Wednesday, March 28, 2018

ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ সম্পর্কে ইরানের প্রতিক্রিয়া

সৌদি কর্মকর্তারা ইয়েমেনে অস্ত্র সরবরাহের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন। এ অভিযোগকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা বলে অনেকে মনে করছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরব জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে ইয়েমেন থেকে রিয়াদে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের তৈরি বলে দাবি করেছে। এ দাবির প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত গোলাম আলী খোশরু বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে নিজেদের অপরাধযজ্ঞ আড়াল করতেই ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আরোপ করছে যার কোনো ভিত্তি নেই। ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালেকি ইয়েমেন থেকে রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ইরান গোপনে ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র পাঠাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সৌদি আরবে হামলার পেছনে তেহরানের ভূমিকা রয়েছে।
সৌদি আরব ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। কিন্তু ইয়েমেনের ব্যাপারে হিসেব নিকেশে রিয়াদ দু'টি ভুল করেছে। প্রথমত, তারা ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ও জনগণের প্রতিরোধকে আমলে নেয়নি। আমেরিকার সবুজ সংকেত ও কয়েকটি আরব দেশের সমর্থন নিয়ে সৌদি আরব ইয়েমেনে গত তিন বছর ধরে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। তারা আশা করেছিল, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইয়েমেন দখল করে নিতে পারবে। কিন্তু রিয়াদের সে স্বপ্ন আজো পূরণ হয়নি বরং ইয়েমেন যুদ্ধে তারা চরম ব্যর্থতা পরিচয় দিয়েছে।
সৌদি আরব দ্বিতীয় যে ভুলটি করেছে তা হচ্ছে, ইয়েমেনে বেসামরিক মানুষজন হত্যা ও আগ্রাসন অব্যাহত রাখার পক্ষে যুক্তি তলে ধরার জন্য সেদেশে  ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পাঠানোর মিথ্যা অভিযোগ আরোপ। তুরস্কের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সালিম ইয়াশার ইয়েমেন যুদ্ধের ব্যাপারে বলেছেন, "ইয়েমেনের জনগণের প্রবল প্রতিরোধের কারণে সৌদি আরব কার্যত হতাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুর্বল হয়ে পড়েছে।" তিনি বলেন, "ইয়েমেনের বর্তমান অবস্থান থেকে বোঝা যায়, ওই অঞ্চলে যুদ্ধের ভারসাম্য আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের পক্ষে অবস্থান করছে এবং পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে জোর করে ক্ষমতায় বসানোর সৌদি চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করে ইয়েমেনে তাদের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে পারবে না। কারণ সৌদি আরব অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আগ্রাসন চালালেও এবং এ পর্যন্ত কোটি কোটি ডলার ব্যয় করলেও ইয়েমেনের জনগণের প্রতিরোধের কাছে তারা চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। রিয়াদ শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যুদ্ধের মাধ্যমে তারা ইয়েমেনের জনগণের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারবে না।
গত তিন বছর ধরে অবরোধ আরোপ  ও আগ্রাসন চালিয়েও ইয়েমেন যুদ্ধে পরাজিত হওয়ায় সৌদি কর্মকর্তারা এখন চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি যেমনটি বলেছেন, ইয়েমেনে বিজয়ের অলীক স্বপ্ন দেখা বাদ দিয়ে রিয়াদের উচিত এটা উপলব্ধি করা যে অস্ত্র কিনে এবং বিদেশিদের সাহায্য নিয়ে শক্তি অর্জন কিংবা নিজের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
গোলাম আলী খোশরু

ইয়েমেনে লেজে-গোবরে সৌদি জোট! যুদ্ধে বাড়ছে ইরানি প্রভাব: ইসরাইলি বিশেষজ্ঞ

ইসরাইলের দু'জন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন জোট ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধে জিততে পারবে না।
এ যুদ্ধ চলতে থাকতে সেখানে ইরানি প্রভাব বাড়তে থাকবে বলে যুদ্ধ বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেছেন,  অনুকূল শর্ত ও অবস্থা-সাপেক্ষে দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনের সুযোগ এখনও রয়েছে। তাই আরও বেশি বিপর্যয়ের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের উচিৎ এ যুদ্ধ বন্ধের  উদ্যোগ নিয়ে সৌদি সরকারকে সাহায্য করা।
গত ২৬ মার্চ সংবাদ মাধ্যম 'দ্যা ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট'-এ এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ওই দুই বিশেষজ্ঞের এইসব কথা।
ডঃ ইয়োএল গুজানস্কি ও আরি হাইস্টাইন-এর লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন বছরের ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি সরকারের খরচ হয়েছে দশ হাজার কোটি ডলার। এ যুদ্ধ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সৌদিদের সুনাম নষ্ট করেছে এবং ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব বিলুপ্ত করার লক্ষ্য অর্জনেও ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন মদদপুষ্ট এ যুদ্ধে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে ইয়েমেনের অবকাঠামো । পুরো দেশটিতে দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষ ও প্রাণঘাতী নানা রোগের প্রাদুর্ভাব।
ওয়াশিংটনে  সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সাম্প্রতিক সফর এ ধ্বংসাত্মক যুদ্ধাবসানে মার্কিন সরকারের জন্য একটা ভালো সুযোগ বয়ে এনেছে বলে তারা মন্তব্য করেন। 
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: সৌদি আরবের জন্য ইয়েমেন প্রভাব বিস্তারের এক ঐতিহাসিক টার্গেট এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও শান্তির জন্যও এক জটিল ক্ষেত্র। কারণ এ দেশটির সাথে সৌদি আরবের যেমন এক দীর্ঘ ও অদুর্ভেদ্য সীমান্ত রয়েছে ঠিক তেমনি লোহিত সাগরে প্রবেশ পথও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইয়েমেন। আর ইরানের ক্ষেত্রে ইরাক ও সিরিয়ার সাথে তুলনা করলে ইয়েমেন হচ্ছে দ্বিতীয় পর্যায়ের গুরুত্ববহ দেশ। কিন্তু হুথি মিলিশিয়াদের উপর তুলনামূলক সামান্য অল্প বিনিয়োগ করেই ইরান তার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের কাছ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক,রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করতে পেরেছে।
ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে:  হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য এবং লজিস্টিক সাপোর্ট লাভ করছে সৌদি আরব। তাছাড়া এ দেশটির নিরাপত্তা বাজেট হচ্ছে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম এবং এর হাতে রয়েছে আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার। কিন্তু  তা সত্ত্বেও এ দেশটির কাছে এর দোরগোড়ায় বিদ্যমান ও উপস্থিত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শত্রুকে পরাজিত করাটা কঠিন ও দুরূহ বলেই মনে হচ্ছে।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের আরও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখলে রাখা ছাড়াও হুথিরা সৌদি আরবে একশ'রও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের তৈরি বলে অভিযোগ রয়েছে। হুথিরা ১০০ বর্গ মাইলেরও বেশি সৌদি ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে।
ওই দুই ইসরাইলি বিশেষজ্ঞ আরও লিখেছেন: সামরিক-নিরাপত্তা বিষয়ক (পূঁজি) বিনিয়োগ এবং যুদ্ধে সামরিক বাহিনীর দক্ষতা ও সাফল্যের মধ্যকার ব্যবধানের কারণে সৌদি বাদশাহ সালমান এবং তাঁর উত্তরাধিকারী যুবরাজ বিন সালমান সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর স্টাফ-প্রধান, স্থলবাহিনী প্রধান এবং বিমান প্রতিরক্ষা প্রধানসহ বহু ঊর্ধ্বতন সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছেন।
এসব রদবদলকে সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ বলে দেখানো হলেও আসলে তা সৌদি সামরিক বাহিনীর দক্ষতা ও পারদর্শিতা সংক্রান্ত সৌদি অভিজাত শ্রেণীর ক্রমবর্ধমান হতাশাকেই প্রতিফলিত করছে। এ সব পদ পরিবর্তন ও রদবদল কি সৌদি সামরিক কৌশলে জরুরি পরিবর্তন আনবে? যদি পরিবর্তন আসেও তাহলে চলমান যুদ্ধের উপর তার সম্ভাব্য প্রভাব ও ফলাফল দেখার জন্য আরও অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে ।
বিশ্লেষণধর্মী এ রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে: তুলনামূলক সাফল্য অর্জন সত্ত্বেও ইয়েমেনে তার কর্মতৎপরতা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানও অসুবিধা ও বাধার মুখোমুখি হচ্ছে। পাশ্চাত্যের সহায়তায় আরব দেশগুলোর আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ ইয়েমেনে ঘটনাবলী নিয়ন্ত্রণ করা সংক্রান্ত ইরানের শক্তি ও সামর্থ্যকে সীমিত করছে। তেহরানের পক্ষে সামুদ্রিক অবরোধ ভাঙ্গা সম্ভব নয় বল হুথিদের কাছে চোরাপথে স্বল্পসংখ্যক সামরিক উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ, টাকা-পয়সা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র পাঠানো ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নেই ইরানের।
ডঃ ইয়োএল গুজানস্কি ও আরি হাইস্টাইন নামের  ওই দুই বিশেষজ্ঞ আরও লিখেছেন: একই সময় ইয়েমেন যুদ্ধ প্রধান মুসলিম মিত্রদের সাথে সৌদি আরবের নাজুক সম্পর্কের ধরণও প্রকাশ করেছে। এ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র-দেশ পাকিস্তান সৌদি আরবকে যুদ্ধে সহায়তা দানের জন্য সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি আশ্চর্যজনকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। মিশরের সিসি সরকারও যে এ যুদ্ধে যোগ দিতে বিশাল স্থলবাহিনী পাঠায়নি তা সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। বরং কায়রো রিয়াদকে সাহায্য করার জন্য মাত্র কয়েক শো সৈন্য ও তিন চারটি ছোট যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছে। অথচ সৌদি আরব এই দেশটিতে বহু বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং এ দেশটি সৌদি আরবের জন্য কৌশলগত গভীরতার(strategic depth) মূল্য রাখে।
আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমনকি যে সব দেশ সৌদি নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে যোগদান করতে রাজি হয়েছিল যুদ্ধ চলাকালে রিয়াদের সাথে তাদেরও স্বার্থ-সংঘাত তৈরি হয়েছে। যেমন: সৌদি ও আরব আমিরাত এমন সব গোষ্ঠী ও বাহিনীকে মদদ দিচ্ছে যারা ইয়েমেনের ভবিষ্যতের ব্যাপারে পরস্পর বিরোধী এবং তা সময় সময় সৌদি ও আমিরাতের স্থানীয় সমর্থকদের মধ্য সংঘর্ষ ও সহিংসতা সৃষ্টি করেছে।
ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে: সৌদি যুবরাজ বিন সালমানের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ওয়াশিংটনে সৌদি রাজকীয় সফরকে এ ধ্বংসাত্মক ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী যুদ্ধ বন্ধ করার এক সুযোগ বলে  বিবেচনা করত ওয়াশিংটনের উপলব্ধি করা ও ভেবে দেখা উচিৎ: সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারবে না ।তবে তারা (সৌদি জোট) এ যুদ্ধটাকে অনুকূল শর্ত ও অবস্থা সাপেক্ষে বন্ধ করতে পারে। আর ওয়াশিংটনের উচিৎ এ জোটকে তা করতে সাহায্য করা।
এক সীমিত সময়ের জন্য সৌদি আরবের যুদ্ধে ওয়াশিংটনের বর্ধিত সমর্থনের বিনিময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিৎ এ দাবি করা যে সৌদিরা বেসামরিক প্রাণহানি বন্ধ করার জন্য আরও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেবে এবং যে সব ইয়েমেনি রোগ ও খাদ্যাভাবের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তাদের ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ বাড়িয়ে দেবে।
ডঃ ইয়োএল গুজানস্কি ও আরি হাইস্টাইন আরও লিখেছেন:   মার্কিন সহায়তা ও সাপোর্ট তুলে নেয়া হবে- এটা জানানো হলে সৌদিরা যথাসম্ভব শিগগিরই এক রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছতে উদ্বুদ্ধ হবে। আবার একই সময় হুথিদের উপর আঘাত হানা এবং মার্কিন সমর্থন ও সাপোর্ট যে গতিময়তার সৃষ্টি করবে তা ইরান-সমর্থিত হুথিদেরকেও এ যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করবে। অবশ্য সৌদির প্রতি মার্কিন সমর্থনের সময়সীমা গোপন রাখতে হবে।  আর উভয় পক্ষকে যদি যুদ্ধ বন্ধ করতে উদ্বুদ্ধ ও বাধ্য করা হয় তাহলে এক ধরণের রাজনৈতিক আপোষ ও নিষ্পত্তিতে উপনীত হওয়া সম্ভবপর বলে মনে হয়।
ইয়েমেন যুদ্ধ সব পক্ষের জন্যই বিপর্যয় বয়ে এনেছে। আর তাই এ যুদ্ধ বন্ধ করাই হচ্ছে যেমন একদিকে মার্জিত ও চৌকস (smart)বিষয় ঠিক তেমনি অপরপক্ষে এটা হচ্ছে ন্যায় ও যথার্থ বিষয় যা অবশ্যই করা উচিৎ। আর সংঘর্ষ ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার অঞ্চলগুলোতে ইরানের হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশী সফল হচ্ছে বলে যুদ্ধ বন্ধ করার মধ্যেই রয়েছে আঞ্চলিক বিষয়াদির ক্ষেত্রে ইরানের হস্তক্ষেপ-ক্ষমতা কার্যকরভাবে দুর্বল করার বর্ধিত সুবিধা।
উল্লেখ্য, ডঃ ইয়োএল গুজানস্কি ইসরাইলের Institute for National security studies (INSS)-এর রিসার্চ ফেলো। তিনি পারস্য উপসাগরীয় রাজনীতি-বিশেষজ্ঞ এবং আরি হাইস্টাইন INSS-এর পরিচালকের বিশেষ সহকারী।
[এ প্রতিবেদনে ইয়েমেন - সৌদি আরব যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাশ্চাত্য এবং ইসরাইলের মদদপুষ্ট সৌদি-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন জোটের পরাজয়,ব্যর্থতা ও শোচনীয় অবস্থার এক সার্বিক চিত্র বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। লেখকদ্বয় ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক স্ট্যাডিস ইন্সটিটিউটের  কর্মকর্তা ও রিসার্চ ফেলো। তাই ইরানকে ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপ করার দোষে দায়ী করা তাদের জন্য খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা হচ্ছে সত্যের অপলাপ মাত্র। আসলে ইঙ্গ-মার্কিন-ইসরাইলি-সৌদি-আমিরাতি চক্রই আফগানিস্তান-পাকিস্তান-ইরাক-সিরিয়া-ইয়েমেন-মিসর-তিউনিসিয়া-নাইজেরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে যা কারো অজানা নয়।
আল-কায়দা,তালিবান, দায়েশ (আইসিস) বোকোহারামসহ বিভিন্ন উগ্র সন্ত্রাসী তাকফিরি ওয়াহহাবি সালাফি গোষ্ঠীগুলো এই অশুভ কুফরি ইবলিসি ইঙ্গ-মার্কিন-ইসরাইলি-সৌদি-আমিরাতি চক্রের অবৈধ সন্তান স্বরূপ। এই অশুভ খবিস ইবলিসি চক্র এসব গোষ্ঠীর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদ সহিংসতা ধর্মীয় বিদ্বেষ ও উগ্রবাদের বিষ-বাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আজ মুসলিম বিশ্ব এই অশুভ খবিস ইবলিসি কুফরি চক্রের মদদপুষ্ট উগ্র জঙ্গি সন্ত্রাসী তাকফিরি ওয়াহহাবী সালাফি গোষ্ঠী ও গ্রুপগুলোর সন্ত্রাসী কর্মতৎপরতার কারণে ক্ষত-বিক্ষত ও রক্তাক্ত এবং আজ বহু মুসলিম দেশ ও রাষ্ট্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ হচ্ছে মুসলিম বিশ্বকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়ার এক মহা-ইবলিসি ষড়যন্ত্র। তাই সমগ্র ইসলামী উম্মাহর উচিৎ এই অশুভ খবিস কুফরি ইঙ্গ-মার্কিন-ইসরাইলি-সৌদি-আমিরাতি চক্রের অশুভ চক্রান্ত সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত হওয়া।]

ক্রিসেন্ট হাসপাতাল সিলগালা: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ক্রিসেন্ট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স সিলগালা করে দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। একইসঙ্গে হাসপাতালের আট কর্মচারীকে ৬ মাস থেকে দুই বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত। বুধবার রাত পৌনে ৮টায় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সরোয়ার আলম এই দ-াদেশ দেন। এর আগে বিকেলে ওই হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব।
সরোয়ার আলম মানবজমিনকে জানান, রোগীকে জিম্মি করে ভুয়া চিকিৎসা দেয়া, চিকিৎসক ছাড়া অস্ত্রোপচার এবং প্যাথলজি ল্যাবে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার গেছে। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্রিসেন্ট হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পায়, অপারেশন রুমে ডাক্তার নেই, বরং সেখানে অপারেশন করছে ওয়ার্ড বয়। প্যাথলজি ল্যাবে পরীক্ষা ছাড়াই ডাক্তারের স্বাক্ষর নকল করে রিপোর্ট দেয়া হতো। এছাড়া হাসপাতালে অননুমোদিত ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া যায়। রোগীরা অভিযোগ করেন, এই হাসপাতালে নামে শুধু আইসিইউ রয়েছে। সেখানে অবাধে সবাই প্রবেশ করে।
হাসপাতালের ম্যানেজার হাসান রোগীর স্বজনদের নানা রকম নির্যাতন ও যৌন হয়রানি করত। তার এ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও লাভ হয়নি । র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালের মালিক নুরুন্নবীকে ফোন দিয়ে অফিসে আসতে বললেও তিনি আসেননি। বরং তিনি পালিয়ে যান। তার নামে মামলা করা হবে বলে জানান র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সরোয়ার আলম।

কওমি মাদরাসার জীবন by হাফিজ মুহাম্মদ

মো. হাবিবুল্লাহ। বাবা মানিকগঞ্জের একটি মসজিদের ইমাম। মা গৃহিণী। গ্রামের বাড়ি ভোলায়। রাজধানীর একটি কওমি মাদরাসার হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। থাকা-খাওয়া বাবদ তার প্রতি মাসে মাদরাসায় দিতে হয় এক হাজার টাকা। হাবিবুল্লাহর বাবার অল্প বেতন দিয়ে তাদের দুই ভাই আর বোনকে পড়াতে হিমশিম খেতে হয়। এরপরেও আলেম বানানোর স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি করান মাদরাসায়। হাবিবুল্লাহ পড়ে মিরপুরের ‘জামিয়া ইসলামিয়া দারুল আলম ঢাকা (মসজিদুল আকবর) মাদরাসায়’।
হাবিুবল্লাহর মতো আরো অনেক ছাত্র আছেন যারা আলেম হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছেন কিংবা মা-বাবা ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন মাদরাসায়। রাজধানীর মিরপুরের এ মাদরাসার আরো একাধিক ছাত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তাদের স্বপ্ন, বেড়ে ওঠা, লেখা-পড়াসহ নানা বিষয়। এ প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য কওমি মাদরাসা থেকে একটু আলাদা। এখানে যারা পড়েন তারা আলিয়া মাদরাসা থেকে ৫ম শ্রেণি সমাপনী, জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং দাখিল পরীক্ষা অংশ নেয়ার সুযোগ পান। তবে অনেকে এসব সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নেন না বলেই জানা যায়। মাদরাসার নিয়ম অনুযায়ী এখানে খাবার পরিবেশন করা হয় দুই বেলা। দুপুর এবং রাতে। আর সকালে নিজেদের টাকায় কিনে নিতে হয়। আবাসিক চার্জ ফ্রী। এ মাদরাসায় পড়ানো হয় দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) পর্যন্ত। এর সঙ্গে রয়েছে হেফজ বিভাগ, নুরানী ও মক্তবখানা। গরিব ও ইয়াতিম ছাত্রদের খাওয়া দাওয়ার জন্য রয়েছে লিল্লাহ বোর্ডিং ও ইয়াতিমখানা। মিজান (অষ্টম) শ্রেণির ছাত্র মহিববুল্লাহ বলেন, আমার বাবা নেই। তাই বাড়ি থেকে মা টাকা দিতে পারে না। তিনশত টাকা খাওয়ার চার্জ বাবদ দিতে হয়। আমি বড় আলেম হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছি। শিক্ষকদের পাঠ-দানে আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের শিক্ষকরা নিষ্ঠার সঙ্গে লেখা-পড়া করান। কওমি মাদরাসার বাহির থেকে যে বদনাম শোনা যায় সেটা সঠিক নয়। সাধারণ মানুষের একটি ভুল ধারণা মাত্র। মো. আশিক পড়েন ২য় শ্রেণিতে। এ ছাত্র জানান, তার বাবা ভ্যান চালক আর মা গার্মেন্টস কর্মী। মাদরাসার পাশেই ভাড়া বাসায় থাকেন তার বাবা-মা। আশিক দিনের বেলায় মাদরাসায় থাকলেও রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাসায় থাকেন। খাওয়া দাওয়াও করেন বাসায়। ক্লাসে আরবী, বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান পড়ানো হয়। তার স্বপ্ন বড় আলেম হয়ে দেশ ও জাতির খেদমত করা। তবে পড়াশোনা কতদূর চালিয়ে যেতে পারবেন তা তিনি জানেন না।
হাফেজ তরিকুল ইসলাম নামে এক ছাত্র জানায়, সে তাইসি ক্লাসে (৫ম শ্রেণি) পড়ে। মাদরাসা তার কাছ থেকে খাবার বাবদ প্রতি মাসে ১২০০ টাকা নেয়। এ মাদরাসায় সমাপনী পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই এটা কওমি মাদরাসা হলেও এখানে সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে। এছাড়াও এখানে পরিবেশ এবং পড়ালেখার মান অনেক ভালো। আমি হাফেজ হওয়াতে ক্লাসে একটু পিছিয়ে পড়েছি। তবে বড় আলেম হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করে যাচ্ছি। মাদরাসার সার্বিক পরিবেশ, ধর্মীয় জ্ঞানের সঙ্গে সমসাময়িক যেসব বিষয় ছাত্রদের পাঠদান করানো হয় সে বিষয়ে এ মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মুফতি জাকারিয়ার বলেন, আগে কওমি মাদরাসায় যে নিয়ম বা সিলেকবাস ছিল সেখান থেকে অনেকটা বেরিয়ে এসেছে মাদরাসাগুলো। বর্তমানে আরবী উর্দুর সঙ্গে সাধারণ এবং বিজ্ঞানের বিষয়ও সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাদরাসায় নিয়মিত একাধিক পত্রিকা রাখা হয় যাতে ছাত্ররা দেশের সব ধরনের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিয়মিত আলোচনা করা হয়। যাতে কেউ ভুলেও ভ্রান্ত পথে পা না বাড়ায়। এ শিক্ষক আরো বলেন, আমাদের এখানে ছাত্রদের একরকম ফ্রী পড়ানো হয়। কোন কোন ছাত্র থেকে নামে মাত্র টাকা নেয়া হয়। মূলত দানের টাকায় এ মাদরাসাটি ২০০০ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে এসেছে। এ মাদরাসার অন্য একজন শিক্ষক জামাল নাসরুল্লাহ বলেন, আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে এখানে আলেম তৈরি করা হয়। সরকারের স্বীকৃতির ঘোষণায় তা আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। আমাদের চাওয়া হল কওমি মাদরাসার ছাত্ররা যাতে এগিয়ে যায়। তারা এখন আর পিছিয়ে নেই। এজন্য তাদের সনদ পাওয়া উচিত। অনেক আগ থেকেই এ মাদরাসাটি কওমি মাদরাসা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত। বোর্ড পরীক্ষা তাদের অধীনে পরিচালিত হয়ে এসেছে। কওমি মাদরাসা শিক্ষার মূল ধারার বাহিরে থাকলেও বড় একটা অংশ লেখাপড়া করেন এ মাধ্যমে। সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে পরিচালিত হয়ে এসেছে মাদরাসাগুলো। সাধারণ মানুষের দানই মূলত তাদের আয়ের প্রধান উৎস। এ বছর এপ্রিলে সরকার কওমি মাদরাসার স্বীকৃতির গেজেট প্রকাশ করলে তারা নিজেরাও নড়েচড়ে বসেন।

প্রতিবন্ধী বানানোর কারিগর by মুসা বিন মোহাম্মদ

মিরপুরের ভাষানটেক থেকে পশ্চিম দিকে ২০ মিনিট হাঁটলেই দেওয়ানপাড়া। সেখানে মোল্লা টাওয়ারের  কাছে একটি রিকশা গ্যারেজ। গ্যারেজের দেয়ালে টানানো রয়েছে প্রতিবন্ধী সমিতির সাইনবোর্ড। ভেতরে রয়েছে প্রতিবন্ধীদের বেশক’টি ছবি। এ রিকশা গ্যারেজকে সবাই চিনে শাহীনের গ্যারেজ হিসেবে। এই শাহীন বসবাস করেন ভাষানটেক এক নম্বর বস্তিতে। তাকে সবাই শাহীন মাস্টার নামে চেনে। আর শাহীনের এ গ্যারেজই হলো প্রতিবন্ধী বানানোর কারখানা। কারিগর হলেন শাহীন। কৃত্রিম উপায়ে প্রতিবন্ধী বানিয়ে অসংখ্য মানুষকে ভিক্ষা পেশায় নিয়োগ দেন তিনি। যা থেকে আয় করেন লাখ লাখ টাকা। মিরপুর ১৪ নম্বরে দেখা মেলে তের বছর বয়সী শারমিনের সঙ্গে। তার দুই হাত নেই। মিরপুর-১৪ নম্বরের ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বসে থাকা তার কাজ। এই কিশোরীর পাশে রাখা ভিক্ষার থালি। প্রতিবন্ধী হওয়ার সুবাদে শারমিনের উপার্জন অন্য ভিক্ষুকদের চেয়ে একটু বেশি। মিরপুর এলাকায় ভিক্ষা করে প্রতিবন্ধী তানভীর, আকলিমাসহ আরো অনেক শিশু কিশোর-কিশোরী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিক্ষা পেশাকে মানবিক ব্যবসায় রূপ দিতে নানা কৌশল নিচ্ছে রাজধানীতে সক্রিয় কয়েকটি সিন্ডিকেট। কৃত্রিম উপায়ে প্রতিবন্ধী বানিয়ে এসব ভিক্ষুকশ্রেণিকে দিয়ে ভিক্ষা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। তেমনি একটি এলাকা মিরপুরের ভাষানটেক। এই বিশাল বস্তিতে হাজার হাজার নিম্নশ্রেণি মানুষের বসবাস। এখানে রয়েছে ভিক্ষুক বসতি। ভাষানটেক বস্তির বায়তুল আকসা মসজিদের পাশে থাকেন প্রতিবন্ধী খোকন। তার দু’ পা-ই অকেজো। ছোটকালে টাইফয়েড জ্বর থেকে তার এ অবস্থার কথা বলেন খোকনের মা। স্থানীয় বাসিন্দা ফুসকা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের সূত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধানে খুুঁজে পাওয়া যায় এই প্রতিবন্ধীকে। এনজিওকর্মী পরিচয়ে খোকনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার কখনই টাইফয়েড হয়নি। কৃত্রিম উপায়ে তাকে প্রতিবন্ধী বানানো হয়েছে। খোকন জানায়, ভাষানটেক বস্তিতে শত শত ভিক্ষুক থাকে। তারা সবাই সমিতির নজরদারিতে বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে। তাদের যাবতীয় দেখভাল করে দেওয়ানপাড়ার শাহীন। শাহীন সম্পর্কে আর কিছু বলতে অনীহা প্রকাশ করেন খোকন। স্থানীয় বস্তিবাসী সূত্রে জানা যায়, দেওয়ানপাড়ায় শাহীনের রিকশার গ্যারেজ রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সে বিভিন্ন কাজকর্ম করে। ভর দুপুরে শাহীনের গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায় টেবিলের ওপর ঘুমাচ্ছে শাহীন। শব্দে জেগে ওঠলে সে হতচকিত হয়ে জানতে চায়- ‘এখানে কেন, কিসের জন্য’। এ প্রতিবেদক তাকে তিনজনকে প্রতিবন্ধীর কার্ড ও ঢাকায় অনায়াসে ভিক্ষা করার সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধ করেন। এতে রাজি হয়ে শাহীন বলে, এ ভিক্ষুকদের ভাতা কার্ডসহ তাদের নিয়ে কিছু হালকা ঘুরাফেরা করে থাকি। তাও আবার যারা উপরে আছে তাদের অনুমতি নিয়ে করা হয়। প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের ভাতা কার্ড পেতে কী করতে হবে জানতে চাইলে শাহীন বলেন, সে যে ওয়ার্ডের ভিক্ষুক সেখানকার প্রকৃত প্রতিবন্ধী হতে হবে, আইডি কার্ডও থাকতে হবে। এসব কিছু না থাকলেও প্রতিবন্ধীদের ভাতা ও ভিক্ষা সুবিধা করে দেয়ার অনুরোধ করলে শাহীন বলেন, এদের প্রতিবন্ধী যাচাই করতে প্রথমে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে। তার আগে কোনো একদিন ঐ তিনজনকে তিন নম্বর বস্তিতে নিয়ে এসে দেখাতে বলেন শাহীন। কীভাবে তাদের প্রতিবন্ধী করার ব্যবস্থা করে দিয়ে ভিক্ষুক ভাতার কার্ড দেয়া যায় তিনি সেই আশ্বাস দেন প্রতিবেদককে।
একই রকমভাবে ভিক্ষুক এলাকা নামে পরিচিত সবুজবাগ থানার দক্ষিণ মান্ডা এলাকা। এলাকাটি ৩০ বছর আগে ছিল ডোবা। এখন খুবই ঘনবসতি। সড়কের দু’পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠেছে অনেকগুলো আধা পাকা ঘর। ঘরগুলোর চাল টিন দিয়ে আর বেড়া ও মেঝে বাঁশের তৈরি। নিম্ন শ্রেণির মানুষ এসব ঘরের বাসিন্দা। ভিক্ষুক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে স্থানীয় পোল্ট্রি মুরগি ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, অনেক বছর আগে ভিক্ষুক থাকার কথা শুনেছিলাম। এক গণ্ডগোলের কারণে তারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এখন এগুলো নাই। মোশারফের এই কথার ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘদিন খোঁজ করা হয় ভিক্ষুক আস্তানা ও ভিক্ষুক বানানোর কারখানা। উত্তর-দক্ষিণ মান্ডার পানির পাম্প গলি ও কদম আলী রোডের সব শাখা গলিতে ঘুরে ঘুরে অনুসন্ধান করা হয়। টানা কয়েকদিন খোঁজাখুঁজির পর ভিক্ষুক বিষয়ে ছাত্র পরিচয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন এলাকাটিতে ৩০ বছর ধরে বসবাসরত রংপুরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, মনির মিয়া ও জমশের মিয়ার গলিতে ভাড়ায় অনেক ভিক্ষুক থাকতেন। তবে এখনো আছে কিনা তা আমার জানা নেই। বুলু মিয়ার বাড়ি বরাবর সড়কের বিপরীত দক্ষিণ মান্ডার গলি ধরে ৫ মিনিট হাঁটলেই চোখে পড়ে বস্তির মতো কয়েকটি ঘর। তাতে ছোট ছোট কক্ষে ভাড়ায় থাকেন এসব ভিক্ষুক। স্থানীয় বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, এ এলাকায় ভিক্ষুকের অভাব নাই। তবে বাপ্পি নামের ভিক্ষুককে আমরা সবাই চিনি। প্রতিবেদককে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় বাপ্পীর বাড়ি। কথা হয় প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক বাপ্পির সঙ্গে। দক্ষিণ মান্ডা এলাকার এই প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক বলেন, তার দুই বউ। দুই ঘরে তার সন্তান রয়েছে ১২ জন। এসব সন্তান দিয়েই তার সংসার চলে। তাদের কৃত্রিমভাবে ভিক্ষুক বানিয়ে বেইলি রোড ও শান্তিনগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষায় বসিয়ে দেয় বাপ্পি। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন চলছে তার। একজনের এতগুলো সন্তান ও তাদের ভিক্ষুক বানিয়ে ভিক্ষা করানোর জন্য তাকে কয়েকবার পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানান একই এলাকার বাসিন্দা বাপ্পির ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুর মোহাম্মদ। রিকভারিতে পুলিশের গাড়িচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, শুধু বাপ্পি নয়। তার মতো শত শত ভিক্ষুক রয়েছে এ এলাকায়। কৃত্রিমভাবে প্রতিবন্ধী বানিয়ে তাদের দিয়ে অহরহ ভিক্ষা করানো হচ্ছে। সরজমিন জানতে প্রতিবেদককে নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিবন্ধী বাপ্পির বাড়ি থেকে ৫০ গজ উত্তরে স্বপনের বাড়িতে। বেলা ৪টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ছোট একটি ঘরে ৪ থেকে ৫ জন ছেলেমেয়ে শুয়ে আছে ফ্লোরে। তাদের দেখাশোনা করছে মধ্যম বয়সী এক মহিলা। পাশে রয়েছে স্বপনের স্ত্রী। সবার জন্য খাবার তৈরি করছেন স্বপনের মা। নুর মোহাম্মদ বলেন, স্বপনের মা এই বাড়ির প্রধান। এসব সন্তানকে কৃত্রিমভাবে প্রতিবন্ধী সাজিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষায় নামিয়ে দেয়া হয়। এই মহিলার স্বামী একজন প্রতিবন্ধী। তার দুই বউয়ের একজন এই মহিলা। নামে-বেনামে বউদের দিয়ে এসব শিশুকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান প্রতিবন্ধী বাপ্পির বন্ধু নুর মোহাম্মদ।
ভাষানটেক ও মান্ডা এলাকার মতো ধানমন্ডি লেকের উত্তর পাশে ভিক্ষা করেন প্রতিবন্ধী তানভীর। লেকের ৮ নং ব্রিজের ওপারে বায়তুল আমান মসজিদে পাঁচ বার নামাজের সময় ভিক্ষার থলি নিয়ে বসে যান সাহেরা ভানু। তাদের দুজনেরই পা অকেজো হওয়ায় তাদের বাহন হুইল চেয়ার। তারা আসেন রায়েরবাজার থেকে। খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকা ও তেজগাঁও কলোনি থেকে এসে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ভিক্ষার থলি নিয়ে ফার্মগেট ওভারব্রিজে ও নিচে বসে যায় হাত-পা ছাড়া শিশু প্রতিবন্ধী শাহনাজ ও বাবলু হোসেন। তাদের প্রতিবন্ধী হওয়ার ক্ষেত্রে জন্মগত সমস্যা বললেও প্রকৃতপক্ষে কারণ ভিন্ন। অনুসন্ধানে জানা যায়, যারা তাদের মা-বাবা পরিচয় দিচ্ছে তারা নামেমাত্র মা-বাবা। এসব প্রতিবন্ধী ও তাদের পরিচিতরা জানায়, পালক মায়ের পরিচয়ে প্রতিদিন এসব এলাকায় ভিক্ষার জন্য নিয়ে আসে তারা। জন্মগত প্রতিবন্ধীর অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও এসব ভিক্ষুকের সমস্যা কৃত্রিম বলেই জানা গেছে।

কোটা সংস্কার: জনপ্রতিক্রিয়া

মহিউদ্দিন আহমদ
সুস্থ-সবল ও জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন কারো জন্য কোনোরকম কোটা থাকা উচিত নয়। হউক সে আদিবাসী, পাহাড়ি, সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু নারী-পুরুষ, কিংবা বিশেষ ব্যক্তিদের সন্তান। প্রতিবন্ধী, বিকলাঙ্গ, কিংবা তৃতীয় লিঙ্গের, এ জাতীয় মানুষদের জন্য কোটা থাকতে পারে।
মাহবুব ভূঁইয়া
কোটা চালু থাকলে তো সরকার দলীয় সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে যায়। মেধাবীরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে, মোটা অংকের ঘুষ দিতে পারেনা। তাই তাদের কপালে ভালো সরকারি চাকরিও জুটে না। দু’-একটা বিসিএস-এর গল্প দিয়ে তো আর পুরো বাংলাদেশের মেধাবীদের বিচার করা যায় না। একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ে তার সন্তানরা কোটার আওতায় থাকতে পারে। তবে তার নাতি-নাতনিরা কেমন করে কোটার আওতায় থাকে? এমনও তো হতে পারে দাদা মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু বাবা দেশদ্রোহী, জঙ্গিযোদ্ধা, সেই নাতিরা কেমন করে কোটা পাবে?
শাহাদত ওয়ালী
মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের কারণেই এই দেশ বিধায় সবার আগে তাদের অধিকার। মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে-নাতি-নাতনি সবাই সর্বাগ্রে অধিকার ভোগ করবে। সে কারণে চাকরিতে আমরা কোটার ব্যবস্থা করেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের কারণেই তো এই চাকরি করতে পারছেন, সুতরাং তাদের ছেলে-মেয়েরা এ সম্মান পাবেন। কোটা নিয়া আন্দোলন করে লাভ নাই। নাতি কোটা এসে গেছে।
মো. সারওয়ার
সীমিত কোটা থাকতে পারে প্রতিবন্ধীদের জন্য। বাকি কোটা ব্যবস্থা তুলে নেয়া উচিত। কারণ, এটা প্রশাসনকে মেধাহীন দলবাজে রূপান্তরিত করছে।
মো. আলী আকবর
এই জাতি ধ্বংসের পদ্ধতি বন্ধ হোক। মুক্তিযোদ্ধারা দেশটা গিলে খাবার জন্য যুদ্ধ করেননি। এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমি। আমি দেখেছি এসব মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, যার শিকার আমার পরিবার।
মোতাসিম বিল্লাহ মুন্না
‘কোটা প্রথা নিপাত যাক; মেধাবীরা মুক্তি পাক।’ ৫৬-১০০% কোটা কোনো দেশে নেই। এটা বাংলাদেশেও থাকা উচিত নয়। ২৭ লাখ বেকারের কথা চিন্তা করে বাতিল না করেন এটা নামিয়ে ১০% নিয়ে আসা হোক।
আশরাফ হোসেন
সকল ধরনের কোটা বাতিল করা হোক। কোটামুক্ত নিয়োগ পরীক্ষা চাই। কোটামুক্ত বাংলাদেশ চাই।
মো. ওমর
সর্বপ্রথম মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কোটা বাতিল করা দরকার। কারণ বর্তমানে যে সকল মুক্তিযোদ্ধা আছে তাদের অনেকেই ভুয়া। তাই মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কোটা বাতিল করা উচিত।
শাহিনুর ইসলাম
দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য দরকার একজন মেধাবী এবং সৎ চাকুরে। কিন্তু কোটা হচ্ছে এর প্রধান প্রতিবন্ধকতা।
সোলায়মান মজুমদার
কোটা ব্যবস্থার কারণে আজ প্রবাসে আসতে বাধ্য হলাম। দেশে কোটা, আর মামার কারণে বহু যোগ্য লোক বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে ।
শাফায়েত হোসেন
কোটা সংস্কার চাই করতে হবে, প্রয়োজনে গণভোট নেয়া হোক। জনগণকে তার অধিকার থেকে খর্ব করা যাবে না।
মান্নান দুলাল
এই যাদুর কৌটা বন্ধ হোক! এই কোটায় বহু অযোগ্য মানুষ চাকরি পাচ্ছে। আর সুশিক্ষিতরা নানারকম অপরাধের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। এদিকে ভারতের নাগরিকরা দেশের মাথা বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করে। কোনোভাবেই এই কোটা সমর্থন করা যায় না।
জিয়াউর রহমান রানা
কোটা প্রথা সম্পূর্ণ উঠিয়ে দেয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধের সেনানিদের এবং তাদের পরিবারের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যেতেই পারে। কিন্তু সরকারি চাকরিতে কোটা থাকা উচিত নয়। এর মাধ্যমে যে মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মেইনি তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তার অপরাধ কি?
আবু নাসের কাইয়ুম
মতামত আর কি দেবো! দেশে এখন তো কোনো আইন-আদালত নেই। যদি থাকতো তাহলে সংবিধানে মৌলিক কাঠামোর বিরুদ্ধে এই পদ্ধতিকে আদালত কিভাবে স্বীকৃতি দেয়? দেশ বলে এখন কিছু আছে বলে মনে হয় না।
মেহেদী হাসান
প্রতিবন্ধী ছাড়া কোনো কোটা বাংলাদেশে চলতে পারে না।
কামরুল হাসান মিয়াজী
কৌটার দুধ শিশুর মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধক, কোটার চাকরি জাতির মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধক। কোটাকে না বলুন, জাতির মেধা বিকাশে এগিয়ে আসুন।
আবদুল আউয়াল
কোটার নামে মদখোর, গাঁজাখোর, ইয়াবাখোর, ধর্ষক, সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনে বসে দুর্নীতি করছে। দেশের মেরুদ- ভেঙে যাচ্ছে। আর মেধাবীরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে না খেয়ে ভালো উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে।
এমএ করিম
কোটা ব্যবস্থা হচ্ছে বৈষম্য ও সংবিধান-বিরোধী। ১০% এর অধিক কোটা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমিও চাই কোটা প্রথা সংস্কার হোক এবং তা সময়ের দাবি।
আঃ রহীম আবু আনাস
কোটা একটা অভিশাপ। কোটায় আমার কুমিল্লা জিলা স্কুলে অনেক ছেলে ভর্তি হয়। কিন্তু সিক্স পাস করতে পারে না। অথচ মেধাবীরা সুযোগ পায় না।
মো. ইউসুফ
বৈষম্য প্রশমিত করার প্রত্যয় নিয়ে কোটা পদ্ধতি চালু হলেও এখন ‘কোটা’ পদ্ধতিই বৈষম্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে! যে রাষ্ট্র প্রতিবন্ধীদের দায়িত্ব নিতে পারে কিন্তু মেধাবীদের দায়িত্ব নিতে পারেনাÑ সেই দেশে মেধাবীর জন্মই অবান্তর নয় কি? বাংলাদেশ যতদিন ধরণীতে থাকবে ততদিন ঋণ শোধ করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ কখনোই শোধ হবার নয়। তাই ওনাদের সন্তানদের কোটা বলবৎ থাকুক; কিন্তু নাতি-নাতনিদের নয়। প্রয়োজনে ওনাদেরকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হোক। তবুও মেধার জায়গায় মোটা মাথা কাম্য নয়। আমাদের বিশাল হৃদয়ের বীর সেনানিরাও নিজেদেরকে দেশপ্রেমে উৎসর্গ করার সময়েও হয়তো মেধাহীন (মেরুদ-হীন) জাতি কখনও কামনা করেননি। মূলত সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও তৎকালীন ক্ষমতাসীন পাকিস্তানিরা রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর করেনি বলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। তৎকালীন নির্বাচনে রেজিস্টার্ড প্রায় ‘দুই লাখ’ মুক্তিযোদ্ধার বাইরে যারা ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁদের উত্তরাধিকারীরাও কোটা পদ্ধতির কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। যদিও তারাও অন্তর থেকেই মুক্তিকামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতএব এখন সময়ের দাবি সবরকম কোটা সংস্কার এবং আবশ্যক।
মোহাম্মদ ওয়ালী আহমেদ
প্রতিবন্ধী কোটা শতকরা ১ ভাগ রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া সব কম্পিটিশনের মাধ্যমে বাছাই হলে দেশে জ্ঞানের চর্চা বাড়বে।
ডালিম আহমেদ
কিসের কোটা! এই কোটার কারণে দেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা চাকরি পায় না। এই কোটা নিয়ে হয় দুর্নীতি। কোটা বাতিল করা হোক।
আবুল বারাকাত
কোটা ১০%-এ নামিয়ে আনা দরকার। জেলা কোটা, আদিবাসী, পাহাড়ি, এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি-নাতনিরা কেন কোটায় চাকরি করবে? তারা বাবা, নানা-দাদার মতো যোগ্য সন্তান হবেÑ এটাই তো দেশের মানুষের চাওয়া। প্রতিবন্ধী, বিকলাঙ্গ, তৃতীয় লিঙ্গ- এ জাতীয় লোকদের জন্য কোটার প্রয়োজন আছে।
আসাদুজ্জামান আসাদ
কোনো কোটা চাই না। যার মেধা আছে সেই আসুক। মেধার মূল্যায়ন না করলে দেশ কিভাবে এগোবে?
লোটাস হোসাইন
কোটা বাতিল চাই। চাকরিতে কোনো বৈষম্য চাই না। মেধাবীদের দ্বারা দেশ শাসন চাই। কোটা অভিশাপ স্বরূপ।
মামুন খান
সকল ধরনের কোটা বাতিল করা হোক। কোটামুক্ত নিয়োগ পরীক্ষা চাই। কোটামুক্ত বাংলাদেশ চাই।
আবদুল্লাহ নিজামী
দেশের জন্য যারা জীবন বাজি রেখেছে তাদেরকে প্রয়োজনে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বরাদ্দ করতে পারে সরকার। কিন্তু নাতি, তার নাতি এরপর তার নাতি এগুলো কি?
আল কাশিম
কোটা চিরদিনের জন্য উঠিয়ে দেয়া উচিত। একটা স্বাধীন দেশে কোটা ব্যবস্থা থাকতে পারে না।
জাহান সূচী
এতো কিছু না করে যাদের কোটা আছে শুধু তারাই চাকরি করুক। আর আমরা ময়লা টোকাই।
আতিকুর রহমান
দেশ ছাড়ার উপযুক্ত সময়। সবক্ষেত্রেই আয়করের হার উচ্চ।
জামাল উদ্দীন
সারা বাংলাদেশের মানুষ এই কোটা প্রথার বিপক্ষে।
নীরব পথিক গিয়াস
সবকোটা নিপাত যাক...মেধাবীরা মুক্তি পাক...!
শাফায়েত হোসেন
প্রয়োজনে গণভোট চাই কোটা বাতিল চাই জাতি আর কতদিন বহন করবে এই অভিশাপ।
মোহাম্মদ ইকবাল
কোটা মেধাবী জাতি ধ্বংসের নীল-নকশা।
আলী আক্কাস
স্বাধীনতার এত বছর পর কোটা থাকাটা ঠিক না
শামসুল আলম
শুধুমাত্র বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা থাকা দরকার।
ওমর ফারুক
কোটা পদ্ধতি দেশকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে।
শিশির বাবু
বিপক্ষে আবার কি মত আছে? আছে অপরাজনীতি, গোয়ার্তুমি ও পাশবিকতা।
মঞ্জুরুল হেলাল উৎপল
এখনি এই কোটা প্রথা প্রত্যাহার করা উচিত।
রাজু মহিউদ্দিন
সাধারণের মতামতের কোনো মূল্য নাই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোটা থাকবেই।
হাওলাদার মামুন
প্রতিবন্ধী ছাড়া সব কোটাই বতিল চাই।
মুজাক্কের আল ইক্তেহাদ আহমেদ
বেকার ভাতার ব্যবস্থা করুন
১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের কথা বলেছেন ওবায়দুল্লাহ, হাসান ও সুমন আহমেদ।
কোটা বাতিল না করে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন রাফিন শরীফ খান, রুহুল আমিন, শেখ দেলওয়ার গালিব, সাইফুল ইসলাম চঞ্চল, আল মামুন, মো. রোকনুজ্জামান রোকন, শামস আল আহমেদ হাসিন, হিরণ সিকদার।
কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের পক্ষে মতামত জানিয়েছেন রেজোয়ান হক, এসএম শায়েস্তা, হ্যাপি জামান, আশিক ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, আল মামুন, রোমানা খান রেশমী, আবু আনিস, তানজিল আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, সাঈদ হক, মাসুদ রানা, জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইদ হক, ইসহাক মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন, আবুল মনসুর, নাঈম, ফেরদৌস, মিজান আহমেদ ও এরশাদ মিয়া।

জাহিদ হাসান
যে দেশে ৫৬ শতাংশই কোটা সে দেশ মেধার মূল্য কিভাবে বুঝবে? কোটার মাধ্যমে মেধাবীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই কোটা মেধাবী তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে। কোটা যদি রাখতেই হয় তাহলে ১৫ শতাংশ কোটা রাখা যেতে পারে। কোটা প্রথার মাধ্যমে সঠিক জায়গায় যোগ্য লোক যেতে পারছে না। ফলে দেশ মূল ধারার উন্নয়ন থেকে অনেক পিছিয়ে। আমরা কোটা সংস্কারের জন্য যে আন্দোলন করছি সে আন্দোলন মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে নয়।
আশরাফুল ইসলাম
মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য। তাই কোটা বৈষম্য ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জনবহুল এই বাংলাদেশে যেখানে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার যোগ্যতা থাকার পরেও চাকরি না পাওয়ায় হাহাকার করে সেখানে কোটা পদ্ধতির মতো বিলাসিতা মানায় না।
ইমদাদুল হক মুকুল
মুক্তিযোদ্ধারা চেয়েছিলেন এদেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না, ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি থাকবে না। দেশকে মুক্ত করার জন্য যিনি রক্ত দিতে জানেন তিনি কোনো বৈষম্যবাদী নন। এমনকি নিজের সন্তানের ক্ষেত্রেও নন। তাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস স্বাধীনতার চেতনাকামী মুক্তিযোদ্ধারাও কোটা পদ্ধতিতে কোনো ফায়দা উসুলের পক্ষপাতী নন। বরং সন্তানের চাকরি তার মেধার যোগ্যতায় অর্জন করুক এটাই তাদের প্রত্যাশা বলে মনে করি। দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা এদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের চেয়ে একটু বেশি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করুক আমরা কামনা করি। আমরা মুক্তিযুদ্ধার সন্তান না হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের ভেতরে আছে। মুক্তিযুদ্ধাদের, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সুযোগ দিতে শিক্ষায় কোটা করে কেন? অন্যভাবে কি দেয়া যায় না? রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ৩০% বা ৫০% অধিকার দেন আমার/আমাদের বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পোষণকারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোটা দিলে এদেশের রাজনীতিও এখনকার মতো এতটা প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।
আদিব আল হাকীম
সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে’
(১) সব নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন;
(২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধা দান নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;
(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।’
উপরোক্ত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল নাগরিকই সমান অধিকার পাবেন, এই সমতা প্রদান নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র (সরকার)। কোটা প্রথার মূল লক্ষ্য একটা পিছিয়ে পরা জাতিগোষ্ঠীকে অগ্রসর করা, বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের এটিই নিয়ম। পিছিয়ে পড়া জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের পর ক্ষতিগ্রস্ত, সর্বহারা, পাহাড়ি আদিবাসী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ইত্যাদিই পাওয়া যায়। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী শুধু মুক্তিযোদ্ধারাই নন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, যেসব ছেলেরা দরিদ্র, অর্থ ও অন্ন কষ্ট উপেক্ষা করে মেসে থেকে প্রাইভেট পড়িয়ে অনার্স, মাস্টার্স ও বিসিএস পাস করে সে কি অনগ্রসর নয়? আজ দেশ চলছে, দেশের মতো শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চলছে না ভালো মতো, নানান প্রতিবন্ধকতায় ঝরে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থী। অনেকেই আবার হাল ছেড়েই দিচ্ছে এই ভেবে “কি লাভ এই পড়ালেখা করে!, না কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, না আমার মামা খালু আছে, না আমার টাকা আছে এমনকি একটা কোটাও নেই!” বড়ই পরিতাপের বিষয়, এই কোটা প্রথা নামে মেধার অবমূল্যায়ন, এই কোটা প্রথার ক্ষমতায় অযোগ্য লোক নিয়োগ, এই কোটা প্রথার নামে দলীয়করণ, বড়ই আফসোস এর!
আমিনুল ইসলাম বাবু
দাউদ হায়দার বলেছিলেন, জন্মই আমার আজন্ম পাপ। বঙ্গবুন্ধু যেটা সাময়িক সময়ের জন্য করেছিলেন সেটা কেন দীর্ঘস্থায়ী হলো? স্বাধীন দেশে জন্ম নিয়ে আমি কি কোনো পাপ করেছি ?
মোহাম্মদ শাহাদাত
আমি দুবাই প্রবাসী। আমি সম্পূর্ণরূপে কোটাবিরোধী। আমিও একজন ভালো ছাত্র ছিলাম, কিন্তু আমাদের দেশের প্রচলিত কোটার কারণে আর মামা খালু না থাকায় আজকে আমাকে প্রবাসী হতে হয়েছে। অথচ, আমার মেধা আর শ্রম যদি আমার দেশ ব্যবহার করতো; আমি যদি দেশ সেবার মহান সুযোগ পেতাম তাহলে আমিও নিজেকে উজাড় করে দিতাম এবং দেশও উপকৃত হতো।
কোটার পরিবর্তে একটা নাম্বারিং সিস্টেম চালু করা যায়। সেটা হলো, প্রতিবন্ধীদের ১০ নম্বর, মুক্তিযোদ্ধা এবং উপজাতীদের ৫ নম্বরের গ্রেস দেয়া। অর্থাৎ, লিখিত পরীক্ষায় তাদের প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে ১০ এবং ৫ নম্বর গ্রেস পেতে পারে তারা। তাহলে তাদের মধ্যেও প্রতিযোগিতার একটা মনোভাব তৈরি হবে এবং লেখাপড়া করবে। আর কোটাহীনরা তো অবশ্যই পড়ালেখা করেই, প্রতিযোগিতা করেই আসবে। তাহলে দেশ মেধাবীদের সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না এবং মেধাহীনদের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে না।
মুহাম্মদ উল্লাহ শাহীন
কোটার কারণে মেধার মূল্যায়ন হয় না। এছাড়া দেশে দুর্নীতি বাড়ার অন্যতম কারণ এটা।
আমিরুল ইসলাম
কোটাপ্রথা অবশ্যই পরিবর্তন প্রয়োজন। কোটা প্রথার কারণে আমরা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। বর্তমানে আমরা মুক্ত। কিন্তু কোটা প্রথা রয়ে গেছে।
শামির
মেধাবী প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে যেটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। মেধাবীদের অবমূল্যায়ন করে দেশকে এগিয়ে নেয়া একেবারেই অসম্ভব।
রাজিয়া সুলতানা
কোটাধারীদের জন্য এতবেশি সুযোগ আছে। অথচ প্রার্থী নেই। তার মানে কোটার প্রয়োজন নেই।
মাজিদ ইকবাল খান
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা প্রয়োজন।
এম হোসাইন
কোটা বাতিল করা দরকার। কেন না কোটার কারণে অনেকে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কোটার রাজনৈতিক ব্যবহার হচ্ছে।
রাসেল আমিন
আমি ব্যবস্থাপনাতে বিবিএ শেষ করে এখন এমবিএ করছি। আমি ৫৬ ভাগ কোটার পক্ষে আছি। কারণ এটি মেধাবীদের প্রতি জুলুম করা হচ্ছে। আমি আন্দোলনকারীদের পক্ষে আছি।
আবদুল কাদের
কোটার প্রয়োজন নেই। মুক্তিযোদ্ধারা কোটার জন্য যুদ্ধ করেননি। সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক জায়গায় প্রয়োজন।
জাহিদ
মতামত আর কি দিব? প্রধানমন্ত্রীতো বলে দিয়েছেন কোটা ব্যবস্থা থাকবে। এখন আন্দোলন করা ছাড়া বিকল্প পথ নাই।
করিম
মেধাবীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে!
আমিনুর রহমান
যারা কোটা বাতিলের জন্য লম্ফঝম্ফ কেরে তারা জানে না এটা প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং মেধাবীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে যে কারণগুলো তার অন্যতম হলোÑ ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও প্রশ্ন ফাঁস। মেধা কোটার অধিকাংশই ‘ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও প্রশ্ন ফাঁস’ নামক অলিখিত কোটার পেটে যাচ্ছে। ওটা রাতকানারা দেখে না। এ ছাড়া চাকরির বয়স নামক অযৌক্তিক বেড়ায় আটকে আছে লাখ লাখ যোগ্য ও মেধাবী মুখ। তাই আসুন ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ৩০ বছরের বেড়া ভাঙতে সচেতন ও সক্রিয় হই।
সাবের মিঞা
কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা প্রয়োজন। সরকার বলেছে, প্রতিটি পরিবারে একটি করে চাকরি দিবে। কিন্তু আমরা সাত ভাই কেউ কোনো চাকরি পাইনি।
আবু বকর চৌধুরী
আমরা মেধা সমর্থন করি।
আলিম উদ্দীন
কোটা চাই না।
এইচ এম রহমান
মেধার ভিত্তিতে নিয়োগই কেবল একটি উন্নত জাতি ও রাষ্ট্র গঠনে সাহায্য করতে পারে।
আকতারুজ্জামান আপন
দেশের জন্য জনগণ, আর জনগণের জন্য সরকার, সরকার যদি এই কথা চিন্তা করেন। তাহলে কোটা সংস্কার দরকার।
আফরোজ ইসলাম
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেখানো এবং তাদের পরিবারকে যথাযথ সুযোগ সুবিধা দেয়া যেমন সরকারের দায়িত্ব ঠিক তেমনি মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও সরকারের কর্তব্য। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে যথাযথ সুযোগ দিতে গিয়ে তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কোটা দেয়ার প্রয়োজন আছে, তবে তা সহনীয় পর্যায় পর্যন্ত। পৃথীবিতে হয়তো এমন কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা। কোটার কারণে শিক্ষা জীবনেই হোঁচট খেতে হয় মেধাবী শিক্ষার্থীদের।
কাজী
কোটা ব্যবস্থা একই যোগ্যতা সম্পন্ন দুই প্রার্থীর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রযোজ্য হতে পারে। অযোগ্য উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো বিশেষ চাকরি কোটা বরাদ্দ থাকতে পারে না। এতে দেশের প্রশাসন মেধা শূন্য হয়ে পড়বে।
সায়েম
যোগ্য প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য মেধার বিকল্প কোটা হতে পারে? একটি দেশের কোটা ৫-১০% হতে পারে কিন্তু ৫৬%!
সৈয়দ রবিউল ইসলাম
কোটা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছিল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনার জন্য। এ ব্যবস্থা ছিল একটি মহতী উদ্যোগ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন সেই পরিস্থিতি দেশে নেই। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সেরা সন্তান তাঁদের অবশ্যই মর্যাদা এবং সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যান্য সুবিধা বাড়িয়ে তাঁদের কোটা হালনাগাদ করা যায়। উপজাতিদের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের কোটা যৌক্তিক করা যায়। মহিলাদের অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। মহিলা কোটা যৌক্তিক করা যায়। প্রতিবন্ধী কোটার আবশ্যকতা আছে। মেধা কোটা বৃদ্ধি করা দরকার।
মহিউদ্দিন ভুঁইঞা
কোটা প্রথা হচ্ছে যৌতুকের মতো, কোটা দেশকে মেধা শূন্য করছে, মেধাকে অগ্রাধিকার দিন, কোটা প্রথা বাতিল করুন, দেশকে এগিয়ে নিন। সোনার বাংলা গড়ুন। ইনশাআল্লাহ সোনার বাংলা এগিয়ে যাবে।
এস আলম
কোটা পদ্ধতির একটা বড় বাজে দিক হচ্ছে, অসংখ্য মেধাবী মানুষ এর ফলে দেশ সেবায় নিজের মেধা, যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে পারছে না। মেধার মূল্যায়ন যে দেশে হয় না, সে দেশে মেধাবী মানুষের জন্ম হবে না। দেশের মেধার একটা বড় অংশ তখন বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে চলে যাবে। ক্ষতি তো আলটিমেটলি দেশের। আমার বিশ্বাস ১৯৭১-এ আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা, তাদের সন্তান, নাতিপুতি সহজে সরকারি চাকরি পাবে, এই নিয়তে দেশ স্বাধীন করার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেন নি, বা যুদ্ধ করেননি। দেশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মর্যাদা দিয়েছে, তাদের সন্তানদের মর্যাদা দেয়ার কোনো দরকার আছে বলে মনে করি না। এসব করে দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ বাড়ানো হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মানুষের সম্মানকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যোগ্যরাই দেশ চালাক, সেই স্বপ্ন থেকেই কোটা পদ্ধতির সংস্কার চাই।
অ্যাডভোকেট আমিন আহমেদ
৫৬ ভাগ কোটা? ভাবা যায়! একটা সভ্য সুশিক্ষিত সমাজে এভাবে মেধার কবর রচনা হতে দেয়া যায় না। মেধাবীরা সুযোগ না পেলে মেধা পাচার হবেই। এতে পিছাবে দেশ, পিছাবে জাতি। আমরা পিছাতে চাইনা, এগিয়ে যেতে চাই দুর্বার গতিতে। তাই কোটা ব্যবস্থার সংস্কার অতীব জরুরি।
কামরুল
কোটা ব্যবস্থা আমার কাছে বিষের মতো। আমি এটাকে চরম ঘৃণা করি। কারণ, এর দ্বারা মেধাবীদের ধ্বংস করা হচ্ছে।
আবুল হাসনাত
কোটা প্রথা সাময়িক বিষয়, কিন্তু আমাদের দেশে মনে হচ্ছে চিরস্থায়ী ব্যবস্থা। যদি সার্বিক বিবেচনায় রাখতে হয় তাহলে সর্বোচ্চ ২৫ ভাগের বেশি নয়।
নূর আলম মামুন
মেধাবী এবং আগামীর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য কোটা একান্ত জরুরি।
মো. আমলাক আলী
কোটা মুক্ত বাংলাদেশ অবশ্যই চাই, সেই সঙ্গে চাই ঘুষ মুক্ত চাকরি।
নাজ
কোটা থাকা উচিত নয়। শুধু মেধাকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছুটা কোটা থাকতে পারে, তা কি তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য? তারা কি দেশকে বাঁচানোর জন্য রক্ষা করার জন্য নাকি কোটার জন্য?
ডা. মাজিদ
কোটা পদ্ধতি এখনই বন্ধ করা উচিত।
আবদুল কাদির
এটা দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের বিরোধী।
শফিকুল ইসলাম
কোটার কারণে স্বাধীন দেশে নিজেকে পরাধীন মনে হয়।
কাজী আনিসুর রহমান
কোটা পদ্ধতি আমাদের সকল প্রকার অর্জনকে ধ্বংস করে দেয়।
সামিরুল ইসলাম
প্রথমত মেধাবী প্রার্থীদের চরম ভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যেটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। মেধাবীদের অবমূল্যায়ন করে দেশকে এগিয়ে নেয়া একেবারেই অসম্ভব। দ্বিতীয়ত কোটা পদ্ধতি আমাদের মহান সংবিধানের সঙ্গে শতভাগ সাংঘর্ষিক যেটা আমরা যুগের পর যুগ টানতে পারি না। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুযায়ী শুধুমাত্র জেলা কোটা রাখা যেতে পারে।
মমতাজ
কোটা নয় মেধাভিত্তিক চাই।
রাকিব ইমন
কোটা প্রথার কারণে লাখ লাখ মেধাবী সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়ে বেকার ও মানবেতর জীবন যাপন করেছে। আমি কোটাপ্রথা বাতিল চাই।
মো. আশিকুর রহমান
কোটা রহিত হোক এটা আমার মত।
মোহাম্মদ ইউসুফ
বৈষম্য প্রশমিত করার প্রত্যয় নিয়ে কোটা পদ্ধতি চালু হলেও এখন ‘কোটা’ পদ্ধতিই বৈষম্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে! যে রাষ্ট্র প্রতিবন্ধীদের দায়িত্ব নিতে পারে কিন্তু মেধাবীদের দায়িত্ব নিতে পারে না সেই দেশে মেধাবীর জন্মই অবান্তর নয় কি? বাংলাদেশ যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিনেও মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ কখনোই শোধ হবার নয়। তাই ওনাদের সন্তানদের কোটা বলবৎ থাকুক কিন্তু নাতি-নাতনিদের নয়। প্রয়োজনে ওনাদেরকে রাষ্টীয় কোষাগার থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হোক। তবুও মেধার জায়গায় মোটা মাথা কাম্য নয়।
এমএস এইচ চৌধুরী
কোটা পদ্ধতি দ্রুত সংস্কার করে যোগ্য ব্যক্তিকে যথাযথ স্থানে বসানো উচিত। যোগ্য ব্যক্তির পরিচালনা দ্বারাই একটা ভালো জেনারেশন তৈরি হতে পারে। কোটা বাদ দিয়ে যদি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে আমাদের দেশের দ্রুত উন্নয়ন হবে।
জুয়েল রানা
আমি কোটা পদ্ধতিকে চরমভাবে ঘৃণা করি। কোটা সংস্কারের পাশাপাশি আরো বলতে চাই, চাকরির ক্ষেত্রে মামা, খালু, দুলাভাই এমনকি দালাল ঘুষখোরদের হাত থেকে যোগ্য মেধাবীদের রক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছি।
এসকে লোকমান হোসেন
বর্তমান শেখ হাসিনার সরকারের দেশের শিক্ষার সঙ্গে সব কিছুর উন্নয়ন হচ্ছে। একজন ব্যক্তির লেখাপড়া শেষ করতে কমপক্ষে ৩০ বছর সময় লাগে। তার জন্য বাবা মা’র যে কতটুক শ্রম দিতে হয় তা লেখাপড়া যারা করান তারা ভালোভাবেই জানেন। তার পর যদি সেই সন্তানের চাকরি না হয়। তা হলে সেই সন্তানের করার আর কী আছে। তখনই তারা খারাপ পথে চলে যায়। আর যদি লেখাপড়া শেষে চাকরি হয়ে যায় তা হলে তার কোনো খারাপ চিন্তা মাথায় থাকে না। তাই আমার অনুরোধ বর্তমান সরকার তাদের চিন্তা করে সবাইর জন্য চাকরির ব্যবস্থা করবেন।
আনোয়ার আহমেদ
কোটা ব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়ে মেধার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ দেয়া উচিত! এভাবে চললে মেধা ধ্বংস হয়ে যাবে।
নাজমুল হাসান
মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবস্থা অবশ্যই থাকা উচিত, কিন্তু সেটা শুধুমাত্র তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীর জন্য। বিসিএস শুধু মেধাবীদের জন্য। এখানে কোনো ছাড় দেয় যাবে না।
সাফায়েত
বর্তমানে কোনো ভাবেই কোটাকে গ্রহণ করা সম্ভব না, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আমরা কেন কোটার কারণে বঞ্চিত হব।
আকরাম হোসাইন
আমার মনে হয় যেহেতু প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানেই পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকবলের অভাব। তাই কোটার সঙ্গে সঙ্গে মেধাভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার দ্বিগুণ পরিমাণ লোকবল নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করলে হয়তো কাজকর্ম সঠিকভাবে সম্পাদিত হবে। কারণ প্রায়ই শোনা যায় লোকবলের কারণে কার্য সম্পাদন যথাসময়ে সম্পন্ন হয় না। তাই প্রথমেই বিবেচনা করা উচিত প্রতিষ্ঠানের কার্যপরিধি এবং পরে বিবেচনা করা উচিত কি পরিমাণ লোকবলের দরকার। অতঃপর কোনরকম গড়িমসি না করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা দূর করে একটি আধুনিক ও দ্রুত সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। যা কিনা জনগণ তথা দেশের কল্যাণ বয়ে আনবে।
টিএম সোহাগ
আমার কাছে যৌতুকপ্রথা যেমন, চাকরির ক্ষেত্রে ৫৬ ভাগ কোটা ব্যবস্থা তেমন।
মো. ওয়াসিম
কোটা ব্যবস্থা সংস্কার কেন জরুরি? বর্তমানে কোটা ব্যবস্থা অনগ্রসর করার এক নীল নকশা বলে আমি মনে করি। কারণ পোষ্য ও মুক্তিযোদ্ধা কোটার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই এবং এটি সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। জেলা কোটাও বর্তমানে এক শ্রেণির সুবিধাই প্রকাশ করে। যেমন ঢাকা জেলা ৮ দশমিক ৩৬ ভাগ, অন্যদিকে দরিদ্র কুড়িগ্রাম ১ দশমিক ৪৪ ভাগ, বান্দরবন শূন্য দশমিক ২৭ ভাগ, উপজাতি কোটার প্রয়োজন আছে তবে এত বেশি নয়। ১ দশমিক ১৩ ভাগ, ৫ ভাগ কোটা যা সংস্কার জরুরি। নারী কোটা সংস্কার করে একটু কমানো উচিত বলে আমি মনে করি। আর প্রাইমারি শিক্ষাকে ধ্বংস করতে না চাইলে এর নিয়োগ বিধি সম্পূর্ণ রূপে সংস্কার করা উচিত বলে আমি মনে করি। আর অন্যান্য কোটা বাতিল করা সময়ের সঙ্গে অগ্রগতি সাধনের অন্যতম পথই নির্দেশ করবে বলে আশা করি।
আমিনুল ইসলাম
কোটা নয় মেধাভিত্তিক চাই। কোটা দ্বারা মেধাবীদের ধ্বংস করা হচ্ছে।
মীর নজরুল
কোটাপ্রথা বিলীন করা উচিত। চাকরির ক্ষেত্রে মেধা আর যোগ্যতার পরীক্ষায় যারা নির্বাচিত হয়ে আসবে তারাই প্রকৃত যোগ্য।
সঞ্জয় হালদার
আমি কোটা পদ্ধতিকে চরমভাবে ঘৃণা করি।
শফিক আহমেদ
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে দেশকে বা একটা জাতিকে এগিয়ে নিতে মেধার বিকল্প আরো বেশি মেধা। খুব সাদমাটা ভাবে দেখলে জাতীয় বাজেটের উন্নয়ন ব্যয়ের একটা বৃহত্তম অংশ প্রতি বছর অব্যয়িত থাকতে দেখা যাচ্ছে। আর যা ব্যয় হচ্ছে সেটাও পুরোই দুর্নীতি আর অপব্যয় ছাড়া কিছুই নয়।
সাইফুল ইসলাম
কোটা নয় মেধাভিত্তি চাই।
আল হাছনাত
কোটা সংস্কার জরুরি কিন্তু সরকার মনে হয় সংস্কার করবে না। কারণ এতগুলো আন্দোনলের পরেও কোনো বিবৃতি দিল না যেটা তরুণদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক। সরকার কিসের জন্য সংস্কার করছে না এটা আমাদের জানা নেই। কিন্তু সংস্কার না কারার পিছনে যে সরকারের দুর্বলতা আছে সেটা নিশ্চিত। সরকারের যত বড়ই দুর্বলতা থাকুক না কেন তরুণদের এভাবে হতাশ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আর সর্বোচ্চ ৩ ভাগ মানুষ ৭১ এর পর থেকে আজ পর্যন্ত ৫০ বছর ৫৬ থেকে ৭০ ভাগ কোটা ভোগ করে আসছে। এই ৩ ভাগ পিছিয়ে পড়া জাতি আজ এতটাই এগিয়ে যে আজকেই যদি কোটা বন্ধ করে দেয়া হয় তবে ৯৭ ভাগ মানুষ তাদের সমান হতে ১০০ বছরেরও বেশি সময় লাগবে। এর পরো যদি সরকার বলে ৩ ভাগ এখনো পিছিয়ে আছে তবে এই ৩ ভাগকে আগামী ৫০০ বছর ১০০ ভাগ কোটা প্রদান করলেও তারা তাদের অবস্থার উন্নয়ন করতে পারবে না।
শেখ আব্দুল মালেক
দেশ প্রকৃত মেধাবী আমলা পাচ্ছে না। দ্বিতীয়/তৃতীয় শ্রেণির লোক প্রথম শ্রেণির চাকরি করছে আর প্রথম শ্রেণির লোক বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে যেমন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এর পরিবর্তে নাতি-নাতনি পাচ্ছে।
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
কোটা ব্যবস্থা আমার কাছে বিষের মতো। আমি এটাকে চরম ঘৃণা করি। কারণ এর দ্বারা মেধাবীদের ধ্বংস করা হচ্ছে।

ফেসবুকে প্রেম, বিয়ে অতঃপর... by তামান্না মোমিন খান

ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম। এরপর বিয়ে। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই বিচ্ছেদ। যূথী আর হুমায়ূনের এমনই প্রেমকাহিনী। এখন হুমায়ুন সৌদি আরবে। যূথী বাংলাদেশে। যূথী বিষয়টির প্রতিকার চান নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে। সেখানেই কথা হয় তার সঙ্গে। যূথী জানান, ফেসবুকে তাকে প্রথম দেখে হুমায়ুন। সামনাসামনি না দেখেই যূথীর প্রেমে পড়ে যান তিনি। একাধিকবার    যূথীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান হুমায়ুন। অনুরোধ করেন একবারের জন্য হলেও তার সঙ্গে কথা বলতে। অচেনা কারো সঙ্গে কথা বলতে রাজি ছিলেন না যূথী। এ কারণে  যূথী হুমায়ুনের বার্তার উত্তর দিতেন না। কিন্তু নাছোড়বান্দা হুমায়ুন সকাল-বিকাল বার্তা পাঠাতেই থাকেন। বিরক্ত হয়েই একদিন যূথী জানতে চায় হুমায়ুনের বাড়ি কোথায়? হুমায়ুন জানান, তার বাড়ি মাদারীপুর। যূথীর বাড়িও মাদারীপুর। এলাকার ছেলে জেনে যূথী হুমায়ুনের ওপর আস্থা রাখেন। এরপর থেকে তাদের নিয়মিত কথা হতো  ভিডিও কল ও  মেসেঞ্জারে। এভাবেই কেটে যায় পাঁচ মাস। যূথী হুমায়ুনের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু যূথীকে না দেখেই সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন হুমায়ুন। শর্ত দেন তা পরিবারকে জানানো যাবে না। বিয়ের পর পরিবারকে জানানো হবে যূথীকে এমনটাই বলেছিলেন হুমায়ুন। বিয়ের কথা পরিবারের কাছে গোপন রাখতে রাজি হলেও সামনে না দেখে বিয়ে করতে রাজি হয় না যূথী। এরপর গত বছরের ২৬শে জানুয়ারি প্রথম দেখা হয় যূথী ও হুমায়ুনের। দেখা হওয়ার তিনদিন পর ২৯শে জানুয়ারি পরিবারকে না জানিয়ে মাদারীপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গোপনে বিয়ে করেন যূথী ও হুমায়ুন। দেনমোহর ধার্য করা হয় তিন লাখ টাকা। বিয়ের পর দুজনে মাদারীপুর থেকে সোজা ঢাকায় যূথীর বোনের বাড়িতে এসে  উঠেন। যূথী আর হুমায়ুনের দিন ভালোই কাটছিল। এর মধ্যে হুমায়ূনকে বিয়ের কথা তার বাড়িতে জানাতে চাপ দেন যূথী। বিয়ের দশদিন পর  হুমায়ুন যূথীকে এসে হঠাৎ জানান পরের সপ্তাহে তিনি সৌদি আরব চলে যাচ্ছেন। বিদেশে গিয়ে তিনি তার পরিবারকে বিয়ের কথা জানাবেন। ১৭ই ফেব্রুয়ারি  হুমায়ুন সৌদি আরব চলে যান। বিদেশে যাওয়ার পর মাসখানেক যূথীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো হুমায়ুনের। এরপরই ফোন করা কমিয়ে দেয় হমায়ুন। যূথী যখনই পরিবারের কাছে তাদের বিয়ের কথা জানাতে বলতেন হুমায়ুন বলতেন দেশে ফিরে এসে বলবেন। একসময় হুমায়ুন বলেন, যূথী তার চেয়ে ছয় বছরের বড়। ছেলের চেয়ে বয়সে  বড় বউ তার পরিবার মেনে নেবে না। এরপর থেকে যূথীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। যূথী বলেন, বার বার চেষ্টা করেও হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছি। বিদেশে যাবার আগে হুমায়ুনের মোবাইল ফোন থেকে তার মা ও ভাইয়ের মোবাইল নম্বর রেখে দিয়েছিলাম।  কোনো পথ না পেয়ে বাধ্য হয়ে হুমায়ুনের মায়ের কাছে ফোন করে সব জানিয়েছি।  হুমায়ুনের মা উল্টো আমাকে চরিত্রহীন বলে অপবাদ দিয়েছেন। তার বাচ্চা ছেলেকে ফাঁসিয়েছি বলে গালিগালাজ করেন। আমি তো কিছু লুকাইনি। বিয়ের আগেই এ জন্য আমি ওর সঙ্গে বার বার দেখা করতে চেয়েছি। কিন্তু হুমায়ুন বলেছে, সে শুধু আমাকে ভালোবাসে আর কিছু জানতে চায় না। বিয়ের কাবিননামাতে আমার জন্ম সাল ১৯৮৮ আর হুমায়ুনের জন্ম সাল ১৯৯৪ দেয়া আছে। তাহলে তখন  কেন সে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হলো। বিয়ের পর সে এসব কথা কেন বলছে? আমি যাকে ভালোবেসেছি তার সঙ্গেই সংসার করতে চাই। আমি এখনো অপেক্ষায় আছি হুমায়ুন আমার কাছে ফিরে আসবে।

উত্তরায় ফের সক্রিয় কিশোর গ্যাং ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে নাবিল by মরিয়ম চম্পা

ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছিল হত্যার। এরপরই কিশোর নাবিলকে ডেকে নিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল একটি কিশোর গ্যাং। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে এ স্কুলছাত্র। হত্যা চেষ্টাকারী জীবন ঢালী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং উত্তরার একটি কিশোর গ্যাং-এর সদস্য। ওই শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত বলে দাবি করেছে তার পরিবার। অপরদিকে নাবিলকে হত্যা চেষ্টার প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে অন্য একটি কিশোর গ্রুপ। গত ২০শে    মার্চ ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে নাবিল মোবারক (১৪) নামে ওই স্কুলছাত্রকে হত্যার চেষ্টা চালায় জীবন ঢালী। উত্তরা মাইলস্টোন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাবিলের মা নাজিহা চৌধুরী জানান, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। উত্তরা হাইস্কুলের পাশে প্রায় তিনটি কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। হত্যাচেষ্টাকারী জীবন ঢালী তাদেরই একজন। উত্তরার স্কুলছাত্র আদনান কবির হত্যার এক বছর হয়ে গেলেও সঠিক বিচার না হওয়ায় একই ধরনের ঘটনা দেখতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গত ২০ বছর ধরে নাবিলের বাবাসহ পুরো পরিবার সৌদি আরবেই ছিল। নাবিল ও তার ভাইবোন সৌদিতে বড় হয়েছে। ওরা বাংলায় খুব একটা কথা বলতে পারতো না। বেশ কিছুদিন হলো আরবি ভাষার পাশাপাশি বাংলা শিখেছে। গত ২০ থেকে একমাসের মতো নাবিলের সঙ্গে জীবনের সখ্য গড়ে ওঠে। উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১০ এর বি ৮নং বাসার পাশেই স্থানীয় একটি পার্কে বিকালে খেলতে গিয়ে জীবনের সঙ্গে নাবিলের পরিচয় হয়। তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টায় হঠাৎ করে আমার ফোনে জীবন ফোন দিয়ে নাবিলকে চাইলে এত রাতে ওকে দেয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিই। এর পরেও জীবন বলে প্লিজ আন্টি নাবিলের সঙ্গে মাত্র ১ মিনিট কথা বলবো। এরপর নাবিল তার সঙ্গে কথা বলে নিচে চলে যায়। রাত ৯টার দিকে নাবিলের একজন শিক্ষক ফোন করে জানান, নাবিল উত্তরার মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়নি হামলাকারী জীবন। এদিকে হামলাকারী জীবনের বড় ভাই শাওন ও তার পরিবারের লোকজন ঘটনার রাতে পারিবারিকভাবে মীমাংসা করতে চাইলেও আমরা তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিই নি বলে জানায় নাবিলের মা। এর পর থেকেই জীবন ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।
নাবিলের মা বলেন, ঘটনার পর দিন রাজু আহমেদ নামে এক ব্যক্তি আমাদের বাসার দারোয়ানকে তার একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে যায় যেখানে সাংবাদিক ক্লাব উত্তরা লেখা ছিল। এর কিছুক্ষণ পর আমাকে ফোন দিয়ে জানায় আমি জীবনের কাকু হই। যদি আপনারা প্রয়োজন মনে করেন তাহলে আমার এই নাম্বারে ফোন দিয়েন।
এদিকে নাবিলের বাবা মকছুদ আলী জানান, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দীউড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে ছিলেন। তিন বছর আগে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য দেশে আসেন। উত্তরায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় সেখানেই ফ্ল্যাট কিনে পরিবার নিয়ে উঠেন।  ছেলেমেয়ে সবাইকে স্কুলে ভর্তি করে দিই। ঘটনার দিন আমি পারিবারিক কাজে হবিগঞ্জ ছিলাম। ছেলের আহত হওয়ার ঘটনা শুনে সঙ্গে  সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসি। তখন পর্যন্তও আমার ছেলে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিল। এমনকি ঢামেকের ডাক্তাররা পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলতে পারেনি যে ও বাঁচবে নাকি মারা যাবে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের চার নম্বর সড়কের ৫৪ নম্বর বাড়ির ছাদে এ ঘটনা ঘটে। নাবিলের থুঁতনি, গাল, গলা, তলপেট, হাত ও পিঠে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার একদিন পর নাবিল মোবারকের বাবা মকছুদ আলী উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ৩৭।
ঘটনার বিষয়ে নাবিল জানায়, জীবনের সঙ্গে মাসখানিক ধরে আমার বন্ধুত্ব। সে আমার চেয়ে বয়সে বড়। দশম শ্রেণিতে পরলেও সে ক্লাসে ছিল অনিয়মিত। তবে সে আমাকে খুব পছন্দ করতো। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের পার্কে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এরপর সে প্রায়ই ফোন দিতো। মঙ্গলবার ফোন দিয়ে আমাকে তার বাসায় ডাকে। জীবনের বাবার একটি মোটরসাইকেল আছে, সেটি চালানোর জন্য আমাকে যেতে বলে। এরপর আমি যাই। কিছুক্ষণ ঘোরাফেরার পর সে আমাকে বলে, ‘এখানে বাবা দেখে ফেলবে, আমাদের ছাদে চলো।’ এরপর আমি জীবনের সঙ্গে ওই বাসার ছাদে যাই। কিছুক্ষণ থাকার পর সে আমাকে ছাদে বসিয়ে রেখে ট্যাব আনার কথা বলে বাসায় যায়। বাসা থেকে আসার পর আমার হাতে ট্যাবটি দিলে আমি পানির ট্যাংকির ওপর বসে ট্যাবটি খুলে চালাতে থাকি। হঠাৎ করে জীবন পেছন থেকে আমার গলায় ছুরি দিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ বার আঘাত করে। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছাদে শুয়ে পড়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকলে জীবনের বড় ভাই এসে আমাকে উদ্ধার করেন। এ সময় জীবনের হাতে দুইটি ছুরি দেখতে পাই। পরে জীবনের ভাই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় জীবনকে মাদকাসক্ত মনে হয়েছে। আমাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে আসার সময় জীবন তার বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় সে ‘সবকে খুন করে ফেলবো’ বলে আমাকে আবারও হুমকি দেয়। তবে কী কারণে তার ওপরে হামলা করেছে জীবন, সে বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানায় নাবিল। নাবিল বলে, ‘আমি বুঝতে পারছি না কেন আমাকে সে হত্যা করতে চেয়েছিল।
নাবিলের ভাই নাইফ আহমেদ বলেন, নাবিলকে হামলার আগে নিজের ফেসবুকে খুনের হুমকি দিয়ে স্ট্যাটাস দেয় জীবন ঢালী (সায়ান আহমেদ)। ঘটনার পর ২৫শে মার্চ রোববার দুপুর ৩.৩৩ মিনিটে মেহেদি হাসান হিরা নামে জীবনের বড় ভাই তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জীবনের ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস দেন। যেখানে জীবনকে হাসপাতালের বেডে সাদা চাদর গায়ে অচেতন অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘আমার ছোট ভাই, জীবন বেশ কিছুদিন যাবৎ গুরুতর মানসিক অসুস্থ। মেডিকেলে ভর্তি আছে। সবাই আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।’ এ সময় তার কমেন্ট বক্সে অনেকেই তার সুস্থতা কামনা করলেও একজন জানতে চেয়েছে যে জীবন এখন কোন হাসপাতালে ভর্তি আছে। কমেন্টের কোন রিপলাই দেন নি জীবনের বড় ভাই মেহেদী হাসান হিরা।
নাবিল হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নাবিল ও জীবন পূর্বপরিচত। তাদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। কোনো একটি ঘটনা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এরই জেরে হয়তো এই ঘটনা ঘটেছে। তবে ভিকটিম নাবিল এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। সে সুস্থ হলে এর রহস্য জানা যাবে।’ অভিযুক্ত জীবন ঢালী (১৭) উত্তরার একটি স্কুলের দশম শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির নাগেরকান্দি গ্রামে। তার বাবার নাম শাহিন মিয়া। ঘটনার রাত ৮টা ৩২ মিনিটে জীবন তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেয়। সেখানে সে ইংরেজি বর্ণে লেখে ‘সব শালারে খুন কইরা লামু’। এরপরই নাবিলকে তার বাসার ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ঘটনার পর থেকে জীবন পলাতক রয়েছে। পুলিশ একাধিকবার তার বাসাসহ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালালেও তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এদিকে, উত্তরার কোনো গ্রুপের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে নাবিল। তাকে হত্যাচেষ্টার পর উত্তরার ‘ডিস্কো বয়েজ বাংলাদেশ’ গ্রুপ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে। যেখানেই জীবনকে পাওয়া যাবে, সেখানেই তাকে দাফন করার কথা বলা হয়েছে ওই গ্রুপে। নাবিলের পরিবারের কোনো  সহযোগিতা লাগবে কিনা, তাও জানতে চেয়েছে ওই গ্রুপের সদস্যরা। তবে ওই গ্রুপের সঙ্গে নাবিলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে নাবিলের পরিবার।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ই জানুয়ারি প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্যদের হামলায় মারা যায় আদনান কবির নামে এক কিশোর। ওই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কিশোররা স্বীকারোক্তি দেয় আদনান হত্যাকাণ্ডের আগে উত্তরার গ্যাংগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩রা জানুয়ারি ডিস্কো বয়েজ গ্রুপ ও বিগবস গ্রুপের সদস্যরা নাইন স্টার গ্রুপের গ্যাং লিডার রাজুকে মারধর করে। ৬ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়ির সামনে ডিস্কো বয়েজ গ্রুপ ও বিগবস গ্রুপের সদস্যরা নাইন স্টারের আদনান কবিরকে ধারালো অস্ত্র ও হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়। আসামিরা দাবি করে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নাইনস্টার গ্রুপর রাজু। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিরা জামিনে রয়েছে।

‘অন্যায়ভাবে কোন দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না’ -ড. কামাল হোসেন

গণফোরাম সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এদেশ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো দলের নয়, এদেশ জনগণের। এদেশে অন্যায় করে কেউ পার পায়নি। অন্যায় ভাবে কোনো দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। গত ৪৭ বছরে অনেকেই ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করেছে, কেউ পারে নাই। ভবিষ্যতেও কেউ পারবে না।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে গণফোরাম আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, নিজের দলের প্রতি এক রকম বিচার, বিরোধী দলের প্রতি আরেক রকম বিচার; এটা আইনের শাসন হয় না। এটা স্বৈরশাসন। বঙ্গবন্ধু স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের কথা বলে গেছেন, রাজতন্ত্রের কথা বলেননি। বঙ্গবন্ধু লিখে দিয়েছেন এদেশ চলবে গণতন্ত্রে, রাজতন্ত্রে নয়। এদেশ কখনো রাজার অধীনে থাকবে না। জনগণের প্রতিনিধিরা দেশ চালাবে। জনগণের প্রতিনিধি কারা- যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।
ড. কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে যে সংবিধান দিয়ে গেছেন সে সংবিধানের মূল কথা- দেশের মালিক জনগণ। একজন জনগণ হিসেবে আমি দেশের মালিক, আমার অধিকার আছে ভোট দিয়ে আমার প্রতিনিধি নির্বাচন করার। সে অধিকার থেকে আজ জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর লিখিত দলিলে (সংবিধানে) জনগণের যে স্বপ্নের কথা লেখা আছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা শোষণ করে, অর্থ আত্মসাৎ করে, দুর্নীতি করে- তারা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। কেউ যদি অন্যায়ভাবে দেশের সম্পদ আত্মসাৎ করে, পাচার করে-ক্ষমতায় থাকলেই তা কি কখনো বৈধ হয়ে যায়?
ড. কামাল প্রশ্ন রাখেন, স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানী শাসকরা যা করেছে, এখন যারা দেশ থেকে পুঁজি পাচার করছে, তারা কী একই কাজ করছে কী-না? তিনি জানতে চান, আমার বক্তব্য কোনো দলের সাথে বিরোধিতা নয়, তবে বঙ্গবন্ধু যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন সে দায়িত্ব থেকে আমরা কী মুক্ত থাকতে পারি? আমরা কী জনগণের সাথে বেঈমানি করতে পারি?
তিনি বলেন, আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। মানুষের মাঝে যেতে হবে, তাদের অধিকারের কথা বলতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলতেন, বড় অর্জনের জন্য প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ জাতি, এখন ঐক্যর ডাক পৌঁছে দিতে হবে। সবাই মনে করছে পেয়ে গেছি, হয়ে যাবে। কিন্তু এসব করে কেউ সাময়িকভাবে পার পেয়েছে; ভোগ করার সুযোগ পায়নি। মনে রাখবেন ঐক্যবদ্ধ হলে জনগণের জয় হবেই। এ সময় তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার কাজ করে যেন মরতে পারি।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মাদ মুনসুর, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, আবম মোস্তফা আমিন প্রমুখ।

কুয়েতে সাধারণ ক্ষমা: ফেরত আসছেন আট হাজার বাংলাদেশি by মিজানুর রহমান

কুয়েতে সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন ৮ হাজারের বেশি বাংলাদেশি। তাদের বেশির ভাগই দণ্ড ছাড়া কুয়েত ত্যাগের সুবিধা পেয়েছেন। এ সুযোগে বৈধ হওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা এক শ’ জনেরও কম! এমনটাই জানিয়েছে কুয়েত সিটিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। কাউন্সেলর মো. আনিসুজ্জামান গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে বলেন, গত জানুয়ারি থেকে কুয়েতে চলমান সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২২শে এপ্রিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবৈধ বা অনিয়মিত লোকজন এ সুযোগে অপরিহার্য শর্ত (কুয়েত সরকার আরোপিত) পূরণ করে বৈধ হয়েছে বা হচ্ছেন কিংবা দণ্ড    ছাড়া দেশে ফিরছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ১শ’ বাংলাদেশি সুযোগটি নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, যার মধ্যে ৮ হাজার বাংলাদেশিই দেশে ফিরে গেছেন। তারা এখানে হয়ত বৈধ হওয়ার চেষ্টা করেননি বা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩ হাজার জনের পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল। তারা চটজলদি কুয়েত ত্যাগ করতে পেরেছেন জানিয়ে কাউন্সেলর বলেন, বাকি ৫ হাজার বাংলাদেশির পাসপোর্ট বা অন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ছিল না বিধায় তাদের জরুরি ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। এদের অনেকেই দেশে ফিরে গেছেন। বাকিরা ফ্লাইট ধরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে কতজন বাংলাদেশি এ সুযোগে কুয়েত ছেড়েছেন তা জানতে দূতাবাসের তরফে দেশটির বিমানবন্দরের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ১০০ জনের কম বাংলাদেশি ক্ষমার সুযোগে বৈধতা নিয়েছেন জানিয়ে কাউন্সেলর বলেন, কিছু বাংলাদেশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। তবে সেই সংখ্যা ৫শ’ থেকে বড়জোর ৭-৮শ’ হবে। দূতাবাসের তরফে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নেয়ার বিষয়ে সচেতন করতে বিভিন্ন ধরনের  ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা কাউন্সেলর মো. আনিসুজ্জামান।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্ট মতে, কুয়েতে বসবাসকারী প্রতি তিনজন অবৈধ অভিবাসীর একজন সরকার ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন। সেই সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার। এরা বৈধ হয়েছেন না হয় কুয়েত ছেড়ে চলে গেছেন। কোন দেশের কত অবৈধ অভিবাসী সাধারণ ক্ষমার আওতায় বৈধ বা দণ্ড ছাড়া নিজ দেশে ফেরার সুযোগ নিয়েছেন তা প্রকাশ না করলেও কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে আবাসিক নিয়ম লঙ্ঘনকারীর তালিকায় রয়েছে পাঁচটি দেশ। তা হলো- ভারত, ফিলিপাইন, মিশর, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ। কুয়েতের ফিলিপাইন দূতাবাস এরই মধ্যে জানিয়েছে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাদের ৪ হাজার নাগরিক দেশে ফিরছেন।  প্রায় ৬ হাজার ফিলিপিনো কুয়েতে অবৈধ উপায়ে বসবাস করতেন। ওদিকে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেই শুরু হবে দমনপীড়ন। এর পরে যাদের ধরা হবে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, কুয়েতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। চলতি মাসের সূচনাতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞায় আরো কড়াকড়ি আরোপের খবর রেরিয়েছে।
নিজ খরচেই ফিরছেন বাংলাদেশিরা: কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন দু’টি ‘কঠিন’ শর্তে অবৈধ বা অনিয়মিত বিদেশিদের বৈধতার সুযোগ দিয়েছে কুয়েত সরকার। শর্তের মধ্যে রয়েছে- প্রথমত: অবৈধদের বৈধতার জন্য নিজের উদ্যোগে কফিল বা নিয়োগকর্তা যোগাড় করতে হবে। দ্বিতীয়ত: যে ক’দিন তারা দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন তার জন্য দৈনিক ২ দিরহাম করে সর্বোচ্চ ৬০০ দিরহাম জরিমানা গুনতে হবে। যারা এটি পূরণে ব্যর্থ হবেন তাদের অবশ্যই দেশে ফিরতে হবে। ঢাকার কর্মকর্তারা জানান, দূতাবাসের পাঠানো রিপোর্ট মতে, সাড়ে ৮ হাজার বাংলাদেশি ওই শর্ত পূরণ করতে পারেননি বা এটি পূরণের চেষ্টা করেননি। তারা দেশে ফিরছেন। তবে তাদের নিজ খরচে দেশে ফিরতে হচ্ছে। কুয়েত সরকার স্বেচ্ছায় এবং নিজ খরচে দেশে ফেরা বিদেশি শ্রমিকদের জন্যও একটি সুযোগও খোলা রেখেছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, তারা নতুন কফিল বা নিয়োগকর্তা যোগাড় করে ফের দেশটিতে যেতে অগ্রাধিকার পাবেন। কালো তালিকাভুক্ত হবেন না। বাংলাদেশিসহ অবৈধ বিদেশিদের অনেকে এটাকেও সুযোগ ভাবছেন বলে মনে করছেন বাংলাদেশি কূটনীতিকরা। তবে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে বিবদমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে ফিরে আসা ব্যক্তিরা সেই সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে কুয়েতে বাংলাদেশিরা যাচ্ছেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০০৭ সাল পর্যন্ত আনুমানিক ৪ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক নেয় কুয়েত। তবে, ’০৭ সালে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। নিয়োগে অনিয়ম এবং শ্রমিকদের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে সেই সময়। ২০১৪ সালে অবশ্য ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়। ’১৬ সালে ‘অনিয়ম’ সংক্রান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দেশটিতে পুরুষ গৃহকর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। গত বছরে এটি শিথিল হলেও চলতি মাসে বাংলাদেশিদের জন্য কিছু ভিসায় কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দেয় কুয়েত সরকার।

ইয়েমেন সংকট: কে কার সঙ্গে কেন লড়াই করছে?

মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন বসতি আর আরব বিশ্বের সবচেয়ে গরিব দেশ ইয়েমেন। গৃহযুদ্ধে দেশটি পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রোববারই ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি জোটের হস্তক্ষেপের তিনবছর পূর্তি হয়েছে। আর সেই উপলক্ষেই এই হামলা। হুতি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে, তার মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে।
ইয়েমেন থেকে হুতি বিদ্রোহীদের ছুড়ে মারা সাতটি মিসাইল গুলি করে ভূপাতিত করেছে সৌদি আরব। এর তিনটি মিসাইল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। মিসাইলের টুকরো নিচে পড়ার সময় একজন মিশরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের এই প্রাণঘাতী যুদ্ধ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। ওই প্রতিবেদনে ইয়েমেনে কেন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, কে কে যুদ্ধ করছে ও কেন, যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের কি মূল্য দিতে হচ্ছে আর এই যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের ভূমিকা কি তা তুলে ধরা হয়েছে।
যুদ্ধ কীভাবে শুরু হলো?
বিবিসি বাংলা’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের লড়াইয়ের শুরুটা হয় আরব বসন্ত দিয়ে, যার মাধ্যমে আসলে দেশটিতে স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা। ২০১১ সালে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহকে তার ডেপুটি আবদারাবুহ মানসুর হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য করে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট হাদিকে অনেকগুলো সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। আল কায়েদার হামলা, দক্ষিণে বিছিন্নতাবাদী আন্দোলন, সালেহ’র প্রতি অনেক সামরিক কর্মকর্তার আনুগত্য। এর বাইরে দুর্নীতি, বেকারত্ব আর খাদ্য সংকট তো রয়েছেই। আর নতুন প্রেসিডেন্টের দুর্বলতার সুযোগে ইয়েমেনের যাইডি শিয়া মুসলিম নেতৃত্বের হুতি আন্দোলনের কর্মীরা সাডা প্রদেশ এবং আশেপাশের এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ সময় অনেক সুন্নিরাও তাদের সমর্থন যোগায়। এরপর বিদ্রোহীরা সানা অঞ্চলেরও নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়। পরের মাসে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর এডেন থেকে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট হাদি।
হুতি আর নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহ’র প্রতি অনুগত। এরপর তারা পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে। তাদের পেছনে ইরান সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। এ পর্যায়ে হাদি দেশের বাইরে পালিয়ে যান। কিন্তু হাদিকে ইয়েমেনে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে সৌদি আরব আর অন্য আটটি সুন্নি দেশ একজোট হয়ে ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। এই জোটকে লজিস্টিক আর ইন্টেলিজেন্স সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আর ফ্রান্স।
বিদ্রোহী আর সরকারি বাহিনীর মধ্যে ফাটল
হুতি আর সালেহ একটি জোট গঠন করলেও সেখানে এর মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে সানার বড় মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি সশস্ত্র লড়াইয়ে বহু মানুষ হতাহত হয়। সালেহ তখন সৌদি আরবকে প্রস্তাব করেন যে, তারা যদি অবরোধ তুলে নেয় আর ইয়েমেনে হামলা বন্ধ করে, তাহলে নতুন সমপর্ক হতে পারে। হুতিরা পাল্টা জবাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে যে, তিনি এই জোটে কখনোই বিশ্বাস করতেন না। হুতিরা সানার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য অভিযান শুরু করে। ৪ঠা ডিসেম্বর তারা ঘোষণা দেয় যে, সালেহ রাজধানী থেকে পালানোর সময় নিহত হয়েছেন।
এর এক সপ্তাহ পরে সরকারি বাহিনীর মধ্যেও লড়াই বেধে যায়। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দাবি করে, ১৯৯০ সালে যে উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের যে ইউনিয়ন তৈরি হয়, সেটি ভেঙে আলাদা একটি রাষ্ট্র গঠন করা হবে। এ নিয়ে হাদির পক্ষের সৈন্যদের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়।
এ বছর জানুয়ারিতে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলার পর উত্তেজনা আরো বেড়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রী আহমেদ বিন ডাগারের পদত্যাগও দাবি করেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এডেনের সরকারি দপ্তর আর সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। ফলে এই পরিস্থিতি সৌদি জোটের মধ্যেও জটিলতার তৈরি করেছে। কারণ সৌদি আরব হাদিকে সমর্থন করছে। অন্যদিকে জোটের শরিক সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থন করছে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের।
সাধারণ মানুষদের কি মূল্য দিতে হচ্ছে?
জাতিসংঘ বলছে, সংক্ষেপে ইয়েমেনের পরিস্থিতি হলো, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব-সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়। গত তিন বছরে ৯ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
দেশটির ৭৫ শতাংশ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। অন্তত সোয়া কোটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা দরকার। প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষের জানা নেই, তাদের পরবর্তী বেলার খাবার জুটবে কিনা। পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪ লাখ শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে, যা তাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে। দেশটিতে স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়েছে, কলেরা আর ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়েছে।
ইয়েমেন সংকট নিয়ে সারা বিশ্ব কি করছে?
ইয়েমেনে যা কিছুই ঘটছে, তা যেন আঞ্চলিক দেশগুলোরই ব্যাপার। তবে দেশটি অস্থিরতার মধ্যে থাকলে তা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য হামলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। ইয়েমেনের আল কায়েদাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠন বলে আসছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। কারণ তাদের প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আছে। তবে ইয়েমেনের এই সংকটকে সৌদি আরব আর ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক ক্ষমতার লড়াই হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে কৌশলগত দিক থেকেও ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি বাব আল-মানডাবের ওপর বসে আছে, যা লোহিত সাগর আর গালফ অফ এডেনের সংযোগস্থল। আর এখান থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেলের সরবরাহ হয়ে থাকে।
(সূত্র: বিবিসি বাংলা)

মাহদি হত্যা: কাফনের কাপড় পরে শাবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ by ওয়েছ খছরু ও আরাফ আহমদ

মাহদি হত্যা ঘটনায় উত্তাল সিলেট। প্রতিবাদে কাফনের কাপড় পরে রাজপথে নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চেয়েছেন জীবনের নিরাপত্তা। গতকাল সকাল থেকে বিক্ষোভমুখর ছিল সিলেট মহানগর। পুলিশ জানিয়েছে, মাহদির খুনের ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান জোরদার করেছে। শিগগিরই পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। মাহদির পুরো নাম মাহিদ আল সালাম। বাড়ি সিলেটের মদিনা মার্কেট এলাকায়। শান্তশিষ্ট স্বভাবের মাহদি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক ছাত্র। সে অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স শেষ করেছে। ক্যাম্পাসের খুবই প্রিয় মুখ ছিল মাহদি। শিক্ষাজীবন শেষ করলেও অনুজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় প্রায়ই ছুটে যেতো ক্যাম্পাসে। তার এই মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শাবি ক্যাম্পাসে। ছাত্র-শিক্ষক সবাই শোকাহত। সিলেটবাসীও শোকে মুহ্যমান। রোববার রাত ১টার দিকে মাহদি ঢাকায় যাওয়ার জন্য নিজ বাসা থেকে বের হয়। ঢাকায় একটি ব্যাংকে সে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছিলো। রাত আড়াইটার দিকে সিলেট নগরীর বাসস্ট্যান্ড এলাকার কদমতলীতে মাহদির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে এক রিকশাচালক। তখনও জীবিত ছিল মাহদি। ওই রিকশাচালক পুলিশের কাছে মাহদিকে তুলে দেয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছিনতাইকারীরা মাহদিকে ছুরিকাঘাত করে তার কাছ থেকে সবকিছু ছিনিয়ে নিয়েছে। মাহদির ঊরুতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুবরণ করে। এদিকে মাহদি খুনের ঘটনায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনার পরদিন সোমবার মাহদির লাশ দেখতে ভিড় জমান অনুজ শিক্ষার্থীরা। ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরাও। গতকাল সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে সিলেট। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন। পরে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আসে। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের পার্শ্ববর্তী চৌহাট্টা এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বসে মাহিদের খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। চৌহাট্টা এলাকায় সড়ক অবরোধ করায় বন্দরবাজার-আম্বরখানা ও কুমারপাড়া-মেডিকেল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। অবরোধের এক পর্যায়ে কাপনের কাপড় পরে মাহদির সহপাঠীরা রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এই কর্মসূচিতে যোগ দেন সিলেটের রাজনৈতিক নেতারাও। ছুটে যান সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম সহ সিনিয়র নেতারা। চৌহাট্টার ট্রাফিক পয়েন্টে এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তিনি বলেন, মাহদি দেশের ভবিষ্যৎ ছিল। তার কাছ থেকে জাতি অনেক কিছু পেতো। কিন্তু ছিনতাইকারীরা তার প্রাণ কেড়ে নিলো। এই আন্দোলন শুধু শাবি শিক্ষার্থীদেরই নয়, গোটা সিলেটবাসীরও। সবাই এ ঘটনায় মর্মাহত। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, দ্রুত মাহদির খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনকে আরো বেশি সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে বেলা দুইটার দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যান শিক্ষার্থীরা। তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, সিলেট মহানগর পুলিশের ডিসি (উত্তর) ফয়সল মাহমুদ। শিক্ষার্থীরা এ সময় মাইকে মাহদির খুনিদের গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ ঝাড়েন। সাবেক শিক্ষার্থী কাশমির রেজা ছাড়াও এ সময় বক্তব্য রাখেন শাবি’র সহকারী অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন। তারা বলেন, এ ঘটনায় খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত। ভোরে বাইরে থেকে যেসব শিক্ষার্থী সিলেটে আসেন তারা প্রায় সময়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকে বার বার অবগত করা হলেও পুলিশ কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। শেষ মুহূর্তে খুন হতে হলো মাহদিকে। সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরি জামান এ সময় জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সক্রিয়। আমরা আশা করি পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করবে। সিলেটে আর যাতে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়টি নিয়ে সবাই সতর্ক থাকবে বলে জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা এ সময় জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দাবি সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেন। স্মারকলিপিতে মাহদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও শাবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। বক্তব্য দিতে গিয়ে ছাত্রদের ক্ষোভের মুখে পড়েন সিলেট মহানগর পুলিশের ডিসি উত্তর ফয়সল মাহমুদ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদেরই স্বজন। তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া উচিত নয়। মাহদির খুনিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযানে রয়েছে। যারা মাহদিকে খুন করেছে খুব দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। এছাড়া দুপুর ২টার দিকে মাহিদের লাশ এম্বুলেন্সে করে শাবিতে আনা হয়। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে রাখার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করে। এসময় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে বিকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন থেকে মাহদির খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান বক্তারা।

‘ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে দাতাদের সাহায্যের কোনো আশা নেই’

ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে বিদেশি দাতাদের সাহায্যের কোনো আশা নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথা সরকার ঘোষণা করেছে অনেক আগেই। তবে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে শাহরিয়ার আলম বলেছেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বিদেশিদের সাহায্য পাওয়ার কোনো আশা নেই। তিনি বলেন, ওই চরে বাড়িঘর নির্মাণ করতে এবং বঙ্গোপসাগরের বুকে  ঘূর্ণিঝড় থেকে সুরক্ষা দিতে ওই কর্দমাক্ত   দ্বীপে প্রায় ২৮ কোটি ডলারের পুরোটাই বহন করছে বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছে সহায়তা চেয়েছি। তিনি সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, সম্প্রতি যেসব রোহিঙ্গা তাদের দেশে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে তাদের কাউকে তাদের নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না। উল্লেখ্য, প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম গত ২৫শে আগস্টের পর পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তারা আশ্রয় পেয়েছেন কক্সবাজারে গাদাগাদি করে থাকা ক্যাম্পে। যেহেতু তাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে তাই বাংলাদেশ তাদের ভাসানচরে পুনর্বাসনের জন্য নতুন বাড়িঘর নির্মাণ করছে। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের জাতিসংঘ অফিসে শাহরিয়ার আলম বলেন, প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তাই এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এখন পর্যন্ত আমরা কাজ করছি আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে। এক্ষেত্রে কতটা অর্থ সংগ্রহে সমর্থ হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়- সে বিষয়ে আমি খুব আশাবাদী নই।
বাংলাদেশে আগে থেকেই প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। এদের তাৎক্ষণিকভাবে ত্রাণ সরবরাহের  জন্য জাতিসংঘের সমন্বয়কারী শাখা নতুন করে ৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলার অনুদানের অনুরোধ পাঠিয়েছে। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য যে দ্বীপ ঠিক করা হয়েছে তা মূল ভূমি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তিনি জানান, একটি পরিকল্পনা সম্ভাব্য দাতাদের এখানে নিয়ে আসতে পারে। তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগগুলোকে ভুল বোঝাবুঝি বলে উড়িয়ে দেন। প্রসঙ্গত, মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, দ্বীপটিতে বন্যা হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আলম বলেন, অনেকে ভাসানচর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এমন উদ্বেগের কোনো কারণই নেই। কেননা আমরা একটি বাঁধ নির্মাণ করছি।
বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষরা দ্বীপটিকে, শরণার্থীদের জন্য সাময়িক বন্দোবস্ত হিসেবে দেখছে। কিন্তু দ্বীপটিতে শরণার্থীরা কি রকম স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারবে সে বিষয়ে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়েছে। আলম বলেন, বাংলাদেশ দ্বীপটিতে নির্মিতব্য ভবনগুলোর ডিজাইন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনকে দেখিয়েছে। এ বিষয়টি এটা প্রমাণ করে যে, তারা এই প্রকল্পে তাদের সাহায্য করার ও ভূমিকা রাখার জন্য লোকজন, দেশ ও সংগঠনকে যুক্ত করছে। তিনি বলেন, আমরা এখনো কাজ শুরু করিনি। আমরা এখনো কাজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেইনি।

দোভাল ঢাকায়

বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী  দেশগুলোর জোট বিমসটেকের নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। আজ (বুধবার) রাজধানীতে বিমসটেকের   নিরাপত্তা প্রধানদের এই সম্মেলন হবে। বাংলাদেশে তিন দিনের সফরকালে বহুপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক হবে দোভালের। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা  মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের অংশ  নেয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও  নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার বঙ্গোপসাগরীয় জোট- বিমসটেকের নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের দ্বিতীয় সম্মেলনে  রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়টিতে জোর দেয়া হবে। এই এলাকার নিরাপত্তার জন্য একটি অভিন্ন কৌশল তৈরির  চেষ্টাও হবে। অজিত দোভালের বাংলাদেশ সফর বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন বা আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিমসটেকের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা না হলেও সফরটি যে তাৎপর্যপূর্ণ তা মানছেন দেশি-বিদেশি কূটনীতিকরা। তাদের মতে, আসন্ন নির্বাচন ও রোহিঙ্গা প্রশ্নে ভারত সরকারের মনোভাব খোলাখুলিভাবেই ব্যক্ত করে যাবেন তিনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ আরো ঘনিষ্ঠ করেছে মর্মে এরই মধ্যে খবর চাউর হয়েছে। ভারত এখানে ৫ই জানুয়ারির মতো বিতর্কিত বা একতরফা নির্বাচন আর দেখতে চায় না বলেও সাউথ ব্লক সূত্রে বার্তা স্পষ্ট করা হয়েছে। দোভালের সফর নিয়ে সমপ্রতি আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এ বছরের  শেষে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। রাজনৈতিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ানোয় জোর দিচ্ছে ঢাকাও। নয়াদিল্লি নজর রাখছে পরিস্থিতির ওপর। আগামী ৭ই এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করবেন পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে। প্রতিবেশী দেশে নির্বাচনকে  কেন্দ্র করে যাতে সামপ্রদায়িক সহিংসতা অথবা জঙ্গি হামলার মতো ঘটনা না বাড়ে, সেটাই চাইছে ভারত। খবরে আরো বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেবে ঢাকা। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাটা ভারতের কাছেও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যেই মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশকে  ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দিল্লি। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই অজিত  দোভালের প্রথম ঢাকা সফর। অবশ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরসঙ্গী হয়ে ২০১৫ সালের জুনে ঢাকায় আসার কথা ছিল তার। কিন্তু সেই সময়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সীমান্তের  ভেতরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সার্জিকেল স্ট্রাইকের তত্ত্বাবধানের জন্য তিনি দিল্লিতে থেকে যান।

চিতলমারীতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট by পঙ্কজ মণ্ডল

বাগেরহাটের চিতলমারীতে গ্রীষ্মের শুরুতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। চারদিকে চলছে পানির জন্য তীব্র হাহাকার। এতে দূষিত পানি পান করে নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে এলাকায়। সমস্যা সাধানের জন্য জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট লোকজনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ টিউবয়েলে অতিমাত্রায় আর্সেনিক ও নদী-খাল, পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় গ্রীষ্মের শুরুতেই পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে তীব্র পানির হাহাকার লেগেছে। ফলে বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই দূষিত পানি পান করে জীবন ধারণ করছো। ফলে ডাইরিয়া, আমাশয়, টাইফেয়ডসহ নানা পানিবাহী রোগ-ব্যাধি দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানির অপর নাম জীবন হলেও এই পানি এখন ডেকে আনছে মৃত্যু। বিশুদ্ধ পানির অভাবে শত শত লোক এখন ভুগছে নানা রোগ-ব্যাধিতে। সুপেয় পানির এ এসংকট যেন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের সমস্যা। উপজেলাব্যাপী বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব সংকটে এখন দিশাহারা হয়ে উঠেছে লোকজন। গত কয়েক যুগ ধরে এ সমস্যা চলে এলেও এটি সমাধানের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এলাকার বেশিরভাগ নদী-খাল ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় গোসল ও খাবারের পানি মিলছে না কোথাও। ফলে লোকজনকে আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের পানি পান করতে হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানীয়জলের অভাবে শত শত পরিবারের খাওয়া গোসল বন্ধ হতে বসেছে। এছাড়া সদরে অবস্থিত হাসিনা বেগম বালিকা বিদ্যালয়, এসএম মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শিশু কানন বিদ্যা নিকেতন, শেখ হেলাল উদ্দিন একাডেমিসহ ৬-৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় কোনো পানির ব্যবস্থা না থাকায় তারা দূষিত আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে তারা। এ অবস্থায় এ পানি পান করে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ভুগছে লোকজন। এছাড়া এখানকার বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্টুরেন্টে সুপেয় পানির অভাবে বিভিন্ন পুকুরের দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেটি পান করার অযোগ্য। বিভিন্ন লোক ভ্যানযোগে পুকুর থেকে এসব পানি তুলে এনে বিক্রি করছে হোটেল-রেস্তরাঁয়। পানির এ প্রকট সমস্যায় যেন দিশাহারা হয়ে উঠেছে লোকজন।
চিতলমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন জানান, বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি পাস হলে মধুমতী থেকে পানি এনে এলাকায় সাপ্লাই করা হবে। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন অরুণ কুমার মণ্ডল জানান, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডাইরিয়া, আমাশয়, টাইফেয়ডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জোটের বৈঠকে নেতাদের ঐকমত্য আগে খালেদার মুক্তি, পরে নির্বাচন by কাফি কামাল

চার এজেন্ডা নিয়ে ২০ দলীয় জোটের নেতারা বৈঠক করেছেন শনিবার। এজেন্ডাগুলো ছিল- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্ব, আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের নাম স্বৈরাচারী দেশের তালিকায় যুক্ত হওয়া, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা ও আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। কিন্তু নির্ধারিত এজেন্ডা ছাপিয়ে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শরিক দলগুলোর আসন বণ্টন ইস্যু। এ ইস্যুতে বৈঠকেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন শরিক দলের নেতারা। তবে আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও পরে নির্বাচন- এমন সিদ্ধান্তে একমত পোষণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বৈঠক। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জোটগত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত ও জোটের সমন্বয়ক পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে বৈঠকে। গতকাল জোটের একাধিক সিনিয়র নেতা এসব তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপি জোটের শরিকদলগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন যারা আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। জোটের দলগুলোর কাছে বিএনপি মহাসচিব এসব বিষয়ে জানতে চান। জবাবে জোট নেতারা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তে তাদের নেতারা মাঠে রয়েছেন। জোট কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এ আলোচনার মধ্যেই নেতারা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সূত্র জানায়, বৈঠকে বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ জোটের শরিক দলের নেতাদের উদ্দেশে আসন বণ্টন নিয়ে কয়েকটি দলের গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্য-বিবৃতির ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আসলেই এ ধরনের কোনো তৎপরতা আছে কী না?’ তিনি জানতে চান, কেন তারা এখন আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা দিচ্ছেন। জবাবে সংশ্লিষ্ট নেতারা বিষয়টিকে সরকারের জোটভাঙার কৌশল বলেন। তবে নির্বাচনী আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ কৌশলে জানান, নিজেরসহ পুরনোদের আসন নিশ্চিত রয়েছে এবং এলাকায় তারা কি বলবেন- এমন প্রশ্ন করলে তা নাকচ করে দেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, কারও কোনো আসন কনফার্ম নয়, এ নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে না; এটা চূড়ান্ত করবেন খালেদা জিয়া। রেদোয়ান আহমেদের বক্তব্যটিকে স্বার্থপর আচরণ বলেও মন্তব্য করেছেন জোটের অনেক নেতা। বৈঠক শেষে গুলশান কার্যালয়ে জোট নেতাদের মধ্যে আসন বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। জোটের কয়েকজন নেতার আক্রমণাত্মক প্রশ্নের জবাবে এক নেতা বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের যোগ্যতা ও সামর্থ্য আছে তাই আমরা বিএনপির নেতৃত্বের কাছে সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থী তালিকা দিয়েছি। এতে দোষের কী হলো? প্রয়োজনে আপনারাও দেন। আমাদেরটা বলতে আপনারা বাধা দেন কেন?’ অন্য আরেকজন কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমরা কী আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম যে, আমাদের কিছু নিজস্ব বলার নেই, করার নেই? বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আছি, মামলা খাচ্ছি, গ্রেপ্তার হচ্ছি, অর্র্থ ব্যয় করছি। তাহলে বিএনপিই কেন আমাদের সুনির্দিষ্ট করে কোনো পদক্ষেপের কথা বলছে না। কই, সেটা নিয়ে তো কেউ কথা তোলেনি? অন্তত বিএনপির পক্ষ থেকে এটা তো বলতে পারতো যে, সম্ভাব্য জোট নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ান।’ সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নেতাও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। সূত্র জানায়, বৈঠকে জোটের শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়ার কারামুক্তির আগে নির্বাচনী আসন বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা ও বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। খালেদা জিয়ার কারামুক্তির পরই নির্বাচনী আসন বণ্টন নিয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে। জোটের শরিক দলের এক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির আগে আসন বণ্টনের ব্যাপারে কোনো আলোচনা করা যাবে না। তবে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, যারা নির্বাচন নিয়ে কাজ করতে চান, তারা শুধু নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে প্রস্তুতি নেবেন। যদি সত্যিকার অর্থে নির্বাচন হয়, তাহলে আসন বণ্টন সমন্বয় করা হবে। বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি, এরপর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সাপেক্ষে আসন বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা হবে। এ বিষয়ে জোটের সবাই একমত হয়েছেন।’ বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বলেন, ‘আমাদের প্রথম এজেন্ডা জোটনেত্রীর মুক্তি, এরপরই নির্বাচনের পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হলে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা।’ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘আসনের কথা একেবারে বাদ। এখন একনম্বর এজেন্ডা নেত্রীর মুক্তি, তার আগে আসনের ব্যাপারে কোনো আলোচনা এই সময়ে করা যাবে না।’ জামায়াতের প্রতিনিধি মাওলানা আবদুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন করতে জোটগতভাবেই কর্মসূচি পালন করা হোক। তবে জোটের নেতাদের প্রশ্ন বিএনপির নেতৃত্বে জোট হয়েছে। জোটের যেকোনো শরিক দলের ব্যাপার তারাই আলোচনায় আনবেন। একটি শরিক দলের নেতা হয়ে ব্যারিস্টার পার্থ অন্য শরিক দলের ব্যাপার কিভাবে আলোচনায় আনেন। বৈঠকে তার প্রশ্ন নিয়ে জোট নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন। জোটের নেতারা জানান, নির্বাচনের আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার সময় এখনই। কারণ শরিক দলের নেতাদের মধ্যে পুরনো প্রার্থী যেমন আছেন, তেমনি নতুন প্রার্থীও আছেন। তাদের প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। তাই আসনের বিষয়টি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে আলোচনা হলে আরো ভালো হতো। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তি, তার নেতৃত্ব বা সিদ্ধান্ত নিয়ে কারও কোনো দ্বিমত বা অনাস্থা নেই। কিন্তু তিনি যদি এমন সময় মুক্তি পান যখন এসব আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় না থাকে, তখন কি হবে? সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়টি শরিকরা আলোচনায় তোলেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কয়েক দিনের মধ্যে তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে শরিকদের ইতিবাচক মনোভাব দেখান। বৈঠকে খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বের ব্যাপারে সরকারের নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা। পরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচির বিষয়ে ২০ দলীয় জোট থেকেও কর্মসূচি দেয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। শিগগিরই জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচি ঠিক করা হবে নতুন সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানের সমন্বয়ে। জোট নেতারা সাংবাদিকদের জানান, জোটের বৈঠকে জেলা সফর, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রচারপত্র বিলির সিদ্ধান্ত হয়। কবে নাগাদ এসব কর্মসূচি পালন করা হবে, তা শিগগিরই ঠিক করা হবে। এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ২০ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখা এবং শরিক দলগুলোকে কর্মসূচিতে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জামিন, পরে অন্য আলোচনা। তবে আমরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে মত দিয়েছি।’ বৈঠকে জার্মান একটি সংস্থার গবেষণায় বাংলাদেশের নাম স্বৈরাচারী দেশের তালিকায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা। এছাড়া সদ্য অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানো হয়। ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা হিসেবে প্রথম থেকেই দায়িত্ব পালন করছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তিনি কারাগারে যাওয়ার পর জোটের বৈঠকে শীর্ষ নেতার দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হলেও সবাই এ পদে খালেদা জিয়ার ওপরই আস্থা প্রকাশ করেন। তবে এক্ষেত্রে সবাই যৌথ নেতৃত্বে জোট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। যার ফলে জোটের প্রথম বৈঠকে বিএনপি মহাসচিবের পাশাপাশি দলটির দুই সিনিয়র নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অংশ নেন। অন্যদিকে জোটের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবারের বৈঠকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের ওপর। মির্জা আলমগীর ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে নজরুল ইসলাম খানের নাম প্রস্তাব করেন। সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবির আন্দোলনে ২০ দলীয় জোটকে সক্রিয় করতেই জোটের সমন্বয়কারী পরিবর্তন করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে বিএনপির শরিক নেতাদের কারো কারো মধ্যে চাপা অভিমানও ছিল। বড় দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে শরিক দলগুলোর নেতাদের প্রত্যাশিত সময় দিতে পারতেন না তিনি। বিএনপি মহাসচিব ও জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির ৩ সদস্যসহ জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতার উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া ছাড়া ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক করেছেন শনিবার।