Saturday, May 24, 2014

বিভিন্ন রূপে...বিদ্যা বালান

বলিউডে কাজ গত দুই বছর ধরে কমিয়ে দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। এ সময়টায় স্বামী-সংসার নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। তবে ফাঁকে ফাঁকে কাজ করেছেন নতুন ছবির। সর্বশেষ ‘শাদি কি সাইড ইফেক্ট’ ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। ছবিটি বেশ ভাল ব্যবসা সফলতাও পেয়েছে। এদিকে সম্প্রতি বিদ্যা কাজ শেষ করেছেন ‘ববি জাসুস’ ছবির। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন আরেক অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। এ ছবিতে গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে বিদ্যাকে। গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে এখানে দাড়ি-গোঁফ লাগিয়ে পুরুষ ভিখারি পর্যন্ত সেজেছেন বিদ্যা। এরকমই বেশ মজার মজার বিভিন্নরূপে দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে। শুধু তাই নয়, এ ছবির একটি দৃশ্য করতে গিয়ে অর্ধনগ্ন হয়েছেন বিদ্যা। সম্প্রতি এ দৃশ্যটির শুটিং শেষ হয়েছে। এটি একটি বিছানা দৃশ্য। বিছানার এই দৃশ্যে শাড়ি খুলে এক সময় অর্ধনগ্ন হয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হবেন তিনি। বিয়ের পর এরকম দৃশ্যে এই প্রথমবারের মতো ক্যামেরাবন্দি হলেন বিদ্যা বালান। এ দৃশ্যটি করে সম্প্রতি আলোচনায় চলে এসেছেন তিনি। এই দৃশ্যের একটি ছবিও এরই মধ্যে ইন্টারনেটে প্রকাশ পেয়েছে। তবে শুটিংয়ের দু’দিনের মাথায় ছবিটি প্রকাশ পাওয়ায় অবাক হয়েছেন বিদ্যা। বিষয়টি নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি। অনেকেই মনে করছেন, ছবির অগ্রিম প্রচারণার একটি ধাপ হিসেবেই এ ছবিটি ইচ্ছা করেই প্রকাশ করা হয়েছে। বিদ্যা অভিনীত ‘ববি জাসুস’ ছবিটি জুলাইতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ছবিটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী তিনি। এ বিষয়ে বিদ্যা বলেন, ‘ববি জাসুস’ আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি ছবি। এখানে গোয়েন্দা চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সাজে উপস্থাপন করা হয়েছে আমাকে। চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র ছিল। তবে এখানে আমার একটি খোলামেলা দৃশ্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটা তো সাধারণ একটি বিষয়। এ নিয়ে আলোচনার কি আছে আমি বুঝি না। তবে ছবিটি সবার ভাল লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।

চিতায় পুড়লো হৈমন্তির স্বপ্ন by উৎপল রায়

দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে ঢাকায় এসেছিলেন হৈমন্তি রানী সরকার। শৈশব থেকেই মেধাবী ও পরোপকারী হৈমন্তি মানবসেবার আশায় সেবিকার চাকরি নিয়েছিলেন মিরপুর আধুনিক হাসপাতালে। সংসারের দুঃখ ঘোচাবেন বলে আশ্বস্ত  করেছিলেন পিতা রবীন্দ্রনাথ সরকারকে। কিন্তু হৈমন্তির আশৈশব লালিত স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সাত বছর ধরে যে প্রেমিককে মন প্রাণ উজাড় করে ভালবেসেছিলেন, সেই প্রেমিকই হয়ে উঠেছিল তার ঘাতক। প্রেমিক শেখর চন্দ্র হালদারের (চন্দ্রশেখর) ক্ষণিকের উত্তেজনা, জিঘাংসা আর উন্মত্ততায় প্রাণোচ্ছল হৈমন্তি চলে গেছে না ফেরার দেশে। চিতার আগুনে হৈমন্তির দেহের সঙ্গে পুড়ে গেছে তার স্বপ্নও। এদিকে প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে স্বেচ্ছায় ধরা দেয়া প্রেমিক শেখর এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।

শেখ হাসিনা-কামাল হোসেন বিতর্ক by মিজানুর রহমান খান

গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক বিষয়ে বিতর্ক অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর কার্যালয় এবং ড. কামাল হোসেনের মধ্যে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, তা পীড়াদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক। সরকারি বিবৃতিগুলোতে স্ববিরোধিতা অস্পষ্ট নয়। বিশেষ করে এ বিতর্ক দিয়ে ভিন্নমতের প্রতি রাষ্ট্রের আচরণ পরিমাপ করা চলে।

আমরা কেন লাশ হলাম? by সোহরাব হাসান

নারায়ণগঞ্জের পর ফেনী৷ ফেনীর পর লক্ষ্মীপুর৷ এরপর কী?
গত ২৭ এপ্রিল দিনদুপুরে নারায়ণগঞ্জে সাতটি মানুষকে প্রথমে অপহরণ ও পরে তাঁদের নৃশংস কায়দায় খুন করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল খুনিরা। তারা প্রতিটি লাশের সঙ্গে ২০-২২টি ইট বেঁধে দিয়েছিল, যাতে সেগুলো ভেসে উঠতে না পারে। কিন্তু যেখানে লাশগুলো ভাসিয়ে দিয়েছিল, সেই জায়গাটি গভীর ছিল না বলে লাশগুলো ভেসে ওঠে। এর পরপরই নারায়ণগঞ্জ ফুঁসে ওঠে। খুনিদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন চলে। চলে মামলা-তদন্ত ইত্যাদি। এ ঘটনায় মৃতদের লাশগুলোই জীবন্ত সাক্ষী হয়ে ওঠে। আর নিহত মানুষগুলো সরকার ও জনগণের কাছে প্রশ্ন রাখছে, ‘আমরা কেন লাশ হলাম?’ নিখোঁজ হওয়া মানুষগুলোর জিজ্ঞাসা, আমরা কেন গুম হলাম৷

মৃত্যুকে ভয় পাই না by মুজিব মাসুদ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বিশিষ্ট সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, তার মৃত্যু কোনো সন্ত্রাসীর হাতে হবে না। তার মৃত্যু হবে আল্লাহর নির্দেশে। আল্লাহর হাতে। মৃত্যুকে তিনি ভয়ও পান না। ফেনীতে খুনের তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়ে জয়নাল হাজারীর দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে শুক্রবার যুগান্তরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

প্রথম গুলি করে এমপির ভাই by তোহুর আহমদ

ফেনীর উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে প্রথম গুলিটি করে ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর মামাতো ভাই আবিদুল ইসলাম ওরফে আবিদ। একরামকে বহনকারী গাড়ির সামনে ব্যারিকেড দেয়ার পর একজন সন্ত্রাসী লোহার রড দিয়ে গাড়ির সামনের বামদিকের কাচ ভেঙে ফেলে। এর পরপরই গুলি চালায় আবিদ। কিলিং মিশনে ব্যবহৃত হয় পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র।

শেখ হাসিনা-কামাল হোসেন বিতর্ক

শেখ হাসিনাঃ প্রধানমন্ত্রী, ড. কামাল
হোসেনঃ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক বিষয়ে বিতর্ক অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর কার্যালয় এবং ড. কামাল হোসেনের মধ্যে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, তা পীড়াদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক। সরকারি বিবৃতিগুলোতে স্ববিরোধিতা অস্পষ্ট নয়। বিশেষ করে এ বিতর্ক দিয়ে ভিন্নমতের প্রতি রাষ্ট্রের আচরণ পরিমাপ করা চলে। ড. কামাল হোসেন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে ভিন্নমতাবলম্বী হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর মতামত ও যুক্তিগুলো ঠিক কি বেঠিক ছিল, সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু এটা সন্দেহাতীত যে, নেতৃত্বজনিত তর্ক-বিতর্কের একটি প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের হাল ধরতে অনুরোধ করা হয়। ড. কামাল এর অন্যতম কুশীলব ছিলেন বলেই দেশবাসী এতকাল জেনে এসেছে। জোহরা তাজউদ্দীন যার যোগ্যতম সাক্ষী। এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলছে, শেখ হাসিনাকে আনতে তিনি লোক দেখানো মনোভাব নিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন। লোক দেখানোর বিষয়টি ঘটনা নয়, ব্যাখ্যা৷ তা ছাড়া কামাল হোসেনের পঁচাত্তর-পরবর্তী অর্থাৎ খন্দকার মোশতাক সরকারের বিরোধিতার যে তথ্য আমরা জানি, তা কী করে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে? ড. হাছান মাহমুদ ২১ মে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, জাতিকে সত্য তথ্য জানতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনটি সত্য আর কোনটি নয়? প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের যাঁরা দুটি বিবৃতির খসড়া তৈরি করেছেন, তাঁরা যুক্তির চেয়ে আবেগ দ্বারা বেশি চালিত হয়েছেন বলে মনে হয়। তাঁরা আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর একটি প্রশ্নজাগানিয়া ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন। যেমন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ‘উদারতা ও মহানুভবতা’র কারণে ড. কামাল ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছিলেন। ব্যক্তির উদারতায় একটি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচন গণতান্ত্রিক নয়। যদি হয়েও থাকে, তাহলে তা এভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে, বিশেষ করে একজন কর্মরত সংসদীয় ধাঁচের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে তা প্রকাশ করা সমীচীন নয়। আর সত্য হলো, বাস্তবে ড. কামালই ছিলেন তখনকার দলের সবেধন নীলমণি প্রার্থী৷ তদুপরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কামাল-হাসিনার যে অন্তরঙ্গ চিত্রটি আঁকল, সেটা কেন ড. কামালের ১৯৮১ সাল-পরবর্তী ভূমিকার জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আর যদি সেটা ঐতিহাসিক তথ্য হবে, তাহলে নতুন কোনো নথিপত্র প্রকাশ পেলে তবে তার ভিত্তিতে নতুন করে প্রশ্ন তোলা যুক্তিসংগত। তাঁরা যে যেমনই বলছেন,
তার সপক্ষে অন্তত কিছু উপযুক্ত দলিলপত্র জোগাড় এত বছর পরে দুরূহ হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৭ মে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে স্মরণ করেছেন যে, ‘জার্মানিতে নিযুক্ত তৎকালীন রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা হয়েও সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু আব্বার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে ছিলেন। তাঁর কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। একটা বিবৃতি দিতে অনুরোধ করলেও রাজি হননি’ (প্রথম আলো, ১৮ মে ২০১৪)। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নির্দিষ্টভাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের কথাও এসেছে। বাকি সব বলা হয়েছে সাধারণভাবে। কামাল হোসেনের যতটা করা উচিত ছিল, তিনি তা করেননি। এটা আপেক্ষিক। কেউ বলতেই পারেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর বিদ্রোহের ছাপ হয়তো আরও বেশি শাণিত হতে পারত। কেউ বলবেন, বাস্তবতা তা সমর্থন করে কি করে না। ওই সময়ে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জার্মানি বা বিদেশের মাটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন বলে জানি না। এটা তিনি করে থাকলে অর্চার ব্লাড যা করে অমরত্ব লাভ করেছেন, তেমন ধরনের একটা বিজয়তিলক হুমায়ুন ললাটে অঙ্কনের দাবি রাখে। রাজনীতিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা পারেননি, একজন আমলা রাষ্ট্রদূত ‘অসীম সাহসিকতায়’ তা করে দেখিয়েছেন। এই রেকর্ড যাচাইসাপেক্ষ। কারণ, জার্মানরা তা নিশ্চয়ই মুছে ফেলেনি। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর অটোবায়োগ্রাফার বলা যায় মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে। ২০১২ সালে প্রকাশিত তাঁর কূটনীতির অন্দরমহলে এ তথ্য নেই। ধানমন্ডির ‘মাহজাবীনে’ এই লেখক নিজেও বহু বিকেল হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর কাছ থেকে জার্মানির বিবরণ শুনেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের কথা তিনি বলেননি।
 পঁচাত্তরের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে ড. হোসেনের সঙ্গে হুমায়ুন সাক্ষাৎ করেছিলেন, তখনো তিনি তাঁকে এমন কিছু বলেননি৷ এখানে উল্লেখ্য যে, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও ড. হোসেন ওই সময়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করতেন৷ তিনি তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি কী করে ঢাকার নির্দেশ এড়িয়ে জার্মানিতে তাঁর অবস্থান দীর্ঘায়িত করতে পারেন৷ রোমের পোপের কাছে বাংলাদেশের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন ড. হোসেনের পরামর্শেই৷ ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার খণ্ডচিত্রে ড. কামাল মুজিব দুহিতাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অকপট অকৃত্রিম। তিনি তাঁর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন, ‘১৫ই আগস্ট (১৯৭৫) সকাল সাড়ে দশটার দিকে আমরা বনের উদ্দেশ্যে ব্রাসেলস ত্যাগ করি। পথে রেহানা ও হাসিনা সারাক্ষণ কান্নাকাটি করে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আমরা বনে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সাহেবের বাসায় পৌঁছাই। সেদিন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ড. কামাল হোসেন যুগোস্লাভিয়ায় সফর শেষে বাংলাদেশে ফেরার পথে [এ তথ্য ঠিক নয়] ফ্রাঙ্কফুর্টে যাত্রাবিরতি করে হুমায়ুন চৌধুরী সাহেবের বাসায় উঠেছেন। হুমায়ুন চৌধুরী সাহেবের স্ত্রী, ড. কামাল হোসেন ও হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী তিনজন মিলে কান্নায় ভেঙে পড়া রেহানা ও হাসিনাকে ধরাধরি করে বাসার ভেতর নিয়ে যান। ড্রয়িংরুমে এভাবে কিছুক্ষণ কাটানোর পর হুমায়ুন রশীদ সাহেবের স্ত্রী হাসিনাদের উপর তলায় নিয়ে যান।’ (পৃষ্ঠা ২৬৬)। একই পৃষ্ঠায় ড. ওয়াজেদ আরও লিখেছেন, ‘পরদিন অর্থাৎ ১৬ আগস্ট, (১৯৭৫) সকাল আটটার দিকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার জন্য ড. কামাল হোসেন বনস্থ বিমানবন্দরে যাবেন বলে আমাকে জানানো হয়। ড. কামাল হোসেন ও হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর সঙ্গে আমিও গািড়তে উঠে বসি। বিমানবন্দরে ড. কামাল হোসেন ও হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী দুজনই একত্রে কিছু গোপন আলাপ করেন। অতঃপর আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে আমি ড. কামাল হোসেন সাহেবের হাত ধরে তাঁকে বললাম, খন্দকার মোশতাক আহমদ খুব সম্ভবত আপনাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাখার চেষ্টা করবেন।
অনুগ্রহ করে আমার কাছে ওয়াদা করুন যে, আপনি কোনো অবস্থাতেই খন্দকার মোশতাক আহমদের সঙ্গে আপস করে তাঁর মন্ত্রিপরিষদে যোগদান করবেন না। আমার এই প্রশ্নের জবাবে ডা. কামাল হোসেন আমাকে বললেন, ড. ওয়াজেদ, প্রয়োজন হলে বিদেশেই মৃত্যুবরণ করতে রাজি আছি। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই খন্দকার মোশতাক আহমদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আপস করে আমি দেশে ফিরতে পারি না।’ ওই সময়ে লন্ডনে ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ফারুক চৌধুরী। তাঁর কাছ থেকে শোনা: ড. কামালকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কিছুতেই আসেননি। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান। তাঁকে ফেরাতে ঢাকা থেকে গোপন বার্তা গিয়েছিল।ড. কামাল হোসেন ও হামিদা হোসেনের কাছ থেকেও নানা সময়ে এ-সংক্রান্ত বিবরণ শুনেছি। পঁচাত্তরের মধ্য সেপ্টেম্বরে হামিদা হোসেন, তাঁর দুই মেয়ে ও শাশুড়ি লন্ডনে যাচ্ছিলেন। সেখানে তাঁদের বিদায় জানাতে হাজির ছিলেন ড. তৌফিক আলী। বিমানের যাত্রীরা অবাক হয়েছিলেন। কারণ দর্শানো ছাড়াই বিমানটি তিন ঘণ্টা বিলম্ব করেছিল। ‘সামরিক ছাড়পত্র’ মিলছিল না৷ কামাল দম্পতি পরে অক্সফোর্ডে থাকতেন। মোশতাক তাঁদের ফেরাতে সেখানেও লোক পাঠিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের পরপরই আবু সাঈদ চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন প্রমুখ লন্ডনের কনওয়ে হলে একটি সভার আয়োজন করেছিলেন। সেই সভা আওয়ামী লীগবিরোধী একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী পণ্ড করার চেষ্টা করেছিল। ১৫ আগস্ট ও জেলহত্যার শোকাবহ পটভূমিতে অন্যদের মধ্যে ড. হোসেনও বক্তব্য দিয়েছিলেন৷ কনওয়ে হল লন্ডনের স্বাধীন বুদ্ধিজীবী এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতীক। সেখানকার সভায় বাংলাদেশ স্টাইলে হামলা যারা করেছিল, তারা কম জঙ্গি ছিল না। সাবেক সচিব (পররাষ্ট্র) ও কলাম লেখক মহিউদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে শুনেছিলাম যে, তিনি ওই গোষ্ঠীর তাণ্ডব টিভিতে দেখেছিলেন।
লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর চলেছে। বঙ্গবন্ধুর ছবি চুরমার করা হয়েছে। তখন টিভি ক্রু ছিল না। পরে ক্যামেরা পৌঁছাতে তারা আবারও হামলা চালায়, আর সেটা টিভিতে দেখানো হয়। সুতরাং ড. কামালরা বাধার আশঙ্কা সত্ত্বেও কনওয়ে হলে সভা করতে গিয়েছিলেন। ফারুক চৌধুরীর মন্তব্য: ‘আমি এই সাক্ষ্য দিতে পারি যে, ড. কামাল হোসেন কখনো ওই শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারতেন। প্রবাস জীবনে ওই শক্তির বিরুদ্ধে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ভূমিকা নিয়েছিলেন।’ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতি আরেকটি ঐতিহাসিক তথ্য চ্যালেঞ্জ করেছে। কামাল হোসেন কখন যুগোস্লাভিয়া সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন? অনেকেই ভ্রু কুঁচকে বলবেন, কেন, আলাপ করতে কতটুকু সময় লাগে? ড. কামাল হোসেন ২০১৩ সালের মার্চে প্রকাশিত তাঁর বাংলাদেশ কোয়েস্ট ফর ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন, ‘যুগোস্লাভিয়া সফর শেষ হতে সেখানেরই এক কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুর জঘন্য হত্যাকাণ্ডের খবরটি দিলেন৷ এর কয়েক মিনিটের মধ্যে সে দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা টেলিপ্রিন্টারে প্রাপ্ত একটি কপি নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় আমার কাছে আসেন। বেলগ্রেড থেকে আমার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। আমি ফ্রাঙ্কফুর্ট হয়ে বনে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবিত সন্তান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ... রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর বাড়িতে আমি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করি। আমি তাকে আশ্বস্ত করলাম যে তাদের নিরাপত্তার জন্য সম্ভব সবকিছু করা হবে। তারপর লন্ডনে চলে গেলাম।’ সেখানে গিয়ে তিনি ত্বরিত লাল পাসপোর্ট ফেলে সবুজ পাসপোর্ট নিয়েছিলেন৷ যুগোস্লাভিয়া আজ নেই। কিন্তু তাদের পঁচাত্তরের রেকর্ডপত্র ধ্বংস হয়ে গেছে, ভাবার কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি পড়ে নতুন প্রজন্ম ভাবতে পারে,
ড. কামাল বিদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে কোনো বক্তব্য দেননি। শুনেছিলাম, স্ক্যান্ডেনেভীয় একটি দেশে (সম্ভবত স্টকহোম) বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে অ্যামনেস্টি সভায়, সম্ভবত বুদাপেস্টে বিশ্ব শান্তি পরিষদ সম্মেলনে এবং হাউস অব কমন্সে তিনি বক্তব্য রেখেছিলেন। পূব৴ ইউরোপে তিনি রেডিও সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন। এসবের রেকর্ড খোঁজা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি স্বীকার করেছে যে, ব্রিটিশ এমপি টমাস উইলিয়ামসের তদন্ত কমিশনে ড. কামাল হোসেন অন্যদের সঙ্গে ‘সক্রিয়’ হন। অবশ্য আমি শুনেছিলাম, তাঁর গাড়িতেই চেপে ‘অক্লান্ত পরিশ্রমীদের’ অনেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি কখন যুগোস্লাভদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেটা প্রশ্ন করার আগে পিএমওর খসড়া প্রস্তুতকারীরা হয়তো এটা ভুলে গিয়েছিলেন যে, দেশটি ছিল মার্শাল টিটোর। টিটোর আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু ও কামাল দম্পতি যুগোস্লাভিয়া সফর করেছিলেন। ওই সফরেও তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিনিচের সঙ্গে কথা বলেন৷ বেলগ্রেডে আরও কিছুদিন থাকতে তাঁকে অনুরোধ করা হেয়ছিল৷ ১৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর ভারত সফরে যাওয়ার কম৴সূচি চূড়ান্ত ছিল৷ তাই এটা সন্দেহাতীত যে ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের খবর পেয়েই তিনি সুচিন্তিতভাবে পূব৴নিধ৴ারিত বেলগ্রেড–ঢাকা সফর বাতিল করেন৷ রওনা দেন বনের পথে৷ অথচ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে ড. কামালের বন আগমনকে কেবল ‘যাত্রাবিরতি’ হিসেবে দেখা হয়েছে। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর বর্ণনায়, ‘১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ওরা (হাসিনা-রেহানা) জার্মানি পৌঁছাল। এদিনই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের জার্মানি পৌঁছানোর কথা। সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিচালক রেজাউল করিম। বেলগ্রেড থেকে কামাল হোসেন আসছেন। আমি বিমানবন্দরে গিয়ে তাঁকে স্বাগত জানালাম। কামাল হোসেন খুবই অস্থির। কথা বলতে পারছেন না। হাসিনা-রেহানাদের আগেই ড. কামাল হোসেন জার্মানি পৌঁছেছেন।
... রাতে ড. কামাল হোসেন ও ড. ওয়াজেদকে জানালাম শেখ কামাল, শেখ জামালও মারা গেছে।’ কূটনীতির অন্দরমহল, সূচীপত্র ২০১২৷ একজন ব্যক্তির সাড়ে তিন দশক আগের ভূমিকা ২০১৪ সালের বাংলাদেশ রাজনীতিতে কেন প্রাসঙ্গিক, সেই প্রশ্নের নির্মোহ জবাব পাওয়াও জরুরি। ড. হোসেনের অনেক বক্তব্য ও অবস্থানের সঙ্গে যে কেউ ভিন্নমত দিতে পারেন। সমালোচনা করার অধিকার রাখেন। তাই বলে সমকালীন ভিন্নমত ও পথকে অতীত টেনে অনাবশ্যক আক্রমণ অনভিপ্রেত নয়। ইতিহাসচর্চাও নয়৷ ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতার ঋণ একজন ব্যক্তি তার নিজের মানবিক সত্তা তথা জাতীয় স্বার্থ (অবশ্যই ব্যক্তির বিবেচনায়) বিসর্জন দিয়ে শোধ করতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কামাল হোসেনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিভাজন সহজ নয়৷ বাকশালের প্রতি তাঁর জোরালো ভিন্নমতের প্রতি মুজিব শ্রদ্ধাশীল ছিলেন৷ কামাল হোসেনের প্রতি মুজিবের এই ঔদার্য অনন্যসাধারণ৷ বাকশালের সঙ্গে থাকবেন না, তাই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েও সপরিবারে দীর্ঘ ছুটি চাইলেন৷ মুজিব তা মঞ্জুরও করলেন৷ বাকশাল মন্ত্রিসভার শপথের দিনটিতে তিনি লন্ডনে মুজিবের ফোন পান৷ মুজিবের অনুরাগসিক্ত কামাল হোসেন সেদিন টেলিফোনে শপথ নেওয়ার অনুরোধ পেয়েছিলেন৷ এর কিছুদিন পর তিনি ঢাকায় ফেরেন৷ বত্রিশ নম্বরের বাড়ির ছাদে তখন তিনি মুজিবের স্নেহের ফল্গুধারায় ভাসছেন৷ মুজিব বলছেন: তুমি অপ্রিয় সত্য বলতে দ্বিধা করো না, তাই তোমাকে এত পছন্দ৷ ড. হোসেন মনে করেন, এটা তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সার্টিফিকেট৷ তাই আমরা বলি, যে যে মতেরই হোক না কেন, যার যা প্রাপ্য, সমাজ বা রাষ্ট্রের উচিত তাঁকে তা দেওয়া৷ ‘অপ্রিয় সত্য’ বলার কারণে তাঁকে দল ছাড়তে হয়েছিল৷ এর দু’দশকের বেশি সময় পরে কেন এই প্রশ্ন, সেটাই বড় জিজ্ঞাসা৷ আর তাঁর পঁচাত্তরের ভূমিকা ঘাঁটা হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন পঁচাত্তরের খুনিদের পুনর্বাসনকারী ও অভিনন্দন জ্ঞাপনকারীদের কেউ বিশেষ রাষ্ট্রদূত, কেউ মন্ত্রী৷ তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দ্বিতীয় বিবৃতির শেষ বাক্য প্রশংসনীয়। যেখানে লেখা আছে, ‘কিছু সময়ের জন্য সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হলেও সত্য একদিন তার আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে।’ হাউস অব কমন্সের পাশেই কুন্দন রেস্টুরেন্ট। ৩ নম্বর হর্সফেরি রোড। ড. কামাল হোসেন সেখানে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এসব সত্য উদ্ভাসিত হোক।
মিজানু�

নিরালাপুঞ্জির আলোকিত জীবন

অনেক দিন থেকেই যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলাম৷ গত সপ্তাহে সেই সুযোগ আসামাত্র পেঁৗছে গেলাম শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরবর্তী দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম নিরালাপুঞ্জিতে৷ এটি ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী একটি খাসিয়া গ্রাম৷ শ্রীমঙ্গল থেকে বিস্তীর্ণ চা-বাগানের পথ পাড়ি দিয়ে, উঁচু-নিচু পাহাড়, জঙ্গল পেরিয়ে এ গ্রামে পৌঁছতে হয়৷ সমতলের লোকালয়ের সুযোগ-সুবিধা থেকে অনেক দূরের গ্রাম নিরালাপুঞ্জির জীবন কেবল বহমান নয়, বরং চমৎকার পরিপাটি৷ জীবনটা সুন্দর করে সাজাতে যে বেশি কিছু লাগে না, নিরালাপুঞ্জিতে গিয়ে সে সত্য আরও একবার স্পষ্ট হলো৷ পরিশ্রমী ও সাদাসিধে জীবন এই খাসিয়া জনগোষ্ঠীর৷ এরা প্রকৃতির সঙ্গে বসবাস করে, পরিবেশের মধ্যেই জীবিকার উপাদান খুঁজে নেয়৷ নিরালাপুঞ্জির প্রায় ১০৫টি খাসিয়া পরিবারের বাড়িঘর খুবই পরিচ্ছন্ন৷ শ্রীমঙ্গল শহর থেকে নিরালাপুঞ্জি যেতে মোটরগাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায়৷ দক্ষিণমুখী রাস্তা ধরে গেলে একের পর এক চা-বাগান৷ সেসব পেরিয়ে শুরু হয় উঁচু-নিচু টিলার ওপর প্রাকৃতিক বনভূমি৷ সেই বনে নানা গাছপালা ও লতাগুল্মের মধ্যে বিরামহীন চলছে বিভিন্ন পাখি আর পোকামাকড়ের ক্লান্তিহীন ডাকাডাকি ও গান৷ এমনই বুনো আর শহর থেকে দূরবর্তী পরিবেশে একঝলক চমক নিয়ে পাহাড়ের ওপর এক গ্রাম নিরালাপুঞ্জি৷ এখানে ঝকঝকে নিকানো উঠোন আর পরিচ্ছন্ন বাড়ির চারপাশে প্রাকৃতিক উদ্যান, সারি সরি বাঁশ, সুপারি, কাঁঠাল, আম ও বিভিন্ন বুনো গাছের সারি৷ এসব গাছগাছালির কাণ্ড আর ডালপালা বেয়ে বুনো লতার মতো বেয়ে উঠেছে পাহাড়ি পানলতা৷ পাহাড়ি ঢালে ঘন গাছপালাগুলো রোদের খোঁজে দ্রুত বেড়ে ওঠার চেষ্টা করেছে৷ বাংলো ধরনের ঘরগুলোর কোনো কোনোটির বারান্দার এক পাশে খাসিয়া পরিবারের মেয়েরা বসে একাগ্রতায় পাহাড়ি পানপাতাগুলো সাজিয়ে রাখছে৷ খানিক পর পর খাসিয়া পুরুষ বা তাদের নিয়োগ করা মজুর পিঠে পানবোঝাই ঝাঁকা এনে ঢেলে দিয়ে যাচ্ছে৷ গাছে বেড়ে ওঠা পান সংগ্রহ করে নিয়ে আসা খাসিয়া পুরুষদের কাজ৷ মেয়েরা ঘরকন্নার কাজের পাশাপাশি সংগ্রহ করে আনা পানপাতাগুলো যত্নে গোছা বাঁধে৷ এই পান কিনতে সমতলের ব্যাপারীরা আসতে থাকে একের পর এক৷ শ্রীমঙ্গল বাজার ছাড়াও দেশ-বিদেশের বাজারে প্রতিদিন রপ্তানি হয় লাখ লাখ টাকার পান৷ ব্যাপারীরা সন্ধ্যার মধ্যে চলে গেলেও বাড়ির মেয়েরা সংগৃহীত পান গোছানো বন্ধ করে না৷ নিরালাপুঞ্জির প্রায় সব বাড়িতেই রয়েছে সৌরবিদ্যুতের সংযোগ, টাটা স্কাই টিভির ডিশ সংযোগ, রঙিন টেলিভিশন৷ দিন পেরিয়ে রাত আসে, তবু পাহাড়ি এই গ্রামে সৌরবিদ্যুতের আলোয় কাজ, বিনোদন, ঘর-গেরস্থালি—সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে৷
খাসিয়া দম্পতি মারসাল্লো ও ডারলিং ধার আমাদের বলছিলেন, তাঁদের বাড়ি থেকেই ব্যাপারীরা প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার পান কিনে নিয়ে যায়৷ এখন পানের দাম কমে গেছে, নইলে আয় আরও বেিশ হয়৷ সুপারি, কাঁঠালও বিক্রি হয়৷ কোনো কোনো পরিবারের লেবুবাগান রয়েছে, পাহাড়ি ঢালে রয়েছে আনারসের বাগান৷ ভাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ঠান্ডা পানি খুঁজছিলাম৷ ঘরের এক পাশে রাখা ফিল্টার থেকে ঝকঝকে কাচের গ্লাসে পানি আর বিস্কুট-চানাচুর পরিবেশন করল গৃহকত্রী৴র ছোট বোন৷ বড় বোনের সঙ্গে ছোট দুই বোন আর মারসাল্লো দম্পতির কিশোরী মেয়েও পান গোছানোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিল৷ এ দম্পতির বড় ছেলে সিলেটে কলেজে পড়ে৷ মারসাল্লো দম্পতির বাড়ি থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটা দূরত্বে নিরালাপুঞ্জি প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ সেখানে খাসিয়াপল্লির ছোট ছেলেমেয়েরা সুশৃঙ্খলভাবে পড়ছে৷ এখানকার শিক্ষকেরা এ গ্রামেরই বাসিন্দা৷ তবে কেউ লেখাপড়া করেছেন সিলেটে, কেউবা ঢাকার নটর ডেম কলেজে৷ এখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকাির না হলেও শিক্ষকদের একজন জানালেন, শিগগিরই স্কুলটি সরকারি হবে৷ নিরালাপুঞ্জির মানুষেরা সবাই নিজেদের ভাষায় অভ্যস্ত হলেও চমৎকার বাংলা বলে৷ সেখানে কথা হলো স্থানীয় ব্যবসায়ী এলভিস পটামের সঙ্গে৷ তাঁর ছোট রেস্টুরেন্টের সামনে৷ এলভিস বলছিলেন, আগে তাঁরা ডিজেল-জেনারেটর ব্যবহার করতেন, কিন্তু এখন নিরালাপুঞ্জির অধিকাংশ বাড়িতেই ৮৫ ওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে৷ এই গ্রামে প্রথম সৌরবিদ্যুতের সংযোগ-সুবিধা বিপণন করতে নিয়ে এসেছিলেন ‘গ্রামীণ শক্তি’র দীপাল বড়ুয়া ও তাঁর সহকর্মীরা৷ এখন তিনি ‘ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিরালাপুঞ্জিতে সৌরবিদ্যুতের সংযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী৷ গ্রিড সংযোগের তারের বিদ্যুৎ এমন দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে কবে বিদ্যুতের আলো নিয়ে আসত, কে জানে৷ কিন্তু খাসিয়াপল্লির অধিবাসীরা সে অনিশ্চয়তা নিয়ে অপেক্ষা করতে চায়নি৷ সুতরাং, এখন এই খাসিয়াপল্লির অধিবাসীদের জন্য সৌরবিদ্যুতের ‘মিনি গ্রিড’ সংযোগের সম্ভাবনার কথা দীপাল বড়ুয়া ভাবছেন৷ শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর একটি ‘মডেল পল্লি’ হিসেবে নিরালাপুঞ্জিকে গড়া যায় কি না, তা নিয়ে ভাবছেন৷ সম্প্রতি ‘গ্লোবাল ১০০% রিনিউঅ্যাবল এনার্জি ক্যাম্পেইন’ বাংলাদেশের দীপাল বড়ুয়াকে তাদের দূত মনোনীত করেছে৷ ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালািন ব্যবহারের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রচারণা নিয়ে তাঁর উৎসাহ আরও বেড়েছে৷ প্রচলিত বিদ্যুতের সুবিধা থেকে দূরবর্তী, কিন্তু সচ্ছল নিরালাপুঞ্জি সে কারণে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর একটি আধুনিক গ্রাম হিসেবে গড়ে উঠতেই পারে৷
ড. মুশফিকুর রহমান: খনি প্রকৌশলী, জ্বালািন ও পরিবেশবিষয়ক লেখক৷

নিরালাপুঞ্জির আলোকিত জীবন

অনেক দিন থেকেই যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলাম৷ গত সপ্তাহে সেই সুযোগ আসামাত্র পেঁৗছে গেলাম শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরবর্তী দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম নিরালাপুঞ্জিতে৷ এটি ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী একটি খাসিয়া গ্রাম৷ শ্রীমঙ্গল থেকে বিস্তীর্ণ চা-বাগানের পথ পাড়ি দিয়ে, উঁচু-নিচু পাহাড়, জঙ্গল পেরিয়ে এ গ্রামে পৌঁছতে হয়৷ সমতলের লোকালয়ের সুযোগ-সুবিধা থেকে অনেক দূরের গ্রাম নিরালাপুঞ্জির জীবন কেবল বহমান নয়, বরং চমৎকার পরিপাটি৷ জীবনটা সুন্দর করে সাজাতে যে বেশি কিছু লাগে না, নিরালাপুঞ্জিতে গিয়ে সে সত্য আরও একবার স্পষ্ট হলো৷ পরিশ্রমী ও সাদাসিধে জীবন এই খাসিয়া জনগোষ্ঠীর৷ এরা প্রকৃতির সঙ্গে বসবাস করে, পরিবেশের মধ্যেই জীবিকার উপাদান খুঁজে নেয়৷ নিরালাপুঞ্জির প্রায় ১০৫টি খাসিয়া পরিবারের বাড়িঘর খুবই পরিচ্ছন্ন৷ শ্রীমঙ্গল শহর থেকে নিরালাপুঞ্জি যেতে মোটরগাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায়৷ দক্ষিণমুখী রাস্তা ধরে গেলে একের পর এক চা-বাগান৷ সেসব পেরিয়ে শুরু হয় উঁচু-নিচু টিলার ওপর প্রাকৃতিক বনভূমি৷ সেই বনে নানা গাছপালা ও লতাগুল্মের মধ্যে বিরামহীন চলছে বিভিন্ন পাখি আর পোকামাকড়ের ক্লান্তিহীন ডাকাডাকি ও গান৷ এমনই বুনো আর শহর থেকে দূরবর্তী পরিবেশে একঝলক চমক নিয়ে পাহাড়ের ওপর এক গ্রাম নিরালাপুঞ্জি৷ এখানে ঝকঝকে নিকানো উঠোন আর পরিচ্ছন্ন বাড়ির চারপাশে প্রাকৃতিক উদ্যান, সারি সরি বাঁশ, সুপারি, কাঁঠাল, আম ও বিভিন্ন বুনো গাছের সারি৷ এসব গাছগাছালির কাণ্ড আর ডালপালা বেয়ে বুনো লতার মতো বেয়ে উঠেছে পাহাড়ি পানলতা৷ পাহাড়ি ঢালে ঘন গাছপালাগুলো রোদের খোঁজে দ্রুত বেড়ে ওঠার চেষ্টা করেছে৷ বাংলো ধরনের ঘরগুলোর কোনো কোনোটির বারান্দার এক পাশে খাসিয়া পরিবারের মেয়েরা বসে একাগ্রতায় পাহাড়ি পানপাতাগুলো সাজিয়ে রাখছে৷ খানিক পর পর খাসিয়া পুরুষ বা তাদের নিয়োগ করা মজুর পিঠে পানবোঝাই ঝাঁকা এনে ঢেলে দিয়ে যাচ্ছে৷ গাছে বেড়ে ওঠা পান সংগ্রহ করে নিয়ে আসা খাসিয়া পুরুষদের কাজ৷ মেয়েরা ঘরকন্নার কাজের পাশাপাশি সংগ্রহ করে আনা পানপাতাগুলো যত্নে গোছা বাঁধে৷ এই পান কিনতে সমতলের ব্যাপারীরা আসতে থাকে একের পর এক৷ শ্রীমঙ্গল বাজার ছাড়াও দেশ-বিদেশের বাজারে প্রতিদিন রপ্তানি হয় লাখ লাখ টাকার পান৷ ব্যাপারীরা সন্ধ্যার মধ্যে চলে গেলেও বাড়ির মেয়েরা সংগৃহীত পান গোছানো বন্ধ করে না৷ নিরালাপুঞ্জির প্রায় সব বাড়িতেই রয়েছে সৌরবিদ্যুতের সংযোগ, টাটা স্কাই টিভির ডিশ সংযোগ, রঙিন টেলিভিশন৷
দিন পেরিয়ে রাত আসে, তবু পাহাড়ি এই গ্রামে সৌরবিদ্যুতের আলোয় কাজ, বিনোদন, ঘর-গেরস্থালি—সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে৷ খাসিয়া দম্পতি মারসাল্লো ও ডারলিং ধার আমাদের বলছিলেন, তাঁদের বাড়ি থেকেই ব্যাপারীরা প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার পান কিনে নিয়ে যায়৷ এখন পানের দাম কমে গেছে, নইলে আয় আরও বেিশ হয়৷ সুপারি, কাঁঠালও বিক্রি হয়৷ কোনো কোনো পরিবারের লেবুবাগান রয়েছে, পাহাড়ি ঢালে রয়েছে আনারসের বাগান৷ ভাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ঠান্ডা পানি খুঁজছিলাম৷ ঘরের এক পাশে রাখা ফিল্টার থেকে ঝকঝকে কাচের গ্লাসে পানি আর বিস্কুট-চানাচুর পরিবেশন করল গৃহকত্রী৴র ছোট বোন৷ বড় বোনের সঙ্গে ছোট দুই বোন আর মারসাল্লো দম্পতির কিশোরী মেয়েও পান গোছানোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিল৷ এ দম্পতির বড় ছেলে সিলেটে কলেজে পড়ে৷ মারসাল্লো দম্পতির বাড়ি থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটা দূরত্বে নিরালাপুঞ্জি প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ সেখানে খাসিয়াপল্লির ছোট ছেলেমেয়েরা সুশৃঙ্খলভাবে পড়ছে৷ এখানকার শিক্ষকেরা এ গ্রামেরই বাসিন্দা৷ তবে কেউ লেখাপড়া করেছেন সিলেটে, কেউবা ঢাকার নটর ডেম কলেজে৷ এখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকাির না হলেও শিক্ষকদের একজন জানালেন, শিগগিরই স্কুলটি সরকারি হবে৷ নিরালাপুঞ্জির মানুষেরা সবাই নিজেদের ভাষায় অভ্যস্ত হলেও চমৎকার বাংলা বলে৷ সেখানে কথা হলো স্থানীয় ব্যবসায়ী এলভিস পটামের সঙ্গে৷ তাঁর ছোট রেস্টুরেন্টের সামনে৷ এলভিস বলছিলেন, আগে তাঁরা ডিজেল-জেনারেটর ব্যবহার করতেন, কিন্তু এখন নিরালাপুঞ্জির অধিকাংশ বাড়িতেই ৮৫ ওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে৷ এই গ্রামে প্রথম সৌরবিদ্যুতের সংযোগ-সুবিধা বিপণন করতে নিয়ে এসেছিলেন ‘গ্রামীণ শক্তি’র দীপাল বড়ুয়া ও তাঁর সহকর্মীরা৷ এখন তিনি ‘ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিরালাপুঞ্জিতে সৌরবিদ্যুতের সংযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী৷ গ্রিড সংযোগের তারের বিদ্যুৎ এমন দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে কবে বিদ্যুতের আলো নিয়ে আসত, কে জানে৷ কিন্তু খাসিয়াপল্লির অধিবাসীরা সে অনিশ্চয়তা নিয়ে অপেক্ষা করতে চায়নি৷ সুতরাং, এখন এই খাসিয়াপল্লির অধিবাসীদের জন্য সৌরবিদ্যুতের ‘মিনি গ্রিড’ সংযোগের সম্ভাবনার কথা দীপাল বড়ুয়া ভাবছেন৷ শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর একটি ‘মডেল পল্লি’ হিসেবে নিরালাপুঞ্জিকে গড়া যায় কি না, তা নিয়ে ভাবছেন৷ সম্প্রতি ‘গ্লোবাল ১০০% রিনিউঅ্যাবল এনার্জি ক্যাম্পেইন’ বাংলাদেশের দীপাল বড়ুয়াকে তাদের দূত মনোনীত করেছে৷ ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালািন ব্যবহারের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রচারণা নিয়ে তাঁর উৎসাহ আরও বেড়েছে৷ প্রচলিত বিদ্যুতের সুবিধা থেকে দূরবর্তী, কিন্তু সচ্ছল নিরালাপুঞ্জি সে কারণে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর একটি আধুনিক গ্রাম হিসেবে গড়ে উঠতেই পারে৷
ড. মুশফিকুর রহমান: খনি প্রকৌশলী, জ্বালািন ও পরিবেশবিষয়ক লেখক৷

শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন হচ্ছে কি?

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমান পরীক্ষা ২০১৪-এর ফল প্রকাশিত হলো। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৯১.৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন। গত বছর এই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ২২৬ জন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫১ হাজার। ২০০১ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হয়। সে বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায় মাত্র ৭৬ জন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফলাফলকে ইতিবাচক বলেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই পাস। পরীক্ষকেরা যখন উত্তরপত্র নেওয়ার জন্য শিক্ষা বোর্ডে যান, তখন পরীক্ষকদের হাতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য নিয়মাবলিসংবলিত একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে যে পদ্ধতিতে নম্বর দেওয়ার নির্দেশনা আছে, এতে করে নির্দেশনার উদারতায় আরও বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়া উচিত। এ বছর প্রশ্ন ফাঁসেরও ঘটনাও ঘটেছিল। সেটা বিবেচনায় নিলে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা আশানুরূপ হয়নি। বিদ্যমান পদ্ধতিতে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বৃদ্ধি দেখে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বেড়েছে এমনটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। জিপিএ-৫-এর পোশাক পরালেই মেধাটা জিপিএ-৫ হবে না; বরং এতে করে শিক্ষার্থীদের পাঠে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সামান্য পড়লেই, সামান্য লিখলেই যদি কািঙ্ক্ষত ফল পাওয়া যায়; তার জন্য অধিক মনোনিবেশ করার যে প্রয়োজন নেই, তা মাধ্যমিক কেন, প্রাথমিক সমাপনী শিক্ষার্থীরাও জানে। নানা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই বিকশিত হচ্ছে আমাদের শিক্ষা।
সেই অব্যবস্থাপনার মধ্যে একটি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি। বর্তমানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত মূল্যায়ন হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার দুটোতেই জিপিএ-৫ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় পাসই করতে পারছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজিতে ফেল করেছে। অন্যান্য বিষয় তো রয়েছেই। এদের অধিকাংশই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক দুটোতেই জিপিএ-৫ পাওয়া। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বছর প্রায় এক হাজার ২০০ আসনের বিপরীতে প্রায় ৭১ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। ভর্তি পরীক্ষায় সব ইউনিটে পাস করেছিল ৫০০ জনেরও কম। সে জন্য তাদের পাস নম্বর কমিয়ে ভর্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলা অনুষদে ১৫ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ইংরেজিতে পাস করেছিল মাত্র ৬৮ জন। জীব ও ভূবিদ্যা অনুষদে প্রায় আট হাজার প্রার্থীর মধ্যে শুধু সাতজন উত্তীর্ণ হয়েছিল। হাজার হাজার জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণই হতে পারেনি। মূলত আমাদের যে শিক্ষার মান বাড়েনি, এটি তার প্রমাণ। বর্তমানে প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এ চারটি সার্টিফিকেট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই চারটি পরীক্ষায় বিদ্যমান উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতিতে একজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন। এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে একজন পরীক্ষক এবং একজন প্রধান পরীক্ষক থাকেন। প্রধান পরীক্ষক শুধু নম্বর গণনায় কোথাও ভুল হয়েছে কি না, সেটাই যাচাই করেন। পরীক্ষক যে মূল্যায়নে কোনো ভুল করতে পারেন, তার প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই।
সকল শিক্ষক যে মূল্যায়ন যথাযথভাবে করেন, তা-ও নয়। পরীক্ষকেরা যথাযথ মূল্যায়ন করেন কি না, তা যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে কেউ কেউ স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নেন। পরীক্ষকদের কোনো জবাবদিহি না থাকার কারণে তাঁরা অনেকেই মনোযোগ সহকারে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন না। এমনও শোনা গেছে, এক রাতে দেড় শ খাতাও কেউ কেউ দেখেন। অনেক সময় নির্বাচনী পরীক্ষায় শিক্ষার্থী খারাপ করলে তাকে চূড়ান্ত পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয় না৷ কিন্তু উত্তরপত্র মূল্যায়ন যথাযথ হয়নি বলে পরীক্ষককে শাস্তি পেতে দেখা যায়নি। যদি কোনো পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল করে, তাহলে তার শাস্তি হচ্ছে ওই উত্তরপত্র মূল্যায়নের পারিশ্রমিক ১৫-২০ টাকা তার থেকে কেটে রাখা। উৎকোচ সাপেক্ষেও অনেক পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য সংগ্রহ করে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যা আর পাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না। লাখ লাখ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যে ন্যূনতম পাস নম্বরও পাচ্ছে না, সে বিষয়টি সরকারের আমলে নেওয়া প্রয়োজন। জিপিএ-৫-এর গুরুত্ব যাতে কমে না যায়, সেদিকে লক্ষÿ রাখা প্রয়োজন। গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হওয়ার আগে বোর্ডের মধ্যে প্রথম ২০ জন কিংবা স্টার মার্কস প্রাপ্তদের অথবা প্রথম শ্রেণীর একটা বড় কদর ছিল। সনদ দেখেও শিক্ষার্থীদের মান বিচার করা যেত। এখন আর সেই সুযোগ নেই। যেহেতু বিদ্যমান পদ্ধতিতে জিপিএ-৫-ই সর্বোচ্চ ফলাফল, তাই সেটা যেন খেলো না হয়। সনদ দেখে যেন শিক্ষার্থীর কিছুটা মান বিচার করা যায়, সে সুযোগটুকু প্রকৃত মেধাবীরা দাবি করেন। জিপিও-৫-এর সংখ্যাধিক্য দেখে যেন আমাদের বলতে না হয় এত জিপিএ-৫! আবার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের ফেল করা দেখে যেন বলতে না হয়, এত ফেল! সে জন্য শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন জরুরি।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর৷
wadudtuhin@gmail.com

নিরালাপুঞ্জির আলোকিত জীবন by মুশফিকুর রহমান

অনেক দিন থেকেই যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলাম৷ গত সপ্তাহে সেই সুযোগ আসামাত্র পেঁৗছে গেলাম শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরবর্তী দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম নিরালাপুঞ্জিতে৷ এটি ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী একটি খাসিয়া গ্রাম৷ শ্রীমঙ্গল থেকে বিস্তীর্ণ চা-বাগানের পথ পাড়ি দিয়ে, উঁচু-নিচু পাহাড়, জঙ্গল পেরিয়ে এ গ্রামে পৌঁছতে হয়৷ সমতলের লোকালয়ের সুযোগ-সুবিধা থেকে অনেক দূরের গ্রাম নিরালাপুঞ্জির জীবন কেবল বহমান নয়, বরং চমৎকার পরিপাটি৷ জীবনটা সুন্দর করে সাজাতে যে বেশি কিছু লাগে না, নিরালাপুঞ্জিতে গিয়ে সে সত্য আরও একবার স্পষ্ট হলো৷ পরিশ্রমী ও সাদাসিধে জীবন এই খাসিয়া জনগোষ্ঠীর৷ এরা প্রকৃতির সঙ্গে বসবাস করে, পরিবেশের মধ্যেই জীবিকার উপাদান খুঁজে নেয়৷ নিরালাপুঞ্জির প্রায় ১০৫টি খাসিয়া পরিবারের বাড়িঘর খুবই পরিচ্ছন্ন৷

ইংলাক ও তাঁর স্বজনেরা আটক

থাইল্যান্ডে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে গতকাল শুক্রবার আটক করা হয়েছে৷ এর আগে ইংলাকসহ শতাধিক রাজনীতিকের প্রতি সমন জারি করে সেনাবাহিনী৷ এ ছাড়া ১৫৫ জন রাজনীতিকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়৷ খবর রয়টার্স ও বিবিসির৷ দুই দিন আগে দেশে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেয় সেনাবাহিনী৷ দেশের সংবিধান স্থগিত ও জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়৷ আটক করা হয় অনেক রাজনীতিককে৷ সেনাপ্রধান জেনারেল প্রাইউথ শান-ওশা নিজেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেন৷ কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কথা বলে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়৷
রাজধানী ব্যাংককে অবস্থানরত বিবিসির একজন সাংবাদিক জানান, ইংলাক গতকাল দুপুরের পর ব্যাংককের একটি সেনা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান৷ এরপর তিনি আরেকটি সেনা কার্যালয়ে যান৷ সেখানে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা রেখে পরে একটি অজ্ঞাতস্থানে িনয়ে যাওয়া হয়৷ গতকাল টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী ১৫৫ জন রাজনীতিকের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে৷ ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংকট নিরসন’ করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ অভ্যুত্থানের ঘোষণার পর সেনারা ব্যাংকক ও এর আশপাশে শিবির গেড়ে থাকা ইংলাকপন্থী ও বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছেন৷ নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া সেনাপ্রধান প্রাইউথ বলেছেন, ‘দেশে দ্রুততার সঙ্গে স্বাভাবিক অবস্থা’ ফিরিয়ে আনতেই সেনারা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন৷ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি বলেন, সব থাই নাগরিককে অবশ্যই শান্ত থাকতে হবে এবং সরকারি কর্মীদের স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করতে হবে৷ অভ্যুত্থানের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে থাইল্যান্ড৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, এই অভ্যুত্থানের ‘কোনো ন্যায্যতা নেই’৷ থাইল্যান্ডকে দেওয়া ১০ মিলিয়ন ডলারের বেসামরিক সহায়তা স্থগিত করা হতে পারে বলেও জানান তিনি৷ আর পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার হুমকি দেওয়া হয়েছে৷ জাতিসংঘ দেশটিতে ‘অতিসত্বর সাংবিধানিক, বেসামরিক ও গণতান্ত্রিক শাসন’ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে৷ অভ্যুত্থানের ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যায়িত করেছে জাপান৷ দেশটিতে ‘শিগগিরই স্বাভাবিক সামাজিক শৃঙ্খলা’ ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে চীন৷ অস্ট্রেলিয়া বলেছে, তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’৷ ১৯৩২ সালে খাঁটি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটার পর এ নিয়ে অন্তত ১২ বার এবং গত এক দশকে দ্বিতীয়বার সেনা-অভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করল থাইল্যান্ড৷ সর্বশেষ ২০০৬ সালে সেনাবাহিনী ইংলাকের ভাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করে৷ মূলত তখন থেকেই দেশটিতে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে৷ একদিকে রয়েছেন সিনাওয়াত্রা পরিবারের সমর্থক, যাঁদের বেশির ভাগই গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী৷ অন্যদিকে রয়েছে শহরের মধ্যবিত্ত ও অভিজাত শ্রেণি৷
থাইল্যান্ডে ক্ষমতার পালাবদল
২০০১ নির্বাচনে থাই রাক থাই পার্টির জয়৷ জোট সরকার গঠন করেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা
২০০৫ নির্বাচনে জিতে থাকসিন দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী
২০০৬ রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে থাকসিনকে উৎখাত
২০০৭ থাকসিন ও মিত্রদের পিপল পাওয়ার পার্টির জয়
২০০৮ সেপ্টে. আদালতের রায়ে প্রধানমন্ত্রী সমক সুন্দরাবেজ ক্ষমতাচ্যুত৷ থাকসিনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সোমচাই ভোকসাওয়াত স্থলাভিষিক্ত
২০০৮ ডিসে. আদালতের রায়ে সোমচাইয়ের দল বিলুপ্ত৷ পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি৷ সেনা-সমর্থিত জোটের প্রধানমন্ত্রী হন আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া
২০১১ জুলাই নির্বাচনে থাকসিন-মিত্রদের জয়৷ থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী হন
২০১৪ মার্চ আদালতের রায়ে ইংলাক ও নয়জন মন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত
২০১৪ মে ২২ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান প্রাইউথের ক্ষমতা দখল
সূত্র: এএফি

আফগানিস্তানে ভারতীয় কনস্যুলেটে জঙ্গি হামলা

আফগানিস্তানের হেরাতে অস্ত্রধারীদের হামলার পর ভারতীয়
কনস্যুলেট ভবন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে৷ এ সময় পাশের
একটি ভবনের ছাদে সতর্ক অবস্থায় দুই পুলিশ সদস্য।
আফগানিস্তানে ভারতের একটি কনস্যুলেট ভবনে গতকাল শুক্রবার হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা৷ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ভারী অস্ত্র-সজ্জিত হামলাকারীদের কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষ হয় এবং হামলাকারী চারজনের সবাই নিহত হয়৷ তবে কনস্যুলেটের সবাই অক্ষত আছেন৷ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ভারতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাওয়া নরেন্দ্র মোদি৷ খবর রয়টার্স ও এনডিটিভির৷ পুলিশ ও ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরান সীমান্তবর্তী শহর হেরাতে অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেটে গতকাল ভোর তিনটার দিকে ওই হামলা শুরু হয়৷ হামলার জন্য জঙ্গিরা কনস্যুলেটটির পাশের কয়েকটি উঁচু ভবনকে বেছে নেয়৷ সেখান থেকে জঙ্গিরা কনস্যুলেট লক্ষ্য করে গুলির পাশাপাশি রকেটচালিত গ্রেনেড ও হাতবোমা ছোড়ে৷ কাবুলে ভারতের রাষ্ট্রদূত অমর সিনহা টেলিফোনে বলেন, হামলাকারীরা দুটি গ্রেনেড ছুড়ে মারে৷ তখন অন্ধকার থাকায় কনস্যুলেটের কর্মীরা এগুলো কোন দিক থেকে আসছে তা বুঝতে পারেননি৷
তিনি জানান, ওই কনস্যুলেটে ১০ জন কর্মী ছিলেন৷ গুলি শুরু হওয়ার পরপরই তাঁরা অন্যত্র সরে যান৷ হেরাত পুলিশের প্রধান জেনারেল সামিউল্লাহ কাতরা জানান, আত্মঘাতী বোমাবাজসহ মোট চারজন গতকালের হামলায় অংশ নেয়৷ এদের মধ্যে তিনজনের কাছে একে-৪৭ রাইফেল, রকেটচালিত গ্রেনেড ও হাতবোমা ছিল৷ নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সবাইকে হত্যা করেছে৷ হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে টুইটারে একটি বার্তা পোস্ট করেন মোদি৷ তিনি লিখেছেন, ‘আফগানিস্তানের হেরাতে আমাদের কনস্যুলেটে হামলার নিন্দা জানাই৷ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি৷ আমি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথাও বলেছি৷’ গতকালের হামলায় কারা জড়িত তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়৷ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেউই দায় স্বীকার করেনি৷ তবে তালেবান বা তাদের সহযোগী কোনো গোষ্ঠীকেই সন্দেহ করা হচ্ছে৷ আফগানিস্তানে মাঝেমধ্যেই ভারতীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে৷ গত বছরের আগস্ট মাসে পূর্বাঞ্চলীয় জালালাবাদ শহরে ভারতীয় কনস্যুলেটে হামলায় নয়জনের প্রাণহানি ঘটে৷

মোদির সরকার নির্বাচিত হলেও কর্তৃত্ববাদী: অরুন্ধতী রায়

অরুন্ধতী রায়
ভারতীয় লেখক ও মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মী অরুন্ধতী রায় বলেছেন, তাঁর দেশে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে তা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হলেও একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার৷ পাকিস্তানের ডন পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন৷ খবর ডনের৷ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হিসেবে পরিচিত অরুন্ধতী বলেন, কৌশলগত ও আইনি বিবেচনায় বিরোধী দল গঠন করার মতো যথেষ্টসংখ্যক আসন কোনো দলেরই নেই৷
কিন্তু আসলে বেশ কয়েক বছর ধরে কখনোই কোনো বিরোধী দল ছিল না৷ প্রধান দুটি দল অধিকাংশ নীতিতেই একমত হয়৷ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের প্রবণতা তাদের প্রত্যেকেরই কঙ্কালের ভেতর লুকিয়ে রয়েছে৷ এখন সব স্পষ্ট হয়েছে৷ ভারতের নির্বাচন আসলে একটি করপোরেট কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে এবং একই শক্তির কাছে গণমাধ্যমও বিক্রি হয়ে গেছে বলে মনে করেন অরুন্ধতী৷ তিনি বলেন, সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মুসলমানদের ওপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকার অাহ্বান জানানো হবে৷ এর মধ্য দিয়ে আড়াল করা হবে বনাঞ্চলে চলমান ঘটনাবলি৷ সেখানে খনি ও স্থাপনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো জমি দখল করে নিচ্ছে৷ প্রতিবাদকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে৷ মোদিকে নির্বাচিত করার কারণ, তিনি রক্তপাতের মতো ঘটনাকে উপেক্ষা করতে পারেন৷ ভারতে গণতন্ত্র আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অরুন্ধতী বলেন, কিছু পরিমাণ গণতন্ত্র দেশটিতে আছে৷ শুধু মধ্যবিত্ত শ্রেণি সেই গণতন্ত্র ভোগ করতে পারে৷

শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন হচ্ছে কি? by তুহিন ওয়াদুদ

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমান পরীক্ষা ২০১৪-এর ফল প্রকাশিত হলো। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৯১.৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন। গত বছর এই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ২২৬ জন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫১ হাজার। ২০০১ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হয়। সে বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায় মাত্র ৭৬ জন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফলাফলকে ইতিবাচক বলেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই পাস।