Saturday, March 22, 2014

এরশাদের সুদিন গণতন্ত্রের দুর্দিন by সোহরাব হাসান

সম্প্রতি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির উদ্যোগে ‘নেতৃত্বের বিচক্ষণতা: নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। হররোজ মাঠে রাজনৈতিক বাহাসের চেয়ে এসব সংগঠনের উদ্যোগে একাডেমিক আলোচনা হওয়াই বেশি প্রয়োজন, যাতে সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা যায়। কিন্তু দলীয় রাজনীতির দুষ্টচক্রে বাঁধা বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে সে ধরনের উদ্যোগ আশা করা যায় না। তা সত্ত্বেও চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতি ধন্যবাদ পেতে পারে।

রাশিয়া কত অরক্ষিত by জাইলস মেরিট

ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং তার পরে সৃষ্ট ক্রিমিয়া সংকটকে ভুলক্রমে দ্বিতীয় দফা স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও জনমত উপেক্ষা করে ভ্লাদিমির পুতিন যা করছেন, তার প্রতিক্রিয়া পুঁজিবাদকে পরাস্ত করতে সোভিয়েত ইউনিয়নের দীর্ঘ প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অনেক আলাদা হলেও এর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

ভারতের নির্বাচন এবং ব্র্যান্ড নমো by কামাল আহমেদ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচনসামগ্রী বিক্রির শীর্ষে রয়েছে আম আদমি পার্টির নাম অথবা প্রতীকসংবলিত নানা ধরনের পণ্য; যেমন—টি-শার্ট, টুপি, চায়ের মগ ইত্যাদি। কিন্তু দেশটির প্রযুক্তি রাজধানী হায়দরাবাদে জায়গাটি নিয়েছে এনএএমও (নমো)। ব্লুপেজ ডট কম নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যসামগ্রী বিক্রির বিশদ পরিসংখ্যান দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে (এনডিটিভি, ৭ মার্চ, ২০১৪)।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস: নির্মাণ ও বিনির্মাণ by হাসান ফেরদৌস

বলিউডকে যাঁরা ইতিহাসের উৎস হিসেবে বিবেচনা করেন, তাঁদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা একদম অযৌক্তিক নয়। বলিউডি ফিল্ম মানেই গাঁজায় দম দিয়ে বানানো গল্প। বাস্তব অথবা সত্যের সঙ্গে যে ফিল্মের যোগ যত কম, সে ফিল্ম তত বেশি জনপ্রিয়। লোকজন সেসব দেখতে ভিড় জমায় ইতিহাস বইয়ে কী লেখা আছে বা বাস্তবে কী ঘটে, তা জানতে নয়; বরং দুদণ্ড সব ভুলে স্বপ্নের জগতে ঠাঁই নেওয়া যাবে, সে জন্য।

নীতির মা মারা গেছে by ফারুক ওয়াসিফ

এক চীনা জল্লাদের সাধনা ছিল এমন নিখুঁত কোপে মানুষের মাথা কাটা, যাতে দণ্ডিত লোকটি টেরও না পায়। সাধনার এমনই তুঙ্গে তিনি পৌঁছলেন যে একদিন খাঁড়ার এক কোপে একজনের মাথা কাটার পরও লোকটি নির্বিকার। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর মানুষটি প্রশ্ন করে, ‘কই, কিছুই তো টের পাচ্ছি না।’ জবাবে গর্বিত জল্লাদের মিহি হাসিমাখা উত্তর, ‘জনাব, মাথাটা একটু ঝাঁকান, টের পাবেন।’ বিনোদন, অনৈতিক বাণিজ্য, দুর্বৃত্ত রাজনীতি আর ক্ষমতাতৃষ্ণার খাঁড়ায় কখন আমাদের নীতির মাথা কাটা পড়েছে, তা বুঝতে মাথাটা একটু ঝাঁকাতে হবে। কিন্তু সেই সৎ সাহসের তৌফিক কি আমাদের হবে?

স্থানীয় সরকারের নামে ধোঁকা by মিজানুর রহমান খান

এ কথা পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার যে উপজেলা নির্বাচনের নামে একটি প্রহসন চলছে। এই প্রহসন নির্বাচন কারচুপি বা সহিংসতার নিরিখে নয়। বরং এটা হলো গভীর হতাশা থেকে উদ্ভূত, যার ভিত্তি হচ্ছে, ১৯৯২ সালের ৩০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি মাইলফলক রায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ে মিলে রায়টি লঙ্ঘন করে চলেছে। এবং আগামী জুলাইয়ে এ রায় লঙ্ঘনের ২২ বছর পূর্তি হবে।

রোহিঙ্গা: নিজ দেশে পরবাসী by সোহরাব হাসান

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইয়াঙ্গুনে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তাঁরা অন্য সব বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি আছেন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে অনড়। তাঁরা মানতেই চান না যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের এই মনোভাব কেবল অযৌক্তিক নয়, আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী।

প্রবাসে যৌন হয়রানির শিকার নারী শ্রমিকরা by সালমান ফরিদ

একটু এদিকে-ওদিক হলেই গৃহকর্ত্রী মারধর করেন। মারপিট করে রক্তাক্ত করে ফেলেন সারা শরীর। পিছিয়ে নেই গৃহকর্তারাও। ঠিকমতো খাবার দেন না, উপোস থাকতে হয় ঘনঘন। দিনের পর দিন কাজ করান, কিন্তু নিয়মিত ভেতন-ভাতা দিতে তাদের চরম অনীহা- এ চিত্র বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশ নারী শ্রমিকদের। শুধু তাই নয়। সেখানে তারা প্রায়ই যৌন নিপীড়নের শিকারও হচ্ছেন। কেউ কেউ প্রতিদিনই গৃহকর্তার যৌন লালসায় পরিণত হচ্ছেন। এমনকি গর্ভবতীও হয়ে পড়ছেন অনেকে। কিন্তু চাকরি ও মান-সম্মানের ভয়ে তা বাইরে প্রকাশ করছেন না। নিয়মিত সয়ে যাচ্ছেন সব। সমপ্রতি এক নারী শ্রমিক জর্ডান থেকে দেশে ফিরেছেন পেটে ৭ মাসের অবৈধ সন্তান নিয়ে।

এরশাদের সুদিন গণতন্ত্রের দুর্দিন

সম্প্রতি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির উদ্যোগে ‘নেতৃত্বের বিচক্ষণতা:
নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। হররোজ মাঠে রাজনৈতিক বাহাসের চেয়ে এসব সংগঠনের উদ্যোগে একাডেমিক আলোচনা হওয়াই বেশি প্রয়োজন, যাতে সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা যায়। কিন্তু দলীয় রাজনীতির দুষ্টচক্রে বাঁধা বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে সে ধরনের উদ্যোগ আশা করা যায় না। তা সত্ত্বেও চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতি ধন্যবাদ পেতে পারে। সেদিনের গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অভিজ্ঞতার আলোকে এমন কিছু কথা বলেছেন, যা সঠিক নেতৃত্ব ও সঠিক রাজনৈতিক নীতি-কৌশলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বৈঠকে উত্থাপিত মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন মোল্লা বহুল আলোলিত ‘পলিটিকস ইজ দি আর্ট অব কম্প্রোমাইজ’-এর তথা উল্লেখ করে বিবদমান রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সমঝোতার তাগিদ দিয়েছেন। সবকিছু বিজয়ীর দখলে নিয়ে যাওয়ার এবং বিরোধিতার নামে ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার কথাও বলেছেন তিনি। আর্ট অব কম্প্রোমাইজ মানে নীতি বা আদর্শের সঙ্গে আপস নয়। এই আপস হলো সমাজের সব পক্ষের কথা শোনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের অংশ নিতে উৎসাহী করা। এই আপস হলো বৃহত্তর জনগণের কল্যাণের জন্য ক্ষুদ্র ও দলীয় স্বার্থ ত্যাগ করা। যাতে সমাজের কোনো অংশ বঞ্চিত ও পরিত্যক্ত না ভাবে। এটাই গণতন্ত্র। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে আর্ট অব পলিটিকস এখন আর্ট অব মাস্তানিতে পরিণত হয়েছে। গোলটেবিল বৈঠকে গিয়াসউদ্দিন মোল্লার নিবন্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ছিল, সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক অবস্থান কী হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নটি সামনে নিয়ে আসা। কেননা, প্রধানমন্ত্রীর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁকে হতে হবে ‘ফার্স্ট অ্যামোং ইকোয়াল’, অর্থাৎ সমদের মধ্যে এক নম্বর। এ ছাড়া তিনি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তনেরও সুপারিশ করেছেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ দিয়ে সাংসদদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১৯৭২ সালে সংবিধানপ্রণেতারা সম্ভবত পঞ্চাশের দশকের সরকার ভাঙা-গড়ার খেলার কথা মনে রেখেই এটি করেছিলেন। এখন সেই পরিস্থিতি নেই।
তবে আশঙ্কার কথা হলো, আমাদের মাননীয় সাংসদেরা নিজেদের বন্ধ মুখ খুলতে না চাইলেও অন্যদের মুখ বন্ধ করতে বেশ তৎপরতা দেখিয়ে থাকেন। টিআইবি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বরাবরের মতো তারা এবারও অধিবেশনে সাংসদদের অনুপস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে; যার মূল কথা হলো সাংসদেরা সময়মতো অধিবেশনে উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রের ১০৪ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। টিআইবির প্রতিবেদনে বিগত সংসদে বিরোধী দলের, বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিরও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। সাংসদেরা টিআইবির প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এর কোথায় ভুল, তা বলেননি। বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। বিরোধী দলে যাঁরা আছেন, তাঁরাও সরকারের অংশ বলে দাবি করেন। সে ক্ষেত্রে কোনো আইন পাস করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব নয়। প্রশ্ন হলো, আসলেই ক্ষমতাসীনেরা অন্যান্য দেশের সংসদীয় ব্যবস্থার আদলে সংবিধানকে পুনর্বিন্যস্ত করতে রাজি আছেন কি না? নাকি তাঁরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কেবল নির্বাচনটিই অন্যান্য দেশের আদলে করে বাকি সবকিছু করবেন খেয়ালখুশিমতো? সাংসদেরা যখন টিআইবির প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছেন, তখন আমরা ধরে নিতে পারি যে তাঁরা খালেদা জিয়ার সংসদে না আসাকে সমর্থন করেন। টিআইবির প্রতিবেদন সম্পর্কে স্পিকারের রুলিং দাবি কিংবা টিআইবি ও সুজন কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব চাওয়ার মাধ্যমে আসলে তাঁরা এসব প্রতিষ্ঠানের মুখই বন্ধ করতে চান। যাঁরা ক্ষমতায় আছেন তাঁরা তো যেকোনো নাগরিকের সম্পদের হিসাব নিতে পারেন। এমনকি সাংসদেরা এ ব্যাপারে নতুন আইনও করতে পারেন। কিন্তু সেসব না করে যখনই রাজনীতিকদের জবাবদিহি চাওয়া হয়, তাঁদের হলফনামা তথা সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়, তখনই ওই সব সংস্থা ও ব্যক্তি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যায়। এর সোজা অর্থ হলো: ‘তোমরা আমাদের হিসাব নিয়ো না, আমরাও তোমাদের কিছু বলব না।’ কিন্তু এভাবে তো গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
দুই জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাড়ম্বরে ৮৫তম জন্মদিন উদ্যাপন করলেন। জন্মদিন উদ্যাপন করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু এরশাদের মতো গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিতাড়িত শাসক যখন সেই জন্মদিনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চান, তখনই দেশের ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হতে হয়। গত বৃহস্পতিবার এই পতিত স্বৈরশাসক দলের নেতা-কর্মীদের তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমার পাশে দাঁড়াও। যাত্রা শুরু হয়েছে বন্ধুর পথের। হাতে হাত ধরে এই বন্ধুর পথ অতিক্রম করে আবার সুদিন ফিরিয়ে আনব।’ তিনি দল বোঝাতে কী বুঝিয়েছেন জানি না। জাতীয় পার্টির অধিকাংশ নেতা এখন রওশনের সঙ্গে। একটি অংশ কাজী জাফরের নেতৃত্বে ১৮ দলে যোগ দিয়ে ১৯ দল হয়েছে। এরশাদ সুদিন ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। কার সুদিন? তাঁর সুদিন মানে দেশের মানুষের দুর্দিন। ১৯৮২ সালে এই সেনাপ্রধান গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে পৌনে নয় বছর দেশ শাসন করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী তাঁর শাসন অবৈধ। আওয়ামী লীগের নেতারা কথায় কথায় জিয়াউর রহমানের দুঃশাসনের বয়ান দিলেও এরশাদের ব্যাপারে নিশ্চুপ। যেমন বিএনপির নেতারা নিশ্চুপ যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে। নব্বই-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির দুর্ভাগ্য, যে দুটি দল অতীতে স্বৈরাচারী ও রাজকারের বিরুদ্ধে লড়াই করার কৃতিত্ব দাবি করে, সেই দুটি দলই এদের কারও না কারও সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় আছে বা আসতে চাইছে। জাতীয় পার্টির নেতা এরশাদ একেক সময় একেক কথা বলেন। কয়েক দিন আগে তিনি সুনামগঞ্জে জোছনা উৎসবে গিয়ে কবিতা লিখতে না পারার জন্য মনোবেদনা প্রকাশ করেছেন। কবিতা লিখতে গেলেই নাকি তাঁর মামলার কথা মনে পড়ে। ক্ষমতায় থাকতে এই স্বৈরশাসক যত অপকর্ম ও অন্যায় করেছেন,
তার সামান্য অংশের দায়ে গুটিকয়েক মামলা হয়েছে। তিনি রাজনীতির সব নীতি ও মূল্যবোধকেই বিনষ্ট করেননি, একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করেছেন। আজ যাঁরা এরশাদকে সরকারের শরিক করেছেন, তাঁদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়, ১৯৮৩ সালে এই এরশাদ কীভাবে তাঁদের চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিয়াউর রহমান অন্তরীণ করেননি, করেছিলেন এই এরশাদই। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি দলে মতবিনিময় সভায় এরশাদ জাতীয় পার্টির মন্ত্রী-সাংসদদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই আহ্বানে কেউ সাড়া দেননি। এমনকি এরশাদের ডাকে সাড়া দেননি তাঁর সহধর্মিণী রওশন এরশাদও। আমাদের আশঙ্কা এরশাদের সুদিন ফিরে আসা নিয়ে। একজন স্বৈরশাসকের সুদিন মানে দেশের ও গণতন্ত্রের জন্য দুর্দিন। ২৩ বছর আগে এ দেশের ছাত্র-জনতা আন্দোলন করে যেই স্বৈরশাসককে ক্ষমতার মসনদ থেকে বিতাড়িত করেছিল, তিনি যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, তার জন্য ছাত্র-তরুণেরা বিমানবন্দরে পাহারা বসিয়েছিলেন, সেই স্বৈরশাসক এখন সুদিনের প্রহর গুনছেন। তবে আওয়ামী লীগের কল্যাণে কিছুটা সুদিনের স্বাদ তো এরশাদ ভোগ করছেনই। তিনি নির্বাচন না করার দাবি করেও সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়েছেন। ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক হয়েছেন। তাঁর দলের নেতারা একই সঙ্গে মন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার আসনে বরিত হয়েছেন। তিনি আরও সুদিনের অপেক্ষায় আছেন। অর্থাৎ দেশের জন্য, জনগণের জন্য আরও দুর্দিন আরও অমঙ্গল অপেক্ষা করছে।
পটুয়া কামরুল হাসান বেঁচে থাকলে এখন যে ছবিটি আঁকতেন তার শিরোনাম কী হতো?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

রাশিয়া কত অরক্ষিত

ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং তার পরে সৃষ্ট ক্রিমিয়া সংকটকে ভুলক্রমে দ্বিতীয় দফা স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও জনমত উপেক্ষা করে ভ্লাদিমির পুতিন যা করছেন, তার প্রতিক্রিয়া পুঁজিবাদকে পরাস্ত করতে সোভিয়েত ইউনিয়নের দীর্ঘ প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অনেক আলাদা হলেও এর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
রাশিয়া নিজেকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিযুক্ত করার মুখে। এর মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা করবে। আন্তর্জাতিক অবরোধ শুধু প্রারম্ভিক প্রতিক্রিয়া। বাজার ও ব্যাংকব্যবস্থা অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না। সুতরাং রুশ অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে ক্রমেই বেশি করে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। দেশটির প্রবৃদ্ধির গতি কমবে বা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা অবশ্য রাশিয়ার বিষয়। বৃহত্তর পরিণতিটি হবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক বিরাট ধাক্কা। সুশাসন থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন পর্যন্ত অভিন্ন বৈশ্বিক নানা সমস্যা মোকাবিলার জন্য সরকারগুলোর প্রচেষ্টার ভিত নড়ে উঠবে। তবে এর ফল অবশ্য ইতিবাচকও হতে পারে। ইউক্রেনের ঘটনাপ্রবাহ অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত অগ্রসরমাণ দেশগুলোর একটি নতুন ও উল্লেখযোগ্য রকম পুনর্বিন্যাসের পথও খুলে দিতে পারে। পাশ্চাত্যের সঙ্গে রাশিয়ার দ্বৈরথের প্রথম ফলটি হবে ব্রিকসের অবসান। এক দশক বা তার বেশি সময় ধরে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন এবং সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তারা শিল্পায়িত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। কিন্তু রাশিয়া বিশ্ববাজার ও বহুপক্ষীয় ফোরামগুলো থেকে বহিষ্কার বা নিজে বেরিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে একঘরে হতে চলেছে বলে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দিন ঘনিয়ে এসেছে। ব্রিকস হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যাবে না। কিন্তু আজকের এই বিশ্বায়িত অর্থনীতিতে বাকি বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার কোন্দলে জড়িয়ে অন্য চার সদস্যরাষ্ট্রের নিজেদের অবস্থান ঝুঁকিতে ফেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিকস গোষ্ঠীর যে একটি সুসমন্বিত কণ্ঠস্বর আছে, সে ধারণা ধীরে ধীরে লোপ পাবে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নিজের কর্তৃত্ব জাহিরের নীতি অনুসরণ এবং ‘ইউরেশিয়ান ইউনিয়ন’ বাণিজ্য জোট গঠনে উদ্গ্রীব এক ‘ভিন্নমতাবলম্বী’ রাশিয়া স্পষ্টতই হবে বিপজ্জনক। তবে এর আরও তাৎপর্যপূর্ণ ফলটি দেখা যাবে রাশিয়ার সাবেক ব্রিকস সহযোগীরা কীভাবে জি-২০ গোষ্ঠীর অন্য বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক পুনর্বিন্যস্ত করে, তার মধ্যে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বমঞ্চে আসছে মিকটা—মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া (দক্ষিণ), তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ার নতুন জোট। এই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে যৌথ আলোচ্যসূচি স্থির করতে শিগগিরই মেক্সিকোয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মিকটার ব্যানারে প্রথম বৈঠকে বসেছিলেন। তখন অবশ্য এ নতুন জোটকে এমন একটি ক্লাবের বেশি কিছু মনে হয়নি, যারা কিনা কোনো না কোনো কারণে ব্রিকসে ঢুকতে পারেনি, আবার তেমন বড় শক্তিও বলা যায় না।
রাশিয়ার নিজের ডেকে আনা সমস্যা এই ছবিটা একেবারেই বদলে দেবে। ব্রিকসের চেহারা প্রায় রাতারাতি পাল্টে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ফলে অভিন্ন উদ্বেগ আছে, এমন দেশগুলোকে নিয়ে আরও অনেক বড় একটি জোট গঠনের পথ সুগম হয়েছে। মিকটা দেশগুলোর অভিন্ন নানা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নিজের সীমান্তের বাইরে ক্রমবর্ধমান প্রভাব। উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের কিছু সমস্যা আছে। তবে তারা অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও সৃষ্টিশীলতার মডেল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর দুনিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিধিবিধানগুলো যেভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, তাতে এদের উল্লেখযোগ্য স্বার্থ রয়েছে। তাদের চ্যালেঞ্জ ও উচ্চাভিলাষের অনেকগুলোই বিকসের (রাশিয়া বাদে ব্রিকস) চ্যালেঞ্জ ও উচ্চাভিলাষের সঙ্গে মিলে যায়। অবশ্য আন্তর্জাতিক রাজনীতির ‘বর্ণমালা স্যুপ’-এ বিকস-মিকটার মতো দাঁতভাঙা নামের নয় সদস্যবিশিষ্ট একটি জোট শেষ পর্যন্ত তেমন কার্যকর না-ও হতে পারে। তবে শেষ কথাটি হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে রাশিয়ার আসন্ন অনুপস্থিতি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে নতুন ভাবনার অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। এটি জি-২০-কে আবার চাঙা না ধ্বংস করবে, তা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শিগগিরই রাশিয়ার জি-৮-এর সদস্যপদ কেড়ে নেওয়া হবে (ইতিমধ্যে হয়েছে)। জোটটি ফিরে যাবে তার আদি রূপ জি-৭-এ, যার সদস্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে এতে জি-২০-এর কী পরিণতি হবে এবং রাশিয়া তাতে থেকে যাবে কি না, সেটা অস্পষ্ট। বৈশ্বিক ইস্যু মোকাবিলার কৌশল হিসেবে জি-২০-এর ভূমিকা কিছুটা হতাশাজনকই বলা চলে। আর উঠতি অর্থনৈতিক শক্তিগুলোকে শীর্ষ শিল্পায়িত দেশগুলোর সঙ্গে একই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার ধারণাটি এ পর্যন্ত পরিমাপযোগ্য সাফল্য বয়ে আনেনি। পরস্পর নির্ভরশীল আজকের বিশ্বে এখন স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এত বড় অংশকে পুতিনের দূরে সরিয়ে দেওয়া তাঁর নিজেরই ক্ষতি করবে। সমাজতন্ত্রের পতনের এক প্রজন্ম পরে রাশিয়ার অর্থনীতি এবং এর জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি শুরু হয়েছে। তবে দ্রুত হ্রাসমান জনসংখ্যা এবং কেবল জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্য রপ্তানির ওপর নির্ভরতার কারণে এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বেশ নাজুক। ক্রেমলিন শিগগিরই দেখবে, এত দিন যতটা স্বীকার করেছে তারা আসলে বাইরের দুনিয়ার ঘটনাপ্রবাহের কাছে তার চেয়ে অনেক বেশি অরক্ষিত।
ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
জাইলস মেরিট: ইউরোপস ওয়ার্ল্ড সাময়িকীর সম্পাদক।

ওসামার নির্দেশে হামলার দায় প্রচার করেন গাইত

সুলায়মান আবু গাইত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কোর্টে জবানবন্দি দিয়েছেন লাদেনের মেয়েজামাই সুলায়মান আবু গাইত। গত বুধবার দেওয়া ওই জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, আল-কায়েদার হামলার খবর ভিডিওবার্তার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে জানাতেন। তবে কোনো হামলার সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। জবানবন্দিতে আবু গাইত বলেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেন। ওসামা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁকে বিশ্ববাসীর কাছে এর প্রচারের দায়িত্ব দেন।
তিনি এক ভিডিওবার্তার মাধ্যমে তালেবানের হামলার দায় স্বীকারের প্রচার চালান। ওই ভিডিওবার্তা ও একই ধরনের আরও কিছু ভিডিওবার্তার ওপর ভিত্তি করেই আবু গাইতের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। আবু গাইত আদালতের জুরিদের আরও বলেন, তিনি সরাসরি কোনো হামলার পরিকল্পনা বা হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। শুধু বিন লাদেনের নির্দেশ পালন করেছেন। এমনকি আল-কায়েদার সঙ্গে তিনি যুক্তও হননি। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, আবু গাইত ছিলেন আল-কায়েদার সাবেক প্রধান বিন লাদেনের অন্যতম উপদেষ্টা। একজন দোভাষীর মাধ্যমে তিনি জবানবন্দি দেন। আদালতে তাঁর মামলার বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হবে আগামী সোমবার। রয়টার্স।

মোদির বিরুদ্ধে শচীনকে চেয়েছিল কংগ্রেস

শচীন টেন্ডুলকার
ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বারানসি আসনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করার জন্য তারকা প্রার্থী খুঁজছে কংগ্রেস। কিংবদন্তির ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকারকে ওই আসনে প্রার্থী হওয়ার টোপ দিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু শচীন টেন্ডুলকার তা গেলেননি। শচীন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য, কিন্তু তিনি মোদির প্রতিপক্ষ হতে অস্বীকৃতি জানান।
অন্যদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস সদস্য রাজিব শুক্লা শচীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে মোদির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ভারতরত্ন শচীন তাঁদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। শেষমেশ বারানসি আসনে স্থানীয় অজয় রায়কে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। তাঁর এক লাখের বেশি ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বারানসিতে কংগ্রেস সর্বশেষ ২০০৪ সালে জয়ী হয়েছিল। তখন রাজেশ কুমার মিশ্র জয়ী হন। কিন্তু ২০০৯ সালে একই আসনে চতুর্থ হয় দলটি। টিএনএন।

রুশ-মার্কিন পাল্টাপাল্টি অবরোধ, হুমকি

ক্রিমিয়া-সংকটকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রাশিয়ার কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে আরও অবরোধ আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন। এদিকে রাশিয়াও কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী রাজনীতিকের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করছে বলে জানিয়েছে। ওবামা গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে নতুন করে এ অবরোধ আরোপের কথা বলেন। তিনি রুশ অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত এমন সব খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপ করার ক্ষমতাসংক্রান্ত একটি আদেশনামায়ও সই করেছেন। ওবামা বলেন, ‘রাশিয়াকে মনে রাখতে হবে (ক্রিমিয়ার ব্যাপারে), তৎপরতা আরও বাড়ালে মস্কো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নিজেকে কেবলই আরও দূরে সরিয়ে ফেলবে।’ হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিকতম এই মার্কিন হুমকির আওতায় পড়বেন ক্রিমিয়ার সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ২০ জন রুশ কর্মকর্তা। এ ছাড়া এই কর্মকর্তাদের সহায়তা করার অভিযোগে অবরোধের মুখে পড়বে ব্যাংক রোশিয়া। এদিকে রাশিয়াও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করছে। অবরোধের মুখে পড়তে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন জ্যেষ্ঠ কংগ্রেসম্যান হ্যারি রিড, জন বোয়েনার, জন ম্যাককেইন এবং বারাক ওবামার অন্যতম জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা বেঞ্জামিন রোডস। ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে বৈঠক করেছেন ইইউর নেতারা। তবে বৈঠকের ফলাফল তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। বৈঠক শুরুর আগে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেন, ক্রিমিয়া পরিস্থিতি নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন না করলে রাশিয়াকে ইইউর পক্ষ থেকে আরও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে উন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৮-এর কার্যকারিতা থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ক্রিমিয়া পরিস্থিতি নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যেই গত বুধবার তৃতীয় দফা জরুরি বৈঠকে বসে নিরাপত্তা পরিষদ। এতে অংশ নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত সামান্থা পাওয়ার রাশিয়াকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ক্রিমিয়ায় আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে বা উসকানি চালিয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।’ রাশিয়ার ক্রিমিয়া ‘দখলকে’ চুরি করার সঙ্গে তুলনা করেন পাওয়ার। তিনি বলেন, একজন চোর কোনো সম্পদ চুরি করতে পারে, কিন্তু এতে ওই সম্পদের মালিকানা তার ওপর বর্তায় না। সামান্থার এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের হাস্যকর কথাবার্তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’ চুরকিনের এই বক্তব্যের পরে নিজের সহকারীকে নিয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান সামান্থা। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ক্রিমিয়াকে রাশিয়ায় যুক্ত করতে চলতি সপ্তাহেই আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বুধবার রাশিয়া সফরে গেছেন। মস্কো সফর শেষে ইউক্রেনে যাওয়ার কথা রয়েছে মুনের। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা ইতার-তাস জানায়, চলতি সপ্তাহেই ক্রিমিয়াকে যুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। এর অংশ হিসেবে আজ (বৃহস্পতিবার) পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ডুমায় একটি বিল উত্থাপন করা হবে। বৃহস্পতিবারই তা পাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুমোদনের মাধ্যমে চুক্তি বলবৎ হলে আগামী ১ জুন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ের পর ক্রিমিয়া সম্পূর্ণরূপে রাশিয়ার অংশ হয়ে যাবে। ছাড়া পেয়েছেন ইউক্রেনের নৌপ্রধান: ক্রিমিয়ায় আটক ইউক্রেনের নৌবাহিনীর প্রধান শেরি হেডাককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রয়টার্স, এএফপি ও বিবিসি।

আসন নিয়ে নাখোশ হলেও গান্ধীনগরে লড়বেন আদভানি

ভারতের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা এল কে আদভানি গুজরাট রাজ্যের গান্ধীনগর আসনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে কিছুটা নরম হয়েছেন। প্রথমে দলীয় সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করলেও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত ওই আসনে লড়তে রাজি হন তিনি। গত বুধবার রাতে বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বৈঠকে আদভানিকে গান্ধীনগর আসনে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতে তিনি বেশ নাখোশ হন। কারণ, তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ করেছিলেন, তাঁকে যেন উত্তর প্রদেশের ভোপালে প্রার্থী দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি গান্ধীনগরে তাঁর মনোনয়নের প্রস্তাব প্রথমে প্রত্যাখ্যান করেন। বিজেপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদভানির অভিমান ভাঙাতে গতকাল নয়াদিল্লিতে তাঁর বাসভবনে ছুটে যান গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি, অরুণ জেটলি, ভেঙ্কাইয়া নাইডু প্রমুখ। আগের দিন রাতে যান লোকসভায় বিজেপির নেতা সুষমা স্বরাজ। সর্বশেষ তাঁকে গান্ধীনগর থেকে লড়তে অনুরোধ করেন আরএসএসের নেতা মোহন ভগবত। এত নেতার অনুরোধের পর আর অনড় থাকতে পারেননি আদভানি। মোদিকে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে চটে আছেন আদভানি।
মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মোটেই ভালো যাচ্ছে না। আদভানি এর আগে গান্ধীনগর আসনে বেশ কয়েকবার জয়ী হন। এবার তিনি সেখানে খারাপ ফলাফলের আশঙ্কা করছেন। এ জন্যই ভোপাল থেকে প্রার্থী করতে দলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার দলীয় সভায় তাঁকে গান্ধীনগর আসনেই মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতে নাখোশ হন আদভানি। তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে রাজি করতে বুধবার রাত থেকে বিজেপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা আদভানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু ভোপাল আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে অনড় তিনি। মোদি, সুষমা ছাড়াও রাজ্যসভার সদস্য নিতিন গাড়কারিও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গত বছর মোদিকে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান করার পর দলের কাছে পদত্যাগপত্র দেন আদভানি। তখন তিনি মন্তব্য করেছিলেন, বিজেপির নেতারা এখন ব্যক্তিগত এজেন্ডাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। পরে অবশ্য দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনুরোধে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করেন তিনি। বিজেপির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আদভানি দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা লালন করছিলেন। কিন্তু এবার মোদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। বিবিসি ও আইএএনএস।