Sunday, May 4, 2025

গাজায় ক্ষুধায় কাঁদছে মানুষ, মৃত্যু ৫৭

ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ অবরোধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ক্ষুধায় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধও। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে খাদ্য, পানি ও ওষুধবাহী শত শত ট্রাক আটকে আছে, অথচ ভেতরে মানুষ খাবারের জন্য কাঁদছে।

শনিবার (৩ মে) গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র।

অবরোধ ও হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় নির্বিচারে মানবিক সহায়তা প্রবেশের দাবি জানিয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ৫২ হাজার ৪৯৫ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৬ জন। তবে গাজার মিডিয়া অফিস বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো নিখোঁজ ব্যক্তিকে ধরলে মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং ২০০ জনের বেশিকে জিম্মি করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই ইসরায়েল গাজার ওপর ভয়াবহ সামরিক অভিযান ও অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। 

গাজাবাসীর জন্য খাদ্য, পানি ও ওষুধবাহী শত শত ট্রাক আটকে আছে, অথচ ভেতরে মানুষ খাবারের জন্য কাঁদছে। ছবি: আলজাজিরা
গাজাবাসীর জন্য খাদ্য, পানি ও ওষুধবাহী শত শত ট্রাক আটকে আছে, অথচ ভেতরে মানুষ খাবারের জন্য কাঁদছে। ছবি: আলজাজিরা

কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার গোয়েন্দা তথ্য আগেই ছিল: কর্মকর্তাদের দাবি

ভারত–নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটকদের নিশানা করে ১৯ এপ্রিলের কাছাকাছি সময়ে হামলা হতে পারে বলে স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। ভারতের গোয়েন্দা ব্যুরো (আইবি) এবং অন্যান্য সংস্থা স্থানীয় কর্মকর্তাদের এই সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

আইবি ও অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (ইউটি) ও শ্রীনগরে ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্ধারিত সফরসূচি ছিল। এ উপলক্ষে  শ্রীনগর শহর ও এর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হোটেল এবং শ্রীনগর শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দাচিগাম ন্যাশনাল পার্কের মতো পর্যটনস্থলগুলোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল।

কিন্তু আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সফরের চার দিন আগে মোদির সফর বাতিল করা হয়। এই অবস্থায় ২২ এপ্রিল ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগাম শহরের বাইসারান উপত্যকায় বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাঁদের প্রায় সবাই পর্যটক। শ্রীনগর থেকে পেহেলগামের দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার।

এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘১০ বারের মধ্যে এমন সতর্কবার্তা নয়বারই সঠিক হয় না। কিন্তু এবার পর্যটকদের নিয়ে দেওয়া সতর্কতা সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। তবে স্থান ঠিক হয়নি। এখন সেটা বুঝতে পারাটাই কঠিন বিষয়।’ এই কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, এটা ঠিক যে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জম্মু ও কাশ্মীরের সেনাবাহিনী ও বেসামরিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের শ্রীনগরের কাছাকাছি পর্যটন এলাকায় হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। তাঁদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল।

মোদির নির্ধারিত সফরের চার দিন আগে আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ১৮-১৯ এপ্রিলের আশপাশে জম্মু ও কাশ্মীরের আবহাওয়া খারাপ থাকতে পারে। পূর্বাভাস আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও) সফরটি বাতিল করে। এই সফরে মোদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রায় তিনটি সেক্টরের ওপর দিয়ে হেলিকপ্টারে করে যেতে হতো। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর যাত্রা ব্যাহত হতে পারত। তবে মোদির সফর বাতিল করা হলেও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁদের সতর্কতা ও প্রস্তুতি কিন্তু কমাননি।

হিন্দুস্তান টাইমস জানতে পেরেছে, পুলিশের মহাপরিদর্শক নলিন প্রভাত শ্রীনগরে চার দিন অবস্থান করেছিলেন এবং শহরটির চারপাশের সব এলাকার খোঁজখবর নিয়েছিলেন। ২২ এপ্রিল পেহেলগামে বন্দুকধারীরা হামলা চালানোর দিন সকালে তিনি জম্মুতে পৌঁছান। কিন্তু হামলার পরপরই তিনি আবার সেখানে ফিরে যান।

হিন্দুস্তান টাইমস যেসব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা সবাই নিশ্চিত করেছেন, তাঁদের কোনো গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে পেহেলগামের কথা বলা হয়নি।

কিন্তু এখন জানা গেছে, বন্দুকধারীরা আগে থেকেই পেহেলগামে অবস্থান করছিলেন এবং এখনো তাঁরা সেখানে রয়েছেন। তাই স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতার বিষয়টি বড় করে সামনে আসছে।

মাঠপর্যায়ের সেনা কর্মকর্তারা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেছেন, তাঁরা এসব তথ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা উত্তেজনা আরও বাড়াল

* সেনাদের অভিযানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
* পাকিস্তান থেকে ডাক ও পার্সেল সেবা বন্ধের ঘোষণা ভারতের।


ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সেনা অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল শনিবার ‘আবদালি’ নামের স্বল্পপাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে অভিযানের ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দেওয়ার সিদ্ধান্তের চার দিন পর এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান। যা পেহেলগাম হামলাকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকালের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ভারতের প্রতি পাকিস্তানের বার্তা হিসেবে দেখছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। পেহেলগাম হামলার পাঁচ দিন পর গত ২৭ এপ্রিল ভারতও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল।

এদিকে পাকিস্তান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। পাশাপাশি ডাক ও পার্সেল সেবা বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছে দেশটি।

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে ২২ এপ্রিল বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাঁদের বেশির ভাগই পর্যটক। এ হামলার পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে নয়াদিল্লি। তবে এ অভিযোগ নাকচ করে আসছে পাকিস্তান। ওই হামলার পর থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী গতকাল জানায়, স্বল্পপাল্লার আবদালি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য এ ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ৪৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী বলেছে, সেনাদের আভিযানিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি দিকগুলো যাচাই ছিল আবদালি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার উদ্দেশ্য।

সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান ‘এক্স সিন্ধু’ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এ সময় আর্মি স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের (এএফএসসি) কমান্ডার, স্ট্র্যাটেজিক প্লানস ডিভিশন ও এএফএসসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এবং দেশটির সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘সতর্ক বার্তা’ হিসেবে দেখছেন পাকিস্তানের বিশ্লেষকেরা। সামরিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি রিজভী বলেন, ‘এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে ভারতকে মোকাবিলার সক্ষমতা আমাদের আছে। এটি শুধু ভারতের জন্যই নয়; বরং বাকি বিশ্বের জন্যও বার্তা যে আমরা ভালোভাবেই প্রস্তুত আছি।’

পেহেলগামে হামলার এক সপ্তাহের মাথায় ২৯ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা জানান মোদি। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার সময়, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং কোন প্রক্রিয়ায় জবাব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।

মোদির ওই বক্তব্যের পর পাকিস্তানে যেকোনো সময় ভারতের হামলার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে গোলাগুলি, নাগরিকদের ভিসা বাতিল, চুক্তি স্থগিত, কূটনীতিক বহিষ্কারসহ পাল্টাপাল্টি নানা পদক্ষেপ চলছেই।

আমদানি নিষিদ্ধের ঘোষণা ভারতের

পেহেলগামের হামলার পর থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রেখেছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে এবার পাকিস্তান থেকে সব ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আমদানি নিষিদ্ধ করেছে নয়াদিল্লি। তাৎক্ষণিক এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ কথা জানিয়েছে।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার গণবিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, পাকিস্তান থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আসা সব ধরনের পণ্যের আমদানি ও পরিবহন এখন থেকে নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এ ছাড়া পাকিস্তান থেকে আকাশ ও স্থলপথে সব ধরনের ডাক ও পার্সেল নিষিদ্ধ করেছে ভারত। গতকাল এক গণবিজ্ঞপ্তিতে দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।

এসব পদক্ষেপের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি গতকাল বলেছেন, মানবতার জন্য ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’ সন্ত্রাসবাদ। সন্ত্রাসী ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ও চূড়ান্ত’ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই জানায়, দিল্লি সফররত অ্যাঙ্গোলার প্রেসিডেন্ট জোয়াও লরেনচোর সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি এ কথা বলেন।

এদিকে পেহেলগামে হামলার পর গতকাল প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রায় আধা ঘণ্টা তাঁদের মধ্যে কথা হয়। জম্মু-কাশ্মীর পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুজন আলোচনা করেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

‘সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পাকিস্তান’

ভারতের উসকানিমূলক পদক্ষেপ সত্ত্বেও ইসলামাবাদ দায়িত্বশীল ও সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের সঙ্গে গতকাল সাক্ষাৎ করেন ইসলামাবাদে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ইরফান নাজিরোগলু। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান সব ধরনের সন্ত্রাসের নিন্দা জানায়। পেহেলগামের ঘটনায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা নিয়ে ভারত কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি এবং ভিত্তিহীনভাবে এর সঙ্গে পাকিস্তানকে জড়ানোর চেষ্টা করছে। পেহেলগামের ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত নিয়ে পাকিস্তানের প্রস্তাবের বিষয়ে ভারত এখনো কোনো জবাব দেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পেহেলগাম হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার ‘মূল বিষয়’ হিসেবে কাশ্মীর সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। গতকাল ফক্স নিউজ ডিজিটালে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রিজওয়ান সাঈদ এ কথা বলেন।

‘আমরা যুদ্ধ চাই না’

বিবিসি উর্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখার দুই পাশের কাশ্মীরি মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেলে তাঁরাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ জন্য আগেভাগেই দুই পাশের আতঙ্কে থাকা মানুষ বাংকার সংস্কার করছেন।

পেহেলগাম হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক নানা বিধিনিষেধ ঘোষণার পরও কাশ্মীরের মানুষ ভেবেছিলেন, পরিস্থিতি হয়তো এর চেয়ে খারাপ হবে না। কিন্তু কয়েক দিন ধরে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর গোলাগুলির কারণে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন সীমান্তের দুই পাশে বসবাসরত মানুষ।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে কাশ্মীরের দুই অংশেই পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আসা পর্যটকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেন ইসলামাবাদ থেকে পরিবার নিয়ে কাশ্মীরে আসা সালিম উদ্দিন সিদ্দিক।

পরিস্থিতি ‘খুবই ভয়াবহ’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বেসরকারি পর্যটন সমিতির সভাপতি রাজা ইফতিখার খান। তিনি বলেন, পর্যটক আসার এ বিধিনিষেধ পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বিধ্বংসী হবে। রাজা ইফতিখার বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। কোনো বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ কখনো এটা চাইতে পারে না।

জম্মু ও কাশ্মীরে পাহারায় ভারতের নিরাপত্তাকর্মীরা
জম্মু ও কাশ্মীরে পাহারায় ভারতের নিরাপত্তাকর্মীরা ফাইল। ছবি: এএফপি

‘পোপের’ বেশে নিজের ছবি প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপের বেশে নিজের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই রসিকতা করে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ‘পোপ হতে চান।’

ট্রাম্প নিজে ক্যাথলিক খ্রিষ্টান নন। চার্চেও নিয়মিত যান না তিনি। তবে গত মাসে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর ভ্যাটিকান সিটিতে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। ২১ এপ্রিল ভ্যাটিকানে নিজ বাসভবনে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যু হয় পোপ ফ্রান্সিসের। ২৬ এপ্রিল তাঁকে সমাহিত করা হয়।

পোপের বেশে নিজের ছবিটি শুক্রবার ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন। পরে হোয়াইট হাউসের এক্স অ্যাকাউন্টেও সেটি শেয়ার করা হয়। তাতে দেখা যায়, পোপের পোশাকে গম্ভীর মুখে চেয়ারে বসে আছেন ট্রাম্প। উঁচিয়ে আছেন ডান হাতের তর্জনী।

ট্রাম্পের এই ছবি নিয়ে চটেছেন অনেকে। ‘রিপাবলিকান এগেইনস্ট ট্রাম্প’ নামের একটি গ্রুপ ছবিটি শেয়ার করে লিখেছে, এটি ‘ক্যাথলিকদের প্রতি এক নির্লজ্জ অপমান এবং তাঁদের বিশ্বাস নিয়ে উপহাস করা হয়েছে।’ তবে এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি ভ্যাটিকানের মুখপাত্র মাত্তেও ব্রুনি।

শনিবার সকালে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকায় নিজের গলফ ক্লাবে গাড়িবহর নিয়ে পৌঁছান ট্রাম্প। এলাকাটিতে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন বেশ কয়েকজন সমর্থক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ৩০ বছর বয়সী ডেবি ম্যাকচিয়া। ইহুদি এই ব্যক্তি বলেন, ‘স্পষ্টতই তিনি মশকরা করেছেন। আমি চাই না তাঁরা পোপ বা অন্য কিছু নিয়ে ধর্মীয়ভাবে অবমাননাকর কিছু করুক।’

pic.twitter.com/x2HrR939tn
— The White House (@WhiteHouse) May 3, 2025

পোপের বেশে ট্রাম্প
পোপের বেশে ট্রাম্প। ছবি: হোয়াইট হাউসের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া।

মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করে বিপদে জর্ডান by ডেভিড হার্স্ট

জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিপজ্জনক পথে হাঁটছেন। সম্প্রতি তিনি দেশটিতে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করেছেন। আর তা করেছেন শুধু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য।

দুনিয়ার ইতিহাসে যেখানে বড় শক্তিকে খুশি করতে ছোট দেশের উপঢৌকন দেওয়ার নজির আছে। সেই চল এখনো চলছে। যেমন রাশিয়ার পুতিন যখন রাশিয়ার ধনকুবেরদের দমন করা শুরু করেন, তখন তাঁদের অনেকে পুতিনকে দুর্লভ সব জিনিস উপহার দেওয়া শুরু করেন।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ট্রাম্পের খাতিরে খোদ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে নিয়েই রাজকীয় আয়োজন করেছিলেন। গলফপ্রেমী ট্রাম্পের জন্য তিনি খুঁজে বের করেছিলেন গলফ খেলার ভালো মাঠ।

জর্ডানের বাদশাহের পক্ষে হয়তো ট্রাম্পকে একটি দামি গালিচা বা বাজপাখিও উপহার দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি করলেন আরও চমকপ্রদ। জর্ডানের বাদশাহ তাঁর নিজ দেশে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।

ট্রাম্পকে খুশি করার কারণ

জর্ডান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যনির্ভর দেশ। ট্রাম্প একবার সেই দেশে সাহায্য বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন এরিক ট্র্যাগারকে। এই ট্র্যাগার মুসলিম ব্রাদারহুডের কড়া বিরোধী।

প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ট্রাম্প নিজেই আমেরিকায় ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার কথা ভেবেছিলেন। এবার তিনি আবার সেই পথে এগোতে পারেন। ফলে বাদশাহ আবদুল্লাহর সিদ্ধান্ত নিলেন ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইসলামবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে মিলে গেছে।

এর প্রতিদানও মিলেছে। ট্রাম্প আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া জর্ডানের সবচেয়ে বড় পানিশোধন প্রকল্পে আবার অর্থসাহায্য চালু হয়েছে।

দেশের ভেতরে ঝুঁকি বাড়ছে

দেশের ভেতরে বাদশাহ আবদুল্লাহ বড় জুয়া খেলেছেন। মুসলিম ব্রাদারহুড ১৯৪৫ সাল থেকেই জর্ডানে বৈধভাবে কাজ করছে। বর্তমান বাদশাহ আবদুল্লাহর বাবা বাদশাহ হুসেইন তাঁর ৪৭ বছরের শাসনে কখনোই তাঁদের নিষিদ্ধ করেননি।

হুসেইনের সময় ব্রাদারহুড অনেক সময়েই সরকারের পাশে ছিল। ১৯৫৭ সালে যখন নাসেরপন্থী এক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলো, কিংবা ১৯৭০ সালের গৃহযুদ্ধে যখন জর্ডান পিএলওর সঙ্গে লড়ছিল, তখনো ব্রাদারহুড সংঘাতে অংশ না নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। ইরাক ১৯৯০ সালে কুয়েত দখল করার পর হুসেইন বড় সংকটে পড়েছিলেন। তখন তিনি দেশের ভেতরে ঐক্য টিকিয়ে রাখতে মুসলিম ব্রাদারহুডের পাঁচজন নেতাকে মন্ত্রী বানিয়ে সরকারে আনেন।

মতবিরোধও যে ছিল না, এমন নয়। ব্রাদারহুড ১৯৫৫ সালের বাগদাদ চুক্তি এবং ১৯৯৪ সালের ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করেছিল। তবু হুসেইন তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেননি। কারণ, তিনি জানতেন যে সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ ও সংস্কারমুখী। আর তাদের মাধ্যমে দেশের ভেতরে জনগণের ক্ষোভ যে দমিয়ে রাখার কৌশলও তিনি ভালো করেই বুঝতেন।

হুসেইনের সময় হামাসও ছিল এক আলোচনার বিষয়। বাদশাহ হামাস নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী ছিলেন। এমনকি ১৯৯৭ সালে হামাস নেতা খালেদ মেশালকে ইসরায়েল বিষপ্রয়োগ করলে তিনি কঠোর ভাষায় এর প্রতিবাদ করেছিলেন। এমনকি তখন তিনি ইসরায়েলের কাছ থেকে বিষের প্রতিষেধক জোগাড় করে এনেছিলেন।

অবক্ষয়ের পথে

বাদশাহ আবদুল্লাহ ১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় এসেই হামাসকে জর্ডান থেকে বের করে দেন। এরপর ধীরে ধীরে মুসলিম ব্রাদারহুডের দাতব্য কাজ নিষিদ্ধ করেন। তাদের রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্টের কার্যক্রমে বাধা দেন।

বাদশাহ আবদুল্লাহ ভেবেছিলেন, এতে ব্রাদারহুড দুর্বল হবে; কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময়ও ব্রাদারহুড জর্ডানে শাসন বদলের দাবি তোলেনি। তারা বরাবরই সংযত থেকেছে।

২০১৫ সালে সরকার ব্রাদারহুডের ভিন্নমতের একটি অংশকে ‘নতুন ব্রাদারহুড’ হিসেবে বৈধতা দেয়। পাশাপাশি মূল সংগঠনটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপরও কিন্তু ব্রাদারহুডের জনপ্রিয়তা কমেনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ব্রাদারহুডঘনিষ্ঠ ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্ট ১৩৮ আসনের মধ্যে ৩১টি জয় করে।

পরিকল্পিত নিষিদ্ধকরণ

সম্প্রতি জর্ডানের মিডিয়ায় আবার শুরু হয়েছে ব্রাদারহুডবিরোধী প্রচার। বলা হচ্ছে, তারা জনগণকে ইসরায়েলি দূতাবাস ঘেরাও করতে উসকানি দিচ্ছে। কিন্তু জর্ডানে কোনো মিডিয়া প্রচারণা এমনিই হয় না। এর পেছনে থাকে গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা।

রাজপরিবার ও সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের (জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট) মধ্যে সব সময়ই দুই ধারা কাজ করে। এক ধারা ইসরায়েলকে জর্ডানের সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করে। এই ধারার একজন মুখপাত্র হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি। তিনি বলছেন, ইসরায়েল গত ৩০ বছরের শান্তি প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করেছে।

আয়মান সাফাদি কিন্তু একা নন, জর্ডানে এই মত জনপ্রিয়। সেনাবাহিনীতে এর প্রভাব আছে। ২০২৪ সালে জর্ডান সীমান্তে তিন ইসরায়েলিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সেনা মাহের আল-জাজির জানাজায় অনেক সেনাসদস্য ইউনিফর্ম পরে যোগ দিয়েছিলেন। মাহের তাদের কাছে বীর হিসেবেই স্বীকৃত।

অন্য ধারাটি মনে করে, জর্ডানের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ইরান এবং রাজনৈতিক ইসলাম। এই ধারার মূল চালক হলো সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ। এই বিভাগ সৃষ্টি হয়েছে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-এর হাতে। জর্ডানের এই গোয়েন্দা সংস্থা এখন সিআইএর ঘনিষ্ঠ অংশীদার। সিআইএর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এই গোয়েন্দা বিভাগ এতটাই শক্তিশালী যে অনেক সময় একে জর্ডানের ‘সমান্তরাল সরকার’ বলা হয়। তারা এখন ব্রাদারহুডবিরোধী অভিযানের মূল পরিকল্পক। যদিও বাইরে থেকে মনে হবে, সরকার জনমতের চাপে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

সংকটে বাদশাহ আবদুল্লাহ

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাদশাহ আবদুল্লাহ নিজের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করছেন। এখনো তিনি ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্টের ৩১ সংসদ সদস্যকে নিষিদ্ধ করেননি। তবে ভবিষ্যতে তা হতে পারে।

সবচেয়ে দুঃসময়ে এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। কয়েক দিন আগে ইসরায়েলি ধর্মান্ধরা আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ঢুকে প্রার্থনা করেছে। ২০০৩ সালের পর থেকে এ রকম ঘটনা ১৮ হাজার শতাংশ বেড়েছে।

জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর দায়িত্ব আন্তর্জাতিকভাবে জর্ডানের ওপরই বর্তায়। কিন্তু বাদশাহ আবদুল্লাহ এসব ঘটনার কোনো প্রতিবাদ করেননি। আল-আকসায় যখন ইসলামপন্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তিনি তখন পাল্টা সেই ইসলামপন্থীদেরই নিষিদ্ধ করছেন।

এটা যেন একপ্রকার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। দেশীয় রাজনীতি থেকে তিনি নিরাপত্তার যে ‘সেফটি ভাল্‌ভ’ পেয়েছিলেন, তা নিজেই সরিয়ে দিচ্ছেন।

বাদশাহ আবদুল্লাহ তাঁর বাবা  হুসেইনের মতো সংকটে জাতিকে এক করতে পারছেন না। আর এদিকে ইসরায়েল ধীরে ধীরে পশ্চিম তীর দখলের দিকে এগোচ্ছে। জর্ডানে এসব নিয়ে ক্রমেই জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

আগে ব্রাদারহুড ও হামাসের মধ্যে সমঝোতার কারণে হামাস জর্ডানে সদস্য সংগ্রহ করত না। এখন সে বাধা উঠে গেছে। ফলে জর্ডান থেকে হামাস বা অন্য কোনো সংগঠনের ইসরায়েলে হামলা চালানোর পথ খুলে যাচ্ছে।

ইসরায়েলের দৃষ্টিতে, বাদশাহ আবদুল্লাহ এখন আর শক্তিশালী আত্মবিশ্বাসী কোনো নেতা নন। তারা আবদুল্লাহকে দেখে একজন দুর্বল মানুষ হিসেবে যাকে ভয় দেখিয়ে যা খুশি করানো যায়।

এই পরিস্থিতিতে আবদুল্লাহর উচিত ইতিহাস থেকে শেখা। মাহমুদ আব্বাসের মতো ব্যর্থ হতাশ নেতা হিসেবে তিনি নিশ্চয়ই ইতিহাসে নাম লেখাতে চাইবেন না। আব্বাস ওয়াশিংটনের মন রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন। ফল যা হওয়ার তা–ই হয়েছে। বাইডেন ও ট্রাম্প, কেউই তাঁকে আর গুরুত্ব দেয় না।

বাদশাহ আবদুল্লাহ যদি সময় থাকতে নিজের ভুল না বোঝেন, তাহলে ইতিহাস তাঁকে নিয়েই নির্মম সিদ্ধান্ত নেবে। সেই কঠিন রায় হয়তো গোটা হাশেমি রাজতন্ত্রেরও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেবে।

* ডেভিড হার্স্ট মিডল ইস্ট আই-এর সম্পাদক

- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া ইংরেজির সংক্ষেপিত অনুবাদ

জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : এএফপি

আপনিও বানাতে পারেন নতুন দল, সুবিধাও অনেক! by সালেহ উদ্দিন আহমদ

নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশে তুমুল গতিতে রাজনৈতিক দল গঠন শুরু হলো। কেউ দল বানাচ্ছেন ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে, কেউ চাচ্ছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে। দল গঠনের আগে কেউ ভেবে দেখছেন না তাঁদের আগেও অন্য দল ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার কথা ঘোষণা করেছে এবং সেই দলে যোগ দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা আরও ত্বরান্বিত করা যায় কি না! গণতন্ত্রের জন্য যাঁরা নতুন দল করছেন, তাঁদের ব্যাপারেও একই কথা বলা যেতে পারে।

বাংলাদেশে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা তেমন কঠিন কিছু নয়। প্রাথমিকভাবে কিছু লোক লাগবে। কতজন লাগবে তার গৎবাঁধা নিয়ম নেই, যে কজন জোগাড় করা গেছে, তাতেই চলবে। তবে একজন আহ্বায়ক বা কনভেনর তো লাগবেই। যিনি কনভেনর তিনি যদি কিছুটা পরিচিত লোক হন, তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

যেমন ইলিয়াস কাঞ্চন নতুন দল করলেন, সবাই চেনেন; সিনেমার নায়ক ছিলেন, দীর্ঘদিন কাজ করেছেন রাস্তাঘাট পথচারীদের জন্য সুরক্ষিত করতে। এখন দেশকে সুরক্ষিত করতে চান। কনভেনর পরিচিত না হলেও ক্ষতি নেই, পরিচিত করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। একটা ব্রশিওরে সুন্দর একটা ছবি এবং তার জনহিতকর কাজকর্ম সব বর্ণনা করে সাংবাদিকদের অনুরোধ করতে হবে একটু ভালো করে ছাপাতে।

দলের নাম

দলের নামটা ঠিক করা একটু ট্রিকি, বেশ হুঁশিয়ারভাবে করতে হবে। কতগুলো নাম আছে যেমন জনতা, জাতীয়, গণ, ইনসাফ—এ রকম নাম মানুষ খুব পছন্দ করে। মুশকিল হলো, এ নামগুলো আগেই অন্য পার্টিরা নিয়ে নিয়েছে। যেমন জনতা নামটা ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘জনতা পার্টি’, ডেসটিনির রফিকুল আমীনের ‘আ-আম জনতা পার্টি’। আরও আছে ‘মাইনরিটি জনতা পার্টি’ অনেকেই ব্যবহার করছে। তবে ‘আসল জনতা পার্টি’, ‘খাঁটি জনতা পার্টি’' এসব নাম এখনো পাওয়া যাচ্ছে। ‘জাতীয় সংস্কার পার্টি’ও ভালো নাম, সংস্কারের জনপ্রিয়তা এখন বেশ তুঙ্গে। বেশি জটিল নাম বা কাব্যিক নাম মানুষ পছন্দ করে না।

বিগত সরকারের আমলে অনেক চেষ্টা হয়েছিল ‘তৃণমূল’ নামটাকে দাঁড় করাতে, সম্ভব হয়নি। পশ্চিম বাংলার বাঙালিদের রাজনীতিবোধ ও আমাদের রাজনীতিবোধে পার্থক্য আছে।

দল গঠন

লোকজনের কথা বলছিলাম, কিছু লোক তো লাগবেই প্রাথমিক পদপদবিগুলো পূরণ করতে। যেসব পদ খালি থাকবে, বলা হবে কনভেনর তাঁকে দেওয়া ক্ষমতাবলে সেসব শিগগির পূরণ করে নেবেন। এরপর যে জিনিসটা দরকার, নতুন দলের একটা সম্মেলন আয়োজন অথবা সংবাদ সম্মেলন করে নতুন দলের ঘোষণা দেওয়া। কোথায় এ কাজটা হবে, সেটা আগেভাগে ঠিক করা খুব জরুরি।

পাঁচ তারকা হোটেলে ঘোষণা দিলে যত সাংবাদিক আসবেন, দুই তারকা হোটেলে তার দুই ভাগও পাওয়া যাবে না। সুতরাং পাঁচ তারকাতে করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর দল ঘোষণার শুভকাজে কিছু ভালো খাওয়াদাওয়ার আয়োজন পুরোনো রীতি। নতুন দল ঘোষণা তো একটা বড় মাইলস্টোন; আজকাল ছোট দলগুলোর ইফতার পার্টিও সব পাঁচ তারকা হোটেলে হয়ে থাকে। তা না হলে সাংবাদিক ও হিতৈষীরা আসবেন কেন? দুই তারকা হোটেলের চেয়ে বাড়িতে বসেই ইফতার খাওয়াই ভালো।

সবকিছু ঠিকমতো হলে দল গঠন হয়ে গেল। পরের দিন নেতাদের ছবিসহ নতুন দল গঠনের সংবাদ প্রকাশ পাবে সব সংবাদপত্রে। ও হ্যাঁ, দলের একটা অফিস ঠিকানাও লাগবে। আহ্বায়কের বাণিজ্যিক অফিস বা কারও বাসাবাড়ির ঠিকানা দিয়ে আপাতত দলের অফিস চালানো যেতে পারে।

নিবন্ধন লাগবে

পার্টি তো হয়ে গেল। এরপর কী? মূল উদ্দেশ্য, সামনে ইলেকশন, ইলেকশনে দাঁড়াতে হবে পার্টির নেতাদের, সম্ভব হলে ৩০০ আসনে। রাজনৈতিক দল গঠন করলেই নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। আরও ঝামেলা আছে, নতুন দলকে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো কিছুটা কঠিন, আবার তেমন কঠিনও নয়, তা নির্ভর করে নেতারা কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন। তবে এবার একটা সুবিধা আছে। এনসিপি নামে একটা নতুন দল হয়েছে।

এনসিপিকে মনে করা হয় সরকারের খুব স্নেহভাজন দল। আশা করা যায়, এনসিপির জন্য এবার নিবন্ধনপদ্ধতি কিছুটা শিথিল থাকবে। সেই সুযোগে হয়তো অন্য নতুন দলগুলোও এনসিপির পিছু পিছু নির্বাচন কমিশনে ঢুকে যেতে পারবে। একবার নিবন্ধন পেয়ে গেলে নতুন দলকে আর পায় কে! সামনে অনেক সম্ভাবনা। নিবন্ধন না পেলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দল আছে, নাম আছে, অনেক বড় জোটের নতুন দলকে লাগবে জোট আরও বড় করতে।

নিবন্ধন আছে, নিবন্ধন নেই, সব নতুন দলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলো নিয়েই আমরা এখন কথা বলব।

জোটেই সিদ্ধি

নির্বাচন যতই কাছে আসবে, দলগুলো জোট বাঁধবে। নির্বাচনের আগে দেশে দুটি জোট থাকবে। দুটি জোটের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে, কোন জোট কত বড়। সেটা নতুন দলগুলোর জন্য সুযোগ এনে দেবে, যেকোনো একটা জোটে ঢুকে পড়ার। একবার জোটে ঢুকলে জোটের থেকে অন্তত একটা সিটে মনোনয়ন চাওয়া খুবই যুক্তিসংগত। আর মনোনয়ন না পেলেও জোট যদি জিতে যায়, অনেক অনেক সুযোগ সামনে। সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়ার কথাই ধরুন। জোটের মনোনয়ন চেয়েও পেলেন না। জোট নেত্রী নির্বাচনে জিতে তাঁকে শিল্পমন্ত্রী বানিয়ে ফেললেন, মন্ত্রী নিজেই অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন।

পার্লামেন্টে একটা আসন চাই

সব দলকে যে জোটে ঢুকতে হবে, তা নয়। ধরুন, নতুন দল গঠিত হয়েছে একজন বিত্তবানকে সংসদে নিতে। তাঁর রয়েছে নিজস্ব টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র এবং আরও কত কি! জোটের পিছে ঘুরে কাজ নেই। তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় টাকাপয়সা খরচ করে নির্বাচিত হতে পারেন। নির্বাচনের আগে গরিবদের জন্য চাল, ডাল, শাড়ি, লুঙ্গি; একটু বেশি বৃষ্টি হলে বন্যার ত্রাণ; মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল–কলেজে সাহায্য—এগুলো সব পূর্বপরীক্ষিত, অনেকেই ফল পেয়েছেন নির্বাচিত হয়ে। একটা নতুন দলের জন্য একজন পার্লামেন্ট সদস্যও কম কিছু নয়।

আওয়ামী লীগের বেকারদের নমিনেশন


আওয়ামী লীগের এত এত ঝানু নেতা, গত ১৫ বছরে দল যখন ক্ষমতায় ছিল, তাঁরা অনেক টাকাকড়ি করেছেন। তাঁরা এখন নিজের বাড়িতে ঝিমুচ্ছেন। নির্বাচন কাছে এলে ঝিমুনি কাটিয়ে চাঙা হবেন। কোনো রাজনৈতিক নেতাই নির্বাচনের সময় চুপচাপ থাকতে পারেন না। আওয়ামী লীগের নেতাদেরও মনোনয়ন দরকার হবে।

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন যদিও এখনো আছে, তবে আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচন করা ঝুঁকিপূর্ণ। বুদ্ধিমানের কাজ হবে, অন্য পার্টির নমিনেশন নেওয়া। পুরোনো দলগুলোতে নিজেদের লোকেরাই কামড়াকামড়ি করছেন নমিনেশনের জন্য। এখানেই নতুন দলগুলোর জন্য সুযোগ ও সম্ভাবনা। আওয়ামী লীগের নেতারা অঢেল টাকা খরচ করবেন মনোনয়ন পেতে। এতে লজ্জার কিছু নেই, নিজের দলের নমিনেশনের জন্যও দেদার টাকা দিতে হয় শীর্ষ নেতাদেরকে, তাঁরা বলেন ‘নির্বাচনী খরচ’। অন্য দল থেকে নমিনেশন নিতে একটু বেশি টাকা তো লাগবেই।

দল ভাঙলে আরও লাভ

দল কিছুদিন পুরানো হলেই ভাঙবে, এটাই স্বাভাবিক। নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল, টাকাপয়সা নিয়ে মতানৈক্য, নমিনেশন নিয়ে টানাহেচড়া এইসব অনেক কারণ থাকতে পারে দল ভাঙার পেছনে। তবে দল ভাঙলেই যে দলের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে তা ভাবার কারণ নেই। দল যখন ভাঙে দুই তিন সপ্তাহ দলের কোন্দলের খবর পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশ পাবে, জনগণ এইসব খবর মনযোগ দিয়ে পড়ে। অনেক সময় দেখা গেছে ভাঙার পর দলের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে গেছে। দলের যেসব লোক চলে গেছেন, তাদের পদগুলো পাওয়ার জন্য নতুন লোকেরা ভিড় করবেন এবং অনেকে বড় অঙ্কের চাঁদা দেবেন। তাতেও দলের লাভ। এটা অনেকটা চতুর কোম্পানিগুলোর স্টক স্প্লিটের মতো, একটা স্টক ভেঙে দুইটা করা হয়, তাতে স্টকের দাম আরও বেড়ে যায়।

সব দরজাই খোলা

রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য সাধারণত সব দরজাই খোলা থাকে। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রীয় ডিনার, সরকার সব দলের বড় নেতাদের দাওয়াত পাঠাবে। পরদিন পত্রিকায় নামধাম ছাপা হবে, পরিচিতির গণ্ডিও বাড়বে। সেক্রেটারিয়েটে কাজ? রাজনৈতিক পরিচয়ে আসা খুবই সহজ। আমলারা চান না রাজনৈতিক নেতাদের খেপাতে, কে কখন মন্ত্রী বনে যাবেন, রিস্ক নিয়ে কাজ নেই! আর হ্যাঁ, রাজউকের প্লট, পুরোনো দলগুলোর নেতারা অলরেডি বেশ কটা পেয়ে গেছেন, এখন সময় নতুন দলের নেতাদের। সামাজিক অনুষ্ঠান, বিয়ের নিমন্ত্রণ, ক্রিকেট খেলা দেখার প্রিমিয়াম আসন—সব জায়গায় রাজনৈতিক নেতাদের কদর আছে।

সব বিবেচনা করে দেখলে বোঝা যাবে, নতুন দল করা এমন কঠিন কিছু নয়। আর এর সুযোগ ও সম্ভাবনাও প্রচুর। চেষ্টা করলে আপনিও একটা নতুন দল গড়তে পারেন। তবে কোনো কাজই ঝুঁকিবিহীন নয়। ঝুঁকিগুলো আপনাকে খোঁজখবর নিয়ে বের করতে হবে। আমি শুধু একটাই বলতে পারি, রাজনীতিতে এক পক্ষের নেতাদের অপর পক্ষ ইটপাটকেল মারবে, সুযোগ পেলে লাঠিপেটা করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এসবের জন্য কাউকে রাজনীতি ছাড়তে দেখিনি।

* সালেহ উদ্দিন আহমদ শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

salehpublic711@gmail.com

আপনিও বানাতে পারেন নতুন দল, সুবিধাও অনেক!

১৮ বছর ধরে সাপের কামড় খেয়ে শরীরে তৈরি হয়েছে ‘তুলনাহীন’ অ্যান্টিভেনম

যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তি প্রায় দুই দশক ধরে ইনজেকশন দিয়ে নিজের শরীরে একটু একটু করে সাপের বিষ ঢুকিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ওই ব্যক্তির রক্তে ‘তুলনাহীন’ এক অ্যান্টিভেনম তৈরি হয়েছে।

ওই ব্যক্তির নাম টিম ফ্রিড। বিজ্ঞানীরা প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করে দেখেছেন, টিমের রক্তে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি প্রাণঘাতী মাত্রায় প্রয়োগ করা বিভিন্ন প্রজাতির বিষ প্রতিরোধ করতে পারে।

বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতিতে যে নির্দিষ্ট প্রজাতির বিষাক্ত সাপ কামড়েছে অ্যান্টিভেনমের সঙ্গে তার সঙ্গে মিল থাকতে হয়।

কিন্তু ১৮ বছর ধরে ফ্রিড যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা সব ধরনের সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে একটি সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে।

বিশ্বে প্রতিবছর সাপের কামড়ে ১৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এর তিন গুণ মানুষ সাপের কামড় খেয়ে অঙ্গচ্ছেদ করতে বাধ্য হন বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন।

ফ্রিড এই সময়ে মোট ২০০ বারের বেশি কামড় খেয়েছেন এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে ৭০০ বারের বেশি শরীরে বিষ ঢুকিয়েছেন। তিনি শরীরে যেসব বিষ প্রয়োগ করেছেন তার মধ্যে কেউটে, মাম্বাসহ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী কয়েকটি সাপের বিষ ছিল।

সাপ ধরার সময় নিজের সুরক্ষার জন্য শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে ফ্রিড প্রাথমিকভাবে এ কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি নিজের এসব কার্যকলাপ ভিডিও করে তা ইউটিউবে পোস্ট করতেন।

তবে এ কাজ করতে গিয়ে শুরুতেই তাঁর প্রাণ যেতে বসেছিল বলে জানান সাবেক এই ট্রাক মেকানিক। ফ্রিড বলেন, পরপর দুটি কেউটের কামড় খাওয়ার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন।

বিবিসিকে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মরে যেতে চাইনি। আমি আমার একটি আঙুল খোয়াতে চাইনি। আমি আমার কাজ হারাতে চাইনি।’

ফ্রিডের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের জন্য (সাপের কামড়ের) আরও ভালো চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়ন করা। কোথা থেকে এ কাজের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তার ব্যাখ্যা তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমার রোজকার অভ্যাস হয়ে ওঠে এবং আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করতে থাকি, চেষ্টা করতে থাকি—ওই সব মানুষের জন্য যারা আমার থেকে আট হাজার মাইল দূরে থাকে, যারা সাপের কামড়ে মারা যায়।’

বর্তমানে ঘোড়ার মতো প্রাণীর দেহে সাপের বিষ একটু একটু করে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করিয়ে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। ওইসব প্রাণীর শরীরে থাকা প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ওই বিষের বিরুদ্ধে লড়াই করে অ্যান্টিভেনম তৈরি করে। পরে ওই সব প্রাণীর শরীর থেকে অ্যান্টিবডি নিয়ে তা অ্যান্টিভেনম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু ভেনম (বিষ) এবং অ্যান্টিভেনম (বিষ প্রতিষেধক) খুব কাছাকাছি হতে হয়। কারণ, একটি বিষাক্ত প্রাণীর কামড় থেকে আরেকটি বিষাক্ত প্রাণীর কামড়ে বিষের ধরন এবং মাত্রায় পার্থক্য রয়েছে।

এমনকি একই প্রজাতির প্রাণী থেকে তৈরি অ্যান্টিভেনমের মধ্যেও বিস্তর পার্থক্য থাকে। যেমন-ভারতে সাপের বিষ থেকে তৈরি অ্যান্টিভেনম শ্রীলঙ্কায় একই প্রজাতির সাপের কামড়ের বেলায় প্রতিষেধক হিসেবে খুব একটা কার্যকর নয়।

গবেষণাগারে টিম ফ্রিড
গবেষণাগারে টিম ফ্রিড। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে টানা ১৪ বার জয় সিঙ্গাপুরের শাসক দলের

সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে টানা ১৪ বারের মতো জয় পেয়েছে শাসক দল পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি)। এর মধ্য দিয়ে নগররাষ্ট্রটিতে টানা ৬০ বছর ধরে চলা পিএপির শাসন আরও দীর্ঘয়িত হতে যাচ্ছে। ১৯৬৫ সালে সিঙ্গাপুরের স্বাধীনতার আগে থেকেই সেখানে শাসন করছে পিএপি।

শনিবার সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, পার্লামেন্টের ৯৭টি আসনের মধ্যে ৮৭টি পেয়েছে পিএপি। ৩৩টি নির্বাচনী এলাকার অনেকগুলোতেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে দলটি। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৬৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে পিএপি। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তারা।

নির্বাচনে এই বিশাল জয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের প্রতি সিঙ্গাপুরের মানুষের বিপুল সমর্থনকেই তুলে ধরেছে। গত বছর তিনি সিঙ্গাপুরের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে দুই দশক ধরে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ছিলে লি হসিং লুং। তিনি আধুনিক সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান ইয়েওয়ের ছেলে।

শনিবারের ফলাফল অনুযায়ী, নির্বাচনে মূল বিরোধী দল ওয়ার্কার্স পার্টি ১০টি আসনে জয় পেয়েছে। গত নির্বাচনেও তারা ১০টি আসনে পেয়েছিল। সিঙ্গাপুরে কোনো বিরোধী দলের এটি সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার ঘটনা।

সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর। শনিবারের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাসস্থান ছিল প্রধান বিষয়। লরেন্স ওংয়ের সরকারের জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে সিঙ্গাপুরে অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে এরই মধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে লরেন্সের সরকার।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। তাঁর দল পিএপি পার্লামেন্ট নির্বাচনে টানা ১৪ বার জয় পেয়েছে
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। তাঁর দল পিএপি পার্লামেন্ট নির্বাচনে টানা ১৪ বার জয় পেয়েছে। ছবি: রয়টার্স

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১৮ মাসে দুই শতাধিক সাংবাদিক নিহত

ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে এই সময়ে ফিলিস্তিনের গাজায় বহু সাংবাদিককে সরাসরি নিশানা করে হত্যা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) এ তথ্য জানিয়েছে।

মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে শুক্রবার ২০২৫ সালের বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক প্রকাশ করেছে আরএসএফ। সংস্থাটি সেখানে জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রথম ১৮ মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে দুই শতাধিক সাংবাদিককে হত্যা করেছে। এসব সাংবাদিকদের মধ্যে অন্তত ৪২ জনকে হত্যা করা হয়েছে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়।

প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি আরও বলেছে, গাজা উপত্যকায় আটকে পড়া সাংবাদিকেরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। খাদ্য, পানিসহ সবকিছুরই চরম সংকটে রয়েছেন তাঁরা। এ ছাড়া দখলকৃত পশ্চিম তীরে সাংবাদিকেরা নিয়মিত ইসরায়েলি বাহিনী এবং সেখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের হাতে হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে।

শুধু ইসরায়েলি বাহিনী নয়, গাজার সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠন হামাস ও ইসলামিক জিহাদও সেখানে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে আরএসএফ। সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের বাধা দিচ্ছে তারা। পাশাপাশি ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের করা সাইবার অপরাধ আইনও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

আরএসএফের করা এবারের গণমাধ্যম স্বাধীনতার সূচকে ফিলিস্তিনের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬৩তম। এই সূচকে ২০২৪ সালের তুলনায় ছয় ধাপ অবনমন ঘটেছে ফিলিস্তিনের। সংস্থাটি বলছে, এবার তালিকায় থাকা ১৮০টি দেশের মধ্যে ১১২টি দেশেই গণমাধ্যম স্বাধীনতায় অবনতি ঘটেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গড় নম্বর কমেছে ৫৫ পয়েন্ট, যা সূচকটি প্রকাশ করার পর থেকে সর্বনিম্ন।

গাজায় সাংবাদিক হত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) দ্বারস্থ হয়েছে আরএসএফ। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজায় সাংবাদিকদের ওপর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক এই আদালতে একাধিক অভিযোগ দাখিল করেছে সংস্থাটি।

তবে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় সাংবাদিক নিহতের পৃথক একটি হিসাব দিয়েছে ফিলিস্তিন সরকারের গণমাধ্যম ব্যুরো। সংস্থাটি বলেছে, গাজায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শুধু ২০২৪ সালেই দুই শতাধিক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

ফাতিমা হাসুউনা, মুস্তাফা থুরায়া, হেবা ফাউদ, ইব্রাহিম মাহামিদ
ফাতিমা হাসুউনা, মুস্তাফা থুরায়া, হেবা ফাউদ, ইব্রাহিম মাহামিদ

উত্তেজনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো পাকিস্তান

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়ছেই। পাল্টাপাল্টি যুদ্ধ প্রস্তুতি আর শক্তি প্রদর্শন এখনো চালিয়ে যাচ্ছে পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দুই দেশ। গতকালও বড় আকারের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান। যে সময়ে এই পরীক্ষা চালানো হলো, তাকে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায় না। ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে এই পরীক্ষা চালানো মানে পাকিস্তান দেখিয়ে দিচ্ছে তার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে। তবে একইসঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ চায় পাকিস্তান। পক্ষান্তরে পাকিস্তান থেকে সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। তারা আবারো শক্তির জানান দিয়েছে। দেশটির নৌবাহিনী একটি যুদ্ধজাহাজ, একটি সাবমেরিন ও একটি হেলিকপ্টারের ছবি পোস্ট করেছে। তারপর একে ‘নৌবাহিনীর শক্তির ত্রিশূল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। পাশাপাশি পাকিস্তান থেকে সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। ওদিকে কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলায় জড়িতদের ছয়জন চেন্নাই থেকে বিমানে করে পালিয়ে শ্রীলঙ্কায় চলে গেছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিমানবন্দরে বড় আকারে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ভারত। এই অভিযান চালানো হয় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ইউএল১২২’তে। বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে এই অভিযান শুরু হয়। এর আগে শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষকে ভারত সতর্ক করে যে, পেহেলগাম হামলার সন্দেহভাজনরা ওই ফ্লাইটে আছে।

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ চায় পাকিস্তান
যেকোনো দুঃসাহস বা ভুলের কারণে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। তাই এই দুই দেশের উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ। এ সময় তিনি ভারতের প্রতিক্রিয়াকে বিপজ্জনকভাবে অপরিপক্ব ও উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ একটি প্রতিবেশী চাই। ফক্স নিউজ ডিজিটালের কাছে রাষ্ট্রদূত এ অঞ্চলকে পারমাণবিক সংঘর্ষময় স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধর এই দু’টি দেশের মধ্যে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানে ভূমিকা পালন করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, আংশিক নয় বরং মূল সমস্যা কাশ্মীর নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তার সরকারের দৃষ্টি দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রিজওয়ান সাঈদ শেখ বলেন, হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যে দায় পাকিস্তানের কাঁধে চাপানো শুরু করেছে ভারত। ঘটনা ঘটার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এর তদন্ত রিপোর্ট বের করে ফেলেছে তারা। অথচ ঘটনাস্থল দুর্গম। সেখানে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এই অঞ্চলের ১৫০ কোটি মানুষকে আরও একবার ভারত সরকার ও মিডিয়া জিম্মি করে রেখেছে। তারা ঘটনার পর পরই যুদ্ধের দামামা বাজানো শুরু করেছে।

পাকিস্তান থেকে আমদানি নিষিদ্ধ করলো ভারত
পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে এবার পাকিস্তান থেকে সকল আমদানি নিষিদ্ধ করলো ভারত। দেশটির সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননীতির স্বার্থে ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আরও বলা হয়, পাকিস্তান থেকে ট্রানজিটে আসা সকল পণ্যের ক্ষেত্রে ওই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য। এ  খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে উৎপাদিত ও দেশটি থেকে আমদানি করা হয় এমন সকল পণ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এর ব্যতিক্রম করতে হলে সেক্ষেত্রে ভারত সরকারের পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে। ২২শে এপ্রিল  পেহেলগাম হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একমাত্র বাণিজ্য পথ ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই হামলায় একজন নেপালি পর্যটকসহ নিহত হন ২৬ জন। এদিকে হামলার জন্য শুরু থেকে পাকিস্তানকে দায়ী করে এসেছে ভারত। তবে নয়া দিল্লির এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ। এছাড়া হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে পাকিস্তান।

সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে পাকিস্তান
সফলভাবে ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার ‘আবদালি ক্ষেপণাস্ত্রের’ সফল পরীক্ষা করেছে পাকিস্তান। বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর চলমান সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র অপারেশনে প্রস্তুত কিনা এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে সক্ষম কিনা তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। এতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) নিশ্চিত করেছে যে ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৪৫০ কিলোমিটার। অপারেশনে প্রস্তুত কিনা এমন পরীক্ষা- যার নাম- ইনডুস, তার অধীনে এই পরীক্ষা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড, স্ট্র্যাটেজিক প্লানস ডিভিশন এবং পাকিস্তানের কৌশলগত বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা এই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। আইএসপিআরের মতে, সুনির্দিষ্ট টার্গেট এবং স্থিতিশীল ফ্লাইট পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা হয়েছে এই অস্ত্র ব্যবস্থায়। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধানগণ এ কাজে জড়িতদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা দেশের প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। এ প্রজেক্টে জড়িত সব প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের প্রশংসা করেছেন তারা।

আবারো শক্তির বার্তা দিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী
আবারো শক্তির বার্তা দিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী। তারা এক্সে একটি পোস্টে একটি যুদ্ধজাহাজ, একটি সাবমেরিন ও একটি হেলিকপ্টারের ছবি পোস্ট করেছে। এগুলোকে ‘নৌবাহিনীর শক্তির ত্রিশূল’ বলে আখ্যায়িত করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, ২২শে এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে বলা হয়েছিল, আরব সাগরে মহড়া চালিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী। তারা টার্গেট করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর মহড়া দিয়েছে। এর মধ্যদিয়ে পাকিস্তানকে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। শনিবার এক্সে পোস্ট করা ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ডেস্ট্রয়ার আইএনএস কলকাতা, ধ্রুব এডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার এবং একটি স্কোরপিনে সিরিজের সাবমেরিন। নৌবাহিনী তার ক্যাপশনে লিখেছে- নৌবাহিনীর শক্তির ত্রিশূল- উপরে, নিচে এবং ঢেউ বরাবর। এনডিটিভি লিখেছে, এই ছবি এখন ভাইরাল হয়েছে। তবে যেহেতু ধ্রুব হেলিকপ্টার বর্তমানে গ্রাউন্ডেড আছে ফলে এ ছবিটি আগের বলে মনে হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া প্রতিশ্রুতিতে সম্মান দেখায় না ভারত: পাকিস্তান
কাশ্মীর বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে না ভারত। বৃটেনে নিয়োজিত পাকিস্তানের হাই কমিশনার ড. মোহাম্মদ ফয়সাল বলেছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলুশন অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ এলাকায় (জম্মু-কাশ্মীর) গণভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত। তারা সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখায়নি। বিদেশি একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আসুন জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করি। কাশ্মীর একটি বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড, এটা মেনে নেয়ার মধ্যেই আছে সমাধান। এ সমস্যার সমাধান করতে হবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলুশনের অধীনে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, পেহেলগাম সম্পর্কে কোনো রকম তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ভারত যে অভিযোগ করছে, তা ডাহা মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে পেহেলগাম হামলার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে। কারা ওই হামলা চালিয়েছে তা বের করার জন্য যৌথভাবে তদন্ত করতে পারে পাকিস্তান। তিনি বলেন, যেকোনোরকম সন্ত্রাসের নিন্দা জানায় পাকিস্তান। এমনিতেই তার দেশকে সন্ত্রাসের কারণে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে ভারতীয় ৯ লাখ সেনা আছে। পাকিস্তানের প্রতি ভারত যুদ্ধংদেহী। আমরা উত্তেজনা চাই না। ভারত আমাদের প্রতিবেশী। প্রতিবেশীদের বদলে ফেলা যায় না। আমাদেরকে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সব ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় পাকিস্তান।

‘অন্যায়ভাবে আটক পাকিস্তানিদের এনকাউন্টারে দিতে পারে ভারত’
অন্যায়ভাবে আটক পাকিস্তানি বন্দিদের ব্যবহার করে ভুয়া এনকাউন্টার চালানোর পরিকল্পনা করছে ভারত। নিরাপত্তা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। এতে বলা হয়, ভারতে বেশকিছু পাকিস্তানি নাগরিক আটক আছেন। তাদেরকে ব্যবহার করে ভারতের এমন পরিকল্পনায় গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওই সূত্রগুলো। তারা বলেছেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে যথাযথ প্রক্রিয়ার বাইরে বর্তমানে কমপক্ষে ৫৬ জন পাকিস্তানি বন্দি আছেন ভারতে। বিভিন্ন জেলে তাদেরকে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তাদেরকে ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ে সেখানে হত্যা করা হতে পারে। সূত্র বলেছেন, এরপর তাদেরকে মিলিট্যান্ট হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হতে পারে। বলা হতে পারে, সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছেন তারা। এর মধ্যদিয়ে তারা আন্তঃসীমান্ত আগ্রাসনের ধারণাকে যথার্থতা দিতে পারে। একইসঙ্গে পাকিস্তানবিরোধী বক্তব্যকে জোরালো করতে পারে। ওই নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলেছেন, ভারতের মিডিয়াগুলো ওই হত্যাকাণ্ডের বা তার পরের ফুটেজ ও ছবি পেতে পারে। দেখানো হতে পারে নিহত ব্যক্তিদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদেরকে পাকিস্তানবিরোধী বিবৃতি দিতে অথবা মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হতে পারে। 

সিন্ধু নদে বাঁধ দিলে হামলা চালাবে পাকিস্তান: খাজা আসিফ
সিন্ধু নদে বাঁধ বা এ জাতীয় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করলে পাকিস্তান তাতে হামলা চালাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। শুক্রবার জিও নিউজের ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ২২ এপ্রিল পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। নয়া দিল্লি যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই ওই হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ধু নদের পানি বন্টন চুক্তি বাতিল, পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল করা, ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয়ার মতো একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভারত।

এছাড়া ভারতের গৃহীত পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় কূটনীতিক ও সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার, শিখ তীর্থযাত্রী বাদে ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। এদিকে ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে খাজা আসিফ আরও বলেন, ‘ভারত যদি কোনো বাঁধ বা এ জাতীয় স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করে তাহলে ওই স্থাপনায় হামলা চালাবে পাকিস্তান।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি লঙ্ঘন করে সিন্ধু নদের ওপর কোনো স্থাপনা তৈরি করা হলে তা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের আগ্রাসন বলে বিবেচিত হবে।’

আসিফ বলেন, ‘কেবল কামান বা গুলি চালালেই আগ্রাসন হয়না। অনেকভাবেই আগ্রাসন চালানো যায়। সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়া বা পানিপ্রবাহকে ভিন্ন পথে চালিত করাও এক প্রকার আগ্রাসন।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে আসিফ বলেন, ‘রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি পেহেলগাম হামলার নাটক মঞ্চস্থ করেছেন’। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের ওপর বিশ্বব্যাপী চাপ আগের থেকে অনেক বেশি বেড়েছে। দেশটি যে পরিমাণ বৈশ্বিক সমর্থন প্রত্যাশা করেছিলো তা পেতে ব্যর্থ হয়েছে।’ আসিফ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মোদির অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে।’

mzamin
সফলভাবে ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার ‘আবদালি ক্ষেপণাস্ত্রের’ সফল পরীক্ষা করেছে পাকিস্তান। বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর চলমান সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র অপারেশনে প্রস্তুত কিনা এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে সক্ষম কিনা তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।


বিকৃত যৌনাচার: ভয়ঙ্কর ফেমডম সেশন, মিস্ট্রেস অ্যান্ড স্লেভের অন্দরমহল by শুভ্র দেব

হাত, মুখ ও পা বাঁধা এক যুবক। শরীরের গোপনাঙ্গ ছাড়া আর কোথাও কোনো কাপড় নাই। মুখে মাস্ক, পার্টি ড্রেস ও পার্টি জুতা পায়ে দিয়ে চাবুক দিয়ে পেটাচ্ছে এক নারী। চাবুকের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তবুও ওই পুরুষ নারীকে বলছেন আরও জোরে মারেন। ওই নারীও তখন আরও জোরে চাবুক মারছেন। কখনো পার্টি জুতা দিয়ে পেটে-পিঠে লাথি মারছেন। কিন্তু ওই পুরুষ না কেঁদে কেঁদে আনন্দ নিচ্ছেন। আবার কখনো ওই পুরুষ নারীর পায়ে মুখ লাগিয়ে চেটে দিচ্ছেন। আবার এসব দৃশ্যর ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে মোবাইলে। যিনি মার খাচ্ছেন আর পা চেটে দিচ্ছেন তাকে বলা হচ্ছে স্লেভ। আর যিনি মারছেন তাকে বলা হয় মিস্ট্রেস। অর্থাৎ মিস্ট্রেস পানিশড দ্য স্লেভ। প্রথম দেখায় মনে হবে ওই নারী পুরুষের ওপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার করছেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। যাকে বলা হচ্ছে ভয়ঙ্কর বিকৃত যৌনাচার। অনেকে এটাকে মনিব ও দাসের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। টাকা দিয়ে পুরুষেরা (স্লেভ) নারীদের (মিস্ট্রেস) কাছে গিয়ে বিকৃত যৌনাচারের নামে নির্যাতিত হচ্ছেন। এখানে অভিযোগকারীও নেই। এটাকে পশ্চিমা দুনিয়ায় বলে ফেমডম সেশন বা বিডিএসএম। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন বিকৃত যৌনাচার বহু আগে থেকে চালু থাকলেও বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে অনেকটা আড়ালে আবডালে কয়েকটি গ্রুপ এমন কার্যক্রম চালিয়ে টাকা কামাচ্ছিল। এ ধরনের ঘটনার খবর পেয়ে এবং এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু’জন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ। আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শিখা আক্তার ওরফে ফারহানা মিলি (২৫) ও সুইটি আক্তার জারা (২৫)। দীর্ঘদিন ধরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। মিস্ট্রেস ফারহানা মিলি ফ্রিডম লাইফস্টাইল ও মিস্ট্রেস মিলি এন্ড জারা ফ্রিডম লাইফ স্টাইল নামে দুটি পেজের মাধ্যমে তারা এসব করতো।

তথ্যমতে, ফেমডম সেশন বা বিডিএসএম দ্বারা একজাতীয় যৌন উদ্দীপক আচরণ বোঝানো হয় যেখানে কেউ যৌন আনন্দ লাভের জন্য সঙ্গীকে বেঁধে রাখে অথবা বিভিন্ন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা (চোখ বাঁধা, মুখে কাপড় দিয়ে কথা বলা রোধ করা ইত্যাদি) আরোপ করে। সাধারণত এসব কাজে দড়ি, হ্যান্ডকাফ, শিকল, টেপ, চাবুক, চামড়ার বেল্ট ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। বন্ডেজ বিডিএসএম এর অন্তর্ভুক্ত একটি ক্রিয়া। বিডিএসএম বিভিন্ন রকমের অনেকগুলো কর্মকাণ্ড নিয়ে গঠিত। এর সঙ্গে আন্তঃব্যক্তিগত সম্পর্ক, এবং বিভিন্ন উপসংস্কৃতিও জড়িত। এটি মূলত একপ্রকার যৌনচর্চা, যদিও তা স্বাভাবিক বিচারে সুস্থ ধারা হয় না।

বিডিএসএম-এর ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের দুইটি প্রকার আছে। প্রথমত, ডোমিন্যান্ট বা যিনি প্রভাব বিস্তার করেন, বা খাটান, বা শাসন করেন এবং দ্বিতীয়ত, যিনি প্রভাবান্বিত হন বা শাসিত হন। এই দুই প্রকারের অংশগ্রহণকারী থাকলেও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দুই বা ততধিক হতে পারে। বিডিএসএম যৌনবিকৃতি হিসেবে স্বীকৃত।

বসুন্ধরার ওই ঘটনায় যে মামলা হয়েছে তার তদন্ত কর্মকর্তা হচ্ছেন ভাটারা থানার এসআই ইকবাল হোসেন। তিনি মানবজমিনের কাছে ফেমডম সেশন বা বিডিএসএম এবং ওই দুই নারীর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। বলেছেন, যিনি মামলার বাদী তিনি আমাদেরকে ভুল তথ্য দিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, বসুন্ধরার একটি ফ্ল্যাটে পুরুষদের আটক রেখে ভয়ঙ্করভাবে নির্যাতন করে টাকা আদায় করা হয়। নির্যাতন করতে করতে মেরেও ফেলা হয়। নির্যাতনের বেশ কয়েকটি ভিডিও আমাকে দেখায়। সেগুলো দেখে আমি ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালাই। তখন আমি ওই নারীদের জিজ্ঞাস করলাম মানুষকে এভাবে নির্যাতন করেন কেন? তখন তারা আমাকে জানায় পুরুষরা নিজেরাই টাকা দিয়ে আমাদের কাছে মার খেতে আসে। আমরা তো বিকৃত মস্তিষ্কের না। যারা আসে তারাই বিকৃত মস্তিষ্কের। তখন আমি এটা নিয়ে তদন্ত শুরু করি। ওই নারীদের সঙ্গে কথা বলি। তারা মূলত একটি থিওরি নিয়ে কাজ করে। সেটি হলো- মিস্ট্রেস আর সেলভ (মনিব আর চাকর বা দাস)। মূলত বিকৃত যৌনাচারের পুরুষরা ওই নারীদের কাছে টাকার বিনিময়ে নানা ধরনের বিকৃত যৌনাচার করে থাকে। কিন্তু তারা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে না। নারীদের পা-চাটা থেকে শুরু করে থুথু খাওয়া, চাবুকের মার খাওয়াসহ নানা ধরনের বিকৃত যৌনাচার করে আনন্দ পায়। তারা আবার এসব ভিডিও করে রাখে। তখন সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমরা তাদের মোবাইল ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করি। সেখানে দেখতে পাই গ্রেপ্তার মিস্ট্রেস ফারহানা মিলির টেলিগ্রাম একটা গ্রুপ আছে। সেখানে শত শত ছেলেরা তাকে একটা সেশন দেয়ার জন্য অনুরোধ করছে। সেশনের মধ্যে একটি হলো পা-চাটা সেশন। আরেকটি হলো হার্ড সেশন চাবুকের মার খাওয়া। হার্ড সেশনে স্লেভরা যতক্ষণ মার সহ্য করতে পারে ততক্ষণ মার খাবে। তারপর কিছুক্ষণ পর বলবে আরও মারেন। এভাবে মার খেতে খেতে রক্তাক্ত হয়ে যায়। মিস্ট্রেসরা যদি মার দিয়ে সন্তুষ্ট করতে না পারে তবে সে আর না আসার হুমকি দিয়ে বলে অন্য মিস্ট্রেসের কাছে যাবে। তখন মিস্ট্রেসরা আরও বেশি করে মারে।

গ্রেপ্তারকৃত মিস্ট্রেস জেরি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, মিস্ট্রেস মিলি তাকে এই আইডিয়া দিয়েছে। মিলির দেয়া আইডিয়ার পর সে চিন্তা করে দেখে এখানে সেক্সুয়াল কিছু করতে হয় না। শুধু স্লেভদের চাবুক দিয়ে মারতে হবে। এ ছাড়া স্লেভরা তার পা চেটে দিবে, থুথু খাবে এমনভাবে ইনকাম করলে ভালোই হয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল বড় ধরনের টাকা জমিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য। তারা আবার ভিডিও ধারণ করে সেগুলো এ ধরনের বিকৃত মন মানসিকতার ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এজন্য তারা তাদের গ্রুপে বিজ্ঞাপন দেয়- টু মিস্ট্রেস পানিসড ওয়ান স্লেভ টুয়েন্টি মিনিটস- এসব বিজ্ঞাপন দেখে তাদেরকে আবার অনেকে নক করে বলে এই ভিডিও তাদের লাগবে। তখন তারা অগ্রিম টাকা নিয়ে ভিডিও বিক্রি করে। যারা কিনে তারা এসব ভিডিও দেখে মজা পেয়ে তারাও টাকা দিয়ে সেশন নিতে চায়। এই কালচারটা পশ্চিমা দুনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আছে। তবে বেশিদিন হয়নি বাংলাদেশে চালু হয়েছে। বাংলাদেশে এরকম আরও কয়েকটি চক্র এমনটি করে। তবে সেটা খুব কম।

ইকবাল বলেন, ওই নারীরা জানিয়েছে, মামলার বাদীও তাদের কাছ থেকে তিন চার মাস আগে পা চাটার একটি সেশন নিয়েছে। যেদিন সে মামলা করে ওইদিনও অগ্রিম টাকা দিয়ে সেশন নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ করে।
ওই ফ্ল্যাটে যারা স্লেভ হয়ে যেতো তাদের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সব শ্রেণি-পেশার লোকজন সেখানে যেতো। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যান। তবে বেশির ভাগই উচ্চবিত্তরা সেখানে যাওয়া-আসা করতো।

ইকবাল বলেন, মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে মিলি ও জারা দু’জনই ডিভোর্সি। বয়স ২৫ বছরের মধ্যে। মিলির বাড়ি ময়মনসিংহ আর জারার বাড়ি ঝিনাইদহ। জারা কয়েক মাস ধরে এই কাজ শুরু করেছে। আর মিলি দুই বছর আগে আরেকজনের সঙ্গে করতো। এখন নিজেই জারাকে নিয়ে শুরু করেছে। ৩২ হাজার টাকার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তারা বসুন্ধরা এলাকায় থাকতো। যে ফ্ল্যাটে তারা থাকতো সেখানেই স্লেভরা যাওয়া-আসা করতো। কিন্তু আশপাশের কেউ টের পেতো না। আর স্লেভরাও চাবুকের আঘাত খেয়ে সাউন্ড করতো না। কারণ তারা নিজেরাই টাকা দিয়ে মার খাচ্ছে। তাই তারা কোনো সাউন্ড করতো না। তাদেরকে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

mzamin

ভুলে যাবেন না আমরা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগ মারা গেছে বাংলাদেশে আর জানাজা হয়েছে দিল্লিতে। শনিবার  রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আয়োজিত মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেই দেশের সংস্কার শুরু করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি ভুলে যাবেন না, আমরা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার তাদের নয়, সেটি আমরা নেবো।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতার আট মাস পার হলেও আজ যেসব দাবিতে আমরা সমবেত হয়েছি, তা কোনো গর্বের বিষয় নয়; বরং এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক। ৫ই আগস্টেই জনগণ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগের আর কোনো পুনর্বাসন হবে না। যারা আলেম-উলামাদের বায়তুল মোকাররম থেকে টেনে এনে রাস্তায় হত্যা করেছে, তাদের রাজনীতিতে আর ঠাঁই নেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আজ আট মাস পরও কিছু রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিক আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাইছে। কিন্তু আমাদের কাছে এই সংগঠন সন্ত্রাসী, গণতন্ত্র হত্যাকারী এবং লুটপাটকারী একটি চক্র। তাদের নিষিদ্ধ না করে দেশে সংস্কার সম্ভব নয়।
বক্তব্যে তিনি একাত্তর-পরবর্তী সময়ের শাসনামল ও  ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ টেনে  বলেন, শেখ মুজিব বাকশাল কায়েম করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিলেন। তার শাসনামলে ৩০ হাজার জাসদ কর্মী হত্যা ও লুটপাটের কারণে ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে ১৫ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এসব ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।

শাপলা চত্বরে গণহত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের তালিকা প্রকাশ করুন। আমরা এই তরুণ প্রজন্ম হাসিনার বিচার ও ফাঁসি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, নারী সংস্কার কমিশনের বিতর্কিত অংশ বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে, যাতে দেশের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন থাকে। মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এতে দেশের শীর্ষ আলেম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভুত ৬ বছরের শিশুকে হত্যা, মার্কিন নাগরিকের ৫৩ বছরের কারাদণ্ড

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভুত মার্কিন শিশুকে হত্যার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তির ৫৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। শুক্রবার ৭৩ বছর বয়সী জোসেফ কুবাকে ওই সাজা দেন বিচারক অ্যামি বার্টানি-টমজাক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর কুবা তার দুই ভাড়াটিয়া হানান শাহীন ও তার ছোট ছেলে ওয়াদি আলফাইয়ুুমির (৬) ওপর হামলা করেন। গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পরই ওই হামলা করেন তিনি।

মূলত মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব থেকেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান কুবা। উল্লেখ্য, দুই বছর আগে প্লেইনভিলে কুবার বাড়িতে দুটি শোবার কক্ষ ভাড়া নেয় ওই পরিবারটি। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কুবা পরিবারটিকে তার বাড়ি থেকে অনত্র চলে যেতে বলেন। পুলিশ জানায়, হামলার দিন কুবা রাগান্বিত হয়ে তাদের দরজায় হাজির হন। এরপর জোর করে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং শাহীনকে চেপে ধরে একটি ছুরি বের করেন। এরপর তাকে বেশ কয়েকবার ছুরিকাঘাত করেন কুবা। তার হাত থেকে কোনো রকমে ছাড়া পেয়ে বাথরুমে লুকিয়ে পড়েন শাহীন। সেখান থেকে জরুরি সাহায্যের জন্য ৯১১ নম্বরে কল করেন। এরই মধ্যে শাহীনের ছেলে আলফাইয়ুমির ওপর হামলা চালান কুবা। তাকে ২৬ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। এতেই প্রাণ হারায় ৬ বছরের ওই শিশু।

শাহীন বলেন, হামলার সময় কুবা বলতে থাকেন, তোমরা মুসলিম আর তোমাদের মারা যাওয়াই উচিত। পুলিশ জানায়, হামলার পর কুবা তার বাড়ির বাইরে বসে ছিলেন। তার হাত ও শরীর ছিলো রক্তাক্ত। এদিকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন কুবা। তার আইনজীবীরা রায় বাতিলের দাবি করেন। তবে তা প্রত্যাখান করে কুবাকে ৫৩ বছরের সাজা দেন বিচারক।

mzamin

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ দেবে যুক্তরাষ্ট্র!

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে ব্যাংক ও জ্বালানি খাত। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ওপর চাপ বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই কৌশল নিয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ বিষয়ে জানেন এমন তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিযেছেন। একটি মিডিয়ার খবরে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন- এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু হবে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা গ্যাজপ্রমসহ প্রাকৃতিক সম্পদ ও ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে যুক্ত বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এর বেশি কিছু জানাননি তিনি। প্রস্তাবিত আকারে থাকা এই নিষেধাজ্ঞায় ট্রাম্প অনুমোদন দেবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। কারণ মস্কো যেসব বক্তব্য দিয়েছে এবং কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবেন এবং শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন তা মনে হয় না। ফলে বিষয়টি একরকম হতাশায় রূপ নিয়েছে। একটি সূত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে। এটি ট্রাম্পকেই অনুমোদন দিতে হবে। দ্বিতীয় একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি পুরোপুরি তার (ট্রাম্প) সিদ্ধান্ত। ওই কাউন্সিলের মুখপাত্র জেমস হিউইট বলেন, প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই (রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে) পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করে আসছেন। চলমান মধ্যস্থতার বিষয়ে আমরা বিস্তারিত মন্তব্য করি না। মার্কিন অর্থবিভাগ সাধারণত এসব নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করে থাকে।

এখন ট্রাম্প যদি এই নতুন নিষেধাজ্ঞায় অনুমোদন দেন, বিশেষ করে বুধবার স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন খনিজ সম্পদ চুক্তি সইয়ের পর, তবে তা ক্রেমলিনের প্রতি তার কঠোর অবস্থানকে নির্দেশ করতে পারে। ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওই খনিজ চুক্তি করা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে প্রচার করেছেন তিনি। ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়া পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা মস্কোর বিরুদ্ধে কয়েক দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এসব পদক্ষেপ রাশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও মস্কো বিভিন্ন উপায়ে নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধে অর্থায়ন করে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ন্যাটো দূত কার্ট ভলকার বলেন, পুতিনকে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধবিরতির প্রতিটি সুযোগ দেওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু পুতিন তা প্রত্যাখ্যান করে চলেছেন। এখন এটি (নতুন নিষেধাজ্ঞা) রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরির নতুন ধাপ।
ট্রাম্পের প্রথম দফা প্রেসিডেন্ট মেয়াদে ইউক্রেন-বিষয়ক বিশেষ দূতের ভূমিকা পালনকারী কার্ট ভলকার অভিযোগ করে বলেন, পুতিন উত্তেজনা বাড়াচ্ছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন যৌথভাবে অবিলম্বে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। আর পুতিন এখন একা হয়ে যাচ্ছেন। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা গ্রহণ করার পর নিজের শান্তি প্রচেষ্টায় রাশিয়াকে আরও বেশি রাজি করতে ট্রাম্প কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ও ক্রেমলিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে নিশানা বানাতে গঠিত বিচার বিভাগের একটি টাস্কফোর্স বাতিল করেছেন তিনি। এ ছাড়া ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে যুদ্ধ শুরু করার দায় দিয়ে মস্কোপন্থি বিবৃতি এবং তাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এমন এক শান্তি কৌশলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যেখানে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল মস্কোর কাছে ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি পুতিনের সঙ্গে চারবার সাক্ষাৎও করেছেন। সর্বশেষ সাক্ষাৎ ছিল গত সপ্তাহে।

mzamin

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের পর গর্ভপাত: কৃষক দল নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় কৃষক দল নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক বার নারীকে ধর্ষণের ফলে গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ধর্ষকের পিতা কৃষক দলের নেতাসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। শুধু ধর্ষণ আর গর্ভপাতই নয়, প্রেম ও বিয়ের অভিনয় করে ওই নারীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৭ লাখ টাকা। এদিকে নির্যাতিত ওই নারী শৈলকুপা থানায় পৃথক আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পান। এ খবর নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সম্রাট মণ্ডল।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী নারী সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন নাজমুল খন্দকার নামের এক যুবক। নাজমুল খন্দকার শৈলকুপা উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব কামরুল ইসলামের ছেলে। ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাজমুল খন্দকার নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি নাজমুলের গোটা পরিবার জানার পরে তারা মেনে নেয় বলে জানান ওই নারী। এরপর ওই নারী নাজমুলের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে নাজমুল ও তার পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা কৌশলে ওই নারীকে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকার রয়েল ক্লিনিকে ভর্তি করে গর্ভপাত ঘটায়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই নাজমুল খন্দকার ও তার বাবা-মা ভুক্তভোগী নারীকে হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে নাজমুল খন্দকার ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ওই নারী কোনো সমাধান পাননি। নিরুপায় হয়ে পরে তিনি শৈলকুপা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা মামলা গ্রহণ করেনি। নাজমুল খন্দকারের বাবা কামরুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই নারীকে নানাভাবে প্রতিদিন হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, দুই বছর ধরে নাজমুলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। তার বাড়িতে আমি নিয়মিত যাতায়াত করায় পরিবারের সবাই তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু অবাধ মেলামেশার কারণে গর্ভবতী হয়ে পড়লে ছেলের পরিবার তাকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেয়। এ বিষয়ে কৃষক দল নেতার ছেলে নাজমুল খন্দকার বলেন, ওই নারীর অভিযোগ সত্য নয়। সে একজন প্রতারক। তার নামে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কিনা তিনি এখনো জানেন না।

নাজমুলের পিতা শৈলকুপা কৃষক দলের সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী মহিলা সম্পর্কে আমি খুব বেশি কিছু জানি না। তবে সে আমার বাড়িতে আসা যাওয়া করতো এটা জানি। গর্ভপাত ও হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
শৈলকুপা থানার এসআই সম্রাট মণ্ডল জানান, ওই নারীর অভিযোগ পেয়ে তিনি পারিপার্শ্বিক ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা কিছুটা মিলেছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে যদি আদালতের কোনো নির্দেশনা আসে তবে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শৈলকুপা থানার ওসি মাসুম খান শুক্রবার রাতে জানান, এ বিষয়ে শৈলকুপা থানায় আদালতের নির্দেশে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, মামলা নং ০৪/২৫। তিনি জানান, ভুক্তভোগী নারী সম্ভবত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাকে প্রলোভনে ফেলে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি। আদালত মামলা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সে মোতাবেক থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

mzamin

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা, উপস্থিত থেকেও উদ্ধার না করায় দায় এড়ানোর সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

ভুক্তভোগী আবরার ফাহাদকে পেটানোর ঘটনায় কিছু অভিযুক্তকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে এবং কিছু অভিযুক্তকে উপস্থিত থেকে ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে দেখা যায়। কিন্তু তাঁদের কেউই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেননি। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্টতই প্রমাণ হয় তাঁদের অপরাধের মানসিকতা ছিল এবং উপস্থিতির মাধ্যমে তাঁরা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ এসেছে। সাড়ে পাঁচ বছর আগে বুয়েটের একটি হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের সবাই ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নেতা-কর্মী। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারিক আদালতের রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৬ মার্চ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের ডেথরেফারেন্স অনুমোদন করে এবং আসামিদের আপিল ও বিবিধ আবেদন খারিজ করে রায় দেওয়া হয়। হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায়ে আসামিদের দেওয়া দণ্ডাদেশ বহাল রাখেন।

তথ্যাদি পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, আবরার ফাহাদ শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, শুধু এমন অভিযোগে অভিযুক্তরা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে দেখা যায়। কিন্তু কোনো বিবেকবান ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ ধরনের নির্মম ও অমানবিক নির্যাতন করার এটি কোনো যুক্তি হতে পারে না; যেখানে তাঁরা নিজেদের বুয়েটের মেধাবী ছাত্র বলে দাবি করে। হতে পারে কিছু অভিযুক্ত ভুক্তভোগীকে পেটানোয় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি, কিন্তু এর মানে এ নয় যে তাঁরা শাস্তির বাইরে থাকবে এবং দায় এড়াতে পারবেন। তারা সবাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের চেষ্টা করেননি, যা এ হত্যকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দেওয়া।

১৩১ পৃষ্ঠা–সংবলিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি গত ২৩ এপ্রিল হাতে পেয়েছেন বলে জানান আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। দুই আসামির এই আইনজীবী আজ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। অথচ বিশেষজ্ঞ সাক্ষীসহ কোনো সাক্ষী ভিডিওতে তাঁকে শনাক্ত করেননি। অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়ন শারীরিকভাবে অক্ষম, তাঁর পক্ষে মারধর করা সম্ভব নয়—এসব যুক্তি তুলে ধরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসে আপিল করা হবে।

মামলার দিকগুলো এবং বিচারিক আদালতের দেওয়া পর্যবেক্ষণ পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারিক আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, চাক্ষুষ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের সাক্ষ্য, সরকারি সাক্ষীদের সাক্ষ্য, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, প্রদর্শিত নথিপত্র ও সিসিটিভির পুরো ফুটেজ বিচার–বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, নিঃসন্দেহে সব আসামি পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে তাঁকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বরকতউল্লাহ ঢাকার চকবাজার থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।’

হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন। ফাইল ছবি

এত নতুন দল লক্ষ্য কী? by মো. আল-আমিন

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের হিড়িক পড়েছে। একের পর এক নতুন দলের ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পেতে আবেদন করা হচ্ছে। নতুন এসব দল কারা এবং কী লক্ষ্য নিয়ে গঠন করছেন এ নিয়ে নানা জিজ্ঞাসা আছে জনমনে। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত নয় মাসের ব্যবধানে দেশে ২৪টি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। অন্যদিকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য এখন পর্যন্ত ৬৫টি রাজনৈতিক দল আবেদন করেছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই নামসর্বস্ব। এমনো দল রয়েছে, যাদের কোনো কার্যকরী কমিটি নেই। সেইসঙ্গে নেই কোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়। বিশ্লেষকরা বলেছেন, নানারকম আর্থসামাজিক লক্ষ্য এবং সমাজে ব্যক্তিগত প্রভাব বাড়াতে এসব দল গঠন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বড় দলের সঙ্গে সমঝোতা করে এমপি ও পদ বাগিয়ে নিতেও অনেকে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবে।

নিবন্ধনের আবেদন করা রাজনৈতি দলগুলো যা বলছে: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন দিতে চলতি বছরের ১০ই মার্চ গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন। দলগুলোকে ২০শে এপ্রিলের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন করতে বলা হয়। যদিও পরবর্তীতে বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী জুন পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ায় ইসি। নির্বাচন কমিশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে ৬৫টি রাজনৈতিক দল। এই দলগুলোর একটি বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণময় পার্টি। গত ১৭ই এপ্রিল নিবন্ধনের আবেদন করে দলটি। দলটির চেয়ারম্যান মো. শিপন ভূঁইয়া পেশায় চশমা ব্যবসায়ী। নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্দেশ্য জানতে চাইলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, জনগণের খেদমত করতে দল গঠন করেছি। নিবন্ধন পাবো কিনা জানি না। এখন পর্যন্ত দুই জায়গায় অফিস নিতে পেরেছি। ঢাকার প্রধান কার্যালয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্টোর রুমের ঠিকানা প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেছি। এ ছাড়া দলটি কবে গঠন করা হয়েছে-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দিতে পারেননি। এদিকে গত ২০শে এপ্রিল ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান রাজা মানবজমিনকে বলেন, তার নেতৃত্বাধীন দলটির উদ্দেশ্য ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা। আমরা এখন পর্যন্ত ৭টি জেলা ও ৮১টি উপজেলায় কমিটি দিয়েছি। ইসি’র বর্ধিত সময়ের মধ্যেই বাকি শর্তগুলো পূরণ করা হবে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে ১৭ই এপ্রিল নিবন্ধনের আবেদন করা বাংলাদেশ মুক্তি ঐক্যদলের সভাপতি মো. নুর ইসলাম শিকদার জানান, তিনি ১৯৯৮ সালে রাজনৈতিক দলটি গঠন করেন। এখন পর্যন্ত নিবন্ধনের জন্য ৩ বার আবেদন করেছেন। কিন্তু তাকে নিবন্ধন দেয়া হয়নি। এবার সকল শর্ত পূরণ করেই আবেদন করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন এবার তিনি নিবন্ধন পাবেন। তার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ফরিদপুর বোয়ালমারীর একটি সুপার মার্কেটে। তিনি বলেন, ২৫টি জেলায় এবং ১০০টি উপজেলায় দলের অফিস রয়েছে।

রাজনৈতিক দল নিবন্ধন দেয়ার প্রক্রিয়া কী: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে। প্রথমত, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়; দ্বিতীয়ত, ওই সব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনে মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি; তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা অফিস থাকতে হবে। আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্দেশ্য কী: নতুন রাজনৈতি দল গঠনের হিড়িক পড়ার উদ্দেশ্য কী হতে পারে? এমন প্রশ্নে নির্বাচন বিশ্লেষক ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল আলীম মানবজমিনকে বলেন, ২০২৪ সালে নির্বাচনের আগেও ৯০টির উপরে নিবন্ধনের আবেদন পড়েছিল। চব্বিশের আগের নির্বাচনের কালচার ছিল, আপস করে যদি দুই-একটা এমপি পদ নেয়া যায়। কেননা, আমাদের দেশে এমপি হওয়া একটি বড় ব্যবসা। তখন ছিল এমন। তবে ৫ই আগস্টের পরের প্রেক্ষাপট আরেক ধরনের জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল আছে যারা এতদিন রাজনীতি চর্চা করতে পরেনি। তারা এখন নিবন্ধন চাচ্ছে। পক্ষান্তরে, এখনো অনেক রাজনৈতিক দলই আছেন যারা নিবন্ধন নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে, জোট করে দুই-একটি সিট নিতে চায়। তিনি জানান, বর্তমানে কোনো একটি রাজনৈতিক দল যদি বড় দলের সঙ্গে আঁতাত করে, তখন ছোট দলের প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে না। বড় দলের প্রতীক ব্যবহার করেই তারা নির্বাচন করে। যেহেতু বড় দলের প্রতীক পরিচিত এবং আমাদের দেশের অনেক জনগণই প্রতীক দেখেই এখনো ভোট দেয়। সেহেতু এই সুযোগটা তারা কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। এজন্য নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন একটি সুপারিশ করেছি যে, দল অ্যালাইন্স করতে পারবে। কিন্তু ছোট দল যখন বড় দলের সঙ্গে যাবে, তখন ছোট দলকে তাদের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের মানুষ রাজনীতি করতে পছন্দ করে। এজন্য হয়তো দল গঠনের আগ্রহ বেশি। এছাড়া একটি দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে অনেকে পছন্দ করে। অনেকে বিভিন্ন সুবিধা নিতেও দল গঠন করে থাকে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দল গঠনে নিরুৎসাহিত করছি না। তবে এত রাজনৈতিক দল করাও খুব স্বাস্থ্যকর কিছু না। কেননা, অনেক দলেরই মানুষের কাছে যাওয়ার ক্যাপাসিটি নাই। তাহলে দল করছেন কেন? আপনারা তো মানুষের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন। তিনি জানান, যখন কোনো সুযোগ আসে তখন এমন প্রবণতা হয়। ১৯৭৬ সালে যখন নতুন সরকার হলো, সেই সরকার তখন রাজনৈতিক দলের জন্য একটি বিধি করেছিল। তার অধীনে শতাধিক দল নিবন্ধিত হয়েছিল। তবে আল্টিমেটলি কতোটি দল টিকেছে? যখন ক্ষমতার প্রশ্ন আসলো তখন ৩টিরও বেশি দল ছিল না।

mzamin

সিলেটের শাপলা: নেশায় বুঁদ তরুণীদের নিয়ে নানা ভাই’র ফাঁদ by ওয়েছ খছরু

সিলেটে নেশায় বুঁদ থাকা তরুণীদের দিয়ে ফাঁদ পাততো নানা ভাই ফয়জুল খান আলম। অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে করতো ব্ল্যাকমেইল। একবার তার ফাঁদে কেউ পা দিলে মাসে মাসে দিতে হতো বড় অঙ্কের চাঁদা। টাকা না দিলে ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হতো। সিলেটের শাপলা হলিডে হোমে এভাবেই ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ পেতে রাখে আলম। সবাই তাকে নানা ভাই বলে চিনেন। আর এই নানা ভাই বলার কারণও আছে। শাপলায় যাওয়া তরুণীরাই তাকে নানা ভাই বলে ডাকেন। এজন্য অনেকের কাছে সে এখন নানা ভাই। পাওনা টাকা নিয়ে গোলাপগঞ্জের কায়স্থগ্রামের মুহিনুর রহমান ও তার বন্ধু ব্যবসায়ী আসাদের ওপর হামলার ঘটনায় শাপলার কুকীর্তির নানা ঘটনা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক রয়েছে আলম। তার তরুণী সিন্ডিকেটরাও গা-ঢাকা দিয়েছে। শাপলার কুকীর্তি প্রকাশ হওয়ার পর পুলিশও সক্রিয় হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে এ হলিডে হোমে। তবে আলম কিংবা তার সিন্ডিকেটের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, আলম ও তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। আলমের মূল বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার দত্তরাই গ্রামে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ৫-৬ বছর আগে শাপলার মূল মালিক লন্ডন প্রবাসীর কাছ থেকে বিল্ডিং ভাড়া নেয়। প্রথম তিনতলাকে সে রিসোর্ট হিসেবে ব্যবহার করে। আর উপরের দুইতলায় ফ্ল্যাট বাড়ি ভাড়া দিয়েছে। আর দুইতলা পরিবার সহ ফ্ল্যাটবাড়ি ভাড়া দিয়ে সে নিচের তিনতলাকে অপকর্মের হেডকোয়ার্টার হিসেবে গড়ে তোলে। প্রথমে বিষয়টি বড়শালা এলাকার মানুষ বুঝতে পারেননি। পরে ধীরে ধীরে তাদের কাছে সব পরিষ্কার হয়। বড়শালা এলাকার কয়েকজন স্থায়ী বাসিন্দা জানিয়েছেন, শাপলায় নানা কীর্তি হয়। অনেক বড় বড় ভিআইপি রাত-বিরাতে সেখানে ছুটে আসায় বিষয়টি ধরা পড়ে। আসে সুন্দর সুন্দর রমণীরা। বিশেষ করে থার্টিফার্স্ট নাইট, পহেলা বৈশাখে শাপলায় জমকালো আয়োজন হয়েছে। রাতভর সেখানে নাচ-গানের আসর ছিল। এলাকার লোকজন সব বুঝলেও মুখ বুঝে সহে গেছেন। কী হতো শাপলায় এমন প্রশ্নের জবাবে আলমের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, শাপলা হচ্ছে অসামাজিক কাজের হেডকোয়ার্টার। যা চাইবেন সেখানে সব পাবেন। আলমই সব ব্যবস্থা করে দেয়। তার কাছে নগরের ১০ থেকে ১২ জন তরুণীর ফোন নম্বর রয়েছে। এসব তরুণীদের বেশির ভাগেরই বাড়ি সিলেটের বাইরে। তারা কলেজ ভার্সিটির পড়ার সুবাদে সিলেটে বসবাস করে। নানা ভাইয়ের ফোন পেলেই তারা ছুটে আসে। এরপর অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। আর চতুর আলম হোটেলে আসা লোকজন ও তরুণীদের ভিডিও ও ছবি ধারণ করে রাখে। পরে এসব ভিডিও ছবি দিয়ে ওই হোটেলে আসা লোকজনকে ব্ল্যাকমেইল করে। চায় টাকা। আলমের মোবাইল ফোনে এ ধরনের অনেক ভিডিও ও ছবি রয়েছে। গত ১৫ই এপ্রিল শাপলা হলিডে হোমে হামলার শিকার হওয়া মুহিনুর রহমান জানিয়েছেন, যখন তাকে রিসোর্টে একটি রুমে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছিল তখন ওই সব ছবি তাকে দেখায় আলম ও তার ভাই তাজুল। ওই সময় তারা জানিয়েছিল, সবাই তার কাছে জিম্মি। তাদের উপর লেবেলে হাত রয়েছে। তাকে কেউ ছুঁতে পারবে না। মুহিন জানান, আলম নিজেই নেশাগ্রস্ত। সে তার রিসোর্টে নিয়ে তরুণীদের ইয়াবা ও মদ সেবন করায়। এরপর তাদের নেশায় আসক্ত করে তাদের ছবি ধারণ করে রাখে। এ ছাড়া অশ্লীল ছবিও রাখে। পরে ওই ছবি দিয়ে তরুণীদেরও সে ব্ল্যাকমেইল করে। কয়েকজন তরুণী তার কাছে এভাবে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। আলমের ডাকে না গেলে তাদেরও দেয়া হয় হুমকি। এতে করে তরুণীরাও বিপর্যস্ত। তাদের নেশায় আসক্ত করে সে রিসোর্টে আসা লোকজনের কাছে তাদের পাঠায়। তিনি জানান, তরুণীদের নিয়ে আলমের নেশা করা, অসামাজিক কাজে ব্যবসা করার অনেক ভিডিও ও ছবি বিভিন্নজনের কাছে রয়েছে। লোকজনের মোবাইল ফোনে সে এসব পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে। ঘটনার পর বিভিন্ন তরফ থেকে আলমের আক্রোশের শিকার হওয়া অনেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ব্ল্যাকমেইলে শিকার হওয়া এক ব্যবসায়ী জানান, আলম তথা নানা ভাইয়ের ডেরায় মাদক ছিল ওপেন সিক্রেট। নগরের জান্নাত, বৃষ্টি, তানিয়া ও ইমা সহ বিভিন্ন নামের তরুণীরা নিয়মিত আসতো। এর বাইরে ঢাকা থেকে কলগার্ল আনা হতো। ঢাকার নাটক ও চলচ্চিত্র পাড়ার অনেক নায়িকাও তার ডাকে সাড়া দিয়ে আসতো। ফলে সিলেটের ভিআইপি অনেকেই তার কাছে ছুটে যেতেন। হাই অফিসিয়ালরা যেতেন। এ ছাড়া জাফলং, ভোলাগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বড় বড় ব্যবসায়ীরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তার ছোট ভাই ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ ক্যাডার তাজুলকে দিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাখে। তাজুল হচ্ছে সিলেটের আলোচিত ক্যাডার পীযূষের সহযোগী। এয়ারপোর্ট রুটের পর্যটন মোটেলে ঢোকার পথেই শাপলা হলিডে হোম। উল্টো দিকে পর্যটনের বার। ওই বারের নিচে তাজুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিনে ও রাতে বসে আড্ডা দিতো। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মুহিনের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে নিয়মিত পুলিশ আসতো রিসোর্টে। তল্লাশি করছে। এ কারণে পালিয়ে বেড়াচ্ছে নানা ভাই আলম। ক’দিন ধরে এলাকা ছাড়া রয়েছে তাজুল ও সন্ত্রাসী বাহিনী। এতে করে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। তারা জানান, শাপলা হলিডে হোমের নানা কর্মকাণ্ড প্রকাশ পাওয়ার পর ফ্ল্যাট বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাসকারীরাও ছেড়ে যাচ্ছেন। আলমের কর্মকাণ্ডে তাদের মধ্যে ভয় ঢোকার কারণে তারা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
mzamin

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ শিশু মুসা সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছে by নাজনীন আখতার

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত শিশু বাসিত খান মুসা (৭) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছে। ৫ মাস ১২ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার মা–বাবার সঙ্গে দেশে ফিরছে সে। অত্যন্ত সংকটাপন্ন মুসাকে নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদনের পর গত ২২ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠায় সরকার।

সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় ধরে তার চিকিৎসা হয়েছে। মুসার ডান পাশ এখনো প্যারালাইজড। সে এখন কিছুটা সাহায্য নিয়ে নিজে থেকে বসে থাকতে পারে। নিজে নিজে খেলে। লোকজনকে দেখলে হাসে। চিকিৎসকেরা মুসার মা–বাবাকে জানিয়েছেন, মুসার মাথায় গুলি রয়ে গেছে। এ কারণে যেকোনো সময় তার সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই তাকে সাবধানে রাখতে হবে।

মুস্তাফিজুর রহমান ও নিশামনি দম্পতির একমাত্র সন্তান বাসিত খান মুসা। গত ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরায় মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে মুসাকে আইসক্রিম কিনে দিতে নেমে দাদি মায়া ইসলাম (৬০) ও মুসা গুলিবিদ্ধ হয়। মায়া ইসলাম পরদিন মারা যান। মালিবাগে মুসার বাবা ও দাদার ইলেকট্রনিক পণ্যের একটি দোকান রয়েছে।

মুসার মা নিশামনি গতকাল বুধবার হোয়াটসঅ্যাপ কলে প্রথম আলোকে জানান, বৃহস্পতিবার (আজ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তাঁরা দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন। ঢাকায় পৌঁছাবেন রাত ১১টার দিকে। ঢাকায় ফেরার পরপরই মুসাকে নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। মুসাকে তিন মাসের কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে। বাসায় নিলে সেভাবে ব্যবস্থা করতে হবে। সংক্রমণ এড়াতে মুসাকে কেউ যেন দেখতে না আসে, সেটি নিশ্চিত করতে বলেছেন চিকিৎসকেরা।

মুসার পরিবার ও সিএমএইচের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, দেশে থাকা অবস্থায় মুসা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিল। কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র ছাড়া শ্বাস নিতে পারত না। খিঁচুনি হতো। মুসার দেহ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে পড়েছিল। রক্তে সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছিল না বলে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। তার ডান পাশ শুরু থেকেই প্যারালাইজড ছিল। চোখের পাতাও নড়াত না।

সিঙ্গাপুরে অনেক ব্যয়বহুল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে মুসার সংক্রমণ ঠেকানো হয়। তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে দেওয়া হয়। নভেম্বর মাসে মুসা কিছুটা তাকায় ও হাত-পা কিছুটা নাড়ে। তবে সেই সময় তাঁর দৃষ্টি অর্থপূর্ণ ছিল না। চোখে আলো ফেললে কোনো সাড়া দিত না। ডান পাশ প্যারালাইজড ছিল। ফিজিওথেরাপি শুরু করার পর জানুয়ারি মাসে তাকে কিছু সময় ধরে বসানো শুরু হয়। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসায় মুসার মাথা, গলা, পেটে ২০টির বেশি অস্ত্রোপচার হয়েছে।  

মুসা ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতাল ও পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সরকারি ব্যয়ে চিকিৎসাধীন থাকার সময় একাধিকবার প্রথম আলো সংবাদ প্রকাশ করে। মুসাকে নিয়ে গত ২৮ জুলাই প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। দেশে মুসার চিকিৎসা আর সম্ভব নয় জানার পর গত ৭ অক্টোবর ‘আন্দোলনকালে গুলিবিদ্ধ শিশু মুসাকে সিঙ্গাপুরে নিতে বলছেন চিকিৎসকেরা, কে দেবে এত টাকা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। এই সংবাদ প্রকাশের পর চ্যানেল আই মুসাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেয়। সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ২০তম ব্যাচের চিকিৎসকদের উদ্যোগে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত চিকিৎসক ও প্রবাসীরা ও দেশের মানুষ অর্থসহায়তা দিয়ে মুসার পাশে দাঁড়ান। সরকার সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে মুসার চিকিৎসা নিশ্চিত করে।

মুসা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপর প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে সিএমএইচের নিউরোসার্জারি বিভাগে (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য) স্থানান্তর করা হয় গত ২৬ আগস্ট। আর গত ৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্থানান্তর করা হয় হাসপাতালের শিশু নিউরোলজি বিভাগে। সিএমএইচে মুসা জ্যেষ্ঠ নিউরোসার্জন অধ্যাপক কর্নেল মো. আল আমিন সালেক এবং পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক কর্নেল নাজমুল হামিদের অধীন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁরা মুসাকে সিঙ্গাপুর পাঠানোর জন্য সুপারিশ করেন।

মুসা এখন কেমন আছে জানতে চাইলে মা নিশামনি বলেন, ‘সবার দোয়ায় মুসার শরীর আগের চেয়ে ভালো আছে। ওর স্বাস্থ্য ভালো হয়েছে। ওর মাথায় গুলি বাঁ দিক দিয়ে ঢুকেছিল। অনেক পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হয়েছেন গুলিটা ডান পাশে আটকে আছে। এটা বের করা যাচ্ছে না। ওর ডান হাত ও পা, মুখমণ্ডল অর্থাৎ পুরো ডান পাশ প্যারালাইজড। ফলে ও নিজে থেকে উঠে বসতে পারে না। কিছুটা সাহায্য করলে উঠে বসতে পারে। তবে ও হাসে–খেলে। নিজে থেকে মোবাইলের লক খুলে পছন্দমতো ভিডিও বের করে দেখতে পারে। লোকজনকে খুব পছন্দ করে। কাউকে দেখলেই হাসি দেয়। মুঠোফোনে কেউ ভিডিও কল করলে আনন্দ প্রকাশ করতে মুঠোফোনে চুমু খায়।’

মুসাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স লেগেছিল। এখন সে আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ বলে মা–বাবার সঙ্গে উড়োজাহাজের আসনে বসেই ফিরবে। সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর নভেম্বরের একদিন মুসার মা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, কোনো একদিন হুট করে ছেলে আবার তাকে ‘মা’ বলে ডেকে উঠবে, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন তিনি। এখনো তিনি সেই অপেক্ষায় আছেন বলে জানান। কারণ, মুসা এখনো কথা বলে না। তিনি বলেন, এক পাশ প্যারালাইজড হওয়ায় মুসা হাঁ করে নিজে থেকে খেতে পারে না। তাকে টিউব দিয়ে খাওয়ানো হয়। প্রস্রাব–পায়খানার কথাও বলতে পারে না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে মুসার উন্নতি হতে পারে।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে জানান, পুরোপুরি সুস্থতার জন্য মুসার দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসা দরকার। সরকার সিঙ্গাপুরে যেভাবে চিকিৎসাসহায়তা দিয়েছে, দেশেও তা অব্যাহত রাখবে। সিএমএইচে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর মুসাকে সিআরপিতে নেওয়া হবে। সে যেন হাঁটতে পারে, কথা বলতে পারে, সে লক্ষে৵ লম্বা সময় ধরে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি এবং স্পিচ থেরাপি দেওয়া হবে। সরকার এ ব্যয় বহন করবে। তিনি আরও বলেন, সিঙ্গাপুরে মুসাকে পঞ্চম প্রজন্মের যে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে, তা দেশে পাওয়া যায় না। তাই তাকে লোকজন থেকে বেশ কিছুদিন আলাদা রাখতে হবে যেন সংক্রমণ না হয়।

সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে শিশু মুসা
সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা হয়েছে মুসার। তার ডান পাশ এখনো প্যারালাইজড। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে শিশু মুসা। ছবি: পরিবারের সৌজন্যে