Tuesday, November 24, 2015

সন্ত্রাসবাদ মুছে ফেলার এখনই সময়

সন্ত্রাস দমনে রাশিয়ার সমর্থন প্রকাশ করতে সোমবার সকালে আমি ফ্রান্স সফরে যাচ্ছি। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে আলোচনা করব। প্যারিসের রাস্তায় লাশের মিছিল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আইএস এখন আর দুর্বোধ্য এলাকায় নয়, বরং হাজার হাজার মাইলের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ভয়াবহতা ছড়াচ্ছে। এটি এখন সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই ব্রিটেনের জনগণকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্ব বুঝতে হবে এবং তা সুরক্ষায় দেশের সরকারের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। সন্ত্রাস দমনে জঙ্গিদের ওপর হামলা করতে বেসামরিক মানুষ বাঁচানোর চিন্তা করার সময় এখন নয়। জিহাদি জন ও জঙ্গি রিয়াদ খান এ সাম্রাজ্যের দখল নিয়েছে বলে অন্য আরেকটি বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে এটা ভাবাটাও এখন বোকামি। বরং বিশ্ব থেকে সন্ত্রাসবাদের ছায়া মুছে দিতে পদক্ষেপ নেয়ার এখনই সময়। এজন্য আমি সন্ত্রাস দমনে কৌশলগত প্রতিরক্ষা বিভাগআ ও নিরাপত্তা জোট গঠনে বিশেষ সেনা ফোর্স ও সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ বাহিনী গঠন করার পরিকল্পনা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেছি, যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করবে। জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সমগোত্রীয়।
এজন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা। এর ফলে যুক্তরাজ্য তার জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ে বিশ্বের অন্যতম দেশে পরিণত হবে। কোনো খাতে বিনিয়োগ করার প্রধান উদ্দেশ্য থাকবে সেখান থেকে সন্ত্রাস দমনের ব্যাপারে পর্যাপ্ত অর্থায়নের খাত তৈরি করা। সন্ত্রাসবাদের অন্যতম কারণ কট্টর মনোভাব দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য জঙ্গি দমন ও তার শিকড় উপড়ে ফেলতে যারা আমাদের সমর্থন করবে তাদের আমরা অর্থ বিনিয়োগ করব। এক্ষেত্রে আইনের শাসন, সুশাসন ও গণতন্ত্রের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের অন্যতম উপকরণ। সন্ত্রাস দমন ও তার ইন্ধন উপকরণ দূরীভূত করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক উৎস বৃদ্ধি করা আমাদের কৌশলগুলোর মধ্যে অন্যতম। এজন্য নিরাপত্তা দফতরে ১ হাজার ৯০০ নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ, সন্ত্রাস দমনে বিশেষ পুলিশ বাহিনীকে ও ড্রোন নজরদারি বাড়াতে অর্থ বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। মনুষ্যবিহীন বিমান আমাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিচরণ করবে এবং দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসারদের কাছে প্রতি সপ্তাহে তার প্রতিবেদন দাখিল করবে। ল্যানকাস্টার হাউস চুক্তির আওতায় মনুষ্যবিহীন আকাশযান সমৃদ্ধিতে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ করবে যুক্তরাজ্য।
দেশের সৈন্যবাহিনী ব্যবহারের সামর্থ্য ও ইচ্ছানুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। সিরিয়া ও ইরাক অধ্যুষিত আইএস দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার নিরাপত্তা কাউন্সিলের রেজ্যুলেশন ২২৪৯ অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ। এটা অবশ্যই আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার বৈশ্বিক হুমকি আইএস দমনে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক এ যৌথ কমিটির সদস্য বৃদ্ধির জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করব। তবে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্য দেশের ওপর আমরা বোঝা চাপিয়ে দেব না। এজন্য সন্ত্রাস দমনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিরিয়া সংকট নিরসন করাটা আমাদের জন্য এখন প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তীতে সিরিয়ার প্রয়োজনে আমাদের সেনা ফোর্স কাজ করতে প্রস্তুত থাকবে। সন্ত্রাসবাদের আধুনিক সব কৌশল প্রতিহত করতে গত পাঁচ বছরে ব্রিটেনের সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ফোর্স তৈরিতে পরবর্তী দশকের জন্য ব্রিটেন ১৭৮ বিলিয়ন ডলার অর্থ বিনিয়োগ করবে। এছাড়া আলাদা দুটি স্ট্রাইক ব্রিগেড (প্রতিটিতে পাঁচ হাজারের ওপর সৈন্য) গঠনের ব্যাপারে পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাজ্য।
[সংক্ষেপিত-সালমান রিয়াজ]

ক্যাপ্টাগন বড়ি খেয়ে যুদ্ধ করছে আইএস

সিরিয়ায় জিহাদিরা ছোট্ট একটি বড়ি খেয়ে দিনরাত যুদ্ধ করছে বলে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন। আর ওই বড়ির নাম ক্যাপ্টাগন। এ বড়িটি শুধু সিরিয়াতেই উৎপাদিত হয়। আর পাওয়া যায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। প্রচণ্ড নেশা সৃষ্টিকারী ও যৌন শক্তিবর্ধক এ বড়ি বিক্রি করে পাওয়া কোটি কোটি ডলার চলে যায় যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার কালোবাজারে। এসব অর্থ দিয়ে জিহাদি যোদ্ধারা বিশেষত আইএস, আল কায়দা নতুন নতুন অস্ত্র কিনতে পারছে, আর জিইয়ে রাখতে পারছে যুদ্ধকেও। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় সম্প্রতি এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। বলা হচ্ছে, ক্যাপ্টাগন নামের শক্তিশালী এ ড্রাগ খুব দ্রুত কাজ করে এবং এটি খেয়েই সিরিয়ার যোদ্ধারা ঘুম-বিশ্রাম ফেলে দিনরাত সর্বক্ষণ যুদ্ধ করতে পারছে। বলা হচ্ছে, নেশা সৃষ্টিকারী এ বড়ি খাওয়ার কারণেই জিহাদিরা কোনো ধরনের বিচার-বিবেচনা ছাড়াই নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালাতে পারছে। এ ট্যাবলেট গ্রহণ করেন লেবাননে এরকম একজন বলেছেন, এ ড্রাগটি নিলে আপনি ঘুমাতে তো দূরের কথা, চোখও বন্ধ করতে পারবেন না। বিবিসির একটি তথ্যচিত্রে আরেকজন গ্রহণকারী বলেছেন, এ ট্যাবলেট একবার খেলে আপনি আর কিছুতেই এটা খাওয়া বন্ধ করতে পারবেন না। ‘মনে হবে আমি পৃথিবীর শীর্ষে অবস্থান করছি।
আমার যে ক্ষমতা তা আর কারও নেই।’ বলেন তিনি। আরেকজন বলেছেন, ‘ওই বড়ি খাওয়ার পর মনে হয়েছে এই পৃথিবীর আর কেউ আমাকে আক্রমণ করতে পারবে না।’ রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সিরিয়া এখন ড্রাগ ভূমি’। যুদ্ধের কারণে সিরিয়া এখন ক্যাপ্টাগনের ড্রাগের সবচে বড়ো উৎপাদনকারী ও ভোক্তা দেশে পরিণত হয়েছে। ১৯৬০ সাল থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়। বিষণ্ণতা কাটাতে তারা এ ওষুধ গ্রহণ করত। তবে পরে এটা নেশা সৃষ্টিকারী ড্রাগ হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করলে ১৯৮০ সালে বেশিরভাগ দেশেই এটা নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এখনও এ ড্রাগ পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়নি। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা এ ড্রাগ প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করছে। সৌদি আরবেও এর ব্যাপক ব্যবহার আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ এ নেশার জন্য চিকিৎসা নিয়ে থাকে। পরে এ ড্রাগের উৎস হয়ে ওঠে সিরিয়া এবং সেখান থেকে এ ড্রাগটি ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে থাকে। সিরিয়ায় রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, সশস্ত্র বিভিন্ন গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়া ও সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নাজুক হয়ে যাওয়ার পর এ ড্রাগ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এর আগে এটা উৎপাদিত হতো লেবাননের বেকা উপত্যকায় আর এখন সেটা হচ্ছে সিরিয়ায়। চিকিৎসকরা বলছেন, মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার মতো এ ড্রাগের মারাত্মক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিবিসি।

আরব বিশ্বের প্রথম নারী স্পিকার হলেন আমল আল-কুবাইসি

সংযুক্ত আরব আমিরাত পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন আমল আল-কুবাইসি। আরব বিশ্বে তিনিই হচ্ছেন প্রথম নারী স্পিকার। আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা বুধবার এ খবর জানিয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল-কুবাইসি গত অক্টোবরে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে তিনি স্পিকার হন।
ওই নির্বাচনে মোট ৭৬ জন নারী প্রার্থী ছিলেন। এদের মধ্যে নির্বাচিত হন কেবল একজন।
আমিরাত পার্লামেন্টের নাম ফেডারেল ন্যাশনাল কাউন্সিল (এফএনসি)। এর সদস্য সংখ্যা ৪০। এদের অর্ধেক জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত হন। বাকিরা নির্বাচিত হন দেশটির শাসকদের মাধ্যমে। পার্লামেন্টে মোট নারী সদস্য আটজন।
স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর আল-কুবাইসি বলেন, আমি এফএনসির প্রথম নারী স্পিকার হওয়ার সম্মান লাভ করেছি। এটা হলো রাজনৈতিক সক্ষমতা লাভে দেশের জনগণের সমর্থন লাভের প্রমাণ।
২০০৬ সালে আল-কুবাইসি প্রথম নারী সদস্য হিসেবে এফএনসিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই পার্লামেন্টের একটি সভায় প্রথম নারী হিসেবে তিনি সভাপতিত্বও করেন।
সুত্র : ডেইলি সাবাহ ও আল আরাবিয়া।

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রাজনীতি

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রাজনীতি। জামায়াত এখন ইতিহাসের বিষয়। বিএনপি দৌড়ে! আত্মসমালোচনার মুখোমুখি। মাঠে শুধু আওয়ামী লীগ। একে একে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে। চ্যালেঞ্জ উতরানোর পথ এতোটা সহজ হবে তা হয়তো কেউ ভাবতেও পারেননি।
ছকটা কাটা হয়েছিল আগেই। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের পূর্বেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছিল। দলের ভেতরে কার কি ভূমিকা তাও আদ্যোপান্ত জেনে নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ভূমিধস বিজয়ের পর গতি পায় পূর্ব-পরিকল্পনা। একটি প্রধান অধ্যায় ছিল- বিচার। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যুদ্ধাপরাধের দায়ে হেভিওয়েট বিরোধী নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করা। দেশি-বিদেশি চাপ উপেক্ষা করে অটল থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাদের মোল্লার বিচারকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের কোণঠাসা করে ফেলেন তিনি। গণজাগরণ মঞ্চের উত্থানে খাদে পড়ে যায় বিরোধী রাজনীতি। পাল্টা আক্রমণ আসে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হয় তাদের। শুরুতে শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে হটানো হয় শাপলা চত্বর থেকে। পরে অবশ্য পর্দার আড়ালে সমঝোতাও হয়। হেফাজত এখন চুপচাপ। একে একে ফাঁসি কার্যকর হয় কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি হবে তা হয়তো অনেকেরই বিশ্বাস হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। ঢাকার পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, তার ফাঁসি কার্যকর এবং ঠেকানো নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশ পরস্পরবিরোধী তৎপরতা চালায়। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে খুব সম্ভবত, এই দুইজনই সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন। তাদের ফাঁসি অন্য অভিযুক্তদের জন্যও বার্তা নিশ্চিত করেছে।
অন্য বিচারগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারও এরইমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। নিম্ন আদালতে রায় হয়েছে বিডিআর বিদ্রোহ মামলার। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার চলছে নিম্ন আদালতে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় নিম্ন আদালত রায় ঘোষণা করেছে। দুর্নীতি আর নাশকতার মামলায় বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এরইমধ্যে সাজার রায় ঘোষিত হয়েছে। প্রায় সব বিরোধী নেতার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় পেতেও বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
বাতিল আর উচ্ছেদ পর্বও ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে উচ্ছেদ করা হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে শক্তভাবে। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখার পক্ষে ছিলেন অনেক সরকারি নীতিনির্ধারক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তা বাতিলের পক্ষে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। সংসদ ভবন এলাকা থেকে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর উচ্ছেদের বিষয়টি এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। এই একটি প্রধান এজেন্ডাই এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনরা কার্ড খেলেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একক এবং প্রধান ভূমিকা শেখ হাসিনার। ভারতের সঙ্গে গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সহযোগিতার মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশগুলো বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাইলেও তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয় ভারত। ঢাকার তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ভারতকে বুঝানোর জন্য দেশটিতে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু দিল্লি তার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। উল্টো ভারতের তখনকার পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ঢাকায় এসে প্রকাশ্যে একদলীয় নির্বাচনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। ভারতের নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের পর ঢাকায় বিএনপি শিবিরে এক ধরনের উল্লাস দেখা দেয়। তবে নরেন্দ্র মোদির সরকার গঠনের পরও ভারতের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের সম্পর্কে তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। এটা ঠিক, কংগ্রেসের সঙ্গে বিএনপির কোন ধরনের যোগাযোগই ছিল না। বিজেপির সঙ্গে বিএনপির এক ধরনের যোগাযোগ রয়েছে। তবে সাউথ ব্লক, মোদির নীতিনির্ধারকদের এটা বুঝাতে সবসময়ই তৎপর যে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারই হচ্ছে ভারতের জন্য সবচেয়ে লাভজনক। যদিও পাশের দেশ নেপাল এবং মালদ্বীপে ভারতের প্রভাব অনেকটাই কমে এসেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পশ্চিমা দুনিয়া বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন চাইলেও শেখ হাসিনার শক্ত পররাষ্ট্রনীতি এবং ভারতের সমর্থনের কারণে পশ্চিমাদের চাওয়া মূল্য পাচ্ছে না। বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছিল সরকার। সেসময়ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সমর্থন পায় সরকার।
দেশের ভেতরে রাজনীতিকে কঠিন করে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার চালের কোন জবাবই খুঁজে পাচ্ছে না প্রতিপক্ষ। তিনি কতদূর যাবেন এ ব্যাপারেও হয়তো ধারণা নেই অনেকের। যুদ্ধাপরাধের কার্ড ব্যবহার করে জামায়াতকে কোণঠাসা করা হয়েছে বহু আগেই। কারাগার অথবা পলাতক- এর বাইরে অবস্থান নেই দলটির নেতাকর্মীদের। দলের সেক্রেটারি জেনারেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর দল হিসেবে জামায়াতের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইসলামপন্থি বলে পরিচিত কোন রাজনৈতিক দলেরই কোন তৎপরতা নেই। জাতীয় পার্টি এখন সরকারদলীয় বিরোধী দল। ১/১১ থেকেই একে একে বিপর্যয় মোকাবিলা করে আসছে বিএনপি। দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই রাজনৈতিক দলের এখন সংসদেও কোন প্রতিনিধিত্ব নেই। ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বিএনপিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এখন অনেকেই বলছেন, সেটা ছিল আসলেই একটি চাল। যে চালে হেরে যান খালেদা জিয়া। তার কার্যালয়কেন্দ্রিক প্রভাবশালী একটি গ্রুপ তাকে এ ব্যাপারে প্রভাবিত করেছিল। অনেকেই অবশ্য বলেন, তারা সরকারেরই লোক। নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনকে জঙ্গিবাদী কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে রাজনীতির বাইরে অন্যসব সেক্টরেও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শক্ত নিয়ন্ত্রণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধীদের দমনে সর্বাত্মক কার্যক্রম বিরামহীনভাবে পরিচালনা করছে। তাদের, এমন কী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে বহুগুণ। শিক্ষকরা এক ধরনের আন্দোলনে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তাদের আর খোঁজ মিলছে না। টেলিভিশন টকশোতে একসময় সরকারের কিছু সমালোচনা হতো। তারা এখন উন্নয়ন প্রচারে মনোযোগী হয়েছে। সংবাদপত্রও একই লাইনে রয়েছে।
বাংলাদেশের সবকিছুই এখন শেখ হাসিনার একক নিয়ন্ত্রণে। কোথাও এখন তার বিরোধিতা নেই।

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে by অ্যালিন স্মিথ

দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে শুধু এ বছরই কমপক্ষে ৪ জন নাস্তিক ব্লগারকে চাপাতি দিয়ে হত্যা করেছে হামলাকারীরা। সব থেকে সাম্প্রতিক পৃথক দুটি হামলার ঘটনায় ধর্মনিরপেক্ষ প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা ও অপর তিনজনকে গুরুতর আহত করা হয়। তারাও ব্লগার ও প্রকাশক ছিলেন। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় প্রতিবাদ হয়েছে। শত শত মানুষ সরকারের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছে। প্রতিবাদে লেখক ও প্রকাশকরা বই পুড়িয়েছেন। দায়েশের (আইএস) বিরুদ্ধে বিশ্বের যুদ্ধ যখন আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনামে নিয়মিত স্থান করে নিচ্ছে, তখন বিশ্বজুড়ে অনেক সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রায় নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে অব্যাহত রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রভাব নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন মানুষদের খুঁজে পেতে আমাদের অনেক দূরে তাকাতে হবে না। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটিকে স্কটল্যান্ডের সদস্য হওয়ার সুবাদে, স্কটল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল। এদের মধ্যে সব থেকে বর্ষীয়ান সদস্য হলেন আবেরদিন নিবাসী হাজি নুরুল আমিন শেখ। তিনি ১৯৬০ সালে স্কটল্যান্ডে এসেছিলেন। আনুমানিক ধারণা অনুযায়ী, কয়েক হাজার বাংলাদেশি স্কটল্যান্ডে বসবাস করেন। তবে স্কটল্যান্ডে প্রথম আসা বাংলাদেশি প্রজন্মের বয়সের কারণে বর্তমানে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে। স্কটস-বাংলাদেশি সম্প্রদায় তুলনামূলক ছোট হতে পারে। কিন্তু তারা সরব। তাদের নিজ দেশ বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার ইতি টানতে পারে এমন যেকোন সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কেননা, জঙ্গিবাদী সহিংসতার ভীতি বাড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ব্যাপক সহিংসতা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আর গণতন্ত্রকে হুমকি দিচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশে ১৫ কোটি মানুষের বাস। বিশ্বের অল্পসংখ্যক মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ গণতন্ত্র হিসেবে দেশটির স্বতন্ত্র স্থান রয়েছে। কিন্তু ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্রমেই সঙ্কুচিত করার দিকে নিয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ তৈরী পোশাক শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সহিংসতা। একইসঙ্গে তা দেশের ভাবমূর্তিকে ধ্বংস করেছে যে, দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও দেশটির গড় আয়ু, শিক্ষা ও নারী-পুরুষের সমতার বিষয়গুলোতে অসামান্য অর্জন করছে। বিরোধীদের জাতীয় নির্বাচন বর্জনের পর থেকে, সরকারি বাহিনী আর বিরোধী মিলিট্যান্টদের হাতে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে গুম, হত্যা, ঢালাও গ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী নেতা, সমর্থকদের বিরুদ্ধে বাহিনীগুলো এসব কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য বাহিনীর সদস্যরা দায়মুক্তি সুবিধা পাচ্ছে। আর এসব কিছু ঘটেছে যখন কিনা বেড়ে চলেছে ধর্মীয় উত্তেজনা। এটা নাজুক সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। আমাদের বৈঠকে যোগ দেয়া ২০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের বক্তব্যে পরিস্থিতির গুরুতর অবস্থা আর জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আবশ্যকতা ফুটে উঠেছে। ওই বাংলাদেশিরা এসেছেন স্কটল্যান্ডের সকল প্রান্ত থেকে। তাদের অনেকে সফল ব্যবসায়ী এবং আমাদের সমাজের সক্রিয় সদস্য। সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত তারা। বাংলাদেশের সামাজিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হলো পরিবার। একইভাবে তা স্কটস-বাংলাদেশি সংস্কৃতিরও কেন্দ্রীয় অংশ। পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর দেশে যাদেরকে ফেলে এসেছেন তাদের জন্য উদ্বেগের মাত্রা আরও অনেক বেশি। আমাদের বৈঠকে আমরা সুশীল সমাজের ওপর ক্রমবর্ধমান বিধি-নিষেধের বিষয়ে আলোচনা করেছি। কথা বলেছি, মতপ্রকাশ ও বাক-স্বাধীনতার ওপর অগ্রহণযোগ্য সীমাবদ্ধতা আর গুমের অসংখ্য ঘটনা নিয়ে। এর মধ্যে বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের গুমের ঘটনা রয়েছে। বাংলাদেশে বিরোধীদের কণ্ঠ যে অনেক বেশি ঝুঁকিতে তা স্পষ্ট। দলগুলো অব্যাহতভাবে ঝুঁকি ও হামলার মুখে নিজেদের আবিষ্কার করেছে। বাংলাদেশের সংকট নিয়ে কিছু করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংকল্প দেখে আমি অভিভূত। কিন্তু এর কোন সহজ উত্তর নেই। আমি তাদের উদ্বেগের কথা ব্রাসেলসে উত্থাপন করেছি। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এবং ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর তীব্র নিন্দা জানায়; এর পেছনে যে কোন দেশ বা সরকারকে দোষী মনে করা হোক না কেন! বাংলাদেশে ২০১৪ সালে সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও অস্থিরতার ক্ষেত্রেও তেমনটা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্য অংশীদার হলো ইইউ। আর আমরা বাংলাদেশি পণ্যের সব থেকে বড় রপ্তানি বাজার। আমাদের আরও বেশি কিছু করা উচিত। যে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, ঢালাও গ্রেপ্তার এবং বিরোধী নেতা, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও সামাজিক মিডিয়ায় প্রচারণাকারীদের বেআইনিভাবে কারারুদ্ধ করার ঘটনা বাড়ছে, সেখানে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রচারণায় আমাদের কিছু হলেও প্রভাব থাকা উচিত। এ কারণে আমি ইইউ ফরেইন অ্যাফেয়ার্স প্রধান ফেডেরিকা মোঘারিনিকে লিখেছি। ইসি-বাংলাদেশ সহযোগিতা চুক্তি ২০০১-এর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি। ইইউ’র সরাসরি কূটনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চেয়েছি। আমি তার জবাবের অপেক্ষায় আছি। বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেয়ার সুযোগ ইইউ’র রয়েছে। ঢাকা ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু একইভাবে বাংলাদেশের সব থেকে বড় দাতা ইউকে সরকারও প্রভাবশালী একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট থেকে প্রকাশিত কর্মপরিকল্পনা (অপারেশন প্ল্যান) অনুযায়ী, বাংলাদেশ অনুদাননির্ভর নয়। অনুদান দেশটির জাতীয় প্রবৃদ্ধির মাত্র দুই শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের এবং ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে ইউকের। রয়েছে দৃঢ় সাংস্কৃতিক বন্ধন। ৫ লক্ষাধিক বাংলাদেশী ইউকেতে থাকেন। এদের বেশিরভাগই তাদের দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে একইভাবে উদ্বিগ্ন। শুধু কিছু মানুষের নয় বরং সকল ইউকেবাসীর সরকার হিসেবে ইউকে সরকারের উচিত এসব উদ্বেগ নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রতিক্রিয়া দেখানো। ওয়েস্টমিনিস্টার সরকারের অন্যতম সংরক্ষিত (রিজার্ভড) ক্ষমতা হলো ‘ফরেইন অ্যাফেয়ার্স’। আমি প্রত্যাশা করি, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। আর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দণ্ডমুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে তারা বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেবেন। এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করেছে নিরপেক্ষ অনেক পর্যবেক্ষক আর স্কটল্যান্ডের বাংলাদেশি সম্প্রদায়।  
[অ্যালিন স্মিথ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে স্কটল্যান্ডের একজন সদস্য। গতকাল স্কটল্যান্ডের দ্যা ন্যাশনাল সংবাদপত্রে ‘উই মাস্ট অ্যাক্ট টু হল্ট রাইটস ভায়োলেশনস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক তার লেখার অনুবাদ ]

৪৯ অনুচ্ছেদ কী ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রযোজ্য?

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের অনেকে গোড়াতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ কী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। কারণ ১৯৭৩ সালেই সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে  তাদেরকে সংবিধানের সাধারণ স্কিম থেকে বের করে আনা হয়। ১৯৭৩ সালের আইন এবং সংবিধানের ৪৬ ও ৪৭ ক অনুচ্ছেদ দিয়ে একটি বিশেষ আইনি পরিমণ্ডল গঠন করা হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল ১৯৭৩ সালের আইনে যে সুবিধা নির্দিষ্টভাবে দেয়া থাকবে না সেই সুবিধা সাধারণভাবে কোন অভিযুক্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সুতরাং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদ ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যদি আবেদন করেও থাকেন তাহলেও প্রেসিডেন্টের সেটা বিবেচনা করার কোন সুযোগ ছিল কিনা। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের আইনে কেবল পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সহযোগী সংগঠনের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতদের বিচারের বিধান ছিল। সে কারণে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো ব্যক্তিদের বিচারের সুযোগ ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার সেকারণে সংবিধানে সংশোধনী এনে ‘ব্যক্তির’ বিচারের বিধান করে।
সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের আওতায় আবেদন করলেই আপনাআপনি দোষ স্বীকার করা হয় বলে যে আইনি ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে আইনজ্ঞরা যথেষ্ট সন্দিহান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রবীণ আইনবিদরা দাবি করেছেন, এধরনের যুক্তির স্বপক্ষে বাংলাদেশ কিংবা উপমহাদেশের কোন সুপ্রিম কোর্টের রায় দেখানো যাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসেও এধরনের বিতর্ক অবশ্য এই প্রথম। অবশ্য অন্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের আওতায় কেউ ক্ষমা প্রার্থনা করলে প্রেসিডেন্ট তাকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে পারেন। কিন্তু যেটা তিনি পারেন না সেটা হলো দোষী সাব্যস্ত হওয়া কোন ব্যক্তিকে নির্দোষ হিসেবে ঘোষণা করার। যখন কোন ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় তার অর্থ হলো কেবলমাত্র তার দণ্ড মওকুফ করা। তাকে নির্দোষ বোঝায় না। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোন আদালত,  ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’ আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ইংরেজিতে এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বাংলায় আবেদন করেছেন। তারা দুইজনই সংবিধানের ৪৯ অধ্যায়ের অধিকারের বলে এ আবেদন করেন। তাদের আবেদন নিয়ে কোন সন্দেহ বা বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এই যুক্তি দিয়েছেন।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, আইনমন্ত্রীর যুক্তি মেনে নিলেও এই প্রশ্নের উত্তর  পরিষ্কার নয় যে, ৪৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ট্রাইব্যুনালের সংজ্ঞায় আপনাআপনি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকেও অন্তর্ভুক্ত হতেই হবে। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ নির্দিষ্টভাবে কেবল আদালতকে সংজ্ঞায়িত করেছে। এতে বলা আছে, ‘আদালত’ অর্থ সুপ্রিম কোর্টসহ যে কোন আদালত। এখানে ট্রাইব্যুনাল বলতে যে কোন ট্রাইব্যুনাল বোঝাবে না।
১৯৭৩ সালে সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে ৪৭ (৩) অনুচ্ছেদ আনা হয়। এতে বলা আছে, ‘এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য (বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন, যা ১৫তম সংশোধনীতে যুক্ত) কিংবা যুদ্ধবন্দিকে আটক, ফৌজদারিতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করিবার বিধানসংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য বা তাহার পরিপন্থি, এই কারণে বাতিল বা বেআইনি বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।’ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১৯৭৩ সালের আইনটি বাহাত্তরের ৪ঠা নভেম্বরে প্রণীত সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। আর সেকারণে আইনটিকে বাঁচাতে উক্তরূপ রক্ষাকবচ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
১৯৭৩ সালের আইনে ক্ষমা প্রদর্শন সম্পর্কে কোন কিছু বলা নেই। অবশ্য কেউ যুক্তি দিতে পারেন যে, দণ্ডিতদের এটা সাংবিধানিক অধিকার। আর সংবিধানের ৪৭ ক অনুচ্ছেদে  নির্দিষ্ট যে কয়েকটি অনুচ্ছেদের আওতায় দণ্ডিত বা অভিযুক্তকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তার মধ্যে ৪৯ অনুচ্ছেদটি নেই।  সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা শীর্ষক ৪৭ ক অনুচ্ছেদ বলেছে, (১) যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোন আইন প্রযোজ্য হয়, সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ, ৩৫ অনুচ্ছেদের (১) ও (৩) দফা এবং ৪৪ অনুচ্ছেদের অধীন নিশ্চয়কৃত অধিকারসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।
আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘আইন মেনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আদালতের রায় কার্যকরের মাধ্যমে সরকার তাদের সেই দায়িত্ব পালন করেছে।’ উল্লেখ্য যে, ৪৯ অনুচ্ছেদের আওতায় কখনও কোন গাইডলাইন বা বিধি তৈরি করা হয়নি। সেকারণে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওনারা প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা না চাইলেও সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করতে পারতাম। সুতরাং এটাকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করে কোন লাভ হবে না।’
কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিতদের বিষয়ে বিবেচনা করতে পারেন কিনা সেটা একাডেমিক অর্থে একটা কৌতূহল উদ্দীপক সাংবিধানিক ইস্যু। এর একটা ফয়সালা হওয়া দরকার। তাদের মতে প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করে দিতেন তাহলে তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ছিল কিনা। কারণ ৪৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘ট্রাইব্যুনাল’ আর ১৯৭৩ সালের আইনে গঠিত ‘ট্রাইব্যুনালের’ মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কারণ সংবিধানের ৪৭ ক অনুচ্ছেদ নির্দিষ্টভাবে সংবিধানের অর্ধ ডজন উপ-দফা সংবলিত ৩৫ অনুচ্ছেদের মধ্য থেকে বাছাই করে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ ‘অপ্রযোজ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ১ ও ৩ উপ-দফা প্রযোজ্য না হলে ৪৯ অনুচ্ছেদের ট্রাইব্যুনাল বলতে ১৯৭৩ সালের আইনের অধীনে গঠিত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ প্রযোজ্য হওয়ার কথা নয়। এটা অযথাযথ হয়ে পড়ে। ৩৫ অনুচ্ছেদের ১ উপ-দফা বলেছে,  অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেয়া যাইতে পারিতো, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না।’ কিন্তু ৩৫ অনুচ্ছেদের (৩) উপ-দফা বলেছে, ‘ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার লাভের অধিকারী হইবেন।’ সংবিধান ঘোষণা দিয়েছে, যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭৩ সালের আইন প্রযোজ্য হয় সেই ব্যক্তি বাংলাদেশের কোন ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হবেন বলে গণ্য হবেন না।’ এই অধিকারের দাবি তুলে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর গোড়াতেই ১৯৭৩ সালের আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত রিট করেছিল। কিন্তু তা নাকচ হয়ে যায়। সুতরাং এই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে যে, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতরা ক্ষমা চাইতে পারেন। সেই দরখাস্ত বিবেচনা করার এখতিয়ার প্রেসিডেন্ট রাখেন কিনা।
উল্লেখ্য, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী দাবি করেন, তার বাবা প্রাণভিক্ষা চাননি। অন্যদিকে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর সাংবাদিকদের বলেছেন, তার বাবা কোন ধরনের প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কোন সংশয় নেই। তারা দুজনেই সংবিধানের আর্টিকেল ৪৯ অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছে। সেই আবেদনের লিখিত ডকুমেন্ট আমাদের কাছে আছে। তবে এগুলো সিক্রেট বিষয়, দেখানো যাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট তা নাকচ করে দিয়েছেন। শাস্তি মওকুফ করার জন্য কিংবা একটা কৌশল বের করার জন্য সবরকম প্রচেষ্টাই তারা করেছেন। তাদের দুইজনের প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদনপত্র ঠিক আছে কি-না সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় মতামত নিয়ে তা প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়।
হুম্মাম কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তুমি কি মার্সি পিটিশন করেছো? তিনি বলেছেন, এ রকম বাজে কথা কে বলেছে? তোমার ৬ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা বাবা বাঘ, মাথা নত করতে পারে না। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, না চাইলে আমরা যাবো কেন? কয়েক ঘণ্টা ধরে এ মন্ত্রণালয়, সে মন্ত্রণালয় গেলাম, না চাইলে যাবো কেন?

জল্লাদ শাহজাহানের সাজা মওকুফ ১০০ বছর by দীন ইসলাম

আসামির পরিচয় ছাপিয়ে এখন তার পরিচয় জল্লাদ হিসেবে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরে রাজুর সঙ্গে জল্লাদের ভূমিকা পালন করে শাহজাহান। শাহজাহান এখন আলোচিত একটি নাম। গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে তাকে নিয়ে। নানা কাহিনীতে ভরপুর প্রধান জল্লাদ মো. শাহজাহান ভূঁইয়ার জীবন। শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের কিছুটা সময় মসৃণভাবে কেটেছে। যৌবনে পদার্পণের পরই যোগ দেয় চাকরিতে। এ চাকরি তাকে তিন বছরের বেশি ধরে রাখতে পারেনি। জড়িয়ে যায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। ১৯৭৯ সালে আটক হওয়ার আগে ও পরে তার নামে ৩৬টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১টি অস্ত্র মামলা, ১টি ডাকাতি মামলা এবং অবশিষ্ট ৩৪টি হত্যা মামলা। বিচার কাজ দেরি হওয়ার কারণে সাজা ছাড়াই ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭ বছর হাজতি হিসেবে কারাগারে কাটিয়েছে শাহজাহান। ১৯৯৫ সালে সব মামলায় তার সাজা হয় ১৪৩ বছর। পরে ১০০ বছর জেল মাফ করে তাকে ৪৩ বছরের জেল দেয়া হয়। এ পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েছে। এ কারণে দিন দিন তার সাজার মেয়াদ কমছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে কারাবন্দি। আগামী কয়েক বছর জেল খাটার পরই তার মুক্তি মিলবে। শাহজাহানের জেল কার্ডের ওপর লেখা রয়েছে “ডেট অব রিলিজ ২০৩৫”। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মুখে মুখে জল্লাদ শাহজাহানের এসব কাহিনী আলোচিত হচ্ছে। জল্লাদ শাহজাহান একসময় সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জল্লাদ শাহজাহান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫ ঘাতককে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েছেন। এরপর ২০১৩ সালের ১২ই ডিসেম্বর আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরে জল্লাদের ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এরশাদ শিকদার, জঙ্গি নেতা বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানী, শারমীন রীমা হত্যা মামলার আসামি মনির, ডেইজি হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করেন জল্লাদ শাহজাহান। তিনিই একমাত্র জল্লাদ যিনি একরাতেই দুই কারাগারে ৪ আসামিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ১৯৫০ সালের ২৬শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন মো. শাহজাহান ভূঁইয়া ওরফে জল্লাদ শাহজাহান। তার জন্মস্থান নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামে। বাবা হাসান আলী ভূঁইয়া ও মাতা সবমেহের। এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। পড়াশোনা শেষ করার আগেই তিনি চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু তিন বছর চাকরি করার পর ঊর্ধ্বতনদের ধমক সহ্য করতে না পেরে বাড়ি চলে আসেন। এরপর ১১ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার চাকরি চলে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার চার বছর পর নরসিংদী জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতির দায়িত্ব নেন। তার কর্মকাণ্ডের কারণে কেন্দ্র থেকে তাকে ডেকে পাঠানো হয়। রাজনীতিতে থাকার সময়ে শাহজাহানের গ্রামে নারীঘটিত একটি ঘটনা ঘটে। শাহজাহানের দুই বন্ধুসহ তার নামে অভিযোগ ওঠে। গ্রামে তাকে নিয়ে বিচারে বসানো হয়। ওই বিচারে তাকে অপরাধী প্রমাণ করে সাজা দেয়া হয়। এরপর থেকেই তার হিংস্রতা বাড়তে থাকে। শাহজাহান অপমান সহ্য করতে না পেরে অপরাধ জগতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার ইচ্ছার কথা জানান দিতেন। নারীঘটিত ওই ঘটনার পরে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। এ ছাড়া ওই সময়ে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করার পর থেকে যে কোন অপারেশনে তার চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে।
১৯৭৯ সালে মাদারীপুর জেলায় একটি অপারেশনের নেতৃত্ব দেন শাহজাহান। সেখানে অপারেশন শেষ করে মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে শাহজাহানের দল মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাবে। মানিকগঞ্জে পুলিশ চেক পোস্ট বসালে শাহজাহান ওই এলাকায় তার বাহিনী মারফত সংবাদটি জেনে যান। সব কিছু জেনে ওই এলাকা দিয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন শাহজাহান। সারা রাত পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ করে ঢাকায় ফেরেন তিনি। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। ঢাকা থেকে নিজের এলাকা নরসিংদীর উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় রাস্তায় তাকে পুলিশ আটক করে। এরপর থেকে তার বন্দি জীবন চলছে। জেলখানায় তার চলাফেরা ও সাহসিকতা দেখে ১৯৮৯ সালে সহযোগী জল্লাদ হিসেবে শাহজাহানকে নিয়োগ করে জেল কর্তৃপক্ষ। ওই বছরই তিনি সহযোগী জল্লাদ হিসেবে গফরগাঁওয়ের নূরুল ইসলামকে ফাঁসি দিয়ে তার জল্লাদ জীবনের সূচনা করেন। এটাই তার জীবনের প্রথম কারাগারে কাউকে ফাঁসি দেয়া। তার যোগ্যতা দেখে ৮ বছর পর ১৯৯৭ সালে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রধান জল্লাদ হিসেবে নিয়োগ করেন। প্রধান জল্লাদ হওয়ার পর আলোচিত ডেইজি হত্যা মামলার আসামি হাসানকে প্রথম ফাঁসি দেন। এ ছাড়া ১৯৯৩ সালের জুলাই মাসে শহীদ বুদ্ধিজীবী কন্যা শারমীন রীমা হত্যা মামলার আসামি মনিরকে, ১৯৯৭ সালে বহুল আলোচিত ডেইজি হত্যা মামলার আসামি হাসানকে, ২০০৪ সালের ১০ই মে খুলনা জেলা কারাগারে এরশাদ শিকদারকে, ২০০৪ সালের ১লা  সেপ্টেম্বর রংপুর জেলা কারাগারে ইয়াসমিন হত্যা মামলার আসামি এএসআই মইনুল হক ও আবদুস সাত্তারকে, ২০০৪ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যা মামলার আরেক আসামি পিকআপ ভ্যানচালক অমৃত লাল বর্মণকে, ২০০৭ সালের ২৯শে মার্চ কাশিমপুর কারাগারে জঙ্গি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও ইফতেখার মামুনকে, ২০১০ সালের ২৭শে জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার মহিউদ্দিন আহমেদকে ফাঁসি দেন। তার উল্লেখযোগ্য ফাঁসির মধ্যে- ২০১৩ সালের ১০ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাদের  মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করেন। এরপর সর্বশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করেন। সর্বশেষ দুই জনকে ফাঁসি দেয়ার সময় তার সহযোগী ছিলেন ইকবাল, মাসুদ, আবুল, মোক্তার, রাজু ও হযরত। এ নিয়ে ৪৭ জনের গলায় ফাঁসির দড়ি ঝুলিয়েছেন এ জল্লাদ। এদিকে জেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, একটি ফাঁসি দিতে প্রধান জল্লাদের সঙ্গে ছয় জন সহযোগী লাগে। ফাঁসির রায় কার্যকর করলে প্রত্যেক জল্লাদের ২ মাস ৪ দিন করে কারাদণ্ড মওকুফ করা হয়। এ ছাড়া কারাগারে যারা জল্লাদ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শাহজাহান তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেন।

এ দেখাই শেষ দেখা by জুনায়েত হাসান

‘জন্মভূমি ছেড়ে গেলাম। জানি না, ওখানে এমন মাতৃছায়া পাবো কি-না? হামার জন্য আশীর্বাদ চাই। হয়তো আর কোনদিন দেখা-সাক্ষাৎ হবে না। এ দেখাই শেষ দেখা।’ পাটগ্রাম উপজেলার বিলুপ্ত ১১৯ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহলের বর্মণপাড়ার সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী ইদ্রিস আলীকে এসব কথা বলেই বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়লেন ষাটোর্ধ্ব উকল চন্দ্র বর্মণ। গতকাল সকালে নিজের জন্মভিটা বর্মণপাড়া থেকে চিরকালের জন্য ভারতের নয়া ঠিকানার উদ্দেশে চলে যান তিনি। ভারতে চলে যাওয়া বিলুপ্ত ৪টি ছিটমহলের ৩০টি পরিবারের ১২৯ ট্রাভেল পাসধারীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। চার ছেলে ও তিন মেয়ে তার। এক ছেলেকে বাংলাদেশেই বিয়ে দিয়েছেন। আর ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন ভারতের কোচবিহার জেলার ধুবগুড়ি ও নয়ারহাট এলাকায়। তিনি ৪ ছেলে, স্ত্রী ও তার ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে যান। মেয়েরা আগে থেকে ভারতে স্বামীর বাড়ি রয়েছেন।
বিচ্ছেদের কান্না শুধু উকিল বর্মণের একার নয়। তার মতো ১১৯ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহলের বর্মণপাড়ার স্কুলছাত্রী সুচরিতা রানী বর্মণ, জোসনা রানী বর্মণ, সুমন চন্দ্র বর্মণসহ অন্য সবার। তাদের কান্নায় ১১৯ নম্বর বাঁশকাটা, ১১২ নম্বর বাঁশকাটা, ১১৫ নম্বর বাঁশকাটা ও ১৫ নম্বর খরিখরি ছিটমহলের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ভারতে চলে যাওয়াদের কান্নায় স্থানীয় প্রতিবেশীরাও আবেগাপ্লুত। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দুপুর ১টায় বুড়িমারী স্থলবন্দর পুলিশ ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষে জিরোপয়েন্টে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম ভারতের নয়া ঠিকানায় যাওয়া এসব নাগরিককে মিষ্টিমুখ করান এবং রজনীগন্ধার একটি করে স্টিক হাতে তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান। এ সময় পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল ও জোংড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদুন্নবী শাহীন উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, ভারতের কোচবিহার অতিরিক্ত জেলা শাসক আয়শা রানী ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব রামাকান্ত গুপ্তা উপস্থিত থেকে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের মিষ্টিমুখ করিয়ে হাতে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় পাশেই স্থাপিত মঞ্চে ভারতীয় শিল্পীরা নয়া নাগরিকদের গানে গানে বরণ করে নেন।
চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে ভারত গেলেন
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে দুই দিনে ভারত গেলেন সদ্য বিলুপ্ত ৫ ছিটমহলের ২২৪ বাসিন্দা। রোববার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে প্রথম দফায় চিলাহাটি হলদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে কুচবিহার জেলার এডিএম আয়শা রানীর কাছে ৪৮ বাসিন্দাকে হস্তান্তর করেন নীলফামারী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান। গতকাল দ্বিতীয় দফায় যান ১৭৬ বাসিন্দা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৫৮ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডার এ কে ঝা, ভারত জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রঞ্জন ঝা, বিজিবির ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিএম সারোয়ার, ডোমার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বসুনিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা প্রমুখ। এর আগে দুপুরে ভারত গমনে পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ছিটমহলের প্রথম দলের ২২৪ সদস্যের ইমিগ্রেশন নেয়া হয় ডোমার উপজেলার চিলাহাটি সীমান্তের আবদুর রউফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে। ইমিগ্রেশন কাজে ছিলেন কাস্টমসসের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন হাফিজ, রাজস্ব কর্মকর্তা আহসান হাবিব, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন অফিসের ফাস্ট সেক্রেটারি রমাকান্ত গুপ্ত, নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুজিবুর রহমান, ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিএম সারোয়ার, ডোমার উপজেলার চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বসুনিয়া, ডোমার নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল, ডোমার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।
দুই দিনে ৫টি বাসযোগে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ ইউপি চত্বরের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে চিলাহাটি আবদুর রউফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে নিয়ে আসা হয়। এখানে তাদের বরণ করতে নীলফামারীর জেলা প্রশাসনের পক্ষে রজনীগন্ধার একটি করে স্টিক হাতে তুলে দেয়া হয়। তাদের ইমিগ্রেশন শেষে তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময় দুই সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। এখানে তাদের শেষ বিদায় জানাতে আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
কান্না থামছে না বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, কান্না থামছে না বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর। আপনজনদের মধ্যে কেউ কেউ যাচ্ছেন ভারতে। কেউ কেউ থেকে যাচ্ছেন বাংলাদেশে। এ অবস্থায় বিদায়বেলায় উভয়ই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। দ্বিতীয় দফায় গতকাল ভারত গেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত কোটভাজনী ও বালাপাড়া খাগড়াবাড়ী ছিটমহলের ২৮টি পরিবারের এক নবজাতকসহ ১৪৭ সদস্য। এ দুটি ছিটের ৩১ পরিবারের ১৭৭ জন ভারতে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রস্তুতি না থাকায় ৩০ জন চতুর্থ দফায় ভারতে যাবেন বলে জানা গেছে। সকাল সাড়ে ৯টায় দেবীগঞ্জের গাজোকাটি বাজার মাঠের অস্থায়ী ক্যাম্পে পঞ্চগড়ের এডিএম মোহাম্মদ গোলাম আজম ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সেক্রেটারি রমা কান্ত গুপ্তার কাছে ১৪৭ জন নতুন ভারতীয় নাগরিকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাদের হস্তান্তর করেন। পরে ৪টি মিনিবাস ও ৭টি ট্রাকে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি ডাঙ্গাপাড়া সীমান্তে। সেখানকার আবদুর রউফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষ করা হয়। দুপুরে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম ভারতের কুচবিহার জেলার এডিএম আয়শা রানী ও বিএসএফের ডেপুটি কমান্ডার এ কে ঝার হাতে মালামালসহ নতুন নাগরিককে হস্তান্তর করেন। এ সময় নীলফামারীর ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা, ডোমার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বসুনিয়াসহ গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বরণ করে নেয়।
আজ মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত দহলা খাগড়াবাড়ী ছিটমহলের ২৯টি পরিবারের এক নবজাতকসহ ১৪৯ জন ভারতে যাবেন। তারা গতকালই প্রয়োজনীয় মাল-সামানাসহ দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পে উপস্থিত হয়েছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দগলা খাগড়াবাড়ী ও দইখাতা ছিটমহলের ২৩টি পরিবারের ১০৮ জন সদস্য ভারতে যাবেন।