Saturday, November 9, 2013
শ্রীলংকার নাম্বার ওয়ান বিউটিশিয়ানকে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সম্মাননা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আলোচনার প্রস্তাব নাকচ প্রতিশোধ নেবে তালেবান
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরও সাহসী হয়েছেন তিনি : মুরসি পত্নী
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভরসা রাখুন বাংলাদেশের জনগণে
![]() |
| শেখ হাসিনা, মনমোহন সিং, খালেদা জিয়া |
আমরা বলি, দিল্লি ও ওয়াশিংটনকে না বলুন। কেবল ভরসা রাখুন বাংলাদেশের জনগণে।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যাপক শিল্পায়নের বিকল্প নেই by মোহাম্মদ কবীর আহমদ

গত কয়েক বছরে কৃষি খাতে বাংলাদেশের যে অর্জন হয়েছে, তা অব্যাহত রাখার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে কৃষি খাতে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও কৃষি খাতে যাতে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায় তার জন্য বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিশেষভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কৃষি খাতের কিছু বৈজ্ঞানিক সাফল্য আমাদের উচ্চাকাক্সক্ষী হতে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক সাফল্যের বহুমুখী প্রয়োগের জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা জেনেছি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের বিস্তৃত নিচুভূমি সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে আগামীতে বাংলাদেশের মোট আবাদি জমির পরিমাণ অনেক কমে যাবে। ক্ষতিপূরণ বাবদ উন্নত দেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়ক হবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি, বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে উন্নত দেশগুলো যেসব আশ্বাস দিয়ে থাকে পরবর্তী সময়ে সেসব আশ্বাস বাস্তবায়নে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। কাজেই উন্নত দেশগুলো থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ আমরা কী পাব, তা নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের কৃষিজ উৎপাদনে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তার লক্ষণ এখনই স্পষ্ট। জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আবাসন ও অন্যান্য খাতে আবাদি জমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে।
উল্লিখিত আলোচনায় এটাই স্পষ্ট হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উচ্চহারের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার জন্য শিল্প খাত নিয়ে বিশেষভাবে ভাবতে হবে। এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। বিদ্যমান শিল্প-কারখানার উৎপাদন কোনো কারণে হ্রাস পাওয়ার আশংকা দেখা দিলে সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
শিল্প-কারখানা বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে স্বল্পমূল্যের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রাপ্তি একটি বড় ভূমিকা পালন করে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে যাতে কোনো রকম জটিলতা সৃষ্টি না হয় তার জন্য জ্বালানি ব্যবহারে বৈচিত্র্য আনতে হবে। আগামী দিনগুলোতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট কতটা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, বিভিন্ন জ্বালানির উচ্চমূল্যে তারই আভাস মেলে। আগামী কয়েক দশক পরও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে যাতে কোনোরকম সংকট সৃষ্টি না হয়, তা বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
সম্প্রতি জেলা ও উপজেলা শহরে নানারকম ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকশিত হয়েছে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জেলা, উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদ্যোক্তারা আরও নতুন উদ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে পারবেন। জেলা এবং উপজেলা শহরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের মূল ক্রেতা দরিদ্র কৃষক। সরকারি পর্যায় থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রাখা হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে। এতে কৃষকের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। কৃষকের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে তা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিভিন্ন পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেলে শিল্প-কারখানার শ্রমিকসহ সীমিত আয়ের মানুষের জীবনমানও কমে যাবে। তাই নিত্যপণ্যের বাজার যাতে অস্থিতিশীল না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে। কৃষি ও শিল্প-কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারাই এক সময় যৌথভাবে বৃহৎ পরিসরে শিল্প-কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত হবেন। দেশে শিল্প-কারখানা বিকশিত হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে প্রযুক্তির গবেষণায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এভাবেই একদিন আমাদের দেশের গবেষকরা নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে চমক দেখাতে সক্ষম হবেন।
কম আমদানি এবং কাক্সিক্ষত মাত্রায় রেমিটেন্স প্রবাহ অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান রিজার্ভ পরিস্থিতি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু আমদানি বাড়লে এবং রেমিটেন্স প্রবাহে বিঘ ঘটলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ দ্রুত কমে যাবে। ওই রকম পরিস্থিতি মোকাবেলায় রফতানি আয় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের মান নিশ্চিত করতে পারলে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন রফতানি পণ্যের চাহিদা বাড়বে।
রফতানি পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে অনেক কৃষিজ পণ্য রফতানির উপযোগী হয় না। ওই পরিস্থিতিতে উৎপাদনকারী স্থানীয় বাজারে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। এসব সমস্যা দূর করার জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য কম সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। প্রযুক্তির গবেষণা একটি দেশকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে তার অন্যতম দৃষ্টান্ত ভারত। সাধারণভাবে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির নির্মাতা দেশের কথা বললে যেসব দেশের নাম আলোচনায় আসে, সেখানে ভারতের নাম খুব একটা আলোচিত হয় না। অথচ স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতে মঙ্গল অভিযানে অংশ নিয়ে দেশটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। মঙ্গল অভিযানের জন্য তৈরি করা নাসার মহাকাশ যানের তুলনায় ভারতের তৈরি মহাকাশ যানের খরচ পড়েছে অনেক কম। এটাও একটা বড় ধরনের রেকর্ড। মাত্র কয়েক দশকের মহাকাশ গবেষণার মধ্য দিয়ে ভারত আজকের অবস্থানে আসতে সক্ষম হয়েছে। এ দৃষ্টান্ত বিবেচনায় রাখলেই স্পষ্ট হয় প্রযুক্তির গবেষণা একটি দেশকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম।
রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যাতে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবার নজর রাখতে হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির সময়ও যাতে কলকারখানার উৎপাদন অব্যাহত থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য জরুরি।
পরিবেশ সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যবহার কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নানারকম চাপ আসতে থাকবে। সম্প্রতি জাপানে সংঘটিত দুর্ঘটনার পর পরমাণু-বিদ্যুতের বিপক্ষে বিশ্বব্যাপী জনমত জোরালো হচ্ছে। পরমাণু-বিদ্যুৎবিষয়ক বিদ্যমান প্রযুক্তিতে আমূল পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান জনমতের ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন আসবে না, এমনটাই অনুমান করা যায়। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরাপদ জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের ব্যবহার বাড়তে থাকবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির মূল্যও দ্রুত বাড়তে থাকবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেভাবে ব্যাপক শিল্পায়ন শুরু হয়েছে, উন্নয়নের এ ধারা আরও গতিশীল হবে, এটাও অনুমান করা যায়। উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। ওই পরিস্থিতিতে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা কত কঠিন হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। আগামী দিনগুলোতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই রফতানি বাণিজ্যে টিকে থাকতে হবে। তখন এমনও হতে পারে, নামমাত্র লাভে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও তুমুল প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এসব পরিস্থিতি যেসব দেশ যত সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে, রফতানি বাণিজ্যে তাদেরই আধিপত্য তত বিস্তৃত হবে। আগামী দিনের প্রতিযোগিতার বিশ্বে আমরা যাতে আমাদের বাণিজ্যের প্রসার অব্যাহত রাখতে পারি তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী দিনের বাস্তবতার কথা বিবেচনায় রেখে সব দেশই দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে চেষ্টা করবে। ওই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণায় যে দেশে যত সাফল্য আসবে, তারাই তত দ্রুত এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্যাপক উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিটি দেশ বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরও প্রায় সাত দশক পর বিশ্বমন্দার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে অনুমান করা যায়, আগামীতেও যে কোনো সময় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশংকা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব দেশই আগাম প্রস্তুতির কথা ভাবছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে আগামীতে সৃষ্ট যে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবেলার জন্য আমাদের দেশে বিদ্যমান শিল্প-কারখানার উৎপাদন যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকেও বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুুক্তির গবেষণায় যাতে এগিয়ে থাকা যায় সে জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।
মোহাম্মদ কবীর আহমদ : সাংবাদিক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রয়োজন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি by সুনীল শুভ রায়

পোস্ট মর্টেমের রিপোর্টে নূর হোসেনের পিঠে গুলি লাগার কথাই বলা হয়েছে। সে তখন মিছিলের সামনে ছিল। পেছনে তো পুলিশ ছিল না। ছিল তার সহযোদ্ধারা। তাহলে কে গুলি করল তাকে। দোষ দেয়া হল রাষ্ট্রপতি এরশাদের সরকারকে। তারপর যারা তাকে শহীদ বানিয়ে ফায়দা লুটল, তাদের কাউকে নূর হোসেনের পরিবারের পাশে দেখা যায়নি। দেখা গেছে তাকে, যার কাঁধে নূর হোসেনের হত্যার দায় চাপানো হয়েছিল। সেই রাষ্ট্রপতি এরশাদ কারামুক্ত হয়ে ছুটে গিয়েছিলেন নূর হোসেনের পরিবারের কাছে। প্রতি মাসে তার বাবাকে আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন। এখন প্রতি বছর ১০ নভেম্বর ‘নূর হোসেন দিবস’ পালন করা হয়। এইচএম এরশাদের বানানো চত্বরের নাম ‘নূর হোসেন স্কয়ার’ বানিয়ে সেখানে ফুল দেয়া হয়। অলক্ষ্যে নূর হোসেনের বিদেহী আত্মা কী বলে জানি না। হয়তো বলে- ‘তুমি মহারাজ, সাধু সেজে আজ, আমারে শহীদ বানালে বটে/তোমাদের কথা, তোমাদের কাজ- জেগে আছে আমার স্মৃতিপটে’।
আসা যাক শহীদ ডা. মিলনের কথায়। যিনি আন্দোলনের মাঠে-ময়দানে নেই, সংগ্রামে নেই, ধর্মযুদ্ধেও নেই যে তিনি বাঁচলে গাজী, মরলে শহীদ হবেন, তিনি পিজি হাসপাতাল থেকে রিকশাযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। তিনি ঢাকা ভার্সিটি এলাকায় দু’দল ছাত্রের ক্রসফায়ারের মধ্যে পড়লেন। আচমকা গুলি তার বুকে লাগল। তার নামে চত্ব¡র হয়ে গেছে। কিন্তু তারপর যা ঘটেছে- তার মূল্যায়ন কীভাবে হবে? তারপর যারা আন্দোলনের মাঠে, সংগ্রামের ময়দানে জীবন দিয়েছে, তাদের নামে চত্বর বা স্কয়ার হয় না কেন? ‘স্বৈরতন্ত্র’ নিপাত করে তো ‘গণতন্ত্র’ আনা হয়েছে। কিন্তু সেটা কোন গণতন্ত্র? এ গণতন্ত্রে কি হাজার হাজার নূর হোসেন কিংবা ডা. মিলন প্রাণ দেয়নি? যদি দিয়ে থাকে, তাহলে তাদের নামে চত্বর বা স্কয়ার হচ্ছে না কেন?
অতি সম্প্র্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ব্যানার হেডিং হয়েছে- ‘হত্যার রাজনীতি, লাশের মিছিল’। তথ্যে ভরা প্রতিবেদন ছিল সেটি। সেখানে বলা হয়েছে, ২২ বছরে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণহানি হয়েছে ২ হাজার ৩৮৮ জনের। তার মধ্যে বিএনপির ১৯৯১-৯৬ সময়ের শাসনামলে ১৭৪ জন, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-০১ আমলে ৭৬৭ জন, বিএনপির ২০০১-০৬ আমলে ৮৭২ জন, তত্ত্বাবধায়কের ২০০৭-০৮ আমলে ১১ জন এবং বর্তমান আওয়ামী লীগের ২০০৯-১৩ আমলে এ পর্যন্ত ৫৬৪ জন মানুষ রাজনৈতিক আন্দোলনে ইহলোক থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাদের শহীদ বলা হয় না, তাদের নামে স্কয়ার, চত্ব¡র কিংবা কোনো স্মৃতিসৌধ হয় না। নূর হোসেন বা ডা. মিলনকে শহীদ বলা হলে তারাও নিশ্চয়ই শহীদ। আর এ শহীদের সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। এ সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে- সেই অজানা আতংক গোটা দেশবাসীকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। সঠিক গণতন্ত্র আবার কবে মুক্তি পাবে- তার প্রতীক্ষায় নীরবে গোটা জাতিকে প্রহর গুনতে হচ্ছে। সামনের রাজনীতি কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে আছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলের পুরো ৯ বছর সময়ের মধ্যে মোট যতজন মানুষ মারা গেছে, পরবর্তী কথিত গণতান্ত্রিক শাসনামলের মধ্যে যে কোনো একদিনে তার চেয়ে ঢের বেশি মানুষ মারা গেছে ও যাচ্ছে। সামনে এ পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সে কথা ভাবলেও শিউরে উঠতে হয়। তারপরও আমাদের ভাগ্যকে পালাক্রমে ফুটন্ত কড়াই আর জ্বলন্ত চুলার মধ্যে সমর্পণ করতে হচ্ছে।
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত দাবি হচ্ছে দুই নেত্রীর সংলাপ। মনে হচ্ছে, দুই নেত্রী সংলাপে বসলেই সারা বাংলাদেশের আকাশে-বাতাসে মিলন মঙ্গলিকের সুর বেজে উঠবে, নহবত বাজবে, দুই দলের মানুষ হানাহানি-মারামারি-কাটাকাটি ভুলে প্রেমালিঙ্গনে মেতে উঠবে! সংলাপ হলে কী হবে তা তো ৩৭ মিনিটের ফোনালাপে বোঝা গেছে। নৈতিক হোক আর অনৈতিকই হোক- ফোনালাপটি প্রচার হওয়ায় ভালোই হয়েছে। জাতি প্রকৃত রূপটা দেখেছে। প্রেস সচিব সাহেবরা মোলায়েম সুরে জাতিকে যা জানিয়েছিলেন সেটা যে আসল চেহারা নয়, মানুষ তো তা জানতে ও বুঝতে পেরেছে। ৩৭ মিনিটের ঝগড়া ও আলোচনার মধ্যে দেশের কথা, জনগণের কথা কত সেকেন্ড ছিল? গোটা জাতির মধ্যে একটা আশার সঞ্চার হয়েছিল যে, সম্ভাব্য টেলি সংলাপের মধ্য দিয়ে সংকট উত্তোরণের একট পথ উন্মোচন হবে। কিন্তু সেই স্যাম্পলে যা দেখা গেল, তাতে গোডাউনের মধ্যে কী আছে বা থাকতে পারে, তা আর বুঝতে বাকি থাকে না। বলতে খারাপ লাগলেও বলতে হয় যে, সংলাপে বসার অসম্ভব কাজটি যদি সম্ভব হয়ও তাহলে সেই সংলাপ মঞ্চের মাঝখানে লোহার জালের একটা বেড়া থাকবে তো?
পাদটিকা : সম্ভাব্য সংলাপ এখন এক অর্থহীন সান্ত্বনা। সংলাপ হলেও কোনো লাভ হবে না। এরা কী দিয়েছেন এ জাতিকে? নিয়েছেন তো অনেক। আড়াই হাজার মানুষের রক্তের মূল্য কী দিয়ে পরিশোধ হবে? কেন এ রক্ত ঝরল? বিশ্বে এমন অনেক দেশ আছে, যাদের স্বাধীনতা অর্জনে এত রক্ত ঢালতে হয়নি। এ রক্ত নেয়া হয়েছে শুধু একটি লোভের বশে। আর তা হচ্ছে ক্ষমতা। এখন লড়াই চলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য। কেন এ চাওয়া- নিশ্চয় জনগণের কল্যাণের জন্য নয়। চাওয়া হচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। আর একপক্ষ সংবিধানের অজুহাত দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক দিতে চায় না। এই না চাওয়া কি শুধুই সংবিধানকে ভালোবেসে? নিশ্চয় এর পেছনে আছে ক্ষমতা আগলে রাখার মানসিকতা। এর আগে ১৯৯৬ সালে যখন এ তত্ত্বাবধায়কের জন্য আন্দোলন হয়েছিল, সেটাও দেশ ও জনগণের কল্যাণের জন্য ছিল না। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যা করেছে, এখন বিএনপি তাই করছে। ওই সময় বিএনপি যেভাবে সংবিধানের অজুহাত দিয়েছে, এখন আওয়ামী লীগ তাই করছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে থাকবে? এখন মুক্তির উপায় খোঁজার সময় এসে গেছে। এখনই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত না নিলে সামনের ঘোর অমানিষার অবসান ঘটবে না। অবিলম্বে প্রয়োজন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। সেই শক্তি এখনও আছে, তবে তা বিচ্ছিন্নভাবে। তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অতীতের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, মত-পার্থক্য ভুলতে হবে। চক্ষু লজ্জা মুছতে হবে।
গোটা জাতি আজ সংকটাপন্ন। প্রকৃত জাতীয়তাবাদ, ইসলামী মূল্যবোধ, স্বাধীনতার চেতনা, অসাম্প্রদায়িক আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত ধারার সঙ্গে সচেতন নাগরিক সমাজের ঐক্যের মাধ্যমে যদি বিকল্প রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে ওঠে- গোটা জাতি সেই মঞ্চে একত্রিত হবেই। আজকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে আসছে দিনের ভবিষ্যৎ। সেই ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থানই একমাত্র পথ। নতুন করে শহীদের তালিকা আর প্রত্যাশিত নয়। শহীদের নামে কোনো চত্ব¡র-স্কয়ার-স্মৃতিসৌধও আর প্রত্যাশিত নয়। যারা যা করেছেন, এখন তার জন্য ক্ষমা চেয়ে বিদায় হোন- জাতিকে মুক্তি দিন।
সুনীল শুভ রায় : লেখক ও সাংবাদিক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবতার ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে by বিভুরঞ্জন সরকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন পর ফোনালাপ হওয়ায় আশা করা গিয়েছিল যে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে রাজনীতিতে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে তা দূর হবে, সংঘাতের পথ থেকে সংলাপের পথে অগ্রসর হবে রাজনীতির ধারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতাকে ফোন করবেন- এ সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর মানুষের মধ্যে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা হতাশায় পরিণত হতে বেশি সময় লাগেনি। দুই নেত্রীর ফোনালাপের বিস্তারিত বিবরণ গণমাধ্যমে প্রচারের পর মানুষ বুঝতে পেরেছেন, দুই নেত্রীর মধ্যে যে দুস্তর ব্যবধান তা সহজে দূর হওয়ার নয়। বিভিন্ন মহল থেকে অনেক দিন ধরেই এটা বলা হচ্ছিল যে, দুই নেত্রী একসঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনা করলেই দেশের রাজনৈতিক সংকট দূর হয়ে যাবে। কিন্তু এ ধারণাটা যে বাস্তবভিত্তিক নয়, দুই নেত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান যে দুই বিপরীত মেরুতে সেটা বুঝতে না পারার জন্যই দুই নেত্রীর বৈঠকের ওপর কেউ কেউ এতদিন অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করে এসেছেন। ২৬ অক্টোবর অনেক নাটকীয়তার শেষে সন্ধ্যা ৬টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। তাদের ৩৭ মিনিটের ফোনালাপ মোটেও সুখকর ছিল না। শুরু থেকেই বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন আক্রমণাত্মক এবং কিছুটা উত্তেজিত। তার ভাষা ছিল রূঢ় ও অসৌজন্যমূলক। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে সালাম দিয়ে কুশল জিজ্ঞাসা করেছেন। অথচ পাল্টা কুশল জিজ্ঞাসা করার সৌজন্য বিরোধীদলীয় নেতা দেখাননি। নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর জন্য যে টেলিফোন তা শেষ পর্যন্ত তপ্ত বিতর্কে পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রী নমনীয়তা দেখালেও বিরোধীদলীয় নেতা একের পর এক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে থাকলে প্রধানমন্ত্রীও পাল্টা জবাব দিতে থাকেন। এ পুরো ফোনালাপ যারা টিভিতে শুনেছেন কিংবা সংবাদপত্রে পড়েছেন, তারা এটা স্বীকার করবেন যে, দুই নেত্রীর ফোনালাপ সমঝোতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার বদলে আনুষ্ঠানিক ঝগড়াঝাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। কেউ কেউ সেজন্য এমন মন্তব্যও করছেন যে, দুই নেত্রীর এই ফোনালাপটি না হলেই বরং ভালো হতো। এ ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী যে খুশি হতে পারেননি, বরং যথেষ্ট বিরক্ত হয়েছেন, সেটা বোঝা যায় তার বক্তব্য থেকে। তিনি গণভবনে এক বৈঠকে বলেছেন, ‘যেসব কথা আমাকে শুনতে হল, আমার ঠিক ওই ঝগড়া বা ওই ধরনের ইচ্ছা ছিল না। অনেক অপমান সহ্য করেও আমাকে চুপ থাকতে হয়েছে। দেশের মানুষের কথা ভেবেই এসব অবাস্তব কথা সহ্য করেছি।’ এরপর শেখ হাসিনা সহসা আর খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবেন বলে যারা আশা করেন, তাদের অতি আশাবাদী বলা গেলেও বাস্তববাদী বলা যাবে না। দুই নেত্রীর ফোনালাপ গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ হওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। কারা এ ফোনালাপ প্রকাশ বা প্রচার করলেন সেটা জানা না গেলেও বুঝতে কষ্ট হয় না যে, সরকারি তরফেই এটা প্রচার-প্রকাশে সহযোগিতা করা হয়েছে। অবশ্য একটি দৈনিকে এটা ফাঁস হওয়ার পেছনে বিরোধীদলীয় নেতার তথ্য সচিবের হাত আছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ফোনালাপ প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটা জানার অধিকার জনগণের আছে। কারণ এটা রাষ্ট্রীয় ফোনালাপ, জনগণের অধিকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপির তরফ থেকেই প্রথম এটার অনেক কিছু পেপারে ছাপিয়ে দেয়। কাজেই পেপারে দিয়ে দেয়ার পর পুরোটাই মানুষের শোনা ভালো। আমি কী শুনলাম, উকি কী বললেন?’ অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফোনালাপ গণমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনাকে শিষ্টাচার ও নীতিবহির্ভূত বলে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটা করা হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। ফোনালাপের আংশিক বিবরণ যখন সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়, তখন অবশ্য বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বা ক্ষুব্ধ হয়নি। পুরোটা প্রকাশের পর হয়তো তাদের অস্বস্তি বেড়েছে। কারণ তাদের নেত্রীর বাচনভঙ্গি যে খুব শোভন ছিল না, একজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় যে সাধারণ শিষ্টাচার মেনে চলতে হয়, রাগের কারণে তিনি সেটা সম্ভবত ভুলে গিয়েছিলেন। আবার এমনও হতে পারে তিনি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকারই করেন না। একপর্যায়ে কিন্তু তিনি বলে ফেলেছেন, ‘আপনি তো প্রধানমন্ত্রী নন। দলের প্রধানমন্ত্রী। আপনি তো দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। নিরপেক্ষতার ঊর্ধ্বে আপনি যেতে পারেননি। ...’
ফোনালাপ প্রকাশের ব্যাপারে কেউ কেউ তুলেছেন নৈতিকতার প্রশ্ন অর্থাৎ তারা মনে করেন নীতিগতভাবে এটা ঠিক হয়নি। আবার কেউ তুলেছেন আইনি প্রশ্ন। তবে এসব বিতর্ক এ ইস্যুতে এ কারণেই গৌণ যে, এটা ছিল একটি রাষ্ট্রীয় সংলাপ। দুই নেত্রী কোনো গোপন আলাপে অংশ নেননি। তারা পরস্পর কী কথা বলেছেন, দেশের সংকট সমাধানে তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছেন কিনা সেটা জানার আগ্রহ ও কৌতূহল ছিল দেশবাসীর। বলা যায় রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় ছিল গোটা জাতি। কাজেই তথ্য জানার যে অধিকার নাগরিকদের আছে, সে অনুযায়ী দুই নেত্রীর ফোনালাপ পুরো প্রকাশ করা অনেকের কাছেই অসমীচীন বলে মনে হয়নি। তবে এটাও ঠিক যে, দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং দুই নেত্রীর মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন মহলের উদ্যোগ-তৎপরতার কথা বিবেচনা করে ফোনালাপের বিস্তারিত বিবরণ এখনই প্রকাশ না করলেই হয়তো ভালো হতো। তাহলে হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো না। অবশ্য দুই পক্ষ থেকে যদি আলাদা আলাদাভাবে নিজ নিজ পছন্দের অংশটুকু গণমাধ্যমে ফাঁস করা হতো, তাহলে বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝি যে মাত্রায় হতো, এখন পুরোটা প্রকাশ হওয়ায় তা থেকে অন্তত রেহাই পাওয়া গেছে। এখন যারা দুই নেত্রীর বক্তব্য পড়েছেন, শুনেছেন, তারা সবাই বিবেচনা করার সুযোগ পেয়েছেন, কোন নেত্রী সমস্যা সমাধানে কতটা আন্তরিক।
৩৭ মিনিটের ফোনালাপে দুই নেত্রীর মধ্যে কাজের কথা হয়েছে খুব সামান্য সময়ই। অথচ এ দীর্ঘ সময় যদি তারা নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়েই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতেন, তাহলে হয়তো পরিবেশটা ভিন্ন হতে পারত। এতদিন যারা মনে করতেন যে খোঁচা দিয়ে কথা বলতে কিংবা কটাক্ষ করতে শেখ হাসিনার জুড়ি নেই- তারা এবার বিস্মিত হয়েছেন খালেদা জিয়ার কথা শুনে। খালেদা জিয়া যে বাঁকা কথায় এত পটু এটা এ ফোনালাপ প্রকাশ না পেলে অনেকেরই অজানা থেকে যেত। বিরোধীদলীয় নেতার ‘রেড টেলিফোন’ ডেড হওয়া নিয়ে দুই নেত্রীর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাহাস হয়েছে। আলোচনার প্রায় শুরুতেই খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আপনারা গভর্নমেন্ট চালান, কী খবর রাখেন? গভর্নমেন্ট চালাচ্ছেন, এ খবর রাখেন না যে বিরোধীদলীয় নেতার ফোন ঠিক আছে কিনা।’ এরপর শেখ হাসিনা যখন বলেন, ‘আমি যখন ফোন করেছিলাম, সেটা ভালো ছিল’, তার উত্তরে বেগম জিয়া বলেছেন, ‘হঠাৎ করে মৃত টেলিফোন জেগে উঠবে? আপনার টেলিফোন এত পাওয়ারফুল যে ডেড অবস্থায় জেগে উঠবে?’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতাকে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় গণভবনে আলাপ-আলোচনার জন্য দাওয়াত দিলে খালেদা জিয়া হরতালের কারণে সেদিন যাওয়ার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা ‘জাতির স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে হরতাল প্রত্যাহার’ করে দেয়ার অনুরোধ জানালে বেগম জিয়া হরতাল প্রত্যাহার করবেন না উল্লেখ করে উল্টো বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থেই আমি এ হরতাল দিয়েছি।’ ‘হরতালের নামে মানুষ খুন করা অব্যাহত রাখবেন’- প্রধানমন্ত্রীর এ জিজ্ঞাসার জবাবে বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেন, ‘আমি মানুষ খুন করতে চাই না, আপনারা মানুষ খুন করছেন। ... আপনাদের তো পুরনো অভ্যাস। আপনারা সেই স্বাধীনতার পর থেকে ’৭১-এ যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখনও এ হত্যা করেছেন...।’ শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘একাত্তরে আমরা হত্যা করেছি?’ খালেদার জবাব, ‘হ্যাঁ অবশ্যই।’ একপর্যায়ে শেখ হাসিনা ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন’ বললে খালেদা জিয়া জবাব দেন, ‘দেখেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আপনারা করিয়েছেন। আপনাকে হত্যা করতে কেউ চায়নি। ... আপনি যত থাকবেন, তত আমাদের জন্য ভালো। ... আপনি যত এ রকম অশ্লীল ভাষায় কথা বলবেন, তত আমাদের জন্য ভালো।’ শেখ হাসিনা নামাজ পড়েন বলে উল্লেখ করায় জবাবে খালেদা জিয়া বিদ্রুপাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘আপনি নামাজ পড়েন, কোরআন পড়েন... আরও কত কী পড়েন। সব জানি।’
১৫ আগস্ট কেক কাটা, জন্মদিন পালন করার প্রসঙ্গ শেখ হাসিনা উঠালে বেগম জিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে জবাব দেন, ‘... এটা বলবেন না। ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে কোনো মানুষের জন্ম হবে না? কোনো মানুষ পালন করবে না? এগুলো বাদ দেন। ... অনেক কথা বলেন জিয়াউর রহমানকে। আরে জিয়াউর রহমান তো আপনাদের নতুন জীবন দান করেছেন। ... আপনারা তো বাকশাল দিলেন। ... আপনারা জিয়াউর রহমানের বদৌলতে বাকশাল হতে পেরেছেন।’ এখানে বেগম জিয়ার বক্তব্যে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটেছে বলে সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত তার একটি লেখায় উল্লেখ করেছেন। কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর খন্দকার মোশতাক প্রথম রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন এবং ২০ আগস্টেই বাকশাল এবং তার অঙ্গসংগঠনগুলো বাতিল করেছিলেন। মোশতাক ২৪ আগস্ট জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দান করেছিলেন। বাকশাল বাতিল করার পর স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগসহ বাকশালে অঙ্গীভূত রাজনৈতিক দলগুলোর পুনরুজ্জীবন ঘটেছিল, এখানে জিয়ার কোনো অবদান বা ভূমিকা নেই। শেখ হাসিনা ৬০ ঘণ্টার হরতাল প্রত্যাহারের জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে বারবার অনুরোধ করলে খালেদা জিয়া একপর্যায়ে বলেন, ‘না আমি হরতাল প্রত্যাহার করতে পারব না। এটা তো আমার ডিসিশন নয়। এটা ১৮ দলের ডিসিশন। আমি এটা কী করে একলা করব।’ অথচ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি বলেন যে, এখন আপনি নিরপেক্ষ সরকারের জন্য রাজি আছেন, তাহলে আমি হরতাল উইথড্র করে নেব।’ এ ক্ষেত্রে ১৮ দলের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি ভুলে গেলেন কেন?
দুই নেত্রী আলোচনায় বসলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে যারা মনে করেন, তারা দুই নেত্রীর ৩৭ মিনিটের ফোনালাপে বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছেন বলেই মনে হয়। এ ফোনালাপ দুই নেত্রীর দূরত্ব ঘোচাতে সহায়ক হয়নি। এ ফোনালাপটি না হলেই ভালো হতো বলে যারা মনে করছেন, তাদের এ মনে করাটি একেবারে বেঠিক নয়। কারণ এ ফোনালাপে দুই নেত্রীর মুখোমুখি বসে সংলাপ করার পরিবেশ তৈরি না হয়ে বরং তা বিঘিœত হয়েছে বলেই মনে হয়। সংলাপ নিয়ে সরকারপক্ষ আর নতুন কোনো উদ্যোগ না নেয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলও নিজেরা কোনো উদ্যোগ নেবে না। অথচ দেশের মানুষ দুই নেত্রীর সংলাপের জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। কারণ সংলাপ না হওয়ার পরিণতি যে অনিবার্য সংঘাত, সেটা বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সংঘাত কারও কাম্য নয়। সবাই সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। কিন্তু তার কোনো লক্ষণ না দেখে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের মনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা না কমে বরং বাড়ছে।
বিভুরঞ্জন সরকার : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জনগণের নির্বাচিত নেতাদের কাছেই জনগণ অসহায় by মইনুল হোসেন

হরতালের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে রাস্তার সহিংসতায় প্রাণহানি ও মানুষের ভোগান্তি নিয়ে অন্যদের মতো আমরাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছি। প্রতিদিন হরতালকেন্দ্রিক নৃশংস কর্মকাণ্ড বাড়তে দেখে হৃদয় বেদনাভারাক্রান্ত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে নানাভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে গিয়ে নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে প্রতিদিন দগ্ধ হচ্ছে। এ নিয়ে নেতাদের কোনো দুর্ভাবনা নেই। মনে হয়, কে কিভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করবেন সেটাই তাদের একমাত্র চিন্তা।
আমরা অসহায় বোধ করার কারণে বিবেকের তাড়নায় লজ্জার মাথা খেয়ে বাইরের বন্ধুদের কাছে আবেদন করছি আমাদের উদ্ধার করতে আসার জন্য। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর আমাদের নির্বাচন ক্ষমতালোভী রাজনীতির কারণে কিভাবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরিণত হচ্ছে, সেটা আমরা সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এ রাজনীতিকে টেঙ্গো নাচের সঙ্গেই তুলনা করা যায়, যেখানে মাত্র দু’জনেই নৃত্য পরিবেশন করতে পারে। সরকার এবং বিরোধী দলকে ঠিকভাবে খেলতে হবে- আইনহীনতা ও সহিংসতায় যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে। তারা সেভাবে খেলতে ব্যর্থ হলে দোষ বা দায়-দায়িত্ব তো উভয়ের ওপর সমানভাবে বর্তাবে। পুলিশ কেবল রাস্তার সহিংস রাজনীতিকে অধিকতর নৃশংস করতে পারে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক বর্তমান সংকট হচ্ছে গণবিরোধী লোভী রাজনীতির ঘনীভূত রূপ। জনগণের ইচ্ছানুসারে জনগণের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এটাই তো গণতন্ত্রের কথা। সবাই সমঅবস্থানে থেকে নির্বাচন করতে না পারলে কিংবা সবার কাছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে সেটা কেবল গণতন্ত্রবিরোধী নয়, কাণ্ডজ্ঞানেরও বিরোধী। আমাদের দেশে যে ধরনের দলীয় রাজনীতি বিরাজ করছে, তাতে দলীয় নেতৃত্বের জবাবদিহির বা যুক্তিপূর্ণ হওয়ার দরকার করে না। জবাবদিহি বলতে আদতে কী বোঝায়, সেটা উপলব্ধির তোয়াক্কা না করেই রাজনৈতিক নেতারা জনগণের কাছে জবাবদিহির কথা বলে থাকেন। জবাবদিহি বলতে জনমতকে উপেক্ষা করা বোঝায় না। জনমত জরিপ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নেতাদের জানা আছে, তারা ভালো করেই জানেন, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চান। নেতারা নিজেদের যতটা জনসমর্থিত মনে করেন, ততটা জনসমর্থিত নন।
এটা আমাদের স্বীকার করতে হবে, যেখানে গণতন্ত্র কাজ করে সেখানে হরতালের রাজনীতি কিংবা হিংসার রাজনীতির দেখা মেলে না। হরতালের জন্য সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছে, রাস্তায় ভাংচুর ও আগুন জ্বালানোর ঘটনায় জনমনে যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে তাকে উপেক্ষা করে তো বিরোধী দল নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার চিন্তা করতে পারত না। সব ধরনের অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতি করেও নির্বাচনে কিভাবে জয়ী হতে হয় তার কলাকৌশল আমাদের রাজনীতিকদের জানা আছে। গণতান্ত্রিক নির্বাচন এখন একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চাবিকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে। এ নিয়েই সবার দুশ্চিন্তা। দেশে নির্বাচন আছে, গণতন্ত্র নেই। এটা অত্যন্ত পরিষ্কার ছিল যে, সরকারের সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব বিরোধী জোটের পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। বিএনপি এখন সুস্পষ্টভাবে সর্বদলীয় সরকারের অংশীদার হতে অস্বীকার করেছে।
সরকার, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি উপদেষ্টাদের পরামর্শে, এ প্রস্তাব উত্থাপন করে মনে করেছে, এটা একটা চাতুর্যপূর্ণ চাল হয়েছে। আর এটা এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে যে, এটা একটা আপসমূলক ফর্মুলা। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাব দিয়েছে তার বিপরীতে সরকার এ প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। সরকার সমর্থকরা সবাইকে বিশ্বাস করাতে চান যে, তারা একটা বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছেন বিরোধী দলকে তাদের সরকারে যোগদান করার আমন্ত্রণ জানিয়ে। এটাই হচ্ছে আত্মস্বার্থান্ধ রাজনীতি, যা রাজনীতিকে এতটা একরোখা, অন্ধ, হিংস্র করে তুলেছে- সরকার ও বিরোধী উভয়ের জন্য।
নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে না, সরকার চাচ্ছে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বে একটা কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে। নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠন আর কোয়ালিশন সরকার এক হতে পারে না। সর্বদলীয় সরকারের নামে বিএনপির লোকদেরও চাকরি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যাতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় সুনিশ্চিত করা যায়। ১৯৭৫ সালেও একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল অন্যদের চাকরি দিয়ে। বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস করে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করা হয়েছিল, এভাবে অনেকে ব্যাপারটাকে চিত্রিত করে থাকেন। ওই সময়ে জনপ্রিয় নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও প্রয়োজন অনুভব করা হয়নি।
সেই সময়টাতে যে কর্মকাণ্ডের অনুশীলন হয়েছিল তার মধ্যে সবচেয়ে হতাশাব্যঞ্জক ভূমিকা রেখেছিলেন সাংবাদিকরা। সব সংবাদপত্রকে সরকারি মালিকানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকরাও প্রতিবাদ করার বদলে দলে দলে অসহায়ভাবে হলেও বাহ্যিকভাবে উৎসাহভরে সেই প্রক্রিয়ায় শামিল হয়েছিল। দু-চারজন শামিল না হলেও তাদের সবার আড়ালে চলে যেতে হয়েছিল। গণতন্ত্রের সবচেয়ে শক্তিমান স্তম্ভ প্রেস সহজেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সাংবাদিকদের জন্য আবারও কঠিন অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। রাজনীতিকীকরণ প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক সমাজ আজ বিভক্ত এবং তাদের কেউ কেউ আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপির সক্রিয় দলীয় কর্মী। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দলীয়করণের বিভক্তি জনপ্রশাসন, পুলিশ, সরকারি কার্যালয়ের সর্বত্র বিদ্যমান। এটা দুঃখজনক যে, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির স্বার্থে বিচার বিভাগকেও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে।
স্বাধীন ভূমিকার বদলে সাংবাদিকরা যখন সক্রিয় দলীয় কর্মীর চেহারা নিয়ে জনসমক্ষে হাজির হন, তখন সাংবাদিক হিসেবে তার সম্মানজনক অবস্থানটি সবচেয়ে বিব্রতকর রূপ ধারণ করে। সর্বত্র সাংবাদিকদের যে সম্মানের আসন দেয়া হয়, দলীয় রাজনীতির অ্যাক্টিভিস্টের ভাবমূর্তি সেই আসন পাওয়ার অনুকূল হতে পারে না। প্রবীণ সাংবাদিকদের স্মরণ রাখা উচিত, প্রখ্যাত সাংবাদিক মানিক মিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক হিসেবে পেশাগত স্বাধীনতা বজায় রাখার স্বার্থে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
বাকশালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিয়োগান্তক পরিসমাপ্তি ঘটেছিল কয়েক মাসের মধ্যে। আমাদের অনেকেরই চিন্তা ছিল, এ থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনীতিকে নিরাপদ করা হবে ভবিষ্যতে। রাজনীতি এক ধরনের বিজ্ঞান, এ বিজ্ঞানের ব্যবহার অগ্রাহ্য করা হলে তার ফল মারাত্মক পরিণতি বহন করে আনতে পারে। কারণ, তখন রাজনীতি আর রাজনীতি থাকে না। গণতন্ত্রের চর্চা ভিন্ন গণতন্ত্র টিকে না। ক্ষমতার লোভ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু যেটা স্মরণ রাখা দরকার, এ ক্ষমতার লোভ কখনও একতরফা হয় না। বিজ্ঞ লোকেরা গণতন্ত্র সমর্থন করে, কারণ নিরাপদ রাজনীতির বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনা রয়েছে এ ব্যবস্থায়।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন : আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুকুরের এমবিএ ডিগ্রি ও অন্যান্য
‘লেখাপড়া কত দূর?
‘তাহলে চাষবাসের কাজে ওকে লাগাও না কেন?’
‘হুজুর, লেখাপড়া শিখেছে, ওকে কী করে হালচাষ করতে লাগাই?’
‘তাহলে ওকে একটা দোকান করে দাও।’ ‘দোকানের কাজে ওর মন নাই।’ ‘তাহলে তো তোমার ছেলের আর কোনো উপায় নাই। ওকে মন্ত্রী করেই নিতে হয়।’ শেরেবাংলাকে নিয়ে আরেকটা গল্প। তখনো তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কাছে একটা আবেদন এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদের মালটানা গাড়ির বলদের জন্য খড় কেনা বাবদ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দের আবেদন। শেরেবাংলা খড়ের দাম জানতেন। তিনি ওই দরখাস্তে লিখলেন, ‘এত খড় কি কেবল বলদে খাবে?’
আজকের এই লেখায় কোনো সিরিয়াস বিষয়ে গেলাম না; কারণ, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যা চলছে, তা নিয়ে রসিকতা ছাড়া আর কীই-বা করার আছে?
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
Recent Post of WikiBangla.Net
ডিডাব্লিউ
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





