Sunday, August 7, 2011

হোয়াইটওয়াশ দেখছেন বোথামও

প্রথম দুই টেস্টে হার, পরের দুটির একটিতে হারলেই সিরিজের সঙ্গে শীর্ষস্থানটাও বেহাত হয়ে যাবে। সিরিজ বাঁচাতে ও এক নম্বর জায়গাটা ধরে রাখতে মরিয়া ভারত দেশ থেকে উড়িয়ে নিয়েছে ওপেনার বীরেন্দর শেবাগকে। শেবাগকে উড়িয়ে আনতে পারে, কিন্তু এতেও ভারতের উদ্ধার দেখছেন না ইয়ান বোথাম। ভারতের হোয়াইটওয়াশই দেখছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক।
‘আমি তো ৪-০ না হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। টেস্ট সিরিজে ভারতকে কেন হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে না ইংল্যান্ড? আমার চোখে তো এটা আটকানোর মতো কিছু দেখি না। ভারতের যে ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইনআপ, তাতে আটকানোর কথা নয়’—দ্য ডেইলি মিররকে বলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার।
শেবাগকে উড়িয়ে আনার সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য বুমেরাং হবে বলেই মনে করেন বোথাম, ‘শেবাগ এসে সরাসরি গম্ভীরের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করবে। ভারত যদি মনে করে থাকে এতেই তাদের ভাগ্য ঘুরে যাবে, তাহলে বিষয়টি আবার চিন্তা করে দেখা উচিত। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট না খেলেই ইংল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচে ওপেন করা, পার্কে হাঁটতে যাওয়া ছাড়া আর কিছু নয়!’ ওয়েবসাইট।
ভারতের ব্যাটিংয়ের বাজে অবস্থার কথা বলতে গিয়ে বোথাম প্রশংসা করেছেন রাহুল দ্রাবিড়ের। বোথাম বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডে সফল হওয়ার মতো টেকনিক এবং লড়াই ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একমাত্র দ্রাবিড়ই দেখাতে পেরেছে। আমি লক্ষ্মণ বা টেন্ডুলকারের মতো খেলোয়াড়দের মান নিয়ে সন্দেহ করছি না। তবে তারা প্রতিভার সামান্য বিচ্ছুরণই দেখাতে পেরেছে।’
ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করতে পরের টেস্টেও আগের একাদশটাই রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বোথাম।

বৃষ্টির সঙ্গে আনন্দ-বরিষণ

ম্যাচ শেষ। মাঠের একপাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে অর্চনা দাস। হাতে এক গোছা ফুলের তোড়া। অপেক্ষায়—কখন ভাঙবে উৎসব। উৎসব কি আর থামে? ভর বৃষ্টির মধ্যেও তাই ভিজে জবজবে হয়ে অপেক্ষায় আবাহনী অধিনায়কের জন্য। স্বামী প্রাণতোষ দাসকে যে সবার আগে শুভেচ্ছা জানাতে হবে! মিডিয়ার ভিড় ঠেলে ঠিকই ফুলের তোড়া নিলেন প্রাণতোষ। কিন্তু পরক্ষণেই মিশে গেলেন সতীর্থদের ভিড়ে, আনন্দ অবগাহনে। শুধু অর্চনা দাসই নন, কাল পুরো আবাহনী পরিবার এই ট্রফিটির অপেক্ষায় ছিল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে হারিয়ে কোটি টাকার সুপার কাপ জেতার সুযোগ তো অবিরল নয়!
সারা দিন থেমে থেমে বৃষ্টি। টাইব্রেকার শুরুর সময়টাতেও বৃষ্টি। নাটকীয় টাইব্রেকারে লিঙ্কন শেষ গোলটা দিতেই ভোঁ-দৌড়। স্টেডিয়ামের লোহার বেড়া টপকে একদল আবাহনী-সমর্থক মাঠের মধ্যে। পুলিশের লাঠিপেটাও তাদের দমাতে পারেনি।
বরদুলই ট্রফি দিয়ে মৌসুম শুরু করে আবাহনী ফেডারেশন কাপ জিতেছে। লিগ জেতা হয়নি হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নদের। এই টুর্নামেন্টটা তাই চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছিলেন আবাহনীর খেলোয়াড়েরা। অধিনায়ক প্রাণতোষ যেমন বললেন, ‘এই জয়টা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার। আমাদের লক্ষ্যই ছিল এবার সুপার কাপ ঘরে নেব। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। লিগে ভালো ফল করতে পারিনি বলে সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ছিল। হতাশা ঘোচানোর সুযোগ খুঁজছিলাম। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছি।’
ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপুু দারুণ উচ্ছ্বসিত, ‘ভারতের বরদুলই ট্রফি জিতে শুরু করেছিলাম। পরে জিতি ফেডারেশন কাপ। কিন্তু লিগের শেষ পর্যায়ে এসে কক্ষ্যচ্যুত হয়েছিলাম। সবার প্রতিজ্ঞামতো সুপার কাপ জিতে প্রমাণ করেছি, আমরাই সেরা।’
কোচ অমলেশ সেন অবশ্য রেফারিং নিয়ে অসন্তুষ্ট, ‘রেফারিং ভালো হয়নি। লাল কার্ডের ঘটনার সময়কার গোলটা আমাদের দেওয়া উচিত ছিল।’ কিন্তু ২-১ পিছিয়ে থেকেও যে হাল ছাড়েননি বললেন সেটাও, ‘কোনো সময় মনে হয়নি ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আমরা কখনো খেলা ছাড়িনি।’
আবাহনীতে যখন আনন্দযজ্ঞ, মোহামেডানে শ্মশানের নীরবতা। বদলি গোলরক্ষক তিতুমীর বসে কাঁদছিলেন। তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন সতীর্থ ভাসানি। ভাসানির কাঠগড়ায় বিদেশিরা, ‘বিদেশি খেলোয়াড়দের ভুলেই আমরা হেরেছি। আমাদের দুর্ভাগ্য। অথচ আমাদের গোলকিপার অ্যাডভেন্টাজ করেছে। সেভ করেছে।’ অধিনায়ক হাসান আল মামুন দুষলেন ভাগ্যকে, ‘১০ জন হয়ে যাওয়ার পর আমাদের টার্গেট ছিল টাইব্রেকারে কিছু করব। দুর্ভাগ্য, টাইব্রেকারে হেরে গেছি। তার পরও সবাইকে অভিনন্দন।’
এমন ভাঙাচোরা দল নিয়েও সুপার কাপের ফাইনালে ওঠাটাও কম নয় বলে মনে করেন কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। তাঁর চোখে আল হাসানের লাল কার্ড দেখাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট, ‘যেসব সুযোগ পেয়েছি, সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। পেনাল্টিতে অ্যাডভান্টেজ পেয়েও ধরে রাখতে পারিনি।’ গোলরক্ষক আল হাসানই যে ডুবিয়েছেন, সেটা বলতেও দ্বিধা নেই, ‘ওর শতভাগ রেড কার্ড পাওনা। ওই রেড কার্ডই ছিল আমাদের টার্নিং পয়েন্ট।’

ওটিসি বাজারে দুই সপ্তাহে পাঁচটি কোম্পানির লেনদেন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) বাজারে গত ১৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনকৃত শেয়ারের পরিমাণ আট হাজার ৯০০টি, যার দাম নয় লাখ ১৫ হাজার ১৫০ টাকা।
ডিএসই থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওটিসি বাজারে তালিকাভুক্ত ৬৮টি কোম্পানির মধ্যে পাঁচটির লেনদেন হলেও মোট ২৩টি কোম্পানির শেয়ারের বিক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাকি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ক্রেতা না থাকায় লেনদেন হয়নি।
লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে অ্যাপেক্স উইভিং লিমিটেডের লেনদেনের পরিমাণ আট লাখ ২০ হাজার ২০০ টাকা, গচিহাটা অ্যাকুয়াকালচারের লেনদেনের পরিমাণ ১৩ হাজার টাকা, পদ্মা সিমেন্ট মিলসের নয় হাজার ৯৫০ টাকা, মিতা টেক্সটাইলের ২৪ হাজার টাকা ও গলফ ফুডের ৪৮ হাজার টাকা লেনদেন হয়।
এই সময়ে বিক্রয়াদেশ দেওয়া কোম্পানিগুলো হলো আল-আমিন কেমিক্যালস, অ্যাপেক্স উইভিং, আশরাফ টেক্সটাইল, বেমকো লিমিটেড, ডাইনামিক টেক্সটাইল, ঈগল স্টার, গচিহাটা অ্যাচুয়াকালচার, গলফ ফুডস, লেক্সকো, ম্যাক এন্টারপ্রাইজ, ম্যাক পেপার, এম হোসেইন গার্মেন্টস, মিতা টেক্সটাইল, মডার্ন সিমেন্ট, পদ্মা সিমেন্ট, পারফিউম কেমিক্যালস, ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনাল, কাশেম সিল্ক, রাঙ্গামাটি ফুড, রোজ হ্যাভেন বল পেন, সালেহ কার্পেট, শ্রীপুর টেক্সটাইল ও ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েস।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে ওটিসি নামের বিকল্প বাজার চালু করা হয়। দুর্বল মৌলভিত্তি ও মন্দ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের জন্যই এটি চালু হয়। ওই বাজার চালু হওয়ার পর একই বছর ৪ অক্টোবর এসইসি প্রথমে ‘জেড’ শ্রেণীভুক্ত ৫১টি কোম্পানিকে মূল বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করে লেনদেনের জন্য ওটিসি বাজারে পাঠায়।
এরপর ২০১০ সালে দুই দফায় মোট ২৯ কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে ওটিসি বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০টি।
পরবর্তী সময়ে বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ায় সেটি মূল বাজারে ফিরে আসে। এতে ওটিসি বাজারে কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৯টি। পরে আরও ১০ কোম্পানিকে মূল বাজারে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এসইসি।

তারাবির নামাজ আদায়ের ফজিলত by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

রমজান মাসের রাতে এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে ১০ সালামে যে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, একে তারাবির নামাজ বলা হয়। আরবি ‘তারাবিহ’ শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন’ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। ইসলামের পরিভাষায় মাহে রমজানে তারাবির নামাজ পড়াকালীন প্রতি দুই রাকাত অথবা চার রাকাত পর পর বিশ্রাম করার জন্য একটু বসার নামই ‘তারাবি’। মাহে রমজানে রোজাদার সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রেখে ক্লান্ত হয়ে যান। তারপর রাতে এশা ও তারাবির নামাজ দীর্ঘ সময় ধরে পড়তে হয়। সেই কারণে দীর্ঘ নামাজের কঠোর পরিশ্রম লাঘব করার জন্য প্রতি দুই রাকাত, বিশেষ করে প্রতি চার রাকাত পর একটু বসে বিশ্রাম করতে হয় এবং দোয়া ও তাসবিহ পাঠ করতে হয়। এ জন্য এই নামাজকে ‘সালাতুত তারাবিহ’ বা তারাবির নামাজ বলা হয়।
রমজান মাসের নির্দিষ্ট নামাজ হচ্ছে সালাতুত তারাবিহ। তারাবির নামাজ হলো রোজার গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। রমজান মাসে তারাবির নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ কোরআন শরিফ একবার খতম করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তারাবির নামাজ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এ নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা বেশি সওয়াবের কাজ। তবে ঘরেও আদায় করা যেতে পারে। এ নামাজে কোরআন শরিফ খতম করা অধিক সওয়াবের কাজ। তবে সূরা-কিরাআতের মাধ্যমে আদায় করলেও নামাজের সব সওয়াবই পাওয়া যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তারাবির নামাজের জন্য রাতের কোনো বিশেষ সময়কে নির্দিষ্ট করে দেননি। তবে তারাবির নামাজ অবশ্যই এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে আদায় করতে হবে। নবী করিম (সা.) এ নামাজ বেশির ভাগ সময় রাতের শেষাংশে আদায় করতেন এবং প্রথমাংশে বিশ্রাম নিতেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করেছেন। তিনি কখনো ৮ রাকাত, কখনো ১৬ রাকাত, আবার কখনো ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করেছেন। কিন্তু বিশেষ কারণবশত নিয়মিত ২০ রাকাত পড়তেন না। কেননা নবী করিম (সা.) কোনো কাজ নিয়মিত করলে তা উম্মতের জন্য ওয়াজিব তথা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে যায়। এ করুণা দৃষ্টির কারণে তিনি তাঁর আমলে প্রতিনিয়ত ২০ রাকাত পূর্ণ তারাবির জামাত হতে দেননি। যার দরুন সালাতুত তারাবিহ সুন্নত, ওয়াজিব নয়; তবে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা জরুরি সুন্নত। ২০ রাকাত তারাবির নামাজ হওয়ার সপক্ষে সহিহ হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে ‘নবী করিম (সা.) রমজান মাসে বিনা জামাতে (একাকী) ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করতেন, অতঃপর বিতর নামাজ পড়তেন।’ (বায়হাকি)
মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর তারাবির নামাজ ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকেনি। তাই তারাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব হজরত ওমর (রা.)-এর আমলে কার্যকর হয়। ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) ও দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালেও তারাবির নামাজ ২০ রাকাত পড়া হতো। হজরত ওমর (রা.) মসজিদে নববীতে সাহাবিদের খণ্ড খণ্ড জামাতে ও একাকী তারাবির নামাজ পড়তে দেখে সবাই মিলে এক জামাতে তারাবি পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে সাহাবিদের ইজমা দ্বারা মূলত রমজান মাসের মধ্যে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করার রীতির প্রচলন হয়।
তারাবির নামাজের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে পুণ্য লাভের আশায় রমজানের রাতে তারাবির নামাজ আদায় করেন, তাঁর অতীতকৃত পাপগুলো ক্ষমা করা হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম) মাহে রমজানে রোজা, তারাবির নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদতের দরুন আল্লাহ তাআলা রোজাদার ব্যক্তির আগের সব গুনাহ মাফ করে দেন। এ মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে সওয়াব প্রাপ্তির আশায় রোজা রাখেন, তারাবির নামাজ পড়েন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করেন, তাঁর জীবনের আগের সব গুনাহ মাফ করা হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা তারাবির নামাজ আদায় করতেন। তবে তিনি মাত্র চার রাত তারাবির নামাজ জামাতে পড়েছিলেন আর কখনো তিনি তারাবির নামাজ জামাতে পড়েননি। কারণ নবীজি মনে করেছিলেন যে যদি তিনি সর্বদা জামাতে তারাবির নামাজ আদায় করেন, তাহলে তাঁর উম্মতেরা ভাববেন যে হয়তো এই তারাবির নামাজ ফরজ। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই রাতে ২০ রাকাত করে তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন। তৃতীয় রাতে লোকজন জমা হলেও রাসুলুল্লাহ (সা.) উপস্থিত হননি। পরদিন সকালে তিনি ইরশাদ করলেন, ‘আমি তোমাদের ওপর তারাবির নামাজ ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছি। তখন তো তা তোমাদের জন্য কষ্টকর হবে।’ তাই ইচ্ছাকৃত ও নিয়মিত নয়, বরং দৈহিক বা মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে ২০ রাকাত অথবা ৮ রাকাত তারাবির সুন্নত নামাজ পড়ার সুযোগ আছে।
তারাবির নামাজের কিয়াম হলো আল্লাহর রাস্তায় আরামকে হারাম করে কঠোর পরিশ্রম করার শপথ অনুষ্ঠান। তারাবির নামাজের প্রতিটি মুহূর্ত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত শ্রবণ ও আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে, জীবনে সফলকাম হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রমের শপথ নিতে হবে। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজাগুলো ফরজ করেছেন এবং এর রাতে তারাবির নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হওয়াকে অশেষ পুণ্যের কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।’
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

বিচারপতি মতিনের রায় কার্যকর হোক-সুপ্রিম কোর্ট পরিস্থিতি

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিরসনে আশু দরকার সংযম ও সহনশীলতা। আদালতকক্ষে যাঁরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন, তাঁদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তবে তা হওয়া উচিত নিরপেক্ষভাবে, ক্ষমতাসীন দলের শক্তির বাতাবরণে নয়। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযান চালাল, তার কি বিকল্প ছিল না?
সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মারা হয়েছে। তাঁর এজলাসসহ সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। বিশিষ্ট আইনজীবীদের তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহের দায়েও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আবার এর আড়ালে প্রকৃতপক্ষেই ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিচার বাধাগ্রস্ত করার ঘটনাও ঘটেছে। সুতরাং আজকের সুপ্রিম কোর্টের যে পরিস্থিতি, তার একটা অশুভ পরম্পরা রয়েছে।
আমরা যারপরনাই বিচলিত যে দলীয় স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে যেমন পুলিশ বিভাগ ও জনপ্রশাসনকে দূষিত হতে দেখেছি, তেমনই অশুভ চিন্তার দংশনে বিচার বিভাগও বিপর্যস্ত। এর প্রতিকারে সর্বাগ্রে প্রয়োজন উভয় দলের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের আত্মসমালোচনা এবং সহনশীলতার মনোভাব নিয়ে কাজ করা। পুলিশি শক্তি প্রতিষেধক নয়।
আমরা বহু বছর ধরে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে দেওয়া বিচারপতি এম এ মতিনের (বর্তমানে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান) দেওয়া রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন দাবি করে চলেছি। ওই রায় অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে কোনো ধরনের দলবাজি ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। যদিও বড় দুই দলের ব্যানারে প্রায় নিয়মিতই বিচার বিভাগবহির্ভূত বিষয়ে মিছিল, সভা-সমাবেশ হয়ে চলেছে। বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী-সমর্থক হিসেবে পরিচিত আইনজীবীদের হাইকোর্টে আইন পেশার অনুশীলন থেকে নিবৃত্ত করা হয়েছিল। এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটল। তবে আমরা মনে করি, থানা পুলিশকে না টেনে পেশাগত অসদাচরণের দায়ে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে আশা করব, বার ও বেঞ্চের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক বজায় রাখতে সমঝোতা হবে। কিন্তু সমঝোতার মানে যেন প্রকৃত দোষীদের পার পাওয়া না হয়।
গত ২ আগস্ট আদালতের ঘটনা আকস্মিক ছিল না। মুফতি আমিনীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রিট দায়ের হওয়ার পরই আদালত অঙ্গনে, বিশেষ করে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা আঁচ করেন যে বিষয়টিতে বেগম খালেদা জিয়াও জড়িত হয়ে পড়ছেন। রিটের শুনানির আগেই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি একটি বৈঠক ডাকতে উদ্যোগী হয়, যার অন্যতম এজেন্ডা ছিল ‘জনৈক বিচারকের বিচারকসুলভ’ আচরণ প্রসঙ্গে। শেষ পর্যন্ত সমিতির বৈঠকে ওই এজেন্ডা অনিষ্পন্ন থাকলেও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি। কয়েকজন আইনজীবী গ্রেপ্তার হওয়া, আদালত অঙ্গন পুলিশ-বেষ্টিত থাকা এবং গ্রেপ্তার এড়াতে একজন আইনজীবী সমিতি অফিসে অবস্থান নেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
খালেদা জিয়া ও আমিনীর অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক। কিন্তু আদালত সেটা মনে রেখেছিলেন বলে প্রতীয়মান হয় না। বার ও বেঞ্চের মধ্যে সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আমরা বিচারপতি মতিনের রায় বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অবিলম্বে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানাই।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ‘মি. বিন’

খ্যাতিমান ব্রিটিশ কৌতুকাভিনেতা ‘মি. বিন’ খ্যাত রোয়ান অ্যাটকিনসন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজশায়ার কাউন্টির হাডন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ব্রিটিশ জরুরি বিভাগ সূত্র গতকাল শুক্রবার জানায়, অ্যাটকিনসন নিজের সুপার কার ম্যাকলারেন এফ-১ চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে গিয়ে রাস্তার পাশের গাছ ও ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার নার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। এর আগেই অবশ্য গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন অ্যাটকিনসন।

দিল্লি পুলিশের ভূমিকায় সুপ্রিম কোর্টের ক্ষোভ

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভোট দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিন সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার আদালতের একটি বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
বিচারপতি আফতাব আলম ও আর এম লোধার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চটি বলেন, এ অভিযোগ তদন্তে দিল্লির পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অপূর্ণাঙ্গ। তদন্তকে যৌক্তিক একটি পর্যায়ে নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ এ জন্য ৪০ দিন সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা নাকচ করে তিন সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। দিল্লির পুলিশ তাদের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ২০০৮ সালে সংগঠিত এ দুর্নীতির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক নেতা জড়িত ছিলেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে দোষী সাব্যস্ত হলেন মরমন নেতা

অপ্রাপ্তবয়স্ক দুটি মেয়েকে ‘আধ্যাত্মিক বিয়ে’ করার জন্য যৌন হয়রানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মরমনসম্প্রদায়ের একজন নেতা। ওয়ারেন জেফ নামের ওই নেতা ধর্মীয় সম্প্রদায়টির একটি বিভক্ত অংশের প্রধান, যাঁরা বহুবিবাহকে পুণ্যের কাজ মনে করেন।
৫৫ বছর বয়সী জেফ তাঁর টেক্সাসের খামারে ১২ ও ১৪ বছরের দুটি মেয়েকে ‘আধ্যাত্মিক বিয়ে’ করেন। টেক্সাসের একটি আদালত গত বৃহস্পতিবার তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তাঁর ১১৯ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ওয়ারেন জেফকে ফান্ডামেন্টালিস্ট চার্চ অব জেসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার ডে সেইন্টসের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জেফ বিচার চলাকালে প্রতিবাদ করে বলেন, বিচার করার মাধ্যমে আদালত তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করেছেন। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল গ্রেগ অ্যাবোট।
ফান্ডামেন্টালিস্ট চার্চ অব জেসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার ডে সেইন্টসের ১০ হাজারের মতো অনুসারী আছে বলে মনে করা হয়। মূল মরমন চার্চ বহুবিবাহের সমর্থক এ সম্প্রদায়টির নিন্দা করে থাকে। বিশেষ করে, বেশি বয়সী পুরুষদের সঙ্গে অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে সমর্থন করায় তারা সমালোচিত।

ন্যাটোর হামলায় গাদ্দাফির ছেলে খামিস নিহত

লিবিয়ার বিদ্রোহীরা গতকাল শুক্রবার দাবি করেছে, ন্যাটোর বিমান হামলায় দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে খামিস গাদ্দাফিসহ অন্তত ৩২ জন সেনা নিহত হয়েছেন। খামিসের মৃত্যুর বিষয়ে লিবিয়ার সরকার বা ন্যাটো বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
লিবিয়ার ইউনাইটেড রেভ্যুলুশনারি ফোর্সেসের মুখপাত্র মুহাম্মদ জাওয়াবি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় জিতান শহরে গাদ্দাফির অপারেশন কক্ষ লক্ষ্য করে ন্যাটো বাহিনী ওই হামলা চালায়। এতে গাদ্দাফির ছেলে খামিস নিহত হন। এ ছাড়া ওই হামলায় গাদ্দাফির অনুগত ৩১ সেনা নিহত হয়েছেন।
বিদ্রোহীদের দাবি, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে তাঁদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে রেডিও কথোপকথনে আড়ি পেতে খামিসের নিহত হওয়ার খবরের ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন।
লিবিয়ায় গত পাঁচ মাস ধরে গৃহযুদ্ধ চলাকালে বেশ কয়েকবার খামিসের মৃত্যুর গুজব শোনা গেছে। খামিস নিহত হয়েছেন কি না, তা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চলতি বছরের গোড়ার দিকে ন্যাটোর বিমান হামলায় গাদ্দাফির আরেক ছেলে সাইফ আল-আরব নিহত হওয়ার খবরটি সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ন্যাটো কর্তৃপক্ষ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, খামিস নিহত হওয়ার ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। কারণ লিবিয়ায় স্থলভাগে তাদের কোনো লোকবল নেই। তবে বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে। রাশিয়ার মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খামিস লিবিয়ার ৩২তম ব্রিগেডের প্রধান ছিলেন। এই ব্রিগেডটি গাদ্দাফির সবচেয়ে অনুগত এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত ও শক্তিশালী। এই ব্রিগেড জিতান শহরে বিদ্রোহীদের প্রতিরোধে যুদ্ধ করছিল। শহরটি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা মিসরাতা ও রাজধানী ত্রিপোলির মাঝামাঝি অবস্থিত। বিদ্রোহীদের দাবি, ত্রিপোলি দখলে ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা।
গত বৃহস্পতিবার এএফপির সাংবাদিকেরা দেখেছেন, জিতান শহরটির কেন্দ্রস্থল গাদ্দাফি বাহিনীর দখলে রয়েছে। তবে দূরে ভারী গোলার শব্দও শোনা গেছে।
লিবিয়ার সরকারি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ত্রিপোলিতে আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ন্যাটো বাহিনী। এ বাহিনী মানবিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

নাইজেরিয়ায় তেল অপসারণে ৩০ বছর লাগতে পারে

নাইজেরিয়ার ওগোনিল্যান্ড অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণে ৩০ বছর লেগে যেতে পারে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি বিশ্বের ‘সবচেয়ে বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি তেল পরিষ্কার’ কার্যক্রম বলে প্রমাণিত হতে পারে।
প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো ওগোনিল্যান্ডে ব্যাপক বিস্তৃত দূষণ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর নাইজেরিয়া সরকার এবং প্রসিদ্ধ তেল ও গ্যাসের প্রতিষ্ঠান শেল বেশ চাপের মুখে পড়েছে। শেল ও নাইজেরিয়ার সরকারি তেল কোম্পানি ওই অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেলদূষণ ওই অঞ্চলের কমপক্ষে ১০টি সম্প্রদায়ের জনস্বাস্থ্যের প্রতি মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করেছে।
শেল দুটি তেল নিঃসরণের ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। ২০০৮ ও ২০০৯ সালের ওই নিঃসরণের ঘটনায় কয়েকটি জনগোষ্ঠী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জাতিসংঘের এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনইপি) গবেষণায় পাওয়া তথ্য প্রথমে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনের কাছে উপস্থাপন করা হয়। ইউএনইপি বলেছে, ওই অঞ্চলের পরিবেশ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩০ বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যে সম্পদের তালিকা প্রকাশ কাউন্সিলগুলোর

যুক্তরাজ্যসরকার বলেছে, দেশটির কাউন্সিলগুলোকে (নির্বাচিত স্থানীয় সরকার) অবশ্যই তাদের সম্পদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে, যাতে করে সেবার মান অক্ষুণ্ন রাখতে বিক্রির উপযোগী সম্পদগুলো চিহ্নিত করা যায়।
দেশটির সরকার ইতিমধ্যে একটি মানচিত্র প্রকাশের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের মোট ৮৭টি কাউন্সিলের মালিকানাধীন সম্পদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, পানশালা, গল্ফ কোর্স, স্টেডিয়াম ও একটি বিমানবন্দর।

কলকাতার বাসে চালু হচ্ছে মুঠোফোন ও ইন্টারনেট-সেবা

কলকাতা রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার (সিএসটিসি) বাসে শিগগিরই মুঠোফোন ও ইন্টারনেট-সেবা ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। সংস্থার একটি সূত্র এ কথা জানায়।
যাত্রীরা যাতে বাসে বসেই মুঠোফোনে কথা বলতে পারেন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন, সে লক্ষ্যে এই প্রথম ভারতের মধ্যে কলকাতায় সিএসটিসি চালু করতে যাচ্ছে এই পরিসেবা। অর্থের বিনিময়ে এ সেবা দেওয়া হবে। এতে যেসব যাত্রী সঙ্গে মুঠোফোনের সেট নেবেন না, তাঁরা বাসে বসে মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ল্যাপটপও ব্যবহার করতে পারবেন তাঁরা।

সহিংসতার শিকার নারীরা মানসিক সমস্যায় ভোগেন

সহিংসতার শিকার নারীরা তাঁদের জীবনে নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভোগেন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান জার্নাল অব মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-এ এই গবেষণাবিষয়ক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।
গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, যেসব নারী তাঁদের সঙ্গী বা অন্য কোনো পুরুষের দ্বারা যৌন বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, তাঁরা সারা জীবন উচ্চমাত্রায় হতাশা বা অন্যান্য মানসিক সমস্যায় ভোগেন।
চার হাজার ৪০০ নারীর ওপর এ গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তাঁরা যৌন বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার এ নারীরা তিন থেকে ১১ গুণ বেশি বিষাদে বা শঙ্কায় ভোগেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব নারী ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন নিপীড়ন, শারীরিক নির্যাতনসহ কমপক্ষে তিন বা চার ধরনের সহিংসতার শিকার হন, তাঁদের মধ্যে ৮৯ শতাংশই মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগেন। আর গবেষণায় অংশ নেওয়া মাত্র ২৮ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো সহিংসতার শিকার হননি

থাইল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ইংলাক

থাইল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা গতকাল শুক্রবার ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। তিনি হলেন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
ইংলাক সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন। গত মাসের জাতীয় নির্বাচনে পুয়ে থাই পার্টি তাঁর নেতৃত্বে বিশাল জয় পায়। পুয়ে থাই অন্য পাঁচটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয়। ৫০০ আসনের পার্লামেন্টে এ জোটের আসনসংখ্যা ৩০০টি।
২৯৬ জন আইনপ্রণেতা ইংলাক সিনাওয়াত্রার পক্ষে ভোট দেন। আর বিপক্ষে ভোট দেন তিনজন। ১৯৭ জন আইনপ্রণেতা ভোটাভুটির সময় পার্লামেন্টে অনুপস্থিত ছিলেন।
৪৪ বছর বয়সী ইংলাককে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন ইংলাকের ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রা। এর পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলে আসছে। নানা জনহিতকর কাজের জন্য গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র মানুষের কাছে দারুণ জনপ্রিয় থাকসিন।
থাকসিন সিনাওয়াত্রা এখন দুবাইয়ে নির্বাসনে আছেন। কার্যত তাঁকেই পুয়ে থাই পার্টির নেতা হিসেবে মনে করা হয়। তবে দলটির দাবি থাকসিনের ভূমিকা পুরোপুরি পরামর্শকের।
থাকসিন বোন ইংলাককে তাঁর ‘ক্লোন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। থাকসিন বিদেশে থেকে দল নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তা নাকচ করে দেন ইংলাক। ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে গতকাল ইংলাক বলেন, ‘না, আমি কারও সঙ্গে কথা বলছি না।’
রাজনীতিতে নবীন ইংলাক বলেন, তাঁর ‘প্রথম জরুরি কাজ হলো কীভাবে বিভেদ নিরসনে জাতীয় সমঝোতা অর্জন করা যায়।’
পার্লামেন্টে ভোটাভুটির পর ইংলাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কর্মকাণ্ড মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছে কি না বা তাঁদের আশাবাদ পূরণ করতে পেরেছে কি, পারেনি—তা জনগণই বিচার করবে।’
শুক্রবারের ভোটাভুটির আগে থাকসিন সিনাওয়াত্রার কয়েক শ ‘লালশার্ট’ সমর্থক পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান নেয়।
আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের আগে রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ইংলাককে।
ইংলাক হলেন থাইল্যান্ডের ২৮তম প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়ার স্থলাভিষিক্ত হলেন।
ইংলাকের জন্ম ১৯৬৭ সালের ২১ জুন। নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ইংলাক চিয়াং মাই ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি।

করাচিতে এ পর্যন্ত সহিংসতায় ৮০০ জনের প্রাণহানি

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে জাতিগত ও রাজনৈতিক সহিংসতায় চলতি বছর এ পর্যন্ত ৮০০ জন নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির একটি স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানায়।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তানের (এইচআরসিপি) সভাপতি জোহরা ইউসুফ বলেন, গত সাত মাসে গোলাগুলির শিকার হয়ে প্রায় ৮০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
এইচআরসিপি এর আগে জানিয়েছিল, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪৯০ জন নিহত হয়েছে। গতকাল সংস্থাটি জানায়, জুলাই মাসে আরও ৩০০ জন নিহত হয়।
জোহরা বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা নিহতের এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। গত মাসে পুলিশ নিহতের সংখ্যার ব্যাপারে যে তথ্য দিয়েছে, তা ৩০০ জনের কম নয়।’
সহিংসতা বন্ধে করাচিতে কয়েক শ অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর পরও সহিংসতা বন্ধ হয়নি। চলতি সপ্তাহের পাঁচ দিনে নিহত হয়েছে ৫৮ জন।
মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) ও আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকে বেশির ভাগ সংঘর্ষের ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

দুই হাজার লোকের মৃত্যুর জন্য দায়ী বাশার: হিলারি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সেনা অভিযানে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এসব মৃত্যুর জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার দায়ী।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হিলারি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভয়াবহ সেনা অভিযান থামাতে সিরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইউরোপ, আরব বিশ্ব ও অন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবে যুক্তরাষ্ট্র।
হিলারি বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে বাশার আল-আসাদ বিক্ষোভকারীদের দমাতে কঠোর সেনা অভিযান চালিয়েছেন। আমরা মনে করি, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বিভিন্ন বয়সের দুই হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে। এসব মানুষের মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ী।’
এর আগে হিলারি বলেছিলেন, সিরিয়া শাসনের বৈধতা হারিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। গত বৃহস্পতিবার তিনি ওই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।
সিরিয়ার মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, গত মার্চে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত এক হাজার ৬০০ লোক নিহত হয়েছে। হাজার হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত রোববার শুধু হামা শহরেই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়।
মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, সিরিয়ার সরকার বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়ে হারানো ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা করছে। তবে এতে সরকার আন্তরিক নয় মোটেও।
গত বৃহস্পতিবার সিরিয়ায় বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের অধ্যাদেশ জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। সে দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাশার রাজনৈতিক দলের আইনসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করেছেন। এই অধ্যাদেশ জারির ফলে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক দল গড়া যাবে।

সোয়ানের লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ

পরের দুই টেস্টের যেকোনো একটিতে জিতলেই টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে যাবে ইংল্যান্ড। পরের দুই টেস্ট ড্র করলেও চলবে। কিন্তু শুধু ১ নম্বরেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না গ্রায়েম সোয়ান। ভারতকে বাগে যখন পেয়েছেন, হোয়াইটওয়াশের লজ্জাতেই ডোবাতে চান! ইংলিশ স্পিনারের ইচ্ছা, ১ নম্বরটা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভারতকে ৪-০-তে হারানো।
প্রথম দুই টেস্টে ১৯৬ ও ৩১৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্পিনারকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে লর্ডস ও ট্রেন্টব্রিজে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স, ‘সিরিজটাকে ৪-০ করতেই আমার বেশি ভালো লাগবে। আমরাই একমাত্র দল, যারা এটা করতে পারি। প্রথম দুই টেস্টে আমাদের পারফরম্যান্স নিখুঁত ছিল না, তার পরও আমরা বেশ সহজে জিতেছি। ওই ঘাটতিগুলো যদি আমরা পুষিয়ে নিতে পারি এবং বাকি সবকিছু ঠিকঠাক করতে পারি, আমাদের হারানো কঠিন হবে।’
পরের টেস্ট এজবাস্টনে অবশ্য সোয়ানেরই খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। ট্রেন্টব্রিজে ব্যাটিংয়ের সময় আঘাত পেয়েছিলেন বাঁ হাতে। খানিকটা অস্বস্তি এখনো আছে, তবে সেটা বড় কিছু নয়। দ্বিতীয় দফা স্ক্যান করার পর নিজেকে ফিট ঘোষণা করেছেন এই অফ স্পিনার।

রিয়াল-বার্সা আর কত দিন?

অনেকের মতে, স্প্যানিশ লিগই বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তবে এটাও সত্যি, শিরোপা লড়াইটা সেখানে রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। দুটি দলই শুধু অদল-বদল করে শিরোপা জিতবে, এভাবে কত দিন স্প্যানিশ লিগ আকর্ষণ ধরে রাখতে পারবে?
দেরিতে হলেও ভয়টা ঢুকেছে ভ্যালেন্সিয়ার সভাপতি ম্যানুয়েল লরেন্তের মনে। এভাবে চললে লিগ নিয়ে একদিন ঠিকই দর্শক আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে! বলেছেন, রিয়াল-বার্সার এই একচ্ছত্র কর্তৃত্ব লিগের জন্য অস্বাস্থ্যকর! গত দুই মৌসুমেই ‘তৃতীয়’ হয়েছে ভ্যালেন্সিয়া। তবে বার্সেলোনা ও রিয়ালের চেয়ে পয়েন্ট তালিকায় অনেক পেছনে থেকে। গত মৌসুমেই যেমন রানার্সআপ রিয়ালের চেয়ে ভ্যালেন্সিয়া পিছিয়ে ছিল ২১ পয়েন্ট! লরেন্তে বিরক্তি নিয়ে বলেছেন, ‘লা লিগা উচ্চপর্যায়ের প্রতিযোগিতা। কিন্তু শীর্ষ দুটি দলের তুলনায় বাকিদের মধ্যে বিশাল ব্যবধান। আমার ভয়, এই পার্থক্য খেলাটির প্রতি আগ্রহ কমাবে। এবং এটা প্রত্যেকের জন্যই গুরুতর সমস্যা।’
শুধু স্প্যানিশ লিগেই নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগেও বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের শাসনই চলছে বলে মনে করেন লরেন্তে। তাঁর কথা, এভাবে চললে চ্যাম্পিয়নস লিগও স্কটিশ লিগের মতো প্রধান দুই দলের টুর্নামেন্টে পরিণত হবে, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ শিগগিরই একটি “স্কটিশ লিগ” হতে যাচ্ছে।’ লরেন্তের বিশ্বাস, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবগুলো লা লিগায় খেললে তারা তৃতীয়ই হবে!

ম্যানইউয়ের লক্ষ্য ৮৪ পয়েন্ট

আর কয়েক দিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম। গতবারের মতো এবারও শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই লিগ শুরু করতে চায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গত মৌসুমে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে মোটামুটি সহজেই শিরোপা জয় নিশ্চিত করেছিল রেড ডেভিলরা। তবে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি হবে বলে মনে করছেন ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন। শিরোপা জয়ের জন্য এবার শিষ্যদের সামনে কমপক্ষে ৮৪ পয়েন্টের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই কোচ।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফার্গুসন বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডে লিগ শিরোপা জেতাটা খুব কঠিন। এখানে আপনাকে অনেক পয়েন্ট পেতে হবে। পরবর্তী মৌসুমে শিরোপা জয়ের জন্য আমাদের কমপক্ষে ৮৪ পয়েন্ট পেতে হবে। লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমাগত বাড়ছে। আমার মনে হয়, এবার লিভারপুল অনেক ভালো খেলবে। টটেনহ্যামও পয়েন্ট তালিকার প্রথম চারটি দলের মধ্যে চলে আসতে পারে। কাজেই এবারের মৌসুমটা আমাদের জন্য খুবই কঠিন হবে।’
তবে মৌসুমের শুরুতেই দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় জাভিয়ের হার্নান্দেজ, মাইকেল ক্যারিক ও ডিফেন্ডার রাফায়েল ইনজুরির কবলে পড়ায় কিছুটা চাপের মুখেই পড়ে গেছে রেকর্ড ১৯ বারের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাজয়ীরা। তবে এই মাসের শেষেই গত মৌসুমে ১৩ গোল করা হার্নান্দেজ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন ফার্গুসন।
নতুন মৌসুম শুরুতে কাল রোববার কমিউনিটি শিল্ড কাপের ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন বোথামের

প্রথম দুটি টেস্টেই দুর্দান্ত জয় দিয়ে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়টা প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। তবে এখন শুধু সিরিজ জয় না, ভারতকে হোয়াইটওয়াশেরই স্বপ্ন দেখছেন ইয়ান বোথাম। সিরিজের বাকি দুটি টেস্টও ইংল্যান্ডের না জেতার কোনো কারণই দেখছেন না সাবেক এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।
ডেইলি মিরর পত্রিকায় এক কলামে বোথাম লিখেছেন, ‘সিরিজটা ৪-০ ব্যবধানে শেষ না করতে পারার কোনো কারণই আমি দেখছি না। প্রথম দুটি ম্যাচের মতো বাকি দুটো টেস্টও ইংল্যান্ডের জেতা উচিত।’ ভারতের ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্টেই ইংলিশ পেসারদের সামনে রীতিমতো নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। মোট চারটি ইনিংসের কোনোটিতেই ৩০০ রানের কোটা অতিক্রম করতে পারেনি সফরকারীরা। তবে বাকি দুটি টেস্টে মাঠে নামতে যাচ্ছেন বীরেন্দর শেবাগ ও গৌতম গম্ভীর। এঁদের অন্তর্ভুক্তি ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে অনেক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন ভারতীয় সমর্থকেরা। কিন্তু এটাকে ইংল্যান্ডের জন্য খুব বেশি হুমকি ভাবছেন না বোথাম। তিনি বলেছেন, ‘কেউ যদি আশা করে যে শেবাগ ও গম্ভীরের মাঠে ফেরাটা ভারতের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে, তাহলে তাদের আরও একবার ভাবা উচিত। কারণ, শেবাগের ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আর আমার মনে হয় ইংলিশ পেসারদের সামনে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামাটা তাঁর জন্য খুব কঠিনই হবে।’ একমাত্র রাহুল দ্রাবিড় ছাড়া ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারকে খুবই ভঙ্গুর বলেই মনে করেন বোথাম।