Wednesday, March 12, 2025

রোহিঙ্গা বিষয়ে আইসিজে’র মামলায় সফল হতে চাই: প্রধান উপদেষ্টা

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদু ট্যাঙ্গারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আজ ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি এ সাক্ষাৎ করেন। এ সময় গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান উপদেষ্টাকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলার বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি বলেন, গাম্বিয়া এই মামলাটি দায়ের করেছিল এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এটি চালিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে চরমভাবে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য। মামাদু ট্যাঙ্গারা বলেন, আমি আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি যে গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এই বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন এবং এটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরা এই বিষয়টিকে আবারও বিশ্ব মানচিত্রে ফিরিয়ে আনতে চাই। তিনি বলেন, গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং জনগণ এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের পক্ষে গাম্বিয়ার পদক্ষেপ এবং এই মামলার সফল পরিণতির জন্য আফ্রিকান দেশটির অব্যাহত প্রতিশ্রুতি ও প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আমরা চাই এই মামলা সফল হোক। আমরা আপনাদের সমর্থন চাই। এটি আমাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদু ট্যাঙ্গারা ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা রোহিঙ্গাদের জন্য সম্মানজনক জীবনের পথ প্রশস্ত করবে। তিনি বলেন, আপনি গাম্বিয়ায় সুপরিচিত। আপনার উপস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সর্বদা আপনার পাশে থাকবে। গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান উপদেষ্টার নতুন দায়িত্বের সফলতা কামনা করেন এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে তার চ্যালেঞ্জিং মিশনের প্রশংসা করেন। প্রফেসর ইউনূস রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য সংগ্রহে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন এবং রাখাইনে মানবিক সহায়তা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে আরও মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য না হয়।

প্রধান উপদেষ্টা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আপনাদের কীভাবে আমরা সাহায্য করতে পারি, আমাদের জানান। উভয় নেতা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যৌথভাবে কাজ করার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আফ্রিকায় দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ক্ষুদ্রঋণের সম্ভাবনা এবং সহিংসতা-কবলিত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সংকট ও সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

‘সে যেন কেয়ামতের আলামত’

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ট্রেনে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে আটকে থাকার সময়কে ‘কেয়ামতের আলামত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যাত্রীরা। জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে কোয়েটা থেকে পেশোয়ারে যাচ্ছিলেন ৪ শতাধিক যাত্রী। ওই সময় বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) নামের সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই ট্রেনে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন ওই সব যাত্রী। ট্রেনের ভয়াল স্মৃতি স্মরণ করে একে একে ঘটনা বর্ণনা করেন কয়েকজন যাত্রী। ইসহাক নুর বলেন, আতঙ্কে আমরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে রেখেছিলাম। না জানি কী হয়! ট্রেনটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কমপক্ষে ১৯০ যাত্রীকে। প্রাণ হারিয়েছে ৩০ জঙ্গি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

মোহাম্মদ আশরাফ ট্রেন থেকে নামতে সক্ষম হওয়া যাত্রীদের মধ্যে একজন। তিনি বলেন, সবাই খুব ভয়ে ছিলো। মনে হচ্ছিলো ‘কেয়ামতের আলামত’। ট্রেন থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীরা প্রায় ৪ ঘণ্টা মতো পথ হেঁটে পরবর্তী রেল স্টেশনে পৌঁছান। কয়েকজন পুরুষ তাদের মধ্য থেকে অসুস্থ যাত্রীদের নিজের কাঁধে তুলে নেন। আশরাফ বলেন, আমরা খুব কষ্টে পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছাই। আমরা খুবই ক্লান্ত ছিলাম। আমাদের সঙ্গে শিশু ও নারী ছিলো। স্ত্রী ও সন্তানদের  নিয়ে যাত্রা করা নুর নামের আরেক ব্যক্তি বলেন- প্রথমে বিস্ফোরণ এত তীব্র ছিলো যে, আমার একটি সন্তান সিট থেকে পড়ে যায়।

গোলাগুলির মধ্যে আমি ও আমার স্ত্রী আরেক সন্তানকে রক্ষা করার চেষ্টা করি। তিনি বলেন, গুলি যদি লাগে তাহলে তা সন্তানদের আগে আমাদেরকে আঘাত করবে। মুস্তাক মুহাম্মদ নামে আরো এক যাত্রী ওই ঘটনা স্মরণ করে বলেন, যাত্রীরা এখনো আতঙ্কে।  বলেন, ওই জঙ্গিরা একে অপরের সঙ্গে ‘বেলুচি’ ভাষায় কথা বলছিলেন। তাদের নেতা তাদেরকে ‘নিরাপত্তা বাহিনীর’ সদস্যদের ওপর বিশেষ নজর রাখতে বলেন। যাতে তারা পালাতে না পারে।

জঙ্গিরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেলুচিস্তানের কিছু অধিবাসীকে ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে ছিলেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। ইসহাক নামে এক ব্যক্তি বলেন, তিনি যখন তাদেরকে বলেন যে তিনি বেলুচিস্তানের বাসিন্দা, তখন তারা তাকে ছেড়ে দেয়। তবে কতজন যাত্রী জঙ্গিদের হাতে জিম্মি আছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তা বাহিনীর তরফ থেকে বলা হয়েছে, অবশিষ্ট জিম্মিদের উদ্ধারে কয়েকশ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিএলএ’র তরফ থেকে বলা হয়, জিম্মিদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হলে ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। মুক্তি পাওয়া যাত্রীদের মধ্যে ১২ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের তরফ থেকে জানানো হয়- সম্ভবত কিছু জঙ্গি কয়েকজন যাত্রীকে তাদের সঙ্গে করে পাশের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গেছে। এদের মধ্যে কমপক্ষে ১০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

mzamin

সংখ্যালঘু বিতর্কে তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা

সংখ্যালঘু বিতর্কে বুধবার তপ্ত হয়ে উঠেছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূল কংগ্রেসের মুসলিম বিধায়কদের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা থেকে বহিষ্কার করা হবে। চ্যাংদোলা করে বিধানসভার বাইরে এনে ফেলা হবে। এরই প্রতিবাদে বুধবার বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব এনেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ওই নিন্দাপ্রস্তাব পেশ করেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানী। তারই বিরোধিতা করতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়কেরা। তাঁদের বক্তব্য, শুভেন্দু  অধিকারী অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত নেই। এ ভাবে তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করা যায় না। শুভেন্দুকে সাসপেন্ড করার প্রতিবাদে বুধবার কালো পোশাক পরেও এসেছিলেন বিজেপি বিধায়কেরা।

তবে নিন্দা প্রস্তাব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলতে উঠলে বিজেপি বিধায়করা চিৎকার জুড়ে দিয়েছিলেন। আরও উত্তপ্ত পরিস্থিতির তৈরি হয়। শুভেন্দুর নাম না নিয়ে তার তীব্র সমালোচনা করে মমতা বলেন, আপনি কীভাবে নাগরিক হিসেবে মুসলমানদের অধিকার অস্বীকার করতে পারেন? এটা একটা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনি ভুয়ো হিন্দুত্ববাদ আমদানি করছেন। আপনার আমদানি করা হিন্দু ধর্ম বেদ বা আমাদের ঋষিদের দ্বারা সমর্থিত নয়। সংখ্যালঘুদের প্রতি বিজেপির আচরণ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী  তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্ম রক্ষা করার অধিকার আমার আছে, কিন্তু আপনাদের মতো করে নয়। দয়া করে হিন্দু কার্ড খেলবেন না। কারণ পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি উৎসব উৎসাহের সাথে পালিত হয়।

শুভেন্দু অধিকারীর হিন্দু জনগোষ্ঠী তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করবে বলে যে ভবিষ্যতবাণী করেছেন তাকে মুখ্যমন্ত্রী বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বিজেপি নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বহুত্ববাদ ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রধান স্তম্ভ এবং দেশের প্রত্যেকেরই তাদের নিজস্ব ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। একজন ব্যক্তি হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান বা পার্সি যাই হোন না কেন, প্রত্যেকেরই নিজস্ব ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে, সকলের যত্ন নেওয়া আমার দায়িত্ব। আমরা সকলের যত্ন নিই।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মুসলিম বিধায়ক হুমায়ুন কবীর পাল্টা শুভেন্দু অধিকারীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৭২ ঘন্টার মধ্যে তিনি মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে রাজ্যের ৪২ জন মুসলিম বিধায়ক তার মোকাবিলা করবে।

mzamin

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অন্যতম নেতৃস্থানীয় ছাত্রকে গ্রেপ্তার

ইসরাইল বিরোধী মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে আগেই কড়া ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।  সেই কথা মেনেই মাহমুদ খলিল নামে নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করল মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিওরিটি বিভাগের এজেন্টরা। জানা গেছে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন এই ছাত্র। ট্রুথ সোশ্যাল-এ করা একটি পোস্টে ট্রাম্পও এই গ্রিন কার্ডধারী মার্কিন ছাত্রকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প লেখেন, ‘এই গ্রেপ্তার প্রথম, আগামীদিনে আরও অনেক হবে।’

শুধু তাই নয়, ওই ছাত্রকে ‘হামাসপন্থী উগ্র বিদেশি ছাত্র’ বলেও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। দাবি করেছেন, কলেজ ক্যাম্পাসে খলিলের মতো আরও অনেক ‘সন্ত্রাসবাদপন্থী, ইহুদিবিরোধী, আমেরিকাবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত’ ছাত্র রয়েছেন। সকলকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘বেতনভুক আন্দোলনকারী’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।  তিনি আরও বলেছেন, ''আমরা আমাদের দেশ থেকে এই ‘সন্ত্রাসবাদী’দের প্রতি সহানুভূতিশীলদের খুঁজে বের করব, গ্রেপ্তার করব এবং বহিষ্কার করব।''

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলে হামাসের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা ভূখণ্ডে আমেরিকার সমর্থনে ইসরাইলের গণহত্যার ফলে, গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকায়, বিশেষ করে কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে আলোড়ন তুলেছে ফিলিস্তিনপন্থী এবং ইসরাইল-বিরোধী বিক্ষোভ। শনিবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের প্রতি ট্রাম্পের সমালোচনা সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাকে নিশানা করছে ট্রাম্প সরকার বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন খলিল। এর পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন, ‘আমেরিকায় হামাস সমর্থক’দের ভিসা এবং গ্রিন কার্ড বাতিল করবে ট্রাম্প প্রশাসন। সোশ্যাল মিডিয়ায় হোমল্যান্ড সিকিওরিটি দাবি করেছে, ‘হামাস সম্পর্কিত কর্মকাণ্ড’ পরিচালনা করেছেন খলিল। ‘স্টুডেন্ট ওয়ার্কারস অফ কলোম্বিয়া লেবার ইউনিয়ন’ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসভবন থেকে খলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’-এর ছাত্র খলিল। তার স্ত্রী মার্কিন নাগরিক এবং আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জানা গেছে মাহমুদ খলিল নিজেও গ্রিন কার্ডধারী অর্থাৎ আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা। এই ঘটনায় সে দেশের নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীগুলো খলিলের গ্রেপ্তারের তীব্র সমালোচনা করেছে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

mzamin

বিশ্বে এই প্রথম, কৃত্রিম হৃদপিণ্ড নিয়ে ১০০ দিনেরও বেশি বেঁচে রইলেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যক্তি

সম্পূর্ণ কৃত্রিম হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এক অস্ট্রেলিয়ান ব্যক্তি। ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সেই কৃত্রিম যন্ত্রটি তার নিরবচ্ছিন্ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যাকে অস্ট্রেলিয়ান গবেষক এবং চিকিৎসকরা ‘বড় ক্লিনিক্যাল সাফল্য’ হিসেবে দেখছেন। কুইন্সল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ডঃ ড্যানিয়েল টিমস দ্বারা উদ্ভাবিত BiVACOR হলো সম্পূর্ণ কৃত্রিম একটি হৃদপিণ্ড। এটি বিশ্বের প্রথম ইমপ্লান্টেবল রোটারি ব্লাড পাম্প যা একটি মানুষের হৃদপিণ্ডের প্রতিস্থাপক হিসাবে কাজ করতে পারে। একটি সুস্থ হৃদপিণ্ডের প্রাকৃতিক রক্তপ্রবাহের প্রতিলিপি তৈরি করতে চৌম্বকীয় উত্তোলন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এতে। এই ইমপ্লান্টটি যা এখনও ক্লিনিকাল অধ্যয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, শেষ পর্যায়ের বাইভেন্ট্রিকুলার হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যা সাধারণত হার্ট অ্যাটাক এবং করোনারি হৃদরোগের কারণে সৃষ্টি হয়। তবে ডায়াবেটিসের মতো রোগ যা হৃদপিণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত বা দুর্বল করে দেয় সেক্ষেত্রে এটি রক্ত ​​পাম্প করতে পারে না।

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ হৃদরোগে ভোগেন, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান সরকারের মতে, মাত্র ৬,০০০ জন দাতা হৃদপিণ্ড সংগ্রহ করতে পারেন। আর তাই  কৃত্রিম হৃদপিণ্ড  কর্মসূচির অংশ হিসেবে BiVACOR ডিভাইসটি তৈরি ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে অস্ট্রেলিয়ান সরকার। ইমপ্লান্টটি একটি সেতু হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে দাতার হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত রোগীদের জীবিত রাখা যায়, কিন্তু BiVACOR-এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হল গ্রহীতারা যাতে হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছাড়াই তাদের ডিভাইসের সাথে বেঁচে থাকতে পারেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের ৪০ বছর বয়সী এই রোগী, যিনি তীব্র হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন, তিনি অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বের ষষ্ঠ কৃত্রিম হৃদযন্ত্রের প্রাপক হওয়ার। যিনি গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম পাঁচটি ইমপ্লান্ট করা হয়েছিল এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে সব রোগীরাই দাতা হৃদপিণ্ড পেয়েছিলেন। ইমপ্লান্ট এবং প্রতিস্থাপনের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ছিল ২৭ দিন। ২২ নভেম্বর সিডনির সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালে কার্ডিওথোরাসিক এবং ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন পল জ্যান্সের নেতৃত্বে ছয় ঘন্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই অস্ট্রেলিয়ান রোগীর দেহে BiVACOR ডিভাইসটি প্রতিস্থাপন করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোগীকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে BiVACOR স্থাপন করে  হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মার্চ মাসে একটি দাতার হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের জন্য উপলব্ধ হয়। জ্যান্স বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসা জগতে এটি একটি মাইলফলক। আমরা বছরের পর বছর ধরে এই মুহূর্তটির জন্য কাজ করে আসছি এবং অস্ট্রেলিয়ায় এই পদ্ধতিটি সম্পন্নকারী প্রথম দল হতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।’

সেন্ট ভিনসেন্টের একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ক্রিস হেওয়ার্ড, যিনি কয়েক সপ্তাহ নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে থাকার পর ওই রোগীর পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে  দিয়েছিলেন, তিনি বলছেন , BiVACOR হার্ট আন্তর্জাতিকভাবে হৃদরোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাড়া ফেলে দেবে। হেওয়ার্ড-এর মতে, আগামী দশকের মধ্যে আমরা দেখতে পাব যে BiVACOR এমন রোগীদের জন্য বিকল্প হয়ে উঠবে যারা দাতার হৃদপিণ্ডের জন্য অপেক্ষা করতে অক্ষম বা যখন দাতার হৃদপিণ্ড পাওয়া যায় না।

কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং হার্ট ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য ডেভিড কোলকুহাউন মনে করেন, কৃত্রিম হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতার সময়কাল - ১০০ দিনেরও বেশি। তবে একজন দাতার হৃদপিণ্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যা মেয়াদকাল ১০ বছরেরও বেশি (অথবা ৩,০০০ দিন)। এই কারণেই কৃত্রিম হৃদপিণ্ডকে হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার আগে "অনেক দীর্ঘ পথ" পাড়ি দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানে হৃদরোগের আধুনিক ওষুধ পাওয়ার কারণে প্রতি জনসংখ্যায় হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। ১৯৬৭-৬৮ সালের দিকে হৃদরোগে মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ছিল। তৎকালীন ১ কোটি ১০ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে ৪৭,০০০ অস্ট্রেলিয়ান হৃদরোগে মারা যান। এখন  ২০২২ সালে ২ কোটি ৬০ লক্ষ অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে ৪৫,০০০ অস্ট্রেলিয়ান মারা গেছেন।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

mzamin

অস্ট্রেলিয়ায় মিললো ডাইনোসরের পায়ের ছাপ

অস্ট্রেলিয়ার একটি পুরোনো পাথরের স্ল্যাবে জীবাশ্ম ডাইনোসরের পায়ের ছাপের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ধুলোবালির নিচে চাপা পড়ে থাকা একটি পাথরের গায়ে মিলেছে ওই ছাপ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান। এতে বলা হয়, কুইন্সল্যান্ডের গ্রামীণ ব্যানানা শায়ারের জীবাশ্মবিদ অ্যান্থনি রোমিলিও ডাইনোসরের পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেন। তিন-আঙ্গুলের চিহ্নের একটি গুচ্ছ পরীক্ষা করতে গিয়ে বিরল ওই ছাপের সন্ধান পান তিনি।

রোমিলিও বলেন, স্ল্যাবটিতে প্রায় ২০ কোটি বছর আগে জুরাসিক যুগের কয়েক ডজন জীবাশ্মযুক্ত পায়ের ছাপ রয়েছে। তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে যে এটি অস্ট্রেলিয়ায় নথিভুক্ত ডাইনোসরের পায়ের ছাপের সর্বোচ্চ ঘনত্বের একটি। এর মাধ্যমে ডাইনোসরের গতিবিধি এবং আচরণের এক অভূতপূর্ব চিত্র পাওয়া গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতে কোনো জীবাশ্মযুক্ত ডাইনোসরের হাড়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রোমিলিও বলেন, এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম বছরের পর বছর ধরে অলক্ষিত থাকতে পারে, এমনকি স্পষ্ট দৃষ্টিতেও। এটা ভাবতেই অবাক লাগে যে ইতিহাসের এক অংশ এতদিন স্কুলের উঠোনে শুয়ে ছিল। ২০০২ সালে কয়লা খনি শ্রমিকরা স্ল্যাবটি খনন করে এবং অস্বাভাবিক পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে এটি ছোট শহর বিলোয়েলার একটি স্কুলে উপহার দেয় এবং এটি প্রবেশপথে প্রদর্শিত হয়। গবেষকদের নজরে আসার আগ পর্যন্ত পাথরটি এতদিন সেখানেই ছিল।

রোমিলিও বলেন, কিছু শিক্ষক মনে করেছিলেন এটি আসল জিনিস নয় বরং একটি প্রতিরূপ। সবাই আসলে বুঝতে পারেনি যে তাদের কাছে আসলে কী আছে। তারা অবশ্যই জানত যে এটি একটি ডাইনোসরের পায়ের ছাপ। তিনি বলেন, এক বর্গমিটারেরও কম ক্ষেত্রফলের স্ল্যাবে ৬৬টি পৃথক পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। এগুলো অ্যানোমোইপাস স্ক্যাম্বাস নামক একটি ডাইনোসরের ছিল। একটি ছোট এবং মোটা উদ্ভিদ ভক্ষক যে দুই পায়ে হাঁটত। রোমিলিও এবং গবেষকদের একটি দল তাদের গবেষণার ফলাফল পিয়ার-রিভিউ জার্নাল হিস্টোরিক্যাল বায়োলজিতে প্রকাশ করেছেন।

mzamin

ইউক্রেন যুদ্ধে জার্মানির ইন্ধন by তারেক খান

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ওলাফ শলৎজ জার্মানির চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেন। এর পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যান। অন্যদিকে ইউক্রেনকে সদস্যপদ দেওয়ার জন্য জেলেনস্কির চেয়ে বেশি অস্থির হন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শলৎজ চ্যান্সেলর হওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তারপর দেশটি তিন বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্রে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল রাশিয়া; দখল করে নিয়েছিল ক্রিমিয়া উপদ্বীপ। সে ঘটনায় জার্মানি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল নরম সুরে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানালেও উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাননি। অনাগ্রহের পেছনে যথেষ্ট কারণও ছিল। মের্কেলের জার্মানির সঙ্গে তখন রাশিয়ার সম্পর্ক যথেষ্ট মধুর। শলৎস রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইউক্রেনকে ধনে-মনে সবদিকে সহযোগিতা করে যান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি যেদিকে তাকাত, ইউনিয়নের অন্যান্য দেশ মোটামুটি সেভাবেই সেদিকে তাকাত। তা ছাড়া তাদের সঙ্গে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মের্কেল বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করতেন। শলৎস যুক্তরাষ্ট্রের অকৃত্রিম বন্ধু প্রথম থেকেই। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক এক মাসের মাথায়—২০২২ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে দুই নেতা একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসেন। সংবাদ সম্মেলনে জার্মানিকে শলৎজ হাজির করেন রাশিয়ার শত্রুরূপে। আর যুক্তরাষ্ট্র তো বহু আগে থেকেই রাশিয়ার শত্রু। শলৎস-বাইডেন দুই বন্ধু এক সুরে শক্ত অবস্থান নিয়ে জানান, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা করে তাহলে তারা সম্ভাব্য সব উপায়ে প্রতিরোধ করবেন, ইউক্রেনকে তারা অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করবেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে তারা অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করবেন ইত্যাদি। তারা এও জানান, ইউক্রেনকে তারা ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়াবেনই। এমন ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা করবে তা সারা দুনিয়া জানত। শলৎজ জানতেন না? জানতেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে তা পরিষ্কার।

কেন জার্মানির এই ইউটার্ন?

২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জার্মানির পররাষ্ট্রনীতি আধুনিকরূপে রূপান্তরিত করেন।’ বস্তুত, হঠাৎ করে কিছু হয় না। এসব শলৎজ আগে থেকেই ভাবছিলেন তা পরিষ্কার। ক্ষমতায় আসার আড়াই মাসের মাথায়, ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, তিনি পার্লামেন্ট অধিবেশনে জার্মান সেনাবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ১১৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দেন। এতে পার্লামেন্টে শোরগোল পড়ে যায়। কিছু সদস্য হাততালি দেন। কেউ কেউ গালাগালি করেন। অনেকেই হতবাক হয়ে যান। ওইদিন শলৎজ জার্মানির নিরাপত্তা, পররাষ্ট্র ও জ্বালানিনীতিতে যে কৌশলগত পরিবর্তনের রূপরেখা দেন, তা ফেডারেল জার্মান প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা বলেই বিবেচিত। শলৎসের স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী উলফ গ্যাং শ্মিটের বক্তব্য স্মরণ করি। শ্মিট সে সময় বলেন, ‘জার্মানির বৈদেশিক নিরাপত্তানীতি এখনো কিশোর পর্যায়ে রয়েছে।’ তিনি তাকে তারুণ্য দিতে চান। শলৎজ হামবুর্গের মেয়র (২০১১-১৮) থাকার সময় থেকে তার ডান হাত হয়ে ওঠেন শ্মিট। শলৎস-শ্মিট দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের মতো এক সুরে দোহাই দেন, রাশিয়া ঘরের মধ্যে এসে পড়ল! ইউক্রেনে এসে পড়েছে।

এরপর পোল্যান্ড-চেকোস্লাভিয়া হয়ে দুই হাজার কিলোমিটার তেড়েফুঁড়ে জার্মানি পৌঁছে যাবে! রাশিয়া যখন প্রয়োজনে যে কোনো উপায়ে ন্যাটোকে ইউক্রেন থেকে দূরে রাখার ঘোষণা দেয়, এ ঘোষণাকে পারমাণবিক বোমা হামলার হুমকি হিসেবে ধরে নেন শলৎস-শ্মিট। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গলা মেলাতে শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্র ঠিক এটাই চাচ্ছিল। অ্যাঙ্গেলা মের্কেল সেদিকে যাননি। কিন্তু শলৎজ শুধু জার্মানিকে নিয়ে ভাবছেন না। তিনি উচ্চাভিলাষী। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে গুরুতর সংকটে ভুগতে থাকা ইউরোপ নেতৃত্ব খুঁজছে। শলৎজ ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

শলৎজ প্রাগে এ বিষয়ে ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য রাখেন। গোটা ইউরোপ নিয়ে তিনি তার উদ্বেগ, দায়িত্ব, পদক্ষেপ, প্রস্তুতি নিয়ে ভাষণ দেন। এর এক মাসের মধ্যে ইউক্রেনের চার অঞ্চল—খেরসন, জাপোরিঝঝিয়া, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক দখল করে নেয় রাশিয়া। অন্তর্ভুক্তির সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও শেষ করে ত্বরিতগতিতে। টাইম ম্যাগাজিন এ বিষয়ে যা বলছে তা হলো, ‘চ্যান্সেলর শলৎজ বিশ্বে জার্মানির অবস্থান রূপান্তর করতে চান। তবে তিনি তা মুখে কদাচিৎ বলেন।’

প্রশ্ন হচ্ছে, শলৎজ যদি রাশিয়ার বিপক্ষে তার অবস্থান এতটা স্পষ্ট না করতেন, তাহলে কি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এতদূর গড়াত? ২০১৪ সালে রাশিয়া যখন ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয়, তখন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল মূলত নীরব ভূমিকা পালন করেছিলেন। বেশ নরম সুরে তিনি শুধু যুদ্ধাবসান চেয়েছিলেন। অন্যদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গোছগাছ করে লম্বা লম্বা বক্তৃতা দিয়েছিলেন। মানবতাবাদী পরামর্শ ছিল তার সেই বক্তৃতায়। তখন অ্যাঙ্গেলার ওপর মার্কিন কূটনৈতিক চাপ ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বাইডেন উত্তেজনা চাপিয়ে রাখতে পারেননি। আগে থেকেই রাশিয়ার ঘরের কোনায় একটা ঘাঁটি গাড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কাজটা করার জন্য তারা মরিয়া হয়ে ওঠে, যখন চীন-রাশিয়ার বন্ধুত্ব বেড়ে ওঠে এবং তুরস্ক প্রতিনিয়ত লায়েক হতে থাকে। লায়েক হতে হতে রাশিয়ার সঙ্গেও খাতির বাড়িয়ে চলে। এখন তাহলে ইউক্রেনে ঘাঁটি গাড়ার জন্য জার্মানিই সবচেয়ে ক্ষমতাবান সহকারী। কিন্তু শলৎজ এক দুর্বল কান্ডারি। তিনি সবকিছু গুবলেট করে ফেলেন।

ষাটোর্ধ্ব শলৎজ অনেক আগে থেকেই ব্যক্তিগত ইমেজের জন্য আলোচিত। পশ্চিমা গণমাধ্যমে তাকে অহরহ ‘রোবটের মতো’ বলে উল্লেখ করা হয়। যান্ত্রিক ভঙ্গিমার জন্য তাকে শোলজোম্যাট বলে ডাকা হয়। তিনি যখন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের ডেপুটি (২০১৮-২১) ছিলেন, তখন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রায় কিছুই বলেননি। মের্কেলের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও তিনি পালন করেন। ফলে তার রাজনৈতিক সহকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা মনে করতেন, তিনি মের্কেলের ধারাই টেনে নেবেন। কিন্তু তিনি উল্টো পথে হাঁটেন, যা আগে কেউ কল্পনা করেনি। ‘নর্ড স্ট্রিম’ নামে গ্যাস পাইপলাইন, যা দিয়ে রাশিয়া থেকে গ্যাস যায় জার্মানিতে। এই প্রকল্প ২০০০ সালে শুরু করেন চ্যান্সেলর শ্রোয়েডার। ২০১১ সালে ‘নর্ড স্ট্রিম ১’ থেকে গ্যাস যাওয়া শুরু হয়। ‘নর্ড স্ট্রিম ২’ প্রকল্প উৎসাহ ভরে এগিয়ে নেন মের্কেল, যা চালু হলে জার্মানির সব বাড়ি—২ কোটি ৬০ লাখ—শীতের সময় গরম রাখা নিয়ে আর দুশ্চিন্তা থাকত না। প্রকল্পটা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সুইচ টিপলেই গ্যাস যাবে। কিন্তু শলৎজ এটা বন্ধ ঘোষণা করেন। কারণ রাশিয়ার ওপর আর নির্ভরশীল থাকবেন না বলে তিনি ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এ পাইপলাইনের বিরোধিতা করে আসছিল। এ চাপের সামনে নতিস্বীকার করেননি চ্যান্সেলর মের্কেল।

সংগত কারণেই শলৎজ জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেন। হামবুর্গের মেয়র থাকাকালে তিনি যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, তা ধূলিসাৎ হয়ে যায় অর্ধবছরের মধ্যে। তিনি হামবুর্গ শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রসারিত করেছিলেন, শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি বাতিল করেছিলেন, এলবে নদীকে গভীর ও প্রসারিত করে বড় কনটেইনার জাহাজ চলাচলের উপযোগী করার প্রকল্প এগিয়ে নিয়েছিলেন। এসব ছিল তার জনপ্রিয়তার কারণ। কিন্তু জার্মান সামরিকনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে শোলজোম্যাট কী করেছেন, তা তিনি নিজেই হয়তো জানেন না। ফলে ২০২৫ সালের নির্বাচনে তার ভরাডুবি হয়েছে। এবার যিনি নতুন চ্যান্সেলর হবেন, তিনি কী করবেন তাই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব এখন।

লেখক: সাংবাদিক

শনি গ্রহের ১২৮টি নতুন চাঁদ আবিষ্কার by কাজী আকাশ

সৌরজগতের সবচেয়ে বেশি চাঁদের মালিক হওয়ার দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল শনি গ্রহ। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা শনির চারপাশে আরও ১২৮টি নতুন চাঁদের সন্ধান পেয়েছেন। এই আবিষ্কারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা (IAU)। ফলে শনির এখন মোট চাঁদের সংখ্যা ২৭৪টি। আর গ্রহরাজ বৃহস্পতির সেই ৯৫টি চাঁদই রয়ে গেছে। আসলে শনি গ্রহ ছাড়া আর কোনো গ্রহের ১০০টি চাঁদ নেই।

তাইওয়ানের তাইপেতে অবস্থিত অ্যাকাডেমিয়া সিনিকার জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড অ্যাশটন ও তাঁর সহকর্মীরা কানাডা-ফ্রান্স-হাওয়াই টেলিস্কোপ ব্যবহার করে শনির চারপাশে এই নতুন চাঁদগুলো শনাক্ত করেছেন। তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে শনি গ্রহের ছবি তুলেছিলেন এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করে আগের বিজ্ঞানীদের না দেখা অনেকগুলো চাঁদ খুঁজে পান। বিজ্ঞানীরা প্রথমে শনির চারপাশের আকাশের বহু ঘণ্টার ছবি তোলেন। যেহেতু শনি গ্রহও মহাকাশে স্থির নয়, তাই তাঁরা প্রথমে শনির অবস্থানের পরিবর্তন হিসাব করে ছবিগুলোকে সংশোধন করেন, যেন শনির গতি ছবিগুলোকে প্রভাবিত করতে না পারে। এরপর, সেই ছবিগুলো একটির ওপর আরেকটি স্তূপীকৃত (stacked) করেন।

এই পদ্ধতির ফলে যেসব বস্তু খুব ক্ষীণ আলোর জন্য সাধারণভাবে দেখা সম্ভব ছিল না, সেগুলো প্রকাশিত হয়ে যায়। কারণ, যখন একই জায়গার অনেক ছবি একত্রে রাখা হয়, তখন উজ্জ্বল বস্তু আরও স্পষ্ট হয় এবং ক্ষীণ বস্তুগুলোও ধীরে ধীরে চোখে পড়তে শুরু করে। এই বিশেষ কৌশলে বিজ্ঞানীরা শনির ১২৮টি নতুন চাঁদ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে শনি গ্রহের চারপাশে যে আরও চাঁদ বা উপগ্রহ আবিষ্কৃত হবে, তা অনুমেয়ই ছিল। ২০১৯-২০২১ সালের মধ্যে যখন শনির নতুন ৬২টি ছোট বস্তু শনাক্ত করা হয়েছিল, তখনই এর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তখন গ্রহটির চারপাশে আরও কিছু বস্তু দেখা গিয়েছিল, কিন্তু সেগুলোকে চাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। কারণ, কোনো বস্তুর ব্যাস ও কক্ষপথ জানতে না পারলে সেগুলোর নামকরণ করা হয় না। কিন্তু এখন ওসব বস্তু সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তাই আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা সেগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে শনি গ্রহের নামের পাশে যুক্ত হয়েছে আরও ১২৮টি চাঁদ।

এ ব্যাপারে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড অ্যাশটন বলেন, ‘আমরা জানতাম যে এগুলোর চাঁদ হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে। আমরা আরও অনেক চাঁদ আবিষ্কারের অপেক্ষায় ছিলাম। এজন্য ২০২৩ সালে টানা তিন মাস আকাশের একই অংশ পর্যবেক্ষণ করি। এভাবে ১২৮টি নতুন চাঁদ খুঁজে পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গ্রহের দৌড়ে বৃহস্পতি আর কখনোই শনিকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না।’

তবে নতুন আবিষ্কৃত এই চাঁদগুলো পৃথিবীর চাঁদের মতো বড় ও গোলাকার নয়। এগুলোর আকার মাত্র কয়েক কিলোমিটার। দেখতেও আমাদের চাঁদের মতো সুন্দর নয়। ওগুলো অমসৃণ এবং ‘অনিয়মিত চাঁদ’।

গবেষকেরা কিছু মহাকাশীয় বস্তুকে অনিয়মিত চাঁদ বা ‘ইরেগুলার মুনস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ ধরনের চাঁদগুলো গ্রহের মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রে গ্রহাণু আটকা পড়ে তৈরি হয়। এ উপগ্রহগুলো উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে। আর নিয়মিত উপগ্রহগুলোর তুলনায় গ্রহের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, নতুন এই চাঁদগুলো সৌরজগতের শুরুর দিকে শনির মহাকর্ষ বলের ফাঁদে আটকে পড়েছিল। পরে একাধিক সংঘর্ষের ফলে এগুলো আরও ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে যায়। সম্ভবত ১০ কোটি বছর আগে একটি বড় সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই সংঘর্ষ থেকেই জন্ম নেয় এই নতুন চাঁদগুলো। এদের অবস্থানও এই তত্ত্বকে সমর্থন করে।

নতুন আবিষ্কৃত এই চাঁদগুলো শনি গ্রহের নর্স গ্রুপে অবস্থিত। শনির বেশ কিছু অনিয়মিত চাঁদের একটি বিশেষ শ্রেণিকে বলে নর্স গ্রুপ। এখানকার বস্তুগুলো গ্রহটির বিপরীত দিকে ঘোরে। অর্থাৎ, শনি গ্রহ যেদিকে ঘোরে, ওই বস্তুগুলো ঘোরে তার উল্টো দিকে। এখানকার বস্তুগুলো দেখতে অনেকটা আলুর মতো।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট ও নিউ সায়েন্টিস্ট

বিজ্ঞানীরা শনির চারপাশে আরও ১২৮টি নতুন চাঁদের সন্ধান পেয়েছেন
বিজ্ঞানীরা শনির চারপাশে আরও ১২৮টি নতুন চাঁদের সন্ধান পেয়েছেন। ছবি: নাসা

কাঠ ব্যবসায়ীর ছেলে গড়েছিলেন আধুনিক তুরস্ক by মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠায় কামাল আতাতুর্ক বিপ্লবী সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি হাতে নেন। তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি ১৫ বছর তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। আজ ১২ মার্চ তাঁর জন্মদিন। তাঁকে নিয়ে আজকের আয়োজন।

মোস্তফা কামাল পাশা। তিনি কামাল আতাতুর্ক নামে সমধিক পরিচিত। ‘আতাতুর্ক’ তথা তুর্কি জাতির জনক পদবি তাঁর অর্জন। কারণ, তিনিই আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা। কাঠ ব্যবসায়ী বাবার ছেলে মোস্তফা কামাল গড়েছেন নতুন তুর্কি রিপাবলিক। আজ ১২ মার্চ তাঁর জন্মদিন।

কামাল আতাতুর্ক একসময়কার ওসমানী খেলাফতের অধীন থাকা সালোনিকায় ১৮৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে গ্রিসের অংশ এ এলাকার নাম থেসালোনিকি। ছোটখাটো সরকারি একটি পদে চাকরি করতেন তাঁর বাবা। পরে নামেন কাঠের ব্যবসায়। ছেলেকে ১২ বছর বয়সেই পাঠান সামরিক বিদ্যালয়ে। পরে ১৯০৫ সালে ইস্তাম্বুলের সামরিক একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন কামাল আতাতুর্ক।

লিবিয়ায় দখলদার ইতালি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ১৯১১ সালে দায়িত্ব পালন করেন কামাল আতাতুর্ক। ১৯১২-১৩ সালে বলকান অঞ্চলের যুদ্ধগুলোতেও তিনি অংশ নেন। তবে ১৯১৫ সালে দার্দানেলিসে মিত্রশক্তির হামলা প্রতিহত করে সামরিক খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী মিত্রশক্তির চাপিয়ে দেওয়া শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে ১৯১৯ সালের মে মাসে আনাতোলিয়ায় জাতীয়তাবাদী বিপ্লবের সূচনা করেন কামাল আতাতুর্ক। ইজমির শহর ও এর প্রত্যন্ত এলাকায় গ্রিক বাহিনীর দখলচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। গ্রিকদের ওপর তাঁর বিজয়ের ফলে আরোপিত সেভরেস চুক্তির পরিবর্তে লুজান চুক্তি সই হয়।

কামাল আতাতুর্ক ১৯২১ সালে আঙ্কারায় অস্থায়ী সরকার গঠন করেন। পরের বছর আনুষ্ঠানিকভাবে ওসমানী খেলাফতের বিলুপ্তি হয়। ১৯২৩ সালে সেক্যুলার তুর্কি রিপাবলিক গঠিত হলে কামাল আতাতুর্ক প্রেসিডেন্ট হন। তিনি একদলীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই দল ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে তুরস্ক শাসন করেছে।

আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠায় কামাল আতাতুর্ক বিপ্লবী সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি হাতে নেন। এর মধ্যে ছিল নারীমুক্তি, ইসলামী প্রতিষ্ঠান বিলোপ, আরবিতে আজান নিষিদ্ধ করা, পশ্চিমা আইন চালু। আরবি বর্ণমালার জায়গায় লাতিন বর্ণমালা চালু। পোশাক-আশাকে পশ্চিমা ভাবধারার প্রচলন।

তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে মোস্তফা কামাল ১৫ বছর তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৩৫ সালে তাঁকে ‘আতাতুর্ক’ তথা তুর্কি জাতির জনক উপাধি দেওয়া হয়। তিনি ১৯৩৮ সালের ১০ নভেম্বর মারা যান।

চ্যালেঞ্জের মুখে ‘কামালবাদ’

তুরস্কজুড়ে কয়েক দশক ধরে আধিপত্য করেছে কামাল আতাতুর্কের ব্যক্তিত্ব। বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়ালে থাকা তাঁর প্রতিটি ছবি থেকে বরফ নীল চোখ দুটি যেন নিজের গড়া রিপাবলিকের দিকে অপলক তাকিয়ে ছিল। তাঁর সামরিক কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তৈরি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্যগুলোর প্রতি যেন ঘুমন্ত নগরীগুলো ছিল শ্রদ্ধায় অবনত।

তুরস্কে কামাল আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষতার ধারা ‘কেমালিজম’ তথা কামালবাদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় ৮৫ বছর পর কামাল আতাতুর্কের মতাদর্শিক ধারা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইসলামি ভাবাদর্শিক একটি জাতির জন্য তিনি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু করেছিলেন। কিন্তু সেই বিরোধ আবার সামনে এসেছে। মুসলিম বিশ্বের মডেল গণতন্ত্রে ধর্মের ভূমিকা কী হবে, সে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তুরস্কের আধা সামরিক বাহিনীর সাবেক কমান্ডার জেনারেল সেনের এরুয়গুর বলেন, কামাল আতাতুর্ক তুর্কি জাতির ভিত গড়েছেন। তিনি চরম হতাশার সময় আশা জাগিয়েছিলেন।

ছয় বছর আগে বিরোধী ইয়নিকাগ পত্রিকার সাংবাদিক আরসলান বুলুত বলেন, মৃত্যুর প্রায় ৮০ বছর পরও আধুনিক তুরস্কের ‘পোস্টার বয়’ কামাল আতাতুর্ক। নিজেদের প্রচার-প্রচারণায় কামাল আতাতুর্কের নাম তুলে ধরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)। তাঁর মতাদর্শিক ধারা আক্রমণের মুখে বলে মনে করেন দলটির নেতারা।

ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) ২০০২ সালে ক্ষমতায় আসার আগপর্যন্ত কামাল আতাতুর্কের মতাদর্শিক ধারা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন জোর বিতর্ক ছিল না। এর পর থেকে এ নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। অনেকের মতে, তাঁর সংস্কার ছিল সমস্যাগ্রস্ত। কারণ, এতে ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল কারও কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল না।

বুলুত বলেন, একে পার্টির কিছু ঊর্ধ্বতন নেতা ও তাঁদের অনুসারীরা সংস্কারের জন্য কামাল আতাতুর্ককে দোষারোপ করে থাকেন। এটাকে তাঁরা নিপীড়নের সঙ্গে তুলনা করেন।

তুরস্কে দুই দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তাঁর দল একে পার্টি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসের জায়গায় ওসমানি খেলাফত ও ইসলামি ঐতিহ্যের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কামাল আতাতুর্কের জায়গায় এটিকে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা চলছে।

জাতীয় ঐক্যের জায়গা

বিতর্ক আর বিভাজনের এ ধারা কিছুটা স্তিমিত হয়েছে ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টায়। ছদ্মবেশী একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চালায়। তখন রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই রক্তাক্ত ওই সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা প্রতিহত করেন। এর পর থেকে কামাল আতাতুর্ককে নিয়ে বিভাজন কমেছে। একে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইয়াসার ইয়াকিস বলেন, ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকে সরকার আর আতাতুর্ককে বিভক্তির বিষয় হিসেবে দেখে না। তিনি ঐক্যের প্রতীক।

কয়েক বছর আগেও আতাতুর্ক শব্দটি মুখে নিতেন না এরদোয়ান। তিনি এখন সিএইচপির সমালোচনা করে বলছেন, ‘ফ্যাসিস্ট’ এ গোষ্ঠীকে আতাতুর্কের মতাদর্শিক ধারা একক কবজায় রাখতে দেবেন না তিনি।

আতাতুর্কের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকীর আগের দিনগুলোতে এরদোয়ান বলতেন, ‘মোস্তফার প্রতি আমাদের জাতির চির শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা খুব ভালো করেই জানি, আতাতুর্ক উপাধি নিয়ে আমাদের জাতির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। জাতি নিজ থেকেই তাঁকে এ উপাধি দিয়েছিল। তাহলে কেন এটা নিয়ে এখন বিতর্ক উঠছে?’

গুড পার্টির (আইওয়াইআই পার্টি) সহপ্রতিষ্ঠাতা আলি তুর্কসেন বলেন, ‘ওই অভ্যুত্থান চেষ্টা আমাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে পরিণত করেছে। এটা ছিল দ্বিতীয় স্বাধীনতাযুদ্ধ।’

ধর্ম, একনায়কতন্ত্র ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর অধিকারের প্রশ্নে কামাল আতাতুর্কের সমালোচনা রয়েছে। তুরস্কের লেখক নেদিম গুরসেল বলেন, ‘তুরস্কে নিঃসন্দেহে তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রতি বেশ বড় সমর্থন রয়েছে। কামালবাদ শুধু তুরস্কের জন্যই নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমার মনে হয়, বর্তমান সময়ে এসে আমাদের তাঁর সমালোচনাও করা উচিত।’

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও আল-জাজিরা

ট্রাম্পকে ইরানের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি: আমি আপনার সঙ্গে আলোচনা করব না, যা ইচ্ছা করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। হুমকি দেয়া হচ্ছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। এতে ট্রাম্প যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের আদেশ এবং হুমকি দেয় যা আমাদের জন্য অগ্রহণীয়। ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, আমি আপনার সঙ্গে আলোচনা করব না, আপনি যা ইচ্ছা করুন।

এর আগে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, তেহরানকে আলোচনার জন্য ধমক দেয়া চলবে না। পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে ইরানকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন তার প্রেক্ষিতে ওই কথা বলেন খামেনি। বিশ্ব বাজার থেকে ইরানের অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং দেশটির তেল রপ্তানিকে শূন্যের কোটায় পৌঁছে দিতে প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করেন ট্রাম্প। এরপর থেকে তার সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের বরফ আর গলেনি। দ্বিতীয় বারের মতো ক্ষমতায় এসেও একই পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলত দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প গত শুক্রবার বলেছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে ইরানের সঙ্গে দুটি উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। যার প্রথমটি হচ্ছে- সামরিক শক্তি (যুদ্ধ), অন্যটি হচ্ছে চুক্তি। দীর্ঘদিন থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে ইরান। তবে তারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিশুদ্ধতার মান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি উল্লেখ করে সতর্ক করেছে আইএইএ। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে ৯০ শতাংশ পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয়।

২০১৯ সাল থেকে ইরান তার পারমাণবিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর এক বছর পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের ২০১৫ সালে হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। তখন ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন তিনি।

mzamin

পাকিস্তানে সেই ট্রেন থেকে উদ্ধার ১৫৫ যাত্রী, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ২৭ জন নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে জিম্মি যাত্রীদের মধ্যে থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। এতে বলা হয়, মঙ্গলবার জাফর নামের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন জিম্মি করে একদল সন্ত্রাসীরা। তারা পুরো ট্রেনের সকল যাত্রীকে জিম্মি করে। পরে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী একটি ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। যাতে এ পর্যন্ত ২৭ জন হামলাকারী নিহত হয়েছেন।

এদিকে ভারতের টাইমস নাউ খবরে গোষ্ঠীটির নাম বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী ট্রেনটিতে নয়টি বগি রয়েছে। যাতে ৪০০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে যাওয়ার পথে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। রেলওয়ে কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাফর এক্সপ্রেস থেকে উদ্ধারকৃত ৫৭ জন যাত্রীকে সুস্থ অবস্থায় বুধবার ভোরে কোয়েটায় পাঠানো হয়েছে। এখনও ২৩ জন যাত্রী মাচে রয়ে গেছেন। সূত্র জানিয়েছে এখনও নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ সুযোগেই যাত্রীদের উদ্ধার করেছে তারা। এরমধ্যে ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। যাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলাকারীরা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করছে। জানা গেছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানে তাদের মাস্টারমাইন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং নারী-শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এছাড়া এলাকার কঠিন ভূ-প্রকৃতি অভিযানকে আরও জটিল করে তুলছে। হামলাকারীরা ট্রেনের ওপর আক্রমণ করার আগে রেলপথে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল, নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, তারা লোকোমোটিভে গুলি চালিয়েছে, ফলে চালক আহত হন। ট্রেনটি একটি সুড়ঙ্গের ঠিক আগে থেমে যায়। আফগানিস্তান ও ইরানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একটি দুর্গম, পর্বতাঞ্চলীয় এলাকায় ট্রেনটির দখল নেয় তারা।

mzamin

পাকিস্তানে ট্রেনে হামলার পর ১৮২ জনকে জিম্মি, দাবি না মানলে সবাইকে হত্যার হুমকি

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের বোলান এলাকায় একটি ট্রেনে হামলা চালিয়ে ১৮২ জনকে জিম্মি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। জিম্মি ব্যক্তিদের মধ্যে সেনাসদস্যরা রয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এই অঞ্চল ছেড়ে না গেলে সব জিম্মিকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

সন্ত্রাসী হামলার শিকার ট্রেনটির নাম ‘জাফফার এক্সপ্রেস’। আজ মঙ্গলবার সেটি বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পেশওয়ার শহরে যাচ্ছিল। তখন ট্রেনটিতে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিলেন। সেটি এখন একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে আছে। ট্রেনের চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

ট্রেনটিতে হামলা চালানো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নাম বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। বেলুচিস্তান প্রদেশের স্বাধীনতা চায় তারা। এ নিয়ে দশকের পর দশক ধরে গোষ্ঠীটি সরকারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে আসছে। বিএলএর দাবি, বেলুচিস্তানের গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অন্যায্যভাবে ভোগদখল করছে সরকার।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, ট্রেন আটকে থাকা ওই সুড়ঙ্গের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে তাঁদের গুলি বিনিময় চলছে। ব্যাপক গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিনাও। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে।

বিএলএ জানিয়েছে, তাদের কাছে ট্রেনের ১৮২ জন যাত্রী জিম্মি রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাসদস্য ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। এ ছাড়া তারা ২০ সেনাসদস্যকে হত্যা করেছে এবং ১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বিএলএর এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সাংবাদিককের কাছে একটি বিবৃতি ই–মেইল করেছে বিএলএ। বিবৃতিটি বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামেও প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে গোষ্ঠীটি বলেছে, ‘বেসামরিক যাত্রী, বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও বেলুচ নাগরিকদের নিরাপত্তার সঙ্গে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সামরিক হস্তক্ষেপ জারি থাকলে সব জিম্মিকে হত্যা করা হবে।’

ট্রেনে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তিনি বলেছেন, ‘নিরপরাধ যাত্রীদের ওপর যেসব পশু হামলা চালিয়েছে’, তাদের কোনো ছাড় দেবে না সরকার।

পাকিস্তানের একটি ট্রেন
পাকিস্তানের একটি ট্রেন ফাইল ছবি: এএফপি

জুমার নামাজ ও দোল এক দিনে পড়ায় শঙ্কা, সতকর্তা

দোলযাত্রার দিন ভারতজুড়ে শান্তিরক্ষায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিটি রাজ্য সরকারকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে বলেছে। সতর্কতা জারির প্রথম কারণ হোলি বা দোলযাত্রা পড়েছে রমজান মাসে, দ্বিতীয় কারণ উৎসবটি উদ্‌যাপিত হবে আগামী শুক্রবার, অর্থাৎ জুমাবারে।

জুমাবারে হোলি পড়ায় রং খেলা নিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী কোনো কোনো নেতা ও বিজেপিশাসিত রাজ্যের অতি উৎসাহী সরকারি কর্তাদের লাগামহীন মন্তব্য উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারাও এ নিয়ে শঙ্কিত। সেই শঙ্কা থেকেই রাজ্যগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর।

দুই দিন আগে উত্তর প্রদেশের সম্ভল শহরের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মুসলমানদের যদি রং নিয়ে স্পর্শকাতরতা থাকে, তাহলে হোলির দিন তাঁদের ঘরে আবদ্ধ থাকাই ভালো। সম্ভল শহরের একটি মসজিদের আদি চরিত্র নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের বিবাদ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেই কারণে শহরে যথেষ্ট উত্তেজনাও আছে। এর মধ্যে জুমাবারে হোলি বা দোল উৎসব পড়ায় প্রশাসনিক স্তরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তেজনা যাতে অপ্রীতিকর অবস্থায় না গড়ায়, সে জন্য উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌসহ বিভিন্ন শহরের মুসলিম ধর্মীয় নেতারা জুমার নামাজ দুপুর ১২টার জায়গায় বেলা দুটো–আড়াইটায় পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

লক্ষ্ণৌ ঈদগাহের ইমাম জানিয়েছেন, জুমার নামাজ বেলা দুইটায় শুরু হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের তিনি অনুরোধ করেছেন, এই জুমার নামাজ প্রত্যেকে যেন স্থানীয় মসজিদেই পড়েন। অনেক পথ পেরিয়ে বড় মসজিদে যাওয়ার দরকার নেই। বেরিলির মওলানা মুফতি জানিয়েছেন, মিশ্র এলাকায় মুসলমান জনতা যেন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নিজ গৃহে থাকেন। তিনিও বেলা দুইটার পর নামাজের সময় ধার্য করেছেন।

সম্ভল মসজিদের ইমাম জানিয়েছেন, শুক্রবার বেলা আড়াইটায় নামাজ শুরু হবে। জেলায় জেলায় হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, রং খেলা সকাল থেকে শুরু হলেও বেলা দুইটা–আড়াইটার মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। সম্ভলের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শান্তিরক্ষায় সাত কোম্পানি বাড়তি সশস্ত্র পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

দোলযাত্রা ও জুমার নামাজ ঘিরে বিজেপিশাসিত বিহারে অবশ্য কিছুটা রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সে জন্য বিরোধীদের চোখে ভিলেন হয়েছেন মধুবনি জেলার বিজেপির বিধায়ক হরিভূষণ ঠাকুর। মুসলমানদের উদ্দেশ করে সম্প্রতি তিনি বলেছেন, হোলির দিন মুসলমানদের ঘরের বাইরে না বেরোনোই মঙ্গল। পাটনায় বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বছরে ৫২টা জুমাবার। একটা জুমাবারে এবার হোলি পড়েছে। ওই দিনটা হিন্দুদের নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে দেওয়া উচিত। সে জন্য মুসলমানদের পক্ষে উচিত হবে ঘরে থাকা। হরিভূষণ অবশ্য বলেন, ভুল করে কারও গায়ে রং লাগলে মুসলমান বন্ধুরা যেন ক্ষুব্ধ না হন।

বিজেপি বিধায়কের ওই মনোভাব ও পরামর্শের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রাজ্যের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব। আরজেডি নেতার অভিযোগ, বিজেপি–আরএসএস সব সময় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু বিহার এমন এক রাজ্য, যেখানকার জনগণ বারবার তাদের অপচেষ্টা বানচাল করে দিয়েছে।

তেজস্বীর অভিযোগ, দোলের দিন মুসলমানদের ঘরবন্দী থাকার পরামর্শ দেওয়ার মধ্য দিয়ে হরিভূষণ ঠাকুর সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। এই অপরাধে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের উচিত বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা করা। বিজেপি বিধায়ক হরিভূষণ ঠাকুরের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখানে তাঁর বাপের রাজত্ব চলছে না। বিহারে একজন মুসলমানকে রক্ষা করতে পাঁচ–ছয়জন হিন্দু সব সময় এগিয়ে আসেন। এই রাজ্যে তাঁরা দাঙ্গা হতে দেবেন না।

ভারতের জাতীয় পতাকা

আইসিসি’র পরোয়ানায় গ্রেপ্তার রড্রিগো: আমার অপরাধ কী?

ক্ষমতায় থাকাকালে নির্বিচারে ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ মানুষ হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন রড্রিগো দুতের্তে। এরপর বাংলাদেশেও একই রকম নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অধীনেও একই রকম অভিযানে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ফিলিপাইনে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবং এর আগে ডাভাও শহরের মেয়র হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালে হাজারো মানুষকে হত্যা করেছেন দুতের্তে। মাদকের বিরুদ্ধে নৃশংস অভিযানে ওই সময় রাজধানী ম্যানিলা ও বিভিন্ন শহর প্রায় দিনই সন্দেহজনক মাদকগ্রহণকারী বা ডিলারের রক্তে সয়লাব হতো। এর মধ্যদিয়ে দুতের্তে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। এমন অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি)। এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর ৭৯ বছর বয়সী দুতের্তেকে হংকং থেকে রাজধানী ম্যানিলায় পৌঁছামাত্র গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নেয়া হয়েছে পুলিশ হেফাজতে। তবে তিনি মাদক বিরোধী অভিযানে নৃশংসতার জন্য ক্ষমা চাননি। তাকে গ্রেপ্তারের পর পরোয়ানা নিয়ে উল্টো প্রশ্ন করেছেন। এমনকি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন- ‘আমার অপরাধটা কী?’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশেও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে মাদকবিরোধী অভিযানে বহু মানুষকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মানুষ হত্যায় বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন প্রায় একই রকম অবস্থানে। তবে বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের কাউকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হয়নি। অনলাইন বিবিসি বলছে, রড্রিগো দুতের্তেকে গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্সিয়াল মুখপাত্র সালভাদর পানেলো। তিনি এই গ্রেপ্তারকে বেআইনি বলে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, ২০১৯ সালেই আইসিসি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ফিলিপাইন। জবাবে আইসিসি বলেছে, ফিলিপাইন সদস্য দেশ হিসেবে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার আগে যেসব অপরাধ সেখানে সংঘটিত হয়েছে তার বিচার করার এখতিয়ার আছে আইসিসি’র। ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর হিউম্যান রাইটস ইন দ্য ফিলিপাইনস  (আইসিএইচআরপি) বলেছে, রড্রিগো দুতের্তের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেসব মানুষ নিঃস্ব হয়েছেন এবং তাদের পরিবার এই গ্রেপ্তারকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। আইসিএইচআরপি’র চেয়ারম্যান পিটার মারফি বলেন, বিশ্বে নৈতিকতার পথ অনেক দীর্ঘ। এখন সেটা ন্যায়বিচারের দিকে বেঁকে গেছে। তার নৃশংস শাসনকে সংজ্ঞায়িত করে যে গণহত্যা তার জবাবদিহিতা শুরু হচ্ছে দুতের্তেকে গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ই মে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর জন্য হংকং থেকে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। ডাভাও শহরের মেয়র পদে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছিলেন। স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, বিমানবন্দরে একটি লাঠিতে ভর দিয়ে বেরিয়ে আসছেন দুতের্তে। তবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, তিনি সুস্থ আছেন। সরকারি চিকিৎসকরা তার দেখভাল করছেন। হংকং ত্যাগ করার আগে তাকে দেখতে ফিলিপাইনের বেশ কিছু প্রবাসী জড়ো হন। তারা উল্লাস করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাদের উদ্দেশ্যে দুতের্তে বলেন- আমার অপরাধ কী? ফিলিপাইনের জনগণের শান্তি ও শান্তিময় জীবনের জন্য আমার ক্ষমতার সময়ে সবকিছুই করেছি। তার মেয়ে ভেরোনিকা দুতের্তে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায়, ম্যানিলার ভিলামোর বিমান ঘাঁটিতে একটি লাউঞ্জে নিরাপত্তা হেফাজতে আছেন দুতের্তে। সেখান থেকেও তাকে কি কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, কোন অপরাধ আমি করেছি? আমাকে নিজের ইচ্ছায় নয়, অন্য কারও ইচ্ছায় আনা হয়েছে এখানে। স্বাধীনতা হরণ করার জন্য এখন আপনাদেরকেই জবাব দিতে হবে। ফিলিপাইনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রিচার্ড হেডারিয়ান বলেন, দুতের্তেকে গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে ফিলিপাইনের ইতিহাসে নতুন একটি যুগের সূচনা হচ্ছে। এটা হলো আইনের শাসন ও মানবাধিকারের বিষয়। হেডারিয়ান বলেন, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে স্থানীয় আদালতে বিষয়টিকে বিচারের মুখোমুখি করার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে দুতের্তেকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করেছে।

দুতের্তে এবং মারকোস পরিবার ২০২২ সালের নির্বাচনে একটি জোট গঠন করেছিল। সে সময় প্রেসিডেন্ট পদ না চেয়ে মারকোস জুনিয়রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করুন মেয়ে সারা দুতের্তে- এমনটাই চেয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতের্তে। কিন্তু রাজনৈতিক আলাদা এজেন্ডা সামনে আসায় কয়েক মাস ধরে এই দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা প্রকাশ পেতে থাকে। প্রথমদিকে আইসিসি’র তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান প্রেসিডেন্ট মারকোস। কিন্তু দুতের্তে পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হতেই থাকে। ফলে প্রেসিডেন্ট মারকোস তার অবস্থান বদলান। পরে ইঙ্গিত দেন- আইসিসিকে সহযোগিতা করবে ফিলিপাইন। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুতের্তেকে দ্য হেগে অবস্থিত আইসিসিতে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রেসিডেন্ট মারকোস পাঠাবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, ২২ বছর ধরে দেশটির দক্ষিণে বিস্তৃত ডাভাও শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দুতের্তে। ওই সময়ে রাজপথের অপরাধ একেবারেই কমে গিয়েছিল।

mzamin

মৃত পোষ্যকে ফিরিয়ে আনতে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেন চীনের এক নারী

কুকুরের ক্লোন তৈরি করে দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিল চীন। পোষ্যপ্রেমিও খুঁজে পেলেন তার হারিয়ে যাওয়া প্রিয় জোকারকে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, পূর্ব চীনের হাংঝোর বাসিন্দা জু-এর কীর্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। জানা গেছে, জু তার মৃত ডোবারম্যান কুকুরটির ক্লোন তৈরি করতে ১৬০,০০০ ইউয়ান (আনুমানিক ২২,০০০ মার্কিন ডলার) খরচ করেছেন। জু ২০১১ সালে একটি ডোবারম্যান কুকুর কিনেছিলেন, সাধের পোষ্যকে তিনি আদর করে ডাকতেন জোকার বলে। ক্রমশ পোষ্য জোকার ও তার মালিক জু-য়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে, বয়স বৃদ্ধির কারণে জোকারের অসুস্থতাও বাড়তে থাকে।

নয় বছর বয়সে জোকারের ঘাড়ে ম্যালিগন্যান্ট সারকোমার জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছিল। অ্যানেস্থেসিয়া সংক্রান্ত ঝুঁকি থাকলেও সে যাত্রায় রেহাই পেয়ে যায় সে। কিন্তু পরের বছর কুকুরটির অবস্থার অবনতি ঘটে। হৃদরোগের  সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে তীব্র কাশি, শ্বাসকষ্টর  সমস্যা দেখা যায়। জোকারকে সুস্থ করে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন মালিক জু। যদিও সব চেষ্টা ব্যর্থ করে জোকার ২০২২ সালের নভেম্বরে ১১ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সবচেয়ে কাছের বন্ধু তথা পোষ্যকে হারিয়ে হতাশা বাড়তে তাকে জু-য়ের। মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন জু। অনিদ্রা, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ঘন ঘন অসুস্থতায় ভুগতে শুরু করেছিলেন তিনি। এরপরই প্রিয় পোষ্য জোকারকে কাছে পাওয়ার ভাবনা তার মাথায় আসে।

চীনে প্রাণীর ক্লোনিং প্রথা চালু রয়েছে। জু তার হারিয়ে যাওয়া পোষ্য জোকারের ক্লোনিং করার সিদ্ধান্ত নেন। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। ক্লোনিংয়ের জন্য ১৬০,০০০ ইউয়ান টাকাও দিয়ে দেন তিনি । ক্লোনিং সংস্থা কবর খুঁড়ে জোকারের পেট এবং কানের ডগা থেকে প্রক্রিয়াটির জন্য একটি ছোট চামড়ার টুকরো নেয়। এক বছর পরে, জু একটি আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট পান। যা নিশ্চিত করেছিল যে, ক্লোনিং প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল নাগাদ, জু নতুন কুকুরটিকে বাড়িতে নিয়ে য়ান। তার নাম রাখেন 'লিটল জোকার'। জু'র মতে, জোকার এবং লিটল জোকার উভয়েরই নাকের কাছে একই রকম কালো দাগ রয়েছে এবং তাদের আচরণও প্রায় একই। জু বলেন, ‘আমি এখন এই ছোট্ট প্রাণটির যত্ন নিচ্ছি। যা আমাকে সাময়িকভাবে জোকারকে হারানোর যন্ত্রণা ভুলে যেতে সাহায্য করেছে।’

এই মিল থাকা সত্ত্বেও, জু স্বীকার করেছেন যে লিটল জোকার কখনই তার আদরের জোকারের জায়গা নিতে পারবে না। তিনি জোকারের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে তার ছবি দিয়ে একটি নোটবুক তৈরি করেছিলেন। জু বলছেন, ‘জোকারের ক্ষেত্রে লালন-পালনের অভিজ্ঞতার অভাব ছিল এবং ফলে আমি অনেক অনুশোচনায় ভুগেছি। লিটল জোকার আমাকে সেই ভুল শুধরে নেবার সুযোগ করে দিয়েছে।’  

সূত্র : ইকোনোমিক টাইমস

mzamin

কেন এই মরণোত্তর পদক?

অনেকেই বলেন পুরস্কার মানুষের দায়িত্ব বাড়ায়-তা যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন। পুরস্কৃত ব্যক্তি উৎসাহিত হয়, অনুপ্রাণিত হয়, নূতন উদ্যমে কাজ করেন। কিন্তু এই পুরস্কারই যখন মৃত্যুর পরে দেয়া হয় অর্থাৎ মরণোত্তর হয়, তখন যাকে পুরস্কার দেয়া হয় তিনি কিছুই জানতে পারেন না। কারণ তিনি বেঁচে নেই। দায়িত্ব বাড়া বা উৎসাহিত হওয়া তো দূরের কথা পুরস্কার পেলে বা কাজের স্বীকৃতি পেলে তার যে আনন্দটুকু পাবার কথা সেটা থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয় এবং তিনি জীবিতাবস্থায় তার কাজের স্বীকৃতি দেখে যেতে পারেন না। সারা জীবন কাজ করে তার যে অর্জন, যে স্বীকৃতি সেটাই যদি তার জীবিতাবস্থায় দেখে যেতে না পারেন তাহলে এই পুরস্কার বা মূল্যায়নে লাভ কী? সেটা তো তার কাছে মূল্যহীন।

পুরস্কার প্রদানে আমাদের দেশে ইদানীং এই অদ্ভুত পদ্ধতি চালু হয়েছে। সঠিক ব্যক্তিকে মূল্যায়ন বা নির্বাচন করতে না পারা এবং মরণোত্তর পুরস্কার দেয়া। স্বাধীনতার পর ৫৩ বছর গেছে, বহু সরকার এসেছে-গেছে, অনেক জ্ঞানী-গুণীজনকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় পুরস্কার অধিকাংশ সময়ই বিবেচিত হয়েছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চাটুকারিতায়। যে কারণে এসব পুরস্কার সবসময়ই হয়েছে বিতর্কিত। এইসব পুরস্কার বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ব্যক্তির প্রভাবে পুরস্কারগুলো সঠিক যোগ্য ব্যক্তির কাছে যায় না। ফলে প্রতিবারই পুরস্কৃতরাও সমালোচিত হন। কারণ অনেক বিতর্কিত ব্যক্তি, এমনকি একবার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিকেও এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। পরে আবার সংশোধন ও পরিবর্তন করে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে এসব আচরণ অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। অনেকেই সঠিক সময়ে মূল্যায়ন না হওয়ায় এসব পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানান। ইদানীং পুরস্কার বা পদ-পদবি পেতে ফেসবুক পোস্টের ভূমিকাও লক্ষণীয়। এর নজির বা প্রমাণ আমরা দেখেছি। কেউ পদক পেয়েছেন, কেউ উপদেষ্টাও হয়েছেন। এসব দেখে যারা পুরস্কার খুঁজে পুরস্কৃত বা পদ খুঁজে বিশেষ পদ পান, তাতে তাদের লজ্জা না লাগলেও অনেকেই এ নিয়ে হাসাহাসি করেন। কারণ বিষয়টি লজ্জাজনক।

১৯৭৪ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন সিদ্ধান্ত নেন মৃত্যুর পরে অর্থাৎ কাউকে মরণোত্তর পুরস্কার দেয়া হবে না। কারণ মৃত ব্যক্তিকে নোবেল দেয়ায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনা হয়, বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তাই এই সিদ্ধান্ত নেয় নোবেল কমিটি। তবে পুরস্কার ঘোষণার পর যদি তার মৃত্যু হয় তবে ২/১টি ক্ষেত্রে তাকে মরণোত্তর নোবেল দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৭৪ সালের আগে মাত্র দু’জনকে মরণোত্তর নোবেল দেয়া হয়। তার মধ্যে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে মরণোত্তর নোবেল পান এরিক আক্সেল কার্লফেল্ট। এর ৩০ বছর পর ১৯৬১ সালে শান্তিতে মরণোত্তর নোবেল পান ড্যাগ হ্যামারশোল্ড। আর ২০১১ সালে ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পরে নোবেল ফাউন্ডেশন জানতে পারেন পুরস্কারপ্রাপ্ত রালফ স্টেইনম্যান পুরস্কার ঘোষণার মাত্র তিনদিন আগেই মারা গেছেন। যেহেতু ফাউন্ডেশন তার মৃত্যু সম্পর্কে জানতেন না, তাই নোবেল বিজয়ীদের তালিকায় তার নাম রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এবার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেক চমকের মধ্যে এই পুরস্কার প্রদানও একটি। স্বল্প মেয়াদের এই সরকারের আমলে বাংলা একাডেমির পুরস্কার নিয়ে সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই একুশে পদক দেয়া হলো। এই পুরস্কার দিয়ে দেশের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সমালোচিত উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুক পোস্ট দিয়ে জানালেন একুশে পদকে তিনি চমক দেখিয়েছেন, এরপর আবার চমকের কথা লিখলেন এই স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়েও। শুধু এই বিতর্কিত উপদেষ্টাই নয়, শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেছেন এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন যারা জীবনব্যাপী অবদান রেখেছেন, নূতন কিছু তৈরি করেছেন, যার ধারাবাহিকতায় এখনো চলছে।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আপনারা একুশে পদক দেখে খুশি হয়েছেন, এই পুরস্কার দেখে আরও খুশি হবেন।’ তিনি আরও বলেছেন, আগে নাকি তাদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।  আসিফ নজরুল সাহেব এই পুরস্কার দেখে আপনারা খুশি হলেও অন্য কেউই খুশি হয়নি। কারণ এদের মধ্যে অধিকাংশ ব্যক্তিই এই পুরস্কারের ঊর্ধ্বে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানী, বিজ্ঞানী অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, কবি আল মাহমুদ-এরা সবাই এমন সময় এই পদক পেলেন যখন এই কীর্তিমান ব্যক্তিরা এইসব পদকের ঊর্ধ্বে। জেনারেল এমএজি ওসমানী-মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তাকে এই পদক দেয়া হয়, আর তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ১৯৮৪ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ আগেও তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়। এবার প্রথমে পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় জেনারেল ওসমানীর নাম থাকলেও গতকাল চূড়ান্ত ঘোষণায় তার নাম ছিল না।

এই সরকারের বিজ্ঞ উপদেষ্টাদের এটাও একটা চমক, এক ব্যক্তিকে দু’বার স্বাধীনতা পদক দেয়া হলো। আর স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি সংগঠন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১০ সালে বৃটিশ সরকার তাকে সবচেয়ে সম্মানিত অর্ডার নাইট কমান্ডার উপাধিতে ভূষিত করেন, ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসের রাজা তাকে নাইটহুড ‘অফিসার ইন দ্য অর্ডার অব অরেঞ্জ-নাসাউ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এ ছাড়াও তিনি র‌্যামন ম্যাগসাইসাই থেকে শুরু করে ইউনেস্কো, ইউনিসেফসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে সম্মানজনক পুরস্কার পেয়েছেন। ‘অরিজিনাল ম্যান’ হিসেবে খ্যাত জামাল নজরুল ইসলাম একাধারে একজন গণিতবিদ, বিশ্বসৃষ্টিতত্ত্ববিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী। কেমব্রিজ থেকে প্রকাশিত তার  দি আল্টিমেট ফেইট অব দি ইউনিভার্স অনূদিত হয়েছে একাধিক ভাষায়। এরা সবাই আপন আলোয় উদ্ভাসিত। দেশে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা হাসিনা সরকার থেকে শুরু করে কোনো সরকারই তাদের সেভাবে মূল্যায়ন করেনি। যা করার দরকার ছিল তাদের জীবদ্দশায়। স্বীকৃতি বা রাষ্ট্রীয় সম্মান পেলে তারা নিশ্চয়ই খুশি হতেন। কিন্তু এই পুরস্কারটি মরণোত্তর পুরস্কার হিসেবে এমন সময়ে দেয়া হলো যখন তারা এসব পুরস্কারের ঊর্ধ্বে। আবরারকে স্বাধীনতা পদক দেয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবরার ছাড়াও ছাত্রলীগের গুণ্ডাবাহিনী যেই বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করলো, সেই বিশ্বজিৎ এবং জুলাই আন্দোলনের অগ্রনায়ক আবু সাঈদকেও এই পদক দেয়া উচিত ছিল। যেহেতু মরণোত্তর পুরস্কার নিয়ে সরকারের উপদেষ্টারা খুবই গর্বিত, সেক্ষেত্রে এদেরও মরণোত্তর পুরস্কার দেয়া যেত। ‘অভ্র’ টিমের একজনকে প্রথমে একুশে পদক দেয়া হলে তারা পদক নিতে অস্বীকৃতি জানালো। পরে আপন পদে গর্বিত উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পুরস্কারের সম্মান রক্ষার্থে বাধ্য হয়েছেন পুরো টিমকে একুশে পদক দিতে। তেমনি বিশ্বজিৎ, আবরার, আবু সাঈদ এই তিনজনকেই মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়া যেত।

আসলে বর্তমান সরকার এবং সরকারের ২/৩ জন উপদেষ্টাকে নিয়ে চরম বিতর্কের কারণে তারা এইসব রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিয়ে বিতর্কিত হতে চান না। তাই লোক দেখানো বিতর্কমুক্ত পদক দেয়ার জন্যই বোধহয় এই মরণোত্তর ব্যবস্থা। এইসব মরণোত্তর পুরস্কারের ভিড়ে আটজনের মধ্যে শুধু বদরুদ্দীন উমরই জীবিত অবস্থায় এই পদক পান।  তিনিও এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাহলে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ পদক কাদের হাতে তুলে দেবেন? পুরস্কারপ্রাপ্তদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা নাতি-পুতিদের? এখনো সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন অঙ্গনে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিত্বদের কি এতই অভাব? বর্তমান পুরস্কার কমিটি কি নোবেল কমিটির চাইতেও অভিজ্ঞ? এই সরকারের সুযোগ ছিল শুধু ঢাকা শহর নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খুঁজে খুঁজে প্রতিভাবানদের পুরস্কৃত করা, মূল্যায়ন করা। তাহলে তারা যেমন স্বীকৃতি পেতো, তেমনি আরও নতুন উদ্যমে পদকপ্রাপ্তির দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারতেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটিও মরণোত্তর অনুষ্ঠান হতো না, হতো সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

mzamin

বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেবে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার আদালতের এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশটির মায়েরা বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব প্রদানের অধিকার অর্জন করেছেন। গত সোমবার ঘোষিত এই রায়ের ফলে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুরা মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব লাভের পথ সুগম হয়েছে, তবে প্রাপ্তবয়স্কদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি, যা অনেক পরিবারকে এখনো আইনি অনিশ্চয়তায় রেখেছে।

বারনামা সহ দেশটির প্রায় সবকটি সংবাদমাধ্যম ও সিঙ্গাপুর-বেজড মাল্টিন্যাশনাল নিউজ চ্যানেল সিএনএ এবং সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টও জানিয়েছে, চার বছর ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের মূল কেন্দ্র ছিল লিঙ্গবৈষম্য। মালয়েশিয়ান পুরুষরা বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার সুবিধা পেয়ে আসলেও, নারীরা এতদিন এই অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ২০২০ সালে ‘ফ্যামিলি ফ্রন্টিয়ার্স’ নামের একটি অধিকার সংস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন মা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, যার প্রেক্ষিতে এই ঐতিহাসিক রায় আসে।

এতদিন নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না পাওয়ায় অনেক শিশু সরকারি শিক্ষা, চাকরির সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এমনকি, মালয়েশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেও তারা রাষ্ট্রহীনতার শিকার হয়েছে, কারণ দেশটি দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না। গত সোমবারের সমঝোতার মাধ্যমে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, মালয়েশিয়ান নারীদেরও পুরুষদের মতো সমান অধিকার থাকা উচিত। আদালতের এই সিদ্ধান্ত সংবিধান সংশোধনের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে, যা ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে পাস হয়েছে তবে এখনো কার্যকর হয়নি।

ফ্যামিলি ফ্রন্টিয়ার্স-এর প্রধান আইনজীবী গুরদিয়াল সিংহ নিজার বলেন, "এটি একটি ঐতিহাসিক রায়, যা দশকের পর দশক ধরে চলে আসা বৈষম্যের অবসান ঘটিয়েছে।" ফ্যামিলি ফ্রন্টিয়ার্স-এর সভাপতি আদলিন আদম তেওহ, যিনি এই মামলার অন্যতম আবেদনকারী তিনি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানিয়েছেন, "আজ আমরা উদযাপন করছি। আমরা উদযাপন করছি প্রতিটি মালয়েশিয়ান মাও তাদের সন্তানের জন্য, যারা আর আমাদের মতো বৈষম্যের শিকার হবে না।"

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট আরো জানিয়েছে, সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩ হাজারেরও বেশি নাগরিকত্ব আবেদন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ৮০% অনুমোদন পেয়েছে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার ফলে এখনো বহু পরিবার সমস্যায় রয়েছে।

২৫ বছর বয়সী মোটরসাইকেল রেসার ও র‍্যাপার দানিয়াল বোগার্স, যিনি মালয়েশিয়ান মা ও ডাচ বাবার সন্তান, তিনিও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেন, "আমি মালয়েশিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার জন্য অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু নাগরিকত্ব না থাকার কারণে সেগুলো হাতছাড়া হয়েছে।"

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রশাসন গত অক্টোবরে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করেছিল। তবে এতে অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিতর্কিত বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে পরবর্তীতে এই বিতর্কিত বিধান বাতিল করা হলেও, স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তান ও আদিবাসী শিশুদের নাগরিকত্বের সুযোগও কমিয়ে দেওয়া হয়, যা শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এদিকে, ফ্যামিলি ফ্রন্টিয়ার্স দাবি জানিয়েছে যে, মালয়েশিয়ান নারীদের বিদেশি স্বামীদের জন্য স্থায়ী বাসিন্দার আবেদনের শর্ত পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হোক, যাতে পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক চাপ কমে। এই রায় মালয়েশিয়ান নারীদের জন্য একটি বড় জয় হলেও, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের নাগরিকত্ব সংকটের সমাধান এখনো বাকি রয়ে গেছে। তবে অধিকার সংগঠনগুলো এই বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে দ্রুত সমাধান চেয়েছে।

mzamin

সিলেটের পাথর রাজ্যে মুখোমুখি লুটেরা উত্তাপ

সিলেটে পাথররাজ্যে রক্তের  হোলিখেলা চলছে। কে কার আগে লুটের মিশনে অংশ নেবে, কে দখলে নেবে কার জায়গা। এ নিয়ে প্রতিদিনই হচ্ছে সংঘর্ষ। কখনো কখনো এটি চরমে গিয়ে পৌঁছে। হামলা-পাল্টা হামলা তো আছে। এতে করে প্রতিনিয়তই আতঙ্কের মধ্যে কাটছে পাথররাজ্য এলাকার বাসিন্দাদের। আর এই মুখোমুখি, সাংঘর্ষিক অবস্থায়ও পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে না; বরং সাংঘর্ষিক অবস্থাকে পুঁজি করে মামলা বাণিজ্যে বিবদমান উভয়পক্ষের কাছ থেকে লুটে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। সিলেটের পাথররাজ্য বলে খ্যাত জাফলং। এবার তছনছ হয়ে গেছে প্রকৃতির এই স্বর্গরাজ্য। পরিণত হয়েছে লুটের রাজ্যে। এবার লুটের নায়করা এতটাই বেপরোয়া যে তারা প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে পাথর লুট করছে। রোববার রাতের অন্ধকার ভেদ করে জাফলং থেকে ফেসবুকের লাইভে ভেসে আসে আর্তনাদের সুর। কয়েক হাজার মানুষের সংঘর্ষ। লাঠিসোটা হাতে নিয়ে দৌড়ঝাঁপ। টর্চের আলোয় যেটুকু দেখা গেছে সেই ফেসবুক লাইভ থেকে জানা গেছে জাফলং পাথর কোয়ার দখল নিয়ে সংঘর্ষ চলছে। ফলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। মধ্যরাতের পর সংঘর্ষ থেমে এলে প্রতাবপুরের কামাল মেম্বার আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। কামাল সাবেক যুবদল নেতা ও বর্তমান জেলা বিএনপি’র ক্রীড়া সম্পাদক স্ট্যালিন থারিয়ান গ্রুপের নেতা। বর্তমানে খাসিয়া পল্লী ও আশপাশ এলাকায় স্ট্যালিনের নেতৃত্বে বালু ও পাথর লুটের অভিযোগ উঠেছে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে ২০ থেকে ২৫ জন আহত হন। এর মধ্যে সাবেক মেম্বার কামালসহ কয়েকজনকে গোয়াইনঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে দু’পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিলেও কোনো পক্ষেরই মামলা রেকর্ড হয়নি।

পুলিশ উভয়পক্ষের মামলা নিয়ে বাণিজ্যে মেতে উঠেছে বলে জানিয়েছেন জাফলং মামার দোকান এলাকার ট্রাক ও পাথর শ্রমিকরা। তারা জানিয়েছেন- সাবেক বিএনপি নেতা স্ট্যালিনের নির্দেশে কামাল মেম্বার কোয়ারির মধ্যখানে থাকা কয়েকশ’ শ্রমিকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা তুলছিল। আর শ্রমিকরা টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্ট্যালিন গ্রুপের লোকজন এসে শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার সত্যতা স্বীকারও করেছেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার তোফায়েল আহমদ। তিনি জানিয়েছেন- বালু উত্তোলন নিয়ে খাসিয়া স্ট্যালিন ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পড়েছে। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। তবে জাফলং এলাকার শ্রমিকরা জানিয়েছেন- বালু পাথর লুটের বড় একটি অংশ যায় থানার ওসির কাছে। রোববার রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় মোটা অঙ্কের টাকা দেয়া হলেও পুলিশ এখন মামলা রেকর্ড করেনি। সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হলে শ্রমিকরা কোয়ারিতে নিরাপত্তাহীন থাকবে বলে জানান তারা। এদিকে এর আগে স্থানীয় জুমপাড় এলাকায় পাথরখেকো সামাদ বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হন কান্দুবস্তি গ্রামের আফসার ও তার ভাই। এ নিয়ে কান্দুবস্তি ও নয়াবস্তি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

৫ই আগস্টের পর জাফলংয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বহিষ্কৃত জেলা বিএনপি’র কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম স্বপনের পাথর লুট চলছিল। এতে প্রতিবাদ করেছিল যুবদল নেতা আবুল কাশেম। ওই সময় পূর্ব জাফলং ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজির উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে মারধর করেছিল কাশেমের লোকজন। পরে জাফলং বাজারে আজির উদ্দিন ও ভাই গিয়াসউদ্দিন যুবদল নেতা জয়দুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায়ও থানায় পাল্টাপাল্টি এজাহার দাখিল হয়েছিল। শুধু জাফলং নয় কয়েক দিন আগে গোয়াইনঘাটে হাজীপুরে বালু লুটকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি হয়েছিল বালুপাথরখেকো লন্ডনী কামাল ও বিএনপি নেতা আরিফ ইকবাল নেহালের বাহিনীর মধ্যে। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে গোয়াইনঘাট থানার ওসি তোফায়েল নিজে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ওই এলাকার বালু নিয়ে এখন দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান হাজীপুর এলাকার বাসিন্দারা। মাসখানেক আগে বালু লুট নিয়ে জৈন্তাপুরের লালাখালেও দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। তখনো এই এলাকা লন্ডনী কামালসহ স্থানীয় বালু লুটকারীদের নাম এলাকায় আলোচিত হয়। কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ কোয়ারি ও শাহ আরেফিন টিলা লুটে শেষ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা; হাজার কোটি টাকার পাথর ও বালু লুট করা হয়েছে। আর এতে নেতৃত্ব দিয়েছে যুবদল নেতা রেজনসহ কয়েকজন। শাহ আরেফিন টিলায় আছে আওয়ামী লীগের আধিপত্যও। বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ অন্য দলের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে মিলেমিশে লুটপাট করছেন ভোলাগঞ্জ কোয়ারি ও শাহ আরেফিন টিলা।  

গত রোববার রাতে কোম্পানীগঞ্জে টিলার জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সোমবার আহত আব্দুর রহিমের স্ত্রী বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। দুইপক্ষের ৬ জনসহ ৭ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন-  শাহ আরেফিন টিলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা সিন্ডিকেট করে টিলা, মাজারের মাঠ, মসজিদের মাঠ ও কবরস্থান থেকে পাথর উত্তোলন করেছিলেন। এসব জায়গায় পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে টিলা এলাকায় সংঘর্ষ, জালিয়ারপাড় ও শাহ আরেফিন বাজার এলাকায় বেশ কয়েকবার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সকালে শাহ আরেফিন টিলার কবরস্থান থেকে পাথর উত্তোলন করতে কাজ শুরু করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হুঁশিয়ার আলী ও আওয়ামী লীগ নেতা বশর মিয়া গ্রুপ। এর আগে তারা মাজার মসজিদ মাঠ ও কবরস্থানের বেশির ভাগ জায়গায় থেকে পাথর উত্তোলন করে বিলীন করে দিয়েছেন। কবরস্থান থেকে পাথর উত্তোলনে জালিয়ারপাড়ের মাসুক মিয়ার মাধ্যমে বাধা দেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল করিমসহ জালিয়ারপাড় গ্রামের মুরব্বিরা। এতে হুঁশিয়ার আলী ও বশর মিয়া গ্রুপ ক্ষিপ্ত হয়। এদিন সন্ধ্যার পর মাসুক মিয়া শাহ আরেফিন বাজারে গেলে তার ওপর চড়াও হয় হুঁশিয়ার-বশর গ্রুপ। এর কিছুক্ষণ পর আব্দুল করিমসহ অন্যরা বাজারে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানিয়েছেন- শাহ আরেফিন এলাকায় দু’পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে পুলিশ। পরে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

mzamin

মাস্ক কেন ওভাল অফিসে টি-শার্ট পরেন?

ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে হেয় করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সমালোচনা করেছেন তার কাজিন নেট ভ্যান্স। ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পেরও সমালোচনা করেছেন নেট। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে আমি নির্দিষ্ট স্তরের ভদ্রতা আশা করি। বিশেষ করে ক্যামেরার সামনে। ওই ঘটনায় ট্রাম্প ও ভ্যান্সের আচরণে আশাহত হয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। উল্লেখ্য, রাশিয়া আক্রমণ শুরুর পর ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে তিন বছর স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন নেট। এর আগেও ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্সকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন নেট। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ‘ইউজফুল ইডিয়টস’ হিসেবে কাজ করেছেন ট্রাম্প ও ভ্যান্স।

সোমবার বিবিসি’র পিএম প্রোগ্রামে  নেট বলেন, হোয়াইট হাউসে ডনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স যেভাবে বৈঠক করেছেন তাতে তিনি মোটেও খুশি নন। বলেন, আমি ইউক্রেন ইস্যুতে এক প্রকার আগ্রহী। তবে এটি অন্য কোনো ইস্যু হলেও আমি বলতাম-সেখানে যা ঘটেছে তা দৃষ্টিকটু হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা ও কিছু সাংবাদিক মিলে একজন বিদেশি নেতাকে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন বলে মন্তব্য করেন নেট। বলেন, আমার অনুভূতি এমন ছিল যে, এটা হচ্ছেটা কী? উল্লেখ্য, ট্রাম্প, ভ্যান্স ও  জেলেনস্কির ওই বৈঠক হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রূপ নেয় বাকবিতণ্ডায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনে সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন ট্রাম্প। জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ‘অসম্মানজনক’ আচরণ করার অভিযোগ আনেন ভ্যান্স। এ ছাড়া তাকে অকৃতজ্ঞ বলেও সম্বোধন করেন তিনি। এ বিষয়ে ভ্যান্সের সঙ্গে দ্বিমত  পোষণ করেছেন তার কাজিন নেট।

তিনি বলেন, জেলেনস্কি ইউক্রেন যুদ্ধে যারা সাহায্য করেছে তাদেরকে প্রতিদিনই ধন্যবাদ জানান। নেট আরও বলেন, হয়তো ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে জেলেনস্কি পরিপূর্ণ সম্মান দেননি। তবে জেলেনস্কির কাছ থেকে সম্মান চাওয়াটাও অস্বস্তিকর। কারণ ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জেলেনস্কির গৃহীত সকল উদ্যোগের পরিপন্থি কাজ করেছেন ট্রাম্প ও ভ্যান্স। এদিকে ওভালকাণ্ডের পর জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে বলা হয়। বৈঠকের পর যে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল  সেটিও বাতিল করা হয়।
ওই বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন কিয়েভকে দেয়া সামরিক রসদ ও গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করে দেয়। বৈঠকে  জেলেনস্কি স্যুট না পরে হোয়াইট হাউসকে অসম্মান করেছেন বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সাংবাদিক। মূলত ইউক্রেনের  সেনাবাহিনীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য স্যুট পরেন নি জেলেনস্কি। ওই প্রসঙ্গ টেনে নেট পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন- ধনকুবের ইলন মাস্ক তাহলে ওভাল অফিসে কেন সব সময় টি-শার্ট পরে থাকেন?

mzamin

বিরল কূটনৈতিক ঘটনা: পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠালো আমেরিকা

তুর্কমেনিস্তানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠালো আমেরিকা। এমনকি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের কাছে বৈধ ভিসা এবং সমস্ত বৈধ ভ্রমণ নথি থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি, যা একটি বিরল কূটনৈতিক ঘটনা।

দ্য নিউজের এক প্রতিবেদন অনুসারে, কে কে আহসান ওয়াগান ছুটি কাটাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে যাচ্ছিলেন, যখন মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে বিমানবন্দরে আটকে দেয়। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন অভিবাসন দফতর জানতে পারে যে, ওই পাক কূটনীতিকের ভিসার কিছু দিক বিতর্কিত এবং সন্দেহজনক। যদিও সরকারিভাবে এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, ‘কেকে ওয়াগনকে আমেরিকা থেকে ফেরতে পাঠানো হয়েছে। অভিবাসন দফতরের আপত্তির কারণেই তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘অভিবাসন সংক্রান্ত নথি নিয়ে আপত্তির কারণে রাষ্ট্রদূত কে কে ওয়াগানকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সচিব আমিনা বালুচকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত তাদের কনস্যুলেটকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার জন্য ওয়াগানকে ইসলামাবাদে ডাকা হতে পারে।

একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক ওয়াগান পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তুর্কমেনিস্তানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে, ওয়াগান কাঠমান্ডুতে পাকিস্তানি দূতাবাসে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে পাকিস্তানি কনস্যুলেটে ডেপুটি কনসাল জেনারেলও ছিলেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে কোনও কূটনৈতিক নীতি বা চলমান সমস্যার সাথে সম্পর্কিত নয়।

সূত্র জানিয়েছে যে ওয়াগানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন প্রশাসনিক অভিযোগগুলি তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে থাকতে পারে। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছে যে, ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শীঘ্রই পাকিস্তানের উপর একটি নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করবে, যা তার নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করতে পারে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

mzamin

নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতারা: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এতিমখানায় হরিলুট

চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় এলাকার কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই এতিমখানার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। নানা ইতিহাসের সাক্ষী এই এতিমখানা থেকেও লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এতিমখানার কোটি কোটি টাকার আয়ের হিসাব নেই। ভবন নির্মাণেও হয়েছে দুর্নীতি।

সরজমিন জানা যায়, তিনটি বহুতল ভবন থাকার পরেও ২২০ জন এতিম শিশু থাকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। একজনের সিটে দু’জন গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে এখানে। বর্তমানে স্থান সংকুলান না হওয়ার দোহাই দিয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত এতিম শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ। অথচ তিন হাজার বর্গফুটের ছাত্রাবাসের ফ্লোর দখল করে পরিবার নিয়ে থাকছেন তত্ত্বাবধায়ক। দোকান, রেস্টুরেন্ট, ফ্লোর ভাড়া থেকে শুরু করে এতিমখানার সম্পদ হয়েছে হরিলুট। ১৫ বছর ধরে এসব লুটপাটের নেতৃত্ব দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

জানা যায়, এতিমখানার কাগজে-কলমে হর্তাকর্তা এখনো চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিন। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে সভাপতি। তিন বছর পর পর নির্বাচনের নিয়ম হলেও ১৫ বছর ধরে কোনো নির্বাচন করতে দেয়নি আজম নাছির। সাধারণ সম্পাদকের কর্তৃত্ব ধরে রেখে মাদ্রাসার সম্পদের ওপর তার নেতৃত্বে চলেছে হরিলুট। তার সহযোগী হিসেবে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আছেন ডিস্কো শওকত। সহ-সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা মো. হাবীব উল্লাহ এবং মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ। সহ-সাধারণ সম্পাদক ও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আছেন আবুল কাশেম। লায়ন সানাহউল্লাহ আছেন শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক আছেন সদস্য হিসেবে। যদিও মোরশেদ ও সানাহউল্লাহ’র রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টটার বিষয়ে জানা যায়নি।

আরও জানা যায়, এই কমিটির হাত ধরেই এতিমখানা ভবন নির্মাণ, ফ্লোর বিক্রি, দোকান, অফিস, রেস্টুরেন্ট ও বাসা ভাড়া আদায়, আর্থিক অনুদান, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কমচারী নিয়োগ, সরকারি ক্যাপিটেশনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে। এতিমখানার ৪০ বছর ধরে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আছেন আবুল কাশেম। ছাত্রাবাসের ৫ম তলায় তিন হাজার বর্গফুট জায়গায় নিজের সন্তানাদি, নাতিপুতি নিয়ে ফ্ল্যাট বানিয়ে থাকছেন তিনি। একসময় অভাবের সংসার থাকলেও এতিমখানার তত্ত্বাবধায়কের পদ তার কপাল খুলে দিয়েছে। চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও কমিটির সদস্যদের এতিমখানার দোকান, অফিস বরাদ্দ দিয়ে টিকে আছেন এখনো এই পদে। রাউজানে নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পতদ্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেছিল শিক্ষার্থীরা।

নিজের ইচ্ছেমতো শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এতিম ছাত্রদের আবাসন সংক্রান্ত পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী কিনতেও নিয়োজিত তার লোকেরা। এসব কাজের নেতৃত্ব দেন পিয়ন আনোয়ার। এ দায়িত্ব তাকেও বানিয়ে দিয়েছে কোটিপতি। তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাশেমের এমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়েও কয়েকবার অভিযোগ গেলেও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের হস্তক্ষেপে দুদকের জাল থেকে বেরিয়ে যান তিনি। কয়েকজন আজীবন দাতা সদস্য ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানান, নূন্যতম তদারকি ও জবাবদিহিতা নেই এই প্রতিষ্ঠানে। নামমূত্রে মূল্যে মার্কেটগুলোর দোকান, বাসা, অফিস কেনা-বেচা হচ্ছে। তিনটি বহুতল ভবন থাকার পরেও ২২০ জন এতিম শিশু থাকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই।

সরজমিন দেখা যায়, সিডিএর অনুমোদন, নকশা প্রণয়নসহ কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই একটি ৬ তলা, আরেকটি ৭ তলা ও একটি ৮ তলা বহুতল ভবন তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। ভবনগুলোতে ছাত্রাবাসের পাশাপাশি রয়েছে সাড়ে চার শতাধিক দোকান, অফিস, রেস্টুরেন্ট ও বাসা। এখান থেকে মাসিক ভাড়া বাবদ পাওয়া যায় প্রায় ১০ লাখ টাকা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সরকারিভাবে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ড পায় ১৩০ জন। এক বছরে যার পরিমাণ ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ক্যাপিটেশন, ভাড়া ও অন্যান্য অনুদান হিসেবে প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি বাৎসরিক আয় রয়েছে এতিমখানায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক যে আয়-ব্যয় বিবরণী প্রস্তুত করা হয় তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাউচার বানিয়ে ভুয়া অডিট করে এ হিসাব বিবরণী প্রস্তুত করা হয়।

এদিকে, বর্তমানে এতিম শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলাধুলার মাঠে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে আরও একটি ৮তলা বাণিজ্যিক ভবন। এ ভবন তৈরিতেও নেয়া হয়নি সিডিএর কোনো অনুমোদন। বর্গফুট হিসেবে ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন এই ভবনের সব ফ্লোর বিক্রি করে দিয়েছে এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাশেম বিরক্তির সুরে মানবজমিনকে বলেন, এই এতিমখানায় এত সমস্যা না? আর কোথাও সমস্যা নাই? আপনি এসে দেখে যান। একপর্যায়ে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, আমি এখন কাপড় পরিষ্কার করছি। আপনি এসব আলাপ রাখেন। এ বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি সৈয়দ মোরশেদ আলম বলেন, নির্বাচন হয়নি এটি সত্য নয়। নির্বাচন হয়েছে। বর্তমানে কমিটিও আছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) এতিমখানার সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এসব বিষয়ে জানতে ওনার সঙ্গে কথা বলুন। আপনি যেসব প্রশ্ন করছেন সেগুলো আসলে এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে ভবন নিয়ে যা শুনেছি সেখানে একটি পানির ট্যাংক হচ্ছে। ভবনের অনুমোদন দেয়নি সিডিএ।

নারী-শিশু আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ by রাশিম মোল্লা

প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকার পরও থামানো যাচ্ছে না ধর্ষণের ঘটনা। বাদ যাচ্ছে না ছোট্ট শিশুরাও। সমপ্রতি ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানির খবর মিলছে। মা-বাবাকে বেঁধে মেয়েকে ধর্ষণ, স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণ, ৪ বছরের শিশুর যৌন নির্যাতনের খবরে আতঙ্ক বিরাজ করছে দেশবাসীর মধ্যে। সর্বশেষ মাগুরায় ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দেশবাসী। এই অবস্থায় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেছেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করে তদন্তের সময় ৩০ থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হচ্ছে। আর ধর্ষণের মামলার বিচার ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করা হবে। কিন্তু এসব আইন করে কী আর ধর্ষণের বিচার নিষ্পত্তি হবে- এমন প্রশ্ন এখন নাগরিক মহলে। বলা চলে গত এক যুগে দেশে ঘটে যাওয়া আলোচিত ধর্ষণের একটি মামলারও বিচার চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুসারে, এ বছরের ফেব্রুয়ারির ২৮ দিনে ধর্ষণের অভিযোগে দিনে গড়ে ১২টি মামলা হয়েছে। আগের বছরের ফেব্রুয়ারির ২৯ দিনে এই সংখ্যা ছিল একই। গত বছর সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৭ হাজার ৫৭১টি মামলা হয়েছে। এই আইনে এ বছরের জানুয়ারি মাসে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০টি। গত বছরের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩টি। আদালতে বাড়ছে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা।  ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন ব্যতীত প্রকৃত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে কেবল পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩২ হাজার ৯৭২টি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত মামলার সংখ্যা এক হাজার ৬০৭টি। দেশের সবচেয়ে বেশি বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ঢাকায়। ঢাকার ৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৫ হাজার ২১৩টি। এর মধ্যে তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা ১ হাজার ৫৫৬টি। আর পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বিচারাধীন মালার সংখ্যা ৩ হাজার ১৬২টি। স্থগিত রয়েছে ২৯৩টি মামলা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিচারাধীন মামলার সংখ্যা চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। এই জেলার ৭টি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৭ হাজার ৭৯৪টি। তদন্তাধীন ৪০৩টি এবং স্থগিত রয়েছে ২৫০টি মামলা। এর মধ্যে পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২ হাজার ৮৫টি। তৃতীয় সর্বোচ্চ বিচারাধীন মামলার সংখ্যা গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। এই জেলার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৬ হাজার ৬৯৫টি। তদন্তাধীন ৮০৪টি এবং ১৭টি মামলা স্থগিত রয়েছে।  কেবল পাঁচ বছর ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এক হাজার ২১৫টি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এতো এতো বিচারাধীন মামলার মূল কারণ হিসেবে সময় মতো মামলার বাদী ও সাক্ষীগণ সাক্ষ্য প্রদান না করাকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি মানবজমিনকে বলেন, অঞ্চল ভেদে ঢাকার জন্য ৯টি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। এর মধ্যে সব আদালতে বিচারাধীন মামলার চাপ নেই। নারী-শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলার চাপ নেই বললেই চলে। মামলা বদলির সময় যেসব কোর্টে মামলা কম সেসব ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য অপেক্ষমান মামলা পাঠানো উচিত। তিনি বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি মনিটরিং টিম গঠন করার কথা বলেন। এই টিমে পুলিশের পক্ষ থেকে একজন, প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে একজন এবং মন্ত্রণালয়ের একজনকে রাখা যেতে পারে। শুধু কমিটি করলেই হবে না  প্রতি মাসে মূল্যায়ন মিটিংও করতে হবে।

দেশের আলোচিত ধর্ষণ মামলাগুলোর একটি কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুু হত্যা মামলা। আর মাত্র ১০ দিন পর শেষ হবে তনু হত্যার ৯ বছর। বিচার তো দূরের কথা এখনো মামলার তদন্তই শেষ হয়নি। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। ২০১৬ সালের ২০ মার্চে বাসা থেকে বের হওয়ার পর কুমিল্লা সেনানিবাসের জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তনুর মা-বাবা বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তনুর বড় ভাই মো. আনোয়ার হোসেন রুবেল মানবজমিনকে বলেন, আমরা আর বিচার চাই না। বিচার চেয়ে কী লাভ? গরিবের ওপর জুলুমের বিচার হয় না। বাবা-মা ২০শে মার্চ এলেই পাগলের মতো দিন-রাত কান্নাকাটি করেন। গত বছর পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) এর তরিকুল ইসলাম ফোন করে জানায়- তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। এখন থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।  

তনুর ভাই জানান, ২০১৬ সালের ২০শে মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি তনু। পরে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ পায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর ২০১৬ সালের ১লা এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি, কুমিল্লা। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ৩ জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে ৩ জনকে ২০১৭ সালের ২৫শে অক্টোবর থেকে ২৭শে অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডি’র একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে ২০২০ সালের নভেম্বরে মামলাটির দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়া হয়। পিবিআই ঢাকার একটি টিম দায়িত্ব পাওয়ার শুরুর দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ঘুরে যায়। ২০২৩ সালের ৮ই আগস্ট তনুর খালাতো বোন লাইজু জাহানের সাক্ষ্য নেয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। নির্ধারিত সময়ে তনুর বাবা-মা ও ভাইসহ লাইজু জাহান কুমিল্লা পিবিআই কার্যালয়ে হাজির হওয়ার পর তাদের জানানো হয় তদন্ত কর্মকর্তা অসুস্থ, তাই সাক্ষ্য নেয়া যাচ্ছে না। তনু হত্যা মামলায় ৯ বছরে ৬ বার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছে। প্রথমে ২০১৬ সালের ২১শে মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলামকে। চারদিন পর তদন্তের দায়িত্ব পান কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি একেএম মনজুর আলম। একই বছরের ১লা এপ্রিল থেকে ২৩শে আগস্ট পর্যন্ত সিআইডি’র পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম মামলাটি তদন্ত করেন। ওই বছরের ২৪শে আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা বদল করে সিআইডি’র নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে ২০২০ সালের ২১শে অক্টোবর হত্যা মামলাটি সিআইডি থেকে পিবিআই’র ঢাকার সদর দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়। এরপর পিবিআই তিনবার কুমিল্লায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম ও ভাই আনোয়ার হোসেন ওরফে রুবেলের সঙ্গে কথা বলে। সর্বশেষ গত বছর পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছেন। ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে স্বামী ও সন্তানদের বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ভোটকেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের পছন্দের প্রতীকে ভোট না দেয়ার জেরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে চরজব্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গত বছরের ৫ই ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত ১০ জনের ফাঁসি ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। মামলাটি এখন হাইকোর্টে ডেথরেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

২০২০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে (২০) ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহ্‌পরাণ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দু’জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে যান। তবে তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‌্যাব। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএ’র মিল পাওয়া যায়। ২০২০ সালের ৩রা ডিসেম্বর মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পুলিশ। মামলাটি এখনো সিলেট জেলা জজ কোর্টে বিচারাধীন।

আমেরিকানরা এখন যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব চাইছেন, কেন?

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব চাইছেন। ২০২৪ সালে ৬১০০ জনেরও বেশি মার্কিন নাগরিক যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন, যা ২০২৩ থেকে ২৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।২০০৪ সালে ডেটা সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক রেকর্ড করা হয়েছে। পরিসংখ্যানগুলোতে গত বছরের শেষ তিন মাসে আবেদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে হোয়াইট হাউসে ডনাল্ড ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের সাথে সাথে যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন কেন তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

‘স্বাস্থ্যসেবা, বন্দুকের সহিংসতা এবং রাজনীতি’, মাইকেল লার্ক, ৫৮

আমি পেনসিলভেনিয়ায় বড় হয়েছি। কিন্তু আমার জীবনের বেশিরভাগ সময় টেক্সাসে কেটেছে। আমার স্ত্রী এবং আমি সবসময় ভেবেছিলাম আমরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকব। কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে এখানে কিছু জিনিস কখনো পরিবর্তন হবে না। কোভিডের পরে যখন আমার স্ত্রীর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় তখন আমরা দেখতে শুরু করি যে আমরা স্বাস্থ্যসেবার জন্য কত টাকা ব্যয় করেছি। আমরা সবসময় অনুভব করতাম আমাদের চারপাশকে আরও ভাল করতে হবে। মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু আমার স্ত্রীর স্বাস্থ্য সমস্যা এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথে আমরা বুঝতে পেরেছি যে, জিনিসগুলো আর ঠিক  হবে না। তবে এটি কেবল রাজনীতির বিষয় নয়। অনেক মানুষের দেশ ছাড়ার নেপথ্যে রয়েছে বন্দুক সহিংসতার সংস্কৃতি। জরিপগুলো দেখায় যে, ৮০% মানুষ শক্তিশালী বন্দুক আইন চায়, কিন্তু সরকার কিছু পরিবর্তন করবে না। আমার মনে আছে যুক্তরাষ্ট্রে একজন অভিভাবক  একটি সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘আমি সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ চাই।’ আমরা ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে চলে আসি এবং শ্রুসবেরিতে থাকতে শুরু করি যেখানে কমিক বইয়ের পেশাদারদের একটি বিশাল সম্প্রদায় রয়েছে , যার সাথে আমি সম্পৃক্ত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমি এবং আমার স্ত্রী সিদ্ধান্ত নিই যে, আমরা আর আমেরিকা ফিরে যাবো না। আমার নির্দিষ্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারার আগে আমার কাছে তিন বছর সময় আছে এবং আমরা সেটাই করতে চাই। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমি একজন বৃটিশ নাগরিক হতে চাই। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে আমরা বসবাস করতাম তার সাথে তুলনা করলে এখন আমরা বুঝতে পারি আমাদের জীবনের মান নাটকীয়ভাবে উন্নত হয়েছে।

‘আমি জানতাম আমেরিকা ঠিক পথে যাচ্ছে না’, জোশুয়া হিকম্যান, ৩৮


আমি ভার্জিনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং গ্রামীণ টেক্সাসে বড় হয়েছি। আমি মূলত ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যে এসেছিলাম। ভেবেছিলাম কিছুদিনের জন্য থাকবো, পরে বুঝতে পারি আমি আসলে এখানে স্থায়ীভাবে থাকতে চাই। আমি তখন থেকেই অনুমান করছিলাম আমেরিকা ঠিক দিকে যাচ্ছে না। এরমধ্যেই স্নোডেন এনএসএ-এর নজরদারির কথা প্রকাশ্যে আনেন। ২০১৬ সালে আমার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করার পরে ভিসা বিধিনিষেধের কারণে আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয়েছিল। আমেরিকার জীবন সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তরাজ্যে থাকার দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। অবশেষে আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা সম্ভব হবে না, ততক্ষণে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে গেছেন।আমি মন্টানায় ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারের প্রতিবাদে জড়িত ছিলাম। যেখানে পুলিশ পাশে  দাঁড়িয়ে থাকলেও আমাদের দিকে মিলিশিয়ারা বন্দুক দেখাতে সাহস পেয়েছিলো। তখনই আমি জানতাম যে, আমি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদে থাকতে পারব না। বুঝতে পেরেছিলাম এটি নিরাপদ জায়গা হতে যাচ্ছে না। বরং আরো খারাপ দিকে যাচ্ছে। আমি ২০২০ সালে মিউজিক্যাল সাইকোলজিতে পড়তে যুক্তরাজ্যে ফিরে এসেছি এবং এখন আমি এখানে ভিসা নিয়ে কাজ করি। ২০৩০ সাল নাগাদ আমি সম্পূর্ণরূপে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা হবো।

‘এটা আমাকে আঘাত করেছে যে দেশের আইনগুলো যে কোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে’, মেলিসা ক্লিমেন্টস, ৩৮

আমি ঠিক নিউ ইয়র্ক সিটির বাইরে বড় হয়েছি এবং আমি ২০০৯ সালে আমার স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে আসি। আমি ভেবেছিলাম স্নাতক স্কুলে ভর্তি হতে আমি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাব। আমি কিংস-এ আমার স্নাতক ডিগ্রী করি এবং সেই সময়ে তাদের কাছে অত্যন্ত দক্ষ অভিবাসী ভিসা ছিল। আমি মনে করি, অনেক কারণের মধ্যে এটি একটি কারণ লোকেরা মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে চিন্তা করছে। আমি তখন আমার বিয়ে করি এবং একটি (ভিন্ন) ভিসা সংগ্রহ করি। ২০১৪ সালে, আমি আমার ইহুদি পিতার কারণে আমার জার্মান নাগরিকত্ব অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই মুহূর্তে, আমি বৃটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার কথা ভাবিনি কারণ আমি ভেবেছিলাম আমি এখানে চিরকাল থাকতে পারব। তারপর ব্রেক্সিট ঘটেছে। ইইউ-এর তরফে অধিকারের প্রশ্ন ছিল, কিন্তু  আমার মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়নি। আমার দুটি মেয়ে আছে এবং আমরা এখানে একটি বাড়ি কিনেছি। কিন্তু আমার বাবাই আসলে আমার বৃটিশ নাগরিকত্ব নেয়ার জন্য আমাকে চাপ দিচ্ছেন। সম্ভবত কারণ তিনি একজন অভিবাসী হিসাবে বড় হয়েছেন এবং তিনি জানেন কাগজের টুকরো বলতে কী বোঝায়। তিনি সর্বদা আমাকে বলেন, ‘তুমি  কখনই জানো না যে আমেরিকা কখন আইন পরিবর্তন করে ফেলবে। এটাই এখন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।’ ট্রাম্প যখন দ্বিতীয়বার শপথ নেন এবং জন্মগত নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেন, তখন এটি আমার কাছে ধাক্কার মতো ছিল। বুঝতে পেরেছিলাম আইনগুলো তাত্ক্ষণিকভাবে পরিবর্তন হতে পারে। এখন, যুক্তরাজ্যে বহু বছর থাকার পর, আমি নাগরিকত্বের জন্য সমস্ত মানদণ্ড  পূরণ করেছি। আমি শুধু নিশ্চিত করতে চাই যে আমার মেয়েরা যেখানেই থাকুক না কেন আমি যেন সবসময় তাদের সঙ্গে থাকতে পারি।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

mzamin