Saturday, April 25, 2020

কেউ কি কখনো চাঁদের মালিক হতে পারবে?

চাঁদ
পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসাবে প্রায় ৫০ বছর আগে নিল আর্মস্ট্রং চাঁদে পা রাখেন। এরপর তার বিখ্যাত বক্তব্যটি ছিল, ''মানুষের এই ক্ষুদ্র পদক্ষেপটি মানব সভ্যতাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেল।''

তার কিছুক্ষণ পরেই তার সহকর্মী বায অলড্রিন, (যার আসল নাম এডউইন অলড্রিন জুনিয়র) তার সঙ্গে যোগ দেন। ঈগল চন্দ্রযান থেকে বেরিয়ে অলড্রিন চাঁদের বিস্তীর্ণ সৌন্দর্য দেখে মন্তব্য করেছিলেন, 'অভাবনীয় নির্জনতা'।

১৯৬৯ সালের জুলাই মাসের ওই অ্যাপোলো ১১ অভিযানের পর চাঁদ বেশিরভাগ সময় স্পর্শহীন থেকেছে। ১৯৭২ সালের পর থেকে সেখানে আর কোন মানুষের পা পড়েনি।

তবে এটি হয়তো খুব তাড়াতাড়ি পাল্টে যাচ্ছে, কারণ অনেকগুলো কোম্পানি চাঁদের অভিযানের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের অনেকে সম্ভবত চাঁদে খনি অভিযান চালিয়ে সোনা, প্লাটিনাম আর দুর্লভ সব ধাতু আহরণ করতে চাইবে, যেগুলো বৈদ্যুতিক যন্ত্রে ব্যবহার করা যায়।

এ মাসের শুরুর দিকে চাঙ্গ' এ ফোর নামে চীনের একটি নভোযান চাঁদের অপর পিঠে নেমেছে। চন্দ্রপৃষ্ঠে একটি জীবমণ্ডল স্থাপন করে সেখানে একটি চারা গাছ রোপণ করতে সক্ষম হয় ওই চন্দ্রযানটি।

এখন সেখানে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করার চেষ্টা করছে ওই চন্দ্রযান।

জাপানের কোম্পানি আইস্পেস 'চাঁদ-পৃথিবী পরিবহন প্লাটফর্ম' নামের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা চাঁদের মেরুতে অভিযান চালাতে চায়।

সুতরাং অলড্রিনের চাঁদের সেই 'অভাবনীয় নির্জনতা' কি টিকে থাকবে নাকি পৃথিবীর এই একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহটি বাণিজ্যিক আর রাজনৈতিক জমি ও সম্পদ দখলের লড়াইয়ে পরিণত হবে?
চাঁদের বুকে পৃথিবীর দ্বিতীয় মানব বুয অলড্রিন
স্নায়ু যুদ্ধের সময় মহাকাশ অভিযান শুরুর পরপরই মহাকাশের নানা বস্তুর মালিকানার বিষয়টি একটি ইস্যু হয়ে ওঠে। যখন নাসা তাদের প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তখন জাতিসংঘে বহির্জগতের মহাকাশ চুক্তি নামের একটি চুক্তিপত্র গ্রহণ করা হয়। ১৯৬৭ সালের ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য।

সেখানে বলা হয়, পৃথিবীর বাইরের মহাশূন্যে, চাঁদ এবং অন্যান্য যেসব বস্তু রয়েছে, সেখানে কোন দেশ দখল বা অন্য কোনভাবে নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করতে পারবে না।

মহাকাশ বিষয়ক কোম্পানি অলডেন এডভাইজারর্সের পরিচালক জোয়ানা হোয়েলার বলছেন, ''ওই চুক্তিটি হচ্ছে মহাকাশের ম্যাগনা কার্টার মতো। এর ফলে আর্মস্টং এবং অন্যরা চাঁদে যে পতাকা পুতে রেখে এসেছিলেন, সেটি অর্থহীন হয়ে পড়ে, যেহেতু চাঁদে কোন ব্যক্তি, কোম্পানি বা দেশের মালিকানা নাকচ হয়ে গেছে।''

সত্যি কথা বলতে, ১৯৬৯ সালে চাঁদে জমির মালিকানা বা খনির অধিকার তেমন একটা গুরুত্বও বহন করতো না। কিন্তু যেহেতু প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে, খনি আহরণ এখন খুবই লাভজনক একটি ব্যাপার, সুতরাং বহুদূর থেকেও খনি আহরণ করাটা লাভজনক হলে সেটি অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় হতে পারে।

১৯৭৯ সালে চাঁদ ও মহাশূন্যের অন্যান্য বস্তুতে বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলোর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সমঝোতা প্রস্তাব আনে জাতিসংঘ, যেটি ' মুন এগ্রিমেন্ট' নামে বেশি পরিচিত। সেখানে মূল বিষয়গুলো ছিল, এসব কর্মকাণ্ড হতে হবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে এবং কোন মহাকাশ স্টেশন বানাতে হলে আগে জাতিসংঘকে অবশ্যই জানাতে হবে কেন এবং কোথায় তারা সেটি বানাতে চায়।

ওই চুক্তিতে আরো বলা হয়েছিল, চাঁদ এবং এর সকল প্রাকৃতিক সম্পত্তি মানব সভ্যতার সকলের সমান অধিকার থাকবে। যখন সেখান থেকে খনি আহরণ সম্ভব হবে, তখন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে, যারা সেই আহরণের বিষয়গুলো দেখভাল করবে।

তবে ওই চুক্তিটির সমস্যা হলো, মাত্র ১১টি দেশ সেটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স ও ভারত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন এবং রাশিয়ার মতো মহাকাশ গবেষণার প্রধান দেশগুলো চুক্তিটি সমর্থন করেনি।

মিজ হোয়েলার বলছেন, কোন চুক্তিতে উল্লেখ করা আইনগুলোর প্রয়োগ করা ততটা সহজ নয়। কারণ এসব চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে সেটিকে তাদের আইনে পরিণত করতে হবে এবং কোম্পানি বা ব্যক্তিদের সেটা মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে।

জার্নাল অফ স্পেস ল' এর সাবেক প্রধান সম্পাদক জোয়ান্নে ইরিনে গ্রাব্রিনোভিচ বলছেন, আসলে আন্তর্জাতিক সমঝোতা বাস্তবে কোন নিশ্চয়তা দেয় না। কারণ সেটি বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং গণ মতামতের ওপর নির্ভর করে।

আর মহাশূন্যের গ্রহ-উপগ্রহের ওপর মালিকানা না থাকার বর্তমান চুক্তিগুলো সাম্প্রতিক সময়ে আরো বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মহাশূন্যে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ রেখে একটি আইন অনুমোদন করে। সেখানে বলা হয়, কোন গ্রহাণু থেকে নাগরিকদের খনি সম্পদ আহরণের অধিকার দেয়া হয়। সেখানে চাঁদের কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে একসময় সেটিও এই আইনের আওতায় চলে আসতে পারে।

খনি সন্ধানী কোম্পানি প্লানেটারি রিসোর্সেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এরিক অ্যান্ডারসন এই আইনকে বিশ্ব ইতিহাসের সম্পত্তি মালিকার সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি বলে বর্ণনা করেছেন।

২০১৭ সালে লুক্সেমবার্গ তাদরে নিজস্ব আইন অনুমোদন করে যেখানে মহাশূন্যে অধিকার করা কোন বস্তু বা সম্পত্তির মালিকানার স্বীকৃতি দেয়া হয়। এর ফলে এই খাতে দেশটি শীর্ষ অবস্থানে থাকবে বলে আশা করছেন সেদেশের নেতৃবৃন্দ।

মহাকাশে অভিযান এবং আরো বেশি অর্থ লাভের সম্ভাবনায় কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেক দেশ।

নালেডি স্পেস ল' এন্ড পলিসির আইনজীবী হেলেন তাবেনি বলছেন, ''চাঁদের কোনরকম ক্ষতি না করে খনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেখানকার সম্পদ পৃথিবীতে নিয়ে আসা বা চাঁদে মজুন করে রাখা সম্ভব নয়।''

তিনি বলছেন, বরং এই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং লুক্সেমবার্গ মহাকাশের চুক্তিগুলোকে দুমড়ে নিজেদের স্বার্থের পথ দেখছে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যদি এভাবে একসঙ্গে মহাকাশে সম্পদ আহরণের মতো কর্মকাণ্ড শুরু করে, তাহলে প্রকৃতি কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। 
চাঁদে যা পাওয়া যেতে পারে: পানি, সোনা, প্লাটিনাম ও দুর্লভ ধাতু

শরীরে প্রোটিনের ঘাটতির লক্ষণ

প্রোটিন শরীরে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। শরীর-স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য নিয়মিত প্রোটিন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন।প্রোটিনের ঘাটতিতে স্বাস্থ্যহানি হয় এবং নানারকম জটিলতা দেখা দেয়। যেমন:

১) আচমকা ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ বা খসখসেহয়ে যাওয়া।

২) ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে নখের রং। নখ হয়ে যেতে পারে দুর্বল ও ভঙ্গুর।

৩) রক্তরস কমে আসে। এর ফলে অস্বাভাবিক ফুলে যেতে পারে চোখের চারপাশ।

৪) হঠাৎ প্রচুর পরিমাণে চুল ঝরে যেতে পারে ।

৫) লালাগ্রন্থি ফুলে যায়। হঠাৎ গাল, মুখ ফুলে যেতে পারে।

৬) শরীর সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে। হাঁপিয়ে যেতে পারেন সামান্য পরিশ্রমেই। এর গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ সব সময় ঘুম ঘুম ভাব বা ঝিমুনি ভাব।

৭) নতুন কোষ গঠন থেমে যায়।তাই শরীরে পানির আধিক্য দেখা দেয়। ফলে অস্বাভাবিক ফোলাভাব তৈরি হয় শরীরের বিভিন্ন অংশে।

Friday, April 24, 2020

মক্কায় নবী করিম (সা.) এর নেতৃত্বসুলভ ভূমিকা by আবদুল কাইয়ুম শেখ

মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে মহানবী (সা.) ‘হরবে ফুজ্জার’-এ অংশগ্রহণ করেন। তিনি নিজের গোত্রের পক্ষে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মহানবী (সা.) এর যুদ্ধের এই স্তরটিই পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের ভিত্তি হয়ে যায় বহু প্রমাণাদির আলোকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, বিশ্বনবী (সা.) এর যুগে মক্কায় প্রচলিত অর্থে নিয়মতান্ত্রিক কোনো রাজত্বের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল না। এ জন্যই কোরাইশি গোত্রগুলোর ভূমিকা সীমাবদ্ধ ছিল। এর বিপরীতে মহানবী (সা.) তার মক্কী জীবনেই একজন দূরদর্শী এবং আদর্শ নেতার ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। এর কয়েকটি দৃষ্টান্ত আমরা তুলে ধরছি :
---এক.--- হিলফুল ফুজুল প্রাগৈতিহাসিক জাহেলি যুগের ভারসাম্যহীনতা, গোলযোগ ও শৃঙ্খলাহীনতার স্মারক। এই চুক্তি মক্কায় রাজনৈতিক অনুপস্থিতি, অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক বিভ্রান্তির কারণেই আত্মপ্রকাশ করেছিল। হিলফুল ফুজুলের চুক্তিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মাত্র বিশ বছর বয়সে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই চুক্তি আবদুল্লাহ ইবনে জাদআনের ঘরে সম্পাদিত হয়েছিল। এতে বনি হাশিম, বনি মুত্তালিব, বনি আসাদ জুহরা বিন কিলাব ও বনি তাইম ইবনে মুররাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমন একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে মাত্র বিশ বছর বয়সে বিশ্বনবী (সা.) এর অংশগ্রহণ আপন স্থানেই বিস্ময়কর! এরপর এটাও বাস্তব যে, মহানবী (সা.) সারাজীবন এই চুক্তিতে অংশগ্রহণ করতে পারায় গর্ববোধ করতেন! এ বিষয়টি মহানবী (সা.) এর মহত্ত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব, মানবপ্রেম, দুঃখী জনতার পাশে দাঁড়ানো, শান্তি ও নিরাপত্তাকামী হওয়ার বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তোলে!
যদি মক্কার পুণ্যভূমিতে রাজনৈতিক মেলবন্ধন শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হতো, তা হলে এই চুক্তি ও সংগঠনে আরবের সবগুলো গোত্রই অংশগ্রহণ করত। অথচ আমরা দেখতে পাই যে, এই চুক্তিতে শুধু পাঁচটি গোত্র অংশগ্রহণ করেছিল।
---দুই.--- হাজরে আসওয়াদ স্থাপনকে কেন্দ্র করে আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ সাজ পরিলক্ষিত হয়েছিল। এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মৌলিকভাবেই আরবে কোনো রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বিদ্যমান ছিল না। প্রতিটি ব্যক্তি এবং প্রত্যেকটি গোত্র নিজ নিজ ডঙ্কা বাজাত এবং নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে প্রকাশ করতে চাইত। কিন্তু মহানবী (সা.) এর বিদ্যমানতায় তাদের নিম্নতর মনে হচ্ছিল। মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের শিরস্ত্রাণ শুধু মহানবী (সা.) এর শিরেই মানানসই বলে দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। তাই আল্লাহ তায়ালা হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের সময় মহানবী (সা.) এর বড়ত্ব ও মনোনীত হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করে দেন। এ সময় গোত্রগুলোর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা মহানবী (সা.) এর ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্বকে নেতা হিসেবে মেনে নিতে হৃষ্টচিত্তে সম্মত হয়ে যায়। আর এভাবেই মহানবী (সা.) সব সর্দারের উপস্থিতিতে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করে অভ্যন্তরীণ অর্থে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন!
তিন. মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে মহানবী (সা.) ‘হরবে ফুজ্জার’-এ অংশগ্রহণ করেন। তিনি নিজের গোত্রের পক্ষে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মহানবী (সা.) এর যুদ্ধের এই স্তরটিই পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের ভিত্তি হয়ে যায়।
----চার.--- এটাও মহানবী (সা.) এর নেতৃত্ব এবং কর্তৃত্বই ছিল যার অনুমতি পেয়ে মক্কার নিপীড়িত, নির্যাতিত মুসলমানরা হাবশায় হিজরত করেন। এ সময় মহানবী (সা.) হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশীর কাছে যে পত্র লেখেন তার প্রতিটি অক্ষরই এ বিষয়ের সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, এই পত্রের প্রেরক বহু গুণের আকর এক সুমহান সত্তা!
---পাঁচ.--- ইসলামের আহ্বায়ক ও দায়ী হিসেবে মহানবী (সা.) কে বহু ধৈর্যের ঘাঁটি অতিক্রম করতে হয়েছিল এবং মক্কার মুশরিকরা সবসময় সত্যের আওয়াজের বিরোধিতা করে গিয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তার সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য আহলে ইয়াছরিব তথা মদিনাবাসীকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। এটাই ছিল ওই স্তর যার মাধ্যমে একদিকে এই সত্য স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, ইসলাম কোনো স্থান ও কালের ধর্ম নয়, বরং তা সর্বকালীন ও সর্বজনীন ধর্ম। আর এই পবিত্র দ্বীন ও ধর্মের প্রতি আহ্বানকারী ব্যক্তিও চিরন্তন শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের বিশেষণে বিশেষিত। এ জন্যই মক্কাবাসীর ঔদ্ধত্য ও অহংকারের বিপরীতে মদিনাবাসী চিরন্তন এই ধর্মকে সাগ্রহচিত্তে গ্রহণ করে নিয়েছিল এবং এই দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে তারা মহানবী (সা.) এর সাহায্য ও সহযোগিতাকারী হয়ে গিয়েছিল। তৎকালীন যুুগে মদিনার অধিবাসীরা বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাসে নিরত ছিল। এখানে আরবের পৌত্তলিকরা থাকত। থাকত ইহুদিরাও। আর অল্প সংখ্যক খ্রিষ্টানও সেখানে বিদ্যমান ছিল। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুশরিকদের দুটি বড় গোত্র আওস ও খাযরাজের যুবকদের বিশ্বনবী (সা.) এর সাহায্যকারী আনসার বানিয়ে দিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে যখন আকাবার বাইআত সংঘটিত হয়েছিল তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই মদিনার পরিবেশে মৌলিক পরিবর্তনের ভিত্তি সূচিত হয়ে গিয়েছিল। এভাবে মহানবী (সা.) এর নেতৃত্বের আলো অধিক পরিমাণে উজ্জ্বল হয়ে দীপ্তি বিকিরণ করছিল।
এসব অবস্থা এবং প্রতিভার স্ফুরণ ও বিচক্ষণতা এ বিষয়ের স্পষ্ট প্রমাণ যে, যখন আল্লাহ তায়ালা রাসুলুল্লাহ (সা.) কে সর্বশেষ নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন তখন কেয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য তার পবিত্র সত্তাকে হেদায়েত ও সৌভাগ্যের আদর্শ বানিয়েছেন। আর কেয়ামত পর্যন্ত সময়ে মানুষ ও মানবতার জন্য প্রতিটি যুগ ও সভ্যতার কল্যাণে সব ধরনের দিকনির্দেশনার জন্য তাকেই আলোর মিনার সাব্যস্ত করা হয়েছে। মহানবী (সা.) এর এই মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্বই সামনে অগ্রসর হয়ে মদিনা শরিফে সর্বপ্রথম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হয়ে গিয়েছিল।
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া দারুল উলুম নূরিয়া, গুলশান ঢাকা

গরমে সবজি খান বেশি করে

এই গরমে শরীরের জন্য বেশি প্রয়োজন পানি। শুধু পানি খেয়ে পানি শূন্যতা পূরণ করা কঠিন। তাই দরকার পরিপূরক খাবার। যাতে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ হয়। এ ক্ষেত্রে সবজি বেছে নেওয়া যেতে পারে। সবজি বলতে পানিপূর্ণ সবজি। যেমন মিষ্টিকুমড়া, পটল, ঝিঙা, ঢেঁড়স, ধুন্ধল, শশার মতো সবজি এইসময়ে পানির বাড়তি চাহিদা পূরণ করবে। জেনে নেই এইসব সবজির পুষ্টি গুণ-
মিষ্টিকুমড়ায় রয়েছে পটাশিয়াম ও ফাইবার। পাশাপাশি পানি রয়েছে ৭০ শতাংশ। পটাশিয়াম ও ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায়। হজমের যেকোনো সংকটে মিষ্টিকুমড়া হতে পারে আপনার সহায়ক খাদ্য। গরমে পানি শূন্যতায় হজমে গণ্ডগোল হতেই থাকে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেলে এই সমস্যা দূর হবে।
পেঁপে আরেকটি পানি পূর্ণ সবজি। শুধু পানি নয় হজমের গণ্ডগোল কমাতে পেঁপের জুড়ি নেই। এর মধ্যে থাকা পেপিন অ্যানজাইম হজমে সহায়তা করে।
শশায় পানি রয়েছে ৯৬ শতাংশ। তাই প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় দুটি শশা রাখলে নিশ্চিতভাবেই পানির অভাব হবে না আপনার।
ঝিঙায় রয়েছে ভিটামিন সি এবং এ। নিয়মিত ঝিঙা খেলে  শরীরের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায় পরিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে। এতেও প্রায় ৭০ শতাংশ পানি আছে। তাই এই সময় ঝিঙে পোস্ত খাওয়ার চল রয়েছে।
ঢেঁড়সের হিমোগ্লোবিন, আয়রন ও ভিটামিন কে দেহে রক্ত জমাট সমস্যা রোধ করে, দেহে প্রয়োজনীয় লাল প্লেটলেট তৈরি করে এবং দেহের দুর্বলতা রোধ করে থাকে। তাই রক্তশূন্যতার সমস্যায় বেশি করে ঢেঁড়স খাওয়া ভালো। ঢেঁড়স পানি শূন্যতাও দূর করে।
করলা স্বাদে তিতা হলেও সবজির মধ্যে উপকারিতায় শীর্ষে। এতে রয়েছে আয়রন।  পালংশাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমাণ পটাশিয়াম করলায় রয়েছে। দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরি। ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন। এছাড়া রয়েছে ভিটামিন সি।

উজ্জ্বল ত্বকের প্রাকৃতিক যত্ন by আনিকা আলম

সুন্দর ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাকের বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি এসব ফেসপ্যাকে নেই কোনও ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। পাশাপাশি ত্বক সুস্থ রাখতে ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রচুর পানি পানও জরুরি।
  • *১ টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া ও প্রয়োজন মতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখ, গলা ও ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • *চন্দনের গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। ধুয়ে ফেলুন কুসুম গরম পানি দিয়ে।
  • *১ টেবিল চামচ করে চালের আটা, চন্দন গুঁড়া ও বেসন নিন। আধা চামচ গুঁড়া দুধ ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি ৫ মিনিট ত্বকে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।
  • *সমপরিমাণ লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। কিছুক্ষণ ত্বকে লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।
  • *১ টেবিল চামচ বেসন, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ তরল দুধ ও আধা চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি পরিষ্কার ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
  • *১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার জেল, ১ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। 
  • *২ চা চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে ১ চা চামচ টমেটোর রস ও আধা চা চামচ চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। ত্বকে লাগিয়ে রাখুন না শুকানো পর্যন্ত।

Thursday, April 23, 2020

যে কারণে জাফরানের দাম বেশি

বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং মূল্যবান প্রসাধনী তৈরিতে জাফরান ব্যবহার করা হয়। তাই প্রতি বছর দেশে উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে জাফরান আমদানি করা হয়। সে জন্য দেশের বাজারে জাফরানের দামও বেশি। বিস্তারিত জানাচ্ছেন জাগো নিউজের মঞ্জুর মোর্শেদ রুমন>>
জাফরান হচ্ছে প্রায় বেগুনি রঙের ছয় পাপড়ি বিশিষ্ট ফুলের পুংকেশর। বৈজ্ঞানিক নাম Crocus sativus। এদের স্থানীয় নামের মধ্যে আছে স্যাফ্রন, জ্যাঁফারান, কেসার, জাফরান। পৃথিবীর সব দেশে জাফরান হয় না। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, ইরান, কাশ্মির জাফরানের জন্য বিখ্যাত। তবে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে জাফরান চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।
জাফরান মধ্য হেমন্তের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তুলতে হয়। সকালে সূর্য ওঠার সময় ফুল ফোটে আর দিনের শেষে তা মলিন হয়ে যায়। একটি ফুল থেকে তিনটি পুংকেশর পাওয়া যায়। হাতে করে গাছ থেকে ফুল তুলতে হয়। তা থেকে কেশর আলাদা করতে হয়।

এক গ্রাম জাফরানের জন্য ১৫০টি ফুল দরকার। অন্য হিসাবে ১ কেজি ফুল থেকে ৭২ গ্রাম তাজা কেশর শুকিয়ে ১২ গ্রাম জাফরান পাওয়া যায়। ৪৫০ গ্রাম শুকনো জাফরানের জন্য ৫০-৭৫ হাজার ফুল দরকার। এক কেজির জন্য ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার ফুল দরকার। ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে ১ লাখ ৫০ হাজার ফুল তুলতে।
পুংকেশরগুলো বের করে তা এয়ারটাইট পাত্রে রাখা হয়। পাইকারি হিসাবে প্রতি পাউন্ড (৪৫০ গ্রাম) ৫০০ থেকে ৫ হাজার ডলারে বিক্রি হয়। এক পাউন্ডে ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ কেশর থাকতে পারে। পুরো কাজটি কায়িক পরিশ্রমে শেষ করতে হয়। অটোমেশনের কোন সুযোগ নেই। যে কারণে জাফরানের দাম বেশি।
তবে স্পেনের লা মাঞ্চা অঞ্চলের জাফরানের সুবাস সবচেয়ে ভালো। এ জাফরান দুটি ক্যাটাগরিতে পাওয়া যায়- মাঞ্চা আর ক্যুপে। মাঞ্চা প্রিমিয়াম গ্রেডে উজ্জ্বল লাল রঙের সুন্দর সুবাস রয়েছে। আর ক্যুপের স্প্যানিশ সরকারি স্বীকৃতি রয়েছে সেরা হিসাবে। ইরানি জাফরানের সুখ্যাতি তার রঙের জন্য। এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা। তাই চায়ের মতো এটারও ব্লেন্ডিং হয়।

দীর্ঘ সময় কাজ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে -গবেষণা

কাজের চাপ স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার অন্যতম কারণ।
গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
ফ্রান্সের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর কমপক্ষে ৫০ দিন যদি ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করা হয় তাহলে স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।
এক দশকেরও বেশি সময় যাবত যারা দীর্ঘ সময় কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি।
তবে যুক্তরাজ্যের স্ট্রোক এসোসিয়েশন বলছে, দীর্ঘ সময় কাজ করলেও শারীরিক ব্যায়াম এবং ভালো খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
ফ্রান্সের গবেষকরা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার মানুষের তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
তাদের বয়স, ধূমপানের ইতিহাস এবং কর্মঘণ্টা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের কিছু কম দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন।
ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
এছাড়া ১০ শতাংশ মানুষ ১০ বছর যাবত দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। সব মিলিয়ে ১২২৪ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।
আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত লেখায় গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, যেসব মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ বেশি।
যারা ১০ বছরের বেশি সময় যাবত দীর্ঘ সময় কাজ করছেন তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ৪৫ শতাংশ বেশি।
যারা খণ্ডকালীন কাজ করেন কিংবা যারা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার আগেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের এই গবেষণা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান ড. অ্যালেক্সিস বলেন, "যাদের বয়স ৫০ বছরের কম তাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে , ১০ বছর যাবত দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকির সম্পর্ক তাদের ক্ষেত্রে বেশি জোরালো। এটা অপ্রত্যাশিত। এই ফলাফল বের করার জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন আছে।"
এই গবেষণায় স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যার উপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে। স্ট্রোকের কারণের দিকে নজর দেয়া হয়নি।
অন্য আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি নিজের ব্যবসা পরিচালনা করেন, সিইও এবং ম্যানেজাররা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলেও তাদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি কম।
কিন্তু যারা অনিয়মিত শিফটে কাজ করেন, রাত্রিকালীন কাজ করেন কিংবা কাজের চাপ বেশি থাকে - তাদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি।
স্ট্রোক এসোসিয়েশনের গবেষণা দলের প্রধান ড. রিচার্ড ফ্রান্সিস বলেন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম স্বাস্থ্যের উপর বড় প্রভাব রাখতে পারে।
এ বিষয়গুলো মেনে চললে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে আসতে পারে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসম্মত খাবারও খুবই জরুরী।

'আগে চাকরী করছিলাম, কিন্তু পোষায় না'-ঢাকার একজন রিকশাচালক by মুন্নী আক্তার

ঢাকার রাস্তায় রিকশা চালকদের লাইন
দিনাজপুরের উত্তর হরিরামপুর সরকার পাড়ার বাসিন্দা আলিমুদ্দিন। জীবিকার জন্য টানা ১০ বছর ধরে রিক্সা চালান তিনি।
ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকার এই রিকশাচালক বলেন, উপার্জন বেশি হওয়ায় চাকরী বাদ দিয়ে রিক্সা চালানোকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন তিনি।
ভবিষ্যতেও তিনি থাকতে চান এ পেশাতেই।
আলিমুদ্দিন বলেন, "২০০৩ সালে ঢাকায় আসি। আগে চাকরী করছিলাম। কিন্তু পোষায় না।"
"সংসারে খাওয়ার মানুষ ৪ জন। চাকরী করলে বেতন পাবো ৭-৮ হাজার টাকা। ওইটায় পোষায় না," বলেন তিনি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ঢাকা ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস বলছে, আলিমুদ্দিনের মতো ঢাকার ২২ লাখ রিকশাচালকের মধ্যে ৮৫ ভাগই চান এই পেশায় থাকতে।
তবে তার মতো সবাই নন। গবেষণা বলছে, অন্তত ১৫ থেকে ২২ ভাগ রিকশাচালক এই পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় চলে যেতে চান।
কারা রিকশা চালান?
অনেকের কাছেই রিকশা চালানো মূল পেশা নয় অর্থাৎ তারা মূলত মৌসুমি রিকশাচালক।
গ্রামে কৃষিকাজের মৌসুম শেষ হলে কিংবা অন্য কাজ কমে গেলে দুই চার মাসের জন্য ঢাকায় চলে আসে এসব মানুষ।
আর তাৎক্ষণিক উপার্জনের পথ হিসেবে বেছে নেন রিক্সা চালানোকে।
এদের মধ্যে একটা বড় অংশ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন।
রিকশাচালক রেজাউল ইসলাম বলেন, "আশা আছে ঢাকা শহরে থেকে কিছু সঞ্চয় করবো। তারপর গ্রামাঞ্চলে গিয়ে ওখানে একটা কর্মের ব্যবস্থা করে নেবো।"
ঢাকায় যন্ত্রচালিত রিক্সা না থাকায় এই পেশাটি পুরোপুরি কায়িক পরিশ্রম ভিত্তিক।
পাশাপাশি একজন রিকশাচালককে সর্বনিম্ন ৬ ঘণ্টা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৬ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।
বিশ্রামের সুযোগ বলতে রয়েছে রাস্তার পাশের চা কিংবা মুদি দোকান, গ্যারেজ কিংবা বাসা।
যেমন তাদের জীবনযাপন
বসবাসের জন্য জনপ্রতি বরাদ্দ মাত্র ২৮ বর্গফুট জায়গা। রান্নাঘর, গ্যাস সংযোগ কিংবা নিরাপদ খাবার পানির সরবরাহ থেকে বঞ্চিত বেশিরভাগ রিকশাচালক।
আর খাবারের জন্য নির্ভর করতে হয় অস্থায়ী খাবার দোকান ও ফুটপাতের হোটেল।
যার কারণে প্রায় ৯৪ ভাগ রিকশাচালক অসুস্থতায় ভোগেন।
বিশ্রামের জায়গার অভাবের কারণে রাস্তার পাশে রিকশা থামিয়ে বিশ্রাম করেন অনেকে
যার মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি ও ঠাণ্ডা, ব্যথা, দুর্বলতা, ডায়রিয়া এমনকি জন্ডিসের মতো পানি বাহিত রোগও।
গবেষকরা বলছেন, অশিক্ষা আর কুসংস্কারের কারণে প্রচলিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যেতে চান না তারা।
সময় আর খরচ বাঁচানোর জন্য বেশিরভাগ সময়েই নির্ভর করেন হাতুড়ে চিকিৎসকের উপর।
তবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমিয়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
যার মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা এবং পরিচয়পত্র প্রদান।
গবেষক এবং ট্রেড ইউনিয়ন ট্রেইনার ও কনসালটেন্ট খন্দকার আব্দুস সালাম বলেন, "সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে রিকশাচালকদের স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকার দিতে হবে।"
"তাদের যেহেতু ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, তাই তাদের আলাদা পরিচয়পত্র দেয়া যেতে পারে যাতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরিচয়পত্র দেখিয়ে সেবা নেয়ার সুযোগ পায় তারা," তিনি বলেন।
ঢাকা কি কখনো রিকশামুক্ত হবে?
যানজট থেকে মুক্তি পেতে রাজধানীতে বেশ কিছু এলাকা এবং সড়কও রয়েছে যেগুলোতে রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ।
ভবিষ্যতে ঢাকাকে সত্যি সত্যি রিকশামুক্ত করা হবে কিনা এমন প্রশ্নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুন নাহার বলেন, "রিকশাচালকদের পুনর্বাসিত করার পদক্ষেপ ছাড়া এমন সিদ্ধান্তে যাবে না সরকার।"
এছাড়া রিকশাচালকদের পেশা পরিবর্তন বা পুনর্বাসন, সরকারের প্রচলিত বেশ কিছু কর্মসূচীর আওতায় সম্ভব বলে জানান বিলসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সাংসদ শিরিন আখতার।
তিনি বলেন, "সরকার বিভিন্ন ব্যাংক ও বিভিন্ন জায়গায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। যুবকদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। যুব কর্মসংস্থানের কর্মসূচী রয়েছে।"
"গ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য আমার বাড়ি আমার খামার কর্মসূচী রয়েছে। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় অনেক যুবক সমবায়ের মাধ্যমে কৃষিকাজে যাচ্ছে। তারা এগুলোতে যেতে পারে," তিনি বলেন।
রাজধানীতে চলাচলের জন্য গণ পরিবহন হিসেবে রিক্সার উপর নির্ভরশীল প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ।
রাজধানীর অনেক রাস্তায় রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ

ডালিম বা বেদানার অজানা পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য গুনাগুন

বেদানা বা ডালিমকে স্বর্গীয় ফল বলা হয়। কারণ এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জাদুকরী গুনাগুন। ডালিম বা বেদানা ফল মোটামুটি সারা বছর পাওয়া গেলেও এখন চলছে ডালিমের ভরা মৌসুম। আপেলের মতো ডালিমও রোগীর উপকারি ফল হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। এর ইংরেজি নাম pomegranate। বৈজ্ঞানিক নাম Punica granatum। বেদানা, আনার বা ডালিম এক রকমেরই ফল। বাংলাদেশের অনেক স্থানে এটি বেদানা নামেও পরিচিত।
পাঞ্জাব ও কাশ্মীরেও এ ফলকে বেদানা বলে। বেদানা আকারে ডালিমের চেয়ে অনেক ছোট এবং মিষ্টি স্বাদের। হিন্দি, উর্দু, ফার্সি ও পশতু ভাষায় একে আনার বলা হয়। কুর্দি ভাষায় ‘হিনার’ এবং আজারবাইজানি ভাষায় একে ‘নার’ বলা হয়। সংস্কৃত এবং নেপালি ভাষায় বলা হয় ‘দারিম’। বেদানা গাছ গুল্ম জাতীয়, ৫-৮ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাকা ফল দেখতে লাল রঙের হয় । ফলের খোসার ভিতরে স্ফটিকের মত লাল রঙের দানা দানা থাকে । সেগুলোই খেতে হয়। এর আদি নিবাস ইরান এবং ইরাক। ডালিম ফল ডালিমগাছের পাতা, ছাল, মূল, মূলের ছাল সবই ওষুধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ককেশাস অঞ্চলে এর চাষ প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে। সেখান থেকে তা ভারত উপমহাদেশে বিস্তার লাভ করেছে।
বর্তমানে এটি তুরস্ক, ইরান, সিরিয়া, স্পেন, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইরাক, লেবানন, মিশর, চীন, বার্মা, সৌদি আরব, ইসরাইল, জর্ডান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শুস্ক অঞ্চল, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ ইউরোপ এবং ক্রান্তীয় আফ্রিকায় ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। স্পেনীয়রা ১৭৬৯ সালে ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যালিফোর্নিয়াতে বেদানা নিয়ে যায়। ফলে বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া ও এরিজোনায় এর চাষ হচ্ছে। উত্তর গোলার্ধে এটি সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মৌসুমে জন্মে। দক্ষিণ গোলার্ধে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত এটি জন্মে।
ডালিম ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদ এবং লাল হয়। ফলের ভিতরে বীজের কোষ হয় এবং কোষের উপর পাতলা আবরণ থাকে। পাকা ফলে বীজ গোলাপী ও সাদা হয়। সাধারণত মে মাসে ফুল ও আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফল পাকে। তিন প্রকার স্বাদের ডালিম দেখা যায় যথা, মিষ্টি, টক মিষ্টি এবং অম্লরস। দেশ ভেদে ডালিমের আকৃতি ও স্বাদের পার্থক্য দেখা যায়। ডালিমের সবচেয়ে ভালো প্রজাতির নাম— স্পেনিশ রুবি। এ ছাড়া অন্যান্য ভালো প্রজাতিগুলো হলো— ঢোল্‌কা, ভাদকি ও জিবিজিআই, পেপার শেল, মাসকেড রেড, বেদানা ও কান্ধারী। ডালিম ফলের মোট ওজনের বৃহত্তর অংশই খোসা ও বীজ। ফুল ভেদে ডালিমকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক প্রকার গাছে শুধুমাত্র পুং ফুল ফোটে অন্যটিতে পুং এবং স্ত্রী দু’প্রকার ফুলই ফোটে।
ডালিম গাছ বেশ সহনশীল বলে অনুর্বর মাটিতে এটি সহজেই জন্মায়। নিয়মিত পরিচর্যা নিলে ডালিম গাছ থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যায়। বাংলাদেশে ডালিমের চাহিদা ও বাজার মূল্যও বেশ ভালো। আয়ের দিক থেকে বিবেচনা করলে অন্য যেকোন ফলের তুলনায় ডালিমের চাষাবাদ কোন অংশেই কম নয়। কেননা, ডালিমের মূল্য বেশি হওয়ায় মধ্যম আকৃতির একটি ডালিম গাছ থেকে বছরে ৩০০০-৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যেতে পারে। তাই বাংলাদেশে ডালিমের চাষাবাদ বেশ লাভজনক ও সম্ভাবনাময়।
পুষ্টিমান ও ব্যবহার :
ডালিমের পুষ্টিমান, ওষুধি গুণ ও বহুবিদ ব্যবহার অনেক ধর্মীয় বই থেকে অনেক স্থানে লেখা আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম ডালিমে ৭৮ ভাগ পানি, ১.৫ ভাগ আমিষ, ০.১ ভাগ স্নেহ, ৫.১ ভাগ আঁশ, ১৪.৫ ভাগ শর্করা, ০.৭ ভাগ খনিজ, ১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ১৪ মিলিগ্রাম অক্সালিক এসিড, ৭০ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ০.৩ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লাভিন, ০.৩ মিলিগ্রাম নায়াসিন, ১৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ইত্যাদি থাকে। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর ব্যবহার সব জায়গায় পরিচিত।
ঔষধিগুনাগুন :
ডালিম ফল আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী চিকিৎসায় পৈথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডালিমে বিউটেলিক এসিড, আরসোলিক এসিড এবং কিছু আ্যলকালীয় দ্রব্য যেমন- সিডোপেরেটাইরিন, পেপরেটাইরিন, আইসোপেরেটাইরিন, মিথাইলপেরেটাইরিন প্রভৃতি মূল উপাদান থাকায় ইহা বিভিন্ন রোগ উপশমে ব্যবহৃত হয়। কবিরাজী মতে ডালিম হচ্ছে হৃদয়ের শ্রেষ্ঠতম হিতকর ফল। এ ফল কোষ্ঠ রোগীদের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। গাছের শিকড়, ছাল ও ফলের খোসা দিয়ে আমাশয় ও উদরাময় রোগের ওষুধ তৈরি হয়। ইহা ত্রিদোষ বিকারের উপশামক, শুক্রবর্ধক, দাহ-জ্বর পিপাসানাশক, মেধা ও বলকারক, অরুচিনাশক ও তৃপ্তিদায়ক। ডালিমের ফুল রক্তস্রাবনাশক।
হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে:
আমাদের জীবনযাত্রায় অন্যতম আতঙ্ক রোগ হল হৃদরোগ। আর শরীর সুস্থ রাখতে হলে নিজেকে সচল রাখতে হবে। খাওয়া-দাওয়ায় সচেতন থাকতে হবে। আমাদের প্রতিনিয়ত ব্যস্ততার জন্য আমরা খুব বেশি জাঙ্ক ফুড কে খাবার হিসাবে বেছে নিয়েছি এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের হৃদয়। তাই হৃদরোগ আমাদের জীবনযাত্রার সাথে যেন জড়িয়ে গিয়েছে। আর প্রতিদিন এই সকল তেল চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ করে থাকার ফলে আমাদের ধমনীর আবরণে চর্বি জাতীয় পদার্থ জমে যাচ্ছে। যার ফলে ধমনী আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে সংকুচিত হতে থাকে। হাতের কাছেই আছে হৃদরোগ ভালো রাখার উপায়। মাংস পেশিতে দ্রুত অক্সিজেন পৌঁছে দেয় বেদানা রস। প্রতিদিন একটা বেদানার রস আপনাকে দিতে পারে হৃদরোগের হাজারো সমস্যা থেকে মুক্তি। নিয়মিত বেদানার রস এই চর্বির স্তরকে গলিয়ে পরিষ্কার করে। বেদানায় উপস্থিত থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। যা আমদের শরীরে রক্তের মধ্যে মোনোসাইট কেমোট্যাকটিক প্রোটিন ক্ষতিকর পদার্থ কমিয়ে ফেলে।
ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে :
ডালিম ত্বক সুস্থ রাখতে অনেক উপকার করে। বেদানা বা ডালিম পোমেগ্র্যানেট অয়েল ময়শ্চারাইজার হিসেবে ভালো কাজ করে ও ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণকে প্রতিরোধ তৈরি করে থাকে। ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, সাইট্রিক আসিড, ট্যানিন সমৃদ্ধ বেদানা ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বিশেষ উপকারী।
স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধে :
ডালিম বা বেদানার রস ক্যান্সার প্রতিরোধে অনেক উপকারি খাদ্য। এক গবেষণায় দেখা গেছে স্কিন ক্যান্সার ও প্রস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ করতে বেদানার রস সাহায্য করে। এবং অ্যানিমিয়া রোগীদের জন্য বেদানা রস খুবই উপকারি।
রক্তস্বল্পতা দূর করতে :
রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য বেদানাতে রয়েছে প্রচুর আয়রন। রুচি বৃদ্ধি করে, কোষ্ট কাঠিন্য রোধ করে। জন্ডিস, বুক ধড়ফড়ানি, বুকের ব্যথা, কাশি, কণ্ঠস্বর পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। পুরনো পেটের অসুখ ও জ্বর সারাতে সাহায্য করে।
হাড় ভালো রাখতে :
হাড়ের সংযোগস্থলে কার্টিলেজ নামে অস্থি রস থাকে যা হাড়ের ক্ষতি করে। বেদানার রসে আছে পটাশিয়াম ও পলিফেনল যা  কিনা কার্টিলেজ নামক রোগ রোধ করার জন্য খুবই উপকারী। আর হাড়ের নানাবিধ রোগ যেমন হাড়ের রোগ অস্টিওপোরেসিস থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এই ফলটি থেকে।
দাঁতের যত্নে :
বেদানাতে উপস্থিত রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা কিনা দাঁতে প্লাক জমতে বাধা দেয়। জিন জিভাইটিস নামে মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করতে বেদানার ভূমিকা অপরিসীম। আমরা আমাদের দাঁত ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন অল্প হলেও বেদানা খাওয়া উচিত।
ডায়রিয়া প্রতিরোধ :
অনেকে ভাবেন ডায়ারিয়া হলে বেদানা খাওয়া ঠিক না। কিন্তু ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পেতে বেদানার রস খুবই উপকারি। ডায়রিয়া হলে সকাল-বিকাল বেদানার রস খেলে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে :
শীতের সময় সর্দি-কাশি লেগেই থাকে সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা পেতে আমরা বেদানার রস ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করতে পারি। ঠান্ডায় খুব বেশি কাবু হয়ে গেলে বেদানার রস খেয়ে দেখলে পার্থক্যটা নিজেই অনুভব করতে পারবেন। বেদানাতে আছে পটাশিয়াম ও ফাইবার যা ইমিউন সিস্টেম মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ :
বেদানার প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা টক্সিন দূর করে ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে।  কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রনে বেদানার রসে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এল ডি যা হার্টের মাসলসে অক্সিজেন সরবরাহ ভাল রাখে। ফ্রি রেডিকেলস্‌ প্রতিরোধ করে কোলেস্টরেল বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। নিজেকে সুস্থ রাখতে কৃত্রিম ওষুধের ওপরে নির্ভরশীল না হয়ে, প্রাকৃতিক উপায় গুলোর প্রতি মনযোগী হয়ে উঠতে হবে। প্রকৃতির অসাধারণ সব উপাদান আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে যার অল্প একটু ব্যবহারই প্রতিদিন আমাদের রাখবে সুস্থ-সতেজ ও রোগ মুক্ত। আবার আর্টারি পরিস্কার রাখতে সাহায্য করে বেদানা। বেদানার রস তাই রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে দারুণ কার্যকারী। এর পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলে রোজ বেদানার রস খাওয়া উচিত।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় :
বেদানার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’। প্রতিদিন বেদানার রস খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণও গ্রিন টি বা রেড ওয়াইনের থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি। এর মধ্যে রয়েছে তিন প্রকার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ট্যানিন, অ্যান্থো সিয়ানিন ও এলাজিক অ্যাসিড। অ্যান্থোসিয়ানিন দেহ কোষ সুস্থ রাখার ফলে ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে পারে। ফলে ফোলা ভাব কমে যায়, ক্ষয় রুখতেও সাহায্য করে।
রক্তচাপ কমাতে :
প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকার কারণে বেদানা সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে স্ট্রেস, টেনশন কমে। হার্টের সমস্যা থাকলে হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।পেশির ব্যথা দূর করতে: বাত, অস্টিওআর্থারাইটিস, পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে বেদানা। তরুণাস্থির ক্ষয় রুখতেও উপকারী বেদানা।
দেহের ক্যান্সার প্রতিরোধে :
শরীরে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে বেদানা সাহায্য করে। ফলে ক্যান্সার নিজে থেকেই মরে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলে অ্যাপপটোসিস। এর সাহায্যে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বেদানা। প্রস্টেট ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসারে ভাল কাজ করে বেদানার অ্যান্টিক্যানসার এজেন্ট।
ডালিম বা বেদানা গাছের স্বাস্থ্য গুনাগুন :
(১) রক্তপাত বন্ধ করতে ডালিম ফুল অত্যন্ত উপকারী। হঠাৎ দুর্ঘটনায় শরীরের কোনো অংশ ছিঁড়ে গেলে, থেঁতলে গেলে বা কেঁটে রক্তপাত বের হলে ডালিম ফুল কচলিয়ে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে চেপে ধরলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। ফুল না পেলে পাতাও ভালো কাজ করে।
(২) হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া রোগের মহৌষধ ডালিম ফুলের রস। নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা রক্তঝরা একটি সাধারণ রোগ। বহু মানুষের এরকম হয়। অনেকের বিনা কারণে নাক দিয়ে রক্ত যায়। শিশুদের মাঝেও এটা লক্ষ্য করা যায়। হঠাৎ করেই এরকম হয়। আঘাত, পলিপ বা কোনো কারণ ব্যতীত যদি নাক দিয়ে রক্ত পড়ে বা রক্ত যায় ডালিম ফুল কচলিয়ে রস নিয়ে নাকে শ্বাস নিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।
(৩) আমাশয় নিরাময়ে ডালিমের খোসা। যারা আমাশয়ের রোগী, ডালিমের খোসা সিদ্ধ করে সেবন করলে আমাশয় নিরাময়ে ভলো ফল পাওয় যায়। আমাশয় নিরাময়ে ডালিমের কাঁচা খোসা এবং শুকনা খোসা দুটোই কার্যকরী। তাই ডালিম খেয়ে খোসা ফেলে না দিয়ে শুকিয়ে ঘরে রেখে দেয়া ভালো।
(৪) ডালিম গাছের ছাল গুঁড়ো করে ছড়িয়ে দিলে শরীরের যে কোনো স্থানের বাগি বা উপদংশ নিরাময়ে ভালো কাজ করে। মহিলাদের প্রদররোগ নিরাময়ে ডালিম ফুল উপকারী। প্রদর একটি জটিল মেয়েলি রোগ। প্রদর দু’প্রকার। শ্বেতপ্রদর ও রক্তপ্রদর। উভয় প্রকার প্রদরে ৪/৫টি ডালিম ফুল বেটে মধুর সাথে মিশিয়ে কিছুদিন সেবন করলে রোগ সেরে যায়।
(৫) গর্ভপাত নিরাময়ে ডালিমের গাছের পাতা উপকারী। বহু মহিলার গর্ভসঞ্চারের দুই তিন মাসের মধ্যে গর্ভপাত হয়ে যায়। কোনো কোনো মহিলার একাধিকবার এরকম হয়। ডালিম গাছের পাতা বেটে মধু ও দধি একসাথে মিশিয়ে সেবন করলে গর্ভপাতের আশংকা দূর হয়।
(৬) ডালিম গাছের শিকড় ক্রিমিনাশক। ক্রিমির সমস্যা আমাদের জাতীয় সমস্যা। ক্রিমির কারণে শিশু থেকে বুড়ো পর্যন্ত সবাই নানাবিধ জটিলতায় ভোগে। ডালিম গাছের মূল বা শিকড় থেকে ছাল নিয়ে চূর্ন করে চুনের পানির সাথে মিশিয়ে সেবন করলে আনায়াসেই ক্রিমিনাশ হয়। বয়স ভেদে ১-৩ গ্রাম পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
(৭) শিশুদের পেটের রোগ নিরাময়ে ডালিম গাছের ছাল। শিশুরা বিভিন্ন প্রকার পেটের পীড়ায় ভোগে। যেসব শিশু পেট বড় হওয়াসহ বিভিন্ন প্রকার পেটের পীড়ায় ভোগে তাদেরকে জন্য ডালিম গাছের শিকড় থেকে ছাল নিয়ে গুঁড়ো করে মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন করতে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
বেদানার খোসার উপকারিতাগুলো  :
সবাই জানে যে বেদানা মানুষের স্বাস্থের জন্য কতটা ফলদায়ক, কিন্তু আপনি কি জানেন বেদানার খোসা কতটা উপকারি? জেনে নিন এখনই -
(১) বেদানার খোসা থেকে পাওয়া অ্যান্টিঅক্সিডাইটিস আমাদের শরীরের কোলেস্টেরল লেবেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে৷
(২) বেদেনার খোসা শুকিয়ে সেদ্ধ করে ঠান্ডা হওয়ার পর বেঁটে মুখে মাখলে ব্রনর সমস্যা দূর হয়৷
(৩) বেদেনার খোসা শুকিয়ে তার পাউডার বানিয়ে গোলাপ পানির সাথে মিশিয়ে মুখে মাখলে ত্বক উজ্জ্বল হয়৷
(৪) কাশি বা গলাব্যাথা হলে বেদানার খোসা থেকে তৈরি পাউডার গরমজলে ফুটিয়ে গারগেল করলে আরাম পাওয়া যায়৷
(৫) বেদানার খোসা থেকে তৈরি পাউডার এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতের সমস্যা এবং মুখের দুর্গন্ধের সমস্যা দূর হয়৷
তথ্য এবং ছবি : গুগল

আমেরিকা শুধু বিমান হামলা চালায় by তৌহিদুল ইসলাম

যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে প্রচলিত একটি কথা আছে—‘নেতা বদলায়, নীতি বদলায় না।’ বিভিন্ন সময়ে দেশটিতে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু পররাষ্ট্রনীতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। যুদ্ধবিগ্রহের মানসিকতা ও অন্যান্য দেশের ওপর কর্তৃত্ববাদ ধরে রাখায় তারা সর্বদা পটু। স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো দেশ বা জাতিগোষ্ঠীর ওপর বিধ্বংসী হামলা করতেও দ্বিধা করে না যুক্তরাষ্ট্র।
গত প্রায় দুই দশকের ইতিহাস সেটাই বলছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় টুইন টাওয়ার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আল–কায়েদাকে দায়ী করে আফগানিস্তানে বিমান হামলায় চালিয়ে বিধ্বস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সহিংস মনোভাবের কারণে ক্ষতবিক্ষত হয় পাহাড়বেষ্টিত আফগানিস্তান। এরপর ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসন চালানো হয়। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে পরাস্ত করে ক্ষমতায় আনা হয় মার্কিন মদদপুষ্ট নেতা নুরি আল মালিকিকে। যুদ্ধ, সহিংসতা ও নৃশংস কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পার হয় ডব্লিউ বুশের আট বছরের শাসনামল।
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা থেকে সরে আসার আহ্বান এবং ‘আমাদের পরিবর্তন প্রয়োজন’ স্লোগান নিয়ে ২০০৯ সালে মার্কিন গদিতে বসেন কেনীয় বংশোদ্ভূত বারাক ওবামা। তাঁকে শান্তিতে নোবেল দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও তিনি শান্তির বার্তা নিয়ে আসতে পারেননি। তাঁর শাসনামলেই আরব বসন্তের আবির্ভাব ঘটে। ওবামা প্রশাসনের কূটচালে গণবিক্ষোভে মিসর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশ টালমাটাল হয়ে ওঠে। এসব দেশে ক্ষমতায় বসেন মার্কিন মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা।
যুদ্ধ ও সহিংসতা থেকে সরে এসে ‘আমেরিকাকে ফের মহান’ বানানোর ঘোষণা দিয়ে ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই ঘোষণাও আছে মুখ থুবড়ে। বরং ‘পা মাড়িয়ে দিয়ে ঝামেলা’ পাকানোর স্বভাব দেখা যায় তাঁর মধ্যে। ক্ষমতায় যাওয়ার পরপরই সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও সুদান—এই ছয় মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে পরিকল্পনা করেন তিনি। সন্ত্রাসী ও আইএস জঙ্গি দমনের নামে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় একের পর বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। শত্রু মোকাবিলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাটো আকাশপথকে নিরাপদ মনে করে থাকে। তাই সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে যত্রতত্র বিমান হামলা চালিয়ে বিমান হামলায় ‘ওস্তাদ’ বনে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিমান হামলার সংখ্যার দিক থেকেও এগিয়ে দেশটি।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে গত মার্চ মাস পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায় ১০৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এতে নিহত হয়েছে প্রায় ৮০০ জন। পেন্টাগন বলছে, নিহত সবাই জিহাদি (যোদ্ধা)। অবশ্য পেন্টাগনের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব আল–কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সোমালিয়ার এক–চতুর্থাংশ দখলে নিয়েছে। ২০১৬ সালে সেখানে ১৪টি বিমান হামলা হয়েছে, আর গত বছর তিন গুণ বেড়ে সেই হামলার সংখ্যা হয়েছে ৪৫। আর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিমান হামলার সংখ্যা ২৮।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই বছরে সোমালিয়ায় ১১০টি মার্কিন বিমান হামলায় আট শতাধিক মানুষ মারা গেছে। ২০১৮ সালে দেশটিতে ৪৭টি ড্রোন ও বিমান হামলা চালানো হয়। আর ২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যেই ২৫টির বেশি বিমান হামলা চালানো হয়। সম্প্রতি সেখানে হামলায় ১৪ জন মারা গেছে।
পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যাকশন ওন আর্মড ভায়োলেন্সের (এওএভি) তথ্যমতে, গত এক দশকের চেয়ে ২০১৮ সালে আফগানিস্তানে বেশি বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ফেলেছে আমেরিকা, যা ২০১৫ সালের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। বিমান হামলায় ২০১৭ সালের বেসামরিক লোকের মৃত্যুর হার বেড়ে হয়েছে ৮৭ শতাংশ। আর ২০১৮ সালে নিহত মানুষের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৪৬৩।
এসব বোমা হামলা শুধু মার্কিন বাহিনীর নয়, আফগান বিমানবাহিনীও পাল্টা বিমান হামলা চালিয়ে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অবশ্য তা বেশি শক্তিশালী ছিল না। আফগানিস্তানে কাজ করা ইউনাইটেড ন্যাশনস অ্যাসিস্ট্যান্ট মিশনের (উনামা) মূল্যায়ন এওএভির মতোই। উনামা বলছে, বিমান হামলা–সংশ্লিষ্ট ৬২ শতাংশ নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায়। আর এই বিমানশক্তির উৎস আমেরিকা।
হামলায় হতাহত হওয়ার সংখ্যা কম গণনা করে তালিকাভুক্ত করেছে আমেরিকান কমান্ডাররা। আর কীভাবে হামলার সময় বেসামরিক হতাহত হওয়ার ঘটনা এড়ানো যায়, এ বিষয়ে গবেষণার করছেন ল্যারি লুইস। তিনি পেন্টাগনের সাতটি গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। হামলার আগে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেছেন লুইস। অবশ্য সেই তথ্য কখনোই বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি।
হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার বিষয়ে চোখ বন্ধ করে থাকেনি পেন্টাগন। তারা সব সমালোচনার নোট রেখেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে আগের তিন বছরের হামলায় বেসামরিক হতাহত হওয়ার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে তারা। গবেষণায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত বেসামরিক লোক হতাহত হওয়া কমানোর বিষয়ে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইরে থেকে আসা অভিযোগ অনুযায়ী ৫৮ শতাংশ বেসামরিক লোক হতাহত হওয়ার পরিসংখ্যান ‘বিশ্বাসযোগ্য’। এ বিষয়ে অবশ্য আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনীর তথ্য বেসরকারি সংস্থার তথ্যের প্রায়ই একই রকম। লন্ডনভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এয়ারওয়ার্সের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে জোটের এক হাজার ঘটনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বেসামরিক লোক হতাহত হওয়ার শিকার হয়েছে।
এয়ারওয়ার্স মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে। নিয়মিতভাবে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের তথ্য–উপাত্ত তুলে ধরে। এয়ারওয়্যার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ক্রিস উডস বলেন, হামলায় বেসামরিক লোকদের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ানদের চেয়ে আমেরিকানরা বেশি এগিয়ে। অবশ্য তাঁর এই বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার যে হামলায় হতাহত মানুষের সংখ্যা কমানো বিষয়ে তারা তৎপর। কিন্তু হামলার সংখ্যা কমানোর বিষয়ে তাদের কোনো উদ্যোগ নেই। সুতরাং স্বার্থ হাসিলে ‘ওস্তাদদের ওস্তাদি’ চলতেই থাকবে—এ নিয়ে সংশয় নেই।

অকালে চুল পাকা রোধ করে আমলকী

ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আমলকী চুলের যত্নে অনন্য। এটি চুলের অকালে পেকে যাওয়া রোধ করতে পারে। এছাড়া চুলের গোড়া মজবুত করার পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধি বাড়াতেও জুড়ি নেই আমলকীর। জেনে নিন চুলের যত্নে আমলকী কীভাবে ব্যবহার করবেন।

চুল পাকা রোধ করতে
প্যানে ৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল, ১ টেবিল চামচ মেথি গুঁড়া ও ২ টেবিল চামচ আমলকীর গুঁড়া একসঙ্গে গরম করে নিন। কিছুক্ষণ পর নামিয়ে ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিন। মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে পরদিন ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে।
চুল পড়া বন্ধ করতে
২ চা চামচ আমলকী গুঁড়া, ২ চা চামচ টক দই ও১ চা চামচ মধুর সঙ্গে পরিমাণ মতো কুসুম গরম পানি মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টা। কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন। নিয়মিত ব্যবহার চুল পড়া বন্ধ হবে।
চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে
আধা কাপ আমলকী গুঁড়ার সঙ্গে দুটো ডিম মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলের বৃদ্ধি বাড়াবে।
খুশকি দূর করতে
২ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ আমলকীর রস মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি দূর হবে।
তৈলাক্ত চুলের যত্নে
২ টেবিল চামচ আমলকীর গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও প্রয়োজন মতো পানি মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। চুলে লাগিয়ে রাখুন সারারাত। পরদিন ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে।
>>>তথ্য: বোল্ডস্কাই

Wednesday, April 22, 2020

উইঘুর কারা? কেন চীন তাদের উপর নির্যাতন করে? by এস. মোর্শেদ

চীনের উইঘুরে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটির সরকার। প্রায় ১০ লাখ মুসলিমকে বন্দী শিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। গত অগাস্ট মাসে জাতিসংঘের একটি কমিটি জানতে পারে যে, ১০ লাখের মতো উইঘুর মুসলিমকে পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে কয়েকটি শিবিরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। কিন্তু বেইজিং সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
উইঘুর হচ্ছে তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলমানদের একটি গ্রুপ। পূর্ব ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এদের বসবাস। উইঘুর মুসলমানদের মোট সংখ্যা প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে চীনের জিংজিয়াং প্রদেশেই বাস করে ৮৫ লাখের মতো। হুনানসহ অন্যান্য চীনা প্রদেশ ও রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন নগরীতেও অল্পসংখ্যক উইঘুর বাস করে। এ ছাড়া কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুরস্ক, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়াতে উইঘুরদের বসবাস রয়েছে। এরা সুন্নি মুসলমান এবং অনেকেই সুফিবাদ চর্চা করেন।
উইঘুর শব্দের অর্থ হচ্ছে নয়টি গোত্রের সমষ্টি বা সমন্বয়। তুর্কি ভাষায় এ জন্য উইঘুর শব্দকে বলা হয় টকুজ-ওগুজ। টকুজ অর্থ নয় এবং গুর অর্থ উপজাতি। ওগুজ থেকে গুর শব্দটি এসেছে। প্রাচীন আমলে আলতাই পর্বতমালার পাদদেশে তুর্কিভাষী বিভিন্ন গোত্র বা উপজাতি বাস করত। এদের মধ্যে নয়টি উপজাতিকে নিয়ে উইঘুর সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়। উইঘুরদের কখনো কখনো ‘গাউচি’ এবং পরে ‘তিয়েলে’ জনগোষ্ঠী হিসেবেও ডাকা হতো। তুর্কি শব্দ তিয়েলে বা তেলে এর অর্থ হচ্ছে নয়টি পরিবার। বৈকাল হ্রদের আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী সিয়র তারদুস, বাসমিল, ওগুজ, খাজার, আলানস, কিরগিজসহ মোট নয়টি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে উইঘুর নামের জনগোষ্ঠী বা জাতি গড়ে ওঠে।

১৬৬৪ সালে বর্তমান চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঞ্চু শাসকরা প্রতিষ্ঠা করেন কিং সাম্রাজ্য। তারা মঙ্গোলিয়ার অধিকাংশ এলাকা, পূর্ব তুর্কিস্তান ও তিব্বত দখল করে এবং ২০০ বছর পর্যন্ত এই এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই সময়কালে কিং সম্রাটদের বিরুদ্ধে উইঘুররা অন্তত ৪২ বার বিদ্রোহ করেছে। শেষ পর্যন্ত ১৮৬৪ সালে উইঘুররা পূর্ব তুর্কিস্তান থেকে কিং শাসকদের বিতাড়িত করতে সক্ষম হন এবং কাশগড়কেন্দ্রিক এক স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। এটাকে ইয়েতিসার বা সাত নগরীর দেশও বলা হতো। কারণ কাশগড়, ইয়ারখন্ড, হোতান, আকসু, কুচা, কোরলা ও তুরফান নামে সাতটি নগরী এই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অটোমান সাম্রাজ্য (১৮৭৩), জার শাসিত রাশিয়া (১৮৭২) ও গ্রেট ব্রিটেন (১৮৭৪) উইঘুরদের নতুন এই রাজ্য পূর্ব তুর্কিস্তানকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এমনকি এর রাজধানী কাশগড়ে এই তিনটি দেশ তাদের কূটনৈতিক মিশনও খুলেছিল। কিন্তু রাশিয়ার জার পূর্ব তুর্কিস্তান দখল করে নিতে পারে এমন আশঙ্কায় মাঞ্চু শাসকরা ১৮৭৬ সালে হামলা করেন পূর্ব তুর্কিস্তানে।
জেনারেল ঝু জংতাংয়ের নেতৃত্বে ওই বাহিনীর হামলার প্রতি সমর্থন জানায় ব্রিটেন। দখলের পর ১৮৮৪ সালের ১৮ নভেম্বর পূর্ব তুর্কিস্তানের নাম পাল্টে রাখা হয় জিংজিয়াং বা সিনকিয়াং যার অর্থ ‘নতুন ভূখণ্ড’। কিন্তু মুসলিম বিশ্ব এখনো এই এলাকাকে মোগলিস্তান বা তুর্কিস্তানের পূর্ব অংশ হিসেবেই জানে। জিংজিয়াং নামকরণের আগে এই ভূখণ্ড মাঞ্চু চীনাদের কাছে হুইজিয়াং বা মুসলমানদের ভূখণ্ড হিসেবে পরিচিত ছিল।
পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার পর উইঘুর স্বাধীনতাকামীরা তাদের মুক্তির লড়াই অব্যাহত রাখে। ১৯৩৩ ও ১৯৪৪ সালে তারা দুইবার বিদ্রোহ করেছে এবং শেষবার তারা সফলও হয়। তারা আবার পূর্ব তুর্কিস্তান প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। চীনের জাতীয়তাবাদী সরকার স্বাধীন তুর্কিস্তানকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং জোসেফ স্টালিনের সোভিয়েত ইউনিয়নও নতুন এই রাষ্ট্রকে সমর্থন জানায়। কিন্তু চীনের গৃহযুদ্ধে জাতীয়তাবাদীরা হেরে যাওয়ার পর মাওসেতুংয়ের নেতৃত্বে বিজয়ী কমিউনিস্টরা তুর্কিস্তানকে চীনের সাথে কনফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব দেন। কিন্তু এতে উইঘুর নেতারা রাজি হননি।

এরপর এক রহস্যঘেরা বিমান দুর্ঘটনায় পূর্ব তুর্কিস্তানের সব শীর্ষ উইঘুর নেতা প্রাণ হারান। প্রচলিত আছে যে, মাওসেতুংয়ের চক্রান্তেই ওই বিমান দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। ওই বিমান দুর্ঘটনার পরপরই জেনারেল ওয়াং ঝেনের নেতৃত্বে বিশাল এক চীনা বাহিনী মরুভূমি পাড়ি দিয়ে পূর্ব তুর্কিস্তানে হামলা চালিয়ে সেটি দখল করে। এরপর ওই ভূখণ্ডের নাম পরিবর্তন করে আবার জিংজিয়াং রাখা হয়। চীনা দখলের পর অনেক স্বাধীনতাকামী উইঘুর নেতা পালিয়ে তুরস্কে ও বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে চলে যান। তখন থেকেই জিংজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলমানদের ওপর চীনা কমিউনিস্ট সরকার নানাভাবে নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। অন্য দিকে স্বাধীনতাকামী উইঘুররা ১৯৪৯ সাল থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে হলেও কিছু তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
চীনের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ জাতিগত হান হওয়ার কারণে জিংজিয়াং প্রদেশে তারা সংখ্যালঘু হয়েও উইঘুরদের বেশি সুবিধা ভোগ করছে। আগে সরকারি চাকরিতে সংখ্যালঘুদের নিয়োগের বিধান থাকায় উইঘুররা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোটা অনুযায়ী কিছু সুবিধা পেত। কিন্তু বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর উইঘুররা এখন সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এখন তাদের নিজ প্রদেশ জিংজিয়াংয়েও চাকরির ব্যবস্থা করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো একটি চাকরির জন্য তাদের জিংজিয়াং থেকে শত শত মাইল এমনকি হাজার হাজার মাইল দূরের কোনো প্রদেশে চলে যেতে হচ্ছে সংখ্যালঘুদের উপকূলীয় এলাকায় প্রেরণের নীতির কারণে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর চাকরিপ্রত্যাশীদের নাম নিবন্ধন করার পর অনেক দূরের উপকূলীয় প্রদেশগুলোতে জোর করে তাদের পাঠিয়ে দেয় কাজ করার জন্য। সেখানে বিভিন্ন কারখানায় তারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে হানদের নানা অত্যাচার ও বিদ্রুপের মধ্যে।

প্রায় ৬০ বছর আগে কমিউনিস্ট চীনের সৈন্যরা জিংজিয়াংয়ে আসার পর থেকে এই ভূখণ্ডের মুসলমানরা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে। নানা আইন-কানুন ও বিধিবিধান করে সরকার উইঘুরদের ধর্মীয় জীবন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে চীন সরকার মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি বাড়িতেও উইঘুরদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করে থাকে। মসজিদের বাইরে সব সময়ই নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়। সরকারিভাবে মসজিদে ইমাম নিয়োগ দেয়া হয় এবং ইমামদের প্রতি নজর রাখা হয়। উইঘুরদের সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ যেকোনো ধরনের প্রকাশনা সরকারি সেন্সর ছাড়া আলোর মুখ দেখতে পারে না। কারো ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহ হলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জিংজিয়াংয়ে চীন সরকারের অনুসৃত কঠোর নীতির কারণে খুব সামান্যসংখ্যক উইঘুর মুসলমানই হজে যাওয়ার সুযোগ পান। রমজান মাসে উইঘুর সরকারি কর্মচারীরা রোজা রাখতে পারেন না কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারণে। জুমার নামাজের খুৎবায় কী কথা বলা হবে সেটাও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগেই ইমামকে বলে দেন। উইঘুরদের প্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাশগড় নগরীর অনেক মসজিদ ও ভবন ভেঙে ফেলে সেখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। নগরীর অনেক এলাকার মুসলমানদের উচ্ছেদ করে কাশগড় থেকে শত মাইল দূরে নির্মিত আবাসিক কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের কোনো অনুমতি নেয়া কিংবা জিজ্ঞাসা করারও প্রয়োজন মনে করেনি সরকার।
>>>ব্লগ একাত্তর ডট কম

জীবন যেখানে যেমন by এইচ বি রিতা

সিগারেটের ধোঁয়া ফুঁ দিয়ে ছাড়তেই একরাশ বিরক্তি চেপে ধরল শুভকে। এই নিয়ে পর পর নয়টা সিগারেট শেষ হলো। জিহ্বাটা তেতো হয়ে আছে। ঘরটা কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের মতো ঈষৎ ঘোলাটে দেখাচ্ছে।
ইতিমধ্যে রাহেলা বেগম কয়েক বার দরজায় কড়া নেড়ে গেছেন। শুভ মটকা মেরে না শোনার ভান করে পড়েছিল। যদিও তিনি দরজার নিচ নিয়ে সিগারেটের গন্ধ ঠিকই টের পেয়েছেন।
রাহেলা বেগম মনে করেন, তিনিই এই জগতের সব চেয়ে দুঃখিনী মা। ঘরে জলজ্যান্ত এক কচ্ছপ পুষছেন তিনি। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে যার কাজই হচ্ছে ধীর গতিতে চলা, মাথাটা বাড়িয়ে খাবার খেয়ে আবার সময় মতো মাথাটা শরীরে ঢুকিয়ে ফেলা। দিন রাত ওনার মহান বাণীতে ধমনি কেঁপে উঠে। শরীরের চামড়া তোশকের মতো ভারী বলে তার কোনো বাণীই শুভর গায়ে লাগে না।
যাই হোক, সকালের প্রথম মল ত্যাগ করার ভীষণ তাড়া অনুভব করল শুভ। এক প্রকার জোর করেই উঠে দাঁড়াল সে। স্যান্ডেলটা পায়ে দিয়ে দরজা খুলতেই মার মুখোমুখি। মার চোখে চোখ পড়তেই ঘুমে ঢলে পড়ার ভান করে বাথরুমের দিকে ছুটল শুভ।
যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়—একটা প্রবাদ চালু আছে সমাজে। বাথরুমের দরজায় কড়া নাড়তেই সেই বাঘের হুংকার শোনা গেল। শুভর বাবা তমিজ উদ্দিন চিৎকার করে বললেন, কী সমস্যা? তোর জ্বালায় দেখছি টয়লেটে বসেও শান্তি নেই!
শুভ কিছু না বলে তড়িঘড়ি নিজের রুমে চলে এল। প্রয়োজনে বাঘের মুখে স্বেচ্ছায় নিজেকে বিসর্জন দিতে রাজি সে। কিন্তু বাবার মুখোমুখি হতে আপত্তি আছে। অগত্যা পেট চেপে আবার বিছানায় এসে শুয়ে পড়ল।
বালিশের পাশে রাখা মুঠোফোনটার দিকে চোখ পড়তেই দেখা গেল বহ্নির টেক্সট ম্যাসেজ। নিজের অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এল শুভর। এই মেয়েটাকে কীভাবে বলবে যে তার চাকরিটা চলে গেছে! বসের ঘ্যানর ঘ্যানর রোজ অসহ্য লাগে। বহ্নিকে কে বোঝায়! চাকরি ছেড়ে দিয়েছে শোনা মাত্রই ও হুলুস্থুল কাণ্ড করবে। ঝড় যে অঞ্চলেই হোক, বজ্রপাত সময় মতো শুভর মাথাতেই পড়বে।
পেটে এবার রীতিমতো যন্ত্রণা শুরু হয়ে গেছে। শুভ ভাবছে একবার দেখে আসবে কি বাবার হয়েছে কি না। নাহ! এখন যাওয়াটা ঠিক হবে না।
ভদ্রলোকের অন্তত ৩০ মিনিটের আগে বের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ঘুম ভেঙেই প্রথম আলো পত্রিকার শুরুর পৃষ্ঠা পড়তে পড়তে তিনি বাথরুমে ঢোকেন। বের হন শেষের পৃষ্ঠা হাতে বিড়বিড় করতে করতে। রোজকার রুটিন। এর চেয়ে বরং আয়েশ করে খাটে পা উঠিয়ে বসে আরেকটি সিগারেট ধরানো যায়।
খাটে আয়েশ করে বসতেই দরজার পাশে ময়নার মা চা হাতে চেঁচিয়ে উঠল। নাকে কাপর চেপে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, ভাইজান যে কি ছাতা মাতা খান না! এই বলেই চা নামিয়ে রাখল সাইড টেবিলে।
-ময়নার মা…
ময়নার মা চলে যেতে গিয়েও ফিরে তাকাল। বলল, জি ভাইজান
-আমার শার্টটা ধোয়া দরকার।
-দেন ভাইজান, ধুইয়া দিই।
দলা মোচড়া শার্টটা খাটের ওপর থেকে ময়নার মার হাতে দিল শুভ।
-ভাইজান, একটা নতুন শার্ট কিনেন। ধুইতে ধুইতে তো আফনার শার্ট ছিঁড়া যাইতাসে।
বলেই ময়নার মা চলে গেল।
শুভ ভাবল, একটা নতুন শার্ট কিনতে হবে এবার। একই শার্ট পড়ে কতবার যে বহ্নির বিরক্ত মুখ দেখেছে শুভ! শুভ ভাবল, বহু বছর ধরে কামাই করা সার্টিফিকেটের নামে পুরোনো কাগজগুলো যদি কাজে লাগানো যায় এবার, তবে একটা নতুন শার্ট কিনতে হবে। বাবার পুরোনো চশমাটা বদলে নতুন একটা চশমা কিনতে হবে। বহ্নিকে ঘরে তুলতে একটা ভালো চাকরি চাই। বহ্নিকে পেতে ভালোবাসার চেয়ে চাকরিটাই এখন বেশি দরকার। স্বল্প বেতন পাওয়া ছেলের হাতে মেয়ে দিতে রাজি নন হবু শ্বশুর মশাই!
শুভ ভাবছে, অর্থ বিত্তের কাছে বেকার মানুষগুলো কত অসহায়! আচ্ছা, ভালোবাসার পরিমাপ কি একটা ভালো চাকরি দিয়ে করা যায়? সবাই কেন একই নিয়মে কোট-টাই পরে অফিস যাবে বা বড় মাপের ব্যবসায়ী হবে! একই নিয়মে কি পৃথিবী ঘুরছে? ঘুরছে না। ৩৬৫ দিনে কি হামেশাই বছর হয়? প্রতি চার বছর পরপর লিপ ইয়ার এসে পৃথিবীর নিয়ম কি ভেঙে দিচ্ছে না? তাহলে কি অর্থের লড়াই সর্বত্র? কি জানি! হয়তো!
মোবাইল ফোনটা ক্রিং ক্রিং শব্দে বেজে উঠল। বহ্নির কল। সাইলেন্ট মোডে ফোনটা বালিশের পাশে রেখে দিল শুভ। এই মুহূর্তে বহ্নি মুখ্য নয়। শরীরের আবর্জনাগুলো ছুড়ে ফেলাই মুখ্য বিষয়।
উফফ! এবার বাথরুমে না গেলেই নয়।

রহস্যঘেরা জিনের পাহাড়! by আব্দুল হালিম নিহন

ওয়াদি আল জিন কিংবা জিনের পাহাড়! যে নামেই পরিচিত হোক না কেন জায়গাটিতে পৃথিবীর অবাক করা ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের মদিনা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত জিনের পাহাড়। এই পাহাড় নিয়ে অনেক কিছু শোনা গেলেও কোরআন হাদিসে এ সম্পর্কে কিছু বলা নেই।
রহস্যঘেরা এ পাহাড় সম্পর্কে মানুষের কেন আগ্রহ সে তথ্য অনুসন্ধানে যাত্রা জিনের পাহাড় নামক স্থানে। বিস্ময়কর এই পাহাড় সম্পর্কে বলা হয় কোনো এক অদৃশ্য শক্তি সবকিছুকেই উপরের দিকে টানে। যাত্রাপথে চোখে পড়ে বিশাল বিশাল পাহাড়। আর তাতেই গা ঘেসে যেতে হয় জিনের পাহাড়ে।
নানা তথ্যসূত্র বলছে, ২০১০ সালের দিকে সৌদি সরকার ওয়াদি আল বায়দায় একটি সড়ক তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু তাতে ঘটে বিপত্তি। ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করার পর হিতে বিপরীত। হঠাৎ দেখা যায়, রাস্তা নির্মাণের যন্ত্রপাতি ধীরে ধীরে মদিনা শহরের দিকে একা একাই চলে যাচ্ছে।
চলার পথে যে রাস্তাটি দেখছি সেটি জিন পাহাড়ে পর্যন্ত গিয়ে থেমেছে রাস্তাটি আরও সামনে নেয়ার ম্যাপ থাকলেও নাকি সেটি আর সামনে নিতে পারেনি। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পরেও নাকি সম্ভব হয়নি রাস্তার কাজ এগিয়ে নিতে।
তবে নিজ চোখে যা দেখলাম, রাস্তায় সবকিছুই ঢালুর বিপরীত অর্থাৎ উঁচুর দিকে গড়ায়। সাধারণ নিয়মের একেবারেই উল্টো। রহস্যঘেরা এই পাহাড়ে গাড়িও ঢালুর বিপরীতে চলতে শুরু করে। তাও আবার ছোটখাটো বস্তু হলেও কথা ছিল। এই অদৃশ্য শক্তি টেনে নিয়ে যায় কয়েক টন ওজনের গাড়িকেও প্রায় ১৪০ কি.মি. স্পিডে। পানির বোতল কিংবা পানি ঢেলে দিলে সেটিও বিপরীত অর্থাৎ উঁচুর দিকে গড়ায়।
অনেকেই ধারণা করেন, জায়গাটিতে প্রচুর চুম্বকজাতীয় পদার্থ রয়েছে বিধায় এমন ঘটনা ঘটে। কিন্তু জায়গাটি সম্পর্কে বেশ কয়েকবার গবেষণা করেও নাকি মেলেনি তেমন কোনো সুস্পষ্ট তথ্য।
এমন রহস্যময় জিনের পাহাড় ঘিরে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিনই হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন এটি দেখতে।
প্রতি বছর হজ কিংবা ওমরা হজ করতে আসা মানুষও এই রহস্যঘেরা জিনের পাহাড় দেখার জন্য ভিড় করে। তবে দুনিয়াজোড়া জ্ঞান বিজ্ঞানের এত প্রসারের পরেও আজ অবধি এই অপার রহস্যের উদঘাটন করতে পারেনি কেউ। আজও বিস্ময় সৃষ্টি করে চলেছে এই অদৃশ্য শক্তির পাহাড়।
যারা যেতে চান : ফজর পড়েই যাবেন। তা না হলে প্রচণ্ড তাপমাত্রায় অস্থির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মসজিদে নববীর সামনে থেকে মাইক্রোতে শেয়ারিংয়ে যেতে পারবেন। তবে রিজার্ভ নিয়ে গেলে সুবিধা বেশি।
গাড়ি চালক যেন বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানের হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। গাড়ি রিজার্ভ নিলে অবশ্যই ওহুদ পাহাড় থেকেও ঘুরে আসতে পারবেন। তাতে করে আরেকদিন ওহুদ দেখতে যাওয়ার খরচটা বেঁচে যাবে।

সাইকোথেরাপি কী ও কেন by ডা: মৌসুমী রিদওয়ান

সাইকোথেরাপি বা টকিং কিউর মানসিক রোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যাপক উপকারী ফল বয়ে আনে। এ থেরাপি দ্বারা ব্যক্তির আবেগগত যন্ত্রণা, মানসিক ডিসঅর্ডার এবং প্রাত্যহিক জীবনের স্ট্রেসের চিকিৎসা করা হয়। লিখেছেন ডা: মৌসুমী রিদওয়ান
এটা এমন এক ধরনের থেরাপিউটিক পদ্ধতি যার মাধ্যমে ব্যক্তি পরিপূর্ণরূপে বুঝতে পারে তার সামর্থ্য, সমস্যা, প্রেরণা এবং উদ্বিগ্নতা। ডাক্তার-রোগীর পারস্পরিক বিশ্বস্ত সম্পর্কের মধ্য দিয়ে এই থেরাপিউটিক প্রোসেস এগিয়ে চলে। এটি কয়েক মাস বা বছর ধরে চলতে পারে। এটা অত্যন্ত পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যা অন্য আরেক মানুষের সাথে গড়ে ওঠে- একথা বলেছেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ক্যারোলিন গারেলন্ড, লন্ডনের টাভিস্টক ক্লিনিকের যিনি একজন চিকিৎসক। থেরাপিস্ট তার রোগীকে অন্যদের চেয়ে বেশি জানেন বোঝেন।
সাইকোথেরাপিস্ট কে?
সাধারণ একজন সাইকোথেরাপিস্টের মানসিক স্বাস্থ্য পেশায় অ্যাডভান্স কোয়ালিফিকেশন থাকতে হয়। এই মানসিক স্বাস্থ্য পেশায় যোগ্যতা মানসিক স্বাস্থ্যের যেকোনো বিভাগ থেকে হতে পারে। যেমন- সাইকিয়াট্রি, সাইকোলজি, সাইকিয়াট্রিক পেশেন্ট নার্সিং।
সাইকোথেরাপিতে কী ঘটে?
সাইকোথেরাপির সেশন একই জায়গায় এবং একই সময় হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রতি পক্ষকালে এবং এই সেশনে থেরাপিস্ট ও রোগীর মধ্যে যেসব কথাবার্তা হয় তা সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ মিনিট সময়ের জন্য হয়ে থাকে।
ইনডিভিউজুয়াল থেরাপিতে রোগী এবং থেরাপিস্ট সবসময় একটি চেয়ারে বসেন। গ্রুপ থেরাপি হয় সাধারণত তিনজন বা তার বেশি ক্লায়েন্ট নিয়ে এবং এতে বিশেষ বিশেষ রকমের সমস্যা নিয়ে কথাবার্তা বলা হয়। কেউ কেউ আবার থেরাপিউটিক টেকনিকের কম্বিনেশন ঘটায়। যেমন- ইনডিভিউজুয়াল এবং ম্যারিটাল থেরাপি (যেখানে দম্পতিরা একজন বা দুইজন থেরাপিস্টের সাথে সাক্ষাৎ লাভ করে)। টেকনিক যাই হোক না কেন, সাইকোথেরাপি কোনো ম্যাজিক নয় বরং এর মাধ্যমে আরোগ্য হওয়ার ক্ষমতা একেক ব্যক্তির একেক রকম। এক সময় রোগী এ ধারণায় উন্নীত হয় যে তারা তাদের কঠিন পরিস্থিতি, অনুভূতি, চিন্তা-ভাবনা এবং আচার-আচরণের ওপর আগের চেয়ে বেশি মাস্টারি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
কাউন্সেলিং অথবা সাইকোথেরাপি
এ দু’টির মধ্যে পার্থক্য নিয়ে গরম গরম যুক্তিতর্কের ইস্যু রয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ সাইকোলজি সোসাইটি কাউন্সেলিং বলতে বোঝায় এমন একটি পদ্ধতি বা সিস্টেম যা কিনা মানুষের সুখ-শান্তি বোধ উন্নত করতে সাহায্য করে, মানুষের বিপর্যস্ততা কমিয়ে দেয়, তাদের মাঝে সৃষ্টি হওয়া সঙ্কটাবস্থা সমাধান করে, সমস্যা সমাধানে সামর্থ্য বাড়ায় এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিজে নিতে পারার ক্ষমতা তৈরি করে। সাইকোথেরাপি উপকারী হয়ে থাকে যারা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় ভুগছে, যা বছরের পর বছর ধরে তৈরি হয়েছে।
কগনিটিভ থেরাপি
এটি নেগেটিভ চিন্তাভাবনা এবং ক্ষতিকর বিশ্বাস ভাঙতে এমন পথে চলার বা নতুন আচরণ শেখায় যাতে রোগী নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারে। এটি আপনার মাঝে তৈরি হওয়া কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাস, যা প্রথম জীবনের অভিজ্ঞতায় লাভ হয়েছিল সেসবকে ভিন্ন পথে, উপায়ে বা ভিন্ন পরিস্থিতিতে দেখার ক্ষমতা তৈরি করে আপনার মাঝে সমস্যার সাথে পেরে ওঠার এক প্রকার সক্ষমতা তৈরি করে দেয়। এটি মাইল্ড থেকে মডারেট ডিপ্রেশনে কার্যকরি এবং এ থেরাপিটি অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ও ট্রেনিংপ্রাপ্ত থেরাপিস্টকে দিয়ে করানো দরকার। যেমন- এ ক্ষেত্রে থাকতে পারে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট বা মেন্টাল হেলথ নার্স। এ কগনিটিভ থেরাপি বিশেষভাবে কাজ করে শিশু এবং তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে।
বিহেভিয়ারাল থেরাপি
এ থেরাপি ফোবিয়া বা প্যানিক আক্রান্ত মানুষের বেলায় উপকারী হতে পারে। এ থেরাপিতে ব্যক্তি যে জিনিস বা পরিস্থিতিতে ভয় পেয়ে প্যানিকে আক্রান্ত হয় সেই জিনিস বা পরিস্থিতি ব্যক্তির সামনে ধীরে ধীরে প্রদর্শন করা হয় এবং রোগীকে বোঝানো হয় যে এগুলোর দ্বারা তার কোনো ক্ষতি হবে না বা ভয়ের কিছু নেই। এ থেরাপির দ্বারা রোগীকে তার অ্যাংজাইটি কাটিয়ে উঠতে দক্ষ করে তোলা হয়।
সাইকোঅ্যানালাইসিস
এ থেরাপিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করতে বা বলতে উৎসাহিত করা হয়। এতে করে ব্যক্তির অসচেতন চেতনা থেকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়, যার কারণে ব্যক্তি আবেগগত এবং মানসিক দিক থেকে অসুস্থ হয়েছে।
সাইকোথেরাপি বা অন্যান্য থেরাপি দেয়া হয় বিভিন্ন মানসিক সমস্যায়। এসব সমস্যা হলো-
* বাইপোলার ডিসঅর্ডার
* ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার
* পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার
* সেল্প-হার্ম
* অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার
* ফোবিয়া ও প্যানিক ডিসঅর্ডার
* সিজোফ্রেনিয়া এবং
* ইটিং ডিসঅর্ডার
সাইকোথেরাপি, টকিং থেরাপি বা কগনিটিভ থেরাপি, ইনডিভিউজুয়াল থেরাপি কোন থেরাপি কোন রোগীর জন্য প্রযোজ্য তার সিদ্ধান্ত নেবেন মনোরোগ চিকিৎসক। আর অভিজ্ঞ কোনো একাডেমিক যোগ্যতাসম্পন্ন থেরাপিস্টই এসব থেরাপি দিতে পারেন। তাই এ ধরনের থেরাপি নেয়ার আগে থেরাপিস্টের একাডেমিক বা প্রফেশনাল যোগ্যতা আগে জেনে নেয়া প্রয়োজন। নয়তো ভালোর চেয়ে মন্দই হতে পারে বেশি।

ভালো বা খারাপ গন্ধের অনুভূতি কীভাবে তৈরি হয়?

অনেকে মনে করেন - ভালো বা খারাপ গন্ধ একটা রুচি বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার। কোন কোন গন্ধ হয়তো একজনের কাছে ভালো লাগে, অন্য আরেকজনের কাছে লাগে না।
অনেকটাই তাই। তা ছাড়া আমরা আমাদের চারপাশের জগৎকে যেভাবে উপলব্ধি করি তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে এই গন্ধ।
কিন্তু কীভাবে মানুষের মস্তিষ্ক এই গন্ধের অনুভূতি তৈরি করে, আর কীভাবেই বা একই গন্ধ একেকজনের নাকে একেকরকম লাগে?
বিজ্ঞানীরা বলেন, কোন দুজন লোকের গন্ধের অনুভূতি এক রকম হয় না
বিজ্ঞানীরা বলছেন, গন্ধের অনুভূতির সাথে মানুষের জিনগত গঠনের গভীর সম্পর্ক আছে।
কোন দুজন লোকের গন্ধের অনুভূতি এক রকম হয় না - যদি না তারা হুবহু একরকম দেখতে যমজ ভাই বা বোনের মতো জিনগত গঠনের দিক থেকে হুবহু একরকম হয়।
যখন আপনি কোন কিছুর গন্ধ নেন, তখন গন্ধের অনুভূতি সৃষ্টিকারী অণুগুলো আপনার নাকের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে ঢোকে।
আপনার নাকের ভেতরে যে গন্ধ-অনুভতি বহনকারী 'রিসেপ্টর' বা 'গ্রাহক-কোষ' আছে - তা ঢাকা থাকে একরকম আঠালো তরল দিয়ে - যাকে বলা হয় মিউকাস। সেই মিউকাসে গন্ধের অনুভূতি সৃষ্টিকারী অণুগুলো আটকে যায়।
নাকের ভেতরের রিসেপ্টরগুলো হচ্ছে একরকমের কোষ যা উদ্দীপ্ত হলে মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক 'সিগন্যাল' পাঠায়।
মানুষের নাকের ভেতর এরকম ৪০০ রিসেপ্টর আছে, তার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন গন্ধের জন্য আলাদা রিসেপ্টর আছে। তারা মস্তিষ্কের নিউরনের ভিন্ন ভিন্ন সাড়া সৃষ্টি করে, তৈরি হয় গন্ধের অনুভূতি।
মানুষের মস্তিষ্ক বহু রকমের গন্ধ অনুভব করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের পক্ষে এক লক্ষ কোটি প্রকারের গন্ধ আলাদা আলাদাভাবে অনুভব করা সম্ভব।
মানুষের জিনগত পার্থক্যের কারণে একেকটি গন্ধ কারো কাছে ভালো, কারো কাছে খারাপ মনে হয়।
তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে যে তাহলে কি 'ভালো' গন্ধ আর 'খারাপ' গন্ধ বলে কিছু নেই?
এর উত্তর 'হ্যাঁ' বা 'না' দুইই হতে পারে।
নাকের ভেতরে আছে গন্ধ-অনুভতি বহনকারী 'রিসেপ্টর' বা 'গ্রাহক-কোষ'
গবেষকরা বলেন, গন্ধ জিনগত ব্যাপার তবে আপনি বিশেষ কোন গন্ধকে পছন্দ বা অপছন্দ করতে 'শিখতে পারেন'।
যদি কোন গন্ধ সুন্দর কোন স্মৃতির কথা আপনাকে মনে পড়িয়ে দেয় - তাহলে আপনার সেই বিশেষ গন্ধকে সুন্দর মনে হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা আরো বলেন, একটা গন্ধের সাথে ভালোভাবে পরিচিত হয়ে গেলে তার ব্যাপারে মনোভাব বদলে যেতে পারে।
কাজেই পনির বা পেঁয়াজ বা বিশেষ কোন মসলার গন্ধ ভালো না খারাপ - এটা নির্ভর করবে আপনি পৃথিবীর কোন অংশে আপনি বাস করেন তার ওপর।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দেশ আফগানিস্তান: 'সবকিছুর মূলে বিদেশিরা'

আউলিয়া আতরাফি
ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ডালপালা কিম্বা হাত-পা গজায় পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই। কিন্তু কিছু কিছু দেশ আছে যেখানে এসব গল্প অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কিন্তু বিবিসির আউলিয়া আতরাফি বলছেন- এমন একটি দেশ আছে যেখানে প্রায়শই সবকিছুর জন্যে বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে ব্রিটিশদেরকে দায়ী করা হয়...
নানা ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ভেতরে আমি বেড়ে উঠেছি। তার কিছু কিছু আবার খুবই অদ্ভুত।
যেমন আমাকে বলা হয়েছে যে ব্রুস লীর উপর তার স্ত্রী বিষ প্রয়োগ করেছিলো, এবং ব্রুস লী যখন বুঝতে পারলো তার স্ত্রী কি করেছে তখন সে তার খালি হাতেই স্ত্রীকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে।
আমি এও জানতাম যে ব্রুস লী উড়তে পারে।
এরকম আরো আছে- যেমন হিটলার এখনও বেঁচে আছেন। একটি জিপ গাড়িতে করে সে মিত্রদের হাত থেকে পালিয়ে এসেছে। ওই জিপ গাড়িটা একসময় বিমানে রুপ নেয়, তারপর পরিণত হয় একটি নৌকায়। তারপর একটি ডুবোজাহাজে। ওই সাবমেরিন থেকে তিনি এখনও মাঝে মাঝে বার্তা পাঠিয়ে যাচ্ছেন। ঘোষণা করছেন: "আমি আবার ফিরে আসবো!"
তবে একটি তত্ত্ব টিকে আছে যুগ যুগ ধরে। আর সেটি হলো- আফগানিস্তানে সকল শয়তানির পেছনে আছে ব্রিটিশদের হাত।
যখন ছোট ছিলাম, আমি ভাবতাম এর পেছনে কি কারণ থাকতে পারে। কিন্তু আমার বয়স যখন ২০ পার হলো, আমি ব্রিটেনে চলে আসি। এখানে আসার পর আমি জানতে পারলাম এই সন্দেহের পেছনে ভালো ভালো কিছু কারণও আছে।
বহু শতাব্দী কাল ধরে আফগানিস্তান ছিলো রাশিয়া ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্বন্দ্বের মাঝখানে (বাফার জোন)। এই দুই পরাশক্তি তাদের যুদ্ধের কৌশলে এই দেশটিকে ব্যবহার করেছে। আফগানিস্তানের ভেতরে দুটো দেশই লিপ্ত ছিলো নানা ধরনের ষড়যন্ত্র কিম্বা চক্রান্তে। আধুনিক আফগানিস্তানের মানচিত্র যখন তৈরি হলো, বলা হয় যে তখন আফগান বাদশাহর মতামতকে কোনভাবেই বিবেচনা করা হয়নি। আফগানিস্তান নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে ১৯১৯ সালে। তখন ব্রিটিশরা সেখান থেকে চলে আসে চিরতরে। কিন্তু তার আগে তিন তিনবার ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ হয়েছে।
কিন্তু আসলেই কি ব্রিটিশরা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে এসেছে?
আফগানরা মনে করে, ব্রিটিশরা এখনও তাদের দেশে ছায়ার মতো ওত পেতে আছে। তাদের উপর গোয়েন্দাগিরি করছে। করছে ষড়যন্ত্র। এবং এখনও আফগানিস্তানের বিষয়ে নাক গলাচ্ছে যাতে সেখানকার পরিস্থিতি দিনি দিনে আরো খারাপ হচ্ছে।
আফগানিস্তানে এমন কিছু গল্পও প্রচলিত আছে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা গোপনে ইমামের ছদ্মবেশ ধরে ধার্মিক লোকজনদের বিভ্রান্ত করছে, কেউ কেউ কাজ করছে ভবিষ্যৎ বলতে পারে এমন মানুষ হিসেবেও। শুধু তাই নয়, আফগানিস্তানের মাজারে মাজারে এখনও নাকি বহু ধনসম্পদ লুকানো আছে যা ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে ব্রিটিশরা সেখানে পাহারা দিচ্ছে।
ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ব্যাপারে আফগান জাতির এই মাতামাতি একেবারে বিচিত্র কিছু নয়। এক কুর্দী বন্ধু আমাকে বলেছিলো, সারা রাতের বৃষ্টির পর তাদের এলাকায় যদি কখনও কোন দেওয়াল ধ্বসে পড়তো তাহলে তার মা তার জন্যেও ব্রিটিশদের দায়ী করতেন। ইরানি নাটকেও এরকম ব্রিটিশ ষড়যন্ত্রের কথা রয়েছে। সেখানে বলা হয় যে ব্রিটিশরা নাকি সবসময় একটা চক্রান্ত করছে। আমার বন্ধুরা বলেছে, বাংলাদেশেও কেউ যদি চতুরতার সাথে কাজ করে তাহলে তাকে ইংলিশ বলে ডাকা হয়। কাবুলেও এরকম একটি শব্দ চালু আছে: চুচা ই ইংলিশ।
তবে যাই হোক, ১৯৮০ এর দশকে আফগান গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়র পর থেকে, আমাদের দেশে এই ষড়যন্ত্রকারীদের তালিকা আরো দীর্ঘ হয়েছে। এখন এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী আই এস আই। তার সাথে অ্যামেরিকানরাতো আছেই।
দেশটিতে বারবার বিদেশিদের হস্তক্ষেপের কারণে আফগানরা এবিষয়ে আরো বেশি কল্পন-প্রবন হয়ে উঠেছে।
লন্ডনে একজন আফগান ট্যাক্সি-চালক বলেছিলেন, বিদেশিরা নাকি আমাদের তেল চুরি করতে চায় আর সেই তেল নাকি পাচার করা হবে যাত্রীবাহী বিমানে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, বিদেশিরা নাকি আফগানিস্তান থেকে ইউরেনিয়াম আনতে চায়। আফগানিস্তানে একজন বিচারক একবার আমাকে বলেছিলেন ওসামা বিন লাদেন আসলে একজন অ্যামেরিকান গুপ্তচর এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হয় কারণ সে সবকিছু জেনে গিয়েছিলো। আরো একদল লোক আছেন যারা মনে করেন ওসামা বিন লাদেন এখনও জীবিত আছেন। তিনি বসবাস করছেন অ্যামেরিকার কোন না কোন একটি দ্বীপে।
আউলিয়া আতরাফি
আফগান জেনারেলদের কেউ কেউ বলেন যে নেটো তালেবান বাহিনীকে নগদ অর্থ আর অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। তারা এমন দাবিও করছেন যেসব দোভাষী এসব বিষয়ে কথা বলেছেন তাদেরকে নাকি হেলিকপ্টার থেকেও ফেলে দেওয়া হয়েছে। এমন গল্পও আছে যে নেটোর সৈন্যরা আফগান মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ড্রাগ কিনে খাচ্ছে। এবং সেসব ড্রাগ নিহত সৈন্যদের মৃতদেহের পেটের ভেতরে লুকিয়ে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোতে।
গত বছর আমি আমার এক বন্ধুকে দেখতে গিয়েছিলাম। তার পিতা একজন বৃদ্ধ খান। পূর্বাঞ্চলীয় এক গোত্রের প্রধান। চা খাওয়ার পর আমরা যখন গল্প গুজব করছিলাম তখন আমি তাকে তাদের এলাকায় তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। তখন তিনি একটা লম্বা বক্তৃতা দিলেন। এর আগেও আমি হাজারবার এই বক্তৃতা শুনেছি: "এর সবই আই এস আই, অ্যামেরিকান ও ব্রিটিশদের খেলা। তার মূল্য দিচ্ছে আফগানরা।"
কিছুটা বিস্মিত হয়ে আমি তাকে প্রশ্ন করলাম: "কিন্তু এটা করে তাদের কি লাভ?"
"তারা পরিকল্পনা করে ৫০ বছর আগে, আমরা সেটা বুঝতে পারি না," তার জবাব।
"এটা যদি এতোই সহজ কিছু হয়, তাহলে তারা বোকা। আমরা শুধু তার কিছু ইঙ্গিত টের পাই। রাশিয়া, পাকিস্তান আর চীন মিলে নতুন একটি ব্লক তৈরি হচ্ছে।"
তিনি বলতে লাগলেন, "একবার ভেবে দেখুন। অ্যামেরিকা তো তালেবান সরকারকে মাত্র এক সপ্তাহেই ধ্বংস করে দিতে পারতো। কিন্তু এখন পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা অল্প কিছু জঙ্গিকে তারা নির্মূল করতে পারছে না কেন?"
সব সময়ই বাইরের কেউ না কেউ থাকে যাকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির জন্যে দায়ী করা হয়। সম্প্রতি কাবুলে, আমি শুক্রবারের জুম্মার নামাজ শেষ করছি, আমার সাথে আরো কিছু রিপোর্টার ছিলো, তখন আমরা একটা খবর পেলাম যে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী একটি শিয়া মসজিদে হামলা চালিয়েছে।
"এটা কি ইসলামিক স্টেটের কাজ?" আমি জিজ্ঞেস করলাম।
আরেকজন সাংবাদিক তখন বললেন, "অথবা হতে পারে হয়তো ইহুদি ও খৃস্টানরা এর সাথে জড়িত।"
আমি তখন জানতে চাইলাম, "এতে তাদের কি লাভ হবে?"
"দুটো জিনিস। এর ফলে ধার্মিক লোকজন আর মসজিদে আসবে না এবং মুসলমানদেরকেও বিভক্ত করা যাবে," তার উত্তর।
তারপর আমরা যখন গ্রিন জোনের ভেতরে পাকা রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছিলাম, আমাদের প্যান্ট তখনও পায়ের দিকে গোটানো ছিলো, জায়নামাজ ছিলো আমাদের হাতে, আমার মাথায় তখন একটা চিন্তা এলো। সেটা হলো- এমন একটা দেশ যেখানে এতো মানুষের এতো ভাষা, এতো জাতীয়তা এবং মতাদর্শ, তারপরেও একটা জিনিস আছে যা সব আফগানকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছে সেটা হলো - বিদেশির প্রতি তাদের অবিশ্বাস।
আফগান সৈন্য ও ক্যামেরাম্যানের সাথে আউলিয়া আতরাফি (বামে)

ক্যান্সার আক্রান্তের যতসব কারণ

ক্যান্সার হলে আর রক্ষা নেই এ কথা বহুল প্রচলিত। যদিও বর্তমানে অনেক ভাল ভাল চিকিৎসা বেরিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অনেক ক্যান্সার ভাল হয়ে যায়। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন নয়। ক্যান্সার থেকে বাঁচতে প্রথমত দরকার সচেতনতা। ক্যান্সারের বিভিন্ন কারণ আছে। সব কারণ আজও জানা সম্ভব হয়নি।

তবে যেসব কারণ জানা গেছে তার মধ্যে আছেঃ

১. সুপারি

২. জর্দা

৩. ধূমপান

৪. অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ

৫. মদপান

৬. তামাকপাতা

৭. ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শ

৮. ভাইরাস (হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি, এবস্টেন বার ভাইরাস, সাইটোমেগালো ভাইরাস)

৯. ব্যাকটেরিয়া

১০. পরজীবী (সিস্টোসোমিয়াসিস)

১১. তেজস্ক্রিয়তা

১২. বায়ুদূষণ

১৩. কীটনাশক

১৪. রঙিন খাবার

১৫. সূর্যকিরণ

১৬. পরিবেশ দূষণ

১৭. আর্সেনিক ইত্যাদি।

উপরের কারণগুলো দূর করতে পারলে বেশিরভাগ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। ক্যান্সার প্রতিরোধে তাই নিয়ম-কানুন মেনে চলুন। ক্যান্সার হয়ে গেলে সেই ব্যাক্তির আর তার পরিবারের কষ্টের শেষ থাকেনা। প্রতিরোধ করার চেষ্টাই সেজন্য আগে করা উচিত।
>>>ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল, সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Tuesday, April 21, 2020

জীবন দিয়ে শ্রীলংকা হামলার একাংশ ঠেকিয়েছিলেন যিনি

দুই সন্তানের সাথে রমেশ রাজু ও ক্রিসান্থিনি - ছবি : সংগৃহীত
ইস্টার সানডের প্রস্তুতি চলছিল। শ্রীলঙ্কার জিয়ন গির্জা তখন ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। ঠিক ওই সময় এক ব্যক্তি পিঠে ভারী ব্যাগ নিয়ে গির্জায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তি ভেতরে ঢুকতে পারলে বহু মানুষের জীবনহানি হতো ওই গির্জার ভেতরে। কিন্তু তাকে এ অবস্থায় ভেতরে যেতে বাধা দেন রমেশ রাজু নামের এক ব্যক্তি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
ও্ই প্রতিবেদনে বলা হয়, শেষ পর্যন্ত ওই হামলায় প্রাণ দিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী রমেশ নিজেই। কিন্তু এর বিনিময়ে বাঁচিয়ে দেন ওই মুহূর্তে ওই গির্জায় থাকা সাড়ে চারশো মানুষের অনেককেই।
রাজুর স্ত্রী ক্রিসান্থিনি ওই গির্জাতেই সানডে স্কুল টিচার হিসেবে কাজ করেন এবং এই রোববারেও তিনি ক্লাসে চলে গিয়েছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে; ১৪ বছরের রুখশিখা ও ১২ বছরের নিরুবান।
তিনি ও রমেশ প্রতি সপ্তাহেই বাচ্চাদের গির্জায় নেন এবং পরে সন্তানদের প্রার্থনায় নিয়ে যেতেন রমেশই।
ক্রিসান্থিনি জানান, ওইদিন ক্লাস শেষে ক্রিসান্থিনি ও কয়েকটা শিশু বাইরে যান খাবার কিনতে এবং তখনো ইস্টার সানডের কার্যক্রম শুরু হয়নি।
এমন সময় তিনি গির্জার বাইরের চত্বরেই তিনি এক ব্যক্তিকে বড়ব্যাগসহ দেখেন। ওই ব্যক্তি বলছিলো তার ব্যাগে ভিডিও ক্যামেরা রয়েছে এবং তিনি ভেতরে প্রার্থনার ভিডিও ফুটেজ নেবেন।
তার অবস্থা দেখে আমার স্বামী কিছু একটা সমস্যা আঁচ করতে পারছিলেন এবং ওই ব্যক্তিকে বললেন তাকে আগে অনুমতি নিতে হবে।
ক্রিসান্থিনি বলেন, এরপর এক প্রকার জোর করেই ওই ব্যক্তিকে চলে যেতে বাধ্য করেন তার স্বামী। এরপর ক্রিসান্থিনি ভেতরে চলে যান যেখানে প্রায় ৪৫০ জনের মতো মানুষ প্রার্থনায় যোগ দেয়ার অপেক্ষায়।
এর মধ্যেই বড় বিস্ফোরণের শব্দ কানে আসে ও লোকজন ভয়ার্ত হয়ে যে যেদিকে পারে দৌড়াতে থাকে, কারণ ইতোমধ্যেই ভবনের এক পাশে আগুন ধরে গেছে।
এ অবস্থায় ক্রিসান্থিনি ও তার পরিবারের সদস্যরাও দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যান এবং তারা রমেশকে খুঁজতে হাসপাতালে যান।
কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃতদেহ পান তারা। ক্রিসান্থিনি জানান, রমেশ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন যেখানে ক্রিসান্থিনি তাকে সর্বশেষ দেখেছিলেন। সোমবার দাফন করা হয়েছে রমেশকে।
এর আগে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় ক্রিসান্থিনির মাও খুন হয়েছিলেন। এরপর তার পিতাও খুন হয়েছিলেন এবং সর্বশেষ স্বামীও হারালেন তিনি। সব হারিয়ে এখন অনেকটা বাকহারা ক্রিসান্থিনি।

২১ এপ্রিল ২০১৯  সকালে ৩ গির্জায় আকস্মিক ওই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সকালে ইস্টার সানডে উপলক্ষে অনেক মানুষের ঢল নামে কলম্বোর গির্জাগুলোতে। এসময় ৩টি গির্জা একসঙ্গে সিরিজ বোমা হামলা ঘটানো হয়, ওই কলম্বো শহর থেকে কিছু দুরে অবস্থিত আরও কয়েকটি গির্জায় হামলা চালানো হয়। এদিকে শুধু গির্জায় হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, জঙ্গিরা গির্জার পাশে অবস্থিত শহরের প্রধান দু’টি হোটেলেও সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়।

এদিকে ওই ঘটনায় দেশটির বোমা স্কোয়াডের একটি সূত্র জানায়, কলম্বের যে গির্জায় সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়েছে। তার থেকে ঠিক কয়েক কিলোমিটার দুরে অবস্থিত শহর নিগোম্বোতে আরও একটি গির্জায় একই সসয়ে একই কায়দায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।