Tuesday, August 2, 2011

বিজেপি সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠালেন ইয়েদুরাপ্পা

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা শেষ পর্যন্ত বিজেপির সভাপতি নিতিন গড়কারির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। গতকাল রোববার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনি দলের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ ব্যক্ত করেন।
ঘুষ কেলেংকারিতে দলীয় চাপের মুখে শর্ত সাপেক্ষে পদত্যাগে রাজি হয়েছিলেন ইয়েদুরাপ্পা। কিন্তু পরে ক্ষমতাসীন দলের চিফ হুইপ ডি এন জীবারাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমএলএ’দের সম্মিলিত (সংখ্যাগরিষ্ঠ) মতামত হলো, তাঁর পদত্যাগ করা উচিত হবে না।’
নয়াদিল্লি থেকে দলীয় সূত্র জানায়, নিতিন গড়কারির কাছে ফ্যাক্সযোগে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন ইয়েদুরাপ্পা। সূত্র জানায়, পদত্যাগপত্র জমা দিতে দেরি করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ইয়েদুরাপ্পা। জ্যোতিষবিদ্যা-সম্পর্কিত ইস্যুকেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে দেরি করার মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
গড়কারির কাছে পাঠানো চিঠিতে ইয়েদুরাপ্পা দলের পাশে থাকার অঙ্গীকার ও দলের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ ব্যক্ত করেছেন। সূত্র জানায়, ইয়েদুরাপ্পা এখন গভর্নর এইচ আর ভরদ্বাজের সাক্ষাৎ চাইবেন ও তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এদিকে রাজ্য বিজেপির সাবেক সভাপতি ডি ভি সদানন্দ গৌড়া কর্ণাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকার পদত্যাগ করলে আরও তথ্য দেব: ব্রেইভিক

নরওয়ের উটোয়া দ্বীপে হত্যাযজ্ঞের দায়িত্ব স্বীকারকারী অ্যান্ডারস ব্রেইভিক বলেছেন, দেশের সরকার পদত্যাগ করলেই কেবল তিনি অসলোতে সরকারি কার্যালয়ে বোমা হামলা ও উটোয়ার ঘটনার আরও তথ্য দেবেন। ব্রেইভিক এ জন্য রাজা ষষ্ঠ হ্যারল্ডেরও সিংহাসন ত্যাগের দাবি করেছেন।
গত শুক্রবার দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের সময় ব্রেইভিক তদন্ত কর্মকর্তাদের এ কথা বলেন বলে শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনআরকের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, ব্রেইভিক আরও হামলা চালাতে চেয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছেন তাঁরা।
২২ জুলাইয়ের হামলার পর থেকে শুক্রবার ব্রেইভিককে দ্বিতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এনআরকের খবরে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ব্রেইভিক নরওয়ের সেনাপ্রধানেরও পদত্যাগ চেয়েছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি নতুন সেনপ্রধানের নাম প্রস্তাব করবেন।
পুলিশ কর্মকর্তা পাল-ফ্রেডারিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ব্রেইভিক কথা বলার জন্য খুবই আগ্রহী ছিলেন। তবে কিছু বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
নরওয়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিজেকে আরও বেশি আর্য হিসেবে ফুটিয়ে তুলতে ব্রেইভিক হামলার আগে মুখে প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছিলেন।

নেপালে মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে চাপে ঝালা নাথ

নেপালে মন্ত্রিসভার রদবদলের দাবি নিয়ে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বড় শরিক দল মাওবাদীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঝালা নাথ খানালের বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। দল থেকে আরও মন্ত্রী বানানোর দাবিতে মাওবাদীরা প্রধানমন্ত্রীকে সময় বেঁধে দিয়েছে। গতকাল রোববার রাতের মধ্যে এ দাবি পূরণ না হলে তারা সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পার্লামেন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
মাওবাদীদের মুখপাত্র দিনানাথ শর্মা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রোববারের মধ্যে আমাদের সদস্যদের মন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হলে সরকার থেকে আমরা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেব।’
জোট সরকারে বর্তমানে ১৯ জন মাওবাদী মন্ত্রী রয়েছেন। তাঁরা এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০ জন করার দাবি জানিয়েছেন।
সরকারের ভেতর ও বাইরে উভয়মুখী চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী খানাল। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সরকারকে টিকিয়ে রাখতে তিনি বিরোধীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী সুশীলকুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ

মুম্বাইয়ের আদর্শ হাউজিং সোসাইটির কেলেঙ্কারির ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী সুশীলকুমার সিন্ধেকে দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)। কর্মকর্তারা গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন।
মুম্বাইয়ের দক্ষিণে বিতর্কিত এ প্রকল্পের নথিপত্র প্রক্রিয়া করার সময় সুশীলকুমার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মুম্বাইয়ে সিবিআইয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সিবিআইয়ের একটি দল গত শনিবার রাতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে গেছে। আজ (রোববার) তাঁকে ওই প্রকল্পের অনুমোদন ও নথিপত্র প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আবাসন প্রকল্পের ৪০ শতাংশ ফ্ল্যাট বেসামরিক লোকজনের মধ্যে বণ্টনের সুপারিশ করে তখনকার রাজস্বমন্ত্রী আশোক চাভান যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, সুশীলকুমার তা গ্রহণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র মতে, এ ব্যাপারে আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভিলাসরাও দেশমুখকেও শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। অশোক চাভান পদত্যাগ করার পর দেশমুখ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে আবাসন কেলেঙ্কারির ঘটনায় তিনিও পদত্যাগ করেন। সিবিআই গত জানুয়ারিতে অশোক চাভানসহ ১৪ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা করে।

হেলমান্দে পুলিশ সদর দপ্তরে হামলা, নিহত ১১

আফগানিস্তানে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় এক শিশুসহ কমপক্ষে ১১ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। গতকাল রোববার হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহ শহরের পুলিশ সদর দপ্তরে ওই হামলা চালানো হয়। হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে তালেবান।
মাত্র কয়েক দিন আগে ন্যাটো জোট ওই শহরটির নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগান বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৪ সালের মধ্যে সব বিদেশি সেনা আফগানিস্তান ছাড়বে। সে নাগাদ দেশের সব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেবে আফগান বাহিনী। হেলমান্দের গভর্নরের মুখপাত্র দাউদ আহমাদি বলেন, হামলায় ১০ পুলিশ সদস্য ও এক শিশু নিহত হয়। এ ছাড়া নয়জন পুলিশ ও তিন বেসামরিক লোক আহত হয়েছে।
তালেবান হামলায়
গজনি প্রদেশে ন্যাটোর একটি রসদবাহী গাড়িবহরে গত শনিবার তালেবান হামলায় ১০ বেসরকারি আফগান নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছে।

যাঁর জন্য চোখসহ চেহারা গেল তাঁকেই ক্ষমা

যাঁর জন্য তিনি চোখসহ সুন্দর চেহারা হারালেন, তাঁকেই ক্ষমা করে দিলেন ইরানি শিক্ষার্থী আমেনেহ বাহরামি। এতে চোখ হারানোর সাজা থেকে রক্ষা পেলেন অপরাধী তাঁরই সহপাঠী মাজিদ। গতকাল রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে প্রচারিত খবরে এ কথা জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে পড়াশুনা করতেন আমেনেহ বাহরামি ও মাজিদ। বিয়ের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে বাহরামির মুখমণ্ডলে এসিড ছোড়েন মাজিদ। এতে অন্ধ হয়ে যান বাহরামি। তাঁর মুখমণ্ডলে ভয়াবহ ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
এসিড ছোড়ার অভিযোগে করা মামলায় বিচার শুরু হয় মাজিদের। আদালত মাজিদকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তাঁকে অন্ধ করে দেওয়ার দণ্ডাদেশ দেন। রায় কার্যকর করতে সব ধরনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। শেষ মুহূর্তে মাজিদকে ক্ষমা করে দেন বাহরামি। আদালত মাজিদের শাস্তি কার্যকর বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
খবরে বলা হয়, আমেনেহ বাহরামির অনুরোধে তাঁর ওপর এসিড নিক্ষেপকারী মাজিদকে শেষ মুহূর্তে ক্ষমা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসনাকে বাহরামি বলেন, ‘আল্লাহ পবিত্র কোরআনে শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ক্ষমা করে দেওয়ার কথাও বলেছেন। শাস্তি দেওয়ার চেয়ে ক্ষমা করা মহৎ কাজ।’ বাহরামির মা বলেন, ‘মেয়েকে নিয়ে আমি গর্বিত।’

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন জোটে ঠান্ডা লড়াই

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দুই শরিক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সে লড়াই প্রকাশ্যে এসে পড়েছে।
মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জোট-শরিক কংগ্রেসকে অনেকটা উপেক্ষা করে চলা শুরু করেন। এতে কংগ্রেসের ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর একের পর এক উন্নয়নের প্যাকেজ ঘোষণা করতে থাকেন। চাকরি ও শিল্পোন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিতে থাকেন। এমন ঘোষণাও দেন যে কেন্দ্রীয় সরকারও রাজ্যের উন্নয়নের জন্য আলাদা প্যাকেজ ঘোষণা করবে। কেন্দ্রের আর্থিক সহযোগিতা পেতে মমতা দিল্লিতে ধরনাও দেন। কিন্তু গত শুক্রবার কলকাতায় দলীয় বিধায়কদের এক সভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেসের নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সাংবিধানিক গণ্ডির মধ্যে রাজ্যের জন্য যা করার কেন্দ্র তাই করবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে কোনো রাজ্যকে আলাদা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া কেন্দ্রের পক্ষে সম্ভব নয়।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ‘তুঘলকি কায়দা’য় দাবি জানালেই এভাবে আলাদা প্যাকেজ দেওয়া যায় না।
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের এ বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর ক্ষেপে যান মমতা। গত শনিবার কলকাতার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎ কারে তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মমতা বলেন, ‘আমরা ভিক্ষা চাই না। অনুগ্রহ চাই না। টাকা চাওয়া অসাংবিধানিক কিছু নয়। বাংলার জন্য এটা আমাদের ন্যায্য দাবি।’
মমতা বলেন, এর আগেও কেন্দ্রীয় সরকার অন্য রাজ্যকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দিয়েছে। প্যাকেজ দিয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছিলেন, এ রাজ্যের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দেবেন। কিন্তু এখন কেন্দ্রীয় সরকার অন্য কথা বলছে। মমতা এবং প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পরস্পরবিরোধী এসব বক্তব্যের কারণে কংগ্রেস ও তৃণমূল জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সিরিয়ায় সেনা অভিযানে ১২১ জন নিহত

সিরিয়ায় গতকাল রোববার সেনাবাহিনীর অভিযানে ১২১ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মধ্যাঞ্চলীয় শহর হামায় নিহত হয়েছে ৯৫ জন। মানবাধিকারকর্মীরা এ কথা জানান।
ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান আম্মার কোরাবি বলেন, সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হামা শহরে বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলি চালিয়েছে। এতে ৯৫ জন নিহত হয়। তিনি জানান, তাঁর কাছে নিহত ৬২ জনের নামের তালিকা আছে।
আম্মার কোরাবি বলেন, গতকাল দেশজুড়ে সেনাবাহিনীর হামলায় ১২১ জন নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, দেইর এজ্জরে ১৯ জন, হারাকে ছয়জন ও আল-বুকামালে একজন নিহত হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের রামি আবদেল রহমান টেলিফোনে বলেন, ‘সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী আজ (রোববার) সকালে হামায় প্রবেশ করে এবং বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলি চালায়। এতে ৪৫ জন নিহত ও বহু লোক আহত হয়েছে।’ তিনি অবশ্য তখন বলেছিলেন, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া চিকিৎ সা-সরঞ্জামের পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
আবদেল রহমান বলেন, পূর্বাঞ্চলীয় শহর দেইর এজ্জরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ছয়জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা অঞ্চলের হারাকে তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়।
১৯৮২ সালে হামায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাবা হাফিজ আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে ইসলামপন্থীদের বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করে সেনাবাহিনী। ওই সময় সেখানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়।
সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ১ জুলাই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সমাবেশের পর হামার গভর্নরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট। ৬ জুলাই সেনা হামলায় হামায় ২০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়।
আবদেল রহমান বলেন, ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ দমাতে দের এজ্জরগামী সামরিক যানবাহনের ওপর পাথর ছোড়ায় সেনারা তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি বলেন, ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, সেনাবাহী ট্রাকসহ প্রায় ৬০টি সামরিক যান নগরে মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আবদেল রহমান বলেন, গভর্নরের কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর সেনারা স্থানীয় বাসিন্দারের আতঙ্কিত করতে গুলি ছোড়ে।
ক্রমেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে যে, সেনাবাহিনী দেইর এজ্জরে ব্যাপক দমনপীড়ন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নিজেকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর কর্নেল পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, তিনি পক্ষত্যাগ করেছেন এবং তাঁর কমান্ডের অধীন ‘শত শত’ সেনা দেইর এজ্জরে নিয়মিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।

বিশ্বসেরা রেস্তোরাঁর বিদায়

বন্ধ হয়ে গেল বিশ্বখ্যাত স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ এল বুলি। শেষ হলো রেস্তোরাঁ জগতের ২৭ বছরের গৌরবোজ্জ্বল এক অধ্যায়। এটি এখন এল বুলি ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হবে। অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হবে সৃজনশীল রান্নার কৌশল এবং রান্না সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা বিনিময়ের ওপর।
এল বুল্লির ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেস্তোরাঁর মালিক ও প্রধান শেফ ফেরান আড্রিয়া বলেন, ‘আমরা সত্যিই ভাগ্যবান, এমন কিছু করতে পেরেছি, যাতে নিজেরাই মুগ্ধ। এর প্রতিদান হিসেবে সমাজকে কিছু দেওয়া উচিত। সেই চিন্তা থেকেই ফাউন্ডেশন গড়ার সিদ্ধান্ত।’ তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনের প্রধান উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমত, একটি মহাফেজখানা গড়ে তোলা, যাতে এল বুলির এসব তথ্য থাকবে। দ্বিতীয়ত, এটি হবে সৃজনশীলতার কেন্দ্র। এতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে খাবার সম্পর্কে নতুন নতুন সব ধারণা বিনিময় করা হবে। সৃজনশীল কেন্দ্রটি ২০১৪ সালের মধ্যে খোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্পেনের বার্সেলোনা নগরের কাছে রোজেস শহরের রেস্তোরাঁ এল বুলি বিশ্বের সেরা ৫০টি রেস্তোরাঁর তালিকায় পাঁচবার স্থান পেয়ে রেকর্ড করে। আর এর মালিক ও প্রধান শেফ ফেরান আড্রিয়া রন্ধনকৌশলের জন্য অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১০ সালে তিনি দশকের প্রধান রন্ধনবিদ ‘শেফ অব দ্য ডিকেইড’ নির্বাচিত হন।
বছরে ছয় মাস খোলা থাকত এল বুলি। গ্রাহকদের চাপের কারণে অধিকাংশ সময়ই ৫০ আসনের এই রেস্তোরাঁ লটারির মাধ্যমে বুকিং দেওয়া হতো। এত কিছুর পরও এই রেস্তোরাঁ কখনো লাভের মুখ দেখেনি।

নতুন মাত্রা আনলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা খার

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নয়নে নেওয়া প্রতিটি উদ্যোগই দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট নিরসনে আশার সঞ্চার করে থাকে। গত ২৭ জুলাই নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্দো-পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকও এর ব্যতিক্রম ছিল না। পাকিস্তানের তরুণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার এ ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
আলোচনায় হিনা যে নতুন মাত্রা এনেছেন, তা ভারতের সংবাদপত্র-গুলোর শিরোনামেও স্পষ্ট হয়েছে। একটি পত্রিকার শিরোনাম ছিল, ‘ভারতকে মন্ত্রমুগ্ধ করলেন তরুণী হিনা’। আরেকটি পত্রিকার শিরোনাম ছিল, ‘ভারতের ওপর পাকিস্তানের হিনা সম্মোহন জাদু’। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমেও প্রায় একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।’
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি নিজেই বলেছেন, পাকিস্তানের ‘নমনীয় ভাবমূর্তি’ প্রকাশ করার উদ্দেশ্যেই হিনাকে (পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে) নিয়োগ করা হয়েছে। একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা ও উগ্রবাদীদের তৎ পরতায় বিপর্যস্ত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে হিনাকে ভারত সফরে পাঠানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরাও মনে করছেন।
হিনা ভারতের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে যে অনেকটাই সক্ষম হয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি নিজেও বেশ বুঝতে পেরেছেন। তবে বিনয়ের সঙ্গে খার বলেছেন, ‘আমি মনে করি, আমি আমার ব্যক্তিগত প্রোফাইল দিয়ে নয়, বরং আমি যে দেশ থেকে এসেছি, তার ভাবমূর্তি দিয়েই সবার নজর কাড়তে পেরেছি।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণাও হিনা রব্বানির ‘ব্যক্তিগত প্রোফাইলের’ প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘আপনি দেখতে সুন্দরী, শুধু সে কারণে নয়, বরং আপনি যে নতুন বৈচিত্র্যময় মাত্রা নিয়ে এসেছেন, সে কারণে ভারতের অর্ধেক মানুষ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে।’

বেরলুসকোনিকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনিকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি। ইতালির একটি দৈনিকে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে গাদ্দাফি সরকার বলেছে, বেনগাজিভিত্তিক জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের (এনটিসি) অনেকের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে। তবে বিদ্রোহীদের সামরিক শাখার প্রধান জেনারেল আবদেল ফাতাহ ইউনিসের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। জেনারেল ইউনিস গত বৃহস্পতিবার গুলিতে নিহত হন। তাঁর সঙ্গে গাদ্দাফি বাহিনীর গোপন যোগাযোগ ছিল বলে গুজব রয়েছে।
লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজিতে গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন বিদ্রোহী সেনা নিহত হয়েছেন। এ সময় ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইতালির দৈনিক করিয়েরি দেল্লা সেরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেরলুসকোনি ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রে’ জানতে পারেন গাদ্দাফি তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছেন। বেরলুসকোনি বলেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নয়, শারীরিকভাবে হত্যা করার কথা উল্লেখ করেছেন গাদ্দাফি। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি ইতালির প্রধানমন্ত্রী।
গাদ্দাফির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ কাইম গতকাল রোববার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এনটিসির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে। মাহমুদ জিবরিল (এনটিসির দ্বিতীয় প্রধান নেতা), এসায়ে (এনটিসির পররাষ্ট্রবিষয়ক দায়িত্বে আছেন), সাল্লাবিসহ (ধর্মীয় নেতা) অনেকের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।’ জেনারেল ইউনিসের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, দুই মাস আগে ইউনিসের ইতালি সফরের সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এর পর থেকে ইউনিসের সঙ্গে গাদ্দাফি সরকারের কোনো ধরনের যোগাযোগ ছিল না।
বেনগাজিভিত্তিক বিদ্রোহীদের মুখপাত্র মাহমুদ সাম্মান বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলে। দুই পক্ষই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ৩১ জনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও আমরা চারজনকে হারিয়েছি।’
হামলা চলবে: ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেরার্দ লঙ্গুয়ে গতকাল বলেছেন, গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে যত দিন প্রয়োজন লিবিয়ার সামরিক স্থাপনায় হামলা চলবে।
গেরার্দ লঙ্গুয়ে বলেন, ‘আমরা কখনোই গাদ্দাফির ওপর চাপ কমাব না এবং গাদ্দাফিবিরোধীদের ছেড়ে চলে যাব না। তবে ত্রিপোলি তথা লিবিয়ার জনগণকে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে।’
জোস গ্রাম বিদ্রোহীদের দখলে: লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের নাফুসা পার্বত্য এলাকার জোস নামের একটি গ্রাম গতকাল দখল করে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। নাফুসা অঞ্চলে বিদ্রোহীদের অভিযানের প্রধান জুমা ব্রাহিম বলেন, ‘আমরা সকালের দিকে জোস গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। এখন আরও পশ্চিমের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। এর টিজি এলাকায় গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের সঙ্গে আমাদের সংঘর্ষ চলছে।’

স্ট্যানফোর্ডের ফাইনালে সেরেনা

সেরেনা উইলিয়ামস হারিয়ে গেছেন। না, হারানো বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। উইলিয়ামস পরিবারের ছোট মেয়ে হারিয়ে গেছেন আসলে শৈশব-কৈশোরে। স্মৃতির চাকায় ভর করে চলে গেছেন ছোটবেলার সেই সময়ে। যে সময়ে তাঁর অপেক্ষা ছিল নিজের র‌্যাঙ্কিংটা আরেকটু বাড়িয়ে নেওয়া।
সেরেনাকে স্মৃতিচারী করেছে স্ট্যানফোর্ড ডব্লুটিএ টুর্নামেন্ট। মারিয়া শারাপোভাকে হারিয়ে উঠেছিলেন সেমিফাইনালে। পরশু জার্মানির স্যাবাইন লিসিস্কিকে হারিয়ে এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন সেরেনা। ৬-১, ৬-২-এ জেতা এই ম্যাচটিই তাঁকে টেনে নিয়ে গেছে ছোটবেলায়। ‘নিজের কাছে আমাকে আবার সেই ছোট্টটি মনে হচ্ছে। যখন ছোট ছিলাম, স্বপ্ন ছিল ১০০-এর মধ্যে জায়গা করে নেব। এর পর ওয়াইল্ড কার্ড ছাড়াই গ্র্যান্ড স্লামে খেলব। আবার যেন সেই স্বপ্ন দেখছি’—বলেছেন মার্কিন টেনিস তারকা।
সাবেক ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ানকে সত্যিই আবার র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০০-এর মধ্যে ফেরার স্বপ্ন দেখতে হচ্ছে। পা কেটে যাওয়া এবং ফুসফুসে রক্ত জমার কারণে প্রায় এক বছর কোর্টের বাইরে ছিলেন। র‌্যাঙ্কিংয়েও নেমে গিয়েছিলেন ১৬৯ নম্বরে। ধীরে ধীরে আবার ফিরছেন। ২০১০ উইম্বলডন ফাইনালের পর প্রথম উঠলেন কোনো ফাইনালে। স্ট্যানফোর্ডের ফাইনাল তো তাঁকে স্মৃতিচারী করবেই।

‘হ্যাটট্রিক হিরো’র চাওয়া দলের জয়

ভারতীয়রা যখন পুড়ছে স্টুয়ার্ট ব্রডের আগুনে, সোয়ানসিতে তখন কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে নটিংহ্যামশায়ার খেলছে গ্ল্যামরগনের বিপক্ষে। ভাগ্যটা সহায় না হলে হয়তো ট্রেন্টব্রিজে নয়, ৩০ জুলাই বিকেলে ব্রড হয়তো থাকতেন সোয়ানসিতে!
এই সিরিজের আগে ১১ ইনিংসে ছিল ১১ উইকেট। পরিসংখ্যানের চেয়েও বাজে ছিল তাঁর শরীরী ভাষা। এই সিরিজের দল থেকে হয়তো বাদই পড়ে যেতেন। বাঁচিয়ে দিয়েছে সিরিজ শুরুর ঠিক আগে সমারসেটের বিপক্ষে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে পাওয়া ৫ উইকেট। লর্ডসের একাদশে থাকা নিয়েও ছিল সংশয়। ম্যাচ শুরুর সকালে সিদ্ধান্ত হয় আরেকটা সুযোগ দেওয়ার। সেই ব্রডই এখন ইংল্যান্ডের ত্রাতা।
লর্ডসের প্রথম ইনিংসটা বাদ দিয়ে পুরো সিরিজটাই বলতে গেলে ব্রডময়। লর্ডসের দ্বিতীয় ইনিংসে মহা গুরুত্বপূর্ণ ৭৪ রান, দুই ইনিংসে ৭ উইকেট। চলতি টেস্টে ইংল্যান্ডের মুমূর্ষু ইনিংসকে তরতাজা করেছে প্রথম ইনিংসে তাঁর ৬৪ রান। পরশু নাম লেখালেন ইতিহাসেই। ইতিহাসের ৩৯তম, ইংল্যান্ডের দ্বাদশ আর ভারতের বিপক্ষে প্রথম হ্যাটট্রিক দেখল টেস্ট ক্রিকেট। টেস্ট অভিষেকের ১১২ বছর পর ট্রেন্টব্রিজ হ্যাটট্রিকের মুখ দেখল নটিংহ্যামের এক সন্তানের সৌজন্যেই! টেস্ট (৬/৪৬) এবং ওয়ানডে (৫/২৩), দুটিতেই ব্রডের সেরা বোলিং এখন ঘরের মাঠে!
ঘরের মাঠে এমন কীর্তি গড়ে তৃপ্ত ব্রড, ‘হ্যাটট্রিকের অনুভূতি সব সময়ই দারুণ, তবে ট্রেন্টব্রিজে পাওয়াটাকে মনে হচ্ছে বিশেষ কিছু। দর্শক সমর্থন ছিল অসাধারণ। তারা বুঝতে পেরেছিল দ্বিতীয় নতুন বলটা ছিল দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দারুণ অনুপ্রাণিত করেছে তারা, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য সৃষ্টি করেছিল ভীতিকর পরিবেশ।’
১৬ বলের মধ্যে কোনো রান না দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে পরশু বিকেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন একাই। তবে এখনই উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছেন না। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন সবচেয়ে বড় চাওয়া দলের জয়, ‘দুটো ম্যাচই আমার জন্য ছিল দারুণ উপভোগ্য, তবে দল না জিতলে এসবের কোনো অর্থই নেই। আমরা এখানে টেস্ট জিততে এসেছি, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মূল্য সামান্যই।’