Monday, October 20, 2025
যুদ্ধবিরতির পর ৯৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইল গাজা যুদ্ধে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৮,১৫৯ জনকে হত্যা করেছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১,৭০,২০৩ জন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরাইলে ১,১৩৯ জন নিহত হয়। প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করে হামাস। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, হামাস নিরস্ত্র হয়েছে এটা নিশ্চিত করতে গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো প্রয়োজন। ওদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে ইসরাইল প্রায় ২৮.৩ হেক্টর (৭০ একর) ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করেছে বলে জানিয়েছে কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিসস্ট্যান্স কমিশন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন একটি ইসরাইলি বুলডোজার অনবিস্ফোরিত বোমার ওপর দিয়ে যাওয়ার ফলে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে। এর জন্য হামাস দায়ী নয়। ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, তিনি ও জারেড কুশনার গাজার যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় দোহায় ইসরাইলি বিমান হামলার ঘটনায় নিজেদের ‘প্রতারণার শিকার’ মনে করছেন।
ওদিকে প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস শুক্রবারের এক ইসরাইলি হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। এই হামলায় একই পরিবারের ১১ জন নিহত হন। তারা হলেন- সুফিয়ান শাবান, তার স্ত্রী সামার মোহাম্মদ নাসের শাবান। তাদের সন্তানরা- কারিম (১০), আনাস (৮), নাসমা (১২), ইহাব মোহাম্মদ নাসের আবু শাবান (৩৮), তার স্ত্রী রান্দা মাজেদ মোহাম্মদ শাবান (৩৬)। নাসের-রান্দা দম্পতির সন্তান- নাসের (১৩), জুমানা (১০), ইব্রাহিম (৬) ও মোহাম্মদ (৫)। ওই সংস্থা বলেছে, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ইসরাইলের পুনরাবৃত্তি করা এক ধরনের অপরাধ। যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে কোনো সামরিক প্রয়োজন ছাড়াই।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার খান ইউনুস থেকে গাজা সিটিতে যাওয়ার পথে নিজের গাড়ি থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, চারদিকে কেবল ধ্বংসস্তূপ। পুরো এলাকা এক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী কেনেথ রথ ভিডিওটির প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশন উদ্ধৃত করে বলেন, আজকের গাজা- একে ধ্বংস করার এক উপায় হলো এমন জীবনযাপনের শর্ত তৈরি করা যা কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আন্দোলনের নেতা ফিলিস্তিনের সংগ্রামের সঙ্গে সংহতি জানালেন ক্রিস স্মলস। তিনি আমাজন শ্রমিকদের সংগঠিত করার জন্য মার্কিন শ্রম আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত নেতা। জুলাই মাসে ‘হান্দালা’ নামের একটি ত্রাণবাহী জাহাজে গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের তারকা ‘দ্য রক’- পতন নাকি ঘুরে দাঁড়ানো
আর্ট ফিল্মেও ব্যর্থতা: বাণিজ্যিক ব্যর্থতার পাশাপাশি জনসন তার নতুন সিনেমা ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’-এর মাধ্যমে একজন ‘গম্ভীর, পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য অভিনেতা’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টাও করেন। এই সিনেমাটি এমএমএ ফাইটার মার্ক কের-এর জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। পরিচালনায় প্রশংসিত পরিচালক বেনি সাফডি (আনকাট জেমস খ্যাত)। এটি মূলত জনসনের জন্য ‘অস্কার-উপযুক্ত’ প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ফলাফল ছিল ভয়াবহ। ৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজেটে তৈরি ছবিটি মার্কিন বক্স অফিসে আয় করে মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলার। যদিও সিনেমার সমালোচনা মিশ্র ছিল। তবুও জনসনের অভিনয় প্রায় সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। ‘ওপেনহাইমার’ নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান নিজে বলেছেন, এটি একটি অসাধারণ অভিনয়। এই বছর কিংবা অন্য যেকোনো বছরে আপনি এর চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখবেন না। নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জনসন আবেগঘনভাবে লিখেছেন, আমরা গল্প বলার জগতে বক্স অফিস ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কিন্তু আমি বুঝেছি, আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি আমাদের অভিনয়, আমাদের একাগ্রতা, আর চরিত্রে সম্পূর্ণভাবে মিশে যাওয়ার মানসিকতা। এই চরিত্রে কাজ করা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
টানা বক্স অফিস ব্যর্থতা: ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’-এর ব্যর্থতার আগেও জনসনের কয়েকটি বড় প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে। ডিসি ইউনিভার্সের ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’ ছিল এক ভয়াবহ ব্যর্থতা। সমালোচক ও দর্শক উভয়ের কাছেই। সিনেমাটি লাভের মুখ দেখেনি এবং শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নার ব্রাদার্স তাদের ডিসি ইউনিভার্স পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে জনসনকে বাদ দেয়া হয়। জ্যাক এফ্রনের সঙ্গে ‘বেওয়াচ’-এর রিমেকও বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়। ডিজনির ‘জাঙ্গল ক্রুজ’ (২০২১) সামান্য আয় করলেও, ২০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট তুলতে হিমশিম খায়। ফিল্ম সমালোচক ও অনলাইন ইউটিউবাররাও তার পতন নিয়ে সরব। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বিশ্লেষক জন কাম্পেয়া মন্তব্য করেন, জনসনের বক্স অফিস শাসন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা স্পষ্টতই হ্রাস পাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ আশা: তবুও সব আশা শেষ হয়ে যায়নি। জনসনের হাতে এখনও আছে তার কিছু বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির সিক্যুয়েল। এর মধ্যে আছে জুমানজি ৩ মুক্তি পাবে আগামী বছর। ফাস্ট এক্স: পার্ট ২ আসছে ২০২৭ সালে। জাঙ্গল ক্রুজ ২-ও নির্মাণাধীন। কারণ প্রথম সিনেমাটি ডিজনি+ স্ট্রিমিংয়ে দারুণ সফলতা পেয়েছিল। সবচেয়ে বড় বাজির সিনেমা হবে ‘মোয়ানা’-এর লাইভ অ্যাকশন সংস্করণ। এতে জনসন নিজেই অভিনয় করবেন। এনিমেটেড মোয়ানা-২ গত বছর এক বিলিয়ন ডলার আয় করে। তাই এই সংস্করণটিও বিশাল সাফল্যের আশা করা হচ্ছে।
নতুন দিগন্ত: জনসন আবারও পরিচালক বেনি সাফডির সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন, যদিও ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’ ব্যর্থ হয়। ডেডলাইন জানিয়েছে, তিনি সাফডির নতুন সিনেমা ‘লিজার্ড মিউজিক’-এ অভিনয় করবেন, যা অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস নির্মাণ করছে। স্টুডিওর এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আবারও অত্যন্ত প্রতিভাবান ডোয়াইন জনসনের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আনন্দিত। বেনি সাফডির মতো সৃজনশীল নির্মাতার সঙ্গে এই প্রকল্প ‘লিজার্ড মিউজিক’-এ কাজ করা আমাদের জন্য সম্মানের বিষয়। এই সিনেমাটি একই সঙ্গে কল্পনাপ্রবণ, বিনোদনমূলক এবং ব্যতিক্রমধর্মী। আমরা কৃতজ্ঞ যে তারা আমাদের তাদের প্রযোজনা অংশীদার হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে সংক্ষেপে বলা যায়, ‘দ্য রক’ জনসনের ক্যারিয়ার এখন এক সন্ধিক্ষণে। তিনি একসময় ছিলেন হলিউডের সবচেয়ে অপ্রতিরোধ্য তারকা। কিন্তু সাম্প্রতিক ব্যর্থতা প্রমাণ করেছে, বক্স অফিসে রক-সলিড থাকা যতটা কঠিন, ততটাই ক্ষণস্থায়ী খ্যাতি। তবে তার অদম্য মনোবল এবং নতুন প্রজেক্টগুলো হয়তো আবারও প্রমাণ করবে ‘দ্য রক’ এখনও হার মানেননি।
.webp)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মারধরে চোখ নষ্ট, কাউকে ‘ফাঁসি’: ফিলিস্তিনি বন্দীদের ভয়াবহ নির্যাতন
মাহমুদের বয়স ২৮ বছর, বাড়ি গাজার উত্তরাঞ্চলে। গত বছর ডিসেম্বরের শেষ দিকে কামাল আদওয়ান হাসপাতাল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। এর পর থেকে তিনি ইসরায়েলের বন্দিশালায় ছিলেন। কারারক্ষীরা তাঁকে এতটাই নির্যাতন ও নিষ্ঠুরভাবে মারধর করেছেন যে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।
গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীন এ সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দী ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের অনেকের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে।
মাহমুদ ২০১৫ সালে ইসরায়েলের বোমা হামলায় পা হারান। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, বন্দী থাকার সময় তাঁকে অবিরাম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। রাখা হয় ইসরায়েলের কুখ্যাত সদে তেইমান কারাগারে। আরও অনেক বন্দী এ কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন।
মাহমুদ বলেছেন, তাঁকে ওই কারাগারে প্রচণ্ড নির্যাতন ও মারধর করা হতো। এমন একদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে মাহমুদ বলেন, কারারক্ষীরা সেদিন তাঁর মাথায় এত জোরে আঘাত করেন যে তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন।
মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমি বারবার আমাকে চিকিৎসা করাতে বলছিলাম। কিন্তু তাঁরা শুধু আমার চোখে একধরনের ড্রপ দিয়েছেন, যেটি কোনো কাজই করেনি। আমার চোখ দিয়ে ক্রমাগত পানি পড়ছিল, ময়লা বের হচ্ছিল ও ব্যথা করছিল। কিন্তু তাঁরা গুরুত্ব দেননি।’
চিকিৎসা পেতে মাহমুদ অনশনের চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাঁর দাবি আমলেই নেয়নি।
অবশেষে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মাহমুদকে নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পরিবারের দেখা পেতে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেখানে তাঁর মা আসেন।
মাহমুদ বলেন, ‘তাঁর (মায়ের) গলা শুনেই আমি তাঁকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি। আমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছিলাম না, তবে শুধু গলার আওয়াজ শুনতে পাওয়াটাও আমার কাছে পুরো পৃথিবী পাওয়ার সমান।’
মাহমুদ এখন গাজায় বাড়ির ধ্বংসাবশেষের কাছে একটি তাঁবুতে বসবাস করছেন। এখনো তাঁর চোখের চিকিৎসা হয়নি। চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যেতে তিনি সাহায্য কামনা করেছেন।
ইসরায়েলি কারাগারে বন্দীদের পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের প্রমাণ ক্রমে বাড়ছে। মাহমুদ যেসব নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন, সেগুলো ওই সব প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইসরায়েলের কারাগার থেকে এ সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের অনেককে দুর্বল ও অসুস্থ মনে হয়েছে বা তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। একজনের ওজন তাঁর বন্দী হওয়ার আগের ওজনের অর্ধেক হয়ে গেছে।
প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বন্দী থাকা ১০০ সাবেক ফিলিস্তিনি বন্দীর সাক্ষ্য নথিবদ্ধ করেছে। তারা দেখেছে, শুধু সদে তেইমানের মতো কুখ্যাত বন্দিশালাতেই নয়; বরং ইসরায়েলের সব কারাগারে পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়।
ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিচারক, আইনজীবী অথবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয় না। তাঁদের সব অধিকার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
ইসরায়েল অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে, যাঁরা বন্দী থাকার সময় মারা গেছেন।
গাজার হাসপাতাল সূত্র আল–জাজিরাকে বলেছে, কয়েকটি মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং এমন কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা দেখে মনে হচ্ছে খুব সম্ভবত তাঁদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেন, ‘তাঁদের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, তাঁরা যখন বাধা দিয়েছেন, তখন তাঁদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।’
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দী ইসরায়েলি কারাগারে মারা গেছেন।
ইসরায়েলের মানবাধিকার সংস্থা বেইতসালেম গত বছর দেশটির কারাগার ব্যবস্থাকে ‘নির্যাতন শিবিরের জাল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে বন্দীরা পদ্ধতিগতভাবে শারীরিক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হন। কারাগারগুলোয় বন্দীদের যথেষ্ট খাবার ও চিকিৎসা দেওয়া হয় না এবং তাঁরা যৌন নিপীড়নের শিকার হন।
পাবলিক কমিটি এগেইনস্ট টর্চার ইন ইসরায়েল (পিসিএটিআই) বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বন্দী নির্যাতনের শতাধিক ঘটনার প্রতিবেদন দেওয়া হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ শুধু দুটি ঘটনা আইনের আওতায় এনেছে। তবে দুই মামলার কোনোটিতে কোনো কারাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়নি। পিসিএটিআই বন্দী নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করা একটি ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন।
ইসরায়েলের ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিষ্ঠাতা রুচামা মার্টন বলেন, তিনি দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলে নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছেন। কিন্তু নির্যাতন বন্ধে ব্যর্থ হয়েছেন।
ইসরায়েলের দৈনিক পত্রিকা হারেৎজকে রুচামা বলেন, ‘হয়তো মানুষ আর এটি অস্বীকার করতে পারেন না। কিন্তু বাস্তবে এটি (তাঁদের কাছে) স্বাভাবিক হয়ে গেছে।’
ইসরায়েলের উগ্র দক্ষিণপন্থী জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দীদের প্রতি কঠোর আচরণের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি দেশটির কারাগার পরিচালনা ব্যবস্থার তদারকি করেন।
এখনো প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের অনেকেরই বিচার হয়নি বা কোনো নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ইসরায়েল পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে তারা এসব অভিযোগ খণ্ডন করার মতো কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
![]() |
| মাহমুদ আবু ফউল। ছবি: মুস্তাফা বারঘুয়ার এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ -জিও নিউজের নিবন্ধ by দিলাওয়ার হুসেইন
বিশ্বজুড়ে এমন অনেক দেশ আছে যারা একসময় তাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি দৃঢ় জনআস্থা উপভোগ করত, এখন নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি তারা। বৃটিশ জার্নাল অব পলিটিক্যাল সায়েন্সে প্রকাশিত সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা, ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস ইন ইনস্টিটিউশনাল ট্রাস্ট’ দেখিয়েছে যে, প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন সংসদ, সরকার ও রাজনৈতিক দল) প্রতি আস্থা বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। গবেষণাটি সতর্ক করে বলেছে যে, এই পতন গণতন্ত্রের জন্য একটি কেন্দ্রীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে এবং এটি অগণতান্ত্রিক নেতাদের জন্য রাষ্ট্রকে ক্রমশ স্বৈরাচারী উপায়ে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন এবং লাতিন আমেরিকার ৩৬টি গণতান্ত্রিক দেশে সংসদের প্রতি আস্থা কমে গেছে।
পাকিস্তানে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি এই কম আস্থা মূলত পপুলিস্ট দলগুলোর উত্থান এবং ধারাবাহিক সরকারগুলোর নাগরিকদের সামাজিক-অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতার ফল। সাম্প্রতিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারের অকার্যকারিতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ঘাটতিও এই আস্থাহীনতা বাড়িয়েছে। তবুও প্রমাণ রয়েছে যে নাগরিকরা গণতন্ত্রের ধারণাকে সমর্থন করে, তারা কেবল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিশ্বাস হারিয়েছে। যদি নিয়মিত সাধারণ নির্বাচন গণতন্ত্রের স্বাস্থ্য যাচাইয়ের একটি উপায় হয়, তবে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক বছরে নিজেকে বেশ কার্যকর দেখাতে পেরেছে। তবে ঘন ঘন নির্বাচন হলেও যদি জবাবদিহিমূলক ও স্থিতিশীল সরকার না থাকে, তাহলে সেটি গণতন্ত্রের গভীরে থাকা এক অসুস্থতার ইঙ্গিত দেয়, যা জনগণের আস্থা আরও দুর্বল করে।
বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক আস্থা কমে যাওয়াকে অনেকেই ‘গণতন্ত্রের সংকট’ বলে মনে করছেন। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও এই আস্থা হ্রাস গণতন্ত্রের প্রতি নয়, বরং শাসনব্যবস্থার মানের প্রতি অসন্তোষের প্রতিফলন। এ প্রসঙ্গে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন নেটওয়ার্কের ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের ভোটার উপস্থিতির প্রতিবেদন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। যদিও সেই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ এবং ভোটগ্রহণে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা ছিল, তবুও ৬ কোটি ৬ লাখ ভোটার ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেন। এটি ২০১৮ সালের চেয়ে ৫৮ লাখ বেশি ভোটার।
এটি প্রমাণ করে যে পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমে গেলেও তা অপরিবর্তনীয় নয়। জনগণের আস্থা যদি মূলত নীতিগত কারণে নষ্ট হয়ে থাকে, তবে সেই নীতিগুলো পরিবর্তনের সময় এসেছে। এই পরিবর্তন রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র জোরদার করার মাধ্যমে সম্ভব। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্রচর্চা ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করছেন। গবেষণাগুলো থেকে দেখা যায়, যদি রাজনৈতিক দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে পুরো গণতন্ত্রই বিপন্ন হয়। অর্থাৎ, গণতন্ত্রের স্বাস্থ্য রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল।
সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে দরকার কিছু গঠনমূলক সংস্কার, যেমন- নাগরিকদের পিটিশনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি, তথ্য অধিকার আইন জোরদার করা, উন্মুক্ত সরকারের নীতি গ্রহণ, অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন।
রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন দরকার। যেমন- দলীয় সদস্যদের প্রার্থী মনোনয়ন বা নেতৃত্ব নির্বাচনে বেশি ক্ষমতা দেয়া, ডিজিটাল পার্টি বা অনলাইন কাঠামোর মাধ্যমে সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, স্বচ্ছ সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
এমন সংস্কার অন্তত আংশিকভাবে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করতে এবং দলীয় কর্মীদের সক্রিয় করতে সহায়তা করতে পারে। পাকিস্তানে রাজনৈতিক দলগুলো আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। কেউ তাদের শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার মূল উৎস মনে করে, আবার কেউ বলেন- দলগুলোর দুর্বলতাই গণতন্ত্রের পতনের ছায়া। তবুও, দলগুলো এখনো তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে পারে, যদি নেতৃত্ব নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে চিন্তা করে এবং অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক উদ্ভাবন শুরু করে, যা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে ও জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করবে।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে রাজনৈতিক আস্থার পরিবর্তন সাধারণত নাগরিকদের প্রত্যাশা ও প্রতিষ্ঠানের বাস্তব পারফরম্যান্সের মধ্যকার ব্যবধানের প্রতিফলন। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কোনো একক ‘সমাধান’ নেই। তবে এটি সম্ভব রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, নাগরিককেন্দ্রিক নীতি এবং জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
* দিলাওয়ার হুসেইন, পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি স্টাডিজে পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তার এ লেখাটি অনলাইন জিও নিউজের অনুবাদ

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লেবাননে এক দশক ধরে বন্দী গাদ্দাফিপুত্রকে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার জামিনে মুক্তির নির্দেশ
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি গতকাল শুক্রবার খবর দিয়েছে, গাদ্দাফিকে জামিনে মুক্তির এ রায় মুসা আল-সদরের অপহরণ ও লিবিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার মামলায় দেওয়া হয়েছে। আল-সদর লেবাননের প্রখ্যাত শিয়া নেতা ছিলেন।
গাদ্দাফির আইনজীবী লরাঁ ব্যায়ন এ রায়কে বিদ্রূপাত্মক বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ব্যায়ন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘অন্যায়ভাবে কারাবন্দী করে রাখার মামলায় জামিনে মুক্তি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করব।’
এই আইনজীবী আরও বলেন, তাঁর মক্কেল ‘আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন’ এবং বড় অঙ্কের জামিনের অর্থ দিতে পারবেন না।
ব্যায়ন প্রশ্ন করেন, ‘আপনি চান, তিনি ১ কোটি ১০ লাখ ডলার কোথাও গিয়ে খুঁজে আনুক?’
লেবানন কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে গাদ্দাফিপুত্রকে গ্রেপ্তার করে। তাদের অভিযোগ, তিনি ১৯৭৮ সালে লিবিয়ায় মুসা আল-সদরের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে তথ্য লুকিয়েছিলেন। এ মামলা আজও লেবাননের মানুষের কাছে ব্যাপক আগ্রহের বিষয় হয়ে আছে।
মুসা আল-সদর যখন লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন লেবাননের একজন আদর্শিক নেতা ছিলেন তিনি।
আল-সদর ছিলেন আমাল আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, যা এখন লেবাননের শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে জোটবদ্ধ রয়েছে। ওই সফরে নিখোঁজ হন তিনি। সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন একজন সহকারী ও একজন সাংবাদিক। তবে সফরের পর থেকে তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বহু বছর ধরে নানা অনুমান ও অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের উত্তেজনা এ ঘটনা থেকে শুরু। গাদ্দাফি ২০১১ সালে বিপ্লবের সময় উৎখাত ও নিহত হন।
লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি আল-সদরের পর আমাল আন্দোলনের প্রধান হয়েছেন। লিবিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা আল-সদরের নিখোঁজ হওয়া বিষয়ে সহযোগিতা করছে না। তবে লিবিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অনেকের মতে, আল-সদরের কী হয়েছে, তা জানতে হানিবাল গাদ্দাফিকে ২০১৫ সাল থেকে লেবাননে বিনা বিচারে আটক করে রাখা হয়েছে।
হানিবালের আইনজীবী বলেছেন, তাঁর মক্কেল এখন ৪৯ বছর বয়সী। এর মানে, আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি মাত্র প্রায় দুই বছর বয়সী ছিলেন।
গতকালের ওই রায়ের পর আল-সদরের পরিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে হানিবালের মুক্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। তবে বলেছে, তারা এ সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হানিবাল গাদ্দাফির গ্রেপ্তার বা মুক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়। মূল বিষয় হলো, ইমাম আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার নিষ্পত্তি হওয়া।’
গত আগস্ট মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লেবাননকে হানিবাল গাদ্দাফিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানায়। মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, তাঁকে ভুলবশত আটক করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য লুকানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
গত সপ্তাহে হানিবালের স্বাস্থ্যের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, তিনি মানসিক চাপে ভুগছেন এবং পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হানিবাল গাদ্দাফিকে মুক্তি দিতে লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে লেবাননের প্রতি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। কারণ হিসেবে বিচারবহির্ভূতভাবে কারাবন্দী থাকার প্রতিবাদে অনশন করায় তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
লিবিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেল আল-সাদিক আল-সুর লেবাননের প্রসিকিউটর জেনারেল ঘাসান উয়েদাতকে ওই অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন। আল-সুর অনুরোধে উল্লেখ করেন, হানিবালকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে লেবাননের সহযোগিতা আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সত্য উদ্ঘাটনে সাহায্য করতে পারে।
![]() |
| লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র হানিবাল গাদ্দাফি। ৩০ জুন ২০১০, ত্রিপলিতে লিবিয়ার শিপিং করপোরেশন এবং এসটিএক্স ইউরোপের মধ্যে ক্রুজ জাহাজ নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৭৪ বছরের পাত্র বিয়ে করলেন ২৪ বছরের যুবতীকে, দেনমোহর ৩ বিলিয়ন রুপিয়াহ
বিয়ের অনুষ্ঠানে বর তরমান প্রকাশ্যে তার নববধূ শেলা আরিকাকে তিন বিলিয়ন রুপিয়াহ মূল্যের দেনমোহর দেন। বিয়ের ভিডিওগ্রাফি দলকে শুরুতে জানানো হয়েছিল, দেনমোহর হবে এক বিলিয়ন রুপিয়াহ। কিন্তু অনুষ্ঠানের সময় তা বাড়িয়ে হয়ে যায় তিন বিলিয়ন রুপিয়াহ। আরও এক অদ্ভুত ঘটনা, অতিথিদের উপহার হিসেবে দেয়া হয় ১ লাখ রুপিয়াহ নগদ। অনুষ্ঠানের পরপরই বিয়ের ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি অভিযোগ করেছে যে, নবদম্পতি তাদের সেবা বাবদ অর্থ না দিয়েই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন।
অনলাইনে জল্পনা শুরু হয় যে, তরমান নাকি কনের পরিবারের মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়েছেন। অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিন বিলিয়ন রুপিয়াহর চেকটি আসল ছিল কি না তা নিয়ে। কনের এক আত্মীয় লাইভস্ট্রিমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিবার এবং প্রতিবেশীরা আগেই সাবধান করেছিল। কিন্তু সে শোনেনি, এখন এই ঝামেলায় জড়িয়ে গেছে। ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে তরমান পরে সামাজিক মাধ্যমে জানান যে, দেনমোহর সম্পূর্ণ বৈধ এবং ইন্দোনেশিয়ার ব্যাংক সেন্ট্রাল এশিয়া থেকে তা সমর্থিত। তিনি আরও দাবি করেন, আমি আমার স্ত্রীকে ছেড়ে যাইনি।
আমরা এখনও একসঙ্গে আছি। কনের পরিবারও জানায় যে, তারা কোথাও পালিয়ে যাননি, বরং মধুচন্দ্রিমায় গেছেন। এদিকে, বিবাহ ফটোগ্রাফি সংস্থার দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত শুরু করেছে। জার্নাল অব ফ্যামিলি ইস্যুজ অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমশ কমছে। যা এই বিয়েটিকে আরও অস্বাভাবিক করে তুলেছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট: ‘এই গাড়িতেই নিতে হবে, আর কোনো গাড়ি এই লাশ নেবে না’
(১৭ আগস্ট) রোববার দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরের পাঁচটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এই পাঁচ শহর হলো রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহ।
বড় এসব হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ‘অপ্রতুলতা’ রয়েছে। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর মানুষকে নির্ভর করতে হয়। কিন্তু প্রতিটি হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের দাপটের কথা জানিয়েছেন অনেকে। প্রকাশ্যে এমন তৎপরতা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
‘বাইরের’ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করায় গত বৃহস্পতিবার রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় রোগী নিতে বাধা দেন সিন্ডিকেটভুক্ত অ্যাম্বুলেন্সচালকেরা। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকা অবস্থায় শ্বাসকষ্ট ও নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। হাসপাতালকেন্দ্রিক অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের এমন নির্মমতা দেশে এর আগেও ঘটার অভিযোগ রয়েছে। নবজাতকের মৃত্যুতে বিষয়টি আবারও সামনে এল। আলোচিত এ ঘটনায় শিশুটির বাবার করা মামলায় গত শনিবার প্রধান আসামি সবুজ দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার বিষয়ে দেশে কোনো নীতিমালা নেই। তবে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন পরিচালক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, রাস্তাঘাটে বা হাসপাতালের বাইরে যেসব অ্যাম্বুলেন্স চলে, সেগুলোর অনুমতি দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল ‘অ্যাম্বুলেন্সে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়’ শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, হাসপাতালের কর্মচারী ও প্রভাবশালীরা ‘সিন্ডিকেট’ করে বেশি ভাড়া আদায় করেন। বিআরটিএ অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নির্ধারণের কোনো উদ্যোগ নেবে কি না, জানতে চাইলে তখন সংস্থাটির পরিচালক লোকমান হোসেন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, খুব শিগগির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেবে।
ইচ্ছেমতো ভাড়া
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শেরপুরের শ্রীবর্দীর পুরোরা এলাকায় নিজের স্বজনকে নিয়ে যেতে রোববার সকাল ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজছিলেন জামান মিয়া। জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের সারি। কোনো অ্যাম্বুলেন্স তিন হাজার টাকা, কোনোটা চার হাজার টাকা, কোনোটা সাড়ে চার হাজার আবার এসি গাড়ি পাঁচ হাজার টাকা চায়। জামান বলেন, ‘যেভাবে ভাড়া চাচ্ছে, আমরা তো নিরুপায়। ভাড়া যদি নির্ধারণ করে দেওয়া থাকত, তাহলে ইচ্ছেমতো ভাড়া কেউ চাইতে পারত না।’
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দাঁড়ালে প্রথমেই চোখে পড়ে সারি সারি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। রোববার সকালে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে আসা রোগীর স্বজনদের হাতে ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দিচ্ছেন চালকেরা। দূরত্ব একই হলেও একেক চালক একেক রকম ভাড়া চাইছেন।
রোগীর স্বজন পরিচয়ে কথা বলার সময় হাফিজুর রহমান নামের এক চালক কার্ড দিতে দিতে বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় যায় না। তিনি দুভাবে সেবা দিতে পারবেন। ঢাকা পর্যন্ত আট হাজার টাকা নেবেন। আবার চাইলে ছয় হাজার টাকায়ও পাঠাতে পারবেন; সে ক্ষেত্রে খুলনা জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে ঢাকাগামী ফাঁকা অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে তুলে দেবেন।
সেখানে আরও দুজন চালক ঢাকায় যেতে যথাক্রমে ৯ হাজার ও সাড়ে ৮ হাজার টাকা চান। পাশাপাশি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে গেলে ‘নানা সমস্যা’র কথাও বোঝানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। এর বাইরেও অক্সিজেন ফিসহ নানা ধরনের ফি যুক্ত করা হয়ে থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহনের ভাড়া নির্ধারিত নেই। ফলে যে যাঁর মতো ভাড়া আদায় করেন।
গত রোববার শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক আলী হোসেন বলেন, ‘যখন অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা কম থাকে, তখন আমরা পাঁচ-ছয় হাজার টাকায়ও ঢাকায় রোগী পরিবহন করি। আবার যখন খুব ক্রাইসিস থাকে, তখন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকাও নিই, এটা সত্য।’
অবশ্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও সেটি চালকেরা মানেন না। হাসপাতালে টাঙানো ভাড়ার সাইনবোর্ডে দেখা গেছে, প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ৩৫ টাকা এবং এর বেশি দূরত্বের জন্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা আছে। এসি হলে তা ৪০ টাকা হারে হবে।
গুগল ম্যাপের হিসাবে রাজশাহী থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দূরত্ব ২৫৭ কিলোমিটার। সেই হিসাবে ভাড়া হওয়ার কথা সাত থেকে আট হাজার টাকা।
হাসপাতাল চত্বরে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক চালক বলেন, ‘এখান থেকে ঢাকায় রোগী নিতে আমরা ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিই। সরকারি রেটে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। কারণ, আমাদের খালি ফিরে আসতে হয়।’
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ও মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট আছে, এটা সবাই জানে। এর শিকড় অনেক গভীরে। আমরা অসংখ্যবার জরিমানা করেছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। হাসপাতালের ভেতরে তারা যে অ্যাম্বুলেন্স রাখে, সেটাও সম্পূর্ণ অবৈধ।’
বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে নিতে বাধা
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে শেরপুরের নকলা থেকে রোগী নিয়ে আসেন অ্যাম্বুলেন্সচালক আল আমিন। ফেরার পথে তিনি হাসপাতাল থেকে কোনো রোগী নিতে পারছেন না জানিয়ে বলেন, ‘এখান থেকে স্থানীয় সিন্ডিকেটের বাইরে রোগী নেওয়া যায় না। যদি রোগী নিতে চাই, তাহলে ভাড়ার অর্ধেক টাকা এই সিন্ডিকেটকে দিয়ে দিতে হয়।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘিরে ১৫০টির মতো বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর একটির চালক শফিকুল ইসলাম। রোগী না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ধরেন জামালপুর গেলাম রোগী নিয়ে। ফিরতি পথে কোনো রোগী নিয়ে আসতে চাইলে রোগীর সঙ্গে ভাড়ার যে চুক্তি হয়, তার অর্ধেক টাকা সেখানের সিন্ডিকেটকে দিয়ে দিতে হয়। সে কারণে আমরাও এখান থেকে বাইরের অ্যাম্বুলেন্সকে রোগী নিতে দিই না।’
রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬ নম্বর ফটকে স্বজনের মরদেহ বাড়ি নিতে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজছিলেন আবদুস সামাদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী থেকে এসেছিলেন। হঠাৎ স্বজনের মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে দেখে এগিয়ে গিয়ে তিনি জানতে চান, ‘আমি তো কোনো অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াই করিনি, আপনারা মরদেহ তুলছেন কেন?’
তখন চালক ও তাঁর সঙ্গীরা জানান, তাঁরাই মরদেহ নিয়ে যাবেন। ভাড়া কত জানতে চাইলে চালক সরাসরি আট হাজার টাকা দাবি করেন। আবদুস সামাদ বোঝানোর চেষ্টা করেন, এই দূরত্বের জন্য সর্বোচ্চ ভাড়া তো চার হাজার টাকা হবে। তিনি আট হাজার টাকায় যাবেন না, অন্য গাড়ি নেবেন। তখন চালকের সাফ জবাব, ‘এই গাড়িতেই নিতে হবে। এখান থেকে আর কোনো গাড়ি এই লাশ নেবে না।’ উপায় না দেখে অসহায় আবদুস সামাদকে সেই সিন্ডিকেটের কাছে হার মানতে হয়। তিনি বলেন, ‘কী আর করা, লাশ নিয়ে তো আর অপেক্ষা করা যায় না।’
অন্য হাসপাতালগুলোতেও প্রায় একই চিত্র পাওয়া গেছে। সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডের সভাপতি রুমান আহমদের দাবি, রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তার জন্যই স্ট্যান্ডের বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন করতে দেওয়া হয় না। দেশের যেকোনো হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে আসতে হলে সেখানে থাকা স্ট্যান্ডের অনুমতি নিতে হয়।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সব হাসপাতালেই বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট জেলার ভেতর হলে ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পাওয়া যায়। তবে সেখানেও সমস্যা রয়েছে। কোনো হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলে চালক নেই, কোনোটিতে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের সংকট। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে চারটি সচল আছে। চালক পাঁচজন। অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি তাঁদের হাসপাতালের অন্য গাড়িও চালাতে হয়। ফলে ‘চালকসংকটে’ এই হাসপাতাল থেকে বিভাগের বাইরে রোগী পরিবহন বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের গাড়িচালকদের কার্যালয়ের সামনে নোটিশ বোর্ডে লেখা: সিলেট বিভাগের বাইরে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয় না।
হাসপাতালের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুব আলম জানালেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার সরকারি হাসপাতালে রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও একটি বিকল। বাকি পাঁচটির মধ্যে মাত্র দুটি দিয়ে রোগী পরিবহন করা হয়। জানতে চাইলে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ইনচার্জ তানভীর হোসাইন বলেন, ‘বাকি তিনটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে চিকিৎসক আনা–নেওয়া করতে হয়। সে গাড়িগুলো অনেক পুরোনো। দেখা যায়, মাঝরাতে রোগীর জটিল পরিস্থিতিতে বড় ডাক্তারের প্রয়োজন হয়। তখন অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে ডাক্তার আনতে হয়।’
শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেগুলোর বিপরীতে চালক আছেন মাত্র তিনজন। ফলে এসব অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহনে খুব একটা কাজে আসছে না। গত রোববার দুপুরে জরুরি বিভাগের সামনে শুধু একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থামানো অবস্থায় দেখা যায়, বাকি সব অ্যাম্বুলেন্সই ছিল বেসরকারি।
হাসপাতালের উপপরিচারক এস এম মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, চালকসংকটে রোগী পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে ছয়টি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সচল অ্যাম্বুলেন্স আছে চারটি, যা রোগীর চাপের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসা নয়
বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার ছত্রচ্ছায়ায় হাসপাতালকেন্দ্রিক এসব অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পাঁচ হাসপাতাল ঘুরে জানা গেছে, তাদের অনেকে আত্মগোপনে। বর্তমানে কোথাও চালকদের সমিতি আছে, আবার কোথাও নেই।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অনেক কর্মচারীও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। রোগী ঠিক করে দেওয়ার বিনিময়ে চালকদের কাছ থেকে কমিশন পেয়ে থাকেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করে বরিশালের একজন অ্যাম্বুলেন্স মালিক দাবি করেন, কর্মচারীরা রোগী পরিবহনে সহযোগিতা করেন। এ জন্য হাসপাতালের কর্মীদের তো খুশি করতেই হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, মানুষের জীবন জিম্মি করে এমন ব্যবসা বেআইনি। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, সুশাসনের অভাব এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় এ ধরনের অমানবিক ও বেআইনি ব্যবসা এখন অনেকটা বৈধতা পেয়েছে। এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থা নেওয়ার এখনই সময়।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন এম জসীম উদ্দীন, বরিশাল, মোস্তাফিজুর রহমান, ময়মনসিংহ উত্তম মণ্ডল, খুলনা, মানাউবী সিংহ, সিলেট ও শফিকুল ইসলাম, রাজশাহী]
| হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সারি। গত ১৯ আগস্ট ২০২৫ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাদক পাচারকারীদের থেকে জব্দ সোনা গাজার সহায়তায় দেওয়ার ঘোষণা দিলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি কলম্বিয়ার সমর্থনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে পেত্রো লিখেছেন, ‘আমি ন্যাশনাল এজেন্সি ফর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে মাদক পাচারকারী চক্র থেকে বাজেয়াপ্ত সোনা গাজার আহত শিশুদের চিকিৎসার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি।’
পেত্রো আরও যোগ করেন, কলম্বিয়া জাতিসংঘে একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দেবে, যেখানে যুদ্ধের পর গাজাকে পুনর্গঠন এবং সেখানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের কথা থাকবে।
কলম্বিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ন্যাশনাল এজেন্সি ফর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (এসএই) নিশ্চিত করেছে, তারা প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া পরীক্ষা শুরু করেছে। প্রেসিডেন্টের এ উদ্যোগ কলম্বিয়ার মানবিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
কলম্বিয়ার এই প্রস্তাব এমন একসময়ে এল, যখন জাতিসংঘের হিসাবে গাজা পুনর্গঠনের খরচ ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম তিন বছরেই প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুসারে, বন্দী বিনিময়ের পাশাপাশি গাজা পুনর্গঠন প্রকল্প শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার নেতাদের অন্যতম একজন। তিনি বারবার ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে গাজায় ‘জাতিগত নিধন’ চালানোর অভিযোগ এনেছেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তিনি ‘যুদ্ধ শেষ করতে এবং এই উপত্যকা পুনর্গঠনে’ জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
![]() |
| কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহাকাশে ‘হাইপারস্পেকট্রাল’ স্যাটেলাইট পাঠাল পাকিস্তান
পাকিস্তানের মহাকাশ সংস্থা সুপারকো আজ রোববার উত্তর-পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান ‘স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার’ থেকে এইচ-১ স্যাটেলাইটের ‘সফল উৎক্ষেপণ’–এর কথা জানায়।
হাইপারস্পেকট্রাল স্যাটেলাইট ভূপৃষ্টের এমন সূক্ষ্ম রাসায়নিক বা বস্তুগত পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে, যা প্রচলিত স্যাটেলাইটের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে ফসলের গুণমান পর্যবেক্ষণ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের মতো কাজে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ভুল কৃষি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, নগর পরিকল্পনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকাকে সুপারকোর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ খান বলেন, হাইপারস্পেকট্রাল স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত কৃষি উৎপাদনশীলতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
এইচ-১ স্যাটেলাইটের এই উৎক্ষেপণকে পাকিস্তান নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচির ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে এটিকে মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে চীনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই মিশন দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারত্ব ও গভীর বন্ধুত্বের প্রতিফলন। দুই দেশ মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে এগিয়ে নিতে এবং এর সুবিধাগুলো আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
সুপারকোর তথ্য অনুসারে, পাকিস্তান চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তিনটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে। এর মাধ্যমে নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচিকে সম্প্রতি জোরালোভাবেই এগিয়ে নিচ্ছে দেশটি।
পাকিস্তানের ‘দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎক্ষেপণ করা অন্য দুটি স্যাটেলাইট ইও-১ এবং কেএস-১ বর্তমানে ‘কক্ষপথে পুরোপুরি সক্রিয়’ রয়েছে।
![]() |
| উত্তর-পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে এইচ-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। ছবি: সুপারকোর সৌজন্যে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল
বিক্ষোভকারীরা ‘এটাই গণতন্ত্রের চেহারা!’ স্লোগান দিতে থাকে ঢাক-ঢোল, কাওবেল ও বাঁশির তালে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপি) জানায়, শহরের পাঁচটি বরো জুড়ে এক লাখেরও বেশি মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেয়। কোনও গ্রেপ্তার ছাড়াই সমাবেশ শেষ হয়। কেবল টাইমস স্কয়ারেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ ৭ম অ্যাভিনিউ ধরে মিছিল করে। বিক্ষোভে অংশ নেয়া ফ্রিল্যান্স লেখিকা বেথ জাসলফ বলেন, আমি ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত যে আমেরিকা ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক আমার প্রিয় শহর, এখানে এত মানুষের সঙ্গে দাঁড়াতে পারা আমার জন্য আশা জাগায়।
উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সরকারে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। তিনি বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নরদের আপত্তি উপেক্ষা করে ন্যাশনাল গার্ড সেনা শহরগুলোতে মোতায়েন করেছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে মামলা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহ্বান জানিয়েছেন। সমালোচকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ সংবিধানবিরোধী এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। ইতালি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রতিবাদকারী ৬৮ বছর বয়সী মাসিমো মাসকোলি নিউ জার্সির বাসিন্দা। তিনি বলেন, আমার দাদা ছিলেন ইতালীয় প্রতিরোধ যোদ্ধা। তিনি মুসোলিনির বাহিনী ছেড়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। ফ্যাসিস্টরা তাকে হত্যা করে। আমি কখনও ভাবিনি ৮০ বছর পর আমেরিকাতেও ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্ম দেখব। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও স্বাস্থ্যখাতে কাটছাঁট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সিনেটের ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার নিউইয়র্কে বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বলেন, আমেরিকায় কোনো রাজা নেই। ট্রাম্প আমাদের গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চাইলেও আমরা তা হতে দেব না। এ সময় তার হাতে ছিল ‘ফিক্স দ্য হেলথ কেয়ার ক্রাইসিস’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড। ওয়াশিংটন ডিসিতে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স হাজারো মানুষের উদ্দেশে ভাষণে বলেন, আমরা আমেরিকাকে ঘৃণা করি না, ভালোবাসি, তাই প্রতিবাদে নেমেছি। ওয়াশিংটন ডিসির বিক্ষোভে এক ব্যক্তি ট্রাম্পের বিখ্যাত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা টুপি পরে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, আমি এ শহরে বেড়াতে এসেছি, তাই দেখতে এলাম। সবাই বেশ ভদ্র।
বিশ্বজুড়ে সংহতি
বিক্ষোভ শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইউরোপের বার্লিন, মাদ্রিদ, রোম এবং লন্ডন শহরেও ট্রাম্পবিরোধী সংহতি সমাবেশ হয়। লন্ডনের মার্কিন দূতাবাসের সামনে কয়েকশ মানুষ ‘হ্যান্ডস অফ কানাডা’ লেখা ব্যানার হাতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। টরোন্টোতেও একই রকম বিক্ষোভ হয়। ওদিকে ফক্স নিউজে প্রচারিত সাক্ষাৎকারের এক ঝলকে ট্রাম্প বলেন, আমাকে ‘রাজা’ বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি রাজা নই। এদিকে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল মন্তব্য করেন, প্রয়োজনে ন্যাশনাল গার্ড নামাতে হবে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আগে থেকেই ন্যাশনাল গার্ড প্রস্তুত রাখা হয়। টেক্সাস গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট দাবি করেন, বিক্ষোভ ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। ডেমোক্রেট নেতা জিন উ বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সেনা পাঠানো রাজা বা একনায়কদের কাজ। আর অ্যাবট প্রমাণ করলেন তিনিও তাদের মতো।
জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস
রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৪০ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। ৫৮ শতাংশ তার প্রতি অসন্তুষ্ট। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার সময় তার সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ। বিপরীতে, ২০২১ সালে জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা ছিল ৫৫ শতাংশ, যা কয়েক মাসের মধ্যেই কমে ৪৬ শতাংশে নেমে আসে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় ইসরাইলের বিমান হামলা, যুদ্ধবিরতির মধ্যে মোট নিহত ৫১ ফিলিস্তিনি
ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তি লঙ্ঘনগুলোর মধ্যে রয়েছে- বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণ, ইচ্ছাকৃত গোলাবর্ষণ ও লক্ষ্যভেদী হামলা, বেশ কিছু বেসামরিক ব্যক্তিকে আটক করা। যদিও যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। তবুও এ সবই ইসরাইলের আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। জাতিসংঘ ও যুদ্ধবিরতির গ্যারান্টি প্রদানকারী পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গাজার প্রশাসন। তারা বলেছে, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে ইসরাইলকে চলমান আগ্রাসন বন্ধ করতে বাধ্য করুন এবং নিরস্ত্র বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দিন।
এদিকে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, রাফাহ সীমান্ত শুধু তখনই পুনরায় খোলা হবে, যখন হামাস নিহত ইসরাইলি জিম্মিদের সব মৃতদেহ হস্তান্তর করবে। তার দপ্তর থেকে শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নির্দেশ দিয়েছেন রাফাহ ক্রসিং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এটি পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে হামাস তার প্রতিশ্রুতি কতোটা পূরণ করছেÑ অর্থাৎ জীবিত ও মৃত জিম্মিদের ফেরত দেয়া এবং চুক্তির শর্তসমূহ বাস্তবায়নের ভিত্তিতে। শনিবার রাতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে দুই জিম্মির মৃতদেহ রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করেছে হামাস। এর আগের দিন শুক্রবার গাজার একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের ১১ সদস্যকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটা সবচেয়ে ভয়াবহ লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, নিহত পরিবারটি গাজার জয়তুন এলাকায় নিজেদের বাসায় ফেরার চেষ্টা করছিল। তখনই তাদেরকে বহনকারী বাসটিতে হামলা হয়। ইসরাইল দাবি করেছে, বাসটি নাকি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করেছিল। বাসাল বলেন, ওরা কথিত হলুদ রেখা অতিক্রম করেছিল। এটি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তৈরি এক কাল্পনিক সীমারেখা। আমি নিশ্চিত পরিবারটি হলুদ ও লাল রেখার পার্থক্য বুঝতেই পারেনি। কারণ মাটিতে কোনো বাস্তব চিহ্নই নেই। গাজার সিভিল ডিফেন্স ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর যৌথভাবে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে সাতটি শিশু ও তিনজন নারী আছেন।
ইসরাইল ও হামাস উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ইসরাইল বলেছে, হামাস মৃত জিম্মিদের দেহ ফেরত না দেয়ার মাধ্যমে চুক্তি ভঙ্গ করেছে। সোমবার হামাস শেষ ২০ জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেয়। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৮ জন মৃত জিম্মির মধ্যে মাত্র ১২ জনের দেহ হস্তান্তর করেছে। জানিয়ে দেয় যে, বাকিদের উদ্ধার করতে বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন। তুরস্ক এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মৃতদেহ উদ্ধারে সাহায্য করতে দুর্যোগ ত্রাণ বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠিয়েছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উদ্ধার কাজ চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ফিলিস্তিনে মৃতের সংখ্যা এখন ৬৮,০০০ ছাড়িয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরাইলের ৪৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিহত ৩৮ ফিলিস্তিনি
এদিকে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, রাফাহ সীমান্ত শুধু তখনই পুনরায় খোলা হবে, যখন হামাস নিহত ইসরাইলি জিম্মিদের সব মৃতদেহ হস্তান্তর করবে। তার দপ্তর থেকে শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নির্দেশ দিয়েছেন রাফাহ ক্রসিং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এটি পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে হামাস তার প্রতিশ্রুতি কতোটা পূরণ করছে- অর্থাৎ জীবিত ও মৃত জিম্মিদের ফেরত দেয়া এবং চুক্তির শর্তসমূহ বাস্তবায়নের ভিত্তিতে। শনিবার রাতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে দুই জিম্মির মৃতদেহ রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করেছে হামাস। এর আগের দিন শুক্রবার গাজার একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের ১১ সদস্যকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটা সবচেয়ে ভয়াবহ লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, নিহত পরিবারটি গাজার জয়তুন এলাকায় নিজেদের বাসায় ফেরার চেষ্টা করছিল। তখনই তাদেরকে বহনকারী বাসটিতে হামলা হয়। ইসরাইল দাবি করেছে, বাসটি নাকি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করেছিল। বাসাল বলেন, ওরা কথিত হলুদ রেখা অতিক্রম করেছিল। এটি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তৈরি এক কাল্পনিক সীমারেখা। আমি নিশ্চিত পরিবারটি হলুদ ও লাল রেখার পার্থক্য বুঝতেই পারেনি। কারণ মাটিতে কোনো বাস্তব চিহ্নই নেই। গাজার সিভিল ডিফেন্স ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর যৌথভাবে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে সাতটি শিশু ও তিনজন নারী আছেন।
ইসরাইল ও হামাস উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ইসরাইল বলেছে, হামাস মৃত জিম্মিদের দেহ ফেরত না দেয়ার মাধ্যমে চুক্তি ভঙ্গ করেছে। সোমবার হামাস শেষ ২০ জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেয়। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৮ জন মৃত জিম্মির মধ্যে মাত্র ১২ জনের দেহ হস্তান্তর করেছে। জানিয়ে দেয় যে, বাকিদের উদ্ধার করতে বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন। তুরস্ক এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মৃতদেহ উদ্ধারে সাহায্য করতে দুর্যোগ ত্রাণ বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠিয়েছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উদ্ধার কাজ চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ফিলিস্তিনে মৃতের সংখ্যা এখন ৬৮,০০০ ছাড়িয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিদায়ী ডিসি যেমন ছিলেন by ওয়েছ খছরু
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ডিসি সিলেটে যোগদান করেই বালুমহালগুলো ইজারা দেয়া শুরু করেন। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি বালু ও পাথরখেকোদের সঙ্গে আঁতাত করেই ইজারা দেন। কমপক্ষে ৫-৬টি বালুমহাল তিনি ইজারা দেন। শেষ পর্যায়ে তিনি ইজারা দেন কোম্পানীগঞ্জের বালুমহাল। এই মহালটি গত বছরও দেয়া হয়েছিল। প্রায় ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে দেয়া এই বালুমহাল ইজারা নিয়ে স্থানীয় ভাবে আপত্তি ছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে মৌখিক ও লিখিত ভাবে আপত্তি জানানো হয়। এই আপত্তি ডিসি মুরাদ অগ্রাহ্য করেন। সর্বশেষ কোম্পানীগঞ্জের বালুমহালের ইজারার অংশ থেকে কালাসাদেক মৌজা বাদ দিতে অনুরোধ জানানো হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- কালাসাদেক মৌজার অবস্থান হচ্ছে সাদাপাথরের মুখ পর্যন্ত। ফলে কোয়ারি এলাকায় লুটপাট বন্ধ করতে হলে কালাসাদেক মৌজা ইজারার বাইরে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে যে লিজ দেয়া হয়েছে সেখানে কালাসাদেক মৌজাকে বাদ দেয়া হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
গতকাল ভোলাগঞ্জ, গুচ্ছগ্রাম, কালাইরাগ, কালীবাড়ি সহ কয়েকটি এলাকার লোকজন জানিয়েছেন- ইজারার ভেতরে কালাসাদেক মৌজা থাকার কারণে বালুখেকোরা সাদাপাথর এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। ইজারা থাকায় সাদাপাথরের গা ঘেঁষেই তারা বৈধভাবেই বালু উত্তোলন করে। জুলাই মাসের শেষদিকে টানা বৃষ্টিতে যখন ঢল নামে তখন সাদাপাথরে পানি বেড়ে যায়। বৃষ্টি থাকায় পর্যটকরাও কম যান। আর এই সুযোগে বালুর সঙ্গে পাথর লুট শুরু করে। টানা দুই সপ্তাহের লুটে শূন্য করা হয় সাদাপাথরকে। মিডিয়ায় আসায় লুটপাট নিয়ে দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হলেও তখন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ নীরব থাকেন। হৈচৈ শুরু হওয়ার পর অ্যাকশনে নামে প্রশাসন। আর পাথর লুটের ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে সিলেটের প্রশাসনকে।
তবে জেলা প্রশাসক মাহবুব মুরাদ পাথর লুটের ঘটনায় নিজের ব্যর্থতার দায় নিতেও রাজি হননি। পাথর লুটের কয়েক দিন পর তিনি যখন সাদাপাথর পরিদর্শনে যান তখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন- প্রশাসন ব্যর্থ নয়। লুট বন্ধে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল সেগুলো কার্যকর হয়নি। এতে প্রশাসনের ভুল ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন। শুধু সাদাপাথরই নয়, পাশেই রেলওয়ের সংরক্ষিত সম্পত্তি ‘বাঙ্কার’। স্বাধীনতার পর থেকে বাঙ্কার এলাকা নিরাপদ ছিল। কিন্তু এবার আর নিরাপদ থাকেনি বাঙ্কার। ওখান থেকে শতকোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে। স্থাপনা ভাঙচুর করার কারণে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকায় নির্ধারিত বাসস্থানে বসবাস করতে পারেননি। তারা দূরবর্তী একটি স্কুলে অবস্থান করেন। আর এই সুযোগে পাথরখেকোরা গোটা বাঙ্কার এলাকা লুট করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- বাঙ্কার ছাড়াও কোয়ারি এলাকার কালাইরাগ, কালীবাড়ি, কলাবাড়ি সহ কয়েকটি এলাকায় রীতিমতো পাথর হরিলুট চলেছে। এসব পাথর লুট বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখা হয়নি। লোকবলের দোহাই দিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন গা ভাসিয়ে দিয়েছিল স্রোতের তালে। আর ইউএনও আজিজুন্নেছারও ছিল রহস্যময় নীরবতা। ফলে কোম্পানীগঞ্জের শারপিনটিলা, সাদাপাথর সহ কয়েকটি এলাকায় লুট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। গত দুই মাস ধরে আলোচনায় ছিল সিলেটের গোয়াইনঘাটের রয়্যালিটি ঘাট। জৈন্তাপুরের সারি-১ বালুমহালের ইজারাদার কামরুল ইসলামের পক্ষে ঘাট বসিয়েছিল গোয়াইনঘাটের আলোচিত বালুখেকো স্ট্যালিং তারিয়াং, জাহিদ খান, জিয়ারত খান সহ কয়েকজন। গোয়াইনঘাট সদরে ঘাট বসানোর কারণে বর্ষায় মৌসুম পুরোটাই জাফলংয়ে অবাধে লুটপাট চালিয়েছে বালুখেকোরা। এ নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসককে একাধিক অভিযোগ দেয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। উল্টো লেঙ্গুরা গ্রামের প্রতিবাদকে পুঁজি করে বালুখেকোদের পক্ষ নিয়ে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করে।
‘টাঙ্গাইল সিন্ডিকেট’ গোয়াইনঘাটের একটি আলোচিত সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে ডিসি মাহবুব মুরাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। বালুখেকো জাহিদ খান ও জিয়ারত খানের সঙ্গে ডিসি’র সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তাদের দাপট এতটাই বেশি ছিল জাফলংয়ে সফরকালে দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর জাহিদ খানের নেতৃত্বে পথরোধ সহ নানা ঘটনা ঘটানো হয়। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালুখেকোরা একের পর এক মামলা দিয়ে বিপর্যস্ত করে গোয়াইনঘাট বিএনপি’র ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন তালুকদারকে। রিয়াজ জানান, বালু লুটপাটের প্রতিবাদ করার কারণেই ওসি তোফায়েল ও বিট অফিসার এসআই উৎসবের ইন্ধনে একের পর এক তাকে মামলার আসামি করা হয়। গোয়াইনঘাট সদরে ইজারাঘাট বসানোর বিষয়ে সারি-১ এর ইজারাদার কামরুল ইসলাম মাসখানেক আগে মানবজমিনকে জানিয়েছিলেন- প্রশাসনের মৌখিক অনুমতির প্রেক্ষিতে তারা জৈন্তাপুরের পরিবর্তে গোয়াইনঘাটে ইজারাঘাট বসিয়েছেন। তবে জাফলং লুটের ঘটনা তিনি অস্বীকার করেন। এদিকে- গতকাল জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহারের ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে সিলেটে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কীম জানিয়েছেন- বালু ও পাথর লুট বন্ধে অযোগ্য ও অদক্ষতা দেখিয়েছেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক। প্রাকৃতিক সম্পদের তিনি যে ক্ষতি করে গেছেন এর জন্য তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। দৃশ্যমান কিছু না হলে পাথরখেকোরা পিছু হটবে না বলে জানান তিনি। বেলা’র সিলেটের সমন্বয়ক এডভোকেট শাহ সাহেদা আক্তার জানিয়েছেন- বালু ও পাথর লুটে জেলা প্রশাসকের অঘোষিত বা অলিখিত সমর্থন ছিল। এজন্যই বালু ও পাথর লুটের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন- আইনিভাবে কী করা যায় সেটি আমরা চিন্তাভাবনা করছি। তবে বর্তমানে প্রশাসন থেকে কাগজপত্র দিয়ে সহযোগিতা করা হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন- জেলা প্রশাসক সহ যারা ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করতে সাহস পাবে না।
সিলেটের ডিসি পদে নিয়োগ পেলেন সারওয়ার আলম: সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রশাসনের আলোচিত কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম। উপ-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল তাকে সিলেটের ডিসি নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সারওয়ার আলম র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
October
(199)
-
▼
Oct 20
(13)
- যুদ্ধবিরতির পর ৯৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল
- হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের তারকা ‘দ্য রক’- পতন...
- মারধরে চোখ নষ্ট, কাউকে ‘ফাঁসি’: ফিলিস্তিনি বন্দীদে...
- গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ -জিও নিউজের নিবন্ধ by দিলাওয়ার ...
- লেবাননে এক দশক ধরে বন্দী গাদ্দাফিপুত্রকে ১ কোটি ১০...
- ৭৪ বছরের পাত্র বিয়ে করলেন ২৪ বছরের যুবতীকে, দেনমোহ...
- অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট: ‘এই গাড়িতেই নিতে হবে, আর ...
- মাদক পাচারকারীদের থেকে জব্দ সোনা গাজার সহায়তায় দেও...
- মহাকাশে ‘হাইপারস্পেকট্রাল’ স্যাটেলাইট পাঠাল পাকিস্তান
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষ...
- গাজায় ইসরাইলের বিমান হামলা, যুদ্ধবিরতির মধ্যে মোট ...
- ইসরাইলের ৪৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিহত ৩৮ ফিলিস্তিনি
- বিদায়ী ডিসি যেমন ছিলেন by ওয়েছ খছরু
-
▼
Oct 20
(13)
-
▼
October
(199)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



