Friday, December 20, 2013

হাজি মুহম্মদ মুহসীন মৃত্যুর ২০০ বছর পর by অমর সাহা

দানবীর হাজি মুহাম্মদ মুহসীনের মৃত্যুর ২০০ বছর পূর্ণ হলো গত নভেম্বরে। এ নিয়ে তাঁর জন্মস্থানে ছিল নানা অনুষ্ঠান। এই মানবহিতৈষীর জন্মভিটা ঘুরে তাঁর কথা স্মরণ করলেন প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি অমর সাহা
এখনো তিনি মানুষের হূদয়ে জাগ্রত—সেই হুগলী থেকে গোটা পশ্চিমবঙ্গ ছাড়িয়ে সুদূর বাংলাদেশেও। তিনি হাজি মুহম্মদ মুহসীন। মৃত্যুর ২০০ বছর পরও এতটুকু ম্লান হয়নি তাঁর স্মৃতি, কীর্তিগাথা। আজও তিনি দানবীর হিসেবে অমর, প্রাতঃস্মরণীয়।

ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে আসছি দানবীর হাজি মুহম্মদ মুহসীনের কথা। আজ সেই তিনি নেই। এই তো সেদিন, ২৯ নভেম্বর চলে গেল এই মহান পুরুষের মৃত্যুদিন। হুগলীর ইমামবাড়াসহ সর্বত্র দিনটি পালিত হলেও কলকাতায় ছিল না কোনো আয়োজন। হুগলীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২০০ বছর পূর্ণ হওয়া এই মৃত্যুদিবসকে ঘিরে তিন দিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে কলকাতা ও ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন বহু খ্যাতিমান বিশিষ্টজন।

হাজি মুহসীন জন্মেছিলেন ১৭৩২ সালের ১ আগস্ট। তাঁর পিতা হাজি ফয়জুল্লাহ। জানা যায়, তাঁর পূর্বপুরুষেরা এসেছিলেন সুদূর ইরান বা পারস্য থেকে। তবে তাঁদের আদি বাস ছিল আরবে।

দিল্লির মসনদে তখন মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব। সম্রাটের বিচারালয়ের সম্মানিত সদস্য ছিলেন আগা মোতাহার। আওরঙ্গজেব আগা মোতাহারের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যশোর, হুগলী, নদীয়া ও ২৪ পরগনা জেলার প্রচুর জমি তাঁকে জায়গীর দেন। এরপরে আগা মোতাহার হুগলীতে বসবাস শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে ছিল স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে মন্নুজান। তবে কিছুদিন পর মারা যান আগা মোতাহার। পরে আগা মোতাহারের বিধবা স্ত্রীকে বিয়ে করেন মুহসীনের বাবা হাজি ফয়জুল্লাহ। মন্নুজান হয়ে যান মুহসীনের বোন। তাঁদের বাবা-মা মারা গেলে ভাইবোন হয়ে পড়েন অভিভাবকহীন। বিশাল সম্পত্তির মালিক হন মন্নুজান। একসময় তিনি বিয়ে করেন আগা সালাউদ্দিনকে, যিনি কর্মসূত্রে সে সময় ইরান থেকে এসে হুগলীতে বাস গেড়েছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসন্তান মন্নুজান তাঁর সম্পত্তি মুহসীনকে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু এতে রাজি হননি মুহসীন।

অবশেষে মন্নুজান ১৮০২ সালে সমুদয় সম্পত্তি লন্ডনের সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে মুহসীনকে দান করেন। পরে মুহসীন ১৮০৬ সালের ২০ এপ্রিল হুগলীতে এক অছিয়তনামা রেজিস্ট্রি করেন। তাতে মেধাবী ছাত্রছাত্রীসহ মুসলিম সমাজের উন্নয়নের জন্য তাঁর সম্পত্তি থেকে আয়ের অর্থ ব্যয় করার কথা বলেন। আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু বইয়ে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক তথ্য দিয়েছেন, ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও নাকি মুহসীন ফান্ড থেকে ছাত্রবৃত্তি পেয়েছিলেন।

মুহসীন ট্রাস্টের অন্যতম এক কর্মকর্তা হুগলীর বাসিন্দা মীর্জা মহম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, হুগলীর ঐতিহাসিক ইমামবাড়া যেখানে অবস্থিত, তার মাঝখানে ওজুর জন্য যে জলাশয় তৈরি করা হয়েছে, সেখানেই ছিল মুহসীনের প্রথম ছোট্ট ইমামবাড়া। এখানেই একসময় থাকতেন তিনি। মুহসীনের মৃত্যুর পর তাঁর অগাধ অর্থ থেকে তৈরি হয়েছিল ৪২ বিঘা জমির ওপর এই ইমামবাড়া।

তিনি আরও জানান, এর সামনের দুটি চূড়ার উচ্চতা ১৫০ ফুট। ইমামবাড়া নির্মাণ শুরু হয় ১৮৪১ সালে। তখন খরচ হয় আট লাখ ৫০ হাজার টাকা। এটির নকশা সংগ্রহ ও নির্মাণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মাওলানা সৈয়দ কেরামত আলি—ভারতের উত্তর প্রদেশের জৈনপুরের বাসিন্দা। তিনি ইরানের কাজমাইন থেকে এই ইমামবাড়ার নকশা আনেন। এই ইমামবাড়ায় রয়েছে সুন্দর একটি মসজিদ। মসজিদের গাত্রে লেখা আছে কোরআনের আয়াত। এ ছাড়া রয়েছে আরবি, উর্দু ও পারসি শেখার বিদ্যালয়—নাম ’হাওজা-ই-ইলমিয়া’।

এই ইমামবাড়ার পেছনে হুগলী নদীর তীরে রয়েছে একটি সূর্যঘড়ি। এই সূর্যঘড়ির ওপর পড়া সূর্যের আলোর ছায়া থেকে বোঝা যেত সময়।

আর ইমামবাড়ার সামনের দুটি বিশালকায় চূড়ার মাঝে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক ঘড়ি। এই চূড়ায় উঠতে ১৫২টি সিঁড়ি পার হতে হয়। ঘড়িটি লন্ডনের বাকেন্ড মারি কোম্পানির বিগবেন ঘড়ি। পৃথিবীতে এখন এই ধরনের আরও একটি ঘড়ি রয়েছে লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদে। ইমামবাড়ার ঘড়িটি কেনা হয় ১৮৫২ সালে ১১ হাজার ৭২১ টাকায়। সেদিন এটি মহারানি ভিক্টোরিয়া দান করতে চাইলেও তা গ্রহণ করেনি ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষ। এই ঘড়িতে আছে বিশালকায় তিনটি পিতলের ঘণ্টা—৮০, ৪০ ও ৩০ মণ ওজনের। এর চাবির ওজন ২০ কেজি। সপ্তাহে এক দিন ঘড়িতে চাবি দিতে হয়। চাবি দিতে লাগে দুজন।

হাজি মুহম্মদ মুহসীনের কত সম্পত্তি ছিল বা এখন আছে তার সঠিক হিসাব কেউ দিতে পারেননি। হুগলীর বাসিন্দা শেখ লুৎফর রহমানের মতে, মুহসীন এস্টেটের অধিকাংশ সম্পত্তি ছিল বাংলাদেশের যশোর ও খুলনায়। এর পরিমাণ এক হাজার ৮০০ একরের মতো। তখন যশোর ও খুলনার মুহসীন এস্টেট থেকেই ৬৫ হাজার টাকার কর আসত। আর গোটা মুহসীন এস্টেট থেকে আয় হতো এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়েই রক্ষণাবেক্ষণ হতো মুহসীন এস্টেট, বিশেষত ইমামবাড়া ও মুহসীনদের পারিবারিক কবরস্থান। লুৎফর রহমান আরও জানান, যশোর ও খুলনা বাদে হুগলীর চুঁচুরা, হাজিনগর, নদীয়ার কল্যাণী, মুর্শিদাবাদ, কলকাতার খিদিরপুর এবং পদ্মপুকুরেও রয়েছে মুহসীনের অন্তত এক হাজার ৪০০ একর সম্পত্তি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কেবল হুগলীতেই রয়েছে ১২ হাজার বিঘা সম্পত্তি। তবে এ বিপুল সম্পত্তির অধিকাংশই এখন বেহাত।

মুহসীন এস্টেটের আয় থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হুগলী মুহসীন কলেজ, হুগলী মাদ্রাসা এবং হুগলীর জেলা হাসপাতাল ‘ইমামবাড়া সদর হাসপাতাল’। আর এই আয় থেকে এখনো দুস্থ ও মুসলিম কৃতী ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হয় বৃত্তি। এ বছরও ২০ হাজার রুপি করে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে ১০৬ জন ছাত্রছাত্রীকে।

ইমামবাড়ার একটু দূরেই মুহসীনের পারিবারিক কবরস্থান। এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন হাজি মুহম্মদ মুহসীন, মন্নুজান খানম, মুহসীনের মা জয়নাব বেগম, ভগ্নিপতি আগা সালাউদ্দিন, বাবা হাজি ফয়জুল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার আগা মোতাহার।

স্থানীয় মানুষজন চাইছেন, এই ইমামবাড়াকে সংস্কার করে টিকিয়ে রাখা হোক মুহসীনের স্মৃতিকে। এখানে গড়া হোক একটি পর্যটন কেন্দ্র। এ জন্য এখন প্রাথমিক পর্যায়ের কাজও শুরু হয়েছে।

নাগরিক ভাবনা- নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠর কথা by হোসেন জিল্লুর রহমান

বাংলাদেশের মধ্যমপন্থী, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মভীরু, পরিশ্রমী, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইনসাফ-প্রত্যাশী নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ তথা ‘সাইলেন্ট মেজরিটি’ আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতায় উপনীত।

অপারেশন সাকসেসফুল কিন্তু রোগী মারা গেছে by মাহফুজ আনাম

সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারণাটি খুবই ইতিবাচক, কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান এমন একজনকে হতে হবে, যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সবার কাছে।

পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইইউ

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে কোন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউ হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ক্যাথরিন অ্যাস্টনের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেছেন হাই রিপ্রেজেনটিটিভ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে, সম্প্রতি জাতিসংঘের উদ্যোগসহ বেশ কয়েকদফা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈনিক শক্তিগুলো সেখানে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরী করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে হাই রিপ্রেজেনটিটিভ সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করে বাংলাদেশের জনগনের গনতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বিবৃতিতিতে বলা হয়েছে হাই রিপ্রেজেনটিটিভ আপাতত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সব ধরনের প্রস্তুতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সুষ্ঠ, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি হলে ইইউ পর্যবেক্ষণ পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য- নিষিদ্ধ ওষুধের শিকার আমরা by ড. আবুল হাসনাত ও মো. মোমিনুর রহমান

ওষুধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন-মরণ সম্পর্ক। এ কারণে ওষুধের প্রতি মানুষের দুর্বলতা অপরিসীম। ১৯৮২ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ওষুধশিল্পের বিপ্লব শুরু হয়।

অরক্ষিত নাগরিক জীবন by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

শোনা ঘটনা আর বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে ফারাক মেলা। হরতাল-অবরোধে অবরুদ্ধ জীবনের কথা অনেক শুনেছি।

হৃতিক-সুজান বিচ্ছেদের নেপথ্যে

চার বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন হৃতিক রোশন ও সুজান রোশন।
সবকিছু ঠিক থাকলে আজ তাঁদের বিয়ের ১৩ বছর পূর্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৩তম বিয়ে বার্ষিকীর ঠিক এক সপ্তাহ আগে ১৩ ডিসেম্বর হৃতিক জানালেন, তিনি ও সুজান বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। তবে কি ১৩ সংখ্যাটিই কাল হয়ে দাঁড়াল হৃতিক-সুজানের  সুখী দাম্পত্য জীবনে! বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানালেও, এর পেছনের কারণ সম্পর্কে হৃতিক কিংবা সুজান কেউই স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। কিন্তু এত বড় ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটন না করে কী বসে থাকতে পারেন সংবাদকর্মীরা! সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে হৃতিক-সুজান বিচ্ছেদের নেপথ্যে সম্ভাব্য কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছে ওয়ান ইন্ডিয়া।

২০০০ সালের জানুয়ারি মাসে ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে সফল অভিষেক হয় হূতিকের। একই বছরের ডিসেম্বরে সুজানকে ভালোবেসে বিয়ে করেন তিনি। বছরের পর বছর ধরে বলিউডের অন্যতম সফল ও সুখী দম্পতি হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে তাঁদের নাম। হৃতিক-সুজান দাম্পত্যে প্রথম অশান্তির ঢেউ ওঠে ২০১০ সালে। সে বছর মুক্তি পাওয়া ‘কাইটস’ ছবিতে সহ-অভিনেত্রী মেক্সিকান মডেল ও অভিনেত্রী বারবারা মোরির সঙ্গে হূতিকের সখ্যের খবর চাউর হলে দূরত্ব তৈরি হয় হৃতিক ও সুজানের মধ্যে। ধারণা করা হচ্ছে, হৃতিক-বারবারা সখ্যের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবেই বিচ্ছেদের মতো কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন সুজান।

অবশ্য বারবারার সঙ্গে সখ্যের আগে কারিনা কাপুরের সঙ্গেও হূতিকের প্রেমের গুজব চাউর হয়েছিল। ২০০১ সালের ২৭ জুলাই মুক্তি পাওয়া ‘ইয়াদে’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে বিবাহিত হূতিকের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন কারিনা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, প্রায় এক বছর হূতিকের প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন কারিনা। কিন্তু বিবাহিত হওয়ায় কারিনার প্রেমে সাড়া দেননি হৃতিক রোশন।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায় প্রেম কি দিওয়ানি হুঁ’ ছবিতে সর্বশেষ একসঙ্গে অভিনয় করেন হৃতিক-কারিনা। যথেষ্ট দর্শক চাহিদা থাকার পরও আর কোনো ছবিতেই এই জুটিকে চুক্তিবদ্ধ করাতে পারেননি কোনো নির্মাতা। দীর্ঘ ১০ বছর পর সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন প্রভাবশালী নির্মাতা করণ জোহর। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ‘শুদ্ধি’ ছবিতে হৃতিক-কারিনা জুটির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন করণ। তবে এখন কারিনার পরিবর্তে ছবিটিতে দীপিকাকে নেওয়ার চেষ্টা করছেন করণ জোহর।

বেশ কিছুদিন ধরেই হৃতিক-সুজান বিচ্ছেদের গুঞ্জন চলছিল। শুরুতে অস্বীকার করলেও চলতি মাসের ১৩ তারিখে বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করেন হৃতিক। এরপর রোশন পরিবারের কাছের একটি সূত্র জানায়, চার মাস ধরে রোশন পরিবার থেকে দূরে আছেন সুজান। তিনি পেশায় একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। সম্প্রতি তিনি নিজের একটি বুটিক হাউস খুলেছেন। বুটিক হাউসের কাছেই মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকায় দুই ছেলে রিহান ও রিদানকে নিয়ে আলাদা বাসায় থাকছেন সুজান। এদিকে হৃতিক ও সুজানের বিচ্ছেদের পেছনে বলিউডের অভিনেতা অর্জুন রামপালের হাত রয়েছে বলে খবর চাউর হয়েছে। অবশ্য বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন অর্জুন।

এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘হৃতিক ও সুজান দুজনই আমার খুব কাছের বন্ধু। কাছের কেউ যখন বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন এমনিতেই মনটা অনেক খারাপ হয়ে যায়। এই মুহূর্তে জীবনের কঠিনতম সময় পার করছে হৃতিক ও সুজান। এ অবস্থায় অযথা ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানোর কোনো মানে হয় না। তাঁদের বিচ্ছেদে আমার সম্পৃক্ততা নিয়ে আজেবাজে কেচ্ছা-কাহিনি রটানো হচ্ছে। এটা আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে। হৃতিক-সুজানের এই কঠিন সময়ে আমি ও আমার স্ত্রী মেহের সব রকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই। বরাবরের মতো এখনো আমরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছি।’ এদিকে অর্জুনের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সুজানও। তিনি বলেছেন, ‘হৃতিক ও আমার খুবই কাছের একজন বন্ধু অর্জুন। আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন অনেক বেশি দৃঢ়। অযথাই কাউকে দোষারোপ করার বিষয়টি একদমই অনুচিত একটি কাজ।’

 বিচ্ছেদের কারণ জানতে চাইলে সুজানের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই অনেক কিছু ঘটে যায়। পরিস্থিতিই মানুষকে বাধ্য করে অপ্রত্যাশিত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে আমি স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাই না। কারণ আমি নিজেও একজন মা ও মেয়ে।’ হৃতিক-সুজানের বিচ্ছেদ নিয়ে সুজানের বাবা প্রখ্যাত অভিনেতা সঞ্জয় খানের মন্তব্য, ‘আর দশজন সাধারণ দম্পতির মতো হৃতিক-সুজানেরও ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা ছিল। হৃতিক সুপারস্টার বলে তার কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা থাকবে না, তা তো নয়। তারা দুজনই বুদ্ধিমান এবং চমত্কার ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাদের বিচার-বিবেচনায় যা ঠিক মনে হয়েছে, সেটাই তারা করেছে।’

গণতন্ত্রের সংকট-২- পাকিস্তান-ভারত ও শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা by আলী রীয়াজ

সংসদীয় নির্বাচনে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভের জন্য যেকোনো রাজনৈতিক দল চেষ্টা করবে, সেটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যেকোনো দলেরই নেতৃত্ব চাইবেন তাঁর দলের প্রতি ভোটারদের নিরঙ্কুশ সমর্থন।

জীবন বাঁচানো নায়কেরা by আলম পলাশ

গত ২৭ নভেম্বর, বুধবার। ভোর চারটা ৫০ মিনিট। জমজমাট চাঁদপুর স্টেশন। তার আগের দিন থেকে শুরু হওয়া অবরোধের ছোঁয়া সেখানে নেই বললেই চলে। ঠিক আর ১০ মিনিট পরে স্টেশন ত্যাগ করবে মেঘনা এক্সপ্রেস। গন্তব্য চট্টগ্রাম।

হাজি মুহম্মদ মুহসীন মৃত্যুর ২০০ বছর পর by অমর সাহা

দানবীর হাজি মুহাম্মদ মুহসীনের মৃত্যুর ২০০ বছর পূর্ণ হলো গত নভেম্বরে। এ নিয়ে তাঁর জন্মস্থানে ছিল নানা অনুষ্ঠান। এই মানবহিতৈষীর জন্মভিটা ঘুরে তাঁর কথা স্মরণ করলেন প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি অমর সাহা

দল জিতবে, দেশ হারবে by সাযযাদ কাদির

য়াআআ
সেকালের এক মহাজন লিখেছেন, চলার পথে যত কুকুর ঘেউ ঘেউ করে তাদের সবাইকে ঢিল ছুড়ে তাড়াতে গেলে আর গন্তব্যে পৌঁছনো যায় না।

দেশ ও সময়ের দাবি উন্মুক্ত গণতন্ত্র by মিলন মিয়াজী

এ দেশে নেতা-নেত্রীরা বহু বিশেষণে বিশিষ্টতা পান, পরে কালের পরিক্রমায় তারাই প্রমাণ করেন সবই ভুল। শ্রদ্ধেয় জনৈক নেতাও বলেই ফেললেন, আমার চারদিকে চাটুকার দল, তিনি অবশ্য চাটুকার হতে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন বলে মনে হয় না।
করলে উত্তরোত্তর এ ধরনের চরিত্রের লোক বৃদ্ধি পেতো না। চাটুকারা যতই বলুক অমুক আদর্শের সৈনিক, তমুক আদর্শের সৈনিক যতই বলুক না কিন্তু আদর্শের ধরন কি? তা কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন দেশ ও জনগণের কল্যাণে তার রূপরেখা সম্পর্কে তারা কিছু জানেন বলে আমার মনে হয় না। এগুলো নিতান্তই চটুল কথা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা জানি, কোন আদর্শ বাস্তবায়ন করতে সমমনা লক্ষ লোকের দরকার জনগণের কাছে সে আদর্শের বাণী পৌঁছাতে। আদর্শগত দ্বন্দ্ব নয়, শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে, অত্যাধুনিক মিডিয়ার যুগে এত লোকের দরকার কি? এ অবস্থায় সুন্দর সমাধান দিতে পারে উন্মুক্ত গণতন্ত্র। কারণ, এখানে সরকার পরিচালনায় এবং সমগ্র দেশ উপস্থাপনায় সর্বমোট ৩৬১ জনবল প্রয়োজন। এই তো গেল মহান বিজয় দিবস। কেউ কেউ তার প্রতিষ্ঠান কাগজের জাতীয় পতাকা দ্বারা সাজালো ভাল দেশপ্রেমিক। কিন্তু আজ ওই সব কাগজের পতাকা ধুলায় গড়াগড়ি খায়। দেশপ্রেমিক বোঝানোর এ ধরনের চেষ্টার সঙ্গে জড়িত অনেকেই সরাসরি রাজনৈতিক দলের সদস্য। এদের অজ্ঞতা এত বেশি জাতীয় পতাকার মর্যাদা সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নয় কিন্তু উন্মুক্ত গণতন্ত্রে এ ধরনের লোকের অস্তিত্ব নেই। কারণ, এ ক্ষেত্রে প্যানেলগুলো সাজবে বিবেকবান জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য করে। এরা জানে কাকে কতটুকু মর্যাদা দেয়া উচিত। এই জাতি বিবেকবান, একটি বাস্তবতা থেকে তা সহজেই বোঝা যায়, মরহুম জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পরিবেশ পরিস্থিতি কিছুটা বুঝি। তার ক্ষমতা আহরণে খুব স্বচ্ছতা না থাকলেও তিনি নিজেকে ভাল শাসক ও সাধু হিসেবে পরিচয় দিতে পেরেছিলেন। এ জাতি এর প্রতিদান দিয়েছিলেন ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার ছাত্রদল-নির্ভর দলকে জয়ী করে। বর্তমানে জনগণ ভাল ব্যক্তি এবং দল খুঁজে পাচ্ছেন না, তাই তারা অসহায়, বরং তারা বিরক্তি অনুভব করছেন তাদের জড়িয়ে নেতাদের মিথ্যা কথা বলার জন্য। কিন্তু উন্মুক্ত গণতন্ত্রে এ অবস্থা হবে না, এখানে দেশবরেণ্য সন্তানরা দেশ পরিচালনায় আসতে চাইবেন শুধুমাত্র সম্মানের জন্য। এ দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর রীতিনীতি অনুসারে সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক পরিবার। তাদের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা কতটা আছে আমি জানি না, তবে বছরের পর বছর আছেন তা দেখি। কিন্তু উন্মুক্ত গণতন্ত্রে সে সুযোগ নেই। ১০টি প্যানেলে ১০ক্ম৫০=৫০০ জন প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩টি প্যানেল সবচেয়ে কম ভোট পাবে ওই প্যানেল তিনটি পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, এতে কমপক্ষে ১৫০ জন নতুন প্রতিযোগী আসবেন পরবর্তী নির্বাচনে। এ ছাড়াও দেশের সম্মানিত সন্তান তিনবারের বেশি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না এবং দু’বারের বেশি দেশ পরিচালনায় থাকতে পারবেন না। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেতা সৃষ্টি হবে। এবার দুর্নীতিতে আমরা ১৬তম অর্থাৎ দুর্নীতির রিকটার স্কেলে আমরা বিশ্বের বুকে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবেই রয়ে গেলাম। এ দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না। এরা নিজের দোষ, ভুল অকপটে স্বীকার করার সাহস রাখে এবং নিজের অন্যায়কারী সন্তানের বিচার করার ক্ষমতা রাখে। সুতরাং ২০ ভাগ লোকের যাদের বেশির ভাগই শিক্ষিত, তাদের দুর্নীতির দায়ভার তারা নেবে কেন?

এ দেশে মোটামুটিভাবে তিন ধরনের লোক দুর্নীতিগ্রস্ত
(১) চাকরিজীবী দুর্নীতিবাজ- এরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হয়ে চাকরি নিচ্ছে। সুতরাং তাদের মেধা আছে, মূলধন নেই। একই ভাবে বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিই মূলধন।
(২) ব্যবসায়ী দুর্নীতিবাজ- এরা কিছুটা মেধা ও মূলধন খাটান। অনেক সময় ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ আছেন, তাদের বেলায় দেখতে হবে তারা রাজনীতি হতে কোন ফায়দা নেন কিনা।
(৩) রাজনৈতিক দুর্নীতিবাজ (বেশির ভাগ)। এরা রাজনীতির প্রমোশন পেতে কোন মেধা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এমন কোন প্রমাণ নেই এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মূলধন খাটিয়েছে প্রমাণ মিলে না। উপরের দু’টি এককভাবে দুর্নীতি করেন, নিচেরটি দল বেঁধে দুর্নীতি করেন। এটা আমার কথা নয়, তাদেরই কথা।
রাজনৈতিক দুর্নীতি যতটা কমবে দেশের মোট দুর্নীতি ততটাই কমবে। সুতরাং দেশ ও সময়ের দাবি উন্মুক্ত গণতন্ত্র।

গণতন্ত্রের সংকট-১- দুই-তৃতীয়াংশের শাসন কি অভিশাপ? by আলী রীয়াজ

সংসদীয় ব্যবস্থায় যেকোনো প্রধান রাজনৈতিক দলই চাইবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হতে, যাতে ওই দল দেশ শাসন করতে পারে।

গণতন্ত্র ও রাজনীতির কূটনীতি by আলী ইদ্‌রিস

রাজনীতির মারপ্যাঁচ বা রাজনীতির কূটনীতি যে কত জটিল ও দুর্জ্ঞেয় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন জোট তা প্রমাণ করে দিয়েছে।

চলে গেলেন জোহরা তাজউদ্দীন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সহধর্মিণী সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন (৮১) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জোহরা তাজউদ্দীনের মেয়ে মাহজাবীন আহম্মেদ প্রথম আলো ডটকমকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর মরদেহ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।  সেখানে বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর দলীয় সভানেত্রী হিসেবে তিনি জোহরা তাজউদ্দীনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমুসহ দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাদ মাগরিব সেখানে জোহরা তাজউদ্দীনের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোহরা তাজউদ্দীনের মরদেহ দেখতে ইউনাইটেড হাসপাতালে যান। আরও যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ এবং দলের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ায় গত ২২ নভেম্বর সকালে জোহরা তাজউদ্দীনকে চিকিত্সার জন্য দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাঁকে ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর অবস্থার আবার অবনতি হতে থাকে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম প্রথম আলো ডটকমকে জানান, বিকেল পাঁচটায় জোহরা তাজউদ্দীনের দ্বিতীয় জানাজা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর লাশ ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। রোববার বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

১৯৩২ সালের ২৪ ডিসেম্বর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের জন্ম। উদার সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। অধ্যাপক বাবার সান্নিধ্যে কিশোর বয়স থেকেই সমাজকর্মের প্রতি মনোনিবেশ ছিল তাঁর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা।

মহিলা পরিষদের সহসভানেত্রী জোহরা নারী মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ষাটের দশকের আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালের গঠিত রাজবন্দী সাহায্য কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন জোহরা। এই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আতাউর রহমান খান। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ দিন আফ্রো-এশীয় গণসংহতি পরিষদের সহসভানেত্রী ছিলেন জোহরা। তিনি এই পরিষদের বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান।

বিএনপি ‘টোপ’ গিললে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো

সমঝোতা হলে দশম সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেয়ার বক্তব্যকে ‘টোপ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ড. একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, বিরোধী দল এ টোপ গ্রহণ করবে না। যদি করে তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো। বিকালে জাতীয় পার্টির একাংশের সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাজী জাফর আহমেদকে চেয়ারম্যান ও গোলাম মসিহকে মহাসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। সরকারের নির্বাচন আয়োজনের সমালোচনা করে বি চৌধুরী বলেন, ১৫৪ সিটে ভোট দেয়ার অধিকার নেই। এটি কোন ধরনের নির্বাচন। এ ধরনের নির্বাচন মানুষ চায় না। তিনি বলেন, এমন কোন রাজনৈতিক নজির নেই যে কোন দেশের সরকার বিরোধী দলের একটি কথাও শুনেনা। আর যারা বিরোধী দলের একটি কথাও মানে না তারাতো গণতন্ত্রও মানে না। যদিও প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের ভাষা বুঝেন না। অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, রক্তে মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। যে কোন জিনিসের জন্ম রক্ত ছাড়া হয় না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে হাসপাতালে আটকে রাখার সমালোচনা করে বলেন, এতে সেনা বাহিনীরও বদনাম হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী জাফর আহমেদ বলেন, জাতীয় পার্টি গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে শরিক হবে। বিরোধী জোটের আন্দোলনে শরিক হওয়ার বিষয়ে শিগগির দলের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।

ক্ষমা চাইবে না যুক্তরাষ্ট্র, মামলাও চলবে

ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসবে না যুক্তরাষ্ট্র।
এই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে ভারতের আহ্বান প্রত্যাখান করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমন কি এ ব্যাপারে দেশটির পক্ষ থেকে ক্ষমাও চাওয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ বলেন, আমার এ ধরনের অভিযোগ খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়ে থাকি। প্রতিবছর প্রতিটি দেশের কূটনীতিক যারা এখানে অবস্থান করছে তাদের আমরা খুব পরিষ্কারভাবে কূটনৈতিকবার্তায় জানিয়ে দেই, কাজ করার জন্য যাদের তারা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। আর এই বিধিনিষেধগুলো আমরা খুব পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দেই যে, এসব বিষয় মানা না হলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারি।

বরাবরের মতো...

দক্ষিণ ভারতের অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন সেক্সসিম্বল অভিনেত্রী চার্মি কউর। দীর্ঘ সময় সেখানকার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে নিয়মিত কাজ করে চলেছেন তিনি।

জাতীয় পার্টি নির্বাচনে নেই: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভাই ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জি এম কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে নেই। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই।

আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরার নিজ বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জি এম কাদের এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কিছু নেতার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা জাপার মন্ত্রীদের নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্যের বিষয়ে জাপার অবস্থান তুলে ধরা হয়।

জি এম কাদের বলেন, ‘আমাদের দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। যেহেতু তিনি সরাসরি কথা বলতে পারছেন না, সেহেতু তাঁর নির্দেশনা জাপার মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ও আমি জানাই। তাঁর (এরশাদের) নাম করে কেউ কিছু বললে, তা তাঁর নামে হবে না। তিনি নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছেন।’

জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা নির্বাচন না করার জন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলাম। কিন্তু তা টেকনিক্যাল কারণ দেখিয়ে গ্রহণ করা হয়নি। এর পরও আমরা নির্বাচনে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি মন্ত্রী নেই। গাড়ি, বাড়িতে পতাকা ব্যবহার করি না। সুযোগ-সুবিধাও নেই না। এখন সরকারের দায়িত্ব গেজেট প্রকাশ করা।’

সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার ২০ মিনিট পর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একটি মিছিল জি এম কাদেরের বাসায় সামনে যায়। তারা ওই বাড়ির ফটকে দাঁড়িয়ে ‘পাকিস্তানের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘দালালদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠর কথা

বাংলাদেশের মধ্যমপন্থী, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মভীরু, পরিশ্রমী, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইনসাফ-প্রত্যাশী নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ তথা ‘সাইলেন্ট মেজরিটি’ আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতায় উপনীত। সারা বছর ধরে নির্বাচনী অনিশ্চয়তা-সৃষ্ট সংকটের উত্তাপে ধরাশায়ী হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু, নারী, ছাত্র, তরুণ, উদ্যোক্তা, গৃহিণী, গ্রামের মানুষ, শহরের মানুষ, সফরে আসা মানুষসহ সব শ্রেণী-পেশার জনগণ। সর্বব্যাপী এই ক্ষতি, দুশ্চিন্তা ও আহাজারি গুমরে গুমরে সারা বাংলাদেশকে উদ্বেলিত করলেও সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ স্পর্শ করতে পারেনি। বরং নীতিবিবর্জিত রাজনৈতিক পাশা খেলার সর্বশেষ চালে ‘সাইলেন্ট মেজরিটি’র ভোটাধিকার হরণের আয়োজনও চূড়ান্ত। আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত’ হওয়ার হিড়িকে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক অধ্যায়ে প্রত্যাবর্তনের এই ন্যূনতম অর্জন তথা ভোটাধিকারও আজ কার্যত অনুপস্থিত হয়ে গেছে। অবস্থা এমন যেন মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত এই দেশে সাধারণ মানুষ আজ অপাঙেক্তয়, অপ্রাসঙ্গিক ও মূল্যহীন। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণকে নিজ দেশেই রাজনৈতিক নির্বাসন দেওয়ার এই আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে ‘গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেই। এই পরিণতি ও এই অবস্থা কি মেনে নেওয়া যায়? নির্বাচনী অনিশ্চয়তা সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ হলেও বর্তমান সংকটের জন্ম একটি গভীরতর শাসন সংকট থেকে।
গত ১৩ ডিসেম্বর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত নাগরিক আলোচনায় অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ যথার্থই বলেছিলেন, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের উৎখাত হয়েছিল বটে কিন্তু পরবর্তী দুই দশকেরও বেশি গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সময়কালে এক অভিন্ন একনায়কতান্ত্রিক শাসন দর্শনেরই সাধনা লক্ষ করে গেছে। ধাপে ধাপে এক অসম্ভব ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রিত্বের উদ্ভব হয়েছে, যেখানে স্বৈরতন্ত্রের মতো ‘আমি’র প্রাধান্যই নিরঙ্কুশ ও যার অবশ্যম্ভাবী অনুষঙ্গ হয়েছে অনিয়ম, দুর্নীতি, রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্রমবর্ধমান অগণতান্ত্রিক ব্যবহার ও মেধার সর্বব্যাপী অবমূল্যায়ন। যেখানে নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠের সরব উদ্যোগে তিলে তিলে ভঙ্গুর অর্থনীতি চার দশকে এক ঈর্ষণীয় সবলতায় উপনীত হয়েছে, সেখানে অপরিণামদর্শী নেতৃত্ব সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তির উজ্জ্বলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছেন। সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, আজ কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকেও নানা ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের আশঙ্কা আর তাত্ত্বিক পর্যায়ে নেই। একনায়কতান্ত্রিক শাসন দর্শনের সর্বশেষ পরিণতি আজ আমরা দেখছি প্রাসাদ ভাগ-বাঁটোয়ারার মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি’ তৈরির প্রহসনমূলক আয়োজনে। একাত্তরের সমৃদ্ধ স্বপ্নে লালিত এই জাতিসত্তা ও রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ গন্তব্যচ্যুত করার অধিকার কারও নেই। এটিই ফুটে উঠেছে অগ্নিদগ্ধ গীতা সেনের আকুতি ও গর্জন থেকে, ‘আমরা অসুস্থ সরকার চাই না।’ কি শিক্ষার্থী, কি অভিভাবক, কি কর্মজীবী মানুষ, কি উদ্যোক্তা, কি নারী, কি পুরুষ
—এটিই নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ তথা ‘সাইলেন্ট মেজরিটি’র অন্তরের কথা। এরই মর্মবাণী ধরেই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে—কোনো চালাকি ব্যাখ্যার মারপ্যাঁচে নয়। চারটি দাবি ও করণীয় এখানে বিবেচ্য:
—অবিলম্বে নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল বাতিল এবং আলোচনা ও মতৈক্যের ভিত্তিতে পুনর্নির্ধারণ।
—সব ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি অবিলম্বে প্রত্যাহার ও মৌলিক অধিকার দ্বারা সংরক্ষিত সব রাজনৈতিক ও নাগরিক কর্মসূচি পালনে নিশ্চয়তা।
—সমান সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে আস্থার পরিবেশ দৃশ্যমান করা।
—রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে জাতীয় আলোচনার সূত্রপাত ও এ বিষয়ে রাজনৈতিক চুক্তি সম্পাদন। দাবি ও করণীয় হয়তো স্পষ্ট করা গেল, কিন্তু এতেই কি সংকট থেকে উত্তরণ ত্বরান্বিত হবে? ১৩ ডিসেম্বর নাগরিক আলোচনায় অনেক বক্তাই সব মহলের, বিশেষ করে নাগরিক সক্রিয়তার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ওই অনুষ্ঠানে আরও একটি গভীর সত্য সবার নজরে এনেছিলেন। ক্ষমতাকে করায়ত্ত করার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব সব সামাজিক ও পেশাজীবী মহলকে ‘রাজনীতিবিদ’ বনে যেতে উৎসাহিত করেছেন। তাই আমরা দেখি শিক্ষক-রাজনীতি, ছাত্ররাজনীতি, উকিল-রাজনীতি, ডাক্তার-রাজনীতি, ব্যবসায়ী-রাজনীতি, আমলা-রাজনীতি—সব ধরনের পেশায়, রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতিকে বেপরোয়াভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত রূপ বর্তমানে পরিলক্ষিত। শুধু তা-ই নয়, এসব ক্ষেত্রে যাঁরা উদ্যোগী হয়েছেন, তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে যথেচ্ছাচার, অনিয়ম ও দুর্নীতি করার একধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। শুধু অন্ধ দলীয় আনুগত্যের প্রশ্নে কোনো ছাড় বরদাশত করা হয়নি। এই বাস্তবতায় নৈতিক প্রতিরোধ ও নাগরিক সক্রিয়তা বাস্তবিকই এক কঠিন চ্যালেঞ্জে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু গিরিখাদ থেকে বের হতে হলে রাজনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সক্রিয়তার কোনো বিকল্প নেই। এটি সহজ নয় এবং এটা শৌখিনতার বিষয়ও নয়। নাগরিক সক্রিয়তা অনুপস্থিত তাও কিন্তু নয়। কিন্তু যা অনুপস্থিত তা হলো সক্রিয়তায় ধারা ও পরিবর্তন আনতে সক্ষম সাহস ও শক্তির বোধ। এখানেই আজকের চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে তিনটি উদ্যোগের ক্ষেত্র আপাতত প্রস্তাব করছি:
১. বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ তথা ‘সাইলেন্ট মেজরিটি’র বক্তব্য ও অবস্থান দৃশ্যমান করার জন্য নানামুখী ও কার্যকর নাগরিক কর্মসূচি।
২. অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষা কৌশল নির্ধারণে সমমনা নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী সমাজের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় সংলাপ।
৩. রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অধিকতর গণতান্ত্রিক করার লক্ষ্যে সাংবিধানিক সংস্কারবিষয়ক নাগরিক প্যানেল গঠন ও বিশ্লেষণ ও আলোচনার ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাবনা নির্ধারণ ও এ বিষয়ে মতৈক্য প্রতিষ্ঠায় জাতীয় উদ্যোগ।

ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত নয়, শান্তি চাই

সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সমাজবদ্ধ মানুষের একত্রে বসবাস বা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করার মানসিকতা গড়ে উঠেছে। এর সুবাদে গড়ে উঠেছে পারস্পরিক বন্ধুত্বসুলভ মানসিকতা ও আচার-আচরণ। কিন্তু ক্ষমতার লড়াইয়ে তুচ্ছ কারণে বন্ধুপ্রতিম দল-মত ও গোষ্ঠীর সঙ্গে মানুষের প্রায়ই বাগিবতণ্ডা, ঝগড়া-ফ্যাসাদ, প্রতিযোগিতা ও প্রতিহিংসা লেগেই থাকে। একপর্যায়ে এটি বর্বরতা, হানাহানি ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত ও সহিংসতায় রূপ নেয়। কেউ চিন্তা করে না প্রতিপক্ষ ব্যক্তি তার আত্মীয়স্বজন, ভাই-বন্ধু বা নিকটতম প্রতিবেশী হতে পারে! যেমনিভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা দিয়েছেন, ‘মুসলমান মুসলমানের ভাই। কাজেই সে কোনো মুসলমানের ওপর জুলুম করতে পারে না এবং কোনো মুসলমানকে মজলুম অবস্থায় ফেলেও যেতে পারে না। যে ব্যক্তি অপর ভাইয়ের উপকারে রত থাকে, আল্লাহ তার উপকারে রত থাকেন। যে কোনো মুসলমানের কষ্ট দূর করে, আল্লাহ তার কিয়ামতকালীন কঠিন কষ্ট দূর করে দেন। যে কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখবেন।’ (তিরমিজি ও আবু দাউদ) পৃথিবীতে যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, ন্যায়-অন্যায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু দেশ ও জাতি ধ্বংসের পথে চলেছে। অশান্তি-বিশৃঙ্খলা, দ্বন্দ্ব-কলহ, ঝগড়া-বিবাদসহ যাবতীয় বিবাদের সমাধান থেকে শুরু করে জনজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা, উন্নয়ন-অগ্রগতি, কল্যাণ-সমৃদ্ধি এবং সঠিক সময়োপযোগী বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তের জন্য জাতীয় সংলাপ,
বৃহত্তর দলমতের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার জন্য মানুষকে সাবধান করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পর তোমরা বিপর্যয় ঘটাবে না।’ (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৮৫) শান্তিকামী জনগণের জীবন ও জীবিকার মৌলিক অধিকার পূরণের তাগিদ সত্ত্বেও দলমতের পারস্পরিক সুসম্পর্কের, ন্যায়বিচারের এবং সঠিক সময়ে নেতাদের যৌক্তিক সিদ্ধান্তের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে মানুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভূপৃষ্ঠে যাবতীয় মন্দ, দুষ্কর্ম ও দুর্নীতির আবির্ভাব ঘটেছে মর্মে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন জলে-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আর-রুম, আয়াত: ৪১) কারও প্রাণহানি, সম্পদ দখল, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে বিনষ্ট করলে বা কোনো দেশে বহিঃশত্রু আক্রমণ করলে আত্মরক্ষার বিধান ইসলামে স্বীকৃত। কেননা, ইসলামের যুদ্ধনীতি প্রতিরক্ষামূলক, আক্রমণাত্মক নয়; এমনকি প্রতিশোধমূলকও নয়।
আত্মরক্ষার্থে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জীবনে অনেক যুদ্ধ, সংলাপ ও সন্ধি করতে হয়েছে। বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সব অন্যায়-অত্যাচার-অবিচার পদদলিত করে ন্যায়, সত্য, ইনসাফ, সাম্য, মৈত্রী, ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে শত্রু কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ‘যুদ্ধ’ মানেই যেখানে বিভীষিকা, মৃত্যু ও ধ্বংস; সেখানেও মহানবী (সা.) বলেছিলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতারণা করা যাবে না, বিশ্বাস ভঙ্গ করা যাবে না, নিহত ব্যক্তির অঙ্গচ্ছেদ করা যাবে না, নারী-শিশু-বৃদ্ধদের হত্যা করা যাবে না, শত্রু হলেও প্রার্থনারত অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করা যাবে না। ফলদায়ী গাছ কাটা যাবে না।’ কী অকল্পনীয় উদার এই যুদ্ধনীতি! এমনকি বিদায় হজের ভাষণে নবী করিম (সা.) বিনা অপরাধে একজন নিরীহ মানুষকেও হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সমাজে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি অটুট থাকে; ফলে মানুষের মন থেকে স্বার্থপরতা, নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা ও হূদয়হীনতার পাশবিক বৈশিষ্ট্যগুলো দূরীভূত হয়ে যায়। একা একজন মানুষ বা একটি দলকে নিয়ে যেমন সমাজ রচিত হয় না,
তেমনি এককভাবে মানুষ নিজের জানমালের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারে না। ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও কলহ-বিবাদ নিরসনে পারস্পরিক সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে শান্তির পথে চলার উপলব্ধি করতে সক্ষম হলেই মানুষের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়। তখন ধৈর্যশীল মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সুফল সৃষ্টি করে, যা পবিত্র কোরআনে ব্যক্ত হয়েছে: ‘নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবে না, তাহলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে; আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।’ (সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৪৬) তাই সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হতে হবে উদার, সহনশীল, বিনয়ী, পরোপকারী, দেশপ্রেমিক, মানবদরদি, জনসেবী, আত্মত্যাগী, ক্ষমতার প্রতি নির্লোভ, নিরহংকার, সুবিচারক, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাকারী এবং অন্যায়ে বাধা প্রদানকারী প্রভৃতি সৎ গুণের অধিকারী। তাহলেই দেশে কাঙ্ক্ষিত শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করবে এবং জনসাধারণ সব ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্ব-সংঘাত এড়িয়ে দুর্যোগ ও দুর্ভাবনামুক্ত হয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র দলমত-নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

বিড়ালের মুখে ধরা ইঁদুর কি হাসতে পারে?

সময়টা খুব খারাপ। আমরা পথে বের হতে পারি না, স্কুল-কলেজ-কর্মস্থলে যেতে পারি না, আমাদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে, যেমন করে বিমান হাইজ্যাক করে তার যাত্রীদের বন্দী করা হয়। কারণ, যারা বিমান হাইজ্যাক করেছেন, তাঁদের আছে কতগুলো ন্যায়সংগত দাবি, সেগুলো তাঁদের আদায় করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে জিম্মি করে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজ নিজ পবিত্র উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছে। কারও কোনো বিকার নেই। যেন এই অবস্থা চলতেই থাকবে। শুধু আমারটা আমি পেয়ে গেলেই হলো। এই রকম ঘোরতর দুঃসময়ে আমরা কী করতে পারি? আমরা চুল ছিঁড়তে পারি, কান্নাকাটি করতে পারি, গালিগালাজও করতে পারি। কিন্তু মুক্তির পথ আমাদের নেই। আমাদের মরতেই হবে। কীভাবে মরব, সেটাও আমরা জানি না। আমরা পেট্রলের আগুনে মরতে পারি, বোমার আঘাতে মরতে পারি, পুলিশের গুলিতেও মরতে পারি। এই রকম খারাপ সময়ে আমি যদি কৌতুক পরিবেশন করি, আপনারা কি আমাকে ক্ষমা করবেন? জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন সুবিনয় মুস্তফীর কথা, তিনি নাকি একই সঙ্গে বিড়ালকে আর বিড়ালের মুখে ধরা ইঁদুরকে হাসাতে পারতেন। আমরা তো বিড়ালের মুখে ধরা ইঁদুর, আমাদের কি হাসার অধিকার আছে? একটা কৌতুক আগে বলে নিই। একজন ভদ্রলোক গাড়ি চালাচ্ছেন।
বিপরীত দিক থেকে একটা গাড়ি আসছে, সেটা চালাচ্ছেন আরেক ভদ্রলোক। দুজনের গাড়িরই গতি ছিল ভীষণ। গাড়ি দুটো মুখোমুখি সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয়ে গেল। আশ্চর্যজনকভাবে চালক দুজন ধ্বংসস্তূপ থেকে মোটামুটি অক্ষত শরীরে বেরিয়ে আসতে পারলেন। প্রথমজন বললেন, আমাদের গাড়ি দুটো একেবারে শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা বেঁচে গেছি। এটা নিশ্চয়ই ঈশ্বরের একটা ইঙ্গিত। আশপাশে কোথাও কেউ নেই। নিশ্চয়ই ওপরওয়ালা চান আমরা বন্ধুত্ব করি। কার দোষ, এই নিয়ে বাদানুবাদ নিশ্চয়ই এখন কাম্য নয়। দ্বিতীয় ভদ্রলোক বললেন, আমারও তা-ই মনে হচ্ছে। প্রথম ভদ্রলোক তখন ধ্বংসস্তূপ থেকে অক্ষত একটা হুইস্কির বোতল বের করলেন। বললেন, আশ্চর্য তো, এই বোতলটা অক্ষত আছে। এটাও নিশ্চয়ই একটা ইঙ্গিত। আমাদের উচিত পান করে আমাদের নতুন বন্ধুত্ব উদ্যাপন করা। দ্বিতীয় ভদ্রলোক বললেন, তা-ই হবে। তিনি বোতলের মুখ খুলে খানিকটা পান করে প্রথমজনের দিকে এগিয়ে দিলেন বোতলটা। এবার আপনার পালা। প্রথমজন বললেন, জি না, আমি খাব না। আমি পুলিশের জন্য অপেক্ষা করছি। পুলিশ আসছে। মানে, পুলিশ এসে দ্বিতীয় ভদ্রলোকের মুখে গন্ধ পাবে, তারপর মাতাল হয়ে ড্রাইভ করার অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করবে।
আমাদের দেশ মোটামুটি বিধ্বস্ত। ব্যবসা-বাণিজ্য শেষ। অর্থনীতি ধ্বংসপ্রায়। দুটো গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে এই অবস্থা হয়েছে। এখন এঁদের মধ্যে আপনি কাকে দায়ী করবেন? খুবই পুরোনো একটা কৌতুক। রাজনীতি কী? ছোট্ট জনি জানতে চাইল। বাবা বললেন, রাজনীতি কী বুঝতে চাও। ধরো, আমি হলাম সরকার। তোমার মা হলো পার্লামেন্ট। আর আমাদের কাজের মেয়েটা হলো শ্রমজীবী মানুষ। তুমি হলে দেশের জনগণ। তোমার ছোট্ট ভাইটি হলো দেশের ভবিষ্যৎ। বুঝলে? না। বুঝিনি। আচ্ছা ঘুমাও। পরে তোমাকে বোঝাব। জনি ঘুমিয়ে পড়ল। রাতের বেলা তার ঘুম ভাঙল ছোট ভাইয়ের কান্নাকাটিতে। সে উঠে দেখল, ছোট্ট ভাইটি পেশাব করে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে কাঁদছে। সে তখন মাকে ডাকতে গেল। উঁকি দিয়ে দেখল, মা ঘুমোচ্ছে। সে গেল কাজের মেয়েকে দেখতে। দেখতে পেল, তার বাবা কাজের মেয়েটাকে নিপীড়ন করছে। সে তখন বলল, বুঝেছি। রাজনীতি কী। জনগণ যখন কষ্ট পাচ্ছে, পার্লামেন্ট তখন ঘুমোচ্ছে, সরকার তখন শ্রমজীবী মানুষের ওপরে অত্যাচার করছে, আর দেশের ভবিষ্যৎ তখন গুয়ে-মুতে ভেসে যাচ্ছে। এবার একটা কৌতুক, যেটা ওয়ান-ইলেভেনের পরে এই কলামে আমি আপনাদের জানিয়েছিলাম। দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। খুব কড়াকড়ি। অবৈধ দোকানপাট-স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এই সময় কোনো এক গ্রামের পথে এক লোক সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল। তাকে যৌথ বাহিনী আটকাল। বলল, তোমার সাইকেলের লাইসেন্স আছে? না।
তুমি একবার কানে ধরে ওঠবস করো। লোকটা কানে ধরে ১০ বার ওঠবস করল। তোমাকে একবার ওঠবস করতে বলা হলো, তুমি ১০ বার করলে কেন। লোকটা বলল, একবার করলাম সাইকেলের লাইসেন্স নেই বলে, আর নয়বার করলাম অমুক মার্কায় ভোট দিয়েছিলাম বলে। একই লোককে এবার ধরা হয়েছে। সে এবার রাস্তার ডান পাশ দিয়ে সাইকেল চালাচ্ছিল। তাকে বলা হলো, একবার কানে ধরে ওঠবস করো। সে ১০০ বার কানে ধরে উঠবস করছে। একবার সে করল ডান দিক দিয়ে সাইকেল চালাচ্ছিল বলে, আর ৯৯ বার করল অমুক মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলে। আমাদের সরকার বড়ই সুবিবেচক। কোনো একটা মার্কায় ভোট দেওয়ার কারণে দেশের কোনো নাগরিককে যাতে আর বিবেকের দংশনে ভুগতে না হয়, সে ব্যবস্থা তারা করে ফেলেছে। এমন পদ্ধতি তারা আবিষ্কার করেছে, যাতে কাউকে আর ভোট দিতে যেতে না হয়। আর পরবর্তী বছরগুলোতে প্রত্যাশাভঙ্গের বেদনায় বা কৃতকর্মের অনুশোচনায় জ্বলতে না হয়। কারণ, আমরা অনেক সময় বলি, আমাদের এই দুরবস্থার জন্য আমরাই দায়ী। আমরাই তো ভোট দিয়ে দিয়ে এদের নেতা বানাই। আমাদের সেই সমস্যা আর রইল না। আমাদের আর নেতা বানাতে হবে না। শাসক বানাতে হবে না। শাসক কারা হবেন, তাঁরা নিজেরাই নিজেদের যোগ্যতাবলে ঠিক করে নিয়েছেন।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

শিকার by শেখ লুৎফর

চড়া দামে হাইব্রিড ধানের বীজ কিনবে কি কিনবে না, এই দ্বিধায় দুলতে-দুলতে বুড়ো মন্তু সার-বীজের দোকানের কাছে এসেও থপ করে দাঁড়িয়ে পড়ে। সেই সকাল থেকে তার শরীরজুড়ে কেমন একটা ল্যাপ্টাঝ্যাপ্টা অসাড়তা। দোকানের সামনের বেঞ্চে বসে মন্তু ভুস করে একটা দম ছাড়ে। চোখে ভাসে অকর্মা ছেলে দুটোর মুখ আর তাতেই মন্তুর মনমর্জি আরও বিগড়ে যায়। কার জন্য সে খাটবে, কার জন্য এই হাইব্রিড ধানের বীজ? মানুষটা তার নিজের অজান্তে হাত দুটো কোলের ওপর ভাঁজ করে রেখে দুটো চোখের চাউনি চিলের মতো সরু-শানিত করে বাজারের চারপাশটা দেখে; কী গোপন আমোদেই না অঘ্রাণের এই দুপুরটা উড়াল দিতে চাইছে! একহারা পিচ রাস্তাটা দুই পাশের ফসলভরা মাঠের মাঝে হঠাৎ হেঁচকি মেরে গজিয়ে-ওঠা বাজারটাকে দুই ফালা করে সোজা নাক বরাবর ছুটে গেছে। অঘ্রাণের এই আমেজি দুপুরে বাজারের দোকানগুলোর ঝাঁপ খোলা থাকলেও লোকজন তেমন একটা নেই। শুধু সার-বীজের একমাত্র দোকানটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আশপাশের গেরামের কয়েকটা চাষা। মন্তুর শরীরটা কেমন টালমাটাল; উদ্গারের আগে যেমন হয়। তবু সে মাথা তুলে ফের বাজারের সবটা পরখ করে—আজ কত দিন! কত দিন...অর্জনহীন নিষ্ফলা জীবন লবণ-লঙ্কা ছাড়া পান্তাভাতের মতো। হঠাৎ মন্তু চমকে ওঠে, বাজারের দক্ষিণ দিকের সেলুনটায় ও কে? দুই হাত মুঠো করে মন্তু শিশুর মতো চোখ দুটো কচলায়। কয় হাত দূরের মানুষের মুখ চিনতে কেমন বেজান-বেজান লাগে। সেলুনে বসে ক্ষুরের নিচে গাল পেতে আছে; মানুষটা ক্যাডা, হবিবুল্লা না? চমক-খাওয়া মন্তুর কোটরগত চোখ দুটো ঝলকে ওঠে। আর মন্তু এও লক্ষ করে, সেলুনে বসে হবিবুল্লা খুব মউজ করে আলাপ করছে। মন্তু পুচ করে থুথু ফেলে। আঁত-নাড়ির গভীর থেকে তেতো ঢেকুর আসছে।
সেই কখন ল্যাড়ের মতো পাতলা কয় চামচ জাউ খেয়েছে, তাতেও এখনো তার পেটটা টক টক বিস্বাদে ভরে আছে। শাকচুন্নির মতো তার বুড়ি মাগিটা খালি কথায় কথায় বিষ ঢালে। ঘরে মুহূর্তের জন্যও মন্তু টিকতে পারে না। আর তার জোয়ান পুলা দুটো...।  ছেলেদের কথা মনে পড়তেই মন্তুর হাত দুটো শিরশির করে ওঠে। কুপুত্রের রক্তে যদি তার হাত দুটো ভেজাতে পারত! কিন্তু তা কী করে হয়? মন্তু খক করে বড় একটা কফের দলা ফেলে ফের সেলুনটার দিকে তাকিয়ে আড়ে-আড়ে হবিবুল্লাকে দেখে। বর্তমানে গেরামের অনেকেই হবিবুল্লার মতো নগদ মালপানিতে ঝিলঝিলা। মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া আর আরবের টাকা এখন তার আশপাশেও কড়-কড় করে নাচে।...আর এই মুহূর্তে সে ওই টাকার কথা ভাবতে-ভাবতেই কি কিঞ্চিৎ ভড়কে গেল? একটা জটিল স্রোত সময়কে যেন ঠেলা দিয়ে হড়কে যায় আর তাই তো মন্তুর ভেতরটাও এলোমেলো হয়ে ওঠে। সে আবার হবিবুল্লাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে। হবিবুল্লার দু-দুটো পোলা আরব দেশে, আর ছোটটা ঢাকার কোনো এক ফ্যাক্টরির পিও না এমও পদে। সকাল থেকে সন্ধ্যাতক হবিবুল্লা পাক দিয়ে পাক দিয়ে বাজারে ওঠে। ফিনফিনা পাঞ্জাবির পরতে-পরতে কারদানি ফুটে থাকে। মন্তু যেন ভেতরে-ভেতরে কিসের একটা তাড়া বোধ করে। কী একটা জিনিস যেন আউলাঝাউলা হয়ে আছে, একটু সিজিল করতে হয়। মানুষটাকে লোকে আগে হাইব্ব্যা বলেই ডাকত, কিন্তু হাতে মালপানি আসতে না আসতেই সে এখন হবিবুল্লা। সালামালাইকুম—মন্তু সালাম দিয়ে হবিবুল্লার সামনে দাঁড়ায়। তাহলে মন্তু ট্যাং ট্যাং করে হাঁটতে হাঁটতে তার ভাবনার পরিধি ধরতে পেরেছে—এমন চিন্তায় সে মনে মনে খুশি হয়। সদ্য চুল-দাড়ি ছাঁটা হবিবুল্লা ঝেড়েঝুড়ে সাফ হচ্ছে; সালামের শব্দে একটু তড়িতে মাথা তুলে মন্তুকে দেখে। দোমড়ানো শরীরের মন্তু তিন বাঁকা দিয়ে দাঁড়িয়ে তার দিকে আলাপের গলা বাড়িয়ে আছে দেখে হবিবুল্লা প্রথমে একটু অবাক হয়। সে একটু ধিড়িক ধরে জিজ্ঞেস করে
—কেমুন আছেন?
—ভালাই আছি, কিন্তুক তুমি এই দিকে ক্যা?
—না, কয়ডা হাইব্রিড বীজ কিনতে আইছিলাম।
—হ, অহন তো হাইব্রিডেরই যুগ..., ফলন বেশি, সার বেশি...সব বেশি বেশি লাগে।
হবিবুল্লা লুঙ্গি ঝাড়া দিয়ে মাথা তোলে। আর এই ফাঁকে সেলুনের আয়নায় মন্তুর নিজের মুখাবয়ব চোখে পড়ে, ভূত দেখার মতো চমকে ওঠে সে।
—ক্যাডা এইডা? তাহলে এই সে! কত বছর, কত যুগ পর সে নিজেকে নিজে দেখে ভেতরে ভেতরে খান খান হয়ে যায়। হলুদ কেতুরভরা চোখ দুটোর মাঝে শকুনের ঠোঁটের মতো নাকটা। চুল-চামড়া আর শরীরের যা অবস্থা, তাতে সে একটা নিখাদ ভিক্ষুক, না একটা শকুন, না, না—একটা উপমাও তার মনমতো হলো না; এক নজরে সে আয়নায় যে মূর্তিটা দেখেছে, আসলে সেটা একটা বুড়ো সাপ, ক্রোধহীন বিদ্বেষে ক্লান্ত।  সারবাঁধা দোকানের সামনে দিয়ে হবিবুল্লা বাজারের উত্তর দিকে হাঁটে। একটু বে-ভুলা ছন্দে ডাঁশ মাছির মতো হুলে বিষ ও তৃষ্ণা নিয়ে মন্তুও পেছন পেছন ট্যাং ট্যাং করে হাঁটে। কানাইয়ের স্টলের সামনে এসে হবিবুল্লা অপেক্ষা করে, দক্ষিণ থেকে একটা ট্রাক মাটি কাঁপিয়ে আসছে। উড়ন্ত ধুলা থেকে রক্ষা পেতে হবিবুল্লা বাঁ হাতে নাক চেপে ধরে। মন্তুর কোনো প্রস্তুতি নেই। সে ঝিম মেরে আছে। আসলে বুড়োটা ভিত্তে-ভিত্তে দাঁত ধারাচ্ছে, যা তার নিরীহ মুখ দেখে কেউ কস্মিনকালেও ভাবতে পারবে না। হবিবুল্লার ঘাড়ে একটা মাঝারি ভাঁজ পড়েছে, যদিও এটাই তার বর্তমান সুখী জীবনের একমাত্র সাইনবোর্ড নয়, কিন্তু মন্তুর কাছে আপাতত এটাই অসহনীয়। হবিবুল্লার এই অর্জনটি যেন চারপাশের গ্রামগুলোর সব মন্তুকে সারাক্ষণ টিটকারি দেয়, আর নিজের সুখের বিস্তর বয়ান করে।
—অ-মন্তু খাড়ায়া রইলা ক্যা, বও।
—জে, জে।
—তোমার পোলারা অহন কোনডা কোন দিকে?
হবিবুল্লার কথায় মন্তু কানাইয়ের স্টলের টুলে বসতে-বসতে চোখ দুটোতে ঝামরি কেটে তীক্ষ-সচেতন হয়ে ওঠে।
 —বুঝলা মন্তু, খালি হাইব্রিড বীজ কিনলে কি অইবো, সার-কীটনাশক-ডিজেলের বাজার দ্যাহো না কত গরম।
—জে, আফনে হাচা কইছেন।
 মন্তু অবোধ বালকের মতো সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে।
—খালি কিনলে ত অইত না, টাইমমতো হেগোর খাওন-পানি জুগাইতে অইব।
—অবশ্যি...অবশ্যি... মন্তু প্রাজ্ঞ কৃষকের মতো মাথা নাড়ে। আসলে মন্তু ভিত্তে-ভিত্তে পুরা প্রস্তুত; এখন শুধু ছোবলের ক্ষেত্রটি তৈরি করতে তাকে যা মুখ চবলাতে হচ্ছে।
—অ-কানাই, দুইডা চা দ্যাচা। রইদে বইবানি মন্তু, রইডা বড় মজার। হবিবুল্লার কাছে তামাম দুনিয়াটাই মজার। দামি সোয়েটারটা সে হাতে তুলে নেয়, যেটা চুল কাটার আগেই সে খুলেছিল। ওর খাবলা-ধরা কালচে আঙুলে সোয়েটারটার রঙিন চেকনাই ঝলক দেয়। কত আর হবে, এই সাত-আট সাল আগেও হবিবুল্লা একটা মেইড়-ভাঙা চাষা ছিল, তারও আগে এই পিচ পথটা যখন আধা জংলা-গোপাট, তখন বালক মন্তুরা দুই মাইল দূরের চন্দ্রনাথ বিদ্যানিকেতনে যাওয়ার জন্য এই গোপাটে এসে মিলিত হতো। ঢ্যাঙা-লিকলিকে, ছেঁড়া-ময়লা পোশাক-পরা হ্যাবলা হইব্ব্যা চারপাশের জংলার হিয়াল-বান্দরের ডরে দলের মধ্যে থেকেও কেমুন ভ্যা-ভ্যা করত। আর অহন...হবিবুল্লার বাড়িটা দালান হয়ে গেছে। মাঠে ফসলের মেলা জমিও কিনেছে, আর ইজ্জতটাই কি কারও চেয়ে কম? স্টলের ঝাঁপের নিচের বেঞ্চিতে এসে ওরা রোদের দিকে পিঠ দিয়ে বসে। কচি ছেলের দুধদাঁতের কামড়ের মতো অঘ্রাণের রোদ ওদের পিঠে তুরতুরি আরাম জাগায়।
—আপনের ছেলেগুলান খুব লায়েকমান। মন্তু আলাপ জুড়ে। চোখে ভাসে তার নিজের আচোদা পোলা দুটোর মুখ। সর্বদিক দিয়ে একেবারে পয়মাল করে দিল। সেই রাগেই তো মন্তু আর তেমন করে চাষবাস করে না। পেটের দায়ে আর বুড়িটার কুদাম-পাদামে ঘরে টিকতে পারে না বলেই তো সে হাল-গরু নিয়ে মাঠে নামে; না-হলে ঘুরে-ঘেঁটে বাকি জিন্দিগিটা কাটিয়ে দিত।
—তোমার পোলা দুইডার খবর কী?
—না, আগের মতোই। একটা পল্টিফার্মে আছিন, হেইহানত্তেই ছুরতুনের ছেমড়িডারে লইয়া ভাগছে।...অহন আর কোনো তত্ত্ব-তালাশ জানি না। আর ছোট্ট পোলাডা কাঠের কাম ভালাই শিখছিল, কিন্তুক কামের চে আড্ডাবাজিই বেশি পছন্দ।
—হ, বাজারেও হেরে বেশি বেশি দ্যাহি; তাইলে কাম করে কোন টাইমে? হবিবুল্লা মন্তুর কথায় সাক্ষ্য দেয়। ফের আফসোসও করে, হেইডা আমারেও একটা শোকেস বানায়া দিছিন, জিনিসটা যা সুন্দর অইছে না। পোলাডা যুদিন ঠিকমতন কাম করত... তারা এখন চায়ে চুমুক দিয়ে চুক-চুক করে স্বাদ নিচ্ছে। গরুর চোনার মতো লেশমা-লেশমা শেষ বাজারের কড়া চা। আপাত এই পান নীরবতায় উল্টা দিকের ফোনের দোকান থেকে একজনের রাগী গলার হাঁকডাক তাদের মাঝে বারবার হামলে পড়ে। মন্তু আন্দাজে ধরে নেয়, লোকটা ফোনের ওপাশের মানুষটাকে খুব নিচ্ছে। অপরিচিত সেই ব্যক্তির নাজেহাল চেহারাটা যেন সে দিব্যি দেখতে পাচ্ছে। পোলা দুটোর জন্য সেও কি কম ভুগতেছে। যত মারো-কাটো, মন্তু কিন্তু পিটপিট করে হাসবে, আর সুবিধামতো ছোবল দেওয়ার জন্য ভিত্তে-ভিত্তে দাঁত ধারাবে। যত দিন না কাম হাসিল হবে, তত দিন সে শিকারের পেছনে নিষ্ঠাবান তাপস। হবিবুল্লা কাপটা ঠাস করে নামিয়ে রাখে। মন্তু চমকে ওঠে। লোকটা কি হুদাহুদিই গরম হয়ে যাচ্ছে? মালদার মানুষের মতিগতি আন্দাজ করা শক্ত। যেই কথা, সেই কাজ। হবিবুল্লা বিষাক্ত গলায় বলে, তুমিই পোলা দুইডারে নষ্ট করছ। বাপ হিসাবে তুমি কী শাসনডা করলা। ডাক-ডাক করতে করতে হেরা পয়মাল হয়ে গেল। মন্তুর মাথাটা ঝিমঝিম করে, চোখের সামনের সবকিছু কেমন ঝাপসা হয়ে আসে।
—বাদ দেন, বাদ দেন হেই চ্যাট-মুইক্ষ্যা পোলাগর কথা। আফনার নিজের আলাপ করেন, হুনতেও সুখ। হুনলাম আফনের ছোডো পালারে নাকি ঢাকায় শাদি করাইছেন। ছোট্ট পুত্রবধূর মিষ্টিমুখ আর বেয়াইয়ের ছবির মতো ঝকমকা দালানটার কথা মনে হতেই তৃপ্তির ঢেকুরে হবিবুল্লা শীতল হয়ে আসে। তার ঘাড়ের চর্বির মোটা ভাঁজটি তেল-ময়লাসহ রোদের জেল্লায় চকচক করে। মন্তুর ইচ্ছা হয়, প্রকাশ্যেই সেখানে দাঁত বসিয়ে দিতে। হবিবুল্লার মুখের পান-সুপারি জুত হয়ে এলে সে পকেট থেকে সিগারেট-ম্যাচ বের করে ধরানোর উদ্যোগ নেয়।
—হ, হেরা খুব মালদার পাট্টি, হেদের তুল্যে আমি কিচ্ছু না, কিন্তুক আমার পোলারে তারা খুব পছন্দ করছে, হেই ভরসাতেই কামডা সামুটতা পাড়ছি।
—আর বড় দুইজনরে? মন্তু একটু-একটু করে লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে।
—বড় দুই ছেলে সামনের সন বাড়িত আসলেই...
—হেই দেশটা খুব ধনী মাইনষের, না?
—তুমি যে কী কও, ধনী না হইলে কি আর হেরা শখ কইরা বিদেশতে মানুষ নেয়।
—অইব...অইব...। মন্তু আমতা-আমতা করে আর পিট পিট করে হাসে। এই হাসিটা তার আসল অস্ত্র। পায়ে উষ্টা দিয়ে ফেলে দিলেও ওই হাবড়া মুখটা থেকে হাসিটা মুছে ফেলা যায় না।
—তে আফনের বড় মেয়ের জামাইয়ের খবর কী? এই কথায় হবিবুল্লা বজ্রাহতের মতো নির্বাক চেয়ে থাকে। তার বড় মেয়ের জামাই এখন কারাগারে। বিডিআর বিদ্রোহের অভিযোগে বন্দী। বড় কঠিন বিচারের সম্মুুখীন। হবিবুল্লার খাড়া মাথাটা ঝপাস করে বুকের কাছে নুয়ে পড়ে। তার ঘাড়ের মোটা-গম্ভীর ভাঁজটি কেমন মেন্দা মেরে যায়। মন্তু নিজেকে দিয়ে বোঝে, বাপ সন্তানের জন্য কতটুকু দরদ রাখে। হবিবুল্লার সেই গোপন জাগাটার খবর পাওয়াতক মন্তুর দাঁত শিরশির করছিল। দুই-তিন মাসের মধ্যে এমন বড় শিকার সে ধরতে পারেনি। কষ্ট ছাড়া তার জীবনে আর কিচ্ছু প্রাপ্তি নেই। তার সব গোল্লায় গেছে। দিনে দিনে বুড়ি মাগিটা একটা ঝগড়াটে শাকচুন্নিতে পরিণত হয়েছে। যা কিছু জমি আছে, তাও উপযুক্ত চাষ ও যত্নের অভাবে তামাদি হয়ে গেছে। তাই মুফতে যা মেলে তাতেই সুখ, আর সেটুকুই তার সব না-পাওয়ার পাওয়া।
—তে কইলেন না জামাইয়ের খবর কী? জোশ-রোষহীন হবিবুল্লা মরা শরীরটা যেন পাথরের মতো টেনে তুলে দাঁড়ায়। কাউকে কিছু না বলে নুয়ে-নুয়ে বাড়ির পথ ধরে। চরম প্রশান্তির মাঝে মন্তুর খুব শখ হয়, একবার ডাক দিয়ে হবিবুল্লাকে জিজ্ঞেস করে, ‘এই মিয়া সাব, কিছু হারাইছেন নাকি?’ কিন্তু তার পেছনে একটা জিপ ক্যাচ করে ব্রেক কষার শব্দে সে ফিরে তাকায়। হাতে দড়ি, হ্যান্ডকাফ আর তেলতেলা রুল নিয়ে কয়টা পুলিশ জিপ থেকে নামছে। একজন তার দিকে কড়া চোখে চেয়ে জিজ্ঞেস করে, হালিমের বাপ মন্তুর বাড়িটা কোন দিকে বলতে পারো? মন্তুর মুখে তৃপ্তি জড়ানো চিলবিল হাসিটি এখনো লেগে আছে; সেই হাসি নিয়েই ভয়ে ভয়ে সে উল্টা প্রশ্ন করে, কেন...। খাটো কিন্তু ধামার মতো ভোটকা যে লোকটা একপাশে দাঁড়িয়ে, তাকে নীরবে পরখ করছিল, সে বলে—কেন, জানস না? বাইনচোদটারে শ্বশুরবাড়িত নিতাম দাওয়াত খাওয়াইতে, খানকির পুত ক্যাশবাক্স ভাইঙ্গা ট্যাহাও নিছে, লগে কামের ছেমড়িডারেও নিছে। মন্তু একনিমিষে সব বুঝে নেয় আর চিনে নেয় তার পোলার পল্টিফার্মের মালিককেও। কিন্তু সে নির্বিকারভাবে বলে, কী যে কন, পারতাম না ক্যা, আইয়েন হালিমের বাফের বাড়িডা দ্যাহায়া দিতাছি। মন্তু সবার আগে ঝুলতে ঝুলতে হাঁটে, আর তার পেছনে কয় জোড়া প্রশিক্ষিত পা ভারী বুটের মচমচ শব্দ তুলে হালিমের বাপ মন্তুর বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় তাদের শিকারটি হস্তগত করার জন্য।

স্নোডেনকে আশ্রয় দেয়ার পরিকল্পনা নেই ব্রাজিলের

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) সাবেক গোয়েন্দা এডওয়ার্ড স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ব্রাজিল। স্নোডেন রাজনৈতিক আশ্রয়ে বর্তমানে রাশিয়ায় আছেন। ২০১৪ সালের আগস্টে রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তারপর স্নোডেন কোথায় যাবেন তাই নিয়ে এখনই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে স্নোডেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ও ব্রাজিলবাসীদের ওপর এনএসএর গোপন গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়ে তদন্ত কাজে সহায়তা করার প্রস্তাব দেন। এতে স্নোডেন ব্রাজিলে রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে যাচ্ছেন বলে ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। সেই ধারণাকে খারিজ করে দিয়ে মঙ্গলবার ব্রাজিলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ব্রাজিলে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেননি স্নোডেন, আর রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা না করলে বিবেচনার প্রশ্নই আসে না।
ওইদিন ব্রাজিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জুনে মস্কো পৌঁছানোর পর থেকে এ বিষয়ে স্নোডেনের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পায়নি ব্রাজিল সরকার। আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ছাড়া রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। একইদিন ব্রাজিলের সংবাদপত্র ফোলহা দে এস পাউলো’তে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক চিঠিতে স্নোডেন এনএসএর ইন্টারনেট নজরদারি প্রকল্পের বিষয়ে ব্রাজিলের তদন্ত কাজে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেন। চলতি বছরের প্রথমদিকে স্নোডেনের প্রকাশ করা নথির সূত্র ধরেই ব্রাজিলবাসী ও তাদের প্রেসিডেন্টের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গোপন গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়টি প্রকাশ পায়। এর পাশাপাশি আভাজ নামের নাগরিক অধিকার বিষয়ক একটি ওয়েবসাইট, স্নোডেনকে ব্রাজিলে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফের ওপর চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে, অনলাইনে স্বাক্ষর সংগ্রহ আন্দোলন শুরু করে এর পরিপ্রেক্ষিতে বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল ব্রাজিল সরকার।

ক্যাথরিন দ্য গ্রেট নাকি ক্যামেরন?

একই রকম দেখতে চেহারার মানুষ পৃথিবীতে বহু আছে তবে এবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের মতো দেখতে এক নারীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে তা আধুনিক সময়ের নয়, বরং ১৮শ’ শতকের এক তৈলচিত্রে। বার্লিনের জাদুঘরে রাখা ১৮শ’ শতকে রাশিয়ার রানী ক্যাথরিন দ্য গ্রেটের ছবির সঙ্গে ক্যামেরনের চেহারার রয়েছে অদ্ভুত রকম মিল, যা এরই মধ্যে টুইটারে ঝড় তুলেছে। জানা যায়, সম্প্রতি এক গবেষণার কাজে ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক ছাত্রী সোফি গাড বার্লিন জাদুঘরে রাখা ক্যাথরিন দ্য গ্রেটের ছবির সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের চেহারার অদ্ভুত মিলের বিষয়টি লক্ষ্য করেন। এরপরেই তিনি ক্যাথরিন দ্য গ্রেটের তৈলচিত্রের সঙ্গে ক্যামেরনের ছবি যোগ করে আপলোড করেন টুইটারে।
সোফি গাড এই ছবি আপলোড করার পরই একের পর এক মন্তব্য আসতে থাকে। দেখা গেছে আপলোডের সময় থেকেই অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ছবিটির নিচে দুই হাজারের বেশি মন্তব্য জমা হয়। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন নিয়মিত টুইটার ব্যবহার করলেও এই ছবি তার চোখে পড়েছে কিনা তা জানা যায়নি। বর্তমানে তিনি আফগানিস্তান সফরে আছেন। ক্যাথরিন দ্য গ্রেটের ছবিটির শিল্পী জোহান ব্যাপটিস্ট লামপি। ১৭৯৪ সালে তিনি এই ছবিটি আঁকা শেষ করেন। বর্তমানে এটি বার্লিনের ডাচেস হিস্টিচেস মিউজিয়ামে রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৮শ’ শতকে ক্যাথরিন দ্য গ্রেট প্রায় ৩০ বছর রাশিয়া শাসন করেছেন। আর ডেভিড ক্যামেরন তিন বছর ধরে ব্রিটেনে ক্ষমতায় আছেন।

দক্ষিণ সুদানে সংঘর্ষে নিহত ৪০০

দক্ষিণ সুদানে সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ৪০০ জন নিহত ও ৮০০ জন আহত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট সালভা কির দাবি- তার অনুগত সৈন্যরা দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক ম্যাচারের অনুগত প্রতিদ্বন্দ্বী সেনা গ্র“পের অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সংস্থাটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা মঙ্গলবার এ কথা জানান বলে বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
জাতিসংঘের কূটনীতিকরা বলেন, দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা থেকে হাসপাতাল কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছে, সেখানে রোববার থেকে ছড়িয়ে পড়া সেনা সংঘর্ষে ৪শ’ থেকে ৫শ’ লোক নিহত হয়েছে। রোববার প্রেসিডেন্ট সালভা কিরকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতে সেনাবাহিনীর একাংশের ব্যর্থ চেষ্টা চালানোর পর তাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট সালভা কির অনুগত সৈন্যরা দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক ম্যাচারের অনুগত প্রতিদ্বন্দ্বী সৈন্যের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সালভা কির অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্র“পটি সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। কিন্তু দেশপ্রেমী সৈন্যরা তাদের এ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।