Wednesday, September 23, 2015

ভারতের সেরা বন্ধু হতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

জো বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার ওয়াশিংটনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। খবর দ্য হিন্দুর। ইউএস-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসআইবিসি) ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াশিংটনে আয়োজিত সভায় জো বাইডেন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট, আমি এবং পুরো মার্কিন প্রশাসন মনে করে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এমন একটি সম্পর্ক হবে, যা একবিংশ শতাব্দীকে সংজ্ঞায়িত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।’ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে, কিন্তু আরও বেশি সংস্কারের প্রয়োজন। 
এ সময় নোবেলজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাক্য চয়ন করে ‘একসঙ্গে সাগর পাড়ি’ দেওয়ার আহ্বান জানান জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রথম কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সংলাপের আগের দিন ওয়াশিংটনে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সভাটি হয়। গত বছর মোদি-ওবামা শীর্ষ বৈঠকে এ সংলাপ চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল এ সংলাপ শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ হওয়ার কথা। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ওবামা-মোদি শীর্ষ বৈঠকের প্রাক্কালে এ সংলাপ হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভার পাশাপাশি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইউএসআইবিসির সোমবারের সভায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুই দেশের প্রায় চার শ ব্যবসায়ী নেতা অংশ নেন।

নেপালের নতুন সংবিধান নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন ভারত?

দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে নেপালের পার্লামেন্টে গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সংবিধান গৃহীত হয়েছে। দেশে ব্যাপক মতবিরোধের সৃষ্টি করে এ সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয়, প্রভাবশালী প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও কিছুটা তিক্ততার সূচনা করেছে এ সংবিধান গৃহীত হওয়ার বিষয়টি। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর দেশ নেপাল নতুন সংবিধান অনুযায়ী এখন ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র। কেন্দ্রশাসিত সাতটি প্রদেশে বিভক্ত হচ্ছে দেশটি। এ ছাড়া নতুন সংবিধানে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, প্রাচীন যুগ থেকে প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কৃতির সুরক্ষা, ধর্মান্তরকরণে নিষেধাজ্ঞা, ধর্মীয় ও লৈঙ্গিক সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি বিষয়। নেপালের নতুন সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কয়েক দশক ধরেই অন্যতম সমর্থনকারী দেশ ভারত। কিন্তু দেশটির নতুন সংবিধানের বিষয়ে ভারতের মত হলো, এটা যথেষ্ট ব্যাপকভিত্তিক হয়নি। ভারত উদ্বিগ্ন যে সংবিধানকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার আঁচ ছড়াতে পারে ভারতের ভেতরেও। নেপালের গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহে ভারতের প্রতিক্রিয়া সত্যিই উল্লেখ করার মতো। নতুন সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হওয়ার কয়েক দিন আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করকে নেপাল পাঠান। ধারণা করা হয়, জয়শঙ্কর নেপালের সরকারকে পার্লামেন্টে সংবিধানটি অনুমোদন করার বিষয়টি বিলম্বিত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
একই সঙ্গে সংবিধানের বিরোধিতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসারও আহ্বান জানান। ভারতের গণমাধ্যমে এ রকম খবর প্রচারিত হয় যে কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নেপালের পার্লামেন্টে সংবিধান গৃহীত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার সঙ্গে। সংবিধান গৃহীত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নয়াদিল্লির অসন্তুষ্টির কথা প্রধানমন্ত্রী কৈরালাকে জানান ওই রাষ্ট্রদূত। নেপালের পার্লামেন্টে সংবিধান গৃহীত হওয়ার পরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, ‘ভারতের সীমান্তসংলগ্ন নেপালের কিছু এলাকার পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি।...মতদ্বৈধ থাকা বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানাই।’ ভারতের উদ্বেগের কারণ সীমান্তসংলগ্ন তেরাই এলাকায় নতুন সংবিধান নিয়ে ব্যাপক সহিংস প্রতিক্রিয়া। ওই অঞ্চলের বাসিন্দা জাতিগত মদেশি ও থারু সংখ্যালঘুরা নতুন সংবিধান নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, প্রদেশে ভাগ হয়ে গেলে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়বে। মদেশি ও থারু জনগোষ্ঠী মিলে নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ। মদেশিদের সঙ্গে ভারতের কিছু মানুষের জাতিগত ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের বিশ্লেষক অধ্যাপক এসডি মুনি বলেন, ‘ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি যথার্থ। তেরাই এলাকা সহিংস হয়ে উঠলে তা ভারতেও ছড়িয়ে পড়বে।’

২৫০ কোটি ডলারে মার্কিন হেলিকপ্টার কিনবে ভারত

ভারতের মন্ত্রিসভা গতকাল মঙ্গলবার ২৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির অ্যাপাচি ও শিনুক হেলিকপ্টার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের। ভারত সরকারের এ উদ্যোগের ফলে দেশটির অন্যতম শীর্ষ অস্ত্র-সরঞ্জাম সরবরাহকারী হিসেবে ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও পোক্ত হবে। অন্যদিকে, এর ফলে ভারতের স্নায়ুযুদ্ধকালীন মিত্র রাশিয়ার দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থানটি পড়ে যাচ্ছে। চুক্তির আওতায় ভারত যুদ্ধে ব্যবহৃত ২২টি অ্যাপাচি ও ১৫টি শিনুক হেলিকপ্টার পাবে। এতে করে ভারতের সামারিক বাহিনী তাদের পুরোনো হয়ে যাওয়া সোভিয়েত আমলের হেলিকপ্টার বহর নবায়ন করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রাক্কালে তার সরকার এ সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দিল।
ইসরায়েলের কাছ থেকে ড্রোন: এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়া ভারতের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, দেশটি শিগগিরই ইসরায়েলের কাছ থেকে অস্ত্রসজ্জিত চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) কিনতে চায়। ড্রোন তৈরি ও ব্যবহারে প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও পাকিস্তানের তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। ভারতের প্রতিরক্ষা দপ্তর মনে করছে, ইসরায়েলের কাছ থেকে অস্ত্রবাহী ড্রোন পেলে শত্রু দেশের ওপর নিজেদের ক্ষতির ঝুঁকি ছাড়াই হামলা করা সম্ভব হবে। ভারত তিন বছর আগে ইসরায়েলের কাছে থেকে হেরন ড্রোন কেনার পরিকল্পনা করেছিল। গত জানুয়ারি মাসে ভারতের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ওই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রতিবেশী পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেশে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে জানা যায়। এর পরপরই ড্রোন পেতে ভারতে নতুন করে তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি খবর প্রকাশিত হয় যে ভারতের বিমানবাহিনী ড্রোন বহরের জন্য একটি পৃথক ক্যাডারই গঠন করবে।

আবে জমজম by আসিফ হাসান

জমজম পানির উৎসটি বিশ্বের এক চিরকালীন বিস্ময়। প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে এটি মানব জাতির কাছে আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করছে। খানায়ে কাবার কাছে (হজরে আসওয়াদের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে) অবস্থিত বেহেশতি পানির এই উৎসটির কয়েকটি অসাধারণ দিক হলো : ১) প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে আবিস্কৃত হওয়ার পর থেকে সব সময়েই (মাঝে জাহেলিয়াতের যুগের কিছু সময় বাদ দিয়ে) তার পানির উচ্চতা একই অবস্থানে বিদ্যমান রয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতেই তার পানি কমেনি। ২) কখনোই পানির উৎস নিয়ে সঙ্কট সৃষ্টি হয়নি। ৩) জমজমের পানি যত খুশি পান করা যাবে, কিন্তু তবুও সেই পানির কোনো ঘাটতি হবে না।
জমজম কূপটি আবিস্কারের সাথে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম (আ.) এবং তার পরিবারের স্মৃতি জড়িত রয়েছে। হযরত ইবরাহিমের (আ.) দুই স্ত্রী ছিলেন- হযরত সারাহ ও হযরত হাজেরা।
হযরত ইবরাহিম (আঃ) ৮৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় স্ত্রীর মাধ্যমে প্রথম পুত্র সন্তান হযরত ইসমাইলকে (আ.) লাভ করেন। সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত ইবরাহিমকে (আ.) তার প্রিয়তমা স্ত্রী হযরত বিবি হাজেরা এবং দুগ্ধপোষ্য পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আ.) জনমানবশূন্য বিরান ও শুস্ক মরুভূমি মক্কায় রেখে আসার নির্দেশ দেন। হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর এই নির্দেশ মেনে নিয়ে মাত্র এক ব্যাগ খেজুর এবং এক মশক ভর্তি পানিসহ তাদের সেখানে রেখে আসেন।
আল্লাহর এই নির্দেশ বিবি হাজেরাও মেনে নিলেন। আল্লাহর উপর ভরসা করে তিনি শিশুপুত্রকে নিয়ে একাকী সেই নির্জন মরুতে থেকে গেলেন। স্ত্রী-পুত্রকে মরুভূমিতে রেখে যাওয়ার সময় হযরত ইবরাহিম (আ.) বিশেষ করে পানির জন্য দোয়া করলেন। তার দোয়া কবুল হয়েছিল।
হযরত ইবরাহিমের (আ.) রেখে যাওয়া খেজুর ও পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় হযরত হাজেরা পাগলপ্রায় হয়ে যান। বিশেষ করে শিশুপুত্র হযরত ইসমাইলের জীবন বাঁচানোর চিন্তায় তিনি কাতর হয়ে পড়েন। পানি ও মাতৃদুগ্ধের অভাবে তিনি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিলেন। তাই পানির সন্ধানে ছেলেকে রেখে বিবি হাজেরা কাছে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে ছুটাছুটি করতে থাকলেন। তিনি সম্ভবত দেখতে চাচ্ছিলেন, আশে পাশে কোনো কাফেলার দেখা পাওয়া যায় কিনা, যাদের কাছ থেকে খাবার, পানি নেওয়া যায়। তার সেদিনের এই ছোটাছুটিকে স্মরণ রাখার জন্য এখনো ওমরাহ ও হজ্জের সময় ওই পাহাড় দুটি সায়ী করা হাজিদের জন্য বাধ্যতামূলক। সাফা ও মারওয়া পাহাড় দুটিতে সাতবার দৌড়াদৌড়ি শেষে হতাশ হয়ে তিনি ছেলের কাছে ফিরে আসেন। সেখানে তার জন্য এক বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। তিনি দেখলেন, হযরত ইসমাইলের পায়ের কাছে পানির এক চমৎকার উৎস সৃষ্টি হয়েছে। হযরত ইসমাইলের (আ.) পায়ের আঘাতে কিংবা হযরত জিব্রাইলের (আ.) ডানার ঝাপটায় এই উৎসের সৃষ্টি হয়েছে। এই পানি দেখে তিনি খুব খুব খুবই খুশি হলেন। তিনি ও হযরত ইসমাইল (আ.) সেই পানি পান করে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন। তারা বেঁচে থাকার অবলম্বন পেলেন।
বলা হয়ে থাকে, হযরত হাজেরা জমজমের উৎসের চারদিকে বালির দেওয়াল তোলায় তা সেখানেই কেন্দ্রীভূত এবং নিয়ন্ত্রিত থাকে। তিনি এসময় বলছিলেন ‘জমজম (থামো বা এখানেই থাকো)’। এ কাজ করা না-হলে এই পানি কত দূর ছড়িয়ে পড়তো, আল্লাহ ছাড়া কেউই জানে না। সেই থেকে কূপটির নামও হয় জমজম।
মক্কায় জমজম কূপ আবিস্কারের পর স্থানটি দ্রুত আকর্ষণীয় এলাকায় পরিণত হলো। আশপাশের লোকজন সেখানে সমবেত হতে লাগলো। একটি সভ্যতার সূচনার পরিবেশ সৃষ্টি হলো।
ইয়েমেন থেকে আসা ‘জারহাম’ গোত্র বিবি হাজেরার কাছে মক্কায় ফসল ফলানো এবং তা ভাগাভাগি করে নেওয়ার একটি প্রস্তাব করল। তারা সমঝোতায় পৌঁছল। তারা তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেছিল, কাবা ঘরের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও পেয়েছিল।
পরে তারা পুরোপুরি অনাচার ও অবিচারে নিমজ্জিত হলো। পরিণতিতে জমজমের পানি শুকিয়ে গেল। অন্য একটি ভাষ্যে দেখা যায়, জারহাম গোত্র যখন আল্লাহ দেয়া সীমারেখা অতিক্রম করেছিল, তখন কিনা ও খাইজা নামে দুটি গোত্র তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। প্রচ- লড়াইর পর জারহাম গোত্র হেরে যায়। তবে তারা বিতারিত হওয়ার আগে বড় বড় পাথর এবং অন্যান্য সামগ্রী জমজমের উৎসে ফেলে দিয়ে তা ভরাট করে ফেলে। তারা এমন নিখুঁতভাবে এই কাজটি করেছিল যে জমজমের উৎস একেবারে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেল।
বলা হয়ে থাকে হযরত ইসমাইল (আ.) জারহাম গোত্রে বিবাহ করেছিলেন। কিন্তু তার ইন্তেকালের পর তারাই খানায়ে কাবা এবং জমজমের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে বসে। এই ঐশ্বর্যই তাদের পতন ত্বরান্বিত করে। এই প্রেক্ষাপটেই কিনা এবং খাইজা গোত্র তাদের উপর আক্রমণ চালায়। তবে আরেকটি ভাষ্যে দেখা যায়, বিবাহের পর ইসমাইল (আ.) নিজেই কূপটি ভরাট করে মক্কা ত্যাগ করেন।
এর পর দীর্ঘ সময় জমজম উৎস সবার অগোচরে থাকে। মহানবির (সা) জন্মের পর তার দাদা কোরাইশ নেতা আাব্দুল মোতালেব আবার খননকাজ চালান। সুরা ফিলে বর্ণিত আবরাহার হস্তি বাহিনীর আক্রমণের ঘটনার পর তিনি ক্রমশ ধনী ব্যক্তিত্বে পরিণত হচ্ছিলেন। তিনি একদিন স্বপ্নে দেখলেন, মানব কল্যাণে আল্লাহ তাকে জমজম খনন করার আদেশ দিচ্ছেন। প্রথমে তিনি সঠিক জায়গায় খনন কাজ চালাতে পারেননি। আরেক দিন স্বপ্নে তিনি সঠিক জায়গাটির হদিস পান। সেই অনুযায়ী আব্দুল মোতালেব তার তখন পর্যন্ত একমাত্র ছেলে হারিসকে নিয়ে জমজম খনন করতে থাকেন। তাদের কয়েক দিনের প্রয়াসের ফলে আবার জমজমের পানি বের হয়ে আসে। মোতালেবের মোট ১০ ছেলে ছিল। তবে জমজম আবিস্কারের পর বাকি ৯ ছেলে জন্মগ্রহণ করে। সেই থেকে সাড়ে ১৪ শত বছর ধরে সেই একই স্থানে বহাল রয়েছে আবে জমজম।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তারিক হোসাইন জমজম কূপে গবেষণা চালনা করেন। তাতে দেখা যায়, কূপটির আয়তন হচ্ছে: ১৮ ফুট বাই ১২ ফুট বাই ৫ ফুট। তিনি জমজমের পানির নমুনার ক্যামিক্যাল এবং বায়োলজিক্যাল পরীক্ষাও করেন। এর আগে মিসরীয় জনৈক চিকিৎসক বলেছিলেন, মক্কার পয়োঃনিস্কাশনের পানিই জমা হয় জমজমে। কিন্তু তারিক হোসেনের গবেষণায় তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। মক্কা নগরীটি শক্ত, গ্রানাইট পাথরের পার্বত্য উপত্যকায় অবস্থিত। হারাম শরিফটি (মসজিদুল হারাম) উপত্যকার সর্বনিম্ন অবস্থানে। স্থানটিতে ৫০ থেকে ১০০ ফুট গভীর আগ্নেয়শিলার আবরণ রয়েছে। জমজম কূপটি এমন একটি জায়গায় অবস্থিত এবং এর পানির উচ্চতা প্রাকৃতিক ভূমিস্তরের ৪০ থেকে ৫০ ফুট নিচে। এই পানি কখনো বন্ধ হবার নয়।
১৯৬৮ সালে একবার মক্কায় বন্যা দেখা গিয়েছিল। পানি ৭ ফুট উঁচুতে উঠেছিল। জমজম কূপেও ঢুকেছিল বন্যার পানি। তাই বন্যার পর নোংরা পানি জমজম থেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অত্যন্ত শক্তিশালী কয়েকটি মোটর পাম্প লাগানো হয়। মনে করা হয়েছিল পাম্প দিয়ে জমজমের সব পানি দ্রুত সরিয়ে নিলে পরে বিশুদ্ধ পানিই আসবে সেখানে। কিন্তু কয়েক ঘন্টা পানি উত্তোলনের পর জমজমের পানি কমার কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। তাই সেই চেষ্টা বাদ দেওয়া হলো।
জমজমের পানির উৎস তিনটি বলে ধারণা করা হয়
১) কাবা ঘরের নিচ থেকে রুখনে বা হাজরে আসওয়াদ হয়ে জমজম পয়েন্টে।
২) সাফা পাহাড়ের নিচ থেকে জমজম পয়েন্টে।
৩) মারওয়ার নিচ থেকে জমজম পয়েন্টে।
জমজমের মুখ থেকে ৪০ হাত পর্যন্ত প্লাস্টার করা। তার নিচে পাথর কাটা অংশ আরো ২৯ হাত। এসব লাল পাথরের ফাঁক দিয়েই তিনটি প্রবাহ থেকে আসে পানি।
জমজমের পানি অত্যন্ত পবিত্র এবং পৃথিবীর কোনো পানির সাথে তার তুলনা হয় না। অত্যন্ত স্বচ্ছ এই পানিতে বিন্দুমাত্র দূষণ দেখা যায় না। রোগ জীবাণু কিংবা কাদামাটি বা আবর্জনাও দেখা যায় না। জমজমের পানিকে কেবল বেহেশতের আবে কাউসারের সাথে তুলনা করা যায়। এই বিশুদ্ধ পানি অত্যন্ত রুচিকর। উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ এই পানি খেয়েই জীবনধারণ করা যায়। হযরত আবু জর গিফারি (রা.) একবার টানা ৩০ দিন এই পানি পান করে জীবনধারণ করেছিলেন। মহানবি (সা.) এবং সাহাবাদের স্মৃতিধন্য এই পানির প্রতি সব মুসলমানের অকৃত্রিম আকর্ষণ রয়েছে। হজ বা ওমরাহ কিংবা অন্য যেকোনো প্রয়োজনে কেউ মক্কায় যাবে, অথচ জমজমের পানি পান করবে না, কেউ তা কল্পনাও করতে পারে না। তারা নিজেরা তো এই পানি পান করেনই, আর সাথে করে পর্যাপ্ত পানি নিয়ে যান আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের জন্য। মাসের পর মাস বছরের পর বছর জমজমের পানি নানাভাবে দূর দুরান্তে মুসল্লিরা নিয়ে যাচ্ছে। কোনো সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়াই এই পানি মাসের পর মাস স্বাদে, গন্ধে ও বর্ণে অটুট থাকছে। পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও এই পানি পৌঁছে যাচ্ছে বিশুদ্ধ অবস্থায়। বর্তমানে সৌদি সরকার এই পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মক্কাতেও আরো কয়েকটি কূপ আছে। কিন্তু তার কোনোটিই জমজমের মতো নয়। তেমন বেশি পানিও সরবরাহ করতে পারে না সেগুলো। এমনকি পৃথিবীর অন্য সব জায়গায় সেসব কূপ আছে সেগুলোও কয়েক বছর পর শেওলা জমে যায়, পানির স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। একপর্যায়ে সেগুলো আর ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। অথচ জমজমে প্রতিনিয়ত পানি থাকছে। হজের সময় প্রায় লাখ লাখ হাজির পানির যোগান দিয়ে যায় এই জমজম। কখনো তার পানিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন হয়নি।
বিভিন্ন উৎস থেকে ধারণা করা হয়ে থাকে জমজমের উৎস হয়েছিল এখন থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে। এই হিসাবের ভিত্তি হলো- হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত মুসার (আ.) মধ্যকার সময়ের পার্থক্য ১,০০০ বছর। হযরত মুসা (আ.) ও হযরত ঈসার (আ.) সময়ের পার্থক্য ১,৯০০ বছর । আবার হযরত ঈসা (আ.) ও হযরত মোহাম্মাদের (সা.) পার্থক্য ৫৬৯ বছর। তাই বলা যায় হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত মোহাম্মাদের (সা.) মধ্যকার সময় হচ্ছে ৩,৪৬৯ বছর। কেউ যদি আল্লাহর কুদরত দেখতে চায়, তাদের জন্য একটি কুদরত হতে পারে এই জমজম কূপ।

মেডিক্যাল ভর্তিচ্ছুদের আলটিমেটাম- ‘যদি হবে প্রশ্ন ফাঁস রোগী হবে লাশ’

পরীক্ষা বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছেন মেডিক্যাল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।  গতকাল সারা দেশে চতুর্থদিনের মতো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ আলটিমেটাম দেন তারা। আজও সারা দেশে বিক্ষোভ করবেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। ক্রমেই জোরালো হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি। একই দাবি উঠেছে সরকারের মধ্য থেকেই। আর শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরে যাবো না। প্রয়োজনে ঈদের পর অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবো। এদিকে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রংপুর মেডিক্যাল কলেজের তিন চিকিৎসকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৩। এর আগে শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালীন সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহকারী পরিচালকসহ ৩ জন আটক হয়। পরীক্ষা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন বাম সংগঠন। একইসঙ্গে জোরালো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে কড়া সমালোচনা।
চারদিন চলা আন্দোলনের মতো গতকাল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাহবাগের জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভর্তিচ্ছুরা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৩ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন। দাবি আদায়ে আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। এরমধ্যে পরীক্ষা বাতিল না হলে ২৭শে সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে। চলবে অন্যান্য কর্মসূচি।
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল প্রশ্নফাঁস বিরোধী নানা স্লোগান। এরমধ্যে ছিল ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, শিক্ষা কি এখন পণ্য?, হবে যদি প্রশ্নফাঁস, কষ্ট করবো কেন ১২ মাস, যদি হবে প্রশ্নফাঁস, রোগী হবে লাশ, প্রশ্ন গেলে বাইরে ডাক্তার হবে হাতুড়ে, ইত্যাদি স্লোগান।
গতকাল রাজধানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদ বলেন, ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, যদি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয় তবে তা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হোক। একই দাবি জানিয়েছেন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সাধারণ সম্পাদক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম। অবিলম্বে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।  গতকাল এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। অন্যদিকে দাবি আদায়ে সরকারকে চারদিন সময় বেঁধে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে পরীক্ষা বাতিল না করলে আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে। এছাড়াও ঈদের দিন শহীদ মিনারে অবস্থানসহ অন্যান্য কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ভর্তি পরীক্ষা বাতিল, যোগ্য ও নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণসহ তিন দফা দাবি নিয়ে অহিংস আন্দোলন করছি। সরকারের আমাদের দাবি অবিলম্বে মেনে নেয়া উচিত।
আন্দোলনের সমন্বয়ক মোহাইমিনুল ইসলাম লিয়ন বলেন, ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে সবার কাছে এটি পরিষ্কার। এরপর সরকার প্রহসনের মাধ্যমে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অবিলম্বে এই পরীক্ষা বাতিল না করলে আরও কঠিন কর্মসূচি দেয়া হবে। পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনে আছেন বলে জানিয়েছেন তারা। আজ বুধবার শাহবাগে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। শাহবাগে অবস্থান নিয়ে তারা বলেছেন, প্রয়োজনে ঈদের পর অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। ঢাকায় শহীদ মিনার ও শাহবাগের জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর তারা এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
গতকাল দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার সদস্যের একটি দল প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাইফুল, লাইলা, নাহিয়ান, নিশান। এর আগে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয়ার কথা থাকলেও স্থান পরিবর্তন করে প্রথমে বেলা ১১টায় শহীদ মিনারে ও পরে শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেরির সামনের সড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচির সঙ্গে কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও অংশ নেন। এসময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
সমন্বয়ক নিয়ন বলেন, পরীক্ষা বাতিল করা না হলে তাদের আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, আজও সকাল ১০টায় শাহবাগে আমরা অবস্থান করবো। সেখানেই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ও পুনরায় মেডিক্যাল পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানী ছাড়াও চট্টগ্রাম, বগুড়া, খুলনা, সিলেট, ফরিদপুর ও রংপুরেও বিক্ষোভ করেছেন মেডিক্যাল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে অবিলম্বে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা ফল বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানান। অন্যথায় রাজপথ অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির হুমকিও দেন তারা।
একই দাবি জানিয়েছেন, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরে মানবজমিনকে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সরকার এ বিষয়টি পরিষ্কার করবে।
গত ২১শে সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করতে দাঁড়ালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান এবং সেখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, শিক্ষা কি এখন পণ্য?’, ‘হবে যদি প্রশ্নফাঁস, কষ্ট করবো কেন ১২ মাস’, ‘যদি হবে প্রশ্নফাঁস, রোগী হবে লাশ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়। এ সময় ছয় শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। গত শুক্রবার সারা দেশে একযোগে ২৩টি কেন্দ্রে এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়।
প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের মধ্যে ১৮ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার সারা দেশে একযোগে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশব্যাপী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে ২৩টি কেন্দ্রে এই ভর্তি পরীক্ষা  নেয়া হয় ১৮ই সেপ্টেম্বর। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রে এই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। রোববার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ। ১০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর উঠেছে ৯৪ দশমিক ৭৫।  গত রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এ ফলাফল প্রকাশ করেন। আসন সংখ্যার হিসেবে শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে চিকিৎসা শাস্ত্রে লেখাপড়ার সুযোগ পাবেন ১১ হাজার ৪৯ জন।
চলতি বছর ভর্তি পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক মোট ৮৪ হাজার ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে বলেও জানা গেছে। মোট ১০০ নম্বরের এ পরীক্ষায় পদার্থ বিদ্যায় ২০, রসায়নবিদ্যায় ২৫, জীববিদ্যায় ৩০, ইংরেজিতে ১৫ ও সাধারণ জ্ঞানে ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে নতুন অনুমোদনপ্রাপ্ত মুগদা মেডিক্যাল কলেজের ৫০টি আসনসহ মোট ২৯টি সরকারি মেডিক্যাল,  ১টি ডেন্টাল কলেজ ও ৮টি  ইউনিটের মোট আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৬৯৪টি।  ৬৫টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের আসন সংখ্যা ৬ হাজারের উপর আসন রয়েছে। তবে, এই পরীক্ষা চলাকালেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে র‌্যাব। এর আগে একই ঘটনায় বুধবার রাজধানীর মহাখালী থেকে চিকিৎসকসহ চারজনকে আটক করেছিল র‌্যাব। এদিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পরীক্ষার আগের রাতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এনে কিছু নমুনা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। পরে পরীক্ষা বাতিল চেয়ে গত শনিবার দেশব্যাপী আন্দোলন করেন তারা। এছাড়া এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হলেও পরে তা খারিজ হয়ে যায়।
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানিয়েছে মেডিক্যাল ভর্তিচ্ছুরা। পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা।
গতকাল নগরীর চকবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের সময় তারা এসব দাবি জানান। বেলা সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চকবাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে চকবাজার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সড়কে আটকা পড়ে যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েন লোকজন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ফাঁসকৃত প্রশ্নে যে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে তাতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছে। এটিকে একটি প্রহসনের পরীক্ষা বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নেয়া পরীক্ষা এবং যে পাতানো ফল প্রকাশ করা হয়েছে দাবি করে শিক্ষার্থীরা তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। তারা দাবি করেন, এভাবে টাকার বিনিময়ে ডাক্তার হলে গণহারে রোগী মরবে। কারণ, তারা টাকার জোরে ডাক্তার হচ্ছেন, মেধার জোরে নয়। একঘন্টা সড়ক অবরোধ শেষে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে যায়।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। সেখানে তারা ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবিসহ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জানান। তারা বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা প্রমাণ করে পরীক্ষাটি ছিল একটি প্রহসন, যেখানে টাকার বিনিময়ে আগে থেকেই উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি ছিল। পরীক্ষা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা। তারা দাবি করেন, দেশকে মেধাশূন্য করতে একটি চক্র বিভিন্ন প্রচেষ্টায় লিপ্ত। তাদের চক্রান্তে আজ দেশের শিক্ষাখাতে এত অস্থিরতা বলে দাবি করেন তারা। এ সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে নগরীর চকবাজার থানার ওসি মো. আজিজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছিল। এতে কিছুটা যানজট হলেও এখন তা স্বাভাবিক।’

পাখি- সবুজ হাঁড়িচাঁচা by আ ন ম আমিনুর রহমান

কাপ্তাইয়ের ব্যাঙছড়ি এলাকায় সেগুনগাছে
বসে আছে সবুজ হাঁড়িচাঁচা। ছবিটি ২০১৪
সালের ২৫ জানুয়ারি তোলা l লেখক
দুর্লভ দুটি সবুজ পাখির সন্ধানে ছিলাম বহুদিন। দুটি পাখির একটি, নীল দাড়ি সুইচোরা (Blue-bearded Bee-eater), যাকে নিয়ে এর আগে লিখেছি। কাজেই আজকে দ্বিতীয়টির পালা, যে কিনা আরও আকর্ষণীয়। ‘জু এনিমেল মেডিসিন’ বিষয়ে বহিঃপরীক্ষক হিসেবে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম জানুয়ারি ২০১৪-এ। চার দিনের ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে ২৪ জানুয়ারি ভোরে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের উদ্দেশে রওনা হলাম ছাত্র ইয়াছিনকে নিয়ে। সে যাত্রায় প্রকৃতিবিষয়ক আলোকচিত্রী মিজানুর রহমানও ঢাকা থেকে গিয়ে শামিল হলেন। মোট পাঁচজনের টিম নিয়ে প্রথম দিন রাস্তার পাশে ও ছড়ায় তিন-তিনবার নীল দাড়ি সুইচোরার দেখা পেলাম।
দ্বিতীয় দিন দুপুরের খাবার ছেড়ে ব্যাঙছড়ি বিটে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই বাচ্চাসহ চার-চারটি কাও ধনেশের দেখা পেলাম। ওদের পেছন ছুটতে ছুটতে একসময় মারমা পাড়ায় চলে এলাম। ঘড়িতে যখন ৪টা বেজে ৫০ মিনিট, ঠিক তখন একটি সিংহরাজকে (Greater Racket-tailed Drongo) নিশানসহ লম্বা লেজ নিয়ে উড়ে যেতে দেখলাম। কাজেই ওর ছবি তোলার জন্য পিছু নিলাম। ওর পেছনে সাত-আট মিনিট ছোটার পর হঠাৎ সবুজ কিছু একটাকে ডান পাশের ঘন বন থেকে বাঁ পাশের সেগুনবাগানের একটি গাছে গিয়ে বসতে দেখলাম। ক্যামেরায় চোখ রাখতেই মন আনন্দে নেচে উঠল। কিন্তু ছবি তোলার জন্য মাত্র এক মিনিট সময় পেলাম। ৪টা ৫৯ মিনিটে এক টিপে মোট পাঁচটি ক্লিক করলাম। এরপর পাখি উড়াল দিল।
এতক্ষণ আকর্ষণীয় যে পাখিটির কথা বললাম, তা এ দেশে দুর্লভ পাখি সবুজ হাঁড়িচাঁচা (Common Green Magpie)। সোনা থালা নামেও এটি পরিচিত। করভিডি অর্থাৎ কাক-হাঁড়িচাঁচা পরিবারভুক্ত পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Cissa chinensis।
সবুজ হাঁড়িচাঁচা আকারে হাঁড়িচাঁচার চেয়ে ছোট। লেজ লম্বা। দেহের দৈর্ঘ্য ৩৭-৩৯ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১২০-১৩৩ গ্রাম। মাথা ও পিঠ পাতা-সবুজ, কখনো কখনো নীলচে-সবুজও হতে পারে। লেজের ওপরটা নীলচে-সবুজ। বুক-পেট-লেজ টিয়ে-সবুজ। চোখ থেকে ঘাড় পর্যন্ত কাজল রেখাটি বেশ চওড়া। এ কারণেই মাথার সবুজ ঝুঁটিটি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। ডানার প্রান্ত ও মধ্য পালক তামাটে-খয়েরি এবং ডানার গোড়া ও লেজের আগার পালক সাদা। চোখ টকটকে লাল। পা, পায়ের পাতা ও আঙুল প্রবাল-লাল। মজবুত ও শক্ত ঠোঁটটিও প্রবাল-লাল। পুরুষ ও স্ত্রী দেখতে একই রকম। মাথার ঝুঁটি কালচে-বাদামি ও লেজের নিচটা সাদা।
সবুজ হাঁড়িচাঁচা বড় পাতাওয়ালা ঘন বনের বাসিন্দা। তবে সহজে চোখে পড়ে না। মূলত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনের বাসিন্দা এরা। জামালপুর ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাতাঝরা বনে কদাচ দেখা মেলে। পাহাড়ি ছড়ার পাশে, গিরিখাতে একাকী বা জোড়ায় বিচরণ করে। গাছের ডালে ও পাতার আড়ালে লুকিয়ে খাবার খোঁজে। টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ, কীটপতঙ্গ, সাপ, পাখির ডিম-বাচ্চা খায়। মরা প্রাণীর মাংসও খেতে পারে। বেশ সাহসী ও জেদি পাখি। অন্যের খাবার ছিনিয়ে নিতেও বেশ পটু। সচরাচর উচ্চস্বরে ডাকাডাকি ও চেঁচামেচি করে। তবে মিষ্টি স্বরেও ডাকতে পারে। ‘পিপ-পিপ, ক্লি-হুয়ি-ও’ স্বরে ডাকে।
এপ্রিল-মে প্রজননকাল। গাছের শিকড়, পাতা, কাঠিকুঠি ও শেওলা দিয়ে ঘন বনের গাছে পাতার আড়ালে বাটির মতো বাসা বানায়। বাসায় চার থেকে ছয়টি ডিম পাড়ে।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ আরাফাত দিবস

আজ পবিত্র আরাফাত দিবস। সব হজযাত্রী এসে মিশছেন ইসলামের এই ঐহিত্যবাহী ময়দানে। তারা সমস্বরে উচ্চারণ করছেন- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নিয়ামাতা, লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাকা।’ অর্থাৎ- হাজির হে আল্লাহ হাজির, আপনার মহান দরবারে হাজির। আপনার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা, নিয়ামত এবং সব রাজত্ব আপনারই। প্রায় ২০ লাখ হজযাত্রীর এ উচ্চারণে প্রকম্পিত হচ্ছে চারদিক। এই সেই ময়দান যেখানে দাঁড়িয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি বুকে ধরে হজযাত্রীরা এখানে ইবাদত বন্দেগিতে কাটিয়ে দেবেন সূর্যাস্ত পর্যন্ত। কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই মিলে এক জাতি। সবাই এক আল্লাহর অতিথি। আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়া ও সেখানকার ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করাকেই হজের প্রধান অংশ বলা হয়। তাই এ দিনকে হজের দিন বলা হয়। আজ দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হজযাত্রীরা অবস্থান করবেন এখানে। এর মধ্যে মসজিদে নামিরা থেকে খুৎবা দেয়া হবে। হজযাত্রীরা ইমামের পিছনে একসঙ্গে জোহর ও আছরের নামাজ আদায় করবেন। এর আগে গতকাল জোহরের নামাজের আগেই মিনায় পৌঁছেন লাখ লাখ হজযাত্রী। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় পবিত্র হজের ৫ দিনের আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত মিনাতেই অবস্থান করেন হজযাত্রীরা। সেখানে আজকের ফজরসহ মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শেষে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা ছুটেছেন আরাফাতের ময়দানে। মিনা থেকে আরাফাতের ময়দান ১০ কিলোমিটার বা ৬ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে। আজ মিনায় ফজরের নামাজ আদায় করেই কেউ পায়ে হেঁটে, হুইল চেয়ারে, বাসে করে, যে যেভাবে পারেন সেভাবেই ছুটছেন আরাফাতের ময়দানে। দু’টুকরো সাদা কাপড়ে ঢাকা হজযাত্রীতে যেন আরাফাতের ময়দান ও এর আশপাশ সফেদ রূপ ধারণ করেছে। আজ এখানে মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই হজযাত্রীরা রওনা দেবেন মুজদালিফার দিকে। ওদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি খবরে বলেছে, গতকাল মিনার উদ্দেশে যাত্রা করেন সারা বিশ্ব থেকে সমবেত হওয়া লাখো হজযাত্রী। এর আগে তারা সমবেত হয়েছিলেন পবিত্র মক্কা নগরীতে। এবার হজ করছেন প্রায় ২০ লাখ হজযাত্রী। হজ করার সুবিধা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মিশরের ৩৫ বছর বয়সী ওয়ালা আলী। তিনি প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, এটা আল্লাহর তরফ থেকে এক নেয়ামত। তিনিই আমাদেরকে বেছে নিয়েছেন যাতে আমরা এখানে আসতে পারি। বলতে বলতে আবেগে তার চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, হজ করার সুযোগ পেয়ে আমি ভীষণ খুশি। গতকাল মঙ্গলবার মিনায় তাঁবুতে অবস্থানকালে ধর্মীয় বক্তাদের মূল্যবান বক্তব্য শোনেন নারী-পুরুষ হজযাত্রী পাশাপাশি বসে।
ওদিকে গত ১১ই সেপ্টেম্বর মসজিদুল হারামে ক্রেন ভেঙে পড়ায় আহত ৫৬ হজযাত্রীকে হজ করার বিশেষ ব্যবস্থা করে দিয়েছে সৌদি আরব সরকার। ওই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০৯ জন হজযাত্রী মারা যান। আহত হন অনেকে। এর মধ্যে ৫৬ হজযাত্রীকে বিশেষ মেডিক্যাল বিষয়ক পরিবহনে করে জাবাল আল রাহমা হাসপাতাল ও আরাফাত জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, যাতে তারা আরাফাতের ময়দানে হাজির হওয়া থেকে বঞ্চিত না হন। মক্কার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভাগের পরিচালক ড. মুস্তাফা বালজুন এ কথা জানিয়ে বলেন, আহত ১৫ হজযাত্রীকে বাদশা আবদুল আজিজ হাসপাতাল থেকে, ৩১ জনকে বাদশা ফয়সল হাসপাতাল থেকে ও ১০ জনকে আল নূর স্পেশালিস্ট হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরাফাতের ময়দান সংলগ্ন হাসপাতালে। ওদিকে মসজিদুল হারামে ক্রেন ভেঙে পড়ার পর মালয়েশিয়ার দুজন হজযাত্রীর কোন হদিস মিলছে না। তাদের নিকটজনদের ডিএনএ নমুনা এরই মধ্যে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হয়েছে যাতে তারা মিনায় মোয়াইসেম মর্গে থাকা লাশের মধ্য থেকে তাদের শনাক্ত করা যায়। নিখোঁজ ওই হজযাত্রীদের নিকটজন গত শুক্রবার জেদ্দা যান। তাদেরকে মর্গ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় ডিএনএ সংগ্রহ করতে। নিখোঁজ দুই হজযাত্রী হলেন সাদ (৫২), আবদুল হাবিব লাহমান (৬৮)।