Wednesday, May 2, 2018

শ্রমিকের মজুরি খায় সর্দারে by আমানুর রহমান রনি

মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকরা সরাসরি দর কষাকষি করতে না পারায়, তাদের মজুরির একটি অংশ মধ্যস্বত্বভোগী সর্দারদের হাতে চলে যায়। বছরের পর বছর এভাবেই চলে আসছে। সর্দারদের কাছ থেকে নিজেদের বাঁচাতে আজকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ‘শ্রমিক হাট’ বা ‘লেবার মার্কেট’। এই মার্কেটে তারা শ্রম বিক্রি করেন। কিন্তু সেখানেও সর্দারদের আনাগোনা দেখা গেছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ মোড়ে প্রতিদিন বিভিন্ন কাজ পারদর্শী ২০০ থেকে ৩০০ শ্রমিক দাঁড়িয়ে থাকেন। মোহাম্মদপুর ও আশেপাশের এলাকার মানুষ এখান থেকে কাজ অনুযায়ী শ্রমিক নিয়ে যান।
মঙ্গলবার (১ মে) সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, শতাধিক নারী-পুরুষ রিং রোডের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ও বসে আছেন। এদের একজন রুমেলা বেগম (৫০)। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনি বাসাবাড়িতে রং ও পুডিংয়ের কাজ করেন। রুমেলা মোহাম্মদপুরের একটি বস্তিতে চার মেয়ে, একছেলে ও অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে থাকেন। স্বামী অসুস্থ হওয়ায় তাকে কাজ করতে হচ্ছে। ২০ বছর ধরে তিনি এই পেশায় আছেন। প্রতিদিন সকালে শিয়া মসজিদের মোড়ে এসে দাঁড়ান তিনি। এখান থেকে দরদাম করে তাদের ‘কিনে’ নেওয়া হয়। মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়ানোর জন্যই তারা লেবার মার্কেটে আসেন।
রুমেলা বলেন, ‘সর্দারের সঙ্গে কাজে গেলে ঠিক মজুরি পাই না। ৫০০ টাকা মজুরি হলে ৩০০ টাকা দেয়। বাকি টাকা সে নেয়। তাই এখানে এসে দাঁড়িয়ে নিজেই কাজ ঠিক করি।’
দেশে অন্তত ৫৪ ধরনের শ্রমিক আছেন, যারা শ্রম আইন ও দেশের কোনও শ্রমনীতিতে নেই। এর মধ্যে গৃহকাজে নিয়োজিত শ্রমিক, কুলি, মজুর, মৌসুমি শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, ঘাট শ্রমিক, রিকশাচালক, ভাসমান শ্রমিক, ঠিকা, ঠেলাগাড়ি শ্রমিক উল্লেখযোগ্য। এসব শ্রমিক একদিন কাজ না করলে, তাদের জীবন চলে না। দেশে এধরনের এককোটি ২০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। যাদের জন্য নেই কোনও নীতিমালা,তাদের জন্য ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার বা দেওয়ার কোনও নিয়মকানুনও নেই।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে লেবার মার্কেটরাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে লেবার মার্কেট
শিয়া মসজিদ ছাড়াও মোহাম্মদপুরের টাউন হল,মিরপুর এক নম্বর, শেওড়াপাড়া, আজিমপুর, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ীর মাছ বাজার, উত্তরার আব্দুল্লাহপুরসহ মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে এরকম লেবার মার্কেট গড়ে উঠেছে। এসব মার্কেটে শ্রম বিক্রেতা নারী, পুরুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদেরও দেখা যায়। কোদাল, শাপল ও ছোটছোট ঝুড়ি নিয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকে তারা। এদেরই একজন বায়েজিদ। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে।
বাংলা ট্রিবিউনকে বায়েজিদ জানায়, ‘আমি মূলত রাজমিস্ত্রীর সহযোগী। মাটিকাটাসহ বাসাবাড়ির বিভিন্ন কাজ করে থাকি। এখান থেকে প্রতিদিন মানুষ এসে আমাদের নিয়ে যায়। যেদিন কাজ না পাই, সেদিন বাসায় চলে যাই।’
বায়েজিদের ভাষ্য,  প্রতিদিন কাজ পাওয়া যায় না। যেদিন কাজ না থাকে সেদিন আমাদের ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে মায়ের খুব কষ্ট হয়।
লেবার মার্কেটে নারী শ্রমিকদের ভিড়লেবার মার্কেটে নারী শ্রমিকদের ভিড়
বায়েজিদের বাবা বেঁচে নেই। মা গার্মেন্টসে কাজ করেন। তাই তাকে বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
বায়েজিদ বলে, ‘সর্দারের সঙ্গে আগে কাজে যেতাম। প্রতিদিন ২০০ টাকা করে দিতো। ২০০ টাকা দিয়ে সারাদিন খাটাইতো। এখন এই লেবার মার্কেটে আসি। নিজেই দরদাম করে কাজে যাই।’
লেবার মার্কেটে অনেক শ্রমিককেই দরদাম করে কাজ যেতে দেখা যায়। এখানে মধ্যস্বত্বভোগীর কোনও অস্থিত্ব নেই। তবে যারা বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজ করেন,  মাটি কাটেন ও ট্রাকে সরবরাহ করেন, তাদেরকে সর্দারের মাধ্যমে কাজে যেতে হয়। এই শ্রমিকরা কোনও উপায় না পেয়ে সর্দারদের সঙ্গে কাজে যান। কারণ, একদিন কাজ না করলে তাদের সংসার চলে না। তাদের বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনটুকুও মেটাতে হয় গায়ে খেটে। শ্রমজীবী এই নিরীহ মানুষগুলো একবেলা খাবার জোটাতে ছোট্ট একটি কাজের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। অথচ তাদের এই কাজের কোনও স্বীকৃতি নেই। প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) যে হিসাব করা হয়, তা প্রাতিষ্ঠানিক খাতের ভিত্তিতে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলো এর আওতায় নেই।
অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনও উদ্যোগও নেই সরকারের। এবিষয়ে সরকার কোনও আলোচনাও করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ।
মোহাম্মদপুরের একটি লেবার মার্কেটমোহাম্মদপুরের একটি লেবার মার্কেট
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাত্র ৪৩ ধরনের শ্রমিকের স্বীকৃতি আছে। অন্য কোনও শ্রমিকের স্বীকৃতি নেই। তাদের স্বীকৃতি দেবার জন্য আমরা বারবার বলে আসছি। তবে সরকার এবিষয়ে আলোচনা করতে চায় না।’
সুলতান আহম্মদ বলেন, ‘জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করলে এরা সবাই স্বীকৃতি পেতেন। তাদের কাজের ধরন অনুযায়ী পরিচয় পত্র দেওয়া যায়। ভারতে এরকম শ্রমিকদের রেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা অসুস্থ হলেও ভাতা পান।’
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সব শ্রেণির শ্রমিকদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিৎ। নীতিমালা অনুযায়ী সব খাতের শ্রমিকরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত হবে। এই উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।’

আমেরিকা-ইউরোপের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রাখবে বিএনপি by সালমান তারেক শাকিল

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে বিএনপি। দলটির নেতারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত কারণেই ভারতকে টপকে বাংলাদেশ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে কম। আগামী নির্বাচনেও এর বেশি পরিবর্তন হবে না। ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের বাইরে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চিন্তা আপাতত বিএনপিতে কম। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সোচ্চার থাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা আদতে বিএনপির পক্ষেই যাচ্ছে, এমন ভাবনায় সন্তুষ্টি রয়েছে দলটিতে।
বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ের সূত্রগুলোর তথ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া নীতি ভারতের কূটনৈতিক কৌশলের বাইরে যাবে না। বিশেষ করে, এ অঞ্চলে চীনের প্রাধান্য কমাতে ভারতকেই পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে বাংলাদেশ বিষয়ে আগ্রহ থাকলেও কৌশলগত কারণে আচরণ সীমাবদ্ধ রেখেছে দেশটি।
সূত্রটি মনে করে, পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ স্বতঃসিদ্ধ হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা, নারী অধিকার, শিশু অধিকার, বাকস্বাধীনতাসহ এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে। এ কারণে এই রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক বড় ধরনের সহযোগিতা পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখছে না বিএনপি।
জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহির্বিশ্বের সব রাষ্ট্রে গণতন্ত্র, রুলস অব ল, মানবাধিকার, নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তারা সবকিছু দেখতে চায়। বিএনপি বা আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এই জিনিসগুলো তারা দেখতে চায়। যে সরকার এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করবে না, তাদের ওপর তারা অসন্তুষ্ট থাকবে।’
ইনাম আহমেদ চৌধুরী যোগ করেন, ‘‘আমেরিকা ও ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো ‘ইমারজেন্সি ফ্যাসিজম’ সম্পর্কে ধারণা রাখে। তারা এটা ইতালিতে দেখেছে, স্পেনে দেখেছে। ফলে, তারা এ বিষয়গুলো সম্পর্কে দৃষ্টি রাখে।’’
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, একুশ শতকের শুরু থেকেই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশ আলাদা কোনও গুরুত্ব পায়নি। দশকের শুরুতে ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা বা ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এলেও দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে ভারতকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ২০১৫ সালের নির্বাচনের আগে দেশটির সাবেক দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বাংলাদেশ সফরে এলেও নির্বাচন বিষয়ে তার পরামর্শকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা তার দায়িত্ব পালনকালে নির্বাচন বিষয়ক তৎপরতাকেও ক্ষমতাসীনরা ইতিবাচকভাবে দেখেনি। এর বাইরে বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফরে এলেও মৌলিক কোনও ভূমিকা রাখার সুযোগ পাননি দেশটির কূটনীতিকরা।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ২০১৬ সালে নির্বাচিত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশ খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। যদিও গত বছরের শেষ দিকে মিয়ানমার ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। মিয়ানমারে পশ্চিমা দেশগুলোর বিনিয়োগের বিষয়টি মাথায় রেখে এ ইস্যুতে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী মনে করা হচ্ছে।
মিয়ানমারে চীন-ইন্টারেস্টের বিষয়টি সামনে রেখে ভেতরে ভেতরে বিএনপিও পশ্চিমা দেশগুলোকে সহযোগিতা দিতে চাইছে। বিশেষ করে মিয়ানমারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে বাংলাদেশকে পাশে রাখা ছাড়া উপায় নেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের। যদিও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখছে বিএনপি।
সূত্রের ভাষ্য, মিয়ানমারে অং সান সুচিকে ক্ষমতায় আনতে পশ্চিমা বিশ্বের অবদান বেশি বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইইউ। যদিও পরবর্তী সময়ে সরকারের অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগকেই এগিয়ে রাখেন সু চি। আর এ বিষয়টিই রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে মনোভাব তৈরি করে পশ্চিমাদের।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রাধান্য কমাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলোকে ভারতের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। আর এসব কারণ বিবেচনায় বাংলাদেশ নিয়ে ভিন্ন কোনও পরিকল্পনা নেই তাদের।
ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিতে এখন উত্তর কোরিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব কম হলেও এ দেশের সিস্টেম সম্পর্কে তাদের কাছে গুরুত্ব রয়েছে বেশি।’
পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রহের বিষয়ে ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির সুবিধা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো যেসব বিষয় চায়, তাতে বিএনপিরই উপকার হয়। বহির্বিশ্ব চায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং, গণতন্ত্র চায়, দুর্নীতি হবে না। ফলে, এই চাওয়াগুলো তো বিএনপির পক্ষেই যায়।’
২০১৫ সালে বিএনপির একটি কূটনৈতিক দল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল। ওই সময়ে ১১ জানুয়ারি সাবিহ উদ্দিনের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তিনদিন পর ১৪ জানুয়ারি গুলশান-২ এলাকায় দুর্বৃত্তরা হামলা করে আরেক চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রিয়াজ রহমানের ওপর। গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে যান সাংবাদিক শফিক রেহমান। গ্রেফতার হয়ে ছয় মাস কারাগারে থাকতে হয় শমসের মবিন চৌধুরীকে। এরপরই কূটনৈতিক উইংয়ের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এই চারজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ উত্তর আমেরিকার একাধিক রাষ্ট্রের সঙ্গে বিএনপির আন্তরিক সম্পর্ক নির্মাণে কাজ করেছেন। ৫ মাস জেল খেটে সরাসরি রাজনীতি থেকে অবসরে চলে যান শমসের মবিন চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মার্কিন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কী ধরনের সম্পর্কে আগ্রহী। তবে এখন পর্যন্ত তারা বলে আসছে একটা অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় তারা। বিস্তারিত কী চায়, সেটা আরও পরে বোঝা যাবে।’
২০১৬ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে ছিল বিএনপি। হিলারির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের সুসম্পর্ক ছিল, এমন বিশ্বাসও নেতাকর্মীরা করতেন। নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল, হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। যদিও সে নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় হয়। দায়িত্বশীল নেতারা অবশ্য বলছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ কম। ফলে দেশটির প্রেসিডেন্ট বা কোনও ব্যক্তির ওপর পররাষ্ট্রনীতি নির্ভর করে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশের প্রতিনিধিরা বলেছেন, তারা বাংলাদেশে একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে তারা বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে নির্বাচনকে বুঝিয়েছেন। তাহলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে।’
খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে সব দল ও দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আমাদের সঙ্গেও একই সম্পর্ক। এছাড়া আমাদের চাওয়ার ওপর তো কিছু নির্ভর করে না। তারা তাদের দেশের কূটনীতি অনুযায়ী কাজ করবে।’

বায়ুদূষণে প্রতিবছর প্রাণ হারায় ৭০ লাখ মানুষ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্বে প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে নয়জন বিপজ্জনক মাত্রার দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। আর প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত কারণে বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন প্রায় ৭০ লাখ মানুষ। বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিইএইচও) প্রকাশিত নতুন এক রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, এসব মৃত্যুর ৯০ শতাংশ ঘটে থাকে দরিদ্র দেশগুলোতে। বিশেষজ্ঞদের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, বায়ুদূষণের কারণে সরাসরি মানুষের মৃত্যু না হলেও বিভিন্ন রোগ ও জীবনকাল কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে তা ভয়ানক প্রভাব ফেলে।
২০১৬ সাল থেকে বিশ্বের এক হাজারেরও বেশি শহরের বায়ুদূষণ মাত্রা পর্যবেক্ষণ শুরু করে ডব্লিউএইচও। প্রতিনিয়ত সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা শহরের সংখ্যা চার হাজার তিনশ’। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো থেকে পর্যবেক্ষণে নেওয়া শহরের সংখ্যা বেড়েছে। সংস্থাটি মূলত হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার ও স্ট্রোকের মতো রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দূষণকারী উপাদানগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বায়ু পর্যবেক্ষণ করে। নতুন প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য বিশ্বের ১০৮টি দেশের চার হাজার ৩০০ শহরের বায়ুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ডা. টেডরস আদানন গ্রেবিয়েসিস বলেছেন, বায়ুদূষণ আমাদের সবার জন্যই হুমকি, তবে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরা সবচেয়ে বেশি হুমকি মোকাবিলা করে।
ডব্লিউএইচও’র নতুন রিপোর্টে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটারের বায়ুদূষণ নিয়ে এর অধিবাসীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানকার মানুষ বায়ুদূষণের ভয়ানক ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে ওই রিপোর্টে। জাতিসংঘের আরেক বিশেষায়িত সংস্থা ইউনিসেফ প্রণীত বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে উলানবাটার।
ডা. টেডরস বলেন, ভালো খবর হলো আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিনিয়ত বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ ও তা কমিয়ে আনার কাজে যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকার। এছাড়াও স্বাস্থ্য, পরিবহন, আবাসন ও এনার্জি সেক্টর থেকেও এই বিষয়ে বৈশ্বিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও’র জনস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান ডা. মারিয়া নেইরার মতে, বেইজিং, দিল্লি, জাকার্তার মতো বিশ্বের অনেক মেগাসিটির বাতাস তাদের সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ মাত্রার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি দূষিত।
ডা. মারিয়া নেইরা বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বায়ুদূষণই একমাত্র পরিবেশগত হুমকি নয়। তবে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এ মুহূর্তে জনস্বাস্থ্যের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান নিরাপত্তা পরিষদের

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। মঙ্গলবার (১ মে) রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনের পর পরিষদের প্রতিনিধি দলটি এ আহ্বান জানায়।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কার্যকরের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। এ অবস্থাতেই গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালিয়ে আলামত নষ্ট, বিপুল সামরিকায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকা, প্রত্যাবাসন নিয়ে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর হুমকির ধারাবাহিকতায় রাখাইনে বৌদ্ধদের মডেল গ্রাম গড়ে উঠছে বলে খবর পাওয়া যায়।
প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও তা হয়নি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি বলেও উদ্বেগ জানিয়ে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এর মধ্যেই মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে করে রাখাইন রাজ্যের দুটি গ্রাম, একটি ট্রানজিট সেন্টার এবং একটি রিসিপশন ক্যাম্প পরিদর্শন করেন নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু মানুষের সঙ্গেও দেখা করেন তারা। এরমধ্যে রয়েছেন রাখাইনের বৌদ্ধ, হিন্দু এবং পালিয়ে না যাওয়া কতিপয় মুসলিম। মিয়ানমার ছাড়ার আগে মঙ্গলবারই নেপিদোতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা। সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তারা জাতিসংঘের সদস্য দেশ হিসেবে মিয়ানমারকে কিছু বাধ্যবাধকতা পালনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। জাতিসংঘে নিয়োজিত কুয়েতের প্রতিনিধি মানসুর আল ওতাইবি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার সরকারকে নতুন কিছু করতে বলছি না। দেশটি জাতিসংঘের সদস্য এবং জাতিসংঘের অনেক কনভেশনেরও সদস্য। শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।’
জাতিসংঘে নিয়োজিত পেরুর দূত গুস্তাভো মেজা-চুয়াদ্রা বলেন, ‘মূলত আমরা যে বার্তাটি দিতে চাইছি তা হলো, প্রত্যাবাসনকৃত শরণার্থীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন বিশেষ করে জাতিসংঘের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করা। বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার আগে এখানে (মিয়ানমার) রোহিঙ্গাদের কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত করার গুরুত্ব উপস্থাপন করেছি আমরা।’
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ধাপে ধাপে মলিন হয়েছে তাদের পরিচয়। ক্রমশ তাদের রূপান্তরিত করা হয়েছে রাষ্ট্রহীন বেনাগরিকে।
বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মাণাধীন ট্রানজিট ক্যাম্প ও পুনর্বাসনের গ্রামগুলো আসলে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এসব ক্যাম্প দীর্ঘমেয়াদে বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার হবে বলে আতঙ্কবোধ করছে রোহিঙ্গারা। অতীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর এ ধরনের ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া ১,২০,০০০ রোহিঙ্গা এখনও সেখানে বন্দিদের মতো জীবনযাপন করছে। তবে রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার পরিকল্পনা করার কথা নাকচ করেছেন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। ১৮ মার্চ রাখাইনের উত্তরাঞ্চল পরিদর্শনে গিয়ে মংডুর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়ে হটুট সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, সাময়িকভাবে ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখার পর রোহিঙ্গাদের তাদের নিজেদের মূল গ্রামের কাছাকাছি পুনর্বাসিত করা হবে। হটুট বলেন, ‘আমি তাদের ক্যাম্পে চিরতরে থাকতে বলতে পারি না। তাদের সেখানে দীর্ঘদিন রাখার কোনও ইচ্ছে বা পরিকল্পনাও আমাদের নেই। সরকার তাদের নিজ গ্রাম কিংবা গ্রামের নিকটবর্তী জায়গায় ফেরত পাঠাবে।’

শ্রমিকদের ভার বহন আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি কতদূর by বাহাউদ্দিন ইমরান

আলুর বস্তা টানতে গিয়ে অতিরিক্ত ভার বহন করছেন কয়েকজন শ্রমিক (ছবি- ইন্টারনেট থেকে)
হিমাগারে আলুর বস্তা বহনে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৫০ কেজি এবং নারী শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৩০ কেজি ওজনের বেশি ভার বহন না করার নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ রায়টি বাস্তবায়নে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা প্রতিবেদন আকারে জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে নির্ধারিত সে সময় পার না হওয়ায় আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে অপেক্ষায় রয়েছে মামলার রিটকারী পক্ষ।
দেশের বিভিন্ন হিমাগারে নিয়ম না মেনে ১১০ থেকে ১২০ কেজি ওজনের মতো ভার বহন করাতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের মার্চে রাজশাহীতে তৌহিদুল ইসলাম নামে এক  শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এরপর হিমাগারে ৫০ কেজি ওজনের আলুর বস্তা বহনে শ্রমিকদের বাধ্য করার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় রাজশাহীর পবা উপজেলার লোড-আনলোড কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন।
শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের শরীর ও জীবনের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে শ্রম মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদফতর, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরসহ বিভিন্ন দফতরে তারা আবেদন জানায়। কিন্তু এসব জায়গায় ইতিবাচক কোনও জবাব না পাওয়ায় তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
হিমাগারে আলুর বস্তা বহন করতে গিয়ে রাজশাহীর শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে রিটটি দায়ের করেন রাজশাহীর পবা উপজেলার লোড-আনলোড কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন। ২০১৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সুহান খান। পরে একই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালত এ মামলায় রুল জারি করেন।
তবে হাইকোর্টে মামলাটি চলমান থাকাবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বেশ কিছু হিমাগার পরিদর্শন করে বলে জানান ব্যারিস্টার সুহান খান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘সরকারি সংস্থাগুলোর পরিদর্শন শেষে সেখানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে দণ্ড এবং জরিমানাও করা হয়। পরে বিষয়টি সরকার পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে অবহিতও করেছেন।’
এদিকে, মামলার রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে চলতি বছরের ৫ মার্চ হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হিমাগারে আলুর বস্তা বহনে নিয়োজিত প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৫০ কেজি এবং নারী শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৩০ কেজি ওজনের বেশি ভার বহন নয় মর্মে শ্রম আইন  করে বিধিটি প্রয়োগের নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে রিটকারীদের আইনজীবী সুহান খান বলেন, ‘রায়ের পর তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে হলফনামা আকারে আদালতে প্রতিবেদন দিতে শ্রম সচিব ও প্রধান কারখানা পরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৫ মার্চ এ মামলার রায় হয়। এর এক মাস সময় শেষ হলেও এখনও দুই মাস সময় রয়েছে। তাই আদালতের রায়টি বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা তার মূল চিত্রটি দু’মাসের মধ্যে জানা যাবে। আমরা সেই প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছি।’
অতিরিক্ত বার বহন করছেন একজন আলু শ্রমিক (ছবি-ইন্টারনেট থেকে)

রাশিয়াকে টপকে তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়ের দেশ সৌদি আরব

সৌদি সামরিক সরঞ্জাম
স্নায়ুযুদ্ধের পর গত বছর সর্বোচ্চ পরিমাণ বেড়েছে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয়। বুধবার সুইডেনভিত্তিক প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম পিস রিচার্স ইনস্টিটিউট (সিপরি) প্রকাশিত নতুন রিপোর্টে দেখা গেছে, গত বছর এই খাতে বিশ্বের দেশগুলো ব্যয় করেছে প্রায় এক লাখ ৭৩ হাজার নয়শ’ কোটি মার্কিন ডলার। সেনা সদস্যদের বেতন, অভিযানের খরচ, অস্ত্র ও সরঞ্জাম ক্রয়, এই সংক্রান্ত গবেষণা ও উন্নয়নে এসব অর্থ ব্যয় করেছে বিশ্বের দেশগুলো। সর্বোচ্চ ব্যয়কারী দেশের তালিকায় রাশিয়াকে পেছনে ফেলে তিন নম্বরে উঠে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরব। শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ফ্রান্সকে টপকে পঞ্চম স্থানে উঠে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত। শীর্ষ ১০-এ থাকা অপর দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, জাপান,  জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া।
মজুত শেষ হয়ে আসায় তেল নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে গত বছর রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে মধ্যপন্থি ইসলামী মতাদর্শের দিকে ধাবিত হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে মোকাবিলা করে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সামরিক ব্যয় বাড়াতে থাকে দেশটি। সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গত বছর দেশটি সামরিক খাতে ৬ হাজার ৯৪০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। আর রাশিয়া এই খাতে ৬ হাজার ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করে চার নম্বরে নেমে গেছে।
অবশ্য তালিকার প্রথম স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় এর চেয়ে অনেক বেশি। গত বছরের সমান ব্যয় ধরে রেখে  দেশটি এই খাতে খরচ করেছে ৬১ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৩৫ শতাংশ একাই করে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছর এই বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়ের দেশ চীন গত বছর এই খাতে খরচ করেছে ২২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।
পঞ্চম স্থানে উঠতে গত বছর ভারত সামরিক খাতে ব্যয় করেছে প্রায় ৬ হাজার চারশ’ কোটি মার্কিন ডলার। ষষ্ঠ স্থানে থাকা ফ্রান্সের খরচ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি মার্কিন ডলার। সপ্তম স্থানের যুক্তরাজ্যের ব্যয় ৪ হাজার ৭২০ কোটি মার্কিন ডলার। ৪ হাজার ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে জাপানের অবস্থান আট নম্বরে। ৪ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার খরচ করে জার্মানি নয় নম্বরে। তালিকার ১০ নম্বরে আছে এশিয়ার আরেক দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। গত বছর তাদের ব্যয় ৩ হাজার ৯২০ কোটি মার্কিন ডলার।
সিপরি প্রকাশিত নতুন রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৫২ শতাংশ করেছে ইউরোপের সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাশিয়ার হুমকি বাড়তে থাকায় মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোতে এ বছরে তাদের সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।
এক বিবৃতিতে সিপরি চেয়ারম্যান জ্যান এলিসন বলেছেন, সামরিক খাতে এই বিপুল ব্যয় বৃদ্ধি মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশ্বজুড়ে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজাকে ব্যাহত করবে এই ব্যয় বৃদ্ধি।

যে কারণে শবে বরাতের আগের দিন পত্রিকা ছুটি by এমরান হোসাইন শেখ

মে দিবসের ছুটির দিনেও বিশেষ ব্যবস্থায় কাজ চলে গণমাধ্যমে
সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে পবিত্র শবে বরাতের ছুটি থাকে নামাজের রাতের পরের দিন। তবে পত্রপত্রিকাসহ গণমাধ্যমগুলো ছুটি থাকে নামাজের রাতের পূর্ববর্তী দিন। মূলত গণমাধ্যম কর্মীদের রাতের ইবাদত এবং পরদিন ভোরে উঠে হকারকে পত্রিকা বিলির বিড়ম্বনা এড়াতে বেশ কয়েক বছর আগে সংবাদপত্র মালিকদের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে গণমাধ্যমে নতুন সংযোজন অলনাইন নিউজ পোর্টাল, রেডিও ও টেলিভিশনগুলোতে কোনও ছুটির সুযোগ না থাকায় গণমাধ্যমের ছুটি পুনর্বিবেচনার কথা উঠেছে।
বছরের কোন কোন দিন পত্রিকার প্রকাশনা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে, কোন দিন পত্রিকা অফিস বন্ধ থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায়  প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) তার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। দেশে বেসরকারি ইলেট্রনিক গণমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল চালু হওয়ার আগেই দৈনিক পত্রিকাগুলো তাদের বার্ষিক ছুটি ও প্রকাশনা বন্ধ এবং বিশেষ ব্যবস্থায় প্রকাশ অব্যাহত রাখার একটি স্থায়ী পঞ্জিকাই তৈরি করেছে। পরে টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন দেশে চালু হওয়ার পর নোয়াবের ওই বিধান তারাও অনুসরণ করতে শুরু করে। তবে ২৪ ঘণ্টা সার্ভিসে থাকা এই তিন ধরনের গণমাধ্যম পুরোপুরি বন্ধ রাখার সুযোগ না থাকায় তারা পত্রপত্রিকার বিশেষ ব্যবস্থার দিনে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠান চালু রাখে।
পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অন্যান্য সরকারি ছুটির সঙ্গে পত্রপত্রিকার নির্ধারিত ছুটিতে দিনের মিল থাকলেও শবে বরাত শবে কদরে অমিল রয়েছে। এক্ষেত্রে শবে বরাতের ছুটি সরকারি ছুটি নামাজের রাতের পরদিন হলেও পত্রপত্রিকার ছুটি আগের দিনই পালিত হয়। এক্ষেত্রে সংবাদপত্র মালিকদের যুক্তি হচ্ছে, পত্রিকার প্রায় সব কাজই হয় রাতের বেলায়। নিউজ লেখা, সংবাদ সম্পাদনা, পৃষ্ঠাসজ্জা ও মুদ্রণ সবই গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এছাড়া পরদিন ভোটে হকারকে তা বাড়ি বাড়ি বিলি করতে হয়। এতে আগের দিন ছুটি থাকলে সংবাদকর্মী থেকে হকার সবাই ইবাদতসহ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে পালন করতে পারেন। কিন্তু সরকারি ছুটির দিনের সঙ্গে মিল রেখে এই ছুটি নির্ধারিত হলে ইবাদত বন্দেগীর পরিবর্তে ওই সময় তাদের সংবাদ প্রকাশনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হতো।
এদিকে অপর পবিত্র রাত শবে কদরের পরের দিন সরকারি ছুটি থাকলেও পত্রপত্রিকাগুলো এই ছুটিটি ভোগ করে না। শবে কদরের দুই দিন পরেই ঈদের কারণে পত্রিকা টানা তিন থেকে চার দিন বন্ধ থাকার কারণে সংবাদপত্র মালিক সমিতি শবে কদরের ছুটিটি না পালনের পক্ষে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়ার) এর সভাপতি প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বছরের কোন কোন দিন পত্রিকা বন্ধ থাকবে কোন কোন দিন বিশেষ ব্যবস্থায় চালু থাকবে সেব্যাপারে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
শবে বরাতে সরকারি ছুটির আগের দিন পত্রিকা বন্ধের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের পত্রিকার কাজ হয় রাতে। আর শবে বরাতে যে ইবাদত আমরা করি সেটাও সরকারি ছুটির আগের রাতে হয়। এজন্য আমাদের সংবাদপত্রের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের ইবাদতে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেই চিন্তা থেকেই ছুটি আগেরদিন করা হয়েছে।’
শবে বরাতে প্রকাশনা পুরোপুরি বন্ধ থাকে বলেই ইবাদতের স্বার্থে আগের দিন বন্ধের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু অনলাইন ও টেলিভিশনগুলো তো বন্ধের সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য কী নোয়াবের সিদ্ধান্ত অনুসরণ জরুরি? এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিউর রহমান বলেন, ‘ এই সিদ্ধান্তটি যখন নেওয়া হয় তখন অনলাইন বা টেলিভিশন তো ছিল না। আর বিষয়টি নিয়ে তো আমরা আগে ভাবিনি। তবে এটি যৌক্তিক। পরবর্তীতে যখন বৈঠক হয় তখন এই প্রসঙ্গ তোলার চেষ্টা করবো।’

মে দিবসেও অবসর মেলেনি যাদের (ফটো ফিচার) by নাসিরুল ইসলাম

জরুরি সেবা না হলেও মে দিবসেও কাজ করতে হয়েছে এই নির্মাণ শ্রমিকদের
মহান মে দিবসে মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার রাজপথ ছিল মিছিলে স্লোগানে মুখর। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এদিন রাজধানীতে আয়োজন করে মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচির। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। ফলে সরকারি-বেসরকারি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ব্ন্ধ রয়েছে। ফলে শ্রমিক-কর্মজীবীরা মে দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, ঘুরে বেড়িয়ে ছুটি উপভোগ করেছেন। কিন্তু এদিনেও এমন সুযোগ মেলেনি অনেক শ্রমজীবী মানুষের। জরুরি সেবা ছাড়াও সাধারণ অনেক কাজেও রাজধানীতে মে দিবসে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। রাজধানী ঘুরে এমন কিছু ছবি তুলেছেন নাসিরুল ইসলাম।
কাজ করছেন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকাজ করছেন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী
দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এদিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে জড়ো হয়েছিলেন লাখো শ্রমিক। বিক্ষোভে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে অন্তত ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। এরপর তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতিবছর দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ‘মে দিবস’ হিসাবে পালিত হচ্ছে।
মে দিবসে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন এই চালকমে দিবসে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন এই চালক
রাজধানীতে মঙ্গলবার মে দিবসের মিছিল সমাবেশ যেমন দেখা গেছে, তেমনি ছুটি না মেলা শ্রমিকদের কাজের ব্যস্ততাও ছিল। বাস ও রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলতে দেখা গেছে নগরজুড়ে। তবে এগুলোর সংখ্যা ও ভিড় ছিল কর্মদিবসগুলোর তুলনায় অনেক কম।
ময়লাবোঝাই ভ্যান নিয়ে ছুটছেন এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীময়লাবোঝাই ভ্যান নিয়ে ছুটছেন এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী
বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে দেখা গেছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের। মে দিবসের ছুটি মেলেনি তাদের। অন্যদিনের মতোই ময়লাবোঝাই গাড়ি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ছুটে গেছেন তারা।
কাজে ব্যস্ত এক নির্মাণ শ্রমিককাজে ব্যস্ত এক নির্মাণ শ্রমিক
ছুটি মেলেনি নির্মাণ শ্রমিকদেরও। এদিন রাস্তায় ড্রেন নির্মাণের কাজ করতে দেখা গেছে কয়েকজন শ্রমিককে।
কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা বন্ধের দাবি শ্রমজীবী নারীদেরকর্মক্ষেত্রে সহিংসতা বন্ধের দাবি শ্রমজীবী নারীদের
মে দিবসে এবার শ্রমিকদের দাবি ছিল ন্যুনতম মজুরি বৃদ্ধি। শ্রমিকদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা ও প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করা। কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ ও তৈরি পোশাক কারখানায় মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস চালু করার জোর দাবি জানান শ্রমিকরা।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করার দাবিবেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করার দাবি
মাথায় লাল ফেটি বেঁধে, লাল পতাকা হাতে নিয়ে শ্রমিকরা রাজপথে মিছিল করেছেন। সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। 
ন্যায্য মজুরির দাবিতে রাজধানীতে মিছিলন্যায্য মজুরির দাবিতে রাজধানীতে মিছিল

ইরানের পরমাণু চুক্তি হয়েছিল ছলচাতুরির ওপর ভিত্তি করে -দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ

ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি হয়েছিল ছলচাতুরির ওপর ভিত্তি করে। সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন দাবি করেন। এ বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ।
নেতানিয়াহু দাবি করেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ক্ষুণ্ন করে পারমাণবিক কর্মসূচি চলমান রেখেছে ইরান। ইসরায়েলের হাতে তাদের গোপন পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত নথির অনুলিপি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তেহরানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করে আসছেন। অবশ্য বারবার হুমকি দিলেও চুক্তি থেকে বের হয়ে যাননি তিনি। চলতি মাসে নির্ধারিত তারিখে ট্রাম্প চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত না নিলে আবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে তেহরান। ঠিক এমন সময়, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের প্রমাণ হাতে থাকার দাবি তুললো। ইরান এই দাবিকে হাস্যকর আখ্যা দিয়ে নাকচ করে দিয়েছে।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের কাছে ইউরোনেয়িাম প্রকল্প সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত। তবে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ চায় ইউরোপীয় স্বাক্ষরকারীরা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে স্থায়ী অবরোধ আরোপ করুক। যদিও চুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো কোনভাবেই এতে রাজি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের একা এই চুক্তি বাতিলের এখতিয়ার নেই বলেও দাবি তাদের। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী প্রতি ৯০ দিন পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিশ্চিত করতে হয় যে, ইরান এ সমঝোতা মেনে চলছে। যদি তিনি বলেন, তেহরান সমঝোতা মানছে না তাহলে মার্কিন কংগ্রেস এ সমঝোতা বাতিল করতে বাধ্য। ২০১৫ সালে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন-জেসিপিওএ’র আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ‍যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১২ মে ট্রাম্প চুক্তিটি নতুন করে নবায়ন না করলে নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর হবে। ইউরোপিয়ান শক্তিগুলোকে ওই চুক্তির ‘ভয়ংকর ত্রুটিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে’ ওই তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার দাবি নিয়ে তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আজ রাতে আপনাদের বলতে চাই, ইরান মিথ্যা বলছে। ২০১৫ সালে চুক্তি হলেও এখনও  তারা পরমাণু পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।’
নেতানিয়াহু দাবি করছেন, ২০১৫ সালের পরও পরমাণু পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এ সংক্রান্ত নথিগুলো গোপনে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে তেহরান। তিনি দাবি করেছেন, শোরাবাদ জেলার একটি স্থানে পরমাণু সংশ্লিষ্ট ব্লুপ্রিন্ট, ছবি, ভিডিওসহ প্রায় এক লাখ ফাইল লুকিয়ে রাখা হয়েছে।  তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগশি নেতানিয়াহুর দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেছেন,বিগত বছরগুলোতেও এমন শিশুসুলভ কথা বলেছেন নেতানিয়াহু। আরগাশি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইরান  তাদের গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো পরিত্যক্ত স্থানে রাখবে ?
উল্লেখ্য, ওবামা প্রশাসনের সময় ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে তেহরানের সম্পাদিত পরমাণু চুক্তিতে শুরু থেকেই নেতিবাচক অবস্থান থেকে দেখছে তেল আবিব। এ নিয়ে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কগত দূরত্বও সৃষ্টি হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে চুক্তি নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা  ইসরায়েলি অবস্থানকেই সমর্থন করে।

বিশ্বব্যাপী সর্বকালের সব রেকর্ড তছনছ!

অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার
অভিনন্দনে ভাসছে অ্যাভেঞ্জার্স! বক্স অফিসের নতুন চ্যাম্পিয়ন মার্ভেল কমিকসের এই সুপার হিরোরা। আমেরিকা, কানাডাসহ তামাম দুনিয়ায় ঝড় তুলে সর্বকালের সব রেকর্ড তছনছ করে দিয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’।
মুক্তির প্রথম তিন দিনে ও বিশ্বব্যাপী সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয়ের দুটি রেকর্ড এখন এই ছবির দখলে।
অ্যাভেঞ্জার্স সদস্যরা আসবে আর বক্স অফিসে হুলস্থুল বাঁধবে না তা কী করে হয়! আগাম টিকিট বিক্রির রেকর্ডই এ ছবি নিয়ে সবার প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। মুক্তির পর তো আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে সর্বকালের সব রেকর্ড লণ্ডভণ্ড করে এগিয়ে চলছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’।
আমেরিকার ৪ হাজার ৪৭৪টি প্রেক্ষাগৃহে গত ২৭ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। এগুলো থেকে শুক্র, শনি ও রবিবার এসেছে ২৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২ হাজার ১১৭ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা! উত্তর আমেরিকায় ২০১৫ সালে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’ ছবির গড়া ২৪ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের রেকর্ড তাই নেমে গেছে দুই নম্বরে। দুটি ছবিরই পরিবেশনা সংস্থা ওয়াল্ট ডিজনি মোশন স্টুডিওস পিকচার্স।
বিশ্বব্যাপী সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয়ের রেকর্ডও ভেঙেছে সুপার হিরোরা।
বক্স অফিস মোজো ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, চীন ছাড়াই বিশ্বব্যাপী ৬৩ কোটি ডলার আয় করে ফেলেছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৫ হাজার ৩৩৬ কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এটাই যে কোনও ছবির বেলায় প্রথম তিন দিনে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়। গত বছর ‘দ্য ফেট অব দ্য ফিউরিয়াস’ ৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ঘরে তুলে আগের রেকর্ড  গড়েছিল।
ডিজনির মার্কিন পরিবেশনার প্রধান ডেভ হলিস বলেছেন, “চলচ্চিত্র বাণিজ্য ও মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের জন্য অসাধারণ একটা সপ্তাহ কাটছে। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’কে বলা হচ্ছে গত এক দশকে গড়া মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স ও এর চরিত্রগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি। সবশ্রেণির দর্শকেরই প্রিয় তারা। সব সুপার হিরো একসঙ্গে থাকায় অবশ্যই দেখতে হবে এমন একটি ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি।”
উত্তর আমেরিকায়  মুক্তির প্রথম তিন দিনেই ২০ কোটি ডলার আয়ের ঘরে নাম লেখাতে পেরেছে মাত্র ছয়টি ছবি। এর মধ্যে পাঁচটিরই পরিবেশক ডিজনি। মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের পাশাপাশি স্টার ওয়ারস ফ্র্যাঞ্চাইজিও তাদের। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ মুক্তির প্রথম তিন দিনে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করে। বাকি দুটি হলো ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’ ও ‘স্টার ওয়ারস: দ্য লাস্ট জেডাই’। এই তালিকায় ডিজনির বাইরের ছবি  কেবল ইউনিভার্সাল পিকচার্সের ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’। লক্ষণীয় বিষয় হলো, উত্তর আমেরিকায় সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ১০টির মধ্যে ৯টিরই পরিবেশক ডিজনি, এর মধ্যে ছয়টিই মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের অংশ।
‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ছবিতে পৃথিবীকে সুপার ভিলেন থানোসের আন্তঃগ্যালাক্টিক আধিপত্য থেকে বাঁচাতে দুই ডজনেরও বেশি সুপার হিরোকে একাট্টা হয়ে লড়তে দেখা গেছে। এই যাত্রায় অ্যাভেঞ্জার্স সদস্যরা হাত মেলায় গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি বাহিনীর সঙ্গে। ক্রিস্টোফার মার্কাস ও স্টিফেন ম্যাকফিলির চিত্রনাট্য নিয়ে এটি পরিচালনা করেছেন দুই ভাই জো রুশো ও অ্যান্থনি রুশো।
৩০ থেকে ৪০ কোটি ডলার বাজেটের ছবিটিতে অভিনয় করেছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র (আয়রন ম্যান), ক্রিস হেমসওর্থ (থর), ক্রিস ইভান্স (ক্যাপ্টেন আমেরিকা), স্কারলেট জোহানসন (ব্ল্যাক উইডো), চ্যাডউইক বোসম্যান (ব্ল্যাক প্যান্থার), ক্রিস প্রাট (স্টার লর্ড), বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ (ডক্টর স্ট্রেঞ্জ), মার্ক রাফেলো (হাল্ক), টম হল্যান্ড (স্পাইডার-ম্যান), টম হিডেলস্টন (লকি), সেবাস্তিয়ান স্তান (হোয়াইট উলফ), স্যামুয়েল এল জাকসন (নিক ফিউরি), জোয়ি স্যালডানা (গামোরা), এলিজাবেথ ওলসেন (স্কারলেট উইচ), পল বেটানি (ভিশন), ডেভ বাতিস্তা (ড্রেক্স দ্য ডেস্ট্রয়ার), অ্যান্থনি ম্যাকি (ফ্যালকন), ডন শিডল (ওয়ার মেশিন), গিনেথ প্যালট্রো, বেনিসিও দেল তোরো, কারেন গিলান, পম ক্লেমেন্তিয়েফ, বেনেডিক্ট ওঙ, পিটার ডিঙ্কলেজ, ইড্রিস অ্যালবা। এছাড়া কম্পিউটারে সাজানো থানোসের ভূমিকায় জশ ব্রোলিন, রকেট চরিত্রে ব্র্যাডলি কুপার ও গ্রুটের ভূমিকায় কণ্ঠ দিয়েছেন ভিন ডিজেল। 
মার্ভেলের ছবিগুলোর মধ্যে মুক্তির প্রথম তিন দিনে সর্বোচ্চ ২০ কোটি ৭৪ লাখ ডলার আয় করে ‘অ্যাভেঞ্জার্স’। উত্তর আমেরিকায় এটি সব মিলিয়ে ৬২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ব্যবসা করেছে। এর সিক্যুয়েল ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন’ মুক্তির প্রথম তিন দিনে ঘরে তোলে ১৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। ছবিটির মোট আয় হয়েছিল ৪৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের এ নিয়ে ১৯টি ছবি মুক্তি পেলো। এগুলোর সম্মিলিত আয় দেড় হাজার কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এসব ছবির ব্যাপক সাফল্যে ‘অ্যাভেঞ্জারস: ইনফিনিটি ওয়ার’-এর প্রতি দর্শকদের কৌতূহল বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। তার ওপর একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক সুপার হিরোর সম্মিলন আগে কখনও ঘটেনি। যেন সুপারহিরোদের মেলা বসেছে! তাই কম সময়ে সবচেয়ে বেশি দেখা ট্রেলারের রেকর্ড এখন এর দখলে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় এটি দেখা হয়েছে ২৩ কোটিবার! দেশের বাইরে অগ্রিম টিকিট বিক্রির পুরনো সব রেকর্ড মাত্র ছয় ঘণ্টায় ভেঙে দিয়েছে ছবিটি।
ঢাকার পান্থপথে বসুন্ধরা সিটিতেও ‘অ্যাভেঞ্জারস’ সিরিজের নতুন ছবি দেখার ধুম পড়েছে! অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করার জন্য গত ২৬ এপ্রিল ভোর সাড়ে ৬টা সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছিলেন অনেক দর্শক। বসুন্ধরা সিটিতে স্টার সিনেপ্লেক্স লেভেল এইটে। সেই আটতলার টিকিট কাউন্টার থেকে দর্শকদের লাইন এসে গিয়েছিল রাস্তা পর্যন্ত। শুক্র ও  শনিবারের টিকিট বিক্রি হয়েছে বৃহস্পতিবারেই।
স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও মার্কেটিং) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, 'দর্শকদের এমন উপচেপড়া ভিড়ের চিত্র ঈদ কিংবা অন্য উৎসব ব্যতিত বিরল। দর্শকের এই সাড়ায় আমরা পুরোপুরি অভিভূত।’

মৃত্যুর আগেও মায়ের হাতে ভাত খায় শিশু হিমি-হানি

প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে অফিস থেকে বাসায় ফিরতেন জেসমিন আক্তার। তবে ৩০ এপ্রিল সোমবার দুপুর আড়াইটার মধ্যে বাসায় ফিরেন তিনি। ঘরে এসে ফুটফুটে দুই মেয়েকে খাটে বসিয়ে নিজ হাতে ভাত খাওয়ান। এরপর তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘরের ভেতরে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়েন। সন্ধ্যায় দরজা ভেঙে স্ত্রী জেসমিন ও আদরের দুই মেয়ে হিমি ও হানিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন হাসিবুল হাসান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফ্ল্যাটে প্রবেশের বাম দিকের প্রথম রুমের মেঝেতে জেসমিন আক্তারের এবং খাটের ওপর দুই মেয়ের রক্তাক্ত লাশ পড়েছিল। জেসমিনের গলা ও দুই হাতের কব্জি কাটা। পেটে ৮-১০টি আঘাত আছে। বড় মেয়ে হিমি’র বুকে তিনটি ছুরির আঘাত, হাতের কব্জি কাটা ও গলা জবাই করা। আর ছোট মেয়ে হানি’র পেটে একটাই ছুরির আঘাত। তার নাড়িভুঁড়ি বের হওয়া।
ঘটনাস্থল দারুস সালাম থানার অধীন মিরপুর বাংলা কলেজ সংলগ্ন পাইকপাড়া সি টাইপ সরকারি কোয়ার্টারের ১৩৪ নম্বর ভবনের চারতলার বাম পাশের একটি ফ্ল্যাট। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ফ্ল্যাট থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হচ্ছেন জেসমিন আক্তার (৩৫), তার মেয়ে হাসিবা তাহসিন হিমি (৯) এবং আদিলা তাহসিন হানি (৫)। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। আর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ তিনটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের পবিবার ও পুলিশের ধারণা, চাকরি ও সংসার নিয়ে মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন মা জেসমিন আক্তার।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় তাদের স্বজনদের দুই/তিনজন ওই ফ্ল্যাটেই উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে নিহতের স্বামীর ভাগিনা রওশন জামিল এবং তার স্ত্রী রোমানা পারভীন ও নিহত জেসমিনের এক খালাতো বোন রেহানা উপস্থিত ছিলেন। তারা পাশের ঘরে শুয়ে ছিলেন। কিন্তু কেউই কোনও রকমের চিৎকারের শব্দ শোনেননি বলে জানিয়েছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মা তার দুই সন্তানকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই ঘটনায় অন্য কোনও বিষয় জড়িত আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত জেসমিনের ছোট ভাই শাহিনুর ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তার প্রচণ্ড মাইগ্রেনের সমস্যা ছিল। আপার মনে অনেক কষ্ট ছিল। সে তার চাকরি ও সন্তান লালন-পালনের বিষয়ে খুব চিন্তিত থাকতো। চাকরি করলে বাচ্চাদের দেখবে কে! আর বাচ্চাদের দেখতে হলে চাকরি ছাড়তে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মাইগ্রেনের সমস্যা সইতে না পেরে গত মাসে আপা ৩/৪ টি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মাইগ্রেনের জন্য আপার চিকিৎসাও চলছিল। এর আগে তাকে ভারতেও চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।’
শাহিনুর ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুলাভাই বলতো- তুমি চাকরিটা ছেড়ে দাও। কিন্তু আমি আপাকে বলতাম যে, আপা ছাড়তে চান, আর আমি চাকরি খুঁজে পাই না। তখন আমি বলি আপনি চাকরি ছাড়বেন না। প্রয়োজনে আমি বাচ্চাদের দেখাশোনা করবো।’
নিহত জেসমিন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তার স্বামী হাসিবুল হাসান জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহকারী লেজিসলেটিভ ড্রাফটসম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ২০০৮ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। হাসিবুলের গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের ভজনপুর গ্রামে। জেসমিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও। তাদের দুই কন্যাসন্তান হিমি ও হানি। হিমি পাইকপাড়া এলাকার মডেল একাডেমি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।
হাসিবুল ইসলাম ২০০৬ সালে চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৭ সালে সরকারিভাবে এই কোয়ার্টারের ১৩৪ নম্বর ভবনের চারতলার একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পান। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীসহ ওই বাসাতেই বসবাস করতেন।
ভবনের পাশে থাকা মুদি দোকানি আব্দুল আহাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে হিমি আমার দোকানে এসেছিল। পরে আমার মেয়ের সঙ্গে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যায়। হাসিবুল ও জেসমিন খুবই ভালো মানুষ। তারা কোনও ঝগড়া বিবাদে জড়াতো না। প্রায় সময় আমার দোকান থেকে দুই মেয়ের জন্য বিস্কুট নিয়ে যেতো। দুইজনই বাকি খেতেন। মাসের বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকা পরিশোধ করে দিতেন।’

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের by শেখ শাহরিয়ার জামান

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের। এজন্য তারা নিয়মিত বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, সুশীলসমাজের প্রতিনিধিসহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। দেশটি সরকারের কাছে রাজনীতি সম্পর্কে যেমন জানতে চায়, তেমনই আবার বিরোধীদের মনোভাবও তারা বুঝতে চায়। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক  রাজনৈতিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সোমবার (৩০ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট তার বাসায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লিসা কার্টিস বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলামসহ দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রহ এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জমির, যিনি মার্শা বার্নিকাটের বাসায় ওইদিন উপস্থিত ছিলেন, বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সবসময়ে বলেছি— যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসে, তবে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’
তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে সুশাসনের জন্য দুটি জিনিস দরকার।  সেগুলো হচ্ছে— স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা।  এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবসময় সহায়তা করেছে।’
সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যে সহায়তা করে, তার প্রশ্ন করার অধিকার আছে। প্রশ্ন করলে জবাবদিহিতা থাকে। আমরা প্রশ্নের উত্তর দিতে ভয় পাই না।’  মোহাম্মাদ জমির বলেন, ‘আমরা চাই, বহির্বিশ্বে যারা আছেন, তারা বুঝুক বাংলাদেশের জনগণ সবাই একত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে।’
সাধারণভাবে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা কী বিষয়ে আলোচনা করেন, জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এখন বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিষয়টিকে। আবার এদের মধ্যে অগ্রাধিকার পায় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা।’
বাংলাদেশ সরকারের কাছে নির্বাচনের প্রস্তুতি সর্ম্পকে যুক্তরাষ্ট্র জানতে চায়। আবার বিরোধীদের মনোভাবও তারা বুঝতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘তারা নিশ্চিত হতে চায় আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ ও শান্তির্পূণ হবে কিনা। আবার বিরোধীদের কাছে জানতে চায়, তারা অংশগ্রহণ করবে কিনা এবং তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে কিনা।’
এছাড়া, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগ্রহ বাড়ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, এমনকি চীনসহ বিভিন্ন দেশ অবাধ, সুষ্ঠু, বিরোধহীন সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে জনসমক্ষে মন্তব্য করার পাশাপাশি তারা দেশের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাইভেট বৈঠকও করছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার (৩০ এপ্রিল) রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদাক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের বাসায় বৈঠকে  অংশ নেয়। 
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, নৈশভোজ শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মার্শা বার্নিকাটের পাঁচ মিনিট একান্ত বৈঠক হয়। বৈঠকে  ওবায়দুল কাদের ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অ্যাম্বাসেডর মো. জমির, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়াস সেকেন্ড সেক্রেটারি কাজী রহমান দস্তগীর ও জ্যাকব জে লেভিনসহ দূতাবাসের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানি বাসচালকের ছেলে এখন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানের এক বাসচালকের ছেলে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। অভিবাসন নীতি নিয়ে বির্তকের জের ধরে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আম্বার রুডের পদত্যাগের পর সাজিদ জাভিদ নামে ৪৮ বছর বয়সী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হলো।
সাজিদ জাভিদ হচ্ছেন ব্রিটেনে বসবাসরত দক্ষিণ এশিয়ার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী থেকে প্রথম নির্বাচিত কোনো ব্যক্তি যিনি পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে ২০১৪ সালে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবা পাকিস্তান থেকে ব্রিটেনে গিয়েছিলেন এবং ব্রিস্টলে বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাজিদের নিয়োগের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার আগে সাজিদ জাভিদ ব্যাংকার হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি জানান, সাবেক বিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গরেট থ্যাচার ছিলেন তার রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা।  ২০১৬ সালে ডেভিড ক্যামেরনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী পদে স্টিফেন ক্র্যাবকে সমর্থন দিয়েছিলেন সাজিদ কিন্তু ক্র্যাব প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যথেষ্ট ভোট পান নি।

যুবকদের বুকে এসসি/এসটি লিখে সংবিধানে আঘাত করা হয়েছে: রাহুল গান্ধী

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘বিজেপি সরকার জাতপাতের মনোভাব দিয়ে দেশের বুকে ছুরি চালিয়েছে। বিজেপিশাসিত মধ্য প্রদেশে পুলিশের চাকরিতে যোগ দিতে ইচ্ছুক পদপ্রার্থীদের শারীরিক পরীক্ষার সময় বুকে তপসিলি জাতি/তপসিলি উপজাতি (SC/ST) লেখার নিন্দা করে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।
গতকাল (সোমবার) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেয়া বার্তায় রাহুল বলেন, ‘মধ্য প্রদেশের যুবকদের বুকে এসসি/এসটি লিখে দিয়ে দেশের সংবিধানে আঘাত করা হয়েছে। এটা বিজেপি/আরএসএসের ভাবনা-চিন্তা। বিজেপি-আরএসএসের ওই মানসিকতার জন্যই দলিতের গলায় কখনও কলসি ঝোলানো হয়, কখনও ঝাড়ু বাঁধা হয় কিংবা মন্দিরে ঢুকতে দেয়া হয় না আমরা এ ধরণের চিন্তাভাবনাকে পরাজিত করব।’
কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ওই ঘটনাকে সমাজকে বিভক্ত করার বিজেপি’র মানসিকতার প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা বিজেপি সরকারের মানসিকতার দৃষ্টান্ত। তাদের কেবল একটাই চিন্তাধারা ও মতাদর্শ- দেশকে ধর্মের নাম করে বিভক্ত করা, বর্ণের নামে বিভক্ত করা। এখন তো এমন দাঁড়িয়েছে যে আপনার বর্ণ বুকের ছাতিতে চিহ্নিত করা হচ্ছে! এটা কলঙ্কের দিন, এজন্য মধ্য প্রদেশের শিবরাজ সরকার এবং কেন্দ্রীয় মোদি সরকার দায়ী।’
পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষার সময় নিম্নবর্ণের তফসিলি জাতি/তপসিলি উপজাতি ভুক্তদের চিহ্নিত করার জন্য কিছু যুবকের বুকে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হয়।
মধ্য প্রদেশের ধার জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য সেখানকার নির্বাচিত যুবকদের ডাকা হয়েছিল। কিন্তু জেলা হাসপাতালে প্রায় ২০৬ জন প্রার্থীকে মেডিক্যাল পরীক্ষার সময় তাদের মধ্যে যারা নিম্নবর্ণের তফসিলি জাতি/তপসিলি উপজাতি ভুক্ত তাদের চিহ্নিত করার জন্য কিছু যুবকের বুকে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হয়। ওই ঘটনার ছবি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপি সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছে কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধীদল সমূহ।
বিএসপি নেত্রী মায়াবতী বলেছেন, বিজেপি সরকারের 'দলিত প্রেমের' নতুন তাজা ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে দলিতদের ব্যবহার করছে মোদি সরকার।
এনসিপি’র এমপি সুপ্রিয়া সুলে ওই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তদন্তের নির্দেশ দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।
এ সম্পর্কে বিজেপি নেতাদের সাফাই প্রকাশ্যে না এলেও কনস্টেবল পদে সংরক্ষিত শ্রেণির পদপ্রার্থীরা উচ্চতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসূচকে বিশেষ ছাড় পান। সে জন্য তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে একাংশের দাবি। মধ্য প্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার ড. বি আর আম্বেদকর মিশনের রাজ্য সম্পাদক সমীর কুমার দাস আজ (মঙ্গলবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ওই ঘটনা চরম নিন্দনীয়। যারা এটা করেছে তাদেরকে সমাজের ঘৃণ্য ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। এভাবেই আমাদের সমাজব্যবস্থা চলছে। ১৫ শতাংশ মানুষ (উচ্চ বর্ণের) সবকিছুতে শাসন ক্ষমতায় গিয়ে তারা  যা ইচ্ছে তা-ই মনে করছে। এসসি/এসটি/ওবিসি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের তারা মানুষই মনে করছে না। সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে বর্ণবাদী মানুষজন আছেন। তারা এসসি/এসটি/ওবিসি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রশ্নে মোটামুটি সকলেই এক।’
সমীর বাবু বলেন, ‘আজ কনস্টেবল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এরকম করা হচ্ছে। পরবর্তীতে দেখা যাবে বিভিন্ন ধরণের নিয়োগের ক্ষেত্রে এরকম করা হবে। কারণ, মনুবাদী সমাজ ব্যবস্থায় একথাই বলে, তারা আমাদেকে পশুর মতো দেখে।’
এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে বিশেষভাবে পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে ড. বি আর আম্বেদকর মিশনের রাজ্য সম্পাদক সমীর কুমার দাস মন্তব্য করেন।

হয় আমেরিকার 'শান্তি প্রস্তাব' মানো অথবা চুপ হয়ে যাও: সৌদি যুবরাজ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান বলেছেন, ফিলিস্তিনিদেরকে হয় আমেরিকার পক্ষ থেকে উত্থাপিত কথিত শান্তি প্রস্তাব মেনে নিতে অথবা চুপ হয়ে যেতে হবে। সম্প্রতি আমেরিকা সফরে গিয়ে ইহুদি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ হুমকি দেন বলে ইসরাইলের চ্যানেল টেন জানিয়েছে।
সৌদি যুবরাজ ওই বৈঠকে বলেন, “ফিলিস্তিনি নেতারা গত ৪০ বছরে বারবার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন এবং যত প্রস্তাবই দেয়া হয়েছে তার সবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন।” তিনি আরো বলেন, “এখন ফিলিস্তিনিদেরকে সেসব প্রস্তাব মেনে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে অথবা তাদেরকে চুপ করে থাকতে হবে এবং কোনো অভিযোগ করতে পারবে না।”
মোহাম্মাদ বিন সালমান আরো বলেন, এই মুহূর্তে রিয়াদের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যু নেই। তিনি বলেন, “আমাদের হাতে আরো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে- যেমন ধরুন ইরান।”
ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক এতদিন গোপন থাকলেও তরুণ যুবরাজ বিন সালমান তা কলঙ্কজনক মাত্রায় প্রকাশ করে দিচ্ছেন। তিনি এবার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যে হুমকি দিয়েছেন সেরকম হুমকি এতদিন আমেরিকা বা ইসরাইল পর্যন্ত দিতে সাহস করেনি।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ প্রথমবারের মতো তেল আবিবের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। বিন সালমান বলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে রিয়াদের মতবিরোধ ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথে একমাত্র বাধা হয়ে রয়েছে।

বিশ্বের কোনো বাহিনীই ইরানে হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে না: আইআরজিসি

ইরানের সামরিক বাহিনী একটি শক্তিশালী নেতৃত্বের অধীনে নিজেদের দেশকে শত্রুর হামলা থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রামাজান শরিফ।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শারিফ আজ (মঙ্গলবার) ইরানের শহীদ শ্রমিকদের স্মরণে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দেশটির কাযভিন প্রদেশের আলভান্দ শহরে এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় বলেন, ইরান বিশ্বের একমাত্র দেশ যে স্বাধীনভাবে নিজের সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। তিনি বলেন, বিশ্বে এমন কোনো শক্তিধর বাহিনী নেই যে তারা ইরানের ওপর হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে।
আইআরজিসির মুখপাত্র অন্য এক বক্তৃতায় বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মূল ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বের নির্যাতনকারী এবং বলদর্পী শক্তি গুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা। এই কারণে আধিপত্যকামী দেশগুলো ইরানের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছে।
মুখপাত্র বলেন,  ইরানের জনগনের জন্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের কল্যাণে কাজ করা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। তিনি বলেন, আইআরজিসি ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ফসল এবং এ বাহিনীকে জনগণের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য আমরা সর্বদায় সচেষ্ট রয়েছি।

নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য কমছেই না by শাহেদ শফিক

মজুরির ক্ষেত্রে এখনও নারীর শ্রমকে সমমর্যাদা দেওয়া হয় না, ছবি- পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে তোলা
আসমা বেগম কাজ করেন ঢাকা ওয়াসার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক হিসেবে। সংস্থাটির ড্রেন সংস্কার ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজে ইট-পাথর আর মাটি কাটার কাজের শ্রমিক তিনি। সহকর্মী পুরুষদের সমান কাজ করেন তিনি। থাকেন রাজধানীর নন্দীপাড়ার একটি বস্তিতে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এবং লোকজনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি উপেক্ষা করে উন্নয়নকাজের অংশীজন হিসেবে ভূমিকা রাখছেন আসমা বেগম। কিন্তু তিনি মজুরি পান পুরুষের অর্ধেক। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আসমাকে পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় বেশি শ্রম দিতে হয়। কেবল তিনিই নন, হরহামেশাই নারীরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
আসমা বেগম জানান, তার সঙ্গে অন্য যেসব নারী শ্রমিক কাজ করেন, তাদের অবস্থাও একই। প্রতিদিন সকালে পুরষ সদস্যদের অন্তত একঘণ্টা আগে কাজে যোগ দেন তারা। দিন শেষে আধাঘণ্টা থেকে একঘণ্টা পরে কর্মস্থল ত্যাগ করতে হয়। এর পরেও তাদের সবাইকে মজুরি বৈষম্যের শিকার হতে হয়। এমনকি অনেক ঠিকাদার নারী বলে তাদের কাজেও নিতে চান না। কাজের ধরন ও সময় অনুসারে মুজরি নির্ধারণ করা হলেও নারীরা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক, কিংবা তার চেয়েও কম মজুরি পান। একজন পুরুষ শ্রমিক দৈনিক দুই বেলায় ৫০০ টাকা মজুরি পেলেও  একজন নারী শ্রমিক পান ৩০০ টাকা।
এই নারী জানান, সন্তানের ক্ষুধা মেটাতে বৈষম্য উপেক্ষা করে কাজ করতে হয় তাকে। অসুস্থ হলে কিংবা কাজে একটু ত্রুটি ধরা পড়লে, বেতন কাটা থেকে শুরু করে কাজ হারাতে  হয়। অনেক সময় কটূক্তির শিকার হলেও মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। কাজে যোগ দিতে একঘণ্টা দেরি হলে দেড়ঘণ্টা শ্রম দিতে হয়। অনেক সময় বাচ্চাদের কোলে নিয়েও তাদেরকে কাজ করতে হয়। এজন্য ‘কাজের ক্ষতি হচ্ছে’ অভিযোগে তাদের থেকে অতিরিক্ত আরও এক থেকে দেড়ঘণ্টা কাজ আদায় করে নেওয়া হয়।
সমান দক্ষতায় কাজ করলেও পুরুষের তুলনায় নারীরা মজুরি কম পান, ছবি-পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে তোলাসমান দক্ষতায় কাজ করলেও পুরুষের তুলনায় নারীরা মজুরি কম পান, ছবি-পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে তোলা
নারী নেত্রীদের অভিযোগ, দেশের শ্রমবাজারে এখনও নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর হয়নি। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন খাতে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। কিন্তু পুরুষ শ্রমিকের সমান কাজ করে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বেশি শ্রম দিয়েও একজন নারী শ্রমিক পুরুষ শ্রমিকের সমান মজুরি পান না। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে কম বা তাদের চেয়ে অর্ধেক মজুরি পাচ্ছেন।
কেবল ব্যক্তি মালিকানাধীন বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানেও এমন ঘটনা দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সবাই মাস্টার রোলে কর্মরত। বিভিন্ন সময় কাজের প্রয়োজনে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে এসব শ্রমিককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদেরও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে দুটি ক্যাটাগরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। দক্ষ শ্রমিক ও অদক্ষ শ্রমিকের ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের বেশির ভাগকেই অদক্ষ শ্রমিক বলে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নারী পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা নারীরা কাজে কোনও ফাঁকি দেই না। যথা সময়েই কাজে হাজির হই। কিন্তু পুরুষ সদস্যদের অনেকেই ঘুম থেকে ওঠেন দেরিতে। কেউ কেউ কাজেও আসেন না। কিন্তু এর পরেও তাদের দক্ষ বলে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আর দক্ষ ও অদক্ষ ক্যাটাগরির মাধ্যমে মাসে দুই থেকে চার হাজার টাকা বেতন বৈষম্য করা হয়।
পুরনো ঢাকার একটি জুতা তৈরির কারখানায় কাজ করেন লায়লা বেগম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় পুরুষ সদস্যের চেয়েও আমি কাজ বেশি করি। আমার অভিজ্ঞতাও আছে। এটা আমাদের মালিকও জানেন। আমি যে পদে কাজ করি, সেই একই পদে একজন পুরুষ সহকর্মী রয়েছেন। তিনি আমার চেয়ে বেশি বেতন পান। তার কাজে অনেক ত্রুটি ধরা পড়ে। আমি নারী বলেই আমার বেতন কম। এসব মেনেই কাজ করতে হয়। কারণ, আমার পরিবারে উপার্জন করার মতো আর কেউ নেই। সংসার আমাকেই চালাতে হয়। কাজ ছেড়ে দিয়ে কোথায় যাবো? যেখানে যাবো, সেখানেও একই অবস্থা।
ইট ভাঙছেন এক নারী শ্রমিকইট ভাঙছেন এক নারী শ্রমিক
কর্মজীবী নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য মেনে নিয়েই পুরুষের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে নারী শ্রমিকদের। ঘরের কাজ সেরে বাইরের কাজে শরিক হচ্ছেন তারা। এভাবে পুরুষের পাশাপাশি সংসারে আর্থিক সহায়তা দিতে অবদান রাখছেন তারা। এজন্য তাদের তেমন কোনও অভিযোগ নেই। তবে এই নারীদের ভাষ্য, কারণে-অকারণে কর্মচ্যুতির শিকার হন তারা। অনেক সময় নির্যাতনের শিকার হতেও হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষিকাজ, ইটভাটা, গৃহস্থলী, নির্মাণ কাজ ও বিভিন্ন কলকারখানার কাজসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক কোনও কাজেই নারীরা পুরুষের সমান মজুরি পান না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এ বৈষম্য আরও বেশি। এজন্য দেশের নারী শ্রমিক সংগঠনগুলো আন্দোলনও করে যাচ্ছে।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মালিকদের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে— সস্তা শ্রমে কাজটা আদায় করা। নারীদের কাছ থেকে সস্তা মূল্যে শ্রম আদায় করা যায়, সেজন্যই তারা এমন বৈষম্য করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকায় নারীদের কম মজুরি দিয়ে বঞ্চিত করছেন মালিকরা। বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে তদারকির প্রয়োজন। তা না হলে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের  বৈষম্য কমবে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশের পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের ৮০ শতাংশই নারী। বাকি ২০ শতাংশ পুরুষ। তার মানে হচ্ছে নারী শ্রমিকরাই দক্ষ। দক্ষ না হলেতো এই শিল্পটা আজ  বিশ্বের দরবারে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারতো না। নারীরা দক্ষতা ও শৃঙ্খলভাবে কাজ করেন। সে হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। কিন্তু এর পরেও পুরুষের চেয়ে তাদের মজুরি কম দেওয়া হয়। তাদেরকে ঠকানো যায়। এটা আমাদের দেশে নারীদের প্রতি চরম বৈষম্য। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার কারণেই এটাই হচ্ছে। তবে এখন প্রতিবাদ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তনও হয়েছে।’