Friday, December 4, 2009

বেনজিরকে নিয়ে চলচ্চিত্র

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেনজির ভুট্টোর জীবনী নিয়ে বলিউডে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য হিন্দি চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হতে চলেছে। বেনজির ভুট্টোর চরিত্রে অভিনয় করবেন শাবানা আজমি। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন মহেশ ভাট। ছবির শুটিং শুরুর দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। বেনজির ভুট্টোর স্বামী পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলেই মহেশ ভাট চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ শুরু করে দেবেন।

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের বাইরে গতকাল বুধবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক রক্ষী নিহত এবং দুই নৌ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ওই রক্ষী বোমা হামলাকারীকে নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়। এতে মোট ১১ জন আহত হয়েছে।

নেতিবাচক খবর ছাপতেই আগ্রহ বেশি অধিকাংশ সংবাদপত্রের -সম্মেলনে প্রতিভা পাতিল

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল বলেছেন, নেতিবাচক সংবাদ ছাপতেই এখন বেশি আগ্রহ অধিকাংশসংবাদপত্রের। মঙ্গলবার ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের রাজধানী হায়দরাবাদে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নেতিবাচক সংবাদ থেকেও সমাজের শিক্ষা নেওয়ার মতো কিছু থাকে। কিন্তু সমাজকে অনুপ্রাণিত করার জন্য ইতিবাচক সংবাদও প্রকাশ করা সমানভাবে জরুরি। রাষ্ট্রপতি মনে করেন, সমাজের ইতিবাচক ও নেতিবাচক খবরের ভারসাম্য রক্ষা করেই সংবাদপত্র প্রকাশ করা উচিত।
মঙ্গলবার হায়দরাবাদে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী ৬২তম ওয়ার্ল্ড নিউজ পেপার কংগ্রেস এবং ওয়ার্ল্ড এডিটর ফোরামের ১৬তম সম্মেলন। এখানে উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেন প্রতিভা। এই সম্মেলনে ৮৭টি দেশ থেকে ৯০০ জন প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন।

তাঁরা আমন্ত্রিত ছিলেন, দাবি সালাহি দম্পতির

বিনা আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে যোগ দিয়ে হইচই ফেলে দেওয়া দম্পতি দাবি করেছেন, তাঁরা অনাহূত প্রবেশকারী ছিলেন না। তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
গত মঙ্গলবার টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে মিশেল ও তারেক সালাহি বলেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে তাঁদের যোগদান নিয়ে যে হইচই হচ্ছে, তাঁদের জন্য সেটা ‘সবচেয়ে বিপর্যয়কর’ অভিজ্ঞতা।
হোয়াইট হাউস বলে আসছে, সালাহি দম্পতি ছিলেন ভোজসভায় অনাহূত অতিথি। এই অনুষ্ঠানে ওবামা প্রশাসনের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস। তিনি বলেন, ‘সেটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল না।’
তারেক সালাহি বলেন, এক সপ্তাহ আগের ওই ঘটনার তদন্তে গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে তিনি ও তাঁর স্ত্রী সহযোগিতা করছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি তাঁদের যথাযথ সম্মান রয়েছে। সালাহি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা দারুণভাবে দুঃখিত। আমি ও আমার স্ত্রীকে অনাহূত অতিথি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আমি আপনাকে বলতে চাই, আমরা হোয়াইট হাউসে অনাহূত অতিথি ছিলাম না।’
এনবিসি টেলিভিশনের ‘টুডে শো’ অনুষ্ঠানে সালাহি দম্পতি বলেন, তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁরা অনাহূত প্রবেশকারী ছিলেন না। সালাহির স্ত্রী মিশেল বলেন, ‘এই ধরনের স্পর্ধা কিংবা নোংরা আচরণ করার মতো কেউ এখানে নেই। নিশ্চিতভাবেই আমাদের সেটা নেই।’
এর আগে গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র গিবস বলেন, এই অনুপ্রবেশের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ওবামা ও তাঁর স্ত্রী দুজনই ক্ষুব্ধ। গিবস বলেন, সেদিন কী ভুল হয়েছিল, গোয়েন্দা বিভাগ তা তদন্ত করে দেখছে।
সালাহি ও মিশেল দম্পতি এর আগেও হোয়াইট হাউসে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দ্য কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস ফাউন্ডেশনের বার্ষিক ভোজসভায় যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু টিকিট না থাকায় নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের সেখানে প্রবেশ করতে দেননি। ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র মুরিয়েল কুপার এ কথা জানান।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে আগের ধারণার চেয়ে দ্বিগুণ -নতুন গবেষণা প্রতিবেদন

  চলমান শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ৪ মিটার বা চার ফুটেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। কোপেনহেগেনে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) ২০০৭ সালের চতুর্থ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, নতুন এই গবেষণায় তার দ্বিগুণ উচ্চতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
সায়েন্টিফিক কমিটি অন অ্যান্টার্কটিক রিসার্চের (এসসিএআর) ১০০ জন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী এই গবেষণা পরিচালনা করেন। দক্ষিণ মেরুর ওপর বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে এই প্রথম সমন্বিত কোনো গবেষণা চালানো হলো। আইপিসিসির ২০০৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০৯৯ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৮ সেন্টিমিটার থেকে ৫৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। কিন্তু পরে গ্রিনল্যান্ড ও দক্ষিণ মেরুর বরফ গলনের ওপর পরিচালিত গবেষণার পর আশঙ্কা বেড়ে গেছে যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এর চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।
এসসিএআরের নির্বাহী পরিচালক কলিন সামারহেইস লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দক্ষিণ মেরুর পশ্চিমাঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে। গলনের এই হার ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ৪ মিটার পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
নতুন এই গবেষণার পূর্বাভাস যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে মালদ্বীপের মতো নিচু দ্বীপগুলোর অধিকাংশ এলাকাই সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে। এর আগে পরিচালিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্যানেল এরই মধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে হারে বাড়ছে, তাতে ২১০০ সালের মধ্যে মালদ্বীপ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
নতুন এই গবেষণায় যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে ভারতের উপকূলবর্তী শহর মুম্বাই, চেন্নাই এবং কলকাতার নিম্নাঞ্চলীয় এলাকার জন্য হুমকি অর্থপূর্ণভাবে বেড়ে গেল। এসব এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে।
১৮৭০ সাল থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বছরে গড়ে ১ দশমিক ৭ মিলিমিটার করে বেড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিবছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে বছরে ২ দশমিক ৫ মিলিমিটার করে।

ম্যানুয়েল জেলায়ার পুনর্বহাল চান লাতিন আমেরিকার নেতারা

লাতিন আমেরিকা, স্পেন ও পর্তুগালের নেতারা বলেছেন, হন্ডুরাসের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়াকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করা উচিত। পর্তুগালের অ্যাস্টোরিলে তিন দিনব্যাপী আইবারো আমেরিকান শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেওয়া বিবৃতিতে নেতারা একথা বলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবিধানিক স্বাভাবিকতায় ফিরে যাওয়ার জন্য মধ্য আমেরিকার দেশটির এখন আসল কাজ হওয়া উচিত জেলায়াকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পনরায় বহাল করা।
গত জুনের অভ্যুত্থানকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন নেতারা। ওই অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জেলায়া ক্ষমতাচ্যুত হন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন রবার্তো মিশেলেত্তি। এরপর হন্ডুরাসে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়।
বিবৃতিতে বার্ষিক এই বৈঠকে যোগ দেওয়া নেতারা হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন।
হন্ডুরাস সম্পর্কে চূড়ান্ত এই বিবৃতিকে আঞ্চলিক শক্তি আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলার জন্য পরিষ্কার বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। হন্ডুরাসের গত রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল দেশগুলো। তবে কলম্বিয়া, পেরু ও কোস্টারিকার নেতারা আলাদাভাবে নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তবে ম্যানুয়েল জেলায়া নির্বাচনকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছেন।
সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

মনমোহনকে ওবামার টেলিফোন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে করণীয় বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। তা ছাড়া কোপেনহেগেনে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনের ব্যাপারে তাঁরা কথা বলেন। মনমোহন সিংয়ের কার্যালয় সূত্র এ তথ্য দিয়েছে।

গোল্ডেন পেন অব ফ্রিডম পুরস্কার পেলেন পাকিস্তানি সাংবাদিক নজম শেঠি

পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক নজম শেঠি ‘গোল্ডেন পেন অব ফ্রিডম’ পুরস্কার পেয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হায়দরাবাদে ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজ পেপার্সের (ডব্লিউএএন) বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
ক্রমাগত হত্যার হুমকির মুখে সাহসের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার জন্য নজম শেঠিকে ডব্লিউএএন এই পুরস্কার দিয়েছে। মুক্ত সাংবাদিকতা করার জন্য বিভিন্ন সরকারের আমলে বারবার জেলও খেটেছেন তিনি।
নজম শেঠি দ্য ফ্রাইডে টাইমস ও ডেইলি টাইমস পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। গোল্ডেন পেন অব ফ্রিডম পুরস্কার গ্রহণ করার সময় তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পীড়নকারী সরকারের মতো উগ্রপন্থীরাও এখন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে।
নজম শেঠি আরও বলেন, পাকিস্তানের তালেবান-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাঁর পত্রিকা বিক্রি করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অন্য তিন পাকিস্তানি সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁকেও হত্যার তালিকায় রেখেছিল তারা।

দুদক বনাম সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি by এম হাফিজউদ্দিন খান

সম্প্রতি সংবাদপত্র মারফত জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি কর্তৃত দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমান দুজন কমিশনার এবং সাবেক সচিবের কাছ থেকে ১৬ কোটি টাকা আদায়ের ব্যবস্থা নিতে মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই সংসদীয় কমিটির মতে, এ অর্থ দুদক অপব্যয় করেছে বিধায় যারা অপব্যয়ের জন্য দায়ী, তাদের কাছ থেকে তা আদায় করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার ভিত্তি হলো মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অধীন স্থানীয় ও রাজস্ব নিরীক্ষা অধিদপ্তরে মহাপরিচালক কর্তৃক প্রণীত একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন। জানা গেছে, পরিদর্শন প্রতিবেদনে অর্থ আদায়ের কোনো সুপারিশ করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ১৬ কোটি টাকা ব্যয় নিয়মমাফিক হয়নি, সুতরাং তা নিয়মিত করতে হবে।
পরিদর্শন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি কর্তৃক অর্থ আদায়ের যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, তাতে কিছু গুরুতর সাংবিধানিক ও আইনি সংশ্লেষ রয়েছে।
সংবিধানের ১২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘মহা হিসাব নিরীক্ষক প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব এবং সকল আদালত, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীর সরকারি হিসাব নিরীক্ষা করিবেন ও অনুরূপ হিসাব সম্পর্কে রিপোর্ট দান করিবেন এবং সেই উদ্দেশে তিনি কিংবা সেই প্রয়োজনে তাঁর দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তি যেকোনো ব্যক্তির দখলভুক্ত সকল নথি, বহি, রসিদ, দলিল, নগদ অর্থ, স্ট্যাম্প, জামিন, ভাণ্ডার বা অন্য প্রকার সরকারি সম্পত্তি পরীক্ষার অধিকারী হইবেন।’ এবং ১২৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মহা হিসাব নিরীক্ষককে অন্য কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের অধীন করা হইবে না।’ সুতরাং সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি কর্তৃক বিতর্কিত ওই অর্থ আদায়ের জন্য মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে নির্দেশনা দেওয়া সংবিধানের উপরিউক্ত অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে কোনো কাজের জন্য কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দেশ দিতে পারে না।
প্রকৃত পক্ষে সংবিধান অনুসারে সরকারি অর্থ বা সম্পদের অপচয়, চুরি, আত্মসাত্ ইত্যাদি আদায় করার কোনো দায়িত্ব মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের ওপর ন্যস্ত করা হয়নি। মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব হলো, প্রজাতন্ত্রের হিসাব নিরীক্ষা করে নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রণয়ন করে তা অনুচ্ছেদ ১৩২ অনুসারে রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা। একই অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি তাঁর কাছে পেশ করা নিরীক্ষা প্রতিবেদনগুলো সংসদে পেশের কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। অনুচ্ছেদ ১৩২-এর বিধান নিম্নরূপ: ‘প্রজাতন্ত্রের হিসাব সম্পর্কিত মহা হিসাব নিরীক্ষকের রিপোর্টসমূহ রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করিবেন।’ এই পদ্ধতিতে পেশ করা প্রতিবেদনগুলো সংসদ-সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি অর্থাত্ সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটিতে পাঠানো হবে। সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটি প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনার সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সচিব (যিনি পদাধিকারবলে মন্ত্রণালয়ের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টিং অফিসার) উপস্থিত থাকেন এবং তাঁদের বক্তব্য ও দলিলাদি পরীক্ষা করে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। পর্যালোচনান্তে কোনো অর্থ আদায়যোগ্য হলে সে দায়িত্ব প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টিং অফিসার অর্থাত্ সচিবের ওপর বর্তাবে, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের ওপর নয়। সরকারের রুলস অব বিজিনেস অনুসারে প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টিং অফিসারের দায়িত্ব নিম্নরূপ:
‘The Secretary shall be the Principal Accounting Officer of the Ministry/Division, Attached Department and Subordinate Offices and shall ensure that funds allocated to the Ministry/Division, its Attached Departments and Subordinate Offices are spent in accordance with rules/laws for the time being in force :
Provided that in relation to the funds allocated to the Supreme Court of Bangladesh the Registrar of the Court shall be the Principal Accounting Officer who shall ensure that the said funds are spent in accordance with the rules/laws for the time being in force.’
দ্বিতীয়ত, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার একমাত্র অধিকারী হলো সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটি, সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি নয়।
বিবেচ্য, ১৬ কোটি টাকা আদায়যোগ্য মর্মে মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কোনো নিরীক্ষা প্রতিবেদন আছে কি না, তা বোঝা যাচ্ছে না এবং প্রতিবেদন থেকে থাকলে তা সংবিধানের ১৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হয়েছিল কি না এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশের ব্যবস্থা করেছেন কি না, প্রতিবেদনটি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিতে পর্যালোচিত হয়েছিল কি না এবং তা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিতে পর্যালোচিত হওয়ার পর কোনো নির্দেশনা জারি হয়েছে কি না, তাও বোঝা যাচ্ছে না। যদি প্রকৃতই নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে এই অর্থ আদায়যোগ্য বিবেচিত হয়ে থাকে, তাহলে তা আদায়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টিং অফিসারের। তবে যতটুকু জানা গেছে তাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির নির্দেশনার ভিত্তি পূর্বোল্লিখিত পরিদর্শন প্রতিবেদন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন নয়।
প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টিং অফিসার সরকারি পাওনা আদায়ের জন্য প্রচলিত আইন অনুসারে যথাবিহিত কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। প্রয়োজনবোধে তিনি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্টের আশ্রয় নেবেন। এ ছাড়া অন্য কোনো আইন বা বিধি আছে মর্মে প্রতীয়মান হয় না। অন্তত অর্থ আদায়ের কোনো দায়িত্ব কোনোমতেই মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের ওপর বর্তায় না।
এম হাফিজউদ্দিন খান: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক মহাহিসাবনিরীক্ষক।

জেদ্দায় বন্যার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন বাদশা

জেদ্দায় গত সপ্তাহের বন্যার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি বাদশা আবদুল্লাহ। সেই সঙ্গে বন্যায় মারা যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে দুই লাখ ৬৭ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহের এই বন্যায় ১১৩ জন মারা যায়।
সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ বিন ফয়সাল ওই তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। তদন্ত কমিটি বন্যার কারণ খতিয়ে দেখবে এবং এর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবে। এর পেছনে কর্তৃপক্ষের কর্তব্যে অবহেলা ছিল কি না তাও দেখা হবে।
বাদশা আবদুল্লার আদেশে বলা হয়েছে, ‘আমরা জানতে পেরেছি, বন্যা উপদ্রুত এলাকায় কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি ছিল, যা আমরা পাশ কাটিয়ে যেতে পারি না। বরং সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।’
গত বুধবার ওই বন্যা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ঘটনাকে সুনামি বলে দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষ তখন ২ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করেছিল।

প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ করল নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের জন্য গতকাল মঙ্গলবার ছিল একটি ঐতিহাসিক দিন। কারণ, গতকাল প্রথমবারের মতো নিজেদের বানানো রকেট উৎক্ষেপণ করেছে তারা। নিউজিল্যান্ডের ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানি রকেট ল্যাব লিমিটেড এটি-১ নামের ওই রকেট উৎক্ষেপণ করে। গ্রেট মারকারি দ্বীপ থেকে স্থানীয় সময় দুপুরে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটারের বেশি উচ্চতায় পৌঁছায়।
মহাকাশে আরও সহজে পৌঁছানোর লক্ষ্য সামনে রেখে তিন বছর আগে রকেট ল্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়। কম খরচে মহাকাশে রকেট পাঠানোর জন্য তারা রকেট বানাতে শুরু করে। রকেট ল্যাবের বানানো এটি-১ রকেটটির ধারণক্ষমতা মাত্র দুই কেজি। প্রাথমিকভাবে সকাল সাতটা ১০ মিনিটে রকেটটি উেক্ষপণের সময় নির্দিষ্ট করা হলেও বেশ কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণে তা দুপুর পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।

এইডস মোকাবিলায় লড়ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার

মিয়ানমারের জান্তা সরকার দাবি করেছে, সে দেশে এইডস সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে গতকালমঙ্গলবার দেশটির প্রায় ১৫০ জন এইডস রোগী বিরোধী দলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সমবেত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের তরফ থেকে এ কথা জানানো হয়। সরকারি নিউ লাইট অব মিয়ানমার পত্রিকা এ তথ্য দিয়েছে।
ইংরেজি ভাষার এই পত্রিকাটি আরও জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ হ্রাস পেয়েছে। এতে বলা হয়, জান্তা সরকার লোকবল ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এইডস প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০০৭ সালে সরকার এইডস মোকাবিলায় প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার ডলার ব্যয় করে। পত্রিকাটি আরও জানায়, ইউএনএইডস-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৪ সালে মিয়ানমারে মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ মানুষ এইডসে আক্রান্ত ছিল। ২০০৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এদিকে দেশটির বিরোধী দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) মুখপাত্র ফিউ ফিউ থিন বলেন, মিয়ানমারে এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

৬৬ বছর পর যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের মুখোমুখি নাৎসি প্রহরী by সরাফ আহমেদ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৬৬ বছর পর যুদ্ধাপরাধের দায়ে ৮৯ বছর বয়স্ক জন ইভান ডেমিয়ানইউর বিচার গত সোমবার জার্মানির মিউনিখের একটি আদালতে শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৪৩ সালে সোবিবর ডেথ ক্যাম্পে ২৯ হাজার বন্দীকে জোর করে গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে হত্যার কাজে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
হুইলচেয়ারে বসে নীল কম্বল গায়ে চাপিয়ে এই যুদ্ধাপরাধী মিউনিখের আদালতে পৌঁছানোর অনেক আগেই ১৫০ আসনবিশিষ্ট আদালত-কক্ষ ভরে যায়।
জন ইভান ডেমিয়ানইউ হিটলারের নাৎসি পার্টির কর্মী বা হিটলার সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন না। তিনি ছিলেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নাগরিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪২ সালে সোভিয়েত সেনাসদস্য হিসেবে সোভিয়েত ক্রিম দ্বীপে ধরা পড়ার পর জার্মানির দখল করা পোল্যান্ডের ট্রেবলিংকার জার্মান এসএস বাহিনীর ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে কুখ্যাত সোবিবর ডেথ ক্যাম্পে স্বেচ্ছায় প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এই ক্যাম্পের প্রহরীরা ১৯৪২ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত ২৯ হাজার বন্দীকে হত্যা করে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ বন্দীকে জোর করে গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়।
জার্মানির লুদভিনাহাফন শহরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় আর্কাইভ (যেখানে নাৎসিদের সব অপকর্মের যাবতীয় দলিল রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে) থেকে পাওয়া একটি পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই যুদ্ধাপরাধীকে জার্মানিতে ফেরিয়ে আনতে আবেদন করেন মিউনিখের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি। পরে এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বছর ১২ মে একটি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স বিমানে করে ইভান ডেমিয়ানইউকে মিউনিখে পৌঁছে দেয়। এর পর থেকেই তাঁকে মিউনিখের জেলে বন্দী করে রাখা হয়। কেন্দ্রীয় আর্কাইভে পাওয়া পরিচয়পত্রে ছবিসহ প্রহরী হিসেবে সোবিবর বন্দিশিবিরে নিয়োগ এবং কাজ করার ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়েছে।
এই যুদ্ধাপরাধী ১৯৫২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, ১৯৭৫ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৭০ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে হস্তান্তর করে। তাঁকে সে সময় মার্কিন-সোভিয়েত শীতল সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাতে তেমন সাড়া দেয়নি। তবে ১৯৭৬ সালের গ্রীষ্মে নিউইয়র্কের একটি স্থানীয় ইউক্রেনীয় পত্রিকা ডেমিয়ানইউর যুদ্ধাপরাধী পরিচয় ফাঁস করে দেয়।
এর আগে ১৯৮৮ সালে এই যুদ্ধাপরাধীকে ইসরায়েলের দাবির মুখে সেখানে পাঠানো হয় এবং তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু ইসরায়েলের বিচারিক প্রক্রিয়ার ফাঁক গলিয়ে মুক্ত হয়ে ১৯৯৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ফেরত যান এবং পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
সোমবার মিউনিখের আদালতে বিচারের প্রথম দিন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নাৎসি আমলের পরিচয়পত্রটি পেশ করেন। অন্যদিকে ডেমিয়ানইউর আইনবিদ আদালতে জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল জীবনের হুমকির মুখে জার্মান বাহিনীর আদেশ পালন করেছেন মাত্র। কিন্তু আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসা সোবিবর ক্যাম্পে নিহত ১৯টি পরিবারের সদস্যরা এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য বলে জানিয়েছেন।
ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে এই ৮৯ বছর বয়স্ক যুদ্ধাপরাধীকে চিকিত্সকেরা আদালতে তিন ঘণ্টার বেশি উপস্থিত না রাখার অনুরোধ করেছেন।
জন ইভান ডেমিয়ানইউর বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধাপরাধী মামলায় দোষ প্রমাণিত হলে জার্মান যুদ্ধাপরাধ আইন অনুযায়ী তাঁর বয়স বিবেচনায় ১৫ বছর জেল হতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস-সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও প্রতিবন্ধিতা by দিবা হোসেন ও শাহরিয়ার হায়দার

সারা পৃথিবীর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য ৩ ডিসেম্বর একটি তাত্পর্যপূর্ণ দিন। ১৯৮২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ থেকে দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেই থেকে প্রতিবছর নানা আয়োজনে বিশ্বব্যাপী দিনটি সাড়ম্বরে পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় একীভূতকরণ: বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন’। দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সব পর্যায়ে ‘প্রতিবন্ধিতা’ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের অধিকার সুনিশ্চিত করার প্রয়াসে তাদের মূলধারায় একীভূতকরণ। আর এর মাধ্যমেই সমাজে বসবাসকারী সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে তাদের যথাযোগ্য মানবাধিকার উপভোগের ও সমান অংশগ্রহণের একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি করা গেছে।
২০০০ সালে ১৫৬টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের ‘মিলেনিয়াম ডিক্লারেশন’ থেকে প্রণীত ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ (এমডিজি) আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে একটি বহুল আলোচিত বিষয়। পৃথিবীর দরিদ্রতম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদার কথা মাথায় রেখেই আটটি মূল লক্ষ্য এবং ১৮টি নির্ধারক চিহ্নিত করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের মধ্যে সেই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সারা বিশ্বের মানুষ একযোগে কাজ করবে—এটাই এমডিজির মূল প্রেরণা ছিল। এই লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজকে একই প্লাটফর্মে এসে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। এর ফলে দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ ও শিক্ষা বিস্তারে একটি জোটবদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণ করা গেছে। কিন্তু এমডিজি সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, কার্যক্রম, মূল্যায়ন ইত্যাদিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে সম্পৃক্ত করা না হলে লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জিত হবে না। এ বিষয়টি খোদ জাতিসংঘই বুঝতে পেরেছে।
পৃথিবীর মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ শতাংশ ব্যক্তি প্রতিবন্ধী এবং বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক দারিদ্র্যের মোট ২০ শতাংশ এই প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বের দারিদ্র্যকে ‘জাদুঘরে’ পাঠানোর প্রয়াসের মাঝখানে একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো। পৃথিবীর বহু দেশে শুধু প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেক মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের সমাজবিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানে জোর করে রাখা হচ্ছে—এটি ব্যক্তির ‘চলাচলের স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বীয় সমাজে বাস করার অধিকার’কে খর্ব করছে।
স্পষ্টতই বোঝা গেছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের একীভূতকরণ ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জন করা সম্ভব। কারণ এত বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও অংশগ্রহণের সুযোগকে অগ্রাহ্য করে পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, শিশু ও মাতৃমৃত্যু ইত্যাদি রোধ করা যাবে না। শুধু বাংলাদেশের দুটি গবেষণার কথাই এখানে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা যাক: বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফ পরিচালিত জরিপ থেকে জানা যায়, ১৯৯৬-৯৭ সালে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের মধ্যে তিন শতাংশ এবং ১০ বছরের কমবয়সী শিশুদের মধ্যে পাঁচ শতাংশ শিশু কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধী। এ সংখ্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চয় বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে সিএসআইডি পরিচালিত একটি গবেষণায় (ESTEEM, ২০০২) দেখা গেছে, এ দেশের মোট প্রতিবন্ধী শিশুর মাত্র ১১ শতাংশ কোনো ধরনের শিক্ষা গ্রহণ করে; এদের মধ্যে মাত্র আট শতাংশ প্রাথমিক স্তরের। এদের ঝরে পড়ার হারটাও আশঙ্কাজনক। এই চিত্র দেখে সহজেই বুঝে নেওয়া যায়, ২০১৫ সালের মধ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অন্তত দ্বিতীয় লক্ষ্যটি অর্জনই বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য কতটা দুরূহ হয়ে পড়ছে। পৃথিবীর অন্যান্য স্বল্পোন্নত বা অনুন্নত দেশের কথা তাই আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া এমডিজির তৃতীয় লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের চিত্রটা এ রকম যে, প্রতিবন্ধী বালিকা ও নারীদের মধ্যে মাত্র ৩.২১ শতাংশ কোনো পূর্ণকালীন আয়সৃজনী কর্মকাণ্ডে জড়িত, বাকিরা তাদের পরিবার ও সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাঝে বেঁচে থাকছে মাত্র (সিএসআইডি, ২০০২)। আমরা যেখানে সুস্থ-স্বাভাবিক মেয়েদের ক্ষমতায়নই নিশ্চিত করতে পারছি না সেখানে এই বিশালসংখ্যক প্রতিবন্ধী মেয়ে বা নারীদের ক্ষমতায়নের পথ কীভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে সেটাও চিন্তা করার সময় এসেছে। নয়তো এমন কোনো একদিন আসতে পারে, প্রতিবন্ধীদের সম-অধিকার ও ক্ষমতায়নকে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় যুক্ত না করার ফলে পৃথিবীতে নুতন এক অসমতার সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে।
তাহলে কীভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গকে এমডিজির সঙ্গে একীভূত করা যাবে? এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের মতামত অনুসারে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা উল্লেখ করা যায়:
এমডিজি পরিপূর্ণভাবে অর্জন করতে হলে এর মৌলিক প্রক্রিয়ার সব স্তরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পূর্ণ ও কার্যকর একীভূতকরণ এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
চলমান লক্ষ্যমাত্রার কাঠামো, উপকরণ ও কার্যপ্রণালীর মধ্যে প্রতিবন্ধীদের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এমডিজির মধ্যে প্রতিবন্ধিতা-সংশ্লিষ্ট বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রতিবন্ধিতাসংক্রান্ত তথ্যঘাটতি। বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে এমডিজির চলমান পর্যায়ের মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ করা যেতে পারলেও তা যথেষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নয়। তাই ২০১০ সালে এমডিজির যে রিভিউ হতে যাচ্ছে, সেখানে ‘প্রতিবন্ধিতা’বিষয়ক একটি স্বতন্ত্র শাখা তৈরি করতে হবে, যার দ্বারা সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধিতাকে মূল স্রোতে আনার জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে এবং তার স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘ মেয়াদি ফলাফল পর্যালোচনা করতে হবে।
প্রতিবন্ধিতাকে এমডিজির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য জাতিসংঘের সংস্থাগুলো ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (Stakeholder) মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে একটি ‘রিসোর্স গ্রুপ’ গঠন করা যেতে পারে, যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটির ধারাবাহিক সংলাপ এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে উপযুক্ত সহায়তা দিতে পারে।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় প্রতিবন্ধীদের একীভূতকরণের মূল হাতিয়ার হতে পারে ‘সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন’ (Community Based Rehabilitation-CBR)। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এবং স্থানীয় সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে তাদেরকে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডের আওতায় আনা যায়। এই জন্য পরিবার, এলাকাবাসী, গোষ্ঠী, সম্প্রদায়মহলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ২০০৯-এর প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে পর্যালোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় যে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের অবস্থার উন্নয়ন ও মূল স্রোতে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী কাজ শুরু হয়েছে—আমরাও তাতে শামিল হই।
দিবা হোসেন ও শাহরিয়ার হায়দার: শিক্ষক, বিশেষ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
diba_h@yahoo.com, durbasha@gmail.com

নিমন্ত্রণ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সালাহি দম্পতি -হোয়াইট হাউসে নৈশভোজ

হোয়াইট হাউসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সৌজন্যে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দেওয়া নৈশভোজে অনাহূত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকারী সালাহি দম্পতি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে নিমন্ত্রণপত্র জোগাড় করার চেষ্টা করেছিলেন। গত সোমবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, মিশেল ও তারেক সালাহি এ জন্য পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
তবে এ ব্যাপারে এক লিখিত বিবৃতিতে পেন্টাগনের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিশেল জোনস বলেছেন, ‘আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই, তাঁদের আমন্ত্রণপত্র ছিল না এবং ২৪ নভেম্বর হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে তাঁদের ঢোকার সুযোগ করে দেওয়ার ব্যাপারে আমি সালাহিদের কোনো আশ্বাস দিইনি।’ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের বিশেষ সহকারী জোনস হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের মধ্যে লিয়াজোঁ (সংযোগ রক্ষাকারী) হিসেবে কাজ করছেন। সালাহি দম্পতি জোনসের সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে ই-মেইলটি প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস।
এ ঘটনায় হাউস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান বেনি থম্পসন আগামীকাল বৃহস্পতিবার একটি শুনানির আয়োজন করেছেন। বেনি থম্পসন বলেন, মিশেল ও তারেক সালাহি, হোয়াইট হাউসের সোশ্যাল সেক্রেটারি ডেসিরি রজার্স এবং মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তরের পরিচালক মার্ক সুলিভানকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গেছে, মিশেল সালাহি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। ওবামার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং তারেক সালাহিও সেখানে উপস্থিত। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেছেন, এ ঘটনায় বারাক ওবামা নিজের নিরাপত্তা নিয়ে মোটেও বিচলিত নন। বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা দপ্তরের পরিচালকের উদ্বেগের কথা শুনেছেন তিনি। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে গোয়েন্দা দপ্তর জানিয়েছে, তাঁরা এ ঘটনায় ভীষণ উদ্বিগ্ন ও লজ্জিত।
ওদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সালাহি দম্পতি অর্থের বিনিময়ে হোয়াইট হাউসে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার জন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। অবশ্য সোমবার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা সালাহি দম্পতি। সালাহিদের মুখপাত্র মাহোগানি জোনস বলেন, এ ধরনের তথ্য ঠিক না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে প্রাইম ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্প্রতি প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের একটি পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি হয়েছে।
প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এহসানুল হক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কাশেম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই পুনঃঅর্থায়ন চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও ডেপুটি গভর্নর মো. নজরুল হুদা এবং প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মেহমুদ হোসেন, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হাবিবুর রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেরদৌসী সুলতানা, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. তারিক পারভেজ, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম খুরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
প্রাইম ব্যাংক সবুজ বিনিয়োগ খাতে ঋণ প্রদান করলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। ফলে দেশব্যাপী গ্রাহকেরা সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস, প্লান্ট ও বর্জ্য পরিশোধনের মতো পরিবেশবান্ধব প্রকল্প উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৯% হারে ঋণ সুবিধা পাবেন।

ঢাকা ইপিজেডে ব্রিটিশ কোম্পানির ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ

ব্রিটিশ কোম্পানি মেসার্স তালিসমান লিমিটেড ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় হাই ফ্যাশন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা স্থাপন করবে।
এ উপলক্ষে সম্প্রতি ঢাকায় বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী দপ্তরে বেপজা ও মেসার্স তালিসমান লিমিটেডের মধ্যে একটি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. মোয়েজ্জদ্দীন আহমেদ এবং তালিসমান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মতিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ খান, সদস্য (প্রকৌশল) এম মাহবুব-উল-আলম, সচিব মো. শওকত নবী, মহাব্যবস্থাপক এ জেড এম আজিজুর রহমান এবং বেপজার অন্যান্য কর্মকর্তা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সম্পূর্ণ বিদেশি এ কোম্পানি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে গার্মেন্টস পণ্য উত্পাদন ও রপ্তানি করবে। মেসার্স তালিসমান লিমিটেড এক হাজার ৮০০ বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রতিশোধ নয়, প্রতিকার -বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার by মশিউল আলম

রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে যাঁরা হত্যা করতে গিয়েছিলেন, তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তোরা কী চাস?’ সেই মুহূর্তে তাঁরা এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন আগ্নেয়াস্ত্রের ভাষায়।
পরে সেই উত্তর অনূদিত হয় রাজনৈতিক ভাষায়: বাংলাদেশ এক স্বৈরশাসকের হাত থেকে মুক্তি পেল। ১৫ আগস্ট জাতীয় ‘নাজাত দিবস’। একদলীয় শাসনের অবসান ঘটল, বহুদলীয় গণতন্ত্রের রাস্তা গেল খুলে। বাকশালি স্বৈরশাসন ও তার নেতার হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করার জন্য সেই রক্তাক্ত কালরাত্রি অনিবার্য হয়ে উঠেছিল, ওই রক্তগঙ্গার প্রয়োজন ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই সে ঘটনা যাঁরা ঘটিয়েছিলেন, তাঁরা সদর্পে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে।’
তারপর অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে। বহুবর্ণিল বহুদল হয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্রের পথে বেশি দূর অগ্রসর হওয়া যায়নি। এবড়োথেবড়ো পথে বহু কসরত করে সেদিকে এগোনোর চেষ্টা চলছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ‘প্রয়োজনীয়তা’ বা ‘যৌক্তিকতা’র প্রচারণা ধীরে ধীরে কমে এসেছিল। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া যখন চলছে, তখন কিছু সংবাদমাধ্যমে সেই সব পুরোনো প্রচারণা আবার ফিরে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের আবেদন খারিজ করে রায় ঘোষণার পর দৃশ্যত কেউ সে রায়ের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদও আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, তাঁরা এ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু কয়েকটি সংবাদপত্র রায় সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও এমন সব প্রচারণা চালাচ্ছে, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে তারা এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পক্ষে সেই সব পুরোনো যুক্তিই তুলে ধরতে চাইছে। শেখ মুজিবুর রহমান স্বৈরশাসক ছিলেন, তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করতে চারটি ছাড়া দেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিলেন, একদলীয় বাকশাল গঠন করেছিলেন, রক্ষীবাহিনীকে সুরক্ষা দিয়েছিলেন দায়মুক্তির আইন করে, দেশ পরিচালনায় তাঁর ব্যর্থতা ছিল সীমাহীন ইত্যাদি। এসব প্রচারণা চালানো হয়েছে ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন তাঁর হত্যাকারীদের বিচারের আপিল আবেদনের শুনানি চলেছে। সেই সময়ের বিদেশি পত্রপত্রিকায় ‘মুজিবের পতন’ নিয়ে নেতিবাচক ধরনের এবং খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রতি সমর্থনসূচক যেসব সংবাদ, মন্তব্য ইত্যাদি ছাপা হয়েছিল, সেগুলো সংগ্রহ করে ধারাবাহিকভাবে ছেপেছে একটি দৈনিক। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রতি সহানুভূতির প্রকাশ ঘটেছে ওই পত্রিকাগুলোর বিভিন্ন খবরে ও মন্তব্যে।
মুজিববিরোধী এই সব প্রচারণায় নতুন কিছুই নেই। আছে বরং সেই পুরোনো মানসিকতারই পরিচয়। সেটা হলো, মুজিব হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করা এবং যাঁরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তাঁদের ওপর বীরত্বের গুণ আরোপ করা। এ ধরনের সাংবাদিকতার পেছনে যে রাজনীতি ক্রিয়াশীল রয়েছে, আধুনিক গণতন্ত্রের যুগে তা যে অচল, তা ওই রাজনীতিকেরা উপলব্ধি করেন কি না, ভেবে স্থির করতে পারি না। কিন্তু এটা তো দেখতে পাচ্ছি, কোনো রাজনৈতিক মহলের পক্ষেই আজ আর সেদিনের মতো প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয় ‘পনেরই আগস্টের নায়কেরা’ বাংলাদেশকে মুক্তি দিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যাঁরা ইনডেমনিটি আইন করে হত্যাকারীদের বিচারের পথ দীর্ঘকাল বন্ধ রেখেছিলেন, উল্টো লোভনীয় নানা চাকরি ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে পুরস্কৃত করেছিলেন, বিদেশ থেকে ডেকে এনে রাজনৈতিক দল গঠন করিয়ে, এমনকি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রার্থী বানিয়েছিলেন—সেই রাজনীতিকেরা মুখে মুখে আদালতের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছেন বটে, কিন্তু তাঁদের মনের মধ্যে কী আছে? সেখানে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে? কোনো শুভবুদ্ধির উন্মেষ ঘটেছে? তাঁরা কি আজ আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করেন যে, বঙ্গবন্ধুর ভুল-ত্রুটি-ব্যর্থতা যত যা-ই থাকুক না কেন, তাঁর হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য ছিল না, হতে পারে না? একই যুক্তিতে আজ তাঁদের এটাও কি উপলব্ধি করা উচিত নয়, খন্দকার মোশতাক আহমদের জারি করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল না করা, স্বঘোষিত হত্যাকারীদের বিদেশি মিশনে চাকরি-পদোন্নতি ইত্যাদির মধ্য দিয়ে পুরস্কৃত করা কোনো নৈতিক বিচারেই সংগত হয়নি? প্রকাশ্যে না হোক, অন্তত আপন মনে তাঁরা যদি উপলব্ধি ও স্বীকার করেন যে, সেসবই ছিল ভুল, অন্যায় করা হয়েছিল, তাহলে কি তাঁরা নৈতিক বা রাজনৈতিক—কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন? নাকি তার ফলে দেশের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বৈরিতা, অনাস্থা, অবিশ্বাস, ষড়যন্ত্রপরায়ণতা লাঘব হতে পারে?
অবিকশিত গণতন্ত্র, আইনের শাসন সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব ইত্যাদি নানা কারণে অপরাধ, বিচার, দণ্ড ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের সমাজে স্বচ্ছ ধারণার ঘাটতি এখনো বেশ লক্ষণীয়। বিবিসির সাবেক সাংবাদিক সিরাজুর রহমান দৈনিক নয়া দিগন্তে গত ২৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার, রায় ইত্যাদি নিয়ে এক নিবন্ধ লিখেছেন। নানা ঘটনা ও প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মোদ্দা যে বক্তব্যটি তিনি হাজির করেছেন সেটা হলো, শেখ হাসিনা পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিলেন (বা আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মধ্য দিয়ে প্রতিশোধ নিতে যাচ্ছেন)। আদালতের রায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী এখন কী করবেন সে রায় নিয়ে? এ কথা কি তাঁর মনে হচ্ছে যে দয়া, ক্ষমা এবং অনুকম্পাহীন বিচার প্রতিশোধ এবং প্রতিহিংসাপরায়ণতারই নামান্তর? সত্যি কি তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য রাজনীতি করেছেন? প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন?’
সিরাজুর রহমান তাঁর ওই লেখার প্রারম্ভিক অংশের কিছু পরের দিকে উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের গোড়ার দিকে বিবিসির এক ইংরেজ সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘তিনি রাজনীতিকে ঘৃণা করেন, কিন্তু পিতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়েছেন। আমি সেই রেকর্ডিং থামিয়ে দিয়েছিলাম, শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, বিবিসি থেকে সে কথা প্রচার করা তাঁর রাজনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। বুঝতে পেরেছিলাম, সে পরামর্শের জন্য হাসিনা আমার ওপর বিরক্ত হয়েছিলেন। পরে শুনেছিলাম অন্য কোথাও তিনি বলেছেন, তাঁর পিতার হত্যায় বাংলাদেশের মানুষ কাঁদেনি, সে জন্য তিনি তাঁদের শাস্তি দিতে চান।’
বর্ষীয়ান সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের এসব কথার সত্যমিথ্যা যাচাইয়ের কোনো সুযোগ আমাদের নেই। তবে এটা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, তিনি বলতে চাইছেন, শেখ হাসিনা তাঁর সেই কথিত প্রতিশোধপরায়ণতাই চরিতার্থ করছেন। কিন্তু একটি সত্য সিরাজুর রহমানের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে: ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা তাঁর পিতার হত্যাকারীদের ধরে ধরে টপাটপ ফাঁসিতে লটকাননি। বিশেষ কোনো ট্রাইব্যুনাল বসাননি, সংক্ষিপ্ত বিচারের উদ্যোগ নেননি। সাধারণ আইনে স্বাভাবিক পন্থায় বিচারের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেটা করতে গিয়ে বিচার-প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘায়িত হয়েছে। তারপর ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার-প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিলম্বিত বিচারের ভাগ্যে যোগ হয়েছে আরও সাত (৫+২) বছরের বিলম্ব। এবার আওয়ামী লীগ আবার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাভাবিক বিচার-প্রক্রিয়ার পথের বাধাগুলো সরিয়ে নিয়েছে; ২৯ কার্যদিবস শুনানি শেষে আপিল বিভাগের এক বিশেষ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেছেন। এরপর আসামিদের ক্ষমাপ্রার্থনার সুযোগ রয়েছে—সব আইনি-প্রক্রিয়াই যথাযথভাবে অনুসৃত হচ্ছে। হত্যাকারী যদি আইনানুগ পন্থায় বিচারের মাধ্যমে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়ে দণ্ড পান, তবে সেটাকে প্রতিশোধ বলা যায় না, সেটা কৃত অপরাধের আইনি প্রতিকার। এ ছাড়া অন্যায়-অপরাধের আর কী প্রতিকার থাকতে পারে?
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দণ্ডিত আসামিদের দণ্ড কমিয়ে প্রাণদণ্ড এড়ানোর জন্য। সিরাজুর রহমানও আধুনিক ইউরোপ-আমেরিকার দৃষ্টান্ত টেনে বলতে চেয়েছেন, তাঁদের ফাঁসি দেওয়া ঠিক হবে না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মানবতাবোধের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিরিখে এ ধরনের অনুরোধ জানিয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ বড় অদ্ভুত দেশ: এই দেশে জেলখানার মধ্যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হেফাজতেও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতার হত্যাকারীদের বিচার করা যাবে না বলে আইন জারি করা হয়েছে। এখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন, রাষ্ট্রপতি তাঁদের দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন, তাহলে কে নিশ্চয়তা দিতে পারে চার বছরের মাথায় অন্য এক সরকার ক্ষমতায় এলে তাঁরা ফুলের মালা গলায় পরে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবেন না?
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা ছাড়া বাংলাদেশ ইতিহাসের ও চলমান সময়ের অশুভ পাকচক্র থেকে বেরতে পারবে না। সে জন্য প্রয়োজন বৈরিতা-বিভেদের অবসান। যাঁরা ভুল, অন্যায়, অপরাধ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অনুশোচনা না জাগলে বৈরিতার অবসান কী করে সম্ভব? আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর শুধু দণ্ডিত আসামিদের নয়, তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল বা তাঁদের প্রণোদক রাজনৈতিক শক্তিরও এই উপলব্ধিতে পৌঁছা উচিত।
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

শাহজাদপুরে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের শাখা ও এসএমই সেবাকেন্দ্র উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মনিরামপুর বাজারে সম্প্রতি সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ৪৫তম শাখা ও সপ্তম এসএমই সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালক নার্গিস মান্নান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালক রেজাউর রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ব্যাংকের পরিচালক মো. সুলতান আহমেদ চৌধুরী ও মো. হাফিজার রহমান, সাবেক উপাধ্যক্ষ মো. নূরুল ইসলাম, শাহজাদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে আজাদ রহমান এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে মাসুদ খান ও আবদুল হাকিম সরকার বক্তব্য দেন।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, শাহজাদপুর তাঁতপ্রধান এলাকা হওয়ায় এখানে তাঁতিদের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করতে এসএমই শাখা খোলা হয়।

বিশ্ব বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান

‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সপ্তম মন্ত্রী পর্যায়ের সভা ও বাংলাদেশের জনস্বার্থ’ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনসিডিন বাংলাদেশের আয়োজনে সম্প্রতি ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জ মিলনায়তনে গণমাধ্যমের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী প্রসঙ্গপত্র উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নাসিমুল আহ্সান, মুশফিকুর রহমান, রীতা দাস, আসিফ মামুন, রফিকুল আলম, আহমেদ বোরহান, মিতা লাহিড়ী ও রকিবুল হাসান।
মাসুদ আলী তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, ৩০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সপ্তম মন্ত্রী পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় বাংলাদেশ সরকার সাম্প্রতিক আর্থিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব, শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তনে অসম নেতিবাচক প্রভাব, উন্নত দেশের শ্রমবাজারে শ্রমিকের প্রবেশাধিকার ও খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়গুলো আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছে।
বাণিজ্যিক বাধা সরিয়ে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত বাজার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মাসুদ আলী বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কৃষি চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে হাতে গোনা কয়েকটি উন্নত দেশ আর কিছু সংখ্যক বহুজাতিক কৃষি ও খাদ্য করপোরেশন। অন্যদিকে বিশ্বের স্বল্পোন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সব রকমের কৃষিসহায়তা ও ভর্তুকি তুলে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে গিয়ে ক্রমাগতভাবে খাদ্য ঘাটতির মুখে পড়ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থানপত্রে পাঁচটি আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার, উন্নত দেশের শ্রম বাজারে আমাদের শ্রমিকের প্রবেশাধিকার ও খাদ্যনিরাপত্তাসংক্রান্ত তিনটি বিষয়কে অধিকতর প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

সো-হোয়াট, তাতে হয়েছেটা কী by এবিএম মূসা

সীতাকুণ্ডে আবারও হাজার-হাজার গাছ কেটে ফেলেছে মিলিত সন্ত্রাসীরা। মিলিত মানে, অন্য যেকোনো জাতীয় সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে মতান্তর থাকলেও একটি স্থানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মনে হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ। সীতাকুণ্ডে তাঁরা একটি ‘জাতীয় ঐক্যের’ নিদর্শন স্থাপন করেছেন। সংসদে পাশাপাশি বসেন না তাঁদের নেতারা, যদিও একসঙ্গে বেতন-ভাতা আদায় করেন। শুনছি, স্পিকারের সুপারিশে গাড়িও সমানভাবে বণ্টন করা হবে। শুধু গাছ কাটা আর টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে কোনো ‘মতদ্বৈধতা’ নেই। এই অদ্ভুত সহাবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে টেলিফোন করলেন শাহজাহান কবির। লক্ষ্মীপুরবাসী কবির এমন অনেক ব্যাপারে তাঁর প্রিয় দলীয় সরকারের কর্মকাণ্ডের খবর পড়ে টেলিভিশনে ছবি দেখে ক্ষুব্ধ, বিরক্ত ও আশাহত হয়ে প্রায়ই টেলিফোন করেন। তাঁর প্রশ্ন ‘এসব কী হচ্ছে?’ আমি লঘুভাবে জবাব দিই, হয়েছেটা কী? অথবা হলেই বা কী? ‘সো-হোয়াট?’ তার ক্রুদ্ধ উত্তরটি প্রতিবেদনটির সমাপ্তিতে জানাব।
একই কথা বলেছিলাম একটি সেমিনারে। অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য প্রতিবছর সাংবাদিক তথা প্রতিবেদককে পুরস্কার দিয়ে থাকে টিআইবি তথা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। কয়েক সপ্তাহ আগে মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে গত বছরের শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ে আলোচনাপত্র পেশ করেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। পূর্বনির্ধারিত কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও আমাকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। আলোচনাকালে আমি বলেছিলাম, ‘এত যে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, তাতে হয়েছেটা কী? কার কী আসে যায়।’ মতিউর রহমান নিজেও স্বীকার করেছেন, তাঁর উপাত্তপত্রে বলেছেন, রিপোর্টগুলো পরে হারিয়ে যায়। প্রথম আলোতেই পূর্ণ পৃষ্ঠা একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল প্রায় শখানেক পুল বছরের পর বছর অসমাপ্ত রয়ে গেছে। তাঁর পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে অনেকদিন আগে। তারপরও পুলগুলোর নির্মাণ সমাপ্ত হয়েছে কি-না তা তো জানা গেল না, পত্রিকার প্রতিবেদকও পরে কিছু জানাননি। মতিউর রহমান সাংবাদিকতার ভাষায় প্রশ্ন করেছেন, ‘ফলোআপ কোথায়?’ রিপোর্ট ছাপা হওয়ার পর কী হলো, তা কেন প্রতিবেদক জানালেন না। প্রশ্নটির জবাব বস্তুত সম্পাদকেরই দেওয়ার কথা। যাই হোক, বিজ্ঞ সম্পাদক জানেন, যাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এসব অনুসন্ধানী রিপোর্ট এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়ভার যাঁদের তাঁরা উত্তর বা কৈফিয়ত দেওয়ার, কী হলো জানানোর ধার ধারেন না।
আমার সংক্ষিপ্ত ভাষণে মতিউর রহমানের বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেছিলাম, ফলোআপের দরকার হয় কখন? পত্রিকার রিপোর্টে যা বলা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্দশা লাঘবে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের তথা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ। এ ছাড়া পুল অসমাপ্ত রাখার পরও বরাদ্দ অর্থ আত্মসাত্কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি-না সে নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন দেখা দেয়, তার উত্তরও তাঁরাই দেবেন, এমনটিই তো সবাই ভাবেন। উত্তর নেই, মানে তাঁদের তথা সরকারের কোনো জবাবদিহি নেই। স্বল্প সময়ের আলোচনায় আমি মতিউর রহমানকে বলতে পারিনি, ‘আসলে তারপর আর কিস্যু হয়নি।’ যাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জনগণের অভাব-অভিযোগ, ক্ষোভ-সমালোচনা পত্রিকার পাতায় ছাপা হয়, তাঁরা তা পড়েন না। অথবা পড়লেও গ্রাহ্য করেন না। ভাবেন ‘তাতে হয়েছেটা কী?’ সীতাকুণ্ডের বনরাজি ধ্বংস করার প্রাক্কালে একই ধরনের একটি প্রতিবেদন কয়েক মাস আগে ছাপা হয়েছিল। পত্রিকায় খবর ছাপা হয়েছিল, এই খবর পড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তাঁর ক্ষুব্ধ হওয়াই সার। মদদদাতা তাঁর দলীয় সাংসদ ও কাঠুরে বাহিনী বহালতবিয়তে আছেন! প্রধানমন্ত্রী হুঙ্কার দিয়েছেন, তাতে হয়েছেটা কী, সো-হোয়াট? তাঁর বলার আছে বলেছেন, আমরা শুনেছি, অতঃপর যা করার করে চলেছি। আবার কাটছি, আবার হুঁশিয়ারি শুনব। তারপর দুই-চারটে যেগুলো আছে সেগুলো কাটব এবং কাটছি।
প্রসঙ্গত, আমার নিজের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখির প্রতিক্রিয়াটি কী হয় তাও বলতে হয়। উল্লেখ করেছি, কুষ্টিয়া থেকে আমার একজন পাঠকও পত্রযোগে জানতে চেয়েছেন, ‘আপনি যে এত লেখালেখি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনার মাঝেও কিছু হিতোপদেশ দেন তারপরও তাদের পরবর্তী কার্যক্রমে তার আছর দেখতে পাই না কেন?’ তিনি সম্পাদক মতিউর রহমানের প্রশ্নটিই ভিন্ন ভাষায় করেছেন, ‘তারপর কী হলো?’ এই প্রশ্নের উত্তরে তাঁকে বলেছি, একবার পুলগুলোর কথা আলোকচিত্র সহকারে প্রকাশিত হয়েছে, তারপর আর কী হতে পারত। পুলগুলো মেরামত হয়েছে, পুলখেকোর কাছ থেকে খেসারত আদায় করা হয়েছে, অর্থাত্ এমনটিই তো হওয়ার কথা। আমার ধারণা, ‘সেসব কিস্যু হয়নি, না হলেও বা কী করার আছে? পুল নির্মাণের অতীত-বর্তমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃত্বধারীরা ভাবেন, পত্রিকায় যখন ছাপা হয়েছে, নতুন একটি সুযোগ এসেছে। নতুন করে পুলের টেন্ডার হবে। তবে এবার এলাকার নিজ দলীয় কোনো কর্মীকে দিয়ে কীভাবে সেতু-সম্পর্কীয় টাকা পাইয়ে দেওয়া যায়, মন্ত্রণালয়ের নথিপত্রে সেই খোঁজ নিতে হবে।’
সেতু নিয়ে পাঠকের প্রশ্নের জবাবে একটি গল্প মনে পড়ছে। অতীতের সেই কাহিনী ছিল, দুর্নীতিতে সেরা খেতাবপ্রাপ্ত একটি দেশের রাষ্ট্রপতি গেলেন পার্শ্ববর্তী দেশে। স্বাগতিক দেশের রাষ্ট্রপতির নিজস্ব বিশাল জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদ দেখে অতিথি অবাক বিস্ময়ে প্রশ্ন করলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, এত টাকা কোথায় পেলেন?’ রাষ্ট্রপতি মেহমানকে জানালা দিয়ে দেখালেন দূরের নদীর ওপর বিশাল সেতু। বললেন, ‘টেন পারসেন্ট, মানে সেতু বাবদ ব্যয়ের হাজারো কোটি টাকার মাত্র দশ শতাংশ নিয়েছেন।’ কিছুদিন পর পাল্টা নিমন্ত্রণে এলেন পূর্বোল্লিখিত রাষ্ট্রপতি। দেখেন তাঁর প্রাসাদের চেয়েও অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ বিলাসী প্রাসাদ এই রাষ্ট্রপতির। তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই বিশাল প্রাসাদ বানালেন কীভাবে?’ নতুন দেশের রাষ্ট্রপতি মেহমানকে জানালা দিয়ে দূরের একটি নদী দেখিয়ে বললেন, ‘ব্রিজটি দেখছেন?’ মেহমান রাষ্ট্রপতি বললেন, ‘না তো, সেটি কোথায়?’ গৃহকর্তা রাষ্ট্রপতি মুচকি হেসে নিজ প্রাসাদের চারদিক দেখিয়ে বললেন, ‘বুঝলেন না? হানড্রেড পারসেন্ট।’
আমার ক্ষুব্ধ পাঠককে গল্পটি শুনিয়ে বললাম, ‘আমরা যা লিখি, যাঁদের উদ্দেশে লিখি, তাঁরা তা পড়েন না। পড়লেও বোঝেন না। বুঝলেও গ্রাহ্য করেন না। কারণ সেই টেন বা হানড্রেড পারসেন্ট।’ টিআইবি সেমিনারে একটি ইংরেজি প্রবচনের উদ্ধৃতিও দিয়েছিলাম, ‘লেট দি ডগস বার্ক, দি ক্যারাভান উইল পাস-অন, রাস্তায় কুকুর ঘেউ ঘেউ করলেই বা কী? আমার পথে আমি যাব, আগামী আরও চার বছর তো বটে।’ সব বিরূপ আলোচনা ও সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় সরকারের অনেকের মনোভাব এমনটি মনে হয় না কী? তাই তো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সিন্ডিকেট সদস্যদের নিয়ে বৈঠক হয় কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেওয়া হয় না। কারণ, হয়তো সেই ‘টেন অথবা ফিফটি পারসেন্ট।’ ক্ষেত্রবিশেষে ‘হানড্রেড পারসেন্ট হতে পারে।’ আবার এমনও মনে হতে পারে, ‘পাবলিক মেমোরি ইজ শর্ট। জনমত পদ্মপাতার জল, ডাল-তেলের দাম, যানজটের দুর্ভোগ, ঈদে বাড়ি যাওয়ার ভোগান্তি, দু’দিনের ব্যাপার, ভুলতে কতক্ষণ! সো-হোয়াট, যে যা বলিস ভাই, আমার পারসেন্টেজ চাই।’
সেমিনারে আমার তির্যক মন্তব্যে স্নেহভাজন তথ্যমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। প্রধান অতিথির ভাষণে মন্ত্রী মহোদয় বললেন, ‘মূসা ভাই, প্রতিদিন সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবগুলো পত্রিকা খুঁটিয়ে পড়েন। বিশেষ করে আপনাদের কয়েকজনের মন্তব্য-প্রতিবেদন কলামগুলোতে প্রতিফলিত বক্তব্য-মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। আমি দেখা করতে গেলে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, পড়েছি কিনা।’ মন্ত্রী মহোদয়কে পাল্টা প্রশ্ন করার সুযোগ পাইনি, তাই বলা হলো না, ‘পড়েছেন তো বুঝলাম, তারপর কী হয়? যে সব অনুসন্ধানী রিপোর্ট, মতামত, জনগণের দুর্দশার বিবরণ, তাঁর মন্ত্রীদের উল্টো-সিধে অতিকথনের কাহিনী পড়ে তাঁর কী প্রতিক্রিয়া হয়?’ জবাবে তিনি হয়তো প্রত্যুত্তরে বলতে পারতেন, ‘এ তো আপনি সরাসরি তাঁর কাছ থেকেই জানতে পারেন।’ তাঁকে বলিনি, আমার একটি টেলিভিশন চ্যানেল পাওয়ার ব্যাপারে একান্ত সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্নটি করেছি বৈকি। কী উত্তর পেয়েছি, অতি নিজস্ব ব্যাপার, তাই লিখলাম না। মন্ত্রী মহোদয়ের কথায় বিশ্বাস করলাম। প্রধানমন্ত্রী পড়েন, ক্ষুব্ধ হন, তারপর নেতাকর্মীদের হুমকি দেন, ‘আর সহ্য করা হবে না।’ আমার পাঠককে প্রধানমন্ত্রীর হুমকির কথা শোনাতে তিনি বিদ্রূপাত্মক কণ্ঠে বললেন, সেই ‘আর’ কবে আসবে?
তাই তো, আমি ভাবছি কবে আসবে? দখলবাজি, টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিদিনই বিশদ প্রতিবেদন পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে, টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে। এসব কোনো অনুসন্ধানী রিপোর্ট নয়, সঠিক তথ্য পরিবেশন। মন্ত্রী ‘হুঁশিয়ার’ করে দিচ্ছেন, ‘যে দলেরই হোক’ টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করছেন। তারপরও প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় ‘যেকোনো দলের নয়’ একটি দলেরই টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির খবর প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। তবে সীতাকুণ্ডে যেমন ঘটেছে তেমনি অনেক স্থানে এসব কর্মকাণ্ড, কোথাও কোথাও সব দলের চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজ-দখলবাজদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ঘটে থাকে বৈকি। তথ্যমন্ত্রীকে সেদিন সুযোগ পেলে জিজ্ঞেস করতাম, ‘প্রধানমন্ত্রী সবই পড়েন, আপনাকে পড়তে বলেন, তা তো বুঝলাম। আপনিও বলেছেন, সবই পড়েন, এই রিপোর্টগুলো পড়ার পর ধমক-ধামক ছাড়া কী করেছেন? তবে একেবারেই কিছু করেন না বলব না। সংবাদপত্রে বৃক্ষ-সন্ত্রাসীদের নাম-পরিচয় ছাপা হয়, মামলা হয় অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের নামে। মন্ত্রী সাড়ম্বরে ভরাট করা নদী থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করেন। ভরাটকারীরা দূরে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসে, মন্ত্রী দু’কদম না যেতেই নবউদ্যমে দখলযজ্ঞ পুনরাম্ভ হয়।
পাদটিকা— আমার পাঠকদের ক্রমাগত প্রশ্নের জবাবে বিরক্ত হয়ে বলি, ‘এ হচ্ছে, সে হচ্ছে, অতীতেও হয়েছে, এখনো হবে। সো-হোয়াট, তাতে হয়েছেটা কী?’ কুষ্টিয়ার পাঠক ব্যঙ্গাত্মক উত্তর দিলেন, ‘হয়েছেটা কী, চার বছর পরে টের পাবানি।’
এবিএম মূসা: সাংবাদিক

মনে রাখতে হবে সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা -বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি ফি

বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে প্রতিবছরই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে থাকে। এ বছর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হয়েছিলেন যে, তাঁদের দুর্ভোগ ও হয়রানির অবসান হবে। নির্ধারিত সময়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ও ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বিপত্তি দেখা গেল ভর্তি ফি নিয়ে। প্রায় প্রতিটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজই অস্বাভাবিক ভর্তি ফি দাবি করায় ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না।
অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম যে সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন, তা-ও নেই। তার পরও বছর বছর শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি ও বেতন বাড়ানোর কী যুক্তি থাকতে পারে? এবার ভর্তি ফি ও বেতন বেঁধে দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে পারা দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তি ফি ও বেতন বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে মেডিকেল কলেজের মালিকেরা ভর্তুকি দাবি করেন। একদিকে সরকারের কাছে ভর্তুকি দাবি, অন্যদিকে ডোনেশনের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় কেবল অযৌক্তিক নয়, বেআইনিও। সরকারও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার না দিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিকদের অন্যায় আবদারের কাছে নতি স্বীকার করল।
গতকাল প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো এ বছর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে ভর্তি ফি বাড়িয়েছে। গত বছর যে মেডিকেল কলেজ ১০ লাখ টাকা ভর্তি ফি নিয়েছিল, এবার দাবি করছে ১২ লাখ টাকা। সে ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে পাঁচ বছরের কোর্স শেষ করতে গুনতে হবে ২০ লাখ টাকারও বেশি। এই বিপুল অর্থ ব্যয় করে পড়াশোনা চালানো কয়জনের পক্ষেই বা সম্ভব? বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মান নিয়ে প্রশ্ন বরাবরই ছিল। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপযুক্ত শিক্ষক নেই অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে। ৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য আড়াই শ শয্যার হাসপাতাল থাকার বাধ্যবাধকতাও তারা মানছে না।
এ ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিকদের পক্ষ থেকে যেসব যুক্তি তোলা হচ্ছে তাও ধোপে টেকে না। ৩৯টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের একটিও লোকসানের দায়ে বন্ধ হয়েছে এমন নজির নেই; বরং উদ্যোক্তাদের গাফিলতির কারণে বহু মেডিকেল শিক্ষার্থীর পড়াশোনাও ব্যাহত হয়েছে। আমরা মনে করি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের উদ্যোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা দরকার। ব্যবসার পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাটি ভুলে গেলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি আমলে নিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বর্ধিত ভর্তি ফি ও বেতন আদায় থেকে বিরত থাকবে বলে আশা করি। এ ক্ষেত্রে সরকারেরও কিছু করণীয় আছে বলে আমরা মনে করি।

চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধির হার হবে ৫.৭%: সিটি

চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার হবে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। তবে আগামী অর্থবছর অর্থনীতিতে গতিময়তা বেড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ১০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটিগ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সিটি গ্লোবাল মার্কেটসের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সুশাসন সংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশের বার্ষিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ছয় শতাংশের ওপর রয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।
শিল্প উত্পাদন ও সেবা খাতের অগ্রগতির প্রবণতাকে বিবেচনায় নিয়ে সিটি মনে করছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হবে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা ২০১০-১১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার প্রবৃদ্ধি জোরদার করার জন্য অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছে। এর মধ্যে আছে নির্মাণ, বিদ্যুত্ ও ম্যানুফ্যাকচারিং। সার্বিকভাবে শিল্প খাতের অগ্রগতি থেকে এটা বলা যায়, প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলিত হার অর্জিত হবে।
তবে প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, কৃষি উত্পাদনে আকস্মিক বিপর্যয়, সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঘাটতি এবং পোশাক রপ্তানি চাহিদায় মন্দাভাবের কারণে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নিম্নগতি বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে সামনের দিনগুলোয় রপ্তানিতে বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো আভাস মিলছে না। তবে কাঠামোগত সংস্কার ও শ্রম আইনে সংশোধনের কারণে রপ্তানি খাত সুফল পেতে পারে।
তাই চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে ২০১০-১১ অর্থবছরে তা বেড়ে ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ জোরালো থাকলেও আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্তাবস্থা সংকুচিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চলতি বছর তা জিডিপির আড়াই শতাংশ থেকে কমে আগামী অর্থবছরে তা ১ দশমিক ৭০ শতাংশ হতে পারে। প্রতিবেদনে ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও দুর্বল হয়ে চলতি অর্থবছর শেষে প্রতি ডলার ৭১ টাকা ৬০ পয়সায় গিয়ে ঠেকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিটির বিশ্লেষণে রাজস্ব খাতের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকার চলতি অর্থবছর বাজেট ঘাটতির হার জিডিপির ৫ শতাংশ ধরে রাখতে পারবে। তবে রাজস্ব আয় বাড়ানোর বদলে বরং উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে এনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের শঙ্কা রয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উত্পাদনকে ব্যাহত করবে না—এই অনুমানের ভিত্তিতে সিটি মনে করছে, মূল্যস্ফীতির হার চলতি অর্থবছর গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশে থাকবে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্কলনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলেও সিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছর জরুরি অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন থাকার পর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে বিরাট জয় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা প্রত্যাশা করি যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ণ মেয়াদ (২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত) ক্ষমতায় থাকবে।’ এটা রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার জন্য ভালো বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

হঠাৎ ঋণসংকটে টালমাটাল দুবাই

ধাক্কাটা এল ঈদুল আজহার ছুটির আগে। আর তা মধ্যপ্রাচ্যের ধনাঢ্য রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে। এখানকার সুবৃহত্ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান দুবাই ওয়ার্ল্ড গত ২৫ নভেম্বর জানিয়ে দেয়, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। এ জন্য ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ছয় মাস সময়ও চায় প্রতিষ্ঠানটি।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার শেয়ারবাজার টালমাটাল হয়ে পড়ে। কারণ, বহু প্রতিষ্ঠান দুবাই ওয়ার্ল্ডের বন্ড কিনেছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই আবার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে আছে।
দুবাই ওয়ার্ল্ডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলো আবাসন, আর্থিক ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নাখিল যে কিনা ‘পাম জুমেইরাহ’ ও ‘ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ডস’ নামে দুটি বিরাট উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নাখিলের ৪০০ কোটি ডলারের ইসলামি বন্ড আগামী মাসে পরিশোধ করার কথা।
দুবাই ওয়ার্ল্ডের এই ঋণসংকট পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে দুবাইয়ের চাকচিক্যময় সমৃদ্ধির ভিতে ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ঋণসংকট যেন বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায় সে জন্য অবশ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত রোববারই তত্পর হয়ে ওঠে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দুবাইতে ব্যবসারত দেশি-বিদেশি কোনো ব্যাংকের অর্থ প্রয়োজন হলে তা জোগান দেওয়া হবে।
তবে আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুবাই ওয়ার্ল্ডকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো কিছু বলেনি। আর তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতি বিনিয়োগকারীদের তেমন স্বস্তি দিতে পারেনি।
পরিস্থিতি আরেকটু জটিল হয়েছে যখন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুবাই ওয়ার্ল্ডের ঋণ বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা তারা দেবে না।
দুবাই ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের মহাপরিচালক আবদুল রহমান আল সালেহ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ঋণদাতারা মনে করছে, দুবাই ওয়ার্ল্ড সরকারের অংশ যা ঠিক নয়।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘ঋণদাতারা নিজস্ব বিবেচনায় ঋণ দিয়েছে। কাজেই তাদের যার যার দায়িত্ব নিতে হবে।’
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুবাই ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, তারা দুই হাজার ৬০০ কোটি ডলারের একটি কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে এই ঋণসংকট থেকে বেড়িয়ে আসা সম্ভব হবে। তবে এই অর্থ মূলত দুটি প্রতিষ্ঠান নাখিল ও লিমিটলেসের জন্য ব্যয় করা হবে। আর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা ভালো থাকায় তাদের কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই।
কিন্তু এই ঘোষণার পরও দুবাই ও আবুধাবি স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক পড়ে গেছে ৬ শতাংশ হারে। এ নিয়ে পরপর দুই দিন আরব আমিরাতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটল। আর প্রতিবেশী কাতারের প্রধান মূল্যসূচকের পতন ঘটেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ হারে।
এদিকে দুবাই ঋণসংকট কাটাতে সহায়তা করার জন্য খোদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট এগিয়ে এসেছেন।
শেখ খালিদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এক বিবৃতিতে বলেছেন, আরব আমিরাতের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় আছে।
তিনি দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমেরও প্রশংসা করেছেন। মাকতুম একাধারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

‘জং জি চেং চেং’-এই চীনা প্রবাদ অনুসরণের তাগিদ দিলেন লামি by শওকত হোসেন

বক্তা হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক প্যাসকাল লামির সুনাম বহু পুরোনো। গত সোমবার উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এবার ব্যবহার করলেন একটি চীনা প্রবাদ, যার বাংলা করলে হয় ‘একতাই শক্তি’।
বাংলাদেশে যেমন বলা হয় ‘একতাই বল’ বা ‘দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ,’ প্যাসকাল লামিকে তাঁর বক্তৃতার শেষ অংশে এ কথাগুলো বলতে হলো ২০১০ সালের মধ্যে দোহা উন্নয়ন আলোচনা শেষ করার তাগিদ দিতে গিয়ে।
কেননা, এর ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে আছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা ও সফলতা।
মন্ত্রী পর্যায়ের এবারের এই সপ্তম সম্মেলনে ঘুরেফিরেই বারবার আসছে এই দোহা উন্নয়ন আলোচনা। আর এর অনুষঙ্গ হিসেবে চলে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের নামটি।
কেননা, দোহা উন্নয়ন আলোচনা সফল করতে হলে সবচেয়ে বড় ভূমিকা যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিতে হবে, এটা সবাই জানেন এবং মানেন।
সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেলসো অ্যামোরিম তো বলেই ফেললেন, একটি মাত্র দেশ আলোচনাকে অচল রেখেছে, ফলে সামনে এগোনো যাচ্ছে না। নাম না উল্লেখ করলেও তিনি যে যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলছেন, তা সবাই জানেন।
আর বলবেন না-ই বা কেন? মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অগ্রাধিকারের তালিকায় প্রথম তিনটির মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা নেই। অগ্রাধিকারের তালিকায় ওপরে আসতে না পারলে দোহা উন্নয়ন আলোচনা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই।
জেনেভায় এসেও শুরুতে জানা যাচ্ছিল না যে, এবারের এই সম্মেলনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রন কার্ক আসবেন কি না। তাঁর আসা বা না আসার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার বোঝার চেষ্টা করেছিলেন অনেকেই। পরে জানা গেল, সম্মেলনের শেষ দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য তিনি আসছেন।
সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেনেভার আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে। এখানকার মিডিয়া সেন্টারে প্রতিনিয়ত জানানো হচ্ছে কখন কে সংবাদ সম্মেলন করছেন। উদ্বোধনের পর গত সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের যে তালিকা পাওয়া গেল, সেখানে রন কার্কের নাম রয়েছে। তবে সময়টি বলা হয়নি, পরে জানানো হবে। সন্দেহ নেই, এবারের এই সম্মেলনে সবাই অধীর আগ্রহ করে আছেন রন কার্কের সংবাদ সম্মেলনের জন্য।
যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় রন কার্ক অবশ্য সম্মেলন শুরু হতেই একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনায় বরাবরের মতোই নেতৃত্বশীল ভূমিকা রাখবে। বাণিজ্য আলোচনা সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি জানান।
প্যাসকাল লামি অবশ্য আলাদা করে কোনো দেশের নাম বলেননি। তিনি দোহা উন্নয়ন আলোচনা ২০১০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করতে সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন চীনা প্রবাদ— ‘জং জি চেং চেং’, অর্থাত্ একতাই শক্তি।
এই প্রবাদকে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে লামি বলেন, এরই মধ্যে দোহা উন্নয়ন আলোচনা আট বছর ধরে করা হচ্ছে। লক্ষ্য অনুযায়ী ২০১০ সালের মধ্যে শেষ করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব রাজনৈতিক নেতারা এ বিষয়ে বাস্তবে একমত, তবে পর্যাপ্ত অঙ্গীকারের অভাব রয়েছে। সুতরাং এখন কাজ দেখাতে হবে।
লামির ভাষায়, ‘আগামী কিছুদিন আমাদের অনেক বেশি শক্তিশালী হতে হবে, আরও বেশি একতাবদ্ধ থাকতে হবে এবং ২০১০ সালের মধ্যে আলোচনা শেষ করতে পরিষ্কার লক্ষ্য থাকতে হবে।’
সময়টা যে ভালো না, তা বলতে অবশ্য ভোলেননি প্যাসকাল লামি। ২০০৯ সাল ইতিহাসের এমন একটি সময়, যখন বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে, আরও বেশি মানুষ হারিয়েছে তাদের সঞ্চয় এবং গত কয়েক দশকে যে উন্নতি করেছিল বিভিন্ন দেশ, তা নষ্ট হয়ে গেছে।
তবে এটিও ঠিক যে, এ রকম একটি সময়ে সারা বিশ্ব একযোগে কাজ করছে, যা আগে তেমনটি দেখা যায়নি।
লামি এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বাণিজ্যকে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এখন বাণিজ্যসুবিধা বাড়াতে দেশগুলো কাজ করতে পারে। বাণিজ্যসুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারে সবাই।’ তবে পাশাপাশি গ্রহণযোগ্য অভ্যন্তরীণ নীতি গ্রহণের কথা বলতে ভোলেননি তিনি।
আয়োজক সুইজারল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী ডরিস লেথার্ড দোহা আলোচনা খুব বেশি না এগোনোর জন্য বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাকেই দায়ী করলেন। তিনি বলেছেন, ২০০৮ সালের পর আলোচনা আসলে তেমন আর এগোয়নি। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, বাণিজ্য আলোচনায় তাঁর দেশের ভেতর থেকেই প্রবল বাধা আছে। বিশেষ করে কৃষি আলোচনা নিয়ে। এর পরও আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে বলেই তিনি মনে করেন।

ফেদেরারের সামনে শুধু সাম্প্রাস

২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত টানা চারবার বছর শেষ করেছিলেন র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে। ২০০৮ সালে রজার ফেদেরারের একাধিপত্যে ছেদ পড়ে রাফায়েল নাদালের সৌজন্যে। এ বছর আবারও বর্ষশেষের এক নম্বর ফেদেরার।
পঞ্চমবারের মতো র্যাঙ্কিং-শীর্ষে থেকে বছর শেষ করে সুইস এই তারকা ছুঁয়ে ফেললেন জিমি কোনর্সকে। সামনে আছেন শুধু পিট সাম্প্রাস। সর্বোচ্চ ছয়বার (১৯৯৩-১৯৯৮) শীর্ষে থেকে বছর শেষ করেছিলেন এই আমেরিকান। সবচেয়ে বেশি ২৮৬ সপ্তাহ র্যাঙ্কিং-শীর্ষে থাকার রেকর্ডটিও সাম্প্রাসের। ফেদেরার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন ২৫৯ সপ্তাহ। সাম্প্রাসের দুটি রেকর্ডই এখন হাতছানি দিয়ে ডাকছে ফেদেরারকে।
মেয়েদের বিভাগে বর্ষশেষের র্যাংঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান সেরেনা উইলিয়ামসের। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো এই অর্জন তাঁর। সেরেনা এর আগে এক নম্বর হিসেবে বছর শেষ করেছিলেন ২০০২ সালে।

বিশ্বকাপ-স্বপ্ন ছাড়েনি আয়ারল্যান্ড!

৩৩তম দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ চেয়েছে আয়ারল্যান্ড! আয়ারল্যান্ডের এই আবেদনের কথা প্রকাশ করেছেন গত পরশু ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার স্বয়ং।
আগামী পরশু ৩২ দলের বিশ্বকাপের ড্র। সবকিছুই ঠিকঠাক হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে আরেকটি দলকে নেওয়া হলে অনাহূত অনেক ঝামেলা তৈরি হবে। ফিফা কি আইরিশদের অনুরোধে সাড়া দেবে? ব্ল্যাটার এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে আজ ফিফার যে বিশেষ সভা হচ্ছে, সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন।
বাছাইপর্বের ফ্রান্স-আয়ারল্যান্ড প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। ওই ম্যাচে ফ্রান্সের সমতাসূচক গোলটির উত্স ছিলেন থিয়েরি অঁরি। উইলিয়াম গালাসকে পাস দেওয়ার আগে বলটি হাত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন তিনি। ফ্রান্স অধিনায়কের এই কাণ্ড মেনে নিতে পারেনি আইরিশরা। মানবেই বা কী করে? ‘অবৈধ’ ওই গোলই যে শেষ করে দেয় তাদের চূড়ান্ত পর্বে খেলার স্বপ্ন। আইরিশ ফুটবল ফেডারেশন ম্যাচটি আবার আয়োজনের দাবি তুলেছিল। ফিফা তাদের সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
এবার তাই নতুন দাবি নিয়ে ফিফার কাছে গেছেন আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। ব্ল্যাটার জানিয়েছেন, ‘ফিফায় আয়ারল্যান্ড থেকে একটা প্রতিনিধিদল এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট। তারা জানে, ম্যাচটি পুনরায়োজন সম্ভব নয় এবং রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’
ম্যাচ আয়োজনই যেখানে সম্ভব নয়, সেখানে আয়ারল্যান্ডকে অতিরিক্ত দল হিসেবে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া কি সম্ভব? ব্ল্যাটারের উত্তর, ‘কী হবে তা আমি বলতে পারছি না। তবে বিষয়টি আমি নির্বাহী কমিটির কাছে তুলব।’

বিশ্বকাপে বাড়তে পারে রেফারি

বিতর্ক এড়াতে ২০১০ বিশ্বকাপের ম্যাচে সহকারী রেফারি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে ফিফা। পরশু কেপটাউনে সকারেক্স ফুটবল বিজনেস কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন খোদ ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার।
২০১০ বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বাগতিক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরেই আজ ফিফার নির্বাহী কমিটির সভা। অতিরিক্ত সহকারী রেফারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা সেখানে। বর্তমানে ফুটবল মাঠে একজন রেফারির সঙ্গে থাকেন দুজন লাইন্সম্যান বা সহকারী রেফারি। ভুল এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এড়াতে এর সঙ্গে দুই গোলপোস্টের পেছনে আরও দুজন সহকারী রেফারি নিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে ফিফা। ইউরোপিয়ান ফুটবলে এর মহড়াও হয়ে গেছে এরই মধ্যে।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ফ্রান্স-আয়ারল্যান্ড প্লে-অফ ম্যাচের দ্বিতীয় লেগের ঘটনার পর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে উপায়ও নেই ফিফার। ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন উইলিয়াম গালাস। কিন্তু গালাসকে পাস দেওয়ার আগে বল হাতে লেগেছিল ফ্রান্স অধিনায়ক থিয়েরি অঁরির। ওই সময় রেফারি ওটা না দেখলেও পরে তা ধরা পড়েছে ভিডিও ফুটেজে। ব্ল্যাটারের কাছেও নাকি অঁরি সেটা স্বীকার করেছেন, ‘সে যা করেছে তার বিস্তারিতই আমাকে বলেছে। আমিও তাকে বলেছি, খেলোয়াড়েরা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে আর সুযোগ নেওয়া মানে হলো খেলার আইনের সঙ্গে প্রতারণা করা। সে তখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, এর জন্য তার কোনো শাস্তি হবে কি না। আমি পাল্টা জানতে চেয়েছি, কিসের শাস্তি?’
শাস্তির কথা উড়িয়ে দিয়ে অঁরির স্বীকারোক্তিকে সততা বলে প্রশংসাই করেছেন ব্ল্যাটার, ‘সে তার হাত ব্যবহার করেছে, এটা স্বীকার করে সততার পরিচয় দিয়েছে।’ ব্ল্যাটারের মতো আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) প্রধান জ্যাক রগেও প্রশংসা করেছেন অঁরির। অঁরির ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি তাঁকে মুগ্ধ করেছে এবং তাঁর দৃষ্টিতে অঁরি ঠিক কাজটাই করেছেন।

মেসির হাতেই ব্যালন ডি’অর

সাধারণ ফুটবলপ্রেমী, ফুটবল-বোদ্ধা কিংবা সাংবাদিক—সব মহলেই একটা নামই বেশি করে উচ্চারিত হচ্ছিল। মেসি, মেসি এবং মেসি। ফলটা যেন ঠিক করাই ছিল, বাকি ছিল শুধু ঘোষণা। সেই ঘোষণাই পাওয়া গেল গতকাল। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসির মাথায়ই উঠছে ইউরোপ-সেরার মুকুট! কাল ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের সর্বশেষ প্রকাশিত সংখ্যাটায় ২০০৯ সালের ইউরোপ-সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে মেসির নাম।
৩০ জনের প্রাথমিক তালিকার পর ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকাও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ভোটাভুটিও আগেই শেষ হয়েছে। ইউরোপের সেরা ফুটবলার নির্বাচন করতে ভোট দিয়েছেন সারা বিশ্বের ফুটবল সাংবাদিকেরা।
কেন্দ্রীয় ইউরোপিয়ান সময় ২টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা) প্রকাশিত হয়েছে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের এই সংখ্যা। তবে এর এক ঘণ্টা আগেই সবাই জেনে যায়, লিওনেল মেসিই হয়েছেন ইউরোপ-সেরা ফুটবলার। ফেসবুকের মতো ফ্রান্সের অনলাইন সংবাদমাধ্যমও দেয় এই খবর।
মেসি গত বছর নিজেকে যেভাবে আপন আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন, আর তাতে ভরিয়ে দিয়েছেন বার্সেলোনা এবং বিশ্ব ফুটবলকে, এই স্বীকৃতি তারই পুরস্কার। চ্যাম্পিয়নস লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা আর স্প্যানিশ কাপ—গত মৌসুমে বার্সেলোনা ঐতিহাসিক ত্রিমুকুট জয়ের পর থেকেই সবার ধারণা জন্মে, এবারের ইউরোপ-সেরার পুরস্কার ব্যালন ডি’অর উঠছে বার্সার কোনো খেলোয়াড়েরই হাতে। আর বার্সার সেই একজন যে মেসিই হতে পারেন, সেটা তো তাঁর এই পুরস্কার জয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গতবারের পুরস্কারজয়ী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও আগেই বলেছেন।
রোনালদো না হয় ওটা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি কি এতটা ভাবতে পেরেছিলেন যে মেসি আগের সব রেকর্ড ভেঙে গড়বেন এই কীর্তি? রেকর্ড বলতে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়ে সেরা হয়েছেন মেসি। একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮০ পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব। মেসি পেয়েছেন ৪৭৩ পয়েন্ট। যেটি দ্বিতীয় হওয়া রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ উইঙ্গার রোনালদোর পয়েন্টের (২৩৩) দ্বিগুণেরও বেশি। ২২ বছর বয়সী মেসি ২০০১ সালে ২১ বছর বয়সী মাইকেল ওয়েনের পর সবচেয়ে কম বয়সী ব্যালন ডি’অর বিজয়ীও।
মেসির কীর্তি আছে আরেকটিও। তিনিই প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতলেন খাঁটি আর্জেন্টাইন হিসেবে। এর আগে আরও দুজন আর্জেন্টাইন এই পুরস্কার জিতেছেন। ১৯৫৭ ও ১৯৫৯ সালে আলফ্রেডো ডি স্টেফানো ব্যালন ডি’অর জেতেন স্প্যানিশ জাতীয়তা নিয়ে। ১৯৬১ সালে ওমর সিভরি ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন একজন ইতালিয়ান হিসেবে। আরেক আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার পরা হয়নি ইউরোপ-সেরার এই মুকুট।
এখানে একটি পাদটীকা দেওয়া উচিত—১৯৫৬ সাল থেকে ফ্রান্স ফুটবলের পক্ষ থেকে দেওয়া এই পুরস্কার আগে শুধু ইউরোপের খেলোয়াড়দেরই দেওয়া হতো। এটি ইউরোপে খেলা সব খেলোয়াড়ের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ১৯৯৫ সালে। সেই প্রথমবারই পুরস্কার জিতেছিলেন একজন অ-ইউরোপীয়—লাইবেরিয়ার জর্জ উইয়াহ।