Tuesday, May 1, 2018

বিএনপির বিদেশনীতিতে অগ্রাধিকার পাচ্ছে চীন by সালমান তারেক শাকিল

বিএনপির নতুন বিদেশিনীতিতে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চীনকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যসম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে দেশটির সঙ্গে ইতোমধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। একইসঙ্গে ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতি’ প্রশ্নে চীনের ভূমিকা চাইলেও প্রকাশ্যে বিষয়টি সম্পর্কে নীরবতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলটির কূটনৈতিক উইংয়ের নির্ভরযোগ্য একাধিকসূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 
দলটির কূটনৈতিক উইংয়ের দায়িত্বে থাকা নেতারা বলছেন, বাংলাদেশ-চীনের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও বেশি ‘বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক’ করার তৎপরতা থাকবে বিএনপিতে।
এই বছরের মার্চে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের নতুন রাষ্ট্রদূত ঝাং জাও বলেছেন, ‘ঢাকার রাজনীতির ওপর বেইজিং নজর রাখছে। বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় চীন।’
জানা  গেছে, সিল্করুট নিয়ে ‘ভারতের স্বার্থ’ বিবেচনা করে ‘ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশল’ প্রণয়ন করবে বিএনপি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চীন সফর করার কথা রয়েছে। 
বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আন্তর্জাতিক সম্পাদক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রসার বাড়ানো হবে। আওয়ামী লীগের সময়ে সম্পাদিত চুক্তিগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে।’
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বিএনপির প্রতি চীনকে আগ্রহী করে তুলতে বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নির্বাচনের আগেই গভীর সমুদ্রবন্দরের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব জানিয়ে রাখবে দলটি।
বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘চীনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পর্ক তৈরি করার জন্য বিএনপির চীন-দৃষ্টিভঙ্গিই সবচেয়ে বড়। বিএনপি ‘ওয়ান চায়না প্রিন্সিপালে’(এক চীন নীতি) এবং আওয়ামী লীগ ‘ওয়ান চায়না পলিসি’তে বিশ্বাস করে।  সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘ওয়ান চায়না পলিসি’তে বিশ্বাস করতেন।’’ আর ‘এই নীতির কারণেই চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ  বিএনপি’—এমন বিশ্বাস এই নেতার।
বিএনপি নেতারা বলছেন, ১৯৭৬ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে চীনের আন্তরিক সম্পর্কের সূচনা। ওই সময়ে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের  উদ্যোগের কারণেই চীন এগিয়ে আসে।  এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহাচীনের সঙ্গে বিএনপিই নয় কেবল, বাংলাদেশেরও সম্পর্ক অনেক গভীর-আন্তরিক। তারা আমাদের দেশে অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্যে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, যার সূচনা হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আন্তরিক সদিচ্ছায়।’
এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক তারেক শামসুর রহমানের  ‘চার দশকের পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক প্রবন্ধের কথা। ওই রচনায় তিনি  লিখেছেন, ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রশ্নে তার (জিয়াউর রহমান) অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি চীনের সঙ্গে শুধু সম্পর্ক বৃদ্ধিই করেননি, বরং বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে চীনের উপস্থিতিকে প্রয়োজনীয় করে তুলেছিলেন।’
তারেক শামসুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, ‘বেগম জিয়ার (১৯৯১-৯৬, ২০০১-২০০৬) বৈদেশিক নীতির উল্লেখযোগ্য দিক ছিল—চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া।’
এদিকে, এসময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে বিএনপির কূটনৈতিক উইংসূত্র জানায়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও চীনকে প্রাধান্য দেওয়ার একটা সিদ্ধান্ত ছিল। দলটির নেতারা মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের অংশগ্রহণই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ কর মিয়ানমারে চীনের বিনিয়োগ থাকায় রোহিঙ্গা-সংকট সমাধানে দেশটিকে সামনে আনতে চেয়েছিল বিএনপি। যদিও ‘ভারত নাখোশ’ হবে—এমন আশঙ্কায় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এ অবস্থান থেকে সরে আসে।
সূত্রগুলো জানায়, রোহিঙ্গা-সংকট মোকাবিলায় চীনকে সামনে আনার প্রস্তাব না করলেও অর্থনৈতিক-রাজনৈতিকভাবে দেশটির হস্থক্ষেপকে অনেকটাই সাধুবাদ জানাতে প্রস্তুত বিএনপি। যদিও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তারেক শামসুর রাহমান লিখেছেন, ‘চীনের পররাষ্ট্রনীতি এখন ব্যবসানির্ভর। ‘আইডোলজি’ এখানে প্রাধান্য পায় না। ফলে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো কিংবা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আগ্রহ সবকিছুই আবর্তিত হচ্ছে চীনের ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণের আলোকে।’
বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ে একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের দেশগুলোকে আহ্বান জানানো গেলেও চীনের সহযোগিতা চাওয়ার তেমন সুযোগ নেই। ফলে, নির্বাচনে চীনের কাছ থেকে বিএনপির প্রাপ্তির কিছু নেই।’
বিএনপির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জোট সরকারের সময় ঢাকায় তাইওয়ানের কনসুল ওপেন করাকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি। যদিও এরইমধ্যে দেশটির সঙ্গে এই সংকট কাটিয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন দলটির নেতারা। বিশেষ করে ২০১২ সালে বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া চীন সফর করেন। ওই সময়  দুই দলের হৃদ্য সম্পর্ক আরও বেড়ে যায়। বিএনপির কূটনৈতিক কোরের অন্যতম সদস্য শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে এটা কেটে গেছে। এরপর তো খালেদা জিয়া চীন সফরে গেছেন। তাকে ভিআইপি রিসিপশন দিয়েছে চীন।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের একজন সদস্য জানান, ২০১২ সালের অক্টোবরে খালেদা জিয়া চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে দেশটিতে সফরে যান। সফরকালে তিনি চীনের রাষ্ট্রীয় ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। খালেদা জিয়ার চীন সফরের একদিন পর বিএনপি ঘোষণা দেয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে চীন সরকারের বিনিয়োগের বিষয়ে খালেদা জিয়াকে নিশ্চিত করেছেন চীনা নেতারা।  
এ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দলীয় প্রধান কয়েকবার চীন সফর করেছেন। ফলে এখন চীনের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক খুব স্বাভাবিক রয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির কূটনৈতিক কোরের সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক  শামা ওবায়েদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চীনের বিদেশনীতি হচ্ছে নন ইন্টারফেয়ারিং। তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইন্টারফেয়ার করে না। তারা তাদের বাণিজ্য নিয়ে বেশি ইন্টারেস্টেড। বাংলাদেশের সব সরকারের সময়েই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধারাবাহিক ছিল চীনের।’ বিএনপির সঙ্গেও সেই সম্পর্ক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিয়েতে কি শারীরিক সম্পর্ক থাকতেই হবে?

বিয়ে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে উস্কে দিয়েছে বোম্বে হাইকোর্টের একটি রায়।
মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের এক দম্পতির দীর্ঘ ন'বছর আগে বিয়ে হলেও এই সময়ের মধ্যে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের কোনও প্রমাণ মেলেনি, এই যুক্তিতে তাদের বিয়ে খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
ওই বিয়ের ঠিক পরপরই স্ত্রী আদালতে এই মর্মে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তাকে ধোঁকা দিয়ে ওই বিয়েতে রাজি করানো হয়েছে। তিনি বিয়ে ভেঙে দেওয়ার আবেদন জানালেও স্বামী তাতে রাজি হননি।
মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর মুম্বাই হাইকোর্ট বলেছে, যদিও ওই মহিলাকে প্রতারিত করা হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি - তা সত্ত্বেও যেহেতু বিবাহিত জীবনে তাদের মধ্যে কোনও শারীরিক সম্পর্কও ঘটেনি তাই সেই বিয়েও অর্থহীন।
বিচারপতি মৃদুলা ভাটকর তার রায়ে বলেন, "যে কোনও বিয়ের একটি অন্যতম প্রধান উপাদান হল স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক। আর সেটা যদি অনুপস্থিত থাকে তাহলে বিয়ের একটা মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ প্রতিপন্ন হয়।"
নিয়মিত যদি না-ও হয়, অন্তত একবারের জন্যও স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে যৌন মিলন যে কোনও বিয়েকে বৈধতা দেয় বলেও বিচারপতি ভাটকর মন্তব্য করেন।
মামলার শুনানিতে স্বামী অবশ্য দাবি করেছিলেন তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক ছিল - এমন কী তার ফলে তার স্ত্রী না কি একবার সন্তানসম্ভবাও হয়ে পড়েছিলেন।
কিন্তু সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে গায়নোকলজিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, বা তার প্রেগনেন্সি টেস্ট করানো হয়েছিল - এরকম কোনও প্রমাণ পেশ করতে না পারায় আদালতে সেই দাবি ধোপে টেকেনি।
ফলে ২০০৯ সালে যে বিয়ে হয়েছিল, তাতে আজ অবধি একদিনের জন্যও কোনও শারীরিক সম্পর্ক না হওয়ায় সেই বিয়ের বিচ্ছেদ হওয়াই সমীচীন বলে মনে করেছে মুম্বাই হাইকোর্ট।
সুত্র: বিবিসি বাংলা

বিএনপির বিদেশনীতি: বদলে যাচ্ছে ভারতবিরোধী অবস্থান by সালমান তারেক শাকিল

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে শুধু ‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ সম্পর্ক না রেখে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীল সম্পর্ক সৃষ্টিতে আগ্রহী বিএনপি। এক্ষেত্রে বৈদেশিক নীতিতে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ‘সর্বজনীন নীতি’ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে ‘প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী’ প্রচার থাকলেও ভেতরে-ভেতরে এই অবস্থান পাল্টাতে শুরু করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র নেতাদের একটি ক্ষুদ্র অংশ ‘যেনতেনভাবে’ ভারতকে বুঝিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চিন্তা করলেও বড় অংশটি চায় এই ‘ফেনোমেনা’ থেকে বেরিয়ে যেতে। বিশেষ করে, দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থগত সংঘর্ষের বিষয়টি মাথায় রেখে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য চায় বিএনপি। দলটির আগামী দিনের বিদেশনীতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে এ বিষয়টি জানা গেছে।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিএনপির পররাষ্ট্র উইং কাজে নেমেছে। বিশেষ করে, পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে কেন্দ্র করে জোরদার হয়েছে দলটির বিদেশনীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া। উইংয়ের দায়িত্বশীল ও বিগত দিনে দলটির বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে থাকা সম্পর্ক বিচার-বিশ্লেষণ করে এ বিষয়গুলো উঠে আসে। দলীয়ভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের দিকটি দেখভাল করার দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই উইংয়ে কাজ করছেন ব্যবসায়ী নেতা, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।
কূটনৈতিক উইংয়ে একটি অংশ বলছে, এই বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ভারতের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেছে বিএনপি। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের ভারত সফর, প্রতিবেশী দেশটির বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনগুলোও আমলে নিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারকরা। একইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব আমলে নিয়ে প্রয়োজনে বিএনপি তাদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করবে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটি আমাদের প্রতিবেশী কোনও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’ যিনি ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার (সিইউএফএল) জেটিঘাটে ১০ ট্রাক অস্ত্র খালাসের সময় বিএনপি-জোট সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। ওই মামলায় তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর দণ্ডিত হয়েছেন।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির কাঙ্ক্ষিত সম্পর্কের বিষয়টি গত কয়েক বছরে একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিল, ভিশন ২০৩০ ঘোষণা ও কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যেও উঠে আসে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের মাটিকে কোনোভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না—এমন ভাষ্যও দলটি দিয়ে এসেছে। ‘ভিশন ২০৩০’-এর পররাষ্ট্রনীতি’র একটি অংশে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি অন্য কোনও রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও অন্য কোনও রাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করবে না।’ মূলত ২০১২ সালের শেষদিকে ভারতবিরোধী অবস্থান থেকে বিএনপির সরে আসার ইঙ্গিত মেলে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর ভারত সফর করেন চেয়ারপারসন। ওই সফরে তিনি তৎকালীন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, বিরোধীদলীয় নেত্রী সুষমা স্বরাজ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ, পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই, জাতীয় নিরপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা শিবশংকর মেননের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকেও বিএনপি চেয়ারপারসন বাংলাদেশের মাটিকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যবহার করতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন।’
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেননি খালেদা জিয়া। জামায়াতের হরতালের কারণে তিনি সাক্ষাৎ করতে যাননি।
কূটনৈতিক উইংয়ের সূত্র বলছে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ভারতকে সন্তুষ্ট করা না গেলেও ‘রাগানোর’ বিপক্ষে। এর প্রতিফলন ঘটেছে গত মার্চের শেষ দিকে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিএনপির তরফে চীনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এর সমাধান চেয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। দলের কূটনৈতিক উইংয়ের এই পরিকল্পনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন লন্ডন প্রবাসে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভারতকে কোনোভাবেই চটানো যাবে না, এ মর্মে রোহিঙ্গা-সমাধানে প্রস্তাব থেকে বিরত রয়েছে বিএনপি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিএনপির কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, ‘ভারতবিরোধী কোনও স্ট্যান্ড নেই। ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কথাই বলা হচ্ছে। কংগ্রেস ক্ষমতাকালে ভারতের সঙ্গে যে সম্পর্ক ছিল, তার থেকে এখন কিছুটা ভিন্ন। তবে কতটুকু পরিমাণ, সে হিসাব করা শক্ত। পাবলিকলি তারা বলে যে আমরা তাদের প্রতিবেশী।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি হয়তো টের পেয়েছে যে ভারতের সহায়তা ছাড়া আমরা (বিএনপি) জিততে পারবে না। অথবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন হবে না। আওয়ামী লীগের মতো ভারত তাদের (বিএনপিকে) তেমন পছন্দ করে না।’
জানা গেছে, ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ, বাণিজ্য প্রসার, পানিবণ্টন প্রক্রিয়া, ট্রানজিট চুক্তিগুলোর বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেবে বিএনপি। এই সম্পর্কগুলোকে কো-অপারেশনের ভিত্তিতে টলারেবল জায়গা নিয়ে যাওয়ার পক্ষে বিএনপি। আর এই সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুধু নির্বাচনকেই বেছে নেবে না দলটি। দলটির ক্ষুদ্র একটি অংশ এখনও ভারতকে বুঝিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করলেও শীর্ষমহল ও তরুণরা এই সম্পর্কে অনাগ্রহী।
বিএনপি চায় আগামীতে ভারত সীমান্তে স্থায়ীভাবে মানুষহত্যা বন্ধ করুক। দেশটিকে এই মানসিকতা দৃঢ়ভাবে পোষণ করতে হবে বলে মনে করে দলটি।
ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া নিয়েও বিএনপির অভ্যন্তরে কোনও আপত্তি নেই। এক্ষেত্রে ভারতকেও ছাড় দেওয়ার বিষয়টি মনে করিয়ে দেবে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, চায়না থেকে মাত্র ৭/৮ ঘণ্টায় মালামাল আনতে ভারতকে অবশ্যই বাংলাদেশকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। আর এ কারণে ভারতকে ট্রানজিট দিতে বিএনপি নেতৃত্বের কোনও বাধা নেই।
তিস্তাচুক্তিসহ ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সম্পর্কে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘তিস্তা, ট্রানজিট, এগুলো আরও অন্য বিষয়গুলো টেবিলের ওপর থাকবে। এগুলো সমাধান করতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়নের স্বার্থে এসব বিষয়ের সমাধান করা দরকার। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’
দলীয় কূটনৈতিক উইং বলছে, ভারত প্রতিবেশী দেশ হওয়ার পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে ঢাকার স্বার্থগত সম্পর্ক বেশি। বিশেষ করে পৃথিবীর অন্যান্য ছোট প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো তাদের পার্শ্ববর্তী বড় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এক ধরনের ‘ভালোবাসা-ঘৃণা’র সম্পর্ক রয়েছে। এই বিবেচনায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কও একই বৃত্তাবদ্ধ। এছাড়া দেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের দিকটি বিবেচ্য হয়ে আসছে। এ কারণেই বিএনপির ফরেইন উইংয়ের একটি শক্তিশালী পক্ষ চায়, বাংলাদেশ-ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশেষ কোনও গোষ্ঠী বা পক্ষের সঙ্গে না হোক। উভয় দেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে কেবল সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পর্ক থাকবে, কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গে নয়। এটা হচ্ছে সত্যিকার সম্পর্ক। এটাই হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক। অন্য সব সম্পর্ক যেগুলো হয়, সেগুলো আন্ডার দ্য টেবিল। এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সম্পর্ক আরও ক্ষতি করে।’
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘ভারতের কোনও একটি পক্ষ যদি সেদিকে যায়, তাহলে সেটা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হবে। কারণ, সম্পর্ক হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক। এখানে কোনও বিশেষ গ্রুপ বা দল বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক হলে বাংলাদেশের মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হবে।’
কূটনৈতিক উইংয়ের সূত্রটির ভাষ্য, উপমহাদেশের প্রায় সব রাষ্ট্র বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণভাবে বহুদলীয় ঐক্য স্থাপন করেছে। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও মায়ানমার—এই রাষ্ট্রগুলো পরস্পরের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সম্পর্ক সমন্বয় করছে। এদিক থেকে বিএনপিও আগামী নির্বাচনের আগে প্রত্যেকটি প্রতিবেশী দেশকে কনভিন্স করতে চায় নতুন এই অবস্থান সম্পর্কে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘‘বিদেশিরা স্বার্থহীন কোনও সম্পর্ক গড়ে তোলে না। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে যেকোনও সরকারের বেলায় ‘জাতীয় পলিসি’ এক থাকে। আমাদের এখানে এক দল আরেক দলকে পর্যুদস্ত করতে চায়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’’

মাঠজুড়ে বোরো ধানে ব্লাস্ট, বিপাকে কৃষক

চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলায় বোরো ধানের আবাদে ছত্রাকজনিত ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের আক্রমণ ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছে। এর কারণে ধানের শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এ মৌসুমে বোরো ধান চাষ করে খরচ উঠাতে না পারায় এখন তারা লোকসান গুনছেন। অনেকে ঋণ নিয়ে ধানের আবাদ করেছেন। ধান না হলেও কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন সেটি নিয়েও দুশ্চিন্তায় অনেকে।
আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ:
গাজীপুর
চলতি বোরো মৌসুমে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত

শ্রীপুর উপজেলার টেংরা গ্রামের বর্গা চাষি আব্দুল হামিদ জানান, ধারদেনা করে এবারও প্রায় এক একর জমিতে তিনি বোরো আবাদ করেছেন। জমিতে সবুজ ধান গাছের চারা দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন। কিন্তু ধানের ছড়া বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাতাগুলো বাদামি আবার কখনও সাদা বর্ণের হওয়া শুরু করে। কিছুদিন পর থেকে ছড়ার গোড়ার অংশে কালো হয়ে ধানের ছড়াটাও বাদামি ও সাদা বর্ণের হতে লাগে। পরে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে জমিতে ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগ করলেও কোনও কাজ হয়নি। এক একর জমির ধান কাটার খরচ পড়বে ৯ হাজার টাকা। খড় পাওয়া যাবে ৬ হাজার টাকার। খড় বাঁচাতে গেলেও তিন হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।
এ চিত্র শুধু চাষি আব্দুল হামিদেরই নয়, তার মতো অনেক চাষি রয়েছেন শ্রীপুরে, যাদের বোরো আবাদ নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে ধ্বংস হয়ে গেছে।
শ্রীপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, ‘এবার শ্রীপুর উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণের পরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ’
তিনি কৃষকদের অভিযুক্ত করে বলেন, ‘কৃষকেরা নিয়ম মেনে ওষুধ প্রয়োগ করেন না। জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি হলেও এ রোগের আক্রমণ ঘটে। প্রথমে ধানের পাতা পরে ধান গাছের গিঁটে ও সবশেষে শীষে এ রোগের আক্রমণ দেখা দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধান গাছে আক্রমণের পর ন্যাটিভো, ডাইমেনশন, ফিলিয়া জাতীয় ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়।’
সাতক্ষীরা
ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত

সাতক্ষীরায় চলতি বোরো মৌসুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে। বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হলেও ‘ব্লাস্ট’ (ছত্রাক)-এর আক্রমণে সাতক্ষীরার কিছু এলাকায় কৃষকের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ফসল সংগ্রহের আগ মুহূর্তে সাতক্ষীরা জেলার প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমির ধানে ব্লাস্টের আক্রমণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলার ৭৩ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭২ মেট্রিক। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৯৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিক টন, কলারোয়ায় ৪৮ হাজার ৪৮৫ মেট্রিক টন, তালায় ৭২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন, দেবহাটায় ২৪ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টন, কালিগঞ্জে ২১ হাজার ৭৯৬ মেট্রিক টন, আশাশুনিতে ২৫ হাজার ১৮৪ মেট্রিক টন এবং শ্যামনগরে ৫ হাজার ৭১৮ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা নিজ উদ্যোগে ৭৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বোর ধানের বাম্পার ফলন হবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৃষক খলিলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধান পাকার সময় ব্লাস্ট রোগ দেওয়া আধাপাকা ধানগুলো চিটা হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে অনেকে আধাপাকা ধান কেটে ফেলছে। এদিকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মজুরিও বেড়ে গেছে। এখন ৪ ঘণ্টার জন্য শ্রমিকদের ২শ’ থেকে ২৫০ টাকা পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। তারপরও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ’
তবে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আবহাওয়ার কারণে অর্থাৎ দিনে গরম, রাতে ঠাণ্ডা, মেঘলা আবহাওয়া, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং বাতাসের কারণে কিছু কিছু এলাকার ফসলে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছিল। কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখায় ও পরামর্শ দেওয়ায় এ রোগ বাড়তে পারেনি। এ কারণে ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনও প্রভাব পড়বে না। এ বছর জেলায় ৭৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার হেক্টর বেশি। এ রোগ যাতে ছড়াতে না পারে সে জন্য বিভিন্ন প্রচার প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।’
ঝিনাইদহ
ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত

চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ব্রি-২৮ ও নতুন জাতের ব্রি-৬৩ ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ কারণে ক্ষেতের ধানের শীষ শুকিয়ে চিটে হয়ে গেছে। এতে এই দুই জাতের ধান চাষ করে এখন কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ১৮ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ এবং ১ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে নতুন ব্রি-৬৩ জাতের ধানের চাষ হয়েছে।
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক মুক্তার হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে দুই বিঘা জমিতে ব্রি-৬৩ জাতের ধানের চাষ করেছেন। ধানের শীষও বের হয়েছে। কিন্তু নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তার ক্ষেতের বেশিরভাগ ধানের শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে চারবার স্প্রে করেও তিনি কোনও ফল পাননি। এখন তিনি কী করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।
তার পাশ্ববর্তী বেলে পাড়া গ্রামের নিখিল কুমার জানান, তার ১৫ কাঠা জমিতে ব্রি-৬৩ জাতের ধান শীষ বের হওয়ার পর নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে প্রায় ৭৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম বলেন, ‘মূলত দিনে গরম আর রাতে শিত থাকায় ব্লাস্ট রোগ ছড়ায়। এছাড়া জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহারের ফলে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। রোগ প্রতিরোধে আগে থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, মসজিদ ও লোকসমাগম হয় এমন স্থানে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা রোগ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন।’ এই উপজেলায় মাত্র দেড় হেক্টর জমির ধান এই রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জামালপুর
ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত

জামালপুরের সাত উপজেলায় ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধানক্ষেতে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগের দেখা দিয়েছে। বন্যায় আমন ধানের ফলন হারানোর পর বোরোতে ভরসা রাখা কৃষকদের এখন ঘিরে ধরেছে এই ধান হারানোর আশঙ্কাও। ফলে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বছরের খাবার কীভাবে জুটবে, সেই দুঃশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-২৮ জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৪৭ হাজার হেক্টর জমিতে। অন্য জাতের ফলন ভালো হলেও ব্রি-২৮ জাতের ক্ষেতে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে ব্লাস্ট রোগ। এতে অধিকাংশ জমির ধানের শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। আক্রান্ত জমিতে শীষ থাকলেও তাতে নেই চাল।
জেলায় চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় ৩.২০ হেক্টর, ইসলামপুর উপজেলায় ৩.২০ হেক্টর, মাদারগঞ্জ উপজেলায় ২.৫৫ হেক্টর, সরিষাবাড়ী উপজেলায় ২.৬০ হেক্টর, মেলান্দহ উপজেলায় ৩.১০ হেক্টর, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ২.৪৫ হেক্টর ও বকশীগঞ্জ উপজেলায় ২.৫০ হেক্টর জমির বোরো ফসল ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের মেঘারবাড়ী গ্রামের কৃষক মো. হেলাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার এলাকায় যারাই এবার ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন, তাদের সবার ফসলই ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’
জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর, লাহিড়িকান্দা, গোবিন্দপুর, নান্দিনা, শ্রীপুর এলাকাতেও বহু ধানক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন, রফিক উদ্দিন, ফালু মণ্ডল জানান, যারাই আগাম জাতের বিআর-২৮ ধান আবাদ করেছেন, তাদের সবার ক্ষেতেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্লাস্ট একটি ছত্রাকজনিত রোগ। বোরো ও আমন মৌসুমে সাধারণত এই রোগটি দেখা দেয়। ব্লাস্ট রোগে যেন ক্ষেত আক্রান্ত না হয়, সেজন্য আমরা সঠিক সময়ে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রচারপত্র বিলি করেছি। তারপরও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ব্লাস্ট ছড়িয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, এই রোগটি আর ছড়াবে না।’
গাইবান্ধা
ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত

ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিস্তীর্ণ বোরো ধানের ক্ষেত। এ রোগের কারণে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধানের শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে একদিকে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ, অন্যদিকে ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতিতে দিশেহারা চাষিরা। এমন পরিস্থিতিতে লোকসানের আশঙ্কা এবং মাথার ওপর থাকা ঋণের বোঝা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় জেলার কৃষকরা।
গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোর মৌসুমে গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোর ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু জেলায় আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। জেলায় চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টন।
ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানক্ষেত গাইবান্ধার সদর ও সাদুল্যাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, এর আগে দু’দফায় বন্যায় তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই ব্যাংক ঋণ আর ধারদেনা করে চড়া দামে চারা কিনে বোর ধানের আবাদ করেন তারা। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। শুরুতে দু-একটি জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলেও আস্তে আস্তে বেশিরভাগ জমিতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ধান পাকার আগেই শীষ সাদা ও চিটা হয়ে যাচ্ছে। রোগ দমনে তেমন কোনও উদ্যোগ নেই কৃষি বিভাগের। মাঠপর্যায়ে থাকা কৃষি বিভাগের দু-একজনের কাছে পরামর্শ নিয়ে ছত্রাক জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনও সমাধান পাচ্ছেন না তারা।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আ ক ম রুহুল আমীন বলেন, জেলায় মাত্র ৫০০ হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তবে সমস্যা সমাধানে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের স্প্রে ব্যবহার করাসহ নানা পরামর্শ দিচ্ছে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।’ তাছাড়া এ রোগ মোট উৎপাদনে কোনও ঘাটতি হবে না, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চালের উৎপাদন অর্জিত হবে বলে আশা করছেন তিনি।

‘ক-খ কইয়া আইয়া পড়ছি’ by সঞ্চিতা সীতু

শিশু শ্রমিক মাহবুব (লাল জামা পরিহিত)
শিশুটির বয়স কতই আর হবে? এগারো-বারো।  নাম জানতে চাইলে জানালো—মাহবুব। আগে-পরে আর কিছুই নেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছেই লেগুনার গ্যারেজ। প্রতিদিন সকালে সেখানেই সে চলে আসে। ফেরে গভীর রাতে। এই শহরেই মাহবুবের বাবা সিএনজি অটোরিকশা চালান। মা থাকেন টাঙ্গাইলের কালিহাতির নরদাই গ্রামে। বছর দুই আগে কাজে যোগ দেওয়া মাহবুবের আয় এখন দৈনিক ৬৬ টাকা। মাস শেষে দুই হাজার টাকায় দাঁড়ায়। লেখাপড়া কতটুকু করেছে, জানতে চাইলে ঝটপট সে জানায়, ‘হ্যাঁ, গিয়েছিলাম।  ক, খ কইয়া আইয়া পড়ছি।’
শুধু মাহবুব নয় রাজধানীর লেগুনাগুলোতে হেলপার তো বটেই চালকদের আসনেও বসছে তার বয়সী শিশুরা। শিশু অধিকার বিষয়ক কর্মীরা বলছেন,  কম মজুরি পরিশোধ করতে হবে বলেই মালিকরা এই সুযোটি কাজে লাগাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
বারো বছরের শরীফ চার বছর আগে ঢাকায় এসেছিল। সেও লেগুনার হেলপার। প্রতিদিন সকালে উঠে ‘এই যাত্রাবাড়ী-যাত্রাবাড়ি, সদরঘাট-সদরঘাট বলে শুরু হয় তার হাঁকডাক।  রাতে ঘরে ফেরার আগেও সেই একই বুলি আওড়ে বাড়ি ফেরে। কখনও ভাড়া তোলে, তখনও ড্রাইভারকে পথ চলতে সাহায্য করে। এই ছকেই কাটে মাসের ৩০ দিন। বাড়িতে বাবা-মা আছেন। ছোট শরীফের কাঁধে সংসারের ভার। নিজের আয় থেকে বাঁচিয়ে সংসার খরচের টাকা পাঠায়। ছোট হাতের বড় আয়ে বাবা-মায়ের সংসার চলে ফেনীর এক গ্রামে।
শিশুশ্রমিক শরীফ
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অডিনেটর আবদুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের  অন্যতম মূলনীতি হচ্ছে বৈষম্যহীন। বাংলাদেশও এই সনদে অনুস্বাক্ষর করেছে। এখানে রাষ্ট্রের একটি কাঠামো দরকার। আমাদের দেশে সুবিধাপ্রাপ্ত ও সুবিধাবঞ্চিত সব শিশুকে সমান চোখে দেখার জন্য যে রাষ্ট্রীয় সামাজিক কাঠামোটা দরকার, সেটি নেই। একেবারে ওপর থেকে বললে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে। কিন্তু শিশুদের আলাদা করে দেখভাল করার জন্য কোনও অধিদফতর নেই। মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর রয়েছে। তার জেলা পর্যায়ে কার্যালয় রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় রয়েছে। যেখান আমার বলছি যে, ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ শিশু সেখানে তাদের জন্য আলাদা কোনও কার্যালয় নেই। শিশু সুরক্ষার জন্য কিছু নেই। তিনি বলেন, বৈষম্যের ক্ষেত্রে আমরা যত কথাই বলি না কেন, এখন পর্যন্ত নিজের সন্তান ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানকে সমান চোখে দেখি না। আমাদের  মানবিকতার, মূল্যবোধের আরও চর্চা করতে হবে। না হলে আমার শিশুর স্কুল ব্যাগ বয়ে নিয়ে যাবে, তারই সমান বয়সের আরেক শিশু। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আর হতে পারে না। পুরো বিষয়টি মানবিকতার। এক্ষেত্রে বড় ধরনের সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।’
শিশুশ্রম সম্পর্কে শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আব্দুস শহিদ মাহমুদ বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগী শিশুরাও নানা সংকটে পড়ছে। সব ধরনের শিশুর সুবিধা দিতে, তাদের নিরাপত্তা দিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অর্থনৈতিক কারণে যদি কোনও শিশু পড়াশুনা না করে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে, সেটি দেখাও সমাজের দায়িত্ব। সেও যেন পড়াশোনার সুযোগ পায়।’

দুর্ঘটনায় বিচ্ছিন্ন অঙ্গ ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত লাগানোর সুযোগ থাকে by তাসকিনা ইয়াসমিন

সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা কোনও দুর্ঘটনায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শরীরের হাত বা পা সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত লাগানোর জন্য সময় পাওয়া যেতে পারে। এরপর আর সেটি লাগানোর উপযোগী থাকে না। তবে, এটি থেতলে গেলে বা নোংরা হয়ে গেলে লাগানো সম্ভব হয় না বলছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা।
সম্প্রতি রাজধানীতে বাসে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে রাজীব হোসেনের মৃত্যু, পা বিচ্ছিন্ন হয়ে রোজিনা আখতারের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। অথচ দেশে এক হাত এক পা হারিয়ে বহু মানুষ এখন কোনমতে বেঁচে আছে। তারা পঙ্গু জীবন যাপন করলেও চাকরি ব্যবসাসহ সংসারের অনেক কাজকর্ম নির্বিঘ্নে করছে। রাসেল সরকারের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর সেটি লাগানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন চিকিৎসকরা। এক হাত হারিয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন হৃদয়, দুই পা হারিয়ে ভর্তি আছেন রুবিনা আক্তার। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অঙ্গ কি আদৌ জোড়া লাগানো সম্ভব! এ নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দীন শাহীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কারও শরীর থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তা সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রোপচার করে লাগানো যায়। তবে, এক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। যদি সেই অঙ্গটি থেতলে না যায়, এটি যদি ইনফেকটেড না হয়ে যায়, ড্রেনে পড়ে না যায়, ময়লা-আবর্জনা বা কাদায় আক্রান্ত না হয়, যে অংশে লাগানো হবে সেটিসহ যে অঙ্গটি লাগানো হবে সেটি যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে সেক্ষেত্রে লাগানো সম্ভব। তারপরও এই অঙ্গটি রোদে রাখলে হবে না বা গরম চুলার পাশে রাখলে হবে না, বরফ দিয়ে এটিকে প্রিজার্ভ করে রাখতে হবে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রীন লাইন বাসে রাসেলের যে পা বিচ্ছিন্ন হলো এটি থেতলে গিয়েছিল। তাই এটি লাগানোর সুযোগ ছিল না। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও লাগাতে পারেনি। মেশিনের কাটায় ক্লিনকাট হলে লাগানোর সুযোগ থাকে। প্রেস মেশিনে কাটা অঙ্গ লাগানো যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘কারও হাত-পা চলে গেলেই তিনি মারা যাবেন এটা ঠিক নয়। যদি স্পটেই অনেক রক্তপাত হয় এবং এটা পূরণ করা না যায় তাহলে আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। রাজীবের মৃত্যু হয়েছে হেড ইনজুরির কারণে। দুঃখের ব্যাপার হলো আমাদের কাছে কোনও ক্লিন কাট ইনজুরি আসে না। যেগুলো আসে সেগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ থাকে। সেগুলো জোড়া লাগানো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না!
সড়ক দুর্ঘটনায় দেহের অঙ্গহানি এবং এরপর মর্মান্তিক মৃত্যু  প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, রোড ট্রাফিক ইনজুরিতে ক্রাশ ইনজুরি হয় তখন হাত বা পা কেটে গেলেই যে রোগী বেঁচে থাকবে এমনটি হয় না। হাত পা কেটে গেলেও রোগী বাঁচে যেক্ষেত্রে সেটা হলো যখন বার্ন হয়ে হাতটা নষ্ট হয়ে যায়; তখন আমরা অস্ত্রোপচার করে হাতটা কেটে ফেলি। তখন হাতটা কেটে ফেললে রোগী বেঁচে থাকে। এই ধরনের রোগীদের বাঁচানো যায়, কিন্তু যখন রাস্তাঘাটে ক্রাশ ইনজুরি হয়ে যায় তখন রোগীকে বাঁচানো যায় না।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শামসুজ্জামান শাহীন বলেন, রাজীবের মৃত্যু হয়েছে হেড ইনজুরির কারণে। রোজিনার মৃত্যুও পা কাটার কারণে হয়নি।  একই ধরনের হাত কাটার পর এখন হাসপাতালে ভর্তি আছে হৃদয়। রুবিনা নামের এক ছাত্রীও দুই পা হারিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। 
তিনি বলেন, হাত-পা কাটা পড়ার জন্য রাজিব-রোজিনাদের মৃত্যু হয়নি। তাদের মৃত্যু হয়েছে অন্য কারণে। যদি কোনও অঙ্গহানির পর তাৎক্ষণিকভাবে রক্তপাত বন্ধ না করা যায়, বা সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি করা না যায় তাহলে সেক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

এবারও বন্যার আশঙ্কা, সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ by শফিকুল ইসলাম

এ বছরও বন্যার আশঙ্কা করছে সরকার। এর আগে দেশের ২০ থেকে ২২টি জেলায় বন্যায় প্লাবিত হলেও এবার আরও বেশি জেলায় বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বছর বর্ষা মৌসুমে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৭ জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদফতর পূর্বাভাস দিয়েছে। অতি বৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টির কারণে এ সব জেলায় বন্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহের পাঁচ দিনই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ্ কামাল। ওই বৈঠকে সেনা বাহিনী ও নৌ বাহিনীর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবারও (১ মে) বৈঠক করে  ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। বৈঠকে বন্যাসহ যেকোনও দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও নৌ-বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি বার্তা দেওয়া হয়েছে দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসককের কাছে। তাদের বন্যাসহ যেকোনও দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বন্যার সময় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব জেলার ডিসির ত্রাণ ভাণ্ডারে দুই লাখ টন চাল, নগদ ৫ লাখ টাকা ও দুই বান্ডিল ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শীতের কম্বল দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থা অধিদফতরে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। জেলা উপজেলার স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার ভবনগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখার জন্য বলা হয়েছে, যেন বন্যা দেখা দেওয়া মাত্রই বন্যাকবলিত মানুষ জনকে আশ্রয় দেওয়া যায়।
এ বছর বর্ষা মৌসুম আসার আগেই দেশব্যাপী অতিবর্ষণ ও ভারীবর্ষণ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে,  আগামী ৪ থেকে ৭ মে—এই চারদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। অতিবর্ষণে পাহাড়ধসেরও আশঙ্কা রয়েছে। গতবছর পাহাড়ধসে পার্বত্য অঞ্চলে ১৬৬ জন মারা গেছেন। অতি বর্ষণ ও ভারী বর্ষণে এ বছরও পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম,  রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এই পাঁচ জেলায় জরুরি সভা করে  গত ২২ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই পাঁচ দিন টানা বৈঠক করে জরুরি করণীয় নির্ধারণ করেছেন।
এদিকে গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল—এই দুই দিনে ঢাকায় ১৪৬ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ৯৯ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ১০৭ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ১১২ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা স্বাভাবিক নয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ কারণে অধিক বৃষ্টিপ্রবণ জেলাগুলোর ডিসিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যেই অতি বৃষ্টির ফলে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জসহ হাওর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ওই সব অঞ্চলের মাঠের ফসল কেটে ঘরে তোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যেন মাঠের ফসল জরুরি কেটে ঘরে তুলে আনেন, সেজন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জেলাপ্রশাসকদের তত্ত্বাবাধানে মাইকিং করা হয়েছে। তাই এসব জেলার কৃষকরা ক্ষেতের ধান কেটে ঘরে তুলে এনেছেন।
এসব জেলার ডিসি অফিসের বরাত দিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই হাওর অঞ্চলের ৮৮ শতাংশ মাঠের ফসল কেটে নেওয়া হয়েছে। এবছর এ সব জেলায় বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অতি বর্ষণ ও ভারী বর্ষণের সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত শিলা বৃষ্টি। আগে বৃষ্টির সঙ্গে মার্বেল সাইজের শিলা বর্ষিত হলেও এবছর অনেক বড় সাইজের শিলাও বর্ষিত হয়েছে। এতে টিনের ঘরের চাল ছিদ্র হয়ে মানুষের গায়ে পড়েছে। মানুষ আহত হওয়ার সংবাদও পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে নতুন করে দুর্যোগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বজ্রপাত। আবহমান কাল ধরেই বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বর্তমানে বজ্রপাতের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। সরকার ২০১৫ সালে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তালগাছসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে লম্বাগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বজ্রপাতের পরিমাণ বাড়ছে বলে মনে করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।  একই সঙ্গে আকাশে গভীর ঘনকালো মেঘের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াও বজ্রপাতের  কারণ বলে মনে করে মন্ত্রণালয়।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে দেশে বজ্রাঘাতে ৩০৭ জন, ২০১৬ সালে ৩৮০ জন মানুষ বজ্রাঘাতে নিহত হয়েছে। ২০১৬ সালের মে মাসে ৪দিনে বজ্রাঘাতে নিহত হয়েছেন ৮১জন মানুষ। ২০১৮ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বজ্রাঘাতে কেউ নিহত হননি। একই বছরের মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাসে ৭০ জন মানুষ বজ্রঘাতে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯ এপ্রিল ১৬জন ও ৩০ এপ্রিল ১৩ জন মানুষ বজ্রাঘাতে নিহত হয়েছেন। বজ্রাঘাতে নিহত ৭০ জন হলেন ময়মনসিংহ, বরগুনা, কুমিল্লা, রাঙামাটি, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ি, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুড়া, গাজীপুর, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, রংপুর ও সিলেট জেলার বাসিন্দা।
বজ্রপাতসৃষ্ট দুর্ঘটনা এড়াতে জনসাধারণকে লম্বাগাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার, ধাতব খুঁটি, মোবাইলের টাওয়ার থেকে দুরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। এছাড়া বৃষ্টির মধ্যে শিশুদের মাঠে যেকোনও খেলা ও সাগর বা নদীতে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে অধিদফতর। একইসঙ্গে আকাশে গভীর ও উলম্ব মেঘ দেখা দিলে ঘরের ভেতরে অবস্থান করারও পরামর্শ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বজ্রপাত, ভারী বর্ষণ ও অতি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যাসহ যেকোনও দুর্যোগ মোকাবিলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে প্রতি জেলার ডিসিকে ২০০ টন চাল ও পাঁচ লাখ নগদ টাকাসহ দুইশ’ বান্ডিল ঢেউটিন আপদকালীন মুজদ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এ সব জেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ভবনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যা হলে ও পরিস্থিতি খারাপ হলে বন্যাদুর্গতরা যেন সেখানে আশ্রয় নিতে পারে।  যেকোনও ধরনের দুর্যোগের জন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ—এবার যেন একজন মানুষও মারা না যান।’ তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আগাম প্রস্ততি নিয়েছি। আমাদের প্রস্তুতি শেষ। প্রস্তুতি কাজে তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ও নৌ-বাহিনীকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সোমবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সেনা ও নৌ বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বজ্রপাতে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এ কারণে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া, সাতক্ষীরার কয়রা, পটিুয়াখালি, নওগাঁর বদলগাছিসহ দেশের আটটি জেলায় বজ্রপাত শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হয়েছে।’
জানতে চাইলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব শাহ্ কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে দুই লাখ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে আছে। এ কারণে তাদের কুতুপালং ও বালুখালির মাঝখানে একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ৫০ হাজার পরিবারের এই ২ লাখ সদস্যের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের এক লাখ রোহিঙ্গা সদস্যকে ইতোমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও সরিয়ে নেওয়া হবে।’ তিনি  বলেন, ‘যেকোনও দুর্যোগেই সেনা ও নৌবাহিনী আস্থা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে। যেকোনও দুর্যোগেই সেনাবাহিনী ও নৌ-বাহিনী জীবন বাজি রেখে জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। তাই এ বছরও আমরা আগাম বন্যা ও দুর্যোগের আশঙ্কা করায় সেনা ও নৌ-বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলেছি।’
মঙ্গলবার (০১ মে) মহান মে দিবসের সরকারি ছুটির দিনেও সচিবালয়ের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বর্তমানে দেশে বিরাজমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়  আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মঈন আবদুল্লাহ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভগের সচিব ফয়েজ আহমেদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণায়ের সচিব রইসুল আলম মণ্ডল, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভগের সচিব মো. আলগীর হোসেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী হোসেন, দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদফতরের মহা-পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ ও আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

সাদুল্যাপুরের ৩৫ দুগ্ধ খামারির গল্প by তোফায়েল হোসেন জাকির

দুগ্ধ খামারের গ্রাম হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে শ্রীকলা। গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে এ গ্রামটি অবস্থিত। এই গ্রামে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় উন্নত ফ্রিজিয়ান জাতের প্রায় ৩৫টি গাভীর দুগ্ধ খামার। এক একটি খামারে রয়েছে ১০-১২টি গাভী। প্রতিটি গাভীর বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা।
খামার করে তারা হয়েছেন স্বাবলম্বী। সাদুল্যাপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরে শ্রীকলা নামের গ্রামটি।
শনিবার সকালে সরেজমিন ওই এলাকার দুগ্ধ খামারের গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শ্রীকলা গ্রামটি আয়তনে ছোট। শিক্ষার হারও তুলনামূলকভাবে কম। খামারিদের আলাদা কোনো প্রশিক্ষণও নেই। সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগ ও মেধা খাটিয়েই গড়ে তুলেছে এসব দুগ্ধ খামার। ওই গ্রামের মৃত খয়রাজ্জামানের ছেলে আহসান হাবিব (৪০) নামে এক দুগ্ধ খামারি জানান, তার খামারে রয়েছে ১০টি উন্নত জাতের ফ্রিজিয়ান ও সাহিওয়াল গাভী। তার একাডেমিক কোনো খামারের প্রশিক্ষণ নেই। একটিমাত্র গাভীর বাচ্চা দিয়ে ১০ বছর আগে শুরু করেছিলেন। আজ তিনি অর্ধকোটি টাকার গাভীর মালিক। একইভাবে আবুল হোসেন (লাল মিয়া), মেনহাজ উদ্দিন, সলিম উদ্দিন, আবুল মিয়া, আবদুস ছামাদ, সাজু মিয়া, আবু তালেব, খয়রাজ্জামান, হেলেনা আফরোজ ও মেহেন্নেকা বেগমসহ আরও অনেকের খামারে ফ্রিজিয়ান, সাহিওয়াল, লালসিন্ধি ও জার্সি ফ্রিজিয়ান জাতের ২টি থেকে ১০টি করে দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভী রয়েছে। এর বাইরেও পুরো গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আরো অনেক খামার। তাই এই শ্রীকলা গ্রামটি দুগ্ধ খামারের গ্রাম হিসেবেই পরিচিতি লাভ করছে। খামারি আবুল হোসেন (লাল মিয়া) বলেন, গাভীর বয়সভেদে প্রত্যেকটি গাভীকে দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ টাকার খাদ্যে দিতে হয়। এর মধ্যে ক্যাটলফিড, ভুষি ও সবুজ ঘাস। এছাড়াও প্রতিদিন গাভীকে গোসল দিতে হয়। প্রতিটি গাভী গড়ে দৈনিক ২০ কেজি দুধ দেয়। আবুল মিয়া নামে এক খামারি জানান, মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি বাছুর কিনে তার খামারের যাত্রা শুরু। এখন সে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালিক। তবে দুধের বর্তমান বাজার খুবই কম। সাদুল্যাপুর ব্র্যাক চিলিং সেন্টারে ৩৭ দরে প্রতি কেজি দুধ বিক্রি করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দুধ বেচার জায়গা নেই। এখন খামার ছেড়ে দিতে দিতে মন চায়।
খামারি মেনহাজ উদ্দিন জানান, বর্তমানে খামার করার পরিবেশ নেই। দুধের বাজার একেবারেই কম। দুধ নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে গেলে ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি করতে হয়। তাই তারা আশেপাশের চা দোকানগুলোতেই ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রি করে থাকেন। দুগ্ধ খামারে গাভীর খাদ্য বিক্রেতা লাল মিয়া জানান, এসব খামারি ব্যাংক থেকে ঋণের সুবিধা পান না। যদি খামারিরা প্রশিক্ষণসহ সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে ঋণের সুবিধা পেত তাহলে আরো তাড়াতাড়ি খামারগুলো বিস্তার লাভ করতো। জিও-এনজিওদের কাছে খামারিদের দাবি তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা। এছাড়া ওই গ্রামে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এসবের ব্যবস্থা থাকলে এখানকার খামারিরা আরও স্বাবলম্বী হতে পারতো। তবে খামারিদের অভিযোগ, এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা কোনো ভূমিকা পালন করেন না।

বকেয়া বেতনের দাবিতে সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ

সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে তিন মাসের বকেয়া বেতন এবং ওভারটাইম বিল পরিশোধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। এর আগে মালিকপক্ষের কথা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার সকালে বকেয়া বেতনের জন্য কারখানায় হাজির হয় পৌর এলাকার আড়াপাড়া মহল্লায় অবস্থিত আব্বাস এ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিকরা। দীর্ঘক্ষন মূল ফটকে তালাবদ্ধ কারখানাটির সামনে অবস্থান নিলেও মালিক পক্ষের কোন সাড়া পায়নি শ্রমিকরা। একপর্যায়ে কারখানাটির নিরাপত্তা কর্মীরা বেতন দেয়া হবে জানিয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এঘটনায় শ্রমিকরা কারখানার সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি সাভার বাজার রোড হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে উঠে আসে। এসময় শ্রমিকরা বাজার রোডের মাথায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে দাবি আদায়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। এদিকে মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সাভার মডেল থানা ও ঢাকা জেলা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসময় শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলে ৮ই মে বেতন আদায় করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ক্ষুব্ধ শ্রমিকদেরকে রাস্তা থেকে সড়াতে ব্যার্থ হয়।
আব্বাস এ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিক মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন পহেলা মে দেয়ার কথা ছিলো। এর আগেও মালিকপক্ষ বেতন দেয়ার জন্য একাধিকবার সময় দিয়ে কথা রাখেনি। আয়রনম্যান রবিন বলেন, গত রবিবারও আমাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের সময় দেয়া হয়েছিল। সেদিন এক হাজার করে টাকা দিয়ে আজ পুরো বেতন পরিশোধের সময় দেয়া হয়েছিল। নারী শ্রমিক নূর আক্তারী বলেন, বেতন না পাওয়ায় আমরা অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছি। টাকার জন্য বাড়িওয়ালা এবং দোকানী আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। টাকা না পাওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেনা বলেও জানান এই নারী। অন্যদিকে সকাল ১১ টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশী সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় দূর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। এসময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে অনেককে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পায়ে হেঁটে গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে যেতে দেখা গেছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসীনুল কাদির বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা আদায়ে কারখানা মালিককে আটক করে থানায় আনা হয়। পরে বেতন পরিশোধের শর্তে কারখানাটির ভবন মালিক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের জিম্মায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়। ইতোমধ্যে কারখানা মালিকের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির চেষ্টা চলছে। সেটি বিক্রি হলেই আগামী ৮ই মে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভারত আউট পুঁজিবাজারে চীন

চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার করার সংশোধিত প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডাররা। এর ফলে বাদ পড়লো ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক-এর কনসোর্টিয়াম। এই চুক্তি সম্পাদিত হলে চীনের এই কনসোর্টিয়াম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি সাড়ে ৯ লাখ শেয়ারের মালিক হবে। গতকাল রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে কোম্পানির সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা এই প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এখন পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেতে সংস্থাটিতে প্রস্তাব পাঠাবে ডিএসই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রায় চার মাস আগে কৌশলগত অংশীদার পেতে ডিএসইর আহ্বানে দুটি কনসোর্টিয়াম দরপত্র জমা দেয়। এদের মধ্যে চীনের দুই এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম ছাড়া অন্য দরদাতা ছিল ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক-এর কনসোর্টিয়াম। দুটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ১০ই ফেব্রুয়ারি চীনের কনসোর্টিয়ামকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই।
গতকাল বিশেষ সাধারণ সভায় বিএসইসি’র দেয়া শর্তানুযায়ী, শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ সমন্বয়ে গঠিত এই কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ডিএসই’র চুক্তির জন্য সংশোধিত প্রস্তাবে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি চান ডিএসই’র চেয়ারম্যান আবুল হাশেম। পরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ারহোল্ডারদের উপস্থিতিতে ডিএসইর ২৫ শতাংশ বা ৪৫০,৯৪৪,১২৫টি সাধারণ শেয়ার চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে বিক্রয়ের চুক্তি এবং সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত ও গৃহীত হয় সভায়।
ডিএসই’র চেয়ারম্যান বলেন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার নিরলস পরিশ্রম ও দীর্ঘ কর্মযজ্ঞের কারণে বিশ্বের খ্যাতনামা শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এর কনসোর্টিয়াম থেকে ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ার প্রস্তাব পাওয়া গেছে। দিনটি ডিএসই’র ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে চীনের কনসোর্টিয়ামের চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি এগিয়ে যাচ্ছে। ইজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের মাধ্যমে অনেকটা বাধা কেটে গেলো। এখন চীনের কনসোর্টিয়াম চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে শেয়ারহোল্ডাররা আশাবাদী।
জানা গেছে, গত ২২শে ফেব্রুয়ারি চীনের কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অনুমোদনের জন্য ডিএসইর সেক্রেটারি মো. আসাদুর রহমান বিএসইসিতে প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। তবে ১৯শে মার্চ ডিএসইর দেয়া চীনা কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী করার প্রস্তাব অনুমোদন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে ডিএসই কর্তৃপক্ষকে নতুন করে সংশোধিত প্রস্তাব করার সুযোগ দেয়। এরই আলোকে ৩০শে এপ্রিল ইজিএম আয়োজন করে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।
বিএসইসির ওই শর্তগুলোর মধ্যে ছিল- কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করা যাবে না, যা দেশের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ডিএসইর সাধারণ শেয়ারহোল্ডার এবং শেয়ারবাজারের উন্নয়নের পরিপন্থি। আর ডিএসইর আর্টিকেলের পরিপন্থি কোনো সংশোধনী গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ছাড়া বিএসইসিতে প্রস্তাবের আগে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে হবে, ডিএসইর সাধারণ সভায় বিএসইসির পর্যালোচনা কমিটির পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যাহর করা শর্তগুলো জানাতে হবে এবং সাধারণ সভায় গৃহীত প্রস্তাব, সংশোধিত চুক্তি ও অন্যান্য ডকুমেন্টস কমিশনে দাখিল করার শর্ত দেয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভায় চীনা কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে বেছে নেয়া হয়। আর ২২শে ফেব্রুয়ারি সকালে চীনের কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অনুমোদনের জন্য ডিএসইর সেক্রেটারি মো. আসাদুর রহমান বিএসইসিতে প্রস্তাব জমা দেয়। এর আলোকে একইদিনে ডিএসইর প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৪ সদস্যের কমিটি করে বিএসইসি।
ডিএসইর প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ে বিএসইসির পর্যালোচনা কমিটি চীনা কনসোর্টিয়ামের কিছু শর্তের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি ডিএসইকে লিখিতভাবে জানায় বিএসইসি। এরই আলোকে ডিএসই কর্তৃপক্ষ ৪ঠা মার্চ ব্যাখ্যা দিয়েছে। তবে সেই ব্যাখ্যায় বিএসইসি সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
বিএসইসির ওই চিঠিতে বলা হয়, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং শেনচেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম ডিএসইর শেয়ার ২২ টাকা দরে কিনতে চেয়েছে। একই সঙ্গে কিছু টেকনিক্যাল সাপোর্টের কথা বলেছে। কিন্তু এর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নেই। এ ছাড়া চীনের বিনিয়োগের প্রস্তাবে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
চীনা প্রস্তাবের শর্তগুলো হলো- কৌশলগত অংশীদারিত্বের এই চুক্তি হতে হবে যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী। দ্বিতীয়ত, কোনো বিভেদ দেখা দিলে তার সমাধান হতে হবে যুক্তরাজ্যের আরবিট্রেশন আইন অনুযায়ী। তৃতীয়ত, ডিএসইর আর্টিকেল পরিবর্তন করে কিছু বিষয় যুক্ত করতে হবে। সেসব বিষয় পরে কখনও পরিবর্তন করতে চাইলে ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) পাস করার আগে কনসোর্টিয়ামের অনুমোদন নিতে হবে।
জানা গেছে, চীনের কনসোর্টিয়াম ডিএসইর প্রতিটি শেয়ারের দাম দিতে চেয়েছে ২২ টাকা। তবে শর্তানুযায়ী, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডাররা এরই মধ্যে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ নেয়ায়, সমপরিমাণ দর কমে এসেছে। এক্ষেত্রে ডিএসইর ১৮০ কোটি শেয়ারের ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি শেয়ার প্রতিটি ২১ টাকা দামে ৯৪৫ কোটি টাকায় কিনবে। পাশাপাশি ডিএসইর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা (৩৭ মিলিয়ন ডলার) ব্যয় করবে। যাতে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হতে ১ হাজার ২৪৫ কোটিরও বেশি টাকা পাবে ডিএসই।
অপরদিকে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ নেতৃত্বাধীন ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও নাসডাক কনসোর্টিয়াম প্রতিটি শেয়ার ১৫ টাকা করে ৪৫ কোটি শেয়ার ৬৭৫ কোটি টাকায় কিনতে চায়। আর প্রযুক্তি সহায়তার বিষয়ে কোনো প্রযুক্তি সিস্টেম না দিয়ে শুধু পরামর্শ এবং অভিজ্ঞতা শেয়ারের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ডিএসইর সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে একটি ব্যবসায়িক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সবশেষে দুই কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চীনা দুই স্টক এক্সচেঞ্জকেই বেছে নিয়েছে ডিএসই।
ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু সাধারণ সংশোধনী এনে চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবটি বিশেষ সাধারণ সভায় অনুমোদন করা হয়েছে এবং সংশোধনী প্রস্তাব আজই (গতকাল) বিএসইসিতে পাঠানো হবে। তবে চীনা কনসার্টিয়ামের আগের প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো অপরিবর্তিত রয়েছে।

শ্রমিক দিবসে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে জোর আওয়াজ

শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ন্যূনতম মজুরির দাবি জানিয়ে রাজধানীতে র‌্যালি
ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোসহ কারখানায় শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে মহান মে দিবসে মিছিল এবং সমাবেশ করেছে শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার (১ মে) সকাল ৮ টা থেকে মিছিল স্লোগানে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে পল্টন থেকে প্রেস ক্লাব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৮টা থেকে দাবিযুক্ত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে মিছিলসহ প্রেসক্লাবের সামনে একের পর এক আসতে থাকে শ্রমিক সংগঠনগুলো। এরপর মিছিলগুলো পল্টন মোড় ঘুরে এসে আবার প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পুঁজিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা মানবজাতিকে ভয়াবহ বিপদের মাঝে দাঁড় করিয়েছে। পুঁজিবাদের প্রথম ও শেষ কথা হচ্ছে মুনাফা এবং অবাধ ব্যক্তিগত মালিকানা। হাতেগোনা ডজন খানেক প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি সম্পদের মালিক। এই সম্পদ গড়েছে তারা শ্রমিকদের অবদানে। কিন্তু শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা কেউ এগিয়ে আসেন না।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের গণঅভ্যুত্থানের বিকল্প নেই। তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
শ্রমিক দিবসে সংগঠনগুলোর মূল দাবি ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী শ্রমিকবান্ধব কর্ম পরিবেশ গড়ে তোলা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস দেওয়া, কারখানায় শ্রমিক হয়রানি বন্ধ করার দাবিও তুলেছেন তারা।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার সব শ্রমিকের থাকতে হবে, রানা প্লাজা ধসের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কারখানা নিশ্চিত করতে হবে।
ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, গার্মেন্টসে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করতে হবে।
টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকবান্ধব করতে হবে। এছাড়া নূন্যতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করতে হবে, কারখানায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।
ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের ঐক্যের মধ্য দিয়ে দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

‘ইরানের গোপন পরমাণু কার্যক্রম ছিল’ -নেতানিয়াহুর দাবি

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন ইরানের গোপন পরমাণু কার্যক্রম ছিল। আর তেহরান তা নিয়ে ‘মিথ্যা বলেছিল’। এর সপক্ষে ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণ’ আছে বলেও দাবি নেতানিয়াহুর। ইসরাইল প্রধানমন্ত্রীর এ অভিযোগকে ‘প্রোপাগান্ডা’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে  স্নায়ুর লড়াই উস্কে দিলো ইসরাইল।
সোমবার কথিত ওই গোপন পরমাণু কার্যক্রমের বিপুল পরিমান নথিপত্র হাতে পাওয়ার দাবি করেন নেতানিয়াহু। তার ভাষ্যমতে, পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান ওই কার্যক্রমের নথিপত্র গোপনের চেষ্টা জোরদার করে। তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরাইল অর্ধটন পরিমান নথিপত্র হাতে পেয়েছে যা গোয়েন্দা তৎপরতার বিরাট এক অর্জন।’ এর মধ্যে ৫৫ হাজার পৃষ্ঠা আর ১৮৩ টি সিডিতে ৫৫ হাজার ফাইল আছে বলে তিনি জানান।
খবরে বলা হয়, নেতানিয়াহু যা কিছু উপস্থাপন করেছেন তার বেশিরভাগই বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর কাছে তেমন গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কেননা, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ছয় পরাশক্তির এটাই বিশ্বাস ছিল যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছিল।
সোমবারের ঘোষণার আগ দিয়ে নেতানিয়াহু পার্লামেন্টে একটি বক্তব্য বাতিল করেন। তেল আবিবে সামরিক সদরদপ্তরে নিজের নিরাপত্তা পারিষদদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন।
ইসরাইলের প্রধানমনন্ত্রী শুরু থেকেই পরমানু চুক্তির ঘোর বিরোধীতা করে আসছেন। এতে করে পরমানু অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জনে ইরানকে ঠেকানো যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ওদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান চুক্তি পরিবর্তন না করা হলে সরে যাওয়ার কথা জানালে নেতানিয়াহু তা স্বাগত জানান। আর সোমবার নেতানিয়াহুর দেয়া প্রেজেন্টেশন ‘ভালো’ বলে প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তিন বলেন, এটা এবং সাম্প্রতিক অন্যান্য ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে ইরানের বিষয়ে তিনি ‘শতভাগ সঠিক’ ছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘স্টান্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে এসব অভিযোগকে প্রোপাগান্ডা বলে আখ্যা দেয়া হয়। বলা হয়, ‘তার এসব মন্তব্য নতুন কিছু নয়... ভিত্তিহীন অভিযোগে পূর্ণ। আর ইরানের পারমানবিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা।
আল জাজিরার সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, এই বক্তব্যের পেছনে নেতানিয়াহুর কোন অভিসন্ধি রয়েছে তার ভাষ্যমতে, ‘এতে নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক ফায়দা রয়েছে; বিশেষ করে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করছেন।’ অন্য অনেক বিশ্লেষকই একই রকম মন্তব্য করেছেন। ওয়াশিংটন ভিত্তিক ইরান বিশ্লেষক ফাতেমা আমান বলেন, ‘নেতানিয়াহুর প্রেজেন্টেশনটা বেশিরভাগই রাজনৈতিক। এতে ইরানের পরমানু কার্যক্রম নিয়ে নতুন কোন তথ্য নেই। বিষয়টা বরং একটু অদ্ভুত; সেটা হলো- নেতানিয়াহুর দাবি ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে আসল গোয়েন্দা তথ্য ইসরাইলের হাতে রয়েছে যেটা কোনভাবে আইএইএ, যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যান্য পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যপক পর্যবেক্ষণ আর পরিদর্শনে চোখেই পড়েনি!’

কৃষি বাঁচাতে ‘জৈব সার’ by পিয়াস সরকার

খাদ্যের পুষ্টিগুণ রক্ষায় অন্যতম হাতিয়ার জৈব সার। রাসায়নিক সার ব্যবহারে ফলন বেশি হলেও ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় জমির গুণাগুণ। বাংলাদেশের জমিতে জৈব সারের উপাদান থাকা উচিত স্থানভেদে তিন থেকে পাঁচ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে তার পরিমাণ দুই শতাংশ কোথাও কোথাও তার থেকেও কম। জৈব সারের মাত্রা এই ভাবে কমতে থাকলে ভবিষ্যতে রাসায়নিক সার ব্যাপক মাত্রায় প্রয়োগ করা হলেও উৎপাদন করা সম্ভব হবে না ফসল। কৃষিবিদ পাপিয়া শারমিন যূথী বলেন, রাসায়নিক সার ব্যবহারে প্রথমে জমিতে ফলন তুলনামূলক বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ধীরে ধীরে তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। এমনটি হলে অধিক পরিমাণ রাসায়নিক সার প্রদান করলেও আসবে না কাঙ্ক্ষিত ফসল।
প্রাকৃতিক সারে রয়েছে বহুমুখী গুণ। ফসলি জমির দীর্ঘ মেয়াদি আবাদের জন্য জৈব সার ব্যবহার করা অতীব জরুরি। কারণ রাসায়নিক সার ব্যবহারে ধীরে ধীরে জমির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। জৈব সার মাটির উপকারী পতঙ্গদের বাঁচিয়ে রাখতে ও বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মাটির রস ধরে রাখতে সহায়ক হয় যার ফলে অধিক সেচের প্রয়োজন হয় না। জৈব সার যেমন ফসলের ফলন ধরে রাখতে সহায়ক ঠিক তেমনি খাদ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও গুদামজাত করতেও সহায়ক হয়। গ্রীষ্মকালে মাটির তাপমাত্রা কমাতে এবং শীতকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে জৈব সার। ফসলের শিকড় বৃদ্ধি এবং মজবুত করে ফলে ফসল দুর্যোগে সহনশীল রূপ ধারণ করে। জৈব সারের প্রভাব ৬ থেকে ১৮ মাস ধরে মাটিতে থেকে যায়, যার কারণে দুই বা তিন ফসল ধরে এর গুণাগুণ অক্ষত থাকে। দীর্ঘদিন রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমিতে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে এবং জৈব সার ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক সার কম মাত্রায় প্রাদান করলেও চলে। জৈব সারে কীটনাশক প্রদান করতে হয় কম এবং অধিক প্রদানে মাটির গুণাগুণে কোনো ক্ষতি হয় না।
অনেক ধরনের জৈব সার হয়ে থাকে যেমন কেঁচো সার, গোবর সার, গৃহস্থালির বর্জ্য পচিয়ে সার, মিশ্র সার (গোবর ও বর্জ্য) গাছের পাতা-গুল্ম-কাণ্ড পচিয়ে সার, মানুষের মলমূত্র দিয়ে প্রস্তুতকৃত সার ইত্যাদি। তবে গোবর সার সর্বাধিক ব্যবহ্রত হয় বাংলাদেশে। এসব সারের পাশাপাশি বাসাবাড়িতে ফুল বাগানে তরল জৈব সারের ব্যবহারো করেন অনেকে।
ধীরে ধীরে রাসায়নিক সার মুক্ত খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে সচেতন মানুষদের মাঝে। ঢাকা শহরে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মুক্ত খাদ্য পণ্যের দোকান। প্রাকৃতিক কৃষি বিপণন কেন্দ্রের প্রধান দেলোয়ার জাহান বলেন, রাসায়নিক সারমুক্ত খাদ্য দ্রব্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। রাসায়নিক সার সমৃদ্ধ খাদ্যে থাকে নানান ধরনের রোগের শঙ্কা তাই সচেতন ব্যক্তিরা সামান্য অর্থ বেশি খরচ করে ঝুঁকছেন জৈব সারে উৎপাদিত খাদ্যের দিকে।
ডা. ফাহমিদা আক্তার দৃষ্টি বলেন, দীর্ঘ দিন রাসায়নিক সারে আবাদ হওয়া ফসল খেলে অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে। রাসায়নিক উপাদন শরীরে যাবার ফলে ধীরে ধীরে লান্স, কিডনি কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সেই সঙ্গে ক্যানসার হবার শঙ্কাও থেকে যায়।
অনেক কারণে কৃষকরা ফসলি জমিতে জৈব সার ব্যবহার করেন না। যেমন জৈব সারের অপ্রতুলতা অন্যদিকে কৃষকরা অর্থের বিনিময়ে খুব সহজেই পাচ্ছেন রাসায়নিক সার। আবার জৈব সার তৈরিতে পোহাতে হয় নানান জটিলতা। রাসায়নিক সারে প্রথম দিকে ভালো ফলন হবার কারণে তা আর ছাড়তে চায় না কৃষক। রাসায়নিক সার ব্যবহার করার পর জৈব সারে কৃষক ফিরলে প্রথম দিকে আগের তুলনায় ফলন কম হওয়া আরেকটি কারণ। গ্রামাঞ্চলে গো-বিচরণ ক্ষেত্র কমবার ফলে কমে যাচ্ছে গরু পালন। তাই দেখা দিচ্ছে গোবর সংকট। বাজারে গোবর মিললেও রাসায়নিক সারের তুলনায় তার মূল্য অনেক বেশি। মাঠপর্যায়ে কৃষক জৈব সারের পাশাপাশি ব্যবহার করেন রাসায়নিক সার। ফসলের চারা রোপণের আগে জমি চাষ দেবার সময় দেন জৈব সার। এক্ষেত্রে প্রায়শই তারা ব্যবহার করেন গোবর সার ও মিশ্র সার। নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার কৃষক অলিয়ার রহমান জানান, জৈব সারে ফসল আবাদ করলে জমির রস থাকে অনেক দিন। কিন্তু দামের কারণে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।

মদপানে স্বামীকে খুন, আড়াই বছর পর ধরা by রুদ্র মিজান

একের পর এক পরকীয়া। কখনো স্বামীকে বিদেশে রেখে, কখনো স্বামীর সঙ্গে থেকেই তার অগোচরে। শেষ পর্যন্ত প্রেমের পথের বাধা দূর করতে ‘হত্যা’ করা হয় ‘কথিত’ দ্বিতীয় স্বামীকে। দীর্ঘ আড়াই বছর আগে ঘটে এই হত্যাকাণ্ড। তারপর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল জড়িতরা। দীর্ঘদিন ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে সংসার করেছে একসঙ্গে। কিন্তু এই মামলার ক্লু উদঘাটনে ব্যর্থ হয় থানা পুলিশ। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয় আদালতে। শেষ পর্যন্ত তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই’র অভিযানে মো. ইব্রাহিম ও আলেয়া আক্তার আলোকে গ্রেপ্তারের পর জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতিমধ্যে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে আলো।
আলোর জীবনে এসেছে তিন পুরুষ। তারমধ্যে একজনকে জীবন দিতে হয়েছে। নিহত মির্জা শাকিলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কৈশোর থেকেই। ঢাকার দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়ার মির্জা পরিবারের ছেলে শাকিল। একই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে আলো। একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তাদের। এরমধ্যেই আলেয়ার বিয়ে হয় সিঙ্গাপুর প্রবাসী কোরবান খানের সঙ্গে। কিন্তু প্রেমের পথে এই বিয়ে কোনো বাধা হতে পারেনি। কোরবান খান দেশের বাইরে যাওয়ার পর শাকিল ও আলোর সম্পর্ক আরো গভীর হয়। ঢাকার বিভিন্নস্থানে চুটিয়ে প্রেম করতো তারা। স্বামী বিদেশে থাকায় এতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। এরমধ্যে দুটি সন্তানের জন্ম হয় আলোর গর্ভে। সন্তান, সংসার কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারেনি শাকিলের প্রেম থেকে। যদিও পাড়া-প্রতিবেশীদের সমালোচনার শিকার হচ্ছিলো এই প্রেমিকজুটি। ২০১৫ সালের শেষের দিকে এক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দোহার থেকে প্রেমিকের হাত ধরে ঢাকায় আসে আলো। মির্জা শাকিলের সঙ্গে ঘর বাঁধে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায়। ইতিমধ্যে আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেয়। কিন্তু ডিভোর্স লেটার তাকে পাঠানো হয়নি।
যাত্রাবাড়ীতে শাকিলের ভাড়া বাসাতে সাবলেট হিসেবে উঠে তার বন্ধু ইব্রাহিম। মাদারীপুরের শিবচরের মাতবরের চর গ্রামের ইব্রাহিম থাকতো ঢাকার বড় মগবাজারের চেয়ারম্যান গলিতে। মাদকসহ নানা অপরাধে জড়িত ইব্রাহিম। সাবলেট থাকার সুবাধে অল্পদিনেই শাকিলের প্রেমিকা কথিত স্ত্রী আলোর দিকে নজর পড়ে ইব্রাহিমের। সাড়া দেয় আলোও। শাকিলের অলক্ষ্যে জন্ম হয় আরেকটি পরকীয়া প্রেমের। আদালতে দেয়া আলোর স্বীকারোক্তি অনুসারে, রাত-বিরাতে তাদের বাসায় হতো মদের আড্ডা। মদ পান করতো ইব্রাহিম, শাকিল ও আলো। মদ পান করিয়েই ‘হত্যা’ করা হয় শাকিলকে। ২০১৬ সালের ২৫শে জানুয়ারি রাতে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ওই বাসায় শুরু হয় মদের আড্ডা। এতে শাকিল, ইব্রাহিম, আলো ছাড়াও অংশ নেয় ইব্রাহিমের বন্ধু রবিন ও নাহিদ। রাত ২টার দিকে রবিন, নাহিদ চলে যায়। এদিকে, আড্ডা শেষ হতে না হতেই অসুস্থ হয়ে যায় শাকিল। একের পর এক বমি করতে থাকে। মুখ দিয়ে লালা বের হয়।
আলো জানিয়েছে, ২৭শে জানুয়ারি শাকিলকে একটি ওষুধ সেবন করায় ইব্রাহিম। তারপর শাকিলের অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। এসময় বাইরে থেকে কেচি গেইট বন্ধ করে পালিয়ে যায় ইব্রাহিম। আলো জানিয়েছে, শাকিলের অবস্থা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে গেলে চিৎকার করে কান্না করছিলো সে। এসময় আশেপাশের লোকজন বাসার কেচি গেইটের তালা ভেঙে দিলে শাকিলকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যায় আলো।
অবশ্য পিবিআই’র তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক হুমায়ূন ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই শাকিলের মৃত্যু হয়েছে। শাকিলের লাশ ঢামেকে রেখে ইব্রাহিমের সঙ্গে পালিয়ে যায় আলো। শাকিলকে ‘হত্যা’র পর ঢাকাতেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতো আলো ও ইব্রাহিম। মগবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থেকেছে প্রায় ছয় মাস। তারপর ইব্রাহিমের সঙ্গে সম্পর্ক টিকেনি। এই সম্পর্কের ইতি টেনে প্রথম স্বামী প্রবাসী কোরবানের কাছে ফিরে যায় আলো ওরফে আলেয়া।
শাকিলের পিতা নুরুল ইসলাম জানান, শাকিলের লাশ ঢামেক হাসপাতালে রেখে যাওয়ার পরপরই অজ্ঞাত একজন ফোনে জানায় তার ছেলের লাশ ঢামেকে। খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান সেখানে। নিহত শাকিলের মুখ দিয়ে তখনও লালা ঝরছিলো। নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে মদের সঙ্গে বিষাক্ত বা ওষুধ জাতীয় কিছু সেবন করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে হত্যার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৮ই মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নুরুল ইসলাম। ওই মামলায় থানা পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। গত ২৮শে এপ্রিল সকালে দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়ার কোরবান খানের বাড়ি থেকে আলেয়া ওরফে আলোকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তার দেয়া তথ্যানুসারেই পরদিন ধোলাইপাড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ইব্রাহিমকে।
পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কালক্ষণ উল্লেখ নেই। তবে সুরতহাল প্রতিবেদন ও সাক্ষীদের বর্ণনানুসারে তা হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে আরো তদন্ত প্রয়োজন। এজন্য ইব্রাহিমকে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মেইল এসকর্ট by রুদ্র মিজান

‘ডিয়ার লেডিস, আর ইউ লোনলি হাউজওয়াইফ, ডিভোর্সেড লেডি, সিঙ্গেল গার্ল, ফরেনার লেডি? লুকিং ফর ফুল বডি ম্যাসেজ, ট্রাভেল, ফান সার্ভিস, পাসটাইম? উইথ ফুললি প্রাইভেসি অ্যান্ড সিক্রেসি। প্লিজ কন্টাক্ট মি। হোপ ইউ উইল গেট হাই সেটিসফেকশন উইথ মি। ফিল ফ্রি টু ইনবক্স মি। সো লেডিস...। অনলি ফর লেডিস।’ এভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে নারীদের আকৃষ্ট করে তারা। দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবেই অনৈতিক কার্যকলাপ করে এই বিপথগামী চক্র। তারা প্রত্যেকেই সুদর্শন। লম্বা, ফর্সা। ইংরেজিতে দক্ষ। বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছর। পেশাদার যৌনকর্মী। ভার্চুয়াল জগতে ছদ্মনামে পরিচিত তারা। ঢাকায় রয়েছে এরকম শতাধিক মেইল এসকর্ট। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধশত ছেলের তথ্য পেয়েছেন সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট। এরমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক যুবককে। ২৫ বছর বয়সী এই যুবক মেইল এসকর্ট হিসেবে সাব্বির আহমেদ নামে পরিচিত। তার প্রকৃত নাম আবদুল হাকিম। উচ্চতা পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চি।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে হাকিম। আবদুল হাকিমের দেয়া তথ্যে চমকে গেছেন গোয়েন্দারা। রাজধানীর ঢাকার মধ্যেও রয়েছে আরেক ঢাকা। সেই ঢাকার কালচার, যৌনজীবন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের চেয়েও বেপরোয়া। সাধারণত যৌনকর্মী হিসেবে নারীদের কথা প্রায় সবার জানা থাকলেও পুরুষ এসকর্টদের সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা নেই অনেকের। জিজ্ঞাসাবাদে এসকর্ট জীবনের শুরু থেকে বর্তমান সময়ের নানা তথ্য দিয়েছে হাকিম। এসকর্ট ব্যবসার জন্য ছদ্মনামে ফেসবুকে এডমিন হিসেবে পাঁচটি পেইজ পরিচালনা করতো। নারী ক্লায়েন্টদের আকৃষ্ট করতে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রমোট করতো। এমনকি নারীদের ফেসবুকের ইনবক্সেও পাঠানো হতো এ সংক্রান্ত ক্ষুদেবার্তা। ক্ষুদেবার্তা-বিজ্ঞাপনের সূত্রধরেই হাকিমের ডাক পড়তো অভিজাত এলাকার নারীদের বাসায়। পরবর্তী যোগাযোগ হতো হোয়াটসঅ্যাপে। নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানে সুন্দর পোশাকে সেজেগুজে অপেক্ষা করতো হাকিম। অতঃপর দেখা হয় নির্দিষ্ট নারীর সঙ্গে। তাদের সঙ্গে রাতযাপন করে ফিরতেন আট থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে। এসব নারীরা মূলত উচ্চবিত্তশালী। কেউ কেউ ভিনদেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এডমিন হিসেবে অন্তত পাঁচটি এডাল্ট পেইজ পরিচালনা করতো আবদুল হাকিম। এসব পেইজে জাহিদ হাসান, সায়মা হক ও তানভীর আহমেদ নামেও এডমিন রয়েছে।
অনৈতিক এই পেশায় জড়ানো প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে হাকিম জানিয়েছে, অর্থের নেশাই তাকে বিপথগামী করেছে। এইচএসসি পাস যুবক আবদুল হাকিম অল্পতেই বিপুল অর্থের মালিক হতে হাঁটতে থাকে ভিন্নপথে। ইংরেজি লেখায়-বলায় ও কম্পিউটারে পারদর্শী হাকিম কয়েক বছর আগে কাজ নেয় রাজধানীর পল্টনের একটি দোকানে। কম্পিউটারের ওই দোকানে মূলত অনুবাদের কাজ করতো হাকিম। বেশিরভাগ সময় কাটাতো কম্পিউটারে-ইন্টারনেটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সদস্য মাহতাব রফিকের সঙ্গে। ব্যবসায়ী রফিকের কাছে কাজ খুঁজছিলো হাকিম। মাহতাব রফিক তাকে ফিমেইল এসকর্ট প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করতে পরামর্শ দেয়। এতে বসে বসেই প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানায় মাহতাব রফিক। ব্যস, সেই অন্ধকার পথেই হাঁটতে থাকে হাকিম। বিভিন্ন মাধ্যমে ফিমেইল এসকর্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফিমেইল এসকর্টদের মুখঢাকা ছবি-বিজ্ঞাপন প্রচার করে মাহতাব রফিকের এসকর্ট সংক্রান্ত ওয়েবসাইট। ক্লায়েন্ট যোগাযোগ করে। এভাবেই জড়িয়ে যায় অনৈতিক বাণিজ্যে। ভিনদেশি নারী ও দেশের মধ্যে ওয়েস্টার্ন কালচারে বেড়ে ওঠা নারীদের কথা চিন্তা করেই ফিমেইল এসকর্টের পাশাপাশি শুরু করে মেইল এসকর্টের কাজ। নিজের যৌবন ও শরীরকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি এক শ্রেণির নারীদের কাছেও প্রিয় হয়ে উঠে হাকিম।
গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড শেষে গত ২২শে এপ্রিল আদালতে হাজির করা হয় হাকিমকে। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। হাকিমের বাসা গোড়ানে। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে তার পরিবার। সিরাজগঞ্জের এক কৃষক পরিবারের সন্তান হাকিম। তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট। এক ভাই চাকরি করেন বিশেষ একটি বাহিনীতে, আরেক ভাই পুলিশে এএসআই পদে কর্মরত।
সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে, পেইজ, আইডিসহ নানাভাবে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িতদের বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। ইতিমধ্যে মেইল এসকর্ট হাকিমসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

‘অত্যাচারী ঝুমুর’ ও একটি ছাত্রীনিবাসের গল্প by উদিসা ইসলাম

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাস। সেখানে ফারজানা আক্তার ঝুমুর নামের এক ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ। কখনও খিস্তিখেউর, কখনও মারধর। প্রশাসনকে বলেও যখন উপায় খুঁজে পাননি তখন অত্যাচারের শিকার ৬ ছাত্রী একত্রিত হয়ে মারধর করেন ঝুমুরকে, পুড়িয়ে দেন তার কিছু জিনিসপত্র। এবার নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তদন্ত কমিটি হয়। হল প্রশাসন নির্দেশ জারি করে ঝুমুর ও সেই ছয় ছাত্রীকে হলের বাইরে থাকতে হবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
ঝুমুরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ৬ ছাত্রী এখন শহরে মেসে থাকছেন। হল কর্তৃপক্ষ তাদের কোনও জিনিসপত্র নিতে দেননি বলে অভিযোগ করে এক শিক্ষার্থী জানান, অভিভাবকের মাধ্যমে পোশাক ও বইপত্র নিতে হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।
ঝুমুরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা শিক্ষার্থীরা হলেন বিএম কলেজের জান্নাতুল ফেরদৌসি, রহিমা আফরোজ ইভা, ফাতিমা শিমু, শাকিলা, তানজিলা আক্তার মিষ্টি ও শারমিন আক্তার।
কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য এই ঘটনায় জড়িতদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাইনি কোনও শিক্ষার্থীকে বাইরে থাকতে হোক। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত করতে এর বাইরে কোনও অপশন ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঝুমুরের বিরুদ্ধে এটা প্রথম অভিযোগ, এমন নয়; এর আগেও তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল।’
আবারও ঝুমুরের ফিরে আসা বিষয়ে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ঝুমুর রাজনীতি করে, তার সঙ্গে নেতাদের ওঠাবসা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে হল কর্তৃপক্ষও খুব একটা আমলে নেয় না কখনও। দুপক্ষকে ডেকে মাফ চাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। তারপর নানাভাবে সিস্টেম করে সে আবারও আগের মতোই আচরণ শুরু করে।সে ভীষণ অত্যাচারী।’
কারও সাতেপাঁচে না থাকার পরও ভুল করে হলের বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তানজিলা আক্তার মিষ্টি বলেন, ‘আজ কয়দিন কী অবস্থায় আছি, তা বলে বোঝানো সম্ভব না। বন্ধু-বান্ধবের বাসায় আর কয়দিন থাকা যায়! আমার নামটি ভুল করে এসেছে, আমি ঘটনার সঙ্গে ছিলাম না।’
ঘটনার সঙ্গে যারা ছিলেন তাদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের ছয়জন ও ঝুমুরকে সাময়িক হলের বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি আজকে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। যার যার কথা আলাদাভাবে বলে এসেছি। কাপড়চোপড় নিতেও ভেতরে আমাদের ঢুকতে দেবে না। অভিভাবকদের মাধ্যমে ফেরত নিতে হবে। এখন আমরা মেসে আছি।’
ঝুমুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ না থাকলে সাতজন মিলে তাকে মারতে যাবো কেন? সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা অত্যাচার দেখতে দেখতে ক্লান্ত। এর বিপরীতে তাকে মারা অন্যায় হয়েছে। কিন্তু অনেকদিনের ক্ষোভ জমা হয়ে এই পরিণতি হয়েছে।’ অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি কখনও রাজনীতি করিনি। আমাদের সঙ্গে একজন কেবল ডিগ্রি লেবেলের ছিল, তিনি ঝুমুরের বন্ধু। বাকিরা আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী।’
কী ঘটেছিল? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে ঐষী নামের একজনকে মেরেছে একদম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে। ঘুমন্ত অবস্থায়। এরপর শারমিনকে মেরেছে। আগেও একাধিকজনকে গালাগালি-খিস্তির ঘটনা ঘটেছে। স্যারদের জানানো হয়েছে। পদক্ষেপ নেননি। এলাকার নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা, সে সবকিছু সামলে নেয়। এর আগে তাকে সাময়িক বহিষ্কারও করা হয়েছিল। সে সবাইকে ধরে আবার ফিরেছে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েরা অভিযোগ করে। কিন্তু কী পদক্ষেপ নেয়? দুজনকে ডেকে মাফ চাওয়া-চাওয়ি। তারপর সব আবার আগের মতো।’
ওই ছাত্রী বলেন,‘আমরা সেদিন স্যারদের কাছে অভিযোগ করে স্মারকলিপি দিয়েছি শুনে ঝুমুর আমাদের পথ আটকে জিজ্ঞেস করেছিল। এরপর কথা কাটাকাটিরএকপর্যায়ে আমরা তাকে মেরেছি। কী করবো, ভালোভাবে অভিযোগ করলে স্যারদের কানে তো কিছু পৌঁছায় না। আমরা সবাই সমবয়সী, গালাগালি কেন করবে? মারবে কেন? গত চারদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমাদের সবার জন্য ওই একই শাস্তির ব্যবস্থা হলো।’
তদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার বলেন, ‘ঝুমুর এবং জান্নাতুলের বিরুদ্ধে এরকম নানা অভিযোগের কথা কানে এসেছে। কিন্তু এটি যখন মারামারি পর্যায়ে চলে গেছে তখন আমরা বাধ্য হয়েছি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে। ঝুমুরকে আগেও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। জান্নাতুল পাস কোর্সের শিক্ষার্থী, তার সিট পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু কীভাবে যেন পেয়েছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঝুমুর এবং হল সুপার নূর মোহাম্মদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কলেজের ছাত্রলীগ নেত্রী ফারজানা আক্তার ঝুমুরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের ছাত্রীদের নির্যাতন, অনৈতিক কাজে বাধ্য করা ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে সাধারণ ছাত্রীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দেন। অভিযোগ দেওয়ার পর ঝুমুর গত ২২ এপ্রিল ছাত্রীদের নানাভাবে শাসানোর একপর্যায়ে কয়েকজনকে মারধরও করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ ছাত্রীদের কয়েকজন ঝুমুরকে মারধর করে তার রুমের আসবাবপত্র সড়কে এনে পুড়িয়ে দেন।

দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নে জোর- চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানের ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

বর্বর নির্যাতন করে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেয়ার কারণে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের শক্ত পদক্ষেপ চেয়েছিল ঢাকা। এ নিয়ে জোরালো আহ্বান ছিল পরিষদ প্রতিনিধি দলের সমন্বিত এবং নজিরবিহীন ঢাকা সফরে। কিন্তু সফরকারী দূতরা কাঙিক্ষত সেই পদক্ষেপের ‘সুনির্দিষ্ট’ অঙ্গীকার ছাড়াই ঢাকা ছেড়েছেন। গতকাল সকালে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে বিমানবন্দরে সমাপনী তবে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধিদল সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নেই জোর দিয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত ওই প্রত্যাবাসন চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বললেন- রোহিঙ্গা ইস্যুটি জাতিসংঘের অগ্রাধিকারে রয়েছে। এটি থাকবে। মিয়ানমার সফর করে নিউ ইয়র্কে ফিরে তারা এ সংকট সমাধানে একটি কার্যকর পথ খুঁজবেন। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিনিধিদল জানায়- রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে সব সদস্য রাষ্ট্র একমত। এ ইস্যুতে চীন-রাশিয়ার পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। প্রতিনিধিদলটি ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে। গণভবনের ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। গত শনিবার প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশে আসে। তিন দিনের সফরে দলটির সদস্যরা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলাস্থ কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির কোনারপাড়ায় শূন্যরেখায় যান। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তারা কথা বলেন।
নিরাপত্তা পরিষদের বাংলাদেশ সফরকে ইতিবাচক অগ্রগতি আখ্যা দিলেও ঢাকা মনে করে- পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য একমত হতে না পারায় এখনই মিয়ানমারের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না তারা। তবে এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে জন্য জোরালো চেষ্টা থাকবে পরিষদের।
বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন প্রতিনিধিরা: ৩ দিনের বাংলাদেশ সফরের কর্মসূচি শেষে বিমানে ওঠার আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা। সেখানে জাতিসংঘে নিযুক্ত কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি বলেন, সংকটটি গুরুতর। এটির সমাধান করতেই হবে। এটি জাতিসংঘের অন্যতম অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে আমাদের আলোচ্য সূচিতে রয়েছে এবং থাকবে। তার ভাষায়- “যে বার্তা আমরা মিয়ানমার, রোহিঙ্গা শরণার্থী আর পুরো বিশ্বকে দিতে চাই, তা হলো এই সংকটের অবসান ঘটাতে এবং সমাধানের একটি পথ খুঁজে বের করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে আমরা চুপ থাকতে পারি না। নিউ ইয়র্কে ফিরে গিয়ে আমরা বসবো। শরণার্থীদের স্বেচ্ছায়, সসম্মানে, নিরাপদে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তার বাস্তবায়ন কীভাবে দ্রুত করা যায় তা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। আপাতত এই বার্তাই আমরা দিতে চাই। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরজমিন দেখতে নিরাপত্তা পরিষদের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরের অন্যতম আয়োজক কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি। তিনি সংকটের দ্রুত সমাধানের কোনো আশা দেখাতে পারেননি। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত মনসুর বলেন- “আমরা এখানে বাস্তুচ্যুতদের যে অবস্থা দেখেছি তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এ সংকটের একটা সমাধান আমরা দেখতে চাই।
এই সমাধান খুব দ্রুত আসবে না। সেজন্য সময় প্রয়োজন। আমরা আশা করি, দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।” তিনি এ-ও বলেন ‘আমি চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছি না। তারা আমাদের সঙ্গে আছেন। তারাও একটি সমাধান দেখতে চান।’ এক প্রশ্নের জবাবে এটি একটি মানবিক সংকট এবং মানবাধিকারের বিষয় উল্লেখ করে কুয়েতের দূত বলেন, কেউ কাউকে (মিয়ানমার) রক্ষা করছে না। তারা শুধু আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার বাস্তবায়ন দেখতে চাইছেন। যত দ্রুত সম্ভব সংকটটির সমাধানের সব পক্ষকে অবশ্যই অঙ্গীকার প্রদর্শন হবে। বাংলাদেশের উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য বাংলাদেশের জনগণ তাদের দরজা এবং হৃদয় খুলে দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে পেরুর রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের নেতা গুস্তাভো অ্যাডোলফো মেজা কুয়াদ্রা বেলাসকেজ এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স বক্তব্য রাখেন। সংকট সমাধানের ধীরগতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় অভিন্ন সুরে বলেন, “এ বিষয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। আমাদের মহাসচিব ইতিমধ্যে একজন বিশেষ দূত নিয়োগ করেছেন। আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।” সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শেষে প্রতিনিধিদলটি মিয়ানমারের রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেখানে তারা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং রাখাইন রাজ্য সফর করবেন। ২রা মে সফর শেষে নিউ ইয়র্কে ফিরে গিয়ে তারা তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন। এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ প্রতিনিধিদলটি শনিবার বাংলাদেশ আসেন এবং রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রোহিঙ্গারা তাদের অধিকার ও নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রতিনিধিদলের কাছে আবেগপূর্ণ আবেদন জানান।
চীন রাশিয়া ভারত জাপানের বড় ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী: এদিকে গণভবনে নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন- রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানের কাছ থেকে বড় ভূমিকা আশা করছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পর্ষদ হিসেবে বিবেচিত নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ দেশের প্রতিনিধিসহ ৪০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখে সোমবার বিদায় নেয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তাদের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি গুস্তাভো আদোলফো মেসা কুয়াদ্রা ভেলাসকাস। রোহিঙ্গা সংকটের গভীরতা বুঝতে বাংলাদেশ থেকে সোমবার তারা মিয়ানমারে যাচ্ছেন। গণভবনের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের বলেছেন, ‘চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এ সমস্যার সমাধানে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, লাওসসহ মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টির জন্যও আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার যে চুক্তি করেছে সে অনুযায়ী মিয়ানমারের কাজ করা উচিত বলেও বৈঠকে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযান শুরুর পর দলে দলে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশ সীমান্তে। মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দিয়ে তাদের আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে মিয়ানমারের সৈন্যদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠে আসে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা একে জাতিগত দমন অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সমালোচনার মুখে মিয়ানমার সরকার এই শরণার্থীদের ফেরত নিতে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা এবং তাদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় যে ভূমিকা রেখেছে বৈঠকে তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি কেলি কারি বৈঠকে বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার মাধ্যমে মানবিক দিক থেকে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের জন্য নতুন একটি নজির বেঁধে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। চীনের প্রতিনিধি উ হাইতাও বলেন, তার দেশ এই সংকটের সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। রাশিয়ার প্রতিনিধি দিমিত্রি পোলিয়ানস্কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানেও বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ সংঘাত চায় না এবং এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফর এবং মিয়ানমানের সমাজকল্যাণমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হওয়ার ওপর জোর দেন। নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় আনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার চাপে কক্সবাজারে স্থানীয়রা ভোগান্তিতে পড়েছে; পরিবেশ ও বনভূমির ক্ষতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বর্ষায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা বাড়ার আশঙ্কার কথা নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন এবং ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা তাদের বলেন। নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পাশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে অরক্ষিত বিস্তীর্ণ উপকূল

কাজের ধীরগতি ও সংস্কারের অভাবে অরক্ষিত রয়ে গেছে চট্টগ্রামের উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলো। চলতি মৌসুমে বড় ধরনের কোনো জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড় হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় প্রাণহানিসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
উপকূলবাসীর ভাষ্য, উপকূল রক্ষাবাঁধগুলো সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। এতে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন উপকূলবাসীরা। তবে বেড়িবাঁধগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দাবি, কোথাও দুর্বল বাঁধ নেই।
পাউবো চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন বড়ুয়া বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে অরক্ষিত বা ঝুঁকিতে থাকা এমন কোনো বাঁধ নেই চট্টগ্রাম উপকূলে। ঝুঁকিতে থাকা বাঁধের মধ্যে চট্টগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধকে ঘিরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করছে।
উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও বেড়িবাঁধকে ঘিরে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এলাকার সাধারণ লোকজন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, লবণাক্ত পানি প্রবেশ, জলাবদ্ধতা হ্রাস, বাঁধের ভাঙন রক্ষা, আবাদি জমি, ফসল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও মূল্যবান সমপদ রক্ষা করা সহজ হবে। উপকূলীয় এলাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনেও প্রকল্পগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ ও মিরসরাই একাংশ মিলিয়ে ২৬৫ দশমিক ২৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজলায় ১৪১ দশমিক ১৪ কিলোমিটার, সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৩৩ দশমিক ৬২ কিলোমিটার, সন্দ্বীপ উপজেলায় ৫৮ কিলোমিটার, মিরসরাই উপজেলায় ৩২ দশমিক ২০ কিলোমিটার, আনোয়ারায় ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে।
যদিও স্থানীয় লোকজন এসব বেড়িবাঁধ এখনো অরক্ষিত এবং যেখানে প্রকল্পের কাজ চলছে সেগুলোও খুব ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ করেন।
লোকজনের মতে, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গিয়েছিল আনোয়ারা উপকূলের ১৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। এরপর বিভিন্ন সময় বেড়িবাঁধ সংস্কার ও রিং বাঁধ নির্মাণের নামে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিলেও তাতে দুঃখ ঘুচেনি উপকূলবাসীর। দীর্ঘদিন পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান ২৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে আনোয়ারা উপকূলীয় বাঁধের জন্য। তবে অভিযোগ কাজের ধীরগতি নিয়ে।
সরজমিনে দেখা যায়, আনোয়ারা উপকূলীয় বাঁধের দক্ষিণ ও উত্তর পরুয়া পাড়া ও বারআউলিয়া অংশে ব্লক বসানো হলেও বাঁধের বিরাট অংশ রয়েছে ভাঙাচোরা অবস্থায়। পূর্ব গহিরা অংশে ফকিরহাট ও হাড়িয়াপাড়া এলাকায় ৭১০ মিটার এলাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি ব্লক বসানোর কথা থাকলেও সেখানে কোনো কাজ শুরু হয়নি।
উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীতে ২৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। ৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩৪টি প্যাকেজে বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধের কাজ পায়। ২০১৫ সালের মে থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত এ বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ আছে। অভিযোগ আছে প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠে। বাঁধ এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন, অনেক জায়গায় বাঁধ সংলগ্ন স্থান থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।
পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধের দৈর্ঘ্য ২১ কিলোমিটার। এর বাইরে রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে বেড়িবাঁধ না থাকলেও সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন হালদা ও কর্ণফুলী নদীর ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।
বোয়ালখালী ও রাউজান অংশে কর্ণফুলী নদী এবং খালের ভাঙনরোধে ৩৫৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল পাউবো। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রকল্পটি এখনো আটকে আছে। এর মধ্যে তাড়াহুড়া করে নেয়া হয়েছে ৩১ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প। এ প্রকল্পে বাদ দেয়া হয়েছে রাউজান অংশকে। বৃহৎ আকারের প্রকল্প বাদ দিয়ে ছোট আকারের প্রকল্প গ্রহণের পিছনে আগামী নির্বাচনই উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়, পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ও মোরার আঘাতে বাঁশখালীর ৬টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এরপর আড়াইশ’ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধে ১৭ লাখ ৮ হাজার ৪৭১টি ব্লক ও ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৭টি জিও ব্যাগ তৈরির কাজ চলছে।