Saturday, July 11, 2015

নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করতে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি বিএনপির

টানা তিন মাস আন্দোলনে নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করতে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি। আজ দুপুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সস্মেলনে বিএনপি মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ দাবি জানান। খালেদা জিয়ার নির্দেশে পেট্রোল বোমা হামলায় হয়েছে ক্ষমতাসীনদের এমন বক্তব্যের জবাবে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, পেট্রোল বোমা কারা মেরেছে আন্তর্জাতিক তদন্ত হওয়া দরকার। সরকার বলছে বিএনপি পেট্রোল বোমা মেরেছে। বিএনপি বলছে, পেট্রোল বোমা মারার সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়। এই অবস্থায় আমাদের দাবি হচ্ছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কমিটি করে প্রকৃতপক্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করা। তিনি বলেন, বিএনপি কখনো নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিলো না। স্বাভাবিক তদন্ত হলে তদন্তকারীদের কাছ থেকে ন্যায়সঙ্গত তদন্ত আশা করা যাবে না। সেজন্য জাতিসংঘের অধীনে একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে তদন্ত চায় বিএনপি। তিনি আরও বলেন, সরকার নাশকতার জন্য বিএনপি নেত্রী হুকুম দিয়েছেন বলে তাকে দায়ী করছে এবং এর সঙ্গে বিএনপির নেতাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু বিএনপির বা তার কোনো নেতা পেট্রোল বোমা বা এই ধরনের কোনো নাশকতার সঙ্গে জড়িত নয়। এই দল নাশকতায় নয়, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক তদন্ত হলে নাশকতায় সত্যিকার অর্থে কারা জড়িত তা বেরিয়ে যাবে। তখন বিএনপি চেয়ারপারসনের কথার যথার্থতা প্রমাণিত হবে, এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাই। কিন্তু আন্তর্জাতিক তদন্ত না করে যদি বিরোধী দল বা শীর্ষ নেতৃত্বকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালানো হয় গণতন্ত্রের জন্য তা ভালো হবে না। বিএনপি চেয়ারপরাসন খালেদা জিয়া- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একই বিন্তে দুটি ফুল আখ্যা দিয়ে ড. রিপন বলেন, তাদের দু’জনের একজন ঝড়ে গেলে করলে আরেকজন ঝড়ে যাবেন। একজনের বিনাশ ঘটলে, অন্যজনেরও বিনাশ ঘটবে। বিএনপির বিনাশ হলে আওয়ামী লীগেরও বিনাশ হবে আর আওয়ামী লীগের বিনাশ ঘটলে বিএনপিরও বিনাশ ঘটবে। ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটলে দেশে অশুভ শক্তির উত্থান ঘটবে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে ড. রিপন বলেন, এই উপলব্ধির জন্য তাকে স্বাগত জানাই। তবে এটা বলতে পারি, শুভ বা অশুভ নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে অনিবার্যভাবে বিকল্প শক্তির উত্থান ঘটবে। তখন কারো কিছু করার থাকবে না।  বিএনপির মুখপাত্র বলেন, রাজনীতিবিদরা যদি রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে তবে বিকল্প শক্তি এসে তাদেও কাঠগড়ায় দাড় করালে তখন আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ থাকবে না। এজন্য ১/১১ থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনীতিবিদদেও প্রতি আহ্বান জানান তিনি।  সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে তার স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে জবাবে রিপন বলেন, এটি সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে কি কারনে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো তা জনগণের কাছে স্পষ্ট করা উচিত। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, এড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতিতে হঠাৎ চাঞ্চল্য by সাজেদুল হক

ঘুমন্ত রাজনীতির অন্দরমহলে হঠাৎ তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। দুটি প্রধান দলেই আলোচিত হচ্ছে কিছু প্রশ্ন। জবাব যদিও মিলছে সামান্যই। শুরুটা মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে। গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকে তখনকার এলজিআরডি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রীদের ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তাকে সরিয়ে দেয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও ওই দিন বিকালে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পুরো বিষয়টিকেই গুজব বলে উড়িয়ে দেন। তবে একদিন বাদেই সে গুজব সত্যে প্রমাণিত হয়। ঠিকঠিক এলজিআরডি মন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। আওয়ামী লীগে সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত সৈয়দ আশরাফকে কেন এলজিআরডি মন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হলো তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তার সাধারণ সম্পাদক পদ হারানোর সম্ভাবনার খবরও পত্রিকায় বেরিয়েছে। সৈয়দ আশরাফ অভ্যন্তরীণ কোন রাজনীতির শিকার হয়েছেন কি-না সে প্রশ্নও এখন জোরালো। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অবশ্য বলেছেন, দলে সময় দিতেই আশরাফের ভার লাঘব করা হয়েছে। যদিও গুজবে কান দেবেন না- সৈয়দ আশরাফের সে বক্তব্য ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে সমর্থন করে না। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সৈয়দ আশরাফকে দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সময়ই দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করার একটা প্রস্তাব ছিল। প্রধানমন্ত্রী এত দিন পর ওই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করেছেন।
ওদিকে, বিরোধী শিবিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে। ওমরাহ পালনের জন্য বুধবার তার সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রার কথা ছিল। সব প্রস্তুতিও ছিল সম্পন্ন। সৌদি আরবে বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গেও দেখা হওয়া কথা ছিল তার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে খালেদা জিয়া তার সৌদি যাত্রা স্থগিত করে দেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও নানাগুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কিছু কারণেই খালেদা জিয়া এ সফর স্থগিত করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কারামুক্তি নানা কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। দলটির নেতাদের একটি বড় অংশ কারাগারে আটক রয়েছেন। অন্য মুক্ত একটি অংশের বিরুদ্ধে দলের বিরুদ্ধে নানারকম কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সরকারের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন এ অভিযোগও পুরনো। একাধিক সূত্রের দাবি, ওই অংশটি ভেতরে ভেতরে বিএনপিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কার্যক্রমের বিষয়টি অবগত হয়েই খালেদা জিয়া হঠাৎ করে সৌদি সফর স্থগিত করেন। এর আগে সোমবার দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন খালেদা জিয়া। দলে ভাঙন ধরানোর কোন রকম তৎপরতায় জড়িত না হতেও নেতাদের সতর্ক করে দেন তিনি। আন্দোলন কর্মসূচিতে তাদের ভূমিকা কি ছিল সে ব্যাপারেও জানতে চান খালেদা জিয়া। এসব প্রশ্নে বিএনপি নেতারা চুপ ছিলেন। ঈদের পর তাদের দল পুনর্গঠন কাজে মনোনিবেশ করার নির্দেশনা দেন বিএনপি নেত্রী। সম্প্রতি বিএনপির কয়েক নেতার ফাঁস হওয়া ফোনালাপে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি একধরনের অনীহা প্রকাশিত হয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, আন্তর্জাতিক কিছু শক্তির চাওয়া অনুযায়ী একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে পারে। সে নির্বাচনের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলার রায় হতে পারে। তারা যদি নির্বাচনের অযোগ্য হয়ে যান সে ক্ষেত্রে বিকল্প কোন বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, সে প্রশ্নও আলোচিত হচ্ছে।
এদিকে, গত সাত বছর ধরেই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শেখ হাসিনার পরে আওয়ামী লীগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন। সে আশরাফ কেন হঠাৎ করে দপ্তরবিহীন হয়ে গেলেন, সে প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব পেতে হয়তো আরও কিছু সময় লাগবে। সজ্জন আশরাফের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল তিনি মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত নন। কিন্তু আওয়ামী লীগের জন্য তার ত্যাগকে হয়তো সেভাবে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের সে অর্থে কোন বিচ্ছেদ হয়নি। কারণ মন্ত্রিত্ব হারানোর দিনেও যুবলীগের ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন তিনি। অন্য অনেকের মতো নিজেকে গুটিয়ে নেননি সৈয়দ আশরাফ। তবে কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সৈয়দ আশরাফও সোহেল তাজের পথ অনুসরণ করেন কি-না? যদিও তেমন কোন সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে বিতর্কিত নেতাদের রেখে সৈয়দ আশরাফকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগের অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। যদিও তারা এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। তবে আওয়ামী লীগের জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম পরিবারের আত্মত্যাগের বিষয়টি স্মরণ করছেন তারা।

চোখের সামনেই মা, বোন ও নানিকে হারালো সুপ্ত

ময়মনসিংহ জেলা শহরের একটি ফ্যাক্টরি থেকে জাকাতের
কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু
দশ বছরের সুপ্ত। মা-বোন ও নানির সঙ্গে ত্রাণ আনতে গিয়েছিল। হাতে নতুন কাপড় পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এ শিশুর চোখের সামনেই হারাতে হয়েছে তিন আপনজনকে। স্বজন হারিয়ে নির্বাক সুপ্তের পরিবার। তার পিতা নুরুল ইসলাম ওরফে কৃষ্ণা মিয়া একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি (৪৫)। থাকেন শহরের থানাঘাট ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের বস্তিতে। স্থানীয় সূত্র জানায় ধর্মান্তরিত হয়ে বিহারি মেয়ে সখিনাকে বিয়ে করেছিলেন নুরুল ইসলাম। দুই সন্তান নিয়ে টানাপড়েনের সংসার ছিল তাদের। নুরানী জর্দা ফ্যাক্টরির মালিকও বিহারি। পাকিস্তান আমল থেকে ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছে তাদের পরিবার। শামীম বিহারি হিসাবে ময়মনসিংহে অবস্থানরত আটকে পড়া বিহারিদের মাঝে মূলত জাকাতের কাপড় বিতরণ করে আসছিল ৩৬ বছর ধরে। সেই হিসেবে বাস্তুহারা ক্যাম্পের একই পরিবারের বিহারি শামিমা বেগম (৬০), তার মেয়ে সখিনা (৩৫) কে জাকাতের কাপড় দেয়ার জন্য ২টি কার্ড প্রদান করেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী থানাঘাট এলাকার কৃষ্ণা মিয়ার ছেলে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র শরিয়তুল সুপ্ত জানায়, সে তার নানী শামিমা বেগম (৬০), তার মা সখিনা (৩৫) ও বোন লামিয়াকে (৩)  নিয়ে ভোর চারটার দিকে জাকাতের কাপড়ের জন্য নুরানী জর্দা ফ্যাক্টরিতে যায়। এ সময় অনেক লোক ফ্যাক্টরি ফটকের সামনে ভিড় করছিল। ফ্যাক্টরি গেটটি ছিল হালকা ও দুর্বল। ভেতর থেকে বাঁশ দিয়ে ঠেকা দিয়ে রাখা হয়েছিল। জাকাত প্রত্যাশীরা গেট খোলার জন্য ধাক্কা দিলে ফ্যাক্টরির লোকজন গেট খুলেনি। সুপ্ত জানায়, মানুষের ধাক্কাধাক্কিতে এক সময় গেট খুলে যায়। এরপর হুড়োহুড়ি করে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশের সময় পায়ের নিচে চাপা পরে অনেক লোক। সে কোন মতে বেঁচে গিয়ে পড়ে থাকা লাশের মধ্যে মা-বোন ও নানীর লাশ শনাক্ত করে।
মা আর খালার সঙ্গে জাকাতের কাপড় নিতে এসেছিলেন শহরের পাটগুদাম বিহারি ক্যাম্পের সিদ্দিক (১২)। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে তার নিথর শরীরের সামনে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন খালা রওশন আরা। ‘আমগর মানিকরে বুকে দাও। আমগর বাজান গেল কই?’ রওশন আরার আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে হাসপাতালের বাতাস। কাঁদতে কাঁদতে রওশন আরা বলেন, ‘গেটের সামনে অনেক লোক বইসা ছিল। ভোরে গেটের সামনে অনেক লোক পীড়াপীড়ি শুরু করে। এ সময় মরলাম মরলাম কইয়া অনেক লোক চিল্লাচিল্লি করে। কিন্তু কেউ গেট খুলে না। কারখানা মালিক শামীম ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় ছোট গেট একটু খুলে। ঝামেলা হয় ওই সময়ই। ঢুকবার যাইয়াই মারা পড়ে সব। তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিক শামীম ছোট গেটের বদলে বড় গেট খুলে দিলে এ ঘটনা ঘটতো না। এতজন মানুষেরও প্রাণ যেত না।

নয়মাস আটক থাকার পর চীনের নারী সাংবাদিকের মুক্তি

চীনের এক নারী সাংবাদিককে নয়মাস আটক রাখার পর মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি হংকংয়ের গণতান্ত্রিক বিক্ষোভের ওপর জার্মান ম্যাগাজিনকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশে সহায়তা করেছিলেন। ঝাং হামবুর্গভিত্তিক সাপ্তাহিক পত্রিকা ডি জেইট এ কাজ করতেন।
মুক্তি পাওয়া নারী সাংবাদিক ঝাং মিয়াও শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, তিনি নিরাপদে রয়েছেন। মুক্তি পাবার পর তিনি একটি সরকারি পরিবহনে করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
অক্টোবর মাসে হংকংয়ের সমর্থনে চীনের মূল ভূখণ্ডে আন্দোলনরতদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর সময় ঝাং মিয়াও নামে এই নারী সাংবাদিককে আটক করা হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফেরার কয়েক দিন পর বেইজিংয়ে তিনি গ্রেফতার হন। ওই আন্দোলনে হংকংয়ের একটি অংশ বন্ধ হয়ে যায়।
তার এই আটকের ঘটনাটি বিদেশি গণমাধ্যমে কর্মরত চীনা সাংবাদিকরা যে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক তারা যে প্রায়ই হয়রানির শিকার হন সে বিষয়টিই তুলে ধরল।
তবে ঝাংয়ের ভাই ও এক পারিবারিক বন্ধু জানান, শুক্রবার ভোরে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঝাংয়ের আইনজীবী ঝউ শিফেংকে আটক করেছে।

মর্মান্তিক by মতিউল আলম

তখন ভোর ৫টা। সেহরি খেয়ে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমাচ্ছিল শহরের মানুষ। আর নীরব, নিস্তব্ধ শহরের গরিব-অসহায়, নারী-পুরুষ ও শিশু-বৃদ্ধরা তখন ছুটছিলেন এক টুকরো কাপড়ের আশায়। অতুল চক্রবর্তী রোডে ‘নূরানী জর্দা’ ফ্যাক্টরির অভিমুখে। দ্রুতই সেখানে জমে উঠেছিল প্রত্যাশীদের ভিড়। হঠাৎ নীরবতা ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো জাকাতের একটি নতুন কাপড়ের আশায় ভিড় করা মানুষগুলোর চিৎকার আর কান্নার রোল। এতে আশপাশের মানুষ ঘুম ভেঙে ছুটে গেল ঘটনাস্থলে। ইতিমধ্যেই সেখানে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রাণ চলে গেছে অনেকের। নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরির সামনে তখন হতাহত মানুষের স্তূপ। দ্রুত সে খবর ছড়িয়ে পড়লো সারা শহরে। ফের ঘটনাস্থল নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরি অভিমুখে মানুষের ঢল নামলো। এবার জাকাতের কাপড়ের আশায় নয়, হতাহত মানুষের উদ্ধারে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ৪ শিশু, ২৩ মহিলাসহ ২৭ জনের লাশ। আহতদের আর্তনাদ ছাপিয়ে উঠলো হতাহতের স্বজনদের আহাজারিতে। ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। আর এমন ট্র্যাজেডিতে স্তব্ধ হয়ে পড়ে ময়মনসিংহবাসী।
এ যেন ডাকাতের কাপড়ের বদলে কাফনের কাপড় পেলো হতভাগা মানুষগুলো। এ ঘটনায় নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরির মালিক মোহাম্মদ শামীম, তার পুত্রসহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন ৩ সদস্যবিশিষ্ট দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুল ইসলামকে প্রধান করে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল ও সিকিউরিটি সেলের একজন পুলিশ সুপারকে সদস্য করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মল্লিকা খাতুনকে প্রধান করে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে ফয়জুল হক ও এনডিসি তৌহিদুল ইসলামকে সদস্য করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলোকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান নেয়া হয়েছে।
পদদলিত হয়ে নিহতরা হলেন, হালিমা বেগম (৪৫) স্বামী হায়দর আলী আকুয়া; নাজমা বেগম (৫০) স্বামী জালাল উদ্দিন, আকুয়া মোড়লপাড়া; ফাতেমা (৬০) স্বামী আবদুস ছালাম আকুয়া মোড়লপাড়া; জোহরা খাতুন (৫৫) স্বামী ইসমাইল, আকুয়া মোড়লপাড়া; রেজিয়া আক্তার (৪০) স্বামী আবদুল মজিদ, গাঠগোলা বাজার; ফাতেমা বেগম (৪২) স্বামী রবি হোসেন, আকুয়া দক্ষিণ পাড়া; সুফিয়া বেগম (৬০) স্বামী লাল মিয়া, চর ঈশ্বরদিয়া; খোদেজা বেগম (৫৫), স্বামী আবদুল সালেক, থানাঘাট বালুর চর; সিদ্দিক (১২) পিতা সিরাজুল ইসলাম, থানাঘাট বালুর চর; লামিয়া (৫) পিতা কৃষ্ণা মিয়া, থানাঘাট বালুর চর; সখিনা (৪০) স্বামী কৃষ্ণা মিয়া, থানাঘাট বালুর চর; সামু বেগম (৬০) স্বামী আবদুল বারেক, থানাঘাট বালুর চর; ফজিলা বেগম (৭৫) স্বামী মাহতাব উদ্দিন, কাছারি ঘাট; হাজেরা বেগম (৭০) স্বামী লালু মিয়া, পাটগুদাম বিহারি ক্যাম্প; রুবিয়া আক্তার (১২) পিতা রতন মিয়া, ঢোলাদিয়া; রহিমা বেগম (৫৫) স্বামী শামসুল হক, আকুয়া দরগাপাড়া; আঙ্গুরী বেগম (৩৫) স্বামী শফিকুল ইসলাম, কালিবাড়ী গোদারাঘাট; সাহারন বেগম (৪০) স্বামী আরজু মিয়া, বালিপাড়া ত্রিশাল; মেঘনা বসাক (৪০), বসাকপট্টি; রুপালী (৪০) অতুল চক্রবর্তী রোড; সুধারণী সরকার (৫৫) ধোপাখোলা ময়মনসিংহ শহর ও বৃষ্টি (১১)। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও একজন মহিলা। নিহতদের মধ্যে শহরের থানাঘাট ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত বাস্তুহারা ক্যাম্পের একই পরিবারের শামিমা বেগম (৬০), তার মেয়ে সখিনা (৩৫) ও নাতি লামিয়া (৬) এবং থানাঘাট বালুর চর মা-মেয়ে লামিয়া (৫) ও সখিনা (৪০) রয়েছেন। অন্যদিকে আহত হেনা (৫৪) ময়না (৭০), রাসেলসহ (২৫) ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে থানা পুলিশ ও পোস্টমর্টেমের ভয়ে পদদলিত মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গেট থেকেই নিহতদের অনেকের লাশ নিয়ে গেছেন স্বজনরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা অনেকের লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় অর্ধশত আহত হয়েছেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী, পুলিশ সুপার মইনুল হক দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরির মালিকসহ ৮ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন মালিক মোহাম্মদ শামীম (৬৫) ও তার পুত্র হেদায়েত (৩০), ফ্যাক্টরির ম্যানেজার ইকবাল হোসেন (৩৫), ইকবাল (৪০), আরমান হোসেন (৩৫), আলমগীর হোসেন (৩৪), আরশাদুল ইসলাম (৩২), ড্রাইভার পারভেজ (৩৫) ও কর্মচারী আবদুল হামিদ (৩৬)। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরিতে পদদলিত মৃত এ পর্যন্ত ১৭ জনের লাশ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এদিকে বৃষ্টির কারণে নিহতদের লাশ দাফন-কাফন নিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা।
জাকাতের কাপড় আনতে যাওয়া আনোয়ারা বেগম বলেন, তিনি শহরের থানাঘাট বস্তিতে থাকেন। সেহরির আগে তিনিও শামীম তালুকদারের বাড়িতে জাকাতের কাপড় নিতে যান। কেবল থানাঘাট বস্তি থেকেই ৫০০ জনের মতো মানুষ ওই বাড়িতে জাকাতের কাপড় নিতে গিয়েছিলেন। আনোয়ারা বেগম বলেন, ভোর হওয়ার আগেই ওই বাড়ির সামনে তিনটি লাইনে মানুষের ভিড় জমে যায়। একপর্যায়ে ওই বাড়ির দারোয়ান এসে দুই পাশ থেকে বাঁশ বেঁধে দেন। তারা কাপড় নিতে আসা ব্যক্তিদের একটি লাইনে আসতে বলেন। ভোর পাঁচটার দিকে ওই বাড়ির প্রবেশ ফটক খুলে দেয়া হয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে বাড়ির ভেতর ঢুকতে গিয়ে অনেকে পড়ে গেলে এই পদদলনের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে ফ্যাক্টরির গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে শত শত জাকাতপ্রত্যাশী হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এ সময় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী এক মহিলা জানান, গেটের সামনে অনেক লোক বইসা ছিল। ভোরে গেটের সামনে অনেক লোক পীড়াপীড়ি শুরু করে। কিন্তু কেউ গেট খুলেনি। শামীম সাহেব ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় ছোট গেটা একটু খুলেন। ঝামেলা হয় ওই সময়ই। তারা অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিক শামীম ছোট গেটের বদলে বড় গেট খুলে দিলে এ ঘটনা ঘটতো না। এতজন মানুষেরও প্রাণ যেতো না। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যানচালক দুলাল মিয়া জানান, প্রায় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ভিড় করেছিলেন জাকাতের কাপড়ের জন্য। গেট খুলতেই হুড়োহুড়ি করে ভেতরে ঢোকার সময়ই কমপক্ষে শতাধিক মানুষ পদপিষ্ট হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, জাকাতের কাপড় দেয়ার জন্য ছয় দিন ধরে কার্ড বিলি করেন কারখানার মালিক শামীমের লোকজন। শহরের দুলদুল ক্যাম্প, বিহারি ক্যাম্প ও থানাঘাটসহ শহরের বিভিন্ন বস্তির গরিব ও দুস্থদের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হয়। জাকাতের কাপড় বিতরণের জন্য কারখানা ও বাসার সামনে গতকাল দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু জাকাত দেয়ার এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরির গেট ও সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক শ দুস্থ নারী-পুরুষ অবস্থান নেন। মুক্তাগাছা, ঈশ্বরগঞ্জ, তারাকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে দরিদ্ররা ভিড় করেন কারখানার সামনে। সেহরির পর আরও হাজারখানেক লোক জড়ো হন সেখানে। প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতের স্বজন ও আহতরা জানান, হঠাৎ করে ভোর ৫টায় খুলে দেয়া হয় কারখানায় প্রবেশের ছোট গেট। গেটের সামনে বসেছিলেন কমপক্ষে ৩ থেকে সাড়ে ৪ শ মানুষ। বেশির ভাগই ছিলেন বৃদ্ধ, নারী ও শিশু। আর তাদের পেছনে ছিলেন হাজারেরও অধিক মানুষ।
গ্রেপ্তারকৃত জর্দা ফ্যাক্টরির মালিক শামীম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো ৬০০ জনকে জাকাতের কাপড় দেয়ার জন্য কার্ড দেয়া হয়েছিল। তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করে জানান, এর আগে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। স্থানীয়দের মতে, ঘটা করে প্রতি বছরই জাকাত দেন নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরির মালিক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তার অবশ্যই সচেতন হওয়ার দরকার ছিল। বিশেষ করে যখন কার্ডের বিপরীতে আরও কয়েক হাজার দুস্থ ও গরিব মানুষ ভিড় করার পর প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাহায্য নিতে পারতেন তিনি। ন্যূনতম নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকা ও তাদের এ উদাসীনতার কারণেই এত মানুষের মৃত্যু হলো।
জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, কারখানার মালিক শামীমের অসচেতনতাই এ ট্র্যাজেডির অন্যতম প্রধান কারণ। আমরা জানতে পেরেছি তিনি যদি ছোট গেটের বদলে বড় গেটটি খুলে দিতেন তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটতো না। জেলা প্রশাসক আরও জানান, কার্ড বিলি করে জাকাত দেয়ার এ খবর পুলিশ প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের জানাননি তিনি। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মিসরে ইতালির উপদূতাবাসে বিস্ফোরণে নিহত ১

সন্দেহজনক গাড়িবোমার বিস্ফোরণে উপদূতাবাস
ভবনের বহির্ভাগের অংশবিশেষ ধসে গেছে। ছবি: রয়টার্স
মিসরের রাজধানী কায়রোর কেন্দ্রস্থলে ইতালির উপদূতাবাসে (কনস্যুলেট) আজ শনিবার সকালে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে অন্তত একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দেশটির একজন কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মিনাকে বলেছেন, গাড়িবোমা থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় উপদূতাবাস বন্ধ ছিল। বিস্ফোরণে উপদূতাবাস ভবনের বহির্ভাগের অংশবিশেষ ধসে গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। এর আগে ঘটনাস্থলে থাকা একজন চিকিৎসক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বিস্ফোরণে দুজন পুলিশ সদস্য ও তিনজন পথচারী আহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি পুলিশের সদস্য নাকি পথচারী, তা নিশ্চিত করেননি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।  কোনো গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি।

গ্রিসের পার্লামেন্টে সংস্কার প্রস্তাব পাস

নতুন বেইল আউট পেতে ইউরোজোনের কাছে জমা দেওয়া অর্থছাড় করানোর অর্থনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবটি গ্রিসের পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাসের ওই প্রস্তাবটি পাস হয়।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর দেওয়ার প্রস্তাবটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ’ বলে অভিহিত করে। ফলে গ্রিসের পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি সর্মথন পাওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়লো।
শনিবার ‍ব্রাসেলসে ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে সিপ্রাসের প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এরপর রোববার বিকেলে বৈঠকে বসবেন ইউরোগ্রুপের নেতারা। এর দু’ঘণ্টা পরই হবে ইইউ'র পূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন। এসব বৈঠকেই সিপ্রাসের প্রস্তাবের আলোকে গ্রিসের সঙ্গে ইউরো জোনের নতুন চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
গ্রিসের ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) ঋণের উপর নির্ভরশীল। নতুন করে ঋণ না পাওয়ায় তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো বন্ধ হয়ে রয়েছে। এখন সিপ্রাসের দেওয়ার প্রস্তাবটিকেই গ্রিসের অর্থ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া ঠেকানোর শেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন by তানজির আহমেদ রাসেল

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কে বৃটিশদের সতর্ক করেছে সেদেশের সরকার। বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে এসে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে এ সতর্কতা দেয়া হয়েছে। বৃটিশ সরকারের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের ‘ওভারসিজ বিজনেস রিস্ক : বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংসদ এবং স্থানীয় সরকারসহ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা দুর্বল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন। রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সম্পর্ক নাজুক। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংঘাতময় অবস্থায় রয়েছে। এদেশে রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে এ দুটি দল। এখানে ঘুষ, দুর্নীতি ব্যাপক। বেসরকারি খাতে কার্যকর উন্নয়নে বাধা হিসেবে দেখা হয় দুর্নীতিকে। এতে ব্যবসায় ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। এ ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা নীতি নিতে হবে। রাজনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে। এমনকি ভয়াবহভাবে আইন লঙ্ঘনের বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ঘুষ এবং দুর্নীতির ব্যাপক চর্চা হয়। এ কারণে সরকারি বেসরকারি অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না। রাজনীতিক, আমলা এবং আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস্যরা প্রায়ই তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি করেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি, মানবাধিকার, ঘুষ ও দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি, নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্য দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী এবং বিনিয়োগ করেছেন তাদের জন্য পরামর্শ দিয়ে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্র এবং মুক্ত বাজার অর্থনীতির দেশ। দুইটি প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। দল দুইটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক দুর্বল। দল দুইটির মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান বিরাজমান এবং তাদের রাজনৈতিক ধারা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। জাতীয় সংসদ এবং স্থানীয় সরকারসহ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা দুর্বল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে তার দল নিরঙ্কুশ ভোট নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে। অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি ওই নির্বাচন বয়কট করলে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল অর্ধেকেরও বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। ওই সময়ের বিরোধী দল (বিএনপি) নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছিল। কিন্তু এর আগে ২০১১ সালের জুনে বিতর্কিতভাবে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথা বাতিল করা হয়। ফলে বিএনপি ওই নির্বাচন বয়কট করায় বর্তমানে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকলেও ক্ষমতাসীন সরকারের অংশ। এমনকি তারা মন্ত্রিত্বের পদও পেয়েছে। সর্বশেষ এ বছরের এপ্রিলে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপির ওই নির্বাচনের মাঝপথ থেকে ফিরে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হয়েছে। এতে ২০০৫ সালে দারিদ্র্য যেখানে শতকরা ৪০ ভাগ ছিল তা ১০ ভাগ কমে ২০১৪ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৩০ ভাগ। এ বছরের প্রথম ৩ মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রচুর ক্ষতি করেছে। এ বছর ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছরে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করছেন দেশটির নীতি-নির্ধারকরা। যেখানে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ শতাংশ। অর্থনীতির উন্নয়নে বাংলাদেশ দরিদ্রতার হার উল্লেখজনকভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দরিদ্রতাকে বিদায় করতে চায় এবং মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে চায়। বৈদেশিক মুদ্রা দেশটির অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিচ্ছে। আইনের প্রয়োগ, ন্যায়বিচার এবং বিচারবর্হিভূত হত্যা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন (আইসিসিপিআর), অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত আইন (আইসিইএসসিআর), শিশু অধিকারসহ (সিআরসি) বাংলাদেশ মৌলিক আন্তর্জাতিক আইনগুলোর সংস্কার করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সঠিক আইনের প্রয়োগ এবং চর্চা দুর্বল। বাংলাদেশে ন্যায়বিচার পাওয়া খুবই কঠিন। বাংলাদেশে আইনের প্রয়োগ এবং বাস্তবায়ন দুর্বল। বিচারিক আদালতে অনেক বছর আগের প্রচুর মামলার জট পাকিয়ে আছে। বাংলাদেশের আইনে এখনও শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে স্থান করে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ৮০ শতাংশই আসে তৈরী পোশাক খাত থেকে। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির ১২ শতাংশই এই খাতের। কিন্তু ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির কারণে এ খাতের উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে নি। ওই ঘটনায় এক হাজারেরও বেশি শ্রমিক প্রাণ হারান। পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা বিশ্ব এবং বিনিয়োগকারীদের চাপ এবং সহায়তায় বাংলাদেশ শ্রম পরিবেশ এবং কারখানার অবকাঠামো ঝুঁকিমুক্ত করতে কাজ করেছে। কেননা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্যকর শ্রম পরিবেশ প্রয়োজন। বাংলাদেশে ঘুষ এবং দুর্নীতির ব্যাপক চর্চা হয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘুষ এবং দুর্নীতির কারণে সরকারি-বেসরকারি অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেরই কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না। রাজনীতিক, আমলা এবং আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস্যসরা প্রায়ই তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি করেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির তালিকায় ২০১৪ সালে বিশ্বের ১৭৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৫। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনগুলোতে সংঘটিত অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় নির্বাচন কমিশনের একটি চলমান প্রকল্প থেকে অন্য দাতা দেশগুলোর সঙ্গে এ মাসে আর্থিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাজ্য। এ মাসের পর ওই প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যাবে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। যার মেয়াদ ছিল আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত।

এরশাদ-রওশন দূরত্ব বাড়ছেই by সিরাজুস সালেকিন

স্ত্রী রওশন এরশাদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েই চলেছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। নানা ইস্যুতে দ্বিমতের কারণে এই দূরত্ব দ্বন্দ্বে রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এরশাদ-রওশনের দূরত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী এরশাদ ও রওশনকে এক গাড়িতে চড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যানজটের পরিপ্রেক্ষিতে হলেও বিষয়টি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে তার বিশেষ দূত এরশাদ ও বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশনকে। গত ৬ই জুন গণভবনে রাজনীতিবিদদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতারে যাননি রওশন এরশাদ। অবশ্য গণভবনে যানজটের কারণে ইফতারে অংশ নিতে পারেননি বলে বুধবার সংসদে দেয়া এক ভাষণে উল্লেখ করেন রওশন। তার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি খুবই দুঃখিত, যানজটের কারণে বিরোধীদলীয় নেত্রী আমার ইফতার পার্টিতে আসেননি। এরশাদ সাহেব আসলেন, আপনি আসতে পারলেন না। কিন্তু আপনারা দুজন যদি এক গাড়িতে আসতেন। বিরোধীদলীয় নেত্রী আপনি নিজেই বিবেচনা করে দেখুন যে, দুখানা গাড়ি মানে যানজট একটু বাড়লো। একটা গাড়িতে এলে যানজটটা কমতো। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সময় এরশাদসহ সংসদের প্রায় সব এমপি হেসে ওঠেন। তবে নির্বিকার থেকেছেন রওশন এরশাদ। অবশ্য এবারের রমজানে দলের কোন ইফতারে দেখা হয়নি এরশাদ ও রওশনের। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ইফতারে রওশনকে দাওয়াত দেয়া হলেও তিনি যাননি। এমনকি ২১শে জুন গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে কূটনৈতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতারেও তিনি যাননি। এরশাদ ও রওশন এরশাদ দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকেন না। এরশাদ থাকেন বারিধারায়, রওশন থাকেন গুলশান ২ নম্বরে। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন এরশাদ ও রওশন। এরপর দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে কথাবার্তাও বন্ধ ছিল। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, সরকার তো পরিকল্পিতভাবে স্যার ও ম্যাডামের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে রেখেছে। ওনারা ইচ্ছে করলেই তো আর এক গাড়িতে উঠতে পারছেন না। নানা কৌশলে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে রেখেছে। মন্ত্রিসভায় থাকা না থাকা নিয়ে রহস্যজনক আচরণ করছেন এরশাদ। গত কয়েক মাস আগেও মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টি পদত্যাগ করবে- এমন বক্তব্য দিয়েছেন এরশাদ। এসময় জাতীয় পার্টির মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা আগে এরশাদকে বিশেষ দূতের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। সম্প্রতি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন এরশাদ। মন্ত্রিসভায় জাপার আরও দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন বলে গুজব ওঠে। এরশাদ ওই চিঠিতে ছোট ভাই জিএম কাদের ও মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মন্ত্রী করতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন। এরপরই গত রোববার সংসদের ভবনে আওয়ামী লীগের দুজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে বৈঠক করে মন্ত্রিসভা জাতীয় পার্টিকে বের করে নিয়ে আসার ইচ্ছের কথা জানান রওশন এরশাদ। দলের একটি সূত্র জানায়, চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে এ ধরনের বৈঠক করায় রওশনের ওপর অসন্তুষ্ট হন এরশাদ। সংসদ অধিবেশন চলাকালে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও শিল্পমন্ত্রী আমুর সঙ্গে রওশনের ওই বৈঠকে জাতীয় পার্টির বেশ কজন এমপিও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রওশন জাতীয় পার্টিকে মন্ত্রিসভা থেকে  বের করে সত্যিকারের বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন। এতে উপস্থিত জাতীয় পার্টির অধিকাংশ এমপি সায় দিলেও কয়েকজন এমপি রওশনকে আরও চিন্তাভাবনা করতে বলেন। বৈঠকে আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী চান না জাতীয় পার্টি এই মূহুর্তে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করুক। এদিকে সম্প্রতি নারী এমপিদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে জাতীয় সংসদে তোপের মুখে পড়েন এরশাদ। তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদকে ‘শোপিস’ হিসেবে অভিহিত করেন। এ নিয়ে সংসদে হট্টগোল দেখা দেয়। সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে ও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে এরশাদের বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেয়ার (এক্সপাঞ্জ) কথা জানান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর রওশন এরশাদ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমেই এরশাদের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, হয়তো তার (এরশাদের) শব্দচয়নটি ঠিক ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টিকে সবাই হেসে উড়িয়ে দিলেও রওশনের ওপর প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ হন এরশাদ। একই সঙ্গে এরশাদের বক্তব্য সংসদে এক্সপাঞ্জ হলেও জাতীয় পার্টির কোন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা এমপি এর প্রতিবাদ করেননি। উপরন্তু তারা টেবিল চাপড়িয়ে রওশনের ক্ষমা প্রার্থনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। রওশনের এমন আচরণেও এরশাদ অসন্তুষ্ট বলে তার ঘনিষ্টজনরা জানান।

উফায় জিনপিং ও পুতিনের বৈঠক: ‘চীন–রাশিয়া এক থাকলে সব সমস্যা উতরানো সম্ভব’

ব্রিকস ও এসসিও শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগের দিন বুধবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পুতিনের পক্ষ থেকে ঘোষণা এল, এ দুই দেশ এক থাকলে সব সমস্যাকে পরাস্ত করা সম্ভব। খবর এপি, এএফপি ও রয়টার্সের।
রাশিয়ার উফা শহরে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। এতে অংশ নিচ্ছেন পুতিন ও জিনপিংয়ের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। বিশ্বের উঠতি পাঁচটি অর্থনীতির এই জোটকে আগে থেকেই ক্রেমলিন পাশ্চাত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে একটি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবেই বিবেচনা করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা অবরোধের জেরে অর্থনৈতিক চাপে পড়া রাশিয়া ব্রিকস-এর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যদিকে চীনের সঙ্গেও নানা ইস্যুতে পাশ্চাত্যের মতপার্থক্য বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার ব্যবস্থায় কয়েকটি বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনায় চীনের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলায় ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক ভাল নেই।
এমন প্রেক্ষাপটে উফায় চীনা ও রুশ প্রেসিডেন্টের মধ্যে ওই বৈঠক হল। বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে জিনপিংকে পুতিন বলেন, ‘আমরা অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যেসব বিষয় নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি, সেগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবেই অবগত আছি। এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে, আমরা যৌথ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে সামনের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবো। আমরা সব সমস্যার সমাধান করবো।’
রাশিয়ার উফা শহরে গতকাল ব্রিকসের সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (বাঁয়ে) ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে (ডানে) স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই জোটের এবারের সম্মেলনে সিরিয়া সংঘাত, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হুমকি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে l ছবি: এএফপি
ব্রিকস সম্মেলন শুরুর আগেই উফায় জিনপিংয়ের পাশাপাশি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জুমার সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুতিন। গতকালই তাঁর বৈঠকের কথা ছিল ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে। সাংহাই কো-অপারেশন সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন রুহানিও। এদিকে রুশ অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গ্রিসের ঋণ সংকটের বিষয়টি ব্রিকস সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে নেই। তবে ওই সংকট ইউরোজোনে যে প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কারণ, এটি সম্মেলনে অংশ নেওয়া সবার জন্যই ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতি বছর ব্রিকস বাণিজ্য মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ব্রিকস বিজনেস কাউন্সিলে দেওয়া এক ভাষণে এ প্রস্তাব করেন তিনি। এ সময় মোদি পাশ্চাত্যের প্রতি পরোক্ষ আক্রমণ করে আরও বলেন, ‘একতরফা অবরোধগুলো’ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ক্ষতি করছে। মূলত ইউক্রেন সংকট নিয়ে মস্কোর ওপর পাশ্চাত্যের অবরোধ আরোপের প্রতি ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ছে by দীন ইসলাম

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের দেড় বছর পর মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ছে। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফা কলেবর বাড়ছে মহাজোট সরকারের। কাল রোববার বা মঙ্গলবার দিনের কোন একসময় নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত এ শপথ অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে ‘ইফতার পার্টি’ হওয়ার জোর সম্ভাবনা বেশি বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুয়েক জন ছাড়া সবাই হবেন নতুন মুখ। এদিকে গতকাল সিলেটে মন্ত্রিসভা রদবদল ও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন করে পরিবর্তন হচ্ছে কিনা সেটা বলা মুশকিল। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন হাত দিয়েছেন তখন দেখা যাক কি হয়। একটু পুনর্গঠন হবে, তবে কিভাবে হবে বলা মুশকিল। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আপাতত মন্ত্রিসভার সমপ্রসারণ হতে যাচ্ছে। কেউ বাদ পড়ছেন না। এ তালিকায় মন্ত্রী হিসেবে দুই জন ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিন জনের নাম রয়েছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বিকালে নতুন করে স্থান পাওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাছে ফোন করা হবে। ওই ভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ কারণে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা রাখা হবে। ওই ভাবেই সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা মানবজমিনকে কোন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। উচ্চপর্যায় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের এক সংসদ সদস্যকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। ওই নারী এমপি সংস্কৃতি জগতের সঙ্গেও জড়িত। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী অপসারণ হওয়ায় টাঙ্গাইল এলাকা থেকে কোন মন্ত্রী নেই। ওই এলাকা থেকে একজনকে মন্ত্রিত্ব দেয়া হতে পারে। এ ছাড়া সিনিয়রদের মধ্যেও দুয়েক জনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। তবে আগের মেয়াদে ডাকসাইটের মন্ত্রী থেকে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন এমন কাউকে নতুন করে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে নিয়েও উচ্চ মহলে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের উপর বিরক্ত হলেও এখনই তাদের সরাতে চান না। এ দুই মন্ত্রী সম্পর্কে বলা হয়েছে, সুখে দুঃখে তারা সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আছেন। তাই তাদেরকে সরানোর চিন্তা করা হচ্ছে না। অন্য বিতর্কিত মন্ত্রীদেরও আপাতত সরানো হচ্ছে না। তবে বিতর্কিত মন্ত্রীদের মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী দেয়া হবে। এরপর সুযোগ বুঝে মন্ত্রিসভা থেকে তাদের বাদ দেয়া হবে। এর আগে গত বছরের ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর ১২ই জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী ছিলেন। এরপর একই বছরের ২৬শে ফেব্রুয়ারি খালি থাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান এ এইচ মাহমুদ আলী ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মো. নজরুল ইসলাম হিরু। অপরদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে সরিয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য গত বছরের ১২ই অক্টোবর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণ করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়েছে। নতুন এলজিআরডি মন্ত্রী করা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। পাশাপাশি তিনি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলাবেন। এখন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীর সংখ্যা ২৯, উপদেষ্টা ৫ ও প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা ১৮ জন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ৫৩ (উপদেষ্টাসহ) জন। বর্তমানে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে কোন মন্ত্রী নেই। অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেন। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়েও কোন মন্ত্রী নেই। তবে প্রতিমন্ত্রী আছেন। নতুন মন্ত্রীদের শপথের পর ঈদের আগের দপ্তর বণ্টন করা হতে পারে। ওইভাবেই প্রস্তুতি রয়েছে।

সাংবাদিক সায়েম হত্যাকাণ্ড: আগে থেকেই অবস্থান করছিল খুনি

সাংবাদিক সায়েম
সাংবাদিক সায়েম খুনের মামলায় গ্রেপ্তার রাজিব সরকার ঘটনার এক সপ্তাহ আগে থেকে এলাকায় অবস্থান করছিল। সে সায়েমের চলাফেরার ওপর নজরদারি করছিল। সায়েমের বাবা বাউল তরিকার হওয়ায় রাজিবও বাউলের বেশ ধরে লাল সালু পরে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে থাকে।
এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন জানান, ঘটনার দুই দিন আগে সায়েমদের বাড়িতে যায় রাজিব। অসহায় ভেবে সায়েমের মা তাঁকে নিজ হাতে খেতে দেন। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকেও একবার দোতলায় উঠেছিল রাজিব। ওই সময় সায়েমের স্ত্রী বকা দিলে সে নেমে যায়। সায়েমের মা আমেনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘যারে দুই দিন আগে যত্ন করে খাওয়ালাম, সেই শেষ পইযন্ত কলজেতে ছুরি ঢুকাইলো।’
গতকাল দুপুরে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন সায়েমের স্ত্রী আফরোজা খাতুন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সায়েম তাঁকে খুনের পরিকল্পনাকারীর পরিচয় ও কারণ বলে গেছেন। সেই এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জীবননগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লুৎফুল কবীর বলেন, এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগ ও অভিযুক্তের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া রাজিব আহম্মেদ ওরফে রাজিব সরকারকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিতে আজ শুক্রবার আদালতে আবেদন করা হবে।
পেয়ারাতলা গ্রামের বাড়ির দোতলায় ডাইনিং রুমে গিয়ে দেখা যায়, মেঝেতে ও দেয়ালে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। এখানেই মঙ্গলবার রাতে ঘাতকের ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হন সাংবাদিক সায়েম। দোতলায় ডাইনিং স্পেস ছাড়া দুটি কক্ষ ও একটি বাথরুম রয়েছে। ঘটনার রাতে দক্ষিণ প্রান্তের কক্ষে সায়েম, তাঁর স্ত্রী আফরোজা খাতুন ও ছোট ছেলে রনক শুয়ে ছিলেন। উত্তর প্রান্তের কক্ষটি ছিল ফাঁকা।
আফরোজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে আমি বাথরুমে যাই। বাথরুম থেকে বের হয়েই বুকে বালিশ ও ছুরি হাতে একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিই। চিৎকার শুনে সায়েম ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। সঙ্গে সঙ্গে সায়েমকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে বুকের ওপর ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে ওই ব্যক্তি। আমাদের দুজনের চিৎকার শুনে নিচ থেকে শ্বশুরসহ বাড়ির অন্যরা ছুটে আসেন।’
নিহত সায়েমের বাবা আবুল খায়ের ওরফে বাচ্চু মোল্লা জানান, দোতলায় উঠে তিনি ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেন এবং ঘাতককে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় ঘাতক দোতলা থেকে দ্রুত ঝাঁপ দিয়ে সিঁড়ি এবং সিঁড়ি থেকে নিচে চলে যায়। যাবার আগে তাঁর (বাচ্চু মোল্লার) বাঁ কপালেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
নিহত সাংবাদিকের ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলাম জানান, দোতলা বাড়ির ছাদের ময়লা পরিষ্কারের জন্য বাঁশের তৈরি মই সিঁড়িঘরের সঙ্গে ভেড়ানো ছিল। ওই মই বেয়েই ঘাতক দোতলায় উঠে নৃশংসতা চালায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সায়েমের কয়েকজন নিকটাত্মীয় প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার রাজিব ভাড়াটে খুনি। পেছনে অনেক রাঘববোয়াল রয়েছে। খুনের আগে মোটরসাইকেলে করে খুনিকে বাড়ির পাশে নামিয়ে দিয়ে যাওয়া হয়।
সায়েমের পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র জানায়, সায়েমের পারিবারিক ধানচালের ব্যবসা ছাড়াও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। সম্প্রতি তিনি ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ জন্য এক রাজনৈতিক নেতাকে কয়েক লাখ টাকাও দিয়েছিলেন। ঋণ মঞ্জুর না হওয়ায় ওই নেতার কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছিলেন। কিন্তু তিনি দিতে না চাওয়ায় মন-কষাকষি চলছিল। তদন্তকালে এ বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার বলে অনেকেই মনে করেন।

ছাত্রলীগের খাই খাই দশা- খাওয়ার জন্য ‘ফাউ’, খরচের জন্য চাঁদা!

বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের খাদ্যসংকট দেখা যাচ্ছে। তিতুমীর কলেজ থেকে বুয়েটের ক্যানটিন—কোথাও যেন তাদের কিনে খাওয়ার অবস্থা নেই। কোথাও বাকির নামে ফাঁকি আর কোথাও মাগনা ভোজনের দাবি তুলে ছাত্রলীগ তার ‘গৌরবের ঐতিহ্যকে’ যে ধুলায় লুটাচ্ছে, তা কি দেখার কেউ নেই? অনাহারে থেকে থেকে তারা কি এতই দুর্বল হয়ে গেছে যে রেস্তোরাঁয় মার খেয়ে পালিয়ে এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ গাড়ি ভাঙচুর করে ঝাল মেটাচ্ছেন।
গত রোববারের প্রথম আলোর দুটি সংবাদই ছাত্রলীগের মর্মান্তিক দুর্দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বুয়েটের মতো মর্যাদাবান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েও, সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদভারে ভারী হয়েও তারা যদি কুখ্যাত চাঁদাবাজদের মতো আচরণ করে, তাহলে লজ্জাই পেতে হয়। এদিকে তিতুমীর কলেজের ছাত্রলীগের দুই নেতা নিকটবর্তী একটি রেস্তোরাঁয় উদরপূর্তির পর বিল পরিশোধ না করায় পিটুনির কবলে পড়েন। যাকে বলে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে, তেমনি করে সেই প্রহারের শোধ নিতে দলবল নিয়ে তাঁরা কলেজের সামনের সড়কে গাড়ি ভাঙচুর চালান। নিজের দোষে অন্যের ক্ষতি করা, তথা রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙচুর করায় তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের কোনো জুড়ি নেই।
ঈদ এলেই দরিদ্র ও পরনির্ভরশীল মানুষেরা জাকাত সংগ্রহ ও দানখয়রাত সংগ্রহে নেমে পড়েন। ছাত্রলীগের মধ্যে এ ধরনের ছাত্রনেতা-কর্মীদের সংখ্যা মনে হয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। তাঁরা ঈদের খরচের জন্য যত্রতত্র চাঁদা দাবি করছেন—বুয়েটের ক্যানটিন থেকে চার লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া তারই অংশ।
নেতা চাঁদা চান কর্মীদের ঈদ খরচ চালাতে, কর্মী নেতার নামে চাঁদার আবদার নিয়ে আসেন। কিছু হলেই গাড়ি ভাঙচুরের যে রেওয়াজ তথাকথিত ‘বিক্ষুব্ধ’রা চর্চা করেন, ছাত্রলীগ সে ব্যাপারেও এক নম্বরে। ছাত্রলীগকে এই দুরবস্থাজনিত ‘ফাউ’ খাওয়া বা চাঁদাবাজি ও না পেলে ভাঙচুরের ‘দুষ্টুমি’ থেকে উদ্ধার করবে কে?
‘ফাউ’ খেতে গিয়ে গতকাল মারধরের শিকার হন তিতুমীর কলেজের ছাত্রলীগের দুই কর্মী। এর জের ধরে তাঁদের তাণ্ডব প্রতিরোধে রাস্তায় নামেন ব্যবসায়ীরা। কলেজের সামনে পুলিশি পাহারা (ইনসেটে) l ছবি: প্রথম আলো

কলকাতায় দুদিনের বৃষ্টিতে জীবনযাত্রা ব্যাহত

দুদিনের টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে কলকাতার অনেক রাস্তাঘাট।
জলডোবা রাস্তা পেরিয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবিটি আজ
কলকাতার পাটুলি থেকে তোলা। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি, কলকাতা
দুদিনের টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে কলকাতার অনেক রাস্তাঘাট। অনেক রাস্তায় গাছপালা ভেঙে পড়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় ট্রাম চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ১২২ দশমিক ৫ মিলিমিটার। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে। গত দুদিনে কলকাতাবাসী সূর্যের মুখ দেখেনি। পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া ঝাড়খন্ড ও বিহারে ঘনীভূত নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টি চলছে।
কলকাতার হাওড়া এবং শিয়ালদহের মেইন ও দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন স্থানে রেললাইন বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। গত বুধবার থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো বাতাসে কলকাতার কসবা, গোলপার্ক, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, ডিএল খান রোড, গড়িয়াহাট, প্রেসিডেন্সি কারাগার এলাকায় রাস্তার ওপর গাছপালা ভেঙে পড়েছে।
পার্কসার্কাস, বালিগঞ্জ, টালিগঞ্জ, ধর্মতলা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, সাউদার্ন অ্যাভিনিউ, বিধান সরণি, বাগবাজার, কলেজ স্ট্রিট, শ্যামবাজার, বেলগাছিয়া, রাজাবাজার, উল্টোডাঙ্গা বাইপাস এলাকায় পানি জমেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
কলকাতা পৌরসভার কর্মীরা বিভিন্ন রাস্তার ওপর থেকে গাছপালা সরানোর কাজ করছে।

স্বামীকে দিয়ে কিনে আনা বটিতেই হত্যা

‘নিজ হাতেই বঁটি দিয়ে স্বামীকে খুন করেছি।’ রাজধানীর কদমতলীতে আবু জাফরকে হত্যার পর এভাবেই স্বীকার করেছে তার স্ত্রী নূরজাহান। স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল প্রায় ১৫ দিন আগেই। পরিকল্পনা অনুসারে স্বামী আবু জাফরকে দিয়েই বাজার থেকে নতুন বঁটি আনায় সে। সামনে ঈদ, সেই সঙ্গে একমাত্র কন্যার জন্মদিন। অনেক রান্নার ব্যাপার বলেই বাজার থেকে বঁটি আনতে বলেছিল নূরজাহান। সেই বঁটিতেই প্রাণহরণ করা হয়েছে আবু জাফরের। তার স্ত্রী নূরজাহান নিজ হাতে তাকে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আবু জাফরের দ্বিতীয় বিয়ে এবং বিয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি বিভক্তি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আদালতে নূরজাহান ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে, সে নিজেই আবু জাফরকে হত্যা করেছে। কিন্তু বিষয়টি মানতে নারাজ নিহতের স্বজনরা। তাদের ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডে আরও দুজন সম্পৃক্ত রয়েছে, যা সঠিকভাবে তদন্ত করলে বের হবে।
সরজমিনে কথা হয় নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে। রাজধানীর কদমতলীর মেরাজনগরের বি-ব্লকের ১৩৬২ নম্বর বাড়িটি আবু জাফরের। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী, সন্তান নিয়ে থাকতেন তিনি। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার দিন ২৯শে জুন সন্ধ্যায় বাসার একটি কক্ষে বসে কথা বলছিলেন নূরজাহান ও তার বড় পুত্র সাইফুল ইসলাম (১৮) এবং ভাগিনা রেজাউল ইসলাম (২৪)। নূরজাহান তখন বলছিল, তাকে জানে মেরে ফেলতে হবে। এ কথা সমর্থন করে রেজাউল তখন বলছিল, মেরে ফেলে দেন। ওরে মারলে আর কী হবে। মেরে স্বীকার করবেন যে মেরেছেন। ওই কক্ষে কন্যা নুসরাত উপস্থিত হলে তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয় নূরজাহান।
নিহত আবু জাফরের স্বজনরা মনে করেন, এ ঘটনায় রেজাউলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও তথ্য প্রকাশ পাবে।
ঘটনার পর বিকালে নূরজাহানকে গ্রেপ্তার করে কদমতলী থানা পুলিশ। পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি দেয় সে। আদালতে নূরজাহান জানায়, ওই দিন রাত ১১টায় বাসায় যান আবু জাফর। বাসায় ঢুকতেই অগ্নমূর্তি ধারণ করে স্ত্রী নূরজাহান। এতক্ষণ কোথায় ছিলে জানতে চেয়ে উত্তেজিত হয়ে উঠে সে। এভাবেই বাকবিতণ্ডা শুরু হয় দুজনের মধ্যে। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নূরজাহানের গালে দুবার চড় দেন আবু জাফর। নূরজাহান তখন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সময়ে সিদ্ধান্ত নেয় ওই রাতেই আবু জাফরকে হত্যা করবে নূরজাহান। রাত সাড়ে ৪টার পর সেহরি খাবার শেষে নামাজ পড়ে ঘুমান আবু জাফর। নূরজাহান জানিয়েছে, ওই সময়ে বঁটি দিয়ে ঘুমন্ত জাফরের ডান কানের নিচে আঘাত করে সে। প্রথমবার সজোরে বঁটি দিয়ে দুই হাতে কোপ দিলে তা প্রায় চার ইঞ্চি গভীরে পৌঁছে। পরে আরও দুবার একই কায়দায় আঘাত করে। ধারালো বঁটির প্রথম আঘাতেই আর ঘাড় সোজা করতে পারেনি জাফর। পরে দুই কোপের পর মারা যান তিনি। পরে তার লাশ টেনে বাথরুমে নিয়ে যায় নূরজাহান। সেখানে রক্ত পরিষ্কার করে। এমনকি রক্তাক্ত বিছানার চাদর, বালিশের কাভার বাথরুমের পানিতে ভিজিয়ে রাখে। নিজেও পরিষ্কার হয়। ৫টার পর দরজা খোলে লাশটি টেনে তৃতীয় তলার এ বাসার সিঁড়ির সামনে রাখে নূরজাহান। হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সে একাই সবকিছু করেছে বলে আদালতকে জানিয়েছে। ঘটনার সময় আবু জাফর ও নূরজাহান দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী নুসরাত ও চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র হুসাইনকে একটি কক্ষে বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখা হয়েছিল বলে নুসরাত জানিয়েছে। অন্যদিকে তাদের বড় ছেলে কলেজপড়ুয়া সাইফুল জানিয়েছে, সে ঘুমিয়ে ছিল। যে কারণে কী ঘটেছে কিছুই টের পায়নি সে। পঞ্চম তলার একজন বাসিন্দা নামাজ পড়ে বের হয়ে সিঁড়িতে লাশ দেখে তাদের দরজায় নক করেন। এ সময় দরজা খোলে পিতার লাশ দেখে চিৎকার করে সাইফুল। একই কথা জানায় বাসায় অবস্থানকারী নূরজাহানের ভাগিনা রেজাউল ইসলাম।
অন্যদিকে, ঘটনার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহতের প্রথম স্ত্রী নূরজাহান মানবজমিনকে জানিয়েছিলেন, ভোর ৫টায় পঞ্চম তলার এক বাসিন্দা জানান সিঁড়িতে কে পড়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে দরজা খোলে সে। রক্তাক্ত অবস্থায় আবু জাফরের নিথর দেহ দেখতে পায় নূরজাহান। তার আগে একসঙ্গে সেহরির খাবার খেয়েছেন আবু জাফর। খাবার শেষে পাশের কক্ষে চলে যান। এর পরেই এ ঘটনা ঘটে। নূরজাহান ও সাইফুলের কথায় অসঙ্গতি থাকায় এ নিয়ে আরও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
ওই সময়ে নূরজাহান জানায়, হত্যাকাণ্ডের চার-পাঁচ দিন আগে আবু জাফর জানিয়েছেন তাকে ডিভোর্স দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী হালিমাকে নিয়েই সংসার করবেন তিনি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কলহ হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে নূরজাহান বলেছিল, কোন কলহ হয়নি। তবে তাকে আমি বুঝিয়েছি। তিনটা বাচ্চা আছে আমাদের। তুমি আমাকে ডিভোর্স দিলে কী হবে তাদের।
হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৭ বছর সিঙ্গাপুরে ছিলেন আবু জাফর। ওই সময়ে একই বাড়িতে ভাড়াটে ছিলেন রতন নামে এক যুবক। একই জেলার বাসিন্দা রতন। তার বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ইসলামপুরে হওয়ায় রতনের সঙ্গে সহজেই সখ্য গড়ে ওঠে নূরজাহানের। দেশে আসার পর বিষয়টি জেনে যান আবু জাফর। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। প্রায় প্রতিদিনই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। এমনকি নূরজাহান নিজে স্বামী আবু জাফরের গায়ে হাত েতোলেছেন বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন। একসময় আবু জাফরও অন্য নারীর প্রেমে জড়িয়ে যান।
সূত্রে জানা গেছে, ওই সময়ে রায়েরবাগের মিরাজনগরে নুসরাত জেনারেল স্টোর নামে মুদি দোকান দেন আবু জাফর। ওই দোকানে সওদা করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী আবদুল লতিফের স্ত্রী হালিমা। সেই সুবাধে হালিমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। বিষয়টি জানাজানি হলে লতিফের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে তিন সন্তানের জননী হালিমার। প্রায় দেড় বছর আগে গোপনে হালিমাকে বিয়ে করেন আবু জাফর। বিয়ের খবর জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েন। প্রথম স্ত্রী ও স্বজনদের চাপের মুখে চার মাস আগে হালিমাকে ডিভোর্স দেন আবু জাফর। তার পরও তাদের সম্পর্ক থেমে থাকেনি। এক মাস আগে আবার হালিমাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর হালিমা রায়েরবাগেই অন্য একটি বাসায় থাকতেন। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী নূরজাহানের সঙ্গে প্রতিদিনই কলহ হতো আবু জাফরের।
ঘটনার দিন বিকালে নূরজাহান ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে করে আসামি কদমতলী থানায় মামলা করেন নিহতের ভাই সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জানান, নূরজাহানের কর্মকাণ্ডেই দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল জাফর। কিন্তু তারা তা মেনে নেননি। জাফর তখন তাদের জানিয়েছিল, নূরজাহান তাকে যে কোন সময় মেরে ফেলবে। তার ঘর তার জন্য নিরাপদ না। মূলত দ্বিতীয় বিয়ে এবং এ বিয়ের কারণে সম্পত্তি ভবিষ্যতে বিভক্ত হয়ে যাবে এ আশঙ্কা থেকেই জাফরকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সেদিন তার এসব কথা গুরুত্ব দেইনি। নতুবা আজকে হয়তো ভাইকে হারাতে হতো না। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আসলাম জানান, নূরজাহান স্বীকার করেছে সে একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবু আরও কেউ জড়িত আছে কি-না তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। নিহত আবু জাফরের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাজারগাঁওয়ে। তার পিতার নাম আবু হানিফ।

বৃষ্টি, যানজটে দুর্ভোগ

টানা বর্ষণ আর যানজটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে রাজধানীবাসীকে। আগের দিন থেকে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় গতকাল রাজধানীর অনেক এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির পানিতে নগরী ও আশপাশের অনেক নিচু এলাকা তলিয়েও যায়। অলিগলিসহ প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘক্ষণ জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে। অনেক এলাকায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয় নগরবাসী। বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতেও। জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদের কেনাকাটা করতে পারেনি রাজধানীবাসী। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে খুলনা ও সাতক্ষীরায় ১৩৯ মিলিমিটার। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে রাজধানীর কাকরাইল, শান্তিনগর, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, রাজারবাগ, আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, বংশাল, আজিমপুর, লালবাগ, কমলাপুর, বাসাবো, মুগদাপাড়া, শনিরআখড়া, জুরাইনসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক দীর্ঘক্ষণ জলাবদ্ধ থাকে। কোথাও-কোথাও হাঁটুপানি জমে যায়। অনেক জায়গায় স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। বৃষ্টির কারণে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে কোথাও-কোথাও। রিকশা-অটোরিকশার যাত্রীদের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে। কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় অলিগলিতে বিকাল পর্যন্ত হাঁটুপানি জমে ছিল। বাংলামোটর-মগবাজার এলাকায় ফ্লাইওভারের কাজের কারণে আশপাশের এলাকায় যানচলাচল ব্যাহত হয়। বৃষ্টিতে ডুবে যায় পূর্ব রামপুরার একাধিক অলি-গলি। শান্তিনগর, খিলগাঁও, মালিবাগ মোড়, পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড, কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, আদাবর, কল্যাণপুর, শ্যামলী ২নং রোডের প্রবেশপথসহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রাজাবাজার, তেজতুরি বাজার, মৌচাক মোড়, পুলিশ লাইন, নাখালপাড়া, তেজকুনিপাড়া, খিলগাঁও, পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড, কাকরাইল, টিকাটুলী, হাটখোলা, রাজধানী সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডসহ অনেক জায়গায় সৃষ্টি হয় সাময়িক জলাবদ্ধতা। ছুটির দিন হওয়ায় গতকাল ঈদের কেনাকাটা করতে বাইরে বেরিয়েছেন অনেকেই। জলাবদ্ধতার ও কাদার কারণে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ধানমন্ডি এলাকায় ওয়াসার রাস্তা খোঁড়ার কারণে কাদায় ঢেকে গেছে রাস্তা। ফলে পায়ে হাঁটা মানুষদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিম বঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে স্থল নিম্নচাপ হিসাবে বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটির বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র প্রবল অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়ায় পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

মিরপুরে তরুণীকে গলা কেটে হত্যা: রক্তাক্ত মেয়েটির বাঁচার আকুতি শুনল না কেউ

‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিলেন তরুণীটি। রক্তাক্ত অবস্থায় একবার ঘরের বারান্দায় আসছিলেন। পরক্ষণে টেনেহিঁচড়ে ঘরের ভেতরে নেওয়া হচ্ছিল তাঁকে। বাইরে থেকে প্রতিবেশীদের অনেকে ঘটনাটি দেখছিলেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি।
ঘটনাটি রাজধানীর মিরপুরের। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাইনখোলার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সেই বাসা থেকে নিস্তেজ তরুণীটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হয়তো মেয়েটি বেঁচে যেত—এমন মন্তব্য করলেন পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মাসুদ আহমেদ।
নিহত তরুণীর নাম আমেনা আক্তার ওরফে রেশমা (১৮)। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন পরিচালিত মিরপুরের বিসিআইসি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন তিনি। আমেনা তাঁর মা-বাবার সঙ্গে মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের রাইনখোলার ‘চ’ ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ২৬৫/২৬৬ নম্বর বাড়ির দোতলায় নিজেদের ফ্ল্যাটে থাকতেন। তাঁর বাবা মো. আলমগীর মতিঝিলের বিসিআইসির চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তিনি আমেনার সৎবাবা।
তরুণীর পারিবারিক সূত্র জানায়, সকালে আলমগীর কর্মস্থলে চলে যান। এরপর মা মরিয়ম বের হন। তখন আমেনা বাসায় একা ছিলেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে মরিয়ম ফিরে এসে দেখেন মূল দরজা ভেজানো। ভেতরে ঢুকে তাঁর (মরিয়ম) শোয়ারঘরের খাটের পাশে আমেনার গলাকাটা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খাটের ওপর ছিল রক্তমাখা বঁটি।
মিরপুর থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় আমেনাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পাশের বাড়ির দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, সকাল ১০টার দিকে আমেনাদের ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার ও চেঁচামেচি শুনতে পান তিনি। এ সময় ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিল কেউ। কিন্তু বৃষ্টি থাকায় বাসা থেকে বের হতে পারেননি তিনি।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের এডিসি মাসুদ আহমেদ বলেন, কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় আমেনাকে বারান্দায় এসে তাঁরা চিৎকার করতে দেখেছেন। সেখান থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে আবার ভেতরে নেওয়া হয়েছে। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাঁরা দেখেননি।
এডিসি মাসুদ আহমেদ আরও বলেন, আমেনার মা-বাবার কথাবার্তা অসংলগ্ন ও সন্দেহজনক। দুজনই বাসা থেকে একজন অন্যজনের আগে বের হয়েছেন বলে দাবি করছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
মরিয়ম আক্তার বলেন, গত বছরের আগস্টে তাঁর মেয়ের নামে ফ্ল্যাটটি কেনেন। তিনি জানান, তাঁর আরও দুই সতীন রয়েছে। তাঁর দেবর, বড় সতিনের ছেলেরা ও ছোট সতিন ওই ফ্ল্যাটের অংশীদার হতে তাঁকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন মরিয়ম।

রাশিয়ায় মোদি-নওয়াজ বৈঠক: সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ঐকমত্য

রাশিয়ায় একান্ত বৈঠকে মিলিত হন ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নওয়াজ শরিফ। এসসিও সম্মেলনের প্রাক্কালে গতকাল প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন এ দুই নেতা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এ বৈঠককে দেখা হচ্ছে শীতল সম্পর্কের বরফ গলানোর পদক্ষেপ হিসেবে। বৈঠকে উভয় নেতা সন্ত্রাস দমনে একসঙ্গে কাজ করা সহ একাধিক বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। মতপার্থক্য নিরসনে থমকে যাওয়া আলোচনা প্রক্রিয়া আবারও শুরু করার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন তারা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে এ বৈঠককে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বৈঠকে উভয় নেতা দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান সব ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় উভয় দেশ একে অপরকে সহায়তা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। মুম্বই হামলার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। ওই মামলায় অভিযুক্তদের ‘ভয়েস স্যাম্পল’ ভারতকে দিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান। সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে নওয়াজ শরীফ ২০১৬ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানান। মোদি পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া দুদেশে আটক মৎসচাষিদের ১৫ দিনের মধ্যে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। বৈঠকে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার বিষয়েও আলোচনা করেছেন উভয় নেতা। উল্লেখ্য, এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে নরেন্দ্র মোদি ও নওয়াজ শরিফের এটা ছিল প্রথম বৈঠক। বৈঠকের পর গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে ঘোষণা দেন ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিবদ্বয়- এস. জয়শঙ্কর ও আইজাজ আহমাদ চৌধুরী।

ওষুধ চোর সিন্ডিকেট by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) রোগীর ওষুধ যাচ্ছে চোরের পকেটে। আর ওষুধ না পেয়ে মারা যায় রোগী। অথচ রোগীর ওষুধ কয়েকবার বেচাকেনা হয় রাজধানীর অলিগলির ফার্মেসিতে। শুধু তা-ই নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো কৌশলে নগরীর চানখাঁরপুল, মিটফোর্ড রোডসহ অলিগলির ফার্মেসিতে বিক্রি করে ওই চক্র। ঢামেকের ওষুধ চুরির সঙ্গে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী, কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডাক্তারদের যোগসাজশে ওই চক্রটি এ কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু রোগীরা প্রাণরক্ষার প্রয়োজনীয় ওষুধ পান না। ঢামেকে চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে নানা কৌশলে ওষুধ চুরি করে থাকে। প্রতি বছরের জুনে এমন ঘটনা বেশি ঘটে। ওই চক্রটি হাসপাতালের বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন। হাসপাতালে রয়েছে তাদের ব্যাপক আধিপত্য। এদের অনেকেই সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আবার কেউ জড়িত বিরোধী দলের রাজনীতির সঙ্গে। তারা একদিকে যেমন সরকারি চাকরিজীবী অন্যদিকে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। এই দুই পরিচয়ের বাইরেও আরেকটি পরিচয় আছে এদের, যা অনেকেরই অজানা। ঢামেকের শক্তিশালী ওষুধ চোর সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। সিন্ডিকেটটি প্রতিমাসে অন্তত ৫ লাখ টাকার ওষুধ চুরি করে বাইরে পাচার করে। চুরি করা ওষুধ বিক্রি হচ্ছে হাসপাতালের সামনের বিভিন্ন ফার্মেসিসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ওষুধের দোকান ও  মিটফোর্ডের দোকানগুলোতে। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরেই ওষুধ চোর সিন্ডিকেট সক্রিয়। ইতিপূর্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে চাকরি খুইয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থাও নিয়েছে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই সিন্ডিকেটের তৎপরতা। হাসপাতাল থেকে ওষুধ চুরি অব্যাহত আছে। ওষুধ চুরির চেয়েও ভয়াবহ বিষয় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার। ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা চুরি করা ওষুধের জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রেখে দেয়। ওই সব ওষুধ কৌশলে নিরীহ ও দরিদ্র রোগীদের জন্য দেয়া হয়। এতে রোগীর প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। প্রায়ই চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যু বা ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুসহ নানা অভিযোগ ওঠে।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালে বহির্বিভাগের পাশের গেটে এবং হাসপাতালের ফার্মেসির খুব কাছে (ডিএমসিএইচ) লেখা তিন প্যাকেট ওষুধ নিয়ে দুজন পুরুষ এবং দুজন মহিলা এদিক-সেদিক তাকাচ্ছেন আর দ্রুত ভাগবাটোয়ারা করছেন। পরিচয় না দিয়ে তাদের কাছে ওষুধগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তর না দিয়েই দুজন মহিলা তাদের ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে ওষুধের ছোট ছোট কয়েকটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। পুরুষদের একজন বললেন, আমরা গ্লোব ফার্মেসি লিমিটেডের লোক। ওষুধগুলো ফার্মেসিতে বিক্রি করতে এনেছি। কিন্তু ওষুধের প্যাকেটে ডিএমসিএইচ লেখা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা এই প্রতিবেদকের দিকে তেড়ে আসেন। ছবি তুলতে চাইলে তারা দ্রুত পালিয়ে যান। এরপর এই বিষয়ে প্রশাসনকে জানাতে গেলে পরে এসে তাদের আর সেখানে পাওয়া যায়নি।
গত বছর আগস্ট মাসে ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের আব্বাস নামের এক রোগী বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে ঢামেকে আসেন। ওই রোগী জিবিএস মুমূর্মু রোগে ভুগছিলেন। রোগীর বোন সাঈদা আক্তার অভিযোগ করেন, তার ভাইকে হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধই দেয়নি। ডাক্তাররা তাকে আইসিইউতে রাখার নির্দেশ দিলেও তাকে সেখানে রাখেনি। তারা গরিব হওয়ায় বেসরকারি হাসপাতালেও যেতে পারেননি। পরে আব্বাসের মৃত্যু হয়।
চলতি বছরের ২২শে জুন ১১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন শামীম। তার পিত্তনালিতে পাথর জমেছে। হাসপাতালের প্রশাসনের কাছে তার স্ত্রী রুমা হাউমাউ করে কান্নাকাটি করে অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডে তার স্বামীর অপারেশনের কথা বলে ২৮০০ টাকার উপরে ওষুধ কিনিয়েছে। কিন্তু একটি ওষুধও তাদেরকে দেয়নি। এমনকি তার স্বামীকে বলেছে, এই অপারেশন শাহবাগ মোড়ে করাতে হবে। তাদেরকে ২রা জুলাই রিলিজও দেয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা-পয়সা না থাকায় তারা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, তাহলে কি তার ওষুধগুলো চুরি হয়ে গেছে ? এই রোগী সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছেন। এদিকে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওষুধ চোরদের ধরতে বহুবার অভিযানও চালিয়েছে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ২২শে জুলাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আউটডোর গেটের বাইরে এক কার্টন সরকারি ওষুধসহ শাহীন ওরফে সানুকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
২০১১ সালের ৯ই মে আনুমানিক ১২ হাজার টাকার সরকারি ওষুধসহ ধরা পড়ে ঢামেকর স্টোর ইনচার্জ মুজিবুর রহমান খান। ওষুধ চুরির দায়ে মুজিবুর রহমান খানকে ঢামেক থেকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট  জেনারেল হাসপাতালে বদলি করা হয়। বর্তমানে মুজিবুর রহমান খান তদবির করে আবার ঢামেকে এসেছেন।
এ ছাড়াও বহুবার মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টিটিভের ব্যাগ তল্লাশি করে ঢামেকের জন্য ব্যবহৃত সরকারি ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো বাইরে বিক্রির জন্য পাচার করা হচ্ছিল। ওষুধ চুরির সঙ্গে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা জড়িত। হাসপাতালের ওষুধসহ নানা জিনিসপত্র চুরির সঙ্গে ওষুধ চোরদের সিন্ডিকেট রয়েছে হাসপাতালের স্টোর ইনচার্জ মুজিবুর রহমান খান, প্রধান ওষুধ স্টোরের ফার্মাসিস্ট শ্রী বিমল চন্দ্র, ডিএমসির কর্মচারী মো. শাহীন ও মোহাম্মদ জুয়েল, মোহাম্মদ শাহজাহানসহ সাব-ওষুধ স্টোরের দুই ফার্মাসিস্ট, ২১০ নম্বর ওয়ার্ডের বয় নাসির উদ্দিন, ১০৫ নম্বর ওয়ার্ডের বয় মো. আবদুল হালিম, ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের বয় আবুল হাশেম। ইতিপূর্বে সাজা পাওয়া ঢামেকের কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান খান, শাহীন ও মোজাহার হোসেন মোল্লা সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। এদের ইন্ধনে সিন্ডিকেটটি সক্রিয়। ডিএমসির ব্যারেজ শপের ইনচার্জ মো. মোজাহার হোসেন মোল্লাকে চুরির ঘটনায় পঙ্গু হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সিন্ডিকেট সদস্যরা নানা কৌশলে ওষুধ চুরি করে থাকে। এর মধ্যে হিসাব বিবরণীতে গরমিল একটি অন্যতম কৌশল। চোর সিন্ডিকেটের সদস্য ফার্মাসিস্টরা ওষুধের হিসাব বিবরণীতে ইচ্ছাকৃতভাবে গরমিল করে থাকে। হিসেবে গরমিল দেখিয়ে ওষুধ চুরি করে। চুরি করা ওষুধগুলো সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে থাকা ওয়ার্ড বয়দের কাছে পৌঁছে দেয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কেবিন ব্লক ছাড়াও ৭০টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি উত্তোলন করা হয়। অতিরিক্ত ওষুধ উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই জড়িত। প্রয়োজনের তুলনায় উত্তোলন করা অতিরিক্ত ওষুধ ওয়ার্ড বয়দের মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে বিক্রি করে থাকে সিন্ডিকেট সদস্যরা। ওয়ার্ড বয় ছাড়াও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির মেডিক্যাল প্রতিনিধি ও আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমেও হাসপাতাল থেকে ওষুধ বাইরে পাচার করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া চোর সিন্ডিকেটের সদস্য ফার্মাসিস্টরা স্টোর হতে চাহিদাপত্রের বিপরীতে ওষুধ সরবরাহকালে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। ওয়ার্ডগুলোতে থাকা চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা স্বল্পমেয়াদের ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো রেখে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধগুলো বাইরে বিক্রি করে থাকে। এতে নতুন করে হাসপাতাল থেকে ওষুধ উত্তোলনের সুযোগ থাকে। এর ফলে প্রায়ই বিভিন্ন ওয়ার্ডে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধরা পড়ে। শুধু ওষুধ নয়, হাসপাতাল থেকে মূল্যবান সামগ্রীও চুরি হয়ে যায়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহির্বিভাগের একজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে একজন করে নার্স ইনচার্জ থাকেন। সাধারণত তারাই ওয়ার্ডে ভর্তি করা রোগীর সংখ্যা বেশি দেখিয়ে কমিশনের বিনিময়ে চোর সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের ওষুধ। এভাবেই প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার ওষুধ বাইরে পাচার হয়ে যায়। তিনি জানান, ওষুধ চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডের বয় মো. শাহীনকে শাস্তি স্বরূপ অন্য ওয়ার্ডে বদলি করা হয়। কিন্তু ওয়ার্ড মাস্টারকে ‘ম্যানেজ’ করে আবারও ওই ওয়ার্ডে ফিরে যান তিনি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ২১০ নম্বর ওয়ার্ডের বয় মামা নাসিরকে প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের ওষুধসহ হাতেনাতে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন আনসার সদস্যরা। সেসময় তাকে হাসপাতাল থেকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু  মুক্তি পেয়ে আবারও আগের কাজ শুরু করেছেন নাসির।
ওষুধ চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে ঢামেকের পরিচালক ব্রি. জে. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, এখন ওষুধ চুরি নাই বললেই চলে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। হাসপাতালের সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং কিছু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৫শে জানুয়ারি আনুমানিক ১৫ হাজার টাকার ওষুধসহ মো. জসিম, ফার্মাসিস্ট মো. সাগরসহ বহিরাগত মো. রফিককে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক এই তিনজন হাসপাতালের কেউ না হলেও এরা নিয়মিতই ডাক্তারদের ‘বিশেষ কর্মচারী’ হিসেবে কাজ করতো। ডাক্তাররা ছোটখাটো কাজ এদের দিয়েই করাতেন। এর বিনিময়ে তারা ডাক্তারদের মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিতো। এদের বড় একটি চক্র গড়ে উঠেছে হাসপাতালে।
ডাক্তারদের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র লিখিয়ে নিয়ে ওষুধের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। এটি সবার চোখের সামনেই ঘটছে। প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এই চক্রটি বিভিন্ন ডাক্তারদের কাছ থেকে ওষুধের ব্যবস্থাপত্র লিখিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওষুধ তুলে বিক্রি করে। এটা ডাক্তারের সঙ্গে যাদের ভাল সম্পর্ক তারা এই কাজ করেন। ডাক্তারদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০টি ওষুধের লিস্ট নিয়ে হাসপাতালের ডিসপেনসারি থেকে ওষুধ তুলে বাইরে বিক্রি করে এ চক্রটি। ডাক্তারদের আশ্রয়-প্রশ্র্রয়ে তারা ওষুধর চুরির ঘটনা ঘটায় হাসপাতালে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন স্টোরের প্রধান ডা. মশিউর রহমান জানান, বছরে ২৪ কোটি টাকার ওষুধ ক্রয় করা হয় হাসপাতালে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কোন ওষুধ উদ্বৃত্ত ছিল না। বরং সরকারি ওষুধ কোম্পানি এসেনসিয়াল ড্রাগসের কাছে ৫৮ হাজার টাকা দেনা রয়েছে হাসপাতালটি।

জলমগ্ন কুষ্টিয়া

টানা পাঁচ ঘণ্টার প্রচণ্ড বৃষ্টিতে কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট। ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী। ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া পৌর এলাকার একটি জুতার দোকানে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। ছবিটি আজ পৌর এলাকার এনএস সড়ক থেকে তোলা।  ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শহরের পৌর বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা। 
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডের বিপণিবিতানগুলো। 
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে শহরের এনএস রোড। 
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া পৌর এলাকার একটি ওষুধের দোকানে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। 
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
অবিরাম বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় থেমে নেই কর্মজীবীদের কাজ।
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
রাস্তা পেরিয়ে জুতার দোকানে ঢুকে পড়া পানি সেচে বের করে ফেলছেন কর্মচারীরা। ছবিটি শহরের এনএস রোড থেকে তোলা। 
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া শহরের সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিচতলায় জল থই থই করছে। 
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সামনের সড়কের চিত্র। 
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের মাঠ যেন পুকুরে রূপ নিয়েছে আজ। 
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিচতলার চিত্র। 
ছবি: তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সামনে একটি এটিএম বুথে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে তা অকেজো হয়ে গেছে।