Tuesday, October 21, 2025
গাজায় ইসরাইলের ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, চুক্তি রক্ষায় তৎপরতা জোরদার যুক্তরাষ্ট্রের
এতে বলা হয়, ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে গাজা শহরের তুফাহ এলাকার পূর্বে আল-শাফ অঞ্চলে নিজ বাড়ির অবস্থা দেখতে গিয়ে ইসরাইলি গুলিতে নিহত হয়েছেন চার ফিলিস্তিনি। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, শুজাইয়া এলাকায় হামাস যোদ্ধারা যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করে ইসরাইলি সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়ায় তারা হামলা চালায়। যদিও ওই এলাকায় বসবাসরত অনেকেই জানিয়েছেন, ‘হলুদ রেখা’ ঠিক কোথায় তা বোঝা যাচ্ছে না, কারণ দৃশ্যমান কোনো সীমানা নেই।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কেবলমাত্র রোববারই ইসরাইলি বিমান হামলায় ৪২ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। ইসরাইল দাবি করেছে, হামাস দুই সেনাকে গুলি করে হত্যা করায় তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: হামাস বলেছে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত রাফাহ অংশে তাদের কোনো ইউনিট সক্রিয় নেই এবং সেখানকার কোনো ঘটনার দায় তারা নেয় না। বরং তারা অভিযোগ করেছে ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতি ভাঙার অজুহাত তৈরি করছে। হামাস জানিয়েছে, তারা এখনও কিছু ইসরাইলি বন্দির মৃতদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপের কারণে তা বিলম্বিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৩তম মৃতদেহটি রেড ক্রসের মাধ্যমে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মানবিক সহায়তা ও অবরোধ: ইসরাইল গাজায় মানবিক সহায়তা সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিলেও পরে আবার তা চালু করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজজুম জানান, ইসরাইল এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। খান ইউনিসের পূর্বে সোমবার নতুন করে বিমান হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার সোমবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার ইসরাইল সফরে আসার কথা রয়েছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও তার স্ত্রী উষা ভান্সের।
চুক্তির পরবর্তী ধাপে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনাদের উপত্যকা থেকে প্রত্যাহার এবং গাজার শাসনব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত ‘শান্তি বোর্ড’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে হামাস ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো গাজার ওপর কোনো বিদেশি শাসন প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অস্ত্র সমর্পণেও অনীহা প্রকাশ করেছে। যা চুক্তি বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, হামাসের অভ্যন্তরে ‘বিদ্রোহ’ চলছে এবং নেতৃবৃন্দকে তা সামাল দিতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তারা ভালো না হলে নির্মূল হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর জন্য মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। এই সময়ে হামাস গাজার রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, এমনকি কিছু অপরাধী গ্যাং-কে হত্যা করেছে বলেও জানা গেছে। ট্রাম্প বলেন, তাদের কয়েকটা গ্যাংকে সরিয়ে দিতে হয়েছে। আর আমি এতে খুব একটা বিচলিত নই। ওটা ঠিকই হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন জিতবে কি না সন্দিহান ট্রাম্প, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি
ট্রাম্পের এ মন্তব্য কিয়েভের প্রতি নতুন একধরনের সন্দেহ তৈরি করল। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে মুখোমুখি বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
‘তারা (ইউক্রেন) এখনো জিততে পারে। আমি মনে করি না, তারা জিতবে। তবে তারা এখনো জিততে পারে’, গতকাল হোয়াইট হাউসে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিকদের বলেন ট্রাম্প।
গত মাসে ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেনকে কিছু জমি ছাড়তে হবে এবং দেশটি সব হারানো অঞ্চল রাশিয়ার কাছ থেকে ফেরত পেতে পারে।
কিন্তু গত সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প আবারও অবস্থান বদলে কিয়েভ ও মস্কোকে তাদের ‘বর্তমান অবস্থানেই থামতে’ এবং নিষ্ঠুর যুদ্ধ শেষ করতে বলেন।
গতকাল কিয়েভের অবস্থান নিয়ে তাঁর সংশয়ের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে, ট্রাম্প ইউক্রেনের সম্ভাবনা নিয়ে ওই নেতিবাচক মূল্যায়ন করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনো বলিনি, তারা জিতবে। আমি বলেছি, তারা জিততে পারে। সবকিছুই ঘটতে পারে। যুদ্ধ অনেকটা অদ্ভুত ব্যাপার।’
গতকাল সকালে জেলেনস্কি বলেন, হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ট্রাম্প তাঁকে জানিয়েছিলেন যে পুতিনের বড় দাবি, ইউক্রেনকে তার পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল পুরোপুরি ছাড়তে হবে। পুতিন এখনো এ দাবিতে অনড় আছেন।
এরপরও জেলেনস্কি বৈঠকটি ‘ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন; যদিও ট্রাম্প ইউক্রেনকে তাঁর প্রত্যাশিত দূরপাল্লার টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কয়েক সপ্তাহ আগে ইউক্রেনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর সম্ভাবনার ব্যাপারে প্রকাশ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিলেন। এটি দিলে ইউক্রেনীয় সেনাদের রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে আঘাত হানার সুযোগ দিত।
কিন্তু পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিকতম ফোনালাপের পর ট্রাম্পের মনোভাব পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আপাতত তিনি ইউক্রেনকে এ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা সরবরাহ করতে রাজি নন।
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহামারি, দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধ, সভ্যতার তিন শত্রুকে ঠেকাব কী করে by তুষার কান্তি চাকমা
ইউভাল নোয়াহ হারারি তাঁর বহুল আলোচিত হোমো ডিউস বইয়ে যুক্তি দিয়েছেন, মানবজাতিকে ধ্বংসের মুখে ফেলেছে তিনটি প্রধান বিপদ। এক. মহামারি, দুই. দুর্ভিক্ষ, এবং তিন. যুদ্ধ।
হারারির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে আমরা প্রথম দুটি বিপদ (মহামারি ও দুর্ভিক্ষ) অনেকটাই জয় করেছি।
মহামারির ইতিহাস নিঃসন্দেহে ভয়ংকর ও বিভীষিকাময়। কিন্তু আশার কথা হলো, আধুনিক মাইক্রোবায়োলজির সাফল্যে আমরা কোভিড-১৯-এর মতো প্রাণঘাতী ভাইরাসকে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।
ম্যালেরিয়া মশার কামড়ে ছড়ায়—রোনাল্ড রস ও তাঁর সহকর্মীরা কীভাবে তা আবিষ্কার করেন, ছেলেবেলায় আমরা সেই গল্প পাঠ্যবইয়ে পড়েছি। তার আগে বহু মানুষ ম্যালেরিয়ার জন্য সন্ধ্যার বাতাস বা অলৌকিক কারণকে দায়ী করতেন। কুসংস্কার ছিল মানুষের একমাত্র ব্যাখ্যা। অথচ প্রকৃতিতেই ছিল প্রতিষেধক—দক্ষিণ আমেরিকার সিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকে তৈরি কুইনাইন।
কলেরাকে একসময় বলা হতো ‘ওলা ওঠা’; শরৎচন্দ্রের রচনায় ‘ওলাদেবী’র মতো পৌরাণিক চরিত্রের কথা আমরা পড়েছি, যিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়ে প্রাণ হরণ করেন। অথচ এই মরণব্যাধির মূল কারণ ছিল দূষিত পানি। আজ এক চিমটি লবণ, এক মুঠো গুড় ও বিশুদ্ধ পানি দিয়ে বানানো ওরস্যালাইনই সেই ‘ওলাদেবী’কে হার মানিয়েছে।
টাইফয়েড, প্লেগ, ব্ল্যাক ফিভার, সিফিলিস ইত্যাদি বহু রোগ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল স্মলপক্স বা বসন্ত, যা দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসী জনপদকে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল।
আজ বিজ্ঞান সে রোগকেও চিরতরে বিলুপ্ত করেছে—বসন্ত এখন কেবল গবেষণাগারের বিষয়।
হারারির দ্বিতীয় শত্রু—দুর্ভিক্ষ। মানব ইতিহাসে হাজারো দুর্ভিক্ষ নথিবদ্ধ আছে। কিন্তু গত ১৫০ বছরে দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৭ থেকে ১২ কোটি মানুষ। যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল একটির কারণ, তবে যুদ্ধ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক অবহেলা ছিল আরও বড় কারণ।
আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, খাদ্যশস্যের অধিক উৎপাদন, গুদামজাতকরণ ও বৈজ্ঞানিক বিতরণব্যবস্থা আজ দুর্ভিক্ষকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
তৃতীয় বিপদ—যুদ্ধ। ১৮০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। হারারি মনে করেন, যুদ্ধের পেছনের যুক্তিগুলো আজকাল আর তেমন কার্যকর নয়। একসময় যুদ্ধ হতো জমি, সম্পদ ও সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য। কিন্তু আধুনিক যুগে সেই প্রয়োজন অনেকটাই বিলুপ্ত।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যদি চীন আমেরিকার সিলিকন ভ্যালি সামরিক শক্তি দিয়ে দখল করতে চায়, তবে তার খরচ হবে বিপুল। বরং সেখানে বিনিয়োগ করলে লাভ হবে বহুগুণ। আজকের দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ‘মানব মেধা’, যা অস্ত্র দিয়ে জবরদস্তিমূলকভাবে দখল করা যায় না।
এই যুক্তিতে হারারি আশাবাদী যে হোমো স্যাপিয়েন্স একসময় রূপ নেবে ‘হোমো ডিউস’ বা এক প্রকার দেবতুল্য প্রজাতিতে। তারা বিজ্ঞানের সহায়তায় শত শত বছর বাঁচবে এবং শুধু বড় দুর্ঘটনাতেই তাদের মৃত্যু হবে।
কিন্তু বাস্তবতা এই আশাবাদের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বইটি প্রকাশের পরপরই শুরু হয়েছে ইসরায়েল-হামাস সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি এখন আর অলীক নয়, বাস্তবতার অংশ। রাশিয়া পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অস্তিত্ব যদি হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে।
এমন কিছু ঘটে গেলে, হারারির পূর্বাভাস যে ভুল প্রমাণিত হবে, তা বলাই বাহুল্য। যদিও তা দেখার মতো তখন কেউ থাকবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই। হেনরি কিসিঞ্জার তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ১৯৭৩ সালের ইয়ম কিপ্পুর যুদ্ধে ইসরায়েলের গোলাবারুদ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তারা মিসরের ওপর পারমাণবিক হামলার চিন্তা করছিল।
সেই পরিস্থিতিতে তিনি জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েলকে অস্ত্র ও বিমান সরবরাহ করেন।
বিশ্ব রাজনীতির আরেক উদ্বেগজনক দিক হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় পরিবর্তন। ৯/১১-পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বিখ্যাত ঘোষণা ছিল—‘যদি তুমি আমাদের সঙ্গে না থাকো, তাহলে তুমি আমাদের শত্রু’। এটি শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং একধরনের বৈশ্বিক দম্ভ ও আধিপত্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
অর্থনৈতিক দুর্বলতা, নেতৃত্বের দৈন্য এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাব যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক আগ্রাসী ভূমিকা নিতে বাধ্য করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ইউক্রেন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে চলছে অস্থিরতা, সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয়। শান্তি যেন এখন শুধুই এক কৌশলগত বিলাসিতা।
মহামারি, দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধ—মানব ইতিহাসের এই তিন মহাশত্রুর বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রাম এবং বিজ্ঞানের সাহায্যে মানবজাতির অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে অনন্য এক অধ্যায়। তবে যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বে কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও টেকসই শান্তির ভিত্তি রচনা করাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নইলে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া হোমো ইরেক্টাস, হোমো হ্যাবিলিস কিংবা নিয়ান্ডারথালের মতো আমরাও, মানে আধুনিক হোমো স্যাপিয়েন্স একদিন হারিয়ে যেতে পারি সময়ের গর্ভে, অসীম শূন্যতায়।
* তুষার কান্তি চাকমা, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা
![]() |
| গাজায় এখন যুদ্ধের নামে চালাচ্ছে এক পক্ষীয় নৃশংসতা। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জুলাই সনদের ভূত–ভবিষ্যৎ by মহিউদ্দিন আহমদ
১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে ১৩টি ব্রিটিশ উপনিবেশ নিজেদের মুক্ত ঘোষণা করে এবং আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র নামে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করে। তারা কেন স্বাধীনতা চাইছে, এই ঘোষণাপত্রে তার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আমেরিকার এই পালাবদলের এক দশক পরে ইউরোপে পরিবর্তনের হাওয়া বয়ে যায়। রাজতন্ত্র উৎখাত করে প্রথম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় ফ্রান্সে। ফরাসি বিপ্লবের মূল ঘোষণাপত্রে ছিল মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের অঙ্গীকার, যা ১৭৮৯ সালের ২৬ আগস্ট প্রকাশিত হয়। এই দলিলে ফরাসি জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব মানুষের সহজাত, অবিচ্ছেদ্য ও সর্বজনীন অধিকারগুলোর উল্লেখ ছিল, যেমন স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রী। ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আন্দোলনের ওপর যুগান্তকারী প্রভাব ফেলে। আমেরিকার সংবিধান ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ফরাসি বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
অনেকটা আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের আলোকেই লেখা হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, যা প্রথম পাঠ করা হয় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। কী কারণে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে হলো, তার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে ফরাসি বিপ্লবের আদলে ঘোষণা করা হয় রাষ্ট্রের মূলনীতি—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার।
এতগুলো উদাহরণ দিলাম এ জন্য যে ওপরের তিনটি দেশে ঘোষিত লক্ষ্য ওই দেশের নাগরিকেরা অর্জন করেছেন। সেসব দেশে জনগণের সরকার আছে। তারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। সেখানে উন্নতি ও সমৃদ্ধির খবর আমরা রাখি। আমরা সেসব দেশে আমাদের সন্তানদের পাঠাতে পারলে স্বস্তি পাই।
আমরা আমাদের দেশটা গোছাতে পারিনি। এখানেই প্রশ্ন, আমরা কেন পারিনি? আমরা কেউ গাল দিই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে, কেউ মন্দ বলি পাকিস্তানি শাসকদের, কথায় কথায় আলোচনায় আনি মীর জাফর। মীর জাফর মরে ভূত হয়ে গেছে আড়াই শ বছর আগে। কোম্পানির শাসন শেষ হয়েছে ৭৮ বছর আগে, পাকিস্তানের থাবা সরে গেছে ৫৪ বছর হলো। তারপরও আমাদের কেন এই ব্যর্থতা, কেন এত আক্ষেপ, কেন এই হতাশা? আর কতকাল আমরা অতীতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজেদের আড়াল করে রাখব? আমাদেরই তো সবকিছুর দায় নিতে হবে।
অনেক আশা নিয়ে দেশটা স্বাধীন হলো। গুটিকয় পরিবার ছাড়া স্বাধীনতার জন্য সবাই মূল্য দিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ফল পকেটে পুরেছে কিংবা আঁচলে বেঁধেছে হাতে গোনা কিছু পরিবার ও গোষ্ঠী। আমরা গণতন্ত্র চাই, নাকি সমাজতন্ত্র, নাকি খেলাফত—এ নিয়ে এখনো বাহাস করি। ১৭ কোটি মানুষের কাঁধে সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো চেপে বসেছে গুটিকয় অলিগার্ক, যারা নিজ নিজ ডকট্রিন নিয়ে আস্ফালন করছে। সেখানে শুধু তারাই আছে, মানুষ নেই। মানুষ এখানে কখনো কামানের খোরাক, কখনো ক্ষমতায় আরোহণের কাঁচামাল।
রাজনৈতিক দলের সিন্ডিকেট আর ব্যক্তিশাসনের বিরুদ্ধে ইতিহাসে একবারই এ দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো এককাট্টা হয়েছিল। ১৯৯০ সালে আমরা পেয়েছিলাম একটি সনদ, যেটি ‘তিন জোটের রূপরেখা’ নামে পরিচিত। সেখানে কী ছিল? মূল কিছু দিক উল্লেখ করছি।
১. হত্যা, ক্যু, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ধারা থেকে দেশকে মুক্ত করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশে পূর্ণ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
২. একটি অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সার্বভৌম জাতীয় সংসদ গঠনের ব্যবস্থা করা।
৩. গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ রাখতে রেডিও-টেলিভিশনসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমকে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পরিণত করা।
৪. জনগণের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে অসাংবিধানিক কোনো পথে ক্ষমতা দখল প্রতিরোধ করা।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
৬. মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী সব আইন বাতিল করা।
৭. ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা ও অপর দলের দেশপ্রেম ও ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে কটাক্ষ করা থেকে বিরত থাকা, সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় না দেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক প্রচারণা সমবেতভাবে প্রতিরোধ করা (সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত)।
প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। দলগুলোর মধ্যে আন্তরিকতার অভাব ছিল। প্রধান দুই দলের দুই নেত্রী এই সনদে সই দেননি। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন বৃথা যায়। আমরা ফিরে যাই আগের অবস্থায়। সাংঘর্ষিক রাজনীতির পটভূমিতে জন-আকাঙ্ক্ষাকে পুঁজি করে ২০০৭ সালে আসে এক-এগারো। সেটিও মুখ থুবড়ে পড়ে বছর না যেতেই। তারপর আমরা এ দেশের ইতিহাসের নিকৃষ্টতম স্বৈরশাসকের দেখা পাই, যার তুলনা আছে কেবল মধ্যযুগে।
এই জগদ্দল পাথরকে রুখে দেয় চব্বিশের জুলাই আন্দোলন। আমরা দেখা পাই নতুন এক ডিজিটাল প্রজন্মের—জেনারেশন জেড। এদের বয়স ১৩ থেকে ৩০। এদের অস্ত্র মুঠোফোন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, সমাজসচেতনতা, দেশের প্রতি ভালোবাসা আর মৃত্যুভয় জয়ের অদম্য সাহস। আমরা মাও সে-তুংয়ের লেখায় পড়েছি, একটি স্ফুলিঙ্গ কীভাবে বিরাট একটি দাবানল সৃষ্টি করতে পারে। আমরা সেটি দেখলাম চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে, যা ‘৩৬ জুলাই’ তারিখটিকে ইতিহাসে স্থান করে দিয়েছে। কিন্তু তারপর?
এখানে এসেই আমরা বারবার হোঁচট খাচ্ছি। আমাদের এখানে ১৯৪৯ সালের চীন কিংবা ১৯৫৮ সালের কিউবার আদলে পালাবদল হবে না। পরিবর্তনের একটি মডেল কখনোই আরেকটি মডেলকে হুবহু অনুসরণ করে না। এখানে ড্রয়িংরুম বিহারি কিছু শৌখিন স্বপ্নবিলাসী ছাড়া সম্ভবত সবাই বহুদলীয় সরকারব্যবস্থা চান।
কিন্তু আমরা সাড়ে পাঁচ দশক ধরে এমন একটা ব্যবস্থার চর্চা করেছি, যেটি নাগরিকের শাসনকে টেকসই করার দিকে যায় না। বরং পয়দা করে ‘নমরুদ’। এ থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যায়? আমরা তো কারও ভাষণ কিংবা ইশতেহারে আস্থা রাখতে পারছি না? সে জন্য দরকার একটি চুক্তি, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো নাগরিকদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেবে। তিন জোটের রূপরেখার পরিণতি দেখার পর লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে একটি সনদের দাবি উঠেছে। এটাই হচ্ছে প্রস্তাবিত জুলাই সনদের পটভূমি।
জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব আছে, যার মধ্যে যে ৪৭টি সংবিধান-সম্পর্কিত, এগুলো করবে নির্বাচিত সংসদ। যেসব প্রস্তাবে দলগুলোর ভিন্নমত আছে, প্রস্তাবের পাশেই সেগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। সনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সাত দফা অঙ্গীকারনামা, যার তৃতীয় দফায় বলা হয়েছে, এই সনদের বৈধতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে দলগুলো কোনো আদালতে প্রশ্ন তুলবে না। আর অঙ্গীকারনামার শেষ দফায় বলা হয়েছে, জুলাই সনদে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে।
অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োজিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়া তাদের কাছে পাঠিয়েছে ১৪ অক্টোবর। আজ এই সনদে তাদের সই দেওয়ার কথা। কিন্তু শেষ সময়ে এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে গোল বেধেছে।
এই মতভেদ দূর করার জন্য হাতে খুব বেশি সময় নেই। কয়েকটি বাম দল এরই মধ্যে সনদে সই না করার ঘোষণা দিয়েছে। কিছু দলের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট। এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নানামুখী চাপ আছে। কারণ, জুলাই সনদ প্রশ্নে কোনো কোনো দলের অবস্থানের যৌক্তিক দিক আছে। আবার কোনো কোনো দল হয়তো ঘোঁট পাকাচ্ছে। আমরা দেখি, শেষ পর্যন্ত আজ কী হয়।
* মহিউদ্দিন আহমদ, লেখক ও গবেষক
- মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণতন্ত্রের গভীর অসুখ! by আশিনুর রেজা
গণতন্ত্র; যে শব্দ একদিন মানুষের অধিকার, সমতা ও স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল, আজ তা যেন ক্রমেই ক্ষয়ে ক্ষয়ে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে অভ্যন্তরীণ অভিঘাতে। পৃথিবীব্যাপী গণতন্ত্র এখন এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। ছদ্মবেশী কর্তৃত্ববাদ, লোকরঞ্জনবাদ, গুজব-প্রচারণা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা যেন আজ এই শাসনব্যবস্থার প্রাণশক্তিকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে ফেলছে! এই অসুখ শুধু রাষ্ট্রের কাঠামোতেই নয়, আমাদের সমাজের গভীরে, আমাদের চেতনার মূলে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের মাটিতে, যেখানে গণতন্ত্রের শিকড় এখনো সুদৃঢ়ই হয়নি, এই অসুখের প্রভাব আরও তীব্র। তবু প্রশ্ন জাগে, এই অসুখ কি নিরাময়যোগ্য? আমরা কি এখনো চেষ্টা করলে সত্যিকারের গণতন্ত্রের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি না?
আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বৈশ্বিক সূচকগুলো বলছে, পৃথিবীর ৭১% জনগণ এখন স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বসবাস করছে, যা এক দশক আগেও ছিল মাত্র ৪৮% (ভি-ডেম, ২০২৪)। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতার পালাবদলের সময় ক্যাপিটল হিলে কলঙ্কিত হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রকেও প্রথমবারের মতো ‘ব্যাকস্লাইডিং ডেমোক্রেসি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া)। সাম্প্রতিক কালেও ডোনাল্ড ট্র্যাম্প আবার নির্বাচিত হয়ে এসে একের পর এক নির্বাহী আদেশে যেভাবে তাঁর দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অবজ্ঞা করে চলেছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদার গণতান্ত্রিক দেশের ইতিহাসেই বিরল। ট্র্যাম্প অবশ্য এবার শুধু নিজ দেশেই থেমে নেই, বাকি বিশ্বের ওপর ইচ্ছেমতো ট্যারিফ বসিয়ে প্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধই বাধিয়ে দিতে চলেছেন।
ফ্রিডম হাউস, ভি-ডেম ইনস্টিটিউট, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদনে নিয়মিতই উঠে আসছে নাগরিক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার ও আইনের শাসন—সবই ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত। উন্নত ও ঐতিহ্যবাহী গণতন্ত্রও এই পতনের বাইরে নেই। রাজনৈতিক নেতাদের কৌশলী ক্ষমতা দখল, জনতুষ্টিবাদ, তথ্য বিকৃতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করাই এসব সংকটের মূল কারণ।
গণতন্ত্রের সুলুক সন্ধানে যাওয়ার আগে একটা মজার গল্প শোনা যাক। ‘একটি ছাগল শহরের চত্বরে ঘাস খেতে পারবে কি না’ তা নির্ধারণে দূরদেশ আইসল্যান্ডের ছোট্ট শহরে একবার অদ্ভুত এক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহের জোর কদম প্রচারণা শেষে ভোট গণনা করে দেখা গেল, ছাগলের পক্ষেই বেশি ভোট পড়েছে! অভাবনীয় সেই ছাগল–কাণ্ড শেষে স্থানীয় এক বাসিন্দা নাকি মন্তব্য করেছিল, ‘এটাই গণতন্ত্র, কখনো কখনো ছাগলও জিতে যায়’!
গণতন্ত্র কী? এই প্রশ্ন আমাদের ইতিহাসের গোলকধাঁধায় নিয়ে যায়। এটি কি কেবল ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া? নাকি এটি একটি জীবনদর্শন, যেখানে প্রত্যেক মানুষের কণ্ঠস্বর সমান গুরুত্ব পায়? গণতন্ত্রের সূতিকাগার প্রাচীন গ্রিসের অনেক দার্শনিকের কাছেই গণতন্ত্র ছিল একটি সন্দেহজনক ধারণা। সক্রেটিস, প্লেটো, এমনকি অ্যারিস্টটলও বিশ্বাস করতেন যে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, নীতিবোধ ও প্রজ্ঞা। তাঁদের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রায়ই জনতুষ্টিবাদের ফাঁদে পড়ে, যেখানে ছলাকলা আর প্রোপাগান্ডা সত্যের ওপর বিজয়ী হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছা সব সময় রাষ্ট্রের মঙ্গল বয়ে আনে না। প্লেটোর মতে, গণতন্ত্র মানুষের আবেগনির্ভর, অগভীর সিদ্ধান্তে গড়া এক অবয়ব। অ্যারিস্টটল তো আরেক ধাপ এগিয়ে গণতন্ত্রকে বলেছিলেন ‘গরিবতন্ত্র’! তাঁর মতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র জনগণের হাতে ক্ষমতা গেলে শাসন হবে আত্মকেন্দ্রিক, নীতিকেন্দ্রিক নয়। যদিও বর্তমান সময়ের উদার গণতন্ত্র মোটেও এতটা সরল নয়।
আধুনিক গণতন্ত্র এই প্রাচীন সমালোচনাকে অনেকাংশে অতিক্রম করেছে। আজকের উদার গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন নয়, এটি সংখ্যালঘুদের অধিকারের নিশ্চয়তা, প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের একটি জটিল কাঠামো। ফরাসি দার্শনিক আলবের কাম্যু বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠদের আইন নয়, বরং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা’। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল এবং জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, সেখানে এই আদর্শ বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ কণ্টকাকীর্ণ যাত্রা।
গণতন্ত্রের সংকট এককভাবে কোনো জাতিরাষ্ট্রের সমস্যা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক। তবে সমস্যার রূপ ও গভীরতা ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রের বাস্তবতার ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার পর থেকেই এই দেশকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যা এ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কখনোই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে দেয়নি। সামরিক শাসন, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও দলীয় সংঘাতের ছায়ায় গণতন্ত্রের স্বপ্ন যেভাবে বারবার বিঘ্নিত হয়েছে, একইভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে ব্যক্তিপূজা, বংশপরম্পরায় নেতৃত্ব নির্বাচন, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও দলান্ধতা যেন আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থেকে গেছে।
ব্যক্তিপূজার রাজনীতি এদেশীয় গণতন্ত্রের এক গভীরতর অসুখ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘প্রাচ্য সমাজ’ প্রবন্ধে বাঙালির এই প্রবৃত্তির কথা লিখেছিলেন। আমরা প্রায়ই ব্যক্তিকে দেবত্ব দিয়ে ফেলি, তাঁর কথাকে অলঙ্ঘনীয় সত্য মনে করি। ব্যক্তিপূজা থেকেই উৎপত্তি হয় বংশপরম্পরার নেতৃত্বের। রাজনৈতিক দলগুলোয় যোগ্যতার চেয়ে বংশগত উত্তরাধিকার বেশি গুরুত্ব পায়। এই প্রবণতা গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিপরীত। এর ফলে নেতৃত্বের গুণাবলি, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, নীতিবোধ প্রভৃতির মূল্যায়ন হয় না। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুযোগ, জবাবদিহিতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা। যখন একজন নেতা তাঁর কাজ নয়, বরং পরিচয় বা বংশের কারণে অনুসরণযোগ্য হয়ে ওঠেন, তখন সেখানে গণতন্ত্র কেবল নামেই টিকে থাকে।
আজকের বাস্তবতায় গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর মধ্যে অন্যতম জনতুষ্টিবাদ, মিথ্যা তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও গুজব। নোয়াম চমস্কি বলেছিলেন, ‘গণমাধ্যম যাদের নিয়ন্ত্রণে, জনমতও তাদের নিয়ন্ত্রণে’। এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নতুন করে গণতন্ত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন একটি মিথ্যা খবর কয়েক মিনিটেই লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে জনতুষ্টিবাদী নেতারা জনতার মন পেতে দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা না ভেবে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নেন, যেমনঃ ভর্তুকি, সাময়িক সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ ইত্যাদি। যেসব দেশে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী নয়, সেখানে এই জনতুষ্টিবাদ আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। তখন নেতারা জনতার পক্ষের দাবি নিয়ে ক্ষমতায় আসেন, তারপর নিজেদের সুবিধামতো প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ফেলেন। জনতুষ্টিবাদ শুধু নীতিহীনতাকেই উৎসাহিত করে না, বরং জনগণের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তার অভাবকেও তীব্র করে।
সমকালীন বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে এর চমৎকার উদাহরণ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থার উত্থান, মব সহিংসতা এবং নারীর প্রতি বিদ্বেষ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু সামনেই যেহেতু নির্বাচন, জনতুষ্টিবাদের ফাঁদে পড়া নতুন-পুরোনো অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাই এসব বিষয়ে বেশ মৌন। গণমানুষের কাছে অপ্রিয় হতে পারে, এমন কোনো কথা বললে পাছে তাঁদের ভোট কমে যায়, অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচিত হয়ে পড়েন!
‘জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য’—আব্রাহাম লিংকনের এই সংজ্ঞা সর্বজনীনভাবে গণতন্ত্রের শেষ কথা। লিংকনকে নিয়ে বিখ্যাত একটি কৌতুক স্মরণ করা যেতে পারে। যখন কেউ একজন তাঁকে গণতন্ত্র কী, জিজ্ঞাসা করেছিলেন, জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি লেজকে পা বলি, তাতে কুকুরের কয়টি পা হবে?’ প্রশ্নকারী বললেন, ‘পাঁচটি।’ লিংকন বললেন, ‘না, লেজকে পা বললেও লেজ লেজই থাকে, পা হয়ে যায় না!’ লিংকন বোঝাতে চেয়েছিলেন যে গণতন্ত্র মানে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, বরং সত্যের অনুসন্ধান। বিষয়টা নিয়ে আমাদের জনগণ ও রাজনীতিবিদদের বিস্তর ভাবনার সুযোগ রয়েছে। আমাদের সমাজে অধিকাংশ মানুষই গণতন্ত্র বলতে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের শাসনই বুঝে থাকেন। আধুনিক উদার গণতন্ত্র মোটেই কেবল ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের শাসন’ নয়, এর চেয়ে অনেক বেশি কিছু।
গণতন্ত্র রক্ষার দায় শুধু শাসকের নয়, নাগরিকদেরও। জনগণ যদি দায়িত্ব নিতে না চায়, তাহলে গণতন্ত্র ধীরে ধীরে ‘ভোটতন্ত্র’ হয়ে যাবে। অথচ গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়, এটি অংশগ্রহণ, জবাবদিহি, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা; সব মিলিয়ে এক সম্মিলিত চেতনা। গণতন্ত্র কারও একার যাত্রাও নয়, এটি আমাদের সবার। এখানে একযোগে কাজ করতে হবে সবাইকে। আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমাদের আজকের চর্চার ওপর। গণতন্ত্র এক দিনে তৈরি হয় না। এটি গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে, প্রশ্নে প্রশ্নে, প্রতিবাদে, আলোচনায়, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধায়।
আমাদের সমাজ, আমাদের শিক্ষা, আমাদের রাজনীতি; সবকিছুর কেন্দ্রে যদি থাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হতে পারে একটি প্রগতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র। গণতন্ত্রের পথ কঠিন, কিন্তু দুর্লঙ্ঘ্যনীয় নয়। এটা অনেকটা নদীর মতো, কখনো তীর ভাঙে, কখনো গতি মন্থর হয়। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা আর সমষ্টিগত প্রচেষ্টা যদি আমরা অব্যাহত রাখতে পারি, এই নদী একদিন নিশ্চয়ই সমুদ্রে গিয়ে মিশবে!
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্র নিখুঁত তো নয়ই, এমনকি সবচেয়ে খারাপ ধরনের সরকার ব্যবস্থা। তবে বাকি যেসব ব্যবস্থা এর আগে ছিল বা আছে, সেগুলোর চেয়ে তুলনামূলক ভালো’! জীবনানন্দের যেই ‘সুচেতনা’ কবিতা দিয়ে এই লেখা শুরু হয়েছিল, সেই কবিতার আরেকটি পঙ্ক্তি দিয়েই লেখাটা শেষ করা যাক, “সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে—এ-পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে!’
* আশিনুর রেজা, লেখক ও গবেষক
- ই–মেইল: asinur.reza@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

