Wednesday, August 5, 2009

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও কমিটি গঠন নিয়ে কিঞ্চিত্ by সৈয়দ আবুল মকসুদ

কোনো দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের জাতীয় কাউন্সিল উৎসবমুখর পরিবেশে হলো কি না তা বিবেচ্য বিষয় নয়, যদিও আমাদের মিডিয়া উৎসবমুখরতাকেই বেশি মূল্য দেয়, কর্মমুখরতার চেয়ে। কাউন্সিলে দলের নীতি-আদর্শ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ছোটবড় নেতারা খোলামেলা আলোচনা ও নেতৃত্বের ভূমিকার চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারলেন কি না সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় কাউন্সিল কোনো বউ-ভাতের অনুষ্ঠান নয়, জেয়াফত বা মেজবানিও নয়; সেখানে অংশগ্রহণকারীদের বিরিয়ানিটা খাসা হয়েছিল কি না, অথবা মাছ ভাজাটা মচমচে ছিল কি না, সেটা ধর্তব্যের বিষয় নয়। আসল ব্যাপার হলো, সেখানে দলের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বিতর্ক হলো। আরও বড় ব্যাপার, কাউন্সিলরদের ভোটে কোন নেতা বাদ পড়লেন, আর কারা পেলেন নতুন নেতৃত্ব।
পুঁজিবাদের সমর্থকেরা হাত নেড়ে জোর গলায় বলেন, সমাজতান্ত্রিক দেশে ‘গণতন্ত্র নাই’। কিন্তু সেসব দেশেও কমিউনিস্ট পার্টির যে কাউন্সিল হয়, তাতে যথেষ্টই গণতান্ত্রিক আচার-আচরণ ও রীতিনীতির অনুশীলন হয়ে থাকে। অবশ্য স্তালিনের আমলের সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা আমরা বলব না। সে সময়টিও ছিল অন্য রকম। তার পরও অনেক দিন শীতল-যুদ্ধের সময়ের সমস্যা ছিল। অনেক কিছু জানা যায় নিকিতা খ্রুশ্চভের Khrushchev Remembers : The Last Testament (১৯৭৪) পড়লে। কিন্তু প্রায় সব ক্ষেত্রেই কমিউনিস্ট পার্টির কাউন্সিলে নেতাদের সমালোচনা সহ্য করতে হয় এবং নতুন নেতা নির্বাচিত হন ভোটে।
রুশ দেশে সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অথবা চিকিত্সার জন্য যাওয়ার সুযোগ আমার হয়নি, তবে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর খবর আমি সামান্য রাখি। কয়েক বছর আগে কলকাতায় ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী), সংক্ষেপে সিপিএমের কাউন্সিল হয়েছিল। কেউ আমাকে আমন্ত্রণ করেনি, ওটা দেখতে আমি নিজের থেকেই কলকাতা গিয়েছিলাম। উৎসবমুখরতা আছে বটে, কিন্তু সে এক বিশাল আয়োজন। আলোচনা খোলামেলা। নেতারা অনেকে তাঁদের কাজের জন্য প্রশংসিত ও সমালোচিত হলেন। প্রত্যুত্তর বা কৈফিয়ত দিলেন অনেকে। ঠেলাঠেলির মধ্যে দূর থেকে সর্বভারতীয় অনেক নেতাকে দেখলাম। গণশক্তির সাংবাদিকদের কল্যাণে আলীমুদ্দিন স্ট্রিটে পার্টি অফিসে কাছে থেকেও দেখলাম কাউকে।
কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়ে গেল ‘বিপুল উদ্দীপনা’য় ও ‘উৎসবমুখর’ পরিবেশে। অন্যবার আমন্ত্রণপত্র পাই এবং যাই; এবার দাওয়াত পাইনি, তাই যাওয়াও হয়নি। কাগজ ও টিভি চ্যানেল থেকে যেটুকু জানলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ষষ্ঠবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তিনি অনেক দিন থেকেই ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও দলের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করছিলেন। শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফকে অভিনন্দন। দুটি বছর তাঁরা বাংলাদেশের অভূতপূর্ব জরুরি তুফানের মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকার দুই গলুইয়ে বসে তরীটিকে শুধু ডোবার হাত থেকেই যে রক্ষা করেছেন তা-ই নয়, বেশ দক্ষতার সঙ্গে তাকে ক্ষমতার ঘাটে ভিড়িয়েছেন। এ দুটি পদ তাঁদেরই প্রাপ্য। তাঁদের সাফল্য কামনা করি।
আওয়ামী লীগের বয়স আমার চেয়ে কম। মাত্র কয়েক দিন আগে তার ৬০ পুরো হলো। ছয় দশকে এই দল কয়েকবার ক্ষমতায় যায়, বেশির ভাগ সময় ছিল ক্ষমতার বাইরে। অর্থাৎ বিরোধী দলে থেকে জনগণকে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। তবে দেখা গেছে, যখন ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখন অনেক ভালো বিষয় নিয়ে ভাবে। নব্বইয়ের প্রথম দিকে যখন বেগম জিয়া ক্ষমতায়, তখন কয়েকজন বিখ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা আমাকে বললেন দলটির একটি ইতিহাস লেখার জন্য। তার কিছুদিন আগে বাংলা একাডেমী আমার মওলানা ভাসানীর জীবনী বের করে। দেশের একটি প্রধান গণতান্ত্রিক দলের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস থাকা দরকার। আমি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে থাকি। শুধু দেশের মধ্যে নয়, কলকাতা, দিল্লি, লাহোর ও করাচির ১৯৪৯-৫০ সালের ইংরেজি ও উর্দু পত্রিকায় প্রকাশিত দলের জন্মের সংবাদগুলো দেখি। আওয়ামী লীগের নামকরণের ইতিহাসটা আজ হয়তো অনেকেই জানেন না। মুসলিম লীগ থেকেই এ দলের জন্ম, কিন্তু এটি মুসলিম লীগের মতো সাম্প্রদায়িক সংগঠন নয়। সেদিনের বাস্তবতায় নেতারা চেয়েছিলেন জনগণের মুসলিম লীগ গঠন করতে—জমিদার, জোতদার আর অভিজাতদের মুসলিম লীগ নয়। দল যেদিন আত্মপ্রকাশ করে, সেদিন ভারতের প্রধান ইংরেজি দৈনিকগুলো সাত-আট কলামব্যাপী শিরোনাম দেয়: ঢাকায় মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে Jonogoner Muslim League formed.
প্রথম দিন নেতারা যথার্থভাবেই ‘জনগণের মুসলিম লীগ’ নাম ঠিক করেন, পরে মওলানা ভাসানী ও অন্যান্য নেতা নামকরণ করেন: ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’—অর্থ সেই একই—জনগণের মুসলিম লীগ। পরদিন ভারতের পত্রপত্রিকা অবশ্য লেখে Awami Muslim League.
ষাট বছরে ১৮ কি ২০ বার দলের কাউন্সিল হয়েছে। আগাগোড়া মোটামুটি জনগণের দলই ছিল। ষাটের দশকে কমলাপুর হোটেলের সামনে শামিয়ানা খাটিয়ে যে কাউন্সিল হয়েছে, তাতে দর্শক হিসেবে আমরা গেছি। একবার কবি জসীমউদ্দীনের সঙ্গে যাই। কোনো চাকচিক্য থাকত না। কাউন্সিলে চাকচিক্য আসে স্বাধীনতার পরে। তখন আর শুধু জনগণের লীগ নেই দলটি—শাসকদেরও লীগ হয়ে গেছে, জাতীয় বুর্জোয়ারা সব হিড় হিড় করে আওয়ামী লীগে ঢুকে যাচ্ছে। কিন্তু তখনো নেতৃত্বটি ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর হাতে, কোটিপতিদের হাতে নয়। স্বাধীনতার পর যে সম্মেলনে জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন, সেটিও কাছে থেকে দেখেছি। ২০০৩ সালের কাউন্সিলটির কমিটি গঠনের আমি প্রশংসা করে লিখেছিলাম। কিন্তু সেদিনের অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত বা মনোনীত যেসব নতুন নেতার প্রশংসা করেছিলাম, পরে তাঁদের তেমন প্রশংসনীয় ভূমিকা দেখিনি। সুতরাং এবারের নতুনদের প্রশংসা করতে দ্বিধা হচ্ছে। তবে তাঁদের স্বাগত জানাই।
দুটি বছর বাংলাদেশের রাজনীতিতে রোজকিয়ামত ঘটেছে, কোনো এক অপদেবতা সবকিছু তছনছ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও একটি গণতান্ত্রিক দলের কাউন্সিল কেন যথাসময়ে হয় না, সেটি একটি প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশনের চাপ বা আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলে এখনো যে হতো, তাও নয়। এ প্রশ্নের জবাব একটাই: নেতৃত্বের কাছে কাউন্সিলের মূল্য কম। হলে হলো, না হলে না হলো; দল তো চলছেই। দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠান হলো গাড়ির পুরোনো ইঞ্জিনকে ওভারহল করার মতো। দীর্ঘদিন গাড়ির ইঞ্জিনে হাত না দিলে যে দশা হয়, দলে কাউন্সিল করে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত না করলে সেই অবস্থা হয়। দল আর ঠিকমতো চলে না। কিছু দূর গিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ধাক্কাধাক্কি করে চালাতে হয়।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি বড় দল যখন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যায়, তখন তার কাজ দুটো: দলের গঠিত সরকার রাষ্ট্রের প্রশাসন চালায়, অন্যদিকে সরকারের বাইরে দলের নেতারা লক্ষ রাখেন, সরকার ঠিকঠাকমতো কাজ করছে কি না। অর্থাৎ দলের ভূমিকা বড়: জনগণের স্বার্থ দেখা এবং সরকারেরও স্বার্থ দেখা। সে জন্য সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি না হওয়া কাম্য। দলের সাধারণ সম্পাদকের কোনোক্রমেই মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করা সংগত নয়।
আওয়ামী লীগ ভারতপন্থী দল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতারা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। ভারতের প্রধান দলগুলো কীভাবে পরিচালিত হয়, তা থেকে শিখতে চান না তাঁরা। ওখানে দল আর মন্ত্রিসভা আলাদা—দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধান দুই ব্যক্তি। নিজের ভুল কেউ নিজে ধরতে পারে না। সরকারপ্রধানের অগ্রহণযোগ্য কাজের সমালোচনা করবেন দলের প্রধান। যেমন প্রধামন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী ও মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের সমালোচনা করতেন মওলানা ভাসানী। অন্যদিকে সরকারপ্রধান দলের সভাপতি ও অন্য নেতাদের মন্দ কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি হলে তা হয় না। সে জন্যই যুক্তফ্রন্ট সরকারের সময় ভাসানী শেখ মুজিবকে মন্ত্রিত্ব অথবা সাধারণ সম্পাদকের পদ—দুটোর একটি বেছে নিতে বলেন। বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন।
বহু মতের সংঘাত ও সমন্বয় সাধনই গণতন্ত্র। শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা নয় এবং তা যতই মহত্ হোক। এ কাজটি মওলানা ভাসানীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে। নিজের ভালো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে দলীয় রাজনীতির ক্ষতি করেছেন। দল দুর্বল হয়েছে, এক পর্যায়ে ভেঙে গেছে। প্রধান নেতাকে অন্য নেতার কথা শুনতে হবে। সবচেয়ে ছোট নেতা যদি সবচেয়ে দামি কথা বলেন, তা গ্রহণ করতে হবে। সেটাই গণতন্ত্র। শীর্ষ নেতাকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া গণতন্ত্র নয়, তাতে দল দুর্বল হয়। কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করার চেয়ে যদি দলের কাউন্সিলে তর্কাতর্কি এমনকি হাতাহাতি হয়, তাও ভালো।
দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়েছে দিন পাঁচেক পরে। সেটাই বা হলো কেন? সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, ‘আমার সঙ্গে পরামর্শ করে এবং কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করে, তাঁদের মতামত নিয়ে’ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তা গোপনে কেন? কয়েক দিন দেরি করায় অনেক নেতার উদ্বেগে হার্টফেল করার উপক্রম। আরও বলা হয়েছে, সভানেত্রীর আস্থাভাজনদেরই কমিটিতে নেওয়া হয়েছে। যাঁরা কম আস্থাভজন, তাঁরা বাদ পড়েছেন। বিশ্বস্ততা ও আস্থাভাজন কথা দুটি আপেক্ষিক। আজ যে আস্থাভাজন, কাল সে নাও থাকতে পারে। স্বামী-স্ত্রীতে ছাড়াছাড়ি হচ্ছে ৫০ বছর সংসার করার পর। পিতা-পুত্রে বিচ্ছেদ হচ্ছে। এক ফাল্গুনে মাধবকুণ্ডে জলপ্রপাতে গোসল করার সময় যে তার প্রিয়তমাকে বলেছে, ‘মন্টি, তোমাকে ছাড়া বাঁচব না,’ পরের ফাল্গুনে তাকে দেখা গেছে কক্সবাজার সৈকতে আরেক নারীর সঙ্গে হাওয়া খেতে। চিরকাল বিশ্বস্ত থাকে এমন মানুষ পৃথিবীতে বিরল না হলেও কম।
কবির জীবনদেবতা আর রাজনীতিতে দলীয় দেবতা দুই জিনিস। জীবনদেবতার উদ্দেশে কবি বলতে পারেন যে,
তব দয়া দিয়ে হবে গো মোর জীবন ধুতে।
নইলে কি আর পারব তোমার চরণ ছুঁতে।
কিন্তু রাজনীতিতে বড় সংগঠনের নেতাদের দলীয় দেবতার উদ্দেশে তেমনভাবে ভক্তি নিবেদন করা সম্ভব নয়। উচিৎও নয়।
কে বিশ্বাসী আর বিশ্বাসভাজন নন, তা সব সময় বোঝা সম্ভব নয়। ১১৫ সদস্যবিশিষ্ট বাকশালে খন্দকার মোশতাকের রোল নম্বর ছিল ৪, তাঁর আগে ছিলেন মাত্র তিনজন: বঙ্গবন্ধু, সৈয়দ নজরুল ও মনসুর আলী। বাকশালে তাজউদ্দীনের ঠাঁই না হলেও মোশতাক, তাহের ঠাকুর, শাহ মোয়াজ্জেমরা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু আস্থাভাজন হিসেবে যাঁদের জেলা গভর্নর বানিয়েছিলেন, তাঁদের অধিকাংশ পটপরিবর্তনের পরে বিএনপি প্রভৃতি দলে যোগ দেন।
এবার যাঁরা সংস্কারের নাম করে সেনাসমর্থিত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভাব দিয়ে চলেছেন অথবা স্রেফ আত্মরক্ষার জন্য শেখ হাসিনার পরোক্ষ সমালোচনা করেছেন, তাঁদের চিরশত্রু মনে করা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়। পঁচাত্তরের ১৬ আগস্ট থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত অনেক আওয়ামী লীগ নেতা ডালিম-ফারুকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তাঁরা তো এখনো দলে রয়ে গেছেন। ব্যক্তিজীবনে যেমন, রাষ্ট্রীয় জীবনেও compromise and adjustment করেই চলতে হয়। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো নাকি পাপ; রাজনৈতিক নেতারাও মানুষ, তাঁদের ওপর বিশ্বাস হারানোও গুনাহ। সংস্কারপন্থীদের ওপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস না হারানোই সমীচীন।
আওয়ামী লীগে অগণতান্ত্রিক অসহিষ্ণুতা আগেও ছিল। প্রধান নেতার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণের খেসারত অনেকেই দিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও আরও অনেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আওয়ামী লীগে দ্বিমত পোষণের ঝুঁকি মারাত্মক। বাকশাল গঠনে ১০ ভাগ নেতারও সমর্থন ছিল কি না সন্দেহ। ৯০ ভাগ ভিন্নমত পোষণ করা সত্ত্বেও নীরবতা অবলম্বন করেন এই জন্য যে তাতে তাঁদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বরবাদ হতো। গলায় গামছা দিয়ে ‘সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত’ গ্রহণ করার নাম গণতন্ত্র নয়। বাকশাল গঠনের মূল্য শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগকেই দিতে হয়েছে, অন্য কোনো দলকে নয়। বাকশাল গঠন নিয়ে সেদিন যদি সংসদে ও বাইরে বিতর্ক হতো, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো অন্য রকম হতো। বঙ্গবন্ধুও হয়তো নিহত হতেন না, দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র থাকত।
যে সংগঠনের সবাই একই জিনিস ভাবেন, সেখানে বহুজনকে নিয়ে কমিটি গঠনের দরকার কী? অন্ধভাবে নেতাকে সমর্থন দিয়ে গেলেই তো হলো। রাজনৈতিক দল ফুটবল টিমের মতো। শুধু ক্যাপ্টেন বিজয় অর্জন করতে পারেন না, সবাই মিলে ভালো না খেললে সফল হওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ভেবে দেখবেন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

অশান্ত বন্দর প্রশান্ত মেয়র -নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার দৃষ্টান্ত

ঘন ঘন কর্মবিরতি, মানববন্ধন, ধর্মঘট বা এর হুমকি এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে দাবিদাওয়া আদায়ে নানা তৎপরতায় চট্টগ্রাম বন্দরের পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠছে। গত এক মাসে তুচ্ছ ঘটনায় ছয় দফায় অন্তত তিন দিনের বেশি সময় বন্দরের কাজকর্ম ব্যাহত হয়। দেশের প্রধান যে সমুদ্রবন্দর দিয়ে ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে, সেখানে এ রকম বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা কেন ও কীভাবে চলছে, তা নিয়ে সংগতভাবেই প্রশ্ন তোলা যায়।
বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, তাঁরা ‘চট্টগ্রামের মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে’ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম ডক-বন্দর শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়কের এ বক্তব্য সম্পর্কে মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্পষ্ট বক্তব্য থাকা উচিৎ। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের ‘নির্দেশ’ দিয়েছেন কি না? এমন কোনো আন্দোলন, যা বন্দরের কাজকর্ম স্থবির করে দিতে পারে, সে রকম নির্দেশনা তাঁর আছে কি না? সোজা বাংলায় জনগণকে জানতে দেওয়া উচিৎ, তাঁর উত্তরটি ‘হ্যাঁ’ কি ‘না’। যদি তিনি না বলে থাকেন, তাহলে তাঁর নাম ভাঙিয়ে যে অপতৎপরতা চলছে, সেটা বন্ধ করতে কার্যকর উদ্যোগ তাঁকেই নিতে হবে। আর যদি তিনি সত্যি অমন কথা বলে থাকেন, তাহলে সরকারকে ভেবে দেখতে হবে, এভাবে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে তারা রাজি আছে কি না। কারণ, আলোচ্য শ্রমিক সংগঠনটি ও মেয়র উভয়েই সরকারদলীয়।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বন্দরের ৩২টি সংগঠনের স্থলে মাত্র দুটি কার্যকর রাখা হয়। এতে বন্দরের কাজ সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকে। বন্দরের জাহাজ অবস্থানের গড় সময় (টার্ন রাউন্ড টাইম) ১৩-১৪ দিন থেকে মাত্র দু-আড়াই দিনে নেমে আসে। দেশ-বিদেশে বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। কিন্তু নির্বাচিত সরকার আসার পর থেকেই আবার বিভিন্ন নামে পুরোনো সংগঠনগুলো তৎপরতা শুরু করে। তারা ১৫ হাজার ডক-শ্রমিকের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করছে। অন্যদিকে শ্রমিক নিয়োগকারী সংস্থা বার্থ অপারেটরদের প্রতিনিধি বলছেন, যে শ্রমিকেরা তাদের সব ধরনের দেনা-পাওনা বুঝে নিয়ে স্বেচ্ছায় চলে গেছে, তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি অযৌক্তিক। সুতরাং এ ধরনের দাবির যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার উপযুক্ত উপায় হলো পারস্পরিক সমঝোতার পরিবেশে আলোচনা এবং আলোচনা। এর বাইরে ধর্মঘটের উদ্যোগ শুধুই বন্দরের ক্ষতি করবে; কাজের কাজ কিছুই হবে না।
বিশ্বের কোনো দেশেই সমুদ্রবন্দর মুহূর্তের জন্য বন্ধ থাকে না বা বন্ধ রাখতে দেওয়া হয় না। চট্টগ্রাম বন্দরে বাধা সৃষ্টি হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রাণপ্রবাহ বন্ধের আশঙ্কা থাকে। কোনোক্রমেই এ ধরনের আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।
চট্টগ্রাম বন্দর অস্থিতিশীল হওয়ার পেছনে মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর সম্পৃক্তির অভিযোগ দুর্ভাগ্যজনক। বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল ও নির্বিঘ্ন রাখা মেয়র মহোদয়ের দায়িত্বের মধ্যেই গণ্য হওয়া উচিৎ। অথচ বন্দরের শ্রমিক আন্দোলনের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে প্রথম আলোর সাংবাদিকের কাছে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। অশান্ত বন্দরের ব্যাপারে মেয়রের প্রশান্তি তথা উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাপারে নির্লিপ্ততা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বন্দরসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে; কোনো অজুহাতেই বন্দরের কাজ বন্ধ রাখা যাবে না। এ প্রশ্নে কোনো আপস চলে না।

চিরদিনের ছুটির তরে -জন্মদিন by জোবাইদা নাসরীন

আজ ৩ আগস্ট তোমার জন্মদিন। আসে ফিরে দিনটি, কিন্তু ফেরো না যে তুমি। গত বছরের ২৬ ফ্রেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে (রাত ১২টায়) তুমি শেষবারের মতো একটি টিভি চ্যানেলে এসেছিলে সংবাদ পর্যালোচনা করতে। সে সময় কি তোমার একবারের জন্যও মনে হয়েছে, এর পরদিন তুমি নিজেই পত্রিকার পাতায় বসতি করবে? ঢাকা ক্লাবের পিকনিকে তোলা ছবি দেখার জন্য তোমার সে কি রাগারাগি! অস্থির হয়ে বারবার ফোন করে বললে, ‘তুই আমাকে কেন ছবি দিচ্ছিস না।’ কিন্তু স্বভাবে অত্যন্ত সুস্থির মানুষের সঙ্গে এতটা অস্থিরতা কীভাবে সে সময় যোগ হলো? তুমি কি বুঝতে পারোনি, এতটা অস্থিরতা যে তোমার সঙ্গে একেবারেই বেমানান। তুমি কি আসলেই বুঝতে পেরেছিলে, তুমি খুব তাড়াতাড়িই কাছের মানুষদের কাছে ছবির ফ্রেমেই বন্দী হয়ে যাচ্ছ?
ঋজুতা ছিল তোমার চরিত্রের এক ঈর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। মিতভাষী, অথচ প্রচণ্ড রসবোধ। যার কারণে অনেক তুখোড় বক্তাও তোমার মনোযোগী শ্রোতা হয়ে যেত। অসম্ভব এক ধৈর্যশীল শ্রোতা। নিজেকে শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখোনি। ধীর লয়ের মার্জিত অথচ প্রখর ধারালো তোমার যুক্তি, তত্ত্ব ও তথ্যবহুল।
জীবন থেকে চিরদিনের ছুটি নেওয়ার আগ পর্যন্ত ছিলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রগতিশীল পত্রিকা সংবাদ-এর সম্পাদক। অর্থনীতির ছাত্র হয়েও তুমি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলে সাংবাদিকতাকে। দীর্ঘ ৪৭ বছর তুমি এই পত্রিকাটি আঁকড়ে থেকেছ, আগলে রেখেছ। দৈনিক সংবাদ পরিগণিত হয়েছিল সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠান হিসেবে। সেই প্রতিষ্ঠানেরই অলিখিত শিক্ষক ছিলে তুমি। আশির দশকে সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘দর্শক’ নামের লেখা নিয়মিত কলামটি এখনো অনেকের কাছেই তথ্যের ভাণ্ডার হিসেবে আছে।
এ কথা তো আমরা সবাই জানি, যিনি প্রদীপ ধরে রাখেন, তিনি আড়ালেই থাকেন। ব্যক্তিজীবনেও হয়তো তুমি তা-ই ছিলে, নিজ থেকে কখনো আলোর রশ্মিতে উদ্ভাসিত হতে চাওনি। সম্পদশালী জীবন ছিল না তোমার, কিন্তু আদর্শের মাপে, জীবনবোধের পরিমাপে তোমার জীবন ছিল অনেক বেশি সমৃদ্ধ।
নারীস্বাধীনতা এবং নারী-পুরুষের সম-অধিকারে বিশ্বাসী মানুষ জগৎ সংসারে খুব কম। সেই কমদের ভিড় ঠেলে তুমি নারীস্বাধীনতার আলোটি এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছ। এ বিষয়ে খুব বেশি বাতচিতের ধার ধারোনি, কাজের মধ্য দিয়েই তুমি নারীস্বাধীনতার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছ। যত দূর জানা যায়, দৈনিক সংবাদ-এর মধ্য দিয়েই এ দেশে নারী সাংবাদিকতার শক্ত বুনিয়াদ তৈরি হয়। শুধু এ দেশেই নয়, প্রায় সব দেশেই একজন নারীকে তাঁর যোগ্যতা প্রমাণ করতে দরকার হয় পরিবেশের। ঘরে-বাইরে এ ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে তুমি ছিলে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
শুধু সংবাদই নয়, দীর্ঘদিন তোমার সম্পাদনায় বের হতো বাংলাদেশের আরেক প্রগতিশীল পত্রিকা সাপ্তাহিক একতা। কমিউনিস্ট পার্টির এ পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে তুমি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছ। শিক্ষাজীবনে ছাত্র ইউনিয়ন এবং পরবর্তী সময়ে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলে বেশ কিছু সময়। এ দেশে যে কজন সাংবাদিক অসাম্প্রদায়িকতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জনমানুষের জন্য কলম ধরেছেন, তাঁদের মধ্যে তুমি ছিলে অগ্রগণ্য। ১৯৭১ সালে তোমার সম্পাদনায় বের হওয়া মুক্তিযুদ্ধ নামের পত্রিকাটি সে সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিদিনকার খবর সরবরাহ করত এবং উত্সাহ দিত।
শিশুদের তুমি অসম্ভব ভালোবাসতে। এ দেশে শিশু সংগঠন এমনিতেই কম। কেননা শিশু সংগঠন তৈরি করা সহজ নয়। তুমি সেই কঠিন কাজটি করতে পেরেছিলে এবং সেটি এখন পর্যন্ত টিকে আছে। শিশু সংগঠক হিসেবে তোমার পরিচিতি এ দেশের সবারই কম-বেশি জানা। খেলাঘর নামের শিশু সংগঠনটির একসময়ের নিউক্লিয়াস ছিলে তুমি। ছিলে খেলাঘরের সবার ভালোবাসার ‘ভাইয়া’। খেলাঘর ছেড়েছ অনেক আগে, সেই আশির দশকের প্রথম ভাগেই, অথচ এখন পর্যন্ত সব প্রজন্মের খেলাঘরের বন্ধু তোমাকে ‘ভাইয়া’ হিসেবেই জানে।
প্রকৃতির সঙ্গে তোমার ছিল এক বিনিময়হীন খেলা। প্রকৃতির রঙে সব সময় নিজেকে রাঙাতে, সাজাতে চাইতে। অর্কিড ছিল তোমার খুব পছন্দের। সময় ও সুযোগ পেলেই ফুল কিনতে। যেকোনো ফুলের প্রতিই ছিল তোমার অসম্ভব পক্ষপাতিত্ব। কোথাও গেলে সেখানকার গাছপালা, ফুল, লতা-পাতা দেখা ছিল তোমার সহজাত। বিভিন্ন গাছের নাম, ফুলের নাম অবলীলায় বলে দিতে পারতে তুমি। কাপড়চোপড়ে সদা ফিটফাট ছিলে। তুমি দোকান থেকে ইস্ত্রি করে আনা জামা পরার আগে আবারও ঘরে ইস্ত্রি করতে। তোমার আলমারিতে তোমার কাপড়চোপড় সবই আগের মতো আছে, কোথাও ধুলো নেই, নেই শুধু সেই তুমি।
গান খুব পছন্দ করতে তুমি। যেদিন চলে গেলে, সেদিনও কিনেছিলে কিছু গানের সিডি। শোনা আর হয়নি। তোমার অফিসে গেলে শুনতে পেতাম বেহালা কিংবা তবলার সিডি বাজছে খুব অল্প ভলিউমে। আর এরই মধ্যে তুমি কাজ করছ। মাঝেমধ্যে ঢাকা ক্লাব, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনে গান শুনতে যেতে। গাড়ির মধ্যে রাখতে প্রিয় গানের সিডিগুলো।
২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ফোনালাপের সময় বলেছ, ক্লান্ত তুমি, খুব ব্যস্ত ছিলে পুরোটা দিন। রাত ১১টার পর সারা জীবনের ছুটি মিলল। চিরকালের ছুটি। এরপর কাঠের ছোট্ট খাটে করে সেই রাতেই রওনা হয়েছ তোমার গ্রামে, ফিরে এসেছ ভোরে ঢাকায়, দুপুরে তোমার কর্মস্থল সংবাদ অফিস ঘুরে মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টে। তারপর হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর বিদায় নিয়ে সব ক্লান্তির ওপর ভর করে চলে গেলে চিরদিনের ছুটির তরে...

একটি ক্ষমাপ্রার্থনা -সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি by এ জেড এম আবদুল আলী

আমার আজকের লেখাটি একজনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে একটি লেখা। আমি সত্যিকারের ক্ষমা প্রার্থী সদ্য পদত্যাগ করা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজের কাছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে আমি অন্য একটি পত্রিকায় লিখেছিলাম যে সোহেল তাজ তাঁর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে গিয়ে যে রহস্য সৃষ্টি করেছেন, তা আমরা তাজউদ্দীন আহমদের পুত্রের কাছে থেকে আশা করিনি। তখন বিষয়টি সম্পর্কে আমার খবরের কাগজের কিছু লেখা ছাড়া আর কিছুই জানা ছিল না। এখন বেশ কয়েকজন মানুষ, যাঁরা আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন, এমন কিছু কথা বলেছেন আমাকে, যেসব শুনে মনে হচ্ছে, তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে সত্যিই পিতার আদর্শ সমুন্নত রেখেছেন। ভেতরের কিছু কিছু কথা শুনে এখন ভাবছি, যে কথাগুলো শোনা যাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে সামান্য কিছুও যদি সত্যি হয়, তাহলে তিনি পদত্যাগ করে যোগ্য পিতার যোগ্য পুত্রের মতো যথার্থ কাজই করেছেন।
এ গুজবগুলোর সবই অল্প-বিস্তর যাচাই করা যেতে পারে। একটি গুজব হচ্ছে, সোহেল তাজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর অনুমতি বা তাঁর মন্ত্রণালয়ের কারও সঙ্গে কোনো রকম পরামর্শ ছাড়াই ঢাকা শহরের ২৮-৩০টি থানাতে যাঁদের অফিসার-ইনচার্জ পদে বসানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই গোপালগঞ্জের লোক। সাংবাদিক ভাইদের কেউ কি খোঁজটি নিয়ে জানাতে পারবেন, এ অভিযোগটি সত্য না নেহাত একটি গুজব? কাজটি মোটেই অসম্ভব নয়। মহাপরিদর্শক পুলিশের দপ্তরে নথিপত্র দেখে যে কেউ এটি জানতে পারেন। কিন্তু গুজবটি যদি গুজব না হয়ে সত্যি হয়, তাহলে আজ চিন্তা এবং দুঃখের সীমা রইবে না। সোহেল তাজ পদত্যাগ করেছেন যথার্থই। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা, আওয়ামী লীগের দিনবদলের অঙ্গীকারটি কোথায় থাকছে তাহলে? সেই পুরোনো ট্রাডিশন যদি চলতেই থাকে, তাহলে আর দিন বদলাল কোথায়?
শোনা যাচ্ছে, বেশ কিছু লোকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সম্ভবত সরকারের অথবা আদালতের পক্ষ থেকে। এরই মধ্যে সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও ছিলেন। তাই তাঁকে বিদেশযাত্রার কালে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইমিগ্রেশনের লোকজনেরা। ওঁর বেয়াই, শেখ হাসিনার একজন আত্মীয় ও আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা এ নিয়ে সোহেল তাজের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন। তাঁকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে। এতে অপমানিত হয়ে, নিজের আদর্শের বিরুদ্ধে কোনো রকম আপস না করে তিনি পদত্যাগ করেছেন। একটি পত্রিকাকে তিনি বলেছেন যে তাঁর নিজস্ব ‘ডিগনিটি’ ও ‘প্রিন্সিপাল’ রক্ষার্থেই তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। পিতা যেমন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে নীরবে পদত্যাগ করে মন্ত্রিসভা থেকে বের হয়ে এসেছিলেন, তেমনি সোহেল তাজও তাই করেছেন। রাজনীতির পরিস্থিতি যদি এই হয়, তাহলে সেখানে তাজউদ্দীন আহমদের পুত্রের স্থান হবে কীভাবে।
নির্বাচনের পর সাত মাস পেরিয়ে গেল। কিন্তু দিন যে বদলাচ্ছে, তার খুব একটা প্রমাণ দেশবাসী পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে মারামারি-হানাহানি চলছেই। খবরের কাগজ খুললেই সেসব খবর পড়তে হচ্ছে। কাগজে দেখা গেল, কোনো একটি কলেজে মেয়েদের ছাত্রাবাসকে ছাত্রলীগ জোর করে ছেলেদের ছাত্রাবাসে পরিণত করেছে। থানাপুলিশ বা জেলা প্রশাসন, কেউই এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছে না। সরকার ভাবছে, অপরাধী, সে যে দলেরই হোক না কেন, তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের সামনে হাজির করতে নির্দেশ তো দেওয়াই হয়েছে। পুলিশ ভাবছে, সেই নির্দেশ সুস্পষ্ট নয়। তা না হলে এ ধরনের অপরাধ কমছে না কেন? এ পরিবেশে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ যে নীরবে পদত্যাগ করে দেশের বাইরে চলে গেছেন, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যে দিনবদলের অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা কী করে সফল করা যায়, তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। সেই চিন্তা নিশ্চয়ই সোহেল তাজেরও আছে। অথচ নিজে তাতে অংশ নিতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন, সেই বেদনায় বেদনার্ত হয়েই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবু যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য করেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই তাঁর কাছে থেকে কিছু শুনতে চান। তাঁদের সামনে তিনি একটু খুলে বললে বোধহয় ভালো করতেন। কে বা কারা তাঁকে তাঁর আদর্শ বা আত্মমর্যাদা নিয়ে কাজ করতে দেননি। কেন তিনি তাঁর জনগণের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারলেন না। অন্ততপক্ষে তিনি যদি এটুকু বলতেন যে তিনি মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছেন বটে, কিন্তু সংসদ সদস্যপদ ত্যাগ করেননি। ওই পদে থেকেই তিনি তাঁদের কথা বলবেন, তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করায় আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবেন। তাঁর কাছে থেকে এটুকু শুনতে পেলেও তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষজন আশ্বস্ত হতে পারতেন।
সোহেল তাজের এভাবে বিদায় অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। কোথায় কিছু গোলমাল হয়েছে, মনে করছেন তাঁরা। সরকারের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ নিঃসন্দেহে কয়েকটি ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এক ব্রিগেড সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে। কিন্তু দু-একটি ঘটনা মানুষকে সন্দিহান করে তুলছে। সোহেল তাজের বিদায় গ্রহণ সে রকমই একটি ঘোষণা। তাঁর মতো একজন তরুণ নেতাকে দেশে রাখা গেল না কেন? কয়েকজন অপেক্ষাকৃত অল্পবয়স্ক নেতাকে আরও সামনের দিকে আনা হচ্ছে না কেন? আসাদুজ্জামান নূর, সাবের হোসেন চৌধুরী, ফজলে নূর তাপস এবং সোহেল তাজ প্রমুখের আরও একটু সামনে নিয়ে আসা হোক। এঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা চাই, এ সরকার কমপক্ষে দুই টার্ম সরকারে থাকুক। তা না হলে তাদের হাতে নেওয়া অনেক কিছুই বিএনপি-জামায়াতের হাতে পড়ে ভেস্তে যাবে।
নবীন ও পুরোনো নেতৃত্বের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগের নবজন্ম হোক, যা অতীতে হয়েছে। মানুষের এ সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা। তাই তাঁরা এত বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী করে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। সেখানে কোনো রকম দুর্নীতি বা মতানৈক্যের গন্ধ মানুষকে হতাশ করবে। সমস্যা অনেক এবং সেই তুলনায় সময় খুব একটা বেশি নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ কিন্তু এক-দুই-পাঁচ বছরে গড়ে উঠবে না। শিক্ষা এবং অসাম্প্রদায়িকতা দুটিই অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য বিষয়। এর মধ্যে আবার ধর্মীয় জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। খুব ঠান্ডা মস্তিষ্কে এবং দৃঢ় হাতে তাদের সামলাতে হবে। প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে না পারলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। এই সম্পর্ক যাতে খারাপ হয়, সে ব্যাপারে উসকানি দেওয়ার মানুষের অভাব নেই। এবং তাতে প্রভাবান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগেরও কেউ কেউ বেফাঁস মন্তব্য করছেন। আমাদের সার্বভৌমত্ব ছেলের হাতের মোয়া নয় যে কেউ থাবা মেরে তা কেড়ে নেবে। বিএনপি-জামায়াত কথায় কথায় আমাদের সেই ভয়ই দেখাচ্ছে। সেসব কথায় কান না দিয়ে সব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সারতে হবে।
তাজউদ্দীন আহমদ কম কথা বলতেন এবং কাজ বেশি করতেন। তাঁর পুত্র তানজিম আহমদ সোহেল তাজও তাই করেছেন। এ মানুষগুলোকে মর্যাদা দিতে হবে। তাঁরা যাতে আস্থার সঙ্গে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করার কোনো বিকল্প নেই।
সোহেল তাজের কাছে তাই আমার এই ক্ষমা প্রার্থনা। তিনি কাজে ফিরুন, কেননা তাঁর মতো লোক বাংলাদেশের প্রয়োজন রয়েছে। মন্ত্রী হোন বা নাই হোন, তিনি সংসদে থেকে তাঁর কর্তব্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করুন—এই আমরা চাই।
এ জেড এম আবদুল আলী: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

রেকর্ড ভাঙাগড়ায় ভাঙল পাকিস্তানও

মাহেলা জয়াবর্ধনেঃদুই বছর পর ওয়ানডে সেঞ্ছুরি
খেলা শুরুর আগে গোল হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোটা রেওয়াজ। পাকিস্তান দল নিয়মিতই সেটা করে। কালও শ্রীলঙ্কার ইনিংস শুরুর আগে অধিনায়ক ইউনুস খানকে মাঝখানে রেখে একে অন্যের কাঁধে হাত রেখে দাঁড়ালেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। কী যেন বলছিলেন ইউনুস। ২৮৮ এই মাঠের সর্বোচ্চ স্কোর—এটাই কি?
ইউনুসের বলা কথাটা ১৯৫ মিনিট পরই মিথ্যা হয়ে গেছে। এই মাঠে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা পরের ইনিংসেই ভেঙে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২৮৯ রানের লক্ষ্যে অনায়াসেই পৌঁছে গেছে হাতে ৬ উইকেট রেখে। ২ ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত হয়ে গেছে সিরিজটাও। অথচ এই ডাম্বুলাই লো স্কোরিং ম্যাচের জন্য বিখ্যাত!
এর আগে ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামের মাত্র ৫টি ইনিংস ছিল আড়াই শ পেরোনো। আর তাই টস হেরে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান যখন ৫ বছর আগে শ্রীলঙ্কার তোলা ২৮২ রানের সর্বোচ্চ ইনিংসটি টপকে গেল, তখনি ম্যাচের ভাগ্য দেখে ফেলেছেন কেউ কেউ। ১৯০ রানে ৬ উইকেট হারানো পাকিস্তান যে শেষ পর্যন্ত এত বড় স্কোর গড়ল তাতে মূল অবদান আগের ম্যাচে অভিষিক্ত উমর আকমলের ৬৫ বলে ৬৬ রানের। ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৫ এসেছে আকমল ভাইদের বড় জনের ব্যাট থেকে। যদিও শেষ দিকে দুই আইসিএল-ফেরত রাজ্জাক আর রানা নাভিদের দুটো ৩০ রানের ইনিংসই পাকিস্তানকে এনে দিয়েছিল সফরে প্রথম কোনো জয়ের আশা।
সেটি দুমড়েমুচড়ে গেছে মূলত জয়াবর্ধনের ব্যাটে। এর আগে ওয়ানডেতে একবারই ওপেন করেছিলেন। তাতে শূন্য হাতে ফেরায় আর কখনো ও পথ মাড়াননি। কাল সেই ওপেনারের ভূমিকাতেই নেমে দারুণ সফল জয়াবর্ধনে। ক্যারিয়ারের একাদশ সেঞ্চুরিটি এল দুই বছর পর। ওপেনিংয়ে ২০২ রানের জুটিও গড়েছেন। সঙ্গী ছিলেন উপুল থারাঙ্গা, ওপেনিংয়ের রেকর্ড জুটির অংশীদার যিনি। জয়াসুরিয়ার সঙ্গে থারাঙ্গার ২৮৬ রানের সেই জুটি না ভাঙলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ওপেনিং পার্টনারশিপের নতুন রেকর্ড হয়েছে কাল। থারাঙ্গা আউট হয়েছেন ৭৬ রান করে। ২০২ থেকে ২১২-র মধ্যে ৩টা উইকেট হারিয়েও ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু পাকিস্তান যে জিতবে না বলেই পণ করেছে এই সফরে! ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৮৮/৮ (উমর আকমল ৬৬, কামরান আকমল ৪৫, ইউনুস ৪৪, আফ্রিদি ৩২, রাজ্জাক ৩০, রানা নাভিদ ৩০, মালিক ১২; ম্যাথুস ২/৪১, মুরালিধরন ২/৬৪)।
শ্রীলঙ্কা: ৪৬.৩ ওভারে ২৮৯/৪ (জয়াবর্ধনে ১২৩, থারাঙ্গা ৭৬, সাঙ্গাকারা ৩৭*; আজমল ২/৫৪, রাজ্জাক ১/৬২, আমির ১/৪৫)। ফল: শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: মাহেলা জয়াবর্ধনে।

এখন জিম্বাবুয়ে জয়ের অপেক্ষা

ক্যামিও ইনিংস খেলার পথে নাঈম ইসলামের ড্রাইভ।
টি-টোয়েন্টির ট্রফি হাতে সিরিজে প্রথম হাসির উপলক্ষ
পেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ফ্লয়েড রেইফার
মিড উইকেট দিয়ে মেহরাব জুনিয়রকে সপাটে মারলেন ট্রাভিস ডাওলিন। চার! সঙ্গে সঙ্গে ডাগ আউটে সতীর্থদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন ফ্লয়েড রেইফার। ড্যারেন স্যামির সঙ্গে বুকে বুক ঠেকিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কায়দায় উদযাপনও চলল খানিকক্ষণ। হঠাৎ দেখলে মনে হবে, যেন বিশ্বজয় করে ফেলেছে এই দলটা!
না, বিশ্বজয় নয়। এই উল্লাসের উপলক্ষ নেহাতই টি-টোয়েন্টির ‘ফান ক্রিকেট’। ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণের বিচারে যে ম্যাচের খুব একটা দাম নেই। তার পরও রেইফারদের এই উল্লাস একের পর এক পরাজয়ে ক্লিষ্ট একটা দলের পাষাণ ভার নেমে যাওয়ার। পুরো সফরে যে এই প্রথম একটা জয় পেল গেইলদের বিদ্রোহের বদৌলতে আকস্মিক অধিনায়কত্বের সুযোগ পেয়ে যাওয়া রেইফারের দল! এর আগে অধিনায়ক রেইফারের কাছে ‘জয়’ বলতে ছিল কেবল তিনটি ওয়ানডের টস জেতার অভিজ্ঞতা।
টেস্ট-ওয়ানডে দুটো সিরিজেই ধবল-ধোলাই হওয়া দলটাকে মানসিকভাবে চাঙা রাখাটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল রেইফারের সামনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক স্বীকার করলেন, ‘টেস্ট-ওয়ানডে দুটো সিরিজেই হেরে যাওয়ার পর এই ম্যাচটা অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছিল আমাদের জন্য। তার পরও আমি সতীর্থদের সামনের দিকে তাকাতে বলেছিলাম, ভাবতে বলেছিলাম বড় ছবিটার কথা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলার সময় আমরা ধীরে ধীরে উন্নতি করেছি, কঠোর পরিশ্রম করেছি। এটা মাত্রই একটা জয়। এই জয়ের ধারা আমাদের ধরে রাখতে হবে।’
মুখে বলছেন বটে, কিন্তু ‘জয়ের ধারা’ ধরে রাখার দায়িত্ব এই দলের ওপরই থাকবে—এমন নিশ্চয়তা রেইফার দিতে পারবেন না। এমনও হতে পারে, এই দলের এটাই শেষ ম্যাচ। গেইল-চন্দরপলরা ফিরলে এই একাদশের সিংহভাগই হয়ে যাবে ব্রাত্য। তার পরও ইতিবাচক দৃষ্টিতেই তাকাচ্ছেন রেইফার, ‘জয় দিয়ে শেষ করতে পারাটা দারুণ কিছু।’
জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে বাংলাদেশের জন্যও ভালো হতো। শুধু ৫ উইকেটের পরাজয় নয়, এই ম্যাচে লজ্জার একটা রেকর্ডও সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। চার ব্যাটসম্যান রান আউটের শিকার। টি-টোয়েন্টির এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ব্যাটসম্যানের রান আউট হওয়ার রেকর্ডটায় এখন থাকছে বাংলাদেশও। আর আগে তিন ‘ল্যান্ড’—নিউজিল্যান্ড, স্কটল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ডের ছিল এই রেকর্ড।
শুধু ব্যাটে-বলে নয়, ফিল্ডিংয়েও দুর্দান্ত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রেইফার জানালেন, এই একটা জায়গায় আলাদা করে চোখ ছিল তাঁদের, ‘আমরা ফিল্ডিং দিয়ে ওদের চাপের মুখে ফেলে দিয়েছিলাম। টিম মিটিংয়ে আমরা বলেছিলাম আমাদের ফিল্ডিং হতে হবে দুর্দান্ত। কারণ টি-টোয়েন্টি খুবই দ্রুতগতির একটা খেলা।’
রেইফারের মতোই অধিনায়ক হিসেবে এই সিরিজেই অভিষেক সাকিব আল হাসানের। এবং এই প্রথম অধিনায়ক হিসেবে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেলেন এই অলরাউন্ডার। ব্যর্থতার জন্য ব্যাটসম্যানদেরই দুষছেন তিনি, ‘আমরা মোটেও ভালো ব্যাট করিনি। বিশেষ করে আমিসহ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। ভালো ক্রিকেট বলতে যা বোঝায় সেটি আমরা খেলতে পারিনি। এটাই আমাদের পতনের কারণ। জানি না কেন এ রকম খেললাম। আমরা আমাদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারিনি। এক ইনিংসে চারটা রান আউট হলে টি-টোয়েন্টিতে রান তোলা কঠিন।’
তবে এই একটা পরাজয়ে যে মাত্রই ফেলে আসা কীর্তি মলিন হচ্ছে না, সেটিও জানিয়ে রাখলেন সাকিব, ‘গত একটা মাস আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। একটা ম্যাচের ফল সেটিকে খারাপ বানিয়ে দিতে পারে না।’ কিন্তু জয়ের ধারায় তো ছেদ পড়ল। সাকিব অবশ্য আশাবাদী, এর প্রভাব আগামী সফরে পড়বে না, ‘এরপর আমরা জিম্বাবুয়ে যাচ্ছি। আমাদের জন্য সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। আমরা সেখানে জেতার জন্যই যাচ্ছি।’

জার্মানিতে আনন্দ তৃতীয়

বাজে শুরুর পর আর ফিরে আসতে পারেননি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিশ্বনাথন আনন্দ। জার্মানির গ্রেনকেলিজিং বিশ্ব র‌্যাপিড দাবায় স্বাগতিক আর্কাডিজ নাইডিটশ্চের সঙ্গে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী চারটি ম্যাচই ড্র হলে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় টুর্নামেন্টের ১১ বারের চ্যাম্পিয়ন আনন্দকে। শিরোপা জিতেছেন আর্মেনিয়ার লেভন অ্যারনিয়ান। সাবেক এই জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবারই প্রথম জিতলেন গ্রেনকেলিজিং বিশ্ব র‌্যাপিড দাবার শিরোপা।

কাল অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন মাশরাফি

হাঁটুর পরীক্ষা করাতে আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেভিড ইয়ংয়ের পরামর্শ নেবেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বোলিং করতে গিয়ে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক। এর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর সংক্ষিপ্ত করে চলে আসতে হয় তাঁকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় করে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে যাচ্ছে। মাশরাফি যেতে পারছেন না জিম্বাবুয়ে সফরেও।
মাশরাফির হাঁটুর চোট কতটা, তা জানা যাবে ডেভিড ইয়ংয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষেই। বাংলাদেশ অধিনায়ক ঠিক কবে আবার মাঠে ফিরতে পারবেন, সেটা জানার জন্যও অপেক্ষা করতে হবে ডেভিড ইয়ংয়ের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত।
পাঠকের মন্তব্য

বিসিসিআই-ওয়াডা মুখোমুখি

ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের ছড়ি ঘোরানোর নজির আরেকবার রাখল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ ও ক্রীড়াপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ডোপিংবিরোধী সংস্থার (ওয়াডা) ‘ডোপ কোডের’ সব শর্ত মেনে নিলেও বিসিসিআই শুধু আপত্তি জানিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, আইসিসিকে তারা পরামর্শ দিয়েছে ওয়াডার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে।
ওয়াডা ‘ডোপ কোডের’ একটি ধারায় বলা হয়েছে, ক্রিকেটারদের তিন মাস আগেই জানাতে হবে পরবর্তী তিন মাসে ডোপ পরীক্ষার জন্য তাঁদের কোথায়, কখন পাওয়া যাবে। ভারতীয় ক্রিকেটার ও বোর্ডের আপত্তি এখানেই। বিসিসিআই মনে করে ওয়াডার সঙ্গে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির একটাই পথ—আইসিসিকেই সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে ওয়াডার সঙ্গে। তবে এই একই শর্ত নিয়ে আপত্তি থাকায় ওয়াডার সদস্য হয়নি ফিফা। উয়েফাও এই নিয়মকে চূড়ান্ত হয়রানি বলেই মনে করে। এ ছাড়া রাফায়েল নাদালের মতো অনেক টেনিস তারকাই এই নিয়মটির বিপক্ষে।
ওদিকে সুইজারল্যান্ডের লুসান থেকে ওয়াডার প্রেসিডেন্ট জন ফাহে জানিয়েছেন, ডোপের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতেই গড়া হয়েছে তাদের অ্যান্টি ডোপিং কোড, ‘কোডের ধারাগুলো ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আদর্শ উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর পুরো বিশ্বের জন্যই এক নিয়ম। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি, প্যারা অলিম্পিক কমিটি, আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ফেডারেশনসহ বিশ্বের প্রায় ৫৭১টি প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম মেনে চলে। বিশ্বের ১৯১টি দেশ, এমনকি ইউনেসকো পর্যন্ত এই শর্তগুলো সমর্থন করে।’ বিসিসিআই না মানলেও ওয়াডার ধারাগুলো সমর্থন করেছেন ভারতের ক্রীড়ামন্ত্রী এম এস গিল। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে শিগগিরই খুলছে না এই সমস্যার জট। ওয়েবসাইট।

বিশ্বকাপ ভেন্যুর দাবিতে সমাবেশের ডাক

চট্টগ্রামে বিশ্বকাপের ভেন্যুর দাবিতে আন্দোলন চলছেই। ২০১১ বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচের দাবিতে এবার সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের সব আন্দোলনের সূতিকাগার লালদিঘি মাঠে সর্বদলীয় সমাবেশের ঘোষণা দিলেন।
গতকাল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মেয়র বলেন, যদি ৬ আগস্টের মধ্যে চট্টগ্রামকে বিশ্বকাপের ভেন্যু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করা হয় তাহলে ৭ আগস্ট লালদিঘি মাঠে সর্বদলীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকেই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা বক্তব্য দেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলে মেয়রের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্রিকেটাররা ব্যাট হাতে নিয়ে অংশ নেন।

বিক্রি পাঁচ-ছয় হাজার কোটি টাকা কমে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের- রমজান মাসে দোকান বন্ধের সময় বেঁধে না দেওয়ার দাবি

 
শবে বরাতের পরের দিন থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সুবিধা চেয়েছেন দোকানের মালিকেরা। একই সঙ্গে তাঁরা রমজান মাসের প্রথম দিন থেকেই দোকানপাট বন্ধ করতে কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা না রাখার দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে আগামী রমজান মাসে অন্যবারের তুলনায় বেচা-বিক্রি পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কম হবে বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
গতকাল সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতারা এসব দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির চেয়ারম্যান আমির হোসেন খান, সিনিয়র চেয়ারম্যান এম আকতারুজ্জামান, মহাসচিব এস এ কাদেরসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নেতারা বলেন, সরকার দিনের আলোর অধিকতর ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং অফিস আদালত, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি অপরিবর্তিত রাখে। কিন্তু সমিতির পক্ষ থেকে দোকান খোলা রাখার সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে নয়টা করার দাবি মেনে না নেওয়ায় এরই মধ্যে বেচা-বিক্রি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
লিখিত বক্তব্যে এস এ কাদের বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্রেতাই সন্ধ্যার পর দোকানে কেনাকাটা করতে বা বিনোদনের জন্য বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে বেড়ায়। আর ক্রেতারা যখন কেনাকাটার করার কাজে বের হয়, তখনই মার্কেট বন্ধ থাকে। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে আনার ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় যাই হোক না কেন, দোকান ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত করার প্রক্রিয়াটি সফলতার দিকে এগোচ্ছে।
এস এ কাদের আরও বলেন, সারা বছর দুটি ঈদ ও একটি শীতে বেশি বেচাকেনা হয়। তবে রমজানের ঈদেই সবচেয়ে বেশি বেচা-বিক্রি হয়।
আমির হোসেন খান বলেন, অন্য বছর ঈদের সময় ১৫-১৬ হাজার কোটি টাকা বেচাবিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু সরকার সমিতির দাবি মেনে না নিলে এ বেচা-বিক্রির পরিমাণ কমে ১০ হাজার কোটি টাকায় নেমে যাবে।
আমির হোসেন আরও বলেন, সরকার দিনের আলো অধিক ব্যবহার করতে অফিসের সময়সূচি অপরিবর্তিত রাখলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে দোকান খোলা ও বন্ধের সময়সূচি পিছিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে দুপুর ১২টা থেকে দোকান খুলতেও তাঁদের কোনো আপত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি দোকান বন্ধের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন রমজান মাসে অধিক মুনাফার আশা না করে প্রয়োজনে কিছুটা ক্ষতি হলেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সারা দেশের দোকান মালিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক সম্মেলন

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ‘অর্ধবার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন ২০০৯’ সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এমটিবির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী এবং পরিচালক এম এ রউফ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিস এ খান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ সব শাখা ব্রোকারেজ হাউস এবং এসএমই সার্ভিস সেন্টারের প্রধান ও উপপ্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।
স্যামসন এইচ চৌধুরী বলেন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মানবসম্পদ টিমকে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পরিচালনা পরিষদ ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের সর্বস্তরে গতি ও উত্সাহ সৃষ্টির জন্য সমন্বিত ও গতিশীল উদ্যোগ নিয়েছে।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী ব্যাংকটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃক গৃহীত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
আনিস এ খান জানান, ২০০৮ সালের জানুয়ারি-জুন অর্ধবার্ষিকীর তুলনায় ২০০৯ সালের একই সময়ে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে ৫০৫ শতাংশ, শেয়ারপ্রতি আরও (অনিরীক্ষিত) নয় দশমিক ২৫ বিলিয়ন থেকে ৩৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে, শেয়ারহোল্ডারের ইক্যুইটি এক বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দুই দশমিক ৯৮ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে, রিটার্ন অন অ্যাসেট বৃদ্ধি পেয়েছে শূন্য দশমিক ৩৩ থেকে এক দশমিক ৫৬ শতাংশ, রিটার্ন অন ইক্যুইটি বৃদ্ধি পেয়েছে পাঁচ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে ২৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

হালাল খাদ্যমেলায় যোগ দিতে শিল্পমন্ত্রীর চীনে গমন

চীনের সাংহাইতে আজ মঙ্গলবার থেকে চার দিনব্যাপী ‘চীন আন্তর্জাতিক হালাল খাদ্য ও পণ্যমেলা ২০০৯’ শুরু হচ্ছে। এ মেলা দ্য চীন কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) আয়োজন করেছে।
মেলায় অংশ নিতে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া গতকাল সোমবার ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া মেলায় দেশের হালাল খাদ্য উত্পাদক ও ব্যবসায়ীদের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।
সফরকালে শিল্পমন্ত্রী চীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিল্প প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশে যৌথ বিনিয়োগে শিল্প স্থাপন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে।

ফয়সাল ইনভেস্টমেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার

ফয়সাল ইনভেস্টমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এফআইএফ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নিবন্ধককে (আরজেএসসি) নিয়ে গত ২৩ জুলাই বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সূত্র জানায়, বৈঠকে এফআইএফের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে বিতর্কিত যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি (যুবক) ও আইটিসিএলের কার্যক্রমের মিল খুঁজে পান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এফআইএফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি সার-সংক্ষেপ তৈরি করেছে, যা বাণিজ্যসচিবের দপ্তরে রয়েছে।
তবে আরজেএসসির কর্মকর্তারা বলছেন, ১৫০ বছরের পুরোনো ১৮৬০ সালের সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী নিবন্ধন নিয়েছে এফআইএফ। কোনো প্রতিষ্ঠান বে-আইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও ওই আইনে নিবন্ধন বাতিলের কোনো ধারা নেই। সুতরাং আরজেএসসির পক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, যুবক ও আইটিসিএলের ব্যাপারে যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছিল, এফআইএফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও তাদের দিক থেকেই আসতে হবে। নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে উভয় সংস্থা বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, ফয়সাল ইনভেস্টমেন্টের বিরুদ্ধে এ ছাড়া রয়েছে ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ। বিষয়টি পুলিশ বিভাগেরও দায়িত্বের বাইরে নয়।
একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এফআইএফের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রকৃতপক্ষে ফৌজদারি অপরাধ। বিষয়টি দেখবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টে নিবন্ধন বাতিলের ধারা না থাকারই সুযোগ নিচ্ছে এফআইএফ কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকিং নিবন্ধন নিয়ে অবৈধ ব্যাংকিং করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থা নেওয়ার কিছু থাকত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র অবশ্য বলেছে, কয়েক দিন আগে এফআইএফের অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাদের মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতামতের অপেক্ষা করছেন বলেও জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।
এদিকে এফআইএফ থেকে দুজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পর এফআইএফে জমা রাখা ৮৭ লাখ টাকা ফেরতও চেয়েছেন তাঁরা।
জানা গেছে, জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠানটির দুজন পরিচালক সাবেক অতিরিক্ত সচিব মীর বেলায়েত হোসেন ও বিআইডব্লিউটিসির সাবেক চেয়ারম্যান ইনামুল হক চৌধুরী পদত্যাগ করেন। তবে এখনো তাঁরা জমা রাখা অর্থ ফেরত পাননি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই এফআইএফের অবৈধ ব্যাংকিং সম্পর্কে প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের কয়েক দিন পর সংস্থার দুই পরিচালক মীর বেলায়েত হোসেন ও ইনামুল হক চৌধুরী পদত্যাগ করেন।
সূত্র জানায়, এফআইএফে মীর বেলায়েত হোসেনের নামে ২২ লাখ টাকা এবং ইনামুল হক চৌধুরীর নামে ৬৫ লাখ টাকা রয়েছে।
অসুস্থ থাকায় ইনামুল হক চৌধুরী কথা বলতে পারবেন না বলে জানান তাঁর জামাতা মামান আহমেদ। গত রোববার প্রথম আলোর কাছে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামান আহমেদ জানান, ‘তাঁর পক্ষ থেকে সব প্রক্রিয়া আমাকেই করতে হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে টাকা পেয়ে যাব বলে এফআইএফের মহাব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা আশ্বাস দিয়েছেন।’
মীর বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী সাফিয়া হোসেন পদত্যাগের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করে জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেক দিন থেকেই তিনি পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন।
যোগাযোগ করলে গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে জানান, পরিচালকদের কোনো ব্যাপারেই তিনি কথা বলবেন না। আর তাঁদের পদত্যাগের বিষয়টি চেয়ারম্যান জানেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ
গত ১৬ জুলাই প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ‘ফয়সাল ইনভেস্টমেন্টের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিংয়ের অভিযোগ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ফয়সাল ইনভেস্টমেন্ট ফাউন্ডেশন (এফআইএফ)। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এম এ রহমান (মোহাম্মদ আতাউর রহমান) স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই পাঠানো প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, ‘এফআইএফ অবৈধ ব্যাংকিং করছে না, উচ্চহারে মুনাফার লোভ দেখিয়ে আমানতও সংগ্রহ করে না। এর চেয়ারম্যান বা অন্য কোনো পরিচালক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। যুবক ও আইটিসিএলের কার্যক্রমের সঙ্গে এফআইএফের কার্যক্রমের মিল নেই। ৪৬২ জনের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করার বিষয়টিও সঠিক নয়। এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংক এফআইএফের কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করেনি। কোনো পরিচালক এফআইএফ থেকে মাসোহারা নেন না।’
প্রতিবেদকের বক্তব্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও আরজেএসসির মধ্যে এফআইএফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে যেসব চিঠিপত্র বিনিময় হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া এফআইএফের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।

করাচির খ্রিষ্টান স্কুল-কলেজে তিন দিনের ধর্মঘট

সাত খ্রিষ্টান ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনার প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচিতে খ্রিষ্টান স্কুল ও কলেজগুলোতে তিন দিনের ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার এ তথ্য দিয়েছে। খবর এএফপির।
করাচির ক্যাথলিক শিক্ষা বোর্ডের মুখপাত্র সালিম মাইকেল বলেন, ‘করাচির গোজরা এলাকায় নিরপরাধ লোকদের হত্যার ঘটনায় আমরা শোক যাপন করছি। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সব খ্রিষ্টান স্কুল ও কলেজ আজ থেকে তিন দিন বন্ধ থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। তাই শান্তিপূর্ণ উপায়ে গোজরা ট্র্যাজেডির প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ পেতে যাচ্ছে বলিভিয়ার আদিবাসীরা

নতুন সংবিধানের সংস্কার প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে শুরু করেছে বলিভিয়া সরকার। এতে দেশটির আদিবাসী জনগোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ পাবে। গত রোববার বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস এ ব্যাপারে একটি আদেশ (ডিক্রি) জারি করেছেন। ওই আদেশ অনুযায়ী আদিবাসীরা নিজেদের স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটিতে যেতে পারবে। আগামী ডিসেম্বরে এসব ভোট গ্রহণ হবে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনও হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছরের শুরুতে মোরালেসের সরকার নতুন সংবিধান অনুমোদন করে।
পূর্বাঞ্চলীয় সান্তাক্রুজ শহরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ আদেশ ঘোষণা করেন মোরালেস। তিনি বলেন, ‘কৃষক ও আদিবাসী আন্দোলনকারীদের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। আপনাদের প্রেসিডেন্ট, আপনাদের ভাই ইভো মোরালেস ভুল করতে পারে, কিন্তু কখনোই বেইমানি করবে না।’ ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বলিভিয়ার আদিবাসীদের পূর্ণ ভোটাধিকার ছিল না।
তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বলিভিয়ার অভিজাত সম্প্রদায়। ঔপনিবেশিক শাসকদের বংশধর এই অভিজাত ব্যক্তিরা বলিভিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উর্বর ভূমিতে অবস্থিত বড় বড় খামারের মালিক। তাদের বক্তব্য, নতুন এই সংবিধান দেশকে বিভক্ত করে ফেলবে।

গুয়ানতানামো বের বন্দীদের জন্য বিশেষ কারাগার

কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক বন্দীদের একটি বিশেষ কারাগারে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। বিশেষ ওই কারাগারে আদালত কক্ষ ও দীর্ঘ মেয়াদে বন্দীদের রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন সুবিধা রাখা হবে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানায়। পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ ওই কারাগারটি যৌথভাবে পরিচালনা করবে মার্কিন সরকারের বিচার, প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ। ওই কারাগারের আদালতে সাধারণ ফৌজদারি আইনের পাশাপাশি সামরিক আইনেও বিচারকাজ পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটক বন্দী এবং যারা নিয়মিত সাজা খাটছে তাদের জন্য কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত থাকবে। কোনো দেশ গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয় এমন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ব্যবস্থাও থাকবে ওই স্থাপনায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, সাজা প্রদানের ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে এমন একটি টাস্কফোর্স এই বন্দিশিবিরের পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তবে পরিকল্পনাটি এখনো অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছেনি। বন্দিশিবিরটি স্থাপনের জন্য জায়গাও নির্ধারিত হয়নি। তবে ক্যানসাসের একটি সামরিক কারাগার ও মিশিগানে কয়েক দিনের মধ্যে বন্ধ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা একটি কারাগারকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর জন বোয়েনারের মুখপাত্র অ্যান্টোনিয়া ফেরিয়ার বলেন, ‘এটি একটি দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা ফেলার সুযোগ পাবে সন্ত্রাসীরা।’ আইনজীবীদের সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়নের সদস্য জামিল জাফর বলেন, শুধু লোক দেখানোর স্বার্থে গুয়ানতানামো বের কারাগার বন্ধ করে দেশের ভেতরে নাম পাল্টে নতুন কারাগার বানানোর কোনো মানে নেই।
এ বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর গুয়ানতানামো বে কারাগার দ্রুত বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন বারাক ওবামা। কিন্তু ক্ষমতায় আসার প্রায় সাত মাস পেরোলেও গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধ করতে পারেননি তিনি। বর্তমানে দক্ষিণ কিউবায় মার্কিন নৌঘাঁটিতে অবস্থিত কারাগারটিতে ২২৯ জন বন্দী রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর জীবনাবসান

পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী, জননেতা সুভাষ চক্রবর্তী আর নেই। গতকাল সোমবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। প্রবীণ এই সিপিএম নেতা গত ২৭ জুলাই কিডনির অসুস্থতা নিয়ে কলকাতার এএমআরআই হাসপাতালে ভর্তি হন। রোববার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
সুভাষ চক্রবর্তীর মৃত্যুতে রাজ্য সরকার ২৪ ঘণ্টার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল তাঁর মৃত্যুর পর সব সরকারি অফিস ছুটি ঘোষণা করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুসহ পশ্চিমবঙ্গের সব রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন।
সুভাষ চক্রবর্তী ১৯৪২ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার মাসাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ভারত ভাগের পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে তিনি চলে আসেন পশ্চিমবঙ্গে।
সুভাষ চক্রবর্তী ১৯৭৭ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ ২০০৬ সালের নির্বাচনেও জয়ী হয়ে তিনি সপ্তমবারের মতো বিধায়ক হন।

সাদ্দামের দুই সাবেক সহযোগীর সাত বছর করে কারাদণ্ড

ইরাকের উত্তরাঞ্চল থেকে কুর্দিদের তাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় মদদ দেওয়ার দায়ে একটি আদালত গত রোববার দেশটির প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের দুই সহযোগীকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। সাজা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ইরাকের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী তারিক আজিজ ও হাসান আল-মাজিদ ওরফে কেমিক্যাল আলী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপির।
মামলার রায়ে আদালতের বিচারক মাহমুদ সালেহ সালমান বলেন, কিরকুক ও দিয়ালা প্রদেশ থেকে ১৯৮০ সালে হাজার হাজার কুর্দিকে বিতাড়নের দায়ে কেমিক্যাল আলী ও তারিক আজিজকে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। রায় ঘোষণার সময় বেশ কয়েকজন কুর্দি এমপি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত মার্চ মাসে তারিক আজিজ ও কেমিক্যাল আলীকে ১৯৯২ সালে বাগদাদের ৪২ ব্যবসায়ী হত্যার দায়ে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

‘৪০ হাজার কশাঘাত সইতেও রাজি’

‘অশোভন’ পোশাক (ট্রাউজার) পরার অপরাধে বিচারের মুখোমুখি সুদানের একজন নারী সাংবাদিক বলেছেন, দেশে প্রচলিত নিষ্ঠুর আইন পরিবর্তনের জন্য তিনি ৪০ হাজারবার কশাঘাত সইতেও রাজি আছেন। বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হলে সুদানের আইন অনুযায়ী তাঁকে ৪০ বার কশাঘাত করা হবে। আজ মঙ্গলবার বিচারের রায় হওয়ার কথা। লুবনা আহমেদ আল হুসেইন নামের ওই নারী সাংবাদিক জাতিসংঘের সুদান মিশনে মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের পক্ষে কাজ করছেন। এএফপি।
গত ৩ জুলাই খার্তুমের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ট্রাউজার ও ঢোলা টি-শার্ট পরা অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে সুদানের পুলিশ। সুদানের আইনের ১৫২ ধারা অনুযায়ী তাঁর বিচার হবে। ওই ধারায় বলা আছে, ইসলামি মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো কাজ করলে বা অশোভন পোশাক পরলে অপরাধীকে ৪০ বার চাবুক মারা হবে।
লুবনা টেলিফোনে বলেন, ‘সাজা নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি না। কশাঘাত বা অন্য কোনো সাজা দেওয়া হলে এর বিরুদ্ধে আমি আপিল করব। তবে এর (আইনটির) শেষ দেখতে চাই আমি। প্রয়োজনে সাংবিধানিক আদালতে যাব। ওই আদালত যদি বলে আইনটি ঠিক আছে, তাহলে ৪০ বার নয়, ৪০ হাজারবার চাবুকের আঘাত সইতেও রাজি আছি।’
লুবনা বলেন, ‘আইনের ১৫২ নম্বর ধারাটিকে রদ করাই আমার উদ্দেশ্য।’

আহমাদিনেজাদের প্রেসিডেন্ট পদ অনুমোদন করলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পদে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পুনর্নির্বাচন তাদের বিরোধীদের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে সরকারের লড়াইয়ের প্রতি জনগণের সমর্থনেরই প্রতিফলন। গতকাল সোমবার দ্বিতীয় মেয়াদে আহমাদিনেজাদের প্রেসিডেন্ট পদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। এ উপলক্ষে রাজধানী তেহরানে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ কথা জানানো হয়।
রাষ্ট্রীয় আল-আলম টেলিভিশন জানায়, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রেসিডেন্ট পদে আহমাদিনেজাদের পুনর্নির্বাচনকে অনুমোদন করেছেন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
খামেনির উদ্ধৃতি দিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলটি জানায়, ঔদ্ধত্য ও দুর্গতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ইরানি জনগণ। তিনি আহমাদিনেজাদকে ‘সাহসী’, ‘বিচক্ষণ’ ও ‘কঠোর পরিশ্রমী’ হিসেবে অভিহিত করেন।
টেলিভিশনে বলা হয়, মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট পদে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ করেছেন সর্বোচ্চ নেতা।
আল-আলম টেলিভিশনে বলা হয়, তেহরানের ওই অনুষ্ঠানে আহমাদিনেজাদের পরাজিত প্রতিপক্ষ মির হোসেন মৌসাভি, মেহেদি কাররৌভি, প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আকবর হাশেমি রাফসানজানি ও সাবেক সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না ।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে সংস্কারপন্থী পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মির হোসেন মৌসাভি এবং মেহেদি কাররৌভি বলেছেন, ক্ষমতায় বসতে যাওয়া সরকার হবে অবৈধ। তবে নির্বাচনে কোনো ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
আগামীকাল বুধবার শপথ নেবেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। শপথ নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে পার্লামেন্টে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের তালিকা জমা দেবেন তিনি।
এদিকে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য বিচারাধীন বিরোধী কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মির হোসেন মৌসাভি। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগে ইরানে এখন প্রায় ১০০ জন সংস্কারবাদী ও বিরোধী কর্মীর বিচার করা হচ্ছে। এই বিচারপ্রক্রিয়ার নিন্দা করেছেন মির হোসেন মৌসাভি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি। এএফপি ও বিবিসি অনলাইন।