Tuesday, November 24, 2015
সন্ত্রাসবাদ মুছে ফেলার এখনই সময়
[সংক্ষেপিত-সালমান রিয়াজ]
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্যাপ্টাগন বড়ি খেয়ে যুদ্ধ করছে আইএস
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরব বিশ্বের প্রথম নারী স্পিকার হলেন আমল আল-কুবাইসি
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল-কুবাইসি গত অক্টোবরে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে তিনি স্পিকার হন।
ওই নির্বাচনে মোট ৭৬ জন নারী প্রার্থী ছিলেন। এদের মধ্যে নির্বাচিত হন কেবল একজন।
আমিরাত পার্লামেন্টের নাম ফেডারেল ন্যাশনাল কাউন্সিল (এফএনসি)। এর সদস্য সংখ্যা ৪০। এদের অর্ধেক জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত হন। বাকিরা নির্বাচিত হন দেশটির শাসকদের মাধ্যমে। পার্লামেন্টে মোট নারী সদস্য আটজন।
২০০৬ সালে আল-কুবাইসি প্রথম নারী সদস্য হিসেবে এফএনসিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই পার্লামেন্টের একটি সভায় প্রথম নারী হিসেবে তিনি সভাপতিত্বও করেন।
সুত্র : ডেইলি সাবাহ ও আল আরাবিয়া।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রাজনীতি
ছকটা কাটা হয়েছিল আগেই। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের পূর্বেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছিল। দলের ভেতরে কার কি ভূমিকা তাও আদ্যোপান্ত জেনে নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ভূমিধস বিজয়ের পর গতি পায় পূর্ব-পরিকল্পনা। একটি প্রধান অধ্যায় ছিল- বিচার। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যুদ্ধাপরাধের দায়ে হেভিওয়েট বিরোধী নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করা। দেশি-বিদেশি চাপ উপেক্ষা করে অটল থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাদের মোল্লার বিচারকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের কোণঠাসা করে ফেলেন তিনি। গণজাগরণ মঞ্চের উত্থানে খাদে পড়ে যায় বিরোধী রাজনীতি। পাল্টা আক্রমণ আসে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হয় তাদের। শুরুতে শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে হটানো হয় শাপলা চত্বর থেকে। পরে অবশ্য পর্দার আড়ালে সমঝোতাও হয়। হেফাজত এখন চুপচাপ। একে একে ফাঁসি কার্যকর হয় কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি হবে তা হয়তো অনেকেরই বিশ্বাস হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। ঢাকার পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, তার ফাঁসি কার্যকর এবং ঠেকানো নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশ পরস্পরবিরোধী তৎপরতা চালায়। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে খুব সম্ভবত, এই দুইজনই সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন। তাদের ফাঁসি অন্য অভিযুক্তদের জন্যও বার্তা নিশ্চিত করেছে।
অন্য বিচারগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারও এরইমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। নিম্ন আদালতে রায় হয়েছে বিডিআর বিদ্রোহ মামলার। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার চলছে নিম্ন আদালতে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় নিম্ন আদালত রায় ঘোষণা করেছে। দুর্নীতি আর নাশকতার মামলায় বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এরইমধ্যে সাজার রায় ঘোষিত হয়েছে। প্রায় সব বিরোধী নেতার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় পেতেও বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
বাতিল আর উচ্ছেদ পর্বও ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে উচ্ছেদ করা হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে শক্তভাবে। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখার পক্ষে ছিলেন অনেক সরকারি নীতিনির্ধারক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তা বাতিলের পক্ষে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। সংসদ ভবন এলাকা থেকে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর উচ্ছেদের বিষয়টি এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। এই একটি প্রধান এজেন্ডাই এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনরা কার্ড খেলেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একক এবং প্রধান ভূমিকা শেখ হাসিনার। ভারতের সঙ্গে গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সহযোগিতার মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশগুলো বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাইলেও তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয় ভারত। ঢাকার তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ভারতকে বুঝানোর জন্য দেশটিতে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু দিল্লি তার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। উল্টো ভারতের তখনকার পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ঢাকায় এসে প্রকাশ্যে একদলীয় নির্বাচনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। ভারতের নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের পর ঢাকায় বিএনপি শিবিরে এক ধরনের উল্লাস দেখা দেয়। তবে নরেন্দ্র মোদির সরকার গঠনের পরও ভারতের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের সম্পর্কে তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। এটা ঠিক, কংগ্রেসের সঙ্গে বিএনপির কোন ধরনের যোগাযোগই ছিল না। বিজেপির সঙ্গে বিএনপির এক ধরনের যোগাযোগ রয়েছে। তবে সাউথ ব্লক, মোদির নীতিনির্ধারকদের এটা বুঝাতে সবসময়ই তৎপর যে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারই হচ্ছে ভারতের জন্য সবচেয়ে লাভজনক। যদিও পাশের দেশ নেপাল এবং মালদ্বীপে ভারতের প্রভাব অনেকটাই কমে এসেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পশ্চিমা দুনিয়া বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন চাইলেও শেখ হাসিনার শক্ত পররাষ্ট্রনীতি এবং ভারতের সমর্থনের কারণে পশ্চিমাদের চাওয়া মূল্য পাচ্ছে না। বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছিল সরকার। সেসময়ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সমর্থন পায় সরকার।
দেশের ভেতরে রাজনীতিকে কঠিন করে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার চালের কোন জবাবই খুঁজে পাচ্ছে না প্রতিপক্ষ। তিনি কতদূর যাবেন এ ব্যাপারেও হয়তো ধারণা নেই অনেকের। যুদ্ধাপরাধের কার্ড ব্যবহার করে জামায়াতকে কোণঠাসা করা হয়েছে বহু আগেই। কারাগার অথবা পলাতক- এর বাইরে অবস্থান নেই দলটির নেতাকর্মীদের। দলের সেক্রেটারি জেনারেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর দল হিসেবে জামায়াতের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইসলামপন্থি বলে পরিচিত কোন রাজনৈতিক দলেরই কোন তৎপরতা নেই। জাতীয় পার্টি এখন সরকারদলীয় বিরোধী দল। ১/১১ থেকেই একে একে বিপর্যয় মোকাবিলা করে আসছে বিএনপি। দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই রাজনৈতিক দলের এখন সংসদেও কোন প্রতিনিধিত্ব নেই। ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বিএনপিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এখন অনেকেই বলছেন, সেটা ছিল আসলেই একটি চাল। যে চালে হেরে যান খালেদা জিয়া। তার কার্যালয়কেন্দ্রিক প্রভাবশালী একটি গ্রুপ তাকে এ ব্যাপারে প্রভাবিত করেছিল। অনেকেই অবশ্য বলেন, তারা সরকারেরই লোক। নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনকে জঙ্গিবাদী কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে রাজনীতির বাইরে অন্যসব সেক্টরেও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শক্ত নিয়ন্ত্রণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধীদের দমনে সর্বাত্মক কার্যক্রম বিরামহীনভাবে পরিচালনা করছে। তাদের, এমন কী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে বহুগুণ। শিক্ষকরা এক ধরনের আন্দোলনে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তাদের আর খোঁজ মিলছে না। টেলিভিশন টকশোতে একসময় সরকারের কিছু সমালোচনা হতো। তারা এখন উন্নয়ন প্রচারে মনোযোগী হয়েছে। সংবাদপত্রও একই লাইনে রয়েছে।
বাংলাদেশের সবকিছুই এখন শেখ হাসিনার একক নিয়ন্ত্রণে। কোথাও এখন তার বিরোধিতা নেই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে by অ্যালিন স্মিথ
[অ্যালিন স্মিথ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে স্কটল্যান্ডের একজন সদস্য। গতকাল স্কটল্যান্ডের দ্যা ন্যাশনাল সংবাদপত্রে ‘উই মাস্ট অ্যাক্ট টু হল্ট রাইটস ভায়োলেশনস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক তার লেখার অনুবাদ ]
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৪৯ অনুচ্ছেদ কী ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রযোজ্য?
সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের আওতায় আবেদন করলেই আপনাআপনি দোষ স্বীকার করা হয় বলে যে আইনি ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে আইনজ্ঞরা যথেষ্ট সন্দিহান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রবীণ আইনবিদরা দাবি করেছেন, এধরনের যুক্তির স্বপক্ষে বাংলাদেশ কিংবা উপমহাদেশের কোন সুপ্রিম কোর্টের রায় দেখানো যাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসেও এধরনের বিতর্ক অবশ্য এই প্রথম। অবশ্য অন্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের আওতায় কেউ ক্ষমা প্রার্থনা করলে প্রেসিডেন্ট তাকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে পারেন। কিন্তু যেটা তিনি পারেন না সেটা হলো দোষী সাব্যস্ত হওয়া কোন ব্যক্তিকে নির্দোষ হিসেবে ঘোষণা করার। যখন কোন ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় তার অর্থ হলো কেবলমাত্র তার দণ্ড মওকুফ করা। তাকে নির্দোষ বোঝায় না। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’ আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ইংরেজিতে এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বাংলায় আবেদন করেছেন। তারা দুইজনই সংবিধানের ৪৯ অধ্যায়ের অধিকারের বলে এ আবেদন করেন। তাদের আবেদন নিয়ে কোন সন্দেহ বা বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এই যুক্তি দিয়েছেন।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, আইনমন্ত্রীর যুক্তি মেনে নিলেও এই প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার নয় যে, ৪৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ট্রাইব্যুনালের সংজ্ঞায় আপনাআপনি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকেও অন্তর্ভুক্ত হতেই হবে। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ নির্দিষ্টভাবে কেবল আদালতকে সংজ্ঞায়িত করেছে। এতে বলা আছে, ‘আদালত’ অর্থ সুপ্রিম কোর্টসহ যে কোন আদালত। এখানে ট্রাইব্যুনাল বলতে যে কোন ট্রাইব্যুনাল বোঝাবে না।
১৯৭৩ সালে সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে ৪৭ (৩) অনুচ্ছেদ আনা হয়। এতে বলা আছে, ‘এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য (বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন, যা ১৫তম সংশোধনীতে যুক্ত) কিংবা যুদ্ধবন্দিকে আটক, ফৌজদারিতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করিবার বিধানসংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য বা তাহার পরিপন্থি, এই কারণে বাতিল বা বেআইনি বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।’ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১৯৭৩ সালের আইনটি বাহাত্তরের ৪ঠা নভেম্বরে প্রণীত সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। আর সেকারণে আইনটিকে বাঁচাতে উক্তরূপ রক্ষাকবচ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
১৯৭৩ সালের আইনে ক্ষমা প্রদর্শন সম্পর্কে কোন কিছু বলা নেই। অবশ্য কেউ যুক্তি দিতে পারেন যে, দণ্ডিতদের এটা সাংবিধানিক অধিকার। আর সংবিধানের ৪৭ ক অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট যে কয়েকটি অনুচ্ছেদের আওতায় দণ্ডিত বা অভিযুক্তকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তার মধ্যে ৪৯ অনুচ্ছেদটি নেই। সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা শীর্ষক ৪৭ ক অনুচ্ছেদ বলেছে, (১) যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোন আইন প্রযোজ্য হয়, সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ, ৩৫ অনুচ্ছেদের (১) ও (৩) দফা এবং ৪৪ অনুচ্ছেদের অধীন নিশ্চয়কৃত অধিকারসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।
আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘আইন মেনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আদালতের রায় কার্যকরের মাধ্যমে সরকার তাদের সেই দায়িত্ব পালন করেছে।’ উল্লেখ্য যে, ৪৯ অনুচ্ছেদের আওতায় কখনও কোন গাইডলাইন বা বিধি তৈরি করা হয়নি। সেকারণে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওনারা প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা না চাইলেও সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করতে পারতাম। সুতরাং এটাকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করে কোন লাভ হবে না।’
কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিতদের বিষয়ে বিবেচনা করতে পারেন কিনা সেটা একাডেমিক অর্থে একটা কৌতূহল উদ্দীপক সাংবিধানিক ইস্যু। এর একটা ফয়সালা হওয়া দরকার। তাদের মতে প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করে দিতেন তাহলে তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ছিল কিনা। কারণ ৪৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘ট্রাইব্যুনাল’ আর ১৯৭৩ সালের আইনে গঠিত ‘ট্রাইব্যুনালের’ মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কারণ সংবিধানের ৪৭ ক অনুচ্ছেদ নির্দিষ্টভাবে সংবিধানের অর্ধ ডজন উপ-দফা সংবলিত ৩৫ অনুচ্ছেদের মধ্য থেকে বাছাই করে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ ‘অপ্রযোজ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ১ ও ৩ উপ-দফা প্রযোজ্য না হলে ৪৯ অনুচ্ছেদের ট্রাইব্যুনাল বলতে ১৯৭৩ সালের আইনের অধীনে গঠিত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ প্রযোজ্য হওয়ার কথা নয়। এটা অযথাযথ হয়ে পড়ে। ৩৫ অনুচ্ছেদের ১ উপ-দফা বলেছে, অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেয়া যাইতে পারিতো, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না।’ কিন্তু ৩৫ অনুচ্ছেদের (৩) উপ-দফা বলেছে, ‘ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার লাভের অধিকারী হইবেন।’ সংবিধান ঘোষণা দিয়েছে, যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭৩ সালের আইন প্রযোজ্য হয় সেই ব্যক্তি বাংলাদেশের কোন ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হবেন বলে গণ্য হবেন না।’ এই অধিকারের দাবি তুলে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর গোড়াতেই ১৯৭৩ সালের আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত রিট করেছিল। কিন্তু তা নাকচ হয়ে যায়। সুতরাং এই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে যে, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতরা ক্ষমা চাইতে পারেন। সেই দরখাস্ত বিবেচনা করার এখতিয়ার প্রেসিডেন্ট রাখেন কিনা।
হুম্মাম কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তুমি কি মার্সি পিটিশন করেছো? তিনি বলেছেন, এ রকম বাজে কথা কে বলেছে? তোমার ৬ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা বাবা বাঘ, মাথা নত করতে পারে না। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, না চাইলে আমরা যাবো কেন? কয়েক ঘণ্টা ধরে এ মন্ত্রণালয়, সে মন্ত্রণালয় গেলাম, না চাইলে যাবো কেন?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জল্লাদ শাহজাহানের সাজা মওকুফ ১০০ বছর by দীন ইসলাম
১৯৭৯ সালে মাদারীপুর জেলায় একটি অপারেশনের নেতৃত্ব দেন শাহজাহান। সেখানে অপারেশন শেষ করে মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে শাহজাহানের দল মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাবে। মানিকগঞ্জে পুলিশ চেক পোস্ট বসালে শাহজাহান ওই এলাকায় তার বাহিনী মারফত সংবাদটি জেনে যান। সব কিছু জেনে ওই এলাকা দিয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন শাহজাহান। সারা রাত পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ করে ঢাকায় ফেরেন তিনি। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। ঢাকা থেকে নিজের এলাকা নরসিংদীর উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় রাস্তায় তাকে পুলিশ আটক করে। এরপর থেকে তার বন্দি জীবন চলছে। জেলখানায় তার চলাফেরা ও সাহসিকতা দেখে ১৯৮৯ সালে সহযোগী জল্লাদ হিসেবে শাহজাহানকে নিয়োগ করে জেল কর্তৃপক্ষ। ওই বছরই তিনি সহযোগী জল্লাদ হিসেবে গফরগাঁওয়ের নূরুল ইসলামকে ফাঁসি দিয়ে তার জল্লাদ জীবনের সূচনা করেন। এটাই তার জীবনের প্রথম কারাগারে কাউকে ফাঁসি দেয়া। তার যোগ্যতা দেখে ৮ বছর পর ১৯৯৭ সালে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রধান জল্লাদ হিসেবে নিয়োগ করেন। প্রধান জল্লাদ হওয়ার পর আলোচিত ডেইজি হত্যা মামলার আসামি হাসানকে প্রথম ফাঁসি দেন। এ ছাড়া ১৯৯৩ সালের জুলাই মাসে শহীদ বুদ্ধিজীবী কন্যা শারমীন রীমা হত্যা মামলার আসামি মনিরকে, ১৯৯৭ সালে বহুল আলোচিত ডেইজি হত্যা মামলার আসামি হাসানকে, ২০০৪ সালের ১০ই মে খুলনা জেলা কারাগারে এরশাদ শিকদারকে, ২০০৪ সালের ১লা সেপ্টেম্বর রংপুর জেলা কারাগারে ইয়াসমিন হত্যা মামলার আসামি এএসআই মইনুল হক ও আবদুস সাত্তারকে, ২০০৪ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যা মামলার আরেক আসামি পিকআপ ভ্যানচালক অমৃত লাল বর্মণকে, ২০০৭ সালের ২৯শে মার্চ কাশিমপুর কারাগারে জঙ্গি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও ইফতেখার মামুনকে, ২০১০ সালের ২৭শে জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার মহিউদ্দিন আহমেদকে ফাঁসি দেন। তার উল্লেখযোগ্য ফাঁসির মধ্যে- ২০১৩ সালের ১০ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করেন। এরপর সর্বশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করেন। সর্বশেষ দুই জনকে ফাঁসি দেয়ার সময় তার সহযোগী ছিলেন ইকবাল, মাসুদ, আবুল, মোক্তার, রাজু ও হযরত। এ নিয়ে ৪৭ জনের গলায় ফাঁসির দড়ি ঝুলিয়েছেন এ জল্লাদ। এদিকে জেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, একটি ফাঁসি দিতে প্রধান জল্লাদের সঙ্গে ছয় জন সহযোগী লাগে। ফাঁসির রায় কার্যকর করলে প্রত্যেক জল্লাদের ২ মাস ৪ দিন করে কারাদণ্ড মওকুফ করা হয়। এ ছাড়া কারাগারে যারা জল্লাদ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শাহজাহান তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এ দেখাই শেষ দেখা by জুনায়েত হাসান
বিচ্ছেদের কান্না শুধু উকিল বর্মণের একার নয়। তার মতো ১১৯ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহলের বর্মণপাড়ার স্কুলছাত্রী সুচরিতা রানী বর্মণ, জোসনা রানী বর্মণ, সুমন চন্দ্র বর্মণসহ অন্য সবার। তাদের কান্নায় ১১৯ নম্বর বাঁশকাটা, ১১২ নম্বর বাঁশকাটা, ১১৫ নম্বর বাঁশকাটা ও ১৫ নম্বর খরিখরি ছিটমহলের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ভারতে চলে যাওয়াদের কান্নায় স্থানীয় প্রতিবেশীরাও আবেগাপ্লুত। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দুপুর ১টায় বুড়িমারী স্থলবন্দর পুলিশ ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষে জিরোপয়েন্টে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম ভারতের নয়া ঠিকানায় যাওয়া এসব নাগরিককে মিষ্টিমুখ করান এবং রজনীগন্ধার একটি করে স্টিক হাতে তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান। এ সময় পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল ও জোংড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদুন্নবী শাহীন উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, ভারতের কোচবিহার অতিরিক্ত জেলা শাসক আয়শা রানী ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব রামাকান্ত গুপ্তা উপস্থিত থেকে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের মিষ্টিমুখ করিয়ে হাতে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় পাশেই স্থাপিত মঞ্চে ভারতীয় শিল্পীরা নয়া নাগরিকদের গানে গানে বরণ করে নেন।
চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে ভারত গেলেন
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে দুই দিনে ভারত গেলেন সদ্য বিলুপ্ত ৫ ছিটমহলের ২২৪ বাসিন্দা। রোববার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে প্রথম দফায় চিলাহাটি হলদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে কুচবিহার জেলার এডিএম আয়শা রানীর কাছে ৪৮ বাসিন্দাকে হস্তান্তর করেন নীলফামারী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান। গতকাল দ্বিতীয় দফায় যান ১৭৬ বাসিন্দা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৫৮ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডার এ কে ঝা, ভারত জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রঞ্জন ঝা, বিজিবির ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিএম সারোয়ার, ডোমার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বসুনিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা প্রমুখ। এর আগে দুপুরে ভারত গমনে পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ছিটমহলের প্রথম দলের ২২৪ সদস্যের ইমিগ্রেশন নেয়া হয় ডোমার উপজেলার চিলাহাটি সীমান্তের আবদুর রউফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে। ইমিগ্রেশন কাজে ছিলেন কাস্টমসসের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন হাফিজ, রাজস্ব কর্মকর্তা আহসান হাবিব, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন অফিসের ফাস্ট সেক্রেটারি রমাকান্ত গুপ্ত, নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুজিবুর রহমান, ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিএম সারোয়ার, ডোমার উপজেলার চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বসুনিয়া, ডোমার নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল, ডোমার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।
দুই দিনে ৫টি বাসযোগে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ ইউপি চত্বরের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে চিলাহাটি আবদুর রউফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে নিয়ে আসা হয়। এখানে তাদের বরণ করতে নীলফামারীর জেলা প্রশাসনের পক্ষে রজনীগন্ধার একটি করে স্টিক হাতে তুলে দেয়া হয়। তাদের ইমিগ্রেশন শেষে তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময় দুই সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। এখানে তাদের শেষ বিদায় জানাতে আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
কান্না থামছে না বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, কান্না থামছে না বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর। আপনজনদের মধ্যে কেউ কেউ যাচ্ছেন ভারতে। কেউ কেউ থেকে যাচ্ছেন বাংলাদেশে। এ অবস্থায় বিদায়বেলায় উভয়ই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। দ্বিতীয় দফায় গতকাল ভারত গেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত কোটভাজনী ও বালাপাড়া খাগড়াবাড়ী ছিটমহলের ২৮টি পরিবারের এক নবজাতকসহ ১৪৭ সদস্য। এ দুটি ছিটের ৩১ পরিবারের ১৭৭ জন ভারতে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রস্তুতি না থাকায় ৩০ জন চতুর্থ দফায় ভারতে যাবেন বলে জানা গেছে। সকাল সাড়ে ৯টায় দেবীগঞ্জের গাজোকাটি বাজার মাঠের অস্থায়ী ক্যাম্পে পঞ্চগড়ের এডিএম মোহাম্মদ গোলাম আজম ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সেক্রেটারি রমা কান্ত গুপ্তার কাছে ১৪৭ জন নতুন ভারতীয় নাগরিকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাদের হস্তান্তর করেন। পরে ৪টি মিনিবাস ও ৭টি ট্রাকে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি ডাঙ্গাপাড়া সীমান্তে। সেখানকার আবদুর রউফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষ করা হয়। দুপুরে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম ভারতের কুচবিহার জেলার এডিএম আয়শা রানী ও বিএসএফের ডেপুটি কমান্ডার এ কে ঝার হাতে মালামালসহ নতুন নাগরিককে হস্তান্তর করেন। এ সময় নীলফামারীর ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা, ডোমার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বসুনিয়াসহ গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বরণ করে নেয়।
আজ মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত দহলা খাগড়াবাড়ী ছিটমহলের ২৯টি পরিবারের এক নবজাতকসহ ১৪৯ জন ভারতে যাবেন। তারা গতকালই প্রয়োজনীয় মাল-সামানাসহ দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পে উপস্থিত হয়েছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দগলা খাগড়াবাড়ী ও দইখাতা ছিটমহলের ২৩টি পরিবারের ১০৮ জন সদস্য ভারতে যাবেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
November
(600)
-
▼
Nov 24
(8)
- সন্ত্রাসবাদ মুছে ফেলার এখনই সময়
- ক্যাপ্টাগন বড়ি খেয়ে যুদ্ধ করছে আইএস
- আরব বিশ্বের প্রথম নারী স্পিকার হলেন আমল আল-কুবাইসি
- কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রাজনীতি
- বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নি...
- ৪৯ অনুচ্ছেদ কী ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রযোজ্য?
- জল্লাদ শাহজাহানের সাজা মওকুফ ১০০ বছর by দীন ইসলাম
- এ দেখাই শেষ দেখা by জুনায়েত হাসান
-
▼
Nov 24
(8)
-
▼
November
(600)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







