Tuesday, February 25, 2025
নিজেরা কাদা–ছোড়াছুড়ি করলে দেশ ও জাতি বিপন্ন হবে: সেনাপ্রধান
২০০৯ সালে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আজ মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) ক্লাবের আয়োজনে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবের হেলমেট হলে এ অনুষ্ঠান হয়।
দেশ–জাতি যেন একসঙ্গে থাকতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতের বিরোধ থাকতে পারে, চিন্তাচেতনার বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু দিন শেষে দেশ ও জাতির দিকে খেয়াল করে আমরা সবাই যেন এক থাকতে পারি। তাহলেই এই দেশটা উন্নত হবে, এই দেশটা সঠিক পথে পরিচালিত হবে। না হলে আমরা আরও সমস্যার মধ্যে পড়তে যাব। বিশ্বাস করেন, ডোন্ট ওয়ান্ট টু হেড, ওই দিকে আমরা যেতে চাই না।’
এ প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন যে আমি সতর্ক করিনি। আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা–ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি-কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম নইলে আপনারা বলবেন যে আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি, কাটাকাটি, মারামারি।’
সবাই যেন সুখে–শান্তিতে থাকতে পারে, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনী কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
‘অরাজক পরিস্থিতির’ সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি কারণের কথা বলেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘দেশে এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পেছনে কিছু কারণ আছে। প্রথম কারণটা হচ্ছে যে আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি, তারা খুব ভালোভাবেই জানে যে এই সময়ে যদি এই সমস্ত অপরাধ করা যায়, তাহলে এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সেই কারণে এই অপরাধগুলো হচ্ছে। আমরা যদি সংগঠিত থাকি, একত্রিত থাকি, তাহলে অবশ্যই এটা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’
সেনাপ্রধান বলেন, ‘পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই—এগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে অতীতে। খারাপ কাজের সাথে অসংখ্য ভালো কাজ করেছে। আজকে যে দেশের স্থিতিশীলতা, দেশটাকে যে এত বছর স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এটার কারণ হচ্ছে এই সশস্ত্র বাহিনীর বহু সেনাসদস্য, সিভিলিয়ান—সবাই মিলে এই অর্গানাইজেশনগুলোকে, অসামরিক-সামরিক সবাই মিলে এই অর্গানাইজেশনগুলোকে ইফেক্টিভ (কার্যকর) রেখেছে। সেই জন্য আজকে, এত দিন ধরে আমরা একটা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। এর মধ্যে যারা কাজ করেছে, যদি অপরাধ করে থাকে, সেটার শাস্তি হবে। অবশ্যই শাস্তি হতে হবে। না হলে এই জিনিস আবার ঘটবে। আমরা সেটাকে বন্ধ করতে চাই চিরতরে। কিন্তু তার আগে মনে রাখতে হবে, আমরা এমনভাবে কাজটা করব, এই সমস্ত অর্গানাইজেশনগুলো যেন আন্ডারমাইন না হয়।’
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আজকে পুলিশ সদস্য কাজ করছে না। একটা বড় কারণ হচ্ছে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা। অনেকে জেলে। র্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই প্যানিকড (আতঙ্কিত)। বিভিন্ন দোষারোপ, গুম-খুন ইত্যাদির তদন্ত চলছে। অবশ্যই তদন্ত হবে। দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এমনভাবে কাজটা করতে হবে, যেন এই অর্গানাইজেশনগুলো আন্ডারমাইন না হয়। এই অর্গানাইজেশনগুলোকে যদি আন্ডারমাইন করে আপনারা মনে করেন যে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বিরাজ করবে, সবাই শান্তিতে থাকবেন, এটা হবে না। সেটা সম্ভব না। আমি আপনাদের পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি।’
এই দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর নয় উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘দুই লক্ষ পুলিশ আছে। বিজিবি আছে, র্যাব আছে, আনসার–ভিডিপি আছে। আমার আছে হচ্ছে ৩০ হাজার সৈন্য। এদেরকে আমি এই যে একটা বিরাট ভয়েড (শূন্যতা), আমি এই ৩০ হাজার সৈন্য দিয়ে আমি কীভাবে এটা পূরণ করব? ৩০ হাজার থাকে, আবার ৩০ হাজার চলে যায় ক্যান্টনমেন্টে, আরও ৩০ হাজার আসে। এটা দিয়ে আমরা দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
এ প্রসঙ্গে আলোচনায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, ‘এখানে যেসব উচ্ছৃঙ্খল কাজ হয়েছে, সেটা আমাদের নিজস্ব তৈরি। এটা আমাদের নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারড, আমরা নিজেরা এইগুলো তৈরি করেছি। এই বিপরীতমুখী কাজ করলে দেশে কখনো শান্তিশৃঙ্খলা আসবে না, এই জিনিসটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।’
অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন
দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেশে একটা ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশনের জন্য (সামনের) দিকে ধাবিত হচ্ছি। তার আগে যেসব সংস্কার করা প্রয়োজন, অবশ্যই সরকার এদিকে হেল্প করবে।’
এ প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘আমি যতবারই ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছি হি কমপ্লিটলি অ্যাগ্রিজ উইথ মি, দেয়ার শুড বি ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশন অ্যান্ড দ্যাট ইলেকশন শুড বি উইদিন ডিসেম্বর অর... (আমি যতবারই ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছি তিনি সম্পূর্ণভাবে আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হওয়া উচিত এবং সেই নির্বাচন হওয়া উচিত ডিসেম্বরের মধ্যে বা...)। যেটা আমি প্রথমেই বলেছিলাম যে ১৮ মাসের মধ্যে একটা ইলেকশন। আমার মনে হয়, সরকার সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে। ড. ইউনূস যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যে দেশটাকে ইউনাইটেড রাখতে। কাজ করে যাচ্ছেন উনি, তাঁকে আমাদের সাহায্য করতে হবে, উনি যেন সফল হতে পারেন। সেদিকে আমরা সবাই চেষ্টা করব। আমরা একসাথে ইনশা আল্লাহ কাজ করে যাব।’
‘সেনাবাহিনীর প্রতি আক্রমণ করবেন না’
বক্তব্যে সেনাবাহিনীর প্রতি আক্রমণাত্মক কথা না বলার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘একটা কমন জিনিস আমি দেখতে পাচ্ছি, সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কারও কারও। কী কারণে আজ পর্যন্ত আমি এটা খুঁজে পাইনি।’
এ প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘আমরা হচ্ছি একমাত্র ফোর্স যেটা আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, দাঁড়িয়ে আছি প্ল্যাটফর্মে। অবকোর্স নেভি অ্যান্ড এয়ারফোর্স, নেভি চিফ আবার মন খারাপ করে আবার ইয়ে করছে। নেভি, এয়ারফোর্স উই অল। আমাদের সাহায্য করেন, আমাদের আক্রমণ করবেন না। আমাদের অনুপ্রাণিত করেন, আমাদের উপদেশ দেন। ...আমাদের প্রতি আক্রমণ করবেন না। উপদেশ দেন, আমরা অবশ্যই ভালো উপদেশ গ্রহণ করব। আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই এবং দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোয় রাওয়া ক্লাবের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘উনি আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন আজকে এখানে আপনাদের সঙ্গে এসে কথা বলার জন্য। একটু মন খুলেই কথা বললাম। এত দিন যে কথা মনের মধ্যে ছিল, সব সময় প্রকাশ করতে পারি না, প্রকাশ করাও যায় না। আজকে প্রকাশ করে ফেললাম।’
![]() |
| ২০০৯ সালে পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবের হেলমেট হলে। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলি বসতি কী, কেন তা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ? by মাহমুদুল হাসান
ইসরায়েলের ৭০ লাখ ইহুদি জনসংখ্যার ১০ শতাংশ অর্থাৎ সাত লাখেরও বেশি বসতি স্থাপনকারী এখন অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ১৫০টি বসতি ও ১২৮টি ফাঁড়িতে বাস করে।
এসব বসতির বেশ কয়েকটিতে হাজার হাজার ইসরায়েলির বাস। সেগুলোকে শহরের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আবার ভাঙাচোরা জোড়াতালি দেওয়া ফাঁড়ির মতো বসতিও আছে, যেগুলোর অনুমোদনই নেই। তবে ইসরায়েলিদের এসব বসতিই ফিলিস্তিনিদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে।
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ইতিহাস
১৮০০ সালের শেষের দিকে থেকে ২০ শতকের শুরুতে যখন জায়নবাদের সূচনা হয়, তখন ইউরোপে ইহুদি-বিদ্বেষও বাড়তে থাকে। তখন পূর্ব ইউরোপীয় ইহুদিদের ফিলিস্তিনে অভিবাসনও শুরু হয়।
ফলে প্রাচীন ফিলিস্তিনে ইহুদি জনসংখ্যা ১৮৮২ সালে প্রায় ২৪ হাজার থেকে বেড়ে ১৯৪৮ সালে ছয় লাখ হয়ে যায়। ওই ইহুদিরা মূলত নতুন প্রতিষ্ঠিত কৃষি স্থাপনা এবং খামারে বাস করত, যাকে তারা ‘কিবুতজিম’ বলে থাকে।
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা প্রাচীন ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদি রাষ্ট্রে বিভক্ত করে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণার পর আরব ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হয়।
যুদ্ধের ঠিক আগে এবং যুদ্ধ চলাকালে সাত লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়িঘর থেকে নিষ্ঠুরভাবে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে ‘নাকবা’ বলা হয়। যুদ্ধের সময় ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং পশ্চিম তীরে অবস্থিত কেফার এটজিয়ন বসতির মতো আরও কিছু ইহুদি বসতিতে আরব সেনাবাহিনী আক্রমণ চালায় এবং সেগুলো জনশূন্য করে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে নেয়। চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের অধীনে অবৈধ হওয়ার পরও কেফার এটজিওন ছিল ইসরায়েলি সরকারের আবারও প্রতিষ্ঠা করা প্রথম বসতি। বর্তমানে সেখানে এক হাজার ৩০০ মানুষ বাস করে। ১৯৬৭ সালে কেফার এটজিওন আবার প্রতিষ্ঠা করার পর ব্যাঙের ছাতার মতো আরও ইসরায়েলি বসতি গজিয়ে উঠতে থাকে।
ইসরায়েলের সরকারি বসতি নীতি
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের এক বছর পর সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে ছয়টি ইসরায়েলি বসতি স্থাপন করা হয়। ১৯৭৩ সালের মধ্যে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ১৭টি এবং গাজা উপত্যকায় সাতটি বসতি স্থাপন করে। ১৯৭৭ সালের মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ইসরায়েলি পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, গোলান মালভূমি ও সিনাই উপদ্বীপে বাস করত।
৭০ ও ৮০’র দশকজুড়ে ধারাবাহিক ইসরায়েলি সরকারের অধীনে বসতি নির্মাণে গতি আসে। সরকার ইসরায়েলিদের ওইসব অঞ্চলে বাস করতে উৎসাহ দিতে আবাসন এবং অবকাঠামোর জন্য ভর্তুকির মতো প্রণোদনা দিয়েছে।
১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তি সই হওয়ার সময় পশ্চিম তীরের ১২৮টি বসতিতে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার এবং পূর্ব জেরুজালেমের ১২টি বসতিতে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার বসতি স্থাপনকারী ছিল। ১৯৯৩ সালে ইসরায়েল ও প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন অরগানাইজেশন— পিএলওর মধ্যে অসলো চুক্তি সই হয়।
অধিকৃত পশ্চিম তীরকে এ, বি ও সি— তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন বসতি নির্মাণ বন্ধ করতে ইসরায়েল সম্মত হয়েছিল। তারপরও বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল।
এক বছর পর ১৯৯৪ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বৃহত্তম বসতি মোদিন ইলিট প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে ৮৩ হাজার বসতি স্থাপনকারীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের বেশিরভাগই অতিগোঁড়া ইহুদি। বসতিটির নিজস্ব মেয়র, স্কুল এবং চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। এনজিওগুলোর ক্ষোভ সত্ত্বেও ২০১৮ সালে বসতিটিকে শহরের মর্যাদা দেওয়া হয়।
অসলো চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা স্বাধীনভাবে ছিটমহল তৈরি করেছে। সেগুলো ফাঁড়ি নামে পরিচিত। ফাঁড়িগুলো সরকারের অনুমোদিত নয়। অনেক সময়ই সেগুলো ক্যারাভানের মতো ভ্রাম্যমাণ ঘর নিয়ে গড়ে উঠতো।
অন্য বসতিগুলো আরও উন্নত। সেগুলোতে পাকা রাস্তা এবং ইহুদি উপাসনালয় সিনাগগ রয়েছে। যদিও ইসরায়েল ফাঁড়িকে অবৈধ বলে মনে করে, কিন্তু ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সেগুলো প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায়ই সেগুলোকে সুরক্ষা দেয়।
২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ১০টি ফাঁড়িকে বৈধতা দিয়েছিলেন। সবচেয়ে বড় ফাঁড়িগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে প্রায় ৪০০ মানুষের থাকার ব্যবস্থা ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীরা কমপক্ষে ১৫টি ফাঁড়ি এবং ১৮টি রাস্তা তৈরি করেছে। অসলো চুক্তির পর থেকে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি পশ্চিম তীরের ৪২ শতাংশ জমি দখল করেছে। পূর্ব জেরুজালেমের ৩৫ শতাংশ জমি বসতি এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো দিয়ে দখল করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের জীবনে ইসরায়েলিদের বসতি কী প্রভাব ফেলছে
বসতি স্থাপনের জন্য সহায়ক অবকাঠামোরও প্রয়োজন। বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ইসরায়েলে এবং বসতি থেকে বসতিতে যাতায়াতের রাস্তা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ গ্রিডও স্থাপন করা হয়েছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বাইপাস রোড নেটওয়ার্ক বসতিগুলোকে পরস্পর এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে।
কিন্তু এসবের কারণে ফিলিস্তিনি এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলিদের এসব কার্যকলাপ ফিলিস্তিনিদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে, তাদের চলাফেরা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে। পশ্চিম তীরজুড়ে ১৪০টি চেকপয়েন্টসহ ৭০০টি রাস্তার বাধা থাকায় ফিলিস্তিনি যানবাহনগুলো তুলনামূলক দীর্ঘ আর অপ্রধান রাস্তা ধরে চলতে বাধ্য করে। কারণ রাস্তাগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
ইসরায়েলের সীমানা বেষ্টনী পশ্চিম তীরের মধ্য দিয়ে গেছে। এটি ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা বরাবর নয়। এটি ৩০ লক্ষেরও বেশি ফিলিস্তিনিদের চলাচলকে সীমাবদ্ধ করছে। যেমন, কৃষকেরা বছরে মাত্র দুইবার বসতির কাছাকাছি তাদের কৃষিজমিতে যেতে পারে। তার জন্যেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগে অনুমোদন নিতে হয়। এই বিষয়ে ইসরায়েলের বক্তব্য হলো, নিরাপত্তার কারণে এমন বিধিনিষেধ প্রয়োজন। তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের এমন নীতিগুলোকে ‘বর্ণবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইসরায়েল পশ্চিম তীরের প্রায় ২৫ শতাংশ ভূখণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ করে নিয়েছে। এর অর্থ হলো জমিটি প্রায় একচেটিয়াভাবে ইহুদি বসতি স্থাপনে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনিদের তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করে থাকে।
বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জায়গা তৈরি করতে তারা ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি দখল এবং ধ্বংস করে থাকে। ইসরায়েলের যুক্তি, ফিলিস্তিনি সম্পত্তিতে ইসরায়েলের ইস্যু করা কোনো বিল্ডিং পারমিট এবং জমির নথিপত্র নেই। এই পারমিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায়ই ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব বাড়িঘর ধ্বংস করতে বাধ্য করে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়ন করা নীতি অথবা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে ২০২৩ সালে চার হাজার ফিলিস্তিনিকে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ঘরছাড়া করা হয়েছিল। তাদের বাড়িঘর, দাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল, কৃষি অবকাঠামো ও মানবিক সহায়তা সরবরাহকারী অন্যান্য স্থাপনাসহ শত শত ফিলিস্তিনি কাঠামো ইসরায়েল ধ্বংস করেছে বা জব্দ করেছে।
বসতি বাড়ানোর জন্য ইসরায়েলি সরকারের জমি ক্রোক করা এবং বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি গোষ্ঠীর দখলবাজির ফলে ফিলিস্তিনিরা তাদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন। তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান কমে যায়। সেচ, কৃষিকাজ এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত পানির উৎসের অভাব গ্রামীণ ফিলিস্তিনি মানুষদের মারাত্মক বিপদে ফেলে। তারা ঝুঁকিতে পড়েন এবং তাদের মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন হয়।
অনেক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইসরায়েলি বসতি থেকে অপরিশোধিত বর্জ্য, মানুষের মলমূত্র ও পশুর বর্জ্য ফিলিস্তিনি কৃষিজমিতে ফেলা হয়। এসব আবর্জনা জমিগুলোকে ব্যবহারের অযোগ্য করে ফেলে।
১৯৯৩ সাল থেকে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা ছিল প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তা প্রায় সাত লাখে পৌঁছে। ২০৪৬ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। বসতি স্থাপনকারীরা যত বাড়ে, ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলাও বাড়তে থাকে।
বসতি স্থাপনকারীদের ঘন ঘন সহিংসতার কারণে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েলিদের ওইসব সহিংসতার মধ্যে রয়েছে আক্রমণ, ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি, গাছ বা ফসলের ক্ষতি ও গ্রামে অভিযান। আক্রমণগুলো প্রায়শই ইসরায়েলি সৈন্যদের জানিয়েই করা হয়। তারা আক্রমণকারীদেরই রক্ষা করে। বছরের পর বছর ধরে এমন আচরণ বেড়েছে।
জাতিসংঘ এবং অন্যান্য দেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে মনে করে। বিশেষ করে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন দখলদার শক্তিকে তার বেসামরিক জনগণকে তাদের দখলকৃত অঞ্চলে স্থানান্তর করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। জাতিসংঘ অসংখ্য প্রস্তাবের মাধ্যমে বসতি স্থাপনের নিন্দা করেছে।
২০১৬ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে, বসতিগুলোর কোনো আইনি বৈধতা নেই। ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং নিরাপত্তার কারণ উল্লেখপূর্বক ইসরায়েল সেই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও জাতিসংঘে প্রায়ই তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরায়েলকে কূটনৈতিক নিন্দা থেকে রক্ষা করে।
মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দিয়েছেন যে বসতি স্থাপন শান্তি প্রক্রিয়ার একটি বড় বাধা। ওই তৎপরতা অধিকৃত পশ্চিম তীরকে টুকরো টুকরো করে এবং ফিলিস্তিনিদের জীবনকে গভীর কষ্টে ফেলে। বসতি নির্মাণ বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। তারপরও ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী সরকার কখনো কখনো জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা করে বসতি বাড়ানোকে সমর্থন করে চলেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের সরকার পূর্ব জেরুজালেমে বসতি নির্মাণ প্রকল্পে গতি এনেছে। অসলো চুক্তির পর এবারই সবচেয়ে বড় ভূমি দখল শুরু করেছে। এতে জর্দান উপত্যকায় ১২ দশমিক ৭ বর্গকিলোমিটার জমি দখল করা হয়েছে। একদিকে ইসরায়েলি বসতি বাড়ছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি জনগণ, তাদের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিকে যেভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সামান্য আশাও হারিয়ে যাচ্ছে।
![]() |
| অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির কাছে গাধার পিঠে বসে আছেন এক ফিলিস্তিনি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিজেদের মধ্যে হানাহানি-বিষোদগার অপরাধীদের সুযোগ দিচ্ছে: সেনাপ্রধান
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি- কাটাকাটি করেন, এই দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।
তিনি বলেন, আমি আজ বলে দিলাম, নইলে আপনারা বলবেন, আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। আমার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। আই হ্যাড এনাফ লাস্ট সেভেন-এইট মান্থস। আই হ্যাড এনাফ।
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমি চাই দেশ ও জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে আমরা সেনানিবাসে ফেরত আসব। আরেকটা জরুরি বিষয়, যেটা ভাবলাম যে আপনাদের সাথে আমি শেয়ার করি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পেছনে কিছু কারণ আছে।
তিনি বলেন, প্রথম কারণ হলো, আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদগারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি, তারা খুব ভালোভাবেই জানে যে এই সময়ে যদি এই সমস্ত অপরাধ করা যায়, তাহলে এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সেই কারণে এই অপরাধগুলো হচ্ছে।
আমরা যদি সংগঠিত থাকি, একত্রিত থাকি, তাহলে অবশ্যই এটা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, বলেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরা ফ্রি, ফেয়ার এবং ইনক্লুসিভ নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছি: সেনাপ্রধান
মঙ্গলবার রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পিলখানার বর্বরতা বিডিআর সদস্যরাই করেছে -সেনাপ্রধান
পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘একটা জিনিস আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। এই বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য করেনি। সম্পূর্ণটাই তদানীন্তন বিজিবি সদস্য দ্বারা সংঘটিত। ফুলস্টপ। এখানে কোনও ‘ইফ’ এবং ‘বাট’ নেই। এখানে যদি ‘ইফ’ এবং বাট আনেন এই যে বিচারিক কার্যক্রম এতদিন ধরে হয়েছে ১৬-১৭ বছর ধরে যারা জেলে আছে, যারা কনভিকটেড সেই বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যহত হবে। এই জিনিসটা আমাদের খুব পরিস্কার করে মনে রাখার প্রয়োজন। এই বিচারিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করবেন না। যে সমস্ত সদস্য শাস্তি পেয়েছে তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। এখানে কোনো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এর মধ্যে উপস্থিত ছিল কিনা, ইনভলভ ছিল কিনা, বাইরের কোনো শক্তি এর মধ্যে ইনভলভ ছিল কিনা সেটার জন্য কমিশন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতিসংঘে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র
এতে বলা হয়, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ার হামলার নিন্দা এবং কিয়েভের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে ইউরোপীয় দেশুগলোর উত্থাপিত প্রথম খসড়া প্রস্তাবের বিরোধীতা করে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে তারা সরাসরি মস্কোর পক্ষালম্বন করেছে। যদিও ওই প্রস্তাবটি পাস করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাবকে সমর্থন করে, যেখানে ইউক্রেনে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রস্তাবটিও গৃহীত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়া কোনো সমালোচনা করেনি। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি পাস হলেও শব্দ সংশোধনের দোহাই দিয়ে ওই প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র বৃটেন ও ফ্রান্স।
এমন সময় জাতিসংঘে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে প্রস্তাবগুলো উত্থাপিত হয়েছে যখন কিয়েভ ইস্যুতে ওয়াশিংটনে মিলিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। এ সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারও ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাগ্রহণের পর ট্রাম্প রাশিয়ার বিষয়ে যে নীতি অনুসরণ করছেন তা অনেকটাই কল্পনার অতীত। বিশেষ করে ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প নীতির সঙ্গে ইউরোপিয়ান নেতাদের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সোমবার ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘রাশিয়া-ইউক্রেন’ সংঘাতে প্রাণহানির জন্য শোক প্রকাশ করেন মার্কিন কূটনীতিকরা। দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে সীমিত আকারে খসড়া প্রস্তাব উত্থাপনের সময় এই বিভেদ সৃষ্টি হয়। কেননা ইউরোপীয় কূটনীতিকরা তাদের প্রস্তাবে মস্কো-কিয়েভ সংঘাতের বিশদ বিবরণ পেশ করেছেন। তাদের প্রস্তাবে ইউক্রেনে হামলার জন্য রাশিয়াকেই পুরোপুরি দায়ী করা হয়েছে এবং কিয়েভের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করা হয়েছে।
ইউক্রেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়ানা বেতসা বলেছেন, আমাদের পুনরায় নিশ্চিত করতে হবে যে, হামলার নিন্দা করা উচিত এবং হামলাকে অশ্রদ্ধা করা উচিত। এর বিপরীতে পুরস্কৃত করা উচিত নয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইউরোপকে ৯৩টি দেশ সমর্থন করলেও অকল্পনীয়ভাবে এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া, ইসরাইল, উত্তর কোরিয়া, সুদান, বেলারুশ এবং হাঙ্গেরিসহ মোট ১১টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়ায়। আর ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে ৬৫টি দেশ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২৯ মিলিয়ন ডলার: ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় ডিআইয়ের প্রকল্পে by রাহীদ এজাজ
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অনুদান ও সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হাইয়ারগভ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
হাইয়ারগভের ওই পরিসংখ্যানের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন সূত্র যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সাহায্য সংস্থা (এনজিও) ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালকে অর্থ বরাদ্দ ও ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কূটনৈতিক একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, বাংলাদেশে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের এসপিএল বাস্তবায়নে যৌথভাবে অর্থায়ন করেছিল ইউএসএআইডি ও ডিএফআইডি। পাঁচ বছর মেয়াদি ওই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এ দুটি সংস্থা নিজেদের মধ্যে চুক্তি করেছিল। প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে ২ বছর আর সর্বশেষ ১ বছর ৭ মাস বাড়ানো হলেও ডিএফআইডি অর্থায়নের প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে। তবে বাংলাদেশে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিল ইউএসএআইডি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাকে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং কে সেটা খরচ করেছে, আমার কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। পত্রিকায় দেখেছি, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানকে খরচের জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। এনজিও–বিষয়ক ব্যুরো বলেছে, এমন কোনো এন্ট্রি তাদের নেই। আপাতত তাদের কথাই আমাদের মেনে নিতে হবে। তারপরও যদি কোনো তথ্য বের হয়, তাহলে আমরা সেটা দেখব।’
প্রসঙ্গত, ১৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দক্ষতাবিষয়ক বিভাগ (ডিওজিই) তাদের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছিল, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে নানা প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্প ‘স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ ইন বাংলাদেশ’-এ ২৯ মিলিয়ন (২ কোটি ৯০ লাখ) ডলার অর্থায়ন বাতিল করা হয়েছে। আর গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অর্থায়ন বাতিলের বিষয়টি আবার উল্লেখ করেন।
তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে প্রকল্পের যে অর্থায়ন বাতিলের কথা বলছেন, সেটির শুরুই হয়েছিল ২০১৭ সালে। তিনি তখন প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রকল্পটি যেহেতু মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত, তাই এর অর্থায়নবিষয়ক তথ্যগুলোও জনসমক্ষে প্রকাশিত। এই তথ্য কোনো গোপন দলিল নয়। তা ছাড়া বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোনো দেশীয় বেসরকারি সাহায্য সংস্থার জন্য উন্নয়ন সহায়তা বা অনুদান আসেনি। ফলে তা এনজিও–বিষয়ক ব্যুরোর মাধ্যমে ছাড়ের সুযোগ নেই।
হাইয়ারগভের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ডিআইয়ের প্রকল্প শুরুর পর থেকে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালে শেষ হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে শেষ হওয়া প্রকল্পের জন্য ১৬ দফায় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছিল। আর ২০২৪ সালে শেষ হবে, এমন প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।
হাইয়ারগভের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের মার্চে চুক্তি সইয়ের পর এসপিএল প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয় মার্চে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মাধ্যমে ২৯ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার জন্য চুক্তি হয়েছিল। ইউএসএআইডির বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে ৮ বছর ৭ মাস নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে এসপিএল প্রকল্পটি কী, সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস করার পাশাপাশি দলের সক্ষমতা তৈরি এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের জন্য কাজ করবে। এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ ও বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারী, যুবক এবং তৃণমূল কর্মীদের যুক্ততার স্বার্থে বাংলাদেশের সাতটি বিভাগে দপ্তর পরিচালনা করে।
এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র কাঠামোর উন্নয়ন, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বমূলক নেতৃত্বের বিকাশে উৎসাহ দান। এই প্রকল্পে রাজনৈতিক সহিংসতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহিংসতার ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে এর শান্তিপূর্ণ বিকল্পের প্রচারে রাজনৈতিক দল, তৃণমূল কর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সম্পৃক্ত করে। প্রকল্পে অংশীদার হিসেবে এশিয়া ফাউন্ডেশন সহায়তা করবে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালকে।
ওই প্রকল্পের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের ৪০টি জেলায় ‘শান্তিতে বিজয়’ শীর্ষক প্রচার কর্মসূচি চালিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের একটি জরিপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। ওই বছরের অক্টোবরে ইন হাউস কম্পিউটার অ্যাসিসট্যান্স টেলিফোন সার্ভে সিস্টেমের মাধ্যমে এক সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। জরিপে বলা হয়েছিল, এখন (জরিপ চলাকালে) ভোট হলে ৩৮ শতাংশ মানুষ ভোট দেবে আওয়ামী লীগকে। আর ৫ শতাংশ ভোট দেবে বিএনপিকে। যদিও জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৫ শতাংশ ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দলেরই নাম নেয়নি।
ওই জরিপ প্রকাশের ছয় মাস আগে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং তখনকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লেন কোয়েনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছিল। বাংলাদেশ সফরের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় গ্লেন কোয়েন আওয়ামী লীগের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) কাজের প্রশংসা করেন।
জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ইউএসএআইডি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে হলে সেই সংগঠন বা সংস্থার যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধন প্রয়োজন। এই সহায়তা সরাসরি বাইরের কারও কাছে যাওয়ার কথা নয়। সহায়তার ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করাটা বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে নিরীক্ষার প্রক্রিয়াটা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার কয়েক বছর পরও এ–সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হয়। প্রয়োজনে পুনর্নিরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম পেলে আর্থিক সহায়তা ফেরত দেওয়ার নজিরও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে বাংলাদেশে নাম শোনেনি, এমন প্রতিষ্ঠানকে ২৯ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রসঙ্গ টেনেছেন, সেটার বাস্তবসম্মত কোনো ভিত্তি নেই। আর ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রেই নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান।
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতিসংঘের ভোটাভুটিতে রাশিয়াকে দোষারোপে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয়দের সঙ্গে বিভক্তি
ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর জন্য রাশিয়াকে দায়ী করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। আর এ নিয়েই ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে তাদের বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এমন বিভাজন বাড়ছে। গত সপ্তাহে প্রাথমিক আলোচনা থেকে বাদ রাখায় ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা হতাশ হয়েছে।
গতকাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইউরোপ–সমর্থিত ইউক্রেনীয় প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনে মস্কোর আগ্রাসন বন্ধ এবং অবিলম্বে রুশ সেনাদের প্রত্যাহারের দাবিতে ওই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রও সে কাতারে যোগ দিয়েছে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। রাশিয়াকে আগ্রাসী উল্লেখ করে ফ্রান্সের নেতৃত্বে সংশোধনী প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের তৃতীয় বার্ষিকীতে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত মেনে চলাটা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য আইনত বাধ্যতামূলক নয়। তবে একে বিশ্ব মতামতের ব্যারোমিটার হিসেবে দেখা হয়।
গতকাল সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র তার মূল খসড়া ভোটাভুটির জন্য উপস্থাপন করেছিল। সাধারন পরিষদের তুলনায় নিরাপত্তা পরিষদ ক্ষমতাধর। সেখানে পাস হওয়া প্রস্তাবগুলো আইনত বাধ্যতামূলক এবং রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের এ ক্ষেত্রে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ১০টি। ৫টি ইউরোপীয় দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। এ পাঁচ দেশ হলো যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, গ্রিস ও স্লোভেনিয়া।
বিরোধপূর্ণ প্রস্তাবগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যকার উত্তেজনাকেও প্রতিফলিত করছে। যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচনের আয়োজন না করায় ট্রাম্প ক্রমাগত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে যাচ্ছেন। তিন বছরের ওই যুদ্ধ শুরুর জন্য কিয়েভকে দায়ী করে মিথ্যা অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত অবসানে আলোচনার জন্য তাঁকেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে নেতৃত্ব না থাকাজনিত ঝুঁকি থেকে যায়। জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার ছড়ানো অপতথ্যের জগতে বসবাস করছেন ট্রাম্প।’
কূটনৈতিক এ টানাপোড়েন চলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন মাখোঁ। আগামী বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। এ দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত। এক মাস আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের মতৈক্য ছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নে জাতিসংঘে এখন তাদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
গতকাল সাধারণ অধিবেশনে উত্থাপিত ইউক্রেনীয় প্রস্তাবের পক্ষে ৯৩টি ভোট পড়েছে। আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১৮টি। ৬৫ জন ভোটদানে বিরত ছিলেন। ফলাফলে দেখা গেছে, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। গতবার পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটির সময় ১৪০টির বেশি দেশ রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছিল এবং অবিলম্বে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।
এরপর পরিষদে মার্কিন খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে প্রাণহানির কথা স্বীকার এবং সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তি চেয়ে প্রস্তাবটি আনা হয়েছে। পরিষদে ফ্রান্স তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব করেছে।
সব কটি সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। আর প্রস্তাবটি ৯৩-৮ ভোটে পাস হয়েছে। ৭৩ জন ভোটদানে বিরত ছিলেন। প্রস্তাবে ইউক্রেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত ছিল এবং রাশিয়া ‘না’ ভোট দিয়েছে।
জাতিসংঘের দুটো পরিষদেই উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোতে ইউরোপীয় দেশের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও মেক্সিকো সমর্থন দিয়েছে। এ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত, তবে হাঙ্গেরি এ কাতারে শামিল হয়নি।
![]() |
| জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিরল খনিজ সম্পদের উন্নয়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন
গতকাল সোমবার রাশিয়া-১ টিভির সাংবাদিক পাভেল জারুবিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, বিরল খনিজ নিয়ে চুক্তির জন্য ইউক্রেনকে মার্কিন প্রশাসন যে চাপ দিচ্ছে, সে বিষয়ে উদ্বিগ্ন নয় মস্কো। দেশটিতে মজুত বিরল খনিজ সম্পদের প্রকৃত মূল্য কত, সেটি এখনো বোঝার বাকি আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পুতিন বলেন, অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে বিরল খনিজের গুরুত্ব বিবেচনা করে মস্কো এ সম্পদের উন্নয়নে মনোনিবেশ করবে।
সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে পুতিন জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা আমাদের মার্কিন অংশীদারদের কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত থাকব...যদি তারা একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখায়।’
প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘বিরল খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোর একটির নেতা হিসেবে রাশিয়া এ সম্পদের ভূগর্ভস্থ মজুতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক। এ ক্ষেত্রে নতুন অঞ্চলগুলোও (ইউক্রেনে দখল করে নেওয়া ভূখণ্ড) অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আমাদের নতুন ঐতিহাসিক অঞ্চলগুলো, যা রুশ ফেডারেশনে ফেরত এসেছে, সেগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিরল খনিজের মজুত রয়েছে।’
২০২২ সালে গণভোটের পর দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক প্রজাতন্ত্র এবং খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল রুশ ফেডারেশনে যোগ দেয়।
ফোর্বসের অনুমান, ২০২৩ সালে ইউক্রেনে প্রায় ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদের মজুত ছিল। দেশটির মোট খনিজ সম্পদের প্রায় অর্ধেকই দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে অবস্থিত।
![]() |
| বিরল খনিজ। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই হবে দেশের জাতীয় চেতনার মূল মশাল
অনুষ্ঠানে ফজলে এলাহী আকবর বলেন, ফাউন্ডেশন ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) লক্ষ্য হচ্ছে- জাতীয় সংহতি ও অগ্রগতির স্বার্থে সবার মধ্যে সহযোগিতা ও সংযোগ বৃদ্ধি করা। তিনি বলেন, একই লক্ষ্য নিয়ে দেশে আরও কিছু চিন্তন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মূল দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় চেতনার মশাল প্রজ্বলিত করার মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অবলম্বন করা। প্রতিষ্ঠানের প্রধান মনোযোগ হবে জাতীয় নিরাপত্তা, বেসামরিক ও সামরিক খাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা।
তিনি বলেন, স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশের জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন বাংলাদেশের মানুষ। বিগত দশকে উল্লেখযোগ্য মানবাধিকার লঙ্ঘন, ব্যাপক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং সীমাহীন দুর্নীতিসহ ১৫ বছরে অসংখ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে এই দেশ। ওই সময়ের মধ্যে কেবল লোক দেখানো নির্বাচন হয়েছে, যাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষমতাসীনদের পুতুলে পরিণত করা হয়।
ফজলে এলাহী আকবর বলেন, ২০২৩ সালের ২৮শে অক্টোবর বিরোধী দলগুলোর সমাবেশে নির্মম ক্র্যাকডাউন করার পর দেশের রাজনীতির ওপর এক অতিপ্রাকৃতিক ভারী নীরবতা নেমে আসে। ওই ক্র্যাকডাউনের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর অসংখ্য নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসন তার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল। তারা টানা চতুর্থবার শব্দটিকে নিজেদের জন্য সুরক্ষিত করে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে একধরনের ক্লেপটোক্র্যাটিক (চোরতন্ত্র) ব্যবস্থায় রূপান্তর করে। জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয় নিজেদের সীমাহীন নিপীড়ন।
এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে এফএসডিএস-এর চেয়ারম্যান বলেন, ওই দমন-পীড়নীয় আবহাওয়া ছাত্রদের ক্রোধ এবং সংকল্পকে জাগিয়ে তোলে, ফলে তারা রাস্তায় নেমে আসে। পরিবর্তনের লক্ষ্যে তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মুখোমুখি হন। তাদের ওই সম্মিলিত প্রয়াশই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নামে পরিচিতি পেয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দেশে ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তৃণমূলের এই আন্দোলন কেবল তরুণ-তরুণীদের সাহসকেই তুলে ধরছে না বরং পুরো জাতির মধ্যে একধরনের সামষ্টিক আশা-আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছে। এর মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট যোগ হয়েছে।
ফজলে এলাহী আকবর বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বিস্তৃত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বেশ গতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা পেতে সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন (সার্ক) এবং বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিকাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমস্টেক)কে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি আরও প্রবল হয়েছে। এই সংস্থাগুলো আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে দেশের প্রচেষ্টাও অবিচ্ছেদ্য। এর পাশাপাশি উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে আসিয়ানের মতো প্ল্যাটফরমগুলোর সঙ্গে সক্রিয় থাকাও আমাদের জন্য অপরিহার্য।
সাবেক ওই জেনারেল বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ), দ্য গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মতো সংস্থাগুলোর সঙ্গেও কাজ করছে বাংলাদেশ। এসব সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নিজেদের প্রয়োজনীয় অবস্থান সৃষ্টি করছে। এক্ষেত্রে আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলো আরও বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সমপ্রসারিত করার জন্য আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ নেয়া দরকার বলে মনে করেন ফজলে এলাহী আকবর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাজার বৈচিত্র্যপূর্ণ করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ, এটি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত সামুদ্রিক অঞ্চল। এর প্রাকৃতিক সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। এটা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তায় প্রধান অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন ফজলে এলাহী আকবর। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা অপরিহার্য। যা আমাদের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগের মূল ভিত্তি হতে পারে। দুঃখজনকভাবে, আমাদের রাজনৈতিক আলোচনায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত হয়েছে। এ ছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চল হচ্ছে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী- বেঙ্গল উপসাগর। এই অঞ্চলের কৌশলগত তাৎপর্য রয়েছে। এর প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বাণিজ্যিক রুটের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ রয়েছে। সুতরাং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্কের মেরুদণ্ড গড়ে তুলতেও উল্লিখিত বিষয়ে জোর দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকার বেশ প্রশংসা করেন ফজলে এলাহী আকবর। তিনি বলেন, আমাকে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হাজার হাজার সৈন্য পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এই সংযোগ বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থানকে দৃঢ় করে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সুরক্ষার প্রতি তার প্রতিশ্রুতির সাক্ষ্য দেয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তি ধরে রাখতে আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীর অভিজ্ঞতাগুলো ব্যবহার করতে পারি।
ফজলে এলাহী আকবর মনে করেন অভ্যন্তরীণভাবে বাংলাদেশের ওপর নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্যভাবে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল, চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস (সিএইচটি) অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিভিন্ন রূপে সন্ত্রাসবাদের বিভিন্ন হুমকির ফলে দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ঘনীভূত হয়েছে। আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি, কেননা এই চ্যালেঞ্জগুলোকে চিহ্নিত করে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এসব পদক্ষেপ দেশ এবং দেশের বাইরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সতর্কতা দাবি করে। জাতীয় সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা উভয়ের জন্যই এ বিষয়গুলো উত্থাপন করা বেশ জরুরি।
তিনি বলেছেন, এসব সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেশের নেতৃত্বকে সহায়তা করাই এফএসডিএসের লক্ষ্য। এই সংস্থার কার্যক্রম হবে নির্দলীয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিস্থাপক। যার কেন্দ্রবিন্দু থাকবে উন্নত গবেষণা ও বিশ্লেষণ। বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে এগুলো পরিচালিত হবে। প্রচেষ্টা হিসেবে এফএসডিএস সমাজের সকল স্তর এবং বিভাগের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে বলে উল্লেখ করেছেন ফজলে এলাহী আকবর।
সাবেক ওই সেনাকর্মকর্তা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আমরা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক নীতি আরও সুসংহত ও বিস্তৃতি করা প্রয়োজন। যেন জাতীয় স্বার্থ এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি, সুরক্ষা, শান্তি, কূটনীতি এবং উন্নয়নের ধারা সংযুক্ত থাকবে। দেশ পরিচালনায় আমাদের গৌরবময় অতীতে প্রতিরক্ষা এবং কূটনীতির সফলতা ঐতিহাসিকভাবে পরীক্ষিত। এফএসডিএস এই ঐতিহাসিক সফলতাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের জন্য সত্যিকারের কার্যকর এবং টেকসই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ফজলে এলাহী আকবর। তিনি বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের জন্য সত্যিকারের কার্যকর এবং টেকসই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এটি সুশাসন এবং নিরাপত্তার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে এবং এটা মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার নীতিকে সম্মান করবে। এ ছাড়া গণতন্ত্রের সাধনায় রাজনৈতিক সংগ্রাম-আন্দোলন এবং ত্যাগের প্রতি আমি গভীরভাবে সহানুভূতিশীল। ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্যের প্রতি ব্যাপকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গ্রহাণু থেকে খনিজ আহরণের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের
রোবোটিক যানের অপারেশনও পরিচালনা করছেন তিনি। এই গবেষণায় ‘ওডিন’ হবে অ্যাস্ট্রোফোর্জের দ্বিতীয় মহাকাশযান। ২৬ শে ফেব্রুয়ারি নাগাদ একে মহাকাশে নিয়ে যাবে স্পেসএক্স ফলকন৯ রকেট। একই সঙ্গে থাকবে বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি করা মুন ল্যান্ডার এবং লুনার অরবিটার। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে ওই রকেট। ‘ফ্যালকন ৯’ থেকে ৪৫ মিনিট পর আলাদা হয়ে যাবে ‘ওডিন’ এবং এককভাবে যাত্রা শুরু করবে। ‘ওডিন’ ০.৬ মাইল দূরত্ব থেকে সাদা-কালো ক্যামেরা ব্যবহার করে ‘২০২২ ওবি৫’ গ্রহাণুর ছবি সংগ্রহ করবে।
সেসব ছবি ওই গ্রহাণুতে থাকা ধাতব বস্তুর আকার পরিমাপ করতে সাহায্য করবে। ওই গ্রহাণুকে এম-টাইপে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এতে ১ লাখ ১৭ হাজার টন প্লাটিনাম আছে। ‘ওডিন’ মহাকাশযান তৈরিতে প্রায় ৬৫ লাখ ডলার খরচ হয়েছে। এদিকে তৃতীয় গ্রহাণু মিশনের পরিকল্পনা করছে অ্যাসট্রোফোর্জ। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বা ২০২৬ সালের শুরুতে ওই মিশন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইন স্পেস-এর তথ্য অনুযায়ী অ্যাস্ট্রোফোর্জের প্রথম মিশন (ব্রোকর-১) ২০২৩ সালে কক্ষপথে পৌঁছায়। তবে তা কিউবস্যাটের প্রোটোটাইপ রিফাইনারি প্রযুক্তি সক্রিয় করতে ব্যর্থ হয়। বৃটেনে অবস্থিত অ্যাস্ট্রয়েড মাইনিং কোর-এর প্রতিষ্ঠাতা মিচ হান্টার-স্কালিয়ন বলেন, ১ কিলোমিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণু যদি প্লাটিনাম বহন করে তাহলে তাতে ১ লাখ ১৭ হাজার টনের মতো প্লাটিনাম থাকার কথা। যা ৬৮০ বছরে বিশ্বব্যাপী প্লাটিনাম সরবরাহের সমান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
February
(308)
-
▼
Feb 25
(10)
- নিজেরা কাদা–ছোড়াছুড়ি করলে দেশ ও জাতি বিপন্ন হবে: স...
- ইসরায়েলি বসতি কী, কেন তা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ? by...
- নিজেদের মধ্যে হানাহানি-বিষোদগার অপরাধীদের সুযোগ দি...
- আমরা ফ্রি, ফেয়ার এবং ইনক্লুসিভ নির্বাচনের দিকে ধাব...
- জাতিসংঘে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র
- ২৯ মিলিয়ন ডলার: ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় ডিআইয়ের প্রকল্প...
- জাতিসংঘের ভোটাভুটিতে রাশিয়াকে দোষারোপে রাজি হয়নি য...
- বিরল খনিজ সম্পদের উন্নয়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে...
- ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই হবে দেশের জাতীয় চেতনার মূ...
- গ্রহাণু থেকে খনিজ আহরণের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের
-
▼
Feb 25
(10)
-
▼
February
(308)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




