Tuesday, December 7, 2010

আলোচনা- 'একটি 'উজ্জ্বল ভাবমূর্তির' এভারেস্ট থেকে পতন' by আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

০০৬ সালে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর বিখ্যাত ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গর্বিত বাংলাদেশের এক বিরাট সভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, 'আমরা এখন আনন্দের এভারেস্ট চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছি।' নোবেল বিজয়ীর নিজের মুখে এই কথাটি উচ্চারিত হওয়ার পর চার বছরও অতিক্রান্ত হয়নি; অভিযোগ উঠেছে নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া অর্থ থেকে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণ নামের নিজের অন্য এক প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নিয়েছেন।

গল্পালোচনা- 'আসি আসি করে আশিতে আসবে!' by আলী হাবিব

কটা সিনেমার গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। অনেক অনেক দিন আগের ছবি। বলা চলে, বাংলা সিনেমার প্রায় সূচনাপর্বের ছবি। উত্তম-সুচিত্রা জুটির ডেইব্যু ছবি 'সাড়ে চুয়াত্তর' যাঁদের মনে আছে, তাঁরা স্মরণ করতে পারবেন এ ছবিটির কথা। নামটাই ছবিটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়_'আশিতে আসিও না'। বেশ। কী এমন জিনিস, যা আশিতে আসতে মানা? কৌতূহল হওয়াটাই তো স্বাভাবিক।

খুলনা চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন জমে উঠেছে

খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পরিষদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এতে মোট ১৮টি পদের জন্য ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সাধারণ শ্রেণীর ১২টি পদের বিপরীতে ২২ জন ও সহযোগী শ্রেণীর ছয়টি পদের জন্য ১২ জন লড়ছেন।
চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণীতে এক হাজার ১০৩ জন এবং সহযোগী শ্রেণীতে ৮৮৩ জন ভোটার রয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। নগরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেমন জমজমাট প্রচারণা চলছে, তেমনি সচেতন মহলেও এই নির্বাচন নিয়ে বেশ আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। প্রার্থীরা এককভাবে ও দল বেঁধে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। সব মিলিয়ে খুলনা নগরের বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে যেন একধরনের উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
খুলনা চেম্বারের এবারের নির্বাচনে ব্যবসায়ী ঐক্যপরিষদ, সমমনা ব্যবসায়ী পরিষদ ও ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদ নামে তিনটি প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যবসায়ী ঐক্যপরিষদ পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী (১৮টি পদ) দিলেও অপর দুটি প্যানেল আংশিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
কাজী আমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন খুলনা ব্যবসায়ী ঐক্যপরিষদের প্যানেল থেকে সাধারণ শ্রেণীতে যে ১২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁরা হলেন: গোপী কিষাণ মুন্ধড়া, আবদুল বাসার পাটওয়ারী, কাজী শাহনেওয়াজ, শরীফ আতিয়ার রহমান, মো. তোফাজ্জেল হোসেন, এ এ মতিন পান্না, এস এম ওবায়দুল্লাহ, মো. সরফুজ্জামান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. রকিবুল জাহিদ, কাজী জালাল উদ্দিন ও মো. মোস্তফা কামাল পাশা। এই প্যানেলের সহযোগী শ্রেণীর ছয়জন প্রার্থী হলেন: বেগ লিয়াকত আলী, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. শফিকুর রহমান, মো. মোস্তফা হাসান, মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. শাহ আলম মৃধা।
ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের ঘোষিত ১০ জন প্রার্থী হলেন: ফরহাদ আহমেদ আকন্দ, মো. হাফিজুল ইসলাম, জেড এ মাহমুদ, এমদাদুল হক খালাসী, কাজী মাসুদুল ইসলাম, ওমর ফারুক, মোল্যা ফরিদ আহমেদ, আজিজুর রহমান, মীর বরকত আলী ও মো. মফিদুল ইসলাম।
অপরদিকে কাজী হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সমমনা ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীরা হলেন: কাজী হাফিজুর রহমান, শেখ মো. গাউসুল আজম, মো. আলী আকবর, এস এম খালিদ হোসেন, মো. ইসলাম খান, চৌধুরী মিনহাজ-উজ জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা চেম্বারের এবারের নির্বাচনে তিনটি শ্রেণীর মধ্যে বাণিজ্যিক শ্রেণীর তিনটি পদের বিপরীতে দুজন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচিত দুজন হলেন: খুলনার সাবেক মেয়র ও চেম্বারের সাবেক সভাপতি কাজী আমিনুল হক এবং খুলনা অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মো. সাইফুল ইসলাম।

অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৩৬%

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে উচ্চহারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। যা আলোচ্য পাঁচ মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ৮২৭ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। আর গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৬০৯ কোটি সাড়ে ৩৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ এই সময়কালে পণ্য রপ্তানিতে আয় বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানির কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭১৪ কোটি সাড়ে ২৮ লাখ ডলার। তার মানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রকৃত রপ্তানি ১৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি হয়েছে। আর চলতি বছর নভেম্বর মাসে ১৫৫ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আর ২০০৯ সালের নভেম্বরে ১১৯ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।
নভেম্বর মাসে পণ্য রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, আলোচ্য পাঁচ মাসে তৈরি পোশাকসহ প্রধান প্রধান রপ্তানিপণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, আলোচ্য সময়কালে প্রধান রপ্তানিমুখী পণ্য নিট পোশাক ও ওভেন পোশাকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৩৯ শতাংশ ও ৩৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এই সময়কালে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৫৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২৮৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।
পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে দেশে এসেছে ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। এ সময়ে সাড়ে ১৪ কোটি ডলারের কাঁচা পাট, ১৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পাটসুতা, সাত কোটি সাড়ে ২৪ লাখ ডলারের পাটের ব্যাগ ও চট রপ্তানি হয়েছে।
অন্যদিকে হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে আয় হয়েছে ২২ কোটি ৪২ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় ৭২ শতাংশ বেশি।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ২৬ কোটি ৬২ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। আর চামড়া রপ্তানি থেকে এই পাঁচ মাসে আয় হয়েছে প্রায় ১১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া পাদুকা রপ্তানি করে পাঁচ মাসে বাংলাদেশ আয় করেছে ১১ কোটি সাড়ে ৮৮ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১৬ কোটি সাড়ে ১৪ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য, নয় কোটি ৮২ লাখ ডলারের পেট্রোলিয়াম উপজাত পণ্য, আড়াই কোটি ডলারের বেশি প্লাস্টিক পণ্য, এক কোটি ৭৫ লাখ ডলারের ওষুধ, এক কোটি সাড়ে ৪৭ ডলারের রাসায়নিক সার, দুই কোটি ৪৭ লাখ ডলারের হস্তশিল্প পণ্য, পাঁচ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের টেরিটাওয়েল, চার কোটি ডলারের বাইসাইকেল রপ্তানি হয়েছে।

নতুন ও অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের চাপে দেশের শেয়ারবাজার

দেশের শেয়ারবাজার এখন দারুণ চাঙা। সূচক বাড়ছে প্রায় প্রতিদিনই। নতুন বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ লাভের আশায় তাঁদের সমস্ত পুঁজি নিয়ে এখন ঢুকে পড়ছেন শেয়ারবাজারে। যে কারণে এশিয়ার অন্যান্য বাজারের চেয়ে দাম-আয় অনুপাত অনেক বেশি হলেও কোনোভাবেই দেশের শেয়ারবাজারের রাশ টানতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। ফলে প্রতিদিনই উদ্বিগ্ন হওয়া ছাড়া তাদের যেন আর কোনো কিছুই করার থাকছে না।
গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম লেনদেন দিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ৮০ পয়েন্ট বেড়ে ৮৯১৮ দশমিক ৫১ পয়েন্টে উঠেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রায় তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) চলছে একই অবস্থা।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায় ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, দেশের পুঁজিবাজারে এখন প্রতিদিনই নতুন নতুন বিনিয়োগকারীর সমাগম ঘটছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) হিসাবমতে, গতকাল ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৬০ হাজার ৩৮১ জন। প্রতিদিনই এর সংখ্যা বেড়ে চলেছে বলে সিডিবিএল সূত্র জানায়।
এর আগে গত বুধবারও ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১২১ পয়েন্টের মতো বেড়ে আট হাজার ৭২৩ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যাওয়ার রেকর্ড করে। এভাবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে দফায় দফায় মূল্যসূচক ও মোট লেনদেন বেড়ে নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার এ প্রসঙ্গে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এটি একটি অতিমূল্যায়িত বাজার। এই অবস্থায় দাম আরও বাড়তে থাকলে বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সে কারণে এসইসি বিনিয়োগকারীদের প্রতিদিনই সতর্কভাবে বিনিয়োগের আহ্বান করছে।
দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতনের বা ধসের সর্বশেষ ইতিহাস দেখা যায় ১৯৯৬ সালে। সে সময়েও বাজার ছিল অতিমূল্যায়িত এবং অনেক অনভিজ্ঞ ও নতুন বিনিয়োগকারী হঠাৎ লাভের আশায় বাজারে সক্রিয় ছিল। শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালের সেই ধসের কারণে বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীই তাঁদের পুঁজির প্রায় সর্বস্বই হারিয়েছিলেন। অনেকে এখনকার শেয়ারবাজারে ’৯৬-এর ছায়াও দেখতে পাচ্ছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
চাঙা শেয়ারবাজারের ওপর আস্থা না রেখে এসইসি এখন চেষ্টা করছে বাজার নিয়ন্ত্রণের। সূচক ও লেনদেন নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এসইসি সম্প্রতি শেয়ারবাজারে মধ্যস্থতাকারী বা পুঁজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বাজারে গত কয়েক মাসে যেসব বড় লেনদেন হয়েছে সেগুলো নিয়েও তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বিভিন্ন কোম্পানির দাম বাড়ার সঙ্গে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কোনো হাত আছে কি না, সেটিও তারা যাচাই করে দেখছে।
অ্যাসেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস অব বাংলাদেশের (এইমস) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াওয়ার সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিগত কয়েক মাসে দেশের শেয়ারবাজারে যে উল্লম্ফন হয়েছে, সেটাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলা যাবে না। বাংলাদেশে পুঁজিবাজারের যে ভিত্তি, তার সঙ্গে বর্তমান সূচক খাপ খায় না।’
ইয়াওয়ার সাঈদ আরও বলেন, অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করাকে অনেকে এখন কিছুটা ঝামেলাপূর্ণ মনে করছেন। তাই শেয়ারবাজারে নতুন নতুন টাকা আসছে। তা ছাড়া এখানে ঢোকা ও বের হওয়া সহজ। উদ্যোক্তা কে তা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। তা ছাড়া লাভের ওপরও কোনো কর দিতে হয় না। ফলে শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পারছে।
গতকাল ডিএসইতে মোট ২৪৫টি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হয়। এর মধ্যে দাম বাড়ে ৯৭টির, কমে ১৪৬টির এবং অপরিবর্তিত থাকে দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এদিন বিমা খাতের শেয়ারের দর তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে। এই খাতের ৪৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৫টির। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২১টির মধ্যে ১২টির ও ব্যাংক খাতের ৩০টির মধ্যে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ে।

হাটে হাঁড়ি ভাঙা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ by মশিউল আলম

জর্জ অরওয়েল বেঁচে থাকলে এই মুহূর্তে দৃঢ় আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরতেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে। ১৯৪৮ সালে নাইনটিন এইটি ফোর নামে যে অ্যান্টি-ইউটোপিয়ান উপন্যাসটি অরওয়েল লিখেছিলেন, তাতে এক কল্পিত টোটালিটারিয়ান রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তার ছবি তিনি এঁকেছিলেন, যে কিনা প্রত্যেক নাগরিকের সার্বক্ষণিক আচরণ নখদর্পণে রাখার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তার ‘থট পুলিশ’ নজর রাখছে কে কী চিন্তা করছে। সারা রাজ্যের দেয়ালে দেয়ালে সেই রাষ্ট্রপ্রভুর ছবিসংবলিত পোস্টারে লেখা রয়েছে সতর্কবাণী: ‘বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং ইউ!’
এখন অরওয়েল বেঁচে থাকলে, মানবজগতের সুখ-শান্তি ও প্রাইভেসি পয়মালকারী স্বঘোষিত বিশ্বপ্রভু আমেরিকাসহ পৃথিবীর সব নিয়ন্ত্রণবাদী, গোপনীয়তাপ্রবণ রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে বলতেন: ‘জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ইজ লিকিং ইউ।’
বলছি দুনিয়া-কাঁপানো ভারচুয়াল নথিভান্ডার উইকিলিকসের এডিটর ইন চিফ জুলিয়ান পল অ্যাসাঞ্জের কথা। কে এই লোক? কোত্থেকে আবির্ভাব ঘটল তাঁর? কী তাঁর চিন্তাভাবনা? কী লক্ষ্যে তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন সভ্যতার ইতিহাসের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি? কী মতলব ৩৯ বছর বয়সী এই যুবকের, যাঁকে কেউ বলছেন দুর্দমনীয় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনফরমেশন ট্রাফিকার’, কেউ বলছেন ‘গ্রেটেস্ট হুইসলব্লোয়ার অব আওয়ার টাইম’?
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ডাউন্সভিলে তাঁর জন্ম, ১৯৭১ সালের ৩ জুলাই। মা-বাবা এক ভ্রাম্যমাণ থিয়েটার কোম্পানি চালাতেন। জুলিয়ানের বয়স যখন আট বছর, তখন মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। মা বিয়ে করেন এক সংগীতশিল্পীকে। মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে থেকেছেন, পড়াশোনা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্কুলে ও মোট ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে; পড়েছেন পদার্থবিজ্ঞান আর গণিত, দর্শন এমনকি নিউরোসায়েন্সও। আর রপ্ত করেছেন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং। প্রকাশ্য জগৎসংসারের আড়ালে যে আরেক বাস্তব জগৎ আছে, যা গোপন, যা সাধারণ্যে প্রকাশ পায় না, তেমন কিছুর প্রতি আকর্ষণ অ্যাসাঞ্জের মনকে সব সময় তাড়া করে ফিরেছে। তাই বুঝি ১৬ বছর বয়সেই শুরু করে দেন গোপনের পিছু ধাওয়া: তথ্যমহাসড়কের আনাচকানাচে শুরু করে দেন সিঁধ কাটা, তথ্যপ্রযুক্তির ভাষায় যার নাম হয়েছে ইন্টারনেট হ্যাকিং। মজার কথা, হ্যাকার হিসেবে যে ছন্দনামটি তিনি বেছে নিয়েছিলেন, তা হলো মেনডেক্স, মানে ‘নোবলি আনট্রুথফুল’। আরও দুই হ্যাকারের সঙ্গে মিলে গড়েছিলেন একটা গ্রুপ, নাম দিয়েছিলেন ‘ইন্টারন্যাশনাল সাবভারসিভস’। অ্যাসাঞ্জ এই গ্রুপের জন্য একটা নীতিমালা তৈরি করেছিলেন; সংক্ষেপে কথাগুলো ছিল এমন: ‘কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলেও ওটার সিস্টেমের ক্ষতি করো না; ওই সিস্টেমে যেসব তথ্য আছে সেগুলো পরিবর্তন করো না (শুধু লগ ছাড়া); আর তথ্য বিনিময় করো, ছড়িয়ে দাও।’ তথ্যমহাসড়কের বিভিন্ন অঙ্গনে সিঁধেল চোরের মতো ঢুকে পড়ার অভিযোগে ১৯৯১ সালে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ অ্যাসাঞ্জের মেলবোর্নের বাসায় হানা দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডিয়ান টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি নরটেলের কম্পিউটার তথ্যব্যবস্থা এবং আরও কয়েকটি সংস্থার কম্পিউটার নেটওয়ার্কসহ ২৪ জায়গায় হ্যাকিংয়ের অভিযোগে ১৯৯২ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন; ২১ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার জরিমানা এবং অসদাচরণ করবেন না বলে হলফনামা দেওয়ার পর মুক্তি পান। মামলার প্রসিকিউটর অবশ্য তাঁর আচরণ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘একধরনের বুদ্ধিদীপ্ত অনুসন্ধিৎসা আর বিভিন্ন কম্পিউটার রাজ্যে পরিভ্রমণের আনন্দ উপভোগ ছাড়া অ্যাসাঞ্জের মধ্যে খারাপ কোনো মতলবের প্রমাণ মেলেনি।’
১৯৯৪ সাল থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বসবাস শুরু করেন একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে; এমন সব সফটওয়্যার তৈরি করা শুরু করেন, যেগুলো বিনা খরচে সবাই ব্যবহার করতে পারে। আন্ডারগ্রাউন্ড: দি টেলস অব হ্যাকিং, ম্যাডনেস অ্যান্ড অবসেশান অন দি ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার নামের একটি বই লেখার কাজেও তিনি সহযোগিতা করেন। মানবাধিকারকর্মীদের ব্যবহারের জন্যও তিনি কিছু সফটওয়্যার তৈরি করেছেন।

উইকিলিকসের আবির্ভাব
তথ্যমহাসড়কে ‘উইকিলিকস’-এর আবির্ভাব ঘটে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে, যার স্লোগান: ‘উই ওপেন গভর্নমেন্টস’। (উইকিপিডিয়ার সঙ্গে উইকিলিকসের কোনো সম্পর্ক নেই)। ‘ডকুমেন্ট আর্কাইভ’ ওয়েবসাইট উইকিলিকসের কাজ ‘অপ্রকাশিত’, ‘গোপনীয়’, ‘নিষিদ্ধ’ ইত্যাদি বিশেষণে কুক্ষিগত, সাধারণের পক্ষে দুষ্প্রাপ্য বা একেবারেই অপ্রাপ্য তথ্য ও নথিপত্র সারা পৃথিবীর মানুষের সামনে প্রকাশ করা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, উইকিলিকসের ফাউন্ডার বা প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান পল অ্যাসাঞ্জ। কিন্তু অ্যাসাঞ্জ নিজের পরিচয় দেন এর প্রধান সম্পাদক ও মুখপাত্র হিসেবে। নয় সদস্যের এক উপদেষ্টা পর্ষদ আছে, অ্যাসাঞ্জও তাঁদের অন্যতম। কয়েকজন ভিন্ন মতাবলম্বী চীনা নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকজন সাংবাদিক, গণিতবিদ, ছোটখাটো নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিবিদ মিলে এটা চালান বলে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ নিজে দাবি করে। বেতনভুক কোনো কর্মী নেই, মূলত পাঁচজন সার্বক্ষণিক কর্মী কাজ করেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের নির্দেশনা অনুযায়ী। অনিয়মিতভাবে তাঁদের সহযোগিতা করেন আরও প্রায় ৮০০ স্বেচ্ছাসেবী। সবাই কাজ করেন বিনা পারিশ্রমিকে। কর্মীদের পারিশ্রমিক দিতে হলে উইকিলিকসের বছরে খরচ হতো প্রায় ছয় লাখ ইউরো; এখন খরচ হয় বছরে দুই লাখ ইউরোর মতো—সার্ভার, ব্যান্ডউইডথ, যন্ত্রপাতি, ভ্রমণ ও আনুষঙ্গিক খাতে। এ টাকা আসে স্বেচ্ছাসেবী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের চাঁদা থেকে।
উইকিলিকসের কেন্দ্রীয় সার্ভার আছে সুইডেনের স্টকহোমে; পিআরকিউ নামের এক সুইডিশ ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি উইকিলিকসকে তথ্যসমহাসড়কে সচল রাখে। অ্যাসাঞ্জ সুইডেনকে বেছে নিয়েছেন সুইডিশ সংবিধানে তথ্য প্রকাশে অবাধ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা আছে এবং তথ্য প্রকাশকারীদের আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা সুইডেনে বেশ মজবুত বলে। দেশটির এক আইন বলে, সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো সংবাদের উৎস সম্পর্কে কোনো সংবাদমাধ্যমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।

গোপন নথিগুলো উইকিলিকস কীভাবে পায়
নানা সূত্রে নানা পদ্ধতিতে উইকিলিকস গোপন তথ্য ও নথিপত্র পায় এবং সংগ্রহ করে। তথ্য ফাঁসকারীদের কেউ ইন্টারনেট হ্যাকার, কেউ কোনো দপ্তরের কর্মী বা কর্মকর্তা। তাদের পরিচয় উইকিলিকস প্রকাশ করে না। কিন্তু কখনো কখনো তাদের পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যায়। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় রিপাবলিকান পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সারাহ পেলিনের ব্যক্তিগত ইয়াহু মেইল অ্যাকাউন্টে একজন হ্যাকার ঢুকে পড়ে মেইলবক্সের সব মেসেজ উইকিলিকস ওয়েবসাইটে পোস্ট করে দেয়। উইকিলিকস ওই হ্যাকারের পরিচয় গোপন রেখেছিল, কিন্তু এফবিআই তার পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছিল।
যুক্তরাজ্যের উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল ব্রিটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) সাড়ে ১৪ হাজার সদস্যের নাম, ঠিকানা, বয়স, পেশাসম্পর্কিত তথ্যসহ একটি তালিকা উইকিলিকসে পোস্ট করেন এক ব্যক্তি ২০০৮ সালের নভেম্বরে। উইকিলিকস তাঁর পরিচয়ও প্রকাশ করেনি; বিএনপির এক নেতা দাবি করেছেন যে তিনি জানেন, কাজটা করেছেন ওই দল থেকে বের হয়ে যাওয়া এক সদস্য। উইকিলিকস ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে জাতিসংঘের ছয় শতাধিক অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট প্রকাশ করে, সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু রিপোর্ট ছিল ‘কঠোরভাবে গোপনীয়’। এগুলো কে উইকিলিকসকে দিয়েছিল, তা কেউ জানতে পারেনি। একই বছর ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা শাখা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের ছয় হাজার ৭৮০টি রিপোর্ট উইকিলিকস ফাঁস করে দেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা প্রচুরসংখ্যক অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য ও নথিপত্র উইকিলিকস অনলাইনে প্রকাশ করেছে। ই-মেইল বার্তা, মুদ্রিত নানা নথিপত্রের ইমেজ-কপি (পিডিএফ), গোপনে আড়ি পেতে রেকর্ড করা টেলিফোন সংলাপের অডিও কপি, ভিডিওচিত্রের কপি—এসব নানা পদ্ধতিতে উইকিলিকস তথ্য ফাঁস করে থাকে।
উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে প্রথম বড় রকমের আলোড়ন সৃষ্টি করে এ বছরের জুলাই ও অক্টোবর মাসে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর হত্যাযজ্ঞসহ যুদ্ধ-তৎপরতা সম্পর্কে দুটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্রসহ প্রচুরসংখ্যক গোপন নথি ফাঁস করার মধ্য দিয়ে। তারপর গত ২৮ নভেম্বর ওয়েবসাইটটি প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রায় আড়াই লাখ গোপন নথিপত্র: বিশ্বব্যাপী অবস্থানরত ২৭৪টি মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র সদর দপ্তরের দৈনন্দিন ভিত্তিতে যেসব তারবার্তা চালাচালি হয়েছে। উইকিলিকস এই কূটনৈতিক তারবার্তাগুলোর কপি যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান, স্পেনের এল পাইস, জার্মানির ডের স্পিগেল, ফ্রান্সেরল্য মঁদ, যুক্তরাজ্যের নিউইয়র্ক টাইমসসে সরবরাহ করেছে। মূলধারার সংবাদপত্রগুলো সেসব নথিপত্রের ভিত্তিতে সংবাদ প্রতিবেদন, মন্তব্য-বিশ্লেষণ এবং সরকারসহ বিভিন্ন মহলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছে। প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে থাকছে উইকিলিকসের ফাঁস করা নথিগুলোর ভিত্তিতে রচিত সংবাদ ও অন্যান্য লেখালেখি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনসহ পুরো মার্কিন প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা বিভাগ কতটা খেপে গিয়েছে, অ্যাসাঞ্জকে শায়েস্তা করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন, উইকিলিকসে ঢোকার পথ বন্ধ করার জন্য কত ধরনের চেষ্টা চলছে, সেসব খবরও যথারীতি পাওয়া যাচ্ছে। আমেরিকায় এভরিডিএনএস নামের যে ওয়েব হোস্টিং কোম্পানিটি উইকিলিকস হোস্টিং করত, সেটি আপাতত তা বন্ধ রেখেছে, কিন্তু সে দেশে ‘উইলিকস ডট ডিই’ এবং আরও কয়েকটি ঠিকানায় ওয়েবসাইটটিতে এখনো ঢোকা যাচ্ছে। জার্মানি, চীনসহ অন্যান্য দেশেও উইকিলিকসে প্রবেশের পথ বন্ধ করার চেষ্টা চলেছে, কিন্তু সেসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে যৌন অপরাধের অভিযোগ, ইন্টারপোলকে দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, যাঁর কোনো স্থায়ী ঘর নেই, যিনি সব সময় ছুটে বেড়ান দেশ-দেশান্তরে, মোটেও দমার পাত্র নন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুতে আরও বিপুল পরিমাণ গোপন তথ্য ফাঁস করবেন; এবার উঠে আসবে প্রাইভেট বিজনেস সেক্টরের অন্দরমহলের চিত্র।
অ্যাসাঞ্জের প্রাণনাশের হুমকি চলছে। যেকোনো মুহূর্তে খুন হয়ে যেতে পারেন জেনেও বিশ্বের ক্ষমতাধর মহলগুলোর চক্ষুশূল জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ কেন এমন অতি বিপজ্জনক অভিযানে নেমেছেন? কী তাঁর প্রণোদনা? সারা পৃথিবীর সব সংবাদমাধ্যম মিলে এযাবৎ যত গোপন তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচন করেছে, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ও তাঁর পাঁচ সহযোগী ‘হ্যাকার’ তাঁর চেয়ে অনেক বেশি করেছেন, এবং সামনে আরও করতে যাচ্ছেন। প্রায় অর্ধসহস্রাব্দের ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিকতার খোলনলচে পাল্টে দিতেই যেন আবির্ভূত হয়েছেন জুলিয়ান পল অ্যাসাঞ্জ। গোটা বিশ্বের প্রথাগত সাংবাদিকতার ওপর ‘নিউ মিডিয়া’ বা ইন্টারনেট প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যমাধ্যমের সুদূরপ্রসারী প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে উইকিলিকসের তৎপরতার মধ্য দিয়ে।
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দেড় যুগ আজ ভারতজুড়ে সতর্কতা

অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার দেড় যুগ পূর্তিহচ্ছে আজ ৬ ডিসেম্বর। ১৯৯২ সালের এই দিনে উগ্রবাদী হিন্দুদের হাতে অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়। দিনটি ঘিরে উত্তর প্রদেশসহ সারা দেশে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

মধ্যস্থতা করতে আইভরি কোস্টে যাচ্ছেন থাবো এমবেকি

আইভোরি কোস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যস্থতা করতে সে দেশে যাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট থাবো এমবেকি। আফ্রিকান ইউনিয়ন তাঁকে সে দেশে পাঠাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর দেশটিতে প্রথম দফা এবং ২৮ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল নিয়ে আইভরি কোস্টে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। নির্বাচন শেষে প্রাথমিকভাবে বিরোধীদলীয় প্রার্থী অ্যালাসেন ওয়াতারাকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তুপরবর্তী সময়ে নির্বাচনী ফলাফল বর্তমান প্রেসিডেন্ট লরা জিবাবোর দিকে ঝুঁকে পড়ে। লরা জিবাবো এবং ওয়াতারা দুজনই নিজেকে এই নির্বাচনে বিজয়ী দাবি করেছেন। আফ্রিকান ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই সংকট অপরিণামদর্শী ফলাফল বয়ে নিয়ে আসতে পারে। এদিকে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও আইএমএফ অ্যালাসেন ওয়াতারাকে সমর্থন করে বলেছে, তিনিই প্রকৃত বিজয়ী।

মিসরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ

মিসরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রথম দফার নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনে প্রধান দুটি বিরোধী দল এ নির্বাচন বর্জন করেছে। ফলে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রায় সব কটি আসনে বিজয় পেতে যাচ্ছে।
প্রথম দফার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এনডিপি ২২২ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়ী হয়। তবে দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল মুসলিম ব্রাদারহুড একটি আসনেও জয় পায়নি। অপর প্রধান বিরোধী দল উদারপন্থী ওয়াফ্দ পার্টিও মাত্র দুটি আসনে জয়লাভ করে। তাই জালিয়াতির অভিযোগ এনে প্রধান বিরোধী দল ব্রাদারহুড ও ওয়াফ্দ পার্টি দ্বিতীয় দফার নির্বাচন বর্জন করেছে। এতে ক্ষমতাসীন এনডিপি অবশিষ্ট ২৮৭টি আসনেই জয় পেতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে অনেক আসনেই এনডিপির প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।

স্পেনে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন

স্পেনে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই কাজে যোগ দিয়েছেন। শুরু হয়েছে বিমান চলাচলও। কাজের সময় কমানোসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় গত শনিবার ওই কর্মকর্তারা সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু করেন। এতে হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের ধর্মঘটের কারণে স্পেনে ১৯৭৫ সালে সামরিক শাসনের অবসান হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সতর্কাবস্থা জারি করা হয়। কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর ওপর দায়িত্ব দেয়।
কর্মকর্তারা ধর্মঘটে যাওয়ার আগের দিন সন্ধ্যায় তাঁদের কাজের সময় নিয়ে হট্টগোল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী হোসে লুই রদ্রিগুয়েজ জাপাতেরো বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন। শনিবার সকালে নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা হুট করে ধর্মঘটে যান। এতে দেশের বিমানবন্দরগুলো অচল হয়ে পড়ে।
পূর্তমন্ত্রী হোসে ব্লাঙ্কো বলেন, ‘পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। সব বিমান সংস্থা পুনরায় চালু হয়েছে।’ তবে তিনি বলেন, বিমান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এইএনএ জানায়, ইতিমধ্যে কিছু ফ্লাইট গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই ধর্মঘটের কারণে আড়াই লাখ যাত্রী ভোগান্তির মধ্যে পড়েন।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা ধর্মঘট শুরু করলে তাঁদের বিরুদ্ধে সামরিক দণ্ডবিধির আওতায় অভিযোগ আনা হতে পারে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণায় শুক্রবার রাত পর্যন্ত ২৯৬ জন ধর্মঘটী কর্মকতার মধ্যে ২৮৩ জনই কাজে যোগ দেন।
সিন্ডিকেট ইউনিয়ন অব এয়ার কন্ট্রোলার্সের মুখপাত্র জর্জ অন্টিভেরস জানান, ‘আসলে আমরা কয়েকজন ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরে সবাই ধর্মঘটে জড়িয়ে পড়ে।

রাষ্ট্র ও রাজনীতিঃ সবুজ মাঠ পেরিয়ে by শেখ হাসিনা

সামনে সবুজ মাঠ। সংসদ ভবন এলাকার গাছে গাছে সবুজের সমারোহ। এই সবুজেরও কত বাহার। সামনে একটা শ্বেতকরবীর গাছ, যার পাতা গাঢ় সবুজ। বৃষ্টিতে ভিজে যায় গাছের পাতা। কখনো বা হাওয়ায় পাতাদের ঝিরিঝিরি শব্দ শুনি। গণভবনের সেই পাখিদের কথা মনে পড়ে। তারাও এখানে উড়ে উড়ে আসে। অনেক কথা মনে পড়ে, অনেক স্মৃতি ভেসে আসে। নিঃসঙ্গ কারাগারের এই স্মৃতি আমার এখন সঙ্গী।

পাঁচটি প্রভাবশালী পত্রিকা রয়েছে উইকিলিকসের সঙ্গে

তথ্য উন্মুক্তকরণের মিশনে বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী পত্রিকা উইকিলিকসের সঙ্গে রয়েছে। ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, জার্মানির ডের স্পিগেল, ফ্রান্সের ল্য মঁদ ও স্পেনের এল পাইসের মতো পত্রিকা এ তালিকায় রয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছরের জুলাইয়ে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ডের স্পিগেল, নিউইয়র্ক টাইমস ও গার্ডিয়ান-এর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। পরে ল্য মঁদ ও এল পাইসের মতো পত্রিকার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়।
ডের স্পিগেল-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ উল্লিখিত পত্রিকাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, সংবাদ প্রকাশের নীতিমালা অনুসরণ করেই তারা উইকিলিকসের কাছ থেকে পাওয়া আড়াই লাখ তথ্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করবে। এর ভিত্তিতে ২৮ নভেম্বর ইউরোপীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমবারের মতো বেশ কিছু গোপন নথি প্রকাশ করে।
ডের স্পিগেল আরও জানায়, বিভিন্ন তথ্যে ঠাসা আড়াই লাখ নথি কয়েক মাস ধরে তাদের ৫০ জন কর্মী যাচাই-বাছাই করেন। কোনো কোনো তথ্যের ক্ষেত্রে তারা অন্য চার পত্রিকার সঙ্গে মতবিনিময় করে। এর পরই উইকিলিকসের নথি প্রকাশ করা হয়। পত্রিকাগুলো ধারাবাহিকভাবে আরও নথি প্রকাশ করবে। ডের স্পিগেল জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও যুদ্ধবিষয়ক নথি প্রকাশের আগে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ডের স্পিগেল-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিছু ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুসরণ করলেও জার্মানিতে তথ্য প্রকাশের নীতিমালা অনুসরণ করেই সংবাদ প্রকাশ করবে।

ওবামাকে মাইনবিরোধী চুক্তি সইয়ের আহ্বান সু চির

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি মানববিধ্বংসী মাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে সই করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ চুক্তিতে চার বছরের মধ্যে মজুদ করা সব মাইন ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে।
সু চিসহ শান্তিতে নোবেল জয়ী আরও ১৫ জন ব্যক্তিত্ব এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি এই আহ্বান জানান। তাঁদের মধ্যে জোডি উইলিয়ামস ও আর্চবিশপ টুটুও রয়েছেন। তাঁরা গত ৩০ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাবর পাঠিয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী মাইন বিস্ফোরণের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য জোডি উইলিয়ামস সম্প্রতি সু চির সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে সু চি বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী বলে উইলিয়ামসকে জানান। এ সময় তাঁরা মিয়ানমারে অব্যাহতভাবে ভূমিমাইন ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করেন।
গৃহবন্দী থেকে মুক্তি পাওয়ায় সু চিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উইলিয়ামস। ভবিষ্যতে তাঁর সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়া মিয়ানমারে দুই হাজার রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির পক্ষে কাজ করারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

সিয়াওবোর মুক্তি দাবি করেছেন ডেসমন্ড টুটু ও হাভেল

এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী চীনের ভিন্নমতাবলম্বী মানবাধিকারকর্মী লিউ সিয়াওবোর মুক্তি দাবি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ধর্মযাজক ডেসমন্ড টুটু ও চেক প্রজাতন্ত্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাকস্লাভ হাভেল। আগামী শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোয় নোবেল বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। সিয়াওবোকে ওই অনুষ্ঠানের আগেই মুক্তি দেওয়ার জন্য চীনের প্রতি এ আহ্বান জানান তাঁরা।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র অবজারভার-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে শান্তিতে নোবেলজয়ী টুটু ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হাভেল বলেন, এ বছর শান্তিতে নোবেলজয়ী সিয়াওবোর গল্পটা সে দেশের ১৩০ কোটি নাগরিকের একজনের গল্প। কিন্তু তা প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চীনের কর্তৃপক্ষের পরমতের প্রতি অসহিষ্ণুতার স্পষ্ট প্রমাণ মিলছে। বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশ হিসেবে চীনের এ অবস্থান সত্যি দুঃখজনক।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে টুটু ও হাভেল বলেন, চীনের নিজ ভূখণ্ডে ভিন্নমতাবলম্বী মানবাধিকারকর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। সত্যিকারের বিশ্বনেতা হতে হলে চীনকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ত্যাগ করতে হবে। তাঁরা অভিযোগ করেন, চীন সারা বিশ্বে স্বৈরশাসকদের মদদ জোগানোর মধ্য দিয়ে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। তাঁরা বলেন, চীনের নীতি নিয়ে সমালোচনা করলে সে দেশের কর্তৃপক্ষ তা সহজে গ্রহণ করতে পারে না। এতে প্রমাণিত হয় চীন কতটা আস্থাহীনতায় ভোগে। আর এ ধরনের আস্থাহীনতা ভবিষ্যতে জনগণের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
৫৪ বছর বয়সী লিউকে গত বছরের ডিসেম্বরে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেন চীনের একটি আদালত। ২০০৮ সালের ‘চার্টার-২০০৮’ শিরোনামে একটি মেনিফেস্টো প্রকাশ করার দায়ে তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। তিনি সেই কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী লিউ সিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, এটা এখনো স্পষ্ট নয়। কমিটির নিয়ম অনুযায়ী নোবেলজয়ী কিংবা তাঁর নিকটজনের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

বিষাক্ত সুগন্ধি দিয়ে সৌদি কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনা

আল-কায়েদা জঙ্গিরা বিষাক্ত সুগন্ধি ব্যবহার করে সৌদি আরবের সরকারি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনা করেছে। এ কাজে অর্থের জোগান দেওয়ার জন্য জঙ্গি সংগঠনটি ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোতে ডাকাতি করার পরিকল্পনাও করেছে। গত শনিবার সৌদি কর্তৃপক্ষ এ কথা জানায়।
গত মাসে সৌদি আরব বলেছে, কয়েক মাসে তারা ১৪৯ জন আল-কায়েদা সদস্যকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের ১২৪ জন সৌদি ও ২৫ জন বিদেশি নাগরিক। তারা সৌদি আরবের সরকারি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের ওপর হামলা চালানোর জন্য অর্থ ও সদস্য সংগ্রহ করছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আটক ওই ব্যক্তিরা সৌদি কর্মকর্তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে উপহার হিসেবে বিষাক্ত সুগন্ধি পাঠানোর পরিকল্পনা করে।
গত মাসে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সোমালিয়া ও ইয়েমেনের জঙ্গিদের সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৯ সালে আল-কায়েদার সৌদি আরব ও ইয়েমেন শাখা মিলে আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি) গঠন করে। একই বছরের আগস্টে সৌদি আরবের প্রধান সন্ত্রাস দমনবিষয়ক কর্মকর্তা প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফের প্রাণনাশের চেষ্টা করে এক জঙ্গি।

ব্রিটিশ এমপির বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ

ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন দলের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ও হাউস অব কমন্সের সদস্য মাইক হ্যাঙ্ককের বিরুদ্ধে রাশিয়ার গুপ্তচরকে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থার নির্দেশে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কাতিয়া জাতুলিভেতের নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে রাশিয়ায় ফিরে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সানডে টাইমস-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পোর্টসমাউথ সাউথ নির্বাচনী এলাকার এমপি মাইক হ্যাঙ্ককের সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন রুশ নাগরিক কাতিয়া। ব্রিটেনের নিরাপত্তা সংস্থা এমআই ৫ কাতিয়ার বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনেছে।
এমপি হ্যাঙ্কক গুপ্তচরবৃত্তিতে কাতিয়াকে সহযোগিতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কাতিয়া রাশিয়ার গুপ্তচর নন। আমি গুপ্তচরবৃত্তি সম্পর্কে কিছু জানি না। তাঁকে ব্রিটেন থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। তবে কাতিয়া মনে করেন, তিনি ভুল কিছু করেননি।’ ব্রিটেন থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে কাতিয়া আদালতে যাবেন বলে উল্লেখ করেন হ্যাঙ্কক।
এমপি হ্যাঙ্কক আরও বলেন, ‘কাতিয়া গুপ্তচরবৃত্তি বা এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত—আগে কেউ আমার কাছে এমন কোনো অভিযোগ করেননি। এটি এখন কাতিয়ার আইনজীবীদের হাতে। আমার বিশ্বাস, কাতিয়া তাঁর অবস্থানে ঠিক আছেন, শেষ পর্যন্ত এটাই প্রমাণ হবে।’
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত কোনো বিষয়ে মন্তব্য করব না।’ কাতিয়াকে রাশিয়ায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশের বিষয়টিও নিশ্চিত করেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কাতিয়া ব্রিটেনের পার্লামেন্টে চাকরি নেওয়ার আগে তাঁর ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খোঁজখবর করা হয়। গত সপ্তাহে কাতিয়াকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটেনের পুলিশ। তাঁকে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানোর জন্য বিশেষ স্থানে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত গত আগস্টে কাতিয়াকে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাশিয়া থেকে ব্রিটেনে প্রবেশের সময় গ্যাটউইক বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করা হয়। তখন অবশ্য জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই সময় কাতিয়াকে এমপি হ্যাঙ্ককের সঙ্গে তাঁর কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে সানডে টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আফগান নায়ক হামিদ হাসান

ক্রিকেটে আফগানিস্তানের বিস্ময়কর অগ্রগতির কারণ কী? প্রতিভা তো আছেই, আছে লড়াকু মানসিকতা। আরেক কারণ, দলে আছেন হামিদ হাসানের মতো ফাস্ট বোলার!
২২ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার মানসিকভাবে খুবই দৃঢ়। কতটা, তার একটা ধারণা পেতে পারেন এই তথ্যে, পরশু দুবাইতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের ফাইনালে এক স্পেলেই হামিদ বল করেছেন ২২ ওভার! যা দেখে আফগানিস্তানের পাকিস্তানি কোচ রশিদ লতিফ তাঁকে তুলনা করেছেন ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসের সঙ্গে! না, দুই পেস বোলিং কিংবদন্তি ওয়াসিম-ওয়াকারের সঙ্গে আফগান পেসার হামিদের তুলনা চলে না। লতিফও সেই ভুল করেননি। আফগান কোচ তুলনাটা করেছেন মানসিক এবং শারীরিক শক্তির দিক থেকে।
‘আমি অনেক ম্যাচেই ওয়াসিম, ওয়াকারের বলে কিপিং করেছি। মানসিক এবং শারীরিকভাবে তারা ছিল খুবই শক্তিশালী। তাদের টানা ১৮ থেকে ২০ ওভার বল করতে দেখেছি। এখন দেখছি হামিদকে। এক স্পেলেই সে ২২ ওভার বল করল! আমি মনে করি, এটা বিস্ময়কর’—বলেছেন তিনি। যাঁকে উদ্দেশ করে লতিফের এই প্রশংসা, সেই হামিদ বলছেন, ‘আমি জানি না টানা ২২ ওভার বল করার শক্তি আমি কোত্থেকে পেলাম। আমার মনে হয়, ফাইনালে জয়টা নিশ্চিত করার জন্য এতটাই মরিয়া ছিলাম যে হিসাবটাও ভুলে গিয়েছিলাম কতগুলো ওভার বল করেছি আমি।’
হামিদের টানা ২২ ওভার বোলিং করার ধকল নেওয়াটা সার্থক। স্কটল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের শিরোপা জিতেছে আফগানিস্তান। পাঁচ দিনের ম্যাচে তিন দিনেই জয় তুলতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন হামিদ হাসান। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া হামিদ দ্বিতীয় ইনিংসেও নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৮ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচও তিনি। এএফপি

এমিলি-এনামুলদের পাস নম্বরও দেননি রুবচিচ

বাজে পরিকল্পনা, ক্লান্তির নামে খেলোয়াড়দের ভেঙে পড়া, ইনজুরি, মাঠে বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই মনোযোগে ঘাটতি—এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ফুটবল দলের তিন ম্যাচেই হার এবং ১০ গোল খাওয়ার তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন কোচ রবার্ট রুবচিচ। বাংলাদেশের ক্রোয়েশিয়ান কোচ মাঠে তাঁর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও মূল্যায়ন করেছেন বাফুফেকে দেওয়া তিন পৃষ্ঠার রিপোর্টে।
‘অসুস্থতা নিয়ে আমিনুল দুটি ম্যাচ খেলেছে। হিমেল প্রথম ম্যাচে খুবই ভালো খেলেছে। নিজের দোষে গোল খায়নি। ভবিষ্যতে সে সম্পদ হতে পারে’—রিপোর্টে বলেছেন রুবচিচ। নাসির সম্পর্কে মূল্যায়ন, ‘ভালো ড্রিবলার। খেলাটা বোঝে। তবে কিছু দুর্বলতাও আছে।’ রেজাউল-মামুন মিয়া-আরিফুলের ব্যাপারে তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘তারা পেশাদার, শক্ত মানসিকতার, তবে টেকনিক্যালি খুব খারাপ। টেকনিক্যালি তাদের অনেক উন্নতি করতে হবে।’
দলের নেতা হতে গেলে মামুনুলকে আরও প্রমাণ দিতে হবে বলে মনে করেন রুবচিচ। খেলোয়াড়দের ফিটনেস সম্পর্কে বলেছেন, ‘৫-৬ কেজি ওজন বেড়েছে মিন্টুর, মাঠে তার চলাফেরাই কঠিন ছিল। এনামুলেরও ওজন বেড়েছে। সেও মাঠে নার্ভাস ছিল এবং প্রাণ ঢেলে খেলে না।’
‘জিতু ভালোই। তবে খেলা নিয়ে তার চিন্তাভাবনার উন্নতি এবং অভিজ্ঞতা দরকার। কমল অধ্যবসায়ী। অন্যদের ঘাটতি পোষাতে গিয়ে আক্রমণে সে ক্লান্ত হয়ে যায়। কার্যকর স্ট্রাইকার হওয়ার মতো দম-গতি এমিলির নেই। জাহিদ হোসেন দ্রুতগতির, তবে টেকনিক্যালি দুর্বল এবং দলীয় সমন্বয়ে ভূমিকা থাকে না। মিঠুন, সবুজ, শাহেদ, শাকিল খুব কম খেলেছে। মূল্যায়ন সেভাবে করা যাচ্ছে না। মিশু-ইনজুরি নিয়ে এক ম্যাচের পুরো এবং এক ম্যাচের অর্ধেক খেলেছে’—এই হলো বাকি খেলোয়াড়দের নিয়ে রুবচিচের মূল্যায়ন।

অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে গেলেন সিডন্স

ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুশীলনের জন্য কাল সন্ধ্যায় দলের সঙ্গে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন জেমি সিডন্সও। কিন্তু থাকতে পারেননি পুরো সময়। ড্রেসিংরুম থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিমানবন্দরে চলে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইট ধরতে। অস্ট্রেলিয়া থেকে কাল বিকেলেই সন্তানসম্ভবা স্ত্রী কিমের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়েছেন, বিমানবন্দরে থাকতেই পেলেন পুত্র সন্তান হওয়ার খবর। সিডন্সের অনুপস্থিতিতে জিম্বাবুয়ে সিরিজে বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পালন করবেন বোলিং কোচ ইয়ান পন্ট।
সিডন্স কবে ফিরবেন সেটা কালই বলতে পারেনি বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। ব্রিসবেন হাসপাতালে দ্বিতীয় সন্তানের মুখ দেখার পরই ঠিক হবে সেটা। কিমের কোলজুড়ে আসা সিডন্সের প্রথম সন্তান স্টেলাও এসেছে তিনি বাংলাদেশের কোচ হওয়ার পর। স্টেলার বয়স এখন ১৮ মাস। বাবার চাকরি সূত্রে বাংলাদেশে থাকতে হওয়ায় স্টেলাও নাকি ‘খুব ভালো’ বাংলা বলতে পারছে এখন। সিডন্সের গাড়িচালককে ডাকতে পারছে ‘মাসুদ ভাই’ বলে।
বাংলাদেশকে দারুণ পছন্দ সিডন্স ও তাঁর স্ত্রী কিমের। কিছুদিন আগে তো রসিকতা করে সাংবাদিকদের কাছে সিডন্স এও বলেছিলেন, ‘এখানকার আবহাওয়া খুব রোমান্টিক। দেখো না, বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই আড়াই-তিন বছরের মধ্যেই দুবার বাবা হয়ে যাচ্ছি!’
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণটাই কি বোঝাতে চাইলেন অস্ট্রেলিয়ান সিডন্স?

আজ উতসেয়ার জিম্বাবুয়ে

নেট সেশন শেষ করে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে নিয়ে আজকের ম্যাচের উইকেট দেখতে চলে গেলেন প্রসপার উতসেয়া। ড্রেসিংরুম থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলেন এলটন চিগুম্বুরা। উইকেটেই ছোটখাটো একটা ‘টিম মিটিং’ হয়ে গেল। এরপর উতসেয়াকে কী সব বলতে বলতে যেন বের হয়ে আসছিলেন চিগুম্বুরা। হয়তো বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন রণপরিকল্পনা। ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে আজ নেতৃত্ব দিতে হবে যে উতসেয়াকেই!
অনুশীলনে নিস্ক্রিয় দেখেই সন্দেহ যা হচ্ছিল, পরে সেটাই নিশ্চিত করলেন প্রধান নির্বাচক অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল, কুঁচকির চোটে আজ খেলা হচ্ছে না জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের। গুরুতর কিছু নয়, চাইলে আজকের ম্যাচ খেলাও যেত। কিন্তু এতে চোটের অবনতি হতে পারে আরও। বাকি ম্যাচগুলোর কথা ভেবে তাই ঝুঁকি নিয়ে রাজি নয় জিম্বাবুয়ের টিম ম্যানেজমেন্ট। বাংলাদেশের মতো জিম্বাবুয়ে দলেও কোনো সহ-অধিনায়ক নেই। চিগুম্বুরা যাঁর কাছ থেকে অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন, সেই উতসেয়ার ওপরই বর্তেছে দায়িত্ব।
অধিনায়কের চোটের চেয়েও অবশ্য জিম্বাবুয়ের বড় সমস্যা পুরোনো রোগ ফিরে আসা। বাংলাদেশে গত দুটি সিরিজে প্রথম ম্যাচ জিতে পরে আর কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি তারা। গত মার্চের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও একই ঘটনা। অবস্থার একটু উন্নতি হয়েছিল জুনে নিজেদের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে, তবে গ্রুপ পর্বে ভারতকে দুবার ও শ্রীলঙ্কাকে একবার হারানোর পর ফাইনালে হারতে হয়েছে যাচ্ছেতাইভাবে। প্রথম ম্যাচ জয়ের পর পথ হারানোর ধারা বজায় আছে এই সিরিজেও।
তবে ধারা বদলে দেওয়ার সুযোগ আছে এখনো। ক্যাম্পবেল তাই অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন দলের সিনিয়দের দিকে, ‘দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর দলকে আমরা তেমন কিছু বলিনি। বেশি বেশি বলে তো আর লাভ নেই। গত কিছুদিনে এমন অভিজ্ঞতা এই দলের অনেকবার হয়েছে। সবাই জানে কী করতে হবে। টেলর-টাইবুর মতো অভিজ্ঞরা ভালো শুরু পেয়েও কাজে লাগাতে পারছেন না। ২৫-৩০ রান করেই দায়িত্ব শেষ মনে করলে তো হবে না, অন্তত ৭০-৮০ করতে হবে, সেঞ্চুরি করতে হবে। সিনিয়রা ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব না নিলে সিরিজে ফেরা খুব কঠিন।’
এই সিনিয়রদের একজন, সাবেক অধিনায়ক টাটেন্ডা টাইবু কিন্তু ব্যাটিং নিয়ে অতটা চিন্তিত নন। ব্যাটসম্যানরা খুব একটা খারাপ করছেন না বলেই তাঁর ধারণা। এই উইকেটে নাকি রান কমই হওয়ার কথা। প্রথম ম্যাচের পর পথ হারিয়ে ফেলেছেন, রাজি নন এটা মানতেও, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ম্যাচই তো আর জেতা সম্ভব নয়। দুই দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছে, পুরো সিরিজটাই এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’
তখনো জানতেন ম্যাচটি দিবারাত্রির, রাতের শিশিরে স্পিনারদের সমস্যার কথা ভেবে উতসেয়ার ভাবনার মূলে ছিল ‘টস’। দিনে ম্যাচ হওয়ার খবর শুনে নিশ্চয়ই স্বস্তি পেয়েছেন। এখন তিনি মন দিতে পারবেন আসল কাজে, দিবারাত্রি ম্যাচ জেনেই যেটি কাল বিকেলে বলেছেন আরেক স্পিনার রে প্রাইস, ‘টসে কিছু যায়-আসে না, জিততে হলে তো ভালো খেলেই জিততে হবে।’ দিবারাত্রি ম্যাচ হলেও অবশ্য প্রাইসের সমস্যা ছিল না, ‘কৃত্রিম আলোয় পেসাররা বাড়তি সুবিধা পায়, পেস বোলিং শুরু করে দেব!’
প্রাইসের পেস বোলিং না করলেও চলবে, তবে পারফরম্যান্সে নাটকীয় উন্নতি না হলে জিম্বাবুয়ের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন সময়।

বাংলাদেশের প্রস্তুতির সহায় ভুটান

গত সেপ্টেম্বরে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা ফুটবলের বাছাইপর্বের অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিল না। গ্রুপ পর্বে জর্ডান, ইরান ও ভারতের কাছে বাংলাদেশ হজম করেছিল ১৮টি গোল। বিপরীতে জর্ডানের জালে মাত্র ১টি গোল দিতে পেরেছিল স্বাগতিক দল।
আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন সেমিনারে অংশ নিতে কোচ চলে যান শ্রীলঙ্কায়। তবে এর চেয়েও বড় সমস্যা ছিল, একটিও প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলে মাঠে নামতে হয়েছিল অনভিজ্ঞ কিশোরীদের দলটিকে। প্রথম মহিলা সাফ ফুটবল শুরুর আগেও শুধু অনুশীলনের ওপরই ভরসা করে ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। শেষ পর্যন্ত একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে পড়ে পাওয়া সুযোগের বেশি এটিকে বলা যাচ্ছে না। আজ বেলা দেড়টায় মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে তারা একমাত্র অনুশীলন ম্যাচটি খেলবে সবার আগে চলে আসা ভুটান দলের বিপক্ষে।
বাফুফের মহিলাবিষয়ক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম (বাচ্চু) জানিয়েছেন, ‘ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা ভারত বা নেপালে গিয়ে কোনো ম্যাচ খেলতে পারিনি আর্থিক সংগতি না থাকায়। তাই ভুটানকে একটু আগেভাগে আসতে অনুরোধ করেছিলাম। ওরা খেলতে রাজি হয়েছে।’ তবে আরেকটি ম্যাচ খেলারও পরিকল্পনা আছে বাফুফের, যদিও সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
প্রথম সাফ মহিলা ফুটবলে সবার আগে কাল ঢাকায় এসেছে ভুটান। পরশু আসবে ভারত, নেপাল ও আফগানিস্তান। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান পরদিন। টুর্নামেন্টের স্পনসর ও লোগো এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে টুর্নামেন্ট কমিটির আশা, শিগগিরই সব হয়ে যাবে। টুর্নামেন্টে কোনো প্রাইজমানির ব্যবস্থা না থাকলেও কো-স্পনসর প্রতিষ্ঠান ‘আমরা নেটওয়ার্ক’ আট দেশের সেরা আট খেলোয়াড়কে দেবে একটি করে ল্যাপটপ।

মেসি-রোনালদো সমানে সমান

বিষয়টি বারবার আসছে। তবে এটাই হয়তো চিত্রনাট্য যে, এবারের স্প্যানিশ লিগের একেকটি পর্ব শেষে লিখতে হবে লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথের গল্প। দারুণ ভারসাম্যের এক দ্বৈরথই হচ্ছে দুজনের মধ্যে। কেহ কারে নাহি জিনে সমানে সমান!পরশু যেমন মেসির ২ গোলের জবাবে রোনালদো করলেন ২ গোল। জোড়া গোল করে ওসাসুনার বিপক্ষে বার্সাকে ৩-০ গোলে জেতালেন মেসি। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ জিতল (২-০) রোনালদোর দুই গোলে চড়ে।মেসির এই দুই গোলের মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে ভ্রমণক্লান্তি। বিমানকর্মীদের ধর্মঘট চলছে স্পেনে। ওসাসুনার বিপক্ষে খেলতে পামপ্লোনায় বার্সেলোনাকে যেতে হয়েছে রেল আর বাসে করে। সময়ের কথা ভেবে প্রথমে জানানো হয়েছিল ম্যাচটি শনিবারের বদলে রোববার হবে। কিন্তু ওসাসুনা রাজি না হওয়ায় স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সূচি বদলাতে পারেনি। ৩৫০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভ্রমণক্লান্ত বার্সেলোনা অনেকটা বিরক্তি নিয়েই নেমেছিল খেলতে। তবে মাঠে নামার পর সেই বিরক্তি আর ক্লান্তি ভুলে যান মেসি-ইনিয়েস্তারা। শুরু থেকেই পাসিং আর আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা মেলে ধরেন তাঁরা। বার্সেলোনাও গোল পেয়ে যায় ২৫ মিনিটের মধ্যে। পেদ্রো রদ্রিগেজের দেওয়া প্রথম গোলটির উৎস মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে মেসি নিজে করেন জোড়া গোল। ডেভিড ভিয়ার পাসে ৬৪ মিনিটে প্রথম গোল, দ্বিতীয়টি পেনাল্টি থেকে (৮২ মিনিট)। এদিকে রোনালদো আর রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের মাঠে প্রায় বাঁধা পড়ে যাচ্ছিল ভ্যালেন্সিয়ার কাছে। ৭১ মিনিট পর্যন্ত তাদের গোলশূন্য রাখে ভ্যালেন্সিয়া। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লিগে প্রথম ড্রয়ের শঙ্কাই চেপে ধরেছিল রিয়ালকে। কিন্তু ঠিক সময়ে জ্বলে ওঠেন রোনালদো। ৭২ ও ৮৬ মিনিটে দারুণ দুটি গোল করে নিজেদের মাঠে রিয়ালকে এনে দেন টানা সপ্তম লিগ জয়।এভাবে সমানে সমান লড়াইয়েও কখনো কখনো কেউ একটু পেছনে পড়ে যান। মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথেও তা হচ্ছে। গত রাউন্ডের আগের রাউন্ডে মেসি হ্যাটট্রিকের জবাবে রোনালদোও করেছিলেন হ্যাটট্রিক। তবে গত এল ক্লাসিকোয় দুজনের কেউ গোল না পেলেও মেসির কাছে হেরে গেছেন রোনালদো। পরশু গোলের দিক দিয়ে দুজনের সমতা থাকলেও স্প্যানিশ লিগে গোলদাতার তালিকায় এগিয়ে রোনালদো।১৬ গোল করে রোনালদো তালিকার শীর্ষে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির গোল ১৫টি। পয়েন্ট তালিকায় আবার মেসির বার্সেলোনা আছে এগিয়ে। ১৪ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল।সিরি ‘আ’তে শীর্ষস্থানটা আরও সংহত করেছে এসি মিলান। পরশু বোয়াটেং, রবিনহো ও ইব্রাহিমোভিচের গোলে ব্রেসিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা। ১৫ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩৩। সমান ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে লাৎসিও। এর পর জুভেন্টাস (২৪), নাপোলি (২৪), পালের্মো (২৩) ও ইন্টার মিলান (২৩)। ইংল্যান্ডে চেলসি পরশু আটকে গেছে এভারটনে। নিজেদের মাঠে চেলসির ১-১ গোলের ড্রয়ের সুযোগ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে আর্সেনাল। সামির নাসরির জোড়া গোলে ফুলহামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট ১৬ ম্যাচে ৩২।

ক্ষোভে পাকিস্তানের এক নির্বাচকের পদত্যাগ!

সমস্যাটা ফাওয়াদ আলমকে দলে রাখা না-রাখা নিয়ে। নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে রেখেছেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক মহসিন খান। ফাওয়াদকে দলে নেওয়ার আপত্তি জানিয়েছিলেন আরেক নির্বাচক মোহাম্মদ ইলিয়াস। কিন্তু তাঁর আপত্তিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ইলিয়াস। তবে তাঁর পদত্যাগপত্র বোর্ডের চেয়ারম্যান ইজাজ বাট ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।পিসিবির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, দল ঘোষণার আগে ফাওয়াদ আলমের বিরোধিতা করে নির্বাচক ইলিয়াস দাবি করেছিলেন, ফাওয়াদের চেয়েও ভালো ক্রিকেটার দলে আছে। তিনি কারও নাম উল্লেখ না করলেও আসলে তিনি তাঁর শ্যালক ইমরান ফারহাতকে দলে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান নির্বাচক তাতে গুরুত্ব না দেওয়ায় ক্ষোভে পদত্যাগ করেন ইলিয়াস।

স্মরণ- 'রবীন্দ্রনাথ—সার্ধশত জন্মবার্ষিকীতে' by সৈয়দ আবুল মকসুদ

ড়াই হাজার বছরের সভ্য ও সংস্কৃতিমান বাঙালি জাতির যা কিছু মূল্যবান, তাকে আজ ঢেকে দিয়েছে আমাদের অস্বাভাবিক কলুষিত রাজনীতি। রাজনীতি ছাড়া আজ আমাদের জীবনে যেন আর কিছুই নেই। রাজনীতির নোংরায় নষ্ট হয়ে গেছে আমাদের সুকুমারবৃত্তিসমূহ। বাঙালির সাহিত্য, শিল্পকলা, দর্শন, বাঙালির ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবন রাজনীতির চড়ায় আটকে গেছে।

স্মরণ- 'জননেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী' by এম মুহিবুর রহমান

দেওয়ান ফরিদ গাজী। দেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪ ও ৫ নম্বর সেক্টরের বেসামরিক উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এই জনপ্রিয় রাজনীতিক। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে ফরিদ গাজীর অবদানও অপরিসীম।

আলোচনা- 'প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন পর্যায়' by মনজুরুল হক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সদ্যসমাপ্ত জাপান সফরকে নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যায়িত করা যেতে পারে। প্রথমত, শেখ হাসিনা তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের এমন এক নতুন পর্যায়ের সূচনা করলেন, ভবিষ্যতে যা নিশ্চিতভাবেই বন্ধুপ্রতিম দুই দেশকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে সহায়ক হবে। তিনি হলেন বাংলাদেশের প্রথম নেতা, যিনি সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তিত এক জাপানে পদচারণ করলেন এবং বলা যায়, জাপানের নতুন নেতৃত্বকে এমন এক ভিন্ন বাংলাদেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন, যে বাংলাদেশ হচ্ছে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা দেশ, আগের সেই দাতার সামনে হাত পেতে বসে থাকা বাংলাদেশ নয়।

আলোচনা- 'কর্মপরিবেশঃ স্বর্গে তৈরি' by এ জেড এম সাইফুদ্দীন

ভোগবাদ আজ পৃথিবীজুড়ে সব ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু। আর সঙ্গে সঙ্গে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোয় কোন পরিবেশে পণ্য তৈরি হচ্ছে, এ ব্যাপারেও ভোক্তারা আজ অনেক বেশি সচেতন। জার্মানির একটি এনজিও তাদের ‘ক্লিন ক্লোথস ক্যাম্পেইন’ শীর্ষক প্রচারণার অংশ হিসেবে বেশ কিছু দোকানের সামনে ‘মেইড ইন হেল’ বা ‘নরকে তৈরি’ লেখা সাইন নিয়ে নিম্নমানের উৎপাদন পরিবেশের প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কয়েক বছর আগে, যুক্তরাজ্যের একটি শীর্ষস্থানীয় খবরের কাগজ প্রকাশ করে যে যুক্তরাজ্যের বেশ কিছু বিখ্যাত ব্র্যান্ড তাদের পণ্য তৈরি করে কম্বোডিয়ার একটি কারখানায়।

গল্পালোচনা- ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া...’ by ফারুক চৌধুরী

‘বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে/ বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে/ দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,/ দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।/ দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের উপরে/ একটি শিশিরবিন্দু্’/ সুবিদিত এই পঙিক্তমালা রবিঠাকুর কি শিলাইদহে লিখেছিলেন না শান্তিনিকেতনে, পতিসরে না কলকাতায়, না বিদেশে, অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে? তবে কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় বিদেশে কাটিয়ে আমার এ ধারণা জন্মেছিল যে কথাগুলো বাংলাদেশের বেলায় যথার্থভাবে প্রযোজ্য।

আন্তর্জাতিক- উইকিলিকসঃ হাটে হাঁড়ি ভাঙা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ by মশিউল আলম

র্জ অরওয়েল বেঁচে থাকলে এই মুহূর্তে দৃঢ় আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরতেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে। ১৯৪৮ সালে নাইনটিন এইটি ফোর নামে যে অ্যান্টি-ইউটোপিয়ান উপন্যাসটি অরওয়েল লিখেছিলেন, তাতে এক কল্পিত টোটালিটারিয়ান রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তার ছবি তিনি এঁকেছিলেন, যে কিনা প্রত্যেক নাগরিকের সার্বক্ষণিক আচরণ নখদর্পণে রাখার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তার ‘থট পুলিশ’ নজর রাখছে কে কী চিন্তা করছে। সারা রাজ্যের দেয়ালে দেয়ালে সেই রাষ্ট্রপ্রভুর ছবিসংবলিত পোস্টারে লেখা রয়েছে সতর্কবাণী: ‘বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং ইউ!’