিনের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে মন্ত্রী পরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ইউনুসের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান, বিচার দাবি’ শীর্ষক একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটিসহ কয়েকটি দৈনিকের প্রতিবেদন নজরে এলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ওইদিন শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান, দৈনিক ইনকিলাবে ‘ইউনূসের বিচার দাবি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি পত্রিকায় আসা প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত এই রুল জারি করেছেন। বিষয়টি আগামী ২০ মার্চ শুনানির জন্য আবার আদালতে উঠবে।
বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের জন্য চুক্তি করেও পরে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তা স্থগিত এবং পরে বাতিল করে। পরে তাদের বাদ দিয়েই নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ তদারকির পাঁচ কোটি ডলারের কাজ পেতে এসএনসি-লাভালিনের কর্মীরা ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে মামলা হয়েছিল কানাডার আদালতে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কানাডার আদালত গত ১০ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার তিন আসামিকে খালাস দেন। রায়ে বিচারক বলেছেন, এই মামলায় প্রমাণ হিসেবে যেগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো ‘অনুমানভিত্তিক, গাল-গল্প ও গুজবের বেশি কিছু নয়’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই বলে আসছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগ তোলা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এতে বাংলাদেশীরাও জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি সংসদে তিনি বলেন, হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন আটকেছিলেন নোবেলজয়ী বাংলাদেশী মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাতে বাংলাদেশের এক সম্পাদকেরও ভূমিকা ছিল। এছাড়া মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ড. ইউনুসকে দায়ী করেন।

কলেজছাত্রী হত্যায় ইবি ছাত্রের ফাঁসির আদেশ

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী স্নিগ্ধা আকতার রিমি (২০) হত্যা মামলায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্র স্বামী শিহাব উদ্দিন শিশিরের (৩০) ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) রেজা মোহাম্মদ আলমগীর হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালে মিরপুর উপজেলার চুনিপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিশির (৩০) ও সদর উপজেলার চৌড়হাস এলাকার আব্দুল বারীর মেয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী স্নিগ্ধা (২০) পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করে। দুই পরিবার বিয়ের ব্যাপারটি মেনে না নেয়ায় তারা ছাত্রাবাসে থাকত।
২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শিশির স্ত্রী স্নিগ্ধাকে নিয়ে তার খালার বাড়ি নওদা বহালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আমিনুদ্দিনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে একটি ঘরের মধ্যে রাত সাড়ে ১২টার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায় শিশির। এ ঘটনার দিন নিহতের খালাত ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে মিরপুর থানায় শিশিরকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ আসামি শিশিরকে গ্রেফতার করে ও তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট প্রদান করে। পুলিশ প্রতিবেদন ও দীর্ঘ শুনানিসহ  সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এ রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি শিশির আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। কুষ্টিয়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী বলেন, আসামি শিশির মামলা চলাকালীন গ্রেফতারের পর জামিনে নিয়ে পলাতক রয়েছেন। আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ রায়ে নিহতের স্বজনরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে জানান অনুপ কুমার নন্দী।

পীর ফরহাদের ঘাতক মুরিদ গ্রেফতার

দিনাজপুরের কথিত পীর ফরহাদ হোসেন হত্যার হত্যার মূলঘাতক মুরিদ শফিকুল ইসলাম বাবুকে (৪২) কুড়িগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার ভোরে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার শফিকুল ইসলাম বাবু দিনাজপুর বোচাগঞ্জ থানার দৌলা এলাকার আজিমুদ্দিনের ছেলে।এ নিয়ে কুড়িগ্রাম থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হল। এরআগে ১৫ মার্চ একই উপজেলার সীমান্তবর্তী পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরডুবি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে এছাহাক আলী (৫৭) নামে অপর এক সন্দেহভাজন পীরকে আটক করে কুড়িগ্রাম পুলিশ।
রংপুর র‌্যাব-১৩ এর এএসপি আবদুল মান্নান জানান, সফিকুল হতাকাণ্ডের মূলঘাতক। ঘটনার পর থেকে তিনি কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদে সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি আবদুস সোবহান জানান, পীর ফরহাদ হোসেন হত্যার মূলঘাতক শফিকুল ইসলাম বাবু। তাকে রংপুর র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য,  ১৩ মার্চ  সোমবার রাতে বোচাগঞ্জ উপজলোর দৌলা এলাকায় পীর ফরহাদ হাসান চৌধুরী ও তার পালিত কন্যা গৃহপরিচারিকা রূপালি বেগমকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ হাসান চৌধুরী (৬৮) দৌলা খানকার পীর হিসেবে পরিচিত। তিনি দিনাজপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি। পৌর মেয়র পদে নির্বাচন করে দলীয় কোন্দলের কারণে হেরে যান। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে নিস্কৃয় ভূমিকা পালন করেন। নিহত নারী মুরিদ রূপালী বেগম (২২) বোচাগঞ্জ এলাকার হোসেন আলীর কন্যা। রূপালী ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর গৃহর্কমী ছিলেন।

চট্টগ্রামে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা শুরু

নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে রোববার থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (সিআইটিএফ) ২০১৭। চট্টগ্রাম চেম্বারের আয়োজনে চলতি বছর মেলার ২৫তম আসরের উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এবারের মেলায় দেশী-বিদেশী ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে।
মেলায় প্রবেশ মূল্য রাখা হচ্ছে ১০ টাকা। মেলায় প্রথমবারের মতো মরিশাস থেকে উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য নিয়ে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিবারের মতো এবারও পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে থাকছে থাইল্যান্ড। এছাড়া ভারত ও ইরানের প্রতিষ্ঠানও থাকছে। বিদেশীদের জন্য ২৩ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শিল্প খাতের গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিল্প মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ প্রণয়ন করেছে। দেশে উদ্যোক্তা ও উৎপাদনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করাই এ শিল্পনীতি প্রণয়নের অন্যতম লক্ষ্য। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, এফবিসিসিআই’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), মেলা কমিটির চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ সেলিম। এ সময় স্থানীয় দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি প্রিন্সকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কেন এতো আগ্রহ?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের এক ঝাঁক শীর্ষ কর্মকর্তা অংশ নেন। এর মধ্যে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার, ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা ও জামাই জ্যারেড কুশনার, কৌশল বিষয়ক উপজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দিনা পাওয়েল এবং ট্রাম্পের মেন্টর সিনিয়র উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন।
গত ১৪ মার্চ পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে এই উপদেষ্টারা অংশ নিয়েছেন, যা স্বাভাবিক নয়। এতে ইঙ্গিত মেলে যে, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামের বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে। এটি এখন স্পষ্ট যে, আরব দেশগুলোতে ইরান সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টি ও অস্ত্র সরবরাহ করায় এবং আইএস ও আল-কায়েদর মতো উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কারণে নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা করতে সামরিক শক্তিকে অবলম্বন করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

চীন সফরে আগ্রহী ট্রাম্প

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরের জন্য আগ্রহী। পাশাপাশি তিনি দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চীন সফররত টিলারসন। এশিয়া সফরে টিলারসনের শেষ গন্তব্য ছিল চীন। রোববার বেইজিংয়ের গ্রেট হলে টিলারসন চীনের শীর্ষ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব কথা বলেন। খবর বিবিসির। সাক্ষাতের পর শি জিনপিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে দেখে তিনি আনন্দিত। তিনি টিলারসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি বলেছেন চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারে। আমি আপনার সঙ্গে একমত পোষণ করছি। জিনপিং আরও বলেন, বেশ কয়েকবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা উভয়ই গঠনমূলক সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন যুগে পদার্পণের আশা করছি।
টিলারসন বলেন, ট্রাম্প চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য যে রকম আশাবাদী ছিলেন তা এখন কার্যকর হওয়া শুরু করেছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা বলেননি তারা। এছাড়া তাইওয়ানের মর্যাদা নিয়েও কোনো কথা হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিন পরীক্ষার বিষয়ে জিনপিং ও টিলারসনের মধ্যে কথা হয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দেয়া এক টুইটে লিখেন, উত্তর কোরিয়া খুব খারাপ আচরণ করছে।

‘আল্লাহর জন্য মরতে’ চেয়েছিল প্যারিস হামলাকারী

প্যারিসের অর্লি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ব্যক্তি ‘আল্লাহর জন্য মরতে’ চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের এক সরকারি কৌঁসুলি। শনিবার ওই ব্যক্তি অর্লি বিমানবন্দরে টহলরত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনার জেরে ফ্রান্সের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে সব লোককে বের করে দেয়া হয়েছিল। খবর রয়টার্সের।
কৌঁসুলি ফ্রাঁসোয়া মোলিন্স জানান, জায়েদ বিন বেলগাসেম নামের ওই ব্যক্তি ওইদিন সকালে বিমানবন্দরটিতে উপস্থিত হন। পেট্রুলের কনটেইনার ভরা একটি ব্যাগ ছুড়ে ফেলে বিমানবন্দরে টহলরত সামরিক দলের বিমান বাহিনীর সদস্য এক নারীকে জাপটে ধরে তার মাথায় নিজের এয়ার পিস্তল ঠেকান। মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ওই নারী সৈনিককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেন বেলগাসেম। এ সময় টহল দলটির অন্য সদস্যদের লক্ষ্য করে চেঁচিয়ে বলেন, ‘তোমাদের অস্ত্র নামিয়ে রাখ। তোমাদের হাত মাথার ওপর তোল। এখানে আল্লাহর জন্য মরতে এসেছি আমি। কোনো কিছু হলে কেউ মারা যেতে পার।’ এ সময় অন্যান্য সৈন্য গুলি করে বেলগাসেমকে হত্যা করে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মলিন্স বলেন, ‘আততায়ী ওই নারী সৈনিকের ফেমাস অ্যাসাল্ট রাইফেলটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল, এতে ধারণা করা হচ্ছে সে গুরুতর একটি হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। সিসিটিভির ছবিতে যা দেখা গেছে, তাতে মনে হয় সে হামলা চালাতে বদ্ধপরিকর ছিল।’ সবকিছুই সাক্ষ্য দেয় সে ফেমাস রাইফেলটি হস্তগত করে লোকজনকে মারতে চেয়েছিল।’ নিহত বেলগাসেমের (৩৯) শরীরে তল্লাশি চালিয়ে একটি কোরান শরিফ ও নগদ ৭৫০ ইউরো পাওয়া গেছে।

হোয়াইট হাউসে বোমাসহ গাড়িচালক আটক

ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি আবাস হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা চেকপোস্টে বোমাসহ একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এসময় গাড়ির চালককে আটক করা হয়। ঘটনার পর হোয়াইট হাউস ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের দু’জন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। শনিবার রাত ১১টার দিকে হোয়াইট হাউসসংলগ্ন নিরাপত্তা চেকপোস্টে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তিনি জানান, তার গাড়িতে বোমা রাখা আছে। তখনই তাকে আটক করা হয়। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন না। আটককৃতের নাম জানাতে পারেনি সিএনএন। এমনকি তল্লাশির পরে তার গাড়িতে আদতেই বোমা মিলছে কিনা তাও নিশ্চিত নয়। এ বিষয় তদন্ত চলছে বলে সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনার পর পরই হোয়াইট হাউস ও সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আশপাশের বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্লোরিডায় তার মালিকানাধীন বিলাসবহুল মার-এ-লাগো গলফ রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। একই দিন সকালে হোয়াইট হাউসের সামনে সাইকেল রাখার স্ট্যান্ড টপকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এক যুবক। তখনই তাকে আটক করা হয়। সেসয় তিনি নিরস্ত্র ছিলেন। এর আগে ১০ মার্চ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণের সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে আটক হন ক্যালিফোর্নিয়ার যুবক জোনাথন ট্রান। তিনি নিরস্ত্র অবস্থায় প্রায় ১৫ মিনিট হোয়াইট হাউসের বাগানে অবস্থান করেন। তবে মূল ভবনে ঢুকতে পারেননি। ট্রান যখন সেখানে অবস্থান করছিলেন, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসেই ছিলেন। ২৬ বছর বয়সী ট্রানের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত সরকারি এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

অবৈধদের ৯০ দিনের মধ্যে সৌদি ছাড়তে হবে

অবৈধভাবে অস্থানকারীদের দেশ ত্যাগে ৯০ দিনের সময়সীমা বেধে দিয়েছে সৌদি প্রশাসন। এ সময়ের মধ্যে দেশত্যাগকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তারা কাজ নিয়ে আবারও সৌদি আরবে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মুহাম্মদ বিন নায়িফ। এ সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন তিনি। খবর সৌদি গেজেটের। ‘এ নেশন উইদাউট ভায়োলেটরস’ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে রোববার প্রকাশিত এ প্রজ্ঞাপনে দেশটি তিন মাসের এই ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করে মুহাম্মদ বিন নায়িফ বলেন, অনুমতি (ইকামা) ছাড়াই অবস্থান, অনুমতি ছাড়াই কাজ করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আগামী ২৯ মার্চ থেকে এই সাধারণ ক্ষমা প্রযোজ্য হবে।
সৌদি প্রিন্স অবৈধভাবে বসবাসকারীদের ৯০ দিনের সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরে যাবারও আহ্বান জানান। নিয়ম অনুযায়ী কোনো অবৈধ অভিবাসী ধরা পড়লে তাকে জরিমানা বা শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। দেশে ফেরত পাঠানোর আগে তার আঙুলের ছাপ রেখে দেয়া হয়। পরে ওই ব্যক্তি আর সৌদি আরবে কাজের জন্য আসতে পারেন না। তবে তিন মাসের মধ্যে যারা নিজ দেশে ফিরে যাবেন, তাদের আঙুলের ছাপ দেয়া লাগবে না এবং পরে তারা সঠিক নিয়মে সৌদি আরবে এসে কাজ করতে পারবেন বলে জানান দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল মনসুর আল-তুর্কি। বর্তমানে সৌদি আরবে ১৩ লাখ বাংলাদেশী কাজ করছেন। এদের মধ্যে ৬০ হাজার নারী কর্মী রয়েছেন।

আ’লীগ মানুষের জন্য কাজ করে, বিএনপি করে নির্যাতন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে। এদেশের দারিদ্র্যপীড়িত জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদেশের যত উন্নয়ন আর অর্জন, সব আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। অপরদিকে বিএনপি দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন আর জুলুম করে। ক্ষমতায় গিয়ে দেশ ও জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যস্ত থাকে। ওই দলটি দেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধি চায় না। রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ মিলনায়তনে তাঁতী লীগের সম্মেলনে রোববার প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সভাপতি পদাধিকারবলে দলের অন্যতম এ সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক নেতা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তাঁতী লীগের আহ্বায়ক এনায়েতুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক সাধনা দাস গুপ্তা। প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক খগেন চন্দ্র দেবনাথ সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব শওকত আলী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সব শহীদ, কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, গণতন্ত্র উদ্ধারে আত্মাহুতিদানকারী তাঁতী লীগের প্রয়াত নেতাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাঁতী লীগকে শক্তিশালী করাসহ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের কাজ করার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, নেতা হয়ে শুধু বসে থাকলে চলবে না। তাঁতীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তাদের সমস্যাগুলো কী, তা দেখতে হবে। তাদের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। তাদের মধ্যে যে মেধা রয়ে গেছে, এ ঐতিহ্যটাকে যেন তারা লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধরে রাখতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে দেখা যায়, যে দলের হাত ধরে দেশ স্বাধীন হয়েছে সেই দল অনেক দিন সরকার পরিচালনা করেছে। তাদের হাত ধরেই সে দেশের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে কী হল? স্বাধীনতার অল্প কিছুদিন পরেই স্বাধীনতার স্থপতিকে সপরিবারে মেরে ফেলা হল। তার জায়গায় ক্ষমতায় এলো পাকিস্তানের দোসররা। যারা এদেশের অগণিত মানুষকে হত্যা করেছে, মা-বোনদের নির্যাতন করেছে, তাদের এদেশীয় সহযোগীরা। কিন্তু এই শক্তি দেশের উন্নয়ন করেনি। করবেই বা কেন?
কারণ যারা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে, অবর্ণনীয় কষ্ট করেছে, দেশের জন্য দরদ, তাদেরই আছে, ওদের নেই। তাঁতশিল্পকে আরও আধুনিক ও বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ শিল্পের প্রসারে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপই সরকার নেবে। এটা অত্যন্ত উন্নতমানের শিল্প। কাজেই এটাকে আরও বেশি সহযোগিতা করার জন্য আমাদের সরকার সব সময় প্রস্তুত। তাঁত বোর্ডকে ডিজিটালাইজড করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে আমরা দেশে একটা টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁতের শাড়ি আমরা ব্যবহার করি, ফ্রেঞ্চের শিফন শাড়ি পরি না। আমার মনে হয়, আমাদের ছেলে-মেয়েরাও এ তাঁতীদের তৈরি কাপড় ব্যবহার করতে পারে। আমাদের তাঁতশিল্পের কাপড় শুধু পরিধান নয়, গৃহে নানামুখী কাজে এর ব্যবহারেরও সুযোগ রয়েছে। আমি আশা করব, সবাই সেদিকে নজর দেবেন। সরকারপ্রধান বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিনকে আবার ফিরিয়ে আনায় প্রসঙ্গে বলেন, সারা দেশে আমরা একটা সমীক্ষা করছি, মসলিন কোন কোন এলাকায় তৈরি হতো, এর সুতা আবার পাওয়া যায় কিনা, এজন্য আমরা গবেষণা করছি। পাশাপাশি স্বতন্ত্র জামদানি পল্লী, বেনারসি পল্লী ও তাঁত পল্লী স্থাপনেরও কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁতীদের কল্যাণে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। বাজেটে সুতা ও রং আমদানি ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর রহিত করা হয়েছে, যাতে দাম কমে। মাদারীপুরের শিবচর এবং শরীয়তপুরের জাজিরায় ১২০ একর জমিতে তাঁত পল্লী স্থাপন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশ জামদানির পেটেন্ট রাইটস অর্জন করায় এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরা এবং পাশাপাশি তাঁত ও সিল্ক শিল্প যেন বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ করতে পারে,
তার জন্য সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান। নিজের সারা দেশ ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা একসময় বাংলাদেশের দুরবস্থার কথা স্মরণ করে বলেন, একবেলা খাবার, মোটা কাপড় জুটত না, রোগে চিকিৎসা পেত না, রোগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যেত, লেখা-পড়া তো ছিল অনেক পরের ব্যাপার। দু’মুঠো খাবারের জন্য মানুষ হাত পেতে বলেছে, ‘ক্ষুধার জ্বালায় মরে যাচ্ছি’। কঠোর পরিশ্রম করে আমরা এসব সমস্যা ও অভাব দূর করে দেশের উন্নতি করেছি। দেশে এখন কেউ আর না খেয়ে থাকে না। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি সংগঠন নীতি ও আদর্শ মেনে চলবে এবং এর ফলে সংগঠনের উন্নয়ন হবে। অন্যান্য সহযোগী সংগঠন যারা যেখানেই করছেন, সেখানেও সেই সম্প্রদায়ের মানুষের যাতে কল্যাণ ও উন্নতি হয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।

মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গি নেতার মৃত্যুদণ্ড বহাল

ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন আসামির করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। হান্নান ছাড়াও আরও দুই জঙ্গি হল, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপন। আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ায় তিন জঙ্গির দণ্ড কার্যকর করতে জেল কর্তৃপক্ষের কোনো আইনি বাধা নেই। আর যদি তারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করে তা হলে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে কারা কর্তৃপক্ষ। জেল কোড অনুযায়ী কতদিনের মধ্যে দণ্ড কার্যকর করতে হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ৭ দিনের আগে নয়, তবে ২১ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রিভিউ পিটিশন খারিজের রায় অবগত হওয়ার পর জেল কর্তৃপক্ষ আসামিদের জিজ্ঞেস করবে রাষ্ট্রপতির কাছে তারা প্রাণ ভিক্ষা চাইবে কিনা?
প্রাণভিক্ষা চাইলে সে দরখাস্ত রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। আর না চাইলে জেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরবর্তী প্রক্রিয়ায় দণ্ড কার্যকর করবে। জেলকোড মেনেই সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর দণ্ড কার্যকরের ব্যাপারে জেল কর্তৃপক্ষ এবং রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, জঙ্গি হামলায় মুফতি হান্নানের নেতৃত্ব ও ইন্ধন ছিল- এটা খুবই পরিষ্কার। সম্প্রতি প্রিজন ভ্যানে এবং গত কয়েকদিনে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা মুফতি হান্নানকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্যই। আর সে ব্যাপারে রাষ্ট্র ইতিমধ্যেই সতর্কতা অবলম্বন করেছে। ৭ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ এ তিন আসামির আপিল খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। পরে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে তারা আবেদন করে। এতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা হ্রাস করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়ার আবেদন জানানো হয়। রোববার আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নিখিল কুমার সাহা। তিনি বলেন, কনডেম সেলে দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রহর গুনছে আসামিরা। এ বিবেচনায় তাদের সাজা কমানো হোক। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, এখন কারাগারগুলোতে সেই আগের মতো কনডেম সেল নেই। এখনকার কনডেম সেলে আসামিরা আরাম-আয়েশেই থাকে। পরে আদালত দুটি রিভিউ পিটিশন খারিজ করে আদেশ দেন। খারিজ আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে হত্যা করতেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় তিনজন মারা যান। যাদের একজন ঘটনাস্থলে, বাকি দু’জন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অপরাধ মার্জনা করার কোনো সুযোগ নেই। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা উপস্থিত ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী। দরগাহ প্রাঙ্গণে জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক কামাল উদ্দিন নিহত হন। এছাড়া বেশ কয়েকজন হতাহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ওই রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা খালাস চেয়ে নিয়মিত ও জেল আপিল করে। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ওই আপিল খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ নিন্ম আদালতের সাজার রায় বহাল রাখেন। এছাড়া মুফতি হান্নানের ভাই মহিবুলাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি ও মুফতি মইনউদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিলাহ ওরফে খাজাকে দেয়া যাবজ্জীবন সাজার রায়ও বহাল রাখেন আদালত। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা। ৭ ডিসেম্বর আপিল বিভাগও তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। ১৮ জানুয়ারি রায়ের কপি প্রকাশিত হলে তা পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন জানায় তারা। এদিকে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার রিভিউ খারিজ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার স্বজনরা। জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আনোয়ার চৌধুরীর চাচাতো ভাই শাহ রুমী চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা এ রায়ে খুবই সন্তুষ্ট। আমি আশা করছি দ্রুত এ রায় কার্যকর হবে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টাসহ ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার মূল হোতা হিসেবে মুফতি হান্নানের নাম উঠে আসে। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। ২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সভামঞ্চের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় করা মামলারও আসামি মুফতি হান্নান।

একটি পাতায় নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস!

পাকা হোক বা কাঁচা আম সবার প্রিয় ফল। তাইতো ফলের রাজা আম। সুস্বাধু ও রসালো আম একটি স্বাস্থ্যকর উপকারী ফল, সেটা আমরা কম-বেশি সবাই জানি। কিন্তু আপনি জানেনি কি আমপাতারও সমান উপকারী গুণ রয়েছে? ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রাচীনকাল থেকেই এ পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা তেমনটাই দাবি করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কচি আমপাতায় ট্যানিনস নামক অ্যান্থোসায়ানিডিন থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। এ পাতা শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ও হাইপারগ্লাইসেমিয়া কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া আমপাতা উচ্চ রক্তচাপ হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, স্থায়ীভাবে স্ফিত বা বর্ধিত শিরা, উদ্বিগ্নতা, অনিদ্রা, জ্বর, ডায়রিয়া ও ক্লান্তি দূর করার মহৌষদ হিসেবে প্রমাণিত।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আমপাতার চা কীভাবে তৈরি করবেন, তার প্রস্তুত প্রণালী নিম্নে আলোচনা করা হল; উপকরণ: ১১-১২টি কচি আমপাতা ও দেড় গ্লাস পানি। প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে আমপাতাগুলো ধুয়ে নিন। এরপর একটি পাত্রে দেড় গ্লাস পানি ঢেলে চুলায় ফুটতে দিন। এর ৫ মিনিট পর আমপাতাগুলো ওই পানিতে দিয়ে ১৫ মিনিট হালকা আঁচে ফুটতে দিন। এরপর চুলা বন্ধ করে সারা রাত এই মিশ্রণটি ঢেকে রাখুন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে আমপাতার চা পান করুন। এই পানীয়টি এক মাস একটানা পান করতে হবে। তাহলে দেখবেন ডায়াবেটিস সব সময় আপনার নিয়ন্ত্রণেই থাকছে। এর সঙ্গে আপনার মেজাজও থাকবে চনমনে।

নলছিটিতে বজ্রপাতে মা নিহত, মেয়ে আহত

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মগড় ইউনিয়নের ডুবিল গ্রামে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ মমতাজ বেগম (৩৫) ওই ইউনিয়নের আমিরাবাদ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক খানের স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে আমিরাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হাফিজা আক্তার (১৪) আহত হয়েছে। তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডুবিল গ্রামের বাসিন্দা মো. রায়হান খান জানান, সন্ধ্যার পরে বৃষ্টি শুরু হলে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষেতে থাকা খেসারি ডাল তুলে আনতে যায় মমতাজ বেগম।
এসময় ব্রজপাতে ঘটনাস্থলে নিহত হন তিনি। মেয়ে হাফিজা আক্তারের দুই পা পুড়ে যায়। হাফিজা আক্তার জানায়, বজ্রপাতের শব্দে সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে তার জ্ঞান ফিরলে দেখতে পান মায়ের শরীর ঝলসে যাচ্ছে। সে চিৎকার করলে পরিবারের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে। মগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে যাই। সোমবার বেলা ১২টার দিকে জানাজা শেষে নিহত মমতাজ বেগমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

ঝর্ণার পানিতে সাঁতার, ঘানায় নিহত ২০

ঘানার দর্শনীয় স্থান কিন্টাম্পুর ঝর্ণা দেখতে গিয়ে ২০ পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। হতাহতদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। ঝর্ণার পাশের একটি বড় গাছ পর্যটকদের ওপর ভেঙে পড়লে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসির। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তারা ভাঙা গাছের ফাঁকে আটকে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র বিলি আনাগ্লেট জানান, ঝড়ের সময় পর্যটকরা ঝর্ণার পানিতে সাঁতার কাটছিলেন। তাদের ওপর হঠাৎ গাছটি ভেঙে পড়ে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি যৌথ দল দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধার করেন। বিলি আনাগ্লেট বলেন, হতাহতদের বেশিরভাগই স্থানীয় উইঞ্চি সিনিয়র স্কুলের শিক্ষার্থী। বাদবাকিরা সাধারণ পর্যটক। গাছের ফাঁকে আটকে থাকা আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

হামলার পর দামেস্কে তীব্র সংঘর্ষ

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কেকের পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলীতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। রোববার সকালে দামেস্কের জোবার জেলায় বিদ্রোহীরা কয়েকটি গাড়ি বোমা এবং আত্মঘাতী হামলা চালানোর পর এ সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর বিবিসির। সংঘর্ষে দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে কামানের ভারী গোলা এবং রকেট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। সিরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে,
তারা পাল্টা হামলা চালিয়ে বিদ্রোহীদের কোণঠাসা করে ফেলেছে। সিরীয় যুদ্ধের পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ৩০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়ে সরকারি বাহিনী। বিদ্রোহীদের দখলে দামেস্কের হাতেগোনা কয়েকটি এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে জোবার জেলা নগরটির কেন্দ্রস্থল সংলগ্ন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এসব এলাকা নিজেদের দখলে রাখার জন্য গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সিরীয় বাহিনী লড়াই করে আসছে।

কট্টরবাদের পথেই ফুল বিছিয়ে দিল বিজেপি

উত্তরপ্রদেশের বিপুল জয় ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপিকে কতটা আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে তার প্রমাণ মিলল কট্টরপন্থী যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদে আরোহণের মধ্য দিয়ে। কোনো রাখঢাক না রেখেই খুব দ্রুত দলটি বহুত্ববাদের চর্চার ঐতিহ্যকে পেছনে সরিয়ে, সহিষ্ণুতার প্রকাশ্য আভরণকে বর্জন করে কট্টরবাদের পথেই নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহেরা ফুল বিছিয়ে দিল বলে নিজেদের মন্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার। এতে বলা হয়, 'আদিত্যনাথ মানে বিতর্ক, অসহিষ্ণুতা ও মুসলিমবিদ্বেষ এই বক্তব্যটি তিনি নিজেও কোনো দিন খারিজ করেননি। বস্তুত এই ভাবমূর্তিটি সযত্নে লালন করে এসেছেন কয়েক দশক ধরে। এমনটা নয় যে, সম্প্রতি তিনি পাল্টেছেন। এবারের ভোটেও তার কট্টর বক্তব্যের ঘোষণার ডেসিবেল বরং বাড়িয়েই গিয়েছেন এক পর্যায় থেকে আর এক পর্যায়ে। তাকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে উত্তম পুরস্কার দিলেন মোদি। এ পুরস্কারই যদি দেয়ার ছিল, তবে শেষ মুহূর্তের এই চমক কেন? কেন পূর্ব ঘোষণা ছিল না? কেন বিজেপি কঠোর হিন্দুত্ববাদী মনোভাব নিয়ে ভোটে গেল না? কারণ সেখানে আশংকা ছিল। বহু ধর্ম বহু মত বহু জাতি বহু সম্প্রদায়ের বৃহৎ এই রাজ্য যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়?
অতএব ঝোলাটি ঢাকা রাখার দরকার ছিল তখন। ইঙ্গিত যে একেবারে ছিল না, তা কিন্তু নয়। ৪০৩টি আসনের একটিতেও মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করায়নি বিজেপি। ভোটের প্রচারণায় আদিত্যনাথদের রামমন্দির নির্মাণের সদম্ভ ঘোষণা দেখেও চুপ থেকেছিল যে দল, বিপুলভাবে ক্ষমতায় এসে সেই কট্টরপন্থীকেই তারা যে বেছে নেবে, এখন বোঝা যাচ্ছে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। এই বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। বহুত্ববাদী এই দেশের মেরুদণ্ডে সেই বার্তায় হিমস্রোত এখন। এই দেশের মেরুদণ্ড অবশ্য অন্য ধাতুতে তৈরি। ইতিহাস সাক্ষী, বারবার ঋজুতার পরিচয় দিয়েছে সে। সেই দেশ, তার মেরুদণ্ড, তার এ যাবৎকালের সাধনা, ভাবনা এখন নতুন পরীক্ষার সামনে। কোনো সংশয় যেন না থাকে, জয় হবে শেষ পর্যন্ত মানুষেরই।'

ট্রাম্প ‘অবৈধ’ প্রেসিডেন্ট

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকে ‘অবৈধ’ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ তরুণ। ১৮-৩০ বছর বয়সী তরুণদের ওপর সম্প্রতি এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে, ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকার করতে চান না- এমন তরুণদের তিন-চতুর্থাংশই কৃষ্ণাঙ্গ, ল্যাটিনো ও এশিয়ান। খবর গার্ডিয়ানের। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাক ইয়ুথ প্রজেক্টের অংশ হিসেবে বার্তা সংস্থা এপি ও গবেষণা সংস্থা এনওআরসির যৌথ উদ্যোগে জেন-ফরওয়ার্ড এ জরিপটি পরিচালনা করে।
এতে দেখা যায়, শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ মিলিয়ে গড়পরতায় ৫৭ শতাংশ তরুণ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবৈধ প্রেসিডেন্ট মনে করেন। শ্বেতাঙ্গদের ৫৩ শতাংশ ট্রাম্পকে বৈধ মনে করলেও তার কাজকে সমর্থন করেন না ওই জনগোষ্ঠীর ৫৫ শতাংশ। সব ধরনের জনগোষ্ঠীর মধ্যে গড়ে মাত্র ২২ শতাংশ তরুণ মনে করেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি বৈধ। জরিপে অংশগ্রহণকারীর ৬২ শতাংশ ট্রাম্পের নীতি পছন্দ করেন না। মিসৌরির কানসাস শহরের শিক্ষার্থী রেবেকা গ্যালার্ডো (৩০) নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমেরিকা হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই চেয়েছেন।

নিউজিল্যান্ডে মার্কিন কূটনীতিককে বহিষ্কার নিয়ে রহস্য

নিউজিল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস পুলিশি তদন্তে ওই কূটনীতিককে রেহাই দিতে বলার পর তাকে বহিষ্কার করা হলো। ১২ মার্চের একটি ঘটনায় অপরাধমূলক কার্মকাণ্ডে ওই কূটনীতিক জড়িত ছিল বলে পুলিশের ধারণা। তবে তাকে তদন্তের আওতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে দূতাবাস অস্বীকার করলে ওই কূটনীতিককে প্রশ্ন করা সম্ভব হয়নি।
ফলে নিউজিল্যান্ড তাকে সরিয়ে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানায়। রোববার তিনি নিউজিল্যান্ড ছেড়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেনি পুলিশ। এ ছাড়া তার নামও প্রকাশ করেনি নিউজিল্যান্ড পুলিশ। ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে, নিউজিল্যান্ডে কর্মরত সব কূটনীতিক কর্মকর্তাদের অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভারতে বাংলাদেশী কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে ২১ জন

ভারতে পাচারের শিকার এক বাংলাদেশী কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। শনিবার ওই কিশোরীর করা মামলায় অভিযোগ, তাকে এক সপ্তাহে ২১ নরপিশাচ ধর্ষণ করেছে। পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া। খবরে বলা হয়, জুনাগড় শহরের ম্যাঙ্গরোল ও আহমেদাবাদে ওই কিশোরীর ওপর এ নারকীয় অত্যাচার করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে সে ম্যাঙ্গরোলে একটি বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন তার কাছে কারণ জানতে চায়। সে তাদেরকে সব খুলে বললেও ভাষাগত সমস্যার কারণে তার কথা বুঝতে পারছিল না তারা। এ অবস্থায় কিশোরীকে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ স্টেশনে। সেখানে পুলিশের কাছে সব কথা বলে দেয় সে। তার বাড়ি বাংলাদেশে বলে সে জানায়। তাকে ভারতে বিক্রি করে দিয়েছে একটি চক্র। আহমেদাবাদ হয়ে ম্যাঙ্গরোলে পৌঁছে সে। অভিযোগে কিশোরী জানিয়েছে, প্রথমে তাকে আহমেদাবাদে ধর্ষণ করে ৭ জন। এরপর গত সপ্তাহে ম্যাঙ্গরোলে ধর্ষণ করে ১৪ জনে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির গ্র্যান্ডমাস্টার by মোহাম্মদ আবুল হোসেন



সম্ভবত আপনিও অভিযোগগুলো শুনেছেন। যদি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সঠিক হয় তাহলে বাড়িয়ে বলা হবে না যে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর মানুষ হলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি কি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে উল্টে দিয়েছেন? কোটি কোটি ডলারের এ প্রশ্ন এখনো যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের মানুষের মনে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ও পরে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে যতটা আলোচনা হয়েছে তার প্রায় সবটার সঙ্গেই উঠে এসেছে পুতিনের নাম বা রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা। যেখানেই আলোচনা সেখানেই পুতিন। যেখানেই আলোচনা সেখানেই তার গুপ্তচর বা কূটনীতিক সংশ্লিষ্টতা। খুব ধীরগতিতে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যেন প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন। নির্বাচনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ তদন্ত করার কথা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট কংগ্রেসের হাউস ইন্টেলিজেন্ট কমিটির। তারা তদন্ত করে দেখবে এ অভিযোগগুলো সত্যি কিনা। তবে ক্রেমলিন অব্যাহতভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এখন পর্যন্ত কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, হ্যাকাররা নির্বাচনে ভোট বা ব্যালট নিয়ে কারসাজি করতে পেরেছে। কিন্তু পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। প্রশ্নটা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশিয়া সরকারের হ্যাকাররা কি সত্যি ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করেছিল? তারা কি স্পর্শকাতর ডকুমেন্ট তাদের হাতে পেয়েছিল? সেগুলো কি তারা উইকিলিকসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও এ দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ভেঙেচুরে নিঃশেষ করে দিতে? এক্ষেত্রে গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি মুখ খোলে। তারা প্রকাশ্যে বলে, নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে ওই হ্যাকিং করেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়া। আগেই বলা হয়েছে, পুতিন এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্পকে সুবিধা করে দেয়ার মধ্যে রাশিয়া বা দেশটির নেতাদের কি উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুতিনের উদ্দেশ্য ট্রাম্পকে সহযোগিতার চেয়ে হিলারি ক্লিনটনের প্রতি তার গভীর শত্রুতা।
পুতিনের উত্থান
১৯৯১ সালে অবসান হয় শীতল যুদ্ধ। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি থেকে এ সময় পর্যন্ত ইউরোপ দু’টি আলাদা অংশে বিভক্ত ছিল। সেই বিভক্তি রেখা বা বাউন্ডারিকে বলা হয় আয়রন কার্টেইন বা লোহার বেষ্টনী। যখন সেই আয়রন কার্টেইনের পতন শুরু হয় তখন পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে রাতের বেলা বৃষ্টি হচ্ছিল। তখনই ক্ষমতার মোহ পেয়ে বসে ভ্লাদিমির পুতিনকে। তখন তার বয়স মাত্র ৩৭ বছর। তিনি রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি’র টগবগে দুরন্ত এক যুবক। ড্রেসডেনে এ সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে নিয়োজিত তিনি।
বার্লিন প্রাচীর পতনের কয়েক সপ্তাহ পরে  ১৯৮৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর পূর্ব জার্মানির গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান কার্যালয় স্টাসি’তে হামলা চালায় জনতা। দৃশ্যত অসহায় হয়ে পড়েন ওই সংস্থার গোয়েন্দারা। ওই ড্রেসডেনেই বিশাল একটি ভবনে অবস্থিত কেজিবির প্রধান কার্যালয়। সেদিকে চোখ পড়ে লুটেরা, উত্তেজিত উচ্ছৃঙ্খল জনতার। তারা সেখানে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তাদের ভয়ে প্রহরীরা ভবনের ভেতরে ঢুকে যান। এ সময় হামলাকারীদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। তখন কি করলেন পুতিন! তিনি চুলা জ্বালালেন। পূর্ব সতর্কতা হিসেবে তাতে পুড়িয়ে ফেললেন কেজিবির গোপন হাজার হাজার নথিপত্র। তারপর কেজিবির এই প্রধান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এলেন একজন। তিনি ধীর, শান্ত। তিনি বললেন, ‘তোমরা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করো না। আমার কমরেডদের অস্ত্র তাক করা আছে। জরুরি অবস্থায় সেগুলো চালানোর নির্দেশ দেয়া আছে তাদের’। তার এ বলিষ্ঠ ঘোষণায় পিছু হটে জনতা। সেই টগবগে, কৌশলী যুবকটিই হলেন ভ্লাদিমির পুতিন। সেদিনই তিনি কেজিবিতে নিজেকে ইনচার্জ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বিখ্যাত ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্টের মস্কো ব্যুরো প্রধান ছিলেন এ ম্যাগাজিনের সিনিয়র সম্পাদক এডওয়ার্ড লুকাস। তিনি বলেন, বার্লিন দেয়াল পতনের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার সুযোগ সৃষ্টি হয় পুতিনের সামনে। ওই সময় সহায়তা চেয়ে মস্কোতে ফোন করেন তিনি। জবাবে বলা হয়, আপনার নিজেকেই কাজ করতে হবে। রাশিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান সাংবাদিক ও লেখক মাশা গেসেন বলেন, কথাটা শুনতে কেমন যেন গভীর এক ষড়যন্ত্রের মতো মনে হলো।
নিউ ইয়র্কার পত্রিকার সম্পাদক ডেভিড রেমনিকের মতে, এই ঘটনা পুতিনের মনে এক রকম ভীতির সঞ্চার করেছিল। এই আতঙ্ক পুতিন তার সারা জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন। তার সেই ভয় হলো- পপুলার আপরাইজিং বা জনবিস্ফোরণের আতঙ্ক। ওই মুহূর্ত থেকেই পুতিন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। তবে মাশা গেসেন বলেন, নেতৃত্ব মানেই হলো নিয়ন্ত্রণ। পুতিন এ কথাটাই ব্যবহার করে থাকেন। নিজের দেশের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কেজিবিতে ক্যারিয়ার গড়ার পরেই তিনি দ্রুততার সঙ্গে রাজনৈতিক পদে আসীন হন। রাশিয়া ফেডারেশনে ২০০০ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট হন তিনি। তার আগে প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন বরিস ইয়েলৎসিন। পুতিন যে বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন সেই একই বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জর্জ ডব্লিউ বুশ। তিনি রাশিয়ায় নবনির্বাচিত এই নেতার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করেন। ২০০১ সালে তাদের সাক্ষাৎ হয়। তখন পুতিন সম্পর্কে বুশ বলেছিলেন, পুতিন তার দেশের প্রতি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু পুতিনের ক্ষমতার মেয়াদ অল্প কয়েক বছর পূরণ হতেই বুশ প্রশাসন তার সুর পাল্টে ফেলে। পুতিন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বুশ। ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য লড়াই করেন হিলারি ক্লিনটন। ওই সময়ে এব্‌ং ২০১১ সালে বিশ্বজুড়ে যখন গণতন্ত্রের পক্ষে প্রতিবাদ হচ্ছিল তখন পুতিনের কড়া সমালোচনা করেন হিলারি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘটনায় হিলারির ওপর ক্ষেপেছেন পুতিন। এ কারণেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে হিলারির বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে থাকতে পারেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় হিলারি ক্লিনটন ছিলেন একজন সিনেটর। সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশ যেমনটা বলেছিলেন- তিনি পুতিনের অন্তরাত্মা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন- তা নিয়ে উপহাস করেন হিলারি। কারণ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কেজিবির একজন সাবেক এজেন্ট। ‘তাই তার কোনো ব্যক্তিত্ব থাকতে পারে না’। এরপর ২০১১ সালে তৃতীবারের জন্য প্রেসিডেন্ট হওয়ার খায়েশ প্রকাশ করেন পুতিন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মস্কোতে তখন সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নেন যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ওই সময় অনুষ্ঠিত বিতর্কিত রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন ‘অবাধ ও মুক্ত’ নয় বলে অভিহিত করেন তিনি। হিলারি যোগ করেন, ‘অন্য যেকোনো দেশের মানুষের মতো রাশিয়ার মানুষেরও অধিকার আছে। তাদের অধিকার আছে যে, তাদের বক্তব্য শোনা হোক। তাদের ভোট গণনায় নেয়া হোক’। হিলারির এসব বক্তব্যকে পুতিন তার ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখেছেন। ফলে তিনি টেবিল উল্টে দিয়েছেন। পাল্টা অভিযোগ আনেন তিনি। বলেন, হিলারি ক্লিনটন প্রতিবাদকে উস্কে দিচ্ছেন রাশিয়ার নির্বাচন নিয়ে এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তিনি হস্তক্ষেপ করছেন। ওই সময় পুতিন বলেন, ‘আমাদের দেশের কিছু মানুষের মতো কথা বলছেন তিনি (হিলারি)। এর মধ্য দিয়ে তিনি তাদেরকে একটি সংকেত দিচ্ছেন। তারা (জনতা) এই সংকেত বা সিগন্যালে কর্ণপাত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমর্থনে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে’। রাশিয়া ও বাকি বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসেন পুতিন। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১১ সালটি ছিল এমন একটি বছর যখন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। একে বলা হয় আরব বসন্ত।
পুতিন যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখনও তিনি রাশিয়ায় ছিলেন শক্তিধর বা স্ট্রংম্যান। ২০০৮ সালে তিনি যদিও প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেন কিন্তু অনেক বিশ্লেষক বলেন, সব কিছুতেই ঘুঁটি চেলেছেন তিনি। কারণ, তার ঘনিষ্ঠ মিত্র দমিত্রি মেদভেদেভ ছিলেন প্রেসিডেন্ট। পুতিন ফের ক্ষমতায় আসেন ২০১২ সালে। ততক্ষণ পর্যন্ত তার এই ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রশাসন চালিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মেদভেদেভ প্রেসিডেন্ট থাকলেও কলকাঠি ছিল পুতিনের হাতে। এখন যেটা বলা হচ্ছে তাহলো ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাশিয়া শাসন করে যেতে পারেন পুতিন। যদি তা-ই হয় তাহলে জোসেফ স্টালিনের পর তিনিই হতে যাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি প্রথম কোনো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
প্রসঙ্গক্রমে, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন, তখন রাশিয়া কাকে সমর্থন করবে সে বিষয়ে নিয়ে কোনো দ্বিধাই করা চলে না বলে মনে করেন নিউ ইয়র্কার পত্রিকার সাংবাদিক ডেভিড রেমনিক। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পুতিন চেয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটন পরাজিত হোন। কারণ, তিনি ঘৃণা করেন হিলারি ক্লিনটনকে’।
হিলারিকে ঘৃণা করেন পুতিন এবং মনে করেন হিলারি বিজয়ী হলে রাশিয়ার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবেন- এ জন্যই কি তবে তিনি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন? প্রশ্নটা সহজ। কিন্তু উত্তর দেয়া কঠিন। সিএনএনের সুপরিচিত সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস উপরের কথাগুলোকে সমর্থন করে বলেন, ‘আমি মনে করি এগুলোই পুতিনের হস্তক্ষেপের কারণ। আমি পুরোপুরিভাবে আশ্বস্ত হয়েছি, রাশিয়ানরা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল’। পুতিন প্রত্যক্ষ করেছেন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন। তারপর থেকেই তিনি তার মিশন স্থির করেছেন। তিনি রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ও জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে শক্তিশালী করতে চেয়েছেন। এ জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বাড়তে বাড়তে তা শতকরা ৮৬ ভাগে পৌঁছেছে। রাশিয়ার সমাজবিজ্ঞানী ওলগা ক্রিশতানোভস্কায়া ব্যাখ্যা করেন, পুতিন কাজ করেছেন গড়পড়তায় সব রাশিয়ানের জন্য। এতে পশ্চিমাদের সঙ্গে মাঝে মাঝে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে তাকে। যেমন ন্যাটো সম্প্রসারণ ইস্যু। কোনোভাবে যদি ধারণা প্রতিষ্ঠা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে রাশিয়া স্মার্ট হবে, তাতে শুধু সুবিধা পাবেন রাশিয়ার এই নেতা। ওলগা ক্রিশতানোভস্কায়া এটাকেই তার দেশের আদর্শ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, অনেক আগেই সোভিয়েত নেতারা সতর্কতার সঙ্গে একটি ধারণা জনগণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাদের সমস্যাগুলো আসলে কি? ওলগা ক্রিশতানোভস্কায়া বলেন, তারা বুঝিয়েছেন এসব সমস্যার মূলে ওইসব মানুষ যারা দুষ্টচক্রের আমেরিকান, যাদের ত্রুটি আছে, যারা আমাদের জন্য সবচেয়ে খারাপ কাজ করে। তাই পুতিন যখন তার নিজস্ব নীতি বাস্তবায়ন করতে যান, তখন তিনি দ্রুততার সঙ্গে পুরনো এই শত্রুর ইস্যুকে বেছে নেন। তাকে নতুন শত্রু খুঁজে নিতে হয় না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে তিনি হস্তক্ষেপ করেছেন এমন অভিযোগ শুনে পুতিন হাসেন। ব্লুমবার্গ নিউজকে বলেছেন, তিনি এর কিছুই জানেন না। সেপ্টেম্বরে তিনি বলেছেন, এখনকার দিনে কত হ্যাকার আছে আপনি জানেন? তারা আত্মনিবেদিত ও মূল্যবান কাজ করছে। তাদের চেক দেয়া একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠিক এ কারণেই সাইবার আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। এ কাজটি করাসহ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অবকাঠামোগুলোতে দুর্বল জায়গাগুলো সম্পর্কে তাদের জ্ঞান কাজে লাগিয়েছে। এখন এজন্য সুনির্দিষ্ট করে কাউকে দায়ী করাটাও কঠিন হতে পারে। রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পতো নির্দিষ্টভাবে ই-মেইল ফাঁস হওয়াতে কিছু মনে করেন নি। তিনি রাশিয়ার কথিত হ্যাকিং থেকে সুবিধা পেয়েছেন। এ নিয়ে বেশ কিছু তদন্ত হয়েছে বা হচ্ছে। রাশিয়ার একটি ব্যাংক ও ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের মধ্যে সম্পর্ক থাকা একটি কম্পিউটার সার্ভার নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। ট্রাম্পের প্রচারণা টিম ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক থাকার বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে কংগ্রেস। যদি তদন্তে  অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে তা হবে সুদূরপ্রসারী।

জাল পাসপোর্ট-ভিসাসহ গ্রেফতার ৩: র‍্যাব

রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে জাল পাসপোর্ট, ভিসা, বিমানের টিকিট ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামসহ তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার সকালে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো মোবাইল ফোনের খুদে বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। খুদে বার্তায় বলা হয়, র‍্যাব-১০ যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে ওই তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ জাল পাসপোর্ট, ভিসা এবং বিমানের টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় জব্দ করা হয়েছে পাসপোর্ট, ভিসা ও বিমানের জাল টিকিট তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের মিডিয়া কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি মিজানুর রহমান। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা প্রতারক। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি এবং সায়েদাবাদের কোন এলাকা থেকে কখন তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাও জানায়নি র‌্যাব। এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানোর কথা বলেন র‌্যাবের এই মিডিয়া কর্মকর্তা।

এক বছরেও অধরা রয়ে গেল ঘাতকরা

কুমিল্লায় কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তি আজ। ঘাতকরা অধরাই রয়ে গেল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো ফল দেখা যায়নি এবং এখনও রহস্যের জট খোলেনি। এ ঘটনার পর একাধিকবার তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তন করা হলেও দীর্ঘ এ সময়ে হত্যা রহস্যের কিনারা হয়নি। ঘাতকরা ছিল তনুর পরিচিতই। তবুও অদৃশ্য কারণে সবই এখন অচেনা। ধীরে ধীরে এ মামলার কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। তদন্তকারী সংস্থার ধীরগতি দেখে তনুর বাবা-মা ও স্বজনদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে রোববার তনুর মা, বাবা, ভাইসহ স্বজনরা তার কবর জিয়ারত করেছে। আজ তনুর নিজ গ্রাম মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে পালিত হবে প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে কোরআন খানি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। জানা যায়, গত বছরের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘাতকরা ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তনুকে। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
থানা পুলিশ ও ডিবির পর গত বছরের ১ এপ্রিলে মামলাটির তদন্তে দায়িত্ব পায় কুমিল্লা সিআইডি। গত বছরের মে’তে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ৩ জনের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল এবং হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে তারা নিশ্চিত হয়েছিল। কিন্তু দু’দফায় ডাক্তারদের তৈরি করা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে না পারায় অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে দেশব্যাপী বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডটি। এদিকে দীর্ঘ ১ বছরেও তনু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে না পারা, সামরিক-বেসামরিক অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা, দুই দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করতে না পারা, এমনকি ডিএনএ পরীক্ষায় ৩ ধর্ষণকারীর শুক্রাণু পেলেও এ পর্যন্ত ডিএনএ ম্যাচ করে ঘাতকদের শনাক্ত করতে না পারায় এ মামলার ভবিষ্যৎ কিংবা বিচার পাওয়া নিয়ে তনুর পরিবার, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ তনুর পরিবার। তনুর মা আনোয়ারা বেগম রোববার মুঠোফোনে জানান, দেশে অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়, তাদের সাজাও হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় বড় বড় রাঘববোয়ালের ফাঁসির রায় হল, অথচ তনুর খুনিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, তদন্তকারী সংস্থার রহস্যজনক কর্মকাণ্ডে আমরা হতাশ। ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন জানান, সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

‘জান্নাতের লোভে’ জঙ্গি দলে যোগ দেয় জসিম-আরজিনা

খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছিল গ্রেফতার জঙ্গি জসিম (জহিরুল হক) এবং তার স্ত্রী আরজিনা (রাজিয়া বেগম)। তারা নব্য জেএমবির সদস্য হলেও ‘দাওলাতুল ইসলাম’ সংগঠনের নামে কাজ করত। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, এ সংগঠনের হয়ে কাজ করার সময় মৃত্যু হলে জান্নাত অবধারিত- এমন বিশ্বাসেই এ পথে পা বাড়ায় তারা। ‘পরকালে জান্নাতের লোভে’ এ সংগঠনের ‘সুসাইড স্কোয়াড’ টিমের সদস্য বনে যায় এ দম্পতি। তবে সীতাকুন্ডের পশ্চিম আমিরাবাদ এলাকার ‘সাধন কুঠির’ থেকে গ্রেফতার এ জঙ্গি দম্পতি অনেক প্রশ্নেরই জবাব এড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা থেকে পুলিশের প্রশিক্ষিত বিশেষ টিম চট্টগ্রাম আসার কথা। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে, এক ‘বড় ভাই’য়ের কাছ থেকে তারা অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণও নিয়েছিল। বড় ভাই তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সংগঠনের হয়ে কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়া চলবে না। এ জন্য তাদের সঙ্গে থাকত ‘সুইসাইডাল ভেস্ট’। নির্দেশনা ছিল গ্রেফতারের উপক্রম হলেই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সামনে (তাদের ভাষায় তাগুত বাহিনী) আত্মঘাতী হামলার মধ্যে দিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ দম্পতির টিমে ৮ জন সদস্য ছিল। হৃদয় (রাফাদ আল হাসান) নামে এক যুবকের মাধ্যমে তারা দাওলাতুল ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর হৃদয়ই তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করত। তাদের উপার্জনের আর কোনো পথ ছিল না। গত শুক্রবার এ জঙ্গি দম্পতিকে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১২ দিনের রিমান্ডে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশের বিশেষ টিম। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলে, ‘বড় ভাই’ হামলার টার্গেটও ঠিক করে দেয়।
বিদেশী, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিল্প-কারখানা এমনকি চট্টগ্রামের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও তাদের টার্গেটে ছিলেন। বুধবারের অভিযানে যে চারজন নিহত হয়েছে তাদের মধ্যে আরজিনার ভাই কামাল ও তার স্ত্রী জোবাইদা ছাড়াও হৃদয় ও রাশেদেরও মৃত্যু হয়েছে। ছবি দেখেই চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে নিশ্চিত করে এ দম্পতি। প্রসঙ্গত ঢাকার মিরপুর থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই খালাতো ভাই- রাফাদ আল হাসানের সাংগঠনিক নাম হৃদয় এবং আয়াদ আল হাসানের সাংগঠনিক নাম রাশেদ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি দম্পতি পুলিশকে জানায়, ‘তাদের থাকা-খাওয়ার অর্থ জোগান দেয়া হতো সংগঠন থেকে। রাশেদ ও হৃদয় তাদের সঙ্গে সমন্বয় করত। তারাসহ এ টিমে ৮ জন সদস্য ছিল। এ টিমে সোহেল রানা এবং শাহনাজ নামে আরও দু’জন রয়েছে। তারা এখন কোথায় তা জানে না এ দম্পতি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ অনেক জঙ্গির ছবি দেখিয়েছে তাদের। এর মধ্যে রাশেদ এবং হৃদয়ের ছবি তারা চিনেছে। উদ্ধার করা এ ছবির পেছনে রাফাদ আল হাসান ও আয়াদ আল হাসান লেখা থাকায় নিহত দুই জঙ্গি হৃদয় ও রাশেদই যে রাফাদ আর আয়াদ তা নিয়ে তাদের আর কোনো সন্দেহ নেই। এরপরও তারা ডিএনএ টেস্ট করবেন এ দুই জঙ্গির। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নব্য জেএমবির চট্টগ্রামের সমন্বয়ক মুসার ছবিও তাদের দেখানো হয়। তবে তারা চিনতে পারেনি। যে বড় ভাই তাদের অস্ত্র চালনা শিখিয়েছে বলে বলা হচ্ছে সেই বড় ভাইয়ের নাম তারা জানে না বলেও পুলিশকে জানিয়েছে। তবে মুসার নাম তারা শুনেছে বলে জানায়। রাশেদ ও হৃদয় বোমা তৈরির কারিগর ছিল এবং চট্টগ্রামের দুই জঙ্গি আস্তানায় যেসব বোমা বানানো হয়েছিল তা এ দু’জনই তৈরি করে। বুধবার সাধন কুঠিরে প্রথম দফায় পরিচয়পত্র নিয়ে যখন বাড়ির মালিকের সঙ্গে জঙ্গি দম্পতির কথাকাটাকাটি হয় তখন ওই বাসা থেকে কেটে পড়ে।
রাতে তারা দ্বিতীয় আস্তানা ছায়ানীড়ে অবস্থান নেয়। এদিকে নব্য জেএমবির চট্টগ্রামের সমন্বয়ক মুসার যাতায়াত ছায়ানীড়ে ছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। যদিও এ বিষয়টি স্বীকার করছে না জঙ্গি দম্পতি জসিম ও আরজিনা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) কুসুম দেওয়ান যুগান্তরকে বলেন, ‘জঙ্গিরা ছোট ছোট গ্রুপে ৭ থেকে ৮ জনে ভাগ হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের টিমের সদস্যদের বাইরে যে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ রকম এক-দু’জন ছাড়া দলের বেশিরভাগই লোককে তারা চেনে না। যার কারণে এ সংগঠনকে উপড়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। জঙ্গিদের অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উৎসের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ। সূত্র জানায়, ঢাকায় র‌্যাব ব্যারাকে বিস্ফোরিত গ্রেনেড সীতাকুণ্ড থেকে উদ্ধার করা গ্রেনেডের মতোই। সীতাকুণ্ডের চৌধুরী বাড়ির ‘ছায়ানীড়’ ভবন থেকে উদ্ধার করা গ্রেনেডের সঙ্গে ওই সব গ্রেনেডের মিল রয়েছে। একইভাবে সীতাকুণ্ডে উদ্ধার করা বোমার সঙ্গে মিল রয়েছে ৭ মার্চ কুমিল্লায় পুলিশ চেকপোস্টে হামলায় ব্যবহৃত বোমারও। কুমিল্লায় হামলার সময় গ্রেফতার করা হয় হাসান ও ইমতিয়াজ ইমু নামে দুই জঙ্গি সদস্যকে। গ্রেফতারের পর তারা পুলিশকে বলেছে, ধরা পড়ার এক সপ্তাহ আগে আরও যে ৮টি বোমা ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল সেই বোমাই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে ঢাকায় র‌্যাব ব্যারাকে। এসব বোমা তৈরি হতো চট্টগ্রামের পটিয়ায় এবং পরে সীতাকুণ্ডের ‘ছায়ানীড়’ নামের ওই বাড়িতে। বোমা তৈরির এসব কাঁচামাল চট্টগ্রাম নগরী,
সীতাকুণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন খুচরা দোকান থেকে সংগ্রহ করা হতো। ইতিমধ্যে ওইসব এলাকার কয়েকটি দোকানের নামও পেয়েছে পুলিশ। আটক জঙ্গি দম্পতি ও বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার জঙ্গি সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নব্য জেএমবি মসজিদ-মাদ্রাসার নাম করে যেমন চাঁদা তোলে তেমনি সোনার দোকান, হুন্ডির টাকা ছিনতাই করেও তারা ফান্ড গঠন করে। চট্টগ্রামের সদরঘাটে ২০১৫ সালে এক ব্যবসায়ীর ওপর বোমা হামলা করে বিপুল পরিমাণ টাকা লুট করেছিল নব্য জেএমবি। ওই ঘটনায় এক জঙ্গি সদস্য ও এক ব্যবসায়ীও নিহত হয়। সে সময় গ্রেফতার জেএমবির একাধিক সদস্য পুলিশকে জানায়, তারা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ফান্ড গঠন করতেই এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। তিনি এও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নব্য জেএমবি অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করছে। আন্তর্জাতিকভাবে চেনার জন্য জেএমবির শাখা সংগঠন হিসেবে ‘দাওলাতুল ইসলাম’র নামেই নব্য জেএমবি কার্যক্রম চালাত। তাছাড়া তারা কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। এক ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে টিমের সদস্যদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করত। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি দম্পতির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রামের বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের যৌথ খামার বাড়ি এলাকায় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কুমিল্লায় পুলিশের চেকপোস্টে হামলার সময় বোমাসহ হাতেনাতে আটক হাসানের বাড়ি বান্দরবানের বাইশারীতে।
এখনও মর্গে জঙ্গির লাশ : সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে এক শিশু ও চার জঙ্গির লাশ এখনও পড়ে আছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পুরো শরীর এত বেশি বিকৃত হয়েছে যে তাদের চেনার উপায় নেই। এ কারণে তাদের লাশ যারা দাবি করবে তাদের ডিএনএ টেস্ট করানোর পর লাশ দেয়া হবে। এছাড়া এর আগেও যদি লাশ কোনো স্বজন চিনতে পারেন তাহলে সে ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেয়া হবে। জঙ্গিদের টার্গেট : জঙ্গিদের টার্গেট সাধারণ মানুষ নয়, টার্গেট পুলিশসহ অন্যরা। এজন্য তারা সাধারণ মানুষকে মারার পক্ষপাতী নয়। সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সীতাকুণ্ডের ‘ছায়ানীড়’ ভবনে প্রথমে একটি পরিবার আমাদের ফোন করে কান্নাকাটি করে। তারা ফোন করে বলেছে তাদের দরজার কড়া নাড়া হচ্ছে। আমরা তখন বলেছি, কাউকে যাতে ঘরের ভেতরে ঢুকতে দেয়া না হয়। দরজার সামনে ঘরের আলমিরাসহ ভারি কোনো বস্তু রাখার পরামর্শ দেই। একে একে ওই বাসার তিনটি পরিবারও এ কাজ করেছে। এরপরও সাধারণ মানুষকে মারার ইচ্ছা থাকলে তাদের কাছ থেকে যে প্রকার শক্তিশালী বোমা পাওয়া গিয়েছিল তা দরজার সামনে রাখলে দরজাসহ উড়ে যেত।
এতে বোঝা যায় তাদের টার্গেট সাধারণ মানুষ নয়। যেখানে ভাড়াটিয়া সেখানে অভিযান : যেখানে ভাড়াটিয়া আছে সেখানে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। এ সিদ্ধান্ত শনিবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের মাসিক অপরাধবিষয়ক সভায় জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে জানিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রতিটি থানায় টিম গঠন করে যে এলাকায় বাসা ভাড়া থাকে ওই এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ওই সব ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হবে। অভিযানে কোনো কিছু পাওয়া না গেলেও ভাড়াটিয়ার ভোটার আইডি কার্ড নেয়া হবে। কি কারণে তারা ভাড়া থাকেন তা জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আরও ১৮ বোমা নিষ্ক্রিয় : সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানা ছায়ানীড় থেকে উদ্ধার করা আরও ১৮টি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসব বোমা নিষ্ক্রিয় করে।

হানিফকে ২০ দিন আগে তুলে নেয়ার দাবি পরিবারের

রাজধানীর আশকোনা থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটকের পর হাসপাতালে মারা যাওয়া হানিফ মৃধাকে ২০ দিন আগে তুলে নেয়া হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কাঁচপুর সেতুর কাছ থেকে তুলে নেয়া হয় বলে তার পরিবার দাবি করেছে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার। এখনও খোঁজ নেই তার সঙ্গে থাকা বন্ধু মো. সোহেল হোসেন মন্টুর। হানিফের স্ত্রী কুলসুম বেগম সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হানিফ চরমোনাই যান। সেখান থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি লঞ্চে ফিরে আসেন। নামেন কাঁচপুর সেতুর কাছে। তাদের আনতে প্রাইভেটকার নিয়ে যায় চালক জুয়েল। সেখানে গিয়ে জুয়েল দেখতে পান সাত-আটজন নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে হানিফ ও সোহেলকে হাইয়েস গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। আর কয়েকজন এসে প্রাইভেট কারে উঠে জুয়েলকে অস্ত্র ঠেকিয়ে চালাতে বলে। এরপর তারা জুয়েলকে মারধর করে পূর্বাচলে ফেলে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। হানিফের ভাই মো. হালিম মৃধা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৪ মার্চ জিডি করেন। হালিম সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার (১৫ মার্চ) সকালে র‌্যাবব-১ এর একটি গাড়ি ও সাদা রঙের একটি হাইয়েস গাড়ি আমাদের বাসায় আসে। রায়েরবাজার শাহ আলী গলির মুখে র‌্যাববের গাড়িটি দাঁড়ায়। আর সাদা গাড়িটি বাড়ির সামনে দাঁড়ায়।
সাদা গাড়ি থেকে চার-পাঁচজন হানিফকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ঢোকে। এরপর বাসার লোকজনের সামনে তার স্ত্রী কুলসুমকে বলে, আপনার স্বামী একটি অন্যায় কাজে সহযোগিতা করেছে। এরপর হানিফের ব্র্যাক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের চেক বই এনে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার চেকে সই করিয়ে নেয়। এ বিষয়ে শনিবার র‌্যাবের মিডিয়া অ্যান্ড লিগ্যাল উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান যুগান্তরকে বলেছিলেন, ঘটনার পর আশকোনা থেকে হানিফ মৃধা নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে বিকাল ৪টার দিকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে সে অসুস্থবোধ করায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা বলেছেন, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাদ দিয়ে আমাদের আমতলী প্রতিনিধি জানান, হানিফ মৃধা বরগুনার আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রামের সোবাহান মৃধার বড় ছেলে। বাবাকে সহযোগিতা করতে সে ছোটবেলায় সংসারের হাল ধরে। শুরুতে এলাকায় রিকশা চালিয়েছে। ১৬ বছর আগে সে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। পরিবার নিয়ে ঢাকায় এসে হানিফ আবার রিকশা চালানো ও রাস্তার পাশে পুরনো জামাকাপড় বিক্রির কাজ শুরু করে। বর্তমানে ঢাকায় তার তিনটি যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকার রয়েছে। রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকত হানিফ। হানিফ মৃধার বাবা সোবাহান মৃধা যুগান্তরের প্রতিনিধিকে বলেন, হানিফ ১৬ বছর আগে বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে যায়।
এখানে রিকশা চালানোর পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসাও করত। হানিফের দুই স্ত্রী ও ৫ কন্যা সন্তান রয়েছে। ঢাকায় যাওয়ার পর ১০ বছর পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি হানিফ। গত ৬ বছর ধরে মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসা যাওয়া করত। সোবহান মৃধা বলেন, হানিফ চরমোনাই পীরের মুরিদ ছিল। সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বরিশালের চরমোনাইয়ে বার্ষিক মাহফিলে ছেলের সঙ্গে তার দেখা হয়। হানিফকে বাড়ি আসতে বললে সে নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে জানিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে। রোববার সকালে যুগান্তরের প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, সোবাহান মৃধার বাড়িতে ঔৎসুক্য গ্রামবাসীর উপচেপড়া ভিড়। সেখানে হানিফের প্রথম স্ত্রী লাইলী বেগম তিন সন্তান নিয়ে কান্নাকাটি করছেন। লাইলী বেগম যুগান্তরকে বলেন, ‘মোর স্বামী মাঝেমধ্যে বাড়ি আইত, হে ধর্মপ্রাণ ছিল। নামাজ-রোজা নিয়মিত করত।’ তার স্বামী কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিনা জানতে চাইলে লাইলী বেগম কোনো উত্তর দেননি। আমতলী থানার ওসি শহিদ উল্লাহ জানান, হানিফ মৃধার বিরুদ্ধে আমতলী থানায় কোনো মামলা নেই।

জঙ্গিদের অস্ত্রের উৎস ‘পাহাড়’

জঙ্গিদের এখন অস্ত্র সংগ্রহের বড় উৎস দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। দেশের বাইরে থেকে পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা অস্ত্র হাতবদল হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে জঙ্গিদের কাছে। পাহাড়ে তারা অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলছে। এমনকি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রের কারখানার সন্ধান মিলছে। এসব কারখানা থেকেও জঙ্গিরা অস্ত্র কিনছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ার কারণে জঙ্গিরা এখন দুর্গম পাহাড়ি এলাকাকে নিরাপদ ভাবছে। সেখানে তারা আস্তানা গাড়ছে। এমন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়, ভারত ও মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সহায়তায় পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় সময় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরকের চালান প্রবেশ করে। সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রবণতা আরও বেড়েছে। এসব সংগঠনের মাধ্যমে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রের চালান আমদানি করে থাকতে পারে। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে এসব অস্ত্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করছে। যা তারা নাশকতার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে বলে আশংকা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ইস্যুটি জঙ্গিরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে তারা এখন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে আস্তানা গড়ে তুলছে। বিশেষ করে নব্য জেএমবি এ বিষয়ে খুবই সক্রিয়।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরেরসরাই ও সীতাকুণ্ডে নব্য জেএমবির আস্তানার সন্ধান মিলেছে। একটি আস্তানায় অভিযানের সময় শিশুসহ পাঁচ আত্মঘাতী জঙ্গি নিহত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গিরা পাহাড়মুখী হলেও আরও তিন উপায়ে অস্ত্র সংগ্রহ করছে। তারা আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। ভারতে অবস্থানকারী জঙ্গিদের সহায়তায় এগুলো সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশে আসছে। কখনও কখনও বিদেশী জঙ্গিগোষ্ঠীর সহায়তা নেয়া হচ্ছে। এর বাইরে পরিচয় গোপন করে দেশীয় অপরাধী চক্রের কাছ থেকে ছোট অস্ত্র কিনছে জঙ্গিরা। এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গি আস্তানার সন্ধানে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। অস্ত্রের সন্ধানে একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছি। বিভিন্ন সময় একে-২২সহ অনেক অস্ত্র উদ্ধারও করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত এলাকাটি খুবই দুর্গম। সন্ত্রাসীরা এর সুযোগ নিয়ে থাকে। তবে আমরা সতর্ক আছি। র‌্যাব ৭-এর অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যেন অস্ত্র দেশে নিয়ে আসতে না পারে সেজন্য সব সময় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম যুগান্তরকে বলেন, ‘এ জাতীয় খবর আমরাও পাই। তবে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে আমরা সতর্ক আছি। আমাদের সোর্সের মাধ্যমে এসব বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের কাছ থেকে একে-২২ ও এমকে-১১ মডেলের শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
কয়েক বছরে গ্রেনেড তৈরির প্রধান উপকরণ ডেটোনেটর, সাইকেল বোমা, টেনিস বল বোমা এবং সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এমনকি নিজস্ব তৈরি ড্রোন এবং হাতে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। গত ১০ বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সহস্রাধিক গ্রেনেড এবং শতাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামে শহীদ হামজা বিগ্রেডের জঙ্গিদের কাছ থেকে একে-২২ উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর এমকে-১১ রাইফেল এবং ২৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় জেএমবির জঙ্গিদের কাছ থেকে। চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারের পর জঙ্গিরা জানিয়েছিল এসব অস্ত্র তারা পাহাড়ি বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এবং অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রয় করে। মিয়ানমারের পাঁচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মাধ্যমে আসছে অস্ত্র : মিয়ানমারে পাঁচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে অস্ত্র। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকা অরক্ষিত হওয়ার কারণে এসব অস্ত্র খুব সহজেই দেশে আসছে। বিশেষ করে পাহাড়ে সক্রিয় ইউপিডিএফ এবং জনসংহতি সমিতির বিদ্রোহীদের মাধ্যমে অস্ত্র দেশে আসছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে এসব এলাকা অনেকটাই অরক্ষিত। এ সুযোগে বিচ্ছিন্নতবাদী সংগঠন এবং অস্ত্র ব্যবসায়ীরা অস্ত্র ও বিস্ফোরক দেশে নিয়ে আসছে। মিয়ানমারের যে পাঁচ বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জঙ্গি সংগঠনের মাধ্যমে দেশে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আসছে এগুলো হল- আরাকান আর্মি (এএ), আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি), ন্যাশনাল ইউনাইটেড পার্টি অব আরাকান (এনইউপিএ), পার্টি অব আরাকান (পিএ), আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামী ফ্রন্ট এবং ডেমোক্রেটিক পার্টি অব আরাকান। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে মিয়ানমারের কারেন্ট প্রদেশে ১৬টি একে-৪৭ রাইফেলসহ আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) অর্থ সম্পাদক ধরা পড়ে। এ অস্ত্রগুলো বাংলাদেশে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের কাছে আসার কথা ছিল। পাহাড়ে মিলছে অস্ত্রের কারখানা : আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অন্তত ৩০টি অস্ত্রের কারখানা রয়েছে। জানুয়ারিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে আবদুল মাবুদ ও আবুতাহেরকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব জানায়, মহেশখালীর দুর্গম এলাকাতে অনেকগুলো অস্ত্রের কারখানা রয়েছে। সেখানে তিন হাজার টাকাতেও মিলছে অস্ত্র। এ বিষয়ে র‌্যাব ৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, জানুয়ারিতে মহেশখালীতে কয়েকটি অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ধরনের অস্ত্রের কারখানা এখানে অনেক আগে থেকেই ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এ এলাকায় আরও অস্ত্রের কারখানা থাকতে পারে। আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা ও গ্রেনেড তৈরিতে সক্ষমতা বাড়ছে দেশীয় জঙ্গিদের : আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা তৈরিতে সক্ষমতা বাড়ছে জঙ্গিদের। এভাবে দেশের বাইরে থেকে আসা বিস্ফোরক দিয়ে তারা নিজেরাই শক্তিশালী বোমা ও গ্রেনেড তৈরি করছে। গুলশান হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডগুলো দেশীয় জঙ্গিরা তৈরি করেছিল। নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বোমা বিশেষজ্ঞ জঙ্গি সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ এগুলো তৈরি করে হামলাকারীদের সরবরাহ করে। গুলশান হামলার কয়েকদিন পর গাবতলী থেকে ৮৭৮টি ডেটোনেটরসহ নব্য জেএমবির চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করে পুলিশের জঙ্গি দমন ইউনিট। সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়,
একটি ডেটোনেটর দিয়ে শক্তিশালী গ্রেনেড বানানো সম্ভব। এদিকে ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর হোসনী দালানে বোমা হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডগুলো জঙ্গিরা নিজেরাই তৈরি করেছিল। এ গ্রেনেডগুলো দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। ওই ঘটনার পর ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ১৫ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে রাজধানীতে ১৬টি গ্রেনেড, দুটি হাতবোমা, সুইসাইডাল ভেস্ট, পাইপ বোমা এবং অন্তত ২০০টি গ্রেনেড তৈরির উপকরণ উদ্ধার করে পুলিশ। সম্প্রতি গাজীপুরে প্রিজন ভ্যানে হামলাকারী জঙ্গির কাছ থেকে মোবাইলের মতো দেখতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এটি দেশীয় জঙ্গিরা ব্যবহার করে থাকে। এর আগে ২০১৫ সালে বাড্ডায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) কাছ থেকে এ ধরনের একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছিল পুলিশ। গাজীপুর থেকে হাতে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সুলাইমান যুগান্তরকে বলেন, এটি দেখতে মোবাইলের মতো হওয়ায় বহনে অনেক সুবিধা। এছাড়া খুব কাছ থেকে সুইচ টিপে গুলি করা যায়। জঙ্গিদের অস্ত্র ও বোমা তৈরির বিষয়ে একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, কয়েকজন দুর্ধর্ষ জঙ্গি দেশের বাইরে থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে এসে অন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। নব্য জেএমবির এ ধরনের তিন দুর্ধর্ষ জঙ্গি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এরা হল- সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর এবং মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান। তারা সবাই বোমা বিশেষজ্ঞ। নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের মূল কারিগর তারাই। এমনকি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের অনেক বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে এসে অস্ত্র ও বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সহকারী কমিশনার আহমেদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নব্য জেএমবির তিন দুর্ধর্ষ জঙ্গিকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

শহীদ মিনারে মিজারুল কায়েসের মরদেহ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাঙ্গণে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মিজারুল কায়েসের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টার পর এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার লাশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে সবার শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ সেখানে রাখা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামীকাল মঙ্গলবার তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। তবে এর আগে আজ বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর মঙ্গলবার মিজারুল কায়েসের শেষ জানাজা কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ার গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে ঢাকায় নিয়ে এসে ওই দিন তার লাশ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। গত ১১ মার্চ ব্রাজিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজারুল কায়েস। রোববার রাতে তার লাশ ঢাকায় আনা হয়। ২০১৪ সাল থেকে ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এর আগে তিনি রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও মালদ্বীপে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। পেশাদার কূটনীতিক মিজারুল কায়েস ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন।

সাত লেয়ারের চা খেয়ে ৭ হাজার টাকা দিলেন রাষ্ট্রদূত

সাত লেয়ারের চা পান করে তৃপ্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আহমদ মোহাম্মদ আল দিহাইমীর দোকানিকে সাত হাজার টাকা দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের নীলকণ্ঠ চা কেবিনের সাত রঙা চা পান করে অভিভূত হন রাষ্ট্রদূত। বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিশ্বজিত পাল জানান, বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আহমদ মোহাম্মদ আল দিহাইমীর শনিবার ব্যক্তিগত সফরে শ্রীমঙ্গল আসেন। সন্ধ্যায় তিনি নীলকণ্ঠ চা কেবিনে আসেন। এখানে সাত লেয়ারের চা পান করেন।
খুশি হয়ে দোকানি সাত লেয়ারের চায়ের আবিষ্কারক রমেশ রাম গৌঢ়কে ৭ হাজার টাকা দেন। দোকানি রমেশ রাম গৌঢ় বলেন, কাতারের রাষ্ট্রদূত আমার দোকানে এসে আমার তৈরি চা খাবেন, আমি তা ভাবতেও পারিনি। তিনি আমাকে অনুপ্রাণিত করতে সাত হাজার টাকা দিয়েছেন। এ পুরস্কার পেয়ে আমি বেশ খুশি। জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, রাষ্ট্রদূতের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুর রহমান আসাদ, শ্রীমঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় ও সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারে জঙ্গি সন্দেহে রোহিঙ্গাসহ আটক ৬

কক্সবাজার শহরে একটি গেস্ট হাউজ থেকে জঙ্গি সন্দেহে ২ রোহিঙ্গাসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাত ৮টার দিকে সদর থানা ভবনের পিছনের গলির কস্তুরাঘাট এলাকার যমুনা গেস্ট হাউজ থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক রোহিঙ্গারা টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত শিবিরের শরণার্থী। শহরের বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী ওই গেস্টহাউজটির একটি কক্ষে বসে তারা গোপন সভা করার সময়েই পুলিশ তাদের আটক করে। আটক রোহিঙ্গারা হলো-টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের এইচ ব্লকের ৬৯৮ শেডের বাসিন্দা মৃত দীন মোহাম্মদের ছেলে মৌলভী ইয়াছিন (৩৬) ও একই শিবিরের আই ব্লকের নজির আহমদের ছেলে মৌলভী নুরুল আমিন। আটক অপর চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। 
তারা হলো- কক্সবাজার পৌরসভার ইসলামপুর দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মৌলভী নুরুল হোসেন (৩৩) ও একই এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম (৪৩) ও পাহাড়তলী বাদশাহঘোনা এলাকার রশিদ আহমদের ছেলে হাফেজ মো. ইলিয়াছ (৩৪)। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.আফরুজুল হক টুটুল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবচপাচারকারি দলের সদস্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সাগর পথে জাহাজ যোগে মানবপাচারে তারা লিপ্ত রয়েছে বলে ধারণা আমাদের। তিনি আরো জানান, আটক ব্যক্তিদের মোবাইল কল ও নিবন্ধিত নাম্বার চেক করা হয়েছে। দেখা গেছে, তারা ভাইবারে যোগাযোগ করেছে বেশি। তবে তারা জঙ্গিকান্ডে জড়িত কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শিগগিরই ফিরছেন মিয়ানমারে বন্দি ২৩ বাংলাদেশী

মিয়ানমারের কারাগারে বন্দি ২৩ বাংলাদেশীকে শিগগিরই ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্মকর্তারা। রোববার বিজিবি-বিজিপি’র ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের ঘুমধুম বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৩১/১-এর কাছে রোববার সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার ৩৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল মনজুরুল হাসান খান। আর বিজিপির পক্ষে ১১ সদস্যের নেতৃত্ব দেন মংডুর ১ নম্বর বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্রাঞ্চের অধিনায়ক লে.কর্ণেল ছ্যা জায়ের লিন। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, সভায় আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে দু’পক্ষ একমত পোষণ করেন। তা হলো-আগামী ২২ থেকে ২৮ মার্চ মেইন পিলার-৩১ থেকে ৪০ পর্যন্ত বিজিবি এবং বিজিপি যৌথভাবে সীমান্ত পিলার চেকিং-টহল সম্পন্ন করবে। এছাড়াও বিজিবি-বিজিপি সমন্বিতভাবে সীমান্ত পরিদর্শণ, 
সীমান্তে যে কোন সমস্যা হলে উভয় পক্ষই অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা, কোম্পানি-বিওপি কমান্ডার পর্যায়ে তাৎক্ষণিক সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করার বিষয়ে উভয় অধিনায়ক একমত পোষণ করেন। মিয়ানমারে কারাভোগ করা ২৩ বাংলাদেশী নাগরিককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিগগিরই হস্তান্তর ও গ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। পরে উভয় পক্ষের সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর বিজিবি-বিজিপি কমান্ডাররা সীমান্ত মেইন পিলার-৩১ এবং নির্মাণাধীন বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক পরিদর্শণ করেন। বিজিবি অধিনায়ক জানান, সৌজন্য সাক্ষাত অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। আলোচনা শেষে পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা নিদর্শণ স্বরুপ উপহার সামগ্রী বিনিময় করা হয়। সীমান্ত এলাকায় আগের মতো শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিজিবি ও বিজিপি কর্মকর্তারা। আগামী দিনগুলোতে উভয় দেশের সীমান্তে যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং আন্ত: সীমান্ত সমস্যাগুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে এ প্রত্যয়ে সৌজন্য সাক্ষাত সমাপ্ত হয়।

ফতুল্লায় ইয়াবাসহ স্কুলছাত্র গ্রেফতার



নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা থেকে মাত্র দুই হাজার টাকার প্রলোভনে  সাড়ে ৩শ'পিস ইয়াবা নিয়ে চাষাঢ়ায় আসার পথে এক স্কুলছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত নাজমুল হোসেন (১৬) আড়াইহাজার উপজেলার ইলমদী এলাকার ফজলুল করিমের ছেলে এবং সিংহদীয়া মোতালেব ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র। রোববার বিকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় চেকপোস্টে নাজমুল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। ফতুল্লা মডেল থানার এসআই অটল দাস জানান, সাইনবোর্ড এলাকায় চেকপোস্টে একটি সিএনজি আটক করে তল্লাশির সময় নাজমুলের কাছ থেকে সাড়ে ৩’শ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল জানিয়েছে সে ১০ম শ্রেনীর ছাত্র। দুই হাজার টাকার বিনিময়ে চাষাঢ়ায় মাসুদ নামে এক ব্যক্তির কাছে ইয়াবাগুলো পৌঁছে দেয়ার জন্য আড়াইহাজার থেকে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতি

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে গাছ ফেলে বেশ কয়েকটি গাড়িতে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ ডাকাতদল বাসের যাত্রীদের মারধর করে ও কুপিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে লুটপাট চালায়। সশস্ত্র ডাকাতদের হাতে কম পক্ষে ৪ যাত্রী আহত হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের বোয়ালমারী চন্দ্রাবতী ইঁদারার কাছে রোববার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা সড়কের গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের একটি বাস প্রথমে ডাকাতির কবলে পড়ে। ওই বাসের যাত্রীদের মারধর করে লুটপাট শুরু করে ডাকাতরা। পরে পূর্বাশা ও চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের আরও দুটি বাসে ডাকাতি করে দুর্বৃত্তরা।
শেষে এসিআই কোম্পানির একটি কাভার্ড ভ্যান ডাকাতির কবলে পড়ে। ড্রাইভারকে মারধর করে লুটপাট করে তারা। ট্রাক ড্রাইভার জনি আহমেদ জানান, ডাকাতির ঘটনা আঁচ করতে পেরে ডাকাতদের অদূরে ট্রাক রেখে তিনি পালিয়ে যান। এ সময় হেলপার সোহাগকে কুপিয়ে টাকা পয়সা কেড়ে নেয় ডাকাতরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন- রয়েল এক্সপ্রেসের ড্রাইভার শামীম হোসেন, যাত্রী আবদুল হামিদ ও ট্রাক হেলপার সোহাগ। তবে কয়জনের কাছ থেকে কত টাকা ডাকাতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) তরিকুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, রয়েল এক্সপ্রেস ও এসিআই কোম্পানির একটি গাড়িতে দুর্বৃত্তরা হানা দিয়েছে। একজন সামান্য আহত হয়েছে। তবে, লুটপাটের ঘটনা তেমন ঘটেনি।

বিশ্ববাজারে চিনির দাম ৯ মাসে সর্বনিম্ন

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত চিনির দামে নিন্মমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহের সর্বশেষ লেনদেনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম কমে নয় মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিন্ম অবস্থানে পৌঁছায়। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী মৌসুমে বিশ্ববাজারে বেশি উদ্বৃত্ত থাকার আশংকা থেকে পণ্যটির দামে নিন্মমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দরপতনের জন্য বাজারের কৌশলগত পরিবর্তনকেও দায়ী করছেন তারা। খবর রয়টার্স। লন্ডনে গত শুক্রবার ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি পাউন্ড অপরিশোধিত চিনি বিক্রি হয়েছে ১৭ দশমিক ৫০ সেন্টে, স্থানীয় মুদ্রায় যা ১৪ টাকা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে)। সে হিসেবে প্রতি কেজি ৩১ টাকা হয়। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের জুনের শুরুর দিক থেকে এ পর্যন্ত এটিই সর্বনিন্ম দর। অপরিশোধিত চিনির দামের নিন্মমুখী ধারা প্রসঙ্গে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে ২০১৭-১৮ মৌসুমে বিপুল পরিমাণ চিনি উদ্বৃত্ত হিসেবে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আখের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শীর্ষ উৎপাদক দেশ ব্রাজিলে। সম্প্রতি দেশটি চিনি উৎপাদনের দিকেও বেশি জোর দিয়েছে।
এ কারণে আগামী মৌসুমে উদ্বৃত্ত সমস্যায় ভুগতে পারে পণ্যটির বিশ্ববাজার। ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত চিনির দর। চীনে চিনি আমদানির বিষয়ে তদন্ত আরও এক মাস চলবে বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পণ্যটির শীর্ষ ভোক্তা দেশ কর্তৃক এ আমদানি বিলম্বের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আমদানিকারকদের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের মতোই হবে মনে করছেন বাজারসংশ্লিস্টরা- যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে। ভোগ্যপণ্য বিপণন সম্পর্কিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এগ্রিলায়নের বাজার বিশ্লেষক জেমস লিদ্দিয়ার্ড বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চিনির দরপতনের জন্য জোরালো কোনো কারণ ছিল না। তারপরও দাম কমেছে। দরপতনের জন্য তিনি বাজারের কৌশলগত পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন। অপরিশোধিত চিনির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিন্মমুখী হয়েছে পরিশোধিত চিনির বাজারও। শুক্রবার টনে ১১ ডলার ৩০ সেন্ট বা স্থানীয় মুদ্রায় ৯০৪ টাকা দাম কমেছে পণ্যটির। মে মাসে সরবরাহ চুক্তি অনুযায়ী ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি টন পরিশোধিত চিনি বিক্রি হয়েছে ৪৯৯ ডলারে বা স্থানীয় মুদ্রায় ৩৯ হাজার ৯২০ টাকা।

ছোট ঋণে বড় দুর্নীতি

রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে (বিডিবিএল) গণহারে ঋণ অনিয়ম করা হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১১ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ শাখা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে অনেক অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানও ঋণ পেয়েছে। বর্তমানে শাখাটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭৮ শতাংশই খেলাপি। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এসব ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো নিয়ম অনুসরণ করেননি। উল্টো গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতি করা হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের কারণে শাখাটি হুমকিতে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট ব্যাংকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিতোষণ নীতির কারণে বিডিবিএলের আজকের এ পরিণতি। তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোর পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়কে এর দায়ভার নিতে হবে। পাশাপাশি জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জানা যায়, ২০১৫ সালের শেষে বিডিবিএলের প্রধান কার্যালয় ও ৬টি বড় শাখার ওপর বিশদ পরিদর্শন পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগের ৬০ দশমিক ৬৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে ওই ছয় শাখা। তাতে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর পদে পদে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর মধ্যে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশুগঞ্জ শাখার ভয়াবহ ঋণ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়। আশুগঞ্জ শাখায় ৭৮ শতাংশ খেলাপি ঋণের কথা শুনে চমকে ওঠেন সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। তিনি বলেন, দীর্ঘ ব্যাংকিং জীবনে খেলাপির এমন চিত্রের কথা আর শুনিনি। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকের কী হবে। কোথায় যাবে এসব ব্যাংক। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেংকারি, সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেংকারি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ভয়াবহ ঋণ জালিয়াতি, বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতিসহ বিগত ১০ বছরে সরকারি ব্যাংকে যত কেলেংকারি হয়েছে, তার একটিরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। সে কারণে এসব অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম হওয়ার সময় আশুগঞ্জ শাখার ঋণ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হারুন অর রশিদ খান। তার যোগসাজশে সব ঋণ দেয়া হয়েছে। অনিয়মের ধরন বর্ণনায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, একজন গ্রাহক ৩ লাখ টাকা ঋণ আবেদন করেন। গ্রাহকের আবেদনপত্রের সঙ্গে ভুয়া কাগজপত্র সংযোগ করে প্রধান কার্যালয় থেকে মোট ৩০ লাখ টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে গ্রাহকের পকেটে ৩ লাখ টাকা গেলেও হারুন অর রশিদ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পকেটে গেছে ২৭ লাখ টাকা। হারুন অর রশিদ খান এখন ব্যাংকের কোনো পদে নেই। তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই হারুন অর রশিদ খানকেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আবার ঋণ আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছে। এ ব্যাপারে হারুন অর রশিদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিডিবিএলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর আহমদ যুগান্তরকে বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
বিডিবিএলের আশুগঞ্জ শাখায় ঋণ দেয়া ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল। এছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ পাওয়া গেছে। এর একটি হল মেসার্স ইশা শিপিং লাইন্স। ২০১৪ সালের ১৪ মে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ২০ লাখ টাকার মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল সরেজমিন গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। বর্তমানে পুরো ঋণটি আদায় অনিশ্চিতমানের খেলাপি। এর বাইরে ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মেসার্স আরাফাত ডেইরি ফার্মকে দেয়া হয়েছে ১৫ লাখ টাকার ক্ষুদ্র ঋণ। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক টিম সরেজমিন গিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানটিরও অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। বর্তমানে পুরো ঋণটি মন্দমানের খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ২০১২ সালে এপ্রিলে কালা মিয়া অটো পলিশের অনুকূলে দুই দফায় মোট ৪৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। এখন পর্যন্ত একটা টাকাও পরিশোধ করেনি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পায়, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। এদিকে বিডিবিএলের আশুগঞ্জ শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হারুন অর রশিদ খানসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়মে জড়িত থাকার সরাসরি প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর লামিয়া শিপিং লাইন্সের অনুকূলে ৩০ লাখ টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। তার আগে শাখার প্রধান ঋণ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ খানের নেতৃত্বে প্রিন্সিপাল অফিসার ছাইদুর রহমান ও সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মির্জা তৈবুর রহমান প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিন দেখে এসেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলকে। কিন্তু যে তারিখে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন ওই তারিখে হারুন অর রশিদ খান ছিলেন ট্রেনিংয়ে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ দেয়া হয়েছে।
অথচ ২০১৫ সাল পর্যন্ত একটি টাকাও ফেরত দেয়নি সংশ্লিষ্ট গ্রাহক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, হাজি তারা মিয়া পোলট্রি ফার্মের অনুকূলে ২০১২ সালের ৯ জুলাই প্রায় ৪ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে বিডিবিএলের আশুগঞ্জ শাখা। ২০১৫ সালে দেখা যায়, ঋণটি ৩০ মাস পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ। এরপরও প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ২০১৩ সালে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, যা প্রায় ২০ মাস ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। উভয় ঋণে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম ঋণের অনুকূলে যে সম্পত্তির বন্ধকি দলিল দেখানো হয়েছে তা আরও একটি বেসরকারি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া শাখায় বন্ধকের মূল দলিল রক্ষিত নেই। দ্বিতীয় ঋণের ক্ষেত্রে হেবার মাধ্যমে দান করা সম্পত্তি জামানত হিসেবে নিয়েছে বিডিবিএল, যা পুরোটাই বেআইনি। নামের বানান কিছুটা পরিবর্তন করে একই ব্যক্তির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাজী তারা মিয়া অটো বয়লার অ্যান্ড রাইসের অনুকূলে ২০১২ সালের ১৯ জুন ১ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে বিডিবিএলের সংশ্লিষ্ট শাখা। ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঋণটিতে আদায় মাত্র ৬ লাখ টাকা। ঋণ হিসাবটি ৩০ মাস ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানে রয়েছে। উভয় প্রতিষ্ঠানের মালিক দেখানো হয়েছে কাওসার আহমেদকে। ১ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকে জামানত দেখানো হয়েছে ২৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ জমি, যা অতিমূল্যায়িত এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সামান্য মূল্যের যে জমি ৩০ লাখ টাকা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে সেই জমির মূল দলিলও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলকে দেখাতে পারেনি বিডিবিএল। জোহরা অটো ফুড প্রসেসিং মিলসের অনুকূলে ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ৪৮ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন করে বিডিবিএলের আশুগঞ্জ শাখা। প্রতিষ্ঠানটি একটি ভাড়া করা রাইস মিল। এর মালিক মো. অহিদুল্লাহ।
ঋণ গ্রহণের পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গ্রাহক এক টাকাও পরিশোধ করেনি। ফলে বর্তমানে সুদে-আসলে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা। পরিদর্শন তারিখে ঋণ হিসাবটি ১৯ মাস পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ। এরপরও একই গ্রাহকের অনুকূলে আরও ৪১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করা হয়, যার ২১টি কিস্তি অনাদায়ী। সর্বশেষ ঋণটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ লাখ ৪ হাজার টাকায়। উভয় ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়ন হচ্ছে, ভাড়ায় চালিত রাইস মিলের অনুকূলে মেয়াদি ঋণ অনুমোদন বেআইনি। এছাড়া জামানতকে অতিমূল্যায়িত করা হয়েছে। এমনকি ১ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে জামানত রাখা হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ জমি। উপরোন্তু জমির মূল দলিল সংরক্ষণ করা হয়নি। একইভাবে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মেসার্স আর এ পোলট্রি ফিশ ফিড মিলসের অনুকূলে অর্ধকোটি টাকা, অনন্যা ব্রিকসের অনুকূলে অর্ধকোটি টাকা, রমজান অ্যান্ড ব্রাদার্সের অনুকূলে অর্ধকোটি টাকা, এসআইএস এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে ৩৬ লাখ, সার্ক গার্মেন্টের অনুকূলে কয়েক দফায় ১ কোটি ও মডার্ন এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে অর্ধকোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেছে বিডিবিএলের আশুগঞ্জ শাখা। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এসব ঋণের এক টাকাও ফেরত আসেনি। বর্তমানে কোনো ঋণ আদায় হওয়ার আর সম্ভাবনা নেই। শাখাটির প্রায় ১১ কোটি টাকা এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে গেছেন ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা ও তাদের আত্মীয়স্বজন। এর জন্য ব্যাংকের শীর্ষপর্যায় থেকে শাখাপর্যায়ে ঋণ বিতরণে নিয়োজিত সব কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।