Wednesday, May 31, 2017

সাদাপোশাকে গ্রেপ্তার করতে এলে by তানজিম আল ইসলাম

হঠাৎ করে সাদাপোশাকধারী কিছু লোক এসে যদি আপনাকে বলে যে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। আপনাকে তাদের সঙ্গে যেতে হবে, আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। আপনি কিছু না বুঝে ওঠার আগেই তারা আপনাকে গ্রেপ্তার করে বসল। অথচ আপনি কোনো অপরাধই করেননি। কিংবা ঘটনাটি আপনার সঙ্গে না ঘটে কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে ঘটল। এ অবস্থায় কী করার আছে আপনার? আপনার কি কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাওয়া সম্ভব কিংবা কীভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?
এমন পরিস্থিতির শিকার হলে
প্রথমেই মনে রাখতে হবে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার জানার অধিকার রয়েছে কেন, কী কারণে আপনাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাই প্রথমেই জানতে চাইতে হবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগটি কী? অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তাদের পরিচয় জানতে চাইবেন এবং তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইবেন। একা একা কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে সঙ্গে খবর দিন। প্রয়োজনে আশপাশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীদের খবর দিন এবং যত পারা যায় লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করুন। আপনার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, তা দেখতে চাইবেন। যদি তারা আপনাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে আপনি একা তাদের সঙ্গে যাবেন না বলে তাদের জানিয়ে দেন এবং পরিবারের দু-একজনকে সঙ্গে নেবেন বলে তাদের জানান। প্রয়োজনে নিকটস্থ থানায় ফোন করে আপনার গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান। এবং থানা এ সম্পর্কে অবগত অছে কি না, তা জানার চেষ্টা করুন। আপনার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ দেখাতে না পারলে আপনাকে হয়তো ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের কথা বলতে পারে। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার নিয়ে ২০১৬ সালের ২৪ মে আপিল বিভাগ রায় দিয়েছেন এবং কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা ১০ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে পূর্ণাঙ্গ রায় হিসেবে প্রকাশিত হয়।
আপিল বিভাগের নির্দেশনা
আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে বাধ্য থাকবে এবং পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। গ্রেপ্তারের স্থান ও সময় ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ গ্রেপ্তারের পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ বিষয়ে একটি মেমোরেন্ডাম তৈরি করবেন। গ্রেপ্তারের সময় ও স্থান এবং আটক রাখার জায়গা গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির আত্মীয়কে জানাতে হবে। আত্মীয়স্বজন না পেলে ব্যক্তির নির্দেশনা মেনে তাঁর বন্ধুকে জানাতে হবে। এ জন্য সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা সময় পাওয়া যাবে। কোন যুক্তিতে, কার তথ্যে বা অভিযোগে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ঠিকানাসহ তা কেস ডায়েরিতে লিখতে হবে, আটক ব্যক্তি কোন কর্মকর্তার তদারকিতে রয়েছেন, তাও উল্লেখ করতে হবে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা যাবে না। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে তা রেকর্ড করে চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে সনদ নিতে হবে।
জামিনের জন্য চেষ্টা করতে হবে
গ্রেপ্তার হলে গ্রেপ্তারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চালান দেবেন। ২৪ ঘণ্টা সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো অবস্থাতেই (ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া) পুলিশ আপনাকে আটক রাখতে পারবে না। এ সময় পুলিশ আপনাকে গুরুতর কোনো অভিযোগে রিমান্ডের আবেদন করতে পারে। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ডায়েরির অনুলিপি ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে আদালতে হাজির করে আটকাদেশ চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট, আদালত, ট্রাইব্যুনাল একটি বন্ড গ্রহণ করে তাঁকে মুক্তি দেবেন। আটক থাকা কোনো ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট মামলায় যদি গ্রেপ্তার দেখাতে চায়, সে ক্ষেত্রে যদি ডায়েরির অনুলিপিসহ তাঁকে হাজির না করা হয়, তাহলে আদালত তা মঞ্জুর করবেন না। কোনো কারণে নিম্ন আদালতে জামিন না হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে।
লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

‘১৫ ফেব্রুয়ারি ও ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবেনা’ -সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটকে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর হবেনা। আজ বুধবার দুপুরে মার্শা বার্নিকাটের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আলোচনার পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করতে এসে সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলে গেছেন। একই সঙ্গে সিইসিও জানিয়েছেন আর যেন এ রকম না হয়, সে জন্য সবাই চেষ্টা করব। এর আগে মার্শা বার্নিকাট ও ইউএসএআইডির একটি প্রতিনিধিদল বুধবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে নির্বাচন কমিশনে আসেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনার পর সোয়া দুইটার দিকে বের হন মার্শা। এ সময় তিনি জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

‘কিছু ঘটে গেলে ধরে নেবেন ওসমান পরিবার থেকে হয়েছে’

‘জেল থেকে মুক্তি পেলেও আমি আতঙ্কে আছি। কারণ, আমার পুলিশ প্রোটেকশন তুলে নেওয়া হয়েছে। একজন বডিগার্ড দেওয়া হয়েছিল, তা এখন দেবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান। তবে কখন কী ঘটে যায়, জানি না। যদি কোনো কিছু ঘটে যায়, তাহলে আপনারা ধরে নেবেন ওসমান পরিবার থেকে হয়েছে।’
আজ বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এ কথা বলেছেন শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের মামলায় আজ তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কারা তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ ঘোষ তাঁর মুক্তির তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া জন্য প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, ‘আমি পূর্বপরিকল্পিত পরিস্থিতির শিকার। আমাকে এই মিথ্যা মামলায় জেল খাটিয়ে অপমান করা হয়েছে। এর আগেও আমাকে কীভাবে অপমান করা হয়েছে, কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে, মারধর করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে, তা দেশবাসী দেখেছে।’
এর আগে আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে তাঁর আইনজীবী শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের জামিন চাইলে আদালত দুই পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের কারা তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ ঘোষ জানান, আদালত জামিন মঞ্জুর করার পর জামিনের কপি আদালতের মাধ্যমে বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে এসে পৌঁছায়। পরে সেটি যাচাই–বাছাই করে বিকেলে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সবিতা হালদার, আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন।

রিকশায় ডেটিং হাসি,কান্না

‘এই মামা যাবা। কোথায় যাবেন। আরে একটু ঘোরাঘুরি করবো। কত সময় ঘোরবেন। দুই ঘণ্টা। পাঁচশ’ টাকা লাগবে। এতো কেন। তিনশ’ টাকা  দেবো। না মামা হবে না। আচ্ছা আরো পঞ্চাশ টাকা দেবো। ঠিক আছে উঠেন।’ এভাবেই হয় দরকষাকষি। তারপর রিকশায় উঠে শুরু হয় বিভিন্ন অলিগলিতে ঘোরাঘুরি। ধীরে ধীরে চলতে থাকে রিকশা। ফিসফিস গল্প, খুনসুটি। আনন্দের অট্টহাসি। আবার খানিকটা সময় নিশ্চুপ। রাগ-অভিমান। ভালোলাগা-ভালোবাসা।  রাজধানীতে এখন রিকশায় ডেটিং বাড়ছে। এবং এর তালিকায় এগিয়ে আছেন তরুণ-তরুণীরা।
ঘণ্টা প্রতি একটি নির্দিষ্ট টাকা রিকশাচালকদের দিয়ে নিজের মনমতো প্রিয়জনের সঙ্গে সময় পার করা যাচ্ছে। রাজধানীর টিএসসি এলাকায় গত শুক্রবার গল্পের ছলে কথা হয় এমনি কয়েক জুটির সঙ্গে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম এবং সিলভি। দুজনেই যশোরের বাসিন্দা। সিলভির বাবা ঢাকায় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি পরিবারের সঙ্গেই থাকেন। নাঈম কাঁঠালবাগানের একটি ম্যাচে কিছু সহপাঠীদের সঙ্গে আছেন। ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পরই দুজনের পরিচয়। নাঈম বলেন, পরিচয়ের পরই সিলভির সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক আরো গভীর হতে থাকে। তারপরই আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসতে শুরু করি। ক্লাস শেষে প্রায়ই আমরা ঘুরতে বের হই। সিলভি বলেন, আমি পরিবারের সঙ্গে থাকি। সেজন্য আমার রাতে তেমন একটা ঘোরাঘুরি সম্ভব হয় না। মাঝে মধ্যে বান্ধবীদের সঙ্গে ঘুরার কথা বলে বের হয়ে নাঈমের সঙ্গে আড্ডা দেই। তবে আমরা দুজনই ইউনিভার্সিটি এলাকায় রিকশায় ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করি। কারণ জানতে চাইলে নাঈম এবং সিলভি বলেন, রিকশা দিয়ে ঘুরার মধ্যে অন্যরকম একটা মজা আছে। বিশেষ করে এই গরমের দিনে রিকশায় ঘুরতে অনেক স্বস্তি লাগে। বেশ ভালোভাবেই খুনসুটি করা যায়। আবেগ-অনুভূতি। ভালোলাগা-ভালোবাসা।  খুব কাছ থেকেই শেয়ার করা যায়। শুধু আমরা না। এখানে অনেকেই রিকশা দিয়ে ডেটিং করতে পছন্দ করেন। তবে সন্ধ্যার পর এই ডেটিং জমে ভালো।
এরকমই আরেক জুটি তারিন আর রায়হান। তারিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র রায়হান। তাদের দুজনের মধ্যেই প্রেমের সম্পর্ক আছে দুই বছর ধরে। সময় পেলেই তারা রিকশা করে বের হয়ে পড়েন। বেশিরভাগ সময়ই তারা ঘণ্টা প্রতি রিকশা ভাড়া করেন। রায়হান এবং তারিন জানান, শহরের বেশকিছু জায়গায়ই এখন  ডেটিং করার জন্য ঘণ্টা প্রতি রিকশা ভাড়া করা যায়। কেউ এক ঘণ্টা। আবার অনেকে দুই ঘণ্টার জন্য রিকশা ভাড়া করে ঘুরে বেড়ান এদিক-সেদিক। কেউ কেউ রিকশা ভাড়া করে শহরের দূরে কোথাও চলে যায়। এবিষয়ে তারা অনেকটাই খোলামেলা কথা বলেন। কিছুটা সময় কাছাকাছি থাকা, একটু খুনসুটি, প্রিয় মানুষের হাতটি ধরে রাখা, গল্প-আড্ডা, মাস্তি ভালোই সময় পার হয়। তারা দুজনেই বলেন, একটা সিএনজি অথবা মাইক্রো ভাড়া করে ডেটিং করা অনেক ব্যয়বহুল। রিকশা দিয়ে যেভাবে সময় কাটানো যায় সেই তুলনায় গাড়িতে করে কিছুটা অস্বস্তিবোধ হয়। শুধু নাঈম-সিলভি, তারিন-রায়হান জুটি নয়, ঢাকা শহরে রিকশায় ডেট করার প্রতি ঝুঁকছেন অনেক তরুণ-তরুণী।  শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অনেক রিকশা চালকদের সঙ্গে আলাপ করে পাওয়া যায় এরকম তথ্য। ফরিদপুরের বাসিন্দা রিকশা চালক দুলাল জানান, তিনি গত চার বছর ধরে শাহবাগ এলাকায় রিকশা চালিয়ে আয় করেন। তিনি বলেন, এই চার বছরে এই ঢাকায় এসে অনেক কিছুই বুঝতে  পেরেছেন। কম বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রায়ই তার রিকশায় উঠেন। নিউমার্কেট, ঢাকা মেডিকেল, গাউছিয়া, আজিমপুর, ইডেন কলেজ, নাজিমুদ্দিন রোড, জেলখানা, চক বাজার এসব এলাকাতে তিনি সাধারণত ট্রিপ নিয়ে যান। বিভিন্ন বয়সের যাত্রীদের ভিড়ে অনেক সময় কম বয়সী ছেলেমেয়েরা রিকশায় উঠেন। তবে সন্ধ্যার পরে বেশির ভাগ ট্রিপই হয় তরুণ-তরুণীদের। আর ঘণ্টাপ্রতি রিজার্ভ ট্রিপ পাওয়া যায় বেশি। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের আনাগোনা শাহবাগ-টিএসসি এলাকায় বেশি লক্ষ্য করা যায়। তারাই ভাড়া করে এই গলি সেই গলিতে অযথাই ঘুরে। দুলাল জানান, ঘণ্টাপ্রতি ২শ’ টাকা আবার অনেক সময় আরো বেশি টাকা পাওয়া যায়। তবে কিছু ছেলেমেয়েরা রিকশায় উঠে অনেক ধরনের অসভ্যতা করে। যেদিকে অন্ধকার সেদিকেই নিয়ে যায়। তিনি বলেন, আমি কিছু বলতে পারি না। গরিব মানুষ কয়টা টাকা আয় হলে আমার ভালো। অনেক সময় মন চায় তাদেরকে রিকশা থেকে নামিয়ে দেই। তারা মনে করে আমি সামনের দিকে তাকিয়ে রিকশা চালাই। কিছুই হয়তো বুঝি না। কিন্তু আমি সবই বুঝতে পারি। তারা আশেপাশে কে আছে কে নেই এসব খেয়ালই করে না।
সংসদ ভবনের আশেপাশের এলাকায় রিকশাচালক চালায়  নোমান। আলাপ করতে করতে এক সময় নোমান বলতে থাকেন তার বাড়তি আয়ের গল্প। নোমান বলেন, সারাদিন যা আয় হয় তার চেয়ে বেশি আয় হয় সন্ধ্যার পর। তখন সংসদ ভবন এলাকায় তরুণ-তরুণীরা ভিড় করে। একটু হাঁটাহাঁটির পর রিকশা ভাড়া করে বিভিন্ন দিকে নিয়ে চলে যায়। তখন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া দাবি করলেও তারা দিতে রাজি হয়ে যান। কারণ রিকশায় তারা নিজেদের মতো করে সময় পার করতে পারেন। হৈ-উল্লাসে মেতে থাকেন সবসময়। কিছু কিছু সময় অনেকেই ঝগড়াঝাটি ও কান্নাকাটিও করেন। অনেক সময় এই ঝগড়া চরম আকার ধারণ করে। নোমান আরো বলেন, সংসদ ভবন এলাকায় অধিকাংশ রিকশাচালকই সন্ধ্যার পর বাড়তি অনেক টাকা আয় করেন। তরুণ-তরুণীরা ডেটিং করার জন্য তাদের রিকশা ভাড়া করেন। অনেকেই  মোটরসাইকেলে করে আসেন। পরে মোটরসাইকেল লক করে রিকশা ভাড়া করে একসঙ্গে ঘুরেন।
খোঁজ নিয়ে এবং বিভিন্ন এলাকার রিকশাচালকের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি, শাহবাগ-টিএসসি, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা-বোটানিক্যাল গার্ডেন এরিয়া, খিলগাঁও, গ্রীন রোড, নিউমার্কেট, ইডেন কলেজ-আজিমপুর এলাকা এবং পুরান ঢাকার কিছু জায়গায় রিকশায় ডেটিং চলে।

‘গরু বিক্রি, জবাই বন্ধের নির্দেশনা অসাংবিধানিক’

গরু বিক্রি ও জবাই নিষিদ্ধ করতে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে তাতে ভীষণ চটেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরকারের এমন পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, আমরা কি খাবো সে সিদ্ধান্ত কেন্দ্র আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। এমন নির্দেশ আমরা মানতে বাধ্য নই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। এতে বলা হয়, সোমবার এ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন মমতা। এ সময় তিনি বলেন, সরকারের এমন একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই হবে আইনি। কারণ, এই নির্দেশনার মাধ্যমে দেশের ফেডারেল যে কাঠামো রয়েছে তা ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। তিনি মোদি সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে ধর্ম নিরপেক্ষতার বিরোধী, এন্টি-ফেডারেল বলে আখ্যায়িত করেন। মমতা বলেন, আমরা কি খাবো সে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার নিতে পারে না। আমি তাদের কাছে অনুরোধ করবো তারা যেন এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে। তিনি দাবি করেন, ধর্ম নিরপেক্ষ সব দলই এ ইস্যুতে তার অবস্থানকে সমর্থন করেন। আইনিভাবে এ সমস্যার মোকাবিলা করা হবে। এ সময় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেন। বলেন, গণতন্ত্র নিয়ে খেলা করবেন না। ধ্বংস করবেন না ফেডারেল কাঠামো। উল্লেখ্য, কেরালা রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের গরু বিষয়ক নির্দেশনার তীব্র সমালোচনা করার একদিন পরে মমতা এমন প্রতিক্রিয়া দেখালেন। এ বিষয়ে কেরালা রাজ্য সরকার আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, গবাদি পশু জবাইয়ের জন্য বিক্রি করা নিষিদ্ধ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে তার পাল্টা একটি আইন প্রণয়ন করবেন তারা। এ জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও আরএসএস’কে লক্ষ্য করে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ী বিজয়া বলেছেন, রাজ্যের মানুষের খাদ্যভ্যাস কি হবে সে শিক্ষা দিল্লি বা নাগপুর থেকে নির্ধারণ করে দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ওদিকে বিরোধী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সোমবারকে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে একটি ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে। এ ইস্যু নিয়ে যখন তীব্র বিতর্ক চলছিল তখন রোববারই ভারতীয় যুব কংগ্রেসকর্মী রিজিল মুকুলতি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা নেয় পুলিশ। তাতে অভিযোগ করা হয়, তারা কান্নুর এলাকায় একটি বাছুর জবাই করেছেন। এরপর তার মাংস রান্না করে বিতরণ করেছেন। রাজ্যের সর্বত্র ‘গরুর মাংস উৎসব’ পালনের অংশ হিসেবে কংগ্রেস ও বাম দলগুলো এ কাজ করে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের গরু বিক্রি ও জবাই বন্ধের নির্দেশনার প্রতিবাদ জানানো হয়। ওদিকে কেরালায় এনডিএ জোট গতকাল মঙ্গলবার প্রতিবাদ দিবস পালন করছে। কান্নুরে গরুর মাংসের যে উৎসব পালন করা হয়েছে তার একটি ভিডিও-ও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটাকে নিষ্ঠুরতা বলে আখ্যায়িত করেছেন কেরালা বিজেপির সভাপতি কুম্মানাম রাজাসেখারান। তিনি বলেছেন, কোনো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এমন কাজ করা সম্ভব নয়।

কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেয় শিমুল

খুলনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফুলতলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দীন মিঠু ও তার দেহরক্ষী নওশের আলী হত্যার মোটিভ উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে অর্থ যোগানদাতা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লন্ডন প্রবাসী ড. মামুন রহমান ও ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেনের অনুসারী শিমুল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে কিলিং মিশনে অংশ নেয় সন্ত্রাসীরা। গ্রেপ্তারকৃত ফুলতলা উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব হাসনাত রিজভী মার্শালের আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
গতকাল দুপুরে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হাসনাত রিজভী মার্শাল ভূঁইয়ার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লন্ডন প্রবাসী ড. মামুন রহমান হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে অর্থের যোগান দেন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় ফুলতলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাসনাত রিজভী মার্শাল খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কান্তি দালালের আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। সোমবার সন্ধ্যায় র‌্যাব সদস্যরা খুলনা জিলা স্কুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে জোড়া হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে শিমুল হাওলাদার এবং মুশফিকুর রহমান রিফাত ভূঁইয়া ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। তবে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার তাজুল ইসলাম রনিকে রিমান্ডে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি দিদার আহমেদ বলেন, হাসনাত রিজভী মার্শাল জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে, ড. মামুন রহমান এবং জেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক সরদার আলাউদ্দীন মিঠু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিল। কিন্তু মিঠু থাকলে মামুন রহমান মনোনয়ন না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে মোতাবেক মার্শালের মাধ্যমে তিনি ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। যা ২০ লাখ এবং ১০ লাখ করে দু’কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। আর মার্শাল চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) প্রধান শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে কিলার ভাড়া করে। চুক্তি অনুযায়ী মার্শাল ৩০ লাখ টাকা নিয়ে ২০ লাখ টাকা শিমুলেরর হাতে দেন। বাকি ১০ লাখ টাকা অন্যান্য কাজে খরচের জন্য রেখে দেন। ২৫শে মে শিমুলের নেতৃত্বেই মিঠু ও তার দেহরক্ষী নওশের গাজীকে হত্যা করা হয়। শিমুল ভূঁইয়া নিহত বিএনপি নেতা মিঠুর পিতা সরদার আবুল কাশেম হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সে ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেনের অনুসারী হিসাবে পরিচিত। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে কাশেম সরদার হত্যা মামলার অপর সাজাপ্রাপ্ত আসামি শিমুল ভূঁইয়ার ছোট ভাই শিবলু ভূঁইয়াকে আওয়ামী লীগে যোগদান করে দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেঞ্জ ডিআইজি বলেন, পূর্ব শত্রুতা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পারিবারিক কারণেই চরমপন্থিদের দিয়ে মিঠুকে হত্যা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরো চারজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মিঠু নিহত হওয়ার পরে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আকরাম হোসেন সাংবাদিকদের কাছে প্রচার করেন শিমুল ভূঁইয়া দেশের বাহিরে রয়েছে। তার এ প্রচারণা প্রসঙ্গে ডিআইজির কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান কি করে জানলেন শিমুল ভূঁইয়া দেশের বাহিরে। মামলা তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ মামলায় যার বিরুদ্ধেই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাবে- তাকেই গ্রেপ্তার করা হবে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এ মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রেসব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬ খুলনার পরিচালক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান ও একরামুল হক, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মামুন রহমানের বিরুদ্ধে ডিআইজির করা অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপির একজন নেতা আর একজনকে টাকা দিয়ে হত্যা করবে সে ধরনের প্রতিযোগিতা বিএনপির মধ্যে নেই। তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে অংশ গ্রহণকারীরা ফুলতলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালীর অনুসারী। তাকে রক্ষা করতে পুলিশ ভিন্ন তথ্য প্রচার করছে।
অপরদিকে নিহত বিএনপি নেতা সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর ভাই সরদার সেলিম মিঠুর দেহরক্ষী শিমুল হাওলাদারের উদ্ধৃতি দিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, এক মাস আগে শিমুল এসে মিঠুকে জানায়, তাকে হত্যার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম, ড. মামুন রহমান এবং মার্শাল বৈঠক করেছে। বৈঠকে মোট এক কোটি টাকা লেনদেনের কথা হয়। এর মধ্যে আকরাম ৫০ লাখ এবং মামুন রহমান ৫০ লাখ টাকা দেবে। কিন্তু মামুন রহমান ৫০ লাখের পরিবর্তে ৩০ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। এ খবর জানার পর মিঠু সতর্ক চলাফেরা করতো। বাইরে সিকিউরিটি ছাড়া বের হতো না। বিষয়টি র‌্যাব এবং পুলিশকে জানানো হয় বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২৫শে মে রাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মিঠু ফুলতলার দামোদরে তার নিজ অফিসে বৈঠক করছিলেন বিএনপি নেতা মিঠু। এ সময় ডিবির জ্যাকেট পরে অস্ত্রধারীরা সেখানে প্রবেশ করে মিঠুর মাথায় গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় মিঠুর দেহরক্ষী নওশের আলী অফিসের শাটার বন্ধ করার চেষ্টা করলে তাকেও গুলি করা হয়। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেও মারা যায়।

কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসের কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, নিহত ৮০

কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসের কাছে বড়সড় বিস্ফোরণ হয়েছে। গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছে। বুধবার কাবুলের ওয়াজির মোহাম্মদ আকবর খান এলাকাতে এই বিস্ফোরণ হয়। ওই এলাকাতেই একাধিক দেশের দূতাবাস ও প্রেসিডেন্টের বাড়ি রয়েছে। বিস্ফোরণ স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে থাকা একটি বাড়ির জালনার কাচ ভেঙে গেছে। পাশাপাশি ভারতীয় দূতাবাসের কাচও ভেঙে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তবে দূতাবাসের কর্মীরা নিরাপদেই আছেন বলে জানিয়েছেন ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধি মনপ্রীত বোহরা। আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী (‌এএনএসএফ)‌ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ টুইট করে জানিয়েছেন যে, দূতাবাসের ভারতীয় কর্মকর্তারা সুরক্ষিত আছেন৷ বোমাটি দূতাবাসের প্রায় ৫০ মিটার দূরত্বে রাখা ছিল বলে জানা গিয়েছে৷ এখন পর্যন্ত ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি কোনো সংগঠন৷ তবে বিস্ফোরণের নেপথ্যে আল কায়দা বা আন্তর্জাতিক সংগঠন ইসলামিক স্টেটের হাত থাকতে পারে মনে বলে করা হচ্ছে৷ গত বছরের মার্চ মাসে আফগানিস্তানের জালালাবাদে ভারতীয় কনস্যুলেটে হামলা চালানো হয়েছিল৷ ওই হামলায় মৃত্যু হয় ৯ জনের৷ তবে বুধবারের হামলা নেপথ্যে কারা ছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ উল্লেখ্য, সম্প্রতি আফগানিস্তানে সরকার ও আন্তর্জাতিক সেনার বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মনসৌরি’র ঘোষণা করেছে তালিবান৷ তার জেরেও এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান৷

পানির তীব্র সঙ্কটে ব্যাঙ্গালোর

ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর একটি ব্যাঙ্গালোর। বিশ্বজুড়ে এর পরিচিতি রয়েছে সিলিকন ভ্যালি হিসেবে। তথ্য প্রযুক্তির শহর জুড়ে এর যেমন সমাদর রয়েছে তেমনি রয়েছেন নয়নাভিরাম সুউচ্চ আকাশছোঁয়া ভবনও। কিন্তু এর ভিন্ন দিকও রয়েছে। শহরটির এমন চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্যের বিপরীতে সবচেয়ে বড় সংকট হলো পানির সংকট। পরিস্থিতি এমন যে বলা হচ্ছে দ্রুতই শুকিয়ে যাচ্ছে ব্যাঙ্গালোর। সন্দেহ নেই এটাই ভারতের প্রথম কোন শহর যেটি চলছে রীতিমত পানি ছাড়াই। সকালে বাসা থেকে বের হলেই দেখা যায় শুরু হচ্ছে সকালের কর্মব্যস্ততা আর এ সময়টাতেই আপনি দেখবেন শহরের রাস্তায় রাস্তায় অসংখ্য ট্যাংকার। তারা নিয়ে যাচ্ছে এখন এই মূহুর্তে শহরের সবচেয়ে দামী পণ্য- পানি। কেন এটি এতো দামি হয়ে উঠলো। পানি ট্যাংকার অপারেটর হরিশ সেটিই ব্যাখ্যা করছিলেন। ‘আমরা যদি পানি সরবরাহ না করি তাহলে অন্যরা তো কোন পানিই পাবে না। আগে সবই ছিলো নিচু জমি। লোকজন পানি তুলে চাষাবাদ করতো। পানিও পাওয়া যেতো সহজে। ওই সময় ৩০০ ফুট গভীরেই পানি পাওয়া যেতো। এরপর এটি ৫শ’, ৭শ’ ৫০, এক হাজার, বারো শ’ ফুট। আর এখন ১৪শ’ থেকে পনেরশ’ ফুট গভীরে যেতে হয় পানির জন্য।’ এখন নানা কোম্পানি পানির গভীর জলাধার খুড়ে সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করে তা পৌঁছে দেয় গ্রাহকের কাছে। আর এজন্য মাটি খুঁড়তে হয় এক থেকে দেড় হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত। এমন জলাধার থেকে ট্যাংকার ভর্তি করে পানি নিয়ে গাড়ি রওনা হয় শহরের নানা জায়গায়।
প্রতিদিন লাখ লাখ লিটার ভর্তি পানি নিয়ে হাজার হাজার ট্যাংকার প্রতিদিন এভাবে ছুটে চলে ব্যাঙ্গালোর শহরের আনাচে কানাচে। এটি ভারতের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর একটি। কিন্তু এর প্রচলিত যেসব পানির উৎস ছিলো সেগুলো এখন শুকিয়ে গেছে। যেটুকু বাকী আছে তার পানিও চরমভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে। আর সে কারণেই শহরটির বহু মানুষ এখন নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বেসরকারি পানি সরবরাহকারীদের ওপর। আর এই পানি সরবরাহের বিষয়টিও এখন নিয়ন্ত্রণ করে একটি চক্র, যাদের বলা হয় ওয়াটার মাফিয়া। সফটওয়্যার পেশাজীবী সুবির বোস বসবাস করেন একটি কমপ্লেক্সে, যেখানে বাস করে আরও অন্তত দুশো পরিবার, যাদের সবসময় পানি বাহী ট্যাংকার অপারেটরদের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়। ‘আমার মনে হয় এটি আসলে একটি চক্র বা জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করার মতো। কিন্তু এটা এমন কিছু যা নিয়ে লোকজন প্রকাশ্যে কিছু বলতে চায় না। আমরা এখনো পানি পাচ্ছি কিন্তু এর গুনগত মান নিয়ে বেশ সংশয় আছে। তাদের সাথে আলোচনা করাই কঠিন। পানির দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। কারণ এর চাহিদাও আছে অনেক। কিন্তু কোনো কথাই এ নিয়ে বলা যায় না।’ ব্যাঙ্গালোরে প্রায় চার লাখ পানির কূপ রয়েছে যাতে করে প্রতিনিয়ত শেষ হচ্ছে মাটির নিচের পানি। পরিবেশ কর্মী এস বিশ্বনাথের মতে, প্রতিদিন শহরটিতে প্রয়োজন হয় অন্তত ৪ থেকে ৫শ’ মিলিয়ন লিটার পানি। সে কারণে কূপগুলো যদি শুকিয়ে যায় তাহলে প্রাণ হারাতে শুরু করবে শহরটি। ‘সে কারণে এই কূপগুলো আবার সক্রিয় করা কিংবা পুনরুজ্জীবিত করাটাই এখন বড় সংকটের বিষয়। অথচ ১৮৯০ সালের দিকে ব্যাঙ্গালোরই পানি ব্যবস্থাপনায় পাইওনিয়ার ছিলো। এ শহরকে এখনকার সংকট সমাধানেও আবার সেভাবেই নতুন করে এগিয়ে আসতে হবে।’ সূত্র: বিবিসি

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলায় অভিযুক্ত শীর্ষ তিন বিজেপি নেতা

ভারতের এক বিশেষ আদালত বাবরি মসজিদ ধ্বংসের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ক'জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে অভিযুক্ত করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির সাবেক প্রধান লাল কৃষ্ণ আদভানি এবং অন্য দু'জন নেতা মুরলী মনোহর যোশি ও উমা ভারতী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য এরা উগ্রপন্থী হিন্দুদের প্রতি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরা সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওই ঘটনার পর ভারত জুড়ে যে দাঙ্গা বাধে তাতে প্রায় ২০০০ মানুষ মারা যায়। হিন্দুরা দাবি করে,
বাবরি মসজিদ যে জায়গাটিতে অবস্থিত সেখানে হিন্দুদের অন্যতম দেবতা রামের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু ১৬ শ' শতকে ওই এলাকায় মুসলিম আগ্রাসনের পরে হিন্দু মন্দিরটি ভেঙ্গে সেই জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো সিবিআই বরাবরই বলে আসছে যে রীতিমত পরিকল্পনা করেই মসজিদটি ভাঙা হয়েছিল। গত এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশের পর এই বিশেষ আদালত গঠন করা হয়। আদালত তার রায়ে বলেছে, এই মসজিদটি ধ্বংসের দায়দায়িত্ব বিজেপির এই তিনজন শীর্ষ নেতাকে গ্রহণ করতেই হবে। সূত্র : বিবিসি

নেপালে আবার বিমান বিধ্বস্ত : পাইলট নিহত

নেপালের একটি কার্গো বিমান বাজুরা জেলার কাছাকাছি জরুরি অবতরণকালে বিধ্বস্ত হলে বিমানটির পাইলট নিহত ও দুই ক্রু আহত হয়েছেন। দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বিযয়টি নিশ্চিত করে।চাল বহনকারী বিমানটি নেপালের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের একটি দূর্গম জেলা হুমলায় যাওয়ার পথে কোলটি বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। উদ্ধারকারীরা বিমান চালকের লাশ ও আহত ক্রু সদস্যদের উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, নেপালে গত তিন দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বিমান দুর্ঘটনা। এর আগে, শনিবার অন্য একটি কার্গো বিমান দুঘটনায় দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

মোদির সাথে দেখা করে বিপাকে প্রিয়াঙ্কা

চার দেশে সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে সদ্য স্পেনে গিয়ে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু খবরের শিরোনামে নতুন করে উঠে এলো বার্লিন সফর। সৌজন্যে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। প্রধানমন্ত্রীর সামনে পশ্চিমি পোশাক পরে নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের সমালোচনার পাত্রী হলেন অভিনেত্রী। বলিউডের তুলনায় ইদানীং হলিউডেই বেশি দেখতে পাওয়া যায় প্রিয়াঙ্কাকে। টেলিভিশন সিরিজ কোয়ান্টিকোর নতুন পর্বের শুটিং তো রয়েইছে। একইসঙ্গে রয়েছে হলিউড ছবি বেওয়াচের প্রচারের দায়িত্ব। সেই সূত্রেই বার্লিনে গিয়েছিলেন পিগি চপস।
একই সময় বার্লিনে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ঘটনাচক্রে একই হোটেলে ছিলেন দু’জনে। অভিনেত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতও সারেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এই সাক্ষাতেই বিপাকে প্রিয়াঙ্কা। কারণ তার পোশাক। অস্ট্রেলিয়ার ডিজাইনার জিমারম্যানের পোশাক পরেছিলেন অভিনেত্রী। সাদা রঙের সেই ফ্লোরাস ড্রেস হাঁটুর খানিকটা উপরেই শেষ হয়ে গেছে। এই পোশাকের সৌজন্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রোষের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী। অনেকেই তার পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সামনে কী ধরনের পোশাক পরে বসতে হয়, তা কি অভিনেত্রীর জানা নেই? অনেকে আবার জানতে চেয়েছেন বিদেশে গিয়ে কি প্রিয়াঙ্কা নিজের দেশের সংস্কৃতি ভুলে গিয়েছেন? অবশ্য যাবতীয় বিতর্ক থেকে বহু মাইল দূরে প্রিয়াঙ্কা আপাতত বেওয়াচ ছবির প্রচার নিয়েই ব্যস্ত। প্রধানমন্ত্রীও পৌঁছে গিয়েছেন স্পেনে। সেখানে দুই দেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।

ভারতকে সাবধান করে দিল চীন

ভারতকে আবারো সাবধান করে দিল চীন। যে অরুণাচল প্রদেশকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে, সেখানে পরিকাঠামো গড়ে তোলার ব্যাপারে এবার ভারতকে সাবধান, সংযম দেখাতে বলল তারা। গত সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রহ্মপুত্রের ওপর দেশের দীর্ঘতম এই সেতুর সূচনা করেন। পরলোকগত গায়ক ভূপেন হাজারিকার নামাঙ্কিত এই সেতু অসমের সঙ্গে অরুণাচলের সংযোগ স্থাপন করেছে। চীনের দাবি, অরুণাচল তিব্বতেরই দক্ষিণ অংশ। মঙ্গলবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা আশা করি, যৌথভাবে বিতর্কের নিরসন করা, সীমান্তে শান্তি, সুস্থিতি বজায় রাখা নিয়ে চীনের সঙ্গে চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ভারত সংযম দেখাবে, সাবধান হবে।
চীন-ভারত সীমান্ত এলাকার পূর্ব এলাকা নিয়ে চীনের অবস্থান স্পষ্ট, সঙ্গতিপূর্ণ। দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনার পথেই ভারত ও চীনের ভূখণ্ড-সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়ে ফেলা উচিত বলেও অভিমত জানিয়েছে বেইজিং। ৯.২ কিমি দীর্ঘ ঢোলা-সাদিয়া সেতু চালু হওয়ায় আসাম ও অরুণাচলের দূরত্ব ১৬৫ কিমি কমবে, পাঁচ ঘন্টা সময়ও কম লাগবে দুটি রাজ্যের মধ্যে যাতায়াতে। পাশাপাশি এই সেতু গড়ে ওঠার ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অরুণাচল পৌঁছনোয় ঝঞ্ঝাট থাকবে না বলেও মত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের, যা ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চীনকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

রাশিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত : হতাহত ৬

রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় নগরী সারাতোভের কাছে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মঙ্গলবার এক সৈন্য নিহত ও অপর পাঁচ জন আহত হয়েছেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। দেশটির কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অ্যান্টোনোভ এএস-২৬ বিমানটির একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  সারাতোভ অঞ্চলের গভর্নর এক বিবৃতিতে বলেন, সৈন্যরা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিল। উল্লেখ্য, সোভিয়েতের নকশা করা এএন-২৬ বিমান রাশিয়া ও উন্নয়নশীল বিশ্বে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আজও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া মঙ্গলবার তাদের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে। কিম জং-উন এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ও জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তিন সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে দেশটি তৃতীয় এ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ব আকাশের দিকে উড়ে গিয়ে পরিকল্পিত লক্ষ্যের সাত মিটারের মধ্যে আঘাত হানে। এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর নিন্দা জানান এবং বলেন, এটি উত্তর কোরিয়ার একমাত্র মিত্র প্রতিবেশী দেশ চীনের প্রতি ‘অসম্মান’ জানানোর শামিল।

পোপকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান কানাডার প্রধানমন্ত্রীর

কানাডায় ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত স্কুলগুলোতে আদিবাসী শিশুদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল তার জন্য পোপ ফ্রান্সিসকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। জি-৭ সম্মেলন পরবর্তী সফরের অংশ হিসেবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী সোমবার ভ্যাটিকান সফরে যান এবং পোপের সঙ্গে দেখা করেন। ১৮৮০ সালের দিকে কানাডার আদিবাসীদের প্রায় দেড় লাখ শিশুকে সরকার পরিচালিত আবাসিক স্কুলে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভাষা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। এক শতাব্দিরও বেশি সময় কানাডা সরকার স্কুলগুলোতে অর্থায়ন করলেও এগুলো পরিচালনা করতো ক্যাথলিক গির্জা। এসব স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীই শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে কানাডার ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলেশন কমিশন’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আদিবাসী শিশুদের তাদের বাবা-মা ও সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে সাংস্কৃতিক গণহত্যা চালানো হয়েছিল। সেই কমিশন পোপের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবিসহ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করেছিল। সোমবার পোপের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদিবাসীদের প্রকৃত সমন্বয়ের মাধ্যমে কানাডার নাগরিকদের সামনে এগিয়ে যাওয়াটা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ আমি পোপকে সে বিষয়ে বলেছি। ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে তিনি কিভাবে সহযোগিতা করতে পারবেন সে বিষয়েও আমি আলাপ করেছি।’ পোপ ফ্রান্সিসকে আদিবাসীদের কাছে ক্ষমা চাইবার জন্য কানাডায় আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। সূত্র: বিবিসি

সন্তান হত্যার দায়ে মায়ের ২৬ বছর দণ্ড

অস্ট্রেলিয়ায় তিন শিশুকে হত্যা ও চতুর্থ শিশুকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মঙ্গলবার তাদের মাকে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তিনি আদালতে তার অপরাধ স্বীকার করেন। আকোন গুয়োদে নামের ওই নারী দক্ষিণ সুদানে গৃহযুদ্ধের কারণে পালিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। তিনি ২০১৫ সালে মেলবোর্নের উপকণ্ঠের একটি হ্রদে গাড়ি উল্টে ফেলে দেন। গাড়ির ভেতর চার সন্তানসহ তিনি নিজেও ছিলেন। এতে তার এক বছর বয়সী ছেলে বোল ও চার বছর বয়সী জমজ হ্যাঙ্গার ও ম্যাডিট প্রাণ হারান। উদ্ধার কর্মীরা ডুবন্ত গাড়ি থেকে তাকে ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলুয়ালকে উদ্ধার করে। আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানায়, গুয়োডে সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধের কারণে মারাত্মক মানসিক আঘাত পান।

ঝিনাইদহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের বহরামপুর গ্রামের নাগরতলা মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান। নিহতরা হলেন নিষিদ্ধঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা মাইদুল ইসলাম রানা (৫০) ও তাঁর সহযোগী আলিম উদ্দিন (৬০)। কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সাহা জানিয়েছেন, নিহত মাইদুল ইসলাম রানা কোটচাঁদপুরের বকশিপুর গ্রামের ফকির চাঁদ মণ্ডলের ছেলে এবং আলিম উদ্দিন উপজেলার বহরমপুর গ্রামের সলেমান মণ্ডলের ছেলে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।
র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, বহরামপুর গ্রামের নাগরতলা মাঠে চরমপন্থীরা অবস্থান করছে—এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় র‍্যাব। তখন জনযুদ্ধের কর্মীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মাইদুল ইসলাম রানা ও আলিম উদ্দিন। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে চিকিৎসক ফারুক হুসাইন তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, দুটি বিদেশি একনালা বন্দুক, ১৫টি গুলি, একটি হাঁসুয়া ও দুটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয় বলেও র‌্যাব দাবী করেছে। র‍্যাবের দাবী, এ সময় তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন হাবিলদার মহসিন আলী, কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ। কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মিরসরাই উপকূলে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট জনগন

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকায় পুলিশের সোর্স পরিচয়ে প্রায় প্রতিদিন ব্যাপক চাঁদবাজির অভিযোগ উঠেছে। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই সিভিল পোশাকে পুলিশের সাথে উপকূলীয় এলাকার বাজার বদিউল্লাহ পাড়ায় আসে পুলিশের সোর্স। উপকূলীয় এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ সন্ধ্যার পরপরই নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য বাজারে আসার সময় এবং বাজার শেষে বাড়িতে যাওয়ার সময় প্রথমে পুলিশের র্সোস পরিচয় দিয়ে প্রায় প্রতিদিন কাউকে না কাউকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশির সময় কৌশলে তার পকেটে ঢুকিয়ে দেয়া হয় বিভিন্ন মাদকদ্রব্য যেমন, ইয়াব ও গাঁজা ইত্যাদি। পরে তার কাছে মাদক দ্রব্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ কখনোই আটককৃতদের থানায় নেওয়া হয়না, তাদেরকে বিভিন্ন অংকের টাকার বিনিময়ে কিছুক্ষন পর ছেড়ে দেয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই টাকা নেওয়ার দরকষাকষির দায়িত্ব পালন করে মিরসরাই থানা পুলিশের সোর্স মো. রাজু ওরফে (কালাইয়্যা)। এ ব্যাপারে সাম্প্রতিক সময়ে ভূক্তভোগী ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের বদিউল্লাপাড়া গ্রামের গুরা মিয়ার পুত্র আবদুল মন্নান (২৫) বলেন, গত ২৬ মে (শুক্রবার) সন্ধ্যায় আমি ব্যবসায়িক কারনে নোয়াপাড়া মসজিদের সামনে আসলে তিনজন সিভিল পোশাকের পুলিশ ও পুলিশের র্সোস রাজু আমাকে আটক করে আমার পরনের শার্ট ছিড়ে ফেলে। এসময় পুলিশের সোর্স রাজু আমার পকেটে থাকা নগদ বিশ হাজার টাকা নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরে বিষয়টি আমি স্থানীয় ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. ইউনুসকে বললে তিনি বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে আমাকে আশ্বাস দেয়।
পরবর্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে মিরসরাই থানার সামনের সালিস ঘরে বিষয়টি নিয়ে দুই জন পুলিশ, ইউনুস মেম্বার ও আমার উপস্থিতিতে আমাকে উক্ত টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় আমার কাছ থেকে ওই বিশ হাজার টাকা পুলিশের সোর্স রাজু নিয়েছিলো। এ ব্যাপারে আরেক ভূক্তভোগি ব্যবসায়ী আবু তাহের জানান, কিছুদিন আগে সিভিল পোশাকের তিন জন পুলিশ সহ পুলিশের সোর্স রাজু বদিউল্লাহ পাড়ায় অবস্থিত আমার ভাইয়ের দোকানে গিয়ে আমাকে আটক করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আমি দোকান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হই। পরে পুলিশ আমার দোকান ভাংচুর করে এবং দোকানের ক্যাশ বক্সে থাকা টাকা পয়সা নিয়ে যায়। অপর এক ভূক্তভোগি মো. আজমির (১৬) জানান, মাস দেড়েক আগে পুলিশের সোর্স রাজু আমাকে আটক করে জোর করে আমার পকেটে লাল একটা বড়ি (ইয়াবা) ঢুকিয়ে দিয়ে আমাকে মারধর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলো। পরে এখানকার ছাত্রনেতা শওকতের মধ্যস্থতায় আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগেও একবার আমাকে ধরে ব্যাপক মারধর করে এবং আমার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া পুলিশের সোর্স রাজুর বিরুদ্ধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল করা গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। রাতের বেলায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা নেয় সে। গাড়ি থেকে টাকা নেয়ার সময় দুই বছর পূর্বে উপজেলার নিজামপুর কলেজ এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সে। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ফিরে আবার পুনরায় চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। এ বিষয়ে পুলিশের সোর্স রাজুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ পুরোটা মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানিনা। এ ব্যাপারে মধাদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. ইউনুস বলেন, প্রায় প্রতিদিনই পুলিশের এ এস আই আনোয়ার, এ এস আই শওকত ও পুলিশের সোর্স রাজু আমাদের বদিউল্লাহ পাড়ায় এসে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের নামে সাধারণ জনগনকে ধরে হয়রানি করে। ব্যাপারটি আমি মঘাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেবকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছি। ভূক্তভোগী মন্নানের টাকা ফেরতের বিষয়ে থানার সালিস ঘরে বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, গত শনিবার (২৭ মে) সন্ধ্যা ৭ টায় মিরসরাই থানার উচ্চপদস্থ কয়েকজন অফিসার সহ মন্নানের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যাপারে একটি বৈঠক হয়েছিলো। এ ব্যাপারে মঘাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টার জানান, আমি বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম। তাছাড়া এ বিষয়ে আমার কাছে এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট ভাবে কেউ এ ব্যাপারে অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি এবার উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করবো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই থানার ওসি তদন্ত মো. জাকির হোসেন বলেন, পুলিশের সোর্সের চাঁদাবাজির বিষয়ে আমি কিছু জানিনা এবং পুলিশের সোর্স রাজু নামের কাউকে আমি চিনিনা। পুলিশের সোর্স রাজু কতৃক নেয়া টাকার ব্যাপারে মিরসরাই থানায় কোন বৈঠকের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে মঘাদিয়া ইউনিয়নের একজন মেম্বার কাল থানায় এসেছিলো। এ ব্যাপারে ওসি স্যার থানায় আসলে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবো।

খুলনায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন বাইপাস সড়কের আকমানের মোড়ের খাল হতে অজ্ঞাত (৫৫) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। তবে লাশের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজন লাইনবিলপাবলা খালের মধ্যে ভাসমান লাশটি দেখে আড়ংঘাটা থানায় খবর দিলে থানা পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। আড়ংঘাটা থানার সেকেন্ড অফিসার শেখ হিলাল উদ্দীন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শেষ রাতের দিকে গুলি করে লাশটি খালে ফেলে দেয়া হয়। লাশটির বাম কানে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। এখনও পর্যন্ত তার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের জন্য লাশটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সৈয়দপুরে কামারপুকুর ইউনিয়নের বাজেট ঘোষনা

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে মঙ্গলবার সন্ধায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য ৩ কোটি ১৭ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৩০ টাকার বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে। বাজেটে উদ্বৃত্ব রয়েছে ৮৭ হাজার ৯৩৫ টাকা। ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে বাজেট পেশ করেন ইউপি চেয়ারম্যান মো: রেজাউল করিম লোকমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজমল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু ছালেহ মো: মুসা জঙ্গী, জেলা পরিষদ সংরক্ষিত নারী সদস্য ইসরাত জাহান পল্লবী, ইউপি সচিব মো: আহসান হাবীব, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, সাধারন সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

জনগণের অধিকার ফেরাতে বর্তমান সরকারকে বিদায় করতে হবে : ভিপি সাইফুল

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি জনগণের দল। জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে দিয়েছিলেণ বলেই আ’লীগের পুনর্জন্ম হয়েছে। কিন্তু আ’লীগ গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় শাসন চালু হয়েছে। বিএনপিকে সভা সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। তাই জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে বর্তমান সরকারকে বিদায় করতে হবে। রোজার পর সেই ডাক দেবেন খালেদা জিয়া। সেই ডাকে সাড়া দিতে রাজপথে নামতে হবে। তিনি মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের নবাববাড়ী রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন। উক্ত সভায় জিয়াউর রহমানের জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, কেন্দ্রীয় সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শোকরানা,
জিয়া পরিষদের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মহিলা দলের সভানেত্রী লাভলী রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলম, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা পপন, পরিমল চন্দ্র দাস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ মেহেদী হাসান হিমু, শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, কৃষকদলের সাধারন সম্পাদক এসএম রফিকুল ইসলাম, জাসাস সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু, আলীমুরাজি তরুন, যুবদল সভাপতি মাসুদ রানা মাসুদ, ছাত্রদলের শফিকুল ইসলাম শফিক প্রমুখ। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান, আলী আজগর হেনা, আবুল বাশার, প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন , মোশারফ হোসেন স্বপন, লিটন শেখ বাঘা, নাজমা আক্তার প্রমুখ। এ ছাড়া দিবসের অন্যান্য কর্মসূচীতে ছিল, দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ জিয়ার প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ।

রাঙ্গামাটিতে ‘মোরা’র আঘাতে ২ জন নিহত

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে রাঙ্গামাটি শহরে বসতঘরের উপর গাছ পড়লে এক স্কুলছাত্রী ও অপর এক নারী নিহত হয়েছে। নিহত স্কুলছাত্রীর নাম জাহিদা সুলতানা নাহিমা ও অপর নারী হাজেরা বেগম। সকালে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে শহরের ভেদভেদী ও আসামবস্তী এলাকায় বসতঘরের উপর গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়লে গাছ চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে দ্জুনের মৃত্যু হয়। এদিকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানে। তিন ঘন্টাব্যাপী ঘুর্ণিঝড়ের তান্ডবে রাঙ্গামাটি শহরের দুই শতাধিক ঘরবাড়ী বিধ্বস্থ হয়েছে। বসতঘর ও রাস্তার উপর ভেঙ্গে পড়েছে গাছপালা। ক্ষতি সাধিত হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন, কেবল টিভির লাইন, টেলিফোন লাইন ও মোবাইল টাওয়ারের। বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাঙ্গামাটি শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে কাচা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

২০২১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কাজ চলছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার যুগোপযোগী বাস্তবসম্মত টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, বেসরকারি খাতে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে উৎসাহ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০১৪ সালের পর দ্বিতীয় বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে ভারতের ত্রিপুরা থেকে ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মোট ১১ হাজার ৩৬৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে মোট ৬ হাজার ৪১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি পরমাণু শক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। বাসস

লালবাগ কেল্লার ভেতরে থাকা বাড়ি অপসারণের নির্দেশ

লালবাগ কেল্লার সীমানার মধ্যে থাকা জনৈক আবুল হাসেমের বাড়ি তিন মাসের মধ্যে অপসারণে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওই বাড়ির মালিককে দলিল মূল্য হিসেবে ৪০ লাখ টাকা দিতে বলেছে আদালত। এ বিষয়ে আনা এক রিভিউ আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ আজ এ রায় দেয়। আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের জানান, ২০১১ সালে লালবাগ কেল্লার সীমানার ভিতরে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে একই বছর হাইকোর্ট লালবাগ কেল্লার সীমানার ভিতরে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেয়। পরে এ আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত থাকা অবস্থায় এক রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে গত এপ্রিল মাসে লালবাগ কেল্লার সীমানার মধ্যে থাকা কী কী অবৈধ স্থাপনা আছে তা জানতে চায় আদালত। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একজন অধ্যাপকসহ তিনজনকে নির্দেশ দেয়। ওই কমিটি ২৫ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে লালবাগ কেল্লার সীমানার মধ্যে থাকা অবৈধ স্থাপনার মধ্যে জনৈক আবুল হাসেমের বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়। সে অনুয়ায়ী আজ আদেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

বাংলাদেশের সাগরে তল্লাশি করছে ভারতীয় নৌবাহিনী

বাংলাদেশের সীমানায় ভারতীয় নৌ-বাহিনীর একটি জাহাজ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে বলে ভারতীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোরা কক্সবাজার উপকূল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগের এক দিন পর এ অভিযানের খবর এলো। এই ঝড়ে সাতজনের মৃত্যুর খবর এলেও বাংলাদেশীরা কেউ নিখোঁজ আছেন কি-না সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোনো কিছু জানায়নি। এখন ভারতীয় হাই কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে চট্রগ্রাম থেকে ৯০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে অভিযান চলছে এবং তারা মনে করছে আরো লোকজন সমুদ্রে ভেসে থাকতে পারে। ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া তথ্য অনুযায়ী ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ আইএনএস সুমিত্রা এ অভিযান চালাচ্ছে মহেশখালী উপকূলে। ওই পোস্টে জাহাজটিকে ত্রাণবাহী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় হাই কমিশন দাবি করছে,
মহেশখালী এলাকায় একটি মৃতদেহসহ অন্তত ৩৩ জনকে উদ্ধার করেছে আইএনএস সুমিত্রা। তাদের ধারণা, এরা নৌকা ডুবে বা ঝড়ের তোড়ে বাড়িঘর থেকে ভেসে গিয়েছিলো। জীবিত আরও অনেকে সাগরে ভেসে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করে ফেসবুকের ওই পোস্টে বলা হয়েছে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। উদ্ধার অভিযান শেষে বা বাংলাদেশ নৌবাহিনী সেখানে কার্যক্রম শুরু করলে ভারতীয় জাহাজটি ত্রাণ হস্তান্তরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করবে। পোস্টটিতে অবশ্য উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের নৌ-বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে ।তবে বাংলাদেশ সরকার বা নৌবাহিনী কারো পক্ষ থেকে এ অভিযানের বিষয়ে কোনো কিছু জানানো হয়নি। সূত্র : বিবিসি

দুর্গত এলাকায় পুনর্বাসনের সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্গত এলাকার মানুষের পুনর্বাসনে সরকার সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘জনগণের সেবার জন্যই আমরা রাজনীতি করি। শুধু সরকারি দলে থাকলেই নয়, বিরোধী দলে থাকতেও আমরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। ঘূর্ণিঝড় দুর্গত এলাকার মানুষের সহযোগিতায় সরকারিভাবে এবং দলীয়ভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম আজই দুর্গত এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। তারা সেখানে গিয়ে দেখবে দুর্গত মানুষের কি ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ত্রাণ নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌছেছে। বিমান বাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাদের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই তাদের ঘর-বাড়ি তৈরি করে দেয়া হবে। প্রত্যেকে যাতে ঘর বানাতে পারেন সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। সে সময় ঘুর্ণিঝড়ের আগাম কোন ঘোষণা বা প্রস্তুতি না থাকার কারণে লাখ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। মানুষের পাশাপাশি গবাদী পশু, জমির ফসল সব পানিতে ভেসে গিয়েছিল। তখনও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে টিম নিয়ে দুর্গত এলাকায় গিয়েছিল। মানুষের দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তখন সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তৎকালীন সংসদ নেতা বেগম খালেদা জিয়া দাঁড়িয়ে বলেছিলেন-‘যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মরেনি’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময় সতর্ক। ঝড় আসলে কি কি করণীয়, এ ব্যাপারে একটি বই ছাপানো হয়েছে। বইটিতে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয়ভাবে কি করণীয় এ ব্যাপারে সব ধরনের গাইড লাইন দেয়া রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উপকূলীয় মানুষের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
১শ’টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ২২০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলছে। ভবিষ্যতে আরও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। সতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের সাথী। দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতাও আমাদের রয়েছে এবং আমরা এই সক্ষমতার প্রমান রেখেছি।’ হাওর ও উপকুলীয় এলাকায় বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হবে উল্লেখ করে তিনি পানি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়কে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও গতিশীল হওয়ার আহবান জানান। সরকারি দলের সদস্য মো. আবদুল্লাহ’র এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে আমি স্বয়ং দুইবার দুর্ঘত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এছাড়া সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও সিনিয়র সচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা বন্যাকবলিত এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।’ তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢল ও আকষ্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর দুর্দশা লাঘবে ২২ মে পর্যন্ত ৩ হাজার ৯২৪ মেট্রিক টন জিআর চাল, ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ, ৩ লাখ ৩০ হাজার পরিবারকে মাসিক ৩০ কেজি হারে (২৩ এপ্রিল থেকে জুলাই, ২০১৭) ৩ মাস ৮ দিনের জন্য মোট ৩২ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল, ৩ লাখ ৩০ হাজার পরিবারকে মাসিক ৫শ’ টাকা হারে ৩ মাসের জন্য (মে-জুলাই, ২০১৭) মোট ৪৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় ৯১ হাজার ৪৪৭ জন সুবিধাভোগীকে ৮২ কোটি ৭ লাখ ৬৮৯ টাকা, ৫টি জেলার ৫০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মৎসজীবী ও ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারকে মাসিক ৩০ কেজি হারে ৩ মাসের জন্য মোট ৪ হাজার ৫ শ’ টন এবং পরিবার প্রতি ৫ শ’ টাকা হারে ৩ মাসের জন্য ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সূত্র : বাসস

শেষ মুহূর্তে ভ্যাটের হার এক ভাগ কমতে পারে

শেষ মুহূর্তে ভ্যাটের হার কিছুটা কমিয়ে কাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেলা দেড়টায় এই বাজেটটি উপস্থাপন করবেন। প্রস্তাবিত ভ্যাট আইনে ভ্যাটের একহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ১৫ শতাংশ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভ্যাটের হার এক শতাংশ কমিয়ে ১৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ভ্যাটের হার এক শতংশ কমানো হলেও টার্নওভার ট্যাক্স ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং চাওয়া হয়েছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে না। তবে প্রতিবন্ধী আয়করদাতাদের কিছুটা আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে। অর্থ বিভাগের এক সূত্র জানিয়েছেন, ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হলেও শেষ মুহূর্তে তা কমিয়ে ১৪ শতাংশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ভ্যাটের হার যদি ১৪ শতাংশ করা হয় তবে টার্নওভার ট্যাক্স ৪ শতাংশ করা হবে। বাজেট পেশ হওয়ার আগে অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটটি অনুমোদন করিয়ে নেবেন। সময় ভ্যাটের হার চূড়ান্ত করা হবে। আগামীকাল যে বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে তার সম্ভাব্য আকার চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকা হতে পারে, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ৫৪ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক শতাংশ বেশি এবং চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৮৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকা বা ২৬ শতাংশ বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবায়ন ব্যর্থতার কারণে এই বাজেটের আকার ২৩ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে তিনলাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে রাজস্ব ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে দুই লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আকার নির্ধারণ করা হচ্ছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আহরণের প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে দুই লাখ ৭১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা, জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) অংশ হিসেবে যা ১২ দশমিক ২ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ে যে দুই লাখ ৭১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে কররাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরা আছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে প্রাপ্তির প্রস্তাব করা হয়েছে দুই লাখ ৩৬ হাজার ২০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের ব্যর্থতার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি ধরা রয়েছে দুই লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে কররাজস্ব আদায় ধরা আছে দুই লাখ ১০ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। যার মধ্যে এনবিআর কর্তৃক রাজস্ব আদায়ের দুই লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ। যেখানে কররাজস্ব আদায় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ শতাংশ এবং করবহির্ভূত রাজস্ব আদায় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু গত অর্থবছরের সাথে রাজস্ব আদায় তুলনা করলে এবার অবস্থা ভালো নয় বলতে হবে। গত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে আট মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ। যেখানে কররাজস্ব আদায় হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ এবং করবহির্ভূত রাজস্ব আদায় হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এই বাস্তবতায় রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ২৮ ভাগ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

কাল বাজেট পেশ

আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কাল দুপুর দেড়টায় আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট এবং চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পেশ করবেন। এটি হবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের চতুর্থ বাজেট। অন্যদিকে ২০০৮ সালে নির্বাচিত হবার পর এ পর্যন্ত এটা হবে আওয়ামী লীগ সরকারের নবম বাজেট। আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটির টাকা হবে বলে অর্থমন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে জানা গেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের পরিধি আরো বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে। আর এ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দেরও প্রস্তাব থাকছে। ইতোমধ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। এডিপিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য একনেক মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এরমধ্যে মূল এডিপি হচ্ছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মূল এডিপির সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ থাকবে ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের অনুমোদিত এডিপির মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ও বৈদেশিক উৎস থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত ১ মে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় এডিপির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে পরিবহন খাতে ৪১ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বিদ্যুৎ খাতে ১৮ হাজার ৮৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ১৬ হাজার ৬৭৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে ১৪ হাজার ৯৪৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১৪ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হবে। সূত্র : বাসস

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সম্মেলনে যোগদানের জন্য অস্ট্রিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে আজ সকালে দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট সকাল ৭টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে। অস্ট্রিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার কারিগরি সহযোগিতা কর্মসূচি : ৬০ বছর পেরিয়ে উন্নয়নে অবদান’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিস্টিয়ান কের্ন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভ্যানডার বিলেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। শেখ হাসিনা আইএইএ মহাপরিচালক ইয়োকিয়া আমানোর সঙ্গে তাঁর অফিসে বৈঠকে করেন। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি)-এর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সোমবার প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রিয়ার রাজধানীর গ্রান্ড হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান ও ইফতারে যোগ দেন। সূত্র : বাসস

দায়িত্ব পালনে বাধা নেই মেয়র মান্নানের

গাজীপুরের মেয়র এম এ মান্নানকে দ্বিতীয় দফায় সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রয়েছে। এর ফলে মেয়র হিসেবে মান্নানের দায়িত্ব গ্রহণ ও কাজ চালিয়ে যেতে আইনগত কোনো বাধা থাকছে না। বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর এম এ মান্নানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবউদ্দিন খোকন ও আবু হানিফ। গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার এক মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল মেয়র মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট করেন মান্নান। শুনানি নিয়ে ১৩ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন। হাইকোর্টের ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে। ১৪ মে চেম্বার বিচারপতি রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় আজ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটির শুনানি হয়।

ডিএসইসির র‌্যাফেল ড্র এর প্রথম পুরস্কার হ্স্তান্তর

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের (ডিএসইসি) একাংশের বার্ষিক সাধারণ সভা ও ফ্যামিলি ডে ২০১৭ অনুষ্ঠানে র‌্যাফেল ড্র’র প্রথম পুরস্কার ওয়ালটনের সৌজন্য ফ্রিজ বিজয়ীর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়ালটন কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে বিজয়ী দৈনিক যুগান্তরের সাব-এডিটর মাসউদ-বিন আব্দুর রাজ্জাকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেন ওয়ালটনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (পিআর এন্ড মিডিয়া) মো. হুমায়ুন কবির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর (ক্রিয়েটিভ এন্ড পাবলিকেশন) উদয় হাকিম, ওয়ালটনের মিডিয়া উপদেষ্টা,
ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি ও নিউজ টুডে’র সিনিয়র সাব-এডিটর এনায়েত ফেরদৌস, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের একাংশের সভাপতি মো. এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম সোহেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম এ মান্নান মিয়া, দফতর সম্পাদক শামীম আহসান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রহমান খান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হেমায়েত হোসেন, সিকান্দার ফয়েজ, মো. আলিফ উল্লাহ খান, মাসউদ-বিন আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য আবদুস সালাম মাহমুদ, রেদোয়ান খন্দকার প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি

ভারতের বিরুদ্ধে যেভাবে খেলতে চান সোহেল

আগামী ৪ জুন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম ম্যাচে ভারত খেলবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন বার্মিংহামে। সাফল্যের নিরিখে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কিছুটা এগিয়ে। তবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ‘টিম ইন্ডিয়া’ এবারও অন্যতম ফেবারিট। এটা এমন একটা ম্যাচ, যেখানে ক্রিকেটের বাইরেও নানা সমীকরণ কাজ করে।
উত্তেজনার পাশাপাশি স্নায়ুর প্রবল চাপ নিয়ে লড়াই করতে হয় ক্রিকেটারদেরও। আর সেটা জেনেই পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান হারিস সোহেল বলছেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছি, সেটা ভুলে যেতে হবে।’ উমর আকমলের পরিবর্তে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দলে জায়গা পেয়েছেন হারিস। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। ইংল্যান্ডের আবহাওয়া ও পিচ আমাদের পেসারদের বাড়তি সুবিধা করে দেবে। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ মানে বাড়তি চাপ থাকবে। সেটা মেনে নিয়েই আমরা মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত।’

ক্যারিয়ার সেরা র‌্যাংকিংয়ে মোস্তাফিজ

ইনজুরি কাটিয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে ফিরেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তখন খুবটা ভালো করতে পারেননি। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেন কাটার মাস্টার। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন ভালোভাবেই। আর এরই প্রভাব পড়েছে তার ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়েও। সদ্য প্রকাশিত আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে ৬০০ পয়েন্ট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ১৫ নম্বরে উঠে এসেছেন এই পেসার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন মোস্তাফিজ। ৩৩ রান দিয়ে তুলে নেন কিউইদের ২ উইকেট।
তার কাটার স্লোয়ারে কেঁপে উঠেছে আয়ারল্যান্ড। ৯ ওভারে দুটি মেডেনসহ ২৩ রান দিয়ে পান ৪ উইকেট। আর শেষ ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে দলের জয়ের সঙ্গে পান ১ উইকেট। বল হাতে ৩ ম্যাচে নেন মোট ৭ উইকেট। ওয়ানডে বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে দশে থাকা একমাত্র বাংলাদেশি হলেন সাকিব আল হাসান। ৬২০ পয়েন্ট নিয়ে র‌্যাংকিংয়ে তার অবস্থান নবম। এছাড়া ৬০১ পয়েন্ট নিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা রয়েছেন মোস্তাফিজের ঠিক আগে ১৪তম স্থানে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কাকে ফেভারিট বলছেন সাঙ্গাকারা?

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত অন্যতম ফেভারিট মনে করছেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। তার মতে, দলে অসাধারণ ভারসাম্য, পেস বোলারদের আগুনে মেজাজ ভারতকে এগিয়ে রেখেছে। আইসিসি-র ওয়েবসাইটে নিজের নিবন্ধে সঙ্গকারা বলেছেন, এ বারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এশিয়ার যে চারটে দল অংশ নিচ্ছে, তার মধ্যে ভারতই সেরা। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবার ট্রফি জয়ের প্রবল দাবিদার। শ্রীলঙ্কার এই প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেছেন, ভারত খুবই শক্তিশালী, দলে যথেষ্ট ভারসাম্যও রয়েছে। ভারতের পেস বোলাররা বিপক্ষ দলকে বিপাকে ফেলার ক্ষমতা রাখেন।
এর পাশাপাশি রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার মতো স্পিনাররা একদিনের ক্রিকেটে দারুণ সফল। আইপিএলে ব্যর্থতা কাটিয়ে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ফর্মে ফিরবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন সাঙ্গাকারা। সাঙ্গাকারা অবশ্য ভারতের দল নির্বাচনকে কিছুটা রক্ষণাত্মক আখ্যা দিয়েছেন। তবে এরপরও টিম ইন্ডিয়া যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সাঙ্গাকারা বলেছেন, ফাইনালে কোন কোন টিম পৌঁছবে, তা বাছা খুব কঠিন ব্যাপার। তার পূর্বাভাস, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারে। তিনি বলেছেন, টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দলগুলোর মধ্যে কড়া টক্কর হবে। চার-পাঁচটি দলের ফাইনালে পৌঁছানোর ক্ষমতা রয়েছে।

টট্টির প্রশংসায় মেসি

রোমা লিজেন্ড ফ্রান্সেকো টট্টির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বার্সেলোনা তারকা লিয়নেল মেসি। রোববার সিরি-আ ক্লাবটির হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছেন ৪০ বছর বয়সী টট্টি। জেনোয়ার বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় দিয়েই রোমা বিদায় জানিয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের সতীর্থকে। ২৫ মৌসুম সিনিয়র দলে খেলা টট্টি যেন রোমার অবিচ্ছেধ্য অংশে পরিণত হয়েছিলেন। বিদায়ের ক্ষনে নিজে যেমন চোখের জল ফেলেছেন তেমনি কাঁদিয়ে দিয়ে গেছেন হাজারো সমর্থককে। তবে এই বিদায়েও স্বস্তি নিতেই পারেন টট্টি, দ্বিতীয় স্থানে থেকে সিরি-আ লীগ শেষ করায় চ্যাম্পিয়নস লীগের গ্রুপ পর্বে খেলা অন্তত নিশ্চিত হয়েছে রোমার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রোমার হয়ে ৭৮৬ ম্যাচে করেছেন ৩০৭টি গোল। এই সময়ের মধ্যে একটি সুচেতো ও দুটি কোপা ইতালিয়া শিরোপা জিতেছে রোমা। সার্জিও রামোস, এন্টোনিও কন্টে, ড্যানিয়েল ডি রোসির মত এই স্ট্রাইকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মেসি। নিজের ফেসবুক এ্যাকাউন্টে এক পোস্টে আর্জেন্টাইন এই তারকা লিখেছেন, ‘তুমি অসাধারণ, তোমার পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা থাকলো।’

আমার বাংলাদেশ ঝটকা দেবেই, বললেন ওয়ালশ

এ কী দেখছি?‌ এটাই বোধহয় আধুনিক ক্রিকেট–দুনিয়ার রীতি। অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা, সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালরা ফিরে গেছেন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ড্রেসিংরুমে। মাঠ প্রায় ফাঁকা। কিন্তু তিনি, টেস্ট ক্রিকেটের আসর থেকে ৫১৯ উইকেট তুলে নেওয়া কোর্টনি ওয়ালশ গোটা মাঠে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা অনুশীলনের নানা সরঞ্জাম বড় বড় ৪টি বাক্সে কুড়িয়ে নিয়ে তা সাজিয়ে রাখছিলেন। তখনো ওভালের ডাগ আউটের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বললেন কোর্টনি ওয়ালশ ভারতীয় পত্রিকা আজকাল–এর সঙ্গে।
কোর্টনি ওয়ালশ :‌ আমি খুব ভালো আছি। উপভোগ করছি। বলতে পারেন, আমি এখন বাংলাদেশী হয়ে উঠেছি। শুধু ফাস্ট বোলারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ত মূল কাজ। কিন্তু, দলের সঙ্গে থাকায়, অন্য যেকোনো কাজ করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখি।
●‌ দেখলাম তো, আপনি প্র্যাকটিস করানোর যাবতীয় সরঞ্জাম পরম যত্নে গুছিয়ে রাখছিলেন.‌.‌.‌।
ওয়ালশ :‌ দ্যাট ইজ অলসো আ পার্ট অফ মাই জব। প্র্যাকটিস করাবে কোচ, আর জিনিসপত্র আগলে রাখবে অন্য কেউ?‌ এটা কখনও নিয়ম হতে পারে না। কোচ যদি শিবিরের সর্বেসর্বা হয়, তাহলে তাকে, এমন ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও করতে হবে। আমার সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডকর্তাদের যে চুক্তি হয়েছে, তাতে ওরা আমাকে যে’‌কটা কাজ দেয়, তা করে দিই। ক্রিকেটার এবং অন্য কোচদের সঙ্গে রয়েছে চমৎকার সম্পর্ক। তাই, সঙ্ঘাতের, বিবাদের স্টোরি, এখন, বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে পাবেন না।
●‌ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণকারী ৮ দলের মধ্যে আপনার বাংলাদেশ প্রথম বিলেতে পৌঁছে গিয়েছিল.‌.‌.‌।
ওয়ালশ :‌ হ্যাঁ, এ দেশের পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত একাত্ম হওয়ার কারণেই একটু আগে আমরা এখানে পৌঁছে গিয়েছিলাম। খামখেয়ালি আবহাওয়া, পিচ কন্ডিশন পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দলে এমন কয়েকজন নতুন ক্রিকেটার আছে, যারা, এই প্রথম বিলেতে এলো। এখান থেকে অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সফল হওয়া খুব কঠিন। দলে প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে ঠিকই। কিন্তু, সেই প্রতিভা মেলে ধরার জন্য যে মঞ্চের প্রয়োজন, তা তৈরি করে দিতে হয় কোচদের। এজন্যই একটু আগে এখানে আসা দরকার ছিল।
●‌ বাংলাদেশ তো খুব ভালো ফর্মে আছে.‌.‌.‌।
ওয়ালশ :‌ তা আছে। কিন্তু, আরো ভালো খেলতে হবে। বাংলাদেশ এখন আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬ নম্বর দল। মনে হয়, এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আমার বাংলাদেশ দু–একটা ঝটকা দিতে পারবে।
●‌ প্রথম ম্যাচ তো ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। প্রথমেই বেশ কঠিন প্রতিপক্ষ।‌
ওয়ালশ :‌ প্রথম অথবা দ্বিতীয় অথবা তৃতীয়। ইংল্যান্ড আছে আমাদের গ্রুপে। না খেলে উপায় নেই। সে তো ভারতকেও খেলতে হবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ। কোনো ম্যাচ কঠিন বলে পালানোর কোনো রাস্তা নেই। ইংল্যান্ড খেলবে নিজেদের দেশের পরিচিত পরিবেশে। ফলে, আমাদের কাজটা একটু তো কঠিন হবেই। টাচ উড, আমাদের বোলার ও ব্যাটসম্যানরা, ওই চ্যালেঞ্জ নওয়ার জন্য প্রস্তুত।
●‌ এখন কিন্তু বাংলাদেশ দল ঘাবড়ে যাচ্ছে না বড় দলগুলির সামনেও.‌.‌.‌।
ওয়ালশ :‌ নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী খেলতে পারলে, এই বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে অনেক অপ্রত্যাশিত সাফল্য পাবে। কোচিংয়ের কারণে, বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে ঘুরতে গিয়ে যে উন্মাদনা দেখেছি, তা অভূতপূর্ব। প্রচুর প্রচুর প্রতিভা। ক্রিকেট এখন পদ্মাতীরে তরতর লয়ে এগোচ্ছে। দেশজুড়ে এমন উৎসাহ, উত্তেজনা থাকায় নতুন নতুন প্রতিভা ক্রিকেটকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে। দলে রয়েছে চমৎকার ভারসাম্য। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের ভূমিকা নিতে হয়, চাপের মুখে দলকে জেতানোর জন্য। এ কাজটা খুব ভালো করছে সাকিব, মাহমুদৌলা, সৈকত, তাসমিন আহমেদরা। বাংলাদেশ খুব দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে এক শক্তিশালী ক্রিকেট কান্ট্রি হিসেবে উঠে আসছে। প্লিজ ডোন্ট আন্ডার এস্টিমেট বাংলাদেশ।
●‌ ওয়েস্ট ইন্ডিজের এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে না থাকাটা?‌
ওয়ালশ :‌ আরে, আমি আছি তো!‌ (‌হেসে)‌ প্লিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট নিয়ে কোনো আলোচনায় আমাকে টেনে নিয়ে যাবেন না। কেন যেতে চাইছি না, তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।‌‌‌

ভয়াবহ বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

ভারতের দেয়া বিশাল চ্যালেঞ্জের সামনে ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ২৩ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে। বিদায় নিয়েছেন সৌম্য সরকার (২), সাব্বির রহমান (০), ইমরুল কায়েস (৭), সাকিব আল হাসান (৭), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (০), মোসাদ্দেক হোসেন (০)। একজন ব্যাটসম্যানও দুই অঙ্কের রান সংগ্রহ করতে পারেননি। উমেশ যাদব ৩টি এবং ভুবেনেশ্বর কুমার ৩টি উইকেট নিয়েছেন। এর আগে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল লড়াইয়ের আগে পঞ্চম প্রস্তুতিমূলক বাংলাদেশের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩২৪ রান করেছে ভারত। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল লড়াইয়ের আগে এটিই দু’দলের দ্বিতীয় ও সর্বশেষ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেন এ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান।
ব্যাটিং-এ নেমে শুরুতে ধীরস্থির থাকলেও, সময় গড়ানোর সাথে সাথে রানের গতি বাড়িয়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার রোহিত শর্মা ১ রানে ফিরলেও, আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান ৬৭ বলে ৬০ রান করেন। মিডল-অর্ডারে দিনেশ কার্তিক সর্বোচ্চ ৯৪ রান করে আহত অবসর নেন। তার ৭৭ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। শেষদিকে মারমুখী ব্যাটিং-এ ভারতের স্কোর ৩শ’র উপরে নিয়ে যান হার্দিক পান্ডে। ছয় নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৪ বলে অপরাজিত ৮০ রান করেন পান্ডে। এছাড়া রবীন্দ্র জাদেজা ৩২ ও কেদার যাবদ ৩১ রান করেন। বাংলাদেশের রুবেল হোসেন ৩টি, সানজামুল ইসলাম ২টি ও মুস্তাফিজুর রহমান ১টি উইকেট নেন। নিজেদের প্রথম প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ২ উইকেটে হেরেছিলো বাংলাদেশ। আর নিজেদের প্রথম প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে বৃষ্টি আইনে নিউজিল্যান্ডকে ৪৫ রানে হারিয়েছিলো ভারত।

৩৮ বছরে ছুটিই নেননি শিক্ষক বাহাজ

মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক। একজন শিক্ষকের ধ্যান-জ্ঞান থাকে শিক্ষা, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দেশ। মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার ব্রতই প্রকৃত শিক্ষকের কাজ। এদিকে থেকে টাঙ্গাইলের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাহাজ উদ্দিন ফকির (৬০) সফল। শিক্ষকতার ৩৮ বছরে তিনি একদিনের জন্যও প্রাপ্য ছুটি ভোগ করেননি। অথচ এই মহান ব্যক্তির জীবনে এসেছে বুধবার, শেষ কর্মদিবস। এরপর থেকে বাহাজ উদ্দিনকে আর ছুটি নিয়ে ভাবতেই হবে না। ত্যাগী ও নিঃস্বার্থ এই মহান শিক্ষক ৩৮ বছরে নিজেকে উজাড় করে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুক্রবার ও নির্দিষ্ট ছুটি বাদে প্রতিদিনই তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেছেন। এমনকি বাবার মৃত্যু, নিজের বিয়ে, স্ত্রীর অসুস্থতা, সন্তানের জন্ম, পারিবারিক সমস্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ- কোনো কিছুই বাহাজ উদ্দিনের বিদ্যালয়ে আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এজন্য বাহাজ উদ্দিনকে তার বিদ্যালয় সম্মানিত করেছে, পুরস্কার দিয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাহাজ উদ্দিন ফকির যুগান্তরের কাছে ছুটিহীন ৩৮ বছরের স্মৃতিচারণ করেছেন।
কথা বলার সময় তিনি বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন পেছনের দিকে। স্মৃতি রোমন্থনে বাহাজ ফকির জানান, মধুপুর উপজেলার গোপদ গ্রামে কৃষক পরিবারে ১৯৫৭ সালের ১ জুন তার জন্ম। টানাটানির সংসার বলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় টিউশনি শুরু করেন। পরিবার ও নিজের খরচ যোগাড়ের মাধ্যমে খুব কষ্টে ১৯৭৩ সালে মধুপুর রাণী ভবানী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৫ সালে মধুপুর কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৭৭ সালে ধনবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন তিনি। ১৯৭৯ সালে ২২ বছর বয়সে বাহাজ ফকির তৎকালীন শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে বিএড করেন। পরে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে সিপিডি-১ ও সিপিডি-২ প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৯০ সালের কথা, ঈদের ছুটিতে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুণারীতলা গ্রামের মরহুম কাদের চেয়ারম্যানের মেয়ে শামসুন্নাহারের সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন হয়। বিয়ে হওয়ার পর পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতায় বিদ্যালয় চালুর পরের দিন শ্বশুর বাড়িতে অনুষ্ঠান। বিদ্যালয়ের চার ক্লাস পর ছুটি নিয়ে বাহাজ চললেন শ্বশুর বাড়ি। রাত ১২টায় পৌঁছে ভোরে আবার ফিরতি যাত্রা স্কুলের পথে। বেলা ১১টায় এসে ক্লাস ধরেছেন। ১৯৯১ সালের জুলাইয়ের কোনো এক শুক্রবার, স্ত্রী শামসুন্নাহার সন্তানসম্ভবা। তাকে নিয়ে পরের দিন কাক ডাকা ভোরে বাহাজ মধুপুর ফিরবেন। উদ্দেশ্য, বিদ্যালয়ে ক্লাস ধরা। হঠাৎ শুনলেন, হরতাল না কি যেন কারণে যান চলাচল বন্ধ। শ্বশুরালয় থেকে একটি সাইকেল নিয়ে তার পেছনে স্ত্রীকে বসিয়ে ছুটলেন বাহাজ। ছুটছেন তো ছুটছেন আর ঘড়ি দেখছেন। পথ যেন ফুরায় না।
ততক্ষণে সকাল ১০টা বেজে গেজে। ১১টায় তার ক্লাস। সাইকেলের গতি বাড়ালেন বাহাজ, ১১টার কাছাকাছি সময়ে স্ত্রীকে রিকশায় বাড়ির পথে তুলে দিয়ে তিনি কয়েক মিনিট আগেই ক্লাসে পৌঁছান। বাহাজ উদ্দিন জানান, প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছিল শ্বশুরালয়ে এবং সেটি বিদ্যালয় চালুর দিনে। শুক্রবারের অপেক্ষায় থেকে তিনি সন্তানের মুখ দেখেন। বাবা আব্দুল হামিদ ফকির ২০০৩ সালের  ২৭ জুন মারা যান, সেদিন ছিল শুক্রবার। কিন্তু কর্তব্যপরায়ণ এই শিক্ষক শোক মাথায় নিয়ে পরের দিনই ক্লাসে পড়িয়েছেন। জীবনের এসব স্মৃতি আজ বাহাজ ফকিরকে বড্ড স্পর্শ করছে। তিনি জানান, শিক্ষকতা শুরুর বছর বিদ্যালয়ের অপর দুই শিক্ষক শেখ আব্দুল জলিল ও আব্দুর রশিদ সারা বছরে এক দিনও ছুটি না ভোগ করায় পুরস্কৃত ও সম্মানিত হন। তা থেকেই উদ্ধুদ্ধ হই। তিনি বলেন, আজ তাকেই অনেকে অনুসরণ করছেন। তার তিন সন্তানও  অনুপস্থিত  না থাকার প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে গেছে। সহকর্মী ও কর্মচারীরা অনুসরণ করে পুরস্কার গ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন। একটি ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বাহাজ উদ্দিন বলেন, গণমাধ্যমে আমাকে নিয়ে খবর দেখে খুলনার শিক্ষানুরাগী (বর্তমানে রাজধানীর বাসিন্দা) ও ব্যবসায়ী কুতুব উদ্দিন দেখা করতে ছুটে আসেন। সেদিন তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার সামগ্রী ও চকলেট আনেন। পরে কুতুব উদ্দিন বাহাজ ফকিরের মাধ্যমে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ  শহীদ স্মৃতির সংস্কার কাজ করে দেন। দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে স্কুল ব্যাগ ও টিফিন বক্স উপহার দেন।
কানাডা প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন শাবান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শর্মিলা আহমেদের কাছ থেকে কুতুব উদ্দিন ওই দুই বিদ্যালয়ে দু'টি কম্পিউটার ল্যাবরেটরি নির্মাণসহ আসবাব উপহার দেন। এভাবে কুতুব উদ্দিন প্রায় ২৫ লাখ টাকা শিক্ষাখাতে ব্যয় করেন মূলত বাহাজ ফকিরের কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে। তবে এখানেই কুতুব উদ্দিন ক্ষ্যান্ত হননি। তিনি খুলনার কসবায় এক শিক্ষক সমাবেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে বাহাজ উদ্দিনকে নিয়ে গিয়ে সম্মানিত করেন। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাগুরার নোমানী ময়দানে বিশেষ আলোচক হয়েও যোগদান করেছেন এই শিক্ষক।মাগুরার আমুরিয়ায় ডা. আবুল কাশেম শিক্ষা ফাউন্ডেশন বাহাজ ফকিরকে সংবর্ধনা এবং আজীবন সদস্য পদ দিয়েছে। এটি পেয়ে গর্বিত বাহাজ। ৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের হিসাব থেকে প্রাপ্য ৬০০ দিনের ছুটি ভোগ না করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাহাজ উদ্দিন। ৭৬০ দিনের প্রাপ্য ছুটির একদিনও তিনি ভোগ করেননি। এ বিষয়ে বাহাজ ফকিরের বক্তব্য, 'দেশকে এগিয়ে নিতে ওই ছুটির দিনগুলোকে আমি ব্যবহার করা প্রয়োজন মনে করেছি।' এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'মনে করতে চাই না, আজ আমার কর্মজীবনের শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি, এজন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।' বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ খান বলেন, 'বাহাজ উদ্দিন ফকিরের এ ত্যাগ সত্যি বিরল ও অনুসরণ যোগ্য। তার অবদান বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা আজীবন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।'

ফিলিপাইনের আরেক শহরে আইএসের তাণ্ডব

ফিলিপাইনের ইলিগান শহরে নৈশকালীন কারফিউ জারি করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শহরটিতে অবস্থানরত সন্দেহভাজন জঙ্গিরা বেসামরিক নাগরিকদের বেশে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে পারে -এমন আশঙ্কায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইলগান শহরে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। এর আগে ফিলিপাইনের মারাউই শহরে কারফিউ জারি করে দেশটির পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সপ্তাহব্যাপী রাস্তায় রাস্তায় সংঘাতের কারণে মারাউই শহরটির দুই লাখ নাগরিকের ৯০ শতাংশের বেশি অন্যত্র পালিয়ে গেছেন। তাদের অনেকেই ইলিগান শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাই সেখানেও রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে সরকার। শহরটির ফেসবুক পেজে পুলিশ জানায়, ‘কারফিউয়ের মাধ্যমে পুরো শহর অচল করে দেয়া হচ্ছে না বরং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মোবাইল চেক পয়েন্ট বসানোসহ সব ধরণের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।’ ফিলিপাইনের ফোর্থ মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের প্রধান কর্নেল অ্যালেক্স আদুসো বলেন, ‘ইলিগানে প্রবেশে চেষ্টা করার সময় কয়েকজন বিদ্রোহীকে আটক করা হয়েছে। আমরা মারাউইর ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না।’

আদভানিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

ভারতের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় জামিন পেয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলী মনোহর যোশী, উমা ভারতীসহ ১২ জন। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) একটি বিশেষ আদালত মঙ্গলবার তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। খবর এনডিটিভির। বাবরি মসজিদ ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ধ্বংস হওয়ার পর কর সেবকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয় লক্ষ্ণৌ নিম্ন আদালতে। শীর্ষ বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অন্য মামলাটি হয় রায়বেরিলি আদালতে। ১৯ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্ট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা শুরু করার অনুমতি দেয় সিবিআইকে। রায়বেরিলি এবং লক্ষ্ণৌয়ের আদালতকে দু’বছরের মধ্যে এ মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশও দেন বিচারপতি পি সি ঘোষ এবং বিচারপতি আর এফ নরিম্যানের বিচারিক বেঞ্চ। আদালতে যাতে তাদের হাজিরা দিতে না হয়, সে জন্য আবেদন করেছিলেন আদভানি ও কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী উমা ভারতী। কিন্তু সে আবেদনে আদালত সাড়া দেননি। তাই এ দিনও আদালতে হাজিরা দেন শীর্ষ বিজেপি নেতারা। দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে বাবরি মসজিদ মামলা। মঙ্গলবার এ মামলায় অভিযুক্ত ১২ জন জামিন পেলেও, ১২০বি ধারায় অর্থাৎ ষড়যন্ত্র মামলায় তাদের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদিকে আদভানির সঙ্গে দেখা করতে এ দিন আদালত চত্বরে হাজির হন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দলের প্রবীণ নেতার সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের নবীন মুখ্যমন্ত্রীর বেশ কিছুক্ষণ কথাও হয়।
নতুন করে বাবরি মসজিদ মামলার বিচার শুরু হওয়া নিয়ে আদভানি বা যোশী কোনো মন্তব্য করতে চাননি। চলতি বছর জুলাইয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। আদভানি এ পদের জন্য প্রথমসারির একজন প্রার্থী। আদালত চত্বরে উমা ভারতী জানান, কোনোরকম ষড়যন্ত্র নয়, এটা একটা আন্দোলন ছিল। আদালতকে তিনি সম্মান করেন বলেই উপস্থিত হয়েছেন। বিজেপি নেতা বিনয় কাতিয়ার জানান, সে সময় লাখ লাখ মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিল, তাই তাকে ষড়যন্ত্র বলা যায় না। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডুর মতে, এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া, যা হতে দেয়া উচিত। তিনি বিশ্বাস করেন, নেতারা নির্দোষ, তাই তারা এটা থেকে বেরিয়েও আসবেন। মামলা চলছে, তাই তিনি এ বিষয়ে বিশেষ মন্তব্য করবেন না বলেও জানান। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উমা ভারতীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়ার পর প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেবেন কিনা। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, ‘গোটা বিষয়টাই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। ষড়যন্ত্রের কোনো প্রশ্নই উঠে না। সবকিছু মানুষের চোখের সামনে ঘটেছে। আমার বিবেক স্পষ্ট। আমার কথা ও কাজে কোনো বিভেদ ছিল না। আমার মনে একটাই বিষয় ছিল এবং আছে, সেটি রামমন্দির নির্মাণ। জেলে যেতে হলে যাব। ফাঁসিতে লটকানো হলে তাও হোক, সমস্যা নেই।

দুস্থদের মাঝে খালেদা জিয়ার বস্ত্র ও খাবার বিতরণ

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী পালন করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার মাজারে নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে সেখানে ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর রাজধানীর ২৪টি স্পটে দুস্থদের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি, চাল, চিনি, ছোলাসহ ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। এ উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় বিশেষ ক্রোড়পত্র। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন শেষে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন খালেদা জিয়া। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, রুহুল আলম চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবীব, ফরহাদ হোসেন ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, ফুটবলার আমিনুল হক, আবদুস সালাম আজাদ, খন্দকার আবু আশফাক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তরের সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু,
সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন, দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করিম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু, হেলেন জেরিন খান, সফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসানসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও খাবার বিতরণ : জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা শেষে মহানগর দক্ষিণের ২৪টি স্পটে দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও খাবার সামগ্রী বিতরণ করেন খালেদা জিয়া। বেলা পৌনে বারোটায় ধানমণ্ডির সুগন্ধা কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা সেলিমা রহমান, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ নেতারা। এরপর কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড, আজিমপুর ভিকারুননিসা স্কুল, বটতলা, ছাপরা মসজিদ, চকবাজারের বালুর মাঠ, নবাবপুর রোড-লালমোহন লেন (ওয়ারী), নয়াবাজার বিএনপির কার্যালয়, সূত্রাপুর কাঠেরপুল, দয়াগঞ্জ-সোনালী ব্যাংক ও দয়াগঞ্জ মোড়, শ্যামপুর লাল মসজিদ ঈদগাহ মাঠ, জুরাইন আলম মার্কেট, কদমতলীর পদ্মা সিএনজি পাম্প, ধোলাইপাড় বাসস্ট্যান্ড, কমলাপুর স্টেডিয়াম গেট, খিলগাঁও জোড়পুকুর খেলার মাঠ, শাহজাহানপুর মির্জা আব্বাসের বাড়ির সামনে, মতিঝিল সরকারি ঈদগাহ মাঠে বস্ত্র ও খাবার বিতরণ করেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান খালেদা জিয়া। তবে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেননি। এরপর বিজয়নগর আল হাবিব কমিউনিটি সেন্টার ও হাতিরপুলে বস্ত্র ও খাবার বিতরণ শেষে গুলশানের বাসায় ফিরে যান। প্রতিটি স্পটেই নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। কোথাও কোথাও এসব কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয় বলে স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন। এদিকে আজ ঢাকা মহানগর উত্তরের ১৬ স্পটে বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করবেন খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার নির্বাচনী এলাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুস্থদের মধ্যে খাবার ও ইফতার সামগ্রী বিরতণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে জিঞ্জিরা বিএনপির কার্যালয়ে দিনব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
চিত্রপ্রদর্শনী ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প : জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী করে ছাত্রদল। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রদর্শনীতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া থেকে শুরু করে শাহাদতের দিন পর্যন্ত ৮০টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তোলা আলোকচিত্রও এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। ড্যাবের উদ্যোগে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। ১ হাজার ৩৫০ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয় বলে জানান ড্যাবের মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

পানামার সাবেক স্বৈরশাসক নরিয়েগার মৃত্যু

পানামার সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল ম্যানুয়েল অ্যান্তোনিও নরিয়েগা মারা গেছেন। সোমবার রাতে ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সম্প্রতি নরিয়েগার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবর টুইট করে নিশ্চিত করেছেন পানামার প্রেসিডেন্ট হুয়ান কার্লোস ভারেলা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। প্রেসিডেন্ট কার্লোস বলেন, ‘ম্যানুয়েল নরিয়েগার মৃত্যুতে আমাদের ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হল। তার মেয়েরা এবং তাদের পরিবার নরিয়েগার আত্মার শান্তি কামনা করেন।’ জানুয়ারিতে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর মার্চ মাসে কোমায় চলে যান নরিয়েগা। সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, হঠাৎ করেই নরিয়েগার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান। নরিয়েগা ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত পানামা শাসন করেন। ১৯৮৯ সালে পানামা আক্রমণের আগ পর্যন্ত সিআইএর একজন গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেন তিনি।
দক্ষিণ আমেরিকায় সমাজতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন তিনি। তবে ১৯৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমলে পানামায় অভিযান চালিয়ে নরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন এবং বিরোধীদের দমনে হত্যা-নির্যাতন চালাতেন। গ্রেফতারের পর মাদক পাচার, হত্যা, অর্থ পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে নরিয়েগার বিচার হয়। সেখানেই তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। ২০১০ সালে তাকে ফ্রান্সে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে তিনি মানি লন্ডারিং মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। পরে আবার পানামা ফেরেন। গত জানুয়ারিতে মস্তিষ্কে অপারেশনের জন্য তাকে মুক্তি দিয়ে পানামায় গৃহবন্দি রাখার আদেশ দেয়া হয়।

রহমতে ভরে ওঠে বান্দার থলি

রোজার সাহরি-ইফতারিতে অফুরন্ত প্রতিদান মিলে। এ আমলে ভারী হয় রোজাদারের নেকি-পুণ্যের থলি। প্রতিটি রোজা পালনের মধ্য দিয়ে আল্লাহর আনুগত্যের পরিচয় দেয় রোজাদার। এর বিনিময়ে দয়া দিয়ে, অনুগ্রহ দিয়ে, রহমত দিয়ে, বরকত দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় আনুগত্যশীল বান্দার থলিটা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহতায়ালার কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে বেশি ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনরা এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদাতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে রোজাদারদের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনিমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৮৩৬৮) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাসের সময় আসে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। হাদিস বিজজ্ঞানীরা বলেন, মুমিন বান্দারা যাতে রমজান মাসের অতি মূল্যবান ও বরকতপূর্ণ সময় নেক কাজে ব্যয় করতে পারেন এবং মুনাফিকদের মতো খায়ের ও বরকত থেকে বঞ্চিত না থাকেন, তাই আল্লাহতায়ালা এ মাসের শুরু থেকেই সৃষ্টিজগতে এমন আবহ সৃষ্টি করে দেন, যা পুরো পরিবেশকেই রহমত-বরকতে আচ্ছাদিত করে রাখে,
এতে ইবাদাত-বন্দেগি ও নেক আমলের উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়ে যায়। তাদের পুণ্য ও প্রতিদানের সুসংবাদ দিতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং পাপাচার ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। মুমিনদের সব ধরনের ফিতনা-ফাসাদ ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে কুমন্ত্রণাদাতা দুষ্টু জিন ও শয়তানদের শিকল লাগিয়ে আবদ্ধ করা হয়। তারপর কল্যাণের পথে অগ্রগামী হওয়ার ও অন্যায় থেকে নিবৃত্ত থাকার আহ্বান জানানো হয় মুমিন বান্দাদের। যেমন আবু হুরায়রা (রা.) থেকেই বর্ণিত এক হাদিসে আছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন রমজান মাসের প্রথম রাতের শুরু হয়, তখন দুষ্টু জিন ও শয়তানদের জিঞ্জিরবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, তার একটি দরজাও খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, এর একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের প্রার্থী! থেমে যাও। আর আল্লাহতায়ালা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দান করেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৮৭৯৪)
লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল আজাদ মসজিদ ঢাকা

বাজেট পেশ আগামীকাল

দশম জাতীয় সংসদের ১৬তম (বাজেট) অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এর আগে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামীকাল বেলা দেড়টায় ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই মেয়াদে একনাগাড়ে ৯ বার বাজেট পেশ করার মধ্যদিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন মুহিত। সংশ্লিষ্টরা জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য একনেক মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে মূল এডিপি হচ্ছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মূল এডিপির সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ থাকবে ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত এডিপির মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ও বৈদেশিক উৎস থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজানে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টায় অধিবেশন শুরু হবে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৩ থেকে ২৭ জুন অধিবেশন মূলতবি থাকবে।
স্পিকার প্রয়োজনে অধিবেশনের মেয়াদ ও সময়সীমা বাড়াতে বা কমাতে পারবেন। ২৯ জুন বাজেট পাস করা হবে। এছাড়া সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ৪৫ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, মইন উদ্দীন খান বাদল ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। সংসদ অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ও আবদুল মতিন মিয়াসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। প্রস্তাবে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। পরে প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এর আগে অধিবেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেয়া হয়, যারা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের বৈঠক পরিচালনা করবেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন- ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, শামসুল হক টুকু, মাহবুব আলী, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও ফলিজাতুন নেসা বাপ্পি।
বাজেট উত্থাপন : আগামীকাল বেলা দেড়টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করবেন। এবারের বাজেটের আকার হবে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। এবারও ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন ও বক্তৃতা করবেন অর্থমন্ত্রী। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হবে একটি ভিডিও চিত্র। এতে সরকারের সামগ্রিক সাফল্য তুলে ধরা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট সংসদে উপস্থাপনের আগে তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন নেয়া হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক সংসদ ভবনে হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এদিন সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর প্রধানরা। তারা অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতা শুনবেন। সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ২৯ জুন পাস হবে। এর আগে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হবে।

লালবাগ কেল্লার বাড়ি অপসারণের নির্দেশ

প্রাচীন স্থাপত্য লালবাগ কেল্লার সীমানার ভেতরে থাকা বাড়িটি তিন মাসের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এ সংক্রান্ত রিভিউ আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বেঞ্চের আদেশে ওই বাড়ির মালিক আবুল হাসেমকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪০ লাখ টাকা দিতে বলেছেন আপিল বিভাগ। আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ২০১১ সালে লালবাগ কেল্লার সীমানার ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আবেদন করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। মনজিল মোরসেদ জানান, সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ লালবাগ কেল্লার সীমানার ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত থাকা অবস্থায় এক রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে গত এপ্রিল মাসে আপিল বিভাগ লালবাগ কেল্লার সীমানার মধ্যে থাকা কী কী অবৈধ স্থাপনা আছে তা জানতে চান। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একজন অধ্যাপকসহ তিনজনকে নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি জানান, ওই কমিটি ২৫ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনটিতে লালবাগ কেল্লার সীমানার মধ্যে থাকা অবৈধ স্থাপনার মধ্যে জনৈক আবুল হাসেমের বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়। আপিল বিভাগের আদেশ আজ তা অপসারণে তিন মাস বেধে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ৪০ লাখ টাকা প্রদানে সরকারকে নির্দেশ দেন।

কাবুলে কূটনৈতিক এলাকায় বিস্ফোরণে নিহত ৪৯

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কূটনৈতিক এলাকায় গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে ওয়াজির আকবর খান এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়। খবর এএফপি, ফক্স নিউজ, বিবিসি’র। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শক্তিশালী এ বিস্ফোরণে ১০০ মিটার দূরের বাড়ির দরজা জানালা কেঁপে উঠে। বিস্ফোরণস্থলের আশে পাশে কয়েকটি দেশের দূতাবাস রয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রপতি ভবনও হামলার স্থান থেকে বেশি দূরে নয়। দেশটির জনস্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র ইসমাইল কাউসি জানান, এখন পর্যন্ত ৬৭ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উপ-মুখপাত্র নাজিব দানিস জানান, বিস্ফোরণ এতোটাই বড় ছিল যে, এতে ৩০টিরও বেশি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবিসির সংবাদদাতা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। ঘটনার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।

নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ: তথ্য দিতে রাজী নন ট্রাম্পের আইনজীবী

মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ বিষয়ে তথ্য দিতে রাজি নন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে তার কাছে তথ্য চেয়েছে দু'টি কংগ্রেসনাল প্যানেল। কোহেন মার্কিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসির। তিনি বলেন, ক্রেমলিনের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কিনা সে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া এ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ দিতেও তাগিদ দেয়া হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন এসব তথ্যের কোনোটাই দিতে সম্মত হননি। কোহেন জানিয়েছেন, 'বিষয়টি অনেক বিস্তৃত', আর তাই 'উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত নন'। এ কারণে তথ্য সরবরাহ করা থেকে বিরত থেকেছেন তিনি। কোহেন ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি, যিনি 'হাউস' ও 'সিনেট' যে তদন্ত করছে সেখানে তথ্য সরবরাহ করতে অসম্মতি জানিয়েছেন। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ের জামাতা জেরার্ড কুশনারের নাম গত সপ্তাহে 'রাশিয়া প্রোব' নামে বিখ্যাত এক রুশ পত্রিকায় এসেছে। এই নিয়েও গুঞ্জন চলছে। তবে আগে থেকেই মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে, গত ডিসেম্বরে কুশনার রাশিয়ার সঙ্গে গোপন পন্থায় ওয়াশিংটনের যোগাযোগ করিয়েছিলেন। অবশ্য কুশনার রাশিয়ার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কিনা এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সন স্পাইসার।

বেথেলহাম বৈঠকে আব্বাসকে ধমক দিলেন ট্রাম্প

পশ্চিম তীরের বেথেলহামে বৈঠকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে রীতিমতো ধমক দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইল সফরে এসে ২৩ মে বেথেলহামে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে আব্বাসকে ধমক দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন বৈঠকে আপনি আমার কাছে মিথ্যা বলেছিলেন! আপনি ওখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আপনার প্রতিশ্রুতির কথা বলেছিলেন। কিন্তু ইসরাইলের বিরুদ্ধে সহিংসতায় আপনার সংশ্লিষ্টতা ইসরাইলিরা আমাকে দেখিয়েছে। সম্প্রতি চ্যানেল-২ ব্রডকাস্টার নামের ইসরাইলের একটি টিভি এমনটা দাবি করেছে। ওই বৈঠকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে চ্যানেলটির দাবি। চ্যানেলটি আরও বলেছে, ট্রাম্পের এমন আচরণে প্রেসিডেন্ট আব্বাস কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে যান। খবর নিউজউইক ও ইনডিপেন্ডেন্ট। তরুণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সহিংসতা উস্কে দেয়ার জন্য ইসরাইলি সরকার ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব ও আব্বাসের ফাতাহ দলের ওপর দোষারোপ করে থাকে। তাদের দাবি, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ফিলিস্তিনি তরুণরা ছুরি, বন্দুক ও গাড়ি নিয়ে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ইসরাইলিদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, ওই অঞ্চলে ইসরাইলিদের অবৈধ দখলদারিত্বই সহিংসতা উস্কে দিয়েছে। গত ৩ মে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের ওয়াশিংটন সফরে হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ট্রাম্প আব্বাসকে সহিংসতা উস্কে দেয়া ও সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত পরিবারগুলোকে ইসরাইলি আইনের অধীনে বিচারের পরামর্শ দেন। কিন্তু আব্বাস বলেন, আমরা আমাদের ছেলেমেয়ে, সন্তান-সন্ততিদের শান্তির সংস্কৃতির মধ্যেই লালনপালন করছি। তবে ইসরাইলে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন,
আব্বাসের ওই দাবি সত্য নয় এবং তিনি ইসরাইলবিরোধী সহিংসতা উস্কে দিচ্ছেন। বেথেলহাম বৈঠকে নেতানিয়াহুর মন্ত্রণাই মূলত আব্বাসের প্রতি প্রয়োগ করেন ট্রাম্প এবং তাকে ধমকে কথা বলেন। অবশ্য পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন ইস–্যতে বিদেশি নেতাদের ধমকিয়ে ট্রাম্প ইতিমধ্যে বেশ কুখ্যাতি কুড়িয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলকে ফোন দিয়ে ধমকের সুরে কথা বলেন ট্রাম্প এমনকি কূটনৈতিক রীতির লঙ্ঘন করে ফোন কেটে দেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে করা শরণার্থী প্রত্যর্পণ নিয়ে এক চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিলে ট্রাম্প টার্নবুলের সঙ্গে ওই আচরণ করেন। ট্রাম্প গত মঙ্গলবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকের জন্য পশ্চিম তীরের বেথেলহামে এসে পৌঁছান। এর একদির আগেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, দৃঢ়প্রত্যয়, ছাড় দেয়ার মানসিকতা ও শান্তি সম্ভব এমন বিশ্বাস সঙ্গে করে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিরা একটা চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে। আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশীদার দাবি করে ট্রাম্প বলেন, আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যদি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মুসলিমদের সঙ্গে কারাগারে রোজা রাখছেন হিন্দুরাও

ভারতের লখনৌয়ে জেলের মধ্যেই সম্প্রীতির নজির গড়ল বন্দিরা। মুসলিমদের সঙ্গে রোজা রাখতে শুরু করেছে বেশ কয়েকজন হিন্দু বন্দি। মুজাফফরনগরের জেলে দেখা যাচ্ছে এমন বিরল দৃশ্য। দ্য ট্রিবিউন এ খবর দিয়েছে। জেল সুপারিনটেন্ডেন্ট রাকেশ সিং জানিয়েছেন, ওই জেলে মোট এক হাজার ১৭৪ জন মুসলিম বন্দি রয়েছেন। আর হিন্দু বন্দির সংখ্যা ৩২। মুসলিম বন্দিদের সঙ্গে রমজান পালন করছেন হিন্দুরাও। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
যারা রোজা রাখছে তাদের জন্য দুধ ও ফলের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ছে, তার মধ্যে এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে ১৪ ভাগই মুসলিম। তবে দেশটির মুসলিমরা নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হন। হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলিমবিদ্বেষ আরও বেড়েছে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন।