Wednesday, June 10, 2026

ক্যানসারের তথ্য রোগীকে কতটা জানানো উচিত by ডা. আরমান রেজা চৌধুরী

কারও ক্যানসার ধরা পড়েছে, রোগটি ছড়িয়ে গেছে, চিকিৎসায় প্রত্যাশিত ফল আসছে না, অথবা রোগটি আর সম্পূর্ণ নিরাময়ের পর্যায়ে নেই। এ রকম পরিস্থিতিতে রোগী ও তার স্বজনদের কীভাবে এই খারাপ সংবাদ বলা হবে, কতটুকু বলা হবে, রোগী নিজে কতটুকু নিতে পারবেন—এ নিয়ে প্রায়ই দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ব্রেকিং ব্যাড নিউজ। চিকিৎসকদের প্রায়ই এ ধরনের সংকটে পড়তে হয়।

কোনো একটা রোগের সংবাদ দেওয়া মানে শুধু রিপোর্টের ফলাফল বলে দেওয়া নয়। এটি একটি মানবিক, সংবেদনশীল এবং দায়িত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট।

একজন রোগী যখন ক্যানসারের মতো একটি রোগের খবর শোনেন, তখন তাঁর মনে ভয়, হতাশা, অবিশ্বাস, রাগ, কান্না, এমনকি নীরবতা বা বিষণ্নতা চলে আসতে পারে। তাই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া চিকিৎসার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

করণীয়

একজন ক্যানসার রোগীর জানা উচিত, তাঁর রোগ কোন পর্যায়ে আছে, চিকিৎসার লক্ষ্য কী, চিকিৎসায় কী লাভ হতে পারে, কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং বিকল্প কী আছে। কারণ, এই তথ্যের ওপর নির্ভর করেই তিনি নিজের পরবর্তী জীবন, পরিবার, অর্থনীতি এবং মানসিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিশ্বের অনেক দেশে এই কঠিন সংবাদ জানানোর জন্য চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের শেখানো হয় কীভাবে শান্ত পরিবেশে, সহজ ভাষায়, ধীরে ধীরে, রোগীর মানসিক অবস্থা বুঝে খারাপ খবরটি খুলে বলতে হয়।

রোগীকে একা করে দেওয়ার পরিবর্তে বলা যায়, ‘পরিস্থিতি কঠিন, কিন্তু আমরা আপনার পাশে আছি।’

অনেক দেশে ধাপে ধাপে পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। প্রথমে নিরিবিলি পরিবেশ তৈরি করা হয়। রোগী আগে কতটুকু জানেন, তা বোঝা হয়। তারপর রোগী কতটুকু জানতে চান, তা জিজ্ঞেস করা হয়। এরপর সহজ ভাষায় মূল তথ্য বলা হয়।

রোগীর আবেগ প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়। একেবারে শেষে পরবর্তী করণীয় পরিষ্কারভাবে জানানো হয়। অর্থাৎ খারাপ খবর দেওয়ার পরও রোগী যেন দিশাহারা না হয়ে যান, সেটিই প্রধান লক্ষ্য।

শেষ কথা

বাংলাদেশে এই চর্চা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। চিকিৎসক, নার্স, কাউন্সেলর এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকা দরকার। শুধু আধুনিক যন্ত্র, নতুন ওষুধ বা উন্নত হাসপাতাল থাকলেই ক্যানসার চিকিৎসা সম্পূর্ণ হয় না।

রোগীর সঙ্গে সৎ, মানবিক এবং পরিষ্কার যোগাযোগও আধুনিক চিকিৎসার অপরিহার্য অংশ। খারাপ খবর বলা মানে আশা শেষ করে দেওয়া নয়; বরং সত্যকে মানবিক ভাষায় বলা। রোগীকে বাস্তবতা বুঝতে দেওয়া, যাতে পরিবার প্রস্তুত হতে পারে।

অনেক সময় চাইলে রোগী চিকিৎসার কোনো পদ্ধতি নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। বিকল্প বাছাই করতে পারেন। তাই রোগীকে কিছু জানাবেন না—এই আবেগ সর্বদা কার্যকরী নয়।

* ডা. আরমান রেজা চৌধুরী, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা

ক্যানসারের তথ্য রোগীকে জানাতে সঠিক পরিবেশ তৈরি করে নেওয়া জরুরি
ক্যানসারের তথ্য রোগীকে জানাতে সঠিক পরিবেশ তৈরি করে নেওয়া জরুরি। ছবি: পেক্সেলস

ঢাকার এই ছাদবাগানে বছরে গড়ে ৫ মণ আম হয়, এবার ফলন কেমন? by এম এ হান্নান

রাজধানীর মধ্যবাড্ডার বৈশাখী সরণি। উদয়ন স্কুলের বিপরীত দিকের গলি ধরে এগোলে শেষ মাথায় যে বাড়িটির সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়, তার নাম ‘সবুজ ছায়া’। আক্ষরিক অর্থেই বাড়িটি সবুজ ছায়ায় ঢাকা। ৬ তলা এই ভবনের ছাদেই এক দৃষ্টিনন্দন ছাদবাগান গড়ে তুলেছেন আসমা কাদির ও মো. আবদুল কাদির দম্পতি।

২০০৭ সালে নির্মিত এই বাড়ির ছাদে বাগানের সূচনা ২০১০ সাল থেকে। বাগানে আমগাছের বসতিও তখন থেকেই। দুটি বারোমাসি আম দিয়ে শুরু করা সেই বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে ২৬ প্রজাতির আমগাছ।

আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, হিমসাগর, গুটি আম, বারি-৪, থাই ব্যানানা ম্যাঙ্গো, চিয়াংমাই, কাঁচামিঠা, আমেরিকান রেড পালমারসহ আছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম জাপানের ‘মিয়াজাকি’ বা সূর্যডিম। ২৬ প্রজাতির মধ্যে ২৫টির গাছেই এবার আম ধরেছে।

এ বছর বাগানে কাদির দম্পতির ছাদবাগানে ৫-৬ মণ আম হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি চিয়াংমাই জাতের আমগাছেই ধরেছে ২ মণ আম। একেকটি আম সর্বোচ্চ দুই কেজি পর্যন্ত হয়। এবার আম বড় হওয়ার পর এক অদ্ভুত বিপত্তি ঘটেছে বলে জানালেন আসমা কাদের।

কোনো ঝড়বৃষ্টি ছাড়াই স্রেফ আমের ভারে গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। সবুজ আমের গায়ে সবে রং আসতে শুরু করেছে, এমন সময় ডালসহ আমগুলোর ঝরে পড়ায় মন কিছুটা খারাপ হলেও শেষমেশ আচার বানানোর কাজে লাগিয়ে সেই দুঃখ দূর করেছেন তিনি।

ছাদভরা আমগাছ

গাছে এখন সবচেয়ে বেশি শোভা পাচ্ছে আম্রপালি। সবুজ পাতার ফাঁকে পেকে সবুজ-হলুদ হয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে সেসব। গাছগুলো সময়ের সঙ্গে এতটাই বড় ও ঝাঁকড়া হয়েছে যে কাণ্ড বেয়ে গাছে উঠে কিংবা বাঁশের কোটা দিয়ে আম পাড়তে হয়।

তবে হাতের নাগালের বাইরে থাকা পাকা আমগুলোর ওপর পাখিদের প্রায় একচ্ছত্র দখল। পাখিরা আমগুলো এমন নিখুঁতভাবে খায় যে গাছে শুধু আমের আঁটিটা ঝুলতে থাকে!

আসমা কাদির বলেন, ‘পাখিরাও এই বাগানের অতিথি, ওদেরও হক আছে। আর সে কারণেই এই বাগানে নেট বা জাল দিয়ে আম আটকে রাখি না।’

ছাদের দুটি অংশ। নিচের অংশে আম্রপালি, ব্যানানা, হাঁড়িভাঙা, হিমসাগর, কাঁচামিঠার রাজ্য পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠলাম ওপরের অংশে।

এখানে থাই কাটিমন নামের বারোমাসি আমের পাশেই সূর্যরাঙা রঙে দুলছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আমখ্যাত জাপানের মিয়াজাকি বা সূর্যডিম।

কাঁচা অবস্থায় হালকা লালচে এই আমের পাকার সময় যত এগিয়ে আসে, অস্ত যাওয়া সূর্যের রং ধারণ করে। আকারে যেমন বড়, দেখতে আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি দারুণ সুস্বাদু।

বলা চলে একাই পুরো বাগানের দেখভাল করেন আসমা কাদির। বাসায় লিফট নেই, তাই সিঁড়ি বেয়েই রোজ ছয় তলার ছাদে ওঠানামা করতে হয়। কোন গাছের কী পরিচর্যা দরকার, তা নিজেই দেখেন। জৈব সার ও পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার—সবই নিজ হাতে সামলান।

নতুন বাগানিদের জন্য পরামর্শ

নতুন যাঁরা বাগান করার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য আসমা কাদিরের পরামর্শ, ছাদে অন্যান্য দেশি জাতের আমের পাশাপাশি যেন অবশ্যই কিছু বারোমাসি জাতের গাছ রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে কাটিমন, বারি-১১ কিংবা পুনাই জাতের আম বেছে নেওয়া যেতে পারে। আসমা কাদিরের এই সবুজ উদ্যোগ দেখে প্রতিবেশীরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি তাঁর বাসায় এসে পরামর্শ নিয়ে যান।

নিজের গড়া আমবাগানে আসমা কাদির
নিজের গড়া আমবাগানে আসমা কাদির। ছবি: এম এ হান্নান

প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাস্তা বানাতে ‘ইটভাড়া’ নিয়েছিল এলজিইডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সফরের সময় একটি আধা কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় ইট-বালু ফেলে রাতারাতি নির্মাণ করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ রাস্তা দিয়েই প্রধানমন্ত্রী তাঁর পৈতৃক ভিটায় পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন বৃষ্টিতে এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। যার কারণে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার এ কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছর এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদার সঠিক সময়ে কাজ শুরু করেননি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সফরের সময় এ কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়। আনুষঙ্গিক কিছু কাজসহ এতে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যে সড়কের ৫০০ মিটার অংশে বিছানো ইট পুরোটায় তুলে নেওয়া হয়েছে।

নিয়মনীতি মেনেই অস্থায়ীভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান। তিনি বলেন, ওই সড়ক পাকা করতে ৮৪ লাখ টাকা আগেই বরাদ্দ হয়েছে। এ কারণে সেখানে অস্থায়ীভাবে বিছানো ইট ঠিকাদারকে তুলে নিতে বলা হয়েছে। কারণ, অস্থায়ীভাবে সোলিং করার জন্য ইট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট কিনতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেতে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিং করার জন্য গত অর্থবছরে এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্ট মাসে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, এ বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরুই করেনি।

এর মধ্যে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে আসেন। এদিন তিনি বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ৫০০ মিটার এই কাঁচা রাস্তায় রাতারাতি ইট বিছানোর তোড়জোড় শুরু করে এলজিইডি। শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে ইট বিছানোর কাজ শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে আতিকুর রহমান তাঁর শ্রমিক দিয়ে রাস্তা থেকে ইট তুলে নেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

মিনহাজুল ইসলাম নামে স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে কাঁচা সড়কে ইট বসায় এলাকাবাসী খুশি হয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছিল। এখন সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এলজিইডি থেকে ওই কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট সোলিং করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, ভাটা থেকে ইট নিয়ে গিয়ে শ্রমিক দিয়ে সড়কে ইট বিছিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সড়কের ইট তুলে ভাটায় নিয়ে এসেছেন। এলজিইডি থেকে শুধু পরিবহন ও শ্রমিক খরচ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই কাজের জন্য ঠিক কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা এই মুহূর্তে মনে নেই।

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তা ৮৪ লাখ টাকায় পাকাকরণের জন্য ইতিমধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। বর্তমানে সড়কের পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে। সড়কের সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে সাইট বুঝে দিতে বিলম্ব হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ওই কাঁচা সড়কটি ইট বিছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও ১৫০ মিটার রাস্তা ও আনুষঙ্গিক কাজসহ খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৫০ মিটার রাস্তা নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য গাবতলী উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা এখনো ঠিকাদারকে দেওয়া হয়নি।

সুশাসনের জন্য প্রশাসন (সুপ্র) বগুড়ার সম্পাদক কে জী এম ফারুক বলেন, একটি কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য দরপত্রপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে নতুন করে আর কোনো রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করার সুযোগ নেই। শুধু রাষ্ট্রীয় কোনো অতিথির সফরকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ব্যয় রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে কাঁচা সড়কে ইট বিছিয়ে প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়ায় চরম ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ কাজে সরকারি যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেখানো হোক, সেটার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে নির্মাণ করা সড়ক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ইট। সম্প্রতি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে নির্মাণ করা সড়ক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ইট। সম্প্রতি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে। ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের গভীরে ঢুকে কোন ফাঁদে ইসরায়েল by এমোস হারেল

ইসরায়েলের সরকার ও গণমাধ্যম বেশ উচ্ছ্বসিত। কারণ, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননের বেশ ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ দখল করে নিয়েছে। [কালাত-আল-শাফিক নামে পরিচিত এই দুর্গটি ১২ শতকে ক্রসেডররা নির্মাণ করেছিল।]

গত রোববার সকালে ইসরায়েলি পত্রপত্রিকায় একটি মাত্র ছবিই যেন সবকিছু বলে দিচ্ছিল—দক্ষিণ লেবাননে বিউফোর্ট দুর্গের ওপর ইসরায়েলি পতাকার পাশাপাশি গোলানি ব্রিগেডের পতাকা উড়ছে। কিন্তু এই প্রতীকী দখলদারত্ব লেবানন অভিযানের কঠিন প্রশ্নগুলোকে ঢেকে রাখার এক প্রয়াস বলেই মনে হয়।

এই অভিযান থেকে এখন পর্যন্ত কৌশলগতভাবে কী অর্জিত হলো? অতীতের অভিযানগুলো থেকে কী শিক্ষা নেওয়া হয়েছে? এবং কীভাবে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার হুমকি ইসরায়েলি সেনাদের আহত করে যাচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজায় কারও মন নেই বলেই প্রতীয়মান হয়।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে যাঁরা আছেন, তাঁদের বেশির ভাগই আসলে অতীত থেকে কিছুই শেখেননি, আবার কিছুই ভোলেননি। তা না হলে ফাইবার অপটিক কেব্‌লের সহায়তায় পরিচালিত হিজবুল্লাহর ড্রোনগুলো ডজনে ডজনে কীভাবে প্রতিদিন ধেয়ে আসছে, তা জানার ও মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব পেত। উত্তর সীমান্তের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে সন্দিহান হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকায় তা নিয়ে প্রশ্ন অবশ্যই উত্থাপন করা হতো। এই সবকিছু বাদ দিয়ে আমরা এক ঐতিহাসিক দুর্গ দখলের রোমাঞ্চকর অভিযান নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছি।

প্রায় কেউই এ পর্যন্ত যা ঘটেছে, এবং সর্বশেষ অভিযানে আমরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, তা নিয়ে কোনো কথা বলছে না। এখনকার টেলিভিশন দর্শকদের অর্ধেকের বেশিই তো ১৯৮২ সালে জন্ম নেয়নি। সে কারণে তাদেরসহ সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে ওই বছর বিউফোর্ট দুর্গ দখল করতে গিয়ে গোলানি ইউনিটের কমান্ডার মেজর গিয়োরা হারনিকসহ ছয়জন সেনা প্রাণ হারিয়েছিল। এখনকার বেশির ভাগ টিভি দর্শকদের এটাও জানা নেই যে ’৯০–এর দশকে ইসরায়েলের দখলে থাকা নিরাপত্তা অঞ্চলে হিজবুল্লাহর পাতা বোমা কীভাবে আইডিএফের সাঁজোয়া যানগুলো উড়িয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সাংবাদিকেরা গত রোববার যেভাবে বিউফোর্ট দুর্গ দখল নিয়ে কথা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে এবার সবকিছু ভিন্ন রকম হবে এবং ক্রসেডারদের প্রাচীন এই দুর্গ দখলের মধ্য দিয়ে হিজবুল্লাহর সমস্যা চিরতরে শেষ হয়ে যাবে।

গণমাধ্যমে যে কৃত্রিম উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে, তা দাঁড়িয়ে আছে এক করুণ বাস্তবতার ওপর। উগ্র ধর্মীয় ডানপন্থীরা এখন কল্পনার জাল বুনছে যে দক্ষিণ লেবাননে ইহুদি বসতি গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে দেশটিতে ইসরায়েলের স্থায়ী দখলদারি শুরু হবে। অথচ রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ইসরায়েলের সরকার এখন নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে।

আবার সেনাবাহিনী এক বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে। কেননা, ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহকে নাস্তানাবুদ করার পরও তারা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার সকালে সদম্ভে ঘোষণা করেছেন, ‘আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী, প্রত্যয়ী ও একতাবদ্ধ হয়ে বিউফোর্টে ফিরে এসেছি।… এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আট হাজার হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসীকে শেষ করে দিয়েছি, যার মধ্যে গত মাসেই শেষ করা হয়েছে ৭০০ জনকে।’ মন্ত্রীবর্গ ও সংসদ সদস্যরাও তোতা পাখির মতো নেতানিয়াহুর দাবি পুনরাবৃত্ত করে চলেছেন।

আর নেতানিয়াহু তো যুদ্ধের মূল্য নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন, তাঁর কাছে মুখ্য হলো সাফল্য অর্জন। সে কারণে লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রঘোষিত যুদ্ধবিরতি (যা কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি) সত্ত্বেও ১৩ জন ইসরায়েলি নিহত হওয়ার সংখ্যা কোনো গুরুত্ব পায়নি, যেমন পায়নি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ইসরায়েলি নিহত হওয়া।

আইডিএফও এই অভিযানগত ও কৌশলগত ব্যর্থতায় জড়িত, যা নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জনগণের কাছে সর্বশক্তি দিয়ে এক সাফল্য হিসেবে বিক্রির চেষ্টা করছেন। এটা ঠিক যে ২০২৪ সালে নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে ঈর্ষণীয় সাফল্য এসেছিল, হিজবুল্লাহর সক্ষমতার বেশির ভাগটাই নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

কিন্তু এবারের পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। হিজবুল্লাহ একটি সংগঠিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী হিসেবে কাজ করা বাদ দিয়ে তার শিকড় সেই গেরিলা সংগঠনে ফিরে গেছে। এর নেতৃত্বে বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ের নেতাদের স্বাধীনভাবে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছে। তারা এখন গ্যালিলি জয়ের পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে। এর বদলে বেছে বেছে এমন সব দুর্বল এলাকা আঘাত হানার জন্য বেছে নিচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়। লেবাননের গভীরে ইসরায়েলি সেনারা প্রবেশ করায় এই কৌশল জোরদার হয়েছে।

বিউফোর্ট দখলের একটি কৌশলগত ব্যাখ্যা থাকতে পারে। কেননা এর নিকটবর্তী নাবাতিয়েহ শৈলশিরায় নজর রেখে হিজবুল্লাহর বদর ইউনিটসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ওপর হামলা চালানো সহজ হবে। কিন্তু চলমান অভিযান হিজবুল্লাহর ড্রোন হুমকি থামাতে পারবে না। এসব ড্রোনের পরিধি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

প্রথম অবস্থায় লেবাননকে একটি কৌশলগত সমস্যা মনে করা হয়েছে। কারণ, ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর সময় হিজবুল্লাহ যত হুমকি ছিল, সে তুলনায় এখন তা অনেক কম। আর পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তো বিশাল ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ লেবানন সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের ব্যাপক অংশে জীবনযাপন পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। আর প্রতি সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনীর গুটিকয় সেনা প্রাণ দিচ্ছে, ডজন ডজন আহত হচ্ছে।

উল্টো পিঠে যখন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ ভূখণ্ড দখল করে লেবাননের কাছ থেকে মূল্য আদায় করতে চাচ্ছেন, তখন হিজবুল্লাহর এই দাবিই জোরালো সমর্থন পাচ্ছে যে তারা ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে দেশকে রক্ষার জন্য লড়ছে।

এমতাবস্থায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, নেতানিয়াহু কি আশা করছেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করে লেবানন সীমান্তে একটা চুক্তি হবে? নাকি তিনি চান যে নির্বাচন পর্যন্ত ট্রাম্প তাঁকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দেবেন? নেতানিয়াহুর প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রয়েছে। তাই এসব প্রশ্নেরও কোনো উত্তর নেই।

* এমোস হারেল, ইসরায়েলি সাংবাদিক
- হারেৎজে প্রকাশিত। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত বাংলা রূপান্তর করেছেন আসজাদুল কিবরিয়া

লেবাননের প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ দখল করে নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী
লেবাননের প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ দখল করে নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ছবি: রয়টার্স

৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে, লন্ডনে কেমন আছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন

একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক, দর্শকহৃদয়ের নায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। আলোঝলমলে চলচ্চিত্রজীবন আর সামাজিক আন্দোলনের ব্যস্ত সময় পেরিয়ে তাঁর দিন কাটছে এখন হাসপাতাল, চিকিৎসা আর পরিবারের সান্নিধ্যে।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে এখন মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলছে তাঁর চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরানো সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসক জানান, তাঁর ব্রেন ক্যানসারের কথা।

অস্ত্রোপচারের শেষে শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে চলছে দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি। পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় এরই মধ্যে প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি এখন দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিচ্ছেন।

তবে এত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। আজ বুধবার সকালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। উন্নতিও নেই। বর্তমানে যে থেরাপি চলছে, তা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা কী, তা নতুন করে জানাবেন এবং পরবর্তী করণীয় কী, তা জানাবেন।

চিকিৎসকের বরাতে লিটন এরশাদ জানালেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। যদিও তা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের আশা, দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ হলে শারীরিক অবস্থার কিছু উন্নতি দেখা যেতে পারে।

তবে প্রতিদিনের বাস্তবতা সহজ নয়। লিটন এরশাদ জানান, কাঞ্চন ভাই এখন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারেন, কিন্তু কথাবার্তায় জড়তা রয়েছে। অনেক সময় কয়েক মিনিট কথা বলার পর তিনি পুরো বাক্য শেষ করতে পারেন না। একটি পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও কষ্ট হয় তাঁর। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটিও আগের মতো নেই।

একসময় চলচ্চিত্রের শুটিং, সামাজিক কর্মসূচি আর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে যার দিন-রাত কেটে যেত, সেই মানুষটির সময় এখন কাটছে হাসপাতালের ফলোআপ আর মেয়ের লন্ডনের বাড়ির চারদেয়ালের মধ্যে। স্বভাবতই এই পরিবর্তন তাঁকে অস্থির করে তোলে। তবু পরিবারের ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।

মেয়ে, জামাতা এবং নাতি–নাতনিদের সঙ্গেই কাটছে তাঁর বেশির ভাগ সময়। কখনো তাঁদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, কখনো পারিবারিক আড্ডা—এই ছোট ছোট মুহূর্তই কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে। সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু হাসিমুখের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুস্থতার পথ এখনো দীর্ঘ।

কোমোথেরাপির আগে ও পরের ইলিয়াস কাঞ্চন
কোমোথেরাপির আগে ও পরের ইলিয়াস কাঞ্চন। কোলাজ

হাজার বছর বয়সী একটি পাইনগাছের সুরক্ষায় কী করছে চীনা শহর

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হু শিয়াওসোং তাঁর নিয়মিত টহলে বেরিয়েছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৫০০ ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এক হাজার বছরের পুরোনো একটি পাইনগাছকে রক্ষা করাই তাঁর দায়িত্ব। হুর ভাষায়, গাছটি তাঁর কাছে পরিবারের একজন সদস্যের মতো।

অদ্ভুত আকৃতি ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের এই পাইনগাছ চীনের বিখ্যাত ইয়েলো মাউন্টেনের (হুয়াংশান পর্বত) সবচেয়ে আইকনিক নিদর্শন। পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশে অবস্থিত এই পর্বত পর্যটন খাতের একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। ইংকেসোং বা ‘গেস্ট-গ্রিটিং পাইন’ নামে পরিচিত গাছটি আতিথেয়তা ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। অবিশ্বাস্যভাবে এটি পাহাড়ের চূড়ায় থাকা শক্ত গ্রানাইট পাথরের গা থেকে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠেছে।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে অনেক ব্যক্তি গাছটি দেখভালের দায়িত্ব পালন করেছেন। হু হলেন ১৯তম প্রজন্মের ব্যক্তি, যিনি একরকম গাছটির ‘দেহরক্ষী’ হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর কাজ হলো তীব্র প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অতিরিক্ত উৎসাহী পর্যটকদের হাত থেকে এ ঐতিহাসিক গাছকে রক্ষা করা।

হুয়াংশানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হু বলেন, ‘আমি ১৬ বছর ধরে এই কাজ করছি। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা পরপর টহল দিয়ে এই গাছ পরীক্ষা করি এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করি।’

গত সপ্তাহে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মেয়ররা জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত পর্যটনের প্রভাব থেকে নিজেদের শহরকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে জড়ো হয়েছিলেন।

এর আগে ২০১৮ সালে এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হু বলেছিলেন, তিনি শুধু বানর ও কাঠবিড়ালির হাত থেকেই নয়, পর্যটকদের কাছ থেকেও গাছটিকে রক্ষা করেন। তখন তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পর্যটকদের গাছটির কাছ থেকে দূরে রাখা এবং এটিকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া। এর পর থেকে চীনের ‘সবচেয়ে মনোরম পর্বত’ হিসেবে পরিচিত ইয়েলো মাউন্টেনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত বছর প্রথমবারের মতো এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে।

তবে হুর মতে, আজকাল পর্যটকেরা আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ম মেনে চলেন। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিও গাছটিকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

হু বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে পর্যটকদের সামগ্রিক আচরণ উন্নত হয়েছে। তা ছাড়া আট বছর আগের তুলনায় আমরা এখন আরও কিছু নতুন উচ্চপ্রযুক্তির নজরদারি ব্যবস্থাও যুক্ত করেছি।’

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ২০২০ সালে একটি অ্যালার্ম সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এর সঙ্গে একটি অ্যাপ যুক্ত আছে। কোনো পর্যটক গাছটির খুব কাছে চলে গেলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠায়।

হু বলেন, ‘আমি সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্র দ্রুত টহল দিতে পারি। এতে অনেক সময় বাঁচে।’

হু আরও বলেন, এ মূল্যবান পাইনগাছ যে এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে, সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। কারণ, বয়সের কারণে গাছটিকে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। তা ছাড়া পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

হুর ভাষায়, বরফ-শীতল বৃষ্টি এ পাইনগাছের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয়ের। কারণ, সঠিকভাবে সামলানো না গেলে এ বৃষ্টি ডালপালার ক্ষতি করতে পারে।

চীনের ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টার বলেছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে আগের তুলনায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বেশি বিস্তৃত এলাকায় তীব্র বরফ-শীতল বৃষ্টি হয়েছে। একে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হু আরও বলেন, ‘তীব্র আবহাওয়ার সময় আমাকে প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপর গাছটি পরীক্ষা করতে হয়। আর যদি প্রবল বাতাস বা বন্যা হয়, তাহলে আমরা সারা রাত জেগে থাকি। গাছটিকে এ কঠিন আবহাওয়া সহ্য করতে দেখে সত্যিই খুব কষ্ট লাগে।’

গত সপ্তাহে হুয়াংশানে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক সংলাপে ইতালি, জার্মানি, থাইল্যান্ডসহ ১০টি দেশের মেয়ররা অংশ নেন। সেখানে তাঁরা আরও টেকসই শহর গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

নেপালের পোখারা শহরের মেয়র ধন রাজ আচার্য বলেন, তাঁর শহরের সমস্যাগুলোর সঙ্গে হুয়াংশানের অনেকটাই মিল আছে।

ধন রাজ বলেন, ‘একটি নাজুক পাহাড়ি এলাকার মধ্যে পোখারার অবস্থান। তাই আমরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বৃষ্টিপাত, বন্যা, ভূমিধস এবং দ্রুত নগরায়ণের মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।’

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামলানো নিয়ে উদ্বেগে থাকা মেয়রদের কেউ কেউ হুয়াংশানের পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে চান। এর মধ্যে ছিলেন ইতালির গ্রাদারার মেয়র ফিলিপ্পো গাস্পেরি। তাঁর শহরের জনসংখ্যা মাত্র ৫ হাজার হলেও বছরে সেখানে ৫ লাখের বেশি পর্যটক আসে।

গাস্পেরি বলেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা।’

চীনের অন্যতম বিখ্যাত প্রাকৃতিক উদ্যান ইয়েলো মাউন্টেনে প্রতিবছর ভিড় করা লাখো পর্যটকের চাপ সামলাতে বিস্তৃত পরিসরে পর্যটন অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্বের কিছু শহরের কর্তৃপক্ষ আবার চীনের সড়কে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবস্থা অনুসরণ করতে চায়। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই আগ্রহ আরও বাড়ছে।

সান মারিনো-চীন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্বকারী আনা জিওর্জেটি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে যা সত্যিই অনুসরণ করতে চাই, তা হলো চীনের বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তির ব্যবহার।’

জিওর্জেটি বলেন, ইতালির অভ্যন্তরে অবস্থিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সান মারিনো সম্প্রতি চীনের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক যানবাহন নির্মাতা কোম্পানি বিওয়াইডির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। তিনি এটিকে সান মারিনোর জন্য একটি বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। -তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ, চীন

চীনের এক হাজার বছরের পুরোনো পাইনগাছ, যা ‘গেস্ট-গ্রিটিং পাইন’ নামে পরিচিত
চীনের এক হাজার বছরের পুরোনো পাইনগাছ, যা ‘গেস্ট-গ্রিটিং পাইন’ নামে পরিচিত। ছবি: চায়না ডিসকভারির ফেসবুক

ক্যালিফোর্নিয়ায় ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক, মামলা, অতঃপর...

মানবজমিনঃ ক্যালিফোর্নিয়ার এক স্কুলের এক সহযোগী বা এইড এক কিশোর ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের দায় স্বীকার করেছেন। এর ফলে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। সান ডিয়েগো এলাকার একটি হাই স্কুলে কাজ করার সময় ওই ছাত্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তাকে যৌনসঙ্গী করেন। ওই সহযোগী বা শিক্ষিকা ৩২ বছরের লিসেট ওর্তেগা ভেলেস। তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকার করেন, মার ভিস্তা হাই স্কুলের ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে অবৈধ মাত্রাহীন যৌন সম্পকে জড়িত ছিলেন। অ্যাটর্নি কার্যালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানিয়েছে এনবিসি ৭ সান দিয়েগো।

সান ডিয়েগো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, অভিযোগ ওঠে শিক্ষার্থীর এক সহায়ক বা এইড এক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িত। এরপর  ১৯ মে ইম্পেরিয়াল বিচ ক্যাম্পাসে পুলিশকে ডাকা হয়। তদন্তে উঠে আসে যে, ভেলেসের ওই ছাত্রের সঙ্গে বিকৃত সম্পর্ক প্রায় এক বছর ধরে স্কুলের বাইরে চালিয়ে আসছিলেন। তদন্তকারীরা বলেন, ভেলেস ওই ছাত্রকে কাউকে কিছু না বলতে চাপ দিতেন। ভেলেসকে নিয়োগ দিয়েছিল রো হেলথ নামের একটি তৃতীয় পক্ষের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

তারা স্কুল, প্রাইভেট নার্সিং হোম ও অন্য প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্স সরবরাহ করে। ২১ মে ২০২৫ ভেলেসকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে একাধিক যৌন অপরাধে মামলা করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে, অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে ওরাল সেক্স। অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্ক। অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে সাক্ষাতের আয়োজন।  অশ্লীল কাজের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যোগাযোগ। ভুক্তভোগীকে অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ভেলেসের সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ অক্টোবর ২০২৫, দক্ষিণ কাউন্টি কোর্টহাউস, চুলা ভিস্তায়। তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেতে পারেন। তবে দোষ স্বীকার চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির মেয়াদ উল্লেখ নেই- সাজা নির্ধারণ করবেন বিচারক।  রো হেলথ জানায়, তারা সম্পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে কর্মী নিয়োগ দেয় এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে রাখি। এসব অভিযোগ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি এবং যথাযথ তদন্ত ও প্রতিক্রিয়ার জন্য কাজ করছি।

mzamin

চাঁদে অভিযানের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন মাস্ক ও বেজোস, চীনকে কি টেক্কা দিতে পারবেন

প্রকাশ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষস্থানীয় ধনকুবের পাল্লা দিয়ে মহাকাশসংক্রান্ত গবেষণার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স চাঁদে একটি চন্দ্রঘাঁটি তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। আরেক ধনকুবের জেফ বেজোসের মালিকানাধীন সংস্থা ব্লু অরিজিন তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য জোরেশোরে তৎপরতা চালাচ্ছে।

২০৩০ সালে চীনের পরিকল্পিত চন্দ্রাভিযানের আগেই চাঁদে মানুষ পাঠানোর নিজস্ব লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছে মার্কিন এই দুই মহাকাশ সংস্থা।

ইলন মাস্ক সাম্প্রতিক পডকাস্ট সাক্ষাৎকার ও কোম্পানির বৈঠকে বলেন, তিনি চাঁদে ‘মুনবেজ আলফা’ নামে একটি ঘাঁটি গড়তে চান।

পাশাপাশি চাঁদের পৃষ্ঠে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণযন্ত্র বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ইলন মাস্কের। এই ঘাঁটি তাঁর পরিকল্পিত এআইভিত্তিক কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। ওই নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ ১০ লাখ পর্যন্ত স্যাটেলাইট যুক্ত থাকতে পারে।

চাঁদমুখী এই জোরালো পরিকল্পনা স্পেসএক্সের মঙ্গল গ্রহমুখী লক্ষ্য থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০০২ সালে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাস্ক নিয়মিতভাবে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের স্বপ্নের কথা বলে আসছিলেন। এমনকি গত গ্রীষ্মেও তিনি বলেছিলেন, মঙ্গলে মনুষ্যবিহীন একটি স্টারশিপ মহাকাশযান পাঠাতে চান।

অথচ ইলন মাস্ক এখন বিনিয়োগকারীদের বোঝাতে চাইছেন, স্পেসএক্স মহাকাশ খাতে আধিপত্য বজায় রাখবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় বেজোসের মহাকাশ কোম্পানি ব্লু অরিজিনও তাদের চন্দ্রাভিযানসংক্রান্ত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা চলতি বছর চন্দ্রপৃষ্ঠে মনুষ্যবিহীন যান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

চলতি বছর ব্লু অরিজিন চাঁদে মনুষ্যবিহীন নভোযান পাঠানোর যে পরিকল্পনা করছে, সেটিকে ভবিষ্যতে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নাসার ওই কর্মসূচি পরিচালনায় স্পেসএক্সের স্টারশিপ মহাকাশযানের ওপরও ব্যাপকভাবে নির্ভর করা হচ্ছে। সিয়াটলভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের চন্দ্রযানটিকে গত সপ্তাহে জনসন মহাকাশ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে উৎক্ষেপণের আগে চন্দ্রযানটি ঠিকঠাক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্স—দুটি প্রতিষ্ঠানই নাসার কোটি কোটি ডলারের অর্থায়নে চন্দ্রাভিযানের জন্য অবতরণ যান তৈরি করছে। নাসা এসব যান ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে চাঁদে নভোচারী পাঠাতে চায়, যার শুরু হবে স্পেসএক্সের স্টারশিপ দিয়ে।

প্রথম ১৯৬৯ সালে সফলভাবে চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছিল নাসা। এরপর ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তাদের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে মোট ১২ মার্কিন নভোচারী চাঁদের মাটিতে হেঁটেছিলেন।

নাসা মনে করে, আবার চাঁদে অভিযান চালানোটা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে।

ইলন মাস্ক সম্প্রতি বলেন, তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে চাঁদে একটি অবস্থান কেন্দ্র গড়তে চান এবং সেখান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে চান।

মহাকাশবিষয়ক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রোকিউরএএমের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু চানিন মনে করেন, চাঁদ যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথের সূচনা কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং স্পেসএক্স আগেভাগে সেখানে অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তবে সেই অবকাঠামো কীভাবে ব্যবহৃত হবে না হবে, তা ঠিক করতে তাদের অগ্রাধিকার থাকবে।

স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ যান স্টারশিপ রকেট এখনো কক্ষপথে কোনো কিছু স্থাপন করতে পারেনি। ২০২৩ সাল থেকে এটিকে ১১ বার উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরেকটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছে। রকেটটির ওপরের ধাপটি চাঁদে অবতরণ যান হিসেবে কাজ করবে। ২০২৮ সালে চাঁদে মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মহাকাশশিল্পে জড়িত অনেকের ধারণা, এই সময়সীমা পূরণ করা কঠিন হবে।

স্টারশিপকে চাঁদে অবতরণের যান হিসেবে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে স্পেসএক্সকে আরও অনেক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—কক্ষপথে আরেকটি ‘ট্যাংকার’ স্টারশিপের মাধ্যমে জ্বালানি ভরার পদ্ধতি অনুশীলন এবং মানুষের যাত্রার আগে চাঁদের অসমতল পৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণের সক্ষমতা প্রমাণ করা।

টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারশিপ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তদারকের দায়িত্বে থাকা ক্যাথি লুয়েডারস বলেন, স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে চাঁদের দিকে মাস্কের মনোযোগের বিষয়টি নাসাকে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সাহায্য করছে।

একসময় নাসায় কাজ করা লুয়েডারস বর্তমানে একজন শিল্পবিষয়ক স্বাধীন পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন।

মাস্ক ও বেজোসের মধ্যকার প্রতিযোগিতার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্রাভিযানে জড়িত নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

লুনার আউটপোস্ট নামের কোম্পানির প্রধান নির্বাহী জাস্টিন সাইরাস বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে ২০ বিনিয়োগকারী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।’

সাইরাসের প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে চাঁদে অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে একটি রোভারকে চন্দ্রপৃষ্ঠে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছরে চাঁদকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আর ইলনের (মাস্ক) ঘোষণায় বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-02-14%2F7tw6pvqc%2FMoon-1.jpg?rect=1%2C0%2C1119%2C746&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে আয়োজিত এক নৈশভোজে জেফ বেজোস, ইলন মাস্ক ও ইভাঙ্কা ট্রাম্প। ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

হাওরের তাজা মাছের দুই বেলার হাট by আকমল হোসেন

তখন বেলা পড়ে এসেছে। কালো রঙের চীনা হাঁসের মতো চিপচিপে গলা বাড়িয়ে তরতর করে জলের নালা পেরিয়ে আসছে একেকটি নৌকা। তাতে দু–একজন করে লোক। কেউ নৌকা বাইছেন, কেউ বসে আছেন। সব কটি নৌকাতেই কমবেশি মাছ। তাঁরা মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওর থেকে মাছ ধরে দিনের শেষে একটি অস্থায়ী ঘাটে ফিরছেন। সেখানে অপেক্ষায় মাছের পাইকার আর ক্রেতা।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ও আখাইলকুরা ইউনিয়নের সংযোগস্থল কাউয়াদীঘি হাওরপারের কালাইপুরা এলাকার একটি কালভার্টের ওপর এই হাট বসেছে। সকালে ও বিকেলে কাউয়াদীঘি হাওরে মাছ ধরে মৎস্যজীবীরা এ ঘাটে মাছ বিক্রি করতে আসেন। খুচরা মৎস্য ব্যবসায়ীরা ওখান থেকে পাইকারি দরে মাছ কিনে ছড়িয়ে পড়েন ছোট-বড় গ্রামীণ হাটের দিকে, শহরের দিকে। শ্রাবণ থেকে কার্তিক মাস—এ সময়ে এই অস্থায়ী হাট বসে। এখানে শুধু কাউয়াদীঘি হাওরের তাজা মাছই ওঠে।

কাউয়াদীঘি হাওরপারের গ্রাম কালাইপুরা। ওখানে গিয়েই দেখা মেলে এই হাটের। হাট বলতে সাধারণত যে চেহারাটা ধরে নেওয়া হয়, এ হাটে সে রকম কিছু নেই। এখানে শুধু ছোট ছোট বাঁশ–বেতের পাত্রে সাজিয়ে রাখা আছে মাছ। নৌকা থেকে মাছ নামানোর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় টানাটানি, দামাদামি। এবার পানি কম, মাছও কম। হাওরের মাছের চাহিদা বেশি থাকে, তাই দামটাও অনেক চড়া।

মাছ নিয়ে আসা কালাইপুরার মাসুম মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সকাল বেলা ৫০০ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। বিকেলে যে মাছ পেয়েছেন, তা হয়তো ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে করমউল্লাপুর কালভার্টে এই অস্থায়ী হাট বসছে। আগে এখানে কোনো হাট ছিল না। যাঁরা মাছ ধরতেন, তাঁরা নিজেরাই কাছের হাটবাজারে, নয়তো মৌলভীবাজার শহরে গিয়ে মাছ বিক্রি করতেন। অস্থায়ী হাট হওয়ায় এখানেই বেচে দেন।

এখানে যাঁরা মাছ নিয়ে আসেন, তাঁদের বেশির ভাগই কালাইপুরা গ্রামের। এটি মৎস্যজীবী–অধ্যুষিত একটি গ্রাম। দুই বেলাতেই এখানে এখন হাট বসে। রাতে যাঁরা হাওরে মাছ ধরেন, তাঁরা সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে এই ঘাটে মাছ নিয়ে আসেন। সকাল আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে বেচাকেনা শেষ, হাটও শেষ। দুপুরের পরে যাঁরা হাওরের দিকে মাছ ধরতে যান, তাঁরা বিকেল পাঁচটার দিকে হাটে আসেন। সন্ধ্যাতেই হাট শেষ। হাটে ছোট মাছই বেশি ওঠে। একদম তাজা মাছ, হাটে নিয়ে আসার পরও অনেক মাছ নড়াচড়া করে। পুঁটি, টেংরা, মলা, ভেদা, চান্দা–জাতীয় মাছই বেশি। মাঝেমধ্যে রুই–জাতীয় ছোট আকারের কিছু মাছ পাওয়া যায়। প্রতিদিন শুধু কালাইপুরা গ্রাম থেকেই অর্ধশতাধিক মানুষ হাওরে মাছ ধরতে যান। প্রতিদিন এই অস্থায়ী ঘাটে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হয়।

মো. আমির নামের এক ক্রেতা বলেন, তিনি প্রায়ই এখানে মাছের জন্য আসেন। এক হাজার টাকার ছোট মাছ কিনে বললেন, ‘হাওরের তাজা মাছের স্বাদই আলাদা।’

কালাইপুরা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এখানে হাট বসছে। আগে এখানে এ রকম বেচাবিক্রি হতো না। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ জন হাওরে মাছ ধরতে যান। তাঁরাই ঘাটে মাছ এনে বিক্রি করেন। সকাল ও বিকেলে হাট বসে। শ্রাবণ মাস থেকে হাট শুরু হয়েছে, কার্তিক মাস পর্যন্ত যত দিন হাওরে পানি থাকবে, তত দিন চলবে।’

সাজিয়ে রাখা হয়েছে হাওরের তাজা মাছ। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের করমউল্লাপুর কালভার্ট ঘাটে
সাজিয়ে রাখা হয়েছে হাওরের তাজা মাছ। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের করমউল্লাপুর কালভার্ট ঘাটে। ছবি: প্রথম আলো

ক্যানভাসে সাম্রাজ্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করা এক ইরানি শিল্পী by আশরাফুর রহমান

যখন পুরো শহরজুড়ে সাইরেনের আর্তনাদ প্রতিধ্বনিত হয় এবং সংবাদমাধ্যমের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বারুদের গন্ধ, তখন প্রতিটি বিবেকবান মানুষ নিজের মতো করে অস্ত্র তুলে নেয়। কেউ কাঁধে তুলে নেন রাইফেল, কেউ আবার তাক করেন ক্যামেরার লেন্স।

আর বিশ্বসাম্রাজ্যবাদের এই আগ্রাসী রূপের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এমন এক শিল্পী, যার অস্ত্র কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়—তার অস্ত্র হলো নিখুঁত কিছু রেখা, রং এবং বিশ্বরাজনীতিকে কাঁপিয়ে দেওয়া অত্যন্ত অর্থপূর্ণ ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গচিত্র।

ইরানের প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট সাইয়্যেদ মাসুদ শোজায়ি তাবাতাবায়ি ‘৪০ দিনের যুদ্ধ’ শুরুর প্রথম ভোরেই একটি নীরব প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, যে প্রতিজ্ঞার ভিত্তি ছিল শিল্প ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা।
তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যতদিন এই সংঘাতের আগুন জ্বলবে, ততদিন তিনি প্রতিদিন অন্তত একটি করে ক্যারিকেচার (ব্যঙ্গচিত্র) তৈরি করবেন। এই ছবিগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের আসল সত্য, পশ্চিমা মিডিয়ার একপেশে প্রচারণার জবাব এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের এক সৎ ও আপসহীন দলিল হিসেবে কাজ করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছোট ছোট ফ্রেমে বন্দি থাকা সেই উত্তাল দিনগুলোর গল্পই উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। বিশ্বসাম্রাজ্যবাদের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করা থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকে দিনরাত কার্টুন আঁকার প্রশিক্ষণ দেওয়া—সবই জড়িয়ে আছে এই শিল্পীর লড়াকু জীবনের সাথে।
এটি এমন এক স্রষ্টার দুনিয়ায় ঘুরে আসার গল্প, যিনি বিশ্বাস করেন যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সত্যকে টেনে বের করতে হলে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকে কখনো কখনো তীরের মতো তীক্ষ্ণ ও ধারালো হতে হয়।

ক্যানভাসের নীরব বৈপ্লবিক ঝড়
ডিজিটাল স্ক্রিনের ওপর দিয়ে স্টাইলাস (ডিজিটাল কলম) আলতো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবকিছু শুরু হয় একটিমাত্র কালো বিন্দু দিয়ে। সেই বিন্দুটি ধীরে ধীরে প্রাণ পেয়ে রেখায় রূপ নেয় এবং ফুটিয়ে তোলে একটি চেনা মুখের অবয়ব। ভেতরের চরিত্র আর উপাদানগুলো সব যার যার জায়গায় ঠিকঠাক বসে যায়; মনে হয় যেন ক্যানভাসে এখনই রঙ আর ব্যঙ্গের একটা বিস্ফোরণ ঘটতে যাচ্ছে। এই দৃশ্যের পরিচালক পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের কোনো জোরালো আওয়াজ বা প্রোপাগান্ডা নয়, বরং একজন শিল্পীর মন, যিনি তার কর্মশালার নীরবতার মাঝেই একটা বৈপ্লবিক ঝড় তুলে দিচ্ছেন।

হঠাৎ করেই রেখাগুলো একে অপরের সাথে জড়িয়ে যায় এবং স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ভাঙা শিংওয়ালা একটি ষাঁড়। এটি কোনো ফ্যান্টাসি দৃশ্য নয়, এটি বর্তমান ভূরাজনীতির একটি দীর্ঘস্থায়ী ও চাক্ষুষ রূপ। এই ৪০ দিনের মিডিয়া যুদ্ধের আসল চেহারা কী ছিল, তা যদি কেউ জানতে চায়, তবে তাকে এই শিল্পীর প্রতিদিনের কার্টুনগুলো দেখানোই যথেষ্ট। ইতিহাস যেন তাকে এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সাক্ষী হতে এবং তা স্মৃতির পাতায় ধরে রাখার জন্যই নির্বাচন করেছে। বাস্তবতা হলো, এই যুদ্ধের পরিধি সাধারণ খবরের চেনা ফ্রেমে তুলে ধরা যায় না; এই লড়াইকে দেখতে হবে তার কার্টুনের অতিরঞ্জিত রেখা, তেতো ব্যঙ্গ আর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সাহসী রঙের মধ্য দিয়ে।

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের আগুন জ্বলে ওঠার প্রথম দিন থেকেই এই পরিশ্রমী ও সচেতন কার্টুনিস্ট হাত গুটিয়ে বসে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কেবল একজন দর্শক বা সংবাদের নিস্পৃহ ভোক্তা হয়ে থাকতে চাননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞার মুহূর্তটি তুলে ধরে বলেন: ‘যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতেই আমি একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম: যদি আল্লাহ চান এবং কোনো বাধা না আসে, তবে আমি এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিন অন্তত একটি করে ব্যঙ্গচিত্র তৈরি ও প্রকাশ করব। আল্লাহর রহমতে, আজ পর্যন্ত আমি প্রায় প্রতিদিনই এটি করতে পেরেছি, এমনকি কোনো কোনো দিন একাধিক ছবিও এঁকেছি। এখন পর্যন্ত এই কাজের সংখ্যা ৮০টি ছাড়িয়ে গেছে।’

তবে এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে, যেখানে খবরের গতি আলোর চেয়েও দ্রুত, সেখানে প্রতিটি ঘটনার সাথে তাল মিলিয়ে চলা মোটেও সহজ কাজ নয়। তিনি বলেন, ‘এত এত ঘটনা আর একের পর এক সংবাদের জোয়ারে কখনো কখনো সত্যিই কিছুটা পিছিয়ে পড়তে হয়। খবরের গতি অত্যন্ত তীব্র, তবে আমি চেষ্টা করি প্রতিদিনের এই পরিবর্তনের অন্তত একটি ভিজ্যুয়াল বর্ণনা তুলে ধরতে।’

ছবি দিয়ে সত্য উন্মোচন
কার্টুনের দুনিয়ায় রেখাগুলো কেবল মানুষকে হাসানোর জন্য আঁকা হয় না। কখনো কখনো একটি সাধারণ খসড়া ছবিও একটি বিশ্বসাম্রাজ্যের মিডিয়া একাধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। শোজায়ি তাবাতাবায়ি তার এই কার্টুনগুলোকে ‘মুখোশ উন্মোচনের ভাষা’ হিসেবে দেখেন। পর্দার আড়ালে কী ঘটছে তা প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তায় তিনি বিশ্বাস করেন: ‘আমাদের কাজ হলো এটা দেখানো যে বাস্তবে কী ধরনের অপরাধ ঘটছে, এর পেছনে কারা রয়েছে এবং সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক খবরের আড়ালে কোন সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ লুকিয়ে রাখা হচ্ছে।’

যখন তার কার্টুনের নিয়মিত চরিত্রগুলো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়, তখন দুটি নাম সবচেয়ে বেশি সামনে আসে: ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি এই দুজনকে ‘আগ্রাসী ও যুদ্ধবাজ নীতির প্রতীক’ মনে করেন। তাবাতাবায়ি বলেন, ‘আজ নেতানিয়াহুকে কার্যত একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চেনে সবাই। অন্যদিকে ট্রাম্পও একজন জটিল ব্যক্তিত্ব—যার বিরুদ্ধে অসংখ্য আইনি মামলা রয়েছে। এই চরিত্রগুলো ব্যঙ্গচিত্রের জন্য খুবই উপযোগী, কারণ তারা একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে পরিচিত, অন্যদিকে তেমনি একবিংশ শতাব্দীর কুৎসিত রাজনৈতিক আচরণের প্রতীক।’

ভাঙা শিংয়ের ষাঁড় এবং ‘মেড ইন চায়না’ পতাকা
একজন সাধারণ মানুষ যেভাবে পৃথিবীকে দেখে, এই শিল্পী দেখেন তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে। নিজের সাম্প্রতিক একটি বহুল প্রচারিত (ভাইরাল) কাজের কথা উল্লেখ করে শোজায়ি তাবাতাবায়ি বলেন: ‘আমি একটি ছবি এঁকেছিলাম যেখানে ট্রাম্পকে একটি আহত ষাঁড় হিসেবে দেখানো হয়েছে—যার একটি শিং ভাঙা এবং ব্যান্ডেজ করা। ষাঁড়ের শরীরের দাগগুলোকে আমি পৃথিবীর মানচিত্র হিসেবে ব্যবহার করেছি। সাধারণত বলা হয় গরুর প্রতিটি অংশই উপকারী, কিন্তু এখানে এটিকে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ও পরাজিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কাজটি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার শিল্পীদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পায়।’

ক্ষমতার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তার ব্যঙ্গাত্মক রূপটি মাঝেমধ্যে বেশ নিষ্ঠুর ও রূপক হয়ে ওঠে। আরেকটি কাজে তিনি উদীয়মান পরাশক্তি চীনের সামনে মার্কিন নেতৃত্বকে ক্ষুদ্র ও অসহায় হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন: “এক সময় তারা চীনের সাথে হুমকির ভাষায় কথা বলত, কিন্তু আজ তারা এমন এক অবস্থানে আছে যেখানে তাকে অন্যের কাছে এক ধরনের মরিয়া ভাব নিয়ে যেতে হয়। ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের হাতে একটি বিশাল চীনা পতাকার সামনে আমেরিকার একটি ছোট্ট পতাকা রয়েছে। আর সবচেয়ে মজার ব্যঙ্গাত্মক বিষয় হলো, ট্রাম্পের হাতের ওই ছোট্ট পতাকাটিতেও লেখা ‘মেড ইন চায়না’!”

ব্রাজিল থেকে তেহরান: বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নেটওয়ার্ক
শোজায়ি তাবাতাবায়ির এই ব্যঙ্গচিত্রগুলোর বার্তা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আটকে থাকেনি। তিনি আন্তর্জাতিক শিল্পীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত, যারা কার্টুনকে কেবল বিনোদন হিসেবে নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি নৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখেন।

বিদেশি কার্টুনিস্টদের সাথে তার সুগভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি ব্রাজিলের একজন শিল্পীকে নিয়ে একটি চমৎকার স্মৃতি চারণ করেন: “ব্রাজিলের একজন বিখ্যাত কার্টুনিস্ট ছিলেন যিনি আমাদের একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিচারক হিসেবে ইরানে এসেছিলেন। তিনি তেহরানের ১০ লাখ মানুষের সেই বিশাল সমাবেশে অংশ নেন এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সেই গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ইরানি সংস্কৃতির একজন প্রকৃত দূত হয়ে ওঠেন! তিনি বলতেন, ‘যারা নিপীড়কদের হয়ে কাজ করে, তাদের আমরা কার্টুনিস্ট বলেই গণ্য করি না; যার বাস্তবতার সঠিক বোধ ও পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই, সে পেশাদার কার্টুনিস্টদের দলের মধ্যেই পড়ে না’।”

শোজায়ি এবং তার সমমনা বন্ধুদের কাছে ভার্চুয়াল জগৎ—বিশেষ করে ফেসবুক—একটি ‘নরম যুদ্ধ’ বা ‘সফট ওয়ার’ রুমে পরিণত হয়েছে। যখন বিশ্বখ্যাত কোনো ব্যক্তিত্ব এই ছবিগুলো শেয়ার করেন, তখন সেটি হাজার হাজার বার ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি মনস্তাত্ত্বিক দলিল হয়ে ওঠে।

ক্যানভাসে অশ্রু: মিনাবের শহীদদের গল্প
সব ব্যঙ্গচিত্র মানুষকে হাসানোর জন্য নয়; কখনো কখনো এটি এমন এক আয়না হিসেবে কাজ করে যা সত্যকে প্রতিফলিত করে বুকের ভেতর এক গভীর বেদনা তৈরি করে। বেসামরিক ভুক্তভোগী ও শিশুদের নিয়ে তৈরি করা ছবির প্রসঙ্গে আসতেই শোজায়ি তাবাতাবায়ির কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে ওঠে। সাম্রাজ্যবাদের এই নিষ্ঠুর আগ্রাসনের চিত্রকর নিজেও এর মানসিক আঘাত থেকে রেহাই পাননি। অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন:
“মিনাবের শহীদদের জন্য আমি যে ছবিটি এঁকেছিলাম, তা গভীর ভালোবাসা আর তীব্র বেদনা থেকে তৈরি হয়েছিল। কাজটা করার সময় আমি সত্যিই কাঁদছিলাম। আপনি যখন এমন শিশুদের ছবি আঁকেন যারা যুদ্ধের শিকার হয়েছে, অথচ একই সাথে ছবিতে তাদের মর্যাদা ও নির্দোষ ভাবটা ফুটিয়ে তোলেন, তখন সেই কাজটা আর কেবল কার্টুন থাকে না; তা একটি আবেগঘন দলিলে পরিণত হয়। আমি বিশ্বাস করি, কোনো কাজ যখন হৃদয় থেকে আসে, তখন তা অন্যের হৃদয়েও জায়গা করে নেয়।”

কোমে মধ্যরাতের ক্লাস: পেন্সিল ও কাগজের এক নতুন বাহিনী
তবে এই লড়াই কেবল একজন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরানের পবিত্র কোম শহরে শোজায়ি তাবাতাবায়ি রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত জেগে তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যারা আগামী দিনে এই দেশের ও সময়ের সত্যগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে। সেখানে এক দারুণ সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে; শিশু, কিশোর ও তরুণরা এসে তাদের চারপাশের বেদনা ভাগ করে নেয় এবং এই গভীর কথোপকথন থেকেই নতুন নতুন কার্টুনের আইডিয়া জন্ম হয়।

গর্বের সঙ্গে তিনি বলেন, “আমার কিছু শিক্ষার্থী এখন এত ভালো কাজ করছে যে আমি তাদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিই। আজকের যুগে যখন রাজনীতিবিদরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ঝকঝকে প্রচারণার ওপর নির্ভর করছেন, তখন ব্যঙ্গচিত্র কোনো সীমান্ত না মেনেই মানুষের মনে পৌঁছে যাচ্ছে খুব সহজেই।”

এ প্রসঙ্গে শোজায়ি তাবাতাবায়ি বলেন, “আমি এই দিনগুলোতে আমার সব শক্তি ব্যয় করছি, যেন প্রতিদিন অন্তত একটি কাজ তৈরি হয়, যা একই সঙ্গে গল্প, সচেতনতা এবং শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে। আশা করি, এই কার্টুনগুলো সত্য তুলে ধরতে এবং শোকাহত মানুষের হৃদয়ে সামান্য হলেও সান্ত্বনা দিতে পারবে।”

যতদিন অন্যায় ও সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য থাকবে, ততদিন এই শিল্পীদের ক্যানভাসে আঁকা রেখাগুলো কখনো বিশ্রাম পাবে না। তারা তাদের তুলি ও কলমকে তীক্ষ্ণ করেছেন যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস কেবল অস্ত্রধারী বিজয়ীদের মুখ থেকেই না শোনে, বরং সত্যের আসল রূপটি দেখতে পায়।

ক্যানভাসে সাম্রাজ্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করা এক ইরানি শিল্পী
সাইয়্যেদ মাসুদ শোজায়ি তাবাতাবায়ির ব্যঙ্গচিত্র ‘বৈশ্বিক সংকট: একটি গরু, হাজার সমস্যা!

বসতঘরের ভেতর গাছে ঝুলছে কাঁঠাল!

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামে দেখা মিলেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। একটি বসতঘরের বারান্দার মাঝখান দিয়ে উঠে গেছে কাঁঠাল গাছ, আর সেই গাছেই ধরেছে একাধিক কাঁঠাল।

প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন কৌতূহলী মানুষ।

দেখা যায়, বাড়ির বারান্দার ভেতর দিয়েই উঠে গেছে কাঁঠাল গাছের কাণ্ড।
আর সেই গাছের সঙ্গে ঝুলছে কয়েকটি কাঁঠাল। ঘরের ভেতর থেকেই ফল ধরার এমন দৃশ্য স্থানীয়দের কাছে বেশ বিস্ময়কর হয়ে উঠেছে।

বাড়ির মালিক সেলিম চাপরাসি জানান, ছোটোবেলা থেকেই তিনি গাছপালা ভালোবাসেন। একসময় তার স্ত্রী কাঁঠাল খাওয়ার পর বিচি বারান্দার পাশে ফেলে দেন।
সেখান থেকে একটা চারা গজিয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে গাছটি বড়ো হয়ে ফল দিতে শুরু করে। পরে বাড়ির বারান্দা নির্মাণের সময় গাছটি কেটে ফেলার সুযোগ থাকলেও মায়ার টানে সেটি সংরক্ষণ করেন তিনি।

সেলিম চাপরাসি বলেন, “গাছ ও ফলের প্রতি ভালোবাসার কারণেই এটি কেটে ফেলিনি বরং গাছের কোনো ক্ষতি না করে বারান্দার গ্রিল ও অন্যান্য নির্মাণকাজ করেছি। এখন ঘরে বসেই গাছে ফল ধরার দৃশ্য দেখতে পাই।”

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত বসতঘরের এত কাছাকাছি বড়ো ফলজ গাছ খুব কমই দেখা যায়। পরিবারের পরিবেশ সচেতনতা ও গাছের প্রতি ভালোবাসার কারণেই গাছটি আজও টিকে আছে। এটি এখন শুধু ফলই দিচ্ছে না, বাড়ির সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলেছে।

এলাকাবাসীর মতে, আধুনিক নির্মাণের যুগে যেখানে গাছ কেটে ফেলার প্রবণতা বাড়ছে, সেখানে সেলিম চাপরাশির পরিবার প্রকৃতি সংরক্ষণের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন তারা।

বসতঘরের ভেতর গাছে ঝুলছে কাঁঠাল!

মন খারাপের সময় অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

প্রেম ভাঙা, মন খারাপ বা মানসিক চাপ, এ ধরনের আবেগঘন মুহূর্তে অনেকেই অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েন। পিৎজা, বার্গার, চিপস, পেস্ট্রি কিংবা ভাজাভুজির মতো খাবার তখন দ্রুত সান্ত্বনার উৎস হয়ে ওঠে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভ্যাস শরীর ও মনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক পুষ্টি মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
ভিটামিন, মিনারেল ও স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, তেমনি অতিরিক্ত চিনি ও ফাস্টফুড উদ্বেগ ও অবসাদ বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ কৌশলের পরামর্শ দিয়েছেন, যা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৫ সেকেন্ডের বিরতি নিন

মন খারাপের সময় চিপস বা ভাজাভুজি খেতে ইচ্ছা হলে আগে ৫ সেকেন্ড থামুন।
নিজেকে প্রশ্ন করুন, আসলেই কি ক্ষুধা পেয়েছে, নাকি এটি শুধু আবেগের কারণে খাওয়ার ইচ্ছা? এই ছোট বিরতিই অনেক সময় অভ্যাস ভাঙতে সাহায্য করে।

নিয়মিত খাবারের অভ্যাস বজায় রাখুন

মন খারাপ থাকলেও সময়মতো সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার খাওয়া জরুরি। এই সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখার চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও সাইট্রাস জাতীয় খাবার মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। কারণ, ভিটামিন সি, ডি, জিঙ্ক ও ফোলেটের মতো উপাদান মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অস্বাস্থ্যকর খাবার দূরে রাখুন

চিপস, চানাচুর, পিৎজা বা ভাজাভুজি হাতের কাছে থাকলে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই এগুলো সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গা থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। পরিবর্তে বাদাম, শুকনো ফল, মাখানা, ঘরে তৈরি হালকা স্ন্যাকস বা ঝালমুড়ির মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প রাখা যেতে পারে।

শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটি

নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। হাঁটা, যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সকালে খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাঁটা মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। ব্যায়ামের সময় শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা হলে পানি পান করুন এবং নিজেকে কিছু সময় দিন। ১০ মিনিট দেরি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসও কার্যকর হতে পারে। এই সময়ে পছন্দের কোনো কাজে মনোযোগ দিলে মন অন্যদিকে সরে যায় এবং খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতন জীবনযাপনই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

মন খারাপের সময় অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে