Showing posts with label বন্ধুসভা. Show all posts
Showing posts with label বন্ধুসভা. Show all posts

Tuesday, September 3, 2024

লেবাননে নয়, তুষার পাড়ি জমাল অনন্তলোকে by মাহফুজ রহমান

জুবায়ের কবির তুষারকে মাত্র একটি বিশেষণে পরিচয় করিয়ে দিতে হলে ‘খাঁটি দেশপ্রেমিক’ শব্দযুগলই জুতসই। প্রথম আলো বন্ধুসভার নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন তুষার। গড়ে তুলেছিলেন ‘হিমু পরিবহন’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ২০১৬ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসে। গতকাল ২ সেপ্টেম্বর তিনি অনন্তলোকে পাড়ি জমালেন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে। বন্ধুদের পক্ষ থেকে এই লেখার মাধ্যমে তুষারের জন্য ভালোবাসা... 

দিনক্ষণ ঠিক মনে নেই, সম্ভবত ২০০৯ সালের কথা। প্রথম আলোর ঠিকানা তখন সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা। সিএ ভবনের লিফটে ওঠার সারিতে দাঁড়িয়ে আছি। লিফট নেমে এল। দরজা খুলল। নজর কাড়ল একটা হাসিমুখ। ছেলেটার বাঁ গালে টোল। দেখে মনে হলো, সদ্য কৈশোর পেরিয়েছে। অচেনা ছেলেটার হাসিমুখের উত্তরে ভদ্রতার খাতিরে হাসলাম। আর সে হাত বাড়িয়ে বলল, ‘আমি জুবায়ের কবির তুষার, বন্ধুসভার হয়ে গাছ লাগাতে যাচ্ছি, ভাই। দোয়া রাখবেন।’

সেই যে তুষারের হাসিমুখটা দেখলাম, তার পর থেকে খেয়াল করলাম, এই ছেলের মুখে হাসি লেগে থাকে নিশিদিন। শুধু হাসিই নয়, ওর সঙ্গে ‘উদ্যম’ শব্দটাও সেঁটে থাকে সারাক্ষণ। ধীরে ধীরে পরিচয়, খাতির, ঘোরাঘুরি, আড্ডার ফাঁকে বুঝে ফেললাম, এই ছেলে সাংঘাতিক! কারও রক্ত লাগবে, তুষারকে ফোন করো। ঝড়ে আর্ত মানুষের দোরে ত্রাণ পৌঁছাতে হবে, কে কে যাবে? তুষার যাবে। দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতার্তদের গরম কাপড় দিতে হবে? তুষার আছে না! ও যাবে। কারও মন খারাপ? তুষার বলবে, ‘চলো, ঘুরে আসি।’

এই করে করে প্রথম আলো বন্ধুসভার সবচেয়ে আন্তরিক বন্ধুদের অন্যতম হয়ে উঠল তুষার। বয়স, পেশা, সামাজিক অবস্থান—সব ওর কাছে তুচ্ছ। সবাইকে বন্ধু বানিয়ে ফেলার এক আশ্চর্য গুণ ওর সহজাত।

এক সন্ধ্যায় তুষার বলল, ‘ভাই, কোথায় যান?’ বললাম, ‘কাঁটাবন।’

‘একা যাবেন?’

‘হ্যাঁ, একাই তো।’

‘চলেন, আমিও যাব।’

কাঁঠালবাগান ঢাল থেকে রিকশা নিলাম। তুষার বলল, ‘আপনার সঙ্গে আসলাম বলে বিরক্ত হন নাই তো?’

তুষারের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘আরে, ধুর! বিরক্ত হব কেন?’

‘আপনার সঙ্গে কেন আসলাম, জানেন?’

‘কেন?’

‘মানুষের সঙ্গে মিশতে আমার ভালো লাগে, ভাই। আশপাশে মানুষ না থাকলে কেমন যেন খালি খালি লাগে।’

ওটা যে তুষারের মুখের কথা ছিল না, তা খেয়াল করেছি সব সময়। তুষার মানুষের সঙ্গে ছিল আজীবন। তুষার থাকবে আর ওকে ঘিরে একটা জটলা থাকবে না, তা হওয়ার নয়। আর এই গুণে ও বন্ধুসভার নিবেদিতপ্রাণ কর্মী থেকে হয়ে উঠেছিল দারুণ সংগঠক। দলবল নিয়ে ও ছুটে যেত মানুষের উপকারে। ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বন্ধুসভার হয়ে ও যায়নি, এমন জেলা সম্ভবত নেই। ফলে দেশের আনাচকানাচে ওর বন্ধু আর দিকে দিকে সুনাম।

‘বাংলাদেশ জিতবে’

আরেকটা সুনাম ছিল তুষারের—অসম্ভব আশাবাদী। বাংলাদেশ ক্রিকেট ওর ‘জানের টুকরা’–জাতীয় কিছু একটা ছিল। বাংলাদেশের হয়তো ৮টা উইকেট পড়ে গেছে, হাতে আছে ১০টা বল, রান লাগবে ৬০। তারপরও তুষার আশাবাদী, ‘বাংলাদেশ জিতবে!’

আমরা ওর অতি বাড়াবাড়ি আশাবাদ নিয়ে ঠাট্টা করতাম। ক্রিকেট বাদেও অন্য কোনো ক্ষেত্রে কাউকে অসম্ভব আশাবাদী হতে দেখলেই টিপ্পনী কেটে বলতাম, ‘তুমিও দেখি তুষার হয়ে যাচ্ছ!’

অবশ্য আক্ষরিক অর্থে অনেকেই তুষার হয়ে উঠেছিল। ক্রিকেটের মতো হুমায়ূন আহমেদও ছিলেন তুষারের অতি আপন। অন্ধভক্ত যাকে বলে। হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিল তুষার ও তার বন্ধুরা। ছেলেদের কেউ কেউ হলুদ পাঞ্জাবিতে হয়ে উঠেছিল হিমু, মেয়েদের কেউ কেউ নীল শাড়িতে রূপা। ২০১৩ সালের সেদিন বাসে চেপে যেতে যেতেই তুষাররা ঠিক করেছিল, ‘হিমু পরিবহন’ নামে একটা সংগঠন করবে ওরা। তুষার কিছু বলবে আর তা বাস্তব রূপ পাবে না, তা হওয়ার নয়। ঠিকই হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে চালু হলো হিমু পরিবহন।

আর তখন থেকেই তুষার ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ওরা একটা ক্যানসার হাসপাতাল বানাবে। প্রিয় লেখক ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছেন বলেই তুষার একেবারে মরিয়া, যে করেই হোক ক্যানসার হাসপাতাল করতেই হবে। পাগলের মতো নানা প্রতিষ্ঠান, গুণীজনের কাছে ছুটে গেল ও। সবার সহযোগিতা চায়। প্রায় সবাই পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে শুধু প্রতিশ্রুতি পেলেই যে হয় না, তাই তুষার উদ্যোগটার পেছনে লেগে থাকল রাতদিন ২৪ ঘণ্টা! হ্যাঁ, রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই। কারণ, তখন ও ক্যানসার হাসপাতাল ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারছে না। কাছের মানুষেরা শঙ্কিত, ‘ছেলেটা তো পাগল হয়ে যাবে!’
‘হয়ে যাবে, ভাই’

অনেকেই ওকে বোঝাতে লাগল, ‘দেখো, ক্যানসার হাসপাতাল অনেক বড় একটা ব্যাপার, একটু দম নাও।’

কিন্তু কে শোনে কার কথা। তুষার যে ছোট স্বপ্ন দেখার মানুষ না। তাই ওর ‘পাগলামি’ চলতেই লাগল। শেষমেশ না পেরে একদিন ওকে বাসায় নিয়ে বোঝালাম, ও সব শুনে শুধু হাসে আর বলে, ‘জি, ভাই। জি, ভাই।’ কথা যখন শেষ, তখন বলে, ‘কিন্তু ভাই, আমরা ক্যানসার হাসপাতাল করবই! হয়ে যাবে, ভাই!’

এই ‘হয়ে যাবে’ কথাটাও ছিল তুষারের চিরসঙ্গী। ওর কাছে যেন কিছুই অসম্ভব ছিল না। কিছু একটা বললেই বলত, ‘হয়ে যাবে, ভাই!’

লেগে থাকার এই গুণ তুষারের মজ্জাগতই ছিল। আমরা বন্ধুবান্ধবেরা ‘ঝাঁকের কই’ নামে পরিচিত। একবার আমরা ঝাঁকের কইয়েরা গেলাম ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে। পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাতই হয়ে গেল। সঙ্গে মুরগি, মসলা, তেল, লবণ নিয়েছি। বারবিকিউ হবে। কিন্তু আগুন তো আর জ্বলে না! কাঠ একেবারে ভেজা। এদিকে পেটের তর সইছে না। আগুন জ্বালানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিল তুষার। বিএনসিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর) করা তুষার এসবে সিদ্ধহস্ত। আমরা এদিক–ওদিক ঘুরি আর বারবার উঁকি মারি, আগুন কি জ্বলল? তুষার ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে ঠিকই একসময় আগুন জ্বালিয়ে ফেলল।

ওর একই রকম উদ্যম দেখেছি বন্ধুসভার বার্ষিক আয়োজন বন্ধু উৎসবে। দেশের হাজার হাজার বন্ধুর সমাবেশ হতো মৌচাকের জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাঠে। আয়োজনের সব কাজে তুষার সদা তৎপর। গণিত অলিম্পিয়াড, ভাষা প্রতিযোগ, ইন্টারনেট উৎসব, বিতর্ক উৎসব, জিপিএ–৫ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানসহ প্রথম আলোর যেকোনো উদ্যোগে ওকে আমরা পাশে পেয়েছি সব সময়। সাভারের রানা প্লাজা ধসে আহত ব্যক্তিদের সেবায়ও নিবেদিত ছিল তুষার। হিমু পরিবহন যে কেবল ক্যানসার হাসপাতালের স্বপ্ন দেখেছিল, তা নয়; তুষারের নেতৃত্বে একাধিক মেডিকেল ক্যাম্প হয়েছে। ত্রাণ সংগ্রহ করে তুলে দিয়েছে বন্যার্তদের হাতে। এমন আরও কত যে নিঃস্বার্থ উদ্যোগের সঙ্গে তুষারের নাম জড়িয়ে আছে, তা বলে শেষ করা কঠিন! এর চেয়ে ঢের ঢের কঠিন তুষারের অকালপ্রয়াণ মেনে নেওয়া।
তুষারের ‘প্রিয় বাংলাদেশ’

২০১৬ সালে তুষার চলে গেল লেবানন। ছয় মাসের জন্যই গিয়েছিল সেবার। ওর চাকরিটা হয়েছিল লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসে। তবে বরাবরই যা হয়েছে, তুষার যেখানেই গেছে, মায়ার বাঁধনে জড়িয়েছে সবাইকে। ফলে অবধারিতভাবে দূতাবাস ওকে ছাড়ল না। চাকরির মেয়াদ বাড়ল। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ও দায়িত্ব পালন করেছে লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসে কনস্যুলার অ্যাসিসটেন্ট হিসেবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও পরম আপনজন হয়ে উঠেছিল তুষার। রাতদিন সবার পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ নিয়ে নানা আয়োজনের মধ্যমণিও ছিল।

লেবাননে থাকলেও তুষারের মনটা যে পড়ে থাকত বাংলাদেশেই, তা দিব্যি টের পাওয়া যেত ফেসবুকে ওর উপস্থিতি দেখলে। বাংলাদেশে কারও কোনো সাহায্য দরকার, তুষার আওয়াজ দিচ্ছে। পরিচিতদের পাঠিয়ে দিচ্ছে সহযোগিতা করতে। এমনকি গাঁটের পয়সা খরচ করতেও বিন্দুমাত্র ভাবেনি। কখনো কখনো এমনও হয়েছে, বাংলাদেশে থেকেও আমরা যে খবর পাইনি, তুষার তা জেনে বসে আছে!

অথচ আমরা জানতেও পারিনি তুষারের কী অসুখ! সবার খোঁজখবর ঠিকঠাক রাখলেও নিজের ডায়াবেটিস যে এতটা মাথাচাড়া দিয়েছে, তা জানায়নি কাউকে! ও লেবানন থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিল সপ্তাহ দুয়েক আগে। এসেই নানাভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিল বন্যার্তদের সহযোগিতায়। এর মধ্যে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করেছে, আড্ডা দিয়েছে হাসিমুখে।

গতকাল ২ সেপ্টেম্বর লেবাননে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল ওর। অথচ পাড়ি জমাল অনন্তলোকে! তুষার সারাক্ষণ ‘বাংলাদেশ! বাংলাদেশ’ করত। ওর সব চিন্তা–কাজে দেশ আর দেশের মানুষ ছিল আগে। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ওর মৃত্যু হলো প্রিয় বাংলাদেশেই। মাঝেমধ্যে মনে হচ্ছে, এটাই হয়তো আমাদের একমাত্র সান্ত্বনা। আবার পরক্ষণেই মনে হচ্ছে, তুষার চলে গেছে, এর মধ্যে আবার সান্ত্বনা হয় নাকি!

Tuesday, December 17, 2013

আমাদের জাতীয় পতাকা by রবিশঙ্কর মৈত্রী

আদি বা প্রথম পতাকাটি আজকের পতাকার মতো ছিল না। আদি পতাকাটি এঁকেছিলেন স্বভাবশিল্পী ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ। এই পতাকা তৈরির জন্য কাপড় দিয়েছিলেন ঢাকা নিউমার্কেটের অ্যাপোলো টেইলার্সের মালিক বজলুর রহমান লস্কর।
সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান কলাভবনের সামনের পশ্চিম গেটেই বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব। আমাদের সেই আদি পতাকার মাঝখানে হলুদ বৃত্তের মধ্যে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চে তাঁর বাসভবনে, স্বাধীনতা ঘোষণার প্রাক্কালে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।
বিজয়ের পর ১৯৭২ সালে শিবনারায়ণ দাশের ডিজাইন করা পতাকার মাঝে মানচিত্রটি বাদ দিয়ে পতাকার মাপ, রং ও তার ব্যাখ্যা-সংবলিত একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয় পটুয়া কামরুল হাসানকে। কামরুল হাসান আমাদের জাতীয় পতাকার যে রূপ দিয়েছিলেন, সেটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
বাংলাদেশের পতাকা আয়তাকার। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬ এবং মাঝের লাল বর্ণের বৃত্তটির ব্যাসার্ধ দৈর্ঘ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ, পতাকার দৈর্ঘ্যের ২০ ভাগের বাঁ দিকের নয় ভাগের শেষ বিন্দুর ওপর অঙ্কিত লম্ব এবং প্রস্থের দিকে মাঝখান বরাবর অঙ্কিত সরল রেখার ছেদ বিন্দু হলো বৃত্তের কেন্দ্র।
পতাকার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট হলে প্রস্থ হবে ৬ ফুট, লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ২ ফুট, পতাকার দৈর্ঘ্যের সাড়ে ৪ ফুট ওপরে প্রস্থের মাঝ বরাবর অঙ্কিত আনুপাতিক রেখার ছেদ বিন্দু হবে লাল বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু।
পতাকা ব্যবহারের মাপ
ভবনে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো ১০ ফুট বাই ৬ ফুট, ৫ ফুট বাই ৩ ফুট এবং ২৫ ফুট বাই ১৫ ফুট। মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো ১৫ ইঞ্চি বাই ৯ ইঞ্চি এবং ১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি। আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ হলো ১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি।
পতাকার ব্যবহারবিধি
বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সরকারি ও বেসরকারি ভবন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশন ও কনস্যুলেটে পতাকা উত্তোলন করতে হবে। শোক দিবসে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পতাকা অর্ধনমিত রাখার ক্ষেত্রে প্রথমে পতাকা শীর্ষস্থান পর্যন্ত ওঠাতে হবে। তারপর অর্ধনমিত অবস্থানে রাখতে হবে। দিনের শেষে পতাকা নামানোর সময পুনরায় শীর্ষস্থান পর্যন্ত উঠিয়ে তারপর নামাতে হবে।
সরকারের অনুমতি ছাড়া জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা যাবে না। জাতীয় পতাকার ওপর কিছু লেখা অথবা মুদ্রণ করা যাবে না। এমনকি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে কিছু আঁকা যাবে না।
এখন আমরা পোশাকেও পতাকার আলো দেখি। অর্থাৎ আমাদের জাতীয় পতাকার রঙের ব্যবহার লক্ষ করি শাড়িতে পাঞ্জাবি আর কামিজেও। পতাকার চেতনা যে আমাদের মননে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে সে কথা আলাদা করে আর বলবার দরকার নেই। আমাদের জাতীয় পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা মানে মহান মুক্তিযোদ্ধাদেরই সম্মান করা।

Monday, October 28, 2013

এসেছে নবান্ন আজ by অরুণ কুমার বিশ্বাস

হে ম ন্ত>> এ সংখ্যায় ছাপা হলো পাঠক ফিচার হেমন্ত। হেমন্ত ঋতু নিয়ে অনেকেই অনেক লেখা পাঠিয়েছেন। বিদেশে বসেও দেশের এই ঋতু নিয়েস্মৃতিচারণা করেছেন।

Sunday, July 14, 2013

রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী by মহিবুল আরিফ



উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মিরসরাইয়ে প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে উদ্যাপিত হলো রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী।
৬ জুলাই মিরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী উদ্যাপিত হয়।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নির্বাচিত গল্প

সারা দেশের তরুণ গল্পকারদের কাছে একটি সুখবর। এবার আপনাদের গল্প পড়বেন এবং বন্ধুসভার পাতায়প্রকাশের জন্য নির্বাচন-বাছাই করবেন লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। এ সুযোগ নিশ্চয় হাতছাড়া করা যায়না।

সৈয়দ শামসুলহক নির্বাচিত কবিতা

সারা দেশের তরুণ কবিদের কাছে সুখবরই বটে। এবার আপনাদের কবিতা পড়বেন এবং বন্ধুসভার পাতায়প্রকাশের জন্য নির্বাচন-বাছাই করবেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুলহক। এ সুযোগ নিশ্চয় হাতছাড়া করা যায়না।

নদীর মুগ্ধতা by রবিউল ইসলাম

নদীর প্রথম ডুয়েট অ্যালবাম মুগ্ধতা বের হয়েছে সঙ্গীতার ব্যানারে। তাঁর সঙ্গে গান করেছেন এ এফ এম তারিক।
২ জুলাই অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়েছে।

আমি অপেক্ষায় রইলাম by ডানা মির্জা

আমি যখন ওই হেলে পড়া গাছটার ফাঁকে দেখলাম একটা শাড়ির আঁচল অস্থির বাতাসে উড়ে বেড়াতে, বুঝতে অসুবিধা হলো না কে ওখানে। আমি জানতাম, নাহ্! ভুল বললাম, গত রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি সে আমায় বিদায় দেবে, কিন্তু বিদায় তো দেয় মিলনের আশায়।

Sunday, July 7, 2013

অসহায় মানুষের পাশে by রবিউল ইসলাম

২৯ জুন। শনিবার। ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালকের কক্ষ। হুইল চেয়ারে করে একজন রোগীকে আনা হলো। একে একে আটজন রোগী। তাঁরা সবাই সাভার রানা প্লাজাধসে আহত।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে আম উৎসব by আরিফুল ইসলাম

মাঝখানের দেড় কিলোমিটার শুধু বাংলাদেশের। এর দুই পাশেই ভারতীয় সীমানা। মাঝখানে নৌকা ভেড়াতে হবে। তাও সব জায়গায় ঘাট নেই। খাড়া পাড়। ভাঙছে। ঘুরে-ফিরে এক জায়গায় দুখানা নৌকা ভিড়ল।

অন্য রকম আড্ডা by সজীব মিয়া

সেদিন সন্ধ্যায় ঢাকার বেঙ্গল ক্যাফে ঠিক আর দশ দিনের মতো ছিল না। বাইরে বলা নেই কওয়া নেই আষাঢ়ের কান্না। এই কান্নার জল ফাঁকি দিয়ে অথবা মুছতে মুছতে যাঁরা ক্যাফেতে ঢুকছেন, তাঁরা বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরের বন্ধু।

লেখকবন্ধু ফারজানা by মাহফুজ শাহিন

পত্রিকার ছোটদের পাতায় তাঁর প্রথম লেখা ছাপা হয়। সেই থেকে লেখালেখি শুরু। তখন সবে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
একসময় প্রায় সব জাতীয় দৈনিকের ছোটদের পাতায় নিয়মিত লিখেছেন।

ফেরা by ইব্রাহীম রাসেল

বাতিটা নেভাও, ঘুমাব। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। পারলে কপালটা একটু টিপে দাও। কিছুটা ক্লান্তিমাখা কণ্ঠে কথাগুলো বলল আনিতা। যাকে বলল সে আর কেউ নয়, আনিতার জীবনের সবকিছু জড়িয়ে যার বসবাস।

Sunday, June 23, 2013

ওগো বৃষ্টি তোমার

রংপুর: বর্ষাকে বরণ করে নিতে ১৫ জুন রংপুর বন্ধুসভা স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজন করে বর্ষা উৎসবের। ‘মেঘেরো ডমরু ঘন বাজে’—পার্থপ্রতিম রায়ের কণ্ঠে গানটি চমৎকার আষাঢ়ের পরিবেশ তৈরি করে; যদিও সেদিন আকাশ ছিল নীল।

দূরে কোথাও by নুসরাত শাহ্পার

সবকিছু অন্ধকার মনে হয় মুনিয়ার। তবু তড়িঘড়ি বিছানা থেকে উঠে মুখে একটু পানির ছিটা দিয়েই আলমারির দিকে এগোতে থাকে। আলমারি থেকে নেওয়া কাপড়গুলো অনেকটা ছুড়েই স্যুটকেসে ফেলছে সে।

হিমুর অগ্নিস্নান by শামীমা ইয়াসমীন

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন, গিটার বাজাবেন নিজের গড়া ব্যান্ডে। সময়টা ২০০৯ সাল। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেবল যাত্রা শুরু করেছে। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিমুর সেই স্বপ্ন চলে আসে বাস্তবের আলোয়।

প্রিয় প্রিয়াংকা by রবিউল ইসলাম

তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়েন। বাবা এক দিন কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে নিয়ে যান। বাবার উৎসাহে সেদিনই প্রথম আবৃত্তি করা।
প্রিয়াংকা সেখানে প্রথম স্থানটি দখল করে নেন। শুরু হয় তাঁর পথচলা।

যাত্রাবাড়ী বন্ধুসভার আলোর পথের যাত্রীরা by রানা শিকদার

সাভারের রানা প্লাজার সপ্তম তলায় কাজ করতেন রোমানা আক্তার। ভবনে ফাটল ধরায় কারখানায় ঢুকতে চাননি সেদিন। চাপের মুখে পড়ে ঢুকতে হয়। ঘড়িতে তখন সাতটা ১৫ বাজে। রোমানার গলা শুকিয়ে আসছিল। মেশিন চলছিল।

Sunday, February 3, 2013

ধরেই আছি by ফারিয়া রহমান

আবীরের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব প্রায় তিন বছরের। একজন ভালো বন্ধু হিসেবেই মনে করেছি ওকে সব সময়। একদিন রাতে ওর সঙ্গে মেসেজ আদান-প্রদান করছিলাম। ও একটা ব্যাপার নিয়ে একটু দুশ্চিন্তায় ছিল।

কল নয় by উম্মে মাবরুরা

জীবনের প্রথম ক্লাস নার্সারিতে পড়তাম তখন। ভালো করে ইংরেজি বানান করতে পারতাম না। আম্মুর কছে বেশ মার খেয়েছি সে জন্য। কিন্তু পরীক্ষায় ফার্স্ট-সেকেন্ড হতাম বরাবরই। একদিনের ঘটনা। আম্মু শোবার ঘরে ফোন রেখে রান্নাঘরে কাজ করছেন। হঠাৎ আম্মুর মোবাইলে একটা ফোন এল।