Wednesday, January 13, 2016

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ নাবিককে ছেড়ে দিয়েছে ইরান

ফার্সি দ্বীপের কাছে আটক যুক্তরাষ্ট্রের দুটি
টহল-তরি। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সংবাদ ও
জনসংযোগবিষয়ক ওয়েবসাইট সেফাহ নিউজ
ছবিগুলো আজ বুধবার প্রকাশ করে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ছোট টহল-তরি থেকে আটক ১০ নাবিককে ছেড়ে দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, আটক নাবিকেরা দুঃখ প্রকাশ করায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাবিকদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফার্সি দ্বীপের কাছে আটক যুক্তরাষ্ট্রের দুটি
টহল-তরি। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সংবাদ ও
জনসংযোগবিষয়ক ওয়েবসাইট সেফাহ নিউজ
ছবিগুলো আজ বুধবার প্রকাশ করে।
গতকাল মঙ্গলবার ফার্সি দ্বীপের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের টহল-তরি দুটি ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তরীতে সম্ভবত কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। এরপর তা ইরানের ফার্সি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়।
রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যদের বরাত দিয়ে ইরানের টেলিভিশন চ্যানেলে খবরে বলা হয়, নাবিকদের এই জলসীমায় প্রবেশের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এর আগে রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌ কমান্ডার জেনারেল আলী ফাদাভি ইরানের টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎ​কারে বলেন, অনুসন্ধান করে পাওয়া গেছে নৌযান চালনায় ভুল হওয়ায় এমনটি হয়েছে।

বরগুনায় সৌদি প্রিন্স, সাত আশ্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন

বরগুনার আমতলীতে গতকাল ঘূর্ণিঝড়
আশ্রয়কেন্দ্রের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন
সৌদি প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল
আজিজ আল সউদ l প্রথম আলো
বরগুনার আমতলী উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার সাতটি বিদ্যালয়-কাম-ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে গতকাল বেলা একটায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই স্থাপনাগুলোর উদ্বোধন করেন। সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানব সহায়তা ফাউন্ডেশনের ‘ফায়েল খায়ের’ কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়গুলো নির্মিত হয়েছে।
নতুন বিদ্যালয়-কাম-আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর চাবি হস্তান্তর উপলক্ষে আমতলীর ঘটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলাবিধ্বস্ত জনপদের বিপন্ন জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যা করে গেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বরগুনাবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে আরও বলেন, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা আমাকে আমতলী-তালতলী (সাবেক বরগুনা-৩ আসন) আসন থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। এ জন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রতি সৌদি সরকারের সহযোগিতার জন্য সৌদি প্রিন্স ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) প্রেসিডেন্ট ড. আহমেদ মোহাম্মদ আল মাদানিকে ধন্যবাদ জানান।
সৌদি প্রিন্স তুর্কি বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সউদ আমতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে নতুন সাতটি স্থাপনার চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। প্রিন্স তুর্কি বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানব সহায়তা ফাউন্ডেশনের প্রধান।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রিন্স তুর্কির ছোট ভাই প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সউদ বলেন, ‘বিশ্বের যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে, আমাদের বাবা বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ সেখানে নীরবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। ... বাবার পথ অনুসরণ করে আমরাও হতদরিদ্র মানুষের পাশে থেকে সারা জীবন কাজ করে যেতে চাই।’
বরগুনার জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলামের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) প্রেসিডেন্ট আহম্মেদ মোহাম্মদ আলী আল মাদানি, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মেজবাহ উল আলম, আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম দেলওয়ার হোসেন প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে সৌদি রাষ্ট্রদূত এ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী প্রমুখ।

মেয়ের হত্যাকারীর বিচার দেখে যেতে চান বাবা-মা by বদর উদ্দিন

নাসরিন আক্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রফিজ উদ্দিনের মেয়ে আইনজীবী নাসরিন আক্তার (২৭) হত্যা মামলাটি দীর্ঘ সাত বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি। উল্টো নাসরিনের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর আগে তাই একমাত্র মেয়ের হত্যাকারীর বিচার দেখে যাওয়ার আকুতি জানালেন বৃদ্ধ বাবা-মা।
নাসরিন আক্তার ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় খুন হন। ঘটনার পরদিন নাসরিনের ছোট ভাই সালাহ উদ্দিন বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঢাকা জজ আদালতের শিক্ষানবিশ আইনজীবী নাসরিন আক্তার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় একটি বাসায় সাবলেট থাকতেন। ফ্ল্যাটটিতে বাবা-মা, স্ত্রী ও বোনদের নিয়ে থাকতেন আমিন মিয়া (৪০)। আমিন একদিন নাসরিনকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ক্ষুব্ধ হয়ে ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল আটটার দিকে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নাসরিনকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন আমিন। নাসরিনের ছিন্ন মাথা নিয়ে রাস্তায় উল্লাস করতে থাকেন আমিন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আমিন। ঘটনার দুই মাস পর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম পাঁচ আসামিকে বাদ দিয়ে শুধু আমিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পুলিশ বাড়ির মালিক, আশপাশের ভাড়াটিয়া ও প্রত্যক্ষদর্শী এক রিকশাচালককে সাক্ষী করেন।
বাদী সালাহ উদ্দিনের অভিযোগ, আসামি আমিন বর্তমানে জেলহাজতে থাকলেও তাঁর পক্ষের লোকজনের ভয়ভীতির কারণে সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাননি। ইতিমধ্যে কয়েকজন সাক্ষী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি মামলা প্রত্যাহারে নাসরিনের বাবাকে ‘প্রাইভেট নাম্বার’ লেখা অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন আসামি পক্ষের লোকজন। এ ব্যাপারে তাঁর বাবা রফিজ উদ্দিন গত ১৪ নভেম্বর সরাইল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে তিনি জানান।
নাসরিনের বাবা রফিজ উদ্দিন (৬৮ ‍) ও মা রেনুকা পারভীন (৫৫) বলেন, মৃত্যুর আগে একমাত্র মেয়ের হত্যাকারীর বিচার দেখে যেতে চান তাঁরা। এ ব্যাপারে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পুলিশী নির্যাতনের বিচার চেয়ে গভর্নরের চিঠি

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে নির্যাতনকারী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপি একেএম শহীদুল হককে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
আজ বুধবার এ চিঠি দেয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এএফএম আসাদুজ্জামান। এদিকে নির্যাতনের পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রাব্বী কিছুতেই দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
গত শনিবার রাত ১১টার দিকে গোলাম রাব্বী মোহাম্মদপুরে খালার বাসা থেকে কল্যাণপুর নিজের বাসায় যাচ্ছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে এক পুলিশ সদস্য তার শার্টের কলার ধরে বলেন, তোর কাছে ইয়াবা আছে। তিনি অস্বীকার করলে ওই পুলিশ তাকে ধরে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ শিকদারের কাছে নিয়ে যান। এসআই মাসুদও তাকে বলেন, তার কাছে ইয়াবা আছে। তিনি আবার অস্বীকার করলে এসআই মাসুদসহ পুলিশ সদস্যরা তাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। এ সময় তিনি নিজের পরিচয় দেন। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। একপর্যায়ে তাকে জোর করে পুলিশের ভ্যানে তোলা হয়। সেখানে তাকে মারধরও করা হয়। থানায় নেয়ার পর তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে পুলিশ। টাকা না দিলে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করে বেরিবাধে ফেলে রাখার হুমকি দেয়া হয়। নির্যাতনের পর শেষ রাতে তাকে ছেড়ে দেয় এসআই মাসুদ।
পরের দিন রোববার পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন গোলাম রাব্বী।
এ ঘটনায় সারাদেশের গণমাধ্যম এবং সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আলোচনা সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। পরে গত সোমবার চাঁদা না দেয়ায় রাব্বীকে তল্লাশির নামে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের হুমকির অভিযোগে এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি কার্যালয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাব্বীকে নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের এসি হাফিজ আল ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ নাবিককে আটক করেছে ইরান

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ছোট টহল-তরী থেকে ১০ জন নাবিককে আটক করেছে ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা এমনটাই জানিয়েছেন।
আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল মঙ্গলবার ফার্সি দ্বীপের কাছে ঘটনাটি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের টহল-তরী দুটি ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তরীতে সম্ভবত কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। এরপর তা ইরানের ফার্সি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র পিটার কুক বলেন, তরী ও নাবিকদের শিগগিরই ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস বলছে, দেশটির রেভ্যুলেশনারি গার্ডের সদস্যরা নয়জন নারী ও একজন পুরুষকে আটক করেছে। তাঁরা বিনা অনুমতিতে ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করে ভেতরে ঢোকার ফাঁকফোকর খুঁজছিলেন।
ইরানের রক্ষণশীল তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌযান দুটি মেশিনগানসজ্জিত। আটক নাবিকদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বারবার তেহরানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘কুয়েত থেকে বাহরাইন যাওয়ার পথে মার্কিন নৌবাহিনীর ছোট দুটি নৌযানের ঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, আটক হওয়া নাবিকেরা নিরাপদে আছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ইরান। তাঁদের শিগগিরই যাত্রার অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, আজ সকালে ওই নাবিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
ঘটনার বিষয়ে সমঝোতার লক্ষ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
নাম প্রকাশ না করে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, ফলাফল পাওয়ার লক্ষ্যে বিষয়টি নিয়ে জারিফের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলছেন কেরি।
ইরানের আলোচিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিন বছর ধরে চলা সমঝোতা চেষ্টার সময় এই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

হাসপাতালে হামলা

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক দাতব্য চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) পরিচালিত একটি হাসপাতালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর জোটের যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হতে পারে বলে ধারণা করছে এমএসএফ। হামলায় ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন এমএসএফ কর্মী। সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর জোট হুতিদের দমনে গত বছরের মার্চ থেকে ইয়েমেনে অভিযান চালাচ্ছে। এর আগে আফগানিস্তানের কুনদুজে মার্কিন বিমান হামলায় এমএসএফের হাসপাতালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিবিসি

নেপালের নেতাদের প্রতি জাতিসংঘ- সংলাপে বসুন

নেপালে নতুন সংবিধানকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট নিরসনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের রাজনীতি-বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফরে ফেল্টম্যান। খবর দ্য হিন্দুর।
খবরে বলা হয়, নতুন সংবিধান নিয়ে নেপালে বিরাজমান মানবিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তা ফেল্টম্যান। সংবিধান নিয়ে দেশটির নেতাদের মধ্যে যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে তা সমন্বিত সংলাপ এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সমাধান করতেও তাঁদের উৎসাহিত করেছেন তিনি। গত শনিবার নেপালে দুই দিনের এক সফর শেষে সংলাপের ওই আহ্বান জানান জেফরে ফেল্টম্যান।
নেপালে গত সেপ্টেম্বরে নতুন সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর থেকে মদেশীয় জাতিগোষ্ঠীর সংগঠনগুলো বিক্ষোভ শুরু করে। এতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় স্থলবেষ্টিত নেপালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ ও জ্বালানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন সংবিধানের বিরুদ্ধে নেপালে গত চার মাসের সহিংসতায় অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছে।

মাদায়াবাসীকে আর লতা-পাতা খেতে হবে না

জাতিসংঘের ত্রাণবাহী গাড়ির একটি বহর সিরিয়ার অবরুদ্ধ শহর মাদায়ায় যাচ্ছে। এই শহরের ৪০ হাজার মানুষের এক মাসের খাদ্যদ্রব্য আছে এই বহরে। গাড়িবহরের সঙ্গে ওষুধ এবং কম্বলও যাচ্ছে। আজ সোমবার বিবিসির খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরের পর থেকে এই মাদায়া শহরে বাইরে থেকে কোনো খাবার ঢোকেনি। শহরটির দুর্ভিক্ষপীড়িত কঙ্কালসার কয়েকজন বাসিন্দার ছবি প্রকাশ এবং ওই শহরের বাসিন্দারা লতা-পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করছেন—এমন খবর গণমাধ্যমে প্রচারের পরই জাতিসংঘের তরফ থেকে ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হলো। ওই ত্রাণ বহর পৌঁছালে মাদায়াবাসীকে অন্তত এক মাসের জন্য আর লতা-পাতা খেয়ে জীবনধারণ করতে হবে না।
গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত শহরটিতে অনাহারে ২৮ জন মারা গেছেন বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে এবং লেবানন সীমান্তের ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মাদায়া শহর। বেশ কয়েক মাস ধরেই সরকারি বাহিনী এবং তাদের মিত্র লেবাননের হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে আছে শহরটি। বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গত জুলাই থেকে এই শহরের নিয়ন্ত্রণ সরকারপন্থীদের হাতে যায়। সেখানে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ কার্যত বন্দী অবস্থায় আছে। চুক্তি অনুযায়ী শহরে খাদ্যসহ বিভিন্ন জিনিস প্রবেশে কিছু বিধিনিষেধ আছে। এ কারণে শহরটিতে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে।
মাদায়া ছাড়াও দেশটির উত্তরের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা আরও দুটি গ্রাম কেফ্রায়া ও ফোয়াহ-তেও একই ধরনের ত্রাণবহর পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। গত বছরের মার্চ মাস থেকে ওই এলাকার ২০ হাজার মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে।
আরও পড়ুন :
খাওয়ার জন্য লতা-পাতাও পাচ্ছে না ওরা!

এবার আরব লিগ ইরানের কড়া সমালোচনায়

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল, সংক্ষেপে জিসিসি) পর এবার আরব লিগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানে সৌদি দূতাবাসে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। রোববার মিসরে আরব লিগের বৈঠকে লেবানন ও সিরিয়া বাদে সংগঠনটির বাকি সব সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই নিন্দা জানান। খবর বিবিসির।
কায়রোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরব লিগের প্রধান নাবিল আল-আরাবি ইরানের বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক তৎপরতা’ চালানোর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জাভেদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ‘গোষ্ঠী বিবাদ’ ছড়ানোর অভিযোগ করেন।
আরব লিগ ইরানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা ঠিক করতে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
এর আগে শনিবার রিয়াদে জিসিসির বৈঠকেও ইরানের কড়া সমালোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের হুমকি দেন, ইরান তার নীতি থেকে সরে না এলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।
গত মাসে সৌদি আরব দেশটির প্রভাবশালী শিয়া নেতা শেখ নিমর আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর রিয়াদের সঙ্গে তেহরানের দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত রূপ নেয়। আল-নিমরের সাজা কার্যকরের জের ধরে ইরানে সৌদি দূতাবাস ও কনস্যুলেট ভবনে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে রিয়াদ। সৌদি আরবের সমর্থনে বাহরাইন, জিবুতি, সোমালিয়া ও সুদানও তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনমন করে এবং কুয়েত ও কাতার তেহরান থেকে তাদের কূটনীতিক প্রত্যাহার করে নেয়। তুরস্কও শেখ নিমর আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনাকে সৌদি আরবের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে অভিহিত করে ইরানের নিন্দা জানায়।

গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে

ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার ষড়যন্ত্র করার দায়ে ইরানের এক ব্যক্তিসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি আদালত। ওই দুজনের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চালানো হয়। ওই দুই ব্যক্তিসহ কুয়েতের শিয়া সম্প্রদায়ের ২৪ জন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এঁদের একজনকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। অপর ১৯ জনকে ৫ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
এএফপি

তুরস্কে ‘আত্মঘাতী হামলা’, নিহত ১০


তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। আহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও আছেন। আজ মঙ্গলবার ওই বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটে। কোনো কোনো সূত্র ওই বিস্ফোরণকে আত্মঘাতী হামলা বলে উল্লেখ করেছে। খবর বিবিসির।
নগর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইস্তাম্বুলের সুলতানাহ শহরে ঐতিহাসিক সুলতান আহমেদ মসজিদের (নীল মসজিদ বলে পরিচিত) অদূরে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। কী দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটনা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১৫ জন আহত হন।
কোনো কোনো সূত্র বলছে, ​​এটা আত্মঘাতী হামলা। তবে গভর্নরের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বিষটি স্পষ্ট করে বলা হয়নি। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিস্ফোরণের পর পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। ​কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জার্মানির গণমাধ্যমগুলো বলছে, জার্মানির কয়েকজন নাগরিক ওই বিস্ফোরণের শিকার হয়েছেন। তাৎ​ক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা না গেলেও জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বিবৃতি দিয়ে তুরস্কে থাকা জার্মানির নাগরিকদের সতর্কভাবে চলাচল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে তুরস্কে আরও ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হতে পারে।

হাজিদের নিরাপত্তায় মিনার সড়ক চওড়া করার সুপারিশ

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরের কাছের ও মিনার সড়কগুলো আরও চওড়া করার সুপারিশ করেছে দেশটির শুরা কাউন্সিল। গত বছর পবিত্র হজ পালনকালে মিনায় পদপিষ্ট হয়ে প্রায় দুই হাজার হাজির মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষাপটে হাজিদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর চেষ্টায় এ সুপারিশ করা হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
গত বছরের ওই দুর্ঘটনার জন্য হাজিরা মিনার কিছু সড়ক আটকে দেওয়া ও অপর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দায়ী করেছিলেন। তবে সৌদি কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করে বলেছেন, হাজিরা নির্দেশনা না মানাতেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
সৌদি মন্ত্রিসভাকে পরামর্শদানকারী শুরা কাউন্সিল গত সোমবার বলেছে, হজ মন্ত্রণালয় ও হজ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার উচিত মিনা এবং মক্কাসহ অন্য পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে হাজিদের চলাচল বা পরিবহনব্যবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা।
সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ এ তথ্য জানিয়ে আরও বলেছে, শুরা কাউন্সিল জামারাতের স্থান (শয়তানের উদ্দেশে কঙ্কর নিক্ষেপের স্থান) অভিমুখী সড়ক চওড়া করতে ও মিনায় হাজিদের থাকার স্থানগুলোর ধারণক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে বলেছে।
প্রত্যেক হাজির জন্য বর্তমানে যতটুকু স্থান বরাদ্দ রয়েছে তা ও সেবাপ্রদানকারী সংস্থাগুলোর দক্ষতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ও পর্যালোচনা করতে বলেছে এ কাউন্সিল।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিনা দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন নায়েফ। তিনি সৌদি হজ কমিটিরও প্রধান। তবে ওই তদন্তের ফলাফল এখনো অজানা।
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিনা দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২ হাজার ২৯৭ জন হাজি নিহত হন। যদিও সৌদি সরকার এ সংখ্যা ৭৬৯ জন বলে জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর সৌদি সরকারের হজ ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনায় সাড়া দেওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার ঝড় ওঠে; বিশেষত তীব্র ক্ষোভ জানায় ইরান। তেহরানের হিসাবে, দুর্ঘটনায় কেবল তাদেরই ৪৬৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবছর পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি সৌদি আরবে সমবেত হন। গত বছর মিনার এ দুর্ঘটনা ছাড়াও হজ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে পবিত্র হারাম শরিফে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ক্রেন ভেঙে হাজিসহ ১০৯ জন প্রাণ হারান।

অবরুদ্ধ মাদায়া থেকে ৪০০ রোগীকে বের করে আনার তাগিদ

সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর ঘিরে রাখা বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত মাদায়া শহরে যে বাসিন্দারা আটকা পড়েছে তাদের মধ্য থেকে মরণাপন্ন প্রায় ৪০০ জন নারী ও পুরুষকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অসুস্থ এসব লোকের জীবন এখন হুমকিতে; দ্রুত চিকিৎসা না দেওয়া হলে তারা মারা পড়তে পারে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম-বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক স্টিফেন ও’ব্রায়ান এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে মাদায়া শহরের বাসিন্দাদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক হয়েছে। বৈঠক শেষে ও’ব্রায়ান এই হুঁশিয়ারি দেন। খবর বিবিসির।
এর আগে জাতিসংঘ বলেছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী চারপাশ থেকে শহরটি ঘিরে রাখায় মাসের পর মাস অবরুদ্ধ থাকা প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দা খাবারের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের মধ্যে অনেকে না খেয়ে মারা যাওয়ার বিশ্বাসযোগ্য খবরও তারা পেয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, সেখানকার বাসিন্দাদের কাছে জরুরি খাবার পৌঁছে দিয়েছে ত্রাণকর্মীদের একটি দল।
ও’ব্রায়ান বলেন, মাদায়া শহরের এক হাসপাতালে প্রায় ৪০০ মানুষকে চিকিৎসা ঘাটতির শিকার অবস্থায় দেখেছেন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের একজন সমন্বয়ক। এসব মানুষকে দ্রুত শহরটি থেকে বাইরে বের করে আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই এটা করতে হবে ও যত দ্রুত সম্ভব তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে তাদের মৃত্যুর সমূহ আশঙ্কায় পড়তে হবে।’
খবরে বলা হয়, কিছু বাসিন্দাকে এ শহর ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে বিদ্রোহীরা। তারা হয়তো জিনিসপত্র নিয়ে এখন শহরটি ছাড়ার অপেক্ষায়।
এদিকে, গত অক্টোবরের পর এই প্রথম গত সোমবার মাদায়া শহরে অনুমতি সাপেক্ষে ত্রাণ সরবরাহ করা গেছে। এদিন জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) প্রায় ২০ হাজার লোকের জন্য এক মাসের খাবার পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।

সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার হুমকি

সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে আল-কায়েদার ইয়েমেনি শাখা।
একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার খবরে জানানো হয়, সৌদি আরবে চলতি মাসের শুরুর দিকে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিক্রিয়ায় এই হুমকি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি।
আল-কায়েদার ইয়েমেনি শাখার বোমা তৈরির বিশেষজ্ঞ ইব্রাহিম বিন হাসান আল-আসিরি ধারণ করা এক অডিও বার্তায় ওই হুমকি দিয়েছেন। কথিত অডিও বার্তাটি গতকাল সোমবার প্রকাশ করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে অডিওতে দাবি করা হয়, আরব উপদ্বীপ দখলদারের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ করায় তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
আল-কায়েদার ওই নেতা আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন। সৌদি আরবকে ‘ভিন্ন উপায়ে’ দেখে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। এই ‘ভিন্ন উপায়’ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সম্প্রতি সৌদি আরব ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। তাদের মধ্যে আল-কায়েদার সদস্যরাও আছে বলা হচ্ছে।

তুরস্কে ‘আত্মঘাতী হামলায়’ নিহতদের ৯ জনই জার্মান

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিস্ফোরণে নিহত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই জার্মান পর্যটক। আহত ১৫ জনের মধ্যেও বেশির ভাগই জার্মান। আজ মঙ্গলবার ওই বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটে। কোনো কোনো সূত্র ওই বিস্ফোরণকে আত্মঘাতী হামলা এবং হামলাকারীকে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্য বলে উল্লেখ করেছে। খবর বিবিসির।
নগর কর্তৃপক্ষ জানায়, পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় ইস্তাম্বুলের সুলতানাহ শহরে ঐতিহাসিক সুলতান আহমেদ মসজিদের (নীল মসজিদ বলে পরিচিত) অদূরে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। কী দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটনা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১৫ জন আহত হন।
কোনো কোনো সূত্র বলছে, এটা আত্মঘাতী হামলা। তবে গভর্নরের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বিষটি স্পষ্ট করে বলা হয়নি। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিস্ফোরণের পর পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, এই অঞ্চলের সব সন্ত্রাসীদের নি​শানায় পরিণত হয়েছে তুরস্ক। তাঁর দেশ সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
জার্মানির নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মেরকেলকে জানান তুর্কি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, হামলাকারী আইএসের সদস্য ওই বিদেশিকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ভবিষ্যৎকে ভয় না পেতে সাহস দিলেন ওবামা

সন্ত্রাসবাদ ও পরিবর্তিত অর্থনীতি নিয়ে বিচলিত মার্কিনিদের উদ্দেশে দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ভবিষ্যৎকে তাদের ভয় পাওয়া উচিত নয়।
গতকাল মঙ্গলবার ওবামা তাঁর মেয়াদকালের শেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ভাষণে ওবামা তাঁর সরকারের কাজকর্মের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন। একই সঙ্গে মার্কিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে টেকসই অর্থনীতি বিদ্যমান। আমেরিকার অর্থনীতি ক্ষীয়মাণ বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা তুচ্ছ গল্প।
ওবামা বলেন, ‘এই চেম্বারে আমার শেষ ভাষণে আমি কেবল নতুন বছর নিয়ে কথা বলতে চাই না, আমি পরবর্তী পাঁচ বছর, ১০ বছর, তার চেয়ে বেশি সময়ের প্রতি আলোকপাত করতে চাই।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি আমাদের ভবিষ্যতের প্রতি আলোকপাত করতে চাই।’
ওবামা তাঁর ভাষণে আয়বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার, জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখার উপায়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।
ওবামা বলেন, তিনি এ বছর গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধ করতে চান, কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চান, আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন দিতে চান, ফলপ্রসূ অপরাধ বিচার সংস্কার অর্জন করতে চান। জঙ্গিবাদ, স্বাস্থ্য সংস্কারের মতো প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তাঁর ভাষণে।
ওবামা তাঁর দেশের রাজনীতি নিয়েও কথা বলেছেন। রাজনীতিতে বিভেদ সৃষ্টির ভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য ভোটার ও রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সংক্ষেপ- ষাঁড়ের লড়াই নয়

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে ষাঁড়ের লড়াইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির পশুকল্যাণ বোর্ড জাল্লিকাটু নামের জনপ্রিয় ওই উৎসবের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আবেদন করার পর উৎসব শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে সুপ্রিম কোর্ট এ স্থিতাবস্থা জারি করল। আদালত বলেছেন, ওই উৎসবের ওপর ২০১৪ সালে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর অস্থায়ী স্থিতাবস্থা জারি করা হয়েছে। ওই উৎসবে ষাঁড়কে হত্যা করা না হলেও সমালোচকেরা জাল্লিকাটু উৎসবকে অত্যন্ত বর্বর বলে উল্লেখ করেন। কারণ, এ সময় ষাঁড়কে জোর করে মাদক পান করানো হয় এবং তাদের চোখে মরিচের গুঁড়া মেখে দেওয়া হয়।
এএফপি

দুর্বল গণতন্ত্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা সম্ভব নয় -রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ

নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোন কালাকানুন নেই এটি সত্যি। কিন্তু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ গণমাধ্যমে রয়েছে। কিছু নিয়ন্ত্রণ আছে সরকারি রাষ্ট্রযন্ত্রের ভিতর থেকে আর কিছু আছে বিভিন্ন পেসার গ্রুপ থেকে। এ দুটি ক্ষেত্র মিলে গণমাধ্যমের এমন একটি অবস্থা তৈরি করা হয় যাতে করে গণমাধ্যম সেলফ সেন্সরশিপে যেতে বাধ্য হয়। মানবজমিনকে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন গণমাধ্যম যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করে সরকারকে সেজন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই দুর্বল। দুর্বল গণতন্ত্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনদিন সম্ভব নয়। বর্তমানে এদেশের গণমাধ্যম একটি অগণতান্ত্রিক পরিবেশে আছে বলে করেন রিয়াজ উদ্দিন।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা সু চির

মিয়ানমারের জাতিগত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের শান্তি সংলাপ গতকাল মঙ্গলবার আবার শুরু হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিচ্ছেন। সংলাপে অংশ নিয়ে অং সান সু চি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির।
রাজধানী নেপিডোতে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এই সংলাপে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
গতকাল থেকে শুরু হওয়া সংলাপে প্রাকৃতিক সম্পদের বিষয়টিই সবচেয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে। জাতিগত এই প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা নিয়েই মিয়ানমার গত দশকগুলোতে বড় বড় সংঘাত প্রত্যক্ষ করেছে, যার বলি হয়েছে অগণিত মানুষ। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আগামী মার্চে দেশের ক্ষমতায় বসতে যাওয়া রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতা সু চি গতকাল আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেছেন, এই লড়াই ‘শিগগিরই শেষ হবে’ বলে আশাবাদী তিনি। তবে সে জন্য দেশের রাজনীতির মানে উন্নতি ঘটাতে হবে এবং সব গোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সু চি বলেন, ‘একটি জাতীয় পুনর্মিত্রতা প্রতিষ্ঠা করা ছা

বাশারকে আশ্রয় দেব কি না বলার সময় আসেনি: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, গৃহযুদ্ধ-কবলিত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মস্কো আশ্রয় দেবে কি না, তা বলার সময় আসেনি। সিরীয় সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে নতুন সংবিধান প্রণয়নের কথাও বলেছেন তিনি। জার্মান পত্রিকা বিল্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন পুতিন। খবর এএফপির।
জার্মানির বহুল প্রচারিত দৈনিকটি পুতিনের সাক্ষাৎকারটি দুই পর্বে প্রকাশ করে। বাশার বাহিনীর সহায়তায় সিরিয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সামরিক অভিযান শুরু করা পুতিন সাক্ষাৎকারটির দ্বিতীয় অংশে বলেন, ‘আমি মনে করি বিষয়টি নিয়ে (বাশারকে আশ্রয়দান) আলোচনার সময় এখনো আসেনি। আমরা স্নোডেনকে (অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন) আশ্রয় দিয়েছি। সেটা ছিল বাশারকে আশ্রয় দেওয়ার চেয়েও কঠিন কাজ।’
পুতিন সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, প্রথম যে বিষয়টা দরকার সেটা হলো, সিরিয়ার জনগণকে তাদের কথাটা বলতে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, সেটা যদি একটা গণতান্ত্রিক পথে করা সম্ভব হয়, তখন হয়তো তাঁকে (বাশারকে) অন্য কোথাও যাওয়া লাগবে না। এখানে তিনি প্রেসিডেন্ট কি প্রেসিডেন্ট নন, তা কোনো বিষয় নয়।’

অর্থকষ্টের চিন্তায় পড়েছিলেন জো বাইডেন!

উপার্জনক্ষম ছেলের মৃত্যুর পর অর্থকষ্টের চিন্তায় পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তখন তাঁর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রেসিডেন্ট তাঁকে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়ে বাড়ি বিক্রি করতে মানা করেন।
জো বাইডেন তাঁর না বলা এ কথা জানান সিএনএনের সাংবাদিক গ্লোরিয়া বরগারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।
ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্টের ছেলে বো বাইডেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মে মাসে তিনি ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জো বাইডেন ছেলের মৃত্যুর সময়কার কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন সিএনএনকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে।
জো বাইডেন বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে সপ্তাহের এক মধ্যাহ্নভোজের আলাপচারিতায় তিনি অর্থকষ্টের চিন্তার বিষয়টি বলেছিলেন। উল্লেখ করেছিলেন, ছেলের উপার্জন ছাড়া ছেলের পরিবারের দেখভাল নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ডেলাওয়ার রাজ্যে তাঁদের বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা ওবামাকে জানান। তখন প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁকে বাড়ি বিক্রি করতে বারণ করেন এবং যত অর্থ লাগবে তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছেলের অকাল মৃত্যুর কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ব্যক্তিগত মহানুভবতার গল্প বেশ ভালোভাবে উল্লেখ করেন। জানান, শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়িটি বিক্রি করেননি। তবে ওবামার কাছ থেকে ব্যক্তিগত অর্থ সাহায্য নিতে হয়েছিল কি না, সে প্রসঙ্গটি সাক্ষাৎকারে আর আসেনি।

শরণার্থীদের ফেরত পাঠাচ্ছে জার্মানি

নতুন বছরের শুরু থেকে প্রতিদিন অসংখ্য শরণার্থীকে অস্ট্রিয়ায় ফেরত পাঠাচ্ছে জার্মানি। অস্ট্রীয় পুলিশ এ কথা জানিয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শরণার্থীদের অনেকের কাছেই বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। অন্যরা আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে জার্মানিতে আবেদন না করে অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলোতে আবেদন করতে চায়। জার্মানির কোলনে বর্ষবরণ উদযাপনের সময় নারীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় শরণার্থীদের দায়ী করা হয়েছে।
এ নিয়ে চাপে আছেন দেশটির শরণার্থীবান্ধব চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। যেসব শরণার্থী ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের মধ্যে সিরীয় শরণার্থী তেমন নেই। জার্মানি সাধারণত সিরীয় শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে থাকে। এসব শরণার্থীর অধিকাংশই আফগানিস্তান, মরক্কো ও আলজেরিয়া থেকে আসা বলে জানিয়েছে অস্ট্রীয় পুলিশ। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেছেন, শরণার্থী সমস্যার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ইউরো মুদ্রা টিকিয়ে রাখতে হলে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে স্বাধীনভাবে যাতায়াতের সুযোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কোলন শহরে ১ জানুয়ারি বর্ষবরণ উৎসবে অংশ নেয়া নারীদের ওপর যৌন হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৫৭৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে দুটি ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ১৯ জনের মধ্যে ১৪ জন মরক্কো ও আলজেরিয়া থেকে আসা। এদের মধ্যে দশজন শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়প্রার্থী এবং তাদের নয়জন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর জার্মানিতে এসেছেন। আটককৃতদের মধ্যে দু’জন জার্মান ও একজন আমেরিকানও রয়েছেন।
তবে শরণার্থীদের বিরুদ্ধে যৌন হামলার অভিযোগ আনা হলেও অন্যদের বিরুদ্ধে তা আনা হয়নি। ২০১৫ সালে প্রায় ১১ লাখ শরণার্থী আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে জার্মানিতে হাজির হয়েছেন। এদিকে জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় লিপজিগ শহরে মুসলমানবিরোধী বিক্ষোভ করেছে দেশটির ইসলামবিদ্বেষী সংগঠন পেজিডা। সোমবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির স্থানীয় গ্র“প লেজিডা এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। নববর্ষের প্রাক্কালে কোলন শহরে নারীদের যৌন হেনস্তার জন্য শরণার্থীরাই দায়ী বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের। বিক্ষোভকারীরা জার্মানিতে লাখো শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার কারণে চ্যান্সেলর মার্কেলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে জার্মানির পতাকা এবং মুসলমান ও শরণার্থীবিরোধী ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড ছিল। এসব ব্যানার-প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘এখানে ইসলাম স্বাগত নয়’, ‘মার্কেল, মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে বের হয়ে যাও’ ইত্যাদি। এ সময় বিক্ষোভকারীদের অনেকেই মার্কেলের পদত্যাগ দাবি করেন। বিক্ষোভকারীরা যাতে কোনো হামলা বা বিশৃংখল সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য ওই এলাকায় পুলিশ ও জলকামান মোতায়েন ছিল।

২০১৫ সালে ২৩ হাজার বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র

২০১৫ সালের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম প্রধান ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন এবং সোমালিয়ায় ২৩ হাজার ১৪৪টি বোমা ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা কাউন্সিল অব রিলেশনাস রেসিডেন্ট এর একজন ফেলো মিকাহ জেংকোর গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
‘আইএস দমনের’ জন্য সবচেয়ে বেশি বোমা ফেলা হয়েছে আইএস অধ্যুষিত ইরাক ও সিরিয়ায়। ২২ হাজার ১১০টি বোমা ফেলা হয়েছে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তৃর্ণ অঞ্চল জুড়ে। এরপরে আছে আফগানিস্তান। দেশটিতে ফেলা হয়েছে ৯৪৭টি। পাকিস্তানে ১১টি, ইয়েমেনে ৫৮টি এবং সোমালিয়ায় ১৮টি বোমা ফেলা হয়েছে।
আফগানিস্তানে তালেবান দমনের কথা বলে গত বছর সেখানে ৯৪৭টি বোমা ফেলার পরও ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০১ সালের পর তালেবান এখন বেশি এলাকা দখল করে আছে। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ১৬ বছরে পা দিয়েছে। অথচ ওবামা ক্ষমতায় আসার পর এ যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিগত সময়ের চার প্রেসিডেন্ট ইরাকে বোমা ফেলার পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছে। আইএসের ব্যাপক উত্থানের পর ২০১৪ সালের আগষ্টে পুনরায় বিমান হামলা শুরু করা হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধকে ‘সাময়িক’ ও ‘মানবিক’ বলে দাবি করে আসছে।

কানুর ক্যামেরায় মহাত্মা গান্ধী

মহাত্মা গান্ধী
গ্রামটির নাম তিনি নিজেই দিয়েছিলেন সেবাগ্রাম। ভারতের মহারাষ্ট্রের এই গ্রামে মহাত্মা গান্ধী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই আশ্রমে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দৌহিত্র কানু গান্ধী। ২০ বছরের কানুর সঙ্গী তখন রোলিফ্লেক্স ক্যামেরা। মহাত্মার দুর্লভ সাহচর্যে তাঁর জীবনের শেষ ১০ বছরে ২ হাজারেরও বেশি ছবি তুলেছিলেন কানু। সেসব দুর্লভ ছবির মধ্যে ৯২টি ছবি নিয়ে দিল্লি-ভিত্তিক নজর ফাউন্ডেশন একটি অ্যালবাম বের করেছে। কার ছবি নেই সেখানে? গান্ধীজির সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জওহরলাল নেহরু বা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো ব্যক্তিদেরও ছবি পাওয়া গেছে। বিখ্যাত ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা এসব ছবি হয়তো খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মুম্বাইয়ে বিড়লা সেন্টারে নিজের ওজন পরীক্ষারত গান্ধী, স্ত্রী কৌস্তর্ভর মরদেহের পাশে বসে থাকা গান্ধী কিংবা টেলিফোনে আলাপরত গান্ধীর ছবি আর কার পক্ষে পাওয়া সম্ভব ছিল কানু ছাড়া? কানু চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মা-বাবা তাঁকে মহাত্মার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কাজে যুক্ত করেন। তিনি সেবাগ্রাম আশ্রমের হিসাবরক্ষণ এবং চিঠিপত্র লেখার কাজ করতেন। কানুর ছবি তোলার শখ ছিল বেজায়। তবে মহাত্মা কানুকে বলেছিলেন, ক্যামেরা কিনে দেওয়ার মতো অর্থ তাঁর নেই। নাছোড় কানু এতে দমে যাননি। ব্যবসায়ী ঘনশ্যাম দাস বিড়লাকে গান্ধী অনুরোধ করেছিলেন কানুকে এক শ রুপি দিতে। এই টাকায় কানু ক্যামেরা আর ফিল্মের রোল কিনেছিলেন।
ক্যামেরা কেনার পর অবশ্য গান্ধী তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন নাতির জন্য। এক, ফ্লাশ ব্যবহার করা যাবে না। দুই, গান্ধীকে কখনোই ছবির জন্য পোজ দিতে বলা যাবে না। তিন, আশ্রম কানুকে ছবি তোলার জন্য এক পয়সাও দেবে না। কানু মহাত্মার এক ভক্তের কাছে থেকে পাওয়া বৃত্তির টাকা এবং পত্রিকায় ছবি বিক্রির টাকায় তাঁর ছবি তোলার শখ মেটাতেন। ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধী নিহত হওয়ার আগে পর্যন্ত কানু ভারতের এই মহান নেতার দুই হাজারের বেশি ছবি তুলেছেন। নজর ফাউন্ডেশনের দুই কৃতি চিত্রগ্রাহক প্রশান্ত পানজিয়ার ও দীনেশ খান্না দুর্লভ সেসব ছবি নিয়ে ১৫০ পৃষ্ঠার একটি বই প্রকাশ করেছেন। অহিংস আন্দোলনের প্রাণপুরুষ মহাত্মার ব্যক্তিগত জীবনযাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলনের ছবি স্থান পেয়েছে এ বইটিতে। পানজিয়ার বলেন, ‘গান্ধীর কাছে ভিড়তে পারার অসামান্য সুযোগ ছিল কানুর। কিন্তু ছবিগুলো দেখলে বোঝা যায়, গান্ধীর সঙ্গে অত্যন্ত শ্রদ্ধাপূর্ণ এক দূরত্ব বজায় রাখতেন তিনি। আধুনিক ফটোগ্রাফির নানা কলাকৌশল কানু সজ্ঞানেই জেনেছিলেন। তিনি প্রথাগত ছবির কাঠামো ভেঙে নানা ধরন ও বিন্যাসে ছবি তুলেছেন।’ গান্ধীর মৃত্যু কানু ও তাঁর স্ত্রী আভার জীবনে বিরাট প্রভাব ফেলে। পানজিয়ারের ভাষায়, ‘ছবি তোলার চেয়ে কানুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গান্ধীর সুমহান আদর্শকে তুলে ধরা।’ কানু গান্ধী মারা যান ১৯৮৬ সালে। তবে রেখে যান অমর কিছু চিত্র। সূত্র: বিবিসি

‘পপের পিকাসো’র বিদায়

কিংবদন্তি ব্রিটিশ পপতারকা ডেভিড বোওয়ি
চলে গেলেন কিংবদন্তি ব্রিটিশ পপতারকা ডেভিড বোওয়ি। দেড় বছরের বেশি সময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে গতকাল সোমবার ৬৯ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ডেভিডের ছেলে চিত্রনির্মাতা ডানকান জোনস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। বিবিসির আর্টস এডিটর উইল গমপারৎস ডেভিড বোওয়িকে ‘পপের পিকাসো’ অভিহিত করে বলেন, সৃজনশীল সংগীতের দ্যোতনা ও অভিনব পরিবেশনার মাধ্যমে পপ ধারাকে তিনি এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। ১৯৪৭ সালের ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটনে জন্ম নেন ডেভিড বোওয়ি। জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয় ডেভিড জোনস। ১৯৬৬ সালে তারকাখ্যাতির সূচনালগ্নে তিনি নাম কিছুটা পাল্টে রাখেন ডেভিড বোওয়ি। ১৯৭২ সালে ‘দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অব জিগি স্টারডাস্ট’ ও ‘স্পাইডার্স ফ্রম মার্স’ গানের জন্য তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে চলে আসেন।
তাঁর অন্য জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘লেটস ড্যান্স’, ‘স্পেস অডিটি’, ‘আন্ডার প্রেশার’ প্রভৃতি। তাঁর সর্বশেষ দুটি অ্যালবাম ‘দ্য নেক্সট ডে’ এবং ‘ব্ল্যাক স্টার’ বিক্রয় তালিকার শীর্ষে ছিল। ৭০-এর দশক থেকে শুরু করে পরের কয়েক দশক সংগীত ও ফ্যাশনে ডেভিড বোওয়ি দারুণ প্রভাব রাখেন। মঞ্চে জমকালো পোশাক আর বিচিত্র ভঙ্গিমার পরিবেশনা তরুণদের কাছে তাঁকে আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তাঁর শেষ সরাসরি মঞ্চ পরিবেশনা ছিল ২০০৬ সালে নিউইয়র্কের একটি চ্যরিটি কনসার্টে।অভিনয়েও অনন্য স্বাক্ষর রেখে গেছেন বোওয়ি। ১৯৭৬ সালে দ্য ম্যান ফেল টু আর্থ ছবিতে ভিন্ন গ্রহ থেকে আসা এলিয়েনের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া ল্যাবিরিন্থ, ক্যাট পিপল, দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট এবং দ্য হাঙ্গার ছবিতে তাঁর অভিনয় বিপুল দর্শকপ্রিয়তা পায়। সূত্র: বিবিসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুলকালাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যুর জের ধরে
গতকাল দিনভর শহরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষের
একপর্যায়ে রেলস্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর করে
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা l ছবি: প্রথম আলো
আগের দিনের সংঘর্ষে আহত এক ছাত্রের মৃত্যুর জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়েছে মাদ্রাসার ছাত্ররা। তারা রেলস্টেশন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। জ্বালিয়ে দিয়েছে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান।
দিনভর সহিংসতার পর সন্ধ্যায় প্রশাসনের সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সমঝোতা হয়। দাবি অনুযায়ী, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তাপস রঞ্জন ঘোষ ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, এ ঘটনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, এর আগের দিন সোমবার বিকেলে শহরের জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় একজন বয়স্ক ইজিবাইকচালকের সঙ্গে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার এক ছাত্রের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। তা দেখে এক দোকানি এগিয়ে গেলে তাঁর সঙ্গে ওই ছাত্রের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে পরে মাদ্রাসার ছাত্ররা এসে ওই দোকান ভাঙচুর করে। তখন মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগও ব্যবসায়ীদের পক্ষে সংঘর্ষে যুক্ত হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। ওই সংঘর্ষে আহতদের একজন গতকাল ভোররাতে মারা যান। তাঁর নাম মাসুদুর রহমান (২০), তিনি শহরের সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ার ছাত্র। শহরের ভাদুঘর এলাকায় তাঁর বাড়ি।
মাসুদুরের মৃত্যুর খবর জানার পর গতকাল সকালে ওই মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা সকাল সাড়ে আটটার দিকে শহরের মঠের গোড়া এলাকায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তাঁরা ‘হরতাল, হরতাল’ বলে স্লোগান দেন। পরে তাঁরা শহরের রেলগেট এলাকা, জেলা পরিষদ মার্কেট, কালীবাড়ি মোড়, টিএ রোড, ঘোড়াপট্টির মোড়, ফকিরাপুল, মঠের ঘোড়া, পুরাতন কাচারি পুকুরপাড়, কুমারশীল মোড়সহ বিভিন্ন সড়কে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ করেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন তাঁরা।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসার ছাত্ররা শহরের হালদারপাড়া এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, পুরাতন জেল রোড এলাকায় সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন, পুরাতন কাচারি পুকুর এলাকার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে থাকা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয় এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার বাড়িতে হামলা করে।
এসব হামলার পর বেলা একটার দিকে মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শহরের টিএ রোডে মাদ্রাসার ছাত্রদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা কান্দিপাড়ায় মাদ্রাসার দিকে এগোতে গেলে মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে তাঁদের আবার সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষ থামায়।
এর আগে মাদ্রাসার ছাত্ররা সকাল ১০টার দিকে শহরের রেলগেট এলাকায় রেললাইনের স্লিপার উপড়ে ফেলে এবং লাইনের ওপর গাছের গুঁড়ি ও পরিত্যক্ত স্লিপার স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বেলা পৌনে একটার দিকে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে হামলা চালিয়ে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণকারী প্যানেল বোর্ড, প্যানেল বোর্ডের সাপোর্টিং ও কম্পিউটার ভেঙে তছনছ করে দেয়।
রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন মাস্টার এস এম মইদুর রহমান জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। স্টেশনের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্টেশনে এখন আর কোনো কিছু নেই। ঢাকার বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্যানেল বোর্ড নষ্ট করে দেওয়ায় ট্রেন এখন মেইন লাইনে (দুই ও তিন নম্বর লাইন) ধীরগতিতে চলবে।’
মাদ্রাসার ছাত্ররা শহরের ফকিরাপুলের ওপর ব্যারিকেড দিয়ে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সদর থানার পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও র্যা বের পাশাপাশি ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের প্যানেল
বোর্ডও ভাঙচুর করা হয়। ছবিটি
গতকাল দুপুরে তোলা l প্রথম আলো
বেলা দুইটার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সামসুল হক, বিজিবি, পুলিশ ও র্যা বের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষাসচিব আবদুর রহিম কাসেমীকে সঙ্গে নিয়ে কর্মকর্তারা শহরের ঘোড়াপট্টি মোড়ে যান। সেখানে গিয়ে আবদুর রহিম কাসেমী ছাত্রদের শান্তিপূর্ণভাবে নিহতের জানাজা আদায় করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহমুদুল হক ভূঁইয়া ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়। বিকেল চারটার দিকে লাশ নিতে গিয়ে মাদ্রাসার ছাত্ররা আবার উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা হাসপাতালে ভাঙচুর করে। টিএ রোড এলাকায় টহল পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ছবি তুলতে গেলে বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কমের জেলা প্রতিনিধি মাসুক হৃদয়কে বেধড়ক লাঠিপোটা করেন এক র্যা ব সদস্য।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান, বিজিবি-১২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নজরুল ইসলামসহ র্যা ব ও পুলিশের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন।
বৈঠকে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা সোমবারের সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা, নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা, ওই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে সদরের দায়িত্বে থাকা এএসপি ও সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার এবং নাসিরনগর উপজেলার ‘হযরত শাহ্জালাল (রাঃ) মসজিদ ও কওমী মাদ্রাসা কমপ্লেক্স’ খুলে দেওয়া এবং সেখানে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার দাবি করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবিগুলো সরকারের সর্বোচ্চ মহলে আলোচনা করে সমাধান করা হবে বলে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
মধ্যরাতে জেলা প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার এম এ মাসুদ জানান, নিহতের পরিবারকে পুলিশের মহাপরিদর্শকের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় এক ইজিবাইকচালকের সঙ্গে মাদ্রাসার ছাত্রের ভাড়া নিয়ে বাদানুবাদ হয়। এ সময় স্থানীয় দোকানি রনি আহমেদ এগিয়ে এলে তাঁর সঙ্গে ওই মাদ্রাসার ছাত্রের কথা-কাটাকাটি হয়। এটিই ছিল ঘটনার সূত্রপাত।
রনি আহমেদ বলেন, ‘সোমবার বিকেলে মাদ্রাসার এক ছাত্র বৃদ্ধ এক ইজিবাইকচালকের সঙ্গে তর্ক করছিল। বিষয়টি সুরাহা করতে আমি এগিয়ে যাই। এ সময় মাদ্রাসা ছাত্রকে আমি এক-দুটা বকা দিয়েছি। তখন অন্যদের আনতে সে ফোন করতে চাইলে আমি তাকে ধমক দিয়ে মোবাইল পকেটে রাখতে বলি। সে নিজেকে কওমি ছাত্র পরিষদের সেক্রেটারি বলে পরিচয় দিলে আমি তাকে চলে যেতে বলি। এরপর সন্ধ্যায় মাদ্রাসার ছাত্ররা আমার দোকানে (বিজয় টেলিকম) হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও আমাকে মারধর করে।’
শহরের টিএ রোড এলাকায় টায়ারে আগুন
জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে মাদ্রাসার ছাত্ররা।
ছবিটি গতকাল বিকেলে তোলা -প্রথম আলো
তবে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ মোশারফ প্রথম আলোকে বলেন, নাসিরনগরের মাদ্রাসা কমপ্লেক্স খুলে দেওয়ার দাবিতে এবং সেখানে বিদ্যুৎ-সংযোগের দাবিতে কওমি ঐক্য পরিষদ সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিকেলে ইজিবাইকে করে তিনি কাউতলী যাচ্ছিলেন। উড়ালসেতু নির্মাণকাজের জন্য ইজিবাইক আর সামনে যাবে না বললে তিনি নেমে যান। কিন্তু অন্য দুই যাত্রী না নেমে এগিয়ে যাওয়ার চালকের সঙ্গে তর্ক শুরু করে।
মোশারফের দাবি, ‘আমি ওই যাত্রীদের তর্ক না করে চলে যেতে বলি। তখন বিজয় টেলিকমের রনিসহ কয়েকজন পেছন দিকে থেকে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বিষয়টি পরে মাদ্রাসার ছাত্ররা জানতে পেরে সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় গেলে সংঘর্ষ বাধে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদ্রাসার ছাত্রদের হামলার পর ব্যবসায়ীরা এক জোট হয়ে প্রতিরোধ করতে গেলে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগ দেন ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। এ সময় শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। ওই রাতের সংঘর্ষে ১০ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
তবে সোমবারের সংঘর্ষে ছাত্রলীগের যুক্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি মাসুম বিল্লাহ। তাঁর দাবি, ‘আমরা মিছিল করে টিএ রোড এলাকা অতিক্রম করার সময় কান্দিপাড়া থেকে বিএনপির নেতা-কর্মী ও মাদ্রাসার ছাত্ররা আমাদের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে। তখন আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গতকালের পরিস্থিতির নিয়ে সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলাকে জেলা প্রশাসক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে সহিংস বিক্ষোভ করেছে তারা। ভাঙচুর করেছে, কিছু অগ্নিসংযোগ করেছে। স্থানীয় অন্য রাজনৈতিক যে সংগঠনগুলো আছে, তারাও এতে জড়িয়ে পড়ে। সার্বিকভাবে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কারও কোনো কটাক্ষ সহ্য করা হবে না -সরকারের দুই বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কারও কোনো কটাক্ষ সহ্য করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘একটি দলের নেত্রী ও তার নেতারা মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দানকারী ৩০ লাখ শহীদের প্রতি কটাক্ষ করেছে, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অপমান করেছে। আমি ঘৃণ্য বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কারও কোনো কটাক্ষ সহ্য করা হবে না। এদের বিরুদ্ধে ঐকমত্য গড়ে তুলুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি।’
সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি বর্তমান সরকারের দুই বছর ও তাঁর নেতৃত্বাধীন আগের সরকারের পাঁচ বছর এবং অন্যান্য সরকারের আমলের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। ভাষণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতি, পৌর নির্বাচন, বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে সহিংসতা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, আইনের শাসন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অগ্রগতি, সমুদ্র বিজয়, স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন, পদ্মা সেতু প্রকল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যে অগ্রগতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা পদক্ষেপের বিষয় উঠে আসে।
বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্ব সহ্য করতে পারে না। মানুষ শান্তিতে থাকবে, হাসিমুখে জীবন যাপন করবে, তা ওদের সহ্য হয় না। ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াত দেশে সন্ত্রাস, সহিংসতা শুরু করে। ওই সময় ২৩১ জন আগুনে পুড়ে নিহত এবং পেট্রলবোমায় ১১৮০ জন আহত হয়। এ ছাড়া ২ হাজার ৯০৩টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, ১৮টি রেলগাড়ি ও আটটি লঞ্চে আগুন দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জনসমর্থন পায়নি। ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে আদালতে হাজিরা দিয়ে নাকে খত দিয়ে বাড়ি ফিরে যান।’ বিএনপি-জামায়াতের ‘অনৈতিক অবরোধ’ কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিচারের কাজ চলছে। যারা আপনাদের আপনজনকে কেড়ে নিয়েছে, ক্ষতি করেছে, সেই অপরাধীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে।’
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নে বিশ্বে রোল মডেল। দেশ এখন উন্নয়নের ঐতিহাসিক দিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দল-মত ও বিভক্তির ঊর্ধ্বে উঠে এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি সাম্প্রতিক একটি জরিপের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি ২০০৮ সালে বলেছিলাম, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করব। ইতিমধ্যে আমরা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী দেশবাসীকে নিয়ে ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে পরিণত করব।’
যোগাযোগ খাত: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের একটা বড় অংশে দেশের যোগাযোগ খাতের নেওয়া নানা উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্থান পায়। তিনি বলেন, ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড বহুমুখী উড়ালসেতু, মিরপুর-বিমানবন্দর জিল্লুর রহমান উড়ালসেতু, বনানী ওভারপাস, মেয়র হানিফ উড়ালসেতু, টঙ্গীতে আহসানউল্লাহ মাস্টার উড়ালসেতু এবং চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট উড়ালসেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসেতুর নির্মাণকাজ অচিরেই শেষ হবে। ঢাকা উড়ালসড়ক ও মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে।
দুদক ও গণমাধ্যম স্বাধীন: শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করেছে। কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ ছিল বাক্-স্বাধীনতা হরণের দেশ, সাংবাদিক নির্যাতনের দেশ। এখন গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন। সরকারের সমালোচনা করতে পারছে। সরকার নতুন ৩২টি টেলিভিশন, ২২টি এফএম রেডিও এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালাসহ তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেছে। সাংবাদিকদের সহায়তায় এ পর্যন্ত ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ওয়াদা ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার। আমরা বিচার করেছি। রায় কার্যকর হচ্ছে। কেউ বিচার বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।’
জনগণ ও বিরোধী দলকে ধন্যবাদ: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাস, বোমাবাজি উপেক্ষা করে সেদিন আপনারা গণতন্ত্রকে বিজয়ী করেছিলেন। কিন্তু গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্ব সহ্য করতে পারে না। মানুষ শান্তিতে থাকবে, হাসিমুখে জীবন যাপন করবে, তা ওদের সহ্য হয় না।’
বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছি। বিরোধী দলকে ধন্যবাদ। তারা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অভিমত দিচ্ছে, আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।’

ছোট কিন্তু ভয়ঙ্কর, নতুন প্রজন্মের পরমাণু বোমা যুক্তরাষ্ট্রের

আগের প্রজন্মের ‘বি-সিক্সটি ওয়ান’ মার্কিন পরমাণু বোমা
‘বাজারে’ একেবারে ‘নতুন প্রজন্মে’র পরমাণু বোমা আনছে ওয়াশিংটন!
আকারে অনেকটাই ছোট। তবে ডানাওয়ালা। একটা নয়, চার-চারটি ডানা। যে ডানাগুলোকে ইচ্ছে মতো ঘোরানো যাবে। বাঁকানো-চোরানো যাবে। পর পর ১২টি স্কেলকে সাজিয়ে রাখলে লম্বায় যতটা হয়, নতুন মার্কিন বোমা ওই টুকুই। ১১.৮ ফুট।
ঢিলের বদলে পাটকেল, নাকি পাটকেলের বদলে ঢিল?
উত্তর কোরিয়াকে জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা।
হাইড্রোজেন বোমার জবাবে পরমাণু বোমা। আকারে ছোট ছোট। কিন্তু অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী। লক্ষ্যে আঘাত হানার ব্যাপারে আরও বেশি নিখুঁত।
নতুন মার্কিন পরমাণু বোমা। ছবি-ফেডারেশান অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস।
ভূগর্ভে, পরীক্ষামূলক ভাবে ছোট ছোট পরমাণু বোমা ফাটনোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে আমেরিকা। তার জন্য সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল মার্কিন মুলুকে নেভাদার মরুভূমিতে। এ বার আকাশ থেকে সব কিছু ‘বুঝে-শুনে’ নিতে চক্কর মারা শুরু করেছে মার্কিন যুদ্ধবিমান। মানে, ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হয়ে গিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে পরমাণু বোমা ফাটাতে পারে আমেরিকা।
পেন্টাগন সূত্রের খবর, আমেরিকা অনেক বেশি শক্তিশালী এই পরমাণু বোমা ‘বাজারে’ আনছে একেবারে নতুন মোড়কে। যার নাম- ‘বি-সিক্সটি ওয়ান-টুয়েলভ’। এর আগের মার্কিন পরমাণু বোমার সংস্করণটির নাম ছিল- ‘বি-সিক্সটি ওয়ান’।
নতুন মার্কিন পরমাণু বোমাটি আকারে অনেকটাই ছোট। কিন্তু, তার লেজের দু’ পাশে রয়েছে দু’টি করে মোট চারটি ডানা। সেই নতুন মার্কিন পরমাণু বোমা লম্বায় পুরোপুরি বারো ফুটও নয়। কোন লক্ষ্যে আঘাত হানা হবে, তার ওপর নির্ভর করে, ওই পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতা বাড়ানো-কমানো যাবে। এই প্রথম কোনো পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতাকেও ‘রিমোট কন্ট্রোর্লে’ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের দাবি। এর ফলে, বিস্ফোরণের জেরে ভূমিকম্পের আশঙ্কাকে কমানো যাবে।
দিন কয়েক আগে উত্তর কোরিয়া পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোজেন বোমা ফাটানোর পর বড় মাপের ভূমিকম্প হয়েছিল তার আশপাশের এলাকায়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫.১।