Thursday, October 1, 2015

যৌনতা ছাড়াই মা হচ্ছেন যুবতীরা!

আশ্চার্যজনক হলেও ঘটনা সত্য। যৌনতা ছাড়াই মা হচ্ছেন যুবতীরা। হ্যাঁ, এমনটাই দাবি ডাক্তারদের। শুধু ব্রিটেনেই এমন যুবতীর সংখ্যা ২৫। ডাক্তার বলছেন, বিষমকামী হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা কুমারী অবস্থাতেই IVF-এ মা হচ্ছেন বা ইতিমধ্যেই হয়েছেন। এঁদের এমনও কেউ কেউ রয়েছেন, যাঁরা এখনও পর্যন্ত সেক্স করেননি। অর্থাত্‍‌, সতীত্ব না-খুইয়েই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, যাকে বলে ভার্জিন বার্থ।
কেন এমন সিদ্ধান্ত? ওই কুমারী মায়েদের কেউ কেউ ডাক্তারকে জানিয়েছেন, পছন্দসই পাত্র খুঁজে না-পাওয়ার কারণেই বিয়ে না-করেই তাঁরা মা হয়েছেন। কেউ আবার শারীরিক জটিলতার কারণে বা সেক্স নিয়ে ভীতি কাজ করায়, বিয়ে বা সহবাস না-করেই IVF-এ মা হয়েছেন। ডাক্তারদের অভিজ্ঞতায়, অন্য মায়েদের তুলনায় এই একাকী মায়েরা কিন্তু অনেক বেশি আবেগপ্রবণ, সেইসঙ্গে আর্থিকভাবে সচ্ছল। National Gamete Donation Trust-এর চিফ এগজিকিউটিভ লরা উইটজেনের কথায়, সিঙ্গল ওমেন বা কুমারী মায়ের কথা শুনলে, এখনও চারপাশের লোকজন বাঁকা চোখেই দেখে। কিন্তু, মহিলাদের কুমারী অবস্থায় মা হওয়ার অধিকার যে রয়েছে, এটা ভুললে চলবে না। IVF ক্লিনিকগুলোরও দায়িত্ব বর্তায়।

‘যুক্তরাজ্যে বাঙালি বংশোদ্ভূত মন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার’ -সৈয়দ আশরাফ

যুক্তরাজ্যে বাঙালি বংশোদ্ভূত মন্ত্রী হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তাঁর সম্মানে গত সোমবার পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
কাউন্সিল ভবন মালবারি প্লেসের মেয়র পারলারে অনুষ্ঠিত ওই সভায় জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বলেন, যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রের ইতিহাস প্রায় সাড়ে ৪০০ বছরের পুরোনো। আর সেই তুলনায় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়েছে মাত্র কয়েক বছর আগে। কাজেই যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের তুলনা চলে না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেন, গত ৪৫০ বছরে যুক্তরাজ্যে সাতজন স্পিকারকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক ত্যাগ আর উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে যুক্তরাজ্য আজকের অবস্থানে এসেছে। তিনি বলেন, বহু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা অনেক ভালো। এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্র ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। গণতন্ত্রের যে চূড়ান্ত লক্ষ্য, সেখানে আমাদের পৌঁছাতে হবে।’
দেশটিতে দীর্ঘদিন বসবাসের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, তিনি যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতির পাশাপাশি যুব সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে তাঁরা তৎকালীন বাঙালি তরুণ প্রজন্মকে চাকরি কিংবা ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিতেন। যার ফল হচ্ছে যুক্তরাজ্যে আজকে বাঙালি মেয়র, এমপি কিংবা শতাধিক কাউন্সিলার। তিনি বলেন, ‘যেখানেই যান না কেন, রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই। সমাজে পরিবর্তন আসে সুস্থ রাজনীতির মাধ্যমে।’ তিনি বলেন, ‘এখন যুক্তরাজ্যে বাঙালি বংশোদ্ভূত মন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার। একসময় না একসময় আসবে, যখন এই বিলেতেও বাঙালি বংশোদ্ভূত কেউ না কেউ মন্ত্রী হবেন।’
দিল্লি থেকে ঢাকায় ব্রিটিশ ভিসা অফিস স্থানান্তরের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের কোনো করণীয় নেই, উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, এটি ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্ত। তবুও ইতিমধ্যে বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারকে বলা হয়েছে।
সৈয়দ আশরাফকে ব্যক্তিগত বন্ধু উল্লেখ করে কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস বলেন, ‘তিনি (আশরাফ) আমার প্রথম নির্বাচনের এজেন্ট ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী আমার কন্যার শিক্ষিকা।’ বাংলাদেশের সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফ টাওয়ার হ্যামলেটসে সমাজসেবা করেছেন, লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার আবদুল মুকিত চুনু বলেন, যুক্তরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটির উন্নয়নে আশরাফের অবদান আছে। কাজেই টাওয়ার হ্যামলেটসের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মান জানানো আনন্দের।
কাউন্সিলার খালিস উদ্দিন আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পপলার অ্যান্ড লাইম হাউসের এমপি জিম ফিজপেট্রিক, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম এ হান্নান, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র সিরাজুল ইসলাম, কাউন্সিলার আয়াস মিয়া, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান, কাউন্সিলার পিটার গোহ্ব, কাউন্সিলর সাবিনা আখতার, কাউন্সিলার হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফের স্ত্রী শিলা ইসলামও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

‘ফ্লোরে থাকছি, ঘুমাইছি, কেউ খোঁজ নেয়নি’

হজ শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা। স্বজনের দেখা
পেয়ে তাই আপ্লুত। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায়
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
থেকে ছবিটি তোলা। ছবি: সাহাদাত পারভেজ
‘ফ্লোরে থাকছি, ফ্লোরে ঘুমাইছি। কেউ খোঁজ নেয়নি। বাড়ি ভাড়া ছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হাজিদের আর কিছুই ভালো ছিল না।’ —কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ বিমানে সৌদি আরব থেকে ফেরা হাজি ইয়াছিন আরাফাত। বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিপর্যয় হওয়ায় তাঁর মতো অনেক হাজিকে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা জেদ্দা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিমানের বিজি ২০১৮ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন চার শতাধিক হাজি। তাঁদের কয়েকজনের মুখেই শোনা গেল নানান দুর্ভোগের কথা।
ইয়াছিন আরাফাত নামে একজন হাজি বলেন, ‘সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হাজিদের বাড়ি ছিল হারাম শরিফের কাছে। বাড়িও ভালো ছিল। শুধু এই সুবিধাটুকু ছিল, আর সবকিছু বাজে। ১৮ ঘণ্টা বিমানবন্দরে ছিলাম। খাবার তো দেয় নাই, এক বোতল পানিও পাই নাই।’
মো. মোসলেহ উদ্দিন নামে কক্সবাজারের আরেক জন হাজি জেদ্দা বিমানবন্দরে তাঁদের দুর্ভোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহারের ভিডিওচিত্র নিয়ে এসেছেন। ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশের ভিআইপি হাজিদের বাংলাদেশ বিমানের এক কর্মকর্তা অগ্রাধিকার দেওয়ায় সাধারণ হাজিরা তাঁর সঙ্গে বাগ বিতণ্ডা করছেন। এ সময় তাঁদের বিমানের ওই কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘১০-১২ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। সবাই আগে যায়, সরকারি হাজিরা কেন পিছে পড়বে। আপনি ভিআইপি, নন-ভিআইপি কন। নো ভিআইপি, নো ভিআইপি।’
মোসলেহ উদ্দিন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের হাজিরাই অবহেলিত। শিডিউল বিপর্যয়ে বিমানের এত দেরি হয়েছে যে, সবাই ফ্লোরে বসে ছিল।’ তিনি বলেন, ‘এই হাতের ওপর একজন হাজি মারা গেছেন। তাঁরে আমি ইহরামের কাপড় দিয়ে বাতাস দিছি। পানি দিছি। কিন্তু বাঁচাইতে পারি নাই। আর সৌদি পুলিশ পা দিয়ে লাশ সরাইছে। এত অসম্মান! ভাই বাংলাদেশের মানুষ খুবই অবহেলিত।’
শাহজাহান খান নামে এক হাজি বলেন, ‘জেদ্দা বিমানের ভেতরে জায়গা নাই। বিমানবন্দরের বাইরের জায়গায় থাকছি। ফ্লোরে, ঘুমাইছি। এত গরম! আমরা তো আল্লাহর মেহমান। অথচ আমাদের কোনো মূল্যায়ন নাই। কোনো ডাক্তার নাই। আমার পাশে তো একজন বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।’
জহিরুল ইসলাম নামে আরেক হাজি বলেন, ‘বাংলাদেশের হাজিরা জেদ্দায় মানবেতর জীবনযাপন করতাছে। পানি নাই, খাবার নাই। তারপরেও আসতে পারছি। আলহামদুলিল্লাহ।’
এদিকে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দেশে ফিরে আসা হাজিদের তেমন ফ্লাইট বিপর্যয়ে পড়তে হয়নি। আরিফুল ইসলাম ও নাদিম আহমেদ নামে এ ফ্লাইটের দুজন হাজি বলেন, এক ঘণ্টার মতো তাঁদের দেরি হয়েছে। থাকা কিংবা খাওয়ায় কোনো সমস্যা হয়নি।
আজ সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের দুটি ফ্লাইট আসে। এর একটি দুপুর সাড়ে ১২টায়। অন্যটি সন্ধ্যা ছয়টায়। এ ছাড়া বাংলাদেশি হাজিদের নিয়ে ঢাকায় এসেছে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি ফ্লাইট।

বাস টার্মিনাল ছিনতাই!

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠক করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা আজ বৃহস্পতিবার থেকে নগরের সব বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণে নেবে ও টোল আদায় করবে।
এই টার্মিনালগুলো নির্মাণ করেছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। তারা বলছে, কোনো শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর করতে পারে না। এর বিরুদ্ধে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে দুটি বাস ও একটি ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টার্মিনালগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছে সিটি করপোরেশন। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সকালে (বুধবার) নগরের নওদাপাড়া বাস শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এ আলোচনা হয়।
ওই আলোচনায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র (দায়িত্বপ্রাপ্ত) নিযাম উল আযীম অংশ নেন। এ ছাড়া ছিলেন ছয়জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাঈদ। আর শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে ছিলেন রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী, জেলা ট্রাক-ট্যাংক-লরি ও কাভার্ড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল হক, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সড়ক সম্পাদক আদিল, কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম, কার্যকরী সদস্য পারভেজ আলী প্রমুখ।
সভায় আলোচনা হয়, মহানগরের বাস-ট্রাক টার্মিনালগুলো আরডিএ নির্মাণ করলেও যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ অবস্থায় ১০ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের সপ্তম সাধারণ সভায় টার্মিনালগুলো করপোরেশনের আওতাধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম বলেন, আরডিএ টার্মিনাল নির্মাণ করেছে, এটা ঠিক। কিন্তু তারা কোনো রক্ষাণাবেক্ষণ করে না। এ জন্য জনদুর্ভোগ হচ্ছে। আরডিএ শুধু বসে বসে টোল আদায় করে। এটা আর হবে না। দেশের অন্যান্য এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনই পরিচালনা করে। শ্রমিক ইউনিয়ন সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে। আজ থেকে করপোরেশন টার্মিনালগুলোর টোল আদায় করবে।
টার্মিনালগুলোর মালিক আরডিএর সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনো কথা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র বলেন, তাঁরা চিঠি দিয়েছেন।
যোগাযোগ করলে আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, টার্মিনালগুলোর মালিক হচ্ছে আরডিএ। শ্রমিক ইউনিয়ন কীভাবে তা সিটি করপোরেশনকে দেবে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন, তাঁরা তাঁদের প্রতিষ্ঠান কিছুতেই দেবেন না। আগের মেয়ররাও চেষ্টা করেছেন, পারেননি। সত্যিই এ রকম কিছু ঘটলে তা হবে রীতিমতো ছিনতাই। সন্ত্রাসী ঘটনা। তাঁরা এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। করপোরেশনের চিঠির বিষয়ে তিনি বলেন, একটা চিঠিই যথেষ্ট নয়। এটা আন্তমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে একটি ছবিও পাঠানো হয়েছে। তাতে দেখা যায়, বাস টার্মিনালের জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম।
আজ থেকে রাজশাহী নগরের সব বাস ও ট্রাক টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। গতকাল সিটি করপোরেশন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে একটি ছবিও পাঠানো হয়েছে। তাতে দেখা যায়, শিরোইল বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম (ডান থেকে তৃতীয়)

সত্যিই ব্লেড খেয়েছিলেন সাজনা by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

সার্কাসে কসরত দেখানোর সময় পারফর্মারদের অনেকেই ব্লেড গিলে ফেলেন। কিংবা কোনো কোনো জাদুশিল্পীকেও অগুনতি দর্শকের সামনে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে দেখা যায় আস্ত ব্লেড। দর্শক মুগ্ধ হয়ে দেখেন, কিন্তু জানেন এটা কারসাজি ছাড়া আর কিছু নয়। ধারালো ব্লেড খেলে ভেতরটা ছিঁড়ে রক্তারক্তি কা-ে প্রাণটাই যাবার যোগাড় হবে। কিন্তু ধারণাটাকে যেনো বুড়ো আঙুল দেখালেন সিলেটের টিলাগড়ের বাসিন্দা সাজনা বেগম। তিনি গিলে খেয়েছিলেন ব্রিটিশ কোম্পানি উইলকিনসন সোর্ডের ধারালো একটি রেজর ব্লেড।
পেটের ব্যথা নিয়ে আসা সাজনা বেগমের এন্ডোসকপির ফিল্ম দেখে ডাক্তারদের চোখ কপালে উঠার যোগাড়। ক্ষুদ্রান্ত্রের অগ্রভাগ বা ‘ডিয়োডেনামে’ আটকে আছে একটি ধাতব বস্তু। একটু ভালো করে দেখলে বেশ স্পষ্টই বুঝা ওটা একটি ব্লেড। ডাক্তাররা ভেবে কুল কিনারা পান না ‘ব্লেডটা’ ওখান পর্যন্ত গেলো কি করে। তাও আবার মুখ হয়ে ডিয়োডেনাম পর্যন্ত যাওয়ার পথটাও বলতে গেলে অক্ষতই রয়েছে। রোগিনীকে জিজ্ঞেস করেও কোনো উত্তর মেলে না, শুধু মুচকি হাসেন তিনি। রোগিনীটি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত। তাই তার কাছ থেকে জবাব আদায় খুব একটা সহজ নয়। তবে তিনি ডাক্তারদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, চিকিৎসা শেষে ফিরে যাওয়ার সময় ‘রহস্য’টা বলে যাবেন।
৩৪ বছর বয়সী সাজনা বেগম বেশ কিছু দিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসা চলছিলো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শফিকুর রহমানের অধীনে। ‘জিনের আসর’ বা সিলেটি ভাষায় ‘উপরি’ সন্দেহে চলছিলো ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবজও। এরই মাঝে হঠাৎ করে পেটে তীব্র ব্যথা হতে থাকে তার। মুখ দিয়ে রক্তও যেতে থাকে। চিকিৎসক বললেন এমনটা হতেই পারে। মা-ও ভাবেন ‘উপরি’র কারণেও তার মেয়ের এমন হতে পারে । তবে সাজনা বেগমের ভাই কোনোটাতেই স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। ৩১ আগস্ট বোনকে নিয়ে আসেন নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে। ডাক্তারের পরামর্শে নয় নিজ উদ্যোগেই সাজনা বেগমের পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। ইঙ্গিত মেলে পেটের ভেতর কিছু একটা আছে। তখন এন্ডোসকপি করান। রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলমগীর সাফওয়াতের এন্ডোসকপিক ক্যামেরায় সব রহস্য উন্মোচিত হয়। চমকে উঠেন ডা. সাফওয়াত। দেখতে পান ডিয়োডেনাম বা গ্রহণীতে আটকে আছে ধারালো একটি ব্লেড। এমনকি ক্যামেরায় ব্লেডের গায়ে লেখা কোম্পানির নামও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। গলাসহ পেটের ভেতরের অন্যন্য অংশ কেটে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্লেড বের করে আনার ঝুঁকি নিতে চান না তিনি। দ্রুত অপারেশনের মাধ্যমে ব্লেড অপারেশনের পরামর্শ দেন।
দেরি না করেই সাজনা বেগমকে ভর্তি করা হয় ইবনে সিনা হাসপাতালেই। শুরু হয় অপারেশনের প্রস্তুতি। রাত ১০টার দিকে  সাজনা বেগমকে নিয়ে আসা হয় অপারেশন টেবিলে। অ্যানেসথেশিয়ার মাধ্যমে তাকে অচেতন করেন ডা. মোহাম্মদ আলী। এরপর প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় নিয়ে অপারেশনের মাধ্যমে ব্লেডটি অপসারণ করেন সার্জারির অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন। সহযোগিতা করেন ডা. সৈয়দ আরিফ আদিলসহ চিকিৎসকদের ৫ সদস্যের একটি টিম। চিকিৎসা শেষে ৭ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল ছাড়েন সাজনা বেগম।
কথা হয় অপারেশন টিমের প্রধান ডা. রফিকুস সালেহীনের সাথে। তিনি বলেন, রোগীটির ভাগ্য ভালোই বলতে হবে। ধারালো ব্লেড গিলে খাওয়ার সময়ই খাদ্যনালী ছিঁড়ে গিয়ে প্রাণ নিয়েই সংশয় দেখা দিতো তার। তিনি বলেন, আমি ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছিলাম না সাজনা বেগম ব্লেডটি গিলে খেলেন কিভাবে। বারবার প্রশ্ন করেও জবাব পাইনি। জিজ্ঞেস করলেই শুধু হাসতেন। অনেক পীড়াপীড়ির পর কথা দিয়েছিলেন যাবার সময় বলবেন কিভাবে ব্লেডটি ‘খেয়েছিলেন’ তিনি।
অপারেশনের সাথে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে সাজনা বেগম তার কথা রেখেছিলেন। হাসপাতাল ছেড়ে যাবার আগে তিনি খোলাসা করেন ব্লেড খাওয়ার গোপন রহস্য। তার ভাষায়, ‘একদিন ভীষণ মন খারাপ ছিলো আমার। কিচ্ছু ভালো লাগছিলো না। একঘেয়েমি কাটাতে কিছু একটা করতে ইচ্ছা করছিলো। একটা ম্যাংগো বারের মধ্যে ব্লেড পুরে নিয়ে গিলে ফেললাম।’ রহস্য ভেঙে দিয়ে আরো একবার মুচকি হাসেন সাজনা বেগম।

দুনিয়া ঘুরতে চেয়েছিলেন সিজার তাবেলা

ঢাকায় সোমবার দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাবেলা ছিলেন একজন পশুচিকিৎসক। তাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন দরিদ্র দেশে গৃহপালিত পশুর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করার উপায় নিয়ে শিক্ষা দিতেন। গত আগস্টে তিনি বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করতে ইতালি ত্যাগ করেন। অনুসন্ধিৎসু মনের অধিকারী সিজার সবসময় দুনিয়াকে আবিষ্কার করার নেশায় ঘুরে বেড়াতে চাইতেন। নিজের চাকরির কারণেই সে ইচ্ছা পূরণের সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন। বহু দেশে ঘুরেছেন, সাক্ষাৎ পেয়েছেন মহান সব মানুষের। ইতালির অন্যতম প্রাচীন পত্রিকা লা স্টা¤পায় তার স¤পর্কে একটি প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।
নিজের জীবনের দর্শন স¤পর্কে তিনি বলেছিলেন, এখানে আমার সময় খুব কম। তাই এ জীবন আমি যথাসম্ভব স্বাস্থ্যকর ও ইতিবাচক উপায়ে উপভোগ করতে চাই। আমি আমাকে জানতে চাই। নিজেদের উদ্দেশ্য স¤পর্কে জানতে চাই। এটা এত সহজ নয়। ৫১ বছর বয়সী এ পশু চিকিৎসকের জন্ম ইতালির মিলানে। কিন্তু পরে তিনি চলে যান ইতালির পূর্বাঞ্চলীয় রাভেন্না অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক অঞ্চল রোমাগনায়। সেখানেই তিনি কৃষিকাজ ও পশুপালন শেখেন।
ভ্রমণ ছাড়াও তার প্রিয় কাজ ছিল, পড়া, সাঁতার, হাঁটা, ইয়োগা। আগ্রহ ছিল ভালো খাবার, ওয়াইনের প্রতি। এছাড়া গান, বাইরে রাত কাটানো, মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং নতুন নতুন আইডিয়া খুঁজে বের করাই ছিল তার পছন্দের কাজ। তিনি নিজেকে একজন ‘খোলামন ও স্মিতহাসির অধিকারী’ বলে বর্ণনা করেছেন। ঠিক একই ধরনের বর্ণনা বিবিসি’র কাছে দিয়েছিলেন ঢাকার গুলশানে তার ফ্ল্যাটের ব্যবস্থাপক। এছাড়া, তার স্বাস্থ্যসচেতনতা ও বাইরে থেকে খাবারদাবার কিনে আনার কথাও বলেছিলেন তিনি। নিজের করা কোন অসাধারণ কাজটি স¤পর্কে সিজার লিখেছেন, এক সন্তানের পিতা হওয়া। নিজের চাকরিসূত্রে বহু দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে তার। তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে লিখেছেন, আমি আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, কেনিয়া, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, রোমানিয়া, রাশিয়া, সোমালিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুদান ও ইয়েমেনে থেকেছি।
২০০০ সালে নিজের স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে থাকতে রাভেগনা অঙ্গরাজ্যের ক্যাসোলা ভ্যালসেনিওতে চলে যান। সেখানে একটি খামারও কিনেন তিনি। সেখানে কয়েক বছর থাকার পর তিনি খামার ভাড়া দিয়ে দেন। এরপরই শুরু হয় তার বিশ্বযাত্রা। এ সময় বহু উন্নয়নশীল দেশে তিনি পশু পালনের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে একটি প্রকল্পে ৫ সদস্যের একটি দলে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছিলেন।

বয়ফ্রেন্ড ছেড়ে যাওয়ায় শরীরে আগুণ লাগিয়ে আত্মহত্যা

বয়ফ্রেন্ড ছেড়ে যাবার পর নিজের শরীরে আগুণ লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বৃটেনের ১৫ বছর বয়সী এক মেয়ে। রেবেকা বেরি নামে ওই মেয়েটির ডাকনাম ছিল রেব। ৭ মাস ধরে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে প্রেমের স¤পর্ক ছিল তার। কিন্তু ওই বয়ফ্রেন্ড তাকে ছেড়ে চলে যাবার পর তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মরিয়া হয়ে বেশ কয়েকটি বার্তা পাঠায় রেব। এর মধ্যে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়ার কথাও জানায় রেবেকা। কিন্তু তার হুমকি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি ওই ছেলে। কেননা, এ ধরণের হুমকি আগেও দিয়েছে সে। কিন্তু পরেরদিনই ওই হুমকি বাস্তবায়ন করেই ছাড়লো স্কুলপড়–য়া মেয়েটি। এ খবর দিয়েছে বৃটিশ পত্রিকা দ্য মিরর। রেবের পালক মা গিল স্কট-টেইলর বাগানে তার মৃতদেহ খুঁজে পান। সেখানে পোড়ার চিহ্নগুলো ¯পষ্টই ছিল। স্থানীয় শেরিফ পেয়নে জানিয়েছেন, নিজেই নিজেকে হত্যা করেছেন রেব। কিন্তু সে আসলে মরতেই শরীরে আগুণ জ্বালিয়েছিল কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরণের মৃত্যু আসলেই দুঃখজনক। তার ওপর মেয়েটি এক কিশোরী। সামনে যার অনেক কিছুই দেয়ার ছিল।
ডরসেটের উইমবর্নে কুইন এলিজাবেথ’স স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল রেব। ৭ মাসের স¤পর্ক ভেঙ্গে দিয়ে তার প্রেমিক চলে গেলে, মুষড়ে পড়ে মেয়েটি। এরপর ছেলেটির মন পুনরায় জয় করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় রেব। কিন্তু ব্যর্থ হয় ১৫ বছরের এ বালিকা। এমনকি সাবেক বয়ফ্রেন্ডকে আত্মহত্যা করার বার্তা পাঠিয়েও টলাতে পারেনি সে। সর্বশেষ বার্তায় রেবেকা লিখেছে, আমি শুধু বলতে চাই, আমি তোমাকে ভালোবাসি, শেষবারের মতো। তাই বিদায়। এর পরেরদিনই বাড়ির পাশের বাগান থেকে উদ্ধার করা হয় তার আগুণে পোড়া লাশ।

বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সফর স্থগিত by মিজানুর রহমান

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুগো সোয়ারের ঢাকা সফর স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৩রা অক্টোবর ঢাকা সফরে আসার কথা ছিল তার। কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল তার। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এর সূচি ছিল। এছাড়া সফরকালে ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা- ডিএফআইডি’র অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পও পরিদর্শন করার কথা ছিল বৃটিশ মন্ত্রীর। ঢাকা ইতালিয়ান নাগরিক হত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নিজ দেশের নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে বৃটেন। এছাড়া ওই হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে।
অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর স্থগিত
বাংলাদেশ সফর স্থগিত করলো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। আজ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফেসবুক পেজে এমন ঘোষণা দেয় অজি বোর্ড। পরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এটা অনেক কঠিন এক সিদ্ধান্ত। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সর্বশেষ পরামর্শ ও আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ শেষে এ সফর স্থগিত করা ছাড়া উপায় ছিল না আমাদের। সিরিজটি যাতে মাঠে গড়ায় এ জন্য আমাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হলো না। আমাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছেন। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে গত ২৭শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পথে দেশ ছাড়ার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে আগের দিন দলের যাত্রা আটকে দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আগামী ৯ই অক্টোবর প্রথম টেস্টে মাঠে নামার কথা ছিল দু’দলের।

‘ওই হাত ধুয়ে ফেলুন, জুকারবার্গ’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে করমর্দনের পর নিজের হাত ধুয়ে ফেলতে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এক দল অ্যাক্টিভিস্ট। এমনকি এ জন্য একটি ওয়েবসাইটও খুলে ফেলেছে তারা। ওয়েবসাইটটির নামও আহবানের সঙ্গে মিল করে রাখা হয়েছে, ‘জুক, ওয়াশ ইয়োর হ্যান্ডস’ (http://zuckwashyourhands.com)। অর্থাৎ, জুক (জাকারবার্গের ডাকনাম), আপনার হাত ধুয়ে ফেলুন। ‘অ্যালায়েন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি’ নামে একটি সংগঠনের পক্ষে ওই অ্যাক্টিভিস্টরা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি সংগঠনটি জাকারবার্গের কাছে হস্ত-পরিষ্কারক বোতল পাঠানোর ব্যবস্থাও নিয়েছে। যারাই ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের নামে একটি ফর্ম পূরণ করছেন, তাদের নামেই একটি করে হস্ত পরিষ্কারক বোতল পাঠানো হবে জাকারবার্গের ঠিকানায়। এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। ওই ওয়েবসাইটটিতে গিয়ে প্রথমেই দেখা যায় মোদির হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি। এরপর নিচে লেখা, ইনি হলেন মি. মোদি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী। গণহত্যায় জড়িত থাকার দায়ে তাকে একবার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু পরে এ ব্যাক্তি আমাদের সবাইকে প্রায় বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, তার হাত পরিষ্কার। কিন্তু আমরা সবাই জানি, তার হাতে কি বিপুল পরিমাণ রক্ত লেগে আছে! দাঙ্গা নিয়ে বিখ্যাত মার্কিন পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেশ কয়েকটি সংবাদ ও নিবন্ধ হুবহু উদ্ধৃত করে ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, ২ মাস ধরে চলা সহিংসতায় হিন্দু উচ্ছৃঙ্খল জনতা ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যা, লুণ্ঠন করছে গুজরাটে। মায়েদের শরীরে শূল ঢুকানো হচ্ছে। শিশুদের শরীরে আগুণ ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। পিতাদের টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হচ্ছে। প্রায় ১ হাজার মানুষ, যাদের বেশিরভাগ মুসলিম, তাদের হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার মুসলিমের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ৩৬০টি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। প্রায় দেড় লাখ মানুষ হয়েছে বাস্তুচ্যুত। বড় ধরণের অভিযোগ রয়েছে যে, বিজেপি এসবে দায়ী। কিছু ক্ষেত্রে দলটি এসবে ইন্ধন জুগিয়েছে। ট্রেনে হামলার পরেরদিন, উদাহরণস্বরূপ, আহমেদাবাদের পুলিশ কর্মকর্তারা হাজার হাজার উত্তেজিত হিন্দু হামলাকারীর মধ্যে একজনকেও আটক করেনি। একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এ দাঙ্গা তদন্তে গঠিত একটি প্যানেলকে জানিয়েছেন যে, মি. মোদি সরকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিতে। এ স্বাক্ষ্য দেয়ার পর ওই কর্মকর্তাকে পরে খুন করা হয়। দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা পুলিশ নিতে রাজি হয়নি প্রমাণ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে। অথচ প্রত্যক্ষদর্শীরা পর্যন্ত স্বাক্ষ্য দিতে রাজী ছিলেন।
এরপর জাকারবার্গের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওই ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, জুক, আপনার হাতে ওই রক্ত লাগাবেন না প্লিজ। হস্ত-পরিষ্কারক বোতল পাঠিয়ে জুকারবার্গকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। কিন্তু ইতিমধ্যে তার হাতে অনেক রক্ত লেগে গেছে। তাই আমরা আরও বোতল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু এ কয়েকটি বোতলও ওই রক্ত মুছতে যথেষ্ট হবে না, যখন আপনি চিন্তা করবেন, কী পরিমাণ হত্যা ও ধর্ষণের পেছনে হাত ছিল মোদির। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানেই এক বোতল হস্ত-পরিষ্কারক আমরা পাব, তা কিনে জাকারবার্গকে পাঠাবো। গত সপ্তাহে আমরা জাকারবার্গের কাছে ২৫০টি বোতল পাঠিয়েছি, প্রতিটিতে গুজরাট দাঙ্গায় নিহত একজন করে ব্যাক্তির নাম ছিল।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গেলে ক্যালিফোর্নিয়ায়ও সফর করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফট সহ সিলিকন ভ্যালির বিশ্ববিখ্যাত সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোদি। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই বহু আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছে। যেমন, একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মোদি ও ক্যামেরার মাঝখানে জাকারবার্গ ছিলেন। তাই মোদিকে দেখা যাচ্ছিল না। মোদি এক পর্যায়ে জাকারবার্গকে একরকম টেনে পাশে সরিয়ে নেন। এরপর তিনি ক্যামেরার দিকে তাকান তিনি। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, মোদি জানেন ক্যামেরা কোন জায়গায়! কেউবা লিখেছেন, মোদি ও ক্যামেরার মাঝখানে কারোই আসা উচিৎ নয়; এমনকি জাকারবার্গেরও নয়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মোদির সঙ্গে করমর্দনের পর হাত ঝাড়ছেন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা। এটিও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির স্থাপনে আবারও সোচ্চার হচ্ছে কট্টর হিন্দুরা

বাবরি মসজিদের স্থানে আবারো রামমন্দির স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সংঘ পরিবার। ভারতের বিহার নির্বাচনে ফায়দা তুলতে তারা হিন্দুত্বের তাস খেলা শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ।
দিল্লিতে বুধবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রবীণ নেতা অশোক সিক্সঘল ও বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে রামমন্দির নির্মাণের ব্যাপারে জানুয়ারি মাসে একটি সম্মেলনের কথা ঘোষণা করলেন। জানুয়ারি মাসের এখনও ঢের দেরি। সচরাচর এত আগে কোনও সম্মেলনের ঘোষণা হয় না। কিন্তু বিহার ভোটের আগে রামমন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গটি সুকৌশলে তোলার জন্যই আজ এই ঘোষণা করা হল। কিন্তু কেন?
সংঘ সূত্রের মতে, বিহারের হিন্দুরা জাতপাতে বিভক্ত। এই পরিস্থিতিতে ফের রামমন্দিরের প্রসঙ্গটি তুলে হিন্দুদের একজোট করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। উচ্চবর্ণরা যাতে বিজেপির পক্ষেই ভোট দেয়, তার প্রয়াসও রয়েছে।
রামমন্দির প্রসঙ্গ উঠলেই যে বিরোধীরা আবার বিজেপিকে আক্রমণ করবে, সেটা নিশ্চিত। কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিক্সঘভি যেমন বলেছেন, বিহার ভোটের আগে বিজেপি মেরুকরণের রাজনীতি করতে চাইছে। বিরোধীদের দাবি, বিজেপি ও আরএসএস দেশকে ধর্মের নামে ভাগ করার রাজনীতিই করে। সে কারণেই একের পর এক রাজ্যে গোষ্ঠী-সংঘর্ষ হচ্ছে। গরুর মাংস খেলে হত্যা করা হচ্ছে। ঠিক যেমন হয়েছে বুধবার, দিল্লি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে বিসারা গ্রামে। কিন্তু বিজেপি ভাবছে, মুলায়ম সিংহ যাদব ও আসাদুদ্দিন ওয়াইসির মতো নেতারা যদি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপিকে দুষে লালুর ভোট কাটতে পারেন, তা হলে লাভ তাদেরই।
কাল রামমন্দির আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা মহন্ত আদিত্যনাথের নামে একটি ডাকটিকিটও প্রকাশ করবেন বিহারের বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। এই নিয়ে ইতিমধ্যে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। রবিশঙ্কর বলেন, ‘‘ভারতের ইতিহাসে প্রায় একশো জন ধর্মীয় নেতার নামে ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সব ধর্মের ব্যক্তিরাই তাতে রয়েছেন। এর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই।’’
কিছু দিন আগে বিজেপি ও আরএসএসের সমন্বয় বৈঠকেই স্থির হয়েছিল, রামমন্দির নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে এখন কোনও বিপাকে ফেলবে না সংঘ। কিন্তু বিহার ভোটের আগে দেখা যাচ্ছে, হিন্দুত্বের তাস খেলতে আগ্রহী দু’তরফই। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রবীণ তোগাড়িয়া মোদি-বিরোধী হলেও অশোক সিংঘল বরাবরই মোদির পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও মোদিকে তিনি সমর্থন করেছিলেন। তাই সিংঘলের মুখ দিয়ে রামমন্দিরের প্রসঙ্গ ফের খুঁচিয়ে তোলা সংঘ-বিজেপির রণকৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রবীণ নেতা অশোক সিক্সঘলের নব্বই বছর পূর্ণ হওয়ার জন্য আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও দিল্লি আসছেন।
সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর দাবি, আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাবরি মসজিদের জায়গাতেই রামমন্দির ছিল। পুরাতত্ত্ব বিভাগও সেই প্রমাণ দিয়েছে। এখন শুধু সুপ্রিম কোর্ট জানাবে, মসজিদ অন্য কোথায় সরানো হবে। স্বামীর কথায়, ‘‘মুসলিম সংগঠনের সঙ্গেও আমাদের আলোচনা চলছে। সরকার সমর্থন জানালে এর সমাধান সম্ভব।’’
ভোটের মুখে সংরক্ষণের দাবি তুলে বিহারে চারটি সভা করবেন হার্দিক পটেল। পতিদার তথা পটেল সংরক্ষণের দাবিতে বাইশ বছরের এই যুবক ইতিমধ্যে গুজরাটে তোলপাড় ফেলেছেন। বুধবার দিল্লিতে হার্দিক জানান, বিহারে ভোট শেষ হওয়ার ঠিক পরেই দিল্লির রামলীলা ময়দানে সংরক্ষণের দাবিতে সভা ডাকবেন তিনি। ঠিক যে ভাবে অণ্ণা হজারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রামলীলায় আন্দোলনে বসেছিলেন।
সূত্র : আনন্দবাজার

সন্ত্রাস ও গণতন্ত্র খাদের কিনারায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থি জঙ্গিদের বিস্তার ঘটেছে। এক্ষেত্রে দেশটি অবস্থান করছে খাদের কিনারায়। রয়েছে সন্ত্রাস ও গণতন্ত্রের মাঝামাঝি অবস্থানে। এ জন্য প্রয়োজন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। সন্ত্রাসকে দূর করতে হবে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে অবদান রাখতে হবে পশ্চিমাদের। এ নিয়ে অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাটে দীর্ঘ এক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ২৮শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই নিবন্ধের শিরোনাম ‘বাংলাদেশ অন দ্য ব্রিঙ্ক: বিটুইন টেরোরিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’। এর লেখক আলেকজান্দ্রা স্টারক। তিনি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি করছেন। তিনি লিখেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমঝোতায় আসতে বাংলাদেশের প্রধান দুটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা উচিত নীতিনির্ধারকদের। যদিও বাংলাদেশের রাজনীতি গভীরভাবে মেরুকরণ করা তবুও সম্মিলিত রাজনৈতিক চাপ ও উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে হবে- যাতে তারা ঐকমত্যে আসেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে আওয়ামী লীগ যাতে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করে- বিএনপির সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্ত এমন দাবির দৃশ্যত ইতি ঘটেছে। এতে ইঙ্গিত মেলে যে, সমঝোতা হওয়ার জন্য একটি চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ওই লেখায় তিনি সন্ত্রাস ও গণতন্ত্রের মধ্যে বাংলাদেশ কেমন আছে এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কি করা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপে সমর্থন দিয়ে উভয়পক্ষকে আশ্বস্ত করতে পারে যে, নির্বাচন হবে সুষ্ঠু। ওই নিবন্ধে বাংলাদেশে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বলা হয়, এর ইতি ঘটাতে বাংলাদেশের রাজনীতিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত অভিজাত বাহিনী র‌্যাব সরকারবিরোধীদের ওপর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতনে লিপ্ত। র‌্যাবকে জবাবদিহির আওতায় আনা হলে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টায় আস্থা সৃষ্টি হবে। এতে রাজনৈতিক সহিংসতার যে স্পৃহা, তার প্রতিশোধ নেয়ার প্রবণতা কমবে। রাজনৈতিক অকার্যকারিতা ও রাষ্ট্রসমর্থিত মানবাধিকার লঙ্ঘন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং রাষ্ট্রের বৈধতাকে নষ্ট করছে। বাংলাদেশ নিয়ে বিদ্রূপাত্মক একটি দৃৃষ্টিভঙ্গি আছে। তা হলো- এখানে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটেছে। এর ফলে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মৌলবাদের সৃষ্টি হচ্ছে। একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও র‌্যাবের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করা হলে এ অবস্থার বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি ফেরানো যাবে। ওই নিবন্ধে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে দমন করতে বাংলাদেশ সরকারকে তার প্রচেষ্টায় সহায়তা করা উচিত নীতিনির্ধারকদের। সম্প্রতি ব্লগারদের ওপর আক্রমণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামা’আতুল মুজাহেদীনের বিরুদ্ধে সরকারের ক্রমবর্ধমান চাপ প্রয়োগের সুন্দর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে দমনপীড়নের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে বেশ কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ, যাদের চিহ্নিত করা কঠিন। এর মধ্যে অনেক গ্রুপ প্রচারণার নিম্ন স্তরে রয়েছে। তারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সেলে বিভক্ত। তারা ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে যুক্ত। তারা নিঃসঙ্গ নেকড়ের মতো হামলা করে। গোয়েন্দা সহায়তা ও সরকারকে সন্ত্রাসীবিরোধী প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে নিষিদ্ধ করে তাদের মূলোৎপাটনে সহায়তা করতে পারে। নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘নাস্তিক ব্লগারদের মতো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা সহায়তায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এসব ব্লগারের কণ্ঠ তাদের ওপর হামলার কারণে নীরব হয়ে গেছে। এ বছর চারজন ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্লগাররা ৮৪ নাস্তিকের হিটলিস্টে ছিল। এতে অন্যরা যে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন এমন আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। এমন হুমকির মুখে যারা রয়েছেন তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করা উচিত সরকারের। নিবন্ধে আলেকজান্দ্রা স্টারক লিখেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পণ্ডিতজন ও বিশ্লেষকদের কাছে এ বিষয়টি তেমন নজর কাড়ে নি। বাংলাদেশে এখন বড় হুমকি ও প্রত্যাশিত গণতন্ত্রের মডেল- এ দুটি জিনিসই আছে। কট্টর ইসলামপন্থি গ্রুপগুলো ক্রমবর্ধমান হারে সহিংসতায় জড়াচ্ছে। ইসলাম ও রাজনীতি নিয়ে একরকম লড়াই চলছে এখানে। যারা ইসলামকে উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখে এবং যারা কট্টরপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমাজকে দেখে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে সন্ত্রাস পাচার করতে চায়-  তাদের জন্য বাংলাদেশ হবে গুরুত্ব বোঝানোর একটি স্থান। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ হলো বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ মুসলিম দেশ। এখানে মাথাপিছু বার্ষিক আয় ১০৮০ ডলার। বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম এ দেশটি। স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশটি স্থিতিশীল গণতন্ত্রের পথে ধাবিত। তবে বেশ কয়েকবার সামরিক অভ্যুত্থান তাতে বাধাগ্রস্ত করেছে। উদার ইসলামের সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ধারণা মিলিয়ে বাংলাদেশে যে মডেল, তা হতে পারে আঞ্চলিকতার জন্য মডেল। কট্টর ইসলামী সহিংসতার হুমকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এর মূল নিহিত রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও তার পরের সহিংসতার মধ্যে। অপেক্ষাকৃত কম কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দক্ষিণ এশিয়ায় কট্টরপন্থি ইসলামী গ্রুপগুলোকে ‘না’ বলতে পারে। তাদের জন্য থাকতে পারে আধুনিক ইসলামিক গণতন্ত্র। তা করতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতাকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। রাজনৈতিক সহিংসতার রয়েছে এক জটিল ইতিহাস। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক অঙ্গনে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তার একটি হলো ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অন্যটি হলো তাদের ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-ডানপন্থি বিএনপি। এ দলটির সঙ্গে রয়েছে সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর মিত্রতা। স্বাধীনতার পর থেকে তারাই পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। দু’দলের মধ্যে দুর্নীতি ও সহিংসতার কারণে এর মাঝে ঘটেছে সামরিক অভ্যুত্থান। ২০০৯ সালে নির্বাচনে জয়লাভের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত করে ‘বিতর্কিত’ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। উদ্দেশ্য, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানপন্থিদের নৃশংসতায় সহায়তা করেছিল তাদের বিচার করা। এর বেশির ভাগই পরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা হয়েছেন। তাদেরকে শাস্তি দেয়ায় তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে। রাজনীতিতে ঘটেছে মেরুকরণ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যখন আবদুল কাদের মোল্লাকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণ, গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় তখন ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগাররা বিক্ষোভ করেন। তাতে যোগ দেয় হাজার হাজার মানুষ। তারা কাদের মোল্লার শাস্তিকে লঘু বলে মন্তব্য করে তার ফাঁসি দাবি করে। তাদের এই আন্দোলন শাহবাগ আন্দোলন নামে পরিচিত। এ সময় পাল্টা বিক্ষোভ ডাকে হেফাজতে ইসলাম। তারা যানবাহন ভাঙচুর এবং বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তারা সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে যে জাতীয় নির্বাচন হয় তার কাছাকাছি সময়ে এ ঘটনা ঘটে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা বলে অভিহিত করে। আওয়ামী লীগ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। জবাবে বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচন বর্জন করে। ডাক দেয় হরতাল। এতে তাদের সমর্থকরা রাস্তা অবরোধ করে। বাস, গাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ উত্তেজনা এ বছরও অব্যাহত ছিল। আগের বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে জানুয়ারি মাসে ফের হরতাল আহ্বান করে বিএনপি। এই দশকের পর দশক ধরে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে উগ্র ইসলামপন্থিদের দ্বারা। তারা সরাসরি তহবিল না পেলেও, আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পায়। নিজেদের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া রাজনৈতিক সহিংসতাকে অবজ্ঞা করেছে।

ইউরোপে অভিবাসী ৫ লাখ ছাড়িয়েছে

সর্বনাশী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ৫ লাখের অধিক অভিবাসী আশ্রয় নিয়েছে ইউরোপে। যাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮৩ হাজার প্রবেশ করেছে উপকূলীয় দেশ গ্রিসে। মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে জাতিসংঘ। এছাড়া শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, আপন ভূমির সংঘাত এড়িয়ে সাগর পথে ইউরোপে যাত্রা করে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯৮০ জন। খবর এএফপির। ইউএনএইচসিআর জানায়, ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ১৫ হাজার অভিবাসী ইউরোপে ঢুকেছে।
যাদের ৫৪ শতাংশই সিরীয় এবং গ্রিসে আশ্রয় নেয়াদের ৭১ শতাংশ চার বছর ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অসহায় নাগরিক। সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করছে হাঙ্গেরি : এবার অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গোটা সীমন্তই বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাঙ্গেরি। তবে এ কাজে হাত দেয়ার পূর্বে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান। খবর এএফপির। হাঙ্গেরিতে প্রতিদিন ৫ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করছে। এ পর্যন্ত দেশটি ৩ লাখ বাস্তুহারা মানুষের আগমন অবলোকন করেছে।

সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করলেন ইংলাক

থাইল্যান্ডের জান্তা সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে পাল্টা ফৌজদারি মামলা করেছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা। সরকারের প্রধান এ কৌঁসলির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার ব্যাংকক ফৌজদারি আদালতে তিনি এ মামলা দায়ের করেন। খবর এপির। এক বছর আগে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চালে ভর্তুকি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে ইংলাককে ক্ষমতাচ্যুত করেন আদালত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সামরিক বাহিনী-সমর্থিত থাই পার্লামেন্ট চাল ক্রয় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ইংলাককে রাজনীতি থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে।
চাল ক্রয় প্রকল্পে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে চাল ক্রয় করেছিল ইংলাক সরকার। থাইল্যান্ডের এক সময়ের জনপ্রিয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। তাদের রাজনৈতিক দল ২০০১ সাল থেকে দেশটির প্রত্যেকটি নির্বাচনেই জয়লাভ করে আসছে। থাইল্যান্ডের দরিদ্র গ্রামীণ জনগণের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা থাকলেও শহুরে মধ্যবিত্তরা তাদের সমর্থন করেন না। ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে থাকসিন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনীতিতে আসেন ইংলাক। মূলত এসময় থেকেই থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলে আসছে। এর এক পর্যায়ে ২০১৪ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের ঠিক আগে ক্ষমতাচ্যুত হন ইংলাক।

আইএসে একমত, আসাদে বিবাদ

জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট দমনে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া একমত হলেও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ক্ষমতায় থাকা নিয়ে বিবাদে জাড়িয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভ­াদিমির পুতিন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভাষণ দেন। ভাষণে ওবামা বলেন, ‘বাশারের অপসারণের মধ্য দিয়েই দেশটিতে যুদ্ধের অবসান সম্ভব।’ এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট বাশারকে সাহায্য না করাটা বড় ধরনের ভুল উল্লেখ করে বলেন, ‘বাশারই আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।’ আইএসবিরোধী বৃহৎ জোট গঠনের আহ্বানও জানান তিনি। জাতিসংঘ অনুমোদন দিলেই কেবল রাশিয়ার সেনাবাহিনী অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বিত বিমান হামলায় অংশ নেবে বলে জানান পুতিন। সাধারণ পরিষদে ভাষণের পর এই দুই নেতা ৯০ মিনিটের এক বৈঠকে বসেন।
এ বছর এই প্রথম তারা সরাসরি বৈঠকে বসেন। মুখোমুখি বৈঠকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ক্ষমতায় থাকার প্রশ্নে একমত হতে পারেননি। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের ওপর বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং মিত্র দেশগুলো। এর মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির কারণে অন্য বাহিনীগুলোর সঙ্গে দুর্ঘটনাবশত রুশ বাহিনীর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে এবং রাশিয়ার মূল উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও প্রশ্ন তুলেছে। তবে ওবামার সঙ্গে বৈঠকের পর পুতিন সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কুর্দি বাহিনী এবং সিরিয়া সরকারকে যত বেশি সমর্থন দেয়া সম্ভব ততটাই দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে। পুতিন আরও বলেন, সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আসাদই হচ্ছেন একমাত্র বিকল্প। আর তাই আসাদের সামরিক বাহিনীকে সমর্থন সহযোগিতা দিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই উল্লেখ করে একটি বৃহত্তর সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান জানান তিনি। কিন্তু এর বিপরীতে ওবামা সিরিয়ায় শিশুদের ওপর ব্যারেল বোমা হামলার জন্য আসাদকে দেশদ্রোহী আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এত রক্তক্ষয়, এত ধ্বংসযজ্ঞের পর যুদ্ধপূর্ব অবস্থা আর ফিরে আসতে পারে না। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ওলান্দ এবং তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলুও আসাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার বিষয়টিকে নাকচ করেন। ইরান এবং রাশিয়া আসাদের দীর্ঘদিনের মিত্র। রাশিয়া যেমন সিরিয়ায় সামরিক অবস্থান শক্ত করেছে; তেমনি ইরানও সিরিয়ার সরকার ও সেনাবাহিনীকে সমরাস্ত্র সরবরাহ করে আসছে।
জাতিসংঘে ওবামা পুতিন বৈঠক
‘সিরিয়াকে আরেকটি রুয়ান্ডা হতে দেবেন না’
সিরিয়াকে আরেকটি রুয়ান্ডায় পরিণত হওয়া ঠেকাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় বিরোধী জোটের প্রধান খালেদ খোজা। সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে খোজা বলেন, সিরিয়ায় যা ঘটছে তা জাতি বিনাশ। নিহত বেসামরিক নাগরিকদের দুই-তৃতীয়াংশই ঘটেছে সরকারের ব্যারেল বোমা নিক্ষেপের কারণে। সাধারণদের ওপর আসাদ সরকার বিমান হামলা করছে। এখনও সময় আছে এ দেশকে আরকেটি রুয়ান্ডা হওয়া থেকে রক্ষা করুন।

সাকা–মুজাহিদের ফাঁসি: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু

মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। সন্ধ্যায় তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাতে প্রথম আলোকে বলেন, এর মধ্য দিয়ে এ দুজনের বিরুদ্ধে রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। তবে ১৫ দিনের মধ্যে আসামিরা রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় দুটি প্রকাশিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুটি রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বের হয়েছে। এখন এটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।’
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ গত ১৬ জুন মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। একই বেঞ্চ গত ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। এই বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
মুজাহিদের আপিলের ১৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় লিখেছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা এ রায়ের সঙ্গে একমত হয়েছেন। আর সাকা চৌধুরীর আপিলের ২১৭ পৃষ্ঠার রায় লিখেছেন প্রধান বিচারপতি। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা তাঁর সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহীদুল আলম গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পূর্ণাঙ্গ রায় দুটি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার রায় দুটি ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদ দুজনেই কারাগারে রয়েছেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুক্তিযুদ্ধকালে আলবদর বাহিনীর নেতা মুজাহিদকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। আর মুক্তিযুদ্ধকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে একই বছরের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। তাঁরা দুজনেই ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন।
রায় যেভাবে কার্যকর হবে: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাঁরা পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন।
রায় কীভাবে কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গতকাল নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে পূর্ণাঙ্গ রায় বিচারিক আদালতে, অর্থাৎ ট্রাইব্যুনালে পাঠাবেন আপিল বিভাগ। ট্রাইব্যুনাল আসামিদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবেন। এর মধ্যে আপিল বিভাগের বেঁধে দেওয়া সময় অনুসারে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন আসামিরা। আর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকেই দণ্ড কার্যকরে উদ্যোগ নিতে পারবে রাষ্ট্র। তবে ১৫ দিনের মধ্যে আসামিরা পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে তখন মৃত্যু পরোয়ানা ও দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাবে। আপিল বিভাগ যদি আসামিদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন, তাহলে সব শেষে আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। তবে আসামি ক্ষমা না চাইলে তখন দণ্ড কার্যকর করতে কোনো বাধা থাকবে না।
অবকাশের মধ্যে আপিল বিভাগে পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি হতে পারে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, এটা পুরোপুরি আদালতের এখতিয়ার।
সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে অবকাশ চলছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ অবকাশ চলবে। ১ নভেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের প্রায় দেড় মাস পর তা কার্যকর হয়েছিল। জামায়াতের অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর হয়। এ দুজনের কেউ রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাননি।
গত বছরের ৩ নভেম্বর কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই রায় পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫তম দিনে (৫ মার্চ) তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন কামারুজ্জামান। ওই সময় সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ সামনে থাকায় আসামিপক্ষ শুনানি মুলতবি চায়, আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে ৫ এপ্রিল পুনর্বিবেচনার আবেদনের ওপর শুনানি হয়, ৬ এপ্রিল তা খারিজ করেন আদালত। ১২ এপ্রিল কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সরকার।
কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের সময় অবশ্য পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সময়সীমা নিয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ১০ ডিসেম্বর রাতে তাঁর ফাঁসি কার্যকরের পদক্ষেপ নেয় সরকার। সেদিন নির্ধারিত সময়ের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে চেম্বার বিচারপতির কাছে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন কাদের মোল্লা। ১২ ডিসেম্বর তাঁর আবেদন খারিজ করেন আপিল বিভাগ। ওই রাতেই কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কাদের মোল্লার পুনর্বিবেচনার আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায়ে পুনর্বিবেচনার আবেদনের জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন আদালত।
রায়ে যা বলেছেন আদালত: মুজাহিদের পূর্ণাঙ্গ রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে মুজাহিদ মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর বাহিনীর নেতা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের আগমুহূর্তে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার নীলনকশা হাতে নিয়ে বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞ চালিয়েছিল পাকিস্তানি সেনা ও গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনী। আর এই হত্যাকাণ্ডে মুজাহিদ প্ররোচনা, উসকানি, পরামর্শ ও সহায়তা করেছেন। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতা শুধু হিটলারের গ্যাস চেম্বার গণহত্যার সঙ্গে তুলনীয়। তিনি নিঃসন্দেহে একজন যুদ্ধাপরাধী এবং এ জন্য তাঁকে ট্রাইব্যুনাল যে সাজা দিয়েছেন, শুধু সে সাজাই দেওয়া যায়।
সাকা চৌধুরীর রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, আসামি সর্বোচ্চ নির্মমতা ও চরম নিষ্ঠুরতার সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটিত করেছেন। তিনি বেসামরিক ও নিরস্ত্র মানুষকে নিপীড়ন করেছেন, তাঁদের নির্যাতন করে হত্যা করেছেন, নিরীহ মানুষদের গুম করেছেন এবং মানুষের সম্পদে বাধাহীন লুটতরাজ চালিয়েছেন। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক কারণে তিনি এসব অপরাধ করেছেন পরিকল্পিতভাবে তাঁর প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার জন্য। ট্রাইব্যুনাল যে এ জন্য তাঁকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন, এতে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণই থাকতে পারে না।
জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলাটিরও আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে। আপিল বিভাগ তাঁকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। এর পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদেশি কূটনীতিকেরা: প্রধানমন্ত্রীর উষ্মা

ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলার হত্যাকাণ্ডের জেরে বিভিন্ন দূতাবাসের পক্ষ থেকে রেড অ্যালার্ট জারিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সফররত প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, বিভিন্ন দূতাবাস থেকে রেড অ্যালার্ট জারির পরই বিএনপির এক নেতা জোর গলায় কথা বলছেন। এখন তো সন্দেহ হয় যে, উনাকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত, ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা আছে কি না। আমি দেশে ফিরে সে ব্যবস্থাও করব। বিরোধী জোটের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে ‘অস্থিতিশীল’ করতে চায়, তারাই এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। দেশে একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী মানুষ পুড়িয়ে মারে। মানুষ হত্যা করে দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়- এমন কিছু লোক তো বাংলাদেশে রয়েছে। তারা তো চাইবেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। সেই শ্রেণীর লোকদেরই কর্মকাণ্ড এগুলো। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনজীবনে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছি। তবে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। তেমন ঘটনা এই আমেরিকাতেও ঘটছে। বাংলাদেশে আদৌ কোন বিরোধী দল আছে কিনা- এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংসদীয় রীতি অনুযায়ী যারা জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বসছেন- তারাই সত্যিকারের বিরোধী দল। তবে আমাদের দেশে আরেকটি দল আছে, যারা নির্বাচনে যায়নি। নির্বাচনের পথ ছেড়ে দিয়ে যারা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও করেছে তারা রাজনৈতিক দল হতে পারে না। তারা জঙ্গি দল। ২০১৯ সালের আগে নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে কি না- এ প্রশ্নে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আগাম নির্বাচন কেন? আমরা যে উন্নয়ন করছি এটি পছন্দ হচ্ছে না? হ্যাঁ, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন পছন্দ করবে না তারাই আগাম নির্বাচনের জন্যে চিৎকার করবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং মশিউর রহমান, জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আব্দুস সোবহান গোলাপ, এফবিসিসিআই সভাপতি মতলুব আহমদ, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এমডিজি বাস্তবায়নের উপায় খুঁজে বের করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০৩০কে একটি সম্মিলিত যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এটি বাস্তবায়নের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনসহ সকল উৎস থেকে আমাদেরকে সম্পদ সংগ্রহ করার প্রয়োজন হবে। অন্যথায় ওডিএ’র লক্ষ্য পূরণ করতে শুরু থেকেই খুবই সমস্যা হবে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এমডিজি ও এসডিজি’র উপর এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। ৭০তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, এমজিডি অর্র্জনের মতো এসডিজি’ও অর্জন করে বাংলাদেশ আরও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই যাত্রায় কেউ পিছিয়ে থাকবে না। আমরা বাংলাদেশকে একটি প্রগতিশীল, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যাশা করি। তিনি বলেন, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন ও জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক সমর্থন প্রয়োজন। বাংলাদেশে বিশেষ করে স্বাস্থ্য, কৃষি, জ্বালানি ও পরিবহনের মতো সেক্টরগুলোতে পরিবেশ উপযোগী প্রযুক্তি প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডের রাজা উইলিয়াম আলেক্সান্ডার, বেনিন প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট বোনি ইয়াই, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফ্যান এল ফেভেন, সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট মোগেনস লেকেটোফট, ইউএনডিপি’র প্রশাসক মিস হেলেন ক্লার্ক, ইউএন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধি গায়ান চন্দ্র আচারিয়া এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত মাহমুদ মহিউদ্দিন বক্তব্য রাখেন। -মানবজমিন
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদেশি কূটনীতিকেরা
প্রথম আলো- আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
বাংলাদেশে পশ্চিমা স্বার্থের ওপর জঙ্গি হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকেরা। মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক কোরের ডিন রবার্ট গিবসনের বাসায় এক বৈঠকে কূটনীতিকেরা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা খুব শিগগির বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইবেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজারকে হত্যার পর গতকাল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হয়। সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় আমেরিকান ক্লাব। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলও গতকাল বন্ধ ছিল।
মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো ভ্রমণসংক্রান্ত বার্তা হালনাগাদ করেছে মার্কিন দূতাবাস। এতে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর যুক্তরাজ্য গতকাল তাদের ভ্রমণবিষয়ক বার্তা হালনাগাদ করে বলেছে, ঢাকায় ইতালির নাগরিককে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকার কয়েকটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও বিদেশিদের ক্লাব গতকাল বন্ধ ছিল।
ঢাকার অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড কমিউনিটি আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠেয় তাদের একটি অনুষ্ঠান (গ্লিটার পার্টি) স্থগিত করেছে। একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি ৪০০ অতিথি অংশ নেওয়ার কথা ছিল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড কমিউনিটি ঢাকায় গ্লিটার পার্টি করে আসছে। এবার নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন দূতাবাস থেকে তাদের নাগরিকদের ওই অনুষ্ঠানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় এটি স্থগিত করা হয়েছে।
ওই পাঁচ তারকা হোটেল কর্তৃপক্ষও অনুষ্ঠানটি স্থগিত হওয়ার কথা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে।
গতকাল সকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঢাকায় কর্মরত প্রায় সব দেশের কূটনৈতিকেরা অংশ নেন। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ও তুরস্কের নতুন রাষ্ট্রদূতের সম্মানে চা–চক্র হিসেবে এ বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। তবে প্রাসঙ্গিকভাবে বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিসরের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আলোচনার একপর্যায়ে আমরা কূটনৈতিক কোরের ডিনকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি চিঠি লিখতে অনুরোধ করেছি। ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইতালির নাগরিক হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে তার আসল কারণ কী, তা জানতে চাওয়া হবে। এ ছাড়া কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই সরকারের কাছে আমরা ব্রিফিং শুনতে চাই। এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে মিসরের রাষ্ট্রদূত বলেন, এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী ওই আলোচনার প্রায় শেষের দিকে পৌঁছান ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক।
সকালের ওই বৈঠকের পর দুপুরে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) ম. খুরশেদ আলমের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে দেখা করেন ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু। তাঁরা আসন্ন বাংলাদেশ-ইইউ যৌথ কমিশনের বৈঠকসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ইতালীয় নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। এ সময় পিয়েরে মায়াদু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি ব্রিফিংয়ের অনুরোধ জানিয়ে সরকারকে চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানান বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা জানিয়ে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পর এবার কানাডা তাদের ভ্রমণবিষয়ক বার্তা হালনাগাদ করেছে। গতকাল কানাডা হাইকমিশনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বার্তার কথা উল্লেখ করেছে। তাতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের শেষে পশ্চিমা স্বার্থে জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্যের বরাত দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে। হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না এবং ওই হামলা নির্বিচারে চলতে পারে। সন্ত্রাসী হামলা যেকোনো সময় ঘটতে পারে এবং বিদেশি নাগরিক ও বিদেশি পর্যটকেরা চলাচল করে এমন জায়গা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
ঢাকার একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ভ্রমণবিষয়ক বার্তা হালনাগাদ করার আগে পশ্চিমা একটি দেশ গত সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছিল। তারা এও জানায় যে ভ্রমণবিষয়ক বার্তাগুলো ওই সব দেশের রাজধানী থেকে হালনাগাদ করা হয়।
তাবেলা সিজারকে হত্যায় শোক ও নিন্দা জানিয়ে গতকাল ব্রাসেলসে ইইউর সদর দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে ইইউর মুখপাত্র বলেন, ওই হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচার করতে হবে।

উদ্বেগজনকভাবে ৪ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের হার কমছে

সরকারি মালিকানাধীন সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের হার উদ্বেগজনকভাবে কমছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এই চার ব্যাংকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে বলেছে।
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে আজ বুধবার এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শওকত আলী সাংবাদিকদের বলেন, এই চার ব্যাংকের ২০১৩ ও ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে ঋণ আদায়ের পরিমাণ সন্তোষজনক নয়। কমিটি চারটি ব্যাংককে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক এবং আদায়ে আন্তরিক হতে বলেছে। উপযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে সোনালী ব্যাংকের ১০ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৫ হাজার ১৭৬ কোটি ৫০ লাখ এবং ২০১৪ সালে ৮ হাজার ৬৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৪ হাজার ৫০৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত ৮ হাজার ২৫৩ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৮০৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এই সময়ে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫৯৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
জনতা ব্যাংক ২০১৩ সালে ৩ হাজার ১৭৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৫৭৬ কোটি এবং ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৭৩৪ কোটি টাকা আদায় করেছে। ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৯৩ কোটি টাকা।
অগ্রণী ব্যাংকের ২০১৩ সালে ৪ হাজার ৬০৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৪৩১ কোটি ৪৮ লাখ এবং ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৮৯৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৪৯২ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ৫০৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা হলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
রূপালী ব্যাংকের ২০১৩ সালে ২ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১৮০ কোটি এবং ২০১৪ সালে ১ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১৩৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৫২৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৬৮ কোটি টাকা।
শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য সুবিদ আলী ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম সুজন ও আবদুর রউফ এবং চার ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে রিপোর্ট দিয়েছিলেন বাংলাদেশের গোয়েন্দারাও

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসার নির্ধারিত সময় ছিল ২৮শে সেপ্টেম্বর। এর আগের দিন ২৭শে সেপ্টেম্বর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এক গোয়েন্দা রিপোর্ট মারফত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে আসার আগের নানা হুমকি ও আশঙ্কার কথা জানায়। দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে হুমকির চিত্র তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে। ওই রিপোর্টে হুমকির চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ১৮ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনটিতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সফরে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড ঘটার সম্ভাব্য নয়টি লক্ষ্যবস্তুর কথা বলা হয়। এ ছাড়া পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের সফরকালে জঙ্গিদের আক্রমণ এবং এ বছর পাকিস্তানে জিম্বাবুয়ে সফরের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দল বাংলাদেশ সফরকালে দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক সন্ত্রাসীমূলক ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাদের বাংলাদেশ সফরকালে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়ে, বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফরকালে গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে বিভিন্ন ধরনের হুমকির আশঙ্কা বিবেচনায় নেয়া উচিত। দেশীয় প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক সংকটের মূলে রয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জোটভুক্ত জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মদতপুষ্ট ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের আটক, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলসহ সর্বোপরি অস্তিত্বের সংকটের কারণে দলটির নেতাকর্মীরা বিগত বছরগুলোতে প্রতিনিয়ত যানবাহনের উপর অতর্কিত হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর আক্রমণ, ককটেল বা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ করাসহ নানাবিধ অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড সৃষ্টির মাধ্যমে সারা দেশে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। সামপ্রতিক সময়ে যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এর মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকায় জামায়াত-শিবির যে কোন ধরনের সন্ত্রাসীমূলক কার্যক্রমের চেষ্টা চালাতে পারে। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের পর বর্তমান সরকার তাদের পূর্বের নীতি তথা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, উগ্র জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান, জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধকরণসহ ব্যাপক অভিযান, কর্মমুখী আধুনিক শিক্ষানীতি, নারী নীতির বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। ফলে জামায়াত-শিবির, বিএনপিসহ স্বার্থান্বেষী মহল দেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় যে কোন রকম অরাজক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে বলে জানা যায়। এতে বলা হয়েছে, সামপ্রতিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোন কোন সমভাবাপন্ন রাজনৈতিক দল হেফাজত ও হরকাত-উল-জিহাদ (হুজি) এর প্রগতি বিরোধী বিশেষ করে নারী অধিকার বিরোধী কার্যক্রমকে সমর্থন করছে। বিএনপি-জামায়াতসহ ২০দলীয় জোট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে তৎপরতা চালাতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশ এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুবই সক্রিয় এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য ও সরকার উৎখাতের জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশের বিশ্ব মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ক্রিকেট দলটির সফরকালীন সময়ে লিফলেট বিলি করতে পারে। এ ছাড়া দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাত-উল-জিহাদ (হুজি), জামায়াতে মুজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কার্যক্রমকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরগুলোতে বাংলাদেশে বেশ কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী সদস্যদের আটক করা হয়েছে। এদেশের বর্তমান সন্ত্রাস-বিরোধী অবস্থানের কারণে সারা বিশ্বে যে উজ্জ্বল অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে তা ম্লান করতে পশ্চিমা বিরোধী যে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আসন্ন ম্যাচকে বেছে নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য যে কোন ধরনের অপতৎপরতার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের লাহোরে শ্রীলঙ্কার জাতীয় ক্রিকেট দলের সফরকালে ২০০৯ সালের ৩রা মার্চ জঙ্গি গ্রুপগুলো সশস্ত্র আক্রমণ করে এবং ওই ঘটনায় ছয়জন পাক পুলিশসহ একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয় এবং কিছু শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড় আহত হয়। এ ছাড়া সর্বশেষ গত ২৯শে মে পাকিস্তানের লাহোরে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় হামলাকারী, পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর ও অন্য একজন বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় এর প্রতিবাদে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব পাস হওয়াসহ পাকিস্তান ও তুরস্কে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরকালে আক্রমণের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে- দেশী-বিদেশী খেলোয়াড়, খেলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ম্যাচ অফিসিয়াল এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী, আইসিসি সংস্থার ব্যক্তিবর্গ, বিদেশী ও দেশীয় প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, দেশী-বিদেশী দর্শক, হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং যেসব হোটেলে  খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসিয়ালরা অবস্থান করবেন। এ ছাড়া দেশী-বিদেশী খেলোয়াড়, খেলা পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ম্যাচ অফিসিয়াল এবং অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চলাচলের সময়ে তাদের বহন করা যানবাহন। একই সঙ্গে যেসব ভেন্যুতে খেলা অনুষ্ঠিত হবে ওই সব ভেন্যুও লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ১৮টি সুপারিশ দেয়া হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। সুপারিশে বলা হয়েছে, হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্টে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে যে কোন প্রকার নাশকতামূলক কার্যক্রম বন্ধ করা যায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও সন্দেহভাজন বিদেশী নাগরিকদের আগমন বা বহির্গমন রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদেশী খেলোয়াড় ও অতিথিরা হোটেল সোনারগাঁও বা যেসব হোটেল/ভবনে অবস্থান করবেন সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ আবাসস্থলে সিসি টিভি স্থাপন করা। বিদেশী খেলোয়াড় ও অতিথিদের বিমানবন্দর থেকে হোটেলে ও হোটেল থেকে খেলার ভেন্যুতে আসা-যাওয়ার পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও ট্রাফিক মনিটরিং করতে হবে। খেলোয়াড়দের হোটেল থেকে ভেন্যু এবং ভেন্যু থেকে হোটেলে চলাচলের সময় যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে একটি অতিরিক্ত বাসের (টিম বাসের বিকল্প) ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের অনুশীলন, ওয়ার্মআপ ম্যাচ শপিংসহ হোটেলের বাইরে অবস্থান/চলাচলকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলার আগে প্রতিটি ভেন্যু সুইপিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে নিরাপত্তা তল্লাশি ও ভেন্যুর আশপাশের এলাকার নিকটবর্তী ভবনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া। দর্শকদের মাঠে প্রবেশের আগে আর্চওয়ে এবং হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সকল সদস্যের পরিচিতি নিশ্চিত করা, বিশেষ করে বিদেশী খেলোয়াড় ও অতিথিদের সহযোগিতার জন্য তাদের সঙ্গে দেশের স্থানীয় যে সকল গাইড/প্রতিনিধি থাকবে তাদের প্রাক-পরিচয় যাচাই করার ব্যবস্থা করা দরকার। স্বাগতিক দেশ হিসেবে খেলায় বাংলাদেশের জয়-পরাজয়ের প্রতিক্রিয়া বিবেচনার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। যে কোন বিপর্যয় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সুবিধাজনক স্থানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স, অগ্নিনির্বাপক গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখতে হবে। খেলার ভেন্যুতে গেটগুলোতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা, টিকিট বিক্রি ও খেলা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা ও স্টেডিয়ামের নিরাপত্তার জন্য বিসিবির সঙ্গে সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় রক্ষা করা প্রয়োজন। খেলোয়াড়দের খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে করতে দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিসিবির মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় রাখতে একটি কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। দেশীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি  সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা এবং গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। খেলার ভেন্যুগুলো দিবারাত্র খেলার সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতসহ বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পুলিশ/র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সদস্য কর্তব্য পালনের সময় নিজের নিরাপত্তাসহ যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। খেলোয়াড় ও অতিথিদের চলাচলের সময়ে কোন রাজনৈতিক দল বা সংগঠন যাতে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কোন কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রটেকশন না দিয়ে কোন খেলোয়াড়/কর্মকর্তা হোটেল ত্যাগ করতে না পারে ওই ব্যবস্থা রাখতে হবে। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফরকালে যে কোন প্রকার নাশকতামূলক ঘটনা বা সন্ত্রাসী হামলা সংক্রান্ত অগ্রিম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে রাজনৈতিক দল/সংগঠন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের এবং ক্রিকেট সমর্থক ও গোষ্ঠীর উপর নজরদারি বাড়াতে দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।

সিরিয়ায় আসাদবিরোধীদের ওপর রাশিয়ার বিমান হামলা

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের বিরোধীদের ওপর প্রথমবারের মতো বিমান হামলা চালানো শুরু করেছে রাশিয়া। বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। খবর সিএনএন ও বিবিসির।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, সিরিয়ার হোমস শহরের পশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়া বিমান হামলা চালিয়েছে। সিরিয়ায় রাশিয়ার এ বিমান হামলার ব্যাপারে ওয়াশিংটন আগে থেকেই অবহিত ছিল। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার কাছে সামরিক সহযোগিতা চাওয়ার পর এ বিমান হামলা চালানো শুরু করেছে সিরিয়ার মিত্র দেশটি।
এর আগে বুধবার রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ বুধবার সিরিয়ার সেনাবাহিনী নিয়োগের বিষয়ে পুতিনকে অনুমোদন দেয়। ভোটাভুটির পর ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ অনুমোদনের মানে এই নয় যে রুশ সেনাবাহিনী সিরিয়ায় সামরিক অভিযানে অংশ নেবে। তবে অভিযানে বিমান বাহিনীকে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সিরিয়ার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ান কর্মকর্তা সার্গেই ইভানভ। তিনি জানান, রাশিয়া স্থল হামলায় অংশ নেবে না। শুধু বিমান হামলায় অংশ নেবে। ইভানভ আরও জানান, রাশিয়ান নাগরিকদের স্বার্থেই এ উদ্যোগ নিতে হচ্ছে। কারণ, কয়েক হাজার রাশিয়ান আইএসে যোগ দিয়েছে। তারা রাশিয়ায় ফিরলে তা হবে দেশটির জন্য হুমকি।
বুধবারের হামলার আগেই হোয়াইট হাউসে জমা দেয়া মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন আশংকার কথা বলা হয়েছিল। এতে বলা হয়, রাশিয়া সম্প্রতি যেসব জঙ্গিবিমান সিরিয়ায় পাঠিয়েছে সেসব বিমান দিয়েই হামলা শুরু করতে পারে। এছাড়া সিরিয়ায় রুশ জঙ্গিবিমান এবং টি-৯০ ট্যাংকের উপস্থিতি এবং ড্রোন পাঠিয়ে দেশটিতে রুশ গোয়েন্দাবৃত্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
সিরিয়ায় বিগত ৪ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সংঘর্ষ চলে আসছে। যাদের মধ্যে ইসলামিক স্টেটসহ (আইএস) কয়েকটি ইসলামিক গোষ্ঠী রয়েছে।
ফরাসি হামলায় ৩০ আইএস নিহত : সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের একটি প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ওই হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছে বলেও জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউমেন রাইটসের প্রধান রামি আবদেল রহিম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, জোটের হামলায় আইএসের কমপক্ষে ৩০ জন তরুণযোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন যারা ‘খেলাফতের শাবক’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিহতদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু আইএস যোদ্ধা।
‘যুক্তরাষ্ট্রের সিরীয় বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ প্রকল্প বন্ধ’ : সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নতুন প্রশিক্ষণার্থীদের সংগ্রহ করে দেশটির বাইরে প্রশিক্ষণ দেয়া বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপন্থী বিদ্রোহী বাহিনী গড়ে তোলার এ সামরিক প্রকল্প পর্যালোচনার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র।
পেন্টাগনের মুখপাত্র পিটার কুক বলেছেন, ‘প্রকল্পটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সিরিয়া থেকে নতুন প্রশিক্ষণার্থী সংগ্রহ বন্ধ রেখেছি আমরা। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা বাহিনীগুলোকে আমরা সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছি এবং হাতে থাকা প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রকল্প শুরুতেই হোঁচট খায়। মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ৬০ জনের মতো একটি বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করা মাত্রই আল কায়দার অনুসারী সিরিয়ার নুসরা ফ্রন্টের হামলার মুখে পড়ে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এদের অনেকেই নিহত হয় বা ধরা পড়ে, আর ১৮ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সিজার হত্যা: দফায় দফায় বৈঠক কোন ক্লু খুঁজে পায়নি পুলিশ

গুলশানে ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকাণ্ডের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশে অবস্থান করা বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা গুলশান-বনানী থেকে শুরু করে সারা দেশে বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থাকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই রাজধানী ঢাকায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ- ডিএমপি। গতকাল সকালে সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি এক সভা করেছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। সভায় ডিএমপি কমিশনার বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেন। গুলশান-বনানীর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ডিএমপির অন্যান্য ক্রাইম জোনকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গতকালের এই সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারভিশন বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার থেকে সকল যুগ্ম কমিশনার ও উপ-পুলিশ কমিশনারেরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। এজন্য যা যা পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন পুলিশের পক্ষ থেকে সেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনার তিন দিন পার হলেও এ পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোন ক্লু পাওয়ার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে তারা ভাল সংবাদ দিতে পারবেন। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে ঘটনা তদন্তের সহায়তায় দুটি আলাদা কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, গুলশানে ইতালীয় নাগরিক খুন হওয়ার বিষয়টি তদন্তে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে ডিএমপি। যে কোনও মূল্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সভায় ডিএমপি কমিশনার ‘দৃশ্যমান পুলিশিংয়ে’র দিকে জোর দিতে বলেছেন। তার ভাষ্য, যে স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ওই এলাকার আশপাশে পুলিশের পেট্রল পার্টি থাকলে খুনের মতো এই ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। এজন্য রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় ফুট পেট্রল, মোটরবাইক পেট্রল, ভেহিকেল পেট্রল বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া কূটনৈতিক এলাকায় সন্দেহভাজন যে কোনও ব্যক্তিকেই তল্লাশির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলে একাধিক আরোহী থাকলেই তাদের তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভা সূত্র জানায়, ডিএমপির আট ক্রাইম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারদের যার যার এলাকার বিদেশী এনজিও, ক্লাব, স্কুল বা বিদেশীরা থাকেন এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেসব স্থানে গিয়ে বিদেশী নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে তা জানার চেষ্টা করবেন। সভা সূত্র জানায়, কূটনৈতিক পাড়া হিসেবে গুলশান ক্রাইম জোনের পাশাপাশি বিশেষ করে উত্তরা ক্রাইম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারকে সতর্ক থাকতে বলেছেন কমিশনার। এই এলাকায় অসংখ্য বিদেশী নাগরিক অবস্থান করেন। একই সঙ্গে বিদেশী নাগরিকরা কে কোথায় যাতায়াত করছেন এবং তাদের কাছে কারা যাতায়াত করছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাও নজরদারির মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি চেকপোস্ট কয়েকগুণ বৃদ্ধি করার নির্দেশ দিয়েছেন। একাধিক আরোহীসহ কোনও মোটরসাইকেল চেকিং ছাড়া চেকপোস্ট অতিক্রম করতে পারবে না। চেকপোস্ট বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও বলা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার চেকপোস্টসহ রাতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের চেস্ট গার্ড (বুলেট প্রুফ ভেস্ট) পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। ডিএমপির আট ক্রাইম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারদের তার এডিসি ও এসিদের এলাকা ভাগ করে দিয়ে কঠোরভাবে সুপারভিশন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় রাস্তার ল্যাম্প পোস্ট বন্ধ থাকে তা খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো এবং অন্ধকার বা ক্রাইম হতে পারে এমন এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে টহল বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। সূত্র জানায়, যেসব এলাকায় সিসিটিভি রয়েছে তা সঠিকভাবে কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে তদারক করা ছাড়াও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোকে আশপাশের রাস্তা কাভার করাতে উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়েছে। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ট্রাফিক পুলিশ শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করবে তা নয়, আশপাশের অপরাধ কর্মকাণ্ডের ওপরও চোখ রাখতে হবে। কারও চোখেই সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে হবে।
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের আলোচনায় ইতালিয়ান নাগরিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টির রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যদি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস জড়িত থাকে তাহলে আরও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। এ ছাড়া অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনগুলো নিজেদের দিকে সবার দৃষ্টি ফেরাতে বড় ধরনের কোনও ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়। একারণে হুমকিপ্রাপ্ত ব্লগারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জঙ্গি সংগঠনগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।
সিসি টিভি ফুটেজ নিরীক্ষা চলছে: হত্যার কয়েক দিন আগ থেকেই ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজারকে অনুসরণ করেছিল কিলাররা। কোথায়, কখন হত্যা করা হবে, হত্যার পর কিভাবে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাবে এই ছক তাদের তৈরি করা ছিল। পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারেই নিরাপত্তা বেষ্টিত কূটনৈতিক পাড়া গুলশানে হত্যা করা হয় সিজারকে। কিলারদের শনাক্ত করতে নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতাধীন গুলশান এলাকা। সিসি ক্যামেরাকে অন্যতম অবলম্বন করে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম গতকাল পর্যন্ত সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। গুলশান এলাকার সাতটি স্থানের সিসি টিভির ফুটেজকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুটি মোটরসাইকেলকে সন্দেহের তালিকায় রেখে তদন্ত করছে ডিবি। দুটি মোটরসাইকেলের আরোহীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ৯০ নম্বর সড়কে সিজারকে হত্যার পর ৮৩ নম্বর সড়ক দিয়ে পালিয়ে যায় কিলাররা। ওই সড়কে রয়েছে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস। গোয়েন্দাদের মতে ৮৩ নম্বর হয়ে গেলেও বেশিদূর তারা যায়নি। কিছুদূর গিয়েই পশ্চিমে ৮৯ নম্বর সড়ক ঢুকেছে তারা। ওই সড়ক হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই গুলশানের প্রধান সড়ক দিয়ে পালিয়ে গেছে কিলাররা। গোয়েন্দা সূত্রমতে, ৮৩ নম্বর সড়কের দূতাবাসগুলোর সামনের সিসি টিভির ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে এতে ওই  সময়ে মোটরসাইকেলের কোন দৃশ্য নেই। ঘটনাস্থল থেকে ওই সড়কে আসার পথে প্রথমেই সৌদি দূতাবাস। ঘটনার পরই দূতাবাসের সিসি টিভির ক্যামেরার ফুটেজ ও ঘটনাস্থল সংলগ্ন এক্সিম ব্যাংক ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ডিবি। এক্সিম ব্যাংক ভবনের ফুটেজে সড়কের দৃশ্যগুলো স্পষ্ট না। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৮৩ নম্বর হয়ে ৮৯ সড়কে কোন সিসি টিভি নেই। যদিও গত ১৩ই মে ১০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় গুলশান, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সিসি টিভি নেই বিষয়টি জেনেই কিলাররা হয়তো ওই সড়ক দিয়ে পালিয়ে গেছে। এমনকি ওই সময়ে সড়কবাতি বন্ধের বিষয়টিও রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা। এখন গুলশানের প্রবেশ ও বাহিরের সড়কে স্থাপন করা সাতটি স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজকে গুরুত্বের সঙ্গে নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার পর সাড়ে ৬টার দিকে গুলশান-২ এর মোড়ে স্থাপিত ক্যামেরায় অনেকগুলো মোটরসাইকেলের দৃশ্য রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মোটরসাইকেলকে সন্দেহের তালিকায় রেখে তদন্ত করছে গোয়েন্দাদের একটি দল। দুটি মোটরসাইকেলে কালো রঙের শার্ট বা টি-শার্ট পরোহিত দুইজনকে দেখা গেছে। এর একটি মোটরসাইকেলেই তিনজন থাকলে অন্যটিতে ছিলেন দুজন। তবে মোটরসাইকেলের নম্বরটি অস্পষ্ট বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়াও নতুনবাজার, ইউএন ব্রিজ, স্যুটিং ক্লাব, গুলশান-বনানী সংযোগ ব্রিজ, খেয়াঘাট ও গুলশান ব্রিজে স্থাপিত সিসি টিভির ফুটেজ গুরুত্বের সঙ্গে নিরীক্ষা করা হচ্ছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহফুজুল আলম রাসেল জানান, ঘটনাস্থল হয়ে ৮৩ নম্বর সড়কের সৌদি দূতাবাসের আগ পর্যন্ত কোন সিসি ক্যামেরা নেই। যে কারণে একটু বেগ পোহাতে হচ্ছে। তবে অন্যান্য ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করা হচ্ছে। ফুটেজ ছাড়াও সিজারের ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে। তবে কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। দুটি মোটরসাইকেলের আরোহীদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হত্যার পর একটি মোটরসাইকেলে করে কিলাররা পালিয়ে যায়। ওই মোটরসাইকেল ও আরোহীদের শনাক্ত করতে একাধিক মোটরসাইকেল তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনাস্থলের আশপাশে কোন সিসি ক্যামেরা না থাকায় এই হত্যাকাণ্ড তদন্তে বেগ পোহাতে হচ্ছে গোয়েন্দাদের। এ বিষয়ে গুলশান সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দুলাল জানান, ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করে গুলশান, বারিধারা, নিকেতন এলাকায় ১০৮টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ক্যামেরা প্রয়োজন আরও সাড়ে ৫শ’। যে কারণে ভেতরের সড়কগুলোতে তা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। এই সিসি টিভিগুলো নিয়মিত মনিটরিং করে গুলশান থানা পুলিশ। গতকাল সরজমিনে থানায় গিয়ে দেখা গেছে সিসি টিভি মনিটরিং করছেন এএসআই জসিম। দেখা গেছে, গুলশান-২ এর মোড়ে ১২টি ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু দুটি ক্যামেরা রয়েছে বিকল অবস্থায়। পুলিশের গুলশান জোনের এসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুলশান, বারিধারা, নিকেতন এলাকায় ১০৮টি ক্যামেরার মধ্যে ডিটেকটিভ ক্যামেরা রয়েছে ২৪টি। অন্যগুলো লং ভিউ। ডিটেকটিভ ক্যামেরাগুলো গাড়ির নম্বর পর্যন্ত ধারণ করে। এমনকি ব্ল্যাকলিস্টে থাকা নম্বর দেখলেই সংকেত প্রেরণ করে মনিটরিং কক্ষে। রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই এসব ক্যামেরায় কোন না কোন অপরাধী শনাক্ত করা হচ্ছে।
গতকাল বিকাল সোয়া ৪টায় র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সরজমিনে ওই এলাকায় ঘুরে দেখেন। পরে তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, জাতিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা ও হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একজন বিদেশীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর আন্তর্জান্তিক বিশ্বে যে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত কয়েকটি দূতাবাস তাদের দেশের নাগাকিদের সতর্ক অবস্থা চলাচলের যে জরুরি বার্তা দিয়েছে এটা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে এমন খুনের ঘটনা বাংলাদেশে প্রথম নয়। এর আগেও হয়েছিল। শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বে এমন ঘটনা ঘটে থাকে। বেনজীর আহমেদ জানান, ঘটনার পরেই মামলা করা হয়েছে। মামলাটি মূলত তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। র‌্যাব ছায়া তদন্ত করছে। মাত্র দুইদিন এই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তবে এই প্রাথমিক তদন্তে অসংখ্য তথ্য উপাত্ত আমাদের কাছে এসেছে।
ইতালি নাগরিক হত্যাকাণ্ডে আইএস সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ঢাকার গুলশানে ইতালীয় নাগরিক  সিজার তাভেলা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইএসের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গতকাল নিজ দপ্তরে ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিয়ো পালমার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের একথা জানিয়ে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এটা আইএসের কর্ম নয়। ইতালিও এ ঘটনায় আইএসের সম্পৃক্ততার কোন আলামত দেখছে না। তিনি বলেন, ইতালির রাষ্ট্রদূত ওই হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তার সঙ্গে আমাদের খোলামেলা আলাপ হয়েছে। অনেকগুলো সন্দেহ উনারা আমাদের জানিয়েছেন, আমরাও বলেছি। আমাদের কথার সঙ্গে তিনি একমত ছিলেন। উনি যেহেতু এনজিওতে চাকরি করতেন সেখানে পেশাগত কোন বিরোধ আছে কিনা বা অন্য কোন বিরোধ আছে কিনা এটা তারাও খতিয়ে দেখছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। আমরা সব দিক বিবেচনা করে অগ্রসর হচ্ছি। ইতালিও নিজস্ব চ্যানেলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইএসের সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে তারাও জানিয়েছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও আইএসের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে ইতালির কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। আমরা তাদের বলেছি, এদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু, তবে ধর্মান্ধ নয়। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ওই এলাকার কিছু ভিডিও ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। তবে ভিডিও ফুটেজগুলো স্পষ্ট নয়। ঘটনার সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা। ওই সময় আলো আঁধারির খেলা থাকে। সিটি করপোরেশনের সবগুলো বাতি তখনও সক্রিয় ছিল না। কয়েকটি দেশের দূতাবাসের সতর্কতা জারি ‘দুঃখজনক’ মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দূতাবাসের রেড অ্যালার্ট জারি আমাদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তারপরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ নজর দিতে সব জেলার পুলিশ সুপার, ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।