Monday, August 20, 2018

ইসলামি বিপ্লব পরবর্তী ইরানের উন্নয়ন- পর্ব ২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান খানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছিলাম আমরা। প্রথম পর্ব নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন। গত পর্বে আমরা ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গের অবতারণা করে আসর গুটিয়ে নিয়েছিলাম। বলেছিলাম যে, বর্তমান বিশ্ববাস্তবতা এবং সময়ের দাবি মোতাবেক তেলনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে নতুন নতুন খাত নির্ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। যাই হোক আজকের পর্বেও আমাদের সঙ্গে থাকছেন ড. সিদ্দিকুর রহমান খান।
বন্ধুরা! ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইরান বর্তমানে একটি সফল দেশ। রপ্তানি খাতে ইরানের অর্জন উল্লেখ করার মতো। ইরানের শীর্ষ দশ শ্রেণির রপ্তানি পণ্যসামগ্রীর তালিকায় প্রথমেই রয়েছে তেলসহ খনিজ জ্বালানি। মোট রপ্তানি আয়ের ৭৫ ভাগই অর্জিত হয় এ খাত থেকে। ইউরোপের বাজারেও ইরানের পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগে ইরানের বৈচিত্র্য আনার ক্ষমতাও রয়েছে যথেষ্ট। গত বছর ২২টি বিদেশি বিনিয়োগ চুক্তি করতে সমর্থ হয় ইরান। ইতোমধ্যে দেশটির পানি ও বিদ্যুত খাতে ৮ বিলিয়ন ডলারের অধিক বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট স্থিতিশীল বলে ইউরোপ, চীন, আমেরিকা,আফ্রিকা, ভারতসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলো দেশটিতে বিনিয়োগে ছুটছে। ড. সিদ্দিকের ভাষ্য শোনা যাক:       
তেল সম্পদের বাইরেও বিভিন্ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান এবং সফলও হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। যেমনটি ড. সিদ্দিক বললেন। আসলে বিপ্লব বিজয়ের পর থেকেই জ্ঞান-বিজ্ঞানে ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে ইরান। বিপ্লব-পূর্ব সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়ে ইসলামের চেতনায় ঐশী আলোয় আলোকিত হয় ইরান। বলাবাহুল্য ইরান ইতোমধ্যেই পৃথিবীর সচেতন ও আলো প্রত্যাশী মানুষকে আরো বেশি সত্য ও সুন্দরের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ইরান এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে উন্নীত হয়।
বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ এবং শিক্ষাবিদ ড. সিদ্দিকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম ইরানের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে। তিনি বললেন:
শিক্ষাক্ষেত্রে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থানে রয়েছে। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পেছনে যেসব বৈশিষ্ট্য কাজ করেছে তা হচ্ছে শিক্ষা কারিকুলাম তৈরি। ইসলামি শিক্ষা-দর্শনের ভিত্তিতে দেশের প্রয়োজনের প্রতি দৃষ্টি রেখে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ফলে ইসলামি দর্শনের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় ইরানের অগ্রগতি এখন এককথায় বিস্ময়কর। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে নানা রকমের বাধা-বিপত্তি,পাশ্চাত্যের অসহযোগিতা ও বিশেষ অর্থনৈতিক অবরোধ সত্ত্বেও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ইরানি বিজ্ঞানীরা চরম আত্মত্যাগ ও সাধনার পরিচয় দেয়ায় দেশটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বৈপ্লবিক উন্নতি ও সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১৭ ‘হাইলি সাইটেড রিসারচারস’ শীর্ষক তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ইরানি বিজ্ঞানীরা। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান গবেষণা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছে ইরান।
মহাশূন্যে নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সক্ষম দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান নবম এবং মহাকাশযানে প্রাণী পাঠানোর ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান ষষ্ঠ। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এর সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য কৌশল উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইরানে বিগত দু’দশকে বায়োটেকনোলজি বিষয়ে লক্ষণীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে।
ভ্যাকসিন উৎপাদনে মধ্যপ্রাচ্যে ১ম। স্টেমসেল গবেষণার ক্ষেত্রে ইরান প্রথম সারির ১০টি দেশের মাঝে অবস্থান করছে। স্টেমসেল রিপ্লেস করার ক্ষেত্রে বিশ্বে ইরানের অবস্থান দ্বিতীয়। হাড়,হার্টভাল্ভ ও ট্যানডন রিপ্লেস করার ক্ষেত্রে বিশ্বে ইরানের অবস্থান তালিকার শুরুর দিকে। ন্যানোটেকনোলজি খাতে ইরানের প্রবৃদ্ধি বিস্ময়কর।
বিদ্যুৎ,জ্বালানি খাত এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানেও একইরকমভাবে  সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।গত প্রায় চার দশকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইরানের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। ইরানের নাম এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায়। চিকিৎসা ক্ষেত্রে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যাধুনিক ও জটিল। ইরানি বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত জরুরি এ ক্ষেত্রে দর্শনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। ইরানি বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী মৌলিক কোষ তৈরি করতে সক্ষম হওয়ায় ইরান এ ক্ষেত্রে বিশ্বের ৫টি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। ক্যান্সার চিকিৎসায়ও ইরানি বিজ্ঞানীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। বর্তমানে এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে মেডিক্যাল ট্যুরিজম ক্ষেত্রে কঠোর প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতায় ইরানের অবস্থান বিশ্বের শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে রয়েছে।
একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও ইরানের অগ্রগতি থেমে নেই। সংস্কৃতি মানুষের জীবনবোধ বিনির্মাণের কলাকৌশল। এটি মানুষের জীবনের একটি শৈল্পিক প্রকাশ। ইসলাম সুস্থ ও মানবিক চিন্তার বিকাশের পথে সাংস্কৃতিক চর্চার বিরোধী তো নয়ই,বরং সংস্কৃতির উন্নত সংস্করণ উপহার দিতে সক্ষম- এটাই প্রমাণ করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।  এ বিষয়ে ড. সিদ্দিকুর রহমান বললেন:
সংস্কৃতির উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবতার কথাটিও বলা যায়। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে,বিশ্বমানবতা ও বিশ্ব-মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ করার অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বর্তমান অর্জনের মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের অনন্য মডেল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

একা মানেই যৌনকর্মী

নাইজেরিয়ায় সিঙ্গেল মেয়েরা কষ্টে আছেন। তারা বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেনা। নাইজেরিয়ার অনেক বাড়ির মালিক সন্দেহ করেন একা মেয়ে মানেই যৌনকর্মী। যার ফলে একা থাকা মেয়েদের পক্ষে বাসা ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিবিসি বাংলা এ রিপোর্ট দিয়েছে।  নুফানমিলোলার বয়স ৩০। পেশাজীবনে ইতোমধ্যে সফলতা পেয়েছেন তিনি। খুব সহজেই তিনি একটা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু পাঁচ মাস ধরে বাসা খুঁজে না পেয়ে অবশেষে ঠাঁই হয়েছে এক বান্ধবীর বাসার সোফা। ভালো একটা চাকরি পেয়ে সে লেগোস থেকে আবেওকুটা তে চলে আসে। আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার পরেও মধ্যবিত্ত বা একটু বিত্তবানদের এলাকাতে একটা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে পারেননি। কারণ একটাই তিনি একা থাকবেন ওই বাসাতে। অনুফানমিলোলা বলছিলেন প্রথম যে প্রশ্ন আমাকে শুনতে হয়- সেটা হল আমি কি বিবাহিত? আমি বলি না,তারপর প্রশ্ন করা হয় কেন আমি বিয়ে করিনি। আমি বিভ্রান্ত হই। একটা বাসা ভাড়া নেয়ার সাথে বিয়ের কী সম্পর্ক? উত্তর আসে আমরা ভদ্র লোককে বাসা ভাড়া দিতে চাই। অনুফানমিলোলা বলছিলেন, এই বৈষম্য ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। বিবিসিকে তিনি বলেন " ৯৯% বাড়ির মালিক যাদের সাথে আমি সাক্ষাত করেছি, তারা কেউ আমাকে বাসা ভাড়া দেয়নি। কারণ আমি একা নারী। অনেক মালিক এবং এজেন্ট আমাকে বলেছে তুমি কি তোমার পুরুষ-সঙ্গী বা স্বামীকে আনতে পারবে? এই ধরণের অ্যাপার্টমেন্টে আমরাই চাই না কোন পুরুষ আসুক, আমরা চাই একজন ভদ্র মানুষকে ভাড়া দিতে।
সিলভিয়া রিটেইল সেক্টরের একজন প্রডাক্ট ম্যানেজার। ৩১ বছরে তার বাগদান হয়। কিন্তু প্রতি বাড়িওয়ালা তাকে বলেন আগে তার হবু স্বামীকে আনতে হবে তারপর তারা অ্যপার্টমেন্ট দেখাবে। নাইজেরিয়াতে একটা কথা প্রচলিত আছে 'স্মল গার্ল, বিগ গড'। এই কথার অর্থ অনেকটা এমন, যারা সিঙ্গেল মেয়ে তাদের অর্থের যোগানদাতা বেশির ভাগই হয় বৃদ্ধ লোক। সিলভিয়া বলছিলেন, বাড়ির মালিকরা মনে করেন বেশির ভাগ তরুণী যারা একা থাকে তারা ওইরকম। কোলম্যান ওয়াফোর একটি বাড়ির মালিক এবং বেশ কিছু সম্পত্তির মালিক। তিনি বলছিলেন, তিনি এক্ষেত্রে বৈষম্য করেন না। কিন্তু তার বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া এবং ক্রেতাই পুরুষ। কারণ তাদের তুলনামূলক বেশি অর্থ আছে। তিনি বিবিসিকে বলেন "বেশির ভাগ একা মেয়েরা হয় তাদের বাবা মা অথবা পুরুষসঙ্গীর ওপর  নির্ভরশীল। প্রতিটা বাড়িওয়ালা চান কোন ঝামেলা ছাড়া মাসের ভাড়া পাবে আর সময়মত কন্ট্রাক্ট নবায়ন করবে। তিনি বলছিলেন, বেশির ভাগ একলা মেয়ে কোন কাজ করে না। এখানে  মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের জন্য কাজের সুযোগ বেশি। এটাই এখানকার পরিস্থিতি।

পরিবারের সংগ্রামে যেভাবে বাঁচলো নোরার জীবন

স্বামীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে জেলবন্দী আছেন নোরা হোসেইন। ১৯ বছর বয়সী সুদানি এই তরুণীকে প্রাণে-বাঁচাতে কোন একটা অলৌকিক কিছুর প্রত্যাশা করছেন তার বাবা-মা।
অবশ্য, লোকে এই কথা ছড়িয়ে ছিল যে, নোরাকে তার বাবা-মা পরিত্যাগ করেছে।
কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। উল্টো নোরাকে বাঁচাতে হন্যে হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল সবাই।
এক বছর ধরে নোরা জেলে। বছরখানেক পর এই প্রথম মায়ের সাক্ষাৎ পেয়ে অঝর ধারায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিল সে।
তখনই নোরার মা জয়নব আহমেদ বিবিসির প্রতিবেদক মোহাম্মদ ওসমানকে জানাচ্ছিলেন যে, স্বামীর হাতে প্রথমবার ধর্ষণের শিকার হবার পর নোরা আসলে আত্মহত্যাই করতে চেয়েছিল।
কিন্তু পরের দিন নোরার স্বামী যখন আবার একই কাজ করতে যায় তখন আত্মরক্ষার্থে ছুড়ি নিয়ে প্রতিরোধ করে তার মেয়ে।
আর সেসময়ই ঘটনাচক্রে ছুরিকাহত হয়ে মারা যায় নোরার স্বামী আব্দুল রহমান মোহাম্মদ হাম্মাদ, বলছিলেন জয়নব আহমেদ।
নোরাকে মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে বাঁচাতে শুরু হয় জাস্টিস ফর নোরা নামে একটি অনলাইন প্রচারণা।
বিশ্বব্যাপী তুমুল আলোড়ন তোলা এই ক্যাম্পেইনে যোগ দিয়েছিলেন সুপারমডেল নাওমি ক্যাম্পবেল ও অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন।
মি. হাম্মাদ যখন নোরাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তখন নোরার বয়স ছিল মোটে ১৬। এই বিয়েতে নোরার খুব যে অমত ছিল তা নয়।
তবে, তক্ষুনি বিয়েটা না করে নোরা কিছুদিন দেরী করতে চাইছিল। কারণ সে পড়ালেখা করতে চেয়েছিল।
আইন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে শিক্ষক হতে চেয়েছিল সে।
কিন্তু সামাজিক অনিরাপত্তার ভয়ে নোরার বাবা তাকে জোর করে এই বিয়ে দেন।
নোরার বাবা বলতেন, এই বয়সেই আশপাশের বহু মেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছে। তাই, এসব কিছু ঘটার আগেই বিয়ে হওয়া ভালো।
নোরাকে যখন তার অমতে বিয়ে দেয়া হচ্ছিলো তখন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা অসম্পূর্ণ রেখেই সে বাড়ি থেকে পালিয়ে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে তার এক আত্মীয়ের কাছে আশ্রয় নেয়।
সেই আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নোরাকে এই কথা বলে ফেরত আনা হয়েছিল যে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার বাকি কাজ আর সম্পন্ন করা হবে না।
কিন্তু নোরা ফিরে এলে বিয়ের কাজ ঠিকই সম্পন্ন করা হয়। তবে, তক্ষুনি তাকে স্বামীর সাথে থাকতে যেতে হয়নি।
বিয়ের পর দুই বছর ধরে নোরা তার বাবা-মায়ের সাথেই বাস করছিলো।
তবে, একটা পর্যায়ে পরিবারের অভিভাবক ও বয়োজ্যেষ্ঠরা এই নিয়ে খুব নাখোশ হন।
এরপর ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে জবরদস্তিমূলকভাবেই নোরাকে তার স্বামীর সাথে আলাদা বাসায় যেতে বাধ্য করা হয়।
স্বামীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে জেলবন্দী আছেন ১৯ বছর বয়সী সুদানি তরুণী নোরা হোসেইন।
বিবিসির প্রতিবেদক তার প্রতিবেদনে বলেছেন আলাদা বাসায় গিয়েও নোরা সেই ফ্ল্যাট থেকে পালিয়ে আসতে চেয়েছিল।
কিন্তু তার স্বামী ফ্ল্যাটে তালা মেরে রাখতো বলে সে পালাতে পারেনি।
এভাবেই সপ্তাহখানেক ধরে আলাদা বাসায় থাকলেও নোরা শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত ছিল। এমনটা সিএনএনের পক্ষ থেকেও জানা যায়।
নানাভাবে সে তার স্বামীকে যৌন সম্পর্ক করা থেকে দূরে রেখেছে।
তবে, নোরার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, একত্রে বসবাসের নবম দিনে তার স্বামী নিজের ক'জন আত্মীয়কে নিয়ে ফ্ল্যাটে আসে। সেই আত্মীয়রা নোরার গায়ের পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং নোরাকে জোর করে ধরে রাখে যাতে নোরার স্বামী বলপূর্বক তার সাথে যৌন সম্পর্কে মিলিত হতে পারে।
এভাবেই আত্মীয়দের সহায়তায় তাদের সামনেই নোরাকে তার স্বামী ধর্ষণ করে বলে জানায় সিএনএন।
প্রথম দিন ধর্ষণের পর দ্বিতীয় দিনও যখন তার স্বামী আবারো তাকে ধর্ষণে উদ্যত হয় তখনই আত্মরক্ষার্থে নোরা একটা ছুড়ি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে।
সেসময়, ধস্তাধস্তিতে নোরার হাত কেটে যায় এবং কাঁধেও সে চোট পায়।
এসময়েই দু'জনের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নোরার স্বামী ছুরিকাহত হন এবং মারা যান।
সেই রক্তমাখা ছুরি হাতেই নোরা তার বাড়িতে বাবা-মায়ের সামনে গিয়ে হাজির হয়ে খুনের কথা স্বীকার করে।
রক্তমাখা ছুরি হাতে মেয়েকে দেখে এবং ঘটনার আকস্মিকতায় তার বাবা মুষড়ে পড়েন।
কিন্তু এর জের হিসেবে নোরার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে ভেবে নোরার বাবা মেয়েকে নিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে সব খুলে বলেন।
এরপরের কথা তো সবারই জানা। একদিকে, নোরাকে পুলিশ জেলে আটক করে। তার বিচার শুরু হয়। পরে তার সাজাও ঘোষণা হয়। আর সেটা মৃত্যুদণ্ড।
অন্যদিকে, মি. হাম্মাদের পরিবার নোরার বাবা-মাকে ক্রমাগত ভয়-ভীতি দেখাতে থাকে। তারা বলে, যদি পরিবারের বাকি সন্তানদের সুরক্ষিত রাখতে চাইলে তারা যেন জেলে আর নোরাকে দেখতে না যায়।
এসবের মধ্যেই একদিন নোরাদের বাড়ি-ঘর এবং তার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে, নিজের গ্রাম আল-বাগার ছেড়ে বহু দূরের এক গ্রামে গিয়ে থাকতে শুরু করে নোরার পরিবার।
নোরা কারাগারে যখন সে মৃত্যুর দিন গুনছে সে সময় তাকে চাতে যে প্রচারণা চলছিলো তা আরো শক্তিশালী রূপ নেয়।
এক পর্যায়ে ইস্ট আফ্রিকার অ্যামনেস্টির পরিচালক ড. জোয়ান নেয়নুকিও হাল ছেড়ে দেন। তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাঝখানে এখন আসলে কোন লাভ হবে বলে মনে হয় না।
তবু আশা ছাড়েননি নোরার মা জয়নব আহমেদ।
তিনি ক্রমাগত প্রার্থনা করছেন এই বলে যে, দৈব একটা কিছু ঘটুক। আর তার সন্তান বেঁচে যাক মৃত্যুদণ্ড থেকে।
পরে ২৬ জুন দেশটির আপিল আদালত নোরার মৃত্যুদণ্ডাদেশ খারিজ করে দিয়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন।
নোরার স্বামী তাকে ফ্ল্যাটে তালা মেরে রাখতো বলে সে পালাতে পারেনি।