Friday, January 2, 2015

রমনার বটমূলে বসেছে পৌষমেলা

(রমনার বটমূলে বসেছে পৌষমেলা। সেখানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যশ্রী, ধৃতি নর্তনালয়, বহ্নিশিখা নামের তিনটি সংগঠনেরা শিল্পীরা। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন) পৌষ-পার্বণে গ্রামে গ্রামে খোলা মাঠে বসে মেলা। সেখানে দেশজপণ্যের সমাহার আর লোকজসংস্কৃতির উপস্থাপনা গ্রামীণ জনপদের মানুষগুলোর জীবনে নির্মল আনন্দ বয়ে আনে। কিন্তু বর্তমানে গ্রামবাংলার সেই মেলা স্থান করে নিয়েছে শহরেও। পিঠা-পুলি, মুড়ি-মুড়কি, খেজুরের রস, নলের গুড়, শিরনি-পায়েস, মধুসহ নানান উপাদান নিয়ে রাজধানীর রমনার বটমূলে বসেছে পৌষমেলা। ‘শান্তির পায়রা উড়ুক পৌষের আকাশে’ এই স্লোগান নিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী পৌষমেলা। আজ শুক্রবার সকাল আটটায় আয়লা জ্বালানোর মধ্যদিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানের ঘোষণা পাঠ করেন পৌষমেলা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে বেলা ১১টা এবং তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত। মেলায় ৪০টি স্টল স্থান পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘আমাদের ঋতুর বৈচিত্র্য নতুন প্রজন্মকে জানানোর দায়িত্ব আমাদের। আর এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে পৌষমেলা উদ্‌যাপন পরিষদ। আমাদের নিজস্বতা আমাদেরই ধরে রাখতে হবে।’ তাঁরা বলেন, ‘শুধু রমনার বটমূলে নয়, শহরের প্রতিটি প্রান্তে যদি প্রতিটি ঋতু নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান করা যায়, তাহলে আমাদের সন্তানেরা নিজেদের সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ হয়ে বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসনমুক্ত হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই কবিতা আবৃত্তি করেন রফিকুল ইসলাম। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যশ্রী, ধৃতি নর্তনালয়, বহ্নিশিখা। একক সংগীত গেয়ে শোনান সুজিত মোস্তফা, লিলি ইসলাম ও মাহমুদ সেলিম। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

খাবারের খোঁজে লোকালয়ে অজগর

(মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম বেলাগাঁও গ্রামে প্রায় ১০ ফুট লম্বা অজগরটি ধরা পড়ে। পরে বন বিভাগের লোকজন এটি উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বনে ছেড়ে দেয়। ছবি: কল্যাণ প্রসূন চম্পু, জুড়ী (মৌলভীবাজার)) পুকুরের পানি কমে গেছে। এ সুযোগে মাছ শিকার করতে অজগরটি পুকুরে নামার চেষ্টা করছিল। এ সময় স্থানীয় শিশুরা এটি দেখে ফেলে। তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে এর মাথায় আঘাত করে। এক পর্যায়ে প্রায় ১০ ফুট লম্বা অজগরটি ধরে ফেলে তারা। শুক্রবার দুপুরের মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম বেলাগাঁও গ্রামে অজগরটি ধরা পড়ে। পরে বন বিভাগের লোকজন অজগরটি উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বনে ছেড়ে দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পশ্চিম বেলাগাঁওয়ের আবদুল মান্নানের বাড়ির পুকুরপাড়ে অজগরটিকে পাওয়া যায়। এটি না মারতে অনুরোধ জানান বয়স্ক লোকেরা। খবর পেয়ে বিকেল চারটার দিকে বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
বন বিভাগের জুড়ী-১ রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশপাশের কোনো জঙ্গল থেকে খাবারের খোঁজে অজগরটি লোকালয়ে চলে আসতে পারে। এটির মাথায় কিছুটা আঘাত দেখা গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এটি পুটিছড়া সংরক্ষিত বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

‘সরকার পাগলের স্বর্গে বাস করছে’ -ড. কামাল হোসেন

গণফোরামের সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাস প্রমাণ করে যে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে কোন শাসকগোষ্ঠী জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারেনি। সময়ের ব্যবধানে নিপীড়িত জনতার পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গেছে তখন তারা ওই অত্যাচারী শাসকদের লজ্জাজনকভাবে বিদায় দিয়ে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করেছে। বর্তমান সরকার যে সব কর্মকাণ্ড করছে মনে হচ্ছে তাদের মানসিক ও কানের চিকিৎসা করাতে হবে। এদের মানবতাবোধ হারিয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদ আয়োজিত ‘৪৩ তম বিজয় দিবস এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি শীর্ষক’ এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. কামাল বলেন, ৫ই জানুয়ারির একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার মনে করে যে কোন মূল্যেই হোক ক্ষমতায় থাকতে হবে। নইলে শেয়ার বাজার লুটপাট করা যাবে না। ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা ডাকাতি করা যাবে না। সস্ত্রাস ও নৈরাজ্য করে দখলদারিত্ব ও মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। তবে সরকারকে এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে যে, একদিন তাদের ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। এটাই নিয়ম। যদি ভেবে থাকে যে তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবে তবে তারা পাগলের স্বর্গে বাসবাস করছে। তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক অধিকার হচ্ছে বাক ও বক্তির স্বাধীনতা। সরকারকে দেশের ১৬ কোটি মানুষের কথা শুনতে হবে। কিন্তু, তারা কথা শুনার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছে। জনগণের সবার কথা শুনতে হবে।

‘ভালো কথা খারাপ সময়ে বলেছেন খালেদা’ -সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া ভালো কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি খারাপ সময়ে ভালো কথা বলেছেন। ২০১৫ সালে এ বিষয়ে কোন আলোচনা হবে না। ২০১৮ সালের শেষের দিকে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে ‘চলমান রাজনীতি বিষয়ে আলোচনা’ শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু একাডেমি ওই আলোচনা সভা আয়োজন করে। তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) নির্বাচনী আইন সংশোধন, নির্দলীয় সরকার, আলোচনার কথা বলেছেন। ভালো কথা বলেছেন। কিন্তু এ নিয়ে এখন কোন আলোচনা হবে না। আপনাকে অপেক্ষা করতেই হবে। আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আপনি যখন সাত দফা দিয়েছেন। আপনার শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে। আপনাকে চার বছর অপেক্ষা করতেই হবে। চার বছর বেশি সময় না। দেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি, বাস্তবতার নিরিখে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চার বছর পর এ নিয়ে আলোচনা হবে। সুরঞ্জিত সেন বলেন, ৫ই জানুয়ারিকে আমরা গণতন্ত্ররক্ষা দিবস মনে করি। যথা সময়ে ৫ই জানুয়ারি সমাবেশ হবে। আপনারা তো অনেক চেষ্টা করেছেন। বিদেশীরা ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন মেনে নিয়েছে। ৫ই জানুয়ারি সমাবেশ নিয়ে ঝামেলা কইরেন না। সভা নিয়ে অশান্তি কইরেন না। আওয়ামী লীগের এই সমাবেশ বানচাল করার কারো সাধ্য নাই। তিনি বলেন, আপনারাও আবেদন করেন। আপনারাও সভা-সমাবেশ করেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে করতে হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু একাডেমির উপদেষ্টা সাজ্জাদ হোসেন।

ছদ্ম মুসলিম জঙ্গীর মহড়া নিয়ে ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ

ছদ্ম মুসলিম জঙ্গী সেজে গুজরাটের পুলিশ নিরাপত্তা মহড়া দেয়ার পর এ নিয়ে ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গুজরাটের সুরাট জেলায় পুলিশ সম্প্রতি এই মহড়া দেয়। প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মহড়ার সময় মুসলিমদের মতো লম্বা জোব্বা এবং মাথায় টুপি পরা ছদ্ম জঙ্গীদের সঙ্গে পুলিশ ধস্তাধস্তি করছে। নর্মদা জেলায় আরেকটি মহড়ার সময় এরকম ছদ্ম জঙ্গীদের ‘ইসলাম জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দিতে দেখা যায়। ভারতের মুসলিম নেতারা এই মহড়াকে খুবই জঘন্য এবং নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। সমালোচকরা বলছেন, পুলিশের মহড়ার এই ভিডিও ভারতের মুসলিমদের একটা গৎবাঁধা ছাঁচের মধ্যে ফেলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মুসলিমরা ভারতের মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ। ভারতের কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে এই মহড়ার ভিডিও দেখানোর পর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেল পুলিশের এই মহড়া ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ধর্মকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এক করে দেখানো ভুল। মুসলিম নেতারা এ ঘটনার জন্য পুলিশকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দিল্লি থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, নরেন্দ্র মোদির সরকার ভারতের সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কি আচরণ করছে, সেদিকে নজর রাখছেন অনেকেই। তিনি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন ২০০২ সালে সেখানে এক মুসলিম বিরোধী দাঙ্গায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল মুসলিম। এই দাঙ্গা ঠেকাতে নরেন্দ্র মোদি কিছুই করেননি বলে অভিযোগ্ উঠে।  >>-bbc বাংলা

‘ক্রিকেট পারি না, তবে গালাগাল পারি’!

(দুই অধিনায়কের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া দেশটির নির্বাহী ‘অধিনায়ক’ অ্যাবট। কালকের অনুষ্ঠানে) স্লেজিং নিয়ে আবারও বেশি শোরগোল হলো বিশ্ব ক্রিকেটে। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সৌজন্যে। রিচার্ড হ্যাডলির মতো কিংবদন্তিরা তো বলছেন, ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটে এই অভব্যতা একেবারেই আইন করে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আবার অন্যরা বলছেন, থাকুক না একটু-আধটু স্লেজিং। না হলে ক্রিকেট তো ম্যাড়মেড়ে হয়ে যাবে। এবার স্লেজিং প্রসঙ্গে কথা বললেন খোদ অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। নিজের সংক্ষিপ্ত ক্রিকেট ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করে টনি অ্যাবট বলেছেন, তিনি ব্যাটিং-বোলিং কোনোটাই পারতেন না। তার পরও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে জায়গা পেয়েছেন কেবল স্লেজিং করতে পারতেন বলে! অক্সফোর্ডের কুইন্স কলেজের মিডল কমন রুম দলের অধিনায়ক ছিলেন অ্যাবট।
গতকাল ভারতীয় ও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সম্মানে ‘হাই টি’-এর আয়োজন করেছিলেন অ্যাবট। দুই দলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যা হয়েছে, সেটা হালকা করতেই রসিকতা করে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী, ‘আমি ব্যাট করতে পারতাম না। বোলিং না। এমনকি ফিল্ডিংও নয়। কিন্তু আমি স্লেজ করতে পারতাম। আমার ধারণা, এই একটা যোগ্যতা দিয়েই আমি দলে জায়গা ধরে রেখেছিলাম। তবে কথা দিচ্ছি, আজ এখানে এসবের কিছু হবে না।’
অস্ট্রেলিয়া দল এরই মধ্যে সিরিজের বিজয়ী হিসেবেই আরাম করে চায়ের কাপে চুমুক দিতে পারছে। তবে অস্ট্রেলীয় মিডিয়ায় সমালোচনা হচ্ছে, তৃতীয় টেস্টে অত দেরিতে ইনিংস ঘোষণা না করলে সিরিজটার ফল হয়তো ৩-০ হয়ে যেত। এ নিয়েও মন্তব্য করেছেন অ্যাবট, ‘গত রাতে যখন সবাইকে বলছিলাম আজ অস্ট্রেলিয়া আর ভারতীয় দলকে আতিথ্য দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হবে, তখন আমার দিকে ইনিংস ঘোষণা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন ধেয়ে আসছিল। তখন তাদের বলেছি, এটা নিয়ে ভাবা আমার কাজ না। এটা স্টিভেন স্মিথের কাজ, কারণ তার দায়িত্ব দলকে আগে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। ভারত কিন্তু এই সফরে বারবার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাদের হালকা করে দেখার সুযোগ ছিল না।’ পিটিআই।

দরজা খুলে দেন সুমনা, খুন করেন নজরুল -নবী হত্যা মামলার জবানবন্দি

‘বাল্যবন্ধু’ নজরুলের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য প্রকাশ পাওয়ার ভয় এবং ‘স্বামী’ নবী হোসেনের কাছ থেকে ভরণপোষণ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই নবীকে খুন করার পরিকল্পনা করেন সুমনা বেগম। গভীর রাতে সুমনা দরজা খুলে দিলে তাঁর প্রেমিক নজরুল দুই সহযোগীসহ ঘরে ঢোকেন এবং ঘুমন্ত নবীকে গলা কেটে হত্যা করেন। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পরিবহন ব্যবসায়ী নবী হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সুমনা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য দিয়েছেন। তাঁর জবানবন্দিমতে, নবীকে হত্যার পর লাশ কয়েক টুকরা করে বস্তা ও ব্যাগে করে একাধিক স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের (২) বিচারক হামিদুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার সুমনার এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আজ শুক্রবার ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম তালুকদার জবানবন্দির এই তথ্য জানান।
গত ২৫ ডিসেম্বর পৌর শহরের মালাগুদাম এলাকা থেকে হাত-পা-মাথাবিহীন একটি খণ্ডিত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরের দিন ভৈরব শহর থেকে রাসেল মিয়া নামে নবীর এক পরিচিত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে ২৮ ডিসেম্বর ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিজেশ্বর এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম (৩৮) ও সুমনা বেগম (৩০) নামে নবীর আরও দুই পূর্বপরিচিত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনই পৌর শহরের চণ্ডীবের দক্ষিণপাড়া মহল্লার শহীদ জিয়া তোরণ এলাকার একটি আস্তাকুঁড় থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। পরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়কসেতু এলাকা থেকে হাত ও পা উদ্ধার করা হয়।
ভৈরব থানার ওসি জানান, গত সোমবার থেকে সুমনা ও নজরুল পাঁচ দিনের রিমান্ডে ছিলেন। রিমান্ডে আনার পর হত্যাকা‌ণ্ডের কথা স্বীকার করায় বৃহস্পতিবার সুমনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
জবানবন্দিতে সুমনা বলেছেন, তাঁর ও নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজেশ্বর গ্রামে। নজরুল সুমনার বাল্যবন্ধু। ছোটবেলা থেকেই তাঁদের মধ্যে প্রেম ছিল। বেশ কয়েক বছর আগে ঢাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে সুমনার বিয়ে হয়। কিন্তু সংসার টেকেনি। তাঁর একটি কন্যাসন্তান আছে।
ওসি জানান, সুমনা তাঁদের কাছে দাবি করেছেন নবী হোসেনের স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও কয়েক বছর আগে তিনি সুমনাকে বিয়ে করেন। চার বছর ধরে ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডীবের দক্ষিণপাড়ার রওশনআরা বেগমের বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন সুমনা। কিছুদিন ধরে নজরুলের সঙ্গে সুমনার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তাঁদের মধ্যে গোপন সম্পর্ক হয়। কৌশলে নজরুল মুঠোফোনে ওই মুহূর্তের ছবি ভিডিও করে রাখেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না রাখলে ওই ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেন নজরুল। এতে সুমনা ভয় পেয়ে যান। এ ছাড়া এক বছর ধরে নবী সুমনাকে ভরণপোষণের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এ কারণে নবীর প্রতি সুমনা কিছুটা ক্ষুব্ধও ছিলেন। এ রকম বাস্তবতায় নজরুলকে নিয়ে সুমনা নবীকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২১ ডিসেম্বর রাতে চণ্ডীবের মহল্লার ভাড়া বাসায় নবীকে ডেকে আনেন সুমনা। রাত দুইটার দিকে নজরুল দরজায় কড়া নাড়েন। সুমনা দরজা খুলে দেন। ঘরে ঢুকেই চাপাতি দিয়ে ঘুমন্ত নবীর মাথায় আঘাত করেন নজরুল। এতে অচেতন হয়ে যান নবী। পরে খাট থেকে মেঝেতে শুইয়ে প্রথমে তাঁর গলা কাটা হয়। মাথা বিচ্ছিন্ন করার কাজটি করেন নজরুলের এক সহযোগী। হাত কাটেন আরেক সহযোগী। পা দুটি কাটেন নজরুল নিজেই।
টুকরা টুকরা করার পর দেহটি প্রথমে ঘরের পেছনের মাটিতে চাপা দেওয়া হয়। মাথা ব্যাগে করে নিয়ে ফেলা হয় বাসার কাছেই শহীদ জিয়া তোরণ এলাকার আস্তাকুঁড়ে। বস্তায় কাটা হাত ও পা ভরে সেগুলো ফেলা হয় সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়কসেতুর ভৈরব প্রান্তে। ওই রাতেই কাজটি করেন নজরুল ও তাঁর সহযোগীরা। বাড়ির পেছনের জায়গায় চাপা দিয়ে রাখা দেহটি ২৪ ডিসেম্বর রাতে তুলে ফেলা হয় মালগুদাম এলাকায়। এরপর সুমনা বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
সহকারী পুলিশ সুপার (বাজিতপুর সার্কেল) মৃত্যুঞ্জয় দে বলেন, এরই মধ্যে নজরুলের পাঁচ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে। এখনো মুখ খুলছেন না তিনি। আজ (শুক্রবার) আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আগামী সোমবার আবেদনের শুনানি হবে। সুমনা ও নজরুল বর্তমানে কিশোরগঞ্জ কারাগারে আছেন।

‘জনসভা করতে না দিলে ওই দিন থেকেই শেষ খেলা শুরু’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আগামী ৫ই জানুয়ারি থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নতুন অভিযাত্রা শুরু হবে। গত বছরের ৫ই জানুয়ারি থেকে এবারের দিনটি হবে ব্যতিক্রম। সেদিন থেকেই শুরু হবে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নতুন অভিযাত্রা। সেদিন জনসভা করতে না দিলে ওই দিন থেকেই শেষ খেলা শুরু হবে। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার ও আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ইয়ুথ ফোরাম নামে একটি সংগঠন ওই আলোচনা সভাটি আয়োজন করে। তিনি বলেন, গত বছরের ৫ই জানুয়ারি একতরফাভাবে নির্বাচন হয়েছে। ওই নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট নিরসনে বুধবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকারকে বলব, আর বিলম্ব নয়। তার প্রস্তাব নিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসুন। খন্দকার মাহবুব বলেন, তাই সরকারকে বলব, জনরোষ এড়াতে হলে সংলাপের বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিন। দেশনেত্রীর সাত দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। নইলে যখন সাত দফা এক দফায় এসে দাঁড়াবে তখন এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. আতিকুজ্জামান। আরও বক্তব্য রাখেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট আহমেদ আজম খান, ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান প্রমুখ।

বেনাপোল সীমান্তপথে ১৯৩ নারী ও শিশু ভারতে পাচার

২০১৪ সালে যশোরের বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে কমপক্ষে ১৯৩ নারী ও শিশুকে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে ভারতে। ইউএনবি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বেনাপোলে ২৭১ জন হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন, যা ওই অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টির সুস্পষ্ট নির্দেশক। যশোরভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইটস যশোর’ একটি জরিপ পরিচালনার পর উদ্বেগজনক এ পরিসংখ্যান দিয়েছে। অবশ্য, পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গত বছর হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন ১১৫ জন। পক্ষান্তরে, মানবাধিকার সংগঠনের জরিপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেনাপোলে জানুয়ারি মাসে ৩৫, ফেব্রুয়ারিতে ৪০, মার্চে ২৩, এপ্রিলে ১৮, মে মাসে ২৪, জুনে ১৬, জুলাইয়ে ২৫, আগস্টে ২১, সেপ্টেম্বরে ৯, অক্টোবরে ১৮, নভেম্বরে ২৫ ও ডিসেম্বরে ১৭ জন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। ওই সময়ে বেনাপোলে ৭০টি ডাকাতি, ১০১টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রাইটস যশোরের দেয়া হত্যাকান্ড, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার পরিসংখ্যানের বিরোধিতা করেছেন সহকারী পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট রেশমা শারমিন। তিনি জানান, যখনই কোন অপরাধ সংঘটিত হয়, পুলিশ একটি মামলা নথিভুক্ত করে এবং তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, কোন পুরুষ বা নারী আত্মহত্যা করলে, সেটাকে হত্যাকান্ড হিসেবে গণ্য করা যায় না। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশ ময়না-তদন্তের জন্য অপেক্ষা করে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত বছর বেনাপোলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। অন্যদিকে, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম থেকে তারা এ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং হত্যাকা-ের ঘটনায় নথিভুক্ত মামলা থেকেই এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

সায়েন্স ফিকশন নিয়ে চলচ্চিত্র হোক: জাফর ইকবাল

মেলায় ছিলেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির চরিত্র ‘আয়রন ম্যান’ ও ‘রোবোকপ’সহ আরও কিছু চরিত্র। আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে ভিনগ্রহ থেকে এসেছিলেন ‘নিটি’। ‘নিটি’ এবং বাংলাদেশের শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল একসঙ্গে উদ্বোধন করলেন ‘সায়েন্স ফিকশন বইমেলা ২০১৫’।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বইয়ের কোনো ঘটনা নয়। বরং দেশের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির লেখকদের একমঞ্চে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি এই বইমেলার আয়োজন করে। শাহবাগের গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বিজ্ঞান শুধু কিছু বৈজ্ঞানিকের মধ্যে, সফিস্টিকেটেড ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ থাকুক, আমি এর পক্ষপাতী নই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্ম সাহিত্যের এ ধারাকে গ্রহণ করুক। সায়েন্স ফিকশন পড়ুক, সায়েন্স ফিকশন লিখুক, সায়েন্সকে ভালোবাসুক।’
জাফর ইকবাল তাঁর স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশে যেমন সুন্দর সুন্দর সায়েন্স ফিকশনের বই আছে। আমি চাই তেমনি সায়েন্স ফিকশন নিয়ে সুন্দর এবং ভালো কিছু ছবি তৈরি হোক।’ তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার জন্য আমি বহুদিন ধরে চেষ্টা করে আসছি। আমার পাশে আরেকটি শক্তি হয়েছে দেখে আমি আনন্দিত।’
দুই মেয়ে জাবিন তানজিন ও জাফরিন তাহসিনকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন সরকারি কর্মকর্তা জাহিরুল ইসলাম। তিনজনেই জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির ভক্ত। একই সঙ্গে প্রিয় লেখক এবং লেখকের বই পেয়ে উচ্ছ্বাস যেন থামছেই না তাঁদের। কখনো ছবি তুলছেন প্রিয় লেখকের সঙ্গে তো কখনো অটোগ্রাফ নিচ্ছেন বইয়ে। জাবিন বলেন, ‘বিজ্ঞান নিয়ে কিছু করতে চাই। এরকম প্রোগ্রাম আরও হলে ভালো হয়, আগ্রহ পাচ্ছি কিছু একটা করার।’
সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির সদস্য হওয়ার সুযোগ আছে মেলায় আসা ব্যক্তিদের। সদস্য ফরম পূরণ করছিলেন হোসাইন মো. শরীফ, রাসেল বোখারী, ফেরদৌসি আক্তার, শাবনাজ ও তানজিনা আক্তারদের মতো অনেকেই। এর মধ্যে ফেরদৌসি আক্তার বলেন, ‘এরকম কিছু আরও আগে করা উচিত ছিল। বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করতে চাই। সুযোগ পেলে নাটক ও সিনেমাও তৈরি করার ইচ্ছা আছে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের আগ্রহ, উৎসাহ ও উদ্দীপনাগুলোকে ধরা যায়। এতে শিশুরা মোটিভেটেড হয়। এ ধরনের মোটিভেশনের মাধ্যমে সায়েন্স ফিকশনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে শিশুদের মূল সাহিত্যমুখী করা যাবে।’
বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে সোসাইটির সভাপতি মোশতাক আহমেদ বলেন, বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা, বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা, বিজ্ঞান শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা করা এবং বিজ্ঞান বিনোদনের প্রসার সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু একটি বিষয়ই জানি, বিজ্ঞান এবং আনন্দ, আনন্দ এবং বিজ্ঞান।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।

উইন্ডোজ ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর

(উইন্ডোজ ফোনে উন্নত অফিস সংস্করণ আনবে বলে জানান মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম গ্রুপের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বেলফিউরি।) অন্যের ঘর গড়তেই ব্যস্ত মাইক্রোসফট! উইন্ডোজ ফোন ব্যবহারকারীদের কথা যেন মনেই ছিল না এত দিন! ব্যস্ত ছিল গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর অ্যাপলের আইওএস ব্যবহারকারীদের খুশি করতে। উইন্ডোজ ফোনে অফিস সফটওয়্যার ঠিকমতো না চললেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপারেটিং সিস্টেমের জন্য নতুন সফটওয়্যার উন্নত করার কাজ নিয়েই ব্যস্ত ছিল মাইক্রোসফট। তবে কী উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা মাইক্রোসফটের কাছে গুরুত্বহীন? মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম গ্রুপের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বেলফিউরি উইন্ডোজ ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এবার বিশেষ পরিকল্পনার কথাই জানালেন। জো উইন্ডোজ ফোন ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘উইন্ডোজ ফোন ব্যবহারকারীদের আমাদের অফিস টিম ভুলে যায়নি।’
বর্তমানে স্মার্টফোনের বাজারে ২ দশমিক ৫ শতাংশ দখল করতে পেরেছে মাইক্রোসফট। বাজার বিশ্লেষকেরা অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় উইন্ডোজ ফোনের ভবিষ্যৎ​ সাফল্য দেখছেন না। অফিস সফটওয়্যারের মতো দারুণ একটি জিনিস মাইক্রোসফটের হাতে থাকায় মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ফোনকে আরও বেশি গুরুত্ব দেবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু কয়েক মাস ধরেই মাইক্রোসফট অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের জন্য বেশি সময় দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাইক্রোসফটের এই নিজের ঘর পুড়িয়ে অন্যকে আগুন পোহাতে দেওয়ার সুযোগে উইন্ডোজ ফোন ব্যবহারকারীরা হতাশ। তবে মাইক্রোসফটকে দোষ দেওয়া যায় না। কারণ এখন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী ৮৪.৭ এবং আইওএস ব্যবহারকারী ১১.৭ শতাংশ।
জো বেলফিউরি তার ওয়েবু অ্যাকাউন্টে একটি বার্তায় বলেন, ‘মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ফোন ব্যবহারকারীদের কথা ভুলে যায়নি। আমাদের অনেকেই জানেন, উইন্ডোজ ফোনে ঠিকমতো অফিস ব্যবহার করা যায় না। আমাকে যাঁরা এই বিষয়টি জানিয়েছেন তাঁদের বলছি, অ্যান্ড্রয়েডে ও আইওএসে যাঁরা উন্নত অফিস সফটওয়্যার দেখে হতাশ হয়েছেন, তাঁদের জন্য চমক অপেক্ষা করছে। উইন্ডোজ ফোনকে আমরা ভুলিনি। আমরা উইন্ডোজের জন্য নতুন কিছু ঘোষণা দেওয়ার জন্য জমা করে রেখেছি। শিগগিরই আমরা নতুন পরিকল্পনার কথা জানাব। আর সেটা চাইনিজ নিউ ইয়ারের আগেই।’
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট উইন্ডোজ ফোন সেন্ট্রাল জানায়, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে চীনে নতুন বছর শুরু হবে। কিন্তু ২১ জানুয়ারিতেই মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ফোনে নতুন অফিস সফটওয়্যারের ঘোষণা দিতে পারে। ২১ জানুয়ারি উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম নিয়েও একটি অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করে রেখেছে মাইক্রোসফট।

নাসির–সাব্বিরের লড়াইটা চলছেই!

লড়াইটা জমল বেশ। ম্যাচ এখনো চলছে বলে শেষ পর্যন্ত তাতে কে জয়ী, সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে নাসির হোসেন বনাম সাব্বির রহমানের ব্যক্তিগত দ্বৈরথটা বেশ সেয়ানে-সেয়ানেই হয়েছে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নাসির তুলে নিয়েছেন এবারের লিগে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। আর জাতীয় দলে জায়গাটা নিয়ে নাসিরের সঙ্গে যাঁর লড়াই, সেই সাব্বির তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনের সুপার লিগের ম্যাচে আজ কলবাগান ক্রিকেট একাডেমির বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আবাহনী ৯ উইকেটে তুলেছে ২৪৭ রান। জবাবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কলাবাগান ৭ ওভারে বিনা উইকেটে তুলেছে ৩৬।
আবাহনীর ইনিংসটা পুরোটাই নাসিরের ওপর ভর করে। ফিফটি তো দূরের কথা, দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চই যে ফরহাদ হোসেনের ব্যাট থেকে আসা ৩৫। ৯৮ বলে ১৩টি চারে ১০৪ রানের ইনিংস খেলে সাব্বিরের বলেই আউট হয়েছেন নাসির। সেটি ছিল এই লেগ স্পিনারের দ্বিতীয় উইকেট। পরে আরও চার ব্যাটসম্যানকে ঝোলায় পুরেছেন সাব্বির। ব্যাটে পুরো লিগে নাসিরের সঙ্গে বেশ ভালোই পাল্লা দিচ্ছিলেন। কিন্তু বোলিংয়ে লড়াইটা ঠিক সমানে-সমান হচ্ছিল না। নাসির নিয়েছেন ১৩ উইকেট। এর আগে লিগে ২ উইকেট নেওয়া সাব্বির যেন এক ম্যাচেই সেটা পুষিয়ে দিতে চাইলেন আজ!
লড়াইটা সত্যিই দারুণ হয়েছে। অভিষেকের পর থেকেই জাতীয় দলে জায়গা প্রায় পাকা করে ফেলা নাসির গত জিম্বাবুয়ে সিরিজে দর্শক হয়ে পড়েন। আর তাঁর জায়গায় ওয়ানডে দলে আসা সাব্বির অভিষেক ম্যাচে ২৫ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দেন, নাসিরের ফিরে আসা কতটা কঠিন হবে। সেই বার্তা পেয়েই যেন এবারের লিগে দুর্দান্ত খেলেছেন নাসির। বারবার ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছেড়ে ফর্মের পাশাপাশি ফিরিয়ে এনেছেন নিজের ‘ফিনিশার’ নামটাও।
লিগে সাব্বিরও কিন্তু ভালোমতোই পিছু তাড়া করেছেন নাসিরের। আজকের ম্যাচে দুজনে আক্ষরিক অর্থেই মুখোমুখি হওয়ার আগেও লড়াইটা চলছিল পরিসংখ্যানে, লিগের রানের টেবিলে। ১৩ ইনিংসে ৩ ফিফটিসহ ৩৯১ রান করেছেন নাসির। সাব্বির সমান তিন ফিফটিতে করেছেন ৩৬৫ রান, সেটিও ৯ ইনিংসে। আজকের ১০৪ রানের ইনিংসটা দিয়ে নাসির অনেক এগিয়ে গেলেন। দেখা যাক, সাব্বিরের তো এখনো ব্যাটিংয়ে নামতে বাকি!

মিলান কুন্দেরা ও তার সৃষ্টিবিশ্ব by আহমেদ বাসার

লেখকরা বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়েও পাঠককে বিস্মিত করার মতো লেখা সৃষ্টি করে যেতে পারেন- এ কথা অনায়াসে বলা যায়। এমনকি, তাদের মৃত্যুর আগপর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। এ ক্ষেত্রে একটি বা দুটি সাধারণ ঘটনা সচরাচর ঘটে থাকে- একটি নির্দিষ্ট সময় পর তারা হতাশ হয়ে পড়েন, কারণ তাদের পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে; অথবা তারা উপলব্ধি করতে পারেন যে, একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছেন- নয়তো তারা সর্বজনস্বীকৃত হয়ে ওঠেন। সাময়িকভাবে দুটি ঘটনা একই সঙ্গেও ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে (ফিলিপ রথের কথা উদাহরণ হিসেবে বলা যায়) আমরা আমাদের হতাশাকে মেনে নিই এবং শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকি। মিলান কুন্দেরা এ ক্ষেত্রে আমাদের সামনে একটি বিরল ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে উপস্থিত হন। ভেবে দেখুন যখন আপনি প্রথম দ্য বুক অব লাফার অ্যান্ড ফরগেটিং অথবা দ্য আনবিয়ারেবল লাইটনেস অব বিং পড়েছেন, তখন এগুলোর বৈচিত্র্যময় গঠনশৈলী, বিষয় ও অভিনব চিন্তা কতটা বিস্মিত করেছিল আপনাকে। এখানে শুধু কৌশলগত নতুনত্বের বিষয় নয়, বরং নতুন জ্ঞানের আধার পুনর্বিন্যস্তকরণের ঔপন্যাসিক ধারণারও বিষয়।
প্রথাগত উপন্যাসচিন্তা থেকে এই গ্রন্থগুলোকে মূল্যায়ন করতে গেলে আমরা কিছুটা বিচলিত হতে পারি- একটি গ্রন্থে দেখা যায়, কামুক ডাক্তার বিনি হিলিসলি নার্সদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করছেন। যদিও টেস্টামেন্টস বিট্রেইড-এ কুন্দেরা চরিত্র, গল্প ও পরিবেশকে উপেক্ষা করে উদ্ভাবনী প্রশ্নচিহ্নবোধক ‘নভেলিস্টিক এসে’র দিকে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। বলা যায়, তিনি ঘটনা বর্ণনার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন (মার্টিন আমিজ যেমন এর দ্বারা প্রভাবিত)। কুন্দেরার স্বতন্ত্র ও অগ্রণী এই বর্ণনাভঙ্গি অনেককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। অ্যাডাম থার্লওয়েল তার পলিটিকস গ্রন্থে এবং ক্রেইগ রেইনি তার হার্টব্রেক গ্রন্থে এই পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছেন। কুন্দেরা- যিনি চেক প্রজাতন্ত্র থেকে ফ্রান্সে গিয়ে স্থিত হয়েছেন- ইতিমধ্যে তিনটি ছোট উপন্যাস ও একটি উদ্দীপনামূলক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। আঙ্গিকগত দিক থেকে এগুলো খুবই বৈচিত্র্যময়। দ্য কারটেইন এবং এনকাউন্টার পরস্পর সম্পর্কিত রচনা, যেগুলো প্রাচীন বিষয়-আশয় (অস্তিত্ববাদ ও নান্দনিকতা) ও প্রাচীন প্রেমের ওপর চিন্তা এবং স্মৃতিময়তার প্রলেপে রচিত।
প্রাবন্ধিক মায়াজাল সৃষ্টিতে কুন্দেরার দক্ষতা তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল করে তোলে, করে তোলে চির আগ্রহী। এমন অনেক লেখককে তিনি আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন যাদের কথা আমাদের জানা ছিল না। তার প্রথম দিকের গ্রন্থগুলো পড়েই এদের (ইয়ানিস জেনাকিস, মারেক বিয়েনজিক, গুবার্গুর বার্গসন) সম্পর্কে জানা যায়। কুন্দেরার মূল বিষয় মূলত ‘দর্পণ’। বিভিন্নভাবে বিকৃত সমাজ ও পরিপার্শ্বের প্রতিফলন তার সাহিত্যকর্মে লক্ষ্যযোগ্য। স্যামুয়েল বেকেট সম্পর্কে ফ্রান্সিস বেকনের একটি উক্তিকে তিনি এ ক্ষেত্রে যুতসইভাবে ব্যবহার করেছেন- যখন একজন শিল্পী অন্য কোনো শিল্পী সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেন, তখন তিনি পরোক্ষভাবে নিজের সম্পর্কেই বলেন। এবং যে বিষয়টি তিনি নিজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, সেই বিষয়েই গুরুত্বারোপ করেন।
অবশ্যম্ভাবীভাবে, তার এই অন্তর্ভেদী পর্যবেক্ষণ- যা অন্যদের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি প্রযোজ্য তার নিজের ক্ষেত্রেও- বহুল পরিচিত। কাফকা আপাতসত্যের সীমাকে অতিক্রম করেছিলেন বলে দ্য কারটেইন-এ তিনি উল্লেখ করেছেন। টেস্টামেন্টস বিট্রেইড কিংবা এনকাউন্টার-এ পৃথিবীর স ষ্টার অসম্ভাবনীয়তাকে যুক্তির দ্বারা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও বহু প্রতিষ্ঠিত বিষয়কে তীর্যক ভঙ্গিতে এখানে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
টেস্টামেন্টস বিট্রেইড শুরু হয়েছে র‌্যাবেলিস [ফ্রান্সিস র‌্যাবেলিস (১৪৯৪-১৫৫৩) একজন ফরাসি স্যাটায়ার লেখক। হাস্যরস সৃষ্টির জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি- প্যান্টাগ্রুয়েল (১৫৩২) এবং গার্গেনচুয়া (১৫৩৪)] ও ‘হাস্যরসের উদ্ভব’ প্রসঙ্গ দিয়ে। এই সময়ের মধ্যে কুন্দেরা লক্ষ্য করেছেন, দস্তয়েভস্কির দ্য ইডিয়ট-এর যে চরিত্রটি বেশি হাসাহাসি করে তার আসলে হিউমার সেন্স নেই। এই তীক্ষ্ণ মন্তব্য জেদ স্মিথের হলিউড সম্পর্কিত একটি মন্তব্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়- কৌতুক শুধু হাসিতেই শেষ হয় না, বরং শেষ হয় বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। এটা আকর্ষণীয় এবং মজাদার বিষয়ও বটে। কুন্দেরা যা পনের বছর আগে তার সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে টেস্টামেন্টস বিট্রেইড-এ বলেছিলেন, তা তার সৃষ্টিশীল সমালোচনা এনকাউন্টার এও ফলপ্রসূ হয়েছে। অতীতের সাহিত্য থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক কিংবা দালিলিক কোনো কিছু আত্মীকরণের নেই কুন্দেরার। বরং সমসাময়িক জীবন ও জগতের অতল গভীরতায় তার শেকড় প্রোথিত। অন্যদিকে, কুন্দেরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ের লেখকদের উত্থান ও পতন সম্পর্কে যেমন সচেতন, তেমনি সচেতন তাদের ভাবাদর্শ ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও। এর মধ্য দিয়েই তিনি নির্মাণ করে নেন তার স্বকীয় সৃষ্টিবিশ্ব।

সনদ by জামাল উদ্দীন

ছেলের চিঠি পেয়ে আর দেরি করেননি তিনি। তবে আমজাদ পিয়ন এমন চিঠি নিয়ে আসবেন, সেটাও ভাবেননি। কাল ছিল হাটবার। বিকালে হাটে এসে চিঠি বিলি করা আমজাদের রুটিন কাজ। মসজিদের ঘাটলায় ব্যাগ রেখে প্রথমে অজু, তারপর চার রাকাত আসরের নামাজ আদায় করেন এ প্রবীণ ডাক পিয়ন। নামাজ শেষে ঘাটলায় বসে ব্যাগটা খোলেন। কাগজের ফোল্ডারে আগেই চিঠিগুলো সাজিয়ে রাখেন। তাতে কোন গ্রামের কোন চিঠি তা বের করা সহজ হয়।
কাল আমজাদের সঙ্গে ফজর আলীর দেখা হতেই বললেন - ভাই সাহেবের খবর আছে।
ফজর আলী বুঝলেন ছেলের চিঠি এসেছে। কিছুটা আনন্দের ঢেউ খেলে যায় তার চোখেমুখে। নিশ্চয়ই মুরাদের চাকরি হয়েছে।
এমন আশা নিয়ে যখন খামটি খুলে চিঠিতে চোখ বুলালেন, ফজর আলী কিছুক্ষণের জন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন। মনে মনে বললেন- সার্টিফিকেট? জীবনবাজি রেখেও বুঝি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠা যায় না? সামান্য কাগজের এত দাম?
তাহলে কি কাগজই সব? বাস্তবতার কোনো দাম নেই? ফজর আলীর মাথায় এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। তবু ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি দলিল মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন।
দলিল মণ্ডল তার কমান্ডার। সহযোদ্ধা হলেও যুদ্ধের দিনগুলোতে দু’জনের মধ্যে আরও বেশি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। থাকেন শহরে। ফজর আলীর বাড়ি থেকে জেলা শহরটির দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। তাই ভোরবেলায়ই রওনা দিলেন। অন্তত একটা বিহিত করা যেতে পারে এমন আশা তার মনে। সচরাচর ঘর গেরস্থালির কাজ রেখে দূরে কোথাও যান না তিনি। বাপের রেখে যাওয়া সামান্য ভিটেমাটিই তার সম্বল। অনেক কষ্টে ছেলেটাকে বিএ পাস করিয়েছেন। সংসারের অনটন দেখে কেউ কেউ বলেছিল গরিবের ছেলে, অত পড়িয়ে লাভ কী। তার চেয়ে বিয়ে দিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে কিছু নিয়ে হলেও বিদেশে পাঠিয়ে দাও।
অভাবের সংসার, তবু আপস করতে রাজি নন ফজর আলী। ছোটবেলা থেকেই তার এ জিদ। মাত্র ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়লেও ফজর আলী বোঝেন জীবনে লেখাপড়ার গুরুত্ব কত। তাই একমাত্র ছেলেকে বিএ পাস করানোর ব্রত নিয়েছিলেন তিনি। ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর ছেলেও পড়তে চায়নি। বাবার টানাটানির সংসারে তার পড়ার খরচ চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। সে জন্য মুরাদ পড়াশোনা ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। তাতে সায় দেননি তিনি। বলেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলী জীবনযুদ্ধে হারতে চায় না।
সামান্য চাষের জমি বিক্রি করে মুরাদকে রাজধানী শহরে রেখে বিএ পাস করিয়েছেন তিনি। স্বপ্ন ছিল একদিন ছেলে বড় অফিসার হবে। মুক্তিযোদ্ধা বাবার গর্ব স্বাধীন বাংলাদেশে তার জন্ম সার্থক হবে।
ছেলে বিএ পাস করেছে ঠিকই, কিন্তুু ভালো চাকরি আর জুটছে না। এদিক-সেদিক চাকরির খোঁজও কম করেনি। ওদের মেসের অন্য ছেলেদেরও একই অবস্থা। মামা নেই তো চাকরি নেই- বলেই সেদিন জাহিদ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করার পরামর্শ দিল। মুরাদের বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন একথা ওর জানা।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বিশেষ সুবিধা পেতেই পারে। সরকারি চাকরির এ সুযোগটা কাজে লাগাতে বাবার কাছে চিঠি লেখে মুরাদ। মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে যেন ফজর আলী ঢাকায় আসেন। চাকরির আবেদনের সঙ্গে তার ফটোকপি সংযুক্ত করে দিতে হবে।
গ্রামের কারও অজানা নয়, ফজর আলী একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু তার তো কোনো সার্টিফিকেট নেই। সার্টিফিকেট লাগবে এ কথাও কোনোদিন ভাবেননি তিনি। দেশের জন্য লড়েছেন। যৌবনে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া, দেশকে হানাদারমুক্ত করা- এই তো ছিল উদ্দেশ্য। তার বিনিময়ে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড। তারই যখন ব্যবস্থা হয়ে গেছে, স্বদেশে আর সার্টিফিকেটে কী লাভ?
একবার কথা হয়েছিল সার্টিফিকেটের। সুরুজ মেম্বার বলেছিল, অনেক আগের কথা, নামটি তালিকাভুক্ত কর। তাতে গা করেননি ফজর আলী। তখন খেদও ছিল।
দেশ স্বাধীনের বছর কয়েক পরের ঘটনা। হঠাৎ গ্রামে ফিরে এলো নওশাদ। লোকে রাজাকার বলে কানাঘুষা করলেও প্রাইমারি স্বুলের মাঠে একদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সভা আহ্বান করল সে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা হাজির না হলেও মাঠের এক কোণ ভরে গেছে। গ্রামের অনেকেই এসেছে নওশাদকে দেখতে। কী বলে তা শুনতে। নওশাদ কোনো ভণিতা না করেই বলতে লাগল- ভাইসব, আমি ফিরে এসেছি আপনাদের খেদমত করার জন্য। মুক্তিযুদ্ধ করেছি এ দেশের জন্য। এবারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে আপনাদের মাঝেই থাকতে চাই।
বক্তৃতার মাঝখানে কে একজন বলে উঠল, বাবা নাকি রাজাকারের খাতায় নাম লেখাইছিলেন।
নওশাদ বলে, নাউজুবিল্লাহ। ওরা জালেম। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে। এই দেখুন, এই সার্টিফিকেট কি মিথ্যা? স্বাধীনতার সর্বাধিনায়কের সই আছে এখানে। তারপর থেকে এলাকায় নওশাদই বড় মুক্তিযোদ্ধা। এ দাবি প্রতিষ্ঠিত করে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও হয়ে গেল সে।
ফজর আলী তো হতবাক। কী কাণ্ড ঘটে গেল। অর্থবিত্তে নওশাদ এখন অনেক শক্তিশালী। চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে বিশেষ বাহিনীও গড়ে তুলেছে সে। তার বিরুদ্ধে কথা বলাও এখন ভয়ের ব্যাপার। তবু প্রতিবাদ না করে স্বস্তি পাচ্ছিলেন না তিনি। একবার পাড়ার চায়ের দোকানে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, পাকিস্তানিদের হটাতে পারলেও বাংলাদেশকে রাজাকারমুক্ত করা যায়নি। রাজাকাররাই সমাজে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা সেজে বসে আছে। তাতেই হল। চেয়ারম্যানের এক পাণ্ডা পরদিন সকাল বেলা হাজির, ফজর আলী চাচা বাড়িতে আছেন?
- কেডায়, কী হইছে?
- হুনেন, চেয়ারম্যান সাব কইছে রাস্তাঘাটে কথাবার্তা হিসাব কইরা কওনের লাইগ্যা।
মুরাদের মা জয়নব বানু আড়ালে থেকে শুনেছেন, কিন্তু বুঝে উঠতে পারেননি। ওরা চলে যাওয়ার পর স্বামীকে কিছু জিজ্ঞেস করতে গিয়েও থেমে গেলেন। এ সময়ে ফজর আলীর মনের অবস্থা কিছুটা আঁচ করতে পারেন তিনি। ফজর আলীও কিছু বলেননি। বাড়ির দাওয়ায় বসে থাকলেন কিছুক্ষণ। স্মৃতিতে তখন রাজাকার নওশাদের চেহারা ভাসছে।
সোনার চরে মুক্তিফৌজরা যখন প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন হন্যে হয়ে ছুটে এসেছিল নওশাদ। মাঝের পাড়ার আব্বাস মিয়ার বড় ছেলে। এসেই কমান্ডার দলিল মণ্ডলের পা জড়িয়ে ধরল। কেঁদে কেটে বলল, আমাকে বাঁচান। আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই।
সুঠাম দেহের অধিকারী নওশাদকে বুকে টেনে নিলেন কমান্ডার। বললেন, জীবনটা বাজি রাখতে পারবে তো?
- পারব।
- না, তুই পারবি না। চলে যা এখান থেকে। চিৎকার করে উঠলেন ফজর আলী।
কমান্ডার বললেন, কেন ও চলে যাবে? ও আমাদের সঙ্গে...
- না, কমান্ডার। ওকে আপনি চেনেন না। ও আব্বাস মিয়ার পোলা। ওর বাপে শান্তি কমিটি করেছে গ্রামে।
হঠাৎ গাড়ির ব্রেক কষার মতো কমান্ডার যেন থমকে দাঁড়ালেন। রাজাকারের পোলা মুক্তি সংগ্রামে যেতে চায়! কয়েক পলক তিনি নওশাদের দিকে তাকালেন। চতুর নওশাদ আবারও দু’পা জড়িয়ে ধরে বলল, আমি ঘর ছেড়ে চলে এসেছি। দোহাই আপনার, এ মাটি ধরে শপথ করছি...।
কমান্ডারের মন গললেও ফজর আলী অনড় ছিলেন। বললেন, একে বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। যেমন বিশ্বাস করা যায় না আগুনের কণা, বিশ্বাস করা যায় না সাপে ছা, চোরের পোলাকে, তেমনি রাজাকারের ছেলেকেও নয়।
ফজর আলীর জোরালো প্রতিবাদের মুখেও কমান্ডার নওশাদকে গ্রহণ করলেন। তারপর...
শুক্রবার রাত। পরদিন সকালে টেকনিক্যাল হাইস্কুলে হানাদার ক্যাম্পে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়া হল। সবাই পরিকল্পনামাফিক প্রস্তুতি নিল। পাশের গ্রাম থেকেও মুক্তিফৌজরা এসে জমায়েত হল। কিন্তু ভোর হওয়ার আগেই সব ওলটপালট হয়ে গেল।
রাতেই, হঠাৎ করে পালিয়ে গেল নওশাদ। কেউ টের পায়নি।
নওশাদকে বলা হয়েছিল ১০ জনকে নিয়ে পেশকার বাড়িতে যেতে। সেখানে পালাক্রমে মুক্তিযোদ্ধা-জনতার একটি দল পাহারা দিচ্ছিল। যাতে পাক আর্মি এদিকে ঢুকতে না পারে। অনন্তপুর থেকে দীঘা যাওয়ার রাস্তার মাঝখান বরাবর মুক্তিযোদ্ধাদের এ অবস্থান। রাস্তাটা আগেই কেটে ফেলেছে স্থানীয় লোকজন। যাতে পাকসৈন্যরা এপারে আসতে না পারে। নৌকাযোগে এলেও গ্রামের ভেতরে ঢোকার পরিস্থিতি ছিল না। বড় খালের মুখেও পাহারা বসানো হয়েছে। যাতে সহজেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।
নওশাদ চলে গেল। কিন্তুু সে জানতে পারল না আরও ১০ জনকে নিয়ে ফজর আলী গেলেন পেছনের আরেকটা বাড়িতে। কমান্ডারসহ বাকি ১০ জন থাকলেন এ বাড়িটায়। এর উদ্দেশ্য ছিল পাকবাহিনী খবর পেলেও যাতে প্রতিরোধ কিংবা আত্মরক্ষা সম্ভব হয়।
রাতেই কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলার অজুহাতে অন্যদের পেশকার বাড়িতে রেখে নওশাদ বেরিয়ে এলো। তারপর ঘণ্টা কয়েক ধরে তার কোনো খবর নেই। কোথায় গেল নওশাদ? দলের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়ল। কমান্ডারের সঙ্গে এতক্ষণ ধরে কী কথা? তবু ভাবল হয়তো কলাকৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে।
সকালে নওশাদ নেই, কথাটা শোনার পর কমান্ডারের চক্ষু চড়কগাছ। সবার মনে সন্দেহ দানাবেঁধে উঠল। হানাদারদের ক্যাম্প আক্রমণের জন্য সবাই প্রস্তুত, এমন সময়ে ওই ঘটনা সবার মনের গতি যেন কিছুটা শ্লথ করে দিয়েছে। তবু পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক সবাই সামনে এগিয়ে গেলেন।
ক্যাম্পের দূরত্ব আরও এক মাইল। এখান থেকে দুই ভাগে মুক্তিযোদ্ধারা ভাগ হয়ে গেল। দলিল মণ্ডলের নেতৃত্বে বিকল্প রাস্তায় গেল একটি দল। তারা হানাদার ক্যাম্পের পুবদিকে অবস্থান নেবে। অন্য দলটিতে আছেন ফজর আলী। উত্তর দিক থেকে সোজা আক্রমণ চালাবে এ দলটি। ফজর আলীর দলটি আধামাইল যেতেই হঠাৎ গুলির শব্দ। পড়ে গেছে দু’জন। শুরু হয়ে গেল দু’পক্ষের সম্মুখ লড়াই। ট্রেনিং নিয়ে আসা মাত্র দু’দিনের মাথায় শহীদ হলেন রফিক ও জয়নাল। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এক পর্যায়ে পিছু হটে জানে বাঁচলেন মুক্তিযোদ্ধারা। তারা দেখলেন লাশের মুখে থুথু দিচ্ছে একজন, সে গতকাল পর্যন্ত তাদের সঙ্গী নওশাদ।
সেই স্মৃতি মনে হলে আজও ফজর আলীর বুকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে। ইচ্ছা করে আবার অস্ত্র হাতে নিতে, নওশাদদের এ মাটি থেকে উৎখাত করতে। কিন্তু সময় বদলে গেছে। তা আর কখনও সম্ভব নয়, সেটাও বোঝেন ফজর আলী। তাই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিতে আর লাইনে দাঁড়াননি।
ছেলের চিঠি পেয়ে তিনি নিরুপায় হয়ে গেলেন। জয়নব বানু বললেন, ছেলের চাকরির ব্যাপারটা তো জরুরি।
তিনি নিজেও বোঝেন, কিন্তু কার কাছে যাবেন, এ সময়ে কাকে গিয়ে ধরবেন। শেষে মনস্থির করলেন, দলিল মণ্ডলের কাছে যাবেন।
দলিল মণ্ডলের হাত ধরেই মুক্তিযোদ্ধার খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন ফজর আলী। একসঙ্গে ট্রেনিং নিয়েছিলেন। আগরতলা থেকে দেশে ফিরে তার নেতৃত্বেই সোনার চরে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলা হয়।
ফজর আলী ভাবলেন দলিল মণ্ডলের সঙ্গে আলাপ করলে উপায় বের করা যাবে। বহুবছর পর তার সঙ্গে দেখা হবে। সর্বশেষ দেখা হয়েছিল বছর দুই আগে। হঠাৎ ফজর আলীর বাড়িতে এসেছিলেন।
- এ বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা কেমন আছেন?
বলা নেই, কওয়া নেই। হঠাৎ যুদ্ধের সাথীকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফজর আলী। যুদ্ধের এত বছর পর কে তার খবর রাখে। তার বাড়িতে দলিল মণ্ডলের উপস্থিতি যেন বিরাট কিছু পাওয়া।
আবেগাপ্লুত ফজর আলীকে বুকে জড়িয়ে ধরে দলিল মণ্ডল সেদিন ঠিকই বুঝেছিলেন ফজর আলী খুব ভালো নেই। তাই বলে গেছেন যে কোনো দরকারে যেন তার কাছে যান।
তারপরও দলিল মণ্ডলের কাছে যাননি ফজর আলী। দরকার হয়নি। অভাব অনটনে কিছুটা আর্থিক সাহায্যের জন্য হাত বাড়ানো মুক্তিযোদ্ধার সাজে না। আজ স্ত্রীর অনুরোধে, ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এলেন। বেশি কষ্ট হয়নি বাড়ি চিনতে। মুক্তিযোদ্ধা দলিল মণ্ডলকে চেনে না কে? রিকশাঅলাকে বলতেই মুক্তিভবনের সামনে নামিয়ে দিয়ে গেল। গেটে মুক্তিভবন এবং দলিল মণ্ডলের নাম খোদাই করা আছে। তবে যে কোনো সময় যে কারও প্রবেশে কোনো বাধা নেই, এমনই বোঝা যায়। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে নীরব, নিস্তব্ধ বাড়িটি। সামনের লনে সারি সারি ফুলের টব।
বাড়িতে কেউ কি নেই? এদিক সেদিক তাকিয়ে সামনে দু’পা বাড়াতেই আগরবাতির ঘ্রাণ নাকে এলো। ঘরের ভেতর থেকে দোয়া-দরূদের শব্দ কানে ভেসে আসছে। দেখলেন, একটি লোক চোখ মুছতে মুছতে ভেতর থেকে বের হয়ে এলেন। যেন ফুপিয়ে কান্না আসছে তার। জোর করে নিজেকে সামলে নিচ্ছেন।
ফজর আলীর ভেতরটাও মোচড় দিয়ে উঠল। এমন পরিবেশ তো স্বাভাবিক নয়। বাড়িতে কি কেউ মারা গেছে? ফজর আলী এগিয়ে গেলেন। আধাপাকা ঘর। ঘরের দরজায় দলিল মণ্ডলের বাঁধাই করা ছবি ঝুলছে। যৌবনদীপ্ত দলিল মণ্ডলের সেই চেহারা কি আর আছে? ঘরের ভেতরে চোখ পড়তেই যা দেখলেন, অবিশ্বাস্য মনে হল তার কাছে। তার কমান্ডারের নিথর দেহ পড়ে আছে মাটিতে।
এ দৃশ্য দেখে ডুকরে কেঁদে উঠলেন ফজর আলী। - এ কী হল?
কে যেন বললেন, ভোর ৫টার দিকে হার্ট অ্যাটাকেই মারা গেছেন তিনি। হাসপাতালে নেয়ার সুযোগও হয়নি। প্রবাসী ছেলে দুটি সপ্তাহখানেক আগেই এসেছে। আজ এদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। ফজর আলীর পরিচয় পেয়ে ছেলে দুটি তাকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগল। ওদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে ফজর আলী নিজেও খেই হারিয়ে ফেলেন। শুধু বললেন, তাড়াতাড়ি দাফনের ব্যবস্থা কর।
পাড়ার লোকজন আগেই ছুটে গেছে কবরের জায়গা ম্যানেজ করতে। ডিসি অফিসেও খবর দেয়া হয়েছে, সে জন্যই অপেক্ষা। এই ফাঁকে ফজর আলীও দোয়া-দরূদ পড়তে লাগলেন। তার কমান্ডারের আত্মার শান্তি চাইলেন আল্লাহর কাছে। কিছুক্ষণ পর পাড়ার ছেলে ইকবাল এসে জানাল ডিসি অফিসের কেউ আসতে রাজি হননি।
- কেন?
- ওরা সার্টিফিকেট চেয়েছে।
-কেন?
- মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তার প্রমাণ কী তা জানতে চেয়েছে?
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করতে ডিসি অফিসের কর্মকর্তারা নিশ্চিত হতে চায় দলিল মণ্ডল আসলেই একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এ অবস্থায় কেউ কিছু না বলে মুহূর্ত কয়েক চুপ থাকেন। নীরবতা ভেঙে দলিল মণ্ডলের ছেলে আজমল বলল, বাবার তো সার্টিফিকেট নেই। কে না জানে, বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন?
- অনেক বুঝিয়ে বলার পরও কোনো কাজ হয়নি, পাড়ার ছেলেটা বলল।
ফজর আলী বললেন- আমি গিয়ে বলব আমরা একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি।
- মুখের কথায় কোনো লাভ হবে না।
তবু ফজর আলী এক রকম জোর করেই পাড়ার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। অনুনয় বিনয় করে যদি কর্মকর্তাদের মন গলানো যায়। তিনিও ব্যর্থ হলেন। সার্টিফিকেট না থাকলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা যায় না- এ কথাটিই শুধু বললেন কর্তকর্তা গোছের লোকটি। কোনোরকম অনুনয়ে কাজ হয়নি। হতাশ হয়ে রুমের বাইরে এসে কিছুক্ষণ হতবিহ্বল চোখে তাকিয়ে থাকলেন ফজর আলী। বললেন, তোমরা চলে যাও। লাশ দাফন করে ফেল।
তারপর ফজর আলী রওনা দিলেন বাড়ির উদ্দেশে। ছেলের চাকরি, দলিল মণ্ডলের লাশ কিংবা এক খণ্ড বাংলাদেশ- এসবের কোনোটাই তার কাছে এখন আর অপরিহার্য নয়।

‘অনুমতি না দিলেও ৫ জানুয়ারি যা করার তাই করব’

নতুন নির্বাচনের লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া সাত দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, “আওয়ামী লীগ সাত দফা প্রত্যাখ্যান করলে তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কারণ আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তারা একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী, তারা খুনির দল, লুটেরার দল।”
শুক্রবার সকালে ছাত্রদলের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর মঈন খান এসব কথা বলেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতাকর্মী জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এ সময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন,শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মঈন খান বলেন, “অনুমতি দিক বা না দিক ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে বিএনপি রাজপথে থাকবে। আমাদের যা করণীয় তাই করব।”
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেককাটা অনুষ্ঠানে বিএনপির  যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ রিজভী বলেন, “এক ব্যক্তির স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ৫ জানুয়ারি সরকার তামাশার নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে কবরস্থ করেছে। এখন তারা বলছে ৫ জানুয়ারি ওই তামাশার নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উদযাপন করবে। আমরা গণতন্ত্র হত্যার ওই দিনটিতে ঢাকায় জনসভার অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই আবেদন করেছি। আমাদের নেতারা আজ মহানগর পুলিশ দফতরে গিয়েছিলেন। তারা (পুলিশ) বলেছে, জনসভার অনুমতি দেবে না। আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, ৫ জানুয়ারি আমাদের কর্মসূচি করতেই হবে। এই লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
৩১ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া  সরকারের প্রতি নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে সাত দফা প্রস্তাব দেন।
কিন্তু ওইদিনই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাত দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, “এ দেশে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসবে না। মধ্যবর্তী নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।”
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াও বলেন, “সাত দফা দিয়ে কাজ হবে না। এক দফা মেনেই ২০১৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে আসতে হবে। এর থেকে পিছু হটার কোনো সম্ভাবনা নেই।”
সমাবেশের অনুমতি পেয়েও পিছু হটলো ছাত্রদল
অনুমতি পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবারের ছাত্র সমাবেশ করছে না ছাত্রদল। ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ করার কথা ছিল। সংগঠনটির দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার নতুন বার্তা ডটকমকে একথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “৫ জানুয়ারি রাজধানীতে গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। কর্মসূচিতে ব্যাপক লোক সমাগম হবে। ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি অনেক বড় কর্মসূচি। একসঙ্গে দু’টি কর্মসূচি পালন করা সম্ভব নয়। তাই ২ জানুয়ারি শুক্রবার ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দীতে ছাত্রদলের সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতার নামে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। তাই সমাবেশে যোগ দিলে তাদের আটক করা হতে পারে এই আশঙ্কায় সমাবেশ আপাতত না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে পরবর্তিতে সুবিধামত ৫ জানুয়ারির পরে ছাত্র সমাবেশ করা হতে পারে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কার্যারলয়ে কেককাটা, শুক্রবার সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও ফাতিহা পাঠের কর্মসূচি ঠিক আছে বলে জানা গেছে।

'নাশকতার আশঙ্কা থাকলে অনুমতি পাবে না বিএনপি'

(আজ হজ ও ওমরা মেলা উদ্বোধনের পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপির ৫ জানুয়ারির সমাবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। নাশকতার আশঙ্কা থাকলে, সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না) স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নাশকতার আশঙ্কা থাকলে বিএনপিকে ৫ জানুয়ারির সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। আজ শুক্রবার হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাব আয়োজিত হজ ও ওমরা মেলা উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'মাত্র তো ২ তারিখ। এখনো সময় আছে। বিএনপির সমাবেশের অনুমতি বিষয়ে সময় মতো জানা যাবে।'
তিনি বলেন, 'নাশকতার আশঙ্কা থাকলে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।' এর আগে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, 'হাজীরা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে পারেন সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করবে।'
তিনি বলেন, 'বিচ্ছিন্নভাবে হজে পাঠানোর ব্যাপারে দালাল- প্রতারকদের কথা শুনি। তবে কেউ সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য দিলে তাদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।' হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন বি এইচ হারুন এমপি, চৌধুরী বাবুল হাসান প্রমুখ। উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারি 'গণতন্ত্র হত্যা দিবস' পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, মতিঝিল শাপলা চত্বর এবং নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন সড়কের যে কোনো স্থানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে দলটি। তবে এখন পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তাদের অনুমতি দেয়নি।

শিল্পাচার্যের জন্মস্থান বিতর্ক by মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

২০১৪ সাল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবর্ষ। তার এ জন্মশতবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে এ লেখায় তিনটি অনুষঙ্গকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যেগুলো হল- (১) শিল্পাচার্য জয়নুলের জন্মস্থান বিতর্কের অবসান। (২) জন্মশতবার্ষিকী পালন এবং (৩) শিল্পাচার্য জয়নুল শিল্পকলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব। দেশ, মাঠি ও মানুষের মঙ্গল চিন্তায় যারা আজীবন রক্ত-ঘাম ঝরান দেশের মানুষ তাদের ভালো না বেসে পারেন না। জয়নুল আমাদের সে রকম একজন দেশপ্রেমিক শিল্পি যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন দুর্ভিক্ষের ছবি এঁকে বিশ্ববিবেকের সামনে মাতৃভূমির করুণ দশা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক বলয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন সেই ব্রিটিশ আমলেই। মুক্তিকামী মানুষের পাশে দাঁড়াতে মধ্যপ্রাচ্য সফর করে তিনি ইহুদিদের চরম নির্যাতনের শিকার ফিলিস্তিনিদের শক্তি-সাহস যুগিয়েছেন তার তুলির আঁচড়ে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের চিত্রায়নসহ বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের মুক্তিকামী শিল্পী হিসেবে ভূমিকা রাখার কারণে আন্তর্জাতিক বিশ্বে তিনি সমাদৃত। কলকাতার আর্ট কলেজ থেকে ১৯৩৮ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে ফাইন আর্টস-এ গ্র্যাজুয়েশন লাভকারী শিল্পী জয়নুলের শিল্পযাত্রার শুরুই হয়েছিল বাল্যকালে আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভের ঘটনার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় আর্ট ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করে তিনি শিল্পী গড়ার যে বিদ্যাপীঠের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তার ফলাফল আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে আলোড়িত করছে। তার সে প্রতিষ্ঠানই কালের পরিক্রমায় আজকের ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের চারু ও কারুকলা অনুষদ।
কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী এ যুগের একজন সচেতন পাঠক হিসেবে জয়নুলের জন্মস্থানগত তথ্যের ভ্রান্তি আমাকে পীড়া দেয়। গত ২১ বছর ধরে ঢাকার বাসিন্দা হওয়ার আগে জয়নুলের গর্বিত জন্মস্থান কিশোরগঞ্জের একালের একজন সাহিত্য-সংস্কৃতিসেবী হিসেবে এ জাতীয় বিতর্কের মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাকে বহুবার। ঢাকায় আসার পর জাতীয় ও স্থানীয় উভয় দিককেই মোকাবিলার চেষ্টা করেছি বা করে যাচ্ছি কিন্তু আজও ভ্রান্তি দূর হয়নি। কিশোরগঞ্জে থাকাকালীন শিল্পকলা একাডেমিতে এবং প্রেস ক্লাবে জয়নুল স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় আঞ্চলিক ভাষায় তার নাম জয়নুল আবেদিনের স্থলে ‘জয়নাল আবদীন’ উচ্চারণ করার কঠোর সমালোচনাসহ জয়নুলের জন্মস্থান বিতর্কে এর সুরাহা পেশ করেছি। স্কুলপাঠ্য বইয়ে জয়নুলের জীবনীতে যখন লেখা হয় ‘জয়নুল কিশোরগঞ্জের এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন’ তখন জানতে ইচ্ছা করে সে গ্রামের নাম কী? কেউ বলেন, কাঁটাবাড়িয়া, কেউ বলেন, পুরান থানা আবার একধাপ এগিয়ে কেউ বলেন, ‘কেন্দুয়া থানায়।
কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী শিল্পী জয়নুলের পৈতৃক নিবাস ময়মনসিংহ জেলা শহরের আকুয়া মাদরাসা কোয়ার্টার্সে। তার পিতামহ মরহুম ছমির উদ্দিন ময়মনসিংহ শহরের কাঁচিঝুলি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এরও আগে তার প্রপিতামহ ত্রিশালের দরিরামপুরে বসবাস করতেন। আকুয়া মাদরাসা কোয়ার্টার্সে মূলত জয়নুলের মাতামহের নিবাস ছিল, যেখানে পরবর্তী সময়ে তার পিতামহের আমলে বাড়ি নির্মাণ করা হয়। ফলে কিশোরগঞ্জে আগে থেকে তাদের কোনো পূর্বপুরুষ বা বংশের কোনো লোক বসবাস না করার কারণে এখানকার গ্রামের সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো সংযোগ ছিল না। জয়নুলের পিতা যেহেতু পুলিশের জমাদার ছিলেন, সেহেতু পুলিশের আবাসন এলাকা সরকারি কোয়ার্টারে জয়নুলের জন্ম হয়েছে এটিই স্বাভাবিক। তবে প্রশ্ন হল, সে থানা বা থানার কোয়ার্টারটিই বা কোন স্থানে অবস্থিত? কেউ কেউ অনুমান করেন সেটি কিশোরগঞ্জ শহরের পুরান থানায়। তাদের এ অনুমান এ কারণে ধোপে টেকে না যে, কিশোরগঞ্জ থানাটি বঙ্গভঙ্গের জোয়ারে ১৯০৬ সালেই পুরান থানা থেকে বর্তমান থানার স্থানে স্থানান্তর করা হয়। কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের আবাসিক কয়েকটি টিনের ঘর ছিল কাওনা নদীর (বর্তমান নাম নরসুন্দা) তীরবর্তী শহরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন পূর্ব দিকটায়। দারোগার বাসা পরিচয়ে এ টিনের ঘরগুলো গত শতকের সত্তরের দশকেও ছিল। এখানকার টিনের তৈরি সরকারি কোয়ার্টারেই জয়নুল জন্মগ্রহণ করেন।
আমি ১৯৮৪ সালের ১ জুলাই কিশোরগঞ্জ শহর থেকে ফজলুল করিম খান চৌধুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক জনবার্তা পত্রিকায় ‘কিশোরগঞ্জের গর্ব- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন’ শিরোনামের একটি লেখায় জয়নুল সংক্রান্ত, বিশেষ করে তার জন্মস্থান বিতর্কের অবসানের প্রয়াস চালাই। পাঠ্য বইয়ের ভুলের প্রসঙ্গটি আমি আমার সে লেখায় উল্লেখ করি। একই সঙ্গে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে সৈয়দ শফিকুল মবিন রচিত ‘জয়নুল আবেদীন’ নামক কিশোর জীবনীমূলক বইটিতে জয়নুলের জন্মস্থান সংক্রান্ত ভুলের গঠনমূলক সমালোচনা করি। বইটিতে বলা হয়েছে, ‘ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার কেন্দুয়া থানা। চারদিকে সবুজ আর সবুজ। গাছে গাছে পাখির কলকাকলি। বাংলার প্রকৃতি যেন অজস্র ধারায় তার কৃপা বর্ষণ করে চলেছে। কী অপরূপ শোভা চারদিকে। থানার পুলিশ-দারোগার উপস্থিতি নগণ্য হয়ে গেছে সেদিন। জয়নুলের জন্ম হল। ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারিখে সকাল সাড়ে ৮টায়।’ জয়নুল জীবনীকার শিশু-কিশোরদের উপযোগী করে অত্যন্ত সহজ-সরল বাংলায় জয়নুলের জন্মক্ষণটি আঁকার প্রয়াশে হয় তো সফল হয়েছেন। কিন্তু তথ্যগত ভ্রান্তির এমনি একটি দুর্ঘটনা ঘটালেন যা কিনা একটার পর একটা ঘটেই যাচ্ছে। প্রথমত জয়নুল কেন্দুয়া থানায় জন্মগ্রহণ করেননি। দ্বিতীয়ত কেন্দুয়া থানা তৎকালীন পেক্ষাপটে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার আওতায় হলেও মহকুমা বিভাজনে এটি নেত্রকোনা মহকুমার একটি থানা। কেন্দুয়া থানা ১৮২৮ সালে যখন ফতেপুর নামে পরিচিত ছিল, সে সময়ে কিশোরগঞ্জ শহরটিই সে থানার অধীন ছিল। কিন্তু ১৮৬০ সালে কিশোরগঞ্জ মহকুমা স্থাপন পরবর্তী কোনোকালেই কেন্দুয়া থানা কিশোরগঞ্জ মহকুমার অধীন ছিল না। তাই তার এ তথ্যপ্রমাদ এযাবৎ সব পাঠককে বিভ্রান্ত করে আসছে। এ লেখকের বইটি প্রকাশের আরও আগে জয়নুলের প্রথম জীবনী লেখেন জনাব আবদুল মতিন। আহমদ পাবলিশিং হাউস থেকে জয়নুলের মৃত্যুর দু’বছর পর ১৯৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় জনাব আবদুল মতিনের ‘জয়নুর আবেদীন’ নামক জীবনী গ্রন্থটি। এ গ্রন্থটিতে লেখক জয়নুলের জন্ম সম্পর্কে বলেছেন- ‘কিশোরগঞ্জ থানা সংলগ্ন একটি ছোট্ট সরকারি বাড়ি। এখানেই জয়নুল মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়ে পৃথিবীর আলো দেখেন।’ জনাব আবদুল মতিন সাহেবের বইটিতে জয়নুলের জন্মস্থান যে সুন্দরভাবে পেশ করেছেন এর পরবর্তী সময়ে কোনো লেখক তথ্যটিকে পাশ কাটাতে হলে তার গবেষণার গভীরতা স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। তা’হলে জয়নুলের জন্মস্থান নিয়ে কোনো বিরোধ, বিতর্ক দেখা দিত না। জয়নুলের মৃত্যুর পর পর লেখা হলেও এ বইটিতে জয়নুল জীবনের নানা অনুপুংখ অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়েছে।
আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক জনাব এ. সাত্তার লেখেন জয়নুলের ওপর মূল্যায়নধর্মী একটি বই, ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন’। অন্য জীবনী গ্রন্থগুলোতে ‘শিল্পাচার্য’ যোগ করে বইয়ের নামকরণ না করলেও এ বইটির নামকরণে ‘শিল্পাচার্য’ উপাধিটি যোগ করে নামকরণের সে তাৎপর্যও তুলে ধরেছেন। সে তাৎপর্য প্রসঙ্গে আলোচনার আগে এটিতে জয়নুলের জন্ম সম্পর্কে লেখক কি লিখেছেন তা আগে দেখে নেয়া যাক। জীবনী গ্রন্থটির ‘জন্ম ও বাল্যকাল’ শিরোনাম অংশে লেখা হয়েছে- ‘ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জে (বর্তমানে জেলা) নরসুন্দা নদীর তীরে একটি সরকারি বাড়িতে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৯ ডিসেম্বর জয়নুল আবেদিনের জন্ম।’ তার এ বর্ণনা যথার্থ। মোট ২০টি অধ্যায়ে জয়নুলের কীর্তিগাথা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অবিমৃশ্যকারী কিছু লোক ‘শিল্পাচার্য’ উপাধি নিয়ে টানা-হেঁচড়া করে এটি আরেকজন শিল্পীর ওপর প্রয়োগের অপচেষ্টার চিত্রটি তার এ বইয়ে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘সুন্দরের সৃষ্টি এবং অসুন্দরের অপনোদন’-এ ব্রত নিয়ে যে জয়নুলের অভিযাত্রা ১৯৮৭ সালে একটি সংগঠন দেশ বরেণ্য আরেক শিল্পী কামরুল হাসানকে ‘শিল্পাচার্য’ খেতাব দিয়ে অনাহূত এক বিতর্কের সৃষ্টি করে। স্বয়ং কামরুল হাসান সাহেব সেদিন এ খেতাব নিতে অনাগ্রহ দেখালেও দৈনিক সংবাদের একজন কলামিস্ট এবং দেশের একজন নামজাদা কবিও সেদিন এ বিষয়ে ন্যক্কারজনক ভূমিকা নেন যা এ. সাত্তার সাহেবের বইতে ‘শিল্পাচার্য প্রসঙ্গ’ নামক অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।
জয়নুলের জীবনীকারদের কেউ কেউ তার জন্ম কেন্দুয়ায় উল্লেখ করায় জয়নুল জন্মবার্ষিকী পালনোপলক্ষে বিগত সময়ে অনেক পত্র-পত্রিকায় এবং সরকারি- বেসরকারি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ভুল প্রচারণা চালানোর ফলে তার জন্মস্থান বিতর্কের অপনোদন সম্ভব হয়নি। আগেই উল্লেখ করেছি, এ ভুলের উদ্বোধন হয়েছিল বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত সৈয়দ শফিকুল হোসেনের লেখা ‘জয়নুল আবেদীন’ নামক বইটি দিয়ে। এর ব্যাপ্তি ঘটে সরকারিভাবে পাঠ্যপুস্তকে লেখা জয়নুলের জীবনীতে এ ভুল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির উচিত হবে বইটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে এর একটি শুদ্ধ পাঠ মুদ্রণ করে বাজারজাত করা। পাঠ্য বইয়ে জয়নুলের জীবনীতে দেয়া তথ্য শোধরানোর উদ্যোগ নেবে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। মানচিত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান দেখাতে গিয়েও একটি প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান এ ভুলের ফাঁদে পা দিয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে জয়নুলের জন্মস্থান বিষয়ক ভুলটি সংশোধনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করব।
এবারে জয়নুলের ১০০তম জন্মদিনে দেশপ্রেমিক জনতা বিপুল উৎসাহে ঘটা করে তার জন্মশতবার্ষিক পালন করছে। জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে। জাতীয় জাদুঘর আয়োজন করেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জন্মশতবার্ষিকী পালনের অনুষ্ঠান। দেশের নানা সাংস্কৃতিক সংগঠন তার ওপর অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। তার ওপর বিশেষ প্রকাশনার আয়োজন করেছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসবে এমনটিই অভিপ্রেত। পত্রিকাগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র। সব মিলে জয়নুল জন্মশতবার্ষিকীতে জাতি নতুন করে জয়নুল চর্চার দুয়ার উন্মোচন করবে এমনটিই সবার সঙ্গে আমারও প্রত্যাশা।
প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের বাংলাদেশ পরিচিত ছিল ‘সোনার বাংলা’ নামে। ১৩৩৮-১৫৩৮ সমকালীন স্বাধীন বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁয়ে। মোগল আমল থেকে সোনারগাঁ তা রাজধানীর ঐতিহ্য হারায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশকে সোনার বাংলা রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ের সেই পরিত্যক্ত রাজধানীর ক্যানভাস নতুন করে ঝলসে ওঠে জয়নুলর শিল্পী মানসে। ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবনে তার এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি ছুটে যান ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে। বঙ্গবন্ধু তার এ মহৎ পরিকল্পনাকে অনুমোদন করলেন। এভাবে ১৯৭৫ সালে জয়নুলের প্রস্তাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাচীন সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘বাংলাদেশ লোকজ চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন’। জয়নুলের সেদিনের স্বপ্ন এবং প্রকল্প নতুন করে দেশকে গড়ে তোলার স্বপ্নে জাতিকে উজ্জীবিত করেছে। সরকারের তরফে শিল্পাচার্য জয়নুলের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এ মহার্ঘলগ্নে দেশে একটি শিল্পকলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা সময়ের দাবি যার নামকরণ হতে পারে ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন শিল্পকলা বিশ্ববিদ্যালয়’। এভাবে তৃণমূল থেকে উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সামগ্রিক কলা চর্চার যে প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের ধারা শুরু হবে তা সারা পৃথিবীর সামনে এক সুসংগঠিত অথচ বৃহৎ ও বহুমুখী অনন্য ব্যতিক্রমী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মডেল হিসেবে হয়ে উঠবে অনুকরণীয়।

ইরাকে সহিংসতায় নিহত ১৫০০০

(বোমা হামলায় নিহত এক ব্যক্তির লাশ সরিয়ে নিচ্ছেন ইরাকের জরুরি সেবাকর্মীরা। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কিরকুক শহর থেকে ২০১৪ সালের ২৩ আগস্ট ছবিটি তোলা হয়। ছবি : এএফপি) ইরাকে ২০১৪ সালে সহিংস ঘটনায় বেসামরিক ব্যক্তি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ১৫ হাজারের বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারি সূত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রাণহানির দিক থেকে ২০০৩ সালের পর ২০১৪ সাল অন্যতম ভয়াবহ বছর। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ইরাকের স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে গত বছর সহিংসতায় ১৫ হাজার ৫৩৮ জন নিহত হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ইরাকে ১২ হাজার ২৮২ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়। ২০০৭ সালে শিয়া-সুন্নি সাম্প্রদায়িক হানাহানির ঘটনায় প্রাণহানি সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। সে বছর ১৭ হাজার ৯৫৬ জন নিহত হয়। হত্যাকাণ্ডের জন্য জিহাদিদের দায়ী করে নববর্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি বলেন, ‘ইরাকিদের জন্য এটি ছিল সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টের বছর।’

সিরিয়ায় সহিংসতায় নিহত ৭৬০০০

সিরিয়ায় ২০১৪ সালে সহিংসতায় ৭৬ হাজার ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের অর্ধেকই বেসামরিক লোক। একটি পর্যবেক্ষক দল গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে। বয়টার্সের খবরে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, গত বছর সিরিয়ায় সহিংসতায় ৩৩ হাজার ২৭৪ বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১১ সালে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘের হিসাবে সিরিয়ায় সহিংসতায় এ পর্যন্ত এক লাখ ৯১ হাজার মানুষ নিহত হয়। কিন্তু কর্মীদের ধারণা, হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি।

‘ওয়ান মাইল স্কয়ার’ প্রদর্শনী শুরু

(পুরান ঢাকার ১৬টি স্থানে আজ শুরু হচ্ছে ‘ওয়ান মাইল স্কয়ার’ নামের বিশেষ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। গতকাল বিউটি বোর্ডিংয়ে স্থাপনাকর্ম করেন শিল্পী সুলেখা চৌধুরী l ছবি: প্রথম আলো) রাজধানীর পুরান ঢাকায় ‘ওয়ান মাইল স্কয়ার’ নামের বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার এক বর্গমাইল এলাকার ১৬টি স্থানে একযোগে শুরু হয় এই শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। শিল্পীদের সংগঠন বৃত্ত আর্ট ট্রাস্টের আয়োজনে ও নেদারল্যান্ডসের সংস্থা আর্টস কোলাবরেটরির সহায়তায় এ ১৬টি স্থানে ৪০ জন শিল্পী সারা দিন ধরে শিল্পকর্ম রচনা করবেন। পুরান ঢাকার পরিবেশ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষয়িষ্ণুতা ও রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েই আয়োজন করা হয়েছে এই বিশাল শিল্পকর্মযজ্ঞ। চলবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। আয়োজনটি হচ্ছে দ্বিতীয়বারের মতো। প্রথম হয়েছিল ২০০৯ সালে। জানা গেছে, এই শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে স্থাপনাকর্মের ওপর। তবে এর পাশাপাশি থাকছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, পারফরম্যান্স আর্ট, ভিডিও, চলচ্চিত্র, চিত্রকলা, অ্যানিমেশনসহ অনেক রকম মাধ্যমের কাজ। বাহাদুরশাহ পার্ক, পোগজ স্কুল, পাটুয়াটুলী, বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা), বিউটি বোর্ডিং, ঈশ্বর দাস লেন, জুবিলী স্কুল মার্কেট, লালকুঠি, ফরাশগঞ্জ অরফানেজ, রূপলাল হাউস, শ্যামবাজার, রূপলাল দাস লেন, পাঁচবাড়ি, ঢাকা কেন্দ্র, মালাকা টোলা ও শ্যামবাজার ঘাটে শিল্পকর্মগুলো রচনার কাজ শুরু হয়েছে। সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে শিল্পসুষমামণ্ডিত এই এক বর্গমাইল।
গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজনের সমন্বয়কারী শিল্পী তাইয়েবা বেগম জানান, এক মাস ধরে এ আয়োজনের জন্য একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এতে ৪০ জন শিল্পী ও দুজন গবেষক কাজ করছেন। পুরান ঢাকার বিভিন্ন মহল্লায় তাঁরা বেশ কয়েক দফা ঘুরে স্থান নির্বাচন করেছেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে পুরান ঢাকার সমস্যা, সম্ভাবনা, সংরক্ষণ এসব নিয়ে তাঁদের অভিমত নিয়েছেন। এ ছাড়া গ্রিন রোডের বৃত্ত আর্ট ট্রাস্ট কার্যালয়ে ‘পুরোনো ঢাকা: ঐতিহ্য পরিবর্তন এবং উদ্ধার’ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। এতে অংশ নেন নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির ও স্থপতি সালমা শফি। এসবের ভিত্তিতেই বিষয়বস্তু নির্বাচন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো জনসাধারণের সঙ্গে শিল্পকলার সম্পর্ক নিবিড় করে তোলার মধ্য দিয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

এখনো বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারবে রিয়াল!

টানা ২২ ম্যাচ জয়ের পর থেমেছে রিয়াল মাদ্রিদের জয়রথ। আসলেই থেমেছে কি? প্রশ্নটা উঠছে। কারণ রিয়াল যে একটা বিশ্বরেকর্ডের সামনে। ক্লাব ফুটবলে টানা ২৪ ম্যাচ জিতে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে করিতিবা। ব্রাজিলের ক্লাবটি জিতেছিল টানা ২৪ ম্যাচ। রিয়াল সমর্থকদের হাহাকার, ইশ, মাত্র দুটো জয়ের জন্য রেকর্ডটা ছোঁয়া হলো না।
কিন্তু না, রিয়াল সমর্থকদের আফসোসের কিছু নেই। কারণ গত মঙ্গলবার এসি মিলানের বিপক্ষে রিয়ালের ৪-২ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচটি হিসাবে ধরা হবে না। কারণ প্রতিযোগিতামূলক নয়, এটি যে ছিল প্রীতি ম্যাচ। আর করিতিবার রেকর্ডটিও শুধু প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের হিসাবে ধরা হয়েছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, রিয়ালের রেকর্ডটা গড়ার আশা যে এখনো আছে, এই তথ্য করিতিবাই দিচ্ছে। অথচ রিয়ালের রেকর্ডটা না হলে তাদেরই সবচেয়ে খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু নিজেদের অফিশিয়াল টুইটারে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘যারা মিলান-মাদ্রিদ ম্যাচটি দেখেছে, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, টানা জয়ের রেকর্ডটি শুধু প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের হিসাবেই ধরা হয়। এ কারণে করিতিবার দখলে এখনো রেকর্ডটি আছে বটে, কিন্তু রিয়ালের পরের ম্যাচগুলো আমরা আগ্রহ নিয়েই দেখব।’
২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মে পর্যন্ত টানা দুই ডজন ম্যাচ জিতেছিল ব্রাজিলের ক্লাবটি। আর রিয়াল গত বছর ১৩ সেপ্টেম্বর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হারার পর আর কোনো ম্যাচেই হারেনি। অবিশ্বাস্য গতিতে ছুটতে থাকা রিয়ালকে মিলান হারিয়ে দিলে অনেকের মনেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি রিয়ালের বিশ্বরেকর্ড লেখানো হবে না। সেই প্রশ্নের উত্তরই মিলল।
রিয়ালকে রেকর্ড গড়তে চাইলে এখন আগামী রোববার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লিগের ম্যাচটা জিততে হবে। এরপর কোপা ডেল রের ম্যাচ আছে তাদের, যে ম্যাচে আসতে পারে ২৪তম জয়টি। প্রতিপক্ষ? সেই অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ!

প্রতারিত হচ্ছেন আইফোন ব্যবহারকারীরা?

(আইফোনে যে স্টোরেজের কথা বলা হয়, তার অধিকাংশ দখল করে রাখে অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেম) অ্যাপলের পণ্য ব্যবহার করে কি আপনি হতাশ? অ্যাপল যখন আইওএসের কোনো আপডেট উন্মুক্ত করে, তখনই কি আপনার আইফোনের স্টোরেজের জায়গা খালি করতে এবং তথ্য ক্লাউডে রাখতে বলে? অ্যাপলের এই ‘প্রতারণা’র শিকার শুধু আপনি একা নন!
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে স্টোরেজ-সংক্রান্ত তথ্য ঠিকমতো না জানানোর অভিযোগে অ্যাপলের বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয়েছে। অভিযোগ হচ্ছে, অ্যাপল যখন কোনো আপডেট উন্মুক্ত করে, তখন কী পরিমাণ জায়গা লাগবে—এ ব্যাপারে ব্যবহারকারীকে জানায় না। এর পরিবর্তে আইক্লাউডে তথ্য রাখতে পরামর্শ দেয়। আইক্লাউড হচ্ছে, অ্যাপলের ক্লাউডভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট সিলিকনবিট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অ্যাপলের আইওএস ৮ অপারেটিং সিস্টেমই অ্যাপল ডিভাইসে থাকা স্টোরেজের ২৩ দশমিক ১ শতাংশ জায়গা দখল করে থাকে। অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেম মোট কতটুকু জায়গা দখল করে, অ্যাপল সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয় না। যখন অ্যাপল পণ্যে ছবি বা ভিডিও রাখার জায়গা থাকে না, তখন আইক্লাউড ব্যবহার করতে পরামর্শ দেয়।
মামলায় অ্যাপলের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি চাওয়া হয়েছে। অভিযোগে বিজ্ঞাপন দেওয়া স্টোরেজের চেয়ে অ্যাপলের প্রকৃত স্টোরেজে জায়গা আরও কম পাওয়া যায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্য রাখার জন্য ব্যবহারকারীর যখন জায়গা জরুরি হয়ে পড়ে, আইক্লাউডে জায়গা বিক্রির জন্যই এই প্রতারণা করা হচ্ছে। মামলা ও অভিযোগ নিয়ে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।

ফলের ভিত্তিতে ভর্তি বাতিল

শিক্ষকের বাড়তি অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে শুধু এ ইস্যুতে আটকে গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি। দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোর বিরোধিতায় গত কয়েক বছর ধরে আটকে আছে এ পদ্ধতি কার্যকরের প্রক্রিয়া। এ পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে বুধবার আরেকটি প্রস্তাব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতে ভর্তির প্রস্তাব দেয় গুটি কয়েক কর্মকর্তা। শিক্ষামন্ত্রী বিষয় না জেনে স্বাক্ষর করার একদিন পরই তা প্রত্যাহার করে নিল শিক্ষামন্ত্রণালয়। গতকাল শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ ধরনের পদ্ধতি চালু হলে প্রকৃত মেধাবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ফলের ভিত্তিতে ভর্তির বিষয়টি বাতিল করেছি। এর আগে বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তি নির্দেশ দেয়। এ সংত্রুান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বুধবার দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর একদিন পরই তা বাতিল করেছে।
সম্প্রতি হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটিজ এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ)-এর একটি প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ভর্তি মওসুমে একজন শিক্ষক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নানাভাবে আয় করে থাকেন। গুচ্ছভর্তি হলে সেই আয়ের পথ বন্ধ হবে। শিক্ষকদের এ সুবিধা আর শঙ্কার বলি হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এজন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পদ্ধতির পেছনে লেগে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানো হবে এ ধরনের কোন সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমরা ওয়াকিবহাল ছিলাম না। তিনি বলেন, আমাদের দাবি ছিল গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি, সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করতে এ পদ্ধতি এখন সময়ে দাবি। কিন্তু কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোর বিরোধিতায় তা সম্ভব হচ্ছে না।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত পরিচালক ফেরদৌস জামান মানবজমিনকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আমাদের উদ্যোগ অনেক দিন আগের। কিন্তু এটি কেবল মিটিং পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাধাই এখানে মূল সমস্যা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল ভর্তি জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। এটি রোধ করতে কার্যত কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তাই আগামী বছর থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অভিন্ন একটি পদ্ধতির জোর দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। কিন্তু ঢাবি, রাবি, চবি, বুয়েটসহ কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় এ পদ্ধতির ঘোর বিরোধিতা করে আসছে। এ পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে বুধবার সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি দাবি উত্থাপন করেন মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশে। বিষয়টি স্বীকার করে বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এটি হুট করে করার বিষয় না। ভেবেচিন্তে, গবেষণা করে করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, চলমান পদ্ধতিতে লাভবান কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে ওই ফাইলে মন্ত্রীর স্বাক্ষর নেয়া হয়। গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে ওই ফাইল তলব করে তা স্থগিত করেন। আরও আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ওই ফাইলে নোট দিয়েছেন মন্ত্রী।

মামাতো ভাইকে খুন করে নিজ ঘরে পুঁতে রাখলো ফুফাতো ভাই

নিখোঁজের ১৫ দিন পর মশিউর রহমান মিছলুর লাশ পাওয়া গেল তার ফুফাতো ভাই শফিক মিয়ার ঘরে মাটির নিচে। পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে শফিককে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মশিউরের লাশের সন্ধান পায় পুলিশ। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের গুরারাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৌলভীবাজার পৌর শহরের পশ্চিম কাজির গাঁও এলাকার নেছা মঞ্জিলের মৃত আতাউর রহমানের ছেলে মশিউর রহমান মিছলু (৪২)। গত ১৫ই ডিসেম্বর বেলা ২টার দিকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনার পরে মশিউর রহমানের স্ত্রী মায়া বেগম মৌলভীবাজার মডেল থানায় গত ১৮ই ডিসেম্বর অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ই ডিসেম্বর মশিউর রহমান তার স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের কেশবচর গ্রামের শাশুড় বাড়িতে বেড়াতে যান। পরের দিন মশিউর তার প্রয়োজনে শহরের কাজির গাঁওয়ের বাড়িতে আসার কথা বলে বেলা ২টায় চলে আসেন। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে পুলিশ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থেকে পর্যায়ক্রমে তিন যুবককে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এক নারীর নিকট মশিউরের মোবাইল ফোনের সন্ধান পায় পুলিশ। ওই নারী জানান, সে সফিকের কাছ থেকে ওই মোবাইল পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার পুলিশ সিলেট থেকে শফিককে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জানান, মশিউরকে হত্যা করে লাশ পুঁতে রেখেছে তার নিজ ঘরের শোয়ার ঘরে। পুলিশ মাটি খুড়ে লাশের সন্ধান পায়। আজ ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিাততে লাশ তোলা হবে। মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  আব্দুছ ছালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

দুর্ভাগ্যের কারণেও ক্যানসার হতে পারে

বংশগত বা পরিবেশগত কারণে নয়, ‘দুর্ভাগ্যের’ কারণেও অনেক সময় ক্যানসার হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এক গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে এ দাবি করেছেন। সায়েন্স সাময়িকীর সাম্প্রতিক সংখ্যায় গবেষণাবিষয়ক এই নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। খবর এএফপির। গবেষণায় গবেষকেরা মানব টিস্যুর বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের পরিসংখ্যানিক মডেল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তবে নারীর স্তনের ক্যানসারের বেলায় বিজ্ঞানীদের এই মতামত প্রযোজ্য নয়। নারীরা সবচেয়ে বেশি এই ক্যানসারেই আক্রান্ত হন। পুরুষের মূত্রাশয়ের ক্যানসারের বিষয়টিও হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ত্বকের ক্যানসারের পরই এ ক্যানসারে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন পুরুষ। গবেষকদের তথ্যমতে, পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের বেলায় দেখা গেছে, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ ক্যানসারের কারণ জিনগত অবিরত রূপান্তর। এটি টিউমার সৃষ্টি হতে ইন্ধন জোগায়। এক-তৃতীয়াংশের বেলায় পরিবেশগত ও বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্যানসার দেখা দেয়। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ বার্ট ভগেলস্টেইনন তাঁর গবেষণাবিষয়ক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে যে ধূমপান বা অন্য কোনো বদঅভ্যাসের কারণেও ক্যানসারের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘জীবনযাপনের রীতি ও বংশগত বৈশিষ্ট্য ছাড়াও স্রেফ দুর্ভাগ্যের কারণে অনেক ক্যানসারই হতে পারে।’

বছরজুড়ে শিরোনামে ছাত্রলীগ

বছরজুড়েই নেতিবাচক শিরোনামে ছাত্রলীগ। নানা বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িয়ে সংগঠনটি ছিল আলোচনার শীর্ষে। অপরাধমূলক কাজে ভাড়ায় খাটা, মাদক ব্যবসা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, ভর্তি-বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ নিজেদের মধ্যে খুনখারাবি ও প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকা। তবে সারা বছরের উত্তাপে আরেকটু আগুন লাগিয়েছে সম্প্রতি শাহজালাল ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি-স্টাইল বন্দুকযুদ্ধে নিজেদের দু’জন কর্মীকে হত্যা এবং গত সপ্তাহে রাজধানীর বকশীবাজারে ছাত্রদলের ওপর হামলার ঘটনা। এভাবেই বছর শেষ করেছে ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনটি। বছরের শেষ দিকে নভেম্বর মাসে সারা দেশে ‘ক্লিন ক্যাম্পাস সেভ ক্যাম্পাস’ নামে একটি কর্মসূচি দিয়ে সংগঠনটির মধ্যে ইমেজ ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ কর্মসূচির নামে চলেছে ব্যাপক চাঁদাবাজি, যা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
বছরজুড়েই খুনখারাবি: গত এক বছরে ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে ৫ শতাধিক সংঘর্ষ ঘটিয়েছে। এ সব ঘটনার নেপথ্যের কারণ ছিল আধিপত্য বিস্তার ও পদপদবির লড়াই। অথচ গত ৫ই জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের আগে ছাত্রলীগের অবস্থা এমনটি ছিল না। অনেক নেতাকর্মী কমিটিতেই আসতে চাইতেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭১ সদস্যের হল কমিটি করার টার্গেট ছিল। কিন্তু বেশির ভাগ হলে কমিটি দেয়নি। যেগুলোতে হয়েছে তা পূর্ণাঙ্গ নয়। নির্বাচনের আগে দলীয় মিছিলে গড়ে ১৫-২০ জনের মতো উপস্থিতি ছিল। অথচ এখন সেখানে গণজোয়ার! ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সর্বশেষ নিহত হয়েছেন তাপস পাল। গত ১৪ই ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সহযোদ্ধার গুলিতে খুন হন। এর আগে ২০শে নভেম্বর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কর্মী ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন দাস নিহত হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। ওই দিন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে গত এক বছরে এ নিয়ে চারবার এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলো। চলতি বছরের প্রথম খুনের ঘটনা ঘটে গত ৩১শে মার্চ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। আশরাফুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী সায়াদ ইবনে মমতাজ নিহত হন এদিন। ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে খুন করা হয়। ৪ঠা এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী আকন্দ নিজ কক্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তিনি সংগঠনের পরবর্তী সম্মেলনে ওই হল শাখার সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পদ নিয়ে সৃষ্ট অন্তর্দ্বন্দ্বেই প্রাণ হারাতে হয়েছে তাকে। ১৪ই জুলাই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাঈমুল ইসলাম রিয়াদকে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ৩১শে আগস্ট ঢাকায় সমাবেশ শেষ করে ফেরার পথে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা তৌকির ইসলামকে। বিগত ছয় বছরে ছাত্রলীগের এ ধরনের ঘটনায় মোট ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি ছাত্রলীগের দলীয় কোন্দলের কারণে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘাতের শঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিবেদন দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা করে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সুযোগে ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ অন্যান্য বিরোধী ছাত্র সংগঠন ও স্বার্থান্বেষী মহল অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের ঊর্ধ্বতনদের বিষয়টি জানাতে চিঠি দিয়েছে।
খুনোখুনির নেপথ্যে: বছরজুড়ে বেপরোয়া তৃণমূল ছাত্রলীগের লাগাম ধরতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ। হত্যা, চুরি, ছিনতাই, জমি দখল, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধেই জড়িয়ে পড়েছে তারা। এর কারণ হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চিহ্নিত করেছে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কাউন্সিল না হওয়া। এর ফলে ভেঙে পড়েছে দলীয় শৃঙ্খলা। ফলে ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। বর্তমান কমিটি ২০১১ সালের ১১ই জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করে। গত বছরের ১১ই জুলাই শেষ হলেও নতুন কমিটি দেয়ার কোন উদ্যোগ নেই। ফলে যে যার মতো করে অপকর্ম করে যাচ্ছে। তাদের সামাল দিতে না পেরে বহিষ্কারের নামে একটি নাটক করেছে বছরজুড়ে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এর নেপথ্যের কারণ বলেছে, কেন্দ্রীয়সহ বেশির ভাগ মহানগর, জেলা নেতারা সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত না থেকে আখের গোছানোর কাজেই বেশি সময় দিচ্ছেন। এ কারণে কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আধিপত্য বজায় রাখতে বিপরীত দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পাশাপাশি নিজ দলের কর্মীদেরও খুন করছে ছাত্রলীগ।
প্রশ্নফাঁসে জড়িত ছাত্রলীগ: ছাত্রলীগের অর্থ উপার্জনের ব্যবসায় বিগত বছরে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল ভর্তি জালিয়াতি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন চাকরির পাস করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নেয় এক শ্রেণীর নেতাকর্মী। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজধানীর প্রতিটি সরকারি ও বড় বেসরকারি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা এ বাণিজ্যে জড়িত। অনার্সে অনলাইনে ভর্তি করা চালু হওয়ার পর ছাত্রলীগের নতুন করে প্রশ্নফাঁস আর ডিজিটাল জালিয়াতির জোগান দিয়েছে সংগঠনটি। চলতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল ভর্তি জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী। একই অভিযোগে ঢাবি’র ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্নফাঁসের বেশির ভাগ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের জড়িত থাকার প্রমাণ পায় বিশ্ববিদ্যালয় ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ। চলতি মাসে ঢাবি মুহসীন হলে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ধরে পড়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। এর সঙ্গে ঢাবি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে আটক কর্মীরা। তবে অদৃশ্য কারণে এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংবাদ সম্মেলন করে খুলনা মহানগরের ছাত্রলীগের একটি অংশ জানায়, সংগঠনের মহানগর ও উপজেলা শাখার শীর্ষ নেতারা মাদক ব্যবসায় জড়িত। জানা গেছে, শুধু খুলনা নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের এক শ্রেণীর নেতাকর্মী মাদক ব্যবসায় জড়িত।
অপহরণ: বছরের শুরু থেকে অপহরণের ঘটনার জন্য আলোচিত ছিল ছাত্রলীগ। অন্তত ১৩টি অপহরণের ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ। ১৩ই ফেব্রুয়ারি সূর্যসেন হলে মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের তরিকুল ইসলামকে অপহরণ করে আটকে রাখে আরিফুর রহমান। ২৮শে ফেব্রুয়ারি হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারের এক দোকানদারকে ধরে নিয়ে আসে। ৬ই মে ফার্সি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এ বি মাইনুল ইসলামকে চানখাঁরপুল থেকে অপহরণ করে ঢাকা কলেজের বিলুপ্ত কমিটির প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা। ৯ই মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চ থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ১৮ই নভেম্বর জগন্নাথ হলে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা উৎপল সাহার ছোট ভাই বহিরাগত উদয় সাহা এক গাড়ির চালককে হলে এনে আটকে রাখে। পরে মারধর করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এসব ঘটনায় ২-৩টা মামলা হলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি। আবার ঘটনার সময় যাদের আটক করা হয়েছিল তাদেরও ছেড়ে দেয়া হয়েছে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনা ঘটে অন্তত ছয়টি। গত জুলাই মাসে ঢাকা কলেজেরই ছাত্রলীগ নেতা ইমরান হোসেনকে আটকে রেখে মুক্তি দাবির ঘটনা ঘটিয়েছেন ছাত্রলীগের উপপরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।

গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের এসিড নিক্ষেপ, আহত ৫

শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানা এলাকায় গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় বর সেলিমসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন সেলিম সরকার (২৭), রাবেয়া খাতুন (৮), তোহরা বেগম (১৯), শাহিনা খাতুন (২৬) ও সিয়াম (৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। শরিয়তপুর জেলার সখিপুর থানার সরকারকান্দির উত্তর তারাবুনিয়ার নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকেন সেলিম সরকার। এক সপ্তাহ আগে পাশের গ্রামের শিরোমণি খাতুন নামে এক তরুণীর সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ে উপলক্ষে বুধবার রাতে সেলিমের বাড়িতে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় একটি মঞ্চে বসা ছিলেন সেলিম। রাত সাড়ে ১২টায় স্থানীয় যুবক সিফাতসহ আরও কয়েকজন ওই মঞ্চে গিয়ে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে বরসহ পাঁচজনের শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়। অচেতন অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করতে বলেন। বার্ন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সেলিমের শরীরের ৩০, রাবেয়ার ৬, তোহরা বেগমের ৫, সিয়ামের ৬ এবং শাহিনার শরীরের ৬ শতাংশ পুড়ে গেছে। তারা বর্তমানে বার্ন ইউনিটের পঞ্চম তলার কেবিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। বর সেলিমকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গলার এক পাশ বাদে তার পুরো শরীর  পুড়ে গেছে। সারা শরীর ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। আহত বর সেলিম সরকার জানান, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে মঞ্চে আমাকে সবাই মিষ্টি ও পানি পান করাচ্ছিলেন। বাড়ির আঙিনায় একটি বিশেষ মঞ্চে আমার সঙ্গে ভাগ্নি রাবেয়া, শাহিনা, ভাইঝি তোহরা ও ভাইপো সিয়াম বসা ছিল। মঞ্চের পাশে চেয়ারে বিভিন্ন লোকজন বসা ছিলেন। একে তো আমার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান আবার নববর্ষের রাত। এই দুটি বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণ হওয়াই বাড়িতে ছিল উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার লোককে দাওয়াত করা হয়েছিল। সবাই নেচে গেয়ে আনন্দ করছিল। এ সময় পাশের গ্রামের সিফাত ও তার লোকজন এসে মঞ্চে এসিড নিক্ষেপ করে। এসময় আমরা পাঁচজন আহত হই।
তিনি আরো বলেন, যেই তরুণীর সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছিল তার নাম শিরোমণি। সখিপুর কলেজে অর্থনীতিতে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত সে। সিফাত ওই তরুণীকে ভালবাসতো। কিন্তু, ওই তরুণী সিফাতকে ভালবাসতো না। লোকজনের মাধ্যমে সিফাত বিয়ের প্রস্তাবও পাঠিয়েছিল। কিন্তু, শিরোমণির পরিবারের সদস্যরা সিফাতের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিফাত আমার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এসিড নিক্ষেপ করেছে। সেলিম সরকার পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। আহত রাবেয়া জানান, গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান উপলক্ষে অনুষ্ঠানে আসা বিভিন্ন অতিথির কাছে টাকার বায়না করছিলাম। এ সময় দুর্বৃত্তরা আমাদের অতি কাছ থেকে একটি তেলের গ্যালনে থাকা এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এতে পুরো বাড়িতে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। আহতের স্বজন তুহিন জানান, এ ঘটনায়  মেয়েপক্ষের কেউ জড়িত নয়। সিফাত এর আগেও অনেক মেয়েকে উত্ত্যক্ত করেছে। সখিপুর থানার ওসি সমীর সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম বলা যাবে না। ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পা হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যত মোস্তফার by আল আমিন

পোশাক শ্রমিক মোস্তফা প্রধান (২৬)। হাঁটু থেকে বাঁ পা কাটা পড়েছে। নাকের ওপর ও কোমরে আঘাতের চিহ্ন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম। দুই চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানি। হাসপাতালে বিছানার পাশে বসে থাকা পরিবারের সদস্যদের মুখের দিকে হতবিহ্বল চোখে তাকিয়ে রয়েছেন। সামনে তার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সরেজমিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন মোস্তফা প্রধানের জীবন এখন এ রকমই। সোমবার দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশনে অভ্যন্তরীণ কন্টিনেন্টাল ডিপো (আইসিডি)-র মধ্যে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। মুমূর্ষু অবস্থায় রেলস্টেশনের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা নিম্নবিত্ত মানুষ। তাদের সংসারে আর্থিক অনটন লেগেই থাকে। এ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার টাকা আসবে কোথা থেকে? ওই দিনের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা প্রধান জানান, নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্প নগরীর করোনী টেক্স সোয়েটার নামে একটি কারখানার শ্রমিক। থাকতেন ওই শিল্প এলাকার পাশের একটি গ্রামে। আগে চাকরি করতেন সাভারের আশুলিয়ার আউকপাড়ার একটি গার্মেন্ট কারখানায়। দু’মাস হলো নতুন চাকরিতে যোগ দেন। সাভারের ভাড়া বাড়িতে রেখে যাওয়া কিছু মালপত্র আনতেই নারায়ণগঞ্জের রেলস্টেশন থেকে একটি লোকাল ট্রেনে করে কমলাপুরে রেলস্টেশনে আসছিলেন। বলেন, ওই ট্রেনের দুই নম্বর বগির ডান পাশের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বগির ভেতরে দাঁড়ানোর তিল পরিমাণের জায়গা ছিল না। এজন্য দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। মোস্তফা আরও জানান, ট্রেনটি আইসিডি’র মধ্যে আসার পর একটি কাভার্ড ভ্যান দুই নম্বর বগিকে সজোরে ধাক্কা মারে। চিৎকার দিয়ে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ি। এরপর আর কিছু মনে নেই। পরে হাসপাতালে জ্ঞান আসার পর দেখি, বাঁ পা কাটা পড়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এর চেয়ে মৃত্যু অনেক ভাল ছিল। মোস্তফা প্রধানের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার করুলগোছা এলাকায়। চার ভাই সাত বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। স্ত্রী লিমা বেগম জানান, আমাদের বিয়ে হয়েছে ১৫ মাস। স্বামী অল্প টাকা বেতন পায়। টেনে-টুনে সংসার চলে। ভাবতেই পারেনি যে এমন একটি দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনে অন্ধকার নেমে আসবে। এখন নিঃস্ব অবস্থা। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। তিনি স্বামীর চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শ্বশুর ইসলাম হোসেন জানান, আমরা সমাজে নিম্নবিত্ত শ্রেণী। এখন কি করে তার চিকিৎসার টাকা যোগাড় করবো জানি না। শাশুড়ি নিলুফা বেগম জানান, এ দুর্ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে তাদের যেন শাস্তি দেয়া হয়। কেননা এটা কেবল দুর্ঘটনা নয়- এটি সারাজীবনের অভিশাপ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী পরিচালক ডা. মুশফিকুর রহমান জানান, ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আরও কয়েকজন ভর্তি আছেন। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

মঞ্চ মাতালেন ১০ বিদেশী পর্যটক

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুগ্ধ হয়ে মঞ্চে উঠে নাচলেন ১০ জন বিদেশী পর্যটক। নাচালেন দর্শকদের। চ্যানেল আইয়ের সেরা শিল্পী ও ক্লোজআপ ওয়ান’র শিল্পীদের গানসহ কমেডি ক্লাবের মনকাড়া কমেডির হাসির সাগরে ভাসিয়ে ২০১৪ সালকে বিদায় জানিয়ে ২০১৫ সালকে বরণ করা হয়। রাত ১২টা ১ মিনিটে কুয়াকাটার ঐতিহ্য আদিবাসী রাখাইনদের তৈরী ফানুস উড়িয়ে নতুন বছরকে বরণ করেন কুয়াকাটাবাসী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান, কলাপাড়া ইনচার্জ আজিজুর রহমানসহ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে কুয়াকাটা থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আয়োজনের পাশাপাশি আমরা কুয়াকাটাবাসী পর্যটকদের নিয়ে রাতব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালকে বরণ করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে আমাদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিদেশী পর্যটকরা। কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এএম মিজানুর রহমান বুলেট বলেন থার্টিফার্স্ট নাইটের কনসার্টে দেশী-বিদেশী পর্যটকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈরী আবহাওয়া ও হরতালকে উপেক্ষা করে শ’ শ’ পর্যটক কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এসে ভিড় করেছে। কনসার্ট চলাকালে ১০ বিদেশী পর্যটক আনন্দে আত্মহারা হয়ে মঞ্চে উঠে এসে নৃত্য ও গানে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। রাত ১২টা বাজার ১০ সেকেন্ড থেকে উচ্চ স্বরে সেকেন্ড গুনে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বলে বরণ করে নেন ২০১৫ সালকে।

ডিস্কোয় মাতোয়ারা কক্সবাজার by রাসেল চৌধুরী

বৃষ্টি কিংবা হরতাল প্রভাব ফেলতে পারেনি থার্টিফার্স্ট নাইটে। রাতভর ড্যান্স, ফ্যাশন শো, ডিজে, নৃত্য ও ওপেন কনসার্টে জমজমাট হয়ে ওঠে পর্যটন শহর কক্সবাজার। রাতে সৈকত এবং বিভিন্ন হোটেলে বসে জমকালো অনুষ্ঠানের আসর। পৃথক অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়ান আইডল খ্যাত অঙ্কিতা মিশ্র, রেমু ঘোষ, ব্যান্ড শিল্পী জেমস, আইয়ুব বাচ্চু ও মিলার গানে উচ্ছ্বাস আর উন্মাদনায় ফেটে পড়ে পর্যটক ও স্থানীয়রা। তারকামানের হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। আয়োজন করা হয় সুস্বাদু খাবার, নানান পদের আইটেম, ফ্যামিলি নাইট ও গানবাজনা। সৈকতের ওশান প্যারাডাইসে রাত আটটার পর থেকেই শুরু হয় বছরের শেষ দিন উদযাপন। আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য রাখা হয় বিভিন্ন আইটেমের খাবার ও পানীয়। একই রকম আয়োজন করে  সৈকতের অভিজাত হোটেল  সী-গাল, কক্স টুডে, লংবীচ, সী-ওয়ার্ল্ড, সী-প্যালেসসহ একাধিক  হোটেল। এছাড়া, পর্যটন স্পট দরিয়া নগর, ইনানীর ইকো রিসোর্টসহ শহরের বাইরে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে কক্সবাজারে লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে। শহরের হোটেল-রেস্তরাঁ, রাস্তাঘাট ও বিপণি কেন্দ্রে দেখা দেয় প্রচণ্ড ভিড়। সৈকতে অবস্থান নেয় লক্ষাধিক পর্যটক। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন দল, ক্লাব, সমিতি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান শহরের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজ আগাম বুকিং নিয়ে আগে থেকেই কক্সবাজার এসে অবস্থান নেয়। এসব পর্যটকের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে ওঠে পর্যটন শহর কক্সবাজার। পর্যটকরা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ, ইনানী, হিমছড়ি, রামু, চকরিয়ার দুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মহেশখালী, সোনাদিয়াসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়িয়েছে। এদিকে পর্যটকদের মাতিয়ে রাখতে সমুদ্র সৈকতে ওপেন কনসার্ট ও অর্ধশত হোটেলে ড্যান্স গ্রুপ, ফ্যাশন শো, ডিজে নৃত্য, গান, ব্যান্ডসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সৈকত ও আশেপাশের এলাকা আলোকসজ্জায় আলোকিত করার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ওপেন কনসার্টের আয়োজন করে বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এসএটিভি। কক্সবাজারের কলাতলীর হোটেল লংবীচ কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে লাইভ কনসার্ট। এতে সংগীত পরিবেশন করেন অঙ্কিতা মিশ্র ও রেমু ঘোষ। হোটেল সীগালে  ফিডব্যাক ও ব্ল্যাকের ব্যান্ডশো, হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইসেও ডিজে, সৈকতে ২টি ওপেন কনসার্ট হয়। এতে প্রখ্যাত ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, মিলাসহ দেশী-বিদেশী খ্যাতনামা সংগীতশিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। এছাড়া, হোটেল সী-প্যালেস, কক্স-টুডেসহ ছোট-বড় অর্ধশতাধিক হোটেল-মোটেলের অভ্যন্তরে আয়োজন করা হয়েছে ড্যান্স গ্রুপ, ফ্যাশন শো, ডিজে নৃত্য, গান, ব্যান্ডসহ নানা অনুষ্ঠানমালা। এছাড়া, কলাতলী, হিমছড়ি, রেজু ব্রিজ, ইনানী, টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনের ইকো রিসোর্টগুলোতেও আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। এদিকে লক্ষাধিক পর্যটকের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বরাবরের মতোই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া জেলা পুলিশ। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে স্বাভাবিকের চেয়েও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মিশরে আল-জাজিরার ৩ সাংবাদিকের পুনর্বিচারের রায়

মিশরের সর্বোচ্চ আদালত এক রায়ে আল-জাজিরার তিন সাংবাদিকের পুনর্বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে। এক মাসের মধ্যে নতুন করে বিচার প্রকিয়া শুরু হবে। মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মিশরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে সহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা। ওই তিন সাংবাদিক- অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক পিটার গ্রেস্ট, মিশর ও কানাডার যৌথ-নাগরিক মোহাম্মদ ফাহমি ও মিশরের নাগরিক বাহের মোহাম্মদের করা আপিল আবেদনের শুনানির প্রেক্ষিতে রাজধানী কায়রোর আদালত এ নির্দেশ দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সাধারণভাবেই প্রতিবেদনটি পরিবেশন করেছিলেন বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছেন তারা। তবে বিচারকদের সিদ্ধান্তে এ সময় জেলেই কাটাতে হবে আল-জাজিরার ৩ সাংবাদিককে। এরই মধ্যে ১ বছর জেল খেটেছেন তারা। ২০১৩ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুসলিম ব্রাদারহুডকে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে ওই সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শরীর প্রদর্শন না করার পরামর্শ রোলিনের

ফেসবুক ব্যবহারকারী সকল তরুণীকে মার্জিত পোশাক পরতে, শরীর অনাবৃত করার প্রবণতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ২০১৪ সালের মিস ওয়ার্ল্ড রোলিন স্ট্রস। একটি খোলা চিঠিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মূলত শরীর প্রদর্শন করে অনলাইনে ছবি পোস্ট করতে আগ্রহী তরুণীদের উদ্দেশ্য করে শক্ত বার্তা দিয়েছেন রোলিন। মডেল হতে আগ্রহী যেসব তরুণী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাইটগুলোতে নিজেদের রগরগে ছবি পোস্ট করে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে থাকেন, তিক্তমধুর ভাষায় তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন। রাখঢাক না করেই নিজের ক্ষোভের জায়গাগুলো তুলে ধরেছেন মিস স্ট্রস। বলেছেন, শরীর প্রদর্শন করে নিজের মর্যাদাহানি ছাড়া কিছু অর্জন করা যায় না। নিজেকে সস্তা হিসেবে উপস্থাপন না করে সম্মান পাওয়ার যোগ্য হিসেবে তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। চিঠিটি এখানে তুলে ধরা হলো:
ঠিক আছে! আমি রাগান্বিত!! আর এটা এখন আনুষ্ঠানিক!!!
আমি কাঠখোট্টা ভাবেই বলতে যাচ্ছি, কেননা যেসব নারী নিজেরা নিজেদের প্রতি মূল্য দেয় না আমি তাদের বিষয়ে বিরক্ত, ক্লান্ত। স্পষ্টত ওই নারীরা ভুলে যাচ্ছেন যে তারা রাজকন্যা, রানী, সম্মানীয়া, মূল্যবান, দামি আর বিক্রির জন্য নন।
প্রিয় সেই সব তরুণী,
লেস ব্রা আর জি স্ট্রিং পরে ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম আর অন্য সামাজিক নেটওয়ার্কে পোজ দেয়াটা এমন ধারণা দেয় না যে, আপনি একজন ‘অন্তর্বাস মডেল’। এতে মনে হয় না আপনি আদৌ কোন কিছুর যোগ্য। এটা আপনাকে সস্তা, সহজ নিচু শ্রেণীর নারী হিসেবে দেখায়।
গোপন তথ্য: ভিক্টোরিয়া সিক্রেট মডেলরা পণ্য বিক্রির জন্য ফটো সেটের সামনে পোজ দেন। আর মডেলিংয়ের জন্য তারা অর্থ উপার্জন করেন। তারা বাথরুমের আলোয় নৃত্যরত অবস্থায় তাদের গোলাপি অংশগুলো অনাবৃত করেন না, সাইবার দুর্বৃত্ত, লম্পটদের কাছে বিনামূল্যে নিজেদের নিতম্ব দিয়ে দেন না।
বাথরুমের আয়নাতে আপনার মোবাইল ফোন দিয়ে তোলা বুকের ভাঁজের ছবি আপনাকে এবারক্রোম্বির মডেল বানিয়ে দেয় না। এটা আপনাকে ফেসবুকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য মরিয়া হিসেবে উপস্থাপন করে।
আমার পরামর্শ: তুমি যদি মডেল হতে চাও, তাহলে মডেল হও! একটি পোর্টফোলিও একত্র করো, তোমার সকল ঋণ পরিশোধ করো আর নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করো। এর কোন বিকল্প নেই। আর তেমনটা না করলে, তুমি অন্য কারও সস্তা রোমাঞ্চের জন্য নিজের নিতম্ব দুলিয়ে যাচ্ছো আর ভান করছো যেন এটা তোমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে, যেহেতু ছবিতে মানুষের মন্তব্য পাচ্ছ। আর ভিন্ন পুরুষদের কাছ থেকে ১০০ লাইক পাওয়ার অর্থ কি- তোমার মাথা ঠিক আছে? সুইটহার্ট, এটাই কি তোমার মূল্য??? লাইক???
বাস্তবতার নিরিখ: বস্ত্রে আচ্ছাদিত থাকা উচিত শরীরের এমন কোন অংশ দেখানো একটি ছবি অনলাইনে অনেক মন্তব্য পাবে। কিন্তু সুইটহার্ট, সেটা তোমাকে এতটুকুও বিশেষ কেউ করে তোলে না। জানো এটা কি করে। এটা তোমাকে সফট পর্নো নারী বানায়, যেটা খারাপ তো বটেই আর তাছাড়া কোন সম্মানী ছাড়া। পোশাক পরিধান করো। কিছুটা মর্যাদা যোগ করো, মর্যাদা যদি নিয়ে নাও সেটাও ভাল। হ্যাপি মিল খাওয়ার জন্য নিজের দেহ বিক্রি বন্ধ করো। দু’টি রুমাল দিয়ে এখন তোমার গাউন তৈরি হয়ে যায়- ওই পাগলামি বন্ধ করো।
তুমি সুন্দরী। পোশাক পরা অবস্থায় তো আরও  সুন্দরী আর সম্মানীয় তো বটেই। নিজের ভেতরটা তৈরি করো তাহলে মনোযোগ পাবার জন্য তোমার বাহিরটা নগ্ন করবার প্রয়োজন হবে না। আমি একজন তারুণ্যপূর্ণ নারী। আমি রোলিন স্ট্রস। আর আমি আমার সঠিক পোশাকের সঙ্গে সুন্দর হ্যাশট্যাগ গেটড্রেসড!

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৭,০০০ ভূসম্পত্তি তলিয়ে যাবে সমুদ্রগর্ভে

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় ৭ হাজার বাড়িঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। ৩,৪৫৩টি বাড়িঘর এবং ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ ৩,২১৬টি অনাবাসিক ভূসম্পত্তি সমুদ্রের পাতিতে তলিয়ে যেতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। প্রধানত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে হারে বাড়ছে, তাতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি’র বিশেষজ্ঞরা। এর কারণ বিশালাকায় ঢেউ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের উপকূলরেখা মুছে গিয়ে দ্রুতই আরও কাছে এগিয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে, ৮০০ ভূসম্পত্তি আগামী ২০ বছরের মধ্যে সমুদ্রে তলিয়ে যাবে। এমনটাই আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। একই সঙ্গে ঝড়ের আশঙ্কাও বাড়তে থাকবে। যদি এ ভূসম্পত্তিগুলোকে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হয়, সেক্ষেত্রে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হবে। পরিবেশ সংস্থার মতে, প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি ভূসম্পত্তি পানিতে তলিয়ে যাবে। আগামী ১০০ বছরে স্থানীয় ৬টি অঞ্চল- গ্রেট ইয়ারমাউথ, সাউদ্যাম্পটন, কর্নওয়াল, নর্থ নরফোক, ইস্ট রাইডিং ও স্কারবরোর প্রতিটি থেকে ২ শতাধিক বাড়িঘর সমুদ্রগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হলে, তার ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সংগঠনগুলো। সম্প্রতি আগামী ৬ বছরের জন্য ২৩০ কোটি পাউন্ড অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে সরকার, যার মূল অংশ ব্যয় হবে প্রাকৃতি দুর্যোগ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায়। ১৫,০০০ ভূসম্পত্তিকে সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এ ৬ বছরে।