Sunday, May 11, 2025
মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের দূরত্ব বাড়ছে : ইসরায়েলি মিডিয়া
শুক্রবার (৯ মে) ইসরায়েলি একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য মিডল ইস্ট মনিটর তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বিভিন্ন সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, নেতানিয়াহু নাকি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে চেয়েছেন- এমন সন্দেহ থেকেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছেন।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর সাংবাদিক ইয়ানির কোজিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, নেতানিয়াহু বিভিন্ন সময়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন বলে ট্রাম্পের সন্দেহ।
তিনি আরও জানান, নেতানিয়াহুর ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন ট্রাম্প এবং এখন তিনি মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ওপর নির্ভর না করেই এগিয়ে যেতে চান।
কোনও মার্কিন বা ইসরায়েলি সরকারি সূত্র এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য না করলেও, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম তাদের একটি প্রতিবেদনে কোজিনের দাবির সঙ্গে সঙ্গতি রেখেছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে এবং একাধিক ইস্যুতে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার সিনিয়র রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
কোজিনের মতে, ওই বৈঠকে ডারমার ট্রাম্পকে কী করতে হবে, তা নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এতে নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের আস্থার ভাঙন আরও গভীর হয়।
ইসরায়েল হায়োম আরও জানায়, ট্রাম্প মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে নেতানিয়াহু সময়ক্ষেপণ করছেন। তাই তিনি আর ইসরায়েলের ওপর নির্ভর না করে এককভাবে এগিয়ে যাওয়ার মনস্থির করেছেন।
এই ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, এক সময়ের ঘনিষ্ঠ দুই নেতা এখন কৌশলগতভাবে একে অপরের কাছ থেকে সরে আসছেন—বিশেষ করে জটিল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে।
![]() |
| ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তুরস্ক কেন ইসরায়েলের আগ্রাসন রুখে দাঁড়াবে by আলী বাকির
বিমান হামলার পাশাপাশি ইসরায়েল দ্রুজ, কুর্দি ও আলাউয়ি সম্প্রদায়কে দিয়ে বিভক্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নানাভাবে সিরিয়ার নতুন সরকার ও তুরস্কের বিরোধিতা করার চেষ্টা করে চলেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেনদরবার করছেন, যাতে করে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকে এবং কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠী ওয়াইপিজের প্রতি সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখে। এমনকি রাশিয়ার সেনারা যেন সিরিয়ায় তাঁদের ঘাঁটিতে ফিরে আসেন, তা নিয়েও নেতানিয়াহু দেনদরবার করেছেন।
গত মাসেও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যেসব খেলোয়াড় সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তা সত্ত্বেও সিরিয়ায় ইসরায়েল উত্তেজনা বাড়িয়ে চলেছে। দামেস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে সম্প্রতি বিমান হামলা চালিয়ে ইসরায়েল সিরিয়ার নেতৃত্বের প্রতি স্পষ্ট হুমকির বার্তা দিয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ইসরায়েলের এ হামলার নিন্দা করে। এক বিবৃতিতে আহমেদ আল-শারা আরব দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সিরিয়াকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। ইসরায়েল ঐতিহ্যগতভাবেই সিরিয়ার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অস্ত্রে পরিণত করে আসছে। সাম্প্রদায়িক বিবাদ তৈরি করতে বিচ্ছিন্নতাবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে উত্সাহ দিয়ে এবং অভ্যন্তরীণ সহিংসতাকে উসকে দিয়ে ইসরায়েল তাদের নিজেদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চায়।
গত মাসে আজারবাইজানে আঙ্কারা ও তেল আবিবের মধ্যে সংলাপ ব্যর্থ হয়। ইসরায়েলের আক্রমণ প্রতিহতের প্রস্তুতি না নিয়েই তুরস্ক যদি শুধু বিবৃতি দিয়ে সতর্কতা জারি করে, তাহলে দেশটি তার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। ইসরায়েল যদি তার অস্থিতিশীলতা তৈরির কৌশল অব্যাহত রাখে, তাহলে সিরিয়া থেকে ছড়িয়ে পড়া বিশৃঙ্খলা তুরস্ককেও ভোগাবে।
সিরিয়াকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আঙ্কারা আঞ্চলিক নিরাপত্তাবলয় তৈরিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এটা ত্বরান্বিত করা দরকার। এই অঞ্চলের দেশগুলো এরই মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলের নীতির কারণে সেখানে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে তুরস্কের সম্পর্কটা সচল রাখা দরকার। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কাছে এরদোয়ানকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা উচিত।
প্রথমত, ইসরায়েল যদি তার অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা জারি রাখে, তাহলে অন্য আঞ্চলিক খেলোয়াড়েরা সিরিয়ায় ও আশপাশের দেশগুলোতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায়, ইসরায়েলের আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের অনেকের কাছে ইরানের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেবে। এ পরিস্থিতি দুর্বল প্রতিবেশী দেশগুলোতে দ্রুত সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলের প্ররোচনা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে সমানভাবে বিপজ্জনক দুটি বিকল্পের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে। প্রথমটি হলো, বাছবিচারহীনভাবে প্রতিশোধের পথ তাঁকে বেছে নিতে হতে পারে, যেটা সম্ভাব্য যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। দ্বিতীয়টি হলো, চুপ করে সহ্য করে যাওয়া। এটা তাঁকে দুর্বল ও অক্ষম হিসেবে চিত্রিত করবে। দুটি বিকল্পই উগ্রপন্থীদের উত্থানের উর্বর ভূমি।
তৃতীয়ত, সংখ্যালঘুদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ইসরায়েলি নীতি অভূতপূর্ব সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরশাসকদের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন ও সংখ্যালঘুদের নিয়ে তাদের নীতি সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
চতুর্থত, ইসরায়েলের অব্যাহত উসকানি শেষ পর্যন্ত অন্য দেশগুলোকে সিরিয়ার সহযোগিতার জন্য টেনে আনবে। প্রতিযোগিতায় দেশগুলোর কেউই লাভবান হবে না; বরং নিজেদের সম্পদও শুধু ধ্বংস হবে। গত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সেটাই বলছে।
পঞ্চমত, ব্যর্থ রাষ্ট্রকে ঘিরে রাখার কৌশল ইসরায়েলকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হবে। আফগানিস্তান ও ইরানের অভিজ্ঞতা বলছে, ব্যর্থ রাষ্ট্র চরমপন্থা ও অভিবাসী সংকটের উর্বর ভূমি। সিরিয়া যদি একই পথ অনুসরণ করে, তাহলে ইসরায়েল সহযোগিতা দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনিবার্যভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ফিরে আসতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের মানুষেরা যুক্তরাষ্ট্রকে ভীষণ রকম শত্রু ভাবে। এমন বৈরী পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের ফেরার অর্থ হলো তাদের মূল্যবান সম্পদ হারানো।
● আলী বাকির ইবনে খালদুন সেন্টার ফর হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের গবেষণা সহকারী অধ্যাপক
মিডলইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্ববাসী আরেকটি ‘নাকবার’ সাক্ষী হতে পারে: জাতিসংঘ
আরও বলা হয়, ইসরাইল সরকারের অগ্রাধিকার হলো বৃহত্তর ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণ। গাজায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনের লক্ষ্যে নিরাপত্তা অভিযানের নামে স্থানচ্যুতি, ধ্বংস, ভূমি দখল ও উচ্ছেদের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসরাইল। কমিটির তরফে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয়, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের প্রমাণ আছে। নির্যাতন চালানো যেন ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়মতান্ত্রিক অনুশীলন। গাজায় খাদ্যসামগ্রী প্রবেশে ইসরাইলের বাধা নিয়ে বলা হয়, এমন একটি পৃথিবী কল্পনা করাও কঠিন, যেখানে এতগুলো মানুষকে অনাহারে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। যেখানে খাবারের ট্রাকগুলো মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই অবস্থান করছে। তবে, এটিই গাজার বাস্তবতা।
![]() |
| নিজের ঘর, নিজেদের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে কিছু হয়তো খুঁজছে শিশুরা। পাশে উড়ছে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা। খান ইউনিস, গাজা। ফাইল ছবি: রয়টার্স @প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবিষ্কার-উদ্ভাবনে আমরা কেন পিছিয়ে by রউফুল আলম
২০২৪ সালের সূচকে, সুইজারল্যান্ডের অবস্থান ছিল বিশ্বে প্রথম। দ্বিতীয় স্থানে সুইডেন। সিঙ্গাপুরের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ এবং এশিয়া মহাদেশে প্রথম। ১৯ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৩টি দেশের মধ্যে ১০৬। আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ছাড়া বস্তুত সব দেশই সূচকে বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে। শ্রীলঙ্কা (৮৯) কিংবা সেনেগালও (৯২) সূচকে বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে। সূচকে ভারতের অবস্থান ৩৮ এবং চীনের অবস্থান ১১। প্রতি মিলিয়ন (১০ লাখ) মানুষের মধ্যে কতজন গবেষক ও উদ্ভাবক আছে, সে বিবেচনায় ইউরোপের অনেক দেশ চীন থেকে এগিয়ে। যেমন সুইডেনে প্রতি মিলিয়নে প্রায় ৯ হাজার গবেষক ও বিজ্ঞানী পাওয়া যায়।
এশিয়ার মধ্যে সিঙ্গাপুর কী করে উদ্ভাবনে সেরা, সেটা বুঝতে হলে তাদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে কিছু তথ্য দেওয়া দরকার। সিঙ্গাপুরের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর (NUS)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বয়সে মাত্র ১৫ বছর পুরোনো। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক তালিকায় প্রথম ২০-৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে স্থান করে নেয়। এশিয়ার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান এটি। প্রতিবছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ শতাধিক পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়। প্রায় আড়াই হাজার পিএইচডি স্টুডেন্ট প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। গবেষণা করছে। সেসব স্টুডেন্টদের বয়স ২৫-২৬ বছর। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শেষ করে, ২২-২৩ বছর বয়সেই বেশির ভাগ স্টুডেন্ট পিএইচডি শুরু করেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও নিয়মটা এমনই।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইতে, পেসিফিক্যাম (PACIFICHEM) নামক একটা কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করি। কেমিস্টদের জন্য খুবই পরিচিত এই কনফারেন্স, প্রতি পাঁচ বছর পরপর হাওয়াইতেই অনুষ্ঠিত হয়। স্টকহোম ইউনিভার্সিটি থেকে আমি তখন সবে পিএইচডি শেষ করেছি। সে কনফারেন্সে সিঙ্গাপুরের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অধ্যাপক ও তরুণ গবেষকদের উপস্থিতি ছিল। যাঁদের সবাই রসায়নের বিভিন্ন শাখার গবেষক ছিলেন। কনফারেন্সের বাইরে, তাঁরা আলাদা করে কয়েকটা আড্ডার আয়োজন করেন। আমারও থাকার সুযোগ হয় সেসব আড্ডায়।
সিঙ্গাপুরের পিএইচডি স্টুডেন্টরা গল্প করছিলেন তাঁদের গবেষণাজীবন কত পরিশ্রমের। কত প্রতিযোগিতার। অধ্যাপকেরা তাঁদের ফান্ডিং নিয়ে গল্প করছিলেন। বলছিলেন, গবেষণার জন্য কালের সেরা সেরা প্রপোজাল না হলে ফান্ডিং পাওয়া কঠিন। তাঁদের সঙ্গে গল্প করে, সিঙ্গাপুরের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে আমার একটা চমৎকার ধারণা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের আদলে, সিঙ্গাপুরে আছে জাতীয় গবেষণা ফাউন্ডেশন (National Research Foundation), যেটা প্রধানমন্ত্রীর অফিসের অধীন পরিচালিত। এই ফাউন্ডেশনের খুবই শক্তিশালী একটা সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি বোর্ড আছে, যারা বস্তুত সারা পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে, সিঙ্গাপুরকে বিজ্ঞান গবেষণা, আবিষ্কার-উদ্ভাবনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। জাতীয় পলিসি তৈরিতে সাহায্য করে। সিঙ্গাপুর তাদের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ ব্যয় করে শুধু গবেষণায়, যেটা জাতীয় শিক্ষার বাজেট থেকে আলাদা।
সিঙ্গাপুরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে অবশ্যই পিএইচডি এবং পোস্ট–ডক্টরাল গবেষণা থাকতেই হবে। শুধু তা–ই নয়, খুব ভালো মানের গবেষণাপত্র (পাবলিকেশন) থাকতে হবে। এমনকি বয়সও একটা বিবেচনার বিষয়। অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর হতে গেলে বয়সে হতে হবে তরুণ। সাধারণত ৩৫-এর নিচে। এবং নিয়োগের পর, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (৫-৭ বছর) যদি কেউ খুব ভালো মানের পাবলিকেশন না করে, তাহলে তাঁর ফান্ডিং ও প্রমোশন অনিশ্চিত হয়ে যায়। শিক্ষকদের অবসরের কোনো সময় নেই। অযথা অযাচিত সময় নষ্ট করার সামান্যতম সুযোগ নেই। রাজনীতি করার তো প্রশ্নই আসে না। তাঁদের লক্ষ্যই হলো বিশ্বমানের গবেষণা করা। বিশ্বমানের আর্টিকেল পাবলিশ করা। শিক্ষকতা ও গবেষণা নিয়েই পুরো কর্মদিবস ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের।
অথচ দুঃখজনক হলো, আমাদের শতবর্ষ বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়টি, আজও বৈশ্বিক তালিকায় ৫০০তম স্থান করে নিতে পারে না। ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলে যে উপাধিটি আমরা ব্যবহার করি, সে উপাধি ব্যবহার করেও পৃথিবীর মানুষদের সে প্রতিষ্ঠান চেনাতে পারি না। সিঙ্গাপুর আয়তনে বাংলাদেশের ঢাকা জেলার চেয়েও ছোট। অথচ সে দেশের শুধু একটা বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রায় আড়াই হাজার পিএইচডি স্টুডেন্ট আছে। অথচ আমাদের দেশের সবচেয়ে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২৫ বছর বয়সী ৫০ জন পিএইচডি স্টুডেন্ট নেই। তাহলে উদ্ভাবনে আমরা কী করে এগিয়ে থাকব?
বাংলাদেশের তরুণেরা কি মেধাবী না? তাঁরা কি আবিষ্কার-উদ্ভাবন ও গবেষণায় বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন না? —অবশ্যই রাখেন। কিন্তু তাঁদের তো প্রশিক্ষণ দরকার। তাঁদের তো মেন্টর দরকার। সে মানের পরিবেশ তাঁদের দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হলো সেই আঙিনা। অথচ সেখানে কি সে প্রশিক্ষণ তাঁরা পাচ্ছেন? একটা দেশ আবিষ্কার-উদ্ভাবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শর্ত হলো, সে দেশের একাডেমিক গবেষণাকে শক্তিশালী করা।
দুনিয়ার কোনো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পিএইচডি-পোস্টডক ছাড়া সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ হয় না। অথচ আমাদের দেশে এই নিয়মটাই এখনো জোরালোভাবে চালু হয়নি। নিয়ম চালু হলেই যে রাতারাতি এটা ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, তা কিন্তু নয়। তবে যদি ফোকাসটা থাকে এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভালো গবেষকদের নিয়োগ দেওয়ার চর্চা শুরু হয়, তাহলে হয়তো ১০ বছর পর সেটা আরেও বিস্তৃত হবে। একজন শিক্ষক যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়ার পরও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা জন্য ৭-৮ বছর সময় ব্যয় করেন, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেটা সমাজের জন্য মোটেও টেকসই কিছু বয়ে আনবে না। এই নিয়মগুলো ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনার লক্ষ্য থাকতে হবে।
দেশের একাডেমিক গবেষণার সংস্কৃতি উন্নত না হলে, আবিষ্কার-উদ্ভাবনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর দেশের একাডেমিক গবেষণার সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো মানের পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করতেই হবে। তরুণেরা যেন দেশেই পিএইচডি-পোস্টডক করতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। আর সে জন্য চাই ভালো মানের প্রচুর মেন্টর।
একাডেমিক গবেষণার সংস্কৃতি শক্ত হলে, সেটার প্রভাব বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পড়বে। বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রমোশনে নেই শক্ত কোনো নিয়মনীতি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নেই আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশন। এমনকি একটা ভালো মানের সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি বোর্ড ছাড়াই চলছে প্রতিষ্ঠানগুলো। বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি বোর্ড থাকা খুব জরুরি। এবং সেই বোর্ড গঠিত হয় দেশি-বিদেশি মূল ধারার গবেষকদের দিয়ে। একাডেমিক গবেষণা উন্নত হলে, সেটার প্রভাব প্রাইভেট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পড়বে। দেশের বড় বড় শিল্পকারখানাতে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ উন্নত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর অনেক ভালো মানের পাবলিকেশন করতে হয়। বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি থেকে করতে হয় প্যাটেন্ট। পাবলিকেশন ও পেটেন্ট হলো গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সের একটা মাপকাঠি। বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পেটেন্ট হয় না বললেই চলে। আন্তর্জাতিক পেটেন্ট বলতে বোঝানো হয়, কোন উদ্ভাবনের পেটেন্ট আবেদন ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপারটি অর্গানাইজেশনের (WIPO) মাধ্যমে ফাইল করা। যেটাকে পিসিটি অ্যাপ্লিকেশনও (PCT Application) বলা হয়। এতে করে একটি আবেদনের মধ্য দিয়ে, প্রতিষ্ঠানটির সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশে আবেদন করার অধিকার অর্জন করা হয়। একটা নির্দিষ্ট সময় পর আলাদা করে পৃথক পৃথক সদস্যদেশে আবার আবেদন ফাইল করতে হয়।
কোলাবোরেশন হলো উদ্ভাবন সংস্কৃতির আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ও চর্চা। পৃথিবীর অন্যরা কী ভাবছে, কী করছে, কীভাবে ভাবছে, কীভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে ইত্যাদি বিষয় কোলাবোরেশনের মাধ্যমে মোকাবিলা করা সহজ হয়ে ওঠে। তরুণদের খুব কম বয়স থেকেই গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলো আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষার্থীরা যখন স্নাতক পর্যায়ে থাকে, তখনই বিভিন্ন প্রজেক্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। সেসব কাজ তাঁদের ভিতকে অনেক শক্ত করে। তাঁদের ভাবনার জগৎ, সৃষ্টিশীলতার জগৎ প্রসারিত করে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক শিক্ষার্থীদের ব্যাচলর করার সময়ই ভালো মানের গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
আবিষ্কার-উদ্ভাবনে পিছিয়ে থাকলে সমাজের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এমনকি রপ্তানি আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সমাজ। অতিমাত্রায় বিদেশি পণ্য–নির্ভরতাও কমে না। সুতরাং আবিষ্কার-উদ্ভাবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় নীতিমালা দরকার। এবং কয়েকটা পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একাডেমিক গবেষণাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশ ব্রেইন-ড্রেইন বন্ধ করতে পারবে না। তরুণেরা দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষিত হচ্ছেন, সেটা খারাপও না। তবে সেটার বিপরীত প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষিত করার বদলে, যথারীতি প্রশিক্ষিতদের মধ্য থেকে শিক্ষক নিয়োগকে প্রাধ্যান্য দিতে হবে। সে জন্য শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে। সবাইকে গণহারে বয়সভিত্তিক অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ এবং পদোন্নতির নীতিমালা আধুনিক করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনায় উন্নত মানের সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি বোর্ড তৈরি করতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণায় একটা নির্দিষ্ট বাজেট ব্যয় করার জন্য সরকারকে চাপ দিতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন সমাজের তরুণদের প্রশিক্ষণে অর্থ ব্যয় করে, সে বিষয়ে চাপ দিতে হবে। একাডেমিক ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গবেষণার দৃঢ় মেলবন্ধন তৈরি করতে হবে।
জাতীয়ভাবে গবেষকদের উদ্বুদ্ধ করতে আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রণয়ন করতে হবে। পেটেন্ট ও ভালো পাবলিকেশনের জন্য গবেষকদের ভালো প্রণোদনা দিতে হবে। সর্বোপরি জিডিপির একটা বড় অংশ গবেষণায় ব্যয় করতে হবে এবং সে ব্যয় যেন সঠিক খাতে হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কালে, আবিষ্কার উদ্ভাবনে উন্নত না হলে, দেশের বহু ক্ষেত্রের অগ্রযাত্রা শ্লথ হয়ে যাবে।
* ড. রউফুল আলম টেকসই উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক লেখক
Rauful.alam15@gmail.com
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত: বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ
আজ শনিবার রাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাত সাড়ে আটটা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত এই বিশেষ সভা হয়। পরে যমুনার সামনে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সভার সিদ্ধান্ত জানান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মো. মাহফুজ আলম।
লিখিত বক্তব্যে আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।
আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে। এর পাশাপাশি, জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও উপদেষ্টা পরিষদের সভায় গৃহীত হয়েছে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে তিন দিন ধরে টানা কর্মসূচি পালন করে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ ছাত্র-জনতা। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রাতে জরুরি বৈঠকে বসে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় গত বছর ৫ আগস্ট। গণ-অভ্যুত্থান দমনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যা ও আওয়ামী লীগের শাসনের সময়ে গুমের অভিযোগগুলোর বিচারের উদ্যোগ নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এ জন্য গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে সরকার। এখন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশের বিধান রেখে এই আইনের সংশোধনীর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
![]() |
| অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা। ঢাকা, ১০ মে। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ: আন্দোলনকারীদের উল্লাস, আনন্দ মিছিল
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আইন উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন করছিল ছাত্র-জনতা। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অভ্যুত্থানের প্ল্যাটফরমগুলো অংশ নেয়। শনিবার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে চলা অবস্থানে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে দলটির যাত্রা শুরু হয়।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও দলটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
সে সময়কার কর্মকাণ্ডের জন্য ’৭১-এর ২৬শে মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে আওয়ামী লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও স্বাধীনতা পরবর্তী নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত হয় দলটি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার।
তার মেয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ টানা ১৬ বছরের শাসনামল দেশের ইতিহাসে গুম, খুন আর লুটপাটের রেকর্ড গড়ে। ক্ষমতায় থাকতে বিনা ভোট, রাতের ভোটের নির্বাচন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেন শেখ হাসিনা। সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে নৃশংসতম গণহত্যা চালিয়েও ঘৃণ্য ইতিহাস তৈরি করে দলটি। প্রবল গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। দেশ ছেড়ে পালান দলের প্রায় সব শীর্ষ নেতা। যারা দেশে আছেন তারাও রয়েছেন আত্মগোপনে।
এরপর থেকেই ছাত্র-জনতা গণহত্যার অপরাধে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি তুলে আসছে। ২৩শে অক্টোবর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা হয়েছে। এসব মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত করতে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
ওদিকে গতকাল রাতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উল্লাস প্রকাশ করে। শাহবাগে আন্দোলনকারীদেরও উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের উল্লাস, আনন্দ মিছিল
গণহত্যার বিচার শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের পর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেয়া আন্দোলনকারীরা উচ্ছ্বাস করেন। সরকারি এই সিদ্ধান্তের পর টানা দুইদিন চলা অবস্থান কর্মসূচি রূপ নেয় আনন্দ মিছিলে। আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় মিছিল করে বিভিন্ন সেøাগান দেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্ত জানানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল হয়েছে। ওদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারি সিদ্ধান্ত জানানোর পর দলের নেতাকর্মীদের সড়কে অবস্থান ধরে রাখতে বলেন। পরে তারা করণীয় নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন। রাত একটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শাহবাগে কয়েকশ’ আন্দোলনকারীকে অবস্থান করতে দেখা যায়।
ওদিকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধসহ ৩ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় গতকালও দিনভর অবরুদ্ধ ছিল। টানা অবরোধ এবং অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা দ্রুত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আল্টিমেটাম দেন। গণজমায়েতে বক্তারা বলেন, যারা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ চায় না তারা ফ্যাসিবাদী। আওয়ামী লীগ একটি খুনি দল। তাদের এই দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। হাজারো ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকার। এই খুনের দায়েই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে হবে। দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগ ব্লকেড কর্মসূচিতে গতকাল বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সকাল থেকেই শাহবাগ মোড়ের চারপাশের সড়কগুলো অবরোধ থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তবে এম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে ছাড় দেয়া হয়। ছাত্র-জনতার অবস্থানের কারণে শাহবাগ মোড়ের প্রতিটি সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বিকাল গড়াতেই লোকে লোকারণ্য হয় পুরো শাহবাগ মোড় চত্বর। বিকাল ৩টার পর থেকেই এলাকা জুড়ে ছোট-বড় মিছিল আসতে শুরু করে। মিছিলগুলো টিএসসি, মৎস্য ভবন ও নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন দিক থেকে শাহবাগমুখী হয়। গণজমায়েতে অংশ নেয় এনসিপি, ইসলামী ছাত্রশিবির, হেফাজতে ইসলাম, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এদিন রাত ১০টা থেকে এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে যমুনার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। পরে রাত ১টার দিকে মিছিল নিয়ে যমুনার সামনে যান এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পাঁচটি পিকআপ ভ্যান একত্র করে সমাবেশের জন্য যমুনার পাশে ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের পাশের ফোয়ারার সামনে ‘জমায়েত মঞ্চ’ তৈরি করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে রাতভর অবস্থান এবং মিন্টো রোডের মোড়ে মঞ্চ তৈরি করে বিক্ষোভের পর গত শুক্রবার বিকাল থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চিরিরবন্দরে ৪০ মণের ‘সম্রাট’
তার আরেক ছেলে রমেল হক জানান, এমনিতেই ষাঁড়টির স্বভাব শান্তপ্রকৃতির হলেও মাঝেমধ্যে চড়াও হয়ে ওঠে। তাই সম্রাটকে বাড়ি থেকেই বিক্রি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাছাড়া ষাঁড়টির উচ্চতা সাড়ে ৭ ফুট ও দৈর্ঘ্য ৯ ফুট হওয়ায় দরজা দিয়ে বের করা যাবে না। তাই ষাঁড়টি বিক্রি হলে দরজা কেটে বের করে ক্রেতার হাতে তুলে দেয়া হবে।
ষাঁড়টিকে দেখতে আসা সাবেরউদ্দিন ও রাজীব উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে ছবি দেখে দেখতে আসলাম। ছবি দেখে আসলে বুঝতে পারিনি ষাঁড়টি কতো বড়! ছবির চেয়ে বাস্তবে ষাঁড়টি দেখতে অনেক বড় ও সুন্দর। উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন, সম্ভবত সম্রাটই দিনাজপুরের মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু। ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি লালন-পালনে খামারিকে সর্বদা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এ বছর গরুটি বিক্রি করতে না পারলে খামারির অনেক লোকসান হয়ে যাবে। এতবড় গরু লালন-পালন করা যেমন খুব কষ্টকর তেমনি ব্যয়বহুলও।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরজমিন কুমিল্লা: হাত বদলে চলছে নীরব চাঁদাবাজি by মারুফ কিবরিয়া
সম্প্রতি কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সরজমিন ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, বাসচালক ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আট মাস আগেও আওয়ামী লীগের নেতারা নানা ব্যক্তির নামে চাঁদা আদায় করতো। কিন্তু সরকার পতনের পর সে চিত্র বদলায়নি। বরং এখন অন্য পক্ষ এসে চাঁদা আদায় করছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নামেও অনেকে টাকা চায়। যদিও বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে কঠোর ও অবিচল। তারা বলছেন, দলের বা দলীয় কোনো নেতার নামে চাঁদা আদায় করলে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে কোথাও কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে বহিষ্কারের মতো বড় সিদ্ধান্তও নেয়া হবে। সেইসঙ্গে চাঁদাবাজিতে জড়িত ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হবে।
কুমিল্লার জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় গত বুধবার গিয়ে জানা যায়, সেখানে কাজল নামের এক ব্যক্তি বাস প্রতি ৩০ টাকা করে আদায় করেন। কিন্তু কারও নাম জিজ্ঞেস করলে বলেন, ভাই দিতে বলেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাত হলে এই অর্থের পরিমাণ বাড়ে। বিশেষ করে টার্মিনাল নির্ধারিত বাসের বাইরে অন্য কোনো বাস হলেই কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩শ’ কিংবা ৫শ’ টাকাও আদায় করা হয়। অবশ্য সেক্ষেত্রে কাজল ছাড়াও অন্য ব্যক্তিরা এই টাকা আদায় করেন।
বাস টার্মিনালের ভেতরে মো. রতন নামের এক বাসচালক বলেন, আগে এক পক্ষ নিতো। এখন আরেক পক্ষ নেয়। কিন্তু এখন যারা নেয়, তারা কার লোক সেটা বলে না। আগে তো জানতাম আওয়ামী লীগের নেতাদের চাঁদা দিতে হতো। এখন কারও নাম বলে না। শুধু ‘ভাই’- এর নাম করে নিয়ে যায়। দিনের বেলায় ৩০/৪০ টাকা দিতে হয়। রাতে অন্য বাস নিয়ে এলে দিতে হয় ৩০০ বা ৫০০ টাকা।
সিদ্দিক নামের এক বাসচালকের সহকারী বলেন, একেক সময় একেকজন টাকা নেয়। আমরা গরিব মানুষ। কারও নাম জানতে চাই না। টাকা দিলে বাস ঠিকমতো থাকে, না দিলে যদি ভাইঙা দেয় এই ভয়ে দিয়া দেই। ফারুক হোসেন নামের আরেক সহকারী বলেন, সপ্তাহে ২শ’ টাকা করে দিতে হয়। এখানে টার্মিনালের উল্টো পাশে রাতে বাস রাখলেই এই টাকা দিতে হবে। কাকে দিতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার নাম তো জানি না। তবে মানুষের কাছে শুনছি নেতা। এখন কোন দলের সেটাও জানি না।
নির্মাণসামগ্রী বিক্রির নামেও চাঁদাবাজি:
ওদিকে, কুমিল্লা শহরে অভিনব পদ্ধতিতে চলছে চাঁদাবাজি। ভবন নির্মাণসামগ্রী বিক্রির নামে টাকা নিচ্ছেন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। বিএনপি’র নাম করে এই টাকা আদায় করলেও দলটির নেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দল জড়িত নয়। বরং এ ধরনের অভিযোগও আসেনি তাদের কাছে। কেউ অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবন নির্মাণ খাতে অভিনব কায়দায় চলে চাঁদাবাজি। এ খাতকে ঘিরে ওয়ার্ড পর্যায়ে গড়ে উঠেছে পৃথক চাঁদাবাজ চক্র। এসব চাঁদাবাজ নিজ নিজ এলাকার ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করছে। নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য চাঁদাবাজ চক্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্মাণ পণ্য কিনতে হয়। অর্থাৎ ইট, বালু, সিমেন্ট, পাইলিং, থাই গ্লাস, রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ চাঁদাবাজদের হাতে। ভবন নির্মাণসামগ্রী এবং সব কাজের মিস্ত্রি সরবরাহ করছে সিন্ডিকেট সদস্যরা। আর এসব খাত থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছেন তারা। নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ ছাড়াও প্রতিটি এলাকায় রয়েছে একাধিক ছিঁচকে চাঁদাবাজ। তাদেরকেও পিকনিক, বিভিন্ন দিবস, খেলাধুলা, গান-বাজনা, মিষ্টি এবং চা-নাস্তার নামে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এমন চাঁদাবাজির সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। ৫ই আগস্টের পর ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলে চাঁদাবাজির এসব সেক্টরে হাতবদল হয়েছে। এক চাঁদাবাজের বিট আরেক চাঁদাবাজ চক্র দখলে নিয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পর চাঁদা বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে আরও বেড়েছে।
নগরীর বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, কয়দিন আগে আমার বাড়ি করার জন্য নির্মাণসামগ্রী কিনতে হয়েছে। এসব জিনিসপত্রের জন্য কিছু ছেলেপেলে এসে বললো, সব ওদের পরিচিত দোকান থেকে নিতে। আর বাড়ি করার আগে চা-নাস্তা বাবদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে কয়েকজন। এরা সবাই বাইরে থেকে আসছে। এলাকার ছেলে হলে আমার চেনার কথা। আমি ১৪ বছর বিদেশ করলেও লোকাল মানুষ দেখলে চিনতে পারি। কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা মাহবুব উদ্দিন বলেন, নিজের টাকায় বাড়ি করেছি। বাড়ি করতে চলে গেছে ৩০ লাখ টাকা। এটা হয়তো যেতো না। ঘাটে ঘাটে পয়সা। বাড়ি করার নাম নিলেই পোলাপাইন এসে হাজির হয়। আমি যখন বাড়ি করছি ওসব ছেলেদের দেখানো দোকান থেকে ইট বালি সিমেন্ট কিনতে হইছে। পরে শুনি ওসব দোকান থেকে ওরা কমিশন নেয়।
চাঁদাবাজির বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি উদবাতুল বারী আবু মানবজমিনকে বলেন, এসব যারা করছে আপনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন সবাই নেশাখোর, টোকাই। দলের কেউ নয়। দলের কারও বিরুদ্ধে স্পেসিফিক অভিযোগও নেই। আমরা দলীয় প্রধানের নির্দেশে জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছি। দলের কাউকে যদি চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বস্তিতে অটোরিকশা চালকরা: কুমিল্লা শহরের চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় খাত ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা। প্রায় অর্ধ লাখ সংখ্যক এই যান থেকে দিনে ১০ টাকা করে মাসে তিনশ’ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করতেন আওয়ামী লীগের নেতারা। অভিযোগ ছিল, সাবেক এমপি বাহারের ঘনিষ্ঠ নেতারা সিএনজি থেকে দিনে ১২০ টাকা আর ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করতো। এ ছাড়া মাসে তিনশ’ টাকা করে টোকেন নবায়ন বাবদ আদায় করতো। কিন্তু ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে এই অটোরিকশাচালকরা বেশ স্বস্তিতে রয়েছেন। এই খাতে কোনো ধরনের চাঁদা আদায় করতে আসেন না কেউই। ইতিমধ্যে চাঁদাদাবির অভিযোগে কয়েকজনকে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তারও করেছে।
কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার সিএনজিস্ট্যান্ডে গিয়ে কথা হয় চালক আরিফুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, এই কান্দিরপাড় সিএনজিস্ট্যান্ডে হাবীব নামের একজন প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ টাকা করে প্রতিটি অটোরিকশা থেকে চাঁদা তুলতেন। এই টাকা যেতো আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার কাছে।
নগরীর ঈদগাহ্ এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক কিরণ হোসেন জানান, ঈদগাহ্ থেকে সিএনজি ছাড়লে ৫০ টাকা, ফকিরবাজার গেলে ২০ টাকা, শংকুচাইল ছিল ২০ টাকা এবং বাগড়া সিএনজিস্ট্যান্ডে দিতে হতো ৫০ টাকা। প্রতিদিন গড়ে দেড়শ’ টাকা চাঁদা দিতে হতো। ৫ তারিখের পর থেকে আর কেউ চাঁদা নিতে আসে না। খুব ভালো লাগছে।
নগরীর জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, স্বস্তিতে যাত্রী আনা-নেয়া করছেন অটোরিকশাচালকরা। ইদ্রিস হোসেন নামে এক চালক বলেন, সিএনজিস্ট্যান্ডে আগে কতো রকমের নেতা দেখতাম। ৫ তারিখের পর সব ভাইগ্গা গেছে।
পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায় হচ্ছে না দাবি করে আবদুর রশীদ নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বলেন, ‘তারা (চাঁদাবাজরা) আমরার হকের টাকা মাইরা খাইতো। আল্লায় বিচার করছে। এডি এহন ঘরে নাই।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডিবেট পর ডেমোক্রেসি’র অনুষ্ঠানে মতিউর রহমান চৌধুরী: ভূ-রাজনীতির খেলায় যেন আমরা পা না দেই
মতিউর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যমেই দেখেছি যে, ভারতে সামনে দুটো নির্বাচন আছে। বিহার ও পশ্চিববঙ্গে। রাজনৈতিক দিক থেকে ওই দুটি নির্বাচন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য চ্যালেঞ্জ। এই যুদ্ধ পাকিস্তানকেও রক্ষা করতে পারে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কিন্তু নির্বাচিত নন। ইমরান খান এখন জেলে। তার এই যুদ্ধের মধ্যদিয়ে ইমরান খানের রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও ফয়সালা হয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী সামনের কাতারে চলে আসছে। পাকিস্তানের জনগণ এখন কী বলবে? তারা বলবে, দেশরক্ষা করেছে আমাদের সেনাবাহিনী। সেজন্য দুইদিকেই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। রাজনীতি বাদ দিয়ে ঐতিহাসিক কারণ লেখা যাবে না। আর ইতিহাস লিখতে হলে রাজনীতি থাকবে। পুশ ইন চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুশ ইনকে বাধা দিতে গিয়ে আমরা এমন কোনো কাণ্ড না ঘটাই যেটা সামাল দিতে পারবো না।
যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি খানিকটা টালমাটাল উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেয়ারবাজার কলাপস্ করেছে। আমদানিতে বিরাট চাপ। আমাদের সামনে একটা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এমনিতেই আছে। আরেকটা তৈরি হতে যাচ্ছে। ইস্টার্ন ফ্রন্টে কিন্তু যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখানে চীন একটা ফ্যাক্টর। ‘সাতকন্যা’র দিকে কিন্তু চীনের নজর রয়েছে। ভূ-রাজনীতিতে এটার প্রভাব অনেক থাকবে। এটাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কাশ্মীরকে রাজনীতির দাবার ঘুঁটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাশ্মীর না থাকলে পাকিস্তানের নেতৃত্ব এবং ভারতের নেতৃত্বের ফয়সালা হবে না। ’৪৭-এ ভাগ হয়েছে, তারপরও কেন বিরোধ? সরকার বদলায় এই যুদ্ধের কারণে। আগামীতেও তাই হবে। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ভুয়া সংবাদের কারণে যেকোনো সময়, যেকোনো সিদ্ধান্তে আমাদের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভুয়া খবর থেকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক যারা সিদ্ধান্ত নেন, তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। দল নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত। তারা এখন পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। কিন্তু জাতিকে টাইম টু টাইম জানাতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক অস্থিরতা আছে। এরমধ্যেই আমাদের খুব বেশি সতর্ক থাকতে হবে- আমাদের কথা বলা, আচার-আচরণ থেকে সব কিছুতে। যাতে আমাদের গায়ে কোনো আঁচড় না লাগে। যে আঁচড় থেকে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার-আপনার একটা বক্তব্য কিন্তু দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, হঠাৎ করে আমরা পাকিস্তানের দিকে নজর দিচ্ছি, সম্পর্ক গড়ছি। আবার এটাও মনে রাখতে হবে, ভারত আমাদেরকে বৈরী মনে করে। প্রতিপক্ষ মনে করে। ভারতের সঙ্গেও আমরা সুসম্পর্ক চাই। পাকিস্তানের সঙ্গেও সম্পর্ক চাই। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের দেনা-পাওনার বিষয়টিও আসছে। ভারতের অনেক সিদ্ধান্ত আমরা অপছন্দ করি। কিন্তু লক্ষণীয়- ভারতের যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে সব রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি কথা বলেছেন। তার আগের ঘটনা হচ্ছে কংগ্রেস বলেছে, তিনদিন আগেই অর্থাৎ ১৯শে এপ্রিল তিনি জানতেন, পহেলগামে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে।
নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আমি সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না, সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব দিয়ে দিচ্ছি সেনাবাহিনীর ওপর। এটা কি আসল কথা? না এটা আসল কথা না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া সেনাবাহিনী যুদ্ধ শুরু করে না। বক্তব্যের পর মানবজমিন প্রধান সম্পাদক বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটকে আপনি কীভাবে দেখেন? তিনি বলেন, টানাপোড়েন চলছে। দুই দেশের মধ্যে শব্দের লড়াই হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়নি, বাণিজ্য আছে। ভারত বরাবরই একঝুড়িতে আম রাখার চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া তারা বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাননি। সম্পর্ক রেখেছে, কিন্তু যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে সেটা কমাতে তারা চেষ্টা করেনি। তিনি বলেন, আমরা জানি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। এটা ১৯৭১ সাল থেকে। এই সম্পর্ক বজায় থাকুক, এতে আপত্তি নেই। কিন্তু ভারত এমন আচরণ করছে যেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো পার্টিকে নেই। এটা ঠিক হয়নি। এখন তাদের নিশ্চই উপলব্ধি হয়েছে বা হবে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এতটা খারাপ নয় উল্লেখ তিনি বলেন, তাহলে কিন্তু তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্বীকার করতো না। নরেন্দ্র মোদি-প্রফেসর ইউনূসের মধ্যে বৈঠক হতো না। সম্পর্ক আছে, তিক্ততা আছে। এই সম্পর্কের উন্নতি হওয়া উচিত অবিলম্বে। সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ৬ই মে মধ্যরাতে পাকিস্তানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যে সকল মসজিদ ধ্বংস হয়েছে সেই সব মসজিদেই ঐদিন পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ফজরের নামাজ আদায় করেছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ব্ল্যাক আউটের মধ্যেই সংহতি প্রকাশের জন্য ফজরের ওয়াক্তে একত্রিত হয়েছিল পুরো এলাকার বাসিন্দারা।
এই পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকে কোনো উস্কানিতেই মুসলিম-হিন্দুর যুদ্ধ হিসেবে বিদ্বেষ ছড়ানো যাবে না। তবে বিজিপি সরকার কর্তৃক ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে ভারতীয় মুসলমানদের স্বস্তি প্রদান করা উচিত। তাই এই দুই দেশে অবস্থানকারী মুসলমান ও হিন্দুরা যার যার অবস্থান থেকে ধর্মীয় উত্তেজনা পরিহার করে এই যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত। তা না হলে বিশ্ব এই দুই পারমাণবিক শক্তির সংঘাতের ভার বইতে পারবে না। ‘ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মূল কারণ রাজনৈতিক নয় ঐতিহাসিক’ শীর্ষক ছায়া সংসদে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের বিতার্কিকগণ অংশগ্রহণ করেন। এতে জয়লাভ করেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের বিতার্কিকরা। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক এ কে এম মঈনুদ্দিন, কবি ও সাংবাদিক জাহানারা পারভিন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শেষ প্রদীপের আলোটাও নিভে গেল by বিল্লাল হোসেন রবিন
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ডালপালা ছড়ায় হত্যা মামলার পরও আইভীর নিজ বাড়িতে অবস্থানের বিষয়টি। অনেকে ধরেই নিয়েছেন, আগামী রিফর্ম আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিবেন আওয়ামী লীগের পরিচ্ছন্ন ও প্রভাবশালী এই নেত্রী। ফলে তাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। দলের দুঃসময়ে তাদের ভরসার জায়গায় হয়ে উঠেছিলেন আইভী। তাদের মতে, সারা দেশে আওয়ামী লীগের বেহাল অবস্থা। দলের শীর্ষ নেতারা কেউ পালিয়েছে, কেউ জেলে। বাকিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আছেন। সেখানে আইভী নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। হয়তো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলে সেই নির্বাচনে দলীয় ফোরামে আইভীর গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা থাকবে। কিন্তু সকল জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা আপাতত ভেস্তে গেছে শুক্রবার ভোরে আইভীকে গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে। জুলাই অভ্যুত্থানে সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নগরীর দেওভোগের চুনকা কুটির থেকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রাখা হয়েছে তাকে। এতে করে প্রদীপের শেষ আলোটাও যেন নিভে গেল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের।
এদিকে আইভীর গ্রেপ্তার নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বত্র যে আলোচনা চলমান তা হলো, আইভীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে সাড়ে ৬ ঘণ্টা পুলিশ চুনকা কুটিরে অবরুদ্ধ ছিল। রাস্তা অবরোধ করে শত শত এলাকাবাসী ও আইভীর সমর্থক নেতাকর্মীরা চুনকা কুটির ঘিরে রাখে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশও অনেকটা ধৈর্যের পরিচয় দেয় এবং রাতভর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আইভীকে বুঝিয়ে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। কিন্তু আইভী তার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন যতকিছুই হোক তিনি দিনের বেলা ছাড়া যাবেন না। ফলে পুলিশ বাধ্য হয়ে রাতভর অপেক্ষা করে। যদিও গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় আইভী তার বক্তব্যে দীর্ঘ সময় পুলিশকে অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের পর পুলিশের উপস্থিতিতে দৃঢ়তার সঙ্গে আইভীর বক্তব্য ও জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান নেতাকর্মীদের মাঝে অন্যরকম এক আবহ তৈরি করে। যেখানে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, এমপি-মন্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার সময় কোনো প্রকার বক্তব্য তো দূরের কথা স্লোগান দেয়ার সাহস করেনি সেখানে আইভী ছিলে ব্যতিক্রম।
ওদিকে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই আইভীর গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে পজেটিভভাবে নিয়েছেন। তারা বলছেন, পোশাক শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও নারায়ণগঞ্জবাসী জানে আইভীকে রাজনৈতিক কারণে মিথ্যাভাবে এই ধরনের মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের সময় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে আইভী দলমত নির্বিশেষে কতোটা জনপ্রিয়। শিগগিরই তিনি জামিনে বেরিয়ে আসবেন।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে আওয়ামী লীগের ভোট বিপর্যয় হয়। অনেক শীর্ষ নেতা পালিয়ে যায় এলাকা ছেড়ে। আওয়ামী লীগের এমন দুঃসময়ে ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনের কয়েকদিন আগে নিউজারল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি’র প্রার্থী নুরুল ইসলাম সরদারকে পরাজিত করে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। তার বিজয়ের মধ্যদিয়ে ওই সময় সারা দেশে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। নারায়ণগঞ্জে ঘুরে দাঁড়ায় বিএনপি। ২০১১ সালের ৫ই মে সরকার বন্দরের কদম রসুল, সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে একত্রিত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন করে। ওই বছরের ৩০শে অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী প্রভাবশালী শামীম ওসমানকে পরাজিত করে দেশে প্রথমবারের মতো নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন সেলিনা আইভী। ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট সাখায়ত হোসেন খানকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন আইভী। ২০২২ সালের ১৬ই জানুয়ারি বিএনপি’র এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে পরাজিত করে তৃতীয়ভারের মতো মেয়রের পদে আসীন হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সারা দেশে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ বিলুপ্ত করা হলে তখন থেকে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন আলোচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ
বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনও রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগ এর যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে। এর পাশাপাশি, আজকের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ দেশ ছাড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলনে নামে। বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনের সড়কে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতা কর্মীরা। শনিবার সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সরকারকে আলটিমেটাম দেয়া হয়। রাতে এ নিয়ে করণীয় ঠিক করতে জরুরি বৈঠকে বসে উপদেষ্টা পরিষদ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘অপারেশন বুনিয়ানুম-মারসুস’ শুরু: ‘আত্মরক্ষা ছাড়া উপায় ছিল না পাকিস্তানের’
এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দিনের শুরুতে আসিম মুনিরের সঙ্গে কথা বলেছেন রুবিও। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেছেন, রুবিও উভয় পক্ষের প্রতি উত্তেজনা হ্রাসের উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ওদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, পাকিস্তান আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিশোধ নেয়া ছাড়া তাদের হাতে আর কোনো উপায় ছিল না। জিও নিউজকে তিনি বলেন, তিনদিন ধরে ভারত তামাশা করছে। আমরা ভারতকে আধিপত্য করতে দেবো না। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং সরকার এটা হতে দেবে না। এ বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা যে অপারেশন শুরু করেছি, তা এক পর্যায়ে শেষ হবে। ভারত কী চায় তার ওপর নির্ভর করবে সেটা।
পাকিস্তানের নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ভারত। এর ফলে বেসামরিক সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাল্টা হামলার। এর কোনো বিকল্প ছিল না। আর ধৈর্যের পরীক্ষা দেয়া যায় না। আমরা তাদেরকে শুধু জবাব দিয়েছি। এ পর্যন্ত তাদেরকে আমরা প্রচুর ধৈর্য দেখিয়েছি। ভারতের বেসামরিক মিলিটারি নেতৃত্ব যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা আনুপাতিক। এর চেয়ে অনেক বেশি ব্যবস্থা নেয়া যেতো। এর জন্য আমরা প্রস্তুতও। তবে এখন পর্যন্ত যেটুকু করা হয়েছে তা সর্বনিম্ন। এটা অব্যাহত থাকবে। প্রথম দিনে আমরা আমাদের স্থানে থেকেছি। যেসব যুদ্ধবিমান পাকিস্তানে প্রবেশ করেছিল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ৫টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1400)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
May
(344)
-
▼
May 11
(12)
- মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের দূরত্ব বা...
- তুরস্ক কেন ইসরায়েলের আগ্রাসন রুখে দাঁড়াবে by আলী ব...
- বিশ্ববাসী আরেকটি ‘নাকবার’ সাক্ষী হতে পারে: জাতিসংঘ
- আবিষ্কার-উদ্ভাবনে আমরা কেন পিছিয়ে by রউফুল আলম
- উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত: বিচার শেষ না হওয়া পর্য...
- আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ: আন্দোলনকারীদের উল্...
- চিরিরবন্দরে ৪০ মণের ‘সম্রাট’
- সরজমিন কুমিল্লা: হাত বদলে চলছে নীরব চাঁদাবাজি by ম...
- ডিবেট পর ডেমোক্রেসি’র অনুষ্ঠানে মতিউর রহমান চৌধুরী...
- নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শেষ প্রদীপের আলোটাও নিভে গ...
- বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ
- ‘অপারেশন বুনিয়ানুম-মারসুস’ শুরু: ‘আত্মরক্ষা ছাড়া উ...
-
▼
May 11
(12)
-
▼
May
(344)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



