Tuesday, August 9, 2016

পাকিস্তানে এবার ‘খোরাসানি আইএস’ নৃশংসতা

পাকিস্তানের কোয়েটায় একটি হাসপাতালে আত্মঘাতী
হামলায় নিহতদের লাশ পড়ে আছে (বাঁয়ে)
নিহতদের স্বজনদের কান্না -এএফপি
তালেবানের বর্বর হামলায় বিধ্বস্ত পাকিস্তান এবার খোরাসানি আইএসের নৃশংসতার শিকার হল। দেশটির বেলুচিস্তানের রাজধানী শহর কোয়েটায় একটি সিভিল হাসপাতালে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় একশ’ ছুঁয়েছে। ইরাক-সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) খোরাসানি শাখা এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে খোরাসানি আইএস প্রতিষ্ঠিত হয়। তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সাবেক কমান্ডার হাফিজ সাঈদ খান এ গ্র“পের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সোমবার ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে। খোরাসান একটি ঐতিহাসিক পরিভাষা। ইসলামের প্রথম যুগে পারস্যের পূর্বাঞ্চল বোঝাতে এই পরিভাষা ব্যবহৃত হতো। মধ্য এশিয়ার আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের কিছু অংশ নিয়ে মূলত খোরাসান গঠিত। ২০১৪ সালে ইরাক-সিরিয়ায় আত্মপ্রকাশ করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তারা খোরাসান প্রাদেশিক শাখা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।
গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এক অডিওবার্তায় সাবেক তালেবান কমান্ডার হাফিজ সাঈদ খানকে খোরাসানের গভর্নর ঘোষণা দেয় আইএস। আইএসের মুখপাত্র আবু মোহাম্মদ আল আদনানির সাত মিনিটের ওই অডিওবার্তা তাদের ফুরকান মিডিয়ায় প্রকাশ হয়। এছাড়া আইএসের খোরাসানি শাখার ডেপুটি গভর্নর করা হয় সাবেক গুয়ান্তানামো বন্দি ও তালেবান কমান্ডার আবদুর রউফ খাদিমকে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তালেবানের একাংশ পুরোপুরি আইএসের আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে। এখন তারা আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে হামলার টার্গেট নিয়ে কাজ করছে। হামলার লক্ষ্য ছিলেন আইনজীবীরা : কোয়েটা হামলায় নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই আইনজীবী। সম্প্রতি পাকিস্তানে একের পর এক আইনজীবী জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন আইনজীবীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সর্বশেষ সোমবার বালুচিস্তান বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিলাল আনওয়ার কাসিকে গুলিতে হত্যা করে দুর্বত্তরা। সহকর্মী ও সংগঠনের নেতার মৃত্যুর খবর পেয়ে শতাধিক আইনজীবী জড়ো হয়েছিলেন কোয়েটার এক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। শোকাহত আইনজীবীরা কাসির লাশের পাশে জরুরি বিভাগে জড়ো হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে হাসপাতালের ভেতরেই ঘটল ভয়াবহ বোমার বিস্ফোরণ। ইসলামাবাদ থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা এলাকার প্রধান গেটে এ হামলা হয়েছে। তিনি আভাস দিয়েছেন, আইনজীবীদের লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
খোরাসানি আইএস
প্রতিষ্ঠা : জানুয়ারি ২০১৫
প্রধান : তালেবানের সাবেক কমান্ডার হাফিজ সাঈদ খান
লক্ষ্য : আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারতে আইএসের খেলাফত প্রতিষ্ঠা

রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে কি?

থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন দেয়া হয়েছে দেশটির সামরিক সরকারের মনোনীত কমিটির তৈরি নতুন সংবিধানটি। ফলাফলে জানা গেছে, সেনা সমর্থিত সংবিধান প্রনয়নের পক্ষে ব্যাপক ভোট পড়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, থাইল্যান্ডের ৯০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে নয়া সংবিধানকে অনুমোদন দেয়ার পক্ষে। খবর এএফপি ও বিবিসির। স্থানীয় সময় রোববার সকাল থেকে দেশজুড়ে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দুই লাখ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোথাও কোনো প্রতিবাদ বা গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।
কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষিপ্ত সহিংসতা চলার পর ২০১৪ সালে থাই সামরিক বাহিনী রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ?্যমে ক্ষমতা দখল করে। পুরনো সংবিধান বাতিল করে জান্তা সরকার। এই গণভোট জান্তা সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচার জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের প্রথম বড় পরীক্ষা ছিল। যিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দু’বছর ধরে দেশটির রাজনৈতিক কার্যকলাপ দমন করে রেখেছেন। এ জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ সরকারকে সামরিক বাহিনীর নির্দেশিত পথেই দেশ চালাতে হবে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। জান্তা সরকার দাবি করেছে, গণভোটে নতুন সংবিধান অনুমোদিত হওয়ায় পূর্ণ গণতন্ত্রে ফেরার জন্য তা একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু প্রচারণার ওপর বিধিনিষেধ থাকায় আগে থেকেই গণভোটকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করে সরকারবিরোধীরা। গণভোটের আগেই দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নতুন সংবিধান প্রত্যাখ্যান করে। গণভোট শুরুর আগে প্রায়ুথ জানিয়েছিলেন, জনগণ নতুন সংবিধান প্রত্যাখ্যান করলেও তিনি পদত্যাগ করবেন না। আগামী বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।
২০১৪ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে থাইল্যান্ড। সেনা সরকারের তৈরি করা সংবিধান অনুমোদন করা না করার প্রশ্নে দেশটিতে রোববার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটের রায়ে নয়া সংবিধানের অনুমোদন পেয়েছে। গণভোটের আগে সেনা সরকারের দাবি করেছিল, নতুন সংবিধান প্রণীত হলে আবারও গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করতে শুরু করবে থাইল্যান্ড। ‘সেনাস্বার্থ সংবলিত সংবিধান’ বাস্তবায়ন হওয়ায় আদৌ কি থাইল্যান্ডে গণতন্ত্র ফিরবে, নাকি নির্বাচিত সরকারের আড়ালে থেকে সেনা সরকারই ক্ষমতা চালাবে; সেই প্রশ্ন এড়ানো যাচ্ছে না। জান্তা সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নতুন সংবিধান অনুমোদিত হোক বা না হোক আগামী বছর নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চ্যান-ওচার আগেও বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রাখেননি। সেক্ষেত্রে তার নতুন এই প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়িত হবে রয়েছে সে প্রশ্নও। সব মিলে এই গণভোটের মধ্য দিয়ে নয়া সংবিধানের অনুমোদনে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক সংকটের অবসান হবে কিনা, সেটাই সব থেকে জরুরি প্রশ্ন আকারে হাজির হয়েছে। ১৯৩০ সালের শুরুর দিকে থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে নতুন সংবিধানসহ থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত ২১টি সংবিধান প্রণীত হয়েছে।
রাজতন্ত্র-পরবর্তী থাইল্যান্ড অনেকগুলো সেনা অভ্যুত্থান, বেসামরিক শাসন, পাল্টা অভ্যুত্থান এবং বিক্ষোভ দেখেছে। এ পর্যন্ত দেশটিতে ১২টি সফল সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে সংবিধানও। ‘আপনি কি সংবিধানের খসড়া অনুমোদন করছেন?’ এ প্রশ্নটিতে হ্যাঁ অথবা না ভোট দিয়েছেন থাইল্যান্ডবাসী। এ গণভোটে ৫ কোটি মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। শতকরা ৯০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত নতুন খসড়া সংবিধানকে চূড়ান্ত সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করবে থাই জান্তা সরকার। সেনাবাহিনী গত দশকে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতার জন্য দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের দায়ী করে থাকেন। সেনাবাহিনীর দাবি, নতুন সংবিধানটি দুর্নীতি নির্মূল করবে এবং রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। তবে সমালোচকদের দাবি, থাইল্যান্ডের বিভাজন নিরসনে নতুন এ সংবিধান নামমাত্রই ভূমিকা রাখবে। বরং এ সংবিধান সেনাবাহিনীর ক্ষমতার প্রসার ঘটাবে এবং আইনসভার ওপর এলিটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে সমালোচনা করেছেন তারা।

১৫৭ মাদক ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ ফিলিপাইন প্রেসিডেন্টের

অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ১৫৭ রাজনীতিক, বিচারক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। রোববার তার নিজ শহর দাভাওতে এ তালিকা প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘ ২২ বছর এই শহরের মেয়র থাকাকালে তিনি এক সময়ের অপরাধপ্রবণ শহরটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। খবর সিএনএনের। ১৫৭ জনের নাম প্রকাশ করে দুতের্তে বলেন, তাদের অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ সত্য হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার অধিকার এসব অভিযুক্তের রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ৫৭ জন রাজনীতিক, সাতজন বিচারক এবং ৯৩ জন সৈনিক ও পুলিশ।
এর মধ্যে কয়েকজন বর্তমান মেয়রও রয়েছেন। দুতের্তে বলেন, আমার মুখে কোনো যথাযথ প্রক্রিয়ার বালাই নেই। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে সত্য কথা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। তিনি বলেন, ভুলবশত কারও নাম এই তালিকায় এলে তার পুরো দায় নিতে তিনি প্রস্তুত। দুতের্তে গত মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ৮০০-এর বেশি মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০০ জন মারা গেছে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। প্রাণ বাঁচাতে অন্তত ৬ লাখ অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছে। দুতের্তে বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গুলি করে হত্যা অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে তিনি মানবাধিকারের থোরাই কেয়ার করেন বলে মন্তব্য করেছেন।

আগস্টে বেগম মুজিবকে স্মরণ করতেই হবে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী হিসেবে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অল্প বয়সে বঙ্গবন্ধুর পরিবারে আসেন। আমরা জানি ভাষা আন্দোলন থেকে আরম্ভ করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে এবং যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করি। এ দীর্ঘ মুক্তি-সংগ্রামে বেশিরভাগ সময় বঙ্গবন্ধু কারান্তরালে ছিলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী কেবল সংসারকে আগলে রাখেননি, তিনি বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা, শক্তি ও সাহস জুগিয়েছেন। কারান্তরালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ অন্য সংগঠনের তিনিই ছিলেন প্রধান যোগসূত্র। সে কারণে বঙ্গবন্ধু সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন বেগম মুজিবকে নিয়ে। বিশেষ গবেষণা তেমন হয়নি, তবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রবন্ধে বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত প্রকাশিত হয়েছে। এখন এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা যায়। পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তি-সংগ্রামের সূচনায়ও শেখ মুজিবকে বারবার জেলে যেতে হয়েছে। সে সময় বেগম মুজিব একদিকে যেমন সংসার রক্ষণাবেক্ষণ করতেন, সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি নজর রাখতেন, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং আত্মীয়স্বজনের প্রতি যত্ন নিতেন, পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে একটা অংশ শেখ মুজিবুরের জন্য পাঠাতেন। ’৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর এক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন।
অবশ্য কিছুদিন পরই তিনি পদত্যাগ করেন। তখন তার পরিবার ঢাকায় অবস্থান করছিল। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আÍজীবনীতে দেখা যায়- বাসায় এসে যখন তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, তিনি তখন তা অকুণ্ঠচিত্তে গ্রহণ করেছিলেন। পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৬ সালে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়েছিল কলকাতা, বিহার ও নোয়াখালীতে। এ সময়ে তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুনন্নেছা ছিলেন অসুস্থ। তিনি আশা করেছিলেন স্বামী তার কাছে কিছুদিন থাকবেন। সেই দাঙ্গায় বহু পরিবারের জীবন রক্ষার জন্য শেখ মুজিব নিজের জীবন প্রায় বিপন্ন করেছিলেন। বিহারের বিপুলসংখ্যক উদ্বাস্তুকে বাংলায় এনে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সে কারণে তিনি মুজিবকে বিহারে যেতে অনুরোধ করেছিলেন। শেখ মুজিব বেগম মুজিবের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি লেখেন, তুমি নিশ্চিন্ত মনে বিহারে যাও, আমার জন্য ভেবো না। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুবের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনায়ই বঙ্গবন্ধু পরিকল্পনা করছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এবং মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে এ আন্দোলনের এক পর্যায়ে তিনি স্বাধিকার আন্দোলনের সনদ ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
এ আন্দোলনের এক পর্যায়ে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী শেখ মুজিব এবং সহযোগীদের হত্যা করার জন্য আগরতলা মামলা পরিচালনা করেন। বেগম মুজিব উৎসাহিত করেছিলেন বিধায় শেখ মুজিবের পক্ষে ছয় দফা আন্দোলন করা এবং এর মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ নিয়েও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলা সম্ভব হয়েছে। ওই মামলায় সহযোগী অনেকেই এবং তাদের পরিবার-পরিজন ভীত ছিলেন। শেখ মুজিবের সহধর্মিণী সে সময় অভিযুক্ত ও তাদের পরিবার-পরিজনদের উৎসাহিত করতেন, শক্তি জোগাতেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এমন ভূমিকা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের এক পর্যায়ে আইয়ুব খান গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন এবং শেখ মুজিবকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব রাখেন। কিন্তু বেগম মুজিব বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করে জনগণের অভিপ্রায় বুঝতে পারেন এবং স্বামী শেখ মুজিবকে প্যারোলো মুক্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন, জনগণই তাকে মুক্ত করে আনবে। গণঅভ্যুত্থানে শেখ মুজিব মুক্তিলাভ করেন। বিজয়ী জনগণ বাংলার আপসহীন নেতা শেখ মুজিবকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু নামে অভিহিত করে। মুক্তি-সংগ্রামের সেই ভয়ংকর অনিশ্চিত বছরগুলোতে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নেপথ্য ভূমিকা কীভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাসকে নিয়ন্ত্রিত করেছে, এসব ঘটনা থেকে তা বোঝা যায়। ’৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বাধিকারের পক্ষে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে।
পাকিস্তানের স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বন্ধ করে দিলে গণআন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ৩ মার্চ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেন এবং বলেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ২৩ মার্চ সারা বাংলাদেশে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতেও ছাত্র-জনতা বঙ্গবন্ধুর হাতে পতাকা তুলে দেন এবং তিনি তা উত্তোলন করেন। ২৫ মার্চ কালোরাতে পাক হানাদার বাহিনী জনতার ওপর আক্রমণ চালায় এবং ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং বিজয় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ সময়, বিশেষ করে ৭ মার্চ, ২৩ ও ২৫ মার্চ বেগম মুজিব বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, আপনার মন ও বিবেক যা চায় তাই করুন, পিছিয়ে যাবেন না। এ অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধুকে আরও দৃঢ়চেতা করেছে। অকুতোভয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী লেখার ক্ষেত্রেও শেখ ফজিলাতুন্নেছা উৎসাহিত করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বেগম মুজিব তার পরিবারের লোকজনসহ ধানমণ্ডির পুরনো ১৮ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে বন্দি ছিলেন। শেখ কামাল ও শেখ জামাল বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর সহযোগী হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আর শেখ জামাল বিএলএফে (মুজিব বাহিনী) যোগ দেন। বিএলএফের জুনিয়র লিডারদের ট্রেনিং হয়েছিল আসামের জাফলংয়ে আর সিনিয়র লিডারদের টানডুয়ায়। এরপর আঞ্চলিক অধিনায়ক শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদসহ ৮৩ সিনিয়র মোস্ট লিডারের ট্রেনিং হয়েছিল দেরাদুনস্থ কালশিতে। সেই ট্রেনিংয়ে আমাদের সঙ্গে শেখ জামালও ছিলেন। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথ কমান্ডের কাছে পাক হানাদার বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পরিবার বন্দি অবস্থা থেকে অনেক মানসিক যন্ত্রণা ও অত্যাচার ভোগ করার পর মুক্তিলাভ করেন ১৭ ডিসেম্বর। বিএলএফের আঞ্চলিক কমান্ডার আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নান ও আমি মিত্রবাহিনীর হেলিকপ্টারে ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা অবতরণ করি। প্রয়াত আবদুর মান্নান টাঙ্গাইলের দিকে চলে যান। আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ আগেই মনস্থির করে রেখেছেন, তারা বেগম মুজিব ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে ১৮ নম্বর বাড়িতে যাবেন। আমিও তাদের সঙ্গী হিসেবে ওই বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা রাতে ওই বাড়িতে ছিলাম এবং একত্রে খাবার খেয়েছি। পরদিন সকালে আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ অন্যত্র চলে গেলেন, রাজ্জাক ভাই আমাকে বলে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলেছে- তুমি জহুরুল হক হলে ওঠো (জগন্নাথ হলসহ কয়েকটি হলে তখন মিত্রবাহিনী অবস্থান করছিল)। এরপরও আমি ১৯ তারিখ অতিবাহিত করে ২০ তারিখ সকালে জহুরুল হক হলে চলে যাই।
বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আমার এ ৩৬ ঘণ্টা জীবনের অত্যন্ত স্মরণীয় দিন এবং তার পরিবারকে কাছ থেকে দেখার এবং অনুধাবন করার সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছিল এবং এজন্য আমি সৌভাগ্যবান। বেগম মুজিব সে সময় জানেন না তার স্বামী জীবিত আছেন কিনা এবং ফিরে আসবেন কিনা। সে সময়টা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। তার বুকে ব্যথা ছিল; কিন্তু জাতির বিজয়ে তিনিও উদ্বেলিত। নেতাকর্মীদের প্রতি তার দরদ ও আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি ছিল না। আমার স্মরণ আছে, রাতে খাবার টেবিলে আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তিনিও খাবার টেবিলে বসেছিলেন। সেই টেবিলে আমারও তার পাশে বসে খাবার গ্রহণের সৌভাগ্য হয়েছিল। আমার স্মরণ আছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি তখন বসেননি। খাবার ও অন্যান্য বিষয়ে দেখাশোনা করছিলেন। বঙ্গবন্ধু ফিরে এসে প্রথমে গেলেন তার প্রিয় জনতার মাঝে এবং পরে পরিবার-পরিজনের কাছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সংবিধান প্রণয়ন এবং যুদ্ধবিধস্ত দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। মহীয়সী শেখ ফজিলাতুন্নেছা আগের মতোই স্বামীর কাজে সহযোগিতা করেছেন। এখানে একটি বিষয়ে উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকতেন না; কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সাহায্য করেছে, এ কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিমানবন্দরে গিয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট স্বামী ও পরিবারের অনেক সদস্যের সঙ্গে তিনিও শহীদ হন- যা ইতিহাসের এক কলংকজনক অধ্যায়। মহীয়সী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ইতিহাসের অংশ, তিনি বঙ্গমাতা। ইতিহাস তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে, এটাই আমরা আশা করি।
ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক রাষ্ট্রদূত

আগস্টে বেগম মুজিবকে স্মরণ করতেই হবে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী হিসেবে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অল্প বয়সে বঙ্গবন্ধুর পরিবারে আসেন। আমরা জানি ভাষা আন্দোলন থেকে আরম্ভ করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে এবং যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করি। এ দীর্ঘ মুক্তি-সংগ্রামে বেশিরভাগ সময় বঙ্গবন্ধু কারান্তরালে ছিলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী কেবল সংসারকে আগলে রাখেননি, তিনি বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা, শক্তি ও সাহস জুগিয়েছেন। কারান্তরালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ অন্য সংগঠনের তিনিই ছিলেন প্রধান যোগসূত্র। সে কারণে বঙ্গবন্ধু সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন বেগম মুজিবকে নিয়ে। বিশেষ গবেষণা তেমন হয়নি, তবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রবন্ধে বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত প্রকাশিত হয়েছে। এখন এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা যায়। পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তি-সংগ্রামের সূচনায়ও শেখ মুজিবকে বারবার জেলে যেতে হয়েছে। সে সময় বেগম মুজিব একদিকে যেমন সংসার রক্ষণাবেক্ষণ করতেন, সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি নজর রাখতেন, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং আত্মীয়স্বজনের প্রতি যত্ন নিতেন,
পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে একটা অংশ শেখ মুজিবুরের জন্য পাঠাতেন। ’৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর এক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন। অবশ্য কিছুদিন পরই তিনি পদত্যাগ করেন। তখন তার পরিবার ঢাকায় অবস্থান করছিল। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আÍজীবনীতে দেখা যায়- বাসায় এসে যখন তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, তিনি তখন তা অকুণ্ঠচিত্তে গ্রহণ করেছিলেন। পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৬ সালে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়েছিল কলকাতা, বিহার ও নোয়াখালীতে। এ সময়ে তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুনন্নেছা ছিলেন অসুস্থ। তিনি আশা করেছিলেন স্বামী তার কাছে কিছুদিন থাকবেন। সেই দাঙ্গায় বহু পরিবারের জীবন রক্ষার জন্য শেখ মুজিব নিজের জীবন প্রায় বিপন্ন করেছিলেন। বিহারের বিপুলসংখ্যক উদ্বাস্তুকে বাংলায় এনে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সে কারণে তিনি মুজিবকে বিহারে যেতে অনুরোধ করেছিলেন। শেখ মুজিব বেগম মুজিবের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি লেখেন, তুমি নিশ্চিন্ত মনে বিহারে যাও, আমার জন্য ভেবো না। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুবের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনায়ই বঙ্গবন্ধু পরিকল্পনা করছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এবং মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে এ আন্দোলনের এক পর্যায়ে তিনি স্বাধিকার আন্দোলনের সনদ ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
এ আন্দোলনের এক পর্যায়ে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী শেখ মুজিব এবং সহযোগীদের হত্যা করার জন্য আগরতলা মামলা পরিচালনা করেন। বেগম মুজিব উৎসাহিত করেছিলেন বিধায় শেখ মুজিবের পক্ষে ছয় দফা আন্দোলন করা এবং এর মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ নিয়েও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলা সম্ভব হয়েছে। ওই মামলায় সহযোগী অনেকেই এবং তাদের পরিবার-পরিজন ভীত ছিলেন। শেখ মুজিবের সহধর্মিণী সে সময় অভিযুক্ত ও তাদের পরিবার-পরিজনদের উৎসাহিত করতেন, শক্তি জোগাতেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এমন ভূমিকা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের এক পর্যায়ে আইয়ুব খান গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন এবং শেখ মুজিবকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব রাখেন। কিন্তু বেগম মুজিব বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করে জনগণের অভিপ্রায় বুঝতে পারেন এবং স্বামী শেখ মুজিবকে প্যারোলো মুক্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন, জনগণই তাকে মুক্ত করে আনবে। গণঅভ্যুত্থানে শেখ মুজিব মুক্তিলাভ করেন। বিজয়ী জনগণ বাংলার আপসহীন নেতা শেখ মুজিবকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু নামে অভিহিত করে। মুক্তি-সংগ্রামের সেই ভয়ংকর অনিশ্চিত বছরগুলোতে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নেপথ্য ভূমিকা কীভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাসকে নিয়ন্ত্রিত করেছে, এসব ঘটনা থেকে তা বোঝা যায়।
’৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বাধিকারের পক্ষে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বন্ধ করে দিলে গণআন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ৩ মার্চ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেন এবং বলেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ২৩ মার্চ সারা বাংলাদেশে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতেও ছাত্র-জনতা বঙ্গবন্ধুর হাতে পতাকা তুলে দেন এবং তিনি তা উত্তোলন করেন। ২৫ মার্চ কালোরাতে পাক হানাদার বাহিনী জনতার ওপর আক্রমণ চালায় এবং ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং বিজয় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ সময়, বিশেষ করে ৭ মার্চ, ২৩ ও ২৫ মার্চ বেগম মুজিব বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, আপনার মন ও বিবেক যা চায় তাই করুন, পিছিয়ে যাবেন না।
এ অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধুকে আরও দৃঢ়চেতা করেছে। অকুতোভয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী লেখার ক্ষেত্রেও শেখ ফজিলাতুন্নেছা উৎসাহিত করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বেগম মুজিব তার পরিবারের লোকজনসহ ধানমণ্ডির পুরনো ১৮ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে বন্দি ছিলেন। শেখ কামাল ও শেখ জামাল বাড়ি ছেড়ে চলে যান। শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর সহযোগী হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আর শেখ জামাল বিএলএফে (মুজিব বাহিনী) যোগ দেন। বিএলএফের জুনিয়র লিডারদের ট্রেনিং হয়েছিল আসামের জাফলংয়ে আর সিনিয়র লিডারদের টানডুয়ায়। এরপর আঞ্চলিক অধিনায়ক শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদসহ ৮৩ সিনিয়র মোস্ট লিডারের ট্রেনিং হয়েছিল দেরাদুনস্থ কালশিতে। সেই ট্রেনিংয়ে আমাদের সঙ্গে শেখ জামালও ছিলেন। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথ কমান্ডের কাছে পাক হানাদার বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পরিবার বন্দি অবস্থা থেকে অনেক মানসিক যন্ত্রণা ও অত্যাচার ভোগ করার পর মুক্তিলাভ করেন ১৭ ডিসেম্বর। বিএলএফের আঞ্চলিক কমান্ডার আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ,
বাংলাদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নান ও আমি মিত্রবাহিনীর হেলিকপ্টারে ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা অবতরণ করি। প্রয়াত আবদুর মান্নান টাঙ্গাইলের দিকে চলে যান। আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ আগেই মনস্থির করে রেখেছেন, তারা বেগম মুজিব ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে ১৮ নম্বর বাড়িতে যাবেন। আমিও তাদের সঙ্গী হিসেবে ওই বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা রাতে ওই বাড়িতে ছিলাম এবং একত্রে খাবার খেয়েছি। পরদিন সকালে আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ অন্যত্র চলে গেলেন, রাজ্জাক ভাই আমাকে বলে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলেছে- তুমি জহুরুল হক হলে ওঠো (জগন্নাথ হলসহ কয়েকটি হলে তখন মিত্রবাহিনী অবস্থান করছিল)। এরপরও আমি ১৯ তারিখ অতিবাহিত করে ২০ তারিখ সকালে জহুরুল হক হলে চলে যাই। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আমার এ ৩৬ ঘণ্টা জীবনের অত্যন্ত স্মরণীয় দিন এবং তার পরিবারকে কাছ থেকে দেখার এবং অনুধাবন করার সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছিল এবং এজন্য আমি সৌভাগ্যবান। বেগম মুজিব সে সময় জানেন না তার স্বামী জীবিত আছেন কিনা এবং ফিরে আসবেন কিনা। সে সময়টা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। তার বুকে ব্যথা ছিল; কিন্তু জাতির বিজয়ে তিনিও উদ্বেলিত। নেতাকর্মীদের প্রতি তার দরদ ও আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি ছিল না। আমার স্মরণ আছে,
রাতে খাবার টেবিলে আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তিনিও খাবার টেবিলে বসেছিলেন। সেই টেবিলে আমারও তার পাশে বসে খাবার গ্রহণের সৌভাগ্য হয়েছিল। আমার স্মরণ আছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি তখন বসেননি। খাবার ও অন্যান্য বিষয়ে দেখাশোনা করছিলেন। বঙ্গবন্ধু ফিরে এসে প্রথমে গেলেন তার প্রিয় জনতার মাঝে এবং পরে পরিবার-পরিজনের কাছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সংবিধান প্রণয়ন এবং যুদ্ধবিধস্ত দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। মহীয়সী শেখ ফজিলাতুন্নেছা আগের মতোই স্বামীর কাজে সহযোগিতা করেছেন। এখানে একটি বিষয়ে উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকতেন না; কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সাহায্য করেছে, এ কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিমানবন্দরে গিয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট স্বামী ও পরিবারের অনেক সদস্যের সঙ্গে তিনিও শহীদ হন- যা ইতিহাসের এক কলংকজনক অধ্যায়। মহীয়সী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ইতিহাসের অংশ, তিনি বঙ্গমাতা। ইতিহাস তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে, এটাই আমরা আশা করি।
ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক রাষ্ট্রদূত

বৃক্ষমেলায় বেচাকেনার ধুম

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বৃক্ষমেলায়
দর্শনার্থীদের ভিড় -যুগান্তর
প্রতিদিনই বাড়ছে বৃক্ষমেলার বেচা-বিক্রি ও দর্শনার্থীর সংখ্যা। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে তার আগের দিনের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গাছ। বৃক্ষমেলা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মেলার শুরু থেকে ৭ দিনে বিক্রি হয়েছে ৬৭ হাজার ৫১৭টি গাছ। এসব গাছ ও অন্যান্য সামগ্রিসহ মোট বিক্রির পরিমাণ ৭৬ লাখ ৫২ হাজার ৬৩৪ টাকা। বৃক্ষমেলা প্রাঙ্গণের তথ্য কর্মকর্তা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক ইসরাত জাহান যুগান্তরকে বলেন, মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ দর্শনার্থী এখানে আসে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী-শিক্ষক থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর মানুষই এখানে আসে। অধিকাংশ দর্শনার্থী একটি-দুইটি করে গাছও কিনে নিচ্ছে। তিনি বলেন, মেলা শুরুর দিন ৩১ জুলাই বিক্রি হয় ৩ লাখ টাকা, অপরদিকে পহেলা আগস্ট বিক্রি হয় ৫ লাখ টাকা, তার পরের দিন বিক্রি হয় ১২ লাখ টাকা এবং তার পরের দিন বিক্রি হয় ২২ লাখ টাকা। এভাবে প্রতিদিন বিক্রি বেড়েই যাচ্ছে। সরেজমিন আগারগাঁও বৃক্ষমেলা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মেলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানও অংশ নিচ্ছে। মোট ৬৮টি প্রতিষ্ঠান এ বছর মেলায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে সাতটি সরকারি এবং ৫০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও ৯টি নন-নার্সারি প্রতিষ্ঠান। মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ফল ও ফুলের গাছ। এর মধ্যে বনরূপা নার্সারিতে কিউ জাই জাতের আমের চারা বিক্রি হচ্ছে ৩৮ হাজার টাকায়।
এছাড়া বিভিন্ন জাতের আমের চারা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। বিভিন্ন জাতের কমলা ও মাল্টার চারা বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দামে। এছাড়াও প্রত্যেক স্টলেই রয়েছে আলাদা আলাদা এক-দুইটি স্পেশাল ও ব্যাতিক্রমী গাছ। যদিও এসব গাছের দাম ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। গার্ডেনীয় নার্সারির স্টলে রয়েছে এটা ফাইকাস গাছ। বনসাইয়ের মতো দেখতে এই গাছের বয়স ৪০ বছরেরও বেশি। এটার মূল্য ৪ লাখ টাকা। এছাড়াও জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ও বলধা বাগানের স্টলে পাওয়া যাচ্ছে ব্রাজিল থেকে আনা ‘আমাজন লিলি’। এগুলো বাঁচে ৭ থেকে ৮ মাস। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বনসাই গাছ, যা বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা দামে। রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির সৌদি খেজুরের গাছ। এছাড়াও রয়েছে রাবারের গাছ, সেখানে আগত দর্শনার্থীদের গাছ থেকে রাবার সংগ্রহের কৌশল দেখানো হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে রাবার গাছের বীজ। গাজীপুর হরটিকালচার নার্সারির কর্মকর্তা আলমগীর বলেন, দেশী-বিদেশী নানা জাতের গাছ, যেমন- আমেরিকান চেরি, মিসরীয় ডুমুর, লঙ্করবাট, মিষ্টি লেবু, তিন রঙের পাকিস্তানি আঙুরসহ বিভিন্ন গাছের চারার দাম আকার অনুযায়ী ৫০ টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের বেশিরভাগ বাড়ির মালিক বাড়ির ছাদে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতে বাগান করতে পারেন সেই চিন্তা রেখেই আমরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এনেছি। মেলা দেখতে আসা আগারগাঁওয়ের একটি স্কুলের ছাত্রী নাজমা আক্তার যুগান্তরকে বলে, নানা ধরনের গাছ দেখে এতই মুগ্ধ হয়েছি যে, না কিনে পারছি না। সে বলল, কিছু ফুল দেখে অবাক হয়েছি, যেমন ঝুমকোলতা ও ক্যামেলিয়া।

শুরুতেই অঘটন

অলিম্পিক টেনিসে সর্বকালের সেরাদের একজন তিনি। জিতেছেন চারটি স্বর্ণপদক। এককে একটি, দ্বৈতে তিনটি। এবারও দুই বিভাগেই ফেভারিটের তালিকায় ছিলেন ভেনাস উইলিয়ামস। কিন্তু এককে প্রথম রাউন্ডেই থেমে গেল ভেনাসের যাত্রা। ভাইরাস জ্বরে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রাণপণ লড়েও অঘটন এড়াতে পারেননি ৩৬ বছর বয়সী মার্কিন কৃষ্ণকলি। প্রায় তিন ঘণ্টার ম্যারাথন ম্যাচে বেলজিয়ামের কারস্টেন ফ্লিপকেন্সের কাছে ৪-৬,
৬-৩, ৭-৬ (৭/৫) গেমে হার মানেন ভেনাস। শনিবার অলিম্পিক টেনিসের প্রথমদিনে প্রমীলা এককে অঘটন ঘটেছে আরও। ভেনাসের মতো প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে গেছেন চতুর্থ বাছাই আগ্নিয়েস্কা রাদওয়ান্সকা ও সাবেক নাম্বার ওয়ান আনা ইভানোভিচ। মেয়েদের ডাবলসের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছেন ভারতের সানিয়া মির্জাও।

নিশো-তিশার ঈদ যাত্রা

তিশা এখন বাণিজ্যিক ছবির নায়িকা। পাশাপাশি নাটকেও ভীষণ ব্যস্ততা এ অভিনেত্রীর। অপরদিকে টিভি পর্দার জনপ্রিয় মুখ আরফান নিশো। উভয়ে জুটি হয়ে রোমান্স নিয়ে হাজির হচ্ছেন আগামী ঈদুল আজহায়। নাটকের নাম ‘কামব্যাক তমিশ্রা’। বাস্তব-অবাস্তব মেশানো রোমান্টিক দোলাচলের এ নাটকটি পরিচালনা করেছেন অনন্য ইমন। সম্প্রতি ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন লোকেশনে ধারণ করা হয়েছে নাটকটির শুটিং। নাটকটির গল্পে দেখা যাবে নিশো প্রায় বছরখানেক আগে অ্যাক্সিডেন্টে মৃত প্রেমিকা তমিশ্রার স্মৃতিঘোরে মৃতের মতো ডুবে থাকে। এমন সময় হঠাৎ তিশার আবির্ভাব, সে বলে আমিই তমিশ্রা।
কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব! তখন বাস্তব-অবাস্তবের উদ্ভট জটিলতায় পড়ে যায় নিশো। ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। নাটকটি প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘পর্দায় আমার নিশোর ক্যামিস্ট্রি দর্শকদের বেশ পছন্দ। তাই প্রতি ঈদেই আমরা জুটি হয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হই। এবারও হচ্ছি। আশা করি পূর্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে। গল্পের প্রয়োজনেই নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’ নিশো বলেন, ‘নাটকটি রোমান্টিক ঘরানার হলেও কিছুটা ভৌতিক ফ্লেবার পাবেন দর্শকরা। যা তাদের গল্পের শেষ পর্যন্ত কৌতূলের মধ্যে রাখবে।’ নাটকটি আগামী ঈদুল আজহায় কোনো বেসরকারি চ্যানেলে প্রচার হবে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে।