Wednesday, December 30, 2009

টয়োটা বিশ্বব্যাপী গাড়ি উত্পাদন বাড়াবে

জাপানের টয়োটা মোটর কোম্পানি ২০১০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী ১৭ শতাংশ গাড়ি উত্পাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তারা এ পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ৭৫ লাখ গাড়ি তৈরি করবে। গতকাল শনিবার ডেইলি নিক্কেই পত্রিকা জানায়, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ছয় মাস পরিবেশবান্ধব গাড়ি কেনায় ভর্তুকি প্রদানের মেয়াদ বাড়ায় সরকার। সরকারের ওই সিদ্ধান্তের পর টয়োটা তাদের ২০১০ সালের গাড়ি উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়াতে পারে। আর্থিক মন্দার কারণে বিশ্বব্যাপী গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ার পর টয়োটা এ বছরের গোড়ার দিকে তাদের প্রধান বাজার জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে গাড়ি উত্পাদন কমিয়ে দেয়। তবে বর্তমানে টয়োটার প্রধান বাজার চীন ও অন্যান্য উঠতি বাজারগুলোতে তাদের গাড়ির চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

এক আফগান যুবকের সংস্কৃতিচর্চার যুদ্ধ

‘কাউকে যখন বলি, আমি আফগানিস্তান থেকে এসেছি, তখন প্রথমেই তাঁর মুখ থেকে যে শব্দগুলো বেরিয়ে আসে সেগুলো হলো—ওসামা, তালেবান ও যুদ্ধ।’ কথাগুলো আফগানিস্তানের পপসংগীতের প্রতিভা খোঁজার অনুষ্ঠান আফগান স্টার-এর সাবেক উপস্থাপক দাউদ সিদ্দিকির।
২০০৯ সালটি দাউদ সিদ্দিকির জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও পয়মন্ত একটি বছর। এই বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে দ্য সানডান্স চলচ্চিত্র উত্সবে যোগ দেন তিনি। উদ্দেশ্য আফগান স্টার-এর ওপর তৈরি করা একটি ব্রিটিশ তথ্যচিত্রের পক্ষে প্রচারণা চালানো। উত্সবে দুটো পুরস্কার অর্জন করে অনুষ্ঠানটি। আফগান স্টার তাঁর জীবনে এনে দিয়েছে তারকাখ্যাতি।
কিন্তু এত কিছুর পরও নিজের জীবনের ওপর তালেবান হুমকিতে বিচলিত দাউদ। আর কাবুলে ফিরে যেতে চান না তিনি। আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে।
আফগান স্টার শো এবং ব্রিটিশ তথ্যচিত্রের সুবাদে রাতারাতি সেলিব্রিটি বনে যান দাউদ। তবে নতুন পাওয়া এই খ্যাতি তাঁর জীবনের ওপর সৃষ্টি করেছে বেশুমার হুমকি।
ওয়াশিংটনে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে দাউদ বলেন, ‘আফগানিস্তানে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা চান না যে নারীরা নৃত্য করবে। তাঁরা দেশে গণতন্ত্র চান না। এমনকি বিশ্বায়নেরও বিপক্ষে তাঁরা। আধুনিক সংস্কৃতিও তাঁরা পছন্দ করেন না। আমাদের অনুষ্ঠান এ বিষয়গুলোকে উত্সাহ জুগিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আফগানিস্তানে নিরাপদ নই।’
কিন্তু এত ভীতিকর অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও দেশের প্রতি ভালোবাসা একটুও কমেনি দাউদের। নিজের দেশ সম্পর্কে পশ্চিমা দেশগুলোর নেতিবাচক মনোভাব তাঁকে আহত করে।
তবে দাউদ বলেন, ‘আমি তাঁদের দোষ দিতে পারি না। টেলিভিশনে তাঁরা সব সময় যেটা দেখে থাকেন, সেটাই বলছেন। তবে বিশ্বাস করুন, আফগানিস্তানে ভালো ভালো গল্প রয়েছে। আছে অনেক ভালো মানুষ। আফগানিস্তান খুবই সুন্দর একটি দেশ।’
তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার দিকে তাকান। আমি দেখতে তালেবানের মতো নই। আমি কাবুলে বড় হয়েছি। আমি একজন খাঁটি আফগান।’
বর্তমান ভয়েস অব আমেরিকায় (ভোয়া) কাজ করছেন দাউদ সিদ্দিকি। পশতু ভাষায় একটি কল-ইন রেডিও শো উপস্থাপনা করেন তিনি।
দাউদকে ভোয়ায় কাজ করার সুযোগ দিয়ে অনুতপ্ত নন রেডিওটির আফগান সার্ভিসের প্রধান বেথ মেনডেলসন। তিনি বলেন, দাউদ একজন মেধাবী তরুণ। তাঁর ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল।
বেথ মেনডেলসন বলেন, দেশের একজন বড় তারকার আবারও মিডিয়ায় ফিরে আসার বিষয়টি উপভোগ করছেন আফগানিস্তানে ভোয়ার শ্রোতারা।
আফগান স্টার-এর অর্জনে গর্বিত দাউদ। তিনি বলেন, এটা কোনো নিয়মিত রিয়ালিটি শো ছিল না। এটা ছিল গণতন্ত্র ও নারী অধিকারের একটি পরীক্ষা। সেখানে জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐক্য ছিল। অনুষ্ঠানটি দেশের মানুষের মধ্যে আশাবাদ ফিরিয়ে এনেছে।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিকের পর্বগুলোতে নিজের জাতি-গোষ্ঠীর প্রতিযোগীদের সমর্থন দেওয়ার প্রবণতা ছিল দর্শকদের মধ্যে। কিন্তু ধীরে ধীরে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসেন দর্শকেরা। প্রতিযোগীর সংখ্যা কমতে কমতে যখন তিনে এসে দাঁড়ায়, তখন জাতিগত পরিচয়ের চেয়ে মেধার স্বীকৃতি দিতে শুরু করেন দর্শকেরা।
তরুণ দর্শকেরা অনুষ্ঠানটিকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করে। স্মিত হাসিতে দাউদ বলেন, তবে নারীদর্শকেরা এখনো সুদর্শন পুরুষ প্রতিযোগীদেরই ভোট দিচ্ছেন।
এত খ্যাতি, ভোয়ায় কাজ করার সুযোগ সত্ত্বেও দেশকে ভুলতে পারছেন না তিনি। ছয় বোন, এক ভাই ও বাবা-মাকে রেখে এসেছেন বাড়িতে। তাঁরা সবাই কাবুলে বসবাস করছেন। এ ছাড়া অভাববোধ করছেন নিজের দর্শকদের।
দাউদ বলেন, ‘আমি যখন এ দেশে আসি, তখন আমি সবকিছু ফেলে এসেছি। আমি সবকিছু হারিয়েছি। আমি মরে গেছি। আপনি এখন যাকে দেখছেন, সে আফগান স্টার-এর উপস্থাপক নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় আমার পুনর্জন্ম হয়েছে।’

ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন না ভারতের লোকসভার সদস্যরা by দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী

সংসদীয় দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্যরা সরকারি কোষাগারের জন্য বোঝা হয়ে উঠছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর লোকসভার অধিবেশনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আলোচনার সময় মাত্র ২৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আর ৩০ নভেম্বর প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত সাংসদের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫ জন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, লোকসভার একটি অধিবেশনে প্রতি ঘণ্টার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয় ১৫ লাখ রুপি। অথচ সদ্যসমাপ্ত শীতকালীন অধিবেশনে ৪৮ শতাংশ সাংসদই অনুপস্থিত ছিলেন। দিল্লিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের শাখা পিআরএস লেজিসলেটিভ রিসার্চ এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করে।
গবেষণায় জানানো হয়, লোকসভায় ২০৬ জন এমপি সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তেমন চিন্তিত নন। তাঁদের মধ্যে ১১৩ জন সদস্য বাজেট ও শীতকালীন অধিবেশনে কোনো প্রশ্ন করেননি। আর বাকি ৯৩ জন সদস্যের প্রত্যেকে গড়ে ১০টিরও কম প্রশ্ন করেছেন। এ ছাড়া রীতি অনুযায়ী মন্ত্রিসভার ৬৪ জন সদস্য এবং স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা অধিবেশনে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেন না। সুতরাং এই ৬৭ জনকে বাদ দিলে বলা যায়, ৫৪৪ জন সদস্যের লোকসভার প্রায় অর্ধেক সদস্যই বাজেট ও শীতকালীন অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেননি।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, লোকসভার ৪৮ শতাংশ সদস্যই অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেননি। যাঁরা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২৫ শতাংশ আবার একটি বা দুটি বিষয়ে নিজেদের আটকে রেখেছেন। মাত্র তিন শতাংশ সদস্য ১০টির বেশি বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। আর এই চুপচাপ থাকার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের সিদ্ধান্ত ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোয় সরকারকে ছাড় দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।
এ ব্যাপারে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংসদ রমেশ বাইস বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো এই সমস্যা সম্পর্কে জানে, কিন্তু দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বুঝতে পারছেন না কীভাবে এর সমাধান করবেন। আজকাল সংসদীয় কাজে আইনসভার সদস্যদের অংশগ্রহণ কমছে। এল কে আদভানির মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বারংবার নির্দেশের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
লোকসভার অধিবেশনে সাংসদদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। বাজেট ও শীতকালীন অধিবেশনে মাত্র ১৫ জন সাংসদ সব সময় উপস্থিত ছিলেন। কমপক্ষে ২৫ জন সাংসদ অর্ধেকের বেশি আলোচনায় অনুপস্থিত ছিলেন। ওই দুই অধিবেশনে সবচেয়ে কম উপস্থিত ছিলেন তেলেগু চলচ্চিত্রাভিনেত্রী ও সাংসদ বিজয়া শান্তি। তাঁর উপস্থিতির হার মাত্র ১৭ শতাংশ। আর শতভাগ উপস্থিত ছিলেন সিপিআইয়ের সাংসদ গুরুদাস দাসগুপ্ত, কংগ্রেসের সাংসদ একনাথ মহাদেব গায়কোয়াড়, জেডি-ইউর সাংসদ রাজীব রঞ্জন সিং ও সিপিআইএমের সাংসদ এম বি রাজেশ। আর আরেক তেলেগু চলচ্চিত্রাভিনেতা জে কে রিথিশ ও সাবেক ক্রিকেটার নভজিত্ সিংয়ের মতো সাংসদদের উপস্থিতি ৪০ শতাংশের কম।
এম বি রাজেশ বললেন, সাংসদ হিসেবে প্রথম লোকসভায় এসেছেন তিনি। অধিবেশনে যোগ দেওয়াকে দায়িত্ব বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যৌক্তিক কারণ ছাড়া সাংসদদের অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকা ঠিক না।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সেনাদের গুলি, নিহত ৪

ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে চার ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই ব্যক্তি আহত হয়েছে। একটি ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
রাহেসাবজ ডট নেট নামের ওই ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে তিন ব্যক্তি নিহত এবং দুজন আহত হয়েছে। তেহরানের ইঙ্ঘেলাব স্ট্রিটের কলেজ ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও বলা হয়, এ ঘটনার পর ভালি আসর মোড়ে আরও একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষ গতকাল সকাল থেকে তেহরানের রাস্তায় সমবেত হতে থাকে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
এর আগে সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়, আশুরার শোভাযাত্রাকে কেউ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ দিতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রদেশের নাম পাল্টানো নিয়ে আলোচনার জন্য নওয়াজের কমিটি গঠন

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের নাম পাল্টানোর প্রস্তাব নিয়ে ওই প্রদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) সঙ্গে আলোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ- নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর প্রধান নওয়াজ শরিফ। গত শনিবার দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে নওয়াজ শরিফ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
নওয়াজ বলেন, নাম পাল্টানোর বিষয়টি সমাধানের জন্য পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরতাজ আজিজের নেতৃত্বে ওই কমিটিতে রয়েছেন সরদার মেহতাব আব্বাসি, সরঞ্জাম খান, পীর সাবির শাহ ও সাবেক এমএনএ নাসির খান।
পাকিস্তানের সংবিধান সংস্কারের জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশ তৈরি করার ক্ষেত্রে এই প্রদেশের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি একটি বাধা হয়ে আছে। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের নাম পাল্টে পাখতুনখা রাখার প্রস্তাব করেছে এএনপি। পিএমএল-এন এখন এ প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও তারা চায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এ ব্যাপারে একটি ভোট গ্রহণ করা হোক।
প্রদেশের হাজারা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পিএমএল-এনের শক্ত অবস্থান রয়েছে। সেখানকার প্রাদেশিক নেতাদের চাপে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এএনপির নাম পাল্টানোর ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। গত শুক্রবার নওয়াজ শরিফ এএনপি নেতা ও পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী গুলাম আহমেদ বাইলোরের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী বাতিল না করা এবং অন্যান্য বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ায় পিপিপি সরকারের সমালোচনা করেন নওয়াজ।

পারিবারিক ভিসার ক্ষেত্রে আইন শিথিল করছে সৌদি আরব

সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য পারিবারিক ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন শিথিল করছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। শনিবার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে স্থানীয় একটি পত্রিকা। এখন থেকে চাকরির বিচারে নয় বরং পারিশ্রমিকের বিবেচনায় প্রবাসী কর্মীদের জন্য পারিবারিক ভিসা দেওয়া হবে। এত দিন পর্যন্ত শুধু চিকিত্সক, প্রকৌশলী—এ ধরনের ‘হোয়াইট কালার’ পেশাজীবীদের পারিবারিক ভিসা দেওয়া হতো।
সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের একটি বড় অংশ শ্রমিক। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের কয়েক লাখ নাগরিক সেখানে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। এসব পেশাজীবী ‘ব্লু কালার প্রফেশন’ শ্রেণীতে বিবেচিত হওয়ায় তাঁরা এত দিন পারিবারিক ভিসা পেতেন না। কিন্তু শিথিল নিয়মের আওতায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন কর্মীর আয়ের বিচারে পারিবারিক ভিসা দেবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পত্রিকা আল ইয়াউম।
এদিকে তিন সপ্তাহ ধরে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রিয়াদ অফিস সব পেশার প্রবাসী কর্মীর পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিজিট (ভ্রমণ) ভিসা দিচ্ছে। তবে নির্দেশ না পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের জেদ্দা ও দাম্মাম অফিস নতুন এই নিয়ম এখনো চালু করেনি।
আইন শিথিল হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জেদ্দার একজন প্রবাসী কর্মী শাবির আলী জানালেন, ‘দেশে স্ত্রী-সন্তান রেখে আসা আমার মতো হাজারও কর্মীর জন্য এটি একটি বড় সুখবর।’ শাবির জানালেন, কম্পিউটার প্রকৌশলী হলেও বিদ্যুিমস্ত্রি হিসেবে কাজ নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন তিনি। আর পেশার কারণে তিনি পারিবারিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারছিলেন না। দ্য ডন।

ওমরের বাবা ছেলের চরম পন্থা সম্পর্কে আগেই কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন! -মার্কিন বিমান উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা

যাত্রীবাহী মার্কিন বিমান উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার নাইজেরীয় যুবক ওমর ফারুক আবদুল মোতালেবকে (২৩) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিমান ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওমর ফারুকের বাবা আলহাজি ওমারু মোতালেব দাবি করেছেন, তিনি আগেই তাঁর ছেলের এই পরিকল্পনা ও চরম পন্থার কথা মার্কিন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।
ওমারু মোতালেব ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। দেশের রাজনীতিতেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেন, তাঁর ছেলে ধর্মীয়ভাবে প্রচণ্ড গোঁড়া। ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমস-এর কাছে স্বীকার করেছেন, তাঁরা এ রকম তথ্য পেয়েছিলেন। তবে তথ্যের উত্স ছিল অজ্ঞাত এক ব্যক্তি।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও কেন ওমরের নাম ‘নো ফ্লাইং’ তালিকায় ওঠেনি, এ নিয়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এফবিআই প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, ওমর যে তরল বিস্ফোরক ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন তা ছিল শক্তিশালী পিইটিএন। এটা পেন্টাইরিথ্রিটল নামেও পরিচিত। ওমর ওই দিন ৮০ গ্রাম পিইটিএন পলিথিনে মুড়িয়ে অন্তর্বাসে করে বিমানে ওঠেন। ইয়েমেনের আল-কায়েদার বোমা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তিনি ওই বিস্ফোরক সংগ্রহ করেন।
২০০১ সালের ডিসেম্বরে বড়দিনের প্রাক্কালে প্যারিস থেকে মিয়ামিগামী বিমানে জুতার মধ্যে বহন করা বোমা দিয়ে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। ওই ঘটনায় জড়িত ব্রিটিশ নাগরিক রিচার্ড রেইড এখন কারাগারে।
যেভাবে নস্যাত্ হলো হামলা: ডেট্রয়েটের বিমানবন্দরে অবতরণের কয়েক মিনিট আগে ওমর তাঁর কাছে থাকা সিরিঞ্জ বোমা দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেন। যাত্রীদের মধ্যে এক ডাচ পর্যটক জেসপার শুরিঙ্গা (৩২) বিষয়টি টের পেয়েই ওমরকে প্রথমে জাপটে ধরেন। এরপর অন্যরা গিয়ে ওমরকে পাকড়াও করে।
জেসপার একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাও। ওই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বিমানটিতে হঠাত্ প্রচণ্ড শব্দ পেয়ে তিনি ফিরে তাকান। এ সময় তিনি ধোঁয়ার কটু গন্ধ পান। মুহূর্তের মধ্যে তিনি বুঝে যান এটা সন্ত্রাসী হামলা। তত্ক্ষণাত্ তিনি ওমরকে জাপটে ধরেন। বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ওমরকে অবশ্য আক্রমণাত্মক দেখা যায়নি। আটক করার সময়ও তিনি কাউকে বাধা দেননি।
নিরাপত্তা জোরদার: কথিত মার্কিন বিমান উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার ঘটনার খবরে বিশ্বব্যাপী বিমানবন্দরগুলোয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রগামী সব বিমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গত শনিবার বলেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীদের জন্য কিছু নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। যাত্রীদের আপাদমস্তক তল্লাশির পর বিমানে উঠতে দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণের শেষ এক ঘণ্টা যাত্রীদের আসন থেকে না ওঠার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভিসা দেওয়া হয়নি ওমরকে: দ্য সানডে টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, ওমর ২০০৫ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র ছিলেন। সম্প্রতি তিনি লন্ডনে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভিসা দেয়নি। ওমরের লন্ডনে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্তে নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বলেছেন, কথিত ওমরের লন্ডনের অবস্থানকালীন বাসস্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে কাজ করা হচ্ছে।
শুক্রবার নর্থওয়েস্ট এয়ারলাইনসের ওই বিমানটি ১১ জন ক্রু ও ২৭৮ জন যাত্রী নিয়ে নেদারল্যান্ডের আমস্টারডাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে যাচ্ছিল। ডেট্রয়েটে অবতরণের কিছুক্ষণ আগে ওমর বিমানটি বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান।

২৩ জেলায় ফাইবার অ্যাট হোমের লিংক স্থাপন

দেশব্যাপী অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক কমন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ চলছে। কাজটি সম্পন্ন হলে এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মোবাইল ফোন, কেব্ল টিভি অপারেটর ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা জনগণকে আরও কার্যকর সেবা দিতে পারবে। ‘ফাইবার অ্যাট হোম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ কাজ করছে।
গত ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, বগুড়া, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, কুমিল্লা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, ঝিনাইদহ, নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, নরসিংদী, বাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলাসহ বেশ কিছু উপজেলায় প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার এইচডিপিই ডাকট স্থাপন সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে এসব জেলায় দ্রুততার সঙ্গে ফাইবার ব্লো করার কাজ চলছে। এসব স্থানে এসডিএইচ, এমপিএলএসের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি স্থাপন করছে ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড। ১০ জানুয়ারির মধ্যে এ জেলাগুলোয় সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহায়ণ তহবিল ৭০০ কোটি টাকায় উন্নীত

বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহায়ণ খাতে তাদের পুনঃ অর্থায়ন তহবিলে আরও ২০০ কোটি টাকা জোগান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে গতকাল রোববার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহায়ণ খাতে মোট পুনঃ অর্থায়ন তহবিল দাঁড়াল ৭০০ কোটি টাকায়।
সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ইতিপূর্বে ৫০০ কোটি টাকার যে পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছিল, তার প্রায় সবটাই বিতরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, তাদের কাছে গত অক্টোবর পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া পুনঃ অর্থায়ন তহবিলে মাত্র ২২ কোটি টাকা ছিল। নভেম্বর মাসের আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পর পুরো অর্থই বিতরণ হয়ে যাবে, এমনকি কিছু ঘাটতিও দেখা দিতে পারে।
২০০৭ সালের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই তহবিল গঠন করে। কিন্তু প্রথম দিকে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার কিছু শর্তের কারণে গ্রাহক এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারেনি। পরে অবশ্য শর্ত শিথিল করায় ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয় এবং দ্রুত পুনঃ অর্থায়ন তহবিল ব্যবহার হতে থাকে।
উল্লেখ্য, আবাসন খাতে এই স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশন, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় শুধু আবাসিক ব্যবহারের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় অথবা তৈরির জন্য এই ঋণ দেওয়া হয়। অনধিক এক হাজার ২৫০ বর্গফুট অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এই ঋণ প্রযোজ্য হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আবাসন চাহিদা মেটাতে গৃহায়ণ খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিম প্রণয়ন করে ২০০৭ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে। যাদের মোট মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে, তারা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ।

অনশনের হুমকি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আমরণ অনশন ধর্মঘটে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসইসি এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে তাঁদের অনশনে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে গতকাল রোববার শেয়ারবাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক এম এ বাশার। এ সময় জয়নুল আবেদিনসহ ফোরামের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এম এ বাশার বলেন, চলতি মাসের ২০ তারিখে এসইসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ফোরামের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে তাঁরা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে মিউচুয়াল ফান্ডের বিষয়ে উচ্চ আদালতের দেওয়া রায় মেনে নেওয়া এবং আগের মতো ঋণসুবিধা চালু করার যৌক্তিক দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেন। কিন্তু এসইসি এখন এ আশ্বাসের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে উল্টো ১০ বছর মেয়াদপূর্তি মিউচুয়াল ফান্ড অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে কারণে মিউচুয়াল ফান্ডের দাম আরও কমতে শুরু করেছে। এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

ফরিদপুর চিনিকলে ১২ দফা দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান

‘কৃষক বাঁচাও, শিল্প বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে গতকাল রোববার ফরিদপুর চিনিকল আখচাষি কল্যাণ সংস্থা মধুখালী বৈশাখী মেলা মাঠে আখচাষিদের নিয়ে এক সমাবেশের আয়োজন করে। এ ছাড়া তারা প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে।
আখচাষিদের ১২ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই সমাবেশের আয়োজন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সমাবেশে বলা হয়, আগামী ৯ জানুয়ারির মধ্যে এসব দাবি না মানা হলে আখচাষিরা চিনিকলে আখ সরবরাহ বন্ধ করে দেবেন এবং ওই দিন প্রতীকী অনশন পালন করা হবে।
সমাবেশে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলার বিপুলসংখ্যক আখচাষি সমবেত হন। সমাবেশ শেষে ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমল কান্তি সরকার ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১২ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হচ্ছে, আখের মূল্য মণপ্রতি ১০০ টাকায় নির্ধারণ এবং চলতি মাড়াই মৌসুমে প্রতি মণ আখের দাম ৮০ টাকায় কার্যকর, বিগত ২০০৮-০৯ উত্পাদন মৌসুমে আখচাষে ব্যবহূত টিএসপি ও এমওপি সারের জন্য ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া ইত্যাদি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আখচাষি কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আকরাম হোসেন মিয়া। এতে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আখচাষি ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, সহসভাপতি শাজাহান খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান দাউদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু মিয়া, নির্বাহী সদস্য ওহিদুজ্জামান বাবলু, রাজবাড়ীর আখচাষি মো. ইয়াকুব আলী ও গোপালগঞ্জের আখচাষি নিলু সরদার বক্তব্য দেন।

বিশ্বকাপটা কাকার চাই

বিশ্বকাপের পোশাকি মহড়ার টুর্নামেন্টটা জিতেছে তারাই। আসল বিশ্বকাপও কি জিতবে ব্রাজিল?
পোশাকি মহড়ার ওই টুর্নামেন্ট—ফিফা কনফেডারেশনস কাপের সেরা খেলোয়াড় কাকা বলছেন, ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা হাতে তোলার ‘দারুণ সুযোগ’ দেখছেন তিনি।
গত জুনে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসেছিল কনফেডারেশনস কাপের আসর। ফিফার ছয়টি কনফেডারেশনের ছয় দলের সঙ্গে স্বাগতিক আর বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন—এই আট দল মিলে খেলেছিল ওই টুর্নামেন্টে। এই টুর্নামেন্ট দিয়ে স্বাগতিকেরা নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি যাচাই করে নেয়। অংশগ্রহণকারী দলগুলো পায় বিশ্বকাপের কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ।
রিয়াল মাদ্রিদের প্লে-মেকার কাকা বলছেন, আগামী বছর ১১ জুলাই জোহানেসবার্গের ফাইনালে আবারও শিরোপাটি উঁচিয়ে ধরতে তারা উন্মুখ, ‘বিশ্বকাপ অবশ্যই আমাদের মূল লক্ষ্য। ক্লাব পর্যায়ে আমরা যে এত পরিশ্রম করি সেটার ফলাফল আমরা বিশ্বকাপে পেতে চাই। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে চাই, যেন দক্ষিণ আফ্রিকায় আমি আমার সেরা ফর্ম নিয়ে যেতে পারি।’
বিশ্বকাপের সবগুলো আসরে খেলা একমাত্র দল ব্রাজিল এবারও অন্যতম ফেবারিট। কাকা নিজে অবশ্য ইংল্যান্ডের এবারের দলটিকে নিয়ে তাঁর মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন আগে। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনও এবার শিরোপা-খরা ঘুচিয়ে দিতে পারে বলে অনেকের ভবিষ্যদ্বাণী। কাকা অবশ্য মনে করিয়ে দিলেন, শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলাটাই আসল; ফেবারিটের তকমা নয়। কাকা তাই জাতীয় দলের সতীর্থদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রাখার আহ্বান জানালেন, ‘টুর্নামেন্টে অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে। আপনি জিততে পারেন, হারতেও পারেন। কিন্তু আমরা যদি ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে যেতে পারি তাহলে শিরোপা জেতার দারুণ সুযোগ থাকবে আমাদের।’
ইউরোপ-আমেরিকার বাইরে এর আগে যে একবার বিশ্বকাপ হয়েছে অন্য মহাদেশে, সেই এশিয়া থেকে পঞ্চম শিরোপা জিতেছে ব্রাজিল। আর সেই দলের গর্বিত এক সদস্য কাকা। আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম বিশ্বকাপেও তাই কাকার কাছে শিরোপার গন্ধ ভেসে আসতেই পারে।

মাঠ ও পিচ কমিটি বিলুপ্ত

উইকেট-বিতর্কে যথেষ্টই বিব্রত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। কালই তাই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে মাঠ ও পিচ কমিটি। তবে বিসিসিআইয়ের গ্রাউন্ড ও পিচ কমিটি দাবি করতেই পারে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে তাদের। পিচ কমিটির প্রধান দলজিত্ সিং অনেক আগেই একাধিকবার সাবধান করে দিয়েছিলেন, এটা নতুন বানানো উইকেট, থিতু হতে একটু সময় নেবে। তারপরও এখানে চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি এবং অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে হয়েছে। এমন উইকেটে দুই মাসের মধ্যে দুটি ওয়ানডে আয়োজনের দায়টা তো বিসিসিআইয়েরই নেওয়া উচিত!

কোয়াবের দাবি শুনে অবাক গাজী আশরাফ

কোয়াবের প্রস্তাবে বিস্মিত বিসিবি টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান গাজী আশরাফ হোসেন। কোয়াব যতই বলুক বোর্ডের কাছে তারা তাদের দাবির কথা বারবার বলেও সাড়া পায়নি, টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান বলেছেন, ‘কোয়াব তাদের কিছু দাবির কথা জানিয়েছিল গত জাতীয় লিগের আগে। এবার তারা তাদের কোনো ভাবনা বা দাবির কথা আমাদের জানায়নি।’
‘এত বড় একটা আসরের জন্য বাজেটের ব্যাপার আছে, ব্যবস্থাপনার ব্যাপার আছে। লিগ শুরুর চার-পাঁচ দিন আগে হুট করে বললেই তো আর সব বদলে ফেলা যায় না। ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডার তৈরির আগে কেউ আবেদন নিয়ে এলে আমরা আলোচনায় বসতে পারতাম’—বলেছেন গাজী আশরাফ।
কোয়াবের দাবির ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য, ‘শুধু জাতীয় লিগের কথা ভাবলে হবে না, সার্বিক ক্রিকেটের কথা ভাবতে হবে। আমি তো মনে করি, বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেট মিলে এ মৌসুমে আমাদের ক্রিকেটাররা অনেক বেশি দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলবে। সব মিলিয়ে খেলার সংখ্যা কমেনি। আর লিগ পেছালে সেটা পুরো ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচিতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পিসিএলেও অনেক ক্রিকেটারের খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।’
কোয়াবের দাবি জানার পর পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলে কত টাকা পাচ্ছেন, সে খবরও নিয়েছেন টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান, ‘শ্রীলঙ্কায় চার দিনের ম্যাচ ফি বাংলাদেশি টাকায় ১৫ হাজার ৫০০ টাকা করে, তিন দিনের ম্যাচে ৯ হাজার টাকা। কায়েদ-ই আজম ট্রফিতে চার দিনের ম্যাচ খেলে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা পায় ৪ হাজার ১৫০ টাকা করে, সঙ্গে ডিএ আর খাবারের খরচ মিলিয়ে ৬৪৫ টাকা। তাহলে আমরা কম দিচ্ছি কই?’

নয়ন-চয়নের নাও by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

হাঁটুপানি। অনেকে হেঁটেই পার হচ্ছেন। মেয়েরা এবং যাঁরা পায়ের জুতা খুলে পানিতে নামতে চাইছেন না, তাঁদের জন্য আছে নৌকা। নৌকার ওপর উঠে দাঁড়ালেই হাফপ্যান্ট পরা নয়ন, আর ফুল প্যান্ট পরা চয়ন—দুই ভাই পানিতে নেমে নৌকা টেনে ওপারে ভেড়াচ্ছে। একজন গলুইয়ের আগা ধরে টানছে, আরেকজন পিছে ঠেলছে। বড়জনের বয়স বড়জোর ১০ আর ছোটজনের ছয়-সাত। কাজ নেই। স্কুলেও যায় না। শুধু খেলেই বেড়ায়। পাড়ার এক মাতব্বর তাঁর পড়ে থাকা নৌকাখানা দিয়েছেন। তাই নিয়ে দুই ভাই সারা দিন এপার-ওপার করে। মালিককে কিছুই দিতে হয় না। তাই দুই টাকা পারানির পুরোটাই দুই ভাইয়ের।
রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের বুলনপুর এলাকার নিচে পদ্মা নদীর খেয়াঘাটের এই হাঁটুপানিতে দুই ভাইয়ের নৌকা নিয়ে সারা দিনের লুটোপুটি। হাতে ক্যামেরা দেখে ছোট ভাই চয়ন ফোকলা দাঁতে ফিক করে হেসে বলে, ‘আমাদের একটা ছবি তোলেন না!’ জানতে চাই, সারা দিনে কত হয় ওদের। নয়ন নৌকা টানতে টানতে বলে, ‘ওই...হয়।’ বলতে চায় না, মোট কত ওঠে। চয়ন বলে, ‘১০০ টাকার মতো হয়।’ ‘কী করিস এত টাকা?’
নৌকায় ঠেলা দিয়ে দম ছাড়তে ছাড়তে চয়ন বলে, ‘মা কিস্তির লাইগ্যা দৌড়ে বেড়ায়।’ বুঝতে পারি, কিস্তি মানে এনজিও থেকে নেওয়া কিস্তিতে পরিশোধ্য ঋণ। এই টাকা নিয়ে ওরা কি বাড়িঘর বানিয়েছে? ঘাটে নেমে নয়নকে শুধাই, ‘বাবা কী করে রে?’ ‘রিস্কা চালায়।’ ‘নাম কী?’ ‘মাসুম।’ ‘মা কী করে?’ ‘কিছু না।’
এ সময় নৌকা থেকে নামছিলেন বুলনপুরের কৃষক দেলোয়ার হোসেন। আঙুল তুলে দেখালেন, ওই যে ওদের মা রিনা বেগম। দেখি, বাঁধের ওপর থেকে চোখেমুখে উত্কণ্ঠা নিয়ে একজন নারী নেমে আসছেন। বয়স ২৮-৩০ বছর হবে। কাছে এসে নিজের থেকেই জানতে চাইলেন, তাঁর ছেলেদের কিছু হয়েছে কি না। তাঁদের সংসারের খবর নিতে চাইলে ভয় পান। তারপর আস্তে আস্তে বলতে থাকলেন, ছেলের বাবার সঙ্গে মাসখানেক আগে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। ‘সে মাতাল। সারা দিন রিকশা চালিয়ে যা হয়, নিজেই হেরোইন খেয়ে শেষ করে দেয়। বলতে গেলেই বিপত্তি। বাড়িঘর নাই। এখানে বস্তিতে একাই বড় হয়েছে। যাওয়ার জায়গাও নাই।’ রিনা বেগমের গলায় বেশ বড় একটা আঁচড়ের দাগ দেখে মনে হলো, তিনি আত্মহত্যার জন্য গলায় দড়ি দিয়েছিলেন। কোনোভাবে হয়তো বেঁচে গেছেন। কিন্তু না, প্রসঙ্গ তুলতেই রিনা বেগমের মুখটা লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে। তাড়াতাড়ি করে হাত দিয়ে দাগটা আড়াল করার চেষ্টা করেন। বললেন, ‘ওই শুইনেন না। স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার। নয়নের বাপের ঠেকেই একটু লেগেছিল।’ ‘কেন, আপনাদের না ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে?’
বেশ আহ্লাদ ভরা কণ্ঠে এবার রিনা বেগম বলেন, ‘তাও আসে। জোর করে ভাত খেয়ে যায়। না দিতে চাইলেই ঝামেলা করে। সংসারে কোনো খরচও দেয় না।’
কথা বলতে বলতে আমরা বাঁধের ওপরে উঠে আসি। বটগাছের পাশে খোলা জায়গায় একটা ভাতের হাঁড়ি থেকে মাড় গড়িয়ে পড়ছে। দৌড়ে গিয়ে রিনা বেগম হাঁড়ি সামলাতে লাগলেন। পাশেই তিন দিকে ইট দিয়ে ঘেরা ওপরে কয়খান টিনে ছাওয়া একটা ঘর। চৌকিতে একটা বিছানা। রিনা বেগম বললেন, ‘আমিনুল ব্যাপারির ঘর। পড়েই থাকে। আমাদের কাছ থেকে ভাড়া নেয় না। এখানেই থাকি। বাসাবাড়িতে কাজ করি।’
সুযোগ বুঝে কথা তুললাম, ‘বিনা ভাড়ায় থাকেন, তো কিস্তির টাকা তুলে কী করেছেন?’ ‘মিথ্যা কথা বলব না,’ রিনা বেগম গরগর করে বলতে লাগলেন, ‘আমার একটা মেয়ে আছে। নাম টুকটুকি। ১৪ বছর বয়স। বিয়ে দিয়েছি।’
মনে হলো, এনজিও থেকে টাকা তুলে রিনা বেগম মেয়ের বিয়েতে খরচ করেছেন, কিন্তু বললেন অন্য কথা। স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে তাঁর মেয়েটা ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজে গিয়েছিল। ওখান থেকে বান্ধবীদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে রাজবাড়ীতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। এখন হাজতে আছে। ‘এখন আমি মা হয়ে জাবিন চাচ্ছি, ম্যাসটেট জাবিন দিচ্ছে না। মেয়েকে বের করার জন্য গ্রামীণ শক্তি এনজিও থেকে ছয় হাজার টাকা তুলেছিনু। সব খরচ হয়ে যাচ্ছে। মেয়েকে বের করতে পারছি না।’ বলতে বলতে চোখ ভিজে ওঠে তাঁর। ‘মেয়ের ছবি আছে। দেখেন, আমার ছোট মেয়ে, কিচ্ছু বোঝে না।’ ঘরের ভেতর থেকে একটা ছবি বের করে আনলেন রিনা বেগম, কিন্তু ছবিটার অর্ধেক ছেঁড়া। জিজ্ঞেস করার আগেই রিনা বেগম বললেন, জামাই-মেয়ে একসঙ্গে ছবি তুলেছিল। সেদিন রাগ করে জামাই মাঝখান দিয়ে ছিঁড়ে আলাদা করে দিয়ে গেছে। রিনা বেগমকে হালকা করার জন্য বলি, ‘আপনার ভাত তো হয়ে গেছে, আজকেও নয়নের বাবা খেতে আসবে নাকি?’
এবার একগাল হেসে রিনা বেগম হাত তুলে বললেন, ‘ওই দেখেন, নয়নের বাপ নদীতে গোসল করছে। যাইয়ে শুধান খাবে নাকি।’ বলতে বলতে আবার রিনা বেগমের মুখটা লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল। আমাদের পাশেই নয়ন-চয়ন দাঁড়িয়ে ছিল। এই ফাঁকে দেখি, ওরা নৌকা টানতে টানতে আবার ওপারে চলে গেছে। মনে হলো, হায় রে পদ্মা নদী, নয়ন-চয়নের সংসারের মতোই তোমার অবস্থা!

বিএনপি সংসদে যাবে কি যাবে না by সোহরাব হাসান

সরকারি ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ কার্যকর হবে, সেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও আইন পাস হবে—এটাই সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল কথা। অথচ আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো, ক্ষমতায় থাকতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সবকিছু করা, আর বিরোধী দলে গিয়ে সংসদকে পরিত্যক্ত ভাবা। বিএনপির শাসনামলে আওয়ামী লীগ সংসদবিমুখ, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি সংসদবিমুখ।
২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সব দলই সংসদকে রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র করা হবে বলে দেশবাসীর কাছে অঙ্গীকার করেছিল। কীভাবে সংসদ কার্যকর হতে পারে, কীভাবে সরকারি ও বিরোধী দল সংসদে কাজ করতে পারে, তার একটি রূপরেখাও তারা তুলে ধরেছিল। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনই দেশবাসী হোঁচট খেল, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—দুজনকেই সরকারি দল থেকে নেওয়ায়। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পরে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তাও গ্রহণযোগ্য নয়।
তার পরও উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সাংসদদের উপস্থিতি জনমনে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছিল। তারা ভেবেছিল, হয়তো রাজনৈতিক দলগুলো সংসদকে কার্যকর করতে সচেষ্ট হবে; অতীতের বর্জন-সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসবে।
গত এক বছরে তার কোনো লক্ষণ নেই। দেশবাসী গভীর উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠার সঙ্গে প্রত্যক্ষ করল, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং তার দুই সহযোগী জামায়াতে ইসলামী ও বিজেপির সাংসদেরা সামনের সারিতে আসন বাড়ানোর দাবিতে সেই যে অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করলেন, আর ফিরে এলেন না। এরপর সময় যত গড়াতে থাকল, তাঁদের দাবির তালিকাও দীর্ঘ হতে লাগল। আর সে তালিকা বাড়াতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অবদানও কম নয়। যেমন, আইনের খুঁটিনাটি বিষয় যাচাই না করেই খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়তে নোটিশ জারি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারে বৈষম্যমূলক নীতি, বিরোধীদলীয় নেতার নিরাপত্তা বাহিনীর জনবল কমানো, তাঁর সেনানিবাসের বাড়িতে দর্শনার্থীদের যেতে বাধাদান। বিএনপির আমলে সরকারের যেসব গণবিরোধী ও হয়রানিমূলক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে আওয়ামী লীগ, ক্ষমতায় গিয়ে তারাও যদি একই কাজ করে, সেগুলো জনগণ কীভাবে নেবে?
কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই বিএনপি সংসদ বর্জন করে চলেছে। এমনকি ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনেও তারা যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। জাতীয় সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন হলো বাজেট অধিবেশন। এতে বেশির ভাগ সাংসদ বাজেট নিয়ে যেমন আলোচনার সুযোগ পান, তেমনি নিজ এলাকার জনগণের অভাব-অভিযোগও তুলে ধরতে পারেন। যে এলাকাবাসী তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য জনপ্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়েছে, তাদের বঞ্চিত করার অধিকার তাঁদের নেই।
সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি যেসব অভিযোগ এনেছে, সেগুলো সর্বাংশে সত্য হলেও লাগাতার সংসদ বর্জনের কোনো যুক্তি নেই। তাঁরা সংসদেও যাবেন না, আবার এলাকার জনপ্রতিনিধিও থাকবেন—এই স্ববিরোধী নীতি চলতে পারে না। বিএনপির অভিযোগ, সরকার বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। সংসদে বিরোধী দলকে অযথা গালাগাল করা হয়, সরকারি দল বিভিন্ন স্থানে তাদের সভা-সমাবেশ পণ্ড করে দিচ্ছে। এসব অন্যায়ের প্রতিকার চাইতেও বিএনপির সাংসদদের উচিত সংসদে গিয়ে কথা বলা, প্রতিবাদ করা। বর্তমান জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসন খুব কম হলেও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান সাংসদ আছেন। তত্কালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে বিরোধী দলের আসন ছিল আরও কম। তার পরও সরকারের কোনো আইন বা পদক্ষেপকে তারা বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশেও বাহাত্তরে গণপরিষদ মাতিয়ে রেখেছিলেন বিরোধী পক্ষের মাত্র দুজন সাংসদ, ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতা) ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। ঊনআশিতে গঠিত জিয়াউর রহমানের সংসদেও আওয়ামী লীগের ৩৯ জন সাংসদ সরকারি দলকে স্বস্তিতে থাকতে দেননি। আসলে, বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যা নয়, সংসদের প্রতি তাঁদের আস্থা আছে কি না, তার ওপরই সংসদের কার্যকারিতা নির্ভর করে। বিগত দুটি সংসদেই বিরোধীদলীয় নেতার (যথাক্রমে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা) কাছে দলীয় সাংসদেরা পদত্যাগপত্র জমা রেখে দিয়েছিলেন, যাতে কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করতে না পারেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে, অনেকে একে সাংসদদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলেও মনে করেন। কিন্তু বিরোধী দলে থাকতে দলীয় নেতার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে রাখাকে কীভাবে দেখা যায়? প্রথমটি ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হলে, দ্বিতীয়টি দাস্য মনোবৃত্তির পরিচায়ক।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন যত ঘনিয়ে আসছে, সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বাগ্যুদ্ধও তত তীব্র হচ্ছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দেখে নেওয়ার এবং দেখিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না করলে তাঁরা আগামী অধিবেশনে যাবেন না। দলের নতুন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও ভবিষ্যত্ মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করার কথাও বলেছেন। সংসদে না গিয়ে কি সেটি সম্ভব?
প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি সংসদে যাবে কি যাবে না। বিএনপির নেতারা সংসদে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যেসব শর্ত পূরণের কথা বলেছেন, তা আসল দাবি নয় বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন। নানা শর্তের আড়ালে বিএনপি দুটো দাবি নিয়েই এগোচ্ছে। এক. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার; দুই. দেশে ফেরার পর তারেক রহমানকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করা।
তারেক রহমানের ব্যাপারে বিএনপিতে মতদ্বৈধ আগেও ছিল, এখনো আছে। দলের অপেক্ষাকৃত উদারপন্থীরা চেয়েছিলেন, আরও কিছু সময় পর তাঁকে সামনে নিয়ে আসতে। কিন্তু কট্টরপন্থীরা কাউন্সিলের মাধ্যমেই তারেককে বিকল্প নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। সাড়ম্বরে জন্মদিন পালন, পোস্টারে সবার আগে ছবি বসানো, ভিডিও কনফারেন্সে বক্তৃতার আয়োজন—সবই ছিল তাঁর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের অংশ। দলের কট্টরপন্থী অংশ তারেককে কো-চেয়ারম্যান করার প্রস্তাবও দিয়েছিল, অবশ্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার মৃদু আপত্তিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদেই সন্তুষ্ট থাকেন।
৮ ডিসেম্বরের কাউন্সিলের আগে তারেক রহমান ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে নতুন পদে বরণ করায় তাঁর নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব সবাইকে মানতে হবে। এখন তারেকের বিরুদ্ধে মামলা হলে বা দেশে ফিরতে তাঁকে বাধা দেওয়া হলে বিএনপি অনায়াসে তাঁকে আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।
বিএনপির এই রাজনৈতিক চালকে সরকার কীভাবে নেয়, তার ওপরই রাজনীতির গতিবিধি নির্ধারিত হবে। সরকারি দলের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া গেলেও প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তা কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার এক দিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সমাবেশে কারও নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, ‘কোনো দুর্নীতিবাজ ও অর্থ পাচারকারীকে রেহাই দেওয়া হবে না।’ দলের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতিবাজ ও গ্রেনেড-বোমা হামলার হোতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয়ের তুলনা করা চলে না। এই বাগ্যুদ্ধটা রাজপথে স্থানান্তরিত হলে আবার দেশবাসীকে হরতাল ও অবরোধের যুগে ফিরে যেতে হবে।
নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি সংসদের ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে আসছিল। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনী ফলাফলও মানতে চাননি। তবে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা যখন নির্বাচনকে আগের সব নির্বাচনের চেয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে সার্টিফিকেট দিলেন, তখন তিনি অবস্থান বদলাতে বাধ্য হন। তা ছাড়া সে সময় দলের সাংগঠনিক অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে ‘ফলাফল মানি না’ বলে রাজপথ গরম করাও কঠিন ছিল। গত এক বছরে বিএনপি অনেকটাই গুছিয়ে নিতে পেরেছে; বিশেষ করে, ৮ ডিসেম্বরের কাউন্সিল সামনে রেখে তারা তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণে কারাগারে আটক ছিলেন এমন নেতারা বাইরে এসে আন্দোলনের কর্মসূচি নিতে শীর্ষ নেতৃত্বকে চাপ দিচ্ছেন। কথিত সংস্কারপন্থীরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
এ অবস্থায় বিএনপি কী করবে? তারা কি সংসদে গিয়ে সরকারকে আরও কিছুটা সময় দেবে, না এখনই আন্দোলনের প্রস্তুতি নেবে? এ নিয়ে দলের মধ্যে মতভেদ আছে। দলের উদারপন্থী অংশ সরকারকে সময় দেওয়ার পক্ষপাতী। কট্টরপন্থী অংশ কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। তারা ধরেই নিয়েছে, সরকার তাদের দাবি মানবে না, অতএব সংসদেও যাওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে এ মুহূর্তে বিএনপি স্থায়ী বর্জন বা পদত্যাগের চিন্তাও করছে না। সংবিধান অনুযায়ী, একজন সাংসদ একনাগাড়ে ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। সেই ৯০ দিন পূরণ হওয়ার আগেই তাঁরা এক দিন সংসদে হাজিরা দিয়ে নিজেদের সদস্যপদ রক্ষা করবেন।
অর্থাত্ বিএনপি সংসদ কার্যকর করার বদলে নিয়ম রক্ষার নীতি নিয়ে এগোতে চাইছে। তাতে সদস্যপদও বাঁচবে, স্থায়ী বর্জনের অপবাদ থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।
সম্ভবত সেটাই হবে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরে দেশবাসী ও গণতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপির ‘শ্রেষ্ঠ তামাশা’।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net