Monday, March 21, 2011

আশা ও আশঙ্কার ইউপি নির্বাচন by বদিউল আলম মজুমদার

প্রায় দীর্ঘ তিন বছর প্রতীক্ষার পর মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথম দফায় ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল উপকূলীয় এলাকার ৫৯৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এবং এগুলোর বাছাইও শেষ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মে-জুন মাসে বাকি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমাদের মনে অনেক আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে, একই সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে অনেক আশঙ্কা।
অনেক গড়িমসির পর নির্বাচন যে হচ্ছে, তা-ই আমাদের আশাবাদী করে তুলছে। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে অনেক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। মানুষ যেখানে, সমস্যাও সেখানে এবং সেগুলোর সমাধানও হওয়া আবশ্যক মানুষের দোরগোড়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে, তাই গ্রামীণ স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের নেতৃত্বেই জনগণের অধিকাংশ সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হতে পারে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা ‘সাবসিডিয়ারিটি প্রিন্সিপল’ (Subsidiarity principle) বলে একটি তত্ত্ব ব্যবহার করেন। এ তত্ত্বের মূল কথা হলো, যেহেতু অধিকাংশ সমস্যা স্থানীয়; যেমন—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়োনিষ্কাশন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো নির্মাণ, স্বচ্ছতা-জবাবদিহির চর্চা, এমনকি জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা—এগুলোর সমাধানও হতে হবে স্থানীয়ভাবে। বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান এবং উন্নয়ন-প্রক্রিয়া বেগবান করার মাধ্যমে—নীতি-সহায়তাও (policy assistance) অবশ্য এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, আমাদের সংবিধান [অনুচ্ছেদ ৫৯(২)] জনকল্যাণমূলক সব সরকারি সেবা প্রদান (public service) এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সম্পর্কিত সব পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের ওপর ন্যস্ত করেছে।
সাবসিডিয়ারিটি প্রিন্সিপল অনুযায়ী, সর্বপ্রথমেই সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত সর্বনিম্ন পর্যায়ে, সর্বনিম্ন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। যেসব সমস্যা সর্বনিম্ন (ইউনিয়ন) পর্যায়ে সমাধান করা যায় না, কেবল সেগুলোর সমাধান হতে হবে তার পরবর্তী (উপজেলা) স্তরে। বাকি সমস্যাগুলো পরবর্তী (জেলা) স্তরে। এর পরও যেসব সমস্যা বাকি থাকে, সেগুলোর সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। তাই সাবসিডিয়ারিটি তত্ত্ব কাজে লাগালে, রাষ্ট্র পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা হয়ে পড়ে অত্যন্ত সীমিত, যদিও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এমন ব্যবস্থায় প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক সম্পর্ক, বহির্বাণিজ্য, অর্থ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ইত্যাদিই মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের দায়দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। প্রসঙ্গক্রমে, স্বাধীনতার মাসে স্মরণ করা প্রয়োজন যে সাবসিডিয়ারিটি তত্ত্বই ছিল ‘ছয় দফা’ আন্দোলনের মূল ভিত্তি। আমাদের সংবিধানে স্থানীয় সরকার-সম্পর্কিত বলিষ্ঠ বিধান অন্তর্ভুক্ত করার পেছনেও ছিল এমনই একটি চেতনা। তাই আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম।
আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকদের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বস্তুত ইতিহাসের শিক্ষা হলো, যে সমাজে মূলত নিজের শক্তি ও সামর্থ্যকে পুঁজি করে নাগরিকেরা তাদের ভাগ্যোন্নয়নের কারিগর হতে পেরেছে এবং রাষ্ট্র একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে এগিয়ে এসেছে, সেখানেই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। জন-অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নকে ‘আন্দোলনে’ পরিণত করতে পারলেই মানুষ তাদের ভাগ্যোন্নয়নের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পায় এবং তাদের সফলতাও নিশ্চিত হয়। জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহির সমস্যারও সমাধান করা যায়। আর একটি জন-অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমেই তা সম্ভব। বলা বাহুল্য, উন্নয়নকে আন্দোলনে পরিণত করার প্রচেষ্টা ইউনিয়ন পর্যায় থেকেই শুরু হতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। তাই আসন্ন নির্বাচন আমাদের সামনে আশার আলো প্রজ্বলিত করে।
সৌভাগ্যবশত স্বচ্ছতা-জবাবদিহির চর্চা এবং উন্নয়নকে আন্দোলনে পরিণত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ আইনে রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯-এর ৪-৭ ধারায় ‘ওয়ার্ডসভা’র একটি যুগান্তকারী বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোর মধ্যে একমাত্র এটিই বর্তমান আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিধান কার্যকর হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে বছরে অন্তত দুবার ভোটারদের মুখোমুখি হতে বাধ্য হবেন। স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, সামাজিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যাম্পেইন পরিচালনা, বাজেট প্রণয়ন ও প্রকাশে জনগণের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সরকারি স্কিমের কতগুলো পূর্বনির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে (যেমন—বয়স, ভূমির মালিকানা, শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধকতা, বৈধব্য ইত্যাদি) ‘উপকারভোগী’ নির্ধারণ ওয়ার্ডসভার আইনানুগ দায়িত্ব। স্থানীয় গণমানুষের নেতা হিসেবে নবনির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা, তাঁদের সহযোগী হিসেবে ইউনিয়নের ‘স্ট্যান্ডিং’ বা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং একদল সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্টের (যেমন—স্বেচ্ছাব্রতী-উজ্জীবকের) অনুঘটকসুলভ প্রচেষ্টায় ওয়ার্ডসভা কার্যকর এবং সত্যিকারার্থেই উন্নয়ন একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য হবে ইউনিয়নের জনগণকে প্রণোদিত ও সংগঠিত করা, যাতে প্রত্যেকেই তাদের ভাগ্যোন্নয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং একক ও যৌথভাবে কার্যক্রম হাতে নেয়।
প্রসঙ্গত, এ ধরনের গণকেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রচেষ্টা পরিচালনায় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং আমরা মনে করি যে একটি সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টির মাধ্যমেই তৃণমূলের জনগণের জন্য বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পসহ অন্যান্য উদ্যোগ ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টির পদক্ষেপগুলোও সত্যিকারের সুফল বয়ে আনবে।
আমরা আরও আশাবাদী হতে চাই যে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে একঝাঁক নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে, যাঁরা নিজেরা তাঁদের কার্যক্রমের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে উদ্যোগী ভূমিকা নেবেন। নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকার ফলপ্রসূতা অবশ্য নির্ভর করবে তাঁদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের আয়োজনের ওপর। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সরকারের টালবাহানার অভিজ্ঞতা থেকে এ ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া দুরূহ। এ ছাড়া আমাদের দেখা অনুযায়ী, যে প্রশিক্ষণ তাঁদের দেওয়া হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে তাঁরা পদ্ধতিগতভাবে এবং পেশাদারির ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদ পরিচালনা করতে পারছেন না। তাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে নির্বাচিতদের জন্য দ্রুততার সঙ্গে প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে এবং সেই প্রশিক্ষণ হতে হবে মানসম্মত ও পরিষদকে কার্যকর করার জন্য উপযোগী।
নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আরও প্রয়োজন হবে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বলিষ্ঠ বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি। বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সত্যিকারের ক্ষমতা, দায়দায়িত্ব ও সম্পদ ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য স্থানীয় সরকারপ্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করা হলেই এ সম্ভাবনা বাস্তবে রূপায়িত হবে। তবে এ ব্যাপারে সরকারের কোনো আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না, যদিও একটি সুদূরপ্রসারী বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি ছাড়া ‘পল্লী জীবনে গতিশীলতা’ অর্জন, যা আওয়ামী লীগের দিনবদলের সনদের অন্যতম অঙ্গীকার, তা সম্ভবপর নয়। আশা করি, সরকার এ ব্যাপারে নতুন করে ভাববে।
নির্বাচন ঘিরে অন্য একটি আশঙ্কার বিষয় হলো, নির্বাচনী বিধিবিধানকে উপেক্ষা করে পৌরসভা নির্বাচনের মতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো দলভিত্তিক করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হবে। দলভিত্তিক নির্বাচনের কারণে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় কিন্তু কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিরা পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত হয়েছেন, ফলে প্রার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। এ ছাড়া মনোনয়ন-বাণিজ্য ইত্যাদি কারণে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তি পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নির্বাচিতও হয়েছেন। এমন অবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। তা সত্ত্বেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয় হবে, তা আশা করা যায় না। কারণ ইতিমধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও নির্বাচন কমিশন বলেই যাচ্ছে যে বিদ্যমান বিধিবিধান অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরেকটি বিষয় নিয়েও আমরা আশাবাদী হতে পারছি না। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের একটি হলফনামার মাধ্যমে তাঁদের আয়ের উৎস, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অপরাধী কর্মকাণ্ডের বিবরণ, তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের সম্পদ ও দায়-দেনার হিসাব, আয়কর বিবরণী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়েছে। একই ধরনের বাধ্যবাধকতা কাজ করেছে উপজেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে, যদিও নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস করা উপজেলা আইন থেকে এ বিধান রহিত করা হয়েছে। তথ্য প্রদানের এমন বিধান সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এমন বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনকে সম্মত করাতে পারিনি। আমাদের বোধগম্য নয়, জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরে সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনের জন্য যদি প্রার্থীদের তথ্য প্রদান অপরিহার্য হয়, তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে তা হবে না কেন! এ ছাড়া আদালত এ ধরনের তথ্যপ্রাপ্তিকে ভোটারদের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, কারণ ভোটাররা তাঁদের বাক্স্বাধীনতা প্রয়োগ করেন ভোটের মাধ্যমে। আর নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের এখতিয়ার কারোরই নেই।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে আমরা অন্য একটি কারণেও আশঙ্কিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোর লাগামহীন দলবাজির কারণে তৃণমূল পর্যায়ে প্রায় সব নিয়মনীতি ভেঙে পড়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনেক কাজ এখন দলীয় নেতা-কর্মীরাই সম্পাদন করেন, ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে একধরনের অরাজকতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একধরনের লুটপাটের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তাই বিরাজমান বেসামাল অবস্থাকে নবনির্বাচিতদের পক্ষে সামলে আনা সহজ হবে না। তাই ইউনিয়ন পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়েই আমরা চিন্তিত।
পরিশেষে, আমরা আশা করি যে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে। কিন্তু এ ব্যাপারেও আমরা আশ্বস্ত হতে পারছি না। নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভবপর নয়। কয়েক সপ্তাহ আগে নির্বাচন কমিশন আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে একটি সংলাপে ডেকেছিল, কিন্তু বড় দলগুলোর একটিও এতে সাড়া দেয়নি। এ ঘটনা যদি দলগুলোর পক্ষ থেকে সহযোগিতার নমুনা হয়, তাহলে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমাদের আশঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে বৈকি! তবু পুরো জাতির ভবিষ্যতের খাতিরে আমরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী হতে চাই। আশা করি সংশ্লিষ্ট সবার শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তাঁরা এ ব্যাপারে যথার্থ ভূমিকা রাখবেন।
বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

পশ্চিমা হস্তক্ষেপের পরিণাম ভালো হবে না by আবদেল আল-বারি আতওয়ান

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল স্বস্তির। নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ নম্বর প্রস্তাব অনুমোদনকে লিবীয় বিদ্রোহীদের রক্ষা এবং তাদের দুর্দশা লাঘবের প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। একে কে না স্বাগত জানাবে? বিরোধীদের অস্তিত্ব ‘মুছে ফেলার’ জন্য কারও বল প্রয়োগের ইচ্ছা কে না দমাতে চায়? কিন্তু স্বস্তির সঙ্গে গুরুতর সংশয়ও রাখা উচিত।
প্রথমত, এই হস্তক্ষেপের পেছনে মতলবটা কী? জাতিসংঘ যখন লিবিয়ায় ‘নো ফ্লাই জোন’ আরোপ করতে ভোটাভুটি করছে, তখন তো পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে মার্কিন মানববিহীন বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন বেসামরিক মানুষ মারা গেল। যখন আমি এ লেখাটি লিখছি, তখন আল-জাজিরা টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছিল ইয়েমেনের রাজধানী সানায় নৃশংসতার দৃশ্য। সেই নৃশংসতায় ৪০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। পাকিস্তানি বেসামরিক মানুষকে মার্কিন হামলা থেকে বাঁচাতে কিংবা ইয়েমেনিদের জন্য কোনো ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হবে না। এভাবে বেছে বেছে তথাকথিত ‘আরব বসন্তের’ গণজাগরণে পশ্চিমাদের জড়িয়ে যাওয়াকে তাই প্রশ্ন না করে উপায় নেই।
এ কথা সত্যি যে, যুক্তরাষ্ট্র ক্রিয়া করতে অনিচ্ছা দেখাচ্ছিল আর অবশেষে কয়েক সপ্তাহের সিদ্ধান্তহীনতা কাটিয়ে উঠল। এই অঞ্চলে আরেকটি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে তাতে মার্কিনরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে হস্তক্ষেপকারী হিসেবে গণ্য হবে—এই বিবেচনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে শুরুতে জড়াতে অনিচ্ছুক ওবামা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আরব ও মুসলমান দেশগুলোর সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন। শুরুতে লক্ষণ ভালো ছিল—গত সপ্তাহে আরব লিগ তাঁর তৎপরতাকে সমর্থন করেছিল এবং মনে হয়েছিল পাঁচটি সদস্যরাষ্ট্র অংশগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু সেই সংখ্যা কমে গিয়ে শুধু কাতার ও আরব আমিরাতে দাঁড়াল—সম্ভাব্য তৃতীয় অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে রইল জর্ডান। এই অঞ্চলে হস্তক্ষেপকে বৈধতা দিতে পর্যন্ত আরব সমর্থনের ঘাটতি রয়ে গেছে।
সামরিক তৎপরতার জন্য যে ব্যয় হবে, তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন নিজেদের অর্থনীতির দুরবস্থার কারণে। জাতিসংঘে লিবীয় রাষ্ট্রদূত আবদেল রহমান হালকেম আমাকে বলেছেন, এই সামরিক অভিযানের বেশির ভাগ খরচ বহন করতে কাতার ও আরব আমিরাত রাজি হয়েছে। এসব স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মতলবটা কী—লিবীয় নাগরিকদের রক্ষা, গাদ্দাফির বিরুদ্ধে আক্রোশ, নাকি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ানো?
এ জায়গায় এসে যাচ্ছে দ্বিতীয় সমস্যাটি—এই হস্তক্ষেপে প্রধান খিলাড়ি পশ্চিমারা, নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। আর যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। লিবিয়ার প্রতিবেশী মিসর ও তিউনিসিয়া যদি মুখ্য ভূমিকা রাখত, তবে তা খুবই সুখকর হতো। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রতিবেশীদের সহায়তা করছে, এমন ঘটলে তা আরব গণজাগরণের চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতো। এতে এমন ধারণাও জোরালো হতো যে, আরববাসী নিজেদের ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ নিজেরাই নিতে পারে। তা ঘটাও সম্ভবপর ছিল। প্রতিবছর মিসর ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার মার্কিন সামরিক সাহায্য পায়। হিলারি ক্লিনটনের কূটনৈতিক চাপ হয়তো ক্ষমতাধর যুদ্ধ ঘোড়াকে ময়দানে নিয়ে আসতে পারত, নতুবা অন্তত বিদ্রোহীদের অস্ত্রসজ্জিত করে তুলতে মিসরকে উদ্বুদ্ধ করতে পারত। কিন্তু গত বুধবার মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, ‘কোনো হস্তক্ষেপ না’।
তৃতীয় সমস্যাটি হলো, যদিও গাদ্দাফিকে প্রায়ই উন্মাদ বলে বাতিল করা হয়, তবু তিনি আসলে চৌকস রণকৌশলী। এই হস্তক্ষেপের রশি তাঁরই হাতে। নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দ্রুতই তিনি অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করলেন। অনেকে একে জাতিসংঘ প্রস্তাবের প্রাথমিক বিজয় বলে দাবি করেছেন। আসলে, এর দ্বারা একই সঙ্গে জাতিসংঘের উদ্যোগ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং গাদ্দাফিকে যুক্তিসংগত মনে হয়। এই মুহূর্তে অস্ত্রবিরতি গাদ্দাফির জন্য ভালোই হবে: এর আড়ালে গুপ্ত পুলিশ কাজে নেমে পড়তে পারবে। একইভাবে গাদ্দাফি আগের অস্ত্র-অবরোধ গ্রহণ করে নিয়েছেন; দৃশ্যত এই ছাড়ও তাঁর পক্ষেই যায়। গাদ্দাফির বাহিনীর রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র; কিন্তু বিদ্রোহীদের হাতে অস্ত্রপাতি রয়েছে অল্পই।
গাদ্দাফি জানেন, আরবের রাস্তায় কীভাবে খেলতে হয়। এ মুহূর্তে তাঁর জনসমর্থন নেই বললেই চলে; নিজের পরিবার ও গোত্রের মধ্যেই তাঁর যেটুকু প্রভাব। কিন্তু বাইরের এই হস্তক্ষেপকে তিনি ব্যবহার করতে পারেন তেলপিপাসু উত্তর-ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের শিকার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার কাজে। আরব বিশ্বের আকাশে-বাতাসে যে প্রশ্নটি ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, তিনি সেই প্রশ্নটিই তুলতে পারেন: ২০০৮-০৯ সালে ইসরায়েলিরা যখন গাজায় বোমা ফেলছিল, তখন কেন গাজার ওপর নো ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হয়নি?
তিউনিসিয়ায় বা মিসরে যা হয়নি, লিবিয়ায় তা-ই হয়েছে: অভ্যুত্থান খুব তাড়াতাড়ি সশস্ত্র সংঘাতে পরিণত হয়েছে। গাদ্দাফি প্রশ্ন তুলতে পারেন, জাতিসংঘ যাদের সুরক্ষা দিতে চাইছে, তাদের ‘সিভিলিয়ান’ বলা যায় কি না, কারণ তারা তো যুদ্ধে লিপ্ত। গাদ্দাফি বরং বলতে পারেন যে, পশ্চিমা বিশ্ব লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে একটি পক্ষ নিচ্ছে (যেখানে বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক এজেন্ডা অজানা)।
লিবিয়ায় এবং বিশ্বে এই হস্তক্ষেপের সুদূরপ্রসারী প্রভাব কী হবে? এটা আরেকটা দুশ্চিন্তার বিষয়। লিবিয়া বিভক্ত হয়ে যেতে পারে: পূর্ব অংশ বিদ্রোহীদের হাতে, আর দেশটির অবশিষ্ট অংশ থাকবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে, তেলক্ষেত্রগুলো ও আল-বেগরা শহরের অয়েল টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ থাকবে সরকারের হাতেই। আরও একটি সম্ভাবনা প্রবল: ইরাক, আফগানিস্তান ও ইয়েমেনের পর লিবিয়া হতে পারে ওই অঞ্চলের চতুর্থ ব্যর্থ রাষ্ট্র। তা যদি হয় তবে আরেকটা বিপর্যয়ের শঙ্কা বাড়ে। এ ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে আল-কায়েদার তৎপরতা বাড়ে। ইরাক ও আফগানিস্তানের বিদ্রোহে আল-কায়েদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখন তাদের ঘাঁটি ইয়েমেনে। তারা এখন লিবিয়ায়ও ঢুকে পড়তে পারে। ওসামা বিন লাদেনের খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী লিবীয়। আর গাদ্দাফি তো সন্ত্রাসবাদী গ্রুপগুলোর কাছে অচেনা কেউ নন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত আবু নিদাল গোষ্ঠী নিজেদের জন্য এক অভয়ারণ্য হিসেবে খুঁজে পেয়েছিল লিবিয়াকেই। আর গাদ্দাফি এমন হুমকিও দিয়েছেন যে তিনি যাত্রীবাহী বিমান ও ভূমধ্যসাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর আক্রমণ চালাবেন।
পঞ্চমত, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই যে সামরিক হস্তক্ষেপ করলেই গাদ্দাফির পতন ঘটবে। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ ইরাকের উত্তরাংশের কুর্দি, দক্ষিণাংশের শিয়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য ইরাকের ওপর নো ফ্লাই জোন ঘোষণা করেছিল। তার পরও ১১ বছর ধরে সাদ্দাম ক্ষমতায় ছিলেন। একটি আগ্রাসনের পরই কেবল তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি বেসামরিক মানুষ মারা গেছে। এই রকমের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন লিবিয়ায়ও না ঘটে, তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।
শেষ কথা হলো, লিবিয়ার ঘটনাবলি আরবের বসন্তকে বিপথে নিয়ে যেতে পারে। জনতার অভ্যুত্থান ও তার সহিংস দমনের ফল দাঁড়ায় পশ্চিমা হস্তক্ষেপ, তাহলে আরব বিশ্বের অবশিষ্ট স্বৈরশাসকদের দীর্ঘ নিপীড়িত প্রজারা হয়তো বিদ্যমান অবস্থাকেই শ্রেয় মনে করতে বাধ্য হবে।
যা-ই ঘটুক না কেন, লিবিয়ার জনগণ এখন দীর্ঘমেয়াদি সহিংস উত্থান-পতনের মুখোমুখি। কিন্তু তারা যে গণতান্ত্রিক স্বপ্ন দেখে, শেষ পর্যন্ত তা অর্জনে সক্ষম হবে শুধু নিজেদের অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়েই।

ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত।
আবদেল আল-বারি আতওয়ান: লন্ডনভিত্তিক আল-কুদস আল-আরাবি পত্রিকার প্রধান সম্পাদক।

সাংসদ বদির কাণ্ড -আইনপ্রণেতা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না



একজন জনপ্রতিনিধি বা সাংসদের কাজ কি যেকোনো ছলছুতায় সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর করা? ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর ওপর চড়াও হওয়া? ম্যাজিস্ট্রেটকে লাঞ্ছিত করা? অন্যদের কথা জানি না, তবে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি সেই কাজই করে আসছেন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে। কীর্তিমান এই সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। এবার খোদ নির্বাচন কমিশন নালিশ করেছে স্পিকারের কাছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ জানুয়ারি টেকনাফ পৌরসভায় প্রাক-নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে একজন ম্যাজিস্ট্রেট লাঞ্ছিত হয়েছেন সাংসদ বদি ও তাঁর সহযোগীদের হাতে। সাংসদের চাচা হাজি মো. ইসলামের পক্ষে পাঁচ শতাধিক লোকের জনসভা করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে আগত লোকদের তালিকা করছিলেন। কেননা এ ধরনের জনসভার ওপর নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা আছে। খবর পেয়ে সাংসদ বদি সমর্থকদের নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর চড়াও হন। পরিচয় দেওয়ার পরও তিনি তাঁদের রোষানল থেকে রেহাই পাননি। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় নির্বাহী কর্মকর্তা এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়। সাংসদ বদির দাবি, ওই ম্যাজিস্ট্রেট গোপনে জনসভার ছবি তুলতে গেলে লোকজন তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং তিনি তাঁকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান। সাংসদের বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রকাশ্য জনসভার ছবি গোপনে তুলতে হবে কেন? আর সেই ছবি তোলার জন্য লোকজন ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর চড়াওই বা কেন হবে?
এ ধরনের অপকর্ম সাংসদ বদি আগেও করেছেন। আবার বেকায়দায় পড়লে ক্ষমাও চেয়েছেন। এবারের বিষয়টি গুরুতর বলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের কাছে প্রতিকার চেয়ে চিঠি লিখেছেন। স্পিকার বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ প্রশ্ন হলো, তদন্তকাজটি কীভাবে হবে? যে সাংসদ ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর চড়াও হতে পারেন, সেই সাংসদ কি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নির্বিঘ্নে কাজ করতে দেবেন? আইনপ্রণেতা হয়ে তিনি কীভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন?
আমরা ম্যাজিস্ট্রেট লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করছি। এটি যেমন আইনের শাসনের পরিপন্থী, তেমনি সরকারের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন আশা করি।

পূর্ব পাকিস্তানে’ মুজিবের সমান্তরাল সরকার by আইয়ুব খান

একাত্তরের মার্চে যখন স্বাধীনতার স্বপ্নে উদ্বেলিত সমগ্র দেশ, ‘যার যা আছে তাই নিয়ে’ পাকিস্তানি বাহিনীর মুখোমুখি বাঙালি, তখন এক হাজার ২০০ মাইল দূরে বসে সাবেক স্বৈরশাসক আইয়ুব খান কীভাবে সেসব ঘটনা বিশ্লেষণ করেছেন, কীভাবে দেখেছেন মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক কিংবা ভুট্টোর আস্ফাালন—সেসব বিবৃত হয়েছে তাঁর রোজনামচায়। মাত্র দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানে পদচ্যুত, প্রচণ্ড বাঙালিবিদ্বেষী এই শাসক ‘পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছেদকে অবশ্যম্ভাবী’ বলে মনে করেছিলেন। ক্র্যাইগ ব্যাক্সটার সম্পাদিত আইয়ুব খানের রোজনামচা ১৯৬৬-১৯৭২ বইয়ের নির্বাচিত অংশ অনুবাদ করেছেন এম এ মোমেন

২০ মার্চ ১৯৭১, শনিবার
শেখ মুজিবুর রহমান ইয়াহিয়ার সঙ্গে গতকাল আর একটি বৈঠক করেছেন, বের হওয়ার সময় তাঁকে উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। ঠিক করা ছিল দুই পক্ষের বিশেষজ্ঞরা বসে কোন কোন বিষয়ের নিষ্পত্তি করবেন। ইয়াহিয়ার পক্ষে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল পীরজাদা, জাস্টিস কর্নেলিয়াস এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল অফিসের কোনো এক কর্নেল হাসান। তাঁদের কারোরই পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। কাজেই মুজিবুর রহমানকে সন্তুষ্ট করতে তাঁরা যদি এ অঞ্চলের স্বার্থের জলাঞ্জলিও দেন, আমি বিস্মিত হব না। এর মধ্যে ভুট্টো হুমকি দিয়ে বসেছেন, যদি পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থ বলি দেওয়া হয় তা হলে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করবেন। তিনি আসলে যা বলতে চাইছেন তার মানে হচ্ছে, তাঁর ও তাঁর লোকদের ভাগে যদি কিছু না পড়ে তা হলে সমস্যার সৃষ্টি করবেন। ভুট্টোর আশঙ্কা, দৌলতানা ও অন্যরা মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগ দিয়ে সরকার গঠন করবেন। পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য কোনো ভালোবাসা থেকে নয়, তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থ যে ক্ষুণ্ন হচ্ছে এ কারণেই তাঁর হূদয়ে এত রক্তক্ষরণ। একটি সামরিক ভাষ্যমতে, জনগণ অস্ত্র-ব্যাপারি ও অন্যান্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সংগ্রহ করেছে এবং তা অবাধে ব্যবহার করে যাচ্ছে। আর স্থানীয় সাংবাদিক সম্প্রদায় কোথাও কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেই তা সেনাবাহিনী করেছে বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
আমার আশঙ্কা, বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করতে হলে—তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণেই হোক, কি অনড় তিক্ত সম্পর্কের কারণেই হোক, এই সেনাদের চাপের মুখে গুলিবিনিময় করে বেরিয়ে আসতে হবে। সঙ্গে নারী, শিশু ও প্রচুর গার্হস্থ্য তৈজসপত্র যখন থাকে এমনকি স্থলপথেও সেনা প্রত্যাহার করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে পড়ে। কিন্তু ভয়াবহ সংকট তখনই সৃষ্টি হয়, যখন যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল, চারদিকে অজস্র খাল-বিল-নদীর বাধা ডিঙিয়ে বন্দরে আসতে হয়, সরু জলপথে জলযান বিপন্ন হয়ে পড়ে—গভীর সাগরে না পড়া পর্যন্ত এই বিপন্নতা কাটে না। যদি পরিস্থিতি খুবই খারাপের দিকে মোড় নেয়, তাহলে এই সেনাদের জন্য স্থানীয় কমান্ডারদের জরুরি কোনো উদ্ধার পরিকল্পনা থাকবে বলে আমি আশা করি।
নিজ নিজ উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে মুজিবুর রহমান ইয়াহিয়ার সঙ্গে আর এক দফা বৈঠক করেছেন। মনে হয়েছে, ইয়াহিয়া মুজিবুর রহমানকে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জন উপদেষ্টার একটি বহর নিয়ে ভুট্টো ঢাকার দিকে পা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। ইয়াহিয়ার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এবং তাঁর কিছু কিছু উত্থাপিত বিষয়ের সন্তোষজনক আশ্বাস পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলোচনার জন্য ব্রোহিকেও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ওয়ালী খান, দৌলতানা এবং মুফতি মাহমুদ আগে থেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। ভুট্টোও পিছিয়ে পড়ে থাকতে চান না। তাঁর উদ্বেগ, অন্য কেউ একটা চাকরি পাওয়ার আগেই তাঁকে পেতে হবে।
এই ক্রান্তিকালে ইয়াহিয়া যদি ধ্বংসাত্মক কোনো সমঝোতা কিংবা মারাত্মক কোনো ভুল করে ফেলেন—তা হলে এটা তাঁর নির্বাহীদের কারণে, যাঁদের তিনি দুর্বল করতে করতে পৌরুষত্বহীনের পর্যায়ে নেমে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। এর মধ্যে রাজনীতিবিদেরা তাঁকে মেপে ফেলেছেন। এখন তাঁরা কেবল চুক্তির শর্তই বাতলে দিতে পারেন না, চাইলে কেন্দ্রীয় সরকারকে পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো শুইয়ে ফেলতে পারেন; মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে যেমন করছেন—নতুন পরিভাষা অনুযায়ী সমান্তরাল সরকার চালিয়ে যেতে পারেন। আর এর ফলে সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে গেছে এবং তারা আত্মরক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি আত্মরক্ষার সময়ও করজোড়েই তা করতে হচ্ছে। বেসামরিক প্রশাসনের পক্ষে খুদে দোকানদার ও ছোট অপরাধীদের বিচার করা ছাড়া রাষ্ট্রের সুস্থতা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়ার মতো সব উদ্যম হারিয়ে ফেলেছে এই সেনাবাহিনী—তারা বেসামরিক প্রশাসনের হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানে সেনাদলের চলাফেরা ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। তারা রাস্তায় ব্যারিকেডের মুখোমুখি হচ্ছে, জনতা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের আক্রমণ করছে। এসবের মোকাবিলা করা খুব কঠিন কাজ নয়, কিন্তু কোনো একটা প্রতিহত করতে গেলে গোটা প্রদেশে প্রচণ্ড চিৎকার শুরু হয়ে যায়। প্রশাসন সঙ্গে সঙ্গে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং নতি স্বীকার করে। আর এর ফলে সেনাবাহিনীর সম্মান, মনোবল ও খ্যাতি লুটিয়ে পড়ে—মূলত ওপরের দুর্বল ও অবিবেচক নেতৃত্বের কারণে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার মারা গেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ারেন ক্রিস্টোফার গতকাল শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি বসনিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেন। এ ছাড়া তিনি মার্কিন জিম্মিদের মুক্তির জন্য ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থাকারীর ভূমিকা পালন করেন। সিএনএনের খবরে এ কথা বলা হয়।
খবরে বলা হয়, ক্রিস্টোফার কিডনি ও ক্যানসারে ভুগছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সময় তিনি দেশটির শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ছিলেন।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লিবিয়ায় যুদ্ধ চলছে

লিবীয় নেতা কর্নেল গাদ্দাফি একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, সেখানে এখনো যুদ্ধ চলছে। গতকাল শনিবারও বিভিন্ন শহরে সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে। এদিকে লিবিয়া সরকার জানিয়েছে, দেশটির সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি বেনগাজির পশ্চিমে প্রবল হামলার মুখে পড়েছে। সরকারি বার্তা সংস্থা জানার এ কথা জানায়।
বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমাঞ্চলীয় মিসরাতা শহরের বাসিন্দারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সেখানে যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। শহরে গাদ্দাফি বাহিনী অব্যাহত বোমা ও কামানের গোলা নিক্ষেপ করছে। শহরটির চারপাশ ঘিরে রেখেছে গাদ্দাফি বাহিনী।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, আল-মাগরুন ও স্লুুক শহরে গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। তবে লিবিয়ার কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁরা পরিস্থিতি মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের লিবিয়া আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বলেছেন, লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন ঘোষণা ও সামরিক অভিযান চালাতে জাতিসংঘ যে অনুমোদন দিয়েছে, সেটা নির্লজ্জ উপনিবেশবাদের বহিঃপ্রকাশ।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজির আশপাশের ৪০০ কিলোমিটার আকাশপথকে নো ফ্লাই জোন বা বিমান উড্ডয়নমুক্ত এলাকা ঘোষণা ও সেখানকার বেসামরিক লোকজনকে রক্ষায় সামরিক হামলা চালানোসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব করে।
গাদ্দাফি বলেছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন আরোপ ও সেনা অভিযানের অনুমোদন দিয়ে যে প্রস্তাব পাস করেছে, তার কোনো ন্যায্যতা নেই। এটা উপনিবেশবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তিনি বলেন, জাতিসংঘের ওই সিদ্ধান্তের কারণে ভূ-মধ্যসাগরীয় ও ইউরোপের দেশগুলোকে কঠিন পরিণতি বরণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমারা যা-ই করুক না কেন, লিবিয়ার আকাশ ও নৌপথ নিরাপদ থাকবে। তার দেশের ওপর হামলার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে পস্তাতে হবে।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক মুখপাত্র মিলিসা ফ্লেমিং গত শুক্রবার জানান, গাদ্দাফি বাহিনীকে রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিলম্ব করায় এ পর্যন্ত তিন লাখ ৩০৭ জন লোক প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে। এর মধ্যে এক লাখ ৫৮ হাজার ৭২১ জন তিউনিসিয়ায় এবং এক লাখ ২৮ হাজার ৮১৪ জন মিসরে আশ্রয় নিয়েছে। আরও অনেকে নাইজেরিয়া ও আলজেরিয়ায় চলে গেছে।

ইয়েমেনে ক্ষমতাসীন দলের দুই সদস্যের পদত্যাগ

ইয়েমেনে গত শুক্রবারের রক্তক্ষয়ী হামলার প্রতিবাদে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের দুজন প্রভাবশালী সদস্য পদত্যাগ করেছেন। গতকাল শনিবার তাঁরা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এদিকে গতকাল ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের একটি শিবিরে পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এতে হতাহতের সংখ্যা জানা যায়নি।
ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রধান ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্য নাসর তাহা মুস্তফা এবং আরেক সদস্য মোহাম্মদ সালেহ কারা গতকাল পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগে শুক্রবার ওই ঘটনার পরপরই প্রতিবাদে দেশটির পর্যটনমন্ত্রী নাবিল আল-ফাকেহ পদত্যাগ করেন। মুস্তফা বলেন, ‘শুক্রবার সানার হত্যাকাণ্ডের পর পদত্যাগ ছাড়া আমি কোনো পথ দেখছি না। পরিবর্তনের দাবি জানানোর অধিকারের স্বীকৃতি ইসলাম ও আমাদের সংবিধানে দেওয়া আছে। অথচ এ অধিকার চর্চাকারী তরুণদের এভাবে হত্যা করাটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
ঝটিকা অভিযান: ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের একটি শিবিরে পুলিশ গতকাল আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এতে হতাহতের সংখ্যা জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগর এডেনে বিক্ষোভকারীদের শিবিরে পুলিশ হামলা চালায়। শিবিরে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান করে প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল সালেহর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। বিক্ষোভকারীরা জানায়, পুলিশ অভিযান চালানোর সময় কাঁদানে গ্যাস ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
গতকালের এই অভিযান দেশটিতে চলমান প্রেসিডেন্টবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ।

কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ভাঙনের মুখে

কলকাতা প্রতিনিধি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট এখন ভাঙনের মুখে। রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস একজোট হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা বহু আগেই দিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস গত শুক্রবার বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২২৮টি আসনে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তারা জাতীয় কংগ্রেসের জন্য ছেড়েছে ৬৪টি আসন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেস। এই অবস্থায় শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস-তৃণমূল জোট নাও টিকতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
জাতীয় কংগ্রেস জানায়, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এখন বিদেশে আছেন। আজ রোববার তাঁর দেশে ফেরার কথা। তিনি দেশে ফিরে জোটের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি মানস ভূঁইয়া গতকালই ৯৮ আসনের একটি প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে দিল্লি গেছেন। এ ছাড়া ২৯৪ আসনের একটি প্রার্থী তালিকাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসই এবার দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ক্ষমতায় যাবে। জানা গেছে, কংগ্রেসকে মমতার দেওয়া প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার সময়সীমা আজ রোববার বিকেল চারটায় শেষ হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে জাতীয় কংগ্রেস যদি ৬৪টি আসনে প্রার্থী না দেয় তবে আজ বিকেলেই ওই আসনগুলোতে মমতা দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন।
কংগ্রেস নেতা শাকিল আহমেদ গতকালও বলেছেন, জোটে এখন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা একেবারে নতুন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।
শাকিল আহমেদ বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস যে কাজ করেছে তাতে কংগ্রেস নেতারা বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁদের ক্ষোভ নিয়ে লুকোচুরির কোনো অবকাশ নেই। আসন বণ্টন নিয়ে আমাদের মধ্যে যে আলোচনা হচ্ছে, তার সুরাহা এখনো হয়নি। আমরা বার বার বলেছি, বিষয়টি নিয়ে আমরা আরও আলোচনা করব। নিজেদের মতভেদ নিরসনে আমরা আরও সময় চেয়েছিলাম।’ শাকিল আহমেদ আরও বলেন, ‘তৃণমূল ইতিমধ্যেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। নতুন আর কী ঘটে সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা।’

‘নাগাসাকির সঙ্গে তুলনা চলে না’

জাপানের নাগাসাকি শহরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন আণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়, তখন কাজুকো ইয়ামাসিতার বয়স ছিল পাঁচ বছর। বোমায় সেকেন্ডের মধ্যেই ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় নাগাসাকি। নিহত হয় হাজার হাজার মানুষ। এই ভয়াবহতার মধ্যেও প্রাণে বেঁচে যান তখনকার পাঁচ বছরের শিশু ইয়ামাসিতা। তবে তেজস্ক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁকে অসুস্থ জীবনের ঘানি টানতে হচ্ছে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েডসহ নানা রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়েছে। আর এখন ৭১ বছর বয়সে এসে আক্রান্ত হয়েছেন ক্যানসারে।
জাপানে গত ১১ মার্চ ৮ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ কারণে সৃষ্ট ৩৩ ফুট উচ্চতার সুনামি ও পরে পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঘটনা জাপানের জনগণের মনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। আণবিক বোমা হামলার পর বেঁচে থাকা মানুষের মনে দুঃসহ সেই স্মৃতি আরও ভালোভাবে জেগে উঠেছে। তবে তাঁরা ফুকুশিমার বিপর্যয়কে ওই সময়ের সঙ্গে তুলনা করতে নারাজ। তাঁদেরই একজন ইয়ামাসিতা। জাপানের রাজধানী টোকিওতে মেয়ের বাড়িতে থাকেন তিনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের তেজস্ক্রিয়ার সঙ্গে বর্তমান পারমাণবিক বিপর্যয়ের কারণে ছড়িয়ে পড়া বিপর্যয়ের তুলনাও করছিলেন ইয়ামাসিতা। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেককেই খুব উদ্বিগ্ন হতে দেখেছি আমি। কিন্তু আমার তেমন কিছু মনে হচ্ছে না। তবে, খুব বেশি পরিমাণে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়লে তা গুরুতর হতে পারে।’
ইয়ামাসিতা আরও বলেন, ‘আমি বিস্ফোরণ ঘটা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাড়ে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ছিলাম। কর্তৃপক্ষ ওই কেন্দ্রের আশপাশের ২০ কিলোমিটার এলাকার মানুষজনকে সরিয়ে নেয়। আমি সত্যি বলছি, এর পরও আমার মনে তেমন ভীতি সঞ্চার হয়নি।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাগাসাকিতে আণবিক বোমা নিক্ষেপের কথা স্মরণ করে ইয়ামাসিতা বলেন, ‘আমি কিছু দেখতে পাইনি। প্রথমে ভয়াবহ এক শব্দ পেলাম। যেন কাঁচসহ বিভিন্ন বস্তু ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। কয়েক মিনিট পরে দেখি সবকিছু অন্য রকম হয়ে গেছে। আমার চারদিকে পৃথিবী যেন লাল হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন ফুকুশিমার পারমাণবিক বিপর্যয়কে অনেকেই ওই সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু নাগাসাকির সঙ্গে ফুকুশিমার বিপর্যয়ের তুলনা চলে না।

তেজস্ক্রিয়তা ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে পৌঁছে গেছে

জাপানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি থেকে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে পৌঁছে গেছে। তবে এর মাত্রা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস গত শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে।
পত্রিকাটি জানায়, বিশেষজ্ঞরা দেখতে পেয়েছেন, জাপানের তেজস্ক্রিয়তা প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করে এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী স্যাক্রেমান্টো উপকূলে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাজার হাজার কিলোমিটার সাগরের ওপর দিয়ে বাতাসের সঙ্গে প্রবাহিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র উপকূলে যে তেজস্ক্রিয়তা পৌঁছাচ্ছে তার মাত্রা খুবই কম। এ মুহূর্তে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর তার কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না।
মার্কিন কর্মকর্তারাও স্যাক্রেমান্টো উপকূলে তেজস্ক্রিয়তা পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি গত শুক্রবার রাতে নিশ্চিত করেছেন।
আন্তর্জাতিকভাবে পরমাণু পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করতে ভিয়েনাতে জাতিসংঘের সিটিবিটির আওতায় স্যাক্রেমান্টোতে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করা হয়েছে। জাপানের পারমাণবিক চুল্লিতে বিস্ফোরণের পর জাপানের বাইরে প্রথম তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করা হয় রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে।
জাপান থেকে তেজস্ক্রিয়তা মার্কিন উপকূলে পৌঁছাতে পারে, এই অশঙ্কায় ছিলেন মার্কিন নাগরিকেরা।

চীনে তেজস্ক্রিয়তা আতঙ্কে লবণ মজুদ করার হিড়িক

লবণ পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা বিস্তার রোধ করতে পারে—এ ধারণা থেকে চীনে লবণ মজুদ করার হিড়িক পড়ে গেছে। জাপানে পারমাণবিক দুর্ঘটনার কারণে এর তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে চীনের নাগরিকেরা আতঙ্কিত। তেজস্ক্রিয়তা থেকে রক্ষা পেতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে তারা এখন তৎপর।
এক্ষেত্রে লবণ তুলনামূলকভাবে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় এটি সংগ্রহে হুড়োহুড়ি লেগে গেছে।
জাপানের ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক জ্বালানি কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর খবরে চীনের মানুষ এখন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। যে যেমন পারছে, লবণ কিনে মজুদ করে রাখছে। এর মধ্যে অনেক দোকানে লবণ শেষ হয়ে গেছে।
লবণ কেনার পেছনে জোরালো ভূমিকা রাখছে মোবাইল ফোনে আসা কিছু বার্তা। এসব বার্তায় জানানো হয়, আয়োডিনযুক্ত লবণ তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এ লবণ দ্রুত সংগ্রহে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।
দেশটির জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কারবিষয়ক কমিশন প্রাদেশিক ও পৌর কর্তৃপক্ষকে বাজারে লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
চীনের বিভিন্ন শহর থেকে লবণের দাম পাঁচ থেকে ১০ গুণ বাড়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

আজ বিজিএমইএর নির্বাচন, যাচ্ছে না ফোরাম

দেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নির্বাচন আজ। কিন্তু চূড়ান্ত ভোটার তালিকা না থাকার অভিযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীদের একটি গোষ্ঠী ফোরাম ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে না।
এতে কার্যত বিজিএমইএর এই নির্বাচনে সংগঠনটির আওতাভুক্ত শিল্পমালিকদের আরেকটি গোষ্ঠীর একতরফা নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
এদিকে ভুয়া, জাল ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ভোটার হওয়াকে কেন্দ্র করে এবারের নির্বাচনে বড় মতবিরোধ হওয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সংগঠনটি সাধারণ শিল্পমালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে আগ্রহ হারাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বরাবরের মতো এবারের নির্বাচনেও সমিতিকেন্দ্রিক দুটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদ ২৭টি পদের প্রতিটির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামে।
সম্মিলিত পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিএমইএর বর্তমান সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। আর ফোরামের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
যোগাযোগ করা হলে ফোরামের দলনেতা আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেহেতু ভোটার তালিকা ছাড়াই একটা প্রহসন হতে যাচ্ছে, তাই ভোটকেন্দ্রে আমরা যাচ্ছি না।’
অন্যদিকে সম্মিলিত পরিষদের দলনেতা শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছেন, ‘এটা খুবই একটা বাজে ও দুঃখজনক ঘটনা।’ তিনি মনে করেন, দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সংগঠনের আওতাভুক্ত শিল্পমালিকদের নেতৃত্বকে অবশ্য দায়িত্ববান হওয়া উচিত এবং এই সংগঠনের স্বার্থে নির্বাচনে সবার ভোট দিতেও আসা উচিত।
মহিউদ্দিন বলেন, কোনো বাণিজ্য সংগঠনে নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে তার জন্য শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) কাছে যাওয়া যেতে পারে। না হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তই মানব না, এটা ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিয়ে তর্কের খাতিরে তাদের (ফোরাম) যুক্তি মেনে নিয়ে যদি বলি, ১০ দিন পেছালেই কি কমিশন স্বচ্ছ হয়ে যাবে? তারা তো এরকম বলেনি যে এই কমিশন বাদ দিয়ে ফেরেশতা এনে ভোট গ্রহণ করতে হবে?’
উল্লেখ্য, এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি বিজিএমইএর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু ১৯ ফেব্রুয়ারি বিজিএমইএর নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষকে ডেকে নিয়ে জানায়, ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটারের নথিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেয়। আরও জানায়, ২১ জন শিল্পমালিক আবেদন করেছেন, তাঁদের ছবি পাল্টিয়ে, সই জাল করে অন্যরা ভোটার হয়েছেন। এ পর্যায়ে দুই পক্ষের সমঝোতায় শতভাগ ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়। পরে নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাণিজ্য সংগঠন পরিচালকের কাছ থেকে ১৫ দিন বাড়ানো হয়।
শতভাগ ভোটার খুঁটিয়ে দেখা নিয়ে আবার বড় মতবিরোধ তৈরি হয় দুই পক্ষে। ফোরাম অভিযোগ করেছে, কাগজপত্র ও প্রমাণ সাপেক্ষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এই অবস্থায় ভোটার তালিকা হাতে না পেয়ে কীভাবে নির্বাচন হতে পারে?
এদিকে ব্যবসায়ী সূত্রগুলো বলছে, বিজিএমইএর নির্বাচন কমিশনই এ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মূল দায়ী। জানা গেছে, ফোরাম শুধু নির্বাচন বর্জনই করছে না বরং তারা চূড়ান্ত ভোটার তালিকাবিহীন এ ধরনের নির্বাচন হতে পারে কি না, তা নিয়ে আদালতে যাওয়ারও চিন্তা-ভাবনা করছে।
বিজিএমইএর নির্বাচন কমিশন সচিব অবশ্য গতকাল শনিবার সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করেন, আজ সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংগঠন কার্যালয়ে টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আর সংবাদপত্রে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ফোরাম বলেছে, একতরফাভাবে স্বেচ্ছাচারী একটি অসম্পূর্ণ ত্রুটিযুক্ত বানোয়াট ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান বিজিএমইএ পর্ষদ একপেশে নির্বাচন করতে যাচ্ছে। ফোরাম মনে করে, এটা একটা বিশেষ মহলের রূপকল্প বাস্তবায়নের নীলনকশা মাত্র।
ব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, ‘এটা সহজেই বোঝা যায় যে, এই ভোটের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত। ফোরাম এ ধরনের ষড়যন্ত্র ও স্বেচ্ছাচারমূলক ভোটের প্রহসনকে বৈধতা না দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ একই সঙ্গে তারা সব গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
ফোরাম গতকাল রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিজিএমইএর আওতাভুক্ত শিল্পমালিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের আয়োজনও করে।
এ ছাড়া ফোরাম গতকালই এফবিসিসিআইয়ের সালিসি বোর্ডের কাছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার অনিয়ম নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

ফার্স্ট লিজ ফাইন্যান্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

ফার্স্ট লিজ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ২০১০ সালের জন্য ২৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ ক্ষেত্রে চারটি শেয়ারের জন্য একটি বোনাস শেয়ার প্রদান করা হবে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২১ এপ্রিল বেলা ১১টায় ঢাকার তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর রোডে ট্রাস্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৯ মার্চ।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ৩৪.৪৫ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ১৯৭ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৩৪ টাকা।

প্রথমার্ধে শিল্পঋণ বিতরণ ও আদায় দুই-ই বেড়েছে

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথমার্ধে দেশে মেয়াদি শিল্পঋণ বিতরণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মেয়াদি শিল্পঋণ হিসাবে ১৬ হাজার ৯২৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
আর গত অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ করা মেয়াদি শিল্পঋণের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৬১৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিতরণ করা শিল্পঋণের পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৪৭৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা আরও বেড়ে হয়েছে নয় হাজার ৪৫০ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে, চার হাজার ৫৪৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এবং বাকি এক হাজার কোটি টাকা ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে।
শিল্পঋণ বিতরণের এই জোরাল প্রবৃদ্ধি অবশ্য একাধিক কারণে ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রধানটি হলো, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়া, যার প্রতিফলন ঘটেছে আমদানি-ব্যয় ও রপ্তানি-আয় উভয়ই বাড়ার মধ্য দিয়ে।
আরেকটি হলো শিল্পঋণের নামে নেওয়া অর্থ বিভিন্নভাবে শেয়ারবাজারে ধাবিত হওয়া। মূলত গত ২০০৯-১০ অর্থবছরেই শিল্পঋণের বিরাট উল্লম্ফন বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তোলে। এরপর একাধিক অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয়, বিরাট অঙ্কের শিল্পঋণ আসলে শেয়ারবাজারে খাটান হয়েছে।
শুধু শেয়ারবাজারেই নয়, জমি ও বাড়ি কেনার জন্যও শিল্পঋণের নামে নেওয়া অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে।
এরই পরিপ্রক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে তাদের প্রদত্ত ঋণ নির্ধারিত খাতে যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয় এবং যেসব ঋণের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটেছে, তা সমন্বয়ের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বকেয়া মেয়াদি শিল্পঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আর গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে আদায় করা ঋণের পরিমাণ ছিল আট হাজার ৫৫৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থাৎ বকেয়া শিল্পঋণ আদায় বেড়েছে সাড়ে ৪৫ শতাংশ।
এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আদায় করা হয়েছিল পাঁচ হাজার ৯১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে আদায় করা হয়েছে ছয় হাজার ৫৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বকেয়া ঋণ আদায় বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ।
প্রথমার্ধে আদায় করা শিল্পঋণের মধ্যে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বকেয়া আদায় হয়েছে আট হাজার ৯৮৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাঝারি শিল্প থেকে আদায় করা ঋণের পরিমাণ দুই হাজার ৫৪৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ৯১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা এসেছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথমার্ধ শেষে অর্থাৎ ২০১০ সালের ডিসেম্বর শেষে বকেয়া শিল্পঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ১১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর একই সময়ে এসে শিল্পঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৩৮৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
অর্থাৎ ডিসেম্বর শেষে বকেয়া ঋণ শিল্পঋণের মোট স্থিতির সাড়ে ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে মেয়াদি শিল্পঋণ বিতরণের মোট পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। একই সময়ে আদায় করা বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৯৮২ কোটি ২০ লাখ টাকা।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ১:১ রাইট শেয়ার ঘোষণা

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির মূলধন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১:১ রাইট শেয়ার ঘোষণা করেছে।
এ ক্ষেত্রে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা, যার মধ্যে ১০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়া হবে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও শেয়ার হোল্ডারদের অনুমোদন সাপেক্ষে বিষয়টি কার্যকর হবে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আগামী ১৩ এপ্রিল সকাল ১০টায় পলওয়েল কনভেনশন সেন্টার, প্লট ৯/বি, সেক্টর ৮, উত্তরা, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএমের রেকর্ড ডেট ৩০ মার্চ। এ ছাড়া এসইসির অনুমোদনের পর প্রস্তাবিত রাইট শেয়ারের রেকর্ড ডেট জানিয়ে দেওয়া হবে।

অজেয় অস্ট্রেলিয়াকে থামাল পাকিস্তান

শহীদ আফ্রিদি কোনটাকে এগিয়ে রাখবেন, কে জানে। হয়তো গ্রুপ শীর্ষে থাকাকেই। অন্যরা তো বটেই, বিশ্বকাপের আগে স্বয়ং পাকিস্তান অধিনায়কও নিজের দলকে ফেবারিট বলার ‘দুঃসাহস’ পাননি। বলেছিলেন, ‘বিপজ্জনক।’ সেই দলটিই অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কাকে টপকে শীর্ষে!
তবে বাকি ক্রিকেট-বিশ্বের কাছে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার হার। বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়া হারে—একটা প্রজন্ম এটা কেবল শুনেই এসেছে, নিজেদের চোখে দেখা হলো তো কালই প্রথম! একসময়ের অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়া ক্ষয়িঞ্চু গত কিছুদিন ধরেই। তার পরও একটা ভাবনা প্রায় সবার মনেই ছিল, বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া অন্য রকম। পাকিস্তানের সৌজন্যে কাল বাকি দলগুলোও জানল, বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়াকে হারানো যায়!
বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে সর্বশেষ হারিয়েছিল পাকিস্তানই, তবে সেটা ৩৪ ম্যাচ আর ১২ বছর আগে। কাল কাজটা আরও কঠিন মনে হলো অস্ট্রেলিয়া টস জয়ের পর। গত কিছুদিনের ইতিহাস বলছে প্রেমাদাসায় টস জয় মানেই ম্যাচ অর্ধেক পকেটে পুরে ফেলা। সর্বশেষ ১৬টি দিবারাত্রি ম্যাচে ১৪টিতেই জিতেছে প্রথমে ব্যাট করা দল। কিন্তু পাকিস্তান যে কাল ইতিহাস বদলে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়েই নেমেছিল! উমর গুলের সঙ্গে রেহমানকে দিয়ে আক্রমণ শুরু করেছিল পাকিস্তান। উইকেট না পেলেও প্রথম ৪ ওভারে এই দুজন রান দিয়েছিলেন মাত্র ১০। রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে করতেই গুলের ভেতরে ঢোকা বল আড়াআড়ি খেলে বোল্ড ফর্মে থাকা ওয়াটসন। রানের গতি বাড়াতে না পারলেও দ্বিতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটিতে নিয়ন্ত্রণটা নিজেদের হাতেই রেখেছিলেন রিকি পন্টিং ও ব্র্যাড হাডিন। কিন্তু হঠাৎই মোহাম্মদ হাফিজের স্পিন দুর্বোধ্য মনে হতে থাকল অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে। কয়েকবার আউট হতে হতেও বেঁচে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আউট হলেন পন্টিং। ওয়াহাবের বলে কামরানকে ক্যাচ প্র্যাকটিস করালেন হাডিন। বল হাতে নিয়েই রাজ্জাকের জোড়া আঘাত। আর শেষে আবার গুল। নিউজিল্যান্ডকে শেষ ৪ ওভারে ৯২ রান দেওয়া দলটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের গুটিয়ে দিল ১৭৬ রানে। ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর প্রথম বিশ্বকাপে দুই শর নিচে রান করল অস্ট্রেলিয়া!
১৯ বছরের ইতিহাস বদলে দেওয়ার পর ১২ বছরের ইতিহাস বদলে দেওয়াটাকেও কঠিন মনে হচ্ছিল না। কিন্তু ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে বিশ্বকাপে প্রথম পরাজয়ের মুখ দেখতে হবে, এটা যেন মানতেই পারছিলেন না ব্রেট লি। গতিময় সুইং বোলিংয়ে প্রথম স্পেলে আউট করলেন মোহাম্মদ হাফিজ ও কামরান আকমলকে। আগের ম্যাচের আত্মবিশ্বাস এই ম্যাচেও প্রতিফলিত হলো আসাদ শফিকের ব্যাটে। ইউনুস খানকে নিয়ে এই তরুণ দলকে নিয়ে যাচ্ছিলেন সহজ জয়ের দিকে। কিন্তু দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে লি টানা দুই বলে ফেরালেন ইউনুস ও মিসবাহ-উল-হককে। টানা দ্বিতীয় ফিফটির দোরগোড়ায় গিয়ে শফিকের বিদায় আর আফ্রিদির স্বভাবসুলভ মস্তিষ্ক বিস্ফোরণ কাজটাকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত কঠিন কাজটা সহজেই হয়েছে উমর আকমল-রাজ্জাকের ব্যাটে। বিশ্বকাপ দেখল প্রায় ভুলে যাওয়া দৃশ্য—মাথা নিচু করে অস্ট্রেলিয়ানদের মাঠ ছাড়া!

ক-য়ে ক্রিকেট, ক-য়ে কষ্ট

শেষ পর্যন্ত মধ্যবিত্তের হাড়হাভাতে জীবনটাই সত্যি! প্রত্যাশার পান্তাভাতে যেখানে স্বপ্নের ঘি থাকে যৎসামান্য, সেখানে বাস্তবতায় নুন-শুকনো মরিচেরই আধিক্য। আগামী দিনের জন্য জমিয়ে রাখা চালটাও বাড়ন্ত। অস্তাচলে ঢলে পড়া সূর্যটা যখন উৎসবের শেষ আলোটুকুও সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছে, বিষাদ-নগর মিরপুরে তখন এই উপলব্ধিটাই এসে হাজির—আচমকা!
জাদুকরের অলৌকিক হ্যাট থেকে কোনো ‘মিরাকল’ বের হয়ে আসার আশায় শেষ পর্যন্ত গ্যালারির আসনে লেপ্টে ছিলেন যে হাজার খানেক দর্শক, ভারী হয়ে আসা পা নিয়ে ধীরগতিতে তাঁরা ফিরছিলেন ঘরে। সিনবাদের ভূত হয়ে তাঁদের কাঁধে চেপে বসেছে রাজ্যের হতাশা। কারও কারও চোখে সর্বস্ব লুট হয়ে যাওয়ার বিহ্বলতা। কারও কারও চোখে জল। কেউ বা ভাষাহীন।
বিষণ্নতা মানুষকে কবি বানিয়ে দেয়। মন খারাপের কাব্যই তখন ফোয়ারা হয়ে ছোটে—পেশাদারি সাংবাদিকদের কলমে; যুক্তির ধার না-ধারা সমর্থকদের চোখের জলে। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনটাকেও বড় মেঘলা লাগে। চৈত্রের বিরহী বিকেল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়িতই শুধু হয়। ‘এক শ বনের বাতাস এসে একটা গাছে হুলুস্থুল’ বাধিয়ে দেয়। উদ্দেশ্যহীন ঘুরপাক খায় ঝরাপাতার দল। কিন্তু ‘যে টেলিফোন আসার কথা, সচরাচর আসে না’। আনন্দ শব্দটার এত কাছাকাছি যে ‘বিষাদ’-এর বাস; জানা হয়ে যায় নতুন করে।
পুরো বিশ্বকাপই আসলে বাংলাদেশের জন্য ছিল মধ্যবিত্তের সেই নিস্তরঙ্গ জীবনে হঠাৎ হঠাৎ ঢিলের আন্দোলন। কখনো সেই ঢিল পড়েছে প্রগাঢ় আনন্দ হয়ে; কখনো বিষণ্নতা। কখনো প্রতীকের ঊর্ধ্বে উঠে গিয়ে—আক্ষরিক অর্থেও। পতন আর উত্থান, উত্থান আর পতন। মিরপুর আটান্নর বিভীষিকা উপহার দিয়েছে, চট্টগ্রাম আবার আশার গ্রামাঞ্চল দিয়ে ঘিরে ফেলেছে হতাশার শহর। কিন্তু আবারও সেই মিরপুরে ফিরে আসা। ফিরে আসা আটান্ন। একটু বর্ধিত হয়ে, গোটা কুড়ি রান বাড়িয়ে—আটাত্তর হয়ে। কিন্তু ততক্ষণে যে স্বপ্নটার এলিজি লেখা শেষ!
৪ তারিখের সঙ্গে ১৯ মার্চের মিল তাই থাকলই। এদিনও ঝড়ে পড়া উটপাখির মতো বালুর ঢিবিতে মুখ লুকাল দর্শক। গ্যালারি ম্যাচের মাঝপথ গড়িয়ে একটু এগোতে না এগোতেই ফাঁকা। ম্যাচ শেষে বাইরে ছোট্ট জটলায় উঠল স্লোগান। পার্থক্যও আছে। সেই স্লোগানটা যে এবার একেবারেই তেজহীন। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ আসলে শেষ। আয়োজক হিসেবে আরও দুটো ম্যাচ আছে বটে, তবু যেন এই দেশে বিশ্বকাপ ‘শেষ না হইয়াও শেষ’!
এদিন সংবাদ সম্মেলনে সাকিবও যন্ত্রণাদগ্ধ। শ দুয়েক সাংবাদিকের সামনে একা বসে থাকা অধিনায়ককে দেখাল পৃথিবীর নিঃসঙ্গতম মানুষ। এদিন সাকিবের জড়িয়ে যাওয়া কণ্ঠে অস্ফুট উচ্চারণ—‘স্যরি!’ চার দিন পর নিজের ২৪তম জন্মদিন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিষণ্ন জন্মদিন নির্ঘাত। আজ তামিমের দিনটাই বা কেমন কাটবে? সাকিব তাও ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সময় পাচ্ছেন। তামিমের জন্মদিন যে আজই!
খেলা শেষের অনেক পরে, বিকেলের মরে যাওয়া আলোয় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিষণ্ন ঘাস পেল পানির ফোয়ারার অতিজরুরি স্পর্শ। সাকিব-তামিমরা এই স্পর্শ কবে পাবেন?

ঢাকায় খেলবে পাকিস্তান-উইন্ডিজ, দ. আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড

গ্রুপ পর্বের টানা এক মাসের জমজমাট লড়াই শেষে চূড়ান্ত হয়ে গেছে বিশ্বকাপের পরবর্তী লড়াইয়ের ফিক্সচার। বাংলাদেশ ছাড়া স্বাগতিক দুই দল ভারত ও শ্রীলঙ্কা বেশ ভালোমতোই উতরে গেছে প্রথম রাউন্ডের বাধা। দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে ‘এ’ গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপের অনেক জটিল হিসাব-নিকাশের অবসান ঘটিয়ে শীর্ষস্থানে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই দিনের বিরতি শেষে বুধবারে আবার শুরু হবে নকআউট পর্বের লড়াই।
প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ২৩ মার্চ ঢাকায় মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৪ মার্চ আহমেদাবাদে খেলবে টানা তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া ও ১৯৮৩ সালের শিরোপাজয়ী ভারত। সেমিফাইনালে যাওয়ার লক্ষ্যে ২৫ মার্চ ঢাকায় লড়বে নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৬ মার্চ শেষ কোয়ার্টারে কলম্বোতে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড। সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ফ্লাডলাইটের আলোয়।

স্টিভ টিকোলোর বিদায়ী ম্যাচ

জিম্বাবুয়ে-কেনিয়ার গুরুত্বহীন ম্যাচটিও একটু গুরুত্ব পেয়ে গেল। আজ ইডেন গার্ডেনের জিম্বাবুয়ে-কেনিয়ার ম্যাচটির নাম যে ‘স্টিভ টিকোলোর ম্যাচ’। ১৯৯৬ বিশ্বকাপ দিয়ে ওয়ানডে অভিষেকের পর পাঁচটি বিশ্বকাপই খেলা স্টিভ টিকোলোর আজ বিদায়ী ম্যাচ।
দেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (১৩৩টি ওয়ানডে), সবচেয়ে বেশি রান (৩৪১১) ও ৯৪টি উইকেট নেওয়া টিকোলো অবধারিতভাবেই কেনিয়ান ক্রিকেটের প্রবাদপুরুষ। আইসিসি ট্রফি জিতে কেনিয়ার ১৯৯৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন, প্রথম বিশ্বকাপেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো, ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে হারানো, সেমিফাইনালে ওঠা—কেনিয়ান ক্রিকেটের প্রতিটি উজ্জ্বল অধ্যায়েরই নেপথ্য নায়ক। স্টিভ টিকোলোকে কেনিয়ানরা ভালোবেসে ডাকে কেনিয়ান ক্রিকেটের ‘গান্ধী’।
এই গান্ধীর বিদায়ী পর্বটা কেনিয়ানরা রাঙাতে চায় জয় দিয়ে। অধিনায়ক জিমি কামান্ডে বলেছেন, ‘আমরা তাঁকে গান্ধী বলে ডাকি। আশা করছি, আমরা তাঁকে জয় দিয়েই বিদায় জানাতে পারব।’ ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই ৬৫ রানের ইনিংস খেলা টিকোলো নিশ্চয়ই বিদায়ী মুহূর্তটাকে স্মরণীয় করতে চাইবেন।
তবে এলটন চিগুম্বুরার জিম্বাবুয়েও নিশ্চয়ই জয় চাইবে। শেষ আটের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও জিম্বাবুয়ে একটি জয় পেয়েছে, কানাডার বিপক্ষে। আজ কেনিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় পেলে দল হিসেবে একটা মর্যাদা নিয়েই ঘরে ফিরতে পারবে তারা।

৪৭ ম্যাচ পর দুই শর নিচে

স্টিভেন স্মিথের বয়স তখন চার। তিনি দেখেননি নিশ্চিত করেই বলা যায়। সে সময় মাইকেল ক্লার্ক ১০-১১ বছরের, শেন ওয়াটসনরা হয়তো দেখেছেন, তবে মনে আছে কি না কে জানে! রিকি পন্টিং, মাইক হাসিদের মনে থাকলেও থাকতে পারে। তবে সরাসরি এই অভিজ্ঞতাটা প্রথম দলের সবার জন্যই। বিশ্বকাপে দুই শর নিচে অলআউট!
কালকের আগে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে সর্বশেষ দুই শর নিচে অলআউট হয়েছে ১৯৯২ বিশ্বকাপে। মজার ব্যাপার হলো, সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল এই পাকিস্তানই। ১১ মার্চ, পার্থে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ১৭২ রানে অলআউট হয়েছিল ওই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট অ্যালান বোর্ডারের দল। সেবার অবশ্য প্রথমে ব্যাট করেছিল পাকিস্তান। ওয়াকার উইকেটকে তখন মনে করা হতো বিশ্বের দ্রুততম উইকেট। কিন্তু পাকিস্তান উইকেট বিলিয়েছিল স্টিভ ওয়াহ ও টম মুডির ‘জেন্টল’ মিডিয়াম পেসে। ৫০ ওভারে ২২০। পাকিস্তানের হয়ে জ্বলে উঠলেন মূল পেসাররাই। আকিব জাভেদ তিনটি, ওয়াসিম আকরাম ও ইমরান খান দুটি করে। সঙ্গে লেগ স্পিনে মুশতাক আহমেদের ৩ উইকেট, অস্ট্রেলিয়া অলআউট ১৭২ রানে।
পার্থের সেই ম্যাচ আর প্রেমাদাসার কালকের ম্যাচের মাঝে বিশ্বকাপে ৪৭ ম্যাচ খেলে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মোহালিতে ২০৭ রানই ছিল এর মাঝে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন ইনিংস। ১৯৯২ বিশ্বকাপের কেউ তো নেই-ই, ১৯৯৬ বিশ্বকাপ খেলাদের মাঝেই এই দলে আছেন কেবল রিকি পন্টিং। দলের সবার জন্যই তাই দুই শর কমে আউট হওয়ার তিক্ত স্বাদ এই প্রথম।
ওয়াকার ওই উইকেটের একেবারে উল্টো প্রেমাদাসার উইকেট। মন্থর উইকেট, বল পিচ করে ব্যাটে আসছিল দেরিতে। তবে মূল সর্বনাশ এবারও করল সেই পেসাররাই। শেন ওয়াটসনকে বোল্ড করে শুরুটা করে দিলেন মূল স্ট্রাইক বোলার উমর গুল। সর্বোচ্চ স্কোরার ব্র্যাড হাডিনকে ফেরালেন ওয়াহাব রিয়াজ। বল হাতে পেয়েই মাইকেল ক্লার্ককে ফেরালেন আবদুল রাজ্জাক। তুলে নিলেন মিচেল জনসনকেও। দ্বিতীয় স্পেলে আরও ২ উইকেট নিয়ে লেজটা ছেঁটে দিলেন গুল। পার্থে ছিল ৭টি, প্রেমাদাসার মন্থর উইকেটেও ৬ উইকেট পেসারদের।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে পূর্ণ ওভারের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার এটি ষষ্ঠ সর্বনিম্ন ইনিংস। ১৯৯২ বিশ্বকাপে পার্থের ওই ১৭২ রানের আগের ম্যাচেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুটিয়ে গিয়েছিল ১৭১ রানে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ১৯৭৯ বিশ্বকাপে পুরো ৬০ ওভার খেলে করেছিল ৯ উইকেটে ১৫৯। বর্তমান প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ করেছিলেন ১০৮ বলে ৪৭, সেই সময়ের তরুণ প্রতিভা বোর্ডার ৭৪ বলে ৩৪। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন দুটি স্কোরই ১৯৮৩ বিশ্বকাপে, ভারতের বিপক্ষে ১২৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫১।
সব মিলিয়ে ১০ বিশ্বকাপে দুই শর নিচে স্কোর আছে মাত্র আটটি। তবে পন্টিংদের জন্য অশনিসংকেত, এর একবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া!

প্রথম ‘সেঞ্চুরি’র অপেক্ষায়

বাল্যবন্ধু বিনোদ কাম্বলির সঙ্গে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল ছবি টাঙানো রয়েছে চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের দেয়ালে। ক্রিকেটজীবনের শুরুর দিকের ছবি। সেই শচীন টেন্ডুলকার আজ এই মাঠেই সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করে ফেললে নতুন একটা ছবি দ্রুত ওখানে উঠে যেতে পারে। বিশ্বকাপের ডামাডোলে ক্রিকেটপিপাসুদের ব্যাকুলতা এখন এটা নিয়েও।
চেন্নাইয়ের রাস্তাঘাটে এমনিতে বিশ্বকাপের কোনো ব্যানার-ট্যানার দেখা ডুমুরের ফুলের মতো ব্যাপার। কাল ঢাকায় যখন সাকিবদের ছবি পোড়ানো চলছে, চেন্নাই তখন অনেকটা নীরব-নিথর। বিশ্বকাপের উত্তাপ গায়ে লাগে স্টেডিয়ামের বাইরের রাস্তায় দশ-বারো টিভি ভ্যানের সাজসাজ রব দেখে। পড়ন্ত বিকেলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এক টিভি রিপোর্টারের ‘লাইভ’ চোখ কাড়ল। ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ আপাত ‘গুরুত্বহীন’ লড়াইয়ে মূল আলোটা রাখলেন তিনি টেন্ডুলকারের আরেকটি সম্ভাব্য মাইলফলকের ওপর।
ঔপনিবেশিক আমলের অনেক নিদর্শন এখনো পাওয়া যায় চেন্নাইয়ে। ভিক্টোরিয়া পাবলিক হল তারই একটি। স্টেডিয়ামের কাছেই মেরিনা সৈকত। কক্সবাজারের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সৈকতের শহরে কাল দুপুরের পর থেকেই আবহটা বদলে গেছে। ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ নিয়ে কোনো উত্তেজনা নেই। যা ছিল, সবই ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে বাংলাদেশ দল। অঙ্কের হিসাবের যাবতীয় জল্পনা ছুড়ে ফেলে নির্ভার দুই দল। শেষ আটে ওঠার আনুষ্ঠানিকতা শেষ!
মিরপুরে সাকিবরা অলআউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিপকের প্রেসবক্সে কেউ একজন ঘোষণা দিলেন, ‘বাংলাদেশ অলআউট সেভেনটি এইট’। সঙ্গে সঙ্গে হাততালিও পড়ল অনেক! বাংলাদেশের পরাজয় ভারতীয়রা চাইছিল কি না কে জানে, তবে গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হাতে বিদায়ের জ্বালা বোধহয় এবার লাল-সবুজের বিদায়ে জুড়াল ভারত! তার চেয়েও বেশি বোধহয় সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশের মারপ্যাঁচে পড়ে ভারতের শেষ আটে যাওয়া ঝুলে থাকল না বলে।
টিভিতে খেলা যখন চলছিল, বাংলাদেশের ৫-৬টি উইকেট পড়ে যাওয়ার পরই চ্যানেল বদল। পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে চোখ চলে গেল আগ্রহীদের।
দুপুরে এখানকার তাপমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ৩১ ডিগ্রি। তবে ঠিক এই সময়টায় একটু আগে-পরে দুই দলের সংবাদ সম্মেলন হলো ‘উত্তাপহীন’। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংবাদ সম্মেলনে উত্তাপ থাকার কথাও নয়। তবে ধোনির থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ম্যাচের আগের দিন বরাবর দুই দলের অধিনায়ক যা বলেন, সেটিই বলে গেলেন ধোনি-স্যামি। নিজ নিজ দলের ‘সমস্যা’কেন্দ্রিক প্রশ্নোত্তরই বেশি হলো।
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাওয়া দুই দলের এখন সেমিফাইনালের ছক কাটতেই সময় যাচ্ছে বেশি। ২৪ মার্চ আহমেদাবাদে প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, ভারত ঘরের মাঠেই নামবে শেষ চারে যাওয়ার লড়াইয়ে। সেই ম্যাচের প্রস্তুতিও আসলে চলছে এখানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ নিয়ে কে অত ভাবে! স্থানীয় দুই মাঝারি সারির ভেন্যু কর্মকর্তার কথোপকথন কানে এল, ‘আহমেদাবাদের টিকিট কেটেছ? দেখো আবার, সেখানে বেজায় ভিড়। বিমানে সিট পাবে তো?’
ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহনে একটা বিপ্লব চলছে এখন। কলকাতা থেকে চেন্নাইয়ের ফ্লাইট কাল ‘ফুল’। কলকাতার অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে ভিড়ে গিজগিজ। স্রোতের মতো মানুষ ঢুকছে-বেরোচ্ছে। এক শ কোটির মানুষের দেশ উদ্গ্রীব হয়ে আছে বিশ্বকাপ ঘরে আসছে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে কাল ধোনি তাঁর সংবাদ সম্মেলনে বলে গেলেন, ‘ভারতকে তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’ উদ্বোধনী ম্যাচে ভালো করলেও এরপর ধস, পাওয়ার প্লে ভালোভাবে কাজে লাগাতে না পারা নিয়ে হতাশা জানালেন। অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে এখনো না খেলানোয় অনেক জল ঘোলা হওয়া নিয়ে তাঁর কথা, ‘ম্যাচের আগে একাদশ ঠিক হবে।’ তবে হাঁটুর ইনজুরির কারণে বীরেন্দর শেবাগের না খেলারও সম্ভাবনা আছে।
চন্দরপলকে আজও বাইরে রাখার ইঙ্গিত দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ফল আমাদের হাতে নেই। ভারতকে হারিয়েই আমরা শেষ আটে যেতে চাই।’
ভারতকে হারানোর দরকার হয়নি স্যামিদের। তবে ‘বি’ গ্রুপের স্থান নির্ধারণে গুরুত্ব আছে, আরও গুরুত্ব টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরির সেঞ্চুরির উপলক্ষে। তা হলেই ম্যাচটি ইতিহাসের পাতায় ঢুকে পড়বে!

কেটের পোশাক বিক্রি ৭৮ হাজার পাউন্ডে

সামান্য একটা পোশাক। এর পরও নিলামে বিক্রি হয়েছে ৭৮ হাজার পাউন্ডে। কিন্তু দেখতে হবে ওই পোশাক কে পরেছিলেন। স্বয়ং ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়ামের বাগদত্তা কেট মিডলটন। ওই পোশাক পরে ক্যাটওয়াক করেছিলেন তিনি। সে-ও ২০০২ সালে। তখন তিনি সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। ওই বিশ্ববিদ্যায়ের এক দাতব্য ফ্যাশন শোতে অংশ নিয়েছিলেন কেট।
বড়জোর ১০ মিনিট ওই পোশাক পরে ছিলেন কেট। গত বৃহস্পতিবার মধ্য লন্ডনে নিলামে ওই পোশাকই চড়া দামে কিনে নিলেন এক ব্যক্তি। ক্রেতা নিজের নাম শুধু নিক বলে উল্লেখ করেন। ওই পোশাক কিনে রীতিমতো গর্বিত ও ধন্য মনে করছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় প্রার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিস্টমাস আইল্যান্ডের একটি বন্দিশালায় গত বৃহস্পতিবার পুলিশের সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে।
বন্দীরা কয়েকটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। তখন বন্দীরা পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন।
বন্দীরা জানান, বন্দিশালার দুরবস্থা এবং তাঁদের আশ্রয়দানের অনুমোদন দিতে কর্তৃপক্ষ বিলম্ব করার প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভ করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেককে প্রায় দেড় বছর ধরে আটক রাখা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের ক্রিস্টমাস আইল্যান্ডে বর্তমানে আড়াই হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী আছেন। আশ্রয়প্রার্থীদের আগমনের হার বাড়তে থাকায় ওই বন্দিশালায় তাঁদের স্থানসংকুলান কঠিন হয়ে পড়েছে। গত বছর প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষ জলপথে সেখানে পৌঁছায় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পাওয়ার আশায়। তাঁদের অধিকাংশ শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও ইরাকের নাগরিক।
ওই বন্দিশালায় কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন আশ্রয়প্রার্থীরা।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিন রাড এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত অভিহিত করে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে আমাদের কর্মকর্তারা আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন চূড়ান্ত করতে কাজ করবেন—এটা তাঁরা আশা করেন কীভাবে।

আগুন নেভাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চাইল জাপান

জাপান ফুকোশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আগুন নেভাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান জাপানের এই দুঃসময়ে দেশটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে গত সপ্তাহে জাপানের ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এর কয়েকটি চুল্লিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে জাপানের সেনারা বিশেষভাবে নির্মিত হেলিকপ্টারের সাহায্যে সেখানে টন টন পানি নিক্ষেপ করেন। বিশেষ জলকামানের সাহায্যে নিক্ষেপ করা হয় পানি। কিন্তু আগুন এখনো তেমন কোনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং দিন যত গড়াচ্ছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তত ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে সার্বিক অবস্থা সামাল দিতে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বিশেষজ্ঞদের সাহায্য চাইল।
গতকাল শুক্রবার জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োকিও এদানো সাংবাদিকদের বলেন, ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিন নম্বর প্লান্টের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এটাকে সামাল দেওয়ার বিষয়টিকে এখন সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদানো বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে সাহায্য করার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ বিষয়টি নিয়ে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছেন। তাঁদের সহযোগিতা এখন জাপানের খুব প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি নিক্ষেপের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের বিশেষ ধরনের অগ্নিনির্বাপণ যানগুলো প্রস্তুত করে রেখেছে। তবে এই যানগুলো জাপানিদেরই ব্যবহার করতে হবে। এগুলো নিয়ে মার্কিন সেনারা ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে যাবেন না।
এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ইয়োকিয়া আমানো গতকাল জাপানে পৌঁছেছেন। টোকিওতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা এটাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন। এ দুর্ঘটনা জাপানের একার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

ডায়াবেটিসের নিষিদ্ধ ওষুধের বিকল্প অ্যাকটস

ইউরোপে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় অ্যাভান্ডিয়া নামের যে ওষুধটির ব্যবহার নিষিদ্ধ, সেটির বিকল্প হিসেবে গবেষকেরা অ্যাকটস নামের আরেকটি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়ার ওই গবেষকেরা বলেছেন, অ্যাভান্ডিয়ার ‘যৌক্তিক বিকল্প’ ওষুধ হিসেবে অ্যাকটস ব্যবহার করা যেতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান বিএমজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
গত বছর ইউরোপের দেশগুলো ডায়াবেটিস চিকিৎসায় অ্যাভান্ডিয়ার (যেটি রোসিগলিটাজোন নামেও পরিচিত) ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। অ্যাভান্ডিয়া হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয় বলে চিকিৎসকেরা দাবি করার পর ইউরোপ সেটিকে নিষিদ্ধ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সেটি এখনো বৈধ।
নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, অ্যাভান্ডিয়া ব্যবহারকারী ডায়াবেটিস রোগীদের চেয়ে অ্যাকটস ব্যবহারকারী রোগীরা হূদরোগে কম ভোগে। অ্যাভান্ডিয়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করলেও তা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে।

নিউইয়র্ক টাইমসের অনলাইন পাঠকের জন্য ফি আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রচারিত দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তাদের অনলাইন পাঠকের জন্য ‘ফি’ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম চালু হলে অনলাইন গ্রাহকেরা প্রতি মাসে পত্রিকাটির মাত্র ২০টি প্রতিবেদনে বিনা মূল্যে প্রবেশাধিকার পাবেন। বিনা মূল্যে পাওয়া এসব প্রতিবেদনের মধ্যে সংবাদ, তথ্যচিত্র ও ছবি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের জন্য ২৮ মার্চ থেকে নতুন এ নিয়ম চালু হবে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকেই কানাডার গ্রাহকদের জন্য নিয়মটি কার্যকর করা হয়েছে। তবে নিউইয়র্ক টাইমস-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের অনলাইন সংস্করণের প্রচ্ছদপাতা আগের মতোই সর্বসাধারণের জন্য বিনা মূল্যে উন্মুক্ত থাকবে।
ওয়েবসাইটে পূর্ণ প্রবেশাধিকারের জন্য গ্রাহকদের মাসে ৩৫ ডলার ফি দিতে হবে। এ ফি দিয়ে যাঁরা পূর্ণ গ্রাহক হবেন তাঁরা কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন বা আইপড থেকে টাইমস-এর ওয়েবসাইটে অবাধ প্রবেশাধিকার পাবেন। মাসে মাত্র ১৫ ডলার দিয়ে স্মার্ট ফোন গ্রাহক হওয়া যাবে। তাঁরা নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করে মুঠোফোন থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার পাবেন। ট্যাবলেট কম্পিউটারের গ্রাহকদের জন্য মাসিক ফি ২০ ডলার ধার্য করা হয়েছে।
পত্রিকাটির প্রকাশক আর্থার সালবার্গার পাঠকদের উদ্দেশে বলেছেন, ফি আদায়ের এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে পত্রিকাটি আরও শক্তিশালী হবে। পাঠকদের জন্য উঁচুমানের সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো।

ভোট কেনার বিষয়ে কিছুই জানি না: মনমোহন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গতকাল শুক্রবার বলেছেন, ২০০৮ সালে আস্থা ভোটের সময় ঘুষ দিয়ে ভোট কেনার যে অভিযোগ উঠেছে, সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। ভারতীয় পার্লামেন্টের দুই কক্ষ রাজ্যসভা ও লোকসভায় ভাষণে তিনি একথা বলেন। এর আগে মনমোহনের পদত্যাগের দাবিতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিরোধী দল হট্টগোল শুরু করলে অধিবেশন গতকালের জন্য মুলতবি করা হয়।
উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্য হিন্দু পত্রিকা জানায়, আস্থা ভোটে জিততে ক্ষমতাসীন জোট আইনপ্রণেতাদের পেছনে ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি খরচ করেছিল। ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দল কংগ্রেস পার্টির এক কর্মকর্তা এক মার্কিন কূটনীতিককে এ কথা জানিয়েছেন।
উইকিলিকসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেসের ওই কর্মকর্তা দুই সিন্দুকভর্তি রুপি দেখিয়ে মার্কিন কূটনীতিককে জানান, একটি আঞ্চলিক দলের চার সাংসদের সমর্থন পেতে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ কোটি করে রুপি দেওয়া হয়েছে।
পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে ভাষণে মনমোহন বলেন, উইকিলিকসের বরাত দিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা আসলে অনুমাননির্ভর এবং যাচাই-বাছাই ছাড়াই। কংগ্রেস বা সরকারের কেউ এ ধরনের কোনো অনৈতিক কাজ করেনি।
বিরোধীদের সমালোচনা করে মনমোহন বলেন, তারা আবার সেই পুরোনো অভিযোগ তুলছে, যা নিয়ে লোকসভায় বিতর্ক হয়ে গেছে এবং দেশের মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর আগে নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া টুডে সাময়িকীর এক অনুষ্ঠানে মনমোহন সিং বলেন, ‘আমি খুবই স্পষ্ট করে বলছি, ভোট কেনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ভোট কেনার জন্য আমি কাউকে বলিনি এবং এ ধরনের কোনো লেনদেনের বিষয়ে কিছু জানিও না।’
উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তথ্যের যথার্থতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মনমোহন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি, তা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে পার্লামেন্টে এ বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। আমার যদি কিছু বলার থাকে তাহলে প্রথমে তা সেখানেই বলব।’
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি করার পর সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে কমিউনিস্টরা। এরপর পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে অল্পের জন্য পার পেয়ে যায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ)।
আস্থা ভোটের পর প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজিপি) অভিযোগ করেছিল, কংগ্রেস টাকা দিয়ে ভোট কিনেছে। ইউকিলিকসের এই প্রতিবেদন বিজিপির সেই অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করল।
উইকিলিকসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেসের ওই কর্মকর্তা দুই সিন্দুকভর্তি রুপি দেখিয়ে মার্কিন কূটনীতিককে জানান, একটি আঞ্চলিক দলের চার সাংসদের সমর্থন পেতে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ কোটি করে রুপি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, উইকিলিকসের এই খবরে মনমোহন সরকারের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনিতে একের পর এক বড় বড় দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে সরকার দুরবস্থার মধ্যে আছে।

বাহরাইনে আবার বিক্ষোভ

বাহরাইনের দিরাজ শহরে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর কয়েক হাজার শিয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভ ও সমাবেশ সরকার নিষিদ্ধ করার পরও তাঁরা এই বিক্ষোভ করেন।
এদিকে বাহরাইনে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি তাঁর এই উদ্বেগের কথা টেলিফোনে বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফাকে জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে সৌদি বাদশাহর হুঁশিয়ারি

সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যারাই দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নস্যাতের চেষ্টা করবে, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আকবারিয়ায় দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশে বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় যারাই বিঘ্ন ঘটাবে, তাদেরই আপনারা আঘাত করুন।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে তিনি আরও ৬০ হাজার সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন।
ওপেকের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদির বাদশাহ তাঁর এই ভাষণে ১৮টি রাজকীয় ফরমান জারি করেছেন। এতে সরকারি কর্মীদের মাসিক ন্যূনতম বেতন তিন হাজার রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে।
সৌদি বাদশাহ ছয় হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে দেশের নাগরিকদের জন্য পাঁচ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণেরও ঘোষণা দেন।
দারিদ্র্য ও বেকারত্ব নিরসনের দাবিতে প্রতিবেশী ইয়েমেন ও বাহরাইনে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বাদশাহ এসব প্রতিশ্রুতি দিলেন।
এদিকে সৌদি আরবের শিয়া-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলে গত বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বাহরাইনের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষোভকারীরা তাদের কর্মসংস্থান ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে এএফপি।

কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে জোটসঙ্গী কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই তাঁর দলের ২২৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। অবশ্য ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কংগ্রেসের জন্য তিনি ৬৪টি এবং এসইউসিআইর জন্য দুটি আসন রেখে দিয়েছেন।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, কংগ্রেস যদি ওই ৬৪টি আসনের তালিকা মেনে না নেয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেস আগামী সোমবার বিকেলে ফের সংবাদ সম্মেলন করে ওই ৬৪ আসনের প্রার্থীরও নাম ঘোষণা করবে।
তৃণমূলের এই একতরফা প্রার্থিতা ঘোষণায় কংগ্রেস ক্ষুব্ধ। পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে থাকা কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা শাকিল আহমেদ বলেছেন, জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ার আগেই তৃণমূলের এই সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। এখন এ ব্যাপারে কংগ্রেসের হাইকমান্ডই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
মমতা সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনামলে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ খুন হয়েছে। এই রাজ্যকে সিপিএম এক নৈরাজ্যে পরিণত করেছে। সিপিএমের হাত থেকে এই রাজ্যকে মুক্ত করার জন্য তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুলে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
মমতা আরও বলেন, ‘আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে আসনরফার জন্য ১৮ দিন অপেক্ষা করেছি। কিন্তু কংগ্রেস এ ব্যাপারে যথার্থ ভূমিকা না নেওয়ায় বাধ্য হয়েই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলাম।’
বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে মনীশ গুপ্ত: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে তৃণমূলকংগ্রেসের প্রার্থীহয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যসচিব মনীশ গুপ্ত।

বেনগাজিতে বিদ্রোহীদের মধ্যে চাঞ্চল্য, উল্লাস

লিবিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বেনগাজি এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতের কিছুমাত্র আগেও ছিল ভুতুড়ে পরিবেশ। যেকোনো সময় গাদ্দাফি অনুগতরা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় সেখানকার লোকজন ছিল আতঙ্কিত। স্থানীয় বাসিন্দারা যে যার ঘরে শুয়ে উৎকণ্ঠা নিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছিল। রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা, সুনসান। কিন্তু রাত ১২টার পর শহরের চেহারা পাল্টে গেল। জাতিসংঘ লিবিয়াকে নো ফ্লাই জোন ঘোষণা করেছে এবং গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে সেনা পাঠাচ্ছে শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে এল হাজার হাজার মানুষ। উল্লাসে ফেটে পড়ল তারা। এদিকে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বিদ্রোহ দমনে তাঁর কৌশল পরিবর্তন করেছেন।
গত মঙ্গলবার থেকে গাদ্দাফি বাহিনী বেনগাজির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গত বুধবার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্রোহীদের ‘পিষে’ ফেলার ঘোষণা দেন। বিদ্রোহীদের নেতারা গাদ্দাফি বাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা চালাতে যাচ্ছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। এতে একেবারেই ভেঙে পড়েছিল বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক সহায়তা না আসায় তারা জাতিসংঘসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করতে শুরু করেছিল।
এ অবস্থায় জাতিসংঘ বিদ্রোহীদের সমর্থনে সামরিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দেয়। এ খবর শুনে হতাশ হয়ে পড়া বিদ্রোহীরা মুহূর্তেই প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। তারা রাস্তায় বেরিয়ে নিজেদের বন্দুক উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। একই সঙ্গে তাদের গাদ্দাফিবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়। বহু তরুণ-তরুণীকে নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তাদের হাতে ছিল লিবিয়ার জাতীয় পতাকা। বিদেশি বন্ধু দেশ হিসেবে অনেকের হাতে ফ্রান্সের পতাকাও দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেনগাজির রাজপথে উল্লাসরতদের মধ্য থেকে ইব্রাহিম আবু বাকার নামের একজন বলেন, ‘তাঁর (গাদ্দাফি) ট্যাংকে আঘাত হানো, তাঁর বিমানে আঘাত হানো, বাব-আল-আজিজিয়ায় (ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির বাসভবন) ঢুকে তাঁকে আঘাত করো!’
আবু বাকারের মতো অসংখ্য বিদ্রোহীকে এ সময় উদ্দীপ্ত ও যুদ্ধংদেহী মনোভাবে দেখা যায়। তবে এই উল্লাসের মধ্যেও কেউ কেউ লিবিয়ায় বাইরের সামরিক শক্তির উপস্থিতিকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারছে না। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি সেনারা সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি গাড়লে দেশটির সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।
লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বিদ্রোহ দমনে তাঁর কৌশল পরিবর্তন করেছেন। তিনি এখন আর সেনাদের ব্যবহার করবেন না। সেনাসদস্যদের পরিবর্তে পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করবেন। গত বৃহস্পতিবার সিএনএন এ খবর জানায়।
সিএনএন জানায়, তারা গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলামের একটি টেলিফোন বার্তা পান। ওই বার্তায় বলা হয়, লিবিয়ার নেতৃত্ব বেনগাজিতে তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। সেনাসদস্যরা আর বেনগাজিতে যাচ্ছে না। তারা সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করবে।
সিএনএনের সংবাদদাতা নিক রবার্টসন জানান, মানবিক কারণেই লিবিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ধারণা, জনগণ তাদের এই নীতিকে স্বাগত জানাবে এবং সেনাবাহিনী যাবে শুধু তাদের সহায়তা করতে।

হেডিংলি ফিরবে প্রেমাদাসায়

২৯ থেকে শুরু। ৩০, ৩১ হয়ে ৩২-এ একটু ধাক্কা। প্রকৃতি থামাল জয়রথ। তবে অপরাজেয় যাত্রা নয়। ৩৩ হয়ে এখন সেটা ৩৪। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি ম্যাচের আগে-পরে চলছে এই আলোচনা—কত হচ্ছে, কত হলো। কে থামাবে, কোথায় গিয়ে থামবে। আজকের ম্যাচের আগে এই আলোচনার পালে যেন একটু বাড়তি হাওয়া, পরিসংখ্যান-ইতিহাস ধরে টানাটানিটা একটু বেশিই হলো। প্রতিপক্ষ যে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ পরাজয় যাদের কাছে!
অস্ট্রেলিয়ার এই দলে ‘বিশ্বকাপে হার’ নামক জিনিসটার সঙ্গে পরিচয় আছে কেবল একজনেরই। সেই একজনের আবার আছে গর্বের এক রেকর্ডও। ১৯৯৯ সালের ২৩ মে, হেডিংলিতে পাকিস্তানের কাছে ১০ রানে হারা ম্যাচে ৪৭ রান করেছিলেন রিকি পন্টিং। এরপর অস্ট্রেলিয়ার যে টানা ৩৪ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রা, এর ২৭টিতেই অধিনায়ক পন্টিং। বিশ্বকাপে অধিনায়ক পন্টিংয়ের তাই পরাজয় বলে কিছু নেই!
অভিজ্ঞতাটা যে মোটেও পেতে চান না, কাল পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক, ‘বিশ্বকাপে আমাদের রেকর্ড নিয়ে আমরা গর্বিত। শুধু বিশ্বকাপ নয়, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, যেখানেই আমরা খেলেছি, আমাদের রেকর্ড আমাকে গর্বিত করে। আগামীকাল আমাদের আরেকটা চ্যালেঞ্জ। আগে কী হয়েছে, তা নিয়ে আমরা খুব বেশি আলোচনা করি না। তবে রেকর্ড ধরে রাখার তাগিদটা তো থাকবেই।’
’৯৯ বিশ্বকাপের পাকিস্তান স্কোয়াডের দুজন আছেন এই দলে। একজন মাঠে থেকেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিলেন, আরেকজন ড্রেসিংরুমে বসে দেখেছিলেন। আজ জায়গা বদল হচ্ছে সেই দুজনের। নাটকীয় কিছু না ঘটলে শোয়েব আখতার থাকবেন ড্রেসিংরুমে, শহীদ আফ্রিদি করবেন টস!
ওই ম্যাচের পর বিশ্বকাপে দুদল মুখোমুখি হয়েছে দুবার। সেবারই ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া কীভাবে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছিল, এটা মোটামুটি সবারই জানা। আরেকবার পরের বিশ্বকাপে দুদলের প্রথম ম্যাচে। ২০০৩ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচ দিয়েই আবার বিশ্বকাপ অধিনায়কত্বে অভিষেক পন্টিংয়ের। ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া বিপাকে পড়ে গিয়েছিল। তবে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস নামের এক ‘খুনে তরুণ’ নিজেকে চেনানোর জন্য বেছে নিয়েছিলেন ওই দিনটিকেই। ১২৯ বলে অপরাজিত ১৪৩ করে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
রেকর্ডই আজ তাদের এগিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট, এগিয়ে রাখছে এই বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সও। আগের মতো অপ্রতিরোধ্য মনে না হলেও অস্ট্রেলিয়া ঠিকই ধারাবাহিক। আর পাকিস্তানের পারফরম্যান্সে বরাবরের মতোই জোয়ার-ভাটা। তবে পাকিস্তানের পক্ষে আছে ঘরের মাটির পরিচিত কন্ডিশন। ঘরের মাটি শুনে অবাক হচ্ছেন তো? শ্রীলঙ্কা তো তাদের ঘরের মাটিই, গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই তারা খেলল এখানে, যে সৌভাগ্য হয়নি শ্রীলঙ্কারও! এই প্রেমাদাসাতেই পাকিস্তান শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে, এটা মনে করিয়ে দিলেন স্বয়ং পন্টিংই। আফ্রিদিও মোটামুটি হুমকি দিয়ে রেখেছেন, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পথ তাদের জানা! দুই অধিনায়কের কথার লড়াই যেন ম্যাচের আগের বারুদ। যেটা খুব বেশি দেখা যায়নি ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচগুলোতে। পন্টিংই বললেন, ‘আমাদের গ্রুপের খেলাগুলো কেমন যেন হলো বিরক্তিকর..ওই গ্রুপে প্রায় সবই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ।’
তবে যতই বলুন, আজ অন্তত শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ নয়, পন্টিং নিশ্চয়ই সহজে জিততে চাইবেন। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের তো আর প্রত্যাশায় থাকতে বাধা নেই!

‘শোয়েব ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে’

নাটকীয় কিছু না ঘটলে আজ খেলার সম্ভাবনা নেই শোয়েব আখতারের। তবু শহীদ আফ্রিদির সংবাদ সম্মেলনের প্রায় পুরোটা জুড়ে থাকলেন শোয়েব। এই সংবাদ সম্মেলন যেন পরদিন ম্যাচ বলে নয়, শোয়েবের অবসরের প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য। মাত্রই আগের দিন অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন গতিতারকা, এটা অবশ্যই একটা কারণ। শোয়েবের অবসর যে তুলে দিয়েছে বেশ কিছু প্রশ্নও!
বিশ্বকাপের মাঝখানে অবসরের ঘোষণা দেওয়া ঠিক হলো কি না, দলের মনোযোগ নড়ে গেল কি না, আক্ষেপ নিয়ে সরে দাঁড়ালেন কি না—এসব তো আছেই। পাকিস্তানি গণমাধ্যমে জোর গুজব, আছে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি ক্ষোভও। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে রস টেলরের সহজ ক্যাচ দুটি ছাড়ার পর শোয়েব নাকি কামরান আকমলকে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালি দিয়েছিলেন। শেষের ওভারগুলোয় সেই টেলরের হাতেই তুলাধোনা হয়ে দলে জায়গা হারাতে হয়েছে শোয়েবকে। অথচ কামরান ঠিকই টিকে গেছেন, আর ওই গালির জন্য শোয়েবকে দিতে হয়েছে জরিমানা। এসব নিয়ে নাকি ক্ষোভ ছিল শোয়েবের।
আফ্রিদি অবশ্য স্বভাবসুলভ রসিকতায় এটা উড়িয়ে দিলেন, ‘শোয়েব-কামরানের মাঝে তেমন কিছু হয়নি, সিরিয়াস কিছু তো নয়ই। আমি আপনাদের কোনো ব্রেকিং নিউজ দিচ্ছি না...! আর সে তো কখনো বলেনি কোনো ব্যাপার নিয়ে আপসেট। বরং সব সময়ই বলেছে উপভোগ করছে।’
তবে কারণ যা-ই হোক, আফ্রিদি নিশ্চিত অবসর নিয়ে ঠিক কাজটাই করেছেন শোয়েব, ‘শোয়েব ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। এটা ওর নিজের সিদ্ধান্ত, নিজের ভালোর জন্যই নিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেটে ওর অবদান অনেক, একাই অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে। খুব ভালো একটা উদাহরণও সৃষ্টি করল। সাধারণত পাকিস্তানে ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার শেষ হয় নির্বাচকদের হাতে। কিন্তু শোয়েব নিজেই নিজের ক্যারিয়ার শেষ করতে পারল। নিজের ফিটনেস, ফর্ম—সব বুঝেশুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ বিশ্বকাপের মাঝে অবসরের ঘোষণাটা ঠিক হলো কি না, এটা নিয়ে অবশ্য একটু দ্বিধান্বিত লাগল পাকিস্তান অধিনায়ককে, ‘আমার মনে হয়, টাইমিং খারাপ হয়নি। হ্যাঁ, বিশ্বকাপ শেষেও সিদ্ধান্ত নিতে পারত। কিন্তু ও হয়তো মাঠ থেকে বিদায় নিতে চেয়েছে এবং এতে দোষের কিছু নেই। দলে এর কোনো বাজে প্রভাব পড়েনি এবং পড়বে না।’
‘শোয়েব’ থাকলেন রিকি পন্টিংয়ের সংবাদ সম্মেলনেও। ব্যাট-বলের মতো মাঠে দুজনের মুখের লড়াই অনেকবার হয়েছে। কিন্তু বিদায়বেলায় শোয়েবের জন্য পন্টিংয়ের ছিল প্রশংসা আর অভিনন্দন, ‘সব সময়ই বলেছি, আমি যাদের খেলেছি তাদের মধ্যে শোয়েবই দ্রুততম। ওয়াকায় ওর সঙ্গে আমার দ্বৈরথ এখনো ইন্টারনেটে অনেকেই দেখে, আরেক পাশ থেকে সেদিন জাস্টিন ল্যাঙ্গার আমাকে নিয়ে খুব হাসাহাসি করছিল। ক্যারিয়ারজুড়ে নানা চোট হয়তো তাকে খুব বেশি ম্যাচ খেলতে দেয়নি, কিন্তু ও অবশ্যই অসাধারণ এক বোলার। অসাধারণ এক ক্যারিয়ারের জন্য ওকে অভিনন্দন।’
তবে যে কথাটি শুনলে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন শোয়েব, সেটাই পরিষ্কার করলেন না আফ্রিদি। শোয়েবকে কি নামানো হবে সামনের কোনো ম্যাচে, মাঠ থেকে বিদায় নেওয়া হবে তাঁর? ‘দলে অনেক প্রতিযোগিতা...দেখা যাক...প্রয়োজন পড়লে...’ আফ্রিদির কথায় খুব বেশি আশার আলো নেই শোয়েবের জন্য।

সাঙ্গাকারার পর মঞ্চে মুরালি

তাঁর শেষ বিশ্বকাপই শুধু নয়, শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও। এর পরই অবসর। শেষটা কোথায় রাঙিয়ে দেবেন তা না, মুত্তিয়া মুরালিধরনকে যেন চেনাই যাচ্ছিল না। প্রথম চার ম্যাচে ৪ উইকেট। এর মধ্যে একটিতে বৃষ্টি বল হাতেই নিতে দেয়নি। আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়েও আড়ালে।
মুরালি ছায়া হয়ে থাকতে ভালোবাসেন না। কাল মুম্বাইয়ে তাই মঞ্চের আলোটা কেড়ে নিলেন নিজের ওপর। সেই ঘূর্ণিজাদু। ব্যাটসম্যানদের জন্য দুর্বোধ্য একেকটি ডেলিভারি। ফাঁদে ফেলে স্টাম্পিং। টাইমিংয়ে গড়বড় করে ফিরতি ক্যাচ দিতে বাধ্য করা। মুরালি যেন ফিরে গিয়েছিলেন টগবগে তারুণ্যে। নিজের শেষ দুটো ওভার করার সুযোগই পেলেন না। পারলেন না বিশ্বকাপে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার শূন্যতা মুছে ফেলতে। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ১১২ রানের বিশাল জয়ে অবদান রাখলেন ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে।
ম্যাচের নায়ক অবশ্য আছেন আরেকজন। ম্যান অব দ্য ম্যাচও হয়েছেন তিনি—কুমার সাঙ্গাকারা। লঙ্কান অধিনায়কের ১১১ রানের ইনিংসটিই যে শ্রীলঙ্কাকে এনে দিয়েছিল ২৬৫ রানের পুঁজি। সেই ইনিংসটিও খেলেছেন দলের ভীষণ প্রয়োজনের মুহূর্তে। আগের ম্যাচে ওপেনিং জুটির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়া থারাঙ্গা-দিলশান দুজনই ৩ রান করে ফিরে এলে জয়াবর্ধনেকে নিয়ে ১৪৫ রানের জুটি গড়েন সাঙ্গাকারা।
শেষ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত কিউই অধিনায়ক রস টেলর ‘অগুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচটিকে বোলারদের অনুশীলনের জন্যই ব্যবহার করলেন। হাত ঘোরালেন আটজন বোলার! সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনেও হয়তো ভেবেছিলেন, তাঁদের কারণে বাকিদের ব্যাটিং অনুশীলন বাদ যাবে কেন? ৩১.৪ ওভার ধরে চলা জুটিটা ভাঙল। ৬৬ রান করে ফিরলেন জয়াবর্ধনে, চার ওভার পর সাঙ্গাকারাও। তবে বাকিরা আর ব্যাটিং অনুশীলনের সুযোগ নিতে পারেননি। শেষ ১০ ওভারে ৬৩ রান তুলতে শ্রীলঙ্কা হারাল আরও ৬ উইকেট।
শেষদিকে বোলারদের এই উজ্জীবিত লড়াইয়েও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা প্রেরণা খুঁজে নিতে পারেননি। কুলাসেকারা-ম্যাথুস-মেন্ডিসের ত্রিমুখী আঘাতে ৮২ রানেই ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। এর পরই মুরালি টানা তিন ওভারে তুলে নেন উইলিয়ামসন, টেলর ও স্কট স্টাইরিসকে। পরে ফেরান ফ্রাঙ্কলিনকেও। বিশ্বকাপে নিজের উইকেটসংখ্যা ৬৪-তে নিয়ে গেলেও ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া হলো না। হলো না সাঙ্গাকারা মেন্ডিস আর মালিঙ্গাকে আরেকটু বোলিংয়ের সুযোগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়।

নিজেদের হাতেই সব..

মেজাজ বিগড়ে যাওয়ারই কথা। অমন ম্যাচ কেউ হারে? বিষয়টা এমন নয় যে বাংলাদেশ দলের সব খেলোয়াড় হঠাৎ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমর্থক হয়ে গেছেন। তার পরও পরশু চেন্নাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৮ রানের পরাজয় বাংলাদেশ শিবিরে তুলল হতাশার ঢেউ। কেউ কেউ তো বলেই ফেললেন, দক্ষিণ আফ্রিকা আর কী চোকার্স, আসল চোকার্স তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ!
শুধু বাংলাদেশ দল নয়, পরশু রাতে গোটা দেশের মানুষই মনেপ্রাণে কামনা করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়, ইংল্যান্ডের হার। সেটা যখন হলো না, হতাশায় পুড়তে হলো সবাইকে। ড্যারেন স্যামির দল ম্যাচটা জিতে গেলে আজ হারলেও বাংলাদেশ বিশ্বকাপের শেষ আটে খেলত। ফলাফল উল্টো হওয়ায় কোয়ার্টার ফাইনাল-স্বপ্ন পূরণের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এখন জিততেই হবে। সবাই জানে, কাজটা কঠিন। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অনেকটাই ছায়ায় ঢাকা।
আশার কথা, সাকিব আল হাসান এবং তাঁর দল এত সহজে হাল ছাড়ছে না। দলের মধ্যে নিজেদের কাজটা নিজেদেরই করে নেওয়ার প্রতিজ্ঞা। পরশু রাতে ম্যাচ শেষে বলেছেন, সাকিব কালও বললেন, ‘আমরা কখনোই অন্য দলকে নিয়ে বেশি চিন্তা করি না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকে আমাদের চোখ ছিল। তবে ওটা আমাদের হাতে ছিল না। বরং পরিস্থিতিটা এখন এমন জায়গায় এসেছে, আমাদের হাতেই সব।’
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আবদুর রাজ্জাকও অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকায় বিশ্বাসী নন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মেজাজ খারাপ হয়েছিল। পরক্ষণেই বাঁহাতি স্পিনারের উপলব্ধি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেন বাংলাদেশের কাজ সহজ করবে! ‘আসলে অন্যের আশায় বসে থাকলে লাভ হয় না, এটাই বোঝা গেল এবার। আমাদেরটা আমাদেরই করে নিতে হবে’—কাল বলছিলেন রাজ্জাক। শুধু বলা নয়, কাজটা করে দেখানোর ব্যাপারেও প্রবল আত্মবিশ্বাসী শোনাল তাঁর কণ্ঠস্বর, ‘ইনশাল্লাহ, আমরা পারব। এই কন্ডিশনে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ জেতা সহজ হবে না।’
দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ যতই বলুন, ২০০৮ সালের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এবারের অভিজ্ঞতার এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অমিল নেই, রাজ্জাকের সঙ্গে শাহরিয়ার নাফীসের তাতে দ্বিমত। ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা, আমরা হোম কন্ডিশনে খেলব। কাগজে-কলমে দক্ষিণ আফ্রিকা যতই এগিয়ে থাকুক, এই একটা দিক অন্তত আমাদের এগিয়ে রাখবে’—দক্ষিণ আফ্রিকা-বধের পরিকল্পনায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটকে বন্ধুই ভাবছেন শাহরিয়ার।
পরশু ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারতে দেখে বিরক্ত হয়েছেন শাহরিয়ারও। ক্যারিবীয়দের হেরে যাওয়ার কোনো ব্যাখ্যাই খুঁজে পাচ্ছেন না বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে না দেওয়ায় অধিনায়ক সাকিবের প্রতিক্রিয়া কী, সেটা বোঝা কঠিন। আর প্রতিক্রিয়া দেখাবেন কি, ক্রিস গেইলের আউটের পর তো ম্যাচই দেখেননি তিনি! চ্যানেল বদলে হিন্দি সিনেমা দেখেছেন। গেইলদের ওপর বিরক্ত হয়ে, নাকি স্নায়ুর চাপ না নিতে—সেটা অবশ্য রহস্যই থেকে গেছে।
এবারের বিশ্বকাপে রহস্য হয়ে থাকছে সাকিব ও তামিম ইকবালের পারফরম্যান্সও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাঁদেরই ধরা হচ্ছিল বাংলাদেশের সম্ভাব্য বিশ্বকাপ-তারকা। অথচ এখন পর্যন্ত ইমরুল কায়েস-শফিউল ইসলামদের ছায়াতলে দুজনই! সাকিব অবশ্য এটিকে স্বাগতই জানাচ্ছেন, ‘আমার মনে হয়, দলের জন্য সবাই-ই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ জিততে হলে সবাইকেই অবদান রাখতে হয়।’
আজকের ম্যাচের জন্যও তা-ই। শেষ আটের স্বপ্ন পূরণে পরিচিত দর্শক আর কন্ডিশনের সঙ্গে যোগ হোক বিশ্বকাপে জেগে ওঠা দলীয় চেতনা।

‘প্রতিশোধের ম্যাচ নয়’

চার বছর কম সময় নয়। তার পরও আজকের ম্যাচের আগে গ্রায়েম স্মিথের সংবাদ সম্মেলনে ঘুরে ঘুরে এল ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে তাদের হারের প্রসঙ্গ। সেই দুঃস্মৃতি মাথায় রেখেও দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক বলেছেন, প্রতিশোধ নিতে আসেননি বাংলাদেশে

 ২০০৮ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। সেবারের সঙ্গে এবারের কন্ডিশনের কি মিল খুঁজে পাচ্ছেন?
গ্রায়েম স্মিথ: ২০০৮ সালে ওয়ানডে ও টেস্ট খেলতে এসে যেমন দেখেছিলাম, উইকেট এখনো সে রকমই আছে বলে আমার ধারণা। তবে হ্যাঁ, স্টেডিয়ামের অনেক উন্নতি হয়েছে। দেখে খুবই চমৎকার লাগছে।
 গ্রুপ শীর্ষে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে আপনাদের। এ অবস্থায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটাকে কীভাবে নিচ্ছেন?
স্মিথ: এই ম্যাচ জিততে আমরা প্রস্তুত। যে খেলাটা খেলে আসছি, তা ধরে রাখতে হবে—এটাই আমাদের প্রেরণা।্রআমরা যদি ভালো খেলতে থাকি, যা করতে চাচ্ছি তা করতে পারি, সেটাই কোয়ার্টার ফাইনালে আমাদের কাজে লাগবে।
 বাংলাদেশ কি এই ম্যাচে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে মনে করেন?
স্মিথ: অবশ্যই, এটি বাংলাদেশের জন্য বড় ম্যাচ। তাদের জয় দরকার এবং তারা খুবই উজ্জীবিত থাকবে। বাংলাদেশের পেছনে থাকবে ক্রিকেটপ্রেমী সমর্থকদের সমর্থন। তবে আমরা যদি আমাদের আসল খেলা খেলতে পারি, লম্বা সময় ধরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখি এবং তাদের এমন কিছু করতে বাধ্য করি যেটা তারা চায় না—সেটাই হবে আমাদের জন্য ইতিবাচক।
 এই ম্যাচে কি সেরা খেলোয়াড়দের কাউকে বিশ্রাম দেবেন?
স্মিথ: গত কয়েকটা ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম আমরা পুরো ফিট স্কোয়াড পাচ্ছি। রাতে সর্বশেষ অবস্থা দেখব। যেটা বললাম, সবাই ফিট এবং উজ্জীবিত।
 বাংলাদেশের মূল শক্তি স্পিন বোলিং। এই স্পিন আক্রমণটা কীভাবে নিচ্ছেন?
স্মিথ: তারা ম্যাচে ৪০-৪২ ওভার স্পিন আক্রমণ চালায়। কাজেই আমরা কাল (আজ) যথেষ্ট স্পিন আক্রমণের সামনে পড়ব বলে ধরে নিচ্ছি। আগের ম্যাচে তাদের সাতজন ব্যাটসম্যান ছিল বাঁহাতি, এটাও আমরা দেখছি এবং এ থেকে সুফল কীভাবে পেতে পারি সেটিও ভাবা হচ্ছে।
 ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরেছিলেন। এবার তো তাদের মাঠেই খেলা...
স্মিথ: বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানরা ফ্রন্ট ফুটেই বেশি খেলে। উপমহাদেশের দলগুলোর সঙ্গে কীভাবে খেলতে হয় সেটা ২০০৭ বিশ্বকাপের চেয়ে এখন আমরা ভালো জানি। তাদের চাপে ফেললেই কাজ হয়ে যাবে কারণ, তাদের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা নড়বড়ে। ২০০৭ বিশ্বকাপে আশরাফুল আমাদের বিপক্ষে অসাধারণ একটা ইনিংস খেলেছিল এবং স্পিনাররা আমাদের চেপে ধরেছিল।
 নকআউট পর্বের টেনশন শুরু হয়ে গেছে। কেমন লাগছে এই উত্তেজনা?
স্মিথ: নকআউট পর্বই ঠিক করবে বিশ্বকাপটা কার। এই পর্বে শীর্ষ দলগুলোকে দেখতে পাচ্ছি, এটা দারুণ ব্যাপার। ‘বি’ গ্রুপকে ঘিরে অনেক টেনশন জমা হয়ে আছে এবং সবার আগ্রহটাকে উঁচুতে নিয়ে গেছে এই গ্রুপ। বিশ্বকাপে তো এটাই প্রত্যাশা থাকে! মানুষ বিপুল উৎসাহ নিয়ে প্রতিটি ম্যাচই দেখবে। আমার তো মনে হয়, গত রাতে (পরশু) ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ছিল কয়েক কোটি মানুষ...সম্ভবত এই প্রথম।
 গত বিশ্বকাপে গায়ানায় হেরেছিলেন বাংলাদেশের কাছে। সেই অর্থে তো এটা প্রতিশোধেরও ম্যাচ, নাকি?
স্মিথ: আমরা বাড়তি কোনো আবেগ নিয়ে এই ম্যাচ খেলতে আসিনি। প্রতিশোধেরও কোনো ব্যাপার নেই। চার বছর অনেক লম্বা সময়। এর পরও আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে খেলেছি এবং বেশ ভালো খেলেছি। কাল (আজ) আরও একটি ম্যাচই খেলব আমরা। ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর অংশ হতে পেরে আমরা উদ্দীপ্ত এবং চাইছি ভালো খেলতে।