Monday, August 22, 2016

তুরস্কে বিয়েবাড়িতে হামলায় নিহত ৫১

গাজিয়ানতেপে আত্মঘাতী বোমা হামলাস্থলে পুলিশ বেষ্টনীর
বাইরে বসে আছেন কয়েকজন কৌতূহলী স্থানীয় ব্যক্তি। এএফপি
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর গাজিয়ানতেপে গত শনিবার রাতে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলায় জড়িত। তিনি বলেছেন, সংগঠনটি ১২-১৪ বছরের একটি বালককে আত্মঘাতী হিসেবে ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। গাজিয়ানতেপ শহরের ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক কুর্দি জনগোষ্ঠীর লোক যোগ দিয়েছিলেন। স্থানীয় বার্তা সংস্থা দোগান জানায়, বর-কনে উভয়েরই বাড়ি কুর্দি-অধ্যুষিত সিরত এলাকায়। সেখানে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাতের ফলে তাদের পরিবার গাজিয়ানতেপে চলে আসে। কুর্দিপন্থী পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (এইচডিপি) বলেছে, তাদের দলের অনেক সদস্য ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। অনেক নারী ও শিশুর উপস্থিতিও ছিল সেখানে। ছবিতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে সাদা চাদর দিয়ে বেশ কয়েকটি লাশ ঢেকে রাখা হয়েছে।
আর এসব লাশ ঘিরে বিলাপ করছেন তাদের নিকটজনেরা। তুরস্কের দৈনিক পত্রিকা দ্য হুরিয়েত ডেইলি নিউজ জানায়, কনে সেনা এবং বর নূরেত্তিন একদোগান দুজনেই আহতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে তাঁদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত। গতকাল রোববার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী যেমন—কুর্দি, আরব ও তুর্কিদের মধ্যে অশান্তির বীজ বপন করাই এ ধরনের হামলার মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনের অনুসারী, নিষিদ্ধঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) বা আইএসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আইএসকে গাজিয়ানতেপের বিয়ের অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য হামলাকারী আখ্যা দিয়ে এরদোয়ান বলেন, ‘আমরা হামলাকারীদের একটি বার্তা আবার দিতে চাই। তা হলো, তোমরা সফল হবে না।’ তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) গাজিয়ানতেপ এলাকার এমপি মেহমেত এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এটি একটি আত্মঘাতী হামলা।’ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়,
হামলাকারীরা আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে মিশে ছিল। দুজন সম্ভাব্য হামলাকারী অতিথিদের সঙ্গে মিশে পরে পালিয়েছে। হামলায় আহত গুলসের আতেস বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে শেষের দিকে হামলা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়ারে বসে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে গল্পগুজব করছিলাম। বিস্ফোরণের সময় আমার সামনেই লোকজনকে মরে যেতে দেখলাম। বর-কনের মধুরতম দিনটি হয়ে উঠল বিষময়।’ তুরস্কের গৃহযুদ্ধকবলিত প্রতিবেশী সিরিয়ার সীমান্ত থেকে গাজিয়ানতেপ শহর ৬০ কিলোমিটার দূরে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে শরণার্থী হয়ে আসা অনেক মানুষের আশ্রয়স্থল এটি। শরণার্থী ও এরদোয়ান-বিরোধী দলের সমর্থকদের পাশাপাশি এই অঞ্চলে জঙ্গিদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বছর ইস্তাম্বুলে বেশ কয়েক দফা বোমা হামলা করেছে আইএস। এ ছাড়া কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরও কয়েক দফা হামলার শিকার হয় ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা।

ওমরানের ভাই আলির মৃত্যু

ওমরান দাকনিশ
ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়া সিরিয়ার যে শিশুটির রক্তাক্ত ও উদ্ভ্রান্ত ছবি দেখে বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়েছে, সেই ওমরান দাকনিশের বড় ভাই আলি দাকনিশ (১০) মারা গেছে। আলেপ্পোয় গত ১৭ আগস্টের সরকারি বাহিনীর বোমাবর্ষণে ওমরানদের বাড়ি বিধ্বস্ত হলে তাঁদের কয়েক ভাইবোন ও বাবা-মা আহত হয়েছিলেন। সিরিয়া সলিডারিটি ক্যাম্পেইন নামের একটি সংগঠন ওমরানের ভাই আলির মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, বিমান হামলার ঘটনায় আলি দাকনিশের শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মিত্র রাশিয়ার যুদ্ধবিমানগুলো বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোয় গোলাবর্ষণ করছে। পাঁচ বছর বয়সী ওমরান এ রকম একটি হামলায় আহত হয়। তার ধুলো ও রক্তমাখা ছবি বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওমরানের ওই ছবি সিরিয়ার যুদ্ধপীড়িত বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আলেপ্পো সিরীয় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র ছিল। ২০১২ সাল থেকে শহরটি কার্যত দুই ভাগ হয়ে যায়, যার পশ্চিম অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং পূর্বাঞ্চল বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে।

গুচ্ছ পদ্ধতির জন্য আন্তরিকতা দরকার

সমন্বিত বা গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে ২০০৮ সালে যে আলোচনা শুরু হয় তার ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপাচার্যদের সভায় বেশির ভাগ উপাচার্য সমন্বিত বা গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছিলেন। এরপর এ নিয়ে আরও কয়েক দফা আলোচনাও হয়। কিন্তু ফলাফল এখন পর্যন্ত শূন্য। গত বছর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। ফলে বিগত বছরগুলোর মতো এবারও দুর্ভোগ পোহাতে হবে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেছেন। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার ভুবনে প্রবেশের ছাড়পত্র পাওয়া লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে এখন ভর্তি পরীক্ষা নামক বিরাট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে আরামের ঘুম হারাম করে, খেলাধুলা বন্ধ করে, প্রচণ্ড মানসিক চাপ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হবে। অভিভাবকদেরও ভোগান্তি পোহাতে হবে, করতে হবে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের কাছেও যেন লক্ষাধিক ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী আর তাঁদের অভিভাবকদের কষ্ট, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও দুর্ভোগের চেয়ে ভর্তি ফরম বিক্রি থেকে পাওয়া আয়ের বিষয়টিই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। মূলত এ কারণেই তাঁরা এর বিপক্ষে।
আগে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কম থাকায় পৃথক পরীক্ষা হলেও তেমন একটা সমস্যা হতো না। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। বর্তমানে দেশে ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ইতিমধ্যে চলতি শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখও ঘোষণা করেছে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ। এখানে আগের মতোই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো যদি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নিয়ে ফলাফলের ভিত্তিতে কে কোন মেডিকেলে পড়বেন, তা ঠিক করে দিতে পারে, তাহলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন তা পারে না? সমস্যা কোথায়? ইউজিসির একাধিক বার্ষিক প্রতিবেদনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিকে ত্রুটিপূর্ণ, ব্যয়বহুল ও কোচিং-নির্ভর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউজিসির উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের এক গবেষণায় সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি গুচ্ছ করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সরকার যদি একযোগে মাসব্যাপী আট-নয় লাখ শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তাহলে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন মাত্র দুই লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীর ভর্তি পরীক্ষা একযোগে নিতে পারবে না? এ ক্ষেত্রে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ভর্তি ফরম পূরণ করার সময় ক্রমান্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও পছন্দের বিষয়ের তালিকা দিতে পারে। তবে এ জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন হবে দক্ষ টেকনিক্যাল জনবল।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েট ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষ শিক্ষক, গবেষকসহ শিক্ষাবিদদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসে করণীয় নির্ধারণ করা। যদিও ‘স্বাতন্ত্র্য’ বজায় রাখার দোহাই দিয়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষায় রাজি হয় না এবং অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা একমত পোষণ করেন না; কিন্তু এই রাজি না হওয়া কিংবা একমত পোষণ না করার পেছনের প্রকৃত কারণ যে কী, তা আর কারও বুঝতে বাকি থাকে না। প্রকৃত কারণ এই যে উদ্বৃত্ত ভর্তি ফি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকদের কিছু বাড়তি আয় বন্ধ হবে। বাস্তবতা এই যে আবেদন ফরম, খাতা ও পরিদর্শন ফি বাবদ যত টাকা খরচ হয়, তার কয়েক গুণ বেশি টাকা ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষার আয়ের ৪০ শতাংশ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা রেখে তা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তা করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত শিক্ষাবর্ষে (২০১৫-১৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ফরম বাবদ আয় করে প্রায় ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গত শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রি করে আয় করে প্রায় ৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও মোটা অঙ্কের টাকা আয় করে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন, বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, জেএসসি প্রবর্তন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাসের হার বাড়ানোসহ বেশ কিছু ইতিবাচক অর্জন রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। গুচ্ছ পদ্ধতি প্রয়োগ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও প্রশংসা ও সাধুবাদ পাবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকেরা যদি ভর্তি ফরম বিক্রি থেকে পাওয়া আয়ের বিষয়টি বাদ দিতে পারেন এবং ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেন, তাহলেই কেবল গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। এতে সামগ্রিকভাবে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। তবে এ জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতা।
ড. কুদরাত-ই-খুদা: বিভাগীয় প্রধান, আইন বিভাগ, সিটি ইউনিভার্সিটি।
kekbabu@yahoo.com

নাগরিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করা যাবে না

রাজধানী ঢাকা দেশের মোট আয়তনের ১ শতাংশ হলেও বাস করছে জনসংখ্যার ১২ শতাংশ মানুষ। ঢাকার বহুমাত্রিক সমস্যার গভীরতা অনুধাবন করতে এই একটি তথ্যই যথেষ্ট বলে মনে করি। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা জরিপে ঢাকা শহর বিশ্বের সবচেয়ে অবাসযোগ্য বড় শহরের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে একই জরিপে দ্বিতীয় বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে ঢাকার নীতিনির্ধারকেরা কিঞ্চিৎ আত্মতুষ্টি বোধ করতে পারেন; কিন্তু তাতে নগরবাসীর পাহাড়সমান দুর্ভোগ বিন্দুমাত্র কমবে না। প্রায় দেড় কোটি মানুষের শহর ঢাকায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কী হাল তা এখানকার নাগরিকেরা হাড়ে হাড়ে টের পান। একটি আধুনিক শহর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর পাশাপাশি সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অথচ ২০১০ সালে ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) করা হলেও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই।
স্বার্থান্বেষী মহল এটিকে হিমাগারে পাঠানোর সব আয়োজন সম্পন্ন করে রেখেছে। সমস্যার গভীরে না গিয়ে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর গুলশান ও ধানমন্ডি এলাকার আবাসিক চরিত্র পুনরুদ্ধারে রাজউক যে পাইকারি উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে, তা তুঘলকি কাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হয়। সংস্থাটি এখন যেসব ‘অবৈধ’ প্রতিষ্ঠানকে উচ্ছেদ করতে তৎপর হয়েছে, কীভাবে সেগুলো গড়ে উঠল—সেই প্রশ্নেরও জবাব নেই। এ ধরনের ঝটিকা অভিযান চালিয়ে যে ঢাকার সমস্যার সমাধান করা যাবে না, সেটি প্রথম আলোর গোলটেবিল বৈঠকে নগরবিদ ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। পরিকল্পিত নগর গড়তে ড্যাপ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। কেননা, এতে কোন এলাকায় কতসংখ্যক নাগরিকের জন্য কী ধরনের স্থাপনা থাকবে, সেসব বলা আছে। নগরবাসীর বর্ধিত চাহিদা পূরণের নামে যেমন যত্রতত্র ভবন নির্মাণ করা যাবে না, তেমনি একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে এসে বিগত শতকের পঞ্চাশের দশকের ‘বিশুদ্ধ’ আবাসিক এলাকার ধারণাও বাস্তবসম্মত নয়।
অতএব, সুন্দর ও সুবিন্যস্ত ঢাকার জন্য ড্যাপ বাস্তবায়নের দিকেই মনোনিবেশ করতে হবে।

এবার ভূমধ্যসাগর থেকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ভূমধ্যসাগর থেকে সিরিয়ায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার
এই ছবিটি প্রকাশ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
প্রথমবারের মতো ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করা যুদ্ধজাহাজ থেকে সিরিয়ায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার আলেপ্পোর নিকটবর্তী এলাকায় এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ইরানের বিমানঘাঁটি থেকে রাশিয়ার বিমান হামলা শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার সিরিয়া অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করল। এর আগে কাস্পিয়ান সাগর থেকে সিরিয়ায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স শনিবার এ খবর দিয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জঙ্গি সংগঠন জাবাথ ফাতেহ আল-শামের অবস্থান লক্ষ্য করে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। জঙ্গি সংগঠনটি এর আগে নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল। গত মাসে তারা আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে। এদিকে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট রণাঙ্গনে কর্মরত তাদের সামরিক উপদেষ্টাদের রক্ষায় যুদ্ধবিমান পাঠায়। বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের যুদ্ধবিমান হাসাকা নগরীতে কুর্দি বাহিনী লক্ষ্য করে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে। হাসাকা নগরীর বেশিরভাগ কুর্দি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে।
বাকি অংশ প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত যোদ্ধাদের দখলে রয়েছে। কুর্দি বাহিনী গত কয়েক মাস ধরে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত স্থানীয় যোদ্ধাদের সহায়তাকারী মার্কিন জোটের সামরিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিমান হামলা বন্ধে ও জোটের উপদেষ্টাদের রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গি বিমান পাঠায়। মার্কিন বিমান আসার পর সিরীয় বিমান ওই এলাকা ছেড়ে যায়। সিরীয় বাহিনীর পদক্ষেপের জবাবে এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গি বিমান পাঠালো। পেন্টাগন মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস বলেন, জোটের উপদেষ্টাদের রক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব এবং তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এমন কর্মকাণ্ড না করতে সিরীয় সরকারকে পরামর্শ দেব।’ যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, সিরিয়া সরকারের দুই যুদ্ধবিমান শুক্রবার ফের ওই এলাকায় ওড়ার চেষ্টা করে। তবে তাদের মার্কিন যুদ্ধবিমানের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, জোটের বিমানের উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই সিরীয় বিমান ওই এলাকা ত্যাগ করে। এ সময় জোটের যুদ্ধ বিমান থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, নগরীতে বুধবার থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ৯ শিশুসহ ২৩ বেসামরিক নাগরিক ও ১৬ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। ডেভিস বলেন, বৃহস্পতিবার সিরিয়ার বিমান হামলায় জোটের কেউ আহত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপদেষ্টারা নিরাপদ স্থানে চলে যান। সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়,
কুর্দি বাহিনী হাসাকা ঘিরে রেখেছে এবং গোলার আঘাতে বেসামরিক ও সামরিক প্রাণহানি হচ্ছে। আর এসব অপরাধের জন্য দায়ীদের অবস্থান ও গুলির উৎস লক্ষ্য করে সিরীয় বাহিনী সঠিক জবাব দিয়েছে। অন্যদিকে, সিরিয়ার অবরুদ্ধ শহর আলেপ্পোয় রাশিয়ার হামলা স্থগিতের ঘোষণাকে জাতিসংঘ স্বাগত জানিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি স্টাফান ডি মিস্তুরা রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এখন সিরিয়ার অবরুদ্ধ এলাকায় ত্রাণ ও ওষুধ পাঠাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘ। আলেপ্পোতে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং আইএসের আত্মঘাতী হামলার কারণে সেখানকার নাগরিকেরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তাদের কাছে অনেক দিন ধরেই ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। এজন্য জাতিসংঘ সব পক্ষকে ত্রাণ পাঠাতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। এই ডাকে সাড়া দিয়ে আগামী সপ্তাহ থেকে আলেপ্পোতে হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

কুন্দুজের একাংশ তালেবানের দখলে

কুন্দুজ প্রদেশে তালেবানের বিরুদ্ধে শনিবার
লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী -এএফপি
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা দখল করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। শনিবার কুন্দুজ প্রদেশের খানাবাদ জেলাটি তারা দখলে নেয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খানাবাদ জেলাটি আফগানিস্তানের কুন্দুজ থেকে তাকহার ও অন্য উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশকে সংযুক্ত করেছে। গত বছর জেলাটির আংশিক দখলে নেয় তালেবান। এরপর সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। খানাবাদের প্রশাসনিক প্রধান হায়াতুল্লাহ আমিরি বলেন, বিভিন্ন অবস্থান থেকে তালেবানরা এই জেলা আক্রমণ করে। আমরা সংঘর্ষ চালিয়ে কয়েক ঘণ্টা দখলে রেখেছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত কোনো সাহায্য পাইনি। অবশেষে সমগ্র জেলা তালেবানের দখলে চলে গেছে। উত্তেজনাপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলে একটি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লক্ষ্যে বিদ্রোহী গ্রুপ,
জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর ওপর চাপ অব্যাহত রাখে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় বাগলান, কুন্দুজ, তাকহার ও বাদাখশান প্রদেশে বর্তমানে তালেবানের সঙ্গে সরকারি সেনাদের তুমুল লড়াই চলছে। সপ্তাহখানেক আগে বাগলান প্রদেশের দাহানে ঘোরি এলাকা দখল করে তালেবান। সে সময় তালেবান যোদ্ধারা একটি দূর পাল্লার মর্টার কামানসহ অস্ত্রসম্ভার হস্তগত করে। আফগান বাহিনীর কাছ থেকে প্রায় এক ডজন সামরিক যান তারা দখল করে। কুন্দুজের প্রাদেশিক কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ ইউসুফ আইউবি জানিয়েছেন, সংঘাতের কারণে কয়েকশ বেসামরিক নাগরিক নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। মোহাম্মদ ইউসুফ সতর্ক করে বলেছেন, সরকার যদি এই শহরের দিকে বিশেষ নজর না দেয় তবে তালেবানরা গত বছরের মত আবারো এই শহরটি ছারখার করে দেবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি দেশের ৩৪টি প্রদেশের কমপক্ষে ১৫টিই আফগান বাহিনীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে।

আমাদের অর্থনীতির জিয়নকাঠি

সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকসহ সব ধরনের কর্মী নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। পরবর্তী সময়ে নারী গৃহকর্মীদের জন্য সৌদি শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয় আংশিকভাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে আবার সব ধরনের কর্মী নেয়ার বিষয়টি সামনে আসে। আশা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় সৌদি আরবে বাংলাদেশী জনশক্তি রফতানির বিশাল বাজার শিগগিরই উন্মুক্ত হবে। বর্তমানে সেদেশে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকের সংখ্যা ১৩ লাখ। এর মধ্যে ৬০ হাজার নারী শ্রমিকও রয়েছেন। ২০০৮ সালের আগে গড়ে প্রতি বছর এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশী সৌদি আরবে নিয়োগ পেত। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উঠিয়ে নেয়ায় সেই সুদিন আবার ফিরে আসবে। বাংলাদেশ থেকে দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক, নির্মাণকর্মী, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক, কৃষকসহ সব ধরনের কর্মীর সৌদি আরবে কাজ পাওয়ার পথ সুগম হবে। তবে তেলের দামে ধস নামা এবং নানা অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুফল কতটা পাওয়া যাবে তা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে। সৌদি আরবে বাংলাদেশী জনশক্তি রফতানি বন্ধের পেছনে রিক্রুটিং এজেন্টদের অসততা, প্রবাসী কর্মীদের একাংশের শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ অংশত দায়ী।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর অসৎ রিক্রুট এজেন্টদের অপতৎপরতা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জনশক্তি পাঠানো আবার শুরু হলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সরকারের মনিটরিং জোরদার করতে হবে। অদক্ষ শ্রমিকের বদলে দক্ষ শ্রমিক ও উচ্চ পেশার লোকদের যাতে বেশি সংখ্যায় পাঠানো যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ ও প্রস্তুতি নেয়া দরকার। একথা ঠিক, প্রত্যেক মানুষই তার দেশের জন্য সম্পদ। কারণ মানুষের শ্রম ও মেধায় একটি দেশ বা জাতির অগ্রগতি নিশ্চিত হয়। আমাদের দেশের অভ্যন্তরে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাই গুরুত্ব বেড়েছে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার। কারণ একজন দক্ষ-প্রশিক্ষিত মানুষ আত্মকর্মসংস্থানের পথটাও নিজেরাই অনেকটা বাতলে দিতে পারেন, যদি যথাযথ রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য মেলে। শিক্ষিত কিংবা দক্ষ জনশক্তি একটি সমাজ ও রাষ্ট্রে নানাভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। নৈতিক মূল্যবোধের যে অবক্ষয় এ সমাজে ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে, এ থেকে মুক্তির লক্ষ্যেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। সমাজ আলোকিত হয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ও জ্ঞানী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। শুধু দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রয়োজনেই নয়, বর্তমান বিকাশমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। উদ্ভাবনী শক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে শিক্ষিতদের হাত ধরেই দেশ-জাতি বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, মানসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণের পথ কুসুমাস্তীর্ণ করা, একই সঙ্গে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করা। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় শিক্ষিত ও দক্ষদের কদর ক্রমেই বাড়ছে। সব ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের দ্বার অবারিত করা যাবে এমনটি সহজ না হলেও শিক্ষিত ও দক্ষরা যাতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করতে পারেন, এ বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কর্মক্ষম কিংবা সৃজনশীলরা যাতে অলস পড়ে না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই।
বিপুল সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যেসব কারণে এখানে এগিয়ে যাওয়ার নানা প্রতিকূলতা প্রতিবন্ধকতার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তাও ভেঙে ফেলতে হবে। সরকারের একার পক্ষে জনশক্তি রফতানি বাড়ানো কঠিন। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতিও সর্বজনবিদিত। জনশক্তি রফতানি মুখ থুবড়ে পড়ার পেছনে তাদের অনিয়ম-দুর্নীতিরও দায় রয়েছে। সুষ্ঠু প্রক্রিয়া মেনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বুঝতে হবে, কোনো কারণে জনশক্তি রফতানি বিঘ্ন হলে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরিশেষে বলছি, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন ও জনশক্তি রফতানির কথা মাথায় রেখে পররাষ্ট্র সম্পর্ক নির্ধারণে উদ্যোগী হতে হবে। জনশক্তি রফতানির ধারা অব্যাহত রাখতে ব্যাপকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা ও শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির জিয়নকাঠি। এ জিয়নকাঠিকে সজীব রাখতে আরও বেশি পরিচর্যার বিষয়টি গুরুত্বের দাবিদার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আমরা আশা করব, কর্মী নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার মুসলিম উম্মাহর দুই ভ্রাতৃপ্রতীম দেশের ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ককে আরও জোরদার করতেও সহায়তা করবে।
ইফতেখার আহমেদ টিপু : একটি বাণিজ্যিক গ্রুপের চেয়ারম্যান
chairman@ifadgroup.com

আমাদের আইভি আপা

দেখতে দেখতে একযুগ হয়ে গেল। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তখন তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। মরহুম আইভি রহমানের কথা বলছি, যিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিক, সমাজসেবী, নারীনেত্রী ও গৃহিণী। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা সম্পাদিকা, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, মহিলা সমিতির সভানেত্রী, জাতীয় মহিলা সংস্থার সভানেত্রী এবং দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ন্যাশনাল সোসাইটি ফর দ্য ব্লাইন্ডের (বিএনএসবি) সাধারণ সম্পাদিকা। ব্যক্তিজীবনে বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী। স্বাধীনতা আন্দোলন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, সেবামূলক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ, নারীদের কর্মসংস্থান, রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন আন্দোলনে আইভি রহমানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমার সঙ্গে তার সরাসরি পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ১৯৮২ সাল থেকে। তখন তিনি বিএনএসবির সাধারণ সম্পাদিকা এবং আমি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার সঙ্গে আমার কত দিনের কত স্মৃতি! তখন তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে ইকবাল রোডের বাসায় থাকতেন। একদিন তার বাসায় গিয়েছি। দোতলার ড্রয়িংরুমের দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর এক বিশাল প্রতিকৃতি টানানো। বঙ্গবন্ধুর ছবির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে তন্ময় হয়েছিলাম।
আর মনে পড়ছিল এ মহান নেতার সঙ্গে আমার ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালের প্রথমদিকের কিছু ঘটনার কথা। হঠাৎ আপার কণ্ঠস্বরে সম্বিত ফিরে পেলাম। আমাকে উদ্দেশ করে আইভি আপা বলছেন, ‘আনোয়ার সাহেব, ১৯৭৪ কী ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু একদিন আমাকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে এ ছবিটি দিয়ে বলেছিলেন, আইভি এ ছবিটি তোকে দিলাম। বঙ্গবন্ধু আমাকে এ ছবিটি কেন দিয়েছিলেন- আমি আজও তা জানি না।’ সেদিন আপার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনেক কথা হয়। বঙ্গবন্ধুর কথা, রাজনীতির কথা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কীভাবে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বিএনএসবি গঠন করার উদ্যোগ নিলেন- সে কথা। এরই মাঝে তিনি নিজে উঠে গিয়ে বাসার ভেতর থেকে আমার জন্য মাছের কোপ্তা এনে খেতে দিলেন। তারপর থেকে আইভি আপার তথা জিল্লুর রহমানের (প্রয়াত রাষ্ট্রপতি) বাসা ছিল আমার জন্য অবারিত দ্বার। পরবর্তী সময়ে তাদের গুলশানের বাড়িতে গিয়েছি বহুবার- কোনোদিন ড্রয়িং রুমে, কোনোদিন ডেকে নিতেন একেবারে ভেতরের রুমে। অনেক স্নেহ করতেন ছোটভাইয়ের মতো। তখন গুলশানের বাড়িটি ছিল একতলা। চতুর্দিকে খোলা জায়গা। আমগাছ ও ডালিমগাছসহ ছোট ছোট অনেক গাছপালা। সামনে পূর্বদিকের অংশে বিশাল লন। সেখানে মাঝে মধ্যে ব্যাডমিন্টন খেলা হতো। অপূর্ব সুন্দর লাগত বাড়িটি।
পরে ওই স্থানে সম্পূর্ণ জায়গায় আইভি আপার জীবদ্দশায়ই নির্মিত হয় বহুতল ভবন ‘আইভি লিগাসি’। সেখানেও আপার সঙ্গে কয়েকবার গিয়েছি। বিশাল বিশাল এক-একটা রুম। ড্রয়িং, ডাইনিং, বেড; কিন্তু এখনও আগের সেই একতলা খোলামেলা সুন্দর বাড়িটি সবসময় আমার চোখে ভাসে। প্রতি বছর আপার মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদে অংশ নিতে গুলশানে ‘আইভি লিগাসি’তে যাই; কিন্তু সেই একতলা বাড়িটির সৌন্দর্য যেন আর খুঁজে পাই না। বাড়িটি গুলশান লেকের পশ্চিমে এবং আমার বাসা লেকের পূর্ব পাড়ে বিধায় (হাঁটা পথে ৫ মিনিটের পথ) বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসার সময় প্রায়ই এ বাসার পাশ দিয়ে যেতে হয়। স্বভাবতই বাসার দিকে তাকাই। মনে পড়ে কত দিনের কত স্মৃতি। জিল্লুর রহমান যখন মন্ত্রী হলেন তখন মন্ত্রীপাড়ার সরকারি বাড়িতে উঠলেন। হেয়ার রোডের বিশাল দোতলা বাড়ি। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও মন্ত্রীর সেই বাড়িতে যেতে আমাদের জন্য কোনো অনুমতি লাগত না বা ঢোকার সময় আমাদের জন্য কোনো রকম চেকিংও ছিল না। কারণ আইভি আপার অনুমতি পেয়ে তল্লাশির পর যারা ভেতরে ঢুকত তাদের দেখেছি নিচতলায় ড্রয়িংরুমে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে; কিন্তু আমরা সরাসরি দোতলায় চলে যেতাম। কারণ আমরা আইভি আপার লোক। সেই মন্ত্রীপাড়ার বাড়িতে ঢুকে নিচতলার ড্রেয়িংরুম বাঁয়ে রেখে এগিয়ে গেলে ডান দিকে মোড় ঘুরে মন্ত্রীর পিএসের রুম। তারপর মাননীয় মন্ত্রীর নিজের বসার রুম। এসব রুমের ভেতর দিয়ে যেতে হতো দোতলায় আপার ড্রয়িংরুমে।
প্রায় দিনই উপরে যাওয়ার পথে মন্ত্রী মহোদয়ের বসার রুমে ঢুকে তাকে (জিল্লুর রহমান) পেয়েছি। তিনি হাসিমুখে বলতেন ‘উপরে যাও- আইভি আছে’। সেসব স্মৃতি মনে পড়লে এখনও চোখে পানি আসে। জিল্লুর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি তখন বঙ্গভবনে (রাষ্ট্রপতির সরকারি ভবন) যেতাম আইভি আপার মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদে। লুৎফর ভাই কার্ড পাঠাতেন। লুৎফর রহমান। জিল্লুর রহমানের ছোটভাই (কাজিন)। সবসময় ছায়ার মতো থাকতেন তার ভাই ও ভাবীর সঙ্গে। সদা-সর্বদা নিয়োজিত থাকতেন তাদের ভালো-মন্দে। ভাই, ভাবী ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। আমাদের সেই লুৎফর ভাই থাকেন কলাবাগানে নিজ বাড়িতে। এখনও আমার আপনজন। কিশোরগঞ্জের ভৈরবের এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৪৪ সালে আপার জন্ম। জিল্লুর রহমান, আইভি আপা ও লুৎফর ভাইয়ের সঙ্গে ২ থেকে ৩ বার গিয়েছি ভৈরবে তাদের বাড়িতে। আইভি আপার পিতা জালালউদ্দিন ছিলেন ঢাকা কলেজের প্রিন্সিপাল। জিল্লুর রহমান ছিলেন সম্পর্কে আইভি আপার চাচাত ভাই। তার সঙ্গে আপার যখন বিয়ে হয় আপা তখনও স্কুলছাত্রী। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে- পাপন, তানিয়া ও ময়না। এখন তারা সবাই প্রতিষ্ঠিত। পাপন (নাজমুল হাসান) বর্তমানে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে নির্বাচিত (আওয়ামী লীগদলীয়) সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি। আইভি আপা ও জিল্লুর রহমান দম্পতি সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে ওয়ারীর বাসায় থাকতেন। জজ কোর্টের তৎকালীন পিপি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের (সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি)
পরিবার একই বাসার (উপর ও নিচ তলায়) থাকার সুবাদে দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে খন্দকার মাহবুব হোসেন ও আইভি রহমান বাংলাদেশ ন্যাশনাল সোসাইটি ফর দ্য ব্লাইড (বিএনএসবি) গঠন করেন। খন্দকার মাহবুব হোসেন সভাপতি এবং আইভি রহমান সাধারণ সম্পাদিকা। সেই থেকে (মাঝখানে কয়েক বছর বাদ দিয়ে) তারা দু’জন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদিকা হিসেবে বিএনএসবির হাল ধরে রাখেন। আইভি আপার আকস্মিক মৃত্যুর পরও খন্দকার মাহবুব হোসেন এখন পর্যন্ত বিএনএসবি’র হাল ধরে আছেন। আইভি রহমানের আর এক সহকর্মী খালেদা খানমসহ আরও অনেককে নিয়ে। তিনি সভাপতি ও খালেদা আপা সাধারণ সম্পাদিকা এবং লুৎফর ভাই কার্যনির্বাহী কমিটির একজন প্রবীণ সদস্য। আইভি রহমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে বিএনএসবি পরিচালিত মিরপুরের ‘ঢাকা চক্ষু হাসপাতালের’ মহিলা ওয়ার্ড। সেখানে বড় করে নামফলক লাগানো আছে-‘আইভি রহমান মহিলা ওয়ার্ড’। পাশেই আইভি আপার প্রতিকৃতি। আমরা প্রতি বছর আইভি আপার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনএসবির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাধারণ সম্পাদিকা খালেদা খানম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন, প্রবীণ সদস্য লুৎফর রহমান এবং আমার সহকর্মী মোহাম্মাদ আলী, খন্দকার মহিদুল ইসলাম মোর্শেদ, নাসির আহমেদ, আরিফুর রহমান সজীব, শেখ মোস্তফাসহ অন্যদের সঙ্গে নিয়ে তার বনানীর কবরস্থানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। মহিলা আওয়ামী লীগ, মহিলা সমিতি, দৈনিক গৃহকোণ পরিবারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রতি বছর ২৪ আগস্ট পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ বছর তার মৃত্যুবার্ষিকী সামনে রেখে মহান আল্লাহর কাছে তার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মঙ্গল কামনা করছি।
আনোয়ার হোসেন : পরিচালক, বিএনএসবি ঢাকা চক্ষু হাসপাতাল

মতিঝিলের জমিই যেন শেখ রাসেলের কাল!

‘শেখ রাসেল স্মৃতি টাওয়ার’ নির্মাণের জন্য মতিঝিলের
বিমান অফিসের পাশে ঢাকা জেলা প্রশাসনের বরাদ্দ
দেয়া এই সেই খাস জমি -যুগান্তর
একেবারেই অচেনা। নখদন্তহীন। প্রতিশ্রুতিহীন। অনভিজ্ঞ দেখাচ্ছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। প্রিমিয়ার ফুটবল লীগের নবম আসরে দলটির চেহারা যেন ফ্যাকাসে হয়ে পড়েছে। একের পর এক হারে মুষড়ে পড়েছেন ফুটবলাররা। যেন তারা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। নীল জার্সিটি যেন বেদনার নীলে পরিণত হয়েছে। অলব্লুজদের দেখে মনে হওয়ার কোনো উপায় নেই যে, ২০১২-১৩ মৌসুমে এই দলটিই ট্রেবল জিতেছিল। আর দুই মৌসুম বাদেই কিনা তাদের এই হাল। চলমান মৌসুমে ফেডারেশন কাপ এবং স্বাধীনতা কাপ তো বটেই, পেশাদার লীগেও তথৈবচ অবস্থা তাদের। শেখ রাসেলের নামে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র’। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শাহজাহান কবির। ১৯৯৬ সালে পাইওনিয়র দিয়ে ফুটবলের রাস্তায় হাঁটতে শুরু করে পালাক্রমে তৃতীয়, দ্বিতীয়, প্রথম বিভাগ, পেরিয়ে উঠে আসে প্রিমিয়ার ফুটবলে। এসেই তাক লাগানো নৈপুণ্য রানার্র্র্র্র্র্সআপ, দুই প্রধান আবাহনী-মোহামেডানকে পেছনে ঠেলে। জন্মলগ্ন থেকে ক্লাবটিকে সাহায্য সহযোগিতা করেন সাবেক সভাপতি রফিকুল আল জর্জ, সাবেক সভাপতি ময়নুল হক মঞ্জু ও সাবেক সহ-সভাপতি মীর সমীর। পাইওনিয়ার লীগে অংশগ্রহণের সময় ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ওবায়দুল কাদের। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ছিলেন গভর্র্নিং বডির চেয়ারম্যান। কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছিল সাবের হোসেন চৌধুরী ও হারুনুর রশীদকে। ১৯৯৮ সালের তৃতীয় বিভাগ লীগে শেখ রাসেল রানার্সআপ হয়। এ দলটির কোচ ছিলেন ওয়াজেদ গাজী।
পরের বছর দ্বিতীয় বিভাগে উঠলেও ক্লাবটিকে সাংগঠনিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হয়ে ক্লাব সভাপতি মঞ্জু দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। হাল ধরেন নুরুল আলম চৌধুরী। তার আমলেই প্রথম বিভাগ ও প্রিমিয়ার লীগে চ্যাম্পিয়ন হয় শেখ রাসেল। ট্রেবল শিরোপা জিতেছে দলটি, যা দেশের ফুটবলে ইতিহাসও বটে। অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে এখন দেশের ফুটবলে অন্যতম একটি নামি ক্লাব। ব্যাস, ওই পর্যন্তই শেষ। এরপর আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না দলটিকে। অবাক হলেও সত্যি যে, মাত্র দুই মৌসুম আগে ট্রেবল জেতা শেখ রাসেল এখন ধুঁকছে মাঠের বাজে পারফরম্যান্সে। ক্লাবটির আর্থিক সঞ্চালনে রয়েছে বসুন্ধরা গ্র“প। গেল বছর শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের দায়িত্ব নেয় প্রতিষ্ঠানটি। ৩০ জুলাই সায়েম সোবহান আনভীরকে চেয়ারম্যান, মীর সমীরকে ভাইস চেয়ারম্যান ও আলীমুজ্জামানকে সদস্য সচিব করে নতুনভাবে ফুটবল কমিটি সাজানো হয়। অর্থের অভাব না থাকলেও সাংগঠনিক ব্যর্থতায় দলটিকে অচেনা ঠেকছে। লীগ শিরোপা জয়ের প্রত্যাশায় প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে এবারের ফুটবল দল গঠন করা হয়েছে। অঢেল অর্থ দিয়ে আনা হয়েছে নিুমানের বিদেশী ফুটবলার। এই জন্য ক্লাবের একক বিশেষ পরিচালককে দুষছেন অন্যরা। প্রথম থেকে ষষ্ঠ রাউন্ড-হারের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে অলব্ল–জরা। অখ্যাত উত্তর বারিধারার কাছে প্রথম ধাক্কা খায় ট্রেবল জয়ীরা। চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জের কাছে ২-০ এবং চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে ২-১ গোলে হারে তারা। ময়মনসিংহেও ব্যর্থতাই সঙ্গী ছিল মারুফুলের দলটির। ফেনী সকারের কাছে ২-০ গোলে হারে তারা। বিজেএমসির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও ফের মুক্তিযোদ্ধার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে অলব্লুজরা। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে হার।
শুধু একটি ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানীতে রয়েছে দলটি। এমন হতাশা নিয়েই এএফসি কাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে খেলতে শুক্রবার ভুটান গেছে তারা। ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে সি-গ্র“পে ২৩ আগস্ট স্বাগতিক ভুটানের এফসি তাতুঙ এবং ২৫ আগস্ট চাইনিজ তাইপের টারটনসের বিপক্ষে খেলবে শেখ রাসেল। জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার ও কোচ হাসানুজ্জামান খান বাবলু শেখ রাসেলের বাজে পারফরম্যান্সে হতাশ। তার কথা, ‘এটা ফুটবলের জন্য ক্ষতিকারক। নামিদামি এই ক্লাবটি মাঠে পারফরম্যান্স করতে পারছে না। আমার মনে হচ্ছে, খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে কোথাও কোনো সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এজন্যই দলটি জয় পাচ্ছে না।’ অন্য একটি সূত্র দাবি করছে, শেখ রাসেলের এই দৈন্যতার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে সরকারের কাছ থেকে পাওয়া মতিঝিলের জমিটি। ঢাকা জেলা প্রশাসন মতিঝিলের বিমান অফিসের পাশে ৫৬.৬৭ শতাংশ খাস জমি শেখ রাসেলকে বরাদ্দ দেয়। এই জমিতে ‘শেখ রাসেল স্মৃতি টাওয়ার’ নির্মাণ করার কথা। কিন্তু ক’জন পরিচালক জমিটি ডেভেলপারকে দিয়ে ফায়দা লুটতে চাচ্ছেন। তারা খেলাধুলা বাদ দিয়ে এই জমির পেছনেই সময় পার করছেন। এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ভুটান থেকে দল ফিরে আসার পরেই কোচ মারুফুল হককে অব্যাহতি দেয়া হতে পারে। নতুন কোচ হিসেবে রহমতগঞ্জের কামাল বাবুর নাম শোনা যাচ্ছে।

একের পর এক ছবি থেকে বাদ পড়ছেন মাহিয়া মাহি

দ্বিতীয় বিয়ের পর মাহির ভাগ্য যেন তার সঙ্গে বেঈমানি করছে। বিয়ের আগে চুক্তিবদ্ধ ছবিগুলোর শুটিং তো শুরু হচ্ছেই না, বরং সেগুলো থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয় বদিউল আলম খোকনের নতুন ছবি ‘আমার প্রতিজ্ঞা’তে অভিনয় করছেন মাহিয়া মাহি। এতে তার নায়ক হিসেবে থাকছেন ঢাকাই ছবির শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। কিন্তু সপ্তাহের শুরুতেই জানা গেল নতুন খবর। এ ছবিটি থেকে বাদ পড়ছেন মাহি। বিশেষ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ছবিটির নায়ক স্বয়ং শাকিব খানই চাচ্ছেন না এতে তার নায়িকা হিসেবে মাহি থাকুক। মাহি থাকলে তিনি এ ছবিতে অভিনয় করবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। শাকিব খানের এই অনিচ্ছার কারণেই মাহিকে বাদ দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে শাকিব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কিছুই বলতে রাজি হননি। পরিচালকও এ ব্যাপারে আপাতত কিছু বলা থেকে বিরত রয়েছেন। তবে তাদের মৌনতাই বলে দেয় মাহিকে নিয়ে ছবিটি আর করছেন না। মাহির বদলে অন্য কোনো নতুন নায়িকা নিয়ে ছবির শুটিং শুরু করা হবে।
শাকিব খানেরও ইচ্ছে সে রকম বলেই জানা গেছে। সূত্র বলছে, মাহিকে বাদ দেয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। একে তো বিতর্কিত বিয়ে। তার ওপর প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ের কিছু লোকের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে যে কোনো প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন তিনি। যেটা সিনেমার লোকেরা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে কেউ ইউনিটে অশান্তি সৃষ্টি করতে চান না। তাছাড়া আগের মতো তার ইমেজও নেই। ব্যক্তিগত অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য দর্শক চাহিদাও অনেক কমে গেছে। সবকিছু মিলিয়েই মাহির সঙ্গে ছবিতে অভিনয় করতে নারাজ ঢাকাই শাকিব খান। এদিকে টিভি পর্দার জনপ্রিয় মুখ সজলের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘হারজিৎ’ নামে একটি ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ ছবিটির শুটিং একমাস পিছিয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, মুলত ছবিটির শুটিং করার পূর্ণ প্রস্তুতি নেই প্রযোজক ও পরিচালকের। তাছাড়া মাহিকে নিয়েও নাকি ঝামেলা আছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। অন্যদিকে মাহিকে নেয়ার কারণে প্রযোজকের অভাবে আরও একটি ছবির শুটিং বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন এক পরিচালক।