Wednesday, October 14, 2020

জিহ্বা সাদা হওয়ার কারণ by ডা: মো: ফারুক হোসেন

সাদা জিহ্বা সাধারণত ক্ষণস্থায়ী হয়ে থাকে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার হতে পারে। জিহ্বার প্যাপিলার প্রদাহের কারণে সাদা জিহ্বার সৃষ্টি হয়। সূক্ষ্ম খাদ্যকণা, ব্যাকটেরিয়া এবং মৃত কোষ প্রদাহজনিত প্যাপিলাতে আবদ্ধ হয়ে সাদা আবরণ সৃষ্টি করে থাকে।
অনেক কারণে জিহ্বায় প্যাপিলার প্রদাহ হতে পারে। যেমন ধূমপান, মদ্যপান, মৃদু ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার কারণে প্যাপিলার প্রদাহ হয়ে সাদা জিহ্বা সৃষ্টি হতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেই মাঝে মধ্যে সাদা জিহ্বা দেখতে পান। ঠাণ্ডাজনিত কোনো অসুখ বা অ্যালার্জির কারণে এমন হতে পারে। আবার ক্রমাগত রাতের বেলায় মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে। সাধারণভাবে সাদা জিহ্বার এ অবস্থার অবসানে যা করণীয়, তা হলো ক. জিহ্বা ব্রাশ করতে হবে। খ. ধূমপান বন্ধ করতে হবে। গ. প্রচুর পানি পান করতে হবে। ঘ. আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
সাধারণ কারণ ছাড়াও বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে জিহ্বা সাদা হতে পারে। সেগুলো হলো ১. ক্যান্ডিডোসিস; ২. ক্রনিক অসুস্থতা বা সব সময় অসুস্থ থাকা; ৩. এপস্টেন বা ভাইরাস; ৪. হেয়ারি টাং বা জিহ্বা; ৫. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমস্যা বা এইডস হলে; ৬. লিউকোপ্লাকিয়া; ৭. ডায়রিয়ায় পানিশূন্যতা বেশি হলে; ৮. অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনহেলার ব্যবহারের কারণে।
ধূমপান বা এলকোহল সেবন না করলেও জিহ্বার রঙ সাদা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীর ক্রনিক ওরাল থ্রাশ থাকতে পারে। ক্রনিক ওরাল থ্রাশ হলে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ না করলে সমস্যা থেকেই যাবে। এ ছাড়া যেসব ওষুধ সেবনের কারণে শুষ্ক মুখ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে জিহ্বা সাদা হতে পারে। ওষুধ সেবন শেষ হয়ে গেলে জিহ্বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। সাধারণ কারণ ছাড়া জিহ্বা সাদা হলে অবশ্যই আপনাকে বুঝতে হবে আপনি কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। হয়তো অসুখটি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আপনি জানেন না বা আপনার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। তাই কোনো কিছুকে অবেহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে মুখের অভ্যন্তরে সাদা সংক্রমণে আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। মুখের অভ্যন্তরে সাদা সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকেও সচেতন করে তুলুন। আর হ্যাঁ কোনো অবস্থাতেই মুখস্থ কোনো ওষুধ সেবন করবেন না।

>>>লেখক : ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন। মোবাইল : ০১৮১৭৫২১৮৯৭

রবীন্দ্রসান্নিধ্যে গগন হরকরা by মো. মুখলেছুর রহমান ভূঁঞা

আমার মনের মানুষ যে রে, আমি কোথায় পাব তারে।
হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশে দেশবিদেশে বেড়াই ঘুরে।
কোথায় পাব তারে।

এই বিখ্যাত মরমি গানের রচয়িতা গগন। যার পূর্ণ নাম গগনচন্দ্র দাম। দাম পদবী বাঙ্গালী হিন্দুদের মধ্যে দেখা যায়। দাঁ এবং দাম পদবী একই উৎস থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়। গগন ছিলেন সামান্য শিক্ষিত আর তা দিয়েই তিনি শিলাইদহ ডাকঘরে ডাক হরকরার চাকরি পেয়েছিলেন। এ জন্য তার নামের পাশে হরকরা শব্দটি যোগ করে গগন হরকরা নামে ডাকা হত এবং এ নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তার প্রকৃত নাম গগনচন্দ্র দাস।

নাম তার গগন কিন্তু পদবি ডাক হরকরা তাই পোস্ট অফিসের চিঠি বিলির কাজে ঝাঁ ঝাঁ রোদে মাঠে ময়দানে কিংবা গাঁয়ে গাঁয়ে এঁকে ঘুরতে হত। সে সময় মাঠের মধ্যে, নদীর তীরে গগন প্রাণের আনন্দে মরমি সঙ্গীত গেয়ে শান্ত প্রকৃতিকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করে দিতেন। তার গানের সুরে পল্লীর কুঠিরে কুঠিরে রসতরঙ্গ জেগে উঠত।

জমিদার রবীন্দ্রনাথ ১৮৮৯-১৯০১ সাল পর্যন্ত শিলাইদহ ও শাহজাদপুরের জমিদারি দেখার জন্য নিয়মিত আসতেন। এই সময় গগনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে অনুমেয় হয়। আর চিঠি বিলি করার জন্য জমিদার রবীন্দ্রনাথের কাছে প্রত্যহই গগনকে যেতে হত, সেই সুবাদে হয়ত রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা হত এবং কিছু খোসগল্প ও রসালাপও হত এটাই স্বাভাবিক। মাঝে মাঝে সন্ধ্যার পর নির্জনে বোটের ছাদে-কখনো তারা ভরা আকাশের নিচে কখনো নির্জন দুপুরে পদ্মা ঘাটে, কখনো কাচারি বাড়িতে গগন অপূর্ব সুষমা ও সুরব্যঞ্জনা দিয়ে আপন মনের মাধুরি মিশিয়ে সঙ্গীত প্রিয় মানুষদের মাতিয়ে তুলতেন। সে সময় স্বয়ং জমিদার রবীন্দ্রনাথও তার গীতসুধা পান করতেন এবং মুগ্ধ হতেন। জমিদারি পরিচালনার কাজে শিলাইদহ এসে রবীন্দ্রনাথ যেমন ফকির লালন সাঁইয়ের গানে প্রভাবিত হয়েছিলেন, তেমনি লালনের পরে গগন হরকরার গানে যে কম প্রভাবিত হয়েছিলেন এমন নহে। আর তাই গগন হরকরার অনুকৃত সুরে রবীন্দ্রনাথ স্বদেশীযুগের অনেক বাউল গান রচনা করেছেন, যা তার ‘বাউল’ গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। বাউলতত্ত¡ ও দর্শন সম্পর্কে তার ধারণা গঠনে গগন হরকরার ‘আমি কোথায় পাব তারে’ গানটির ভ‚মিকা অত্যন্ত স্পষ্ট। কারণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মহান সুরটি রবীনদ্রনাথ ঠাকুর গগন হরকরার গাওয়া ‘আমি কোথায় পাবো তারে’ গানটির সুরের উপর নতুন কথা বসিয়ে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি রচনা করেন।

গগন ছেঁউড়িয়ার বাউল লালন ফকিরের ভক্ত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ জমিদারির দায়িত্ব নিয়ে শিলাইদহে এসে গগনের বাউল গানের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা লাভ করেন এবং রবীন্দ্রনাথ তার সান্নিধ্য থেকেই কাঙ্গাল হরিনাথ, গোসাই রামলালসহ বিভিন্ন সাধকের বাউল গান শোনার সুযোগ পেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তার কোন কোন নাটকে বাউল চরিত্র সংযোজন গগনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

‘ডাকঘর’ নাটকেও আছে গগন চরিত্রের ছাপ। বহু ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহও লক্ষ্য করেছেন, রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’, ‘অচলায়তন’ ইত্যাদি নাটকে ঠাকুর্দা, দাদা ঠাকুর, অন্ধবাউল শ্রেণীর যে একটি চরিত্রের সংযোজন দেখা যায়- এই চরিত্র সৃষ্টিতে শিলাইদহের কোন এক বাউল ফকিরের ছায়া পড়েছে। রবীন্দ্রনাথ যে বাউলের সাথে দেখা পেয়েছিলেন, কথাও বলেছিলেন সেই বাউল গগন হরকরা। গগনের গানের ভনিতায় গুরুর নাম উল্লেখ নেই তবে পন্ডিত ক্ষিতিমোহন শাস্ত্রী গগনকে ‘লালনের শিষ্য ধারার একজন’ বলে অনুমান করেছেন। ত

বে গগন লালনের গান গাইতেন, গগনের কাছ থেকে অনেকে লালনসহ আরো কয়েকজন সাধকের গান সংগ্রহ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ গগনকে পরিচিত ও বিখ্যাত করলেও তার অনেক আগেই শ্রীমতি সরলা দেবী (ভারতী-ভাদ্র-১৩০২) গগনের গান সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন এবং ‘লালনফকির ও গগন’ নামীয় প্রবন্ধ লেখেন উপসংহারে গগনের ভক্ত জীবনের বিবরণী সংগ্রহ করে ‘ভারতী’তে প্রকাশার্থে পাঠানোর জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ তার বিভিন্ন প্রবন্ধ আলোচনায় ও বক্তৃতায় গগনের ওই একটি গানের কথাই বারবার উল্লেখ করেছেন আর ওই গানটিকে যেন বাউল দর্শনের ভিত্তি হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন। ‘গগনের গানই শুধু তাকে মুগ্ধ করেনি, তার সরলতা, স্বতঃস্ফ‚র্ততা, ভাবুকতা ও চাল চলনও ঠাকুর কবির মন জয় করেছিল।’ রবীন্দ্রনাথ তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন বাউলের মূল উদ্দেশ্য যে মনের মানুষকে খোঁজ করা সেই পরম সত্যটি গগনের গানে উপলদ্ধি করা যায়।

ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে খুব সম্ভবত ১৮৪০ সালের দিকে শিলাইদহ ইউনিয়নের গবরাখালি গ্রামে এক কৃষিজীবী কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই মহাপুরুষ গগন হরকরা। গগনের পিতা ও মাতা সম্পর্কে তেমন কোন খোঁজ জানা না গেলেও কিরণচন্দ্র নামে তার একপুত্র ছিল বলে জানা যায়। তবে জনশ্রুতি রয়েছে, গগন পুত্র কিরণ চন্দ্রের অল্প বয়সে মৃত্যু হয়েছিল। মংলাচন্দ্র, সুন্দরীদাসী, কানাইচন্দ্র তার পৌত্র পৌত্রী। গগনের মৃত্যুর পর তার ভবিষ্যত বংশধর কেউ শিলাইদহে ছিল না। অভাব অভিযোগই মূল কারণ।

১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পূর্বেই পাংশার সরিষা পেসটিয়াতে গিয়ে বসবাস করে বলে জানা যায়। কৃষক পরিবারে জš§ গগন হরকরা প্রথমে কৃষিকাজ করতেন এটাই স্বাভাবিক। তবে বিভিন্ন জনশ্রুতি রয়েছে, গগনের বাস্তভিটায় আসামদ্দি নামক একজন কৃষক বাড়ি করে থাকতেন এবং সে বাড়িটি আজও দাসের ভিটা নামে পরিচিত। গগন হরকরার বিশাল এক আমবাগান ছিল। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে এসব আমগাছ আমদানি করেছিলেন। দুই যুগ আগেও গগনের ভিটা ও ফলের বাগানের অস্তিত্ব ছিল কিন্তু আজ সেই বাগানে কিছু মেহগনী গাছ ছাড়া আর কিছু চোখে পরে না। গগন অনেকটাই অবহেলিত। কারণ পূর্বে শিলাইদহের কাছারি বাড়ির পূর্ব পাশে গগন হরকরা স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ পোস্ট অফিস ছিল। পরবর্তীতে সরকার সেটি নিলাম করে দিয়েছিল।

বর্তমানে সেখানে পুকুর খনন করা হয়েছে। গগন হরকরার আর কোন স্মৃতি চিহ্ন নেই বললেই চলে। তাকে কেউ গুরুত্ব সহকারে স্বরণ করে না। তবে কুষ্টিয়া জেলা সদরের নিশান মোড়ে পৌরসভার উদ্যোগে গগনের একটি প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে যা গগন ভক্তদের মনে দোলা দেয় ও নতুন প্রজšে§র কাছে গগননামী বাউল সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে। তিনি এক মহান সুরকার তাইত গগনের গান রবীন্দ্র মানসে অভ‚তপূর্ব দোলা লেগেছিল এবং তার গানে বাউলতত্ত সম্পর্কীয় আধ্যাত্মিক মনের ছবি সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে। এই গানটির সুরে রবীন্দ্রনাথ ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ গানটি রচনা করেছিলেন।

গগনের গানে মনের মানুষকে সন্ধান করার ব্যাকুলতা এবং মনের মানুষের জন্য ভালবাসা ফুটে উঠেছিল। আর রবীন্দ্রনাথ গানটির সুরে সোনার বাংলা তথা বাংলা ভাষা, বাংলার সঙ্গীত, বাংলার শিল্প, বাংলার যা কিছু আছে তাই-ই ভালবাসা দিয়ে অনুভব করেছিলেন। বিদেশী শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত হবার পর বাউল সুরে রচিত গানটিই আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পেয়েছে।

আমেরিকার মিলিশিয়া আন্দোলন: সরকারের হাত থেকে বাঁচতে নিজেরাই সশস্ত্র হচ্ছে! by মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

তথাকথিত নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার
Roar.Media: ১৯৯০’র দশকে ‘মিলিশিয়া মুভমেন্ট’ নামে যে নতুন আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল আমেরিকায়, তাকে অনেকে অভিহিত করে থাকেন মিলিশিয়া আন্দোলনের আধুনিক অধ্যায় হিসেবে। এই আন্দোলনের সদস্যরা প্রবল স্বকীয়তাবোধ এবং যাবতীয় ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাস করে। ৯০’র দশকে এই আন্দোলন আনুষ্ঠানিক নাম ও কাঠামো পেলেও এর শুরু আদতে বহু আগেই হয়। মহামন্দার সময়ে চলা ‘শার্ট মুভমেন্ট’ ছিল মিলিশিয়া গঠনের প্রাথমিক ধাপ। ৬০’এর দশকে উগ্র ডানপন্থীদের সশস্ত্র ‘মিনিটম্যান’ আন্দোলন মিলিশিয়ার গঠনকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করে।
এরপর, ৭০’এর দশকে আমেরিকার ৪০টি অঙ্গরাজ্যই মিলিশিয়া বা বেসরকারি আধা সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু বিধিবাম। এই নিষেধাজ্ঞার পরই আমেরিকাজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে উঠতে শুরু করে। শ্বেত আধিপত্যবাদী, জায়নবাদ বিরোধী, নব্য-ফ্যাসিবাদ সমর্থক, নব্য-নাৎসিবাদ সমর্থক, অ্যান্টি-সেমেটিক সহ আরো নানান ভাবাদর্শ নিয়ে একের পর এক সৃষ্টি হতে থাকে ছোটবড় মিলিশিয়া গ্রুপ।
এই গ্রুপগুলোর ধ্যানধারণা কমবেশি একই রকম ছিল, আর তা হলো সরকার ও রাষ্ট্র কর্তৃক শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই, মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার বিরুদ্ধে লড়াই, আমেরিকা কর্তৃক সৃষ্ট সর্বগ্রাসী ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ এর বিরুদ্ধে লড়াই। সরকার কর্তৃক আরোপিত কর, বিভিন্ন আইন এবং ব্যক্তিগত অস্ত্র মালিকানার নিষেধাজ্ঞাকে ধরা হয় সরকারি শোষণ হিসেবে। উল্লেখ্য, মিলিশিয়া গ্রুপগুলো ব্যক্তিগতভাবে অস্ত্র রাখার নিষেধাজ্ঞাকে অনেক বড় সমস্যা বলে মনে করে। কারণ, তাদের বিশ্বাস রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ এবং তারা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা বিধান করে নেবেন।
সারভাইবালিজম
এতকিছুর পরও এই মিলিশিয়া গড়ে ওঠার ব্যাপারটি কোনো আন্দোলন হিসেবে অভিহিত হচ্ছিল না, কারণ তারা সবাই এক ছাতার নীচে আসতে সক্ষম হয়নি। এরই মাঝে ৮০’র দশকে উত্থান ঘটে ‘সারভাইবালিজম’ নামক অদ্ভুত এক রীতির। মানুষজন বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, শীঘ্রই আমেরিকান শহুরে সমাজ ধ্বংস হবে পারমাণবিক আক্রমণে। তাই মানুষের উচিৎ শহর ছেড়ে মফস্বলে কিংবা গ্রামে গিয়ে বসবাস করা, অস্ত্রচালনা রপ্ত করে নিজের নিরাপত্তা নিজে বিধান করতে শেখা, সর্বোপরি চরমতম পরিস্থিতির জন্য নিজেকে তৈরি করা। এই সার্ভাইবালিজমে বিশ্বাসী মানুষগণও একধরনের মিলিশিয়া গড়ে তোলে। তবে ভাবাদর্শের দিক দিয়ে সেগুলো মূলধারার মিলিশিয়ার মতো নয়।
এ সময় আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছিল মিলিশিয়াগুলোর মাঝে। মিলিশিয়ায় বিশ্বাসী কিছু উদার গোছের নেতারা চাইতেন একেবারে সরকার পরিত্যাগ না করে বরং স্থানীয় মিলিশিয়াগুলোও সরকারি বাহিনীর মতোই দেশ ও সমাজের নিরাপত্তা বিধানের কাজে যোগ দিক। অবশ্য, এরকম চাওয়ার মতো লোকজনের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। তাছাড়া, মিলিশিয়াগুলোর তীব্র সরকারবিরোধী নীতি গ্রহণ চলতে থাকায় সরকারের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্কের ধারণা খড়কুটোর মতো ভেসে যায়।
একটু আগেই বলছিলাম, দেশজুড়ে গড়ে ওঠা মিলিশিয়া বাহিনী কিংবা সারভাইবালিস্টদের গ্রুপগুলো এক পতাকাতলে আসতে ব্যর্থ হচ্ছিল বিধায় তারা বড় আকারে নিজেদের প্রকাশও করত পারছিল না। এই অভাবটুকু পূরণ হয়ে যায় ৯০’র দশকের শুরুতেই। মিলিশিয়া গ্রুপ, শ্বেত আধিপত্যবাদী গ্রুপ, উগ্র ডানপন্থী গ্রুপ, সারভাইবালিস্ট গ্রুপ, ট্যাক্সবিরোধী গ্রুপ, সকলে মিলেই ঐক্যবদ্ধভাবে ‘প্যাট্রিয়ট মুভমেন্ট’ নামক এক নতুন আন্দোলনের সূচনা করলো। আর তাতেই কিস্তিমাত হয়ে গেল। ‘দেশপ্রেম আন্দোলন’, এই নামটাই তো যথেষ্ট! দেশব্যাপী মানুষের সমর্থন আসতে লাগলো এ আন্দোলনের জন্য। কাকতালীয়ভাবে এ সময়ই আমেরিকায় ইন্টারনেটের বিকাশ শুরু হয়। ফলে প্যাট্রিয়ট আন্দোলন আকাঙ্ক্ষার চেয়েও দ্রুত বিকাশ লাভ করতে লাগলো।
রুবি রিজে উইভারের ছোট্ট ঘরটি
আধুনিক মিলিশিয়া আন্দোলন ১৯৯২ সালের ২১ আগস্টের ঘটনা থেকে শুরু হয়। ইউএস মার্শালসের ৬ জন সদস্য সেদিন গিয়েছিলেন ফ্লোরিডার নেপলস শহরের রুবি রিজ নামক এক এলাকা পরিদর্শনে। উদ্দেশ্য ছিল, বহুদিন যাবত অস্ত্র মামলায় পলাতক আসামি রেন্ডি উইভারকে অ্যামবুশ করা। মার্শালসের নিকট তথ্য ছিল যে, উইভার রুবি রিজে একটি ছোট্ট কুটির সদৃশ ঘরে অবস্থান করছেন। তারা উইভারের ছোট্ট সে ঘরটি শনাক্তও করে ফেলেন। কিন্তু বিপত্তি বাঁধায় উইভারের কুকুর স্ট্রাইকার। অপরিচিত মানুষজন দেখে কুকুরটি তীব্র আক্রোশে গর্জন শুরু করে।
কুকুরের গর্জন শুনে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন উইভার। কুকুরের বিরক্তির উৎস খুঁজে পেতে বাইরে বেরিয়ে আসে উইভারের ১৪ বছরের ছেলে স্যামি ও তার বন্ধু কেভিনও। তাদের অনুসন্ধানের নেতৃত্ব দিচ্ছিল কুকুরটি। এদিকে, মার্শালস সদস্যরা ততক্ষণে আশেপাশে ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে পড়েছেন। কুকুরকে অনুসরণ করে উইভারও ততক্ষণে ঝোপের কাছে পৌঁছে যান। এরপর কী ঘটেছিল তা নিয়ে রয়েছে বহুল বিতর্ক। কোনো উৎস থেকেই সঠিক বিবরণ পাওয়া যায়না। কেবল এতটুকু আমরা জানতে পারি যে, মিনিট দশেক পর সেখানে তিনটি প্রাণের অন্তর্ধান ঘটে। উইভারের ছেলে স্যামি, তার কুকুর স্ট্রাইকার আর একজন মার্শালস সদস্য বিল ডেগান!
ছেলের মৃতদেহ কোনোক্রমে নিজের ছোট কুঁড়েসদৃশ বাড়ির সামনে এনে বাড়িতে প্রবেশ করেন উইভার। আর মার্শালসদেরও কোনো অজানা কারণে শখ হলো রুবি রিজে একটি অদ্ভুত নাটুকে পরিবেশ তৈরি করার। তারা উইভারকে গ্রেফতারের জন্য এফবিআইয়ের সহায়তা চাইলেন। মাত্র তিনজন মানুষকে গ্রেফতারের জন্য তারা শতাধিক এফবিআই এবং স্থানীয় পুলিশ সদস্য আনালেন পরদিন। বাড়িতে আক্রমণ না করে বাড়ি ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো এই ভয়ে যে, বাড়িতে বোমা থাকতে পারে! ২২ তারিখ তাদের স্নাইপারের গুলিতে নিহত হলেন উইভারের স্ত্রী ভিকি। আহত হলেন উইভার এবং কেভিন। স্নাইপারের আঘাতে গুরুতর আহত দুজন মানুষকেও তৎক্ষণাৎ গ্রেফতারের ইচ্ছে হলো না মার্শালসদের। তারা অবরোধ নাটক দীর্ঘায়িত করলেন আগস্টের শেষ পর্যন্ত!
মারশালসদের সাথে গোলাগুলির কিছুক্ষণ আগে অস্ত্রহাতে উইভার
এদিকে, ফেডারেল সরকারের পুলিশ ও এফবিআই বাহিনীর এই অবরোধ সুফল বয়ে আনে রেন্ডি উইভারের জন্য। দেশব্যাপী খবর ছড়িয়ে পড়ে যে ফেডারেল সরকার নির্মমভাবে একটি নির্দোষ পরিবারকে হত্যা করেছে। স্থানীয় মানুষজন এসে ভিড় করতে থাকে রুবি রিজের অবরোধ এলাকায়। জড়ো হয় ‘আরিয়ান ন্যাশনস’ নামক একটি শ্বেত আধিপত্যবাদী সংগঠন এবং আরো কিছু ডানপন্থী সংগঠনের সদস্যরা। উইভারের ব্যাপক জনসমর্থনের পালে বাড়তি হাওয়া যোগ করে পপুলিস্ট পার্টির সাবেক রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন প্রার্থী বো গির্টজের উপস্থিতি। শেষ পর্যন্ত এই অবরোধ নাটক এফবিআই ও মার্শলসদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বো গির্টজের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের সাথে সমঝোতা করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় ফেডারেল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এই ঘটনার জল এরপর বহুদূর গড়িয়েছে। উইভারের পক্ষ থেকে আগে গুলি ছোঁড়া হয়েছিল নাকি মার্শালসদের পক্ষ থেকে, তা নিয়ে চলে তুমুল বিতর্ক। অবশ্য সাধারণ মানুষ নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করে নেয় যে, মার্শালসরাই আগে আক্রমণ করেছে। তাছাড়া, এ ঘটনায় এফবিআইয়ের সংযুক্তির পর তাদের হাতে খুন হয় উইভারের স্ত্রী ভিকি। এই হত্যার দায়ে রুবি রিজের অভিযান পরিচালনা করা এফবিআই দলের প্রধান মাইকেল কাহোকে দেড় বছরের কারাদণ্ডও দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। দুর্নাম যা হবার হয়ে গেছে। দেশব্যাপী এফবিআইয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নড়বড়ে হয়ে যায়। আর উগ্র ডানপন্থীরা তো দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাষ্ট্রকাঠামো বিরোধী অবস্থানে ছিল। তাদের এ অবস্থানকে আরেক ধাপ এগিয়ে দেয় রুবি রিজের ঘটনা। এ ঘটনা আমেরিকায় মিলিশিয়া আন্দোলনের আধুনিক অধ্যায়ের সূচনা করে।
স্নাইপারের গুলিতে মৃত্যুর কিছুক্ষণ পূর্বে ভিকি
রুবি রিজের ঘটনার পর উগ্র ডানপন্থী সংগঠন কিংবা আরিয়ান ন্যাশনের মতো শ্বেত আধিপত্যবাদী সংগঠনগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি ভরসার সমাপ্তি ঘটে। তথাকথিত ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’এ টিকে থাকবার জন্য নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে, এরূপ বিশ্বাস তাদের মধ্যে বদ্ধমূল হয়। রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজেদের রক্ষক ভাবার পরিবর্তে ভক্ষক ভাবতে শুরু করে এই শ্রেণী। আর নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের সাথে রাখতে শুরু করে অস্ত্র, গড়ে উঠতে থাকে অসংখ্য অর্ধসামরিক ছোট ছোট বাহিনী, যারা একত্রে সংগঠিত হয়ে পরবর্তীতে মিলিশিয়া আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির টোটকা ছিল সেই রুবি রিজই। ফেডারেল সরকারের বা আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ‘দায়িত্বহীনতা’ এবং রুবি রিজে নির্বিচারে গুলি করার ঘটনা উল্লেখ করার মাধ্যমে আন্দোলনে নতুন মুখ যোগ করা হয়।
৯০’র দশকের দ্বিতীয়ার্ধে পুরো সময়টাই আমেরিকায় বিভিন্ন মিলিশিয়ার কিছুমাত্রায় সহিংস রূপ দেখা যায়। শ্বেত আধিপত্যবাদীরা ‘স্থানীয় আধিপত্যবাদ’ (লোকাল সুপ্রিমেসি) নামক নতুন ভাবধারার উন্মেষ ঘটায়। স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা তাদের আধাসামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য তারা স্থানে স্থানে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা যেমন ‘ফরেস্ট সার্ভিস’, ‘ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ এর সদস্যদের কাজে বাঁধা দেয়, হামলা চালায়।
রুবি রিজের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ
যেভাবেই হোক, যেমন করেই হোক, মিলিশিয়া আন্দোলনের জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছিল। কিন্তু সেই বিকাশে বাঁধ সাধে অতি উৎসাহী এক কর্মীর ন্যাক্কারজনক এক কাণ্ড। টিমোথি ম্যাকভেই নামক সে কর্মী ভেবেছিলেন, বোমা মেরে একটি ফেডারেল ভবন ধ্বসিয়ে দিতে পারলে তাদের আন্দোলন আরো বেগবান হবে। তিনি ‘ভি ফর ভেন্ডেটা’ সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন কি না কে জানে! কিন্তু, ১৯৯৫ সালে ওকলাহোমায় তার সেই অতি উৎসাহী কর্ম ১৫৮ জনের জীবন কেড়ে নেয়! তাতে কি হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটলো মিলিশিয়া আন্দোলনের?
না, মিলিশিয়া আন্দোলন ততদিনে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গেছে, উগ্র আর অন্ধ সমর্থকদের দলে ভিড়িয়ে নিয়েছে, ছন্দপতনের তখন প্রশ্নই আসে না। ততদিনে আমেরিকাজুড়ে গঠিত হয়েছে ৯০০’র অধিক আধাসামরিক গ্রুপ, যাদের মোট সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ৪০ হাজারের অধিক! অবশ্য তাদের স্থানীয় পৃষ্ঠপোষক এবং স্বক্রিয় সমর্থক হিসাব করলে সে সংখ্যাটা আড়াই লাখ ছাড়িয়েছিল! তবে ২০০০ সালের পর মিলিশিয়া আন্দোলনের ছোট ছোট গ্রুপগুলো একত্রিত হয়ে আকারে বড় গ্রুপ গড়ে তোলে। ফলে, বুশ সরকারের সময় মিলিশিয়া গ্রুপের সংখ্যা কমে গেলেও আদতে এ আন্দোলন দুর্বল হয়নি।
টিমোথি ম্যাকভেইয়ের বোমায় ধ্বসে গেছে ওকলাহোমার একটি ফেডারেল ভবন
বর্তমানে আমেরিকায় সক্রিয় মিলিশিয়া গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছে ‘থ্রি পার্সেন্টারস’, ‘মিশিগান মিলিশিয়া’, ‘মিলিশিয়া মন্টানা’, ‘ওথ কিপারস’, ‘নিউ ইয়র্ক লাইট ফুট’। সময়ের সাথে সাথে এদের কৌশলগত দিকে অনেক পরিবর্তন এলেও চিন্তাচেতনায় কোনো পরিবর্তনই আসেনি। এখনো এই মিলিশিয়া গ্রুপগুলোর প্রধান বিশ্বাসই হলো ফেডারেল সরকারে ষড়যন্ত্র এবং ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’। অবশ্য সাম্প্রতিককালে মিলিশিয়া গ্রুপগুলো কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। এই দ্বিধার কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া।
বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়টা ছিল আমেরিকান মিলিশিয়া গ্রুপগুলোর স্বর্ণযুগের মতো! ২০০৮ থেকে ২০১১ সালেই মিলিশিয়া গ্রুপের সংখ্যা ৪২ থেকে বেড়ে ৩০০-তে উন্নীত হয়। এর বড় কারণ টি পার্টি আন্দোলন। টি পার্টি আন্দোলন হয়েছিল ফেডারেল সরকারের ঋণ মওকুফ ও ওবামাকেয়ার বিলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে মিলিশিয়া আন্দোলনের ডিএনএতেই রয়েছে সরকারবিরোধীতা। ফলে ব্যাপক হারে মিলিশিয়া সদস্যরা টি পার্টি আন্দোলনে যোগ দেয় এবং তাদের নিজেদের সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।
টি পার্টি আন্দোলন
কিন্তু ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হয়ে যেন মিলিশিয়া আন্দোলনের ভবিষ্যতই শংকার মধ্যে ফেলে দেন। দীর্ঘকাল ধরে যে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে বেঁচে ছিল এই মিলিশিয়া আন্দোলন, সেই ষড়যন্ত্র তত্ত্বই এবার ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। কেননা, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিজেই ছিলেন একজন কট্টর ডানপন্থী, শ্বেত আধিপত্যবাদী! তাহলে মিলিশিয়া আন্দোলনের শ্বেত আধিপত্যবাদী ও ডানপন্থীরা (মূলত এই আন্দোলনের প্রায় সবাই শ্বেতাঙ্গ এবং ডানপন্থী) কি এবার সরকারের সমর্থন দেয়া শুরু করবে? নাকি ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে নিজেদের ভাবাদর্শের বিপরীতে গিয়ে হলেও একজন শ্বেত আধিপত্যবাদী ও ডানপন্থী প্রেসিডেন্টের বিরোধীতা করবে?
ট্রাম্প ইস্যুতে মিলিশিয়া আন্দোলন স্তিমিত হবার পরিবর্তে পুরনো খোলস পাল্টে নতুন রূপে আবির্ভূত হয়। মিলিশিয়া আন্দোলনের একটা বড় অংশ ট্রাম্পের আগমনের পর থেকে কিছুটা উদারকণ্ঠে কথা বলতে শুরু করে এবং ট্রাম্পের শ্বেত আধিপত্যবাদী আচরণের নিন্দা জানায়! এ পর্যায়ে এসে থ্রি পার্সেন্টারস আর ওথ কিপারসের মতো মিলিশিয়া গ্রুপগুলো উগ্র ডানপন্থী আর শ্বেত জাতীয়তাবাদীদের থেকে কিছুটা আলাদা হয়ে যায়। আর পূর্বেকার সেই ‘সরকারের সাথে কাজ করা’র ধারণাটি নতুন করে প্রাণ পায়। কিছু কিছু অঙ্গরাজ্যে তো ইতোমধ্যে রিপাবলিকনদের সাথে মিলিশিয়া গ্রুপগুলোর সমঝোতাও দেখা গেছে। পোর্টল্যান্ডে তো রীতিমতো রিপাবলিকান কিছু সভা সমাবেশের নিরাপত্তার দায়িত্বও দেয়া হয়েছে মিলিশিয়াদের। ফলে ভবিষ্যতে কী হবে তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও, বর্তমানকালের প্রেক্ষাপটে অন্তত এটা বলা চলে যে আধুনিককালের মিলিশিয়া আন্দোলনকে কিছুটা হলেও বশে আনতে সক্ষম হয়েছে রিপাবলিকানরা অথবা আরো নির্দিষ্ট করে বললে, টি পার্টির সদস্যরা। উগ্র স্বকীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সাথে তাদের এই লোক দেখানো লিয়াজো কতদিন টিকে থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
থ্রি পার্সেন্টারের পতাকা