Monday, September 30, 2024

সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের যৌথ প্রয়াস by আব্দুল কাইয়ুম

ভারত ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের ফলে ২০১৬ সাল থেকে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। জাতিসংঘের সর্বশেষ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের সরকার প্রধানদের সাক্ষাতের সময় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস উইং শফিকুল আলম তুর্কি গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ড. ইউনূস সার্ক-কে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন যা প্রায় এক দশক ধরে অকার্যকর রয়েছে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, সার্ক আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য একটি সত্যিকারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসকারী প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য কাজ করতে পারে বলে মনে করেন ড. ইউনূস। দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশ নিয়ে গঠিত এই সংস্থাটিকে পুনরায় সক্রিয় করতে পাকিস্তানের প্রতি যৌথ উদ্যোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। উভয় দেশের জনগণের অগ্রগতি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক স্তরে কাজ করা প্রয়োজন বলে পাকিস্তানের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সার্ক-কে পুনরায় সক্রিয় করতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উভয় নেতাই একমত হয়েছেন।

আগস্টে ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনার লৌহ-মুষ্টি শাসনের অবসানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এই অঞ্চলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার ছিল ভারত। দেশটির সাথে হাসিনা ঘনিষ্ঠ সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিদান হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের পর হাসিনার শেষ রক্ষায় ভারতই এগিয়ে এসেছে। দিল্লি তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দিল্লির সম্পর্ক শুধু হাসিনা কেন্দ্রিক হওয়ায় এদেশের মানুষের সাথে তাদের বৈরতা গত ১৫ বছরে বেড়েছে বহুগুন। যা নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছে দিল্লি। এছাড়া ইতিমধ্যেই ভারতের কাছে হাসিনাকে হস্তান্তরের আবেদন করেছে বাংলাদেশ।
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর হাসিনা তার ক্ষমতা হারানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের অভিযোগকে ‘শুধুই মিথ্যা’ বলে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তার ক্ষমতা হারানোয় তাদের কোনো ভূমিকা নেই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা স্বত্বেও তিনি সার্কের মতো আঞ্চলিক উদ্যোগকে শক্তিশালী করার জন্য জোরালো তৎপরতা শুরু করেছেন। শফিকুল আলম বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশের সঙ্গেই সার্কের বিষয়ে কথা বলেছেন ড. ইউনূস। তিনি বলেছেন, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো একটি দুর্দান্ত আঞ্চলিক সহযোগি সংস্থা হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেছেন,  জার্মানি এবং ফ্রান্স (ইইউ সদস্য) একে অপরের সাথে যুদ্ধ করছিল। আমি মনে করি আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশও তৈরি করতে পারি। সার্কের বিষয়ে ড. ইউনূস ভারতের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন শফিকুল আলম।

সার্কভুক্ত সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা

হাসিনার শাসনামলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক টানটান ছিল। কিন্তু নতুন সরকার ছিন্নভিন্ন বন্ধনে নতুনভাবে প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এক সময় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নামে একটি একক দেশ ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয় এবং তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ড. ইউনূস বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধান নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথে উভয় পক্ষই সম্পর্কের স্বাভাবিককরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে ড. ইউনূসের সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টায় বহু বাধা রয়েছে। পাকিস্তান এবং ভারত-শাসিত কাশ্মীরে বিভক্ত থাকা কাশ্মীর অঞ্চলে তাদের বিরোধের কারণে প্রাথমিকভাবে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক বরাবরই উত্তেজিত থাকে।

 ইসলামাবাদ চায় সার্ক বৈঠকে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিত্ব করুক একজন তালেবান কর্মকর্তা। কিন্তু সার্কভুক্ত দেশগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত কাবুলের তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। এ বছর নিয়ে টানা পঞ্চম বারের মতো জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে সার্কের মন্ত্রী পরিষদের কোনো বৈঠক হয়নি। সার্কভুক্ত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে ড. ইউনূসের জন্য পুনরায় সংস্থাটি সক্রিয় করা খুব একটা সহজ কাজ হবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক গবেষকরা। 

mzamin

নাসরুল্লাহ হত্যা, টান টান উত্তেনা

হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরান বলেছে, নাসরুল্লাহ’র মৃত্যু ইসরাইলের ধ্বংস ডেকে আনবে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া, তুরস্ক, হামাস ও অন্যরা। ইসরাইলের নাম উল্লেখ না করে ইয়েমেনের হুতিরা শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। ইসরাইলকে থামাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। অন্যদিকে বৈরুতে ইসরাইলের হামলাকে ঘৃণ্য আগ্রাসন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সিরিয়া। নিন্দা জানিয়েছে ইরাক, ফিলিস্তিন। ইরানে ৫ দিন এবং ইরাকে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে- জায়নবাদীদের এই বর্বরোচিত আগ্রাসনের কড়া নিন্দা জানাই আমরা। তারা আবাসিক ভবনকে টার্গেট করছে। একে আমরা কাপুরুষের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করি। নাসরুল্লাহ ও বেসামরিক সাধারণ জনগণের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেছেন, তারা ইসরাইলের নৃশংস আগ্রাসনে নিহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি লেবাননে হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মুসলিম বিশ্বকে লেবাননের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়া বলেছে, ইসরাইল লেবাননে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এর কড়া নিন্দা জানায় তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নাসরুল্লাহকে হত্যার ঘটনাকে ‘ন্যায়বিচারের একটি পদক্ষেপ’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেছেন, নাসরুল্লাহ’র মৃত্যু তাদের ধ্বংস ডেকে আনবে। ইরানের আইএসএনএ বার্তা সংস্থা তাকে উদ্ধৃত করে এসব জানিয়েছে। হিজবুল্লাহকে আর্থিক এবং সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে ইরান। মুখপাত্র নাসের কানানি এক্স-এ এক পোস্টে বলেছেন, নাসরুল্লাহ’র কাজ তার মৃত্যুর পরেও অব্যাহত থাকবে। তার পবিত্র লক্ষ্য কুদ্‌স (জেরুজালেমের) মুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। বার্তা সংস্থা এএফপি যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করেছে।
জো বাইডেন বলেছেন, নাসরুল্লাহ’র মৃত্যু ছিল ‘হাজার হাজার আমেরিকান, ইসরাইলি ও লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ‘ন্যায়বিচারের একটি পদক্ষেপ’। ওয়াশিংটন ইরান সমর্থিত যোদ্ধাগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য ইসরাইলের অধিকারকে সমর্থন করে এবং বাইডেন তার বিবৃতিতে আরও বলেন, এই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা দৃষ্টিভঙ্গি আরও উন্নত করা হবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বলেছেন, নাসরুল্লাহ একজন ‘সন্ত্রাসী’ যার হাতে আমেরিকান রক্ত লেগেছে। এ ছাড়া কমালা ইরান সমর্থিত যোদ্ধাগোষ্ঠী যেমন হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য ইসরাইলের অধিকারকে সর্বদা সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন। রিপাবলিকানরাও নাসরুল্লাহ’র বিপরীতে ইসরাইলের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমরা ইসরাইলের সর্বশেষ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই এবং লেবাননে অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছি। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যোগ করেছে, এই হত্যাকাণ্ডের ফলে এই অঞ্চলে যে ‘দুঃখজনক’ পরিণতি হতে পারে তার জন্য ইসরাইল সম্পূর্ণ দায় বহন করবে।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড সমগ্র লেবাননের জন্য অস্থিতিশীলতার হুমকি, যা ইসরাইলের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনোভাবেই কাম্য নয়।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নাসরুল্লাহকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করেন নাসরুল্লাহ’র কারণে সেখানে নিরপরাধ বেসামরিকদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে ইসরাইল। সমগ্র অঞ্চল জুড়ে যে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছেন তিনি। তবে তিনি সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আরও কিছু করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমরা এই সংকটময় সময়ে শান্ত ও সংযমের আহ্বান জানাই।
বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এক্স-এর একটি পোস্টে বলেন, তিনি লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আমরা রক্তপাতের অবসান ঘটাতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছি। লেবানন ও ইসরাইলি জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় কূটনৈতিক সমাধান।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল ব্যারোট ইসরাইলকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়ে বলেছেন, তার দেশ যেকোনো স্থল অভিযানের বিরোধিতা করছে। ফ্রান্স অন্যান্য দল বা দেশ, বিশেষ করে হিজবুল্লাহ ও  ইরানকে অতিরিক্ত অস্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুঁতেরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বৈরুতে নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়া ঘটনা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল তার এক্স বার্তায় এই হত্যাকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত টার্গেট কিলিং বলে অভিহিত করেছেন। এতে আঞ্চলিক ও বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই এক্স-এ এই হত্যাকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট করা তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ডেভিড এপস্টেইনের একটি বার্তা পুনরায় পোস্ট করেছেন। যেখানে বলা হয়, ইসরাইল সমসাময়িক সর্বশ্রেষ্ঠ খুনিদের একজনকে নির্মূল করেছে। এতে আরও বলা হয়, ‘আজ পৃথিবী একটু স্বাধীন’।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জাতিসংঘে বলেছেন, এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা এই অঞ্চলে একটি সত্যিকারের যুদ্ধ এড়াতে সকল পক্ষকে প্রজ্ঞা ও সংযম দেখানোর আহ্বান জানাই।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নাসরুল্লাহ ও লেবাননের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তারা এটাকে ন্যায্যতা দিতে চায়, কিন্তু তাকে হত্যা করার জন্য তারা বিল্ডিং, হাউজিং এস্টেটে হামলা করেছে এবং শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। এর জন্য যে শব্দ আছে তা হচ্ছে অপরাধ।

নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের আহ্বান ইরানের: নাসরুল্লাহ’র হত্যার প্রতিবাদে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির ইরাভানি। এতে তিনি তার দেশের কূটনৈতিক প্রাঙ্গণ এবং প্রতিনিধিদের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। সংস্থাটির ১৫ সদস্যের কাছে দেয়া চিঠিতে তিনি বলেছেন, তেহরান কোনোভাবেই এমন আগ্রাসন সহ্য করবে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, লেবাননে হামলাকারী দেশকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন- ইরান তার গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিরক্ষার প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার অন্তর্নিহিত অধিকার প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না। নিরাপত্তা পরিষদকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে নির্ধারিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমির ইরাভানি। তিনি বলেছেন, অঞ্চলটিতে পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধাগোষ্ঠীকে আর্থিক এবং সামরিক সহায়তা করে আসছে ইরান। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নাসরুল্লাহ’র হত্যা প্রতিশোধ ছাড়া থাকবে না। শনিবার ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহ’র প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। ইসরাইলের দাবির পর দলটির পক্ষ থেকেও এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

mzamin

পলকের তেলেসমাতি by মারুফ কিবরিয়া

জুনাইদ আহমেদ পলক। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দুইবারের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে পলকের বিরুদ্ধে। আইসিটি খাতের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে একাই বাগিয়ে নিতেন ১৫ শতাংশ কমিশন। এসব অনিয়মের অর্থে দেশে বিদেশে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এত এত অভিযোগ অনুসন্ধান করতেও সময় লাগবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব এই অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনের কাছে জমা দেয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে সখ্য ছিল পলকের। সেই প্রভাব খাটিয়ে সরকারের আইসিটি বিভাগ একক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন তিনি। যেকোনো প্রকল্প থেকে মোটা অংকের কমিশন যেতো পলকের পকেটে। বিশেষ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ  তৈরি, এসপায়ার টু ইনোভেটেড (এ টু আই) প্রকল্প, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, হাইটেক পার্ক, আইটি পার্ক, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনসহ একাধিক প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয় শেখ হাসিনা সরকারের আমলে। বড় বাজেটের এসব প্রকল্প থেকেই মূলত অবৈধ খাত বের করতেন পলক। সূত্র আরও জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আইসিটি বিভাগে এরই মধ্যে চিঠি দিয়েছে দুদক।   
দুদকের অনুসন্ধান সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও দুবাইয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের তথ্যও পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে। তবে এসব পাচারকৃত অর্থের এখনো হদিস মেলাতে পারেনি দুদক। তাই বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বরাবর পলক ও তার পরিবারের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। বিশেষত আইসিটি খাতে নানা অনিয়মের তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর বড় একটা অভিযোগ হলো বিদেশে অর্থ পাচার। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আমরা বিএফআইইউ’র মাধ্যমে  ৫টি দেশে চিঠি পাঠিয়েছি।
তিনি আরও জানান, বিএফআইইউ’র কাছে পাঠানো চিঠিতে পলক ও তার স্ত্রীর নামে কোন কোন দেশে সম্পদ রয়েছে সেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংকের তথ্যও জানতে চাওয়া হয় চিঠিতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-৩ আসনের সাবেক এমপি পলকের গ্রামের বাড়ি সিংড়া উপজেলায়। সেখানে তেমন কোনো সম্পদ নেই বললেই চলে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাড়িটিও খুব সাদামাটা। তবে পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিন কণিকার নামে ও বেনামে অনেক সম্পদের তথ্য রয়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান, ধানমণ্ডি, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৮টি ফ্ল্যাটের তথ্য পেয়েছে দুদক। এ ছাড়া পূর্বাচলেও একাধিক প্লট রয়েছে বলে সংস্থাটির কাছে তথ্য রয়েছে। তবে এসব স্থাবর সম্পদের মালিকানা ও নথিপত্র নির্ণয় করতে এরই মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে দুদক।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন,  পলক ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ও বেনামে থাকা সম্পদের তথ্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, সিটি করপোরেশন, রাউজকসহ সব দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব চিঠির উত্তর পেলেই আমরা অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে চলে যাবো। কারণ একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সব ধরনের নথি পর্যালোচনা করা লাগে। তাহলে একটি সুন্দর প্রতিবেদন করা সম্ভব।
নির্বাচনী হলফনামায় যা ছিল পলকের
নির্বাচনী হলফনামায় পলক জানিয়েছিলেন,  ১৫ শতক কৃষিজমি, ব্যাংকে ৫০ হাজার টাকা এবং ৬০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তার। এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে করেন নির্বাচন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা। তাই জয়ের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পান পলক।
২০০৮ সালে নাটোরের সিংড়া উপজেলা থেকে জুনাইদ আহমেদ পলক প্রথমবার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর পলকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও জয়ের সুপারিশে সব অভিযোগ থেকে বেঁচে যান তিনি। ফলে ৩ মেয়াদে অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর চেয়ার বদল হলেও পলক একই পদে থেকে যান।  সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হলফনামায় দেয়া তথ্যমতে, পলকের গেল ৫ বছরে সম্পদ ও আয় বাড়ে অস্বাভাবিক হারে। নিজের অবৈধ আয়ের অর্থ  বৈধ করতে স্ত্রীকে বানিয়েছেন উদ্যোক্তা। তার স্ত্রীর নামে সিংড়ায় রয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ বিঘা জমি।
অনুসন্ধানের বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ১৩ই আগস্ট দুদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। বর্তমানে একজন কর্মকর্তার অধীনে একটি টিম এই অনুসন্ধান পরিচালনা করছে।
আইসিটির সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন পলক
সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে এমন প্রভাব খাটিয়ে আইসিটি বিভাগের সব কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন পলক। তার হাত ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক ও ইউটিউব পেজও দখলে ছিল। সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর পছন্দের লোক দিয়ে চালানো হতো এসব পেজ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলটি গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বন্ধ ছিল। এগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হাতে। পেজ এবং চ্যানেলগুলোর অ্যাডমিন (নিয়ন্ত্রক) পলকের মনোনীত ব্যক্তিরা ছিলেন। তারাই পেজগুলো বন্ধ রেখেছেন।
আইসিটি বিভাগ সূত্র জানায়, বিভাগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করতো ঢাকা লাইভ নামের একটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল মার্কেটিং টিম। পাশাপাশি আইসিটি বিভাগের নানা আয়োজন সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের কাজও পেতো এই প্রতিষ্ঠানটি। এর সবকিছু এককভাবে তদারকি করতেন জুনাইদ আহমেদ পলক।
অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সম্প্রতি ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল সচল করা হয়েছে। গতকাল পেজটি ঘুরে দেখা যায়, নাহিদ ইসলামের বিগত চারদিনের কার্যক্রম প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালের ৩১শে অক্টোবরের পর থেকে  চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো পোস্ট নেই তাতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিটি বিভাগের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর লোকজনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় মাঝের অনেক পোস্টই এখন পেজে নেই। ফেসবুক পেজে নিয়মিত কার্যক্রম প্রকাশ করা হতো। সেগুলো ডিলিট করে দেয়া হয়েছে।  

mzamin

ভারতগামী ফ্লাইট বাসে খরা by শুভ্র দেব

বাংলাদেশি যাত্রীদের সীমিত পরিসরে ভিসা প্রদান করায় ভারতের সঙ্গে আকাশ ও সড়ক পথে যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে চরমে। যাত্রী সংকটের কারণে ভারতে বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট পরিচালনা কমিয়ে দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ফ্লাইট কমিয়েও যাত্রী মিলছে না। বেসরকারি নভোএয়ার  যাত্রী সংকটের কারণে ১৬ই সেপ্টেম্বর পুরোপুরি ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। যাত্রী সংকটের কারণে বন্ধ থাকা রেল যোগাযোগও চালু হচ্ছে না। এ ছাড়া সড়ক পথেও যাত্রী সংকট অর্ধেকের নিচে নেমেছে। এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর থেকে এই অচলাবস্থা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত বাংলাদেশে ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে সীমিত পরিসরে মেডিকেল ভিসা ইস্যু করে। তবুও যাত্রী সংকট কাটছেই না; বরং প্রতিদিনই যাত্রী কমছে। আবার যাদের আগে থেকে ভিসা আছে তারা ভ্রমণ করছেন না।

বিমানবন্দর সূত্র বলছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, ভারতের ভিস্তারা এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো। এসব এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে ভারতের কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই ও মুম্বাই রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তারা ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশও যাত্রী পাচ্ছে না। এজন্য সব প্রতিষ্ঠানই ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। নতুন করেও কমানোর চিন্তা করছে। ঢাকা থেকে কলকাতা, চেন্নাই ও দিল্লি রুটে ধারণক্ষমতার গড়ে ৫০ শতাংশ যাত্রী মিলছে। বাকি সিটগুলো ফাঁকা থাকছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসার কাজে লাখ লাখ মানুষ ভারতে ভ্রমণ করেন। বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদান করার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার আবেদনকারী ভিসা সেন্টারে যেতেন। আবেদনকারীদের প্রায় সবাইকে ভিসা দিতো ভারত। সেই হিসাবে ভিসা প্রাপ্তির পর কম খরচে পার্শ্ববর্তী এই দেশটিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভ্রমণ করতে পারতেন। বিশেষ করে ভারতের কলকাতার প্রতিটি অলিগলি, রেস্তরাঁ, হোটেল ও শপিংমলে বাংলাদেশিদের দেখা যেত। চিকিৎসার জন্য কলকাতা, চেন্নাইসহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশিরা অবস্থান করতেন। সবমিলিয়ে দুই দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সুবিধাভোগী ছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগের একদিন পর বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। ১১ই আগস্ট সীমিত আকারে ভিসা সেন্টার খুললেও আগের আবেদনের ভিসা বা পাসপোর্ট দেয়া হচ্ছিল। এখন শুধু মেডিকেল ভিসার আবেদন জমা নিচ্ছে। অর্থাৎ, কেউ চিকিৎসার জন্য ভারত যেতে চাইলে তাকে আগে চিকিৎসার সব কাগজপত্র ভিসা সেন্টারে জমা দিতে হবে। ভিসা সেন্টারের লোকজন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। পরে ভিসা দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে বলে।
এদিকে, ঢাকা থেকে কলকাতা রুটে এটিআর ৭২-৫০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করতো নভোএয়ার। এ এয়ারক্রাফটের ধারণক্ষমতা ৭০ জন। ৫ই আগস্টের পর ক্রমেই যাত্রী কমতে থাকে। একপর্যায়ে অর্ধেক সিট ফাঁকা রেখেই ফ্লাইট চালায়। পরে পরিচালন ব্যয় তুলতে না পারায় গত ১৬ই সেপ্টেম্বর থেকে সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে নভোএয়ার।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিদর্শক (ইমিগ্রেশন) আজহারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আগে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করতো। এখন সেটি কমে ২৫০০ থেকে ৩০০০ হাজারে নেমেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোশরা ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আগে কলকাতায় প্রতিদিন ২টা করে  সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হতো। যাত্রী সংকটে এখন অর্ধেক কমানো হয়েছে। প্রতিদিন এখন ৭টি করে ফ্লাইট চালানো হয়। একইভাবে দিল্লি রুটে সপ্তাহে ৭টি ফ্লাইট চালানো হতো এখন ৪টি কমিয়ে তিনটি চালানো হয়। চেন্নাইয়েও একই অবস্থা। ৭টি ফ্লাইট থেকে কমিয়ে এখন ৩টি ফ্লাইট চালানো হয়।
ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ঢাকা থেকে কলকাতায় আগে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হতো। এখন কমিয়ে ৬টি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে কলকাতার ৭টি ফ্লাইটই যাত্রী সংকটে বন্ধ। ঢাকা থেকে চেন্নাইগামী ১১টি ফ্লাইটের মধ্যে এখন ৬টি চালু আছে। তিনি বলেন, গড়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট চলছে। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার যদি নিরসন না হয় তবে ফ্লাইট আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভিসা জটিলতা না কাটলে বিভিন্ন দিক দিয়ে দুই দেশে এবং এভিয়েশন ও ট্যুরিজম খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ মানবজমিনকে বলেন, ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ ভারতগামী যাত্রী কমে গেছে। সব এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। মূলত ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। এখনো সীমিত পরিসরে ভিসা ইস্যু হচ্ছে। যাদের ভিসা আছে তারাও এখনো ট্র্যাভেল করার সাহস পাচ্ছে না। তারা মনে করছে, এরকম পরিস্থিতিতে ট্র্যাভেল করা কতোটা রিস্ক। ইমিগ্রেশনেও বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সবার মধ্যেই একটা অস্থিরতা আছে।

mzamin

নবীর বংশধর দাবি করা কে এই হাসিম সাফিএদ্দীন

ইসরায়েলের বিমান হামলায় লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ায় গ্রুপটির দায়িত্বে কে আসছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। এখন পর্যন্ত দুজন ব্যক্তির নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। একজন হচ্ছে হাসিম সাফিএদ্দীন ও নাইম কাসেম। বর্তমানে এ দুজনের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন সাফিএদ্দীন। তিনিই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পরবর্তী প্রধান হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব গণমাধ্যম।

নাসরুল্লাহ প্রায় ৩২ বছর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে শুক্রবার গ্রুপটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার মুখে প্রাণ হারান নাসরুল্লাহ। বলা হচ্ছে, নাসরুল্লাহ নিহত হলেও ওই হামলায় প্রাণে বেঁচে গেছে হাসিম সাফিএদ্দীন। এখন তার কাঁধে তুলে দেওয়া হতে পারে এই গ্রুপের দায়িত্ব। ইসরায়েলি গণমাধ্যমও সাফিএদ্দীনকে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পরবর্তী সম্ভাব্য নেতা হিসেবে দাবি করেছে।

সাফিএদ্দীন প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নির্বাহী কাউন্সিলের প্রধান। তিনি গ্রুপটির রাজনৈতিক দিকও দেখভাল করেন। এ ছাড়া জিহাদ কাউন্সিলের সঙ্গেও যুক্ত আছেন তিনি। এই জিহাদ কাউন্সিল প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সামরিক অভিযানগুলো পরিচালনা করে থাকে। সাফিএদ্দীনের আরেকটি পরিচয় হলো তিনি নাসরুল্লাহর দূরসম্পর্কের ভাই। আবার ধর্মীয় ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত তিনি।

নিজেকে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর খুব কাছের বংশধর হিসেবেও দাবি করেন সাফিএদ্দীন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হাসান নাসরুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক, শারীরিক গঠন একই রকম, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং মহানবীর বংশধর হওয়ায় তার ওপরই হিজবুল্লাহর দায়িত্ব আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর সমালোচক সাফিএদ্দীন ২০১৭ সালে মার্কিন সরকারের লাল তালিকায় স্থান করে নেন। গেল জুনে ইসরায়েলকে কঠোর যুদ্ধের হুমকিও দিয়েছিলেন সাফিএদ্দীন।

ইরানের সহযোগিতায় ৪২ বছর আগে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের গ্রুপটি আত্মপ্রকাশ করেছিল। ১৯৯২ সালে গ্রুপটির তৎকালীন প্রধান ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়। এরপরই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন হাসান নাসরুল্লাহ। কিন্তু ইসরায়েলের হামলাতেই শুক্রবার প্রাণ হারালেন তিনি। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলীতে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় নাসরুল্লাহ ছাড়াও নিহত হয়েছেন শীর্ষ কয়েকজন কমান্ডার। 

হাসিম সাফিএদ্দীন ও হাসান নাসরুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
হাসিম সাফিএদ্দীন ও হাসান নাসরুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

চীন-রাশিয়াকে টেক্কা দিতে যাচ্ছে তুরস্ক

বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া ও চীনকে টেক্কা দিতে চায় তুরস্ক। এ জন্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তবে মহাদেশটিতে চীন ও রাশিয়ার শক্তিশালী উপস্থিতি থাকায় তুরস্কের জন্য কাজটি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আফ্রিকা মহাদেশে তুরস্কের কৌশলগত অবস্থান বাড়াতে সম্প্রতি আঙ্কারা বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

তুরস্কের বাইরে তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে কয়েকটি চুক্তির পর মোগাদিশু তুরস্কের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে সোমালিয়ায় অফশোর তেলের খনি সন্ধান ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেখানে একটি নতুন মিসাইল পরীক্ষাকেন্দ্র চালুর চেষ্টা করছেন এরদোয়ান।

অনেক আগ থেকেই আফ্রিকান ইনিশিয়েটিভ পলিসি গ্রহণ করার মাধ্যমে অঞ্চলটিতে বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তিগুলো দৃঢ় করার উদ্দেশে কাজ করছে তুরস্ক। এই নীতির অধীনে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এরাদোয়ান সরকার বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাজারে পণ্যের চাহিদা ও ব্যবসায়িক লাভের কারণে আফ্রিকা মহাদেশ তুরস্কের ব্যবসায়ীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। তবে মহাদেশটির বাজারে তুরস্ককে লড়াই করতে হচ্ছে রাশিয়া-চীনসহ মস্কো-বেইজিংয়ের শক্তিশালি অবস্থানের পরও জুলাই মাসে তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রী আলপারসলান বায়রাকতার সোমালিয়ার সাথে একটি হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উৎপাদন চুক্তি সই করেন। সোমালি উপকূলের তিনটি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের একচেটিয়া সুযোগ পেয়ে যায় তুরস্ক। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ অথবা অক্টোবরের শুরুর দিকে এই অঞ্চলে অনুসন্ধান জাহাজ পাঠাতে পারে আঙ্কারা। সোমালিয়ায় কমপক্ষে তিন হাজার কোটি ব্যারেল তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে।

বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তুরস্কের সংস্থাগুলোকে চীনের সংস্থাগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। বিশেষত বড় প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয় অর্থায়নে চীন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। শুধুমাত্র ২০২৩ সালে, আফ্রিকায় চীনের মোট বিনিয়োগ ২৮ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে তুরস্কের বিনিয়োগ প্রায় এক হাজার কোটি ডলার।

আফ্রিকায় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর তালিকায় রাশিয়া শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এই তালিকায়ও স্থান করে নিয়েছে তুরস্ক। নাইজেরিয়ার কাছে যুদ্ধ হেলিকপ্টার বিক্রয় ও প্রশিক্ষণ বিমানের পাশাপাশি আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে চালকবিহীন টিবি২ বায়রাকতার ড্রোন বিক্রির মাধ্যমে তুরস্ক সাব-সাহারান আফ্রিকার চতুর্থ বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে।

শুধু তাই নয়, তুরস্ক আফ্রিকা মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশের জন্য নিজেদের একটি প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করছে। দেশটির সংসদ সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে সোমালিয়ায় দুই বছরের জন্য সামরিক বাহিনী মোতায়েনের আইন অনুমোদন করেছে। আফ্রিকা মহাদেশে তুরস্কের নতুন এই উত্তানে মাথা ব্যথা বাড়ছে চীন-রাশিয়ার। 

রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের সরকারপ্রধান পুতিন, শি ও এরদোয়ান। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের সরকারপ্রধান পুতিন, শি ও এরদোয়ান। ছবি : সংগৃহীত

এবার কি খামেনিকে হত্যা করবে ইসরায়েল?

প্রথমে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া, এরপর শেষ করে দেওয়া হলো হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে। এবার ইসরায়েলের টার্গেট কে? কোনো কিন্তু ছাড়াই বলা যায়- পশ্চিমা খুঁটির জোরে নাচা ইসরায়েলের এবারের টার্গেট ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। কিন্তু ইরান কি তা অনুধাবন করতে পারছে?

উত্তরটা হলো হ্যাঁ। ঠিক এই কারণেই নাসরুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে, এমন দাবির মুখেই গোপন ও নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ গোপন সংবাদের বিষয়ে অবগত এমন দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দেশের ভেতরে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে- এমন খবর জানার পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তার মানে ইসরায়েলের গোয়েন্দারা এবার যে খামেনিকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে নেমে পড়েছে, সেটি টের পেয়েছে তেহরান। তাই তো এমন সতর্কতা।

হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যার পর রাজধানী তেলআবিব থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই ভাষণ ছিল দম্ভ, হুমকি আর হুঁশিয়ারিতে পরিপূর্ণ। কোনো রাখঢাক ছাড়াই আয়াতুল্লাহ খামেনিকে উদ্দেশ করে নেতানিয়াহু বলেন, যারা আমাদের আঘাত করে, আমরা তাদের পাল্টা আঘাত করি। ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে ইসরায়েলের দীর্ঘ হাত পৌঁছাতে পারে না।

নেতানিয়াহুর এমন সরাসরি হুমকির পর ধারণা করা হচ্ছে, এবার ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির বন্দুক হয়তো খামেনির দিকেই তাক করা। সামান্য কোনো ভুলে কিংবা ইরানি গোয়েন্দাদের বিশ্বাসঘাতকতায় প্রাণ হারাতে পারেন প্রতিরোধ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া আয়াতুল্লাহ আল খামেনি। এরই মধ্যে হাসান নাসরুল্লাহ ইরানি গোয়েন্দাদের বিশ্বাসঘাতকতায় নিহত হয়েছেন, উঠছে এমন জোরালো অভিযোগ।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়েন জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিমান হামলায় গেল শুক্রবার নিহত হন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নেতা হাসান নাসরুল্লাহ। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলকে নাসরুল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে গোপন তথ্য জানিয়ে দেয় এক ইরানি গুপ্তচর। এরপরই তার অবস্থানে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে তেলআবিব।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, অভিযুক্ত ওই ইরানি গুপ্তচর ইসরায়েলকে জানায়, শুক্রবার বৈরুতে হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরে উচ্চপদস্থ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নাসরুল্লাহ। তিনি যখন মাটির নিচে অবস্থিত সদর দপ্তরে প্রবেশ করেন, তার কিছুক্ষণ পরই বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ব্যবহার করা হয় বাঙ্কার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, যা হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরকে ধসিয়ে দেয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। সম্প্রতি তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যেসব সাফল্য পেয়েছে সেগুলো এসব গোয়েন্দা কার্যক্রমের কল্যাণেই এসেছে। তারা হিজবুল্লাহ সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করে। যার মধ্যে অন্যতম হলো হিজবুল্লাহ ও ইরানের মধ্য থেকেই গুপ্তচর নিয়োগ করা। 

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন: হিজবুল্লাহর রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস

হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ মৃত্যুর খবর গত শনিবার নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি। শুক্রবার বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা হয়ে উঠতে পারে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি অনিশ্চিত। তাঁর মৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে আর তা হচ্ছে, হিজবুল্লাহ নেতাদের এভাবে হত্যা করে কি সংগঠনটিকে দমিয়ে রাখা যাবে? এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হচ্ছে, তাদের একেবারে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস রয়েছে।

ইসরায়েলের নিজস্ব ইতিহাস থেকে জানা উচিত যে এ ধরনের হামলা সব সময় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতে পারে না। এর আগে ২০০৮ সালে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর সামরিক নেতা ইমাদ মুগনিয়াকে সিরিয়ার দামেস্কে হত্যা করে। তাঁকে হত্যার পর থেকে সংগঠনটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। চার বছর আগে ইসরায়েল হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনকে হত্যা করে। তাতেও হামাসকে দমানো যায়নি। দুই দশক পর তারা ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা করেছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর হামলায় ১ দিনে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করেছে হামাস।

গত জুলাই মাসে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফ। তারপরও গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে সশস্ত্র সংগঠনের নেতাদের হত্যার ইতিহাস রয়েছে। ২০০৬ সালে ইরাকে আল-কায়েদা নেতা আবু মুসাব আল-জারকায়িকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। একে তারা বড় সাফল্য হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু আট বছর পর ইরাকে আল-কায়েদা আইসিস–রূপে আবির্ভূত হয়। এরপর পশ্চিমাদের ত্রাস হয়ে ওঠে।

২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পাকিস্তানে হামলা করে তালেবান নেতা মোল্লা আখতার মোহাম্মদ মনসুরকে হত্যা করেন। কিন্তু এখনো তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতায়।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাগদাদে হামলা করে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের কুদস ফোর্সের প্রধান কাশেম সোলাইমানিকে হত্যা করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু ইরানের আঞ্চলিক শক্তি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমাতে পারেনি। এরপরও হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েল ও ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র তালেবান, হুতি, হামাস, আইসিস ও হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা দিয়েছে।
সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কীভাবে নিষ্ক্রিয় করা যায়

কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিষ্ক্রিয় করতে হলে যতটা সম্ভব এর নেতা ও মধ্যসারির ব্যবস্থাপকদের টেকসই অভিযানের মাধ্যমে সরিয়ে দিতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ২০০৮ সালে আফগানিস্তান সীমান্তে আল-কায়েদার অনেক নেতাকে এভাবে হত্যা করেছিল।

পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় অংশ নেওয়া মার্কিন নেভি সিলের উদ্ধার করা নথি অনুযায়ী, আল-কায়েদার নেতারা নিয়মিত তাঁদের অনুসারীদের বার্তা দিতেন যাতে তাঁরা মার্কিন ড্রোন থেকে দূরে থাকেন। যেসব মেঘলা দিনে ড্রোনের কার্যকারিতা কম থাকে, সেসব দিনেই কেবল তাঁরা চলাফেরা করতেন। ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু জঙ্গিদের প্রতি আল-কায়েদার আবেদন ও হামলা চালানোর ক্ষমতা কমাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

ওসামার উত্তরসূরি আয়মান আল-জাওয়াহিরির আল-কায়েদাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ক্যারিশমা বা সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল না।

নাসরুল্লাহর হত্যাকে ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার বলা যায়। হিজবুল্লাহর ওপর দফায় দফায় হামলা, সংগঠনটির সদস্যদের পেজার ও ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরণ, ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংসের মতো সাফল্য পাওয়া দাবি করেছে ইসরায়েল। নেতা হারিয়ে হিজবুল্লাহ এখন বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়লেও এত দ্রুত এর সশস্ত্র গোষ্ঠীটির শেষ লেখা যাবে না। ইতিহাস বলে, হিজবুল্লাহ আবার ঘুরে দাঁড়াবে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘ লড়াই চালু রাখতে অন্য নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেবে।

হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন মজলিশ ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিন নামের একটি শিয়া রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকেরা। পাকিস্তানের লাহোরে, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন মজলিশ ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিন নামের একটি শিয়া রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকেরা। পাকিস্তানের লাহোরে, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ছবি: এএফপি

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমানের সাজা স্থগিত

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল হক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত মাহমুদুর রহমান আত্মসমর্পণ করলে এই আদেশ দেয়া হয়।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবো: এদিন সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে এ মামলায় আত্মসমর্পণ করতে বিশাল মিছিল নিয়ে আদালতে আসেন মাহমুদুর রহমান। তবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বাধায় মিছিল আদালত প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারেনি। এজলাসে যাওয়ার আগে মাহমুদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের আইনে যেটা আছে, সেই আইন অনুযায়ী আমি আত্মসমর্পণ করবো। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমার লড়াই অব্যাহত রাখবো। যদিও এই মামলা সর্ব মিথ্যা এবং একটা উদ্ভট ব্যাপার। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নিজেদের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে হবে। মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য আমি এসেছি।

মাহমুদুর রহমানের পক্ষে  শুনানি করেন আইনজীবী এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও জয়নুল আবেদীন মেসবাহ। তারা আদালতকে জানান, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাহমুদুর রহমানকে সাজা দেয়া হয়েছে। তিনি একজন বিপ্লবী সাংবাদিক নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট থেকে পড়াশোনা করেছেন। একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন, বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আদালতে জামিন নেবেন না। দেশে এখন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। তিনি দেশে এসেই আত্মসমর্পণ করলেন। আমরা কারাগারে তার ডিভিশন চাই। শুনানি শেষে আদালত মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে ও আইনানুযায়ী ডিভিশন দেয়ার আদেশ দেন।  এরপর বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেয়া হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেসবাহ সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলার কথিত ভিকটিম জয়ের সঙ্গে রায় প্রদানকারী বিচারকের ছবিই প্রমাণ করে এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া ছিল ষড়যন্ত্রের অংশ। মাহমুদুর রহমানকে দমানোর জন্য কাল্পনিক অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাজা দেয়া হয়। আমরা কারাগারে যাওয়ার আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলেই মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল করবো। আশা করছি শিগগিরই তিনি কারামুক্ত হবেন। গত ২৭শে সেপ্টেম্বর সকালে তুরস্ক থেকে দেশে ফেরেন মাহমুদুর রহমান।

একই মামলায় শফিক রেহমানের সাজা স্থগিত: একই মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। রোববার শফিক রেহমানের আইনজীবী শেখ সাকিল আহমেদ রিপন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের আলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে শফিক রেহমানের সাজা স্থগিতের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাজা স্থগিতের বিষয়ে দাখিল করা আবেদন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের মতামতের আলোকে দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের ধারা ৪০১(১)- এ দেয়া ক্ষমতাবলে ওই মামলায় তাদের দণ্ডাদেশ আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে এক বছরের জন্য স্থগিত করা হলো।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার মামলায় গত বছরের ১৭ই আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালত মাহমুদুর রহমান ও সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ ৫ জনের পৃথক দুই ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন- জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, রিজভী আহমেদ সিজার ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।

আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও এক মাসের কারাভোগ করতে হবে। এ ছাড়া একই আইনে ১২০-খ ধারায় (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন।

mzamin

কেউ শেখ হাসিনার নির্দেশিত গণহত্যা থেকে রেহাই পায়নি: গোলাম পরওয়ার

নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর কেউ শেখ হাসিনার নির্দেশিত গণহত্যা থেকে রেহাই পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রোববার রাজধানীর শনিরআখড়ায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শহীদ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও মতবিনিময় সভায়  তিনি এ মন্তব্য করেন। সভা শেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৭ জন শহীদের পরিবারের মাঝে ২ লাখ টাকা করে ৩৪ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর কেউ শেখ হাসিনার নির্দেশিত গণহত্যা থেকে রেহাই পায়নি। এমনকি গর্ভবর্তী মায়েদেরকেও পুলিশ ও ছাত্র লীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছে। শেখ হাসিনার স্পষ্ট নিদের্শ ছিলো যে কোন কিছুর বিনিময়ে তার ক্ষমতা ধরে রাখা। এজন্য লাখ-লাখ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে হলেও তবু তাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনা জানে না, দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে দেশ পরিচালনা করা যায় না। তাই ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ৩৬ দিনের মধ্যে শেখ হাসিনা শুধু ক্ষমতাই ছাড়তে বাধ্য হয়নি, দেশ ছেড়েও পালিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের কোন নেতাকর্মী কেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি? কারণ তার এক আল্লাহকে ভয় করে। কোন অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করেনি। জনগণের সম্পদ লুট করেনি। বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জনগণের সম্পদকে আমানত হিসেবে বিশ্বাস করে। সেজন্য জামায়াতের নেতারা দুর্নীতি করে না, চুরি করে না। জনগণের খেদমতে জীবন উৎসর্গ করে দেয়, দিয়েছে এবং প্রয়োজনে আরো দিবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেলেও তাদের দোসররা ছাত্র-জনতার বিপ্লব নস্যাৎ করতে কখনো জুডিসিয়াল ক্যু, কখনো আনসার ক্যু, কখনো প্রশাসনিক ক্যু চালাতে চেয়েছে। আবার হিন্দু সম্প্রদায়কে মাঠে নামিয়ে দিতে চেয়েছে, তাদের মন্দির ভাংচুর হবে, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ হবে বলে মিথ্যা ভয় লাগিয়ে। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমালের নিরাপত্তায় আমীরে জামায়াতের নির্দেশে সারাদেশে জামায়াতের কর্মীরা নিয়োজিত ছিল। আগামীতেও জামায়াতের কর্মীরা তাদের পাশে থাকবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও যাত্রাবাড়ী-মাতুয়াইল থানা আমীর মিজানুর রহমান মালেকের সঞ্চালনায়  সভায় দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির, সহকারী প্রচার সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, যাত্রাবাড়ী উত্তর থানার আমীর মো. শাহজাহান খান, ডেমরা উত্তর থানার আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, ডেমরা পশ্চিম থানার আমীর মাওলানা বায়োজীত হাসান, যাত্রাবাড়ী দক্ষিণ থানার আমীর এডভোকেট এ.কে আজাদ প্রমুখ।

mzamin

কঠিন চ্যালেঞ্জে ‘সাকিবের শেষ ইচ্ছা’ by ইশতিয়াক পারভেজ

জীবনের কঠিন সময় পার করছে সাকিব আল হাসান। নিজের দেশে ফিরতে পারছেন না। এরই মধ্যে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলতে চেয়েছেন দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তবে পরিস্থিতি যেমন তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বিসিবি’র সভাপতি ফারুক আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ফিরে এলে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারবেন না। তাহলে কি কানপুরেই সাকিব ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলছেন! তার দেশে ফিরতে না পারার দু’টি কারণ স্পষ্ট, এরই মধ্যে তিনি খুনের মামলার আসামি আর গণআন্দোলনে ছাত্রদের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে তিনি ছিলেন নীরব। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্যও ছিলেন সাকিব। যে কারণে জনরোষ তার বিপক্ষে ফুঁসে উঠতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। এখানেই তার নিরাপত্তার মূল হুমকি। আবার ফিরে এসে সহজেই দেশের বাইরে চলে যেতে পারবেন সেটিও নয়। মামলার কারণে তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্পষ্ট করেছেন কারণটাও। গতকাল ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন- ‘এখন খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের একজনকে যতটুকু নিরাপত্তা দেয়া দরকার, দেয়ার দায়িত্ব দেশে এলে আমরা দেবো। কিন্তু উনার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জনগণের মধ্যে যদি ক্ষোভ থাকে, তাহলে...!’

অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত সাকিব দেশে এসে খেললেও তার ফিরে যাওয়া নিয়ে আছে বিস্তর জটিলতা। তার বিরুদ্ধে যে খুনের মামলা তাতে তিনি গ্রেপ্তার হবেন না এমন কোনো নিশ্চয়তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, একটি সূত্র জানায়- সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, সাকিব দেশে ফিরলে জনরোষে পড়তে পারেন। ক্ষতি হতে পারে তার। তাকে ঘিরে হতে পারে ষড়যন্ত্রও। যা ক্ষুণ্ন করবে দেশের ভাবমূর্তি। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠেছে সাকিবের নিরাপত্তা দিতে না পারলে বিসিবি দক্ষিণ আফ্রিকা দলের নিরাপত্তা দেবে কীভাবে! এ বিষয়ে একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ‘আসলে সাকিব ও দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা ইস্যু এক নয়। কারণ, সফরকারী দলের ক্রিকেটারদের ওপর দেশের জনগণের কোনো ক্ষোভ নেই। কিন্তু সাকিবের ওপর আছে ভীষণ ভাবে। নানা সূত্রে খবর আছে দেশে ফিরলে তিনি জনরোষের মুখে পড়তে পারেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সরকারকে এই বিষয়ে সতর্ক করেছে। সেটি হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। এই মুহূর্তে সাকিবের নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু বিসিবিই নয় রাষ্ট্রের জন্যও কঠিন হবে। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ কি তাকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তিনি দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার হবেন না! তাহলে তার ফিরে যাওয়া নিয়েও জটিলতা আছে।’ ক্রীড়া উপদেষ্টার কথাতেও তা স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন- সাকিবকে তার রাজনৈতিক পরিচয়ও স্পষ্ট করতে হবে। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মনে করেন আমার নিরাপত্তায় পাঁচজন পুলিশ কনস্টেবল থাকে, একজন গানম্যান থাকে। আমার ওপরে যদি দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে দশ কোটি জনগণের ক্ষোভ থাকে, তাহলে এই পাঁচ/ছয়জন আমাকে কী নিরাপত্তা দেবে? আমারও সেই ক্ষেত্রে নিরাপদ থাকার সুযোগ নেই।’
কানপুর টেস্টের আগের দিন আকস্মিক এক সিদ্ধান্তে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার জানিয়েছেন সর্বশেষ বিশ্বকাপেই তার শেষ টি-টোয়েন্টি খেলা হয়ে গেছে। ঘরের মাঠে আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ দিয়ে টেস্টকে বিদায় জানানোর কথা বলেছেন তিনি। তবে সেটি সম্ভব হবে যদি তিনি সরকার ও বিসিবি থেকে দেশে ফেরার নিরাপত্তা পান। তিনি দেশের হয়ে ৭১টি টেস্ট খেলেছেন। ব্যাট হাতে ৫ সেঞ্চুরি ও ৩১ ফিফটিতে ৩৮.৩৩ গড়ে করেছেন ৪৬০০ রান। বল হাতে শিকার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২৪২ উইকেট। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ২১টি টেস্ট ম্যাচ জিতেছে, এর ১৫টিতেই ছিলেন সাকিব। সেখানে অধিনায়ক হিসেবে ৪ জয়ে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৪৩৮ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন- এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ১৬৯ ম্যাচে। এখানেও ১১৭ ম্যাচে দলের হয়ে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। যার মধ্যে ২৭টি জয় এনে দিয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে। অন্যদিকে ১৭৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশের জয়ের সংখ্যা ৬৮টি। এর মধ্যে ৫৮টি জয়ে সাকিব খেলেছেন দলের হয়ে। তার নেতৃত্বে ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পায় টাইগাররা। বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হয়ে দেশের গর্বও তিনি। তবে মাঠে যতটা উজ্জ্বল সাকিব- বাইরে ততোটাই বিতর্কিত। সবশেষ রাজনীতিতে অংশ নেয়া, এমপি হওয়া ও জনগণের পাশে না থাকার মতো কাজও করেছেন তিনি। এরপরও তার ভক্তকুলের আশা ব্যক্তি সাকিব নয়, দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারকে সম্মান নিয়ে মাঠ থেকে বিদায়ের সুযোগ করে দেয়া উচিত বিসিবি’র। কিন্তু বাস্তবতা বলছে- তার শেষ ইচ্ছাটি পূরণ এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই! 

mzamin

মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে এ মামলায় আত্মসমর্পণ করতে আদালতে আসেন মাহমুদুর রহমান। এ সময় তার পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন আইনজীবীরা।

শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল হকের আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ওই মামলায় গত বছর ১৭ই আগস্ট মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর।

আইনজীবীরা বলছেন, কোনো মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামিকে জামিন দেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট আদালতের আছে। কিন্তু তিনি সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় তাকে জামিন দেওয়া যায়নি।

ওই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন-সাংবাদিক শফিক রেহমান, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।

দণ্ডবিধির দুইটি ধারায় একটিতে পাঁচ বছর এবং অপরটিতে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে প্রত্যেককে আরও তিন মাসের কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়। রায় ঘোষণার সময় সবাই পলাতক ছিলেন।

রায়ে আরও বলা হয়, সাজাপ্রাপ্ত সবাই পলাতক থাকায় তারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর অথবা আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর রায় কার্যকর হবে।

মামলার অভিযোগ ছিল, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের আগে যেকোনো সময় থেকে বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় একত্রিত হয়ে পরস্পর যোগসাজশে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩রা আগস্ট বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন। ২০১৮ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২০২২ সালের ১৩ই নভেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয় আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। তাকে হত্যার চেষ্টার ষড়যন্ত্রের ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

গত শুক্রবার পাঁচ বছর পর দেশে ফেরেন মাহমুদুর রহমান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে সারা দেশে ১২৪টি মামলা হয়। ২০১০ সালের জুনে প্রথম দফায় আমার দেশ বন্ধ করাসহ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আটক করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০১৩ সালের ১১ই এপ্রিল আমার দেশ বন্ধ করে দেয়া হয়।

mzamin

হিজবুল্লাহর পরবর্তী নেতা হিসেবে আলোচিত কে এই হাশেম সাফিউদ্দিন

ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার পর তার উত্তসূরি কে হবেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে যার নামটি জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে তিনি হলেন নাসরুল্লাহর আপন চাচাতো ভাই হাশেম সাফিউদ্দিন। হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান এই ব্যক্তির সংগঠনটির আন্দোলন এবং ইরানের সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করছেন সাফিউদ্দিন তার চাচাতো ভাইয়ের যোগ্য উত্তরসূরি হতে পারেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে জিও নিউজ। এতে বলা হয়,  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিজবুল্লাহর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে ধূসর-দাড়িওয়ালা, চশমা পরিহিত সাফিউদ্দিন দলের শীর্ষ পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা হচ্ছে, ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ‘সন্ত্রাসী’ তালিকায় রয়েছে সাফিউদ্দিনের নাম।

কে এই হাশেম সাফিউদ্দিন?
মার্কিন ট্রেজারি তাকে হিজবুল্লাহর একজন উচ্চ পর্যায়ের নেতা এবং সংগঠনটির নির্বাহী সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে দলের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন সংগঠনটির ডেপুটি চিফ নাইম কাসেম। তিনি হিজবুল্লাহর শুরা পরিষদ (পরামর্শ পরিষদ) কর্তৃক নির্বাচিত নন। দলটির নতুন প্রধান নির্বাচনে শুরা পরিষদের সিদ্ধান্তের জন্য বৈঠক হতে হবে। এখন পর্যন্ত যতটা নিশ্চিত হওয়া গেছে তাতে হিজবুল্লাহর নতুন প্রধান হিসেবে সাফিউদ্দিনের নামই বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে সাফিউদ্দিনের বড় ছেলের। এ সূত্রে তিনি ইরানের বেশ ঘনিষ্ঠ। সাফিউদ্দিনের সাইয়েদ উপাধি রয়েছে। নাসরুল্লাহর মতো তিনিও ধর্মীয় পণ্ডিত। তিনিও মাথায় কালো পাগড়ি পরেন। বেশ কয়েক বছর ধরে নাসরুল্লাহ আত্মগোপনে থাকায় তার হয়ে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন সাফিউদ্দিন। এছাড়া তিনি সংগঠনটির নির্বাহী কাউন্সিলেরও প্রধান।
৪২ বছরের পুরোনো যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিভিন্ন কাউন্সিলে সাফিউদ্দিনকে একাধিক পদ পেতে সহায়তা করেছিলেন নাসরুল্লাহ। এ প্রসঙ্গে ইরানের সমর্থনপুষ্ট শিয়া মিলিশিয়াদের নিয়ে গবেষণা করেছেন বিশেষজ্ঞ ফিলিপ স্মিথ। তিনি বলেন, নাসরুল্লাহ লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে বিভিন্ন কাউন্সিলে নানা পদ পেতে সাফিউদ্দিনের জন্য কাজ করছিলেন। ১৯৬৪ সালে লেবাননের দেইর কানুন এন-নাহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাফিউদ্দিন। তিনি ইরানের ইরাকি শহর নাজাফ এবং কোম, শিয়া ধর্মীয় শিক্ষার দুটি প্রধান কেন্দ্রে নাসরুল্লাহর সাথে একসাথে ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন। যোদ্ধাগোষ্ঠীটির প্রাথমিক দিনগুলোতে দুজনে এক সঙ্গে হিজবুল্লাহতে যোগ দিয়েছিলেন।

mzamin

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: এবার আইনি লড়াইয়ে অ্যাডভোকেট শিশির মনির

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলায় নতুন আইনজীবী হিসেবে মোহাম্মদ শিশির মনিরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আলোচিত এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ এখন পর্যন্ত ১১৩ বার পেছানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উন্মোচনে এবার লড়বেন ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

রোববার সাগর-রুনি হত্যা মামলার বাদী নওশের রোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাগর-রুনি হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনে আইনি লড়াই করবেন।’

আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে পরে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করব। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে খুবই দ্রুত মিটিং করব। এই সংবাদিক হত্যার রহস্য উন্মোচনে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।’

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। সে সময় সাগর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টিভিতে এবং রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

এই হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের হাতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১১৩ বার পেছানো হয়েছে।

mzamin

এই বছর রেকর্ড পরিমাণ বাংলাদেশি পর্যটক ভারতে গিয়েছেন

মালদ্বীপের মতো বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন দেখা গেলেও এই বছর রেকর্ড পরিমাণ বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে গিয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ভারতে বিদেশি পর্যটকদের আগমনের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সরকারি তথ্য অনুসারে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভারতে বিদেশি পর্যটকদের আগমন প্রায় ৪৭.৮ লাখে পৌঁছেছে, যেখানে বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে এবং তারপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত সময়কালে বিদেশি পর্যটকদের আগমনের সংখ্যা ছিল ৪৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭৪ জন। ২০২৩ সালের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত সংখ্যাটি ছিল ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ২৩৯ জন। এ সংখ্যা ২০২৩ সালের জুনের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। তবে ২০১৯ সালের জুনের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কম। ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল।

গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভারতে পর্যটকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা পাঁচ দেশ হলো বাংলাদেশ (২১ দশমিক ৫৫ শতাংশ), যুক্তরাষ্ট্র (১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ), যুক্তরাজ্য (৯ দশমিক ৮২ শতাংশ), কানাডা (৪ দশমিক ৫ শতাংশ) ও অস্ট্রেলিয়া (৪ দশমিক ৩২ শতাংশ)।

এর আগে ২০২৩ সালে ভারতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যাওয়া পর্যটক সব থেকে বেশি ছিল। এর পরের স্থানেই ছিল বাংলাদেশ। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। অবকাশকালীন ও বিনোদনমূলক ছুটি কাটাতে বেশিরভাগ বিদেশি পর্যটক ভারতে যান। বাংলাদেশে গত ১লা জুলাই থেকে ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় ভারত। সূত্র: বিজনেস টুডে

mzamin

তরুণদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন হুম্মাম কাদের চৌধুরীর by মারুফ হাসান

হুম্মাম কাদের চৌধুরী। সাবেক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে। গুম ছিলেন ৬ মাসেরও অধিক সময়। বাবার মৃত্যুর পর এলাকার রাজনীতির হাল ধরেছেন এই তরুণ নেতা। সামনে বিএনপি’র হয়ে নির্বাচন করতে চান। দায়িত্ব পালন করতে চান বাবার উত্তরসূরি হিসেবে। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান। হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, বর্তমানে আমি বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য। বাবার দায়িত্বগুলো তুলে ধরা ও সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। বাবা যেহেতু নেই দায়িত্ব বেড়ে গেছে। এলাকার মানুষের একটা আশা সবসময় থাকে যে আমি বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো। সেটাই চেষ্টা করছি। সামনে নির্বাচন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জ্বি, নিশ্চয়ই নির্বাচন করবো। তবে কোথা থেকে করবো সেটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমার বাবা তিনটা আসন থেকে নির্বাচন করতেন। রাউজান রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি। দল যেখানে ভালো মনে করবে সেখানেই দায়িত্ব পালন করবো। নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে কেমন মনে হয়? তিনি বলেন, এটা খুব ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন। আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারি। যেহেতু আমি তারেক রহমানকে  বেশি পছন্দ করি। একজন পলিটিশিয়ান হিসেবে উনার ম্যাচিউরিটি অনেক বেশি। দশ বছর আগের তারেক রহমান এবং এখনকার তারেক রহমান সম্পূর্ণ আলাদা। তারেক রহমান এখন বুঝতে পেরেছেন যে তাকে আগামীদিনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। উনি এখন যে কেবল ওনার দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তেমন না বরং উনার দায়িত্ব এখন পুরো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই দায়িত্বটা উনি খুব সুন্দরভাবে গুছিয়েছেন। এজন্য আমি গর্বিত যে আমি তার একজন অনুসারী হতে পেরেছি। সামনে বিএনপি’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আওয়ামী লীগ যে দুর্নীতিগুলো করেছিল ওই দুর্নীতির সঙ্গে যেন আমরা কোনোভাবে জড়িয়ে না যাই। আমাদের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল। আমি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেখে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। রাজনীতিটা আওয়ামী লীগের আমলে এত নোংরা হয়ে গিয়েছিল যে নতুন প্রজন্ম কোনো রাজনীতিবিদকে দেখলে নিজেকে রাজনীতিতে জড়ানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলতো। এই কাজে আমি জড়িত হবো না। এখন তারা বুঝতে পেরেছে এই দায়িত্বটা তাদেরই পালন করতে হবে। এখন ওরাও এগিয়ে এসেছে। আশা করি তাদেরকে নিয়েই আমরা নতুন দেশ গড়ে তুলতে পারবো। 
mzamin

নিজেদের জরিপেই ধরা পড়লো বিবিএস by মো. আল-আমিন

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরোর (বিবিএস) বিভিন্ন জরিপ ও শুমারির তথ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। সংস্থাটি থেকে জনসংখ্যা, মূল্যস্ফীতি, জিডিপি’র আকার-প্রবৃদ্ধি থেকে শুরু করে অর্থনীতির প্রতিটি খাতেই ভুল ও প্রশ্নবিদ্ধ পরিসংখ্যান তৈরি ও উপস্থাপন করা হয় বলে মনে করেন তারা। এজন্য নিজেদের তথ্য কতোটা গ্রহণযোগ্য এবং স্টেক হোল্ডাররা তাদের তথ্য কীভাবে নিচ্ছেন, তার উপর যৌথভাবে একটি জরিপ চালায় বিবিএস ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। এ জরিপে উঠে এসেছে, বিবিএস’র তথ্য ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশই সংস্থাটির পরিসংখ্যান মানসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না।

জরিপ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিবিএস’র মাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানের তথ্যে সন্তুষ্ট ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ ব্যবহারকারী। পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় ৫৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ, আর কিছুটা অসন্তুষ্ট ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে বিবিএস’র প্রকাশিত তথ্যে পুরোপুরি অসন্তুষ্ট ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ ব্যবহারকারী। এ ছাড়া ৩৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ ব্যবহারকারী মনে করেন বিবিএস’র তথ্য নির্ভরযোগ্য নয়।

জরিপের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গুণগত মানের দিক থেকে পণ্যমূল্য এবং শ্রম পরিসংখ্যান নিয়ে সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে ব্যবহারকারী। তথ্য অনুযায়ী, পণ্যমূল্যের পরিসংখ্যানে সন্তুষ্ট মাত্র ২৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, আর পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় ৬০ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে শ্রম পরিসংখ্যানে সন্তুষ্ট ২৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ৫৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। এই দুই পরিসংখ্যানে ২০২২ সালের তুলনায় ব্যবহারকারীদের সন্তুষ্টি কমেছে। এ ছাড়া আয় ও দরিদ্র পরিসংখ্যানে সন্তুষ্ট ২৯ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ৫৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর কিছুটা অসন্তুষ্ট ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও পুরোপুরি অসন্তুষ্ট ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ ব্যবহারকারী।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বিবিএস’র অফিসিয়াল পরিসংখ্যানের সঠিকতা নিয়ে ৬৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যবহারকারী সন্তুষ্ট। আর ২৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ ব্যবহারকারী অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ১০ শতাংশেরও বেশি ব্যবহারকারীর তথ্যে সঠিকতা জানা যায় না। তথ্যের সঠিকতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার পরিসংখ্যানে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, বিবিএস’র পরিসংখ্যানের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সন্তুষ্ট ৭৭ দশমিক ০৬ শতাংশ ব্যবহারকারী। অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে ১৭ শতাংশ ব্যবহারকারী। পরিসংখ্যানের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ধারণা নেই ৬ শতাংশ ব্যবহারকারীর।

অন্যদিকে বিবিএস’র পরিসংখ্যানের সময়োপযোগিতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট ব্যবহারকারীরা। জরিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিবিএস’র পরিসংখ্যানের সময়োপযোগিতা নিয়ে সন্তুষ্ট ৫৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ আর অসন্তুষ্ট ৩৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ ব্যবহারকারী। ৭ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারীর এ বিষয়ে ধারণা নেই।

জরিপের ফলে দেখা যায়, বিভিন্ন পরিসংখ্যানগত ডোমেনের মধ্যে শিক্ষার পরিসংখ্যান সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। ৭৩ দশমিক ২১ শতাংশ ব্যবহারকারী এই ডেটার সঙ্গে জড়িত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তথ্য ব্যবহার হয় জনসংখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান (৭২ দশমিক ১০ শতাংশ) এবং আয় এবং দারিদ্র্য পরিসংখ্যান (৬৮ দশমিক ৫২ শতাংশ) তৃতীয় সর্বোচ্চ।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ তথ্য ব্যবহারকারী জনসংখ্যা, জনসংখ্যাগত এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান বেশি ঘন ঘন ব্যবহার করে। তথ্য সংগ্রহের দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে আয় এবং দারিদ্র্য পরিসংখ্যান (৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ) এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় জাতীয় অ্যাকাউন্ট পরিসংখ্যান (৫৪ দশমিক ৯১ শতাংশ)। সবচেয়ে কম ব্যবহার হয় অপরাধ ও বিচার বিভাগীয় পরিসংখ্যান (৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার (১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ)।

এসব তথ্য সংগ্রহের সিংহভাগই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নেয় ব্যবহারকারীরা। বিবিএস ওয়েবসাইট বা ডেটা পোর্টালে গিয়ে ৮৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ তথ্য সংগ্রহ করেছে, যেখানে ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ এটি প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পেয়েছে। ৪১ দশমিক ২৬ শতাংশ বিনামূল্যে পেয়েছে।

mzamin

এক বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হন ৩ জন, মারা যান রাব্বি by ফাহিমা আক্তার সুমি

২২ বছর বয়সী রাব্বি মিয়া। রাজধানীর তেজগাঁও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পঞ্চম সেমিস্টারে পড়তেন। পাশাপাশি ওয়ালটনে সার্ভিস ম্যানেজমেন্টে চাকরি করতেন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনদী নতুন মহল্লার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। ২০শে জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিকালে ঘুম থেকে উঠে চারতলার বেলকনিতে যান রাব্বি। এ সময় একটি গুলি এসে রাব্বির বুকের পাশে বিদ্ধ হয়ে অপর পাশে বেরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মেঝেতে ঢলে পড়ে সেখানেই মারা যান তিনি। রাব্বির গ্রামের বাড়ি জামালপুরের নয়াপাড়ায়। তার বাবা আব্দুর রহিম কৃষিকাজ করতেন। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে বর্তমানে ঘরে থাকেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে রাব্বি ছিলেন ছোট। বাবার অভাবের সংসারে বড় ভাইয়ের পাশাপাশি রাব্বিও হাল ধরতে চেয়েছিলেন। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি তার।

রাব্বির বড় ভাই অন্তর মিয়া মানবজমিনকে বলেন, রাব্বি আমাদের পরিবারের আলো ছিল। আমি একটি কোচিং সেন্টারে চাকরি করি। রাব্বি মাত্র পাঁচ মাস চাকরি শুরু করেছিলো পড়াশোনার পাশাপাশি। চেয়েছিলাম রাব্বির পড়া শেষ হলে দুই ভাই মিলে বাবা-মায়ের কষ্ট দূর করবো। রাব্বি আমাদের খুব আদরের ছিল, ওকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে বাবা-মা। রাব্বির সঙ্গে ঘটনার দিন সকাল ৯টায় শেষ কথা হয়েছে। ওকে কল দিয়ে গুলির মধ্যে যেতে নিষেধ করেছিলাম। তখন কে জানতো যে বাসার মধ্যেও মানুষ নিরাপদ নয়। অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলো রাব্বি। ৭ বছর ধরে ঢাকায় থাকতো। তিনি বলেন, সেদিন সারাদিন মায়ের খুব মন খারাপ হচ্ছিলো, রাব্বিকে বার বার কল দিতে বলেছিলেন মা। কিন্তু কল করলে রাব্বি রিসিভ করে না। পরে বিকাল পাঁচটার দিকে আবার কল করলে তার এক সহকর্মী জানায় রাব্বি অসুস্থ। পরে সত্যি ঘটনা খুলে বলে। একজন মানুষ ঘরের মধ্যে এভাবে মারা যায় কী করে? আমরা কীভাবে এটি মেনে নিবো? আমার একমাত্র ভাইকে হারিয়ে আমি একা হয়ে গিয়েছি। রাব্বির মৃত্যুতে মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাবা তো আগে থেকেই অসুস্থ। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারি না যে আমার ভাই আর নেই। আমাদের দুই ভাইয়ের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল।
সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনদী নতুন মহল্লার এই বাসাটিতে গিয়ে দেখা যায়, দরজায় এখনো রয়েছে গুলির ক্ষতচিহ্ন। সেখানে শুধু রাব্বি গুলিবিদ্ধ হননি। সানজিদা নামে এক নারী ও রনি নামে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় বাসাটির বারান্দার গ্রিল ধরে ঝুলে ছিল একটি শিশুও। তিনজন একসঙ্গে গুলিবিদ্ধ হলেও শিশুটির গায়ে গুলি লাগেনি। দুইজন বেঁচে ফিরলেও রাব্বি ঘটনাস্থলে মারা যান। আহত সানজিদাদের ভাড়া বাসায় সাবলেট নিয়ে থাকতেন রাব্বি ও রনি।
ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহত সানজিদা বলেন, সেদিন ছিল আমাদের জীবনের খুব ভয়াবহ দিন। এখনো মনে পড়লে ঘুমাতে পারি না। বাইরে ঝামেলা হচ্ছে সেটি আমরা জানতাম না। আমার চার বছরের মেয়ে বেলকনিতে থাকায় তাকে খাবার খাওয়ানোর জন্য আনতে যাই। নিচে তাকিয়ে দেখি অনেক লোক। এ সময় আমার মেয়েকে বেলকনি থেকে নিয়ে ভেতরে মাত্র এক পা ফেলি। পেছন থেকে এসে গুলি লাগে আমার কোমরের কাছে। তখন বিকাল পাঁচটা বাজে। পেছন দিক থেকে যে আমার গুলি লেগেছে সেটি আমি বুঝতে পারিনি। আরেকটি গুলি আমার হাতে স্পর্শ করে চলে যায়। পেটেরটা অপারেশন করে বের করতে হয়েছে। গুলিটা লাগলে সঙ্গে সঙ্গে আমি পড়ে যাই মেঝেতে। আমার মেয়ে তখন আমার সামনে ছিল। আমাদের একটি রুমে রনি ও রাব্বি ভাড়া থাকতেন। এ সময় তারা দু’জন ঘুম থেকে উঠে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়। আমার মেয়ে বেলকনির গ্রিলের উপরে উঠে নিচে দেখতেছিল। আমার শরীরে গুলি লাগার পর পেছন সাইডে ঘুরে দেখি রাব্বি বেলকনিতে পড়ে আছে। তার হাতের নিচে লেগে বুকের পাশ থেকে আরেক পাশে বের হয়ে যায় গুলি। সঙ্গে সঙ্গে সে মারা যায়। রনিরও গুলি লাগে। তিনি বলেন, আমাকে ও রনিকে প্র-অ্যাকটিভ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সানজিদার মা আমেনা বলেন, সেদিন বাইরে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল কেউ এগিয়ে আসেনি। রাব্বি তো ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমার মেয়ে ও রনিকে নিয়ে কোনো মতে মানুষের হাত-পা ধরে হাসপাতালে যাই। হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলি লাগে। ভাগ্য ভালো যে আমার নাতনিটার কিছু হয়নি। খবর পেয়ে রাত সাড়ে তিনটা বাজে রাব্বির স্বজনরা এসে লাশ নেয়। ততক্ষণে সে মেঝেতেই পড়ে ছিল। তখন রাস্তায় কোনো গাড়ি পাওয়া যায়নি। যখন আমরা হাসপাতালে যাই তখন বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়েছে। আমার ঘরে ও বাইরের দৃশ্য দেখে আমার বুক কাঁপছিল। আমার ঘরে একটা লাশ আরও দুইজন আহত কীভাবে আমি স্বাভাবিক থাকি। তিনজনের চারটা গুলি লাগে। রাব্বির অবস্থা খুব ভয়াবহ ছিল সঙ্গে সঙ্গে সে মেঝেতে পড়ে মারা যায়।
আহত রনি বলেন, আমরা সেদিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। বাসার নিচে কান্নার আওয়াজ শুনে দেখার জন্য যাই বারান্দায়। গিয়ে দেখি নিচে এক ব্যক্তির গুলি লেগেছে সে চিৎকার করছে। আমরা দাঁড়ানোর ১-২ মিনিট পরই গুলিটা আসে। সম্ভবত হেলিকপ্টার থেকে গুলিগুলো এসেছিল। এখন শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও ডান হাতে ভারী কিছু নিতে পারছি না। পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে। আমার বাড়ি বরিশালে। ওয়ালটনে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করি। গুলি লাগার পরে আমি বুঝতে পারিনি শুধু দেখলাম রাব্বি হঠাৎ পড়ে গেছে মেঝেতে। ও যখন পড়ে যায় তখন আমি তাকিয়ে দেখি রক্ত মেঝেতে ভরে যাচ্ছে। পরে দেখি আমার শরীরেও গুলিবিদ্ধ হয়। 

mzamin

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয় করার এখনই সময় by মো. আমিন মিয়া

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর  গ্রাজুয়েটদের মান এবং অধিভুক্ত কলেজগুলোর যথাযথ একাডেমিক মনিটরিং নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। সমালোচনার প্রধান কারণই হলো, ৩২ বছর ধরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা না করে উচ্চতর শিক্ষা বোর্ড হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

বোর্ড হিসেবে সফলতা:
১। প্রতি বছর ৪/৫ লাখ শিক্ষার্থীর অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা।
২। পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ এবং সকল ফলাফল অনলাইনে দেখার সুযোগ।
৩। নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে অনার্স মাস্টার্স চালু এবং  প্রতিটি বিষয়ে ২০০-৩০০ আসন বরাদ্দ দিয়ে, অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়িয়ে এটিকে একটি অর্থ উপার্জনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।
৪। কলেজগুলোতে নিয়মিত ক্লাস নেয়ার আগ্রহ কম হলেও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তিতে আগ্রহের ঘাটতি নেই।
৫। দ্বৈত পরীক্ষক পদ্ধতি বাতিল করে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মতো প্রধান পরীক্ষক পদ্ধতি চালু করা, যা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।
৬। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২ এর ১ম সংবিধি লঙ্ঘন করে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রণীত সংবিধি অনুযায়ী  অধিভুক্ত কলেজসমূহের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
৭। অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি, আর্থিক সুবিধা ভোগের সকল কর্মসূচি ও অবকাঠামো নির্মাণে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় না।
৮। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই একটি উচ্চশিক্ষা বোর্ড হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। উচ্চশিক্ষাকে বোর্ডের আদলে পরিচালনা করার নজির শুধমাত্র বাংলাদেশেই আছে।
৯। আইনে ২টি পরিচালক পদ থাকলেও, প্রশাসনিক কাজের জন্য ১৮টি পরিচালকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে ।
১০। বোর্ড হিসেবে আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক অবকাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যা করতে পারেনি:
১। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে অনার্সে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারা।
২। কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও অবকাঠামো না থাকার পরেও অনার্স ও মাস্টার্সের অনুমোদন দেয়া এবং এসব প্রোগ্রামের  নিয়মিত ক্লাস না হওয়া।
৩। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ভাইভা পরীক্ষার মান নিশ্চিত করতে না পারা।
৪। পরীক্ষা কমিটি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষকদের কোনো ভূমিকা নেই। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্তৃক সকল বিষয়ের পরীক্ষা কমিটি গঠনের উদাহরণ কেবলমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে।  
৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ১৯৯২ এর ১ম সংবিধির ৭(২), ৭(৩), ৭(৪), ৭(৬), ৮(২), ৮(৩), ৮(৪), ৮(৬), ৯(২), ৯(৩), ৯(৪), এবং ৯(৬) ধারা অনুযায়ী বিগত ০৫-১১-২০০৭  তারিখে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৬৩তম সভার এবং ২০০৭ সালের ৩রা ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯৯তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে বোর্ড অব স্টাডিজ এবং বোর্ড অব ডিরেক্টরস গঠন করা হয়েছিল। যা পরবর্তীতে কার্যকর রাখা হয়নি। অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষা, একাডেমিক মনিটরিং ও পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজের মান উন্নয়নে এই বোর্ডগুলোই যাবতীয় সুপারিশ প্রদান করার কথা। অথচ গত ৩২ বছর ধরে এগুলোকে অকার্যকর রেখে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে গুণগত উচ্চশিক্ষা প্রদানে ব্যর্থ ও বিতর্কিত করা হচ্ছে।
৬। অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষা, একাডেমিক মনিটরিং ও পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজের মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষক নিয়োগ, প্রোমোশন, একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু, নতুন একাডেমিক ইউনিট গঠন, ক্যাম্পাস সমপ্রসারণ, বোর্ড অব স্টাডিজ এবং বোর্ড অব ডিরেক্টরস কার্যকর করতে প্রত্যেক উপাচার্য মহোদয়কেই বাধা দেয়া হয়েছে এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে, যা বতর্মানেও চলমান।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ৫টি একাডেমিক গ্রুপকে ৫টি স্কুল/ফ্যাকাল্টি করার প্রস্তাবনা এবং বোর্ড অব স্টাডিজ এবং বোর্ড অব ডিরেক্টরস পুনর্গঠন করে কার্যকর করতে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার কোনো অগ্রগতি হয়নি।
৭। প্রায় ২২৫০টি কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। বিপুলসংখ্যক কলেজের একাডেমিক মনিটরিং, সিলেবাস, কারিকুলাম, ও পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজের মান উন্নতিকরণে ধারা ৬(ট) এর আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ শিক্ষক ও  ৬(ক), ৬(খ), ৬(গ) ৮(১), ২৬(২-ক), ২৬(২-খ), ২৪(২-ঝ), ৩৯(২), ৪১(১) ধারাসমূহের আলোকে যে পরিমাণ মডেল একাডেমিক প্রোগ্রাম থাকার দরকার ছিল, তা গত ৩২ বছরেও এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ৩২ বছর বয়সী একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৬ জন অধ্যাপকসহ ৭৪ জন শিক্ষক রয়েছে। উল্লেখ্য, দূরশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষাকে গণমুখীকরণের উদ্দেশ্যে একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ও নিজস্ব ক্যাম্পাসে অনার্স, মাস্টার্স এবং অন্যান্য একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা ১৫০ জন, এর মধ্যে অধ্যাপক ৩০ জন।
৮। আইনের ২৭(১) ধারায়, প্রাথমিক পর্যায়ে ৩টি একাডেমিক ইউনিটের উল্লেখ রয়েছে। আইনের ৬(ড) ধারার আলোকে রেগুলেশন করে শিক্ষা ও গবেষণার স্বার্থে নতুন একাডেমিক ইউনিট (স্কুল অব আর্টস, স্কুল অব ‘ল’ ইত্যাদি অথবা একই নামে ফ্যাকাল্টি) চালু করতে পারবে। বোর্ডের পরিচালক পদ বাড়াতে পারলেও বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে একাডেমিক ইউনিট বাড়াতে পারে নাই।
৯। আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী দেশের যেকোনো স্থানে ক্যাম্পাস স্থাপন করার সুযোগ থাকলেও, ৩২ বছর বয়সী একটি বিশ্ববিদ্যালয় অথচ নিজস্ব একাডেমিক ক্যাম্পাস করতে পারেনি, ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত  করতে পারেনি। অথচ, একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং তার রয়েছে উপাচার্যের বাসভবনসহ নিজস্ব দৃষ্টিনন্দন একাডেমিক ক্যাম্পাস।
উল্লেখ্য, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার প্রথম তথা অন্যতম প্রধান সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। এটিকে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজ্য গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় মনে করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালে লাহোর থেকে ব্রহ্মদেশ পর্যন্ত একটি বিশাল অঞ্চল এর অন্তর্গত ছিল। বর্তমানে কলকাতা ও সন্নিহিত অঞ্চলের ১৫১টি স্নাতক কলেজ ও ১৬টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কলকাতা শহর ও শহরতলিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি ক্যাম্পাস/শিক্ষাপ্রাঙ্গণ (কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস, রাজাবাজার ক্যাম্পাস, শহীদ ক্ষুদিরাম শিক্ষা প্রাঙ্গণ ইত্যাদি) এবং ৭টি ফ্যাকাল্টি রয়েছে। ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৪র্থ। (তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া)
১০। আইনের ৬(ঠ) ধারার আলোকে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে, মানসম্মত গবেষণা কর্মের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা ও পুরস্কার প্রদানের সুযোগ অপ্রতুল। গবেষণাবিমুখ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে প্রতি বছর গবেষণায় বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগই অব্যয়িত থাকে।
১১। আইনের ১২ (৩) ধারায় উল্লেখ রয়েছে, “ভাইস-চ্যান্সেলর এই আইন, সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেগুলেশনের বিধান বিশ্বস্ততার সহিত পালনের নিশ্চয়তা বিধান করিবেন এবং এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।”  অথচ প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর ধরে নিয়োগপ্রাপ্ত অধিকাংশ উপাচার্যগণ আইন প্রতিপালন করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পরিচালনা না করে শুধুমাত্র বোর্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

পরিশেষে, বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিকভাবে পরিচালিত না হয়ে শিক্ষা বোর্ডের মতো পরিচালিত হলে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কখনই উচ্চশিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। মূল উপাদানকে অগ্রাহ্য করে, গত ৩২ বছরেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

mzamin

বাংলাদেশ সফরে আসছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পাকিস্তান থেকে ৬ ঘণ্টার সফরে বাংলাদেশ আসছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৪ঠা অক্টোবর তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক, মাহবুব আলম শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমকে অগ্রিম উষ্ণ স্বাগতম জানাচ্ছি।

মোবাইল ফোনে মালয়েশিয়া বিএনপি’র সহ-সভাপতি মানবজমিনের মালয়েশিয়া প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, “মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন। ঠিক কবে এবং কী কী বিষয়ে আমাদের অন্তর্র্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলাপ হবে তা দুই একদিনের মধ্যে জানা যাবে।”
তবে আশা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের টানে উন্নয়ন কৌশলের অবস্থা আরও গভীর করবে এবং পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগিতা প্রসারিত করবে যা- মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ ও একটি অভিন্ন কল্যাণকর রাষ্ট্র নির্মাণে কাজ করতে চাইবে।
বাংলাদেশের পটপরিবর্তনের পর ১৪ই আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম খুব দ্রুত বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে ফোন করে এই ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছিল।
সে সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংখ্যালঘুসহ সকল বাংলাদেশির অধিকার রক্ষায় তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। ড. ইউনূস তাকে দুই দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে এমন সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
সে সময় আলাপকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক গভীর সন্তুষ্টির সঙ্গে স্মরণ করে বলেছিলেন, মালয়েশিয়া অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অংশীদার হতে প্রস্তুত। অধ্যাপক ড. ইউনূস মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ফোনের জন্য ধন্যবাদ ও আশা করে বলেছিলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় আরও কাজের সুযোগ পাবেন।
এর আগে, গত ১০ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধ্যাপক ড. ইউনূসের জন্য একটি উষ্ণ অভিনন্দন বার্তা প্রকাশ করেছিলেন। ওই বার্তায় তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর কবিতা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের তরুণদের ভিশন এবং অদম্য শক্তির প্রশংসাও করেছিলেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে জানতে মালেশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য যে, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়ার আল-বুখারি ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল শান্তি পদক বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূস-এর দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং বাংলাদেশের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী।

mzamin

মুনা তাসনীমকে ফিরিয়ে আনছে সরকার by মিজানুর রহমান

লন্ডনে প্রায় ৬ বছর ধরে দায়িত্বপালনকারী বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীমকে ফিরিয়ে আনার আদেশ জারি করেছে সরকার। গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সাইদা মুনা তাসনীমকে লন্ডনের দায়িত্বভার ত্যাগ করে অনতিবিলম্বে ঢাকায় ফিরতে বলা হয়। ২০১৮ সালের ৩০শে নভেম্বর থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লন্ডন মিশনে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আগামী ২৬শে ডিসেম্বর তার অবসর-উত্তর ছুটি শুরু হওয়ার কথা। সেগুনবাগিচা বলছে, সাধারণত যেকোনো মিশনে দায়িত্বের মেয়াদ ৩ বছর হলেও পূর্বের সরকারের আস্থাভাজন হওয়ায় লন্ডনেই ৬ বছর থাকতে হয়েছে তাকে। অবশ্য ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর বাস্তবতা মেনে নিয়ে নতুন সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের বার্তা দেন তিনি। তবুও বৃটেনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা হাইকমিশনার পরিবর্তনের জন্য পররাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে চিঠিপত্র এবং স্মারকলিপি পাঠিয়ে চাপ তৈরি করছিলেন। স্থানীয় মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও ওই দাবির পক্ষে জনমত তৈরি করছিলেন। ধারণা মিলেছে সেই চাপ সামাল দিতেই সরকার আগাম ওই আদেশ জারি করেছে। লন্ডনে নিয়োগ পাওয়ার আগে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফরেন সার্ভিসের ১১তম ব্যাচের কর্মকর্তা মুনা। তারও আগে (চাকরি জীবনের মাঝামাঝিতে) তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং লন্ডন মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ, বহিঃপ্রচার অনুবিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ স্কুল থেকে পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে এমএসসি ডিগ্রি অর্জনসহ দেশ-বিদেশে বহু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন মেধাবী ওই কূটনীতিক।
mzamin

দখল-চাঁদাবাজি: দেড় মাসে বিএনপি’র পাঁচ শতাধিক নেতা কর্মীকে শাস্তি by কিরণ শেখ

চাঁদাবাজি, দখলবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। এমন অভিযোগ আসাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ আসামাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে বহিষ্কার বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের পর এ পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৫০০’র অধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতসহ নানা শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের শেল্টার দেয়ার অভিযোগ। সর্বশেষ শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করেছে দলটি। যদিও বিবৃতিতে কমিটি ভেঙে দেয়ার কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে উত্তরের আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ এই কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া উত্তরের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়ও সামনে এসেছে। থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি বিলুুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। সাইফুল আলম নিরবকে আহ্বায়ক ও আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে গত ৭ই জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আড়াই মাসের ব্যবধানে এ কমিটি ভেঙে দিলো দলটি।
সূত্র মতে, শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় সাইফুল আলম নিরবের নেতৃত্বে এবং তার সহযোগী ফখরুল ইসলাম রবিন, আবু সুফিয়ান দুলাল ওরফে ভিপি দুলাল এবং মশিউর রহমান সোহানের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে ও অফিসে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চলছে। আর নিরবের অনুসারী শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালামত খান সজীব, যুবদল নেতা আতিকুল ইসলাম অপুসহ আরও বেশকিছু নেতাকর্মী সেচ ভবন, খামারবাড়ি, শিক্ষা ভবন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ ভবন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল এবং ফার্মগেটের বিভিন্ন মার্কেট এবং ফুটপাথগুলোতে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাইফুল আলম নিরবকে পাওয়া যায়নি। ওদিকে চাঁদাবাজি ও দখলের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন স্থানে সাইফুল আলম নিরবের নামে সতর্কতামূলক মাইকিং করতেও দেখা গেছে।
এদিকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে বিএনপি। এরমধ্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের মালিকানাধীন গাড়িতে চড়ে নিজ এলাকা কক্সবাজারের পেকুয়ায় গিয়ে সংবর্ধনা নেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর হওয়ার পর নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে দল থেকে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। আরেক বিতর্কিত ডায়মন্ড ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালার সঙ্গে গুলশানের একটি হোটেলে বৈঠক করেন খোকন। এ ঘটনা প্রকাশ পেলে বিএনপি তার কাছেও ব্যাখ্যা চায়।
ওদিকে ৮ই সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে জনগণকে দুর্ভোগের মধ্যে না ফেলে মোটরসাইকেলের বহর বা অন্য কোনো যানবাহনে শোভাযাত্রা পরিহার করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিল বিএনপি। এ ছাড়া পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা থেকেও নেতাকর্মীদের বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। এই নির্দেশনা অমান্য করে সম্প্রতি নোয়াখালীতে নিজের নির্বাচনী এলাকায় মোটর শোভাযাত্রা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এজন্য তাকেও নোটিশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফরিদপুরের নগরকান্দায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের (বাবুল) দলীয় পদ স্থগিত করেছে বিএনপি।
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মানবজমিনকে বলেন, দলের শৃঙ্খলাবিরোধী ও নৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে বহিষ্কার, পদ স্থগিত ও কমিটি বাতিল করা হয়েছে। আর বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে অনেকে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করছেন। আবার জনগণকে দুর্ভোগের মধ্যে না ফেলে মোটরসাইকেলের বহর বা অন্য কোনো যানবাহনে শোভাযাত্রা পরিহার করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিল বিএনপি। এ ছাড়া পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা থেকেও নেতাকর্মীদের বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। এসব নির্দেশ যারা অমান্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সারা দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৫০০ অধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতসহ নানা শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১১ই আগস্ট বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) এডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে, ১৫ই আগস্ট দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবুল হাশিমকে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ৩১শে আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বগুড়া জেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম তাজুল ইসলামকে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১লা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এনামুল হক এনাম ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এম মামুন মিয়ার প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে, ১লা সেপ্টেম্বর সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. কাউছার তালুকদার এবং একই ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনিকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১লা সেপ্টেম্বর সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ত্রাণ তহবিলে তার দেয়া দশ লাখ টাকাও ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে ফেরত দেয়া হয়েছে, ৭ই সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর উত্তর পল্লবী থানাধীন ২নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি গোলাম মোস্তফা মাস্টারকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১২ই সেপ্টেম্বর মানুষকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কারণে পিরোজপুর জেলাধীন মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক রুহুল আমিন দুলালকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করে নাটোর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও নাটোর জেলাধীন সিংড়া উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব দাউদার মাহমুদ বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে শোভাযাত্রা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১লা সেপ্টেম্বর  দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থি অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও টঙ্গিবাড়ী থানাধীন দীঘিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. শামিম মোল্লা এবং মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন টঙ্গিবাড়ী থানার অন্তর্গত কামারখাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল ব্যাপারীকে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দল: ৯ই আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মাগুরা জেলাধীন সদর পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১২ই আগস্ট স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে, ২রা সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে  জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মুর্তজা খানকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ২রা সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মুর্তজা খানকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ১৯শে সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবক দল কুমিল্লা উত্তর জেলাধীন মুরাদনগর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মো. জয়নাল আবেদীন মোল্লাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
কৃষক দল: ৭ই আগস্ট জাতীয়তাবাদী কৃষক দল মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. তোজাম্মেল হক তোজাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ৭ই আগস্ট কৃষক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক  সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) মো. মোস্তফা কামালকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মো. বদিউল আলম বদরুলকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

mzamin

ওসমানী বিমানবন্দরের ২১১৬ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২ হাজার ১১৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সিলেটের এক ব্যবসায়ী নেতা। প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো স্মারকলিপিতে তিনি দাবি করেছেন- বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তাদের অবহেলা, অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের কারণে এ কাজ শেষ হয়নি। এ কারণে আন্তর্জাতিক এ বিমানবন্দরে নামতে পারেনি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটও। অভিযোগকারী ওই ব্যবসায়ী নেতা হলেন আব্দুল জব্বার জলিল কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল। সিলেটের একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তিনি নগরের যাত্রীক ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী। স্মারকলিপিতে ওই ব্যবসায়ী নেতা জানান- গত সরকারের আমলে ২ হাজার ১১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওসমানী বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও দেশি-বিদেশি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২০ সালের ২৭শে আগস্ট কাজ শুরু করে ২০২৩ সালের ২৭শে মে’র মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে আরও এক বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও মাত্র ২২ ভাগ কাজ হয়েছে। মাত্র ২২ ভাগ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর এর সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরা পড়ে প্রকল্পের নকশাটি ‘ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও)’র মানদণ্ডে হয়নি। সিলেটবাসীর ধারণা; প্রকল্পের অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যেই সংশ্লিষ্টরা জ্ঞাতসারেই নকশায় এই ত্রুটি রেখেছিলেন। ফলে শুরুতেই থমকে যায় সিলেটবাসীর স্বপ্নের ওই মেগা প্রকল্প। প্রকল্পে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী অযত্ন ও অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। মেয়াদ বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। স্মারকলিপিতে এ প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়; প্রকল্প শুরুর আগেই ইক্যুইপমেন্ট মোবিলাইজেশন বাবত অগ্রিম ২১২ কোটি টাকা গ্রহণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (বিইউসিজি)। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ২২ ভাগ কাজ হয়েছে বললেও আমার ধারণা এখনো প্রতিষ্ঠানটি ১০০ কোটি টাকার বেশি কাজ করেনি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো অগ্রিম নেয়া টাকার ভাগের হিসাবও দেয়নি। প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্নের লক্ষ্যে দু’জন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হলেও ‘সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি অব বাংলাদেশ-ক্যাব’র কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার জন্য তারা প্রকল্প থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। আব্দুল জব্বার বলেন- ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নকশায় ত্রুটি রেখে প্রকল্পের কাজ শুরুর একমাত্র কারণ ছিল প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে অর্থ আত্মসাৎ। এর প্রমাণও এখন মিলছে। প্রকল্পের প্রায় ৩০ ভাগ কাজ বাদ দিয়ে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২ হাজার ১১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯১৬ কোটি ৫০ টাকা। প্রকল্পের মূল নকশা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে ৩টি বোডিং ব্রিজ, কার্গো বিল্ডিং অ্যান্ড পার্কিং এরিয়া, কার্গো এনেক্স বিল্ডিং, ফায়ার ফাইটিং স্টেশন। প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন- তদন্ত করলে প্রকল্পের দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য প্রমাণাদি পাওয়া যাবে। স্মারকলিপিতে আব্দুল জব্বার জলিল বলেন- প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের অন্তত ২৫ লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করে রেমিটেন্স পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত প্রবাসীদের সিংহভাগই সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দা। মাতৃভূমি ও পরিবার-পরিজনের টানে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক প্রবাসী দেশে আসেন। তাই সিলেটের প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাতে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়। বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোও ওসমানী বিমানবন্দর থেকে অপারেট করার দাবি জানিয়ে আসছে। অতীতে বিভিন্ন সময় ওসমানী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও সিভিল এভিয়েশনের কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, ঢাকার কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজ ট্রাভেলস এজেন্সির মালিক ও হোটেল মালিক মিলে গঠিত সিন্ডিকেট সেই উদ্যোগ সফল হতে দেননি। কারণ সিলেট থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু হলে সিলেটের প্রবাসীরা সরাসরি সিলেট থেকে যাতায়াত করবেন। এতে ঢাকার ট্রাভেল এজেন্সি ও হোটেল মালিকরা সিন্ডিকেট করে অর্থ লুটপাটের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশ হবে দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত- সারা দেশের মানুষের মতো সিলেটবাসীরাও এমন স্বপ্ন দেখছেন। আপনার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের আপসহীন মনোভাবের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। সিলেটবাসী মনে করছেন; আপনার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দক্ষ নেতৃত্বে সকল দুর্নীতির শেকড় মূলোৎপাটন করে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার পাশাপাশি ওসমানীকে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হবে। পূণ্যভূমির আকাশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি উড়োজাহাজ উড়বে। স্মারকলিপিতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্প কাজের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত প্রকল্পটির কাজ সম্পন্নের উদ্যোগ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। আব্দুল জব্বার জলিল জানান- গতকাল তিনি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ স্মারকলিপি পেশ করেন। এর আগে রেজিস্ট্রার্ড এডি’র মাধ্যমেও তিনি স্মারকলিপির একটি কপি পাঠিয়েছেন। সিলেটের মানুষের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনার জন্য তিনি এ নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান।

Sunday, September 29, 2024

যেভাবে মার্কিন রাজনীতিবিদ, সামরিক কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের যৌনতার ফাঁদে ফেলতেন এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌন সাইবার চক্রের নারী সদস্য আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি বোস্টন এবং ওয়াশিংটনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যৌনতার ফাঁদে ফেলতেন। এক্ষেত্রে তিনি টার্গেট করতেন অভিজাত এলাকার রাজনীতিবিদ, সামরিক কর্মকর্তা, আইনজীবী এবং বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের। এরপর হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের অর্থ। বোস্টনের ফেডারেল আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ওই নারীর নাম হ্যান লি। শুক্রবার আদালতে হাজির হয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন ৪২ বছর বয়সী ওই নারী। এশিয়া থেকে ম্যাসাচুসেটস এবং ভার্জিনিয়ায় যাওয়া নারীদের পতিতাবৃত্তি এবং অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত করার অভিযোগও রয়েছে হ্যান লির বিরুদ্ধে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, যৌন সাইবার চক্রের ওই সদস্যকে গত বছরের নভেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেসময় এই চক্রের জুনমিউং লি (৩১), জেমস লি (৬৯) নামের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাদের সকলের বিরুদ্ধে যৌন-প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। হ্যান লি-কে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বিচারকরা বলেছেন, হ্যান লি অন্য নারীদের জোরপূর্বক যৌনতায় বাধ্য করতেন। যদিও লি তার জবানবন্দীতে এই অভিযোগ উল্লেখ করেননি।

আদালতের ভাষ্যমতে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ক্যামব্রিজ, ওয়াটারটাউন, ম্যাসাচুসেটস এবং ফেয়ারফ্যাক্স এবং ভার্জিনিয়াতে একাধিক যৌনালয় পরিচালনা করতেন হ্যান লি। যেখানে তিনি যৌনতার ভিত্তিতে একটি অপরাধ চক্র গড়ে তোলেন। তার এই যৌন সাম্রাজ্যের বিস্তারে তিনি এসব অঞ্চলে যাওয়া এশিয়ান নারীদের অবৈধভাবে যৌনকাজে প্ররোচিত করতেন। আদালত আরও জানিয়েছে, হ্যান লি এবং তার সহযোগীরা নারীদের বিমান সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে তাদের যৌনালয়ে রাত্রিযাপনে নিয়ে যেতেন। যেন তারা অন্য কোথাও রাতযাপন করতে না পারে। মূলত এসব অঞ্চলে পা রেখেই হ্যান লি চক্রের হাতে ধরা পড়তেন এশিয়া থেকে যাওয়া নারীদের অনেকে। ব্যবসার গোপনীয়তা রক্ষা করতে তারা মূল কক্ষের বাইরে রাখতেন ভুক্তভোগী নারীদের। সেখান থেকে তাদের জোরপূর্বক এই কাজে বাধ্য করা হত বলে জানিয়েছে আদালত।
এই অবৈধ যৌনকর্মের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে হ্যান লি ঘণ্টাপ্রতি ৩০০ থেকে ৬০০ ডলার নিতেন। তিনি নগদ অর্থ সংগ্রহ করতেন। তারা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য দুটো ওয়েবসাইট ব্যবহার করতেন। উভয় ওয়েবসাইটই অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া যৌনকাজের জন্য একটি ফ্রন্ট হিসাবে উচ্চমানের স্টুডিওতে পেশাদার ফটোগ্রাফির জন্য নগ্ন মডেলের বিজ্ঞাপন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। হ্যান লির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ হচ্ছে, তিনি স্থানীয় যৌনালয়ের ফোন নম্বরগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করতেন যার মাধ্যমে তার চক্র যাচাইকৃত গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করতেন। বার্তার মাধ্যমে তারা সময় নির্ধারণ করতেন। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য তারা তাদের বিভিন্ন প্যাকেজের কথা জানাতেন। সেখানে নারী ভেদে ঘণ্টা হিসেবে অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত করা হতো। যৌনবৃত্তির এসব আয় গোপন করার জন্য, হ্যান লি ব্যক্তিগত এবং তৃতীয় পক্ষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এবং পিয়ার-টু-পিয়ার ট্রান্সফারে কয়েক হাজার ডলার নগদ অর্থ জমা করেছিলেন বলে প্রসিকিউটররা জনিয়েছেন। আদালতের অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়েছে যে, তারা নিয়মিতভাবে যৌনবৃত্তি থেকে পাওয়া নগদ আয়ের কয়েক হাজার ডলারের উৎস গোপন করার জন্য মানি অর্ডার করত। এই মানি অর্ডারগুলোর মাধ্যমে তখন ম্যাসাচুসেটস এবং ভর্জিনিয়ায় অবস্থিত যৌনালয়ের ভাড়া মেটাতেন হ্যান লি।

mzamin

প্রায় অর্ধেক জীবন কেটে গেলো জেলে! ৪৬ বছর পর নির্দোষ প্রমাণিত

প্রায় অর্ধশতাব্দি জেল খাটার পর এক ব্যক্তিকে নির্দোষ ঘোষণা করে দণ্ড থেকে অব্যাহতি দিলো জাপান। কোনও দোষ না করেই নিজের জীবনের অর্ধেকটা সময়ই কাটিয়ে দিলেন জেলের মধ্যে। জাপানের বাসিন্দা প্রাক্তন বক্সার ইওয়াও হাকামাদা বর্তমানে তার বয়স ৮৮ বছর।  ১৯৬৮ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তার বস, বসের স্ত্রী এবং তাদের দুই সন্তানকে হত্যা করার অভিযোগে। যে ঘটনা পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেই সময় একটি স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে হাকামাদাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং তাকে কোনও আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়াই জেরা করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ইয়াও হাকমাদাকে ১৯৬৮ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই দণ্ড নিয়ে সাবেক বক্সিং খেলোয়াড় হাকামাদা ৪৬ বছর কারাগারে ছিলেন। মামলায় নতুন প্রমাণ হাজিরের পর ২০১৪ সালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং পুনরায় বিচারের আদেশ দেওয়া হয়। হাকামাদাকে যেসব বিচারকরা শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছিলেন , তাদের মধ্যেই এক বিচারক ২০০৮ সালে বলেছিলেন যে হাকামাদা নির্দোষ এবং তার পুনর্বিচারের দাবি করেছিলেন। ২০১৪ সালে একটি কোর্ট হাকামাদাকে মুক্তি দেয় এবং পুনর্বিচার মঞ্জুর করে। কোর্ট জানায়, নতুন ডিএনএ পরীক্ষার করে জানা গিয়েছে প্রমাণ হিসাবে ব্যবহৃত পোশাকের রক্ত হাকামাদার রক্তের ডিএনএ -এর সাথে মেলেনি। যদিও পুনর্বিচার শেষ হতে আরও ১০ বছর সময়ে লেগে গিয়েছিল। অবশেষে, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ শিজুকা জেলা আদালত হাকামাদাকে বেকসুর খালাস দেয়। হাকামাদা ধারাবাহিকভাবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছিলেন। তার দাবি ছিল, তদন্তকারীরা তাকে দোষ স্বীকার করতে বাধ্য করেছে। হাকামাদার আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ প্রমাণ নিয়ে জালিয়াতি করেছে। শিজুওকা জেলা আদালতের প্রধান বিচারক কোশি কুনি জানিয়েছেন, হাকামাদার ‘স্বীকারোক্তি’ জোর করে আদায় করা হয়েছে। হত্যার সময় হাকামাদা যে পোশাক পরেছিলেন বলে ওই সময় কৌঁসুলিরা দাবি করেছিলেন সেটি-সহ তিনটি প্রমাণ জাল করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, “তদন্তকারীরা জামাকাপড়ে রক্ত লাগিয়ে জালিয়াতি করেছে। অমানবিক মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা দিয়ে হাকামাদার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। জাপানের এই বিচারব্যবস্থা পুরো বিশ্বে সমালোচিত হয়েছে।

সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস

mzamin

কি করবে হিজবুল্লাহ, ইসরাইল, ইরান!

দীর্ঘদিন হিজবুল্লাহকে শক্ত ও দক্ষ হাতে নিয়ন্ত্রণ করেছেন হাসান নাসরাল্লাহ। কিন্তু ইসরাইলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হওয়ার পর গ্রুপটি মুখে যতই বলুক তারা আরও বলিয়ান হয়ে লড়াই অব্যাহত রাখবে, প্রকৃতপক্ষে তারা যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন নতুন করে তাদেরকে নতুন নেতার অধীনে সংগঠিত হতে হবে। নতুন নেতা নির্বাচন করলে তিনি দলকে হাসান নাসরাল্লাহর মতো দক্ষ হাতে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য উপায়ে গ্রুপকে চালাতে সক্ষম হবেন কিনা- তাও চিন্তার বিষয়। এমন অবস্থায় আলোচনায় হিজবুল্লাহ, ইসরাইল ও ইরান। হাসান নাসরাল্লাহর সঙ্গে নিহত হয়েছেন ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের একজন ডেপুটি কমান্ডার। এমনিতেই হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেয় ইরান। তাদের অভিজাত রেভ্যুলুশনারি গার্ডের কমান্ডার, যিনি একজন জেনারেল পদধারী ছিলেন, তার মৃত্যু ইরান কিভাবে নেয় তা দেখার বিষয়। এখানে স্মরণ করা যেতে পারে সিরিয়ার দামেস্কে ইরানের কন্স্যুলেটে এর আগে হামলা চালিয়েছিল ইসরাইল। তাতে ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের বড় মাপের একজন কমান্ডার নিহত হন। তার বদলা নেয়ার হুমকি দেয় ইরান। এক পর্যায়ে প্রায় ৩০০ ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইলে। তবে তার বেশির ভাগই আকাশে নিষ্ক্রিয় করে দেয়ার দাবি করে ইসরাইল। আবার তাদের একজন কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। এবার ইরান কি করবে তা পরিষ্কার নয়।

অন্যদিকে হাসান নাসরাল্লাহকে শুক্রবার রাতে হত্যার পর থেকে লেবাননের ওপর অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। হিজবুল্লাহ যেন পুনর্গঠিত হতে না পারে এ জন্য তারা টার্গেট করে করে হামলা করছে। তবে বেশির ভাগ হামলা হচ্ছে সাধারণ জনবসতিতে। এ বিষয়ে বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিনিধি ফ্রাঙ্ক গার্ডনার বলছেন, হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যা এবং লেবাননে ভয়াবহ হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যকে ব্যাপক ও অধিক পরিমাণে ধ্বংসাত্মক এক যুদ্ধের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে ইসরাইল। এতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রও যুক্ত হয়ে পড়তে পারে। এখন কি ঘটতে পারে? এমন প্রশ্ন করে তিনি নিজেই উত্তর দিচ্ছেন- বিষয়টি ব্যাপকভাবে নির্ভর করে তিনটি মৌলিক প্রশ্নের উপর। তার প্রথমটি হলো- হিজবুল্লাহ এখন কি করবে? হামলার পর হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে হিজবুল্লাহ। তাদের কমান্ড কাঠামোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের কমপক্ষে এক ডজন কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। বিস্ফোরণে তাদের পেজার ও ওয়াকিটকিগুলো ধ্বংস হয়েছে। বিমান হামলায় বেশির ভাগ অস্ত্র ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মধ্যপ্রার্চের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল বাশা বলেন, হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হওয়া এই গ্রুপের জন্য বড় ক্ষতি। বিশেষ করে অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে গ্রুপটি। অল্প সময়ের মধ্যে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু ইসরাইল বিরোধী এই গ্রুপটি হঠাৎ করেই লড়াই বন্ধ করবে বা ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করবে- এমনটা ভাবাও ভুল। এরই মধ্যে হিজবুল্লাহ লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে। এখনও তাদের আছে হাজার হাজার যোদ্ধা। তাদের অনেকে সিরিয়া যুদ্ধ থেকে ফিরেছেন। তারা প্রতিশোধ নিতে চাইছেন। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্রও আছে তাদের হাতে। তার মধ্যে বেশির ভাগই দূর পাল্লার। আগে থেকে নির্দেশিত স্থানে তা হামলা চালাতে পারে। এমনকি তেল আবিব ও অন্যান্য শহরেও আঘাত করতে সক্ষম এসব অস্ত্র। শিগগিরই এসব অস্ত্র ধ্বংস করে দিতে পারে ইসরাইল। তাই তার আগেই এগুলো ব্যবহার করার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যদি তারা এই অস্ত্র ব্যবহার করে ইসরাইলের ওপর হামলা চালায়। সেখানে বেসামরিক মানুষজন নিহত হন, তাহলে ইসরাইলের জবাব হতে পারে আরও ভয়ঙ্কর। লেবাননের অবকাঠামো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারে তারা। এমনকি সেই লড়াই ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো- ইরান কি করবে? হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যা করা হিজবুল্লাহর জন্য যেমন বড় আঘাত তেমনি ইরানের জন্যও বিরাট আঘাত। এ হত্যাকাণ্ডের পর ৫ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান। ইমার্জেন্সি সতর্কতা হিসেবে তারা তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। তেহরানে এক গেস্টহাউজে জুলাই মাসে হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়েকে হত্যা করেছে ইসরাইল। এই হত্যার এখনও কোনো বদলা নেয়নি ইরান। কিন্তু এখন যা ঘটছে তাতে ওই অঞ্চলে যারা কট্টরপন্থি আছেন, তাদেরকে কিছু একটা জবাব দেয়ার বিষয়ে ভাবাতে বাধ্য করবে। মধ্যপ্রাচ্যে ভারি অস্ত্রে সজ্জিত মিলিশিয়া মিত্র আছে। একে পশ্চিমারা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিসট্যান্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। হিজবুল্লাহ ছাড়াও ইয়েমেনে আছে হুতিরা। সিরিয়া ও ইরাকে আছে বহু গ্রুপ। ইসরাইল এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালাতে এসব গ্রুপকে উৎসাহিত করতে পারে ইরান। তবে ইরান যেভাবেই এমন প্রতিক্রিয়া দেবে, তাতে একটি যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা আছে।
ইসরাইল কি করবে? ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র সহ কমপক্ষে ১৩টি দেশ লেবাননে ২১ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপন করলেও ইসরাইল পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে সামরিক অভিযান স্থগিত করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তারা মনে করছে, হিজবুল্লাহ এখন পশ্চাৎপদে আছে। তাই তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি বিনাশ না করা পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত রাখতে চায়। এখন দেখার বিষয় লেবাননে স্থল বাহিনী না পাঠিয়ে হিজবুল্লাহর হুমকি থেকে রেহাই পেতে পারে ইসরাইল। তাই স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি পদাতিক বাহিনীর একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস। কিন্তু সর্বশেষ যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহ ১৮ বছর সময় পেয়েছে। এ সময়ে পরবর্তী যুদ্ধের জন্য তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে। মারা যাওয়ার আগে শেষ প্রকাশ্য জনসভায় হাসান নাসরাল্লাহ তার অনুসারীদের বলে যান, ইসরাইল বাহিনী যদি লেবাননের দক্ষিণ দিয়ে প্রবেশ করে তা হবে হিজবুল্লাহর জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
এ অবস্থায় ফ্রাঙ্ক গার্ডনার বলছেন, লেবাননে প্রবেশ করা আইডিএফের জন্য তুলনামূলক সহজ। কিন্তু গাজার মতো সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে অনেক লম্বা সময় লাগবে।

mzamin