Saturday, March 29, 2025
আল কুদস দিবস ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতায় করণীয় by শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজ গমনের সময় মসজিদুল আকসায় সব নবী-রাসুলের ইমামতি করে নামাজ আদায় করেন। এতে তিনি ইমামুল আম্বিয়া (সব নবীর ইমাম) ও সাইয়্যিদুল মুরসালিন (সব রাসুলের নেতা) হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। ফিলিস্তিনে বহু নবী-রাসুলের স্মৃতি রয়েছে, এর আশপাশে অনেক নবী-রাসুলের সমাধি রয়েছে। এটি দীর্ঘকালের ওহি অবতরণের স্থান, ইসলামের কেন্দ্র এবং ইসলামি সংস্কৃতির উৎসভূমি ও ইসলাম প্রচারের লালনক্ষেত্র। এই পবিত্র ভূমির ভালোবাসা প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত রয়েছে।
হজরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর তাঁর দ্বিতীয় পুত্র হজরত ইসহাক (আ.)-এর সন্তান হজরত ইয়াকুব (আ.) ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে আল আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। এরপর তাঁর পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.)-এর বংশধর হজরত দাউদ (আ.)-এর সন্তান হজরত সুলাইমান (আ.) তা পুনর্নির্মাণ করেন। তিনি রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জেরুজালেম নগর উদ্বোধন করেন।
মানবজাতির প্রথম কিবলা ছিল কাবা শরিফ, তবে মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণের পর এটি কিবলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) নবুয়ত প্রকাশের সময় বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকেই নামাজ পড়তেন। মদিনায় হিজরতের প্রায় দেড় বছর পর এই কিবলা পরিবর্তিত হয়ে পুনরায় কাবা শরিফ কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়। যার স্মারক হিসেবে মদিনায় মসজিদে কিবলাতাইন (দুই কিবলার মসজিদ) এখনো বিদ্যমান। এ ঘটনাকে তাহবিল কিবলা বা কিবলা পরিবর্তন বলা হয়। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৪২-১৫১)।
এ কারণেই বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের প্রথম কিবলা হিসেবে পরিচিত। হাদিস শরিফে এসেছে, কাবা শরিফ তথা মসজিদুল হারামে নামাজের সওয়াব এক লাখ গুণ, মসজিদে নববিতে ৫০ হাজার গুণ এবং বায়তুল মুকাদ্দাসে ২৫ হাজার গুণ। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ইবাদতের উদ্দেশ্যে তিনটি মসজিদে সফর করা যায়—মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববি ও মসজিদুল আকসা। (মুসলিম)
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে ৬৪৮ সালে বায়তুল মুকাদ্দাস, জেরুজালেমসহ পুরো ফিলিস্তিন মুসলমানদের অধিকারে আসে। ১০৯৬ সালে খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে। ১১৮৭ সালে মুসলিম বীর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (রহ.) পুনরায় জেরুজালেম মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর পর থেকে খ্রিষ্টান ও ইহুদি চক্র ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এই উদ্দেশ্যে ইহুদিরা তৎকালীন তুর্কি সালতানাতের শাসক সুলতান আবদুল হামিদের কাছে ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপনের অনুমতি চায়, কিন্তু তিনি তাদের এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন।
১৯১৭ সালে ব্রিটিশরা ফিলিস্তিন দখল করে এবং ১৯২০ সালে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ইহুদিরা সেখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন শুরু করে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসকেরা অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিনকে মুসলমান ও ইহুদিদের মধ্যে ভাগ করে দেয়। ১৯৪৮ সালের ১৫ মে বেলফোর ঘোষণা অনুযায়ী জায়নবাদী অবৈধ ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন শুরু হয়, যা আজও চলছে।
১৯৬৭ সালে ইসরায়েল জোরপূর্বক মসজিদুল আকসা দখল করে নেয়। এরপর মুসলমানরা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম শুরু করে। দখলদার ইসরায়েল একের পর এক মুসলিম এলাকা দখল করে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে এবং হত্যা, গুম, নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইসরায়েলের ঘৃণ্য পরিকল্পনা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের প্রতিরোধ আন্দোলনের কারণে সম্পূর্ণ সফল হতে পারেনি। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।
১৯৭৯ সাল থেকে আল আকসা মসজিদ মুক্তির লক্ষ্যে বিশ্ব মুসলিম প্রতিবছর রমজানের শেষ শুক্রবার ‘আল কুদস দিবস’ পালন করে আসছে। এখন এটি ফিলিস্তিন মুক্তির এবং বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সম্মিলিতভাবে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো, আর বিভক্ত হয়ো না। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩)।
* মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
* যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম
![]() |
| জেরুজালেমে মসজিদুল আকসায় প্রার্থনারত ফিলিস্তিনিরা। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আল-আকসায় চোখের জলে আল্লাহর সাহায্য চাইলেন ফিলিস্তিনিরা
এ সময় অনেকেই জানান, পশ্চিম তীরের পবিত্র এই মসজিদে আসার পথে নানা স্থানে বাধার মুখে পড়েছেন তারা। তবুও ইসরায়েলি বাহিনী গুলির ভয় উপেক্ষা করে প্রাণের চেয়ে প্রিয় বায়তুল মুকাদ্দাসে এসেছেন তারা।
পশ্চিম তীরের বাসিন্দা হুওয়াইদা মাজিদা বলেন, আমি অনেক বাধা পেরিয়ে আল-আকসায় পৌঁছেছি। এখানে লাইলাতুল কদরের রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার নিয়ত করেছি। যেন গাজায় আমার পরিবার এবং সেখানকার সবার জন্য দোয়া করতে পারি। দোয়া করব যেন এই বিপর্যয় ও যুদ্ধের অবসান ঘটে।
শবেকদরের রাতে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতে কাণায় কাণায় পূর্ণ হয় বায়তুল মোকাদ্দাসের প্রাঙ্গণ। অনেকেই জানান, দূরত্ব অনেক বেশি হলেও যে মসজিদে নবী (সা.) নামাজ আদায় করেছেন, সেখানে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ আদায় ও দোয়া করার জন্য সব কষ্ট ও দূরুত্ব পেছনে ফেলেছেন তারা।
পশ্চিম তীরের আরেক বাসিন্দা হামজা হামুদ বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমি এখানে এসেছি। আমরা এসেছি পবিত্র শবেকদরে বরকতময় এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে। মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে ইসলামী উম্মাহর কল্যাণ এবং সকল মানুষের মঙ্গলের জন্য দোয়া করেছি।
![]() |
| আল্লাহর কাছে দোয়ারত এক মুসল্লি। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সত্যের মুখোমুখি আসিফ নজরুল
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে আসিফ নজরুলের নাম উঠেছিল কিনা-এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘৫ই আগস্ট রাত ১টার দিকে বঙ্গভবন থেকে এসে কার্জন হলের ওখানে নাহিদ, আফিস ও মাহফুজদের সঙ্গে দেখা হয়। আমিতো ভেবেছিলাম স্যার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) প্রধান উপদেষ্টা হবেন না। তখন আমি সালেহউদ্দিন, ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্যারের কথা বলেছিলাম। ৬ই আগস্ট সকাল বেলা অন্য একটা পক্ষ থেকে আলোচনা করা হয়। তারা বলেছিল-ইউনূস স্যার না হলে কে হতে পারেন। সেই তালিকাতেও আমার নাম ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টাদের নাম নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমি উপদেষ্টাদের যে কয়টা নাম বলেছিলাম তারা সেখানে কয়েকটা রেখেছে, কয়েকটা রাখে নাই। ২০ জন উপদেষ্টা যদি থাকে এরমধ্যে ১০ জনের নাম আমি বলিই নাই। আমার সঙ্গে কিংবা সালেহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে ছাড়া ইউনূস স্যারের তেমন কারো সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। স্যারের সঙ্গে আমার ২০ বছরের ঘনিষ্ঠতা।’
‘আপনি কতটা ভারতপন্থি, কতটা ভারত বিদ্বেষী’ আসিফ নজরুলের কাছে এমন প্রশ্ন রাখেন উপস্থাপক। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাকে পাকিস্তানপ্রেমী বলে আমার রুমে আগুন দেয়া হয়েছিল। আমার রুমে তালা দেয়া হয়েছে। হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। রাতারাতি আমি হয়ে গেলাম ভারতের ‘দালাল’। জামিল সাহেব যখন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তখন ২৪ ঘণ্টা প্রচারণা চলল- আমি ভারতের দালাল। তাজুল যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেলো তখন ২৪ ঘণ্টা প্রচারণা চলল-আমি পাকিস্তানের দালাল। আমি ক্লিয়ারলি বলি আমি বাংলাদেশের ‘দালাল’। আগে আমাকে কেউ অ্যাটাক করার আগে ৫০ বার ভাবতো। এখন দেখেন আপনার প্রোগ্রামে আমি আট মাস পর এসেছি। কিন্তু আগে প্রতি মাসে একবার করে আসতাম। এখন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কেউ যদি আমাকে বলে, ভাই আপনি নাকি আমেরিকা চলে গেছেন? আমি কী বলব, আমি ফোনটা কেটে দেবো। কিন্তু জবাবদিহিতা অন্য জিনিস। গালাগালি, মিথ্যাচারের উত্তর দেয়া যায় না।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আগে মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে আক্রমণকারী ছিল সরকার ও সরকার দলের ক্যাডাররা। এখন মত প্রকাশের শত্রু হচ্ছে জনগণ। এখন জনগণের একটা অংশ আরেকটা অংশকে কথা বলতে দেয় না। আমাদের সরকারের সমালোচনাও হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে ৪ মাসে ১৭ টা ভিডিও করা হয়েছে। ধর্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে যতো বাজে কথা শুনেছি তার থেকে বেশি কথা গত সাত মাসে শুনেছি। কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে নানা অস্থিরতা থাকে, অনিশ্চয়তা থাকে। অতিরিক্ত স্বাধীনতা, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এসব হচ্ছে। জনগণের একটা অংশ যখন আরেকটা অংশকে অ্যাটাক করছে। মব শুরু হয়েছে। এটাকে দমন করার জন্য সরকারের ব্যর্থতা থাকতে পারে, কিন্তু প্রণোদনা নেই। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর একেকটা কার্ভ আছে। কখনো মনে হয় কমেছে, কখনো মনে হয় বেড়েছে। যদি পরিসংখ্যান দেখেন অপরাধ প্রবণতা কিন্তু বাড়ে নাই। অনেকক্ষেত্রে কমেছে। কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক যন্ত্রণা এতো রক্ত দেয়ার পর কেনো এটা হবে? এখন এই রোগটা বেশি অনুভূত হয়। বাংলাদেশে সবথেকে বেশি রাজনীতিকরণ করা হয়েছে পুলিশে। ঘোষণা দিয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ, ছাত্রলীগের পুলিশ নেয়া হয়েছে না! এই লোকগুলো কি রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যাবে? এটা সম্ভব না। পুলিশের আপার টায়ারের সবাই আওয়ামী লীগের।’
৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলন বিপ্লব নাকি অভ্যুত্থান-এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বলব দুটোর মাঝামাঝি। এটা অভ্যুত্থান না, গণঅভ্যুত্থান অবশ্যই কিন্তু এরমধ্যে বিপ্লবের এলিমেন্ট ছিল। কিন্তু বিপ্লব হয়নাই। হয়ত এটা আরো লিঙ্গার করলে, মানুষের মধ্যে রেজিস্টেন্স আসলে মানুষের মধ্যে একটা প্রতিরোধ আসলে তাহলে বিপ্লব হতো। এরশাদ ৯ বছরে মেরেছে ৪০ জন মানুষ। আর শেখ হাসিনা সরকার ২ সপ্তাহে মেরেছে কমপক্ষে এক হাজার মানুষ। নির্মম হত্যাকারী।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করতে বলছেন। আওয়ামী লীগের সব থেকে যে ভালো নেতা সেটার পেছনেও একটা কুৎসিত নির্বাচনে নির্বাচিত। ভুলে যান আমি উপদেষ্টা। আমি মানুষ হিসেবে বলছি আওয়ামী লীগকে যদি নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হয়, আওয়ামী লীগ আবার দেশটাকে দোযখ বানানোর চেষ্টা করবে। তার কাছে এতো টাকা আছে। সবথেকে বড় কথা তাদের মধ্যে কোনো রিমোর্টস নাই। তাদের দেশে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ অন্ধ সাপোর্টার রয়েছে। জাতিসংঘের রিপোর্টে ইনক্লুসিভ ইলেকশনের কথা বলে নাই। তারা বলেছে দলকে যাতে নিষিদ্ধ করা না হয়। একটা দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত কি উচিত না তা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়ার বিষয়ে মানুষের ব্যাপক আপত্তি আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সেনাপ্রধান যদি এই বিষয়টি নিয়ে কথা না বলেন ভালো হয়। এসব নিয়ে কথা বললে সমালোচনা আসবে। বাহিনী চিফ যদি এসব বলে সমালোচকদের ইনভাইট করেন তাহলে এটা দেশের জন্য ভালো না।’
এই সরকারে কার শেয়ার কতখানি-এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রদের কাছে যেটা শুনেছি, তারা বিএনপির মতামত চেয়েছে। একজনকে তারা চেয়েছিল, কিন্তু বিএনপি থেকে অবজেকশন আসার কারণে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। আবার একজন বিএনপির কথায় আসছেও। জামায়াতের কথাতেও আসছে। বাংলাদেশে কেয়ারটেকার সরকার এতো দ্রুত গঠন হয় নাই। ৫ই আগস্টই শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবে এটাইবা কতজন জানতো?’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সরকারের নানা কম্পোনেন্ট থাকে। যদি ইউনূস স্যারের কথা বলেন, তাহলে ১০০ ভাগ নিরপেক্ষ। ওনার ডেপথ অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং অসাধারণ। আবার আমার পরিবারের উদাহরণ দিয়ে বলি-আমার এক ভাই আওয়ামীপন্থি। আবার আমি অ্যান্টি আওয়ামী লীগ। আবার আমার আরেক ভাই ইসলামিক লাইনে ঝোঁক রয়েছে। সরকারের মধ্যেও সেটা থাকা স্বাভাবিক। কেউ আওয়ামীপন্থি নাই, কিন্তু কারও বিএনপি, জামায়াতের মধ্যে মায়া থাকতে পারে। কারো বামদের প্রতি মায়া থাকতে পারে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের নিয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতি সরকারের আশীর্বাদ রয়েছে কিনা-এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের কেউ ছাত্রদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হবে না। যদি হয় তাহলে আমি মনে করব আমার সারা জীবনের জাজমেন্ট ভুল। আমার সাথে মির্জা ফখরুল ভাইয়ের একটা ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমাকে ফোন দিয়ে রাগারাগি করারও অধিকার আছে তার। এই ছাত্ররা নিজের জীবন বিপন্ন করে মুক্তির স্বাদ আমাদের দিয়েছে। তাদের প্রতি আমাদের একটা ভালোবাসা থাকবে না! ছাত্ররা পরমর্শের জন্য এলে আমি অবশ্যই দেবো। যেকোনো দল এলেও আমি দেবো। আমি অন্তর থেকে চাই তারা একটা পরিশুদ্ধ বিকল্প রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলুক। ফান্ডিংয়ের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে একটা রেকর্ড গড়ে তুলুক। প্রকাশ্যে চাঁদা নাও। ভাই আমি এই দলের... বৃটেনে আমেরিকায় যেরকম হয়। আমার বুদ্ধিবৃত্তিক হেল্প লাগলে এটার সঙ্গে সরকারের কাজের কোনো সম্পর্ক নাই। আমরা শেখ হাসিনার আমলে মালিকানার রাজনীতি। তারা মুক্তিযুদ্ধকে পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করতো। যদিও শেখ পরিবারের কেউ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল কিনা সন্দেহ আছে। আরেকটা হলো ট্যাগ দেয়ার রাজনীতি। এই প্রবণতা ছাত্রদের বা বিএনপি/জামায়াতেরও হয়তো কিছুটা আছে। আমরা ২৫/২৬ বছর বয়সে কতো ভুল করতাম। ওরাতো একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসছে। সারজিস ১০০ গাড়ি নিয়ে প্রোগ্রাম করেছে, ডা. তাসনিম জারা প্রশ্ন তুলেছে এটার ব্যাখ্যা করো। এটাওতো প্রচলিত রাজনীতিতে ছিল না। তাদের প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই আমরা বেশি কষ্ট পাই। হাসনাত যে পোস্টটা করেছে, তাদের দলের তিনটা মানুষ প্রতিবাদ করেছে। এটাও নতুন চর্চা। দেখি তারা ভুল করতে করতে শেখে নাকি!’
ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘মাহফুজ মবের বিরুদ্ধে যেভাবে অবস্থান নিয়েছে, যার কারণে নিন্দিতও হয়েছে। মাত্রাছাড়া অবস্থায় যাওয়ার পর সরকার ব্যবস্থাও নিয়েছে। বলতে পারেন প্রতিরোধের ব্যবস্থা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। ১৯৮৫ সাল থেকে সরকারকে আমি কাছ থেকে দেখছি। ১৯৮৫ সাল থেকে কোনো সরকার এতো ডিফিকাল্ট সময় পার করেনি। ফলে আমাদের ভুল হবেই। আমরা দুর্গম সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছি একটা দুর্বল জাহাজ নিয়ে। জাহাজটাকে ঠিক রাখার জন্য ড. ইউনূস সজাগ আছেন। মৌলবাদের তকমা লাগলে ওনার নিজেরও ক্ষতি হবে। দেশেরও ক্ষতি হবে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়ে করা ‘কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন’ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সামনের বছর রোজা, বন্যার আগে নির্বাচন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ধারণা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় নির্বাচন হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এটা ক্ষমতা না, এটা দায়িত্ব। জুলাই আগস্টের আগে খালি সমালোচনা করতাম, দোষ ধরতাম মানুষ পাগলের মতো ভালোবাসতো। আর এখন সারাদিন কাজ করি আর সারা দিন মানুষের কাছে বকা খাই। শেখ হাসিনার আমলে মনের শান্তি ছিল না কিন্তু এই জীবনটা দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছা নাই। শেষ পর্যন্ত আমাদের সময়ের বিচারে মানুষ আমাদের ভালোবাসবে। গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা থাকে। আমার ধারণা শেষ পর্যন্ত মানুষ আমাদের প্রতি এতো অখুশি থাকবে না।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাইবার প্রতারণায় সব হারিয়ে আত্মহত্যা দম্পতির
তিনি লিখেছেন, এর মধ্যে বিরা হলেন নয়া দিল্লির একটি টেলিকম ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা। তিনি সান্তান নাজারেথকে জানান যে, তার নামে প্রতারণার মাধ্যমে একটি সিম কার্ড তোলা হয়েছে। সেটা ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রান করা হচ্ছে। অবৈধ বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে ওই ফোনকলে যাদবকে ধরিয়ে দেন বিরা। বলা হয়, যাদব হলেন ক্রাইম ব্রাঞ্চের একজন কর্মকর্তা। সান্তান নাজারেথের সহায় সম্পত্তির বিস্তারিত জানতে চান। বলেন,সিম কার্ডের কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ফাঁদে পা দিয়ে তাদেরকে ৫০ লাখ রুপি তুলে দেন সান্তান নাজারেথ। কিন্তু তারা আরও অর্থ দাবি করতে থাকে।
নাজারেথ সুইসাইড নোটে আরও লিখেছেন, তিনি এ জন্য সোয়া সাত লাখ রুপি গোল্ড লোন নিয়েছেন। এর সুদ দেয়ার কথা ৪ঠা জুন। এই অর্থ দিতে গেলে স্বর্ণ বিক্রি করতে হবে। এছাড়া তিনি বন্ধুদের কাছ থেকেও অর্থ ধার করেছেন। স্বর্ণ, কানের রিং বিক্রি করে লোন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। সান্তান নাজারেথ লিখেছেন- এখন আমার বয়স ৮২ বছর। আমার স্ত্রীর ৭৯। আমাদেরকে দেখাশোনা করার মতো কেউই নেই। তাই কারো অনুগ্রহের ওপর আমরা বেঁচে থাকতে চাই না। এ জন্যই আমাদের জীবন শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সঙ্গে তিনি লিখেছেন, তাদের দেহ যেন একটি মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা তা নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন।
ওদিকে তার বাড়ি থেকে তার ফোন, ছুরি, আত্মহত্যার নোট আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। বেলাগাভির এসপি ভীমাশঙ্কর গুলেড বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আমরা একটি আত্মহত্যার মামলা করেছি। তারা যে দু’জনের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। বাকি তদন্ত চলছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নদী সমস্যায় চীনের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চেয়েছে বাংলাদেশ, থাকছে তিস্তা পরিকল্পনাও
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, ড. ইউনূস শত শত নদী দ্বারা বেষ্টিত বাংলাদেশের নদী ও পানি ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য চীনের কাছ থেকে পঞ্চাশ বছরের মাস্টারপ্ল্যান চেয়েছেন। তিনি বিশেষ সহায়তার জন্য তিস্তা নদী ব্যবস্থা এবং ঢাকার আশেপাশের নদীগুলির দূষিত পানি পরিষ্কার করার কথা উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা চীনের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলেছেন, কিছু জটিল পানি সমস্যা পরিচালনায় দেশটি আশ্চর্যজনকভাবে কাজ করেছে। চীনা মন্ত্রীকে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও আপনার মতো একই সমস্যা আছে। তাই, আপনি যদি আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন তবে আমরা খুশি হব।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ দেশ; আমাদের এমন একটি দেশ আছে যেখানে শত শত নদী রয়েছে। পানি আমাদের জীবন দেয়, কিন্তু কখনও কখনও এটি শত্রুতে পরিণত হয়। এখন যেহেতু জনসংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যে এটি বাস্তুতন্ত্রের কী ধরণের ক্ষতি করে।
চীনকে পানি ব্যবস্থাপনার কর্তা হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের চীন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে এবং চীনকে পানি ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের সাথে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে চীনা মন্ত্রী বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দক্ষতা ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পানি ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনার বিষয়; চীনও একই ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর মাস্টার প্ল্যানের কথাও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে চার দিনের সফরে চীনে আছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। ফলে এই সফরকে বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরে তিনি পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য চীনা নেতা এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
থাইল্যান্ডের মতো ভূমিকম্পে ঢাকার কী পরিণতি হতে পারে by রাফসান গালিব
শুক্রবার থাইল্যান্ডের প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষের শহর ব্যাংকক কাঁপিয়ে দেওয়া এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের মান্দালয়ে। ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ৭। ব্যাংককে ভবনধসে চাপা পড়েছেন শতাধিক মানুষ।
মিয়ানমারে কয়েকটি শহরে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। সেখানেও অনেক বহুতল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
মিয়ানমারের এ ভূমিকম্প থাইল্যান্ড ছাড়াও বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনামের বিভিন্ন দেশে ও শহরে অনুভূত হয়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট হয়, ভূমিকম্পটির প্রভাব কী বিস্তৃত ছিল।
এ ভূমিকম্পের ধাক্কা বাংলাদেশে অনুভূত হয় শুক্রবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে। উৎপত্তিস্থল ৫৯৭ কিলোমিটার দূরে হলেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এর বেশ ‘কম্পন’ দেখি আমরা। কে ভূমিকম্প টের পেল আর কে টের পেল না, এ নিয়ে হাস্যরস তো আছেই। কিন্তু এই দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কাও উঠে এসেছে, থাইল্যান্ডের মতো ভূমিকম্পের ধাক্কায় ঢাকার কী পরিণত হতে পারে?
ভূমিকম্প-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারের ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প বাড়লেও গত ২০ বছরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, এমন নজির নেই। তাই এবারের এ ভূমিকম্প বেশ বড় ভূমিকম্প। যে কারণে এর প্রভাব বিস্তীর্ণ এলাকায় পড়েছে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বের সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং হিমালয়ের পাদদেশের এলাকাগুলো ভূমিকম্পপ্রবণ। দেখা যাচ্ছে, এসব স্থানে ভূমিকম্প বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে।
এখন আরও বড় ভূমিকম্প হলে তার প্রভাবও নিশ্চয়ই আরও জোরালোভাবেই প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে। অথবা একই মাত্রার ভূমিকম্প যদি আরও কম দূরত্বে উৎপত্তি হয়, তখন ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর কী অবস্থা হতে পারে, একবার ভাবুন তো? যত ধরনের অপরিকল্পনা আছে, সবকিছু নিয়েই রাজধানী ঢাকা গড়ে উঠেছে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে দুই কোটির অধিক মানুষ নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী শহর।
ঢাকায় বড় ভূমিকম্প হলে কী করুণ পরিস্থিতি হতে পারে, তা উঠে আসে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নেওয়া এক গবেষণামূলক প্রকল্পে। ২০২৪ সালের ৩১ মে এ প্রকল্পের আওতায় ভূমিকম্প সহনশীল নগরায়ণ বিষয়ে দুই দিনের আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করে রাজউক। সেখানে গবেষণা ও জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষকেরা। সেখান থেকে আমরা জানতে পারছি, মিয়ানমার বা থাইল্যান্ডের আজকের ভূমিকম্প থেকেও আরও অনেক কম মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকার মোট ভবনের ৪০ শতাংশই ধসে পড়বে।
গবেষকেরা বলেছেন, দেশে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল ১৮৮৫ সালে। এই ভূমিকম্প হয়েছিল টাঙ্গাইলের মধুপুরের ভূগর্ভস্থ চ্যুতি বা ফাটল রেখায় (ফল্ট)। এরপর ১৩৯ বছর হতে চললেও এত বড় ভূমিকম্প ওই ফাটল রেখায় আর হয়নি। মধুপুরের ওই ফাটল রেখায় যদি রিখটার স্কেলে (ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপক) এখন ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পও হয়, তাহলে ঢাকায় কমপক্ষে ৮ লাখ ৬৪ হাজার ভবন ধসে পড়বে, যা ঢাকার মোট ভবনের ৪০ শতাংশ। ওই মাত্রার ভূমিকম্প দিনে হলে কমপক্ষে ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে। আর রাতে হলে কমপক্ষে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ মারা যাবে।
বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকা তখন বিস্ফোরণের শহর হয়ে উঠবে, তা অবধারিত। কারণ, এখানকার পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এতই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে, বড় মাত্রার ভূমিকম্পে যে বিপর্যয় নেমে আসবে, তা আসলে কল্পনাতীত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বঙ্গবাজার মার্কেটের আগুন, মগবাজারের বিস্ফোরণ, সিদ্দিকবাজারের মার্কেটে বিস্ফোরণ, বেইলি রোডের রেস্তোরাঁ মার্কেটে বিস্ফোরণে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা তো আমরা দেখলামই।
বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ড ও সিদ্দিকবাজারের বিস্ফোরণের পর ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস নিয়ে কথা বলি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। নগরব্যবস্থা, পানি, স্যানিটেশন, পরিবেশ বিষয়ে এই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে উঠে আসে সে সময়ের তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্পের বিষয়টিও। ২০২৩ সালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে তুরস্কে অর্ধলক্ষাধিক ও সিরিয়ায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা যান। সেই ভূমিকম্পের ভয়াবহতা গোটা পৃথিবীকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘তুরস্ক-সিরিয়ার মতো ভূমিকম্প যদি এখানে ঘটে, কয়েক গুণ মানুষ মারা যেতে পারে। কারণ হচ্ছে, আমাদের ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন হাতে গোনা। অথচ এখানে হাজার হাজার বহুতল ভবন আছে। সেগুলোর কাঠামোগত সামর্থ্য বাড়ানো এখনই সময়। অনেকভাবেই সেটি করা যায়। শুধু ইচ্ছা আর পদক্ষেপটা জরুরি। এখন যে অপরিকল্পিতভাবে নগরগুলো গড়ে উঠছে, সেখানে বড় কোনো ভূমিকম্প ঘটে গেলে, উদ্ধার কার্যক্রম চালানোও তো খুব কঠিন হয়ে যাবে। অনেক সুযোগ-সুবিধাও তো আমাদের নেই। ফলে ভবনের কাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তুরস্কে অনেক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে, পাশেই আবার অনেক ভবন দাঁড়িয়ে আছে বা কম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার মানে সেগুলো ওই মাত্রার ভূমিকম্প-সহনীয় ছিল। এখন খরচ বাঁচানোর জন্য বা আর্থিক লাভের জন্য ভবনগুলো এভাবে নির্মাণ করা সমীচীন হবে না। এর মাধ্যমে মানুষকে বড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হবে। আমরা তো শিল্পোন্নত দেশের দিকে যাচ্ছি, কিন্তু আমাদের শিল্পকারখানাগুলো কী করে? শুধু টাকা বাঁচানোর জন্য বা মুনাফা বেশি করার জন্য ইটিপি চালু রাখা হয় না। এতে মানুষ ও পরিবেশের বিপর্যয় আমরা ডেকে আনছি।’
গুলশানের মতো এলাকায় নতুন ও আধুনিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসকে কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে। তাদের কাছে ৪০ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি থাকলেও সরু রাস্তার হওয়ার কারণে ঠিক সময়ে পৌঁছাতেই পারেনি তারা। এবার ভাবুন তো ঢাকায় বড় কোনো ভূমিকম্পে যখন অনেক ভবন ধসে পড়বে, কীভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব? এই শহরের অলিগলি দিয়ে কীভাবে ঢুকবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। যে যেভাবে পেরেছে বা পারছে ঢাকা শহরে স্থাপনা গড়ে তুলছেন, কোনো নিয়মের বালাই নেই।
মুজিবুর রহমান সে প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সবকিছুর পেছনে আছে একটাই শব্দ—দুর্নীতি। দুর্নীতির রকমের শেষ নেই। আমরা সেসবে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে গেছি। আমরা সেখান থেকে বের হতে পারছি না। আমি মনে করি, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে নগর গড়ে ওঠা বন্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। এখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘাটতি আছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
কথা হচ্ছে, কবে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা হবে? রাজনৈতিক সদিচ্ছা জাগবে কবে? পরিকল্পিতভাবে রাজধানী ও বড় শহরগুলোকে সাজানোর জন্য এমন রাজনৈতিক নেতৃত্ব কি আদৌ আছে আমাদের? তাঁরা কথায় কথায় বাংলাদেশকে ‘সিঙ্গাপুর’ বা ‘থাইল্যান্ড’ বানাতে চান। কিন্তু যে ভূমিকম্পে থাইল্যান্ডেই যে অবস্থা দেখা গেল, এমন ভূমিকম্পে ঢাকার কী হবে, তা কি তাঁদের ভাবনায় আছে? ঢাকা আসলে এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়ে আছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে মরে পড়ে থাকা ছাড়া আমাদের বোধ হয় ‘মুক্তি’ নেই।
* রাফসান গালিব প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী। ই–মেইল: rafsangalib1990@gmail.com
![]() |
| শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে মুহুর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বহুতল ভবন। ব্যাংকক, থাইল্যান্ড। শুক্রবার, ২৮ মার্চ। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল আট দেশ, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
শুক্রবার রাত পৌনে একটার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মিয়ানমারের জান্তা সরকারের হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে অন্তত ১৪৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৩২ জনের বেশি। থাইল্যান্ডে অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বহু মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের মান্দালয় শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের ১২ মিনিট পর ৬ দশমিক ৪ মাত্রার একটি পরাঘাত (আফটার শক) হয়।
ভূমিকম্পের পর রাজধানী নেপিডো, মান্দালয়, সাইগাইংসহ ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। দেশটির সামরিক বাহিনী পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, নিহত ১৪৪ জনের মধ্যে নেপিডোয় ৯৬ জন, সাইগাইংয়ে ১৮ জন ও মান্দালয়ে ৩০ জন রয়েছেন। নিহত ব্যক্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শক্তিশালী কম্পনে নেপিডো, সাইগাইং, মান্দালয়সহ পাঁচটি শহরে ভবন ধসে পড়েছে। এ ছাড়া একটি সেতু ও একটি রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ইরাবতী নদীর ওপর আভা সেতু ধসে পড়েছে। সেতুটি ভেঙে পানির মধ্যে হেলে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ‘সব দেশ’কে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মিয়ানমারের এ আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের জনগণের পাশে দাঁড়াতে এরই মধ্যে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দল কার্যক্রম শুরু করেছে।
শহরজুড়ে ধ্বংসস্তূপ
ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিয়ানমারের মান্দালয় শহর। শহরটির এক বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, ‘সবকিছু কাঁপতে শুরু করলে আমরা সবাই বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। আমার চোখের সামনে পাঁচতলা একটি ভবন ধসে পড়ে। আমাদের শহরের সবাই এখন রাস্তার ওপর রয়েছেন। ভয়ে কেউ ভবনের ভেতরে যাচ্ছেন না।’
ইন্টারনেটে প্রকাশিত ছবিতে মান্দালয় শহরজুড়ে ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে। শহরের বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত। মিয়ানমারের শেষ রাজার বাসভবন ‘মান্দালয় প্রাসাদের’ দেয়ালের একাংশও ভেঙে পড়েছে। ভূমিকম্পে মিয়ানমারের আরেক শহর তাউনগোয় একটি মসজিদের একাংশ ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া শান প্রদেশের আউং বান শহরে একটি হোটেল ভবনের নিচে ২০ জন চাপা পড়েছেন। নিহত হয়েছেন দুজন।
রাজধানী নেপিডোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই শহরেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের (৯৬) মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে অনেক ভবন ধসে পড়েছে। অনেক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে আছে। ধ্বংসস্তূপের কারণে অনেক জায়গায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির মিয়ানমার অঞ্চলের পরিচালক মোহামেদ রিয়াস বলেন, মিয়ানমারে জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসাসহায়তা প্রয়োজন।
মিয়ানমারের শোচনীয় একসময়ে এই ভূমিকম্প হলো বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক জো ফ্রিম্যান। তিনি বলেন, দেশটিতে চলমান সংঘাতের কারণে এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেখানে আগে থেকেই ত্রাণসহায়তার প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে ভূমিকম্পের কারণে সেই সংকট আরও তীব্র হলো।
মিয়ানমারে ২০২১ সালে নির্বাচিত অং সান সু চি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক জান্তা। এর পর থেকে দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সংঘাত চলছে। বর্তমানে দেশটির বড় অংশ বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের ৩০ লাখের বেশি মানুষ এখন বাস্তুচ্যুত। দেশটির এক–তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের ত্রাণসহায়তা প্রয়োজন।
থাইল্যান্ডে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে ১১৭ জন আটকা
৭ থেকে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পকে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলা হয়। বিশ্বজুড়ে বছরে আনুমানিক ১৮টি এমন ভূমিকম্প হয়। এর চেয়ে তীব্র ৮ থেকে ৮ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পকে বলা হয় প্রলংকরী, এ ধরনের ভূমিকম্প বছরে আনুমানিক একটি হয়ে থাকে।
গতকালের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি এত শক্তিশালী ছিল যে উৎপত্তিস্থল থেকে ১ হাজার ২০ কিলোমিটার দূরত্বের ব্যাংককে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ব্যাংককে ৩৩ তলা একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়েছে। ওই ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ১১৭ জন চাপা পড়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে অন্তত ৪০৯ জন উদ্ধারকাজে নেমেছেন।
ব্যাংককে হতাহতের বিষয়ে শহরের ডেপুটি গভর্নর তাভিদা কামোলভেজ বলেন, নির্মাণাধীন ওই ভবনের নিচে চাপা পড়ে এ পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের আরেক এলাকায় নিহত হয়েছেন একজন। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপান্ত।
ব্যাংকক একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। ভূমিকম্পে গতকাল বিকেল পর্যন্ত শহরটিতে ১৬৯টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গতকাল ভূমিকম্পের সময় লোকজন ভয়ে রাস্তায় ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকেই ছিলেন পর্যটক। কম্পনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে একটি অভিজাত হোটেলের ছাদের সুইমিংপুল থেকে পানি উপচে নিচে পড়তে থাকে।
ভূমিকম্পের পর গতকাল থাইল্যান্ডের শেয়ারবাজারের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ৩১ মার্চ শেয়ারবাজারের লেনদেন আবার শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ব্যাংকককে দুর্যোগ উপদ্রুত এলাকা ঘোষণা করেছে শহর কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের সময় ব্যাংককে নিজ অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন শহরটির বাসিন্দা বুই থু। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ দেখতে পেলাম দেয়াল ফেটে যাচ্ছে। সুইমিংপুল থেকে পানি উপচে পড়ছে। চারদিক থেকে শুধু মানুষের চিৎকার ভেসে আসছিল। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।’
![]() |
| ভূম্পিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন এক মা ও তাঁর শিশুসন্তান। গতকাল মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোয়। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভূমিকম্পে ব্যাংককে ভবন ধস: সাত শ কোটি টাকার ৩৩তলা ভবন মুহূর্তে ৩ তলার সমান ধ্বংসস্তূপ by পানিসা আমোচো
আকাশের কমলা রঙের আভার নিচে এই দৃশ্যের অদূরে একটি সেতুতে দাঁড়িয়ে আছি আমি। সঙ্গে রয়েছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের একটি দল। একটি নির্মাণাধীন ৩৩ তলা ভবন মুহূর্তে তিনতলার সমান একটি কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হয়েছে, এটা আমরা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।
কিন্তু সামান্য দূরে চোখের সামনেই তো বাঁকানো তার ও ধাতুর উপাদান বের হয়ে আছে।
এরই মধ্যে আরও বেশি পেশাদার উদ্ধারকারী ও সামরিক বাহিনীর দল এসেছে। জ্বালানো হয়েছে ফ্লাডলাইট। কিন্তু জীবিত কোনো ব্যক্তিকে উদ্ধারের সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ বলে মনে হচ্ছে।
মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের মান্দালয়ে শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। ১১ মিনিটের মাথায় সেখানে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের উৎপত্তি। উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা বেশি ছিল। প্রতিবেশী থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, চীন ও ভারতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবর অনুযায়ী, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে ১৪৪ জন নিহত এবং ৭৩২ জন আহত হয়েছে বলে দেশটির জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং জানিয়েছেন। তিনি যে কোনো দেশ ও সংগঠনের সহায়তা চেয়েছেন। রাজধানী নেপিডোসহ মিয়ানমারের ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
মিয়ানমারের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে অনেক ভবন ধসে গেছে, রাস্তাঘাট চৌচির হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ১ হাজার ২০ কিলোমিটার দূরের ব্যাংককে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। ব্যাংককের ধসে পড়া এই ৩৩তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ১১৭ জন শ্রমিক চাপা পড়েছেন। এত ব্যাপক মাত্রার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে থাইল্যান্ডবাসী পরিচিত নয়। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ভূমিকম্পের সময় আমি আমার বাসায় ছিলাম। এই রকম কোনো কিছু আমি আগে অনুভব করিনি।
ধসে পড়া ভবনটি জাতীয় নিরীক্ষা অফিসের। তিন বছর ধরে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। এতে ব্যয় হয়েছে দুই শ কোটি থাই বাথ বা সাড়ে চার কোটি পাউন্ডের বেশি অর্থ, বাংলাদেশি মুদ্রায় সাত শ কোটি টাকার বেশি।
ধসে পড়া ভবনের আশপাশের এলাকায় অনেকগুলো তাঁবু খাটানো হয়েছে। উজ্জ্বল হলুদ হ্যাট পরা উদ্ধারকর্মীরা হন্তদন্তভাবে ছোটাছুটি করছেন। আকাশচুম্বী ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাঁরা ১১৭ ব্যক্তিকে উদ্ধারের জোর চেষ্টা করছেন।
থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত তিন ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রায় এক ঘণ্টা আগে দুটি মরদেহ তাঁবুতে আনতে দেখেছি আমি।’
ধসে পড়া ভবনের পাশের সড়ক অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য গাড়িতে ভরা। সেতুতে আমাদের সঙ্গে কিছু উৎসুক মানুষও যুক্ত হয়েছেন। কী ঘটছে, তা তাঁরাও বুঝতে চেষ্টা করছেন।
একটি বড় ক্রেনসহ অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি আনা শুরু হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান শুরু করার আগে ধ্বংসস্তূপের জঞ্জাল সরাতে হবে।
এই ভবন ধসে পড়ার এক ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে আমি ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি, নির্মাণশ্রমিকেরা ধুলায় জবুথবু হয়ে আছেন। বেঁচে যাওয়ায় তাঁরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেছেন।
বেঁচে যাওয়া একজন শ্রমিকের নাম অ্যাডিসর্ন কামফাসর্ন। ভূমিকম্পের সময় তিনি ছয়তলা থেকে নিচে জিনিসপত্র নামাচ্ছিলেন। হঠাৎ কম্পন অনুভব করে ১৮ বছর বয়সী এই শ্রমিক সিঁড়ির দিকে তাকান এবং একটি ক্রেন কাঁপতে দেখেন।
অ্যাডিসর্ন আমাকে বলেন, “আমি বুঝতে পারলাম খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমি দৌড় দিলাম। এক মিনিটের মধ্যে ভবনটি ধসে পড়ল। মুহূর্তেই সব কিছু ঘটে গেছে। সবখানে ধোঁয়া, সব কিছু অন্ধকার হয়ে গেল। আশি নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমার কোনো মাস্ক ছিল না।”
মুঠোফোন হারিয়ে ফেলায় তিনি এখনো তাঁর পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। তিনি এর আগে জীবনে এমন ভয়াবহ কোনো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাননি। তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি মারা যাচ্ছেন।
ওই নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করেন করেন এমন কয়েকজন শ্রমিক আমাকে বলেছেন, শ্রমিকদের মধ্যে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছে।
ভূমিকম্পের সময়ে নুকুল খেমুথা (৩০) নামের এক শ্রমিক ওই ভবনের পঞ্চম তলায় কাজ করছিলেন। হঠাৎ ধাক্কা অনুভব করে তিনি তাকিয়ে দেখেন, পুরো ভবন ডুবে যাচ্ছে, অনেকগুলো গর্ত হয়ে যাচ্ছে।
নুকুল খেমুথা বলেন, কিছুক্ষণ আগে তাঁর এক সহকর্মী দশম তলায় বাথরুমে গিয়েছিলেন। তাঁরা তাঁর খবরের অপেক্ষায় আছেন। নুকুল খেমুথা আরও বলেন, ‘আমরা সবাই চিৎকার করে বলতে শুরু করি “দৌড়াও”। সবাইকে একে অপরের হাত ধরতে বলি এবং একসঙ্গে দৌড়াতে বলি।’
আমি যখন তাঁদের সঙ্গে কথা বলছিলাম, তখন তাঁরা ধূমপান করে নিজেদের শান্ত করতে চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। বেঁচে যাওয়াদের কেউ কোনো চিকিৎসা সহায়তা নেননি। কারণ, আটকা পড়া মানুষদের দিকেই তাঁদের পুরো মনোযোগ নিবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে ড্রিলিংয়ের শব্দ তীব্রতর হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীদের সামনে পড়ে আছে একটি দীর্ঘ রাত।
* পানিসা আমোচো থাইল্যান্ডে বিবিসি নিউজের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।
| ধসে পড়া নির্মাণাধীন ৩৩ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের পাশে উদ্ধারকর্মীরা। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে, ২৮ মার্চ ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধর্ষণ মামলার জট কমাতে ‘বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম’ আলাদা ধারা করা হয়েছে: সাক্ষাৎকার আসিফ নজরুল
প্রথম আলো: ২০২০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন আনে তৎকালীন সরকার। ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড যোগ করা হয়। ধর্ষণের মামলায় ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। এবার মাগুরার শিশুটির ঘটনায় ওই আইনে সংশোধন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। জনতুষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার তড়িঘড়ি করে আইন সংশোধন করল কি?
আসিফ নজরুল: মাগুরার শিশুটির ঘটনা ছিল হৃদয়বিদারক। আইন দ্রুত সংশোধন করার ক্ষেত্রে এ ঘটনাটি ভূমিকা রেখেছে সত্য; তবে ওই ঘটনা না ঘটলেও আইনটি সংস্কারে উদ্যোগ নিতাম। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সীমাবদ্ধতা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আমরা আগে থেকে অবগত ছিলাম। আইনটি সংশোধনের আগে তড়িঘড়ি নয়, ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। অনেক মহলের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সংশোধন আনা হয়েছে।
প্রথম আলো: যৌন নির্যাতনের নানা ধরন তুলে ধরে ‘ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট’ সাত বছর ধরে ধর্ষণের সংজ্ঞা বিস্তৃত করার দাবি করে আসছে। জোট বলছে, সরকার আলোচনায় তাদের ডাকেনি।
আসিফ নজরুল: ‘ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট’কে ডাকলে ভালো হতো। তবে তাদের দাবিগুলো অন্যদের দাবির মধ্যেও এসেছিল। আইনের খসড়া বিষয়ে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের লিখিত মতামত পেয়েছি। হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব মতামতের ৬০ শতাংশ গ্রহণ করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়, তিনজন উপদেষ্টা এবং আইন ও ফরেনসিক–বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। রাজপথে আন্দোলনে শিশু ধর্ষণ মামলার বিচার আলাদা ট্রাইব্যুনালে করার দাবি ছিল। আইনে সংশোধন এনে ২৬ক ধারায় শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। আসলে এটা এমন একটি আইন, তা সংশোধনে যত আলোচনাই করা হোক না কেন, মনে হবে আলোচনা যথেষ্ট হয়নি।
প্রথম আলো: নতুন অধ্যাদেশে ধর্ষণের সংজ্ঞা দণ্ডবিধির ধারা অনুসারেই রয়েছে। সেখানে ধর্ষণকে নারীর বিরুদ্ধে পুরুষের অপরাধ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অধ্যাদেশে ধর্ষণের সংজ্ঞায় ভুক্তভোগীকে ‘ব্যক্তি’ উল্লেখ করা হলে নারী ও শিশুর বাইরে অন্য লিঙ্গের মানুষেরা ধর্ষণের শিকার হলে বিচার পেতে পারতেন। এ সমস্যার তো সমাধান হলো না।
আসিফ নজরুল: ধর্ষণের সংজ্ঞায় আলাদা করে পরিবর্তন না আনা হলেও ‘যৌনকর্ম’ দফা যুক্ত করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের সংজ্ঞা বিস্তৃত করার যে দাবি ছিল, তা যৌনকর্মের ব্যাখ্যায় তুলে আনা হয়েছে। অন্য লিঙ্গের বিষয়ে আমাদের এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে ছেলেশিশুদের বিরুদ্ধে যৌনকর্মকে ‘বলাৎকার’ হিসেবে আইনের ২ ধারায় যুক্ত করা হয়েছে। ধর্ষণ বলতে ‘বলাৎকার’কেও বোঝাবে। ১৬ বছরের কম বয়সী ছেলেশিশুরা এই ধারায় বিচার পাবে।
প্রথম আলো: ছেলেশিশুদের ধর্ষণের বিষয়টি আগে আইনে শনাক্ত করা ছিল না। বিচারকেরা অন্য বিচারকাজের উদাহরণ টেনে ১৬ বছরের কম বয়সী ছেলেশিশুদের ধর্ষণের বিচার করতেন এই আইনে। শিশু আইন ২০১৩ ও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুসারে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু ধরা হয়। ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মেয়ে ও ছেলেশিশুর বয়স ১৮ করার একটা দাবি ছিল।
আসিফ নজরুল: বয়স আগের আইনে যা ছিল, তা–ই রাখা হয়েছে। আপাতত ১৮ করার সিদ্ধান্ত নেই।
প্রথম আলো: অধ্যাদেশে ৯খ ধারা সংযোজন করে ‘বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দণ্ড’ রাখা হয়েছে। কী উদ্দেশ্যে তা করা হয়েছে? আইনে ধর্ষণের ধারায় ‘প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি আদায়ের’ বিষয়টি এখনো আছে। দুটি বিষয় এক হয়ে গেল কি না, স্পষ্ট করবেন কি?
আসিফ নজরুল: ধর্ষণের অভিযোগে যেসব মামলা হয়েছে, সেসব মামলা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এখানে দুই ধরনের মামলা হয়। একটি হচ্ছে প্রতারণামূলক সম্মতি আদায় বা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ। অপরটি কোনো ধরনের সম্পর্ক ব্যতীত ধর্ষণ; যেমন মাগুরার শিশুটির ঘটনা। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার আধিক্য রয়েছে। এসব মামলার কারণে সম্পর্ক ব্যতিরেকে ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনার বিচার বিলম্বিত হতো। সম্পর্ক ব্যতিরেকে নৃশংস ধর্ষণের মামলার দ্রুত বিচার করতে ‘বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দণ্ড’ ধারা যুক্ত করে একে আলাদা করা হয়েছে। প্রথমোক্ত অপরাধগুলোর তদন্ত ও বিচারের সময়সীমা কমানো হয়েছে; কিন্তু দ্বিতীয় ধরনের অপরাধের (‘বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম’) ক্ষেত্রে এই সময়সীমা কমানো হয়নি, এসব অপরাধের শাস্তিরও আলাদা সাজার বিধান (সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড) রাখা হয়েছে।
‘বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম’–সংক্রান্ত ধারার মাধ্যমে নতুন কোনো অপরাধকেও সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। এটি ধর্ষণের প্রচলিত সংজ্ঞার মধ্যেই সুপ্ত ছিল, এমন অভিযোগে বহু মামলাও হতো আগের আইনে। পার্থক্য হচ্ছে, এখন এগুলোর বিচার নতুন বিধান অনুসারে হবে। অন্যদিকে বিয়ের প্রলোভন ছাড়াও অন্যরকমভাবে প্রতারণা করে যৌন সম্পর্কের সম্মতি আদায়ের চেষ্টা হতে পারে, সেসব অপরাধকে ধর্ষণের প্রচলিত সংজ্ঞা অনুসারে বিচার করা হবে।
প্রথম আলো: ‘বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দণ্ড’ ধারায় হয়রানিমূলক মামলা করার ঝুঁকি থাকে কি?
আসিফ নজরুল: মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা হলে সেটিও প্রতিহত করার বিধান রয়েছে। আইনের ১৭ ধারায় সংশোধন আনা হয়েছে। বিচারকের যদি মনে হয়, এটা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা, সে ক্ষেত্রে বিচারক সাজা (ক্ষতিপূরণ, সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড) দিতে পারবেন।
প্রথম আলো: আইনটি সংস্কারের ফলে ধর্ষণের বিচার দ্রুত হওয়া কি নিশ্চিত হবে?
আসিফ নজরুল: সংশোধনের ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লাভ হয়েছে। সম্পর্ক ব্যতিরেকে ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনার তদন্তের সময় ১৫ কার্যদিবস এবং বিচারের সময় ৯০ কার্যদিবস করা হয়েছে। সময় অর্ধেক কমিয়ে আনায় এই মামলাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার করা যাবে। অপর দিকে প্রতারণামূলক বা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের মামলাকে ভিন্ন ধারায় নিয়ে যাওয়ার কারণে ধর্ষণের মামলার জট কমবে। ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক থাকার কারণেও বিচার বিলম্বিত হতো। ডিএনএ পরীক্ষার সনদ পাওয়ার অপেক্ষায় অনেক মামলা বছরের পর বছর আটকে থাকত। অধ্যাদেশের বিধান অনুসারে, ডিএনএ পরীক্ষার সনদ ছাড়াই আদালত যদি মনে করেন, চিকিৎসা সনদ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচার সম্ভব, তাহলে আদালত ডিএনএ সনদ ছাড়াই দ্রুত বিচার করতে পারবেন।
প্রথম আলো: কিন্তু তদন্ত ও বিচারের সময় বাড়ানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সময় নেওয়ার অজুহাতে বিচার দীর্ঘায়িত কি হতে পারে না?
আসিফ নজরুল: আইনে বিকল্প ব্যবস্থা রাখতেই হবে। যদি তদন্ত কর্মকর্তা বা ভুক্তভোগী গুরুতর অসুস্থ থাকেন? এমন কোনো গুরুতর ঘটনা হতে পারে যে তদন্ত কর্মকর্তা ওই সময়ের মধ্যে কাজ করতে পারলেন না। তাই বিকল্প ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিচারক পরিস্থিতি বিচার করে সময় বাড়াতে পারবেন।
প্রথম আলো: ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক না থাকায় প্রকৃত আসামি শনাক্তকরণে সমস্যা হতে পারে কি?
আসিফ নজরুল: ডিএনএ পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় মামলা গতি পাবে। আদালত যদি মনে করেন, চিকিৎসা সনদ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচার সম্ভব, শুধু তখন আদালত ডিএনএ সনদ ছাড়া দ্রুত বিচার করতে পারবেন।
প্রথম আলো: বিচারের দীর্ঘসূত্রতার জন্য তো রাষ্ট্রপক্ষের ব্যর্থতাকেও দায়ী করা হয়। তদন্ত, অভিযোগপত্র গঠন থেকে শুরু করে সাক্ষী হাজির করতে না পারা, বারবার শুনানি পেছানো—বিভিন্ন ধাপে বিচার দীর্ঘায়িত হয়। এ বিষয়ে সরকার কি কিছু করবে?
আসিফ নজরুল: এসব দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে প্রতিটি ধাপে কাজ করতে হবে। তবে আইনে যেসব সংশোধন আনা হয়েছে, সেটির সুফল শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।
প্রথম আলো: এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ নাজুক অবস্থায় এবং এ কারণে নারী ও শিশুর নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আপনি কী মনে করেন।
আসিফ নজরুল: আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ শুরু করি। শেখ হাসিনার শাসনামলে বিশেষভাবে যে দুটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করা হয়, তা হচ্ছে পুলিশ ও বিচার বিভাগ। পুলিশের ক্ষেত্রে ক্ষতি ছিল বেশি। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করতে হয়েছে। এখন সমাজে মতপ্রকাশ করার ইচ্ছা, স্বাধীনতাচর্চা অনেক বেড়েছে। ভিন্নমত প্রকাশের জন্য মামলা করা হচ্ছে না। মানুষের প্রত্যাশা কিছু কিছু ক্ষেত্রে আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি যেমন হয়, অনেক মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে গেছে। ১৫ বছরের চাপা ক্ষোভ, যন্ত্রণা, অবরুদ্ধ থাকার কষ্ট মানুষ একসঙ্গে প্রকাশ করছে। এসব কিছুর প্রতিফলন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পড়েছে। কখনো কখনো পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়, কখনো কখনো আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলি। নারীর প্রতি যে সহিংসতা, আক্রমণাত্মক ও অসহিষ্ণু পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছিল। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আরও উন্নত করার অবকাশ রয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা, হয়রানি ও অবমাননাকর ব্যবহার বৈষম্যমূলক, শোষণমূলক ও নিপীড়নমূলক। এটা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ওই সময়ে নেতৃত্ব দেওয়া নারীদের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা। সরকার এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে।
প্রথম আলো: এখন নারীবিদ্বেষী একটি চক্রকেও সক্রিয় হতে দেখা গেছে। এ ধরনের চক্র সক্রিয় থাকলে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ে বলা হয়। আপনার মত কী?
আসিফ নজরুল: নারীবিদ্বেষী প্রচার যেটা আছে, সেটি সমাজের অজ্ঞানতা ও অশিক্ষার ফসল। এ ধরনের বিদ্বেষমূলক কাজে কখনো কখনো নারীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। এ ধরনের মানুষদের ‘মোরাল পুলিশিং’ করার আগে তাঁদের প্রতি আমার একটাই আবেদন, আগে নিজের ক্ষেত্রে ‘মোরাল পুলিশিং’ করুন। নারী কী পোশাক পরলেন, তা না বলে আপনি সত্য কথা বলেন কি না, আপনার উপার্জন সৎ কি না, আপনি ধর্মের ফরজ পালন করেন কি না, ধর্মের অপব্যাখ্যা করেন কি না, মানুষের উপকার করেন কি না, এসব বিষয়ে আগে নিজের ওপর ‘মোরাল পুলিশিং’ করুন, তারপর ঠিক করুন অন্যকে নৈতিক উপদেশ দেওয়ার যোগ্যতা আপনার আছে কি না। বাংলাদেশে ‘মোরাল পুলিশিং’–এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই, এটা ফৌজদারি অপরাধ।
প্রথম আলো: অপরাধ কমাতে সব নাগরিকের ডিএনএ প্রোফাইলিং করার বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি?
আসিফ নজরুল: এটা খুবই ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এই সরকার কম সময়ের জন্য এসেছে। এই সময়ে এটা কার্যকর করা সম্ভব না। তবে কাজটি শুরু করা যায় কি না, তা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় তুলব।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
আসিফ নজরুল: আপনাকেও ধন্যবাদ।
| আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। ছবি: সাজিদ হোসেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউক্রেনে নতুন প্রশাসন চান পুতিন
আজ শুক্রবার রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের মুরমানস্ক বন্দর পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুতিন। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসায় মাতেন তিনি। পুতিন বলেন, ‘আমার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন কারণে এ সংঘাত শেষ করার বিষয়ে সচেতন।’
ইউক্রেনে সাময়িক প্রশাসন ক্ষমতায় এলে তাঁদের অধীন নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং যুদ্ধ বন্ধ হবে উল্লেখ করে পুতিন বলেন, এ যুদ্ধসহ যেকোনো যুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে রাশিয়া। তবে এমন কোনো সমাধানের জন্য মস্কো কোনো ছাড় দিতে পারবে না। যুদ্ধের সম্মুখসারিতে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছেন।
তিন বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে সামরিক শাসন জারি করা হয়। স্থগিত হয় নির্বাচন। ফলে চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হলেও এখনো তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন। এ নিয়ে সম্প্রতি আপত্তি তুলেছিলেন ট্রাম্পও। তিনি সরাসরি জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
আসলে ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর থেকে বড় বিপত্তিতে পড়েছে কিয়েভ। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট যেভাবে তাদের এককাট্টা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলেন, তা থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টার পাশাপাশি কিয়েভের ওপর একপ্রকার চড়াও হয়েছেন তিনি। তবে গতকালের পুতিনের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র বলেন, ইউক্রেনে ক্ষমতায় কে থাকবে, তা দেশটির সংবিধানের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
কুরস্কের আরও এলাকা মস্কোর নিয়ন্ত্রণে
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের এক–পঞ্চমাংশ এলাকা এখন রাশিয়ার দখলে। দেশটিতে ইউক্রেন বাহিনীর বিপরীতে ভালো অবস্থানে রয়েছে রুশ বাহিনী। এরই মধ্যে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের আরও একটি গ্রাম ইউক্রেনের হাত থেকে মুক্ত করেছে তারা। গত আগস্টে অতর্কিত অভিযান চালিয়ে অঞ্চলটির বড় অংশ দখল করে নেয় ইউক্রেন বাহিনী।
রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া গ্রামটির নাম জোগোলেভকা। আজ গ্রামটি মুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে গত তিন সপ্তাহে কুরস্ক অঞ্চলের আরও বেশ কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের হাতে এখন শুধু এ অঞ্চলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
ধীরে ধীরে কুরস্কের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ক্ষেত্রে কিয়েভের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ল। এ অঞ্চলকে চুক্তির জন্য দর–কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছিলেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। সে কথা ভেবেই হয়তো চলতি মাসের শুরুর দিকে কুরস্ক সফরে গিয়ে পুতিন বলেছিল, যেকোনো মূল্যে অঞ্চলটি দখলমুক্ত করতে।
খনিজ সম্পদ চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত হয়নি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে যে খনিজ সম্পদ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে, তার শর্তগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। আজ ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে চুক্তি নিয়ে ইউক্রেনের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
ওই প্রস্তাবের নথিটি রয়টার্সের হাতে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ থেকে আয় যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে। এভাবে বিগত তিন বছর ধরে কিয়েভকে যে পরিমাণ অর্থ ওয়াশিংটন দিয়েছে পরিশোধ করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সুদও।
ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী উইলিয়া এসভিরিদেঙ্কো দেশটির আইনপ্রণেতাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে যে চুক্তির খসড়া দিয়েছে, সে বিষয়ে ঐকমত্য হলেই ইউক্রেনের অবস্থান সম্পর্কে জানানো হবে। এর আগে এ নিয়ে জনসম্মুখে আলোচনা ক্ষতিকর হতে পারে। আর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেছেন, এখনো চুক্তির কোনো চূড়ান্ত খসড়া হয়নি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নানা পর্যায়ে এখনো আলোচনা চলছে।
পুতিন–এরদোয়ান ফোনালাপ
ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ হয়েছে। সেখানে এরদোয়ান বলেছেন, আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে মস্কো ও আঙ্কারা।
ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশপাশি সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন দুজন।
দিন কয়েক আগে কৃষ্ণসাগরে নৌযানে হামলা বন্ধ করতে রাজি হয় ইউক্রেন ও রাশিয়া। এ কৃষ্ণসাগরের বিষয়টিও পুতিন ও এরদোয়ানের আলোচনায় উঠে এসেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়ার খাবার ও সার রপ্তানির ক্ষেত্রের বাধা দূর করতে এবং নিরাপদে নৌযানের চলাচল নিশ্চিত করতে কৃষ্ণসাগর–সংক্রান্ত উদ্যোগ চালু করা নিয়ে দুই পক্ষের কথা হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৯ চুক্তি-সমঝোতা সই: নতুন অধ্যায়ে ঢাকা বেইজিং সম্পর্ক
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ৯টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ ও চীন অর্থনৈতিক এবং কারিগরি সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তি এবং ক্লাসিক সাহিত্যের অনুবাদ ও প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিনিময় ও সহযোগিতা, সংবাদ বিনিময়, গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য খাতে আটটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আব্দুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিনিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর ঘোষণা, চীন শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চল শুরুর ঘোষণা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর, রোবট ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং হৃদরোগ সার্জারি যানবাহন দানের বিষয়ে পাঁচটি ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ও চীনের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও চীন জলবিদ্যুৎ, পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ হ্রাস, নদী খনন, পানি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। উভয়পক্ষ ইয়ারলুং জাংবো-যমুনা নদীর জলবিদ্যুৎ তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন পরিকল্পনা স্বাক্ষরকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে। তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনঃসংস্কার প্রকল্পে চীনা কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছে। উভয়পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং নীল অর্থনীতিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন সমুদ্র সংক্রান্ত বিষয়ে বিনিময় জোরদার করতে এবং উপযুক্ত সময়ে সামুদ্রিক সহযোগিতা সংক্রান্ত নতুন সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এশিয়ার বোয়াও ফোরামের মহাসচিবের আমন্ত্রণে, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গত ২৬ ও ২৭শে মার্চ চীনের হাইনান প্রদেশে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। এরপর, চীন সরকারের আমন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা ২৭ থেকে ২৯শে মার্চ বেইজিং সফরে রয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শ্যুয়েশিয়াং বোয়াও ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং বেইজিংয়ে প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে, দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা করে এবং ব্যাপক সমঝোতায় পৌঁছায়। প্রধান উপদেষ্টা বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চীন স্বাগত জানিয়ে গত বছরের আগস্ট থেকে সরকারের গৃহীত সংস্কার কর্মসূচি ও অগ্রগতির প্রশংসা করেছে। একইসঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে গভীর আগ্রহী চীন। উভয়পক্ষ সমগ্র কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব আরও সুসংহত ও গভীর করার জন্য সমান প্রতিশ্রুতি পুনরায় নিশ্চিত করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয় উভয় দেশ একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছরে, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সবসময় শক্তিশালী ও স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে গেছে। উভয়পক্ষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতির প্রতি অটল থাকার, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব এগিয়ে নেয়ার, রাজনৈতিক পারস্পরিক বিশ্বাস দৃঢ় করার, উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় গভীর করার এবং বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এতে উভয় দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল নিশ্চিত করা যাবে বলে তারা আশাবাদী। প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের ঐতিহাসিক সময়ে উভয়পক্ষ পরস্পরের প্রধানতম স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়ে পারস্পরিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে শ্রদ্ধা করে এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সমর্থন প্রদান করে। চীন বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনভাবে নির্ধারিত উন্নয়ন পথকে সম্মান করে এবং বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন পথ অনুসন্ধানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে বলে জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, চীন সব সময়ই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতির অনুসারী এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যকর শাসন পরিচালনা, জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সমর্থন দিয়ে আসছে। উভয়পক্ষ জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বাস্তবিক বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বৃহত্তর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। উভয় দেশ সমতার ভিত্তিতে শৃঙ্খলাপূর্ণ বহুপক্ষীয় বিশ্ব ও সর্বজনীনভাবে উপকারী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। উভয় পক্ষ জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক কাঠামোর আওতায় সমন্বয় আরও জোরদার করার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর যৌথ স্বার্থ রক্ষার এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা সমুন্নত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। মিয়ানমার সংকট ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের ভূমিকা বাংলাদেশ মিয়ানমারের শান্তি আলোচনায় চীনের গঠনমূলক ভূমিকা এবং রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের সমস্যা সমাধানে চীনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে। চীন রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত জনগণকে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। চীন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের জনগণকে তার ও বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের প্রতি উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে চীনা নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, চীন সরকার ও চীনা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশ ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশের বিশেষ চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে, যা প্রধান উপদেষ্টা বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানানোর পর এসেছে। চীন মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণ প্রকল্পে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদান, চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা হিসেবে আরও ১৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ প্রদানের পরিকল্পনা করেছে। বাকি অর্থ অনুদান ও অন্যান্য ঋণ সহায়তা হিসেবে আসবে। প্রধান উপদেষ্টার চার দিনের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এই সফর বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় ড. ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বাংলাদেশে চীনা বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দেয়ার অনুরোধ জানান। আশিক চৌধুরী বলেন, এই সফর অনেক চীনা কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার। প্রফেসর ইউনূস এবং আশিক চৌধুরী বেইজিংয়ে বিশ্বের কিছু বৃহৎ চীনা কোম্পানিসহ ১০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে বাংলাদেশে উৎপাদন খাতে বিশেষ করে উন্নত টেক্সটাইল, ওষুধ শিল্প, হালকা প্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। তারা তিনটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে বক্তব্য রাখেন।
ওদিকে, বাংলাদেশের ব্যবসার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বাংলাদেশের ব্যবসার সম্ভাবনার সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। গতকাল বেইজিংয়ের ‘দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল’-এ চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক বিনিয়োগ সংলাপে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী দেশ। এ ছাড়া, বাংলাদেশ এমন একটি চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে যেখানে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রসহ বড় বড় নদীগুলো প্রবাহিত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের কথা উল্লেখ করে তিনি বাণিজ্য ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সমুদ্রের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। প্রফেসর ইউনূস বলেন, নেপাল ও ভুটান স্থলবেষ্টিত দেশ, যাদের কোনো সমুদ্র নেই। ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যও স্থলবেষ্টিত। তিনি এসব দেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের ওপর জোর দেন, যা বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বাংলাদেশের মানবসম্পদের সম্ভাবনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং প্রতিবছর আরও ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে প্রায় ১৭ কোটি মানুষ বাস করে। যাদের বেশির ভাগই যুবক। যারা উদ্যম, সৃজনশীলতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষায় পরিপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর অব্যবহৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর অভাব নেই- পুরুষ এবং নারীরা সমানভাবে অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশের রূপান্তর প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি এক সম্পূর্ণ নতুন দেশে পরিণত হয়েছে। দেশে নতুন প্রজন্ম উঠে আসছে, যা ব্যবসা ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বক্তৃতা করেন। সংলাপে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও শত শত বিস্তৃত নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য চীন থেকে পঞ্চাশ বছরের মাস্টারপ্ল্যান চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোইয়িং-এর সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এই আহ্বান জানান। প্রফেসর ইউনূস চীনের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে বলেন, চীন পানি সমস্যার সমাধানে বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে। চীনা মন্ত্রীকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের যে সমস্যা রয়েছে, আমাদেরও সেই একই সমস্যা। তাই যদি আপনারা আপনাদের অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেন, তাহলে আমরা খুশি হবো। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ অঞ্চল। আমাদের দেশ শত শত নদীর পানি দিয়ে ঘেরা। পানি আমাদের জীবন দেয়, তবে কখনো কখনো এটি শত্রুতে পরিণত হয়। এখন জনসংখ্যা বহুগুণে বেড়ে যাওয়ায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, নদী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কোনোভাবে যেন আমাদের পরিবেশের ক্ষতি না হয়। চীনকে পানি ব্যবস্থাপনার মাস্টার হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে এবং তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পানি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের কাছ থেকে শেখার জন্য এখানে এসেছি। কীভাবে আমরা পানি সম্পদকে জনগণের জন্য উপযোগী করে তুলতে পারি। প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও উন্নয়নের চাহিদার ফলে নদীর তীরবর্তী ভূমিগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, একই চাহিদা ভারতের উজান অঞ্চলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া পলি জমার কারণে নদীগুলোর মাঝখানে নতুন ভূমি তৈরি হচ্ছে, যা কখনো কখনো নদীগুলোর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে এবং তাদের মৃত্যু ঘটায়। চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী স্বীকার করেন যে চীন ও বাংলাদেশ পানি ব্যবস্থাপনায় একই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তিনি বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা বেইজিংয়ের দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল-এ চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি বিনিয়োগ সংলাপেও অংশ নেন। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো- বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সম্পর্কে চীনা বিনিয়োগকারীদের ধারণা প্রদান এবং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। প্রধান উপদেষ্টা একই ভেন্যুতে তিনটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন, যার বিষয়বস্তু হলো- টেকসই অবকাঠামো ও জ্বালানি বিনিয়োগ, বাংলাদেশ- উৎপাদন ও বাজারের সুযোগ এবং সামাজিক ব্যবসা, যুব উদ্যোক্তা ও থ্রি জিরো বিশ্বের ভবিষ্যৎ। বৈঠকে তিনি বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সামাজিক ব্যবসা ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, চীনের স্বনামধন্য কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ড. ইউনূস চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের আয়োজনে এক নৈশভোজেও অংশ নেন। এ ছাড়াও, চীন কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি)-এর ভাইস-চেয়ারম্যান ইয়াও ওয়াং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বেইজিংয়ের প্রেসিডেন্সিয়ালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আল জাজিরার রিপোর্ট: ২৫ বিলিয়ন ডলার ফেরানোর মিশনে আহসান মনসুর
২৮শে মার্চ ‘বাংলাদেশ আপ এগেইন্টস টাইম টু ফাইন্ড স্টোলেন বিলিয়নস: সেন্ট্রাল ব্যাংক গভর্নর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অনলাইন আল জাজিরা। সংবাদমাধ্যমটির ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটকে (আই-ইউনিট) দেয়া এক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে আহসান মনসুর বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন।
আল জাজিরা বলছে, বাংলাদেশের ১১টি প্রভাবশালী পরিবারকে টার্গেট করে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রভাবশালী এসব পরিবারের বিরুদ্ধে গত এক দশক ধরে বৃটেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে কোটি কোটি ডলার পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। যাদের সম্পদের সন্ধানে ১১টি বিশেষজ্ঞ দলও গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রশ্নবিদ্ধ এই সম্পদের পরিমাণ আঁতকে ওঠার মতো। ১১টি পরিবারের মধ্যে একটির বিরুদ্ধেই ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে একটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ আমানতই তুলে নিয়ে গেছে তারা। ফলত ব্যাংকটি প্রায় ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
আহসান মনসুর, আইএমএফ-এর সাবেক অর্থনীতিবিদ। শেখ হাসিনার পতনের পর তাকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাচারকৃত অর্থ দ্রুত উদ্ধার করা নিয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন। কেননা, দ্রুত সন্ধান না পেলে বেশির ভাগ অর্থ হাওয়া হয়ে যেতে পারে। আল জাজিরাকে তিনি বলেছেন, আমরা জানি সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, সম্পদের পরিমাণ কমে যেতে পারে। আহসান মনসুরের সন্ধান কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বৃটেন। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া আনুমানিক ২৫ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ উদ্ধার এবং জব্দ করার জন্য ইতিমধ্যেই বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কমনওয়েলথ দপ্তর এবং লন্ডনের আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ। আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, উল্লিখিত পরিবারগুলোর অনেকেরই এখানে বহু সম্পদ রয়েছে, বিশেষ করে লন্ডনে। তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আমরা এই সচেতনতা তৈরি করতে চাই যে, বিশ্ব থেকে চুরি হওয়া সম্পদের প্রিয় হচ্ছে বৃটেন। আর বাংলাদেশ সেই দেশগুলোর মধ্যে একটি যেখান থেকে এখানে প্রচুর চুরি হওয়া সম্পদ এসেছে।
এর আগে আল জাজিরার আই-ইউনিটের এক খবরে প্রকাশ করা হয়েছে যে, হাসিনার সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর একারই লন্ডন এবং দুবাইতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের সম্পদ রয়েছে। আই-ইউনিটের ওই খবরটি গত বছর প্রকাশ করা হয়। বৃটেনে সাইফুজ্জামান এবং তার পরিবারের ৩৬০টির বেশি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই লন্ডনে। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন ইতিমধ্যেই সাইফুজ্জামানের ৪০টি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে এবং তাকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আর সাইফুজ্জামানের বিদেশে থাকা সম্পত্তি দ্রুত জব্দ করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যেন সেগুলো বিক্রি করতে না পারে।
যদিও সাইফুজ্জামানের দাবি হচ্ছে আগের সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘ডাইনি-হান্ট’ শুরু করা হয়েছে। তার সম্পদ বৈধভাবে উপার্জন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এসব সম্পদ জব্দ করার দিকে মনোনিবেশ করেছে তখন আহসান মনসুর চাচ্ছেন, বৃটেন এবং অন্যান্য জায়গায় এসব অভিজাত পরিবারের কোটি কোটি ডলার পাচারে সহায়তাকারী আইনজীবী, ব্যাংকার এবং এস্টেট এজেন্টদেরও তদন্তের আওতায় আনা হোক। মনসুর বলেছেন, আইন লঙ্ঘন করে অপরাধীদের পুনর্বাসনে সহায়তা করছে এমন এজেন্ট বা ব্যাংক অপারেটর সংখ্যা অনেক। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
মনসুর জানিয়েছেন, পাচারকৃত অর্থের নিয়ন্ত্রণ পেতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, কর্তৃপক্ষের কাজের মাত্রা এবং জটিলতা নিয়ে লড়াই করার কারণে অর্থ উদ্ধার কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে আগাচ্ছে। তবে বৃটেন সরকার এক্ষেত্রে সহায়তা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব অপরাধী চক্রের মূল হোতার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিদেশে অর্থ পাচারে সহায়তাকারীদের সঙ্গে দর কষাকষি করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এমনকি হারিয়ে যাওয়া অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনতে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরিবর্তনের পর পাচারকৃত কোটি কোটি ডলার উদ্ধারের কার্যক্রম পরিচালনা জটিল হয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) তহবিল স্থগিত করে দেয়ার ফলে, বাংলাদেশে যে তদন্তকারী সংস্থা কাজ শুরু করার কথা ছিল তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের পূর্ণ শক্তিতে ঢাকায় থাকার কথা ছিল। তাদেরকে ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছে। তবে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর আসতে পারেনি। যা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গাদের প্রতি করুণা দেখাচ্ছে মমতার সরকার'
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘তৃণমূল সরকার অবৈধ অভিবাসীদের তাদের আধার কার্ড সরবরাহ করে করুণা দেখাচ্ছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হোক বা রোহিঙ্গা, আগে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা আসাম দিয়ে ভারতে প্রবেশ করত। এখন তারা পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে যেখানে তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে।’
শাহের কথায়, ‘২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করবে এবং আমরা এটির অবসান ঘটাব।’
তিনি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কঠোর আইন এবং সুরক্ষার জন্য নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত দশ বছরে ভারত পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে ভারত একটি উজ্জ্বল স্থান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভারত উৎপাদনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে এবং সারা বিশ্বের মানুষের ভারতে আসা স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত লাভের জন্য এবং দেশকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য ভারতে আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। রোহিঙ্গা হোক বা বাংলাদেশি, যদি তারা অস্থিরতা তৈরি করতে ভারতে আসে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অভিবাসন এবং বিদেশি বিলের পক্ষে শাহ বলেন যে, ‘এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়। অভিবাসন কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। ভারতের নিরাপত্তার জন্য আমাদের অবশ্যই জানতে হবে কারা আমাদের দেশে প্রবেশ করছে, কতদিনের জন্য এবং কী কারণে।’
এই বিলের মাধ্যমে বিদেশিদের ওপর নজরদারির জন্য একটি কাঠামোগত ব্যবস্থা চালু করা হবে। আশ্রয় প্রদানে ভারতের অতীত ভূমিকার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে শাহ বলেন, ‘ভারত একটি ভূ-সাংস্কৃতিক জাতি, ভূ-রাজনৈতিক জাতি নয়। পার্সিয়ানরা ভারতে এসেছিল এবং আজ এই দেশে তারা নিরাপদ। বিশ্বের ক্ষুদ্রতম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় শুধুমাত্র ভারতেই নিরাপদ। ইহুদিরা ইসরায়েল থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির আমলে, প্রতিবেশী দেশ থেকে ছয়টি নিপীড়িত সম্প্রদায়ের মানুষ সিএএ-র মাধ্যমে দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন।’
শাহ এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যারা দেশের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে তাদের উপর আমরা কড়া নজর রাখব। কারণ দেশ কোনও ‘ধর্মশালা’ নয়। যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন লোকসভার তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। সাংসদ বলছেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। সীমান্তে বেড়া লাগানোয় দেরির দায় কেন্দ্রীয় সরকারের। কেন্দ্র এর জন্য আমাদের দোষ দিতে পারে না।’ সেইসঙ্গে জোর দিয়ে এই তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘আগামী ১০০ বছরেও পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবে না বিজেপি’।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
March
(433)
-
▼
Mar 29
(13)
- আল কুদস দিবস ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতায় করণীয় by শাঈ...
- আল-আকসায় চোখের জলে আল্লাহর সাহায্য চাইলেন ফিলিস্তি...
- সত্যের মুখোমুখি আসিফ নজরুল
- সাইবার প্রতারণায় সব হারিয়ে আত্মহত্যা দম্পতির
- নদী সমস্যায় চীনের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চেয়েছে বাংলাদেশ...
- থাইল্যান্ডের মতো ভূমিকম্পে ঢাকার কী পরিণতি হতে পার...
- শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল আট দেশ, মিয়ানমার ও থাইল্...
- ভূমিকম্পে ব্যাংককে ভবন ধস: সাত শ কোটি টাকার ৩৩তলা ...
- ধর্ষণ মামলার জট কমাতে ‘বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌন...
- ইউক্রেনে নতুন প্রশাসন চান পুতিন
- ৯ চুক্তি-সমঝোতা সই: নতুন অধ্যায়ে ঢাকা বেইজিং সম্পর্ক
- আল জাজিরার রিপোর্ট: ২৫ বিলিয়ন ডলার ফেরানোর মিশনে আ...
- 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গাদের প্রতি করুণা ...
-
▼
Mar 29
(13)
-
▼
March
(433)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



