Sunday, April 8, 2018

রথিশ হত্যা: সত্য ও কল্পনা by বিভুরঞ্জন সরকার

রথিশ চন্দ্র ভৌমিক ও তার স্ত্রী দীপা ভৌমিক
রংপুরের বিশিষ্ট আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের ‘নিখোঁজ’ হওয়া, তাকে জঙ্গি-জামায়াত গোষ্ঠী অপহরণ করতে পারে বলে প্রচার, সন্দেহভাজন হিসেবে তার স্ত্রীকে আটক ও তার লাশ উদ্ধারের  ঘটনাগুলো নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই গণমাধ্যমসহ আগ্রহীদের  মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। রথিশরহস্যের শেষ হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। আবার কারও কারও মনে এখনও নানা প্রশ্ন। শুধু কি স্ত্রীর পরকীয়ার বলি হলেন রথিশ, নাকি এর পেছনে আরও কোনও কারণ আছে? রথিশের স্ত্রীর ‘প্রেমিক’ কামরুলের রাজনৈতিক পরিচয় কী, তা জানার কৌতূহল অনেকেরই আছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীকে ‘খুনি’ বলতেও নারাজ অনেকে। বাঙালি হিসেবে আমাদের অন্যতম জাতবৈশিষ্ট্য হলো কোনও বিষয়ে সহজে একমত না হওয়া এবং যতদূর পারা যায় বিতর্ক জিইয়ে রাখা। একজন কোনও বিষয়ে তৃপ্ত হলে আরেকজন থাকবেন অতৃপ্ত। তাই রথিশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনাও শেষ হয়েও শেষ হবে না।
৩০ মার্চ সকালে রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি– এই খবর জেনে বা শুনে প্রাথমিকভাবে সবারই ধারণা হয়েছিল, তিনি নিশ্চয়ই স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেননি। তাকে গুম বা অপহরণ করা হয়েছে। দেশে গুম-অপহরণের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। এ ধরনের ঘটনায় ‘ভিকটিম’ হয় কিছুদিন পর ফিরে আসেন এবং নিশ্চুপ হয়ে যান, ঘটনার কোনও ধরনের বিবরণ পাওয়া যায় না, আবার বিবরণ পেলেও তা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য হয় না। আবার কারও বা লাশ পাওয়া যায় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি কোথাও। কেউ কেউ আবার একেবারেই ফিরে আসেন না, তারা হয়ে যান স্থায়ী ‘নিখোঁজ’।
কেউ গুম, অপহরণ বা নিখোঁজ হলে তার সন্ধান দেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্র বা সরকারের। রাষ্ট্র বা সরকারের হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই কাজটি করে। কিন্তু আমাদের দেশে দুঃখজনকভাবে কেউ নিখোঁজ হলে বা কাউকে পাওয়া না গেলে সন্দেহের তীরটা প্রথম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকেই ছোটে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর থেকে এই সন্দেহ প্রবণতাটা বেড়েছে।
রথিশ ভৌমিক রংপুরের একজন মোটামুটি পরিচিত মানুষ। বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি। তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আইনজীবী হিসেবে সুনামের অধিকারী। তিনি সরকারি দল আওয়ামী লীগের রংপুর জেলা কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক। আইনজীবী সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন শীর্ষ নেতা। জাপানের নাগরিক ও মাজারের খাদেম হত্যা মামলায় তিনি সরকারি পিপি ছিলেন এবং একজন মানবতাবিরোধী অপরাদের বিচারের মামলায়ও তিনি ছিলেন সাক্ষী। এ রকম একজন মানুষের ‘নিখোঁজ’ হওয়াটা নিঃসন্দেহে কোনও ছোট ঘটনা ছিল না। তাই বাসা থেকে বের হয়ে ফিরে না আসায় প্রতিক্রিয়া হয় তীব্র। রংপুরে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি তাকে অবিলম্বে খুঁজে বের করার দাবি জানানো হয়। তিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন অন্যতম নেতা হওয়ায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে দেখা দেয় বাড়তি উদ্বেগ ও অস্থিরতা। সরকারের ওপর তৈরি হয় চাপ, কারণ তিনি সরকারি দলেরও একজন নেতা ছিলেন।
প্রথমে সবারই ধারণা হয়েছিল, রথিশ ভৌমিক হয়তো কোনও জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর রোষের শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একমুখী তদন্ত না করে নানাভাবে চেষ্টা চালাতে থাকে। জামায়াত-শিবিরের কয়েকজনকে আটকও করা হয়। তবে তার স্ত্রীর সহকর্মী স্কুলশিক্ষক কামরুল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর সম্ভবত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছে, তা পরিষ্কার হয়। রথিশ ভৌমিকের স্ত্রী দীপা ওরফে স্নিগ্ধাকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রথিশের লাশ উদ্ধার করা হয় কামরুলের ভাইয়ের নির্মাণাধীন একটি বাড়ির মাটি খুঁড়ে। জানা যায়, রথিশ নিখোঁজ হননি। আগের রাতে স্ত্রী ও কামরুল যৌথভাবেই হত্যা করেছিলেন তাকে। পরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দিয়ে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার গল্প প্রচার করা হয়।
রথিশের যে পরিচিতি, তাতে এই ঘটনার পেছনে জঙ্গি-জামায়াতকে জড়ালে সেটা বিশ্বাসযোগ্য হবে–এটা বুঝে কামরুলই সে ধরনের প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হলো না। দীপা-কামরুলের গোপন সম্পর্কের কথা আর গোপন থাকলো না। এ পর্যন্ত এই হলো কাহিনি। কিন্তু এটা আবার বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। কারণ এই তথ্যগুলো জানা গেছে র‌্যাব সূত্রে। তারা যে সঠিক তথ্য দিয়েছে, তার নিশ্চয়তা বা কী? পেছনের বিশেষ কোনও শক্তিকে আড়াল করার জন্য এই গল্প ফাঁদা হয়নি, তা কে বলতে পারে?
ব্যক্তিগতভাবে আমি বিষয়টিকে অবিশ্বাসযোগ্য মনে করছি না। মানুষের মনের খবর রাখা খুব সহজ কাজ নয়। রথিশ ভৌমিকের দাম্পত্যজীবন কেমন ছিল, আমি জানি না। তবে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় তারা সংসার করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া একপুত্র ও স্কুল পড়ুয়া এককন্যা সন্তান থাকার পরও প্রায় পরিণত বয়সে নতুন প্রেমে পড়া কারও কারও কাছে স্বাভাবিক মনে না হলেও বিষয়টি অসম্ভব নয়।
রথিশ ভৌমিক ঘরের চেয়ে বাইরের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন কি? নাকি ঘরের অশান্তি তাকে বাইরের নানা কাজে বেশি আকৃষ্ট করেছিল? এ সব প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। এরপরও স্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লাশ উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তিনি সব জানতেন।
প্রশ্ন উঠছে, স্ত্রী কারও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন কিনা? কামরুলের রাজনৈতিক পরিচয়ই বা কী? কামরুল কি রথিশকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই স্নিগ্ধা বা দীপার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন? আমার কাছে এসব প্রশ্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। এটা নিয়ে বড় রহস্য গল্প বা উপন্যাস লেখা যেতে পারে, কিন্তু রথিশকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
কোনও ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা যতটা কৌতূহলী বা অনুসন্ধানী হয়ে উঠি, স্বাভাবিক অবস্থায় তা হই না। আমার ছেলে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে কিনা, আমি জানি না। আমার ছেলেমেয়ে কার সঙ্গে মিশছে, তার খবর রাখার প্রয়োজন বোধ করি না। আমি কোথায় যাই, কাদের সঙ্গে মিশি, তা আমার স্ত্রীকে বলি না। আমার স্ত্রীও আমাকে বলে না। আমাদের এই পারস্পরিক স্বাধীনতা ভেতরে ভেতরে একরকম সুড়ঙ্গ তৈরি করছে। আর সেই সুড়ঙ্গ পথে দীপা-কামরুলের অবাধ যাতায়াত শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে রথিশের জীবন।
রথিশ হত্যার সব দায় আমি কেবল স্ত্রীর ওপর যেমন চাপাতে চাই না, তেমনি তাকে একজন মানুষ মনে করি বলেই তার কৃত অপরাধকেও ছোট করে দেখতে চাই না। জামায়াত-শিবির পরিকল্পনা করে কামরুলকে দিয়ে দীপার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তারপর রথিশকে হত্যা করে বদলা নিলো বলে এক ধরনের কষ্টকল্পনা কাউকে কাউকে করতে দেখা যাচ্ছে। যারা এ সব কল্পগল্পে মজছেন, তারা একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন, দীপার সঙ্গে কামরুলের সম্পর্ক আগে হয়েছে, নাকি রথিশ ভৌমিক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মামলা আগে লড়েছেন? আমরা অজ্ঞাতসারে আততায়ী বা ঘাতককে ঘরে স্বাগত জানাচ্ছি, তারপর অঘটন ঘটলে এলোপাতাড়ি একে ওকে দোষ দিচ্ছি।
বিভুরঞ্জন সরকার
রথিশ হত্যাকাণ্ডের জন্য যে বা যারাই দায়ী হোক না কেন, ন্যায়বিচার যেন নিশ্চিত হয়। অপরাধীর যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইচ্ছা করলে রহস্য ভেদ যেমন করতে পারে, তেমন রহস্য তৈরিও করতে পারে। অপরাধীকে ধরতেও পারে, আবার আড়ালও করতে পারে। আমরা চাইবো, অপরাধমুক্ত দেশ গড়তেই উদ্যোগী হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মনে রাখতে হবে, অপরাধী আড়াল করার প্রবণতা যদি দূর বা বন্ধ না হয় তাহলে সমাজ-সংসার থেকে অপরাধ প্রবণতাও দূর হবে না।
লেখক: কলামিস্ট

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরবে ভারত

ক্রমশ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়টি বাংলাদেশের সামনে তুলে ধরবেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে তিনি পারমাণবিক সহযোগিতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ও তুলে ধরবেন। আজ রোববার ঢাকার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলের। এ খবর দিয়েছে ভারতের অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এতে বলা হয়েছে, দু’দিনের এ সফরে ঢাকায় পৌঁছে তিনি শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এতে স্থান পাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাতের বিষয়, দীর্ঘদিন অচল হয়ে থাকা তিস্তার পানি বন্টন চুক্তির অগ্রগতি ও রোহিঙ্গা ইস্যু। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরো লিখেছে, এ সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন থিংকট্যাংক, নাগরিক সমাজের নেতা ও মিডিয়ার সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলবেন গোখলে। সোমবার তিনি স্থানীয় একটি থিংকট্যাংক আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ রিলেশন্স: ডিপেনিং কো-অপারেশন অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তাতে থাকবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজবি। এ ছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হকের সঙ্গে তিনি সাক্ষাত করবেন। এ সময় উঠে আসতে পারে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, স্বাক্ষরিত হতে পারে কিছু সমঝোতা স্বারক। এরপর হতে পারে সংবাদ সম্মেলন। এ ছাড়া দু’দেশের পররাষ্ট্র সচিবরা আরো যেসব বিষয়ে আরোচনা করতে পারেন তার মধ্যে রয়েছে মে মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সফর, ১৬ থেকে ২০ শে এপ্রিল লন্ডনে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনের সময় নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত সাক্ষাত। এরপর রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি সাক্ষাত করবেন। ঢাকার বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ সময়ে বাংলাদেশ তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি, আসামে মুসলিম নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র না দেয়া, সেখানে বাংলাদেশী অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের ইস্যু উঠে আসবে। উল্লেখ্য, গত ১ লা মার্চ ভারত, রাশিয়া ও বাংলাদেশ বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ওদিকে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি শিগগিরই সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই চুক্তি এখনও অসাড়। কারণ, এতে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এ ছাড়া ঢাকা চাইছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক ভারত।

চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস তৎপরতা নেই পাউবোর

দরজায় কড়া নাড়ছে গ্রীষ্ম। আর সেই সঙ্গে চোখ রাঙাচ্ছে তাপদাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও আকস্মিক বন্যা। যার হাত১ থেকে রক্ষার কোনো উপায় নেই চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার উপকূলবাসীর। অথচ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এ ব্যাপারে তাদের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। উপকূলবাসীর ভাষ্য, চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার রক্ষাবাঁধগুলোর সব ক’টিই ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টি ও সাগরের স্বাভাবিক জোয়ারেও বেড়িবাঁধ ডিঙিয়ে তলিয়ে যাচ্ছে উপকূলীয় এলাকা। এ অবস্থায় চলতি এপ্রিল মাসেই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে চরম উৎকণ্ঠায় পড়েছেন উপকূলবাসীরা। উপকূলবাসীর অভিযোগ, উপকূল রক্ষাবাঁধগুলো সংস্কার ও সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। এ নিয়ে যোগাযোগ করতে গিয়ে দেখা গেল সত্যিই; উপকূল নিয়ে কোনো চিন্তাই নেই পাউবোর চট্টগ্রামের কর্মকর্তাদের। পাউবো চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা এ প্রসঙ্গে বলেন, জেলার উপকূলীয় তীরবর্তী এলাকা আনোয়ারা, বাঁশখালী, পটিয়া, সীতাকুণ্ড, সাতকানিয়া, চন্দনাইশসহ আরো কয়েকটি এলাকায় বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে। একই সঙ্গে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম শহররক্ষা বাঁধ। বরাদ্দ না পাওয়ায় এসব বাঁধের কাজ এগোচ্ছে না। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য প্রকল্পগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এতে আমাদের কিছুই করার নেই। আমাদের কাজ আমরা করেছি। তাই আমরা চিন্তামুক্ত। তবে ছোটখাটো বরাদ্দ যা পাচ্ছি তাতে জোড়াতালি দিয়ে কাজ করছি। পাউবো সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর ২০১০ সালে উপকূলীয় ফোল্ডার নং ৬২ (পতেঙ্গা), ৬৩/১ (আনোয়ারা), ও ৬৩/১(বি) সংক্রান্ত আনোয়ারা ও পটিয়ার বাঁধ মেরামত ও ৬৮ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণের কাজের জন্য একটা পুনর্বাসন প্রকল্প তৈরি করে পানিসমপদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ২৯১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত এ প্রকল্প যাচাই-বাছাই শেষে ২৭৫ কোটি টাকায় নির্ধারিত হয়। কিন্তু এ প্রকল্পের কোনো খবর নেই। সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকা পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর ’৯৩ সাল থেকে ’৯৬ সালের মধ্যে বেড়িবাঁধটি সিইআরপি নামে একটি প্রকল্পের আওতায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যাপক আকারে সংস্কার করা হয়। পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি থেকে পরবর্তী এক কিলোমিটার পর্যন্ত সী-ওয়াল নির্মাণ করে মেরামত করা হয়। এরপর পতেঙ্গার হোসনে আহমদপাড়া থেকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট পর্যন্ত এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। এছাড়া বাকি ১০ কোটি টাকা পতেঙ্গা থেকে খেজুরতলা পর্যন্ত চার দশমিক ২৪ কিলোমিটার সাগর পাড়ে পাথরের ব্লক বসানো, ১৬টি স্লুইচগেট নির্মাণ এবং সামগ্রিক খাতে খরচ করা হয়েছে। এরমধ্যে গত বছর পাউবোর জরিপে বেড়িবাঁধের হোসেন আহমদপাড়া, আনন্দবাজার এবং খেজুরতলাকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া মুসলিমাবাদ থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত আরও বিভিন্ন অংশে ফাটল থাকলেও এ ফাটল কিংবা ভাঙন তেমন বিপজ্জনক নয় বলে মনে করছে পাউবো। এছাড়া জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোর মধ্যে পশ্চিম পটিয়া (কর্ণফুলী থানা)র চরপাথরঘাটা, চরলক্ষ্যা, শিকলবাহা, জুলধা ও বড়উঠান, আনোয়ারা উপজেলার গহিরা, রায়পুর, বারশত ইউনিয়ন, জুঁইদন্ডি, বরুমছড়া, বারখাইন, হাইলধর, বাঁশখালী উপজেলার  ছনুয়া, গন্ডামারা, সরল, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথারিয়া, পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, শীলকুপ, চাম্বল, পুকুরিয়া, সাধনপুর ও কালীপুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিলের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে এসব এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে বাড়িঘর হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে যান। চট্টগ্রাম নগরীর নিকটতম এ এলাকায় দীর্ঘ ২২ বছরেও ঘূর্ণিঝড়ে মোকাবিলায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নির্মাণ করা হয়নি বেড়িবাঁধ। কিছু কিছু এলাকায় দুই-একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হলেও তা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। আবার অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী। উপকূলবাসীর অনেকে জানান, প্রতি বছরই ২৯শে এপ্রিল তাদের নতুন করে ভাবায়। এদিন ম্যারিএন নামক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার পুরো উপকূল। লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিকে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্তুূপে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি এদেশের মানুষ এর আগে আর কখনো হয়নি। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানা এ ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিমি। ঘূর্ণিঝড় এবং তার প্রভাবে সৃষ্ট ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু জলোচ্ছ্বাসে আনুমানিক ১ লাখ ৩৮ হাজার জন মানুষ নিহত এবং প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। ২৯শে এপ্রিলের মতো বড় কোনো ঘটনা যদি আবার ঘটে, এমন চিন্তা মনে আসতেই আঁৎকে উঠে উপকূলবাসী।
তাই চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে শিগগিরই বেড়িবাঁধ সংস্কার ও পুন:নির্মাণের দাবি তাদের। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ফরিদ উদ্দিন জানান, চলতি মাসে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এবং ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামসহ পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে উপকূলবাসী। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসে মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়বে চট্টগ্রাম বন্দর ও বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিভিন্ন বেসরকারি আইসিডি, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোমপানির ডিপো, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্থাপনা, সাইলো জেটি, খাদ্য গুদাম, ইস্টার্ন ক্যাবলস এর কারখানার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নগরীতে উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী, ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা, ৩৭ নম্বর উত্তর-মধ্যম হালিশহর, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর, ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা (একাংশ) এবং ৪১ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা (বাকি অংশ)। পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত মোট ২৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২২ কিলোমিটারই বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়া এবং কিছু অংশ একেবারে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে বড় ধরনের ঝড়-জলোচ্ছ্বাস হলে নগরীর অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

ভারত-নেপাল সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই চাবিকাঠি by সি. রাজা মোহন

‘আমি এমন কোনো চুক্তিতে উপনীত হবো না, যা নেপালের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে।’ এই উক্তি নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির। ভারত সফরের আগে তিনি কাঠমান্ডুতে পার্লামেন্ট সদস্যদের আশ্বস্ত করতে এই কথা বলেন। এ ধরনের কৈফিয়ৎ থেকেই ভারত ও নেপালের মধ্যকার সম্পর্কের দৈন্যদশার ইঙ্গিত মিলে।
এটি নিশ্চিতভাবেই  নজিরবিহীন কিছু নয়। কিছুকাল আগ পর্যন্তও, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি সরকারি বৈঠককে ‘ওয়াশিংটনের চাপের মুখে দিল্লির স্বার্বভৌমত্ব বিলিয়ে দেয়া’ হিসেবেই তুলে ধরতো ভারতের পর্যবেক্ষক মহল। এমনকি স্পষ্টত ভারতের স্বার্থের পক্ষে হলেও, দিল্লির রাজনৈতিক ও আমলা শ্রেণী ‘আমেরিকাপন্থি’ হিসেবে পরিগণিত হওয়ার ভয়ে সামনে এগোতে চাইতো না। দিল্লি বাহ্যিকভাবে ওয়াশিংটনের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ প্রদর্শনের নীতি বেছে নেয়ায়, আমেরিকার সঙ্গে তখন লেনদেনের সুযোগ কমই ছিল।
বৃহত্তর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বোঝাপোড়া ও আস্থা তৈরির সচেতন প্রচেষ্টার ফলে গত কয়েক বছরে এই ধরনের প্রবণতা নিশ্চিতভাবেই হ্রাস পেয়েছে। কাঠমান্ডু ও দিল্লির মধ্যে ঠিক এটিই দরকার। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে যেমনটা হয়েছে, ঠিক তেমনভাবে সন্দেহ দূরীকরণ ও রাজনৈতিক স্বস্তির জায়গা তৈরি হওয়ার উদ্যোগ আসা প্রয়োজন বড় দেশটির কাছ থেকে। ক্ষমতার অসামঞ্জস্যতার কারণে দুর্বল পক্ষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই রক্ষণাত্মক মানসিকতা তৈরি হয়। যদি ভারতের মতো বড় দেশ এত দিন ধরে যদি ‘স্মল কান্ট্রি সিনড্রমে’ আক্রান্ত থাকতে পারে, তাহলে এ নিয়েও আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কিছু নেই যে, নেপালের অভিজাতরা এই রোগের আরও তীব্র সংস্করণের দ্বারা আক্রান্ত।
অবশ্য ভারত-নেপাল সম্পর্কে ক্ষমতার অসামঞ্জস্যতা একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলেও, এ থেকেই দুই দেশের সমস্যা পুরোপুরি বোধগম্য হয় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নেপালের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে কিন্তু ক্ষমতার সামঞ্জস্যহীনতা আরও অনেক বেশি। অথচ, দিল্লি সফর শেষে ওলি যখন বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন, তখন কাঠমান্ডুর খুব অল্পসংখ্যক মানুষই নেপালের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবেন। বরং, ওই সফরের প্রাক্কালে অনেকের প্রত্যাশা থাকবে যে, বেইজিং নেপালকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘রুখে দাঁড়াতে’ সহায়তা করবে। আমরা এটি পছন্দ করি আর না করি, ভারতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্ভাগ্যবশত নেপালের স্বার্বভৌমত্বের সংজ্ঞার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। দিল্লির বেশিরভাগ প্রতিবেশীর ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ভারতের সঙ্গে তাদের গভীর ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা একই সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ও ব্যাপক অসন্তোষের উৎস।
প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজাত শ্রেণির মধ্যে ‘ভারত-বিরোধী’ মনোভাবের নিন্দা জানানো বা এই প্রবণতার সমালোচনা করা খুব সহজ। এই প্রবণতা যৌক্তিক কি না, তা বিচার করার ভার দিল্লির নয়। বরং, দিল্লিকে অবশ্যই এই নেতিবাচকতার উৎস কী, তা বুঝতে হবে এবং এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। ইতিহাস হতে পারে এই প্রচেষ্টা শুরুর একটি ভিত্তি।
উপমহাদেশের হর্তাকর্তা হওয়ার মনোভাব দিল্লি পেয়েছে বৃটিশ রাজ থেকে। আশ্রিত রাজ্যের ধারণা বৃটিশ রাজ এবং উপমহাদেশের সামন্ততান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠী ও উপজাতি ফেডারেশনের ক্ষেত্রে ভালোই কাজ করেছে। বৃটিশরা এই সামন্ততান্ত্রিক ও উপজাতি শাসকগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক ভর্তুকি ও অভ্যন্তরীণ বিষয়াদিতে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিনিময়ে, উপমহাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর আক্রমণ প্রতিরোধে বৃটিশ রাজকে সহায়তা দিতে সম্মত হয় সামন্ততান্ত্রিক ও উপজাতি সরদাররা। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে স্বাধীন ভারতের জন্য এই পারস্পরিক লাভজনক ব্যবস্থা টেকসই ছিল না। এর একটি কারণ ছিল এই অঞ্চলে ক্ষমতার পরিবর্তন, যার শিকার হয় উপমহাদেশের ওপর ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব বলয়।
উপমহাদেশে বৃটিশ রাজের আধিপত্য ছিল ব্যাপক। প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে ভারত দখল করা থেকে বিরত রাখার শক্তিও তাদের ছিল। উপমহাদেশের বিভাজন, মার্কিন-সোভিয়েত শীতল যুদ্ধ এবং কম্যুনিস্টদের অধীনে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ চীনের আবির্ভাব ভারতীয় নীতির জন্য ব্যাপক বাধা-বিপত্তি তৈরি করে। কিন্তু এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে রাজি ছিল না দিল্লি।
বৃটিশ রাজের কর্তৃত্বের ভিত্তি ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ সামন্ততান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারি। কিন্তু স্বাধীনতার পর বিভিন্ন রাজতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য ও সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ভারতকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ফেলে দেয়। এভাবে নানা কারণে, ভারত অনিবার্যভাবেই নেপালসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়াদিতে ঢুকে পড়ে। এর সর্বশেষ নজির ছিল নেপালের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারতের সংশ্লিষ্টতা।
ওলি হয়তো তীব্র জাতীয়তাবাদী স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দিল্লির জন্য, তার আসন্ন ভারত সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঠিক পথে ফিরিয়ে আনার বড় সুযোগ। মোট তিনটি কর্তব্য রয়েছে দিল্লির। প্রথমটি হলো নেপালের স্বার্বভৌমত্বকে স্বীকার করা এবং তার ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেয়া। ‘বিশেষ সম্পর্কের পরিবর্তে ‘স্বার্বভৌম সমতা’র ভিত্তিতে নেপাল-ভারত সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলতে হবে। অবশ্যই এর মানে দাঁড়াবে এই যে, ভারতের উচিদ নেপালের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বন্ধ করা এবং দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দেয়া। এটি নেপালের জন্য দিল্লির পক্ষ থেকে কোনো আনুকূল্য নয়। বরং, শক্তিশালী ও স্বার্বভৌম নেপাল থাকাটা ভারতের স্বার্থেরই পক্ষে।
দ্বিতীয়ত, ওলির কাছ থেকে ‘প্রথমে ভারত’ (ইন্ডিয়া ফার্স্ট) নীতি দাবি করার পরিবর্তে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবশ্যই ‘প্রথমে নেপাল’ নীতির পক্ষে ভারতের শক্ত সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। বিশ্বের দুই দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মাঝখানে অবস্থিত নেপাল নিজের অবস্থানের কারণে লাভ ঘরে তুলবে- এটাই স্বাভাবিক।
উন্মুক্ত সীমান্ত ও সাগরপথে সহজতম প্রবেশাধিকারের বিষয়গুলো ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্কের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই আলাদা বৈশিষ্ট্যকে স্বীকৃতি দিতে ওলির সমস্যা থাকা উচিত নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যপক ম্যান্ডেট সহকারে নির্বাচিত ওলি নেপালকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আত্মবিশ্বাসী নেপালই পারে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে রাজনীতিমুক্ত করতে।
তৃতীয়ত, ভারতের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময়ই নেপালের সঙ্গে বিশেষ রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকার দাবি করলেও, দিল্লির অর্থনৈতিক নীতির কারণে দুই দেশের মধ্যে সহজাত পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হয়নি। দুই দেশের দীর্ঘ ও উন্মুক্ত সীমান্তে ভঙ্গুর বাণিজ্য অবকাঠামো, অর্থনৈতিক সহায়তা পরিচালনার ক্ষেত্রে দিল্লির অসুবিধাজনক কার্যপ্রণালী এবং যৌক্তিক সময়সীমার মধ্যে অবকাঠামো প্রকল্প সম্পন্ন করার সামর্থ্যহীনতাই নেপালে ভারতের দুর্দশা বাড়িয়েছে।
ইতিমধ্যেই যেসব প্রকল্প নিয়ে কথাবার্তা ঠিক করা আছে এবং যেগুলোর ফল দুই দেশের মানুষ আগেভাগে পাবে, সেসবের ওপরই দুপক্ষের মনোযোগ দেয়া উচিৎ। আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য, পরিবহন ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে জোর দেয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠতে পারে স্বার্বভৌম নেপালের সঙ্গে ভারতের টেকসই রাজনৈতিক অংশীদারির দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি।
(সি. রাজা মোহন দিল্লি-ভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি ইন্ডিয়ার পরিচালক ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কন্ট্রিবিউটিং এডিটর।)

৪ দিনের মধ্যে ২০ মাত্রার সমৃদ্ধকরণ শুরু করা যাবে: ইরান

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আনবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা ভেস্তে গেলে এবং আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলে চার দিনের মধ্যে 'ফোরদু' পরমাণু স্থাপনায় ২০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করা যাবে। আজ (রোববার) আইআরআইবি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকাকে যে বিশ্বাস করা যায় না, তার প্রমাণ হলো পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে দেশটির অবস্থান। আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সব ধরণের সহযোগিতার বিষয়ে বিভিন্ন দেশকে ভয় দেখাচ্ছে।
ইরানের আনবিক শক্তি সংস্থার প্রধান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে যাই ঘটুক সে জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১২ মে'র মধ্যে ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সমঝোতায় পরিবর্তন আনা না হলে তিনি তা থেকে বেরিয়ে যাবেন।
২০১৫ সালের জুলাই মাসে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া মিলে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা সই করে। ওই মাসেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ সমঝোতা অনুমোদন করে এটিকে আন্তর্জাতিক দলিলের মর্যাদা দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ সমঝোতা বাতিল বা এতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

উদীয়মান তরুণ নেতাদের তালিকায় বাংলাদেশের তানজিল

বিশ্বের ১০ জন উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বের (এমার্জিং গ্লোবাল ইয়াং লিডারস) মধ্যে স্থান  পেয়েছেন বাংলাদেশের মেয়ে তানজিল ফেরদৌস।  আগামী ২রা মে ‘আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং লিডারস’ হিসেবে তাদেরকে সম্মাননা জানাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, তৃতীয়বারের মতো এবারও বার্ষিক ভিত্তিতে ১০ জন পাচ্ছেন ‘ইমার্জিং ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ড’। শান্তি, অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে চালিকাশক্তি ও বর্তমান সময়ের সম্ভাবনার ভিত্তিতে অংশগ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদেরকে বাছাই করেছে। প্রকাশ্য এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। এ বছর যারা এ পুরস্কার পাচ্ছেন তারা হলেন- ইরাকের সারা আবদুল্লাহ আবদুল রহমান, ইন্দোনেশিয়ার ডিওভিও আলফাত, তুরস্কের ইচে সিফটিসি, বাংলাদেশের তানজিল ফেরদৌস, লিথুয়ানিয়ার জিনা সেলিম হাসান হামু, পাকিস্তানের দানিয়া হাসান, নরওয়ের ন্যান্সি হার্জ, দক্ষিণ আফ্রিকার ইসাসিফিনকোসি মদিঙ্গি, পানামার হোসে রড্রিগুয়েজ ও তাজাকিস্তানের ফিরোজ ইয়োগবেকভ। এর মধ্যে বাংলাদেশের তানজিল ফেরদৌসের বয়স ২৪ বছর। তিনি বাংলাদেশে যুব সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও নারী অধিকার নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ। এ সংগঠনের তিনি প্রেসিডেন্ট। এর মাধ্যমে তিনি যুব সমাজের উন্নয়ন, কয়েক শত যুবককে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকায় উজ্জীবিত করেছেন নানা রকম সফর কর্মসূচির মাধ্যমে। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি যুব সমাজকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা যায়, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা যায় তাহলে উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ড কমে যাবে। তানজিল বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করছেন। রোহিঙ্গারা যাতে উগ্রপন্থি সহিংসতার শিকারে পরিণত না হন সে জন্য তাদেরকে সহায়তা করছেন। তার সহায়তায় শরণার্থী ৫০০ শিশুর জীবন রক্ষায় সহায়ক হয়েছে। এতে সহায়তা করেছে জাগো ফাউন্ডেশন।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক ব্যুরো তানজিল  ফেরদৌসের বিষয়ে বলেছে, তিনি কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ক্ষমতায়নের মিশনে কাজ করেন। মানোন্নয়নের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা ও তাদের মধ্য থেকে আগামীর নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালান। টেকসই সম্প্রীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে পুরস্কৃত করবে।
তানজিল হোসেনসহ সম্মাননাপ্রাপ্ত দশ তরুণকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানানো হবে। ২৯শে এপ্রিল থেকে ১২ই মে পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে তারা উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন ও বিশ্বব্যাপী টেকসই সম্প্রীতি বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।

সিলেটে অন্তরালে সেই রমণীরা by ওয়েছ খছরু

পর্দার আড়ালে লুকিয়েছেন সিলেটের আলোচিত সুন্দরীরা। মনোরঞ্জন, ইয়াবা ব্যবসা কমিয়ে দিয়েছেন তারা। সিন্ডিকেট সদস্যরাও চলে গেছে আড়ালে। পুলিশি অভিযানের মুখে এখন নিজেরা নিজেদের গা বাঁচাতে এমন পথ ধরেছেন তারা। তবে পুলিশের জালে আটকা পড়েছেন কেউ কেউ। সিলেটের তানিয়া ওরফে তান্নির সন্ধানে  তাদের চোখে চোখে রাখা হচ্ছে। থানায় এসে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাদের। সিলেটের মিরাবাজারে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রূপম খুনের ঘটনার পর পুলিশ তান্নির খুঁজে হন্যে হয়ে ফিরছে। ইতিমধ্যে পুলিশ অন্তত ১৫টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে। তবে পুলিশের ধারণা- তান্নি সিলেটেই রয়েছে। রোকেয়া বেগম ও তার পুত্রের লাশের সন্ধানের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তান্নি সরব ছিল। একই সঙ্গে সরব ছিল রিমান্ডে থাকা নাজমুল। লাশ উদ্ধারের খবর রটার পরপরই তান্নি ও নাজমুল গাঢাকা দেয়। পুলিশ নাজমুলকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও তান্নির খোঁজ পায়নি। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে- তান্নির খোঁজে গতকাল পর্যন্ত তারা বেশ কয়েকজন আলোচিত নারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নগরীর নয়াসড়ক এলাকার দিলারা বেগম, সিলেটি নাটকপাড়ার পরিচিত মুখ সাম্মি ওরফে সাম্মা, মদিনা মার্কেট এলাকার শিপা বেগম ও টিলাগড় এলাকার তানিয়া নামের এক রমণী। এরা নিজেদের বাসাকে তৈরি করেছেন নিরাপদ সেক্স কোয়ার্টার হিসেবে। পাশাপাশি তারা ইয়াবা নেটওয়ার্কের চালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। নয়াসড়ক এলাকা দিলারা বেগমের সঙ্গে এক সময় ভালো সম্পর্ক ছিল তান্নির। দিলারার আস্তানায় অসামাজিক কার্যকলাপ ছাড়াও ইয়াবার চালান আসে। একটি তিনতলা বাসার পুরোটাই দিলারা ভাড়া নিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে এসব কাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছিলেন। তান্নি যখন দিলারার সঙ্গ ছেড়ে রোকেয়ার সঙ্গ ধরে তখন দিলারা তান্নির উপর ক্ষুব্ধ হলেও সেটি প্রকাশ করেননি। পুলিশের কাছে তান্নির সঙ্গে পরিচয় থাকার কথা দিলারা স্বীকার করলেও বর্তমানে কোথায় সেটি জানা যায়নি। তবে- তান্নির শেল্টারদাতা রাজনৈতিক কর্মী নামধারী মিনারা বেগম পুলিশের ডাকে গতকাল পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। পুলিশ মিনারার কাছে তান্নি সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে ইসলামপুর এলাকায় বসবাসকারী মিনারা নিজেই গাঢাকা দিয়েছে। এখন মিনারাও চলে গেছে অন্তরালে। মিনারাকে কেন্দ্র করে নগরীতে একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটে আরো কয়েকজন তরুণী ও মহিলা রয়েছে। তারা আড়াল দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। সিলেটের খুনি তানিয়া ওরফে তান্নির খোঁজে পুলিশ ঘটনার পরপরই নগরীর টিলাগড় এলাকার শাপলাবাগ থেকে আরেক তানিয়াকে আটক করেছিল। ওই তানিয়ার শেল্টারদাতা হলেন নার্গিস নামের এক মহিলা। পুলিশ তানিয়াকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তার কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে ওই তানিয়া ইয়াবা নেটওয়ার্ক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্র দাবি করেছে। এই তানিয়াকে বিভিন্ন সময় রাজনীতির মাঠে মহিলা সংগঠনের ব্যানারে মিছিলেও দেখা যায়। শিপা নামের আরেক তরুণীকে আটক করেছিল পুলিশ। নাজমুল আটকের দিন শিপা কোতোয়ালি থানাতেই ছিল। পুলিশ তান্নির খোঁজে শিপাকেও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। কিন্তু শিপার কাছ থেকে পুলিশ তান্নি সম্পর্কে তেমন তথ্য মিলেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় সময় তান্নি ও শিপা সড়ক পথে পরিচিত পুরুষদের নিয়ে ভারত ভ্রমণ করেছে বলে তাদের কাছে তথ্য এসেছে। কয়েক মাস আগেও তান্নি ভারত ভ্রমণ করে এসেছে। একই সময় শিপা ভারতে গিয়েছি কী না- সে সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। শিপাও তান্নির মতো বেশ মর্ডান স্টাইলে চলাফেরা করে। সাম্মি ওরফে সাম্মা নামের এক তরুণীকেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সাম্মা সিলেটি নাটকপাড়ায় অনেক আগে পরিচিত মুখ ছিল। বেপরোয়া স্বভাবের সাম্মার সঙ্গে খুনের ঘটনায় সম্পৃক্ত তান্নির যোগাযোগ ছিল বলে জানায় পুলিশ। এ কারণে সাম্মাকে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয়া হলেও এখন নজরদারিতে রয়েছে। সাম্মা নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার ছাত্রদলের এক গ্রুপের কয়েক যুবকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। এক সময় তাকে জিন্দাবাজার দেখা গেলেও বর্তমানে সাম্মা নগরীর শিবগঞ্জ এলাকায় বসবাস করে। ইয়াবা নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত সাম্মা ওই এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। বেশ কয়েকজন পুরুষের সঙ্গে গেল কয়েক বছরে তার হাতবদল হয়েছে। কারও কারও সঙ্গে বিয়ে হয়েছে বলে শোনা গেলে এর সত্যতা মিলেনি।
তান্নির রহস্যময় চলাফেরা: সিলেটে মা ও ছেলে খুনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তান্নির চলাফেরা ছিল রহস্যময়। তান্নি কখনো কাউকে সঙ্গে নিয়ে চলতো না। একা একা পথচলা সে পছন্দ করতো। নিহত রোকেয়ার বাসায় তান্নি একা যেতো। আর বের হতোও একা। তবে  বোরকা দিয়ে তার মুখ থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখতো। এ কারণে স্থানীয় এলাকাবাসী কিংবা দোকানি কখনোই তান্নির মুখ দেখেননি। তান্নির মুখ কেবল দেখেছেন কাঞ্চা সুমন ও তার সহযোগীরা। যখন তান্নি তার অপরাধ নেটওয়ার্কের পার্টনার রোকেয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তখন সে নিজ থেকে ঢেকে আনেন সুমনসহ কয়েকজন যুবককে। তারাও নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তান্নি নির্ধারিত সিএনজি অটোরিকশা কিংবা কার মাইক্রোবাস নিয়ে চলাফেরা করতো। এয়ারপোর্ট এলাকায় তার এক পরিচিত সিএনজি চালক রয়েছে। তাকে নিয়ে সব সময় ঘোরাফেরা করতো তান্নি। ওই সিএনজি চালকের সন্ধানও ইতিমধ্যে পেয়েছে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব জানিয়েছেন- মিরাবাজারের ও মেয়ে খুনের ঘটনায় পুলিশি রিমান্ডে থাকা নাজমুলকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর বাইরে পুলিশ তানিয়া ওরফে তান্নিকেও খুঁজছে বলে জানান তিনি।

বৃটিশ কারি শিল্প নিয়ে সংশয়

প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শেফের অভাবে আগামীতে বৃটেনে কারি রেস্তরাঁগুলোর শতকরা অর্ধেকই প্রায় স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃটেনে যেসব বাংলাদেশি এসব রেস্তরাঁর মালিক তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। ব্রেক্সিট সম্পাদন করতে গিয়ে বৃটিশ সরকার যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ক্ষোভটা তা নিয়ে। উল্লেখ্য, বৃটেনে প্রায় ৬ হাজার কারি রেস্তরাঁ রয়েছে। এর মালিকদের অনেকেই ২০১৬ সালের জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনে বেরিয়ে আসার গণভোটে ভোট দিয়েছিলেন। তাদেরকে তখনকার শীর্ষ স্থানীয় এমপিরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অপ্রশিক্ষিত অভিবাসীদের পরিবর্তে বাংলাদেশি শেফদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। কিন্তু এখন ব্রেক্সিট নিয়ে যে সমঝোতা চলছে তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মতো দেশের পরিবর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখানো হচ্ছে। এ জন্য বৃটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস-এর প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আলী হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, অনেক বার আমরা এ নিয়ে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ব্রেক্সিটের পক্ষে অবস্থান নেয়া গুরুত্বপূর্ণ নেতা বরিস জনসন ও অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা বলেছি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে শেফ নেয়ার কথা। তাদেরকে বলেছি বাজারে এমন শেফের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমাদের এ ধারণা কাজে আসছে বলে মনে হচ্ছে না। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষ কর্মচারীর অভাবে বৃটেনের এমন রেস্তরাঁর প্রায় অর্ধেক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে। এ নিয়ে তিনি বহু বছর ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। বৃটিশ সরকারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তাতে বৃটেনে যেতে চান এমন শেফদের জন্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ভিসা ব্যবস্থা শিথিল করার আবেদন করা হয়েছে। প্রচলিত রান্নার ধরনে স্থানীয় স্টাফদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ইনাম আলীর জন্ম বাংলাদেশের সিলেটে। তিনি ১৯৭০-এর দশকে পড়াশোনা করতে চলে যান বৃটেনে। সেখানে গিয়ে নর্থ ইস্ট সারে কলেজ অব টেকনোলজির সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন লা রাজ একাডেমি। এখানে পরবর্তী প্রজন্মকে কারি শেফে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের মিঠু চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনই একটা বা দুটো রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর বেশির ভাগ কারণ হলো, তারা দক্ষ স্টাফ পাচ্ছে না।

লিভার চিকিৎসায় বাংলাদেশী চিকিৎসকদের উদ্ভাবন

লিভারের রোগের নতুন ও কম খরচে চিকিৎসা পদ্ধতি বের করেছেন বাংলাদেশের চিকিৎসকদের একটি দল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দলটি বলছে, তাদের উদ্ভাবিত স্টেম সেল থেরাপি এবং বিলিরুবিন ডায়ালাইসিসের এ পদ্ধতিতে প্রচলিত যন্ত্রপাতিকেই নতুন ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে - যাতে অনেক কম খরচে অকার্যকর লিভার বা হেপাটাইটিসের চিকিৎসা করা যাবে।
তারা বলছেন, তাদের এ পদ্ধতির কথা ইতিমধ্যেই তারা কয়েকটি আন্তর্জাতিক চিকিৎসক সম্মেলনে তুলে ধরেছেন। এই গবেষণা দলের একজন বিএসএমএমইউর লিভার বিভাগের অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব বিবিসি বাংলাকে বলছেন, লিভার সিরোসিস কিম্বা অন্য কোন কারণে যখন কারো লিভার অকার্যকর হয়ে যায় তখন এই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
"এরকম হলে একমাত্র চিকিৎসা হলো লিভার প্রতিস্থাপন। কিন্তু বাংলাদেশে দুর্ভাগ্যজনক হলেও এখনও পর্যন্ত লিভার প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে না। প্রতিবেশী ভারতে এই চিকিৎসায় খরচ হয় বাংলাদেশী টাকায় ৪০ লাখেরও বেশি। এজন্যে আমরা নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি।"
এজন্যে দুটো পদ্ধতি। একটা হলো স্টেম সেল চিকিৎসা আর অন্যটি ডায়ালাইসিস। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে লিভারকে একদম সুস্থ করতে না পারলেও এর অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব।যে যন্ত্রের সাহায্যে রক্ত থেকে প্লেটিলেট আলাদা করা হয়, এই একই যন্ত্রটিকে আমরা নতুন কাজে ব্যবহার করেছি। এই মেশিনের নির্মাতার সাথেও আমরা কথা বলেছি। এই যন্ত্রটি দিয়ে আমরা যখন প্রথম স্টেম সেল সংগ্রহ করি তখন তারা অবাক হয়েছিলো।"
এই স্টেম সেলকে বলা হয় শরীরের রাজমিস্ত্রি। যখনই কোন অর্গানে সমস্যা হয় তখন এই স্টেম সেলের কাজ হচ্ছে সেটি মেরামত করা।
"আমরা একটি ইনজেকশন দেই। যখন রোগীর স্টেম সেলের সংখ্যা বেড়ে যায় তখন ওই যন্ত্রের সাহায্যে প্লেটিলেটকে আলাদা না করে স্টেম সেলকে আলাদা করেছি। তারপর স্টেম সেলগুলোকে লিভারের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
তিনি বলছেন, যেসব রোগীর উপর তারা এই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তাদের বেশিরভাগেরই লিভারের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
অধ্যাপক আল-মাহতাব জানান, তাদের এই উদ্ভাবন গত মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় সম্মেলনে তুলে ধরেছেন। আরো দুটো আন্তর্জাতিক জার্নালেও এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক কোন গবেষকই তাদের এই উদ্ভাবনকে চ্যালেঞ্জ করেন নি।
তিনি জানান, এই স্টেম সেল চিকিৎসার পেছনে খরচ পড়বে এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকার মতো। এটা তারা এখন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে এই চিকিৎসা করতে তাদের খরচ হয় ১৬ থেকে ১৭ লক্ষ টাকার মতো।
তিনি জানান, ডায়ালাইসিস পদ্ধতিতে খরচ পড়বে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা যেটা করতে সাধারণত খরচ হয় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা।
সূত্রঃ বিবিসি

হামাসের ওপর হামলার হুমকি দিল ইসরাইল

ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে ইসরাইলের হামলা
ইহুদিবাদী ইসরাইল হুমকি দিয়ে বলেছে, গাজা উপত্যকায় সীমান্ত দেয়ালের কাছে যদি ‘মার্চ অব রিটার্ন’ র‍্যালি অব্যাহত থাকে তাহলে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ওপর হামলা চালানো হবে। 
ইসরাইলের সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক হারেৎজ পত্রিকা জানিয়েছে, গাজার বিক্ষোভকারীরা যদি সীমান্তের দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করে তাহলে ইহুদিবাদী সেনারা শক্তি প্রয়োগ করবে। হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, সীমান্ত দেয়ালের দিকে শোভাযাত্রা করা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি স্নাইপারদেরকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভূমি দিবস উপলক্ষে ছয় সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনিরা গাজা সীমান্তে ইসরাইলের তৈরি করা দেয়ালের দিকে শোভাযাত্রার কর্মসূচি পালন করছেন। ইসরাইল সৃষ্টির পর যেসমস্ত মানুষকে নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদেরকে সেখানে ফেরার অধিকার দেয়ার জন্য এ বিক্ষোভ-কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
ইসরাইলের গুলি থেকে বাঁচতে পারছেন না সাংবাদিকরাও
গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ পণ্ড করার জন্য ইহুদিবাদী সেনারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়েছে এবং টিয়ারগ্যাস ছুঁড়েছে। এতে ৩০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। গত শুক্রবারও ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলা চালায় ইসরাইল। প্রতিবাদে ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘ, আরব লীগ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভ-কর্মসূচির অবসান ঘটানোর জন্য হামাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মিশর ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারা। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, গাজায় বিক্ষোভ কর্মসূচি অবসানের বিনিময়ে রাফাহ ক্রসিং পয়েন্ট নিয়মিত খোলা রাখার জন্য কায়রো প্রস্তুত রয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা

স্বামীকে শিক্ষা দিতেই স্ত্রীকে গণধর্ষণ

চুরি করাই ছিল একসময় রতনের পেশা। এ গ্রাম থেকে ও গ্রামে সবাই তাকে চোর বলেই জানতো। হঠাৎ বদলে যান রতন। বছর দুয়েক আগে হঠাৎ ছেড়ে  দিয়েছেন এ পেশা। এখন শ্রমিক হিসেবে চাকরি করেন একটি টেক্সটাইল মিলে। সেখানেই পরিচয় হয় জামালপুরের মেলান্দহ এলাকার এক নারী শ্রমিকের সঙ্গে। দীর্ঘ দু’বছর ভালোবাসা শেষে দু’মাস আগে ওই নারী শ্রমিককে (২২) বিয়ে করেন উপজেলার উঁচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর এলাকার রতন মিয়া (২৬)। কিন্তু তার এ বদলে যাওয়া পছন্দ হয়নি রতনের সাবেক সতীর্থদের। সতীর্থরা মিলে ফন্দি আঁটেন শিক্ষা দিতে হবে রতন ও তার স্ত্রীকে। শুক্রবার রাত ১ টা থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের উঁচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হন গৃহবধূ। পরে শনিবার দুপুরে থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে অভিযুক্ত আবুল বাদশা (৩২) ও রতন মিয়া (৩১) নামের দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে ঈশ্বরগঞ্জ পুলিশ।
জানা যায়, স্বামীকে উচিত শিক্ষা দিতে গিয়েই স্ত্রীকে (২২) পৈশাচিকভাবে নির্যাতন করে স্বামীর সাবেক বন্ধুরা। অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে ৭ পিশাচ রাতভর ব্র?হ্মপুত্রের চরে ধর্ষণ করে তাকে। এমন নির্মমতা আর বর্বরতা সইতে না পেরে একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ। ভোরে বাড়ির পাশের  খোলা মাঠ থেকে ওই অবস্থাতেই তাকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা। বর্তমানে ওই নির্যাতিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নির্যাতিতার স্বামী রতন জানান, গত চারদিন ধরে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বেড়ানোর পর শুক্রবার বিকেলে তিনি নিজ বাড়িতে আসেন। তিনি একসময় এলাকার একটি অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু দুই বছর ধরে তিনি অপরাধ জগৎ থেকে বেরিয়ে আসেন। এ কারণে দলের অন্য সদস্যরা তার প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিল। তাই তিনি ভয়ে এলাকায় কম আসতেন। একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরি করেন তিনি। শুক্রবার গভীর রাতে দরজার কড়া নাড়ার শব্দ শুনে তিনি দরজা খুলে দেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক তাঁর ঘরে ঢুকে পড়ে। তাঁর হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে স্ত্রীকে মুখে ও হাতে বেঁধে কোলে করে নিয়ে চলে যায়। পরে তিনি নিজের হাত-পায়ের বাঁধন অনেক কষ্টে খুলে এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে খুঁজতে বের হন। এক সময় নির্জন একটি চরে স্ত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে স্ত্রীকে তুলে এনে সোজা থানায় চলে আসেন।
নির্যাতিতা নববধূ জানিয়েছেন, তার মুখ বেঁধে  বেশ কয়েকজন বাড়ি থেকে পাশের ব্রহ্মপুত্র নদের বালু চরে নিয়ে যায়। সেখানেই তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গোলাম মাওলা জানান, দুর্বৃত্তরা মেয়েটিকে রাতভর ধর্ষণ করেছে। শনিবার সকালে থানায় এসে গৃহবধূ বাদী হয়ে এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে সাংবাদিকসহ ৯ ফিলিস্তিনী নিহত

নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবিতে র‌্যালি করতে গিয়ে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে নয় ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে এক সাংবাদিকও রয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে এক হাজার। ১৯৪৮ সালে আরব যুদ্ধের সময়ে গাজা এলাকার বিশাল এলাকার অধিকার ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে কেড়ে নেয় ইসরাইল। সেই অধিকার ফেরত পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন ফিলিস্তিনিরা। এ সময় তাদের ওপর নির্দয়ভাবে গুলি চালায় ইসরাইলি সেনারা। এতে ওসমান কাদেই (৩৮), মাজদি রামাদান সভাত, হোসেন মাদি (১৬), ইব্রাহিম আল ওউর (২০), সিদকি আবু ওতেইবি, মোহাম্মদ হাজ সালেহ (৩৩) ও আলা আল জামালি (১৭) নিহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজন মারা যায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় শুক্রবার বলেছে, ইসরাইলি বাহিনী দখলকৃত গাজা উপত্যকায় সরাসরি ভারী গোলা নিক্ষেপ করে। এতে কমপক্ষে ২৯৩ জন আহত হন। এ সময় গাজা উপত্যকায় সমবেত হয়েছিলেন  বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি। তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়েছে। এতে শত শত ফিলিস্তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। ৩০শে মার্চ বিক্ষোভের সময় গুলি করা হয়েছিল ফিলিস্তিনি নাগরিক থায়ের রাবাকে। শুক্রবার সকালের দিকে তিনি মারা গেছেন। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য বিক্ষোভ করছেন। এর নাম দেয়া হয়েছে গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন। এর প্রধান বার্তা হলো- ১৯৪৮ সালের আরব যুদ্ধ, যা নাকবা নামে পরিচিত, সেই যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে তাদের বসতবাড়ির যে অধিকার কেড়ে নিয়েছে ইসরাইল, তা ফিরিয়ে দিতে হবে। গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় শতকরা ৭০ ভাগকেই তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা বসবাস করেন একটি এলাকায়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরের সমান আকারের। এ এলাকাকে এখন আখ্যায়িত করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত কারাগার হিসেবে।

পিতার পরিকল্পনায় বিউটি খুন: ধর্ষণে জড়িত থাকলেও হত্যায় যোগ নেই বাবুলের

নতুন মোড় নিয়েছে হবিগঞ্জে আলোচিত বিউটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত। বিউটিকে হত্যা করেছে তার পিতা ছায়েদ মিয়া নিজেই। গতকাল হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা তার সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিউটি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। জানান, বিউটিকে হত্যা করেছে চাচা ময়না মিয়া এবং সঙ্গে ছিলেন বিউটির বাবা ছায়েদ আলী আর ১০ হাজার টাকায় ভাড়া করা এক খুনি। তবে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি বাবুলের সম্পৃক্ততা   নেই বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার জানান, ১৬ই মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় লাখাই উপজেলার গনীপুরে নানার বাড়িতে থাকা বিউটিকে নিয়ে আসে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত মহিলা মেম্বার প্রার্থী আছমা আক্তারের স্বামী ময়না, বিউটির পিতা ছায়েদ আলী এবং অপর এক ভাড়াটিয়া খুনি। পরে রাত ১২টায় বটতলা নামক স্থানে বিউটিকে ধরে রাখে ভাড়াটিয়া খুনি আর ছোরা দিয়ে ৫টি আঘাত করে ময়না মিয়া। এ সময় প্রায় ২০ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিউটির পিতা ছায়েদ আলী।
গত দুই দিনে ময়না মিয়া আর বিউটির বাবা ছায়েদ আলী ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানান এসপি বিধান ত্রিপুরা। অপর হত্যাকারী ভাড়াটিয়া খুনিকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তার নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি বাবুল মিয়া এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলেও জানিয়েছেন এসপি। তিনি বলেন, বাবুল ১৭ দিন বিউটিকে একটি ভাড়া বাড়িতে রেখে ধর্ষণ করে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
১৪৪ ধারার জবানবন্দিতে বিউটির বাবা ছায়েদ আর ময়না আরো স্বীকার করেন, মামলার প্রধান আসামি বাবুলের মা কলমচান এবং ময়নার স্ত্রী আছমা আক্তার বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মহিলা মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ময়নার স্ত্রী পরাজিত হন। সেই প্রতিশোধ হিসেবে বাবুল ও তার মাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বিউটির পাষণ্ড পিতা ছায়েদ আলী, আর পরাজিত মহিলা মেম্বার প্রার্থীর স্বামী ময়না মিয়া।
১৭ই মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের পুরাইকলা বাজার সংলগ্ন হাওর থেকে স্কুলছাত্রী বিউটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ওইদিনই বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

কারে আমি বাবা বলি, কে আমার প্রিয়তমা by কাজল ঘোষ

ক’দিন ধরে তীব্র হতাশা ভর করেছে। চারপাশ ঘুমোট। চেনা মুখগুলো কেমন যেন অচেনা। জানা ঘটনাগুলোও অজানা। ভাবনার পারদ দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে যাচ্ছে। সম্পর্কগুলো বড্ড অবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। তবে কি সব হিসাব চুকানোর সময় চলে এসেছে। চোখ বন্ধ থাকলেও নাকি প্রলয় বন্ধ থাকে না। সমসাময়িক দুটি ঘটনা। একটি রংপুরের অন্যটি হবিগঞ্জের।
খুব কাছাকাছি সময়ে দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা খবর আমাদের ব্যাথিত করে। চিন্তিত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সবখানে ঝড় তোলে। বিশেষ করে সবুজ জমিনে লাল রক্তাক্ত জামায় বিউটির ছবিটি মার্চের দিনগুলোতে নতুন করে ভাবায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিউটি ধর্ষণ ও খুনের বিচার চেয়ে সকল মহল উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে। আর রংপুরে পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের নিখোঁজ হওয়া যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের খাঁচার ভেতর আতঙ্কের নিশানা উড়িয়ে দেয়। চরপাশ থেকে নানান উদ্বেগজনক খবর রটতে থাকে। এর সঙ্গে কারা যুক্ত থাকতে পারে এ নিয়ে চলছিল চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ। কিন্তু আমরা কি দেখলাম! শত্রুতো ঘরেই। ঘাতক সহধর্মীনি নিজেই। আমাদের সকল ব্যাখ্যাকে ভুল প্রমাণ করে যা প্রকাশিত হলো তা বিশ্বাস করার যায় না। রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে দীপ্ত ভৌমিক যখন লিখেন, বাবা তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। তোমার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। অপরাধী কখনো আমার মা হতে পারে না। অপরাধী অপরাধী। সেই যেই হোক না কেন আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। চোখ জলে ভরে যায়। সন্তান হয়ে ঘাতক মায়ের বিচার চাইতে হচ্ছে। এ কোন দুনিয়া আমরা দেখছি। পরকীয়া পৃথিবীতে চলছে মানব জন্মের শুরু থেকেই। কিন্তু তাই বলে রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের মতো মানুষকে পরকীয়ার প্রতিহিংসার আগুনে এতটা নির্মমভাবে জীবন দিতে হবে তা মানা যায় না।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের বিউটির কি ছিল অপরাধ? ধর্ষক তার কুকর্ম স্বীকার করেছে পুলিশের কাছে। কিন্তু মেয়েকে জীবন দিতে হলো পাষন্ড, নরপশু, বর্বর পিতার হাতেই। প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে নিজের মেয়েকে খুন! কতটা বর্বর হতে পাাে ছায়েদ আলী। এই ছায়েদ আলীরা আমাদের সমাজের মূল্যবোধগুলোকে ভেঙে খানখান করে দিচ্ছে। ছায়েদ আলীর মতো পিশাচকে মনুষ্য বিবেচনা করতেও ঘৃণা হচ্ছে। সমাজের সকল বন্ধন, স্নেহ-মমতাকে সে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বলা হয়ে থাকে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। না হলে আমরা হয়তো এই সত্য জানতে পারতাম না। যত নির্মমই হোক এই ঘটনা দুটির প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। অপরাধী গ্রেপ্তার দ্রুত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র‌্যাব-পুলিশ তাদের সক্ষমতা ফের প্রমাণ করলো। বড় ধন্যবাদ এই দুটি সংস্থাকে। এখন প্রয়োজন দুটি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে তত দ্রুত স্বস্থি আসবে মানুষের মধ্যে। অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক আর বিউটির অতৃপ্ত আত্মা শান্তি পাবে।

সরকারি কাজে জি-মেইল ইয়াহু, আউটলুক ব্যবহার বন্ধ: মন্ত্রিসভায় কাল উঠছে ই-মেইল নীতিমালা by দীন ইসলাম

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইচ্ছেমতো ই-মেইল ব্যবহারে বিধি-নিষেধ আসছে। ইলেকট্রনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাদের একটি অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারি ই-মেইল নীতিমালা-২০১৮ আগামীকাল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠবে। নীতিমালাটি অনুমোদন হলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরকারি কাজে ইলেকট্রনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে জি-মেইল, ইয়াহু, আউটলুকসহ অন্যান্য ই-মেইল ব্যবহার করতে পারবেন না। সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কার্যক্রমের গোপনীয়তা রক্ষা, অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও সাইবার নিরাপত্তার জন্য ই-মেইল ব্যবহারের এ নীতিমালা করা হচ্ছে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ই-মেইল ব্যবহারকে সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নীতিমালার খসড়ায় একটি অভিন্ন ডোমেইন ‘ডট বিডি’র ঠিকানা যুক্ত ই-মেইল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নীতিমালাটি অনুমোদন পেলে সরকারি কোনো কাজে আর ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করা যাবে না। তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যেকেই মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার নামসহ ‘ডট বিডি’ ডোমেইনে একটি ই-মেইল আইডি তৈরি করে সেটা দিয়ে সরকারি কাজে মেইল আদান- প্রদান করতে হবে। এ ই-মেইল আইডি দিয়ে তারা শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যক্তিগত বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে না। অপরদিকে অভিন্ন ডোমেইনে এই ই-মেইল সেবা দেবে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। তারা ই-মেইল সার্ভিস প্রোভাইডার (ইএসপি) হিসেবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কাজে গোপনীয়তা রক্ষা ও অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাইবার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে একটি নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক যোগাযোগের জন্য ই- মেইল ব্যবহারকারীদের একই নিয়মের অধীনে আনতে ই- মেইল নীতিমালা করা হয়েছে। নীতিমালাটি তৈরির পর এটি প্রথমে ওয়েবসাইটে মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়। মতামত পেয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে নীতিমালায় সংযোজন-বিয়োজন করে খসড়া চূড়ান্ত করে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কমিটি। এরপর এটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ই-মেইল ব্যবহার নীতিমালায় যা বলা হয়েছে তা কর্মকর্তাদের অবশ্যই মানতে হবে। কেউ না মানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তবে এ নীতিমালা জাতীয় নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত সংস্থা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসহ স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তারা ইলেকট্রনিক যোগাযোগের জন্য তাদের কর্তৃপক্ষের নিয়মে ই-মেইল ব্যবহার করবে। এদিকে মন্ত্রিসভায় পাঠানো খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী দুটি করে ই-মেইল আইডি খুলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে একটি হবে তার পদবি দিয়ে এবং অন্যটি নাম দিয়ে। তবে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও আইডি দুটি দুই ধরনের কাজে ব্যবহার করতে হবে তাদের। আবার যেসব কর্মকর্তা অবসরে যাবেন বা চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হবে, তারা পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত ওই নামের মেইল সরকারি যোগাযোগে ব্যবহার করতে পারবেন। এক বছর পর তাদের থেকে ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড বাজেয়াপ্ত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আইজিপি কমপ্লেইন সেল by ১০০৭ অভিযোগ by আল-আমিন

আফরোজা বেগম। মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি ৪ঠা জানুয়ারি ঢাকার ফুলবাড়িয়ার পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপি কমপ্লেইন সেলে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এতে বলা হয়েছে, তার ১ একর চাষাবাদের জমি রয়েছে। জমিটি স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি দখলের চেষ্টা করছে। আর এতে সায় জোগাচ্ছে থানা পুলিশের এএসআই সাদেকুর রহমান। তাদের এই অপকর্মে তিনি ভীত। তার সেই সম্বলটি জমিখেকোর হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি সরাসরি পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে ‘আইজিপি কমপ্লেইন সেলে’ অভিযোগ দাখিল করেছেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশের বিরুদ্ধে এমন ১০০৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, অবৈধভাবে টাকা আদায়, মিথ্যা মাদক মামলায় আসামি করা, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, ফুটপাথে চাঁদাবাজি, জমি দখল, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে মামলায় আসামি করা, প্রতারণা ইত্যাদি। এসব বিষয়ে তদন্ত করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি তদন্তকারী কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি মাঠ পর্যায়ে এসব বিষয়ে তদন্ত করছে। তদন্তকারী দল প্রত্যেকটি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছে। ভিকটিম ও যে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের উভয়ের বক্তব্য শুনছেন। ‘আইজিপি কমপ্লেইন’ নামে এই সেলটিতে মোবাইল ফোন, ই-মেইলে বা কুরিয়ার সার্ভিস ও ডাকযোগে অভিযোগ পাঠানো যাবে। আবার যদি কোন ভুক্তভোগী সরাসরি দরখাস্ত করে অভিযোগ দিতে চান তাহলে তিনি তার দরখাস্ত নিয়ে ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় পুলিশের সদর দপ্তরে অফিস চলাকালে গিয়ে জমা দিতে পারবেন। ভুক্তভোগীর আবেদন গ্রহণ করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে ২ নম্বর ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষ খোলা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ভিকটিম যদি ইচ্ছা করেন তাহলে তিনি তার নাম গোপন রাখতে পারবেন। সেলটির তত্ত্বাবধান করছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিসিপ্লিইন অ্যান্ড প্রফেশনালর্স স্টান্ডার্ড (ডিঅ্যান্ডপিএস) শাখা। একজন এডিশনাল ডিআইজি সেলের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৭ সালের ১৪ই নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের এক অনুষ্ঠানে পুলিশের তৎকালীন আইজি একেএম শহীদুল হক সেলটি উদ্বোধন করেন। এই সেলটিতে শুধু পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণের জন্য খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে সেলটির প্রধান সমন্বয়কারী পুলিশ সদর দপ্তরের এডিশনাল ডিআইজি ডিঅ্যান্ডপিএস মো. রেজাউল হক বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের সব কাজের স্বচ্ছতা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আরও বেশি কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সেলটি খোলা হয়েছে। এতে পুলিশের পেশাদারি বাড়বে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই সেলটি ছিল আগে সিকিউরিটি সেল। বিষয়টি সাধারণ মানুষ তেমন বুঝত না। মাসে বা বছরে অভিযোগও আসতো কম। সেলটি জনমুখী করার জন্য একে ‘আইজিপি কমপ্লেইন’ সেল বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সরাসরি, কুরিয়ার বা ডাকযোগে আইজিপি কমপ্লেইন সেলের পুলিশ সদর দপ্তরের ঠিকানা চিঠি পাঠাতে পারেন। অথবা যে কেউ সরাসরি এই ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৫ ও ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৬ নম্বরে ফোন করতে পারেন। আবার পড়সঢ়ষধরহ@ঢ়ড়ষরপব.মড়া.নফ ঠিকানায় ই-মেইল করতে পারেন। আবার কোন ভুক্তভোগী যদি সরাসরি দরখাস্ত করতে চান তাহলে ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপি কমপ্লেইন সেলে দরখাস্ত জমা দিতে পারবেন। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নির্মোহভাবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আবেদনকারীর পরিচয় গোপন রাখবে। সূত্রে জানা গেছে, সেলটি চালু হওয়ার পর গত চার মাস ১৭ দিনে ১০০৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তারমধ্যে ই-মেইলে ৪৭৮টি, মোবাইল ফোনে ১৩৯টি ও চিঠিতে ৩৯০টি  অভিযোগ করা হয়েছে। যে ৩৯০ জন সরাসরি চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন তার মধ্যে ১৬২ জন হচ্ছেন নারী। সেলের অভিযোগের তদন্তের জন্য একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল মাঠে কাজ করছে। পরে পুলিশ তার নিজস্ব সোর্স দিয়ে বিষয়গুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে। তবে কেউ যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হন এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে খেলায় রাখা হচ্ছে। সেলে দায়িত্ব পালনকারী এসআই মিনহাজুল ইসলাম জানান, এই সেলে অনেক ভিকটিম নির্বিঘ্নে অভিযোগ করছেন। অনেকেই ফোন দিয়ে বিষয়টি খোলাসাভাবে জানতে চান। আমরা ভিকটিমকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। সূত্র জানায়, গত বছরের ১০ই ডিসেম্বর দারুস সালামে মাজার রোডের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তি পুলিশ সদর দপ্তরে একটি দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। সেই দরখাস্তে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, স্থানীয় কিছু বখাটে যুবককে দিয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা মাজার রোড এলাকায় মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এতে সেখানে ভাসমান লোকের আনাগোনা বাড়ছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটছে। দারুস সালাম থানার পুলিশের যে সদস্যরা এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করেন। চলতি বছরের ২০শে জানুয়ারি ভাষানটেক থানার বাসিন্দা সোহরাব আলী নামে এক ব্যবসায়ী ওই সেলে একটি অভিযোগ করেছেন। চিঠি দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ভাষানটেকের ডি-ব্লকে তিনি একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন। থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা তার কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের আইজির প্রতি আহ্বান জানান।

অসুস্থতার ছাপ মৃদু হাসি: জোর করে হাসপাতালে আনার অভিযোগ বিএনপির

মুক্ত পরিবেশ নয়, তবুও আড়াই ঘণ্টা চার দেয়ালের বাইরের দুনিয়া দেখলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ঘড়ির কাঁটা তখন বেলা  সোয়া ১১টার ঘরে। কারাগারে যাওয়ার ৫৭ দিন পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে বের করা হয় কালো কাচঘেরা একটি গাড়িতে করে। কারাগেট থেকে শাহবাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তাটুকু আগে থেকেই ফাঁকা করে রেখেছিল পুলিশ। বেলা সাড়ে ১১টা। কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে ভেঁপু বাজিয়ে তিন নম্বর গেট দিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে র‌্যাবের অগ্রবর্তী দল। পেছনে পেছনে পুলিশের দুইটি জিপ। সবশেষে কালো কাচঘেরা একটি গাড়ি। হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করে গাড়িটি দাঁড় করানো হয় কেবিন ব্লকের সামনে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের তিন নম্বর গেট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। অবশ্য বিএনপি থেকে অভিযোগ করা হয়েছে খালেদা জিয়াকে জোর করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
ওদিকে কেবিন ব্লকের সিঁড়ির গোড়ায় আগে থেকে রাখা হয়েছিল একটি হুইল চেয়ার। এক মিনিট পর গাড়িটি ঘুরিয়ে একেবারে সিঁড়ির গোড়ায় নিয়ে দাঁড় করানো হয়। তারপর কেটে যায় আরো দুই মিনিট। কারারক্ষী, পুলিশ, ডিবি পুলিশের সদস্যরা কয়েক স্তরের ব্যারিকেডের মাধ্যমে ঘিরে রাখে সে গাড়ি। সাদা পোশাকধারী একজন কারা কর্মকর্তা গাড়ির দরোজায় গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। তারপর চশমা চোখে, কালো ফুল তোলা হালকা ঘিয়ে রঙের শাড়ি পরিহিত খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। গাড়ি থেকে নেমেই সাংবাদিকদের ডাকে কয়েক সেকেন্ডের মতো তিনি ক্যামেরার দিকে তাকান। এ সময় তার চেহারায় অসুস্থতার ছাপ থাকলেও চাহনীতে ছিল অটুট মনোবলের প্রকাশ। গাড়ি থেকে নামার পরক্ষণেই মহিলা পুলিশ ও কয়েকজন মহিলা কারারক্ষী তার চারপাশে ঘিরে দাঁড়ায়।
এ সময় তাকে জানানো হয়, তার জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া জানান, তিনি হেঁটেই যেতে পারবেন, হুইল চেয়ার ব্যবহার করবেন না। এরপর খালেদা জিয়া কেবিন ব্লকের সিঁড়ির দিকে হাঁটা শুরু করেন। সিঁড়িতে উঠতে উঠতে তিনি উপস্থিত লোকজনের শুভেচ্ছার জবাব দেন হাসিমুখে হাত নাড়িয়ে। মহিলা কারারক্ষীরা হাত ধরে তাকে সিঁড়ি পার করার পর তিনি ১৯ নম্বর লিফট পর্যন্ত হেঁটে যান। খালেদা জিয়াকে লিফটে তোলার পর সেখানে ব্যারিকেড দিয়ে সাংবাদিকসহ লোকজনের যাতায়াত বন্ধ করে দেয় পুলিশ। একই সময়ে তিনতলার সিঁড়িতেও লক করে দেয়া হয়। ১১টা ৩৮ মিনিটে তাকে পঞ্চম তলার ৫১২ নম্বর কেবিনে নেয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে সেখানে অবস্থান করেন বেশ কয়েকজন পুলিশ ও কারা কর্মকর্তা। প্রায় একঘণ্টা পর কেবিন ব্লক থেকে খালেদা জিয়াকে বের করে আনেন পুলিশ ও কারা কর্মকর্তারা। কারারক্ষী, র‌্যাব, পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সশস্ত্র পাহারার মধ্যদিয়ে ১২টা ৩৬ মিনিটে তাকে নেয়া হয় উল্টোপাশের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে। কেবিন ব্লক থেকে হেঁটেই সেখানে যান খালেদা জিয়া। এক্স-রে শেষে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে তাকে রেডিওলজি বিভাগের কাউন্টার গেটে আনা হয়। সেখানে তার সঙ্গে কয়েক মিনিট কুশল বিনিময়ের সুযোগ পান ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথি ও নাতনি। ঠিক ১টা ৩৩ মিনিটে রেডিওলজি বিভাগের উত্তরপাশের গেট দিয়ে বের করে তাকে তোলা হয় সেই কালো কাচঘেরা গাড়িতে।
এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। পুলিশি বাধার মুখে তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে না পারলেও কাচ ধরে তাকে সালাম দেন। গাড়ি কারাগারের উদ্দেশে ফিরে যাওয়ার সময়ও গাড়িতে বসে হাসিমুখে হাত নাড়িয়ে উপস্থিত লোকজনের শুভেচ্ছার জবাব দেন খালেদা জিয়া। এর আগে হাসপাতালের কেবিন ব্লকে একঘণ্টা অপেক্ষার পর রেডিওলজি বিভাগে তিনটি এক্স-রে করার পর ফিরিয়ে নেয়া হয় কারাগারে। পৌনে দু’টায় ফের চার দেয়ালের নিঃসঙ্গ, নির্জন কারাগারে বন্দি জীবন শুরু হয় খালেদা জিয়ার। মধ্যখানে হাসপাতালে গাড়ি থেকে নামিয়ে কেবিন ব্লক ও পরে রেডিওলজি বিভাগে নেয়ার সময় সেখানে উপস্থিত অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে দেখার সুযোগ পান। পাশাপাশি ওই সময়ে ধারণকৃত ভিডিও এবং স্থিরচিত্রের মাধ্যমে সারা দেশের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়াকে দেখতে পান। কেমন আছেন তিনি, কি তার শারীরিক পরিস্থিতি।
মতামত দিতে পারেনি ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ডাক পেলেও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা মতামত দিতে পারেননি। বিএনপি’র আবেদনের প্রেক্ষিতে মহা কারাপরিদর্শকের কাছে একটি চিঠি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। সেখানে জেল কোড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা ছিল। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে গতকাল ডাক পেয়েছিলেন তার চার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। যথাসময়ে তাদের মধ্যে তিনজন প্রফেসর ওয়াহিদুর রহমান, প্রফেসর এফএম সিদ্দিকী ও ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বিএসএমএমইউতে এসেছিলেন। কিন্তু তারা কেউ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসায় মতামত দিতে পারেননি। কারাগার থেকে হাসপাতালে এনেই খালেদা জিয়াকে নেয়া হয় আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কেবিনে। কিন্তু সেখানে সর্বক্ষণ তাকে ঘিরে রেখেছিলেন পুলিশ ও কারা কর্মকর্তারা। তিন চিকিৎসককে তার কেবিনে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয় প্রায় ২০ মিনিট পর। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দেন সরকারি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ীই তার পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে। এখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মতামত দেয়ার সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় তারা তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মতামত নিতে পারবেন না। কেবল কুশলাদি বিনিময়ের মাধ্যমেই শেষ হয় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের পালা। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সেখানে প্রায় একঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখার পর খালেদা জিয়াকে নেয়া হয় রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে। সরকারি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে তার তিনটি এক্স-রে করা হয়। ড্যাব’র কয়েকজন নেতা জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে একটা নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে মাত্র। যদি সরকারি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তার এক্স-রেই করা হবে তাহলে অযথা কেন কেবিন ব্লকে নেয়া, কেনই বা সেখানে একঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হলো।  
স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আজ: খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আজ রোববার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ-আল-হারুন। তিনি জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার একাধিক এক্স-রে করা হয়েছে। দুপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে খালেদা জিয়া হাসপাতাল ত্যাগ করার পর বিএসএমএমইউ’র মিল্টন হলে পরিচালক এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান। পরিচালক বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত ঢামেকের মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি সুস্থ কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পরিচালক বলেন, এটি মেডিকেল বোর্ড বলতে পারবেন। তিনি সুস্থ নেই এটা বলা যাবে না। আপাতদৃষ্টিতে তাকে সুস্থ মনে হয়েছে। তার জন্য আমরা হুইল চেয়ার রেখেছিলাম। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, হেঁটেই যেতে পারবেন। পরিচালক বলেন, বিএসএমএমইউতে আসার পর তাকে কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কেবিনে নেয়া হয়। সেখানে বেগম জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কেবিনে তার সঙ্গে তার চিকিৎসকরা কথা বলেছেন। সেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদুর রহমান, ডা. এফএম সিদ্দিকী, ডা. মামুন ও কারা চিকিৎসক ডা. শুভ উপস্থিত ছিলেন। তারা এক্স-রে করার সময়ও উপস্থিত ছিলেন। পরিচালক বলেন, কেবিনে যাওয়ার পর তিনি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। এরপর রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের তার হাড়ের বিভিন্ন অংশের এক্স-রে করা হয় (মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী)। এখানে এক্স-রে ছাড়া অন্য কোনো পরীক্ষা করা হয়নি।
এদিকে বিএসএমএমইউ’র রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ১/এ নম্বর রুমে এক্স-রে করান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নাজমুন নাহার প্রায় ২০ মিনিট ধরে খালেদা জিয়ার ঘাড়, কোমর এবং জয়েন্ট কোমরের (হিব) তিনটি পয়েন্টের এক্স-রে সম্পন্ন করেন। এক্স-রের সময় বেগম জিয়া খুব শান্ত ছিলেন বলে জানান তিনি। এ সময় রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. মো. এনায়েত করিম উপস্থিত ছিলেন।
রাতেই প্রস্তুতি, সকালে পুলিশ মোতায়েন
খালেদা জিয়ার মেডিকেল টেস্ট ও চিকিৎসার জন্য শুক্রবার রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে প্রস্তুতি শুরু হয়। এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। গতকাল সকাল ৭টা থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার থেকে শাহবাগ বিএসএমএমইউ পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। বিএসএমএমইউ’র সামনে রাস্তায়, প্রধান ফটকে, হোটেল সোনারগাঁও মোড়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ছিল পুলিশের। এছাড়া হাসপাতালের সামনে র‌্যাব, সাধারণ পোশাকে ডিবি, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীসহ বহু নিরাপত্তাকর্মী অবস্থান নেয়। হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও তাদের স্বজনদের সকাল থেকেই তল্লাশি করে হাসপাতালে ঢোকানো হয়। হাসপাতাল গেটের কাছে নিশাত ফার্মেসিতে কথা হয় কর্মরত মো. জুনাইদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকালে ফার্মেসিতে আসার সময় দেখি হাসপাতালের উভয় দিকে পুলিশের অবস্থান। সেখানে কর্মরত একাধিক পুলিশ সদস্য সকাল ৭টা থেকে তারা ডিউটি করার কথা জানান। এদিকে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনার একদিন আগে গত শুক্রবার তার জন্য কেবিন ব্লকের পঞ্চম তলার ভিআইপি ডিলাক্স কেবিন (কক্ষ নম্বর-৫১২) নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন কক্ষটিতে কয়েক দফায় ঝাড়-মোছ দেয়া হয় বলে জানান হাসপাতালের ক্লিনার ইনচার্জ আশরাফ আলম সোহেল।
গতকাল সকালেও কয়েক দফা তা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। বৈদ্যুতিক লাইন, ফ্রিজ, টিভি, এসি ঠিকঠাক মতো কাজ করছে কিনা দেখে যান প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকাল ৯টার পর বাথরুমের গরম পানির ঝর্ণা কাজ করছে কিনা দেখে যান প্রকৌশল বিভাগের কর্মচারী আবদুস সামাদ। তিনি বলেন, মোটামুটিভাবে সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। গরম পানির ঝর্ণাও যথাযথভাবে কাজ করছে। সকাল ৯টার পর ওই কেবিনে গিয়ে দেখা যায়, কেবিন ব্লকের রাস্তার পাশের কক্ষটিতে দু’টি শয্যা, ৫টি চেয়ার, ২টি টেবিল, একটি করে আলমিরা, ড্রেসিং টেবিল, টিভি ও ফ্রিজ রয়েছে। সামনের ছোট্ট কক্ষটিতে চারজন বসার দু’টি সোফা সেটের মাঝখানে একটি টেবিল। সবকিছু মুছে পরিষ্কার রাখা হয়। প্রথমেই তাকে সেই কেবিনে নেয়া হয়। ১১টা ৩৮ মিনিটে ৫১২ নম্বর কক্ষে ভিআইপি ডিলাক্স কেবিনে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ওই কক্ষে ঢুকেন বেশ কয়েকজন পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মকর্তা। এরপর ওই কক্ষের সামনে কারারক্ষীরা অবস্থান নেন। এর আধাঘণ্টা পর বেলা ১২টা ৩৬ মিনিটে মেডিকেল টেস্ট করাতে যাওয়ার জন্য কেবিন থেকে বের হন। ৫১২ নম্বর কেবিনে একঘণ্টা ছিলেন তিনি।
দাদি-নাতনীর কুশলবিনিময়
খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার দেড় মাসের মাথায় বাংলাদেশে আসেন তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথি ও তার দুই কন্যা জাহিয়া রহমান এবং জাফিয়া রহমান। দেশে ফেরার পর দুইদফায় কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। এদিকে গতকাল তাকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে শুনে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা হাসপাতালে আসেন। খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনার পর তারা কেবিনে ব্লকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের অনুমতি পাননি। তারপর হাসপাতালের সি-ব্লকের সামনে গাড়িতে বসেছিলেন দীর্ঘক্ষণ। পরে তাদের নেয়া হয় হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের ওয়েটিং রুমে। এক্স-রে শেষে খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়ার সময় রেডিওলজি বিভাগের কাউন্টার গেটের ভেতরে তারা কয়েক মিনিটের জন্য কুশল বিনিময়ের সুযোগ পান।  এদিকে এক্স-রে শেষে কারাগারের উদ্দেশে গাড়িতে তোলার সময় কেবিন ব্লকের বারান্দাগুলোতে রোগী, নার্স ও চিকিৎসকসহ উৎসুক মানুষ খালেদা জিয়াকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। জবাবে খালেদা জিয়াও হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। উল্লেখ্য, ঠিক ১০ বছর আগে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর অসুস্থ বড় ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ডি ব্লকে এসেছিলেন খালেদা জিয়া। এবার তিনি নিজেই কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে এই হাসপাতালে এলেন।
রোগীদের ভোগান্তি
খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ আনা উপলক্ষে গতকাল হাসপাতালটিতে সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। শুক্রবার হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় শনিবার রোগীর চাপ বেশি থাকে এই হাসপাতালে। কিন্তু সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আসা উপলক্ষে হাসপাতালে বিভিন্ন সেবা কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। তারা জানান, হাসপাতালের প্রবেশ পথেই পুলিশের জেরার মুখোমুখী হতে হয়েছে তাদের। স্বজনদের অভিযোগ সকাল থেকে কেবিন ব্লকের নিচে এবং এর সামনে বি-ব্লকের নিচে এক্স-রে এবং আলট্রাসনোগ্রামের কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দুপুর ২টার দিকে কাউন্টারগুলো খোলা হবে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু রোগী।
ড্যাব নেতাদের পুলিশের বাধা, মিছিল ও গ্রেপ্তার
ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-নেতারা বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে আসা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কেবিন ব্লকের নিচে ৯টার পর থেকে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে ২০/২৫ চিকিৎসক একত্রে হলে পুলিশ তাদের কেবিন ব্লকের নিচে দাঁড়ানো যাবে না বলে সড়িয়ে দেন এবং কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন। এতে সংগঠনটির নেতা প্রফেসর ডা. সিরাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অবস্থান নেয়া চিকিৎসকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিকে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেয়ার খবরে কারাগেট ও বিএসএমএমইউ হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হয় বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী। খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িবহর হাসপাতাল ঢোকার পর গেটের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। পুলিশ সেখান থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে কেবিন ব্লকে নেয়ার পর কেবিন ব্লকের সামনে থেকে ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখারুজ্জমান শিমুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, বিএনপি ও অঙ্গদলের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে রমনা ও শাহবাগ থানা পুলিশ। তবে পুলিশের তল্লাশির মধ্যেও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, প্রফেসর আজিজুল হক, প্রফেসর সিরাজউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর আবদুল কুদ্দুস, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আফরোজা আব্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, নজরুল ইসলাম আজাদ, তাবিথ আউয়াল, আমিরুজ্জামান শিমুল ও জি৯ এর সমন্বয়ক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ সহ অনেকেই হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নিয়েছিলেন। এদিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারের উদ্দেশে হাসপাতাল থেকে বের করার পরপরই শাহবাগ আজিজ মার্কেটের সামনে মিছিল বের করে ছাত্রদল। ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, কাজী মোকতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকশ’ নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি কাঁটাবন মোড় হয়ে হাতিরপুলের দিকে গেলে ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
জোর করে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে: রিজভী
বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে জোর করে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিকালে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুতভাবে আনা হয়েছে। কারাগারে তাঁর কক্ষের কাছে গিয়ে বারবার তাগিদ দিতে থাকে কারাকর্মকর্তাসহ ৭-৮ জন কারারক্ষী। একজন মুসলিম ধর্মপ্রাণ নারী হিসেবে ৩০-৩২ বছর ধরে তিনি শাড়ির উপরে চাদর বা ওড়না পরিধান করেন। এ সরকার এতো হীন এবং কুৎসিত মনোবৃত্তির যে, একজন বয়স্ক নারী যিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাঁকে চাদর বা ওড়না পরিধান করার সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হয়নি। একরকম জোর করেই তাকে গাড়িতে উঠিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে পিজি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের ৫১২ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসার নামে পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রহসনেরই নামান্তর। কারণ সেখানে কোনো চিকিৎসাই তাঁকে দেয়া হয়নি। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কোনো পরামর্শের সুযোগ দেয়া হয়নি। আইনেও আছে একজন বন্দি পূর্বে যেসব চিকিৎসকের চিকিৎসা নিতেন কারাগারেও তাদের চিকিৎসা নিতে পারবেন। গত পরশু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে প্রধান কারারক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অথচ এর কোনো প্রতিফলন আজকে দেখা যায়নি। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া ১৫-২০ বছর ধরে যে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের চিকিৎসা প্রদানের কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। একজন মানুষ হিসেবে বেগম জিয়ার যে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার সেটাকেও হরণ করতে ক্ষমতা তপস্বী সরকারপ্রধান বিষ দাঁত লুকাতে পারছেন না। অথচ নিজেকে সাধু দেখানোর জন্য বেগম জিয়ার চিকিৎসার নামে নাটক করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এতকিছুর পরও সরকারের উদ্দেশ্য যে অশুভ নয় এটা আমরা কিভাবে বুঝবো। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে গেলে সেখানে তাদের পর্যন্ত দেখা করতে দেয়া হয়নি। বেগম জিয়াকে বহনকারী গাড়ি হাসপাতালে পৌঁছলে একরকম টানা হেঁচড়া করে ওপরে উঠানো হয়। গাড়ি থেকে নামার জন্য সিঁড়ি পর্যন্ত দেয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে হাসপাতালে ধাক্কাধাক্কির মতো পরিস্থিতিতে অপমানজনকভাবে তাঁকে হাসপাতালে ওঠানো-নামানো হয়েছে। রিজভী বলেন, আওয়ামী রাজত্বে সরকারি হাসপাতালে বিরোধী দলের সেবা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেই সুযোগ ও অধিকারহীনতার শিকার হলেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর চিকিৎসা বিষয়ে সরকার আজ যে বায়েস্কোপ দেখালো তার নিন্দা করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। সরকারের উদ্ভট আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। এ সময় তিনি বলেন, সুচিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে। বেগম জিয়ার অগ্রযাত্রায় বলপূর্বক প্রতিহত করে কোনো লাভ হবে না। কোনোভাবেই তাঁকে টলানো যাবে না। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম, প্রফেসর ডা. সিরাজউদ্দিন আহমেদ ও প্রফেসর ডা. আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ইনচার্জের সাক্ষাৎকার: রোহিঙ্গা যাচাই প্রক্রিয়ায় আরো সময় চায় মিয়ানমার

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের যাচাই প্রক্রিয়ায় আরো সময় চায় মিয়ানমার। প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়া নিয়ে আলোচনা করতে আগামী ১১ থেকে ১২ই এপ্রিল বাংলাদেশ সফরে আসছেন প্রত্যাবর্তন বিষয়ক কর্মসূচি মিয়ানমারের ইনচার্জ উইন মিয়াত আইই। তিনি রেডিও ফ্রি এশিয়াকে এ নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাতে বলেছেন, এরই মধ্যে যারা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তারা যথাযথভাবে ফরম পূরণ করেন নি। যাদেরকে যাচাই করা হয়েছে তাদের একটি তালিকা বাংলাদেশের হাতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো জবাব দেয় নি বাংলাদেশ। এসব কারণে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। উল্লেখ্য, উইন মিয়াত আইই হলেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক মন্ত্রী। এ সপ্তাহে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়া নিয়ে আলোচনা করতে তিনি বাংলাদেশে আসছেন। কথা বলবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তিনি এ নিয়ে রেডিও ফ্রি এশিয়ার থিরিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এখানে তা তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: মিয়ানমারের প্রথম শীর্ষ স্থানীয় প্রতিনিধির বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য কি?
উত্তর: উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হওয়া নিয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করাই উদ্দেশ্য।
প্রশ্ন: আপনারা কি বাংলাদেশ সরকার বা জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন?
উত্তর: আমি এখন পর্যন্ত যতদূর জানি তাতে বাংলাদেশ সরকার তার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক আয়োজন করেছে। যদি তারা এটা আয়োজন করতে পারে তাহলে আমরা উদ্বাস্তু শিবির পরিদর্শনেও যেতে পারি।
প্রশ্ন: উদ্বাস্তু প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হওয়ার প্রধান কারণ কি?
উত্তর: বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী যদি সব কিছু ঘটে, যদি উদ্বাস্তুরা চুক্তি অনুযায়ী ফরম ফিলআপ করে, তাহলে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়া উচিত নয়। কিন্তু আমরা যেমনটি আশা করেছিলাম তেমনটি হচ্ছে না। চুক্তি অনুযায়ী উদ্বাস্তুরা ফরম ফিলআপ করে নি। যদি তারা তা করতো তাহলে এখন যে গতিতে এ প্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে তার চেয়ে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হতো। আমি বাংলাদেশে যেয়ে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।
প্রশ্ন: শরণার্থী ইস্যুতে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি)-এর মতো জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কি কাজ করবে মিয়ানমার সরকার? এসব এজেন্সির সঙ্গে কি চুক্তি করেছে (মিয়ানমার) সরকার?
উত্তর: বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি হয়েছে তাতে আমরা এরই মধ্যে বলে দিয়েছি, যখন প্রয়োজন হবে তখনই জাতিসংঘের এজেন্সিগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবো। ইউএনএইচসিআর এবং ইউএনডিপির সঙ্গে আমরা এরই মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা করেছি।
প্রশ্ন: যেসব শরণার্থী মিয়ানমারে তাদের বাড়িঘরে ফিরতে চান তাদের ৮০৩২ জনের একটি তালিকা ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের কাছে দিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব মিন্ট থু’র মতে, এর মধ্যে ৯০০ জনকে অনুমোদন দিয়েছে মিয়ানমার। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫০০ মুসলিম ও প্রায় ৪০০ হিন্দু। তারা রাখাইনের উত্তরাঞ্চল থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছেন। তাদেরকে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে বাকি যেসব শরণার্থী রয়েছেন তাদের বিষয়ে আপনারা কি করছেন?
উত্তর: আমি আগেই আপনাকে বলেছি, তারা যে ফরম ফিলআপ করেছে তা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী করা হয় নি। এ জন্যই এসব লোককে যাচাই করতে আমাদের আরো সময় প্রয়োজন। আমরা যাদেরকে যাচাই করতে পেরেছি তাদের তালিকা দিয়েছি বাংলাদেশকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদেরকে এর কোনো জবাব দেয় নি বাংলাদেশ।
প্রশ্ন: আপনি বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন, এ সফর থেকে কি প্রত্যাশা করছেন, বিশেষ করে শরণার্থী প্রত্যাবর্তন নিয়ে?
উত্তর: বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রতিবেশী। ফলে শরণার্থীর এ সমস্যা উভয় দেশের জন্যই একটি সমস্যা। আমাদের দেশে যেসব মানুষ বসবাস করতো তারা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছে। তাদেরকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব রয়েছে আমাদের। তাই তাদেরকে ফেরত আনা নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বজায় রেখে এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে আমি সেখানে যাচ্ছি। আশা করছি মসৃণ সহযোগিতা নিয়ে কথা হবে। ফলে ভালো কিছু প্রত্যাশা করি।

এমপিদের ক্ষমতা খর্ব করতে আচরণবিধি সংশোধন প্রয়োজন - সিইসি

সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এমপিদের ক্ষমতা খর্ব করা প্রয়োজন মনে করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। গতকাল প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এ  সাংবাদিকদের এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করলে আচরণবিধি সংস্কার করতে হবে। এবিষয়ে অবশ্যই ইসি ভেবে দেখবে। নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল থাকলে আচরণবিধিতে কিছু সংযোজন করে ইসি এমপিদের ক্ষমতার জায়গা খর্ব করবে কিনা- এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, এটা ভালো প্রশ্ন। এটা অবশ্যই চিন্তা করা দরকার। তাদের রেখে নির্বাচন করতে হলে আচরণবিধিতে কিছু পরিবর্তন আনা দরকার। রাজনৈতিক দলে অনাস্থা দূর করতে ইসি কি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলের কমিশনের নিরপেক্ষতার ব্যাপারে কথাবার্তা কম বলছে। তারা রাজনৈতিক ব্যাপারে তাদের যে ইস্যু আছে সেটা নিয়েই ভাবে। কি ধরনের সরকার হবে, তাদের মামলা মোকদ্দমা কি হবে- এসব নিয়ে ভাবে। অনাস্থার বিষয়টা আসে না। সেটা যদি আসে তবে আমরা তা চিহ্নিত করব। সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কীভাবে সম্ভব-এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, কিছু কিছু জিনিস আছে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। সরকারের কাঠামো কেমন হবে, নির্বাচনের সময় সরকার কিরকম- এগুলো সম্পূর্ণ সরকারের বিষয়। নির্বাচন কমিশনের বিষয় না। কিরকম সরকার হবে না হবে সেটা নিয়ে আমরা কিছু করতে পারবো না। সংসদ নির্বাচনে ইসি ও মিডিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কি? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠান করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। দশম সংসদ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ইসি’র কি ভূমিকা থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক হবে যদি আগের মতো হয়। সব দল নির্বাচনে না আসলে সে নির্বাচন ভালো হয় না। আমরা প্রত্যাশা করতে পারি। এক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা আছে। এসময় তিনি আরো বলেন, আমরা নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে করব সে ব্যাপারে আমাদের দৃঢ়তা আছে। কিন্তু সব দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা জরুরি। আমি এখনো আশা করি সব দল অংশগ্রহণ করবে। সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ইসি’র প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি ইভিএম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করতে পারি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি আমাদের এখনো নেই। তবে ইভিএমের বিষয়টি আমরা চেষ্টা করে যাবো। ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ভোট দেয়া কষ্টকর। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সেটা যেন কমিয়ে আনতে পারি সে চেষ্টা করে যাবো। কেএম নূরুল হুদা বলেন, রংপুরে আমরা চেষ্টা করেছি। গাজীপুর ও খুলনায় আংশিক যতটা পারি সেখানেও আমরা মানুষের কাছে নিয়ে যাবো। সেটা যদি গ্রহণযোগ্য হয় তখন ধীরে ধীরে এটাকে সংস্কার করা হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তো হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি না থাকলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আংশিকভাবে ইভিএম ব্যবহার হতে পারে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, যদি মেশিনগুলো ভালোভাবে কাজ করে, যারা নির্বাচন করবেন তাদের যদি বিশ্বাস জন্মে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হবে, যারা ভোট দেবেন তারা শিখতে পারেন এবং যারা ভোটগ্রহণ করবেন তারা যদি প্রশিক্ষিত হন। এই সবগুলোর সমন্বয় হলে তারপর দেখা যাবে। স্টেকহোল্ডাররা অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলো যদি সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেন কেবলমাত্র তখনই ইভিএম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুয়াল হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের এ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী। নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসন, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনযন্ত্রের সঙ্গে সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব আছে। সঠিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সাংবাদিকরা সহযোগিতা করতে পারে। পিআইবি’র মহাপরিচালক শাহ আলমগীর সভাপ্রধানের বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করে। সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে গণমাধ্যমকেই সে ভূমিকা পালন করতে হয়। গণমাধ্যম, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রকে একসঙ্গেই চলতে হয়। তিন দিনব্যাপী ‘নির্বাচন বিষয়ক রিপোর্টিং’ প্রশিক্ষণের শেষ দিনে প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান ড. মো. শাহজাহান, ইসি’র সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী, যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আশীষ সৈকত প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আসছেন আজ

শুভেচ্ছা সফরে আজ বিকালে ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখালে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব গোখালের এটাই হবে প্রথম বাংলাদেশ সফর। সফরটি পরিচিতিমূলক হলেও তাতে দ্বিপক্ষীয়  স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। নির্বাচনী বছরে প্রতিবেশী দেশের জ্যেষ্ঠ ওই কূটনীতিকের সফরে বাংলাদেশের রাজনীতি ও জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে মোদি সরকারের মনোভাবের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে বলে ধারণা দেয়া হয়েছে। সফর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, আগামী ১৯-২০শে এপ্রিল লন্ডনে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সামিটের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকের কথাবার্তা চলছে। সেই বৈঠকের প্রেক্ষাপটেও পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখালের সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ। সফরকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে। মূলত বিদেশ সচিবের ঢাকার বৈঠক ও সাক্ষাৎ-আলোচনার মধ্য দিয়ে লন্ডনে প্রস্তাবিত হাসিনা-মোদি বৈঠকটি চূড়ান্ত হবে। কূটনীতিকরা বলছেন, বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির জন্য মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ। হাসিনা-মোদি সরকারের আমলেই চুক্তিটি সম্পাদনে দিল্লির দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে। যদিও এ নিয়ে এখনো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে রাজি করাতে পারেনি ভারতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিস্তা ইস্যুতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলেও ভারতীয় মিডিয়ার তরফে এরইমধ্যে খবর চাউর হয়েছে চলতি বছরের শেষার্ধে অর্থাৎ বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা সফর করবেন মোদি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ নিয়ে আগেভাগে কোনো মন্তব্য না করার নীতি নিয়েছেন। তারা সময় ও পরিস্থিতির ওপর পুরো বিষয়টি ঠেলে দিয়েছেন। ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্র সচিব গোখালে আগামীকাল ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা এবং আগামীর পথ চলা বিষয়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন। ওই অনুষ্ঠানে সচিব গোখালে ঢাকা-দিল্লির আগামীর সম্পর্ক বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন বলে আভাস মিলেছে। উল্লেখ্য, সচিবের সফরে গণমাধ্যম ও নাগরিক সেবা বিষয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী সবই জানেন: এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে কখন কে গুম হচ্ছে আর খুন হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া তা কেউ জানে না। তবে এ দেশের প্রধানমন্ত্রী সব জানেন। গতকাল বিকালে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সম্মিলিত জাতীয় জোট আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে আগে মহাসড়কের উন্নয়ন হতো। এখন উন্নয়নের মহাসড়ক দুর্নীতির মহাসড়কে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতির মহাসড়কে এখন শুধু খাল-বিল কেন? এই মহাসড়কে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। ঢাকা থেকে রংপুর যেতে এখন সময় লাগে ১৫ ঘণ্টা।
দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘আমরা একক সরকার চাই না। সব একজনের কথায় চলছে। দেশে কোনো নিরাপত্তা নেই। এখন তো নির্বাচন হয় না, সিল মারে। তাই নির্বাচন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করবে। 
এরশাদ বলেন, বাংলাদেশের মতো ব্যাংক ডাকাতি বিশ্বের আর কোথাও হয় নাই, কিছুদিন আগে বলা হতো ব্যাংকের টাকা নেয়ার কেউ নাই। এখন বলা হচ্ছে ব্যাংকে টাকা নাই। কোথায় গেল এই টাকা? ব্যাংকের টাকা দিতে না পারলে কৃষককে জেলে যেতে হতো। আর এদের যেতে হয় না কেন? প্যারাডাইস পেপারসে এদের নাম আসে। এদের তো বিচার হয় না। কৃষকের বিচার হয়।
সম্মিলিত জাতীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে সমাবেশে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি প্র্রমুখ জনসভায় বক্তব্য রাখেন।