Monday, March 28, 2011

ডিএসইর নোটিশের জবাব দিয়েছে তিন প্রতিষ্ঠান

অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নোটিশের জবাব দিয়েছে ডিএসইর তালিকাভুক্ত তিন প্রতিষ্ঠান।প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্টাইল ক্র্যাফট, সমতা লেদার ও জেমিনি সি ফুড।
প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে আজ রোববার জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল্যসংবেদনশীল কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

প্রাইম ব্যাংকের ৩৫ শতাংশ শেয়ার ও ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা

প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ২০১০ সালের বার্ষিক হিসাবের ভিত্তিতে শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ৩৫ শতাংশ শেয়ার ও ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার হোটেল শেরাটনে প্রাইম ব্যাংকের ১৬তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এজিএমে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী।
আজম জে চৌধুরী শেয়ার হোল্ডারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ব্যাংকের প্রতি তাঁদের অবিচল আস্থার কারণেই ব্যাংক সাফল্য অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাইম ব্যাংক ২০১০ সালে নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী ৩০০ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে। আমানতের পরিমাণ গত বছরের ১০ হাজার ৬৯৬ কোটি থেকে বেড়ে ১২ হাজার ৪৫২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ১৬ শতাংশ। ঋণ পোর্টফোলিওর পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি টাকা, যা ২০০৯ সালের আট হাজার ৯২৫ কোটি টাকার তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।
সভায় প্রাইম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস শাহনাজ কাশেম, নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারপারসন মিসেস হাসিনা খান, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান আইনুন নিশাত, পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল হক, কাজী সালিমুল হক, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, খন্দকার মোহাম্মদ খালেদ, এম এ খালেক, মিসেস মুসলিমা শিরীন, মফিজ আহমেদ ভূঁইয়া, মিসেস মেহেরুন্নেসা হক, মিসেস রাজিয়া রহমান, মনজুর মোর্শেদ, প্রফেসর মোহাম্মদ আসলাম ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এহসানুল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ এম. রিয়াজুল করিম, আহমেদ কামাল খান চৌধুরী, আই বি চৌধুরী ও গোলাম রব্বানী উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বৃহত্তম মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতীক্ষায় by ফারুক মঈনউদ্দীন

ছোটবেলায় পড়া একটা প্রবাদ নিশ্চয়ই সবার মনে আছে, ‘চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে’। আমাদের দেশের শেয়ারবাজারের বিশাল ধস ততোধিক একটা বিরাটসংখ্যক সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ লুটে নিয়ে গেলেও তেমনিভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সরকারের বুদ্ধি বেড়ে যায়। এবারের ধসের পর বুদ্ধি বাড়ার প্রমাণ হিসেবে অনেক পদক্ষেপের মধ্যে সর্বশেষটি হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামের পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি ‘ওপেন এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড’ গঠনের উদ্যোগ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বাজারে ছাড়ার প্রচেষ্টা, তদন্ত কমিটি গঠন ইত্যাদি তো আগেই হয়েছে। সর্বশেষ খবরে প্রকাশ, ফান্ডের এক-চতুর্থাংশ অর্থায়নের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই ফান্ডটি হবে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ‘ওপেন এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড’। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত মিউচুয়াল ফান্ডের মোট সংখ্যা ৩৩টি, এর বাইরে দুটি ওপেন এন্ডেড ফান্ড আছে, যার দুটিই আইসিবির (অর্থাৎ সরকারি) ব্যবস্থাপনায়। চরিত্রে এবং কর্মকাণ্ডে এ দুটি মিউচুয়াল ফান্ড হলেও এগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক নাম ইউনিট ফান্ড।
ঝুঁকি এড়ানোর জন্য বিনিয়োগ বহুমুখীকরণের যে কৌশল অবলম্বনের কথা বলা হয়, মিউচুয়াল ফান্ড হচ্ছে মূলত তেমনি একটা পন্থা। বিভিন্ন শিল্প ও অন্যান্য খাতের সমন্বয়ে যে বহুমুখী শেয়ারের পোর্টফোলিও গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়, একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর পক্ষে তা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া বিভিন্ন খাতের কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ প্রয়োজন, অপেশাদার বিনিয়োগকারীদের জন্য সেটা ঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। এই দুটি বিবেচনায় মিউচুয়াল ফান্ডকে বলা যেতে পারে বহুমুখী বিনিয়োগের ক্ষুদ্র সংস্করণ। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন খাতের কোম্পানির শেয়ারের সমন্বয়ে একটা নিজস্ব পোর্টফোলিও গড়ে তোলে। তারপর সেই মিলিত বিনিয়োগ-কোষে খাটানো মোট মূলধনকে ছোট ছোট এককের শেয়ারে ভাগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এভাবে গঠিত পোর্টফোলিওই মিউচুয়াল ফান্ড নামে পরিচিত।
মিউচুয়াল ফান্ডের কয়েকটা শ্রেণীবিভাগ রয়েছে। তবে সাধারণ মূলধন সংগ্রহের প্রকৃতি বিন্যাসে দুই ধরনের ফান্ড হতে পারে, যেমন—ক্লোজ এন্ডেড ফান্ড এবং ওপেন এন্ডেড ফান্ড। ক্লোজ এন্ডেড ফান্ডের শেয়ার একবারই মাত্র আইপিওর মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে বিক্রি করা হয় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে। পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক বাজার থেকে এই ফান্ডের শেয়ার কেনার সুযোগ থাকে না, তবে এই ফান্ড স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত থাকে বলে অন্যান্য শেয়ারের মতো বাজারে কেনাবেচা হয়। পক্ষান্তরে ওপেন এন্ডেড ফান্ডের শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বিক্রি হয় না, আগ্রহী বিনিয়োগকারী যেকোনো সময়ে ফান্ড সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের নির্ধারিত দামে এটির শেয়ার কিনে নিতে পারেন। এই ফান্ড স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় না বলে মাধ্যমিক বাজারে এর কেনাবেচা হয় না। তবে প্রয়োজনে বিনিয়োগকারী যেকোনো সময় ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের নির্ধারিত মূল্যে শেয়ার বিক্রিও করে দিতে পারেন। বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ ছাড়াও এ ধরনের ফান্ডের একটা বড় সুবিধা হচ্ছে, এটির তারল্য সুবিধা। ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময়ে একটা নির্ধারিত দামে এই শেয়ার কিনে নেয় বলে এটির জন্য শেয়ারবাজারে গিয়ে ক্রেতা খুঁজতে হয় না। উল্লেখ্য, এই শেয়ার ইস্যুকারীর বিক্রয়মূল্য এবং পুনঃক্রয়মূল্যের মধ্যে একটা পার্থক্য রাখা হয় এবং সংগত কারণেই শেষোক্তটি প্রথমটির চেয়ে কম হয়। যেমন—বর্তমানে আইসিবির ব্যবস্থাপনায় যে দুটি ওপেন এন্ডেড ফান্ড আছে, সেগুলোর ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা হয় পাঁচ টাকার। এই ফান্ড শেয়ারবাজারে বিক্রি হয় না বলে এটির দাম নিয়ে কোনো ফাটকাবাজারি করার সুযোগ থাকে না, ফান্ডের বিনিয়োগ-কোষে ভালো শেয়ারের সমাগম থাকলে এটির নিট সম্পদমূল্য সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকে, আর পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্টের অদক্ষতার কারণে যদি ভালো শেয়ারের সমাগম কম হয়, তাহলে বছরের শেষে গিয়ে কমে যায় সম্পদমূল্য ও লভ্যাংশ। এটিই এ ধরনের শেয়ারের একমাত্র ঝুঁকি, তবে পরিমিত নিশ্চিত আয়ের হিসেবে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ।
বাংলাদেশ ফান্ড নামের পাঁচ হাজার কোটি টাকার যে বিশাল মিউচুয়াল ফান্ডটি গঠিত হতে যাচ্ছে, সেটির অর্থায়নে অংশগ্রহণ করছে মূল উদ্যোক্তা আইসিবি ছাড়াও সরকারি খাতের পাঁচটি ব্যাংক ও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অতি উত্তপ্ত শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীল করা এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য মূলধন বাজারের সঙ্গে ব্যাংকের অত্যধিক সম্পৃক্ততা কমানোর যে প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল এবং যেসব নীতিমালা প্রবর্তন করা হচ্ছিল, বাংলাদেশ ফান্ডের গঠনকাঠামো সেটাকে ব্যাহত করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যদিও সংগত বা অসংগত যা-ই হোক, অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার কারণে এবং তদারকির অভাবে বুদ্বুদ বিস্ফোরিত হয়ে যে বাজার বিপর্যয় ঘটেছে, তাকে সামাল দেওয়ার জন্য এ ছাড়া আপাতত কোনো বিকল্প ছিল না। আইএমএফও তাদের সর্বশেষ সমীক্ষা শেষে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোকে এভাবে মূলধন বাজারে সম্পৃক্ত না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে।
ফান্ডটি গঠনের সবচেয়ে বড় যে বিষয় বিবেচনার দাবিদার সেটি হচ্ছে, বাজারে শেয়ারের চাহিদা সরবরাহের ওপর প্রভাব। এটি ওপেন এন্ডেড ফান্ড বলে এটির শেয়ার বাজারে আসবে না, তবে বাজারের শেয়ার চলে যাবে এর পোর্টফোলিওতে। ফলে বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে বরং চাহিদা বৃদ্ধি করবে এটির বিশাল আকার। বাজার যখন অতি মূল্যায়িত হয়ে বিশাল বুদ্বুুদ তৈরি হচ্ছিল, তখন সব মহল থেকে একজোটে বলা হচ্ছিল যে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগকারীর চাহিদার তুলনায় বাজারে শেয়ারের সরবরাহ কম, ফলে মূল্যস্ফীতি ঘটছে। এই রোগের নিদান হিসেবে সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দ্রুত বাজারে ছাড়ার জন্য ক্রমাগত তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর কড়া ধমক, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও সেটা আজ অবধি বাস্তবায়িত হয়নি। শেয়ারের সরবরাহ না বাড়িয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা নিয়ে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে বাজারে ছেড়ে দিলে চাহিদা ও সরবরাহের তত্ত্ব অনুযায়ী দামের অবস্থা কী হতে পারে, সেটা বুঝতে অর্থনীতির সাধারণ জ্ঞানই যথেষ্ট। একসময়কার বাস্তবতাবর্জিত অতিমূল্যায়িত বাজার প্রকৃত মূল্যের কাছাকাছি চলে আসার পর অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি করে তাকে আবার ঠেলে তোলার জন্যই হয়তো এ ব্যবস্থা।
১৯৯৬ সালেও একই রকম ঘটনা ঘটেছিল। সেবার বাজার উদ্ধারের জন্য কার্যকর তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দেড় দশকের ব্যবধানে উভয় ধসের চরিত্র ও প্রক্রিয়া যা-ই হোক, ঘটনার পশ্চাতের নায়ক যাঁরাই হোন না কেন, বিশ্লেষকেরা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট উঁচু পর্যায়ের ব্যক্তিরা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অজ্ঞানতা, বিবেচনাবোধের অভাব, লোভ ইত্যাদিকে দায়ী করে এসেছেন বরাবর। শেয়ারবাজারের উল্লম্ফনের প্রাথমিক পর্যায়ে সেটাকে সরকারের সফলতা বলেও দাবি করা হয়েছিল। তারপর সেই উল্লম্ফন যখন বিপজ্জনক সীমা পার হয়ে সরকারের সফলতাকে অদক্ষতায় পর্যবসিত করে, তখন দেওয়া হয়েছে নতুন নতুন মতামত। সে সময় প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা যে কেবল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে তা নয়, সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কেউ কেউ বাজারে বুদ্বুদ তৈরিতে হাওয়াও দিয়েছেন। এটি যে কেবল নিশ্চিত ধারণাপ্রসূত তা নয়, সদ্য গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তেও উঠে এসেছে বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশ।
২০১০ সালের শেষার্ধে শেয়ারবাজার যখন অতিমূল্যায়নের আঁচে উত্তপ্ত হয়ে পুড়তে শুরু করেছিল, তখন প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাঁশি বাজাতে থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সীমিত বলয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রাশ টেনে ধরে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মূল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়হীনতার কারণে সে চেষ্টা খুব ফলবতী হয়নি। উপরন্তু বাজারের বুদ্বুদ বিস্ফোরিত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রয়াসকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়। অথচ বাজার চড়ে যাওয়ার বহু আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই নির্দেশনা ছিল অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সেসব নির্দেশনা নানা কারণে দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি।
অন্যদিকে মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরস্পরবিরোধী এলোপাতাড়ি নানা ধরনের সিদ্ধান্ত ও নিয়ম প্রবর্তন করে, তার কোনো কোনোটিকে আবার বাতিল করে, ফলে বাজারের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি যেন আরও বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে। অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল দায়টা কিন্তু এসইসির। ঘটনা ঘটে গিয়ে পানি অনেক দূর গড়ানোর পর সরকারি তরফ থেকে একটা কমিটি গঠন করে তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেই তদন্তের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সেটা দিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে না, সম্ভব হবে না বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অথচ বাজার যখন উন্মত্তের মতো আচরণ করছিল, মানুষ যখন সহজ লোভের হাতছানিতে পূর্বাপর বিবেচনা-রহিত হয়ে ভুল বিনিয়োগ করছিল, তখনই যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করত কারা কীভাবে বাজারকে প্রভাবিত করে কিংবা অন্য উপায়ে শেয়ারের মূল্যকে তাতিয়ে তুলছে, তাহলে হয়তো আজকের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না, প্রয়োজন হতো না একটা তদন্ত কমিটি গঠন করার। আজকে যে নানা ধরনের উপশমকারী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—যার সর্বশেষটি হচ্ছে সরকারি উদ্যোগে দেশের বৃহত্তম মিউচুয়াল ফান্ড, যার ফলাফল এখনো অনিশ্চিত, সেসবেরও কোনো দরকার হতো না।
ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার।
fmainuddin@hotmail.com

পাকিস্তানিদের নৃশংসতা ও একজন শর্মিলা বসু by আবদুল মান্নান

শর্মিলা বসুর সঙ্গে ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসের আগে আমার পরিচয় ছিল না। যদিও তিনি আমার শৈশবের একজন প্রাতঃস্মরণীয় মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাই শিশির বসুর কন্যা। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে, আর বিয়ে করেছেন একজন ইংরেজ—অ্যালান রজলিংককে; লেখাপড়া কলকাতা, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে প্রথমে যখন কলকাতায় যাই, তখন সেই মহানগরের যে কটি দর্শনীয় স্থান দেখব বলে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, সেগুলোর মধ্যে নেতাজির এলগিন রোডের বাড়ি একটি। সেটি তখন নেতাজি জাদুঘর। ২০০৫ সালে শর্মিলা বসুর সঙ্গে আমার পরিচয় তাঁর একটি লেখাকে কেন্দ্র করে। ‘Anatomy of Violence: Analysis of Civil War in East Pakistan 1971’ শিরোনামে শর্মিলা বসুর একটি প্রবন্ধ ছাপা হয় মুম্বাই থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জার্নাল ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলিতে। একটি ভালো মানের পত্রিকা, যা মোটামুটি আমি অনলাইনে নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি। তিনি তাঁর এই লেখায় মূলত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাদের শৌর্যবীর্যের গুণকীর্তন করেছেন এবং বলার চেষ্টা করেছেন, আসলে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের ভূমিকাকে যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়, তারা তত খারাপ লোক ছিল না! তিনি তাঁর সব লেখাতেই পাকিস্তানি সেনা অফিসার এবং তাঁদের লিখিত বইপুস্তক থেকে উদ্ধৃতি প্রমাণ হিসেবে হাজির করেন।
শর্মিলা বসু বোধগম্য কারণেই পাকিস্তানি প্রচারমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়। কারণ, তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত, হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করেন এবং নেতাজির মতো একজন মহান ব্যক্তির আত্মীয়। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর তাঁর লেখা একটি প্রবন্ধ লাহোর থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা পাকিস্তান টাইমস প্রকাশ করে। লেখাটির শিরোনাম ছিল ‘Pakistan Army shined in 1971’। প্রবন্ধটিতে লেখিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিয়ানমার ফ্রন্টে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তাঁর কাকা নেতাজি সুভাষ বসুর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির যুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে জেনারেল নিয়াজিকে হাজির করেন। আসলে সেটাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, তাঁর কাকা নন। তিনি বলেছেন, যে জেনারেল নিয়াজি (তখন তিনি একজন জুনিয়র অফিসার ছিলেন) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এত বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে ব্রিটিশদের নজর কাড়তে পারেন এবং বীরত্বসূচক সম্মানে ভূষিত হতে পারেন, তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা চালাতে পারেন অথবা তাঁর অধীন পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে ধর্ষণ চালাতে পারে, তা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মিস বসুর আরেকটি ন্যক্কারজনক লেখা প্রকাশ করে সাপ্তাহিক ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি, যার শিরোনাম ছিল ‘Losing the Victims: Problems of Using Women as Weapons in Recounting the Bangladesh War’। এ প্রবন্ধেও তিনি ব্যবহার করেছেন পাকিস্তানি সব রেফারেন্স। তবে তাঁর এই লেখার মূল বিষয় ছিল এটি প্রমাণ করা যে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি প্রায়ই বলে বা লেখে যে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাতে আড়াই লাখ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তা সর্বৈব অসত্য এবং এত কম সময়ে ২০ বা ৪০ হাজার সেনার পক্ষে আড়াই লাখ নারীকে ধর্ষণ করা সম্ভব নয়। তিনি তাঁর এই উপসংহারের জন্য ২০০৩ সালে তাঁর নেওয়া জেনারেল নিয়াজির সাক্ষাৎকার ব্যবহার করেছেন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন, যত নারী ধর্ষিত হয়েছেন বলে বাংলাদেশ দাবি করে, তা যদি সত্য হয়, তাহলে প্রত্যেক পাকিস্তানি সেনাকে গড়ে ছয় থেকে ১২ জন নারীকে ধর্ষণ করতে হবে, যা দৈনিক হিসাবে দাঁড়ায় ৭৫৫ থেকে এক হাজার ৫০৯ জন, যা অসম্ভব। তিনি ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করতেও দ্বিধা করেননি। তাঁর হিসাবমতে, সে সময় বাংলাদেশে সর্বমোট ৩৪ হাজার পাকিস্তানি সেনা ছিল। এতে তিনি ১১ হাজার পাকিস্তানি সিভিল পুলিশ ও অন্য অস্ত্রধারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন নিয়াজির স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ এবং হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্ট।
অথচ সারা দুনিয়া জানে, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরেরা মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। মিস বসু দাবি করেছেন, তিনি তাঁর প্রবন্ধটি মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, পাকিস্তানি সেনারা যুদ্ধের সময় শুধু প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের হত্যা করলেও নারী ও শিশুদের রেহাই দিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, মিস বসু হয়তো তাঁর তথ্য কলকাতার গড়ের মাঠে বসে সংগ্রহ করেছেন। এখানে আরও উল্লেখযোগ্য, শর্মিলা বসু তাঁর সব লেখায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সব সময় ‘গৃহযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অবশ্য শুধু একজন শর্মিলা বসুই যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ হিসেবে দেখেছেন, তা নয়, বাংলাদেশের অনেক লেখক-কলামিস্টও তা-ই দেখেন। এমন একজন লেখকের একটি প্রবন্ধ ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলিতে ২০০৭ সালে প্রকাশিত হলে আমি তার প্রতিবাদ করে তাঁকে একটি মেইল পাঠিয়েছিলাম। তিনি ফিরতি মেইলে আমাকে জানিয়েছিলেন, তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধ’ই লিখেছিলেন, কিন্তু ওই পত্রিকার সম্পাদক তা ‘গৃহযুদ্ধ’ করে দিয়েছেন।
শর্মিলা বসু তাঁর পাকিস্তান তোষণনীতির অংশ হিসেবে সর্বশেষ মিথ্যা-আশ্রিত বোমাটি ফাটানোর চেষ্টা করেছেন ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির উড্রো উইলসন সেন্টারে। এদিন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা তাঁর বই ডেড রেকনিং: মেমোরিজ অব দ্য ১৯৭১ ওয়ার-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল এই সেন্টারে। এর তিন দিন আগে বইটি ছাপার কাজ শেষ হয়। বলে নেওয়া ভালো, একাত্তরে বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন ১২ বছর বয়সী শর্মিলা বসু কলকাতায় একজন স্কুলছাত্রী ছিলেন। তখন তিনি বড়জোড় কলকাতার রাস্তায় আমাদের কিছু শরণার্থী দেখেছেন, একটি জাতির মুক্তির জন্য যুদ্ধে যাওয়ার মুহূর্ত এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা উপলব্ধি করার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য কোনোটাই তাঁর হয়নি। তিনি লিখছেন সেই যুদ্ধের স্মৃতি! অবশ্য সেসব স্মৃতির বেশির ভাগই পাকিস্তানি পক্ষের, সে দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের, যাঁরা একাত্তরে এ দেশে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছিলেন। শর্মিলা বসুর বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হচ্ছে জেনে ডিসির আশপাশে যাঁরা থাকেন, তাঁরা ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বেশ উদ্গ্রীব হয়ে ওঠেন। এঁদের অন্যতম হচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন্নবী। পেশায় তিনি একজন বিজ্ঞানী। ১৫ তারিখের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার অনুজপ্রতিম সাংবাদিক আনিস আহমেদ, সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ, ১৯৭১-এ পাকিস্তানে কর্তব্যরত এপির সাংবাদিক আর্নল্ড জেটলিন, একসময় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম প্রমুখ। শর্মিলা বসু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর এই সর্বশেষ প্রকাশনায়ও বলার চেষ্টা করেছেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা কোনো বাঙালি নারীকে ধর্ষণ করেনি অথবা গণহত্যার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিল না। তিনি লিখেছেন, একাত্তরে ৩০ লাখ বাঙালি শহীদ এবং দুই লাখ নারীর সম্ভ্রম হারানোর তথ্য সঠিক নয়। এ সংখ্যা প্রচার করা হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নের মদদে। শিল্পী কামরুল হাসান ঘাতক ও মদ্যপ ইয়াহিয়া খানকে নিয়ে ‘এই জানোয়ারটিকে হত্যা করতে হবে’ শিরোনামে যে ঐতিহাসিক পোস্টারটি এঁকেছিলেন, তাতেও মিস বসুর আপত্তি। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সর্বোচ্চ র্যাংকধারী একজন সামরিক কর্মকর্তাকে নিয়ে এমন ছবি আঁকাটা বিবেকপ্রসূত ছিল না। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন, এটি ছিল একধরনের উগ্র নৃতাত্ত্বিক (ethnic) আচরণ এবং অসহযোগ আন্দোলন কখনো অহিংস ছিল না। মিস বসু আরও বলেছেন, একাত্তরের মার্চ মাসে জাতীয় নেতারা (আওয়ামী লীগ) সব সময় দ্বিচারী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কোথাও ভুট্টো বা ইয়াহিয়া খানের তেমন কোনো দ্বিচারিতা দেখতে পাননি।
বলা বাহুল্য, সেদিন যাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন—জামায়াত-জাতীয়তাবাদী ঘরানার কয়েকজন ছাড়া—তাঁরা শর্মিলা বসুর বই সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য শুনে বেশ আহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। ড. নবী সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন কিছুদিন আগে তাঁর রচিত ও প্রকাশিত একাত্তরের যুদ্ধদিনের স্মৃতিমূলক গ্রন্থ Bullets of 1971। সেখান থেকে উদ্ধৃতি এবং একাত্তরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্রমাণ করেছেন, শর্মিলা বসু একজন ভাড়াটে লেখক বৈ অন্য কিছু নন। সাংবাদিক আর্নল্ড জেটলিন একাত্তরে তাঁর সঙ্গে ইয়াহিয়া খানের সাক্ষাতের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, তিনি সব সময় মাতাল থাকতেন এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতা নষ্ট করার জন্য তাঁকে গালাগাল করতেন। সাংবাদিক আনিস মন্তব্য করেন, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের আচরণ যাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁরা কখনোই তাদের পক্ষ অবলম্বন করতে পারেন না। আরশাদ মাহমুদ মিস বসুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি পাকিস্তানের আইএসআইয়ের অর্থায়নে এই বই রচনা করেছেন কি না। শর্মিলা বসু অবশ্য তা অস্বীকার করেন। উইলিয়াম বি মাইলাম মন্তব্য করেন, একাত্তরে বাংলাদেশে নারী ধর্ষণ ও গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, এ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে। চতুর্মুখী সমালোচনার মুখে শেষতক মিস বসু ফুটো বেলুনের মতো চুপসে যান।
সম্ভবত আসল সত্য হচ্ছে, বাংলাদেশে যখন স্বাধীনতার ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু হয়েছে, তখন মিস বসু জামায়াত ও তাদের আন্তর্জাতিক মুরব্বিদের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি অশুভ মিশনে নেমেছেন। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার কতটুকু সজাগ আছে, জানি না। তবে এটি ঠিক, এ রকম আরও অনেক শর্মিলা বসু ভবিষ্যতে আত্মপ্রকাশ করবেন। ইন্টারনেটে একজন ব্লগারের মন্তব্য দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাই। তিনি লিখেছেন, একাত্তরে যদি মিস বসু অথবা তাঁর কোনো নিকটাত্মীয় কোনো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে সম্ভ্রম হারাতেন, তাহলে বুঝতেন, বাঙালিরা তাদের স্বাধীনতার জন্য কত বড় আত্মবিসর্জন দিয়েছে। সবশেষে সরকারের কাছে একটা বিনীত অনুরোধ, অবিলম্বে শর্মিলা বসুকে বাংলাদেশে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হোক। লেখার কলেবর বৃদ্ধি পাবে বলে সুজান ব্রাউমিলারের গ্রন্থ Against Our Will: Men, Women and Rape, স্যামুয়েল ও অন্যদের লেখা Century of Genocide: Eyewitness Accounts and Critical Views বা Adam Jones সম্পাদিত Genocide, War Crimes and the West থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া সম্ভব হলো না। কারও সুযোগ থাকলে বইগুলোর বাংলাদেশ অংশটুকু পড়ে নিতে পারেন।
আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে শিক্ষক, ইউল্যাব, ঢাকা।

কানাডায় অনাস্থা ভোটে হারপার সরকারের পতন

কানাডার পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপারের কনজারভেটিভ সরকারের পতন হয়েছে। বিরোধী দল লিবারেল পার্টি অপর দুটি দলের সমর্থন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আস্থা ভোট গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিল। গত শুক্রবার হাউজ অব কমনসে ওই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিবিসির প্রতিবেদক লি কারটার জানান, ভোটের ওই ফলাফলে কেউই বিস্মিত হয়নি।
সরকারের পতন হওয়ায় আগামী মে মাসের প্রথম দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তত দিন পর্যন্ত কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারই ক্ষমতায় থাকবে। এর আগে কনজারভেটিভ সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধ দমন কর্মসূচি, করপোরেট কর হ্রাস এবং যুদ্ধবিমান ক্রয় পরিকল্পনায় ব্যয়ের পরিমাণ প্রকাশে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়।
ওই অভিযোগের তদন্তে বিরোধী দলগুলোর নেতৃত্বে একটি সংসদীয় কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর আস্থা ভোটের ডাক দেওয়া হয়।
দেশটির গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনস্টন পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পর আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে ধারণা করা হচ্ছে ।

কায়রোতে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ

মিসরের রাজধানী কায়রোতে গত শুক্রবার দুই হাজারের বেশি লোক বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের দ্রুত বিচারসহ আরও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত এমইএনএ সংবাদ সংস্থার খবরে এ কথা বলা হয়।
এক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন তাহরির স্কয়ারে। এখানে তাঁরা জাতীয়তাবাদী স্লোগান দেন এবং মোবারক ও তাঁর সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার দাবি করেন। এ ছাড়া তাঁরা রাজনৈতিক কারাবন্দীদেরও মুক্তির দাবি জানান।
তাহরির স্কয়ার ছিল সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্র। এই বিক্ষোভের ফলে ১১ ফেব্রুয়ারি দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
কায়রোতে একই দিন এক হাজার খ্রিষ্টান বিক্ষোভ করেন। তাঁরা আগের বিক্ষোভে আটক বন্দীদের মুক্তি ও সম্প্রতি যে সহিংসতা হয়েছে, সেই ঘটনার দ্রুত তদন্ত দাবি করেন। এ ছাড়া আরও ৫০০ জন বিক্ষোভকারী দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভশন ও রেডিও ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন।

আইভরি কোস্টে ১০ লাখ মানুষ শরণার্থী

আইভরি কোস্টে রাজনৈতিক সংঘাতে ১০ লাখের বেশি মানুষ শরণার্থী হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র মেরিসা ফ্লেমিং শুক্রবার জেনেভায় বলেন, যুদ্ধের ভয়ে আবিদজানসহ দেশটির অন্যান্য এলাকায় বড় ধরনের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সাত থেকে ১০ লাখ হবে। শরণার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই রাজধানী আবিদজানের বাসিন্দা।
ফ্রান্স ঘোষণা করেছে, আবিদজানে বিরোধীদের ওপর সেনাদের ভারী অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে জাতিসংঘে তারা একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছে। জাতিসংঘ দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোর সেনাদের বিরুদ্ধে ভারী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে আইভরি কোস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রেসিডেন্ট বাগবো এবং বিরোধী নেতা আলাসেন ওয়াতারার সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। গত চার মাসের সহিংসতায় দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৬২ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে।

কিউবায় অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ

কিউবার অর্থমন্ত্রী মারিনো মুরিলো যাতে অর্থনৈতিক সংস্কারে মনোনিবেশ করতে পারেন, সেজন্য তাঁকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে প্রথম উপমন্ত্রী আদেল ইজকুয়েরডোকে। আসন্ন কমিউনিস্ট পার্টি সম্মেলনে ওই সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করা হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে গত শুক্রবার জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিবৃতিতে সরকারি একজন কর্মকর্তা জানান, মারিনো মন্ত্রিপরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেসের ইকনোমিক পলিসি কমিশনের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবেন। তিনি কিউবার অর্থনৈতিক মডেলের উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে তত্ত্বাবধানকারীর ভূমিকা পালন করবেন। এ ছাড়া তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতের তত্ত্বাবধান করবেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বৈঠকে অর্থনীতির সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়ার পর মারিনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারও তাঁর স্ত্রী রসালিন আগামীকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কিউবা সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্কের উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে কার্টারের এক মুখপাত্র এ কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন, কিউবার নতুন অর্থনৈতিক নীতি ও আসন্ন কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন সম্পর্কে জানার জন্য তিনি এ সফরে যাচ্ছেন। তিনি সেখানে প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোসহ সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

বিক্ষোভে উত্তাল সিরিয়া, গভীর রাজনৈতিক সংকটে আসাদ

সিরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় গতকাল শনিবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার সেনাদের গুলিতে ২০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। দেরা শহরের কাছে তাফা নামে একটি গ্রামে হাজার হাজার শোকার্ত জনতা গতকাল ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। দেশজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় গভীর রাজনৈতিক সংকটে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় আসার ১১ বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বিপদে আছেন। দেশজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতার কারণে তাঁর সরকার এখন গভীর সংকটে। শুক্রবার দেরা শহরে সেনাদের গুলিতে ২০ জন নিহত হওয়ার পর রাজধানী দামেস্ক ও উত্তরাঞ্চলীয় শহর হামাতে গতকাল বিক্ষোভ হয়েছে। ১৯৮২ সালে এই হামা শহরে বর্তমান প্রেসিডেন্টের বাবা হাফিজ আল আসাদ বিক্ষোভ দমনের অজুহাতে মুসলিম ব্রাদার হুডের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করেন।
বিক্ষোভকারীরা এখন রাজনৈতিক সংস্কারের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট বাশারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। মিসর ও তিউনিসিয়ার সফল গণ-অভ্যুত্থান এ ক্ষেত্রে তাদের প্রেরণা জোগাচ্ছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সিরিয়া সরকারের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। একটি হচ্ছে, জনগণকে শান্ত করতে অবিলম্বে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংস্কারের ঝুঁকি নেওয়া; অন্যটি হলো, দমন-পীড়নের পথ বেছে নেওয়া, যা দেশটিতে বড় ধরনের রক্তপাতের সূচনা করতে পারে। এদিকে সিরিয়া সরকার ২০০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
দেরা শহরে শুক্রবারের গুলিবর্ষণের বিষয়টি প্রথমে অসমর্থিত সূত্রে বলা হলেও পরে সেখানকার চিকিৎসকেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল দেরা শহরের প্রধান মসজিদের মাইকে শুক্রবার গুলিবর্ষণে যারা নিহত হয়েছে, তাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল দিনের শেষে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা অনুষ্ঠান শেষে দেরা শহরের কাছে তাফা নামে একটি গ্রামে হাজার হাজার শোকার্ত জনতা ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা সেখানকার একটি থানায়ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও একটি মানবাধিকার সংস্থা শুক্রবারের গুলিবর্ষণের ঘটনার নিন্দা করেছে। তারা বিক্ষোভকারীদের প্রতি আরও সংযমী হওয়ার জন্য সিরিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি বলেন, সিরিয়ায় যা ঘটছে, সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ওই ঘটনার পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে টেলিফোন করেন এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংযত আচরণের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত দামেস্কের।
গত এক সপ্তাহে সিরিয়ায় ৫৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

জর্ডানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

জর্ডানে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় গত শুক্রবার একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী বাদশাহ আবদুল্লাহর সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গেলে ওই বিক্ষোভকারী নিহত হন। তবে আল-জাজিরা জানিয়েছে, হামলায় আরও একজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী মারুফ আল-বাখিত সংঘর্ষের জন্য বিরোধী ইসলামপন্থীদের দায়ী করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকার কোনো ধরনের ‘বিশৃঙ্খলা’ সহ্য করবে না।
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার জর্ডানের টেলিভিশনকে বলেন, ‘আজ যা ঘটছে তা স্পষ্টত বিশৃঙ্খলার শুরু। এটি অগ্রহণযোগ্য। আমি এমন বিশৃঙ্খলার পরিণামের ব্যাপারে সতর্ক করছি।’ আল-বাখিত ইসলামপন্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগুন নিয়ে খেলা যথেষ্ট হয়েছে। আপনাদের উদ্দেশে আমার প্রশ্ন, জর্ডানকে আপনারা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?’
জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের জুদেহ স্কাই টেলিভিশনকে জানান, পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নিহত বিক্ষোভকারীর পরিবার বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রহারে তিনি মারা যান। তবে নিরাপত্তাপ্রধান হোসেন আল-মাজালি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেনি। বিক্ষোভকারী হূদেরাগে মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ওবামা

লিবিয়ায় হামলা নিয়ে দেশে তোপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। লিবিয়া বিষয়ে অস্বচ্ছতা দূর করতে জাতির উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ওবামার বক্তব্যটি বেতার ও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ওবামা প্রভাবশালী মার্কিন আইনপ্রণেতাদের চাপের মুখে পড়েছেন। রিপাবলিকানসহ নিজ দলের আইনপ্রণেতারাও লিবিয়া প্রশ্নে স্বচ্ছ অবস্থান নিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছন। লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য কী এবং জড়িয়ে পড়া যুদ্ধ থেকে সরে আসার কৌশল সম্পর্কেও তাঁরা জানতে আগ্রহী। গত শুক্রবার ওবামা ও উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। ওবামা লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ আইনপ্রণেতাদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেন।
আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, লিবিয়ায় সামরিক অভিযানে নেতৃত্বের ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্র থাকবে না। ওবামা অবশ্য এও বলেছেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র অনুসরণ করবে। লিবিয়ার বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তার কথাই মূলত নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
কংগ্রেসের স্পিকার জন বয়েনার বলেছেন, লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কী, প্রেসিডেন্টকে তা স্পষ্ট করতে হবে।

কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ছেড়ে দেওয়া ৬৫টি আসনের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। গত শুক্রবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতা শাকিল আহমেদ ওই তালিকা ঘোষণা করেন। এ তালিকা অনুযায়ী সাতটি আসনে নারী প্রার্থীদের নাম রয়েছে।
এর আগে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের প্রধান শরিক তৃণমূল কংগ্রেস ২২৯টি আসনে প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করে। এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি মানস ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি মনোনয়ন পেয়েছেন।
২৯ বছর পর অবসর: দীর্ঘ ২৯ বছর একটানা স্পিকারের দায়িত্ব পালন করার পর ওই পদ থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার হাসিম আবদুল হালিম। গত শুক্রবার বর্তমান বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিনে তিনি এ ঘোষণা দেন। ওই অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সবার মঙ্গল কামনা করে বলেন, পঞ্চদশ বিধানসভা আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে।
একই সঙ্গে স্পিকার হাসিম আবদুল হালিমও ঘোষণা দেন, এটিই তাঁর বিধানসভার শেষ অধিবেশন। এবার তিনি অবসরে যাবেন। ১৯৮২ সালের ৬ মে তিনি এই পদের দায়িত্ব নেন।

গাদ্দাফি লকারবির মতো হামলার নির্দেশ দিতে পারেন

ব্রিটিশ বিচারমন্ত্রী কেন ক্লার্ক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতা ছাড়লে পশ্চিমা জোটের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নেবেন। আর এই প্রতিশোধ নিতে তিনি লকারবি হামলার মতো হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিকগার্ডিয়ান-এ গত শুক্রবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বিচারমন্ত্রী ক্লার্ক এই সতর্কতা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, লিবিয়া অভিযানের নির্দেশনা নিয়ে ব্রিটিশ সরকার এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে। বিচারমন্ত্রী ক্লার্ক বলেন, ‘ব্রিটিশ জনগণ অভিশপ্ত গাদ্দাফিকে মনে রেখেছে। তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার পথ খুঁজছেন। কিন্তু আমাদের স্বার্থে আমরা তাঁকে প্রতিহত করব।’ তিনি স্বীকার করেন, লিবিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা বলা হয়নি। এতে দেশটির সাধারণ জনগণকে রক্ষায় যুদ্ধবিরতি ও নো ফ্লাই জোন কার্যকর করতে ‘প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের ২১ ডিসেম্বর স্কটল্যান্ডের লকারবি শহরের আকাশে একটি যাত্রীবাহী বিমানে হামলায় ২৭০ জন নিহত হন। নিহত যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন মার্কিন নাগরিক।

ফুকুশিমায় সাগরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তা ১২০০ গুণ বেশি

জাপানে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে সাগরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বেড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের জলসীমায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে এক হাজার ২৫০ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয় আয়োডিন পাওয়া গেছে। দেশটির পারমাণবিক নিরাপত্তা সংস্থা এ কথা জানায়।
গতকাল শনিবার পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির এক পরীক্ষা শেষে এক নম্বর চুলির কাছে সমুদ্র উপকূলের কয়েক শ মিটার দূর পর্যন্ত সহনীয় পর্যায়ের চেয়ে এক হাজার ২৫০ দশমিক ৮ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয় আয়োডিন-১৩১ ধরা পড়েছে।
জাপানের পারমাণবিক ও শিল্প নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিদেহিকো নিশিইয়ামা জানিয়েছেন, তেজস্ক্রিয়তার এই মাত্রায় জলজ প্রাণীগুলো কিছুটা ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে তিনি বলেন, সাগরের স্রোতে তেজস্ক্রিয়তার কণাগুলো ছড়িয়ে পড়বে এবং এটি সময়ের ব্যবধানে কমে যাবে। এ ছাড়া সাগরের মাছ ও সমুদ্রের শৈবাল এই তেজস্ক্রিয়তা শুষে নেবে।
১১ মার্চের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর কেন্দ্রটির চুল্লিগুলোতে কয়েক দফা বিস্ফোরণে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে কেন্দ্রটি স্থিতিশীল ও জ্বালানি রডগুলো ঠান্ডা রাখতে সাত শতাধিক প্রকৌশলী পালাক্রমে কাজ করে যাচ্ছেন। ভূমিকম্প ও সুনামিতে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছে আরও সাড়ে ১৭ হাজার মানুষ।
জাপানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি পারমাণবিক চুল্লিতে উচ্চ মাত্রার তেজস্ক্রিয় পানি শনাক্ত করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রটিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার দুই সপ্তাহ পর তেজস্ক্রিয়ার দূষণ তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ নম্বর চুল্লি শীতল করার চেষ্টাকালে তিনজন কর্মী চুল্লির স্বাভাবিক মাত্রার চেয়েও ১০ হাজার গুণ বেশি মাত্রার তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তেজস্ক্রিয় দূষণাক্রান্ত পানিতে হাঁটার পর তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পারমাণবিক কেন্দ্রটির তেজস্ক্রিয় বিকিরণ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ৭০০ প্রকৌশলী দুই সপ্তাহ ধরে দিনরাত চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে।
কেন্দ্রটির ছয়টি পারমাণবিক চুল্লির দুটি এখন দৃশ্যত নিরাপদ। কিন্তু বাকি চারটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এগুলো থেকে মাঝে মাঝে বাষ্প ও ধোঁয়া বের হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে সরকারি ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

যুক্তরাজ্য সরকারের বিপুল ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার লন্ডনে তিন লক্ষাধিক লোক বিক্ষোভ
করেছে। ২০০৩ সালের পরপর এটাই দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরাক যুদ্ধেরপ্রতিবাদে ওই বিক্ষোভ হয়েছিল।বাজেট ঘাটতি কমাতে কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বছরে ৬২০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় সরকারি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিপুল সরকারি ব্যয় হ্রাস, বেকারত্ব বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কর আরোপ ও অবসর ভাতা সংস্কারের
প্রতিবাদে জনতা বিক্ষোভ করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চার হাজার পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা এবং ১৩ জনকে আটক করার ঘটনা বাদে মূল
বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। বিক্ষোভকালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রধান এড মিলিব্যান্ড লন্ডনের হাইড পার্কে প্রায় আড়াই লাখ লোকের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন। এ সময় জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘টোরিরা বলেছে, আমার এখানে আসা ও কথা বলা উচিত নয়। তবে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত।’
যুক্তরাজ্যের ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের (টিইউসি) সাধারণ সম্পাদক ব্রেন্ডান বারবার বলেন, ‘এ নির্মম ব্যয় হ্রাসের
বিরুদ্ধে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা তাদেরকে জনগণের সেবা, চাকরি ও জীবন ধ্বংস করতে দেব না।’

গাদ্দাফি-উত্তর লিবিয়ার শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু

মুয়াম্মার গাদ্দাফি-উত্তর লিবিয়ার শাসনভার কারা গ্রহণ করবে, সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানিয়েছেন, গাদ্দাফিকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। এদিকে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে লন্ডনের একটি সম্মেলনে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিযানে লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হওয়ার পর দেশটির শাসনক্ষমতা কারা গ্রহণ করবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি গত শুক্রবার জানান, গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ায় শাসনক্ষমতা গ্রহণের ব্যাপারে কারা সবচেয়ে ভালো হবে, সে ব্যাপারে বিরোধীপক্ষকে তারা নানা উপদেশ দিতে শুরু করেছেন। তাঁদের ধারণা, এমন একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকারই দেশটির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, যেখানে অধিকাংশ জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। তিনি জানান, লিবিয়ার বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা মার্কিন নীতিরই একটি অংশ। তিনি আবারও লিবিয়ায় স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করে দেন।
গাদ্দাফির অপসারণের বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, গাদ্দাফি দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া শাসন করছেন। তাঁকে অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। লিবীয় নেতা তাঁর দেশের জনগণের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি নিজ দেশের সাধারণ লোকজনের ওপর শক্তি প্রয়োগ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কংগ্রেস নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, লিবিয়ায় ক্ষমতার পালাবদলের ইচ্ছা থাকলেও সেনাবাহিনী ব্যবহার করে গাদ্দাফিকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। লিবিয়া-পরিস্থিতি নিয়ে তিনি শুক্রবার কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিবিয়ার বিদ্রোহীদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে লিবিয়া অভিযানে যেসব দেশ অংশ নিয়েছে, তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে লন্ডনে অনুষ্ঠেয় দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিদ্রোহী নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে মাশরাফি-অলক

বিশ্বকাপের ডামাডোল থামতে না-থামতেই ৯ এপ্রিল শুরু হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের তিন ওয়ানডের হোম সিরিজ। এই সিরিজের জন্য ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ দল ঘোষণা হবে আজকালের মধ্যেই। অস্ট্রেলিয়া দলের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ৩ এপ্রিল।
মোহাম্মদ আশরাফুল ‘এ’ দলের অধিনায়ক হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন বলে বিশ্বকাপের দল থেকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে একটি পরিবর্তন নিশ্চিত। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে আশরাফুলের জায়গা নিচ্ছেন অলক কাপালি। এ ছাড়া বোর্ডের কাছে নির্বাচকদের জমা দেওয়া দলে আছেন ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ না খেলা মাশরাফি বিন মুর্তজাও। তাঁকে জায়গা দিতে দলে নেই নাজমুল হোসেন।্র‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি চার দিনের ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে যোগ দিতে পারেন মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। আর নাঈম ইসলাম আছেন দলের বাইরে। সোহরাওয়ার্দী ফিরে এলে ‘এ’ দলে তাঁর জায়গা নেবেন নাঈম ইসলাম।
নির্বাচকদের দলে থাকলেও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে মাশরাফির সুযোগ পাওয়াটা নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফিটনেসের ওপর, কাল বোর্ডসভা শেষে জানিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস। সম্প্রতি কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন মাশরাফি। নবজাতকের অবস্থা এখন কিছুটা ভালো হলেও মাশরাফির স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। রাজধানীর একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে তাঁকে।

পাকিস্তানের শোয়েব-বাজি!

বুড়ো বাঘও তো থাবা দিয়ে দু-চারটা হরিণ ঘায়েল করতে পারে। আর তাই ‘শোয়েব আখতারকে ফেরাও’ ‘শোয়েব আখতারকে ফেরাও’ রব উঠেছে পাকিস্তানে। শুরুটা করেছিলেন ইমরান খান। আরেক সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফও সুর মিলিয়েছেন ইমরান খানের সঙ্গে। এবার ওয়াসিম আকরামও বললেন, সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে অবশ্যই ফেরানো উচিত শোয়েবকে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সাত ম্যাচের মাত্র তিনটিতে খেলেছেন শোয়েব। এর মধ্যে ১০ ওভারের বোলিং কোটা পূরণ করার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র এক ম্যাচে। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের ম্যাচেই সর্বনাশ। তাঁর বলেই রস টেলরকে আউট করার সুযোগ লুফে নিতে পারেননি কামরান আকমল। সেই টেলর সেটার মাশুল তুলেছেন তাঁরই এক ওভারে ২৮ রান তুলে। শোয়েবের বিশ্বকাপ-ভাগ্যও সেখানেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি বলেই দিয়েছেন, বিশ্বকাপে শোয়েবের আর খেলার সম্ভাবনা নেই।
বিশ্বকাপ খেলেই শেষ করতে চাওয়া এই ৩৫ বছর বয়সীকে খেলানোর পরামর্শ দিচ্ছেন আকরাম। তাঁর মতে, শোয়েব এমন একটা বাজির ঘোড়া, যার ওপর বাজি ধরলে সেটার হয় ফল আসবে, নয়তো নয়। মাঝামাঝি কিছু শোয়েব করবেন না, ‘হয়তো পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে শোয়েবকে খেলাবে। আমার মনে হয় একাদশে জায়গা ওর প্রাপ্য। ওয়াহাব রিয়াজ ভালো বোলিং করছে বটে, কিন্তু ব্যতিক্রম কিছু নয়। শোয়েব তাই ওর জায়গা নিতেই পারে।’
শোয়েব যে একেবারেই খারাপ বোলিং করেছেন, তা নয়। বরং নতুন বলে প্রথম স্পেলে আগুনই ঝরিয়েছেন। সমস্যা দেখা দিয়েছে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্পেলে। সর্বকালের অন্যতম সেরা পেসার আকরামও ধরতে পেরেছেন সমস্যাটি, ‘ওকে তাই পরামর্শ দিয়েছি, দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আসার আগে ভালোমতো ওয়ার্মআপ করতে। তা হলে সেটি ওকে আরও সাহায্য করবে।’
শোয়েবের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তো আছেই, পাশাপাশি মানসিক লড়াইয়ের জায়গাতেও তাঁর অন্তর্ভুক্তি বাড়তি রসদ পাকিস্তানকে জোগাবে। সবচেয়ে বেশিবার যেসব ব্যাটসম্যানকে আউট করেছেন, এর চারজনের তিনজনই ভারতীয়। তাঁর বিপক্ষে সৌরভ গাঙ্গুলী ভীষণ নড়বড়ে ছিলেন। ওয়ানডেতে সৌরভকে আউট করেছেন ৬ বার। ৫ বার করে আউট করেছেন পন্টিং, দ্রাবিড় ও টেন্ডুলকারকে। ২০০৩ বিশ্বকাপেও টেন্ডুলকার তাঁরই শিকার।
‘ভারতীয়দের বিপক্ষে শোয়েব কিন্তু সব সময়ই ভয়ংকর। আমি জানি ওকে নেওয়াটা অনেক বড় ঝুঁকি। কিন্তু যে সাহসীরা ঝুঁকি নেয়, ভাগ্য তাদেরই সহায়তা করে। টেন্ডুলকার-শেবাগ অন্য মাপের ব্যাটসম্যান। কিন্তু শোয়েবের সঙ্গে তাদের লড়াইটা একেবারেই অন্য মাত্রার। শোয়েব আসলে সত্যিকারের এক বিনোদনদাতা। বড় উপলক্ষ পেলেই ও ঝলসে ওঠে।’ আর তা ছাড়া বসে থাকতে থাকতে শোয়েবের হাতও নাকি নিশপিশ করছে।
এত কিছু বলার পরও আকরাম অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন, সেমিফাইনালের ম্যাচটিতে ভারতই ফেবারিট। তবে তাঁর পাদটীকা, হিসাব পাল্টে দিতে পাকিস্তানই তো ওস্তাদ!

শচীন যেকোনো কৌশলকেই গুঁড়িয়ে দিতে জানেন: হাফিজ

এইতো কালই পাকিস্তানি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি বলেছেন, শচীন টেন্ডুলকারকে তাঁর শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির জন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, মোহালিতে পাকিস্তানি বোলাররা শচীনকে এই অনির্বচনীয় সম্মান থেকে বঞ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন তার সবই করবে।
তবে অধিনায়কের মন্তব্যে শ্রদ্ধা থাকলেও পাকিস্তানি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও অফ স্পিনার মোহাম্মদ হাফিজ বলেছেন, ‘শচীনকে প্রতিরোধ করতে সব দলই কৌশল খাটায়। কিন্তু তিনি এমন মাপের একজন খেলোয়াড় যিনি পৃথিবীর যেকোনো কৌশলকেই ভেঙে চুরমার করে দিতে জানেন।’
শচীন টেন্ডুলকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাফিজ আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২২ বছর অতিক্রম করে ফেলার পরেও শচীন টেন্ডুলকার দারুণ ফর্মে রয়েছে। ব্যাপারটি সত্যিই অচিন্তনীয় ও যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য অনুকরণীয়।’
হাফিজের মতে, কোনো প্রশংসাই এই মহান ক্রিকেটারের জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁর প্রশংসা করার ভাষা হারিয়ে ফেলাটা খুবই স্বাভাবিক। এক কথায় শচীন টেন্ডুলকার একজন গ্রেট ক্রিকেটার। তিনি সর্বকালের সেরা।’

ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে সেমিতে শ্রীলঙ্কা

তিলকরত্নে দিলশান একেকটা ডিফেন্স করছেন, আর উল্লাসে ফেটে পড়ছে প্রেমাদাসার গ্যালারি। ইংল্যান্ডকে নিয়ে শ্রীলঙ্কা কীভাবে ছেলেখেলা করল, তার একটা প্রতীকী দৃশ্য হয়ে থাকল ওই কয়েকটা বল। নিয়মমতো ২২৯ টপকানোর পরই জিতেছে শ্রীলঙ্কা, কিন্তু ইংল্যান্ড তো আসলে হেরে গেছে অনেক আগেই!
শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী জুটিতে শতরান হওয়ার পর থেকে ইংলিশদের শরীরী ভাষাই বলছিল, একদম না পারতেই মাঠে আছে তারা; খেলার মাঝে রণে ভঙ্গ দেওয়ার নিয়ম থাকলে অনেক আগেই মাঠ ছেড়ে যেত! সেই অক্টোবরের শেষ দিকে বাড়ি ছেড়েছিল অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে, চার মাসের অ্যাশেজ শেষে মাঝে দুটো দিন দেশে থেকেই আবার ছুটে আসতে হয়েছে বিশ্বকাপে। এবার দেশে ফিরলেই যেন বাঁচা যায়! শেষ দিকে লড়াইটা হলো শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনারের, কে আগে তিন অঙ্ক ছোঁবে! আপাত ঠান্ডামাথার উপুল থারাঙ্গা পাল্লা দিয়ে রান করেছেন তিলকরত্নে দিলশানের সঙ্গে। তবে সেঞ্চুরিটা আগে হয়েছে দিলশানেরই। এরপর আরেক লড়াই। জয়ের জন্য ৩ রান, থারাঙ্গার সেঞ্চুরির জন্য ২। সতীর্থকে আনন্দে ভাসাতেই দিলশানের অমন ডিফেন্স, যাতে আনন্দে ভাসল পুরো প্রেমাদাসা। পুরো শ্রীলঙ্কাও কি নয়?
বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে এমন ইনিংস, দিলশানের উদ্যাপনটা হলো দেখার মতো। থারাঙ্গার উদ্যাপন তাঁর চরিত্রের মতোই স্থিতধী। দুজনে মিলে গড়েছেন এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি জুটি। জয়ের পর উইকেটে শুয়ে পড়লেন দিলশান। হয়তো পাহাড়সমান চাপটাকে এত সহজে জয় করতে পারার স্বস্তিতে। হয়তো দেশের মাটিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে পারার আনন্দে, স্বপ্নপূরণের আরও এক ধাপ কাছে যাওয়ার রোমাঞ্চে!
ইংলিশদের সুযোগ ছিল প্রতিশোধ নেওয়ার। কিংবা তার চেয়েও বেশি কিছু। ‘বিশ্বকাপ’ শব্দটা ওয়ানডের জনকদের জন্য দুঃস্বপ্ন হতে শুরু করেছিল তো এই শ্রীলঙ্কার কাছেই। প্রথম ৫ বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই সেমিফাইনাল খেলা ইংল্যান্ড ১৯৯৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বসে শ্রীলঙ্কার কাছে। এরপর সেমিফাইনালের মুখ দেখা হয়নি আর কখনো। এবার আবারও কোয়ার্টার ফাইনাল, আবার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, সেটাও শ্রীলঙ্কার মাটিতে। প্রেমাদাসার ৩৫ হাজার দর্শক আর টিভি পর্দার সামনে গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দিতে পারলে সে তো প্রতিশোধের চেয়ে বেশি কিছুই হতো!
প্রতিশোধ তো বহুদূর, বরং উল্টো তারাই উড়ে গেছে। প্রেমাদাসার শততম ম্যাচে ফিরে এসেছে ১৯৯৬-এর ইকবাল স্টেডিয়াম। সেবার ইংলিশদের দুমড়েমুচড়ে দিয়েছিলেন সনাৎ জয়াসুরিয়া, এবার তিলকরত্নে দিলশান ও উপুল থারাঙ্গা। জয়াসুরিয়াকে একটা সময় থামানো গিয়েছিল, দিলশান-থারাঙ্গাকে যায়নি। ১৫ বছর আগের চেয়েও বরং লজ্জাজনকভাবে হেরেছে ইংল্যান্ড। জয়াসুরিয়ার টর্নেডোর পরও (৪৪ বলে ৮২) ২৩৫ টপকাতে সেবার ৫ উইকেট পড়েছিল শ্রীলঙ্কার। এবার তার চেয়ে ৬ রান কম করে (২২৯) হারল ১০ উইকেটে! গ্রুপ পর্বে একের পর এক রোমাঞ্চকর ম্যাচের পর অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস বলেছিলেন, আর রোমাঞ্চ চান না তাঁরা। পূরণ হয়েছে তাঁর চাওয়া, তবে যেভাবে হলো এমনটা নিশ্চয়ই চাননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক!
ইংল্যান্ড ইনিংসের পর কিন্তু মনে হয়েছিল জয়টা সহজ হবে না শ্রীলঙ্কার। ২৩০ ওয়ানডেতে নস্যি অনেক দিনই, কিন্তু শ্রীলঙ্কার ওপর গোটা জাতির প্রত্যাশার ভার আর প্রেমাদাসার ইতিহাসও যে ছিল! পরিসংখ্যান বলছে, প্রেমাদাসায় রান তাড়া করে জয়ের মতো কঠিন কাজ ক্রিকেটে খুব কমই আছে। এর আগে এই মাঠে ৭৭টি দিবারাত্রির ম্যাচের ৪৬টিতে জিতেছে প্রথমে ব্যাটিং করা দল, সর্বশেষ ১৭ ম্যাচের ১৫টি। কিন্তু সত্যি হলো মাহেলা জয়াবর্ধনের কথাই। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন ফ্লাডলাইট আর উইকেট নতুন করে বসানোর পর প্রেমাদাসায় রাতে রান করায় কোনো সমস্যা নেই, ম্যাচের দুই দিন আগে বলেছিলেন সাবেক অধিনায়ক।
তবে ইংল্যান্ডের রান আরেকটু বেশি হলে জয়াবর্ধনের কথা ফলত কি না, কে জানে। বিশেষ করে, কাল শ্রীলঙ্কা যেভাবে নিজেদের স্বভাববিরুদ্ধ বাজে ফিল্ডিং করেছে। এক এউইন মরগানেরই তিন-তিনটি সহজ ক্যাচ পড়েছে, একবার বল তাঁর পায়ে লাগার পর বোলার মালিঙ্গা ছাড়া কেউই আবেদন করেননি। অথচ টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, রিভিউ নিলেই নিশ্চিত এলবিডব্লু হতেন মরগান। টপ-অর্ডারের শম্বুক-সূচনার পর ইংল্যান্ডের ইনিংসটা গতি পেয়েছিল এই মরগানের সঙ্গে ট্রটের জুটিটার সময়ই। দুজনের ৯১ রানের জুটির সময় মনে হচ্ছিল, আড়াই শও হয়ে যেতে পারে ইংল্যান্ডের। কিন্তু ব্যাটিং পাওয়ার প্লের প্রথম ওভারে মরগান আউট হওয়ার পর আবারও বেরিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ের অস্থিমজ্জা। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে তাই রান মাত্র ২৩, শেষ ১০ ওভারে ৫৬! ফিফটি নিয়ে খেলতে থাকা ট্রট পর্যন্ত একটা চার মারতে পারেননি ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে। এই বিশ্বকাপে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে কাল ৪০০ পেরিয়েছেন ট্রট, কিন্তু ২ বাউন্ডারিতে ৮৬ রান তাঁর ব্যাটিং নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোকে আরেকবার জাগিয়ে তুলবে নিশ্চিতভাবেই।
টিভি-রেডিওর কমেন্ট্রি দিতে আসা সাবেক পাঁচ ইংল্যান্ড অধিনায়ক—টনি গ্রেগ, ইয়ান বোথাম, মাইক আথারটন, নাসের হুসেইন, মাইকেল ভন দেখলেন তাঁদের উত্তরসূরিদের জন্যও ব্যর্থতার আরেক নাম হয়ে থাকল ‘বিশ্বকাপ’। আর শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ও প্রধান নির্বাচক অরবিন্দ ডি সিলভা ভিআইপি বক্সে বসে দেখলেন টানা তৃতীয় সেমিফাইনালে উঠে গেল তাঁর উত্তরসূরিরা। আরেক ধাপ এগিয়ে গেল স্বপ্নপূরণের দিকেও!

‘রিকির অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত’

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল এই মুহূর্তে অসি দলে বড় ধরনের পরিবর্তন চান। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়ার পর দলে এখন পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে।
১৯৯২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো। মাঝে ১৯৯৬ সালে ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয়ের পর পরের তিনটি বিশ্বকাপে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অজেয় একটি দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে অসিরা। দুর্দমনীয় দাপটে জেতা বিশ্বকাপের হ্যাটট্রিক শিরোপাই ছিল অস্ট্রেলিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়। গত তিনবারের বিশ্বকাপ শিরোপার দুটিই এসেছিল রিকি পন্টিংয়ের হাত ধরে। এবার উপমহাদেশে পন্টিং এসেছিলেন নিজের হ্যাটট্রিক ও দলের টানা চতুর্থ শিরোপার প্রত্যাশায়। কিন্তু ভারতের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে অস্ট্রেলিয়ার সেই স্বপ্ন এখন কাঠখোট্টা বাস্তবতায় পরিণত।
অ্যাশেজ-সম্মান হারানোর পরপরই রিকি পন্টিংয়ের টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন ইয়ান চ্যাপেল। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর রিকি পন্টিংয়ের ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়াও ‘সময়ের দাবি’ হিসেবেই দেখছেন চ্যাপেল ভাইদের সবচেয়ে বড়জন।
‘বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কথা মাথায় রেখে আপনি যদি দলে একটি পরিবর্তন চান, তাহলে অধিনায়কত্বেও পরিবর্তন আনাটা জরুরি। কারণ, নতুন দল পুরোনো অধিনায়কের অধীনে খেলতে পারে না।’ অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সংবাদপত্র দি অস্ট্রেলিয়ানের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এমন কথাই বলেছেন ইয়ান চ্যাপেল।
‘যদি অস্ট্রেলিয়া দলকে আবার অজেয় হিসেবে দেখতে চান, তাহলে এতে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক প্রতিভা রয়েছে। তাঁদের নিয়ে আমরা চার বছরের একটি পরিকল্পনা হাতে নিতে পারি।’ চ্যাপেলের মন্তব্য।
ইয়ান চ্যাপেল আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, দলের পুনর্গঠন অবশ্য পালনীয় ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।’
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিন কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নও দলের পুনর্গঠনের ব্যাপারে ইয়ান চ্যাপেলের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তবে তিনি রিকি পন্টিংয়ের সম্মানজনক বিদায় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘অধিনায়কত্ব নিয়ে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক, আমার মনে হয়, তাতে রিকির অংশগ্রহণটা জরুরি। যা-ই সিদ্ধান্ত হোক, সেটা রিকির হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। কারণ, অতীতে রিকি অস্ট্রেলিয়াকে অনেক দিয়েছে।’

নাট্যকর্মীর ‘বিশ্ব নাট্য দিবস’ by জাহিদ রিপন

‘নাট্যকর্মীরা, সবাই চেয়ার ছাড়ো, শিল্পীদের বসতে দাও’—১৯৮৫ থেকে যখন আমি ফরিদপুরে সুনিয়ম নাট্যচক্রে নিয়মিত গ্রুপ থিয়েটার নাট্যচর্চা শুরু করি এবং জাতীয় নানা দিবসে গভীর অনুরাগে স্বাধীনতা চত্বর অথবা অম্বিকা ময়দানে পথনাট্য মঞ্চায়নে সমবেত হই, সে সময় দর্শকসারিতে উপবিষ্ট হলে এই ছিল হঠাৎ হঠাৎ আমাদের প্রতি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। শিল্পী কারা? যাঁরা ওই অনুষ্ঠানে নৃত্য অথবা সংগীত পরিবেশনে উপস্থিত হয়েছেন। আর আমরা তো শিল্পী নই, শুধুই কর্মী। তখন প্রকৃতপক্ষেই ওই অল্প বয়সে আমার মস্তিষ্কে এ বিশ্বাস প্রায় স্থায়ী হয়ে যেতে বসেছিল যে ‘নাট্যচর্চাকারী’ আর ‘শিল্পী’ ভিন্ন জিনিস অথবা নাট্যকর্মী কখনোই শিল্পীর মর্যাদা পায় না। তৎকালীন সরকারের নাট্যকর্মীর প্রতি সাক্ষাৎ বিমাতাসুলভ আচরণও হয়তো বা আমার এ ধারণার নেপথ্য-নির্মাণে সক্রিয় ছিল।
এমনই হতাশার কালে হঠাৎ একদিন আমি একটি দিবসের কথা শুনতে পাই, বিশ্ব নাট্য দিবস। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তো নাট্যকর্মী হয়ে কেবল নিন্দার্হই হয়েছি, সেখানে নাট্যকর্মীর জন্য একান্তভাবে একটি বিশেষ দিবস? আবার তা নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ইউনেসকোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (আইটিআই)! এই প্রথম আমি আইটিআইয়ের নাম শুনলাম। পরিষ্কার মনে আছে, আমার অন্তরে তখন এমন অনুভূতির উদয় হয়েছিল যে নাট্যকর্মীর সম্মান কেবল আমাদের দেশের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী নয়, বরং সারা বিশ্বে সমুন্নত মর্যাদায় আগেই নির্ধারিত হয়েছে। এই আত্মবিশ্বাস আমার অন্তরের সব দ্বিধা দূর করে একনিষ্ঠভাবে নাট্যকর্মের প্রেরণা জুগিয়েছিল (যদিও পরে জানতে পেরেছি—‘পঞ্চম বেদ’খ্যাত প্রাচ্যের সুপ্রাচীন নাট্যবিষয়ক প্রামাণ্যগ্রন্থ ভরত নাট্যশাস্ত্রর প্রণেতা ভরত কর্তৃক বর্ণিত সেই অমোঘ বাণী—পৃথিবীর সব জ্ঞান, সব শিল্প, সব কৌশল এবং সব কর্মের মিলিত শিল্পরূপই হচ্ছে নাটক! অতএব, নাট্যকর্মীরা শিল্পী নাকি শিল্পীর অধিক শিল্পী সে প্রশ্নের মীমাংসা হয়েছে প্রশ্নাতীতভাবে)।
পরে বিশ্ব নাট্য দিবস সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পারি যে ইউনেসকোর উদ্যোগে এবং বিশ্বের কয়েকজন স্বনামখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্বের সক্রিয় ভূমিকায় ১৯৪৮ সালে প্রাগে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট গঠিত হয়। পরিবেশনা শিল্পের (পারফর্মিং আর্টস) ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আন্তর্জাতিক বিনিময় বাড়ানো, নাটকের ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতা ও সহযোগিতাকে উৎসাহ দেওয়া, উন্নয়নে সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনমত সৃষ্টি, পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে মানুষে মানুষে সৌভ্রাতৃত্ব ও শান্তি নিশ্চিত করা, ইউনেসকোর উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা দান, সর্বপ্রকার বর্ণ-সামাজিক-রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করা প্রভৃতি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নেই আইটিআই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৬১ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের নবম বিশ্ব কংগ্রেসে আইটিআই, ফিনল্যান্ড কেন্দ্রের প্রস্তাব অনুযায়ী বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনকে বিশ্ব নাট্য দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৬২ সালে আইটিআইয়ের প্যারিসে অনুষ্ঠিত থিয়েটার অব নেশনসের উদ্বোধনী তারিখ ছিল ২৭ মার্চ। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ দিনকেই বিশ্ব নাট্য দিবস পালনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিবছর ২৭ মার্চ বিশেষ মর্যাদা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সারা বিশ্বে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দিবস উদ্যাপিত হয়ে আসছে।
নাট্যকর্মীদের দীর্ঘ নাট্য-আন্দোলনের উজ্জ্বলতর অর্জন এ দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে ১৯৬২ সাল থেকে পালিত হলেও ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আইটিআইয়ের সহযোগী সদস্যপদ পাওয়ার পর ১৯৮২ সালে এখানে বিশ্ব নাট্য দিবস উদ্যাপন শুরু হয়। আইটিআই প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যগুলো অর্জনের উদ্দেশ্যে নতুন প্রত্যয়ে দৃপ্তমান হওয়ার জন্যই প্রকৃতপক্ষে বিশ্ব নাট্য দিবস পালন করা হয়। নাট্য তথা পরিবেশনাশিল্পের মাধ্যমে মানবিক সম্পর্কের উন্নয়ন, নাট্যকর্মীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহমর্মিতা বাড়ানো এবং নাট্যকর্মীর সঙ্গে দর্শকের সম্পর্ক জোরদার করার মধ্যেই প্রকৃতপক্ষে এ দিবসটি পালনের সার্থকতা নিহিত। নাট্যকর্মী মাত্রই তো ধর্ম-বর্ণ-সংস্কৃতি-ভাষা-ভূগোলের গণ্ডিমুক্ত হয়ে সর্বদেশের নাট্যকর্মী-নাট্যানুরাগীর আত্মার আত্মীয় হতে প্রত্যাশী, এ দিবসটি প্রকৃতই তাদের সামনে সে সুযোগ নিয়ে উপস্থিত হয়। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার আইটিআই, বিশ্বকেন্দ্রের বর্তমান নির্বাচিত সভাপতি। এটি নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নাট্য তথা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের সর্বাপেক্ষা বড় অর্জন।
প্রথা অনুযায়ী, এ বছর ‘মানবতার কল্যাণে থিয়েটার’ শিরোনামে বিশ্ব নাট্য দিবসের আন্তর্জাতিক বাণী দিয়েছেন উগান্ডার নাট্যকার, অভিনেত্রী, নির্দেশক ও ম্যাকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জেসিকা এ কাওয়া। বাণীতে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই যেসব মূল্যবোধ পোষণ করি এবং যা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি, থিয়েটার সেসব ধারণা প্রসার ও জোরদারকরণে পরীক্ষিত উপায় হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে...।’
নাট্যকর্মী হিসেবে একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা: চাকরির বাজারে অনেকখানি নিশ্চয়তা প্রদান করে এমন একটি বিষয়ে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আমি যখন নাট্যানুরাগে সেটি পরিত্যাগ করে ১৯৯০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে প্রথম বর্ষে ভর্তি হই, তখন আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিমূঢ় জননীকে প্রতিবেশী এক প্রকৌশলী বলেছিলেন, ‘মন খারাপ করে আর কী করবেন, কেউ দুধ বেচে মদ খায় আর কেউ...।’ তারপর দুই দশক অতিক্রান্ত হলেও সাধারণ মানুষের অনুরূপ ধারণার খুব বেশি কি পরিবর্তন হয়েছে? বিশ্ব নাট্য দিবস আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে উদ্যাপনের মাধ্যমে তাই এসব নেতিবাচকতার বিপরীতে নাট্যকর্মী-নাট্যানুরাগীদের অবশ্যই সর্বোচ্চ একাত্মতা আর ইতিবাচকতার শক্তিতে উজ্জ্বল হতে হবে।
বিশ্ব নাট্য দিবসের এই সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নিবেদিতপ্রাণ সব নাট্যকর্মী ও নাট্যানুরাগী দর্শককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। চলে আসুন আজ বিকেল চারটায় মহিলা সমিতিতে। এখান থেকে নাট্যকর্মীদের আনন্দ শোভাযাত্রা পৌঁছাবে জাতীয় নাট্যশালায়। সেখানে অনুষ্ঠানমালায় থাকছে প্রীতি সম্মিলনী, আলোচনা, বিশ্ব নাট্য দিবস বক্তব্য, সম্মাননা প্রদান আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি বামফ্রন্ট by অমর সাহা

এমনটা বোধ হয় ভাবেনি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট। বামফ্রন্টের একাংশ নেতার ধারণা ছিল, শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী জোট না-ও হতে পারে। কিন্তু হয়েই গেল সোমবার। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর হস্তক্ষেপে অবশেষে কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে জোট গড়তে বাধ্য হয়েছে। এক কথায় বলা চলে, অনড় মমতা যেভাবে আসন ছেড়েছেন, তাই-ই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের কোনো দাবি কার্যত মেনে নেননি মমতা।
গত শুক্রবার মমতার ২২৮টি আসনে তাঁর দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর কংগ্রেস-তৃণমূল জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। তখন সোনিয়া বিদেশে। রোববার দিল্লিতে ফিরে তিনি সোমবারই নিরসন করেন এ জটিলতার। ঘোষণা করেন একসঙ্গে লড়ার।
কংগ্রেস মনে করেছে, যেভাবে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে মমতা-হাওয়া শুরু হয়েছে, সেখানে তাঁরা আলাদাভাবে লড়লেও কেবল মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর জেলায় কিছুটা ফল ভালো করতে পারলেও গোটা রাজ্যে কংগ্রেস বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। ভুল বার্তা পৌঁছে যাবে কংগ্রেসের কাছে। এসব ভেবেই কংগ্রেসের কিছু আসন নিশ্চিত করা এবং কংগ্রেসের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার জন্যই কলকাতা পৌর করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌরসভার নির্বাচনের ফলাফল দেখে সোনিয়া শেষ পর্যন্ত মেনে নেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রস্তাব।
পাশাপাশি মমতাও এটা বুঝেছেন, রাজ্যব্যাপী তাঁর দলের অবস্থান শক্তিশালী থাকলেও মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরে তাঁরা দুর্বল। সেখানে তাঁদের কয়েকটি আসনের জয় নিশ্চিত করতেই মেনে নিয়েছেন কংগ্রেসের সঙ্গে জোট। মমতার আরও উপলব্ধি ছিল, কংগ্রেস আলাদাভাবে সব আসনে লড়লেও প্রতিটি আসনেই কিছু না কিছু ভোট কংগ্রেস পাবেই। এই ভোট কাটাকাটিতে আখেরে বামফ্রন্টই লাভবান হবে। এসব চিন্তা করেই মমতাও হাত বাড়িয়ে দেন কংগ্রেসের দিকে। ফলে জোট হয় এ দুই দলের।
এদিকে এই জোট হওয়ার পর বাম শিবিরে কিছুটা হলেও হতাশা নেমে এসেছে। বামফ্রন্ট কংগ্রেস-তৃণমূল জোট না হলে যে সুবিধা পেত, সেই সুবিধা থেকে এবার যে বঞ্চিত হতে চলেছে—সেটা শীর্ষ নেতারা এখন উপলব্ধি করতে পেরেছেন। সত্যিই এবার বামফ্রন্ট এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে পড়েছে। জয়ের ব্যাপারেও তাঁরা এখন আর নিশ্চিত হতে পারছেন না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও বামফ্রন্ট এখনো সদর্পে বলে বেড়াচ্ছে, পরবর্তী সরকার তারাই গড়ছে।
কিন্তু কী হবে এবারের নির্বাচনী ফলাফল, তা নিয়ে এখনো জল্পনা-কল্পনা চলছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বামফ্রন্ট। বামফ্রন্ট যেমন এখনো নিশ্চিত নয় ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যাপারে, ঠিক তেমনি তৃণমূলও যে একতরফা ১৪৮টি আসন পেয়ে যাবে, এমনটাও নিশ্চিত করতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করছেন, তৃণমূল একা সরকার গড়তে না পারলেও কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের সরকার গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রবল।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৃণমূল যতটা মনে করছে, ততটা আসন না-ও পেতে পারে। তৃণমূল নেত্রী মমতা ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব সমীক্ষায় বলা হয়েছে, তাদের জোট ২৫০ আসনে জিততে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রয়েছে ২৯৪টি আসন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিঙ্গুরে টাটাকে ন্যানো কারখানা গড়তে রাজ্য সরকারের দেওয়া ৯৯৭ একর জমির বিরুদ্ধে মমতার আন্দোলন, নন্দীগ্রামে রসায়ন শিল্পাঞ্চল গড়ার বিরুদ্ধে মমতার আন্দোলন এবং সর্বোপরি তরুণ গ্রাফিক ডিজাইনার রেজওয়ানুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে মমতার আন্দোলন তৈরি করে বামফ্রন্টবিরোধী একটি ইমেজ। সেই ইমেজকে সম্বল করে এখন এগিয়ে গেছে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট।
ফলে বামফ্রন্টবিরোধী মমতার এই আন্দোলনে রাজ্যজুড়ে শুরু হয় এক পরিবর্তনের হাওয়া। সেই হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় আসতে চাইছেন মমতা। অন্যদিকে কলকাতার একদল বুদ্ধিজীবী ‘পরিবর্তন চাই’ স্লোগান তুলে কার্যত মমতার পাশে এসে দাঁড়ান। আর এসব ঘটনার মধ্যে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চায়েত নির্বাচন, ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচন, ২০১০ সালে কলকাতা পৌর করপোরেশনসহ রাজ্যের পৌরসভা নির্বাচন। সব নির্বাচনেই মমতা বিপুল জয় পান। আর সেই জয়কে মূলধন করে এবার মমতা অবতীর্ণ হয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনে। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বামফ্রন্টকে।
ঘোষণা দিয়েছেন, এবার এই রাজ্যের বামদলের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে রাজ্যবাসী। ভবিষ্যতে সরকার গঠন করবে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট। মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা। আর এসব ঘোষণার মধ্য দিয়ে মমতা বামফ্রন্টের দিকে ছুড়ে দিয়েছেন এক চ্যালেঞ্জ।
সেই চ্যালেঞ্জ কি মোকাবিলা করতে পারবে বামফ্রন্ট? তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে রাজনৈতিক যোগ-বিয়োগ ও বিশ্লেষণ।
অমর সাহা: প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি।

পচা-বাসি খাবার

‘খাবারের মান’ বলে যে একটি বিষয় আছে, তা আমাদের দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁ বা খাবার সরবরাহকারীদের অনেকের মাথাতেই থাকে না। আবার ‘মান নিয়ন্ত্রণের’ জন্য সরকারের যে উদ্যোগ থাকা দরকার, তা-ও চোখে পড়ে না। এর ফলাফল আমরা দেখছি, খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে নিয়মিতই।
গত মঙ্গলবার পচা খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বিশ্বকাপ ক্রিকেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী। পুলিশ, র্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও ছিলেন এঁদের মধ্যে। গত শুক্রবার ঘটেছে একই ধরনের আরও একটি ঘটনা। একটি ওষুধ কোম্পানির বার্ষিক কর্মী সম্মেলনে যোগ দেওয়া কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন দুপুরের খাবার খাওয়ার পর। সম্মেলনটি হয়েছে ধানমন্ডির ম্যারিয়ট কনভেনশন সেন্টারে, খাবার সরবরাহ করেছে তারাই। বিশ্বকাপের মতো একটি আয়োজনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিতদের খাদ্য সরবরাহের দায়িত্ব যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু তারাই এমন খাবার সরবরাহ করল, যা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী। বোঝা যায়, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটিতে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ বলে কিছু নেই। এ ঘটনার তাও কিছু প্রতিক্রিয়া আমরা লক্ষ করেছি। খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু ম্যারিয়ট কনভেনশন সেন্টারে যে ঘটনা ঘটল, তার ফলাফল কী হবে?
দেখা যাচ্ছে, আমাদের দেশের অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁ যে পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশন করে, তাতে মান বজায় রাখার কোনো বালাই নেই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও কেউ নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঝেমধ্যে যে অভিযান চালান এবং জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার যে বিধান রয়েছে, তাতে এই খাদ্য ব্যবসায়ীদের ঠেকানো যাবে বলে মনে হয় না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ‘খাদ্য ও ওষুধ’ প্রশাসনের মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান কার্যকর রয়েছে। খাদ্য ও ওষুধের মানের ক্ষেত্রে সেখানে সামান্যতম ছাড়ও দেওয়া হয় না। অথচ আমাদের দেশে খাবারের মান নিয়ে কার্যত যাচ্ছেতাই চলছে। এ ধরনের একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশেও জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা প্রয়োজন।

পাকিস্তানিদের নৃশংসতা ও একজন শর্মিলা বসু by আবদুল মান্নান

শর্মিলা বসুর সঙ্গে ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসের আগে আমার পরিচয় ছিল না। যদিও তিনি আমার শৈশবের একজন প্রাতঃস্মরণীয় মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাই শিশির বসুর কন্যা। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে, আর বিয়ে করেছেন একজন ইংরেজ—অ্যালান রজলিংককে; লেখাপড়া কলকাতা, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে প্রথমে যখন কলকাতায় যাই, তখন সেই মহানগরের যে কটি দর্শনীয় স্থান দেখব বলে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, সেগুলোর মধ্যে নেতাজির এলগিন রোডের বাড়ি একটি। সেটি তখন নেতাজি জাদুঘর। ২০০৫ সালে শর্মিলা বসুর সঙ্গে আমার পরিচয় তাঁর একটি লেখাকে কেন্দ্র করে। ‘Anatomy of Violence: Analysis of Civil War in East Pakistan 1971’ শিরোনামে শর্মিলা বসুর একটি প্রবন্ধ ছাপা হয় মুম্বাই থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জার্নাল ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলিতে। একটি ভালো মানের পত্রিকা, যা মোটামুটি আমি অনলাইনে নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি। তিনি তাঁর এই লেখায় মূলত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাদের শৌর্যবীর্যের গুণকীর্তন করেছেন এবং বলার চেষ্টা করেছেন, আসলে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের ভূমিকাকে যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়, তারা তত খারাপ লোক ছিল না! তিনি তাঁর সব লেখাতেই পাকিস্তানি সেনা অফিসার এবং তাঁদের লিখিত বইপুস্তক থেকে উদ্ধৃতি প্রমাণ হিসেবে হাজির করেন।
শর্মিলা বসু বোধগম্য কারণেই পাকিস্তানি প্রচারমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়। কারণ, তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত, হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করেন এবং নেতাজির মতো একজন মহান ব্যক্তির আত্মীয়। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর তাঁর লেখা একটি প্রবন্ধ লাহোর থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা পাকিস্তান টাইমস প্রকাশ করে। লেখাটির শিরোনাম ছিল ‘Pakistan Army shined in 1971’। প্রবন্ধটিতে লেখিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিয়ানমার ফ্রন্টে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তাঁর কাকা নেতাজি সুভাষ বসুর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির যুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে জেনারেল নিয়াজিকে হাজির করেন। আসলে সেটাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, তাঁর কাকা নন। তিনি বলেছেন, যে জেনারেল নিয়াজি (তখন তিনি একজন জুনিয়র অফিসার ছিলেন) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এত বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে ব্রিটিশদের নজর কাড়তে পারেন এবং বীরত্বসূচক সম্মানে ভূষিত হতে পারেন, তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা চালাতে পারেন অথবা তাঁর অধীন পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে ধর্ষণ চালাতে পারে, তা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মিস বসুর আরেকটি ন্যক্কারজনক লেখা প্রকাশ করে সাপ্তাহিক ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি, যার শিরোনাম ছিল ‘Losing the Victims: Problems of Using Women as Weapons in Recounting the Bangladesh War’। এ প্রবন্ধেও তিনি ব্যবহার করেছেন পাকিস্তানি সব রেফারেন্স। তবে তাঁর এই লেখার মূল বিষয় ছিল এটি প্রমাণ করা যে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি প্রায়ই বলে বা লেখে যে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাতে আড়াই লাখ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তা সর্বৈব অসত্য এবং এত কম সময়ে ২০ বা ৪০ হাজার সেনার পক্ষে আড়াই লাখ নারীকে ধর্ষণ করা সম্ভব নয়। তিনি তাঁর এই উপসংহারের জন্য ২০০৩ সালে তাঁর নেওয়া জেনারেল নিয়াজির সাক্ষাৎকার ব্যবহার করেছেন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন, যত নারী ধর্ষিত হয়েছেন বলে বাংলাদেশ দাবি করে, তা যদি সত্য হয়, তাহলে প্রত্যেক পাকিস্তানি সেনাকে গড়ে ছয় থেকে ১২ জন নারীকে ধর্ষণ করতে হবে, যা দৈনিক হিসাবে দাঁড়ায় ৭৫৫ থেকে এক হাজার ৫০৯ জন, যা অসম্ভব। তিনি ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করতেও দ্বিধা করেননি। তাঁর হিসাবমতে, সে সময় বাংলাদেশে সর্বমোট ৩৪ হাজার পাকিস্তানি সেনা ছিল। এতে তিনি ১১ হাজার পাকিস্তানি সিভিল পুলিশ ও অন্য অস্ত্রধারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন নিয়াজির স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ এবং হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্ট।
অথচ সারা দুনিয়া জানে, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরেরা মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। মিস বসু দাবি করেছেন, তিনি তাঁর প্রবন্ধটি মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, পাকিস্তানি সেনারা যুদ্ধের সময় শুধু প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের হত্যা করলেও নারী ও শিশুদের রেহাই দিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, মিস বসু হয়তো তাঁর তথ্য কলকাতার গড়ের মাঠে বসে সংগ্রহ করেছেন। এখানে আরও উল্লেখযোগ্য, শর্মিলা বসু তাঁর সব লেখায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সব সময় ‘গৃহযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অবশ্য শুধু একজন শর্মিলা বসুই যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ হিসেবে দেখেছেন, তা নয়, বাংলাদেশের অনেক লেখক-কলামিস্টও তা-ই দেখেন। এমন একজন লেখকের একটি প্রবন্ধ ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলিতে ২০০৭ সালে প্রকাশিত হলে আমি তার প্রতিবাদ করে তাঁকে একটি মেইল পাঠিয়েছিলাম। তিনি ফিরতি মেইলে আমাকে জানিয়েছিলেন, তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধ’ই লিখেছিলেন, কিন্তু ওই পত্রিকার সম্পাদক তা ‘গৃহযুদ্ধ’ করে দিয়েছেন।
শর্মিলা বসু তাঁর পাকিস্তান তোষণনীতির অংশ হিসেবে সর্বশেষ মিথ্যা-আশ্রিত বোমাটি ফাটানোর চেষ্টা করেছেন ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির উড্রো উইলসন সেন্টারে। এদিন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা তাঁর বই ডেড রেকনিং: মেমোরিজ অব দ্য ১৯৭১ ওয়ার-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল এই সেন্টারে। এর তিন দিন আগে বইটি ছাপার কাজ শেষ হয়। বলে নেওয়া ভালো, একাত্তরে বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন ১২ বছর বয়সী শর্মিলা বসু কলকাতায় একজন স্কুলছাত্রী ছিলেন। তখন তিনি বড়জোড় কলকাতার রাস্তায় আমাদের কিছু শরণার্থী দেখেছেন, একটি জাতির মুক্তির জন্য যুদ্ধে যাওয়ার মুহূর্ত এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা উপলব্ধি করার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য কোনোটাই তাঁর হয়নি। তিনি লিখছেন সেই যুদ্ধের স্মৃতি! অবশ্য সেসব স্মৃতির বেশির ভাগই পাকিস্তানি পক্ষের, সে দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের, যাঁরা একাত্তরে এ দেশে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছিলেন। শর্মিলা বসুর বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হচ্ছে জেনে ডিসির আশপাশে যাঁরা থাকেন, তাঁরা ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বেশ উদ্গ্রীব হয়ে ওঠেন। এঁদের অন্যতম হচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন্নবী। পেশায় তিনি একজন বিজ্ঞানী। ১৫ তারিখের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার অনুজপ্রতিম সাংবাদিক আনিস আহমেদ, সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ, ১৯৭১-এ পাকিস্তানে কর্তব্যরত এপির সাংবাদিক আর্নল্ড জেটলিন, একসময় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম প্রমুখ। শর্মিলা বসু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর এই সর্বশেষ প্রকাশনায়ও বলার চেষ্টা করেছেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা কোনো বাঙালি নারীকে ধর্ষণ করেনি অথবা গণহত্যার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিল না। তিনি লিখেছেন, একাত্তরে ৩০ লাখ বাঙালি শহীদ এবং দুই লাখ নারীর সম্ভ্রম হারানোর তথ্য সঠিক নয়। এ সংখ্যা প্রচার করা হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নের মদদে। শিল্পী কামরুল হাসান ঘাতক ও মদ্যপ ইয়াহিয়া খানকে নিয়ে ‘এই জানোয়ারটিকে হত্যা করতে হবে’ শিরোনামে যে ঐতিহাসিক পোস্টারটি এঁকেছিলেন, তাতেও মিস বসুর আপত্তি। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সর্বোচ্চ র্যাংকধারী একজন সামরিক কর্মকর্তাকে নিয়ে এমন ছবি আঁকাটা বিবেকপ্রসূত ছিল না। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন, এটি ছিল একধরনের উগ্র নৃতাত্ত্বিক (ethnic) আচরণ এবং অসহযোগ আন্দোলন কখনো অহিংস ছিল না। মিস বসু আরও বলেছেন, একাত্তরের মার্চ মাসে জাতীয় নেতারা (আওয়ামী লীগ) সব সময় দ্বিচারী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কোথাও ভুট্টো বা ইয়াহিয়া খানের তেমন কোনো দ্বিচারিতা দেখতে পাননি।
বলা বাহুল্য, সেদিন যাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন—জামায়াত-জাতীয়তাবাদী ঘরানার কয়েকজন ছাড়া—তাঁরা শর্মিলা বসুর বই সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য শুনে বেশ আহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। ড. নবী সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন কিছুদিন আগে তাঁর রচিত ও প্রকাশিত একাত্তরের যুদ্ধদিনের স্মৃতিমূলক গ্রন্থ Bullets of 1971। সেখান থেকে উদ্ধৃতি এবং একাত্তরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্রমাণ করেছেন, শর্মিলা বসু একজন ভাড়াটে লেখক বৈ অন্য কিছু নন। সাংবাদিক আর্নল্ড জেটলিন একাত্তরে তাঁর সঙ্গে ইয়াহিয়া খানের সাক্ষাতের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, তিনি সব সময় মাতাল থাকতেন এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতা নষ্ট করার জন্য তাঁকে গালাগাল করতেন। সাংবাদিক আনিস মন্তব্য করেন, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের আচরণ যাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁরা কখনোই তাদের পক্ষ অবলম্বন করতে পারেন না। আরশাদ মাহমুদ মিস বসুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি পাকিস্তানের আইএসআইয়ের অর্থায়নে এই বই রচনা করেছেন কি না। শর্মিলা বসু অবশ্য তা অস্বীকার করেন। উইলিয়াম বি মাইলাম মন্তব্য করেন, একাত্তরে বাংলাদেশে নারী ধর্ষণ ও গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, এ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে। চতুর্মুখী সমালোচনার মুখে শেষতক মিস বসু ফুটো বেলুনের মতো চুপসে যান।
সম্ভবত আসল সত্য হচ্ছে, বাংলাদেশে যখন স্বাধীনতার ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু হয়েছে, তখন মিস বসু জামায়াত ও তাদের আন্তর্জাতিক মুরব্বিদের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি অশুভ মিশনে নেমেছেন। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার কতটুকু সজাগ আছে, জানি না। তবে এটি ঠিক, এ রকম আরও অনেক শর্মিলা বসু ভবিষ্যতে আত্মপ্রকাশ করবেন। ইন্টারনেটে একজন ব্লগারের মন্তব্য দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাই। তিনি লিখেছেন, একাত্তরে যদি মিস বসু অথবা তাঁর কোনো নিকটাত্মীয় কোনো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে সম্ভ্রম হারাতেন, তাহলে বুঝতেন, বাঙালিরা তাদের স্বাধীনতার জন্য কত বড় আত্মবিসর্জন দিয়েছে। সবশেষে সরকারের কাছে একটা বিনীত অনুরোধ, অবিলম্বে শর্মিলা বসুকে বাংলাদেশে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হোক। লেখার কলেবর বৃদ্ধি পাবে বলে সুজান ব্রাউমিলারের গ্রন্থ Against Our Will: Men, Women and Rape, স্যামুয়েল ও অন্যদের লেখা Century of Genocide: Eyewitness Accounts and Critical Views বা Adam Jones সম্পাদিত Genocide, War Crimes and the West থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া সম্ভব হলো না। কারও সুযোগ থাকলে বইগুলোর বাংলাদেশ অংশটুকু পড়ে নিতে পারেন।
আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে শিক্ষক, ইউল্যাব, ঢাকা।

কায়রোতে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ

মিসরের রাজধানী কায়রোতে গত শুক্রবার দুই হাজারের বেশি লোক বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের দ্রুত বিচারসহ আরও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত এমইএনএ সংবাদ সংস্থার খবরে এ কথা বলা হয়।
এক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন তাহরির স্কয়ারে। এখানে তাঁরা জাতীয়তাবাদী স্লোগান দেন এবং মোবারক ও তাঁর সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার দাবি করেন। এ ছাড়া তাঁরা রাজনৈতিক কারাবন্দীদেরও মুক্তির দাবি জানান।
তাহরির স্কয়ার ছিল সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্র। এই বিক্ষোভের ফলে ১১ ফেব্রুয়ারি দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
কায়রোতে একই দিন এক হাজার খ্রিষ্টান বিক্ষোভ করেন। তাঁরা আগের বিক্ষোভে আটক বন্দীদের মুক্তি ও সম্প্রতি যে সহিংসতা হয়েছে, সেই ঘটনার দ্রুত তদন্ত দাবি করেন। এ ছাড়া আরও ৫০০ জন বিক্ষোভকারী দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভশন ও রেডিও ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন।

আইভরি কোস্টে ১০ লাখ মানুষ শরণার্থী

আইভরি কোস্টে রাজনৈতিক সংঘাতে ১০ লাখের বেশি মানুষ শরণার্থী হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র মেরিসা ফ্লেমিং শুক্রবার জেনেভায় বলেন, যুদ্ধের ভয়ে আবিদজানসহ দেশটির অন্যান্য এলাকায় বড় ধরনের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সাত থেকে ১০ লাখ হবে। শরণার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই রাজধানী আবিদজানের বাসিন্দা।
ফ্রান্স ঘোষণা করেছে, আবিদজানে বিরোধীদের ওপর সেনাদের ভারী অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে জাতিসংঘে তারা একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছে। জাতিসংঘ দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোর সেনাদের বিরুদ্ধে ভারী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে আইভরি কোস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রেসিডেন্ট বাগবো এবং বিরোধী নেতা আলাসেন ওয়াতারার সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। গত চার মাসের সহিংসতায় দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৬২ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে।

কানাডায় অনাস্থা ভোটে হারপার সরকারের পতন

কানাডার পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপারের কনজারভেটিভ সরকারের পতন হয়েছে। বিরোধী দল লিবারেল পার্টি অপর দুটি দলের সমর্থন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আস্থা ভোট গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিল। গত শুক্রবার হাউজ অব কমনসে ওই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিবিসির প্রতিবেদক লি কারটার জানান, ভোটের ওই ফলাফলে কেউই বিস্মিত হয়নি।
সরকারের পতন হওয়ায় আগামী মে মাসের প্রথম দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তত দিন পর্যন্ত কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারই ক্ষমতায় থাকবে। এর আগে কনজারভেটিভ সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধ দমন কর্মসূচি, করপোরেট কর হ্রাস এবং যুদ্ধবিমান ক্রয় পরিকল্পনায় ব্যয়ের পরিমাণ প্রকাশে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়।
ওই অভিযোগের তদন্তে বিরোধী দলগুলোর নেতৃত্বে একটি সংসদীয় কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর আস্থা ভোটের ডাক দেওয়া হয়।
দেশটির গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনস্টন পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পর আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে ধারণা করা হচ্ছে ।

জর্ডানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

জর্ডানে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় গত শুক্রবার একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী বাদশাহ আবদুল্লাহর সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গেলে ওই বিক্ষোভকারী নিহত হন। তবে আল-জাজিরা জানিয়েছে, হামলায় আরও একজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী মারুফ আল-বাখিত সংঘর্ষের জন্য বিরোধী ইসলামপন্থীদের দায়ী করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকার কোনো ধরনের ‘বিশৃঙ্খলা’ সহ্য করবে না।
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার জর্ডানের টেলিভিশনকে বলেন, ‘আজ যা ঘটছে তা স্পষ্টত বিশৃঙ্খলার শুরু। এটি অগ্রহণযোগ্য। আমি এমন বিশৃঙ্খলার পরিণামের ব্যাপারে সতর্ক করছি।’ আল-বাখিত ইসলামপন্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগুন নিয়ে খেলা যথেষ্ট হয়েছে। আপনাদের উদ্দেশে আমার প্রশ্ন, জর্ডানকে আপনারা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?’
জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের জুদেহ স্কাই টেলিভিশনকে জানান, পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নিহত বিক্ষোভকারীর পরিবার বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রহারে তিনি মারা যান। তবে নিরাপত্তাপ্রধান হোসেন আল-মাজালি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেনি। বিক্ষোভকারী হূদেরাগে মারা গেছেন।

বিক্ষোভে উত্তাল সিরিয়া, গভীর রাজনৈতিক সংকটে আসাদ

সিরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় গতকাল শনিবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার সেনাদের গুলিতে ২০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। দেরা শহরের কাছে তাফা নামে একটি গ্রামে হাজার হাজার শোকার্ত জনতা গতকাল ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। দেশজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় গভীর রাজনৈতিক সংকটে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় আসার ১১ বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বিপদে আছেন। দেশজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতার কারণে তাঁর সরকার এখন গভীর সংকটে। শুক্রবার দেরা শহরে সেনাদের গুলিতে ২০ জন নিহত হওয়ার পর রাজধানী দামেস্ক ও উত্তরাঞ্চলীয় শহর হামাতে গতকাল বিক্ষোভ হয়েছে। ১৯৮২ সালে এই হামা শহরে বর্তমান প্রেসিডেন্টের বাবা হাফিজ আল আসাদ বিক্ষোভ দমনের অজুহাতে মুসলিম ব্রাদার হুডের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করেন।
বিক্ষোভকারীরা এখন রাজনৈতিক সংস্কারের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট বাশারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। মিসর ও তিউনিসিয়ার সফল গণ-অভ্যুত্থান এ ক্ষেত্রে তাদের প্রেরণা জোগাচ্ছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সিরিয়া সরকারের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। একটি হচ্ছে, জনগণকে শান্ত করতে অবিলম্বে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংস্কারের ঝুঁকি নেওয়া; অন্যটি হলো, দমন-পীড়নের পথ বেছে নেওয়া, যা দেশটিতে বড় ধরনের রক্তপাতের সূচনা করতে পারে। এদিকে সিরিয়া সরকার ২০০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
দেরা শহরে শুক্রবারের গুলিবর্ষণের বিষয়টি প্রথমে অসমর্থিত সূত্রে বলা হলেও পরে সেখানকার চিকিৎসকেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল দেরা শহরের প্রধান মসজিদের মাইকে শুক্রবার গুলিবর্ষণে যারা নিহত হয়েছে, তাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল দিনের শেষে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা অনুষ্ঠান শেষে দেরা শহরের কাছে তাফা নামে একটি গ্রামে হাজার হাজার শোকার্ত জনতা ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা সেখানকার একটি থানায়ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও একটি মানবাধিকার সংস্থা শুক্রবারের গুলিবর্ষণের ঘটনার নিন্দা করেছে। তারা বিক্ষোভকারীদের প্রতি আরও সংযমী হওয়ার জন্য সিরিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি বলেন, সিরিয়ায় যা ঘটছে, সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ওই ঘটনার পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে টেলিফোন করেন এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংযত আচরণের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত দামেস্কের।
গত এক সপ্তাহে সিরিয়ায় ৫৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ওবামা

লিবিয়ায় হামলা নিয়ে দেশে তোপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। লিবিয়া বিষয়ে অস্বচ্ছতা দূর করতে জাতির উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ওবামার বক্তব্যটি বেতার ও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ওবামা প্রভাবশালী মার্কিন আইনপ্রণেতাদের চাপের মুখে পড়েছেন। রিপাবলিকানসহ নিজ দলের আইনপ্রণেতারাও লিবিয়া প্রশ্নে স্বচ্ছ অবস্থান নিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছন। লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য কী এবং জড়িয়ে পড়া যুদ্ধ থেকে সরে আসার কৌশল সম্পর্কেও তাঁরা জানতে আগ্রহী। গত শুক্রবার ওবামা ও উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। ওবামা লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ আইনপ্রণেতাদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেন।
আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, লিবিয়ায় সামরিক অভিযানে নেতৃত্বের ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্র থাকবে না। ওবামা অবশ্য এও বলেছেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র অনুসরণ করবে। লিবিয়ার বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তার কথাই মূলত নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
কংগ্রেসের স্পিকার জন বয়েনার বলেছেন, লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কী, প্রেসিডেন্টকে তা স্পষ্ট করতে হবে।

কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ছেড়ে দেওয়া ৬৫টি আসনের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। গত শুক্রবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতা শাকিল আহমেদ ওই তালিকা ঘোষণা করেন। এ তালিকা অনুযায়ী সাতটি আসনে নারী প্রার্থীদের নাম রয়েছে।
এর আগে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের প্রধান শরিক তৃণমূল কংগ্রেস ২২৯টি আসনে প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করে। এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি মানস ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি মনোনয়ন পেয়েছেন।
২৯ বছর পর অবসর: দীর্ঘ ২৯ বছর একটানা স্পিকারের দায়িত্ব পালন করার পর ওই পদ থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার হাসিম আবদুল হালিম। গত শুক্রবার বর্তমান বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিনে তিনি এ ঘোষণা দেন। ওই অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সবার মঙ্গল কামনা করে বলেন, পঞ্চদশ বিধানসভা আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে।
একই সঙ্গে স্পিকার হাসিম আবদুল হালিমও ঘোষণা দেন, এটিই তাঁর বিধানসভার শেষ অধিবেশন। এবার তিনি অবসরে যাবেন। ১৯৮২ সালের ৬ মে তিনি এই পদের দায়িত্ব নেন।

ফুকুশিমায় সাগরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তা ১২০০ গুণ বেশি

জাপানে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে সাগরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বেড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের জলসীমায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে এক হাজার ২৫০ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয় আয়োডিন পাওয়া গেছে। দেশটির পারমাণবিক নিরাপত্তা সংস্থা এ কথা জানায়।
গতকাল শনিবার পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির এক পরীক্ষা শেষে এক নম্বর চুলির কাছে সমুদ্র উপকূলের কয়েক শ মিটার দূর পর্যন্ত সহনীয় পর্যায়ের চেয়ে এক হাজার ২৫০ দশমিক ৮ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয় আয়োডিন-১৩১ ধরা পড়েছে।
জাপানের পারমাণবিক ও শিল্প নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিদেহিকো নিশিইয়ামা জানিয়েছেন, তেজস্ক্রিয়তার এই মাত্রায় জলজ প্রাণীগুলো কিছুটা ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে তিনি বলেন, সাগরের স্রোতে তেজস্ক্রিয়তার কণাগুলো ছড়িয়ে পড়বে এবং এটি সময়ের ব্যবধানে কমে যাবে। এ ছাড়া সাগরের মাছ ও সমুদ্রের শৈবাল এই তেজস্ক্রিয়তা শুষে নেবে।
১১ মার্চের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর কেন্দ্রটির চুল্লিগুলোতে কয়েক দফা বিস্ফোরণে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে কেন্দ্রটি স্থিতিশীল ও জ্বালানি রডগুলো ঠান্ডা রাখতে সাত শতাধিক প্রকৌশলী পালাক্রমে কাজ করে যাচ্ছেন। ভূমিকম্প ও সুনামিতে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছে আরও সাড়ে ১৭ হাজার মানুষ।
জাপানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি পারমাণবিক চুল্লিতে উচ্চ মাত্রার তেজস্ক্রিয় পানি শনাক্ত করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রটিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার দুই সপ্তাহ পর তেজস্ক্রিয়ার দূষণ তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ নম্বর চুল্লি শীতল করার চেষ্টাকালে তিনজন কর্মী চুল্লির স্বাভাবিক মাত্রার চেয়েও ১০ হাজার গুণ বেশি মাত্রার তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তেজস্ক্রিয় দূষণাক্রান্ত পানিতে হাঁটার পর তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পারমাণবিক কেন্দ্রটির তেজস্ক্রিয় বিকিরণ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ৭০০ প্রকৌশলী দুই সপ্তাহ ধরে দিনরাত চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে।
কেন্দ্রটির ছয়টি পারমাণবিক চুল্লির দুটি এখন দৃশ্যত নিরাপদ। কিন্তু বাকি চারটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এগুলো থেকে মাঝে মাঝে বাষ্প ও ধোঁয়া বের হচ্ছে।

গাদ্দাফি লকারবির মতো হামলার নির্দেশ দিতে পারেন

ব্রিটিশ বিচারমন্ত্রী কেন ক্লার্ক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতা ছাড়লে পশ্চিমা জোটের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নেবেন। আর এই প্রতিশোধ নিতে তিনি লকারবি হামলার মতো হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।
ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিকগার্ডিয়ান-এ গত শুক্রবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বিচারমন্ত্রী ক্লার্ক এই সতর্কতা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, লিবিয়া অভিযানের নির্দেশনা নিয়ে ব্রিটিশ সরকার এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে। বিচারমন্ত্রী ক্লার্ক বলেন, ‘ব্রিটিশ জনগণ অভিশপ্ত গাদ্দাফিকে মনে রেখেছে। তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার পথ খুঁজছেন। কিন্তু আমাদের স্বার্থে আমরা তাঁকে প্রতিহত করব।’ তিনি স্বীকার করেন, লিবিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা বলা হয়নি। এতে দেশটির সাধারণ জনগণকে রক্ষায় যুদ্ধবিরতি ও নো ফ্লাই জোন কার্যকর করতে ‘প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের ২১ ডিসেম্বর স্কটল্যান্ডের লকারবি শহরের আকাশে একটি যাত্রীবাহী বিমানে হামলায় ২৭০ জন নিহত হন। নিহত যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন মার্কিন নাগরিক।

যুক্তরাজ্যে সরকারি ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

যুক্তরাজ্য সরকারের বিপুল ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার লন্ডনে তিন লক্ষাধিক লোক বিক্ষোভ
করেছে। ২০০৩ সালের পরপর এটাই দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরাক যুদ্ধের প্রতিবাদে
ওই বিক্ষোভ হয়েছিল।
বাজেট ঘাটতি কমাতে কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বছরে ৬২০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনা
করেছে। এর আওতায় সরকারি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিপুল সরকারি ব্যয় হ্রাস, বেকারত্ব বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কর আরোপ ও অবসর ভাতা সংস্কারের
প্রতিবাদে জনতা বিক্ষোভ করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চার হাজার পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা এবং ১৩ জনকে আটক করার ঘটনা বাদে মূল
বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ।
বিক্ষোভকালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রধান এড মিলিব্যান্ড লন্ডনের হাইড পার্কে প্রায় আড়াই লাখ
লোকের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন। এ সময় জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘টোরিরা বলেছে, আমার এখানে আসা ও কথা
বলা উচিত নয়। তবে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত।’
যুক্তরাজ্যের ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের (টিইউসি) সাধারণ সম্পাদক ব্রেন্ডান বারবার বলেন, ‘এ নির্মম ব্যয় হ্রাসের
বিরুদ্ধে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা তাদেরকে জনগণের সেবা, চাকরি ও জীবন ধ্বংস করতে দেব না।’

ইলাস্টিক ম্যান ল্যানহাম!

তাঁর পা দুটি এতই নমনীয় যে বাঁকিয়ে পেছন দিকে নিয়ে যেতে পারেন পায়ের পাতা। একদম বিপরীত দিকে। এ অবস্থায় কেউ তাঁকে দেখলে ধাঁধা লেগে যাবে। সহসা ঠাওরাতে পারবে না—পা দুটি না মুণ্ডু ঘুরে গেছে তাঁর। এমন ব্যতিক্রমী শারীরিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হলেন মোজেস ল্যানহাম (৪৯)।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এই ব্যক্তি পায়ের অস্বাভাবিক নমনীয়তার জন্য এর মধ্যে ‘মি. ইলাস্টিক’ বলে পরিচিতি পেয়েছেন। পায়ের পাতা সোজা উল্টো দিকে নিতে পারেন বলে অনেকে তাঁকে ‘ব্যাকওয়ার্ডস ফিট ম্যান’ বলে থাকেন। ল্যানহ্যাম আশা করছেন, পায়ের এই তাক লাগানোর তাজ্জব করা ক্ষমতা তাঁকে গিনেস বুক অব রেকর্ডসে স্থান করে দেবে। আগামী সপ্তাহে ইতালির রোমে দুটি রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে পায়ের কসরত দেখানোর কথা তাঁর।
সাংবাদিকদের ল্যানহাম বলেন, ‘আমি পায়ের পাতা দুটি পেছন দিকে ঘুরিয়ে এক পায়ের আঙুলের সঙ্গে আরেক পায়ের আঙল মেলাতে পারি। তবে রেকর্ড গড়ার জন্য পায়ের পাতা ঘুরিয়ে পুরোপুরি ১২০ ডিগ্রি কৌণিক অবস্থানে নিয়ে যাব। বিশ্বে এর আগে পায়ের এমন কৌশল আর কেউ দেখাতে পেরেছেন বলে জানা যায়নি। এই ব্যতিক্রমী গুণ দেখিয়ে গিনেস বুকে স্থান করে নেওয়ার ইচ্ছাও এর আগে কেউ প্রকাশ করেননি।
ল্যানহ্যামের আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে পা পেছানো ও ঘোরানো অবস্থায় খুব দ্রুত ২০ মিটার হেঁটে যাবেন। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে এই হাঁটা শেষ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, পায়ের এই কসরত দেখাতে কোনো কষ্টই করতে হয় না ল্যানহামকে। বরং তিনি অনেক সময় পায়ের সঙ্গে পা পেঁচিয়ে বসে আরাম পান বলে জানিয়েছেন। ১৪ বছর বয়সে স্কুলের জিমনেসিয়ামে এক দুর্ঘটনার পর নিজের পা দুটির এই আজব গুণ আবিষ্কার করেন ল্যানহাম। একটি দড়ি বেয়ে ওঠার সময় হাত ফসকে ১৮ ফুট নিচে পড়ে যান তিনি। আর এমন বেকায়দা অবস্থায় পড়েছিলেন যে পায়ে বড় ধরনের আঘাত পাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি দিব্যি দুই পায়ে দাঁড়িয়ে যান। সামান্য চোটও পাননি। ল্যানহাম টের পান, তাঁর পা অন্য সবার পায়ের মতো সাধারণ পা নয়। ল্যানহামের ১৭ বছর বয়সী ছেলে ট্রেও বাবার গুণ পেয়েছে। তবে পুরোপুরি নয়। বাবার মতো পা দুটি একদম বিপরীত দিকে নিয়ে যেতে পারে না সে।
যেসব চিকিৎসক ল্যানহামের পা পরীক্ষা করেছেন, তাঁদের মতে, পায়ের হাড়ের জোড়ায় বাড়তি কিছু টিস্যু ও তরুণাস্থি নিয়ে জন্মেছেন তিনি। এই বাড়তি প্রাপ্তি তাঁর পায়ে বাড়তি নমনীয়তা এনে দিয়েছে।

আপাতত বুক বিল্ডিং পদ্ধতির পক্ষে নয় ডিএসই ও সিএসই

প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের বুক বিল্ডিং পদ্ধতি এখনই আবার সচল করার পক্ষে নয় দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিএলসি) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।
সংগঠনগুলো চাইছে শেয়ারবাজারবিষয়ক তদন্ত কমিটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে কী ধরনের সুপারিশ দেয়, সেটি দেখেই এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে। এ জন্য তারা বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধনীর খসড়া প্রস্তাবের ওপরও আপাতত আর কোনো মতামত না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজধানীর গুলশান ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গতকাল শনিবার উল্লিখিত চারটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এ ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), বিএপিএলসি ও বিএমবিএর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
যোগাযোগ করা হলে সিএসইর সভাপতি ফখরউদ্দীন আলী আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুক বিল্ডিং সংশোধনী নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) খসড়া প্রস্তাবের ওপর কাল সোমবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে বাজারের স্বার্থে আমরা যাতে সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধ মতামত দিতে পারি, সে জন্যই নিজেদের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছি।’
বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে সিএসইর সভাপতি বলেন, ‘বুক বিল্ডিং পদ্ধতি নানা কারণে ঠিকভাবে কাজ করেনি। ফলে পদ্ধতিটি বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হয়েছে। সমালোচনার মুখে সরকারের পক্ষ থেকে পদ্ধতিটি স্থগিত করা হয়েছে। তাই আমরা মনে করছি, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির মতামত পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে।’
সিএসইর সভাপতি আরও বলেন, যত দিন পর্যন্ত বুক বিল্ডিং পুনরায় চালু না হবে, তত দিন পর্যন্ত কোনো কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে তা করতে হবে। বাজারে যাতে শেয়ারের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য এ পদ্ধতিতে কোম্পানিগুলোকে বাজারে নিয়ে আসতে হবে।
বর্তমানে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪৮টির মতো কোম্পানি বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে ১২ থেকে ১৩টি কোম্পানি স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে বাজারে আসতে রাজি আছে।
ফখরউদ্দীন আলী আহমেদ এসব কোম্পানিকে দ্রুত বাজারে আনার ব্যাপারে তাগিদ দেন।

গাদ্দাফি-উত্তর লিবিয়ার শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু

মুয়াম্মার গাদ্দাফি-উত্তর লিবিয়ার শাসনভার কারা গ্রহণ করবে, সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানিয়েছেন, গাদ্দাফিকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। এদিকে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে লন্ডনের একটি সম্মেলনে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিযানে লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হওয়ার পর দেশটির শাসনক্ষমতা কারা গ্রহণ করবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি গত শুক্রবার জানান, গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ায় শাসনক্ষমতা গ্রহণের ব্যাপারে কারা সবচেয়ে ভালো হবে, সে ব্যাপারে বিরোধীপক্ষকে তারা নানা উপদেশ দিতে শুরু করেছেন। তাঁদের ধারণা, এমন একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকারই দেশটির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, যেখানে অধিকাংশ জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। তিনি জানান, লিবিয়ার বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা মার্কিন নীতিরই একটি অংশ। তিনি আবারও লিবিয়ায় স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করে দেন।
গাদ্দাফির অপসারণের বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, গাদ্দাফি দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া শাসন করছেন। তাঁকে অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। লিবীয় নেতা তাঁর দেশের জনগণের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি নিজ দেশের সাধারণ লোকজনের ওপর শক্তি প্রয়োগ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কংগ্রেস নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, লিবিয়ায় ক্ষমতার পালাবদলের ইচ্ছা থাকলেও সেনাবাহিনী ব্যবহার করে গাদ্দাফিকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। লিবিয়া-পরিস্থিতি নিয়ে তিনি শুক্রবার কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিবিয়ার বিদ্রোহীদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে লিবিয়া অভিযানে যেসব দেশ অংশ নিয়েছে, তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে লন্ডনে অনুষ্ঠেয় দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিদ্রোহী নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে কমেছে লেনদেন

আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে সাধারণ সূচকের পতন হয়েছে। পাশাপাশি কমেছে লেনদেনও। এ নিয়ে টানা চার দিন সূচকের পতন হলো পুঁজিবাজারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারের কারসাজি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পেশ নিয়ে অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই তাঁরা বাজার থেকে দূরে থাকছেন। ফলে বাজারে লেনদেনও কমেছে। তদন্ত প্রতিবেদন কেমন হয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
এ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৭০.১৮ পয়েন্ট কমে ৬,০৯৪.৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে চার দিনে সূচক কমল ৪৩৪ পয়েন্ট। আজ লেনদেনের ২০ মিনিটের মাথায় সূচক ৮০ পয়েন্টের বেশি নেমে যায়। এর পর সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বেলা সাড়ে ১১টায় আবারও সূচকের পতন শুরু হয়। এরপর একাধিকবার ওঠানামার পর নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ লেনদেন শেষ হয়।
ডিএসইতে আজ মোট ২৬০টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ১২৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। ডিএসইতে আজ ৬২৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে ২৪২ কোটি টাকা কম।
এ দিকে আজ ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ব্যাংকিং, অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিবিধ খাতের বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমলেও মিউচুয়াল ফান্ড ও ওষুধ খাতের বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে প্রকৌশল, জ্বালানি, বিমা ও বস্ত্র খাতে মিশ্র অবস্থা দেখা গেছে।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো বেক্সিমকো, গোল্ডেন সন, তিতাস গ্যাস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আরএন স্পিনিং, ম্যাকসন স্পিনিং, দেশবন্ধু পলিমার, আফতাব অটোমোবাইলস, বেক্সটেক্স ও সিঙ্গার বাংলাদেশ।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিডি অটোকারের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া কেয়া ডিটারজেন্ট, অ্যাপেক্স ফুড, আইসিবি ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, বঙ্গজ, ফাইন ফুড, প্রাইম ফিন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, তৃতীয় আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড ও ফার্মা এইড দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, নর্দান ইনস্যুরেন্স, অ্যাপেক্স অ্যাডালচি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, সিএমসি কামাল ও অলটেক্স দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৯৯.২৭ পয়েন্ট কমে ১৭১৪৬.৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আজ সিএসইতে ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৯২টির, কমেছে ৯০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইতে আজ মোট ৭৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে ২৯ কোটি টাকা কম।

ডিএসইর নোটিশের জবাব দিয়েছে তিন প্রতিষ্ঠান

অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নোটিশের জবাব দিয়েছে ডিএসইর তালিকাভুক্ত তিন প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্টাইল ক্র্যাফট, সমতা লেদার ও জেমিনি সি ফুড।
প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে আজ রোববার জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল্যসংবেদনশীল কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

ইসলামী ব্যাংক, অ্যাপেক্স অ্যাডেলচি ও আল-আরাফাহ ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

ইসলামী ব্যাংক ৩৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, অ্যাপেক্স অ্যাডেলচি ফুটওয়্যার লিমিটেড ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ২৬ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক: প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) এবং বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৮ মে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএম ও এজিএমের রেকর্ড ডেট ১৩ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ৬০.২১ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ৩০৬.৯৩ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৪৪.৯২ টাকা।
অ্যাপেক্স অ্যাডেলচি ফুটওয়্যার লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৩ মে বেলা ১১টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ১৪ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ২০২.৮৭ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ৬৮৫ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ১২৬.৩৯ টাকা।
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক: প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১০ মে বেলা ১০টায় ঢাকার এয়ারপোর্ট রোডে আর্মি গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ১০ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ৪.০৫ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ১৬.৪২ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ২.৫০ টাকা।

প্রাইম ব্যাংকের ৩৫ শতাংশ শেয়ার ও ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা

প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ২০১০ সালের বার্ষিক হিসাবের ভিত্তিতে শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ৩৫ শতাংশ শেয়ার ও ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার হোটেল শেরাটনে প্রাইম ব্যাংকের ১৬তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এজিএমে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী।
আজম জে চৌধুরী শেয়ার হোল্ডারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ব্যাংকের প্রতি তাঁদের অবিচল আস্থার কারণেই ব্যাংক সাফল্য অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাইম ব্যাংক ২০১০ সালে নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী ৩০০ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে। আমানতের পরিমাণ গত বছরের ১০ হাজার ৬৯৬ কোটি থেকে বেড়ে ১২ হাজার ৪৫২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ১৬ শতাংশ। ঋণ পোর্টফোলিওর পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি টাকা, যা ২০০৯ সালের আট হাজার ৯২৫ কোটি টাকার তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।
সভায় প্রাইম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস শাহনাজ কাশেম, নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারপারসন মিসেস হাসিনা খান, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান আইনুন নিশাত, পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল হক, কাজী সালিমুল হক, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, খন্দকার মোহাম্মদ খালেদ, এম এ খালেক, মিসেস মুসলিমা শিরীন, মফিজ আহমেদ ভূঁইয়া, মিসেস মেহেরুন্নেসা হক, মিসেস রাজিয়া রহমান, মনজুর মোর্শেদ, প্রফেসর মোহাম্মদ আসলাম ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এহসানুল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ এম. রিয়াজুল করিম, আহমেদ কামাল খান চৌধুরী, আই বি চৌধুরী ও গোলাম রব্বানী উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টকে এসইসির শোকজ

আইন ভঙ্গ করায় ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিবকে শোকজের নোটিশ দিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০ জুলাই এসইসি প্রতিষ্ঠানটির রাইট শেয়ার অনুমোদন করে একটি চিঠি দেয়। কিন্তু ওই চিঠি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শেয়ার হোল্ডারদের রাইট শেয়ার না দেওয়ায় এই শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে মাশরাফি-অলক

বিশ্বকাপের ডামাডোল থামতে না-থামতেই ৯ এপ্রিল শুরু হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের তিন ওয়ানডের হোম সিরিজ। এই সিরিজের জন্য ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ দল ঘোষণা হবে আজকালের মধ্যেই। অস্ট্রেলিয়া দলের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ৩ এপ্রিল।
মোহাম্মদ আশরাফুল ‘এ’ দলের অধিনায়ক হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন বলে বিশ্বকাপের দল থেকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে একটি পরিবর্তন নিশ্চিত। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে আশরাফুলের জায়গা নিচ্ছেন অলক কাপালি। এ ছাড়া বোর্ডের কাছে নির্বাচকদের জমা দেওয়া দলে আছেন ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ না খেলা মাশরাফি বিন মুর্তজাও। তাঁকে জায়গা দিতে দলে নেই নাজমুল হোসেন।্র‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি চার দিনের ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে যোগ দিতে পারেন মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। আর নাঈম ইসলাম আছেন দলের বাইরে। সোহরাওয়ার্দী ফিরে এলে ‘এ’ দলে তাঁর জায়গা নেবেন নাঈম ইসলাম।
নির্বাচকদের দলে থাকলেও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে মাশরাফির সুযোগ পাওয়াটা নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফিটনেসের ওপর, কাল বোর্ডসভা শেষে জানিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস। সম্প্রতি কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন মাশরাফি। নবজাতকের অবস্থা এখন কিছুটা ভালো হলেও মাশরাফির স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। রাজধানীর একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে তাঁকে।

সভাপতি বললেন, বিদেশি কোচ

তিন জয় আর তিন পরাজয়ের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে ৫৮ আর ৭৮ রানে অলআউটের লজ্জা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাফল্য-ব্যর্থতা ফিফটি-ফিফটি হলেও এই দুই ব্যাটিং বিপর্যয়ে সাফল্যের অংশটি মুছে যাওয়ার জোগাড়। এসব ক্ষেত্রে যা হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটেও তাই হচ্ছে। সব দোষ কোচ জেমি সিডন্সের!
বিসিবির সঙ্গে সিডন্সের চুক্তি আগামী জুন পর্যন্ত। বিশ্বকাপ-ব্যর্থতার দায় কাঁধে তুলে দিয়ে এরপর তাঁকে আর না রাখতে বদ্ধপরিকর বোর্ডের একটি অংশ। এমনও হতে পারে আগামী ১৩ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ হলে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গেই দেশে ফিরে গেলেন সিডন্স! এর মধ্যেই বাতাসে গুঞ্জন, বাংলাদেশ দলের পরবর্তী কোচ হতে পারেন স্থানীয় কেউ। তবে বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল কাল সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের এ ধরনের কোনো চিন্তা নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্থানীয় কোচ নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। জাতীয় দলের দায়িত্ব বিদেশি কোচের হাতেই থাকতে হবে। ক্রিকেটে উন্নত দেশগুলোও জাতীয় দলের জন্য বিদেশি কোচ রাখছে।’
কাল সকালে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে দেখা করে বিশ্বকাপ-সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন সিডন্স। রিপোর্টে কী আছে না বললেও সভাপতি বলেছেন, ‘আমরা মূলত বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়েই কথা বলেছি। টেকনিক্যাল কমিটি কোচের দেওয়া রিপোর্ট মূল্যায়ন করে দেখবে। বর্তমান চুক্তি শেষে সিডন্স আর বাংলাদেশ দলের কোচ থাকবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বোর্ড সভায়।’
কাল বিকেলে অনুষ্ঠিত বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল সিডন্স-সংক্রান্ত আলোচনা। মোস্তফা কামাল অবশ্য গত চার বছরে সিডন্সের প্রাপ্তিটাকেও খাটো করে দেখতে রাজি নন, ‘অনেকে তাৎক্ষণিক হতাশা থেকে সিডন্সকে বাদ দেওয়ার কথা বলে থাকতে পারেন। আমরা এখনো সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আর কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে সিডন্স অত বেশি ব্যর্থও নন। বরং তাঁর সময়েই আমাদের ম্যাচ জয়ের সংখ্যা বেশি।’
বিসিবি সভাপতির অফিসকক্ষে যখন সিডন্স-সভাপতি আলোচনা চলছে, একাডেমি ভবনে তখন বিশ্বকাপের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে আরেক আলোচনা চলছিল ক্রিকেটারদের সঙ্গে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের। মোহাম্মদ আশরাফুল, তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন ছাড়া দলের বাকি সব ক্রিকেটারই ছিলেন সেখানে।্রঅধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে আলোচনাটাই চলল ঘণ্টা খানেক। কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন ও দুই সদস্য জালাল ইউনুস এবং গাজী আশরাফ হোসেন কথা বলেছেন বাকি ক্রিকেটারদের সঙ্গেও। টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খেলোয়াড়দের কথা শুনেছি। সাপোর্ট স্টাফ বা শৃঙ্খলায় কোনো সমস্যা ছিল কি না, কিংবা আমাদের দিক থেকেও কোনো সমস্যা ছিল কি না—এসব জানতে চাওয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের কাছে।’
৫৮ আর ৭৮ রানে অলআউট হওয়া ম্যাচ দুটি আলোচনার অনেকাংশ জুড়েই ছিল। খেলোয়াড়েরা বলেছেন পুরোনো কথাই—কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার ম্যাচ হওয়ায় নিজেদের অজান্তেই নিজেদের ওপর চাপ তৈরি করেছিলেন তাঁরা। তবে খেলা দেখে এবং কাল খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের ব্যাপারে বোর্ডের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ‘আমরা খুশিও না আবার অখুশিও না। ৫৮ আর ৭৮ রানে অলআউট হওয়াটা সমস্যা সৃষ্টি করলেও এটা আমাদের দলের আসল ছবি নয়। দলটা অনেক ভালো, এটা তারা আগেও প্রমাণ করেছে। ৫৮ আর ৭৮-এর জায়গায় যদি ১৫৮ আর ১৭৮ হতো তাহলে এত কথা হতো না’—বলেছেন মিডিয়া কমিটির প্রধান। বিশ্বকাপ ভুলে খেলোয়াড়দের আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ব্যাপারে মনোযোগী হতে বলেছে টেকনিক্যাল কমিটি।
বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ ছাড়া বোর্ড সভায় নির্বাচক কমিটি এবং কোচিং স্টাফ সদস্যদের চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ফিল্ডিং কোচ ইয়ান পন্ট এবং বোলিং কোচ জুলিয়ান ফাউন্টেন শর্ত সাপেক্ষে চুক্তি বাড়াতে চান। এ নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া ট্রেনার গ্রান্ট লুডেন এবং ফিজিও মাইকেল হেনরিও চুক্তি বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আগামী ৭ এপ্রিল পরবর্তী বোর্ড সভায় এসব ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। তবে জানা গেছে, ফিজিও হেনরির চুক্তি আর না বাড়ানোর অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে বোর্ড। পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা প্রবল নির্বাচক কমিটিতেও।
বোর্ড সভায় সাফল্যজনকভাবে বিশ্বকাপ শেষ করতে পারায় সরকারসহ বিশ্বকাপ আয়োজনের অন্য সঙ্গীদের ধন্যবাদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা বিসিবিকে ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো আসর আয়োজনের সাহস দিচ্ছে।

আকাশ মাধ্যম আকাশছোঁয়া

২০০৭ সালের ক্ষতি সুদে-আসলে পুষিয়ে নিচ্ছে ইএসপিএন-স্টার স্পোর্টস (ইএসএস)। সেবার বাংলাদেশের কাছে হেরে প্রথম রাউন্ডে বিদায় নিয়েছিল ক্রিকেটের বাণিজ্যলক্ষ্মী ভারত। ভারতীয় বিজ্ঞাপনদাতারাও মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছিল সম্প্রচারক চ্যানেলটিকে। এবার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে কড়ায়-গণ্ডায় সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে চায় ইএসএস। টিভি বিজ্ঞাপনের দর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
বিশ্বকাপের আগে ১০ সেকেন্ডের একটা স্লটের জন্য প্রতি ব্র্যান্ডের কাছ থেকে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ রুপি নিত ইএসএস। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিনের জন্য সেটির দর বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ লাখ। দিন যত গড়াচ্ছে, বিজ্ঞাপনের দরও তত বাড়ছে। ভারত-অস্ট্রেলিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতি ১০ সেকেন্ডের স্লটের জন্য আট থেকে নয় লাখ রুপি নেওয়া হয়েছিল।

বিরুদ্ধ স্রোতের নাবিক

যতই দাবি উঠুক, রিকি পন্টিং টলছেন না। অবসরের কথা উড়িয়ে তো দিলেনই, জানালেন স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোরও বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই। তবে বিশ্বকাপ-ব্যর্থতায় পায়ের তলার মাটি আলগা হয়ে গেছে, এ ব্যাপারটা বুঝতে বাকি নেই অস্ট্রেলিয়াকে অধিনায়ক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জেতানো পন্টিংয়ের। তাই ক্যারিয়ারের কঠিন এ পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে পন্টিং ‘অধিনায়কত্বের বিষয়টা’ ঠেলে দিলেন নির্বাচকদের কোর্টে। বললেন, তাঁর ভাগ্য নির্বাচকদের হাতে।
পন্টিংয়ের সামনে সুযোগ ছিল অধিনায়ক হিসেবে টানা তিনবার বিশ্বকাপ জিতে অনন্য ইতিহাস গড়ার। কিন্তু ভারতের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে পন্টিংয়ের সেই আশা ধুলোয় লুটোপুটি খেয়েছে। এক দিকে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা, আরেক দিকে ‘অধিনায়ক পন্টিং হটাও’ আন্দোলন—অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের অন্যতম সফল অধিনায়ক পন্টিং যেন অসহায়!
বিশ্বকাপ হতাশার মধ্যেই তাই পন্টিংকে নিজের পক্ষে ধরতে হচ্ছে কলম। ক্রমেই চাঙা হয়ে ওঠা ‘অধিনায়ক পন্টিং হটাও’ আন্দোলনের বিপরীত স্রোতে দাঁড়িয়ে দি অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকায় নিজের কলামে পন্টিং লিখেছেন, ‘আমি অবসর নেব কি না, এর উত্তর কোয়ার্টার ফাইনালের আগে এবং সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনেই দিয়েছি, অবসরের কথা আমি ভাবছি না।’
অধিনায়কত্বের প্রশ্নে বলেছেন, ‘ক্রিকেট খেলে যাওয়াটাই আমার সংকল্প। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে আমার অবদান কতটুকু তার বিচারক আমি নই। নির্বাচক কমিটি আছে, এটা তাঁদের কাজ। তাঁদের যেকোনো রায়ই আমি খুশি মনে গ্রহণ করব।’
অধিনায়ক পন্টিংয়ের সমালোচনার শুরু ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডের কাছে অ্যাশেজ হারের পর থেকে। পরে ভারতের মাটিতে ভারতের কাছে টেস্ট সিরিজ হারে সমালোচনাটা জোরালো হয়। বিশ্বকাপের আগে আগে নিজেদের মাটিতে টানা দ্বিতীয় অ্যাশেজ হারের পর তো পন্টিংকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিটা প্রবল হয়। বিশ্বকাপ-ব্যর্থতার পর দাবিটা এখন গণদাবিতে রূপ নিয়েছে! বিশ্বকাপ-ব্যর্থতার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অস্ট্রেলীয় পত্রিকার সমীক্ষা অন্তত সেটাই বলছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ানই চান না, অধিনায়কত্ব পন্টিংয়ের হাতে থাক।
চরম এই দুঃসময়ে পন্টিংয়ের পাশে এসেও দাঁড়িয়েছেন অনেকে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ জন বুকানন তাঁদের অন্যতম। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বাজে পারফরম্যান্সের দায়টা তিনি চাপিয়ে দিচ্ছেন পন্টিংয়ের সমালোচকদের কাঁধেই। বলছেন, পন্টিংয়ের ওপর অতিমাত্রায় চাপ দেওয়া হয়েছিল। অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করে ভারতের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রায় একাই লড়েছেন পন্টিং। বুকানন মনে করেন, পন্টিংয়ের অধিনায়কত্ব এখনো উদাহরণ দেওয়ার মতো, ‘অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটকে দেওয়ার মতো অনেক কিছুই রিকির মধ্যে এখনো রয়েছে। সেজন্য মানসিকভাবে তৈরি থাকাটা দরকার।’
অধিনায়কত্বের বিষয়টা নির্বাচকদের কোর্টে ঠেলে দিলেও পন্টিং মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের দুর্বলতাগুলো নিশ্চিত করে এখন থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের শক্তি বাড়াতে হবে। তাহলেই সামনের বছরগুলোয় ২০১৫ বিশ্বকাপ, অ্যাশেজ এবং অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সুযোগ তৈরি হবে।

ট্রটের ব্যাটিং-দ্বন্দ্ব

আবারও জোনাথন ট্রট...দলকে জেতালেন, না ডোবালেন?
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাঁকে নিয়ে এই দ্বন্দ্ব। চোখ ধাঁধানো সব পরিসংখ্যান। ‘মাইকেল বেভানীয়’ গড়, আদতে বেভানের (৫৩.৫৮) চেয়েও বেশি, কালকের ৮৬ রানের ইনিংসটির পর ৫৫.৬৫। ২৫ ইনিংসে ৩টি সেঞ্চুরি, ১১টি হাফ সেঞ্চুরি। সবচেয়ে কম ইনিংস (২১) খেলে হাজার রানের বিশ্ব রেকর্ড। এই বিশ্বকাপের সাত ইনিংসে ৫টি ফিফটি (বাকি দুটিতে ৪৭ ও ১৬)। শচীন টেন্ডুলকারকে (৩৭৯) টপকে এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানও এখন তাঁর (৪২২)। তবুও তাঁকে নিয়ে কতই প্রশ্ন!
কারণ সবকিছুর আগে সবার চোখ যায় তাঁর স্ট্রাইক রেটের দিকে। ৭৮.৬২, বছর দশেক আগে হলে হয়তো বলা হতো দারুণ, আর এখন ‘মন্দ নয়।’ কিন্তু ‘মন্দ নয়’ দিয়ে যে ইদানীং ঠিক চলে না! ২৫ ইনিংস খেলে এখনো ওয়ানডেতে ছক্কা নেই, এটাও বড় বেশি দৃষ্টিকটু লাগে অনেকের। এমন ধারাবাহিকতার পরও তাই যেমন বারবার প্রশ্ন ওঠে, ট্রটের ব্যাটিং ওয়ানডের চলমান গতির জন্য কতটা মানানসই।
অথচ ইংল্যান্ডের এই দলের অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে দেখুন, এই প্রশ্ন ওঠাকে মনে হবে অযৌক্তিক। স্ট্রাউস-মরগানের স্ট্রাইক রেট ৮১, ট্রটের চেয়ে মাত্র ৩ বেশি। আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান বলে যাঁকে বারবার ওপেনিংয়ে নামানো হয়েছে, সেই ম্যাট প্রিয়রের স্ট্রাইক রেট তো ট্রটের চেয়ে কমই (৭৬.১৬)। ইয়ান বেলের কথা (৭২.৭৬) না বলাই ভালো। আর গড়ের কারণে যাঁর সঙ্গে সবার তুলনা হয়, সেই বেভানের স্ট্রাইক রেটও (৭৬.১৭) কিন্তু ট্রটের চেয়ে কম।
তাহলে ট্রটকে নিয়ে এত প্রশ্ন কেন? একটা কারণ হতে পারে ট্রটের ব্যাটিংয়ে দানবীয় শক্তির প্রদর্শনী নেই, নেই সৌন্দর্যপিপাসুদের মন ভরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও। সবচেয়ে বড় কারণ হয়তো শরীরী ভাষা, আর যা-ই হোক ‘আক্রমণাত্মক’ ব্যাপারটা যেখানে নেই। পরিসংখ্যান বা বাস্তবতাকে হয়তো ছাপিয়ে যায় এই শরীরী ভাষাই, এ কারণেই হয়তো তাঁর ব্যাটিং নিয়ে এত প্রশ্ন।
এ সমালোচনার ব্যাপারটা নিয়ে কয়েক দিন আগে খুব বিস্মিত মনে হচ্ছিল ট্রটকে, ‘আমি জানি না কেন আমার ব্যাটিং নিয়ে এত সমালোচনা। তবে আমি যতক্ষণ কার্যকর ব্যাটিং করতে পারছি, যতক্ষণ আমার দল আর অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার (কোচ) আমার ব্যাটিংয়ে খুশি, অন্যরা কে কী বলল তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই।’ ট্রটকে নিয়ে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব এই ‘কার্যকর’ শব্দটা নিয়েই। তিনি তাঁর মতোই ব্যাটিং করে যান, সব ম্যাচে একই রকম। কিন্তু দল জিতলে তাঁর ব্যাটিং হয়ে যায় কার্যকর, হারলে সবার মনে হয় ট্রটের মন্থর ব্যাটিংয়ের জন্যই আর কিছু রান হলো না!
এমন দোলাচলে থাকল কোয়ার্টার ফাইনালের ইনিংসটাও। ৬৫ বলে পেয়েছেন প্রথম বাউন্ডারি, দ্বিতীয় ও শেষটি ১১৪ নম্বর বলে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে একটিও নয়। তবু একবার ভাবুন, ট্রট না দাঁড়ালে কী চেহারা হতো ইংল্যান্ড ইনিংসের!