Saturday, September 17, 2011

শেয়ারবাজারে দিনভর উত্থান-পতন

দিনভর মূল্যসূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এই ওঠানামার মধ্যে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক দিনশেষে প্রায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৬৬ পয়েন্টে। সূচক বাড়লেও বেশির ভাগ শেয়ারের দাম ও লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কমেছে। অন্যদিকে সিএসইতে মূল্যসূচক সামান্য বাড়লেও লেনদেন কমেছে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে বাজার এমন আচরণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) উদ্যোগে পুঁজিবাজার সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্য হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এই সভাকে কেন্দ্র করেই গতকালের বাজারে শেয়ারের দামের উত্থান-পতন ঘটেছে। সভাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক। সভা শেষে এসইসির পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একক গ্রাহক ঋণসীমা (সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট) সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিনিধি।
লেনদেন চলাকালেই এই ঘোষণার খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায় বাজারে। বেলা দুইটার দিকে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৬৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ২৪ পয়েন্টে ওঠে। এরপর একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের ঘোষণা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়লে ফের সূচক কমতে থাকে, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে ২৫২টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৩৩টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ১০২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির দাম। দিনশেষে ডিএসইতে প্রায় ২৯৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৮৩ কোটি টাকা কম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল প্রায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৮৪ পয়েন্টে। দিনশেষে সিএসইতে ১৭৪ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৭৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দাম। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে চট্টগ্রামের বাজারে ৩৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
এসইসির সভা: শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বিনিয়োগের ওপর আরোপিত দুটি শর্ত আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল এসইসির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই সভায় প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেডের রাইট শেয়ার ও ১৫০ কোটি টাকার দুটি মেয়াদহীন মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভাশেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার পঞ্চম তফসিলের কারণে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলো চাইলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ১০ শতাংশ ও একক খাতে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারত না। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসইসি গতকাল দুটি শর্ত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রিমিয়ার লিজিং ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যে বিদ্যমান একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার ইস্যু করবে। এ ছাড়া দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০০ কোটি টাকার এমটিবি ইউনিট ফান্ডের ট্রাস্ট ডিড এবং ৫০ কোটি টাকার সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন করা হয়।

মাটিতে ম্যানইউ-সিটি

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদ—ঘরোয়া লিগে উড়ছে চারটি দলই। পরশু চ্যাম্পিয়নস লিগে মাটিতে নেমে এসেছে এর দুটি—ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই প্রতিবেশী ম্যানইউ ও ম্যান সিটি। ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। তবে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল ও চারবারের শিরোপাজয়ী বায়ার্ন মাঠ ছেড়েছে জয় নিয়ে। অঘটনের শিকার ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান। নিজেদের মাঠে ইন্টারকে ১-০ গোলে হারিয়েছে অখ্যাত ত্রাবজনস্পর।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চার ম্যাচে চারটি জয়, প্রতিপক্ষের জালে ১৮ গোল দিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সমান ম্যাচে চারটি জয়ে ম্যানচেস্টার সিটি দ্বিতীয় স্থানে। চ্যাম্পিয়নস লিগ গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে অবশ্য একবিন্দুতে মিলে গেছে ম্যানচেস্টার শহরের ‘বড় ও ছোট ভাই’। ঘরোয়া ফুটবলে উড়তে থাকা ম্যানইউ বেনফিকার মাঠ থেকে ১-১ গোলে ড্র করে ফিরেছে ভাগ্যগুণে। প্রথমার্ধে সামান্য কিছু সময় বাদ দিলে পুরো ম্যাচেই ছড়ি ঘুরিয়েছে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা। অসাধারণ পাসিং ফুটবলে তারা দিশেহারা করে ছেড়েছিল ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের।
প্যারাগুয়ের স্ট্রাইকার অস্কার কার্ডোজোর গোলে ২৩ মিনিটে এগিয়ে যায় বেনফিকা। ২০১০ সালের মার্চের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে এই প্রথম প্রতিপক্ষের মাঠে গোল খাওয়া ম্যানইউকে বাঁচিয়েছে ৪১ মিনিটে দেওয়া ‘বুড়ো’ সৈনিক রায়ান গিগসের গোল। শেষ ১৫ মিনিটে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষিক্ত ম্যানইউর ২৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক আন্দ্রেস লিন্ডেগার্ড করেছেন দুর্দান্ত কিছু সেভ।
ম্যাচ শেষে ম্যানইউ কোচ ফার্গুসন ফেলেছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস, ‘শেষ ১৫ মিনিটে বেনফিকা অসাধারণ কিছু সুযোগ পেয়েছে। একটা তো গোল হওয়ার মতোই ছিল, আন্দ্রেস দারুণ সেভ করেছে।’ বেনফিকা কোচ হোর্হে জেসুসের মুখে গর্বের হাসি, ‘আমার মনে হয়, ফলটা ঠিকই আছে, তবে আমরাই ভালো খেলেছি।’
চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই দলেরই অভিষেক ম্যাচে নাপোলির বিপক্ষে ম্যান সিটিই ছিল ফেবারিট। কিন্তু নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো সিটিকে। ঘরোয়া লিগে অসাধারণ খেলা ম্যারাডোনার জামাইয়ের দল হারতেও পারত! ৬৪ মিনিটে কাভানির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ম্যারাডোনার স্মৃতিধন্য নাপোলি। ৭৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোলটি শোধ করেন কোলারভ।
সিটির খেলায় লিগের ছন্দ কেন থাকল না? কোচ রবার্তো মানচিনির বিশ্লেষণ, ‘ম্যাচের আগে আমরা খুব নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। কারণ, এটা আমাদের প্রথম ম্যাচ। সবাই ভালো খেলতে চেয়েছে, চেয়েছে গোল করতে। সবাই সহজাত খেলাটা খেলতে পারলে আরও ভালো করতে পারতাম আমরা। যা-ই হোক, নাপোলির বিপক্ষে এটাও ভালো ফল।’
পরশু আট ম্যাচের খেলায় সবচেয়ে ভালো করেছে বায়ার্ন। সিটির পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ ভিয়ারিয়ালকে ‘জার্মান দৈত্যরা’ হারিয়েছে ২-০ গোলে। স্কোরলাইন এ ম্যাচের আসল ছবিটা বলতে পারে না। রক্ষণভাগ, মাঝমাঠ, আক্রমণভাগ—সব বিভাগেই ভিয়ারিয়ালের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল বায়ার্ন।
ছয় মিনিটে টনি ক্রুসের গোলে এগিয়ে যাওয়া বায়ার্ন পরে হয়ে ওঠে দুর্বার। যদিও বদলি খেলোয়াড় রাফিনহা তাদের দ্বিতীয় গোলটি এনে দেন শেষের ১৫ মিনিট আগে। এই দুই গোলের মাঝে কম করে হলেও গোটা দশেক গোলের সুযোগ পেয়েছে বায়ার্ন। তবে তা নিয়ে আক্ষেপ নেই কোচ ইয়াপ হেইঙ্কসের, ‘আমরা আনন্দই করতে পারি।’
ডি মারিয়ার ৫২ মিনিটের গোলে ডায়নামো জাগরেবকে হারিয়েও খুব আনন্দ করতে পারছে না রিয়াল মাদ্রিদ। ডি মারিয়ার গোলের জোগানদাতা মার্সেলোকে যে পরের ম্যাচে পাবেন না হোসে মরিনহো। তিন মিনিটের মধ্যে (৭০ ও ৭৩) দুই হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাককে।
১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে আসা ডায়নামোর বিপক্ষে ছড়ি ঘোরাতে পারেনি রিয়াল! ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছে অবশ্য জয়টাই বড়, ‘আমরা জয়েই খুশি।

মেরকেলের সঙ্গে অশালীন কৌতুকের অভিযোগ বেরলুসকোনির বিরুদ্ধে

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে অশালীন কৌতুক করার অভিযোগে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি। গত জুলাইয়ের প্রথম দিকে মেরকেলের সঙ্গে ফোনে বেরলুসকোনি এই কৌতুক করেন। এই ফোন কলটি রেকর্ড করা হয়।
ডেইলি মেইল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোন কলে ৭৪ বছর বয়সী বেরলুসকোনি ৫৭ বছর বয়সী চ্যান্সেলর মেরকেলকে ‘অস্বাভাবিক মোটা’ বলে মন্তব্য করেন।
বেরলুসকোনির এই মন্তব্যে জার্মানিতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। জার্মানির সর্বোচ্চ বিক্রীত পত্রিকা বিল্ড বেরলুসকোনির মন্তব্য নিয়ে করা প্রতিবেদনের শিরোনাম করে ‘বেরলুসকোনি কি আমাদের চ্যান্সেলর মেরকেলকে অপমান করেছেন?’
বেরলুসকোনির মুখপাত্র এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বেরলুসকোনির পরিবারের মালিকানাধীন পত্রিকা ইল গিওর্নেল বিষয়টিকে ‘রটনা’ বলে উড়িয়ে দেয়।

উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে

নেদারল্যান্ডসের একজন নারীর বিরুদ্ধে ফোনে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলা করেছেন ৬২ বছরের এক ব্যক্তি।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ৪২ বছর বয়সী ওই নারী তাঁকে বিরামহীনভাবে ফোন করে বিরক্ত করেছেন। তাঁকে গত বছর ৬৫ হাজারবার ফোন করেছেন। দৈনিক হিসাবে তা ১৭৮ বার। ফোন করা ছাড়াও ওই নারী অসংখ্যবার খুদেবার্তা ও ই-মেইল পাঠিয়েছেন।
মামলার আইনজীবীরা গতকাল জানান, অভিযুক্ত নারী দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক আছে। তবে ওই পুরুষকে অতিমাত্রায় বিরক্ত করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগকারী ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে কোনো ধরনের প্রেমের সম্পর্কের কথা নাকচ করেছেন।
প্রাথমিক শুনানির পর মামলার বিচারক শর্তসাপেক্ষে ওই নারীর জামিন মঞ্জুর করেন। শর্তে বলা হয়, তিনি ওই পুরুষকে আর বিরক্ত করবেন না।
কিন্তু মুক্তির কয়েক ঘণ্টা পরেই অভিযুক্ত নারী ওই পুরুষকে আবারও ফোন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর তাঁকে আবার আটক করা হয়। শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করে ওই নারীকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঝটিকা সফরে লিবিয়ায় ক্যামেরন ও সারকোজি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন লিবিয়ার পলাতক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ডেভিড ক্যামেরন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি গতকাল বৃহস্পতিবার ঝটিকা সফরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে পৌঁছান। গাদ্দাফিকে উৎখাতের পর বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের এটাই প্রথম ত্রিপোলি সফর।
গত মাসে গাদ্দাফির অনুগতদের হাত থেকে দখল নেওয়ার পর ত্রিপোলিকে নিরাপদ ঘোষণা করেন ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) প্রধান মুস্তাফা আবদেল জলিল। এরপর ডেভিড ক্যামেরন এবং নিকোলা সারকোজি এই সফর করলেন।
ত্রিপোলিতে পৌঁছে গতকাল এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন দুই নেতা। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, লিবিয়ার জনগণ পুরোপুরি বিপদমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ন্যাটো বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। জাতিসংঘের প্রস্তাব ১৯৭৩ অনুযায়ী লিবিয়ার জনগণকে রক্ষার জন্য যত দিন প্রয়োজন, ঠিক তত দিন ন্যাটো বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
ক্যামেরন বলেন, ‘এখনো অনেক কাজ বাকি, এখনো অনেক পথ হাঁটতে হবে। তবে দেশ গঠনে এনটিসির জন্য আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘লিবিয়ার জনগণের জন্য যুক্তরাজ্য যে ভূমিকা রাখতে পেরেছে, সে জন্য আমি গর্বিত। তবে শেষ কাজটি লিবিয়ার জনগণই করেছে। আর সে জন্যই আমি লিবিয়ার জনগণকে ধন্যবাদ দিতে এবং লিবিয়াকে গঠনে জনগণকে কীভাবে আমরা সহায়তা করতে পারি, তার পরিকল্পনা করতে এসেছি।’ তিনি গাদ্দাফিকে খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে সহায়তারও আশ্বাস দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট সারকোজি বলেন, গাদ্দাফি এখনো দেশটির জন্য হুমকি। তাই তাঁকে এবং তাঁর অবশিষ্ট বাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার কাজ এখনো বাকি রয়েছে। তিনি লিবিয়ার জনগণকে প্রতিশোধ গ্রহণের মানসিকতা পরিহার করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান।
সফরকালে সারকোজির সঙ্গে ছিলেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলা জুপ্পে। আর ক্যামেরনের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ।
দুই নেতার আগমন উপলক্ষে ত্রিপোলিতে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ত্রিপোলির মেটিগা বিমানবন্দর থেকে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি অভিজাত হোটেল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ফরাসি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তাকর্মীদের বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়।
ডেভিড ক্যামেরন ও নিকোলা সারকোজি ত্রিপোলির বিমানবন্দরে পৌঁছালে এনটিসি-প্রধান মুস্তাফা আবদেল জলিল এবং এনটিসির নির্বাহী প্রধান মাহমুদ জিব্রিল তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। মুস্তাফা আবদেল জলিল জানান, দুই নেতা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক লিবিয়া গড়তে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। পরে দুই নেতা হেলিকপ্টারে ত্রিপোলির একটি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।
অন্যদিকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আজ শুক্রবার লিবিয়ায় সফর করবেন।

গত বছর ২০ লাখ নারীর ক্যানসার শনাক্ত

সারা বিশ্বে গত বছর ২০ লাখ নারীর স্তন ও গর্ভাশয়ের ক্যানসার শনাক্ত করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন ইনস্টিটিউটের চালানো এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ গবেষণার ফলাফল নিয়ে প্রতিবেদন গত বুধবার স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নত বিশ্বের চেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর নারীদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেশি। প্রতিবেদনে গবেষকেরা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্যানসার প্রতিরোধে যথাযথ গুরুত্ব দিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা বিশ্বে ক্যানসার নিবন্ধক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী ২০১০ সালে নতুন করে আরও ২০ লাখ নারীর স্তন ও গর্ভাশয় ক্যানসার শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছে আরও ছয় লাখ ২৫ হাজার। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ৫০ বছরের কম বয়সী নারীদের মাঝে ব্যাপকভাবে এ প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে ।
হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন ইনস্টিটিউট ১৯৮০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৮৭টি দেশে ক্যানসার নিয়ে গবেষণা চালায়। যুক্তরাজ্যে ১৯৮০ সালে স্তন ক্যানসারে প্রতি ৩২ জনে একজন মারা গেলেও ২০১০ সালে তা কমে হয়েছে প্রতি ৪২ জনে একজন। অথচ রুয়ান্ডার মতো দেশগুলোর চিত্র একেবারে বিপরীত। এখানে ১৯৮০ সালে স্তন ক্যানসারে প্রতি ৯৭ জনে একজন মারা গেলেও ২০১০ সালে এসে দেখা গেছে এ হার বেড়ে হয়েছে প্রতি ৬০ জনে একজন।
ক্যানসার চিকিৎসায় দাতব্য সংস্থা ও গবেষকেরা মাতৃমৃত্যুর মতোই স্তন ও গর্ভাশয় ক্যানসার প্রতিরোধেও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অতীতে উন্নয়নশীল দেশে সন্তান জন্মদান বা গর্ভাবস্থায় মাতৃমৃত্যুর হার ছিল সর্বোচ্চ। কিন্তু বর্তমানে এসব দেশে উল্লিখিত দুই ধরনের ক্যানসারে মৃত্যুর হার মাতৃমৃত্যুর হারকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
গবেষকদের একজন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালান লোপেজ জানান, বিশ্বব্যাপী মাতৃমৃত্যু রোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। এখন স্তন ও গর্ভাশয় ক্যানসার রোধেও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
আরেক গবেষক রাফায়েল লোজানো বলেন, স্তন ক্যানসারের পেছনে মূল কারণই হলো পচা, বাসি খাবার ও স্থূলতা। এ দুটিই দরিদ্র দেশগুলোর সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে স্তন ক্যানসারে নারীদের মৃত্যু হার কমিয়ে আনছে তখন প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে দরিদ্র দেশগুলোতে এ ঝুঁকি বাড়ছে। স্তন ও গর্ভাশয় ক্যানসার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের মতো সঠিক খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত ও সঠিক নীতি গ্রহণ করে দরিদ্র দেশগুলোতে বিদ্যমান পরিস্থিতিও বদলে দেওয়া সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন লোজানো।

পাকিস্তানে বোমা হামলায় নিহত ২৩

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী গ্রামে একজন প্রবীণ উপজাতীয় নেতার দাফনের সময় বোমা হামলায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত গ্রাম লোয়ার দিরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। এ ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে একটি স্কুলবাস লক্ষ্য করে বন্দুকধারীদের ছোড়া গুলিতে পাঁচ বালকসহ ছয়জন নিহত হয়।
আফগান সীমান্তবর্তী সামারবাগ জেলায় অবস্থিত লোয়ার দির গ্রাম। এ জেলার উপজাতীয় বাসিন্দারা জঙ্গি হামলা থেকে আত্মরক্ষায় মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে তুলেছে।

২৪ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেল খুলছেন সৌদি প্রিন্স

একটি ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল খুলছেন সৌদি আরবের প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। আল আরব নামের আরবি ভাষার ওই আন্তর্জাতিক সংবাদ চ্যানেলটি আগামী বছর চালু করা হতে পারে। তালাল এক ই-মেইল বার্তায় এ কথা জানিয়েছেন।
চ্যানেলটির সদর দপ্তর কোথায় হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে মানামা, দোহা, দুবাই, আবুধাবী এবং বৈরুত রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়।
প্রিন্স তালাল ই-মেইল বার্তায় জানান, প্রখ্যাত সাংবাদিক জামাল আহমেদ খাসোগিকে চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরব নিউজ এবং আল ওয়াতান পত্রিকার সাবেক সম্পাদক। আরব বিশ্ব এবং আরব বিশ্বের বাইরের আরবি ভাষাভাষী দর্শকদের কথা মাথায় করেই এই চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
ই-মেইল বার্তায় আরও জানানো হয়েছ, জনগণের বাক্-স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপসহ আরব বিশ্বর বিভিন্ন দেশের ঘটনার ওপরই মূল আলোকপাত করবে চ্যানেলটি। সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো তুলে ধরা হবে চ্যানেলটির সংবাদে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী ঘটে যাওয়া সর্বশেষ ঘটনার ওপরও সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষের আশা, চ্যানেলটি অবাধ তথ্যপ্রবাহ, বস্তুনিষ্ঠ, পক্ষপাতহীন এবং বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিকতার দ্বার উন্মোচন করবে।

বিনা মূল্যে ল্যাপটপ পাচ্ছে তামিলনাড়ুর শিক্ষার্থীরা

বিনা মূল্যে ল্যাপটপ পাচ্ছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর ৬৮ লাখ স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থী।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ ল্যাপটপ দিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়ারামের সরকার। এ বছরের শুরুতে নির্বাচনে জেতার পর এ জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
বিনা মূল্যে ল্যাপটপ দেওয়ার এ প্রকল্প ভারতে তামিলনাড়ু প্রথম শুরু করল।
প্রকল্পের আওতায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার আশা করছে রাজ্য সরকার, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
প্রকল্পের সমর্থকেরা বলছেন, যে সব শিক্ষার্থীর পরিবার তাদের সন্তানের হাতে ল্যাপটপ তুলে দিতে পারছে না, এর মধ্য দিয়ে তারা উপকৃত হবে।
তবে এ প্রকল্পের সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই বলছেন, পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের জন্য প্রতিবছর প্রচুর অর্থ খরচ হয়ে যাবে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন অনেকে। তাঁরা বলছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ল্যাপটপ ব্যবহারও করতে পারবে না অনেক শিক্ষার্থী।
এ প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকারকে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

দীর্ঘ নখের রেকর্ড

সবচেয়ে দীর্ঘ নখের কারণে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারীর।
ক্রিস ওয়াল্টন (৪৫) নামের ওই নারী ১৮ বছর ধরে তাঁর হাতের নখ কাটেননি। এই সময়ে তাঁর নখ মোট ১৯ ফুট নয় ইঞ্চি লম্বা হয়েছে। এর মধ্যে বাঁ হাতের নখের পরিমাপ ১০ ফুট দুই ইঞ্চি এবং ডান হাতের নয় ফুট সাত ইঞ্চি।
লম্বা নখ থাকার পরও ওয়াল্টন তাঁর বাড়ির কাজ নিজেই সম্পন্ন করেন। এমনকি নিজের সাজসজ্জাও নিজে করেন। ওয়াল্টন বলেছেন, ‘ঝাড়পোছের কাজ করতে আমি তেমন একটা পছন্দ করি না। কিন্তু তার পরও আমি তা করি। আর এ ক্ষেত্রেও আমি কারও দ্বারস্থ হই না।’
বড় নখের কারণে ওয়াল্টনের একমাত্র সমস্যা হলো পকেট থেকে কোনো কিছু বের করা। তবে আঙুলের গাঁটের সাহায্যে মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারেন তিনি।
গিনেস বুকে নাম ওঠাতে পেরে দারুণ খুশি ওয়াল্টন। তিনি এখন পরিকল্পনা করছেন, বহু দিনের শখের নখগুলো কেটে ফেলবেন। তবে এ কাজটি করতে হবে খুবই সাবধানে এবং ধীরে ধীরে। কেননা, তিনি এত দিনে বড় নখ নিয়ে হাঁটাচলা ও কাজ করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।
সবচেয়ে লম্বা নখের এর আগের রেকর্ডটি ছিল সল্ট লেক সিটির লি রেডমন্ডের। তাঁর নখ লম্বায় ছিল ২৮ ফুট। ২০০৯ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর নখগুলো ভেঙে যায়

পরমাণু চুল্লি নির্মাণে চীনের প্রযুক্তি সহায়তা চেয়েছে পাকিস্তান

এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু চুল্লি নির্মাণের জন্য চীনের কাছে তৃতীয় প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি-সহায়তা চেয়েছে পাকিস্তান।
বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামে অংশ নিতে চীনে অবস্থানরত পাকিস্তানি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী মীর চাঙ্গেজ খান জামাল এ কথা জানিয়েছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র চায়না ডেইলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মীর চাঙ্গেজ খান বলেন, তৃতীয় প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি আমদানির লক্ষ্যে পাকিস্তান চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তাঁরা আগামী দু-এক বছরের মধ্যেই ওই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পেয়ে যাবেন।
পাকিস্তানে চশমা পরমাণু প্রকল্পের দুটি চুল্লি নির্মাণে সহায়তা করেছে চীন। তবে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করায় ওই দুটি চুল্লি থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে চীন পাকিস্তানে এ ধরনের আরও দুটি চুল্লি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল। চীন বলেছে, তারা এগুলো নির্মাণে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিয়ম মানতে বদ্ধপরিকর।
তবে এ ধরনের তৃতীয় প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে চীনের সমস্যা রয়েছে। দেশটির নিজস্ব কয়েকটি প্রকল্প নির্মাণাধীন রয়েছে। তা ছাড়া চীনের এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ফ্রান্সের প্রযুক্তি সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। তারা ওই দেশগুলোর অনুমতি ছাড়া কিছুতেই ওই প্রযুক্তি রপ্তানি করতে পারবে না।
চায়না ডেইলির মতে, চীন প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘সিএপি ১৪০০’ নামের একটি তৃতীয় প্রজন্মের পরমাণু চুল্লি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ এ বছরই শুরুর কথা থাকলেও গত মার্চে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে দুর্ঘটনার পর তা বিলম্বিত হচ্ছে। জাপানের ওই দুর্ঘটনার পর চীনা সরকার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন স্থগিত এবং সব পারমাণবিক প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয়।

মাদকদ্রব্যের আন্তর্জাতিক উৎস হয়ে উঠতে পারে মিয়ানমার

মিয়ানমার আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের আন্তর্জাতিক উৎস হয়ে উঠতে পারে। আফগানিস্তান থেকে মাদকদ্রব্য পাচার রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের দিকে ঝুঁকেছেন মাদক ব্যবসায়ীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের একজন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এ কথা বলেন। তিনি মিয়ানমারের সঙ্গে থাইল্যান্ডের সীমান্তে মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বলছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিকসের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি উইলিয়াম ব্রাউনফিল্ড বলেন, মিয়ানমার এরই মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আফিম উৎপাদক দেশ হিসেবে বদনাম কুড়িয়েছে। এ কারণে দেশটির প্রতি মাদকদ্রব্য পাচারকারীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে হেরোইন ও আফিমের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা হচ্ছে আফগানিস্তান। সে দেশ থেকে মাদকদ্রব্য পাচার রোধ করার আন্তর্জাতিক চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে বলে মনে হচ্ছে।
ব্রাউনফিল্ড বলেন, মাদকদ্রব্য পাচারকারীরা এখন অবশ্যই মাদকদ্রব্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার উপযোগী অন্য দেশ খুঁজে নেবে। সে দিক থেকে তাদের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য দেশটি হচ্ছে মিয়ানমার।
মার্কিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বলেন, সেনা-প্রভাবিত দেশটিতে আগামী বছরগুলোতে অবৈধ মাদকদ্রব্যের উৎপাদন ও পাচারের ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে মিয়ানমারের প্রতিবেশী থাইল্যান্ডকে বিষয়টির বাস্তবতার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।
ব্রাউনফিল্ড বলেন, মাদক পাচারকারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি চালাক-চতুর হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যেসব আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কাজ করছে, আজকাল প্রায়ই তাদের চেয়ে বেশি প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে পাচারকারীদের। তাদের অস্ত্র ও সাজসরঞ্জামও অনেক ক্ষেত্রে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের চেয়ে ভালো থাকে।
মিয়ানমারে মাদকদ্রব্যের ব্যবসার এ ব্যাপক উত্থান নিয়ে জাতিসংঘের মাদকদ্রব্য ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, দেশটি হেরোইন ও অ্যামফেটামাইনের মতো কৃত্রিম মাদকদ্রব্যের বড় উৎপাদক হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করছে।
ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে রোগের কারণে আফগানিস্তানে আফিমের উৎস পপি চাষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ আফিম উৎপাদন হয় সে দেশে। এ ধসের কারণে সারা বিশ্বে আফিম উৎপাদন ৩৮ শতাংশ কমে যায়। সব মিলিয়ে তা চার হাজার ৮৬০ পাউন্ড।
এদিকে আফগানিস্তানে যখন আফিম উৎপাদনে মন্দা দেখা দিয়েছে, মিয়ানমারে তখন এ উৎপাদন বাড়ছে। ২০১০ সালে মিয়ানমারে পপি চাষ ২০ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৭ সালে বিশ্ববাজারে মিয়ানমারের আফিম উৎপাদনের হার ছিল পাঁচ শতাংশ। গত বছর তা বেড়ে ১২ শতাংশে পৌঁছেছে।

১১ দিনের সফরে আজ যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনসহ কয়েকটি বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিতে ১১ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার রাতে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। এ সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন সেমিনার, উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক, বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। এছাড়া নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর দিনই জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি আয়োজিত এক নৌশভোজে যোগ দেবেন তিনি। ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘে 'সন্ত্রাসবাদবিরোধী' এক সিম্পোজিয়ামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্টি নাটালেগাওয়ার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সিম্পোজিয়ামের পর শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ওই দিন বিকালে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের ওপর উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রাতে ১৪টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ওয়ালড্রোফ অসটিরিয়া হোটেলের গ্রান্ড বলরুমে আইসিটি অ্যাওয়ার্ডস নাইট অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

২০ সেপ্টেম্বর সকালে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর এক আলোচনা সভায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এরপর এশিয়া সোসাইটি ও মার্কিন চেম্বারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে, দুপুরে জাতিসংঘের মহাসচিবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এবং সন্ধ্যায় মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার ওপর জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ারও কথা রয়েছে তার।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান জোসেফ ক্রাউলিসহ কংগ্রেস সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) মহাসচিবের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করবেন। ওইদিন দুপুরে দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্রপতি এবং তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। বিকালে বসবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে। এছাড়া ২৫ সেপ্টেম্বর প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউ ইয়র্ক ছাড়বেন।

মৃত্যুর কাছে হার আজহার পুত্র আইয়াজউদ্দিনের

খেলা আর পুত্রশোকের ট্র্যাজেডি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের জীবনে। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা গেলেন সাবেক ভারতীয় অধিনায়কের ছোট ছেলে আইয়াজউদ্দিন। গত রোববার হায়দরাবাদে মোটর দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ১৯ বছরের আইয়াজউদ্দিন। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। কিডনিও গুরুতর জখম হয়। এরপর কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্যে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়। দুর্ঘটনার পর তার আর জ্ঞান ফেরেনি। অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গতকাল তাকে মৃত ঘোষণা করে।
আইয়াজউদ্দিন সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক আজহারউদ্দিনের প্রথম স্ত্রী নওরিনের সন্তান। হায়দরাবাদের হয়ে সে অনূধ্ব-১৯ দলের পক্ষে ক্রিকেট খেলেছেন। তার ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয় আজহারের আস্থাভাজন আরশাদ আয়ুবের তত্ত্বাবধানে। সোমবার আইয়াজের একটি ক্লাব ম্যাচ খেলার কথা ছিল। রোববার বিমানবন্দরের দিক থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বাইকে করে গাচিবাউলার দিকে যাচ্ছিলেন আইয়াজ। মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন তিনি। পেছনে বসা ছিলেন কাজিন আজমল-উর-রহমান। নিজেদের মধ্যে রেস করতে গিয়েই দুর্ঘটনার শিকার হন আজহারপুত্র। মাথায় হেলমেট থাকলেও প্রচণ্ডগতিতে ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে হেলমেট পুরো থেঁতলে যায়। পথচারীরা দুর্ঘটনা দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশের প্যাট্রল ভ্যান দ্রুত ঘটনাস্থলে পেঁৗছে। অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় ভ্যানে করেই অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আহত দু'জনকে। সেখানে আজমলকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কিরণ কুমার রেড্ডি আইয়াজকে দেখতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনার খবরে সানিয়া মির্জা, যুবরাজ ও হর্শ ভোগলে নিজেদের টুইটারে আজহারপুত্রের আরোগ্য কামনা করেন। ভিভিএস লক্ষ্মণ আইয়াজের জন্য প্রার্থনা করেন। সেন্ট ম্যারিজ কলেজের প্রিন্সিপাল রমা রাও আইয়াজকে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর জন্য আগে সতর্ক করেছিলেন। এ কলেজেই পড়তেন আইয়াজ।

জিএসএক্সআর-১০০০ মডেলের যে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন আইয়াজ সেটির মূল্য ১৩ লাখ রুপি। গত ঈদে আজহার এটি পুত্রকে উপহার দিয়েছিলেন। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! সেই মোটরবাইক দুর্ঘটনায় পুত্রের মৃত্যু হলো। যখন আইয়াজ দুর্ঘটনার শিকার হন তখন আজহার ছিলেন লন্ডনে; কিন্তু পুত্রের জীবন সংশয়ের কথা শুনে হায়দরাবাদে ছুটে আসেন তিনি। অরোগ্য কামনায় নিরন্তর প্রার্থনাও করতে থাকেন; কিন্তু পিতার আকুল প্রার্থনা ব্যর্থ করে লোকান্তরে চলে গেলেন আজহারপুত্র।

ম্যারাডোনার অভিষেকটা শুরু হলো পরাজয় দিয়ে

কোচের দায়িত্বে থাকা সবশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেও নিজের দলকে ৪ গোল খেতে দেখেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেওয়ায় আর্জেন্টিনায় ফিরে ম্যারাডোনা সমর্থকদের ভালোবাসা পেলেও ফুটবল ফেডারেশন কর্তাদের মন গলাতে পারেননি। 'আকাশি-নীল'দের দায়িত্ব ছেড়ে ম্যারাডোনা তাই এখন যোজন যোজন দূরে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে। আল ওয়াসল ক্লাবের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পরও ভাগ্য খুব একটা বদলায়নি তাঁর। ৩ জুলাই ২০১০, আর ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১১। মাঝের সময়ের ফারাকটা এক বছরের একটু বেশি হলেও, ম্যারাডোনার দলের জালে গোলের সংখ্যা একই। মৌসুমে নিজেদের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই আল জাজিরার কাছে ৪-৩ গোলে হেরেছে তাঁর দল আল ওয়াসল।
জার্মানি-আর্জেন্টিনা ম্যাচ যতটা একপেশে ছিল, আরব আমিরাতের পেশাদার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আল জাজিরার বিপক্ষে আল ওয়াসলের ম্যাচটা অবশ্য ততটা একপেশে হয়নি। বরং একটা সময় জয়ের আশাই জাগিয়ে তুলেছিলেন ম্যারাডোনার শিষ্যরা। পিছিয়ে পড়েও সমতা ফিরিয়ে ৩-৩ গোলের ড্র'তেই যখন শেষ বাঁশির অপেক্ষা, তখনি ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার বেয়ারের গোলে আল জাজিরা পেয়ে যায় ৪-৩ গোলের জয়। মাঠে দারুণ ফুটবল রোমাঞ্চের পাশাপাশি ম্যারাডোনার ফুটবল স্কিলও দেখেছেন দর্শকরা। খেলার মধ্যবিরতিতে বল নিয়ে 'জাগলিং' করে দেখিয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। আর ম্যাচশেষে হেরে গেলেও শিষ্যদের প্রশংসাই ছিল তাঁর কণ্ঠে, 'মাঠে আমরা সত্যিকারের পৌরুষ দেখিয়ে লড়েছি, এ জন্য আমি দলের সব খেলোয়াড়কে ধন্যবাদ জানাই। তাদের পারফরম্যান্সে আমি সত্যিই খুব খুশি।' পেশাদার লিগে প্রথম ম্যাচ হলেও এটাই অবশ্য ম্যারাডোনার কোচিংয়ে আল ওয়াসলের প্রথম ম্যাচ নয়। গত মাসেই একটি প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে তারা ইতিহাদ কালবাকে হারিয়েছিল ৩-১ গোলে।

ওয়ানডেতে দ্বিতীয় বলে, টেস্টে প্রথম

ভিষেক নিয়ে নিশ্চয়ই অনেক স্বপ্ন দেখতেন শামিন্দা ইরাঙ্গা। বাস্তবে যা হলো, স্বপ্নের সীমানা কি এত দূর ছিল? না, ম্যাসি-হিরওয়ানিদের মতো অভিষেকে ১৬ উইকেট পাননি। কিন্তু যা করেছেন, ক্রিকেট ইতিহাসেই তার নজির নেই একটিও! গত ১৬ আগস্ট ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে ইরাঙ্গার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বলটাই ব্র্যাড হাডিনের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে ভেঙেছিল স্টাম্প। ঠিক এক মাস পর কাল টেস্ট অভিষেক। এবার উইকেট প্রথম বলেই!
ক্রিকেটের এই দুই সংস্করণেই প্রথম বলে উইকেট তো নেই-ই, ওয়ানডে দ্বিতীয় আর টেস্টে প্রথম বলে উইকেট পেলেন কেউ এই প্রথম! ইরাঙ্গার জন্য এই ‘উপহার’ যেন ঠিক করেছিলেন ক্রিকেট-বিধাতাই। অন্তত তাঁর প্রথম টেস্ট উইকেট এটাই বলছে। নার্ভাস ভঙ্গিতে প্রথম বলটি করেছিলেন অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে। নিরীহ সেই বলকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দিলশানের হাতে তুলে দিলেন শেন ওয়াটসন।

গত কিছুদিন এমন ঘোরের মাঝেই কাটছে ইরাঙ্গার। গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে যখন ডাক পেয়ে চমকে গিয়েছিলেন নিজেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স এমন কিছু ছিল না! নির্বাচকেরা নিশ্চয়ই কিছু একটা দেখেছিলেন তাঁর মধ্যে। সেবার টেস্ট খেলা না হলেও ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ডে গেলেন। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি রানও পেলেন লোয়ার-অর্ডারে। সেই পারফরম্যান্স সুযোগ করে দিল ওয়ানডে দলে। অভিষেকে দ্বিতীয় বলে উইকেটের পর তুলে নিলেন রিকি পন্টিংকেও। ওয়ানডের পারফরম্যান্সই এনে দিল টেস্ট ক্যাপ। এবার নাম লেখালেন ইতিহাসে!

বাংলাদেশের রুবেল হোসেনের সঙ্গে বেশ মিল খুঁজে পাবেন ইরাঙ্গার। রুবেলের মতো পেস বোলিং প্রতিভা অন্বেষণের আবিষ্কার তিনিও। রুবেল যাঁর দৃষ্টি কেড়েছিলেন, সেই চম্পকা রামানায়েকের জহুরি চোখেই ধরা পড়েছেন ইরাঙ্গা! সেই চম্পকা এখন শ্রীলঙ্কার বোলিং কোচ, জাতীয় দলের নতুন পরিবেশে এটা নিশ্চয়ই তাঁর জন্য ছিল বড় স্বস্তি।

অভিষিক্তদের জন্য এই সিরিজটা কাটছে যেন স্বপ্নের মতোই। গলে প্রথম টেস্টে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বলেই উইকেট পেলেন ট্রেন্ট কোপল্যান্ড। খানিক পর আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন নাথান লায়ন, উইকেট পেলেন প্রথম বলেই। লায়নের পর ইরাঙ্গা—১৩৩ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম বলে উইকেট নেওয়া বোলার এখন ১৮ জন।

এর আগে একই সিরিজে দুই অভিষিক্ত বোলারের প্রথম বলে উইকেট পাওয়ার একমাত্র ঘটনাটা ১০৫ বছর আগের। শুধু সিরিজেই নয়, সেই দুজনের কীর্তি ছিল আবার একই ম্যাচে! মজার শেষ নয় এখানেই, সেই দুজনের একজন আবার আরেকজনের শিকার। ১৯০৬ সালে জোহানেসবার্গ টেস্টে আরও ৮ জনের সঙ্গে অভিষেক ইংল্যান্ডের জ্যাক ক্রফোর্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বার্ট ভোগলারের। প্রথম ইনিংসে ৩ ওভার বোলিং করেছিলেন ভোগলার, একমাত্র উইকেটটি প্রথম বলে। নিজ দলের বিপক্ষে এমন কীর্তি যেন ভালো লাগেনি ক্রফোর্ডের। বল হাতে নিয়ে প্রথম বলে আউট করলেন ওই ভোগলারকেই! প্রথম বলে উইকেট নেওয়া আর আরেকজনের শিকার হওয়া একমাত্র ক্রিকেটারও এই ভোগলার।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান বিরক্তিকর আর একঘেয়ে। কিন্তু ক্রিকেটের পরিসংখ্যান মাঝেমধ্যেই কেমন বিস্ময় আর নির্মল আনন্দ বয়ে আনে, এর আরেকটা নমুনা দেওয়া যাক। ইরাঙ্গার আগে প্রথম বলে উইকেট পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার আর একজনই। ২০০২ সালে চামিলা গামাগে এই সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠেই বোল্ড করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুলকে। গামাগের প্রথম বলটি ছিল ইনিংসের নবম ওভারের প্রথম বল। ইরাঙ্গারও তা-ই, নবম ওভারের প্রথম বল!

শ্রীলঙ্কাকে অস্ট্রেলিয়ার উপহার

শিরোনামটা উল্টোও হতে পারত। টস জয়ের পর তিলকারত্নে দিলশানের ফিল্ডিং নেওয়াটাকে যে তেমনই মনে হয়েছিল। ব্যাটিং-স্বর্গ হিসেবে পরিচিত সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতলে ব্যাটিং নেওয়া নিয়মই বলা যায়। অথচ দিলশান নিস্পৃহ কণ্ঠে জানালেন, ‘আমরা ফিল্ডিং করব!’ দিলশানের যুক্তি, আগের কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উইকেটে আর্দ্রতা ছিল। আসলেই ছিল কি না, শ্রীলঙ্কান পেসাররা তা বোঝার কোনো উপায় রাখেননি।
জায়গামতো বল রাখতে না পারলে উইকেটে আর্দ্রতা থাকলেই কি আর না থাকলেই বা কি! তার পরও প্রথম দুই সেশনে দুটি করে উইকেট এল, শেষ সেশনে একটি। কীভাবে? দিলশানের ‘উপহার’ পেয়ে কৃতজ্ঞতায় কিছু একটা ফেরত দেওয়াও যেন দায়িত্ব মনে করলেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা। অফ স্টাম্পের বাইরের নিরীহ বলে উইকেট উপহার দিয়ে এলেন প্রথম চারজনই।

সতীর্থদের অনুসরণ না করে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন যিনি, সেই শন মার্শের জন্য যেন দিনের সেরা বলটি রেখে দিয়েছিলেন রঙ্গনা হেরাথ। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম দুই টেস্টে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে মার্শ আউট হন ৮১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য সেই সুযোগ থাকছে। প্রথম দুই টেস্টের ম্যান অব দ্য ম্যাচ মাইক হাসি অবশ্য দাঁড়িয়ে গেছেন। ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত ব্র্যাড হাডিনের ব্যাটেও। আলোকস্বল্পতায় ৮.৪ ওভার আগেই যখন শেষ হলো প্রথম দিনের খেলা, শ্রীলঙ্কাই একটু এগিয়ে। আর একটি উইকেট নিলেই শুরু হয়ে যাবে ক্যাঙ্গারুদের লেজ। টসের মতো চমক ছিল শ্রীলঙ্কার দলেও। আগের দুই টেস্টের ব্যর্থতায় বাদ পড়েছেন ৫২.৬১ টেস্ট গড়ের থিলান সামারাবীরা। অথচ সাউদাম্পটনে ঠিক এর আগের টেস্টেই তিনি খেলেছিলেন ম্যাচ বাঁচানো অপরাজিত ৮৭ রানের ইনিংস। সামারাবীরার জায়গায় আসা লাহিরু থিরিমান্নেকে ওপেনিংয়ে জায়গা দিতে মিডল-অর্ডারে খেলবেন অধিনায়ক দিলশান। দেশের মাটিতে মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে খেলছে শ্রীলঙ্কা, সর্বশেষ এ ঘটনা কবে ঘটেছে মনে করতে পারলেন না ধারাভাষ্যকারেরাও।

বড় রানের খোঁজে থাকা ফিলিপ হিউজ কাল রানের খাতাই খুলতে পারেননি, বাইরের বল টেনে এনেছেন স্টাম্পে। ইরাঙ্গাকে প্রথম বলেই উইকেটের স্বাদ দিয়েছেন ওয়াটসন। পন্টিং আউট হয়েছেন ফিফটির দোরগোড়ায়, ক্লার্ক থিতু হওয়ার আগেই। কিন্তু দুজনই আউট হয়েছেন একই ভাবে, অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে। অভিষেকে সেঞ্চুরির পর তিন নম্বর জায়গাটা দাবি করতেই পারতেন মার্শ, সেই সুযোগ পেয়ে কাজেও লাগিয়েছেন। নিজের জায়গা ছেড়ে চারে নেমেছেন পন্টিং, বর্ণাঢ্য এক যুগ অবসানের ইঙ্গিতও যেন তাতে!

অসামান্য ওর পরিভ্রমণ

৫ বছর দুজন একসঙ্গে খেলছেন ভারতের হয়ে। চোটের কারণে রাহুল দ্রাবিড়ের বিদায়ী ওয়ানডে সিরিজে নেই শচীন টেন্ডুলকার। কিন্তু দীর্ঘদিনের সতীর্থকে নিয়ে লিখেছেন ভারতীয় একটি পত্রিকায় রাহুলকে নিয়ে কথা বলার জন্য আমি বুঝতে পারি না কোত্থেকে শুরু করব। ওর ওয়ানডে ক্যারিয়ার অসাধারণ এবং ভারতীয় ক্রিকেটে অবদান অনেক। আমাদের সবার জন্য ও ছিল আদর্শ এবং কোনো সন্দেহই নেই, আদর্শ হয়েই থাকবে। অসাধারণ এক ক্যারিয়ার থাকার পরও আমার মনে হয়, সীমিত ওভারের ক্রিকেটের রাহুল ভারতীয় ক্রিকেটের ‘আনসাং হিরো।’ ওর রানই বলে দেবে ওয়ানডে ক্রিকেট এবং দেশের হয়ে ওর অবদান।
ওর বিশেষ মুহূর্তগুলোর সঙ্গী হিসেবে থাকতে পারার অনুভূতি দারুণ। আমি জানি, ক্যারিয়ারে রাহুলের যা অর্জন, তা ছোঁয়া সহজ নয়। হায়দরাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওর সঙ্গে অসাধারণ জুটিটা আমার এখনো মনে পড়ে, যে জুটিতে আমরা ৩০০-র বেশি (ওয়ানডে রেকর্ড ৩৩১) রান করেছিলাম। ওটা ছিল ‘স্পেশাল’, দারুণ ইনিংস। দারুণ ব্যাটিং করেছিল রাহুল, সময়মতো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রানের গতিও বাড়িয়েছিল।

রাহুলের একটি দারুণ ব্যাপার হলো ও সব সময়ই কঠোর পরিশ্রম করতে ভালোবাসে। সব সময়ই খেলাটার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে পছন্দ করে। ওয়ানডে ক্রিকেট শুরু করার পর প্রথম দিকে ওর কিছু সমস্যা হয়েছিল, কিন্তু ও হার মানেনি। লড়াই করেছে, নিজের খুঁতগুলো নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে অনেক ব্যাটসম্যানই আছে যারা দ্রুতগতির সূচনা এনে দেয়, রান করে ঝোড়ো গতিতে। রাহুলের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ছিল ভিন্ন।

ও হয়তো দ্রুতগতির সূচনা এনে দিতে পারবে না কিন্তু উইকেটে থাকা সময়টাকে কাজে লাগায়। এ ধরনের ক্রিকেটার দলে প্রয়োজন আছে এবং এই কাজের জন্য রাহুলই ছিল সবচেয়ে সেরা। দলের অন্যরা ওকে কেন্দ্র করেই খেলত, রাহুল খেলত পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী। এমন নয় যে ও দ্রুতগতিতে রান তুলতে পারত না, কিন্তু ও চাইত, পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করতে। ওর টেস্ট ইনিংসগুলো অবশ্যই বেশি বিখ্যাত। কিন্তু ওর একটি ওয়ানডে ইনিংসের কথা আমার খুব মনে পড়ে, ২০০৭ সালে ব্রিস্টলে যেটায় ৯০ রান করেছিল ৬০-এর মতো বল খেলে (৬৩ বলে ৯২*)। আমাদের জন্য কিন্তু ওই ইনিংসটা বিস্ময় হয়ে আসেনি, এমনকি অতীতেও যখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই দুর্দান্ত ফিফটিটা করেছিল (২২ বলে, ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম)।

ম্যাচ শেষ করে আসার সামর্থ্যও ছিল রাহুলের। আমার মনে আছে, ৫ নম্বরে নেমে এবং অন্য পজিশনে নেমেও অনেকবার ও এই ভূমিকা পালন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য হিসেবে দলে জায়গা ধরে রাখার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এটা। যখনই সুযোগ পেয়েছে, রাহুল চেষ্টা করেছে ম্যাচ শেষ করে আসার। সফল হয়েছে অসংখ্যবার।

ও আদর্শ ‘টিমম্যান।’ যখন ওকে উইকেটকিপিং করতে বলা হলো, আমরা জানতাম ও রাজি হবে কারণ একসময় ও কিপিং করেছে। পরে এটা ওকে সাহায্য করেছে, ভারতীয় দলকে তো অনেক সাহায্য করেছে ২০০৩ বিশ্বকাপে। ওই টুর্নামেন্টে সময়ের সঙ্গে ও উন্নতি করেছে, ব্যাট হাতেও রান করেছে দ্রুতগতিতে।

খেলা নিয়ে আমরা অনেক কথা বলতাম, দীর্ঘ আলোচনা হতো ব্যাটিং নিয়ে। সত্যি বলতে এখনো হয়। আলোচনা করি খেলার ধরন নিয়ে। এতগুলো বছর ধরে ওর সঙ্গে এতসব স্মরণীয় মুহূর্ত আছে যে একটিকে বেছে নেওয়া কঠিন। দলের জন্য ও ইনিংস শুরু করেছে, তিনে ব্যাট করেছে, নিচের দিকে খেলেছে। দল যেখানে চায় সেখানেই ব্যাট করেছে। সত্যিই অসামান্য ওর এই পরিভ্রমণ।

এবার সবজির দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে

মাছের দাম বাড়ায় তা এরই মধ্যে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সবজির দামও বেড়েই চলছে। প্রায় সব ধরনের সবজি ৬০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, সবজির দাম এতই বেড়েছে যে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য সব পণ্যের মতো সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির কারণে ফলন কমেছে। রাস্তা ভালো না থাকায় সরবরাহও কমেছে।
রাস্তায় ক্ষমতাসীন দলের পরিবহন শ্রমিক ও পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণে সবজির দামে চড়া ভাব বিরাজ করছে। তারা আরও জানান, দাম বাড়ায় বিক্রি কমেছে; ফলে অস্বস্তিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। এদিকে আবারও নিম্নচাপ হলে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার, হাতিরপুলসহ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এবং ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে সব সবজির দামই চড়া। উচ্চমূল্যের এ বাজারে এত দিন যারা সবজি কিনে বাজারের থলে ভরেছেন তারা এখন বাজারে ঢুকতেই সাহস পাচ্ছেন না। যারা বাধ্য হয়ে বাজারে ঢুকেছেন তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। চড়া দামের কারণে অল্পস্বল্প পরিমাণে সবজি কিনেই বাড়ি ফিরছেন। অনেকে দাম শুনেই নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। অনেককে আবার খুচরা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে গালাগালা করতেও দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক দিন আগে বৃষ্টির কারণে সবজি উত্পাদনকারী এলাকা যেমন যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, নরসিংদী, ফরিদপুর, মাগুরা, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরের অনেক জায়গায় ফলন নষ্ট হয়েছে। এসব জায়গা থেকে ঢাকায় সবজি সরবরাহ কমে গেছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি কেজি পটল ৪০-৫০ টাকা, করল্লা ৬০, টমেটো ৭০-৮০, লম্বা বেগুন ৫০-৬০, চিচিঙ্গা ৫০, ঝিঙা ৪০-৫০ ও কাঁচামরিচ ১২০-১৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। রাজধানীর নিকেতনের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, নিকেতন বাজার থেকে প্রতি কেজি করল্লা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৬০, কচুর লতি ৬০, পটল ৪০, ছড়া কচু ৪০ ও একপিস ছোটো লাউ ৬০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। তিনি জানান, অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। মগবাজারের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি করল্লা ৬০, চিচিঙ্গা ৫০, বরবটি ৬০ ও সিম ১২০ টাকা দরে কিনেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে আবহাওয়া ভালো। তারপরও দাম বাড়ছে। কেন বাড়ছে, তার উত্তর পাওয়া যায় না।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারের কিচেন মার্কেটের সবজি ব্যবসায়ী রেজাউল করীম জানান তিনি পটল ৪৫-৫০ টাকা, সিম ৮০, লম্বা বেগুন ৬০, গোল বেগুন ৪০-৫০, টমেটো ৮০, কাঁচামরিচ ১২০-১৩০ ও বরবটি ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। সবজির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। আমরা তো লোকসান দিয়ে ব্যবসা করব না। সরকার কৃষিখাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিলেও সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত উত্পাদন না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন চাঁদাবাজির কারণে দাম বাড়ছে বলেও জানান তিনি। একই বাজারের আরেক সবজি ব্যবসায়ী মো. কুদ্দুস সবজির দাম বাড়ার কথা জানিয়ে বলেন, সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে। তিনি প্রতি কেজি করল্লা ৬০ টাকা, শসা ৩০, লম্বা বেগুন ৫০, গোল বেগুন ৪৫, কাঁচামরিচ ১২০, সিম ৮০, পেঁপে ১৬, চিচিঙ্গা ৫০, ঝিঙা ৪০ ও ঢেঁড়শ ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

সবজির পাইকারি বাজার ঘুরেও দাম বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কারওয়ানবাজারের লতিফ চেয়ারম্যান গদির বিক্রেতা মো. আজাহার আলী জানান, একপাল্লা (৫ কেজি) ধুন্দল ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন, আগে তা ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, গতকাল প্রতি কেজি বরবটি ৫৫ টাকা, পেঁপে ১০, চিচিঙ্গা ৩৫, সিম ৬৫, কাঁচামরিচ ১০০, গোল বেগুন ২৬, লম্বা বেগুন ৩৫, ঝিঙা ৪৪ ও ঢেঁড়শ ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

৫ বছরে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে দুই থেকে তিনগুণ

রকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ, টিসিবি’র বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ৫ বছরে নিত্যপণ্যের দাম সর্বনিম্ন ১শ’ থেকে ২শ’ ভাগ পর্যন্ত বেড়েছে। অর্থাত্ দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়েছে। ৫ বছর আগে ২০০৬ সালে স্বর্ণা বা চায়না জাতের মোটা চালের কেজি ছিল ১৭ টাকা। সেই চাল শতভাগ দাম বেড়ে গতকালের বাজারে ছিল ৩৪ টাকা। একইভাবে নাজিরশাল ও মিনিকেটের মতো ২৪ টাকার সরু চালের দাম প্রায় আড়াইগুণ বেড়ে হয়েছে ৫৫ টাকা কেজি। ১৮ টাকা কেজির আটা হয়েছে ৩৩ টাকা।
৪৮ টাকা কেজির খোলা সয়াবিন হয়েছে ১১১ টাকা। ঠিক এক বছর আগেও টিসিবি’র হিসাবে গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর খোলা সয়াবিন ছিল সর্বোচ্চ ৭৯ টাকা কেজি। ৫ বছর আগের ৩৯ টাকা কেজির খোলা পামঅয়েলের গতকালের বাজারদর ছিল ৯৯ টাকা। ঠিক এক বছর আগে ছিল ৭৪ থেকে সর্বোচ্চ ৭৬ টাকা কেজি। আমদানি করা নেপালি মসুর ডালের কেজি ৫ বছর আগে ছিল ৪৫ টাকা। গতকালের বাজারে সেই ডালের কেজি ছিল ৯৮ টাকা। টিসিবি’র হিসাবে মুগডাল গতকাল সর্বোচ্চ ১২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যেদিন দায়িত্ব নেয় সেদিন চিনির কেজি ছিল ৩০ টাকা। টিসিবি জানায়, গতকালের বাজারে চিনির সর্বনিম্ন দর ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা ছিল। ২০০৬ সালে চিনির কেজি ছিল ৩৭ টাকা। আমদানি করা রসুন ৫ বছর আগে ছিল ২০ টাকা কেজি। আওয়ামী লীগ দায়িত্ব নেয়ার আগের দিন ছিল ২৪ টাকা। গতকাল তা ছিল ৭০ টাকা। ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যে শুকনা হলুদের কেজি ছিল ১২০ টাকা, গতকালের বাজারে সেটি ছিল ২৬০ টাকা। ৫ বছর আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ৭০ টাকা, গতকালের বাজারে টিসিবি’র হিসাবে ১৩৫ টাকা। আওয়ামী লীগ সরকার যেদিন দায়িত্ব নেয় তার একদিন আগে ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি টিসিবি’র হিসাবে মোটা চাল ছিল ২৭ টাকা (ঢাকার বাইরে কোথাও কোথাও ২৪ টাকা)। নাজির-মিনিকেট ছিল ৪০ টাকা। আটা ছিল ২৩ টাকা। পামঅয়েল ৪৮ টাকা কেজি। চার্টের বাইরে থাকা গুঁড়োদুধের দামও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে সম্প্রতি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ঢাকায় প্রতিদিন বাজারদর মনিটর করে। ইদানীং প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে তাদের তালিকায় ১ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কেজি বা লিটারে দাম কম স্থান পায়। তারপরও তাদের প্রতিবেদনই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

চাল, তেল, ডাল, চিনির মতো নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে তাতে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি এখন মধ্যবিত্তের অনেককেও ওএমএস’র ট্রাকের পেছনে লাইন দিয়ে চাল কিনতে দেখা যাচ্ছে। ভোজ্যতেল ও চিনির ট্রাকের পেছেনেও লাইন দিতে বাধ্য হচ্ছেন মধ্যবিত্তরা। সরকারস্বীকৃত নিত্যপণ্য একসময় ছিল ১০টি আর এখন ১২টি। এগুলো হচ্ছে দু’ধরনের চাল, আটা, দু’ধরনের তেল, চিনি, মশুর ডাল, পেঁয়াজ, আলু ও দু’ধরনের গুঁড়োদুধ। নিত্যপণ্যের বাইরেও দ্রব্যমূল্য, বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ঘোষিত জরুরি নিত্যপণ্যের বাইরেও মাছ, মাংস, ডিম, সবজির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। অধিকাংশ সবজির কেজি এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা। দাম বেড়েছে সব ধরনের মসলারও।

গত ৫ বছরে চাকরিজীবীদের বেতন কিছুটা বাড়লেও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির তুলনায় এটা খুবই নগণ্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় যারা চাকরি করেন না, তাদের আয় এ সময় অনেক ক্ষেত্রে কমেও গেছে।

টিসিবি তালিকার ৪৩ আইটেমের ৩৩টিরই দাম বেড়েছে বছরের মধ্যে : টিসিবি ১২টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ৪৩টি আইটেমের ঢাকার বাজারদর নিয়মিত এখন মনিটর করে। এর মধ্যে গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছর ১৬ সেপ্টেম্বর ৩৩টি পণ্যের দাম বেড়েছে বলে দেখানো হয়েছে। গত আগস্ট মাসের ১৬ তারিখের সঙ্গে তুলনা করেও দেখানো হয়েছে, এক মাসের ব্যবধানে ৩৫টি পণ্যের দাম বেড়েছে। টিসিবি’র বাজারদর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এক বছরে ভোজ্যতেল, চিনি, অ্যাংকর ডাল, পেঁয়াজ, শুকনা মরিচ, দেশি মুরগি ও গুঁড়োদুধের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ৫৩ দশমিক ৮৫ ভাগ বেড়েছে শুকনা মরিচের দাম। এ সময় ১২০ থেকে ১৪০ টাকার শুকনা মরিচের দাম বেড়ে হয়েছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম শতকরা ৪১ দশমিক ৯৪ ভাগ বেড়েছে। ৭৬ থেকে ৭৯ টাকার খোলা সয়াবিন হয়েছে ১০৯ থেকে ১১১ টাকা। পামঅয়েলের দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক ৬৭ ভাগ। ৭৪ থেকে ৭৬ টাকার পামঅয়েল হয়েছে ৯৭ থেকে ৯৯ টাকা। দেশি পেঁয়াজের দাম ২৮-৩০ টাকা থেকে ৪৪ দশমিক ৮৩ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৪০-৪৪ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ২৬-২৮ টাকা থেকে ৪৮ দশমিক ১৫ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৩৮-৪২ টাকা। গরিবের ডাল হিসেবে পরিচিতি অ্যাংকর ডালের দাম বেড়েছে ৪৮ দশমিক ২১ ভাগ। এ সময় ২৬ থেকে ৩০ টাকার অ্যাংকর ডাল হয়েছে ৪০ থেকে ৪৩ টাকা। চিনির দাম ২৩ দশমিক ১৫ ভাগ বেড়েছে। ৫২-৫৬ টাকা কেজির চিনি হয়েছে ৬৫-৬৮ টাকা। একই সময়ে সরু চালের দাম ১৪ দশমিক ৮১ ভাগ বেড়েছে। মানভেদে ৩৪ থেকে ৪৭ টাকার সরু চাল হয়েছে ৩৮ থেকে ৫৫ টাকা। এর মধে উন্নত মানের নাজিরশাল ও মিনিকেট ৪০-৪৭ টাকা থেকে ১১ দশমিক ৪৯ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৪২-৫৫ টাকা। প্যাকেটজাত আটার দাম ৬ দশমিক ৬৭ ভাগ বেড়ে ২৯-৩১ টাকা থেকে হয়েছে ৩১-৩৩ টাকা। একই সময় আলুর দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ২৩ ভাগ। ১২ থেকে ১৪ টাকার আলু হযেছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা। ১ কেজির ডানো ব্র্যান্ডের গুঁড়োদুধের দাম ২২ দশমিক ৮৬ ভাগ বেড়েছে। ৪৩০-৪৪৫ টাকার দুধ হয়েছে ৫৩৫-৫৪০ টাকা। ডিপ্লোমা ব্র্যান্ডের গুঁড়োদুধের দাম ১৭ দশমিক ৭১ ভাগ বেড়েছে। এক বছর আগে প্রতি কেজি দুধ যেখানে ৪৩৫ থেকে ৪৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, টিসিবি’র হিসেবে গতকাল সে দুধের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫১০ থেকে ৫২০ টাকা। গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছর ১৬ সেপ্টেম্বর যেসব পণ্যের দাম কিছুটা কম তালিকার সেই ১০টি পণ্যের মধ্যে রয়েছে দুই জাতের রসুন, ৪ জাতের ডাল, হলুদ, আদা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, এসব পণ্যের দাম এর আগে অত্যধিক বেড়ে গিয়েছিল। সে বিচারে দাম কিছুটা কমলেও সার্বিক বিচারে এসব পণ্যের দামও অনেক বেড়েছে।

টিসিবি’র হিসাবে গত আগস্ট মাসের ১৬ তারিখের সঙ্গে গতকালের বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৩টি তালিকাভুক্ত পণ্যের মধ্যে যে ৩৫টির দাম বেড়েছে তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে আমদানি করা পেঁয়াজ। এক মাসের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এক মাস আগে ৩০ থেকে ৩৪ টাকায় যে পেঁয়াজ পাওয়া যেত গতকালের বাজারে সেটা বিক্রি হয়েছে ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। খোলা আটার দাম ১৪ দশমিক ৮৯ ভাগ বেড়েছে। ২২ থেকে ২৫ টাকার খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজিতে। শুকনা মরিচের দাম ১৭ দশমিক ৬৫ ভাগ বেড়ে ১৫০-১৯০ টাকার মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকায়। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ২২ ভাগ। ২২-২৪ টাকা হালির ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৬ থেকে ২৭ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে দাম কমার তালিকায় ৮টি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ছোলা, খেজুর, ব্রয়লার মুরগি, দেশি রসুন, হলুদ, আদা, ইলিশ মাছ।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম একটি প্রচার ছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যর্থতা। নির্বাচনী প্রচারে এটাও ছিল বড় হাতিয়ার। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও তাদের জোটের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার সুস্পষ্ট ঘোষণা ছিল। এমনকি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নৌকায় ভোট দিয়ে ১০ টাকা কেজির চাল খাওয়ার ঘোষণায় মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতা ছেড়েছে ২০০৬ সালের অক্টোবরে। এর মধ্যে পার হয়েছে ৫ বছর। ড. ইয়াজউদ্দিনের ২ মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার, মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সেনা ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকারের ২ বছর শেষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ৩৩ মাস বা পৌনে ৩ বছর পার করেছে।

এমনকি ড. ফখরুদ্দীনের জরুরি সরকারের দায়িত্ব ছাড়ার দিনেও যে দামে বিভিন্ন নিত্যপণ্য পাওয়া যেত এখন সে দামে আর কোনো পণ্যই পাওয়া যায় না। সবকিছুর দাম বেড়েছে। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ফখরুদ্দীন আমলের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে নিত্যপণ্যে। বিএনপির ক্ষমতা ছাড়ার সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ দামও হয়ে গেছে অনেক নিত্যপণ্যের। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর জরুরি সরকারের আমলে অত্যধিক বেড়ে যাওয়া কয়েকটি পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু সে ধারা খুবই অল্পদিন স্থায়ী হয়। এর পেছনে শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও স্বীকার করেছেন। এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেই বলেছেন, ৫/৬ জন লোক চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। একই ধরনের আভিযোগ এসেছে ভোজ্যতেলে বাজার সিন্ডিকেট নিয়ে।

সবাই জানেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার নির্বাচনের আগে দেশের মানুষকে ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর স্লোগান দিয়েছিল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একাধিক জনসভায় ১০ টাকা কেজিতে মোটা চাল খাওয়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। সবিস্তারে এটা এর আগে আমার দেশ পত্রিকায় ও অন্য কিছু মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এখন আওয়ামী লীগ এটা অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার অন্যতম ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা। কিন্তু এখন যখন সে সরকারের শেষ বছরের তুলনায় জিনিসের দাম সর্বনিম্ন দ্বিগুণ ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনগুণ বেড়েছে তখন সরকার কী জবাব দেবেন, তা আমাদের জানা নেই। শুধু তাই নয়, মাঝেমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও কিছু মন্ত্রী বলার চেষ্টা করেন, মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকারের তুলনায় তারা জিনিসের দাম অনেক নামিয়ে এনেছেন। কিন্তু সরকারি তথ্যই বলছে ভিন্ন কথা। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময় মাঝখানে মোটা চালসহ কিছু জিনিসের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার যেদিন তাদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেয়, তার ঠিক আগের দিন নিত্যপণ্যের কী দাম ছিল, সেটা আমার দেশসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছিল। সরকারের কাছে এ তথ্য সংরক্ষণ করা আছে। পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে চার্টে আমরা সে তালিকা তুলে ধরেছি। মূল্য পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সেটাও স্থান পেয়েছে।

শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের পৌনে তিন বছরের মাথায় জিনিসপত্রের যে তালিকা টিসিবি দিয়েছে, তার মধ্যে বেশকিছু পণ্য রয়েছে যেগুলোর দাম এই পৌনে তিন বছরের মধ্যে কোনো কোনো সময় আরও অনেক বেশি ছিল। টিসিবির গতকালের মূল্যতালিকা অনুযায়ী হলুদ, রসুন, আদা ও শুকনো মরিচের দাম ২০০৬ সালের তুলনায় এখন প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু গত বছর এগুলোর দাম দ্বিগুণ অর্থাত্ ২০০৬ সালের তুলনায় চারগুণে পৌঁছেছিল। টিসিবির হিসেবে গতকাল বাজারে শুকনো মরিচের কেজি ছিল মানভেদে ১৮০ থেকে ২৬০ টাকা। গতবছর তিনশ’ টাকা। কিন্তু গতবছর প্যাকেটজাত শুকনো মরিচের কেজি সর্বোচ্চ ৪৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রসুনের বাজারেও ছিল একই অবস্থা। গতকাল যে রসুন বিকিয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, গত বছর একই দিনে সে রসুন ছিল দ্বিগুণেরও বেশি, ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি। শুকনো মরিচের ক্ষেত্রে ঘটেছে কিছুটা ব্যতিক্রম। গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর যে শুকনো মরিচের কেজি ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গতকাল এটা বিকিয়েছে মানভেদে ১৮০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি। প্যাকেটজাত মরিচের দাম আরও বেশি। কাঁচামরিচের ঝালও গত তিন বছরে বেশ কয়েকবারই মানুষ টের পেয়েছে। গত ঈদের পরপর ঢাকার বাজারে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা কেজিতেও কাঁচামরিচ বিকিয়েছে। রোজার মধ্যে দেড়শ থেকে দুইশ’ টাকা বিকিয়ে কয়েকবার পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। পেঁয়াজের কেজিও কিছুদিন এ সরকারের আমলে ৮০ টাকা বিকিয়েছে। ভালো মানের পেঁয়াজ নতুন করে দাম বেড়ে এখনও ঢাকার বাজারে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবি গতকালের বাজারদরে দেখিয়েছে ৪৪ টাকা। ৫ বছর আগেও ব্রয়লার মুরগির ডিমের হালি যেখানে ছিল ১২ টাকা, সেটা গতকাল ছিল ২৬-২৭ টাকা। ব্রয়লার মুরগির ডিমের হালি এ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন বিকিয়েছে ৩২ টাকায়। ব্রয়লার মুরগিও রোজার শুরুতে ১৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। চিনির কেজি রোজার শুরুতে কিছুদিন ৮০ টাকায় বিকিয়েছে, যা ৫ বছর আগে ছিল ৩০ টাকা। ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও কয়েকবার এমনটি হয়েছে। এমনকি সয়াবিন লিটারে ১২ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ১৩০/১৪০ টাকায় পৌঁছে। বাজার থেকে তখন উধাও হয়ে গিয়েছিল সয়াবিন। বাজার থেকে উধাও হওয়ার তালিকায় ছিল চিনিও। নিয়মিত দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি এভাবেই মাঝেমধ্যে কোনো কোনো পণ্যের দাম হঠাত্ করে লাফ দিয়ে বেড়ে যায়। সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের পকেট থেকে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা।

গত বৃহস্পতিবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করে এজন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এ খবরটি আমার দেশসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে যেমন গতকাল প্রকাশিত হয়েছে, তেমনি পাশাপাশি আরেকটি খবরও রয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিসংখ্যান ব্যুরো তাদের আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির হিসাব প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং কেবল খাদ্যদ্রব্যে মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। সরকারের টার্গেটের মূল্যস্ফীতির এটা প্রায় দ্বিগুণ। তারপরও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দাবিতে প্রশ্ন জেগেছে, দাম আর কতটা বাড়লে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক বলবেন।

প্রতি বিঘায় ৪০ মণ ধান ফলিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন মিটুল

শোরের মণিরামপুর উপজেলার সাতগাতী গ্রামের যুবক ফেরদৌস মিটুল ফিলিপাইনের সুপার হাইব্রিড ধানের চাষ করে প্রতি বিঘায় ৪০ মণ ধান ফলিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। এ সাফল্যের কারণে দেশের ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অনেক কৃষিবিজ্ঞানী তাঁর ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় মিটুলকে ফিলিপাইনে পাঠিয়ে উন্নত ধানচাষের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এরপর দেশে ফিরে তিনি সুপার হাইব্রিড ধানচাষের একটি ভিলেজ ও একটি টাউন গড়ে তুলেছেন।
মিটুল মনে করেন, দেশের মোট আবাদি জমির ২০ শতাংশে এই ধানের চাষ করা হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এমনকি ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে চাল বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে। সুপার হাইব্রিড হলেও সম্ভাবনাময় এ ধানের বীজ উৎপাদন শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গার দত্তনগর কৃষি ফার্ম।

উচ্চ মাধ্যমিক পাস মিটুল গরিব ঘরের সন্তান। তাঁর মাত্র ১০ শতক ধানের জমি রয়েছে। ২০০৮-০৯ বোরো মৌসুমে তিনি প্রথমে নিজের ১০ শতকের সঙ্গে লিজ নিয়ে মোট ৭০ শতক জমিতে ফিলিপাইনের এসএল-৮-এইচ সুপার হাইব্রিড জাতের ধানের বীজ বপন করেন। তিনি ওই বীজ সংগ্রহ করেছিলেন এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে। প্রথমবার ফলন পেয়েছিলেন হেক্টরে ১০ দশমিক ৬৯ টন। এ সময় তাঁর জমিতে 'ক্রপ কাটিং' করেন কৃষিসচিব সি কিউ কে মুস্তাক। এ সাফল্য দেখে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের সহযোগিতায় কৃষি মন্ত্রণালয় মিটুলকে ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠায়।

মিটুল বলেন, 'আমি ফিলিপাইনে গেলে এসএল অ্যাগ্রিটেক করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. হেনরি লিম আমাকে সাদরে গ্রহণ করেন। তিনি আমাকে ম্যানিলা, দাবাও ও মিন্দানাও এলাকার সব কৃষি খামার ঘুরিয়ে দেখান। সুপার হাইব্রিড ধান চাষের কলাকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেন। আমি আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) পরিদর্শন করি।' দেশে ফিরে মিটুল নতুন উৎসাহে ফের ওই জাতের ধান চাষ করে ২০০৯-১০ বোরো মৌসুমে ১০ দশমিক ৯২ টন হেক্টরে ফলন পান। চলতি বোরো মৌসুমে তিনি হেক্টরে ১২ টন অর্থাৎ বিঘায় ৪০ মণ ধান ফলিয়েছেন।

এ কারণে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. নাজমূল ইসলাম জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বিশেষজ্ঞ ড. জেড করিমসহ কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষি কর্মকর্তারা তাঁর ধানক্ষেত পরিদর্শন করেন। মিটুল তাঁর এলাকার ১৫০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি এসএল-৮-এইচ ভিলেজ গড়ে তুলেছেন। আর ডাঙ্গা মহিষদিয়া, আশিঙ্গাড়ি ও পাড়িআলি গ্রামের ১৮২ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে ২০০ একর জমি নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি সুপার হাইব্রিড টাউন। এ ছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জের নকলায় ১৫০ জন ও গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় ১৫০ জন কৃষককে সুপার হাইব্রিড ধান চাষের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের যশোরের উপপরিচালক মো. তফিজ উদ্দিন বলেন, এসএল-৮-এইচ অপার সম্ভাবনাময় ধান। মিটুল বিঘাপ্রতি ৪০ মণ ফলন পেয়েছেন। এখন দত্তনগর কৃষি ফার্মে এ ধানের বীজ চীনের একজন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে উৎপাদিত হচ্ছে। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, 'দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মিটুল একটি মডেল হতে পারে। চলতি বোরো মৌসুমে তাঁর ফলন হয়েছে হেক্টরে ১২ টন। ধান কাটার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। আমার জানা মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এত বেশি পরিমাণ ধান এর আগে ফলেনি।'

কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. নাজমূল ইসলাম বলেন, 'মিটুল একজন সফল ও আদর্শ চাষি। আমরা তাঁর প্রযুক্তি ও চাষপদ্ধতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি।' জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বিশেষজ্ঞ ড. জেড করিম বলেন, 'আমি মিটুলের ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছি। তিনি আধুনিক ধান চাষের দৃষ্টান্ত হতে পারেন।'

মিটুল বলেন, 'আমি একজন গরিব কৃষক। আমি বাংলাদেশের ভাতের অভাব দূর করার জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আমার প্রযুক্তি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই। আমি মনে করি, দেশের মোট আবাদি জমির ২০ শতাংশ জমিতে সুপার হাইব্রিড ধানের চাষ করা হলে অবশ্যই আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এমনকি আমরা চাল রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব।' তিনি জানান, অনেক কৃষককে তিনি এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং কৃষকরা তাঁর কথামতো ধান চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

বাংলাদেশ থেকে খাদ্যপণ্য যেসব দেশে রপ্তানি হয়

বাংলাদেশ থেকে ৯০ ধরনের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বর্তমানে রপ্তানি হচ্ছে। এর মধ্যে আছে জুস, পানীয়, মসলা, চানাচুর, ডাল ভাজা ও চিপস, স্ন্যাকস, বিসু্কট, ক্যান্ডি, আলু, মুড়ি, চিড়া, কনফেকশনারি পণ্য, জ্যাম ও জেলি, বিভিন্ন ধরনের সস, কাসুন্দি, আলুপুরি, সবজির রোল, লুচি, সমুচা, জর্দা, হিমায়িত মাশরুম, বাদাম ভাজা, বিভিন্ন ধরনের চাটনি ও আচার, নুডুলস, ম্যাঙ্গো ও ফলের বার, বিভিন্ন ধরনের সেমাই, লুচি ও পরোটা, সিঙ্গারা, বিভিন্ন ধরনের পিঠা, বাবল গাম, খেজুর রস, মধু, পাপড়, বিভিন্ন ধরনের হিমায়িত সবজি। বেশি রপ্তানি হয় জুস, পানীয়, বিভিন্ন ধরনের মসলা, মুড়ি, চাটনি, আচার, হিমায়িত সবজি ও সেমাই।
বাপার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৮০ লাখ ডলার মূল্যের জুস, ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার মূল্যের পানীয়, ৭০ লাখ ডলারের মসলা, ৪৯ লাখ ডলারের মুড়ি, ৩০ লাখ ডলারের চাটনি, ১৬ লাখ ডলারের হিমায়িত সবজি, ১০ লাখ ডলারের সেমাই বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে।

প্রাথমিক অবস্থায় দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের কিছু জটিলতা ভোগ করতে হতো। সে কারণে রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হয় সে সময়। তবে বর্তমানে ৭০টির বেশি দেশে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এসব পণ্য বেশি যাচ্ছে।

আরও আছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, মরিশাস, ভারত, ফ্রান্স, ব্রুনাই, কুয়েত, ভুটান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইথিওপিয়া, বাহরাইন, গাম্বিয়া, গিনি, আইভরি কোস্ট, ইতালি, সিয়েরা লিয়ন, সোমালিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, শ্রীলঙ্কা, ইয়েমেন, সেনেগাল, নাইজার, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, সুইডেন, গ্রিস, ক্যামেরুন, সাইপ্রাস, জাপান, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি এসব পণ্য।

হেল থর্নিং স্মিদ ডেনমার্কের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে ডেনমার্ক। সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা হেল থর্নিং স্মিদ দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। হেলের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থী জোট গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খুব সূক্ষ্ম ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ৯৯.৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে হেলের জোটের জয়ের ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়। প্রায় এক দশক বিরোধী দলের অবস্থানে থাকার পর জয়ের দেখা পেয়েছে ডেনমার্কের মধ্য-বামপন্থীরা। পার্লামেন্টের ১৭৯ আসনের মধ্যে এ জোট ৮৯টি আসন পেয়েছে। ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী লারস লোক্কে রাসমুসেনের নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৮৬ আসন।
পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ৯০ আসনের। সরকার গঠনের অনুমোদন পেলেও হেলের দল সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি নির্বাচনে এককভাবে মাত্র ৪৪টি আসন পেয়েছে। বিপরীতে রাসমুসেনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি এককভাবে পেয়েছে ৪৭টি। গতকাল শুক্রবার রাতেই রানি মার্গারেটের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী রাসমুসেনের।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে ডেনমার্ক। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতির চাকা সচল রাখাই নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে গুরুত্ব পায়। অর্থনৈতির মন্দা আক্রান্ত ডেনমার্কে রাসমুসেন যেখানে ব্যয় সংকোচনের প্রস্তাব রাখেন, সেখানে কর বৃদ্ধি ও সরকারি ব্যয় বাড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালান হেল। রাসমুসেনের ক্ষমতাসীন জোটের শরিক একটি দলের প্রস্তাবিত কঠোর অভিবাসন আইন বাতিল করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন ৪৪ বছর বয়সী এ নেত্রী।

সিরিয়ায় বিদ্রোহীরা ‘জাতীয় পরিষদ’ গঠন করছেন

সিরিয়ার বিদ্রোহীরা তুরস্কে বৈঠকের পর গতকাল শুক্রবার একটি ‘জাতীয় পরিষদ’ গঠনের লক্ষ্যে ১৪০ জন সদস্য বাছাই করেছে। বিদ্রোহীদের দাবি, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে এই পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদ সিরিয়ার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের নীতি সমন্বয় করারও কাজ করবে। দেশটিতে গতকাল নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১১ জন নিহত হয়েছে।
সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গতকাল হামা শহরের কাছের একটি গ্রামে দমন অভিযান চালান। এ সময় পাঁচজন নিহত হয়। একজন মানবাধিকারকর্মী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে সেনা ও পুলিশের সদস্যরা মেশিনগান নিয়ে সেখানে দুই ঘণ্টার অভিযান চালান। এ সময় তাঁরা নির্বিচারে গুলি ছুড়লে পাঁচজন নিহত হয়।

লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের কর্মকর্তারা জানান, জাবেল আল-জাওয়িয়াহর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর হত্যা করেছেন। এ ছাড়া অন্য এলাকায় আরও তিনজন নিহত হয়। হামা শহরে জুমার নামাজের পর একটি মসজিদে জড়ো হওয়া মুসল্লিদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে ফেলেন। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা জানান, সেখানকার আকাশে পরিদর্শন হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদক জোনাথন হেড ইস্তাম্বুল থেকে জানান, সিরিয়ার বিদ্রোহীদের বৈঠকে ‘জাতীয় পরিষদের’ ১৪০ সদস্যের মধ্যে ৭২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সিরিয়ায় অবস্থান করছেন বলে কয়েকজন সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বিদ্রোহীদের মুখপাত্র বাসমা কাদমানি জানান, প্রথম পর্যায়ের পরামর্শমূলক বৈঠকের পর উপস্থিত সবাই সিরীয় ন্যাশনাল কাউন্সিল বা জাতীয় পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইয়াসির তারাব্বারা নামের পরিষদের একজন সদস্য বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। এটি হচ্ছে এর উদ্বোধনী বৈঠক।’

গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সিরিয়ার বিদ্রোহীদের ওপর প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারের চালানো দমন অভিযানের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক ‘সম্মিলিত’ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনও মার্কিন নাগরিকদের সিরিয়া ত্যাগ করার আহ্বান জানায়। বান কি মুন বলেন, যেহেতু আসাদ তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখছেন না, তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত, তাঁর বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া ও একই সুরে তাঁর বিরুদ্ধে বলা।

গত মার্চে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কথা বলেন বান কি মুন। প্রতিবারই আসাদ বিদ্রোহীদের ওপর দমন অভিযান বন্ধ ও রাজনৈতিক সংস্কার শুরুর অঙ্গীকার করেন। বান কি মুন বলেন, এসব প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন তিনি। তাই জাতিসংঘের সদস্য দেশ ও নিরাপত্তা পরিষদকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বারবার আন্তর্জাতিক আহ্বান অমান্যকারী সিরিয়ার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

পশ্চিমা শক্তিগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আসাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে রাশিয়া, চীন ও অন্য কয়েকটি দেশের বিরোধিতার মুখে এই প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে ব্রিটিশ এমপিদের উদ্বেগ

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আয়োজিত এক বিতর্কে জম্মু ও কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সে দেশের এমপিরা। পাকিস্তান ও ভারত নিয়ন্ত্রিত অংশের অধিবাসীদের ইচ্ছার ভিত্তিতেই কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে গত বৃহস্পতিবার এ বিতর্ক হয়।
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি স্টিভেন বেকার পার্লামেন্টে মানবাধিকারবিষয়ক বিতর্কের আহ্বান জানান। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের মিরপুর জেলার বিপুলসংখ্যক অভিবাসী রয়েছে। বেকার বলেন, কাশ্মীরে ব্যাপকহারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদস্যরা। এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য স্বাধীন একটি কমিশন গঠন ও তাদের ওই অঞ্চলে পাঠানোর দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মীরে জননিরাপত্তা আইনের নামে কোনো অভিযোগ ছাড়াই শত শত লোককে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিবছর। বিচার ছাড়াই তাদের অনেকের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সম্প্রতি আশ্বস্ত করেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনাই সহ্য করা হবে না। 'ভারতীয় সেনাবাহিনী তাঁর এই বক্তব্যের সম্মান রাখবে বলেই আমরা আশা করছি' বলেন বেকার। কনজারভেটিভ দলের আরেক এমপি জেসন ম্যাককার্টনি জম্মু ও কাশ্মীরের জননিরাপত্তা আইন বাতিল ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর ব্যাপারে 'স্বাধীন ও নিরপেক্ষ' তদন্তের আহ্বান জানান।

বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক মন্ত্রী ডেনিস ম্যাকশেইন কাশ্মীরকে 'বিস্মৃত দুঃখজনক ঘটনা' বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'আমরা চাই না এ বিতর্কের ওপর নীরবতার চাদর পড়ে থাকুক।' একই দলের আরেক এমপি ব্যারি গার্ডিনার ভারতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের হামলার বিষয়েও কথা বলেন। সীমান্তের অন্য প্রান্ত থেকে উসকে দেওয়া সন্ত্রাসবাদের পরিপ্রেক্ষিতে কাশ্মীরের বিষয়টি বিবেচনার ওপর জোর দেন তিনি। বিতর্কটিকে ভিন্নভাবে না নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি (লেবার পার্টি) বিরেন্দ্র শর্মা বলেন, 'এ বিতর্ককে আমরা ভারতীয় ইস্যু বা ভারতকে আক্রমণের বিষয় হিসেবে নিচ্ছি না।

নিরাপত্তার পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন মনমোহন

ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। রাজধানী নয়াদিলি্লতে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের সমাবেশে তিনি বলেন, 'দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।' এর আগের দিনই ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনকে (আইএম) আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সংগঠনটি সম্প্রতি মুম্বাই ও দিলি্লতে বোমা হামলার দায় স্বীকার করে। পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট আইএম আগেও ভারতের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে বলে অতীতে দাবি করেছে।
মনমোহন সিং বলেছেন, দিলি্ল ও মুম্বাইয়ে সাম্প্রতিক হামলাকে 'সন্ত্রাসের ভয়াবহ হুমকির সতর্ক সংকেত হিসেবে' দেখতে হবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ওপরও জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা পুলিশের কাজেরই একটি অংশ। তবে এটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঢিলেঢালাভাবে সারা হচ্ছে অথবা একেবারেই হচ্ছে না।

ভারতের মাওবাদী আন্দোলনও একটি হুমকি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন মনমোহন। তিনি সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ে ব্যাপক আকারের সমন্বিত প্রচেষ্টা হাতে নেওয়ার তাগিদ দেন। অতীতে মনমোহন মাওবাদী সংকটকে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নম্বর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনকে কালো তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, আইএমের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি), জয়েশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম) ও হরকাতুল জিহাদ-ই-ইসলামির (হুজি) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামী শাসন চালুই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যেই তারা অমুসলিমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলাতেও তাদের সহযোগিতা ছিল। এলইটি পরিচালিত ওই হামলায় ছয় মার্কিনীসহ ১৬৩ জন নিহত হয়। অর্থাৎ পশ্চিমা স্বার্থের পাশাপাশি ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও আইএম হুমকিস্বরূপ। বিবৃতিতে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসরোধবিষয়ক সমন্বয়কারী কর্মকর্তা ডেনিয়েল বেঞ্জামিন বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া সন্ত্রাসী তৎপরতায় সহায়তা বন্ধ ও সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাস ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারেও চাপের মধ্যে রাখবে। এ তালিকাভুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আইএমের সব সম্পদও জব্দ করা হয়েছে। বিচার ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শক্রমেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গাদ্দাফির ঘাঁটিতে বিদ্রোহীদের হামলা

লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বনি ওয়ালিদ ও সিরত শহরে হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহী বাহিনী। গতকাল শুক্রবার রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিদ্রোহীরা বনি ওয়ালিদে প্রবেশ করেছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে গতকাল লিবিয়া পৌঁছেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তাইয়িপ এরদোগান। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির পর লিবিয়া গেলেন তিনি। বিদ্রোহীদের জাতীয় অন্তর্বর্তী সরকারের (এনটিসি) প্রতি সমর্থন জানানোই তাঁর এ সফরের লক্ষ্য।
'লিবিয়াকে পশ্চিমা বিশ্বের উপনিবেশে পরিণত করার জন্যই' ক্যামেরন ও সারকোজি সফরে এসেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মুয়াম্মার গাদ্দাফির মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম। গত বৃহস্পতিবার এক দিনের সফরে লিবিয়া যান তাঁরা। বন্দরনগরী মিসরাতা থেকে গত বৃহস্পতিবার সিরতের দিকে রওনা হয় বিদ্রোহী বাহিনী। গতকাল ভোরে শহরে হামলা চালায় তারা। আগের দিন গুপ্ত হামলাকারীদের আক্রমণে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিদ্রোহীরা। এনটিসি এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর হামলায় তাদের ১১ যোদ্ধা মারা গেছেন এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। গাদ্দাফির অনুগত ৪০ ব্যক্তিকে পাকড়াওয়ের কথাও জানায় তারা। বিদ্রোহীরা সিরতের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এদিকে গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ত্রিপোলির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বনি ওয়ালিদ শহরে প্রবেশের খবর জানায় বিদ্রোহীরা।

বৃহস্পতিবার ত্রিপোলি থেকে বিদ্রোহীদের মূল ঘাঁটি বেনগাজিতে যান ক্যামেরন ও সারকোজি। স্থানীয় জনগণ তাঁদের বিজয়ীর সম্মান জানায়। উৎফুল্ল জনতার উদ্দেশে ক্যামেরন বলেন, 'স্বাধীন বেনগাজি এবং স্বাধীন লিবিয়ায় এসে দারুণ লাগছে। ব্রিটেনের জনগণ আপনাদের সাহসকে সালাম জানায়। এই শহর বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। কর্নেল গাদ্দাফি আপনাদের ইঁদুরের মতো মারতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপনারা সিংহের সাহস দেখিয়েছেন।' সারকোজি বলেন, 'আপনারা শান্তি, স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক প্রগতি চান। ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন এবং ইউরোপ আপনাদের সঙ্গে আছে। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ন্যাটোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।'

এদিকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তাইয়িপ এরদোগান মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে গতকাল লিবিয়ায় পৌঁছান। এর আগে মিসর ও তিউনিসিয়া সফর করেন তিনি। বিদ্রোহী নেতা মুস্তাফা আবদেল জলিল তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। গাদ্দাফির মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম ক্যামেরন ও সারকোজির লিবিয়া সফরের সমালোচনা করেছেন। লিবিয়ার সম্পদ লুট করার জন্যই তাঁরা এসেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিরিয়াভিত্তিক আররাই টেলিভিশনকে টেলিফোনে তিনি জানান, 'ত্রিপোলির পতনের ফল সংগ্রহের জন্যই তাঁরা তাড়াহুড়ো করছেন। আমেরিকা ও অন্যান্য দেশও এ সম্পদের ভাগ চাইতে পারে বলে আতঙ্কে আছেন তাঁরা। লিবিয়া পুনর্গঠনের নাম করে তাঁরা বিশ্বাসঘাতকদের সঙ্গে গোপন চুক্তি করতে এবং তেলসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে এসেছেন।'

একটানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একটানা ভারী বর্ষণ হওয়ায় বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমর পানি জমে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে চমেক হাসপাতালের সামনে একটি বড় কড়ই গাছ উপড়ে রাস্তার ওপর পড়লে একটি বেবিট্যাক্সি ও একটি রিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। বৃষ্টির কারণে সরকারি ছুটির দিনে গতকাল নগরীর রাস্তাঘাট ছিল অনেকটাই ফাঁকা। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত হয়। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় মাছ ধরা ট্রলার ও ছোট নৌকাগুলো তীরের কাছাকাছি অবস্থান করে। তবে ট্রেন ও বিমান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনে ও আটকে থাকা পানি সরাতে অতিরিক্ত ২০০ কর্মচারীকে কাজে নামায়। তারা নালা-নর্দমা পরিষ্কার করে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকা এবং সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আরও কয়েকদিন বর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে কয়েকদিন ধরেই বর্ষণ চলছে। কখনও হালকা, কখনও মাঝারি আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মুষলধারার বৃষ্টিতে নগরীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে নিম্নাঞ্চলের মানুষ বাসাবাড়ি কিংবা রাস্তার সামনে হাঁটু থেকে কোমর পানি দেখতে পায়। বিশেষ করে চকবাজার, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, হালিশহর, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, বাকলিয়া ডিসি রোডসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি। এসব এলাকার সড়ক-মহাসড়ক ও অলিগলিতে সব ধরনের যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। আগ্রাবাদে সরকারি কমার্স কলেজের নিচতলায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে যারা রাস্তায় বের হয়েছেন তাদের পড়তে হয়েছে দুর্ভোগে। গোড়া থেকে মাটি সরে যাওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মূল গেট ও মর্গের মাঝামাঝি এলাকায় রাস্তার পাশের একটি কড়ই গাছ উপড়ে পড়ে। এই গাছের চাপায় পড়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি রিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে এক রিকশাচালক আহত হন। সড়ক বিভাগ গাছটি সরিয়ে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

টানা বৃষ্টিতে ব্যাহত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বন্দরের বিভিন্ন জেটি ও বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ অর্ধশতাধিক জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে আছে চাল, গম, তেল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যভর্তি জাহাজও। সাগর উত্তাল থাকায় বন্ধ আছে শতাধিক লাইটারেজ জাহাজের কার্যক্রমও। বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে পণ্য আনতে বুকিং দেওয়ার পরও লাইটারেজ জাহাজ যেতে পারছে না সাগরে। বন্দর সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বৃষ্টির কারণে খোলা পণ্যবাহী জাহাজের খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে কনটেইনার বোঝাই জাহাজের খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।'

ডিভির দরজা বাংলাদেশের জন্য বন্ধ

বাংলাদেশীদের জন্য ডিভি ভিসার দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ডিভি লটারিতে অংশ নেয়ার আর সুযোগ পাচ্ছে না বাংলাদেশীরা। এই প্রথম ডিভি ভিসা কার্যক্রম থেকে বাংলাদেশীরা বাদ পড়ল। আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকরা হতাশ। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ২০১৩ সালের ডাইভারসিটি ইমিগ্রান্টদের জন্য প্রচারিত ১৬ পৃষ্ঠার এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়, আগামী ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এ লটারিতে বাংলাদেশ ছাড়া আরও ১৮টি দেশের নাগরিকরা অংশ নিতে পারবেন না।
তবে এ সুযোগ কতদিনের জন্য বাংলাদেশ হারাল তার কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় বাংলাদেশীদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। ওয়েবসাইটে বাংলাদেশীরা যে ডিভি লটারিতে মোটেও অংশ নিতে পারবেন না তা আলাদাভাবে বলা আছে। অন্য দেশের ক্ষেত্রে এভাবে বলা নেই।

এ ব্যাপারে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনার ব্যাখ্যা সম্পর্কে এখনও কিছু জানি না। বিস্তারিত জানতে কয়েকদিন সময় লাগবে’। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কিছু জানে না। ডিভি ভিসার সুযোগ হারানোর কারণ হিসেবে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘গত পাঁচ বছরে যেসব দেশের ৫০ হাজার নাগরিক আমেরিকায় অভিবাসী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, সেসব দেশের নাগরিকরা ২০১৩ সালের ডিভি লটারিতে অংশ নিতে পারবেন না’। তবে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ আবুল কাশেম বিবিসিকে জানান, মার্কিন কর্তৃপক্ষ যদিও বলছেন বাংলাদেশীদের ডিভিতে যাওয়ার সংখ্যা ৫০ হাজার হয়ে গেছে, আসলে এ পরিসংখ্যানটি ঠিক নয়। ডিভি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন ৪০ হাজার বাংলাদেশী।

অবশ্য ডিভি ভিসার সুযোগ বাংলাদেশসহ বাদপড়া দেশের নাগরিকরা আবার পাবেন কিনা অথবা কবে নাগাদ পেতে পারেন সে ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি। তাই বাংলাদেশের নাগরিকরা হতাশ হয়েছেন। তারা গতকাল টেলিফোনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এ সিদ্ধান্তের কারণ ও নির্দেশনাটির আওতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন। তাদের কেউ কেউ এটাও আশঙ্কা করছেন, বাংলাদেশীদের জন্য ডিভির দরজা হয়তো বন্ধ হয়ে গেল।

তাদের ডিভি ভিসার আশঙ্কার অন্যতম একটাই কারণ—নির্দেশনায় যে ১৮টি দেশের নাম দেয়া হয়েছে তার বাইরেও বাংলাদেশী নাগরিকরা (যে দেশেই অবস্থান করুক না কেন) লটারিতে মোটেও অংশ নিতে পারবেন না—এটা আলাদাভাবেও বলা হয়েছে, যা অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে বলা হয়নি। তবে এই প্রথমবারের মতো দক্ষিণ সুদান ও পোল্যান্ডের নাগরিকরা ডিভি লটারির জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।

ডিভি ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় যাওয়া বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয়। গত ২০ বছর ধরে হাজার হাজার বাংলাদেশী ডিভি ভিসায় আমেরিকায় অভিবাসী হয়েছেন। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ আবুল কাশেম বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ডিভি ভিসায় আমেরিকা যাওয়ার কোটা ছিল ৩ হাজার ৭৫০ জন। যদিও প্রতি বছর আমেরিকায় বাংলাদেশী নেয়া হয়েছে আড়াই হাজার, ২ হাজার ৮শ’ এমন সংখ্যায়। ডিভি লটারি পাওয়ার আশায় প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ২০ থেকে ৩০ লাখ দরখাস্ত পড়তো। টানা পাঁচ বছর ধরে ডিভি লটারির জন্য দরখাস্ত করেছেন সিলেটের আইনজীবী নিলেন্দ দেব। তিনি ডিভি ভিসা বাংলাদেশীদের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে শুনে বিবিসির কাছে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের আমেরিকা যাওয়ার সুযোগটা চলে গেল। একটি মডার্ন দেশে যাওয়ার, স্বপ্নের সেই দেশটাকে দেখার খুব আগ্রহ ছিল। সেই আশাটা বুঝি আর পূরণ হলো না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবার ডিভির সুযোগ থেকে যেসব দেশের নাগরিকদের বঞ্চিত করছে সেগুলো হলো—বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, কলম্বিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এল সালভেদর, গুয়াতেমালা, হাইতি, ভারত, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, পাকিস্তান, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন (উপনিবেশসহ) ও ভিয়েতনাম। চীনের মূল ভূখণ্ডের নাগরিকরা ডিভির আবেদনের সুযোগ হারালেও হংকং, ম্যাকাউ ও তাইওয়ানের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন। চলতি বছর ৫০ হাজার আবেদনকারী ডিভি ভিসা পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতি বছর এ ভিসা কর্মসূচিটি পরিচালনা করে। এটা সাধারণভাবে গ্রিনকার্ড নামে পরিচিত।

নির্দেশনা অনুযায়ী আফ্রিকার ৫৪টি দেশের নাগরিক বা এসব দেশের অভিবাসীরা এবারের ডিভির জন্য আবেদন জানাতে পারবেন। তবে এশিয়ার দেশ ফিলিস্তিনের গাজার অধিবাসীরা আফ্রিকান দেশ মিসরের মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ পাবেন। এশিয়া থেকে সুযোগ পাবেন ৩২ দেশ। এবার এশিয়া থেকে বাদ গেছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা। অন্যদিকে ইউরোপের ৫৭টি দেশের নাগরিকরা ডিভির সুযোগ পাচ্ছেন।

মধ্য এশিয়ার আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, কিরঘিজিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও তুরস্কের নাগরিকরা ইউরোপ মহাদেশের ক্যাটাগরিতে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া ডিভি ভিসার জন্য ব্রিটেন ও তার বেশ কিছু উপনিবেশের নাগরিকরা আবেদন জানানোর সুযোগ না পেলেও আয়ারল্যান্ডের নাগরিকরা বিশেষ বিবেচনায় আবেদন জানানোর সুযোগ পাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় এটাও বলা হয়েছে, ‘ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে যেসব দেশের অভিবাসী কম সেসব দেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজার জনকে স্থায়ী অধিবাসী ভিসা দেয়া হয়।’

ক্ষুব্ধ চেয়ারপারসনঃ বিএনপির কোন্দল ঠেকাতে প্রয়োজনে বহিষ্কার

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের নিজের জেলা ছিল মানিকগঞ্জ। তিনি মহাসচিব থাকার সময়ে দ্বন্দ্ব-কোন্দল মিটিয়ে মানিকগঞ্জে দলীয় কমিটি করতে পারেননি। সেই কোন্দলের ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। ফলে সেখানে এখনো বিএনপির কমিটি নেই। গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ আরো কয়েকটি জেলার অবস্থাও প্রায় একই রকম।
এসব জেলার কোথাও বিএনপির কমিটি নেই, আবার কোথাও আছে পাল্টাপাল্টি কমিটি। এ অবস্থায় আজ শনিবার বিকেলে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সভা ডেকেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সূত্র জানায়, সভায় সমস্যাসংকুল বিভিন্ন জেলা বিএনপির বর্তমান ও সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে মির্জা ফখরুল কোন্দল নিরসনের চেষ্টা করবেন। বিরোধপূর্ণ জেলায় দলীয় কমিটি চূড়ান্ত করার কথাও রয়েছে। যাঁরা এ কমিটির বিরোধিতা করবেন, তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়াসহ দল থেকে বহিষ্কার করার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। সভায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে সব জেলার নেতা-কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার রাতে স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বিএনপির আন্দোলন সফল করার কৌশল ও এ ক্ষেত্রে বাধা-বিপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন জেলায় বিএনপির দুর্বলতা চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। খালেদা জিয়া দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের প্রয়োজনে বহিষ্কার করার নির্দেশ দেন।

খালেদা জিয়া গত ঈদুল ফিতরের আগে মির্জা ফখরুলসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আরেকটি বৈঠক করেন। সেখানেও তিনি শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর ওই নির্দেশের পর দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের হুঁশিয়ার করে দেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় চলতি মাসে দল ও সহযোগী কয়েকটি সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এমন কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত সোমবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, জেলা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব যেকোনো মূল্যে দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচি সফলভাবে পালন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতেও বলা হয়েছে। এসব নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের দায়ে ঢাকা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুলতান নাসের, ঢাকা জেলা কৃষক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক কাওছার, জাসাসের উপদেষ্টা লায়ন নজরুল ইসলাম চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতাকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি সংগঠনের থানা কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। রাজধানীতে যুবদলের উত্তরা থানা কমিটি গত বুধবার বিলুপ্ত করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।

সাংগঠনিক স্থবিরতার কারণে সম্প্রতি নীলফামারী জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিল করা হয়। নতুন কমিটি গঠন করতে গত বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব একটি আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সদস্য প্লাবন শেখ পিলুকে বহিষ্কার এবং সহসভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কয়েকজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

বিএনপির এমন কঠোর অবস্থান সম্পর্কে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'প্রতিটি দলের একটি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থাকে। সে অনুযায়ী দল পরিচালিত হয়। কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটাও এর মধ্যে পড়ে। কেউ শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে_এটাই স্বাভাবিক।'

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লা বুলু বলেন, 'গত সোমবারের বৈঠকে আমরা দলের সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করেছি। যেখানে কমিটি নেই সেখানে কমিটি করা, দ্বন্দ্ব থাকলে তা নিরসন করা, আন্দোলন-সংগ্রামে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা_এসব বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে। যেসব জায়গায় কমিটি নেই, সেখানে কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। ওই কমিটি কেউ না মানলে তাঁকে বহিষ্কার করার মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।' অন্যদিকে যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, 'দল ও সংগঠনের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করলে যে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে মন্ত্রিত্ব থাকবে নাঃ প্রধানমন্ত্রী

ন্ত্রিসভার কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেছেন, দুর্নীতি হলে এসব কাজ করা সম্ভব হতো না।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এ যৌথ সভায় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে ড. এস এ মালেক, এম এ মান্নান, এইচ টি ইমাম, আমির হোসেন আমু, আবুল মাল আবদুল মুহিত, ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, কাজী আকরাম হোসেন, সৈয়দ রেজাউর রহমান, অনুপম সেন ও ড. হামিদা ভানু অংশ নেন।

'দুর্নীতিবাজ' মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারী বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি ইঙ্গিত করে সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শহীদ মিনারে অনেকে তোলপাড় করছেন, বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন। এমনকি দুর্নীতির প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের অনুরোধ করব, দুর্নীতি দুর্নীতি না করে কোথায়, কখন, কিভাবে, কোন খাতে কত দুর্নীতি হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দেখান। শুধু বক্তৃতা-বিবৃতি দিলে হবে না। কারো সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে তার প্রমাণ দিতে হবে। দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে মন্ত্রিত্ব থাকবে না।'

কেউ পেছন ফিরে দেখে না_এমন অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যাঁরা এখন সরকারের দুর্নীতি নিয়ে এত কথা বলছেন, তাঁদের তো অতীতের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে দেখছি না।' তিনি আরো বলেন, 'দুর্নীতি কিভাবে করা হয়, সেগুলো তো আমরা দেখেছি।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মানুষ ভালো থাকলে আরো ভালো থাকতে চায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বেশি ভালো চাইতে চাইতে আগের অবস্থায় যেন ফিরে যেতে না হয়।'

পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, 'পত্রিকাগুলো এমন কিছু ঘটনা নিয়ে মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য দিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে যাতে আমাদের ক্ষতি হয়। সমালোচনা ভালো, এতে আমরা শোধরাতে পারি; কিন্তু মিথ্যা লিখলে তো ক্ষতি হয়।' তিনি আরো বলেন, 'সাংবাদিকরা রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করলে কিছু যায় আসে না। অথচ তাঁদের কেউ কিছু বললে, সমালোচনা করলে সহ্য হয় না। সমালোচনা করলে তো সমালোচনা শোনার মানসিকতা থাকতে হবে। বললে তো শুনতে হয়। সহ্য করতে না পারলে হবে না।'

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, 'দুর্নীতি হলে তো এসব কাজ করা সম্ভব হতো না। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে ক্ষমতায় এসেছি। টাকা মেরে দিতে আসিনি। আমরা এ পর্যন্ত ২৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে ২২ শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, এই দুই বছর ৯ মাসে আমরা যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পেরেছি, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পাঁচ বছরেও তা পারেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারও দুই বছরে পারেনি। আমাদের স্বচ্ছতা আছে বলেই এটা পেরেছি। দুর্নীতি করলে তো পারতাম না।' বিগত জোট সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেন বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি, তার জবাব দিতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর সফল হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই সফরে আমরা লাভবান হয়েছি। সীমানা চিহ্নিতকরণ, ছিটমহল সমস্যার সমাধানসহ বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধান আমরা করতে পেরেছি। জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি করেছিলেন। সেই সময় থেকে শুনে এসেছি, এটা নাকি গোলামি চুক্তি। এখন সেই চুক্তি কাজে লাগল।' তিনি আরো বলেন, 'সীমানা চিহ্নিত করা, ছিটমহল সমস্যার সমাধান কঠিন ও দুরূহ কাজ। স্বাধীন দেশের সীমানা থাকবে না_এটা হতে পারে না। ভারতের সঙ্গে খুঁটিনাটি যা-ই হয়েছে, তা আমরাই করেছি। অতীতের কোনো সরকারই এটা করতে পারেনি।'

বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের ৩০৮টি আইটেমের বিনা শুল্কে প্রবেশের সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'তারা বাংলাদেশের কোনো পণ্যই ভারতের বাজারে প্রবেশের ব্যবস্থা করেনি। উল্টো ভারতের পণ্য অবাধে বাংলাদেশে প্রবেশের সব ব্যবস্থা করেছে। দেশ বেচার অপবাদ আমাদের ওপর দেওয়া হয়। কিন্তু দেশ বেচার কাজ করে তারা।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'তিস্তা পানি চুক্তি হয়নি, এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমি দুই মাস বা তিন মাস বলে সময় বেঁধে দিতে চাই না, তবে বলতে চাই, এ চুক্তি হবেই। পানি এমন একটা জিনিস, কেউ আটকে রাখতে পারবে না। ওপর থেকে নিচে এটা নামবেই। এটা দুই দেশের ব্যাপার। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমস্ত সমস্যার সমাধান করব।'

ভারতের সঙ্গে ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বিগত সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা তো উদ্যোগ নিয়ে একটা পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। এর আগে যারা ছিল, তারা তো এটাও পারেনি। তারা কেন পারেনি, তার জবাব দিতে হবে।' তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় সরকারের জন্য এক রকম ভালো হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন। তারা (বিএনপি) চুক্তি হলেই বলত, দেশ বেচে দিয়েছি।'

দুর্নীতিবাজদের রক্ষায় বিরোধী দল জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে_এ অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এখন তাদের একটাই লক্ষ্য, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে তাদের দুর্নীতির বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিকভাবে তাদের দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে। এর জন্য বিচার করতেই হবে। ব্যক্তিবিশেষকে খাতির করার কিছু নেই।'

যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে সরকারের দৃঢ়তা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন না হয়, সে জন্য বিরোধী দল সোচ্চার। তবে এ বিচার হবেই। চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে যখন যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের পাওয়া যাবে, তখনই তার বিচার হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হলে দেশে শান্তি আসবে না। গণতন্ত্র স্থায়ী রূপ পাবে না।' বর্তমান সরকারের দুই বছর ৯ মাস এবং বিগত জোট সরকারের এই সময়ের তুলনা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'তখন দেশ জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। প্রতিনিয়ত দেশে বোমাবাজি হতো। আমাদের সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য দেশে কোথাও কোনো জঙ্গিবাদ ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেনি। দেশকে জঙ্গিবাদের বদনাম থেকে ঘোচাতে পেরেছি, এটাকে আমরা বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করতে চাই।'

রাস্তাঘাটের বেহাল দশার জন্য আবারও বিগত সরকারকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, '২০০১ সালে যখন নির্বাচনী প্রচারণায় নামি, তখন প্রতিটি রাস্তা ছিল সুন্দর ও ঝকঝকে। সব রাস্তা দিয়ে পানির মতো যাতায়াত করা গেছে। কিন্তু ২০০৮ সালে যখন নির্বাচনী প্রচারণায় নামি, তখন সব রাস্তা চরম খারাপ। আগের সরকার কাজ করেনি বলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এসে পদক্ষেপ শুরু করেছি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার বাজেট করেছি। বর্ষার কারণে এখন কাজ করা যাচ্ছে না। শুষ্ক মৌসুমে ভালোভাবে কাজ শুরু হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা নজর দিচ্ছি। আমরা যখনই যেখানে সমস্যা দেখছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি। তার পরও এটা নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি। বাস্তব অবস্থাটা কেউ উপলব্ধি করে না।'

দলের নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'জানি, বর্তমানে অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে এর একটিও আমাদের সৃষ্টি করা নয়, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে এগুলো পেয়েছি। তার পরও আমরা সব সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বসে নেই।'