Sunday, April 8, 2018
রথিশ হত্যা: সত্য ও কল্পনা by বিভুরঞ্জন সরকার
![]() |
| রথিশ চন্দ্র ভৌমিক ও তার স্ত্রী দীপা ভৌমিক |
৩০ মার্চ সকালে রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি– এই খবর জেনে বা শুনে প্রাথমিকভাবে সবারই ধারণা হয়েছিল, তিনি নিশ্চয়ই স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেননি। তাকে গুম বা অপহরণ করা হয়েছে। দেশে গুম-অপহরণের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। এ ধরনের ঘটনায় ‘ভিকটিম’ হয় কিছুদিন পর ফিরে আসেন এবং নিশ্চুপ হয়ে যান, ঘটনার কোনও ধরনের বিবরণ পাওয়া যায় না, আবার বিবরণ পেলেও তা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য হয় না। আবার কারও বা লাশ পাওয়া যায় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি কোথাও। কেউ কেউ আবার একেবারেই ফিরে আসেন না, তারা হয়ে যান স্থায়ী ‘নিখোঁজ’।
কেউ গুম, অপহরণ বা নিখোঁজ হলে তার সন্ধান দেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্র বা সরকারের। রাষ্ট্র বা সরকারের হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই কাজটি করে। কিন্তু আমাদের দেশে দুঃখজনকভাবে কেউ নিখোঁজ হলে বা কাউকে পাওয়া না গেলে সন্দেহের তীরটা প্রথম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকেই ছোটে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর থেকে এই সন্দেহ প্রবণতাটা বেড়েছে।
রথিশ ভৌমিক রংপুরের একজন মোটামুটি পরিচিত মানুষ। বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি। তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আইনজীবী হিসেবে সুনামের অধিকারী। তিনি সরকারি দল আওয়ামী লীগের রংপুর জেলা কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক। আইনজীবী সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন শীর্ষ নেতা। জাপানের নাগরিক ও মাজারের খাদেম হত্যা মামলায় তিনি সরকারি পিপি ছিলেন এবং একজন মানবতাবিরোধী অপরাদের বিচারের মামলায়ও তিনি ছিলেন সাক্ষী। এ রকম একজন মানুষের ‘নিখোঁজ’ হওয়াটা নিঃসন্দেহে কোনও ছোট ঘটনা ছিল না। তাই বাসা থেকে বের হয়ে ফিরে না আসায় প্রতিক্রিয়া হয় তীব্র। রংপুরে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি তাকে অবিলম্বে খুঁজে বের করার দাবি জানানো হয়। তিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন অন্যতম নেতা হওয়ায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে দেখা দেয় বাড়তি উদ্বেগ ও অস্থিরতা। সরকারের ওপর তৈরি হয় চাপ, কারণ তিনি সরকারি দলেরও একজন নেতা ছিলেন।
প্রথমে সবারই ধারণা হয়েছিল, রথিশ ভৌমিক হয়তো কোনও জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর রোষের শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একমুখী তদন্ত না করে নানাভাবে চেষ্টা চালাতে থাকে। জামায়াত-শিবিরের কয়েকজনকে আটকও করা হয়। তবে তার স্ত্রীর সহকর্মী স্কুলশিক্ষক কামরুল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর সম্ভবত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছে, তা পরিষ্কার হয়। রথিশ ভৌমিকের স্ত্রী দীপা ওরফে স্নিগ্ধাকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রথিশের লাশ উদ্ধার করা হয় কামরুলের ভাইয়ের নির্মাণাধীন একটি বাড়ির মাটি খুঁড়ে। জানা যায়, রথিশ নিখোঁজ হননি। আগের রাতে স্ত্রী ও কামরুল যৌথভাবেই হত্যা করেছিলেন তাকে। পরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দিয়ে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার গল্প প্রচার করা হয়।
রথিশের যে পরিচিতি, তাতে এই ঘটনার পেছনে জঙ্গি-জামায়াতকে জড়ালে সেটা বিশ্বাসযোগ্য হবে–এটা বুঝে কামরুলই সে ধরনের প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হলো না। দীপা-কামরুলের গোপন সম্পর্কের কথা আর গোপন থাকলো না। এ পর্যন্ত এই হলো কাহিনি। কিন্তু এটা আবার বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। কারণ এই তথ্যগুলো জানা গেছে র্যাব সূত্রে। তারা যে সঠিক তথ্য দিয়েছে, তার নিশ্চয়তা বা কী? পেছনের বিশেষ কোনও শক্তিকে আড়াল করার জন্য এই গল্প ফাঁদা হয়নি, তা কে বলতে পারে?
ব্যক্তিগতভাবে আমি বিষয়টিকে অবিশ্বাসযোগ্য মনে করছি না। মানুষের মনের খবর রাখা খুব সহজ কাজ নয়। রথিশ ভৌমিকের দাম্পত্যজীবন কেমন ছিল, আমি জানি না। তবে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় তারা সংসার করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া একপুত্র ও স্কুল পড়ুয়া এককন্যা সন্তান থাকার পরও প্রায় পরিণত বয়সে নতুন প্রেমে পড়া কারও কারও কাছে স্বাভাবিক মনে না হলেও বিষয়টি অসম্ভব নয়।
রথিশ ভৌমিক ঘরের চেয়ে বাইরের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন কি? নাকি ঘরের অশান্তি তাকে বাইরের নানা কাজে বেশি আকৃষ্ট করেছিল? এ সব প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। এরপরও স্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লাশ উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তিনি সব জানতেন।
প্রশ্ন উঠছে, স্ত্রী কারও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন কিনা? কামরুলের রাজনৈতিক পরিচয়ই বা কী? কামরুল কি রথিশকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই স্নিগ্ধা বা দীপার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন? আমার কাছে এসব প্রশ্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। এটা নিয়ে বড় রহস্য গল্প বা উপন্যাস লেখা যেতে পারে, কিন্তু রথিশকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
কোনও ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা যতটা কৌতূহলী বা অনুসন্ধানী হয়ে উঠি, স্বাভাবিক অবস্থায় তা হই না। আমার ছেলে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে কিনা, আমি জানি না। আমার ছেলেমেয়ে কার সঙ্গে মিশছে, তার খবর রাখার প্রয়োজন বোধ করি না। আমি কোথায় যাই, কাদের সঙ্গে মিশি, তা আমার স্ত্রীকে বলি না। আমার স্ত্রীও আমাকে বলে না। আমাদের এই পারস্পরিক স্বাধীনতা ভেতরে ভেতরে একরকম সুড়ঙ্গ তৈরি করছে। আর সেই সুড়ঙ্গ পথে দীপা-কামরুলের অবাধ যাতায়াত শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে রথিশের জীবন।
রথিশ হত্যার সব দায় আমি কেবল স্ত্রীর ওপর যেমন চাপাতে চাই না, তেমনি তাকে একজন মানুষ মনে করি বলেই তার কৃত অপরাধকেও ছোট করে দেখতে চাই না। জামায়াত-শিবির পরিকল্পনা করে কামরুলকে দিয়ে দীপার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তারপর রথিশকে হত্যা করে বদলা নিলো বলে এক ধরনের কষ্টকল্পনা কাউকে কাউকে করতে দেখা যাচ্ছে। যারা এ সব কল্পগল্পে মজছেন, তারা একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন, দীপার সঙ্গে কামরুলের সম্পর্ক আগে হয়েছে, নাকি রথিশ ভৌমিক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মামলা আগে লড়েছেন? আমরা অজ্ঞাতসারে আততায়ী বা ঘাতককে ঘরে স্বাগত জানাচ্ছি, তারপর অঘটন ঘটলে এলোপাতাড়ি একে ওকে দোষ দিচ্ছি।
![]() |
| বিভুরঞ্জন সরকার |
লেখক: কলামিস্ট
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরবে ভারত

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস তৎপরতা নেই পাউবোর

তাই চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে শিগগিরই বেড়িবাঁধ সংস্কার ও পুন:নির্মাণের দাবি তাদের। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ফরিদ উদ্দিন জানান, চলতি মাসে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এবং ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামসহ পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে উপকূলবাসী। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসে মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়বে চট্টগ্রাম বন্দর ও বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিভিন্ন বেসরকারি আইসিডি, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোমপানির ডিপো, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্থাপনা, সাইলো জেটি, খাদ্য গুদাম, ইস্টার্ন ক্যাবলস এর কারখানার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নগরীতে উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী, ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা, ৩৭ নম্বর উত্তর-মধ্যম হালিশহর, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর, ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা (একাংশ) এবং ৪১ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা (বাকি অংশ)। পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত মোট ২৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২২ কিলোমিটারই বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়া এবং কিছু অংশ একেবারে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে বড় ধরনের ঝড়-জলোচ্ছ্বাস হলে নগরীর অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত-নেপাল সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই চাবিকাঠি by সি. রাজা মোহন

এটি নিশ্চিতভাবেই নজিরবিহীন কিছু নয়। কিছুকাল আগ পর্যন্তও, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি সরকারি বৈঠককে ‘ওয়াশিংটনের চাপের মুখে দিল্লির স্বার্বভৌমত্ব বিলিয়ে দেয়া’ হিসেবেই তুলে ধরতো ভারতের পর্যবেক্ষক মহল। এমনকি স্পষ্টত ভারতের স্বার্থের পক্ষে হলেও, দিল্লির রাজনৈতিক ও আমলা শ্রেণী ‘আমেরিকাপন্থি’ হিসেবে পরিগণিত হওয়ার ভয়ে সামনে এগোতে চাইতো না। দিল্লি বাহ্যিকভাবে ওয়াশিংটনের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ প্রদর্শনের নীতি বেছে নেয়ায়, আমেরিকার সঙ্গে তখন লেনদেনের সুযোগ কমই ছিল।
বৃহত্তর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বোঝাপোড়া ও আস্থা তৈরির সচেতন প্রচেষ্টার ফলে গত কয়েক বছরে এই ধরনের প্রবণতা নিশ্চিতভাবেই হ্রাস পেয়েছে। কাঠমান্ডু ও দিল্লির মধ্যে ঠিক এটিই দরকার। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে যেমনটা হয়েছে, ঠিক তেমনভাবে সন্দেহ দূরীকরণ ও রাজনৈতিক স্বস্তির জায়গা তৈরি হওয়ার উদ্যোগ আসা প্রয়োজন বড় দেশটির কাছ থেকে। ক্ষমতার অসামঞ্জস্যতার কারণে দুর্বল পক্ষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই রক্ষণাত্মক মানসিকতা তৈরি হয়। যদি ভারতের মতো বড় দেশ এত দিন ধরে যদি ‘স্মল কান্ট্রি সিনড্রমে’ আক্রান্ত থাকতে পারে, তাহলে এ নিয়েও আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কিছু নেই যে, নেপালের অভিজাতরা এই রোগের আরও তীব্র সংস্করণের দ্বারা আক্রান্ত।
অবশ্য ভারত-নেপাল সম্পর্কে ক্ষমতার অসামঞ্জস্যতা একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলেও, এ থেকেই দুই দেশের সমস্যা পুরোপুরি বোধগম্য হয় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নেপালের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে কিন্তু ক্ষমতার সামঞ্জস্যহীনতা আরও অনেক বেশি। অথচ, দিল্লি সফর শেষে ওলি যখন বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন, তখন কাঠমান্ডুর খুব অল্পসংখ্যক মানুষই নেপালের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবেন। বরং, ওই সফরের প্রাক্কালে অনেকের প্রত্যাশা থাকবে যে, বেইজিং নেপালকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘রুখে দাঁড়াতে’ সহায়তা করবে। আমরা এটি পছন্দ করি আর না করি, ভারতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্ভাগ্যবশত নেপালের স্বার্বভৌমত্বের সংজ্ঞার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। দিল্লির বেশিরভাগ প্রতিবেশীর ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ভারতের সঙ্গে তাদের গভীর ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা একই সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ও ব্যাপক অসন্তোষের উৎস।
প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজাত শ্রেণির মধ্যে ‘ভারত-বিরোধী’ মনোভাবের নিন্দা জানানো বা এই প্রবণতার সমালোচনা করা খুব সহজ। এই প্রবণতা যৌক্তিক কি না, তা বিচার করার ভার দিল্লির নয়। বরং, দিল্লিকে অবশ্যই এই নেতিবাচকতার উৎস কী, তা বুঝতে হবে এবং এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। ইতিহাস হতে পারে এই প্রচেষ্টা শুরুর একটি ভিত্তি।
উপমহাদেশের হর্তাকর্তা হওয়ার মনোভাব দিল্লি পেয়েছে বৃটিশ রাজ থেকে। আশ্রিত রাজ্যের ধারণা বৃটিশ রাজ এবং উপমহাদেশের সামন্ততান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠী ও উপজাতি ফেডারেশনের ক্ষেত্রে ভালোই কাজ করেছে। বৃটিশরা এই সামন্ততান্ত্রিক ও উপজাতি শাসকগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক ভর্তুকি ও অভ্যন্তরীণ বিষয়াদিতে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিনিময়ে, উপমহাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর আক্রমণ প্রতিরোধে বৃটিশ রাজকে সহায়তা দিতে সম্মত হয় সামন্ততান্ত্রিক ও উপজাতি সরদাররা। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে স্বাধীন ভারতের জন্য এই পারস্পরিক লাভজনক ব্যবস্থা টেকসই ছিল না। এর একটি কারণ ছিল এই অঞ্চলে ক্ষমতার পরিবর্তন, যার শিকার হয় উপমহাদেশের ওপর ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব বলয়।
উপমহাদেশে বৃটিশ রাজের আধিপত্য ছিল ব্যাপক। প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে ভারত দখল করা থেকে বিরত রাখার শক্তিও তাদের ছিল। উপমহাদেশের বিভাজন, মার্কিন-সোভিয়েত শীতল যুদ্ধ এবং কম্যুনিস্টদের অধীনে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ চীনের আবির্ভাব ভারতীয় নীতির জন্য ব্যাপক বাধা-বিপত্তি তৈরি করে। কিন্তু এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে রাজি ছিল না দিল্লি।
বৃটিশ রাজের কর্তৃত্বের ভিত্তি ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ সামন্ততান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারি। কিন্তু স্বাধীনতার পর বিভিন্ন রাজতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য ও সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ভারতকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ফেলে দেয়। এভাবে নানা কারণে, ভারত অনিবার্যভাবেই নেপালসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়াদিতে ঢুকে পড়ে। এর সর্বশেষ নজির ছিল নেপালের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারতের সংশ্লিষ্টতা।
ওলি হয়তো তীব্র জাতীয়তাবাদী স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দিল্লির জন্য, তার আসন্ন ভারত সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঠিক পথে ফিরিয়ে আনার বড় সুযোগ। মোট তিনটি কর্তব্য রয়েছে দিল্লির। প্রথমটি হলো নেপালের স্বার্বভৌমত্বকে স্বীকার করা এবং তার ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেয়া। ‘বিশেষ সম্পর্কের পরিবর্তে ‘স্বার্বভৌম সমতা’র ভিত্তিতে নেপাল-ভারত সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলতে হবে। অবশ্যই এর মানে দাঁড়াবে এই যে, ভারতের উচিদ নেপালের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বন্ধ করা এবং দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দেয়া। এটি নেপালের জন্য দিল্লির পক্ষ থেকে কোনো আনুকূল্য নয়। বরং, শক্তিশালী ও স্বার্বভৌম নেপাল থাকাটা ভারতের স্বার্থেরই পক্ষে।
দ্বিতীয়ত, ওলির কাছ থেকে ‘প্রথমে ভারত’ (ইন্ডিয়া ফার্স্ট) নীতি দাবি করার পরিবর্তে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবশ্যই ‘প্রথমে নেপাল’ নীতির পক্ষে ভারতের শক্ত সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। বিশ্বের দুই দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মাঝখানে অবস্থিত নেপাল নিজের অবস্থানের কারণে লাভ ঘরে তুলবে- এটাই স্বাভাবিক।
উন্মুক্ত সীমান্ত ও সাগরপথে সহজতম প্রবেশাধিকারের বিষয়গুলো ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্কের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই আলাদা বৈশিষ্ট্যকে স্বীকৃতি দিতে ওলির সমস্যা থাকা উচিত নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যপক ম্যান্ডেট সহকারে নির্বাচিত ওলি নেপালকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আত্মবিশ্বাসী নেপালই পারে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে রাজনীতিমুক্ত করতে।
তৃতীয়ত, ভারতের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময়ই নেপালের সঙ্গে বিশেষ রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকার দাবি করলেও, দিল্লির অর্থনৈতিক নীতির কারণে দুই দেশের মধ্যে সহজাত পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হয়নি। দুই দেশের দীর্ঘ ও উন্মুক্ত সীমান্তে ভঙ্গুর বাণিজ্য অবকাঠামো, অর্থনৈতিক সহায়তা পরিচালনার ক্ষেত্রে দিল্লির অসুবিধাজনক কার্যপ্রণালী এবং যৌক্তিক সময়সীমার মধ্যে অবকাঠামো প্রকল্প সম্পন্ন করার সামর্থ্যহীনতাই নেপালে ভারতের দুর্দশা বাড়িয়েছে।
ইতিমধ্যেই যেসব প্রকল্প নিয়ে কথাবার্তা ঠিক করা আছে এবং যেগুলোর ফল দুই দেশের মানুষ আগেভাগে পাবে, সেসবের ওপরই দুপক্ষের মনোযোগ দেয়া উচিৎ। আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য, পরিবহন ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে জোর দেয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠতে পারে স্বার্বভৌম নেপালের সঙ্গে ভারতের টেকসই রাজনৈতিক অংশীদারির দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি।
(সি. রাজা মোহন দিল্লি-ভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি ইন্ডিয়ার পরিচালক ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কন্ট্রিবিউটিং এডিটর।)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৪ দিনের মধ্যে ২০ মাত্রার সমৃদ্ধকরণ শুরু করা যাবে: ইরান

তিনি আরও বলেন, আমেরিকাকে যে বিশ্বাস করা যায় না, তার প্রমাণ হলো পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে দেশটির অবস্থান। আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সব ধরণের সহযোগিতার বিষয়ে বিভিন্ন দেশকে ভয় দেখাচ্ছে।
ইরানের আনবিক শক্তি সংস্থার প্রধান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে যাই ঘটুক সে জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১২ মে'র মধ্যে ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সমঝোতায় পরিবর্তন আনা না হলে তিনি তা থেকে বেরিয়ে যাবেন।
২০১৫ সালের জুলাই মাসে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া মিলে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা সই করে। ওই মাসেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ সমঝোতা অনুমোদন করে এটিকে আন্তর্জাতিক দলিলের মর্যাদা দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ সমঝোতা বাতিল বা এতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উদীয়মান তরুণ নেতাদের তালিকায় বাংলাদেশের তানজিল

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক ব্যুরো তানজিল ফেরদৌসের বিষয়ে বলেছে, তিনি কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ক্ষমতায়নের মিশনে কাজ করেন। মানোন্নয়নের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা ও তাদের মধ্য থেকে আগামীর নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালান। টেকসই সম্প্রীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে পুরস্কৃত করবে।
তানজিল হোসেনসহ সম্মাননাপ্রাপ্ত দশ তরুণকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানানো হবে। ২৯শে এপ্রিল থেকে ১২ই মে পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে তারা উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন ও বিশ্বব্যাপী টেকসই সম্প্রীতি বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিলেটে অন্তরালে সেই রমণীরা by ওয়েছ খছরু

তান্নির রহস্যময় চলাফেরা: সিলেটে মা ও ছেলে খুনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তান্নির চলাফেরা ছিল রহস্যময়। তান্নি কখনো কাউকে সঙ্গে নিয়ে চলতো না। একা একা পথচলা সে পছন্দ করতো। নিহত রোকেয়ার বাসায় তান্নি একা যেতো। আর বের হতোও একা। তবে বোরকা দিয়ে তার মুখ থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখতো। এ কারণে স্থানীয় এলাকাবাসী কিংবা দোকানি কখনোই তান্নির মুখ দেখেননি। তান্নির মুখ কেবল দেখেছেন কাঞ্চা সুমন ও তার সহযোগীরা। যখন তান্নি তার অপরাধ নেটওয়ার্কের পার্টনার রোকেয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তখন সে নিজ থেকে ঢেকে আনেন সুমনসহ কয়েকজন যুবককে। তারাও নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তান্নি নির্ধারিত সিএনজি অটোরিকশা কিংবা কার মাইক্রোবাস নিয়ে চলাফেরা করতো। এয়ারপোর্ট এলাকায় তার এক পরিচিত সিএনজি চালক রয়েছে। তাকে নিয়ে সব সময় ঘোরাফেরা করতো তান্নি। ওই সিএনজি চালকের সন্ধানও ইতিমধ্যে পেয়েছে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব জানিয়েছেন- মিরাবাজারের ও মেয়ে খুনের ঘটনায় পুলিশি রিমান্ডে থাকা নাজমুলকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর বাইরে পুলিশ তানিয়া ওরফে তান্নিকেও খুঁজছে বলে জানান তিনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৃটিশ কারি শিল্প নিয়ে সংশয়

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লিভার চিকিৎসায় বাংলাদেশী চিকিৎসকদের উদ্ভাবন

তারা বলছেন, তাদের এ পদ্ধতির কথা ইতিমধ্যেই তারা কয়েকটি আন্তর্জাতিক চিকিৎসক সম্মেলনে তুলে ধরেছেন। এই গবেষণা দলের একজন বিএসএমএমইউর লিভার বিভাগের অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব বিবিসি বাংলাকে বলছেন, লিভার সিরোসিস কিম্বা অন্য কোন কারণে যখন কারো লিভার অকার্যকর হয়ে যায় তখন এই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
"এরকম হলে একমাত্র চিকিৎসা হলো লিভার প্রতিস্থাপন। কিন্তু বাংলাদেশে দুর্ভাগ্যজনক হলেও এখনও পর্যন্ত লিভার প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে না। প্রতিবেশী ভারতে এই চিকিৎসায় খরচ হয় বাংলাদেশী টাকায় ৪০ লাখেরও বেশি। এজন্যে আমরা নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি।"
এজন্যে দুটো পদ্ধতি। একটা হলো স্টেম সেল চিকিৎসা আর অন্যটি ডায়ালাইসিস। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে লিভারকে একদম সুস্থ করতে না পারলেও এর অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব।যে যন্ত্রের সাহায্যে রক্ত থেকে প্লেটিলেট আলাদা করা হয়, এই একই যন্ত্রটিকে আমরা নতুন কাজে ব্যবহার করেছি। এই মেশিনের নির্মাতার সাথেও আমরা কথা বলেছি। এই যন্ত্রটি দিয়ে আমরা যখন প্রথম স্টেম সেল সংগ্রহ করি তখন তারা অবাক হয়েছিলো।"
এই স্টেম সেলকে বলা হয় শরীরের রাজমিস্ত্রি। যখনই কোন অর্গানে সমস্যা হয় তখন এই স্টেম সেলের কাজ হচ্ছে সেটি মেরামত করা।
"আমরা একটি ইনজেকশন দেই। যখন রোগীর স্টেম সেলের সংখ্যা বেড়ে যায় তখন ওই যন্ত্রের সাহায্যে প্লেটিলেটকে আলাদা না করে স্টেম সেলকে আলাদা করেছি। তারপর স্টেম সেলগুলোকে লিভারের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
তিনি বলছেন, যেসব রোগীর উপর তারা এই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তাদের বেশিরভাগেরই লিভারের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
অধ্যাপক আল-মাহতাব জানান, তাদের এই উদ্ভাবন গত মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় সম্মেলনে তুলে ধরেছেন। আরো দুটো আন্তর্জাতিক জার্নালেও এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক কোন গবেষকই তাদের এই উদ্ভাবনকে চ্যালেঞ্জ করেন নি।
তিনি জানান, এই স্টেম সেল চিকিৎসার পেছনে খরচ পড়বে এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকার মতো। এটা তারা এখন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে এই চিকিৎসা করতে তাদের খরচ হয় ১৬ থেকে ১৭ লক্ষ টাকার মতো।
তিনি জানান, ডায়ালাইসিস পদ্ধতিতে খরচ পড়বে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা যেটা করতে সাধারণত খরচ হয় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা।
সূত্রঃ বিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হামাসের ওপর হামলার হুমকি দিল ইসরাইল
![]() |
| ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে ইসরাইলের হামলা |
ইসরাইলের সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক হারেৎজ পত্রিকা জানিয়েছে, গাজার বিক্ষোভকারীরা যদি সীমান্তের দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করে তাহলে ইহুদিবাদী সেনারা শক্তি প্রয়োগ করবে। হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, সীমান্ত দেয়ালের দিকে শোভাযাত্রা করা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি স্নাইপারদেরকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভূমি দিবস উপলক্ষে ছয় সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনিরা গাজা সীমান্তে ইসরাইলের তৈরি করা দেয়ালের দিকে শোভাযাত্রার কর্মসূচি পালন করছেন। ইসরাইল সৃষ্টির পর যেসমস্ত মানুষকে নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদেরকে সেখানে ফেরার অধিকার দেয়ার জন্য এ বিক্ষোভ-কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
![]() |
| ইসরাইলের গুলি থেকে বাঁচতে পারছেন না সাংবাদিকরাও |
এদিকে, জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভ-কর্মসূচির অবসান ঘটানোর জন্য হামাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মিশর ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারা। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, গাজায় বিক্ষোভ কর্মসূচি অবসানের বিনিময়ে রাফাহ ক্রসিং পয়েন্ট নিয়মিত খোলা রাখার জন্য কায়রো প্রস্তুত রয়েছে।
![]() |
| ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বামীকে শিক্ষা দিতেই স্ত্রীকে গণধর্ষণ

জানা যায়, স্বামীকে উচিত শিক্ষা দিতে গিয়েই স্ত্রীকে (২২) পৈশাচিকভাবে নির্যাতন করে স্বামীর সাবেক বন্ধুরা। অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে ৭ পিশাচ রাতভর ব্র?হ্মপুত্রের চরে ধর্ষণ করে তাকে। এমন নির্মমতা আর বর্বরতা সইতে না পেরে একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ। ভোরে বাড়ির পাশের খোলা মাঠ থেকে ওই অবস্থাতেই তাকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা। বর্তমানে ওই নির্যাতিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নির্যাতিতার স্বামী রতন জানান, গত চারদিন ধরে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বেড়ানোর পর শুক্রবার বিকেলে তিনি নিজ বাড়িতে আসেন। তিনি একসময় এলাকার একটি অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু দুই বছর ধরে তিনি অপরাধ জগৎ থেকে বেরিয়ে আসেন। এ কারণে দলের অন্য সদস্যরা তার প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিল। তাই তিনি ভয়ে এলাকায় কম আসতেন। একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরি করেন তিনি। শুক্রবার গভীর রাতে দরজার কড়া নাড়ার শব্দ শুনে তিনি দরজা খুলে দেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক তাঁর ঘরে ঢুকে পড়ে। তাঁর হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে স্ত্রীকে মুখে ও হাতে বেঁধে কোলে করে নিয়ে চলে যায়। পরে তিনি নিজের হাত-পায়ের বাঁধন অনেক কষ্টে খুলে এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে খুঁজতে বের হন। এক সময় নির্জন একটি চরে স্ত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে স্ত্রীকে তুলে এনে সোজা থানায় চলে আসেন।
নির্যাতিতা নববধূ জানিয়েছেন, তার মুখ বেঁধে বেশ কয়েকজন বাড়ি থেকে পাশের ব্রহ্মপুত্র নদের বালু চরে নিয়ে যায়। সেখানেই তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গোলাম মাওলা জানান, দুর্বৃত্তরা মেয়েটিকে রাতভর ধর্ষণ করেছে। শনিবার সকালে থানায় এসে গৃহবধূ বাদী হয়ে এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে সাংবাদিকসহ ৯ ফিলিস্তিনী নিহত

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিতার পরিকল্পনায় বিউটি খুন: ধর্ষণে জড়িত থাকলেও হত্যায় যোগ নেই বাবুলের

সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার জানান, ১৬ই মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় লাখাই উপজেলার গনীপুরে নানার বাড়িতে থাকা বিউটিকে নিয়ে আসে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত মহিলা মেম্বার প্রার্থী আছমা আক্তারের স্বামী ময়না, বিউটির পিতা ছায়েদ আলী এবং অপর এক ভাড়াটিয়া খুনি। পরে রাত ১২টায় বটতলা নামক স্থানে বিউটিকে ধরে রাখে ভাড়াটিয়া খুনি আর ছোরা দিয়ে ৫টি আঘাত করে ময়না মিয়া। এ সময় প্রায় ২০ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিউটির পিতা ছায়েদ আলী।
গত দুই দিনে ময়না মিয়া আর বিউটির বাবা ছায়েদ আলী ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানান এসপি বিধান ত্রিপুরা। অপর হত্যাকারী ভাড়াটিয়া খুনিকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তার নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি বাবুল মিয়া এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলেও জানিয়েছেন এসপি। তিনি বলেন, বাবুল ১৭ দিন বিউটিকে একটি ভাড়া বাড়িতে রেখে ধর্ষণ করে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
১৪৪ ধারার জবানবন্দিতে বিউটির বাবা ছায়েদ আর ময়না আরো স্বীকার করেন, মামলার প্রধান আসামি বাবুলের মা কলমচান এবং ময়নার স্ত্রী আছমা আক্তার বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মহিলা মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ময়নার স্ত্রী পরাজিত হন। সেই প্রতিশোধ হিসেবে বাবুল ও তার মাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বিউটির পাষণ্ড পিতা ছায়েদ আলী, আর পরাজিত মহিলা মেম্বার প্রার্থীর স্বামী ময়না মিয়া।
১৭ই মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের পুরাইকলা বাজার সংলগ্ন হাওর থেকে স্কুলছাত্রী বিউটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ওইদিনই বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কারে আমি বাবা বলি, কে আমার প্রিয়তমা by কাজল ঘোষ

খুব কাছাকাছি সময়ে দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা খবর আমাদের ব্যাথিত করে। চিন্তিত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সবখানে ঝড় তোলে। বিশেষ করে সবুজ জমিনে লাল রক্তাক্ত জামায় বিউটির ছবিটি মার্চের দিনগুলোতে নতুন করে ভাবায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিউটি ধর্ষণ ও খুনের বিচার চেয়ে সকল মহল উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে। আর রংপুরে পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের নিখোঁজ হওয়া যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের খাঁচার ভেতর আতঙ্কের নিশানা উড়িয়ে দেয়। চরপাশ থেকে নানান উদ্বেগজনক খবর রটতে থাকে। এর সঙ্গে কারা যুক্ত থাকতে পারে এ নিয়ে চলছিল চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ। কিন্তু আমরা কি দেখলাম! শত্রুতো ঘরেই। ঘাতক সহধর্মীনি নিজেই। আমাদের সকল ব্যাখ্যাকে ভুল প্রমাণ করে যা প্রকাশিত হলো তা বিশ্বাস করার যায় না। রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে দীপ্ত ভৌমিক যখন লিখেন, বাবা তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। তোমার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। অপরাধী কখনো আমার মা হতে পারে না। অপরাধী অপরাধী। সেই যেই হোক না কেন আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। চোখ জলে ভরে যায়। সন্তান হয়ে ঘাতক মায়ের বিচার চাইতে হচ্ছে। এ কোন দুনিয়া আমরা দেখছি। পরকীয়া পৃথিবীতে চলছে মানব জন্মের শুরু থেকেই। কিন্তু তাই বলে রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের মতো মানুষকে পরকীয়ার প্রতিহিংসার আগুনে এতটা নির্মমভাবে জীবন দিতে হবে তা মানা যায় না।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের বিউটির কি ছিল অপরাধ? ধর্ষক তার কুকর্ম স্বীকার করেছে পুলিশের কাছে। কিন্তু মেয়েকে জীবন দিতে হলো পাষন্ড, নরপশু, বর্বর পিতার হাতেই। প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে নিজের মেয়েকে খুন! কতটা বর্বর হতে পাাে ছায়েদ আলী। এই ছায়েদ আলীরা আমাদের সমাজের মূল্যবোধগুলোকে ভেঙে খানখান করে দিচ্ছে। ছায়েদ আলীর মতো পিশাচকে মনুষ্য বিবেচনা করতেও ঘৃণা হচ্ছে। সমাজের সকল বন্ধন, স্নেহ-মমতাকে সে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বলা হয়ে থাকে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। না হলে আমরা হয়তো এই সত্য জানতে পারতাম না। যত নির্মমই হোক এই ঘটনা দুটির প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। অপরাধী গ্রেপ্তার দ্রুত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র্যাব-পুলিশ তাদের সক্ষমতা ফের প্রমাণ করলো। বড় ধন্যবাদ এই দুটি সংস্থাকে। এখন প্রয়োজন দুটি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে তত দ্রুত স্বস্থি আসবে মানুষের মধ্যে। অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক আর বিউটির অতৃপ্ত আত্মা শান্তি পাবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারি কাজে জি-মেইল ইয়াহু, আউটলুক ব্যবহার বন্ধ: মন্ত্রিসভায় কাল উঠছে ই-মেইল নীতিমালা by দীন ইসলাম

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইজিপি কমপ্লেইন সেল by ১০০৭ অভিযোগ by আল-আমিন

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, অবৈধভাবে টাকা আদায়, মিথ্যা মাদক মামলায় আসামি করা, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, ফুটপাথে চাঁদাবাজি, জমি দখল, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে মামলায় আসামি করা, প্রতারণা ইত্যাদি। এসব বিষয়ে তদন্ত করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি তদন্তকারী কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি মাঠ পর্যায়ে এসব বিষয়ে তদন্ত করছে। তদন্তকারী দল প্রত্যেকটি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছে। ভিকটিম ও যে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের উভয়ের বক্তব্য শুনছেন। ‘আইজিপি কমপ্লেইন’ নামে এই সেলটিতে মোবাইল ফোন, ই-মেইলে বা কুরিয়ার সার্ভিস ও ডাকযোগে অভিযোগ পাঠানো যাবে। আবার যদি কোন ভুক্তভোগী সরাসরি দরখাস্ত করে অভিযোগ দিতে চান তাহলে তিনি তার দরখাস্ত নিয়ে ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় পুলিশের সদর দপ্তরে অফিস চলাকালে গিয়ে জমা দিতে পারবেন। ভুক্তভোগীর আবেদন গ্রহণ করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে ২ নম্বর ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষ খোলা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ভিকটিম যদি ইচ্ছা করেন তাহলে তিনি তার নাম গোপন রাখতে পারবেন। সেলটির তত্ত্বাবধান করছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিসিপ্লিইন অ্যান্ড প্রফেশনালর্স স্টান্ডার্ড (ডিঅ্যান্ডপিএস) শাখা। একজন এডিশনাল ডিআইজি সেলের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৭ সালের ১৪ই নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের এক অনুষ্ঠানে পুলিশের তৎকালীন আইজি একেএম শহীদুল হক সেলটি উদ্বোধন করেন। এই সেলটিতে শুধু পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণের জন্য খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে সেলটির প্রধান সমন্বয়কারী পুলিশ সদর দপ্তরের এডিশনাল ডিআইজি ডিঅ্যান্ডপিএস মো. রেজাউল হক বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের সব কাজের স্বচ্ছতা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আরও বেশি কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সেলটি খোলা হয়েছে। এতে পুলিশের পেশাদারি বাড়বে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই সেলটি ছিল আগে সিকিউরিটি সেল। বিষয়টি সাধারণ মানুষ তেমন বুঝত না। মাসে বা বছরে অভিযোগও আসতো কম। সেলটি জনমুখী করার জন্য একে ‘আইজিপি কমপ্লেইন’ সেল বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সরাসরি, কুরিয়ার বা ডাকযোগে আইজিপি কমপ্লেইন সেলের পুলিশ সদর দপ্তরের ঠিকানা চিঠি পাঠাতে পারেন। অথবা যে কেউ সরাসরি এই ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৫ ও ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৬ নম্বরে ফোন করতে পারেন। আবার পড়সঢ়ষধরহ@ঢ়ড়ষরপব.মড়া.নফ ঠিকানায় ই-মেইল করতে পারেন। আবার কোন ভুক্তভোগী যদি সরাসরি দরখাস্ত করতে চান তাহলে ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপি কমপ্লেইন সেলে দরখাস্ত জমা দিতে পারবেন। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নির্মোহভাবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আবেদনকারীর পরিচয় গোপন রাখবে। সূত্রে জানা গেছে, সেলটি চালু হওয়ার পর গত চার মাস ১৭ দিনে ১০০৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তারমধ্যে ই-মেইলে ৪৭৮টি, মোবাইল ফোনে ১৩৯টি ও চিঠিতে ৩৯০টি অভিযোগ করা হয়েছে। যে ৩৯০ জন সরাসরি চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন তার মধ্যে ১৬২ জন হচ্ছেন নারী। সেলের অভিযোগের তদন্তের জন্য একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল মাঠে কাজ করছে। পরে পুলিশ তার নিজস্ব সোর্স দিয়ে বিষয়গুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে। তবে কেউ যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হন এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে খেলায় রাখা হচ্ছে। সেলে দায়িত্ব পালনকারী এসআই মিনহাজুল ইসলাম জানান, এই সেলে অনেক ভিকটিম নির্বিঘ্নে অভিযোগ করছেন। অনেকেই ফোন দিয়ে বিষয়টি খোলাসাভাবে জানতে চান। আমরা ভিকটিমকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। সূত্র জানায়, গত বছরের ১০ই ডিসেম্বর দারুস সালামে মাজার রোডের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তি পুলিশ সদর দপ্তরে একটি দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। সেই দরখাস্তে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, স্থানীয় কিছু বখাটে যুবককে দিয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা মাজার রোড এলাকায় মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এতে সেখানে ভাসমান লোকের আনাগোনা বাড়ছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটছে। দারুস সালাম থানার পুলিশের যে সদস্যরা এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করেন। চলতি বছরের ২০শে জানুয়ারি ভাষানটেক থানার বাসিন্দা সোহরাব আলী নামে এক ব্যবসায়ী ওই সেলে একটি অভিযোগ করেছেন। চিঠি দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ভাষানটেকের ডি-ব্লকে তিনি একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন। থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা তার কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের আইজির প্রতি আহ্বান জানান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অসুস্থতার ছাপ মৃদু হাসি: জোর করে হাসপাতালে আনার অভিযোগ বিএনপির

ওদিকে কেবিন ব্লকের সিঁড়ির গোড়ায় আগে থেকে রাখা হয়েছিল একটি হুইল চেয়ার। এক মিনিট পর গাড়িটি ঘুরিয়ে একেবারে সিঁড়ির গোড়ায় নিয়ে দাঁড় করানো হয়। তারপর কেটে যায় আরো দুই মিনিট। কারারক্ষী, পুলিশ, ডিবি পুলিশের সদস্যরা কয়েক স্তরের ব্যারিকেডের মাধ্যমে ঘিরে রাখে সে গাড়ি। সাদা পোশাকধারী একজন কারা কর্মকর্তা গাড়ির দরোজায় গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। তারপর চশমা চোখে, কালো ফুল তোলা হালকা ঘিয়ে রঙের শাড়ি পরিহিত খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। গাড়ি থেকে নেমেই সাংবাদিকদের ডাকে কয়েক সেকেন্ডের মতো তিনি ক্যামেরার দিকে তাকান। এ সময় তার চেহারায় অসুস্থতার ছাপ থাকলেও চাহনীতে ছিল অটুট মনোবলের প্রকাশ। গাড়ি থেকে নামার পরক্ষণেই মহিলা পুলিশ ও কয়েকজন মহিলা কারারক্ষী তার চারপাশে ঘিরে দাঁড়ায়।
এ সময় তাকে জানানো হয়, তার জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া জানান, তিনি হেঁটেই যেতে পারবেন, হুইল চেয়ার ব্যবহার করবেন না। এরপর খালেদা জিয়া কেবিন ব্লকের সিঁড়ির দিকে হাঁটা শুরু করেন। সিঁড়িতে উঠতে উঠতে তিনি উপস্থিত লোকজনের শুভেচ্ছার জবাব দেন হাসিমুখে হাত নাড়িয়ে। মহিলা কারারক্ষীরা হাত ধরে তাকে সিঁড়ি পার করার পর তিনি ১৯ নম্বর লিফট পর্যন্ত হেঁটে যান। খালেদা জিয়াকে লিফটে তোলার পর সেখানে ব্যারিকেড দিয়ে সাংবাদিকসহ লোকজনের যাতায়াত বন্ধ করে দেয় পুলিশ। একই সময়ে তিনতলার সিঁড়িতেও লক করে দেয়া হয়। ১১টা ৩৮ মিনিটে তাকে পঞ্চম তলার ৫১২ নম্বর কেবিনে নেয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে সেখানে অবস্থান করেন বেশ কয়েকজন পুলিশ ও কারা কর্মকর্তা। প্রায় একঘণ্টা পর কেবিন ব্লক থেকে খালেদা জিয়াকে বের করে আনেন পুলিশ ও কারা কর্মকর্তারা। কারারক্ষী, র্যাব, পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সশস্ত্র পাহারার মধ্যদিয়ে ১২টা ৩৬ মিনিটে তাকে নেয়া হয় উল্টোপাশের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে। কেবিন ব্লক থেকে হেঁটেই সেখানে যান খালেদা জিয়া। এক্স-রে শেষে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে তাকে রেডিওলজি বিভাগের কাউন্টার গেটে আনা হয়। সেখানে তার সঙ্গে কয়েক মিনিট কুশল বিনিময়ের সুযোগ পান ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথি ও নাতনি। ঠিক ১টা ৩৩ মিনিটে রেডিওলজি বিভাগের উত্তরপাশের গেট দিয়ে বের করে তাকে তোলা হয় সেই কালো কাচঘেরা গাড়িতে।
এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। পুলিশি বাধার মুখে তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে না পারলেও কাচ ধরে তাকে সালাম দেন। গাড়ি কারাগারের উদ্দেশে ফিরে যাওয়ার সময়ও গাড়িতে বসে হাসিমুখে হাত নাড়িয়ে উপস্থিত লোকজনের শুভেচ্ছার জবাব দেন খালেদা জিয়া। এর আগে হাসপাতালের কেবিন ব্লকে একঘণ্টা অপেক্ষার পর রেডিওলজি বিভাগে তিনটি এক্স-রে করার পর ফিরিয়ে নেয়া হয় কারাগারে। পৌনে দু’টায় ফের চার দেয়ালের নিঃসঙ্গ, নির্জন কারাগারে বন্দি জীবন শুরু হয় খালেদা জিয়ার। মধ্যখানে হাসপাতালে গাড়ি থেকে নামিয়ে কেবিন ব্লক ও পরে রেডিওলজি বিভাগে নেয়ার সময় সেখানে উপস্থিত অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে দেখার সুযোগ পান। পাশাপাশি ওই সময়ে ধারণকৃত ভিডিও এবং স্থিরচিত্রের মাধ্যমে সারা দেশের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়াকে দেখতে পান। কেমন আছেন তিনি, কি তার শারীরিক পরিস্থিতি।
মতামত দিতে পারেনি ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ডাক পেলেও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা মতামত দিতে পারেননি। বিএনপি’র আবেদনের প্রেক্ষিতে মহা কারাপরিদর্শকের কাছে একটি চিঠি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। সেখানে জেল কোড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা ছিল। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে গতকাল ডাক পেয়েছিলেন তার চার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। যথাসময়ে তাদের মধ্যে তিনজন প্রফেসর ওয়াহিদুর রহমান, প্রফেসর এফএম সিদ্দিকী ও ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বিএসএমএমইউতে এসেছিলেন। কিন্তু তারা কেউ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসায় মতামত দিতে পারেননি। কারাগার থেকে হাসপাতালে এনেই খালেদা জিয়াকে নেয়া হয় আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কেবিনে। কিন্তু সেখানে সর্বক্ষণ তাকে ঘিরে রেখেছিলেন পুলিশ ও কারা কর্মকর্তারা। তিন চিকিৎসককে তার কেবিনে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয় প্রায় ২০ মিনিট পর। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দেন সরকারি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ীই তার পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে। এখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মতামত দেয়ার সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় তারা তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মতামত নিতে পারবেন না। কেবল কুশলাদি বিনিময়ের মাধ্যমেই শেষ হয় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের পালা। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সেখানে প্রায় একঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখার পর খালেদা জিয়াকে নেয়া হয় রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে। সরকারি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে তার তিনটি এক্স-রে করা হয়। ড্যাব’র কয়েকজন নেতা জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে একটা নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে মাত্র। যদি সরকারি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তার এক্স-রেই করা হবে তাহলে অযথা কেন কেবিন ব্লকে নেয়া, কেনই বা সেখানে একঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হলো।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আজ: খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আজ রোববার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ-আল-হারুন। তিনি জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার একাধিক এক্স-রে করা হয়েছে। দুপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে খালেদা জিয়া হাসপাতাল ত্যাগ করার পর বিএসএমএমইউ’র মিল্টন হলে পরিচালক এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান। পরিচালক বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত ঢামেকের মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি সুস্থ কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পরিচালক বলেন, এটি মেডিকেল বোর্ড বলতে পারবেন। তিনি সুস্থ নেই এটা বলা যাবে না। আপাতদৃষ্টিতে তাকে সুস্থ মনে হয়েছে। তার জন্য আমরা হুইল চেয়ার রেখেছিলাম। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, হেঁটেই যেতে পারবেন। পরিচালক বলেন, বিএসএমএমইউতে আসার পর তাকে কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কেবিনে নেয়া হয়। সেখানে বেগম জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কেবিনে তার সঙ্গে তার চিকিৎসকরা কথা বলেছেন। সেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদুর রহমান, ডা. এফএম সিদ্দিকী, ডা. মামুন ও কারা চিকিৎসক ডা. শুভ উপস্থিত ছিলেন। তারা এক্স-রে করার সময়ও উপস্থিত ছিলেন। পরিচালক বলেন, কেবিনে যাওয়ার পর তিনি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। এরপর রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের তার হাড়ের বিভিন্ন অংশের এক্স-রে করা হয় (মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী)। এখানে এক্স-রে ছাড়া অন্য কোনো পরীক্ষা করা হয়নি।
এদিকে বিএসএমএমইউ’র রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ১/এ নম্বর রুমে এক্স-রে করান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নাজমুন নাহার প্রায় ২০ মিনিট ধরে খালেদা জিয়ার ঘাড়, কোমর এবং জয়েন্ট কোমরের (হিব) তিনটি পয়েন্টের এক্স-রে সম্পন্ন করেন। এক্স-রের সময় বেগম জিয়া খুব শান্ত ছিলেন বলে জানান তিনি। এ সময় রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. মো. এনায়েত করিম উপস্থিত ছিলেন।
রাতেই প্রস্তুতি, সকালে পুলিশ মোতায়েন
খালেদা জিয়ার মেডিকেল টেস্ট ও চিকিৎসার জন্য শুক্রবার রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে প্রস্তুতি শুরু হয়। এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। গতকাল সকাল ৭টা থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার থেকে শাহবাগ বিএসএমএমইউ পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। বিএসএমএমইউ’র সামনে রাস্তায়, প্রধান ফটকে, হোটেল সোনারগাঁও মোড়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ছিল পুলিশের। এছাড়া হাসপাতালের সামনে র্যাব, সাধারণ পোশাকে ডিবি, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীসহ বহু নিরাপত্তাকর্মী অবস্থান নেয়। হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও তাদের স্বজনদের সকাল থেকেই তল্লাশি করে হাসপাতালে ঢোকানো হয়। হাসপাতাল গেটের কাছে নিশাত ফার্মেসিতে কথা হয় কর্মরত মো. জুনাইদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকালে ফার্মেসিতে আসার সময় দেখি হাসপাতালের উভয় দিকে পুলিশের অবস্থান। সেখানে কর্মরত একাধিক পুলিশ সদস্য সকাল ৭টা থেকে তারা ডিউটি করার কথা জানান। এদিকে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনার একদিন আগে গত শুক্রবার তার জন্য কেবিন ব্লকের পঞ্চম তলার ভিআইপি ডিলাক্স কেবিন (কক্ষ নম্বর-৫১২) নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন কক্ষটিতে কয়েক দফায় ঝাড়-মোছ দেয়া হয় বলে জানান হাসপাতালের ক্লিনার ইনচার্জ আশরাফ আলম সোহেল।
গতকাল সকালেও কয়েক দফা তা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। বৈদ্যুতিক লাইন, ফ্রিজ, টিভি, এসি ঠিকঠাক মতো কাজ করছে কিনা দেখে যান প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকাল ৯টার পর বাথরুমের গরম পানির ঝর্ণা কাজ করছে কিনা দেখে যান প্রকৌশল বিভাগের কর্মচারী আবদুস সামাদ। তিনি বলেন, মোটামুটিভাবে সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। গরম পানির ঝর্ণাও যথাযথভাবে কাজ করছে। সকাল ৯টার পর ওই কেবিনে গিয়ে দেখা যায়, কেবিন ব্লকের রাস্তার পাশের কক্ষটিতে দু’টি শয্যা, ৫টি চেয়ার, ২টি টেবিল, একটি করে আলমিরা, ড্রেসিং টেবিল, টিভি ও ফ্রিজ রয়েছে। সামনের ছোট্ট কক্ষটিতে চারজন বসার দু’টি সোফা সেটের মাঝখানে একটি টেবিল। সবকিছু মুছে পরিষ্কার রাখা হয়। প্রথমেই তাকে সেই কেবিনে নেয়া হয়। ১১টা ৩৮ মিনিটে ৫১২ নম্বর কক্ষে ভিআইপি ডিলাক্স কেবিনে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ওই কক্ষে ঢুকেন বেশ কয়েকজন পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মকর্তা। এরপর ওই কক্ষের সামনে কারারক্ষীরা অবস্থান নেন। এর আধাঘণ্টা পর বেলা ১২টা ৩৬ মিনিটে মেডিকেল টেস্ট করাতে যাওয়ার জন্য কেবিন থেকে বের হন। ৫১২ নম্বর কেবিনে একঘণ্টা ছিলেন তিনি।
দাদি-নাতনীর কুশলবিনিময়
খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার দেড় মাসের মাথায় বাংলাদেশে আসেন তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথি ও তার দুই কন্যা জাহিয়া রহমান এবং জাফিয়া রহমান। দেশে ফেরার পর দুইদফায় কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। এদিকে গতকাল তাকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে শুনে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা হাসপাতালে আসেন। খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনার পর তারা কেবিনে ব্লকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের অনুমতি পাননি। তারপর হাসপাতালের সি-ব্লকের সামনে গাড়িতে বসেছিলেন দীর্ঘক্ষণ। পরে তাদের নেয়া হয় হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের ওয়েটিং রুমে। এক্স-রে শেষে খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়ার সময় রেডিওলজি বিভাগের কাউন্টার গেটের ভেতরে তারা কয়েক মিনিটের জন্য কুশল বিনিময়ের সুযোগ পান। এদিকে এক্স-রে শেষে কারাগারের উদ্দেশে গাড়িতে তোলার সময় কেবিন ব্লকের বারান্দাগুলোতে রোগী, নার্স ও চিকিৎসকসহ উৎসুক মানুষ খালেদা জিয়াকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। জবাবে খালেদা জিয়াও হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। উল্লেখ্য, ঠিক ১০ বছর আগে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর অসুস্থ বড় ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ডি ব্লকে এসেছিলেন খালেদা জিয়া। এবার তিনি নিজেই কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে এই হাসপাতালে এলেন।
রোগীদের ভোগান্তি
খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ আনা উপলক্ষে গতকাল হাসপাতালটিতে সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। শুক্রবার হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় শনিবার রোগীর চাপ বেশি থাকে এই হাসপাতালে। কিন্তু সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আসা উপলক্ষে হাসপাতালে বিভিন্ন সেবা কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। তারা জানান, হাসপাতালের প্রবেশ পথেই পুলিশের জেরার মুখোমুখী হতে হয়েছে তাদের। স্বজনদের অভিযোগ সকাল থেকে কেবিন ব্লকের নিচে এবং এর সামনে বি-ব্লকের নিচে এক্স-রে এবং আলট্রাসনোগ্রামের কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দুপুর ২টার দিকে কাউন্টারগুলো খোলা হবে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু রোগী।
ড্যাব নেতাদের পুলিশের বাধা, মিছিল ও গ্রেপ্তার
ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-নেতারা বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে আসা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কেবিন ব্লকের নিচে ৯টার পর থেকে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে ২০/২৫ চিকিৎসক একত্রে হলে পুলিশ তাদের কেবিন ব্লকের নিচে দাঁড়ানো যাবে না বলে সড়িয়ে দেন এবং কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন। এতে সংগঠনটির নেতা প্রফেসর ডা. সিরাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অবস্থান নেয়া চিকিৎসকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিকে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেয়ার খবরে কারাগেট ও বিএসএমএমইউ হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হয় বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী। খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িবহর হাসপাতাল ঢোকার পর গেটের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। পুলিশ সেখান থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে কেবিন ব্লকে নেয়ার পর কেবিন ব্লকের সামনে থেকে ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখারুজ্জমান শিমুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, বিএনপি ও অঙ্গদলের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে রমনা ও শাহবাগ থানা পুলিশ। তবে পুলিশের তল্লাশির মধ্যেও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, প্রফেসর আজিজুল হক, প্রফেসর সিরাজউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর আবদুল কুদ্দুস, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আফরোজা আব্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, নজরুল ইসলাম আজাদ, তাবিথ আউয়াল, আমিরুজ্জামান শিমুল ও জি৯ এর সমন্বয়ক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ সহ অনেকেই হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নিয়েছিলেন। এদিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারের উদ্দেশে হাসপাতাল থেকে বের করার পরপরই শাহবাগ আজিজ মার্কেটের সামনে মিছিল বের করে ছাত্রদল। ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, কাজী মোকতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকশ’ নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি কাঁটাবন মোড় হয়ে হাতিরপুলের দিকে গেলে ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
জোর করে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে: রিজভী
বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে জোর করে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিকালে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুতভাবে আনা হয়েছে। কারাগারে তাঁর কক্ষের কাছে গিয়ে বারবার তাগিদ দিতে থাকে কারাকর্মকর্তাসহ ৭-৮ জন কারারক্ষী। একজন মুসলিম ধর্মপ্রাণ নারী হিসেবে ৩০-৩২ বছর ধরে তিনি শাড়ির উপরে চাদর বা ওড়না পরিধান করেন। এ সরকার এতো হীন এবং কুৎসিত মনোবৃত্তির যে, একজন বয়স্ক নারী যিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাঁকে চাদর বা ওড়না পরিধান করার সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হয়নি। একরকম জোর করেই তাকে গাড়িতে উঠিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে পিজি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের ৫১২ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসার নামে পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রহসনেরই নামান্তর। কারণ সেখানে কোনো চিকিৎসাই তাঁকে দেয়া হয়নি। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কোনো পরামর্শের সুযোগ দেয়া হয়নি। আইনেও আছে একজন বন্দি পূর্বে যেসব চিকিৎসকের চিকিৎসা নিতেন কারাগারেও তাদের চিকিৎসা নিতে পারবেন। গত পরশু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে প্রধান কারারক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অথচ এর কোনো প্রতিফলন আজকে দেখা যায়নি। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া ১৫-২০ বছর ধরে যে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের চিকিৎসা প্রদানের কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। একজন মানুষ হিসেবে বেগম জিয়ার যে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার সেটাকেও হরণ করতে ক্ষমতা তপস্বী সরকারপ্রধান বিষ দাঁত লুকাতে পারছেন না। অথচ নিজেকে সাধু দেখানোর জন্য বেগম জিয়ার চিকিৎসার নামে নাটক করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এতকিছুর পরও সরকারের উদ্দেশ্য যে অশুভ নয় এটা আমরা কিভাবে বুঝবো। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে গেলে সেখানে তাদের পর্যন্ত দেখা করতে দেয়া হয়নি। বেগম জিয়াকে বহনকারী গাড়ি হাসপাতালে পৌঁছলে একরকম টানা হেঁচড়া করে ওপরে উঠানো হয়। গাড়ি থেকে নামার জন্য সিঁড়ি পর্যন্ত দেয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে হাসপাতালে ধাক্কাধাক্কির মতো পরিস্থিতিতে অপমানজনকভাবে তাঁকে হাসপাতালে ওঠানো-নামানো হয়েছে। রিজভী বলেন, আওয়ামী রাজত্বে সরকারি হাসপাতালে বিরোধী দলের সেবা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেই সুযোগ ও অধিকারহীনতার শিকার হলেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর চিকিৎসা বিষয়ে সরকার আজ যে বায়েস্কোপ দেখালো তার নিন্দা করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। সরকারের উদ্ভট আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। এ সময় তিনি বলেন, সুচিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে। বেগম জিয়ার অগ্রযাত্রায় বলপূর্বক প্রতিহত করে কোনো লাভ হবে না। কোনোভাবেই তাঁকে টলানো যাবে না। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম, প্রফেসর ডা. সিরাজউদ্দিন আহমেদ ও প্রফেসর ডা. আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ইনচার্জের সাক্ষাৎকার: রোহিঙ্গা যাচাই প্রক্রিয়ায় আরো সময় চায় মিয়ানমার

প্রশ্ন: মিয়ানমারের প্রথম শীর্ষ স্থানীয় প্রতিনিধির বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য কি?
উত্তর: উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হওয়া নিয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করাই উদ্দেশ্য।
প্রশ্ন: আপনারা কি বাংলাদেশ সরকার বা জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন?
উত্তর: আমি এখন পর্যন্ত যতদূর জানি তাতে বাংলাদেশ সরকার তার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক আয়োজন করেছে। যদি তারা এটা আয়োজন করতে পারে তাহলে আমরা উদ্বাস্তু শিবির পরিদর্শনেও যেতে পারি।
প্রশ্ন: উদ্বাস্তু প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হওয়ার প্রধান কারণ কি?
উত্তর: বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী যদি সব কিছু ঘটে, যদি উদ্বাস্তুরা চুক্তি অনুযায়ী ফরম ফিলআপ করে, তাহলে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়া উচিত নয়। কিন্তু আমরা যেমনটি আশা করেছিলাম তেমনটি হচ্ছে না। চুক্তি অনুযায়ী উদ্বাস্তুরা ফরম ফিলআপ করে নি। যদি তারা তা করতো তাহলে এখন যে গতিতে এ প্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে তার চেয়ে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হতো। আমি বাংলাদেশে যেয়ে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।
প্রশ্ন: শরণার্থী ইস্যুতে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি)-এর মতো জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কি কাজ করবে মিয়ানমার সরকার? এসব এজেন্সির সঙ্গে কি চুক্তি করেছে (মিয়ানমার) সরকার?
উত্তর: বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি হয়েছে তাতে আমরা এরই মধ্যে বলে দিয়েছি, যখন প্রয়োজন হবে তখনই জাতিসংঘের এজেন্সিগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবো। ইউএনএইচসিআর এবং ইউএনডিপির সঙ্গে আমরা এরই মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা করেছি।
প্রশ্ন: যেসব শরণার্থী মিয়ানমারে তাদের বাড়িঘরে ফিরতে চান তাদের ৮০৩২ জনের একটি তালিকা ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের কাছে দিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব মিন্ট থু’র মতে, এর মধ্যে ৯০০ জনকে অনুমোদন দিয়েছে মিয়ানমার। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫০০ মুসলিম ও প্রায় ৪০০ হিন্দু। তারা রাখাইনের উত্তরাঞ্চল থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছেন। তাদেরকে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে বাকি যেসব শরণার্থী রয়েছেন তাদের বিষয়ে আপনারা কি করছেন?
উত্তর: আমি আগেই আপনাকে বলেছি, তারা যে ফরম ফিলআপ করেছে তা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী করা হয় নি। এ জন্যই এসব লোককে যাচাই করতে আমাদের আরো সময় প্রয়োজন। আমরা যাদেরকে যাচাই করতে পেরেছি তাদের তালিকা দিয়েছি বাংলাদেশকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদেরকে এর কোনো জবাব দেয় নি বাংলাদেশ।
প্রশ্ন: আপনি বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন, এ সফর থেকে কি প্রত্যাশা করছেন, বিশেষ করে শরণার্থী প্রত্যাবর্তন নিয়ে?
উত্তর: বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রতিবেশী। ফলে শরণার্থীর এ সমস্যা উভয় দেশের জন্যই একটি সমস্যা। আমাদের দেশে যেসব মানুষ বসবাস করতো তারা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছে। তাদেরকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব রয়েছে আমাদের। তাই তাদেরকে ফেরত আনা নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বজায় রেখে এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে আমি সেখানে যাচ্ছি। আশা করছি মসৃণ সহযোগিতা নিয়ে কথা হবে। ফলে ভালো কিছু প্রত্যাশা করি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এমপিদের ক্ষমতা খর্ব করতে আচরণবিধি সংশোধন প্রয়োজন - সিইসি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আসছেন আজ

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রী সবই জানেন: এরশাদ

তিনি বলেন, দেশে আগে মহাসড়কের উন্নয়ন হতো। এখন উন্নয়নের মহাসড়ক দুর্নীতির মহাসড়কে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতির মহাসড়কে এখন শুধু খাল-বিল কেন? এই মহাসড়কে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। ঢাকা থেকে রংপুর যেতে এখন সময় লাগে ১৫ ঘণ্টা।
দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘আমরা একক সরকার চাই না। সব একজনের কথায় চলছে। দেশে কোনো নিরাপত্তা নেই। এখন তো নির্বাচন হয় না, সিল মারে। তাই নির্বাচন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করবে।
এরশাদ বলেন, বাংলাদেশের মতো ব্যাংক ডাকাতি বিশ্বের আর কোথাও হয় নাই, কিছুদিন আগে বলা হতো ব্যাংকের টাকা নেয়ার কেউ নাই। এখন বলা হচ্ছে ব্যাংকে টাকা নাই। কোথায় গেল এই টাকা? ব্যাংকের টাকা দিতে না পারলে কৃষককে জেলে যেতে হতো। আর এদের যেতে হয় না কেন? প্যারাডাইস পেপারসে এদের নাম আসে। এদের তো বিচার হয় না। কৃষকের বিচার হয়।
সম্মিলিত জাতীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে সমাবেশে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি প্র্রমুখ জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
April
(710)
-
▼
Apr 08
(21)
- রথিশ হত্যা: সত্য ও কল্পনা by বিভুরঞ্জন সরকার
- চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরবে ভারত
- চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস তৎপরতা...
- ভারত-নেপাল সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই চাবিকাঠি ...
- ৪ দিনের মধ্যে ২০ মাত্রার সমৃদ্ধকরণ শুরু করা যাবে: ...
- উদীয়মান তরুণ নেতাদের তালিকায় বাংলাদেশের তানজিল
- সিলেটে অন্তরালে সেই রমণীরা by ওয়েছ খছরু
- বৃটিশ কারি শিল্প নিয়ে সংশয়
- লিভার চিকিৎসায় বাংলাদেশী চিকিৎসকদের উদ্ভাবন
- হামাসের ওপর হামলার হুমকি দিল ইসরাইল
- স্বামীকে শিক্ষা দিতেই স্ত্রীকে গণধর্ষণ
- ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে সাংবাদিকসহ ৯ ফিলিস্তিনী নিহত
- পিতার পরিকল্পনায় বিউটি খুন: ধর্ষণে জড়িত থাকলেও হত্...
- কারে আমি বাবা বলি, কে আমার প্রিয়তমা by কাজল ঘোষ
- সরকারি কাজে জি-মেইল ইয়াহু, আউটলুক ব্যবহার বন্ধ: মন...
- আইজিপি কমপ্লেইন সেল by ১০০৭ অভিযোগ by আল-আমিন
- অসুস্থতার ছাপ মৃদু হাসি: জোর করে হাসপাতালে আনার অভ...
- প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ইনচার্জের সাক্ষাৎকার: রোহিঙ্গা ...
- এমপিদের ক্ষমতা খর্ব করতে আচরণবিধি সংশোধন প্রয়োজন -...
- ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আসছেন আজ
- প্রধানমন্ত্রী সবই জানেন: এরশাদ
-
▼
Apr 08
(21)
-
▼
April
(710)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




